(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: -)
وجوب العمل بسنة الرسول صلى الله عليه وسلم وكفر من أنكرها القسم: أصول الفقه
الكتاب: وجوب العمل بسنة الرسول صلى الله عليه وسلم وكفر من أنكرها
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز [ت 1420 هـ]
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف - السعودية
الطبعة: الأولى، 1400 هـ
عدد الصفحات: 29
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং তা অস্বীকারকারীর কুফরি বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
কিতাব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং তা অস্বীকারকারীর কুফরি
লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ [ওফাত ১৪২০ হিজরি]
প্রকাশক: ইসলামিক বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: -)
[المقدمة]وجوب العمل بسنة الرسول صلى الله عليه وسلم وكفر من أنكرها تأليف سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله
[ভূমিকা]রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে তার কুফর (كفر); রচনায়: মহামান্য শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على عبده ورسوله نبينا محمد المرسل رحمة للعالمين، وحجة على العباد أجمعين، وعلى آله وأصحابه الذين حملوا كتاب ربهم سبحانه وسنَّة نبيهم صلى الله عليه وسلم إِلى من بعدهم، بغاية الأمانة والإتقان، والحفظ التام للمعاني والألفاظ رضي الله عنهم وأرضاهم - وجعلنا من أتباعهم بإِحسان.
أما بعد: فقد أجمع العلماء قديمًا وحديثًا على أن الأصول المعتبرة في إِثبات الأحكام، وبيان الحلال والحرام في كتاب الله العزيز الذي لا يأتيه الباطل من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ-এর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং সকল সৃষ্টির ওপর অকাট্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা তাঁদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব এবং তাঁদের নবীর সুন্নাহকে অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও নিপুণতার সাথে এবং অর্থ ও শব্দের পূর্ণ হেফাযতের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন; আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করুন—আর তিনি আমাদেরকেও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
অতঃপর: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, বিধানাবলী সাব্যস্ত করার এবং হালাল ও হারামের বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য মূলনীতিসমূহ (الأصول المعتبرة) হলো আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাব, যার কাছে কোনো বাতিল আসতে পারে না...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
بين يديه ولا من خلفه، ثم سنَّة رسول الله عليه الصلاة والسلام الذي لا ينطق عن الهوى إِن هو إِلا وحي يوحى، ثم إِجماع علماء الأمة، واختلف العلماء في أصول أخرى أهمها القياس وجمهور أهل العلم على أنه حجة إِذا استوفى شروطه المعتبرة، والأدلة على هذه الأصول أكثر من أن تحصر وأشهر من أن تذكر:
[الأصول المعتبرة في إِثبات الأحكام]
[الأصل الأول كتاب الله العزيز]أما الأصل الأول: فهو كتاب الله العزيز، وقد دل كلام ربنا عز وجل في مواضع من كتابه على وجوب اتباع هذا الكتاب والتمسك به والوقوف عند حدوده قال تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} [الأعراف: 3] وقال تعالى: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأنعام: 155]
(তার সম্মুখ বা পশ্চাৎ থেকে কোনো অসত্য সেখানে প্রবেশ করতে পারে না), অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة), যিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না; তা তো কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়। এরপর উম্মতের আলেমদের ইজমা (إجماع)। আলেমগণ অন্যান্য উসুলের (أصول) বিষয়ে মতভেদ করেছেন যার মধ্যে প্রধান হলো কিয়াস (القياس); আর জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেম একে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করেছেন যখন এটি তার গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি পূরণ করে। আর এই উসুলগুলোর (أصول) সপক্ষে দলিলসমূহ (الأدلة) সীমাবদ্ধ করার চেয়েও অধিক এবং উল্লেখ করার চেয়েও অধিক প্রসিদ্ধ।
[আহকাম (أحكام) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উসুলসমূহ (الأصول)]
[প্রথম উসুল (الأصل الأول): আল্লাহর সুমহান কিতাব]প্রথম উসুল (الأصل) প্রসঙ্গে: তা হলো আল্লাহর সুমহান কিতাব। আমাদের প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লার বাণী তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এই কিতাবের অনুসরণ করা, একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং এর সীমার মধ্যে অবস্থান করার আবশ্যকতা নির্দেশ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো} [আল-আরাফ: ৩] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও} [আল-আনআম: ১৫৫]
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ - يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [المائدة: 15 - 16] وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ - لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 41 - 42] وقال تعالى: {وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} [الأنعام: 19] وقال تعالى: {هَذَا بَلَاغٌ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ} [إبراهيم: 52] والآيات في هذا المعنى كثيرة وقد جاءت الأحاديث الصحاح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم آمرة بالتمسّك بالقرآن والاعتصام به دالة على أن من تمسك به كان على الهدى ومن تركه كان على
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর অনুমতিতে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [আল-মায়েদাহ: ১৫ - ১৬] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা উপদেশ আসার পর তা অস্বীকার করে (তারা পথভ্রষ্ট), আর এটি তো এক মহা সম্মানিত কিতাব। এতে সম্মুখ বা পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [ফুসসিলাত: ৪১ - ৪২] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী করা হয়েছে যাতে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকে এর দ্বারা সতর্ক করতে পারি} [আল-আনআম: ১৯] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এটি মানুষের জন্য এক বার্তা, যাতে এর মাধ্যমে তাদের সতর্ক করা হয়} [ইবরাহিম: ৫২] এই মর্মে আয়াত অনেক। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনেক বিশুদ্ধ (صحاح) হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা কুরআনকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার ও একে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেয় এবং এ কথার প্রমাণ পেশ করে যে, যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরবে সে হেদায়েতের ওপর থাকবে, আর যে একে বর্জন করবে সে...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
الضلال ومن ذلك ما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال في خطبته في حجة الوداع: «إِنِّي تاركٌ فيكُمْ مَا لَنْ تضلوا إِن اعْتَصَمْتُمْ بِهِ كِتَابَ اللهِ» ، رواه مسلم في صحيحه، وفي صحيح مسلم أيضا عن زيد بن أرقم رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنِّي تارك فِيكُمْ ثِقْلَين أَوَّلهُما كِتابُ الله فيهِ الهُدَى والنُّور فَخُذوا بِكتَابِ اللهِ وَتَمَسّكُوا بِهِ» ، فحث على كتاب الله ورغب فيه ثم قال: «وَأَهْلُ بَيْتي أذَكِّركُمُ الله في أهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي» ، وفي لفظ قال في القرآن: «هو حبل الله من تمسك به كان على الهدى ومن تركه كان على الضلال» .
