(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: -)
القدوة مبادئ ونماذج القسم: كتب عامة
اسم الكتاب: القدوة مبادئ ونماذج
المؤلف: د صالح بن عبد الله بن حميد
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد الصفحات: 38
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদর্শ: মূলনীতি ও দৃষ্টান্ত বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থের নাম: আদর্শ: মূলনীতি ও দৃষ্টান্ত
লেখক: ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: -)
[مقدمة]القدوة
مبادئ ونماذج
[ভূমিকা]আদর্শ
মূলনীতি ও দৃষ্টান্তসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَة إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা: নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবৃন্দের ওপর অগণিত দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন-নিসা: ১]
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৪)
[سورة الأحزاب، الآيتان: 70، 71] .
أما بعد:
فإن الدعوة إلى الله أمر جليل ودعامة عظيمة من دعائم ترسيخ المبادئ الحقة في المجتمع المسلم، ومن أهم طرق الدعوة إلي الله والتي يكون مردودها أوقع وأقوى في النفوس " القدوة الصالحة " والتي يرى فيها الناس واقعًا معاشًا للمبادئ التي يدعو إليها. . القول فيها صنو العمل.
ولأهمية هذا الأمر أردت في هذه الورقات أن أنبه إلى بعض إشارات تعين على أداء تلكم المهمة العظيمة والرسالة الشريفة.
والله أسأل أن ينفعني وإخواني بهذه الكلمات، وحسبي منهم دعوة صالحة أو نصيحة صادقة. جعلنا الله من الداعين إلى سبيله على بصيرة وهو من وراء القصد. . وصلِّ اللهم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
[সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১] ।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান একটি মহান বিষয় এবং মুসলিম সমাজে সত্য আদর্শ সুদৃঢ় করার অন্যতম এক সুমহান স্তম্ভ। আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, যার প্রভাব মানুষের মনে অত্যন্ত গভীর ও জোরালো হয়, তা হলো "সৎ আদর্শ"; যার মাধ্যমে মানুষ সেই আদর্শের এক জীবন্ত ও বাস্তব রূপ দেখতে পায় যার দিকে আহ্বান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কথা ও কাজ একে অপরের পরিপূরক।
এই বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে এমন কিছু নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি যা এই মহান দায়িত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ বার্তা পালনে সহায়ক হবে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কথাগুলোর মাধ্যমে আমাকে এবং আমার ভাইদের উপকৃত করেন। আমার জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে একটি নেক দোয়া অথবা একটি আন্তরিক উপদেশই যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা দূরদর্শিতার সাথে তাঁর পথে আহ্বান জানান এবং তিনিই আমাদের মূল লক্ষ্য। হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقصود القدوة ومعناها]
[أنواع القدوة]مقصود القدوة ومعناها الأسوة والقدوة بمعنى واحد ويقصد بها السير والاتباع على طريق المقتدي به.
وهي نوعان: حسنة وسيئة.
فالحسنة الاقتداء بأهل الخير والفضل والصلاح في كل ما يتعلق بمعالي الأمور وفضائلها، من القوة والحق والعدل.
وقدوة المسلمين الأولى صاحب الخلق الأكمل والمنهج الأعظم رسولنا محمد، صلى الله عليه وسلم، وفي ذلك يقول الله- عز وجل: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21]
ومن دقيق المعنى في هذه الآية الكريمة أن الله سبحانه جعل الأسوة في رسول الله، صلى الله عليه وسلم، ولم يحصره في وصف خاص من أوصافه أو خلق من أخلاقه أو عمل من
[আদর্শের (القدوة) উদ্দেশ্য ও এর অর্থ][আদর্শের (القدوة) প্রকারভেদ]আদর্শের (القدوة) উদ্দেশ্য ও এর অর্থ হলো: 'উসওয়াহ' (الأسوة) এবং 'কুদওয়াহ' (القدوة) একই অর্থ প্রকাশ করে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—যাকে আদর্শ মানা হয় তার পথ ধরে চলা এবং তাকে অনুসরণ করা।
এটি দুই প্রকার: উত্তম (حسنة) এবং মন্দ (سيئة)।
উত্তম (حسنة) আদর্শ হলো—কল্যাণ, শ্রেষ্ঠত্ব ও নেককার ব্যক্তিদের অনুসরণ করা; শক্তি, সত্য এবং ন্যায়বিচারসহ সকল মহৎ বিষয় ও শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলীর ক্ষেত্রে।
মুসলিমদের প্রধান আদর্শ (القدوة) হচ্ছেন—সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং মহান জীবনপদ্ধতির ধারক আমাদের রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ—আযযা ওয়া জাল্লা—বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ (أسوة حسنة)} [আল-আহযাব: ২১]
এই মহিমান্বিত আয়াতের একটি সূক্ষ্ম মর্মার্থ হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যেই আদর্শ (الأسوة) নিহিত রেখেছেন। তিনি একে তাঁর কোনো বিশেষ গুণ, কোনো বিশেষ চরিত্র বা কোনো বিশেষ কর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أعماله الكريمة، وما ذلك إلا من أجل أن يشمل الاقتداء أقواله عليه الصلاة والسلام وأفعاله وسيرته كلها فيقتدي به، صلى الله عليه وسلم، بامتثال أوامره واجتناب نواهيه ويقتدي بأفعاله وسلوكه من الصبر والشجاعة والثبات والأدب وسائر أخلاقه، كما يشمل الاقتداء بأنواع درجات الاقتداء من الواجب والمستحب وغير ذلك مما هو محل الاقتداء.
والنوع الثاني: الأسوة السيئة: ويعني السير في المسالك المذمومة واتباع أهل السوء والاقتداء من غير حجة أو برهان ومن ذلك قول المشركين: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} [الزخرف: 23] ولهذا رد عليهم القرآن بقوله: {قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ} [الزخرف: 24]
وفي آية أخرى: {أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} [المائدة: 104]
তাঁর সম্মানিত কার্যাবলি; আর এটি এ কারণেই যে, অনুসরণ যেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীসমূহ, কার্যাবলি এবং সমগ্র সীরাতকে অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণ করা যায়। আর তাঁর কার্যাবলি এবং ধৈর্য, সাহসিকতা, দৃঢ়তা, শিষ্টাচার ও অন্যান্য চারিত্রিক আচরণের ক্ষেত্রেও যেন তাঁকে অনুসরণ করা হয়। তদ্রূপ অনুসরণের এই পরিধি অনুসরণের বিভিন্ন স্তর যেমন: আবশ্যক (واجب), পছন্দনীয় (مستحب) এবং অন্যান্য অনুসরণের ক্ষেত্রসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয় প্রকার: মন্দ আদর্শ: এর অর্থ হলো নিন্দনীয় পথে চলা, অসৎ লোকদের অনুসরণ করা এবং কোনো দলিল (حجة) বা প্রমাণ (برهان) ছাড়াই অনুকরণ করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুশরিকদের সেই উক্তি: "আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।" [যুখরুফ: ২৩] একারণেই কুরআন তাদের এই বলে উত্তর দিয়েছে: "তিনি বললেন, যদি আমি তোমাদের কাছে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শন নিয়ে আসি, যার ওপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছিলে (তবুও কি তোমরা তাদেরই অনুসরণ করবে)?" [যুখরুফ: ২৪]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে: "যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং তারা সৎপথেও পরিচালিত ছিল না।" [মায়িদা: ১০৪]
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[أهمية القدوة الحسنة]أهمية القدوة الحسنة إن من الوسائل المهمة جدًا في تبليغ الدعوة إلى الله وجذب الناس إلى الِإسلام وامتثال أوامره واجتناب نواهيه، القدوة الطيبة للداعي وأفعاله الحميدة وصفاته العالية وأخلاقه الزاكية مما يجعله أسوة حسنة لغيره، يكون بها أنموذجًا يقرأ فيه الناس معاني الِإسلام فيقبلون عليها وينجذبون إليها، لأن التأثر بالأفعال والسلوك أبلغ وأكثر من التأثر بالكلام وحده.
إن الِإسلام انتشر في كثير من بلاد الدنيا بالقدوة الطيبة للمسلمين التي كانت تبهر أنظار غير المسلمين وتحملهم على اعتناق الِإسلام، فالقدوة الحسنة التي يحققها الداعي بسيرته الطيبة هي في الحقيقة دعوة عملية للِإسلام يستدل بها سليم الفطرة راجح العقل من غير المسلمين على أن الِإسلام حق من عند الله.
ومن السوابق القديمة في أهمية السيرة الحسنة للداعي وأثرها في تصديقه والإِيمان بما يدعو إليه «أن أعرابيًا جاء إلى
[উত্তম আদর্শের গুরুত্ব]উত্তম আদর্শের গুরুত্ব। আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রচার করার, মানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার এবং আল্লাহর আদেশসমূহ পালন ও তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হলো আহ্বানকারীর উত্তম আদর্শ, তাঁর প্রশংসনীয় কার্যাবলি, সুউচ্চ গুণাবলি ও পবিত্র চরিত্র। এই গুণাবলি তাকে অন্যদের জন্য এক উত্তম আদর্শে পরিণত করে এবং এর মাধ্যমে তিনি এমন এক মডেলে রূপান্তরিত হন যেখানে মানুষ ইসলামের মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারে এবং এর প্রতি আকৃষ্ট ও ধাবিত হয়। কারণ, শুধু কথার চেয়ে কর্ম ও আচরণের প্রভাব অনেক বেশি জোরালো ও সুদূরপ্রসারী হয়।
নিশ্চয়ই বিশ্বের বহু জনপদে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে মুসলমানদের সেই উত্তম আদর্শের মাধ্যমে, যা অমুসলিমদের দৃষ্টিকে বিমোহিত করত এবং তাদের ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করত। সুতরাং, একজন আহ্বানকারী তাঁর সুন্দর জীবনচরিত্রের মাধ্যমে যে উত্তম আদর্শ ফুটিয়ে তোলেন, তা মূলত ইসলামের এক প্রায়োগিক দাওয়াত। এর মাধ্যমেই অমুসলিমদের মধ্য থেকে যারা সুস্থ স্বভাবজাত ও বিচক্ষণ বুদ্ধিসম্পন্ন, তারা এ বিষয়ে প্রমাণ লাভ করেন যে, ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত এক শাশ্বত সত্য।
আহ্বানকারীর উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব এবং তাঁর প্রচারিত দাওয়াতকে সত্য বলে স্বীকার করা ও ঈমান আনার ক্ষেত্রে এর প্রভাবের প্রাচীন নজিরগুলোর একটি হলো যে, এক গ্রাম্য আরব এসেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
النبي، صلى الله عليه وسلم، فقال له: من أنت؟ قال: أنا محمد بن عبد الله قال الأعرابي: أأنت الذي يقال عنك إنك كذاب؟ فقال: أنا الذي يزعمونني كذلك فقال الأعرابي: ليس هذا الوجه وجه كذاب، ما الذي تدعو إليه؟ فذكر له رسول الله، صلى الله عليه وسلم، ما يدعو إليه من أمور الِإسلام فقال له الأعرابي: آمنت بك وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدًا رسول الله» .
