(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: -)
قمع الدجاجلة الطاعنين في معتقد أئمة الإسلام الحنابلة   (عبد العزيز بن فيصل الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: قمع الدجاجلة الطاعنين في معتقد أئمة الإسلام الحنابلة

المؤلف: عبد العزيز بن فيصل الراجحي

الناشر: مطابع الحميضي - الرياض

الطبعة: الأولى، 1424 هـ

عدد الصفحات: 491

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামের ইমাম হাম্বলীগণের আকীদার আক্রমণকারী প্রতারকদের দমন   (আবদুল আজিজ বিন ফয়সাল আল-রাজহি)

বিভাগ: আকীদা


বই: ইসলামের ইমাম হাম্বলীগণের আকীদার আক্রমণকারী প্রতারকদের দমন

লেখক: আবদুল আজিজ বিন ফয়সাল আল-রাজহি

প্রকাশক: আল-হুমাইযি প্রেস - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯১

[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[أبيات من الشعر لإسماعيل الترمذي]

إذا ميز الأشياخ يوما وحصلوا … فأحمد من بين المشايخ جوهر

رقيق أديم الوجه حلو مهذب … إلى كل ذي تقوى وقور موقر

أبي إذا ما حاف ضيم مؤمر … ومر إذا ما خاشنوه مذكر

لعمرك ما يهوي لأحمد نكبة … من الناس إلا ناقص العقل معور

هو المحنة اليوم الذي يبتلى به … فيعتبر السني فينا ويسبر

شجي في حلوق الملحدين وقرة … لأعين أهل النسك عف مشمر

فقا أعين المراق فعل ابن حنبل … وأخرس من يبغي العيوب ويحقر

جرى سابقا في حلبة الصدق والتقي … كما سبق الطرف الجواد المضمر

إذا افتخر الأقوام يوما بسيد … فقيه لنا - والحمد لله - مفخر

فقل للألى يشنونه لصلاحه … ومحنته والله بالعذر يعذر

جعلتم فداء أجمعين لنعله … فإنكم منها أذل وأحقر

لريحانة القراء تبغون عثرة … وكلكم من جيفة الكلب أقذر

فيا أيها الساعي لتدرك شأوه … رويدك عن إدراكه ستقصر

تمسكن بالعلم الذي كان قد وعى … ولم يلهه عنه الخبيص المزعفر

حمى نفسه الدنيا وقد سنحت له … فمنزله إلا من القوت مقفر

فإن يك في الدنيا مقلا فإنه … من الأدب المحمود والعلم مكثر

فقل للألى حادوا معا عن طريقه … ولم يمكثوا حتى أجابوا وغيروا

فلا تأمنوا عقبى الذي قد أتيتم … فإن الذي جئتم ضلال مزور

إسماعيل الترمذي

قمع الدجاجلة

الطاعنين في معتقد أئمة الإسلام الحنابلة
[ইসমাইল আত-তিরমিজীর রচিত কিছু কাব্য পঙ্ক্তি]

যখন কোনো একদিন শায়খদের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ ও মূল্যায়ন করা হবে … তখন শায়খদের মধ্যে আহমাদ হবেন এক মহামূল্যবান মণি।

কোমল চেহারাবিশিষ্ট, মিষ্টভাষী ও সদাচারী … প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তির নিকট তিনি গম্ভীর ও পরম শ্রদ্ধেয়।

তিনি আপসহীন যখন কোনো শাসকের পক্ষ থেকে জুলুমের আশঙ্কা থাকে … আর তিনি তিক্ত ও কঠোর যখন বিরোধীরা তাঁর সাথে রূঢ় আচরণ করে।

আপনার জীবনের শপথ! আহমাদ-এর জন্য কোনো অমঙ্গল কেবল সেই কামনা করে … যে বুদ্ধিহীন ও বিকারগ্রস্ত।

তিনিই আজ সেই পরীক্ষার মানদণ্ড যার মাধ্যমে মানুষকে যাচাই করা হয় … এর মাধ্যমেই আমাদের মধ্যকার সুন্নী ব্যক্তিকে চেনা ও পরীক্ষা করা হয়।

তিনি নাস্তিক-বেদ্বীনদের গলায় বিঁধে থাকা কাঁটা স্বরূপ, আর ইবাদতগুজারদের চোখের শীতলতা … তিনি অত্যন্ত পবিত্র ও একনিষ্ঠ সাধক।

ইবন হানবালের দৃঢ়তা ধর্মত্যাগী বিদআতিদের চক্ষু উপড়ে ফেলেছে … আর সেই ব্যক্তিকে নির্বাক করে দিয়েছে যে দোষ অন্বেষণ করে ও তুচ্ছজ্ঞান করে।

সত্যবাদিতা ও তাকওয়ার ময়দানে তিনি অগ্রগামী হয়েছেন … যেভাবে সুপ্রশিক্ষিত তেজী ঘোড়া প্রতিযোগিতায় সকলকে ছাড়িয়ে যায়।

যখন কোনো সম্প্রদায় তাদের নেতাকে নিয়ে গর্ব করবে … তখন আমাদের ফকীহ-ই আমাদের গর্বের উৎস—সকল প্রশংসা আল্লাহর।

যারা তাঁর নেক আমল ও দৃঢ়তার কারণে তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তাদের বলে দিন … আল্লাহর কসম, পরীক্ষার মুখে তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ছিল।

তোমরা সবাই তাঁর জুতোর ওপর উৎসর্গ হও … কারণ তোমরা তাঁর জুতোর চেয়েও অধিক লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ।

ক্বারীদের এই সুগন্ধি ফুলের বিচ্যুতি তোমরা অন্বেষণ করছ … অথচ তোমরা সবাই কুকুরের পচা লাশের চেয়েও অধিক অপবিত্র।

হে তাঁর মর্যাদায় পৌঁছাতে সচেষ্ট ব্যক্তি! … ক্ষান্ত হও, তাঁর স্তরে পৌঁছাতে তুমি অবশ্যই ব্যর্থ হবে।

তিনি সেই ইলমকে আঁকড়ে ধরেছিলেন যা তিনি ধারণ করেছেন … আর জাফরান মিশ্রিত সুস্বাদু খাবার তাঁকে ইলম থেকে বিমুখ করতে পারেনি।

দুনিয়া তাঁর সামনে মূর্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ নফসকে তা থেকে রক্ষা করেছেন … ফলে তাঁর ঘর যৎসামান্য খাদ্যদ্রব্য ছাড়া শূন্যই ছিল।

পার্থিব সম্পদে তিনি রিক্তহস্ত হলেও … প্রশংসনীয় আদব ও ইলমের দিক থেকে তিনি ছিলেন ঐশ্বর্যবান।

যারা সকলে মিলে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের বলে দিন … যারা বিলম্ব না করেই বাতিলের ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং সত্যকে পরিবর্তন করেছে।

তোমরা যা করেছ তার পরিণতি সম্পর্কে নির্ভয় থেকো না … কারণ তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা হলো অলঙ্কৃত ভ্রষ্টতা।

ইসমাইল আত-তিরমিজী

দাজ্জালদের দমন

ইসলামের ইমাম হাম্বলীগণের আকীদার প্রতি যারা কটাক্ষ করে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
قمع الدجاجلة

الطاعنين في معتقد أئمة الإسلام الحنابلة (رد على حسن بن فرحان المالكي، في كتابه " قراءة في كتب العقائد ")
প্রতারকদের দমন

ইসলামের হাম্বলী ইমামগণের আকিদাহর ওপর অপবাদ দানকারীদের প্রতিবাদ (হাসান বিন ফারহান আল-মালিকির "আকিদাহর কিতাবসমূহে একটি পাঠ" নামক কিতাবের প্রত্যুত্তর)
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[تقديم معالي الشيخ العلامة الدكتور صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان]

تقديم معالي الشيخ العلامة الدكتور

صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

عضو هيئة كبار العلماء، وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين، نبيا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد:

فإن من حكمة الله - تعالى - وسنته في خلقه: أنه يبتلي أهل الحق بخصومهم من أهل الباطل، ليظهر الجهاد في سبيل الله، والموالاة في الله والمعاداة فيه.

وليظهر المؤمن الصادق من المنافق الكاذب {ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِنْ لِيَبْلُوَ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ} [محمد: 4] {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا} [الفرقان: 31] {وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا} [الفرقان: 20] .

والحق منصور وممتحن فلا … تعجب فهذي سنة الرحمن

وفي وقتنا هذا: ظهر كثير من هؤلاء الذين يبتلى بهم المسلمون، ومن هؤلاء: شخص يدعى " حسن بن فرحان المالكي " من جنوب المملكة، صار ينتقد أهل السنة، ويؤيد أهل البدعة.

وظهرت له في ذلك كتابات جمعها في كتاب له سماه " قراءة في كتب العقائد، المذهب الحنبلي نموذجا "، شحنه بالافتراءات على أهل السنة وكتبهم.
[মহামান্য শাইখ আল্লামা ড. সালিহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজানের উপস্থাপনা]

মহামান্য শাইখ আল্লামা ডক্টরের উপস্থাপনা

সালিহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান

সদস্য, সিনিয়র উলামা পরিষদ, এবং সদস্য, স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা এবং তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর নীতি হলো: তিনি সত্যপন্থীদের বাতিলপন্থীদের মধ্য হতে তাদের প্রতিপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, যাতে আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা প্রকাশ পায়।

আর যাতে সত্যবাদী মুমিন এবং মিথ্যাবাদী মুনাফিকের পার্থক্য প্রকাশ পায়। {এটাই বিধান, আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অপরের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে চান।} [মুহাম্মদ: ৪] {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট।} [আল-ফুরকান: ৩১] {আর আমি তোমাদের একজনকে অপরের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি। তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে? আর আপনার প্রতিপালক সর্বদ্রষ্টা।} [আল-ফুরকান: ২০]।

সত্য সর্বদা বিজয়ী ও পরীক্ষিত, সুতরাং আপনি … বিস্মিত হবেন না, কেননা এটিই পরম করুণাময়ের নীতি।

বর্তমান সময়ে এই ধরণের অনেক লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যাদের মাধ্যমে মুসলিমরা পরীক্ষিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো: "হাসান বিন ফারহান আল-মালিকী" নামক এক ব্যক্তি, যে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসী। সে আহলে সুন্নাহর সমালোচনা করা এবং বিদআতিদের সমর্থন করা শুরু করেছে।

এ বিষয়ে তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে যা সে তার একটি বইয়ে সংকলন করেছে, যার নাম দিয়েছে "আক্বীদার কিতাবসমূহ পাঠ: হাম্বলী মাযহাব একটি নমুনা", সে এই বইটি আহলে সুন্নাহ ও তাঁদের কিতাবসমূহের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ করেছে।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فقيض الله من المشايخ من أبطل شبهاته، وكشف زيفه، وفضح كذبه. ومن هؤلاء: فضيلة الشيخ عبد العزيز بن فيصل الراجحي في كتابه " قمع الدجاجلة، الطاعنين في معتقد أئمة الإسلام الحنابلة ".

فجاء كتابه هذا وافيا بالمقصود من الرد على هذا المبطل، وعلى من يقف وراءه ممن {لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ} [الأنفال: 60] ، فجزاه الله خيرا وأثابه، وصلى الله وسلم على نبيا محمد وآله وصحبه.

كتبه

صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

عضو هيئة كبار العلماء

(التوقيع)

في 15 / 8 / 1423 هـ
অতঃপর আল্লাহ শায়খদের মধ্য থেকে এমন একজনকে নির্ধারণ করেছেন যিনি তার সংশয়গুলোকে বাতিল করেছেন, তার অসারতা উন্মোচন করেছেন এবং তার মিথ্যাকে প্রকাশ করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল আর-রাজহী, তাঁর "কামউল দাজাজিলাহ, আত-তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ" (ইসলামের হাম্বলী ইমামগণের আকিদার ওপর আক্রমণকারী প্রবঞ্চকদের দমন) নামক গ্রন্থে।

ফলে তাঁর এই বইটি এই বাতিলপন্থীকে এবং তাঁর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের—যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা তাদের জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন} [আল-আনফাল: ৬০]—খণ্ডন করার ক্ষেত্রে উদ্দীষ্ট উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং সওয়াব দান করুন। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন

সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান

সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য

(স্বাক্ষর)

১৫ / ০৮ / ১৪২৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[المقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رفع بدينه المتقين، وأعز بوحيه المهتدين، يحلون حلاله، ويحرمون حرامه، يعملون بمحكمه، ويؤمنون بمتشابهه.

أذل به قلب كل مرتاب، وجعل نصيبه منه، تشكيكه المؤمنين في السنة والكتاب. إلا أنه - تعالت عظمته -، لم يجعل سلطانا لمخدول، أن يسقط ويعارض كلام الرسول صلى الله عليه وسلم.

ومدح - سبحانه - عباده الصالحين، فوصفهم بالإيمان بالغيب، وأبان لهم أمور دنياهم وأخراهم، فكانوا منها على حجة وبينة، وإن كان غيرهم - من ذلك - في شك وريب.

وأخبر عباده - مثبتا ومحذرا لهم، ومبينا نعمته وفضله عليهم -: أن الكافرين في حنق وغيض وحسد، من إيمان المؤمنين، وهل يستوي ما استهوته الشياطين حيران، وعبد قد سلم لله رسوله صلى الله عليه وسلم ما جاء به في سنته والقرآن؟ !

