(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في ضوء الكتاب والسنة القسم: كتب عامة
الكتاب: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: سليمان بن عبد الرحمن الحقيل
الناشر: -
الطبعة: الرابعة، 1417هـ - 1996م
عدد الصفحات: 174
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ
লেখক: সুলায়মান বিন আব্দুর রহমান আল-হুকাইল
প্রকাশক: -
সংস্করণ: চতুর্থ সংস্করণ، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[مقدمة الطبعة الثانية]الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
في ضوء كتاب الله
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانية الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
فمنذ شهور قليلة صدرت الطبعة الأولى، من كتاب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، في ضوء كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
ومع أنني كنت أتوقع أن يجد الكتاب إقبالا لدى القراء، نظرا لأهمية الموضوع وحيويته، إلا أنني - والحق يقال - لم أكن أتصور أن يلاقي الكتاب الإقبال الواسع الذي لقيه لدى القراء على اختلاف مشاربهم، إذ نفذت الطبعة الأولى كلها. وهذا فضل من الله جل وعلا وتوفيق منه، أحمده سبحانه وأشكر ما أنعم به من توفيق.
وقد شجعني الإقبال على الكتاب على إعادة طباعته مرة ثانية، وقد أبقيت كل شيء فيه كما هو، دون حذف أو تعديل أو إضافة سوى إضافة رسالة هامة تتعلق بالأمور المنكرة وكيفية إنكارها للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله أرسلها إلى أحمد بن محمد بن سويلم وثنيان بن سعود.
أسأل الله جل وعلا أن يجعل، عملي خالصا لوجهه الكريم وأن يعز دينه ويعلي كلمته إنه نعم المولى ونعم النصير وصلى الله سلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
المؤلف
الأستاذ: الدكتور سليمان بن عبد الرحمن الحقيل
[দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা]সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজ (منكر) নিষেধ
আল্লাহর কিতাবের আলোকে
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
কয়েক মাস আগে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর আলোকে 'সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজ (منكر) নিষেধ' বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
যদিও আমি আশা করেছিলাম যে বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ও প্রাণবন্ততার কারণে বইটি পাঠকদের নিকট সমাদৃত হবে, তবুও—সত্য বলতে কি—আমি কল্পনা করিনি যে এটি বিভিন্ন রুচির পাঠকদের মধ্যে এতোটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করবে, যার ফলে এর প্রথম সংস্করণের সব কপি শেষ হয়ে গেছে। এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর পক্ষ থেকে তাওফিক; আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তিনি যে তাওফিক দান করেছেন তার জন্য শুকরিয়া আদায় করছি।
বইটির প্রতি এই আগ্রহ আমাকে এটি দ্বিতীয়বার মুদ্রণে উৎসাহিত করেছে। আমি এতে সবকিছু অপরিবর্তিত রেখেছি, কোনো কিছু বাদ দেইনি, সংশোধন বা পরিমার্জন করিনি অথবা নতুন কিছু যুক্ত করিনি; কেবল শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্র যুক্ত করেছি যা মন্দ বিষয়সমূহ (منكرات) এবং তা প্রতিরোধের পদ্ধতি সম্পর্কিত, যা তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ বিন সুওয়াইলিম ও থুনাইয়ান বিন সউদের নিকট প্রেরণ করেছিলেন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী করেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক ও উত্তম সাহায্যকারী। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লেখক
প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আল-হুকাইল
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[تقديم بقلم معالي الرئيس العام لهيئة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر]تقديم بقلم
معالي الرئيس العام لهيئة
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
د. عبد العزيز بن عبد الرحمن السعيد الحمد لله وكفى، وصلاة وسلاما على المصطفى وعلى الأصحاب الأخيار الشرفاء وبعد:
فدونك أيها المسلم كتابا صغيرا في حجمه كبيرا في فوائده، جمع فيه المؤلف ما تناثر، وآلف بينه وفصل في موضوع من أهم ما ينبغي أن يكتب فيه حتى صار مادة سهلة ميسورة يعنى بها المسلمون عموما والمحتسبون خصوصا. . وقد ساق المؤلف - وفقه الله - كلاما كثيرا من العلماء المتقدمين والمتأخرين، ودلل على ذلك بما جاء في التنزيل وفي سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
ومن المباحث الجيدة التي تلائم هذا الزمان ما عرضه المؤلف عن احتساب العامة (أي العوام من الناس) ، وفصل القول في ذلك وألزم من كان منهم في هذه البلاد المباركة، ألا يعمد إلى تغيير المنكر باليد ما دامت الهيئة موجودة، والأمر والنهي ظاهر، والمسئولية على تغيير
[সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বিষয়ক সংস্থার মাননীয় প্রধানের ভূমিকা]ভূমিকা কলমে
মাননীয় প্রধান,
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বিষয়ক সংস্থা
ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল-সাঈদ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি যথেষ্ট, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত (المصطفى) নবীর ওপর এবং তাঁর উত্তম ও সম্মানিত সাহাবীবর্গের ওপর। অতঃপর:
হে মুসলিম, আপনার সামনে এমন একটি বই রয়েছে যা আকারে ছোট হলেও এর উপকারিতা অপরিসীম। লেখক এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্যাবলি একত্রিত করেছেন এবং এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যে বিষয়ে লেখা অত্যন্ত জরুরি ছিল; ফলে এটি একটি সহজ ও সাবলীল পাঠ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে যারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব পালন করেন (المحتسبون) তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখক—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং এ বিষয়ে আল-কুরআন ও মনোনীত (المصطفى) নবীর সুন্নাহ (سنة) থেকে দলিল পেশ করেছেন।
বর্তমান সময়ের উপযোগী অন্যতম চমৎকার একটি আলোচনা হলো যা লেখক সাধারণ মানুষের (العامة) পক্ষ থেকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ পালন বিষয়ে উপস্থাপন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং এই বরকতময় ভূখণ্ডের সাধারণ মানুষের জন্য এটি আবশ্যক করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারি সংস্থা বিদ্যমান থাকে এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের কার্যক্রম প্রকাশ্য থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা যেন নিজ হাতে মন্দ বিষয় (المنكر) পরিবর্তনের পদক্ষেপ না নেয়; কেননা পরিবর্তনের দায়িত্ব মূলত...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المنكر العام تقع على عاتقها، فأحسن في ذلك وأجاد. . ومما ينبغي أن يعلم أن الرئاسة العامة لهيئة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهي الجهة التي خولها ولي الأمر (وفقه الله إلى ما يرضيه) بمحاربة المنكرات وفق أسس متينة ثابتة لهي - إن شاء الله - قادرة مستطيعة على إزالة المنكرات الظاهرة متى ما تكاتفت الأيدي وتضافرت الجهود بالحكمة والموعظة الحسنة والمجادلة بالتي هي أحسن، منطلقة في تأدية رسالتها بالتوجيهات والأوامر التي أمرنا بها ربنا - جل وعلا - في كتابه، وبما ثبت عن نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وبطاعة من ولاهم الله أمرنا في المعروف.
وأسأل الله لمؤلف هذا الكتاب جزيل الثواب، وعظيم الأجر والذكر الحسن والعمل الصالح المقبول.
كما أسأله - جلت قدرته - أن يرفع راية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ففيها، ولله العز والتمكين، قال تعالى: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 41]
وأوصي في ختام تصديري لهذا الكتاب رجال الحسبة أن يقرأوا هذا الكتاب ويستفيدوا مما ما جاء فيه من المسائل العلمية، فهي بلا شك زادهم إلى تصحيح ما يرجى تصحيحه.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
সাধারণ বর্জনীয় (منكر) বিষয়সমূহের দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়, আর তিনি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত উত্তম ও চমৎকার কাজ করেছেন। এটি জানা উচিত যে, ‘সদাচারের আদেশ ও অসদাচার নিষেধকরণ’ বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি হলো এমন এক সংস্থা যাকে দেশের অভিভাবক (আল্লাহ তাকে তাঁর সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করুন) সুদৃঢ় ও প্রমাণিত (ثابت) মূলনীতির ভিত্তিতে বর্জনীয় (منكر) বিষয়সমূহের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দায়িত্ব দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, তারা প্রকাশ্য বর্জনীয় (منكر) বিষয়সমূহ দূর করতে সক্ষম ও সামর্থ্যবান, যখনই প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ এবং সর্বোত্তম পন্থায় তর্কের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শক্তি একীভূত হবে। তারা তাদের এই মিশন পালনে আমাদের প্রতিপালক—যিনি অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ—কর্তৃক তাঁর কিতাবে প্রদত্ত নির্দেশনাসমূহ, নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে এবং আল্লাহ আমাদের ওপর যাদের কর্তৃত্ব দিয়েছেন ন্যায়ের কাজে তাদের আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
আমি আল্লাহর কাছে এই কিতাবের লেখকের জন্য প্রচুর সওয়াব, মহান প্রতিদান, সুখ্যাতি এবং গ্রহণযোগ্য (مقبول) নেক আমলের প্রার্থনা করছি।
আমি আরও প্রার্থনা করি তাঁর কাছে—যার ক্ষমতা অতি মহান—তিনি যেন সদাচারের আদেশ ও অসদাচার নিষেধের পতাকাকে সমুন্নত করেন। কারণ এতেই রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও প্রতিষ্ঠা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও বর্জনীয় (منكر) কাজ হতে নিষেধ করে; আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহরই হাতে।" [হজ: ৪১]
আমার এই কিতাবের মুখবন্ধের শেষে আমি ‘হিসবাহ’ কর্মকর্তাদের অসিয়ত করছি যেন তারা এই কিতাবটি পাঠ করেন এবং এতে বর্ণিত ইলমি মাসয়ালাসমূহ থেকে উপকৃত হন। কারণ নিসন্দেহে এটি তাদের জন্য পাথেয় স্বরূপ যাতে তারা যা সংশোধন (تصحيح) করা প্রয়োজন তা সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারেন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
[مقدمة]مقدمة الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
فهذا كتاب أعددته عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بعنوان:
" الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في ضوء كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ".
وهنا أحب أن أقرر حقيقة، وهي أن كل ما قمت به من جهد في إعداد هذا الكتاب يتلخص في أنني قمت - بقدر الاستطاعة - بعملية استقراء واستقصاء لما كتبه بعض علماء الإسلام قديما وحديثا حول موضوع الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ثم حاولت تقرير ما اطلعت عليه من أقوال هؤلاء العلماء لتقديمه إلى القارئ بأسلوب ميسر وعبارات واضحة من أجل بيان حقيقة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والقواعد والمبادئ العامة التي تحكم طريقة القيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر. . . . كما أوضحها علماء الإسلام على ضوء ما ورد في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم. وأداء للأمانة العلمية، وثقت كل كلمة نقلتها ونسبتها إلى قائلها. .