فالأعرابي استدلَّ بسَمْت رسول الله، صلى الله عليه وسلم، ووجهه المنير الكريم الذي يكون عليه أهل الصدق والأخلاق الكريمة، استدلَ بذلك على صدقه فيما يدعو إليه، صلى الله عليه وسلم.
وتكمن أهمية القدوة الحسنة في الأمور الآتية: 1 - المثال الحي المرتقي في درجات الكمال، يثير في نفس البصير العاقل قدرًا كبيرًا من الاستحسان والِإعجاب والتقرير والمحبة. ومع هذه الأمور تتهيج دوافع الغيرة المحمودة والمنافسة الشريفة، فإن كان عنده ميل إلى الخير،
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি আসলেন এবং তাঁকে বললেন: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ। তখন গ্রাম্য লোকটি বলল: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে বলা হয় যে আপনি একজন মিথ্যাবাদী (كذاب)? তিনি বললেন: আমিই সেই ব্যক্তি যাকে তারা এরূপ মনে করে। তখন গ্রাম্য লোকটি বলল: এই চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর (كذاب) চেহারা হতে পারে না; আপনি কিসের দাওয়াত দিচ্ছেন? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট ইসলামের দাওয়াতের বিষয়সমূহ বর্ণনা করলেন। তখন গ্রাম্য লোকটি তাঁকে বলল: আমি আপনার প্রতি ঈমান আনলাম এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।
সেই গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গাম্ভীর্যপূর্ণ অবয়ব ও তাঁর জ্যোতির্ময় সম্মানজনক চেহারার মাধ্যমে প্রমাণ লাভ করেছেন, যা কেবল সত্যনিষ্ঠ ও মহান চরিত্রের অধিকারীদের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। তিনি এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সত্যের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন, তাঁর সেই সত্যতার প্রমাণ গ্রহণ করলেন।
উত্তম আদর্শের গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়াবলির মধ্যে নিহিত: ১- পূর্ণতার স্তরে আরোহণকারী এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত, যা একজন বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির অন্তরে ব্যাপক প্রশংসা, বিস্ময়, স্বীকৃতি ও ভালোবাসার উদ্রেক করে। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রশংসনীয় আত্মমর্যাদাবোধ ও মহৎ প্রতিযোগিতার প্রেরণা জাগ্রত হয়; যদি তার মধ্যে কল্যাণের প্রতি কিঞ্চিৎ ঝোঁক বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وتطلع إلى مراتب الكمال، وليس في نفسه عقبات تصده عن ذلك، أخذ يحاول تقليد ما استحسنه وأعجب به، بما تولد لديه من حوافز قوية تحفزه لأن يعمل مثله، حتى يحتل درجة الكمال التي رآها في المقتدى به.
2 - القدوة الحسنة المتحلية بالفضائل العالية تعطي الآخرين قناعة بأن بلوغ هذه الفضائل من الأمور الممكنة، التي هي في متناول القدرات الإِنسانية وشاهد الحال أقوى من شاهد المقال.
3 - مستويات فهم الكلام عند الناس تتفاوت، ولكن الجميع يتساوى أمام الرؤية بالعين المجردة لمثال حي. فإن ذلك أيسر في إيصال المعاني التي يريد الداعية إيصالها للمقتدى. أخرج البخاري في صحيحه عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: اتخذ النبي، صلى الله عليه وسلم، خاتمَا من ذهب، فاتخذ الناس خواتيم من ذهب، فقال النبي، صلى الله عليه وسلم: «إني اتخذت خاتمًا من ذهب فنبذه وقال: إني لن ألبسه أبدًا، فنبذ الناس خواتيمهم» .
যখন কেউ পূর্ণতার স্তরে আরোহণের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে এবং তার অন্তরে এমন কোনো বাধা না থাকে যা তাকে তা হতে বিরত রাখে, তখন সে যা কিছু উত্তম ও পছন্দনীয় মনে করে তা অনুকরণ করার চেষ্টা শুরু করে। এটি তার মধ্যে জাগ্রত শক্তিশালী অনুপ্রেরণার মাধ্যমে ঘটে যা তাকে তার অনুসৃত ব্যক্তির ন্যায় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে সে তার মাঝে দেখা সেই পূর্ণতার স্তরে পৌঁছাতে পারে।
২ - উচ্চতর গুণাবলিতে বিভূষিত উত্তম আদর্শ অন্যদের মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে, এই সকল ফযিলত বা উচ্চতর গুণাবলি অর্জন করা সম্ভব, যা মানুষের সক্ষমতার নাগালেই রয়েছে। বস্তুত অবস্থার চাক্ষুষ প্রমাণ মৌখিক প্রমাণের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।
৩ - মানুষের কথা বোঝার স্তরের ভিন্নতা থাকলেও একটি জীবন্ত উদাহরণ চাক্ষুষ দেখার ক্ষেত্রে সবাই সমান। একজন আহ্বানকারীর জন্য তার অনুসারীদের নিকট কাঙ্ক্ষিত অর্থসমূহ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহজতম মাধ্যম। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে ইবনে উমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি স্বর্ণের আংটি গ্রহণ করেছিলেন, তখন লোকেরাও স্বর্ণের আংটি গ্রহণ করল। এরপর নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আমি একটি স্বর্ণের আংটি গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর তিনি সেটি বর্জন করলেন এবং বললেন: আমি এটি কখনোই পরিধান করব না। তখন লোকেরাও তাদের আংটিগুলো বর্জন করল»।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
قالت العلماء: " فدلَّ ذلك على أن الفعل أبلغ من القول ".
4 - الأتباع ينظرون إلى الداعية نظرة دقيقة فاحصة دون أن يعلم، فربَّ عمل يقوم به لا يلقي له بالًا يكون في حسابهم من الكبائر، وذلك أنهم يعدونه قدوة لهم، ولكي ندرك خطورة ذلك الأمر فلنتأمل هذه القصة. يروى أن أبا جعفر الأنباري صاحب الِإمام أحمد عندما أُخبر بحمل الإِمام أحمد للمأمون في الأيام الأولى للفتنة. عبر الفرات إليه فإذا هو جالس في الخان، فسلم عليه، وقال: يا هذا أنت اليوم رأسٌ والناس يقتدون بك، فوالله لئن أجبتَ إلى خلق القرآن ليجيبنَّ بإجابتك خلق من خلق الله، وإن أنت لم تجب ليمتنعنَّ خلق من الناس كثير، ومع هذا فإن الرجل- يعني المأمون - إن لم يقتلك فأنت تموت، ولا بد من الموت فاتق الله ولا تجبهم إلى شيء. فجعل أحمد يبكي ويقول: ما قلت؟ فأعاد عليه فجعل يقول: ما شاء الله، ما شاء الله.
وتمر الأيام عصيبة على الِإمام أحمد، ويمتحن فيها أشدّ الامتحان ولم ينس نصيحة الأنباري، فها هو المروزي أحد
আলেমগণ বলেছেন: "এটি নির্দেশ করে যে, আচরণের প্রভাব কথা অপেক্ষা অধিক কার্যকর।"
4 - অনুসারীরা অজান্তেই দাঈ বা প্রচারকের প্রতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিবিড় দৃষ্টি রাখে। ফলে হতে পারে তিনি এমন কোনো কাজ করেন যার প্রতি তিনি ভ্রূক্ষেপই করেন না, কিন্তু তাদের দৃষ্টিতে তা বড় গুনাহ (الكبائر) হিসেবে গণ্য হয়। এর কারণ হলো তারা তাঁকে তাদের জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে। আর এই বিষয়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার জন্য আমাদের এই ঘটনাটি গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত। বর্ণিত (يروى) আছে যে, ইমাম আহমদের সঙ্গী আবু জাফর আল-আনবারি যখন ফিতনার শুরুর দিনগুলোতে ইমাম আহমদকে খলিফা মামুনের কাছে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেলেন, তখন তিনি ফোরাত নদী পার হয়ে তাঁর কাছে এলেন। তিনি তাঁকে একটি সরাইখানায় উপবিষ্ট অবস্থায় পেয়ে সালাম দিলেন এবং বললেন: "হে ব্যক্তিত্ব! আপনি আজ উম্মাহর শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং মানুষ আপনাকে অনুসরণ করে। আল্লাহর কসম! আপনি যদি 'কুরআন সৃষ্টি'র মতবাদে সম্মতি প্রদান করেন, তবে আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টি আপনার সম্মতির কারণে এই মতবাদে লিপ্ত হবে। আর আপনি যদি সম্মতি না দেন, তবে বহু মানুষ এটি থেকে বিরত থাকবে। এর পাশাপাশি এই ব্যক্তি—অর্থাৎ মামুন—যদি আপনাকে হত্যা নাও করে, তবুও আপনার মৃত্যু তো অবধারিত। মৃত্যু যেহেতু অনিবার্য, তাই আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাদের কোনো দাবিতেই সম্মতি দেবেন না।" তখন ইমাম আহমদ কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন: "আপনি কী বললেন?" তিনি কথাটি পুনরায় বললেন। তখন ইমাম আহমদ বলতে লাগলেন: "মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ।"
অতঃপর ইমাম আহমদের ওপর দিয়ে অত্যন্ত সংকটময় দিনগুলো অতিবাহিত হতে লাগল এবং তাঁকে চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হলো, তবুও তিনি আল-আনবারির সেই নসিহত বিস্মৃত হননি। এই তো আল-মারওয়াযী, যিনি অন্যতম...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أصحابه يدخل عليه أيام المحنة ويقول له: "يا أستاذ قال الله تعالى: {وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ} [النساء: 29] فقال أحمد: يا مروزي اخرج، انظر أي شيء ترى!!! قال: فخرجتُ إلى رحبة دار الخليفة فرأيت خلقًا من الناس لا يحصي عددهم إلا الله والصحف في أيديهم والأقلام والمحابر في أذرعتهم، فقال لهم المروزي: أي شيء تعملون؟ فقالوا: ننظر ما يقول أحمد فنكتبه، قال المروزي: مكانكم. فدخل إلى أحمد بن حنبل فقال له: رأيت قومًا بأيديهم الصحف والأقلام ينتظرون ما تقول فيكتبونه فقال: يا مروزي أضل هؤلاء كلهم!! أقتل نفسي ولا أضل هؤلاء".
فمن أبرز أسباب أهمية القدوة أنها تساعد على تكوين الحافز في المتربي دونما توجيه خارجي، وهذا بالتالي يساعد المتربي على أن يكون من المستويات الجيدة في المسالك الفاضلة من حسن السيرة والصبر والتحمل وغير ذلك.
