(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
الوصايا الجلية للاستفادة من الدروس العلمية   (صالح آل الشيخ)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الوصايا الجلية للاستفادة من الدروس العملية

المؤلف: صالح بن عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم آل الشيخ

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1423هـ

عدد الصفحات: 55

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলমি দরসসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার সুস্পষ্ট অসিয়তসমূহ   (সালেহ আল-শেখ)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: ইলমি দরসসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার সুস্পষ্ট অসিয়তসমূহ

লেখক: সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-শেখ

প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[المقدمة]

الوصايا الجليّة

للاستفادة من

الدروس العلميّة تأليف

معالي الشيخ صالح بن عبد العزيز آل الشيخ
‌[ভূমিকা]

সুস্পষ্ট উপদেশমালা

উপকৃত হওয়ার জন্য

ইলমী দরসসমূহ থেকে, গ্রন্থনায়

মহামান্য শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ আল-শায়খ
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

المقدمة الحمد لله رب العالمين، وَفَّقَ مَنْ شاء إلى سُبُل مرضاته. وعلَّم من شاء تعليمًا. وأدَّبَ مَن اختاره تأديبًا.

فله الحمد على ما مَنَّ علينا من النعم الجزيلة. والعطايا الكثيرة، لهُ الحمدُ كثيرًا كما أنعم كثيرًا. وله الشكر جزيلاً كما تفضّل علينا جل جلاله. وأنعم بكرةً وأصيلاً.

أحمد الله وأشكره، وأُثني عليه الخيرَ كلَّهُ.

وأشهدُ أن لا إله الله وحدَه لا شريكَ له، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُ الله ورسولُه. صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا مزيدًا.

أسألُ الله - جلَّ وعلا - أن يستعملني وإياكم فيما يُحِبُّ ويرضَى، وأن ييسر لنا جميعًا سُبُلَ الخير، وأن يُغْلِقَ عنا سُبُلَ الشرِّ. إنه - سبحانه - جواد كريم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা যথাযোগ্য শিক্ষা দান করেছেন এবং যাকে মনোনীত করেছেন তাকে সর্বোত্তম শিষ্টাচারে ভূষিত করেছেন।

সুতরাং তাঁরই সকল প্রশংসা সেই সুমহান নেয়ামতরাজির জন্য যা তিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অজস্র দান-অনুগ্রহের জন্য তাঁরই অগণিত প্রশংসা, যেমন তিনি প্রচুর নেয়ামত দান করেছেন। তাঁরই জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা, যেমন মহিমান্বিত আল্লাহ আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং সকাল-সন্ধ্যা নেয়ামতরাজি দান করেছেন।

আমি আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁর সকল কল্যাণের গুণগান করছি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অফুরন্ত শান্তি বর্ষিত হোক।

আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ও আপনাদেরকে এমন কাজে নিয়োজিত করেন যা তিনি ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি যেন আমাদের সকলের জন্য কল্যাণের পথসমূহ সুগম করে দেন এবং আমাদের থেকে অকল্যাণের পথগুলো রুদ্ধ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব ও পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد: فإني في فاتحة هذه الدروس العلمية، وهي الدورة السادسة في مسجد شيخ الإسلام ابن تيمية - بحي سلطانة في مدينة الرياض - لا بدّ لي من التوجه إلى الله عز وجل والدعاء لمن قام في ترتيب هذه الدورات والدروس العلمية.

فأسأل الله جل جلاله أنْ يجزيهم خيرًا، وأن يزيدهم من نصرة الحق، والدعوة إليه، ومن فتح أبواب الخيرات، والتقرب إلى الله - جلَّ وعلا - بها. وهذا من الحقوق التي ينبغي تعاهُدُها.

وهذه الدوراتُ تقام في كل عامٍ، وهي مشتملةٌ على دروسٍ في علوم متعددة، وفنون مختلفة.

ومدةُ الدورة ثلاثةُ أسابيعَ، تحوي ثمانيةَ عشرَ درسًا، في فُنُونٍ مختلفةٍ. وإن شاء الله - تعالى - تُحَصِّلونَ علمًا كثيرًا في هذا الوقتِ الوجيزِ.

وقد اختار بعض الإخوة أن يكون عنوان هذه المحاضرة التي هي فاتحة هذه الدورة " الوصايا الجلية للاستفادة من الدروس العلمية "

وبحكم تجربتي القصيرةِ في الدورات السابقة، وعلمي بما أعطته الدوراتُ من نتائج فإنني أقول:

لا بدّ لكل دورة علمية، أو دروس علمية من أركانٍ يقوم عليها.
অতঃপর: আমি এই ইলমি দরসসমূহের প্রারম্ভে—যা রিয়াদ শহরের সুলতানা মহল্লার শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কোর্স—অবশ্যই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং যারা এই কোর্স ও ইলমি দরসগুলো আয়োজনের ব্যবস্থা করেছেন তাদের জন্য দোয়া করছি।

আমি আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করেন, সত্যের সহায়তা ও তার দিকে দাওয়াতের কাজে তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি দান করেন, আর কল্যাণের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করেন এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের তাওফিক দান করেন। এটি এমন এক হক যা যথাযথভাবে পালন করা বাঞ্ছনীয়।

এই কোর্সগুলো প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন শাস্ত্র ও বহুমুখী বিষয়ের ওপর পাঠ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এই কোর্সের ব্যাপ্তি তিন সপ্তাহ, যাতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আঠারোটি পাঠ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ—তাআলা—আপনারা এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

কিছু ভাই এই কোর্সের প্রারম্ভিক আলোচনা হিসেবে এই বক্তৃতার শিরোনাম পছন্দ করেছেন: "ইলমি দরস থেকে উপকৃত হওয়ার সুস্পষ্ট উপদেশমালা"

পূর্ববর্তী কোর্সগুলোতে আমার সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতা এবং সেই কোর্সগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে আমি বলছি:

প্রতিটি ইলমি কোর্স বা ইলমি দরসের জন্য কিছু মৌলিক স্তম্ভ থাকা আবশ্যক যার ওপর তা প্রতিষ্ঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
والأركان أربعةٌ:

الأول: التنظيمُ المناسبُ الذي يسبقُ تلكَ الدروسَ العلميةَ.

الثاني: وجودُ المعلِّم (الشيخ) .

الثالث: وجودُ المتعلمينَ الراغبينَ الجادِّينَ.

الرابع: وجودُ المكانِ المناسبِ الذي يصلح لإقامةِ الدوراتِ التي يحضرها عددٌ كبير لمدةٍ وجيزةٍ.
মূল ভিত্তি (أركان) চারটি:

প্রথম: উপযুক্ত বিন্যাস যা উক্ত ইলমি পাঠসমূহের পূর্বে সম্পন্ন হয়।

দ্বিতীয়: শিক্ষকের (الشيخ) উপস্থিতি।

তৃতীয়: আগ্রহী ও একনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

চতুর্থ: উপযুক্ত স্থানের উপস্থিতি যা স্বল্প মেয়াদে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বিভিন্ন কোর্স আয়োজনের উপযোগী।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[الركن الأول التنظيم المناسب]

الركن الأول: التنظيم المناسب لا شكّ أن عظم الفائدة من هذه الدروس يكون في التنظيم الجيِّدِ، والإعدادِ المبكِّرِ، وبذلك تحصل الفائدةُ من هذه الدوراتِ أو الدروسِ.

والتنظيمُ هو ترتيبُ الوضعِ المناسبِ لهذه الدروس.

والمنظمون هم: إمامُ المسجد، أو إخوةٌ يعملون في إدارةِ الدعوةِ، أو في مركزِ الدعوة.

والمُنظِّمُ لا بدّ له أن ينظر إلى حاجة طلبة العلم، وحاجة الشباب الذين يَرُومون هذه الدروسَ.

وهذه الحاجةُ تختلفُ باختلافِ المكانِ والزمانِ، وباختلافِ المعلمين، والمقرراتِ التي يتعلمها الطلبةُ.

فينظر في المكان، وهو البلد، والمسجد.

وفي الزمان، فدورات الشتاء غيرُ دوراتِ الصيفِ ترتيبًا ووقتًا.

فليس كلُّ أحدٍ يريد أن يقيم دورةً أو دروسًا علميةً يناسب أن يقيمها في مسجده؛ لأنه سيحضر الجمُّ الغفيرُ من الطلبة الذين يريدون الاستفادة.

وهذا يدعو إلى ترتيب المكان من جهةِ صلاحيته في نفسه، ومن جهة أن يكون التكييفُ جيدًا، ومن جهة تسهيلِ المداخلِ
‌‌[প্রথম রুকন: যথাযথ ব্যবস্থাপনা]

প্রথম রুকন: যথাযথ ব্যবস্থাপনা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পাঠদানসমূহ থেকে সর্বোচ্চ উপকার লাভ নির্ভর করে উত্তম ব্যবস্থাপনা এবং পূর্বপ্রস্তুতির ওপর; আর এর মাধ্যমেই এই কোর্সসমূহ বা পাঠদানগুলো থেকে ফায়দা অর্জিত হয়।

আর ব্যবস্থাপনা হলো এই পাঠদানগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশের বিন্যাস করা।

আর ব্যবস্থাপকগণ হলেন: মসজিদের ইমাম, অথবা দাওয়াহ প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ভাইগণ, কিংবা দাওয়াহ সেন্টারের দায়িত্বশীলগণ।

আর একজন ব্যবস্থাপককে অবশ্যই ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন এবং সেইসব যুবকদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যারা এই পাঠদানগুলোতে উপস্থিত হতে ইচ্ছুক।

আর এই প্রয়োজন বা চাহিদা স্থান ও কালভেদে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পঠিত সিলেবাসের ভিন্নতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

অতএব স্থান তথা শহর এবং মসজিদের বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আর সময়ের ক্ষেত্রে, শীতকালীন কোর্সসমূহ বিন্যাস ও সময়ের দিক থেকে গ্রীষ্মকালীন কোর্সসমূহ থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।

সুতরাং যে কেউ কোনো কোর্স বা ইলমি পাঠদান আয়োজন করতে চাইলেই তা নিজ মসজিদে আয়োজন করা সবসময় উপযুক্ত হয় না; কারণ সেখানে উপকৃত হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের এক বিশাল সমাগম ঘটবে।

আর এটি স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব উপযোগিতা, উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রবেশপথ সহজ করার মতো বিষয়গুলো বিন্যস্ত করার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والمخارجِ. . إلخ.

فلا بدّ من رعاية الحال في المكان والزمان.

ثم ينبغي على المنظِّمين أن يعتنوا بَدْأةَ ذي بَدْء بالتنظيم والترتيب للدورة قبل قيامها بوقتٍ طويل.

