(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: -)
الإمام محمد بن عبد الوهاب دعوته وسيرته   (ابن باز)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الإمام محمد بن عبد الوهاب دعوته وسيرته

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)

الناشر: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد إدارة الطبع والترجمة

الطبعة: الثانية، 1411هـ

عدد الصفحات: 59

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর দাওয়াত ও জীবনী   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর দাওয়াত ও জীবনী

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি, মুদ্রণ ও অনুবাদ বিভাগ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[تقديم]

الإمام محمد بن عبد الوهاب

دعوته وسيرته لسماحة الشيخ

عبد العزيز بن عبد الله بن باز محاضرة ألقاها في عام 1385 هـ

حينما كان نائبا لرئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[উপস্থাপনা]

ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

তাঁর দাওয়াত ও জীবনী - মহামান্য শাইখ

আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায কর্তৃক ১৩৮৫ হিজরি সালে প্রদত্ত একটি বক্তৃতা

যখন তিনি মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم من عوامل بقاء الدعوة تعاقب الدعاة لها ما تعاقبت الأيام، ومنذ أن أكرم الله تعالى هذه الأمة وصوت الداعي مدويا في أفق المدعوين إلى أن أكمل الله الدين وأتم النعمة، ثم توالى الدعاة من خلفاء الرسول صلى الله عليه وسلم إلى من بعدهم من دول أو مصلحين وموجهين آمرين بالمعروف ناهين عن المنكر، وذلك عملا بالأصل القويم في قوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ} [آل عمران: 104] (1) الآية.

فكلما خيمت سحب البدع، واحلولكت ظلم الجهالة، وخاض الناس لجج الباطل أيد الله تعالى لهذه الأمة رجالا يدعون إلى الله تعالى على بصيرة، ينيرون

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران الآية 104.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা: দাওয়াত টিকে থাকার অন্যতম কারণ হলো যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে দাওয়াত প্রদানকারীদের আগমন। মহান আল্লাহ যখন থেকে এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন, তখন থেকেই দাওয়াতপ্রাপ্তদের দিগন্তে আহ্বানকারীর কণ্ঠস্বর উচ্চকিত ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন এবং তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলীফাগণ থেকে শুরু করে পরবর্তী রাষ্ট্রসমূহ অথবা সংস্কারক ও পথপ্রদর্শকগণ ধারাবাহিকভাবে দাওয়াত অব্যাহত রেখেছেন, যারা সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সেই সুদৃঢ় মূলনীতির বাস্তবায়ন: {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে} [আলে ইমরান: ১০৪] (১) আয়াতাংশ।

তাই যখনই বিদআতের মেঘ ছেয়ে গিয়েছে, মূর্খতার অন্ধকার ঘনীভূত হয়েছে এবং মানুষ বাতিলের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে, তখনই মহান আল্লাহ এই উম্মতের জন্য এমন কিছু ব্যক্তিকে শক্তিশালী করেছেন যারা প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানান, তারা আলোকিত করেন

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৪)
الطريق، ويظهرون الحق ويحيون السنة، ويحاربون البدعة حتى يطهر الله على أيديهم البلاد، وينقذ بدعوتهم العباد، وهذا من تمام النعمة وسعة الفضل من الله تعالى على عباده.

ورجال الفكر وأرباب المعرفة دائما وأبدا يعنون بتراجم الأشخاص وسيرهم، وبالأخص أولئك الرجال الذين حولوا مجرى التاريخ في بلادهم وأوجدوا انقلابات في التفكير، فتراجم هؤلاء بمثابة المصابيح على جانبي الطريق يسترشد بهم الساري ويهتدي بهم القاصد.

ولئن كان بعض الناس يمجدون رجال الفكر أيا كانت وجهاتهم ويغالون في إحياء ذكراهم، بل ربما نصبوا لهم التماثيل، فإننا معاشر المسلمين لا نقدس الشخصيات، ولا ننساق وراء التيارات، ولكن لنا مقاييس تعرض عليها الرجال وأعمالهم، وبقدر ما ترجح كفتهم يكون لهم القدر والمنزلة في نفوسنا، ألا وهي مقاييس الدعوة والإرشاد وميادين الإصلاح في
পথ, এবং তারা সত্যকে প্রকাশ করেন ও সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের হাতের মাধ্যমে জনপদসমূহকে পবিত্র করেন এবং তাদের দাওয়াতের মাধ্যমে বান্দাদের রক্ষা করেন। আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের ওপর পূর্ণ নেয়ামত ও সুপ্রশস্ত অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত।

চিন্তাবিদ ও জ্ঞানবান ব্যক্তিবর্গ সর্বদা এবং চিরকাল ব্যক্তিদের জীবনী ও তাদের জীবনচরিত নিয়ে চর্চা করেন, বিশেষ করে ঐ সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যারা নিজ নিজ ভূখণ্ডে ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন করেছেন এবং চিন্তাধারায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন। সুতরাং এই ব্যক্তিদের জীবনী পথের দুই পার্শ্বে প্রদীপের সমতুল্য, যার মাধ্যমে পথচারী নির্দেশনা লাভ করে এবং অভিযাত্রী সঠিক পথ খুঁজে পায়।

যদি কিছু মানুষ চিন্তাবিদদের মহিমান্বিত করে—তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন—এবং তাদের স্মরণে বাড়াবাড়ি করে, এমনকি সম্ভবত তাদের জন্য মূর্তি পর্যন্ত স্থাপন করে, তবে আমরা মুসলিম সম্প্রদায় কোনো ব্যক্তিত্বকে অতিমানবীয় পবিত্রতা দান করি না এবং বিভিন্ন মতাদর্শের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেই না। বরং আমাদের নিকট এমন কিছু মানদণ্ড রয়েছে যার আলোকে ব্যক্তি ও তাদের কর্মসমূহকে পেশ করা হয়; আর তাদের পাল্লা যতটুকু ভারী হয়, আমাদের অন্তরে তাদের মর্যাদা ও স্থান ততটুকুই হয়ে থাকে। আর তা হলো দাওয়াত, ইরশাদ এবং সংস্কারের ময়দানের মানদণ্ডসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
ظل الإسلام.

وصاحب موضوع هذه المحاضرة القيمة من أوفر الناس حظا وأرجحهم كفة في ميادين الدعوة والإصلاح، وقد طبقت شهرته الآفاق حتى كتب عنه القاصي والداني مما سيراه القارئ، في غضون المحاضرة من التنبيه على ذلك، من كتاب شرقيين، بل قد كتب عنه أحد علماء المغرب العلامة سيدي محمد بن الحسن الحجوي الثعالبي مدرس العلوم العالية بالقروية، وفيما ألقاه فضيلته بنادي الخطابة الأدبي بفاس ربيع الثاني عام 1336 هـ في كتابه عن نشأة الفقه الإسلامي وتطوراته، وترجم لأعلام العالم الإسلامي ومنهم الشيخ المحاضر عنه وعن دعوته، وذلك في كتابه (الفكر السامي في تأريخ الفقه الإسلامي: جزء 4 صفحة 196 فقرة 1011 تحت عنوان (أبو عبد الله محمد بن عبد الوهاب التميمي النجدي) .

ولد في مدينة العيينة إقليم العارض بنجد سنة 1115 هـ وربي بحجر أبيه، ثم انتقل إلى البصرة لإتمام دروسه، فبرع في
ইসলামের ছায়া।

এই মূল্যবান আলোচনার আলোচ্য বিষয়বস্তুর অধিকারী ব্যক্তি দাওয়াত ও সংস্কারের ময়দানসমূহে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান ও অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর খ্যাতি দিগন্তব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে, এমনকি নিকট ও দূরবর্তী সকলেই তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন, যা পাঠক এই আলোচনার অভ্যন্তরে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন টীকা থেকে দেখতে পাবেন। প্রাচ্যের লেখকগণ তো বটেই, এমনকি মাগরিবের (মরক্কো) অন্যতম আলেম, কারাওয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞানের শিক্ষক আল্লামা সিদি মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-হাজভী আস-সা’লাবীও তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন। ১৩৩৬ হিজরীর রবিউস সানি মাসে ফাস শহরের সাহিত্য ও বাগ্মিতা ক্লাবে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্যে এবং ইসলামী ফিকহের উদ্ভব ও বিবর্তন বিষয়ক তাঁর গ্রন্থে তিনি মুসলিম বিশ্বের মণীষীদের জীবনী বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে এই আলোচনার আলোচ্য শেখ এবং তাঁর দাওয়াতী আন্দোলনও অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর ‘আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি’ (ইসলামী ফিকহের ইতিহাসে উচ্চতর চিন্তা) গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ড, ১৯৬ পৃষ্ঠা, ১০১১ অনুচ্ছেদে ‘আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমী আন-নাজদী’ শিরোনামের অধীনে রয়েছে।

তিনি ১১১৫ হিজরীতে নজদ প্রদেশের আল-আরিদ অঞ্চলের উইয়াইনাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। অতঃপর তিনি তাঁর শিক্ষা সম্পন্ন করার জন্য বসরায় গমন করেন এবং সেখানে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৬)
علوم الدين، واللسان وفاق الأقران، واشتهر هناك بتقوى وصدق التدين. . ثم قال:

عقيدته: السنة الخالصة، على مذهب السلف المتمسكين بمحض القرآن والسنة لا يخوض التأويل والفلسفة ولا يدخلهما في عقيدته.

وفي الفروع: مذهبه حنبلي غير جامد على تقليد الإمام أحمد، ولا من دونه، بل إذا وجد دليلا أخذ به، وترك أقوال المذهب، فهو مستقل الفكر في العقيدة والفروع معا: إلى أن قال: وكان قوي الحال ذا نفوذ شخصي وتأثير نفسي ولذا كان يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، وهو متفرد عن عشيرته في البصرة.

ونحن إذ ننقل للقارئ هذا القدر من كلام أحد علماء المغرب إنما نؤكد عناية أهل الفكر بسيرته وثبات ثمرة دعوته والتدليل على معرفة العلماء به.

