(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
البصيرة في الدعوة إلى الله   (عزيز بن فرحان العنزي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: البصيرة في الدعوة إلى الله

المؤلف: عزيز بن فرحان العنزي

تقديم: صالح بن عبد العزيز آل الشيخ

الناشر: دار الإمام مالك - أبو ظبي

الطبعة: الأولى، 1426هـ - 2005م

عدد الصفحات: 144

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি (আল-বাসিরাহ ফি আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ)   (আজিজ বিন ফারহান আল-আনাজি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি (আল-বাসিরাহ ফি আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহ)

লেখক: আজিজ বিন ফারহান আল-আনাজি

উপস্থাপনা: সালেহ বিন আব্দুল আজিজ আল-শেখ

প্রকাশক: দারুল ইমাম মালিক - আবুধাবি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[تقديم]

البصيرة في الدعوة إلى الله
[ভূমিকা]

আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن الله تعالى أوضح سبيل الدعوة ومنهاجها بقوله: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] (1) .

قال ابن كثير رحمه الله: ". . . أن هذه سبيله، أي: سبيل رسول الله صلى الله عليه وسلم وطريقه ومسلكه وسنته، وهي الدعوة إلى شهادة ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، يدعو إلى الله بها على بصيرة من ذلك، ويقين وبرهان، هو وكل من اتبعه، يدعو إلى ما دعا إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم على بصيرة ويقين وبرهان شرعي وعقلي " (2) .

وقد عرّف العلماء البصيرة، فقال البغوي رحمه الله: " والبصيرة: هي المعرفة التي تُميّز بها بين الحق والباطل " (3) .

وقال القرطبي رحمه الله: {عَلَى بَصِيرَةٍ} [يوسف: 108] أي: على يقين وحق " (4) .

--------------------------------------------

(1) يوسف: 108.

(2) تفسير القرآن العظيم (4 / 422) .

(3) معالم التنزيل (4 / 284) .

(4) أحكام القرآن (9 / 179) .
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

উপস্থাপনা সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসুলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দাওয়াতের পথ ও পদ্ধতি স্পষ্ট করে দিয়ে ইরশাদ করেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা সুনিশ্চিত জ্ঞান (بصيرة)-এর ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮] (১) ।

ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: ". . . এটিই তাঁর পথ, অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পথ, তরীকা, কর্মপন্থা ও তাঁর সুন্নাহ (سنة)। আর তা হলো এই সাক্ষ্যের দিকে আহ্বান জানানো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি এর মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন সুনিশ্চিত জ্ঞান (بصيرة), দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রমাণের ভিত্তিতে—তিনি এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছে তারা সবাই। তারা শারয়ি ও যৌক্তিক সুনিশ্চিত জ্ঞান (بصيرة), দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রমাণের ভিত্তিতে সেই বিষয়ের দিকেই আহ্বান করেন যার দিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) আহ্বান করেছেন।" (২) ।

ওলামায়ে কেরাম 'বাসীরাহ' (بصيرة)-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন। ইমাম বাগভী (রহ.) বলেন: "বাসীরাহ (بصيرة) হলো এমন জ্ঞান যার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা যায়।" (৩) ।

ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন: {সুনিশ্চিত জ্ঞান (بصيرة)-এর ওপর} [ইউসুফ: ১০৮] অর্থাৎ: দৃঢ় বিশ্বাস ও সত্যের ওপর।" (৪) ।

--------------------------------------------

(১) ইউসুফ: ১০৮।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (৪ / ৪২২) ।

(৩) মাআলিমুত তানযীল (৪ / ২৮৪) ।

(৪) আহকামুল কুরআন (৯ / ১৭৯) ।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال الراغب رحمه الله: {عَلَى بَصِيرَةٍ} [يوسف: 108] أي: على معرفة وتحقيق " (1) .

وذكر الكفوي رحمه الله البصيرة بأنها: " قوة في القلب تدرك بها المعقولات، وقوة القلب المدركة بصيرة " (2) .

وبين ابن عاشور رحمه الله البصيرة بأنها: " هي الحجة الواضحة " (3) .

ولأهمية البصيرة كانت من الفرائض، كما أشار إلى ذلك الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في مسائل: " كتاب التوحيد ".

قال الشيخ سليمان بن عبد الله رحمه الله: " ووجه ذلك: أن اتباعه صلى الله عليه وسلم واجب، وليس أتباعه حقًّا إلا أهل البصيرة، فمن لم يكن منهم فليس من أتباعه، فتعيّن أن البصيرة من الفرائض " (4) .

والبصيرة من أعلى درجات العلم، كما أشار إلى ذلك ابن القيم بقوله: " أعلى درجات العلم: البصيرة؛ التي تكون نسبة العلوم فيها إلى القلب كنسبة المرئي إلى البصر، وهذه هي الخِصّيصة التي اختص بها الصحابة عن سائر الأمة، وهي أعلى درجات العلماء " (5) .

والبصيرة في الدعوة لا تختص بالعلم الشرعي فقط، بل تشمل: العلم بالشرع، والعلم بحال المدعو، والعلم بالسبيل الموصل إلى المقصود، وهو الحكمة، فيكون بصيرا بحكم الشرع، وبصيرا بحال المدعو، وبصيرا بالطريق الموصلة لتحقيق الدعوة.

تظهر أهميّة البصيرة في الدعوة في أمور منها:

أن البصيرة صفة من صفات الأنبياء والعلماء الراسخين.

--------------------------------------------

(1) مفردات القرآن ص 127.

(2) الكليات ص 247.

(3) التحرير والتنوير (7 / 65) .

(4) تيسير العزيز الحميد ص 95.

(5) مدارج السالكين (3 / 356) .
এবং রাঘিব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "{সুস্পষ্ট প্রমাণের (بصيرة) উপর} [ইউসুফ: ১০৮] অর্থাৎ: জ্ঞান ও সত্যানুসন্ধানের (تحقيق) ভিত্তিতে" (১)।

এবং আল-কাফাউয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) প্রজ্ঞা (بصيرة) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, এটি হলো: "হৃদয়ের এমন এক শক্তি যার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ অনুধাবন করা যায়, আর হৃদয়ের সেই অনুধাবনকারী শক্তিই হলো প্রজ্ঞা (بصيرة)" (২)।

এবং ইবনে আশুর (রাহিমাহুল্লাহ) প্রজ্ঞাকে (بصيرة) ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে: "এটি হলো সুস্পষ্ট দলিল (حجة)" (৩)।

এবং প্রজ্ঞার (بصيرة) গুরুত্বের কারণে এটি ফরজসমূহের (فرائض) অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেমনটি ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) "কিতাবুত তাওহীদ"-এর মাসআলাসমূহে ইঙ্গিত করেছেন।

শায়খ সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর কারণ হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب), আর কেবল প্রজ্ঞাবানরাই (أهل البصيرة) তাঁর প্রকৃত অনুসারী। সুতরাং যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে তাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এটি সুনিশ্চিত যে, প্রজ্ঞা (بصيرة) ফরজসমূহের (فرائض) অন্তর্ভুক্ত" (৪)।

এবং প্রজ্ঞা (بصيرة) ইলমের সর্বোচ্চ স্তরসমূহের অন্যতম, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "ইলমের সর্বোচ্চ স্তর হলো: প্রজ্ঞা (بصيرة); হৃদয়ে ইলমের অনুপাত তেমন, যেমন চোখের সামনে দৃশ্যমান বস্তুর অনুপাত। আর এটিই সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য (خصيصة) যা সাহাবায়ে কেরামকে অন্যান্য উম্মত থেকে স্বতন্ত্র করেছে এবং এটিই আলেমদের সর্বোচ্চ স্তর" (৫)।

দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা (بصيرة) কেবল শরয়ি ইলমের সাথে সুনির্দিষ্ট (خاص) নয়, বরং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: শরিয়ত সম্পর্কে জ্ঞান, যাকে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান এবং উদ্দীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে জ্ঞান, যা হলো হিকমত (حكمة)। সুতরাং সে শরিয়তের বিধান (حكم) সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান (بصير) হবে, যাকে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হবে এবং দাওয়াত বাস্তবায়নের পথ সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হবে।

দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার (بصيرة) গুরুত্ব কতগুলো বিষয়ে প্রকাশ পায়, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রজ্ঞা (بصيرة) হলো নবীগণ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত (راسخين) আলেমদের অন্যতম গুণ।

--------------------------------------------

(১) মুফরাদাতুল কুরআন, পৃ. ১২৭।

(২) আল-কুল্লিয়াত, পৃ. ২৪৭।

(৩) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির (৭ / ৬৫)।

(৪) তাইসিরুল আজিজিল হামিদ, পৃ. ৯৫।

(৫) মাদারিজুস সালিকিন (৩ / ৩৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
2 - أن البصيرة ركن من أركان الدعوة وقاعدة من قواعدها الكبرى.

3 - البصيرة في الدعوة تجنب الداعية الضعف في الرأي، والانحراف في المنهج.

4 - بالبصيرة تستثمر الأوقات، وتعرف الأولويات، ويُعطى كل ذي حق حقه.

وقد أجاد الشيخ عزيز بن فرحان العنزي في كتابه " البصيرة في الدعوة إلى الله " حيث احتوى كتابه على محورين هامين؛ هما. البصيرة فيما يدعو إليه الداعية، والبصيرة في حال المدعوين، وكيفية دعوتهم، وقد ضمَّن المحورين فصولًا مهمة، ربط المؤلف فيه بين المنهج العلمي والعملي في طرحه لهذا الموضوع فجزاه الله خيرا، وشكر الله له صنيعه، ووفقه وإخوانه الدعاة لخدمة الإسلام والمسلمين.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته. . .

وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد

صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ
2 - প্রজ্ঞা (البصيرة) দাওয়াতের অন্যতম স্তম্ভ এবং এর অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

3 - দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা (البصيرة) দাওয়াত প্রদানকারীকে মতামতের দুর্বলতা (الضعف) এবং কর্মপদ্ধতির (المنهج) বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে।

4 - প্রজ্ঞার (البصيرة) মাধ্যমে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা যায়, অগ্রাধিকারসমূহ চিহ্নিত করা যায় এবং প্রতিটি অধিকারীকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা সম্ভব হয়।

শায়খ আজিজ বিন ফারহান আল-আনাযী তার "আল-বাসীরাহ ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ" নামক গ্রন্থে চমৎকার আলোচনা করেছেন। তার এই গ্রন্থটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত; সেগুলো হলো— দাওয়াত প্রদানকারী যা প্রচার করছেন সে সম্পর্কে প্রজ্ঞা (البصيرة), এবং যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থা ও দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রজ্ঞা (البصيرة)। তিনি এই দুটি মূলনীতির অধীনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায় বিন্যস্ত করেছেন। লেখক এই বিষয়টি উপস্থাপনে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতির মধ্যে চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তার এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাকে ও তার দাঈ ভাইদের ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু...

ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রী

সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল-শেখ
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[المقدمة]

المقدمة الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد: فإن الدعوة إلى الله تعالى: وظيفة جليلة، وقربة عظيمة، لها منزلة عالية في الشريعة، ويكفيها شرفا ومنزلة كونها وظيفة الرسل وأتباعهم إلى يوم القيامة.

قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (1) .

وقال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] (2) .

وقال تعالى: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} [النساء: 165] (3) .

ولقد كان الرسول صلى الله عليه وسلم يبعث الدعاة إلى الناس؛ ليعلموهم وليفقهوهم، وليرشدوهم إلى الحق، وإلى صراط مستقيم، بل إن الصحابة

--------------------------------------------

(1) النحل: 36.

(2) يوسف: 108.

(3) النساء: 165.
‌[ভূমিকা (المقدمة)]

ভূমিকা (المقدمة)। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

অতঃপর: মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত (دعوة) প্রদান একটি অত্যন্ত মহান দায়িত্ব এবং এক বিশেষ নৈকট্য লাভের উপায়, শরীয়তে যার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এর সম্মান ও পদমর্যাদার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটি কিয়ামত পর্যন্ত আগত রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের কাজ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} [আন-নাহল: ৩৬] (১)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান (دعوة) জানাই সুনিশ্চিত প্রমাণের (بصيرة) ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮] (২)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আন-নিসা: ১৬৫] (৩)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের নিকট দাওয়াতদানকারী (دعاة) পাঠাতেন; যাতে তাঁরা মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন, তাদেরকে দ্বীনের সম্যক জ্ঞান দান (تفقيه) করতে পারেন এবং তাদেরকে সত্য ও সরল পথের দিশা দিতে পারেন। এমনকি সাহাবীগণ (الصحابة)

--------------------------------------------

(১) আন-নাহল: ৩৬।

(২) ইউসুফ: ১০৮।

(৩) আন-নিসা: ১৬৫।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
رضوان الله عليهم، فهموا أن الدعوة إلى الله تعالى واجبة، فكانوا يبادرون بسؤال الرسول صلى الله عليه وسلم تعليمهم وتفقيههم؛ ليقوموا بدعوة أقوامهم من خلفهم، بل كان من يسلم حديثا يدرك أهمية الدعوة إلى الله تعالى، وأن تبليغها واجب، فعن ابن عباس، رضي الله عنهما، في حديث وفد عبد القيس وفيه: قالوا: يا رسول الله، فمرنا بأمر نعمل به، وندعو إليه من وراءنا (1) .

وقد بُوبَ عليه في صحيح الإمام مسلم: " باب الأمر بالإيمان بالله تعالى ورسوله وشرائع الدين والدعاء إليه والسؤال عنه وحفظه وتبليغه من لم يبلغه " (2) .