فالترتيب مع المشايخ يجب أن يكون قبل ستةِ أشهرٍ، أو خمسةِ أشهرٍ، أو أربعةِ أشهرٍ؛ ليرتبوا أنفسهم.

حدث أن بعض الإخوة يريد إقامةَ دروسٍ، ودوراتٍ، ويحاولون إقناعَ بعض الشيوخ في الاشتراك قبل أُسبوعين أو ثلاثة أسابيع أو شهرٍ، فلم تكن الموافقةُ منهم لأنهم ملتزمون ببعض الالتزامات التي تشغلهم عن إجابة الطلبِ. وبخاصةٍ في الإجازات التي يكون لكثير فيها ترتيباتٌ.

إذًا يكون الاختيارُ قبل مدةٍ وافية ليتسنى التنسيق له مع الجميع، وليتحققَ اختيارُ الذين سيشاركون من العلماء والمشايخ وطلبة العلم.

وأمر مهم في التنظيم: هو أن يرتب المنظمون الدورةَ مع مَنْ سبقوا في فهم ما يُحتاجُ إليه في الدورات.

مثلا: اختيار بلدٍ ما لإقامة دورة فيه لأول مرة، سواء كان في داخل المملكة العربية السعودية أو في خارجها، فيحسن أن
এবং বহির্গমন পথসমূহ... ইত্যাদি।

সুতরাং স্থান ও কালের অবস্থা বিবেচনা করা আবশ্যক।

অতঃপর আয়োজকদের উচিত শুরুতেই কোর্সটি আরম্ভ হওয়ার অনেক আগে থেকেই এর ব্যবস্থাপনা ও বিন্যাসের প্রতি যত্নবান হওয়া।

অতএব, শায়খদের সাথে সমন্বয়ের বিষয়টি ছয় মাস, পাঁচ মাস বা চার মাস আগেই সম্পন্ন হওয়া উচিত; যাতে তাঁরা নিজেদের কার্যক্রম গুছিয়ে নিতে পারেন।

এমনটি ঘটে থাকে যে, কোনো কোনো ভাই দরস ও কোর্স আয়োজন করতে চান এবং মাত্র দুই সপ্তাহ, তিন সপ্তাহ বা এক মাস আগে কিছু শায়খকে তাতে শরীক হওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু তখন তাঁদের পক্ষ থেকে সম্মতি পাওয়া যায় না। কারণ তাঁরা এমন কিছু ব্যস্ততায় দায়বদ্ধ থাকেন যা তাঁদের এই আহ্বানে সাড়া দিতে বাধা দেয়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে, যখন অনেকেরই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা থাকে।

সুতরাং নির্বাচন বা নির্ধারণের কাজটি পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখেই করা প্রয়োজন যাতে সকলের সাথে সমন্বয় করা সম্ভব হয় এবং যারা অংশগ্রহণ করবেন—যেমন আলেম (علماء), শায়খ ও ইলম অন্বেষণকারী (طلبة العلم)—তাদের নির্বাচন যেন সুচারুভাবে নিশ্চিত হয়।

ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: আয়োজকগণ যেন কোর্সটি এমন ব্যক্তিদের সাথে সমন্বয় করে গুছিয়ে নেন, যারা এই ধরনের কোর্সে কী কী প্রয়োজন সে বিষয়ে পূর্বজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রাখেন।

উদাহরণস্বরূপ: কোনো একটি অঞ্চলে প্রথমবারের মতো কোর্স আয়োজনের জন্য সেটি নির্বাচন করা, চাই তা সৌদি আরব রাজ্যের ভেতরে হোক বা বাইরে, সেক্ষেত্রে উত্তম হলো যে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
يستشيروا مَنْ أقام دوراتٍ ناجحةً، ودروسًا علميةً ناجحةً؛ لأن المؤمن يستشير، وما خاب من استشارَ.

وفشلت بعضُ الدورات لعدمِ الخبرة، ولعدم الاستشارة.

فليس تنظيمُ الدورات ترتيبًا على الورق، فلما حضر الناسُ والزمان والمكان صار هناك نوعٌ من الخلل.

فلا بدّ من النظر في حال الدورات التي نجحتْ، كيف نجحتْ؟

والمهم من الدورات أن يعتني المنظمون في إفادة الطلاب.

ومعلوم أن المشاركين منهم مَنْ يناسب للمحاضرات، لكن قد لا يجيد فنَّ التعليمِ، ولو أجاد فنّ التعليم فقد لا يجيد فنّ التدريس في هذه الدورات المكثّفة، وأيضًا منهم مَنْ لا يُحْسِنُ مخاطبةَ الطلاب في هذا الوقت الوجيز بالعلم الذي يُحْسِنُهُ.

فالمنظمون يحتاجون إلى رعاية المكان وتهيئته، وإلى رعاية الزمان، واختيارِ المدرسِ، واختيارِ الفنون، واختيارِ الموضوعات، واختيارِ الكُتُبِ والمتونِ.

كل ذلك بحاجة إلى دِقَّةٍ. وهذه لا يستطيعها كلُّ أحدٍ.

ولهذا كان من حسنات الإخوة القائمين على هذه الدروس العلمية في مسجد شيخ الإسلام ابن تيمية، وفي مقدمتهم الأخُ: فهدُ الغراب - وفّقه الله للخير، وغيرُه من الإخوة أنهم يستشيرون أهلَ
তারা যেন এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেন যারা সফল কোর্স এবং সফল ইলমি দরস পরিচালনা করেছেন; কারণ মুমিন পরামর্শ করে, আর যে পরামর্শ গ্রহণ করে সে কখনো ব্যর্থ হয় না।

অভিজ্ঞতার অভাব এবং পরামর্শ না করার কারণে কিছু কোর্স ব্যর্থ হয়েছে।

কোর্স বা দাওরা আয়োজন করা কেবল কাগজে-কলমে বিন্যাস করা নয়। কারণ যখন মানুষ, সময় এবং স্থান সমবেত হয়, তখন সেখানে এক প্রকার ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।

তাই যে দাওরাগুলো সফল হয়েছে সেগুলোর অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করা জরুরি; কীভাবে সেগুলো সফল হলো?

আর দাওরাগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আয়োজকদের শিক্ষার্থীদের উপকার প্রদানের (إفادة) প্রতি যত্নশীল হওয়া।

এটি সুবিদিত যে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ আলোচনার জন্য উপযুক্ত হলেও হয়তো শিক্ষাদান শিল্পে পারদর্শী নন। আবার তিনি শিক্ষাদান শিল্পে পারদর্শী হলেও এই নিবিড় দাওরাগুলোতে পাঠদানের পদ্ধতিতে দক্ষ নাও হতে পারেন। আবার তাদের মধ্যে এমনও কেউ থাকতে পারেন যিনি যে বিদ্যায় পারদর্শী, সেই বিদ্যায় এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সম্বোধন বা পাঠদানে পারঙ্গম নন।

সুতরাং আয়োজকদের জন্য প্রয়োজন স্থানের প্রতি লক্ষ্য রাখা ও তা প্রস্তুত করা, সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা, শিক্ষক নির্বাচন করা, শাস্ত্রসমূহ (الفنون) নির্বাচন করা, বিষয়বস্তু নির্বাচন করা এবং কিতাব ও মূল পাঠসমূহ (المتون) নির্বাচন করা।

এসব কিছুর জন্য সূক্ষ্মতা প্রয়োজন। আর এটি সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

এই কারণেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া মসজিদে এই ইলমি দরসগুলো পরিচালনাকারী ভাইদের—যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ভাই ফাহাদ আল-গুরাব (আল্লাহ তাকে কল্যাণের তাওফিক দিন) এবং অন্যান্য ভাইগণ—অন্যতম একটি প্রশংসনীয় দিক হলো তারা বিজ্ঞ ব্যক্তিদের (أهل العلم) সাথে পরামর্শ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
العلمِ فيما يَحْسُنُ اختياره من الموضوعات والفنون والمتون.

وأهلُ العلم على خبرة في المناسب وغير المناسب، يعرفون ذلك من الدورات الماضية، فَمَتْنُ كذا لا يصلح لتفرقِ مادَّته، أو ضعفِ أسلوبه، أو عدم اشتماله على كلِّ ما يُحتاجُ إليه في هذا الفن، أو ما أَشْبَهَ ذلك.

فالترتيبُ مع مَنْ يُحْسِنُ العلمَ فيمن يُنَظِّم هذه الدورات أمرٌ مهمٌ.
জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়, শাস্ত্র এবং মূল পাঠসমূহ (متون) এর মধ্য থেকে যা নির্বাচন করা উত্তম, সে বিষয়ে জ্ঞান রাখা।

আর আলেমগণ উপযুক্ত এবং অনুপযুক্ত বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ; তারা বিগত কোর্সসমূহ থেকে এটি জানেন যে, অমুক মূল পাঠ (متن) তার বিষয়বস্তুর অসংলগ্নতা, অথবা তার রচনাশৈলীর দুর্বলতা (ضعف), অথবা উক্ত শাস্ত্রে প্রয়োজনীয় সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত না থাকার কারণে কিংবা এই জাতীয় অন্য কোনো কারণে উপযুক্ত নয়।

সুতরাং যারা এই কোর্সগুলো পরিচালনা করেন, তাদের মধ্যে যারা জ্ঞান সম্পর্কে পারদর্শী তাদের সাথে সমন্বয় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[الركن الثاني المعلِّم]

الركن الثاني: المعلِّم هو الشيخُ الذي سيلقي الدروس.

ولا شكّ أن المشايخ يختلفون في استعداداتهم؛ لأنّ الله - جلَّ وعلا - وَهَبَ الناسَ مواهب، وقد يَهَبُ المتأخِّرَ ما فاتَ على المتقدِّمِ، وقد يَهَبُ الصغيرَ ما لم يدركْه الكبيرُ، وقد يكون المتوسطُ في السنّ أقربَ إلى الشباب من جهة إلقاء الدروس.

قد يُعْطَى متنٌ لمدةٍ وجيزةٍ، قد يكون هذا المتنُ يمكن تدريسُه في سنةٍ، على أن يكون في كل أسبوع درسٌ، وينجح مَنْ يُدَرِّسُهُ. فلو كانتِ المدةُ أسبوعًا ربما لم يستطع ذلك الذي يستطيع إنهاءَه في سنة، فيشرح ثلاثَ ورقاتٍ، أو أربعَ ورقاتٍ ثم يتركُ أكثرَ من ثلثيِ المتن بلا شرحٍ.

لذا يحسن في المعلِّم أن يقسِّم المتنَ على الزمن.