وهذا الكتاب ليس موجها إلى العلماء في ميدانه، لأنه في الواقع ثمرة من ثمرات إنتاجهم. الكتاب موجه إلى الشباب الصلحاء الأخيار
[ভূমিকা]ভূমিকা। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
এটি একটি গ্রন্থ যা আমি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রসঙ্গে প্রস্তুত করেছি, যার শিরোনাম হলো:
“আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।”
এখানে আমি একটি সত্য ব্যক্ত করতে চাই যে, এই গ্রন্থটি প্রস্তুতে আমি যতটুকু শ্রম দিয়েছি তার সারকথা হলো—আমি সাধ্যানুযায়ী প্রাচীন ও আধুনিক যুগের ইসলামের আলেমগণ কর্তৃক সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ বিষয়ক রচনাবলি বিস্তারিত পর্যালোচনা (استقراء) ও গভীর অনুসন্ধান (استقصاء) করেছি। এরপর সেই সকল আলেমদের বক্তব্য যা আমি অবগত হয়েছি, তা একজন পাঠকের সামনে সহজ পদ্ধতিতে ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি, যাতে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রকৃত স্বরূপ এবং এই মহান দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি পরিচালনাকারী সাধারণ মূলনীতি ও ভিত্তিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে... যেমনটি ইসলামের আলেমগণ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। ইলমি আমানত বা জ্ঞানগত বিশ্বস্ততা রক্ষার স্বার্থে, আমি প্রতিটি উদ্ধৃত শব্দ যাচাই করেছি এবং তা মূল বক্তার দিকে সম্পৃক্ত করেছি।
এই গ্রন্থটি এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ আলেমদের উদ্দেশ্যে রচিত নয়, কারণ এটি প্রকৃতপক্ষে তাঁদেরই জ্ঞানজাগতিক অবদানের একটি ফসল। বরং এই গ্রন্থটি মূলত সৎ ও নিষ্ঠাবান যুবকদের উদ্দেশ্যে রচিত।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الذين يعدون أنفسهم للقيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بنية صادقة وإيمان عميق، لكي يأمر هؤلاء الشباب بما يجب الأمر به شرعا وينهوا عما يجب النهي عنه شرعا. . . ولتحقيق هذه الغاية جاءت محتويات هذا الكتاب لتجيب على أسئلة عديدة منها: من هم أئمة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ وما موقف الأمم الماضية من الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ ما مظاهر اهتمام علماء الإسلام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ ما تعريف المعروف؟ وما معنى الأمر بالمعروف؟ ما تعريف المنكر؟ وما معنى النهي عن المنكر؟ ما أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ومدى الحاجة إليه؟ ما الأضرار الناتجة عن إهمال القيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ ما حكم القيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ متى يكون الأمر بالمعروف فرض كفاية؟ ومتى يتعين كونه فرض عين؟ ما الحكمة من إيجاب الشريعة الإسلامية للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ ما الشروط الواجب توافرها في الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر؟ متى يكون الأمر بالمعروف واجبا، ومتى يكون مستحبا، ومتى يكون محرما؟ ماذا يعني قول العلماء: " درء المفسدة مقدم على جلب المصلحة " في باب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ ماذا يجب أن يكون عليه موقف الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر فيما يتعلق بالأمور الكلية والجزئية؟ .
ما الكيفية والأساليب التي تؤدى بها فريضة الأمر بالمعروف والنهي
যারা সৎ নিয়ত (بنية صادقة) ও গভীর ঈমানের সাথে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, যাতে এই যুবকেরা শরীয়তসম্মতভাবে যা আদেশ করা কর্তব্য তা আদেশ করতে পারে এবং যা থেকে নিষেধ করা কর্তব্য তা নিষেধ করতে পারে। . . এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুসমূহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে বিন্যস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) ইমামগণ কারা? পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অবস্থান সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) ব্যাপারে কেমন ছিল? ইসলামি পণ্ডিতগণের সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) প্রতি মনোযোগ প্রদানের স্বরূপ কী? মারুফ বা সৎকাজের (المعروف) সংজ্ঞা কী? সৎকাজের আদেশের (الأمر بالمعروف) অর্থ কী? মুনকার বা অসৎকাজের (المنكر) সংজ্ঞা কী? অসৎকাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) অর্থ কী? সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) গুরুত্ব এবং এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) দায়িত্ব পালনে অবহেলার ফলে সৃষ্ট ক্ষতিসমূহ কী কী? সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) বিধান (حكم) কী? কখন সৎকাজের আদেশ সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية) হয়? আর কখন তা ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض عين) হওয়া নির্ধারিত হয়? ইসলামি শরীয়াহ কর্তৃক সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকে (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) আবশ্যিক করার প্রজ্ঞা (حكمة) কী? একজন সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারীর মধ্যে কী কী শর্ত থাকা আবশ্যক? কখন সৎকাজের আদেশ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক (واجب), কখন তা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (مستحب), আর কখন তা হারাম বা নিষিদ্ধ (محرم)? সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) অধ্যায়ে উলামায়ে কেরামের এই উক্তিটির অর্থ কী: "ক্ষতি দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত" (درء المفسدة مقدم على جلب المصلحة)? সামগ্রিক ও আংশিক (الكلية والجزئية) বিষয়াবলির ক্ষেত্রে একজন সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারীর অবস্থান কেমন হওয়া উচিত? .
যে পদ্ধতি ও পন্থায় সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي) এই ফরজ দায়িত্ব পালন করা হয় তার স্বরূপ কী?
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عن المنكر؟ ما الأصل في تقرير الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ .
هذه بعض الأسئلة التي أعد الكتاب من أجل الإجابة عليها.
وقد احتوى هذا الكتاب على أربعة فصول: تضمن الفصل الأول نبذة تاريخية عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وفضله ومدى الحاجة إليه وبعض الأضرار المترتبة على عدم القيام به.
وتضمن الفصل الثاني: حكم القيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، نوعية الواجب: هل هو فرض كفاية أم فرض عين؟ الحكمة من إيجاب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في الشريعة الإسلامية، الشروط الواجب توافرها في الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر، شروط وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
أما الفصل الثالث فقد تضمن أهم القواعد والمبادئ العامة التي تحكم طريقة القيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
أما الفصل الأخير فقد تضمن بيان الصفات، والآداب التي ينبغي أن يتحلى بها الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر، ليتمكن من القيام بفريضة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على الوجه الأكمل.
وقد ألحقت بهذا الكتاب رسالة هامة للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله يبين فيها كيفية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
وأخير، أسأل الله، جل وعلا أن يجعلنا جميعا من الآمرين بالمعروف
অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পর্কে? সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের বিধান নির্ধারণের মূল ভিত্তি কী?
এগুলো হলো এমন কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর প্রদানের উদ্দেশ্যেই এই বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই বইটি চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত: প্রথম অধ্যায়ে সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের সংজ্ঞা, এর ফজিলত বা গুরুত্ব, এর প্রয়োজনীয়তা এবং এটি পালন না করার ফলে সৃষ্ট কিছু ক্ষতিকর দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের দায়িত্ব পালনের বিধান, এই ওয়াজিবের ধরণ: এটি কি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) নাকি ফরজে আইন (فرض عين)? ইসলামী শরিয়তে সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধকে ওয়াজিব বা আবশ্যক করার পেছনে নিহিত প্রজ্ঞা, যিনি সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করবেন তার মধ্যে যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক, এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি।
তৃতীয় অধ্যায়ে সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নীতি ও মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর শেষ অধ্যায়ে ওই সমস্ত গুণাবলি এবং শিষ্টাচারের বর্ণনা রয়েছে, যা একজন সৎকাজে আদেশদাতা এবং অসৎকাজে নিষেধকারীর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়, যাতে তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের এই ফরজ দায়িত্বটি পালন করতে সক্ষম হন।
এই বইটির সাথে শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তিনি সৎকাজে আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
পরিশেষে, আমি মহামহিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের সকলকে সৎকাজের আদেশদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الناهين عن المنكر، وأن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به معده وقارئه.
ولا يفوتني أن التمس من أخي المسلم قارئ هذا الكتاب أن يتفضل مشكورا، بإبداء ملاحظاته وتوجيهاته، فإن المؤمن مرآة أخيه المؤمن، والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه.
وفق الله الجميع لما يحبه ويرضاه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الأستاذ الدكتور
سليمان بن عبد الرحمن الحقيل
অন্যায় কাজে বাধা প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন; এবং তিনি যেন আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে এর সংকলক ও পাঠক উভয়কে উপকৃত করেন।
আমি আমার মুসলিম ভাই তথা এই কিতাবের পাঠকের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে, তিনি যেন অনুগ্রহপূর্বক তাঁর মূল্যবান মতামত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। কেননা মুমিন হলো মুমিনের দর্পণ; আর আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।
আল্লাহ সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করুন। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
প্রফেসর ডক্টর
সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আল-হুকাইল
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[الفصل الأول نبذة تاريخية عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر]
[أولا نبذة تاريخية عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر]
[الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في الأمم الماضية]تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
- أهميته - فضله -
بعض الأضرار المترتبة على إهماله
[প্রথম অধ্যায়: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস]
[প্রথমত: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস]
[পূর্ববর্তী উম্মত বা জাতিসমূহের মধ্যে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ]সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সংজ্ঞা
- এর গুরুত্ব - এর ফযিলত -
এটি বর্জনের ফলে সৃষ্ট কিছু অপকারিতা
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أولا: نبذة تاريخية عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر 1 - الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في الأمم الماضية: لقد بعث الله، جل وعلا، أنبياءه وأرسل رسله، وحملهم مهمة القيام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وقد دل قوله تعالى: {وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} [آل عمران: 21] (1) وقوله تعالى في وصية لقمان لابنه: {يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} [لقمان: 17] (2) دلت هذه الآيات الكريمة على أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كانا واجبين في الأمم المتقدمة.
ويقول ابن تيمية رحمه الله: " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الذي أنزل به كتبه وأرسل به رسله من الدين " (3) .
ويقول الرازي: " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والإيمان بالله، إن
--------------------------------------------
প্রথমত: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক পটভূমি ১ - বিগত জাতিসমূহের মাঝে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ: মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীগণকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, আর তাঁদের ওপর সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। মহান আল্লাহর এই বাণী একথাই প্রমাণ করে: “এবং তারা মানুষের মধ্য থেকে যারা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, সুতরাং তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন” [আলে ইমরান: ২১] (১) এবং লোকমান তাঁর পুত্রকে যে অসিয়ত করেছেন সে বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: “হে প্রিয় বৎস! সালাত কায়েম করো, সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দাও, অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করো এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই এগুলো দৃঢ় সংকল্পের কাজ” [লোকমান: ১৭] (২)—এই সম্মানিত আয়াতসমূহ একথার ওপর প্রমাণ পেশ করে যে, পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মাঝেও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ আবশ্যিক (واجب) ছিল।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر), যার নিমিত্তে তিনি তাঁর কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন এবং রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, তা দ্বীনেরই অন্তর্ভুক্ত” (৩)।
রাযী বলেন: “সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف), অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, নিশ্চয়ই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هذه الصفات الثلاث كانت حاصلة في سائر الأمم " (1) .