لأن الناس لا بد لهم من الدعوة إلى الله تعالى؛ وذلك لإخراجهم من الظلمات إلى النور.

من ظلمات الشرك والكفر إلى نور الإسلام.

ومن ظلمات البدع إلى نور السنة.

ومن ظلمات المعاصي إلى نور الطاعة والهداية.

ومن ظلمات الجهل إلى نور العلم، كل بحسبه.

فحاجة الناس وضرورتهم إلى الدعوة إلى الله تعالى والهداية أشد من حاجتهم إلى الطعام والشراب، بل لا يستقيم أمر العالم إلا بالدعوة إلى الله تعالى، ولولا ذلك لأصبحت الأرض رجراجة متكفئة، ولعاش الناس فوضى كالبهائم؛ فجنس الإنسان لا يستغني عن الأمر والنهي؛ لأنه لا يمكن أن يستقل بمعرفة الحق والخير على الكمال والتمام، وإن كان يدرك الشر والخير بالجملة، وذلك بما وهبه الله من عقل وحواس، إلا أنه لا يعرف حقائق الأشياء على التفصيل إلا بالوحي من الله تعالى، ولذلك احتاج الخلق إلى إرسال الرسل، وإنزال الكتب، وقيام الحجة.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (1 / 129، 183) ، ومسلم (1 / 179) مع النووي، واللفظ لمسلم.

(2) صحيح مسلم (1 / 46) .
মহান আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; তাঁরা অনুধাবন করেছিলেন যে, মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া একটি আবশ্যিক (واجب) কর্তব্য। তাই তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁদের শিক্ষা প্রদান এবং দীনের গভীর জ্ঞান (تفقه) দানের জন্য প্রশ্ন করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন; যাতে তাঁরা তাঁদের পেছনে থাকা নিজ জাতির কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিতে পারেন। এমনকি যারা সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরাও মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করতেন এবং এটি উপলব্ধি করেছিলেন যে, তা পৌঁছে দেওয়া আবশ্যিক (واجب)। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের হাদিসে রয়েছে: তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন যা আমরা নিজেরা আমল করব এবং আমাদের পেছনে থাকা মানুষদেরও সেই দিকে আহ্বান করব। (১) .

ইমাম মুসলিমের সহিহ মুসলিমে এই হাদিসের ওপর অনুচ্ছেদ করা হয়েছে: "মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনা, ইসলামের বিধানাবলি পালন করা, সেদিকে আহ্বান করা, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা, তা সংরক্ষণ করা এবং যার কাছে পৌঁছায়নি তার কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।" (২) .

কারণ মানুষের জন্য মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কোনো বিকল্প নেই; আর তা হলো তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য।

শিরক ও কুফরের অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোর দিকে।

বিদআতের অন্ধকার থেকে সুন্নাহর আলোর দিকে।

পাপাচারের অন্ধকার থেকে আনুগত্য ও হেদায়েতের আলোর দিকে।

মূর্খতার অন্ধকার থেকে ইলমের আলোর দিকে, প্রত্যেকের অবস্থা অনুযায়ী।

মহান আল্লাহর দাওয়াত ও হেদায়েতের প্রতি মানুষের প্রয়োজন ও আবশ্যকতা পানাহারের প্রয়োজনের চেয়েও অধিক তীব্র। বরং মহান আল্লাহর দাওয়াত ছাড়া বিশ্বচরাচরের শৃঙ্খলা বজায় থাকা সম্ভব নয়। যদি তা না হতো, তবে পৃথিবী অস্থির ও ওলটপালট হয়ে যেত এবং মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর মতো বিশৃঙ্খল জীবন অতিবাহিত করত। কেননা মানবজাতি আদেশ ও নিষেধের মুখাপেক্ষীহীন হতে পারে না; কারণ এককভাবে সত্য ও কল্যাণের পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ জ্ঞান লাভ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, যদিও আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক ও পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তারা সাধারণভাবে ভালো ও মন্দ উপলব্ধি করতে পারে। কিন্তু মহান আল্লাহর ওহি ছাড়া কোনো বিষয়ের বিস্তারিত হাকিকত বা বাস্তবতা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আর একারণেই সৃষ্টির জন্য রাসুল প্রেরণ, কিতাব অবতীর্ণ করা এবং প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি সহিহ বুখারি (১ / ১২৯, ১৮৩) এবং সহিহ মুসলিম (১ / ১৭৯) ইমাম নববির ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছেন, আর শব্দচয়ন মুসলিমের।

(২) সহিহ মুসলিম (১ / ৪৬) ।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ولقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يحث أصحابه على الدعوة إلى الله تعالى، ويُلهب حماستهم لذلك، ويبيّن ما لهم من الأجور ورفعة الدرجات عند الله إن هم قاموا بذلك.

فعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: «قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم» (1) .

وعن أبي مسعود عقبة بن عمرو الأنصاري رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من دلَّ على خير فله مثل أجر فاعله» (2) .

وعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه، لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا. . .» (3) .

وقد صدقوا رضي الله تعالى عنهم رَبَّهُمْ تعالى بأقوالهم وأفعالهم، وقاموا بالدعوة إليه تعالى أتم قيام، وأدوها أحسن أداء، وقد تسلحوا رضي الله عنهم في دعوتهم بتمام الإخلاص، وصدق التوكل، والفقه عن الله تعالى، وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، واتخذوا الصبر مطية، والأجر الموعود أعظم ثمن وهدية، فاعتلت شجرة دعوتهم تزاحم النجوم في عليائها، وآتت أكلها طيبة الثمار، وما زال المسلمون يتفيؤون ظلال دعوتهم المباركة، وستبقى إلى أَن يرث الله الأرض ومن عليها، فرضي الله عنهم وأرضاهم.

والمتتبع لنصوص القرآن والسنة وما أُثر عن السلف الصالح يجد أن فضائل الدعوة إلى الله تعالى وخصائصها ومزاياها كثيرة جدا.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (7 / 476) ، ومسلم (15 / 77) ، في قصة بعث علي بن أبي طالب إلى خيبر.

(2) رواه مسلم (13 / 38) .

(3) رواه مسلم (16 227) .
নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের জন্য উৎসাহিত করতেন, তাঁদের উদ্দীপনা বৃদ্ধি করতেন এবং এই দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে আল্লাহর নিকট তাঁদের জন্য কী পরিমাণ প্রতিদান ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে তা বর্ণনা করতেন।

সহল বিন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি কোনো একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল বর্ণের উটের মালিক হওয়ার চেয়েও উত্তম (১)।’

আবু মাসউদ উকবাহ বিন আমর আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করে, সে উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমান প্রতিদান লাভ করে (২)।’

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য ওই সকল ব্যক্তির সমান প্রতিদান রয়েছে যারা তার অনুসরণ করে; এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যতমও হ্রাস করা হয় না... (৩)।’

নিশ্চয়ই তাঁরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিজেদের কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিপালকের নিকট সত্যবাদিতার পরিচয় দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের দায়িত্ব অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে ও সর্বোত্তম পন্থায় আঞ্জাম দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষ্ঠা, বিশুদ্ধ তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আগত দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান তথা ফিকহ (الفقه)-এর অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। তাঁরা ধৈর্যকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং প্রতিশ্রুত প্রতিদানকে শ্রেষ্ঠ সওয়াব ও পুরস্কার হিসেবে গণ্য করেছিলেন। ফলে তাঁদের দাওয়াতের বৃক্ষ সুউচ্চ আকাশ স্পর্শ করেছিল এবং সুমিষ্ট ফল দান করেছিল। মুসলিম উম্মাহ আজও তাঁদের সেই বরকতময় দাওয়াতের ছায়াতলে অবস্থান করছে এবং আল্লাহ তাআলা যতদিন পৃথিবীকে তার অধিবাসীসহ অবশিষ্ট রাখবেন ততদিন তা বিদ্যমান থাকবে। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট রাখুন।

কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত (أثر) বিষয়াদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের ফজিলত, বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা অগণিত।

--------------------------------------------

(১) বর্ণনা করেছেন (رواه) বুখারী (৭ / ৪৭৬) এবং মুসলিম (১৫ / ৭৭), খায়বারে আলী বিন আবি তালিবকে প্রেরণের ঘটনা প্রসঙ্গে।

(২) বর্ণনা করেছেন (رواه) মুসলিম (১৩ / ৩৮)।

(৩) বর্ণনা করেছেন (رواه) মুসলিম (১৬ / ২২৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فمن فضائل الدعوة ومزاياها: أولا: أنها أحسن القول لمن اشتغل بها، مع العمل الصالح.

قال الله تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33] (1) .

قال ابن كثير: " وهذه عامة في كل من دعا إلى خير، وهو في نفسه مهتد، ورسول الله صلى الله عليه وسلم أولى بذلك. . . " (2) .

وثانيا: كونها من أسباب حصول الخيرية لهذه الأمة، قال الله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110] (3) .

قال ابن كثير: " فمن اتصف من هذه الأمة بهذه الصفات دخل معهم في هذا الثناء عليهم والمدح لهم كما قال قتادة: بلغنا أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه في حجة حجها رأى من الناس سرعة فقرأ هذه الآية: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 110] ثم قال: من سره أن يكون من تلك الأمة فليؤد شرط الله فيها، رواه ابن جرير.

ومن لم يتصف بذلك أشبه أهل الكتاب الذين ذمهم الله بقوله: {كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} [المائدة: 79] اهـ (4) .

وثالثا: الفلاح متحقق بإذن الله تعالى لمن قام بأعبائها، وتحمل مشاقها، قال الله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104] (5) .

--------------------------------------------

(1) فصلت: 33.

(2) تفسير القرآن العظيم (7 / 237) .

(3) آل عمران: 110.

(4) تفسير القرآن العظيم (2 / 131) .

(5) آل عمران: 104.
দাওয়াতের ফযিলত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (مزايا): প্রথমত: যারা সৎ আমলের পাশাপাশি দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করেন, তাদের কথা সর্বোত্তম।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎ কাজ করে এবং বলে যে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত?" [ফুসসিলাত: ৩৩] (১)।

ইবনে কাসির বলেন: "এটি সেই প্রত্যেকের জন্য সাধারণ (عام) যারা কল্যাণের দিকে দাওয়াত দেয় এবং সে নিজেও সৎপথে পরিচালিত, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জন্য এটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য..." (২)।

দ্বিতীয়ত: এটি এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব (خيرية) লাভের অন্যতম কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।" [আলে ইমরান: ১১০] (৩)।

ইবনে কাসির বলেন: "এই উম্মতের মধ্যে যারা এই গুণাবলীতে গুণান্বিত হবে, তারা তাদের এই প্রশংসা ও স্তুতির অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমনটি কাতাদাহ বলেছেন: আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কোনো এক হজে লোকজনের মধ্যে ক্ষিপ্রতা দেখতে পেলেন, তখন তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: 'তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে।' [আলে ইমরান: ১১০] অতঃপর তিনি বললেন: যে ব্যক্তি এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এর ব্যাপারে আল্লাহর শর্ত পূরণ করে। এটি ইবনে জারির বর্ণনা (رواه) করেছেন।

আর যে ব্যক্তি এসব গুণাবলীতে গুণান্বিত হবে না, সে আহলে কিতাবদের সদৃশ হবে যাদের আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে নিন্দা করেছেন: 'তারা যেসব অসৎ কাজ (منكر) করত তা হতে একে অন্যকে বারণ করত না; তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!'" (৪)।

তৃতীয়ত: যারা এর দায়-দায়িত্ব পালন করবে এবং এর কষ্টসমূহ সহ্য করবে, আল্লাহর অনুমতিতে তারা সফলকাম হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।" [আলে ইমরান: ১০৪] (৫)।

--------------------------------------------

(১) ফুসসিলাত: ৩৩।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (৭ / ২৩৭)।

(৩) আলে ইমরান: ১১০।

(৪) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (২ / ১৩১)।

(৫) আলে ইমরান: ১০৪।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال ابن كثير رحمه الله: " والمقصود من هذه الآية: أن تكون فرقة من الأمة متصدية لهذا الشأن، وإن كان واجبًا على كل فرد من الأمة بحسبه " (1) .

والآيات والأحاديث في هذا الباب كثيرة، فكفى بها شرفا وعزا وفخرا!! .

ومن شرط صحة هذه الدعوة أن تكون على بصيرة كما بين الله تعالى ذلك في كتابه، حيث قال: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] (2) .

والبصيرة هي: العلم الشرعي المؤصل المبني على الدليل من الوحي المنزل من عند الله تعالى، وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، والفهم لمراد الله تعالى فيما أنزله، أي: على علم ويقين وبرهان شرعي وعقلي فيما يدعو إلى فعله، وفيما يدعو إلى تركه، وفي أسلوب الدعوة، وفي حال المدعوين، وسلوك الطريق الصحيح في ذلك.

وأي دعوة تخلو من هذا الشرط وهو: البصيرة فإنها دعوة مهلهلة أساسها غير متين، سرعان ما ينهار ويتقوض فيخر السقف من فوقه.

ولذلك سمى الله تعالى العلم بصيرة؛ لأنه يحصل به الصواب، ويتبين به الحق، وتقوم به الحجة، ويردع به الباطل، ويمكن لصاحب البصيرة أن يُوصل الحق إلى من يستحقه.