والذي حَصَلَ في دوراتٍ سابقة في هذا المسجد أو في غيره أنّ عِلْمَ المعلمِ (الشيخ) كان أكبرَ من زمن الدورة، فكان يفصِّل تفصيلاتٍ كثيرةً مفيدةً، فضاق عليه الوقتُ فتركَ الطلابَ من دون إتمامِ هذا المتنِ.

وفي هذه الحالة تفوت الفائدةُ عمن يحضر هذه الدوراتِ، وقد يبلغ العددُ إلى المئات. أما الذين يستفيدون من الأشرطة المسجَّلة
[দ্বিতীয় স্তম্ভ: শিক্ষক]

দ্বিতীয় স্তম্ভ: শিক্ষক হলেন সেই শাইখ যিনি পাঠদান করবেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শাইখগণ তাদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকেন; কারণ আল্লাহ -জল্লা ওয়া আলা- মানুষকে বিভিন্ন প্রতিভা দান করেছেন। তিনি কখনো পরবর্তী (متأخر) স্তরের কাউকে এমন কিছু দান করেন যা পূর্ববর্তী (متقدم) স্তরের কারো কাছে ছিল না। আবার কখনো ছোট কাউকে এমন প্রজ্ঞা দান করেন যা বড় কেউ অর্জন করতে পারেনি। আবার বয়সে মধ্যবয়স্ক কেউ পাঠদানের ক্ষেত্রে যুবকদের জন্য অধিকতর সহজবোধ্য হতে পারেন।

কখনো একটি মূলপাঠ (متن) স্বল্প সময়ের জন্য প্রদান করা হয়, অথচ হয়তো সেই মূলপাঠটি (متن) এক বছরে পাঠদান করা সম্ভব—এই শর্তে যে প্রতি সপ্তাহে একটি করে পাঠ হবে এবং যিনি এটি পড়াবেন তিনি সফল হবেন। কিন্তু সময়কাল যদি মাত্র এক সপ্তাহ হয়, তবে যিনি এক বছরে তা শেষ করতে সক্ষম তিনি হয়তো তা পারবেন না; ফলে তিনি তিন বা চার পৃষ্ঠা ব্যাখ্যা করবেন এবং তারপর মূলপাঠের (متن) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ ব্যাখ্যা ছাড়াই রেখে দেবেন।

তাই শিক্ষকের জন্য উচিত হলো সময় অনুযায়ী মূলপাঠকে (متن) বণ্টন করে নেওয়া।

এই মসজিদে বা অন্য কোথাও পূর্ববর্তী কোর্সগুলোতে যা ঘটেছে তা হলো, শিক্ষকের (শাইখ) ইলম কোর্সের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তিনি অনেক উপকারী ও বিস্তারিত আলোচনা করতেন, ফলে সময় সংকীর্ণ হয়ে আসত এবং তিনি এই মূলপাঠটি (متن) সমাপ্ত করা ছাড়াই ছাত্রদের রেখে যেতেন।

এই পরিস্থিতিতে যারা এই কোর্সগুলোতে উপস্থিত হয় তারা সুফল থেকে বঞ্চিত হয়, যাদের সংখ্যা শত শত পর্যন্ত হতে পারে। আর যারা রেকর্ডকৃত ফিতা (ক্যাসেট) থেকে উপকৃত হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فربما يزيد على مئات الآلاف.

وقد حدَّثني بعضُ الإخوة من الدعاةِ ممن زار بعض البلاد في أفريقيا أو أوربا أنه وَجَدَ فيها الدوراتِ التي أقيمتْ في هذا المسجد أو في غيره مسجَّلة على الأشرطة، ولكنَّ الناس ينتفعونَ بالكتاب أو بالمتن الذي يُشْرَحُ كاملاً.

فعلى المعلِّم أن يرتّب الزمن، وأن لا ينساقَ وراءَ المعلومة فينقضي الزمنُ، ولم يُنْهِ من الكتابِ إلا صفحةً أو صفحتين.

لهذا يتحتمُ على القائمين على الدورات أن ينبِّهوا الشيخَ فيما لو استطرد في البداية بعد مضي درسٍ أو درسين.

فيجب المحافظةُ على الزمن، والاهتمامُ به، وأن يكون الشرحُ متواكبًا مع قصر المدة.

فإذًا اختيارُ المعلِّمِ مهمٌ، فمنهم من يحسنُ الدروس لكن بتحضيرٍ كبير، فأحيانًا يحتاج المعلمُ إلى تحضيرٍ، وأحيانًا يكون التحضيرُ سببًا في إطالة المادّةِ والموضوعِ والإلقاءِ، فيأتي المعلِّمُ إلى إلقاء الدرس فتتزاحمُ عليه المعلوماتُ فيلقيها ولكنَّ الطالبَ لا يحتاجها في شرح هذا الكتاب؛ لأنّ الإلمامَ في المتن كاملاً هو المهم.

فالتفصيلاتُ والنقولاتُ من الكُتُبِ لا تتناسبُ مع الدورات العلمية المكثَّفة.
হয়তো এটি কয়েক লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যাবে।

আফ্রিকা বা ইউরোপের কিছু দেশ সফরকারী জনৈক দাঈ ভাই আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি সেখানে এই মসজিদে বা অন্য কোথাও অনুষ্ঠিত কোর্সগুলো ক্যাসেটবন্দী অবস্থায় রেকর্ডকৃত পেয়েছেন; তবে মানুষ সেই কিতাব বা মূল পাঠ (متن) থেকেই বেশি উপকৃত হয় যা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কাজেই শিক্ষককে সময়ের সঠিক বিন্যাস করতে হবে এবং তথ্যের প্রবাহে এমনভাবে ভেসে যাওয়া যাবে না যাতে সময় শেষ হয়ে যায় অথচ কিতাবের মাত্র এক বা দুই পৃষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে।

এজন্য কোর্স পরিচালনাকারীদের কর্তব্য হলো শায়খকে সতর্ক করা, যদি তিনি শুরুর দিকে এক বা দুই পাঠ অতিবাহিত হওয়ার পর মূল প্রসঙ্গের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক বিস্তারিত আলোচনায় চলে যান।

সুতরাং সময়ের হেফাযত করা ও এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক এবং ব্যাখ্যাটি যেন স্বল্প সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

অতএব শিক্ষক নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা চমৎকার পাঠদান করেন তবে তার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। কখনো শিক্ষকের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, আবার কখনো অতিরিক্ত প্রস্তুতিই বিষয়বস্তু, প্রসঙ্গ ও উপস্থাপনা দীর্ঘ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় শিক্ষক যখন পাঠদান করতে আসেন, তখন তথ্যের আতিশয্য তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং তিনি তা ব্যক্ত করতে থাকেন; অথচ কিতাবটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ছাত্রের সেই তথ্যের প্রয়োজন থাকে না। কেননা মূল পাঠ (متن) পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করাই এখানে মূল লক্ষ্য।

কেননা কিতাবসমূহ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও উদ্ধৃতি প্রদান করা নিবিড় ইলমি কোর্সগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فالمعلِّم في الدورات يهتم بعرض المتن بإيضاح عبارته، وبيان مقصودِ المؤلفِ مع الاستدلالِ عليها والمرورِ على ذلك سريعًا بلا إخلال.

وهذا يحتاج إلى دُرْبَةٍ، وعلمٍ حاضرٍ في كلِّ الفنِّ، وتحضيرٍ قليلٍ.

كما أن المعلِّم عليه أن يسلك طريقَ التسهيل في إلقاء المعلومات، مع طَرْحِ الفوائدِ؛ لأنّ طلبة العلم لا يستمرون إذا لم يجدوا الفوائد العلمية.

ومن متطلبات المعلِّم أن يكون متمكنًا في المادة العلمية، وأن تكونَ ملكتُه قابلةً، ولغتُه قريبةً واضحةً.

وأن يكون مبتعدًا عن التقعُّرِ في الكلام، والتشدُّقِ.

ولا ينبغي أن يقاطعَ الطلابُ المعِّلمَ بأسئلةٍ تُخِلُّ بالتسجيل.

وفائدةُ الموجودين تتحققُ بشرح الدروس وحفظها.

وفائدةُ غير الموجودين تتحقق بسماع الدروس المسجَّلة على أشرطةٍ، كشرح كتاب التوحيد لإمام الدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وشرحِ الواسطية، وتفسير القرآن لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

وشرح الشيخ محمدِ بنِ إبراهيمَ رحمه الله، وشرح سماحة الشيخ عبدِ العزيز بنِ باز رحمه الله ورَفَعَ درجته في الجنة وألحقه
সুতরাং এই কোর্সগুলোতে শিক্ষক মূল পাঠ্য (متن) উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর শব্দমালার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং লেখকের উদ্দেশ্য বর্ণনা করার দিকে গুরুত্ব প্রদান করেন, সেই সাথে এর সপক্ষে দলীল পেশ করেন এবং কোনো প্রকার অসংগতি ছাড়াই দ্রুততার সাথে তা সম্পন্ন করেন।

আর এটি অর্জনের জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের প্রতিটি শাখায় তাৎক্ষণিক জ্ঞান এবং সামান্য প্রস্তুতি।

তদ্রূপ শিক্ষকের উচিত তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সহজসাধ্য পদ্ধতি অবলম্বন করা এবং সাথে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগর্ভ বিষয়সমূহ উপস্থাপন করা; কেননা ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীরা যদি ইলমি ফায়দা না পায়, তবে তারা পাঠে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে না।

আর শিক্ষকের অন্যতম আবশ্যিক গুণ হলো সংশ্লিষ্ট পাঠ্যবিষয়ে পারদর্শী হওয়া, তার বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা গ্রহণক্ষম হওয়া এবং তার ভাষা প্রাঞ্জল ও স্পষ্ট হওয়া।

তাকে ভাষার কৃত্রিমতা ও বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তা থেকে দূরে থাকতে হবে।

আর ছাত্রদের উচিত হবে না এমন কোনো প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষককে বাধা দেওয়া, যা রেকর্ডিং-এ বিঘ্ন ঘটায়।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপকার সাধিত হয় পাঠের ব্যাখ্যা ও তা মুখস্থ করার মাধ্যমে।

আর যারা অনুপস্থিত, তাদের উপকার সাধিত হয় ক্যাসেটে ধারণকৃত পাঠগুলো শোনার মাধ্যমে; যেমন—ইমামুদ দাওয়াহ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা, আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসীরুল কুরআন।

এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যা ও শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যা—আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بالصدِّيقين -، وكذلك شروحُ عددٍ من مشايخنا كالشيخ ابنِ عثيمين رحمه الله، والشيخ صالحٍ الفوزانِ - حفظه الله -، وهذه الدروس مسجلة.