وصلى الله وسلم وبارك على نبيه الصادق الأمين، بلغ الرسالة، وأدى الأمانة. أخبر بما أمره به ربه الناس، فأمن به من حقت له النجاة، ونكص عن ذلك من حقت عليه النار والإفلاس.

قال فصدقه المؤمنون، وأمر فامتثل أمره الصالحون، ونهى فجانب نهيه الورعون المتنسكون.
‌[ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে মুত্তাকীদের উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং তাঁর ওহীর মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেছেন; তাঁরা আল্লাহর হালালকৃত বিষয়সমূহকে হালাল মনে করেন এবং তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহকে হারাম মনে করেন, তাঁরা তাঁর মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াতসমূহ অনুযায়ী আমল করেন এবং তাঁর মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান পোষণ করেন।

এর মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক সংশয়বাদীর অন্তরকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং এর থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করেছেন মুমিনদের মনে সুন্নাহ ও কিতাব সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করা। তবে তাঁর মহিমা সুউচ্চ—তিনি কোনো লাঞ্ছিত ব্যক্তিকে এমন কোনো কর্তৃত্ব দেননি যাতে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীকে বাতিল করে দিতে পারে কিংবা তাঁর বিরোধিতা করতে পারে।

তিনি—পবিত্র ও মহান—তাঁর নেককার বান্দাদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদেরকে অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁদের জন্য তাঁদের দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়াদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফলে তাঁরা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, যদিও অন্যরা এ ব্যাপারে সন্দেহ ও সংশয়ে নিমজ্জিত ছিল।

তিনি তাঁর বান্দাদের জানিয়েছেন—তাঁদেরকে সুদৃঢ় করতে ও সতর্ক করতে এবং তাঁদের ওপর তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহ বর্ণনা করতে—যে, মুমিনদের ঈমানের কারণে কাফিররা প্রচণ্ড ক্ষোভ, ক্রোধ ও হিংসায় জ্বলছে। শয়তান যাকে পথভ্রষ্ট ও দিশেহারা করেছে, সে কি ওই বান্দার সমান হতে পারে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহ ও কুরআনে যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি আত্মসমর্পণ করেছে?!

আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবীর ওপর, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন। তাঁর প্রতিপালক তাঁকে যা প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি তা মানুষের কাছে ব্যক্ত করেছেন; ফলে যার জন্য মুক্তি অবধারিত ছিল সে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, আর যার জন্য জাহান্নাম ও দেউলিয়াত্ব অবধারিত ছিল সে তা থেকে বিমুখ হয়েছে।

তিনি কথা বলেছেন আর মুমিনরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, তিনি আদেশ করেছেন আর নেককাররা তা পালন করেছে এবং তিনি নিষেধ করেছেন আর পরহেজগার ইবাদতকারীগণ তা বর্জন করেছে।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أنذر أمته من كل أمر خطير، وأبعد عن النار كل من كان منها قريبا، على جرف هار أو شفير. إن غضب صلى الله عليه وسلم، فغضبه لله، وإن رضي، فما أرضى مولاه - جل وعلا - أرضاه.

جاهد المشركين وحذر من المنافقين، وما ترك سبيل خير إلا دعى أمته إليه ودلها عليه، ولا سبيل شر إلا حذرها منه، وأبعدها عنه. وكان مما حذر منه النبي صلى الله عليه وسلم وخشي على أمته منه: «كل منافق عليم اللسان» ، وأشد ما خشيه عليهم من الفتن والضلال: فتنة المسيح الدجال، وقال: «ما من نبي قبلي، إلا وحذر أمته من المسيح الدجال» . ثم وصفه لهم، وعرفهم به فقال: «إنه أعور، وإن ربكم ليس بأعور» . وما ذاك إلا لعظم افتتان الناس به، وقد قال سبحانه: {وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ} [البقرة: 217] ، {وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ} [البقرة: 191] .

وكذلك حال كل دجال أراد فتنة المؤمنين عما جاء به المرسلون، وبقدر الضلالة يكون الضلال والإضلال.

وكان من هؤلاء الدجاجلة: دجيجيل عظم في نفسه وكبر، ما رأى المؤمنين فيه من خير إيمان وبر، تلجلج تائها في مفازات الضلالة، حين استقرت رحال المؤمنين في أرض النبوة والرسالة، فأخذ العهد على نفسه، متابعا إبليس لإغواء المؤمنين بحزبه ورجله وخيله وفلسه!
তিনি তাঁর উম্মতকে প্রতিটি বিপজ্জনক বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং জাহান্নামের আগুনের নিকটবর্তী হওয়া প্রত্যেককে—ধ্বংসোন্মুখ গর্তের কিনারে বা পাড়ে থাকা ব্যক্তিদের—তা থেকে দূরে রেখেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি ক্রুদ্ধ হতেন, তবে তাঁর সেই ক্রোধ ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; আর তিনি যদি সন্তুষ্ট হতেন, তবে তাঁর মহান রব—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—যাতে সন্তুষ্ট হতেন, তিনিও তাতেই সন্তুষ্ট হতেন।

তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন এবং মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি কল্যাণের এমন কোনো পথ ছাড়েননি যার দিকে তিনি তাঁর উম্মতকে আহ্বান করেননি এবং তাদেরকে তার দিশা দেননি; আর অকল্যাণের এমন কোনো পথ রাখেননি যা থেকে তিনি তাদেরকে সতর্ক করেননি এবং তা থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং তাঁর উম্মতের জন্য যা আশঙ্কা করেছেন তার মধ্যে একটি ছিল: «প্রত্যেক বাকপটু মুনাফিক»; আর ফিতনা ও গোমরাহীর মধ্যে তিনি তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি যা ভয় করতেন তা হলো: মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা। তিনি বলেছেন: «আমার পূর্ববর্তী এমন কোনো নবী ছিলেন না, যিনি তাঁর উম্মতকে মাসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি»। অতঃপর তিনি তাদের কাছে তার বর্ণনা দিলেন এবং তাকে চিনিয়ে দিয়ে বললেন: «সে তো এক চোখ কানা, অথচ তোমাদের রব এক চোখ কানা নন»। এটি কেবল মানুষের তার দ্বারা প্রচণ্ড বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কারণেই ছিল। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর ফিতনা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ} [আল-বাক্বারাহ: ২১৭], {এবং ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর} [আল-বাক্বারাহ: ১৯১]।

একইভাবে প্রতিটি দাজ্জালের (প্রতারকের) অবস্থাও এমন, যে রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে মুমিনদের বিচ্যুত করতে চায়; আর ভ্রান্তির মাত্রা অনুযায়ীই পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি ঘটে থাকে।

আর এই দাজ্জালদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল: এক ক্ষুদ্র দাজ্জাল, যে মনে মনে নিজেকে অনেক বড় ও শ্রেষ্ঠ ভাবত; যার মধ্যে মুমিনগণ ঈমান ও নেক আমলের কোনো কল্যাণই দেখতে পায়নি। সে পথভ্রষ্টতার মরুভূমিতে দিশেহারা হয়ে হোঁচট খাচ্ছিল, যখন মুমিনদের কাফেলা নবুওয়াত ও রিসালাতের ভূমিতে থিতু হয়েছিল। অতঃপর সে ইবলিসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মুমিনদের বিভ্রান্ত করার শপথ গ্রহণ করল—তার দলবল, পদাতিক বাহিনী, অশ্বারোহী বাহিনী এবং অর্থকড়ি নিয়ে!
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فاستعان بإخوانه من المبطلين، واستظهر بالمتلجلجين، من الروافض والعلمانيين والحداثيين، فلم يروا خيرا أحق بالهدم وضرره بالإسلام أعم وأطم: أعظم من اعتقاد أئمة الإسلام وعلمائه الأعلام، سلف الأمة ورياحين الجنة.

فجعلوها هدفهم، وجمعوا لها ما قذفته الشياطين وتنزلت به عليهم وعلى سابقيهم، ثم قلبوا شبههم، وما اجتمع لديهم من خطلهم: فوجدوها بضاعة مزجاة لا تضل طفلا من أطفال الموحدين، فكيف بفحول المهتدين؟ ! فزادوها كذبا وتحريفا وتلبيسا، عسى أن تجد من مرضى القلوب أذنا صاغية.

شبه تهافت كالزجاج تخالها … حقا وقد سقطت على صفوان

واختاروا لعصارة كل مدحور مذموم اسم " قراءة في كتب العقائد، المذهب الحنبلي نموذجا " لأخبثهم نحلة وأفسدهم ملة، حسن بن فرحان المالكي. خصوا الحنابلة بالتسمية لمزيد عنايتهم بالسنة، واشتهارهم بنصرتها، والقيام بها، والذب عن حماها وحياضها. فكم طاعن فيها قد جندلوه بسيوفهم، وكم متكبر عليها قد أهانوه وأذلوه ببأسهم، سارت بأخبارهم تلك الركبان، وأقر بها أعداؤهم والإخوان.

 

‌‌[فصل في سبب كتابة هذا الرد]

فصل ولما أعرض كثير من العلماء، عما عصره واعتصره السفهاء: ظنوا أنهم قد أفحموهم! وبكيد الشياطين قد كادوهم وأرغموهم!
অতঃপর সে বাতিলপন্থীদের মধ্য হতে তার ভাইদের সাহায্য গ্রহণ করল এবং রাফেজি, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও আধুনিকতাবাদীদের মধ্যে যারা দ্বিধান্বিত ও সংশয়বাদী তাদের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করল। তারা ধ্বংস করার জন্য এবং যার ক্ষতি ইসলামের জন্য অধিক ব্যাপক ও ভয়াবহ এমন কোনো 'কল্যাণ' দেখেনি যা ইসলামের ইমামগণ ও বরেণ্য আলেমদের—অর্থাৎ উম্মতের সালাফ এবং জান্নাতের সুগন্ধি ফুলের ন্যায় ব্যক্তিদের—আকিদা বা বিশ্বাসের চেয়ে বড় হতে পারে।

অতঃপর তারা এটিকে তাদের লক্ষ্যে পরিণত করল এবং এর বিরুদ্ধে শয়তানরা যা কিছু নিক্ষেপ করেছিল এবং তাদের ও তাদের পূর্বসূরিদের ওপর যা নাজিল করেছিল তা একত্রিত করল। এরপর তারা তাদের সংশয়সমূহ এবং তাদের যা কিছু ভ্রান্তি জমা হয়েছিল তা পর্যালোচনা করল; কিন্তু তারা এগুলোকে তুচ্ছ পণ্য হিসেবে পেল যা মুওয়াহহিদ বা একত্ববাদী শিশুদেরও পথভ্রষ্ট করতে পারবে না, তাহলে হেদায়েতপ্রাপ্ত বীরপুরুষদের কথা কীভাবে ভাবা যায়?! অতঃপর তারা এর সাথে মিথ্যাচার, বিকৃতি ও প্রতারণা যোগ করল, এই আশায় যে অন্তরের ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো মনোযোগী কান পাওয়া যাবে।

কাঁচের মতো ভঙ্গুর সংশয় যা তুমি সত্য মনে করো … অথচ তা মসৃণ পাথরের ওপর আছড়ে পড়েছে

তারা প্রতিটি বিতাড়িত ও নিন্দিত বিষয়ের নির্যাসস্বরূপ তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মতাদর্শী ও কলুষিত ধর্মের অনুসারী হাসান বিন ফারহান আল-মালিকির "আকিদার কিতাবসমূহের পাঠ: হাম্বলি মাযহাব একটি নমুনা" নামটিকে বেছে নিয়েছে। তারা বিশেষভাবে হাম্বলিদের নাম উল্লেখ করেছে কারণ সুন্নাহর প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ, এর সাহায্যে তাদের সুখ্যাতি, তা প্রতিষ্ঠা করা এবং এর মর্যাদা ও সীমানা রক্ষা করার জন্য। সুন্নাহর কত বিদ্রূপকারীকেই না তারা তাদের লেখনীর তরবারি দিয়ে ধরাশায়ী করেছে, আর এর প্রতি কত অহংকারীকেই না তারা তাদের তেজস্বীতা দিয়ে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছে। উষ্ট্রারোহী কাফেলাসমূহ তাদের এই বীরত্বগাথা বয়ে নিয়ে গেছে এবং শত্রু-মিত্র সকলেই তা অকপটে স্বীকার করেছে।

 

‌‌[এই খণ্ডনপত্র রচনার কারণ বিষয়ক একটি পরিচ্ছেদ]

পরিচ্ছেদ: যখন অনেক আলেম এই নির্বোধদের মথিত ও নিংড়ানো ভ্রান্ত মতবাদ থেকে বিমুখ থাকলেন, তখন তারা ধারণা করল যে তারা আলেমদেরকে নিরুত্তর করে দিয়েছে! এবং শয়তানের প্ররোচনায় তারা ভাবল যে তারা তাদের কুপোকাত ও পরাস্ত করেছে!
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فلا يستطيعون جوابا! ولا قولا باطلا كان أم صوابا! على حد قول الأول:

سكت عن السفيه فظن أني … عييت عن الجواب وما عييت

فعزمت على كتابة ورقات تبين ضعف، هذه التفاهات والترهات، ليعلم حزب الشيطان أن النصر والحجة لحزب الرحمن، ألم يقل الله - جل وعلا -: {وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} [الصافات: 173] بلا شك ولا امترى؟ !

