(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: -)
الأثر التربوي للمسجد   (صالح السدلان)

القسم: كتب عامة


اسم الكتاب: الأثر التربوي للمسجد

المؤلف: أ. د صالح بن غانم بن عبد الله بن سليمان بن علي السدلان

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد الصفحات: 30

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মসজিদের শিক্ষামূলক প্রভাব   (সালিহ আল-সাদলান)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বইয়ের নাম: মসজিদের শিক্ষামূলক প্রভাব

লেখক: প্রফেসর ড. সালিহ বিন গানিম বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আলী আল-সাদলান

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[مكانة المسجد في الإسلام وشمول وظائفه]

الأثر التربوي للمسجد

بسم الله الرحمن الرحيم

مكانة المسجد في الإسلام وشمول وظائفه

لمصالح الدنيا والآخرة الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد: فالمساجد بيوت الله، فيها يعبد وفيها يذكر اسمه، وزواره فيها عُمَّارُها، وهى خير بقاع الله في الأرض ومنارات الهدى وأعلام الدين، فكما أنها مجالس للذكر، ومحراب للعبادة، فهي منارات لتعليم العلم ومعرفة قواعد الشرع بل هي أول المؤسسات التي انطلق منها شعاع العلم والمعرفة في الإسلام!! وفي فضلها وعظم منزلتها وردت نصوص كثيرة منها: قوله تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (1) فالله سبحانه وتعالى وهو مالك كل شيء- نسب المساجد إليه وشرَّفها وعظمها بإضافتها إليه، فليست هي لأحد سواه، كما أن العبادة التي كلَّف الله عباده إياها لا يجوز أن تُصرف لسواه.

ومنها ما رواه مسلم في صحيحه: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عنده» (2) .

ومما يدل على مكانة المساجد عند الله أن عُمَّارها ماديا ومعنويا هم صفوة خلقه من الأنبياء والمرسلين، وأتباعهم من عباده المؤمنين، قال تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ - رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [البقرة: 127 - 128] (3) .

وقال تعالى في عُمّار سائر المساجد:

--------------------------------------------

(1) سورة الجن الآية: 18.

(2) جزء من حديث رواه مسلم رقم (2700) .

(3) سورة البقرة الآية (127، 128) .
‌[ইসলামে মসজিদের মর্যাদা ও এর কার্যাবলীর ব্যাপকতা]

মসজিদের শিক্ষামূলক প্রভাব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণার্থে ইসলামে মসজিদের মর্যাদা ও এর কার্যাবলীর ব্যাপকতা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর: মসজিদসমূহ হলো আল্লাহর ঘর, সেখানে তাঁর ইবাদত করা হয় এবং তাঁর নাম স্মরণ করা হয়। যারা সেখানে যাতায়াত করেন তারাই মূলত এর আবাদকারী। মসজিদ হলো ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহর সর্বোত্তম স্থান, হেদায়াতের মিনার এবং দীনের নিদর্শন। এগুলো যেমন যিকিরের মজলিস এবং ইবাদতের মিহরাব, তেমনি এগুলো ইলম শিক্ষা এবং শরীয়তের বিধিবিধানের জ্ঞান লাভের মিনার; বরং এগুলোই হলো প্রথম প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে ইসলামে ইলম ও জ্ঞানের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয়েছিল!! মসজিদের ফযীলত ও এর সুমহান মর্যাদা সম্পর্কে অনেক প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [আল-জিন: ১৮] (১)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা—যিনি সবকিছুর মালিক—মসজিদসমূহকে নিজের দিকে নিসবত (সম্পৃক্ত) করেছেন এবং তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে এগুলোকে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করেছেন। সুতরাং এগুলো তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়, ঠিক যেমন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর যে ইবাদত অর্পণ করেছেন তা তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা জায়েয নয়।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং তা নিজেদের মধ্যে পঠন-পাঠন করে, তখনই তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন।" (২)।

আল্লাহর নিকট মসজিদের উচ্চ মর্যাদার অন্যতম প্রমাণ হলো এই যে, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে এর আবাদকারীগণ হলেন তাঁর সৃষ্টির মনোনীত স্তর অর্থাৎ নবী ও রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারী মুমিন বান্দাগণ। মহান আল্লাহ বলেন: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أنت السَّمِيعُ الْعَلِيمُ - رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [আল-বাকারা: ১২৭ - ১২৮] (৩)।

অন্যান্য সকল মসজিদের আবাদকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-জিন, আয়াত: ১৮।

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ, নম্বর (২৭০০)।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত (১২৭, ১২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
{إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} [التوبة: 18] (1) .

ووعد سبحانه وتعالى من بنى له بيتا في الأرض- أي بنى مسجدا لله تعالى- أن يبنى له بيتا في الجنة كما في حديث عثمان بن عفان رضي الله عنه، قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «من بنى لله مسجدا بنى الله له كهيئته في الجنة» (2) .

وإذا أريد من المسجد أن يقوم بوظائفه فليُمكن من ذلك ولتعاونه المؤسسات الأخرى، وعندئذ سيصبغ حياة مجتمعه بالصبغة الإسلامية التي صبغ بها مجتمعه الأول في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، والجيل الأول من الصحابة والتابعين رضي الله عنهم والعصور الزاهية للإسلام.

على أنه ينبغي أن تكون هذه المؤسسات متعاضدة مع المسجد في مجال التوجيه والتثقيف ويكون عملها متكاملا منسجما بحيث تكون النتيجة هي المسلم الصالح.

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة الآية (18) .

(2) رواه البخاري (1 / 453) ومسلم (533) .
{“নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ কেবল তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করেনি। অতএব আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”} [আত-তাওবাহ: ১৮] (১)।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা পৃথিবীতে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ঘর নির্মাণকারীকে—অর্থাৎ যে মহান আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করেছে—জান্নাতে একটি ঘর দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেমনটি উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।” (২)।

যদি মসজিদ থেকে তার যথাযথ দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা করা হয়, তবে তাকে সেই সক্ষমতা প্রদান করতে হবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এর সহযোগী হতে হবে। তখন এটি সমাজজীবনকে সেই ইসলামি আদর্শে রঞ্জিত করবে, যে আদর্শে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে প্রথম সমাজ, সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ীগণের (التابعين) প্রথম প্রজন্ম এবং ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল যুগসমূহ রঞ্জিত হয়েছিল।

তবে দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মসজিদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং তাদের কর্মকাণ্ড এমন পরিপূরক ও সুসমন্বিত হতে হবে যেন এর চূড়ান্ত ফলাফল হয় একজন আদর্শ মুসলিম।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত (১৮)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১ / ৪৫৩) এবং মুসলিম (৫৩৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
إن دور المسجد في الواقع جزء متكامل مع أدوار المؤسسات الأخرى في المجتمع، فتنطلق منه لتمارس أنشطتها من خلاله مغزولة ومتداخلة في النسيج الذي يكون حياة المجتمع.

وقد استمرت المساجد تؤدي هذا الدور العظيم قرونًا طويلة من الزمن، حتى أصبحت الأمة الإسلامية اليوم في مرحلة الغثائية الهزيلة الطافية من الداخل، وتكالب قوى الشر والطغيان والغزو عليها من الخارج، ضعف دور المسجد وانحسر مدة ونضب نبعه أو كاد في كثير من بلدان الإسلام!! وذلك على حين غفلة من بعض المسلمين، وسذاجة بعضهم، وسوء نية بعضهم الآخر. وفي ظل هذه الأوضاع المتردية وفي خضم تلك المؤامرات الهادفة إلى إقصاء المسجد عن رسالته ووظيفته في المجتمع، ما فتئت روح الإسلام تدب في كل عرق من عروق العالم الإسلامي دبيبًا طبيعيًا هادئًا، فتدفعه إلى الإسلام دفعًا متواصلًا، ونتيجة لهذه اليقظة الواعية والصحوة المباركة بدأت المساجد تستعيد دورها الرائد في المجتمع المسلم: توجيهًا وتعليمًا وتربية وخلايا حية تنبض بالحركة والعطاء
বাস্তবে মসজিদের ভূমিকা হলো সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার সাথে একীভূত একটি অংশ, যা থেকে সমাজ তার কার্যাবলি পরিচালনা করে এবং যা সমাজের জীবন গঠনকারী বুননের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

মসজিদসমূহ দীর্ঘ শতাব্দী ধরে এই মহান ভূমিকা পালন করে আসছিল, শেষ পর্যন্ত আজ মুসলিম উম্মাহ যখন অভ্যন্তরীণভাবে অন্তঃসারশূন্য ও দুর্বল অবস্থায় উপনীত হলো এবং বাহির থেকে অশুভ শক্তি, স্বৈরাচার ও আগ্রাসনের কবলে পড়ল, তখন অনেক মুসলিম দেশে মসজিদের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে, এর প্রভাব সংকুচিত হয়েছে এবং এর উৎসধারা প্রায় শুকিয়ে গেছে!! আর এটি ঘটেছে কিছু মুসলমানের অসচেতনতা, কারো সরলতা এবং অন্যদের অসৎ উদ্দেশ্যের ফলে। এই শোচনীয় পরিস্থিতির মাঝে এবং মসজিদকে তার সামাজিক লক্ষ্য ও দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের ভিড়েও ইসলামের প্রাণশক্তি মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় অত্যন্ত স্বাভাবিক ও শান্তভাবে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তাকে অবিরাম ইসলামের দিকে ধাবিত করছে। এই সচেতন জাগরণ ও বরকতময় উত্থানের ফলে মুসলিম সমাজে মসজিদসমূহ পুনরায় তাদের দিকনির্দেশনা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মতৎপরতা ও ত্যাগের স্পন্দনে জীবন্ত এক সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে তাদের অগ্রণী ভূমিকা ফিরে পেতে শুরু করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
لتؤدي دورها وتقوم بواجبها موجهة المؤسسات الأخرى كالبيت والمدرسة والمعسكر والنادي. . إلخ، متعاونة معًا في ميدان التوعية والتوجيه.

وهذه المحاضرة توضح أثرًا من آثار المسجد المباركة وهي بعنوان "الأثر التربوي للمسجد " وهو جهد متواضع أعددته إدراكًا مني لهذا الدور النبيل للمسجد ومساهمة مع وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد في مناسبة عزيزة علينا وهي مرور مائة عام على تأسيس المملكة سائلين الله تعالى أن يسدد الخطا ويعين على الدرب إنه سميع مجيب.