بل إن بعض الأشخاص ليذكرون عن الدكتور كامل الطويل أنه أثناء وجوده بأوربا للتحضير للدكتوراه عثر على وثائق كانت متبادلة بين نابليون
দ্বীনী ইলম ও ভাষাজ্ঞানে তিনি সমসাময়িকদের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন এবং সেখানে তিনি তাকওয়া ও একনিষ্ঠ ধর্মপরায়ণতার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন:

তাঁর আকিদা: বিশুদ্ধ সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই সকল সালাফদের মাজহাব অনুযায়ী যারা কেবল কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেন। তিনি রূপক ব্যাখ্যা ও দর্শনের গভীরে প্রবেশ করেন না এবং এ দুটিকে তাঁর আকিদার অন্তর্ভুক্ত করেন না।

আর শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে: তাঁর মাজহাব ছিল হাম্বলী, তবে তিনি ইমাম আহমাদ বা অন্য কারো অনুকরণের ওপর স্থবির ছিলেন না। বরং যখনই তিনি কোনো দলিল পেতেন, সেটিই গ্রহণ করতেন এবং মাজহাবের মতামতসমূহ পরিহার করতেন। এভাবে তিনি আকিদা ও শাখা-প্রশাখা—উভয় ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র চিন্তাধারার অধিকারী ছিলেন। তিনি আরও বলেন: তিনি ছিলেন চারিত্রিক দৃঢ়তার অধিকারী, যাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ছিল প্রবল। একারণেই তিনি সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতেন। বসরায় তিনি তাঁর গোত্রের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।

মাগরিবের একজন আলেমের বক্তব্যের এই অংশটুকু যখন আমরা পাঠকের নিকট তুলে ধরছি, তখন এর মাধ্যমে আমরা তাঁর জীবনী সম্পর্কে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের বিশেষ মনোযোগ, তাঁর দাওয়াতের ফলের স্থায়িত্ব এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের অবগতির বিষয়টিই নিশ্চিত করছি।

এমনকি কোনো কোনো ব্যক্তি ডক্টর কামিল আত-তওয়ীলের সূত্রে উল্লেখ করেন যে, তিনি যখন পিএইচডি প্রস্তুতির জন্য ইউরোপে অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি নেপোলিয়নের সাথে বিনিময়কৃত কিছু নথিপত্র খুঁজে পেয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
والبابا العالي بخصوص دعوة الشيخ المترجم عنه، ووجوب عمل اللازم تجاهها، كخطر على مصالحهم في الشرق.

فلئن كان الأمر كذلك فلا أقل من أن نقدم سيرته ومنهج دعوته إلى الناس، وخاصة الناشئة منهم، ليروا مدى صبره ومثابرته وعوامل نجاح دعوته، ومما يعلي قيمة هذه المحاضرة عاملان أساسيان:

الأول: أنها توضح عوامل الدعوة، وأسسها، ومنهج الداعي، وخطواته، وتبرز جانبا هاما من جوانب العقيدة، وهو جانب توحيد العبادة الذي اشتدت حاجة الناس إليه، ولا سيما على النحو الذي عرضت فيه أثناء تلك المحاضرة.

العامل الثاني: أنه من أولى الناس بالمحاضر عنه حيث إنه حفظه الله أحد أفاضل علماء نجد، ومن أبرز من تلقى العلم على أحفاد الشيخ الإمام، فكان من أقرب الناس إليه وأولاهم به، وقد جاءت تلك المحاضرة وافية بالغرض، محققة للمطلوب، مما يتطلبه
এবং জীবনীকার বর্ণিত শাইখের দাওয়াতের বিষয়ে এবং প্রাচ্যে তাদের স্বার্থের জন্য একে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবশ্যকতা সম্পর্কে মহান পোপের বার্তা।

যদি বিষয়টি এমনই হয়ে থাকে, তবে মানুষের সামনে বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবনী এবং তাঁর দাওয়াতের কর্মপন্থা উপস্থাপন করা আমাদের ন্যূনতম কর্তব্য, যাতে তারা তাঁর ধৈর্য, নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা এবং তাঁর দাওয়াতের সফলতার উপাদানগুলো দেখতে পারে। এই আলোচনার গুরুত্ব বৃদ্ধির পেছনে দুটি মৌলিক কারণ নিহিত রয়েছে:

প্রথমত: এটি দাওয়াতের প্রেক্ষাপট, এর মূলনীতিসমূহ, দাঈর কর্মপদ্ধতি ও তাঁর পদক্ষেপসমূহ স্পষ্ট করে এবং আকিদাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটিয়ে তোলে, আর তা হলো ইবাদতে আল্লাহর একত্ববাদ, যার প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে, বিশেষ করে উক্ত আলোচনায় যেভাবে এটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ: বক্তা স্বয়ং যাঁর সম্পর্কে আলোচনা করছেন তাঁর বিষয়ে অত্যন্ত উপযুক্ত ব্যক্তি, কেননা তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—নজদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম এবং ইমাম শাইখের বংশধরদের নিকট শিক্ষা গ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন। ফলে তিনি তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং তাঁর সম্পর্কে আলোচনার জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি। আর এই আলোচনাটি ছিল উদ্দেশ্য পূরণে পর্যাপ্ত এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সার্থক, যা প্রয়োজন ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
القارئ عن الشيخ الإمام، (وعن دعوته) وعن أحوال بلاده، وأسباب قيامه بالدعوة، وعوامل نجاحه. فجزى الله الإمام عن الدعوة والمسلمين خيرا. وجزى الله فضيلة الشيخ المحاضر عنه خيرا وصلى الله وسلم على عبده ورسوله، ورضي الله عن كل داعية، وبارك في جهود كل مصلح في مشارق الأرض ومغاربها إنه سميع قريب.

كتبها: عطية محمد سالم
পাঠক শাইখ ইমাম সম্পর্কে, (তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে), তাঁর দেশের অবস্থা, তাঁর দাওয়াত প্রতিষ্ঠার কারণসমূহ এবং তাঁর সফলতার প্রভাবকসমূহ সম্পর্কে জানতে পারবেন। আল্লাহ ইমামকে দাওয়াত ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ সম্মানিত শাইখ বক্তাকেও তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূলের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আল্লাহ প্রত্যেক দাঈর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সকল সংস্কারকের প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।

এটি লিখেছেন: আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[نبذة موجزة عن فضيلة المحاضر]

أما فضيلة الشيخ المحاضر - حفظه الله - فهو غني عن التعريف، ولكن لاحتمال وصول تلك المحاضرة إلى من هم خارج المملكة دعت الحاجة إلى الإشارة إلى التعريف بنبذة من ترجمته حفظه الله.

الاسم: هو فضيلة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن بن محمد بن عبد الله آل باز.

مولده: ولد ببلدة الرياض عاصمة نجد في ذي الحجة عام 1330 هـ.

نشأته: نشأ من أول عمره في طلب العلم وفي أسرة كريمة محبة للعلم وأهله.

دراسته: بدأ دراسته بحفظ القرآن الكريم فحفظه قبل البلوغ ثم تلقى العلوم الشرعية والعربية عن علماء الرياض.

مشايخه: أخذ عن عدة مشايخ ودرس على أيدي كثيرين مددا مختلفة أكثرهم من آل الشيخ أحفاد الإمام
[সম্মানিত আলোচকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি]

সম্মানিত শায়খ আলোচক -আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন- তিনি কোনো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন। তবে এই আলোচনাটি সৌদি আরবের বাইরের লোকদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কারণে তাঁর (আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন) জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

নাম: তিনি হলেন সম্মানিত শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আলে বায।

জন্ম: তিনি ১৩৩০ হিজরীর যিলহজ মাসে নজদ অঞ্চলের রাজধানী রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

বেড়ে ওঠা: জীবনের শুরু থেকেই তিনি ইলম অন্বেষণে এবং এমন এক মহৎ পরিবারে বেড়ে ওঠেন যারা ইলম ও উলামাদের ভালোবাসতেন।

শিক্ষা: তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং বালেগ হওয়ার আগেই তা সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি রিয়াদের উলামাদের নিকট থেকে শরয়ি এবং আরবি ভাষার জ্ঞান অর্জন করেন।

উস্তাদবৃন্দ: তিনি অনেক শায়খের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং অনেকের সান্নিধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে পড়াশোনা করেছেন। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ইমামের বংশধর আলে শায়খ পরিবারের সদস্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১০)
المحاضر عنه.

منهم الشيخ محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ.

ومنهم الشيخ صالح بن عبد العزيز بن عبد الرحمن آل الشيخ قاضي الرياض آنذاك.

ومنهم الشيخ سعد بن حمد بن عتيق من آل عتيق قاضي الرياض آنذاك.

ومنهم الشيخ حمد بن فارس وكيل بيت المال آنذاك، ومنهم الشيخ سعد وقاص البخاري بمكة المكرمة أخذ عليه التجويد خاصة.

ومنهم سماحة المفتي الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله تعالى، وهو الذي درس عليه جميع الدروس وكان له الحظ الأوفر في تحقيق العلوم على يديه، فقد لازم درسه نحو عشر سنوات حيث بدأ الدراسة على سماحته ابتداء من عام 1347 هـ إلى عام 1357 هـ إلى أن رشحه سماحته إلى القضاء.

منهج الدراسة: قد تتعدد الدراسة في عدة فنون على
যাঁর নিকট থেকে তিনি পাঠ গ্রহণ করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল-শাইখ।

এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন রিয়াদের কাযী শাইখ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল-শাইখ।

এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন রিয়াদের কাযী আল-আতিক পরিবারের শাইখ সাদ বিন হামাদ বিন আতিক।

এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন বায়তুল মালের প্রতিনিধি শাইখ হামাদ বিন ফারিস, এবং মক্কা মুকাররামাহর শাইখ সাদ ওয়াক্কাস আল-বুখারি, যাঁর নিকট তিনি বিশেষভাবে তাজবিদ পাঠ করেছেন।

এবং তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহামান্য মুফতি শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-শাইখ রহিমাহুল্লাহ তায়ালা, যাঁর নিকট তিনি সকল পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং যাঁর নিকট জ্ঞান অন্বেষণে তিনি সর্বাধিক অংশ লাভ করেছেন। তিনি প্রায় দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে থেকে নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করেছেন; তিনি ১৩৪৭ হিজরি থেকে ১৩৫৭ হিজরি পর্যন্ত মহামান্য শাইখের নিকট অধ্যয়ন করেন, যতক্ষণ না শাইখ তাঁকে বিচারক পদের জন্য মনোনীত করেন।

অধ্যয়ন পদ্ধতি: বিভিন্ন শাস্ত্রে পাঠ গ্রহণ কয়েক প্রকারে হতে পারে...
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
عدة مشايخ في وقت معا أو على شيخ واحد في دروس متعددة، وقد كانت دراسة الشيخ حفظه الله تعالى على سماحة المفتي دراسة لها نظامها الخاص، وهو نظام التدرج والبداءة بالأهم. فأولا بدأ بدراسة العقائد وابتدأها بالأصول الثلاثة، ثم كشف الشبهات، ثم كتاب التوحيد، ثم العقيدة الواسطية، وهكذا في الفقه بالتدرج في المتون وكذلك الفرائض قرأها مرارا وكذلك في النحو في الأجرومية ثم الملحة، ثم القطر، إلخ. .

أوقات الدراسة ومكانها: كانت أوقات الدراسة مع سماحة المفتي كالآتي: في الصباح بعد صلاة الصبح إلى طلوع الشمس في المسجد، ثم ضحوة النهار في مجلس سماحة المفتي في البيت، ثم بعد الظهر، وبعد العصر، وبعد المغرب، عقب الصلوات في المسجد.

