(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر- ابن تيمية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1418هـ
عدد الصفحات: 64
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ- ইবনে তাইমিয়া বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ ও বিচার ব্যবস্থা
গ্রন্থ: আল-আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ)
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)
প্রকাশক: ইসলামী বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
[الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من الدين]الأمر بالمعروف
والنهي عن المنكر
[সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত]সৎকাজের আদেশ
অসৎকাজের নিষেধ
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الذي أنزل الله به كتبه وأرسل به رسله من الدين. فإن رسالة الله: إما إخبار، وإما إنشاء.
فالإخبار عن نفسه وعن خلقه: مثل التوحيد والقصص الذي يندرج فيه الوعد والوعيد. والإنشاء الأمر والنهي والإباحة. وهذا كما ذكر في أن {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] (سورة الإخلاص: آية 1) . تعدل ثلث القرآن؛ لتضمنها ثلث التوحيد؛ إذ هو قصص وتوحيد وأمر.
وقوله سبحانه في صفة نبينا، صلى الله عليه وسلم: {يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157] (سورة الأعراف: من الآية 157) هو بيان لكمال رسالته؛ فإنه صلى الله عليه وسلم هو الذي أمر الله على لسانه بكل معروف، ونهى عن كل منكر وأحل كل طيب وحرم كل خبيث، ولهذا روي عنه أنه قال: «إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق» . وقال في الحديث المتفق عليه: «مثلي ومثل الأنبياء كمثل رجل بنى دارا فأتمها وأكملها إلا موضع لبنة فكان الناس يطيفون بها ويعجبون من حسنها ويقولون: لولا موضع اللبنة! فأنا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ—সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ, যার সাথে আল্লাহ তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর রাসুলদের পাঠিয়েছেন, তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহর রিসালাত হলো: হয় সংবাদ প্রদান, নতুবা বিধান প্রবর্তন।
সুতরাং তাঁর নিজের এবং তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান: যেমন তাওহীদ এবং ঘটনাবলি, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রতিশ্রুতি এবং সতর্কবার্তা। আর বিধান প্রবর্তন হলো আদেশ, নিষেধ এবং বৈধতা। আর এটি যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে, {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়} [আল-ইখলাস: ১] (সূরা আল-ইখলাস: আয়াত ১) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য; কারণ এটি তাওহীদের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেহেতু এটি (কুরআন) কাহিনী, তাওহীদ এবং আদেশের সমষ্টি।
আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেন ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন} [আল-আরাফ: ১৫৭] (সূরা আল-আরাফ: আয়াত ১৫৭-এর অংশ)—এটি তাঁর রিসালাতের পূর্ণতার এক বর্ণনা; কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সেই সত্তা, যাঁর যবানে আল্লাহ সকল সৎ কাজের আদেশ দিয়েছেন, সকল মন্দ কাজ থেকে বারণ করেছেন, সকল পবিত্র বিষয়কে হালাল করেছেন এবং সকল অপবিত্র বিষয়কে হারাম করেছেন। এ কারণেই তাঁর থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আমি কেবল সচ্চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি»। এবং তিনি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে বলেছেন: «আমার এবং পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, কেবল একটি ইটের জায়গা ছাড়া। এরপর মানুষ এর চারপাশে ঘুরে দেখতে লাগল এবং এর সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়ে বলতে লাগল: কেন এই ইটের জায়গাটি পূর্ণ করা হলো না! সুতরাং আমিই সেই ইটের স্থান...»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تلك اللبنة» . فبه كمل دين الله المتضمن للأمر بكل معروف والنهي عن كل منكر، وإحلال كل طيب وتحريم كل خبيث. وأما من قبله من الرسل فقد كان يحرم على أممهم بعض الطيبات، كما قال: {فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ} [النساء: 160] (سورة النساء: من الآية 165) . وربما لم يحرم عليهم جميع الخبائث، كما قال تعالى: {كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِبَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ} [آل عمران: 93] (سورة آل عمران: من الآية 93) .
وتحريم الخبائث يندرج في معنى: " النهي عن المنكر "، كما أن إحلال الطيبات يندرج في: " الأمر بالمعروف "، لأن تحريم الطيبات مما نهى الله عنه، وكذلك الأمر بجميع المعروف والنهي عن كل منكر مما لم يتم إلا للرسول الذي تمم الله به مكارم الأخلاق المندرجة في المعروف، وقد قال الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] (سورة المائدة: من الآية 3) . فقد أكمل الله لنا الدين، وأتم علينا النعمة، ورضي لنا الإسلام دينا.
وكذلك وصف الأمة بما وصف به نبيها حيث قال: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110] (سورة آل عمران: من الآية 110) . وقال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [التوبة: 71] (سورة التوبة: من الآية 71) . ولهذا قال أبو هريرة: كنتم خير
...সেই ইট।" এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে, যা প্রতিটি সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও প্রতিটি অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং সকল পবিত্র বস্তুকে হালাল করা ও সকল অপবিত্র বস্তুকে হারাম করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। আর তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণের ক্ষেত্রে, তাঁদের উম্মতদের জন্য কিছু পবিত্র বস্তু হারাম করা হয়েছিল, যেমনটি তিনি বলেছেন: {বস্তুত ইহুদীদের চরম অবিচারের কারণে আমি তাদের জন্য এমন অনেক পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছি যা তাদের জন্য হালাল ছিল} [আন-নিসা: ১৬০] (সূরা আন-নিসা: আয়াত ১৬৫ থেকে)। আর সম্ভবত তাদের ওপর সকল অপবিত্র বস্তু হারাম করা হয়নি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {তওরাত নাযিল হওয়ার আগে ইসরাঈল নিজের জন্য যা হারাম করেছিলেন তা ছাড়া বনী ইসরাঈলের জন্য সমস্ত খাবারই হালাল ছিল} [আলে ইমরান: ৯৩] (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৯৩ থেকে)।
আর অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করা "অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر)"-এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত, যেমনিভাবে পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা "সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف)"-এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ পবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করা এমন একটি বিষয় যা থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। একইভাবে, সকল সৎকাজের আদেশ এবং সকল অসৎকাজের নিষেধ এমন বিষয় যা কেবল সেই রাসূলের মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত মহান চরিত্রসমূহকে পূর্ণতা দান করেছেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পন্ন করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে পছন্দ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৩ থেকে)। অতএব, আল্লাহ আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর নেয়ামত সম্পন্ন করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন।
একইভাবে তিনি এই উম্মতকেও সেই গুনে গুণান্বিত করেছেন যা দ্বারা তিনি তাঁর নবীকে করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির জন্য; তোমরা সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দাও এবং অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো} [আলে ইমরান: ১১০] (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১১০ থেকে)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করে} [আত-তাওবাহ: ৭১] (সূরা আত-তাওবাহ: আয়াত ৭১ থেকে)। একারণেই আবু হুরায়রা বলেছেন: তোমরা হলে সর্বোত্তম...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الناس للناس، تأتون بهم في الأقياد والسلاسل حتى تدخلوهم الجنة. فبين سبحانه أن هذه الأمة خير الأمم للناس: فهم أنفعهم لهم، وأعظمهم إحسانا إليهم؛ لأنهم كملوا أمر الناس بالمعروف ونهيهم عن المنكر من جهة الصفة والقدر، حيث أمروا بكل معروف ونهوا عن كل منكر لكل أحد، وأقاموا ذلك بالجهاد في سبيل الله بأنفسهم وأموالهم، وهذا كمال النفع للخلق.
وسائر الأمم لم يأمروا كل أحد بكل معروف ولا نهوا كل أحد عن كل منكر، ولا جاهدوا على ذلك. بل منهم من لم يجاهد، والذين جاهدوا كبني إسرائيل فعامة جهادهم كان لدفع عدوهم عن أرضهم، كما يقاتل الصائل الظالم؛ لا لدعوة المجاهدين وأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر، كما قال موسى لقومه: {يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ - قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ} [المائدة: 21 - 22] (سورة المائدة: الآيتان 21، 22) . إلى قوله: {قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا أَبَدًا مَا دَامُوا فِيهَا فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] (سورة المائدة: آية 24) . وقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلَإِ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ أَلَّا تُقَاتِلُوا قَالُوا وَمَا لَنَا أَلَّا نُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا وَأَبْنَائِنَا} [البقرة: 246]
মানুষ মানুষের কল্যাণের জন্য; তোমরা তাদের বেড়ি ও শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে নিয়ে আসো, এমনকি তোমরা তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাও। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, এই উম্মত মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত; কারণ তারা মানুষের জন্য সর্বাধিক উপকারী এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশে সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা তারা গুণগত বৈশিষ্ট্য ও মাত্রার দিক থেকে মানুষের সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করেছে, যেহেতু তারা প্রত্যেকের জন্য সকল প্রকার সৎ কাজের আদেশ দিয়েছে এবং প্রত্যেককে সকল প্রকার অসৎ কাজ হতে নিষেধ করেছে। আর তারা আল্লাহর পথে নিজেদের জীবন ও সম্পদ দ্বারা জিহাদের মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত করেছে; আর এটাই সৃষ্টির জন্য উপকারের চরম পূর্ণতা।
অন্যান্য উম্মতগণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে সকল সৎ কাজের আদেশ দেয়নি এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে সকল অসৎ কাজ হতে নিষেধও করেনি, আর তারা এর ওপর জিহাদও করেনি। বরং তাদের মধ্যে এমন জাতিও ছিল যারা জিহাদই করেনি। আর যারা জিহাদ করেছিল, যেমন বনী ইসরাঈল, তাদের অধিকাংশ জিহাদ ছিল কেবল নিজেদের ভূমি থেকে শত্রুকে প্রতিহত করার জন্য, যেমনটি কোনো জালেম আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়; তা মুজাহিদদের দাওয়াত প্রদান এবং তাদের সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার উদ্দেশ্যে ছিল না। যেমন মূসা (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং তোমরা পিছু হটো না, অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তারা বলল, হে মূসা! সেখানে এক শক্তিশালী ও জবরদস্ত জাতি রয়েছে এবং তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না। যদি তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়, তবেই আমরা প্রবেশ করব।} [আল-মায়িদাহ: ২১-২২] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ২১, ২২)। মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {তারা বলল, হে মূসা! তারা সেখানে থাকা অবস্থায় আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না। সুতরাং আপনি ও আপনার প্রতিপালক যান এবং যুদ্ধ করুন, আমরা এখানেই বসে রইলাম।} [আল-মায়িদাহ: ২৪] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ২৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আপনি কি মূসার পরবর্তী বনী ইসরাঈলের একদল নেতাকে দেখেননি? যখন তারা তাদের জনৈক নবীকে বলেছিল, ‘আমাদের জন্য একজন রাজা নিযুক্ত করুন যাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে পারি।’ তিনি বললেন, ‘এমন কি হতে পারে যে, তোমাদের ওপর যুদ্ধ নির্ধারিত করা হলে তোমরা যুদ্ধ করবে না?’ তারা বলল, ‘আমরা কেন আল্লাহর পথে যুদ্ধ করব না, অথচ আমাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ও সন্তান-সন্ততি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে?’} [আল-বাক্বারাহ: ২৪৬]
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
(سورة البقرة: من الآية 246) . فعللوا القتال بأنهم أخرجوا من ديارهم وأبنائهم، ومع هذا فكانوا ناكلين عما أمروا به من ذلك؛ ولهذا لم تحل لهم الغنائم ولم يكونوا يطؤون بملك اليمين.
ومعلوم أن أعظم الأمم المؤمنين قبلنا بنو إسرائيل؛ كما جاء في الحديث المتفق على صحته في الصحيحين عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: خرج علينا النبي صلى الله عليه وسلم يوما فقال: «عرضت علي الأمم فجعل يمر النبي ومعه الرجل والنبي ومعه الرجلان والنبي معه الرهط والنبي ليس معه أحد، ورأيت سوادا كثيرا سد الأفق فرجوت أن يكون أمتي؛ فقيل: هذا موسى وقومه. ثم قيل لي: انظر فرأيت سوادا كثيرا سد الأفق، فقيل: هؤلاء أمتك ومع هؤلاء سبعون ألفا يدخلون الجنة بغير حساب. فتفرق الناس ولم يبين لهم، فتذاكر أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: أما نحن فولدنا في الشرك ولكنا آمنا بالله ورسوله، ولكن هؤلاء أبناؤنا، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال: " هم الذين لا يتطيرون ولا يكتوون ولا يسترقون وعلى ربهم يتوكلون " فقام عكاشة بن محصن فقال: أمنهم أنا يا رسول الله؛ قال: " نعم " فقام آخر فقال: أمنهم أنا؛ فقال: سبقك بها عكاشة» .
ولهذا كان إجماع هذه الأمة حجة؛ لأن الله تعالى أخبر أنهم يأمرون بكل معروف وينهون عن كل منكر؛ فلو اتفقوا على إباحة محرم أو
(সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২৪৬-এর অংশ)। তারা যুদ্ধের সপক্ষে এই কারণ দর্শিয়েছিল যে, তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও সন্তান-সন্ততি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে; এতদসত্ত্বেও তাদেরকে যে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে তারা বিমুখ হয়েছিল। এই কারণেই তাদের জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়নি এবং তারা দাসীদের সাথে সংগত হতে পারত না।
আর এটি সুবিদিত যে, আমাদের পূর্ববর্তী মুমিন জাতিগুলোর মধ্যে বনী ইসরাঈলই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ; যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত সহিহাইন-এর অন্তর্ভুক্ত সহিহ হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق على صحته) হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন: একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: «আমার নিকট উম্মতদের পেশ করা হলো। আমি দেখলাম, কোনো নবী যাচ্ছেন যাঁর সাথে মাত্র একজন ব্যক্তি আছে, কোনো নবীর সাথে দুইজন ব্যক্তি, কোনো নবীর সাথে একটি ক্ষুদ্র দল এবং কোনো নবীর সাথে কেউই নেই। আমি এক বিশাল জনসমষ্টি দেখতে পেলাম যা দিগন্তকে আবৃত করে ফেলেছে, আমি আশা করলাম যে এরা আমার উম্মত; কিন্তু আমাকে বলা হলো: 'ইনি মূসা ও তাঁর কওম'। তারপর আমাকে বলা হলো: 'তাকান', আমি পুনরায় এক বিশাল জনসমষ্টি দেখলাম যা দিগন্ত ছেয়ে ফেলেছে। আমাকে বলা হলো: 'এরা আপনার উম্মত এবং তাদের সাথে সত্তর হাজার এমন ব্যক্তি রয়েছে যারা কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।' অতঃপর লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং তাদের নিকট বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন এবং বললেন: 'আমরা তো শিরকের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছি, তবে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি; বরং সম্ভবত এরা আমাদের সন্তান-সন্ততি হবে।' এই সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "তারা হলো ঐসব লোক যারা কুলক্ষণ গ্রহণ করে না, আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিকিৎসা করায় না, ঝাড়ফুঁক প্রার্থনা করে না এবং তারা তাদের প্রতিপালকের ওপরই ভরসা করে।" তখন উকাশাহ ইবনে মিহসান দাঁড়িয়ে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত?' তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। অতঃপর অন্য একজন দাঁড়িয়ে বললেন: 'আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত?' তিনি বললেন: "উকাশাহ এ বিষয়ে তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে"»।
আর এই কারণেই এই উম্মতের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) একটি দলিল (حجة); কারণ আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা প্রতিটি সৎকাজের আদেশ দেয় এবং প্রতিটি অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে; সুতরাং তারা যদি কোনো হারামের বৈধতার বিষয়ে একমত হয় অথবা
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إسقاط واجب، أو تحريم حلال، أو إخبار عن الله تعالى أو خلقه بباطل: لكانوا متصفين بالأمر بمنكر والنهي عن معروف: من الكلم الطيب والعمل الصالح؛ بل الآية تقتضي أن ما لم تأمر به الأمة فليس من المعروف، وما لم تنه عنه فليس من المنكر. وإذا كانت آمرة بكل معروف ناهية عن كل منكر: فكيف يجوز أن تأمر كلها بمنكر أو تنهى كلها عن معروف؟ والله تعالى كما أخبر بأنها تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر فقد أوجب ذلك على الكفاية منها بقوله: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104] (سورة آل عمران: آية 104) .