ويقول القرطبي: " إن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كانا واجبين في الأمم المتقدمة وهما فائدة الرسالة وخلافة النبوة " (2) .
ويقول العلامة سيف الدين الآمدي: " ما من أمة إلا وقد أمرت بالمعروف ونهت عن المنكر كنهيهم عن الإلحاد وتكذيب أنبيائهم " (3) .
وعندما بعث نبينا صلى الله عليه وسلم برسالة الإسلام للناس كافة، قام بواجب الأمر بالمعروف بنفسه وكلف بعض أصحابه بالقيام به، وقد وصف الله، جل وعلا، نبيه محمد صلى الله عليه وسلم بأنه يقوم بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وذلك في قوله جل وعلا: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} [الأعراف: 157] (4) .
وكان صلى الله عليه وسلم كما وصفه ربه تعالى آمرا بالمعروف إذا رآه متروكا، ناهيا عن المنكر إذا وجده مفعولا. ولم يقتصر احتسابه على جانب من جوانب
--------------------------------------------
এই তিনটি বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী সকল উম্মতের মধ্যেও বিদ্যমান ছিল (১)।
ইমাম কুরতুবী বলেন: "নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপরও আবশ্যক (واجب) ছিল এবং এগুলোই হলো রিসালাত ও খিলাফতে নবুওয়াতের মূল সুফল" (২)।
আল্লামা সাইফ উদ্দিন আল-আমিদী বলেন: "এমন কোনো উম্মত নেই যাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া হয়নি এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা হয়নি, যেমনটি ছিল নাস্তিকতা এবং তাদের নবীদের প্রতি মিথ্যারোপ করা থেকে তাদের নিষেধ করা" (৩)।
যখন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র মানবজাতির কাছে ইসলামের রিসালাত নিয়ে প্রেরিত হলেন, তখন তিনি নিজেই সৎকাজের আদেশের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর কতিপয় সাহাবীকে তা পালনের দায়িত্ব প্রদান করেন। মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইনজীলে লিখিত পায়; তিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের বোঝার বোঝা ও শৃঙ্খল—যা তাদের ওপর ছিল—তা অপসারণ করেন} [সূরা আল-আরাফ: ১৫৭] (৪)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেমনই ছিলেন যেমনটি তাঁর প্রতিপালক বর্ণনা করেছেন—যখনই তিনি কোনো সৎকাজ বর্জিত হতে দেখতেন, তখনই তিনি তার আদেশ দিতেন এবং যখনই কোনো অসৎকাজ সংঘটিত হতে দেখতেন, তখন তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন। তাঁর ইহতিসাব (احتساب) জীবনের কোনো একটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحياة بل شمل جميع شئون الحياة (1) كلها ومن أمثلة قيامه بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بنفسه وإسناده إلى غيره (2) ما رواه في الإمام أحمد من حديث عبد الله بن عمر، رضي الله عنهما، قال: «أمرني رسول الله أن آتيه بمدية - وهي الشفرة - فأتيته بها فأرسل بها، فأرهفت، ثم أعطانيها، وقال " اغذ علي بها " ففعلت، فخرج بأصحابه إلى أسواق المدينة، وفيها زقاق خمر قد جلبت من الشام، فأخذ المدية مني، فشق ما كان من تلك الزقاق بحضرته، ثم أعطانيها وأمر أصحابه الذين كانوا معه أن يمضوا معي، وأن يعاونوني، وأمرني أن آتي إلى الأسواق كلها فلا أجد زق خمر إلا شققته، ففعلت فلم أترك في أسواقها زقا إلا شققته» (3) .
وبعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم، قام خلفاؤه وأصحابه بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر خير قيام، وامتد اهتمام المسلمين بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر قرونا طويلة، وكان من نتائج القيام بهذا الواجب العظيم أن عاش المجتمع الإسلامي في أنظف حياة وأسعدها وآمنها، لا يكاد يقع فيه منكر حتى يتتابع الإنكار له، ويتداعى
--------------------------------------------
জীবন বরং জীবনের সকল বিষয়কে (১) অন্তর্ভুক্ত করেছে। স্বয়ং তাঁর পক্ষ থেকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (منكر) পালন এবং অন্যের ওপর সেই দায়িত্ব অর্পণ করার (২) অন্যতম উদাহরণ হলো যা ইমাম আহমদে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে পাওয়া যায়; তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ আমাকে একটি বড় ছুরি—যা মূলত একটি ধারালো ফলক—নিয়ে আসার আদেশ দিলেন। আমি সেটি নিয়ে তাঁর কাছে আসলাম। অতঃপর তিনি সেটি পাঠালেন এবং তা ধারালো করা হলো। এরপর তিনি সেটি আমাকে দিয়ে বললেন: "সকালে এটি নিয়ে আমার কাছে এসো।" আমি তাই করলাম। এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে নিয়ে মদিনার বাজারগুলোতে বের হলেন। সেখানে সিরিয়া থেকে আমদানিকৃত মদের মশক (চামড়ার ব্যাগ) ছিল। তিনি আমার কাছ থেকে ছুরিটি নিলেন এবং তাঁর উপস্থিতিতেই সেই মশকগুলো চিরে ফেললেন। এরপর তিনি সেটি আমাকে ফেরত দিলেন এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন আমার সাথে যাওয়ার জন্য এবং আমাকে সাহায্য করার জন্য। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি সকল বাজারে যাই এবং যেখানেই মদের মশক পাব তা যেন চিরে ফেলি। আমি তা পালন করলাম এবং বাজারের কোনো মশকই চিরতে বাকি রাখলাম না» (৩)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর তাঁর খলিফাগণ এবং সাহাবীগণ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেন। মুসলমানদের মধ্যে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের গুরুত্ব দীর্ঘ শতাব্দী ধরে বজায় ছিল। এই মহান দায়িত্ব পালনের অন্যতম ফলাফল ছিল যে, ইসলামী সমাজ অত্যন্ত পবিত্র, সুখী ও নিরাপদ জীবন যাপন করত। সেখানে কোনো অন্যায় (منكر) সচরাচর সংঘটিত হতো না, আর ঘটলেও একের পর এক তা প্রতিহত করা হতো এবং তা নির্মূলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المسلمون إليه فيقضى عليه في مهده، وبهذا عاش مجتمعا مهيبا، طاهرا، لا يتوقح فيه أهل الفساد، ولا يتجرأ فيه أهل المعصية، وكانت العزة فيه لله ولرسوله وللمؤمنين الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر، والحافظين لحدود الله، حتى خلفت بعد ذلك خلوف، جعلوا الدنيا أكبر همهم، ومبلغ علمهم، ونسوا الله فأنساهم أنفسهم، فتقطع بينهم، وانفرط عقدهم، فلم يأمروا بمعروف ولم ينهوا عن منكر، إلا قليل ممن رحم ربك فكان ذلك سبب ما أصابهم من ذل واستعمار وفقر ودمار: {وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} [النحل: 33] (1) .
لقد كان الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والتواصي بهما، والصبر عليهما السر فيما تحقق للمسلمين من خير وبر وحياة نظيفة ودنيا صالحة واسعة على مدى تاريخهم الطويل (2) .
[تبني الدولة الإسلامية للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بشكل رسمي]2 - تبني الدولة الإسلامية للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بشكل رسمي: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر غاية الدولة الإسلامية، وهو الأساس المتين الذي بنيت عليه، وهو الغرض المنشود الذي وجدت من أجله الدولة الإسلامية، وهو الذي يميزها عن غيرها من الدول والحكومات، يقول ابن
--------------------------------------------
মুসলমানগণ সেদিকে মনোনিবেশ করত ফলে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেত। এর ফলে তারা এক প্রভাবশালী ও পবিত্র সমাজে বসবাস করত, যেখানে পাপাচারীরা ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ পেত না এবং নাফরমানরা দুঃসাহস দেখাত না। সেখানে সম্মান ও মর্যাদা ছিল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের জন্য—যারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং আল্লাহর সীমারেখা হিফাযত করে। পরবর্তীতে এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব হলো যারা দুনিয়াকেই তাদের প্রধান চিন্তার বিষয় ও জ্ঞানের শেষ সীমানায় পরিণত করল। তারা আল্লাহকে ভুলে গেল, ফলে আল্লাহও তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিলেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং তাদের ঐক্য বিনষ্ট হলো। তারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা ছেড়ে দিল, তবে যাদের ওপর আপনার রব দয়া করেছেন তারা ব্যতীত। আর এটিই ছিল তাদের ওপর আপতিত লাঞ্ছনা, উপনিবেশবাদ, দারিদ্র্য ও ধ্বংসের কারণ: {আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করছিল} [আন-নাহল: ৩৩] (১) ।
নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, এ বিষয়ে পরস্পরকে উপদেশ দেওয়া এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করাই ছিল দীর্ঘ ইতিহাস জুড়ে মুসলমানদের জন্য অর্জিত কল্যাণ, পুণ্য, পরিচ্ছন্ন জীবন এবং এক সমৃদ্ধ ও প্রশস্ত পৃথিবীর নেপথ্য রহস্য (২) ।
[ইসলামী রাষ্ট্র কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব গ্রহণ]২ - ইসলামী রাষ্ট্র কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব গ্রহণ: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ হলো ইসলামী রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এবং এটিই সেই সুদৃঢ় ভিত্তি যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত। এটিই সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য যার জন্য ইসলামী রাষ্ট্র অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং যা একে অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে। ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تيمية رحمه الله: " إذا كان جماع الدين وجميع الولايات هو أمر ونهي فالأمر الذي بعث الله به رسوله هو المعروف، والنهي الذي بعثه به هو النهي عن المنكر، وهذا نعت النبي والمؤمنين " (1) .
ويقول ابن العربي المالكي: " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الذي هو أصل الدين وخلافة المسلمين " (2) .
" وليس الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر عملا واحد، من أعمال الدولة الإسلامية بل هو كل عملها، هو الذي تسعى وراء تحقيقه بجميع وسائلها وأسبابها. ويخضع له ويعمل كل قسم من أقسامها وكل شعبة من شعبها " (3) .
يقول الإمام ابن تيمية والإمام ابن القيم كلاهما بلفظ واحد: " جميع الولايات الإسلامية مقصودها الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر " (4) ويفصل ابن تيمية رحمه الله هذا الإجمال فيقول: " والولايات كلها الدينية مثل أمرة المؤمنين، وما دونها من ملك ووزارة وديوانية سواء كانت كتابة خطاب أو كتابة حساب المستخرج أو مصروف أرزاق المقاتلة أو غيرهم، وبكل إمارة حرب وقضاء وحسبة وفروع هذه الولايات إنما
--------------------------------------------
ইবনে তায়মিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি দ্বীনের সারকথা এবং সকল শাসনব্যবস্থা আদেশ ও নিষেধই হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে যে আদেশের সাথে পাঠিয়েছেন তা হলো সৎকার্য (المعروف), এবং যে নিষেধের সাথে পাঠিয়েছেন তা হলো অসৎকার্য থেকে বারণ (النهي عن المنكر)। আর এটাই নবী এবং মুমিনদের বৈশিষ্ট্য।" (১) .
