(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: -)
سمات المؤمنين في الفتن وتقلب الأحوال   (صالح آل الشيخ)

القسم: كتب عامة


اسم الكتاب: سمات المؤمنين في الفتن وتقلب الأحوال

المؤلف: صالح بن عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم آل الشيخ

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد الصفحات: 40

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফিতনা ও পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্যসমূহ   (সালেহ আল শেখ)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থের নাম: ফিতনা ও পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্যসমূহ

গ্রন্থকার: সালেহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল শেখ

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

والحمد لله كثيرا، على ما أنعم علينا كثيرا من العلم الذي لا ينقطع عن هذه الأمة.

والحمد لله على ما أنعم علينا بحفظ هذا الدين وبحفظ أسسه وأصوله.

وأشكره - جل وعلا - وأسأله - سبحانه - أن يمنحني وإياكم العلم النافع عند حُلول الشُّبهات، والبصرَ النافذ عند إقبال المشتبهات.

وأشكر أصحاب الفضيلة والخطباء على حرصهم على ما يقضي به العلم الصحيح، والمنهج السليم، وما يقوله أهل السنة والجماعة بما فهموا واتفقوا عليه من نصوص الكتاب والسنة.
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে, তিনি আমাদের ওপর এমন ইলমের নিয়ামত দান করেছেন যা এই উম্মত থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না।

আল্লাহর প্রশংসা করছি সেই নিয়ামতের জন্য যা তিনি এই দ্বীন হিফাজত এবং এর ভিত্তি ও মূলনীতিসমূহ (أصول) সংরক্ষণের মাধ্যমে আমাদের দান করেছেন।

আমি তাঁর—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর—যিনি পবিত্র—নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি সংশয় দেখা দেওয়ার সময় আমাকে ও আপনাদেরকে উপকারী জ্ঞান এবং অস্পষ্ট বিষয়াবলির সময় তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি দান করেন।

আমি সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও খতিবদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাঁদের সেই নিষ্ঠার জন্য যা সহিহ (صحيح) ইলম ও সঠিক মানহাজ (منهج) দাবি করে; এবং কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহ (نصوص) থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যা অনুধাবন করেছেন এবং যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, তার ওপর অটল থাকার জন্য।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৪)
واللهَ أسألُ للجميع المزيدَ من العلم والفقه، وأن يثبتنا على ذلك، ولا سيما في مثل هذه الأحوال التي تتقلب (1) .

*****

--------------------------------------------

(1) أصل هذا التأليف محاضرة ألقيت على الأئمة والخطباء والدعاة بحضور معالي الشيخ د. صالح بن فوزان الفوزان عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء؛ وذلك بمقر فرع الوزارة في الرياض. في مدينة الرياض في الأول من شهر شعبان عام 1422 هـ.
আমি আল্লাহর নিকট সকলের জন্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার (فقه) বৃদ্ধি এবং তার ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করছি, বিশেষত এই অস্থির ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে (১)।

*****

--------------------------------------------

(১) এই রচনার মূল হলো ইমাম, খতিব ও দাঈদের উদ্দেশে প্রদত্ত একটি বক্তৃতা, যা জ্যেষ্ঠ ওলামা পরিষদ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া (إفتاء) বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য মহামান্য শায়খ ড. সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজানের উপস্থিতিতে রিয়াদে অবস্থিত মন্ত্রণালয়ের শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি রিয়াদ শহরে ১৪২২ হিজরি সালের ১লা শাবান তারিখে সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[تمهيد]

هذا التمهيد يقوم على ثلاثة محاور:

(1) الرجوع إلى أهل العلم الراسخين فيه: احرص على النظر الصائب الذي يوافق نظر السلف عند الاشتباه، وعند تغير الأحوال.

وَصَفَ عمرُ بنُ عبد العزيزِ - رحمه الله تعالى - الصحابةَ وساداتِ التابعين بما وصفهم به، ومنها قوله: " إِنهم على علمٍ وَقَفُوا، وببصرٍ نافذٍ كَفُّوا ".

قال: " على علمٍ وقفوا "

فإنه يجب على المرء وبخاصة أهل العلم والتوجيه أن يقفوا على العلم.

والعلم قسمان:
[উপক্রমণিকা]

এই উপক্রমণিকাটি তিনটি মূল বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

(১) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমদের নিকট প্রত্যাবর্তন করা: সংশয়পূর্ণ বিষয়ে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সময় সালাফ (السلف)-দের দৃষ্টিভঙ্গির অনুসারী সঠিক অন্তর্দৃষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হোন।

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— সাহাবী (الصحابة) এবং তাবিঈ (التابعين)-দের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন যা তাঁদের অনন্য করে তুলেছে, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম: "নিশ্চয়ই তাঁরা ইলমের ওপর ভিত্তি করেই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন এবং প্রখর অন্তর্দৃষ্টির কারণেই তাঁরা (অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে) বিরত থাকতেন।"

তিনি বলেছেন: "তাঁরা ইলমের ওপর ভিত্তি করেই উপনীত হতেন (থেমে যেতেন)"

নিশ্চয়ই একজন মানুষের জন্য, বিশেষ করে আলেম সমাজ ও পথপ্রদর্শকদের জন্য ইলমের ওপর অটল থাকা অপরিহার্য।

ইলম বা জ্ঞান দুই প্রকার:
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৬)
(1) علم لا يدركُهُ المرءُ، ويتعلَّمُه قبل حلول الحَدَثِ، فيحيطُ به بما أعطاه الله - جل وعلا - وقد لا يحيطُ به.

(2) علم لم يبحثه إلا وقتَ الحدث.

وهذا في الأغلب أنه لا يحيط بكلام أهل العلم فيه؛ لأنه لم يتعلمْهُ مِنْ قَبْل.

فَمَنْ عَلِمَ من نفسه حينئذٍ أنه إنما اطّلع على بحوث المسائلِ حين حلولِ الأحداثِ فيجب عليه أن لا يثقَ بجودةِ نظرهِ. . عليه أن يطلبَ براءةَ الذمَّةِ بالرجوع إلى أهل العلم الراسخين فيه.

*****
(1) এমন এক জ্ঞান যা মানুষ অনুধাবন করে এবং কোনো সমস্যার (حدث) উদ্ভব হওয়ার পূর্বেই তা অর্জন করে। ফলে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাকে যা দান করেছেন তার মাধ্যমে সে তা আয়ত্ত করতে পারে, আবার কখনও তা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে সক্ষম হয় না।

(2) এমন এক জ্ঞান যা সে কেবল সমস্যার (حدث) উদ্ভব হওয়ার সময়ই অনুসন্ধান করেছে।

এমতাবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমদের (أهل العلم) বক্তব্যের প্রকৃত মর্ম অনুধাবন করতে পারে না; কারণ সে বিষয়টি আগে শিক্ষা করেনি।

সুতরাং, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে জানে যে সে কেবল সমস্যার (حدث) উদ্ভবকালেই মাসআলাসমূহের গবেষণালব্ধ বিষয়াদি প্রত্যক্ষ করেছে, তার জন্য আবশ্যক হলো নিজের বিচারবুদ্ধির তীক্ষ্ণতার ওপর আস্থা না রাখা। . বরং এ বিষয়ে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী (راسخين) আলিমগণের শরণাপন্ন হয়ে দায়মুক্তির পথ অন্বেষণ করা তার কর্তব্য।

*****
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৭)
(2) المسجد في الإسلام للعبادة والعلم: ومهمة المسجد في الإسلام ما يلي:

(1) أنه مكانُ عبادةِ الله - جل وعلا -.

(2) أنه أعظمُ ما يجبُ أن يُحَقَّقَ فيه دينُ الله - جل وعلا - بكماله.

(3) تقامُ فيه الصلواتُ المفروضةُ.

(4) يكون فيه نشرُ الخيرِ، وتعليمُ الجاهلِ.

(5) يكون فيه الأمر بالمعروفِ والنهيُ عن المنكر. على وَفْقِ ما تقتضيه الشريعةُ.

(6) تقام فيه الخطبُ النافعةُ.

والخطيب قائم فيها مقامَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم.

ولهذا تَعْظُمُ التّبِعَةُ بعِظَمِ المنصبِ والمسئوليةِ.