علوم الشيخ: يعد فضيلته من كبار العلماء المجتهدين، حيث يسر الله له من العلوم في العربية ما يمكنه من النظر الكافي في العلوم الدينية، وقد كرس جهوده لأول وهلة في علوم الشريعة خاصة الفقه على مذهب
একাধিক শাইখের নিকট একই সাথে অথবা একজন শাইখের নিকট বিভিন্ন পাঠে। শাইখ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর মান্যবর মুফতী সাহেবের নিকট পড়াশোনা ছিল একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুযায়ী, আর তা হলো পর্যায়ক্রমিক ধারা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দিয়ে শুরু করা। ফলে তিনি সর্বপ্রথম আকীদা শিক্ষা শুরু করেন এবং তা শুরু করেন 'আল-উসুলুস সালাসাহ' দিয়ে, এরপর 'কাশফুশ শুবুহাত', এরপর 'কিতাবুত তাওহীদ', এরপর 'আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ'। একইভাবে ফিকহ শাস্ত্রেও মূল পাঠগুলোতে পর্যায়ক্রমিক ধারা বজায় রাখেন। অনুরূপভাবে তিনি ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) বহুবার পড়েছেন এবং নাহু শাস্ত্রে 'আল-আজরুমিয়্যাহ', এরপর 'আল-মুলহাহ', এরপর 'আল-কতর' ইত্যাদি পড়েছেন।

অধ্যয়নের সময় ও স্থান: মান্যবর মুফতী সাহেবের সাথে পড়ার সময়গুলো ছিল নিম্নরূপ: সকালে ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে, এরপর দিনের পূর্বাহ্নে মুফতী সাহেবের বাসভবনের মজলিসে, এরপর জোহর, আসর ও মাগরিবের পর মসজিদের নামাজের পরপরই।

শাইখের জ্ঞানসমূহ: তাঁর মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে এবং তিনি বড় মুজতাহিদ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য আরবী ভাষায় এমন জ্ঞান সহজ করে দিয়েছেন যা তাঁকে দ্বীনি ইলমসমূহে পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি শুরু থেকেই শরীয়াহ বিজ্ঞানে বিশেষ করে মাযহাব ভিত্তিক ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর প্রচেষ্টা উৎসর্গ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
الحنابلة، ثم أولى الحديث عنايته التامة متنا وسندا، وكذلك علوم القرآن الكريم مما جعل فضيلته يعد في علماء العالم الإسلامي المبرزين حفظهم الله تعالى.

غير أنه يمكن أن يعد في علماء الفقه والحديث والعقيدة وله مؤلفات في ذلك وفتاوى عدة.

أعماله: ولي القضاء في منطقة الخرج أربعة عشر عاما، وأشهر وذلك من عام 1357 هـ إلى 1371 هـ ولم يكن عمله في القضاء قاصرا على مهمة المحكمة بل كان يعنى بشئون المنطقة العامة من تعليم وزراعة وصحة، ويراسل المسئولين في كل ما من شأنه إصلاح المنطقة حتى كان وجوده كوجود الأب المشفق حول أبنائه في وسطهم يعنى بكل ما يهمهم، وقد كان المسئولون حفظهم الله عند حسن ظنه لما أحسوا من نصحه وإخلاصه. ولم تزل آثاره الإصلاحية باقية حتى الآن.

ثم انتقل إلى التدريس في المعاهد والكليات أول افتتاحها عام 1371 إلى عام 1380 هـ حين فتحت الجامعة وكان حفظه الله أثناء عمله في ميدان التدريس
হাম্বলিগণ; অতঃপর তিনি হাদিসের মতন ও সনদ উভয় দিকেই তাঁর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন, একইভাবে পবিত্র কুরআনের উলুম বা জ্ঞানসমূহের প্রতিও, যা তাঁর সম্মানীয় ব্যক্তিত্বকে মুসলিম বিশ্বের বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, মহান আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন।

তাছাড়া, তাঁকে ফিকহ, হাদিস এবং আকিদার আলেমদের মধ্যেও গণ্য করা যেতে পারে; এই বিষয়ে তাঁর বহু রচনা ও ফতোয়া রয়েছে।

তাঁর কার্যাবলি: তিনি আল-খারজ অঞ্চলে চৌদ্দ বছর কয়েক মাস বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন, যা ১৩৫৭ হিজরি থেকে ১৩৭১ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিচার বিভাগে তাঁর কাজ কেবল আদালতের দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যের মতো অঞ্চলের সাধারণ বিষয়াবলির প্রতিও গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট অঞ্চলের সংস্কারমূলক প্রতিটি বিষয়ে পত্রালাপ করতেন, এমনকি তাঁর উপস্থিতি ছিল সন্তানদের মাঝে একজন দয়ালু পিতার উপস্থিতির মতো, যিনি তাদের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যত্ন নিতেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ (আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন) তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী মনোভাব ও আন্তরিকতা অনুধাবন করে তাঁর আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন। তাঁর সংস্কারমূলক চিহ্নসমূহ আজও বিদ্যমান রয়েছে।

অতঃপর তিনি ১৩৭১ হিজরিতে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও কলেজগুলো প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে সেখানে অধ্যাপনায় স্থানান্তরিত হন এবং ১৩৮০ হিজরি পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে যখন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়; অধ্যাপনার এই ময়দানে কর্মরত থাকাবস্থায় তিনি (আল্লাহ তাঁর হিফাযত করুন)...
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
أسند إليه تدريس ثلاثة فنون هي الفقه، والتوحيد، والحديث، في كلية الشريعة. فكان (حفظه الله) مثلا لرحابة الصدر، وإبانة المسائل، وتربية الطلاب على طريقة الترجيح، ولا سيما أن مواطن الدرس في كل من الحديث والفقه كانت متفقة، فمثلا يدرس باب الزكاة في الفقه وباب الزكاة في الحديث، فإذا كانت حصة الفقه قرر المسألة على مذهب الحنابلة بدليلها عندهم وإذا كان درس الحديث قرر المسألة على ما تنص عليه الأحاديث فإن وافقه المذهب كان تأييدا له، وإذا خالفه أشار إلى وجه الترجيح ودعا إلى الأخذ بما يسانده الدليل، بدون تعصب لمذهب معين، ومما يحفظ لفضيلته: عدم التثاقل من السؤال وتوجيه الطالب إلى ما أراده، وربما توقف عن الإجابة وطلب الإمهال إذا كانت المسألة تحتاج إلى نظر وتأمل، بأن كانت من مواضع الخلاف مثلا، وكان بعيد العهد بها، وفي ذلك كما يقول علماء التربية الحديثة بعث النشاط في همة الطالب وبث روح الثقة بالنفس، وتفتح آمال

শরীয়াহ অনুষদে তাঁর ওপর ফিকহ, তাওহিদ এবং হাদিস—এই তিনটি শাস্ত্রের পাঠদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তিনি (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) ছিলেন উদারচিত্ততা, মাসআলাসমূহের স্পষ্টীকরণ এবং প্রাধান্য (তারজিহ) প্রদানের পদ্ধতিতে ছাত্রদের গড়ে তোলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে হাদিস ও ফিকহ উভয় শাস্ত্রের পাঠদানের বিষয়গুলো যখন একই হতো; যেমন উদাহরণস্বরূপ, তিনি ফিকহের পাঠে জাকাত অধ্যায় এবং হাদিসের পাঠেও জাকাত অধ্যায় পড়াতেন। যখন ফিকহের ক্লাস হতো, তখন তিনি মাসআলাটি হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য দলিলসহ সাব্যস্ত করতেন। আর যখন হাদিসের পাঠ হতো, তখন হাদিসসমূহ যেটির ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করে সেই অনুযায়ী মাসআলা নির্ধারণ করতেন। যদি মাজহাব হাদিসের অনুকূলে হতো, তবে তা মাজহাবের জন্য সমর্থন হিসেবে গণ্য হতো। আর যদি তা মাজহাবের পরিপন্থী হতো, তবে তিনি প্রাধান্য প্রদানের দিকটি নির্দেশ করতেন এবং কোনো বিশেষ মাজহাবের প্রতি গোঁড়ামি না করে দলিলের ভিত্তিতে যা সমর্থিত তা গ্রহণ করার আহ্বান জানাতেন। তাঁর উচ্চমর্যাদার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে যা স্মরণীয় তা হলো: প্রশ্ন শুনে বিরক্ত না হওয়া এবং ছাত্র যা জানতে চায় সেদিকে তাকে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করা। কখনো কখনো তিনি উত্তর প্রদান থেকে বিরত থাকতেন এবং সময় প্রার্থনা করতেন যদি মাসআলাটি গভীর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার প্রয়োজন হতো—যেমন সেটি যদি কোনো মতভেদপূর্ণ বিষয় হতো এবং দীর্ঘকাল সেই বিষয়ে তাঁর চর্চা না থাকত। এর ফলে, আধুনিক শিক্ষা বিজ্ঞানীরা যা বলেন—ছাত্রের সংকল্পে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটে এবং সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।

(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
التحصيل عند الطلاب، حيث يشعر أن العلم بالبحث والدرس، وأنه لا يقدم على القول إلا بعد المعرفة التامة.

وفي العقائد كان مثال الاعتدال، لا هو من أولئك المتطرفين الذين يطلقون عبارات الشرك والكفر على كل صغيرة وكبيرة، ولا هو من المتساهلين الذين يغضون النظر عن صغار الأمور. بل كان ينبه على الصغيرة والكبيرة، ويضع كل شيء في موضعه، يجعل الشرك شركا والبدعة بدعة، حتى عن بعض من لقيه من غير المملكة مقياسا عادلا لمبدأ الدعوة ورجالها عدالة واعتدالا، ولم يزل كذلك حتى وهو في عمله الإداري إذا جلس للدرس في المسجد أو غيره.