পরীক্ষার দিনগুলোতে তাঁর এক সঙ্গী তাঁর নিকট প্রবেশ করে বলতেন: "হে উস্তাদ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা নিজেদের হত্যা করো না} [আন-নিসা: ২৯]।" তখন আহমাদ বললেন: "হে মারওয়াযী, বাইরে যাও এবং দেখো কী দেখতে পাও!!!" তিনি বলেন: "অতঃপর আমি খলিফার প্রাসাদের প্রাঙ্গণে বের হলাম এবং সেখানে অসংখ্য মানুষের সমাগম দেখতে পেলাম যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারবে না। তাদের হাতে ছিল সহীফা এবং বগলে ছিল কলম ও দোয়াত।" মারওয়াযী তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কী করছো?" তারা বলল: "আহমাদ কী বলেন আমরা তা দেখার অপেক্ষায় আছি যাতে তা লিখে নিতে পারি।" মারওয়াযী বললেন: "তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।" অতঃপর তিনি আহমাদ বিন হাম্বলের নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বললেন: "আমি একদল লোক দেখেছি যাদের হাতে সহীফা ও কলম রয়েছে, আপনি যা বলবেন তারা তা লিখে নেওয়ার অপেক্ষায় আছে।" তিনি বললেন: "হে মারওয়াযী, আমি কি এই সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট করব!! আমি বরং নিজের প্রাণ উৎসর্গ করব, তবুও এদেরকে পথভ্রষ্ট করব না।"
আদর্শ বা রোল মডেল হওয়ার গুরুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, এটি কোনো বাহ্যিক নির্দেশনা ছাড়াই শিক্ষার্থীর মাঝে অনুপ্রেরণা তৈরিতে সহায়তা করে। এর ফলে তা শিক্ষার্থীকে সুন্দর জীবন চরিত, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য মহৎ গুণাবলির ক্ষেত্রে উন্নত মানে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[أصول القدوة]
[الأصل الأول الصلاح]أصول القدوة سوف يكون الكلام في هذه الفقرة عن الأصول الظاهرة التي يلمسها ويحسها التابع والمقتدىِ ويرقبها في قدوته ومتبوعه ويمكن أن نرجع ذلك إلى ثلاثة أصول:
الأصل الأول: الصلاح وهذا يتحقق بثلاثة أركان الركن الأول: الِإيمان: ويقصد به كل ما يجب اعتقاده من الِإيمان بالله ورسله وكتبه واليوم الآخر وسائر أركان الِإيمان إيمانًا يقينا جازمًا. وتحقيق معنى التوحيد ومقتضياته من معرفة الشهادتين والعمل بمقتضاهما.
ويبدو أن هذا الأمر واضح مما لا نحتاج إلى الِإطالة فيه.
الركن الثاني: العبادة: فيستقيم القدوة على أمر الله من الصلاة والزكاة والصيام وسائر أركان الِإسلام العملية ويهتم بالفرائض والمستحبات ويجد في اجتناب المنهيات والمكروهات. فيأتي من المأمورات بما استطاع ويجتنب جميع المنهيات على حد قوله، صلى الله عليه وسلم،: «إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم وما نهيتكم عنه فاجتنبوه» .
[আদর্শ অনুসরণের মূলনীতিসমূহ][প্রথম মূলনীতি: নিষ্ঠা (الصلاح)]আদর্শ অনুসরণের মূলনীতিসমূহ: এই অনুচ্ছেদে সেই সকল প্রকাশ্য মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, যা একজন অনুসারী ও আদর্শ গ্রহণকারী তার আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তির মাঝে অনুভব ও উপলব্ধি করেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন। আমরা বিষয়টিকে তিনটি মূলনীতির (أصول) অন্তর্ভুক্ত করতে পারি:
প্রথম মূলনীতি: নিষ্ঠা (الصلاح); এটি তিনটি স্তম্ভের মাধ্যমে অর্জিত হয়। প্রথম স্তম্ভ: ঈমান (الإيمان); এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ, তাঁর রাসুলগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, পরকাল এবং ঈমানের অন্যান্য সকল রুকনের প্রতি এমন বিষয়সমূহ বিশ্বাস করা যা বিশ্বাস করা অপরিহার্য—একান্ত সুনিশ্চিত ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে। এছাড়া তাওহীদের মর্মার্থ বাস্তবায়ন করা এবং এর দাবিগুলো অর্থাৎ শাহাদাতাইন অনুধাবন করা ও তদানুযায়ী আমল করা।
দৃশ্যত এই বিষয়টি এতই সুস্পষ্ট যে, এখানে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয় স্তম্ভ: ইবাদত (العبادة); একজন আদর্শ ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকবেন—সালাত, জাকাত, সিয়াম এবং ইসলামের অন্যান্য সকল আমলী রুকন পালনের মাধ্যমে। তিনি ফরজ (الفرائض) ও পছন্দনীয় (المستحبات) বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন এবং নিষিদ্ধ (المنهيات) ও অপছন্দনীয় (المكروهات) বিষয়গুলো বর্জনে সচেষ্ট থাকবেন। তিনি আদেশকৃত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে সাধ্যানুযায়ী পালন করবেন এবং সকল নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করবেন। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের আদেশ দেই, তখন তোমরা তা সাধ্যানুযায়ী পালন করো; আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করি, তা বর্জন করো।»
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ويتمثل القدوة الحديث القدسي: «وما تقَرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضته عليه، ولا يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي عليها ولئن سألني لأعطيته، ولئن استعاذتي لأعيذنه» .
الركن الثالث: الإِخلاص: وهو سر عظيم وباب دقيق والتميز به من أعظم المطالب- وهو من أولى ما ينبغي أن يُفتش عنه في الرجل المقتدى به. فيكون المقصود بالقول والعلم والعمل وجه الله عز وجل بعيدًا عن أغراض النفس وأغراض المخلوقين، بل عبودية خاضعة تمام الخضوع لله عز وجل، أمرًا ونهيًا ونظرًا وقصدًا. والمرء إذا أسلم وجهه لله وأخلص نيته لمولاه فإن حركاته وسكناته ونومه ويقظته محسوبة في مرضاة الله. بل إن النصح والِإخلاص يرقى بالعبد الضعيف العاجز إلى رتبة القادر العامل، ففي غزوة العسرة من تبوك سجل القرآن الكريم خبر هؤلاء الضعفاء
হাদিসে কুদসিতে আদর্শের উদাহরণ পরিলক্ষিত হয়: “আমার বান্দা আমার নিকট সে সব বিষয়ের চেয়ে প্রিয় কোনো বিষয় দ্বারা নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতসমূহের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। সুতরাং যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে পাকড়াও করে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলে। আর সে যদি আমার নিকট কিছু চায় তবে অবশ্যই আমি তাকে তা দান করি, আর যদি সে আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দান করি।”
তৃতীয় রুকন: ইখলাস (একনিষ্ঠতা): এটি একটি মহান রহস্য ও সূক্ষ্ম দ্বার এবং এর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ দাবি—আর এটিই সেই গুণ যা একজন অনুসরণীয় ব্যক্তির মাঝে সর্বপ্রথম অন্বেষণ করা উচিত। সুতরাং কথা, জ্ঞান ও কর্মের উদ্দেশ্য হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, যা নফসের চাহিদা ও সৃষ্টিজীবের উদ্দেশ্যসমূহ থেকে মুক্ত থাকবে; বরং তা হতে হবে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল এক দাসত্ব—আদেশ ও নিষেধ পালনে, দৃষ্টিভঙ্গিতে ও সংকল্পে। আর ব্যক্তি যখন আল্লাহর সমীপে নিজেকে সঁপে দেয় এবং তার মওলার জন্য তার নিয়তকে খাঁটি করে, তখন তার নড়াচড়া ও স্থিরতা এবং নিদ্রা ও জাগরণ আল্লাহর সন্তুষ্টির পথেই গণ্য হয়। এমনকি শুভকামনা ও ইখলাস একজন দুর্বল ও অক্ষম বান্দাকে সক্ষম ও কর্মঠ ব্যক্তির স্তরে উন্নীত করে; যেমন তাবুকের কঠিন যুদ্ধের সময় পবিত্র কুরআন এই দুর্বলদের সংবাদ লিপিবদ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الناصحين المخلصين في قوله سبحانه: {لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِنْ سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ - وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} [التوبة: 91 - 92] وسجل لهم الرسول، صلى الله عليه وسلم، هذا الموقف حين خاطب جنده الغازين في سبيل الله بخبر هذه الطائفة بقوله: «إن أقوامًا خلفنا بالمدينة ما سلكنا شعبًا ولا واديًا إلا وهم معنا حبسهم العذر. . .» .
يقابل هؤلاء المثابين المأجورين أصحاب النوايا المدخولة حين ينادي بهم بالويل وحبوط العمل، ولو كانت صور عملهم صورة عمل الصالحين المخلصين: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ - الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ - وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ} [الماعون: 4 - 7]
ومن أجل هذا فإنك ترى أن ضعف الإِخلاص عند كثير
মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত একনিষ্ঠ হিতৈষীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: {দুর্বল (الضعفاء), অসুস্থ এবং যারা ব্যয় করার মতো কিছু পায় না, তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তাদের ওপরও কোনো গুনাহ নেই, যারা আপনার কাছে বাহনের জন্য এলে আপনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য কোনো বাহন আমি পাচ্ছি না’। তখন তারা ফিরে গেল আর তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল এই দুঃখে যে, তারা ব্যয় করার মতো কিছু পাচ্ছে না।} [আত-তাওবাহ: ৯১ - ৯২] এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই অবস্থানটি চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন যখন তিনি আল্লাহর পথে যুদ্ধরত তাঁর বাহিনীকে এই দলটির সংবাদ দিয়ে বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু লোক আমাদের পেছনে রয়ে গেছে যে, আমরা কোনো পাহাড়ী পথ বা উপত্যকা অতিক্রম করিনি যেখানে তারা আমাদের সাথে ছিল না; ওজর তাদের আটকে রেখেছিল...।”
এই সওয়াবপ্রাপ্ত ও পুরস্কৃত ব্যক্তিদের বিপরীতে রয়েছে কলুষিত উদ্দেশ্যসম্পন্ন সেই সব লোক, যাদের ধ্বংস ও আমল নিষ্ফল হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যদিও বাহ্যিকভাবে তাদের আমলের চিত্র ছিল সৎ ও একনিষ্ঠদের আমলের মতোই: {কাজেই দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে অসতর্ক, যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দিতে অস্বীকার করে।} [আল-মাউন: ৪ - ৭]
আর এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, অনেকের মাঝে ইখলাসের দুর্বলতা (ضعف)
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
من ذوي المواهب والمواقع القيادية جعل تابعيهم والمعجبين بهم يَشْقَوْن بمواهبهم ويرجعون بها القهقري.
يتبين من كل ذلك أن الِإسلام يلحظ في أعمال الناس ما يقارنها من نيات وما يصاحبها من دواعي وبواعث.