لذا على المعلِّم أن يَتَنَبَّهَ إلى أن دروسَه محفوظةٌ، وربما سيستفاد منها بعدَ مئة عام.

فإذا كان الجميعُ منصتًا واعيًا كان المعلِّم أنشطَ في إلقاء العلم، لهذا كان " سفيانُ " و " مالكٌ " - رحمهما الله - وغيرُهما من أهل العلم يقول:

كنا إذا نَشِطْنَا أسندنا - يعني: الحديث - وإذا كَسِلْنَا أرسلْنا - يعني: من دون ذكر إسناد -.

إذًا ذلك راجعٌ إلى الوضعِ النفسي للمعلِّم.

كما أنه راجعٌ إلى المُتَلَقِّي.

فحركةُ الطالبِ واستعدادُه وتلقيه وحسنُ إنصاته، وحسنُ كتابته يُنَشِّطُ المعلِّمَ لطرحِ الفوائدِ العلميةِ.

وسلاحُ الطالبِ القلمُ والورقُ.

والمهمُّ أن يتعاون المعلِّم والطالبُ في إنجاح الدروس المسجَّلة، وخُصِّصَتْ هذه الدوراتُ العلميةُ للمتوسطين من الطلاب.

فالمعلِّمُ يستعملُ أسلوبًا في بيانه لا يرتفعُ عنه الحاذقُ، ولا
...সত্যবাদীদের (بالصديقين) সাথে—, একইভাবে আমাদের বেশ কয়েকজন শাইখের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ যেমন শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ সালেহ আল-ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যা, এবং এই পাঠগুলো রেকর্ডকৃত।

তাই শিক্ষকের সচেতন থাকা উচিত যে তার পাঠগুলো সংরক্ষিত রয়েছে এবং সম্ভবত একশ বছর পরেও এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া যাবে।

যখন সকলেই মনোযোগী ও সচেতন থাকে, তখন শিক্ষক ইলম প্রদানে অধিকতর উদ্যমী হন। এই কারণেই "সুফিয়ান" ও "মালিক" (রহিমাহুমাল্লাহ) এবং অন্যান্য আহলে ইলমগণ বলতেন:

"যখন আমরা উদ্যমী থাকতাম তখন আমরা সনদযুক্ত (أسندنا) করতাম—অর্থাৎ হাদিস—আর যখন আমরা অবসাদগ্রস্ত থাকতাম তখন আমরা বিচ্ছিন্ন (أرسلْنا) করতাম—অর্থাৎ সনদ উল্লেখ না করেই বর্ণনা করতাম।"

সুতরাং এটি শিক্ষকের মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

ঠিক তেমনি এটি ইলম গ্রহণকারীর ওপরও নির্ভরশীল।

ছাত্রের সক্রিয়তা, প্রস্তুতি, গ্রহণ করার মানসিকতা, উত্তম শ্রবণ এবং সুন্দরভাবে লিখে নেওয়া শিক্ষককে ইলমি উপকারিতা (الفوائد) উপস্থাপনে উৎসাহিত করে।

আর ছাত্রের হাতিয়ার হলো কলম ও কাগজ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রেকর্ডকৃত পাঠগুলোকে সফল করতে শিক্ষক ও ছাত্রের পরস্পরকে সহযোগিতা করা। এই ইলমি কোর্সগুলো মধ্যম স্তরের (المتوسطين) ছাত্রদের জন্য বিশেষায়িত করা হয়েছে।

তাই শিক্ষক তার বর্ণনায় এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করবেন যা থেকে দক্ষ (الحاذق) ব্যক্তিও বিমুখ হবে না, এবং না...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
يتقاصَرُ عنه الريِّضُ المبتدِئُ، بل يكونُ أسلوبُه بينَ بينَ.

وهذه صفة الربانِيِّينَ من العلماءِ فيما وَصَفَهُمُ اللهُ - جلَّ وعلا - بقوله:. {وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} [آل عمران: 79] (1) .

والله - جلَّ وعلا - وَصَفَ الربانيَّ من أهل العلم بأنه الذي يتعلَّمُ ويُدَرِّسُ، أما الذي يتعلّم ويستغني عن التدريس فهذا ليس من الربانِيِّينَ.

قال " أبو عبدِ اللهِ البخاريُّ ":

(الربانيُّ هو الذي يُعلِّمُ الناسَ صغار العلم قبل كباره) يعني: بحسب الحاجة.

والنبيُّ صلى الله عليه وسلم أُوتي جوامعَ الكلمِ، فإن كان الكلامُ مختصرًا مفيدًا فَهِمَهُ العاميُّ والذكيُّ والبليدُ والحاضرُ والبادي. . .

فالمعلِّم يفيد طلابه المتوسطينَ التعريفاتِ والضوابطَ والقواعدَ.

ويتجنب المعلِّمُ في الدورات الأساليبَ الإنشائية (يعني: الوصفية) والاستطرادات في الوصف.

لأن الطالبَ يريد أن يكتب مباشرة الضوابطَ والتقاسيم، كأنْ يقولَ المُعلِّم: ضابطُ الشركِ الأكبرِ كذا، وضابطُ الشركِ الأصغرِ كذا.

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 79.
একজন শিক্ষানবিশ (مبتدئ) শিক্ষার্থীর জন্য এটি আয়ত্ত করা কঠিন হয়, বরং তার ভঙ্গি হওয়া উচিত মাঝামাঝি পর্যায়ের।

আর এটিই হলো আলেমদের মধ্যে রব্বানী (رباني)গণের গুণবৈশিষ্ট্য, যে সম্পর্কে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {বরং তোমরা রব্বানী (رباني) হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে} [আল-ইমরান: ৭৯] (১)।

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ইলম অর্জনকারীদের মধ্যে তাকেই রব্বানী (رباني) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যিনি নিজে শিক্ষা করেন এবং অন্যকে শিক্ষা দেন। পক্ষান্তরে, যে শিক্ষা গ্রহণ করে কিন্তু শিক্ষকতাকে পরিহার করে, সে রব্বানী (رباني)গণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

“আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি” বলেন:

(রব্বানী হলেন তিনি, যিনি মানুষকে জ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোর আগে প্রাথমিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেন) অর্থাৎ: প্রয়োজন অনুযায়ী।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণী (جوامع الكلم) প্রদান করা হয়েছে। কথা যদি সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হয়, তবে তা সাধারণ মানুষ (عامي), বুদ্ধিমান, স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন এবং শহর ও গ্রামের অধিবাসী—সকলেই বুঝতে পারে।

সুতরাং শিক্ষক তার মধ্যম স্তরের (متوسط) শিক্ষার্থীদের সংজ্ঞা (تعريفات), নীতিমালার মাপকাঠি (ضوابط) এবং মূলনীতিসমূহ (قواعد) প্রদানের মাধ্যমে উপকৃত করবেন।

শিক্ষক বিভিন্ন কোর্সসমূহে আলংকারিক বা বর্ণনামূলক (وصفي) পদ্ধতি এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করবেন।

কেননা শিক্ষার্থী সরাসরি নীতিমালার মাপকাঠি (ضوابط) এবং প্রকারভেদসমূহ (تقاسيم) লিখে নিতে চায়। যেমন শিক্ষক বলবেন: শিরকে আকবরের মাপকাঠি (ضابط) হলো এই, আর শিরকে আসগরের মাপকাঠি (ضابط) হলো এই।

--------------------------------------------

(১) আল-ইমরান: ৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وما الفرقُ بين الشركِ الأصغرِ والخفيِّ؟

وكأنْ يقولَ مثلاً: تنقسم هذه المسألةُ إلى أربعةِ أقسامٍ. . وغير ذلك.

وهذا هو الذي يبقى مع الطالب، وهو الذي يفتح له ما اسْتُغْلِقَ من العلمِ.

وأما الأساليبُ الإنشائية فيأخذها الطالبُ من القراءةِ، ولكنَّ المفيدَ هو الفروقُ الدقيقة، والمُعلِّمُ يفتح للطالبِ في الدوراتِ الآفاق الواسعةَ.

هذا فائدةُ التلقي من الشيخ، ولولا الفوائدُ والفروقُ في المسائل المتشَابهةِ لما كانت هناك مزيةٌ لهذه الدروس. بل يستوي ذلك مع أخذِ الطالبِ العِلمَ من الكُتُبِ من دون مُعَلِّمٍ.

وقد تجد بعضَ كتبِ المتقدمين في الفقه والعقيدة يعرضُ الأنواعَ بطريقةِ العطف بالواو أو بأو.

كقولهم: الماءُ طاهرٌ، وطَهُورٌ، ونجسٌ، ومشكوكٌ فيه.

وكقولهم: الشرك أكبرُ، وأصغرُ، وخفيٌّ.

فعلى المُعلِّم أن يُسَهِّلَ فيقول: القسم الأول، القسم الثاني، القسم الثالث، وهكذا. . .

أو يقول: النوعُ الأولُ، النوعُ الثاني، النوعُ الثالث، وهكذا. . .
ছোট শিরক (الشرك الأصغر) এবং গোপন শিরকের (الشرك الخفي) মধ্যে পার্থক্য কী?

যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা: এই বিষয়টি চারটি ভাগে বিভক্ত... ইত্যাদি।

আর এটিই শিক্ষার্থীর নিকট অবশিষ্ট থাকে এবং এটিই তার জন্য ইলমের রুদ্ধ বিষয়গুলো উন্মোচন করে দেয়।

আর বর্ণনামূলক শৈলীগুলো (الأساليب الإنشائية) শিক্ষার্থী পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করতে পারে, কিন্তু অধিক উপকারী বিষয় হলো সূক্ষ্ম পার্থক্যসমূহ; আর শিক্ষক বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জন্য প্রশস্ত দিগন্ত উন্মোচন করে দেন।

শাইখের নিকট থেকে সরাসরি পাঠ গ্রহণের (التلقي) ফায়দা এটিই; যদি সদৃশ মাসআলাগুলোর মধ্যে এমন বিশেষ উপকারিতা ও সূক্ষ্ম পার্থক্যসমূহ না থাকত, তবে এই পাঠগুলোর কোনো বিশেষত্ব থাকত না। বরং তখন শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই বই থেকে ইলম অর্জনের বিষয়টি সমান স্তরের হয়ে যেত।

আপনি ফিকহ ও আকীদার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিশেষজ্ঞগণের (المتقدمون) কিছু কিতাবে পাবেন যে, তারা প্রকারভেদগুলোকে কেবল 'ওয়াও' অথবা 'আও' অব্যয় যোগে আতফ (عطف) করার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

যেমন তাদের উক্তি: পানি হলো পবিত্র (طاهر), পবিত্রকারী (طهور), অপবিত্র (نجس) এবং সন্দেহযুক্ত (مشكوك فيه)।

অথবা তাদের উক্তি: শিরক হলো বড় (أكبر), ছোট (أصغر) এবং গোপন (خفي)।

এমতাবস্থায় শিক্ষকের কর্তব্য হলো বিষয়টি সহজ করে দেওয়া এবং বলা: প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ, তৃতীয় ভাগ ইত্যাদি...

