(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأديان الوضعية - جامعة المدينة (جامعة المدينة العالمية)
القسم: الفرق والردود
الكتاب: الأديان الوضعية
كود المادة: GUSU5103
المرحلة: ماجستير
المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية
الناشر: جامعة المدينة العالمية
عدد الصفحات: 488
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433
মনুষ্যরচিত ধর্মসমূহ - মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় (আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)
বিভাগ: উপদল ও খণ্ডনতত্ত্ব
বই: মনুষ্যরচিত ধর্মসমূহ
কোর্স কোড: GUSU5103
স্তর: মাস্টার্স
লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম
প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: -)
-[الأديان الوضعية]-كود المادة: GUSU5103المرحلة: ماجستيرالمؤلف: مناهج جامعة المدينة العالميةالناشر: جامعة المدينة العالميةعدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[মানব রচিত ধর্মসমূহ]-বিষয় কোড: GUSU5103স্তর: মাস্টার্সরচয়িতা: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রমপ্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিখণ্ড সংখ্যা: ১[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدرس: 1 فكرة تمهيدية عن أديان الهند الكبرى وتوزيعها جغرافيا.بسم الله الرحمن الرحيمالدرس الأول(فكرة تمهيدية عن أديان الهند الكبرى وتوزيعها جغرافيا) معنى الأديان الوضعيةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين؛ أما بعد:فينبغي أن يكون الطالب ملمًا بحقيقة الأديان الوضعية التي يدين بها معظم بلدان جنوب شرق آسيا وشرق آسيا، مع التعرف على تاريخ نشأتها، وإلى من تنسب، وما هي شعائرها الدينية، مع البرهان على بطلان هذه الأديان، وموقف الإسلام منها.وقبل أن ندخل في مفردات المادة أحب ألفت النظر إلى معنى الأديان الوضعية فأقول -وبالله التوفيق-:الأديان الوضعية هي أحد قسمي الأديان؛ فالأديان إما سماوية أتى بها الأنبياء والرسل من عند الله عز وجل أو وضعية وضعها البشر من عند أنفسهم، لا عن طريق الوحي، ورغم أنّ رِسالَات الله توالت على البشرية تترى، منذ أول إنسان خلق على وجه الأرض، وهو آدم عليه السلام إلا أنّ البشرية أبت إلا أن تُكَذّب الرُّسل، وتعرض عن آيات الله ودينه، ولما حاد الإنسان عن الطريق السوي، واتبع شيطانه وهواه، واتخذ لنفسه آلهة متعددة؛ فمنهم من عبد الحجر، ومنهم من عبد البقر، ومنهم من عبد النجوم والشمس والقمر، ومنهم من عبد البشر … إلى آخره.فانتشرت الأديان الوضعية المختلفة على وجه الأرض؛ فكانت ديانة قدماء المصريين، وكانت ديانات الهند، وديانة الفرس، وغيرها من الديانات الوضعية.
পাঠ: ১ ভারতের প্রধান ধর্মসমূহ এবং এগুলোর ভৌগোলিক বণ্টন সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা.পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।প্রথম পাঠ(ভারতের প্রধান ধর্মসমূহ এবং এগুলোর ভৌগোলিক বণ্টন সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা) মানব-রচিত ধর্মের সংজ্ঞাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবেন, তাদের সবার ওপর। অত:পর:দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশের মানুষ যেসব মানব-রচিত ধর্ম পালন করে, সেগুলোর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ সম্পর্কে শিক্ষার্থীর সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সেইসাথে এগুলোর উৎপত্তির ইতিহাস, এগুলো কার দিকে সম্বন্ধযুক্ত, এগুলোর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কী কী—তা জানা এবং এই ধর্মগুলোর অসারতার প্রমাণ ও এগুলোর ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন।এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে আমি মানব-রচিত ধর্মের সংজ্ঞার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি—:মানব-রচিত ধর্ম হলো ধর্মের দুটি প্রকারের একটি। ধর্ম হয় আসমানি হবে—যা নবী ও রাসূলগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন, অথবা মানব-রচিত হবে—যা মানুষ ওহির মাধ্যম ব্যতিরেকে নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেছে। যদিও পৃথিবীর বুকে সৃষ্ট প্রথম মানব আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সময় থেকে মানবজাতির কাছে আল্লাহর বাণী একের পর এক নিরবচ্ছিন্নভাবে এসেছে, তবুও মানবজাতি রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলি ও তাঁর দ্বীন থেকে বিমুখ থাকতেই অবিচল থেকেছে। যখন মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে শয়তান ও নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ শুরু করল, তখন তারা নিজেদের জন্য বহু ইলাহ বা উপাস্য গ্রহণ করল। তাদের মধ্যে কেউ পাথরের পূজা করল, কেউ গরুর পূজা করল, কেউবা নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রের পূজা করল, আবার কেউবা মানুষের পূজা করল … ইত্যাদি।এভাবে পৃথিবীর বুকে বিভিন্ন মানব-রচিত ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে; যেমন—প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম, ভারতের ধর্মসমূহ, পারস্যের ধর্ম এবং অন্যান্য মানব-রচিত ধর্ম।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
والفَرقُ بين الدين الوضعي، والدين السماوي: أنّ الدين الوضعي هو الذي يكون من وضع البشر أنفسهم، وهو عبارة عن مجموعة من المبادئ والقوانين العامة، وضعها بعض الناس المستنيرين لأممهم؛ ليسيروا عليها، ويعملوا بما فيها، والتي لم يستندوا في وضعها إلى وحي سماوي، ولا إلى الأخذ عن رسول مرسل، وإنما هي جملة من التعاليم والقواعد العامة، التي اصطلحوا عليها، وساروا على منوالها، وخضعوا فيها لمعبود معين، أو معبودات متعددة.والأمثلة على الدين الوضعي كثيرة منها: الديانة البرهمية في الهند، والديانة البوذية فيها أيضًا، وفي شرق آسيا، ومنها ديانة قدماء المصريين، والديانة الفارسية القديمة وغيرها.أما الدين السماوي؛ فهو تعاليم إلهية من وحي الله تعالى، وإرشادات سماوية من لدن العليم الخبير بنفوس العباد وطبائعهم، وما يحتاجون إليه في إصلاح حالهم في المعاش والمعاد، والدنيا والآخرة؛ إنه مجموعة التعاليم والأوامر والنواهي، التي يجيء بها رسول من البشر أوحى الله تعالى بها إليه، وفي مقدمتها: الإيمانُ بخالق واحد موجه لهذا الكون، لا شريك له في ملكه، يجب صرف العبادة كلها إليه والخضوع له.والتذلل لهذا الإله الخالق الرازق، ووجوب إفراده وحده بالعبادة، والإيمان باليوم الآخر، والحساب والجزاء، وبالثواب في الجنة والنعيم المقيم، أو النار والعذاب الأليم، وذلك مثل الديانة اليهودية في أصلها، كما جاء بها موسى عليه السلام، أو الديانة المسماة بالمسيحية، يوم أن جاء بها المسيح عليه السلام، وفي أفضل صورها وأصحها مثل الدين الإسلامي الذي جاء به النبي محمد صلى الله عليه وآله وسلم رحمة للعالمين، وكان هذا الدين خاتمًا لجميع الرسالات السماوية؛ فلا وحي بعد نبوة محمد صلى الله عليه وآله وسلم ولا دين بعد الإسلام.
মানব-রচিত ধর্ম এবং আসমানী ধর্মের মধ্যে পার্থক্য হলো: মানব-রচিত ধর্ম হচ্ছে তা-ই যা মানুষের নিজের তৈরি; এটি মূলত এমন কিছু মূলনীতি এবং সাধারণ আইনের সমষ্টি, যা কতিপয় জ্ঞানালোকিত ব্যক্তি তাদের জাতির জন্য প্রণয়ন করেছেন যেন তারা এর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতে পারে এবং এর নির্দেশনানুসারে কাজ করতে পারে। এই ধর্ম প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা কোনো আসমানী প্রত্যাদেশ বা প্রেরিত কোনো রাসূলের ওপর নির্ভর করেননি; বরং এটি হচ্ছে একগুচ্ছ সাধারণ শিক্ষা ও বিধিবিধানের সমষ্টি যা তারা নিজেরা নির্ধারণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছেন। সেখানে তারা কোনো নির্দিষ্ট উপাস্য অথবা একাধিক উপাস্যের বশ্যতা স্বীকার করেন।মানব-রচিত ধর্মের বহু উদাহরণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম, ভারত ও পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্ম, প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম, প্রাচীন পারস্য ধর্ম এবং আরও অন্যান্য ধর্ম।অপরদিকে, আসমানী ধর্ম হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহীজাত খোদায়ী শিক্ষা এবং আসমানী নির্দেশনা—যা প্রেরিত হয়েছে মহান সত্তার পক্ষ থেকে, যিনি বান্দাদের মনস্তত্ত্ব ও প্রকৃতি এবং তাদের ইহলৌকিক জীবন ও পারলৌকিক প্রত্যাবর্তন তথা দুনিয়া ও আখেরাতের সংশোধন ও কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। এটি মূলত সেই সমস্ত শিক্ষা, আদেশ ও নিষেধের সমষ্টি, যা কোনো মানব রাসূল নিয়ে আসেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে ওহী প্রেরণ করেন। এর প্রধান বিষয় হলো: এই মহাবিশ্বের একমাত্র স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রকের ওপর ঈমান আনা, যাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই এবং যাঁর জন্য সমস্ত ইবাদত নিবেদন করা ও বশ্যতা স্বীকার করা আবশ্যক।সেই স্রষ্টা ও রিযিকদাতা ইলাহের প্রতি বিনম্র হওয়া, ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করার আবশ্যকতা, পরকাল, বিচার দিবস ও প্রতিদান এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামত কিংবা জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা এর অন্তর্ভুক্ত। এর উদাহরণ হলো মূল ইহুদি ধর্ম—যা নিয়ে মূসা (আলাইহিস সালাম) এসেছিলেন, অথবা তথাকথিত খ্রিষ্টধর্ম—যেটি ঈসা (আলাইহিস সালাম) নিয়ে এসেছিলেন এবং এর শ্রেষ্ঠ ও বিশুদ্ধতম রূপ হলো ইসলাম ধর্ম—যা নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ নিয়ে এসেছেন। এই ধর্মটি ছিল সমস্ত আসমানী বাণীর সমাপ্তি; সুতরাং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের পর আর কোনো ওহী নেই এবং ইসলামের পর আর কোনো ধর্ম নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ما الفرق بين الدين الوضعي والدين السماوي؟:لعله بات واضحًا الفرق بين الدين السماوي، والدين الوضعي، ونستطيع أن نجمل القول بأنّ الدين السماوي ما توافرت له دلائل صحة سنده، وسلامه متنه، بينما الدين الوضعي هو الذي لم تتوفر له دلالة صحة السند، كما لم تتوفر له دلائل سلامة المتن.وعلى ذلك أرى أن الدين قد يكون باعتبار أصله سماويًّا: لأنّ له نسبة إلى الوحي مثلًا، ولكن يحكم على بعضه بالوضع؛ لما أصاب المتن من تحريف وتغيير، أي: لم تتوفر له سلامة المتن.يوجز الدكتور عوض الله حجازي الفروق بين الدين السماوي والوضعي قائلًا: إن الدين السماوي دين قائم على وحي الله تعالى إلى البشر، بواسطة رسول يختاره الله منهم، أما الدين الوضعي؛ فهو جملة من التعاليم، وضعها البَشرُ أنفسهم، واتفقوا عليها، واصطلحوا على التمسك بها، والعمل بما فيها، إنه تعاليم ناشئة عن تفكير الإنسان نفسه.والدين السماوي يدعو دائمًا وباستمرار إلى وحدانية الله تعالى، واختصاص هذا الواحد بالعبادة؛ فلا يخضعُ المَرءُ إلا لله، ولا يستعين إلا به، ولا يذبح إلا بأسمه جل شأنه.أما الدين الوضعي؛ فإنّه قد يُقَدّس الأحجار والأصنام، ويجيز تعدد الألهة فيجعلها كثيرة ومتغايرة، بل قد تكون متنافرة ومتخالفة، مثل: إله الخير وإله والشر، أو إله الحرب وإله السلم … إلى آخره.والدين السماوي ينزه الإله المعبود عن مشابهته لخلقه، فالله عز وجل لا يشبه شيئًا من مخلوقاته، لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، قال تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ
মানব-রচিত ধর্ম এবং আসমানি ধর্মের মধ্যে পার্থক্য কী?:সম্ভবত আসমানি ধর্ম এবং মানব-রচিত ধর্মের মধ্যকার পার্থক্য এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি যে, আসমানি ধর্ম হলো সেটি যার সূত্রের বিশুদ্ধতা এবং মূল ভাষ্যের অবিকৃত থাকার প্রমাণ বিদ্যমান। অন্যদিকে, মানব-রচিত ধর্ম হলো সেটি যার সূত্রের বিশুদ্ধতার কোনো প্রমাণ নেই এবং যার মূল পাঠের অবিকৃত থাকারও কোনো নিদর্শন নেই।সেই হিসেবে আমি মনে করি, কোনো ধর্ম তার উৎসের দিক থেকে আসমানি হতে পারে; যেমন—তার সম্পর্ক ওহির সাথে থাকতে পারে। কিন্তু তার কিছু অংশের ওপর মানব-রচিত হওয়ার হুকুম প্রযোজ্য হয়, কারণ তার মূল পাঠে বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে; অর্থাৎ তার মূল ভাষ্যের বিশুদ্ধতা ও অবিকৃত অবস্থা বজায় নেই।ডক্টর আউয়াদুল্লাহ হিজাজি আসমানি ধর্ম ও মানব-রচিত ধর্মের পার্থক্য সংক্ষেপে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আসমানি ধর্ম এমন এক ধর্ম যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য প্রেরিত ওহির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা তিনি তাঁর মনোনীত রাসুলের মাধ্যমে প্রেরণ করেন। পক্ষান্তরে, মানব-রচিত ধর্ম হলো কিছু শিক্ষার সমষ্টি যা মানুষ নিজেই তৈরি করেছে, যার ওপর তারা একমত হয়েছে এবং যা আঁকড়ে ধরা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে তারা সংকল্পবদ্ধ হয়েছে; মূলত এটি মানুষের নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত কিছু শিক্ষা।আসমানি ধর্ম সর্বদা ও নিরন্তরভাবে মহান আল্লাহর একত্বের দাওয়াত দেয় এবং ইবাদতকে একমাত্র তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট করে। ফলে মানুষ কেবল আল্লাহর সামনেই মস্তক অবনত করে, কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর সুমহান নামেই পশু জবেহ করে।অপরদিকে মানব-রচিত ধর্ম পাথর ও মূর্তিকে পবিত্র জ্ঞান করতে পারে এবং বহু-ঈশ্বরবাদকে বৈধতা দিতে পারে; ফলে তারা অনেক এবং ভিন্ন ভিন্ন উপাস্য সাব্যস্ত করে, এমনকি সেগুলো পরস্পর বিরোধী ও বৈপরীত্যপূর্ণও হতে পারে। যেমন: মঙ্গলের দেবতা ও অমঙ্গলের দেবতা, কিংবা যুদ্ধের দেবতা ও শান্তির দেবতা … ইত্যাদি।আসমানি ধর্ম উপাস্য ইলাহকে তাঁর সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র ঘোষণা করে। সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সদৃশ নন—না তাঁর সত্তায়, না তাঁর গুণাবলিতে, আর না তাঁর কার্যাবলিতে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} (الإخلاص: 1 - 4).أما الدين الوضعي: فإنه يجيز أن يكو الإله بشرًا مثلهم، أو حيوانًا، أو حجرًا يعبدونه ويخضعون له، ويقدمون له القرابين والهديا؛ فقد عبد بعض الناس الشمس، وعبدوا العجل، واتخذوا فرعون الذي قال لهم: "أنا ربكم الأعلى" إلهًا وعبدوا الأصنام والأوثان، ولا يزال الناس حتى أواخر هذا القرن العشرين عصر العلم والحضارة والمدنية، يُقَدّسون بعض الأشخاص، ويتقربون إليهم، ويعبدون البقر والغنم، كما هو حاصل الآن في الهند وغيرها.مع أنّ هذه الألهة كلها، التي عبدها ويعبدها البشر من دون الله لا تستطيع أن تخلق شيئًا، ولا أن توجد أضعف المخلوقات، بل أنها لا تملك لنفسها نفعًا أو ضرًّا، قال تعالى في سورة الحج: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ * مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} (الحج: 73، 74).هذا؛ والدين السماوي بالنسبة لمسائل العقيدة غيرُ قابل للنسخ والتبديل أو التغيير؛ فعقيدة الرُّسل جميعهم واحدة، فيما يتعلق بالله تعالى وصفاته، والرسل وعصمتهم واليوم الآخر، وما يكون فيه من ثواب أو عقاب، إنّ الخالق عند جميع الرسل واحد، إنّ هذا الخالق تجب عبادته واختصاصه جل شأنه وحده بهذه العبادة، وأن هذا الإله يجب أن يثبت له صفات الكمال، وأن ينزه عن جميع صفات النقص، وأنه سيحاسب النّاس جميعًا على أعمالهم، ويُجازيهم
{একক * আল্লাহ অমুখাপেক্ষী * তিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি * এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} (আল-ইখলাস: ১ - ৪)।পক্ষান্তরে মানব রচিত ধর্মসমূহ ঈশ্বরকে তাদের মতোই একজন মানুষ, অথবা পশু কিংবা প্রস্তর হওয়ার সম্ভাবনাকে বৈধতা দেয়, যার তারা পূজা করে, যার সামনে তারা মস্তক অবনত করে এবং যার উদ্দেশ্যে তারা উৎসর্গ ও উপঢৌকন প্রদান করে। ফলে কোনো কোনো মানুষ সূর্যের উপাসনা করেছে, কেউ গোবৎসের পূজা করেছে, আবার কেউ ফেরাউনকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে যে তাদের বলেছিল: "আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।" তারা মূর্তিপূজা ও প্রতিমাপূজাও করেছে। এমনকি বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও সভ্যতার যুগ হিসেবে পরিচিত এই বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত মানুষ বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে পবিত্র জ্ঞান করে চলেছে, তাদের সান্নিধ্য কামনা করছে এবং গাভী ও মেষের পূজা করছে, যা বর্তমানে ভারত ও অন্যান্য জনপদে দৃশ্যমান।অথচ এই সব উপাস্য, যাদের মানুষ আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা করেছে এবং করছে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়, এমনকি অতি দুর্বল কোনো প্রাণীর অস্তিত্বও তারা দান করতে পারে না। বরং তারা নিজেদের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধনেরও মালিক নয়। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-হাজ্জ-এ ইরশাদ করেন: {হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হলো, তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা কখনোই একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে এর জন্য একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও অন্বেষিত উভয়ই কত দুর্বল! তারা আল্লাহকে তাঁর যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান ও মহাপরাক্রমশালী।} (আল-হাজ্জ: ৭৩, ৭৪)।বস্তুত, আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিষয়াবলীতে আসমানী দ্বীন কোনো রহিতকরণ, পরিমার্জন কিংবা পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি, রাসূলগণ ও তাঁদের নিষ্পাপত্ব, পরকাল এবং পরকালীন পুরস্কার ও শাস্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সকল রাসূলের আকিদাহ অভিন্ন ছিল। সকল রাসূলের নিকট স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়। এই স্রষ্টাই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য এবং ইবাদতকে কেবল তাঁর সুমহান সত্তার জন্যই নির্দিষ্ট করা আবশ্যক। এই ইলাহ বা উপাস্যের জন্য সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং তাঁকে যাবতীয় অপূর্ণতা থেকে পবিত্র রাখা অপরিহার্য। তিনি সকল মানুষের কর্মের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রতিফল প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عليها إن خيرًا فالجزاء خيرًا، وإن شرًا فيكون الجزاء شرًّا وكل هذا قدر مشترك بين جميع الرسالات السماوية.أما الدين الوضعي؛ فالمعبود فيه قد يتغير من جيل إلى جيل، ومن قبيلة إلى أخرى، كذلك الدين الوضعي يُلازمه النقص وعدم الكمال؛ ذلك أنه من وضع الإنسان، والإنسان لا يمكنه أن يُحيط بجميع حاجات البشر ومتطلباتهم المتجددة دائمًا.أما الدين السماوي فهو كامل أنه تامًا شامل؛ لأنه من وضع خالق السماوات والأرض، عَلّام الغُيوب الذي لا تغيب عنه صغيرة ولا كبيرة، والذي يحيط بكل شيء علمًا.وهكذا نَلحظُ أن هذه الفروق إما مردها إلى دلائل السند كالفارق الأول، أو إلى دلائل المتن كالفروق الأخرى. ومما تجدر الإشارة إليه أن الدارس للأديان الوضعية مثل: أديان البرهمية، والبوذية، والجينية مثلًا أو الديانة الفارسية القديمة، أو ديانة قدماء المصريين، مما اصطلح على تسميته دينًا وضعيًّا يجدُ فيها ذكر لصفات الرب المتفرد بالكمال والجلال، أو ذكر اليوم الآخر والجزاء؛ مِمّا لا إمكانية للعقل معه من علم الغيب، ولا قدرة له عليه؛ فلا سبيل لإدراك شيء منه إلا بالسماع والنقل أو الوحي.وهذا يعني: أنه دليل على بقاء آثار دين صحيح، وهو يتكامل مع قول الله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (النحل: 36)، وقوله تعالى: {وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ} (فاطر: 24).