 

‌‌[أهمية المسجد وعلاقته بالمجتمع المسلم]

أهمية المسجد وعلاقته بالمجتمع المسلم (1) للمسجد أهميته الكبرى، ومنزلته العظيمة في المجتمع المسلم وقد نوّه القرآن الكريم بالمسجد ومكانته، والمثوبة الكبرى للمشتغلين بعمارته، فقال عز وجل: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ - رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ} [النور: 36 - 37]

--------------------------------------------

(1) انظر في هذا الموضوع الدور التربوي للمسجد د. فرغلي جاد أحمد، ص 143- 144، الإسلام والحضارة ودور الشباب المسلم، ص540 وما بعدها، ودور المسجد في التربية والأعداد، ص 138.
যাতে এটি তার ভূমিকা পালন করতে পারে এবং ঘর, স্কুল, সেনানিবাস ও ক্লাবের মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারে এবং সচেতনতা ও দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে একত্রে সহযোগিতা করতে পারে।

এই বক্তৃতাটি মসজিদের বরকতময় প্রভাবগুলোর একটি দিক স্পষ্ট করে, যার শিরোনাম হলো "মসজিদের শিক্ষামূলক প্রভাব"। মসজিদের এই মহৎ ভূমিকা উপলব্ধি করে এবং ইসলামিক বিষয়, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি উপলক্ষ—অর্থাৎ বাদশাহির প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূরণ উপলক্ষ্যে আমার এই বিনীত প্রচেষ্টা। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পদক্ষেপগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং এই পথে সাহায্য করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

 

‌‌[মসজিদের গুরুত্ব এবং মুসলিম সমাজের সাথে এর সম্পর্ক]

মসজিদের গুরুত্ব এবং মুসলিম সমাজের সাথে এর সম্পর্ক (১) মুসলিম সমাজে মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর মর্যাদা সুউচ্চ। পবিত্র কুরআন মসজিদের গুরুত্ব ও অবস্থান এবং যারা এটি আবাদ করার কাজে নিয়োজিত তাদের জন্য মহা পুরস্কারের কথা উল্লেখ করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {সেই সব ঘরে, যেগুলোকে সমুন্নত রাখতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে—এমন ব্যক্তিরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ ও সালাত কায়েম করা হতে বিচ্যুত করে না} [আন-নূর: ৩৬-৩৭]

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে দেখুন: 'আদ-দাওরুত তারবাউয়ি লিল মাসজিদ', ড. ফারগালি জাদ আহমাদ, পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪; 'আল-ইসলাম ওয়াল হাদারা ওয়া দাওরুশ শাবাবিল মুসলিম', পৃষ্ঠা ৫৪০ ও পরবর্তী অংশ; এবং 'দাওরুল মাসজিদ ফিত তারবিয়াহ ওয়াল ই’দাদ', পৃষ্ঠা ১৩৮।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
(1) وقال عز من قائل: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [التوبة: 18] (2) .

وروى مسلم في صحيحه عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أحب البلاد إلى الله مساجدها، وأبغض البلاد إلى الله أسواقها» (3) .

فالمسجد بوتقة لا بد منها، لتنصهر فيها النفوس، وتتجرد من علائق الدنيا، وفارق الرتب والمناصب، وحواجز الكبر والأنانية، وسكرة الشهوات والأهواء، ثم تتلاقى في ساحة العبودية الصادقة لله عز وجل بصدق وإخلاص.

إن ركعة واحدة يؤديها المسلمون في بيت من بيوت الله، جنبًا إلى جنب، تغرس في نفوسهم من حقائق المساواة الإنسانية وموجبات الود والأخوة، ما لا تفعله عشرات من الكتب التي تدعو إلى المساواة وتتحدث عن فلسفة الإنسان المثالي؛ لهذا وغيره بدأ رسول الله صلى الله عليه وسلم إقامة المجتمع الإسلامي في المدينة المنورة بعمارة

--------------------------------------------

(1) سورة النور الآية (136-137) .

(2) سورة التوبة الآية (18) .

(3) أخرجه مسلم (671) .
(১) এবং সুমহান সত্তা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও পরকাল দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে} [আত-তওবাহ: ১৮] (২)।

আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় স্থান হলো বাজার" (৩)।

সুতরাং মসজিদ হলো এমন এক অপরিহার্য ক্ষেত্র, যেখানে মানুষের আত্মা বিগলিত হয় এবং পার্থিব মায়া-মমতা, পদমর্যাদার ভেদাভেদ, অহংকার ও স্বার্থপরতার প্রাচীর এবং কুপ্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির মত্ততা থেকে বিমুক্ত হয়; অতঃপর তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ দাসত্বের প্রাঙ্গণে সম্মিলিত হয়।

আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটিতে মুসলিমদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আদায়কৃত এক রাকাআত সালাত তাদের অন্তরে মানবিক সাম্যের বাস্তবতা এবং সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এমন আবশ্যকতা বপন করে, যা সাম্যের আহ্বান জানানো এবং আদর্শ মানুষের দর্শন নিয়ে আলোচনা করা কয়েক ডজন কিতাবও করতে পারে না। এ কারণে এবং অন্যান্য হিকমতের প্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার সূচনা করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর আয়াত (১৩৬-১৩৭)।

(২) সূরা আত-তওবাহ আয়াত (১৮)।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৬৭১)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
المسجد، معلنًا بذلك أنه الركن الأول والدعامة الأولى لقيام هذا المجتمع، حتى إذا تمت عمارة المسجد وأقبل المسلمون إليه، شد رسول الله صلى عليه وسلم قلوب المسلمين في ظله، بنياط الأخوة في الله، فكان لهم من المسجد خير ضمانة لذلك، وأعظم ملاذ من مشاغل الدنيا وفتن الشهوات والأهواء!!

إن علاقة المسجد بالمجتمع أقوى من أن تقف عند خمس صلوات تؤدى فيه في اليوم والليلة، ثم يغلق بابه فيما بين ذلك، وتنقطع علاقته بالمسلمين وسائر شؤونهم وأحوالهم. كلا كلا إن مؤسسة لها ذلك السلطان الذي ذكرناه على نفوس الناس والأثر الذي أوضحناه في تهذيبهم، لا بد أن تكون علاقته بالوضع الاجتماعي وأحواله، علاقة تفاعل ثابت ومستمر.
মসজিদ; এর মাধ্যমে তিনি ঘোষণা দিলেন যে, এটিই এই সমাজ বিনির্মাণের প্রথম স্তম্ভ ও প্রধান ভিত্তি। অবশেষে যখন মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলো এবং মুসলিমরা এর দিকে ধাবিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এর ছায়াতলে মুসলিমদের অন্তরসমূহকে সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করলেন। তাদের জন্য এই মসজিদই ছিল এর সর্বোত্তম নিশ্চয়তা এবং দুনিয়ার ব্যস্ততা ও কুপ্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশির ফিতনা (فتن) থেকে মুক্তির মহান আশ্রয়স্থল!!

সমাজের সাথে মসজিদের সম্পর্ক দিন-রাতের কেবল পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী; যেখানে সালাত আদায়ের পর এর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং মুসলিমদের অন্যান্য বৈষয়িক কার্যাবলি ও অবস্থার সাথে এর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে—এমনটি নয়। কখনোই নয়! বরং যে প্রতিষ্ঠানের মানুষের নফসের ওপর আমাদের বর্ণিত সেই কর্তৃত্ব এবং তাদের চরিত্র সংশোধনে আমাদের স্পষ্টকৃত সেই প্রভাব বিদ্যমান, সামাজিক পরিস্থিতি ও জনজীবনের অবস্থার সাথে তার সম্পর্ক অবশ্যই একটি সুদৃঢ় ও নিরন্তর মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক হওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[المسجد تطبيق عملي للدعوة إلى الإيمان والعمل الصالح والتعليم والتثقيف والتربية والتوجيه]

المسجد تطبيق عملي للدعوة إلى الإيمان والعمل

الصالح والتعليم والتثقيف والتربية والتوجيه (1) المسجد هو أول المؤسسات التي انطلق منها شعاع العلم والمعرفة في الإسلام، وهو يحمل خاصية أساسية بالنسبة للمجتمع المسلم، وهو مصدر الانطلاقة الأولى لدعوة الإسلام ونبع الهداية الربانية، فعلى سمائه ترتفع الدعوة إلى الإيمان والعمل الصالح، وعلى منبره يعلّم الإيمان والعمل الصالح، وعلى أرضه الطاهرة يؤدي العمل الصالح، وهو المرتكز الذي تدور حوله قاعدة الجهاد الكبرى، والمحور الذي تلتف حوله الأفكار والعواطف، والمحضن الذي يربي الصفوة والرواد الذين يحملون مشاعل النور والهداية ويطوفون البلاد يحملون صفة المسجد ورائحته وطهره.

وقد ظل المسجد على امتداد تاريخ المسلمين مؤسسة تعليمية للصغار والكبار، وأول الأمكنة التي تحقق الأهداف العملية لتربية الناس بعامة والناشئة والشباب بخاصة، وكان الرجال الأوائل الذين حملوا اللواء ولبوا النداء إلى المجد هم

--------------------------------------------

(1) انظر في هذا المسجد ودوره التعليمي عبر العصور من خلال الحلقات العلمية (15-21) بتصرف، ومناهج التعليم بالمساجد وأسلوب التدريس فيها، ص 6، 7، والدور التربوي للمسجد، ص 146-147، ودور المسجد في التربية، ص 78، من قضايا الفكر الإسلامي المعاصر، ص 241. رواه مسلم (017 1) .
[ঈমান, নেক আমল, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রতিপালন ও দিকনির্দেশনার দাওয়াতের বাস্তব প্রয়োগক্ষেত্র হলো মসজিদ]

ঈমান, নেক আমল, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রতিপালন ও দিকনির্দেশনার দাওয়াতের বাস্তব প্রয়োগক্ষেত্র হলো মসজিদ।

(১) মসজিদ হলো ইসলামের প্রথম প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে ইলম ও জ্ঞানের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়েছে। মুসলিম সমাজের প্রেক্ষাপটে এটি একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য বহন করে। এটি ইসলামের দাওয়াতের প্রাথমিক সূচনার উৎস এবং রব্বানি হিদায়াতের ঝরনাধারা। এর আকাশপানে ঈমান ও নেক আমলের দাওয়াত উড্ডীন হয়, এর মিম্বর থেকে ঈমান ও নেক আমলের শিক্ষা দেওয়া হয় এবং এর পবিত্র ভূমিতে নেক আমল সম্পাদন করা হয়। এটি এমন এক কেন্দ্রবিন্দু যাকে ঘিরে জিহাদের মহান ভিত্তি আবর্তিত হয়। এটি এমন এক অক্ষ যার চারপাশে চিন্তা ও আবেগ একীভূত হয়। এটি এমন এক লালনভূমি যা সেই সব অগ্রজ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের গড়ে তোলে যারা নূর ও হিদায়াতের মশাল বহন করেন এবং মসজিদের গুণাবলি, সুবাস ও পবিত্রতা ধারণ করে দেশ-বিদেশে বিচরণ করেন।

মুসলমানদের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মসজিদ আবালবৃদ্ধবনিতার এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে রয়েছে। এটিই সেই প্রথম স্থান যা সাধারণ মানুষের এবং বিশেষ করে কিশোর ও যুবকদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক উদ্দেশ্যসমূহ সফল করে থাকে। সেই সব প্রথম সারির ব্যক্তি যারা ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন এবং মর্যাদার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন তাঁরা হলেন

--------------------------------------------

(১) যুগে যুগে মসজিদের এই শিক্ষামূলক ভূমিকা সম্পর্কে দেখুন: 'আল-মসজিদ ওয়া দাওরুহু আল-তালীমি আবরাল উসুর মিন খিলালিল হিলাকাতিল ইলমিয়্যাহ' (১৫-২১) থেকে সংক্ষেপিত (بتصرف), 'মানাহিযুত তালীম বিল মাসাজিদ ওয়া উসলুবুত তাদরিস ফিহা', পৃষ্ঠা ৬, ৭, 'আদ-দাওরুত তারবাওয়ি লিল মসজিদ', পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৭, 'দাওরুল মসজিদ ফিত তারবিয়াহ', পৃষ্ঠা ৭৮, 'মিন কাদায়াল ফিকরিল ইসলামি আল-মুআসির', পৃষ্ঠা ২৪১। এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) মুসলিম (১০১৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أشبال المسجد وعمار بيوت الله تعالى، وكان العلماء والفقهاء والبلغاء والنبلاء من أفضل خريجيها.

يقول شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمة الله-: " وكانت المساجد مجامع الأمة ومواضع الأئمة. وقد أسس صلى الله عليه وسلم مسجده المبارك على التقوى، فكانت فيه الصلاة والقراءة والذكر وتعليم العلم والخطب، وفيه السياسة وعقد الألوية والرايات وتأمير الأمراء وتعريف العرفاء، وفيه يجتمع المسلمون كلما حزبهم أمر من أمر دينهم ودنياهم ".

نعم إن مكانة المسجد في المجتمع الإسلامي تجعله مصدر التوجيه الروحي والمادي، فهو ساحة للعبادة ومدرسة للعلم وندوة للأدب، وهو- أيضًا- بوتقة تنصهر فيها النفوس وتتجرد من علائق الدنيا وفوارق الرتب والمناصب وحواجز الكبر والأنانية وسكرة الشهوات والأهواء ثم تتلاقى في ساحة العبودية الصادقة لله عز وجل.
মসজিদের সিংহশাবক ও আল্লাহর ঘরের আবাদকারীগণ; এবং আলেম, ফকিহ, বাগ্মী ও মহৎ ব্যক্তিগণ ছিলেন এর শ্রেষ্ঠ গ্র্যাজুয়েটদের অন্তর্ভুক্ত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন— "মসজিদগুলো ছিল উম্মাহর মিলনস্থল এবং ইমামদের অবস্থানস্থল। নবী (সা.) তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে তাঁর বরকতময় মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; সেখানে সালাত, তিলাওয়াত, জিকির, ইলম শিক্ষা এবং খুতবা অনুষ্ঠিত হতো। সেখানে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, সেনাপতিদের নিয়োগ ও পতাকা প্রদান, আমিরদের দায়িত্ব অর্পণ এবং প্রতিনিধিদের পরিচিতি প্রদান সম্পন্ন হতো। যখনই দ্বীন ও দুনিয়ার কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁদের সামনে আসত, মুসলমানরা সেখানেই একত্রিত হতেন।"

হ্যাঁ, ইসলামি সমাজে মসজিদের মর্যাদা একে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক নির্দেশনার উৎসে পরিণত করেছে। এটি ইবাদতের প্রাঙ্গণ, ইলমের মাদরাসা এবং সাহিত্যের আসর। এটি এমন এক বিগলন পাত্র যেখানে আত্মাগুলো পরিশুদ্ধ হয় এবং জাগতিক সম্পর্ক, পদমর্যাদার ভেদাভেদ, অহংকার ও স্বার্থপরতার অন্তরায় এবং কুপ্রবৃত্তির নেশা থেকে বিমুক্ত হয়; অতঃপর মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ দাসত্বের ময়দানে সকলে মিলিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[حضور الجماعة في المسجد وأثره في التربية]

والتوجيه (1) من المؤكد أن رسالة المسجد في الإسلام تتركز في الدرجة الأولى على التربية الروحية، لما لصلاة الجماعة، وقراءة القرآن الكريم من ثواب عظيم وأجر جزيل. . روى البخاري ومسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى عليه وسلم: «صلاة الرجل في جماعة تُضَعَّف على صلاته في بيته وفي سوقه خمسًا وعشرين ضعفًا، وذلك أنه إذا أحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة، لم يخط خطوة إلا رفعت له بها درجة، وحطت عنه بها خطيئة، فإذا صلى لم تزل الملائكة تصلي عليه ما دام في مصلاه ما لم يحدث، تقول: اللهم اغفر له اللهم أرحمه ولا يزال في صلاة ما انتظر الصلاة.» (2) .

من أهم وظائف المسجد التربوية أنه يعوِّد المسلمين على التزام الجماعة والارتباط بها عدة مرات في اليوم الواحد

--------------------------------------------

(1) مناهج التعليم في المساجد وأسلوب التدريس فيها، ص 8، والإسلام والحضارة ودور الشباب المسلم، ص 513، 659، الدور التربوي للمسجد 172.

(2) أخرجه البخاري (2 / 112 و114) ومسلم 649.
‌‌[মসজিদে জামাতে (الجماعة) উপস্থিতি এবং লালন-পালন (التربية) ও দিকনির্দেশনার (التوجيه) ওপর এর প্রভাব]

ও দিকনির্দেশনা (১) এটি সুনিশ্চিত যে, ইসলামে মসজিদের বার্তা প্রধানত আধ্যাত্মিক লালন-পালনের (التربية الروحية) ওপর কেন্দ্রিত, যেহেতু জামাতে (الجماعة) নামাজ আদায় এবং পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের সুমহান সওয়াব ও প্রচুর প্রতিদান রয়েছে। ইমাম বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির জামাতে (الجماعة) নামাজ পড়ার সওয়াব তার ঘরে বা বাজারে পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আর এটি এই কারণে যে, সে যখন উত্তমরূপে ওজু করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং নামাজ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার থাকে না, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা (درجة) বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ (خطيئة) মোচন করা হয়। অতঃপর যখন সে নামাজ আদায় করে, যতক্ষণ সে তার নামাজের স্থানে থাকে এবং যতক্ষণ তার ওজু ভঙ্গ (يحدث) না হয়, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে এই বলে: 'হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তাকে দয়া করুন।' আর সে যতক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ সে নামাজরত অবস্থাতেই থাকে।" (২)।

মসজিদের অন্যতম প্রধান শিক্ষামূলক কাজ হলো এটি মুসলমানদের দিনে কয়েকবার জামাতের (الجماعة) আনুগত্য করা এবং এর সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে অভ্যস্ত করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) মসজিদে শিক্ষা কারিকুলাম ও সেখানে পাঠদান পদ্ধতি, পৃষ্ঠা ৮; এবং ইসলাম, সভ্যতা ও মুসলিম যুবকদের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৫১৩, ৬৫৯; মসজিদের শিক্ষামূলক ভূমিকা, ১৭২।

(২) এটি বুখারি (২/১১২ ও ১১৪) এবং মুসলিম ৬৪৯-এ বর্ণিত (أخرجه) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
حيث يستشعر المسلم أهمية أن يكون مع إخوانه يؤدون شعائر دينهم وهم في ذلك سواسية كأسنان المشط حين وقوفهم أمام الباري المصور فهم متساوون موحدون متوحدون. وقد حثنا الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم على الحرص على الذهاب للمساجد والتزام الجماعة وعلمنا أن كل خطوة للمسجد ترفع درجة وتحط خطيئة ومن يعي ذلك من المسلمين ولا يسارع إلى هذا المغتسل العظيم الذي يتطهر فيه من الذنوب أولا بأول كل يوم حتى لا يبقى من أدرانه شيء؟!

إن المسلمين في المسجد يشعرون بأخوة الإسلام ومجتمع المصلين داخله مجتمع يسوده الحب والصفاء والوئام فهو مجتمع يتفقد الغائب ويجامل الحاضر ويعين بعضه بعضًا، ولقاء المسلمين في اليوم خمس مرات داخل المسجد يغذي أرواحهم بالقرآن ويربي نفوسهم بالإيمان، ويأخذهم بالصبر على الأذى والصفح الجميل وقهر النفس ويزيدهم إيمانًا وتسليمًا.
যেখানে একজন মুসলিম তার ভাইদের সাথে থেকে তাদের দ্বীনের বিধানসমূহ পালন করার গুরুত্ব অনুভব করেন; সে অবস্থায় তাঁরা মহান স্রষ্টা ও রূপদানকারীর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার সময় চিরুনির দাঁতের মতো সমান। তাঁরা সমমর্যাদাসম্পন্ন, একত্ববাদী এবং ঐক্যবদ্ধ। প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে যত্নশীল হতে এবং জামাতের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপ একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং একটি পাপ মোচন করে। যে মুসলিম এই বিষয়টি অনুধাবন করেন, তিনি কি এই মহান পবিত্রতা অর্জনের স্থলের দিকে দ্রুত ধাবিত হবেন না, যেখানে তিনি প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে নিজের পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন হতে পারেন যাতে তাঁর মাঝে কোনো মালিন্য অবশিষ্ট না থাকে?!

নিশ্চয়ই মসজিদে মুসলিমগণ ইসলামি ভ্রাতৃত্ব অনুভব করেন এবং এর অভ্যন্তরে মুসল্লিদের সমাজ এমন এক সমাজ যেখানে ভালোবাসা, শুভ্রতা ও সম্প্রীতি বিরাজ করে। এটি এমন এক সমাজ যা অনুপস্থিত ব্যক্তির খোঁজ নেয়, উপস্থিত ব্যক্তির সাথে সৌজন্য বিনিময় করে এবং একে অপরকে সাহায্য করে। মসজিদে প্রতিদিন পাঁচবার মুসলিমদের এই সাক্ষাৎ কুরআনের মাধ্যমে তাঁদের আত্মাকে খোরাক জোগায়, ঈমানের মাধ্যমে তাঁদের নফসকে গড়ে তোলে, দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ, সুন্দর ক্ষমা এবং নফস দমনে তাঁদের অভ্যস্ত করে তোলে এবং তাঁদের ঈমান ও আত্মসমর্পণ বাড়িয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌[دور الخطبة في التربية والإعداد والتثقيف والتوجيه]

دور الخطبة في التربية والإعداد والتثقيف

والتوجيه (1) الخطابة لا تزال هي أكثر الوسائل فعالية في نشر الدعوة الإسلامية، حيث إنها تتبوأ في الإسلام مركزًا ممتازًا بالنسبة إلى نشر الدعوة وتبليغها للناس منذ بدء الرسالة المحمدية، والسر في ذلك أن الخطابة على العموم كانت ولا تزال هي أكثر الوسائل فعالية في نشر الدعوات وبث الأفكار وإيصالها إلى أكبر عدد ممكن من مختلف الطبقات والمستويات فالخطبة أسرع إلى فهم العامة وأبلغ في التأثير على الجميع ولها مفعول مباشر وسريع في توجيه الرأي العام.

لهذا ينبغي أن تهدف خطبة الجمعة إلى تحقيق الأغراض التالية:

1 - الوعظ والتذكير بالله تعالى واليوم الآخر، وبالمعاني التي تحيى بها القلوب، والدعوة إلى الخير، والأمر بالمعروف والنهى عن المنكر.

--------------------------------------------

(1) انظر: وثائق مؤتمرات وزراء الأوقاف والشؤون الإسلامية (توصيات ومقترحات والدعوة الإسلامية) ، ص 272، 273.
[শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সংস্কৃতি ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে খুতবার ভূমিকা]

শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে খুতবার ভূমিকা

ও নির্দেশনা (১) ইসলামি দাওয়াত প্রসারের ক্ষেত্রে খুতবা বা ভাষণ এখনও সর্বাধিক কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। মুহাম্মদী রিসালাতের সূচনা থেকেই দাওয়াত প্রচার এবং মানুষের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের মধ্যে এটি এক অনন্য ও উচ্চতর স্থান দখল করে আছে। এর রহস্য হলো, সাধারণভাবে খুতবা বা বক্তৃতা সকল যুগেই মতবাদ প্রচার, চিন্তাধারা বিস্তার এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও স্তরের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক কার্যকর মাধ্যম ছিল এবং এখনও আছে। সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার জন্য খুতবা অধিকতর দ্রুততর এবং সকলের ওপর প্রভাব বিস্তারে এটি অধিকতর ফলপ্রসূ। জনমত গঠনে এর প্রত্যক্ষ ও তাৎক্ষণিক প্রভাব রয়েছে।

একারণে জুমার খুতবার লক্ষ্য হওয়া উচিত নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করা:

১ - উপদেশ প্রদান এবং মহান আল্লাহ ও পরকাল সম্পর্কে স্মরণ করানো; এমন সব আধ্যাত্মিক ভাবধারা আলোচনা করা যার মাধ্যমে অন্তরসমূহ প্রাণবন্ত হয়; কল্যাণের পথে আহ্বান জানানো এবং সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ করা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রীদের সম্মেলনের নথিপত্র (সুপারিশ, প্রস্তাবনা ও ইসলামি দাওয়াত), পৃষ্ঠা ২৭২, ২৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - تفقيه المسلمين وتعليمهم حقائق دينهم من كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، مع العناية بسلامة العقيدة من الخرافات، وسلامة العبادة من المبتدعات، وسلامة الأخلاق والآداب من الشطط والانحراف.

3 - تصحيح المفاهيم الخاطئة عن الإسلام ورد الشبهات والأباطيل التي يثيرها خصومه لبلبلة الأذهان بأسلوب مقنع حكيم بعيدًا عن المهاترة والسباب ومواجهة الأفكار الهدامة بتقديم الإسلام الصحيح.

4 - ربط الخطبة بالحياة وبالواقع الذي يعيشه الناس وعلاج أمراض المجتمع وتقديم الحلول لمشكلاته على ضوء الشريعة الإسلامية الغراء.

5 - مراعاة المناسبات الإسلامية كرمضان والحج والنوازل المختلفة وغيرها بما يشوق المستمعين إلى معرفة تنير لهم الطريق بشأنها.

6 - تثبيت معنى أخوة الإسلام ووحدة أمته الكبرى، ومحاربة النزعات والعصبيات العنصرية والمذهبية، وغيرها من الأمور التي تفرق وحدة الأمة والتركيز على ما يربط المسلم فكريًا وشعوريًا بإخوانه المسلمين.
2 - আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে মুসলমানদের দ্বীনি প্রজ্ঞা দান ও তাদের দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ শিক্ষা দেওয়া; সেই সাথে আকিদাহকে কুসংস্কার থেকে, ইবাদতকে বিদআত (مبتدعات) থেকে এবং আখলাক ও আদবকে বিচ্যুতি ও লক্ষ্যহীনতা থেকে রক্ষা করার বিষয়ে যত্নশীল হওয়া।

3 - ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলোর সংশোধন করা এবং ইসলামের শত্রুরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য যে সকল সংশয় ও অসার মতবাদ ছড়ায়, গালিগালাজ ও কটু কথা এড়িয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সেগুলোর জবাব দেওয়া এবং সঠিক ইসলাম উপস্থাপনের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার মোকাবিলা করা।

4 - খুতবাকে মানুষের বাস্তব জীবন ও পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক ব্যাধিগুলোর প্রতিকার করা এবং সুমহান ইসলামি শরীয়াহর আলোকে সমস্যাগুলোর সমাধান পেশ করা।

5 - রমজান, হজ এবং বিভিন্ন উদ্ভূত পরিস্থিতি (نوازل) সহ ইসলামি উপলক্ষগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা, যা শ্রোতাদের মাঝে এমন জ্ঞান অর্জনের স্পৃহা তৈরি করবে যা তাদের পথকে আলোকিত করে।

6 - ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও বৃহত্তর উম্মাহর ঐক্যের চেতনাকে সুদৃঢ় করা; বর্ণবাদ ও মাযহাবী সংকীর্ণতা (عصبيات) এবং উম্মাহর ঐক্য বিনষ্টকারী অন্যান্য সকল প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং একজন মুসলিমকে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের সাথে চিন্তা ও অনুভূতির দিক থেকে যা কিছু আবদ্ধ করে তার ওপর গুরুত্বারোপ করা।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
7 - إحياء روح الجهاد في نفوس الأمة وإشعال جذوة الحماس لحماية حرمات الإسلام ومقدساته وأوطانه.

8 - ينبغي أن تنزه خطبة الجمعة عن أن تتخذ أداة للدعاية أو نيلًا من شخص، وأن تكون خالصة لله تعالى ولدينه وتبليغ دعوته وإعلاء كلمته، قال تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (1) .

لهذا يجب: أن يضع العلماء والدعاة الأكفاء أمثلة رفيعة لموضوعات إسلامية متنوعة لتكون في أيدي الخطباء ليستعينوا بها في إعداد الخطبة كما يجب أن تعتمد الخطبة على مصادر المعرفة الإسلامية الموثقة وتترفع عن الأحاديث الضعيفة والموضوعة والإسرائيليات المدسوسة والحكايات المكذوبة والمبالغات المذمومة وكل ما لا يقره نقل صحيح أو عقل صريح.

 

‌‌[الدروس في المسجد ودورها في التثقيف والتوجيه وغرس التربية الإيمانية]

الدروس في المسجد ودورها في التثقيف والتوجيه

وغرس التربية الإيمانية (2) إن وجود المسجد على الهيئة التي أراد الله أن تكون له، كما كان في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، وخلفائه الراشدين يكون من أهم آثاره انتشار العلم بين المصلين وغيرهم، لأن المصلي الذي يعتاد المساجد المعمورة بالعبادة والتعليم والذكر وقراءة القرآن، لا تمضي عليه فترة من عمره إلا وقد تعلم الكثير من أمور دينه ودنياه من الكتاب والسنة والتفسير والفقه وغيرها.

هذا إذا كان مجرد مستمع في حلقات الدروس التي تعقد في المسجد، أما إذا كان طالبًا ملازمًا للحلقات، وبيده كتابه وقلمه وورقه يقرأ، ويستمع لشرح شيخه معلمًا له ولطلابه الذين يتحلقون حوله، فتصبح الحلقة الواحدة بعد مضي سنوات حلقات في المسجد الذي تعلموا فيه أو في غيره لأن كل واحد في الحلقة يصبح شيخًا لحلقة، وهذا هو سر كثرة العلماء المتبحرين في القرون الأولى الذين صاروا أئمة في كل فن من فنون المعرفة.

--------------------------------------------

(1) سورة الجن الآية: 14.

(2) دور المسجد في التربية، وص 109 و110، ومن قضايا الفكر الإسلامي المعاصر، ص222، 223.
৭ - উম্মাহর অন্তরে জিহাদের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইসলামের পবিত্রতা, পবিত্র স্থানসমূহ ও ভূখণ্ড রক্ষার জন্য উদ্দীপনার শিখা প্রজ্জ্বলিত করা।

৮ - জুমার খুতবাকে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বা কোনো ব্যক্তিকে হেয় করার মাধ্যম বানানো থেকে পবিত্র রাখা উচিত। এটি হতে হবে কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলা ও তাঁর দ্বীনের জন্য, তাঁর দাওয়াত প্রচারের জন্য এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য; সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না" [জিন: ১৮] (১)।

এজন্য অপরিহার্য যে: যোগ্য আলেম ও দাঈগণ বিভিন্ন ইসলামি বিষয়ের ওপর উচ্চমানের নমুনা তৈরি করবেন, যা খতিবদের হাতে থাকবে যাতে তারা খুতবা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তা থেকে সহায়তা নিতে পারেন। তেমনিভাবে খুতবাকে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎসের ওপর ভিত্তি করতে হবে এবং দুর্বল (ضعيفة) ও জাল (موضوعة) হাদিসসমূহ, অনুপ্রবেশকৃত ইসরায়েলি বর্ণনা, মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনী, নিন্দনীয় অতিরঞ্জন এবং যা সঠিক (صحيح) বর্ণনা বা স্পষ্ট বিবেক দ্বারা সমর্থিত নয়, তা থেকে বিমুখ থাকতে হবে।

 

‌‌[মসজিদের দরস এবং জ্ঞানদান, দিকনির্দেশনা ও ঈমানি তরবিয়ত গঠনে এর ভূমিকা]

মসজিদের দরস এবং জ্ঞানদান, দিকনির্দেশনা ও ঈমানি তরবিয়ত গঠনে এর ভূমিকা

(২) মসজিদ যদি সেই আদলে গড়ে ওঠে যেমনটি আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন, যে রূপটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে বিদ্যমান ছিল, তবে এর অন্যতম প্রধান প্রভাব হবে মুসল্লি ও অন্যান্যদের মাঝে ইলম বা জ্ঞানের প্রসার। কারণ, যে মুসল্লি ইবাদত, শিক্ষা, জিকির ও কুরআন তেলাওয়াত দ্বারা আবাদকৃত মসজিদে যাতায়াতে অভ্যস্ত হন, তাঁর জীবনের এমন কোনো সময় অতিবাহিত হয় না যাতে তিনি কুরআন, সুন্নাহ, তাফসীর, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয় থেকে তাঁর দ্বীন ও দুনিয়ার অনেক কিছু শিখে না ফেলেন।

এটি তখন ঘটে যখন কেউ মসজিদে অনুষ্ঠিত দরসের হালকাসমূহে স্রেফ একজন শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত থাকেন। আর যদি তিনি হালকার নিয়মিত ছাত্র হন এবং হাতে কিতাব, কলম ও কাগজ নিয়ে পাঠ করেন এবং তাঁর উস্তাদের ব্যাখ্যা শোনেন—যিনি তাঁকে ও তাঁর চারদিকে বৃত্তাকারে বসা ছাত্রদের শিক্ষা দেন—তবে কয়েক বছর পর সেই একটি হালকাই ওই মসজিদে বা অন্য কোথাও অনেকগুলো হালকায় রূপান্তরিত হয়। কারণ সেই হালকার প্রত্যেকেই একেকজন শিক্ষক বা শায়খ হিসেবে গড়ে ওঠেন। আর এটাই হলো প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী বিপুল সংখ্যক আলেম তৈরির রহস্য, যাঁরা জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় ইমামে পরিণত হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-জিন, আয়াত: ১৪।

(২) দাওরুল মাসজিদ ফিত তারবিয়াহ, পৃষ্ঠা ১০৯ ও ১১০; এবং মিন কাদায়াল ফিকরিল ইসলামি আল-মুআসির, পৃষ্ঠা ২২২, ২২৩।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم إن المصلى المستفيد من حلقات المسجد يفيد غيره، رب الأسرة يعلم أسرته ما تعلمه، والصديق يعلم صديقه، والمسافر إلى البلدان الأخرى لتجارة أو غيرها ينشر ما تعلمه بين أهل ذلك البلد الذي نزل به، والطالب المتخرج في ذلك المسجد إذا انتقل إلى بلد آخر نشر علمه في ذلك البلد في مسجدها إن كان لها مسجد، وإلا حض الناس على بناء المسجد وأوجد فيه حلقة للتعلم والتعليم، وهكذا تجد العلم ينتشر في كل أسرة وكل حي، بل وكل بلد بدون تكلف.

والمتعلمون في المساجد يمتازون على غيره، بوجود الحوافز الدافعة لهم إلى التعليم أكثر من غيرهم.

ولعل هذا هو السير- هو استثمار المسجد- في انتشار الإسلام في كثير من بلاد العالم، من إندونيسيا والفلبين واليابان في الشرق إلى أفريقيا إلى المحيط الأطلسي غربًا، وإلى وسط أوروبا وغربها وشمالها، في وقت لم توجد فيه جامعات ولا مدارس- إلا ما ندر- غير المسجد مع ضعف المواصلات وقلة الإمكانات المادية آنذاك، وكان الناس يهتمون بالسؤال عن أمور دينهم.
এরপর সেই মুসল্লি, যিনি মসজিদের শিক্ষা আসরগুলো (حلقة) থেকে উপকৃত হন, তিনি অন্যদেরও উপকৃত করেন। পরিবারের প্রধান তার পরিবারকে তাই শেখান যা তিনি শিখেছেন, বন্ধু তার বন্ধুকে শেখান এবং ব্যবসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে ভিন্ন দেশে সফরকারী ব্যক্তি যা শিখেছেন তা সেই জনপদের অধিবাসীদের মধ্যে প্রচার করেন যেখানে তিনি অবস্থান করেন। আর সেই মসজিদ থেকে শিক্ষা সমাপ্তকারী শিক্ষার্থী যখন অন্য কোনো জনপদে স্থানান্তরিত হন, তখন তিনি তার অর্জিত জ্ঞান সেই জনপদের মসজিদে প্রচার করেন—যদি সেখানে কোনো মসজিদ থাকে; অন্যথায় তিনি মানুষকে মসজিদ নির্মাণে উৎসাহিত করেন এবং সেখানে শিক্ষা ও দীক্ষার একটি আসর (حلقة) তৈরি করেন। এভাবেই আপনি জ্ঞানকে প্রতিটি পরিবারে, প্রতিটি পাড়ায়, এমনকি প্রতিটি দেশে কোনো প্রকার কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা ছাড়াই ছড়িয়ে পড়তে দেখবেন।

আর মসজিদে শিক্ষার্থীগণ অন্যদের তুলনায় এই বৈশিষ্ট্যে অনন্য যে, তাদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে শিক্ষার প্রতি ধাবিত হওয়ার প্রেরণা ও উদ্দীপনা অধিক বিদ্যমান থাকে।

সম্ভবত এটিই ছিল সেই কর্মপন্থা—অর্থাৎ মসজিদের যথাযথ ব্যবহার—যার মাধ্যমে বিশ্বের বহু দেশে ইসলামের প্রসার ঘটেছে; পূর্বে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও জাপান থেকে শুরু করে আফ্রিকা হয়ে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত এবং মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপ পর্যন্ত। এমন এক সময়ে যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না—খুবই বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত—মসজিদই ছিল একমাত্র অবলম্বন; অথচ তৎকালীন সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং বৈষয়িক উপায়-উপকরণ ছিল সীমিত। তদুপরি মানুষ তাদের দ্বীনি বিষয়াদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أما الآن فقد كثرت الجامعات، وطلابها بالآلف، وللشعوب الإسلامية سفراء، وبعضها تبعث الدعاة، ومع ذلك نجد التأثير لا يرقى إلى مستوى التطلعات ولا هو في مستوى ما يبذل من أموال وجهود.

 

‌‌[دور مكتبة المسجد في التثقيف ونشر المعرفة]

دور مكتبة المسجد في التثقيف ونشر المعرفة (1) كان المسجد هو النادي الثقافي الأول في حياة المسلمين حقيقةً كان مدرسة رائعة وجامعة متعمقة وكان بجانب ذلك ناديًا ثقافيًا يتلقى فيه عموم المسلمين دروسهم الأولى فاتسعت مداركهم وغزرت معلوماتهم وصاروا قاعدة عريضة فاهمة واعية مدركة بجانب القمم العلمية المتخصصة في علوم الدين والدنيا.

كان المسجد مجمع المسلمين الذي يهيئ لكل امرئ منهم سبيلًا إلى تلقي ثقافة الإسلام العامة، كما كان معقد حلقات التعليم لطالب العلم في مرحلته الأساسية وفي دراساته العالية، فقد اشتمل جامع القيروان مثلًا على جناحين للتعليم أحدهما للرجال والآخر للنساء وازدهرت

--------------------------------------------

(1) مناهج التعليم في المساجد وأسلوب التدريس فيها ص7 الإسلام والحضارة ودور الشباب المسلم، ص14.
বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাজার হাজার। মুসলিম জাতিসমূহের প্রতিনিধি রয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ দাঈ প্রেরণ করে থাকে; তা সত্ত্বেও আমরা লক্ষ্য করি যে, এর প্রভাব প্রত্যাশিত মানে উন্নীত হচ্ছে না এবং তা ব্যয়িত অর্থ ও শ্রমের সমপর্যায়েও নয়।

 

‌‌[সাংস্কৃতিক বিকাশ ও জ্ঞান প্রসারে মসজিদ পাঠাগারের ভূমিকা]

সাংস্কৃতিক বিকাশ ও জ্ঞান প্রসারে মসজিদ পাঠাগারের ভূমিকা (১) প্রকৃতপক্ষেই মুসলিম জীবনে মসজিদ ছিল প্রথম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র; এটি ছিল এক চমৎকার বিদ্যালয় ও গভীর জ্ঞানসমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়। এর পাশাপাশি এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যেখানে সাধারণ মুসলিমরা তাদের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করতেন। ফলে তাদের বোধশক্তি বিস্তৃত হতো এবং জ্ঞানের গভীরতা বৃদ্ধি পেত। এভাবে তারা দ্বীন ও দুনিয়ার জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি একটি বিশাল সমঝদার, সচেতন ও প্রজ্ঞাবান জনভিত্তিতে পরিণত হতেন।

মসজিদ ছিল মুসলিমদের মিলনস্থল যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ইসলামের সাধারণ সংস্কৃতি লাভের পথ সুগম করে দিত। অনুরূপভাবে এটি ছিল ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা চক্রের (حلقات) মূল কেন্দ্র। উদাহরণস্বরূপ, কাইরাওয়ান জামে মসজিদে শিক্ষার দুটি শাখা ছিল—একটি পুরুষদের জন্য এবং অন্যটি নারীদের জন্য; আর এটি সমৃদ্ধি লাভ করেছিল...

--------------------------------------------

(১) মানাহিজুত তালিম ফিল মাসাজিদ ওয়া আসলুবুত তাদরিস ফিহা, পৃষ্ঠা ৭; আল-ইসলাম ওয়াল হাদারা ওয়া দাউরুশ শাবাবিল মুসলিম, পৃষ্ঠা ১৪।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২০)
مؤسسات التعليم ونشاط البحث العلمي في مختلف المجالات في رحاب المسجد بعد أن أطلق هذا الدين طاقة الإنسان وقدراته العقلية ينميها الإيمان ويزكيها ويرشدها، وكان في كبار المساجد الجامعة مكتبات يوقف العلماء كتبهم عليها كما كان الخلفاء المسلمين وحكامهم يفاخرون بجمع الكتب. وقد روى المؤرخون عن مكتبات في معظم المساجد والجوامع والمدارس ودار الحكمة ودور العلم لتكون مرجعًا للطلبة والعلماء والنساخ وهذا خير دليل على تقدير المسلمين للكتب وإعجابهم بها واهتمامهم بالمكتبات وإقبالهم عليها وعلى تكوينها، بل وتسابق الخلفاء والأمراء على شراء الكتب ووقفها على طلاب العلم فقد أقام القاضي ابن حيان في نيسابور بجوار المسجد دارًا للعلم وخزانة للكتب ومساكن للغرباء من طلاب العلم وأجرى عليهم الأرزاق وعين لهم جميع ما يحتاجون إليه.

وتنقل الروايات حرص المسلمين الشديد على طلب العلم في المساجد بحيث إنهم كانوا يجلسون في حلقات ضم بعضها آلاف الطلاب وكان أبو الدرداء من أوائل من عقدوا هذه الحلقات بالشام وقد بلغ عدد تلاميذه ألفًا وستمائة ونيفًا.
মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হতো, যখন এই দ্বীন মানুষের সুপ্ত শক্তি ও মানসিক সক্ষমতাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল, যা ঈমান দ্বারা বিকশিত, পরিশোধিত ও পরিচালিত হতো। বড় বড় জামে মসজিদগুলোতে সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল যেখানে উলামায়ে কেরাম তাঁদের কিতাবসমূহ ওয়াকফ করে দিতেন, ঠিক যেভাবে মুসলিম খলিফা ও শাসকরাও কিতাব সংগ্রহে গৌরব অনুভব করতেন। ঐতিহাসিকগণ অধিকাংশ মসজিদ, জামে মসজিদ, মাদ্রাসা, দারুল হিকমাহ ও দারুল ইলম-এ পাঠাগার থাকার কথা বর্ণনা করেছেন, যেন তা শিক্ষার্থী, আলেম ও অনুলিপিকারকদের জন্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি কিতাবের প্রতি মুসলিমদের উচ্চ মূল্যায়ন ও অনুরাগের এবং পাঠাগার গঠন ও তার প্রতি বিশেষ মনোযোগের এক অনন্য নিদর্শন। এমনকি খলিফা ও আমীরগণ কিতাব ক্রয় করে শিক্ষার্থীদের জন্য তা ওয়াকফ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। যেমন, কাজী ইবনে হাইয়ান নিশাপুরে মসজিদের পাশে একটি ‘দারুল ইলম’, একটি কিতাবাগার এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসস্থল নির্মাণ করেছিলেন; তিনি তাঁদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তাঁদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেছিলেন।

বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) থেকে মসজিদে ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রবল আগ্রহের কথা জানা যায়, তাঁরা এমন সব জ্ঞানতাত্ত্বিক মজলিসে (حلقات) উপবেশন করতেন যেগুলোর কোনো কোনোটিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সমবেত হতো। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ায় এই মজলিসগুলো স্থাপনকারী অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর ছাত্র সংখ্যা ছিল এক হাজার ছয়শ’রও অধিক।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وتأسيسًا على ما سبق يمكننا أن نتخيل أو نتصور مكتبات المساجد وقد امتلأت رفوفها بالكتب والمخطوطات والمصورات من كل لغة ومن كل لون ومن كل بلد، كما يمكننا أن نتصور حال المساجد وهي تعج بآلاف المسلمين من طلاب العلم ما بين جالس في حلقة يستمع لأستاذ أو يسأل، أو منكب على كتاب يقرؤه، أو باحث ينقب في مخطوطة يحاول فهم ما بها، أليست هذه الصورة نادرة ورائعة لمجتمع بلغ أوج الازدهار في النهضة العلمية بفضل شرارة الدين التي أوقدت هذه الشجرة المباركة؟ فسطعت مصابيح العلم فروعها زاهية باهية رائعة.

 

‌‌[من الآثار الإيمانية والتربوية للمسجد]

‌‌[التعارف والأخوة الإسلامية]

من الآثار الإيمانية والتربوية للمسجد 1 - التعارف والأخوة الإسلامية: إن التعارف قاعدة من قواعد الآداب الإسلامية، بل هو ضرورة من ضرورات التعامل بين الناس، فالجار يحتاج إلى جاره، ولا يمكن أن يتعامل معه إلا إذا تعارفا، وكل واحد من الناس قد يحتاج إلى غيره، فكيف يتعامل معه بدون تعارف بينهما؟
উপরিউক্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে আমরা মসজিদের গ্রন্থাগারগুলোর সেই দৃশ্যপট কল্পনা করতে পারি, যার তাকগুলো প্রতিটি ভাষা, প্রতিটি বর্ণ এবং প্রতিটি ভূখণ্ডের গ্রন্থ, পাণ্ডুলিপি ও অনুলিপি দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। তেমনিভাবে আমরা মসজিদের সেই অবস্থার কথা কল্পনা করতে পারি, যা হাজার হাজার মুসলিম জ্ঞান অন্বেষীর উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল; কেউ কোনো জ্ঞানচক্রে বসে শিক্ষকের পাঠ শুনছেন অথবা প্রশ্ন করছেন, কেউ কিতাব পাঠে নিমগ্ন আছেন, আবার কোনো গবেষক কোনো পাণ্ডুলিপি নিয়ে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করছেন এবং তার মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করছেন। এটি কি একটি সমাজের বিরল ও চমৎকার কোনো চিত্র নয়, যা দ্বীনের সেই স্ফুলিঙ্গের বদৌলতে জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের চরম শিখরে আরোহণ করেছিল, যা এই বরকতময় বৃক্ষকে প্রজ্জ্বলিত করেছিল? ফলে ইলমের প্রদীপগুলো প্রজ্বলিত হয়ে তার শাখা-প্রশাখাগুলোকে উজ্জ্বল, দীপ্তিময় ও সুশোভিত করে তুলেছিল।

 

‌‌[মসজিদের ঈমানি ও তর্বিয়তি প্রভাবসমূহ]

‌‌[পারস্পরিক পরিচিতি ও ইসলামি ভ্রাতৃত্ব]

মসজিদের ঈমানি ও তর্বিয়তি প্রভাবসমূহের মধ্যে: ১ - পারস্পরিক পরিচিতি ও ইসলামি ভ্রাতৃত্ব: নিশ্চয়ই পারস্পরিক পরিচিতি লাভ করা ইসলামি শিষ্টাচারের অন্যতম একটি মূলনীতি, বরং এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেনের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। একজন প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর মুখাপেক্ষী হয় এবং তাদের মাঝে পরিচয় না থাকলে কোনোভাবেই পারস্পরিক লেনদেন বজায় রাখা সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষেরই অন্যের প্রয়োজন হতে পারে, এমতাবস্থায় উভয়ের মাঝে পরিচয় না থাকলে তারা কীভাবে একে অপরের সাথে লেনদেন করবে?
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] (1) .

والمسجد كفيل بإيجاد تعارف أخوي إيماني لا ينسى، ذلك أن المصلين في الحي الواحد لا يلتقون في المسجد غالبًا إلا لأداء صلاة الفريضة، أما إذا كانت تربطهم حلقات الدرس في المسجد فإن لقاءهم يكون أكثر، وكذلك صلاة العيدين والجمعة وغيرها. إن أهل الحي الواحد بعد فترة قصيرة يصبحون كلهم متعارفين بسبب تكرار رؤية بعضهم بعضًا ومصافحة بعضهم بعضًا، ولقائهم في حلقات الدروس عند العلماء، وهكذا.

ولكن التعارف بين المسلمين، ليس هو مجرد معرفة اسم الشخص واسم أبيه ولقبه ووظيفته فقط، وإنما المقصود منه هو أهم من ذلك، وهو تقوية أواصر الأخوة الإيمانية التي يترتب عليها العمل بكل ما يقويها من المحبة، والتزاور والتواصل وعيادة المريض، وإجابة الدعوة، وإعانة المحتاج والضعيف وإفشاء السلام، وطلاقة الوجه وطيب الكلمة، والتواضع وقبول الحق، والعفو والسماحة ودفع السيئة بالتي

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات الآية (13) .
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী।} [আল-হুজুরাত: ১৩] (১)।

আর মসজিদ একটি অবিস্মরণীয় ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ঈমানি পরিচিতি তৈরির নিশ্চয়তা দেয়। কারণ, একই এলাকার মুসল্লিগণ মসজিদে সাধারণত কেবল ফরজ (فريضة) নামাজ আদায়ের জন্যই একত্রিত হন। তবে যদি মসজিদের ইলমি মজলিসগুলো তাদের আবদ্ধ করে, তবে তাদের সাক্ষাৎ আরও বৃদ্ধি পায়; একইভাবে দুই ঈদের নামাজ, জুমা এবং অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও। এভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকার অধিবাসীরা একে অপরের পরিচিত হয়ে ওঠেন, কারণ তারা বারবার একে অপরকে দেখেন, মুসাফাহা করেন এবং আলেমদের নিকট ইলমি মজলিসে সমবেত হন।

কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে এই পারস্পরিক পরিচিতি কেবল কোনো ব্যক্তির নাম, তার পিতার নাম, উপাধি এবং পেশা জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর উদ্দেশ্য এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো ঈমানি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, যার ফলে ভালোবাসা, পারস্পরিক সাক্ষাৎ, যোগাযোগ, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, দাওয়াত কবুল করা, অভাবী ও দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তিকে সাহায্য করা, সালাম প্রচার করা, প্রফুল্ল মুখচ্ছবি, উত্তম কথা বলা, বিনয়ী হওয়া, সত্য গ্রহণ করা, ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন এবং মন্দের মোকাবিলা উত্তম পন্থায় করার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত (১৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
هي أحسن، والإيثار وحسن الظن، ونصر المظلوم، وستر المسلم إذا وجدت منه هفوة، وتعليم الجاهل، والإحسان إلى الجار، وإكرام الضيف، وأداء الحقوق إلى أهلها، والنصح لكل مسلم وهذا كله منطلقه بيت الله.

وكذلك تجنب كل ما يضعف الأخوة الإيمانية من ظلم وحسد، واحتقار وسخرية، وغيبة ونميمة، وهجر وقطيعة، وفعل ما يثير الشك والقلق عند أخيه المسلم، ومنافسة على بعض أمور الدنيا التي قد شرع فيها، كالبيع على البيع، والخطبة على الخطبة، والغش والكذب.

وقد كانت هذه المعاني العظيمة من الأخوة الإيمانية وتعاطي ما يقويها، وتجنب ما يضعفها موجودة في أعلى صورها عندما كان المسجد موجودا في أعلى صورة له، في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وعهد خلفائه الراشدين، وقد ربط الرسول صلى الله عليه وسلم أول أخوة، وهي أخوة المهاجرين والأنصار الذين أظلهم مسجده الشريف، وربطت أخوتهم الشهادتان، ووحدتهم راية الجهاد في سبيل الله حتى لقد عزم أخ من الأنصار أن يتنازل لأخيه من المهاجرين عن شطر ماله، وإحدى زوجتيه
এটিই সর্বোত্তম; আর নিঃস্বার্থতা, সুধারণা, মজলুমের সাহায্য করা, কোনো মুসলিমের বিচ্যুতি প্রকাশ পেলে তা গোপন রাখা, অজ্ঞকে শিক্ষা দান করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা, মেহমানকে সম্মান জানানো, হকদারদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া এবং প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি শুভকামনা পোষণ করা—এ সবকিছুরই কেন্দ্রবিন্দু হলো আল্লাহর ঘর।

অনুরূপভাবে, ঈমানি ভ্রাতৃত্বকে দুর্বল করে দেয় এমন সকল বিষয় পরিহার করাও আবশ্যক; যেমন—অবিচার, হিংসা, অবজ্ঞা ও উপহাস, গিবত ও চোগলখুরি, সম্পর্কচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্নতা এবং এমন কাজ করা যা মুসলিম ভাইয়ের মনে সন্দেহ ও উদ্বেগের উদ্রেক করে। তদ্রূপ পার্থিব কিছু বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা যাতে শরিয়ত কর্তৃক বিধিনিষেধ রয়েছে—যেমন অন্যের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা করা, অন্যের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেওয়া, প্রতারণা এবং মিথ্যাচার বর্জন করা কর্তব্য।

ঈমানি ভ্রাতৃত্বের এই সুমহান অর্থসমূহ, একে শক্তিশালী করার প্রয়াস এবং দুর্বলকারী বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকার বিষয়টি তার সর্বোচ্চ রূপে বিদ্যমান ছিল যখন মসজিদের ভূমিকাও ছিল তার সর্বোচ্চ শিখরে; অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেছিলেন তা ছিল মুহাজির ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ব, যাঁদেরকে তাঁর পবিত্র মসজিদ ছায়া দান করেছিল। কালিমাহ শাহাদাত তাঁদের ভ্রাতৃত্বকে সুদৃঢ় করেছিল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের পতাকা তাঁদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল; এমনকি একজন আনসারী ভাই তাঁর মুহাজির ভাইয়ের অনুকূলে তাঁর সম্পদের অর্ধেক এবং তাঁর দুই স্ত্রীর একজনকে ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
يطلقها، فتعتد فيتزوجها المهاجر، فما كان من المهاجر، إلا أن قال للأنصاري: " بارك الله لك في أهلك ومالك " رواه البخاري (1) .

وهكذا كان أهل المسجد، فأين تعارف المسلمين اليوم؟ إن الجار بجانب جاره، أو أمامه، يخرجان في وقت واحد لأعمالهما، ويدخلان في وقت واحد إلى منزلهما، وقد يجمعهما مصعد واحد نازلين وطالعين، وقد لا يسلم أحدهما على الآخر، وقد يسلم فلا يرد الآخر، وقد يرد وهو مدبر لا يرى أخاه ابتسامته، وقد يموت أحدهما ويدفن وهو لا يدري عنه، وقد يكونان في مؤسسة واحدة في العمل ولا يعرف أحدهما الآخر، فأين تعارف المسجد يا أمة الإسلام؟!

 

‌‌[التفقه في الدين والقضاء بين المتخاصمين]

2 - التفقه في الدين والقضاء بين المتخاصمين: (2) كان رسول الله صلى عليه وسلم يجلس في المسجد ويسأله أصحابه، ويجيبهم وفتاواه صلى الله عليه وسلم وقضاؤه في المسجد معلومة مشهورة. روى البخاري في صحيحه معلقًا: (باب من قضى ولاعن في المسجد) (3)

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري 13 / 154 مع شرحه الفتح.

(2) مناهج التعليم في المساجد وأسلوب التدريس فيها، ص10.

(3) صحيح البخاري 13 / 156، مع شرحه الفتح.
...তাকে তালাক দেবেন, এরপর তিনি ইদ্দত পালন করবেন, অতপর মুহাজির তাকে বিবাহ করবেন। কিন্তু মুহাজির আনসারীকে কেবল এই বলেছিলেন: "আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১)।

মসজিদের অধিবাসীরা এমনই ছিলেন। কিন্তু আজ মুসলমানদের পারস্পরিক পরিচিতি কোথায়? একজন প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর পাশে বা সামনে থাকেন, তারা একই সময়ে নিজ নিজ কাজের উদ্দেশ্যে বের হন এবং একই সময়ে নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করেন। কখনো কখনো তারা একই লিফটে ওঠানামা করেন, অথচ হয়তো একজন অন্যজনকে সালাম দেন না। আবার কখনো সালাম দিলেও অন্যজন উত্তর দেন না। আবার কখনো কেউ উত্তর দিলেও মুখ ঘুরিয়ে রাখেন যাতে তার ভাই তার হাসিমাখা মুখ দেখতে না পায়। এমনকি কখনো তাদের একজন মৃত্যুবরণ করেন এবং দাফন করা হয়, অথচ অন্যজন তা জানতেও পারেন না। আবার কখনো তারা একই কর্মস্থলে কাজ করেন কিন্তু একজন অন্যজনকে চেনেন না। হে উম্মতে ইসলাম! মসজিদের সেই পারস্পরিক পরিচিতি আজ কোথায়?!

 

‌‌[দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (التفقه) এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিচার ফয়সালা]

২ - দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (التفقه) এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিচার ফয়সালা: (২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসতেন এবং তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে প্রশ্ন করতেন। তিনি তাঁদের উত্তর দিতেন। মসজিদে তাঁর ফতোয়া ও বিচারকার্যগুলো সুপরিচিত (مشهورة)। বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে সনদবিহীন (معلقًا) অবস্থায় বর্ণনা করেছেন: (অধ্যায়: যে ব্যক্তি মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন এবং লিয়ান করেছেন) (৩)

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি ১৩ / ১৫৪, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহসহ।

(২) মসজিদে শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি, পৃষ্ঠা ১০।

(৩) সহিহ বুখারি ১৩ / ১৫৬, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহসহ।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم قال: (ولاعن عمر عند منبر النبي صلى الله عليه وسلم ؛ وقضى شريح والشعبي ويحيى بن يعمر في المسجد، وقضى مروان على زيد بن ثابت باليمين عند المنبر، وكان الحسن وزرارة بن أوفى يقضيان في الرحبة خارجًا من المسجد، ثم قال: باب من حكم في المسجد، وساق حديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: «أتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد، فناداه، فقال: يا رسول الله إني زنيت، فأعرض عنه، فلما شهد على نفسه أربعًا، قال: أبك جنون؟ قال: لا. قال: اذهبوا فارجموه» (1) .

وكان الصحابة رضي الله عنهم بعده، ومنهم الخلفاء الراشدون، يفتون ويقضون في المساجد وبهذا كان المسجد دارًا للفتوى ومحكمة للقضاء.

وكذلك كان مكانًا للصلح بين المتخاصمين، روى كعب بن مالك رضي الله عنه، «أنه تقاضى ابن أبي حدرد دينًا كان له عليه في المسجد فارتفعت أصواتهما، حتى سمعها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو في بيته،

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري (7167) .
অতঃপর তিনি বলেন: (উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নববী মিম্বরের নিকট লিআন করিয়েছিলেন; এবং শুরাইহ, শাবি ও ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। মারওয়ান যায়েদ ইবনে সাবিতকে মিম্বরের নিকট শপথের মাধ্যমে বিচার করেছিলেন। আর হাসান ও জুরারাহ ইবনে আউফা মসজিদের বাইরের প্রশস্ত আঙিনায় বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। অতঃপর তিনি বলেন: পরিচ্ছেদ: মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করা। তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেন, তিনি বলেন: ‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন যখন তিনি মসজিদে ছিলেন। সে তাঁকে ডেকে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। তিনি তার থেকে বিমুখ হলেন। যখন সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল, তখন তিনি বললেন: তোমার কি পাগলামি আছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: তোমরা একে নিয়ে যাও এবং তাকে রজম করো।’ (১)।

সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং তাঁদের পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদুনগণ মসজিদে ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে মসজিদ ছিল ফতোয়া প্রদানের কেন্দ্র ও বিচারালয়।

তদ্রূপ এটি বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসার স্থান ছিল। কা'ব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, ‘তিনি ইবনে আবু হাদরাদের নিকট মসজিদের মধ্যে তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা দিলেন। এতে তাঁদের উভয়ের কণ্ঠস্বর উচ্চ হলো, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে থাকা অবস্থায় তা শুনতে পেলেন...

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি (৭১৬৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فخرج إليهما، حتى كشف سجف حجرته فنادى: يا كعب قال: لبيك يا رسول الله، قال: ضع من دينك هذا وأومأ إليه، أي الشطر، قال: لقد فعلت يا رسول الله. قال: قم فاقضه» (1) .

 

‌‌[القضاء على الفواحش وانحسارها بين مجتمع المسلمين]

3 - القضاء على الفواحش وانحسارها بين مجتمع المسلمين (2) عندما يكون للمسجد مكانته في المجتمع الإسلامي، لا يتخلف المسلمون عن حضور صلاة الجماعة، وبذا يتمكن الإيمان من قلوبهم فيحبون الإيمان ويحبون الله ورسوله، والعمل الصالح، ويكرهون الكفر والفسوق والعصيان، وتنهاهم صلاتهم عن الفحشاء والمنكر والبغي فلا يأتون إلا ما أراده الله منهم شرعا، وكل من أراد منهم غير ما أراد الله، أو أراد أن يغشى غير ما أراد الله أوقفوه عند حده وأطروه على الحق أطرًا.

قال تعالى: {اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ} [العنكبوت: 45] (3)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه، (457) .

(2) دور المسجد في التربية والأعداد، ص 117-119.

(3) سورة العنكبوت الآية (45) .
তিনি তাদের নিকট বের হয়ে আসলেন, এমনকি তিনি তাঁর কক্ষের পর্দা সরিয়ে দিলেন এবং ডাক দিলেন: হে কাব! তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: তোমার এই ঋণ থেকে কিছু কমিয়ে দাও—এবং তিনি ইশারায় অর্ধেকের কথা বোঝালেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি তা করেছি। তিনি বললেন: ওঠো এবং তা আদায় করো। (১) .

 

‌‌[অশ্লীলতা নির্মূল এবং মুসলিম সমাজে এর প্রভাব হ্রাসকরণ]

৩ - মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা নির্মূল এবং এর প্রভাব হ্রাসকরণ (২)। যখন ইসলামি সমাজে মসজিদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত থাকে, তখন মুসলমানরা জামাতে নামাজে উপস্থিত হতে অবহেলা করে না। এর মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে ঈমান বদ্ধমূল হয়, ফলে তারা ঈমানকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও নেক আমলকে ভালোবাসে। পক্ষান্তরে তারা কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ঘৃণা করে। তাদের নামাজ তাদেরকে অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত রাখে। ফলে তারা শরিয়তসম্মতভাবে আল্লাহ তাদের কাছে যা চেয়েছেন তা ছাড়া অন্য কিছু করে না। তাদের মধ্যে কেউ যদি আল্লাহর নির্দেশনার বাইরে কিছু করতে চায় বা এমন কিছুতে লিপ্ত হতে চায় যা আল্লাহ অপছন্দ করেন, তবে অন্যরা তাকে তার সীমায় থামিয়ে দেয় এবং তাকে সত্যের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি কিতাব থেকে যা ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন এবং নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন।} [আল-আনকাবুত: ৪৫] (৩)

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪৫৭) বর্ণনা করেছেন।

(২) দাওরুল মাসজিদ ফিত তারবিয়াহ ওয়াল ইদাদ, পৃ. ১১৭-১১৯।

(৩) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত (৪৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن صفات المؤمنين إقامة الصلاة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، كما قال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ} [التوبة: 71] (1) .

ومن صفات المؤمنين المصلين أنهم لا يحبون أن تشيع الفاحشة ويعم المنكر، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النور: 19] (2) .

قال القرطبي رحمه الله قوله تعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45]

يريد أن الصلوات الخمس هي تكفر ما بينها من الذنوب، كما قال عليه الصلاة والسلام: «أرأيتم لو أن نهرا بباب أحدكم، يغتسل فيه كل يوم خمس مرات، هل بقى من درنه شيئًا قالوا: لا يبقى من درنه شيء، قال: فذلك مثل الصلوات الخمس يمحو الله بهن الخطايا» (3) .

ثم أخبر بأن الصلاة تنهى صاحبها وممتثلها عن الفحشاء

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة الآية: 71.

(2) سورة النور الآية: 19.

(3) رواه الترمذي (2516) .
মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সালাত কায়েম করা এবং সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে} [আত-তওবা: ৭১] (১)।

সালাত আদায়কারী মুমিনদের অন্যতম গুণ হলো তারা অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া এবং অসৎ কাজ (المنكر) ব্যাপক হওয়াকে পছন্দ করে না। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তা পছন্দ করে, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে; আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না} [আন-নূর: ১৯] (২)।

ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অসৎ কাজ (المنكر) থেকে বিরত রাখে} [আল-আনকাবুত: ৪৫] প্রসঙ্গে বলেন:

তিনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা বলো দেখি, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? তারা বললেন: তার শরীরে কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন: এটাই হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মিটিয়ে দেন» (৩)।

এরপর তিনি অবহিত করেছেন যে, সালাত তার আদায়কারী ও যথাযথ অনুসরণকারীকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তওবা, আয়াত: ৭১।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত: ১৯।

(৩) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন (২৫১৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والمنكر، وذلك لما فيها من تلاوة القران المشتمل على الموعظة، والصلاة تشغل كل بدن المصلي، فإذا دخل المصلي في محرابه وخشع وأخبت لربه، وذكر أنه واقف بين يديه، وأنه مطلع عليه ويراه، صلحت لذلك نفسه وتذللت، وخامرها ارتقاب الله تعالى وظهرت على جوارحه هيبتها، ولم يكد يفتر عن ذلك، حتى تظلله صلاة أخرى يرجع بها إلى أفضل حالة (1) .

 

‌‌[قائمة المراجع]

قائمة المراجع - الإسلام والحضارة ودور الشباب المسلم، الندوة العالمية، الطبعة الثامنة 1405 هـ- 1406 هـ.

- الجامع لأحكام القرآن للقرطبي.

- دور المسجد في التربية والإعداد، عبد الله أحمد قادري، ط وانظر دار المجتمع 1407 هـ بجدة.

- الدور التربوي للمسجد، د. فرغلي جاد أحمد (مجلة الشريعة والدراسات الإسلامية) ، العدد السادس 1406 هـ، ربيع أول.

- من قضايا الفكر الإسلامي، ط الندوة العالمية، 406 اهـ الطبعة الثالثة.

- المسجد ودوره التعليمي عبر العصور من خلال الحلقات العلمية، عبد الله قاسم الوشيلي، ط مؤسسة الرسالة، بيروت، 1408 هـ.

- منهج التعليم في المساجد وأسلوب التدريس فيها. أ. د. محمد عبد العليم مرسى من ضمن البحوث المقدمة

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن (13 / 347 - 348) .
...এবং অপছন্দনীয় কাজ (المنكر); আর এটি এজন্য যে, এর মধ্যে রয়েছে কুরআন তিলাওয়াত যা উপদেশ সংবলিত। আর সালাত মুসল্লির সমগ্র দেহকে ব্যাপৃত রাখে। সুতরাং যখন একজন মুসল্লি তার মিহরাবে প্রবেশ করে এবং বিনীত হয় ও তার প্রতিপালকের সম্মুখে নতজানু হয়, আর স্মরণ করে যে সে তাঁর সামনে দণ্ডায়মান এবং তিনি তার ব্যাপারে অবগত ও তাকে দেখছেন, তখন তার নফস বা আত্মা সংশোধন লাভ করে ও বিনম্র হয়। মহান আল্লাহর প্রতি সজাগ দৃষ্টি তার অন্তরে মিশে যায় এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এর গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়। সে এর থেকে নিবৃত্ত হতে না হতেই তাকে অন্য একটি সালাত আচ্ছাদন করে ফেলে, যার মাধ্যমে সে আবার সর্বোত্তম অবস্থায় ফিরে যায় (১)।

 

‌‌[তথ্যসূত্র তালিকা]

তথ্যসূত্র তালিকা - আল-ইসলাম ওয়াল হাজারাতু ওয়া দাউরুশ শাবাবিল মুসলিম, আন-নাদওয়াতুল আলামিয়্যাহ, অষ্টম সংস্করণ ১৪০৫ হি.- ১৪০৬ হি.

- আল-জামি লি আহকামিল কুরআন লিল কুরতুবি।

- দাউরুল মাসজিদ ফিত তারবিয়্যাহ ওয়াল ই’দাদ, আবদুল্লাহ আহমদ কাদরি, দারুল মুজতামা ১৪০৭ হি., জিদ্দা দ্রষ্টব্য।

- আদ-দাওরুত তারবাউয়ি লিল মাসজিদ, ড. ফারগালি জাদ আহমদ (মাজাল্লাতুশ শারিয়াহ ওয়াদ দিরাসাতুল ইসলামিয়্যাহ), ষষ্ঠ সংখ্যা ১৪০৬ হি., রবিউল আউয়াল।

- মিন কাদায়াল ফিকরিল ইসলামি, আন-নাদওয়াতুল আলামিয়্যাহ, ১৪০৬ হি., তৃতীয় সংস্করণ।

- আল-মাসজিদু ওয়া দাউরুহুত তালিম ইউ আবরাল উসুর মিন খিলালিল হালকাতিল ইলমিয়্যাহ, আবদুল্লাহ কাসিম আল-ওয়াশিলি, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৪০৮ হি.

- মানহাজুত তালিম ফিল মাসাজিদ ওয়া উসলুবুত তাদরিস ফিহা, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল আলিম মুরসি, উপস্থাপিত গবেষণাপত্র সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১৩ / ৩৪৭ - ৩৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুত তারবাবিয়্যু লিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
للمؤتمر الإسلامي الثاني بلندن (المسلمون في الغرب) من 1-3 / 1414هـ.

- وثائق مؤتمرات وزراء الأوقاف والشؤون الإسلامية بالمملكة العربية السعودية، المؤتمر الأول والثاني والثالث، ط 1409 هـ.
লন্ডনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইসলামি সম্মেলনের জন্য (পশ্চিমে মুসলিমগণ), ১-৩/১৪১৪ হিজরি।

- সৌদি আরব রাজ্যের ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রীদের সম্মেলনের নথিপত্রসমূহ, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সম্মেলন, প্রকাশকাল ১৪০৯ হিজরি।