(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: -)
التدرج في دعوة النبي القسم: كتب عامة
الكتاب: التدرج في دعوة النبي
المؤلف: إبراهيم بن عبد الله المطلق
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - مركز البحوث والدراسات الإسلامية
الطبعة: الأولى، 1417هـ
عدد الصفحات: 167
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলের দাওয়াতে পর্যায়ক্রমিক ধারা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: রাসূলের দাওয়াতে পর্যায়ক্রমিক ধারা
লেখক: ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুতলাক
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয় - ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: -)
[تقديم بقلم أ. د عبد الله بن عبد المحسن التركي]التدرج في دعوة النبي
[অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আল-তুর্কি-এর উপস্থাপনা]নবীজির দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين محمد بن عبد الله المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
فإن الدعوة إلى الله عز وجل هي مهمة الأنبياء والرسل، وواجب المؤمنين عامة وأهل العلم منهم خاصة، قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33] وقال تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104]
إن المكانة الرفيعة للدعوة الإسلامية هي التي جعلت مركز البحوث والدراسات الإسلامية يستهل بها سلسلة " الكتاب الإسلامي "، فكان موضوع الكتاب الأول من هذه السلسلة: " مسؤولية الدول الإسلامية عن الدعوة ونموذج المملكة العربية السعودية "، وها هو المركز يواصل اهتمامه بأمر الدعوة إلى الإسلام، فيصدر كتاب: " التدرج في دعوة النبي صلى الله عليه وسلم " الذي يبحث في قضية عظيمة الأهمية في فقه الدعوة أسيء فهمها على أيدي بعض المشتغلين بالدعوة الإسلامية، ممن يفتقرون إلى التأهيل العلمي والسلوكي، فهؤلاء يجهلون - أو يتجاهلون - أن الخير كل الخير في اتباع سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وأن الشر كل الشر في الابتداع وتنكب الهدي النبوي الكريم.
ভূমিকা। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান করা নবী ও রাসূলগণের মূল দায়িত্ব এবং সাধারণভাবে সকল মুমিনের এবং বিশেষভাবে আলেম সমাজের ওপর অর্পিত একটি আবশ্যিক কর্তব্য। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।} [সূরা ফুসসিলাত: ৩৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম।} [সূরা আল-ইমরান: ১০৪]
ইসলামি দাওয়াতের এই সুউচ্চ মর্যাদাই মূলত 'ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র'-কে তাদের "আল-কিতাব আল-ইসলামি" সিরিজের সূচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এই সিরিজের প্রথম বইটির বিষয়বস্তু ছিল: "দাওয়াতের ক্ষেত্রে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের দায়িত্ব এবং সৌদি আরব রাজ্যের দৃষ্টান্ত"। বর্তমানে কেন্দ্রটি ইসলামি দাওয়াতের প্রসারে তার গুরুত্বারোপ অব্যাহত রেখেছে এবং "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের পর্যায়ক্রমিক ধারা" নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করছে। এই গ্রন্থটি দাওয়াতের ফিকহশাস্ত্রের এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যা ইসলামি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত এমন কিছু ব্যক্তির দ্বারা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যাদের তাত্ত্বিক ও চারিত্রিক যোগ্যতার অভাব রয়েছে। তারা এ বিষয়ে অজ্ঞ—অথবা জেনেশুনে এড়িয়ে যায়—যে সমস্ত কল্যাণ নিহিত রয়েছে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাঝে, আর সমস্ত অকল্যাণ নিহিত রয়েছে নব-উদ্ভাবন এবং মহৎ নববী আদর্শ বিসর্জন দেওয়ার মাঝে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وإن من يتأمل في رسالة الإسلام منذ بعثته صلى الله عليه وسلم إلى أن اختاره الله عز وجل إلى جواره يتضح له أن التدرج كان السمة البارزة في مسار الرسالة، فالقرآن الكريم أنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم منجما، قال تعالى: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} [الإسراء: 106] فلقد بدأ الإسلام بأركان الإيمان لإفراد الله عز وجل بالعبودية ونبذ الشرك والوثنية، وبعد بضع سنوات من تثبيت عقيدة التوحيد في نفوس الجماعة المؤمنة فرضت الصلاة ثم الصيام والزكاة والجهاد والحج، وبالتدرج نفسه جرى تحريم المنكرات، فتحريم الخمر - للتمثيل لا الحصر - تم على مراحل، بدأت بالتحذير من مضاره وآثامه، ثم انتهت إلى تحريمه على وجه القطع. وأما في المدعوين أنفسهم فقد تدرجت دعوة النبي صلى الله عليه وسلم إذ بدأ بمحيطه القريب جدا " زوجته خديجة، وصاحبه أبي بكر، وابن عمه علي بن أبي طالب، وغلامه زيد بن حارثة "، ثم اتسعت الدائرة لتشمل محيطًا من أقاربه أوسع من ذي قبل عملًا بقوله عز وجل: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214]
وبعد أن أنذر صلى الله عليه وسلم أهل مكة وصبر على أذاهم طويلًا دعا أهل الطائف ثم أعيان قبائل العرب ممن يقدمون على بيت الله الحرام.
وبعد الإذن بالهجرة إلى المدينة دعا صلى الله عليه وسلم أهل الكتاب، ثم أزال بالجهاد الذين كانوا يعيقون إبلاغ الدعوة إلى الناس، ثم أرسل الكتب إلى زعماء الروم والفرس والحبشة وغيرهم يدعوهم إلى الدخول في دين الله، وعلى النهج ذاته سار
যিনি নবী (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে নিয়ে মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর সান্নিধ্যে তুলে নেওয়া পর্যন্ত ইসলামের বার্তার প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তাঁর নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই বার্তার ধারায় পর্যায়ক্রমিকতা (التدرج) ছিল একটি বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কিস্তিতে কিস্তিতে (منجما) অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর আমি কুরআনকে ভাগ ভাগ করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি} [আল-ইসরা: ১০৬]। ইসলামের সূচনা হয়েছিল ঈমানের মূলস্তম্ভসমূহের (أركان الإيمان) মাধ্যমে, যাতে মহান আল্লাহর জন্য দাসত্বকে একক করা যায় এবং অংশীবাদ (الشرك) ও মূর্তিপূজাকে বর্জন করা যায়। মু’মিন জামাতের অন্তরে তাওহীদের (التوحيد) আকিদা সুদৃঢ় হওয়ার কয়েক বছর পর সালাত ফরজ করা হয়, অতঃপর সিয়াম, জাকাত, জিহাদ এবং হজ। একইভাবে পর্যায়ক্রমিক ধারায় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ হারাম করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ মদ হারাম করার বিষয়টি—এটি কেবল উদাহরণের জন্য, সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়—কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছিল; যা এর ক্ষতি ও পাপ সম্পর্কে সতর্কীকরণের মাধ্যমে শুরু হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে সুনিশ্চিত (القطع) হারামের বিধানে উপনীত হয়েছিল। আর দাওয়াতের ক্ষেত্রেও নবী (সা.)-এর দাওয়াত ছিল পর্যায়ক্রমিক; কারণ তিনি তাঁর অতি নিকটবর্তী পরিবেশ থেকে শুরু করেছিলেন—"তাঁর স্ত্রী খাদিজা, তাঁর সাথী আবু বকর, তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালিব এবং তাঁর মুক্তদাস জায়েদ ইবনে হারিসাহ।" এরপর পরিধি বিস্তৃত হয়ে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের নিকট পৌঁছায়, যা আগের তুলনায় অধিক ব্যাপক ছিল; আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল স্বরূপ: {আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪]
নবী (সা.) মক্কাবাসীদের সতর্ক করার পর এবং তাদের নির্যাতনে দীর্ঘকাল ধৈর্য ধারণ করার পর তায়েফবাসীদের এবং আরবের ওইসব গোত্রপতিদের দাওয়াত দেন যারা আল্লাহর পবিত্র ঘরে আগমন করত।
মদিনায় হিজরতের অনুমতির পর নবী (সা.) কিতাবধারীদের (أهل الكتاب) দাওয়াত দেন। অতঃপর জিহাদের মাধ্যমে সেইসব প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করেন যারা মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর পথে অন্তরায় ছিল। এরপর তিনি রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের কাছে পত্র প্রেরণ করেন যাতে তাঁদেরকে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশের আহ্বান জানানো হয়। ঠিক এই একই পথেই তিনি অগ্রসর হয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৭)
خلفاؤه الراشدون، إذ لم يجاهدوا خارج جزيرة العرب إلا بعد أن أكمل الله على أيديهم تطهير الجزيرة من براثن الشرك والوثنية.
وهكذا فإن الدعاة في حاجة دائمة إلى التزود من فقه النبوة في الدعوة إلى الله، ليحوز عملهم - بإذن الله - شَرْطَيِ القبول وهما: الِإخلاص لله، والصواب بموافقة الكتاب الكريم والسنة المطهرة.
{وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [يوسف: 21]
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
أ. د عبد الله بن عبد المحسن التركي
وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
والمشرف العام على مركز البحوث والدراسات الإسلامية
তাঁর খোলাফায়ে রাশেদিন, কেননা তাঁরা আরব উপদ্বীপের বাইরে ততক্ষণ জিহাদ করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদের হাতে এই উপদ্বীপকে শিরক ও মূর্তিপূজার থাবা থেকে পবিত্র করেছেন।
এভাবেই দাঈগণ আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বদা নবুওয়াতের ফিকহ (فقه) থেকে পাথেয় সংগ্রহের মুখাপেক্ষী, যাতে তাঁদের আমল—আল্লাহর ইচ্ছায়— কবুল হওয়ার দুটি শর্ত অর্জন করতে পারে; আর তা হলো: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা (الإخلاص) এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে সঠিকতা (الصواب)।
{আর আল্লাহ তাঁর কাজে বিজয়ী, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} [ইউসুফ: ২১]
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুর্কি
ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রী
এবং ইসলামি গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্রের সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৮)
[تزكية بقلم الشيخ صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان]تزكية الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فقد اطَّلعت على الكتاب المسمى: " التدرج في دعوة النبي صلى الله عليه وسلم " من إعداد: الشيخ إبراهيم المطلق عضو هيئة التدريس في كلية الدعوة والإعلام بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، فوجدته كتابًا جيدًا في موضوعه يحتاج إليه من يدعو إلى الله ليسير على ما وضحه فضيلته من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم في الدعوة وتدرجه مع المدعوين ومخاطبتهم على قدر استعدادهم وهذا مما ينقص كثيرًا ممن يشتغلون في الدعوة مما سبب خللًا كبيرًا في دعوتهم حيث لم يرجعوا إلى منهج الرسول صلى الله عليه وسلم في الدعوة وإنما يرجعون إلى رسوم رسمها لهم متبوعوهم من رؤسائهم وجماعاتهم، فعلى كل من ينتمي إلى الدعوة العودة إلى كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم واستمداد المنهج منهما من أجل أن تثمر دعوتهم وتنجح جهودهم بإذن الله، وهذا الكتاب يضع لبنة في بناء المنهج الصحيح للدعوة، جزى الله مؤلفه خير الجزاء، ووفقه لما فيه الخير، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
كتبه:
صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان
20 - / 8 / 1416 هـ
[শাইখ সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজানের লিখিত প্রশংসাপত্র (تزكية)]প্রশংসাপত্র (تزكية): সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:
আমি "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের পর্যায়ক্রমিক ধারা" নামক গ্রন্থটি পাঠ করেছি, যা ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও গণমাধ্যম অনুষদের শিক্ষক পর্ষদের সদস্য শাইখ ইবরাহিম আল-মুতলাক প্রস্তুত করেছেন। আমি এটিকে এর আলোচ্য বিষয়ে একটি চমৎকার গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যা আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীদের জন্য অপরিহার্য; যাতে তারা দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত (سيرة) এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি ও তাদের যোগ্যতা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে সম্বোধন করার যে ব্যাখ্যা সম্মানীয় শাইখ প্রদান করেছেন, তা অনুসরণ করতে পারেন। দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত অনেকের মধ্যেই এই বিষয়ের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের দাওয়াতী কার্যক্রমে এক বিরাট বিচ্যুতি সৃষ্টি করেছে; কারণ তারা দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানহাজ (منهج)-এর দিকে ফিরে যান না, বরং তারা কেবল তাদের নেতৃবৃন্দ ও দলীয় প্রধানদের নির্ধারিত রীতিনীতির অনুসরণ করেন। অতএব, দাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের কর্তব্য হলো আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة)-এর দিকে ফিরে আসা এবং এ দুটি উৎস থেকেই সঠিক মানহাজ (منهج) গ্রহণ করা, যাতে আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় এবং তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়। এই বইটি দাওয়াতের সঠিক মানহাজ (منهج) বিনির্মাণে একটি বলিষ্ঠ ভিত্তিপ্রস্তর স্বরূপ। আল্লাহ এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাকে কল্যাণের তৌফিক দান করুন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
লিখেছেন:
সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান
২০ - / ৮ / ১৪১৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৯)
[المقدمة]المقدمة إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، الذي بلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، وجاهد في الله حق جهاده حتى تركنا على المحجّة البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك، وعلى آله وصحبه وأتباعه، ومن اهتدى بهديه وتمسك بسنته إلى يوم الدين.
أما بعد: فإن الدعوة إلى الله تعالى هي وظيفة الرسل جميعا، ومن أجلها بعثهم الله تعالى إلى الناس، فكلهم بلا استثناء دعوا أقوامهم ومن أرسلوا إليهم إلى الإيمان بالله، وإفراده بالعبادة على النحو الذي شرعه لهم، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (1) .
فرسل الله هم الدعاة، وقد اختارهم الله لحمل دعوته وتبليغها، وقد ختم الله الرسالات بنبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي بعثه الله داعيا إلى الحق ورحمة للعالمين، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا - وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب: 45 - 46] (2) .
--------------------------------------------
[ভূমিকা]ভূমিকা। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, এমনকি তিনি আমাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র রাজপথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের ন্যায় আলোকোজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর অনুসারীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী চলবে ও তাঁর সুন্নাহ (سنة) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তাদের ওপর।
অতঃপর: মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করাই হলো সকল রাসূলের মূল দায়িত্ব এবং এই উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন। ফলে তাঁরা সকলেই কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই নিজ নিজ কওম এবং যাদের নিকট তাঁদের পাঠানো হয়েছিল, তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন এবং তাঁর নির্দেশিত পন্থায় একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬] (১)।
আল্লাহর রাসূলগণই হলেন মূলত দাওয়াত প্রদানকারী, আর আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর দাওয়াত বহন ও তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে সকল আসমানি বার্তার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন, যাকে আল্লাহ সত্যের দিকে আহ্বানকারী এবং বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [আল-আহযাব: ৪৫-৪৬] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১০)
فقام صلى الله عليه وسلم بمهمة الدعوة على أكمل وجه وأتمه، إذ كان عليه أن يبلغ رسالة ربه كما أمره: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} [المائدة: 67] (1) .
وكان عليه أن يخرج الناس من ظلمات الجهل والشرك إلى نور العلم والإيمان بإذن الله، قال تعالى: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} [إبراهيم: 1] (2) .
وقد بُعِثَ صلى الله عليه وسلم في مجتمع جاهلي، عبد أهله الأصنام والأوثان، وأعرضوا عن عبادة الله وحده، فكان من حكمته صلى الله عليه وسلم في الدعوة أن قدّم لهم الدِّين الإسلامي كما يُقدَّم العلاج للمريض، فلم يفاجئهم عليه الصلاة والسلام بتسفيه أحلامهم، وشتم آلهتهم، بل دعاهم إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، وجادلهم بالتي هي أحسن، متدرجًا معهم في بيان أحكام الله وشرائعه وتطبيقها في واقع الحياة، فكان من نتيجة ذلك أن استجاب الناس لدعوته، فلم تصعد روحه الطاهرة إلى بارئها، حتى أقر الله عينه بإقبال الناس أفواجًا على هذا الدِّين، قال تعالى: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ - وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا - فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا} [النصر: 1 - 3] (3) .
--------------------------------------------
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত নিখুঁত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করেন। কেননা তাঁর ওপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অর্পিত ছিল, যেমনটি তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: "হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর বার্তা পৌঁছালেন না।" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৭] (১)।
আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে মানুষকে অজ্ঞতা ও শিরকের অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও ঈমানের আলোর দিকে বের করে আনা তাঁর দায়িত্ব ছিল। মহান আল্লাহ বলেন: "আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে অর্থাৎ মহাপরাক্রমশালী ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনতে পারেন।" [সূরা ইবরাহীম: ১] (২)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক জাহেলি সমাজে প্রেরিত হয়েছিলেন, যার সদস্যরা মূর্তিপূজা করত এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ ছিল। দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রজ্ঞা ছিল এই যে, তিনি তাদের কাছে ইসলামি দ্বীনকে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যেভাবে রোগীর কাছে ঔষধ পেশ করা হয়। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হঠাৎ করে তাদের চিন্তা-চেতনাকে তুচ্ছজ্ঞান করে কিংবা তাদের উপাস্যদের গালি দিয়ে বিচলিত করেননি; বরং তিনি তাদেরকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করেছেন। তিনি পর্যায়ক্রমে তাদের সামনে আল্লাহর বিধান ও শরিয়ত বর্ণনা এবং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে মানুষ তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়েছিল। তাঁর পবিত্র রূহ তাঁর স্রষ্টার সান্নিধ্যে গমনের পূর্বেই আল্লাহ তাআলা দলে দলে মানুষের এই দ্বীনে প্রবেশের মাধ্যমে তাঁর চক্ষু শীতল করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: "যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে, এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পরম তওবা কবুলকারী।" [সূরা আন-নাসর: ১-৩] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১১)
[أهداف البحث]أهداف البحث (1) لقد توخيت من خلال كتابة هذا البحث تحقيقَ أمور من أهمها:
1 - الإسهام في بيان الطريقة الصحيحة والناجحة في الدعوة إلى الله، لتكون نبراسًا يضيء للدعاة طريقهم.
2 - توجيه الدعاة إلى أهمية العناية بالتدرج في الدعوة، وأنه الطريقُ الأمثل في الدعوة.
3 - توضيح ما يترتب على التفريط بالتدرج في الدعوة من آثار سلبية ونتائج عكسية.
4 - بيان أهمية هذا المسلك في دعوة غير المسلمين إلى الإسلام.
أهمية البحث وأسباب اختياره: تتضح لنا أهمية هذا البحث من خلال النشاط الدعوي في هذا الزمن، لأنه وإن اختلف الزمان لم يختلف المدعو وهو الإنسان، فالمدعو إنسان يتأثر بظروف بيئته الخاصة، كظروف أسرته التي يعيش فيها، وما عليه هذه الأسرة من غنى وفقر، وعلم وجهل، وجاه وضعف، ونحو ذلك، هذه الظروف تؤثر في شخصية المدعو ونفسيته ونظرته إلى الحياة، وكما يتأثر المدعو بظروف بيئته العامة، كظروف العصر الذي يعيش فيه، وما يوجد في هذا العصر من تقدم علمي وتقني، ومن تيارات سياسية، ومن طغيان القوي على الضعيف، وغير ذلك من الأمور.