وفي الواقع أننا في هذا الوقت نلمس حماسة للإسلام - ولله الحمد - من قبل كثير من المسلمين، وهناك رجوع إلى الدين، وإنه لأمر يثلج صدر كل مسلم، خاصة في ظل تداعيات عالمية وحرب تشن على الإسلام بلا هوادة من أعدائه وكثير من أدعيائه، مما أفرز في هذا الاتجاه الطيب قيام كثير من المتحمسين من أهل الإسلام بالدعوة إلى الله تعالى، وذلك بأساليب

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم (2 / 117) .

(2) يوسف: 108.
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো: উম্মাহর একটি দল এই কাজের জন্য নিয়োজিত থাকবে, যদিও উম্মাহর প্রতিটি ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ্য অনুযায়ী এটি ওয়াজিব (واجب) হিসেবে সাব্যস্ত।" (১) .

এই অধ্যায়ে অসংখ্য আয়াত এবং হাদিস রয়েছে, যা মর্যাদা, সম্মান এবং গৌরবের জন্য যথেষ্ট!! .

এই দাওয়াত সঠিক (صحة) হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো তা প্রজ্ঞা (بصيرة) বা অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভিত্তি করে হতে হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি ও আমার অনুসারীরা আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত জ্ঞান বা প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে।} [ইউসুফ: ১০৮] (২) .

প্রজ্ঞা (بصيرة) হলো: সেই সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ী ইলম যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর দলিলের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত, এবং যা নাযিল করা হয়েছে তাতে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক অনুধাবন। অর্থাৎ: যা করতে বলা হচ্ছে এবং যা বর্জন করতে বলা হচ্ছে, দাওয়াতের পদ্ধতি, যাদের কাছে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থা এবং এই ক্ষেত্রে সঠিক পথ অনুসরণের বিষয়ে ইলম, দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) এবং শরয়ী ও যৌক্তিক প্রমাণের (برهان) ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা।

যে কোনো দাওয়াত যদি এই শর্ত অর্থাৎ প্রজ্ঞা (بصيرة) থেকে মুক্ত থাকে, তবে তা একটি নড়বড়ে দাওয়াত যার ভিত্তি মজবুত নয়; এটি খুব দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং ধসে যায়, ফলে ছাদটি উপর থেকে নিচে পড়ে যায়।

একারণেই আল্লাহ তাআলা ইলমকে প্রজ্ঞা (بصيرة) হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ এর মাধ্যমে সঠিক পথ অর্জিত হয়, সত্য স্পষ্ট হয়, দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, বাতিল প্রতিহত হয় এবং প্রজ্ঞার অধিকারী ব্যক্তি হকদার ব্যক্তির কাছে সত্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হন।

বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি যে—সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—অনেক মুসলমানের মধ্যে ইসলামের প্রতি এক ধরণের উদ্দীপনা বিরাজ করছে এবং দ্বীনের দিকে ফিরে আসার ঝোঁক তৈরি হয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরকে শীতল করে, বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং ইসলামের শত্রুদের ও অনেক নামধারী মুসলিমদের পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধের মধ্যে। এই ইতিবাচক ধারার ফলে ইসলামের অনুসারীদের মধ্য থেকে অনেক উৎসাহী ব্যক্তি বিভিন্ন পদ্ধতিতে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (২ / ১১৭) .

(২) ইউসুফ: ১০৮।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مختلفة ووسائل متعددة أثمرت في بعض جوانبها نتائج طيبة - ولله الحمد والمنة - إلا أن كثيرا من هذه الدعوات بسبب الحماسة والاستعجال في تبليغ الدين وعدم التسلح بالعلم وقعت في أخطاء جسيمة وأرزاء كبيرة، وإن كان كثير منها يقرب من الحق كثيرا؛ فإنه - والحالة هذه - يلزم أهل الاختصاص تصحيح هذه الأخطاء وتثبيت المفاهيم الصحيحة؛ ليستقيم المسار، ولتتضح الرؤية، حيث كان لهذه الأخطاء عواقب وخيمة ونتائج سيئة أثرت سلبا على مستقبل الدعوة إلى الله تعالى، وجعلت المتربصين بهذا الدين يحققون أشياء ليست بالقليلة من أهدافهم.

وبالتتبع والنظر أجد أن سبب ذلك: فقدان شرط البصيرة في الدعوة إلى الله تعالى، وبفقدان هذا الشرط لا تَسلْ عن الأخطاء والمخالفات التي تقع من المشتغلين بهذا الأمر؛ لأن البصيرة هي الميزان الذي يزن به الداعية الأمور، ويقدر الأشياء، ولذلك نجد أن أغلب الدعوات الموجودة على الساحة إنما هي إفراز البيئة العاطفية المحضة؛ مما جعل للعقل العاطفي دورا كبيرا في أن يكون حكمًا على كثير من رموز تلك الدعوات وأتباعها ومناهجها، فأخذت تطوح بهم ذات اليمين وذات الشمال مما أوقع الكثير منهم في أخطاء جوهرية وشكلية ما يزال الناس يعانون من آثارها ونتائجها الوخيمة.

وغالب من يكتب في موضوع الدعوة إلى الله تعالى لا يشبعون مسألة البصيرة بحثا وتقسيما وتفريعا؛ ولذلك تجد غالب المصنفات في هذا الجانب لا تُربي - في تقديري - دعاة يُمكن أن يعتمد عليهم بعد الله تعالى؛ لأن الدعوة إلى الله تعالى ليست مجرد حركة وذهاب وإياب بقدر ما هي اتباع لمنهج النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه ومن سار على منهجهم وطريقتهم من أهل العلم والدين.

فمن هذا المنطلق أحببت أن أساهم في هذا الموضوع والذي اخترت أن يكون عنوانه: " البصيرة في الدعوة إلى الله " لتبصير نفسي والعاملين في حقل الدعوة إلى الله تعالى بالأمور التي يجب على الداعية أن
বিভিন্ন এবং বহুমুখী মাধ্যম কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে—আল্লাহরই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ—তবে এই দাওয়াহ কর্মকাণ্ডগুলোর অনেকগুলোই দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে অতি-উৎসাহ ও তাড়াহুড়া এবং ইলম বা জ্ঞান দ্বারা সুসজ্জিত না হওয়ার কারণে গুরুতর ভুল ও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে নিপতিত হয়েছে। যদিও এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই সত্যের (الحق) খুব কাছাকাছি, তবুও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞগণের জন্য অপরিহার্য হলো এই ভুলগুলো সংশোধন করা এবং সঠিক ধারণাগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করা; যাতে পথ সুসংহত হয় এবং লক্ষ্য স্পষ্ট হয়। কেননা এই ভুলগুলোর পরিণতি ছিল ভয়াবহ এবং এর মন্দ ফলাফল আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং যারা এই দ্বীনের অকল্যাণ কামনায় ওঁৎ পেতে থাকে, তাদের অনেক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে।

পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি দেখতে পেয়েছি যে, এর কারণ হলো: আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টির (البصيرة) শর্তটি অনুপস্থিত থাকা। আর এই শর্তটি হারিয়ে গেলে এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংঘটিত ভুল ও বিচ্যুতি সম্পর্কে আর প্রশ্ন করার অবকাশ থাকে না। কারণ অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة) হলো সেই মানদণ্ড, যার মাধ্যমে একজন দাঈ বিষয়সমূহ পরিমাপ করেন এবং বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করেন। এই কারণে আমরা দেখতে পাই যে, বর্তমানে ময়দানে বিদ্যমান অধিকাংশ দাওয়াহ কর্মকাণ্ডই নিছক আবেগপ্রসূত পরিবেশের বহিঃপ্রকাশ; যার ফলে আবেগচালিত বুদ্ধিবৃত্তি সেই দাওয়াহ কর্মকাণ্ডের অনেক ব্যক্তিত্ব, অনুসারী এবং তাদের মানহাজের (المنهج) ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ফলে তা তাদেরকে ডানে-বামে ছুড়ে মারছে, যা তাদের অনেককে এমন কিছু মৌলিক ও বাহ্যিক ভুলের মধ্যে নিপতিত করেছে যার ভয়াবহ প্রভাব ও ফলাফল মানুষ এখনও ভোগ করছে।

আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বিষয়ে যারা লেখালেখি করেন, তাদের অধিকাংশ এই অন্তর্দৃষ্টির (البصيرة) বিষয়টিকে গবেষণা, শ্রেণিবিভাগ ও শাখা-প্রশাখা আলোচনার মাধ্যমে পর্যাপ্তভাবে বিশ্লেষণ করেন না। এই কারণে আমার বিবেচনায়, এই ক্ষেত্রের অধিকাংশ রচনা এমন দাঈ তৈরি করে না যাদের ওপর আল্লাহর পরে ভরসা করা যায়; কারণ আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া মানে কেবল নিছক ছুটাছুটি ও আসা-যাওয়া নয়, বরং তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা দ্বীন ও ইলমের ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ (المنهج) ও পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের পদ্ধতি অনুসরণের নাম।

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি এই বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছি এবং এর শিরোনাম হিসেবে নির্বাচন করেছি: "আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি (البصيرة)"; যাতে আমি নিজেকে এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ময়দানে নিয়োজিত কর্মীদের সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করতে পারি, যা একজন দাঈর জন্য আবশ্যক যে, সে...
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
يسلكها في دعوته، مع بيان شيء من مسائل وأحكام ووسائل وأساليب الدعوة إلى الله، والأولويات الواجب على الداعية أن يسلكها في دعوته، وشيء من الحكمة في التعامل مع المدعوين وبيئتهم، ولا أزعم الإحاطة فيما أشرت إليه، وإنما هي محاولات وإلماحات ونقولات، وقد جعلت الحديث عن هذا الموضوع يدور في محورين اثنين:

الأول: البصيرة فيما يدعو إليه.

الثاني: البصيرة في حال المدعوين وكيفية دعوتهم.

والله المسؤول أن يوفقنا وجميع المسلمين لما يحبه ويرضاه، وأن يهدينا صراطه المستقيم، وأن يرزقنا العلم النافع والعمل الصالح، إنه سميع مجيب.

وكتب

عزيز بن فرحان العنزي

1425 -
দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে যা অনুসরণ করা উচিত, পাশাপাশি আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার কতিপয় মাসআলা (مسائل), বিধান (أحكام), মাধ্যম ও পদ্ধতি এবং একজন দায়ী তার দাওয়াতি কাজে যে সকল অগ্রাধিকারমূলক বিষয় অনুসরণ করবেন তার বর্ণনা। সেই সাথে যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিবেশের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞার কিছু দিক। আমি যা ইঙ্গিত করেছি সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গতার দাবি করি না; বরং এগুলো কিছু প্রচেষ্টা, আলোকপাত এবং উদ্ধৃতি মাত্র। আমি এই প্রসঙ্গের আলোচনাকে দুটি মূল অক্ষের ওপর আবর্তিত করেছি:

প্রথম: তিনি যা দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে দূরদৃষ্টি (بصيرة)।

দ্বিতীয়: যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থা এবং তাদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতির ব্যাপারে দূরদৃষ্টি (بصيرة)।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং সকল মুসলিমকে তাঁর পছন্দ ও সন্তোষ অনুযায়ী কাজ করার তৌফিক দান করেন, আমাদের তাঁর সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল নসিব করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

ইতি,

আজিজ বিন ফারহান আল-আনাজি

১৪২৫ -
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[فصل في معنى البصيرة]

فصل

في معنى البصيرة البصيرة، يقال: بصُر بالشيء علم به، وبصر الأمر: عرفه، وبصرته بالشيء: أوضحته له (1) .

وهي: قوة الإدراك والفطنة والعلم والخبرة (2) .

وهي أعلى درجات العلم.

ولذلك يقال للمحقق في العلوم: ذو بصيرة ونظر.

وكثير من ذوي التحقيق من أهل العلم يرى أن: البصيرة لها معان متعددة، وقد تكون هذه المعاني على حسب ما يُساق له الكلام.

فمن معاني البصيرة: المعرفة، والتحقق، والحجة، واليقين، والبرهان الشرعي والعقلي.

فالبصيرة إذا هي: العلم الذي ينير القلب، فهو للأرواح كالماء للأرض اليابسة، وللقلوب كالضياء للبصر.

وأما معنى الدعوة إلى الله تعالى على بصيرة فهي: أن يكون الداعية

--------------------------------------------

(1) انظر: لسان العرب (4 / 65) ، والمصباح المنير (1 / 50 و 247) ، والنهاية في غريب الحديث والأثر (1 / 132) .