ثم أسند إلى فضيلته نيابة رئاسة الجامعة الإسلامية من عام 1381 هـ وكان ذلك ولله الحمد نعمة من الله تعالى، خاصة في بدء تكوينها حيث تحتاج إلى التسامح والرفق مع الحزم والحكمة. وقد وفق الله تعالى لهذه المؤسسة المباركة سيرا حميدا وبدأت ثمار
thought) texts. * Target Language: Formal, scholarly Bangla. * Specific Constraint 1: No Arabic in the final output (full translation). * Specific Constraint 2: Output format must be raw HTML (no Markdown). * Specific Constraint 3: Preserve structure (tags like `

`, ``). * Specific Constraint 4: Translation of *Istiwa* as "উঠা" (not "সমাসীন" or "অধিষ্ঠিত"). * Specific Constraint 5: Literal translation of Attributes (Hand/Foot) - "আল্লাহর হাত", "আল্লাহর পা" (no "কুদরতি"). * *Segment 1:* التحصيل عند الطلاب، حيث يشعر أن العلم بالبحث والدرس، وأنه لا يقدم على القول إلا بعد المعرفة التامة. * Translation: শিক্ষার্থীদের অর্জনের ক্ষেত্রে, তিনি অনুভব করতেন যে জ্ঞান আসে গবেষণা ও পাঠের মাধ্যমে, এবং পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের আগে কোনো কথা বলা উচিত নয়। * *Segment 2:* وفي العقائد كان مثال الاعتدال، لا هو من أولئك المتطرفين الذين يطلقون عبارات الشرك والكفر على كل صغيرة وكبيرة، ولا هو من المتساهلين الذين يغضون النظر عن صغار الأمور. بل كان ينبه على الصغيرة والكبيرة، ويضع كل شيء في موضعه، يجعل الشرك شركا والبدعة بدعة، حتى عن بعض من لقيه من غير المملكة مقياسا عادلا لمبدأ الدعوة ورجالها عدالة واعتدالا، ولم يزل كذلك حتى وهو في عمله الإداري إذا جلس للدرس في المسجد أو غيره. * Translation: আকিদাহ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মধ্যমপন্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত; তিনি ঐসব উগ্রবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়েই শিরক ও কুফরের ফতোয়া ছুড়ে দেয়, আবার তিনি ঐসব শিথিলতাবাদীদের অন্তর্ভুক্তও ছিলেন না যারা ছোটখাটো বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে। বরং তিনি ছোট-বড় সব বিষয়েই সতর্ক করতেন এবং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে রাখতেন; তিনি শিরককে শিরক হিসেবে এবং বিদআতকে বিদআত হিসেবে সাব্যস্ত করতেন। এমনকি সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা যারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তাদের নিকট দাওয়াহর মূলনীতি ও এর ধারক-বাহকদের ইনসাফ ও মধ্যমপন্থা পরিমাপের জন্য তিনি এক ন্যায়নিষ্ঠ মানদণ্ড হয়ে উঠেছিলেন। তিনি তাঁর প্রশাসনিক কাজে থাকাকালে কিংবা মসজিদে বা অন্য কোথাও দরসে বসা অবস্থায়—সর্বদাই এই নীতির ওপর অবিচল ছিলেন। * *Segment 3:* ثم أسند إلى فضيلته نيابة رئاسة الجامعة الإسلامية من عام 1381 هـ وكان ذلك ولله الحمد نعمة من الله تعالى، خاصة في بدء تكوينها حيث تحتاج إلى التسامح والرفق مع الحزم والحكمة. وقد وفق الله تعالى لهذه المؤسسة المباركة سيرا حميدا وبدأت ثمار * Translation: অতঃপর ১৩৮১ হিজরি থেকে তাঁর মহোদয়ের ওপর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আল্লাহর শুকরিয়া যে, এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনাকালে যখন দৃঢ়তা ও হিকমতের পাশাপাশি সহনশীলতা ও কোমলতার প্রয়োজন ছিল। মহান আল্লাহ এই বরকতময় প্রতিষ্ঠানটিকে সুন্দরভাবে পরিচালনার তাওফিক দিয়েছেন এবং এর ফল আসতে শুরু করেছে... * Ensure the tone is formal and scholarly. * Check for the specific theological terms (none of the "Istiwa" or "Attributes" terms appeared in this specific input, but the mindset of literal translation/avoiding metaphorical interpretation in "Insaaf" context should be maintained). * Ensure raw HTML output only. * Text 1: শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি মনে করতেন যে, গবেষণা ও অধ্যয়নের মাধ্যমেই ইলম অর্জিত হয়, এবং পূর্ণ জ্ঞান লাভ না করে তিনি কোনো কথা বলতেন না।

* Text 2: আকিদাহর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মধ্যমপন্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; তিনি ঐসব উগ্রপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়েই শিরক ও কুফরের তকমা লাগিয়ে দেয়, আবার তিনি ঐসব শিথিলতাবাদীদের অন্তর্ভুক্তও ছিলেন না যারা ছোটখাটো বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যায়। বরং তিনি ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়েই সতর্ক করতেন এবং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করতেন; শিরককে শিরক এবং বিদআতকে বিদআত হিসেবেই গণ্য করতেন। এমনকি সৌদি আরবের বাইরে থেকে আগত যারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তাদের নিকট দাওয়াহর মূলনীতি ও এর ব্যক্তিদের ইনসাফ ও মধ্যমপন্থা যাচাইয়ের জন্য তিনি এক ন্যায়নিষ্ঠ মানদণ্ড হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময় কিংবা মসজিদে বা অন্য কোথাও দরস প্রদানের সময়—সর্বদাই তিনি এই নীতির ওপর অটল ছিলেন।

* Text 3: অতঃপর ১৩৮১ হিজরি থেকে তাঁর মহোদয়ের ওপর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আল্লাহর শুকরিয়া যে, এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নেয়ামত, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে যখন দৃঢ়তা ও হিকমতের পাশাপাশি সহনশীলতা ও কোমলতার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। মহান আল্লাহ এই বরকতময় প্রতিষ্ঠানটিকে সুন্দরভাবে পথ চলার তাওফিক দিয়েছেন এবং এর সুফল... * Raw HTML. * No Markdown. * Pure Bangla. * Scholarly tone.

(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
أعمالها تظهر براعم تتفتح، وثمار تينع، نفع الله بها العالم الإسلامي ووفق لها من يساعد على أداء واجبها إنه سميع مجيب.

مؤلفاته: لعل كثرة أعمال الشيخ لم تتركه يتفرغ إلى التأليف. غير أنه لم يترك الفرص حيث عنت له وقد أبرز حتى الآن عدة مؤلفات في مختلف الفنون منها:

1 - الفوائد الجليلة في المباحث الفرضية طبع عدة مرات.

2 - نقد القومية العربية - طبع - أعيد طبعه.

3 - توضيح المناسك - طبع عدة مرات.

4 - رسالة في نكاح الشغار - طبع.

5 - الجواب المفيد في حكم التصوير - طبع.

6 - رسالة في التبرج والحجاب - طبع.

مع عدة فتاوى خاصة وعامة.

نفع الله به وبعلومه، ووفقه لما يحبه ويرضاه. آمين. وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد وآله وصحبه وسلم.

كتبها: عطية محمد سالم
এর কার্যক্রমগুলো প্রস্ফুটিত মুকুল এবং পরিপক্ক ফলের ন্যায় প্রকাশ পাচ্ছে। আল্লাহ এর দ্বারা মুসলিম বিশ্বকে উপকৃত করুন এবং যারা এর দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে তাদের তাওফিক দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

তাঁর রচনাবলি: সম্ভবত শাইখের অধিক কর্মব্যস্ততা তাঁকে গ্রন্থ রচনার জন্য পুরোপুরি অবসর দেয়নি। তা সত্ত্বেও, যখনই সুযোগ এসেছে তিনি তা হাতছাড়া করেননি এবং এ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-ফাওয়ায়েদুল জালিলাহ ফিল মাবাহিছিল ফারদিয়্যাহ (উত্তরাধিকার শাস্ত্রের মাসআলা বিষয়ক মহান উপকারসমূহ) - কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

২ - আরব জাতীয়তাবাদের সমালোচনা - মুদ্রিত ও পুনঃমুদ্রিত হয়েছে।

৩ - হজের নিয়মাবলির ব্যাখ্যা - কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

৪ - বিনিময় বিবাহ (নিকাহুশ শিগারি) বিষয়ক একটি পুস্তিকা - মুদ্রিত হয়েছে।

৫ - চিত্রাঙ্কন ও ছবির বিধান সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ উত্তর - মুদ্রিত হয়েছে।

৬ - বেপর্দা ও পর্দা (হিজাব) বিষয়ক একটি পুস্তিকা - মুদ্রিত হয়েছে।

এর সাথে রয়েছে বেশ কিছু বিশেষ ও সাধারণ ফতোয়া।

আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে উপকার সাধন করুন এবং তাঁকে সেই তাওফিক দান করুন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমিন। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।

এটি লিখেছেন: আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[محاضرة عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب دعوته وسيرته]

‌‌[ترجمة الإمام]

(محاضرة عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب -دعوته وسيرته)

لفضيلة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز.

 

ألقيت بقاعة المحاضرات بالجامعة الإسلامية. أخذت من شريط التسجيل، وقد ألقيت ارتجالا، ولم تقيد من قبل.

الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب: دعوته، وسيرته.
[শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর দাওয়াত ও জীবনী সংক্রান্ত আলোচনা]

[ইমামের জীবনী]

(শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত ও জীবনী বিষয়ক একটি আলোচনা)

সম্মানিত শায়খ আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায প্রদত্ত।

 

এটি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হলে প্রদান করা হয়েছিল। এটি অডিও রেকর্ড থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে; আলোচনাটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হয়েছিল এবং আগে থেকে লিখিত ছিল না।

ইমাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর দাওয়াত ও জীবনী।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله وخيرته من خلقه سيدنا وإمامنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه ومن والاه.

أما بعد: أيها الإخوان الفضلاء، أيها الأبناء الأعزاء. هذه المحاضرة الموجزة أتقدم بها بين أيديكم تنويرا للأفكار، وإيضاحا للحقائق، ونصحا لله ولعباده وأداء لبعض ما يجب علي من الحق نحو المحاضر عنه وهذه المحاضرة عنوانها: الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب. دعوته وسيرته.

لما كان الحديث عن المصلحين، والدعاة والمجددين، والتذكير بأحوالهم وخصالهم الحميدة، وأعمالهم المجيدة، وشرح سيرتهم التي دلت على إخلاصهم، وعلى صدقهم في دعوتهم، وإصلاحهم.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, আমাদের নেতা ও ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেন তাদের ওপর।

অতঃপর: হে সম্মানিত ভাই ও প্রিয় সন্তানগণ, চিন্তাধারাকে আলোকিত করতে, সত্যকে স্পষ্ট করতে এবং আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের প্রতি কল্যাণ কামনায় আর যাঁর সম্পর্কে এই আলোচনা তাঁর প্রতি আমার ওপর বর্তানো হকের কিয়দংশ পালনার্থে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি আপনাদের সামনে পেশ করছি। এই আলোচনার শিরোনাম হলো: 'শাইখ ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব: তাঁর দাওয়াত ও জীবনী'।

যেহেতু সংস্কারক, দাঈ ও মুজাদ্দিদদের আলোচনা করা, তাঁদের অবস্থা ও প্রশংসনীয় গুণাবলি এবং গৌরবময় কর্মসমূহ স্মরণ করা এবং তাঁদের জীবনচরিত ব্যাখ্যা করা—যা তাঁদের একনিষ্ঠতা ও তাঁদের দাওয়াত ও সংস্কারের সত্যতার প্রমাণ দেয়—একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأعمالهم وسيرتهم؛ مما تشتاق إليه النفوس الطيبة، وترتاح له القلوب، ويود سماعه كل غيور على الدين، وكل راغب في الإصلاح، والدعوة إلى سبيل الحق رأيت أن أتحدث إليكم عن رجل عظيم ومصلح كبير وداعية غيور، ألا وهو الشيخ الإمام المجدد للإسلام في الجزيرة العربية في القرن الثاني عشر من الهجرة النبوية.