এর ওপর ভিত্তি করে, যদি তা ভালো হয় তবে প্রতিদানও ভালো হবে, আর যদি তা মন্দ হয় তবে প্রতিদানও মন্দ হবে। আর এ সবই সকল আসমানি বার্তার মধ্যে একটি সাধারণ ও অভিন্ন দিক।পক্ষান্তরে মানব-রচিত ধর্মের ক্ষেত্রে; এতে উপাস্য সত্তা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এবং এক গোত্র থেকে অন্য গোত্রে পরিবর্তিত হতে পারে। তদ্রূপ মানব-রচিত ধর্ম ত্রুটি ও অপূর্ণতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; কারণ তা মানুষের তৈরি, আর মানুষের পক্ষে মানবজাতির সকল প্রয়োজন ও তাদের সর্বদা পরিবর্তনশীল চাহিদাকে পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।অন্যদিকে আসমানি ধর্ম হলো পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক; কারণ তা আসমান ও যমীনের স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যিনি অদৃশ্যের মহাজ্ঞানী এবং যাঁর অগোচরে ছোট-বড় কোনো কিছুই থাকে না, আর যিনি স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।এভাবে আমরা লক্ষ্য করি যে, এই পার্থক্যগুলো হয় সূত্রের (সনদ) প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমন প্রথম পার্থক্যটি—অথবা মূল পাঠের (মতন) প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমন অন্যান্য পার্থক্যগুলো। আরও উল্লেখ্য যে, মানব-রচিত ধর্মসমূহের গবেষকগণ—যেমন: ব্রাহ্মণ্যবাদ, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম অথবা প্রাচীন পারস্যের ধর্ম কিংবা প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম, যা সাধারণত মানব-রচিত ধর্ম হিসেবে অভিহিত—সেখানে পূর্ণতা ও মহিমায় অনন্য রবের গুণাবলির উল্লেখ খুঁজে পান, কিংবা পরকাল ও প্রতিদানের কথা দেখতে পান; যা অদৃশ্যের বিষয় হওয়ার কারণে কেবল বুদ্ধি দিয়ে জানা সম্ভব নয় এবং বুদ্ধির সে ক্ষমতাও নেই। তাই শ্রবণ, বর্ণনা বা ওহী ব্যতীত এগুলো জানার কোনো উপায় নেই।আর এর অর্থ হলো: এটি একটি সত্য ধর্মের নিদর্শনের অবশিষ্টাংশ থাকার প্রমাণ। যা মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো" (আন-নাহল: ৩৬), এবং মহান আল্লাহর বাণী: "এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি" (ফাতির: ২৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وعلى هذا نستطيع القول: بأن اجتهادات الناس التي وضعت لإصلاح حياة أمة بعينها، مِمّا اصطُلِحَ عليه فيما بعد دينًا وضعيًّا، إنّما هي نتاج عقل في موروث جمع بين حق آثار وبقايا دين صحيح وباطل، مما أسفر عنه تدخل العقول في النصوص والتحريف لهذا الدين باتباع الأهواء؛ فكان هذا المزيج وإن كان لاعتبار نسبته إلى إنسان معين؛ عرفناه بأنه دين وضعي.كذلك الرِّسَالاتُ السَّماوية، مثل اليهودية والنصرانية مثلًا؛ فهي سماوية باعتبار أصلها، لكن واقعها كما هي اليوم بأيدي أربابها نجد فيه أمارات التحريف والكتمان، والزيادة والتغيير؛ كما ثبت ذلك، أعني فيها إمارات للوضع، وإن كانت باعتبارها وحيًا صادقًا، ودينًا سماويًّا صحيحًا؛ فهي بنصوصها شيء آخر.وخلاصة القول: فإن العلماء اصطلحوا على تقسيم الأديان إلى:سماوية: وهي ما نُسبت إلى الله وحيًا لرسله.ووضعية: وهي ما نُسبت إلى الإنسان، ولكن تبقى الدراسة رهينة تحقق دلائل الصحة للسند، والسلامة للمتن للحكم على المضمون والنص، كما أن الفروق بين السماوي والوضعي على هذا الاعتبار يَحْكُمها صفات تنسب إليه، فما لله ذاتي كامل أبدي أزلي، وما للإنسان مكتسب ناقص زائل حادث.وصدق الله العظيم حيث قال: {قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ} (الأنعام: 149)، وقال سبحانه: {قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَئِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرَى قُلْ لَا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ} (الأنعام: 19).
এর ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, কোনো নির্দিষ্ট জাতির জীবন সংস্কারের জন্য মানুষের যেসব ইজতিহাদ বা চিন্তাধারা তৈরি করা হয়েছে—যা পরবর্তীতে 'মনুষ্যরচিত ধর্ম' হিসেবে পারিভাষিক রূপ পেয়েছে—তা মূলত এমন এক ঐতিহ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক ফসল, যেখানে সত্য দ্বীনের অবশিষ্টাংশ এবং মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটেছে। এর ফলে মূল পাঠে মানুষের হস্তক্ষেপ ঘটেছে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণে ধর্মের বিকৃতি সাধিত হয়েছে। এই মিশ্রণটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির দিকে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে একে আমরা 'মনুষ্যরচিত ধর্ম' হিসেবে অভিহিত করি।একইভাবে আসমানী রিসালাতসমূহ, যেমন উদাহরণস্বরূপ ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম; এগুলো তার উৎসের বিবেচনায় আসমানী। কিন্তু বর্তমানে তাদের অনুসারীদের কাছে রক্ষিত এই ধর্মগুলোর বাস্তব অবস্থার দিকে তাকালে আমরা তাতে বিকৃতি, গোপন করা, সংযোজন এবং পরিবর্তনের লক্ষণসমূহ দেখতে পাই; যা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। অর্থাৎ এতে মানুষের হস্তক্ষেপে সৃষ্ট কৃত্রিমতার ছাপ রয়েছে। যদিও এককালে এগুলো সত্য ওহি এবং সহিহ আসমানী দ্বীন ছিল, কিন্তু বর্তমান পাঠ্য হিসেবে এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।সারকথা হলো: উলামায়ে কিরাম ধর্মসমূহকে নিম্নোক্ত দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন:আসমানী ধর্ম: যা ওহির মাধ্যমে রাসূলগণের নিকট প্রেরিত এবং আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।মনুষ্যরচিত ধর্ম: যা মানুষের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তবে কোনো বিষয়বস্তু ও পাঠের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে এর সূত্রের (সনদ) বিশুদ্ধতা এবং মূল পাঠের (মতন) ত্রুটিমুক্ত হওয়ার প্রমাণাদি যাচাই করার বিষয়টি গবেষণার ওপর নির্ভরশীল। এই বিচারে আসমানী ও মনুষ্যরচিত ধর্মের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ সেগুলোর গুণাবলীর দ্বারা নির্ধারিত হয়; যা আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত তা স্বয়ংসম্পূর্ণ, পূর্ণাঙ্গ, চিরস্থায়ী ও অনাদি; আর যা মানুষের দিকে সম্পৃক্ত তা অর্জিত, অপূর্ণাঙ্গ, নশ্বর ও নব্যসৃষ্ট।মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "বলুন, 'চূড়ান্ত দলিল তো আল্লাহরই; তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হেদায়েত দান করতেন'।" (আল-আনআম: ১৪৯)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "বলুন, 'সাক্ষ্য হিসেবে সবচাইতে বড় কে?' বলুন, 'আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহি হিসেবে পাঠানো হয়েছে যেন এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি। তোমরা কি সত্যিই এই সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে?' বলুন, 'আমি এই সাক্ষ্য দিই না।' বলুন, 'তিনিই তো একমাত্র উপাস্য এবং তোমরা যা কিছু শিরক করছো তা থেকে নিশ্চয়ই আমি মুক্ত'।" (আল-আনআম: ১৯)।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فكرة تمهيدية عن أديان الهند الكبرى وتوزيعها جغرافيًّاالهند بلاد الأسرار والأساطير، كما يقول الدكتور أحمد شلبي في كتابه: (أديان الهند الكبرى). وهي مجتمع شعوب وطبقات، بل مجتمع مجتمعات، تكثر فيها الأديان، وتتعدد اللغات والألوان، فالحديث عن الهند حديث ذو شجون، تعال بنا نورد تعريفًا بالهند، قبل أن نصل بالحديث عن أديانها الكبرى، ومن الواضح أن حديثنا هنا عن الهند يشمل أيضًا ما يُسمى الآن باكستان وبنجلاديش.لمحة عن جغرافية الهند:تبلغ مساحة الهند "مليون ومائتين وواحد وعشرين ألف، واثنين وسبعين ميلًا مربعًا، أو ما يعادل مساحة دول أوروبا مجتمعة باستثناء روسيا، والهند ذات موقع مهم على خريطة العالم، وهي شبه جزيرة تشبه في منظرها قارة أفريقيا بوجه عام، فهي عبارة عن مثلث غير منتظم الأضلاع؛ قاعدة إلى أعلى ورأسه إلى أسفل، وقاعدته جبال الهمالايا الشامخة، ورأسه رأس كوماي.والهند بلاد مقفلة كما يسميها الباحثون، فضلعا المثلث في الشرق والغرب يدور حولهما البحر، أما قاعدة المثلث في الشمال فتحيط بها جبال الهمالايا، وجبال سليمان، ويحتضنها نهران عظيمان:أحدهما: نهر الأندوس السند، وينبع من جبال الهمالايا، ويَصُبّ في خليج العرب، بعد أن يتصل بأنهار البنجاب؛ الأنهار الخمسة.والآخر نهر كنكا أو نهر الكينج وهو ينبع أيضًا من جبال الهمالايا ويصب في خليج البنجال بعد أن يتصل بنهر براهما بوترا المقدس.
ভারতের প্রধান ধর্মসমূহ এবং তাদের ভৌগোলিক বিন্যাস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাভারত রহস্য ও রূপকথার দেশ, যেমনটি ড. আহমদ শালবি তাঁর 'আদিয়ানুল হিন্দ আল-কুবরা' (ভারতের প্রধান ধর্মসমূহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের সমাজ, বরং বলা যায় এটি সমাজসমূহের একটি সমষ্টি। এখানে ধর্মের প্রাচুর্য রয়েছে এবং ভাষা ও গায়ের রঙও বহুমুখী। ভারত সম্পর্কে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ ও বহুমুখী; আসুন আমরা ভারতের প্রধান ধর্মসমূহ সম্পর্কে আলোচনার আগে ভারতের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পেশ করি। উল্লেখ্য যে, এখানে ভারত বলতে বর্তমানের পাকিস্তান ও বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ভারতের ভৌগোলিক রূপরেখা:ভারতের আয়তন ১২,২১,০৭২ বর্গমাইল, যা রাশিয়া ব্যতিরেকে সমগ্র ইউরোপের দেশসমূহের সম্মিলিত আয়তনের সমান। বিশ্বমানচিত্রে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি উপদ্বীপ যা দেখতে সাধারণভাবে অনেকটা আফ্রিকা মহাদেশের মতো। এটি মূলত একটি বিষমবাহু ত্রিভুজ আকৃতির; যার ভূমি উপরের দিকে এবং শীর্ষবিন্দু নিচের দিকে। এর ভিত্তি হলো সুবিশাল হিমালয় পর্বতমালা এবং শীর্ষবিন্দু হলো কুমারিকা অন্তরীপ।গবেষকদের ভাষায় ভারত একটি রুদ্ধ দেশ; কারণ এর ত্রিভুজাকৃতির পূর্ব ও পশ্চিম বাহু সমুদ্রবেষ্টিত। আর উত্তরের ভিত্তি ঘিরে রেখেছে হিমালয় ও সুলাইমান পর্বতমালা। একে দুটি বিশাল নদ-নদী বেষ্টন করে আছে:প্রথমটি হলো সিন্ধু নদ, যা হিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে পাঞ্জাবের পাঁচটি নদীর সাথে মিলিত হওয়ার পর আরব সাগরে পতিত হয়েছে।দ্বিতীয়টি হলো গঙ্গা নদী, যা হিমালয় থেকেই উৎপন্ন হয়েছে এবং পবিত্র ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ويشق الهند عند منتصفها تقريبًا سلسلة من الجبال والأدغال تبدأ من الغرب، وتسير حتى قرب الساحل الشرقي، وهذه السلسلة تقسم الهند قسمين: يَخْتَلِفُ أحدهما عن الآخر في طبيعته، وفي سكانه وحضارته، ومن نهر الأندوس أو السند أشتق اسم الهند، وظهرت كلمة أندوهند، ومعناهما الأرض التي تقع فيما وراء الأندوس، وسمي سكان هذه البلاد الهنود أو الهندوس.وعن تسميه الهند يقول "جوستاف لوبون": يرى الغربيون أن نهر السند أندوس أعار من اسمه اسمًا للبلاد الحافلة بالأسرار الواقعة فيما وراءه، ولا يُسلم بهذا تمامًا، بل يحتمل اشتقاق اسم الهند من اسم الإله أندرا.ويجاور الهند ممالك بلخستان، وأفغانستان في الشمال الغربي، والتركستان في الشمال، والصين في الشمال والشمال الشرقي، وبورما في الشمال الشرقي كذلك.وحضارة الهند قديمة جدًّا وقد أنتجت تربه الهند فلاسفة عظامًا قبل أن يولد سقراط، وانتشرت في الهند معاهد العلم، ووجدت المباني الضخمة في عهد كانت الجزر البريطانية تعيش في بربرية وفوضى، والهند بلاد العجائب والمفارقات حتى يمكن اعتبارها أقطارًا في قطر، فلها كل الأجواء، بسبب اتساعها، وتفاوت ارتفاع بقاعها؛ فبينما يكونُ الحرُّ شديدًا للغاية في سواحل ملبار وكور، ومندل، وسهول البنجاب ترى ربيعًا ساحرًا في قمم بعض الجبال، وثلوجًا تغطي شواهق همالايا، وبينما يغمر الفيضان بعض الأراضي نرى مناطق أخرى أعيا أهلها الجفاف، وطلب السقيا. وبينما ترى الصحارى الجرداء والأرض القاحلة، إذ بك ترى الغابات الكثيفة والمروج الخضراء والمزارع الفينانه.