ইবনুল আরাবী আল-মালিকী বলেন: "সৎকার্যের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎকার্যের নিষেধ (النهي عن المنكر) হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং মুসলিমদের খিলাফত।" (২) .
"সৎকার্যের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎকার্যের নিষেধ (النهي عن المنكر) ইসলামি রাষ্ট্রের কর্মপরিধির মধ্যে কেবল একটি কাজ নয়, বরং এটাই তার সামগ্রিক কাজ। রাষ্ট্র তার সমস্ত উপায় ও উপকরণের মাধ্যমে এটিই বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এর প্রতিটি বিভাগ এবং প্রতিটি শাখা এর অধীনস্থ হয়েই কাজ করে থাকে।" (৩) .
ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম উভয়েই একই শব্দে বলেন: "সমস্ত ইসলামি শাসনব্যবস্থার (الولايات) মূল লক্ষ্য হলো সৎকার্যের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎকার্যের নিষেধ (النهي عن المنكر)।" (৪) ইবনে তায়মিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন: "আমীরুল মুমিনীন-এর নেতৃত্ব এবং তার অধীনস্থ রাজত্ব, মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক কাজগুলো—চাই তা পত্র আদান-প্রদান হোক, রাজস্ব আদায়ের হিসাব রাখা হোক কিংবা যোদ্ধা ও অন্যদের বেতন-ভাতা বণ্টন সংক্রান্ত কাজ হোক—এসবই দ্বীনি শাসনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। আর প্রতিটি সামরিক নেতৃত্ব, বিচার ব্যবস্থা (القضاء), হিসবাহ (الحسبة) এবং এসব শাসনের যাবতীয় শাখা মূলত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
شرعت للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر " (1) .
ولقد بلغ اهتمام المسلمين بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بأن تبنت الدولة الإسلامية بشكل رسمي الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فأقامت ولاية الحسبة، لهذه المهمة، وكانت هذه الولاية منبثقة عن رئيس الدولة ومتصلة به مباشرة. وولاية الحسبة كما عرفها علماء المسلمين: " أمر بمعروف ظهر تركه ونهي عن منكر ظهر فعله " (2) .
وقد ذكر عدد من الباحثين (3) ما يفيد بأن الخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضي الله عنه هو مؤسس نظام الحسبة. يقول القلقشندي: " وأول من قام بهذا وصنع الدرة عمر بن الخطاب، رضي الله عنه في خلافته ".
وفي العصر العباسي ازدهرت الحياة الاجتماعية، واتسعت التجارة ونمت حركة الأسواق، وتعددت المهن وبرزت ولاية الحسبة قوية السلطة. يقول الإمام الماوردي: " لما اتسع نطاق التجارة وأصبحت موردا لأهل الأعواز من كافة البلاد يتناولون فيها حاجتهم من المال، وقع غش فاحش في التجارة، وصارت الصيارف من اليهود وغيرهم يعطون مالهم بالربا،
--------------------------------------------
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের জন্য এটি প্রবর্তিত হয়েছে (১)।
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের কর্তব্যের প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ইসলামি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের নীতি গ্রহণ করেছিল। ফলে তারা এই দায়িত্ব পালনের জন্য 'বিলায়া আল-হিসবাহ' (হিসবাহ বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করে এবং এই বিভাগটি রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে উদ্ভূত এবং সরাসরি তাঁর সাথে সংযুক্ত ছিল। আর মুসলিম উলামাগণ 'বিলায়া আল-হিসবাহ'-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "সৎকাজ যখন প্রকাশ্যভাবে বর্জন করা হয় তখন সেটির আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজ যখন প্রকাশ্যভাবে সম্পাদন করা হয় তখন তা থেকে নিষেধ করা" (২)।
বেশ কয়েকজন গবেষক (৩) এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, খলিফায়ে রাশেদ ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-ই হিসবাহ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। আল-কালকাশান্দি বলেন: "যিনি সর্বপ্রথম এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং চাবুক (দুররাহ) তৈরি করেন, তিনি হলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), তাঁর খেলাফতকালে।"
আব্বাসীয় যুগে সামাজিক জীবন সমৃদ্ধ হয়েছিল, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল এবং বাজার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই সাথে পেশার বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছিল এবং হিসবাহ বিভাগ এক শক্তিশালী কর্তৃত্ব নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। ইমাম আল-মাওয়ার্দি বলেন: "যখন ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেল এবং এটি সকল দেশের অভাবী মানুষের সম্পদে পরিণত হলো যেখান থেকে তারা তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাত, তখন ব্যবসায় ব্যাপক প্রতারণা দেখা দিল এবং ইয়াহুদি ও অন্যান্য মুদ্রা বিনিময়কারীরা সুদের ভিত্তিতে অর্থ লেনদেন করতে শুরু করল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
على أن يعاد عليهم المثل في نهاية العام مثلين وأكثر منه، فأقام الرشيد محتسبا ليكون بالأسواق ولفحص الأوزان والمكاييل من الغش، وينظر في معاملات التجارة على أن تكون جارية على سنن العدل حتى لا تجامل الشرفاء على الضعفاء، والأغنياء على الفقراء " (1) .
[اهتمام علماء الإسلام بالحسبة]3 - اهتمام علماء الإسلام بالحسبة: من مظاهر اهتمام علماء الإسلام بالحسبة: ما حدث من حركة تأليف في موضوعها، حيث ألفت الكتب التعليمية بهدف توضيح دور المحتسب ومساعدته للقيام بواجباته على الوجه الأكمل.
ويبرر الإمام الماوردي رحمه الله المتوفى سنة 450 هجرية التأليف في الحسبة بقوله: " والحسبة من قواعد الأمور الدينية، وقد كان أئمة الصدر الأول يباشرونها بأنفسهم لعموم صلاحها وجزيل ثوابها، ولكن لما أعرض السلطان عنها وندب لها من هان وصارت عرضة للتكسب وقبول الرشا لان أمرها وهان على الناس خطرها، وليس إذا وقع الإخلال بقاعدة سقط حكمها، وقد أغفل الفقهاء عن أحكامها ما لم يجز الإخلال به، وإن كان أكثر كتابنا هذا يشتمل على ما قد أغفله الفقهاء أو قصروا فيه. . . فذكرنا ما أغفلوه واستوفينا ما قصروا منه " (2) ويتضح من خلال ما
--------------------------------------------
বছরের শেষে তাদের নিকট থেকে সমপরিমাণ মূল্যের দ্বিগুণ বা তারও বেশি দাবি করা হতো। এমতাবস্থায় (হারুনুর) রশীদ একজন পরিদর্শক (محتسب) নিযুক্ত করেন যাতে তিনি বাজারে অবস্থান করেন এবং ওজন ও পরিমাপে কোনো প্রতারণা আছে কি না তা পরীক্ষা করেন, আর ব্যবসায়িক লেনদেনসমূহ তদারকি করেন যাতে তা ন্যায়ের আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং উচ্চবিত্তদের জন্য দুর্বলদের ওপর কিংবা ধনীদের জন্য দরিদ্রদের ওপর কোনো পক্ষপাতিত্ব করা না হয় (১)।
[হিসবাহ (حسبة)-এর প্রতি ইসলামি স্কলারদের গুরুত্ব প্রদান]৩ - ইসলামি স্কলারদের নিকট হিসবাহ (حسبة)-এর গুরুত্ব: ইসলামি স্কলারদের হিসবাহ (حسبة)-এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের অন্যতম নিদর্শন হলো এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার আন্দোলন, যেখানে পরিদর্শক (محتسب)-এর ভূমিকা স্পষ্ট করা এবং তাকে তার দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালনে সহায়তা করার লক্ষ্যে শিক্ষামূলক গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছিল।
ইমাম মাওয়ার্দি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), যিনি ৪৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন, হিসবাহ (حسبة) বিষয়ে গ্রন্থ রচনার যৌক্তিকতা বর্ণনা করে বলেন: "হিসবাহ (حسبة) হলো দ্বীনি বিষয়াবলির অন্যতম মূলনীতি (قاعدة)। প্রথম যুগের ইমামগণ এর ব্যাপক কল্যাণ ও মহান প্রতিদানের আশায় ব্যক্তিগতভাবে এটি তদারকি করতেন। কিন্তু যখন সুলতানরা এ থেকে বিমুখ হলেন এবং এর জন্য এমন ব্যক্তিদের নিযুক্ত করলেন যারা হীন চরিত্রের অধিকারী, আর এটি যখন অর্থ উপার্জন এবং ঘুষ গ্রহণের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়াল, তখন এর গুরুত্ব হ্রাস পেল এবং মানুষের কাছে এর মর্যাদা কমে গেল। তবে কোনো মূলনীতির (قاعدة) প্রয়োগে ত্রুটি দেখা দিলেই তার বিধান রহিত হয়ে যায় না। অথচ ফকিহ (فقهاء)গণ এর এমন কিছু বিধানের ব্যাপারে উদাসীন থেকেছেন যা এড়িয়ে যাওয়া সমীচীন ছিল না। যদিও আমাদের এই গ্রন্থের অধিকাংশ বিষয়ই এমন যা ফকিহ (فقهاء)গণ উপেক্ষা করেছেন বা এর বর্ণনায় ত্রুটি করেছেন... তাই তারা যা উপেক্ষা করেছেন আমরা তা উল্লেখ করেছি এবং যা অপূর্ণ রেখেছিলেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছি।" (২) যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قاله الماوردي الأسباب التي دعت إلى التأليف في موضوع الحسبة وهي إرشاد المجتمع الإسلامي إلى جادة الصواب وتبصير المحتسب بما له وما عليه من حقوق تجاه المجتمع الإسلامي وقد تشابهت محتويات هذه الكتب لسببين (1) الأول هو أنها جميعا تهدف إلى تدريب وتعليم المحتسب ليقوم بواجب الاحتساب على الوجه الأكمل، والثاني هو أنها ألفت في مجتمع واحد تسوده نفس القيم والأفكار بالإضافة إلى أن كلا منها اقتبس مؤلفه ممن سبقه ويلاحظ أن التأليف في الحسبة مر بمرحلتين: مرحلة كان التأليف في موضوع الحسبة مختلطا بالمباحث الفقهية العامة وهذه هي المرحلة الأولى، أما المرحلة الثانية فهي ظهور الكتب الخاصة بالحسبة. وهذا النوع تأخر ظهوره حتى النصف الثاني من القرن الثالث الهجري. ومن كتب المرحلة الأولى: كتاب الأحكام السلطانية للماوردي وكتاب الأحكام السلطانية لأبي يعلى الحنبلي، وهذان الكتابان من أهم الكتب التي تعرضت لكل ما يتعلق بالأحكام السلطانية والسياسة الشرعية، سواء ما ارتبط بالحاكم والحكم أو ما ارتبط بشئون المال والجباية والخراج والأموال.