****
ফলে তারা কোনো উত্তর দিতে সক্ষম নয়! আর কোনো কথা বলতেও নয়, চাই তা বাতিল হোক বা সঠিক! যেমনটি পূর্ববর্তী কবি বলেছেন:

আমি নির্বোধের সামনে নীরব রইলাম, ফলে সে মনে করল যে আমি … উত্তর দিতে অপারগ হয়ে পড়েছি, অথচ আমি অপারগ ছিলাম না।

অতঃপর আমি এমন কিছু পৃষ্ঠা লেখার সংকল্প করেছি যা এই তুচ্ছতা ও অসারতাগুলোর দুর্বলতাকে উন্মোচিত করবে, যাতে শয়তানের দল জানতে পারে যে বিজয় ও দলিল-প্রমাণ কেবল দয়াময় আল্লাহর দলের জন্যই। আল্লাহ - প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত - কি বলেননি: {আর নিশ্চয়ই আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী} [আস-সাফফাত: ১৭৩] কোনো প্রকার সন্দেহ ও সংশয় ছাড়াই?!

****
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[فصل في ذكر مقدمات قبل الشروع في الرد]

‌‌[المقدمة الأولى أن التكفير والتبديع والتضليل والتفسيق كلها أحكام شرعية]

فصل

في ذكر مقدمات قبل الشروع في الرد إحداها: أن التكفير والتبديع والتضليل والتفسيق، كلها أحكام شرعية، يطلقها أهل العلم على من استحقها بالحجة والدليل، دون امتعاض ولا حياء أو استحياء من ذلك، وإن حاول بعض الزنادقة أن يعيب أئمة الدين بهذه الأحكام! آملا أن ينجيه كلامه هذا من حكم الإسلام فيه بالكفر أو التبديع، إذا ارتكب موجباتها.

فلو طفق اليهود والنصارى وبقية الكفرة: يعيبون على المسلمين تكفيرهم لهم وتضليلهم: لم يكن للمسلمين ترك ذلك.

 

‌‌[المقدمة الثانية: أن الحق واحد يعرفه المهتدون بدليله من الوحي]

المقدمة الثانية: أن الحق واحد يعرفه المهتدون بدليله من الوحي، فكثرة زاعميه من المخالفين لا تجعله ملتبسا ولا خفيا إلا على من جهل الوحي، وكان سبب الهداية ودليلها عنده: الدعاوى الخالية، أو المزاعم الخاوية، أو كثرة المدعين وسوادهم، قال عز وجل: {قُلْ إِنْ ضَلَلْتُ فَإِنَّمَا أَضِلُّ عَلَى نَفْسِي وَإِنِ اهْتَدَيْتُ فَبِمَا يُوحِي إِلَيَّ رَبِّي إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ} [سبأ: 50] .

وقد زعم اليهود الاهتداء ونفوه عن النصارى، وكذلك زعم النصارى، وفعلوا باليهود ما فعله اليهود بهم من قبل! قال - سبحانه -: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَى شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ} [البقرة: 113] .
[খণ্ডন শুরু করার পূর্বে কতিপয় ভূমিকা উল্লেখ প্রসঙ্গে]

[প্রথম ভূমিকা: কাফির, বিদআতি, পথভ্রষ্ট ও ফাসিক সাব্যস্ত করা—এসবই শরয়ী বিধান]

পরিচ্ছেদ

খণ্ডন শুরু করার পূর্বে কতিপয় ভূমিকা উল্লেখ প্রসঙ্গে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো: কাফির সাব্যস্ত করা (তাকফীর), বিদআতি সাব্যস্ত করা (তাবদী’), পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করা (তাদলীল) এবং ফাসিক সাব্যস্ত করা (তাফসীক)—এই সবই শরয়ী বিধান। ইলমের অধিকারীগণ (আহলে ইলম) দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে যে ব্যক্তি এগুলোর যোগ্য হয় তার ওপর তা প্রয়োগ করেন। এক্ষেত্রে তারা কোনো প্রকার অসন্তুষ্টি, লজ্জা বা কুণ্ঠা বোধ করেন না। যদিও কিছু যিনদীক (ধর্মদ্রোহী) এই সব বিধান প্রয়োগ করার কারণে দ্বীনের ইমামগণের দোষারোপ করার চেষ্টা করে! সে আশা করে যে, তার এই কথা তাকে কাফির বা বিদআতি হওয়ার শরয়ী হুকুম থেকে বাঁচিয়ে দেবে, যখন সে সেই হুকুমের কারণগুলো ঘটিয়ে ফেলে।

যদি ইহুদি, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য কাফিররা মুসলিমদের ওপর তাদের কাফির ও পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করার কারণে দোষারোপ করতে শুরু করে, তবে মুসলিমদের পক্ষে তা ত্যাগ করা সম্ভব নয়।

 

[দ্বিতীয় ভূমিকা: সত্য এক ও অদ্বিতীয়, যা হিদায়াতপ্রাপ্তরা ওহীর দলিলের মাধ্যমে চিনতে পারে]

দ্বিতীয় ভূমিকা: সত্য এক ও অদ্বিতীয়, যা হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ওহীর দলিলের মাধ্যমে চিনতে পারেন। বিরোধীদের মধ্যে সত্যের দাবিদারের সংখ্যাধিক্য সত্যকে অস্পষ্ট বা প্রচ্ছন্ন করে দেয় না; তবে তার কথা ভিন্ন যে ওহী সম্পর্কে অজ্ঞ এবং যার নিকট হিদায়াতের মাধ্যম ও দলিল হলো ভিত্তিহীন দাবি, অন্তঃসারশূন্য গালগল্প অথবা দাবিদারদের সংখ্যাধিক্য ও তাদের ভিড়। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন: 'যদি আমি পথভ্রষ্ট হই, তবে আমি নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হব; আর যদি আমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হই, তবে তা আমার রব আমার প্রতি যা ওহী করেন তার কারণে। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।'" [সাবা: ৫০]।

ইহুদিরা নিজেদের হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়ার দাবি করেছে এবং খ্রিস্টানদের হিদায়াত থেকে খারিজ করে দিয়েছে। তেমনিভাবে খ্রিস্টানরাও নিজেদের হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়ার দাবি করেছে এবং তারা ইহুদিদের সাথে তাই করেছে যা ইহুদিরা পূর্বে তাদের সাথে করেছিল! পবিত্র আল্লাহ বলেন: "আর ইহুদিরা বলে: 'খ্রিস্টানরা কোনো কিছুর ওপর নেই' এবং খ্রিস্টানরা বলে: 'ইহুদিরা কোনো কিছুর ওপর নেই'।" [আল-বাকারাহ: ১১৩]।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم عاب الله - تعالى - عليهم ذلك، وبينهم الوحي، لم يرجعوا إليه فقال: {وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ} [البقرة: 113] ، وقال سبحانه: {وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُوا قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [البقرة: 135] .

وقال - جل وعلا - مبينا سبب ضلال الأمم الماضية، وسبب هداية من هدى: {بَلِ اتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَهْوَاءَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَمَنْ يَهْدِي مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ - فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ - مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [الروم: 29 - 32] .

 

‌‌[المقدمة الثالثة: أن الجهمية ومن لف لفها وقال بقولها كافر خارج من الإسلام]

المقدمة الثالثة: أن الجهمية ومن لف لفها وقال بقولها، من خلق القرآن أو تعطيل صفات الرحمن وغير ذلك، من تلك المسالك والمهالك: فهو كافر خارج من الإسلام مرتد عنه، بإجماع أئمة الإسلام.

حكى إجماعهم جماعات، وروي ذلك - ثابتا - عن عشرات بل مئات، زادت عدتهم على خمس مائة إمام من أئمة السلف، وحفاظ الإسلام.

وقد ساق أسماءهم بأقوالهم مسندة: الحافظ الكبير، ذو القدر الخطير، أبو القاسم هبة الله بن الحسن بن منصور اللالكائي الشافعي (ت 418 هـ) في كتابه العظيم " شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة "
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের সেই আচরণের নিন্দা করেছেন এবং তাদের নিকট ওহি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তারা তার দিকে ফিরে আসেনি। তাই তিনি বলেছেন: {অথচ তারা কিতাব পাঠ করে} [আল-বাকারা: ১১৩], এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তারা বলে, 'তোমরা ইয়াহূদী বা খ্রিষ্টান হয়ে যাও, তবেই সঠিক পথ পাবে।' আপনি বলুন, 'বরং আমরা ইবরাহীমের মিল্লাতের অনুসারী যারা একনিষ্ঠ ছিল এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না'} [আল-বাকারা: ১৩৫]।

এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা অতীত জাতিসমূহের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ এবং যারা হিদায়াত পেয়েছে তাদের হিদায়াতের কারণ বর্ণনা করে বলেছেন: {বরং যারা জুলুম করেছে তারা কোনো জ্ঞান ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছে। সুতরাং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে কে পথ দেখাবে? আর তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। অতএব আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এটিই আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। তাঁর অভিমুখী হয়ে (দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকুন), তাঁকে ভয় করুন, সালাত কায়েম করুন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না— যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।} [আর-রূম: ২৯ - ৩২]।

 

‌‌[তৃতীয় ভূমিকা: জাহমিয়্যাহ এবং যারা তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে ও তাদের মত পোষণ করেছে, তারা কাফির এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত]

তৃতীয় ভূমিকা: নিশ্চয়ই জাহমিয়্যাহ এবং যারা তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে ও তাদের মত পোষণ করেছে—যেমন কুরআন সৃষ্টির মতবাদ (মাখলুক হওয়া) অথবা রহমানের সিফাতসমূহকে (গুণাবলি) অস্বীকার করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য পথ ও ধ্বংসাত্মক মতবাদ—তারা ইসলামের ইমামদের ঐক্যমতে (ইজমা) কাফির, ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত এবং ধর্মত্যাগী।

তাঁদের এই ইজমার কথা বহু দল বর্ণনা করেছেন এবং এটি সুনিশ্চিতভাবে বহুসংখ্যক, বরং শত শত ইমামের নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের সংখ্যা সালাফদের ইমাম এবং ইসলামের হাফেযদের মধ্য থেকে পাঁচশ’রও অধিক।

আর তাঁদের নাম ও তাঁদের বক্তব্যসমূহ সনদসহ উল্লেখ করেছেন: মহান হাফেয, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে মানসুর আল-লালকাঈ আশ-শাফেঈ (মৃত্যু ৪১৮ হিজরি) তাঁর মহান গ্রন্থ "শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ"-তে।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
(1 / 260 - 342) وحكى إجماع سلف الأمة وعلمائها على ذلك.

ثم قال بعد ذلك (1 / 344) : (فهؤلاء خمس مائة وخمسون نفسا أو كثر من التابعين وأتباع التابعين، والأئمة المرضيين سوى الصحابة الخيرين، على اختلاف الأعصار، ومضي السنين والأعوام.

وفيهم نحو مائة إمام ممن أخذ الناس بقولهم، وتدينوا بمذاهبهم، ولو اشتغلت بنقل أقوال المحدثين: لبلغت أسماؤهم ألوفا كثيرة. لكني اختصرت وحذفت الأسانيد للاختصار، ونقلت عن هؤلاء عصرا بعد عصر، لا ينكر عليهم منكر، ومن أنكر قولهم استتابوه، أو أمروا بقتله أو نفيه أو صلبه. ولا خلاف بين الأمة: أن أول من قال " القرآن مخلوق ": جعد بن درهم في سني نيف وعشرين، ثم جهم بن صفوان) اهـ.

وحكى إجماعهم قبله عن هؤلاء الأئمة الأعلام أيضا: الحافظ أبو القاسم سليمان بن أيوب الطبراني (ت 360 هـ) رحمه الله في كتابه " السنة "، ولذلك أشار الإمام العالم العامل، أبو عبد الله ابن قيم الجوزية في " الكافية الشافية، في الانتصار للفرقة الناجية " بقوله:

ولقد تقلد كفرهم ، خمسون في … عشر من العلماء في البلدان

واللالكائي الإمام حكاه عنهم … بل قد حكاه قبله الطبراني

وقد ذكر مؤرخ الإسلام أبو عبد الله الذهبي في " سير أعلام النبلاء " (12 / 290) : أن عدد من نصوا على أن " القرآن كلام الله غير مخلوق "
(১ / ২৬০ - ৩৪২) এবং তিনি উম্মতের সালাফ ও আলেমগণের এই বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি (১ / ৩৪৪) বলেন: (তারা হলেন তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং নির্ভরযোগ্য ইমামগণের মধ্য থেকে পাঁচশত পঞ্চাশ জন বা তারও বেশি ব্যক্তি, উত্তম সাহাবীগণ ব্যতীত, যারা বিভিন্ন যুগে এবং বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও এই মতের ওপর অটল ছিলেন।

তাঁদের মধ্যে প্রায় একশত এমন ইমাম রয়েছেন যাঁদের কথা মানুষ গ্রহণ করেছে এবং যাঁদের মাযহাব বা মতাদর্শ তারা অনুসরণ করেছে। আর আমি যদি মুহাদ্দিসগণের উক্তিগুলো উদ্ধৃত করার কাজে ব্যাপৃত হতাম, তবে তাঁদের নামের তালিকা কয়েক হাজারে পৌঁছাত। কিন্তু আমি সংক্ষেপ করেছি এবং সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে সনদসমূহ বাদ দিয়েছি। আমি তাঁদের থেকে যুগের পর যুগ ধরে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি, যা কোনো অস্বীকারকারী অস্বীকার করেনি। আর যে ব্যক্তি তাঁদের কথার বিরোধিতা করত, তারা তাকে তাওবাহ করতে বলতেন, অথবা তাকে হত্যা করার, কিংবা নির্বাসিত করার অথবা শূলে চড়ানোর নির্দেশ দিতেন। আর উম্মতের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি "কুরআন সৃষ্ট" হওয়ার কথা বলেছিল, সে হলো জাদ বিন দিরহাম—বিশ হিজরির কিছুকাল পরে, এরপর জাহম বিন সাফওয়ান।) সমাপ্ত।

তাঁর পূর্বে এই প্রসিদ্ধ ইমামগণের পক্ষ থেকে তাঁদের ঐকমত্যের কথা হাফেজ আবু কাসেম সুলাইমান বিন আইয়ুব আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ তাঁর "আস-সুন্নাহ" গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন। আর সেদিকেই আমলকারী আলেম ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ ফিল ইনতিসারি লিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ" গ্রন্থে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

নিশ্চয়ই বিভিন্ন ভূখণ্ডের পাঁচশত আলেম তাঁদের কুফরি সাব্যস্ত করেছেন …

ইমাম লালকাঈ তাঁদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন … বরং তাঁর পূর্বে তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

ইসলামের ইতিহাসবিদ আবু আব্দুল্লাহ আজ-জাহাবি তাঁর "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১২ / ২৯০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে: যারা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়" তাদের সংখ্যা—
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
من أئمة السلف: أزيد من ثلاثمائة إمام.