ভারতের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে পশ্চিম থেকে শুরু হয়ে পূর্ব উপকূলের নিকটবর্তী এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পর্বতমালা ও অরণ্যাঞ্চল চলে গেছে। এই পর্বতমালা ভারতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে, যাদের একটি অন্যটি থেকে প্রকৃতি, জনবসতি ও সভ্যতার দিক দিয়ে ভিন্ন। সিন্ধু নদ (Indus) থেকে ‘হিন্দ’ বা ভারত নামের উৎপত্তি হয়েছে এবং ‘ইন্দোহিন্দ’ শব্দটির উদ্ভব ঘটেছে, যার অর্থ হলো সিন্ধু নদের অপর পাড়ে অবস্থিত ভূখণ্ড। আর এই দেশের অধিবাসীদের হিন্দু বা ইন্ডিয়ান নামে অভিহিত করা হয়।ভারতের নামকরণ প্রসঙ্গে গুস্তাভ লো বোন বলেন: পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের মতে, সিন্ধু নদ তার নামের মাধ্যমেই এই রহস্যময় ভূখণ্ডের নামকরণ করেছে যা এর ওপারে অবস্থিত। তবে এটি পুরোপুরি স্বীকৃত নয়; বরং ভারত (হিন্দ) নামের ব্যুৎপত্তি দেবতা ‘ইন্দ্র’ এর নাম থেকে হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।ভারতের উত্তর-পশ্চিমে বেলুচিস্তান ও আফগানিস্তান রাজ্যসমূহ, উত্তরে তুর্কিস্তান এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে চীন এবং উত্তর-পূর্ব দিকে বার্মা অবস্থিত।ভারতের সভ্যতা অত্যন্ত প্রাচীন। সক্রেটিসের জন্মের পূর্বেই ভারতের মাটি মহান দার্শনিকদের জন্ম দিয়েছে। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিস্তৃত ছিল এবং এমন এক যুগে বিশাল সব স্থাপত্য নির্মিত হয়েছিল যখন ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ বর্বরতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছিল। ভারত হলো বিস্ময় ও বৈচিত্র্যের দেশ, যাকে একটি দেশের ভেতরে অনেকগুলো দেশ হিসেবে গণ্য করা যায়। এর বিশাল আয়তন এবং ভূমির উচ্চতার ভিন্নতার কারণে এখানে সব ধরণের আবহাওয়া বিদ্যমান। যখন মালাবার ও করমন্ডল উপকূল এবং পাঞ্জাবের সমতলে প্রচণ্ড গরম থাকে, তখন কিছু পর্বতশৃঙ্গে মনোরম বসন্ত বিরাজ করে এবং হিমালয়ের চূড়া বরফে ঢাকা থাকে। আবার যখন কোনো অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়, তখন অন্য কোনো অঞ্চলে দেখা দেয় চরম খরা ও পানির হাহাকার। কোথাও ধূ ধূ মরুভূমি ও অনুর্বর প্রান্তর, আবার কোথাও নিবিড় অরণ্য, সবুজ তৃণভূমি ও দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وعن مفارقات الهند يقول "ريرانس": في الهند الحديثة يتقابل وجهًا لوجه الشرق في عصور بدائيته، مع الغرب في عصور حضاراته وتطوره، ومن مظاهر ذلك: الطائرات النفاثة التي تشق الجو؛ لتقيم شبكة مواصلات بين مدن الهند بعضها والبعض الآخر في حين لا تزال أشهر وسيلة للمواصلات داخل المدن عبارة عن الركشة، وهي مركب ذو ثلاثة عجلات يركبه شخص أو شخصان، ويدفعه حطام من بني آدم.سكان الهند:الهند مركز من مراكز الحضارات القديمة في العالم، وهي في هذا تضارع مصر والصين وآشور وبابل، ولكن حضارة الهند التي سبقت العهد الآري، ظلت غير معروفة حتى أظهرت الاكتشافات الحديثة مدى الرقي الذي عرفته الهند في الشئون المعمارية والزراعية والاجتماعية، قبل الميلاد بحوالي ثلاثة آلاف من الأعوام، أي: قبل الغزو الآري بحوالي ألف وخمسمائة عام، ولكن التاريخ الواضح للهند ارتبط بالعهد الآري.فقد قلنا فيما سبق: أن الهند تعتبر بلاد مقفلة إذ تحيط بها البحار والجبال ويصعب اقتحام الهند عن طريق البحر؛ لتعذر الملاحة في خليج البنجال، ولأن الشاطئ الهندي لبحر العرب عبارة عن جبال عاتية، وعلى هذا لم يكن البحر معبرًا للهند، وبخاصة في الأزمنة السالفة، قبل الرقي بنظم الملاحة، وكما صعب اقتحام الهند عن طريق البحر، صعب أيضًا اقتحامها عن طريق جبال همالايا الشامخة في الشمال، إلا أن هناك معبرين كان كل منهما منفذًا سلكته أجناس من البشر إلى الهند، حيث تكون السكان الذي نريد أن نتكلم عنهم.ويقع أحد هذين المعبرين في شرقي جبال همالايا، عند وادي نهر برهما بوترا، سمي الباب الشرقي، ويقع الثاني غربي هذه الجبال، ويسمى الباب الغربي،
ভারতের বৈপরীত্য সম্পর্কে "রীরানস" বলেন: আধুনিক ভারতে আদিম যুগের প্রাচ্য এবং সভ্যতা ও অগ্রগতির যুগের পাশ্চাত্যের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঘটে। এর অন্যতম নিদর্শন হলো: আকাশ চিরে উড়ে চলা জেট বিমানগুলো, যা ভারতের শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করে; অথচ শহরগুলোর অভ্যন্তরে যাতায়াতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এখনো রিকশা, যা তিন চাকার একটি যান। এতে একজন বা দুজন আরোহী বসেন এবং এক জীর্ণদেহী মানুষ তা টেনে নিয়ে যায়।ভারতের জনবসতি:ভারত বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম কেন্দ্র। এই দিক থেকে এটি মিশর, চীন, আসিরিয়া এবং ব্যবিলনের সমতুল্য। তবে আর্য যুগের পূর্ববর্তী ভারতীয় সভ্যতাটি অজানাই ছিল, যতক্ষণ না আধুনিক আবিষ্কারগুলো স্থাপত্য, কৃষি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ভারতের উন্নতির মাত্রা উন্মোচিত করেছে। এই উন্নতি ছিল খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগের, অর্থাৎ আর্য আক্রমণের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে। তবে ভারতের সুস্পষ্ট ইতিহাস আর্য যুগের সাথেই সম্পৃক্ত।আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ভারত একটি অবরুদ্ধ ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত, কারণ এটি সমুদ্র ও পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করা কঠিন; কেননা বঙ্গোপসাগরে নৌযান চলাচল দুঃসাধ্য এবং আরব সাগরের ভারতীয় উপকূল সুউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা। ফলে সমুদ্র ভারতের প্রবেশের পথ ছিল না, বিশেষ করে নৌচলাচল ব্যবস্থার উন্নতির পূর্ববর্তী প্রাচীন সময়ে। সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করা যেমন কঠিন ছিল, তেমনি উত্তরের সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা দিয়ে প্রবেশ করাও ছিল দুরূহ। তবে সেখানে দুটি গিরিপথ ছিল, যার প্রতিটিই ছিল ভারতে প্রবেশের পথ। এই পথগুলো দিয়েই বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী ভারতে প্রবেশ করেছে এবং এভাবেই সেই জনবসতি গড়ে উঠেছে যাদের সম্পর্কে আমরা আলোচনা করতে চাই।এই দুটি গিরিপথের একটি হিমালয় পর্বতমালার পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের উপত্যকায় অবস্থিত, যাকে 'পূর্ব দ্বার' বলা হয়। দ্বিতীয়টি এই পর্বতমালার পশ্চিমে অবস্থিত এবং একে 'পশ্চিম দ্বার' বলা হয়,
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن هذين البابين اقتُحمت الهند عدة مرات بأجناس مختلفة، ولهذا ولاختلاف أجواء الهند أصبح سكان الهند كما يقول "غوستاف لوبون": ذوي أمثلة متباينة؛ ففيها تجد شعوبًا بيضًا بياض الأوروبيين، كما تجد الزنوج والسود وبين هؤلاء وأولئك ألوان وألوان.فمن الباب الشرقي دخلت الشعوب الصفراء، التورانيين أفواجًا منذ آلاف السنين، يضيق الزمن بينها أو يتسع، وقد فر من وجهها بعض السكان الأصليين، واحتموا بقمم الجبال، أما أغلب السكان الأصليين؛ فقد ارتبطوا بالزاحفين، وتم في الجنسين ألوان من العلاقات؛ أنتجت ما أصبح بعد حين يعرف بالسكان الأصليين، وكان هذا المجتمع الجديد يتكون من جماعتين: إحداهما يغلب فيها الدم التوراني، والثانية يغلب فيها الدم الهندي، أما الذين آووا إلى قمم الجبال؛ فقد أطلق عليهم زنوج الهند.ومن الباب الغربي اقتحم الآريون بلاد الهند، وبهم ارتبط تاريخ الهند القديم، وأصل الآريين الجنس الأبيض مشكوك فيه، فيرى بعض الباحثين أنهم نشأوا ببلاد الدانوب بأوروبا، ثم هاجروا إلى آسيا عندما ضاقت بهم الأرض؛ متخذين طريق الشرق، حتى بحر مرمره، ثم عبروا البسفور أو الدردنيل، إلى آسيا الصغرى، واستمروا في سيرهم شرقًا، متجنبين الحضارات المزدهرة التي قد نشأت في طريقهم؛ حتى نزلوا فارس بالقرب من تبريز، ومن هناك انحدروا إلى الهند.ويرى باحثون آخرون -وهو الأرجح-: أن الجنس الآري آسيوي الأصل، كان يعيش في وسط آسيا في بلاد التركستان، بالقرب من نهر جيحون، ثم
এই দুটি প্রবেশদ্বার দিয়েই বিভিন্ন জাতির মাধ্যমে বারবার ভারত আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে এবং ভারতের বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর প্রভাবে ভারতের অধিবাসীরা—গুস্তাভ লো বঁ-এর ভাষায়—বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের নমুনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে আপনি ইউরোপীয়দের মতো শ্বেতবর্ণের জনগোষ্ঠী পাবেন, আবার নিগ্রো ও কৃষ্ণবর্ণের মানুষও পাবেন; আর এদের মাঝামাঝি রয়েছে হরেক রকম বর্ণ।পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বার দিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে পীতবর্ণের তুরাণীয় জাতিসমূহ দলে দলে প্রবেশ করেছে; তাদের এই আগমনের মধ্যবর্তী সময় কখনও সংক্ষিপ্ত ছিল আবার কখনও দীর্ঘ। এদের ভয়ে আদিবাসীদের একাংশ পালিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। তবে অধিকাংশ আদিবাসী এই বহিরাগত জনস্রোতের সাথে মিশে গিয়েছিল এবং উভয় জাতির মধ্যে নানাবিধ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। এর ফলে এমন এক সংকর জনগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে যারা পরবর্তীকালে আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই নতুন সমাজটি দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত ছিল: একটিতে তুরাণীয় রক্তধারা প্রবল ছিল, আর অন্যটিতে ভারতীয় রক্তধারা প্রবল ছিল। আর যারা পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের ভারতের নিগ্রো বলা হতো।পশ্চিমের প্রবেশদ্বার দিয়ে আর্যরা ভারতবর্ষ আক্রমণ করে এবং তাদের সাথেই ভারতের প্রাচীন ইতিহাস বিশেষভাবে সম্পৃক্ত। আর্যদের মূল উৎস যে শ্বেতবর্ণের কোনো গোষ্ঠী, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিছু গবেষক মনে করেন যে তারা ইউরোপের দানিয়ুব অঞ্চলে উদ্ভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে জীবনধারণের সংকুলান না হওয়ায় তারা এশিয়ার দিকে হিজরত করে। তারা পূর্বদিকের পথ ধরে মারমারা সাগর পর্যন্ত অগ্রসর হয়, এরপর বসফরাস বা দার্দানেলেস প্রণালী অতিক্রম করে এশিয়া মাইনরে প্রবেশ করে। তাদের যাত্রাপথে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ সভ্যতাগুলোকে এড়িয়ে তারা পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তাবরিজের নিকটবর্তী পারস্যে অবতরণ করে; সেখান থেকেই তারা ভারতে প্রবেশ করে।অন্যান্য গবেষক মনে করেন—এবং এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত—যে আর্য জাতি মূলত এশীয় বংশোদ্ভূত। তারা মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্তান অঞ্চলে জাইহুন নদীর নিকটবর্তী এলাকায় বসবাস করত, অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
زحفت أفواج ضخمة من هذا الجنس، في أزمنة غير واضحة، واتجهت نحو إيران عبر الهند، واتجهت كذلك نحو أوروبا.ويبدو أنّ الزحف الآري نحو الهند، قد تَمّ في القَرن الخَامس عشر قبل الميلاد، وقد حارب الآريون الممالك التي أقامها الجنس الأصفر بالهند، وانتصروا على الكثير منها، وكونوا لهم بها مناطق نفوذ، ولم يتصل الآريون بسكان الهند بطريق التزاوج، بل حافظوا غالبًا على سلالتهم البيضاء، وساقوا سكان الهند إلى الغابات والجبال، أو أخذوهم أسرى، وسماهم الأدب الآري المبكر أمة العبيد.واستنصر الآريون عليهم بإلههم "أندرا"، ومن دعائهم في ذلك: "يا إلهانا أندرا، إننا قد أحاط بنا قبائل داسيو عبيد، من جميع الجهات، وهم لا يقدمون الضحايا، وليسوا بآدميين، ولا يعتقدون في شيء، يا مهلك الأعداء أهلكهم، وأهلك نسل داسا العبد". والسبب في أن الآريين لم يتم التزاوج بينهم وبين الهنود هو: أن الآريين دخلوا الهند كشعبٍ مُهاجِر، لا كشعب مُحارب، والفَرْقُ كَبيرٌ بين الحالتين؛ فالجيش يكون عماده الرجال، الذين سرعان ما يتصلون بنساء الشعب المغلوب.أما الآريون؛ فقد دخلوا بثرائهم ونسائهم وأطفالهم، فلم يحتاجوا لنساء الهند للتزاوج، وكان عدم الحاجة للنساء مع الاستعلاء الذي يصحب النصر، من دواعي نشأة الطبقات، كما كان هذا من أسباب كثرة الألوان في الهند.أما مدى نفوذ الشعوب الصفراء التورانيين، والبيض الآريين على الهند، فيوضحه "غوستاف لوبون" بقوله: والتورانيون أشد الغزاة تحويلًا لعروق الهند من الناحية الجسمانية، والآريون هم الذين تركوا أقوى الأثر في عروق الهند من
অস্পষ্ট এক সময়ে এই জাতির বিশাল জনস্রোত ধাবিত হয়েছিল এবং তারা ভারতের মধ্য দিয়ে ইরানের দিকে এবং একইভাবে ইউরোপের অভিমুখে যাত্রা করেছিল।ধারণা করা হয় যে, ভারতে আর্যদের এই অভিযান খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চদশ শতাব্দীতে সম্পন্ন হয়েছিল। আর্যরা ভারতে পীত বর্ণের জাতির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং তাদের অনেককে পরাজিত করে সেখানে নিজেদের প্রভাববলয় তৈরি করেছিল। আর্যরা বৈবাহিক সূত্রে ভারতের অধিবাসীদের সাথে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করেনি, বরং তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেদের শ্বেত বংশধারা বজায় রেখেছিল। তারা ভারতের অধিবাসীদের বন-জঙ্গলে ও পাহাড়ে বিতাড়িত করেছিল অথবা তাদের বন্দি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। প্রাচীন আর্য সাহিত্যে তাদের 'দাস জাতি' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।আর্যরা তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের দেবতা 'ইন্দ্রের' সাহায্য প্রার্থনা করত। এ প্রসঙ্গে তাদের একটি প্রার্থনা ছিল: "হে আমাদের দেবতা ইন্দ্র, আমাদের চারপাশ থেকে 'দাস্য' নামক দাস গোত্রগুলো ঘিরে ফেলেছে; তারা কোনো উৎসর্গ করে না, তারা মানুষ নয় এবং তারা কোনো কিছুতে বিশ্বাস করে না। হে শত্রু বিনাশকারী, আপনি তাদের ধ্বংস করুন এবং দাসের বংশধরদের বিনাশ করুন।" আর্যদের সাথে ভারতীয়দের বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে না ওঠার কারণ ছিল—আর্যরা ভারতে একটি অভিবাসী জাতি হিসেবে প্রবেশ করেছিল, নিছক কোনো যোদ্ধা জাতি হিসেবে নয়। আর এই দুই অবস্থার মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান; কারণ একটি সেনাবাহিনীর মূল শক্তি হলো পুরুষরা, যারা বিজিত জাতির নারীদের সাথে দ্রুতই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।অন্যদিকে আর্যরা তাদের ধনসম্পদ, নারী ও শিশুদের নিয়ে সপরিবারে প্রবেশ করেছিল; ফলে বিবাহের জন্য ভারতীয় নারীদের প্রতি তাদের কোনো মুখাপেক্ষিতা ছিল না। নারীদের প্রয়োজনীয়তা না থাকা এবং সেই সাথে বিজয়ের ফলে সৃষ্ট আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ ছিল ভারতে বর্ণপ্রথা বা শ্রেণিবিভাগ উদ্ভবের অন্যতম কারণ। এছাড়া ভারতে গায়ের রঙের বৈচিত্র্যের পেছনেও এটি ছিল একটি বিশেষ কারণ।ভারতে পীত বর্ণের তুরাানি জাতি এবং শ্বেত বর্ণের আর্যদের প্রভাবের ব্যাপ্তি সম্পর্কে 'গুস্তাভ ল্য বঁ' বলেন: "শারীরিক পরিবর্তনের দিক থেকে তুরাানিরাই ছিল ভারতের জাতিগোষ্ঠীগুলোর রূপান্তরে সর্বাধিক শক্তিশালী আক্রমণকারী। আর আর্যরা হলো তারা, যারা ভারতের বংশধারায় গভীরতম প্রভাব রেখে গেছে..."