والأحاديث في هذا المعنى كثيرة، وفي إِجماع أهل العلم والإِيمان من الصحابة ومن بعدهم على
ভ্রষ্টতা; আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না, আর তা হলো আল্লাহর কিতাব", এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা (رواه) করেছেন। সহিহ মুসলিম-এ যায়েদ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি অতি মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি, যার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব; এতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো", অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করলেন এবং বললেন: "আর আমার আহলে বাইত; আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি"। অন্য এক শব্দে (لفظ) কুরআনের বর্ণনায় এসেছে: "এটি আল্লাহর রশি; যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরবে সে হেদায়েতের ওপর থাকবে, আর যে একে বর্জন করবে সে ভ্রষ্টতার ওপর থাকবে।"
এই মর্মের হাদিসসমূহ অনেক; আর সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের ইলম ও ঈমানদার ব্যক্তিদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وجوب التمسك بكتاب الله والحكم به والتحاكم إِليه مع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يكفي ويشفي عن الإِطالة في ذكر الأدلة الواردة في هذا الشأن.
[الأصل الثاني ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه ومن بعدهم] من أهل العلم والإِيمان
[مما ورد في ذلك من الآيات]أما الأصل الثاني: - من الأصول الثلاثة المجمع عليها فهو ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ومن بعدهم من أهل العلم والإِيمان، يؤمنون بهذا الأصل الأصيل ويحتجون به ويعلمونه الأمة، وقد ألفوا في ذلك المؤلفات الكثيرة وأوضحوا ذلك في كتب أصول الفقه والمصطلح، والأدلة على ذلك لا تحصى كثرة، فمن ذلك ما جاء في كتاب الله العزيز من الأمر باتباعه وطاعته، وذلك موجه إِلى أهل عصره ومن بعدهم لأنه رسول الله إِلى الجميع، ولأنهم
আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা এবং এর বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা ও ফয়সালার জন্য এর শরণাপন্ন হওয়া এবং সেই সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অপরিহার্যতা বিষয়ে বর্ণিত দলিলসমূহ বিশদভাবে আলোচনার জন্য যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত।
[দ্বিতীয় মূলনীতি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী] জ্ঞান ও ঈমানদারগণের নিকট যা বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত হয়েছে।
[এ বিষয়ে যে সকল আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে]দ্বিতীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে—এটি ঐকমত্যপূর্ণ (مجمع عليه) তিনটি মূলনীতির অন্যতম—আর তা হলো যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী জ্ঞান ও ঈমানদারগণের নিকট বিশুদ্ধ (صح) হিসেবে প্রমাণিত। তাঁরা এই সুদৃঢ় মূলনীতির ওপর ঈমান পোষণ করেন, একে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেন এবং উম্মাহকে এটি শিক্ষা দেন। তাঁরা এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং উসূলুল ফিকহ ও পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এ সংক্রান্ত দলিলসমূহ অগণিত। তার মধ্যে মহান আল্লাহর কিতাবে তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য করার যে নির্দেশ এসেছে তা অন্যতম। এই নির্দেশ তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সকলের প্রতি নির্দেশিত, কেননা তিনি সকলের প্রতি প্রেরিত আল্লাহর রাসুল এবং যেহেতু তাঁরা
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
مأمورون باتباعه وطاعته حتى تقوم الساعة، ولأنه عليه الصلاة والسلام هو المفسر لكتاب الله والمبين لما أجمل فيه بأقواله وأفعاله وتقريره، ولولا السنَّة لم يعرف المسلمون عدد ركعات الصلوات وصفاتها وما يجب فيها، ولم يعرفوا تفصيل أحكام الصيام والزكاة والحج والجهاد والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ولم يعرفوا تفاصيل أحكام المعاملات والمحرمات وما أوجب الله بها من حدود وعقوبات.
ومما ورد في ذلك من الآيات قوله تعالى في سورة آل عمران: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [آل عمران: 132] وقوله تعالى في سورة النساء:
কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আর এ কারণে যে, তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) হলেন আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী এবং তাঁর বাণী (قول), কর্ম (فعل) ও মৌনসম্মতি (تقرير)-এর মাধ্যমে এতে সংক্ষেপে বর্ণিত বিষয়সমূহের বিশদ বর্ণনাকারী। সুন্নাহ না থাকলে মুসলিমগণ সালাতের রাকাত সংখ্যা, তার নিয়মাবলি এবং তাতে যা আবশ্যক তা জানতে পারত না; তারা সিয়াম, জাকাত, হজ, জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত বিধিবিধানের বিস্তারিত বিবরণ জানতে পারত না এবং তারা লেনদেন ও হারাম বিষয়সমূহের বিধিবিধানের বিস্তারিত এবং আল্লাহ এগুলোর ক্ষেত্রে যেসব নির্ধারিত দণ্ড (حدود) ও শাস্তি আবশ্যক করেছেন তাও জানতে পারত না।
এ বিষয়ে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে সূরা আল-ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়" [আল-ইমরান: ১৩২] এবং সূরা আন-নিসায় মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59]
وقال تعالى في سورة النساء أيضًا: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} [النساء: 80] وكيف تمكن طاعته ورد ما تنازع فيه الناس إِلى كتاب الله وسنَّة رسوله إِذا كانت سنَّته لا يحتج بها أو كانت كلها غير محفوظة، وعلى هذا القول يكون الله قد أحال عباده إِلى شيء لا وجود له وهذا من أبطل الباطل ومن أعظم الكفر بالله وسوء الظن به، وقال عز وجل في سورة النحل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44]
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশালীদের আনুগত্য করো। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করো। এটিই শ্রেষ্ঠ এবং পরিণামে সর্বোত্তম।} [আন-নিসা: ৫৯]
মহান আল্লাহ সূরা আন-নিসায় আরও ইরশাদ করেছেন: {যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে প্রেরণ করিনি।} [আন-নিসা: ৮০] আর তাঁর আনুগত্য করা এবং মানুষের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়গুলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করানো কীভাবে সম্ভব হবে, যদি তাঁর সুন্নাহ দলীল হিসেবে গ্রহণের অযোগ্য (لا يحتج بها) হয় অথবা যদি তা সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত না থাকে? এমতাবস্থায় এ কথা মেনে নেওয়ার অর্থ দাঁড়াবে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এমন এক বিষয়ের দিকে নির্দেশ দিয়েছেন যার কোনো অস্তিত্ব নেই। আর এটি বাতিলসমূহের মধ্যে জঘন্যতম বাতিল এবং আল্লাহর প্রতি কুফরি ও তাঁর সম্পর্কে চরম মন্দ ধারণার অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ সূরা আন-নাহলে ইরশাদ করেছেন: {আমি আপনার প্রতি ‘জিকর’ অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} [আন-নাহল: ৪৪]