অথবা বলা: প্রথম প্রকার, দ্বিতীয় প্রকার, তৃতীয় প্রকার ইত্যাদি...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومثل ذلك يفعل في المسائل الخلافية فيذكرُ المسألةَ والأقوالَ فيها مُرَتَّبَةً، كأن يقولَ: القولُ الأولُ، ودليلهُ، ووجهُ الاستدلالِ منه. ثم يذكر القولَ الثاني، وهكذا، ثم يذكر الترجيحَ الذي يظهرُ له، وقد لا يكونُ راجحًا عند غيره.

ومن المهم - أيضًا - أن الطالبَ لا ينظرُ للمُعلِّم في الدورات أنه إمامٌ في كل شئ، ولو كان أستاذًا في الجامعة أو غيرها.

لأنه سينصرفُ عن المُعلِّم لو وَجَدَ فيه قصورًا، فلا يستفيدُ عندئذٍ من أحدٍ إلا من أُناسٍ كما وصفهم " الذهبي " بقوله: " كدتُ لا أراهم إلا في كتابٍ، أو تحتَ أطباقِ ترابٍ ".

لا تشترطْ في المُعلِّم شرطًا صعبًا، فتنتقد هذا، وتنتقد هذا، المهم في المُعلِّم أن يلقي العلمَ وهو متقٍّ لله - تعالى - فيه، لا ينسبُ لله - جلَّ وعلا - ولا لرسوله صلى الله عليه وسلم أو لدينِ الإسلامِ أو للعلمِ الشرعيِّ ما لا يَعْرِفُهُ من كلام أهل العلم، ولا يُدْخِلُ اجتهاداتِه الشخصيةَ في العلم؛ لأَنَّ المقصودَ في الدروسِ العلمية نقلُ العلمِ كما نقله العلماءُ.

والعلمُ في هذه الأمة هو قالَ اللهُ، وقالَ رسولُه، وقال الصحابةُ، وقالَ أهلُ العلم.

فإذًا لا تشترطْ شروطًا صعبةً في المُعلِّم، لئلا تُسيء به الظنَّ
অনুরূপভাবে মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহেও করা উচিত। সেখানে মাসআলা এবং সে সম্পর্কে বিদ্যমান মতামতগুলো সুশৃঙ্খলভাবে উল্লেখ করতে হবে। যেমন বলা: প্রথম মত, এর দলীল এবং দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি। এরপর দ্বিতীয় মতটি উল্লেখ করা এবং এভাবে এগিয়ে যাওয়া। এরপর তার নিকট যা অগ্রগণ্য (راجح) মনে হয় তা উল্লেখ করা, যদিও তা অন্যের কাছে অগ্রগণ্য (راجح) নাও হতে পারে।

এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোর্সে শিক্ষককে সব বিষয়ে ইমাম হিসেবে গণ্য করবে না, যদিও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বা অন্য কিছু হন।

কারণ শিক্ষকের মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা খুঁজে পেলে সে তাঁর থেকে বিমুখ হয়ে যাবে; তখন সে এমন ব্যক্তিবর্গ ছাড়া আর কারো থেকে উপকৃত হতে পারবে না যাদের সম্পর্কে "আয-যাহাবী" তাঁর উক্তিতে বর্ণনা করেছেন: "আমি তাদের কেবল কিতাবের পাতায় অথবা মাটির নিচেই দেখতে পাই।"

শিক্ষকের ব্যাপারে কোনো কঠিন শর্তারোপ করো না, যাতে তুমি এর সমালোচনা করো কিংবা ওর সমালোচনা করো। শিক্ষকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি আল্লাহ তাআলার প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করে ইলম প্রদান করবেন। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ইসলাম ধর্ম বা শরয়ি ইলমের প্রতি এমন কিছু সম্বন্ধ করবেন না যা তিনি আলেমদের বক্তব্য থেকে জানেন না। আর ইলমের মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রবেশ করাবেন না; কারণ ইলমি দরসগুলোর উদ্দেশ্য হলো ইলমকে সেভাবেই পৌঁছে দেওয়া যেভাবে উলামায়ে কেরাম তা বর্ণনা করেছেন।

আর এই উম্মতের মাঝে ইলম হলো—আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রাসূল বলেছেন, সাহাবীগণ বলেছেন এবং উলামায়ে কেরাম বলেছেন।

সুতরাং শিক্ষকের ব্যাপারে কোনো কঠিন শর্তারোপ করো না, যাতে তাঁর প্রতি তোমার কুধারণা সৃষ্টি না হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فَتُحْرَمَ منه الفائدةَ، ولا تشترطْ فيه أن لا يهفو في مسألةٍ، أو أن لا يخطئ فيها، وبخاصة في الدورات العلمية.

فقد تجد عند الطالب معلومةً لا تكون عند المُعلِّمِ فيستفيد المُعلِّمُ من الطالب.

كان " ابنُ الخشَّابِ الحنبليُّ " يقول: " أنا تلميذُ تلامذتي ". هذا صحيح لأَنَّ المعلمَ يستفيد، والطالبَ يستفيد، وهكذا.

فالمُعلِّم المتخرِّج حديثًا الذي يدرِّسُ في وزارة المعارف في المتوسط أو في المدارس الثانوية أو في الكلية، أولُ ما يدرِّس قد يستفيد من الطلاب كثيرًا، ومع طول المدة تقلّ استفادتُه منهم، ويصبح يفيد أكثر مما يستفيد؛ لأن أمامَه عقولاً تناقشُه فيما يقول فيركِّز ويستعد، لكن قد تأتي مسألةٌ، والذي يحفظه الشيخُ فيها قولٌ مرجوحٌ، أو غيرُ صحيحٍ، أو ليس هو التحقيقَ، وقد يفوته شئ، وقد يغلط في نسبة حديثٍ أو ما أشبه ذلك. والطالبُ قد يعرف الصوابَ في هذه المسألة. . .

إذًا فالعلم يُستفاد في الدورات بين المُعلِّم والمتعلم، فلا يترفع المُعلِّمُ عن أن يأخذَ الفائدةَ من الطالب، ولا يستحي الطالب فيمتنع من أن يفيد المُعلِّم، لكن يراجع الطالبُ مُعَلِّمَهُ بأدبٍ وحياءٍ على سبيل الاستفهام.
ফলে আপনি তার থেকে উপকার লাভে বঞ্চিত হবেন। আর শিক্ষকের ক্ষেত্রে আপনি এমন শর্তারোপ করবেন না যে, তিনি কোনো মাসআলায় পদস্খলিত হবেন না কিংবা তাতে ভুল করবেন না, বিশেষ করে ইলমী সেমিনার বা কোর্সগুলোতে।

কেননা কখনও ছাত্রের কাছে এমন তথ্য থাকতে পারে যা শিক্ষকের কাছে নেই, ফলে শিক্ষক ছাত্রের থেকে উপকৃত হন।

"ইবনুল খাশশাব আল-হানবালী" বলতেন: "আমি আমার ছাত্রদের ছাত্র।" এটি সঠিক, কারণ শিক্ষক উপকৃত হন এবং ছাত্রও উপকৃত হয়; বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে।

একজন সদ্য স্নাতক সম্পন্নকারী শিক্ষক যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা কলেজে শিক্ষকতা করেন, তখন শিক্ষকতার শুরুর দিকে তিনি ছাত্রদের থেকে অনেক বেশি উপকৃত হতে পারেন। সময়ের ব্যবধানে তাদের থেকে তার উপকৃত হওয়ার পরিমাণ কমে আসে এবং তিনি উপকারের তুলনায় উপকারী ভূমিকা বেশি পালন করেন; কারণ তার সামনে এমন সব মেধা থাকে যারা তার বক্তব্যের ওপর পর্যালোচনামূলক আলোচনা করে, ফলে তিনি গভীর মনোযোগ দেন এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তবে কখনও এমন কোনো মাসআলা সামনে আসতে পারে যে ক্ষেত্রে শাইখের স্মৃতিস্থ বিষয়টি একটি অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) মত, কিংবা সেটি সঠিক (صحيح) নয়, অথবা তা যথাযথ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ নয়; কোনো বিষয় হয়তো তার অলক্ষ্যে থেকে যেতে পারে, কিংবা কোনো হাদিস বর্ণনা বা এ জাতীয় বিষয়ে তিনি ভুল (غلط) করতে পারেন। এমতাবস্থায় ছাত্র হয়তো সেই মাসআলায় সঠিক বিষয়টি অবগত থাকতে পারে। . .

সুতরাং ইলমী মজলিসগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে ইলম আদান-প্রদান ও উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই শিক্ষক যেন ছাত্রের কাছ থেকে কোনো তথ্য বা উপকার গ্রহণে অহঙ্কার না করেন, আর ছাত্রও যেন লজ্জাবোধ করে শিক্ষককে উপকৃত করা থেকে বিরত না থাকে। তবে ছাত্র তার শিক্ষককে শিষ্টাচার ও বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসার ভঙ্গিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করবে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فإذًا على الطالب أن لا يشترطَ شروطًا يصعبُ وجودُها إلا في الأئمة الأعلام، كأحمدَ بنِ حنبلٍ، أو البخاريِّ، أو ابنِ تيميةَ، وغيرِهم.

সুতরাং শিক্ষার্থীর উচিত এমন সব শর্তারোপ না করা যা প্রথিতযশা ইমামগণ, যেমন আহমদ বিন হাম্বল, বুখারি, কিংবা ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং অন্যান্যরা ব্যতীত অন্য কারো মাঝে পাওয়া দুষ্কর।

(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[الركن الثالث المتعلِّم نصائحُ لطالبِ العلمِ]

‌‌[النصيحة الأولى الإخلاصُ]

الركن الثالث: المتعلِّم هو طالبُ العلمِ الذي يحضر الدوراتِ، وله صفاتٌ وخصالٌ وسماتٌ.