ولا شك أن النفس البشرية، قد زُيِّن لها حُب الشهوات والملذات، كما قال
--------------------------------------------
[গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ]গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ (১) আমি এই গবেষণাটি রচনার মাধ্যমে কয়েকটি বিষয় অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১ - আল্লাহর পথে দাওয়াত (دعوة) দেওয়ার সঠিক ও সফল পদ্ধতি বর্ণনায় অবদান রাখা, যাতে তা দাঈদের (دعاة) জন্য তাদের পথ আলোকিতকারী প্রদীপ হিসেবে কাজ করে।
২ - দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিকতা (تدرج) বজায় রাখার গুরুত্বের প্রতি দাঈদের (دعاة) দিকনির্দেশনা প্রদান করা এবং এটিই যে দাওয়াতের (دعوة) সর্বোত্তম পথ, তা ব্যক্ত করা।
৩ - দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিকতা (تدرج) বর্জনের ফলে যে নেতিবাচক প্রভাব ও বিপরীতমুখী ফলাফল সৃষ্টি হয়, তা স্পষ্ট করা।
৪ - অমুসলিমদের ইসলামের দিকে দাওয়াত (دعوة) দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির গুরুত্ব বর্ণনা করা।
গবেষণার গুরুত্ব ও তা নির্বাচনের কারণসমূহ: বর্তমান সময়ের দাওয়াহ (دعوة) কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়; কারণ সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ মানুষ, তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমন্ত্রিত ব্যক্তি (مدعو) এমন এক মানুষ যে তার ব্যক্তিগত পরিবেশের পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত হয়; যেমন—যে পরিবারে সে বসবাস করে তার অবস্থা, সেই পরিবারের সচ্ছলতা ও দারিদ্র্য, জ্ঞান ও অজ্ঞতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও দুর্বলতা ইত্যাদি। এই পরিস্থিতিগুলো আমন্ত্রিত ব্যক্তির (مدعو) ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা এবং জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। ঠিক তেমনিভাবে আমন্ত্রিত ব্যক্তি (مدعو) তার সামগ্রিক পরিবেশের পরিস্থিতি দ্বারাও প্রভাবিত হয়, যেমন—সে যে যুগে বাস করে তার প্রেক্ষাপট, এই যুগের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ, দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।
নিঃসন্দেহে মানবাত্মার (نفس) কাছে কামনা-বাসনা ও ভোগবিলাসকে সুশোভিত করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১২)
تعالى: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَآبِ} [آل عمران: 14] (1) .
ولقد بُعِثَ النبي صلى الله عليه وسلم والبشرية تعيش في دياجير الظلام، فكانت بعثته لإخراجها من الظلمات إلى النور، وعلى ذلك فإن مهمته أن يمكن الناس من إدراك حقيقة ما جاء به، والاقتناع بسلامته، ثم اعتناقه بعد ذلك، والالتزام به مدى الحياة.
ولقد كان لتدرجه صلى الله عليه وسلم في الدعوة الأثر العظيم، وقد ظهر هذا الأثر واضحا في نفوس كثير من المدعوين بقبولهم للحق وسرعة استجابتهم له.
ولا شك أن حال الناس اليوم في جوانب عديدة - وخصوصا الانحراف الفكري والسلوكي - يشبه حالهم وقت بعثته صلى الله عليه وسلم، ولا سبيل لإخراجهم من الظلمات إلى النور إلا بالدعوة والنشاط الدعوي الذي تكمن صورته المثلى في منهجه صلى الله عليه وسلم في الدعوة.
وإدراكا لأهمية هذا الموضوع، وإحساسا بالحاجة الملحة إلى عرضه بصورة تختلف عما هو موجود فيما كتب، حيث غلب عليه الرصد والاختصار، دون بيان موضوعه ووسيلته وأسلوبه، فقد وجهت نيتي له بإذن الله بعد القراءة المستفيضة حوله، والاستشارات العلمية، بالإضافة إلى أسباب أخرى أهمها:
1 - الحاجة الملحة إلى التدرج في الدعوة في هذا العصر.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান-সন্ততি, পুঞ্জীভূত সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও ক্ষেত-খামারের প্রতি আসক্তি। এসব হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ-সামগ্রী; আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে সর্বোত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।} [সূরা আল-ইমরান: ১৪] (১) ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রেরিত হয়েছিলেন, তখন সমগ্র মানবতা ঘোর অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। তাঁর প্রেরণের উদ্দেশ্য ছিল তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর দায়িত্ব ছিল মানুষকে তাঁর আনীত বার্তার প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে সক্ষম করা, এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করা এবং এরপর তা গ্রহণ করে আমৃত্যু তার ওপর অটল থাকার ব্যবস্থা করা।
দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর্যায়ক্রমিক ধারা (التدرج) অনুসরণের এক সুমহান প্রভাব ছিল। সত্য গ্রহণ এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে দাওয়াতপ্রাপ্ত অনেকের অন্তরে এই প্রভাব সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান যুগে বহু ক্ষেত্রে—বিশেষ করে চিন্তাগত ও আচরণগত বিচ্যুতির দিক থেকে—মানুষের অবস্থা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণের সময়কালের অবস্থার অনুরূপ। তাই তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য দাওয়াত ও দাওয়াতি তৎপরতা ছাড়া আর কোনো পথ নেই, যার সর্বোত্তম স্বরূপ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াতের কর্মপদ্ধতির (منهج) মধ্যে নিহিত রয়েছে।
এই বিষয়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এবং বিদ্যমান রচনাবলির চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে তা উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে—যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু, মাধ্যম ও শৈলীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ছাড়াই কেবল পর্যবেক্ষণ ও সংক্ষিপ্তকরণের প্রাধান্য দেখা যায়—আমি এ বিষয়ে ব্যাপক (مستفيض) পঠন-পাঠন এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক পরামর্শের পর আল্লাহর ইচ্ছায় এই কাজে মনোনিবেশ করেছি। এ ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:
১ - বর্তমান যুগে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা (التدرج) অনুসরণের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - عدم وجود كتابات تفصيلية قديمة أو حديثة عن هذا الموضوع.
3 - ارتباط البحث بتخصصي العلمي حيث تخرجت في قسم الدعوة بكلية الدعوة والإعلام.
هذا وأسأل الله العلي القدير أن يوفقني للإخلاص في النية، والصواب في العمل، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
2 - এই বিষয় সম্পর্কে প্রাচীন বা আধুনিক কোনো বিস্তারিত রচনার অনুপস্থিতি।
3 - আমার একাডেমিক বিশেষায়িত বিষয়ের সাথে এই গবেষণার সংশ্লিষ্টতা; যেহেতু আমি দাওয়াহ ও গণমাধ্যম অনুষদের দাওয়াহ বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছি।
পরিশেষে, আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে নিয়তের একনিষ্ঠতা এবং কর্মের সঠিকতা অর্জনে তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[التعريف بمصطلحات البحث]التعريف بمصطلحات البحث: (ا) التدرج:
التدرج لغة:
بالنظر في معاجم اللغة العربية نجد الكلمات:
دَرَجَ - درَّج - تدرَّج - استدرج - الدراجة.
ومعنى ذلك أن اللفظ جاء فعلًا مجردًا، ومزيدًا بالتضعيف، وبه وبالتاء، وجاء اسمًا، ومع الاختلاف اليسير في معاني الكلمات، إلا أنها تدل على المشي والحركة الهينة، والصعود في المراتب.
فقد جاءت كلمة (درج) بمعنى المشي والمضي فيه. ففي معجم مقاييس اللغة:
(دَرَجَ) الدال والراء والجيم أصل واحد يدل على مضي الشيء، والمضي في الشيء، من ذلك قولهم: درج الشيء، إذا مضى لسبيله (1) .
وفي الصحاح:
يُقال: درج الرجل ويدرج دروجًا ودرجانًا أي مشى (2) .
وجاء في المعجم الوسيط:
درج الصبي: أخذ في الحركة، ومشى قليلًا أوّل ما يمشي، ودرَجت
--------------------------------------------
[গবেষণার পরিভাষাগুলোর পরিচিতি]গবেষণার পরিভাষাগুলোর পরিচিতি: (ক) পর্যায়ক্রম (التدرج):
পর্যায়ক্রমের (التدرج) আভিধানিক অর্থ:
আরবি অভিধানসমূহ পর্যালোচনা করলে আমরা এই শব্দগুলো পাই:
দরাজা - দাররাজা - তাদাররাজা - ইসতাদরাজা - আদ-দাররাজাহ।
এর অর্থ হলো, শব্দটি মূল ক্রিয়া (فعل مجرد), দ্বিত্বকরণের মাধ্যমে অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত (مزيد بالتضعيف), এবং 'তা' বর্ণ সহযোগে অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত রূপেও এসেছে; আবার বিশেষ্য (اسم) হিসেবেও এর প্রয়োগ রয়েছে। শব্দগুলোর অর্থের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও এগুলো মূলত হাঁটা, ধীর গতিতে চলা এবং বিভিন্ন স্তরে আরোহণ করা বোঝায়।
নিশ্চয়ই 'দরাজা' শব্দটি হাঁটা এবং তাতে অগ্রসর হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ গ্রন্থে এসেছে:
(দরাজা): দাল, রা এবং জিম হলো একটি একক মূল যা কোনো কিছুর অতিবাহিত হওয়া এবং কোনো কিছুর পথে অগ্রসর হওয়াকে বোঝায়। এ থেকেই তাদের প্রবাদ: 'দরাজাশ শাই', যখন তা আপন পথে অগ্রসর হয় (১)।
আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে:
বলা হয়: 'দরাজার রাজুলু', সে 'ইয়াদরুজু', 'দুরুজান' ও 'দারাজানান' অর্থাৎ সে হেঁটেছে (২)।
আল-মু'জামুল ওয়াসিত গ্রন্থে এসেছে:
শিশুর চলাফেরা শুরু করা এবং হাঁটার শুরুতে সামান্য পথ চলাকে বলা হয় 'দরাজাস সাবিইউ'। আর 'দরাজাত'...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الريح: مرت مرًّا هينًا (1) .