وروى اللالكائي في " شرح السنة " أيضا بسنده (1 / 253) : عن عمرو بن دينار قال: (أدركت تسعة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون: " من قال القرآن مخلوق: فهو كافر ") اهـ وروى البخاري في كتابه " خلق أفعال العباد " في أول أثر فيه بسند صحيح قال: (حدثني الحكم بن محمد الطبري - كتبت عنه بمكة - قال: حدثنا سفيان بن عيينة قال: (أدركت مشايخنا منذ سبعين سنة - منهم عمرو بن دينار - يقولون: القرآن كلام الله، وليس بمخلوق) .

ورواه:

* البخاري أيضا في " تاريخه " (2666) بهذا الإسناد.

* واللالكائي في " شرح السنة " (386) و (396) .

* والبيهقي في " الأسماء والصفات " (ص 315) ، و " الاعتقاد " (ص 46) .

ورواه:

* الإمام أبو سعيد الدارمي في " الرد على الجهمية " (344) .

* والبيهقي في " الأسماء والصفات " (315) ، و " الاعتقاد " (ص 38) .

* وابن بطة في " الإبانة الكبرى " (2 / 548) من طريق إسحاق بن راهويه عن سفيان عن عمرو به.

وقال اللالكائي في " شرح السنة " بعد روايته للأثر السابق (1 / 267) : (ولقد لقي ابن عيينة نحوا من مائتي نفس من التابعين من
সালাফ ইমামগণের মধ্য থেকে: তিনশতেরও বেশি ইমাম।

এবং আল-লালকায়ী তাঁর "শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থেও নিজ সনদে (১/২৫৩) বর্ণনা করেছেন: আমর ইবন দীনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নয়জন সাহাবীকে পেয়েছি যারা বলতেন: "যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্টি, সে কাফির") উদ্ধৃতি সমাপ্ত। এবং আল-বুখারী তাঁর "খালকু আফআলিল ইবাদ" গ্রন্থের প্রথম বর্ণনায় সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমার কাছে হাকাম ইবন মুহাম্মাদ আত-তাবারী বর্ণনা করেছেন—আমি মক্কায় তাঁর নিকট থেকে লিখেছি—তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুফিয়ান ইবন উয়াইনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমি সত্তর বছর যাবৎ আমাদের শাইখদের—যাদের মধ্যে আমর ইবন দীনারও ছিলেন—পেয়েছি যারা বলতেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়)।

এটি আরও বর্ণনা করেছেন:

* আল-বুখারী তাঁর "তারীখ" (২৬৬৬) গ্রন্থেও এই সনদে।

* এবং আল-লালকায়ী "শারহুস সুন্নাহ" (৩৮৬) ও (৩৯৬) গ্রন্থে।

* এবং আল-বায়হাকী "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" (পৃষ্ঠা ৩১৫) ও "আল-ইতিিকাদ" (পৃষ্ঠা ৪৬) গ্রন্থে।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন:

* ইমাম আবু সাঈদ আদ-দারিমী "আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ" (৩৪৪) গ্রন্থে।

* এবং আল-বায়হাকী "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" (৩১৫) ও "আল-ইতিিকাদ" (পৃষ্ঠা ৩৮) গ্রন্থে।

* এবং ইবন বাত্তাহ "আল-ইবানাতুল কুবরা" (২/৫৪৮) গ্রন্থে ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ-এর সূত্রে সুফিয়ান থেকে তিনি আমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আল-লালকায়ী "শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থে পূর্বোক্ত বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর (১/২৬৭) বলেন: (নিশ্চয়ই ইবন উয়াইনা প্রায় দুইশত তাবেয়ীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন যাদের মধ্য থেকে...)
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
العلماء، وأكثر من ثلاثمائة من أتباع التابعين، من أهل الحرمين، والكوفة، والبصرة، والشام، ومصر، واليمن) اهـ.

والمسألة مبسوطة بتفصيل، وذكر أقوال أئمة السلف فيها، في كتب معتقد أهل السنة المسندة وغيرها، مثل:

* " الرد على الجهمية " لأبي سعيد عثمان بن سعيد الدارمي (ت 280 هـ) .

* و " رد عثمان بن سعيد، على بشر المريسي الكافر العنيد " للدارمي (ت 280 هـ) كذلك.

* و " السنة " لابن أبي عاصم (ت 287 هـ) .

* و " السنة " لعبد الله بن الإمام أحمد (ت 290 هـ) .

* و " السنة " لأبي بكر أحمد بن محمد بن هارون الخلال (ت 311 هـ) .

* و " الشريعة " لأبي بكر محمد بن الحسين الآجري (ت 360) .

* و " الإبانة الكبرى " لأبي عبد الله عبيد الله بن محمد ابن بطة العكبري (ت 387) .

* و " شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة " لأبي القاسم هبة الله بن الحسن اللالكائي (ت 418 هـ) .

* و " الأسماء والصفات " لأبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي (ت 458 هـ) .

* و " الاعتقاد " له أيضا.

* و " ذم الكلام وأهله " لشيخ الإسلام أبي إسماعيل عبد الله بن محمد بن علي الأنصاري الهروي (ت 481 هـ) ، وكلها مطبوعة، وغيرها.
আলেমগণ এবং হারামাইন, কুফা, বসরা, শাম, মিসর ও ইয়েমেনের তিনশ’রও বেশি তাবে-তাবেয়ী) সমাপ্ত।

আর এই বিষয়টি সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে এবং এতে সালাফ ইমামগণের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ বিষয়ক মুসনাদ ও অন্যান্য কিতাবসমূহে, যেমন:

* আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি (মৃত ২৮০ হি.) রচিত "আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ"।

* একইভাবে আদ-দারিমি (মৃত ২৮০ হি.) রচিত "রদ্দু উসমান ইবনে সাঈদ আলা বিশর আল-মাররিসি আল-কাফির আল-আনিদ"।

* ইবনে আবি আসিম (মৃত ২৮৭ হি.) রচিত "আস-সুন্নাহ"।

* ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ (মৃত ২৯০ হি.) রচিত "আস-সুন্নাহ"।

* আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-খাল্লাল (মৃত ৩১১ হি.) রচিত "আস-সুন্নাহ"।

* আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আজুরি (মৃত ৩৬০ হি.) রচিত "আশ-শারীয়াহ"।

* আবু আবদুল্লাহ উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাত্তাহ আল-উকবরি (মৃত ৩৮৭ হি.) রচিত "আল-ইবানাতুল কুবরা"।

* আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান আল-লালাকায়ি (মৃত ৪১৮ হি.) রচিত "শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ"।

* আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বাইহাকি (মৃত ৪৫৮ হি.) রচিত "আল-আসমা ওয়াস-সিফাত"।

* তাঁরই রচিত "আল-ই’তিকাদ"।

* শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-আনসারি আল-হারাউয়ি (মৃত ৪৮১ হি.) রচিত "যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি", এগুলোর সবই মুদ্রিত হয়েছে, এবং এ ছাড়াও আরও অন্যান্য কিতাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال الحافظ أبو العلاء الهمذاني (ت 569 هـ) قي " فتواه في ذكر الاعتقاد وذم الاختلاف " (ص 90 - 91) : (فصل في ذكر الاعتقاد الذي أجمع عليه علماء البلاد) .

ثم روى بسنده الصحيح إلى الإمام الحافظ أبي محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم (ت 327 هـ) قال: (سألت أبي وأبا زرعة رضي الله عنهما: عن مذاهب أهل السنة، وما أدركا عليه العلماء في جميع الأمصار: حجازا، وعراقا، ومصر، وشاما، ويمنا؟ فكان من مذهبهم:

* أن الإيمان قول، وعمل، يزيد، وينقص.

* والقرآن كلام الله غير مخلوق بجميع جهاته) .

ثم ذكر بقية معتقدهما، إلى أن قالا (ص 93) :

* (وأن الجهمية كفار.

* والرافضة رفضوا الإسلام.

* والخوارج مراق.

* ومن زعم أن القرآن مخلوق: فهو كافر كفرا ينقل عن الملة.

* ومن شك في كفره ممن يفهم: فهو كافر.

* ومن شك في كلام الله، فوقف فيه شاكا يقول: لا أدري مخلون أو غير مخلوق: فهو جهمي.

* ومن وقف في القرآن جاهلا: علم، وبدع، ولم يكفر.
হাফেজ আবুল আলা আল-হামদানি (মৃ. ৫৬৯ হি.) তাঁর "ফতোয়া ফি যিকরিল ইতিকাদ ওয়া যাম্মিল ইখতিলাফ" (পৃ. ৯০-৯১) গ্রন্থে বলেন: (ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের উলামায়ে কেরাম যে আকিদার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন তার বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)।

এরপর তিনি ইমাম হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতেম (মৃ. ৩২৭ হি.) পর্যন্ত তাঁর সহিহ সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (আমি আমার পিতা এবং আবু যুরআ-কে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আহলুস সুন্নাহর মাযহাব এবং হিজাজ, ইরাক, মিশর, শাম ও ইয়েমেনসহ সকল অঞ্চলের আলেমদের তাঁরা যে মতাদর্শের ওপর পেয়েছেন, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁদের মাযহাব ছিল এই যে:

* ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও আমল, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।

* কুরআন আল্লাহর কালাম, যা সর্বদিক থেকেই অসৃষ্ট (মাখলুক নয়))।

অতঃপর তিনি তাঁদের বাকি আকিদাহ বর্ণনা করেন, পরিশেষে তাঁরা বলেন (পৃ. ৯৩):

* (আর জাহমিয়্যারা কাফের।

* রাফেজিরা ইসলাম বর্জন করেছে।

* খারেজিরা হলো দ্বীন থেকে বিচ্যুত।

* যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআন সৃষ্টি (মাখলুক), সে এমন কুফরিতে লিপ্ত কাফের যা তাকে দ্বীন থেকে বের করে দেয়।

* বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এদের কুফরির ব্যাপারে সন্দেহ করবে, সেও কাফের।

* আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কালামের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে এবং এই বিষয়ে সন্দেহ নিয়ে নিশ্চুপ থাকবে এই বলে যে: 'আমি জানি না এটি সৃষ্টি না কি অসৃষ্ট', সে একজন জাহমি।

* আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে কুরআনের ব্যাপারে থেমে যাবে (মন্তব্য করবে না), তাকে শিক্ষা দিতে হবে এবং বিদআতি হিসেবে গণ্য করতে হবে, তবে তাকে কাফের বলা হবে না।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
* ومن قال: لفظي بالقرآن مخلوق، أو القرآن بلفظي مخلوق: فهو جهمي) اهـ.

وممن كفر القائلين بخلق القرآن، جماعات - ذكر كثيرا منهم:

الحافظان أبو القاسم الطبراني واللالكائي كما سبق - منهم:

- علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب، زين العابدين الهاشمي (ت 93هـ) ، - وابنه: محمد، أبو جعفر الباقر (ت 114 هـ) .

- وحماد بن أبي سليمان الكوفي (ت 120 هـ) .

- وعمرو بن دينار الأثرم (ت 126 هـ) .

- وجعفر بن محمد بن علي بن الحسين (ت 148هـ) .

- والنعمان بن ثابت، أبو حنيفة الإمام (ت. 150 هـ) .

- وسفيان بن سعيد الثوري (ت 161 هـ) .

- والليث بن سعد الفهمي (ت 175هـ) .

- وموسى بن أعين الجزري (ت 177 هـ) .

- ومالك بن أنس الأصبحي، الإمام (ت 179 هـ) .

- وعبد الله بن المبارك الحنظلي المروزي (ت 181 هـ) .

- ويعقوب بن إبراهيم، أبو يوسف صاحب أبي حنيفة (ت 182 هـ) .

- وهشيم بن بشير، أبو معاوية السلمي (ت 183 هـ) .

- ويحيى بن زكريا بن أبي زائدة الهمداني (ت 183 هـ) .