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقال فيها أيضاً آية: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [النحل: 64] فكيف يكل الله سبحانه إِلى رسوله صلى الله عليه وسلم تبيين المنزل إِليهم وسنَّته لا وجود لها أو لا حجة فيها؟ ومثل ذلك قوله تعالى في سورة النور: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [النور: 54] وقال تعالى في السورة نفسها: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [النور: 56]
وقال في سورة الأعراف:
এবং তিনি তাতে আরও একটি আয়াত উল্লেখ করেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি এই কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি তাদের নিকট ওই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমতস্বরূপ।} [আন-নাহল: ৬৪] সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কীভাবে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ বিষয়ের ব্যাখ্যার দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন, যদি তাঁর সুন্নাহর কোনো অস্তিত্বই না থাকে অথবা তাতে কোনো প্রামাণিক দলিল (حجة) না থাকে? অনুরূপভাবে সূরা আন-নূরে আল্লাহ তায়ালার বাণী: {বলুন, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।} [আন-নূর: ৫৪] এবং তিনি একই সূরায় আরও ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।} [আন-নূর: ৫৬]
এবং তিনি সূরা আল-আরাফে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158]
وفي هذه الآيات الدلالة الواضحة على أن الهداية والرحمة في اتباعه عليه الصلاة والسلام وكيف يمكن ذلك مع عدم العمل بسنَّته أو القول بأنه لا صحة لها أو لا يعتمد عليها، وقال عز وجل في سورة النور: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] وقال في سورة الحشر: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] والآيات في هذا المعنى كثيرة وكلها تدل على وجوب طاعته عليه الصلاة والسلام واتباع ما جاء به كما
{বলুন, “হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল; যাঁর মালিকানায় রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসুল সেই নিরক্ষর নবীর প্রতি ঈমান আনো, যিনি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যেন তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।”} [আল-আরাফ: ১৫৮]
এই আয়াতসমূহে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, হিদায়াত ও রহমত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। আর তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল না করে কিংবা সুন্নাহর কোনো বিশুদ্ধতা (صحة) নেই অথবা এর ওপর নির্ভর করা যায় না বলে দাবি করার মাধ্যমে কীভাবে তা সম্ভব হতে পারে? মহান আল্লাহ সূরা আন-নূরে বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপদ নেমে আসবে কিংবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} [আন-নূর: ৬৩] এবং তিনি সূরা আল-হাশরে বলেন: {রাসুল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭] এই মর্মে আরও বহু আয়াত রয়েছে এবং এই সবগুলোই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করা এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণ করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে, যেমন...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
سبقت الأدلة على وجوب اتباع كتاب الله والتمسك به وطاعة أوامره ونواهيه وهما أصلان متلازمان من جحد واحدًا منهما فقد جحد الآخر وكذب به وذلك كفر وضلال وخروج عن دائرة الإِسلام بإجماع أهل العلم والإِيمان.
[مما ورد في ذلك من الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم]وقد تواترت الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في وجوب طاعته واتباع ما جاء به وتحريم معصيته وذلك في حق من كان في عصره وفي حق من يأتي بعده إِلى يوم القيامة، ومن ذلك ما ثبت عنه في الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ أَطَاعَنِي فَقد أَطَاعَ الله ومَن عَصَانِي فقد عَصَى الله» ، وفي صحيح البخاري عنه رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كلّ أمَّتي يَدخُلونَ
আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করা, তা আঁকড়ে ধরা এবং এর আদেশ ও নিষেধ মান্য করার আবশ্যকতা সম্পর্কে ইতিপূর্বে প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে। এ দুটি এমন দুটি অবিচ্ছেদ্য মূলনীতি (أصلان), যার একটিকে কেউ অস্বীকার করলে সে অন্যটিকেও অস্বীকার করল এবং তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আহলে ইলম ও ঈমানদারদের ঐকমত্যে (إجماع) এটি কুফর, পথভ্রষ্টতা এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়ার নামান্তর।
[এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ]রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করা এবং তাঁর অবাধ্য হওয়া হারাম হওয়ার বিষয়ে হাদিসসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (تواترت) হয়েছে। এটি তাঁর সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে আগত সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে সহীহাইনে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো», এবং সহীহ বুখারীতে তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার সকল উম্মত প্রবেশ করবে...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الجنةَ إِلا مَن أَبَى قِيلَ يا رسولَ اللهِ ومَن يَأبَى قَالَ مَن أَطَاعَني دَخَلَ الجنة ومَن عَصَاني فَقد أَبَى» ، وخرج أحمد وأبو داود، والحاكم بإِسناد صحيح عن المقدام بن معدي كرب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أَلا إٍني أوتِيتُ الكِتابَ ومِثْلَه مَعَهُ أَلا يُوشِكُ رَجلٌ شَبْعانُ على أريكَتِهِ يَقولُ عَليكمْ بِهذا القُرآنِ فَما وَجَدْتُمْ فيهِ مِن حَلال فأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُم فيِه مِن حَرامٍ فَحَرِّمُوهُ» .
وخرج أبو داود، وابن ماجه بسند صحيح: عن ابن أبي رافع عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا أَلْفَينَّ أَحَدَكُم مُتّكِئًا عَلى أَريكتِهِ يَأتِيهِ الأمْرُ مِن أَمْري مَمّا أَمَرْتُ بِهِ أو نَهَيْتُ عَنْهُ فَيقولُ لا ندْري، ما وَجَدْنا في كِتابِ اللهِ اتَّبَعْنَاه» .