(2) المعجم الوسيط (1 / 59) .
[পরিচ্ছেদ: বসীরাত (البصيرة)-এর অর্থ প্রসঙ্গে]

পরিচ্ছেদ

বসীরাত (البصيرة)-এর অর্থ প্রসঙ্গে; বলা হয়: সে বস্তু সম্পর্কে অবগত হয়েছে (بصر بالشيء), বিষয়টি জেনেছে (بصر الأمر), এবং আমি তাকে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছি (بصرته بالشيء) (১)।

এটি হলো: অনুধাবন শক্তি, বিচক্ষণতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা (২)।

এটি জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর।

এ কারণেই জ্ঞানবিজ্ঞানের গবেষক (محقق)-দের ‘বসীরাত ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন’ (ذو بصيرة ونظر) বলা হয়।

আলেমদের মধ্যে অনেক গবেষক (ذوي التحقيق) মনে করেন যে: বসীরাত (البصيرة)-এর একাধিক অর্থ রয়েছে এবং আলোচনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই অর্থগুলো নির্ধারিত হয়।

বসীরাত-এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: পরিচয় (معرفة), সত্যতা প্রতিপাদন (تحقق), প্রমাণ (حجة), সুনিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) এবং শরয়ি ও যৌক্তিক দলিল (برهان)।

সুতরাং বসীরাত হলো: এমন জ্ঞান যা অন্তরকে আলোকিত করে; এটি আত্মার জন্য শুষ্ক ভূমিতে পানির মতো এবং হৃদয়ের জন্য চোখের জ্যোতির মতো।

আর আল্লাহর দিকে ‘বসীরাত’-এর ওপর ভিত্তি করে দাওয়াত দেওয়ার অর্থ হলো: দায়ী (داعية) এমন হবেন যে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল আরব (৪/৬৫), আল-মিসবাহুল মুনীর (১/৫০ ও ২৪৭), এবং আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার (১/১৩২)।

(২) আল-মুজামুল ওয়াসিত (১/৫৯)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
إلى الله عالما بما يدعو إليه، وعالما بحال المدعوين وإيصال ما يصلح لهم وينفعهم، وعالما أيضا بطريقة الدعوة إلى الله تعالى، مؤطرا كل ذلك بالنصوص الشرعية وما عليه سلف الأمة رضوان الله عليهم، مع الأخذ بالأساليب والوسائل الشرعية المتاحة، وترك الوسائل المنهي عنها.
আল্লাহর দিকে আহ্বান করবেন সেই বিষয় সম্পর্কে আলেম (عالما) হয়ে যার দিকে তিনি আহ্বান করছেন, আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গের (المدعوين) অবস্থা এবং যা তাদের জন্য সংশোধনমূলক ও উপকারী তা পৌঁছে দেওয়া সম্পর্কে আলেম (عالما) হয়ে, এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কেও আলেম (عالما) হয়ে। এই সব কিছুই শরয়ি দলীল (النصوص الشرعية) এবং উম্মতের পূর্বসূরিগণ (سلف) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— যা কিছুর ওপর ছিলেন তার কাঠামোর মধ্যে হতে হবে; সেই সাথে বিদ্যমান শরয়ি পদ্ধতি ও মাধ্যম (الأساليب والوسائل الشرعية) সমূহ গ্রহণ করতে হবে এবং নিষিদ্ধ মাধ্যম (الوسائل المنهي عنها) সমূহ বর্জন করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[المحور الأول البصيرة فيما يدعو إليه]

‌‌[فصل فيما يدعو إليه الداعية]

المحور الأول

البصيرة فيما يدعو إليه
[প্রথম মূলনীতি: আহ্বানকৃত বিষয়ের প্রতি স্বচ্ছ জ্ঞান (بصيرة)]

[পরিচ্ছেদ: দাঈ যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করবেন সে সম্পর্কে]

প্রথম মূলনীতি

আহ্বানকৃত বিষয়ের প্রতি স্বচ্ছ জ্ঞান (بصيرة)
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فصل

فيما يدعو إليه الداعية من البصيرة في الدعوة إلى الله تعالى: أن يكون الداعية (1) إلى الله على علم فيما يدعو إليه، فإن من دعا الناس بجهل فقد خالف أمر الله تعالى بالدعوة إليه على بصيرة وعلم.

قال الله تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] (2) .

ولقد سمى الله تعالى العلم بصيرة؛ لأنه يحصل به الصواب، ويتبين به الحق، وتقوم به الحجة، ويردع به الباطل، ولهذا كان أول ما نبئ به النبي صلى الله عليه وسلم هو قوله تعالى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ - خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ - اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ - الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ - عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1 - 5] (3) .

فكانت هذه الآيات الكريمات المباركات أول اتصال بين السماء والأرض في الإسلام، لتُبين فضل العلم، وأنه لا نجاح ولا فلاح إلا بالعلم، وهي رحمة رحم الله بها عباده، ونعمة أنعم الله بها عليهم.

--------------------------------------------

(1) الداعية والداعي لغة صحيحة، تقول العرب: رجل داعية، أي: يدعو إلى دين، وأدخلت الهاء فيه للمبالغة. انظر: لسان العرب (6 / 97) ، ومختار الصحاح (1 / 86) .

(2) يوسف: 108.

(3) العلق 1 - 5.
পরিচ্ছেদ

আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে দাঈর যে প্রজ্ঞার প্রয়োজন সে সম্পর্কে: আল্লাহর পথে আহ্বানকারীকে (১) অবশ্যই তিনি যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে জ্ঞান বা ইলম থাকতে হবে। কারণ, যে ব্যক্তি অজ্ঞতা সহকারে মানুষকে দাওয়াত দেয়, সে মূলত প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ঐশী নির্দেশকে লঙ্ঘন করল।

মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা জাগ্রত প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮] (২)।

আর মহান আল্লাহ জ্ঞানকে প্রজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ এর মাধ্যমেই সঠিক পথ অর্জিত হয়, সত্য সুস্পষ্ট হয়, প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাতিল অপসারিত হয়। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি নবুয়তের শুরুতে সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন—সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে—পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক অতিশয় দয়ালু—যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন—শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।} [আলাক: ১-৫] (৩)।

এই সম্মানিত ও বরকতময় আয়াতগুলো ছিল ইসলামে আসমান ও জমিনের মাঝে প্রথম সংযোগ, যা জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে এবং এটি স্পষ্ট করে যে, জ্ঞান ছাড়া কোনো সফলতা ও সার্থকতা নেই। আর এটি আল্লাহর একটি রহমত যা দ্বারা তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং এমন এক নিআমত যা তিনি তাঁদের দান করেছেন।

--------------------------------------------

(১) 'দাঈয়াহ' ও 'দাঈ' উভয় শব্দই ভাষাগতভাবে সঠিক। আরবরা বলে থাকে: 'রজুলুন দাঈয়াহ' অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যিনি দ্বীনের দিকে আহ্বান করেন। এখানে 'হা' বর্ণটি অতিশয়তা বা আধিক্য বোঝাতে যুক্ত করা হয়েছে। দেখুন: লিসানুল আরব (৬/৯৭) এবং মুখতারুস সিহাহ (১/৮৬)।

(২) ইউসুফ: ১০৮।

(৩) আলাক: ১-৫।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي هذه الآيات أيضا: التنبيه على أن من عظيم كرم الله تعالى وكبير منته على عباده: أن علم الإنسان ما لم يعلم، فشرَّفه وكرَّمه بهذا العلم، وميَّزه عن باقي خلقه، قال الله تعالى مخاطبا نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم: {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} [النساء: 113] (1) .

وقال الله تعالى: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ} [النحل: 78] (2) .

والمقصود: أن أول ما بدأ الله نبيه صلى الله عليه وسلم بالعلم قبل الدعوة والعمل الصالح المقرب إليه، فجعل العلم أصلا والعمل تابعا له.

ولمكانة هذا العلم وعظيم منزلته وجليل قدره عند الله تعالى وطيّب آثاره فإن الله تعالى حث نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم على حسن الاستماع إلى هذا العلم الذي نزل به جبريل عليه، وأمره بأخذه بعناية تامة، وأن يطلب المزيد منه، ولم يطلب المولى عز وجل الاستزادة من شيء إلا من العلم الشرعي، قال الله تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ - إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ - فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ - ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 16 - 19] (3) .

وقال الله تعالى: {وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: 114] (4) .

قال ابن حجر رحمه الله: " والمراد بالعلم: العلم الشرعي الذي يُفيد معرفة ما يجب على المكلف من أمر دينه في عبادته ومعاملاته، والعلم بالله وصفاته، وما يجب له من القيام بأمره، وتنزيهه عن النقائص " (5) .

--------------------------------------------

(1) النساء: 113.

(2) النحل: 78.

(3) القيامة: 16 - 19.

(4) طه: 114.

(5) فتح الباري: (1 / 274) .
এই আয়াতগুলোতে এ বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহর সুমহান অনুগ্রহ ও বান্দাদের প্রতি তাঁর বিশাল নিয়ামত হলো: তিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। তিনি মানুষকে এই ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করেছেন এবং তাঁর অন্যান্য সৃষ্টি থেকে তাকে বিশিষ্টতা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন: {আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও প্রজ্ঞা (الحكمة) অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে তা শিখিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।} [আন-নিসা: ১১৩] (১)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না; আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ তৈরি করেছেন।} [আন-নাহল: ৭৮] (২)।

উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট দাওয়াত এবং তাঁর নৈকট্যদানকারী নেক আমলের পূর্বে ইলম বা জ্ঞান দিয়েই সূচনা করেছেন। ফলে তিনি ইলমকে মূল (أصل) এবং আমলকে তার অনুগামী করেছেন।

এই ইলমের গুরুত্ব, মহান মর্যাদা, আল্লাহ তাআলার নিকট এর উচ্চ আসন এবং এর কল্যাণকর প্রভাবের কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যে ইলম নিয়ে অবতীর্ণ হতেন তা মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি তাকে তা পূর্ণ সতর্কতার সাথে গ্রহণ করার এবং এই ইলম আরও বৃদ্ধির প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান প্রতিপালক শরয়ি জ্ঞান (العلم الشرعي) ছাড়া অন্য কোনো কিছু বৃদ্ধির প্রার্থনা করার নির্দেশ দেননি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাড়াহুড়া করে আত্মস্থ করার জন্য আপনি ওহী (وحي) চলাকালে আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয়ই তা সংরক্ষণ করা ও পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। অতএব আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। অতঃপর তা ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব আমাদেরই।} [আল-কিয়ামাহ: ১৬ - ১৯] (৩)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আপনার প্রতি ওহী (وحي) সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।} [তহা: ১১৪] (৪)।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরয়ি জ্ঞান (العلم الشرعي), যা একজন শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) ব্যক্তির ওপর তার ইবাদত ও লেনদেন সংক্রান্ত দ্বীনি বিষয়ে যা আবশ্যক তা জানতে সাহায্য করে। এছাড়া আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তাঁর নির্দেশ পালনে যা আবশ্যক (واجب) তা জানা এবং তাঁকে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র রাখা এর অন্তর্ভুক্ত।" (৫)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ১১৩।

(২) আন-নাহল: ৭৮।

(৩) আল-কিয়ামাহ: ১৬ - ১৯।

(৪) তহা: ১১৪।

(৫) ফাতহুল বারী: (১ / ২৭৪) ।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأمره تعالى بأن يعتني بأهم المهمات وأوجب الواجبات وهو التوحيد، وذلك بتحقيق كلمة لا إله إلا الله، ولا يتم تحقيقها إلا بالعلم، فقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} [محمد: 19] (1) وقال جل شأنه: {هَذَا بَلَاغٌ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} [إبراهيم: 52] (2) .

فقدم العلم على القول والعمل والدعوة؛ لأن تقدم العلم على العمل ضروري للعامل حتى يعلم ما يريده، ويقصد العمل للوصول إليه، وتكون عبادته صحيحة مقبولة.

والمراد بالعلم هو: ما قام عليه الدليل من كتاب الله تعالى ومن سنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

الأصول الكبرى التي يُدعى إليها: والداعية إلى الله تعالى إنما يدعو إلى دين الإسلام، فهو يدعو إلى التوحيد والسنة، ويحارب الشرك والبدعة، ويبين الأحكام الشرعية لأصول العبادات وفروعها، وينهى الناس عن الخطأ فيها، ويدعو إلى محاسن الأخلاق، وفضائل الآداب، وينهى عن ضدها.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " الدعوة إلى الله، هي: الدعوة إلى الإيمان به وما جاءت به رسله بتصديقهم فيما أخبروا به، وطاعتهم فيما أمروا " (3) .

وقال العلامة عبد العزيز بن باز رحمه الله: " الشيء الذي يدعى إليه، ويجب على الدعاة أن يوضحوه للناس كما أوضحه الرسل عليهم الصلاة والسلام، فهو: الدعوة إلى صراط الله المستقيم، وهو: الإسلام، وهو

--------------------------------------------

(1) محمد: 19.

(2) إبراهيم: 52.

(3) مجموع الفتاوى (15 / 157) .
মহান আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সর্বপ্রধান ওয়াজিব তথা তাওহিদের প্রতি মনোনিবেশ করতে; আর তা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বাক্যের বাস্তবতা অর্জনের মাধ্যমে। আর ইলম ব্যতীত এটি অর্জন করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং জেনে নিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য} [মুহাম্মাদ: ১৯] (১)। মহান আল্লাহ আরো বলেন: {এটি মানুষের জন্য এক বার্তা, যাতে এর দ্বারা তাদের সতর্ক করা হয় এবং তারা যেন জানতে পারে যে, তিনিই কেবল একমাত্র উপাস্য এবং যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে} [ইবরাহিম: ৫২] (২)।

তিনি কথা, কাজ এবং দাওয়াতের পূর্বে ইলমকে প্রাধান্য দিয়েছেন; কেননা আমলকারীর জন্য আমলের পূর্বে ইলম থাকা অপরিহার্য, যাতে সে কী চায় তা জানতে পারে এবং তা অর্জনের জন্য আমলের সংকল্প করতে পারে, আর এর মাধ্যমে তার ইবাদত যেন সঠিক (صحيحة) ও গৃহীত (مقبولة) হয়।

ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে যা দলিলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

যে বৃহৎ মূলনীতিসমূহের প্রতি দাওয়াত দেওয়া হবে: আল্লাহর পথে আহ্বানকারী কেবল ইসলাম ধর্মের প্রতিই আহ্বান জানান। তিনি তাওহিদ ও সুন্নাহ (سنة)-র প্রতি আহ্বান জানান এবং শিরক ও বিদআত (بدعة)-র বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি ইবাদতের মূল ও শাখা বিষয়সমূহের শরয়ি বিধানসমূহ স্পষ্ট করেন, মানুষকে এ সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি থেকে নিষেধ করেন এবং উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচারের প্রতি আহ্বান জানান এবং এর পরিপন্থী বিষয় থেকে বারণ করেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: "আল্লাহর পথে দাওয়াত হলো: তাঁর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন—তাঁরা যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁদের সত্যায়ন করা এবং যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁদের আনুগত্য করার প্রতি আহ্বান জানানো।" (৩)।

আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বাজ রহিমাহুল্লাহ বলেন: "যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দেওয়া হবে এবং যা মানুষের নিকট স্পষ্ট করা দাঈদের জন্য ওয়াজিব, যেমনটি রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) স্পষ্ট করেছেন, তা হলো: আল্লাহর সরল পথের দিকে দাওয়াত, আর তা হলো ইসলাম, আর তা হলো...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মাদ: ১৯।

(২) ইবরাহিম: ৫২।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৫ / ১৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
دين الله الحق، هذا هو محل الدعوة كما قال سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ} [النحل: 125] (1) .