- وإبراهيم بن سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف الزهري (ت 185 هـ) .
এবং যে ব্যক্তি বলে: "কুরআন নিয়ে আমার উচ্চারণ সৃষ্ট (মাখলুক)", অথবা "আমার উচ্চারণের মাধ্যমে কুরআন সৃষ্ট": সে একজন জাহমি। সমাপ্ত।

এবং যারা কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের কাফির বলেছেন, তাদের মধ্যে অনেক জামাত বা দল রয়েছে - তাদের অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন:

হাফেজ আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি এবং আল-লালকায়ি, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে - তাদের মধ্যে রয়েছেন:

- আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব, জাইনুল আবিদীন আল-হাশেমি (মৃ. ৯৩ হি.), - এবং তাঁর পুত্র: মুহাম্মদ, আবু জাফর আল-বাকির (মৃ. ১১৪ হি.)।

- হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান আল-কুফি (মৃ. ১২০ হি.)।

- আমর বিন দিনার আল-আছরাম (মৃ. ১২৬ হি.)।

- জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন (মৃ. ১৪৮ হি.)।

- নুমান বিন সাবিত, ইমাম আবু হানিফা (মৃ. ১৫০ হি.)।

- সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরি (মৃ. ১৬১ হি.)।

- আল-লাইস বিন সাদ আল-ফাহমি (মৃ. ১৭৫ হি.)।

- মুসা বিন আ'ইউন আল-জাজারি (মৃ. ১৭৭ হি.)।

- মালিক বিন আনাস আল-আসবাহি, ইমাম (মৃ. ১৭৯ হি.)।

- আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আল-হানজালি আল-মারওয়াজি (মৃ. ১৮১ হি.)।

- ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম, আবু ইউসুফ, আবু হানিফার সাথী (মৃ. ১৮২ হি.)।

- হুশাইম বিন বাশির, আবু মুয়াবিয়া আস-সুলামি (মৃ. ১৮৩ হি.)।

- ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া বিন আবি জাইদাহ আল-হামদানি (মৃ. ১৮৩ হি.)।

- ইব্রাহিম বিন সাদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল রহমান বিন আউফ আজ-জুহরি (মৃ. ১৮৫ হি.)।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
- وإبراهيم بن محمد بن الحارث، أبو إسحاق الفزاري (ت 185 هـ) .

- وعبدة بن سليمان الكلابي (ت 187 هـ) .

- ومعتمر بن سليمان بن طرخان التيمي (ت 187 هـ) .

- ومحمد بن يزيد الواسطي (ت 188 هـ) .

- وجرير بن عبد الحميد بن قرط الضبي (ت 188 هـ) .

- ومحمد بن الحسن بن فرقد الشيباني (ت 189 هـ) .

- وعبد الله بن إدريس بن يزيد الأودي (ت 192 هـ) .

- وأبو بكر بن عياش (ت 139 هـ) .

- وإسماعيل بن إبراهيم بن مقسم ابن علية البصري الحافظ (ت 193 هـ) .

- وحفص بن غياث بن طلق النخعي (ت 149هـ) .

- وعبد الوهاب بن عبد المجيد بن الصلت الثقفي (ت 194 هـ) .

- والوليد بن مسلم الدمشقي (ت 195 هـ) .

- ومحمد بن خازم السعدي، أبو معاوية الضرير (ت 195 هـ) .

- ووكيع بن الجراح (ت 196 هـ) .

- ومعاذ بن معاذ بن نصر العنبري (ت 196 هـ) .

- وسفيان بن عيينة (ت 198هـ) .

- ويحيى بن سعيد بن فروخ القطان (ت 198هـ) .

- وعبد الرحمن بن مهدي بن حسان العنبري (ت 198 هـ) .

- وإسحاق بن سليمان الرازي الكوفي (ت 200 هـ) .
- এবং ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হারিস, আবু ইসহাক আল-ফাজারি (মৃত্যু ১৮৫ হি.)।

- এবং আবদাহ বিন সুলাইমান আল-কিলাবি (মৃত্যু ১৮৭ হি.)।

- এবং মুতামির বিন সুলাইমান বিন তারখান আত-তাইমি (মৃত্যু ১৮৭ হি.)।

- এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ১৮৮ হি.)।

- এবং জারির বিন আব্দুল হামিদ বিন কুরত আদ-দব্বি (মৃত্যু ১৮৮ হি.)।

- এবং মুহাম্মদ বিন হাসান বিন ফারকাদ আশ-শাইবানি (মৃত্যু ১৮৯ হি.)।

- এবং আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস বিন ইয়াজিদ আল-আওদি (মৃত্যু ১৯২ হি.)।

- এবং আবু বকর বিন আইয়াশ (মৃত্যু ১৩৯ হি.)।

- এবং ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন মিকসাম ইবন উলাইয়্যাহ আল-বাসরি আল-হাফিজ (মৃত্যু ১৯৩ হি.)।

- এবং হাফস বিন গিয়াস বিন তালক আন-নাখয়ি (মৃত্যু ১৪৯ হি.)।

- এবং আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল মাজিদ বিন আস-সালত আস-সাকাফি (মৃত্যু ১৯৪ হি.)।

- এবং ওয়ালিদ বিন মুসলিম আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৯৫ হি.)।

- এবং মুহাম্মদ বিন খাযিম আস-সাদি, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির (মৃত্যু ১৯৫ হি.)।

- এবং ওয়াকি বিন আল-জাররাহ (মৃত্যু ১৯৬ হি.)।

- এবং মুয়াজ বিন মুয়াজ বিন নাসর আল-আনবারি (মৃত্যু ১৯৬ হি.)।

- এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ (মৃত্যু ১৯৮ হি.)।

- এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন ফাররুখ আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৯৮ হি.)।

- এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদি বিন হাসান আল-আনবারি (মৃত্যু ১৯৮ হি.)।

- এবং ইসহাক বিন সুলাইমান আর-রাজি আল-কুফি (মৃত্যু ২০০ হি.)।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
- وموسى بن سليمان الجوزجاني الحنفي (ت 200 هـ) .

- وحماد بن أسامة بن زيد، أبو أسامة القرشي (ت 201 هـ) .

- وعلي بن موسى بن جعفر بن محمد بن علي بن الحسين الهاشمي، الرضى (ت 203 هـ) .

- ومحمد بن إدريس الشافعي، أبو عبد الله الإمام (ت 204 هـ) .

- ووهب بن جرير بن حازم الأزدي (ت 206هـ) .

- وشبابة بن سوار الفزاري (ت 206 هـ) .

- ومؤمل بن إسماعيل العدوي البصري (ت 206 هـ) .

- وحجاج بن محمد الأعور المصيصي (ت 206 هـ) .

- وهاشم بن القاسم الليثي، أبو النضر البغدادي (ت 207 هـ) .

- وحسن بن موسى الأشيب (ت 209 هـ) .

- وعبد الرزاق بن همام بن نافع الصنعاني (ت 211 هـ) .

- ومحمد بن يوسف بن واقد الفريابي (ت 212 هـ) .

- والضحاك بن مخلد بن الضحاك الشيباني، أبو عاصم النبيل (ت 212 هـ) .

- وعبد الله بن داود بن عامر الخريبي (ت 213 هـ) .

- ومحمد بن عبد الله بن المثنى الأنصاري (ت 215 هـ) .

- وعبد الأعلى بن مسهر بن عبد الأعلى الغساني الدمشقي (ت 218 هـ) .

- وعفان بن مسلم بن عبد الله الصفار (ت 219 هـ) .
- এবং মুসা ইবনে সুলাইমান আল-জাওযজানি আল-হানাফি (মৃত্যু ২০০ হিজরি) ।

- এবং হাম্মাদ ইবনে উসামা ইবনে যায়েদ, আবু উসামা আল-কুরাশি (মৃত্যু ২০১ হিজরি) ।

- এবং আলি ইবনে মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আল-হুসাইন আল-হাশেমি, আর-রিদা (মৃত্যু ২০৩ হিজরি) ।

- এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ, আবু আব্দুল্লাহ আল-ইমাম (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) ।

- এবং ওয়াহাব ইবনে জারির ইবনে হাযিম আল-আযদি (মৃত্যু ২০৬ হিজরি) ।

- এবং শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার আল-ফাযারি (মৃত্যু ২০৬ হিজরি) ।

- এবং মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইল আল-আদাউয়ি আল-বাসরি (মৃত্যু ২০৬ হিজরি) ।

- এবং হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ আল-আওয়ার আল-মাসিসিসি (মৃত্যু ২০৬ হিজরি) ।

- এবং হাশেম ইবনে আল-কাসেম আল-লাইসি, আবু আন-নাদর আল-বাগদাদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) ।

- এবং হাসান ইবনে মুসা আল-আশিয়াব (মৃত্যু ২০৯ হিজরি) ।

- এবং আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম ইবনে নাফে আস-সানআনি (মৃত্যু ২১১ হিজরি) ।

- এবং মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ওয়াকিদ আল-ফিরিয়াবি (মৃত্যু ২১২ হিজরি) ।

- এবং আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ ইবনে আদ-দাহহাক আশ-শায়বানি, আবু আসিম আন-নাবিল (মৃত্যু ২১২ হিজরি) ।

- এবং আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ ইবনে আমির আল-খুরাইবি (মৃত্যু ২১৩ হিজরি) ।

- এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুসান্না আল-আনসারি (মৃত্যু ২১৫ হিজরি) ।

- এবং আব্দুল আলা ইবনে মুশহির ইবনে আব্দুল আলা আল-গাসসানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ২১৮ হিজরি) ।

- এবং আফফান ইবনে মুসলিম ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার (মৃত্যু ২১৯ হিজরি) ।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
- وإبراهيم بن موسى بن يزيد الفراء (ت 220 هـ) .

- والقاسم بن سلام، أبو عبيد البغدادي (ت 224 هـ) .

- ومحمد بن مقاتل المروزي (ت 226 هـ) .

- ويحيى بن يحيى بن بكر التميمي النيسابوري (ت 226 هـ) .

- وهشام بن عبد الملك، أبو الوليد الطيالسي (ت 227 هـ) .

- وعبد الله بن محمد بن أسماء الضبعي (ت 231 هـ) .

- ويوسف بن يحيى البويطي، صاحب الشافعي (ت 231 هـ) .

- ويحيى بن معين بن عون الغطفاني (ت 233 هـ) .

- وعلي بن عبد الله بن جعفر المديني (ت 234 هـ) .

- وزهير بن حرب بن شداد النسائي (ت 234 هـ) .

- وسليمان بن داود العتكي، أبو الربيع الزهراني (ت 234 هـ) .

- وعبد الله بن محمد بن أبي شيبة العبسي، أبو بكر الحافظ (ت 235 هـ) .

- وإسماعيل بن إبراهيم بن معمر، أبو معمر القطيعي (ت 236 هـ) .

- وشيبان بن فروخ (ت 236 هـ) .

- وعبد الأعلى بن حماد بن نصر النرسي (ت 237 هـ) .

- وإسحاق بن إبراهيم بن مخلد الحنظلي، ابن راهويه الحافظ (ت 238 هـ) .

- ومحمود بن غيلان المروزي (ت 239 هـ) .

- وعثمان بن محمد بن أبي شيبة العبسي، أبو الحسن الكوفي (ت 239 هـ) .

- وقتيبة بن سعيد بن جميل الثقفي (ت. 24 هـ) .
- ইবরাহিম ইবনে মুসা ইবনে ইয়াজিদ আল-ফাররা (মৃ. ২২০ হি.) ।

- আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম, আবু উবাইদ আল-বাগদাদি (মৃ. ২২৪ হি.) ।

- মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আল-মারওয়াজি (মৃ. ২২৬ হি.) ।

- ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে বকর আত-তামিমি আন-নাইসাবুরি (মৃ. ২২৬ হি.) ।

- হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক, আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি (মৃ. ২২৭ হি.) ।

- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা আদ-দাবয়ি (মৃ. ২৩১ হি.) ।

- ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বুওয়াইতি, শাফেয়ির ছাত্র (মৃ. ২৩১ হি.) ।

- ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ইবনে আউন আল-গাতাফানি (মৃ. ২৩৩ হি.) ।

- আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আল-মাদিনি (মৃ. ২৩৪ হি.) ।

- জুহাইর ইবনে হারব ইবনে শাদ্দাদ আন-নাসায়ি (মৃ. ২৩৪ হি.) ।

- সুলায়মান ইবনে দাউদ আল-আতাকি, আবু আর-রবি আজ-জাহরানি (মৃ. ২৩৪ হি.) ।

- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বাহ আল-আবসি, আবু বকর আল-হাফিজ (মৃ. ২৩৫ হি.) ।

- ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুয়াম্মার, আবু মুয়াম্মার আল-কাতিয়ি (মৃ. ২৩৬ হি.) ।

- শায়বান ইবনে ফাররুখ (মৃ. ২৩৬ হি.) ।

- আব্দুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ ইবনে নাসর আন-নারসি (মৃ. ২৩৭ হি.) ।

- ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে মাখলাদ আল-হানজালি, ইবনে রাহওয়াইহ আল-হাফিজ (মৃ. ২৩৮ হি.) ।

- মাহমুদ ইবনে গায়লান আল-মারওয়াজি (মৃ. ২৩৯ হি.) ।

- উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বাহ আল-আবসি, আবুল হাসান আল-কুফি (মৃ. ২৩৯ হি.) ।

- কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ ইবনে জামিল আস-সাকাফি (মৃ. ২৪ হি.) ।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
- وأحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، أبو عبد الله إمام أهل السنة، وحافظ الإسلام (ت 241 هـ) .

- وهناد بن السري بن مصعب الدارمي (ت 243 هـ) .

- وهارون بن عبد الله بن مروان الحمال (ت 243 هـ) .

- وعلي بن حجر بن إياس السعدي (ت 244 هـ) .

- وإسحاق بن موسى بن عبد الله الأنصاري (ت 244 هـ) .