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الناحية المدنية؛ فمن التورانيين أخذ سكان الهند نسب أجسامهم، وتقاطيع وجوههم، وعن الآريين أخذ سكان الهند لغتهم ودينهم وقوانينهم، وسجاياهم وطبائعهم.ولم يتوار الآريون بالامتزاج في الهند بسرعة، كما توارى العرب في مصر؛ لأن عدم التزاوج ثم نظام الطوائف الحاسم، حال دون امتزاجهم في الهند بالتورانيين المقهورين زمنًا طويلًا، ولكن الامتزاج على كل حال، تم بتعاقب القرون، ومع الامتزاج؛ فإننا نستطيعُ أن نَرى أنّ آثار الآريين الجسمانية لا تزال بارزة في الشمال الغربي؛ حتى العهد الحاضر، كما يقول "ويش".ففي البنجاب نجد السكان أطول قامة، بشرتهم بيضاء، أو أميل إلى البياض، ملامحهم أدق، وهم بهذا يخالفون باقي الهنود، حيث تنتشر ملامح التورانيين، أو حيث توجد ملامح السكان الأصليين بالجنوب، وتقل ملامح الآريين كلما اتجهنا جنوبًا أو شرقًا، وبالتقاء الآريين والتورانيين مع السكان الأصليين بدأت الطبقات في الهند، وأصبحت ذات أهمية كبرى في تاريخ هذه البلاد.فمن الآريين كانت طبقة رجال الدين البراهمة التي تساوي "برهمن" وطبقة المحاربين "كسترا"، ومن التورانيين تكونت طبقة التجار والصناع "فسيا"، أما الهنود الذين اتصلوا بالتورانيين؛ فلم يَدخلوا التقسيم في أول الأمر، ولكن الحضارة الآرية امتدت إلى بعضهم بمرور الزمن؛ فأوجد الآريين منهم الطبقة الرابعة، وجعلوها طبقة الخدم والعبيد "شودرا".أما الذينَ لم تمتد لهم الحضارة الآرية من السكان الأصليين؛ لأنهم انعزلوا عن الفاتحين، فقد بقوا بعيدين عن التقسيم، وظلوا طريدي المجتمع أو منبوذين، وسنتكلم فيما بعد عن هذه الطبقة.
বেসামরিক বা সভ্যতার প্রেক্ষিতে; ভারতের অধিবাসীরা তাদের শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বের আদল গ্রহণ করেছে তুরানিদের থেকে, আর আর্যদের থেকে তারা লাভ করেছে তাদের ভাষা, ধর্ম, আইনকানুন এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবজাত প্রকৃতি।মিশরে আরবরা যেভাবে স্থানীয়দের সাথে মিশে গিয়ে আত্মপরিচয় বিলীন করে দিয়েছিল, আর্যরা ভারতে সেভাবে দ্রুত মিশে যায়নি। কারণ, আন্তঃবিবাহের অভাব এবং কঠোর বর্ণপ্রথা দীর্ঘকাল যাবত ভারতে বিজয়ী আর্যদের সাথে বিজিত তুরানিদের সংমিশ্রণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে তা সত্ত্বেও, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পর্যায়ক্রমে এই সংমিশ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। এই সংমিশ্রণ সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, আর্যদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের চিহ্নসমূহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানকাল পর্যন্ত অত্যন্ত স্পষ্ট, যেমনটি ‘উইশ’ উল্লেখ করেছেন।পাঞ্জাবে আমরা এমন অধিবাসীদের পাই যারা দীর্ঘদেহী, গায়ের রঙ ফর্সা বা শ্বেতবর্ণের কাছাকাছি এবং তাদের শারীরিক গড়ন অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এই দিক থেকে তারা ভারতের অবশিষ্ট অঞ্চলের মানুষের চেয়ে ভিন্ন, যেখানে তুরানিদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য অথবা দক্ষিণ ভারতের আদিবাসীদের দৈহিক গড়ন পরিলক্ষিত হয়। আমরা যতই দক্ষিণ বা পূর্ব দিকে অগ্রসর হই, আর্যদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য ততই হ্রাস পেতে থাকে। মূলত আর্য ও তুরানিদের সাথে আদিবাসীদের এই মিলনের মাধ্যমেই ভারতে বর্ণপ্রথার সূচনা হয় এবং এটি এই অঞ্চলের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়।আর্যদের মধ্য থেকেই পুরোহিত শ্রেণী বা ‘ব্রাহ্মণ’ এবং যোদ্ধা শ্রেণী বা ‘ক্ষত্রিয়’-এর উদ্ভব হয়েছিল। তুরানিদের থেকে গঠিত হয়েছিল ব্যবসায়ী ও কারিগরদের শ্রেণী ‘বৈশ্য’। আর যে সকল ভারতীয় তুরানিদের সংস্পর্শে এসেছিল, তারা শুরুতে এই বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়নি; তবে সময়ের পরিক্রমায় আর্য সভ্যতা তাদের কোনো কোনো অংশের মধ্যে বিস্তার লাভ করে। তখন আর্যরা তাদের মধ্য থেকে চতুর্থ একটি শ্রেণীর সৃষ্টি করে এবং তাদের সেবক ও দাসের শ্রেণী তথা ‘শূদ্র’ হিসেবে সাব্যস্ত করে।কিন্তু আদিবাসীদের মধ্যে যাদের নিকট আর্য সভ্যতা পৌঁছাতে পারেনি, কারণ তারা বিজয়ীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, তারা এই বিভাজনের বাইরেই থেকে যায়। তারা সমাজের বহিষ্কৃত বা ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে রয়ে যায়। আমরা পরবর্তীতে এই শ্রেণীটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ونعود إلى ذوبان الجنس الآري، الذي اقتبسنا الحديث عنه آنفًا من "غوستاف لوبون"؛ لنقرر أنّ هذا الذوبان بدأ عندما أندفع بعض الآريين عن طريق ممر "دلها" الذي يَفصل بين الصحراء الغربية، وبين فروع نهر "الكينج" وفي المهجر الجديد تخلى الآريون عن كثير من خصالهم وتقاليدهم، وتبنوا كثيرًا من أخلاق الهنود، وطرق حياتهم؛ فتوقفوا عن الذبح وأكل اللحوم، إلا فيما يتعلق بالقرابين.وفقدت المرأة حياة الحرية والطلاقة، التي كانت تحياها في المجتمع الآري، وتوارى كثير من الآلهة التي كانت موضع تقديس في كشمير؛ حيث المهجر الأول للآريين بالهند، واستمر هذا الذوبان ينتشر حتى تم اندماج الآريين في الهند.ومن العوامل الواضحة الأثر على سكان الهند جميعًا شدة الحرارة؛ ففي ما عدا جبال الهمالايا التي تكسوها الثلوج نجد درجة الحرارة في الهند شديدة طول العام تقريبًا، ويرى "ويش" أنّ شِدّة الحَرارة كان لها أثر في السكان؛ فقد تسبب عنها عزوفهم عن العمل، وسرعة التعب إذا عملوا كما تسبب عنها نقص في القدرة على الابتكار، وفي الكفاية والنشاط على العموم.أما الناحية الرُّوحية؛ فتمتاز الهند بنصيب كبير فيها، ولكن ليس معنى هذا أن عامة الهنود على شيء من الصفاء الروحي، فإنه ليس في بلاد العالم كلها بلد تنمو فيه الخرافة وتزدهر كما تنمو في الهند، ولكن ذلك لا يقلل من نشاط الاتجاه الروحي في الهند؛ لأنّ الظروف الملائمة للخرافة والبدع، هي نفسها خير الظروف لصفاء النفس، فالاتجاه الروحي إذا سما اخذ وجهته نحو الفكر والعمق، وإذا كان ضحلًا أو مضطربًا أخذ طريقه نحو الخرافة.
আমরা পুনরায় আর্য জাতির বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গে ফিরে আসি, যার সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে গুস্তাভ ল্য বঁ-এর উদ্ধৃতি দিয়েছি; যাতে এটি নিশ্চিত করা যায় যে, এই বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল যখন কিছু আর্য 'দেলহা' গিরিপথের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল, যা পশ্চিম মরুভূমি এবং গঙ্গা নদীর শাখাগুলোর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। এই নতুন প্রবাসে আর্যরা তাদের অনেক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য বর্জন করে এবং ভারতীয়দের বহু নৈতিকতা ও জীবনধারা গ্রহণ করে; ফলে তারা বলিদান ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে পশু জবাই ও মাংস ভক্ষণ বন্ধ করে দেয়।নারী তার সেই স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন হারালো, যা সে আর্য সমাজে অতিবাহিত করত এবং কাশ্মীরে পবিত্র বলে গণ্য হওয়া অনেক দেব-দেবী লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেল; যা ছিল ভারতে আর্যদের প্রথম আবাসভূমি। এই বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়াটি বিস্তৃত হতে থাকে যতক্ষণ না ভারতে আর্যদের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হয়।ভারতের সকল অধিবাসীদের ওপর যে উপাদানের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো প্রচণ্ড উত্তাপ; তুষারাচ্ছাদিত হিমালয় পর্বতমালা ব্যতীত ভারতের তাপমাত্রা প্রায় সারা বছরই অত্যন্ত প্রখর থাকে। 'উইশ' মনে করেন যে, এই প্রচণ্ড উত্তাপের প্রভাব অধিবাসীদের ওপর পরিলক্ষিত হয়; এর ফলে তাদের মধ্যে কর্মবিমুখতা এবং কাজ করলে দ্রুত ক্লান্তি তৈরি হয়। তদুপরি, এটি তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সাধারণভাবে তাদের দক্ষতা ও প্রাণচঞ্চলতা হ্রাসেরও কারণ হয়েছে।আধ্যাত্মিক দিকের ক্ষেত্রে ভারত এক বিশাল অংশের অধিকারী, তবে এর অর্থ এই নয় যে, সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে কোনো আত্মিক নির্মলতা বিদ্যমান। কেননা বিশ্বের কোনো দেশেই কুসংস্কার এমনভাবে বিস্তার ও সমৃদ্ধি লাভ করেনি যেমনটি ভারতে করেছে। তবে এটি ভারতের আধ্যাত্মিক প্রবণতার সক্রিয়তাকে ক্ষুণ্ণ করে না; কারণ কুসংস্কার ও নব-উদ্ভাবিত প্রথার জন্য উপযুক্ত পরিবেশই হলো আত্মিক নির্মলতার জন্য সর্বোত্তম পরিবেশ। আধ্যাত্মিক প্রবণতা যখন উচ্চমার্গীয় হয়, তখন তা চিন্তা ও গভীরতার দিকে ধাবিত হয়; আর যখন তা অগভীর বা বিক্ষিপ্ত হয়, তখন তা কুসংস্কারের পথ বেছে নেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
اللغات في الهند:رأينا فيما سبق اختلاف عناصر السكان، واختلاف ألوانهم، ولكن اللغات في الهند كانت أكثر اختلافًا، وأكثر عددًا، وكانت الحياة القبلية المنتشرة بالهند، من أهم أسباب كثرة اللغات؛ فقد كانت كل قبيلة تكاد تكون مستقلة، تَعزِلُها الجِبَالُ أو الغَاباتُ أو الأنهار عن سواها من القبائل، ولها لغة خاصة بها، لا يعرفها سواها من القبائل أيضًا، وعلى هذا بلغت اللغات في الهند نحو مائتين وأربعين لغة، وثلاثمائة لهجة إذا صح ما يقوله "غوستاف لوبون" بالإضافة إلى الفَارسية التي كانت لغة رسمية للقصور، والمجتمعات الراقية في الهندوستان، والبهلوية وهي لغة المجوس.وعلى هذا لم يكن من الممكن التّفاهم بين سُكّان المناطق المختلفة، وهذا مهد الطريق للغة الإنجليزية؛ لِتكون لغة عامة، بجوار هذه اللغات المحلية، وهناك لغة أخرى تكونت في القرن الخامس عشر الميلادي، وهي اللغة الهندوستانية وأصلها آري، ثم دخلت عليها كلمات كثيرة من اللغات الفارسية، والعربية، والهندية، والتركية، وتسمى آلان: "اللغة الأردية" نسبة إلى الأردو وهو المعسكر إذ كانت لغة معسكرات المغول أولًا.وانتشرت هذه اللغة بين المسلمين وغير المسلمين، وشجعها الملوك والسلاطين؛ حتى ضارعت اللغة الإنجليزية في عمومها وانتشارها، وأصبحت لغة رسمية بجوار الإنجليزية، ولما تم تقسيم الهند إلى دولتي الهند والباكستان، اعتبرت هذه اللغة لغة إسلامية في نظر كثير من الولايات الهندية؛ فاحتضنتها الباكستان، وترعرعت هذه اللغة في الدولة الإسلامية الكبرى.