وقد بيّن رحمه الله الأصول العامة والخطوط العريضة للإسلام والتي يجب على الداعية أن يدعو إليها فقال: " وعلى رأس الدعوة إلى الإسلام: الدعوة إلى العقيدة الصحيحة، إلى الإخلاص لله وتوحيده بالعبادة، والإيمان به وبرسله، والإيمان باليوم الآخر، وبكل ما أخبر الله به ورسوله، هذا هو الأساس الصراط المستقيم، وهو: الدعوة إلى شهادة ألا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله.

ومعنى ذلك: الدعوة إلى توحيد الله والإخلاص له، والإيمان به وبرسله عليهم الصلاة والسلام.

ويدخل في ذلك الدعوة إلى الإيمان بكل ما أخبر الله به ورسله مما كان وما يكون من أمر الآخرة، وأمر آخر الزمان، وغير ذلك. . .

ويدخل في ذلك أيضًا: الدعوة إلى ما أوجب الله من إقامة الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت، إلى غير ذلك.

ويدخل أيضا في ذلك: الدعوة إلى الجهاد في سبيل الله، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، والأخذ بما شرع الله في الطهارة، والصلاة، والمعاملات، والنكاح، والطلاق، والجنايات، والنفقات، والحرب والسلم، وفي كل شيء؛ لأن دين الله عز وجل دين شامل، يشمل مصالح العباد في المعاش والمعاد، ويشمل كل ما يحتاج إليه الناس في أمر دينهم ودنياهم، ويدعو إلى مكارم الأخلاق، ومحاسن الأعمال، وينهى عن سفاسف الأخلاق، وعن سيئ الأعمال. . . " (2) .

وهذه الأصول التي يقوم الداعية بالدعوة إليها لا بد فيها من العلم الشرعي المؤصل وإلا لو دعا إليها بجهل أو بنصف علم لأفسد أكثر مما أصلح.

--------------------------------------------

(1) النحل: 125.

(2) الدعوة إلى الله وأخلاق الدعاة ص (40 - 42) .
আল্লাহর সত্য দ্বীন; এটিই হলো দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনি আপনার প্রতিপালকের পথের দিকে দাওয়াত দিন} [আন-নাহল: ১২৫] (১)।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইসলামের সাধারণ মূলনীতি ও প্রধান রূপরেখাগুলো স্পষ্ট করেছেন যার দিকে একজন দাঈর আহ্বান জানানো আবশ্যক। তিনি বলেছেন: "ইসলামি দাওয়াতের শীর্ষবিন্দু হলো: সঠিক (الصحيحة) আকিদার দিকে দাওয়াত, আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা, তাঁর প্রতি ও তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনা, পরকালের প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন সে সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা। এটাই হলো মূল ভিত্তি ও সরল পথ, আর তা হলো: এই সাক্ষ্য প্রদানের দিকে দাওয়াত দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।

এর অর্থ হলো: আল্লাহর তাওহিদ ও তাঁর প্রতি ইখলাসের দিকে দাওয়াত প্রদান এবং তাঁর প্রতি ও তাঁর রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রতি ঈমান আনা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দেওয়া; চাই তা অতীত হয়ে যাওয়া বিষয় হোক কিংবা পরকাল ও শেষ জামানার ঘটিতব্য বিষয় হোক বা অন্য কিছু। . .

এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে: আল্লাহ যা কিছু ফরজ করেছেন তার দাওয়াত প্রদান, যেমন: সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা, বায়তুল্লাহর হজ করা ইত্যাদি।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: আল্লাহর পথে জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের দাওয়াত প্রদান। সেই সাথে পবিত্রতা, সালাত, লেনদেন, বিবাহ, তালাক, অপরাধদণ্ড, ভরণপোষণ, যুদ্ধ ও শান্তি এবং প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহ যা শরিয়তসম্মত করেছেন তা গ্রহণ করা। কারণ মহান আল্লাহর দ্বীন একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, যা ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে বান্দাদের সকল কল্যাণকে শামিল করে। মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই এতে বিদ্যমান। এটি মহৎ চরিত্র ও সুন্দর আমলের দিকে আহ্বান জানায় এবং হীন চরিত্র ও মন্দ আমল থেকে নিষেধ করে...।" (২)।

এই মূলনীতিসমূহ যেগুলোর দিকে একজন দাঈ দাওয়াত প্রদান করেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্যই ভিত্তিগত শরয়ী জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যথায় যদি তিনি অজ্ঞতা বা অসম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে দাওয়াত দেন, তবে তিনি সংশোধনের চেয়ে অনিষ্টই বেশি করবেন।

--------------------------------------------

(১) আন-নাহল: ১২৫।

(২) আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ ওয়া আখলাকুদ দু'আত, পৃষ্ঠা (৪০ - ৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[فصل منهج الأنبياء هو الدعوة إلى الله تعالى لا إلى شخص ولا إلى جماعة]

فصل

منهج الأنبياء هو الدعوة إلى

الله تعالى لا إلى شخص ولا إلى جماعة وإن من أعظم البصيرة أن تكون الدعوة إلى الله تعالى وحده لا إلى شخص أو حزب أو طائفة أو جماعة، أو مذهب.

فإن العبادة إذا لم تكن خالصة صوابا فهي غير مقبولة، قال الله تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلا صَالِحًا وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110] (1) .

وقال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5] (2) .

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه» (3) .

ولذلك نجد نصوص الدعوة الواردة في القرآن كلها تضيف الدعوة إلى الله، بأن تكون خالصة لله تعالى، من ذلك:

--------------------------------------------

(1) الكهف: 110.

(2) البينة: 5.

(3) رواه البخاري (1 / 10) ومسلم (13 53) .
‌[পরিচ্ছেদ: নবীদের কর্মপন্থা (منهج) হলো আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত দেওয়া, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দিকে নয়]

পরিচ্ছেদ

নবীদের কর্মপন্থা (منهج) হলো আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত দেওয়া, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দিকে নয়। মহত্তম প্রজ্ঞা বা দূরদর্শিতার (بصيرة) অন্তর্ভুক্ত হলো—দাওয়াত হবে একমাত্র আল্লাহ তাআলার দিকে; কোনো ব্যক্তি, দল (حزب), উপদল (طائفة), সংগঠন (جماعة) কিংবা মাজহাবের (مذهب) দিকে নয়।

কেননা ইবাদত যদি একনিষ্ঠ (خالصة) ও সঠিক (صوابا) না হয়, তবে তা কবুলযোগ্য হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যে তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।} [সুরা কাহফ: ১১০] (১)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ (مخلصين) ও সত্যধর্মের প্রতি অনুরাগী (حنفاء) হয়ে তাঁর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত প্রদান করবে। আর এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।} [সুরা বাইয়্যিনাহ: ৫] (২)।

ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সম্পদ অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হয়, তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।» (৩)।

এই কারণেই আমরা কুরআনে বর্ণিত দাওয়াত সংক্রান্ত সকল পাঠ বা দলিলের (نصوص) ক্ষেত্রে দেখি যে, সেগুলো দাওয়াতকে আল্লাহর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করে, যেন তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যই একনিষ্ঠ হয়; যেমন:

--------------------------------------------

(১) সুরা কাহফ: ১১০।

(২) সুরা বাইয়্যিনাহ: ৫।

(৩) বুখারি (১/১০) ও মুসলিম (১৩/৫৩) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ} [يوسف: 108] (1) .

وقال تعالى: {فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ} [الحج: 67] (2) .

وقال تعالى: {وَلَا يَصُدُّنَّكَ عَنْ آيَاتِ اللَّهِ بَعْدَ إِذْ أُنْزِلَتْ إِلَيْكَ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ} [القصص: 87] (3) .

وهذا هو منهج الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، فلم تكن دعوتهم إلا إلى الله تعالى، ولذلك قالت الجن عن نبينا صلى الله عليه وسلم بعدما انتهوا من سماع القرآن: {يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ - وَمَنْ لَا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَولِيَاءُ أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [الأحقاف: 31 - 32] (4) .

ولذلك لما اعتقد المكذبون للرسل أن الأنبياء عليهم السلام ما خالفوا ما هم عليه إلا لطمع دنيوي، عرضوا عليهم شيئا من أمور الدنيا، فكان رد الأنبياء عليهم الصلاة والسلام حاسما وواضحا، بأنهم لم يدعوا لأجل شيء من هذا، وإنما دعوتهم خالصة لله تعالى، ويحتسبون الأجر من عنده وحده.

قال تعالى على لسان نوح: {وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 109] (5) .

وقال تعالى على لسان هود: {وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 127] (6) .

--------------------------------------------

(1) سورة يوسف: 108.

(2) الحج: 67.

(3) القصص: 78.

(4) الأحقاف: 31، 32.

(5) الشعراء: 109.

(6) الشعراء: 127.
মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি} [ইউসুফ: ১০৮] (১)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং তারা যেন এ বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক না করে, আর আপনি আপনার রবের দিকে আহ্বান করুন} [হজ্জ: ৬৭] (২)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার প্রতি আল্লাহর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর তারা যেন আপনাকে সেগুলো থেকে বিমুখ না করে, আর আপনি আপনার রবের দিকে আহ্বান করুন} [কাসাস: ৮৭] (৩)।

আর এটিই হলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কর্মপদ্ধতি (منهج); তাঁদের দাওয়াত কেবল মহান আল্লাহর দিকেই ছিল। একারণেই জিন জাতি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাপারে কুরআন শ্রবণ শেষ করার পর বলেছিল: {হে আমাদের কওম, তোমরা আল্লাহর আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর ওপর ঈমান আনো; তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং তাঁর বিপরীতে তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না; এরাই সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে} [আহকাফ: ৩১ - ৩২] (৪)।

একারণেই যখন রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপকারীরা মনে করল যে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাদের বিরুদ্ধাচরণ কেবল পার্থিব লোভের কারণেই করছেন, তখন তারা তাঁদের কাছে দুনিয়াবী বিষয়ের প্রস্তাব পেশ করল। তখন নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) উত্তর ছিল অত্যন্ত সিদ্ধান্তমূলক ও স্পষ্ট যে, তাঁরা এসবের কোনো কিছুর জন্য দাওয়াত দিচ্ছেন না; বরং তাঁদের দাওয়াত কেবল মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং তাঁরা কেবল তাঁর নিকট থেকেই প্রতিদানের আশা রাখেন।

নূহের মুখে মহান আল্লাহ বলেন: {আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট রয়েছে} [শুয়ারা: ১০৯] (৫)।

হূদের মুখে মহান আল্লাহ বলেন: {আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট রয়েছে} [শুয়ারা: ১২৭] (৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইউসুফ: ১০৮।

(২) হজ্জ: ৬৭।

(৩) কাসাস: ৭৮।

(৪) আহকাফ: ৩১, ৩২।

(৫) শুয়ারা: ১০৯।

(৬) শুয়ারা: ১২৭।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال تعالى على لسان صالح: {وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 145] (1) .

وقال تعالى على لسان لوط: {وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 164] (2) .

وقال تعالى على لسان شعيب: {وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 180] (3) .

والآيات في هذا الباب كثيرة.

خطر الانحراف عن منهج الأنبياء: ومن أخطر ما أضر بالدعوة إلى الله على مدار التاريخ الإسلامي هو ما شابها من الدعوات إلى مذاهب وطوائف وأشخاص باسم الدعوة إلى الله تعالى وإلى دينه، فكل دعوة ترفع شعارا مخالفا لشعار الأخرى، وتستحدث طرقا وأساليب ومصطلحات ومناهج توالي عليها وتعادي مما فرق الأمة حذائق، ومزقها طرائق.

ومعلوم: أن المسميات وإن كانت شرعية أو سائغة في الأصل إذا كان يحصل بسببها ولاء وبراء لغير الحق وتكون سببا في التفريق بين المؤمنين فإنها محرمة من هذا الباب، والدليل على ذلك: ما رواه جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: «غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد ثاب معه ناس من المهاجرين حتى كثروا، وكان من المهاجرين رجل لعاب فكسع أنصاريا، فغضب الأنصاري غضبًا شديدا، حتى تداعوا؛ فقال الأنصاري: يا للأنصار، وقال المهاجري: يا للمهاجرين، فخرج النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ما بال دعوى الجاهلية؟ ، ثم قال: ما شأنهم؟ فأُخبرَ بكسعة المهاجري للأنصاري، قال: فقال النبي صلى الله عليه وسلم: دعوها فإنها خبيثة» (4) .

--------------------------------------------

(1) الشعراء: 145.