هو: الإمام محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي التميمي الحنبلي النجدي، لقد عرف الناس هذا الإمام ولا سيما علماؤهم ورؤساؤهم وكبراؤهم وأعيانهم في الجزيرة العربية وفي خارجها، ولقد كتب الناس عنه كتابات كثيرة ما بين موجز وما بين مطول، ولقد أفرده كثير من الناس بكتابات حتى المستشرقون كتبوا عنه كتابات كثيرة، وكتب عنه آخرون في أثناء كتاباتهم عن المصلحين وفي أثناء كتاباتهم في التاريخ، وصفه المنصفون منهم بأنه مصلح عظيم، وبأنه مجدد للإسلام، وبأنه على هدى ونور من ربه، وتعدادهم
তাদের আমল ও জীবনচরিত হলো এমন বিষয় যার প্রতি পবিত্র আত্মাগুলো লালায়িত হয়, অন্তরসমূহ যাতে প্রশান্তি লাভ করে এবং দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ প্রত্যেক ব্যক্তি ও সংস্কারকামী ও সত্যের পথে আহ্বানকারী প্রত্যেকেই যা শুনতে পছন্দ করে। আমি আপনাদের সামনে এমন একজন মহান ব্যক্তি, বড় সংস্কারক এবং একনিষ্ঠ দাঈ সম্পর্কে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; আর তিনি হলেন হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপে ইসলামের সংস্কারক শেখ ইমাম।

তিনি হলেন: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন সুলাইমান বিন আলী আত-তামিমি আল-হানবালি আন-নাজদি। মানুষ এই ইমামকে চেনে, বিশেষ করে আরব উপদ্বীপের এবং এর বাইরের আলেম সমাজ, নেতৃবৃন্দ, উচ্চপদস্থ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে জানেন। তাঁর সম্পর্কে মানুষ সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত অনেক কিছুই লিখেছে। এমনকি অনেকে তাঁকে নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে লিখেছেন, এমনকি প্রাচ্যবিদগণও তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছু লিখেছেন। আবার অনেকে সংস্কারকদের নিয়ে বা ইতিহাস রচনার সময় তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন। তাঁদের মধ্যকার ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ তাঁকে একজন মহান সংস্কারক হিসেবে, ইসলামের মুজাদ্দিদ হিসেবে এবং তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে হেদায়েত ও নূরের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁদের সংখ্যা...
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
يشق كثيرا.

من جملتهم المؤلف الكبير أبو بكر الشيخ حسين بن غنام الأحسائي. فقد كتب عن هذا الشيخ، فأجاد وأفاد وذكر دعوته، وذكر سيرته وذكر غزواته، وأطنب في ذلك وكتب كثيرا من رسائله واستنباطاته من كتاب الله عز وجل ومنهم الشيخ الإمام عثمان بن بشر في كتابه عنوان المجد، فقد كتب عن هذا الشيخ، وعن دعوته، وعن سيرته، وعن تاريخ حياته، وعن غزواته وجهاده، ومنهم خارج الجزيرة الدكتور أحمد أمين في كتابه زعماء الإصلاح، فقد كتب عنه وأنصفه، ومنهم الشيخ الكبير مسعود عالم الندوي، فقد كتب عنه وسماه المصلح المظلوم وكتب عن سيرته وأجاد في ذلك.

وكتب عنه أيضا آخرون، منهم الشيخ الكبير الأمير محمد بن إسماعيل الصنعاني. فقد كان في زمانه وقد كان على دعوته، فلما بلغه دعوة الشيخ سر بها وحمد الله عليها. وكذلك كتب عنه العلامة الكبير الشيخ محمد بن علي الشوكاني صاحب نيل الأوطار ورثاه بمرثية عظيمة، وكتب عنه جمع غفير
অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন প্রখ্যাত লেখক আবু বকর শায়খ হুসাইন বিন ঘান্নাম আল-আহসাঈ। তিনি এই শায়খ সম্পর্কে লিখেছেন এবং অত্যন্ত চমৎকার ও সুচারুভাবে আলোচনা করেছেন; তিনি তাঁর দাওয়াত, তাঁর জীবনী ও তাঁর যুদ্ধবিগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং শায়খের অনেক পত্রাবলি ও মহান আল্লাহর কিতাব থেকে তাঁর গৃহীত উদ্ভাবনসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন শায়খ ইমাম উসমান বিন বিশর তাঁর 'উনওয়ানুল মাজদ' গ্রন্থে; তিনি এই শায়খ সম্পর্কে, তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে, তাঁর জীবনী সম্পর্কে, তাঁর জীবন ইতিহাস সম্পর্কে এবং তাঁর যুদ্ধ ও জিহাদ সম্পর্কে লিখেছেন। আরব উপদ্বীপের বাইরে থেকে রয়েছেন ডক্টর আহমদ আমিন তাঁর 'জুয়ামাউল ইসলাহ' গ্রন্থে; তিনি তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন এবং তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন। তাদের মধ্যে আরও আছেন প্রখ্যাত শায়খ মাসউদ আলম নদভী; তিনি তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন এবং তাঁকে 'মজলুম সংস্কারক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি তাঁর জীবনী নিয়ে লিখেছেন এবং তাতে অত্যন্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।

অন্যান্যরাও তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত শায়খ আমির মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আস-সানআনী। তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর দাওয়াতের আদর্শে ছিলেন। যখন শায়খের দাওয়াত তাঁর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি তাতে আনন্দিত হলেন এবং সেজন্য আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অনুরূপভাবে প্রখ্যাত আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আলী আশ-শাওকানী, যিনি 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থের রচয়িতা, তিনিও তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন এবং একটি মহান শোকগাঁথার মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
غير هؤلاء يعرفهم القراء والعلماء (1) ولأجل كون كثير من الناس قد يخفى عليه حال هذا الإمام وسيرته ودعوته رأيت أن أساهم في بيان حاله وما كان عليه من سيرة حسنة، ودعوة صالحة، وجهاد صادق وأن أشرح قليلا مما أعرفه عن هذا الإمام حتى يتبصر في أمره من كان عنده شيء من لبس، أو شيء من شك في حال هذا الرجل ودعوته، وما كان عليه.

 

‌‌[مولده ونشأته]

ولد هذا الإمام في عام (1115) هجرية هذا هو المشهور في مولده رحمة الله عليه، وقيل في عام (1111) هجرية والمعروف الأول أنه ولد في عام 1115 هجرية على صاحبها أفضل الصلاة وأكمل التحية. وتعلم على أبيه في بلدة العيينة وهذه البلدة هي مسقط رأسه رحمة الله عليه وهي قرية معلومة في اليمامة في نجد شمال غرب مدينة الرياض بينها وبين الرياض

--------------------------------------------

(1) ممن ترجم للشيخ ترجمة لها أهميتها ما جاء في كتاب (الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي لمؤلفه سيدي محمد بن الحسن الحجوي الثعالبي مدرس العلوم العالية بالقرويين، وموضع أهميتها أنها محاضرات بنادي الحبانية الأدبي سنة 1336 هـ بمدينة فاس حيث تقع بالمغرب فضلا عن رجال المشرق وأصبحت مادة دراسية فضلا عن كتابة أدبية.
এদের ছাড়াও আরও অনেকে আছেন যাদের পাঠক এবং আলেমগণ চেনেন (১)। যেহেতু অনেক মানুষের কাছে এই ইমামের অবস্থা, তাঁর জীবনচরিত এবং তাঁর দাওয়াত অস্পষ্ট থাকতে পারে, তাই আমি তাঁর অবস্থা, তাঁর উত্তম জীবনচরিত, সঠিক দাওয়াত এবং সত্যনিষ্ঠ জিহাদ বর্ণনায় অংশগ্রহণ করা সমীচীন মনে করেছি। আমি এই ইমাম সম্পর্কে যা জানি তা থেকে কিছুটা ব্যাখ্যা করতে চাই, যাতে এই ব্যক্তির অবস্থা, তাঁর দাওয়াত এবং তিনি যা কিছুর ওপর ছিলেন সে সম্পর্কে যার মনে কোনো বিভ্রান্তি বা সন্দেহ আছে, সে যেন প্রকৃত বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।

 

‌‌[তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা]

এই ইমাম হিজরি ১১১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন—তাঁর জন্ম সাল হিসেবে এটিই প্রসিদ্ধ, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি হিজরি ১১১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে প্রথমটিই অধিক পরিচিত যে, তিনি হিজরি ১১১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন; হিজরতের অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক। তিনি উয়াইনা শহরে তাঁর পিতার কাছে শিক্ষা লাভ করেন। এই শহরটিই তাঁর জন্মস্থান, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। এটি নজদের ইয়ামামা অঞ্চলের একটি সুপরিচিত গ্রাম, যা রিয়াদ শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর ও রিয়াদের মাঝখানে...

--------------------------------------------

(১) যারা এই শাইখের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং যাদের আলোচনা গুরুত্ব বহন করে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সিদি মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-হাজউয়ি আস-সাআলিবি—যিনি কারাউয়্যিনে উচ্চতর বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। তিনি তাঁর ‘আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এর গুরুত্বের কারণ হলো, এটি ছিল মরক্কোর ফাস শহরের হাব্বানিয়া সাহিত্য ক্লাবে ১৩৩৬ হিজরিতে প্রদত্ত কতগুলো বক্তৃতা। প্রাচ্যের আলেমদের আলোচনার পাশাপাশি এটি একটি সাহিত্যকর্ম এবং পাঠ্যবষয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
مسيرة سبعين كيلو مترا تقريبا، أو ما يقارب ذلك من جهة الغرب.

ولد فيها رحمة الله عليه ونشأ نشأة صالحة، وقرأ القرآن مبكرا، واجتهد في الدراسة، والتفقه على أبيه الشيخ عبد الوهاب بن سليمان - وكان فقيها كبيرا (1) وعالما قديرا، وكان قاضيا في بلدة العيينة - ثم بعد بلوغ الحلم حج وقصد بيت الله الحرام وأخذ عن بعض علماء الحرم الشريف.