ভারতের ভাষাসমূহ:আমরা ইতিপূর্বে জনসংখ্যার উপাদানের বৈচিত্র্য এবং তাদের বর্ণের ভিন্নতা দেখেছি, তবে ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য ছিল আরও ব্যাপক এবং সংখ্যায় অনেক বেশি। ভারতে বিদ্যমান উপজাতীয় জীবনধারা ছিল এই ভাষাগত আধিক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিটি উপজাতি প্রায় স্বাধীন বা স্বতন্ত্র ছিল; পাহাড়, অরণ্য বা নদ-নদী তাদের অন্যান্য উপজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখত। তাদের নিজস্ব ভাষা ছিল যা অন্য কোনো উপজাতি জানত না। এভাবে ভারতে ভাষার সংখ্যা প্রায় দুইশ চল্লিশটি এবং উপভাষার সংখ্যা তিনশতে গিয়ে দাঁড়ায়, যদি 'গুস্তাভ লে বোন'-এর উক্তি সঠিক হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি ছিল ফারসি ভাষা, যা হিন্দুস্তানের রাজপ্রাসাদ এবং উচ্চবিত্ত সমাজের দাপ্তরিক ভাষা ছিল এবং পাহলভি, যা ছিল অগ্নিউপাসকদের ভাষা।এই কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময় সম্ভব ছিল না। আর এটিই ইংরেজি ভাষার জন্য এই স্থানীয় ভাষাসমূহের পাশাপাশি একটি সাধারণ ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয়। এছাড়া পঞ্চদশ শতাব্দীতে 'হিন্দুস্তানি' নামক অপর একটি ভাষার উদ্ভব ঘটে যার মূল উৎস ছিল আর্য। পরবর্তীতে এতে ফারসি, আরবি, হিন্দি এবং তুর্কি ভাষার বহু শব্দ প্রবেশ করে। বর্তমানে একে 'উর্দু ভাষা' বলা হয়, যা 'উর্দু' (ছাউনি বা শিবির) শব্দ থেকে আগত; কারণ এটি প্রাথমিকভাবে মোগল সামরিক শিবিরের ভাষা ছিল।এই ভাষা মুসলিম ও অমুসলিম সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজা-বাদশাহগণ একে উৎসাহিত করেন; এমনকি এটি এর ব্যাপকতা ও প্রসারের দিক থেকে ইংরেজি ভাষার সমকক্ষ হয়ে ওঠে এবং ইংরেজির পাশাপাশি দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা লাভ করে। যখন ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রে পরিণত হলো, তখন ভারতের অনেক রাজ্যের দৃষ্টিতে এই ভাষাটি একটি ইসলামি ভাষা হিসেবে বিবেচিত হলো। ফলে পাকিস্তান একে সাদরে গ্রহণ করে এবং এই মহান ইসলামি রাষ্ট্রে ভাষাটি পূর্ণতা লাভ ও বিকশিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أما في الهند فقد عانت الأردية صور من الاضطهاد في بعض الولايات، ولكن ولايات أخرى هندية اعترفت بها، مثل: بُومباي، وأندرو ومدراس، ومن العجب أن الذين كانوا يُهاجمون الأُردية من الهنود، كانوا يهاجمونها بها كما قال "التانتيد نهرو".أما عن اللغات في الهند بعد التقسيم: فقد اتخذ الدستور الهندي اللغة الهندية، لغة رسمية للبلاد، وهي لغة قامت على انقاض السنسكرتية، ولما كانت هذه اللغة غير شائعة؛ فقد رؤي الاستمرار في استعمال اللغة الانجليزية كلغة رسمية للبلاد؛ حتى تصل اللغة الهندية إلى الانتشار الكافي، وإلى جانب اللغة الهندية اعترف الدستور بثلاث عشر لغة في مختلف ولايات الهند، وكل منها لغة حية ذات ذخيرة، ولها أدب يانع مترعرع.ومن هذه النظرة الجغرافية والتاريخية نأخذ فكرة عن الأديان في الهند التي هي أصل قضيتنا.في (موسوعة التاريخ الإسلامي والحضارة الإسلامية) للدكتور أحمد شلبي قال ما يلي: "رأى مجموعة من علماء مقارنة الأديان مؤداه: أن الغزيرة الدينية مشتركة بين كل الأجناس البشرية، وأنّ الاهتمام بالمعنى الإلهي، وبما فوق الطبيعة، هو إحدى النزعات العالمية الخالدة للإنسانية، كما ذكرنا أن هناك عوامل تقوي هذه الغريزة، من أهمها: اختلاف قوى الطبيعة، ومواجهة الإنسان لهذه القوى، وجهًا لوجه، وإحساسه بالضعف تجاهها".والهند حقل رائع لتطبيق هذه المبادئ، فقد نشدت قوى الطبيعة وواجهها الإنسان الهندي وجهًا لوجه، وأحس بالضعف تجاهها؛ فأصبح متدينًا بطبيعته، يشغف بالروحانيات، ويسعى دائبًا إلى معرفة الله، ويتخذ الزهد وسيلة ليتخلص من دنيا
পক্ষান্তরে ভারতে উর্দু ভাষা কিছু কিছু রাজ্যে নানাবিধ নিপীড়নের শিকার হয়েছে; কিন্তু বোম্বে, অন্ধ্র ও মাদ্রাজের মতো ভারতের অন্যান্য রাজ্য একে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভারতীয়দের মধ্যে যারা উর্দুর বিরোধিতা করছিল, তারা খোদ উর্দুর মাধ্যমেই তা করছিল, যেমনটি "পণ্ডিত নেহেরু" উল্লেখ করেছেন।দেশভাগের পর ভারতের ভাষাগুলোর বিষয়ে বক্তব্য এই যে: ভারতীয় সংবিধানে হিন্দি ভাষাকে দেশের সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা মূলত সংস্কৃতের ধ্বংসাবশেষের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেহেতু এই ভাষাটি ততোটা প্রচলিত ছিল না, তাই হিন্দি ভাষা পর্যাপ্ত প্রসার লাভ না করা পর্যন্ত ইংরেজি ভাষাকেই দেশের সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহারের ধারাবাহিকতা রক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হিন্দি ভাষার পাশাপাশি সংবিধান ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আরও তেরোটি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার প্রতিটিই সমৃদ্ধ ভাণ্ডারসম্পন্ন জীবন্ত ভাষা এবং সেগুলোর নিজস্ব বিকশিত ও প্রাণবন্ত সাহিত্য রয়েছে।এই ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে আমরা ভারতের ধর্মসমূহ সম্পর্কে একটি ধারণা লাভ করি, যা মূলত আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু।ডক্টর আহমদ শালবির ‘ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার বিশ্বকোষ’ গ্রন্থে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণিত হয়েছে: "তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের একদল বিশেষজ্ঞের অভিমত এই যে, ধর্মীয় প্রবৃত্তি সমস্ত মানবজাতির মধ্যেই বিদ্যমান। ঐশ্বরিক সত্তা এবং অতিলৌকিক বিষয়ের প্রতি অনুরাগ মানবজাতির চিরন্তন ও বিশ্বজনীন প্রবণতাগুলোর অন্যতম। আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, এমন কিছু অনুষঙ্গ রয়েছে যা এই প্রবৃত্তিকে শক্তিশালী করে; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রকৃতির শক্তির বৈচিত্র্য, এই মহাশক্তির সাথে মানুষের মুখোমুখি অবস্থান এবং এর সামনে নিজের অসহায়ত্ববোধ।"এই নীতিগুলো প্রয়োগের জন্য ভারত একটি চমৎকার ক্ষেত্র। এখানে প্রকৃতির শক্তিসমূহ অত্যন্ত প্রবল ছিল এবং ভারতীয় মানুষ সেগুলোর মুখোমুখি হয়েছে ও নিজের দুর্বলতা অনুভব করেছে। ফলে সে স্বভাবগতভাবেই ধর্মপ্রাণ হয়ে উঠেছে, আধ্যাত্মিকতার প্রতি অনুরাগী হয়েছে এবং সর্বদা স্রষ্টাকে জানার অন্বেষায় লিপ্ত থেকেছে। পার্থিব জগত থেকে মুক্তি লাভের মাধ্যম হিসেবে সে বৈরাগ্যকে অবলম্বন করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المادة، وينتظم في دنيا الروح، وهيهات أن تجد هندوسيًّا لا يعبد عددًا من الآلهة؛ فالعالم عنده زاخر بها، حتى أنه يصلي للنمر الذي يفترس أنعامه، ولجسر الخط الحديدي الذي يصنعه الأوروبي، وللأوروبي نفسه عند الاقتضاء.وقد عرف الهنود القُدماء عبادة الحيوانات، وبخاصة البقرة، كما عرفوا قوى الطبيعة، وعرفوا كذلك عبادة عضو التلقيح؛ معتقدين أنه سبب الخلق، وكان هذا الإله يسمى عندهم "لينجا" وهي من اشتقاق كلمة إنجليزية "لينك" أي: صلة ورابطة، وفي العصور الآرية اندمج هذا الإله في الإله الذي تكون منه الثالوث الهندي، وعبادة الهنود للحيوانات نشأت عن الفكر التوطمي، أو عن اعتقادهِ بأن الله يتجلى في بعض الأحياء؛ فيحل فيها فيحتمل حلوله في هذا الحيوان أو ذاك، أو لأنهم آمنوا بالتناسخ، فجاز عندهم أن يكون الحيوان جدًّا قديمًا، أو صديقًا عائدًا إلى الحياة.وقد كان للبقرة من بين الحيوانات قدسية خاصة، ولذلك سنخصها بالذكر فيما يلي، ثم نتكلم بعد الحديث عنها عن آلهة الهنود من الظواهر الطبيعية.عبادة البقرة:من بين المعبودات سالفة الذكر: حظيت البقرة في الهند بأسمى مكانة، وهي من المعبودات الهندية التي لم تضعف قداستها مع كر السنينن وتوالي القرون؛ ففي "الويدا" حديث عن قدسيتها والصلاة لها، ولا تزال البقرة حتى الآن تحتفظ بهذه القدسية؛ ففي الأدب المنسوب للمهاتما غاندي، تفسير لما حظيت به البقرة قديمًا وحديثًا من نفوذ ديني.
বস্তু জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশ করে। এমন কোনো হিন্দু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে বহু দেবতার উপাসনা করে না; তার নিকট বিশ্বজগত দেবতায় পরিপূর্ণ, এমনকি সে তার গবাদি পশু ভক্ষণকারী বাঘের কাছে প্রার্থনা করে, ইউরোপীয়দের তৈরি করা রেলসেতুর কাছে নতিস্বীকার করে, এমনকি প্রয়োজনবোধে খোদ ইউরোপীয় ব্যক্তিরও উপাসনা করে।প্রাচীন হিন্দুরা পশুপূজা, বিশেষ করে গো-পূজা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল। তদ্রূপ তারা প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের উপাসনা করত এবং প্রজনন অঙ্গের উপাসনাও করত; তাদের বিশ্বাস ছিল যে এটিই সৃষ্টির মূল কারণ। তাদের নিকট এই দেবতা 'লিঙ্গ' নামে পরিচিত ছিল, যা ইংরেজি শব্দ 'লিঙ্ক' (Link) থেকে ব্যুৎপন্ন বলে মনে করা হয়, যার অর্থ: সংযোগ বা বন্ধন। আর্য যুগে এই দেবতাটি সেই দেবতার সাথে একীভূত হয়ে যায় যার সমন্বয়ে হিন্দু ত্রিমূর্তি গঠিত হয়েছে। হিন্দুদের পশুপূজার উদ্ভব হয়েছে টোটেমবাদী চিন্তা থেকে, অথবা তাদের এই বিশ্বাস থেকে যে ঈশ্বর কিছু জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে আত্মপ্রকাশ করেন; ফলে তিনি সেগুলোর মধ্যে অধিষ্ঠান করেন এবং কোনো নির্দিষ্ট পশুর মধ্যে তাঁর অধিষ্ঠান সম্ভব বলে তারা মনে করে। অথবা যেহেতু তারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী ছিল, তাই তাদের নিকট কোনো পশু তাদের কোনো প্রাচীন পূর্বপুরুষ কিংবা পুনরায় জীবনে ফিরে আসা কোনো বন্ধু হওয়া সম্ভব ছিল।পশুদের মধ্যে গরুর একটি বিশেষ পবিত্রতা ছিল, বিধায় আমরা নিম্নে বিশেষভাবে এর আলোচনা করব। অতঃপর গো-পূজা সম্পর্কে আলোচনার পর আমরা প্রাকৃতিক বিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট হিন্দু দেবতাদের বিষয়ে আলোকপাত করব।গো-পূজা:উল্লিখিত উপাস্যগুলোর মধ্যে ভারতে গরু সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে। এটি ভারতের এমন এক উপাস্য যার পবিত্রতা যুগ-যুগান্তরের বিবর্তনেও ম্লান হয়নি। 'বেদ'-এ এর পবিত্রতা এবং এর প্রতি নিবেদিত প্রার্থনার উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমান কাল পর্যন্ত গরু এই পবিত্রতা ধরে রেখেছে। মহাত্মা গান্ধীর নামে প্রচলিত সাহিত্যে প্রাচীন ও আধুনিক কালে গরুর ধর্মীয় প্রভাবের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي مجلة تصدر في بومباي بالهند سنة 1963 بها عدة مقالات عن عبادة البقر، نَقْتَبِس هُنا خُلاصة هذه المقالات، وأوّل ما نقتبسه نشيد من سامويدا نشرته المجلة في صفحة مُستقلة، داخل رسم تخطيطي للبقرة، ترجمة هذا النشيد: "صلاة إلى البقرة، أيتها البقرة المقدسة، لكي التمجيد والدعاء، في كل مظهر تظهرين به، أنثى تدرين اللبن في الفجر وعند الغسق، أو عجلًا صغيرًا أو ثورًا كبيرًا، فلنعد لك مكانًا واسعًا نظيفًا يليق بك، وماء نقيًّا تشربينه، لعلك تنعمين بيننا بالسعادة".وهناك أسطورة تروى كمحادثة نقتبسها من المجلة، وهي محادثة جرت بين خنزير وملك، ونحن ننقلها فيما يلي: "ذهب الخنزير يومًا إلى ملك وهو يصلي أمام البقرة، ويعلن لها أنها معبوده الأسير عنده، فقال الخنزير للملك: متى ستعبدني؟ فثار الملك ونهر الخنزير، قائلًا: اخرج وإلا قتلتك. بكى الخنزير وانتحب، وقال: نعم، أنا أعرف أنك تحب فقط لحمي، فأنا أموت لأقدم لك ما تحب، ومع هذا؛ فإنك تعبد البقرة ولا تعبدني، فأجاب الملك: إنك أحمق أيها الخنزير إنني آخذ لحمك بعد موتك، أي بعد أن تكون في حال لا تستطيع أن تمنح، ولا أن تمنع، وسرعان ما ينتهي لحمك. أما البقرة فإنها تقدم لي طعامي، طائعة وهي حية، وكذلك تستمر تقديمه من يوم إلى يوم دون نهاية، إنها رمز الإيثار ولذلك فإنا أعبدها".أما رأي المهاتما غاندي في عبادة البقرة؛ فجدير بأن نفسح له مكانًا وأن نحاول أن ننقله كله أو جله من هذه المجلة، وهو بعنوان: "أمي البقرة" وفيما يلي ترجمة أهم ما جاء به:إن حماية البقرة التي فرضتها الهندوسية هي هدية الهند إلى العالم، وهي إحساس برباط الإخوة بين الإنسان وبين الحيوان، والفكر الهندي يعتقد أن البقرة أم للإنسان، وهي كذلك في الحقيقة، إنّ البقرة خير رفيق للمواطن الهندي،
১৯৬৩ সালে ভারতের বোম্বে থেকে প্রকাশিত একটি সাময়িকীতে গো-পূজা সম্পর্কে বেশ কিছু নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। আমরা এখানে সেই নিবন্ধগুলোর একটি সারাংশ উদ্ধৃত করছি। প্রথমত আমরা সামবেদের একটি স্তোত্র উদ্ধৃত করছি যা সাময়িকীটি একটি গরুর রেখাচিত্রের অভ্যন্তরে একটি স্বতন্ত্র পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেছিল। স্তোত্রটির অনুবাদ নিম্নরূপ: "গাভীর প্রতি প্রার্থনা; হে পবিত্র গাভী, তোমার প্রতিটি রূপের জন্যই মহিমা ও উপাসনা নিবেদিত। তুমি উষালগ্নে ও গোধূলি বেলায় দুগ্ধদানকারী গাভী হও, কিংবা ছোট বাছুর অথবা বিশালাকায় ষাঁড়—আমরা যেন তোমার উপযুক্ত এক প্রশস্ত ও পরিচ্ছন্ন স্থান এবং পান করার জন্য নির্মল পানি প্রস্তুত করি, যাতে তুমি আমাদের মাঝে সুখে অবস্থান করতে পারো।"উক্ত সাময়িকীতে একটি উপাখ্যান কথোপকথন আকারে বর্ণিত হয়েছে, যা একটি শুকর ও একজন রাজার মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। আমরা তা নিম্নে তুলে ধরছি: "একদিন একটি শুকর এক রাজার নিকট গেল, যখন তিনি একটি গাভীর সামনে প্রার্থনা করছিলেন এবং ঘোষণা করছিলেন যে, এটিই তার পরম আরাধ্য। শুকরটি রাজাকে বলল: আপনি কবে আমার পূজা করবেন? রাজা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে শুকরটিকে ধমক দিয়ে বললেন: এখান থেকে বেরিয়ে যাও, নতুবা আমি তোমাকে হত্যা করব। শুকরটি তখন উচ্চস্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলল: হ্যাঁ, আমি জানি আপনি কেবল আমার মাংসই পছন্দ করেন; আপনি যা ভালোবাসেন তা সরবরাহ করতে আমি জীবন উৎসর্গ করি, তবুও আপনি গাভীর পূজা করেন কিন্তু আমার করেন না। রাজা উত্তর দিলেন: ওহে শুকর, তুমি বড়ই নির্বোধ! আমি তোমার মৃত্যুর পর তোমার মাংস গ্রহণ করি, অর্থাৎ এমন এক অবস্থায় যখন তোমার কিছু দেওয়ার বা বাধা দেওয়ার কোনো ক্ষমতা থাকে না এবং তোমার মাংসও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, গাভী জীবিত অবস্থায় স্বেচ্ছায় আমাকে অন্ন দান করে এবং এভাবেই দিনের পর দিন অবিরাম তা দিয়ে যায়। সে পরার্থপরতার প্রতীক, আর সে কারণেই আমি তার পূজা করি।"গো-পূজা সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধীর মতামত এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হবে এবং আমরা উক্ত সাময়িকী থেকে তাঁর বক্তব্যের প্রায় পুরোটাই তুলে ধরার চেষ্টা করব। এর শিরোনাম ছিল: "আমার জননী গাভী"। নিম্নে তাঁর বক্তব্যের প্রধান অংশগুলোর অনুবাদ প্রদান করা হলো:হিন্দুধর্ম কর্তৃক প্রবর্তিত গো-রক্ষা হলো বিশ্বের প্রতি ভারতের একটি উপহার। এটি মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের এক বিশেষ অনুভূতি। ভারতীয় দর্শন বিশ্বাস করে যে, গাভী মানুষের জননী এবং বাস্তবেও সে তাই। গাভী ভারতীয় নাগরিকের সর্বোত্তম সঙ্গী।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهي خير حماية للهند، عندما أرى بقرة لا أعدني أرى حيوانًا؛ لأنني أعبد البقرة وسأدافع عن عبادتها أمام العالم الأجمع.وأمي البقرة تفضل أمي الحقيقية من عدة وجوه: فالأم الحقيقة ترضعنا مدة عام أو عامين، وتتطلب منا خدمات طول العمر نظير هذا؛ لكن أمنا البقرة تمنحنا اللبن دائمًا، ولا تتطلب منا شيئًا مقابل ذلك سوى الطعام العادي، وعندما تمرض الأم العادية تكلفنا نفقات باهظة، ولكن أمنا البقرة لا نخسر لها شيئًا ذا بال.وعندما تموت الأم الحقيقية تتكلف جنازتها مبالغ طائلة، وعندما تموت أمنا البقرة تعود علينا بالنفع كما كانت تفعل وهي حية؛ لأننا ننتفع بكل جزء من جسمها حتى العظم والجلد والقرون.أنا لا أقول هذا لأقلل من قيمة الأم، ولكن لأبين السبب الذي دعاني لعبادة البقرة؛ إنّ ملايين الهنود يتجهون للبقرة بالعبادة والإجلال، وأنا أعد نفسي واحدًا من هؤلاء الملايين.وأما الآلهة الأخرى التي يعبدها الهنود؛ فهي ترتبط بالظواهر الطبيعية، الآلهة من الظواهر الطبيعية، من آلهة الآريين التي وردت في كتبهم المقدسة، مجموعة من الظواهر الطبيعية مثل: وارونا إله السماء، إندرا إله الرّعد، الذي يُسبب الأمطار، وكانت له الغلبة فيما بعد، الشمس وكانت تُعبد في خمسة أشكال؛ فتعبد لذاتها باسم سوريا، وتعبد كمصدر للانتعاش باسم ساوتري، وتعبد لتأثيرها في نمو الحشائش والنبات باسم بوشان، وتعبد كبنت السماء باسم مترا، وأخيرًا باسم وشنو أي النائب عن الشمس ثم استقل وشنو فعبد لذاته.