- وهشام بن عمار بن نصير الدمشقي (ت 245 هـ) .

- ومحمد بن رافع بن سابور القشيري النيسابوري (ت 245 هـ) .

- ومحمد بن سليمان بن حبيب الأسدي، لوين (ت 245 هـ) .

- ومحمد بن العلاء بن كريب، أبو كريب الهمداني (ت 248 هـ) .

- وعبد الوهاب بن عبد الحكم بن نافع الوراق (ت 251 هـ) .

- ومحمد بن بشار بن عثمان العبدي، بندار (ت 252 هـ) .

- ومحمد بن المثنى بن عبيد، أبو موسى العنزي (ت 252 هـ) ، - وأحمد بن سعيد بن صخر الدارمي (ت 253 هـ) .

- ومحمد بن حرب النشائي (ت 255 هـ) .

- ومحمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري (ت 256 هـ) .

- وعبد الله بن سعيد بن حصين الكندي، أبو سعيد الأشج (ت 257 هـ) .

- والحسن بن عرفة بن يزيد العبدي (ت 257 هـ) .

- وعلي بن خشرم بن عبد الرحمن المروزي الحافظ (ت 257 هـ) .
- এবং আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল আশ-শায়বানি, আবু আবদুল্লাহ, আহলুস সুন্নাহর ইমাম এবং ইসলামের হাফিয (মৃত্যু ২৪১ হি.)।

- এবং হান্নাদ ইবনাস সিররি ইবন মুসআব আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৪৩ হি.)।

- এবং হারুন ইবন আবদুল্লাহ ইবন মারওয়ান আল-হাম্মাল (মৃত্যু ২৪৩ হি.)।

- এবং আলী ইবন হুজর ইবন ইয়াস আস-সাদি (মৃত্যু ২৪৪ হি.)।

- এবং ইসহাক ইবন মুসা ইবন আবদুল্লাহ আল-আনসারি (মৃত্যু ২৪৪ হি.)।

- এবং হিশাম ইবন আম্মার ইবন নাসির আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ২৪৫ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবন রাফে ইবন সাবুর আল-কুশাইরি আন-নিসাবুরি (মৃত্যু ২৪৫ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান ইবন হাবিব আল-আসাদি, লুওয়াইন (মৃত্যু ২৪৫ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ইবন কুরায়ব, আবু কুরায়ব আল-হামদানি (মৃত্যু ২৪৮ হি.)।

- এবং আবদুল ওয়াহহাব ইবন আবদুল হাকাম ইবন নাফে আল-ওয়াররাক (মৃত্যু ২৫১ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ইবন উসমান আল-আবদি, বুন্দার (মৃত্যু ২৫২ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ইবন উবাইদ, আবু মুসা আল-আনাজি (মৃত্যু ২৫২ হি.), - এবং আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখর আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৫৩ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবন হারব আন-নাশায়ি (মৃত্যু ২৫৫ হি.)।

- এবং মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহিম আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হি.)।

- এবং আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন حصিন আল-কিন্দি, আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ (মৃত্যু ২৫৭ হি.)।

- এবং হাসান ইবন আরাফাহ ইবন ইয়াযিদ আল-আবদি (মৃত্যু ২৫৭ হি.)।

- এবং আলী ইবন খাশরাম ইবন আবদুর রহমান আল-মারওয়াযি আল-হাফিয (মৃত্যু ২৫৭ হি.)।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
- ومحمد بن يحيى بن عبد الله الذهلي النيسابوري (ت 258 هـ) .

- ومسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري (ت 261 هـ) .

- ويونس بن عبد الأعلى بن موسى الصدفي (ت 264 هـ) .

- وعبيد الله بن عبد الرحمن بن يزيد، أبو زرعة الرازي (ت 264 هـ) .

- وإسماعيل بن يحيى بن إسماعيل المزني (ت 264 هـ) .

- ويحيى بن محمد بن يحيى الذهلي (ت 267 هـ) .

- والربيع بن سليمان بن عبد الجبار المرادي (ت 270 هـ) .

- ومحمد بن حماد الطهراني الرازي (ت 271 هـ) .

- ومحمد بن إدريس بن المنذر الحنظلي، أبو حاتم الرازي (ت 277 هـ) .

- وسهل بن عبد الله بن يونس التستري (ت 283 هـ) .

هؤلاء أكثر من مائة إمام، كلهم من أئمة الإسلام، وشيوخه العظام، فضلهم ظاهر، ونور صبح خيرهم سافر.

 

‌‌[المقدمة الرابعة أنه ما كفر من كفر ولا ضل من ضل إلا بتعليل باطل أو تأويل فاسد]

أما التعليل الباطل: فأول من كفر به إبليس، فإن الله - سبحانه - لما أمره أن يسجد لآدم: أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ، وقال: {أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف: 12] ، فقال سبحانه: {فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ - وَإِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ} [الحجر: 34 - 35] .
- মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আয-যুহালী আন-নিশাপুরী (ওফাত ২৫৮ হি.)।

- মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশায়রী (ওফাত ২৬১ হি.)।

- ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা বিন মূসা আস-সাদাফী (ওফাত ২৬৪ হি.)।

- উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ, আবু যুরআ আর-রাযী (ওফাত ২৬৪ হি.)।

- ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাঈল আল-মুযানী (ওফাত ২৬৪ হি.)।

- ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আয-যুহালী (ওফাত ২৬৭ হি.)।

- আর-রাবী বিন সুলাইমান বিন আব্দুল জাব্বার আল-মুরাদী (ওফাত ২৭০ হি.)।

- মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ আত-তিহরানী আর-রাযী (ওফাত ২৭১ হি.)।

- মুহাম্মদ বিন ইদ্রীস বিন আল-মুনযির আল-হানযালী, আবু হাতিম আর-রাযী (ওফাত ২৭৭ হি.)।

- সাহল বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস আত-তুসতারী (ওফাত ২৮৩ হি.)।

এরা একশোরও বেশি ইমাম, তাঁরা সকলেই ইসলামের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত এবং এর মহান শাইখ। তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট এবং তাঁদের কল্যাণের প্রভাতী আলো সুপ্রকাশিত।

 

‌‌[চতুর্থ ভূমিকা: যারা কুফরি করেছে কিংবা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তারা কেবল বাতিল যুক্তি প্রদর্শন অথবা ভ্রান্ত ব্যাখ্যার কারণেই তা করেছে]

বাতিল যুক্তির প্রসঙ্গে বলা যায়: এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম যে কুফরি করেছিল সে হলো ইবলিস। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু যখন তাকে আদমের প্রতি সিজদাহ করার নির্দেশ দিলেন, তখন সে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। সে বলল: {আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা থেকে} [আল-আরাফ: ১২]। তখন আল্লাহ সুবহানাহু বললেন: {অতএব তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত। আর বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার উপর অভিশাপ রইল} [আল-হিজর: ৩৪ - ৩৫]।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولما دعى نوح عليه السلام قومه للتوحيد والإيمان: كفروا ولم يستجيبوا، وعللوا قبيح فعلهم، بكون رسولهم بشرا مثلهم! وأتباعه ضعفاء! قال - تعالى -: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ - أَنْ لَا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ - فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ - قَالَ يَاقَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِنْ عِنْدِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنْتُمْ لَهَا كَارِهُونَ} [هود: 25 - 28] .

ومشركو العرب لما اتخذوا الأصنام وعبدوها، عللوا ذلك بأنها شفعاؤهم عند الله فحسب! قال سبحانه: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: 18] .

وقال جل وعلا: {أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ} [الزمر: 3] .

ولما بعث الله سبحانه وتعالى نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم قال المشركون: {لَوْلَا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ} [الزخرف: 31] .

فهؤلاء جميعا سلف من رد الوحي بعقله ورأيه، ومآله هو كمآلهم هم، عياذا بالله من سخطه وعذابه وعقابه.
যখন নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর সম্প্রদায়কে তাওহীদ ও ঈমানের দিকে দাওয়াত দিলেন, তখন তারা কুফরি করল এবং সাড়া দিল না। তারা তাদের মন্দ কাজের পেছনে এই কারণ দর্শাল যে, তাদের রাসূল তাদের মতই একজন মানুষ এবং তাঁর অনুসারীরা দুর্বল! আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। (তিনি বলেছিলেন) আমি তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। যেন তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো ইবাদত না করো। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি। তখন তাঁর সম্প্রদায়ের কাফের নেতারা বলল, 'আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, আমাদের মধ্যে যারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে নিচু স্তরের কেবল তারাই তোমাকে অনুসরণ করেছে। আর আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না, বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।' তিনি বললেন, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে আসা স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দান করে থাকেন, অতঃপর সেটি তোমাদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে কি আমি তোমাদের ওপর তা চাপিয়ে দিতে পারি, যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?'} [হূদ: ২৫ - ২৮] ।

আর আরবের মুশরিকরা যখন মূর্তিদের গ্রহণ করল এবং সেগুলোর ইবাদত শুরু করল, তখন তারা এর কারণ হিসেবে এই অজুহাত দিল যে, তারা আল্লাহর কাছে কেবল তাদের সুপারিশকারী! মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, 'এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।' আপনি বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?' তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।} [ইউনুস: ১৮] ।

মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {জেনে রেখো, বিশুদ্ধ দ্বীন কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য। আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে (তারা বলে), 'আমরা তাদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়।' নিশ্চয়ই তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আল্লাহ তাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না যে মিথ্যাবাদী ও চরম অকৃতজ্ঞ।} [যুমার: ৩] ।

আর যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করলেন, তখন মুশরিকরা বলেছিল: {কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো মহান ব্যক্তির ওপর নাযিল করা হলো না?} [যুখরুফ: ৩১] ।

এরা সবাই হলো তাদের পূর্বসূরি যারা নিজেদের বুদ্ধি ও মতামতের মাধ্যমে ওহীকে প্রত্যাখ্যান করে। আর এদের শেষ পরিণতি হবে ঠিক তাদের মতোই। আল্লাহর নিকট তাঁর ক্রোধ, শাস্তি ও আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أما التأويل الفاسد: فما من طامة أدخلت في الإسلام، أو راجت على بعض أهله إلا بسببه. وما افترقت أمة محمد صلى الله عليه وسلم إلى ثلاث وسبعين فرقة، كلها في النار إلا واحدة إلا بالتأويل.

ولم يقتل عثمان وعلي رضي الله عنهما إلا به، ولا مرقت الخوارج من الإسلام إلا لأجله، ولأجله استباحوا دماء المسلمين المعصومة وأموالهم. وكل فرقة ضلت عن صراط الله المستقيم، أو أضلت غيرها عنه: فبه وبسببه.

ولله در الإمام الكبير أبي عبد الله محمد ابن قيم الجوزية، حين وصف خطر التأويل الفاسد وضرره العظيم، فقال في نونيته " الكافية الشافية، في الانتصار للفرقة الناجية ": (فصل في جناية التأويل على ما جاء به الرسول، والفرق بين المردود منه والمقبول)

هذا وأصل بلية الإسلام من … تأويل ذي التحريف والبطلان

وهو الذي قد فرق السبعين بل … زادت ثلاثا قول ذي البرهان

وهو الذي قتل الخليفة جامع الـ … ـقرآن ذا النورين والإحسان

وهو الذي قتل الخليفة بعده … أعني عليا قاتل الأقران

وهو الذي قتل الحسين وأهله … فغدوا عليه ممزقي اللحمان
তবে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা: ইসলামে যত বিপর্যয় প্রবেশ করেছে বা এর অনুসারীদের কারো কারো মাঝে তা প্রচলিত হয়েছে, তা কেবল এর কারণেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত যে তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, যার একটি ব্যতীত সবকটিই জাহান্নামী, তা কেবল এই ব্যাখ্যার কারণেই হয়েছে।

উসমান ও আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুমা কেবল এর কারণেই শহীদ হয়েছেন। আর খারেজিরা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে কেবল এর কারণেই, এবং এর কারণেই তারা মুসলমানদের সংরক্ষিত রক্ত ও সম্পদকে বৈধ জ্ঞান করেছে। প্রতিটি দল যারা আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে অথবা অন্যকে পথভ্রষ্ট করেছে, তা কেবল এর মাধ্যমে এবং এর কারণেই।

মহান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ-এর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান হোক, যখন তিনি ভ্রান্ত ব্যাখ্যার ভয়াবহতা এবং এর বিরাট ক্ষতির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তাঁর নূনিয়া কাসীদাহ "আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়াহ ফিল ইনতিসারি লিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ"-তে বলেছেন: (রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ব্যাখ্যার অপরাধ এবং এর বর্জনীয় ও গ্রহণযোগ্য প্রকারের মধ্যকার পার্থক্য সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

এটিই ইসলামের বিপদের মূল উৎস যা … বিকৃতিকারী ও বাতিলপন্থীদের ব্যাখ্যা থেকে আগত।

আর এটিই সেই বিষয় যা (উম্মতকে) সত্তর, বরং … তারও বেশি তিন দলে বিভক্ত করেছে—প্রমাণসিদ্ধ কথা অনুযায়ী।

আর এটিই সেই বিষয় যা কুরআন সংকলনকারী, … যুন-নুরাইন এবং ইহসানের অধিকারী খলিফাকে হত্যা করেছে।

আর এটিই সেই বিষয় যা তাঁর পরবর্তী খলিফাকে হত্যা করেছে … অর্থাৎ আলী, যিনি ছিলেন বীর যোদ্ধাদের হত্যাকারী।