[الأصل الثاني حسن الخلق]
[الصدق]الأصل الثاني: حسن الخلق إذا كان الصلاح يتوجه إلى ذات المقتدى به ليكون صالحًا في نفسه قويمًا في مسلكه فإن حسن الخلق يتوجه إلى طبيعة علاقته مع الناس وأصول تعامله معهم وإليه الدعوة النبوية في قوله، صلى الله عليه وسلم: «وخالق الناس بخلُقٍ حسن» والكلام في حسن الخلق واسع متشعب ونحاول أن نحصر عناصره الكبرى في خلال خمس: الصدق- الصبر- الرحمة- التواضع- الرفق.
الصدق: تبرز أهمية الصدق وعظم أثره في مسلك القدوة في قوله صلى الله عليه وسلم: «إن الصدقَ يهدي إلى البر وإن البر يهدي إلى الجنة. .» الحديث.
সেই সমস্ত প্রতিভাধর এবং নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা তাদের অনুসারী এবং ভক্তদের জন্য তাদের প্রতিভাকে কষ্টের কারণ বানিয়ে দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে পশ্চাদমুখী করে তোলে।
এ সব কিছু থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলাম মানুষের কাজের ক্ষেত্রে তার সাথে যুক্ত নিয়ত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রেরণা ও উদ্দীপকগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখে।
[দ্বিতীয় মূলনীতি: সচ্চরিত্র]
[সত্যবাদিতা (الصدق)]দ্বিতীয় মূলনীতি: সচ্চরিত্র। যদি যোগ্যতা বা শুদ্ধতা (صلاح) অনুসৃত ব্যক্তির সত্তার দিকে ধাবিত হয় যাতে সে নিজে সৎ (صالح) ও তার পথচলায় সুদৃঢ় হয়, তবে সচ্চরিত্রতা মানুষের সাথে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং তাদের সাথে তার আচরণের মূলনীতির দিকে ধাবিত হয়। আর এই দিকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে আহ্বান জানানো হয়েছে: "মানুষের সাথে সচ্চরিত্রের মাধ্যমে মেলামেশা করো।" সচ্চরিত্রের আলোচনা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত এবং আমরা এর প্রধান উপাদানগুলোকে পাঁচটি গুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করব: সত্যবাদিতা (الصدق), ধৈর্য, দয়া, নম্রতা ও কোমলতা।
সত্যবাদিতা (الصدق): একজন আদর্শ ব্যক্তির পথচলায় সত্যবাদিতা (الصدق)-এর গুরুত্ব ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে ফুটে ওঠে: "নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা (الصدق) পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে..." হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد سأل هرقل أبا سفيان عن سيرة النبي، صلى الله عليه وسلم، قائَلَا: «هل كنتم تتهمونه بالكذب قبل أن يقول ما قال؟ أجاب أبو سفيان: لا. فقال هرقل: أعرف أنه لم يكن ليذر الكذب على الناس ويكذب على الله» .
وما أنجى الثلاثة الذين خُلفوا في غزوة تبوك إلا صدقهم مع الله ومع رسوله صلى الله عليه وسلم حين ظنوا ألا ملجأ من الله إلا إليه، ولقد نادى الله سبحانه عباده المؤمنين في ختام قصتهم بقوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} [التوبة: 119]
ويجمع الحافظ ابن القيم رحمه الله حقيقة الصدق بهذه العبارة: " حصول الشيء وتمامه وكمال قوته واجتماع أجزائه ويكون في القصد والقول والعمل ". والمسلك الصادق النقي قولًا وفعلًا وقصدًا- هو الذي لا ريبة فيه لابتنائه على اليقين، ولا هوى معه لاعتماده على الإخلاص، ولا عوج فيه لاتباع الحق والهدى فيه.
وهل رأيت سوأة أزرى ممن يتسنم مواقع القيادة والقدوة
সম্রাট হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনচরিত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এই বলে: "তিনি যা দাবি করেছেন তা করার পূর্বে আপনারা কি কখনো তাঁকে মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) করতেন?" আবু সুফিয়ান উত্তর দিলেন: "না।" তখন হেরাক্লিয়াস বললেন: "আমি বুঝতে পেরেছি যে, এমন ব্যক্তি যিনি মানুষের সাথে মিথ্যা কথা বলা পরিহার করেন, তিনি আল্লাহর নামে কখনোই মিথ্যা (كذب) বলবেন না।"
তাবুক যুদ্ধে যে তিন ব্যক্তিকে পেছনে রাখা হয়েছিল, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি তাঁদের সত্যবাদিতাই (صدق) তাঁদের মুক্তি দিয়েছিল যখন তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিলেন যে আল্লাহ ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁদের ঘটনার পরিসমাপ্তিতে মুমিন বান্দাদের আহ্বান করে বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের (الصادقين) অন্তর্ভুক্ত হও।} [আত-তাওবা: ১১৯]
হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) সত্যবাদিতার (صدق) স্বরূপকে এই বাক্যে সারসংক্ষেপ করেছেন: "কোনো বিষয়ের অর্জিত হওয়া, তার পূর্ণতা প্রাপ্তি, শক্তির চরম উৎকর্ষ এবং এর উপাদানসমূহের যথাযথ সমাবেশ; আর এটি নিয়ত বা সংকল্প, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।" কথা, কাজ ও সংকল্পের ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ ও বিশুদ্ধ পথ হলো সেটিই যাতে কোনো সংশয় নেই, যেহেতু তা দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) ওপর প্রতিষ্ঠিত; এতে কোনো প্রবৃত্তির তাড়না নেই কারণ তা একনিষ্ঠতার (إخلاص) ওপর নির্ভরশীল এবং এতে কোনো বক্রতা নেই যেহেতু এটি সত্য ও হেদায়েতের অনুসারী।
নেতৃত্ব ও আদর্শের আসনে আসীন ব্যক্তির জন্য এর চেয়ে জঘন্য ও নিন্দনীয় আর কী হতে পারে...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بينما ترمقه الألحاظ وتشير إليه الأصابع بالخيانة والكذب. وما كان للتهريج والخبط والادعاء والهزل أن يغني فتيلا عن أصحابه.
وفي الحديث: «يطبع المؤمن على الخلال كلِّها إلا الخيانة والكذب» .
[الصبر]الصبر: الأزمات إذا استحكمت والحبال إذا تعقدت والضوائق إذا ترادفت لا دفع لها ولا توقي- بإذن الله- إلا بالصبر ذلك أن الصبر- كما في الحديث- ضياء.
ومَنْ أولى من الرجل الأسوة بتوطين نفسه على احتمال المكارة من غير ضجر، والتأني في انتظار النتائج مهما بَعُدت، وهو عليم بأن ابتلاء الناس بجميع فئاتهم وطبقاتهم لا محيص عنه. فالدنيا مبنية على هذا، بل قد يمتحن المرء بالشيء وضده. هذا شأن الدنيا. وشأن آخر وهو أن الإِيمان يقترن بالبلاء ليمحصه ويصفيه: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ} [العنكبوت: 2]
বিনা অপরাধে যখন তাকে কুদৃষ্টিতে দেখা হয় এবং বিশ্বাসঘাতকতা (الخيانة) ও মিথ্যাচারের (الكذب) অভিযোগে তার দিকে আঙ্গুল তোলা হয়। অথচ তামাশা, অসংলগ্নতা, মিথ্যা দাবি এবং উপহাস তার সঙ্গীদের জন্য সামান্যতম কোনো উপকারে আসে না।
আর হাদিসে এসেছে: «একজন মুমিন সব ধরনের অভ্যাসের ওপর গড়ে উঠতে পারে, কেবল বিশ্বাসঘাতকতা (الخيانة) এবং মিথ্যাচার (الكذب) ছাড়া।»
[ধৈর্য (الصبر)]ধৈর্য: সংকট যখন ঘনীভূত হয়, পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে পড়ে এবং বিপদ-আপদ যখন একের পর এক আসতে থাকে, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় ধৈর্য (الصبر) ব্যতিরেকে তা প্রতিহত করা বা তা থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকে না। কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে—ধৈর্য (الصبر) হলো জ্যোতি।
আর একজন আদর্শ ব্যক্তির জন্য বিরক্তি ছাড়াই কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং ফলাফল অর্জনে বিলম্ব হলেও ধীরস্থির থাকা অতি আবশ্যক। তিনি জানেন যে, সকল স্তরের ও সকল শ্রেণির মানুষের পরীক্ষা (ابتلاء) হওয়া অনিবার্য। দুনিয়া এভাবেই গঠিত, এমনকি কখনও মানুষকে কোনো বিষয়ের মাধ্যমে এবং তার বিপরীত বিষয়ের মাধ্যমেও পরীক্ষা করা হয়। এটিই দুনিয়ার রীতি। আরেকটি দিক হলো, ঈমান পরীক্ষার সাথে সম্পৃক্ত থাকে যেন তাকে যাচাই ও পরিশোধন করা যায়: {মানুষ কি মনে করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা (يفتنون) করা হবে না?} [আনকাবুত: ২]
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والصبر من معالم العظمة المحمودة وشارات الكمال العالي ودلائل التحكم في النفس وهواها وهو عنصر من عناصر الرجولة الناضجة. فأثقال الحياة وأعباؤها لا يطيقها الضعاف المهازيل، والحياة لا ينهض بأعبائها ورسالتها إلا الأكفاء الصبَّارون وقد استحقت فئة من بني إسرائيل الِإمامة والريادة بصبرهم وحسن بلائهم: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} [السجدة: 24] وأدركت بني إسرائيل حالةٌ استحقوا بها ميراث الأرض المباركة وكان درعهم في ذلك الصبر: {وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا} [الأعراف: 137]
ولهذا فإن نصيب ذوي القدوة والأسوة من العناء والبلاء مكافئًا لما أوتوا من مواهب وما تحملوا من مشاق، يجسد هذا قول رسول الله، صلى الله عليه وسلم: «أشد الناس بلاءً الأنبياء، ثم الأمثل فالأمثل يبتلى المرء على قدر دينه» .