نصائحُ لطالبِ العلمِ النصيحة الأولى: الإخلاصُ بأن يُخْلِصَ الرجاءَ في ربِّه الكريم، فيفتح قلبَه للعلم والاستفادة، والقلبُ تأتيه الشواغلُ والخواطرُ، فبينما هو ينصِتُ إذ يأتيه خاطرٌ يقطعُ عنه الاستفادة يريد أن يجمعَ نفسه فيصعبَ فتختلطَ عليه الفوائدُ فيلغي الأخيرُ الأولَ.

فإذًا لا بد من حسن اللجوء إلى الله - جلَّ وعلا - والدعاءِ في أن يمنحك الفِقهَ في الدين، والاستفادةَ والصبرَ على العلم؛ لأن العلم لا بدّ له من صبرٍ، وهذا بحاجةٍ إلى الإخلاص والصدق مع الله - جلَّ وعلا - وحسنِ التوجّه؛ لأن طلب العلم عبادةٌ.

«وإنَّ الملائكةَ لَتَضَعُ أجنحَتَها لطالبِ العلمِ رِضىً بما يَصْنَعُ، وإنَّ العالمَ لَيَسْتَغْفِرُ له مَنْ في السماوات ومَنْ في الأرضِ حتى الحيتانُ في الماءِ» (1) .

--------------------------------------------

(1) قطعة من حديث أخرجه أبو داود 3641، والترمذي 2683، وابن ماجه 223 من حديث أبي الدرداء رضي الله عنه.
[তৃতীয় স্তম্ভ: শিক্ষার্থী, ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উপদেশসমূহ]

[প্রথম উপদেশ: নিষ্ঠা (الإخلاص)]

তৃতীয় স্তম্ভ: শিক্ষার্থী হলেন সেই ইলম অন্বেষণকারী যিনি পাঠদান কর্মসূচি বা কোর্সসমূহে উপস্থিত হন, এবং তাঁর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য, স্বভাব ও গুণাবলি রয়েছে।

ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উপদেশসমূহ; প্রথম উপদেশ: নিষ্ঠা (الإخلاص)। তা হলো—তিনি যেন তাঁর মহান রবের প্রতি তাঁর প্রত্যাশাকে একনিষ্ঠ করেন, ফলে তিনি জ্ঞানার্জন ও উপকৃত হওয়ার জন্য তাঁর অন্তরকে উন্মুক্ত করবেন। আর অন্তরে বিভিন্ন ব্যস্ততা ও কুমন্ত্রণা আসে; এমতাবস্থায় যখন তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তখন তাঁর নিকট এমন কোনো চিন্তা বা খেয়াল আসে যা তাঁর উপকার লাভকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি তখন নিজেকে সংহত করতে চান কিন্তু তা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো তাঁর নিকট সংমিশ্রিত হয়ে যায় এবং পরবর্তী অংশটি পূর্বের অংশটিকে বিলুপ্ত করে দেয়।

একারণে মহান আল্লাহর নিকট সুন্দরভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং এই দুআ করা অপরিহার্য যে, তিনি যেন আপনাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (الفقه), ইলম থেকে উপকৃত হওয়ার সক্ষমতা এবং ইলম অর্জনে ধৈর্য দান করেন; কারণ ইলমের জন্য ধৈর্য ধারণ করা অপরিহার্য। আর এর জন্য মহান আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠা (الإخلاص) ও সততা এবং সঠিক অভিনিবেশ প্রয়োজন; কারণ ইলম অন্বেষণ করা একটি ইবাদত।

«নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর জ্ঞানীর জন্য আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির মাছও» (১) ।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ ৩৬৪১, তিরমিজি ২৬৮৩ এবং ইবনে মাজাহ ২২৩-এ বর্ণিত আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وهذه فضيلة عظيمة.

فَأَحْسِنْ - يا طالبَ العلمِ - الظنَّ باللهِ - جل وعلا - واللجوءَ إليه، بأن يفتح الله - جل وعلا - قلبَك للعلمِ، وأن يرسِّخَ العلمَ في قلبك.
এটি একটি মহান মর্যাদা।

অতএব, হে ইলম অন্বেষণকারী! তুমি মহান ও মহিয়ান আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করো এবং তাঁরই শরণাপন্ন হও; যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তোমার অন্তরকে ইলমের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং তোমার অন্তরে ইলমকে সুদৃঢ় করে দেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[النصيحة الثانية إعدادُ العدة كالقلم والورقِ]

فالقلمُ يتعاهدُه قبلَ الدرس وقد ركّز على ذلك " الخطيبُ " في (جامع الجامع) ، و " ابنُ عبد البر " في (الجامع لبيانِ العلمِ وفضله) وغيرهما.

ومن القصور أن يحضر الطالبُ، وينسى القلمَ، أو يكون فارغًا من الحبر.

وأما الورق فأن يعدَّ لكل فن دفترًا أو دفاترَ، وتكونَ منسقة، مرتبة، وهذا كله يتبع ترتيب الذهن.

فإذا كان الطالب مشوشًا في ذهنه ظَهَرَ أثرُ ذلك في علمه ودفاتره.

وينبغي على الطالب أن لا يكتبَ عددًا من العلوم في كراسة واحدةٍ، وأن يبتعد عن كتابة الحواشي على الكتاب فتتزاحم الكتابةُ فلا يهتدي إلى الرجوع إليها.

لهذا سئل الإمامُ أحمدُ عن الكتابة بالخط الصغير، قال: أكرهُهُ؛ لأنه لا يدري متى يُحتاج إليه، فربما احتاج إليه فلم يستطع استخراجَهُ. وهذا صحيح.

والحواشي على الكتب تأتي غير مستقيمة، ونازلة، ومتداخلة مع
[দ্বিতীয় উপদেশ: শিক্ষা উপকরণ যেমন কলম ও কাগজ প্রস্তুত রাখা]

পাঠ শুরু করার পূর্বে কলমের যত্ন নেওয়া উচিত। ‘আল-খাতিব’ তার ‘জামেউল জামে’ গ্রন্থে এবং ‘ইবনে আবদিল বার’ তার ‘জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ ও অন্যান্য লেখকগণ এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

কোনো শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিত হওয়া অথচ কলম ভুলে আসা কিংবা কলমের কালি ফুরিয়ে থাকা একটি ত্রুটি।

আর কাগজের ব্যাপারে করণীয় হলো—প্রত্যেকটি বিষয় (فن)-এর জন্য আলাদা খাতা বা একাধিক খাতা প্রস্তুত রাখা এবং সেগুলো সুবিন্যস্ত ও সুসংগঠিত রাখা। আর এসবই মূলত মানসিক শৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করে।

শিক্ষার্থী যদি মানসিকভাবে অগোছালো থাকে, তবে তার প্রভাব তার ইলম এবং খাতাপত্রেও প্রকাশ পায়।

শিক্ষার্থীর জন্য উচিত নয় একাধিক জ্ঞানশাখা (علوم)-এর পাঠ একটি মাত্র খাতায় লিখে রাখা। অনুরূপভাবে মূল বইয়ের ওপর পার্শ্বটীকা (حواشي) লেখা থেকেও বিরত থাকা উচিত; কারণ এতে লেখাগুলো গাদাগাদি হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণেই ইমাম আহমাদকে ক্ষুদ্রাক্ষরে লেখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “আমি একে অপছন্দ করি; কারণ কেউ জানে না কখন সেটির প্রয়োজন পড়বে। হয়তো এমন সময় তার সেটি প্রয়োজন হলো, যখন সে তা পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হলো না।” আর এটিই সঠিক।

আর বইয়ের ওপর পার্শ্বটীকা (حواشي) সাধারণত অগোছালো, নিম্নমুখী এবং একটি অন্যটির সাথে মিলেমিশে থাকে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أسطر الطباعة وقد يكون الخطُّ غيرَ حسن.

والورقُ - والحمد لله - في هذه الأيام متوفرٌ، ورخيصٌ.

وأما الكتابةُ في الكراريس فلها نظام:

يأخذُ المتنَ الذي يدرسه بأن يجعل عليه أرقامًا متسلسلةً، من واحد إلى الأخير. وكلُّ مسألةٍ علَّقَ عليها المُعلِّمُ يجعلها في صفحة مستقلة. ويكتب تعليقًا آخر في صفحة مستقلة. ولو كانت سطرًا واحدًا، ولا يقالُ: الصفحةُ فارغةٌ؛ لأنه قد يحتاج إليها يومًا ما.

عندما يريد أن يُفَصِّل في هذه المسألة والشيخ لم يُفَصِّلْ فيها. فيكتب أصلَ المسألة ثم يضيف معلوماته.

وتكون هذه الشروح أساسًا لشرح كبير للطالب فيما يستقبل من عمره - إن شاء الله تعالى -.
মুদ্রণের পংক্তি এবং হাতের লেখা হয়তো সুন্দর না-ও হতে পারে।

আর কাগজ—সকল প্রশংসা আল্লাহর—বর্তমান সময়ে পর্যাপ্ত এবং সস্তা।

আর খাতায় লেখার ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতি রয়েছে:

তিনি যে মূলপাঠ (متن) অধ্যয়ন করছেন সেটি গ্রহণ করবেন এবং তাতে এক থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করবেন। শিক্ষক প্রতিটি যে মাসআলার (مسألة) ওপর টিকা প্রদান করবেন, তিনি তা একটি স্বতন্ত্র পৃষ্ঠায় রাখবেন। এবং অন্য আরেকটি টিকাও স্বতন্ত্র পৃষ্ঠায় লিখবেন। যদিও তা মাত্র এক লাইনের হয়। আর এটি বলা যাবে না যে, পৃষ্ঠাটি খালি; কারণ কোনো একদিন হয়তো এর প্রয়োজন হতে পারে।

যখন তিনি এই মাসআলার (مسألة) বিস্তারিত বর্ণনা করতে চাইবেন অথচ শাইখ সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তখন তিনি মাসআলার মূল অংশ লিখবেন এবং এরপর নিজের অর্জিত তথ্যসমূহ তাতে যুক্ত করবেন।

আর এই ব্যাখ্যাগুলো (شروح) ছাত্রের ভবিষ্যতের জন্য একটি বৃহৎ ব্যাখ্যার ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[النصيحة الثالثة الطالب الذي لا يستطيعُ حضورَ الدورات]

النصيحة الثالثة

الطالب الذي لا يستطيعُ حضورَ الدورات جميعًا

وإنما يريد أن يختار بحسب فراغه. فعليه أن يختار الفنَّ الذي يحتاجُ إليه في دينه لتكملة ملكته العلمية.

فمثلاً قد يكون الطالبُ لم يدرسِ التوحيدَ، أو دَرَسَهُ من مدة ويريد أن يسترجعَه. فتكونُ هذه المادةُ له هي الأساسَ في الاختيار، ويجعلُ بقيةَ الوقت للموضوعات والفنون الأخرى.