আর এটিই সেই বিষয় যা হুসাইন ও তাঁর পরিবারবর্গকে হত্যা করেছে … ফলে তাঁরা তাঁর কারণে ছিন্নভিন্ন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو الذي في يوم حرتهم أبا … ح حمى المدينة معقل الإيمان

حتى جرت تلك الدماء كأنها … في يوم عيد سنة القربان

وغدا له الحجاج يسفكها ويقـ … ـتل صاحب الإيمان والقرآن

وجرى بمكة ما جرى من أجله … من عسكر الحجاج ذي العدوان

وهو الذي أنشا الخوارج مثلما … أنشأ الروافض أخبث الحيوان

ولأجله شتموا خيار الخلق بعـ … ـد الرسل بالعدوان والبهتان

ولأجله سل البغاة سيوفهم … ظنا بأنهم ذوو إحسان

ولأجله قد قال أهل الاعتزا … ل مقالة هدت قوى الإيمان

ولأجله قالوا بأن كلامه … سبحانه خلق من الأكوان

ولأجله قد كذبت بقضائه … شبه المجوس العابدي النيران

ولأجله قد خلدوا أهل الكبا … ئر في الجحيم كعابدي الأوثان
তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি তাদের হাররার দিনে অস্বীকার করেছিলেন … মদিনার ঈমানের দুর্গের সুরক্ষা।

এমনকি সেই রক্তগুলো প্রবাহিত হয়েছিল যেন … কুরবানির বছরের ঈদের দিনের পশুর রক্ত।

আর পরদিন হাজ্জাজ তা প্রবাহিত করছিল এবং হত্যা করছিল … ঈমান ও কুরআনের অনুসারীকে।

আর মক্কায় যা ঘটেছিল তা তাঁরই কারণে ঘটেছিল … হাজ্জাজের সেই সীমালঙ্ঘনকারী সৈন্যদলের মাধ্যমে।

তিনিই খারেজিদের উৎপত্তি ঘটিয়েছিলেন ঠিক যেমন … তিনি উৎপত্তি ঘটিয়েছিলেন নিকৃষ্টতম প্রাণী রাফেজিদের।

আর তাঁরই কারণে তারা রাসুলগণের পরে সৃষ্টির সেরা মানুষদের গালিগালাজ করেছিল … সীমালঙ্ঘন ও অপবাদের মাধ্যমে।

আর তাঁরই কারণে বিদ্রোহীরা তাদের তলোয়ার কোষমুক্ত করেছিল … এই ধারণায় যে তারা সৎকর্মশীল।

আর তাঁরই কারণে মুতাজিলা সম্প্রদায় … এমন উক্তি করেছিল যা ঈমানের শক্তিকে চূর্ণ করে দিয়েছিল।

আর তাঁরই কারণে তারা বলেছিল যে তাঁর বাণী … মহিমান্বিত তিনি, সৃষ্টিরই একটি অংশ।

আর তাঁরই কারণে তাঁর তাকদিরকে অস্বীকার করেছিল … অগ্নিপূজক মজুসদের সদৃশ লোকেরা।

আর তাঁরই কারণে তারা কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের চিরস্থায়ী করেছিল … জাহান্নামে, মূর্তিপূজকদের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولأجله قد أنكروا لشفاعة الـ … ـمختار فيهم غاية النكران

ولأجله ضرب الإمام بسوطهم … صديق أهل السنة الشيباني

ولأجله قد قال جهم ليس رب … العرش خارج هذه الأكوان

كلا ، ولا فوق السماوات العلا … والعرش من رب ولا رحمن

ما فوقها رب يطاع ، جباهنا … تهوي له بسجود ذي خضعان

ولأجله جحدت صفات كماله … والعرش أخلوه من الرحمن

ولأجله أفنى الجحيم وجنة الـ … ـمأوى مقالة كاذب فتان

ولأجله قالوا الإله معطل … أزلا بغير نهاية وزمان

ولأجله قد قال ليس لفعله … من غاية هي حكمة الديان

ولأجله قد كذبوا بنزوله … نحو السماء بنصف ليل ثان

ولأجله زعموا الكتاب عبارة … وحكاية عن ذلك القرآن
আর এই কারণেই তারা তাদের মাঝে মনোনীত ব্যক্তির সুপারিশকে চরমভাবে অস্বীকার করেছে…চরম অস্বীকৃতি।

আর এই কারণেই ইমামকে তাদের চাবুক দ্বারা প্রহার করা হয়েছে … যিনি আহলুস সুন্নাহর সিদ্দীক আশ-শায়বানী।

আর এই কারণেই জাহম বলেছে যে, আরশের রব … এই জগতের বাইরে নন।

কক্ষনো না, আর সুউচ্চ আকাশসমূহ এবং আরশের উপরে … কোনো রব বা রহমান নেই।

তার উপরে এমন কোনো রব নেই যার আনুগত্য করা যায়, আমাদের কপাল … বিনীত সিজদায় তাঁর তরে লুটিয়ে পড়ে।

আর এই কারণেই তাঁর পূর্ণতার গুণাবলি অস্বীকার করা হয়েছে … এবং তারা আরশকে রহমান থেকে শূন্য করে দিয়েছে।

আর এই কারণেই সে জাহান্নাম ও জান্নাতুল মাওয়াকে … ধ্বংসশীল বলেছে—যা এক মিথ্যাবাদী ফিতনাবাজের উক্তি।

আর এই কারণেই তারা বলেছে যে, ইলাহ অনাদিকাল থেকে অকার্যকর ছিলেন … কোনো সমাপ্তি ও সময় ছাড়াই।

আর এই কারণেই সে বলেছে যে, তাঁর কাজের কোনো লক্ষ্য নেই … যা বিচারকের প্রজ্ঞা হতে পারে।

আর এই কারণেই তারা রাতের শেষার্ধে … আকাশের দিকে তাঁর অবতরণকে অস্বীকার করেছে।

আর এই কারণেই তারা দাবি করেছে যে, কিতাব হলো … সেই কুরআনের একটি ভাবপ্রকাশ ও বর্ণনা মাত্র।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ما عندنا شيء سوى المخلوق والـ … ـقرآن لم يسمع من الرحمن

ماذا كلام الله قط حقيقة … لكن مجاز ، ويح ذا البهتان

ولأجله قتل ابن نصر أحمد … ذاك الخزاعي العظيم الشان

إذ قال: ذا القرآن نفس كلامه … ما ذاك مخلوق من الأكوان

وهو الذي جر ابن سينا … والألى قالوا مقالته على الكفران

فتأولوا خلق السماوات العلا … وحدوثها بحقيقة الإمكان

وتأولوا علم الإله وقوله … وصفاته بالسلب والبطلان

وتأولوا البعث الذي جاءت به … رسل الإله لهذه الأبدان

بفراقها لعناصر قد ركبت … حتى تعود بسيطة الأركان

وهو الذي جر القرامطة الألى … يتأولون شرائع الإيمان

فتأولوا العملي مثل تأول الـ … ـعلمي عندكم بلا فرقان
সৃষ্টি ব্যতিরেকে আমাদের কাছে কিছুই নেই এবং কুরআন … দয়াময় (রাহমান) থেকে শোনা হয়নি

এটি কখনোই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম নয় … বরং রূপক; ধিক এই অপবাদের ওপর!

আর এরই কারণে ইবনে নাসর আহমদকে হত্যা করা হয়েছিল … সেই সুউচ্চ মর্যাদাবান খুযাঈকে

যখন তিনি বলেছিলেন: এই কুরআন তাঁরই কালাম … এটি মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টি নয়

আর এটিই ইবনে সিনাকে টেনে নিয়েছে … এবং তাদেরও যারা কুফরের ওপর ভিত্তি করে তার ন্যায় কথা বলেছে

অতঃপর তারা সুউচ্চ আসমানসমূহের সৃষ্টি … এবং সেগুলোর অস্তিত্ব লাভকে সম্ভাব্যতার নিরিখে ব্যাখ্যা (তাওয়িল) করেছে

তারা ইলাহ-র জ্ঞান ও তাঁর বাণী … এবং তাঁর গুণাবলিকে নেতিকরণ ও বাতিলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছে

তারা সেই পুনরুত্থানকেও ব্যাখ্যা করেছে যা আল্লাহর … রাসূলগণ এই দেহগুলোর জন্য নিয়ে এসেছিলেন

সেই উপাদানগুলো থেকে তাদের পৃথক হওয়ার মাধ্যমে যা দ্বারা গঠিত হয়েছিল … যতক্ষণ না তা মৌলিক উপাদানে ফিরে যায়

আর এটিই সেই কারামতিদের টেনে নিয়েছে যারা … ঈমানের বিধানসমূহের অপব্যাখ্যা করে

ফলে তারা তাত্ত্বিক বিষয়ের ব্যাখ্যার মতো ব্যবহারিক বিষয়েরও … অপব্যাখ্যা করেছে আপনাদের কাছে কোনো পার্থক্য ছাড়াই
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وهو الذي جر النصير وحزبه … حتى أتوا بعساكر الكفران

فجرى على الإسلام أعظم محنة … وخمارها فينا إلى ذا الآن

 

‌‌[المقدمة الخامسة أن المالكي متناقض تناقضا شديدا في كتابه هذا وفي غيره]

المقدمة الخامسة: أن المالكي متناقض تناقضا شديدا في كتابه هذا، وفي غيره، فلا تجده يأمر بأمر إلا خالفه! ولا ينهى عن شيء إلا ارتكبه! مع رميه الحنابلة - وهم سالمون منه - بذلك!

1 - فأمر وأوجب حصر بحوثنا وتصانيفنا في الرد على الإلحاد القادم! والتنصير! وإبطال النبوات ونحوها.

وهذا يناقض أفعاله! فكتبه كلها وبحوثه ومقالاته - بلا استثناء -: فيما نهى عن الخوض فيه، من ذكر الخلافات بين المسلمين! ولم يكتب حرفا واحدا في كتاب أو بحث أو مقال فيما أمر به وأوجبه!

2 - ثم أمر الناس! وأوجب عليهم! : الاقتصار على الإيمان الجملي بالكليات! والإتيان بالواجبات والطاعات الكبرى المجمع عليها! واجتناب المعاصي الكبرى المجمع عليها! كما يسميها.

وهذا مناقض لأفعاله وأقواله! فخاض فيما نهى عن الخوض فيه! مما هو ليس داخلا في الإيمانيات الجملية الكبرى! والواجبات الكبرى!
তিনিই নুসায়ের ও তার দলকে টেনে এনেছেন … অবশেষে তারা কুফরীর সেনাবাহিনী নিয়ে এল।

ফলে ইসলামের ওপর দিয়ে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বয়ে গেল … এবং তার রেশ আমাদের মাঝে এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে।

 

‌‌[পঞ্চম ভূমিকা: আল-মালিকী তার এই বইয়ে এবং অন্যান্য বইয়ে চরমভাবে স্ববিরোধী]

পঞ্চম ভূমিকা: আল-মালিকী তার এই বইয়ে এবং অন্যান্য বইয়ে চরমভাবে স্ববিরোধী; আপনি তাকে এমন কোনো নির্দেশ দিতে দেখবেন না যার তিনি নিজেই বিরোধিতা করেননি! এবং এমন কোনো বিষয়ে তিনি নিষেধ করেননি যা তিনি নিজে করেননি! অথচ তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারীদের ওপর—যারা তা থেকে মুক্ত—সেই অপবাদ আরোপ করেন!

১ - তিনি আমাদের গবেষণা ও লেখালেখিকে আগত নাস্তিকতা, খ্রিষ্টধর্ম প্রচার, নবুওয়াত অস্বীকার এবং অনুরূপ বিষয়গুলো খণ্ডনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা বাধ্যতামূলক ও ওয়াজিব করেছেন!

আর এটি তার নিজের কর্মেরই পরিপন্থী! তার সকল বই, গবেষণা ও নিবন্ধ—ব্যতিক্রমহীনভাবে—সেই বিষয়েই আবর্তিত যা নিয়ে গভীর আলোচনা করতে তিনি নিষেধ করেছেন; অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যকার মতপার্থক্য আলোচনা করা! অথচ তিনি যে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন এবং যা ওয়াজিব করেছেন, সেই বিষয়ে কোনো বই, গবেষণা বা নিবন্ধে একটি বর্ণও লিখেননি!

২ - তারপর তিনি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের ওপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন: মৌলিক বিষয়সমূহে সামগ্রিক ঈমানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে! এবং ঐকমত্যপূর্ণ বৃহৎ ওয়াজিব ও আনুগত্যসমূহ পালন করতে! এবং ঐকমত্যপূর্ণ বৃহৎ পাপসমূহ বর্জন করতে! যেমনটি তিনি নামকরণ করেছেন।

এটি তার কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের পরিপন্থী! কেননা তিনি সেই সকল বিষয়েই লিপ্ত হয়েছেন যা থেকে তিনি নিষেধ করেছিলেন; যা সামগ্রিক বৃহৎ ঈমানি বিষয় বা বৃহৎ ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়!
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
بل زاد على ذلك: التعصب لإثباتها! والإنكار على المخالف فيها! فأخرج جماعة من الصحابة من حد الصحبة! وطعن في إجماع الصحابة على بيعة أبي بكر! رضي الله عنه وعنهم، وطعن في جماعات من أئمة السلف والخلف، ورماهم بما هم برآء منه، مما سيأتي تفصيله.

وطعن في علماء الحنابلة! زاعما أن طعنه في غلاتهم فحسب! وقد طعن في إمامهم! وإمام أهل السنة قاطبة أحمد بن حنبل رضي الله عنه.