ثم توجه إلى المدينة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام، فاجتمع بعلمائها، وأقام فيها مدة، وأخذ من عالمين كبيرين مشهورين في المدينة ذلك الوقت، وهما: الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف النجدي، أصله من المجمعة، وهو والد الشيخ إبراهيم بن عبد الله صاحب العذب الفائض في علم الفرائض، وأخذ أيضا عن الشيخ الكبير محمد حياة السندي بالمدينة. هذان العالمان ممن اشتهر أخذ الشيخ

--------------------------------------------

(1) ترجم له صاحب الفكر السامي تحت رقم 1007 ص 195 جـ4 ومما قاله عنه: النجدي الفقيه وهو والد محمد بن عبد الوهاب إمام حنابلة نجد، له في بعض المناهل الفقهية كتابة حسنة، توفي سنة 1153 هـ.
পশ্চিম দিক থেকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার বা তার কাছাকাছি দূরত্ব।

তিনি (তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সেখানে জন্মগ্রহণ করেন এবং এক পুণ্যবান পরিবেশে বড় হন। তিনি শৈশবেই কুরআন পাঠ করেন এবং পড়াশোনায় কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি তাঁর পিতা শাইখ আবদুল ওয়াহাব বিন সুলাইমানের কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন—যিনি ছিলেন একজন বড় ফকিহ (১) ও দক্ষ আলিম এবং উয়াইনা শহরের কাজী ছিলেন। অতঃপর সাবালক হওয়ার পর তিনি হজ পালন করেন ও আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহ) সংকল্প করেন এবং হারামাইনের কিছু আলিমের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন।

অতঃপর তিনি মদিনা অভিমুখে যাত্রা করেন (সেখানকার বাসিন্দার ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক), সেখানকার আলিমগণের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন। সেই সময়ে মদিনার দুজন প্রখ্যাত বড় আলিমের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন, তাঁরা হলেন: শাইখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আন-নাজদি, যাঁর আদি নিবাস ছিল মাজমাআহ হতে, তিনি 'আল-আযব আল-ফায়িয ফি ইলমিল ফারাইয' গ্রন্থের লেখক শাইখ ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহর পিতা। এছাড়াও তিনি মদিনার প্রখ্যাত আলিম শাইখ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধির কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। এই দুই আলিম তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যাদের থেকে শাইখ জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) 'আল-ফিকর আস-সামি' গ্রন্থের লেখক ৪ নম্বর খণ্ডের ১৯৫ পৃষ্ঠায় ১০০৭ নম্বর ক্রমিকে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: নাজদি ফকিহ, তিনি নজদের হাম্বলিদের ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাবের পিতা। ফিকহ শাস্ত্রের কিছু উৎসে তাঁর চমৎকার লেখা রয়েছে, তিনি ১১৫৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
عنهما بالمدينة، ولعله أخذ عن غيرهما ممن لا نعرف.

 

‌‌[رحلته في طلب العلم]

ورحل الشيخ لطلب العلم إلى العراق فقصد البصرة واجتمع بعلمائها، وأخذ عنهم ما شاء الله من العلم.

وأظهر الدعوة هناك إلى توحيد الله ودعا الناس إلى السنة، وأظهر للناس أن الواجب على جميع المسلمين أن يأخذوا دينهم عن كتاب الله وسنة رسول الله عليه الصلاة والسلام، وناقش وذاكر في ذلك، وناظر هنالك من العلماء، واشتهر من مشايخه، هناك شخص يقال له الشيخ محمد المجموعي، وقد ثار عليه بعض علماء السوء بالبصرة وحصل عليه وعلى شيخه المذكور بعض الأذى، فخرج من أجل ذلك وكان من نيته أن يقصد الشام فلم يقدر على ذلك لعدم وجود النفقة الكافية، فخرج من البصرة إلى الزبير وتوجه من الزبير إلى الأحساء واجتمع بعلمائها وذاكرهم في أشياء من أصول الدين ثم توجه إلى بلاد حريملاء وذلك (والله أعلم) في العقد الخامس من القرن الثاني عشر لأن أباه
মদিনায় তাঁদের উভয়ের নিকট থেকে (শিক্ষা গ্রহণ করেছেন), এবং সম্ভবত তিনি অন্য আরও অনেকের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যাদের আমরা চিনি না।

 

‌‌[ইলম অর্জনে তাঁর সফর]

শায়খ ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ইরাকের পথে যাত্রা করলেন, অতঃপর তিনি বসরার সংকল্প করলেন এবং সেখানকার উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। আল্লাহ যতটুকু চাইলেন তিনি তাঁদের নিকট থেকে ততটুকু ইলম অর্জন করলেন।

তিনি সেখানে আল্লাহর তাওহিদের দিকে দাওয়াতের কাজ প্রকাশ করলেন এবং মানুষকে সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানালেন। তিনি মানুষের সামনে স্পষ্ট করলেন যে, সকল মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো তাদের দ্বীনকে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করা। তিনি এই বিষয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করলেন এবং সেখানকার আলেমদের সাথে বিতর্ক করলেন। সেখানে তাঁর উস্তাদদের মধ্যে শায়খ মুহাম্মাদ আল-মাজমুয়ি নামে এক ব্যক্তি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।

বসরার কিছু অসৎ আলেম তাঁর বিরুদ্ধে ফেতনা সৃষ্টি করে এবং এর ফলে তিনি ও তাঁর উল্লিখিত উস্তাদ কিছু কষ্টের সম্মুখীন হন। এ কারণে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং তাঁর নিয়ত ছিল সিরিয়ার (শাম) দিকে যাওয়ার। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ পাথেয় না থাকায় তিনি তা করতে সক্ষম হননি। অতঃপর তিনি বসরা থেকে যুবাইরের দিকে বেরিয়ে যান এবং যুবাইর থেকে আল-আহসার দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি উলামাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ নিয়ে তাঁদের সাথে আলোচনা করেন। এরপর তিনি হুরয়মিলা শহরের দিকে যাত্রা করেন। এটি ছিল (আল্লাহই ভালো জানেন) দ্বাদশ শতাব্দীর পঞ্চম দশকে, কারণ তাঁর পিতা
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
كان قاضيا في العيينة وصار بينه وبين أميرها نزاع فانتقل عنها إلى حريملاء سنة 1139 هجرية فقدم الشيخ محمد على أبيه في حريملاء بعد انتقاله إليها سنة 1139 هجرية فيكون قدومه حريملاء في عام 1140 أو ما بعدها، واستقر هناك ولم يزل مشتغلا بالعلم والتعليم والدعوة في حريملاء حتى مات والده في عام 1153 هجرية فحصل من بعض أهل حريملاء شر عليه، وهم بعض السفلة بها أن يفتك به، وقيل إن بعضهم تسور عليه الجدار فعلم بهم بعض الناس فهربوا، وبعد ذلك ارتحل الشيخ إلى العيينة رحمة الله عليه، وأسباب غضب هؤلاء السفلة عليه أنه كان آمرا بالمعروف ناهيا عن المنكر، وكان يحث الأمراء على تعزير المجرمين الذين يعتدون على الناس بالسلب والنهب والإيذاء، ومن جملتهم هؤلاء السفلة الذين يقال لهم العبيد هناك، ولما عرفوا من الشيخ أنه ضدهم وأنه لا يرضى بأفعالهم، وأنه يحرض الأمراء على عقوباتهم، والحد من شرهم غضبوا وهموا أن يفتكوا به، فصانه الله وحماه ثم

তিনি উয়াইনায় বিচারক ছিলেন এবং তাঁর ও সেখানকার আমিরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি ১১৩৯ হিজরি সনে সেখান থেকে হারাইমিলায় প্রস্থান করেন। অতঃপর শেখ মুহাম্মদ তাঁর পিতার সেখানে গমনের পর ১১৩৯ হিজরি সনে হারাইমিলায় তাঁর পিতার নিকট উপস্থিত হন; সেমতে হারাইমিলায় তাঁর পদার্পণ ১১৪০ হিজরি বা তার পরবর্তী সময়ে হয়েছিল। তিনি সেখানে স্থায়ী হন এবং ১১৫৩ হিজরিতে পিতার ইন্তেকাল পর্যন্ত হারাইমিলায় ইলম অর্জন, পাঠদান ও দাওয়াতী কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত থাকেন। অতঃপর হারাইমিলার কিছু লোকের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শত্রুতা প্রকাশ পায়; সেখানকার কিছু পাপাচারী তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করে। বলা হয়ে থাকে যে, তাদের কেউ কেউ প্রাচীর ডিঙিয়ে তাঁর ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কিছু লোক তা জেনে ফেলায় তারা পালিয়ে যায়। এরপর শেখ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—উয়াইনায় হিজরত করেন। এই পাপাচারীদের তাঁর ওপর ক্রুদ্ধ হওয়ার কারণ ছিল এই যে, তিনি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতেন এবং তিনি লুণ্ঠন ও জুলুম-অত্যাচারের মাধ্যমে মানুষের ওপর সীমালঙ্ঘনকারী অপরাধীদের দণ্ড প্রদানের জন্য শাসকদের উদ্বুদ্ধ করতেন। এদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সেইসব পাপাচারী যাদের সেখানে দাস বলে সম্বোধন করা হতো। যখন তারা শেখের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারল যে তিনি তাদের বিরুদ্ধে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট, আর তিনি তাদের শাস্তি প্রদান ও তাদের অনিষ্ট দমনের জন্য শাসকদের প্ররোচিত করছেন, তখন তারা রাগান্বিত হলো এবং তাঁকে হত্যার সংকল্প করল। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে হিফাজত ও রক্ষা করলেন; অতঃপর...

(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
انتقل إلى بلدة العيينة وأميرها إذ ذاك عثمان بن نصار بن معمر، فنزل عليه ورحب به الأمير، وقال: قم بالدعوة إلى الله ونحن معك وناصروك وأظهر له الخير، والمحبة والموافقة على ما هو عليه.

فاشتغل الشيخ بالتعليم والإرشاد والدعوة إلى الله عز وجل وتوجيه الناس إلى الخير، والمحبة في الله، رجالهم ونسائهم، واشتهر أمره في العيينة وعظم صيته وجاء إليه الناس من القرى المجاورة، وفي يوم من الأيام قال الشيخ للأمير عثمان دعنا نهدم قبة زيد بن الخطاب رضي الله عنه فإنها أسست على غير هدى، وأن الله جل وعلا لا يرضى بهذا العمل، والرسول صلى الله عليه وسلم نهى عن البناء على القبور، واتخاذ المساجد عليها، وهذه القبة فتنت الناس وغيرت العقائد، وحصل بها الشرك فيجب هدمها، فقال الأمير عثمان لا مانع من ذلك، فقال الشيخ إني أخشى أن يثور لها أهل الجبيلة، والجبيلة قرية هناك قريبة من القبر، فخرج عثمان ومعه جيش يبلغون 600 مقاتل لهدم القبة، ومعهم الشيخ
তিনি আল-উয়ায়না জনপদে স্থানান্তরিত হলেন, যার তৎকালীন আমির ছিলেন উসমান বিন নাসসার বিন মুয়াম্মার। তিনি তাঁর নিকট অবস্থান নিলেন এবং আমির তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বললেন: "আপনি আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ শুরু করুন, আমরা আপনার সাথে আছি এবং আপনার সাহায্যকারী।" আমির তাঁর প্রতি কল্যাণ, ভালোবাসা এবং তাঁর আদর্শের প্রতি একমত পোষণ করলেন।

অতঃপর শাইখ শিক্ষা প্রদান, দিকনির্দেশনা, মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষকে কল্যাণের পথে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে ভালোবাসার দিকে পরিচালিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। উয়ায়নায় তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর খ্যাতি বৃদ্ধি পেল। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে মানুষ তাঁর নিকট আসতে লাগল। একদিন শাইখ আমির উসমানকে বললেন: "চলুন আমরা যায়েদ বিন আল-খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর গম্বুজটি ভেঙে ফেলি। কেননা এটি হেদায়েত বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মহান আল্লাহ এই কাজে সন্তুষ্ট নন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ এবং সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করতে নিষেধ করেছেন। এই গম্বুজটি মানুষকে ফিতনায় ফেলেছে এবং আকিদা পরিবর্তন করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে শিরক সংঘটিত হচ্ছে, তাই এটি ভেঙে ফেলা আবশ্যক।" আমির উসমান বললেন: "এতে কোনো বাধা নেই।" তখন শাইখ বললেন: "আমি আশঙ্কা করছি যে আল-জুবাইলার অধিবাসীরা এর জন্য বিদ্রোহ করতে পারে।" আল-জুবাইলা হলো কবরের নিকটবর্তী একটি গ্রাম। এরপর উসমান গম্বুজটি ধ্বংস করার জন্য ৬০০ যোদ্ধার একটি বাহিনী নিয়ে বের হলেন এবং শাইখও তাঁদের সাথে ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
رحمة الله عليه فلما قربوا من القبة خرج أهل الجبيلة لما سمعوا بذلك لينصروها ويحموها، فلما رأوا الأمير عثمان ومن معه كفوا ورجعوا عن ذلك، فباشر الشيخ هدمها وإزالتها فأزالها الله عز وجل على يديه رحمة الله عليه.