وهناك كتب أخرى تعرضت لموضوع الحسبة، وتحدثت عن ولاية الحسبة سواء من الناحية التاريخية أو من الناحية التطبيقية، ومن أهم تلك الكتب: مقدمة ابن خلدون، وصبح الأعشى للقلقشندي وإغاثة الأمة للمقريزي.
--------------------------------------------
আল-মাওয়ার্দি হিসবাহ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার নেপথ্যে থাকা কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন; আর সেগুলো হলো—ইসলামী সমাজকে সঠিক পথের দিশা প্রদান এবং মুহতাসিবকে ইসলামী সমাজের প্রতি তাঁর অধিকার ও কর্তব্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করা। এই গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তু প্রধানত দুটি কারণে সদৃশ হয়েছে: (১) প্রথমত, এগুলোর সবগুলোরই লক্ষ্য হলো মুহতাসিবকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও শিক্ষিত করে তোলা যাতে তিনি হিসবাহর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, এই গ্রন্থগুলো এমন এক সমাজে রচিত হয়েছিল যেখানে অভিন্ন মূল্যবোধ ও চিন্তাচেতনা বিরাজমান ছিল। এছাড়া প্রতিটি গ্রন্থের লেখকই তাঁর পূর্ববর্তী লেখকদের থেকে তথ্য ও উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। লক্ষণীয় যে, হিসবাহ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ধারাটি দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে: প্রথম পর্যায়ে হিসবাহর বিষয়টি সাধারণ ফিকহশাস্ত্রীয় আলোচনার সাথে মিশ্রিত ছিল। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে হিসবাহর ওপর বিশেষায়িত স্বতন্ত্র গ্রন্থরাজির আবির্ভাব ঘটে। এই বিশেষ ধারার গ্রন্থগুলো তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষার্ধের পূর্বে প্রকাশিত হয়নি। প্রথম পর্যায়ের গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-মাওয়ার্দির 'আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ' এবং আবু ইয়ালা আল-হাম্বলির 'আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ'। এই কিতাব দুটি প্রশাসনিক বিধিবিধান এবং শরয়ি রাজনীতি সংক্রান্ত যাবতীয় আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ; চাই তা শাসক ও শাসনব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট হোক অথবা অর্থব্যবস্থা, রাজস্ব সংগ্রহ, খরাজ ও সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়াবলি হোক।
আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোতে হিসবাহর বিষয়টি আলোচিত হয়েছে এবং হিসবাহর কর্তৃত্ব সম্পর্কে ঐতিহাসিক অথবা প্রায়োগিক—উভয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোকপাত করা হয়েছে। এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ইবনে খালদুনের 'মুকাদ্দিমাহ', কালকাশান্দির 'সুবহুল আশা' এবং মাকরিজির 'ইগাসাতুল উম্মাহ'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أما مؤلفات المرحلة الثانية وهي التي تخصصت في موضوع الحسبة وبخاصة ما يتعلق بكيفية الحسبة على أنواع الحرف كالحسبة على الأطباء والخبازين والجزارين والطباخين، والحسبة على المكاييل والموازين، والحسبة على الأسواق والأبنية، والطرقات، والدروب، والحسبة على المبايعات الفاسدة وتدليس الأثمان، والغش والاحتكار. . . هذه المؤلفات متعددة وكثيرة ويطول بنا المقام لو حاولنا حصرها؛ لذا سوف نذكر نماذج فقط منها. ولعل من أهم هذه الكتب وأقدمها كتاب " أحكام السوق" لمؤلفه يحيى بن عمر الأندلسي الذي ألفه وهو بمدينة سوسة في المغرب. وأما في المشرق الإسلامي فقد ألف في نفس الوقت تقريبا " كتاب الاحتساب " للإمام الناصر للحق الإطروش المتوفى سنة 304 هـ. ومن هذه الكتب أيضا كتاب " نهاية الرتبة في طلب الحسبة " لعبد الرحمن الشيرزي، منها كتاب " نهاية الرتبة في طلب الحسبة" لمؤلفه محمد بن أحمد البسام، ومنها كتاب " معالم القربة في أحكام الحسبة" لمؤلفه محمد بن محمد بن أحمد القرشي المعروف بابن الإخوة المتوفى (729هـ) . ومن الكتب المهمة في موضوع الحسبة كتاب: " الحسبة ومسئولية الحكومة الإسلامية " لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.
وبالإضافة إلى هذه الكتب فهناك كتاب في " آداب الحسبة " لمحمد بن أحمد السقطي المالقي الأندلسي، هذه بعض مؤلفات علماء الإسلام في
দ্বিতীয় পর্যায়ের রচনাবলি মূলত হিসবাহ (পৌরশাসন বা বাজার তদারকি) বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত ছিল, বিশেষ করে বিভিন্ন পেশার মানুষের ওপর হিসবাহ পরিচালনার পদ্ধতি যেমন—চিকিৎসক, রুটি বিক্রেতা, কসাই এবং পাচক বা বাবুর্চিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া পরিমাপ ও ওজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, বাজার, ভবন, রাস্তাঘাট ও অলিগলির ওপর তদারকি এবং ত্রুটিপূর্ণ কেনাবেচা, মূল্যের প্রতারণা (تدليس), জালিয়াতি ও মজুতদারির ওপর হিসবাহ পরিচালনা। এই পর্যায়ের গ্রন্থগুলো অসংখ্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ, যার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার; তাই আমরা এখানে কেবলমাত্র এর কিছু নমুনা উল্লেখ করব। সম্ভবত এই বইগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীনতম হলো ইয়াহইয়া ইবনে উমর আল-আন্দালুসি রচিত "আহকামুস সুক" নামক গ্রন্থটি, যা তিনি মরক্কোর সুসাহ শহরে অবস্থানকালে রচনা করেছিলেন। আর ইসলামী বিশ্বের পূর্বপ্রান্তে প্রায় একই সময়ে ইমাম আন-নাসির লিল-হক্ক আল-উতরুশ (মৃত্যু ৩০৪ হিজরি) "কিতাবুল ইহতিসাব" রচনা করেন। এই বিষয়ক বইগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে আবদুর রহমান আশ-শায়রাজি রচিত "নিহায়াতুর রুতবাহ ফি তালাবিল হিসবাহ", মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বাসসাম রচিত "নিহায়াতুর রুতবাহ ফি তালাবিল হিসবাহ" এবং ইবনুল উখুওয়াহ নামে পরিচিত মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কুরাশি (মৃত্যু ৭২৯ হিজরি) রচিত "মাআলিমুল কুরবাহ ফি আহকামিল হিসবাহ" নামক গ্রন্থটি। হিসবাহ বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-হিসবাহ ওয়া মাসউলিয়াতুল হুকুমাতিুল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থটি।
এই বইগুলো ছাড়াও মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাকতি আল-মালিকি আল-আন্দালুসি রচিত "আদাবুল হিসবাহ" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে; এগুলো হলো ইসলামী স্কলারদের রচিত কিছু গ্রন্থ...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
موضوع الحسبة (1) التي تعد بابا من أبواب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
ويمكن تقسيم ما ذكره العلماء من أعمال ولاية الحسبة إلى ثلاثة أقسام.
الأول: إصلاح الأمة الديني والخلقي نحو إلزام الناس بإقامة الصلاة، وتفقد الأئمة والمؤذنين ألا يفرطوا ولا يتهاونوا في أداء واجبهم، ومنع غير الأكفاء عن الإدلاء برأيهم في مسائل الشريعة، وتفقد الناس ألا يأتوا بما يعارض الأخلاق أو الشريعة كالجلوس إلى النساء المحرمة ومخالطتهن وغير ذلك.
الثاني: مراقبة الشئون التي لا تدخل في نطاق القضاء أو يصعب رفعها إلى المحكمة نحو البخس والتطفيف في الكيل أو الوزن، أو التدليس في البيع أو ثمن، والغش في المطاعم والمشارب، وبيع الأشياء المحظورة، والعقود المحرمة والاحتكار، وغير ذلك.
الثالث: مراقبة المرافق العامة نحو إصلاح شربهم وبناء سورهم ومعونة أبناء السبيل. . . وهدم البنايات المشرفة على السقوط بحيث لا تضر بنفس ولا مال، وغير ذلك (2) .
--------------------------------------------
হিসবাহর (১) বিষয়টি যা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের একটি পরিচ্ছেদ হিসেবে বিবেচিত।
হিসবাহর প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পর্কে আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন, তাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা সম্ভব।
প্রথম: উম্মাহর ধর্মীয় ও চারিত্রিক সংস্কার। যেমন—মানুষকে সালাত কায়েমে বাধ্য করা; ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ যাতে তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা শিথিলতা না করেন, তা তদারকি করা; অযোগ্য ব্যক্তিদের শরিয়তের বিষয়ে মতামত প্রদান থেকে বিরত রাখা এবং মানুষ যেন নৈতিকতা বা শরিয়ত পরিপন্থী কোনো কাজ না করে (যেমন মাহরাম নয় এমন নারীদের সাথে বসা বা মেলামেশা করা ইত্যাদি) সে বিষয়ে নজরদারি করা।
দ্বিতীয়: এমন সব বিষয় তদারকি করা যা বিচার বিভাগের আওতাভুক্ত নয় অথবা যা আদালতে উত্থাপন করা কঠিন। যেমন—পরিমাপ বা ওজনে কারচুপি করা, ক্রয়-বিক্রয় বা মূল্যে প্রতারণা (تدليس), খাদ্য ও পানীয়তে ভেজাল দেওয়া, নিষিদ্ধ বস্তু বিক্রয় করা, হারাম চুক্তি ও মজুতদারি ইত্যাদি।
তৃতীয়: জনকল্যাণমূলক বিষয়সমূহ তদারকি করা। যেমন—পানির ব্যবস্থা সংস্কার করা, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা এবং মুসাফিরদের সহায়তা করা... এবং পতনোন্মুখ ভবনগুলো ভেঙে ফেলা যাতে জানমালের কোনো ক্ষতি না হয় ইত্যাদি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[وظائف المحتسب]4 - وظائف المحتسب: مما سبق نستطيع القول بأن وظائف المحتسب كثيرة ومتعددة، وقد ذكر المؤلفون في موضوع الحسبة أنواعا مختلفة من مسئوليات المحتسب وكيفية قيامه بتلك المسئولية، وفيما يلي أهم وظائف المحتسب (1) 1.
1 - القيام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهو باب واسع، فالمعروف اسم لكل ما أمر به الشرع من قول أو عمل أو اعتقاد، والمنكر اسم لكل ما نهى عنه الشرع من قول أو عمل أو اعتقاد.