بل أشغل نفسه ومن يقرأ له بما هو دون ذلك بكثير: فكتب مقالات كثيرة ورد على باحثين كثر في القعقاع بن عمرو، أيصح وجوده أم لا؟ ! وكأن مناط صحة الإيمان - عنده - أو استقامة الشريعة وحوزتها، معلق بصحة وجوده أو عدمه! !

3 - ثم أنكر على الحنابلة كرههم وبغضهم وشدتهم على أهل البدع، لكونهم داخلين في الإسلام!

ثم أغلظ على الحنابلة وشتمهم، وافترى عليهم وطعن فيهم، لبغضه لهم مع أنهم داخلون في الإسلام!

4 - وطعن المالكي في البربهاري وهو أحد أئمة الإسلام رحمه الله رحمة واسعة، وأكرم نزله ورفعه - وأساء القول فيه، لزعمه: أن البربهاري لا يريد إلا الآثار! ويذم من أراد القرآن دونها!

ثم تناقض فمدح الرافضة وهون مخالفتهم لأهل السنة، مع أنهم مجمعون على الطعن في القرآن! والقول بنقصه وتحريفه! ومجمعون
বরং তিনি এর চেয়েও বেশি করেছেন: তা প্রমাণের ক্ষেত্রে গোঁড়ামি! এবং এর বিরোধিতাকারীদের প্রতি অস্বীকৃতি! ফলে তিনি সাহাবীদের একদলকে সাহাবিয়াতের সীমা থেকে বের করে দিয়েছেন! এবং আবু বকরের প্রতি আনুগত্যের শপথের ব্যাপারে সাহাবীদের ঐকমত্যের নিন্দা করেছেন—আল্লাহ তাঁর ও তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি পূর্বসূরী ও উত্তরসূরী ইমামদের বহু জামায়াতের নিন্দা করেছেন এবং তাঁদের প্রতি এমন অপবাদ দিয়েছেন যা থেকে তাঁরা পবিত্র ছিলেন, যার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।

তিনি হাম্বলী আলেমদেরও নিন্দা করেছেন! এই দাবি করে যে, তাঁর নিন্দা কেবল তাঁদের মধ্যকার চরমপন্থীদের জন্য! অথচ তিনি তাঁদের ইমাম এবং সমগ্র আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিন্দা করেছেন।

বরং তিনি নিজেকে এবং তাঁর পাঠকদের এর চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত রেখেছেন: তিনি কা'কা ইবনে আমর সম্পর্কে অনেক নিবন্ধ লিখেছেন এবং বহু গবেষকের প্রতিবাদ করেছেন যে—তাঁর অস্তিত্ব থাকা কি সঠিক নাকি নয়? ! যেন তাঁর নিকট ঈমানের বিশুদ্ধতা অথবা শরীয়তের অটলতা ও তার সুরক্ষা তাঁর অস্তিত্ব থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভরশীল! !

৩ - অতঃপর তিনি বিদআতিদের প্রতি হাম্বলীদের ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং কঠোরতার নিন্দা করেছেন এই কারণে যে, তাঁরা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত!

অতঃপর তিনি হাম্বলীদের প্রতি কঠোর ভাষা প্রয়োগ করেছেন এবং তাঁদের গালি দিয়েছেন, তাঁদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন এবং তাঁদের নিন্দা করেছেন তাঁদের প্রতি তাঁর বিদ্বেষের কারণে, যদিও তাঁরা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত!

৪ - আল-মালিকী আল-বারবাহারীর নিন্দা করেছেন, অথচ তিনি ইসলামের ইমামদের মধ্যে অন্যতম—আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর মর্যাদা ও স্থানকে উচ্চ করুন। তিনি তাঁর সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এই অজুহাতে যে: বারবাহারী কেবল বর্ণনা বা আসার চান! আর তিনি তাঁর পরিবর্তে যারা শুধু কুরআন চায় তাদের নিন্দা করেন!

অতঃপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন এবং রাফেজীদের প্রশংসা করেছেন ও আহলে সুন্নাহর সাথে তাঁদের বিরোধকে তুচ্ছ করে দেখিয়েছেন, যদিও তাঁরা কুরআনের নিন্দা করার ব্যাপারে একমত! এবং কুরআনের অসম্পূর্ণতা ও বিকৃতির প্রবক্তা! এবং তাঁরা একমত...
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
على الطعن في كتب السنة جميعا! لرواية النواصب لها بزعمهم! فمن أولى بالطعن والذم: البربهاري أم الرافضة؟ !

5 - وأنكر على أهل السنة عامة، وخص منهم الحنابلة: مطالبتهم بالسلف، في مسائل الاعتقاد. وزعم أن مرد ذلك إلى الكتاب والسنة ولغة العرب، دون اشتراط المتابعة للسلف الصالح!

ثم تناقض! فبدع من أطلق لفظ " العقيدة " على أمور الإيمان والاعتقاد: لعدم وجود سلف لهذا الإطلاق! ! وخلو القرآن والسنة منه.

6 - وأمر بالعودة إلى متواتر السنة ثم الصحيح المشهور، وترك الأحاديث المتنازع فيها، سواء كان النزاع من حيث الثبوت، أو دلالة النص.

ثم تناقض! فطعن في بعض العلماء والأئمة لتضعيفهم بعض الأحاديث التي لم تثبت، ولم يروها أحد من أهل الصحاح وليست متواترة، بل حكم بعض الأئمة بوضعها وكذبها، كحديث: (أنا مدينة العلم، وعلي بابها) ! فقد أنكر المالكي على شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تضعيفه له، مع أنه غير مسلم بصحته! والثابت ضعفه.

7 - وحرم المالكي الإنكار على من أداه اجتهاده إلى قول ما، مما ليس من أمور الدين المعلومة بالضرورة.

ثم تناقض! فأنكر على الحنابلة وغيرهم كثيرا من أقوالهم واجتهاداتهم، مع أنها - عنده - ليست من أمور الدين المعلومة
সমস্ত সুন্নাহর কিতাবসমূহের সমালোচনা করার ওপর! তাদের দাবি অনুযায়ী নাসেবিরা সেগুলো বর্ণনা করার কারণে! সুতরাং সমালোচনা ও নিন্দার অধিক যোগ্য কে: আল-বারবাহারি নাকি রাফেজিরা? !

৫ - তিনি সাধারণ আহলে সুন্নাত এবং বিশেষভাবে হাম্বলিদের এই বিষয়ের ওপর আপত্তি করেছেন যে: তারা আকিদাগত বিষয়ে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) অনুসরণ দাবি করে। তিনি দাবি করেছেন যে, এর ভিত্তি হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং আরবি ভাষা, নেককার সালাফদের অনুসরণের শর্তারোপ ব্যতিরেকেই!

অতঃপর তিনি নিজেই স্ববিরোধিতা করেছেন! যারা ইমান ও বিশ্বাসের বিষয়গুলোতে "আকিদাহ" শব্দটির প্রয়োগ করেন, তিনি তাদের বিদআতি বলেছেন: কারণ এই প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সালাফ (পূর্বসূরি) বিদ্যমান নেই!! এবং কুরআন ও সুন্নাহও এই শব্দ থেকে খালি।

৬ - তিনি সুন্নাহর মুতাওয়াতির বর্ণনা এবং এরপর সহিহ মশহুর বর্ণনার দিকে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন, আর যে সকল হাদিসের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য রয়েছে সেগুলো বর্জন করার আদেশ দিয়েছেন; চাই সেই মতপার্থক্য হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে হোক বা নসের (মূল পাঠের) অর্থগত দিক থেকে হোক।

অতঃপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন! তিনি এমন কিছু আলেম ও ইমামদের ওপর কটাক্ষ করেছেন যারা কিছু অনির্ভরযোগ্য হাদিসকে দুর্বল বলেছেন, যেগুলো সিহাহ (বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থের) রচয়িতাদের কেউ বর্ণনা করেননি এবং সেগুলো মুতাওয়াতিরও নয়; বরং কোনো কোনো ইমাম সেগুলোকে জাল ও মিথ্যা হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, যেমন সেই হাদিস: (আমি ইলমের শহর, আর আলি তার দরজা)! আল-মালিকি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এর ওপর আপত্তি তুলেছেন কারণ তিনি একে দুর্বল বলেছেন, অথচ এটি যে সহিহ তা স্বীকৃত নয়! বরং এর দুর্বলতাই প্রমাণিত।

৭ - আল-মালিকি এমন ব্যক্তির ওপর আপত্তি করাকে হারাম করেছেন যার ইজতিহাদ তাকে কোনো মত পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে, যা দ্বীনের সেই সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় যা অকাট্যভাবে সুপরিচিত।

অতঃপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন! তিনি হাম্বলি এবং অন্যদের অনেক বক্তব্য ও ইজতিহাদের ওপর আপত্তি তুলেছেন, যদিও সেগুলো—তার নিকট—দ্বীনের সুপরিচিত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
(খণ্ড: ১) কামউদ দাজাজিলাতিত্তায়িনিনা ফী মুতাকাদি আইম্মাতিল ইসলামিল হানাবিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بالضرورة! وحسبك إنكاره على من أثبت وجود القعقاع بن عمرو، أو أثنى على بني أمية، أو ضعف حديث " أنا مدينة العلم، وعلي بابها ".

8 - وأنكر المالكي استخدام لفظ " العقيدة " في مسائل الإيمان والاعتقاد، لزعمه أنه لفظ مبتدع!

ثم تناقض! فاستخدمه في غير موضع دون إنكار ولا تنبيه!

9 - وزعم أن الحنابلة كانوا يضعفون البيهقي! رحمه الله.

ثم تناقض! فنسب القول بتضعيف البيهقي إلى شيخنا العلامة المحقق صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان حفظه الله، وزعم أنه أول من ضعف البيهقي! ! وتكلم فيه! ! ولا أدري! كيف كان الحنابلة يضعفون البيهقي، وأول من تكلم فيه شيخنا صالح الفوزان؟ !

وسيأتي بيان كذبه في نسبة تضعيف الشيخ صالح للبيهقي، وأنه عند الشيخ صالح الفوزان وأئمة السنة كلهم: حافظ إمام.

10 - وزعم أن الحنابلة رموا مذهب أبي حنيفة برد أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وجعل ذلك ظلما وكذبا.

ثم تناقض! فأثبت لأبي حنيفة وأصحابه رد أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم! إلا أنه جعل مرد ذلك وسببه: منهجهم المتشدد في قبول الحديث! وكأن محل النزاع: سبب الرد لا وجوده!

11 - وزعم أن من صفات الحنابلة النصب! وانتقاص جماعة من آل البيت! ووجود حساسية عندهم من الثناء على علي بن أبي طالب
অবশ্যই! আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি কা'কা ইবন আমরের অস্তিত্ব যে সাব্যস্ত করেছে তার প্রতিবাদ করেছেন, অথবা যারা উমাইয়া বংশের প্রশংসা করেছে তাদের সমালোচনা করেছেন, অথবা যারা "আমি ইলমের শহর এবং আলী তার দরজা" হাদীসটিকে যয়ীফ (দুর্বল) বলেছেন তাদের প্রতিবাদ করেছেন।

৮ - আল-মালিকী ঈমান ও বিশ্বাসের বিষয়ে 'আকীদা' শব্দটির ব্যবহার অস্বীকার করেছেন, কারণ তার দাবি এটি একটি বিদআতী শব্দ!

অতঃপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন! তিনি কোনো প্রকার অস্বীকৃতি বা সতর্কতা ছাড়াই একাধিক স্থানে এটি ব্যবহার করেছেন!

৯ - এবং তিনি দাবি করেছেন যে হাম্বলীগণ বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে যয়ীফ প্রতিপন্ন করতেন!

এরপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন! তিনি বায়হাকীকে যয়ীফ প্রতিপন্ন করার বিষয়টি আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাক্কিক সালিহ বিন ফাউজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাউজান (হাফিযাহুল্লাহ)-এর দিকে নিসবত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বায়হাকীকে যয়ীফ বলেছেন এবং তার সমালোচনা করেছেন!! আমি জানি না, হাম্বলীগণ কীভাবে বায়হাকীকে যয়ীফ বলতেন যেখানে তার সম্পর্কে প্রথম কথা বলেছেন আমাদের শায়খ সালিহ আল-ফাউজান?!

শায়খ সালিহ কর্তৃক বায়হাকীকে যয়ীফ প্রতিপন্ন করার মিথ্যা দাবি অচিরেই স্পষ্ট হবে; বরং শায়খ সালিহ আল-ফাউজান এবং সুন্নাহর সমস্ত ইমামদের নিকট তিনি একজন হাফিয ও ইমাম।

১০ - তিনি দাবি করেছেন যে, হাম্বলীগণ ইমাম আবু হানীফার মাযহাবের ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করার অপবাদ দিয়েছেন এবং তিনি এটিকে যুলুম ও মিথ্যা বলে সাব্যস্ত করেছেন।

এরপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন! তিনি আবু হানীফা এবং তাঁর সাথীদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন! তবে তিনি এর কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের কঠোর কর্মপন্থাকে! যেন বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু হলো প্রত্যাখ্যানের কারণ, এর অস্তিত্ব নয়!

১১ - এবং তিনি দাবি করেছেন যে, হাম্বলীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো 'নসব' (আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা)! এবং আহলে বাইতের একদল সদস্যের অবমাননা করা! এবং আলী বিন আবু তালিবের প্রশংসা করার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে এক ধরণের স্পর্শকাতরতা বিদ্যমান।