وأما درَّج بتشديد الراء فمعناها التأنِّي في تناول الشيء أو بلوغه، ففي لسان العرب: يقال: درَّجت العليل تدريجًا، إذا أطعمته شيئًا قليلًا، وذلك إذا نقِه، حتى يتدرج إلى غاية أكله، كما كان قبل العلة درجةً درجةً (2) .
ودرَّج فلانًا إلى الشيء: أدناه منه قليلًا قليلًا وعوّده إياه.
ودرَّج الطعام ودرَّج الأمر فلانًا: حملاه على التدرج فيهما (3) .
ويُقال: (درَّجه) : جعله درجات.
وأما (تدرَّج) فهو مطاوع درَّجه.
في اللسان: درَّجه إلى كذا واستدرجه بمعنى، أي أدناه منه على التدريج، فتدرّج هو (4) .
فإذا خرجنا من دائرة الفعل، واتجهنا إلى الاسم وجدنا:
الدرَّاجة: بالفتح وهي التي يدرَّج عليها الصبي إذا مشى، حكاه أبو النصر (5) .
ودَرَجُ البناء ودُرَّجه، بالتثقيل، أي تشديد الراء، وهي المراتب بعضها
--------------------------------------------
বাতাস: এটি মৃদুভাবে প্রবাহিত হয়েছে (১)।
আর ‘রা’ বর্ণে তশদীদ (تشديد) যুক্ত ‘দাররাজা’ (درَّج) শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু গ্রহণ করা বা কোনো পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা। লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: বলা হয়ে থাকে, ‘আমি অসুস্থ ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে অগ্রসর (درَّجت) করিয়েছি’, যখন তাকে অল্প অল্প করে খাবার দেওয়া হয়। এটি তখন করা হয় যখন সে রোগমুক্ত হতে শুরু করে, যাতে সে অসুস্থ হওয়ার পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ধাপে ধাপে (درجةً درجةً) ফিরে আসতে পারে (২)।
কাউকে কোনো বিষয়ের দিকে পর্যায়ক্রমে অগ্রসর করানো (درَّج): এর অর্থ হলো তাকে অল্প অল্প করে সেটির নিকটবর্তী করা এবং তাকে সেটিতে অভ্যস্ত করে তোলা।
খাবার এবং কোনো বিষয় যখন কাউকে পর্যায়ক্রমিক (تدرج) ধারায় পরিচালিত করে তখন ‘দাররাজা’ শব্দ ব্যবহৃত হয় (৩)।
বলা হয়ে থাকে: ‘দাররাজাহু’ (درَّجه), অর্থাৎ তিনি একে বিভিন্ন স্তরে (درجات) বিন্যস্ত করেছেন।
আর ‘তাদাররাজা’ (تدرَّج) শব্দটি হলো ‘দাররাজা’ (درَّجه) ক্রিয়ার অনুবর্তী (مطاوع) রূপ।
লিসানুল আরব গ্রন্থে আছে: ‘দাররাজাহু’ (درَّجه) এবং ‘ইস্তাদরাজাহু’ (استدرجه) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো তাকে পর্যায়ক্রমিক (تدريج) ধারায় সেটির নিকটবর্তী করা, ফলে সে নিজেও পর্যায়ক্রমে অগ্রসর (تدرّج) হয় (৪)।
আমরা যদি ক্রিয়া পদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বিশেষ্য পদের দিকে লক্ষ্য করি, তবে পাই:
‘আদ-দাররাজাহ’ (الدرَّاجة): এটি ‘দাল’ বর্ণে ফাতহা যোগে গঠিত এবং এটি এমন এক সরঞ্জাম যার ওপর ভর দিয়ে শিশু হাঁটার সময় পর্যায়ক্রমে অগ্রসর (يدرَّج) হয়; আবু আন-নাসর এটি বর্ণনা করেছেন (৫)।
স্থাপত্যের সিঁড়িকে ‘দারাজ’ (دَرَج) এবং ‘দুররাজ’ (دُرَّج) বলা হয়—পরেরটি ‘রা’ বর্ণে তশদীদ (تشديد) সহকারে; আর এগুলো হলো একে অপরের ওপর বিন্যস্ত বিভিন্ন স্তর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فوق بعض. والدَّرَجة: المرقاة، والدرجة واحدة الدرجات، وهي الطبقات من المراتب، ودرجات الجنة منازل أرفع من منازل (1) .
وفي القرآن الكريم: {هُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ} [آل عمران: 163] (2) وقال تعالى: {فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً} [النساء: 95] (3) .
ومما تقدَّم تتضح لنا العلاقة جلية بين الفعل والاسم، لأن الدراجة يدرج عليها الصبي، وصعود البناء يحتاج إلى درجة، ومراتب بعضها فوق بعض، وكذلك درجات الجنة، منازل بعضها فوق بعض.
وكلمة " التدرّج " التي نحن بصدد بحثها تشتمل على المعاني السابقة التي ذكرناها في الفعل والاسم.
التدرج في الاصطلاح:
من خلال معاني التدرج في اللغة يمكن الوصول إلى تعريف للتدرج هو: " التقدم بالمدعو شيئًا فشيئًا للبلوغ به إلى غاية ما طلب منه وَفْقَ طرق مشروعة مخصوصة ".
--------------------------------------------
একটির ওপর আরেকটি। আর মর্যাদা (درجة) হলো সিঁড়ি বা সোপান। 'দারাজাহ' (درجة) হলো 'দারাজাত' (درجات)-এর একবচন, যা বিভিন্ন স্তরের বা মর্যাদার ধাপসমূহকে বোঝায়। আর জান্নাতের স্তরগুলো (درجات الجنة) হলো এমন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান যা অন্য অবস্থানের তুলনায় উচ্চতর (১)।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {আল্লাহর নিকট তাদের রয়েছে বিভিন্ন মর্যাদা (درجات); আর তারা যা করে আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন} [আলে ইমরান: ১৬৩] (২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহ সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদকারীদের মর্যাদা (درجة) দান করেছেন বসে থাকা ব্যক্তিদের উপরে} [আন-নিসা: ৯৫] (৩)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে ক্রিয়া ও বিশেষ্যের মধ্যকার সম্পর্ক আমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ শিশু যার ওপর ভর করে ধীরে ধীরে চলা শেখে তাকে ‘দাররাজাহ’ বলা হয়, আর ইমারতে বা কোনো উচ্চস্থানে আরোহণ করতে সিঁড়ির ধাপ বা স্তরের (درجة) প্রয়োজন হয়, যা একটির ওপর আরেকটি বিন্যস্ত থাকে। অনুরূপভাবে জান্নাতের স্তরসমূহও (درجات الجنة) একে অপরের উপরে অবস্থিত বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান।
আমাদের আলোচ্য শব্দ 'পর্যায়ক্রমিক ধারা' (التدرج) ইতিপূর্বে আলোচিত ক্রিয়া ও বিশেষ্যের অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় তাদাররুজ (التدرج):
তাদাররুজ (التدرج) শব্দের আভিধানিক অর্থের আলোকে একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে: "সুনির্দিষ্ট শরয়ি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে বা ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(ب) الدعوة:
الدعوة لغة:
تأتي الدعوة في اللغة لمعانٍ عدة:
منها: إمالة الشيء إليك بصوت وكلام يكون منك، والدعوة إلى الطعام، والنداء، والحث على قصد الشيء.
ومن الدعوة جاء اشتقاق الداعية وهو: الذي يدعو إلى دين أو فكرة، والهاء للمبالغة (1) .
والدعاة: قوم يدعون إلى بيعة هدى أو ضلالة، واحدهم داع (2) .
قال تعالى مخبرا عن الجن الذين استمعوا القرآن:
{يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ} [الأحقاف: 31] (3) .
والنبي صلى الله عليه وسلم داعي الله تعالى، وكذلك المؤذن (4) .
قال تعالى: {وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب: 46] (5) .
وقال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] (6) .
--------------------------------------------
(খ) দাওয়াত (الدعوة):
আভিধানিক (لغة) অর্থে দাওয়াত:
আভিধানিক (لغة) ক্ষেত্রে দাওয়াত শব্দটি বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
তার মধ্যে রয়েছে: নিজের কণ্ঠস্বর ও বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো কিছুকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা, খাবারের নিমন্ত্রণ জানানো, আহ্বান করা এবং কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি উৎসাহিত করা।
দাওয়াত শব্দ থেকেই দাঈ (الداعية) শব্দের ব্যুৎপত্তি ঘটেছে, যার অর্থ হলো: যিনি কোনো দ্বীন বা আদর্শের দিকে আহ্বান করেন; এখানে 'হা' বর্ণটি আতিশয্য (مبالغة) প্রকাশের জন্য যুক্ত হয়েছে (১)।
আর দুয়াত (الدعاة) হলো: এমন একদল লোক যারা হিদায়াত (هدى) অথবা পথভ্রষ্টতার (ضلالة) আনুগত্যের শপথের (بيعة) দিকে আহ্বান জানায়; তাদের একবচন হলো দাঈ (داعي) (২)।
কুরআন শ্রবণকারী জিনদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে মহান আল্লাহ বলেন:
{হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর আহ্বানকারীর (داعي) ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো} [আল-আহকাফ: ৩১] (৩)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মহান আল্লাহর আহ্বানকারী (داعي), অনুরূপভাবে মুয়াজ্জিনও (৪)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী (داعيًا) ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [আল-আহজাব: ৪৬] (৫)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত জ্ঞান ও দূরদর্শিতার (بصيرة) ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা} [ইউসুফ: ১০৮] (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] (1) .
ونخلص من هذا بأن للدعوة في اللغة معاني عديدة، منها إمالة الشيء إليك بصوت وكلام يكون منك، والدعوة إلى الطعام، والنداء والحثّ على قصد الشيء - كما سبق أن ذكرنا - وهناك معان أخرى، منها التمني، والطلب، والزعم. . .