ومن أشدِّ من يُعَذَّبُ يوم القيامة - كما جاء في حديث البخاري - فيمن رآهم صلى الله عليه وسلم ليلة عُرِج به، الخطباءُ الذين لم يوافقوا أمْرَ الله سبحانه وتعالى، وأمْرَ رسوله، فرآهم
(2) ইসলামে মসজিদ ইবাদত ও ইলমের কেন্দ্র: ইসলামে মসজিদের কার্যাবলী নিম্নরূপ:

(1) এটি মহান আল্লাহর—জাল্লা ওয়া আলা—ইবাদতের স্থান।

(2) এটি সেই শ্রেষ্ঠতম স্থান যেখানে মহান আল্লাহর—জাল্লা ওয়া আলা—দ্বীনকে পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।

(3) এখানে ফরয সালাতসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়।

(4) এখানে কল্যাণ প্রচার এবং অজ্ঞদের শিক্ষা প্রদান করা হয়।

(5) এখানে শরীয়তের চাহিদা অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা হয়।

(6) এখানে ফলপ্রসূ খুৎবা প্রদান করা হয়।

আর খতিব এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থলাভিষিক্ত।

একারণেই পদের মহিমা ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুযায়ী এর দায়বদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুতর।

আর কিয়ামতের দিন কঠোরতম আযাব ভোগকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে তারা—যেমনটি বুখারীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—যাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতে দেখেছিলেন; অর্থাৎ ঐ সকল খতিব যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের অনুগামী হয়নি। তিনি তাঁদের দেখেছিলেন
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৮)
يعَذبونَ بأنواعٍ من العذاب (1)

(7) الإمامُ يقومُ فيه مقامَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم في أداء هذه المهمةِ؛ لأنَّ أصلَ الإمامةِ للنبي صلى الله عليه وسلم ولمَنْ أنابَهُ عليه الصلاة والسلام أو كَلَّفَهُ، والإمامةُ لولاةِ الأمورِ في ذلك عند كثرة المساجد.

فإذاً الواجبُ على الأئمة والخطباء أن يحققوا منهج السلف، وأن لا يُعَرِّضُوا أنفسَهم والمسلمينَ إلى ما فيه العقوبةُ.

*****

--------------------------------------------

(1) أوردَ ابن حجر في " فتح الباري " في شرح (كتاب مناقب الأنصار - باب حديث الإسراء) (7 200) ط السلفية؛ حديث أبي هريرة رضي الله عنه عند الطبراني والبزار قال: مرَّ بقومٍ تقرض ألسنتهم وشفاهُهُم، وكلما قُرِضتْ عادت.

قال - القائل: جبريل عليه السلام: هؤلاء خطباء الفتنة.

ومر بثورِ عظيم يخرج من ثقب صغير يريد أن يرجع فلا يستطيع.

قال - القائل: جبريل عليه السلام: هذا الرجل يتكلم بالكلمة فيندم فيريد أن يردَها فلا يستطيع.
তারা বিভিন্ন প্রকার শাস্তিতে শাস্তিপ্রাপ্ত হচ্ছে (১)

(৭) ইমাম এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্থলাভিষিক্ত হন; কারণ ইমামতের মূল ভিত্তি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এবং যাদেরকে তিনি স্থলাভিষিক্ত করেছেন বা দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আর মসজিদের আধিক্যের সময় এ বিষয়ে ইমামতের দায়িত্ব দেশের শাসকদের ওপর ন্যস্ত হয়।

অতএব, ইমাম ও খতিবদের ওপর অপরিহার্য হলো তারা যেন সালাফদের মানহাজ বাস্তবায়ন করেন এবং নিজেদের ও মুসলিমদেরকে শাস্তির সম্মুখীন না করেন।

*****

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - ইসরা হাদিসের পরিচ্ছেদ) (৭/২০০), সালাফিয়্যাহ সংস্করণ; আত-তাবারানি ও আল-বাযযার-এর বরাতে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যাদের জিহ্বা ও ঠোঁট কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল, আর যখনই তা কাটা শেষ হচ্ছিল তখনই তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছিল।

তিনি বললেন—বক্তা: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম): এরা হলো ফিতনার খতিবগণ।

এবং তিনি একটি বিশাল ষাঁড়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যা একটি সংকীর্ণ ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসছিল, সে পুনরায় সেখানে ফিরে যেতে চাচ্ছিল কিন্তু পারছিল না।

তিনি বললেন—বক্তা: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম): এই সেই ব্যক্তি যে কোনো কথা বলে এবং পরে অনুতপ্ত হয়, অতঃপর সে তা পুনরায় ফিরিয়ে নিতে চায় কিন্তু সক্ষম হয় না।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৯)
(3) الحذر من البغي والتأويل: أُحذِّرُكم وأحذرُ جميعَ المسلمين من البغي والتأويل؛ لأنهما الأساسُ في الفرقةِ والفتنةِ والبغضاءِ بين أفرادِ الأمة الإسلامية.

ويجب السمعُ والطاعةُ لولي الأمر؛ لما في ذلك من سدٍّ للذرائع.

وبعد فيا أيها الإخوان:

فإن للمؤمنين سماتٍ عليهم أن يتخَلَّقُوا بها، وهي:
(৩) বিদ্রোহ ও অপব্যাখ্যা সম্পর্কে সতর্কতা: আমি আপনাদের এবং সকল মুসলিমকে বিদ্রোহ ও অপব্যাখ্যা থেকে সতর্ক করছি; কারণ এই দুটিই মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মধ্যে বিভেদ, ফিতনা ও বিদ্বেষের মূল ভিত্তি।

আর কর্তৃপক্ষের কথা শ্রবণ করা ও তাঁদের আনুগত্য করা আবশ্যক; কেননা এর মাধ্যমে অনিষ্টের পথ রুদ্ধ হয়।

অতঃপর হে ভ্রাতৃবৃন্দ:

নিশ্চয়ই মুমিনদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাঁদের চরিত্রে ধারণ করা উচিত, আর সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[السمة الأولى الابتعاد عن الغضب والاستعجال]

إن المرء إذا غضب في حال الأمن فإنه قد لا يُدرك الصواب، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يقضي القاضي حين يقضي وهو غضبان» (1) .

وقد قال شيخ الإسلام ابن تيمية في كلامه على هذا الحديث:

إن هذا الحديث يشمل القضاء في المسائل العلمية، وفي المسائل العملية، فالغضب - ومثله الحال التي تقلق الذهن وينفعل معها المرء - لا ينبغي له بل هو منهي أن يقضي في

--------------------------------------------

(1) أخرجه " البخاري " في " صحيحه " في (كتاب الأحكام - باب هل يقضي القاضي أو يُفتي وهو غضبان) انظر فتح الباري (13 170) ط دار السلام. و" مسلم" في " صحيحه " في (كتاب الأقضية - باب كراهة قضاء القاضي وهو غضبان) برقم 762 ط دار السلام. و" أبو داود" في "سننه" في (كتاب القضاء - باب القاضي يقضي وهو غضبان) برقم 515 ط دار السلام. كلهم من حديث أبي بكرة رضي الله عنه.
[প্রথম বৈশিষ্ট্য: রাগ ও তাড়াহুড়া পরিহার করা]

নিশ্চয় মানুষ যখন স্বাভাবিক অবস্থায় রাগান্বিত হয়, তখন সে সঠিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না। আর এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় বিচার করবেন না» (১)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:

নিশ্চয় এই হাদিসটি তাত্ত্বিক (ইলমি) এবং ব্যবহারিক (আমলি) উভয় বিষয়ের বিচার বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং রাগ—এবং অনুরূপ এমন পরিস্থিতি যা মনকে অস্থির করে তোলে এবং যার ফলে মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে—এমন অবস্থায় কোনো ফয়সালা করা তার জন্য সমীচীন নয়, বরং তাকে নিষেধ করা হয়েছে যেন সে বিচার না করে...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন "বুখারী" তার "সহীহ" গ্রন্থে (বিচার অধ্যায় - পরিচ্ছেদ: বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় বিচার বা ফতোয়া দেবেন কি না), দেখুন ফাতহুল বারী (১৩/১৭০) দারুস সালাম সংস্করণ। এবং "মুসলিম" তার "সহীহ" গ্রন্থে (বিচার বিভাগীয় ফয়সালা অধ্যায় - পরিচ্ছেদ: রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকের বিচারের অপছন্দনীয়তা), হাদিস নং ৭৬২, দারুস সালাম সংস্করণ। এবং "আবু দাউদ" তার "সুনান" গ্রন্থে (বিচার অধ্যায় - পরিচ্ছেদ: বিচারক যখন রাগান্বিত অবস্থায় বিচার করেন), হাদিস নং ৫১৫, দারুস সালাম সংস্করণ। তারা সকলেই আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১১)
المسائل العلمية وهو على هذا النَّحْوِ من الغضب، فإذا كان القاضي كذلك في مسألة بين متخاصمين فإن الكلام في المسائل العملية أبلغ، وإن الكلام في المسائل التي تهم الأمة حينئذٍ أبلغ.