2 - ومن وظائف المحتسب مراقبة الآداب العامة، فعلى المحتسب أن يعمل على حماية الآداب العامة وعدم السماح بأن ترتكب الفواحش، وأن يتعود الناس على عادات تخالف الآداب الإسلامية في لباسهم وعاداتهم، واختلافهم، وأحاديثهم، وتسليتهم، وأفراحهم، وعلى المحتسب أن يدرك أنه لا يجوز له أن يقيد حريات الناس فيما أجازه لهم الشرع الإسلامي من إباحات وحريات؛ لأن الإسلام لا يمنع من أن يمارس المواطن المسلم حياته السليمة والصحيحة.
3 - مراقبة الصحة العامة: من وظائف المحتسب مراقبة الأماكن العامة التي يرتادها الناس للعلاج كالمستشفيات، أو للطعام كالمطاعم العامة، أو للإقامة كالفنادق، أو للنظافة كالحمامات
--------------------------------------------
[মুহতাসিবের কার্যাবলি]৪ - মুহতাসিবের কার্যাবলি: পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, মুহতাসিবের (المحتسب) কার্যাবলি অনেক ও নানামুখী। হিসবাহ (الحسبة) বিষয়ক লেখকগণ মুহতাসিবের দায়িত্বের বিভিন্ন প্রকার এবং তিনি কীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন তা উল্লেখ করেছেন। মুহতাসিবের প্রধান কার্যাবলি নিম্নে প্রদত্ত হলো (১):
১ - সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করা। এটি একটি ব্যাপক বিষয়। শরয়ি পরিভাষায় 'মারুফ' (المعروف) হলো এমন প্রতিটি কথা, কাজ বা বিশ্বাস যার নির্দেশ শরিয়ত প্রদান করেছে; আর 'মুনকার' (المنكر) হলো এমন প্রতিটি কথা, কাজ বা বিশ্বাস যা শরিয়ত নিষেধ করেছে।
২ - মুহতাসিবের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো জন-শিষ্টাচার (الآداب العامة) পর্যবেক্ষণ করা। মুহতাসিবের দায়িত্ব হলো জন-শিষ্টাচার রক্ষা করা এবং কোনো প্রকার অশ্লীলতা (الفواحش) সংঘটিত হতে না দেওয়া। এছাড়া মানুষ যাতে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, অভ্যাস, পারস্পরিক আচরণ, কথোপকথন, বিনোদন ও উৎসবে ইসলামি শিষ্টাচার পরিপন্থী রীতিনীতিতে অভ্যস্ত না হয় তা তদারকি করা। তবে মুহতাসিবকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, ইসলামি শরিয়ত মানুষকে যে সকল বৈধতা (إباحات) ও স্বাধীনতা (حريات) প্রদান করেছে, সেই ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা তার জন্য বৈধ নয়; কারণ ইসলাম কোনো মুসলিম নাগরিককে তার স্বাভাবিক ও সঠিক জীবন যাপনে বাধা দেয় না।
৩ - জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ: মুহতাসিবের অন্যতম দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করা; যেমন—চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, খাবারের জন্য সাধারণ রেস্তোরাঁ, আবাসের জন্য হোটেল কিংবা পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসলখানা (الحمامات)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العامة، كما يجب عليه أن يراقب المهن التي ترتبط بنظافتها صحة الناس، كالخبازين والطباخين والجزارين وغيرهم، وذلك للعمل على توفر الشروط الصحية اللازمة.
4 - مراقبة الأسواق: ومن وظائف المحتسب مراقبة الأسواق العامة والموازين والمكاييل والمبايعات وأنواع الغش والتدليس والاحتكار والمعاملات الربوية.
5 - مراقبة أماكن التعليم: يجب على المحتسب أن يراقب بدقة أماكن التربية والتعليم وأن يطلع على سير التعليم ومناهجه وأسلوب تلقينه. . فيعمل على منع ما هو فاسد منه وتشجيع ما هو حسن.
6 - مراقبة الأبنية: ومن وظائف المحتسب مراقبة الأبنية العامة ليرى مدى توافر صفات الإتقان في بنائها لئلا تهدد حياة الساكنين فيها. .
هذه أهم وظائف المحتسب كما تحدث عنها علماء الإسلام. ويلاحظ أن اختصاصات وصلاحيات المحتسب المكلف أصبحت من اختصاص العديد من أجهزة الدولة الإسلامية في العصر الحديث، لذا فقد أصبح من واجب هذه الأجهزة بما يتهيأ لها من إمكانات أن تطبق قاعدة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وتقوم بواجبه وفق أحكام الشريعة الإسلامية السمحة. لقد أصبحت الأمانة الآن متمثلة في هيئة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بصفتها هيئة للحسبة مكلفة، وفي البلديات بمختلف اختصاصاتها
সাধারণ জনগণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী, ঠিক যেমনভাবে তার জন্য বাধ্যতামূলক হলো সেইসব পেশার ওপর নজরদারি করা যেগুলোর পরিচ্ছন্নতার সাথে মানুষের স্বাস্থ্য জড়িত, যেমন রুটি প্রস্তুতকারক, বাবুর্চি, কসাই এবং অন্যান্য; যাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর শর্তাবলি নিশ্চিত করা যায়।
৪ - বাজার পর্যবেক্ষণ: মুহতাসিবের অন্যতম দায়িত্ব হলো সাধারণ বাজার, ওজন ও পরিমাপের যন্ত্রসমূহ, ক্রয়-বিক্রয় এবং যাবতীয় প্রতারণা, ত্রুটি গোপন (تدليس), মজুতদারি ও সুদভিত্তিক লেনদেনসমূহ পর্যবেক্ষণ করা।
৫ - শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ: মুহতাসিবের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং শিক্ষা কার্যক্রম, তার পাঠ্যক্রম ও পাঠদান পদ্ধতির খোঁজখবর রাখা আবশ্যক। তিনি এর মধ্য থেকে যা ক্ষতিকর বা কলুষিত তা বন্ধে সচেষ্ট হবেন এবং যা উত্তম (حسن) তা উৎসাহিত করবেন।
৬ - ভবন বা স্থাপনা পর্যবেক্ষণ: মুহতাসিবের কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো জননিরাপত্তামূলক ভবনসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, যাতে তিনি দেখতে পারেন যে সেগুলোর নির্মাণশৈলী কতটা সুদৃঢ় ও নিখুঁত, যাতে তা বাসিন্দাদের জীবনের জন্য হুমকির কারণ না হয়।
এগুলো হলো মুহতাসিবের প্রধান প্রধান দায়িত্ব, যা নিয়ে ইসলামের আলেমগণ আলোচনা করেছেন। লক্ষণীয় যে, বর্তমানে আধুনিক যুগে মুহতাসিবের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও ক্ষমতাগুলো ইসলামী রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার অধীনে ন্যস্ত হয়েছে। তাই এসব সংস্থার কর্তব্য হলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ (منكر)-এর মূলনীতি বাস্তবায়ন করা এবং উদার ইসলামী শরীয়াহর বিধান অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করা। বর্তমানে এই আমানত বা অর্পিত দায়িত্ব 'সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ (منكر)' বিষয়ক সংস্থার ওপর হিসবাহ (حسبة) কর্তৃপক্ষ হিসেবে এবং বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌরসভাগুলোর ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وفروعها، وفي وزارة التجارة والصحة ووزارة المعارف ووزارة التعليم العالي ووزارة العمل والشئون الاجتماعية والرئاسة العامة لتعليم البنات، وفي كل جهاز من أجهزة الدولة التي تشرف على حياة المجتمع، وأن على كل جهاز من هذه الأجهزة واجبا كبيرا ومسئولية ضخمة تجاه تطبيق نظام الحسبة، ونحب أن ننبه إلى أن ما حدث من توزع في اختصاصات وصلاحيات المحتسب في العصر الحديث إنما تتعلق بالمحتسب المكلف من قبل ولي الأمر.
هذه لمحة تاريخية موجزة عن الحسبة في الإسلام أوردناها كمدخل للحديث عن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بمعناه الشامل. ونستطيع القول بكل ثقة أن الحسبة قد وفرت الحياة السليمة للمجتمع الإسلامي.
[مزايا الحسبة]5 - مزايا الحسبة:. وكان من مزايا الحسبة ما يلي:
1 - القدرة على إزالة المنكر وتغييره في الحال، بدون إجراءات طويلة تفلت المذنب.
2 - الحسم، والسرعة في فصل القضايا، وعدم تعطيل الناس، وذلك للصلاحيات المقررة للمحتسب، فقد كان يجمع في يديه سلطة رجال الضبطية القضائية والتنفيذية (1) .
--------------------------------------------
এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহ, আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং নারী শিক্ষার সাধারণ অধিদপ্তর এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থায় যা সমাজের জীবন তদারকি করে। আর এই প্রত্যেকটি সংস্থারই হিসবাহ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কর্তব্য এবং বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এই বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যে, আধুনিক যুগে মুহতাসিবের এখতিয়ার ও ক্ষমতার যে বণ্টন হয়েছে তা মূলত শাসক কর্তৃক নিযুক্ত মুহতাসিবের সাথে সংশ্লিষ্ট।
এটি ইসলামে হিসবাহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক আলোকপাত, যা আমরা তার ব্যাপক অর্থে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের (منكر) নিষেধ সম্পর্কে আলোচনার ভূমিকা হিসেবে উল্লেখ করেছি। আমরা পূর্ণ নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) সাথে বলতে পারি যে, হিসবাহ ইসলামি সমাজের জন্য একটি সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
[হিসবাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ]৫ - হিসবাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ: হিসবাহর বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:
১ - অপরাধীকে রেহাই দিতে পারে এমন দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে মন্দ কাজ (منكر) দূর করার এবং তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা।
২ - বিষয়টি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা ও দ্রুততা এবং মানুষের কাজকে বাধাগ্রস্ত না করা; আর এটি মুহতাসিবের নির্ধারিত ক্ষমতার কারণে সম্ভব হতো। কেননা তিনি তার হাতে বিচার বিভাগীয় ও নির্বাহী পুলিশিং কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী ছিলেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
3 - وقد ترتب على ذلك: إعزاز سلطان الشرع، وخضوع الناس له رغبة أو رهبة، مما نقى حياة الناس دهرا طويلا من المنكر والبغي وجعلهم يعيشون في سعة وعافية وتعاون على البر والتقوى، فتوفر على أمور العامة رجال يراقبونها في ضوء كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
وتنصيب الدولة رجالا للقيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بصفة رسمية، يجعل القيام بهذا الأمر واجبا عليهم، وجوبا عينيا بخلاف المحتسب المتطوع فإن وجوبه عليه داخل في فروض الكفاية.
وقد حدد العلماء الفرق بين المحتسب المكلف من قبل الدولة الإسلامية والمحتسب المتطوع.
[الفرق بين المحتسب والمتطوع]6 - الفرق بين المحتسب والمتطوع: والفرق بينهما عند الإمام الماوردي من تسعة أوجه هي: (1) .
1 - أحدها أن فرضه متعين على المحتسب بحكم الولاية، وفرضه على غيره داخل في فروض الكفاية.