এটি ভারতের জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষা; যখন আমি একটি গাভী দেখি, তখন আমি মনে করি না যে আমি কোনো পশু দেখছি; কারণ আমি গাভীকে পূজা করি এবং সমগ্র বিশ্বের সামনে আমি এই উপাসনার সপক্ষে যুক্তি দেব।আমার গো-মাতা বিভিন্ন দিক থেকে আমার জন্মদাত্রী মায়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: জন্মদাত্রী মা আমাদের এক বা দুই বছর দুধ পান করান এবং এর বিনিময়ে সারা জীবন সেবা প্রত্যাশা করেন; কিন্তু আমাদের গো-মাতা সর্বদা আমাদের দুধ দেয় এবং এর বিনিময়ে সাধারণ খাদ্য ছাড়া আর কিছুই দাবি করে না। যখন সাধারণ মা অসুস্থ হন, তখন আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়, কিন্তু আমাদের গো-মাতার জন্য আমাদের উল্লেখযোগ্য কোনো লোকসান হয় না।যখন জন্মদাত্রী মা মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু আমাদের গো-মাতা মারা গেলে তিনি জীবিত অবস্থার মতোই আমাদের জন্য কল্যাণকর থাকেন; কারণ আমরা তাঁর শরীরের হাড়, চামড়া ও শিং থেকে শুরু করে প্রতিটি অংশ দ্বারা উপকৃত হই।আমি মায়ের মর্যাদা কমানোর জন্য এ কথা বলছি না, বরং গাভী পূজার পেছনে আমার কারণটি স্পষ্ট করার জন্য বলছি; লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে গাভীর উপাসনা করে এবং আমি নিজেকে সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের একজন মনে করি।ভারতীয়দের উপাস্য অন্যান্য দেবদেবী প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। আর্যদের পবিত্র গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত দেবতাদের একটি অংশ প্রাকৃতিক শক্তিরই প্রতিফলন, যেমন: আকাশদেবতা বরুণ; বজ্রদেবতা ইন্দ্র—যিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে যাঁর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়; এবং সূর্য, যা পাঁচটি রূপে পূজিত হতো। সূর্য স্বয়ং নিজের নামে 'সূর্য' হিসেবে পূজিত হতো; সজীবতার উৎস হিসেবে 'সাবিত্রী' নামে পূজিত হতো; তৃণলতা ও উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার প্রভাবের কারণে 'পুষাণ' নামে পূজিত হতো; আকাশের কন্যা হিসেবে 'মিত্র' নামে এবং সবশেষে 'বিষ্ণু' অর্থাৎ সূর্যের প্রতিনিধি হিসেবে পূজিত হতো, পরবর্তীতে বিষ্ণু স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেন এবং স্বমহিমায় পূজিত হতে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أيضًا أغنى إله النار، أوشا إله الصبح، رودرا إله العواصف، بارجينيا إله المطر والمياه والإنهار وايواتو إله الرياح، ويعلق الكتاب هنديوسم على كثرة الإلهه بقول: إن هذه الديانة توزع الآلهة حسب المناطق، وحسب الأعمال التي تناط بهذه الإلهه؛ فلكل منطقة إله، ولكل عمل وظاهرة إله.ويقول مولانا محمد عبد السلام الرنبوري: كانت الأمة الهندية متسامحة في كل ما يعرض عليها من الأفكار والمعتقدات تكثر عندها الآراء والابتكارات، وكان الناس حيارى مُشرفين على القبول والمعاضدة، عقائدهم متضاربة، وأفكارُهم متباينة؛ فشتْ فيهم رهبانية، وسرت فيهم باطنية، قامت حلقات الفكر في كل نواحي القطر، يتزعمها العرفاء والعلماء، ونشأت دراسات أخلاقية، قصدها العامة والخاصة.قد عمت الرياضات الشاقة المتعبة في سبيل حصول السيطرة على القوة الكونية، ورجى التبتل في الكهوف؛ للمراقبات النفسية، والانقطاع في الغابات لإتعاب الأبدان؛ لتبقى القوى الروحانية، وعلى هذا اشتهرت الهند بكثرة الأديان والمعتقدات التي تضارع في كثرتها لغات الهند، أو تقرب منها، وكانت الهندوسية أشهر هذه الأديان، وأوسعها انتشارًا؛ بل إنها الدين العام الذي حوى غالبية الهنود أو كلهم، وإذا تمردوا عليه أحيانًا، أو تمرد بعضهم عاد المتمردون بعد وقت قصير أو طويل إلى رحابه.وقد وضح كتاب (هندوستم) السبب في ذلك بقوله: "إنه لمن الصعب أن يُطلق على الهندوسية دينًا بالمعنى الشائع؛ فالهندوسية أشمل وأعمق من الدين، إنها صفة لملامح المجتمع الهندي بنظامه الطبقي، ومكان كل طبقة فيه، إنها الحياة الهندية وأسلوبها الخاص، الذي يعتبر في ذاته شعيرة من الشعائر، إنها خليط
একইভাবে অগ্নি আগুনের দেবতা, ঊষা ভোরের দেবী, রুদ্র ঝড়ের দেবতা, পর্জন্য বৃষ্টি, জল ও নদ-নদীর দেবতা এবং বায়ু বাতাসের দেবতা। 'হিন্দুইজম' গ্রন্থে এই বহুদেববাদ সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে যে: এই ধর্ম অঞ্চলভেদে এবং দেবতাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী দেবতাদের বণ্টন করে থাকে; ফলে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য যেমন একজন দেবতা রয়েছেন, তেমনি প্রতিটি কাজ ও প্রাকৃতিক ঘটনার জন্যও একজন করে দেবতা নির্দিষ্ট।মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সালাম আল-রানপুরী বলেন: ভারতীয় জাতি তাদের সামনে উপস্থাপিত সকল চিন্তা ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল ছিল। সেখানে বিভিন্ন মত ও উদ্ভাবনের আধিক্য ছিল। মানুষ বিভ্রান্তিতে থাকলেও তারা গ্রহণ ও সমর্থনের দ্বারপ্রান্তেই ছিল। তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাসগুলো ছিল পরস্পরবিরোধী এবং চিন্তাগুলো ছিল বৈচিত্র্যময়। তাদের মধ্যে বৈরাগ্যবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বাতেনি বা রহস্যবাদী চিন্তা অনুপ্রবেশ করেছিল। দেশের সব প্রান্তে চিন্তাশীলদের মজলিস কায়েম হয়েছিল, যেগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক ও পণ্ডিতবর্গ। সেখানে নৈতিক পাঠের উদ্ভব হয়েছিল, যার প্রতি সাধারণ ও বিশিষ্ট উভয় শ্রেণীর মানুষই আকৃষ্ট হয়েছিল।মহাজাগতিক শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভের উদ্দেশ্যে কঠোর ও ক্লান্তিকর শারীরিক সাধনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। আত্মিক পর্যবেক্ষণের জন্য গুহায় নির্জনবাস এবং শারীরিক শক্তিকে ক্লান্ত করে আধ্যাত্মিক শক্তিকে সজীব রাখার জন্য বনে-জঙ্গলে বিচ্ছিন্ন জীবন যাপনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এ কারণেই ভারত বহু ধর্ম ও বিশ্বাসের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যার সংখ্যা ভারতের ভাষার সংখ্যার সমান বা তার কাছাকাছি। হিন্দুধর্ম ছিল এসব ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং সর্বাধিক বিস্তৃত। এমনকি এটিই ছিল সাধারণ ধর্ম যা অধিকাংশ ভারতীয়কে অথবা তাদের প্রায় সবাইকেই নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিল। যদি কখনো তারা এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করত, অথবা তাদের কেউ কেউ বিদ্রোহ করত, তবে সেই বিদ্রোহীরা স্বল্পকাল বা দীর্ঘকাল পরে পুনরায় এর আশ্রয়েই ফিরে আসত।'হিন্দুইজম' গ্রন্থে এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে: "সাধারণ অর্থে হিন্দুধর্মকে কেবল একটি ধর্ম বলা কঠিন; কারণ হিন্দুধর্ম ধর্মের চেয়েও অধিক ব্যাপক ও গভীর। এটি বর্ণপ্রথা ভিত্তিক ভারতীয় সমাজের বৈশিষ্ট্য এবং তাতে প্রতিটি বর্ণের অবস্থানের একটি পরিচায়ক। এটি হলো ভারতীয় জীবন ও তার বিশেষ পদ্ধতি, যা স্বয়ং একটি ধর্মীয় বিধান হিসেবে গণ্য। এটি হলো একটি মিশ্রণ..."
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يشمل الأمور المقدسة، والأمور الدنيوية جميعًا، إذ لا يوجد في الفكر الهندي حد فاصل بين الاثنين، إنها الاتجاهات الروحية والخلقية والقانونية، وهي إلى جانب ذلك مبادئ وقيود وعادات توجه الحياة الهندية، وتسيطر عليها.و (لويدا) كتاب الهندوس المقدس، يشمل مبادئ الفكر الهندي في أكثر مراحله، ويمكن أن نقسم تاريخ الفكر الهندي إلى العصور التالية:أولًا: العصور الويدي: وكلمة ويدا أو فيدا، كلمة سنسكرتية معناها الحكمة والمعرفة، ولذلك أطلقوا على واضعيها كلمة أريشيون أو الحكماء والعارفون.العصر الويدي الأول ويشمل ثلاث مراحل فرعية:أ- مرحلة انتشار الأفكار البدائية، وعبادة قوى الطبيعة: سواء في ذلك ما جلبه الآريون، أو ما كان نابعًا من البيئة الهندية، ويبدأ ذلك من القرن الخامس عشر قبل الميلاد، وفي الويدا معلومات مفيدة عن هذه المرحلة.ب- مرحلة تدوين الويدا، وتأويلها على أيدي البراهمة، ويُسمى هذا التأويل البرهمانات، وتبدأ هذه المرحلة من حوالي قبل الثامن قبل الميلاد؛ فقد ظهر في هذا العصر جماعة من أهل العلم والنظر اهتموا بالشئون الدينية، وفكروا في
এটি পবিত্র ও পার্থিব উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, কেননা ভারতীয় চিন্তাধারায় এই উভয়ের মাঝে কোনো সুস্পষ্ট বিভেদরেখা নেই। এগুলো হলো আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও আইনি প্রবণতা; তদুপরি এগুলো এমন কিছু মূলনীতি, বিধি-নিষেধ ও লোকাচার যা ভারতীয় জীবনকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।এবং ‘বেদ’ হলো হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা অধিকাংশ স্তরে ভারতীয় চিন্তাধারার মূলনীতিসমূহকে ধারণ করে। ভারতীয় চিন্তাধারার ইতিহাসকে আমরা নিম্নলিখিত যুগসমূহে বিভক্ত করতে পারি:প্রথমত: বৈদিক যুগসমূহ। ‘বেদ’ শব্দটি একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ হলো প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। এই কারণেই এর রচয়িতাদের ‘ঋষি’ বা প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানতপস্বী নামে অভিহিত করা হয়।প্রথম বৈদিক যুগ, যা তিনটি উপ-স্তরে বিভক্ত:ক- আদিম চিন্তাধারার প্রসার ও প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের উপাসনার স্তর: আর্যদের আনীত কিংবা ভারতীয় পরিবেশ থেকে উদ্ভূত—উভয় প্রকার চিন্তাই এর অন্তর্ভুক্ত। এই স্তরের সূচনা খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে। বেদে এই স্তর সম্পর্কে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বিদ্যমান রয়েছে।খ- বেদ সংকলন ও ব্রাহ্মণদের মাধ্যমে তার ব্যাখ্যার স্তর। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহকে ‘ব্রাহ্মণ্য’ বলা হয়। এই স্তরের সূচনা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী থেকে। এই যুগে একদল গবেষক ও চিন্তাবিদ শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, যারা ধর্মীয় বিষয়াবলির প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং চিন্তা-গবেষণা করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عقائدهم، فأدى التفكير بهم أو ببعضهم إلى آراء مغايرة للعقائد الموروثة؛ تكون مذهبًا هو "البرهمة".ويرى ريري سدلت أن البراهمة قاموا بهذا التأويل لمصلحتهم، وليجعلوا امتيازاتهم مقدسة، ثم إنهم لاحظوا أن الاتصال بدأ يتم ويتعمق بين جنسهم وبين السكان الأصليين؛ فأرادوا أن يضعوا نظام الطبقات ليحول بين تمام الامتزاج، وسنزيد ذلك شرحًا إن شاء الله تعالى عند الكلام عن نظام الطبقات. وبهذه المرحلة تبدأ الهندوسية التي لا تزال موجودة.ج- مرحلة تلخيص الويدا في أسفار مقدسة تسمى "الأوباميشدات" ألاوباميشدات، وهي مرحلة تبدأ من القرن السادس قبل الميلاد وتستمر إلى ما بعد الميلاد بعدة قرون.أما المرحلة الثانية فهي: عصر الإلحاد في رأي أتباع لويدا، وفيه ظهرت الديانة الجينية، والديانة البوذية، وضعفت الديانة الويدية ابتداء من القرن السادس قبل الميلاد.ثالثًا: العصر الويدي الثاني هو عصر عود النصر للويدا وانتصارها على ديني الإلحاد الجينية والبوذية، ولكن مع التوسع في شروح الويدات، وبيان الخصائص الدينية والاجتماعية التي وردت بها.ومن أهم هذه الشروح قوانين "منو" التي وضعت حوالي القرن الثالث قبل الميلاد، وبقوانين منو هذه تتضح الهندوسية، وتستقر معالمها وسنعود لشرائع منو بمزيد من الشرح فيما بعد إن شاء الله.وبهذا تصبح أكبر الديانات في الهند متمثلة في الديانات الثلاث: الهندوسية، والجينية، والبوذية. مع ما لهذه الديانات من كتب مقدسة لدى الهنود.وصل اللهم وسلم وبارك على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
তাদের বিশ্বাসসমূহ; ফলে তাদের বা তাদের মধ্য হতে কিছু ব্যক্তির চিন্তাভাবনা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসের পরিপন্থী কিছু মতামতের দিকে ধাবিত করে; যা "ব্রাহ্মণ্যবাদ" নামক একটি মতবাদ গঠন করে।রيري সডাল্ট মনে করেন যে, ব্রাহ্মণরা এই ব্যাখ্যাটি তাদের নিজস্ব স্বার্থে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোকে পবিত্র রূপ দেওয়ার জন্য করেছিল। অতঃপর তারা লক্ষ্য করল যে, তাদের জাতি এবং আদিবাসীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হতে শুরু করেছে এবং তা গভীর হচ্ছে; তাই তারা বর্ণপ্রথা প্রবর্তন করতে চাইল যাতে পূর্ণ সংমিশ্রণে বাধা সৃষ্টি করা যায়। বর্ণপ্রথা নিয়ে আলোচনার সময় আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব। আর এই পর্যায়ের মাধ্যমেই হিন্দুধর্মের সূচনা হয় যা আজও বিদ্যমান।গ- পবিত্র গ্রন্থসমূহে বেদের সারসংক্ষেপ করার পর্যায়, যাকে "উপনিষদ" বলা হয়। এটি এমন একটি পর্যায় যা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে শুরু হয় এবং খ্রিস্টীয় কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী হয়।আর দ্বিতীয় পর্যায়টি হলো: বেদের অনুসারীদের মতে নাস্তিকতার যুগ। এই যুগে জৈন ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্মের উদ্ভব ঘটে এবং খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে বৈদিক ধর্ম দুর্বল হতে শুরু করে।তৃতীয়ত: দ্বিতীয় বৈদিক যুগ হলো বেদের পুনরায় বিজয়ী হওয়ার এবং নাস্তিক্যবাদী দুই ধর্ম—জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের ওপর এর বিজয়ের যুগ। তবে এটি ছিল বেদের ব্যাখ্যাসমূহের বিস্তৃতি এবং তাতে বর্ণিত ধর্মীয় ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনার মাধ্যমে।এই ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো "মনুর বিধানাবলি", যা খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক তৃতীয় শতাব্দীতে প্রণীত হয়েছিল। মনুর এই বিধানাবলির মাধ্যমে হিন্দুধর্ম সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্থায়িত্ব লাভ করে। আমরা পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ মনুর বিধানাবলি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব।এর মাধ্যমে ভারতের বৃহত্তম ধর্মসমূহ তিনটি প্রধান ধর্মে রূপান্তরিত হয়: হিন্দুধর্ম, জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম। এর পাশাপাশি ভারতীয়দের নিকট এই ধর্মগুলোর পবিত্র গ্রন্থসমূহও বিদ্যমান রয়েছে।হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন। আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الدرس: 2 فلسفة الموت والروح، وعقيدة خلق العالم، والخلاص من الشر.