ধৈর্য হলো প্রশংসনীয় মহত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, উচ্চতর পূর্ণতার মহিমান্বিত প্রতীক এবং নফস ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণের নিদর্শন; আর এটি হলো পরিণত পৌরুষের অন্যতম উপাদান। জীবনের গুরুভার ও দায়-দায়িত্ব দুর্বল ও অসমর্থ ব্যক্তিরা বহন করতে পারে না; বরং কেবল যোগ্য ও পরম ধৈর্যশীলরাই জীবনের লক্ষ্য ও এর গুরুদায়িত্বসমূহ নিয়ে অগ্রসর হতে পারেন। বনী ইসরাঈলের একটি দল তাদের ধৈর্য ও উত্তম পরীক্ষার মাধ্যমে ইমামত ও নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করেছিল: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত—যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত} [আস-সাজদাহ: ২৪]। বনী ইসরাঈল এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়েছিল যার ফলে তারা বরকতময় ভূমির উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল এবং এক্ষেত্রে তাদের ঢাল ছিল ধৈর্য: {আর আমি সেই জাতিকে যমীনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী বানালাম—যেখানে আমি বরকত রেখেছি। আর বনী ইসরাঈলের ওপর আপনার রবের উত্তম প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হলো, কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল} [আল-আরাফ: ১৩৭]
এই কারণেই আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিদের কষ্ট ও পরীক্ষার অংশ তাঁদেরকে প্রদত্ত মেধা এবং তাঁদের বহনকৃত শ্রমের সমানুপাতিক হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি এরই প্রতিফলন ঘটায়: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ, এরপর যারা শ্রেষ্ঠতর, অতঃপর যারা শ্রেষ্ঠতর। মানুষকে তার দীনের দৃঢ়তা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولهذا فإن نصيب ذوي القدوة والأسوة من العناء والبلاء مكافئًا لما أوتوا من مواهب وما تحملوا من مشاق، يجسد هذا قول رسول الله، صلى الله عليه وسلم: «أشد الناس بلاءً الأنبياء، ثم الأمثل فالأمثل يبتلى المرء على قدر دينه» .
وقد قال بعض حكماء القياديين: " لا تسأل الله أن يخفف حملك ولكن اسأله أن يقوي ظهرك ". وإن كان هذا فيه ما فيه لكنه يزيد المعنى الذي نقصد إليه وضوحًا.
[الرحمة]الرحمة: الرحمة كمال في الطبيعة تجعل المرء يرقّ لآلام الخلق ويسعى لِإزالتها ويأسى لأخطائهم فيتمنى لهمَ الهدى. الرحمة عاطفة حية نابضة بالحب للناس والرأفة بهم والشفقة عليهم.
وربنا تبارك وتعالى هو أرحم الراحمين وخير الراحمين بل إن رحمته وسعت كل شيء، كما أن علمه قد وسع كل شيء، وملائكةُ الرحمنِ يلهجون بهذا الدعاء الشفوق من أجل المؤمنين: {رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ} [غافر: 7]
এ কারণেই আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিদের দুঃখ-কষ্ট ও পরীক্ষার অংশ তাঁদেরকে প্রদত্ত মেধা এবং তাঁদের সহ্য করা পরিশ্রমের সমানুপাতিক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি একেই মূর্ত করে তোলে: "মানুষের মধ্যে নবীদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়, অতঃপর যারা তাঁদের (মর্যাদায়) নিকটতর, তারপর যারা তাঁদের নিকটতর। ব্যক্তিকে তার দ্বীনদারি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়।"
নেতৃত্বের গুণাবলীসম্পন্ন জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: "আল্লাহর কাছে তোমার বোঝা হালকা করার জন্য প্রার্থনা করো না, বরং তোমার শক্তি বৃদ্ধির প্রার্থনা করো।" যদিও এই উক্তির মাঝে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, তবে এটি আমাদের উদ্দেশ্যকৃত অর্থকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
[দয়া]দয়া: দয়া হলো স্বভাবজাত এক পূর্ণতা যা মানুষকে সৃষ্টির দুঃখ-যন্ত্রণায় বিচলিত করে এবং তা দূর করতে সচেষ্ট করে। এটি তাদের ভুলের জন্য ব্যথিত হয় এবং তাদের সুপথ কামনা করে। দয়া হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মমতা ও করুণায় স্পন্দিত এক জীবন্ত আবেগ।
আমাদের মহান প্রতিপালক হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু ও শ্রেষ্ঠতম করুণাময়, বরং তাঁর দয়া সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে—যেমন তাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করেছে। করুণাময় আল্লাহর ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য এই মমতাভরা দোয়ায় রত থাকেন: "হে আমাদের রব! আপনার দয়া ও জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, অতএব যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।" [গাফির: ৭]
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
[سورة غافر، الآية: 7] .
والرسول، صلى الله عليه وسلم، هو الرحمة المهداة للعالمين كلهم بل كأن الغاية من رسالته محصورة في الرحمة: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107]
والرحمة المذكورة هنا يقصد بها الرحمة العامة لكل الخلق تراحما عاما ليلقى المسلم الناس قاطبة وقلبه لهم بالعطف مملوء وبالبر مكنون؛ لأن الرحمة الخاصة قد تتوفر في بعض الناس فيرق لأولاده حين يلقاهم ويهش لأصدقائه حين يجالسهم ولكن الرَحمةَ المطلوبة من القدوة أوسع من ذلك وأرحب: «ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء» «ومن لا يَرحم لا يُرحم» بل إن الرحيم تنال رحمته الحيوان من غير البشر. والله يثيب على هذه الرحمة ويغفر بها الذنوب. فالذي سقى الكلب لما رآه يأكل الثرى من العطش شكر الله له فغفر له، والمرأة البغي من بني إسرائيل سقت كلبًا كان يطيف حول بئر في يوم حار، قد دلع لسانه من العطش فنزعت له خفها وسقته فغفر لها.
سبحان الله الرحيم لئن كانت الرحمة بكلب تغفر ذنوب البغايا، فإن الرحمة بالبشر تصنع العجائب، ولا تنزع الرحمة إلا
[সূরা গাফির, আয়াত: ৭]।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত, বরং তাঁর রিসালাতের মূল লক্ষ্যই যেন রহমতের মধ্যে সীমাবদ্ধ: "আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭]
এখানে উল্লিখিত রহমত দ্বারা সকল সৃষ্টির প্রতি সাধারণ রহমত বা দয়া উদ্দেশ্য, যাতে একজন মুসলিম সকল মানুষের সাথে এমনভাবে সাক্ষাৎ করে যে তার অন্তর তাদের প্রতি অনুকম্পায় পূর্ণ এবং সদাচরণে সিক্ত থাকে। কারণ বিশেষ রহমত কোনো কোনো মানুষের মাঝে থাকতে পারে; যেমন সে তার সন্তানদের দেখলে কোমল হয় এবং বন্ধুদের সাথে বসলে প্রফুল্ল হয়। কিন্তু একজন আদর্শের কাছে কাঙ্ক্ষিত রহমত এর চেয়েও অনেক বেশি প্রশস্ত ও ব্যাপক: "তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" "যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।" বরং একজন দয়ালু ব্যক্তির দয়া মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই রহমতের ওপর সওয়াব প্রদান করেন এবং এর মাধ্যমে গুনাহ মাফ করেন। সেই ব্যক্তি যে তৃষ্ণায় মাটি চাটতে থাকা একটি কুকুরকে দেখে তাকে পানি পান করিয়েছিল, আল্লাহ তার এই কাজের প্রতিদান দিলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। বনী ইসরাঈলের এক পাপিষ্ঠা মহিলা একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল যেটি একটি তপ্ত দিনে কূপের চারপাশে ঘুরছিল এবং তৃষ্ণায় তার জিহ্বা বেরিয়ে এসেছিল; মহিলাটি তার চামড়ার মোজা দিয়ে পানি তুলে তাকে পান করিয়েছিল, ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল।
মহিমান্বিত আল্লাহ অতি দয়ালু; যদি একটি কুকুরের প্রতি দয়া প্রদর্শন পাপিষ্ঠা নারীদের গুনাহ মাফ হওয়ার কারণ হতে পারে, তবে মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন অবশ্যই বিস্ময়কর বিষয় তৈরি করবে। আর রহমত কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
من شقي، أولئك هم غلاظ الأكباد الجبارون المستكبرون. حقا إن القسوة في خلق الإِنسان دليل نقص كبير وفي تاريخ الأمة دليل فساد خطير.
ولكن القلوب الكبيرة قلما تستجيشها دوافع القسوة فهي أبدًا إلى الصفح والعفو أميل وعن الضغينة والغلظة أبعد.
[التواضع]التواضع: جبلت النفوس على كره من يستطيل عليها ويحتقرها ويستصغرها، كما جبلت على النفرة ممنِ يتكبر عليها ويتعالى عنها. حتى ولو كان ما يقوله حقًا وصدقًا. إن قلوبهم دون كلامه مغلقة، وصدورهم عن إرشاده ووعظه موصدة بل لعلهم يكرهون أو يستثقلون ما يصدر منه من علم وحق. وقد أدب الله نبيه محمدًا، صلى الله عليه وسلم، في هذا الباب فخاطبه بقوله: {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [الكهف: 28] أولئك هم المستضعفون من الصحب الكرام أمثال صهيب وعمار وبلال وخباب؛ أراد الملأ المستكبرون من قريش من الرسول، صلى الله عليه وسلم، أن يطردهم من مجلسه أو أن يخص لهم مجلسًا لا يجتمعون فيه
যে ব্যক্তি দুর্ভাগা, তারাই হলো কঠোর হৃদয়ের অধিকারী, স্বৈরাচারী ও অহংকারী। প্রকৃতপক্ষে মানুষের চরিত্রে কঠোরতা থাকা এক চরম অপূর্ণতার প্রমাণ এবং উম্মাহর ইতিহাসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের নিদর্শন।
কিন্তু মহান হৃদয়গুলো কঠোরতার প্ররোচনায় খুব কমই সাড়া দেয়; বরং সেগুলো সর্বদা ক্ষমা ও মার্জনার দিকেই অধিক ঝুঁকে থাকে এবং বিদ্বেষ ও রূঢ়তা থেকে বহুদূরে অবস্থান করে।
[বিনয়]বিনয়: মানুষের আত্মা স্বভাবগতভাবেই তাকে ঘৃণা করার জন্য বিন্যস্ত হয়েছে যে তার ওপর দম্ভ প্রকাশ করে এবং তাকে তুচ্ছ ও ছোট জ্ঞান করে; ঠিক যেমন আত্মা তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ থাকে যে তার সামনে অহংকার করে এবং নিজেকে উচ্চ মনে করে। এমনকি তার কথা যদি সত্য ও সঠিকও হয় তবুও। তার কথার সামনে তাদের হৃদয় রুদ্ধ থাকে এবং তার দিকনির্দেশনা ও উপদেশের প্রতি তাদের বক্ষ অবরুদ্ধ হয়ে যায়; বরং সম্ভবত তারা তার থেকে উৎসারিত জ্ঞান ও সত্যকেও অপছন্দ করে কিংবা তা গ্রহণ করাকে দুঃসাধ্য মনে করে। আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ বিষয়ে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং তাঁকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না} [কাহাফ: ২৮]। তারা হলেন সম্মানিত সাহাবীদের (صحابة) মধ্য থেকে সেই দুর্বল ও নিগৃহীত ব্যক্তিবর্গ, যেমন: সুহাইব, আম্মার, বিলাল এবং খাব্বাব। কুরাইশের অহংকারী প্রভাবশালীরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দাবি করেছিল যেন তিনি তাদেরকে নিজের মজলিস থেকে সরিয়ে দেন অথবা তাদের জন্য এমন কোনো পৃথক মজলিসের ব্যবস্থা করেন যেখানে তারা তাদের সাথে একত্রিত হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
مع الضعفاء والفقراء فأنزل الله عليه: {وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا} [الكهف: 28]
إن التواضع هو بذل الاحترام والعطف لمن يستحقه. التواضع خلق يكسب صاحبه رضا أهل الفضل ومودتهم، ومَنْ أحقّ بهذا الخلق من رجل القدوة فهو أنجح وسيلة إلى الائتلاف.