2 - والثاني أن قيام المحتسب به من حقوق تصرفه لا يجوز أن يتشاغل عنه، وقيام المتطوع من نوافل عمله الذي يجوز أن يتشاغل عنه بغيره.
--------------------------------------------
3 - এর ফলে শরীয়তের কর্তৃত্ব সুসংহত হয়েছে এবং মানুষ অনুরাগ বা ভীতির বশবর্তী হয়ে তার আনুগত্য করেছে, যা দীর্ঘকাল মানুষের জীবনকে অসৎকাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে পবিত্র রেখেছে এবং তাদের প্রাচুর্য, নিরাপত্তা এবং পুণ্য ও তাকওয়ার ওপর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জীবনযাপনের সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে জনসাধারণের বিষয়াবলি তদারকির জন্য এমন একদল লোক নিয়োজিত ছিলেন, যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর আলোকে সেগুলোর ওপর দৃষ্টি রাখতেন।
রাষ্ট্র কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ (منكر) নিষেধের দায়িত্ব পালনের জন্য লোক নিয়োগের বিষয়টি এই দায়িত্ব পালনকে তাদের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক করে তোলে, যা স্বেচ্ছাসেবী মুহতাসিবের (তদারককারী) চেয়ে ভিন্ন; কারণ তার ক্ষেত্রে এই দায়িত্বটি সামষ্টিক আবশ্যকতার অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামি রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত মুহতাসিব এবং স্বেচ্ছাসেবী মুহতাসিবের মধ্যে পার্থক্য উলামায়ে কেরাম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন।
[মুহতাসিব ও স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে পার্থক্য]6 - মুহতাসিব ও স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে পার্থক্য: ইমাম আল-মাওয়ার্দীর মতে তাদের উভয়ের মধ্যে নয়টি দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো হলো: (১)।
1 - একটি হলো, পদের কারণে মুহতাসিবের ওপর এটি ব্যক্তিগতভাবে পালন করা অপরিহার্য, আর অন্যদের ওপর এটি সামষ্টিক আবশ্যকতার অন্তর্ভুক্ত।
2 - দ্বিতীয়টি হলো, মুহতাসিবের পক্ষ থেকে এটি সম্পাদন করা তার প্রশাসনিক এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে বিরত থাকা তার জন্য বৈধ নয়, পক্ষান্তরে স্বেচ্ছাসেবীর পক্ষ থেকে এটি সম্পাদন করা তার নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যা ছেড়ে দিয়ে সে অন্য কাজে লিপ্ত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - الثالث أنه منصوب للاستعداء إليه فيما يجب إنكاره، وليس المتطوع منصوبا للاستعداء.
4 - والرابع أن على المحتسب إجابة من استعداه، وليس على المتطوع إجابته.
5 - الخامس أن عليه أن يبحث عن المنكرات الظاهرات ليصل إلى إنكارها، ويفحص عما ترك من المعروف الظاهر ليأمر بإقامته، وليس على غيره من المتطوعة بحث ولا فحص.
6 - والسادس: " أن له أن يتخذ على إنكاره أعوانا لأنه عمل هو له منصوب، وإليه مندوب، ليكون له أقهر وعليه أقدر وليس للمتطوع أن يندب لذلك أعوانا.
7 - والسابع: أن له أن يعزر في المنكرات الظاهرة، لا يتجاوز إلى الحدود، وليس للمتطوع أن يعزر على منكر.
8 - والثامن: أن له أن يرتزق على حسبته من بيت المال، ولا يجوز للمتطوع أن يرتزق على إنكار المنكر.
9 - والتاسع: أن له اجتهاد رأيه فيما يتعلق بالعرف دون الشرع، كالمقاعد في الأسواق، وإخراج الأجنحة فيه فيقر وينكر من ذلك ما أداه اجتهاده إليه، وليس هذا للمتطوع.
يتبين لنا مما ذكرناه عن الحسبة وعن تبني الدولة لها، أن الدولة الإسلامية أدركت بكل وضوح أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ليس
3 - তৃতীয়ত, তাকে (মুহতাসিবকে) এমন সব অন্যায় বা অস্বীকৃত (منكر) বিষয় নিরসনে নালিশ গ্রহণের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে যা প্রতিরোধ করা ওয়াজিব; কিন্তু একজন স্বেচ্ছাসেবী (متطوع) নালিশ গ্রহণের জন্য নিযুক্ত নন।
4 - চতুর্থত, অভিযোগকারীর ডাকে সাড়া দেওয়া মুহতাসিবের জন্য আবশ্যক; কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীর (متطوع) জন্য তার ডাকে সাড়া দেওয়া আবশ্যক নয়।
5 - পঞ্চমত, প্রকাশ্য অন্যায় বা অস্বীকৃত (منكرات) বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা মুহতাসিবের দায়িত্ব যাতে তিনি সেগুলো প্রতিরোধ করতে পারেন, এবং বর্জিত প্রকাশ্য সৎকাজগুলো অনুসন্ধান করাও তার দায়িত্ব যাতে তিনি তা পালনের নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের (متطوعة) ওপর কোনো প্রকার অনুসন্ধান বা তদন্তের দায়িত্ব নেই।
6 - ষষ্ঠত: অন্যায় বা অস্বীকৃত (منكر) বিষয় প্রতিরোধের জন্য তিনি সাহায্যকারী গ্রহণ করতে পারেন; কারণ এটি এমন একটি কাজ যার জন্য তিনি নিয়োজিত এবং আদিষ্ট, যাতে তিনি অধিকতর প্রভাবশালী ও সক্ষম হতে পারেন। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীর (متطوع) জন্য এ উদ্দেশ্যে সাহায্যকারী ডাকার অধিকার নেই।
7 - সপ্তমত: প্রকাশ্য অন্যায় বা অস্বীকৃত (منكرات) কাজের ক্ষেত্রে তার শাসনমূলক শাস্তি (تعزير) প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে, তবে তিনি তা নির্ধারিত শাস্তি (حدود) পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীর (متطوع) কোনো অন্যায়ের জন্য শাসনমূলক শাস্তি (تعزير) প্রদানের অধিকার নেই।
8 - অষ্টমত: তিনি তার হিসবাহ বা তদারকির কাজের বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা বায়তুল মাল থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারেন; কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীর (متطوع) জন্য অন্যায় বা অস্বীকৃত (منكر) বিষয় প্রতিরোধের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ নয়।
9 - নবমত: শরিয়ত নির্ধারিত বিষয় ব্যতীত উরফ (عرف) বা প্রথাগত বিষয়ে তার নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রয়োগের অবকাশ রয়েছে— যেমন বাজারের বসার স্থান এবং দোকান বা বারান্দার বর্ধিত অংশ বের করার মতো বিষয়সমূহ। এমতাবস্থায় তার ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী তিনি যা স্থির করবেন তা বহাল রাখবেন এবং যা আপত্তিকর মনে করবেন তা নিষেধ করবেন। স্বেচ্ছাসেবীর (متطوع) জন্য এই অধিকার নেই।
হিসবাহ এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইসলামি রাষ্ট্র স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিল যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ কেবল
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بعمل خيرت الدولة الإسلامية بين القيام به أو إهماله (1) ولا بعمل مندوب يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه، بل هو فريضة فرضها الله تعالى عليها، وأداء هذه الفريضة من أهم مسئولياتها وأكبر واجباتها، لا يجوز لها التهاون في شيء منها فضلا عن إهمالها، ولأنها هي التي تضفي عليها الطابع الإسلامي.
--------------------------------------------
এমন কোনো কাজ নয় যার ব্যাপারে ইসলামি রাষ্ট্রকে তা সম্পাদন বা বর্জনের ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে (১), এবং এটি এমন কোনো পছন্দনীয় (مندوب) কাজও নয় যার সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না; বরং এটি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক রাষ্ট্রটির ওপর অর্পিত একটি আবশ্যিক বিধান (فريضة)। আর এই আবশ্যিক বিধান (فريضة) পালন করা তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর কোনো অংশে শিথিলতা প্রদর্শন করা তো দূরের কথা, তা বর্জন করাও তার জন্য বৈধ নয়; কারণ এটিই রাষ্ট্রকে ইসলামি ভাবধারা দান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
[ثانيا تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر]ثانيا: تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر تحدث كثير من العلماء عن تعريف كل من المعروف والمنكر وسوف نورد فقط نماذج لهذه التعريفات ونحيل القارئ الكريم إلى بعض المراجع للمزيد من المعلومات حول تعريف المعروف وتعريف المنكر، من هذه التعريفات القول:
بأن المعروف هو اسم جامع لكل ما عرف من طاعة الله، والتقرب إليه والإحسان إلى الناس، وكل ما ندب إليه الشرع ونهى عنه من المحسنات والمقبحات (1) والمنكر ضد المعروف وكل ما قبحه الشرع وحرمه وكرهه فهو منكر (2) والمتبادر من المعروف الطاعات ومن المنكر المعاصي التي أنكرها الشرع (3) ويقول ابن منظور في لسان العرب: " وقد تكرر ذكر المعروف في الحديث وهو اسم جامع لكل ما عرف من طاعة الله والتقرب إليه والإحسان إلى الناس، وكل ما ندب إليه الشرع. . . والمنكر ضد المعروف وهو كل ما قبحه الشرع وحرمه وكرهه فهو منكر " (4) .
--------------------------------------------
[দ্বিতীয়ত: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সংজ্ঞা]দ্বিতীয়ত: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সংজ্ঞা। উলামায়ে কেরামের অনেকেই মারুফ ও মুনকার (منكر) প্রত্যেকের সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা এখানে এই সংজ্ঞাগুলোর কেবল কিছু নমুনা উপস্থাপন করব এবং মারুফ ও মুনকার (منكر) এর সংজ্ঞা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য সম্মানিত পাঠককে কিছু তথ্যসূত্রের প্রতি দিকনির্দেশনা দেব। এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে একটি হলো:
মারুফ হলো এমন একটি সামষ্টিক নাম যা আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং মানুষের প্রতি ইহসান হিসেবে পরিচিত সবকিছুকে এবং শরিয়ত কর্তৃক উৎসাহিত (مندوب) সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে; সেইসাথে শরিয়ত অনুমোদিত যাবতীয় উত্তম বিষয় এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এমন যাবতীয় মন্দ বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত। (১) আর মুনকার (منكر) হলো মারুফের বিপরীত এবং শরিয়ত যা কিছুকে মন্দ সাব্যস্ত করেছে, হারাম (حرام) করেছে কিংবা মাকরুহ (مكروه) সাব্যস্ত করেছে, তা-ই মুনকার (منكر)। (২) মারুফ বলতে সাধারণত আনুগত্যের কাজগুলোকে বোঝায় এবং মুনকার (منكر) বলতে সেইসব নাফরমানিকে বোঝায় যা শরিয়ত প্রত্যাখ্যান (منكر) করেছে। (৩) ইবনে মঞ্জুর 'লিসানুল আরব'-এ বলেন: "হাদিসে 'মারুফ' শব্দটি বারবার এসেছে। এটি এমন একটি সামষ্টিক নাম যা আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং মানুষের প্রতি ইহসান হিসেবে পরিচিত সবকিছুকে এবং শরিয়ত কর্তৃক উৎসাহিত (مندوب) সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে... আর মুনকার (منكر) হলো মারুফের বিপরীত। শরিয়ত যা কিছুকে মন্দ সাব্যস্ত করেছে, হারাম (حرام) করেছে কিংবা মাকরুহ (مكروه) সাব্যস্ত করেছে, তা-ই মুনকার (منكر)।" (৪) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
هذه نماذج لتعريفات العلماء ومن أراد المزيد فليرجع إلى المراجع المذكورة أدناه (1) وكل ما أورده العلماء في تعريف المعروف والمنكر يقرر بأن المعروف هو كل ما أمر الله به ورسوله، والمنكر كل ما نهى الله ورسوله عنه. وإن معنى الأمر بالمعروف الدعوة إليه والترغيب فيه وتمهيد أسبابه حتى تتوطد أركانه وتتطرق سبله ويعم الخير به.