(2) الشعراء: 164.

(3) الشعراء: 180.

(4) أخرجه البخاري (6 / 546) ، ومسلم (16 / 137) .
আল্লাহ তাআলা সালেহ (আ.)-এর জবানিতে বলেছেন: {আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট রয়েছে।} [আশ-শুআরা: ১৪৫] (১)।

আল্লাহ তাআলা লুত (আ.)-এর জবানিতে বলেছেন: {আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট রয়েছে।} [আশ-শুআরা: ১৬৪] (২)।

আল্লাহ তাআলা শুআইব (আ.)-এর জবানিতে বলেছেন: {আর আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট রয়েছে।} [আশ-শুআরা: ১৮০] (৩)।

এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক।

নবীদের মানহাজ (منهج) থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপদ: ইসলামী ইতিহাসের পরিক্রমায় আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক যা ক্ষতি করেছে, তা হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের দাওয়াতের নামে বিভিন্ন মাযহাব, দল ও ব্যক্তির প্রতি আহ্বান; ফলে প্রতিটি দাওয়াত এমন এক স্লোগান তুলে যা অন্যের স্লোগান বিরোধী এবং এমন সব পথ, পদ্ধতি, পরিভাষা ও মানহাজ (منهج) উদ্ভাবন করে যার ভিত্তিতে তারা বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করে, যা উম্মতকে বিভিন্ন দলে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং নানা পথে বিভক্ত করে দিয়েছে।

এটি সুবিদিত যে, নামসমূহ মূলত শরয়ি (شرعية) বা বৈধ হলেও যদি তার কারণে সত্য ছাড়া অন্য কিছুর ভিত্তিতে ওয়ালা ও বারা (ولاء وبراء) অর্থাৎ বন্ধুত্ব ও শত্রুতা তৈরি হয় এবং তা মুমিনদের মাঝে বিভক্তির কারণ হয়, তবে এই দিক থেকে তা হারাম। এর প্রমাণ হলো: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যা বর্ণনা করেছেন (رواه), তিনি বলেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম এবং তাঁর সাথে অনেক মুহাজির একত্রিত হলেন। মুহাজিরদের মধ্যে রসিক স্বভাবের একজন লোক এক আনসারীকে আঘাত করেন। এতে আনসারী ব্যক্তিটি প্রচণ্ড রাগান্বিত হলেন। এমনকি তারা একে অপরকে আহ্বান করতে লাগলেন; আনসারী ব্যক্তিটি ডাকলেন: হে আনসারগণ! আর মুহাজির ব্যক্তিটি ডাকলেন: হে মুহাজিরগণ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: জাহিলিয়াতের এই ডাক কেন? এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাদের অবস্থা কী? তখন মুহাজির কর্তৃক আনসারীকে আঘাত করার বিষয়টি তাঁকে জানানো হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা এটি বর্জন করো, কেননা এটি অত্যন্ত ঘৃণ্য (خبيثة)» (৪)।

--------------------------------------------

(১) আশ-শুআরা: ১৪৫।

(২) আশ-শুআরা: ১৬৪।

(৩) আশ-শুআরা: ১৮০।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারী (৬ / ৫৪৬) এবং মুসলিম (১৬ / ১৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن نفائس كلام شيخ الإسلام ابن تيمية في هذا الباب، والذي يمثل قاعدة عند أهل السنة والجماعة قوله: " وكل ما خرج عن دعوة الإسلام والقرآن: من نسب أو بلد أو جنس أو مذهب أو طريقة فهو من عزاء الجاهلية؛ بل «لما اختصم رجلان من المهاجرين والأنصار فقال المهاجري: يا للمهاجرين، وقال الأنصاري: يا للأنصار قال النبي صلى الله عليه وسلم: أبدعوى الجاهلية وأنا بين أظهركم؟ وغضب لذلك غضبا شديدا» (1) .

وقال رحمه الله: " فهذان الاسمان: المهاجرون والأنصار اسمان شرعيان، جاء بهما الكتاب والسنة، وسماهما الله بهما، كما سمانا المسلمين من قبلُ، وفي هذا.

وانتساب الرجل إلى المهاجرين أو الأنصار انتساب حسن محمود عند الله وعند رسوله، ليس من المباح الذي يقصد به التعريف فقط كالانتساب إلى القبائل والأمصار، ولا من المكروه أو المحرم كالانتساب إلى ما يفضي إلى بدعة أو معصية أخرى، ثم - مع هذا - لما دعا كل منهما طائفته منتصرا بها أنكر النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، وسماها: (دعوى الجاهلية) حتى قيل له: إن الداعي بها إنما هما غلامان، لم يصدر ذلك من الجماعة؛ فأمر بمنع الظالم، وإعانة المظلوم، ليبين النبي صلى الله عليه وسلم أن المحذور إنما هو تعصب الرجل لطائفته مطلقا فِعْلَ أهل الجاهلية، فأما نصرها بالحق من غير عدوان فحسن واجب أو مستحب " (2) .

فيا لله والإسلام من واقعنا الذي تفرق فيه أهل الإسلام إلى طوائف وفرق وجماعات ومذاهب، كل واحدة ترفع شعارا واسما ومنهجا وطريقة تخالف الأخرى، بل إن بعض أصحاب الجماعة الواحدة لأدنى اختلاف ينشب بين رموزها وقد يكون حول أفكار أو رؤى يسعها الخلاف، لا يلبث أن تشتعل بينهم حربُ مصطلحات ومسميات، ويتفرقون إلى جماعتين أو حزبين، ترمي كل واحدة منهما الأخرى بفظائع الأمور، وتبالغ في التنقص منها، وقد يصل الأمر إلى إخراجها من دائرة الإسلام، وسبب هذا مخبآت النفوس والضمائر والذي كَمُنَ فيها تقديس الذات وحب الشهرة

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (28 / 324) .

(2) اقتضاء الصراط المستقيم (1 / 241) .
এই বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অত্যন্ত মূল্যবান বক্তব্যগুলোর মধ্যে একটি, যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট একটি মূলনীতি (قاعدة) হিসেবে বিবেচিত, তা হলো: "ইসলাম ও কুরআনের দাওয়াতের বাইরে যা কিছু আছে—তা বংশপরিচয়, দেশ, বর্ণ, মাজহাব (مذهب) বা তরীকা (طريقة) যাই হোক না কেন—সবই জাহিলিয়্যাতের ডাকের অন্তর্ভুক্ত; এমনকি যখন মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হলো এবং মুহাজির ব্যক্তিটি ডাক দিল: 'হে মুহাজিরগণ!' আর আনসার ব্যক্তিটি ডাক দিল: 'হে আনসারগণ!' তখন নবী (সা.) বললেন: 'আমি তোমাদের মাঝে থাকা অবস্থায়ও কি জাহিলিয়্যাতের ডাক (دعوى الجاهلية) দেওয়া হচ্ছে?' এবং তিনি এতে ভীষণ রাগান্বিত হলেন।" (১)।

তিনি (রহ.) আরও বলেন: "এই দুটি নাম: মুহাজির ও আনসার হলো শরয়ি (شرعي) নাম, যা কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে এবং আল্লাহ তাদের এই নামে নামকরণ করেছেন, যেমনটি তিনি আমাদের আগে মুসলিম হিসেবে নামকরণ করেছেন।

আর কোনো ব্যক্তির মুহাজির বা আনসারদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে একটি উত্তম ও প্রশংসনীয় বিষয়। এটি কেবল গোত্র বা নগরের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মতো কেবল পরিচিতির উদ্দেশ্যে বৈধ (مباح) কোনো বিষয় নয়, আবার এটি কোনো বিদআত (بدعة) বা অন্য কোনো পাপাচারের (معصية) দিকে ধাবিত করে এমন মাকরূহ (مكروه) বা হারাম (محرم) বিষয়ও নয়। তবুও এর সাথে যখন তাদের প্রত্যেকে নিজ দলকে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানালো, তখন নবী (সা.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং একে 'জাহিলিয়্যাতের ডাক' (دعوى الجاهلية) হিসেবে অভিহিত করলেন। এমনকি তাঁকে যখন বলা হলো যে, এই আহ্বানকারী ছিল মাত্র দুই যুবক, জামাআতের (جماعة) পক্ষ থেকে তা ঘটেনি; তখন তিনি জালেমকে বাধা দেওয়ার এবং মাজলুমকে সাহায্য করার নির্দেশ দিলেন। এর মাধ্যমে নবী (সা.) স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, নিষিদ্ধ বিষয়টি হলো জাহিলিয়্যাতের লোকদের মতো কোনো ব্যক্তির নিঃশর্তভাবে নিজ দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা গোঁড়ামি (تعصب) করা। পক্ষান্তরে, সীমালঙ্ঘন না করে ন্যায়ের পথে দলকে সাহায্য করা উত্তম, যা ওয়াজিব (واجب) অথবা মুস্তাহাব (مستحب)।" (২)।

হায় আফসোস! আমাদের বর্তমান বাস্তবতায় ইসলাম ও মুসলিমদের কী করুণ অবস্থা, যেখানে ইসলামের অনুসারীরা বিভিন্ন দল, উপদল, জামাআত ও মাজহাবে (مذهب) বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিটি দলই একে অপরের থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান, নাম, মানহাজ (منهج) ও তরীকা (طريقة) ধারণ করে আছে। এমনকি একই জামাআতের অন্তর্ভুক্ত একদল মানুষ তাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের মাঝে সামান্য মতভেদের কারণে—যা হয়তো কেবল চিন্তা বা দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যের কারণে হয় যেখানে মতভেদের (خلاف) অবকাশ রয়েছে—দ্রুতই তাদের মধ্যে পারিভাষিক ও নামসর্বস্ব যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তারা দুটি জামাআত বা দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রত্যেকে অপরকে জঘন্য অপবাদ দেয়, একে অপরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার চরম সীমায় পৌঁছে যায়। এমনকি বিষয়টি কখনো কখনো অপর পক্ষকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়ার পর্যায়েও চলে যায়। এর মূলে রয়েছে নফস বা প্রবৃত্তির গূঢ় রহস্য এবং অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা আত্মপূজা ও খ্যাতির মোহ।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৮ / ৩২৪) ।

(২) ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (১ / ২৪১) ।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والهوى والحرص على الدنيا كمون النار في الزناد؛ فاقدح زناد من شئت ينبيك شرره عما في زناده.

قال العلامة ابن باز رحمه الله: " والخلاصة: أن الواجب على الداعية الإسلامي أن يدعو إلى الإسلام كله، ولا يفرق بين الناس، وألا يكون متعصبا لمذهب دون مذهب، أو لقبيلة دون قبيلة، أو لشيخه أو رئيسه أو غير ذلك، بل الواجب أن يكون هدفه: إثبات الحق وإيضاحه واستقامة الناس عليه وإن خالف رأي فلان أو فلان، ولما نشأ في الناس من يتعصب للمذاهب ويقول: إن مذهب فلان أولى من مذهب فلان جاءت الفرقة والاختلاف حتى آل ببعض الناس هذا الأمر إلى ألا يصلي مع من هو على غير مذهبه، فلا يصلي الشافعي خلف الحنفي، ولا الحنفي خلف المالكي، ولا خلف الحنبلي، وهكذا وقع من بعض المتطرفين المتعصبين، وهذا من البلاء، ومن اتباع خطوات الشيطان. . . فالأئمة أئمة الهدى: الشافعي، ومالك، وأحمد، وأبو حنيفة، والأوزاعي، وإسحاق بن راهويه، وأشباههم، كلهم أئمة هدى ودعاة حق، دعوا الناس إلى دين الله، وأرشدوهم إلى الحق، ووقع هناك مسائل بينهم اختلفوا فيها لخفاء الدليل على بعضهم، فهم بين مجتهد مصيب له أجران، وبين مجتهد أخطأ الحق فله أجر واحد، فعليك أن تعرف لهم قدرهم وفضلهم، وأن تترحم عليهم، وأن تعرف أنهم أئمة الإسلام ودعاة الهدى، ولكن لا يحملك ذلك على التعصب والتقليد الأعمى فتقول: مذهب فلان أولى بالحق بكل حال، أو مذهب فلان أولى بالحق بكل حال لأنه لا يخطئ، لا! هذا غلط! عليك أن تأخذ بالحق، وأن تتبع الحق إذا ظهر دليله ولو خالف فلانا أو فلانا، وعليك ألا تتعصب وتقلد تقليدًا أعمى بل تعرف للأئمة فضلهم وقدرهم، ولكن مع ذلك تحتاط لنفسك ودينك فتأخذ بالحق، وترضى به، وترشد إليه إذا طلب منك، وتخاف الله وتراقبه جل وعلا، وتنصف من نفسك مع إيمانك بأن الحق واحد، وأن المجتهدين إن أصابوا فلهم أجران، وإن أخطؤوا فلهم أجر واحد - أعني: مجتهدي أهل السنة، أهل العلم والإيمان والهدى - كما صح بذلك الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم " (1) اهـ.