ولهذا كان من سمة منهج السلف الصالح من الصحابة والتابعين فَمَنْ بعدهم من أئمة الإسلام أنهم لم يستعجلوا حين استعجل الناسُ فيما ليس لهم.

قال عمرُ بنُ عبدِ العزيزِ - رحمه تعالى - في وَصْفِ الصحابة والتابعين:

" عليكم بآّثارهم فإنهم على علمٍ وَقَفوا، وببصرٍ نافذٍ كفُّوا "

*****
ইলমি মাসআলাসমূহ (المسائل العلمية) এবং তিনি রাগের এই পর্যায়ে আছেন; এমতাবস্থায় বিচারক যদি দুই বিবাদমান পক্ষের মাঝে কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে এমন হন, তবে আমলি মাসআলাসমূহের (المسائل العملية) ক্ষেত্রে কথা বলা আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেই মুহূর্তে উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে কথা বলা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

এই কারণেই সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী ইসলামের ইমামগণের মধ্য থেকে সালাফে সালেহীনের মানহাজের (منهج) একটি বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, মানুষ যখন তাদের জন্য কল্যাণকর নয় এমন বিষয়ে তাড়াহুড়ো করত, তখন তাঁরা তাড়াহুড়ো করতেন না।

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সাহাবী এবং তাবিঈগণের বর্ণনায় বলেছেন:

"তোমরা তাঁদের পদাঙ্ক (آثار) অনুসরণ করো, কারণ তাঁরা ইলমের (علم) ভিত্তিতেই কোনো বিষয়ে স্থির হয়েছিলেন এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমেই বিরত থেকেছেন।"

*****
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[السمة الثانية التأني في الفتيا ودفعها إلى أهلها]

إن الصحابة رضي الله عنهم تدافعوا الفُتيا، لأنهم على علمٍ وقفوا، وتدافعوا الفتيا في مسائل يسيرة، فكيف إذا جاءت المسائل الكبيرة العظيمة؟ فهل يكون من منهجهم الإسراع في الفتيا، والإسراع في الكلام؟

الجواب: ليس هذا من شأنهم؛ لأنهم على علمِ وقفوا وببصرٍ نافذ كفُّوا.

البصرُ مراد به البصيرةُ التي قال - جل وعلا - فيها آمراً نبيَّه: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108]

والبصيرةُ للقلب كالبصر للعين، ويُعاوَض بينهما في الاستعمال.

قال: " وببصر نافذ كفوا ".

فحين كفوا في زمن الفتن، في زمن قتل عثمان رضي الله عنه وفي زمن الخلاف بين علي
[দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: ফতোয়া (فتيا) প্রদানের ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা এবং তা যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট ন্যস্ত করা]

নিশ্চয়ই সাহাবীগণ (صحابة) একে অপরের ওপর ফতোয়া (فتيا) প্রদানের ভার অর্পণ করতেন, কেননা তাঁরা ইলমের (علم) ওপর ভিত্তি করেই কোনো বিষয়ে স্থির হতেন। তাঁরা অতি সামান্য বিষয়েই ফতোয়া (فتيا) প্রদানে একে অপরকে এগিয়ে দিতেন, তবে যখন বড় ও জটিল বিষয়াদি সামনে আসত তখন কী অবস্থা হতো? ফতোয়া (فتيا) প্রদানে তাড়াহুড়ো করা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে দ্রুততা কি তাঁদের মানহাজ (منهج) ছিল?

উত্তর: এটি তাঁদের বৈশিষ্ট্য ছিল না; কেননা তাঁরা ইলমের (علم) ওপর ভিত্তি করেই স্থির হতেন এবং প্রখর অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) কারণেই বিরত থাকতেন।

দৃষ্টিশক্তি (بصر) বলতে এখানে অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) বোঝানো হয়েছে, যে বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]

চক্ষুর জন্য দৃষ্টিশক্তি যেমন, অন্তরের জন্য অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) তেমন; ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ দুটি শব্দ একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়।

তিনি বলেছেন: “এবং প্রখর অন্তর্দৃষ্টির কারণেই তাঁরা বিরত থাকতেন।”

সুতরাং যখন তাঁরা ফিতনার (فتن) সময় বিরত থাকলেন—যেমন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকাণ্ডের সময় এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যকার বিরোধের সময়...
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومعاوية رضي الله عنهما، وحين كفُّوا في الفتن لما حَصَلَ ما حصل؛ إنهم ببصرٍ نافذ كفُّوا. . هناك نفاذ حين كَفوا، وليس الكفُّ عجزاً أو هرباً، وإنما هو طلبٌ للسلامة حين يَلْقَى الناسُ ربَّهم - جل وعلا -.

وقال الله - تعالى -: {وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ} [النحل: 116]

هذه الآية تبين شدة خطر القول بأن هذا حلال وهذا حرام؛ لأن المرء لا يجزم بموافقة حكم الله - جل وعلا - في المسائل الاختلافية، أو في المسائل المجتهد فيها.

وقد كان منهج السلف في هذه المسائل هو الورع والاحتياط للدين، فلا يقولون: هذا حلال، إلا لما اتضح دليله من أدلة الشرع، ولا يقولون: هذا حرام، إلا إذا اتضح دليله. . . .

وقال - تعالى: {آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ - وَمَا ظَنُّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} [يونس: 59 - 60]
এবং মুআবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা), আর যখন তারা ফিতনা (الفتن) বা বিশৃঙ্খলার সময় বিরত (كفوا) থাকলেন যা ঘটার ছিল তা ঘটার পর; তারা মূলত তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির কারণেই বিরত হয়েছিলেন। সেখানে তাদের বিরত থাকার মাঝে বিচক্ষণতা ছিল, আর এই বিরত থাকা কোনো অক্ষমতা বা পলায়ন ছিল না; বরং তা ছিল নিরাপত্তা (السلامة) অন্বেষণ করা, যখন মানুষেরা তাদের মহান প্রতিপালকের—যিনি মহিমান্বিত ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন—সামনে উপস্থিত হবে।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করার কারণে তোমরা বলবে না যে, এটি বৈধ (حلال) এবং এটি নিষিদ্ধ (حرام), আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করার জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তারা সফলকাম হবে না।" [আন-নাহল: ১১৬]

এই আয়াতটি 'এটি বৈধ (حلال) এবং এটি নিষিদ্ধ (حرام)' বলার চরম ভয়াবহতা তুলে ধরে; কারণ কোনো ব্যক্তি মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহে (المسائل الاختلافية) কিংবা গবেষণালব্ধ মাসআলাসমূহে (المسائل المجتهد فيها) আল্লাহর বিধানের সাথে তার বক্তব্যের মিল থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে না।

আর এই সকল বিষয়ে পূর্বসূরিদের কর্মপন্থা (منهج) ছিল পরহেজগারি (الورع) এবং দ্বীনের জন্য সতর্কতা (الاحتياط) অবলম্বন করা। তাই শরয়ি দলিলসমূহ থেকে এর প্রমাণ সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা 'এটি বৈধ (حلال)' বলতেন না, এবং এর দলিল সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা 'এটি নিষিদ্ধ (حرام)' বলতেন না। . . .

আর মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করছ? আর যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিনে তাদের কী ধারণা হতে পারে?" [ইউনুস: ৫৯-৬০]
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال العلماء في تفسير هذه الآية: كفى بهذه الآية زاجرة زجراً بليغاً عن التجوزُ فيما يسأل من الأحكام، وكفى بها باعثة على وجوب الاحتياط في الأحكام، وأن لا يقول أحذ في شيءٍ: هذا جائز، وهذا غير جائز إلا بعد إتقان وإيقان.

ومن لم يوقن فليتق وليصمت، وإلا فهو مفترٍ على الله عز وجل، وقوله - تعالى -: {قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ} [يونس: 59] وقوله من شديد الوعيد وهذا يوجب الخوف من الدخول في الفتيا في كل ما يَسأل عنه الناس.

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من أُفْتِيَ بغير علمٍ كان إِثْمُهُ على مَنْ أفْتَاهُ» (1) .

وينبغي على المرء أن يربأ بنفسه أن يعرض دينه للخطر، وأن يعرض حسناته للذهاب بذنب يحدثه في الأمة.

--------------------------------------------

(1) رواه " أبو داود " في (كتاب العلم - باب التوقي في الفُتْيا) رقم 3657 من حديث أبي هريرة، وقريب منه في سنن " ابن ماجه " رقم 53.
আলেমগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: বিধি-বিধান (أحكام) বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয়ে তাতে শিথিলতা প্রদর্শন থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে এই আয়াতটিই যথেষ্ট এবং এটি একটি অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী। বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা যে ওয়াজিব (আবশ্যক) এবং পূর্ণ দক্ষতা ও নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন ব্যতিরেকে কোনো বিষয়ে কারো পক্ষেই ‘এটি বৈধ (جائز)’ বা ‘এটি অবৈধ (غير جائز)’ বলা উচিত নয়—তা অনুধাবন করানোর জন্য এটিই যথেষ্ট।

আর যার নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তার উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং নীরব থাকা; অন্যথায় সে মহান আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী (مفترٍ) হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলো, আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করছ?} [ইউনূস: ৫৯]—এটি অত্যন্ত কঠোর ধমকিসূচক বাণী এবং মানুষের জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিষয়ে ফতোয়া (فتيا) প্রদানের ক্ষেত্রে এটি ভীতি উদ্রেক করে।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যাকে জ্ঞানহীনভাবে ফতোয়া (فتيا) দেওয়া হলো, তার পাপের দায়ভার ফতোয়া প্রদানকারীর ওপরই বর্তাবে।” (১)।

প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজের দ্বীনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা থেকে বিরত থাকা এবং উম্মতের মধ্যে কোনো পাপের সূচনা করে নিজের নেক আমলসমূহ বিলীন হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (কিতাবুল ইলম - ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অধ্যায়) ৩৬৫৭ নম্বরে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর অনুরূপ বর্ণনা সুনান ইবনে মাজাহ-এর ৫৩ নম্বরে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[السمة الثالثة الرفق والأناة والحلم]

إن من سمات الصحابة - رضوان الله عليهم - الأخذُ بما يُحِبُّ الله - جل وعلا - ويرضاه، ومن ذلك الرفقُ والأناةُ والحلمُ.

قال النبي صلى الله عليه وسلم فيما جاء في الصحيحين: «إِن الله يُحِب الرفْقَ في الأمر كلهِ» (1) .

وقال عليه الصلاة والسلام: «إن الله يرضى لكم ثلاثا: أن تعبدوه ولا تُشركوا به شيئا، وأن تَعْتصَمُوا بحبلِ جميعاً ولا تفرقوا، وأن تناصِحوا من ولاهُ اللهُ أمرَكُمْ» (2) .

قال نبينا صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الرِّفْقَ لا يكونُ في شيءٍ إلَاّ زانَهُ، ولا

--------------------------------------------

(1) أخرجه " البخاري " في " صحيحه في (كتاب الأدب - باب الرفق في الأمر) من حديث عائشة رضي الله عنها.

(2) أخرجه " أحمد " في " مسنده " (14 78) ، و " مالك في " الموطأ " في (كتاب السلام (2 990) . من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
‌‌[তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: কোমলতা, ধীরস্থিরতা ও সহনশীলতা]

নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কিরাম — রাদিয়াল্লাহু আনহুম — এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যা পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন তা গ্রহণ করা; আর কোমলতা, ধীরস্থিরতা ও সহনশীলতা এর অন্তর্ভুক্ত।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহাইনে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল কাজে কোমলতা পছন্দ করেন» (১)।

তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয়ে সন্তুষ্ট হন: তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে ও বিচ্ছিন্ন হবে না এবং আল্লাহ যাদেরকে তোমাদের আদেশের দায়িত্ব দিয়েছেন তোমরা তাদের কল্যাণ কামনা করবে» (২)।

আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোমলতা যে জিনিসের মধ্যেই থাকে তা তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে, আর...

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে (আদব অধ্যায় - কাজে কোমলতা পরিচ্ছেদ) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (১৪/৭৮) এবং ইমাম মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে (সালাম অধ্যায় ২/৯৯০) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৬)
يُنزْعُ من شيءٍ إلا شانَهُ» (1) .

وقال - صلوات الله وسلامه عليه -: «من يُحْرَمِ الرِّفْقَ يُحْرَمِ الخير» (2) .

وكما قال رسول صلى الله عليه وسلم لأشَجِّ عبد القيسِ: «إِن فيك خَصْلتَين يُحِبُّهُما الله: الحلمُ والأناة» (3) .

*****

--------------------------------------------

(1) أخرجه " مسلم " في " صحيحه " في (كتاب البر والصلة - باب فضل الرفق) برقم 6602 من حديث عائشة رضي الله عنها.

(2) رواه " مسلم " في " صحيحه " في (كتاب البر والصلة - باب فضل الرفق) برقم 6598 من حديث جرير رضي عنه.

(3) أخرجه " مسلم " في " صحيحه " في (كتاب الإيمان - باب الإيمان بالله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم وشرائع الدين. .) برقم 117.
...কোনো বস্তু হতে তা অপসারিত করা হলে তা কেবল তাকে কলঙ্কিতই করে।" (১) .

এবং তিনি — তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক — বলেছেন: "যাকে কোমলতা হতে বঞ্চিত করা হয়, সে কল্যাণ হতে বঞ্চিত হয়।" (২) .

ঠিক যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশাজ্জ আব্দুল কাইসকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তোমার মাঝে এমন দু’টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন: সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা।" (৩) .

*****

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে (উত্তম আচরণ ও আত্মীয়তা রক্ষা অধ্যায় - কোমলতার মর্যাদা অনুচ্ছেদ) আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস হতে ৬৬০২ নম্বরে এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন।

(২) মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে (উত্তম আচরণ ও আত্মীয়তা রক্ষা অধ্যায় - কোমলতার মর্যাদা অনুচ্ছেদ) জারীর (রা.) হতে বর্ণিত (رواه) হাদিস নম্বর ৬৫৯৮।

(৩) মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে (ঈমান অধ্যায় - মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এবং দ্বীনের বিধিবিধান অনুচ্ছেদ...) ১১৭ নম্বরে এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[السمة الرابعة اجتماع الكلمة عند الفتن]

من سمة السلف لمن درس منهجهم في القرن الأول حين كَثُرَ الخلافُ، وكَثُرَتِ الفتنُ أنهم يأمرونَ بالاجتماع، وينهَوْنَ عن الافتراق.

وقد قَرَّرَ أهلُ العلم أن الاجتماع نوعان:

(1) الاجتماع في الدين.

(2) والاجتماع على ولي الأمر.

والافتراق نوعان:

(1) افتراق في الدين.

(2) وافتراق في الجماعة.

والله - جل وعلا - قال:

{وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا} [آل عمران: 103]

والنبيُّ صلى الله عليه وسلم حضَّ على الاجتماع والجماعة بقوله:
[চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: ফিতনার (الفتن) সময় ঐক্যবদ্ধ থাকা (اجتماع الكلمة)]

যারা প্রথম শতাব্দীতে সালাফদের (السلف) মানহাজ (منهج) অধ্যয়ন করেছেন, যখন মতভেদ ও ফিতনা (الفتن) বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাঁদের নিকট সালাফদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তাঁরা ঐক্যবদ্ধ (الاجتماع) থাকার নির্দেশ দিতেন এবং বিচ্ছিন্নতা (الافتراق) থেকে নিষেধ করতেন।

উলামায়ে কেরাম (أهل العلم) সাব্যস্ত করেছেন যে, ঐক্য (الاجتماع) দুই প্রকার:

(১) দ্বীনের ক্ষেত্রে ঐক্য (الاجتماع)।

(২) এবং শাসক বা নেতার অধীনে ঐক্য (الاجتماع)।

বিচ্ছিন্নতা (الافتراق) দুই প্রকার:

(১) দ্বীনের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (الافتراق)।

(২) এবং জামাআত (الجماعة) থেকে বিচ্ছিন্নতা (الافتراق)।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন (تفرقوا) হয়ো না} [আলে ইমরান: ১০৩]

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে ঐক্য (الاجتماع) ও জামাআতের (الجماعة) প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৮)
«سَتفترِقُ هذه الأمة إلى ثلاثٍ وسبعين فرقَةً كلُها في النار إلا واحدة، قالوا: مَنْ هي يا رسول الله؟ قال: هي الجَمَاعةُ» (1) .

قال أهلُ العلم: معنى الجماعة هنا ما يشمل الاجتماعَ في الدين، والاجتماعَ على مَنْ ولاه اللهُ الأمرَ من المسلمين.

وقال صلى الله عليه وسلم: «الجماعةُ رحمة، والفُرْقَة عذاب» (2) .

وهذا ظاهر بَيِّن في أن منهج الأئمة الحرصُ على الجماعة.

حتى أنه لما ظهر القولُ بخلقِ القرآن، وحَصَلَ من الناس ما حَصَلَ من التسارع إلى نشر هذا القول، ودعا إليه ولي الأمرِ في ذلك الزمانِ، قال أحدُ طلاب الإمام أحمدَ - وهو

--------------------------------------------

(1) أخرجه " أبو داود " في " سننه " في (كتاب السنة - باب شرح السنة) 650 ط دار السلام. من حديث معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه. و " ابن ماجه " في " سننه " في (كتاب الفتن - باب افتراق الأمم) 574 ط دار السلام. من حديث عوف بن مالك رضي الله عنه.

(2) قطعة من حديث أخرجه " أحمد " في " مسنده " (30 / 390) من حديث النعمان بن بشير رضي الله عنهما.
«এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে কেবল একটি ব্যতীত। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কোন দল? তিনি বললেন: সেটি হলো জামাত» (১) ।

উলামায়ে কেরাম বলেন: এখানে ‘জামাত’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা দ্বীনের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং মুসলিমদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে কর্তৃত্ব দান করেছেন তাঁর অধীনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া—এই উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একতা রহমত এবং বিচ্ছিন্নতা আযাব» (২) ।

এটি অত্যন্ত সুষ্পষ্ট যে, ইমামগণের মানহাজ বা কর্মপন্থা ছিল জামাতের ওপর অটল থাকার বিষয়ে ঐকান্তিক আগ্রহী হওয়া।

এমনকি যখন ‘কুরআন সৃষ্টির’ মতবাদ প্রকাশ পেল এবং মানুষের মাঝে এই মতবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা দিল এবং তৎকালীন শাসক এর প্রতি আহ্বান জানালেন, তখন ইমাম আহমদের জনৈক ছাত্র—আর তিনি হলেন—বললেন—

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে (কিতাবুস সুন্নাহ—বাবু শারহিস সুন্নাহ) ৬৫০, দারুস সালাম সংস্করণ, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে (কিতাবুল ফিতান—বাবু ইফতিরাকিল উমাম) ৫৭৪, দারুস সালাম সংস্করণ, আউফ ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি একটি হাদিসের অংশবিশেষ যা আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৩০/৩৯০) নুমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৯)
إمامُ أهل السنة والجماعة - له: ألا تَرَى ما الناسُ فيه؟ ألا تقولُ قولاً يغير الله به ما فَعَلَ. .؟ كأنه يشير إلى ما فَعَلَ ولاة الأمرِ، أو ما هو مشهورٌ.

فجعل الإمامُ أحمدُ رحمه الله ينهى عن ذلك، وينفضُ يَدَيْهِ شديدا، ويقول: " إيَّاكُمْ والدماءَ، إياكمْ والدماءَ ".

لأنه يعلم أن شدة الافتراق تُسَبِّبُ في النهاية الافتراقَ في الأبدان، ثم وقوع ما يُخْشَى منه من سفْكِ الدماء، أو منازعة في الأمر.

ويتحتمُ على الأمة الإسلامية أن تَعِيَ تماماً ما بينَهُ الكتابُ وكذلك السنةُ أنّ أهل الكتاب تفرّقوا واختلفوا، وضرب بعضُهم بعضاً، لا لنقصِ العلم عندهم، بل من البغي والتأويل.

قال الله - جل وعلا -: {وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} [الشورى: 14]

ولذلك قال العلماء في كتب العقائد: إن أعظم ما حصل به الافتراقُ والفتنُ والبغضاءُ في هذه الأمة من شيئين: البغي،
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামের নিকট [বলা হলো]: আপনি কি দেখছেন না মানুষ কিসের মধ্যে নিমজ্জিত? আপনি কি এমন কোনো কথা বলবেন না যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন? যেন তিনি [প্রশ্নকারী] শাসকগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের প্রতি অথবা যা লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করছিলেন।

অতঃপর ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে নিষেধ করতে লাগলেন এবং দৃঢ়ভাবে হাত নেড়ে বলতে লাগলেন: "তোমরা রক্তপাত থেকে বেঁচে থাকো, তোমরা রক্তপাত থেকে বেঁচে থাকো।"

কারণ তিনি জানতেন যে, মতভেদের তীব্রতা শেষ পর্যন্ত শারীরিক বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, অতঃপর এমন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যেখান থেকে রক্তপাত বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা থাকে।

মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি যথাযথভাবে অনুধাবন করা অপরিহার্য যা কিতাব (কুরআন) এবং সুন্নাহ (السنة) বর্ণনা করেছে যে, আহলে কিতাবগণ বিভক্ত হয়েছে ও মতবিরোধ করেছে এবং একে অপরকে আঘাত করেছে। এটি তাদের ইলমের অভাবের কারণে নয়, বরং সীমালঙ্ঘন (البغي) ও অপব্যাখ্যার (التأويل) কারণে।

আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা বলেছেন: "তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর কেবল পারস্পরিক সীমালঙ্ঘন (بغيا) বশত তারা বিভক্ত হয়েছিল।" [সূরা আশ-শূরা: ১৪]

আর এই কারণেই আলেমগণ আকিদাহর কিতাবসমূহে বলেছেন: এই উম্মতের মাঝে বিভেদ, ফিতনা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দুটি বিষয়: সীমালঙ্ঘন (البغي),
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২০)
والتأويل.

فإذا حَصَلَ البغيُ: بأن زاد الناسُ على ما أذن به، أو حَصَلَ التأويل بغير مستند شرعي صحيح وقعتِ الفتنة. والعياذُ بالله - تعالى -.

*****
এবং ব্যাখ্যা (التأويل)।

সুতরাং যখন সীমালঙ্ঘন (البغي) প্রকাশ পায়: অর্থাৎ মানুষ যা অনুমোদিত তার অতিরিক্ত কিছু করলে, অথবা সঠিক (صحيح) শরয়ি দলিল ব্যতিরেকে অপব্যাখ্যা (التأويل) করা হলে, তখন ফিতনা (الفتنة) বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মহান আল্লাহর নিকট আমরা এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

*****
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[السمة الخامسة السمع والطاعة لولاة الأمر]

مما دلّتْ عليه النصوصُ وتظاهرتْ لزومُ السمع والطاعة لوليِّ الأمر المسلم، لأن السمع والطاعة أمر عظيمٌ، خَالَفَ به رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أهلَ الجاهلية.

وقد ذكره إمام الدعوة الشيخُ محمدُ بنُ عبدِ الوهاب رحمه الله في " مسائل الجاهلية " في أوائل المسائل مع التوحيد.

وذكر التوحيد، والنهي عن الشرك فيما خالف به رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أهلَ الجاهلية. .

وذكرَ الاجتماعَ، وعدمَ الافتراقِ. .

وذكر الطاعةَ.

وهذا أصل عظيم، نَقَلَ به النبي صلى الله عليه وسلم الأمةَ عمَّا كان عليه أهلُ الجاهليةِ، ولهذا قال:

«لا تَرْجِعُوا بعدِي كُفَّارا يَضْرِبُ بعضُكم رِقابَ بَعْض» (1) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه " البخاري " في " صحيحه " في (كتاب العلم - باب الإنصات للعلماء) ، وفي (كتاب الديات - باب قول الله - تعالى -: وَمَنْ أَحْيَاهَا وفي أماكن أخرى انظر فتح الباري (1 286، 21 237) . ط دار السلام - من حديث النعمان بن بشير رضي الله عنهما.
‌[পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: শাসকবর্গের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্য (السمع والطاعة)]

নসসমূহ (النصوص) যে বিষয়ে প্রমাণ দেয় এবং যা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান, তা হলো মুসলিম শাসকের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্য (السمع والطاعة) বজায় রাখা অপরিহার্য। কেননা শ্রবণ ও আনুগত্য (السمع والطاعة) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের যুগের লোকেদের রীতিনীতির বিরোধিতা করেছেন।

দাওয়াতের ইমাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) এটি তার "মাসায়েলুল জাহিলিয়্যাহ" গ্রন্থে তাওহিদের আলোচনার সাথে সাথে শুরুর দিকের মাসআলাগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

তিনি তাওহিদ এবং শিরক (الشرك) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেই সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের অনুসারীদের বিরোধিতা করেছিলেন।

তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং অনৈক্য ও বিচ্ছিন্নতা (الافتراق) পরিহার করার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি আনুগত্যের (الطاعة) বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

এটি একটি মহান মূলনীতি (أصل), যার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে জাহেলি যুগের রীতিনীতি থেকে বিচ্যুত করে সঠিক পথে নিয়ে এসেছেন; আর এই কারণেই তিনি বলেছেন:

«আমার মৃত্যুর পর তোমরা পুনরায় কাফিরে (كفار) পরিণত হয়ো না, যেখানে তোমরা একে অপরের গর্দান কর্তন করবে» (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে (ইলম অধ্যায় - ওলামাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পরিচ্ছেদ) এবং (দিয়াত অধ্যায় - মহান আল্লাহর বাণী: 'আর যে ব্যক্তি কোনো প্রাণ রক্ষা করল' সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) এবং অন্যান্য স্থানে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারি (১/২৮৬, ২১/২৩৭)। দারুস সালাম সংস্করণ - নুমান বিন বাশির (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২২)
وإذا كانت النهاية في أمرٍ ما هو هذا فإنّ سدّ الذرائعِ المُوصِلَةِ له واجبٌ شرعاً، بل من أعظم الواجبات.

وينبغي على الأمة التسليمُ لوليِّ الأمر في الوفاء بالعهد والميثاق فإذا أخذَ وليُّ الأمر بالعهد والميثاق بينه وبين غير المؤمنين من الكفار، أو المشركين؛ فإنه يتحتمُ إمضاؤها؛ لأن الله - جل وعلا - قال: {وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا} [الإسراء: 34]

وقال - جل وعلا -: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا مَا لَكُمْ مِنْ وَلَايَتِهِمْ مِنْ شَيْءٍ حَتَّى يُهَاجِرُوا وَإِنِ اسْتَنْصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ إِلَّا عَلَى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ} [الأنفال: 72]

وهذا الاستثناء لا يخالف الولاءَ والبراءَ؛ لأن القرآن حقّ كله.

قال ابن كثير - رحمه لله تعالى - في تفسير هذه الآية:
যদি কোনো বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতি এটাই হয়, তবে সেখানে পৌঁছানোর উপায় রদ করা (سد الذرائع) শারয়ীভাবে ওয়াজিব, বরং এটি অন্যতম মহান ওয়াজিব।

আর অঙ্গীকার ও চুক্তি পালনের ক্ষেত্রে উম্মাহর উচিত শাসকের (ولي الأمر) প্রতি অনুগত থাকা। সুতরাং শাসক যদি তাঁর এবং মুমিন নয় এমন কাফির বা মুশরিকদের মাঝে কোনো অঙ্গীকার ও চুক্তিতে আবদ্ধ হন, তবে তা কার্যকর করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: {আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।} [আল-ইসরা: ৩৪]

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আরও বলেছেন: {আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, তারা হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের (ولاية) বিষয়ে তোমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তবে তারা যদি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য; কিন্তু এমন কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি (ميثاق) রয়েছে।} [আল-আনফাল: ৭২]

আর এই ব্যতিক্রমটি বন্ধুত্ব ও শত্রুতা (الولاء والبراء) নীতির পরিপন্থী নয়; কারণ সম্পূর্ণ কুরআনই সত্য।

ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৩)
" إن استنصركم هؤلاء الأعرابُ الذين لم يهاجروا في قتالٍ دينيٍّ على عدوٍّ لهم فانصروهم، فإنه واجب عليكم نصرُهم، لأنهم إخوانكم في الدين، إلا أن يستنصروكم على قومٍ من الكفار بينكم وبينهم ميثاق - أي: مهادنة إلى مدَّةٍ - فلا تخفِروا ذمتكم، ولا تنقضوا أيمانكم مع الذين عاهدتم ".

قال ابن كثير: " وهذا مرويّ عن ابن عباسٍ رضي الله عنهما ".

وهذا ما فَعَلَهُ النبيُّ صلى الله عليه وسلم في صلح الحُدَيْبِيةِ.

كان في الصلح أنّ مَنْ أتى النبي صلى الله عليه وسلم من مكةَ من المسلمين فإنه يُرجعُه إليهم، ومن ذَهَبَ من المسلمين من المدينة إلى مكةَ فإنَّ المشركين لا يَرُدُّونَهُ إلى المسلمين.

وأمضى النبيُّ صلى الله عليه وسلم هذا العهدَ والميثاقَ.

قال عمر رضي عنه للنبي صلى الله عليه وسلم: «يا رسول الله ألسنا على الحق وهم على الباطل؟ قال:

بلى قال: فعلامَ نقبلُ الدَّنِية
"যদি এই সকল বেদুইন যারা হিজরত করেনি, তারা কোনো ধর্মীয় যুদ্ধে তাদের কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে তোমাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের জন্য আবশ্যক, কারণ তারা দ্বীনের ভ্রাতৃত্বের অন্তর্ভুক্ত। তবে তারা যদি এমন কোনো কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করে যাদের ও তোমাদের মাঝে অঙ্গীকার —অর্থাৎ: নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সন্ধি— বিদ্যমান, তবে তোমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না এবং যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ তাদের সাথে কৃত শপথসমূহ লঙ্ঘন করো না।"

ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন: "এটি ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত (مروي)।"

আর এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় করেছিলেন।

সন্ধিতে এই শর্ত ছিল যে, মক্কা থেকে কোনো মুসলিম যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে তবে তিনি তাকে তাদের নিকট ফেরত পাঠাবেন, আর কোনো মুসলিম যদি মদিনা থেকে মক্কায় যায় তবে মুশরিকরা তাকে মুসলিমদের নিকট ফেরত দিবে না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অঙ্গীকার ও চুক্তি বলবৎ রেখেছিলেন।

উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি সত্যের ওপর এবং তারা কি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত নই?" তিনি বললেন:

"অবশ্যই।" তিনি বললেন: "তবে কেন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা মেনে নেব?"
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৪)
في ديننا؟ قال النبي صلى الله عليه وسلم: إنيِّ رسول، وأنا واثق بوعدِ الله» (1) عليه الصلاة والسلام.

ومسائلُ الولاءِ والبراءِ عظيمة ومهمةٌ، فإذا تكلم فيها أحد من العلماء فإنه يقصد بها ما يشمل عمومَ أحكامها؛ لأننا نستدل بالقرآن والسنة.

وإن مسائلَ الولاءِ والبراءِ، والخوضَ في العهودِ والمكاتبات، وما يحصل من قضايا كبيرةٍ هي لأهلها، وليس لعامةِ الناس.

وليس من منهج الخطباء وأئمة الدعوة أن يتحدثوا في ذلك مع العامة.

قال الإمامُ الشيخُ عبدُ اللطيفِ بن عبدِ الرحمنِ بنِ حسنِ بنِ محمدِ بن عبدِ الوهابِ: " وخضتم في مسائلَ من هذا الباب، كالكلام في الموالاة، والمعاداة، والمصالحة،

--------------------------------------------

(1) قطعة بالمعنى من حديثٍ طويل أورده " البخاري " في " صحيحه " في (كتاب الشروط - باب الشروط في الجهاد، والمصالحة مع أهل الحرب، وكتابة الشروط) و (كتاب المغازي) انظر فتح الباري (5 403 - 408) و (7 453) ط دار السلام.
আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল, আর আমি আল্লাহর ওয়াদার ওপর আস্থাশীল।" (১) তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা বা আনুগত্য ও সম্পর্কচ্ছেদ (الولاء والبراء) এর মাসআলাসমূহ অত্যন্ত মহান এবং গুরুত্বপূর্ণ। যখন আলেমদের মধ্য থেকে কেউ এ বিষয়ে কথা বলেন, তখন তিনি এর বিধিবিধানের সাধারণ ব্যাপকতাকে উদ্দেশ্য করেন; কারণ আমরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল গ্রহণ করি।

নিশ্চয়ই আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (الولاء والبراء) এর মাসআলাসমূহ, এবং চুক্তি ও পত্রালাপ সংক্রান্ত গভীর আলোচনা এবং যেসব বড় বড় বিষয় উদ্ভূত হয়, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের (أهلها) জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য নয়।

খতিব ও দাওয়াতের ইমামদের মানহাজ বা পদ্ধতি (منهج) এটি নয় যে, তারা সাধারণ মানুষের সাথে এসব বিষয়ে আলোচনা করবেন।

ইমাম শায়খ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বলেন: "আর তোমরা এ অধ্যায়ের মাসআলাসমূহে লিপ্ত হয়েছ, যেমন বন্ধুত্ব (الموالاة), শত্রুতা (المعاداة) এবং সন্ধি (المصالحة) বিষয়ে আলোচনা করা..."

--------------------------------------------

(১) এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের মর্মার্থের অংশবিশেষ যা বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (শর্তাবলি অধ্যায় - জিহাদে শর্তাবলি পরিচ্ছেদ, এবং যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে সন্ধি ও শর্তাবলি লিখন) এবং (মাগাজি বা যুদ্ধাভিযান অধ্যায়)-এ উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারি (৫/৪০৩-৪০৮) এবং (৭/৪৫৩) দারুস সালাম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫)
والمكاتبات، وبذل الأموال والهدايا، ونحو ذلك، والحكمُ بغير ما أنزل الله، عند البَوادي ونحوهم من الجفاة. لا يَتكًلَّمُ فيها إلا العلماءُ من ذوي الألباب، ومَنْ رُزِقَ الفهْمَ عن الله، وأوتي الحكمةَ وفصلَ الخطابِ " اهـ (1)

كما قال رحمه الله أيضًا بعدها:

" والكلامُ في هذا يتوقف على معرفة ما قدمناه، ومعرفةِ أصولٍ عامَّةٍ كلِّية، لا يجوز الكلامُ في هذا الباب وفي غيره لمن جهلها وأعرض عنها وعن تفاصيلها.

فإن الإجمالَ والإطلاقَ وعدمَ العلم بمعرفة مواقعِ الخطابِ وتفاصيلهِ يحصُلُ به من اللَّبْسِ والخطأِ وعدم الفقه عن الله ما يفسِدُ الأديانَ، ويُشتتُّ الأذهانَ، ويحول بينها وبين فهم القرآن.

قال ابن القيم في كافِيَته:

فعليك بالتفصيلِ والتبيينِ فال … إطلاقُ والإجمالُ دونَ بيانِ

--------------------------------------------

(1) مجموع الرسائل ص11.
...এবং চিঠিপত্র আদান-প্রদান, অর্থ ও উপঢৌকন প্রদান এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ; আর মরুবাসী ও তাদের মতো কঠোর স্বভাবের লোকদের মাঝে আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে বিচারকার্য পরিচালনা করা। এ সকল বিষয়ে কেবল প্রজ্ঞাবান আলেমগণই কথা বলবেন এবং তারাই, যাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক বুঝ দান করা হয়েছে এবং যাদেরকে প্রজ্ঞা ও দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্তমূলক (فصل الخطاب) কথা বলার যোগ্যতা প্রদান করা হয়েছে। " সমাপ্ত। (১)

যেমন তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এরপর আরও বলেছেন:

"এই বিষয়ে আলোচনা আমরা ইতিপূর্বে যা উপস্থাপন করেছি তা জানা এবং এমন কিছু সাধারণ ও সামষ্টিক মূলনীতি (أصول عامة كلية) জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, যা সম্পর্কে অজ্ঞ এবং যা থেকে ও এর বিস্তারিত বিবরণ থেকে বিমুখ ব্যক্তিদের জন্য এই অধ্যায়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলা বৈধ নয়।

কারণ অস্পষ্টতা (إجمال), ঢালাও প্রয়োগ (إطلاق) এবং বক্তব্যের সঠিক প্রয়োগস্থল ও এর বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের ফলে এমন বিভ্রান্তি, ভুল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা দ্বীন সম্পর্কে সঠিক বুঝের (فقه) ঘাটতি তৈরি হয়, যা ধর্মকে বিনষ্ট করে, চিন্তাধারাকে বিক্ষিপ্ত করে এবং কুরআন বোঝার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

ইবনুল কায়্যিম তাঁর 'কাফিয়াহ' গ্রন্থে বলেন:

তুমি বিস্তারিত বর্ণনা ও স্পষ্টকরণের নীতি আঁকড়ে ধরো, কারণ... ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে ঢালাও প্রয়োগ (إطلاق) ও অস্পষ্টতা (إجمال) [বিভ্রান্তির মূল]।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউর রাসায়িল, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬)
قد أفسدا هذا الوجودَ وخَبَّطا ال … أذهان والآراءَ كلَّ زمانِ

انتهى كلامه - رحمه تعالى -.

إنَّ فهمَ منهج أئمةِ الدعوة متكاملٌ، والأخذَ به أخذ بما قامتْ به هذه الدعوةُ وقامت به الدولةُ منذ الدولة السعودية الأولى من تحقيقٍ للإسلامِ بفهمٍ شامل للنصوص.

وهذا يتركُ لأهلِ الشأن من ولاةِ الأمرِ، وأهل العلمِ؛ لأنّ هذا هو الحقُّ في هذه المسّائل.

والعامةُ لا يمكنهم فهمَ التفصيلِ والتبيينِ في مسائلَ أقلَّ من ذلك فكيفَ في هذه المسائلِ العظيمةِ؟ ! ، ولهذا لم يكن أئمة الدعوةِ في خطبهم الموجودةِ يُفَصِّلُونَ الكلامَ في هذه المسائل، لأن ذلك - كما قال الشيخُ عبدُ اللطيف -: إنما هو لأهل العلم الذين يفتُونَ بموجبِ ما يعلمون لوليِّ الأمر وللناس.

*****
তাঁরা এই অস্তিত্বকে কলুষিত করেছেন এবং প্রতিটি যুগে চিন্তা ও মতামতকে বিভ্রান্ত করেছেন …

তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

নিশ্চয়ই দাওয়াতের ইমামগণের কর্মপন্থা (منهج) অনুধাবন একটি সমন্বিত বিষয়। এটি গ্রহণ করার অর্থ হলো সেই আদর্শকে গ্রহণ করা যার ওপর এই দাওয়াত এবং প্রথম সৌদি রাষ্ট্র থেকে শুরু করে বর্তমান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—আর তা হলো নصوص (نصوص) সমূহের ব্যাপক ও গভীর উপলব্ধির মাধ্যমে ইসলামকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।

আর এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ শাসকবর্গ (ولاة الأمر) এবং আলেমগণের (أهل العلم) ওপর ন্যস্ত; কেননা এই বিষয়গুলোর (مسائل) ক্ষেত্রে এটিই হলো সত্য।

সাধারণ মানুষের পক্ষে এর চেয়েও ছোট বিষয়গুলোর (مسائل) বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অনুধাবন করা সম্ভব নয়, তবে এই মহান বিষয়গুলোর (مسائل) ক্ষেত্রে তারা কীভাবে তা বুঝবে?! এ কারণেই দাওয়াতের ইমামগণ তাঁদের বিদ্যমান খুতবাগুলোতে এই বিষয়গুলোর (مسائل) বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করতেন না। কারণ—যেমনটি শাইখ আব্দুল লতিফ বলেছেন—এটি কেবল সেই আলেমদের (أهل العلم) জন্য সুনির্দিষ্ট, যাঁরা শাসক (ولي الأمر) ও জনগণের জন্য তাঁদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান (يفتون) করেন।

*****
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[السمة السادسة توقير العلماء ومعرفة مكانتهم في الدين]

إنّ لأهل العلم في الكتاب والسنة منزلةً عظيمةً لا بدّ أن تُرعى قال الله - جل وعلا -

: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11]

فخصَّ أهل العلم عن سائر المؤمنين فقال:

{إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28]

لأنهم حين يتكلمون أو يُعَلِّمُونَ فإنهم ينطلقون من الخشية.

ونحن مأمورونَ بأن نقتدي بأهل العلم، وأن نرجعَ إليهم، والذمة تبرأ إذا استفتيتَ أهلَ الذكرِ فأفْتَوْكَ في ذلك بما يحقق مقاصدَ الشريعة.

فليس من الدين الطعنُ في أهل العلم، وليس من الدين الانتقاصُ من أقدارهم، بل ذلك من عمل الجاهلية.
‌‌[ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: আলেমদের সম্মান প্রদর্শন এবং দ্বীনের মাঝে তাঁদের মর্যাদার পরিচয় লাভ]

নিশ্চয়ই কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য এমন এক সুমহান মর্যাদা রয়েছে যা অবশ্যই রক্ষা করা উচিত। মহান আল্লাহ—যিনি পরম মহিমান্বিত—বলেছেন—

: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চে উন্নীত করবেন।} [আল-মুজাদালাহ: ১১]

তিনি অন্যান্য সকল মুমিনদের থেকে জ্ঞানীদের বিশিষ্টতা দান করে বলেছেন:

{আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।} [ফাতির: ২৮]

কেননা তাঁরা যখন কথা বলেন অথবা শিক্ষা দান করেন, তখন তাঁরা খোদাভীতি থেকেই তা করেন।

আর আমরা জ্ঞানীদের অনুসরণ করতে এবং তাঁদের শরণাপন্ন হতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যখন আপনি জ্ঞানীদের নিকট কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রার্থনা করবেন এবং তাঁরা শরীয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের নিরিখে আপনাকে ফতোয়া প্রদান করবেন, তখন তার মাধ্যমে আপনার দায়মুক্তি ঘটবে।

সুতরাং আলেমদের সমালোচনা করা দ্বীনের অংশ নয় এবং তাঁদের মর্যাদাহানি করাও দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি জাহিলিয়াত যুগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد قال أهل العلم كشيخ الإسلام ابن تيمية، وشارح الطحاوية، وجماعةٌ: لم يكن الصحابةُ يريدون القتالَ، وإنما وجدوا أنفسهم يتقاتلون بسعيِ الخوارجِ فيما بين الأطراف.

وعلى الأئمة والخطباء وكلِّ طلاب العلم أن يأخذوا العبرةَ من قصص السابقين، وأن يقرءوا التاريخ بعناية تامة.

قال الله - جل وعلا - في الحث على الاعتبار:

{لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} [يوسف: 111]

يَعني: في قصصِ الأنبياء السالفين. وتاريخُ الأممِ الخالية فيه عبرة.

ومن أعظمِ العبرِ أن يُنظرَ في كيفية حصول القتال بين الصحابة - رضوان الله عليهم -.

كيف حدثت الفتنة وما مبعثهُا؟

- قَتْلُ عثمان رضي عنه كان بسبب النقمةِ عليه في أمور المال، والولاية التي ولاّها. وقد ثار بسببها الخوارج
আলেমগণ (أهل العلم), যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, শারহু তহাউইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার এবং একটি দল (جماعة) বলেছেন যে: সাহাবীগণ (الصحابة) যুদ্ধ করতে চাননি, বরং তারা পক্ষগুলোর মাঝে খারেজিদের (الخوارج) অপতৎপরতার কারণে নিজেদের লড়াইরত অবস্থায় পেয়েছিলেন।

আর ইমাম, খতিব এবং সকল জ্ঞান অন্বেষণকারীর (طلاب العلم) উচিত পূর্ববর্তীদের কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ইতিহাস পাঠ করা।

আল্লাহ - জাল্লা ওয়া আলা - শিক্ষা গ্রহণের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন:

{নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।} [ইউসুফ: ১১১]

অর্থাৎ: পূর্ববর্তী নবীগণের কাহিনীতে। আর বিগত জাতিসমূহের ইতিহাসেও শিক্ষা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় শিক্ষাগুলোর একটি হলো সাহাবীগণের (الصحابة) - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - মধ্যে কীভাবে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তা পর্যবেক্ষণ করা।

ফিতনা কীভাবে সংঘটিত হয়েছিল এবং এর উৎস কী ছিল?

- উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল তাঁর প্রতি আর্থিক বিষয়াবলী এবং তাঁর নিযুক্ত শাসনকর্তাদের বিষয়ে অসন্তোষের কারণে। আর এর ফলেই খারেজিরা (الخوارج) বিদ্রোহ করেছিল।
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৯)
فحصل ما حصلَ. وإنما فعلوا ذلك بالتأويل، ولم يكونوا يكرهون الدينَ، ولكنهم تأوَّلوا، على خلاف منهج الصحابة.

- والذي حَصَل بين عليٍّ ومعاويةَ رضي الله عنهما من القتال لم يكن يريدانه.

- ودخلت عائشةُ رضي الله عنها في ذلك، ولم ترد إلا الصلحَّ.

*****
অতঃপর যা ঘটার তা-ই ঘটেছে। মূলত তারা ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমেই এমনটা করেছিলেন এবং তারা দ্বীনকে অপছন্দ করতেন না, কিন্তু তারা সাহাবীদের পদ্ধতির (منهج) পরিপন্থী ব্যাখ্যা (تأويل) করেছিলেন।

- আলী ও মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তা তারা কেউই চাননি।

- আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি কেবল আপস বা মীমাংসাই (صلح) চেয়েছিলেন।

*****
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[السمة السابعة الاعتبار والعظة بتاريخ الأمم السابقة]

مَن قرأ كتب التاريخ وَجَدَ أن الفتنَ إذا ظهرت فأول ما يلجأ إليه الناسُ الذين اشتبهتْ عليهم الأمورُ هو أن يطعنوا في أهلِ العلمِ، وسارعوا في ذلك، وهذا ما لا يحمدُ.

وهذا ما حَصَلَ من الخوارج مع علماء الصحابة.

وهذا ما حَصَلَ من أهل البغي لما استُبيحتِ المدينةُ المنورة، وضُرِبَتْ مكةُ المكرمةُ بالمنجنيق. .

إلى غير ذلك مما حَصَلَ في أزمنة كثيرة.

وقد طفحتْ كُتبٌ الجرحِ والتعديلِ في مَنْ يرى السيفَ في الأمة. وهذا ظاهرٌ بيِّنٌ، وأن الذي يرى السيفَ في الأمة يكون من وسيلته أن يطعنَ في مَنْ يرجِعُ إليه المسلمونَ كيلا يرجعوا إليه.

ولا يلزم أنّ كل مَنْ طعن فإنه يرى السيف، ولكن يُحذر ممن رأى السيف طعن، ولا يلزم أنه مَنْ طَعَنَ فإنه يرى
[সপ্তম বৈশিষ্ট্য: পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ]

যারা ইতিহাসের কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন তারা দেখতে পাবেন যে, যখনই ফিতনা (الفتن) বা বিপর্যয় প্রকাশ পায়, তখন বিভ্রান্তিতে পড়া লোকেরা সর্বপ্রথম আলেম সমাজের সমালোচনা ও তাদের ওপর অপবাদ আরোপের আশ্রয় নেয় এবং তারা এই কাজে তাড়াহুড়ো করে; অথচ এটি কোনোভাবেই প্রশংসনীয় নয়।

আর সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আলেম ছিলেন, তাদের ব্যাপারে খারেজিদের (الخوارج) পক্ষ থেকে ঠিক এমনটিই ঘটেছিল।

আর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (أهل البغي) পক্ষ থেকেও এমনটি ঘটেছিল যখন মদিনা মুনাওয়ারাকে লুণ্ঠন করা হয়েছিল এবং মক্কা মুকাররমার ওপর মিনজানিক দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল। .

এ জাতীয় আরও অনেক ঘটনা বিভিন্ন যুগে সংঘটিত হয়েছে।

আর যারা উম্মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করার (বিদ্রোহের) মত পোষণ করে, তাদের বর্ণনায় সমালোচনা ও সত্যায়ন (الجرح والتعديل) বিষয়ক কিতাবসমূহ ভরপুর। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার বিষয়; কেননা যে ব্যক্তি উম্মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরা বৈধ মনে করে, তার অন্যতম কৌশল হলো সেই সব ব্যক্তিদের সমালোচনা করা যাদের কাছে সাধারণ মুসলিমরা (নির্দেশনার জন্য) প্রত্যাবর্তন করে, যাতে তারা আর তাদের কাছে ফিরে না যায়।

তবে এটি আবশ্যক নয় যে, যে ব্যক্তিই সমালোচনা করবে সে তলোয়ার ধরা (বিদ্রোহ করা) বৈধ মনে করে। কিন্তু যে ব্যক্তি তলোয়ার ধরাকে বৈধ মনে করে তার সমালোচনা থেকে সতর্ক থাকতে হবে; আর এটিও আবশ্যক নয় যে, যে সমালোচনা করে সে-ই তলোয়ার ধারণের মত পোষণ করে...
(খণ্ড: ১) সিমাতুল মুমিনিনা ফিল ফিতানি ওয়া তাকাল্লুবিল আহওয়াল (পৃষ্ঠা: ৩১)
السيف، لأنه قد يطعنُ لتأويلٍ، وقد يطعنُ لنقص في العلم، ونحو ذلك.

*****
তরবারি, কারণ কখনও কখনও ব্যাখ্যার (تأويل) কারণে অভিযুক্ত (يُطعن) করা হয়, আবার কখনও জ্ঞানের অভাব বা এ জাতীয় কারণে অভিযুক্ত (يُطعن) করা হয়।

*****