"(জান্নাতে প্রবেশ করবে) কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যে অস্বীকার করে। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই অস্বীকার করল।" আহমাদ, আবু দাউদ এবং হাকীম একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং এতে যা হারাম পাবে তা-ই হারাম হিসেবে বর্জন করো।"
আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে ইবনে আবি রাফে’ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার আসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ বা নিষেধ সম্বলিত নির্দেশ পৌঁছাল আর সে বলল—আমরা জানি না; আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি।"
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وعن الحسن بن جابر قال سمعت المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه يقول: «حَرّمَ رَسولُ الله صلى الله عليه وسلم يومَ خَيْبَر أَشْياءَ ثم قَالَ يُوشِكُ أَحَدُكُم أَن يُكذِّبَني وَهو مُتّكِئ يُحًدّث بحدِيثي فَيقولُ بَيْنَنا وَبَيْنكُم كِتابُ اللهِ فما وَجَدْنَا فِيهِ من حَلالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنا فيه من حَرام حَرّمْنَاهُ أَلا إِنَّ مَا حَرّمَ رسُولُ اللهِ مِثْلُ مَا حَرّمَ الله» أخرجه الحاكم والترمذي وابن ماجه بإِسناد صحيح. وقد تواترت الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بأنه كان يوصي أصحابه في خطبته أن يبلغ شاهدهم غائبهم ويقول لهم ربّ مبلغ أوعى من سامع ومن ذلك ما في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم لما خطب الناس في حجة الوداع في يوم عرفة وفي يوم النحر قال لهم:
হাসান বিন জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মিকদাম বিন মা’দী কারিব (রা.)-কে বলতে শুনেছি: “রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বারের যুদ্ধের দিন কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন: শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির উদ্ভব হবে, যে তার আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় থাকবে এবং তার কাছে যখন আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হবে, তখন সে আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং বলবে— ‘আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই (যথেষ্ট) রয়েছে; তাতে আমরা যা হালাল পাবো তাকেই হালাল হিসেবে গ্রহণ করবো এবং যা হারাম পাবো তাকেই হারাম হিসেবে গ্রহণ করবো।’ সাবধান! আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়েরই অনুরূপ।” এটি হাকেম, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনাধারা (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত (تواترت) হয়েছে যে, তিনি তাঁর ভাষণে সাহাবীদের অসিয়ত করতেন যেন উপস্থিত ব্যক্তিরা অনুপস্থিতদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়। তিনি তাঁদের বলতেন: “হয়তো এমন কারো কাছে সংবাদ পৌঁছানো হবে যে সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সমঝদার।” এরই উদাহরণ হলো সহিহাইন-এ বর্ণিত সেই হাদিস, যেখানে নবী (সা.) বিদায় হজের সময় আরাফাতের দিনে ও কোরবানির দিনে লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
«فليبلغ الشاهد الغائب فرب من يبلغه أوعى له ممن سمعه» ، فلولا أن سنَّته حجة على من سمعها وعلى من بلغته، ولولا أنها باقية إِلى يوم القيامة لم يأمرهم بتبليغها، فعلم بذلك أن الحجة بالسنة قائمة على من سمعها من فيه عليه الصلاة والسلام وعلى من نقلت إِليه بالأسانيد الصحيحة.
وقد حفظ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم سنته عليه الصلاة والسلام القولية والفعلية وبلغوها من بعدهم من التابعين ثم بلغها التابعون من بعدهم، وهكذا نقلها العلماء الثقات جيلًا بعد جيل وقرنًا بعد قرن، وجمعوها في كتبهم وأوضحوا صحيحها من سقيمها، ووضعوا لمعرفة ذلك قوانين وضوابط معلومة بينهم
«উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়, কারণ অনেক সময় যার নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।» যদি তাঁর সুন্নাহ শ্রবণকারী এবং যার নিকট পৌঁছেছে তাদের জন্য দলিল (حجة) না হতো এবং তা যদি কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট না থাকত, তবে তিনি তাদের তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন না। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল (الحجة) ঐ ব্যক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে তা সরাসরি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে শুনেছেন এবং ঐ ব্যক্তির ওপরও যার নিকট তা সহিহ (الصحيحة) সনদের (الأسانيد) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁর কথা ও কাজ সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ করেছেন এবং তা তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। এরপর তাবেয়ীগণ তাঁদের পরবর্তীদের নিকট তা পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবেই নির্ভরযোগ্য (الثقات) আলেমগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং যুগের পর যুগ তা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এসব নিজ নিজ কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন এবং তার সঠিক (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) অংশগুলো স্পষ্ট করেছেন। আর এগুলো চেনার জন্য তাঁরা নিজেদের মধ্যে সুপরিচিত কিছু মূলনীতি ও নিয়মাবলী নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يعلم بها صحيح السنَّة من ضعيفها وقد تداول أهل العلم كتب السنة من الصحيحين وغيرهما وحفظوها حفظًا تامًا كما حفظ الله كتابه العزيز من عبث العابثين وإلحاد الملحدين وتحريف المبطلين تحقيقًا لما دل عليه قوله سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] ولا شك أن سنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم وحي منزل فقد حفظها الله كما حفظ كتابه وقيض الله لها علماء نقادًا، ينفون عنها تحريف المبطلين وتأويل الجاهلين ويذبون عنها كل ما ألصقه بها الجاهلون والكذابون والملحدون لأن الله سبحانه جعلها تفسيرًا لكتابه الكريم وبيانًا لما أجمل فيه من الأحكام وضمنها أحكامًا أخرى لم ينص عليها الكتاب العزيز،
এর মাধ্যমে সুন্নাহর বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) অংশ সম্পর্কে জানা যায়। আলেম সমাজ সহিহাইন ও অন্যান্য সুন্নাহর কিতাবসমূহ চর্চা করেছেন এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণ করেছেন, ঠিক যেভাবে আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবকে অনর্থক অপব্যবহারকারীদের চপলতা, ধর্মবিদ্বেষীদের নাস্তিকতা এবং বাতিলপন্থীদের বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন। এটি মূলত মহান আল্লাহর সেই বাণীরই বাস্তব রূপ যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ (জিকির) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহও একটি অবতীর্ণ ওহি। তাই আল্লাহ যেভাবে তাঁর কিতাবকে সংরক্ষণ করেছেন, সুন্নাহকেও সেভাবেই হিফাজত করেছেন। আল্লাহ এই সুন্নাহর জন্য এমন কিছু সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক (نقاد) আলেম মনোনীত করেছেন, যারা তা থেকে বাতিলপন্থীদের বিকৃতি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। আর মূর্খ, মিথ্যাবাদী (كذابون) ও ধর্মবিদ্বেষীরা সুন্নাহর সাথে যা কিছু যুক্ত করেছে, তারা তা প্রতিহত করেন। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুন্নাহকে তাঁর সম্মানিত কিতাবের ব্যাখ্যা এবং কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; এবং এতে এমন অনেক বিধানও অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা পবিত্র কিতাবে সরাসরি বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كتفصيل أحكام الرضاع وبعض أحكام المواريث وتحريم الجمع بين المرأة وعمتها وبين المرأة وخالتها إِلى غير ذلك من الأحكام التي جاءت بها السنَّة الصحيحة ولم تذكر في كتاب الله العزيز.