فإذًا لا بدَّ من اختيار الوقت والفنِّ الذي يناسب طالبَ العلم.
‌[তৃতীয় উপদেশ: যে শিক্ষার্থী সকল কোর্সে উপস্থিত থাকতে সক্ষম নয়]

তৃতীয় উপদেশ

যে শিক্ষার্থী সকল কোর্সে উপস্থিত থাকতে সক্ষম নয়

বরং সে তার অবসর অনুযায়ী পছন্দ করতে চায়। এমতাবস্থায়, তার ইলমি যোগ্যতা পূর্ণ করার জন্য দ্বীনের যে শাস্ত্রটি তার অধিক প্রয়োজন, সেটিই তার নির্বাচন করা উচিত।

উদাহরণস্বরূপ, হতে পারে কোনো শিক্ষার্থী তাওহীদ অধ্যয়ন করেনি, অথবা অনেক দিন আগে অধ্যয়ন করেছে এবং এখন তা পুনরাবৃত্তি করতে চায়। এমতাবস্থায় তার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত এবং বাকি সময় অন্যান্য বিষয় ও শাস্ত্রের জন্য রাখা উচিত।

সুতরাং, ইলম অন্বেষীর জন্য উপযোগী সময় ও শাস্ত্র নির্বাচন করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[النصيحة الرابعة تحضير الدرس]

النصيحة الرابعة

تحضير الدرس تحضيرًا جيدًا

كيف يحضِّر والدروسُ متواليةٌ ومتتابعةٌ؟

يكون تحضيرُه بحفظ المتنِ قبلَ سماع الشرحِ من الشيخ، وبذلك يتكوّن تكوينًا علميًا صحيحًا.

- ويكون تحضيره بالنظر في المسائل التي يحتاج إليها، بأن يقرأ أسطرًا أو صفحةً فيلحظ المسائل الغريبةَ فيستعد لفهمها من المُعلِّم، ولا يُشْتَرَطُ أن يكون تحضيرُ الطالب كتحضير المُعلِّم.

- وليس المقصود من هذا الاستعدادِ أنه يتعلّم فقط، وإنما المقصودُ منه أن يقارنَ ملكتَه بما يعطيه المُعلِّمُ. وبهذه الطريقة تَنْمُو ملكةُ الطالبِ مع طولِ الزمن.

يحضّر وينظُرُ كيفَ تعامَلَ الشيخُ مع الكتاب، وكيف هو تَعَامَلَ معه.

فمثلاً: الكتابُ المقررُ (بلوغُ المرامِ) والموضوع فيه (كتابُ الصلاة) حضّر حديثًا منه بالرجوع إلى (سُبُل السلامِ) و (فتح الباري) وغيرهما، فينظر الطالب: ما الحصيلةُ التي وَصَلَ إليها. ثم يقارنُ: كيف تعاملَ الشيخُ مع هذا الحديث. لا شك أنه سيخرج
‌[চতুর্থ উপদেশ: পাঠের প্রস্তুতি]

চতুর্থ উপদেশ

উত্তমরূপে পাঠের প্রস্তুতি গ্রহণ

পাঠসমূহ একের পর এক এবং ধারাবাহিক হওয়া সত্ত্বেও একজন শিক্ষার্থী কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?

তার প্রস্তুতি হবে শাইখের নিকট থেকে ব্যাখ্যা শোনার পূর্বেই মূল পাঠ (متن) মুখস্থ করার মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর মাঝে সঠিক ইলমি যোগ্যতা তৈরি হবে।

- তার প্রস্তুতি হবে প্রয়োজনীয় মাসআলাগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে; সে কয়েক লাইন বা এক পৃষ্ঠা পাঠ করবে এবং অপরিচিত বা জটিল বিষয়গুলোর (المسائل الغريبة) প্রতি লক্ষ্য রাখবে, যাতে শিক্ষকের নিকট থেকে তা বুঝে নেওয়ার জন্য সে প্রস্তুত থাকতে পারে। আর শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি শিক্ষকের প্রস্তুতির সমপর্যায়ের হওয়া আবশ্যক নয়।

- এই প্রস্তুতির উদ্দেশ্য কেবল শেখাই নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো নিজের যোগ্যতাকে শিক্ষকের প্রদানকৃত ইলমের সাথে তুলনা করা। এই পদ্ধতিতে দীর্ঘকাল অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পাণ্ডিত্য ও সহজাত প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পায়।

সে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং লক্ষ্য করবে যে, শাইখ কিতাবটিকে কীভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং সে নিজে তা কীভাবে বিশ্লেষণ করেছিল।

উদাহরণস্বরূপ: নির্ধারিত কিতাব হলো বুলুগুল মারাম এবং আলোচ্য বিষয় হলো সালাত অধ্যায়। সে সুবুলুস সালাম ও ফাতহুল বারী ইত্যাদি গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে একটি হাদিস প্রস্তুতি নিয়ে দেখবে যে, সে কতটুকু নির্যাস লাভ করতে পেরেছে। তারপর সে তুলনা করবে যে, শাইখ এই হাদিসটিকে কীভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। নিঃসন্দেহে সে বের হয়ে আসবে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بفوائد ربما تكون غائبةً عنه.

والذي ينبغي أن يختار المُعلِّمُ من طلابه من يحسن التدريسَ، ويزيدَه عنايةً، ويبيِّنَ له كيف يعلِّمُ، وكيف يدرِّسُ، وكيف يرتبُ المسائلَ.

قد يأتي طالبٌ إلى معلِّمه قائلاً له: أنا حضرتُ عندك في الدورة في العام الماضي، وسمعتُ منك شرحَ (بلوغ المرام) أو شرحَ (الأربعين النووية) . . . فالمُعلِّمُ قد ينسى لكثرة الطلاب، وقد يذكر.

ولكنه لا ينسى الطالبَ المجدَّ؛ لأنه يكوِّنُ عنه فكرةً في تعامله الحسن مع المتنِ، ومع فهمِ الحديثِ، وفي أدبهِ مع معلِّميه.
এমন সব উপকারিতা সহ যা সম্ভবত তার অগোচরে ছিল।

আর শিক্ষকের উচিত তার ছাত্রদের মধ্য থেকে তাকে নির্বাচন করা যে পাঠদানে পারদর্শী, তাকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা এবং তাকে শিখিয়ে দেওয়া যে সে কীভাবে শিক্ষা দেবে, কীভাবে পাঠদান করবে এবং বিষয়সমূহ কীভাবে বিন্যস্ত করবে।

কোনো ছাত্র তার শিক্ষকের নিকট এসে বলতে পারে: "আমি গত বছর আপনার দরসে উপস্থিত ছিলাম এবং আপনার নিকট থেকে 'বুলুগুল মারাম' বা 'আরবাঈন আন-নববী'-র ব্যাখ্যা শ্রবণ করেছি..." অধিক ছাত্রসংখ্যার কারণে শিক্ষক হয়তো বিস্মৃত হতে পারেন, আবার স্মরণেও রাখতে পারেন।

তবে তিনি পরিশ্রমী ছাত্রকে বিস্মৃত হন না; কারণ মূল পাঠের (متن) সাথে তার উত্তম ব্যবহার, হাদিস অনুধাবন এবং শিক্ষকদের প্রতি তার শিষ্টাচার সম্পর্কে শিক্ষক একটি স্বচ্ছ ধারণা লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[النصيحة الخامسة كتابةُ الفوائدِ من المُعلِّمِ]

النصيحة الخامسة

كتابةُ الفوائدِ من المُعلِّمِ

ولا يتَّكِلُ الطالبُ على ما سُجِّلَ في الدورات السابقة وعلى الطالب أن لا يقولَ: لا داعي إلى الكتابة، والتسجيلُ موجود.

وهذا غَلَطٌ كبير يقع فيه بعضُ الطلاب، وكتابةُ الطالب مع الشيخِ مؤثرةٌ في استعداداته العلمية، وفي سلوكه العلمي كما ينبغي، فلا بدَّ للعلم من مشقةٍ ومكابدةٍ ومجاهدةٍ.

وفي الكتابةِ تتكون ملكةٌ في تلخيصِ العلمِ؛ لأنه لا يستطيع أن يكتب حرفيًا ما يقوله المُعلِّمُ، ولهذا ينبغي التفريقُ بين ما نَقَلَهُ الطالبُ إملاءً وبين ما سَمِعَهُ. فقد يكون في كتابة تلخيصِ ما سَمِعَهُ نقصٌ كبيرٌ عما قاله المُعلِّم.

إذًا ما المقصود من الكتابة؟

المقصود أن يتدربَ الطالبُ على ملكة التلخيص، فيسمع ثم يلخص، يُلاحظُ في أول الأمر أن الشيخَ يسرعُ ولم يستطع الطالبُ أن يكتبَ. وفي المرة الثانية يستطيع الطالبُ أن يكتبَ، ولكن فاتَتْهُ أشياءُ، وهكذا يأتيه وقتٌ يكتبُ باستيعابٍ ويستطيعُ الاختصارَ على أروع مثالٍ؛ لأن الملكةَ ترتبت عنده. وهذا ما يكون
‌[পঞ্চম উপদেশ: শিক্ষকের নিকট থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করা]

পঞ্চম উপদেশ

শিক্ষকের নিকট থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করা

শিক্ষার্থী পূর্ববর্তী কোর্সগুলোতে যা রেকর্ড করা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করবে না এবং শিক্ষার্থীর জন্য এমনটি বলা উচিত নয়: "লিপিবদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই, রেকর্ড তো আছেই।"

এটি একটি বড় ভুল যাতে কিছু শিক্ষার্থী পতিত হয়। শায়খের সাথে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীর লিপিবদ্ধকরণ তার জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রস্তুতি এবং যথাযথ জ্ঞানতাত্ত্বিক আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং ইলম অর্জনের জন্য অবশ্যই কষ্ট, ধৈর্য ও সাধনার প্রয়োজন রয়েছে।

লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে ইলম বা জ্ঞান সারসংক্ষেপ করার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা (ملكة) তৈরি হয়; কারণ শিক্ষক যা বলেন, তা হুবহু লিপিবদ্ধ করা শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব নয়। এই কারণেই শিক্ষার্থী শ্রুতিলিপি (إملاءً) হিসেবে যা গ্রহণ করেছে এবং যা সে শ্রবণ করেছে—এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক। কেননা সে যা শুনেছে তার সারসংক্ষেপ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের বক্তব্যের তুলনায় বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

তাহলে লেখার উদ্দেশ্য কী?

উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থী যেন সারসংক্ষেপ করার বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতায় (ملكة) পারদর্শী হয়ে ওঠে; সে শ্রবণ করবে এবং এরপর সারসংক্ষেপ তৈরি করবে। শুরুতে সে লক্ষ্য করবে যে শায়খ দ্রুত বলছেন এবং শিক্ষার্থী তা লিখতে পারছে না। দ্বিতীয়বার শিক্ষার্থী লিখতে পারবে, কিন্তু তার থেকে অনেক কিছু বাদ পড়ে যাবে। এভাবেই এমন এক সময় আসবে যখন সে পূর্ণ উপলব্ধির সাথে লিখতে পারবে এবং চমৎকারভাবে সংক্ষেপ করতে সক্ষম হবে; কারণ তার মাঝে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা (ملكة) সুসংগঠিত হয়ে গেছে। আর এভাবেই বিষয়টি সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
إلا بِدُرْبَةٍ.

وكيف تكون الدُّرْبةُ؟

تكون الدُّربةُ بالإضافة إلى ما ذُكِرَ بأنْ لا يعتمدَ على التسجيل.
তবে দীর্ঘ অনুশীলনের (دربة) মাধ্যমেই তা সম্ভব।

আর এই অনুশীলন (دربة) কীভাবে অর্জিত হয়?

পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পাশাপাশি এই অনুশীলন (دربة) এভাবে অর্জিত হয় যে, কেবল নথিবদ্ধকরণের (تسجيل) ওপর নির্ভর করা চলবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌[النصيحة السادسة الرحمةُ بين الطلاب]

النصيحة السادسة

الرحمةُ بين الطلاب

قد يكون في هذه الدوراتِ العلميةِ طبقاتٌ مختلفةٌ من الحاضرين (1) فمنهم من يَحْضُرُ للعلم.

(2) ومنهم من يَحْضُرُ مبتدئًا.

(3) ومنهم من يَحْضُرُ لمجلس الذكر ويستمع (وبخاصة إن كان بعد الفجر أو في أوقات الإجابة) .

(4) ومنهم من يَحْضُرُ لفائدةٍ ما، ويكتفي بأيِّ شيءٍ يُحَصِّلُهُ.

والذي ينبغي في الحقيقة أن يتعاهدَ طلابُ العلم بعضَهم بعضًا، فيعلِّمَ الطالبُ أخاه المبتدئَ الطريقةَ، ويُسْدي إليه النصيحةَ.

ولهذا ينبغي أن يرحمَ بعضُنا بعضًا في الدروس العلمية، وفي العلم جميعًا.

وربما ابتدأ العلماء متونَهم بالوصية لطالب العلم بالرحمة.

ولهذا تجد في إجازات الحديث أولَ ما ينقلون حديثَ: «الراحمونَ يرحمُهم الرحمنُ، ارحموا من في الارض يَرْحَمْكُمْ مَنْ في السماء» (1) هذا الحديث هو المعروف عند العلماء بالمسلسل بالأوَّلِيَّةِ؛ لأن

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في " مسنده " برقم 6494 (11: 33) ، والترمذي برقم 1924، والحاكم في " المستدرك " (4: 159) . من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه.
[ষষ্ঠ উপদেশ: শিক্ষার্থীদের মাঝে রহমত]

ষষ্ঠ উপদেশ

শিক্ষার্থীদের মাঝে রহমত (দয়া)

এই ইলমি শিক্ষা আসরগুলোতে উপস্থিতদের মাঝে বিভিন্ন স্তর থাকতে পারে (১); তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইলম অর্জনের জন্য উপস্থিত হন।

(২) তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রাথমিক স্তরের (مبتدئ) শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত হন।

(৩) আবার কেউ কেউ যিকিরের মজলিসে শরিক হওয়ার জন্য এবং তা শোনার জন্য উপস্থিত হন (বিশেষ করে যদি তা ফজরের পর বা দোয়া কবুলের সময়গুলোতে হয়)।

(৪) আবার তাদের মধ্যে এমনও আছেন যারা কোনো একটি বিশেষ উপকার লাভের জন্য উপস্থিত হন এবং যা কিছু অর্জন করেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন।

প্রকৃতপক্ষে ইলমের শিক্ষার্থীদের উচিত একে অপরের খোঁজখবর রাখা; ফলে (অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ) শিক্ষার্থী তার প্রাথমিক স্তরের (مبتدئ) ভাইকে সঠিক পদ্ধতি শিখিয়ে দেবে এবং তাকে সদুপদেশ প্রদান করবে।

এই কারণেই ইলমি দরসগুলোতে এবং ইলমের সকল ক্ষেত্রে আমাদের একে অপরের প্রতি দয়াশীল হওয়া উচিত।

ওলামায়ে কেরাম প্রায়শই শিক্ষার্থীদের প্রতি রহমত বা দয়াশীল হওয়ার অসিয়ত করার মাধ্যমে তাদের মূল গ্রন্থগুলো (متون) শুরু করেন।

এজন্যই হাদিসের ইজাজতগুলোর (إجازات) ক্ষেত্রে আপনি দেখতে পাবেন যে, তারা সর্বপ্রথম যে হাদিসটি বর্ণনা করেন তা হলো: «দয়াশীলদের ওপর পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন»। (১) ওলামায়ে কেরামের নিকট এই হাদিসটি ‘প্রথম হওয়ার দিক থেকে ধারাবাহিক’ (المسلسل بالأولية) হিসেবে পরিচিত; কারণ...

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ৬৪৯৪ নং হাদিসে (১১: ৩৩), তিরমিজি ১৯২৪ নং হাদিসে এবং হাকেম তাঁর মুসতাদরাক গ্রন্থে (৪: ১৫৯) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
كلَّ شيخٍ يقول عن شيخه: حدثنا شيخُنا فلانٌ، وهو أولُ حديث سمعته منه.

قال: حدثني شيخي فلانٌ، وهو أولُ حديثٍ سمعته منه.

إلى أن يصل إلى طبقة أتباعِ التابعين كلها أول.

سؤال: لماذا يتعلمون حديث «الراحمون يرحمهم الرحمن. . .» ؟

الجواب: اعلم - رحمك الله - أن من خصال طالب العلم التي يبارك اللهُ عز وجل بها ويرحمُهُ اللهُ - جلَّ وعلا - أن يكون رحيمًا بمَنْ حولَه يرشدهم، ويعلمهم، ويعينهم. . الخ.

فإذا كنت في طلبك للعلم رحيمًا بالخَلْقِ وبزملائك وبأصدقائك وبالحضور في التعاون والخير فأبشرْ برحمةِ اللهِ - جلَّ وعلا - لك بوعده الصادق بقولِ نبيه عليه الصلاة والسلام: «الراحمونَ يرحمهم الرحمنُ. .» .
প্রত্যেক শায়খ তাঁর শায়খ সম্পর্কে বলেন: আমাদের শায়খ অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি।

তিনি বলেন: আমার শায়খ অমুক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি।

এভাবে তাবে-তাবেঈনদের (أتباع التابعين) স্তর (طبقة) পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত এর প্রতিটিই প্রথম।

প্রশ্ন: কেন তাঁরা ‘দয়াবানদের ওপর পরম দয়াময় দয়া করেন...’ এই হাদিসটি শিক্ষা করেন?

উত্তর: জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—ইলম অন্বেষণকারীর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বরকত দান করেন এবং মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন; আর তা হলো সে তার চারপাশের মানুষের প্রতি দয়াশীল হবে, তাদের পথপ্রদর্শন করবে, শিক্ষা দেবে এবং সাহায্য করবে... ইত্যাদি।

সুতরাং আপনি যদি জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে সৃষ্টিজগত, আপনার সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব এবং উপস্থিতদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতা ও কল্যাণের কাজে দয়াশীল হন, তবে মহান মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহর সত্য ওয়াদা অনুযায়ী তাঁর রহমতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা তাঁর নবীর বাণীর মাধ্যমে এসেছে—তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক: ‘দয়াবানদের ওপর পরম দয়াময় দয়া করেন...’।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসায়াল জালিয়াহ লিল ইস্তিফাদাতি মিনাদ দুরুসিল ইলমিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌[الخاتمة]

الخاتمة وأسالُ اللهَ - جلَّ وعلا - أن يجعلكم مباركين، وأن ينفع بكم.

ومعنى أن يجعلَ اللهُ فلانًا مباركًا، كما في قول اللهِ - تعالى - في سورة مريم (1) حكايةً عن قول عيسى عليه السلام: {وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ} [مريم: 31] هو بأن تكون معلِّمًا للعلم.

قال العلماءُ في تفسيرها: المباركُ من عبادِ الله هو الذي يعلِّمُ الناسَ الخيرَ (2) . فأسألُ اللهَ أن يجعلكم مباركين، وأن ينفع بكم، وأن تكونَ هذه الدروسُ العلميةُ مفيدةً لملقيها، ومفيدةً للمتلقي، وأن يباركَ في الجميع، وأن يلهمكم الرشدَ والسدادَ، وأن يمنحنا وإياكم الفِقْهَ في الدين، والتزامَ السنة، وأن لا يكلنا لأنفسنا طرفةَ عينٍ.

إنه سبحانه جواد كريم. اللهم اغفر لنا جميعًا.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد.

--------------------------------------------

(1) الآية: 31.

(2) انظر تفسير ابن كثير (3: 120) .
[উপসংহার]

উপসংহার: আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি আপনাদের বরকতময় করুন এবং আপনাদের মাধ্যমে (মানুষের) উপকার সাধন করুন।

কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহ বরকতময় করার অর্থ হলো—যেমনটি আল্লাহ তাআলা সূরা মারিয়ামে (১) ঈসা আলাইহিস সালামের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেছেন: {আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন} [মারিয়াম: ৩১]—তা হলো ইলম বা জ্ঞানের শিক্ষক হওয়া।

আলেমগণ এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন: আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে বরকতময় ওই ব্যক্তি, যিনি মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দান করেন (২)। সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাদের বরকতময় করেন, আপনাদের দ্বারা উপকৃত করেন এবং এই ইলমি দরস বা পাঠসমূহ বক্তা ও শ্রোতা—উভয় পক্ষের জন্যই কল্যাণকর করেন। তিনি সকলের ওপর বরকত নাযিল করুন, আপনাদের সঠিক পথ ও নির্ভুলতার দিশা দান করুন এবং আমাদের ও আপনাদের দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (الفقه) এবং সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন। আর তিনি যেন আমাদের চোখের পলকের জন্যও আমাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে না দেন।

নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দাতা ও মহানুভব। হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(১) আয়াত: ৩১।

(২) দেখুন তাফসির ইবনে কাসির (৩: ১২০)।