إن ابتغاء الرفعة وحسن الِإفادة من طريق التواضع هو أيسر الطرق وأوثقها. ذلك أن التواضع في محله يورث المودة، فمن عمر فؤاده بالمودة امتلأت عينه بالمهابة.
إن المتواضع هو الرجل الذي يرجى لنفع الأمة ويستطيع الخوض في كل ميدان ويعيش في كل مجتمع، يعيش وهو ضافي الكرامة أنيس الملتقى شديد الثقة بنفسه مبسوط المحيا لجليسه.
ويلتحق بهذا الأمر ويلتصق به حديث المرء عن نفسه وكثرة الثناء عليها، فذلك شيء ممقوت يتنافى مع خلق التواضع وإنكار الذات، فينبغي لرجل الدعوة ومحل القدوة ألا يَدّعي شيئًا يدل على تعاليه بل إن حقًا عليه أن يعرف أن كل ما عنده من علم أو منزلة أو مرتبة هو محضُ فضل الله عليه فليتحدث - إن شاء أن يتحدث- بفضل الله لا بفضل نفسه فإذا أدرك الناس منه
দুর্বল (ضعفاء) ও দরিদ্রদের সাথে অবস্থানকালে আল্লাহ তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করলেন: {আর আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে আর যার কাজ-কর্ম সীমা অতিক্রম করেছে} [আল-কাহফ: ২৮]
নিশ্চয় বিনয় হলো সেই ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও মমতা প্রদর্শন করা যে এর যোগ্য। বিনয় এমন একটি চারিত্রিক গুণ যা এর অধিকারীকে গুণীজনদের সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভে ধন্য করে। আর একজন আদর্শস্থানীয় ব্যক্তির চেয়ে এই গুণের অধিক হকদার কে হতে পারে? কেননা এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও একতা স্থাপনের সফলতম মাধ্যম।
নিশ্চয় বিনয়ের মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা লাভ এবং কল্যাণ হাসিল করা সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য পথ। কারণ যথাযথ ক্ষেত্রে বিনয় প্রদর্শন ভালোবাসা বৃদ্ধি করে; আর যার অন্তর ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ হয়, তার দুচোখে গাম্ভীর্য ও সম্ভ্রম ফুটে ওঠে।
নিশ্চয় বিনয়ী ব্যক্তিই সেই মানুষ যার নিকট হতে উম্মাহর উপকারের আশা করা যায়। তিনি প্রতিটি ময়দানে বিচরণ করতে সক্ষম এবং সকল পরিবেশে মানিয়ে চলতে পারেন। তিনি পূর্ণ মর্যাদার সাথে জীবন অতিবাহিত করেন, মজলিসে অত্যন্ত অমায়িক হন, নিজের ওপর সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখেন এবং তাঁর সঙ্গীদের সামনে সর্বদা সহাস্য বদনে উপস্থিত হন।
এই প্রসঙ্গের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় হলো নিজের সম্পর্কে আলোচনা করা এবং নিজের ভূয়সী প্রশংসা (ثناء) করা। এটি একটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ যা বিনয় ও আত্মনিবেদনের পরিপন্থী। সুতরাং একজন দাঈ এবং আদর্শস্থানীয় ব্যক্তিত্বের জন্য সমীচীন নয় যে তিনি এমন কোনো দাবি করবেন যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে। বরং তাঁর ওপর আবশ্যিক হলো এটি উপলব্ধি করা যে, তাঁর নিকট যে জ্ঞান, মর্যাদা বা অবস্থান রয়েছে তা একান্তই আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ। তাই তিনি যদি কথা বলতে চান, তবে যেন আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়েই আলোচনা করেন—নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য নয়। যখন মানুষ তাঁর থেকে উপলব্ধি করবে...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ذلك فتحوا له قلوبهم وتحلقت حوله نفوسُهم قبل أجسادِهم ووقع وعظُه وتوجيهه منهم موقع القبول والرضا ونال من الحظوة على قدر إحسانه وقصده.
[الرفق]الرفق: الحديث عن الرفق جميل وطويل وهو في ذات الوقت ممتع. وفي تقديرنا أن حاجة الدعاة إليه من أهل العلم والفضل والقدوة ماسة للغاية، وبخاصة إذا انضم إليه ما سبق من حديث في الرحمة والتواضع.
ونستفتح في حديث الرفق بصفة المصطفى، صلى الله عليه وسلم، التي رحم الله العباد بها فاصطفاه لها، يقول الله عز وجل: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} [آل عمران: 159] نعم لقد أراد الله بفضله ورحمته أن يمنن على العالم برجل يمسح آلامه ويخفف أحزانه، ويستميت في هدايته ويناصر الضعيف، ويهذب القوي حتى يرده سويا سليم الفطرة لا يشقى ولا يطغى فأرسل محمدًا، صلى الله عليه وسلم، وسكب في قلبه من العلم والحلم، وفي خلقه من الِإحسان والبر، وفي طبعه من اللين والرفق، وفي يده من الكرم والندى، ما جعله أزكى عباد الله قلبًا وأوسعهم عطفًا
এ কারণেই তারা তাঁর প্রতি তাদের হৃদয়গুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছিল এবং তাদের দেহের আগে তাদের আত্মাগুলো তাঁর চারপাশ ঘিরে ভিড় জমাত। তাঁর নসিহত ও দিকনির্দেশনা তাদের কাছে কবুল ও সন্তুষ্টির মর্যাদা লাভ করেছিল এবং তিনি তাঁর ইহসান ও সদিচ্ছার অনুপাতে সম্মান লাভ করেছিলেন।
[কোমলতা]কোমলতা: কোমলতা নিয়ে আলোচনা সুন্দর ও দীর্ঘ, একই সাথে তা অত্যন্ত আনন্দদায়ক। আমাদের মূল্যায়নে, আলেম, গুণী ও আদর্শ দাঈদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যখন এর সাথে রহমত ও বিনয় সম্পর্কিত পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো যুক্ত হয়।
কোমলতার আলোচনায় আমরা মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই গুণের মাধ্যমে শুরু করছি, যার দ্বারা আল্লাহ বান্দাদের প্রতি রহম করেছেন এবং তাঁকে এর জন্য মনোনীত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত} [আল ইমরান: ১৫৯]। হ্যাঁ, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে বিশ্ববাসীকে এমন একজন মানুষের মাধ্যমে ধন্য করতে চেয়েছিলেন, যিনি তাদের ব্যথা মুছে দেবেন, তাদের দুঃখ লাঘব করবেন, তাদের হেদায়াতের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করবেন, দুর্বলকে সাহায্য করবেন এবং শক্তিশালীকে সংস্কার করবেন—যতক্ষণ না সে সুষম ও সুস্থ স্বভাবের অধিকারী মানুষে পরিণত হয়, যে দুর্ভাগাও হবে না এবং সীমালঙ্ঘনকারীও হবে না। অতঃপর তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর হৃদয়ে ইলম ও সহনশীলতা, তাঁর চরিত্রে ইহসান ও সদাচার, তাঁর স্বভাবে নম্রতা ও কোমলতা এবং তাঁর হাতে উদারতা ও বদান্যতা ঢেলে দিলেন, যা তাঁকে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে পবিত্রতম হৃদয়ের অধিকারী এবং সর্বাধিক সহানুভূতিশীল ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأرحبهم صدرًا وألينهم عريكة.
هذا بعض نعت محمد، صلى الله عليه وسلم، المجتزأ من قول الحق تبارك وتعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4]
وهذا إيراد من قبس النبوة في باب الرفق وبيان أثره لننطلق منه إلى ما يخصّ هذا المبحث.
يقول عليه الصلاة والسلام: «إن الله رفيق يحب الرفق ويعطي على الرفق ما لا يعطي على العنف وما لا يعطي على ما سواه» رواه مسلم.
وقال مخاطبًا عائشة رضي الله عنها: «عليك بالرفق. . إن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه، ولا ينزع من شيء إلا شانه» .
يا أيها المُقتدى بهم: إن الناس في حاجة إلى كنف رفيق، وإلى رعاية حانية، وبشاشة سمحة، بحاجة إلى ودّ يسعهم، وحلم لا يضيق بجهلهم وضعفهم ونقصهم. في حاجة إلى قلب كبير يعطيهم ولا يحتاج إلى عطائهم، ويحمل همهم ولا يثقلهم بهمه، يجدون عنده الاهتمام والرعاية والعطف والسماحة والمودة والرضا.
وقد يحسن أن نخص الدعاة المقتدى بهم بخطاب عن الرفق
তিনি ছিলেন প্রশস্ত হৃদয়ের এবং অত্যন্ত কোমল স্বভাবের।
এটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলির সামান্য কিছু অংশ, যা মহান সত্য আল্লাহ তায়ালার এই বাণী থেকে সংগৃহীত: "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" [সূরা আল-কলম: ৪]
এটি নবুওয়াতের নূর থেকে কোমলতা (الرفق) এবং এর প্রভাব বর্ণনার একটি উপস্থাপনা, যেখান থেকে আমরা এই আলোচনার মূল বিষয়ের দিকে অগ্রসর হবো।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল (رفيق), তিনি কোমলতা (الرفق) পছন্দ করেন। তিনি কোমলতার বিনিময়ে এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার বিনিময়ে দান করেন না, এবং কোমলতা ব্যতীত অন্য কিছুর বিনিময়েও তা দান করেন না।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে সম্বোধন করে বলেন: "তুমি কোমলতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই কোমলতা (الرفق) যে জিনিসে থাকে, তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে; আর যে জিনিস থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তাকে তা কলুষিত বা ত্রুটিপূর্ণ করে দেয়।"
হে অনুকরণীয় ব্যক্তিবর্গ: মানুষের প্রয়োজন একজন কোমল (رفيق) আশ্রয়দাতার, মমতাময়ী অভিভাবকত্বের এবং সহৃদয় প্রফুল্লতার। তাদের এমন এক ভালোবাসার প্রয়োজন যা তাদের সবাইকে শামিল করবে এবং এমন এক ধৈর্য বা সহনশীলতা (حلم) প্রয়োজন যা তাদের অজ্ঞতা, দুর্বলতা ও ত্রুটির কারণে সংকীর্ণ হবে না। তাদের প্রয়োজন এমন একটি বিশাল হৃদয়ের, যা তাদের দান করবে কিন্তু তাদের থেকে প্রতিদানের প্রত্যাশী হবে না, যা তাদের দুশ্চিন্তা বহন করবে কিন্তু নিজের দুশ্চিন্তা দিয়ে তাদের ভারাক্রান্ত করবে না। যেখানে তারা পাবে আন্তরিক মনোযোগ, যত্ন, মমতা, উদারতা, হৃদ্যতা ও সন্তুষ্টি।
তাই অনুকরণীয় দাঈ বা ধর্মপ্রচারকদের জন্য কোমলতা (الرفق) বিষয়ে বিশেষভাবে সম্বোধন করা সমীচীন হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أخذًا من نهج السلف إذ أن هذا الميدان ونحن نعيش الصحوة الِإسلامية وأجواءها المباركة نحتاج فيه إلى مزيد عناية وفقه وترفق.