পাঠ: ২ - মৃত্যু ও আত্মার দর্শন, সৃষ্টিতত্ত্বের আকিদাহ এবং মন্দ থেকে মুক্তি.
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بسم الله الرحمن الرحيمالدرس الثاني(فلسفة الموت والروح، وعقيدة خلق العالم، والخلاص من الشر) تقسيم أبي الريحان البيروني لاعتقاد الهنودالحمد الله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين الغر الميامين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين؛ أما بعد:فنشير هنا -إن شاء الله تعالى- إلى بقية القضايا؛ حيث فلسفة الموت والروح وعلاقتها بالبدل، وعقيدة الهندوس في خلق العالم، وفكرة الخلاص من الشر؛ فنقول -وبالله التوفيق-:يُقسم أبو الريحان البيروني الهنود بالنسبة إلى اعتقادهم في البرهمية إلى خاصة وعامة، ويفترض أنّ الخاصة موحدون، وغيرهم وثنيون، وهو يقول في هذا المقام: إنما اختلف اعتقادهم الخاص والعام في كل أمة؛ بسبب أن طباع الخاصة تنازع المعقول، وتقصد التحقيق في الأصول، وطباع العامة تقف عند المحسوس، وتقتنع بالفروع.ويقول البيروني أيضًا: واعتقاد الهند في الله سبحانه وتعالى أنه الواحد الأزلي، من غير ابتداء ولا انتهاء، والمختار في فعله القادر الحكيم المدبر، المنفرد في ملكوته عن الأضداد والأنداد، وأما منشأ الوثنية في الديانة البرهمية: فهي أنهم كانوا يعبدون القوة المؤثرة في الكون، ثم لم يلبثوا أن جسدوا تلك القوى بأن اعتقدوا حلولها في بعض الأجسام؛ فعبدوا الأصنام بحلولها فيها، وتعددت آلهتهم حتى وصلت إلى ثلاثة وثلاثين إلهًا، ثم اعترى عقائدهم التغيير والتبديل، حتى انحصر الآلهة في ثلاثة أقانيم، وذلك أنهم توهموا أن للعالم ثلاثة آلهة وهي: "برهما" وهو الإله الخالق مانح الحياة، القوي الذي صدرت عنه جميع الأشياء، وينسبون إليه الشمس.الثاني: سيفا أو سيوا، وهو الإله المخرب المفني، الذي تصفر به الأوراق الخضراء، ويأتي بالهرم بعد الشباب، وينسبون إليه النار؛ لأنها عنصر مدمر مخرب.الثالث: "وشنو أو يشن" على حد تعبير البيروني ويعتقدون أن "وشنو" هذا حل في المخلوقات؛ ليبقي العالم من الفناء التام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।দ্বিতীয় পাঠ(মৃত্যু ও আত্মার দর্শন, বিশ্বসৃষ্টির আকিদা এবং অকল্যাণ থেকে মুক্তির ধারণা) ভারতীয়দের বিশ্বাস সম্পর্কে আবু রায়হান আল-বিরুনির শ্রেণিবিন্যাসসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, পবিত্র ও মহানুভব সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, সবার ওপর। অতঃপর:এখানে আমরা—আল্লাহ চাহেন তো—অবশিষ্টাংশ বিষয়াবলির প্রতি ইঙ্গিত করব; যেখানে মৃত্যু ও আত্মার দর্শন এবং দেহের সাথে এর সম্পর্ক, বিশ্বসৃষ্টি সম্পর্কে হিন্দুদের আকিদা এবং অকল্যাণ থেকে মুক্তির ধারণা আলোচিত হবে। আল্লাহর তাওফিক কামনায় আমরা বলছি:আবু রায়হান আল-বিরুনি ব্রাহ্মণবাদ বা ব্রহ্মণ্যধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের বিশেষ শ্রেণি এবং সাধারণ শ্রেণি—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন যে, বিশেষ শ্রেণির লোকেরা একেশ্বরবাদী এবং অন্যরা মূর্তিপূজক। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন: প্রতিটি জাতির মধ্যেই বিশেষ ও সাধারণ শ্রেণির বিশ্বাসের মাঝে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; কারণ বিশেষ শ্রেণির প্রকৃতি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলির অনুগামী হয় এবং তারা মূলনীতিসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অন্বেষণ করে, পক্ষান্তরে সাধারণ শ্রেণির প্রকৃতি কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর থমকে যায় এবং তারা কেবল গৌণ বিষয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।আল-বিরুনি আরও বলেন: মহান আল্লাহ সম্পর্কে হিন্দুদের বিশ্বাস হলো যে, তিনি অনাদি ও অনন্ত এক সত্তা, যার কোনো শুরু নেই এবং কোনো শেষ নেই। তিনি নিজ কর্মে স্বেচ্ছাধীন, সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময় এবং নিখিল বিশ্বের পরিচালক; তিনি তাঁর রাজত্বে সকল প্রতিপক্ষ ও সমকক্ষ থেকে মুক্ত। আর ব্রহ্মণ্যধর্মে মূর্তিপূজার উৎস হলো: তারা মহাবিশ্বে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিসমূহের উপাসনা করত, এরপর অচিরেই তারা সেই শক্তিসমূহকে মূর্তরূপ দান করে এবং বিশ্বাস করতে শুরু করে যে সেই শক্তিসমূহ কিছু দেহের মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। ফলে তারা সেগুলোতে ঐশ্বরিক সত্তার আবেশ বা অনুপ্রবেশের বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিমার পূজা শুরু করে। তাদের উপাস্য দেবতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পেতে তেত্রিশ পর্যন্ত পৌঁছায়। পরবর্তীতে তাদের আকিদায় পরিবর্তন ও পরিমার্জন ঘটে, শেষ পর্যন্ত উপাস্যরা তিনটি মূর্তিতে সীমাবদ্ধ হয়। তারা কল্পনা করত যে জগতের জন্য তিনজন দেবতা রয়েছে, যথা: "ব্রহ্মা", যিনি সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর, জীবনদানকারী এবং সেই শক্তিশালী সত্তা যাঁর থেকে সবকিছুর উৎপত্তি হয়েছে; তারা তাঁর সাথে সূর্যকে সম্পৃক্ত করে।দ্বিতীয়: শিবা বা শিব, তিনি ধ্বংসকারী ও বিনাশকারী দেবতা, যাঁর প্রভাবে সবুজ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং যিনি যৌবনের পর বার্ধক্য নিয়ে আসেন। তারা তাঁর সাথে আগুনকে সম্পৃক্ত করে; কারণ আগুন একটি বিনাশকারী ও ধ্বংসাত্মক উপাদান।তৃতীয়: আল-বিরুনির পরিভাষায় "বিষ্ণু"; তারা বিশ্বাস করে যে, এই "বিষ্ণু" সৃষ্টিজগতের মাঝে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছেন যাতে জগতকে সম্পূর্ণ বিনাশ থেকে রক্ষা করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهذه هي الإلهه الثلاثة أقانيم لإله واحد في زعمهم، والإله الواحد هو الروح الأعظم، واسمه ادما، والهنود يعتقدون أن بعض آلهتهم حلت في إنسان اسمه كريشنا، والتقى فيه الإله بالإنسان، أو حل اللاهوت في الناسوت في كرشينا، ويصفونه بأنه البطل الوديع المملوء ألوهية، لأن الإله وشنو قد حل فيه؛ فعندهم إذن فكرة الاتحاد والحلول، وفكرة الأقاليم الثلاثة، تلك التي آلت بعد إلى النصرانية.أما النفس وخلودها وتناسخ الأرواح: فهو أيضًا من أهم معتقدات الهندوسية؛ فالنفس في نظر البراهمة جوهر خالد صافٍ، ما دام منفصلًا عن الجسم، والنفس عندهم خالدة باقية لا يعتريها الفناء، ولا يتطرق إليها البلى، وهي تنتقل من جسم إلى جسم، ومن ذلك جاء اعتقادهم في تناسخ الأرواح، وقد قامت عقيدة التناسخ على دعائم ثلاث:1 - اعتقادهم خلود الأروح.2 - اعتقادهم أن الروح بعد مغادرة الجسم تكون في حنان دافعًا إلى الأجسام، لما انطبع فيها من المحسوسات.3 - النفس في حالة بقائها في الجسم تُحيط علمًا بالجزئيات والكليات.وحول النّفس وخلودها يقول البيروني أيضًا: إذا تجردت النفس عن المادة كانت عالمة؛ فإذا تلبست بها كانت بقدراتها جاهلة، وظنت أنها الفاعلة، وأن أعمال الدنيا معدة لأجلها؛ فتمسكت بها، وانطبعت المحسوسات فيها؛ فإذا فارقت البدن كانت آثار المحسوسات باقية، فلم تنفصل عنها بالتمام، وحنت إليها وعادت نحوها، وهذه النظرية التي تُقرر
এবং তাদের দাবি অনুযায়ী এগুলিই হলো এক ঈশ্বরের তিন রূপ বা ‘আকনিম’। সেই এক ঈশ্বর হলেন পরমাত্মা, যাঁর নাম আত্মা (আদমা)। হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে, তাদের কোনো কোনো উপাস্য কৃষ্ণ নামক এক মানবের মাঝে আবির্ভূত হয়েছেন, যেখানে ঈশ্বর ও মানুষের মিলন ঘটেছে, অথবা কৃষ্ণের মাঝে ঈশ্বরত্ব ও মনুষ্যত্বের সংমিশ্রণ ঘটেছে। তারা তাঁকে দিব্যগুণে গুণান্বিত এক শান্ত ও বিনয়ী বীর হিসেবে বর্ণনা করে, কারণ তাদের বিশ্বাস মতে দেবতা বিষ্ণু তাঁর মাঝে প্রবিষ্ট হয়েছেন। সুতরাং তাদের মাঝে ঐশ্বরিক মিলন ও অবতারবাদ এবং ত্রিত্ববাদের ধারণা বিদ্যমান, যা পরবর্তীকালে খ্রিস্টধর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে।আর আত্মা, এর অমরত্ব ও জন্মান্তরবাদ প্রসঙ্গে: এটিও হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান বিশ্বাস। ব্রাহ্মণদের মতে, আত্মা এক চিরন্তন ও বিশুদ্ধ সত্তা যতক্ষণ তা দেহ থেকে মুক্ত থাকে। তাদের নিকট আত্মা অমর ও অক্ষয়, এর কোনো বিনাশ বা ক্ষয় নেই। এটি এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয় এবং এ থেকেই জন্মান্তরবাদে তাদের বিশ্বাসের উৎপত্তি। জন্মান্তরবাদের এই আকিদা তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:১ - আত্মার অমরত্বে তাদের বিশ্বাস।২ - তাদের এই বিশ্বাস যে, আত্মা দেহ ত্যাগের পর দেহের প্রতি এক প্রকার ব্যাকুলতা অনুভব করে, কারণ ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়াবলি তাতে অঙ্কিত থাকে।৩ - আত্মা দেহে অবস্থানকালে আংশিক ও সামগ্রিক সকল বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।আত্মা ও এর অমরত্ব সম্পর্কে আল-বিরুনি আরও বলেন: যখন আত্মা বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে তখন সে জ্ঞানবান থাকে; কিন্তু যখন সে বস্তুর আবরণে আবৃত হয় তখন সে তার ক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং ধারণা করে যে সে নিজেই মূল কর্তা এবং পার্থিব কাজসমূহ তার জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে সে জগতের মোহে আটকে যায় এবং ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়গুলো তার ওপর ছাপ ফেলে। অতঃপর যখন সে দেহ ত্যাগ করে তখন সেই ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়ের রেশটুকু বাকি থেকে যায়, ফলে সে তা থেকে সম্পূর্ণ বিযুক্ত হতে পারে না এবং পুনরায় দেহের প্রতি ব্যাকুল হয়ে সেদিকে ফিরে আসে। আর এটিই সেই তত্ত্ব যা সাব্যস্ত করে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أنّ النّفس عالمة قبل اتصالها بالجِسْم، تُقارب نظرية أفلاطون في المثل العليا في النفس، ورُبّما كانت أصلًا لها، فالعالم لا يقع في قبضة أحد، بل هو يتنقل في البلاد والأمم تنقل الرياح والأمطار فيها، لا تقف دونه الحاجزات، ولا تسد الطريق عليه سدود من حدود وحصون.والنفس عندهم خالدة باقية لا يعروها الفناء، ولا يتطرق إليها البلى، ولقد صرح بذلك كتبهم، وهذا ما نقله البيروني يشهد بما نقول؛ قال باسيدو لأرجل يحرضه على القتال، وهما بين الصفين: إن كنت بالقضاء السابق مؤمنًا؛ فأعلم أنهم ليسوا ولا نحن بموتى، ولا زاهبين ذهابًا لا رجوع معه، فإن الأرواح غير مائتة ولا متغيرة، وإنما تتردد في الأبدان على تغير الإنسان، من الطفولة إلى الشباب والكهولة، ثم الشيخوخة التي عقباها موت البدن ثم العودة له.وقال أيضًا: كيف يذكر الموت والقتل من عرف أن النفس أبدية الوجود لا عن ولادة، ولا إلى تلف وعدم، بل هي ثابتة قائمة، لا سيف يقطعها، ولا نار تحرقها، ولا ماء يبثها، ولا ريح تيبسها؛ لكنها تنتقل من بدنها نحو آخر، كما يستبدل البدن اللباس إذا خلق؛ فما عملك لنفس لا تريد.ومن هذا النص يفهم أن عقيدتهم في النفس أنها لا تريد، وأنها تنتقل من جسم إلى جسم، ومن ذلك جاء اعتقادهم في تناسخ الأرواح، وهو الطابع الذي امتازت به الديانة البرهمية؛ حتى لقد قال في ذلك البيروني: كما أن الشهادة بكلمة الإخلاص شعار إيمان المسلمين، والتثليث علامة النصرانية، والأسبات علامة اليهودية؛ كذلك التناسخ علم النحلة الهندية، من لم يتنحله لم يكن منها.ولذلك فاعتقادهم في بقاء النفس، وأنّ النفس في بقائها في الجسم تحيط علمًا بالجزئيات، وإن كان علمها بالصورة الكلية ثابتًا لها، وهي في تنقلها من جسم
আত্মার দেহের সাথে সংযুক্ত হওয়ার পূর্বেই এটি জ্ঞানসম্পন্ন হওয়ার ধারণাটি আত্মার ব্যাপারে প্লেটোর 'আদর্শ রূপের' (Theory of Forms) তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এমনকি এটিই হয়তো সেই তত্ত্বের উৎস ছিল। বস্তুত, জ্ঞান বা জগত কারো একক কবজায় থাকে না, বরং এটি বিভিন্ন দেশ ও জাতির মাঝে বাতাস ও বৃষ্টির মতো বিচরণ করে; কোনো বাধাই তাকে আটকে রাখতে পারে না এবং কোনো সীমানা বা দুর্গের প্রাচীর তার পথ রুদ্ধ করতে পারে না।তাদের মতে, আত্মা অবিনশ্বর ও চিরস্থায়ী, যা ধ্বংস বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহ স্পষ্টভাবে এটি ব্যক্ত করেছে। আল-বিরুনী যা বর্ণনা করেছেন তা আমাদের এই বক্তব্যের সাক্ষ্য দেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে দুই সৈন্যদলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাসুদেব (কৃষ্ণ) যখন অর্জুনকে যুদ্ধে উৎসাহিত করছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি যদি পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যে বিশ্বাসী হও, তবে জেনে রেখো যে না তারা না আমরা কেউই মৃত নই, আর না আমরা এমনভাবে চিরতরে চলে যাচ্ছি যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ নেই। কেননা আত্মা অবিনশ্বর ও অপরিবর্তনীয়; এটি কেবল মানুষের শৈশব থেকে যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব এবং তারপর বার্ধক্য—যার সমাপ্তি দেহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ঘটে—এই পরিবর্তনের সাথে সাথে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় ফিরে আসে।"তিনি আরও বলেন: "মৃত্যু বা হত্যার কথা সে কীভাবে উচ্চারণ করতে পারে, যে জানে যে আত্মার অস্তিত্ব অনাদি ও অনন্ত? এটি জন্ম নেয় না, আর না এটি ধ্বংস বা অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। বরং এটি অটল ও চিরবিদ্যমান; কোনো তলোয়ার একে দ্বিখণ্ডিত করতে পারে না, কোনো অগ্নি একে ভস্মীভূত করতে পারে না, জল একে সিক্ত করতে পারে না এবং বায়ু একে শুষ্ক করতে পারে না। বরং এটি এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়, যেমন জীর্ণ হয়ে গেলে মানুষ তার পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন করে। সুতরাং তোমার কাজ এমন এক আত্মার জন্য যা ধ্বংসশীল নয়।"এই পাঠ্যাংশ থেকে বোঝা যায় যে, আত্মার ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস হলো এটি অবিনশ্বর এবং তা এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়। এখান থেকেই তাদের জন্মান্তরবাদের বিশ্বাসের উৎপত্তি, যা ব্রাহ্মণবাদী ধর্মের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই প্রসঙ্গে আল-বিরুনী বলেন: "যেভাবে তাওহীদের বাণী (কালিমায়ে ইখলাস) মুসলমানদের ঈমানের প্রতীক, ত্রিত্ববাদ খ্রিষ্টধর্মের নিদর্শন এবং সাবাত (শনিবারের পবিত্রতা) ইহুদি ধর্মের বৈশিষ্ট্য; ঠিক তেমনি জন্মান্তরবাদ হলো ভারতীয় ধর্মের মূল চিহ্ন। যে ব্যক্তি এটি বিশ্বাস করে না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"তাই আত্মার স্থায়িত্ব সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস হলো এই যে, আত্মা দেহে অবস্থানকালে জাগতিক খণ্ডজ্ঞানসমূহ লাভ করে, যদিও তার কাছে সামগ্রিক রূপের জ্ঞান পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকে। আর এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