[مما ورد في ذلك عن الصحابة والتابعين ومن بعدهم من أهل العلم]ذكر بعض ما ورد عن الصحابة والتابعين ومن بعدهم من أهل العلم في تعظيم السنة ووجوب العمل بها. . في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: لما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وارتد من ارتد من العرب قال أبو بكر الصديق رضي الله عنه: والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة فقال له عمر رضي الله عنه: كيف تقاتلهم وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أمِرْتُ أَنْ أقَاتِلَ النَّاسَ حَتى يَقُولُوا لا إِلهَ إِلا الله فَإِذا قَالوها عَصَمُوا مِني دِمَاءَهُم
যেমন দুগ্ধপানের বিধানের বিস্তারিত বর্ণনা, উত্তরাধিকারের কিছু বিধান এবং একই সাথে কোনো নারী ও তার ফুফুকে কিংবা কোনো নারী ও তার খালাকে বিবাহ করার নিষিদ্ধতা; এছাড়া এমন আরও অনেক বিধান যা সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে কিন্তু মহান আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত হয়নি।
[এ বিষয়ে সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে]সুন্নাহর মর্যাদা এবং এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা সম্পর্কে সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হলো। সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আরবদের মধ্যে যারা ধর্মত্যাগী (مرتد) হওয়ার ছিল তারা ধর্মত্যাগী হলো, তখন আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।" তখন ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: "আপনি তাদের সাথে কীভাবে যুদ্ধ করবেন? অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত নিরাপদ করে নিল'।"
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَأَموَالَهُم إِلا بحقَّها» ؛ فقال أبو بكر الصديق: أليست الزكاة من حقها والله لو منعوني عناقاً كانوا يؤدونها إِلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعها فقال عمر رضي الله عنه: فما هو إِلا أن عرفت أن الله قد شرح صدر أبي بكر للقتال فعرفت أنه الحق، وقد تابعه الصحابة رضي الله عنهم على ذلك فقاتلوا أهل الردة حتى ردوهم إِلى الإِسلام وقتلوا من أصر على ردته، وفي هذه القصة أوضح دليل على تعظيم السنَّة ووجوب العمل بها، وجاءت الجدة إِلى الصديق رضي الله عنه تسأله عن ميراثها فقال لها: ليس لك في كتاب الله شيء ولا أعلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى لك بشيء وسأسأل الناس ثم سأل رضي الله عنه الصحابة
...এবং তাদের সম্পদ, তবে তার হক (حق) ব্যতীত।" তখন আবু বকর সিদ্দিক বললেন: "যাকাত কি তার হকের (حق) অন্তর্ভুক্ত নয়? আল্লাহর শপথ, তারা যদি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট প্রদান করত এমন একটি ছাগলছানা দিতেও আমাকে অস্বীকার করে, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।" তখন উমর (রা.) বললেন: "আমি কেবল এটিই অনুধাবন করেছি যে, আল্লাহ তাআলা আবু বকরের বক্ষকে যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং আমি বুঝতে পেরেছি যে এটিই সত্য।" সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ (متابعة) করলেন এবং তাঁরা মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তাঁরা তাদেরকে ইসলামের দিকে ফিরিয়ে আনলেন এবং যারা তাদের ধর্মত্যাগের ওপর অটল ছিল তাদেরকে হত্যা করলেন। এই ঘটনার মধ্যে সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার ওপর আমল করার আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে সুস্পষ্ট দলিল (دليل) রয়েছে। জনৈকা দাদি সিদ্দিক (রা.)-এর নিকট এসে তাঁর মিরাস (ميراث) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে বললেন: "আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই এবং আমি জানি না যে আল্লাহর রাসুল (সা.) তোমার জন্য কোনো ফয়সালা (قضاء) করেছেন কি না। অচিরেই আমি লোকজনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব।" এরপর তিনি (রা.) সাহাবায়ে কেরামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فشهد عنده بعضهم بأن النبي صلى الله عليه وسلم أعطى الجدة السدس قضى لها بذلك، وكان عمر رضي الله عنه يوصي عماله أن يقضوا بين الناس بكتاب الله فإِن لم يجدوا القضية في كتاب الله فبسنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولما أشكل عليه حكم إِملاص المرأة وهو إِسقاطها جنينًا ميتًا بسبب تعدي أحد عليها سأل الصحابة رضي الله عنهم عن ذلك فشهد عنده محمد بن مسلمة والمغيرة بن شعبة رضي الله عنهما بأن النبي صلى الله عليه وسلم قضى في ذلك بغرة عبد أو أمة فقضى بذلك رضي الله عنه. ولما أشكل على عثمان رضي الله عنه حكم اعتداد المرأة في بيتها بعد وفاة زوجها وأخبرته فريعة بنت مالك بن سنان أخت أبي سعيد رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم -
অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁর নিকট সাক্ষ্য দিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদিকে (উত্তরাধিকারের) এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন, তাই তিনি সেই অনুযায়ী ফয়সালা করেন। ওমর (রা.) তাঁর গভর্নরদের এই মর্মে নির্দেশ দিতেন যেন তাঁরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী মানুষের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করেন; আর যদি তাঁরা আল্লাহর কিতাবে সেই ফয়সালা না পান, তবে যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী ফয়সালা করেন। আর যখন তাঁর নিকট মহিলার 'ইমলাস' (গর্ভপাত)-এর বিধানটি—অর্থাৎ কারও আঘাতের কারণে মৃত ভ্রূণ প্রসব করা—অস্পষ্ট হলো, তখন তিনি সাহাবীগণের নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ এবং মুগীরা ইবনে শু'বাহ (রা.) তাঁর কাছে সাক্ষ্য দিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ক্ষেত্রে একটি গোলাম বা দাসী প্রদানের ফয়সালা দিয়েছেন। তখন তিনি (ওমর রা.) সে অনুযায়ীই ফয়সালা প্রদান করলেন। একইভাবে যখন উসমান (রা.)-এর নিকট স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলার নিজ ঘরে ইদ্দত পালনের বিধানটি অস্পষ্ট হলো এবং আবু সাঈদ (রা.)-এর বোন ফুরাইআ বিনতে মালিক ইবনে সিনান (রা.) তাঁকে অবহিত করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
أمرها بعد وفاة زوجها أن تمكث في بيته حتى يبلغ الكتاب أجله قضى بذلك رضي الله عنه وهكذا قضى بالسنَّة في إِقامة حد الشرب على الوليد بن عقبة، ولما بلغ عليًّا رضي الله عنه أن عثمان رضي الله عنه ينهى عن متعة الحج أهل علي رضي الله عنه بالحج والعمرة جميعاً وقال لا أدع سنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم لقول أحد من الناس، ولما احتج بعض الناس على ابن عباس رضي الله عنهما في متعة الحج بقول أبي بكر وعمر رضي الله عنهما في تحبيذ إِفراد الحج قال ابن عباس يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقولون قال أبو بكر وعمر، فإِذا كان من خالف السنَّة لقول أبي بكر وعمر تخشى عليه