--------------------------------------------

(1) الدعوة إلى الله وأخلاق الدعاة (ص 52 - 54) .
খেয়াল-খুশি এবং দুনিয়ার প্রতি লালসা চকমকি পাথরের আগুনের মতো সুপ্ত থাকে; সুতরাং আপনি যার চকমকি পাথর ইচ্ছা আঘাত করুন, তার স্ফুলিঙ্গই আপনাকে জানিয়ে দেবে তার পাথরে কী লুকায়িত আছে।

আল্লামা ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সারকথা হলো: একজন ইসলামি দাওয়াত প্রদানকারীর (দাঈ) ওপর ওয়াজিব হলো সমগ্র ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করা এবং কোনো বিশেষ মাযহাবের প্রতি অন্ধ অনুরাগী (متعصب) না হওয়া, অথবা কোনো বিশেষ গোত্র, নিজের শায়খ বা নেতা বা অন্য কিছুর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করা। বরং ওয়াজিব হলো তার লক্ষ্য হবে: সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা, তা স্পষ্ট করা এবং মানুষের সত্যের ওপর অবিচল থাকা, যদিও তা অমুক বা অমুকের মতের পরিপন্থী হয়। আর যখন মানুষের মধ্যে এমন লোক তৈরি হলো যারা মাযহাবের ব্যাপারে অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করে এবং বলে: অমুকের মাযহাব অমুকের মাযহাবের চেয়ে উত্তম, তখন অনৈক্য ও মতভেদ সৃষ্টি হলো। এমনকি এই বিষয়টি কিছু মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেল যে, সে তার মাযহাবের বাইরের কারো পেছনে সালাত আদায় করতে চায় না। ফলে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী হানাফী মাযহাবের অনুসারীর পেছনে সালাত পড়ে না, হানাফী মাযহাবের অনুসারী মালেকী বা হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীর পেছনে সালাত পড়ে না। এভাবেই কিছু চরমপন্থী ও অন্ধ অনুরাগী (متعصب) মানুষের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এটি একটি মুসিবত এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত... ইমামগণ হলেন হিদায়াতের ইমাম: শাফেয়ী, মালিক, আহমাদ, আবু হানীফা, আওযায়ী, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। তারা সকলেই হিদায়াতের ইমাম এবং সত্যের আহবায়ক। তারা মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং তাদেরকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু মাসআলায় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে কারণ কারো কারো কাছে প্রমাণ (دليل) অস্পষ্ট ছিল। সুতরাং তারা হয়তো সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত গবেষণাকারী (مجتهد مصيب), যার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব; অথবা এমন গবেষণাকারী যিনি সত্য নির্ণয়ে ভুল করেছেন (مجتهد أخطأ), তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব। সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো তাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করা এবং এটি জানা যে তারা ইসলামের ইমাম ও হিদায়াতের আহবায়ক। তবে এটি যেন আপনাকে অন্ধ অনুরাগ (تعصب) ও অন্ধ অনুকরণের (تقليد أعمى) দিকে ধাবিত না করে যে, আপনি বলবেন: অমুকের মাযহাবই সর্বদা সত্যের নিকটবর্তী, অথবা অমুকের মাযহাবই সর্বদা সত্যের নিকটবর্তী কারণ তিনি ভুল করেন না। না! এটি ভুল! আপনার কর্তব্য হলো সত্যকে গ্রহণ করা এবং যখন প্রমাণ (دليل) স্পষ্ট হয়ে যাবে তখন সত্যের অনুসরণ করা, যদিও তা অমুক বা অমুকের পরিপন্থী হয়। আপনার ওপর ওয়াজিব হলো অন্ধ পক্ষপাতিত্ব না করা এবং অন্ধ অনুকরণ না করা, বরং ইমামগণের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিজের নফস ও দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা, সত্যকে গ্রহণ করা, তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং কেউ চাইলে তাকে সত্যের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া। আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাকে সর্বদা উপস্থিত মনে করুন। নিজের নফসের প্রতি ইনসাফ করুন এই বিশ্বাসের সাথে যে, সত্য মূলত একটিই। আর গবেষণাকারীরা (مجتهدون) যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব, আর যদি ভুল করেন তবে তাদের জন্য রয়েছে একটি সওয়াব—আমি এখানে আহলে সুন্নাহর গবেষণাকারীদের (مجتهد) উদ্দেশ্য করছি, যারা জ্ঞান, ঈমান ও হিদায়াতের অধিকারী—যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) সংবাদ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।" (১) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) আদ-দাওয়া ইলাল্লাহ ওয়া আখলাকুদ দু'আত (পৃ. ৫২ - ৫৪)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[فصل العلم قبل الدعوة]

فصل

العلم قبل الدعوة فإذا عرف الداعية إلى الله تعالى ما يدعو إليه؛ فالواجب عليه قبل أن يباشر الدعوة إلى الله، ويخوض غمارها، ويدخل ساحتها: أن يتسلح بالعلم الشرعي، وهو ما أنزله الله على رسوله صلى الله عليه وسلم من الكتاب، والحكمة، ومعرفة ما أراد الله من ذلك وفهمه على نحو ما فهمه الصحابة والتابعون وأتباعهم من أئمة الهدى والدين في الأمة، حتى يحقق شرط البصيرة في الدعوة إلى الله تعالى؛ لأن نجاح الدعوة إلى الله تعالى مرهون بهذا العلم الموروث عن نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، والذي نقله إلينا أصحابه رضي الله عنهم أجمعين - نقلًا صحيحًا، وهم الذين شاهدوا التنزيل، وعرفوا التأويل، وكانوا أدرى الناس بأحوال النبي صلى الله عليه وسلم ومراده، وكانوا معه في ظعنه وإقامته، وفي سلمه وحربه، وفي أيام فرحه وترحه، بل لم يفارقوه لا في خلوة ولا جلوة، وهم الذين اختارهم الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم على علم، وميزهم من بين عباده بما جبلهم عليه من الأمانة والصدق والفهم، وقد رضي عنهم وأرضاهم، وجعل قلوبهم بيضاء نقية أطهر قلوب العباد بعد قلب النبي صلى الله عليه وسلم، فكانوا على الهدي المستقيم.

الوحي هو مصدر العلم: والمتأمل في نصوص الوحيين يجد أن الله تعالى قد جمع لنبيه صلى الله عليه وسلم أفضل علوم الأنبياء والمرسلين قبله وأصحها وأكملها، وزاده عليها مما
[দাওয়াতের পূর্বে ইলম অর্জনের পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ

দাওয়াতের পূর্বে ইলম (জ্ঞান): আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (দাঈ) যখন কিসের দিকে আহ্বান করছেন তা অবগত হন, তখন আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান শুরু করার এবং এই কণ্টকাকীর্ণ পথে প্রবেশের পূর্বে তার ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো শরয়ি ইলম দ্বারা সুসজ্জিত হওয়া। আর এই ইলম হলো তা-ই যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ যা উদ্দেশ্য করেছেন তা অনুধাবন করা এবং এই উম্মতের হিদায়াত ও দ্বীনের ইমামগণের মধ্যে সাহাবী (صحابة), তাবেঈন (تابعون) ও তাঁদের অনুসারীগণ যেভাবে তা বুঝেছিলেন, সেই সমঝ অনুযায়ী তা উপলব্ধি করা; যাতে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) শর্তটি পূরণ হয়। কেননা আল্লাহর পথে দাওয়াতের সফলতা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এই ইলমের ওপরই নির্ভরশীল, যা তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) আমাদের নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরাই ওহী অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন, এর ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ অনুধাবন করেছেন এবং তাঁরাই ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত। তাঁর সফর ও অবস্থানকালে, শান্তিতে ও যুদ্ধে এবং তাঁর আনন্দের দিনে ও বিষাদে তাঁরা তাঁর সাথেই ছিলেন; বরং জনসমক্ষে কিংবা নিভৃতে তাঁরা কখনই তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। তাঁরাই সেই মহান সত্তা যাঁদেরকে আল্লাহ তাআলা পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতেই তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন এবং আমানতদারি, সত্যবাদিতা ও প্রখর মেধার যে স্বভাবজাত গুণাবলি দ্বারা তাঁদেরকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, তার মাধ্যমে তাঁদেরকে অন্যান্য বান্দাদের থেকে বিশিষ্টতা দান করেছেন। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন। তিনি তাঁদের অন্তরকে শুভ্র ও স্বচ্ছ করে দিয়েছেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ের পর সমগ্র মানবজাতির মধ্যে পবিত্রতম অন্তর। ফলে তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

ওহী হলো ইলমের উৎস: উভয় ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহর) পাঠসমূহ নিয়ে যিনি গভীর চিন্তা করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে তাঁর পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের সর্বোত্তম, সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) ও পূর্ণাঙ্গ ইলমসমূহ একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর ওপর আরও এমন কিছু বৃদ্ধি করেছেন যা...
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فيه هداية الخلق وصلاحهم ونفعهم في الدنيا والآخرة، وأرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وقد قام النبي صلى الله عليه وسلم بمهمة التبليغ أتم قيام، وأداها أكمل أداء، فبين للأمة ما أنزل إليه من ربه: بقوله وفعله وتقريره بيانا شافيا لا مزيد عليه، فما من خير يعلمه لهم إلا دلهم عليه، وأرشدهم إليه، وما من شر يعلمه إلا حذرهم منه ونهاهم عنه، تحقيقا لقول الله تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128] (1) .

وقول الله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44] (2) .

ولما تلا الحسن البصري رحمه الله قول الله تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33] (3) قال: " هذا حبيب الله، هذا ولي الله، هذا صفوة الله، هذا خيرة الله، هذا أحب أهل الأرض إلى الله؛ أجاب الله في دعوته، ودعا الناس إلى ما أجاب الله فيه من دعوته، وعمل صالحا في إجابته، وقال: إنني من المسلمين، هذا خليفة الله " (4) .

مدى حاجة العباد إلى الرسل: وضرورة العباد إلى معرفة ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم من الهدى ودين الحق فوق كل ضرورة، وحاجتهم إليه فوق كل حاجة، فإنه لا سبيل إلى معرفة الطيب من الخبيث، والصحيح من السقيم، من: الاعتقادات، والأقوال، والأفعال، والأحوال على التفصيل إلا من جهته صلى الله عليه وسلم، ولا سبيل إلى الفوز بالسعادة في المعاش والمعاد إلا من طريقه صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) التوبة: 128.

(2) النحل: 44.

(3) فصلت: 33.

(4) انظر: تفسير القرآن العظيم لابن كثير (4 / 102) .
এতে রয়েছে সৃষ্টির হিদায়াত, তাদের সংশোধন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের কল্যাণ। আর তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবলিগ বা দ্বীন প্রচারের দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করেছেন এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা উম্মতের কাছে বর্ণনা করেছেন: তাঁর কথা (قول), কাজ (فعل) এবং মৌনসম্মতির (تقرير) মাধ্যমে এমন এক পরিপূর্ণ ও সুস্পষ্ট বর্ণনা যার ওপর আর কোনো বর্ণনা হতে পারে না। তিনি তাদের জন্য কল্যাণকর এমন কিছু জানেন না যা তাদের বাতলে দেননি এবং সেদিকে তাদের পথপ্রদর্শন করেননি। আর এমন কোনো অকল্যাণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন যা থেকে তাদের সতর্ক করেননি এবং তা থেকে তাদের নিষেধ করেননি। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই বাস্তবতা: {তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, যা তোমাদেরকে বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক, তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময়।} [তওবা: ১২৮] (১)।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আপনার কাছে যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} [নাহল: ৪৪] (২)।

হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) যখন মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে, 'নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।'} [ফুসসিলাত: ৩৩] (৩), তখন তিনি বললেন: "ইনিই আল্লাহর প্রিয়তম (حبيب الله), ইনিই আল্লাহর ওলী (ولي الله), ইনিই আল্লাহর মনোনীত (صفوة الله), ইনিই আল্লাহর পছন্দনীয় (خيرة الله), ইনিই যমীনের অধিবাসীদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়; তিনি আল্লাহর দাওয়াতে সাড়া দিয়েছেন এবং মানুষকে সেই দাওয়াতের দিকে আহ্বান করেছেন যে বিষয়ে তিনি আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর সেই সাড়াদানের ক্ষেত্রে নেক আমল করেছেন এবং বলেছেন, নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত; ইনিই আল্লাহর খলীফা।" (৪)।

রাসূলগণের প্রতি বান্দাদের মুখাপেক্ষিতার মাত্রা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের যে শিক্ষা নিয়ে এসেছেন তা জানার প্রয়োজনীয়তা বান্দাদের কাছে অন্য যেকোনো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে এবং এর প্রতি তাদের মুখাপেক্ষিতা অন্য যেকোনো মুখাপেক্ষিতার চেয়ে বেশি। কেননা, আকিদা-বিশ্বাস, কথা, কাজ ও অবস্থার ক্ষেত্রে কোনটি উত্তম (الطيب) থেকে কোনটি মন্দ (الخبيث) এবং কোনটি বিশুদ্ধ (الصحيح) থেকে কোনটি ত্রুটিযুক্ত (السقيم) তা বিস্তারিতভাবে জানার কোনো পথ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যম ছাড়া সম্ভব নয়। ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে সৌভাগ্য লাভের কোনো পথ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকা ছাড়া নেই।

--------------------------------------------

(১) তওবা: ১২৮।

(২) নাহল: ৪৪।

(৩) ফুসসিলাত: ৩৩।

(৪) দেখুন: ইবনে কাসীরের তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (৪ / ১০২)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال الله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [الجمعة: 2] (1) .

وقال تعالى: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} [الأعراف: 157] (2) .

وقال تعالى: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [النور: 54] (3) .

فأي حاجة فرضت، وأي ضرورة عرضت؛ فحاجة العباد، وضرورتهم إلى معرفة ما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم من الهُدى ودين الحق فوقها بكثير، لأن الأنبياء هم المُبلّغون عن الله تعالى، وهذه المعرفة الضرورية لا تتحقق إلا بالعلم الصحيح، ولا يمكن للناس أن يعرفوا هذه الأمور إلا بالتعليم والدعوة، وهذه هي مهمة الدعاة إلى الله تعالى الذين ورثوا هذا العلم.