إلى جسم تستفيد من كل جسم علمًا جديدًا بجزئيات لم تكن تعلمها؛ فليس من المعقول أن تحيط بكل الجزئيات علمًا؛ ببقائها أمدًا قصيرًا في جسم واحد، ولذلك احتاجات إلى تتبع الجزئيات، واستقراء الممكنات، وإن كانت متناهية عددها كثير، والإتيان على الكثرة وإحصاؤها علم يحتاج إلى فسحة في الأمد، ولذلك لا يحصل ذلك العلم للنفس إلا بمشاهدة الأشخاص والأنواع، وما يتناوبها من الأفعال والأحوال؛ حتى يحصل لها في كل واحد تجربة، وتستفيد بها جديدًا في المعرفة.لهذا كله كانت الأرواح تنتقل في الأجسام، وتنتقل متدرجة في الرقي من جسم إلى جسم، حتى تصل إلى الكمال المطلق، وتكون في صف الروحانيات المتجردة، وهي الملائكة، وتكون غير محجوبة عن التصرف في السماوات والأرض وتدبير الكون، وإذا كانت الروح قد ارتكبت خطايا في أثناء حلولها في أحد الأجسام أركست في حيوان دون الذي كانت فيه؛ لتكفر عن خطيئاتها، وتطهر من سيئاتها، ثم تسير قدمًا إلى الرقي، لا يعوقها عن بلوغ أوجه إلا خطايا تتأثم بها ثم تتطهر، وتستمر كذلك حتى تصل إلى الملكوت الأعلى مع الملائكة في أعلى عليين، وتتجرد من الغلاف الجسمي، وقد يكون تدرجها في أدنى؛ فتهوى إلى جهنم على حسب الأقوال عندهم.ولعقيدة التناسخ التي استولت على الفكر الهندي، وأثرت فيه كانوا يعتقدون أن الروح الواحدة، تحل في عدة من الأجسام، وأن الشخص قد تكون روحه قد حلت في مئات الأجسام قبله، يحكي البيروني عن ملك من ملوكهم أنه رسم لقومه أن يحرقوا جثته بعد موته في موضع لم يحرق فيه
এক দেহ হতে অন্য দেহে গমনের মাধ্যমে আত্মা প্রতিটি দেহ থেকে এমন সব খুঁটিনাটি বিষয়ের নতুন জ্ঞান আহরণ করে যা ইতিপূর্বে তার জানা ছিল না। কেননা, একটি মাত্র দেহে স্বল্পকাল অবস্থানের মাধ্যমে সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ের পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই কারণেই খুঁটিনাটি বিষয়সমূহের অনুধাবন এবং সম্ভাব্য বিষয়াবলির পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়ে, যদিও সেগুলোর সংখ্যা সসীম কিন্তু অত্যধিক। এই বিশালতাকে আয়ত্ত করা এবং তার পরিসংখ্যান নিরূপণ করা এমন এক জ্ঞান যা দীর্ঘ সময়ের অবকাশ দাবি করে। ফলে ব্যক্তি, প্রজাতি এবং তাদের পর্যায়ক্রমিক ক্রিয়া ও অবস্থাসমূহ প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত আত্মার পক্ষে সেই জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয় না; যাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা অর্জিত হয় এবং তার মাধ্যমে সে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।এইসব কারণেই আত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয় এবং ধাপে ধাপে উন্নতির শিখরে আরোহণ করে, যতক্ষণ না সে পরম পূর্ণতায় পৌঁছায় এবং বিমূর্ত আধ্যাত্মিক সত্তা তথা ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন আসমান ও জমিনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মহাবিশ্বের ব্যবস্থাপনায় তার সামনে কোনো অন্তরায় থাকে না। যদি কোনো আত্মা কোনো দেহে অবস্থানকালে পাপে লিপ্ত হয়, তবে তাকে পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে নিম্নতর কোনো প্রাণীর দেহে নিক্ষেপ করা হয়; যেন সে তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারে এবং পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে পারে। এরপর সে পুনরায় উন্নতির পথে অগ্রসর হয়। কোনো পাপ তাকে সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে বাধা দিলে সে তা থেকে পবিত্র হয়ে পথচলা অব্যাহত রাখে, যতক্ষণ না সে ফেরেশতাদের সাথে ইল্লিয়্যিনের উচ্চমকামে পরম রাজত্বে পৌঁছে যায় এবং শারীরিক আবরণ থেকে বিমুক্ত হয়। তাদের মতে, কখনও কখনও এই ক্রমাবনতি নিম্নগামী হতে পারে, ফলে তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।ভারতীয় চিন্তাধারায় জন্মান্তরবাদের যে বিশ্বাস আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল, তার প্রেক্ষিতে তারা বিশ্বাস করত যে, একটি আত্মা একাধিক দেহে প্রবেশ করে। এমনকি একজন ব্যক্তির আত্মা ইতিপূর্বে শত শত দেহে অবস্থান করে থাকতে পারে। আল-বিরুনি তাদের জনৈক রাজার কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি তার প্রজাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তার মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ এমন এক স্থানে দাহ করা হয় যেখানে ইতিপূর্বে অন্য কাউকে দাহ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ميت قبل، وأنهم طلبوا موضعًا كذلك فأعياهم؛ حتى وجدوا صخرة من البحر ناتئة؛ فظنوا أنهم ظفروا بالبغية، فقال لهم "باسيدو": إن هذا الملك أحرق على هذه الصخرة مرات كثيرة؛ فافعلوا ما تريدون؛ فإنما قصد إعلامهم وقد قضيت حاجتهم.ويقول الإمام محمد أبو زهرة: من عادات الهنود الدينية أن أجسامهم أكبارهم تحرق بعد الموت، وذلك لأنّ النار في اشتعالها تعلو شعلاتها إلى أعلى بخط عمودي على أفق الأرض، والعامود أقرب المستقيمات من السطوح والخطوط، ولذا تتجه الروح بهذا الاحتراق إلى أعلى، سائرة باتجاه عامودي فتصعد إلى السماء في الملكوت الأعلى في أقرب زمن، هذا سبب من أسباب حرق أجسام كبرائهم بعد موتهم، وهناك سبب آخر هو أن في الاحتراق تخليصًا للروح من غلاف الجسم تخليصًا تامًّا، وذلك أن في الجسم نقطة بها يكون الإنسان وهي متئشبه بالجسم متصلة به.فَلا تَخْلُص منه إلا باحتراق أمشاجه، وصيرورتها ذرات صغيرة بالاحتراق؛ فعندئذ تتخلص تلك النقطة، وهي معنى الإنسان، وبتخلصها تتخلص الروح من الجسم، وتعلو عنه لتتصل بجسم آخر، أو لتسمو لدرجة الملائكة، إن كانت قد وصلت إلى درجة الخلاص، وإذا تخلصت الروح من الجسم كان أمامها ثلاثة عوالم:أولها: العالم الأعلى وهو الملائكة، تصعد إليه الروح إن كانت بعملها تستأهل الصعود إليه، والخلاص من الجسم، والسمو إلى الملكوت الأعلى.والعالم الثاني: عالم الناس، وهو عالمنا الحاضر معشر الآدميين، والنفس تعود إليه بالحلول في جسم إنساني آخر؛ لتكتسب عمل خير، ولتتجنب عمل شر، إذا
...আগে মৃত, এবং তারা অনুরূপ একটি স্থান খুঁজছিল কিন্তু ব্যর্থ হলো; শেষ পর্যন্ত তারা সমুদ্রের মাঝে একটি জেগে থাকা পাথর খুঁজে পেল; তারা ভাবল যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তখন "বাসিদো" তাদের বললেন: এই রাজাকে এই পাথরের ওপর বহুবার দাহ করা হয়েছে; অতএব তোমরা যা চাও করো; তিনি কেবল তাদের অবহিত করতে চেয়েছিলেন এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ হয়েছিল।ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা বলেন: হিন্দুদের ধর্মীয় রীতিনীতির অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মরদেহ মৃত্যুর পর দাহ করা হয়। এর কারণ হলো অগ্নি প্রজ্জ্বলনের সময় এর শিখা ভূপৃষ্ঠের দিগন্তের সাথে উলম্বভাবে উপরের দিকে উঠে যায়। আর উলম্ব রেখা হলো তল ও রেখাসমূহের মধ্যে নিকটতম সরলপথ। তাই এই দহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মা ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং উলম্ব পথে ধাবিত হয়ে দ্রুততম সময়ে ঊর্ধ্বজগতের আসমানে আরোহণ করে। এটি তাদের বড়দের মরদেহ দাহ করার অন্যতম কারণ। আর একটি দ্বিতীয় কারণ হলো—দহন প্রক্রিয়ায় দেহের আবরণ থেকে আত্মার পূর্ণ মুক্তি ঘটে। কেননা দেহের ভেতর এমন একটি বিন্দু থাকে যার মাধ্যমে মানুষ অস্তিত্ব লাভ করে এবং তা দেহের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকে।দেহ থেকে সেই বিন্দুর মুক্তি ততক্ষণ সম্ভব হয় না, যতক্ষণ না এর উপাদানসমূহ দগ্ধ হয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। তখনই সেই বিন্দুটি মুক্ত হয়, যা মূলত মানুষের প্রকৃত সত্তা। এর মুক্তির মাধ্যমে আত্মা দেহ থেকে মুক্ত হয় এবং দেহ থেকে বিযুক্ত হয়ে অন্য কোনো দেহে প্রবেশ করে অথবা ফেরেশতাদের স্তরে উন্নীত হয়—যদি তা মোক্ষ বা মুক্তির স্তরে পৌঁছে থাকে। যখন আত্মা দেহ থেকে মুক্ত হয়, তখন তার সামনে তিনটি জগত উন্মুক্ত হয়:প্রথমটি: ঊর্ধ্বজগত বা ফেরেশতাদের জগত। যদি আত্মার কর্ম তাকে সেই উচ্চতায় ওঠার, দেহ থেকে মুক্তি লাভের এবং ঊর্ধ্বরাজ্যে আরোহণের উপযুক্ত করে তোলে, তবে আত্মা সেখানে আরোহণ করে।দ্বিতীয় জগত: মানুষের জগত, যা আমাদের এই বর্তমান মানব সমাজ। এক্ষেত্রে আত্মা পুনরায় অন্য কোনো মানবদেহে প্রবেশের মাধ্যমে ফিরে আসে; যাতে সে সৎকর্ম অর্জন করতে পারে এবং অসৎকর্ম পরিহার করতে পারে, যদি...
(খণ্ড: ১)
আল-আদিয়ানুল ওয়াদইয়াহ - জামিআতুল মাদিনাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
كانت أعمالها في الجسم الأول لا ترفعها إلى مراتب التقديس في أعلى عليين، ولا تنزل بها إلى أسفل سافلين في العالم الثالث وهو عالم جهنم، وهذا العالم يكون لمرتكب الخطايا الواقعين في الذنوب، وليس هناك جهنم واحدة، بل لكل أصحاب ذنب جهنم خاصة بهم؛ فالمدعون على غيرهم حقوق كاذبة، وشهود الزور لهم جهنم خاصة بهم، وسافك الدم وغاصب حقوق الناس، والمغير عليهم وقاتل البقر لهم جهنم خاصة بهم.وقاتل البرهمي وسارق الذهب ومن صحب الأمراء الذي لا ينظرون إلى رعاياهم لهم جهنم خاصة، والذي يرد قول أستاذه ولا يرضاه، ويستخف بالناس ويستهين بالكتب المقدسة، أو يكتسب بها في الأسواق له جهنم أيضًا خاصة، وهكذا لكل صنف من الآثمين جهنم بمقدار يتناسب مع ذنبه، ومقدار ما فيه من فسوق، ومقدار ما فيهم من فسوق عن الدين وخروج من حظيرته. ثم هل جهنم دائمة وكذلك الجنة؟منهم من يرى أن الجنة نزلها دائم، وأن الجحيم كذلك، وأنها لا الجنة ولا الجحيم أبدًا، على مقدار ما قدم الشخص من عمل؛ فإن كان العمل في الحياة لا يرفع إلى الجنة، ولا ينزل إلى الجحيم، أعيدت الروح إلى جسم آخر لتعمل ما يعليها أو يرديها، ومنهم من يرى أن طريق الاكتساب هي الإنسانية وحدها، وأن التردد فيها مكافأة قاصرة عن درجة الثواب والعقاب الأخروي، أما الجنة؛ فإنها في علوها تكون للنعيم الذي يستحقه من قدم عملًا حسنًا؛ ويكون البقاء فيها إلى أمد محدود.وإذا كان العمل الإنساني أثمًا وخطيئة تردت روح الشخص في الحيوان والنبات، وعقابًا لها على ما اجترحت من سيئات وقدمت من خطايا. وبقيت في ذلك أبدًا
প্রথম জীবনে তার কর্মসমূহ তাকে ইল্লিয়্যিনের উচ্চতর পবিত্র স্তরে উন্নীত করেনি, আবার তাকে তৃতীয় জগত তথা জাহান্নামের অতল গহ্বরেও নিক্ষেপ করেনি। এই জগতটি পাপাচারী ও অপরাধীদের জন্য। সেখানে কেবল একটি জাহান্নাম নেই, বরং প্রত্যেক অপরাধীর জন্য রয়েছে বিশেষ জাহান্নাম। যারা অন্যের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে মিথ্যা দাবি করে এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, তাদের জন্য নির্দিষ্ট জাহান্নাম রয়েছে; তেমনি রক্তপাতকারী, লুণ্ঠনকারী, আক্রমণকারী এবং গো-হত্যাকারীদের জন্যও রয়েছে স্বতন্ত্র জাহান্নাম।ব্রাহ্মণ হত্যাকারী, স্বর্ণ চোর এবং প্রজাদের প্রতি উদাসীন শাসকদের সহচরদের জন্য বিশেষ জাহান্নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি তার শিক্ষকের নির্দেশ অমান্য করে এবং তাতে অসন্তুষ্ট থাকে, মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং পবিত্র গ্রন্থসমূহকে অবজ্ঞা করে অথবা বাজারে তা বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করে, তার জন্যও রয়েছে বিশেষ জাহান্নাম। এভাবে প্রত্যেক শ্রেণির পাপীদের জন্য তাদের অপরাধের মাত্রা, চারিত্রিক কলুষতা এবং ধর্ম ও তার গণ্ডি থেকে বিচ্যুত হওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী জাহান্নাম নির্ধারিত। প্রশ্ন হলো, জাহান্নাম কি চিরস্থায়ী এবং জান্নাত কি তদ্রূপ?তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, জান্নাতের সুখ ও জাহান্নামের শাস্তি উভয়ই চিরস্থায়ী। আবার কেউ মনে করেন যে, জান্নাত বা জাহান্নাম কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়, বরং তা ব্যক্তির কৃতকর্মের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যদি ইহলৌকিক জীবনে কারো কর্ম এমন হয় যা তাকে জান্নাতে উন্নীত করে না আবার জাহান্নামেও পতিত করে না, তবে তার আত্মাকে অন্য কোনো দেহে স্থানান্তরিত করা হয় যাতে সে নিজেকে উচ্চতর স্তরে নিতে পারে অথবা হীনতর স্তরে নামিয়ে দিতে পারে। আবার কারো মতে, জ্ঞান ও গুণ অর্জনের মাধ্যম কেবল মানবজীবনই, আর তাতে বারবার ফিরে আসা পরকালীন সওয়াব ও আজাবের তুলনায় একটি অপূর্ণাঙ্গ প্রতিদান মাত্র। অন্যদিকে জান্নাত হলো উচ্চতর স্তরের সেই নেয়ামত যা সৎকর্মশীলদের প্রাপ্য; এবং সেখানে অবস্থান হবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।আর যদি মানুষের কর্ম অপরাধ ও পাপে পরিপূর্ণ হয়, তবে শাস্তিস্বরূপ তার আত্মা পশু বা উদ্ভিদের দেহে অধপতিত হয়; এটি তার কৃত পাপাচারের প্রতিদান। এবং সে তাতেই চিরকাল অবস্থান করে।