يقول عمر رضي الله عنه وهو على المنبر: " أيها الناس لا تُبَغِّضُوا الله إلى عباده فقيل كيف ذلك أصلحك الله؟ قال: يجلس أحدكم قاصا (1) فيقول على الناس حتى يبغض إليهم ما هم فيه، ويقوم أحدكم إمامًا فيطول على الناس حتى يبغض إليهم ما هم فيه ".
ويقول ابن عباس رضي الله عنه عنهما-: "حدث الناس كل جمعة فإن أكثرت فمرتين فإن أكثرت فثلاث ولا تمل الناس من هذا القرآن، ولا تأت القوم وهم في حديث فتقطع عليهم حديثهم وقال: أنصت. . فإذا أمروك فحدثهم وهم يشتهونه وإياك والسجع في الدعاء، فإني عهدت رسول الله، صلى الله عليه وسلم وأصحابه لا يفعلونه ".
وكان ابن مسعود يُذكِّر كل خميس فقال رجل من القوم لوددت- يا أبا عبد الرحمن - لو أنك ذكرتنا كل يوم. فرد عليه
--------------------------------------------
সালাফদের কর্মপন্থা অনুসরণ করে, যেহেতু আমরা ইসলামি জাগরণ ও এর বরকতময় আবহের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি, সেহেতু এই ক্ষেত্রে আমাদের আরও নিবিড় যত্ন, প্রজ্ঞা এবং কোমলতার প্রয়োজন।
উমর (রা.) মিম্বরে থাকা অবস্থায় বলতেন: "হে লোকসকল! আল্লাহর বান্দাদের কাছে আল্লাহকে অপ্রিয় করে তুলো না।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আল্লাহর কল্যাণপ্রাপ্ত ব্যক্তি! তা কীভাবে হতে পারে?" তিনি বললেন, "তোমাদের কেউ একজন কাহিনীকার বা উপদেশদাতা (قاص) (১) হিসেবে উপবিষ্ট হয়ে মানুষের সামনে দীর্ঘ আলোচনা করে, ফলে মানুষের কাছে তাদের বর্তমান অবস্থা অপ্রিয় হয়ে ওঠে। আবার তোমাদের কেউ ইমাম হিসেবে দাঁড়ায় এবং সালাত দীর্ঘায়িত করে, যার ফলে মানুষের কাছে তাদের ইবাদত অপ্রিয় হয়ে ওঠে।"
ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন: "প্রতি জুমাবারে মানুষকে আলোচনা শোনাও। যদি বেশি করতে চাও তবে সপ্তাহে দুইবার, আর তার চেয়েও বেশি হলে তিনবার। এই কুরআনের প্রতি মানুষকে বিরক্ত করো না। আর তুমি এমন কোনো দলের কাছে যেয়ো না যারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় মগ্ন রয়েছে, এমতাবস্থায় তুমি তাদের কথা থামিয়ে দিয়ে বলো না যে: 'চুপ করো'। বরং তুমি নীরব থাকো... অতঃপর যখন তারা তোমাকে অনুরোধ করবে, তখন তুমি তাদের কাছে আলোচনা করো যখন তারা তা আগ্রহের সাথে শুনতে চায়। আর দোয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম অনুপ্রাস পরিহার করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের দেখেছি যে, তাঁরা তা করতেন না।"
ইবনে মাসউদ (রা.) প্রতি বৃহস্পতিবার নসিহত করতেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বলল: "হে আবু আবদুর রহমান! আমি আকাঙ্ক্ষা করি যদি আপনি আমাদের প্রতিদিন নসিহত করতেন।" তিনি তাকে প্রত্যুত্তরে বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا الكنيف الذي قد مليء علمًا: " أما إنه يمنعني من ذلك أني أكره أن أملَكم وإني أتخولكم بالموعظة كما كان النبي، صلى الله عليه وسلم، يتخولنا بها مخافة السآمة علينا ".
يعلق على هذا الحافظ ابن حجر في الفتح مستنبطًا مستخلصًا بقوله: وفي هذا استحباب ترك المداومة في الجد في العمل الصالح خشية الملال، وإن كانت المواظبة مطلوبة، لكنها على قسمين: إما كل يوم مع عدم التكلف، وإما يومًا بعد يوم فيكون الترك لأجل الراحة ليقبل على الثاني بنشاط، وإما يوم الجمعة ويختلف باختلاف الأحوال والأشخاص والضابط الحاجة مع وجود النشاط.
والرفق ذو ميادين فسيحة ومجالات عريضة فرفق مع الجهال: إما جهل علم، أو جهل تحضر، ولقد رفق النبي، صلى الله عليه وسلم، بالأعرابي الذي بال في المسجد وتركه حتى فرغ من بوله وأمر أصحابه بالكف عنه وألا يقطعوا عليه بوله، فلما فرغ دعاه النبي، صلى الله عليه وسلم، وأخبره أن المساجد لم تبنَ لهذا وإنما هي لذكر الله والصلاة.
وجلفٌ أعرابي آخر جذب برداء النبي، صلى الله عليه
এই সেই আধুনি (পাত্র) যা জ্ঞানে পরিপূর্ণ ছিল: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে বিরক্ত করতে অপছন্দ করি বিধায় এটি করা থেকে বিরত থাকি। আমি তোমাদের উপদেশের জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নিই, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় আমাদের উপদেশের জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নিতেন।"
হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে এর ওপর মন্তব্য করে নির্যাস ও সিদ্ধান্ত বের করে বলেছেন: এতে একঘেয়েমির আশঙ্কায় নেক আমলে কঠোরভাবে নিরবচ্ছিন্নতা বর্জন করার পছন্দনীয় (مستحب) হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। যদিও নিয়মিত আমল করা কাম্য, তবে তা দুই প্রকার: হয়তো কষ্টের বোঝা না চাপিয়ে প্রতিদিন আমল করা, অথবা একদিন অন্তর অন্তর করা—যাতে বিশ্রামের জন্য বিরতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী দিনের কাজ পূর্ণ উদ্যমে শুরু করা যায়। অথবা তা জুমার দিনও হতে পারে। এটি অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং এর মানদণ্ড হলো উদ্দীপনা থাকা অবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী আমল করা।
কোমলতার ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত এবং এর পরিসর অনেক ব্যাপক। মূর্খদের সাথে কোমল আচরণ করা: চাই তা জ্ঞানগত অজ্ঞতা হোক বা শিষ্টাচারগত অজ্ঞতা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মরুবাসীর প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করেছিলেন যে মসজিদে প্রস্রাব করেছিল। তিনি তাকে তার প্রস্রাব শেষ করা পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর সাহাবীদের তাকে বাধা দিতে এবং তার প্রস্রাব মাঝপথে বন্ধ করতে নিষেধ করেছিলেন। যখন সে শেষ করল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং তাকে জানালেন যে, মসজিদসমূহ এসব কাজের জন্য নির্মিত হয়নি, বরং এগুলো আল্লাহর জিকির ও সালাতের জন্য।
আরেকজন রূঢ় স্বভাবের মরুবাসী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাদর ধরে সজোরে টান দিল...
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وسلم، جذبة شديدة وكان عليه برد نجراني غليظ الحاشية فأثر في صفحة عنق النبي، صلى الله عليه وسلم، ثم «قال الأعرابي: يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك فالتفت نبي الرفق والرحمة ضاحكًا ثم أمر له بعطاء» . بأبي هو وأمي، صلى الله عليه وسلم، ما كهر ولا نهر ولا تبرم ولا ضجر.
ومن الذين يخصون بمزيد من الترفق المتبدئون في الإِسلام والعلم وطريق الاهتداء. والغفلة في هذا الجانب قد تؤدي إلى فتنة وانعكاس في المقصود. وقد قال عليه الصلاة والسلام لمعاذ وأبي موسى لما بعثهما إلى اليمن: «بشرا ولا تنفرا ويسرا ولا تعسرا»
يقول ابن حجر: " والمراد تأليف من قرب إسلامه وترك التشديد عليه في الابتداء، وكذلك الزجر عن المعاصي ينبغي أن يكون بتلطف ليُقبل، وكذا تعليم العلم ينبغي أن يكون بالتدرج، لأن الشيء إذا كان في ابتدائه سهلًا حُبب إلى من يدخل فيه وتلقاه بانبساط وكانت عاقبته غالبًا الازدياد بخلاف ضده ".
وينبغي أن يتمثل القدوة في هذا الباب الرفق بمجالسيه فيتحمل من كان منهم ذا فهم بطيء، ويسع بحلمه جفاء ذي الجهالة، لا يعنف السائل بالتوبيخ القبيح فيخجله، ولا يزجره
...একটি নাজরানি চাদর পরিহিত ছিলেন যার পাড় ছিল বেশ স্থূল। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘাড়ের পার্শ্বদেশে দাগ ফেলে দিয়েছিল। এরপর সেই বেদুইন বলল: "হে মুহাম্মদ! তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দাও।" তখন পরম কোমলতা ও দয়ার নবী হাস্যোজ্জ্বল মুখে তাঁর দিকে ফিরে তাকালেন এবং তাকে কিছু দান করার আদেশ দিলেন। আমার পিতা-মাতা তাঁর প্রতি উৎসর্গিত হোন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি কাউকে ধমক দেননি, রুক্ষ ব্যবহার করেননি, বিরক্তি প্রকাশ করেননি এবং অসন্তোষও প্রকাশ করেননি।
যাদের ক্ষেত্রে অধিকতর কোমলতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়, তারা হলেন ইসলাম, ইলম বা জ্ঞান এবং হিদায়াতের পথে নবীন বা নতুন পদার্পণকারীগণ। এই বিষয়ে অসতর্কতা ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে এবং মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআয ও আবু মুসাকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন, তখন বলেছিলেন: "তোমরা সুসংবাদ প্রদান করো এবং মানুষকে বিতশ্রদ্ধ করো না; সহজ করো এবং কঠিন করো না।"
ইবনে হাজার বলেন: "এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—যাদের ইসলাম গ্রহণ নিকটবর্তী হয়েছে তাদের অন্তর জয় করা এবং সূচনালগ্নে তাদের ওপর কঠোরতা পরিহার করা। একইভাবে পাপাচার থেকে বারণ করার ক্ষেত্রেও নম্রতা অবলম্বন করা উচিত যাতে তা ফলপ্রসূ হয়। তেমনিভাবে জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমিক ধারা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। কারণ কোনো বিষয় শুরুর দিকে সহজ হলে তা গ্রহণকারীর নিকট প্রিয় হয়ে ওঠে এবং সে তা সানন্দে গ্রহণ করে; ফলে এর পরিণাম সাধারণত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, যা এর বিপরীত পন্থার ক্ষেত্রে ঘটে না।"
এই ক্ষেত্রে একজন আদর্শ ব্যক্তির উচিত তাঁর মজলিসে উপস্থিতদের সাথে নম্র আচরণ করা। তাদের মধ্যে যাদের বোধশক্তি মন্থর, তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করা এবং স্বীয় সহনশীলতা দিয়ে অজ্ঞদের রুক্ষতাকে ক্ষমা করা। তিনি প্রশ্নকারীকে কটু ভাষায় তিরস্কার করে লজ্জিত করবেন না এবং তাকে ধমক দেবেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيضع من قدره.
وأخَيرَا فالرفق ليس حقًا مقصورًا على بني الِإنسان بل هو حق محفوظ لكل ذي كبد رطبة يجسد ذلك في أدقّ صوره بل أغلظ ما يتصور من حالات حين يقول الرسول عليه الصلاة والسلام: «إن الله كتبَ الإحسان على كل شيء، فإذا قتلتم فأحسنوا القِتْلة، وإذا ذبحتم فَأحسنوا الذبحة، وليحدّ أحدُكم شفرته وليرح ذبيحته» .
وأي رفق بعد هذا الرفق في حالة إزهاق الروح وفصل الرأس عن الجسد، ولنختم هذا بهذا الدعاء النبوي: «اللهم من ولِي من أمر أمتي أمرا فرفق بهم فارفق به، ومن ولي من أمر أمتي شيئَا فشقّ عليهم فاشقق عليه» .
[الأصل الثالث موافقة القول العمل]
[الحث على موافقة القول العمل والتحذير من مخالفة ذلك]الأصل الثالث: موافقة القول العمل يقول الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ - كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} [الصف: 2 - 3]
سبق الحديث قريِبًا عن الصدق كمظهر أخلاقي في المسلم بصفة عامة وفي القدوة بصفة خاصة.
ولعلك أدركت أن الصدق ليس لفظة تخرج من اللسان
ফলে এটি তার মর্যাদাকে খর্ব করে।
সবশেষে, কোমলতা কেবল মানবজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো অধিকার নয়, বরং তা প্রতিটি সজীব প্রাণসম্পন্ন সত্তার জন্য সংরক্ষিত অধিকার। এটি এর সূক্ষ্মতম রূপে প্রতিফলিত হয়, এমনকি কোনো পরিস্থিতির কল্পনাযোগ্য কঠিনতম অবস্থায়ও, যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর ইহসান (সদাচার) আবশ্যিক করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো; আর যখন জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করো। তোমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ ছুরি ধারালো করে নেওয়া এবং তার জবাইকৃত পশুকে স্বস্তি দেওয়া»।
প্রাণ হরণ এবং দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার মুহূর্তে এই কোমলতার পরে আর কী কোমলতা থাকতে পারে! আর আমরা এই প্রসঙ্গের ইতি টানব এই নববী দোয়ার মাধ্যমে: «হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করল এবং তাদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করল, আপনিও তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করুন। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করল এবং তাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করল, আপনিও তার প্রতি কঠোর হোন»।
[তৃতীয় মূলনীতি: কর্মের সাথে কথার সংগতি]
[কথার সাথে কাজের সংগতির প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর পরিপন্থী আচরণ থেকে সতর্কীকরণ]তৃতীয় মূলনীতি: কর্মের সাথে কথার সংগতি। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।} [আস-সাফ: ২ - ৩]
সম্প্রতি সততা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে যা সাধারণভাবে একজন মুসলমানের এবং বিশেষভাবে একজন আদর্শ ব্যক্তির নৈতিক বৈশিষ্ট্য।
আর সম্ভবত আপনি অনুধাবন করেছেন যে, সততা কেবল জিহ্বা থেকে নিঃসৃত কোনো শব্দ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فحسب، ولكنه صدق في اللهجة واستقامة في المسلك. الباطن فيه كالظاهر والقول فيه صنو العمل.
هذا جانب وجانب آخر أن الناس والنفوس مجبولة على عدم الانتفاع بمن علمت أنه يقول ولا يعمل، أو يعلم ثم لا يعمل ولهذا قال شعيب عليه السلام: {وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: 88]
يقول أبو الدرداء رضي الله عنه " لا يفقه الرجل كل الفقه حتى يمقت الناس في ذات الله ثم يرجع إلى نفسه فيكون لها أشد مقتًا ".
وجانب ثالث وهو ما أشرنا إليه في مبحث أهمية القدوة منِ أن كثيرًا من الناس لا يتوجه نحو العمل حتى يرى واقعًا ماثلًا وأنموذجًا مطبقًا يتخذه أسوة ويدرك به أن هذا المطلوب أمر في مقدور كل أحد.
بل متى يكون المرء قدوة صالحة وأسوة حسنة ما لم يسابق إلى فعل ما يأمر به من خير وترك ما ينهى عنه من سوء؟! وقد جاء في الصحيحين وغيرهما عن أسامة بن زيد رضي الله عنهما أن
শুধু তাই নয়, বরং এটি হলো উচ্চারণে সত্যবাদিতা এবং কর্মপদ্ধতিতে অবিচলতা। তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা বাহ্যিক অবস্থার মতোই এবং তার কথা তার কাজেরই সহোদর।
এটি একটি দিক, আর দ্বিতীয় দিকটি হলো যে, মানুষের প্রকৃতি ও মনস্তত্ত্ব এমনভাবে গঠিত যে তারা এমন ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হতে চায় না যার সম্পর্কে তারা জানে যে সে যা বলে তা নিজে করে না, অথবা সে জ্ঞান রাখে কিন্তু তদানুযায়ী আমল করে না। এ কারণেই শুয়াইব (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "আমি তোমাদের যা নিষেধ করছি, আমি নিজে তা করে তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করতে চাই না। আমি আমার সাধ্যমতো কেবল সংশোধনই চাই। আর আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।" [সূরা হূদ: ৮৮]
আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "একজন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে (লোকদের বিচ্যুতিতে) তাদের প্রতি বিরাগভাজন হয়, অতঃপর নিজের নফসের দিকে ফিরে আসে এবং নিজের নফসের প্রতি আরও বেশি বিরাগভাজন হয়।"
তৃতীয় আরেকটি দিক হলো যা আমরা 'আদর্শের গুরুত্ব' শীর্ষক আলোচনায় ইঙ্গিত করেছি যে, অনেক মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত আমলের প্রতি আগ্রহী হয় না যতক্ষণ না তারা কোনো বাস্তব দৃষ্টান্ত এবং ফলপ্রসূ নমুনা দেখতে পায় যাকে তারা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে এবং যার মাধ্যমে তারা উপলব্ধি করতে পারে যে এই কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি প্রত্যেকের সামর্থ্যের মধ্যেই রয়েছে।
বরং একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কীভাবে সৎ আদর্শ ও উত্তম নমুনা হতে পারে, যতক্ষণ না সে যে কল্যাণের আদেশ দেয় তা পালনে এবং যে মন্দের ব্যাপারে নিষেধ করে তা বর্জনে নিজে অগ্রগামী হয়?! সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে উসামা ইবনে যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে—
(খণ্ড: ১)
আল-কুদওয়াহ মাবাদিউ ওয়া নামাযিজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
النبي، صلى الله عليه وسلم، قال: «يجاء بالرجل يوم القيامة فيلقى في النار فتندلق أقتابه- يعني أمعاءه- في النار فيدور بها كما يدور الحمار برحاه فيجتمع أهل النار عليه فيقولون: أي فلان ما شأنك؟ أليس كنت تأمرنا بالمعروف وتنهانا عن المنكر؟ قال: كنت آمركم بالمعروف ولا آتيه، وأنهاكم عن المنكر وآتيه» .
وقد قيل:
وغيرُ تقي يأمرُ الناسَ بالتُقَى
… طبيبٌ يداوي الناسَ وهو عليلُ
وهنا مسألة هامة يحسن التنبيه إليها في هذا المقام وهو أن المسلم، حتى ولو كان قدوة مترقيًا في مدارج الكمال قد يغلبه هوى أو شهوة أو تدفعه نفس أمارة بالسوء أو ينزغه الشيطان، فتصدر منه زلة أو يحصل منه تقصير.
فإذا حدث ذلك فليبادر بالتوبة والرجوع وليُعْلم أن هذا ليس بمانع من التأسي به والاقتداء، فالضعف البشري غالب والكمال لله وحده ولا معصوم إلا من عصم الله.
وقد حدث مالك عن ربيعة قال: سمعت سعيد بن جبير يقول: لو كان المرء لا يأمر بالمعروف ولا ينهى عن المنكر حتى
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসবে এবং সে তা নিয়ে চক্কর দিতে থাকবে যেমন গাধা তার যাঁতা বা ঘানি নিয়ে চক্কর দেয়। তখন জাহান্নামবাসীরা তার কাছে সমবেত হয়ে বলবে: হে অমুক, তোমার এ কী দশা? তুমি কি আমাদের সৎকাজের আদেশ দিতে না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে: আমি তোমাদের সৎকাজের আদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না, আর তোমাদের মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতাম কিন্তু নিজে তা করতাম»।
আর বলা হয়েছে:
অধার্মিক ব্যক্তি মানুষকে ধর্মভীরুতার আদেশ দেয়
… সে তো ঐ চিকিৎসকের মতো যে মানুষের চিকিৎসা করে অথচ সে নিজে অসুস্থ
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (مسألة) রয়েছে যা এই স্থানে উল্লেখ করা সমীচীন। আর তা হলো, একজন মুসলিম, এমনকি যদি সে আদর্শ ব্যক্তিত্ব (قدوة) হিসেবে পূর্ণতার সোপানে অগ্রগামীও হয়, তবুও কুপ্রবৃত্তি বা লালসা তাকে পরাভূত করতে পারে, অথবা মন্দ কর্মে প্ররোচনাকারী আত্মা (نفس أمارة بالسوء) তাকে প্ররোচিত করতে পারে কিংবা শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিতে পারে। এর ফলে তার দ্বারা কোনো পদস্খলন ঘটতে পারে বা ত্রুটি প্রকাশ পেতে পারে।
যদি এমনটি ঘটে, তবে তার উচিত দ্রুত তওবা করে ফিরে আসা। আর জেনে রাখা উচিত যে, এটি তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। কেননা মানুষের দুর্বলতা প্রবল এবং পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য; আর আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ব্যতীত কেউ নিষ্পাপ (معصوم) নয়।
ইমাম মালিক রবীআহ থেকে বর্ণনা (حدث) করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে বলতে শুনেছি: যদি কোনো ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ না দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ না করে যতক্ষণ না...