স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাকে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন যেন তিনি তাঁর গৃহে অবস্থান করেন যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় (أجل) পূর্ণ হয়। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেভাবেই ফয়সালা দিয়েছিলেন। একইভাবে তিনি ওয়ালিদ ইবনে উকবার ওপর মদ্যপানের দণ্ড (حد) কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করেছিলেন। যখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হজ্জে তামাত্তু (متعة) থেকে নিষেধ করছেন, তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হজ্জ ও উমরাহ উভয়েরই ইহরাম বাঁধলেন এবং বললেন, "আমি কোনো ব্যক্তির কথার কারণে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) বর্জন করব না।" আর যখন ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট হজ্জে তামাত্তু (متعة) প্রসঙ্গে আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হজ্জে ইফরাদ (إفراد) এর স্বপক্ষে অবস্থানের মাধ্যমে যুক্তি প্রদর্শন করা হলো, তখন ইবনে আব্বাস বললেন, "অচিরেই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হতে পারে! আমি তোমাদের বলছি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আর তোমরা বলছ আবু বকর ও উমর বলেছেন!" সুতরাং, আবু বকর ও উমরের উক্তির দোহাই দিয়ে যে ব্যক্তি সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতা করে, তার পরিণতির ব্যাপারে যদি এমন আশঙ্কা করা হয়...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
العقوبة فكيف بحال من خالفها لقول من دونهما أو لمجرد رأيه واجتهاده، ولما نازع بعض الناس عبد الله بن عمر رضي الله عنهما في بعض السنة قال له عبد الله: هل نحن مأمورون باتباع عمر أو باتباع السنة؟ ولما قال رجل لعمران بن حصين رضي الله عنهما: حدثنا عن كتاب الله وهو يحدثهم عن السنة غضب رضي الله عنه وقال: إِن السنَّة هي تفسير كتاب الله ولولا السنَّة لم نعرف أن الظهر أربع والمغرب ثلاث والفجر ركعتان ولم نعرف تفصيل أحكام الزكاة إِلى غير ذلك مما جاءت به السنة من تفصيل الأحكام، والآثار عن الصحابة رضي الله عنهم في تعظيم السنَّة ووجوب العمل بها والتحذير من مخالفتها كثيرة جدًّا، ومن
শাস্তি, সুতরাং তাদের অবস্থা কেমন হবে যারা তাঁদের (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের) নিম্নতর কোনো ব্যক্তির কথা অথবা কেবল নিজের ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) কারণে সুন্নাহর বিরোধিতা করে? যখন জনৈক ব্যক্তি কোনো একটি সুন্নাহর বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তর্কে লিপ্ত হলো, তখন আব্দুল্লাহ তাকে বললেন: "আমাদেরকে কি উমরের অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি সুন্নাহর অনুসরণ করার?" আর যখন এক ব্যক্তি ইমরান বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলল: "আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব থেকে বর্ণনা করুন", অথচ তিনি তাদের কাছে সুন্নাহ থেকে আলোচনা করছিলেন; তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই সুন্নাহ হলো আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা (تفسير)। যদি সুন্নাহ না থাকত, তবে আমরা জানতে পারতাম না যে যুহর চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত এবং ফজর দুই রাকাত। আমরা যাকাতের বিধানের বিস্তারিত বিবরণও জানতে পারতাম না। এছাড়া সুন্নাহর মাধ্যমে বর্ণিত বিধি-বিধানের অন্যান্য বিস্তারিত বর্ণনাও আমাদের অজানা থাকত।" সুন্নাহর সম্মান প্রদর্শন, এর ওপর আমল করা আবশ্যক হওয়া এবং এর বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্কবাণী সম্বলিত সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত আছার (آثار) এর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। এবং...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ذلك أيضاً أن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما لما حدَّث بقوله صلى الله عليه وسلم «لا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ» قال بعض أبنائه: والله لنمنعهن فغضب عليه عبد الله وسبه سبًّا شديدًا وقال: أقول قال رسول الله وتقول والله لنمنعهن، ولما رأى عبد الله بن المغفل المزني رضي الله عنه وهو من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بعض أقاربه يخذف نهاه عن ذلك وقال له إِن النبي صلى الله عليه وسلم «نهى الخذف وقال إٍنه لا يصيد صيدًا ولا ينكأ عدوا ولكنه يكسر السن ويفقأ العين» ثم رآه بعد ذلك يخذف فقال والله لا كلمتك أبدًا أخبرك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن الخذف ثم تعود؟ وأخرج البيهقي عن أيوب السختياني التابعي الجليل أنه قال: إذا حدثت الرجل بسنَّة فقال
অনুরূপ বিষয় এটিও যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণনা করলেন যে, «তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না», তখন তাঁর এক পুত্র বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই তাদেরকে বাধা দেব।’ এতে আব্দুল্লাহ তাঁর ওপর রাগান্বিত হলেন এবং তাঁকে অত্যন্ত কঠোরভাবে তিরস্কার করলেন। তিনি বললেন: ‘আমি বলছি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আর তুমি বলছ—আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই বাধা দেব!’ আর যখন আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুযানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যতম সাহাবী (أصحاب) ছিলেন—তাঁর এক আত্মীয়কে কাঁকর নিক্ষেপ করতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে তা থেকে নিষেধ করলেন এবং তাকে বললেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাঁকর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: «নিশ্চয়ই এটি কোনো শিকার ধরে না এবং শত্রুকেও আঘাত করে না; বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।» এরপর তিনি তাকে পুনরায় কাঁকর নিক্ষেপ করতে দেখে বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আমি তোমার সাথে কখনও কথা বলব না; আমি তোমাকে সংবাদ দিচ্ছি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাঁকর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, আর তুমি পুনরায় তা-ই করছ?’ এবং বায়হাকী মহান তাবেয়ী (التابعي الجليل) আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ‘যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে সুন্নাহ (سنَّة) বর্ণনা করবে এবং সে বলবে...’