ومعنى النهي عن المنكر: الصد عنه والتنفير منه ومقاومته وأخذ السبل عليه حتى لا يقع أصلا، أو يتكرر.
--------------------------------------------
এগুলো আলেমগণের দেওয়া সংজ্ঞাসমূহের কিছু নমুনা। যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা নিচে উল্লিখিত তথ্যসূত্রগুলোর (১) দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন। মারুফ (المعروف) ও মুনকার (المنكر)-এর সংজ্ঞায় আলেমগণ যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তা একথাই সাব্যস্ত করে যে, মারুফ (المعروف) হলো সেই সমস্ত বিষয় যার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দিয়েছেন এবং মুনকার (المنكر) হলো সেই সমস্ত বিষয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف)-এর অর্থ হলো এর দিকে দাওয়াত দেওয়া, এর প্রতি উৎসাহিত করা এবং এর উপায়-উপকরণগুলোকে সুগম করা, যাতে এর ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, এর পথসমূহ উন্মুক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে কল্যাণ ব্যাপকতা লাভ করে।
অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر)-এর অর্থ হলো: তা থেকে বিরত রাখা, সেটির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা, তা প্রতিরোধ করা এবং এর পথগুলো রুদ্ধ করা, যাতে এটি আদৌ সংঘটিত না হয় অথবা এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
[ثالثا أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والحاجة إليه]ثالثا: أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والحاجة إليه الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو الجهاد الدائم المفروض على المسلم، وهو أصل مهم من أصول قيام حضارة الإسلام لا قيام لشريعة الإسلام بدونه " وهو القطب الأعظم في الدين، وهو المهم الذي ابتعث الله له النبيين أجمعين ولو طوي بساطه وأهمل علمه وعمله لتعطلت النبوة واضمحلت الديانة وعمت الفترة وفشت الضلالة وشاعت الجهالة واستشرى الفساد واتسع الخرق وخربت البلاد، وهلك العباد، ولم يشعروا بالهلاك إلا يوم التناد " (1) ومما يؤكد مكانة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في الإسلام أن الله تعالى قد ذكر من أوصاف الصالحين أنهم يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر (2) قال الله تعالى: {لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ - يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأُولَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ} [آل عمران: 113 - 114] (3) .
--------------------------------------------
[তৃতীয়ত: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এর গুরুত্ব এবং এর প্রয়োজনীয়তা]তৃতীয়ত: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এর গুরুত্ব এবং এর প্রয়োজনীয়তা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) হলো একজন মুসলিমের ওপর অর্পিত নিরন্তর জিহাদ (الجهاد), এবং এটি ইসলামি সভ্যতা টিকে থাকার মূল ভিত্তিগুলোর (أصول) অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা ব্যতীত ইসলামি শরিয়ত প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। "আর এটিই দ্বীনের মহান স্তম্ভ (القطب الأعظم), এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ যার নিমিত্তে আল্লাহ সকল নবীকে প্রেরণ করেছেন। যদি এর কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হতো এবং এর জ্ঞান ও আমলকে উপেক্ষা করা হতো, তবে নবুয়ত (النبوة) নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ত, দ্বীন বিলুপ্ত হয়ে যেত, স্থবিরতা ছড়িয়ে পড়ত, বিভ্রান্তি বিস্তার লাভ করত, মূর্খতা সাধারণ হয়ে যেত, বিপর্যয় (الفساد) চরম আকার ধারণ করত, ফাটল প্রশস্ত হতো, জনপদ ধ্বংস হয়ে যেত এবং বান্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হতো; অথচ হাশরের দিন (يوم التناد) আসার পূর্ব পর্যন্ত তারা নিজেদের এই ধ্বংস উপলব্ধি করতে পারত না।" (১) ইসলামে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) উচ্চ মর্যাদার বিষয়টি এর দ্বারাও সমর্থিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে তারা সৎ কাজের আদেশ প্রদান করে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। (২) আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা সকলে সমান নয়; আহলে কিতাবদের মধ্যে একটি দল রয়েছে যারা সত্যের ওপর সুদৃঢ় (قائمة), তারা রাতের বিভিন্ন প্রহরে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং সিজদা (يسجدون) করে। তারা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এবং সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে (يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر) এবং কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে; আর এরাই হলো সৎকর্মশীলদের (الصالحين) অন্তর্ভুক্ত।} [আল-ইমরান: ১১৩-১১৪] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقد وصف الله تعالى الأمة الإسلامية بأنها خير أمة أخرجت للناس؛ لأنها تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر قال الله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110] (1) وقال تعالى {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [التوبة: 71] (2) .
ولهذا قال أبو هريرة رضي الله عنه: " كنتم خير الناس للناس تأتون بهم في القيود والسلاسل حتى تدخلوهم الجنة. فبين الله سبحانه أن هذه الأمة خير الأمم للناس، فهم أنفعهم لهم، وأعظمهم إحسانا إليهم؛ لأنهم كملوا كل خير ونفع للناس بأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر من جهة الصفة والقدر، حيث أمروا بكل معروف ونهوا عن كل منكر لكل أحد " (3) .
ومما يدل على أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:
قول حذيفة رضي الله عنه: " الإسلام ثمانية أسهم " وذكر منها الأمر بالمعروف سهم، والنهي عن المنكر سهم، وقد خاب من لا سهم له (4) .
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মাহ হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ তারা সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেয় এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মাহ, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দাও এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهই عن المنكر) করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো} [আলে ইমরান: ১১০] (১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেয় এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করে} [আত-তাওবাহ: ৭১] (২)।
এজন্যই আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: "তোমরা মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ মানুষ, তোমরা তাদের শিকল ও বেড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে আসো যতক্ষণ না তারা জান্নাতে প্রবেশ করে।" সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, এই উম্মাহ মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মাহ, তারা তাদের জন্য সবচেয়ে উপকারী এবং তাদের প্রতি সবচেয়ে বড় অনুগ্রহকারী; কারণ তারা গুণগত মান এবং পরিমাণের দিক থেকে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) মাধ্যমে মানুষের জন্য সকল প্রকার কল্যাণ ও উপকারকে পূর্ণতা দান করেছে। কেননা তারা প্রত্যেকের জন্য প্রতিটি সৎ কাজের (معروف) নির্দেশ দেয় এবং প্রতিটি অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে (৩)।
সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) গুরুত্বের প্রমাণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
হুযাইফা (রা.)-এর উক্তি: "ইসলামের অংশ হলো আটটি।" তিনি তার মধ্যে সৎ কাজের আদেশকে (الأمر بالمعروف) একটি অংশ এবং অসৎ কাজের নিষেধকে (النهي عن المنكر) একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন; আর সে ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার কোনো অংশ নেই (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ومما يدل أيضا على أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ما بينه رسول الله صلى الله عليه وسلم من أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر صدقة يؤجر المرء على قيامه بها. فقد روى الإمام مسلم عن أبي ذر رضي الله عنه «أن أناسا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، قالوا للنبي: يا رسول الله، ذهب أهل الدثور بالأجور، يصلون كما نصلي، ويصومون كما نصوم، ويتصدقون بفضول أموالهم، قال: أوليس قد جعل الله لكم ما تصدقون به؟ أن بكل تسبيحة صدقة، وكل تكبيرة صدقة، وكل تحميدة صدقة، وكل تهليلة صدقة، وأمر بالمعروف صدقة ونهي عن المنكر صدقة» (1) .
ومما يدل على أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كذلك أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أسباب تكفير الذنوب.
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فتنة الرجل في أهله وماله وجاره تكفرها الصلاة والصدقة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» (2) .
وتبرز أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من هذا الحديث الشريف حيث نص النبي صلى الله عليه وسلم، على كون الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أسباب تكفير الفتنة (3) وفي هذا الصدد يقول العلامة العيني: " فإن قلت ما النكتة في تعيين هذه الأشياء الخمسة؟ ، قلت: الحقوق
--------------------------------------------
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের গুরুত্বের ওপর আরও যা প্রমাণ বহন করে তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বর্ণনা করেছেন যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ হলো একটি দান (صدقة), যা পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি সওয়াবপ্রাপ্ত হয়। ইমাম মুসলিম আবু যার (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! বিত্তবানরা তো সকল সওয়াব নিয়ে গেল; তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সিয়াম পালন করে এবং তাদের অতিরিক্ত সম্পদ হতে দান (صدقة) করে। তিনি বললেন: আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন কিছু নির্ধারণ করেননি যা তোমরা দান (صدقة) করতে পারো? নিশ্চয়ই প্রতিটি তাসবিহ (تسبيحة) একটি দান (صدقة), প্রতিটি তাকবির (تكبيرة) একটি দান (صدقة), প্রতিটি তাহমিদ (تحميدة) একটি দান (صدقة), প্রতিটি তাহলিল (تهليلة) একটি দান (صدقة), সৎকাজের আদেশ প্রদান করা একটি দান (صدقة) এবং অসৎকাজের নিষেধ করা একটি দান (صدقة)।" (১) .
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের গুরুত্বের ওপর অনুরূপভাবে যা প্রমাণ বহন করে তা হলো, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ গুনাহ মোচনের (تكفير) অন্যতম কারণ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে ব্যক্তির যে ফিতনা (فتنة) তৈরি হয়, সালাত, দান (صدقة), সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ তা মোচন (تكفير) করে দেয়।" (২) .
এই সম্মানিত হাদিস থেকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ হলো ফিতনা (فتنة) মোচনের (تكفير) অন্যতম কারণ (৩)। এ প্রসঙ্গে আল্লামা আইনি বলেন: "যদি আপনি বলেন যে, এই পাঁচটি বিষয়কে নির্দিষ্ট করার রহস্য কী? আমি বলব: অধিকারসমূহ...
--------------------------------------------