والذي يعنينا من هذه المعاني اللغوية هو الحثّ لأن الداعية يحثّ المدعوين على الفكرة التي يريدها، والدِّين الذي يدعو إليه.
الدعوة في الاصطلاح:
كلمة الدعوة في الاصطلاح تطلق ويُقصد بها معنيان:
1 - الإسلام. 2 - نشر الإسلام بين الناس. والذي يهمنا في بحثنا هذا هو المعنى الثاني.
وقد عرّف الدعوة بهذا التعريف كثير من الكتّاب والدعاة المعاصرين نقتصر منها على التعاريف التالية:
(ا) عرَّفها الأستاذ أبو المجد نوفل بقوله: " إن الدعوة هي قيام من
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়} [আন-নাহল: ১২৫] (১)।
এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, আভিধানিক (لغة) দৃষ্টিকোণ থেকে দাওয়াহ শব্দের অনেকগুলো অর্থ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে: নিজের আওয়াজ ও কথার মাধ্যমে কোনো কিছুকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা, খাবারের দাওয়াত দেওয়া এবং কোনো কিছুর সংকল্প করার জন্য আহ্বান জানানো ও উৎসাহিত করা — যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি — এছাড়াও অন্যান্য অর্থ রয়েছে, যেমন: আকাঙ্ক্ষা করা, প্রার্থনা করা এবং দাবি করা...
এই আভিধানিক অর্থগুলোর মধ্য থেকে আমাদের নিকট যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো উৎসাহিত করা (حث), কারণ একজন দায়ী (داعية) যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে সেই চিন্তা ও আদর্শের দিকে উৎসাহিত করেন যা তিনি চান এবং সেই দীনের দিকে যার প্রতি তিনি আহ্বান করেন।
পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে দাওয়াহ:
পরিভাষায় (اصطلاح) দাওয়াহ শব্দটি প্রয়োগ করা হয় এবং এর দ্বারা দুটি অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়:
1 - ইসলাম। ২ - মানুষের মাঝে ইসলামের প্রচার ও প্রসার। আমাদের এই গবেষণায় দ্বিতীয় অর্থটিই বিবেচ্য।
অনেক সমকালীন লেখক ও দায়ী (داعية) দাওয়াহর এই সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যেখান থেকে আমরা নিম্নোক্ত সংজ্ঞাসমূহ উল্লেখ করছি:
(ক) উস্তাদ আবু আল-মাজদ নাউফাল দাওয়াহর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "নিশ্চয়ই দাওয়াহ হলো এমন একজনের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালানো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২০)
عنده أهلية النصح والتوجيه السديد من المسلمين في كل زمان ومكان بترغيب الناس في الإسلام اعتقادًا ومنهجًا، وتحذيرهم من غيره بطرق مخصوصة " (1) .
(ب) وعرَّفها آخر بقوله: " إن الدعوة إلى الله هي قيام من له أهلية بدعوة الناس جميعًا في كل زمان ومكان لاقتفاء أثر الرسول صلى الله عليه وسلم، والتأسِّي به قولًا وعملًا وسلوكًا " (2) .
(جـ) وعرفها آخر بقوله: الدعوة هي: " الحث على فعل الخير واجتناب الشر، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والتحبيب بالفضيلة، والتنفير عن الرذيلة، واتِّباع الحق ونبذ الباطل " (3) .
ولعل أقرب هذه التعريفات إلى الصواب هو تعريف الدكتور أبو المجد نوفل، وهو التعريف الأول من تعريفات المعنى الثاني للدعوة.
(جـ) الموضوع:
عرف يوسف خياط الموضوع بقوله: " موضوع كل علم ما يبحث فيه عوارضه الذاتية، كبدن الإنسان لعلم الطب، فإنَّه يبحث فيه عن أحواله من حيث الصحة والمرض، وكالكلمات لعلم النحو، فإنَّه يبحث فيه عن أحوالها
--------------------------------------------
...যিনি সকল যুগে ও সকল স্থানে মুসলমানদের মধ্য থেকে নসিহত এবং সঠিক দিকনির্দেশনার যোগ্যতা রাখেন, মানুষের মাঝে বিশ্বাস ও কর্মপন্থা হিসেবে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে এবং বিশেষ পন্থায় ইসলাম ব্যতীত অন্য বিষয়সমূহ থেকে তাদের সতর্ক করার মাধ্যমে (১)। "
(খ) অন্য একজন একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে দাওয়াত হলো সেই যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির কাজ, যিনি সকল যুগে ও সকল স্থানে সকল মানুষকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এবং কথা, কাজ ও আচরণের মাধ্যমে তাঁর অনুকরণ করতে আহ্বান জানান (২)। "
(গ) অন্য একজন এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: দাওয়াত হলো: "ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা ও মন্দ কাজ বর্জন করা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা, গুণের প্রতি অনুরাগী করা ও নীচতার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা এবং সত্যের অনুসরণ ও মিথ্যার বর্জন (৩)। "
সম্ভবত এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সঠিকতার সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো ডক্টর আবু আল-মাজদ নওফাল-এর সংজ্ঞাটি; আর এটি দাওয়াতের দ্বিতীয় অর্থের সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে প্রথমটি।
(গ) বিষয়বস্তু (الموضوع):
ইউসুফ খায়্যাত বিষয়বস্তুর (الموضوع) সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: "প্রত্যেক ইলমের বিষয়বস্তু হলো তা-ই, যাতে তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (عوارضه الذاتية) নিয়ে আলোচনা করা হয়; যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানবদেহ, কেননা এতে স্বাস্থ্য ও ব্যাধির দিক থেকে দেহের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর যেমন নাহু শাস্ত্রের ক্ষেত্রে শব্দসমূহ (الكلمات), কেননা এতে সেগুলোর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২১)
من حيث الإعراب والبناء " يوسف خياط، (1) .
وفي المعجم الوسيط: الموضوع: هو المادّة التي يبني عليها المتكلم أو الكاتب كلامه (2) .
وموضوع الدعوة الإسلامية بحسب حال المدعو فإن كان المدعو مسلمًا فموضوع دعوته بحسب حاله، وهو لا يخرج عن دعوته إلى التمسك بطاعة الله ورسوله والعمل بالكتاب والسنة (3) .
وإن كان المدعو غير مسلم فموضوع دعوته الإسلام توحيدًا وشريعة (4) .
ونقصد بموضوع الدعوة هنا موضوع دعوته صلى الله عليه وسلم منذ بعثه الله إلى أن صعدت روحه الطاهرة إلى بارئها وهو محصور في التوحيد والشريعة وهو شامل للمسلمين وغير المسلمين.
(د) الوسيلة والأسلوب والفرق بينهما: 1 - الوسيلة في اللغة:
(وسل) فلان إلى الله بالعمل (يسل) وسلًا: رغب وتقرّب (5) .
والوسيلة القربة، والواسل الراغب إلى الله، وتوسل إليه بكذا: تقرب إليه
--------------------------------------------
ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (الإعراب) ও শব্দের অপরিবর্তনীয় রূপের (البناء) প্রেক্ষিত থেকে " ইউসুফ খাইয়াত, (১) ।
এবং আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত-এ বলা হয়েছে: বিষয় (الموضوع) হলো সেই মূল উপাদান যার ওপর বক্তা বা লেখক তাঁর বক্তব্য তৈরি করেন (২) ।
আর ইসলামি দাওয়াতের বিষয়বস্তু দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যদি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি মুসলিম হয়, তবে তার দাওয়াতের বিষয়বস্তু হবে তার অবস্থা অনুযায়ী; যা তাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে অবিচল থাকা এবং কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার দাওয়াতের বাইরে নয় (৩) ।
আর যদি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি অমুসলিম হয়, তবে তার দাওয়াতের বিষয়বস্তু হবে ইসলাম—তাওহিদ (توحيد) ও শরিয়ত (شريعة) হিসেবে (৪) ।
আর এখানে দাওয়াতের বিষয়বস্তু বলতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের বিষয়বস্তুকে বোঝাচ্ছি—যে সময় থেকে আল্লাহ তাঁকে নবুয়ত প্রদান করেছেন সেই থেকে শুরু করে তাঁর পবিত্র রূহ তাঁর স্রষ্টার সান্নিধ্যে আরোহণ করা পর্যন্ত। যা তাওহিদ (توحيد) ও শরিয়ত (شريعة)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এটি মুসলিম ও অমুসলিম সকলের জন্য অন্তর্ভুক্ত।
(ঘ) মাধ্যম (الوسيلة) ও পদ্ধতি (الأسلوب) এবং এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য: ১ - আভিধানিক অর্থে মাধ্যম (الوسيلة):
অমুক ব্যক্তি আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট 'ওয়াসালা' (وسل) তথা 'ইয়াসিলু' (يسل) বা 'ওয়াসলান' (وسلاً) হয়েছে: অর্থাৎ সে আকাঙ্ক্ষা করেছে ও নৈকট্য অর্জন (تقرّب) করেছে (৫) ।
আর 'ওয়াসিলাহ' (الوسيلة) হলো নৈকট্য (القربة), আর 'ওয়াসিল' (الواسل) হলো আল্লাহর প্রতি অনুরাগী ব্যক্তি; এবং কোনো কিছুর মাধ্যমে তাঁর নিকট 'তাওয়াসসুল' (توسل) করা অর্থ হলো: তাঁর নৈকট্য লাভ (تقرب) করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২২)
بحرمة آصرة تعطفه عليه (1) .
والوسيلة ما يتقرب به إلى الغير، والجمع وسائل (2) قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ} [المائدة: 35] (3) .
يقول ابن كثير: الوسيلة: هي التي يتوصل بها إلى تحصيل المقصود ابن كثير، (4) .
ويقول الفخر الرازي: الوسيلة هي التوصل إلى تحصيل المقصود (5) .
وفي المفردات: الوسيلة هي التوصل إلى الشيء برغبة (6) .
ويقول ابن الأثير في النهاية: الوسيلة هي ما يتوصل به إلى الشيء، ويتقرب به، وجمعها وسائل (7) .
2 - الوسيلة في الاصطلاح:
للوسيلة في الاصطلاح تعاريف نكتفي منها بالآتي:
(ا) الوسيلة: هي كل ما يتم به تبليغ الأساليب وحملها إلى المدعو (8) .
--------------------------------------------
সেই বন্ধনের পবিত্রতার মাধ্যমে যা তাকে তার প্রতি সহানুভূতিশীল করে (১)।
আর ওসিলাহ (الوسيلة) হলো তা, যার মাধ্যমে অন্যের নিকটবর্তী হওয়া যায়, এর বহুবচন হলো ওয়াসাইল (وسائل) (২)। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম (الوسيلة) অন্বেষণ করো} [আল-মায়িদাহ: ৩৫] (৩)।
ইবনে কাসির বলেন: ওসিলাহ (الوسيلة) হলো তা, যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে পৌঁছানো যায় (৪)।
আর ফখর আল-রাজি বলেন: ওসিলাহ (الوسيلة) হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে পৌঁছানো (৫)।
আল-মুফরাদাত গ্রন্থে রয়েছে: ওসিলাহ (الوسيلة) হলো আগ্রহের সাথে কোনো জিনিসের কাছে পৌঁছানো (৬)।
আর ইবনুল আসির আন-নিহায়াহ গ্রন্থে বলেন: ওসিলাহ (الوسيلة) হলো তা, যার মাধ্যমে কোনো জিনিসের দিকে পৌঁছানো যায় এবং নৈকট্য অর্জন করা যায়, এর বহুবচন হলো ওয়াসাইল (وسائل) (৭)।
২ - পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ওসিলাহ (الوسيلة):
পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ওসিলাহ (الوسيلة)-এর অনেক সংজ্ঞা রয়েছে, আমরা কেবল নিম্নোক্ত সংজ্ঞার ওপরই ইতি টানছি:
(ক) ওসিলাহ (الوسيلة): তা হলো এমন প্রতিটি বিষয় যার মাধ্যমে দাওয়াতের পদ্ধতিসমূহ পৌঁছে দেওয়া হয় এবং দাওয়াত গ্রহণকারীর (مدعو) নিকট তা বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(ب) الوسيلة: هي الطريقة التي يصل بها الأسلوب إلى المدعو (1) .
(جـ) الوسيلة في الدعوة أو الاتصال الدعوي هي: القناة الموصلة للغاية، أو الأداة المستخدمة في نقل المعاني والأفكار للناس (2) .
من مجموع تعاريف الوسيلة في اللغة والاصطلاح أستطيع القول بأن الوسيلة هي: الأداة المستخدمة في إيصال المعاني ونقل الأفكار من الداعي إلى المدعو.
3 - الأسلوب في اللغة:
الأسلوب: الطريق، والوجه، والمذهب، يُقال: أنتم في أسلوب سوء، ويجمع أساليب، والأسلوب الطريق تأخذ فيه.
والأسلوب بالضم الفن، يُقال: أخذ فلان في أساليب القول، أي أفانين منه (3) .
وفي المعجم الوسيط:
الأسلوب: الطريق، ويُقال: سلكت أسلوب فلان في كذا: طريقته ومذهبه، وطريقة الكاتب في كتابته (4) .
4 - الأسلوب في الاصطلاح:
للأسلوب في الاصطلاح تعاريف عديدة، نكتفي بذكر ثلاثة منها:
--------------------------------------------
(খ) মাধ্যম (الوسيلة): এটি এমন একটি পন্থা (الطريقة) যার মাধ্যমে পদ্ধতি (الأسلوب) দাওয়াতপ্রাপকের (المدعو) নিকট পৌঁছায় (১)।
(গ) দাওয়াত বা দাওয়াতী যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাধ্যম (الوسيلة) হলো: চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ (القناة), অথবা মানুষের কাছে ভাব ও ধারণা স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হাতিয়ার (الأداة) (২)।
শাব্দিক (اللغة) ও পারিভাষিক (الاصطلاح) সংজ্ঞাসমূহের সমষ্টি থেকে আমি বলতে পারি যে, মাধ্যম (الوسيلة) হলো: দাঈ (الداعي) থেকে দাওয়াতপ্রাপকের (المدعو) নিকট ভাব প্রকাশ ও ধারণা স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হাতিয়ার (الأداة)।
৩ - শাব্দিক অর্থে পদ্ধতি (الأسلوب):
পদ্ধতি (الأسلوب): পথ (الطريق), ধরণ (الوجه) এবং মতাদর্শ (المذهب); বলা হয়: 'তোমরা মন্দ পথে (أسلوب سوء) আছো', এর বহুবচন হলো পদ্ধতিসমূহ (أساليب), আর পদ্ধতি (الأسلوب) হলো সেই পথ (الطريق) যা তুমি গ্রহণ করো।
এবং 'উ' কার যোগে পদ্ধতি (الأسلوب) এর অর্থ হলো শিল্প বা শৈলী (الفن), বলা হয়: 'অমুক ব্যক্তি কথা বলার নানাবিধ শৈলী (أساليب القول) গ্রহণ করেছে', অর্থাৎ তার বিভিন্ন ধরণ (أفانين) (৩)।
আল-মু'জামুল ওয়াসিত-এ বলা হয়েছে:
পদ্ধতি (الأسلوب): পথ (الطريق), বলা হয়: 'আমি অমুকের অমুক বিষয়ে পদ্ধতি (أسلوب) অনুসরণ করেছি': অর্থাৎ তার পন্থা (الطريقة) ও মতাদর্শ (المذهب), এবং লেখকের লেখার ভঙ্গি (طريقة) (৪)।
৪ - পারিভাষিক অর্থে পদ্ধতি (الأسلوب):
পারিভাষিক অর্থে পদ্ধতি (الأسلوب)-এর অনেকগুলো সংজ্ঞা রয়েছে, আমরা এখানে তিনটি উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(ا) الأسلوب: هو طريقة الإنشاء أو طريقة اختيار الألفاظ وتأليفها للتعبير بها عن المعاني قصد الإيضاح والتأثير (1) .
(ب) الأسلوب: هو الطريقة الكلامية التي يسلكها المتكلم في تأليف كلامه، واختيار مفرداته (2) .
(جـ) الأسلوب: عرض ما يراد عرضه من معان وأفكار وقضايا في عبارات وجمل مختارة، لتناسب فكر المخاطبين وأحوالهم، وما يجب لكل مقام من المقال (3) .
من معاني الأسلوب في اللغة وتعريفاته في الاصطلاح أصل إلى تعريف للأسلوب فأقول: الأسلوب هو: فن العرض والتأثير والإقناع.
5 - الفرق بين الوسيلة والأسلوب:
تبين لنا مما سبق أن الوسيلة هي: الأداة المستخدمة في إيصال المعاني، ونقل الأفكار من الداعي إلى المدعو.
أما الأسلوب فهو: فن العرض والتأثير والإقناع، والفرق بينهما أن الوسيلة أعم من الأسلوب إذ إنها هي الأداة التي تنقل الأسلوب وتوصله للناس.
(هـ) المدعو: يُقصد بالمدعو إذا أطلق كل مكلف بالعبودية
--------------------------------------------
(ক) শৈলী: এটি হলো রচনার পদ্ধতি অথবা শব্দ চয়ন ও রচনার এমন এক বিন্যাস, যার মাধ্যমে পরিস্ফুটন ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে কোনো ভাব বা অর্থ প্রকাশ করা হয় (১)।
(খ) শৈলী: এটি হলো বক্তব্যের সেই পদ্ধতি যা একজন বক্তা তার বাক্য গঠন ও শব্দ চয়নে অনুসরণ করেন (২)।
(গ) শৈলী: উদ্দিষ্ট অর্থ, চিন্তা ও বিষয়সমূহকে এমন সুনিপুণ শব্দ ও বাক্যে উপস্থাপন করা, যা শ্রোতাদের মেধা ও অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং যা প্রতিটি পরিস্থিতির চাহিদা পূরণ করে (৩)।
শৈলীর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাগুলো থেকে আমি শৈলীর একটি সংজ্ঞায় উপনীত হয়ে বলতে পারি যে: শৈলী হলো—উপস্থাপন, প্রভাব বিস্তার ও উদ্বুদ্ধকরণের শিল্প।
৫ - মাধ্যম ও শৈলীর মধ্যে পার্থক্য:
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, মাধ্যম হলো: ভাব আদান-প্রদান এবং দাঈ থেকে মাদউ-এর নিকট চিন্তা ও তথ্য স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ।
পক্ষান্তরে শৈলী হলো: উপস্থাপন, প্রভাব বিস্তার ও উদ্বুদ্ধকরণের শিল্প; আর এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো—মাধ্যমের পরিধি শৈলীর চেয়ে ব্যাপক, কারণ মাধ্যমই হলো সেই উপকরণ যা শৈলীকে বহন করে মানুষের নিকট পৌঁছে দেয়।
(ঙ) মাদউ: সাধারণ অর্থে 'মাদউ' বলতে ইবাদতের বিধিনিষেধ পালনে দায়বদ্ধ প্রত্যেক ব্যক্তিকে বোঝানো হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والدينونة لله تعالى، وهم الثقلان (1) قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (2) .
ولكن في بحثي هذا أعني بالمدعو هو كل من اتّصل به النبي صلى الله عليه وسلم من بني آدم، ودعاه إلى الله تعالى.
والمدعو أصناف، فمنهم المشرك بالله تعالى، فيحتاج إلى جهد كبير، وأسلوب مناسب، ووسيلة مناسبة، ليتم إقناعه بالإسلام، ومنهم المؤمن، لكن إيمانه فيه ضعف، وللنفس والشيطان عليه سبيل، فهو يحتاج إلى جهد مضاعف، لكنه أقلّ من الجهد مع الصنف الأول، ومنهم الزعيم المغرور بزعامته، فهو بحاجة إلى أسلوب معين فيه لطف وليونة (3) قال تعالى: {فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 44] (4) .
أنواع التدرج: من أبرز أنواع التدرج في بعثته صلى الله عليه وسلم نوعان هما:
(ا) التدرج في التشريع:
اقتضت حكمة الباري تعالى أن يتدرج في التشريع شيئًا فشيئًا، من أجل ذلك نزل القرآن منجمًا، قال تعالى: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} [الإسراء: 106] (5)
--------------------------------------------
আনুগত্য কেবল মহান আল্লাহর জন্য, আর তারা হলো জিন ও মানবজাতি (الثقلان) (১)। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬] (২)।
কিন্তু আমার এই গবেষণায় দাওয়াতের লক্ষ্যবস্তু (المدعو) বলতে আমি আদম সন্তানদের মধ্য থেকে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বুঝিয়েছি, যাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৌঁছেছেন এবং তাদেরকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন।
দাওয়াতের লক্ষ্যবস্তুরা (المدعو) বিভিন্ন শ্রেণির হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ মহান আল্লাহর সাথে শিরককারী (المشرك); তাকে ইসলাম সম্পর্কে আশ্বস্ত করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা, যথাযথ পদ্ধতি এবং উপযুক্ত মাধ্যমের প্রয়োজন। আবার তাদের মধ্যে কেউ মুমিন, তবে তার ঈমানের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং তার ওপর নফস ও শয়তানের প্রভাব বিদ্যমান; তার ক্ষেত্রেও দ্বিগুণ প্রচেষ্টার প্রয়োজন, তবে তা প্রথম শ্রেণির তুলনায় কম। তাদের মধ্যে কেউ আবার তার নেতৃত্বে অহংকারী নেতা; তার জন্য এমন বিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজন যাতে নম্রতা ও কোমলতা রয়েছে (৩)। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তার সাথে নরম কথা বলো, হয়তো সে নসিহত গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} [ত্বহা: ৪৪] (৪)।
পর্যায়ক্রমিক ধারার প্রকারভেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নব্যুয়তি মিশনের পর্যায়ক্রমিক ধারার প্রধান প্রকারগুলোর মধ্যে দুটি হলো:
(ক) বিধান প্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা:
মহান স্রষ্টার প্রজ্ঞা এটাই দাবি করেছে যে, তিনি বিধান প্রণয়ন (التشريع) করবেন ধীরে ধীরে। আর এ কারণেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে কিস্তিতে কিস্তিতে (منجما)। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি কুরআনকে ভাগ ভাগ করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি} [আল-ইসরা: ১০৬] (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أي أنزلناه شيئًا بعد شيء، ونجمًا بعد نجم، ولو أخذوا بجميع الفرائض في وقت واحد لنفروا (1) .
يقول الفخر الرازي: " لو أنزل الكتاب جملة واحدة لنزلت الشرائع بأسرها دفعة واحدة على الخلق، فكان يثقل عليهم ذلك، أما لو نزل مفرقًا منجمًا، لا جرم نزلت التكاليف قليلًا قليلًا فكان تحملها أسهل " (2) .
ومن أول من أشار إلى الحكمة من التدرج في التشريع أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها حيث تقول: ". . . إنما نزل أوَّل ما نزل منه - أي القرآن - سورة من المفصل فيها ذكر الجنة والنار، حتى إذا ثاب الناس إلى الإسلام نزل الحلال والحرام، ولو نزل أول شيء لا تشربوا الخمر لقالوا: لا ندع الخمر أبدًا، ولو نزل لا تزنوا لقالوا: لا ندع الزنا أبدًا. . . . " (3) . وقد بيَّن ابن حجر رحمه الله في شرحه لهذا الحديث الحكمة من هذا التدرُّج فقال: " أشارت إلى الحكمة الإلهية في ترتيب النزول، وأن أول ما نزل من القرآن الدعاء إلى التوحيد، والتبشير للمؤمن والمطيع بالجنة، وللكافر والعاصي بالنار، فلما اطمأنت النفوس على ذلك أنزلت الأحكام، ولهذا قالت: " ولو نزل أول شيء لا تشربوا الخمر لقالوا لا ندعها " وذلك لما طبعت عليه
--------------------------------------------
অর্থাৎ আমরা এটি অবতীর্ণ করেছি অল্প অল্প করে এবং ধাপে ধাপে (نجما بعد نجم), আর তারা যদি সকল বিধান (فرائض) একসাথে গ্রহণ করত তবে তারা বিমুখ হয়ে যেত (১)।
ফখরুদ্দীন আল-রাজি বলেন: "যদি কিতাবটি একবারে অবতীর্ণ হতো, তবে সৃষ্টির ওপর শরিয়তি বিধানসমূহ (شرائع) একসাথেই অবতীর্ণ হতো, যা তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াত। পক্ষান্তরে যদি এটি পৃথক পৃথকভাবে ধাপে ধাপে (منجما) অবতীর্ণ হয়, তবে অবশ্যই ধর্মীয় দায়িত্বসমূহ (تكاليف) অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হবে এবং এর ভার বহন করা সহজতর হবে" (২)।
আর বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারার (التدرج في التشريع) হিকমতের (حكمة) প্রতি সর্বপ্রথম যারা ইঙ্গিত করেছেন তাদের অন্যতম হলেন উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। তিনি বলেন: "...কুরআনের মধ্যে সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো মুফাসসাল (المفصل) অংশের একটি সূরা যাতে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা ছিল। অতঃপর যখন মানুষ ইসলামের দিকে ফিরে এল, তখন বৈধ (حلال) ও অবৈধ (حرام) এর বিধান অবতীর্ণ হলো। যদি প্রথমেই অবতীর্ণ হতো যে, তোমরা মদ পান করো না, তবে তারা বলতো: আমরা কখনোই মদ ছাড়বো না। আর যদি প্রথমেই অবতীর্ণ হতো যে, তোমরা ব্যভিচার করো না, তবে তারা বলতো: আমরা কখনোই ব্যভিচার ছাড়বো না..." (৩)। আর ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় এই পর্যায়ক্রমিক ধারার হিকমত বর্ণনা করে বলেন: "তিনি অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমধারার মাঝে বিদ্যমান ঐশী হিকমতের (الحكمة الإلهية) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর তা হলো, কুরআনের সর্বপ্রথম যে বিষয়গুলো অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো তাওহিদের (توحيد) প্রতি দাওয়াত এবং মুমিন ও আনুগত্যকারীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এবং কাফির ও অবাধ্যদের জন্য জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন। অতঃপর যখন মানুষের মন এর ওপর প্রশান্ত হলো, তখন বিধিবিধানসমূহ (أحكام) অবতীর্ণ হলো। এই কারণেই তিনি বলেছেন: 'যদি প্রথমেই অবতীর্ণ হতো যে, তোমরা মদ পান করো না, তবে তারা বলতো আমরা তা ছাড়বো না', আর তা ছিল মানুষের সহজাত স্বভাবের কারণে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النفوس من النفرة عن ترك المألوف (1) .
لقد أدرك العلماء سر التدرج في التشريع، ولاحظوا أنه أدعى إلى قبول الناس للأحكام بخلاف ما لو نزل التشريع دفعة واحدة، فإنه كان ينفر من قبوله كثير من الناس لنزول الفرائض والنواهي جملة واحدة، يثقل على النفس حملها (2) .
(ب) التدرج في الدعوة:
نقصد بالتدرج في الدعوة تدرجه صلى الله عليه وسلم في تبليغ الإسلام والدعوة إليه، تدرجه في الدعوة إلى الموضوع توحيدًا وشريعة، وتدرجه في اتخاذ الوسائل المناسبة لعمل دعوته صلى الله عليه وسلم، ونقلها إلى الناس، وتدرجه في اتخاذ الأساليب المناسبة في الدعوة، وكذلك تدرجه صلى الله عليه وسلم مع المدعوين، وهذا النوع من التدرج هو موضوع بحثنا وسأتناوله بشيء من التفصيل في صلب هذه الرسالة إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
পরিচিত অভ্যাস ত্যাগের প্রতি আত্মার (النفوس) বিমুখতা থেকে (রক্ষা করার জন্য) (১)।
নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম বিধান প্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রে ক্রমধারার (التدرج) রহস্য অনুধাবন করেছেন। তাঁরা লক্ষ্য করেছেন যে, এটি মানুষের জন্য বিধিবিধান গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক। পক্ষান্তরে, যদি বিধানসমূহ একযোগে অবতীর্ণ হতো, তবে অনেক মানুষ তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করত; কারণ ফরয (الفرائض) এবং নিষেধসমূহ (النواهي) একত্রে অবতীর্ণ হওয়াটা বহন করা আত্মার (النفس) জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হতো (২)।
(খ) দাওয়াতের ক্ষেত্রে ক্রমধারা (التدرج):
দাওয়াতের ক্ষেত্রে ক্রমধারা (التدرج) বলতে আমরা ইসলাম প্রচার ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিকে বোঝাচ্ছি। এটি তাওহীদ (توحيد) এবং শরীয়তের (شريعة) ন্যায় বিষয়বস্তুর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ক্রমিকতা, তাঁর দাওয়াতী কাজ পরিচালনা ও মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত মাধ্যম (الوسائل) গ্রহণে ক্রমিকতা, দাওয়াতের উপযুক্ত পদ্ধতি (الأساليب) গ্রহণে ক্রমিকতা এবং সেইসাথে যাদের নিকট দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে (المدعوين) তাদের সাথেও তাঁর পর্যায়ক্রমিক আচরণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ধরণের ক্রমধারাই (التدرج) আমাদের গবেষণার মূল বিষয়বস্তু এবং ইনশাআল্লাহ আমি এই নিবন্ধের মূল অংশে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[الفصل الأول التدرج في الدعوة باعتبار الموضوع]
[المبحث الأول التوحيد]
[أولًا مفهوم التوحيد]الفصل الأول
التدرج في الدعوة باعتبار الموضوع وفيه تمهيد ومبحثان: المبحث الأول: التوحيد
المبحث الثاني: الشريعة
[প্রথম অধ্যায়: বিষয়ের প্রেক্ষাপটে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা]
[প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ]
[প্রথমত: তাওহিদের ধারণা]প্রথম অধ্যায়
বিষয়ের প্রেক্ষাপটে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা; এতে একটি ভূমিকা এবং দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়ত
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تمهيد بينت في تعريف الموضوع أن المدعو إذا كان غير مسلم فموضوع دعوته الإسلام توحيدًا وشريعة، وقد بُعِثَ صلى الله عليه وسلم في أمة جاهلية تعبد الأوثان وتشرك بالله الملِك الديَّان، فكان موضوع دعوتهم الإسلام مبتدئًا بالتوحيد، ثم الشريعة، وقد قسَّمت هذا الفصل إلى مبحثين:
المبحث الأول: التوحيد.