 

‌‌[حال نجد قبل قيام الشيخ رحمة الله عليه وعن أسباب قيامه ودعوته]

ولنذكر نبذة عن حال نجد قبل قيام الشيخ رحمة الله عليه، وعن أسباب قيامه، ودعوته:

كان أهل نجد قبل دعوة الشيخ على حالة لا يرضاها مؤمن، وكان الشرك الأكبر قد نشأ في نجد وانتشر حتى عبدت القباب وعبدت الأشجار، والأحجار، وعبدت الغيران، وعبد من يدعي بالولاية، وهو من المعتوهين، وعبد من دون الله أناس يدعون بالولاية، وهم مجانين مجاذيب لا عقول عندهم، واشتهر في نجد السحرة والكهنة، وسؤالهم وتصديقهم وليس هناك منكر إلا من شاء الله، وغلب على الناس الإقبال على الدنيا وشهواتها، وقل القائم لله والناصر لدينه وهكذا في الحرمين الشريفين وفي اليمن اشتهر في ذلك الشرك
আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন। যখন তারা গম্বুজটির কাছাকাছি হলেন, তখন জুবাইলার অধিবাসীরা এই সংবাদ শুনে তা রক্ষা ও সাহায্য করার জন্য বের হয়ে এল। কিন্তু যখন তারা আমির উসমান এবং তাঁর সঙ্গীদের দেখল, তখন তারা বিরত হলো এবং ফিরে গেল। অতঃপর শায়খ নিজে এটি ধ্বংস ও অপসারণের কাজ শুরু করলেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর হাতেই তা অপসারিত করলেন, আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন।

 

‌‌[শায়খের (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) উত্থানের পূর্বে নজদের অবস্থা এবং তাঁর উত্থান ও দাওয়াতের কারণসমূহ]

শায়খের (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) উত্থানের পূর্বে নজদের অবস্থা এবং তাঁর উত্থান ও দাওয়াতের কারণ সম্পর্কে আমরা একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করছি:

শায়খের দাওয়াতের পূর্বে নজদবাসীরা এমন এক অবস্থায় ছিল যা কোনো মুমিন পছন্দ করবে না। নজদে শিরকে আকবর মাথাচাড়া দিয়েছিল এবং ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি গম্বুজ, গাছপালা, পাথর ও গুহার পূজা করা হতো। এমন ব্যক্তিদের উপাসনা করা হতো যাদেরকে ওলী দাবি করা হতো অথচ তারা ছিল বুদ্ধিহীন। আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন সব মানুষের ইবাদত করা হতো যাদেরকে ওলী বলে ডাকা হতো, অথচ তারা ছিল উন্মাদ ও ভারসাম্যহীন যাদের কোনো হিতাহিত জ্ঞান ছিল না। নজদে জাদুকর ও গণকদের প্রভাব এবং তাদের নিকট ধর্ণা দেওয়া ও তাদের কথা বিশ্বাস করার বিষয়টি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। আল্লাহ যাকে তাওফীক দিয়েছেন তিনি ছাড়া সেখানে কোনো প্রতিবাদকারী ছিল না। মানুষের ওপর দুনিয়াপ্রীতি ও প্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষা প্রাধান্য লাভ করেছিল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দণ্ডায়মান হওয়া ও তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করার লোক কমে গিয়েছিল। একইভাবে হারামাইন শরিফাইন এবং ইয়েমেনেও শিরক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
وبناء القباب على القبور، ودعاء الأولياء والاستغاثة بهم، وفي اليمن من ذلك الشيء الكثير، وفي بلدان نجد من ذلك ما لا يحصى، ما بين قبر وما بين غار، وبين شجرة وبين مجذوب، ومجنون يدعى من دون الله ويستغاث به مع الله، وكذلك مما عرف في نجد واشتهر دعاء الجن والاستغاثة بهم وذبح الذبائح لهم وجعلها في الزوايا من البيوت رجاء نجدتهم، وخوف شرهم، فلما رأى الشيخ الإمام هذا الشرك وظهوره في الناس وعدم وجود منكر لذلك وقائم بالدعوة إلى الله في ذلك شمر عن ساعد الجد وصبر على الدعوة وعرف أنه لا بد من جهاد، وصبر، وتحمل للأذى.

فجد في التعليم والتوجيه والإرشاد وهو في العيينة، وفي مكاتبة العلماء في ذلك والمذاكرة معهم رجاء أن يقوموا معه في نصرة دين الله، والمجاهدة في هذا الشرك وهذه الخرافات. فأجاب دعوته كثيرون من علماء نجد وعلماء الحرمين، وعلماء اليمن، وغيرهم وكتبوا إليه بالموافقة، وخالف
কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণ করা, ওলি-আউলিয়াদের নিকট দোয়া করা ও তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা—ইয়ামেনে এগুলোর ব্যাপক প্রচলন ছিল। নজদ অঞ্চলের শহরগুলোতে কবর, গুহা, গাছ কিংবা তথাকথিত মাজজুবদের কেন্দ্র করে শিরকের এই চিত্র ছিল অগণিত। আল্লাহকে বাদ দিয়ে কোনো কোনো পাগলকেও ডাকা হতো এবং আল্লাহর পাশাপাশি তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হতো। একইভাবে নজদ অঞ্চলে জিনের নিকট দোয়া করা, তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া, তাদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা এবং তাদের সাহায্য লাভ ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার আশায় ঘরের কোণে তা রেখে দেওয়ার বিষয়টিও সুপরিচিত ও প্রচলিত ছিল। যখন ইমাম শায়খ এই শিরকের প্রসার এবং মানুষের মাঝে এর ব্যাপকতা লক্ষ্য করলেন এবং দেখলেন যে, এর প্রতিবাদ করার মতো অথবা এই বিষয়ে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার মতো কেউ নেই, তখন তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং দাওয়াতের কাজে ধৈর্য ধারণ করলেন। তিনি অনুধাবন করলেন যে, এখানে অবশ্যই জিহাদ, সবর এবং অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করা আবশ্যক।

অতঃপর তিনি উয়াইনায় অবস্থানকালে শিক্ষা দান, দিকনির্দেশনা ও সঠিক পথ প্রদর্শনের কাজে সচেষ্ট হলেন। তিনি বিভিন্ন স্থানের আলেমদের নিকট পত্র প্রেরণ করলেন এবং এই বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করলেন এই আশায় যে, তারা আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করার কাজে এবং এই শিরক ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তার সাথে রুখে দাঁড়াবেন। নজদ, হারামাইন ও ইয়ামেনের অনেক আলেমসহ আরও অনেকে তার দাওয়াতের প্রতি সাড়া দিলেন এবং সম্মতি জানিয়ে তার নিকট পত্র লিখলেন। তবে অনেকে এর বিরোধিতাও করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
آخرون وعابوا ما دعا إليه وذموه ونفروا عنه وهم بين أمرين، ما بين جاهل خرافي لا يعرف دين الله ولا يعرف توحيد الله، وإنما يعرف ما هو عليه وآباؤه وأجداده من الجهل والضلال والشرك، والبدع، والخرافات، كما قال الله - جل وعلا - عن أمثال أولئك: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} [الزخرف: 23] (1) .

 

‌‌[طائفة ممن ينتسبون إلى العلم ردوا عليه عنادا وحسدا]

وطائفة أخرى ممن ينسبون إلى العلم ردوا عليه عنادا وحسدا لئلا يقول العامة: ما بالكم لم تنكروا علينا هذا الشيء؟! لماذا جاء ابن عبد الوهاب وصار على الحق وأنتم علماء ولم تنكروا هذا الباطل؟! فحسدوه وخجلوا من العامة، وأظهروا العناد للحق إيثارا للعاجل على الآجل، واقتداء باليهود في إيثارهم الدنيا على الآخرة نسأل الله العافية والسلامة.

أما الشيخ فقد صبر وجد في الدعوة وشجعه من شجعه من العلماء والأعيان في داخل الجزيرة، وفي خارجها، وعزم على ذلك، واستعان بربه عز وجل

--------------------------------------------

(1) سورة الزخرف الآية 23.
অন্যরা তাঁর দাওয়াতের দোষ ধরল, এর নিন্দা করল এবং তা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দিল। তারা দুই অবস্থার মধ্যে ছিল: হয় তারা ছিল এমন অজ্ঞ কুসংস্কারাচ্ছন্ন যারা আল্লাহর দীন চেনে না এবং আল্লাহর তাওহিদ বোঝে না, বরং তারা কেবল তা-ই জানে যার ওপর তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষরা অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা, শিরক, বিদআত ও কুসংস্কারের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। যেমন আল্লাহ—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—তাদের মতাদর্শীদের সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক বিশেষ রীতিনীতির ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি} [যুখরুফ: ২৩] (১)।

 

‌‌[একদল ইলমের দাবিদার যারা একগুঁয়েমি ও হিংসাবশত তাঁর বিরোধিতা করেছিল]

আর ইলমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত অন্য একদল লোক জেদ ও হিংসাবশত তাঁর প্রতিবাদ করেছিল, যাতে সাধারণ মানুষ এ কথা বলতে না পারে যে: "আপনাদের কী হয়েছিল যে আপনারা আমাদের নিকট এই বিষয়টি নিষেধ করেননি?! কেন ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এসে হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেন অথচ আপনারা আলিম হওয়া সত্ত্বেও এই বাতিলের প্রতিবাদ করেননি?!" ফলে তারা তাঁর প্রতি হিংসা পোষণ করল এবং সাধারণ মানুষের কাছে লজ্জিত হলো। তারা পরকালের তুলনায় ইহকালকে অগ্রাধিকার দিয়ে সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করল এবং আখেরাতের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ইহুদিদের অনুসরণ করল। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।