وإذا أخبر بوقوع الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر منها لم يكن من شرط ذلك أن يصل أمر الآمر ونهي الناهي منها إلى كل مكلف في العالم؛ إذ ليس هذا من شرط تبليغ الرسالة: فكيف يشترط فيما هو من توابعها؛ بل الشرط أن يتمكن المكلفون من وصول ذلك إليهم. ثم إذا فرطوا فلم يسعوا في وصوله إليهم مع قيام فاعله بما يجب عليه: كان التفريط منهم لا منه.
وكذلك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا يجب على كل أحد بعينه، بل هو على الكفاية، كما دل عليه القرآن، ولما كان الجهاد من تمام ذلك كان الجهاد أيضا كذلك، فإذا لم يقم به من يقوم بواجبه أثم كل قادر بحسب قدرته؛ إذ هو واجب على كل إنسان بحسب قدرته.
কোনো আবশ্যক (واجب) বিষয়কে বর্জন করা, অথবা কোনো হালাল (حلال) বস্তুকে হারাম (حرام) সাব্যস্ত করা, কিংবা আল্লাহ তাআলা অথবা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে মিথ্যা (باطل) সংবাদ প্রদান করা: তবে তারা মন্দ কাজের আদেশ (الأمر بالمنكر) এবং ভালো কাজে বাধা প্রদানের (النهي عن المعروف) বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত হতো; যা উত্তম বাক্য (الكلم الطيب) ও সৎকর্ম (العمل الصالح) বর্জনের নামান্তর। বরং আয়াতটি এই দাবি করে যে, এই উম্মত যে কাজের আদেশ দেয় না তা ভালো কাজ (المعروف) নয় এবং যা থেকে তারা নিষেধ করে না তা মন্দ কাজ (المنكر) নয়। আর যখন তারা প্রতিটি ভালো কাজের (المعروف) আদেশদাতা এবং প্রতিটি মন্দ কাজের (المنكر) নিষেধকারী, তখন কীভাবে এটি বৈধ হতে পারে যে তারা সকলে মিলে কোনো মন্দ কাজের (المنكر) আদেশ দেবে অথবা সকলে মিলে কোনো ভালো কাজ (المعروف) থেকে নিষেধ করবে? আল্লাহ তাআলা যেমন সংবাদ দিয়েছেন যে তারা ভালো কাজের (المعروف) আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজের (المنكر) নিষেধ করে, তেমনিভাবে তিনি উম্মতের একটি দলের ওপর তা সামষ্টিক আবশ্যক বা কিফায়া (على الكفاية) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং ভালো কাজের (المعروف) আদেশ দেবে ও মন্দ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।" (সূরা আল-ইমরান: ১০৪)।
আর যখন উম্মতের পক্ষ থেকে ভালো কাজের (المعروف) আদেশ ও মন্দ কাজের (المنكر) নিষেধ সংঘটিত হওয়ার সংবাদ দেওয়া হয়েছে, তখন এটি শর্ত নয় যে আদেশদাতার আদেশ এবং নিষেধকারীর নিষেধ বিশ্বের প্রত্যেক দায়বদ্ধ ব্যক্তি বা মুকাল্লাফের (مكلف) নিকট পৌঁছাতে হবে; যেহেতু এটি রিসালাত প্রচারের (تبليغ الرسالة) জন্যও শর্ত নয়, তাহলে রিসালাতের অনুগামী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কীভাবে তা শর্ত হতে পারে? বরং শর্ত হলো, দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (مكلف) নিকট তা পৌঁছানোর সক্ষমতা থাকা। অতঃপর যদি তারা অবহেলা (تفريط) করে এবং দায়িত্ব পালনকারীর পক্ষ থেকে আবশ্যক (واجب) দায়িত্ব পালনের পরেও তারা তা প্রাপ্তির চেষ্টা না করে, তবে সেই অবহেলা (تفريط) তাদের পক্ষ থেকেই গণ্য হবে, তার পক্ষ থেকে নয়।
অনুরূপভাবে ভালো কাজের (المعروف) আদেশ ও মন্দ কাজের (المنكر) নিষেধ করা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (واجب عينا) নয়, বরং তা সামষ্টিক আবশ্যক বা কিফায়া (على الكفاية), যেমনটি কুরআন নির্দেশ করেছে। আর যেহেতু জিহাদ (الجهاد) এই প্রক্রিয়ারই পূর্ণতাদানকারী অংশ, তাই জিহাদও (الجهاد) তদ্রূপ। সুতরাং যখন কোনো আবশ্যক (واجب) পালনকারী ব্যক্তি তা পালনে সচেষ্ট হয় না, তখন প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী গুনাহগার হবে; কেননা এটি প্রত্যেক মানুষের ওপর তার সামর্থ্য অনুযায়ী আবশ্যক (واجب)।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
[مراتب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر]كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من رأى منكم منكرا فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان» .
وإذا كان كذلك؛ فمعلوم أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وإتمامه بالجهاد هو من أعظم المعروف الذي أمرنا به؛ ولهذا قيل: ليكن أمرك بالمعروف ونهيك عن المنكر غير منكر، وإذا كان هو من أعظم الواجبات والمستحبات فالواجبات والمستحبات لا بد أن تكون المصلحة فيها راجحة على المفسدة؛ إذ بهذا بعثت الرسل ونزلت الكتب، والله لا يحب الفساد؛ بل كل ما أمر الله به فهو صلاح. وقد أثنى الله على الصلاح والمصلحين والذين آمنوا وعملوا الصالحات، وذم المفسدين في غير موضع، فحيث كانت مفسدة الأمر والنهي أعظم من مصلحته لم تكن مما أمر الله به، وإن كان قد ترك واجب وفعل محرم؛ إذ المؤمن عليه أن يتقي الله في عباده وليس عليه هداهم، وهذا معنى قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] (سورة المائدة: من الآية 105) . والاهتداء إنما يتم بأداء الواجب، فإذا قام المسلم بما يجب عليه من الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كما قام بغيره من الواجبات لم يضره ضلال الضلال.
وذلك يكون تارة بالقلب، وتارة باللسان، وتارة باليد. فأما القلب فيجب بكل حال؛ إذ لا ضرر في فعله، ومن لم يفعله فليس هو بمؤمن، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «وذلك أدنى - أو - أضعف الإيمان»
[সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের স্তরসমূহ]যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় (منكر) দেখবে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন নিজ মুখে (তা পরিবর্তন করে); আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে)। আর এটিই হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল (أضعف) স্তর»।
আর বিষয়টি যখন এই রূপ, তখন এটি সুনিশ্চিত যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা এবং জিহাদের মাধ্যমে এর পূর্ণতা সাধন করা আমাদের প্রতি আদিষ্ট অন্যতম মহান নেক কাজ। এই কারণেই বলা হয়েছে: "তোমার সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ যেন নিজেই কোনো অন্যায় (منكر) কাজে পরিণত না হয়।" আর এটি যখন অন্যতম মহান আবশ্যক (واجب) ও পছন্দনীয় (مستحب) কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত, তখন এই আবশ্যক (واجب) ও পছন্দনীয় (مستحب) কার্যাবলীতে অবশ্যই কল্যাণের (مصلحة) দিকটি অকল্যাণের (مفسدة) ওপর প্রবল হতে হবে; কেননা এই উদ্দেশ্যেই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে। আর আল্লাহ ফাসাদ বা বিপর্যয় পছন্দ করেন না; বরং আল্লাহ যা কিছুর আদেশ দিয়েছেন তার সবই হলো সংশোধন বা কল্যাণ। আল্লাহ তা'আলা বহু স্থানে সংশোধন ও সংশোধনকারীদের এবং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রশংসা করেছেন এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের নিন্দা করেছেন। সুতরাং যেখানে আদেশ ও নিষেধের অকল্যাণ (مفسدة) তার কল্যাণের (مصلحة) চেয়ে বেশি হবে, সেখানে সেটি আল্লাহর আদিষ্ট বিষয় হিসেবে গণ্য হবে না; যদিও এর মাধ্যমে কোনো একটি আবশ্যক (واجب) বিষয় পরিত্যক্ত হয়ে থাকে বা হারাম সংঘটিত হয়ে থাকে। কেননা মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা, তাদের হেদায়েত নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব নয়। আর এটিই আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর মর্মার্থ: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। তোমরা যদি সঠিক পথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [সূরা আল-মায়িদাহ: ১০৫]। আর সঠিক পথে চলা (اهتداء) কেবল আবশ্যক (واجب) পালন করার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। অতএব, যখন কোনো মুসলিম সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তার ওপর অর্পিত আবশ্যক (واجب) দায়িত্ব পালন করবে যেভাবে সে অন্যান্য আবশ্যক (واجب) কার্যাবলী পালন করে, তখন পথভ্রষ্টদের পথভ্রষ্টতা তার কোনো ক্ষতি করবে না।
আর সেটি কখনও অন্তরের মাধ্যমে, কখনও মুখের মাধ্যমে, আবার কখনও হাতের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। অন্তরের বিষয়টি সব অবস্থাতেই আবশ্যক (واجب); কেননা এটি পালনে কোনো ক্ষতি নেই। আর যে ব্যক্তি এটি করবে না সে মুমিন নয়, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আর এটিই হলো ঈমানের নিম্নতম (أدنى) — অথবা — সবচেয়ে দুর্বল (أضعف) স্তর»।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال: «ليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل» وقيل لابن مسعود: من ميت الأحياء؟ فقال: الذي لا يعرف معروفا ولا ينكر منكرا. وهذا هو المفتون الموصوف في حديث حذيفة بن اليمان.
وهنا يغلط فريقان من الناس:
فريق يترك ما يجب من الأمر والنهي تأويلا لهذه الآية، كما قال أبو بكر الصديق رضي الله عنه في خطبته إنكم تقرؤون هذه الآية: {عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] (سورة المائدة: من الآية 105) وإنكم تضعونها في غير موضعها، وإني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الناس إذا رأوا المنكر فلم يغيروه أوشك أن يعمهم الله بعقاب منه» .
والفريق الثاني: من يريد أن يأمر وينهى إما بلسانه وإما بيده مطلقا، من غير فقه وحلم وصبر ونظر فيما يصلح من ذلك وما لا يصلح، وما يقدر عليه وما لا يقدر، كما في حديث أبي ثعلبة الخشني: سألت عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بل ائتمروا بالمعروف وتناهوا عن المنكر، حتى إذا رأيت شحا مطاعا وهوى متبعا ودنيا مؤثرة وإعجاب كل ذي رأي برأيه، ورأيت أمرا لا يدان لك به، فعليك بنفسك ودع عنك أمر العوام؛ فإن من ورائك أياما الصبر فيهن على مثل قبض على الجمر، للعامل فيهن كأجر خمسين رجلا يعملون مثل عمله» فيأتي بالأمر والنهي معتقدا أنه مطيع في ذلك لله ورسوله وهو معتد في
এবং তিনি (সা.) বলেছেন: "এর বাইরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট নেই।" এবং ইবনে মাসউদ (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "জীবিতদের মধ্যে মৃত কে?" তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি, যে সৎকাজকে (معروف) ভালো বলে জানে না এবং অসৎকাজকে (منكر) অপছন্দ বা বর্জন করে না।" আর এটিই হলো সেই ফিতনাগ্রস্ত (مفتون) ব্যক্তি, যার বর্ণনা হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-এর হাদিসে এসেছে।
আর এখানে মানুষের দুই শ্রেণী ভুল করে:
এক দল এই আয়াতের ব্যাখ্যার (تأويل) কারণে আবশ্যক (واجب) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ত্যাগ করে; যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাঁর খুতবায় বলেছিলেন: "আপনারা এই আয়াতটি পাঠ করেন: 'হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা করো। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না' [সূরা আল-মায়িদাহ: ১০৫]। আর আপনারা একে ভুল স্থানে প্রয়োগ করেন। অথচ আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই মানুষ যখন কোনো অন্যায় বা অসৎকাজ (منكر) দেখবে কিন্তু তা পরিবর্তন করবে না, তখন অতি শীঘ্রই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন'।"
আর দ্বিতীয় শ্রেণী: যারা ফিকহ (فقه) বা গভীর প্রজ্ঞা, সহনশীলতা (حلم), ধৈর্য (صبر) এবং কোনটি সংশোধনকল্পে উপযোগী আর কোনটি অনুপযোগী কিংবা কোনটি সাধ্যাধীন আর কোনটি নয়—এসকল বিষয়ে কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ঢালাওভাবে যবান বা হাত দ্বারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে চায়। যেমন আবু সালাবা আল-খুশানি (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: আমি এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "বরং তোমরা সৎকাজের (معروف) আদেশ দাও এবং অসৎকাজের (منكر) নিষেধ করো। পরিশেষে যখন দেখবে যে কৃপণতার আনুগত্য করা হচ্ছে, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করা হচ্ছে, পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রত্যেক মতাবলম্বী নিজ নিজ মতে মুগ্ধ থাকছে; আর তুমি এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে যা মোকাবিলা করার সামর্থ্য তোমার নেই, তখন তুমি নিজের চিন্তা করো এবং সাধারণ মানুষের চিন্তা বর্জন করো। কেননা তোমাদের সামনে এমন কঠিন দিন আসছে, যখন ধৈর্য (صبر) ধারণ করা হবে জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের তালুতে রাখার মতো। সেই সময়ে আমলকারীর সওয়াব হবে একই আমলকারী অন্য পঞ্চাশজন ব্যক্তির সওয়াবের সমান।" ফলে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত মনে করেই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে আসে, অথচ সে ক্ষেত্রে সে সীমালঙ্ঘনকারী (معتد)।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
حدوده، كما انتصب كثير من أهل البدع والأهواء، كالخوارج والمعتزلة والرافضة، وغيرهم ممن غلط فيما أتاه من الأمر والنهي والجهاد على ذلك، وكان فساده أعظم من صلاحه؛ ولهذا أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالصبر على جور الأئمة، ونهى عن قتالهم ما أقاموا الصلاة، وقال: «أدوا إليهم حقوقهم، وسلوا الله حقوقكم» . وقد بسطنا القول في ذلك في غير هذا الموضع.
ولهذا كان من أصول أهل السنة والجماعة لزوم الجماعة وترك قتال الأئمة، وترك القتال في الفتنة، وأما أهل الأهواء - كالمعتزلة - فيرون القتال للأئمة من أصول دينهم، ويجعل المعتزلة أصول دينهم خمسة: " التوحيد " الذي هو سلب الصفات؛ و " العدل " الذي هو التكذيب بالقدر؛ و " المنزلة بين المنزلتين " و " إنفاذ الوعيد " و " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ". الذي منه قتال الأئمة.
وقد تكلمت على قتال الأئمة في غير هذا الموضع. وجماع ذلك داخل في " القاعدة العامة ": فيما إذا تعارضت المصالح والمفاسد والحسنات والسيئات أو تزاحمت، فإنه يجب ترجيح الراجح منها فيما إذا ازدحمت المصالح والمفاسد، وتعارضت المصالح والمفاسد. فإن الأمر والنهي وإن كان متضمنا لتحصيل مصلحة ودفع مفسدة فينظر في المعارض له؛ فإن كان الذي يفوت من المصالح أو يحصل من المفاسد أكثر لم يكن مأمورا به، بل يكون محرما إذا كانت مفسدته أكثر من
এর সীমা; যেমন বিদআত ও প্রবৃত্তিপূজারীদের (أهل البدع والأهواء) অনেকেই আবির্ভূত হয়েছে, যেমন—খারেজি, মুতাজিলা ও রাফেজি এবং অন্যান্যরা, যারা আদেশ, নিষেধ ও জিহাদ সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল করেছে এবং তাদের সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয়ই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাসকদের অন্যায়ের ওপর ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম রাখবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করো এবং তোমাদের পাওনা আল্লাহর কাছে চাও।" আমি অন্য স্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
আর এজন্যই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম মূলনীতি (أصول) হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা পরিহার করা ও ফিতনার সময় লড়াই বর্জন করা। অন্যদিকে প্রবৃত্তিপূজারীরা—যেমন মুতাজিলা—শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে তাদের দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি (أصول) হিসেবে গণ্য করে। মুতাজিলারা তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে (أصول) পাঁচটি বিষয়ে বিভক্ত করে: "তাওহিদ" (التوحيد) যার দ্বারা তারা মূলত আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে; "আদল" (العدل) যার মাধ্যমে তারা তাকদিরকে (القدر) অস্বীকার করে; "দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থান" (المنزلة بين المنزلتين); "ধমক কার্যকর করা" (إنفاذ الوعيد); এবং "সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ" (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر), যার অন্তর্ভুক্ত হলো শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।
আমি শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে অন্য স্থানে আলোচনা করেছি। এর সারকথা এই "সাধারণ নীতি" (القاعدة العامة)-র অন্তর্ভুক্ত যে: যখন কল্যাণ ও অকল্যাণ (المصالح والمفاسد) এবং পুণ্য ও পাপের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় বা উভয়ের সমাবেশ ঘটে, তখন কল্যাণ ও অকল্যাণের ভিড়ের মধ্যে যা অধিকতর অগ্রগণ্য (الراجح), তাকে প্রাধান্য দেওয়া ওয়াজিব (يجب)। কেননা আদেশ ও নিষেধ যদিও কোনো কল্যাণ (مصلحة) অর্জন এবং অকল্যাণ (مفسدة) দূরীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে, তথাপি এর প্রতিপক্ষ বা বিপরীত দিকটির দিকেও নজর দিতে হবে। যদি দেখা যায় যে, এর ফলে কল্যাণ বেশি হাতছাড়া হচ্ছে অথবা অকল্যাণ বেশি সাধিত হচ্ছে, তবে তা আর নির্দেশিত থাকে না; বরং অকল্যাণ বেশি হলে তা হারাম (محرم) বলে গণ্য হয় যখন তার অকল্যাণ...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مصلحته؛ لكن اعتبار مقادير المصالح والمفاسد هو بميزان الشريعة، فمتى قدر الإنسان على اتباع النصوص لم يعدل عنها، وإلا اجتهد برأيه لمعرفة الأشباه والنظائر، وقل أن تعوز النصوص من يكون خبيرا بها وبدلالتها على الأحكام.
وعلى هذا إذا كان الشخص أو الطائفة جامعين بين معروف ومنكر بحيث لا يفرقون بينهما، بل إما أن يفعلوهما جميعا، أو يتركوهما جميعا: لم يجز أن يؤمروا بمعروف ولا أن ينهوا عن منكر؛ بل ينظر: فإن كان المعروف أكثر أمر به، وإن استلزم ما هو دونه من المنكر، ولم ينه عن منكر يستلزم تفويت معروف أعظم منه، بل يكون النهي حينئذ من باب الصد عن سبيل الله والسعي في زوال طاعته وطاعة رسوله وزوال فعل الحسنات. وإن كان المنكر أغلب نهي عنه؛ وإن استلزم فوات ما هو دونه من المعروف؛ ويكون الأمر بذلك المعروف المستلزم للمنكر الزائد عليه أمرا بمنكر وسعيا في معصية الله ورسوله. وإن تكافأ المعروف والمنكر المتلازمان لم يؤمر بهما ولم ينه عنهما.
فتارة يصلح الأمر، وتارة يصلح النهي، وتارة لا يصلح لا أمر ولا نهي حيث كان المعروف والمنكر متلازمين؛ وذلك في الأمور المعينة الواقعة.
وأما من جهة النوع فيؤمر بالمعروف مطلقا، وينهى عن المنكر مطلقا. وفي الفاعل الواحد والطائفة الواحدة يؤمر بمعروفها وينهى عن منكرها،
তার কল্যাণ (مصلحة); কিন্তু কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণের (مفাসد) মাত্রা বিবেচনা করা শরীয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। সুতরাং যখনই কোনো মানুষ শরীয়তের ভাষ্য (نصوص) অনুসরণে সক্ষম হবে, সে যেন তা থেকে বিচ্যুত না হয়। অন্যথায় সে সদৃশ ও সমরূপ বিষয়াবলি (الأشباه والنظائر) অনুধাবনের জন্য নিজস্ব বিচারবুদ্ধি দিয়ে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) গ্রহণ করবে। আর যারা শরীয়তের ভাষ্য (نصوص) এবং বিধানের ওপর সেগুলোর নির্দেশক (دلالة) হওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞ, তাদের জন্য শরীয়তের ভাষ্যের (نصوص) অভাব হওয়া বিরল।
এর ওপর ভিত্তি করে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সৎকাজ ও অসৎকাজের মাঝে এমনভাবে সমন্বয় করে ফেলে যে তারা এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, বরং হয় উভয়টিই সম্পাদন করে অথবা উভয়টিই বর্জন করে; তবে সেক্ষেত্রে তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া যাবে না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধও করা যাবে না। বরং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে: যদি সৎকাজের প্রাধান্য বেশি থাকে তবে সেটির আদেশ দিতে হবে, যদিও তা অনিবার্যভাবে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার মন্দ কাজের কারণ হয়। আর এমন কোনো মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা যাবে না যা তার চেয়ে মহত্তর কোনো সৎকাজ হাতছাড়া হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বরং সে সময় মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা হবে আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করা এবং তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য ও নেক আমল বিলোপ করার প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত। আর যদি মন্দ কাজের আধিক্য থাকে তবে তা থেকে নিষেধ করতে হবে, যদিও তা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো সৎকাজ হাতছাড়া হওয়ার কারণ হয়। এমতাবস্থায় সেই সৎকাজের আদেশ দেওয়া—যা অধিকতর মন্দ কাজকে অনিবার্য করে তোলে—তা হবে মন্দ কাজেরই আদেশ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতার নামান্তর। আর যদি অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত সৎকাজ ও মন্দ কাজ সমান পর্যায়ের হয়, তবে সেক্ষেত্রে আদেশও দেওয়া যাবে না এবং নিষেধও করা যাবে না।
কাজেই ক্ষেত্রবিশেষে আদেশ করা সমীচীন, ক্ষেত্রবিশেষে নিষেধ করা সমীচীন, আবার ক্ষেত্রবিশেষে আদেশ বা নিষেধ কোনোটিই সমীচীন নয় যখন সৎকাজ ও মন্দ কাজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে; এটি মূলত সুনির্দিষ্ট বাস্তব ঘটনাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তবে প্রকারগত দিক থেকে নিঃশর্তভাবে (مطلقا) সৎকাজের আদেশ দিতে হবে এবং নিঃশর্তভাবে (مطلقا) মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে হবে। আর একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তাদের সৎকাজের আদেশ দেওয়া হবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويحمد محمودها ويذم مذمومها؛ بحيث لا يتضمن الأمر بمعروف فوات أكثر منه أو حصول منكر فوقه، ولا يتضمن النهي عن المنكر حصول أنكر منه، أو فوات معروف أرجح منه.
وإذا اشتبه الأمر استبان المؤمن حتى يتبين له الحق، فلا يقدم على الطاعة إلا بعلم ونية؛ وإذا تركها كان عاصيا، فترك الأمر الواجب معصية، وفعل ما نهي عنه من الأمر معصية. وهذا باب واسع، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
ومن هذا الباب إقرار النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الله بن أبي وأمثاله من أئمة النفاق والفجور لما لهم من أعوان، فإزالة منكره بنوع من عقابه مستلزمة إزالة معروف أكثر من ذلك بغضب قومه وحميتهم، وبنفور الناس إذا سمعوا أن محمدا يقتل أصحابه؛ ولهذا لما خاطب الناس في قصة الإفك بما خاطبهم به واعتذر منه، وقال له سعد بن معاذ قوله الذي أحسن فيه: حمي له سعد بن عبادة مع حسن إيمانه.
وأصل هذا أن تكون محبة الإنسان للمعروف وبغضه للمنكر، وإرادته لهذا، وكراهته لهذا: موافقة لحب الله وبغضه، وإرادته وكراهته الشرعيين. وأن يكون فعله للمحبوب ودفعه للمكروه بحسب قوته وقدرته، فإن الله لا يكلف نفسا إلا وسعها، وقد قال: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] (سورة التغابن: من الآية 16) . فأما حب القلب وبغضه وإرادته وكراهيته فينبغي أن تكون كاملة جازمة؛ لا يوجب نقص ذلك
প্রশংসনীয় বিষয়ের প্রশংসা করা হবে এবং নিন্দনীয় বিষয়ের নিন্দা করা হবে; এমনভাবে যেন সৎকাজের আদেশ দিতে গিয়ে তার চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ হাতছাড়া না হয় অথবা তার চেয়ে বড় কোনো মন্দ (منكر) সৃষ্টি না হয়। একইভাবে মন্দ কাজের নিষেধ করতে গিয়ে যেন তার চেয়েও ভয়াবহ কোনো মন্দ (منكر) তৈরি না হয় অথবা তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কোনো কল্যাণ হাতছাড়া না হয়।
যখন কোনো বিষয় অস্পষ্ট হয়, তখন মুমিন সত্য প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করে। ফলে সে জ্ঞান ও নিয়ত ব্যতীত কোনো আনুগত্যের কাজে অগ্রসর হয় না; আর যদি সে তা বর্জন করে তবে সে অবাধ্য হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং আবশ্যক (واجب) কাজ বর্জন করা একটি পাপাচার, আর যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা করাও একটি পাপাচার। এটি একটি বিস্তৃত অধ্যায়; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মতো মুনাফিক ও পাপাচারী নেতাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌনসম্মতি বা অনুমোদন (إقرار), কারণ তাদের অনেক সাহায্যকারী ছিল। ফলে তাকে কোনো প্রকার শাস্তির মাধ্যমে তার মন্দ (منكر) দূর করতে গেলে তার চেয়েও বড় কোনো কল্যাণ বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল; যেমন তার গোত্রের ক্রোধ ও গোঁড়ামি চাগিয়ে ওঠা এবং মানুষের মধ্যে এই ভীতি ছড়িয়ে পড়া যে, মুহাম্মদ তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করেন। এই কারণেই ইফকের ঘটনায় তিনি যখন মানুষের সামনে ভাষণ দিলেন এবং ওজর পেশ করলেন, তখন সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) অত্যন্ত সুন্দর কথা বললেন; কিন্তু সাদ ইবনে উবাদাহ (রা.) তাঁর উত্তম ঈমান থাকা সত্ত্বেও স্বগোত্রীয় আবেগের বশবর্তী হলেন।
এর মূল ভিত্তি হলো, মানুষের সৎকাজের প্রতি ভালোবাসা ও মন্দের (منكر) প্রতি ঘৃণা, এবং এই দুটির প্রতি তার ইচ্ছা ও অনীহা যেন আল্লাহর ভালোবাসা, ঘৃণা এবং শরয়ি ইচ্ছা ও অপছন্দের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। আর তার প্রিয় কাজ সম্পাদন এবং অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয় প্রতিহত করা যেন তার শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী হয়। কারণ আল্লাহ কোনো প্রাণের ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না। তিনি বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} [সূরা আত-তাগাবুন: ১৬]। তবে অন্তরের ভালোবাসা, ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দ যেন পূর্ণাঙ্গ ও সুদৃঢ় হয়; এতে কোনো ঘাটতি থাকা উচিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إلا نقص الإيمان.
وأما فعل البدن فهو بحسب قدرته، ومتى كانت إرادة القلب وكراهته كاملة تامة وفعل العبد معها بحسب قدرته: فإنه يعطى ثواب الفاعل الكامل، كما قد بيناه في غير هذا الموضع، فإن من الناس من يكون حبه وبغضه وإرادته وكراهته بحسب محبة نفسه وبغضها؛ لا بحسب محبة الله ورسوله وبغض الله ورسوله، وهذا من نوع الهوى؛ فإن اتبعه الإنسان فقد اتبع هواه: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنَ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] (سورة القصص: من الآية 50) ؛ فإن أصل الهوى محبة النفس، ويتبع ذلك بغضها، ونفس الهوى - وهو الحب والبغض الذي في النفس - لا يلام عليه؛ فإن ذلك قد لا يملك، وإنما يلام على اتباعه؛ كما قال تعالى: {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [ص: 26] (سورة ص: من الآية 26) . وقال تعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنَ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] (سورة القصص: من الآية 50) . وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ثلاث منجيات: خشية الله في السر والعلانية، والقصد في الفقر والغنى، وكلمة الحق في الغضب والرضا. وثلاث مهلكات: شح مطاع، وهوى متبع، وإعجاب المرء بنفسه» .
والحب والبغض يتبعه ذوق عند وجود المحبوب والمبغض، ووجد وإرادة، وغير ذلك، فمن اتبع ذلك بغير أمر الله ورسوله فهو ممن اتبع هواه
ঈমানের (الإيمان) ঘাটতি ব্যতীত।
আর শারীরিক আমলের বিষয়টি ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যখন অন্তরের ইচ্ছা ও ঘৃণা পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ হয় এবং তার সাথে বান্দার আমল তার সক্ষমতা অনুযায়ী সাধিত হয়, তখন তাকে পূর্ণ আমলকারীর সওয়াব প্রদান করা হয়, যেমনটি আমরা এই স্থান ব্যতীত অন্যত্র বর্ণনা করেছি। কেননা মানুষের মধ্যে এমন কেউ কেউ রয়েছে যার ভালোবাসা, ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দ তার নফসের (النفس) ভালোবাসা ও ঘৃণার অনুগামী হয়; যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ঘৃণার অনুগামী নয়। আর এটি এক প্রকার প্রবৃত্তি (الهوى); মানুষ যদি এর অনুসরণ করে তবে সে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করল: {আর আল্লাহর পক্ষ হতে পথনির্দেশ ছাড়া যে নিজের প্রবৃত্তির (الهوى) অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?} [সূরা আল-কাসাস: ৫০]। কেননা প্রবৃত্তির (الهوى) মূল উৎস হলো নফসের ভালোবাসা, আর নফসের ঘৃণাও এরই অনুগামী হয়। স্বয়ং প্রবৃত্তি (الهوى)—যা নফসের মধ্যে বিদ্যমান ভালোবাসা ও ঘৃণা—এর জন্য কোনো ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করা হয় না; কারণ মানুষ অনেক সময় এর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারে না। বরং ভর্ৎসনা করা হয় তার অনুসরণের ওপর; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে দাউদ, আমি তোমাকে জমিনে খলিফা বানিয়েছি, সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করো এবং প্রবৃত্তির (الهوى) অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে} [সূরা সদ: ২৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আল্লাহর পক্ষ হতে পথনির্দেশ ছাড়া যে নিজের প্রবৃত্তির (الهوى) অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?} [সূরা আল-কাসাস: ৫০]। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি বিষয় মুক্তিদানকারী (منجيات): গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা, দারিদ্র্য ও সচ্ছলতায় মিতব্যয়িতা অবলম্বন করা এবং ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলা। আর তিনটি বিষয় ধ্বংসকারী (مهلكات): প্রবৃত্তি অনুযায়ী লালিত কৃপণতা, অনুসৃত প্রবৃত্তি (هوى متبع) এবং মানুষের নিজের সম্পর্কে আত্মমুগ্ধতা।"
আর ভালোবাসা ও ঘৃণা এমন বিষয় যার সাথে প্রিয় বা অপ্রিয় বস্তুর উপস্থিতিতে স্বাদ (ذوق), আধ্যাত্মিক অনুভূতি (وجد), ইচ্ছা (إرادة) ইত্যাদি বিষয় যুক্ত থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ ব্যতীত এসবের অনুসরণ করে, সে ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের প্রবৃত্তির (الهوى) অনুসরণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بغير هدى من الله؛ بل قد يصعد به الأمر إلى أن يتخذ إلهه هواه، واتباع الأهواء في الديانات أعظم من اتباع الأهواء في الشهوات، فإن الأول حال الذين كفروا من أهل الكتاب والمشركين؛ كما قال تعالى: {فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنَ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] (سورة القصص: من الآية 50) . وقال تعالى: {ضَرَبَ لَكُمْ مَثَلًا مِنْ أَنْفُسِكُمْ هَلْ لَكُمْ مِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ شُرَكَاءَ فِي مَا رَزَقْنَاكُمْ} [الروم: 28] (سورة الروم: من الآية 28) . إلى أن قال: {بَلِ اتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَهْوَاءَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ} [الروم: 29] (سورة الروم: من الآية 29) . وقال تعالى: {وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ} [الأنعام: 119] (سورة الأنعام: من الآية 119) . وقال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} [المائدة: 77] (سورة المائدة: من الآية 77) . وقال تعالى: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ} [البقرة: 120] (سورة البقرة: آية 120) . وقال تعالى في الآية الأخرى: {وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ} [البقرة: 145] (سورة البقرة: من الآية 145) . وقال: {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ} [المائدة: 49] (سورة المائدة: من الآية 49)
আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত ছাড়াই; বরং বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে যে সে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে। আর ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা জৈবিক চাহিদার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণের চেয়েও গুরুতর। কেননা প্রথমটি হলো আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্য থেকে যারা কুফরি করেছে তাদের অবস্থা; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তারা যদি আপনার ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তারা কেবল নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত ছাড়া যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?} [কাসাস: ৫০] (সূরা আল-কাসাস: আয়াত ৫০ এর অংশ)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন; আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের মধ্যে কি কেউ তাতে অংশীদার আছে?} [রুম: ২৮] (সূরা আর-রুম: আয়াত ২৮ এর অংশ)। এরপর তিনি বলেন: {বরং যারা জুলুম করেছে, তারা অজ্ঞতাবশত নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে।} [রুম: ২৯] (সূরা আর-রুম: আয়াত ২৯ এর অংশ)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন, তবে যার প্রতি তোমরা নিরুপায় হয়ে পড়ো তা ছাড়া। আর নিশ্চয়ই অনেকে অজ্ঞতাবশত নিজেদের প্রবৃত্তি দিয়ে পথভ্রষ্ট করে থাকে।} [আনআম: ১১৯] (সূরা আল-আনআম: আয়াত ১১৯ এর অংশ)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না এবং এমন সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।} [মায়িদাহ: ৭৭] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৭৭ এর অংশ)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ করেন। বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর হেদায়েত-ই প্রকৃত হেদায়েত। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর আপনি যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে আপনাকে রক্ষাকারী কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না।} [বাকারা: ১২০] (সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১২০)। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন: {আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।} [বাকারা: ১৪৫] (সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১৪৫ এর অংশ)। এবং তিনি বলেছেন: {আর আপনি তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করুন আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা দিয়ে এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।} [মায়িদাহ: ৪৯] (সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৪৯ এর অংশ)
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولهذا كان من خرج عن موجب الكتاب والسنة من العلماء والعباد يجعل من أهل الأهواء؛ كما كان السلف يسمونهم أهل الأهواء؛ وذلك أن كل من لم يتبع العلم فقد اتبع هواه؛ والعلم بالدين لا يكون إلا بهدي الله الذي بعث به رسوله؛ ولهذا قال تعالى في موضع: {وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ} [الأنعام: 119] (سورة الأنعام: من الآية 119) . وقال في موضع آخر: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنَ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] (سورة القصص: من الآية 50) .
فالواجب على العبد أن ينظر في نفس حبه وبغضه، ومقدار حبه وبغضه: هل هو موافق لأمر الله ورسوله؟ وهو هدي الله الذي أنزله على رسوله؛ بحيث يكون مأمورا بذلك الحب والبغض، لا يكون متقدما فيه بين يدي الله ورسوله؛ فإنه قد قال: {لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [الحجرات: 1] (سورة الحجرات: من الآية 1) . ومن أحب أو أبغض قبل أن يأمره الله ورسوله ففيه نوع من التقدم بين يدي الله ورسوله. ومجرد الحب والبغض هوى؛ لكن المحرم اتباع حبه وبغضه بغير هدي من الله؛ ولهذا قال: {وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ} [ص: 26] (سورة ص: من الآية 26) . فأخبر أن من اتبع هواه أضله ذلك عن سبيل الله، وهو هداه الذي بعث به رسوله، وهو السبيل إليه.
একারণেই আলেম ও ইবাদতকারীদের মধ্যে যারা কুরআন ও সুন্নাহর দাবি থেকে বিচ্যুত হয়, তাদেরকে খেয়ালখুশির অনুসারী (أهل الأهواء) হিসেবে গণ্য করা হয়; যেমন পূর্বসূরিগণ (السلف) তাদের খেয়ালখুশির অনুসারী (أهل الأهواء) বলে অভিহিত করতেন। এর কারণ হলো, যে ব্যক্তি জ্ঞান অনুসরণ করে না, সে মূলত তার খেয়ালখুশির (هوى) অনুসরণ করে; আর দ্বীনের জ্ঞান তো কেবল আল্লাহর সেই হিদায়াতের মাধ্যমেই অর্জিত হয় যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন। একারণেই মহান আল্লাহ এক স্থানে বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই অনেকে না জেনে নিজেদের খেয়ালখুশি (أهواء) দ্বারা অন্যকে পথভ্রষ্ট করে} [আল-আনআম: ১১৯] (সূরা আল-আনআম: ১১৯ নং আয়াতের অংশ)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন: {সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নির্দেশিত হিদায়াত ছাড়া নিজের খেয়ালখুশির (هوى) অনুসরণ করে?} [আল-কাসাস: ৫০] (সূরা আল-কাসাস: ৫০ নং আয়াতের অংশ)।
সুতরাং বান্দার কর্তব্য হলো নিজের ভালোবাসা ও ঘৃণা এবং এগুলোর পরিমাণের দিকে লক্ষ্য রাখা: তা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? আর তা হলো আল্লাহর সেই হিদায়াত যা তিনি তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন; যাতে সেই ভালোবাসা ও ঘৃণা নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে অগ্রগামী না হয়ে যায়; কেননা তিনি বলেছেন: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হয়ো না} [আল-হুজুরাত: ১] (সূরা আল-হুজুরাত: ১ নং আয়াতের অংশ)। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ প্রদানের পূর্বেই ভালোবাসল বা ঘৃণা করল, তার মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে অগ্রবর্তী হওয়ার এক প্রকার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিছক ভালোবাসা ও ঘৃণা হলো প্রবৃত্তি (هوى); কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়া সেই ভালোবাসা ও ঘৃণার অনুসরণ করা নিষিদ্ধ (محرم); একারণেই তিনি বলেছেন: {আর তুমি খেয়ালখুশির (هوى) অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে; নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব} [সোয়াদ: ২৬] (সূরা সোয়াদ: ২৬ নং আয়াতের অংশ)। অতএব তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নিজ খেয়ালখুশির (هوى) অনুসরণ করে, তা তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়; আর আল্লাহর সেই পথ হলো তাঁর হিদায়াত যা দিয়ে তিনি রাসূলকে পাঠিয়েছেন এবং তা-ই তাঁর দিকে পৌঁছানোর পথ।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وتحقيق ذلك أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو من أوجب الأعمال وأفضلها وأحسنها، وقد قال تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [الملك: 2] (سورة الملك: من الآية 2) . وهو كما قال الفضيل بن عياض رحمه الله: أخلصه وأصوبه. فإن العمل إذا كان خالصا ولم يكن صوابا لم يقبل حتى يكون خالصا صوابا، والخالص: أن يكون لله، والصواب أن يكون على السنة، فالعمل الصالح لا بد أن يراد به وجه الله تعالى؛ فإن الله تعالى لا يقبل من العمل إلا ما أريد به وجهه وحده: كما في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يقول الله أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عمل عملا أشرك فيه غيري فأنا بريء منه، وهو كله للذي أشرك» .
وهذا هو التوحيد الذي هو أصل الإسلام، وهو دين الله الذي بعث به جميع رسله، وله خلق الخلق، وهو حقه على عباده: أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، ولا بد مع ذلك أن يكون العمل صالحا، وهو ما أمر الله به ورسوله؛ وهو الطاعة، فكل طاعة عمل صالح، وكل عمل صالح طاعة، وهو العمل المشروع المسنون؛ إذ المشروع المسنون هو المأمور به أمر إيجاب أو استحباب، وهو العمل الصالح، وهو الحسن، وهو البر وهو الخير؛ وضده المعصية والعمل الفاسد، والسيئة، والفجور، والظلم.
[الشروط الواجب توافرها في الآمر والناهي]ولما كان العمل لا بد فيه من شيئين: النية والحركة، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أصدق الأسماء حارث وهمام» فكل أحد حارث
আর এর প্রকৃত হাকীকত হলো, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ হলো সর্বাধিক ওয়াজিব (أوجب), সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ।" (সূরা আল-মুলক: ২)। আর এটি ঠিক তেমনি, যেমনটি ফুুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যা সর্বাধিক ইখলাসপূর্ণ (أخلص) এবং সর্বাধিক সঠিক (أصوب)"। কেননা আমল যদি ইখলাসপূর্ণ (خالص) হয় কিন্তু সঠিক (صواب) না হয়, তবে তা কবুল করা হয় না; যতক্ষণ না তা ইখলাসপূর্ণ (خالص) ও সঠিক (صواب) উভয়টি হয়। ইখলাসপূর্ণ (خالص) হওয়ার অর্থ হলো তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে এবং সঠিক (صواب) হওয়ার অর্থ হলো তা সুন্নাহর (السنة) অনুসারী হতে হবে। সুতরাং নেক আমলের মাধ্যমে অবশ্যই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থাকতে হবে; কেননা আল্লাহ তাআলা আমলের মধ্য থেকে কেবল তা-ই কবুল করেন যা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। যেমনটি সহিহ গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে বিমুখ। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমার সাথে অন্যকে শরিক করেছে, আমি তার থেকে মুক্ত এবং সেই আমল সম্পূর্ণই ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে সে শরিক করেছে।"
আর এটাই হলো তাওহিদ যা ইসলামের মূল ভিত্তি। এটাই আল্লাহর মনোনীত দ্বীন যা নিয়ে তিনি তাঁর সকল রসূলকে প্রেরণ করেছেন। এর জন্যই তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের ওপর এটাই তাঁর প্রাপ্য অধিকার যে, তারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এর পাশাপাশি আমলটি নেক হওয়াও অপরিহার্য, আর তা হলো যার আদেশ আল্লাহ ও তাঁর রসূল দিয়েছেন; যা মূলত আনুগত্য। সুতরাং প্রতিটি আনুগত্যই নেক আমল এবং প্রতিটি নেক আমলই আনুগত্য। আর এটিই হলো শরয়ি (المشروع) ও সুন্নাহসম্মত (المسنون) আমল; কেননা শরয়ি (المشروع) ও সুন্নাহসম্মত (المسنون) আমল বলতে যা ওয়াজিব (إيجاب) বা মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে আদিষ্ট হয়েছে তাকেই বোঝায়। আর তা-ই হলো নেক আমল, তা-ই উত্তম, তা-ই পুণ্য এবং তা-ই কল্যাণ; এর বিপরীত হলো নাফরমানি, ত্রুটিপূর্ণ আমল, মন্দ কাজ, পাপাচার এবং জুলুম।
[আদেশদানকারী ও নিষেধকারীর মধ্যে বিদ্যমান থাকা আবশ্যকীয় শর্তাবলি]যেহেতু প্রতিটি আমলের জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য: নিয়ত এবং কর্মতৎপরতা; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সবচেয়ে সত্য নাম হলো হারিস ও হাম্মাম"। কেননা প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো কিছু অর্জনকারী (حارث)
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهمام له عمل ونية؛ لكن النية المحمودة التي يتقبلها الله ويثيب عليها: أن يراد الله بذلك العمل. والعمل المحمود الصالح، وهو المأمور به ولهذا كان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول في دعائه: اللهم اجعل عملي كله صالحا، واجعله لوجهك خالصا، ولا تجعل لأحد فيه شيئا.
وإذا كان هذا حد كل عمل صالح؛ فالآمر بالمعروف والناهي عن المنكر يجب أن يكون هكذا في حق نفسه، ولا يكون عمله صالحا إن لم يكن بعلم وفقه، وكما قال عمر بن عبد العزيز: من عبد الله بغير علم كان ما يفسد أكثر مما يصلح، وكما في حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه: «العلم إمام العمل والعمل تابعه» وهذا ظاهر. فإن القصد والعمل إن لم يكن بعلم كان جهلا وضلالا واتباعا للهوى كما تقدم، وهذا هو الفرق بين أهل الجاهلية وأهل الإسلام، فلا بد من العلم بالمعروف والمنكر والتمييز بينهما. ولا بد من العلم بحال المأمور والمنهي، ومن الصلاح أن يأتي بالأمر والنهي بالصراط المستقيم، وهو أقرب الطرق إلى حصول المقصود.
ولا بد في ذلك من الرفق، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ما كان الرفق في شيء إلا زانه، ولا كان العنف في شيء إلا شانه» وقال: «إن الله رفيق يحب الرفق في الأمر كله، وبعطي عليه ما لا يعطي على العنف»
ولا بد أيضا أن يكون حليما صبورا على الأذى: فإنه لا بد أن
হাম্মাম কাজ ও নিয়ত সম্পন্ন করেছেন; তবে প্রশংসনীয় নিয়ত যা আল্লাহ কবুল করেন এবং যার ওপর সওয়াব দান করেন তা হলো: সেই কাজের মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য রাখা। আর প্রশংসনীয় সৎ আমল হলো সেটিই, যা করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর দোয়ায় বলতেন: "হে আল্লাহ! আমার সকল আমলকে নেক হিসেবে কবুল করুন এবং তা একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالصا) করুন, আর এতে অন্য কারো জন্য কোনো অংশ রাখবেন না।"
যদি এটিই প্রতিটি নেক আমলের মানদণ্ড হয়, তবে সৎ কাজের আদেশদানকারী ও অসৎ কাজের নিষেধকারীর ক্ষেত্রেও নিজের বিষয়ে এমনই হওয়া আবশ্যক। তার কাজ ততক্ষণ পর্যন্ত নেক হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তা জ্ঞান (علم) ও প্রজ্ঞা (فقه) এর সাথে হবে। যেমনটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান (علم) ছাড়া আল্লাহর ইবাদত করে, সে সংশোধনের চেয়ে বিচ্যুতিই বেশি ঘটায়।" আর যেমনটি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "জ্ঞান (علم) হলো আমলের ইমাম এবং আমল হলো তার অনুসারী।" এটি সুস্পষ্ট। কেননা উদ্দেশ্য ও আমল যদি জ্ঞানের (علم) ভিত্তিতে না হয়, তবে তা অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও খেয়ালখুশির অনুসরণ হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটিই জাহেলিয়ার অনুসারী ও ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে পার্থক্য। সুতরাং সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সম্পর্কে জ্ঞান (علم) থাকা এবং তাদের মাঝে পার্থক্য করতে পারা অপরিহার্য। এছাড়া যাকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে বা যাকে নিষেধ করা হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান (علم) থাকা আবশ্যক। আর সঠিক পদ্ধতি বা সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর ভিত্তি করে আদেশ ও নিষেধ করাও যোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত, যা উদ্দেশ্য হাসিলের নিকটতম পথ।
এ ক্ষেত্রে কোমলতা (الرفق) অবলম্বন করাও আবশ্যক, যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন: "কোমলতা (الرفق) যে কোনো বিষয়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, আর কঠোরতা (العنف) যে কোনো বিষয়কে কলুষিত করে।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ দয়ালু (رفيق), তিনি সকল বিষয়ে কোমলতা (الرفق) পছন্দ করেন এবং তিনি কোমলতার জন্য যা দান করেন, তা কঠোরতার (العنف) জন্য দান করেন না।"
এছাড়া তাকে কষ্টের ওপর সহিষ্ণু (حليم) ও ধৈর্যশীল (صبور) হতে হবে: কারণ এটি অনিবার্য যে...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
يحصل له أذى؛ فإن لم يحلم ويصبر كان ما يفسد أكثر مما يصلح: كما قال لقمان لابنه: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} [لقمان: 17] (سورة لقمان: من الآية 17) . ولهذا أمر الله الرسل - وهم أئمة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر - بالصبر، كقوله لخاتم الرسل؛ بل ذلك مقرون بتبليغ الرسالة؛ فإنه أول ما أرسل أنزلت عليه سورة: " يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ " بعد أن أنزلت عليه سورة: " اقرأ " التي بها نبئ فقال: {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ - قُمْ فَأَنْذِرْ - وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ - وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ - وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ - وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ - وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ} [المدثر: 1 - 7] (سورة المدثر: الآيات 1-7) . فافتتح آيات الإرسال إلى الخلق بالأمر بالنذارة، وختمها بالأمر بالصبر، ونفس الإنذار أمر بالمعروف ونهي عن المنكر؛ فعلم أنه يجب بعد ذلك الصبر، وقال: {وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا} [الطور: 48] (سورة الطور: من الآية 48) . وقال تعالى: {وَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا} [المزمل: 10] (سورة المزمل: آية 10) . {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} [الأحقاف: 35] (سورة الأحقاف: من الآية 35) . {فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوتِ} [القلم: 48] (سورة القلم: من الآية 48) {وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ} [النحل: 127] (سورة النحل: من الآية 127) . {وَاصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ} [هود: 115] (سورة هود: آية 115) .
فلا بد من هذه الثلاثة: العلم، والرفق، والصبر. العلم قبل الأمر والنهي، والرفق معه، والصبر بعده، وإن كان كل من الثلاثة مستصحبا
তার কষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; এমতাবস্থায় যদি সে সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল না হয়, তবে তার দ্বারা সংশোধনের চেয়ে অকল্যাণই বেশি হবে: যেমন লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: {সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ (المنكر) থেকে বারণ করো এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এটা অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।} [লুকমান: ১৭] (সূরা লুকমান: আয়াত ১৭-এর অংশ)। এ কারণেই আল্লাহ রাসুলগণকে—যাঁরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়—ধৈর্যের আদেশ দিয়েছেন। যেমনটি তিনি সর্বশেষ রাসুলের প্রতি বলেছেন; বরং ধৈর্য রিসালাতের বাণী প্রচারের সাথেও যুক্ত। কেননা যখন তাঁকে প্রথমবার পাঠানো হলো, তখন সূরা 'ইকরা'-এর মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তাঁর প্রতি সূরা 'মুদ্দাসসির' নাযিল করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: {হে চাদর আবৃত! ওঠুন এবং সতর্ক করুন। এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন। এবং অধিক পাওয়ার আশায় দান করবেন না। এবং আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করুন।} [মুদ্দাসসির: ১-৭] (সূরা মুদ্দাসসির: আয়াত ১-৭)। সুতরাং সৃষ্টির প্রতি বার্তা প্রেরণের আয়াতসমূহ সতর্কীকরণের আদেশের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং ধৈর্যের আদেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। আর এই সতর্কীকরণই হলো সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করা; ফলে জানা গেল যে, এরপর ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক। এবং তিনি বলেছেন: {আপনি আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি আমাদের চোখের সামনে রয়েছেন।} [তূর: ৪৮] (সূরা তূর: আয়াত ৪৮-এর অংশ)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা যা বলে সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সুন্দরভাবে তাদের এড়িয়ে চলুন।} [মুয্যাম্মিল: ১০] (সূরা মুয্যাম্মিল: আয়াত ১০)। {সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাসুলগণ।} [আহকাফ: ৩৫] (সূরা আহকাফ: আয়াত ৩৫-এর অংশ)। {আপনি আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ করুন এবং আপনি মাছওয়ালার মতো হবেন না।} [কলম: ৪৮] (সূরা কলম: আয়াত ৪৮-এর অংশ)। {আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, আর আপনার ধৈর্য তো কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব।} [নাহল: ১২৭] (সূরা নাহল: আয়াত ১২৭-এর অংশ)। {আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, কেননা আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।} [হুদ: ১১৫] (সূরা হুদ: আয়াত ১১৫)।
অতএব এই তিনটি বিষয় থাকা একান্ত জরুরি: জ্ঞান, নম্রতা এবং ধৈর্য। আদেশ ও নিষেধের পূর্বে জ্ঞান, আদেশ-নিষেধ চলাকালীন নম্রতা এবং এরপর ধৈর্য; যদিও এই তিনটির প্রত্যেকটিই সর্বাবস্থায় অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
في هذه الأحوال؛ وهذا كما جاء في الأثر عن بعض السلف ورووه مرفوعا، ذكره القاضي أبو يعلى في المعتمد: " لا يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر إلا من كان فقيها فيما يأمر به، فقيها فيما ينهى عنه، رفيقا فيما يأمر به، رفيقا فيما ينهى عنه؛ حليما فيما يأمر به، حليما فيما ينهى عنه ".
وليعلم أن الأمر بهذه الخصال في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر مما يوجب صعوبة على كثير من النفوس، فيظن أنه بذلك يسقط عنه، فيدعه، وذلك مما يضره أكثر مما يضره الأمر بدون هذه الخصال أو أقل؛ فإن ترك الأمر الواجب معصية، فالمنتقل من معصية إلى معصية أكبر منها كالمستجير من الرمضاء بالنار، والمنتقل من معصية إلى معصية كالمنتقل من دين باطل إلى دين باطل، وقد يكون الثاني شرا من الأول، وقد يكون دونه، وقد يكونان سواء، فهكذا تجد المقصر في الأمر والنهي والمعتدي فيه قد يكون ذنب هذا أعظم، وقد يكون ذنب هذا أعظم، وقد يكونان سواء.
[المعاصي سبب المصائب]ومن المعلوم بما أرانا الله من آياته في الآفاق وفي أنفسنا وبما شهد به في كتابه: أن المعاصي سبب المصائب، فسيئات المصائب والجزاء من سيئات الأعمال، وأن الطاعة سبب النعمة، فإحسان العمل سبب لإحسان الله، قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} [الشورى: 30] (سورة الشورى: آية 30) . وقال تعالى:
এই পরিস্থিতিতে; আর এটি যেমন পূর্বসূরিদের (السلف) থেকে আছারে (الأثر) বর্ণিত হয়েছে এবং তারা এটিকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা কাজী আবু ইয়ালা তার আল-মুতামাদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ কেবল সেই ব্যক্তিই করবে, যে বিষয়ে সে আদেশ দিচ্ছে সে বিষয়ে সে ফকীহ (فقيه), যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে সে ফকীহ (فقيه); যে বিষয়ে সে আদেশ দিচ্ছে সে বিষয়ে সে নম্র, যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে সে নম্র; যে বিষয়ে সে আদেশ দিচ্ছে সে বিষয়ে সে ধৈর্যশীল এবং যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে সে ধৈর্যশীল।"
জেনে রাখা উচিত যে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর আবশ্যকতা অনেক ব্যক্তির নফসের জন্য কঠিন মনে হয়, ফলে সে ধারণা করে যে এর দ্বারা তার ওপর থেকে দায়িত্ব রহিত হয়ে গেছে এবং সে তা বর্জন করে। অথচ এটি তার জন্য সেই ক্ষতির চেয়েও বেশি ক্ষতিকর যা এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যতীত আদেশ করার ফলে হতো অথবা তার চেয়ে কম। কেননা ওয়াজিব (واجب) দায়িত্ব বর্জন করা একটি গুনাহ (معصية)। সুতরাং এক গুনাহ (معصية) থেকে তার চেয়ে বড় গুনাহের (معصية) দিকে ধাবিত হওয়া যেন উত্তপ্ত বালু থেকে রক্ষা পেতে আগুনে আশ্রয় নেওয়ার মতো। আর এক গুনাহ (معصية) থেকে অন্য গুনাহে (معصية) স্থানান্তরিত হওয়া যেন এক বাতিল (باطل) ধর্ম থেকে অন্য বাতিল (باطل) ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার মতো; কখনো দ্বিতীয়টি প্রথমটির চেয়ে মন্দ হয়, কখনো তার চেয়ে কম হয়, আবার কখনো উভয়ই সমান হয়। একইভাবে আপনি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে শিথিলতাকারী এবং এতে সীমালঙ্ঘনকারীকে পাবেন—কখনো একজনের পাপ (ذنب) অধিকতর হতে পারে, আবার কখনো উভয়ের পাপ সমান হতে পারে।
[পাপসমূহ বিপদের কারণ]আর এটি আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলির মাধ্যমে দিগন্তসমূহে ও আমাদের নিজেদের মাঝে যা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবে যা সাক্ষ্য দিয়েছেন তা থেকে সুপরিজ্ঞাত যে: নিশ্চয়ই গুনাহসমূহ (المعاصي) বিপদের কারণ। সুতরাং মন্দ বিপদ এবং এর প্রতিদান হলো মন্দ আমলের ফল। আর আনুগত্য (الطاعة) হলো নিয়ামতের কারণ; সুতরাং সৎকর্মের নিষ্ঠা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ প্রাপ্তির কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই; আর তিনি অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।" [সূরা আশ-শুরা: ৩০]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
{مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ} [النساء: 79] (سورة النساء: من الآية 79) . وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ} [آل عمران: 155] (سورة آل عمران: من الآية 155) . وقال: {أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ} [آل عمران: 165] (سورة آل عمران: من الآية 165) . وقال: {أَوْ يُوبِقْهُنَّ بِمَا كَسَبُوا وَيَعْفُ عَنْ كَثِيرٍ} [الشورى: 34] (سورة الشورى: آية 34) . وقال: {وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَإِنَّ الْإِنْسَانَ كَفُورٌ} [الشورى: 48] (سورة الشورى: من الآية 48) . وقال تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الأنفال: 33] (سورة الأنفال: آية 33) .
وقد أخبر سبحانه بما عاقب به أهل السيئات من الأمم، كقوم نوح، وعاد، وثمود، وقوم لوط، وأصحاب مدين، وقوم فرعون، في الدنيا. وأخبر بما يعاقبهم به في الآخرة، ولهذا قال مؤمن آل فرعون: {يَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِثْلَ يَوْمِ الْأَحْزَابِ - مِثْلَ دَأْبِ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَالَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِلْعِبَادِ - وَيَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ التَّنَادِ - يَوْمَ تُوَلُّونَ مُدْبِرِينَ مَا لَكُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} [غافر: 30 - 33] (سورة غافر: من الآية 30، والآيات 31-33) . وقال تعالى: {كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ} [القلم: 33] (سورة القلم: من الآية 33) . وقال: {سَنُعَذِّبُهُمْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ} [التوبة: 101] (سورة التوبة: من
"তোমার যা কিছু কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।" [আন-নিসা: ৭৯] (সূরা আন-নিসা: ৭৯ নং আয়াতের অংশ)। মহান আল্লাহ বলেন: "যেদিন দুই দল পরস্পর সন্মূখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের মধ্যে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তাদের কৃতকর্মের দরুন শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। তবে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছেন।" [আলে ইমরান: ১৫৫] (সূরা আলে ইমরান: ১৫৫ নং আয়াতের অংশ)। তিনি আরও বলেছেন: "যখন তোমাদের ওপর একটি মুসিবত এল, যার দ্বিগুণ তোমরা (শত্রুকে) পৌঁছে দিয়েছিলে, তখন তোমরা বললে—এ কোথা থেকে এল? আপনি বলুন, তা তোমাদের নিজেদেরই পক্ষ থেকে।" [আলে ইমরান: ১৬৫] (সূরা আলে ইমরান: ১৬৫ নং আয়াতের অংশ)। তিনি বলেছেন: "অথবা তিনি তাদের কৃতকর্মের কারণে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেন এবং অনেককেই ক্ষমা করেন।" [আশ-শূরা: ৩৪] (সূরা আশ-শূরা: ৩৪ নং আয়াত)। তিনি বলেছেন: "আর যদি তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের ওপর কোনো অকল্যাণ পৌঁছে, তবে মানুষ অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।" [আশ-শূরা: ৪৮] (সূরা আশ-শূরা: ৪৮ নং আয়াতের অংশ)। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন।" [আল-আনফাল: ৩৩] (সূরা আল-আনফাল: ৩৩ নং আয়াত)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পাপাচারী জাতিসমূহকে ইহকালে যে শাস্তি দিয়েছেন তার সংবাদ দিয়েছেন, যেমন—নূহের জাতি, আদ, সামুদ, লূতের জাতি, মাদইয়ানবাসী এবং ফেরাউনের সম্প্রদায়। আর তিনি তাদের পরকালীন শাস্তি সম্পর্কেও সংবাদ দিয়েছেন। এই কারণেই ফেরাউনের পরিবারের মুমিন ব্যক্তিটি বলেছিলেন: "হে আমার কওম! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর (পূর্ববর্তী) দলগুলোর দিনগুলোর মতো দুর্যোগপূর্ণ দিনের আশঙ্কা করছি—যেমন নূহের কওম, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তী জাতিসমূহের রীতি ও পরিণতি হয়েছিল। আর আল্লাহ বান্দাদের ওপর কোনো জুলুম করতে চান না। হে আমার কওম! আমি তোমাদের ওপর আহ্বান দিবসের আশঙ্কা করছি। যেদিন তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো রক্ষাকারী থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।" [গাফির: ৩০ - ৩৩] (সূরা গাফির: ৩০ নং আয়াত এবং ৩১-৩৩ নং আয়াতসমূহ)। মহান আল্লাহ বলেন: "শাস্তি এভাবেই হয়ে থাকে, আর আখিরাতের শাস্তি তো আরও অনেক বড়।" [আল-কালাম: ৩৩] (সূরা আল-কালাম: ৩৩ নং আয়াতের অংশ)। তিনি বলেছেন: "আমি অচিরেই তাদের দুইবার শাস্তি দেব, অতঃপর তাদের মহাশান্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" [আত-তাওবাহ: ১০১] (সূরা আত-তাওবাহ: এর অংশ)
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الآية 101) . وقال: {وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [السجدة: 21] (سورة السجدة: آية 21) . وقال: {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ} [الدخان: 10] (سورة الدخان: آية 10) . إلى قوله: {يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ} [الدخان: 16] (سورة الدخان: آية 16) .
ولهذا يذكر الله في عامة سور الإنذار ما عاقب به أهل السيئات في الدنيا وما أعده لهم في الآخرة، وقد يذكر في السورة وعد الآخرة فقط، إذ عذاب الآخرة أعظم، وثوابها أعظم، وهي دار القرار، وإنما يذكر ما يذكره من الثواب والعذاب في الدنيا تبعا، كقوله في قصة يوسف: {وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ نُصِيبُ بِرَحْمَتِنَا مَنْ نَشَاءُ وَلَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ - وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} [يوسف: 56 - 57] (سورة يوسف: الآيتان 56، 57) . وقال: {فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ} [آل عمران: 148] (سورة آل عمران: من الآية 148) . وقال: {وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ - الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [النحل: 41 - 42] (سورة النحل: الآيتان 41، 42) . وقال عن إبراهيم عليه الصلاة والسلام: {وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ} [العنكبوت: 27] (سورة العنكبوت: من الآية 27) . وأما ذكره لعقوبة الدنيا والآخرة ففي سورة: {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا - وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطًا} [النازعات: 1 - 2] ثم قال: {يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ - تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ} [النازعات: 6 - 7] (سورة النازعات: الآيتان 6، 7) .
(আয়াত ১০১)। এবং তিনি বলেছেন: {আর আমি অবশ্যই তাদেরকে গুরুতর আজাবের পূর্বে লঘুতর আজাব আস্বাদন করাব, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে} [আস-সাজদাহ: ২১] (সূরা আস-সাজদাহ: আয়াত ২১)। এবং তিনি বলেছেন: {অতএব তুমি সেই দিনের অপেক্ষা করো, যখন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়াটে রূপ ধারণ করবে} [আদ-দুখান: ১০] (সূরা আদ-দুখান: আয়াত ১০)। তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {যেদিন আমি প্রবল বিক্রমে পাকড়াও করব, নিশ্চয়ই আমি প্রতিশোধ গ্রহণকারী} [আদ-দুখান: ১৬] (সূরা আদ-দুখান: আয়াত ১৬)।
এই কারণেই আল্লাহ সতর্কতামূলক সাধারণ সূরাগুলোতে মন্দ কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের দুনিয়াতে যে শাস্তি দিয়েছেন এবং আখেরাতে তাদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন, তা বর্ণনা করেন। কখনো কখনো কোনো সূরায় কেবল আখেরাতের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়, কারণ আখেরাতের শাস্তি অধিক ভয়াবহ এবং এর প্রতিদানও অধিক মহত্তর; আর তা-ই হলো চিরস্থায়ী আবাস। আর দুনিয়ার সওয়াব ও আজাবের কথা কেবল আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবেই উল্লিখিত হয়, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস-সালাম-এর কাহিনীতে তাঁর বাণী: {এবং এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম; সে সেখানে যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারত। আমি যাকে ইচ্ছা আমার রহমত দ্বারা ধন্য করি এবং আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করি না। আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য আখেরাতের প্রতিদানই উত্তম} [ইউসুফ: ৫৬-৫৭] (সূরা ইউসুফ: আয়াত ৫৬, ৫৭)। এবং তিনি বলেছেন: {অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার প্রতিদান এবং আখেরাতের উত্তম প্রতিদান দান করলেন} [আলে ইমরান: ১৪৮] (সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১৪৮ থেকে)। এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দান করব; আর আখেরাতের প্রতিদান তো আরও অনেক বড়, যদি তারা জানত! তারা তো তারাই, যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তাদের রবের ওপর ভরসা করে} [আন-নাহল: ৪১-৪২] (সূরা আন-নাহল: আয়াত ৪১, ৪২)। এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস-সালাম সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {এবং আমি তাকে দুনিয়াতে তার প্রতিদান দিয়েছি এবং আখেরাতে সে নিশ্চয়ই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আল-আনকাবুত: ২৭] (সূরা আল-আনকাবুত: আয়াত ২৭ থেকে)। আর দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তির একত্র উল্লেখ রয়েছে এই সূরায়: {শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে, এবং যারা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আত্মা মুক্ত করে} [আন-নাজিআত: ১-২], এরপর তিনি বলেছেন: {যেদিন প্রকম্পিতকারী প্রকম্পিত হবে, যার পরে আসবে আরেকটি প্রকম্পন} [আন-নাজিআত: ৬-৭] (সূরা আন-নাজিআত: আয়াত ৬, ৭)।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فذكر القيامة مطلقا، ثم قال: {هَلْ أتَاكَ حَدِيثُ مُوسَى - إِذْ نَادَاهُ رَبُّهُ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى - اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى} [النازعات: 15 - 17] (سورة النازعات: الآيات 15-17) . إلى قوله: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِمَنْ يَخْشَى} [النازعات: 26] (سورة النازعات: آية 26) ، ثم ذكر المبدأ والمعاد مفصلا فقال: {أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا} [النازعات: 27] (سورة النازعات: آية 27) . إلى قوله تعالى: {فَإِذَا جَاءَتِ الطَّامَّةُ الْكُبْرَى} [النازعات: 34] (سورة النازعات: آية 34) . إلى قوله تعالى: {فَأَمَّا مَنْ طَغَى - وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا - فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى - وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى - فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى} [النازعات: 37 - 41] (سورة النازعات: الآيات 37 - 41) إلى آخر السورة.
وكذلك في " المزمل " ذكر قوله: {وَذَرْنِي وَالْمُكَذِّبِينَ أُولِي النَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلًا - إِنَّ لَدَيْنَا أَنْكَالًا وَجَحِيمًا - وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيمًا} [المزمل: 11 - 13] (سورة المزمل: الآيات 11-13) إلى قوله تعالى: {كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولًا - فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذًا وَبِيلًا} [المزمل: 15 - 16] (سورة المزمل: من الآية 15، وآية 16) .
وكذلك في: " سورة الحاقة ". ذكر قصص الأمم، كثمود وعاد وفرعون ثم قال تعالى: {فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ - وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً} [الحاقة: 13 - 14] (سورة الحاقة: الآيتان 13، 14) . إلى تمام ما ذكره من أمر الجنة والنار.
وكذلك في سورة " القلم ". ذكر قصة أهل البستان الذين منعوا حق
সুতরাং তিনি সাধারণভাবে কিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: {আপনার কাছে কি মূসার সংবাদ (হাদিস) পৌঁছেছে? যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আহ্বান করেছিলেন— ফেরাউনের কাছে যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে।} [আন-নাযিআত: ১৫-১৭] (সুরা আন-নাযিআত: আয়াত ১৫-১৭)। তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {নিশ্চয় এতে সেই ব্যক্তির জন্য শিক্ষা রয়েছে যে ভয় করে।} [আন-নাযিআত: ২৬] (সুরা আন-নাযিআত: আয়াত ২৬)। অতঃপর তিনি সৃষ্টি এবং পুনরুত্থানের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: {সৃষ্টি হিসেবে তোমরাই কি অধিক কঠিন নাকি আকাশ, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?} [আন-নাযিআত: ২৭] (সুরা আন-নাযিআত: আয়াত ২৭)। আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত: {অতঃপর যখন সেই মহাসংকট উপস্থিত হবে।} [আন-নাযিআত: ৩৪] (সুরা আন-নাযিআত: আয়াত ৩৪)। আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত: {অতঃপর যে সীমালঙ্ঘন করেছে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে, নিশ্চয় জাহান্নামই হবে তার আবাস। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নফসকে বিরত রেখেছে, নিশ্চয় জান্নাতই হবে তার আবাস।} [আন-নাযিআত: ৩৭-৪১] (সুরা আন-নাযিআত: আয়াত ৩৭-৪১) সুরার শেষ পর্যন্ত।
অনুরূপভাবে "মুযাম্মিল" সুরায় তিনি তাঁর এই বাণী উল্লেখ করেছেন: {আর আমাকে এবং বিলাসিতাভোগী অস্বীকারকারীদের কথা ছেড়ে দিন এবং তাদেরকে সামান্য অবকাশ দিন। নিশ্চয় আমাদের নিকট রয়েছে শৃঙ্খল ও প্রজ্বলিত অগ্নি, এবং গলায় আটকে যায় এমন খাদ্য ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [মুযাম্মিল: ১১-১৩] (সুরা মুযাম্মিল: আয়াত ১১-১৩)। আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত: {যেমন আমি ফেরাউনের নিকট একজন রসূল প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।} [মুযাম্মিল: ১৫-১৬] (সুরা মুযাম্মিল: আয়াত ১৫ এর অংশ এবং আয়াত ১৬)।
অনুরূপভাবে "সুরা আল-হাক্কাহ" তেও। তিনি বিভিন্ন জাতির কাহিনী উল্লেখ করেছেন, যেমন সামুদ, আদ ও ফেরাউন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন সিঙ্গায় একটি মাত্র ফুঁক দেওয়া হবে এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলন করা হবে এবং মাত্র এক চূর্ণনেই সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।} [আল-হাক্কাহ: ১৩-১৪] (সুরা আল-হাক্কাহ: আয়াত ১৩, ১৪)। জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়ে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার শেষ পর্যন্ত।
অনুরূপভাবে "সুরা আল-কলম" এ। তিনি সেই বাগান মালিকদের কাহিনী উল্লেখ করেছেন যারা হক (অধিকার) প্রদানে বাধা দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أموالهم وما عاقبهم به، ثم قال: {كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [القلم: 33] (سورة القلم: آية 33) .
وكذلك في: " سورة التغابن ". قال: {أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ فَذَاقُوا وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ - ذَلِكَ بِأَنَّهُ كَانَتْ تَأْتِيهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالُوا أَبَشَرٌ يَهْدُونَنَا فَكَفَرُوا وَتَوَلَّوْا وَاسْتَغْنَى اللَّهُ وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَمِيدٌ} [التغابن: 5 - 6] (سورة التغابن: الآيتان 5، 6) . ثم قال: {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ} [التغابن: 7] (سورة التغابن: من الآية 7) .
وكذلك في سورة: " ق " ذكر حال المخالفين للرسل؛ وذكر الوعد والوعيد في الآخرة.
وكذلك في " سورة القمر " ذكر هذا وهذا.
وكذلك في " الحواميم " مثل حم غافر، والسجدة، والزخرف، والدخان، وغير ذلك، إلى غير ذلك مما لا يحصى.
فإن التوحيد والوعد والوعيد هو أول ما أنزل، كما في صحيح البخاري عن يوسف بن ماهك قال: إني عند عائشة أم المؤمنين إذ جاءها عراقي فقال: أي الكفن خير؟ قالت: ويحك! وما يضرك؟ قال: يا أم المؤمنين أريني مصحفك. قالت: لم؟ قال: لعلي أؤلف القرآن عليه، فإنه يقرأ غير مؤلف، قالت: وما يضرك أية قرأت قبل، إنما نزل أول ما نزل منه سورة من المفصل فيها ذكر الجنة والنار، حتى إذا ثاب الناس إلى الإسلام نزل الحلال والحرام، ولو نزل أول شيء لا تشربوا
তাদের ধন-সম্পদ এবং তিনি তাদের যে শাস্তি দিয়েছেন সে সম্পর্কে। অতঃপর তিনি বললেন: "শাস্তি এই প্রকারই হয়ে থাকে এবং পরকালের শাস্তি তো আরও বড়; যদি তারা জানত।" [আল-কালাম: ৩৩] (সূরা আল-কালাম: আয়াত ৩৩)।
এবং অনুরূপভাবে "সূরা আত-তাগাবুন"-এ। তিনি বলেছেন: "তোমাদের কাছে কি আগে যারা কুফরি করেছিল তাদের সংবাদ পৌঁছেনি? তারা তাদের কাজের অশুভ ফল আস্বাদন করেছে এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এটা এজন্য যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসতেন, তখন তারা বলত: 'মানুষই কি আমাদের পথপ্রদর্শন করবে?' অতঃপর তারা কুফরি করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল এবং আল্লাহ (তাদের থেকে) অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করলেন। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।" [আত-তাগাবুন: ৫-৬] (সূরা আত-তাগাবুন: আয়াত ৫, ৬)। অতঃপর তিনি বললেন: "কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বলো: হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে।" [আত-তাগাবুন: ৭] (সূরা আত-তাগাবুন: আয়াত ৭ এর অংশ)।
অনুরূপভাবে "সূরা ক্বাফ"-এ রাসূলগণের বিরোধীদের অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন; এবং পরকালের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে "সূরা আল-ক্বামার"-এ তিনি উভয় বিষয়ই উল্লেখ করেছেন।
আর অনুরূপভাবে "হা-মীম" (الحواميم) সম্বলিত সূরাসমূহে, যেমন: সূরা গাফির, আস-সাজদাহ, আয-যুখরুফ, আদ-দুখান এবং এর বাইরে আরও অনেক যা গণনা করা অসম্ভব।
কেননা তাওহীদ, পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকি সংক্রান্ত বিষয়গুলোই সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছিল, যেমনটি সাহিহ বুখারীতে ইউসুফ ইবনে মাহিক থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.)-এর নিকট ছিলাম, এমন সময় এক ইরাকি ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: "কোন ধরনের কাফন সর্বোত্তম?" তিনি বললেন: "তোমার জন্য আফসোস! এতে তোমার কী ক্ষতি হবে?" সে বলল: "হে উম্মুল মুমিনীন, আমাকে আপনার মুসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) দেখান।" তিনি বললেন: "কেন?" সে বলল: "যাতে আমি সেই অনুযায়ী কুরআন বিন্যস্ত করতে পারি; কেননা এটি বিন্যস্ত করা ছাড়াই পাঠ করা হয়।" তিনি বললেন: "তুমি এর যে অংশই আগে পাঠ করো না কেন, তাতে তোমার কী ক্ষতি হবে? এর মধ্যে যা সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছিল তা হলো মুফাসসাল (المفصل) সূরার অন্তর্ভুক্ত একটি সূরা, যাতে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা ছিল। অতঃপর যখন মানুষ ইসলামের দিকে ধাবিত হলো, তখন হালাল ও হারামের বিধান নাযিল হলো। আর যদি শুরুতেই নাযিল হতো যে, তোমরা মদ পান করো না...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الخمر لقالوا: لا ندع الخمر أبدا، ولو نزل لا تزنوا لقالوا: لا ندع الزنى أبدا، لقد نزل بمكة على محمد صلى الله عليه وسلم، وإني لجارية ألعب: {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} [القمر: 46] (سورة القمر: آية 46) . وما نزلت: " سورة البقرة ". و " النساء ". إلا وأنا عنده، قال: فأخرجت له المصحف فأملت عليه آي السور.
وإذا كان الكفر والفسوق والعصيان سبب الشر والعدوان فقد يذنب الرجل أو الطائفة ويسكت آخرون عن الأمر والنهي، فيكون ذلك من ذنوبهم، وينكر عليهم آخرون إنكارا منهيا عنه فيكون ذلك من ذنوبهم، فيحصل التفرق والاختلاف والشر، وهذا من أعظم الفتن والشرور قديما وحديثا، إذ الإنسان ظلوم جهول، والظلم والجهل أنواع، فيكون ظلم الأول وجهله من نوع، وظلم كل من الثاني والثالث وجهلهما من نوع آخر.
ومن تدبر الفتن الواقعة رأى سببها ذلك، ورأى أن ما وقع بين أمراء الأمة وعلمائها ومن دخل في ذلك من ملوكها ومشايخها، ومن تبعهم من العامة من الفتن: هذا أصلها، يدخل في ذلك أسباب الضلال والغي: التي هي الأهواء الدينية والشهوانية، وهي البدع في الدين والفجور في الدنيا، وذلك أن أسباب الضلال والغي البدع في الدين، والفجور في الدنيا، وهي مشتركة: تعم بني آدم، لما فيهم من الظلم والجهل، فبذنب بعض الناس يظلم نفسه وغيره، كالزنى بلواط وغيره،
যদি (প্রথমে) এই নির্দেশ অবতীর্ণ হতো যে: তোমরা মদ পান করো না, তবে তারা বলত: আমরা কখনোই মদ বর্জন করব না। আর যদি অবতীর্ণ হতো: তোমরা ব্যভিচার করো না, তবে তারা বলত: আমরা কখনোই ব্যভিচার বর্জন করব না। আমি যখন বালিকা ছিলাম এবং খেলাধুলা করতাম, তখন মক্কায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল: {বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত হবে অধিক ভয়াবহ ও তিক্ত} [সূরা আল-কামার: ৪৬]। আর সূরা আল-বাকারাহ এবং সূরা আন-নিসা তখনই অবতীর্ণ হয়েছে যখন আমি তাঁর নিকট (স্ত্রী হিসেবে) ছিলাম। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: এরপর আয়েশা (রা.) তাঁর জন্য মাসহাফ বের করলেন এবং তাঁকে সূরার আয়াতগুলো লিখিয়ে দিলেন।
আর যেহেতু কুফর (كفر), পাপাচার (فسوق) এবং অবাধ্যতা (عصيان) হলো অনিষ্ট ও শত্রুতার কারণ; তাই কখনও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গুনাহে লিপ্ত হয় এবং অন্যেরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ থেকে বিরত থাকে, ফলে এটি তাদের গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হয়। আবার অন্য কেউ এমনভাবে প্রতিবাদ করে যা শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ, ফলে সেটিও তাদের গুনাহে পরিণত হয়। এর ফলে বিভেদ, মতানৈক্য ও অনিষ্টের সৃষ্টি হয়। এটি প্রাচীন ও বর্তমান কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিতনা (فتنة) ও অনিষ্ট। কারণ মানুষ অত্যন্ত জালেম ও অজ্ঞ; আর জুলুম ও অজ্ঞতা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। ফলে প্রথম পক্ষের জুলুম ও অজ্ঞতা এক ধরনের হয় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় পক্ষের প্রত্যেকের জুলুম ও অজ্ঞতা ভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
যে ব্যক্তি সংঘটিত ফিতনাগুলো (فتن) নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে এর কারণ দেখতে পাবে। সে লক্ষ্য করবে যে, এই উম্মতের নেতৃবৃন্দ ও আলেমদের মধ্যে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত রাজা-বাদশাহ ও মাশায়েখদের মধ্যে এবং তাদের অনুসারী সাধারণ মানুষের মাঝে যেসব ফিতনা (فتنة) সংঘটিত হয়েছে, তার মূল উৎস এটাই। এর মধ্যে পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর কারণসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা হলো ধর্মীয় প্রবৃত্তি ও পাশবিক কামনা-বাসনা। আর এগুলো হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় বা বিদআত (بدع) এবং দুনিয়াবি পাপাচার। প্রকৃতপক্ষে পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর কারণ হলো দ্বীনের মধ্যে বিদআত (بدع) এবং দুনিয়াবি পাপাচার; যা আদম সন্তানদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়, কারণ তাদের মধ্যে জুলুম ও অজ্ঞতা রয়েছে। ফলে মানুষের গুনাহের কারণে সে নিজের ওপর এবং অন্যের ওপর জুলুম করে, যেমন ব্যভিচার, সমকামিতা (لواط) এবং অন্যান্য পাপাচার।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أو شرب خمر، أو ظلم في المال بخيانة أو سرقة أو غصب، أو نحو ذلك.
ومعلوم أن هذه المعاصي وإن كانت مستقبحة مذمومة في العقل والدين فهي مشتهاة أيضا، ومن شأن النفوس أنها لا تحب اختصاص غيرها بها، لكن تريد أن يحصل لها ما حصل له، وهذا هو الغبطة التي هي أدنى نوعي الحسد، فهي تريد الاستعلاء على الغير والاستئثار دونه، أو تحسده وتتمنى زوال النعمة عنه وإن لم يحصل، ففيها من إرادة العلو والفساد والاستكبار والحسد ما مقتضاه أنها تختص عن غيرها بالشهوات؛ فكيف إذا رأت الغير قد استأثر عليها بذلك واختص بها دونها؟ فالمعتدل منهم في ذلك الذي يحب الاشتراك والتساوي، وأما الآخر فظلوم حسود. وهذان يقعان في الأمور المباحة والأمور المحرمة لحق الله، فما كان جنسه مباحا من أكل وشرب ونكاح ولباس وركوب وأموال: إذا وقع فيها الاختصاص حصل الظلم، والبخل والحسد، وأصلهما الشح، كما في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إياكم والشح! فإنه أهلك من كان قبلكم: أمرهم بالبخل فبخلوا، وأمرهم بالظلم فظلموا، وأمرهم بالقطيعة فقطعوا»
ولهذا قال الله تعالى في وصف الأنصار الذين تبوأوا الدار والإيمان من قبل المهاجرين: {وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا} [الحشر: 9] (سورة الحشر: من الآية 9) . أي: لا يجدون الحسد مما أوتي إخوانهم
অথবা মদ্যপান করা, কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা, চুরি বা জবরদখলের মাধ্যমে সম্পদের বিষয়ে জুলুম করা অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু।
এটি সুপরিচিত যে, এই পাপাচারসমূহ যদিও বিবেক ও ধর্মের দৃষ্টিতে কদর্য ও নিন্দনীয়, তথাপি এগুলো নফসের নিকট আকাঙ্ক্ষিতও বটে। আর নফসের স্বভাব হলো সে অন্য কাউকে নিজের ওপর প্রাধান্য লাভ করতে দেখে পছন্দ করে না; বরং সে কামনা করে অন্যের যা অর্জিত হয়েছে তা যেন তারও অর্জিত হয়। আর এটিই হলো গিবতাহ বা ঈর্ষা, যা হিংসার দুটি প্রকারের মধ্যে নিম্নতর পর্যায়। মূলত নফস অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এবং অন্যকে বঞ্চিত করে সবকিছু নিজের একচ্ছত্র অধিকারে রাখতে চায়, অথবা সে অন্যের প্রতি হিংসা পোষণ করে এবং তার নেয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার কামনা করে, যদিও তা নিজে লাভ করতে না পারে। মানুষের নফসের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, বিপর্যয় সৃষ্টি, অহংকার ও হিংসার এমন এক প্রবণতা রয়েছে যার দাবি হলো—সে ভোগবিলাসের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে। এমতাবস্থায়, যখন সে দেখে যে অন্য কেউ তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করছে এবং তাকে বঞ্চিত করে কোনো বিষয় নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়েছে, তখন তার অবস্থা কেমন হতে পারে? তাদের মধ্যে যারা ভারসাম্যপূর্ণ, তারা সবার সাথে সমানভাবে অংশগ্রহণ এবং সাম্য বজায় রাখা পছন্দ করেন; আর অন্য পক্ষটি হলো চরম জালেম ও হিংসুক। এই উভয় বিষয়ই বৈধ এবং আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। যেসব বিষয় মূলত বৈধ শ্রেণিভুক্ত, যেমন: আহার, পানীয়, বিবাহ, পোশাক, বাহন ও ধন-সম্পদ; সেগুলোতে যখন কোনো বিশেষ ব্যক্তির একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন জুলুম, কৃপণতা ও হিংসার উদ্রেক ঘটে। আর এই সবকিছুর মূল উৎস হলো মনের অতি-লোভ। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “তোমরা অতি-লোভ থেকে বেঁচে থাকো; কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে। তা তাদেরকে কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছিল, ফলে তারা কৃপণতা করেছিল; জুলুমের নির্দেশ দিয়েছিল, ফলে তারা জুলুম করেছিল এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল, ফলে তারা তা ছিন্ন করেছিল।”
এই কারণেই আল্লাহ তাআলা সেই আনসারদের প্রশংসায় এরশাদ করেছেন, যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বেই মদিনাকে আবাসভূমি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং ঈমান এনেছিলেন: {তাদের (মুহাজিরদের) যা প্রদান করা হয়েছে, তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো অভাব বোধ করেন না} [সূরা হাশর: আয়াত ৯]। অর্থাৎ: তাদের ভাইদের যা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি তারা কোনো হিংসা পোষণ করেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
من المهاجرين: {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} [الحشر: 9] (سورة الحشر: من الآية 9) . ثم قال: {وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الحشر: 9] (سورة الحشر: من الآية 9) . ورؤي عبد الرحمن بن عوف يطوف بالبيت ويقول: رب قني شح نفسي! رب قني شح نفسي! فقيل له في ذلك فقال: إذا وقيت شح نفسي فقد وقيت البخل والظلم والقطيعة، أو كما قال.
فهذا الشح الذي هو شدة حرص النفس يوجب البخل بمنع ما هو عليه، والظلم بأخذ مال الغير، ويوجب قطيعة الرحم، ويوجب الحسد، وهو كراهة ما اختص به الغير، والحسد فيه بخل وظلم، فإنه بخل بما أعطيه غيره، وظلمه بطلب زوال ذلك عنه.
فإذا كان هذا في جنس الشهوات المباحة، فكيف بالمحرمة، كالزنى وشرب الخمر ونحو ذلك؛ وإذا وقع فيها اختصاص فإنه يصير فيها نوعان:
أحدهما: بغضها لما في ذلك من الاختصاص والظلم، كما يقع في الأمور المباحة الجنس.
والثاني: بغضها لما في ذلك من حق الله.
[أقسام الذنوب]ولهذا كانت الذنوب ثلاثة أقسام:
أحدها: ما فيها ظلم للناس، كالظلم بأخذ الأموال ومنع الحقوق، والحسد ونحو ذلك.
মুহাজিরদের প্রসঙ্গে: {তারা নিজেদের ওপর তাদের প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হয়} [হাশর: ৯] (সূরা হাশর: আয়াত ৯ এর অংশ)। অতঃপর তিনি বলেন: {আর যাদের নফসের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} [হাশর: ৯] (সূরা হাশর: আয়াত ৯ এর অংশ)। আবদুর রহমান ইবনে আউফকে বাইতুল্লাহ তাওয়াফরত অবস্থায় বলতে দেখা গিয়েছে: "হে আমার রব! আমাকে আমার নফসের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করুন! হে আমার রব! আমাকে আমার নফসের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করুন!" এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "যখন আমি আমার নফসের কার্পণ্য থেকে রক্ষা পাব, তখন আমি কৃপণতা, জুলুম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে রক্ষা পাব", অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।
এই কার্পণ্য, যা মূলত নফসের তীব্র লালসা, তা নিজের অধিকারে থাকা বস্তু আটকে রাখার মাধ্যমে কৃপণতা সৃষ্টি করে এবং অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার মাধ্যমে জুলুমকে অনিবার্য করে তোলে। এটি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং হিংসারও উদ্রেক করে। হিংসা হলো অন্যের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নেয়ামত লাভকে অপছন্দ করা। হিংসার মধ্যে কৃপণতা ও জুলুম উভয়ই বিদ্যমান; কারণ এতে অন্যের প্রাপ্ত নেয়ামতের প্রতি কৃপণতা করা হয় এবং তা দূরীভূত হওয়ার কামনার মাধ্যমে তার ওপর জুলুম করা হয়।
যদি বৈধ কামনা-বাসনার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হয়, তবে ব্যভিচার, মদ্যপান ও এই জাতীয় হারাম বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তা কেমন হবে! যখন এসব বিষয়ে বিশেষ আসক্তি বা সংশ্লিষ্টতা ঘটে, তখন সেখানে দুটি দিক তৈরি হয়:
প্রথমত: সেগুলোর প্রতি ঘৃণা পোষণ করা, কারণ তাতে আধিপত্য ও জুলুমের উপাদান রয়েছে, যেমনটা সাধারণত বৈধ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর হকের অবমাননা হওয়ার কারণে সেগুলোর প্রতি ঘৃণা পোষণ করা।
[পাপের প্রকারভেদ]একারণেই পাপসমূহ তিন প্রকার:
প্রথমত: যাতে মানুষের ওপর জুলুম রয়েছে, যেমন সম্পদ আত্মসাৎ ও অধিকার খর্ব করার মাধ্যমে জুলুম, হিংসা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والثاني: ما فيه ظلم للنفس فقط، كشرب الخمر والزنى، إذا لم يتعد ضررهما.
والثالث: ما يجتمع فيه الأمران، مثل أن يأخذ المتولي أموال الناس يزني بها ويشرب بها الخمر، ومثل أن يزني بمن يرفعه على الناس بذلك السبب ويضرهم. كما يقع ممن يحب بعض النساء والصبيان، وقد قال الله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] (سورة الأعراف: آية 33) .
وأمور الناس تستقيم في الدنيا مع العدل الذي فيه الاشتراك في أنواع الإثم أكثر مما تستقيم مع الظلم في الحقوق وإن لم تشترك في إثم، ولهذا قيل: إن الله يقيم الدولة العادلة وإن كانت كافرة، ولا يقيم الظالمة وإن كانت مسلمة. ويقال: الدنيا تدوم مع العدل والكفر، ولا تدوم مع الظلم والإسلام. وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ليس ذنب أسرع عقوبة من البغي وقطيعة الرحم» فالباغي يصرع في الدنيا وإن كان مغفورا له مرحوما في الآخرة، وذلك أن العدل نظام كل شيء، فإذا أقيم أمر الدنيا بعدل قامت وإن لم يكن لصاحبها في الآخرة من خلاق، ومتى لم تقم بعدل لم تقم وإن كان لصاحبها من الإيمان ما يجزى به في الآخرة، فالنفس فيها داعي الظلم لغيرها بالعلو عليه والحسد له، والتعدي عليه في حقه. وداعي الظلم لنفسها بتناول
দ্বিতীয়টি হলো: যাতে কেবল নিজের নফসের ওপর জুলুম রয়েছে, যেমন মদ্যপান ও ব্যভিচার, যদি এগুলোর ক্ষতি অন্যের ওপর না পড়ে।
তৃতীয়টি হলো: যাতে উভয় বিষয়ই বিদ্যমান থাকে। যেমন কোনো শাসনকর্তা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে তা ব্যভিচার ও মদ্যপানে ব্যয় করে। কিংবা এমন কারও সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় যার প্রভাবে সে লোকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তাদের ক্ষতি সাধন করে। যেমনটি নারী ও বালকদের প্রতি আসক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, আর পাপকে ও অসংগত বিদ্রোহকে এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন বিষয়কে শরিক করাকে যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা তোমরা জানো না।} [আল-আরাফ: ৩৩] (সূরা আল-আরাফ: আয়াত ৩৩)।
মানুষের পার্থিব বিষয়াবলি সেই ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল থাকে যার সাথে বিভিন্ন প্রকার পাপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেই অবিচারের তুলনায় যেখানে কেবল মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয় কিন্তু তাতে কোনো পাপের সংশ্লিষ্টতা নেই। এই কারণেই বলা হয়েছে: নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন যদিও তা কাফের হয়, আর জালিম রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন না যদিও তা মুসলিম হয়। আরও বলা হয়: দুনিয়া ন্যায়বিচার ও কুফরের সাথে টিকে থাকে, কিন্তু জুলুম ও ইসলামের সাথে টিকে থাকে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার চেয়ে দ্রুত শাস্তিযোগ্য কোনো পাপ নেই।» অতএব বিদ্রোহকারী দুনিয়াতেই লাঞ্ছিত হয় যদিও পরকালে সে ক্ষমা ও দয়া পেতে পারে। আর তা এই জন্য যে, ন্যায়বিচারই প্রতিটি বিষয়ের মূল শৃঙ্খলা। সুতরাং যখন দুনিয়ার কার্যক্রম ন্যায়বিচারের সাথে পরিচালিত হয় তখন তা প্রতিষ্ঠিত থাকে, যদিও পরকালে তার পরিচালকের কোনো প্রাপ্য বা অংশ না থাকে। আর যখন তা ন্যায়বিচারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না তখন তা প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না, যদিও তার পরিচালকের নিকট এমন ইমান থাকে যার বিনিময়ে সে পরকালে প্রতিদান লাভ করবে। মানুষের প্রবৃত্তিতে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, হিংসা এবং অধিকার হরণের মাধ্যমে অন্যের ওপর জুলুম করার তাড়না রয়েছে; আর নিজের ওপর জুলুম করার তাড়না রয়েছে [নিষিদ্ধ কিছু] গ্রহণের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الشهوات القبيحة كالزنى وأكل الخبائث، فهي قد تظلم من لا يظلمها، وتؤثر هذه الشهوات وإن لم تفعلها، فإذا رأت نظراءها قد ظلموا وتناولوا هذه الشهوات صار داعي هذه الشهوات أو الظلم فيها أعظم بكثير، وقد تصبر، ويهيج ذلك لها من بغض ذلك الغير وحسده وطلب عقابه وزوال الخير عنه ما لم يكن فيها قبل ذلك، ولها حجة عند نفسها من جهة العقل والدين، بكون ذلك الغير قد ظلم نفسه والمسلمين، وأن أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر واجب، والجهاد على ذلك من الدين. والناس هنا ثلاثة أقسام: قوم لا يقومون إلا في أهواء نفوسهم، فلا يرضون إلا بما يعطونه، ولا يغضبون إلا لما يحرمونه، فإذا أعطي أحدهم ما يشتهيه من الشهوات الحلال والحرام زال غضبه وحصل رضاه، وصار الأمر الذي كان عنده منكرا - ينهى عنه ويعاقب عليه، ويذم صاحبه ويغضب عليه - مرضيا عنده، وصار فاعلا له وشريكا فيه، ومعاونا عليه، ومعاديا لمن نهى عنه وينكر عليه، وهذا غالب في بني آدم، يرى الإنسان ويسمع من ذلك ما لا يحصيه، وسببه: أن الإنسان ظلوم جهول، فلذلك لا يعدل، بل ربما كان ظالما في الحالين، يرى قوما ينكرون على المتولي ظلمه لرعيته واعتداءه عليهم، فيرضي أولئك المنكرين ببعض الشيء فينقلبون أعوانا له، وأحسن أحوالهم أن يسكتوا عن الإنكار عليه، وكذلك تراهم ينكرون على من يشرب الخمر ويزني ويسمع الملاهي، حتى يدخلوا أحدهم معهم في ذلك، أو يرضوه
ব্যভিচার ও অপবিত্র বস্তু ভক্ষণের মতো কদর্য প্রবৃত্তিগুলো এমন ব্যক্তিকেও আক্রমণ করতে পারে যে সেগুলোর প্রতি আসক্ত নয়। এই প্রবৃত্তিগুলো বাস্তবে লিপ্ত না হলেও মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যখন কেউ তার সমমনাদের জুলুম করতে বা এসব লালসায় লিপ্ত হতে দেখে, তখন এই লালসা বা জুলুমের তাড়না তার মাঝে বহুগুণ বেড়ে যায়। কখনো সে ধৈর্য ধারণ করে, কিন্তু এর ফলে অন্যের প্রতি ঘৃণা, হিংসা, তাকে শাস্তি দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তার নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়ার বাসনা জাগ্রত হয়, যা আগে তার মধ্যে ছিল না। এমতাবস্থায় সে যুক্তি ও দ্বীনের দোহাই দিয়ে নিজের সপক্ষে এই প্রমাণ দাঁড় করায় যে, ওই ব্যক্তি নিজের ওপর এবং মুসলিমদের ওপর জুলুম করেছে, তাই তাকে সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা ওয়াজিব এবং এর ওপর জিহাদ করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে মানুষ তিন প্রকার: একদল লোক কেবল তাদের প্রবৃত্তির তাড়নায় চালিত হয়; তারা যা পায় তাতেই কেবল সন্তুষ্ট হয় এবং যা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয় কেবল তাতেই তারা রাগান্বিত হয়। যখন এদের কাউকে তাদের কাঙ্ক্ষিত হালাল বা হারামের মধ্য থেকে কিছু দেওয়া হয়, তখন তাদের ক্রোধ দূরীভূত হয় এবং তারা সন্তুষ্ট হয়। ফলে যে বিষয়টি ইতিপূর্বে তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য (منكر) ছিল—যা থেকে তারা নিষেধ করত, যার জন্য শাস্তি দিত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিন্দা করত এবং যার ওপর রাগ করত—এখন তাই তাদের কাছে পছন্দনীয় হয়ে যায়। তখন তারা সেই কাজে লিপ্ত হয়, তাতে অংশীদার হয়, সহযোগিতা করে এবং যে ব্যক্তি তা থেকে নিষেধ করে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে। বনী আদমের মধ্যে এটিই প্রবল। মানুষ এই আচরণের এত বেশি উদাহরণ দেখে ও শোনে যা গণনা করা সম্ভব নয়। এর কারণ হলো মানুষ অতিশয় জালেম ও অজ্ঞ; তাই সে ইনসাফ করে না, বরং উভয় অবস্থাতেই সে জালেম হতে পারে। সে দেখে একদল লোক কোনো শাসকের প্রজাদের ওপর করা জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের প্রতিবাদ করছে; অতঃপর সেই শাসক তাদের কিছু দিয়ে সন্তুষ্ট করে দিলে তারা তার সহযোগীতে পরিণত হয়। তাদের সবচেয়ে ভালো অবস্থা এই হয় যে, তারা প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকে। অনুরূপভাবে, আপনি তাদের দেখবেন যারা মদ পান, ব্যভিচার এবং বাদ্যযন্ত্র শ্রবণের প্রতিবাদ করে, শেষ পর্যন্ত তারা (পাপীরা) তাদের একজনকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় অথবা তাকে সন্তুষ্ট করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ببعض ذلك، فتراه قد صار عونا لهم، وهؤلاء قد يعودون بإنكارهم إلى أقبح من الحال التي كانوا عليها، وقد يعودون إلى ما هو دون ذلك أو نظيره.
وقوم يقومون ديانة صحيحة، يكونون في ذلك مخلصين لله، مصلحين فيما عملوه، ويستقيم لهم ذلك حتى يصبروا على ما أوذوا، وهؤلاء هم الذين آمنوا وعملوا الصالحات، وهم من خير أمة أخرجت للناس، يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر، ويؤمنون بالله. وقوم يجتمع فيهم هذا وهذا، وهم غالب المؤمنين، فمن فيه دين وله شهوة تجتمع في قلوبهم إرادة الطاعة وإرادة المعصية، وربما غلب هذا تارة وهذا تارة.
[أقسام الأنفس]وهذه القسمة الثلاثية كما قيل: الأنفس ثلاث: أمارة، ومطمئنة، ولوامة، فالأولون هم أهل الأنفس الأمارة التي تأمره بالسوء، والأوسطون هم أهل النفوس المطمئنة التي قيل فيها: {يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ - ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً - فَادْخُلِي فِي عِبَادِي - وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 27 - 30] (سورة الفجر: الآيات 27 - 30) . والآخرون هم أهل النفوس اللوامة التي تفعل الذنب ثم تلوم عليه، وتتلون: تارة كذا، وتارة كذا، وتخلط عملا صالحا وآخر سيئا.
ولهذا لما كان الناس في زمن أبي بكر وعمر اللذين أمر المسلمون بالاقتداء بهما كما قال صلى الله عليه وسلم: «اقتدوا باللذين من بعدي أبي بكر وعمر» أقرب عهدا بالرسالة وأعظم إيمانا وصلاحا،
এর ফলে দেখা যায় যে, সে তাদের সহায়কে পরিণত হয়েছে। আর তারা তাদের এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তাদের পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়েও নিকৃষ্ট অবস্থায় ফিরে যেতে পারে, অথবা এর চেয়ে নিম্নতর কিংবা অনুরূপ অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
এবং একদল লোক যারা সঠিক (صحيحة) দ্বীনদারির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয় এবং তাদের কার্যাবলিতে সংশোধন আনয়ন করে। তাদের এই অবস্থা অটল থাকে যতক্ষণ না তারা তাদের ওপর আসা কষ্টের বিপরীতে ধৈর্য ধারণ করে। এরাই সেইসব লোক যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং তারাই মানুষের কল্যাণে উত্থিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে।
এবং একদল লোক যাদের মধ্যে এর উভয়টিই বিদ্যমান, আর তারা অধিকাংশ মুমিন। সুতরাং যার মধ্যে দ্বীনদারিও রয়েছে আবার প্রবৃত্তির তাড়নাও রয়েছে, তাদের অন্তরে আনুগত্যের ইচ্ছা এবং নাফরমানির ইচ্ছা উভয়টিই একত্রিত হয়; কখনো এটি প্রবল হয়, আবার কখনো সেটি।
[নফসের প্রকারভেদ]আর এই ত্রিবিধ বিভাজনটি তেমনই যেমন বলা হয়েছে: নফস তিন প্রকার: আম্মারা, মুতমায়িন্না এবং লাওয়্যামা। প্রথমোক্তরা হলো সেই আম্মারা নফসের অধিকারী যা তাকে মন্দের নির্দেশ দেয়। মধ্যবর্তীগণ হলো সেই প্রশান্ত নফসের অধিকারী যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: {হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।} [আল-ফাজর: ২৭-৩০] (সূরা আল-ফাজর: আয়াত ২৭-৩০)। আর অবশিষ্টাংশ হলো সেই লাওয়্যামা নফসের অধিকারী যারা কোনো পাপ করে ফেলে এবং এরপর তজ্জন্য নিজেকে তিরস্কার করে; তাদের অবস্থা ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হয়: কখনো এমন তো কখনো তেমন, এবং তারা ভালো ও মন্দ কাজের সংমিশ্রণ ঘটায়।
আর এই কারণেই, যখন মানুষ আবু বকর ও উমরের যুগে ছিল—যাদের অনুসরণ করার জন্য মুসলিমদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার পরবর্তী দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো: আবু বকর ও উমর"—তখনকার মানুষ রিসালাতের সময়ের অধিক নিকটবর্তী এবং ঈমান ও সততার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ছিল,
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার - ইবনে তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأئمتهم أقوم بالواجب وأثبت في الطمأنينة: لم تقع فتنة، إذ كانوا في حكم القسم الوسط.
ولما كان في آخر خلافة عثمان وخلافة علي كثر القسم الثالث، فصار فيهم شهوة وشبهة مع الإيمان والدين، وصار ذلك في بعض الولاة وبعض الرعايا، ثم كثر ذلك بعد، فنشأت الفتنة التي سببها ما تقدم من عدم تمحيص التقوى والطاعة في الطرفين، واختلاطهما بنوع من الهوى والمعصية في الطرفين، وكل منهما متأول أنه يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، وأنه مع الحق والعدل، ومع هذا التأويل نوع من الهوى، ففيه نوع من الظن وما تهوى الأنفس، وإن كانت إحدى الطائفتين أولى بالحق من الأخرى.
فلهذا يجب على المؤمن أن يستعين بالله، ويتوكل عليه في أن يقيم قلبه ولا يزيغه، ويثبته على الهدى والتقوى، ولا يتبع الهوى، كما قال تعالى: {فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ} [الشورى: 15] (سورة الشورى: من الآية 15) .
وهذا أيضا حال الأمة فيما تفرقت فيه واختلفت في المقالات والعبادات، وهذه الأمور مما تعظم بها المحنة على المؤمنين، فإنهم يحتاجون إلى شيئين: إلى دفع الفتنة التي ابتلي بها نظراؤهم من فتنة الدين والدنيا عن نفوسهم مع قيام المقتضي لها، فإن معهم نفوسا
এবং তাঁদের ইমামগণ ওয়াজিব পালনে অধিক নিষ্ঠাবান এবং স্থিরতা ও প্রশান্তিতে অধিক অটল ছিলেন: তখন কোনো ফিতনা সৃষ্টি হয়নি, কারণ তাঁরা মধ্যম পন্থার দলের (القسم الوسط) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
যখন উসমানের খিলাফতের শেষভাগ এবং আলীর খিলাফতের সময়কাল এল, তখন তৃতীয় দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। ফলে ইমান ও দ্বীনের পাশাপাশি তাদের মধ্যে প্রবৃত্তি (شهوة) ও সংশয় (شبهة) বৃদ্ধি পেল। এটি কোনো কোনো শাসক এবং কোনো কোনো প্রজাদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হলো। অতঃপর এর বিস্তার আরও বৃদ্ধি পেল এবং এমন ফিতনার উদ্ভব হলো যার কারণ ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে তাকওয়া ও আনুগত্যের বিশুদ্ধকরণের অভাব এবং উভয় পক্ষের মধ্যে এক প্রকার খেয়াল-খুশি ও পাপের সংমিশ্রণ। তাদের প্রত্যেকেই এই ব্যাখ্যা (تأويل) দিচ্ছিল যে, তারা সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছে এবং অসৎ কাজের নিষেধ করছে এবং তারা সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ এই ব্যাখ্যার (تأويل) সাথে মিশে ছিল এক প্রকার প্রবৃত্তি। এতে ছিল ধারণা (ظن) এবং মনের কামনা-বাসনার এক প্রকার প্রভাব, যদিও দুই দলের মধ্যে এক দল অন্য দলের তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী ছিল।
এই কারণে মুমিনের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর ওপর ভরসা করা, যাতে তিনি তার অন্তরকে সুদৃঢ় রাখেন এবং একে বিচ্যুত না করেন, আর তাকে হিদায়াত ও তাকওয়ার ওপর অবিচল রাখেন এবং সে যেন প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব আপনি সেদিকেই দাওয়াত দিন এবং যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন সেভাবে অটল থাকুন; তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না এবং বলুন, 'আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং আমাকে তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা।'} [সূরা আশ-শূরা: ১৫] (সূরা আশ-শূরা: আয়াত ১৫)।
উম্মাহর যেসব বিষয়ে বিভেদ তৈরি হয়েছে এবং মতবাদ ও ইবাদত নিয়ে যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে, তার অবস্থাও ঠিক তেমনই। এসকল বিষয়ের কারণে মুমিনদের ওপর পরীক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাদের দুটি জিনিসের প্রয়োজন হয়: প্রথমত, তাদের সমসাময়িকরা দ্বীন ও দুনিয়ার যে ফিতনায় আক্রান্ত হয়েছে, সেই ফিতনা নিজেদের নফস থেকে প্রতিহত করা—যদিও সেই ফিতনায় পড়ার কারণসমূহ বিদ্যমান থাকে; কারণ তাদের সাথেও নফস রয়েছে...