المبحث الثاني: الشريعة.
وفيما يلي تفصيل هذين المبحثين:
উপক্রমণিকা: আমি বিষয়বস্তুর সংজ্ঞায় স্পষ্ট করেছি যে, দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি অমুসলিম হন, তবে তার দাওয়াতের বিষয়বস্তু হবে ইসলাম—একত্ববাদ (توحيد) ও শরিয়াহ (شريعة)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক জাহেলি (جاهلية) জাতির নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন যারা মূর্তিপূজা করত এবং মহান অধিপতি ও প্রতিদানদাতা আল্লাহর সাথে শিরক (شرك) করত। ফলে তাদের দাওয়াতের বিষয়বস্তু ছিল ইসলাম—যার সূচনা হয়েছিল একত্ববাদ (توحيد) দিয়ে এবং পরবর্তীতে শরিয়াহ (شريعة)। আমি এই অধ্যায়টিকে দুটি পরিচ্ছেদে (مبحثين) বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): একত্ববাদ (التوحيد)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): শরিয়াহ (الشريعة)।
নিম্নে এই পরিচ্ছেদদ্বয়ের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الأول
التوحيد أولًا: مفهوم التوحيد: 1 - تعريف التوحيد:
سُمِيَ دين الإسلام توحيدا لأن مبناه على أن الله واحد في ملكه وأفعاله، لا شريك له، وواحد في ذاته وصفاته، لا نظير له، وواحد في إلهيته وعبادته، لا ندّ له (1) وهذا الأخير هو الذي دعت إليه الرسل، فالتوحيد إذًا هو إفراد الله سبحانه وتعالى بالعبادة، وهو دين الرسل الذين أرسلهم الله به إلى عباده (2) وهو العلم والاعتراف بتفرد الرب بصفات الكمال والجلال والعظمة، وإفراده وحده بالعبادة (3) .
فتوحيد الله معناه: اعتقاد أن الله واحد لا شريك له، ونفي المثيل والنظير عنه، والتوجُّه إليه وحده بالعبادة (4) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
তাওহিদ প্রথমত: তাওহিদের ধারণা: ১ - তাওহিদের সংজ্ঞা:
ইসলাম ধর্মকে তাওহিদ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর ভিত্তি হলো এই যে, আল্লাহ তাঁর রাজত্ব ও কার্যাবলিতে এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে এক, তাঁর কোনো সদৃশ নেই; এবং তিনি তাঁর উপাস্যতা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে এক, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই (১)। আর এই শেষোক্ত বিষয়টিই হলো সেই আহ্বান যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং তাওহিদ হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ইবাদতে একক সাব্যস্ত করা এবং এটিই সেই রাসূলদের ধর্ম যাদেরকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরণ করেছেন (২)। আর এটি হলো এই জ্ঞান ও স্বীকৃতি প্রদান করা যে, প্রতিপালক তাঁর পূর্ণতা, মাহাত্ম্য ও মহত্ত্বের গুণাবলিতে অনন্য এবং একমাত্র তাঁকে ইবাদতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা (৩)।
সুতরাং আল্লাহর তাওহিদের অর্থ হলো: এই বিশ্বাস করা যে আল্লাহ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর থেকে সকল সদৃশ ও সমকক্ষকে অস্বীকার করা এবং একমাত্র তাঁর দিকেই ইবাদত নিয়ে ধাবিত হওয়া (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهذا المفهوم للتوحيد هو الحق الموافق للصواب؛ لشموله لتوحيد الربوبية والألوهية والأسماء والصفات، ولموافقته لما كان يعتقده السلف الصالح رضي الله عنهم.
2 - أنواع التوحيد: التوحيد نوعان:
النوع الأول: توحيد في المعرفة والإثبات، ويشمل توحيد الربوبية، وتوحيد الأسماء والصفات.
النوع الثاني: توحيد في الطلب والقصد، وهو توحيد الألوهية والعبادة.
أما توحيد الربوبية فهو: توحيد الله بأفعاله، مثل الخلق، والرزق، والإحياء والإماتة ونحوها، وهو الذي أقر به المشركون في زمنه صلى الله عليه وسلم، ولم يدخلهم في الإسلام، بل قاتلهم الرسول صلى الله عليه وسلم واستحلَّ دماءهم وأموالهم (1) ويدل عليه قوله تعالى: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الأَمْرَ} [يونس: 31] (2) .
فقريش ومن قبلهم من الأُمم مقرّون بهذا النوع من التوحيد، ولم تقع بينهم وبين أنبيائهم خصومة فيه، ومع ذلك لم يدخلهم في الإسلام، ولم ينجهم من نقمة الله تعالى وعذابه (3) .
--------------------------------------------
তৌহিদের এই ধারণাটিই হলো সত্য ও সঠিকের অনুকূল; কারণ এটি রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী)-এর তৌহিদকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বিশ্বাসের অনুরূপ।
২ - তৌহিদের প্রকারভেদ: তৌহিদ দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: জ্ঞান ও প্রতিপাদনের ক্ষেত্রে তৌহিদ, যা রুবুবিয়্যাহর তৌহিদ এবং আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী)-এর তৌহিদকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয় প্রকার: প্রার্থনা ও সংকল্পের ক্ষেত্রে তৌহিদ, আর তা হলো উলুহিয়্যাহ ও ইবাদতের তৌহিদ।
রুবুবিয়্যাহর তৌহিদ হলো: আল্লাহকে তাঁর কার্যাবলির মাধ্যমে এক হিসেবে মান্য করা, যেমন সৃষ্টি করা, রিজিক দান করা, জীবন দান ও মৃত্যু দান এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এটি সেই তৌহিদ যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সময়ের মুশরিকরা স্বীকার করত, কিন্তু তা তাদের ইসলামে প্রবেশ করায়নি; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং তাদের রক্ত ও সম্পদকে বৈধ গণ্য করেছেন (১)। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, কে তোমাদের আকাশ ও জমিন থেকে রিজিক দান করেন? কিংবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? আর কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন? আর কে সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন?} [সূরা ইউনুস: ৩১] (২)।
সুতরাং কুরাইশ এবং তাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ তৌহিদের এই প্রকারটির স্বীকৃতি দিত এবং তাদের ও তাদের নবীদের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো বিরোধ ছিল না। তা সত্ত্বেও এটি তাদের ইসলামে প্রবেশ করায়নি এবং মহান আল্লাহর প্রতিশোধ ও আজাব থেকে তাদের মুক্তি দেয়নি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাদাররুজু ফী দাওয়াতিন নাবীয়্যি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أما توحيد الأسماء والصفات: فهو أن يوصف الله بما وصف به نفسه، وبما وصفته به رسله نفيًا وإثباتًا، فيثبت لله ما أثبته لنفسه، وينفي عنه ما نفاه عن نفسه (1) .
ودليل هذا القول قوله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1 - 4] (2) .
وقوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] (3) وهذان هما النوع الأول وهو التوحيد في المعرفة والإثبات.
أما توحيد الألوهية: فهو إخلاص العبادة لله وحده من جميع الخلق (4) فلا يعبد إلا الله وحده، ولا يشرك معه في العبادة أحدًا، لا ملكا مقربا ولا نبيا مرسلا، فضلًا عمّن دونهما، وهذا الذي يدخل الرجل في الإسلام (5) ودليله قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (6) .
وقوله تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (7) .
--------------------------------------------
আর নাম ও গুণাবলির তাওহিদ হলো: আল্লাহ নিজেকে যে সকল বিশেষণে বিশেষিত করেছেন এবং তাঁর রাসূলগণ তাঁকে যে সকল বিশেষণে বিশেষিত করেছেন—তা সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করা উভয় ক্ষেত্রেই—তদনুযায়ী আল্লাহর বর্ণনা প্রদান করা। সুতরাং আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা হবে এবং তিনি নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করা হবে (১)।
আর এই বক্তব্যের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১-৪] (২)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শুরা: ১১] (৩)। আর এই উভয়টিই প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যা হলো জ্ঞান ও সাব্যস্তকরণ বিষয়ক তাওহিদ।
আর উলুহিয়্যাতের তাওহিদ হলো: সমস্ত সৃষ্টির পক্ষ থেকে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা (৪)। অতএব, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কারও ইবাদত করা যাবে না এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না—না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে, আর না কোনো প্রেরিত (مرسل) নবীকে; তাদের নিম্নপর্যায়ের কারও তো প্রশ্নই আসে না। আর এটিই সেই বিষয় যা কোনো ব্যক্তিকে ইসলামে প্রবেশ করায় (৫)। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তার প্রতি এই ওহিই দিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং আপনারা আমারই ইবাদত করুন।} [আল-আম্বিয়া: ২৫] (৬)।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।} [আল-জিন: ১৮] (৭)।
--------------------------------------------