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
دعنا من هذا، وأنبئنا عن القرآن فاعلم أنه ضال، وقال الأوزاعي رحمه الله السنَّة قاضية على الكتاب أو تقييد ما أطلقه أو بأحكام لم تذكر في الكتاب كما في قول الله سبحانه: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44] وسبق قوله صلى الله عليه وسلم: «أَلا إِني أوتِيتُ الكِتابَ ومثلَه مَعَهُ» ، وأخرج البيهقي عن عامر الشعبي رحمه الله أنه قال لبعض الناس: «إِنما هلكتم في حين تركتم الآثار» يعني بذلك الأحاديث الصحيحة، وأخرج البيهقي أيضاً عن الأوزاعي رحمه الله أنه قال لبعض أصحابه إِذا بلغك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث فإِياك أن تقول بغيره فإن رسول الله كان مبلغاً عن الله تعالى، وأخرج البيهقي عن الإِمام
আমাদেরকে এসব থেকে নিবৃত্ত করুন এবং কুরআন সম্পর্কে অবহিত করুন; তবে জেনে রাখুন যে সে পথভ্রষ্ট (ضال)। আল-আওযাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সুন্নাহ হলো কিতাব (কুরআন)-এর বিচারক (قاضية) স্বরূপ অথবা তা কিতাবের সাধারণ (مطلق) বক্তব্যকে সীমাবদ্ধ (تقييد)কারী কিংবা এমন সব বিধান প্রদানকারী যা কিতাবে বর্ণিত হয়নি; যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীতে রয়েছে: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} [আন-নাহল: ৪৪]। আর ইতিপূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে: “সাবধান! নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে”। বায়হাকি আমির আশ-শা’বি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কিছু লোককে বলেছিলেন: “তোমরা মূলত তখনই ধ্বংস হয়েছ যখন তোমরা আসার (الآثار) বর্জন করেছ”; এর মাধ্যমে তিনি সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহকে বুঝিয়েছেন। বায়হাকি আল-আওযাঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর জনৈক সঙ্গীকে বলেছিলেন: “যখন তোমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদিস পৌঁছে, তখন খবরদার! তুমি তা ছাড়া অন্য কিছু বলবে না, কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক”। এবং বায়হাকি ইমাম থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الجليل سفيان بن سعيد الثوري رحمه الله أنه قال إِنما العلم كله العلم بالآثار، وقال مالك رحمه الله ما منا إِلا راد ومردود عليه إِلا صاحب هذا القبر وأشار إِلى قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال أبو حنيفة رحمه الله: إِذا جاء الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعلى الرأس والعين وقال الشافعي رحمه الله: متى رويتُ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً صحيحاً فلم آخذ به فأشهدكم أن عقلي قد ذهب وقال أيضاً رحمه الله إِذا قلتُ قولا وجاء الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بخلافه فاضربوا بقولي الحائط، وقال الإِمام أحمد بن حنبل رحمه الله لبعض أصحابه: لا تقلدني ولا تقلد مالكاً ولا الشافعي وخذ من حيث أخذنا، وقال أيضاً رحمه الله: عجبتُ لقوم عرفوا
মহান সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "মূলত ইলম বা জ্ঞান হলো সম্পূর্ণরূপে আসার (الآثار) সংক্রান্ত জ্ঞান।" ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কথা প্রত্যাখ্যান করা হয় না বা যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয় না, কেবল এই কবরের অধিবাসী ব্যতীত।" আর তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইশারা করছিলেন। ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদিস আসে, তখন তা শিরোধার্য।" ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণনা করি এবং তা গ্রহণ না করি, তবে তোমরা সাক্ষী থেকো যে আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।" তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "যদি আমি কোনো কথা বলি এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস তার পরিপন্থী হয়, তবে আমার কথাকে তোমরা দেয়ালে নিক্ষেপ করো।" ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কোনো এক সাথীকে বলেছেন: "তুমি আমার অন্ধ অনুসরণ করো না এবং মালিক বা শাফেঈরও অন্ধ অনুসরণ করো না; বরং আমরা যেখান থেকে (উৎস) গ্রহণ করেছি তোমরাও সেখান থেকেই গ্রহণ করো।" তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "আমি সেই সম্প্রদায়ের জন্য বিস্ময়বোধ করি যারা চিনেছে..."
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الإِسناد وصحته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يذهبون إِلى سفيان والله سبحانه يقول: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] قال أتدري ما الفتنة؟ الفتنة الشرك لعله إِذا رد بعض قوله عليه الصلاة والسلام أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك، وأخرج البيهقي عن مجاهد بن جبر التابعي الجليل أنه قال في قوله سبحانه {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] قال: الرد إِلى الله إِلى كتابه والرد إِلى الرسول الرد إِلى السنَّة، وأخرج البيهقي عن الزهري رحمه الله أنه قال: كان من مضى من علمائنا يقولون الاعتصام بالسنَّة نجاة، وقال موفق الدين بن قدامة رحمه الله في كتابه روضة الناظر: في
সনদ (الإسناد) এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এর বিশুদ্ধতা (صحته) থাকা সত্ত্বেও তারা সুফিয়ানের অভিমতের দিকে যায়, অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} [সূরা আন-নূর: ৬৩]। তিনি বলেন, তুমি কি জানো ফিতনা (الفتنة) কী? ফিতনা (الفتنة) হলো শিরক; সম্ভবত যখন কেউ তাঁর (সা.) কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার অন্তরে কিছুটা বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে এবং সে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বায়হাকি মহান তাবেয়ি (التابعي) মুজাহিদ ইবনে জাবর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী—{যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [সূরা আন-নিসা: ৫৯]—সম্পর্কে বলেছেন: আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে এবং রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো সুন্নাহর (السنة) দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। বায়হাকি জুহরি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমাদের পূর্ববর্তী আলেমগণ বলতেন, সুন্নাহর (السنة) ওপর অবিচল থাকাই হলো মুক্তি। মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা (রহ.) তাঁর রাওদাতুন নাজির কিতাবে বলেছেন: ইনসাফের বর্ণনা দিতে গিয়ে...