তবে শাইখ ধৈর্য ধারণ করলেন এবং দাওয়াতের কাজে কঠোর পরিশ্রম করলেন। জাযিরার (আরব উপদ্বীপ) ভেতর ও বাইরের যে সকল আলিম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে উৎসাহিত করার ছিল তারা তাঁকে উৎসাহিত করলেন। তিনি এ বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হলেন এবং তাঁর প্রতিপালক—যিনি পরাক্রমশালী ও মহান—তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা যুখরুফ, আয়াত ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعكف على الكتب النافعة ودرسها وعكف قبل ذلك على كتاب الله، وكانت له اليد الطولى في تفسير كتاب الله، والاستنباط منه، وعكف على سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وسيرة أصحابه، وجد في ذلك وتبصر فيه حتى أدرك من ذلك ما أعانه الله به وثبته على الحق فشمر عن ساعد الجد، وصمم على الدعوة وعلى أن ينشرها بين الناس ويكاتب الأمراء والعلماء في ذلك وليكن في ذلك ما يكون، فحقق الله له الآمال الطيبة، ونشر به الدعوة، وأيد به الحق، وهيأ الله له أنصارا ومساعدين وأعوانا حتى ظهر دين الله وعلت كلمة الله، فاستمر الشيخ في الدعوة في العيينة بالتعليم والإرشاد، ثم شمر عن ساعد الجد إلى العمل وإزالة الشرك بالفعل لما رأى الدعوة لم تؤثر في بعض الناس فباشر الدعوة عمليا ليزيل بيده ما تيسر وما أمكن من آثار الشرك. فقال الشيخ للأمير عثمان بن معمر لا بد من هدم هذه القبة التي على قبر زيد وزيد بن الخطاب

তিনি উপকারী কিতাবসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং সেগুলো অধ্যয়ন করেন। আর এর পূর্বে তিনি আল্লাহর কিতাবের (কুরআন) প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন। আল্লাহর কিতাবের তাফসির এবং তা থেকে বিধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও পারদর্শিতা ছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত এবং তাঁর সাহাবীগণের জীবনীর প্রতিও নিবিষ্ট হন। তিনি এই বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয় দেন, যতক্ষণ না তিনি এর মাধ্যমে সেই জ্ঞান লাভ করেন যার দ্বারা আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেন এবং সত্যের ওপর অবিচল রাখেন। অতঃপর তিনি কোমর বেঁধে সাধনায় লিপ্ত হন এবং দাওয়াতের কাজে ও তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করেন। তিনি এই বিষয়ে বিভিন্ন আমির ও আলেমদের নিকট পত্র লিখতে শুরু করেন, চাই এর ফলাফল যা-ই হোক না কেন। ফলে আল্লাহ তাঁর পবিত্র আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেন, তাঁর মাধ্যমে দাওয়াতের প্রচার ঘটান এবং তাঁর দ্বারা সত্যকে শক্তিশালী করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য এমন সব সাহায্যকারী ও সহযোগী প্রস্তুত করে দেন যার ফলে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হয় এবং আল্লাহর বাণী সমুন্নত হয়। অতঃপর শাইখ উয়াইনায় শিক্ষা ও নির্দেশনার মাধ্যমে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখেন। এরপর তিনি যখন দেখলেন যে দাওয়াত কিছু মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে না, তখন তিনি কর্মতৎপরতার মাধ্যমে শিরক নির্মূল করার কঠোর সংকল্প করেন। তিনি সরাসরি ব্যবহারিক দাওয়াত শুরু করেন যাতে শিরকের নিদর্শনগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু সম্ভব তা তিনি নিজ হাতে মিটিয়ে দিতে পারেন। অতঃপর শাইখ আমির উসমান ইবনে মুয়াম্মারকে বললেন: "জায়েদ ইবনুল খাত্তাবের কবরের ওপর নির্মিত এই গম্বুজটি অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে।"

(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
- رضي الله عنه هو أخو عمر بن الخطاب أمير المؤمنين رضي الله تعالى عن الجميع، وكان من جملة الشهداء في قتال مسيلمة الكذاب في عام 12 من الهجرة النبوية، فكان ممن قتل هناك وبني على قبره قبة فيما يذكرون، وقد يكون قبر غيره، لكنه فيما يذكرون أنه قبره - فوافقه عثمان كما تقدم، وهدمت القبة بحمد الله وزال أثرها إلى اليوم ولله الحمد والمنة، أماتها جل وعلا لما هدمت عن نية صالحة، وقصد مستقيم ونصر للحق، وهناك قبور أخرى منها قبر يقال إنه قبر ضرار بن الأزور كانت عليه قبة هدمت أيضا، وهناك مشاهد أخرى أزالها الله عز وجل وكانت هناك غيران (1) وأشجار تعبد من دون الله جل وعلا فأزيلت وقضى عليها وحذر الناس عنها.

 

‌‌[دعوة الشيخ قولا وعملا]

والمقصود أن الشيخ استمر رحمة الله عليه على الدعوة قولا وعملا كما تقدم، ثم إن الشيخ أتته امرأة واعترفت عنده بالزنا عدة مرات، وسأل عن عقلها فقيل إنها عاقلة ولا بأس بها، فلما صممت على

--------------------------------------------

(1) غيران: جمع غار وهو الكهف في الجبل.
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাবের (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ভাই ছিলেন। তিনি হিজরি ১২ সালে ভণ্ড মুসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধের শহীদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সেখানে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদেরই একজন এবং লোকমুখে যেমনটি উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর কবরের ওপর একটি গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছিল। হতে পারে সেটি অন্য কারো কবর ছিল, তবে তারা যেমনটি উল্লেখ করেন যে সেটি তাঁরই কবর। ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, উসমান তাঁর সাথে একমত হলেন এবং আল্লাহর প্রশংসায় গম্বুজটি ধ্বংস করা হলো এবং আজ অবধি তার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই; সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সেটিকে মিটিয়ে দিয়েছেন কারণ সেটি নেক নিয়ত, সঠিক উদ্দেশ্য এবং সত্যের সাহায্যের লক্ষ্যে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেখানে আরও কিছু কবর ছিল যার একটি সম্পর্কে বলা হয় যে সেটি দিরার ইবনুল আযওয়ারের কবর, তার ওপর একটি গম্বুজ ছিল যা ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে আরও কিছু মাজার বা দর্শনীয় স্থান ছিল যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মিটিয়ে দিয়েছেন। সেখানে কিছু গুহা (১) এবং বৃক্ষ ছিল যেগুলোর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলাকে বাদ দিয়ে উপাসনা করা হতো, ফলে সেগুলো অপসারণ ও নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে এবং জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

 

‌‌[কথায় ও কাজে শাইখের দাওয়াত]

মূল উদ্দেশ্য হলো শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইতিপূর্বে বর্ণিত পন্থায় কথায় ও কাজে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন। অতঃপর শাইখের নিকট একজন নারী আসলেন এবং তাঁর নিকট কয়েকবার ব্যভিচারের কথা স্বীকার করলেন। তিনি তার বিবেক-বুদ্ধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন বলা হলো যে সে সুস্থ মস্তিষ্কের এবং তার মাঝে কোনো ত্রুটি নেই। অতঃপর যখন সে অটল থাকল...

--------------------------------------------

(১) গীরান: এটি ‘গার’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ পাহাড়ের গুহা।
(খণ্ড: ১) আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব দাওয়াতুহু ওয়া সিরাতুহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
الاعتراف، ولم ترجع عن اعترافها، ولم تدع إكراها ولا شبهة وكانت محصنة. أمر الشيخ رحمة الله عليه بأن ترجم فرجمت بأمره حالة كونه قاضيا بالعيينة، فاشتهر أمره بعد ذلك بهدم القبة وبرجم المرأة وبالدعوة العظيمة إلى الله وهجرة المهاجرين إلى العيينة، وبلغ أمير الأحساء وتوابعها من بني خالد سليمان بن عريعر الخالدي أمر الشيخ وأنه يدعو إلى الله وأنه يهدم القباب، وأنه يقيم الحدود فعظم على هذا البدوي أمر الشيخ، لأن من عادة البادية إلا من هدى الله، الإقدام على الظلم، وسفك الدماء، ونهب الأموال، وانتهاك الحرمات، فخاف إن هذا الشيخ يعظم أمره ويزيل سلطان الأمير البدوي، فكتب إلى عثمان يتوعده ويأمره أن يقتل هذا المطوع الذي عنده في العيينة.

وقال: إن المطوع الذي عندكم بلغنا عنه كذا، وكذا!! فإما أن تقتله، وإما أن نقطع عنك خراجك الذي عندنا!! وكان عنده للأمير عثمان خراج من الذهب، فعظم على
স্বীকারোক্তি; আর সে তার স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসেনি এবং কোনো বাধ্যবাধকতা বা সন্দেহের দাবিও করেনি, অথচ সে ছিল বিবাহিতা। তখন শায়খ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করার আদেশ দিলেন এবং উয়ায়নাহর কাজি থাকা অবস্থায় তাঁর নির্দেশেই তাকে রজম করা হলো। এরপর গম্বুজ ধ্বংস করা, নারীকে রজম করা, আল্লাহর দিকে মহান দাওয়াত এবং উয়ায়নাহর দিকে মুহাজিরদের হিজরতের কারণে তাঁর বিষয়টি প্রসিদ্ধি লাভ করল। আহসা ও এর আশপাশের অঞ্চলের বনু খালিদ গোত্রের আমির সুলাইমান ইবনে উরায়আর আল-খালিদির কাছে শায়খের সংবাদ পৌঁছাল যে, তিনি আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন, গম্বুজসমূহ ভেঙে ফেলছেন এবং হুদুদ (শরয়ি দণ্ডবিধি) কায়েম করছেন। এই বেদুঈন আমিরের কাছে শায়খের বিষয়টি অত্যন্ত অসহনীয় মনে হলো; কারণ আল্লাহ যাকে হিদায়েত দিয়েছেন তিনি ছাড়া সাধারণত মরুবাসীদের স্বভাবই হলো জুলুম করা, রক্তপাত ঘটানো, সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং পবিত্র সীমানা লঙ্ঘন করা। সে আশঙ্কা করল যে, এই শায়খের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং বেদুঈন আমিরের কর্তৃত্ব বিলীন করে দেবে। ফলে সে উসমানকে হুমকি দিয়ে চিঠি লিখল এবং তাকে আদেশ দিল যেন তার কাছে উয়ায়নাহতে অবস্থানরত এই ধর্মীয় শিক্ষককে (মুতাউওয়া) হত্যা করা হয়।

সে বলল: "তোমাদের কাছে থাকা ওই ধর্মীয় শিক্ষকের ব্যাপারে আমাদের কাছে এই এই সংবাদ পৌঁছেছে!! হয় তুমি তাকে হত্যা করবে, অন্যথায় আমাদের কাছে তোমার যে কর (খরাজ) জমা আছে তা আমরা বন্ধ করে দেব!!" আমির উসমানের জন্য তার কাছে স্বর্ণের তৈরি একটি কর পাওনা ছিল, ফলে এটি [উসমানের] কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হলো...