فعن أبي الدرداء رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الأنبياء لم يورثوا دينارًا ولا درهما وإنما ورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر» (4) .

--------------------------------------------

(1) الجمعة: 2.

(2) الأعراف: 157.

(3) النور: 54.

(4) صحيح أخرجه: أحمد (36 / 46) ، وأبو داود (4 / 57، 4 / 414) ، وابن ماجه (1 / 81) .

انظر للفائدة والاستزادة: فتح الباري لابن حجر العسقلاني (1 / 147) .
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি উম্মীদের মাঝে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল} [আল-জুমুআ: ২] (১)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের নিকট সংরক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে সেই বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারণ করেন যা তাদের ওপর চেপে ছিল} [আল-আরাফ: ১৫৭] (২)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে তোমরা হিদায়াত লাভ করবে; আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া} [আন-নূর: ৫৪] (৩)।

সুতরাং যেকোনো প্রয়োজনই দেখা দিক বা যেকোনো আবশ্যকতা আসুক না কেন; বান্দাদের জন্য নবী (সা.)-এর আনীত হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তার চেয়ে অনেক বেশি। কেননা নবিগণই হলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দানকারী। আর এই অপরিহার্য জ্ঞান সঠিক (صحيح) ইলম ছাড়া অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষা ও দাওয়াত ব্যতীত মানুষের পক্ষে এ সকল বিষয় জানা সম্ভব নয়, আর এটাই হলো মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী সেই দাঈদের দায়িত্ব যারা এই ইলমের উত্তরাধিকারী হয়েছেন।

আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই নবিগণ কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল ইলমের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল» (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-জুমুআ: ২।

(২) আল-আরাফ: ১৫৭।

(৩) আন-নূর: ৫৪।

(৪) সহিহ (صحيح); এটি বর্ণনা করেছেন: আহমাদ (৩৬ / ৪৬), আবু দাউদ (৪ / ৫৭, ৪ / ৪১৪) এবং ইবনে মাজাহ (১ / ৮১)।

অতিরিক্ত তথ্য ও উপকারের জন্য দেখুন: ইবনে হাজার আসকালানি রচিত ফাতহুল বারী (১ / ১৪৭)।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌[فصل في فضل العلم والتعليم]

فصل

في فضل العلم والتعليم وقد جاء في فضل العلم ووجوب طلبه وبيان منزلته في الكتاب والسنة وأقوال السلف والأئمة نصوص كثيرة، الأمرُ الذي جعل كثيرا من أهل العلم يذهبون إلى إفراد مصنفات بهذا الخصوص، بل لا تكاد تقف على مصنف في دواوين السنة إلا وتجد كتبًا أو أبوابا معقودة في بيان فضل العلم وأهله.

والداعية إلى الله تعالى من أولى الناس حرصا على التأهل بالعلم قبل الدعوة إلى الله تعالى؛ لأن دعوته قائمة على العلم، وهو أحد أهم أركانها، وبدونه يهوي البنيان ولا يتماسك.

وقد وردت نصوص كثيرة في الكتاب والسنة تشير إلى فضل العلم وأهله، وفيما يلي ذكر شيء منها: قال الله تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة: 11] (1) .

وقال الله تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ} [الزمر: 9] (2) .

--------------------------------------------

(1) المجادلة: 11.

(2) الزمر: 9.
‌[ইলম ও শিক্ষা প্রদানের ফযিলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ

ইলম ও শিক্ষা প্রদানের ফযিলত প্রসঙ্গে: ইলমের ফযিলত, তা অন্বেষণের আবশ্যকতা (وجوب) এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীন ও ইমামগণের বাণীতে এর সুউচ্চ মর্যাদা বর্ণনায় বহু পাঠ (نصوص) বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়টি ইলমের অনেক অনুসারীকে এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ (مصنفات) রচনার দিকে ধাবিত করেছে। এমনকি সুন্নাহর সংকলনসমূহের মধ্যে আপনি এমন কোনো গ্রন্থের দেখা খুব কমই পাবেন, যেখানে ইলম ও আহলে ইলমদের (জ্ঞানীগণ) ফযিলত বর্ণনায় কোনো স্বতন্ত্র কিতাব বা পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করা হয়নি।

আল্লাহ তাআলার পথে আহ্বানকারীর (দাঈ) জন্য আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার পূর্বে ইলম অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য করে তোলার বিষয়ে সর্বাধিক যত্নশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়; কারণ তার দাওয়াত ইলমের ওপরই প্রতিষ্ঠিত এবং এটি দাওয়াতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ (ركن)। ইলম ব্যতীত দাওয়াতের ভিত্তি ধসে পড়ে এবং তা সুসংহত থাকে না।

কুরআন ও সুন্নাহতে ইলম ও আলিমদের ফযিলত নির্দেশ করে এমন অনেক প্রমাণ (نصوص) বর্ণিত হয়েছে, নিম্নে তার কিছু উল্লেখ করা হলো: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত} [আল-মুজাদিলা: ১১] (১)।

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করে} [আয-যুমার: ৯] (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুজাদিলা: ১১।

(২) আয-যুমার: ৯।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقال الله تعالى: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ} [الأنعام: 83] قال زيد بن أسلم رضي الله عنه: " بالعلم " (1) .

وقال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ} [فاطر: 28] (2) .

الأحاديث النبوية والآثار السلفية في فضل العلم: وردت أحاديث كثيرة في فضل العلم وأهله منها:

عن أبي هريرة رضي الله عنه: قال صلى الله عليه وسلم: «من سلك طريقا يلتمس فيه علما سهل الله له طريقا إلى الجنة» (3) .

وعن معاوية رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: «من يُرد الله به خيرا يفقهه في الدين» (4) .

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: قال صلى الله عليه وسلم: «إن الله يرفع بهذا الكتاب أقواما ويضع به آخرين» (5) .

وأما أقوال السلف الصالح في هذا الباب فهي كثيرة، من ذلك (6) .

يقول أبو هريرة رضي الله عنه: " لأن أجلس ساعة فأتفقه في ديني أحب إلي من إحياء ليلة إلى الصباح ".

وقال أيضا: " لكل شيء عماد، وعماد هذا الدين الفقه، وما عُبِدَ اللهُ بشيء أفضل من فقه في الدين ".

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح الباري (1 / 274) .

(2) فاطر: 28.

(3) رواه مسلم: (17 / 21) .

(4) رواه البخاري (1 / 164) ، ومسلم: (7 / 67) .

(5) رواه مسلم (6 / 98) .

(6) انظرها في: جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر، والفقيه والمتفقه للخطيب، ومفتاح دار السعادة لابن القيم، والآداب الشرعية لابن مفلح، وتذكرة السامع والمتكلم لابن جماعة، وفتح الباري لابن حجر شرح كتاب العلم من الصحيح، وغيرها كثير.
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি} [সূরা আল-আনআম: ৮৩]। যায়িদ ইবনে আসলাম (রা.) বলেন: "জ্ঞানের মাধ্যমে" (১)।

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল} [সূরা ফাতির: ২৮] (২)।

ইলম বা জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নববী হাদিস এবং সালাফদের বর্ণনা (آثار): জ্ঞান ও জ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন" (৩)।

মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা (فقه) দান করেন" (৪)।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উন্নত করেন এবং অন্য জাতিকে অবনমিত করেন" (৫)।

আর এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের অনেক বক্তব্য রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো (৬)।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "আমার কাছে এক মুহূর্ত বসে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (فقه) অর্জন করা সারারাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে অধিক প্রিয়"।

তিনি আরও বলেন: "প্রত্যেক জিনিসের একটি স্তম্ভ রয়েছে, আর এই দ্বীনের স্তম্ভ হলো ফিকহ (الفقه); এবং দ্বীনের প্রজ্ঞার (فقه) চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি"।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারী (১ / ২৭৪)।

(২) ফাতির: ২৮।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম: (১৭ / ২১)।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (১ / ১৬৪) এবং মুসলিম: (৭ / ৬৭)।

(৫) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৬ / ৯৮)।

(৬) এ সংক্রান্ত আলোচনা দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত জামি' বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি, খতিব রচিত আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ইবনুল কাইয়্যিম রচিত মিফতাহু দারিস সা'আদাহ, ইবনে মুফলিহ রচিত আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ, ইবনে জামা'আহ রচিত তাযকিরাতুস সামি' ওয়াল মুতাকাল্লিম, সহিহ বুখারীর কিতাবুল ইলম অধ্যায়ের ব্যাখ্যায় ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী এবং এ ছাড়া আরও অনেক গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আল-বাসীরাতু ফী আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقال معاذ بن جبل رضي الله عنه: " تعلموا العلم؛ فإن تعلمه لله خشية، وطلبه عبادة، ومذاكرته تسبيح، وتعليمه جهاد. . . إلخ ".

وقال أيضا: " لأن تغدو فتتعلم بابا من أبواب العلم خير لك من أن تصلي مائة ركعة ".

وقال ابن عباس رضي الله عنه: " تذاكر العلم بعض ليلة أحب إلي من إحيائها ".

وفي " مسائل إسحاق بن منصور ": قلت لأحمد: قوله " تذاكر العلم بعض ليلة أحب إلي من إحيائها "، أي علم أراد؟ قال: " هو العلم الذي ينتفع به الناس في أمر دينهم "، قلت: في الوضوء والصلاة والصوم والحج والطلاق ونحو هذا؟ قال: " نعم ".

وقال محمد الباقر رحمه الله: " عالم يُنتفع بعلمه أفضل من ألف عابد ".

وقال الربيع رحمه الله: سمعت الشافعي يقول: " طلب العلم أفضل من الصلاة النافلة ".

وقال سفيان الثوري رحمه الله: " ما من عمل أفضل من طلب العلم إذا صحت فيه النية ".

يقول سهل التستري رحمه الله: " من أراد أن ينظر إلى مجالس الأنبياء فلينظر إلى مجالس العلماء، يجيء الرجل فيقول: يا فلان أيش تقول في رجل حلف على امرأته بكذا وكذا؟ فيقول: طلقت امرأته، ويجيء آخر فيقول. . . وليس هذا إلا لنبي أو عالم فاعرفوا لهم ذلك ".

تحذير السلف من الجاهل: ولقد كان السلف الصالح يعدون من يتصدر للتعليم والوعظ والخطابة ولا علم له من السفلة ومحلا للاستهجان والتندر؛ لأنه يفسد أكثر مما يصلح، ويضل أكثر مما يرشد، ومن قدروا على منعه منعوه،
মু’আজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো; কেননা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করা হলো আল্লাহভীতি, তা অন্বেষণ করা ইবাদত, তা নিয়ে আলোচনা করা তাসবিহ এবং তা শিক্ষা দেওয়া হলো জিহাদ... ইত্যাদি।"

তিনি আরও বলেন: "তোমার ভোরে বের হয়ে ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা তোমার জন্য একশত রাকাত নামাজ পড়ার চেয়েও উত্তম।"

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "রাতের কিছু অংশ ইলম চর্চা করা আমার নিকট সারারাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে বেশি প্রিয়।"

এবং 'মাসাইল ইসহাক ইবনে মানসুর'-এ বর্ণিত হয়েছে: আমি ইমাম আহমদকে বললাম: "(ইবনে আব্বাসের) উক্তি 'রাতের কিছু অংশ ইলম চর্চা করা আমার নিকট সারারাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে বেশি প্রিয়', এর দ্বারা তিনি কোন ধরনের ইলম বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন: "এটি সেই ইলম যার মাধ্যমে মানুষ তাদের দ্বীনি বিষয়ে উপকৃত হয়।" আমি বললাম: অজু, নামাজ, রোজা, হজ, তালাক এবং এই জাতীয় বিষয় কি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

মুহাম্মদ আল-বাকির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "একজন আলেম (عالم) যার ইলম দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, তিনি এক হাজার আবেদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"

রবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি: "ইলম অন্বেষণ করা নফল (نافلة) নামাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"

সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি নিয়ত সঠিক থাকে, তবে ইলম অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ অন্য কোনো আমল নেই।"

সাহল আল-তুস্তারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যে ব্যক্তি নবীদের মজলিসের দিকে তাকাতে চায়, সে যেন আলেমদের (علماء) মজলিসের দিকে তাকায়। সেখানে কোনো ব্যক্তি এসে বলে: হে অমুক! আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে তার স্ত্রীর ব্যাপারে এমন এমন শপথ করেছে? তিনি বলেন: তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে গেছে। এরপর অন্য একজন এসে জিজ্ঞাসা করে... আর এই ক্ষমতা নবী অথবা আলেম (عالم) ব্যতীত আর কারও নেই, সুতরাং তোমরা তাদের এই মর্যাদা অনুধাবন করো।"

অজ্ঞ (جاهل) ব্যক্তি সম্পর্কে সালাফদের সতর্কতা: সালাফে সালেহীন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের নিম্নস্তরের লোক এবং ঘৃণা ও উপহাসের পাত্র মনে করতেন যারা পর্যাপ্ত ইলম ছাড়াই শিক্ষা দান, ওয়াজ ও খুতবা দিতে সামনে এগিয়ে আসত; কারণ সে সংশোধনের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে এবং সঠিক পথ প্রদর্শনের চেয়ে পথভ্রষ্ট বেশি করে। আর যারা তাকে বাধা দিতে সক্ষম ছিলেন, তারা তাকে অবশ্যই বাধা দিতেন।