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بيان أصول الأحكام ما نصه، والأصل الثاني من الأدلة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقول رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة لدلالة المعجزة على صدقه وأمر الله بطاعته وتحذيره من مخالفة أمره. انتهى المقصود، وقال الحافظ ابن كثير رحمه الله في تفسير قوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] أي عن أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو سبيله ومنهاجه وطريقته وسنَّته وشريعته فتوزن الأقوال والأعمال بأقواله وأعماله فما وافق ذلك قبل وما خالفه فهو مردود على قائله وفاعله كائناً من كان كما ثبت في الصحيحين وغيرهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا ليسَ عَليهِ أَمْرُنا فَهُوَ رَدّ» أي
বিধানের মূলনীতিসমূহের বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ হলো: দলীলসমূহের দ্বিতীয় মূল উৎস (أصل) হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হলো অকাট্য প্রমাণ (حجة), কেননা মুজিজা তাঁর সত্যতার প্রমাণ বহন করে এবং আল্লাহ তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন ও তাঁর আদেশের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। উদ্দিষ্ট বক্তব্য এখানেই শেষ। হাফিজ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী— {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} [সূরা আন-নূর: ৬৩]-এর তাফসীরে বলেন: অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ, যা হলো তাঁর পথ, তাঁর কর্মপন্থা, তাঁর পদ্ধতি, তাঁর সুন্নাহ (سنة) ও তাঁর শারীয়াহ। সুতরাং সকল কথা ও কাজকে তাঁর কথা ও কাজের নিরিখে পরিমাপ করা হবে। অতঃপর যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যা তার পরিপন্থী হবে তা প্রবক্তা ও সম্পাদনকারী যেই হোক না কেন, তার ওপর প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে। যেমনটি সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।" অর্থাৎ
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فليخشى وليحذر من خالف شريعة الرسول باطنًا وظاهرًا: {أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} [النور: 63] أي في قلوبهم من كفر أو نفاق أو بدعة {أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] أي في الدنيا بقتل أو حد أو حبس أو نحو ذلك، كما روى الإِمام أحمد حدثنا عبد الرزاق حدثنا معمر عن همام بن منبه قال هذا ما حدثنا أبو هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثَلي وَمثَلُكمْ كمَثَلِ رجلٍ اسْتَوْقَدَ ناراً فَلمّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهَا جَعَلَ الفراشُ وهَذِهِ الدّوابُّ اللائِي يَقَعْنَ في النَّار يَقَعْنَ فِيهّا وَجَعَلَ يَحْجُزُهُنّ وَيَغْلِبْنَهُ فَيَقْتحِمْنَ فِيَها قَالَ فَذَلِك مَثَلي وَمَثَلَكمْ أَنا آخُذُ بحَجْزِكُم عَن النَّار هَلُمّ عَن النارِ فَتَغْلِبُوني وَتقْتَحِمُونَ فِيهَا» أخرجاه من حديث عبد الرزاق وقال السيوطي
সুতরাং যারা বাহ্যিকভাবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে রাসূলের শরীয়তের বিরোধিতা করে, তারা যেন ভয় পায় এবং সতর্ক হয়: {পাছে তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হয়} [আন-নূর: ৬৩] অর্থাৎ তাদের অন্তরে কুফরি, নিফাক কিংবা বিদআত (بدعة) প্রবেশ করে; {অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হয়} [আন-নূর: ৬৩] অর্থাৎ দুনিয়াতে হত্যা, দণ্ডবিধি প্রয়োগ, কারাদণ্ড বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে। যেমনটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন—আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মা'মার বর্ণনা করেছেন হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটিই সেই যা আবু হুরায়রা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার ও তোমাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন প্রজ্বলিত করল। যখন সেটি তার চারপাশ আলোকিত করল, তখন পতঙ্গ ও অন্যান্য কীটগুলো তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে শুরু করল। সে সেগুলোকে বাধা দিচ্ছিল, কিন্তু তারা তাকে পরাস্ত করে আগুনেই ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। তিনি বললেন: এটিই আমার ও তোমাদের উদাহরণ; আমি তোমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য টেনে ধরছি আর বলছি 'আগুন থেকে সরে এসো', কিন্তু তোমরা আমাকে পরাস্ত করে আগুনেই ঝাঁপিয়ে পড়ছো।» তাঁরা উভয়ে এটি আবদুর রাজ্জাকের হাদিস হতে উদ্ধৃত (أخرجاه) করেছেন এবং সুয়ূতী বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
- رحمه الله في رسالته المسماة مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة ما نصه:
" اعلموا - رحمكم الله - أن من أنكر أن كون حديث النبي صلى الله عليه وسلم قولًا كان أو فعلًا بشرطه المعروف في الأصول حجة كفر وخرج عن دائرة الإِسلام وحشر مع اليهود والنصارى أو مع من شاء الله من فرق الكفرة " انتهى المقصود. والآثار عن الصحابة والتابعين ومن بعدهم من أهل العلم في تعظيم السنَّة ووجوب العمل بها والتحذير من مخالفتها كثيرة جدًّا وأرجو أن يكون في ما ذكرنا من الآيات والأحاديث والآثار كفاية ومقنع لطالب الحق ونسأل الله لنا ولجميع المسلمين التوفيق لما يرضيه والسلامة من أسباب
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর 'মিফতাহুল জান্নাহ ফীল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ' নামক পুস্তিকায় যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
"তোমরা জেনে রেখো—আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস, চাই তা কথা হোক বা কাজ, যা উসুল বা মূলনীতি (الأصول) শাস্ত্রের সুপরিচিত শর্তানুসারে দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত, তাকে দলিল হিসেবে অস্বীকার করে, তবে সে কুফরি করল এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেল। তার হাশর হবে ইহুদি ও নাসারাদের সাথে অথবা কাফেরদের অন্য যে কোনো দলের সাথে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তাদের সাথে।"—উদ্দিষ্ট বক্তব্য এখানেই শেষ। সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা এবং এর বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ সম্পর্কে সাহাবী, তাবেঈ এবং পরবর্তী আলেমদের থেকে বর্ণিত বর্ণনা (الآثار) অত্যন্ত সুপ্রচুর। আমি আশা করি, আমরা যে সকল আয়াত, হাদিস ও বর্ণনা (الآثار) উল্লেখ করেছি তা সত্য অন্বেষণকারীর জন্য যথেষ্ট ও সন্তোষজনক হবে। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য তাঁর সন্তোষজনক কাজের তাওফিক এবং সকল অনিষ্টের কারণসমূহ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
ওয়ুজুবুল আমালি বিসুন্নাতির রাসুলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া কুফরু মান আনকারাহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
غضبه، وأن يهدينا جميعاً صراطه المستقيم إِنه سميع قريب.
وصلى الله وسلم على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان.
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
رحمه الله
(তাঁর) ক্রোধ হতে, এবং তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর সরল পথে পরিচালিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।
আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন