(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
إمام المسجد مقوماته العلمية والخلقية   (سعود بن محمد البشر)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إمام المسجد مقوماته العلمية والخلقية

المؤلف: سعود بن محمد البشر

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد الصفحات: 34

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মসজিদের ইমাম: তাঁর ইলমী ও চারিত্রিক গুণাবলি   (সউদ বিন মুহাম্মাদ আল-বিশ্‌র)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


গ্রন্থ: মসজিদের ইমাম: তাঁর ইলমী ও চারিত্রিক গুণাবলি

লেখক: সউদ বিন মুহাম্মাদ আল-বিশ্‌র

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

إمام المسجد

مقوماته العلمية والخلقية

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على رسوله الأمين سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد:

فاستجابة لطلب وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد، أعددت هذه المشاركة في موضوع: " إمام المسجد ومقوماته العلمية والخلقية ".

وإنني بهذه المناسبة أشكر لخادم الحرمين الشريفين حفظه الله جهوده العظيمة والموفقة في خدمه الحرمين الشريفين المتمثلة في توسعتهما وتوفير كل ما يحتجان إليه وتهيئتهما لتأدية وظائفهما الدينية والاجتماعية بأعلى مستوى.

مع العناية بكافة المساجد في المملكة وغيرها والاهتمام بطباعه المصحف الشريف وتوزيعه في الداخل والخارج.

كما أشكر معالي وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد، الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي، على ما يقوم به من عمل مخلص لخدمة العمل الإسلامي، وخدمة بيوت الله، وتوجيه الدعوة وإعداد الدعاة.

أسال الله للجميع العون والتوفيق.
‌[ভূমিকা]

মসজিদের ইমাম

তাঁর জ্ঞানগত ও চারিত্রিক যোগ্যতাসমূহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সাড়া দিয়ে আমি "মসজিদের ইমাম এবং তাঁর জ্ঞানগত ও চারিত্রিক যোগ্যতাসমূহ" শীর্ষক বিষয়ে এই প্রবন্ধটি প্রস্তুত করেছি।

এই বিশেষ মুহূর্তে আমি খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন)-কে হারামাইন শরিফাইনের সেবায় তাঁর মহান ও সফল প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, যা এ দুই পবিত্র মসজিদের সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় সকল উপকরণের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যাদি সর্বোচ্চ মানে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য সেগুলোকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।

এর সাথে সাথে রাজ্যের সকল মসজিদ ও অন্যান্য অঞ্চলের মসজিদের যত্ন নেওয়া এবং পবিত্র মুসহাফ মুদ্রণ ও দেশে-বিদেশে তা বিতরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের জন্যও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

একইভাবে আমি ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কিকেও ধন্যবাদ জানাই ইসলামী কার্যক্রমের খিদমত, আল্লাহর ঘরসমূহের সেবা, দাওয়াহর সঠিক পরিচালনা এবং দাঈ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার জন্য।

আমি সকলের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[مكانة المسجد]

مكانة المسجد: لقد نوه الله تعالى في كتابه الكريم بالمسجد ورفع قدره وأعلى مكانته وعظم شأنه واختاره بيتا له وأضافه إلى نفسه وأمر أن يرفع ويذكر فيه اسمه وجعله أحب البلاد إليه كما جاء في الحديث الذي رواه مسلم في صحيحه " «أحب البلاد إلى الله مساجدها. . .» إلخ، واعتبر عمارة المساجد من علامات الإيمان وسببا للهداية قال تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} [التوبة: 18] (1) .

وقد أثنى الله على عمار بيوته سواء كانت عمارتهم لها ببنائها وصيانتها ونظافتها أم كانت بإقامة الصلاة وذكر الله فيها، فكلا المعنيين مقصود بالعمارة (2) .

والجهاد شرع لإعلاء كلمة الله والمساجد هي أفضل مكان ترفع فيه كلمة الله وتؤدى فيه أعظم فرائضه بعد الشهادتين، ولهذا كان الدفاع عنها دفاعا مشروعا بل واجبا على المسلمين قال

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة الآية 18.

(2) فتح الباري ج1 ص541، المكتبة السلفية القاهرة.
[মসজিদের মর্যাদা]

মসজিদের মর্যাদা: মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে মসজিদের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন এবং এর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, এর অবস্থানকে সমুন্নত করেছেন ও এর শানকে মহিমান্বিত করেছেন। তিনি মসজিদকে তাঁর ঘর হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং একে নিজের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন একে উচ্চমর্যাদা প্রদান করা হয় এবং এতে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়। তিনি মসজিদকে তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে: "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় স্থান হলো এর মসজিদসমূহ..." ইত্যাদি। তিনি মসজিদ আবাদ করাকে ঈমানের অন্যতম নিদর্শন এবং হিদায়াতের কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করেনি; অতএব আশা করা যায় যে তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আত-তাওবাহ: ১৮] (১)।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘরসমূহ যারা আবাদ করেন তাদের প্রশংসা করেছেন; চাই তাদের সেই আবাদ করা মসজিদ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে হোক অথবা সেখানে সালাত কায়েম ও আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে হোক। আবাদ করার ক্ষেত্রে উভয় অর্থই উদ্দেশ্য (২)।

আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্যই জিহাদ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং মসজিদ হলো আল্লাহর বাণী সমুন্নত করার সর্বোত্তম স্থান, যেখানে শাহাদাতাইনের পর ইসলামের মহান ফরজসমূহ পালন করা হয়। এই কারণে মসজিদ রক্ষা করা একটি শরয়ি প্রতিরক্ষা, বরং তা মুসলমানদের ওপর আবশ্যক। তিনি বলেছেন

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১৮।

(২) ফাতহুল বারী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪১, আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, কায়রো।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
تعالى: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا} [الحج: 40] (1) .

والدفاع عن هذه المقدسات نصر لله بدليل قوله - تعالى- بعد ذلك {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} [الحج: 40] (2) .

ثم ذكر تعالى صفات حماة العقيدة الذين يدافعون عن المقدسات الإسلامية فقال: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 41] (3) .

ومن أقبح القبائح وأظلم الظلم، المنع من عمارة المساجد وتعطيلها وصد الناس عنها ومحاربة عمارها أو تخريبها أو تحويلها لغير ما بنيت له من العبادة، قال تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا} [البقرة: 114] وكتب الخزي الدنيوي، وتوعد بالعذاب الأخروي من يفعل ذلك قال تعالى مخبرا عن ذلك: {أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [البقرة: 114] (4) .

--------------------------------------------

(1) سورة الحج الآية: 40.

(2) سورة الحج الآية: 40.

(3) سورة الحج الآية: 41.

(4) سورة البقرة 114.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে সন্ন্যাসীদের আশ্রম, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং এমন মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়} [হাজ্জ: ৪০] (১)।

আর এই পবিত্র স্থানসমূহের প্রতিরক্ষা করা হলো আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করার নামান্তর। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর পরবর্তী বাণী: {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী} [হাজ্জ: ৪০] (২)।

অতঃপর মহান আল্লাহ সেই সকল আকিদার রক্ষকদের গুণাবলী উল্লেখ করেছেন যারা ইসলামি পবিত্র স্থানসমূহ রক্ষা করেন। তিনি বলেন: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ (المنكر) হতে নিষেধ করবে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই ইখতিয়ারে} [হাজ্জ: ৪১] (৩)।

সর্বাপেক্ষা জঘন্য কর্মকাণ্ড ও চরমতম জুলুম হলো আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করতে বাধা প্রদান করা, সেগুলোকে অকেজো করে রাখা, মানুষকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং এর আবাদকারীদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করা কিংবা মসজিদ ধ্বংস করা অথবা ইবাদতের জন্য নির্মিত এই ঘরকে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়?} [বাকারা: ১১৪]। তিনি দুনিয়াতে লাঞ্ছনা লিখে দিয়েছেন এবং যারা এমন কাজ করবে তাদের জন্য পরকালীন আজাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া ব্যতীত তাদের এসবে প্রবেশ করার কোনো অধিকার নেই। তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে রয়েছে মহাশাস্তি} [বাকারা: ১১৪] (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৪০।

(২) সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৪০।

(৩) সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৪১।

(৪) সূরা বাকারা: ১১৪।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكما نوه القرآن العظيم بمكانة المسجد أشادت السنة كذلك بما للمسجد من مكانة عظيمة يتجلى ذلك في حب رسول الله صلى الله عليه وسلم للمسجد، فقد بدأ ببناء مسجده أول ما وصل إلى المدينة، لتنطلق منه الدعوة الإسلامية وليكون مدرسة ومعهدا وجامعه يتلقى فلها أصحابه تعليم القرآن الكريم والسنة المطهرة.

وفي المسجد تأسست الدولة الإسلامية وتكون المجتمع الإسلامي الذي حمل أعباء الرسالة وانطلق بها إلى مشارق الأرض ومغاربها ففتح الله به البلاد وقلوب العباد، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقضي فيه جل وفته إماما ومعلما وداعيا إلى الله وقاضيا وقائدا لمسيرة العمل الإسلامي، وكان صلى الله عليه وسلم حريصا على نظافة المسجد، رأى مرة نخامه في جدار قبلة المسجد فحكها بيده ورؤي كراهيته لذلك وشدته عليه (1) وإظهارا لأهمية نظافة المسجد كرم النبي صلى الله عليه وسلم المرأة السوداء التي كانت تقم مسجده وصلى على قبرها ولام بعض أصحابه حيث لم يخبروه بموتها تقليلا لشأنها.

وحرصا على كرامة المسجد وأهله نهى صلى الله عليه وسلم من أكل ذا رائحة كريهة عن دخول المسجد حتى تزول تلك

--------------------------------------------

(1) انظر صحيح البخاري 1 / 106.
মহান কুরআন যেমন মসজিদের মর্যাদাকে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে, সুন্নাহও তেমনি মসজিদের সুমহান মর্যাদার প্রশংসা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। মদিনায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি সর্বপ্রথম তাঁর মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন, যাতে সেখান থেকে ইসলামি দাওয়াত পরিচালিত হতে পারে এবং এটি একটি পাঠশালা, প্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে যেখানে তাঁর সাহাবীগণ পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর শিক্ষা লাভ করবেন।

এই মসজিদেই ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এমন এক ইসলামি সমাজ গঠিত হয়েছিল যারা রিসালতের গুরুভার বহন করেছিলেন এবং তা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জনপদ এবং বান্দাদের অন্তরসমূহ জয় করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে ইমাম, শিক্ষক, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী, বিচারক এবং ইসলামি কর্মযাত্রার অগ্রনায়ক হিসেবে তাঁর অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। একবার তিনি মসজিদের কিবলার দেয়ালে শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন, তখন তিনি তা নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এবং এতে তাঁর অসন্তোষ ও কঠোরতা পরিলক্ষিত হলো (১)। মসজিদের পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে সম্মানিত করেছিলেন যিনি তাঁর মসজিদ ঝাড়ু দিতেন। নবীজি তাঁর কবরের পাশে জানাজা আদায় করেছিলেন এবং তাঁর কয়েকজন সাহাবীকে তিরস্কার করেছিলেন, যেহেতু তারা সেই মহিলার বিষয়টিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ তাঁকে দেয়নি।

মসজিদ ও তার অধিবাসীদের মর্যাদা রক্ষার তাগিদে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্গন্ধযুক্ত কোনো বস্তু ভক্ষণকারীকে মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না সেই দুর্গন্ধ দূর হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সহিহ বুখারি ১ / ১০৬।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الرائحة فعن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من أكل من هذه الشجرة يعني الثوم فلا يأتين المساجد» (1) وفي حديث جابر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن أكل البصل والكراث فغلبتنا الحاجة فأكلنا منها فقال صلى الله عليه وسلم: «من أكل من هذه الشجرة النتنة فلا يقربن مسجدنا فإن الملائكة تتأذى مما يتأذى منه الأنس» (2) وخطب أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه يوما فقال في خطبته: ". . . . ثم أنكم أيها الناس تأكلون شجرتين لا أراهما إلا خبيثتين هذا البصل والثوم، لقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا وجد ريحها من الرجل في المسجد أمر به فأخرج إلى البقيع فمن أكلهما فليمتهما طبخا" (3) .

 

‌‌[إمام المسجد]

إمام المسجد: المسجد هو المؤسسة الثابتة في الإسلام وهو الرابطة الدينية والاجتماعية التي توثق الصلة وتحقق التعارف بين فئات المجتمع المسلم.

ويعتبر إمام المسجد وخطيبه عماد المسجد وقوته، به يؤدي المسجد رسالته في نشر الدعوة وتوعية المجتمع وتبصير الناس بأمور دينهم، فإذا كان الخطيب عالما قوي الشخصية نافذ البصيرة

--------------------------------------------

(1) متفق عليه واللفظ لمسلم، انظر صحيح البخاري 1 / 207 وصحيح مسلم 1 393.

(2) رواه مسلم 1 / 396 كتاب المساجد

(3) المصدر السابق.
গন্ধ প্রসঙ্গে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই গাছ অর্থাৎ রসুন থেকে আহার করে, সে যেন অবশ্যই মসজিদের নিকটবর্তী না হয় (১)।" এবং জাবির (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) পেঁয়াজ ও কুরাছ (এক প্রকার লতা) ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রয়োজনের তাগিদে আমরা তা খেয়েছিলাম। তখন তিনি (সা.) বললেন: "যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধযুক্ত গাছ থেকে আহার করে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে। কেননা মানুষ যা দ্বারা কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তা দ্বারা কষ্ট পায় (২)।" আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একদিন খুতবা প্রদানকালে বলেন: "...অতঃপর হে লোকসকল! তোমরা এমন দুটি গাছ ভক্ষণ করো যা আমার দৃষ্টিতে কেবল অপবিত্রই প্রতীয়মান হয়; এই পেঁয়াজ ও রসুন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদে কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে এর গন্ধ পেতেন, তখন তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং তাকে ‘বাকী’ নামক স্থানে বের করে দেওয়া হতো। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি বস্তু খেতে চায়, সে যেন রান্নার মাধ্যমে এর দুর্গন্ধ দূর করে দেয় (৩)।"

 

‌‌[মসজিদের ইমাম]

মসজিদের ইমাম: মসজিদ হলো ইসলামের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এবং এটি এমন এক ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন যা মুসলিম সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং পারস্পরিক পরিচয় নিশ্চিত করে।

মসজিদের ইমাম ও খতীবকে মসজিদের মূল স্তম্ভ ও শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর মাধ্যমেই মসজিদ দাওয়াত প্রচার, সমাজকে সচেতন করা এবং মানুষকে দ্বীনের বিষয়ে প্রজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্ব পালন করে। যদি খতীব একজন বিদ্বান, শক্তিশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী হন...

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং শব্দচয়ন মুসলিম-এর, দেখুন সহীহ বুখারী ১/২০৭ এবং সহীহ মুসলিম ১/৩৯৩।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ১/৩৯৬, কিতাবুল মাসাজিদ (মসজিদ অধ্যায়)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
عارفا بعادات الناس وأحوالهم كان تأثيره جيدا ومفيدا في جماعة المسجد، وفي سكان الحي الذي فيه المسجد يعلمهم ويرشدهم ويقودهم إلى كل خير وفضيلة.

وقد كان كذلك الخطباء المستجمعون لشروط الإمامة والخطابة.

ففي صدر الإسلام كان النبي صلى الله عليه وسلم هو الإمام والخطيب ثم خلفاؤه الراشدون ثم الأمراء والقواد والعلماء والأعلام، وهذا يدل على أنه يجب أن يكون متولي هذه الوظيفة في المنزلة العالية من الدين والخلق والعلم والسلوك (1) وهنا تظهر أهمية هذه الوظيفة في حياة الناس إذ إن قوة الخطباء تبدو على مجتمعاتهم، وضعفهم يظهر أثره في تلك المجتمعات، لأن المسجد هو الذي يعلم المجتمع ربط القول بالعمل فإذا كان الخطيب ضعيف العلم والشخصية أو سيئ الخلق والسلوك فإنه يضر ولا ينفع، وإذا كان من مهمة الإمام الخطيب قيادة المصلين إلى الخير والبر والصلاح فمن العسير أن يحقق الخطيب الجاهل هذه المهمة الجليلة (2) .

وقد يكون الإمام الخطيب جامعا لشروط هذه الوظيفة من حيث العلم والقدرة الشخصية ولكنه مشغول عن وظيفته بأعمال

--------------------------------------------

(1) الشيخ على محفوظ، الخطابة ص21.

(2) أحمد بن عبد الله أحمد، رسالته ماجستير عن المسجد وأثره في الدعوة الإسلامية ص2.
মানুষের অভ্যাস ও অবস্থা সম্পর্কে প্রাজ্ঞ হওয়ার কারণে মসজিদের জামাত এবং উক্ত মসজিদের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দাদের ওপর তাঁর প্রভাব ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কল্যাণকর; তিনি তাঁদের শিক্ষা দিতেন, সঠিক পথের দিশা দিতেন এবং সকল প্রকার কল্যাণ ও সচ্চরিত্রের দিকে পরিচালিত করতেন।

অনুরূপভাবে সেই সকল খতিবও ছিলেন যাঁরা ইমামত ও খিতাবাতের (খুতবা প্রদানের) শর্তাবলি পূরণ করতেন।

ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বয়ং ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, অতঃপর তাঁর খুলাফায়ে রাশিদুন, এরপর আমির, সেনাপতি, উলামা এবং বরেণ্য মনীষীগণ এই দায়িত্ব পালন করেন। এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে দ্বীনদারী, সচ্চরিত্র, জ্ঞান ও আচরণের দিক থেকে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হতে হবে (১)। এখানেই মানুষের জীবনে এই পদের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে; কেননা খতিবদের সক্ষমতা তাঁদের সমাজের ওপর প্রতিফলিত হয় এবং তাঁদের দুর্বলতার প্রভাবও সেই সকল সমাজে পরিলক্ষিত হয়। কেননা মসজিদই সমাজকে কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে শেখায়। সুতরাং খতিব যদি জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের বিচারে দুর্বল (ضعيف) অথবা মন্দ চরিত্র ও আচরণের অধিকারী হন, তবে তিনি উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই সাধন করেন। আর ইমাম-খতিবের মূল লক্ষ্য যেহেতু মুসল্লিদের কল্যাণ, পুণ্য ও সংশোধনের পথে পরিচালিত করা, তাই একজন মূর্খ খতিবের পক্ষে এই মহান দায়িত্ব সম্পাদন করা অত্যন্ত দুরূহ (২)।

কখনো কখনো ইমাম-খতিব জ্ঞান ও ব্যক্তিগত সক্ষমতার বিচারে এই পদের সকল শর্ত পূরণকারী হয়ে থাকেন, কিন্তু তিনি তাঁর দায়িত্বের পরিবর্তে অন্যান্য কর্মে ব্যতিব্যস্ত থাকেন...

--------------------------------------------

(১) শেখ আলি মাহফুজ, আল-খিতাবাহ, পৃষ্ঠা ২১।

(২) আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আহমদ, ইসলামি দাওয়াতে মসজিদের প্রভাব বিষয়ক তাঁর মাস্টার্স থিসিস, পৃষ্ঠা ২।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أخرى تؤثر على مستوى الخطبة، فلا يجد الوقت الكافي لإعداد الخطبة بما يناسب الحال، فيخرج للناس كما يقول ابن قيم الجوزية رحمه الله بخطبة لا تحصل في القلب إيمانا بالله ولا توحيدا له ولا معرفة خاصة به ولا تذكيرا بأيامه ولا بعثا للنفوس على محبته والشوق إلى لقائه. . . . الخ (1) .

وقد يغلبه الهوى وتجمع به النزاعات السياسية والحزبية والتطرف المذموم فيخرج عن الموضوعية والتوجيه التربوي والدعوة بالحكمة والموعظة الحسنة إلى التشهير والتجريح والإثارة والأسلوب المتشنج، وهذه بلاء وضجيج وصيحات خاسرة جاء بها الفكر الوافد والثقافة الدخيلة، فنعوذ بالله من الهوى والشيطان ودعاة الهدم والضلع، ونسأل الله أن يرزقنا السداد في القول والعمل إنه ولي ذلك والقادر عليه.

 

‌‌[مقومات الإمام العلمية]

مقومات الإمام العلمية: يعيش المجتمع الإسلامي اليوم في بحر من المنكرات والبدع والخرافات واتباع الشهوات والوقوع في الشبهات، وقد غلبت عليه النزعة المادية فجعل همه السعي وراء متطلبات الحياة دون وازع

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد ج1 ص423. تحقيق شعيب الأرناؤوط.
অন্যান্য বিষয় যা খুতবার মানের ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে খতিব পরিস্থিতির সাথে সংগতিপূর্ণ খুতবা প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। ফলস্বরূপ, তিনি মানুষের সামনে উপস্থিত হন—যেভাবে ইবনে কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—এমন খুতবা নিয়ে যা হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর তাওহিদ, তাঁর সম্পর্কে বিশেষ মারেফাত বা জ্ঞান তৈরি করে না, কিংবা তাঁর দিবসসমূহ (নিয়ামতসমূহ) স্মরণ করিয়ে দেয় না এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে না... ইত্যাদি (১)।

কখনও কখনও প্রবৃত্তি তাঁর ওপর জয়ী হতে পারে এবং রাজনৈতিক ও দলীয় বিবাদ ও নিন্দনীয় চরমপন্থা তাঁকে গ্রাস করতে পারে। ফলে তিনি বস্তুনিষ্ঠতা, তারবিয়্যাতি (শিক্ষামূলক) দিকনির্দেশনা এবং হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াতের পথ পরিহার করে কুৎসা রটনা, সমালোচনা বা দোষারোপ (تجريح), উত্তেজনা সৃষ্টি এবং রুক্ষ শৈলীর আশ্রয় গ্রহণ করেন। এগুলো মূলত বিপদ, শোরগোল এবং ব্যর্থ হাহাকার যা বিজাতীয় চিন্তাধারা ও অনুপ্রবেশকারী সংস্কৃতি থেকে আগত। আমরা প্রবৃত্তি, শয়তান এবং ধ্বংস ও বিচ্যুতির আহ্বানকারীদের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কথা ও কাজে সঠিকতা দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

 

‌‌[ইমামের ইলমি যোগ্যতাসমূহ]

ইমামের ইলমি (জ্ঞানগত) যোগ্যতাসমূহ: বর্তমান মুসলিম সমাজ পাপাচার, বিদআত, কুসংস্কার, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয়ের সমুদ্রে নিমজ্জিত। তাদের ওপর বস্তুবাদী মানসিকতা প্রাধান্য পেয়েছে, যার ফলে পরকালীন চেতনা ছাড়াই পার্থিব জীবনের প্রয়োজন মেটানোই তাদের মূল চিন্তায় পরিণত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মা'আদ, ১ম খণ্ড, ৪২৩ পৃষ্ঠা। তাহকিক বা যাচাইকরণ (تحقيق): শুআইব আল-আরনাউত।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أو حذر من الوقوع في المحرمات ولم ينج من ذلك إلا من ركب سفينة النجاة وعصمه الله من الوقوع في الشهوات والشبهات.

وإن للمسجد أثرا عظيما في هذا الدين؛ إذ هو منارة هدى يتصل العبد فيه بربه، ويتقوى إيمانه، ويجتمع بإخوانه ليتعاون الجميع على نشر الفضيلة ومحاربة الرذيلة ولن يكون المسجد قادرا على ذلك إلا إذا هيأ الله له إماما توفرت له المقومات العلمية المطلوبة لكل من يشغل هذا المنصب العظيم ويؤدي مهام هذه الوظيفة الجليلة وأهم هذه المقومات.

1 - إخلاص العمل لله حتى يكون مؤيدا منصورا مقبولا ومحبوبا عند الله وعند الناس.

2 - الابتعاد عن الرياء والمباهاة، فإن الأمور بمقاصدها والأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى ومن تزين بما ليس فيه شانه الله.

3 - أن يكون حافظا لكتاب الله أو يحفظ قدرا كبيرا من القرآن الكريم.

4 - أن يحفظ عددا من الأحاديث النبوية، من رياض الصالحين أو الأربعين النووية أو من بلوغ المرام أو غيرها من كتب الحديث المعتمدة.
অথবা হারামে পতিত হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, এবং তা থেকে কেবল তিনিই মুক্তি পেয়েছেন যিনি নাজাতের নৌকায় আরোহণ করেছেন এবং আল্লাহ যাকে কুপ্রবৃত্তি ও সংশয় থেকে রক্ষা করেছেন।

নিশ্চয়ই এই দ্বীনে মসজিদের এক সুমহান প্রভাব রয়েছে; কেননা এটি হেদায়েতের আলোকবর্তিকা যেখানে বান্দা তার রবের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে, তার ঈমান সুদৃঢ় হয় এবং সে তার ভাইদের সাথে মিলিত হয় যেন পুণ্য প্রসারে এবং পাপাচার দমনে সকলে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে। তবে মসজিদ এই সক্ষমতা তখনই অর্জন করবে যখন আল্লাহ তার জন্য এমন একজন ইমামের তাওফিক দেবেন যার মধ্যে এই মহান পদে আসীন হতে এবং এই গৌরবময় দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে প্রয়োজনীয় ইলমি যোগ্যতাসমূহ বিদ্যমান থাকবে। আর এই যোগ্যতাসমূহের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো:

1 - আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমলের একনিষ্ঠতা, যেন তা আল্লাহর নিকট এবং মানুষের নিকট সাহায্যপ্রাপ্ত, গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও প্রিয় হয়।

2 - রিয়া ও লোক দেখানো অহংকার থেকে দূরে থাকা। কারণ সকল বিষয় তার লক্ষ্যের ওপর এবং আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তাই পায় যার সে নিয়ত করে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো গুণ দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করে যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।

3 - আল্লাহর কিতাবের হাফেজ হওয়া অথবা পবিত্র কুরআনের একটি বড় অংশ মুখস্থ রাখা।

4 - নির্দিষ্ট সংখ্যক নববী হাদিস মুখস্থ করা, চাই তা রিয়াদুস সালিহীন, আরবাঈন আন-নববী, বুলুগুল মারাম কিংবা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (معتمدة) হাদিস গ্রন্থ থেকে হোক।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
5 - أن يعرف الفقه في الدين عقيدة وشريعة وبالأخص فقه العبادات وأهم ذلك ما يتعلق بالطهارة، والصلاة، والصيام، وكذلك فقه المعاملات ليعرف ضوابط الكسب والإنفاق، ويحذر الناس من الغش والتدليس وأخذ أموال الناس بالباطل، ويحذرهم كذلك من الإسراف والتبذير والبخل والتقتير، حتى تكون تصرفاتهم المالية في ضوء الكتاب والسنة.

كقوله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} [الأعراف: 31] (1) وقوله عز وجل: {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا} [الإسراء: 29] (2) .

ولما ذكر تعالى صفات المؤمنين في سورة الفرقان أخبر أنهم وسط في الإنفاق بين الإسراف والتقتير قال تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} [الفرقان: 67] (3) .

وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «كلوا واشربوا والبسوا في غير إسراف ولا مخيلة» (4) .

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف الآية رقم 31.

(2) سورة الإسراء الآية رقم 29.

(3) سورة الفرقان الآية رقم 67.

(4) صحيح البخاري. ج7 ص33. ط المكتبة الإسلامية - استانبول - تركيا.
5 - দ্বীনের ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা—আকীদা ও শরীয়ত উভয় ক্ষেত্রেই; বিশেষ করে ইবাদাতের ফিকহ এবং এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পবিত্রতা, সালাত ও সিয়াম সংক্রান্ত বিষয়াদি। তেমনিভাবে লেনদেনের ফিকহ সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, যাতে উপার্জনক ও ব্যয়ের নীতিমালা জানা যায়। তিনি মানুষকে ধোঁকা, কারচুপি (تدليس) এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করা থেকে সতর্ক করবেন। এছাড়া তিনি তাদের অপচয়, অপব্যয়, কৃপণতা ও সংকীর্ণতা থেকেও সতর্ক করবেন, যাতে তাদের আর্থিক লেনদেন কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত হয়।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} [সূরা আল-আরাফ: ৩১] (১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণ প্রসারিত করো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে} [সূরা আল-ইসরা: ২৯] (২)।

আর মহান আল্লাহ যখন সূরা আল-ফুরকানে মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তখন জানিয়েছেন যে তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় ও কার্পণ্যের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের ব্যয় এই উভয়ের মাঝামাঝি মধ্যম পন্থায় হয়ে থাকে} [সূরা আল-ফুরকান: ৬৭] (৩)।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমরা আহার করো, পান করো এবং পরিধান করো কোনো প্রকার অপচয় ও অহংকার ছাড়াই।" (৪)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত নং ৩১।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত নং ২৯।

(৩) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত নং ৬৭।

(৪) সহীহ বুখারী, ৭ম খণ্ড, ৩৩ পৃষ্ঠা। আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ - ইস্তাম্বুল - তুরস্ক।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
6 - أن يجيد اللغة العربية حتى يعرف معاني ما أنزل الله على رسوله صلى الله علبه وسلم فإن القرآن نزل بلغة العرب وبعض ألفاظه لم يعرفها بعض كبار الصحابة إلا منهم، كما روي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: "ما كنت أفهم معنى (فاطر) حتى سمعت قول الأعرابي: أنا فطرتها. " حين تنازع عنده أعرابيان في بئر فقال أحدهما: أنا فطرتها أي ابتدأت حفرها (1) .

7 - أن يقرأ السيرة النبوية والشمائل المحمدية وسير السلف الصالح ففيها قدوة صالحة، وأسوة حسنة وثروة علمية نافعة، وثقافة إسلامية عالية.

8 - أن يعرف الفرق الإسلامية وعقائدها، والاتجاهات الفكرية ومقاصدها، والمذاهب الهدامة وأهدافها، حتى يتمكن من مناقشتها في ضوء كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وما كتبه علماء المسلمين المحققون وينقد زيفها ويحذر من باطلها.

9 - أن يتعرف على مشكلات العالم الإسلامي، وأحوال الأقليات الإسلامية المضطهدة وكيف السبيل لحل هذه المشكلات، ونصرة هذه الأقليات وما المخرج المنقذ من المآزق التي وقع فيها

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن عطية، سورة فاطر.
6 - আরবি ভাষায় পারদর্শী হওয়া যাতে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন তার অর্থ অনুধাবন করতে পারেন। কারণ কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর কিছু শব্দের অর্থ বড় বড় সাহাবীদের কেউ কেউ তাদের (আরবদের) মাধ্যমেই জেনেছেন। যেমন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "আমি 'ফাতির' শব্দের অর্থ বুঝতে পারছিলাম না যতক্ষণ না আমি এক বেদুইনের কথা শুনলাম যে বলছিল: 'আমি এটি শুরু করেছি'। এটি তখন ঘটেছিল যখন দুইজন বেদুইন একটি কূপ নিয়ে তাঁর কাছে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল এবং তাদের একজন বলেছিল: 'আমি এটি শুরু করেছি' অর্থাৎ আমি এর খননকাজ শুরু করেছি (১)।

7 - সীরাতুন্নবী, শামায়িলে মুহাম্মাদিয়া এবং পুণ্যবান পূর্বসূরি (السلف الصالح)-দের জীবনী পাঠ করা; কেননা এতে রয়েছে উত্তম আদর্শ, উৎকৃষ্ট অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত, উপকারী ইলমি সম্পদ এবং উচ্চতর ইসলামি সংস্কৃতি।

8 - ইসলামি দলসমূহ ও তাদের আকিদাহ, বিভিন্ন চিন্তাধারা ও তাদের উদ্দেশ্য এবং ধ্বংসাত্মক মতবাদ ও তাদের লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া; যাতে করে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং মুসলিম গবেষক (المحققون) আলেমদের লেখনীর আলোকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং তাদের অসারতা সমালোচনা করতে পারেন ও তাদের বাতিল মতবাদ থেকে সতর্ক করতে পারেন।

9 - মুসলিম বিশ্বের সমস্যাসমূহ এবং নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘুদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং এসব সমস্যা সমাধানের পথ ও এই সংখ্যালঘুদের সাহায্য করার উপায় খুঁজে বের করা; আর যে সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা নিপতিত হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণের পথ অন্বেষণ করা।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ, সূরা ফাতির।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المسلمون بسبب ضعف الإيمان وقلة الوازع الديني، وبعدهم عن منهج الله السوي المستقيم.

10 - أن يتعرف على وسائل الإعلام المختلفة، ويعرف اجابياتها وسلبياتها، وما أصيب به المسلمون بسبب هذا الانفتاح الجديد، وتبادل الثقافات المختلفة والغزو الفكري المكثف، وأخطار البث المباشر عن طريق الإعلام الوافد الذي يستهدف العقيدة والأخلاق والقيم.

وإذا توافرت هذه المقومات لإمام المسجد وبخاصة إمام الجمعة فإن ذلك يحصل استقامة وتوازنا فلا إفراط ولا تفريط، ولا طيش ولا شطط؛ لأنه حينئذ يتحدث من مشكاة القرآن والسنة ومن منهج خير الناس بعد الأنبياء أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولأنه يتحدث للناس من خلال رؤية واضحة وثقافة إسلامية مؤصلة، ومعرفة لفقه الواقع.

وسيظهر أثر ذلك في تعليمه وتوجيهه وإرشاده الذي يتلقاه السامعون من خطبته من حيث الموضوعية، والمنهجية، والالتزام بمنهاج النبوة فلا إطالة ولا تقصير، ولا إثارة ولا تجريح ولا شتم ولا تثريب ولا عتب ولا انتقام ولنضرب لذلك كله مثالا جامعا من منهج الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم حين جاء إلى المدينة وصلى بالناس أول
মুসলমানরা ঈমানের দুর্বলতা, ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব এবং আল্লাহর সঠিক ও সুদৃঢ় পথ থেকে তাদের দূরত্বের কারণে (ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে)।

১০ - বিভিন্ন গণমাধ্যম সম্পর্কে অবগত হওয়া, সেগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো জানা এবং এই নতুন উন্মুক্ততা, বিভিন্ন সংস্কৃতির আদান-প্রদান ও নিবিড় বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের কারণে মুসলমানরা কিসের শিকার হয়েছে তা অনুধাবন করা। এছাড়া বহিরাগত মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের বিপদসমূহ সম্পর্কে জানা, যা আকিদা (عقيدة), নৈতিকতা (أخلاق) এবং মূল্যবোধকে লক্ষ্যবস্তু করে।

মসজিদের ইমাম, বিশেষ করে জুমার খতিবের মধ্যে যখন এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকে, তখন তার মধ্যে সঠিকতা ও ভারসাম্য অর্জিত হয়; ফলে কোনো অতিরঞ্জন (إفراط) বা শিথিলতা (تفريط) থাকে না, এবং কোনো হঠকারিতা বা সীমালঙ্ঘনও ঘটে না। কারণ তখন তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকবর্তিকা এবং নবীদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মানহাজ (منهج) বা পথ অনুযায়ী কথা বলেন। আর যেহেতু তিনি একটি সুষ্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলামী সংস্কৃতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রজ্ঞা (فقه الواقع) এর আলোকে মানুষের সাথে কথা বলেন।

তার শিক্ষা, দিকনির্দেশনা ও উপদেশের প্রভাব শ্রোতারা তার খুতবা থেকে যেভাবে লাভ করবে তাতে ফুটে উঠবে—যা হবে বস্তুনিষ্ঠ, পদ্ধতিগত এবং নবুওয়াতের আদর্শের (منهاج) অনুসারী। সেখানে কোনো দীর্ঘসূত্রতা বা চরম সংক্ষিপ্ততা থাকবে না, থাকবে না কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি, সমালোচনা বা দোষারোপ (تجريح), গালিগালাজ, ভর্ৎসনা, তিরস্কার বা প্রতিশোধমূলক আচরণ। এই সবকিছুর জন্য আমরা দয়ালু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মানহাজ (منهج) থেকে একটি সমন্বিত উদাহরণ পেশ করব, যখন তিনি মদিনায় আসলেন এবং মানুষের সাথে প্রথম সালাত আদায় করলেন...
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
جمعة صلاها في الإسلام وكانت هناك في بني سالم بن عوف فإنه صلى الله عليه وسلم خطب خطبة قصيرة جامعة مباركة، قال فيها بعد أن حمد الله وأثنى عليه بما هو أهله.

«أما بعد: أيها الناس، فقدموا لأنفسكم تعلمن والله ليصعقن أحدكم ثم ليدعن غنمه ليس لها راع ثم ليقولن له ربه وليس له ترجمان ولا حاجب يحجبه دونه: ألم يأتك رسولي فبلغك، وآتيتك مالا وأفضلت عليك فما قدمت لنفسك، فلينظرن يمينا وشمالا فلا يرى شيئا ثم لينظرن قدامه فلا يرى غير جهنم، فمن استطاع أن يقي وجهه من النار ولو بشق من تمرة فليفعل، ومن لم يجد فبكلمة طيبة فإن بها تجزى الحسنة بعشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته» (1) .

قارن بين هذا المضمون وهذا الإيجاز وبين خطب خطباء هذا العصر من وجهين على الأقل تجد:

أولا: أن خطبة الرسول صلى الله عليه وسلم كانت تملأ القلوب بالإيمان وتذكر الناس بلقاء الله قال ابن القيم رحمه الله:

--------------------------------------------

(1) أنظر ابن القيم زاد المعاد، ط مؤسسة الرسالة ج1 ص 373، 374، الحديث أخرج البخاري نحوه في كتاب المناقب باب علامة النبوة في الإسلام رقم الحديث (3595) .

وانظر المقريزي إمتاع الأسماع. . . مطابع قطر الوطنية ص46 ج1.
ইসলামে আদায়কৃত প্রথম জুমুআ যা বনী সালেম বিন আউফ-এর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল; সেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও বরকতময় খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর—যেভাবে তাঁর প্রশংসা করা উচিত—বলেছিলেন:

«অতঃপর: হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের জন্য (পরকালের সম্বল) অগ্রিম প্রেরণ করো। আল্লাহর কসম! তোমরা অবশ্যই জেনে রেখো যে, তোমাদের কাউকে অবশ্যই সংজ্ঞাহীন করা হবে (মৃত্যু দেওয়া হবে), অতঃপর সে তার পশুপালকে এমন অবস্থায় ছেড়ে আসবে যার কোনো রাখাল থাকবে না। এরপর তার রব তাকে বলবেন—এমতাবস্থায় যে তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না এবং কোনো রক্ষী তাকে তাঁর থেকে আড়াল করে রাখবে না—'তোমার কাছে কি আমার রাসূল পৌঁছাননি এবং তিনি কি (আমার বাণী) পৌঁছে দেননি? আমি তোমাকে ধন-সম্পদ দিয়েছিলাম এবং তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম, তো তুমি তোমার নিজের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছ?' তখন সে ডানে ও বামে তাকাবে কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সে সামনের দিকে তাকাবে এবং জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। অতএব, যে ব্যক্তি খেজুরের একটি টুকরো দিয়ে হলেও নিজেকে আগুন থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে। আর যে তা পাবে না, সে যেন একটি সুন্দর কথার মাধ্যমে তা করে। কারণ এর মাধ্যমে একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

এবং তোমাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক» (১)।

অন্তত দুটি দিক থেকে এই বিষয়বস্তু ও সংক্ষিপ্ততার সাথে বর্তমান যুগের খতিবদের খুতবার তুলনা করলে আপনি দেখতে পাবেন:

প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খুতবা অন্তরসমূহকে ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিত এবং মানুষকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিত। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা’আদ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৩, ৩৭৪; হাদিসটি বুখারি মানাকিব অধ্যায়ের ‘ইসলামে নবুওয়তের নিদর্শন’ পরিচ্ছেদে অনুরূপভাবে (نحوه) বর্ণনা করেছেন (أخرج), হাদিস নম্বর (৩৫৯৫)।

এবং দেখুন: মাকরিজি, ইমতাউল আসমা... মাতাবি’ কাতার আল-ওয়াতানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৬, খণ্ড ১।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
(ومن تأمل خطب النبي صلى الله عليه وسلم وخطب أصحابه وجدها كفيلة ببيان الهدى والتوحيد، وذكر صفات الرب جل جلاله، وأصول الإيمان الكلية والدعوة إلى الله، وذكر آلائه تعالى التي تحببه إلى خلقه وأيامه التي تحذر من بأسه، والأمر بذكره وشكره الذي يحببهم إليه فيذكرون من عظمة الله وصفاته وأسمائه ما يحببه إلى خلقه، ويأمرون من طاعته وشكره وذكره ما يحببهم إليه فينصرف السامعون وقد أحبوه وأحبهم ثم طال العهد وخفي نور النبوة وصارت الشرائع والأوامر رسوما تقام من غير مراعاة حقائقها ومقاصدها) (1) .

رحم الله هذا العالم الجليل كأنه يرى بعينيه ويسمع بأذنيه ما عليه معظم خطباء هذا الزمان من الضجيج الإعلامي الفارغ، إذا سمع أحدهم خبرا في إذاعة مسموعة أو مرئية أو قرأ خبرا في صحيفة أو سمع قصة لا يدري ما مدى صحتها جعل من ذلك خطبة جمعة يرفع صوته ويمعر وجهه وينسج من الحبة قبة، فيخرج السامعون بقيل وقال ما له من حاصل إلا العناء وكلة الأذهان، ولقلة الفقه في الدين صار الناس يكثرون حول هذا الخطيب الذي جعل خطبة الجمعة محاضرة مليئة بالصراخ وصار

--------------------------------------------

(1) انظر ابن القيم زاد المعاد. ج1 ص423 - 424
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের খুতবাসমূহ নিয়ে যে ব্যক্তি চিন্তা-ভাবনা করবে, সে সেগুলোকে হেদায়েত ও তাওহীদের বর্ণনা, প্রতিপালক জাল্লা জালালুহুর গুণাবলির আলোচনা, ঈমানের সামগ্রিক মৌলিক নীতিসমূহ (أصول) এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হিসেবে পাবে। সেগুলোতে মহান আল্লাহর এমন সব নেয়ামতের কথা উল্লেখ রয়েছে যা সৃষ্টির কাছে তাঁকে প্রিয় করে তোলে এবং তাঁর এমন সব দিবসের (ঘটনার) উল্লেখ রয়েছে যা তাঁর কঠোরতা থেকে সতর্ক করে। সেখানে মহান আল্লাহর যিকর ও শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ রয়েছে যা তাঁদেরকে আল্লাহর নিকট প্রিয় করে তোলে। তাঁরা আল্লাহর মহিমা, গুণাবলি ও নামসমূহের এমন বর্ণনা দেন যা তাঁকে সৃষ্টির কাছে প্রিয় করে তোলে; আর তাঁরা আল্লাহর আনুগত্য, শুকরিয়া ও যিকরের এমন নির্দেশ দেন যা তাঁদেরকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করে তোলে। ফলে শ্রোতারা যখন ফিরে যান, তখন তাঁরা আল্লাহকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহও তাঁদেরকে ভালোবাসেন। অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, নবুওয়াতের নূর প্রচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং শরিয়তের বিধান ও নির্দেশনাবলি কেবল এমন কিছু আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হলো যা সেগুলোর হাকিকত ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) রক্ষা করা ছাড়াই পালন করা হতে লাগল।) (১) .

আল্লাহ এই মহান আলিমের ওপর রহম করুন, তিনি যেন চাক্ষুষ দেখছেন এবং নিজ কানে শুনছেন বর্তমান জামানার অধিকাংশ খতিবদের সেই অন্তঃসারশূন্য শোরগোল। তাঁদের কেউ যখন কোনো বেতার বা দৃশ্যমাধ্যমে কোনো খবর শোনেন অথবা কোনো সংবাদপত্রে কোনো খবর পড়েন কিংবা এমন কোনো গল্প শোনেন যার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে তিনি জানেন না, তখন তিনি সেটাকেই জুমার খুতবায় পরিণত করেন; তিনি উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করেন, তাঁর চেহারা রক্তবর্ণ হয় এবং তিনি তিলকে তাল করেন। ফলে শ্রোতারা এমন সব অনর্থক কথাবার্তা নিয়ে প্রস্থান করে যার অর্জন কেবল ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ। দ্বীনি প্রজ্ঞার (فقه) স্বল্পতার কারণে মানুষ সেই খতিবের চারপাশে ভিড় জমাতে শুরু করেছে, যে জুমার খুতবাকে চিৎকারে ভরা এক বক্তৃতায় রূপান্তর করেছে এবং...

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনুল কাইয়্যিম, যাদুল মাআদ। খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪২৩ - ৪২৪
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
مقصد الدهماء من الجمعة حضور الخطبة لا الصلاة ونخشى مع طول الزمن أن ينسى الناس معنى الصلاة والخطبة.

هذا من جهة ومن جهة أخرى فإن النبي صلى الله عليه وسلم قدم من مكة وهي مليئة بالمشكلات ومشحونة بالأحداث الجسام والرسول صلى الله عليه وسلم حديث عهد بالمؤامرة الفاشلة التي دبرها خصوم الدعوة لاغتياله وكان المشركون قد خنقوه حتى كادت روحه تزهق لولا أن تداركه أبو بكر وهو يقول أتقتلون رجلا أن يقول ربي الله ولقي أصحابه في سبيل اتباعه أشد ما يلقاه أتباع نبي حيث عاملهم المشركون بما لا حد له من قسوة ووحشية.

وكان من الطبيعي في مفهومنا المعاصر أن يتعرض الرسول صلى الله عليه وسلم في أول خطبة يلقيها في المجتمع المدني المناصر له إلى هذه الأحداث ويذكر الأعداد ويندد بهم لكنه لم يذكر شيئا من ذلك إنما قصد المعنى الأسمى وهو التذكير بالله ولقائه فأين خطباء هذا العصر من هذا المنهج النبوي، ليتهم يفهمون ذلك جيدا حتى لا يشغلوا المنابر والمصلين بتتبع الأحداث التي تسمع في أكثر من وسيلة إعلامية بما يغني عن شغل المنابر بها ويحول الخطبة نشرة أخبار.
সাধারণ জনমানুষের জুমার প্রধান লক্ষ্য থাকে খুতবায় উপস্থিত হওয়া, নামাজ নয়। সময়ের বিবর্তনে আমরা আশঙ্কা করি যে, মানুষ হয়তো নামাজ ও খুতবার প্রকৃত মাহাত্ম্য ও অর্থ ভুলে যাবে।

এটি একদিকের কথা। অন্যদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে এমন অবস্থায় আগমন করেছিলেন যখন তা সংকটে পরিপূর্ণ এবং গুরুতর সব ঘটনাবলীতে ভারাক্রান্ত ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতের শত্রুদের দ্বারা তাঁকে হত্যার জন্য রচিত সেই ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের সময়ের খুব নিকটবর্তী ছিলেন। মুশরিকরা তাঁকে এমনভাবে শ্বাসরোধ করেছিল যে তাঁর প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, যদি না আবু বকর (রা.) এই বলে তাঁকে উদ্ধার করতেন— "তোমরা কি এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাও যিনি বলেন যে, আল্লাহ আমার প্রতিপালক?" তাঁর সাহাবীগণ তাঁর অনুসরণের পথে একজন নবীর অনুসারীদের জন্য সম্ভাব্য চরমতম যাতনা ভোগ করেছিলেন; মুশরিকরা তাঁদের ওপর সীমাহীন নিষ্ঠুরতা ও পাশবিকতা চালিয়েছিল।

আমাদের সমসাময়িক ধারণা অনুযায়ী এটিই স্বাভাবিক ছিল যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহযোগী মদিনার সমাজে প্রদত্ত প্রথম খুতবায় এই সকল ঘটনা তুলে ধরবেন, শত্রু সংখ্যা উল্লেখ করবেন এবং তাদের নিন্দা জ্ঞাপন করবেন। কিন্তু তিনি এর কিছুই করেননি; বরং তিনি মহানতম উদ্দেশ্য—অর্থাৎ আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টির প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন। এই নববী পদ্ধতি (منهج) থেকে বর্তমান যুগের খতিবগণ কত দূরে! আফসোস, তারা যদি বিষয়টি যথাযথভাবে অনুধাবন করতেন! তবে তারা মিম্বর এবং মুসল্লিদের এমন সব ঘটনার পেছনে ব্যাপৃত রাখতেন না যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রচারিত হচ্ছে। এসব বিষয় মিম্বরে আলোচনার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই এবং তা খুতবাকে সংবাদ বুলেটিনে রূপান্তরিত করে।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ثانيا: خطبة النبي صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة قصيرة وهذا ثابت من قوله وفعله. وأما من فعله فقد ذكرنا نص الخطبة وهي كلمات طيبات مباركات جامعات نافعات.

وأما من قوله فقد ورد عنه صلى الله عليه وسلم ما يدل على ذلك:

1 - روى مسلم في صحيحه عن واصل بن حبان قال: قال أبو واتل: خطبنا عمار فأوجز وأبلغ فلما نزل قلنا يا أبا اليقظان لقد أبلغت وأوجزت فلو كنت تنفست (أي أطلت قليلا) فقال: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن طول صلاة الرجل وقصر خطبته مئنة من فقهه فأطيلوا الصلاة وأقصروا الخطبة وإن من البيان سحرا (1) » .

2 - وروى مسلم أيضا عن جابر بن سمرة رضي الله عنه قال: «كنت أصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فكانت صلاته قصدا وخطبته قصدا.» (2) .

وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر بالتخفيف ومراعاة أحوال الناس حتى في صلاة الفرض، فعن أبي هريرة رضى الله

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد ج1 ص427، مؤسسة الرسالة 1415 هـ، صحيح مسلم، كتاب الجمعة، باب تخفيف الصلاة والخطبة (47) .

(2) صحيح مسلم، كتاب الجمعة، باب تخفيف الصلاة والخطبة (41، 42) .
দ্বিতীয়ত: জুমআর দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা সংক্ষিপ্ত ছিল এবং এটি তাঁর কথা ও কাজ দ্বারা প্রমাণিত (ثابت)। আর তাঁর কাজের ক্ষেত্রে, আমরা ইতিপূর্বে খুতবার মূল পাঠ উল্লেখ করেছি যা ছিল উত্তম, বরকতময়, সারগর্ভ ও উপকারী কথা।

আর তাঁর কথার ক্ষেত্রে, তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা এর প্রমাণ বহন করে:

১ - মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ওয়াসিল বিন হিব্বান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ওয়ায়িল বলেছেন: আম্মার (রা.) আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন, যা ছিল সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত অলঙ্কারপূর্ণ। যখন তিনি মিম্বর থেকে নামলেন, আমরা বললাম, হে আবুল ইয়াকজান! আপনি অত্যন্ত সাবলীল এবং সংক্ষিপ্ত খুতবা দিয়েছেন, আপনি যদি খুতবাটি আরও কিছুটা দীর্ঘ করতেন (অর্থাৎ যদি সামান্য সময় নিতেন)। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির নামাজের দীর্ঘতা এবং খুতবার সংক্ষিপ্ততা তার প্রজ্ঞার পরিচয়। অতএব তোমরা নামাজ দীর্ঘ করো এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করো। আর নিশ্চয়ই কোনো কোনো বর্ণনার মধ্যে জাদু রয়েছে (১)»।

২ - মুসলিম জাবির বিন সামুরা (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামাজ পড়তাম; তাঁর নামাজ ছিল পরিমিত এবং তাঁর খুতবাও ছিল পরিমিত (২)»।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের দৈর্ঘ্য সংক্ষেপ করার এবং মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিতেন, এমনকি ফরজ নামাজের ক্ষেত্রেও। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত...

--------------------------------------------

(১) যাদুল মা'আদ ১ম খণ্ড, ৪২৭ পৃষ্ঠা, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ১৪১৫ হিজরী; সহিহ মুসলিম, জুমআর অধ্যায়, নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করার পরিচ্ছেদ (৪৭)।

(২) সহিহ মুসলিম, জুমআর অধ্যায়, নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করার পরিচ্ছেদ (৪১, ৪২)।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
عنه قال قال رسول صلى الله عليه وسلم: «إذا صلى أحدكم للناس فليخفف فإن في الناس الضعيف والسقيم وذا الحاجه» (1) .

وعنه رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أم أحدكم الناس فليخفف فإن فيهم الصغير والكبير والضعيف والمريض فإذا صلى وحده فليصل كيف شاء» (2) .

فأين خطباء هذا العصر من هذا التوجيه النبوي، لقد بعد الناس عن فقه الصلاة والخطبة حتى رأيناهم يعكسون الأمر فيقصرون الصلاة ويطيلون الخطبة وربما يكون في الناس المريض والكبير وصاحب الحاجة وفي هذا مخالفة للسنة ومن لم تسعه سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقع في البدعة ومهما يكن من مبررات فإن السنة أولى بالاتباع قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21] (3) .

والملاحظ أخيرا أن الإطالة ليست في خطبة الجمعة فقط بل حتى في القنوت في رمضان، وما كان هذا التطويل من هدي

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم كتاب الصلاة باب أمر الأئمة بتخفيف الصلاة (185) .

(2) المرجع السابق ص183.

(3) سورة الأحزاب آية 21.
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তা সংক্ষেপ করে। কারণ মানুষের মধ্যে দুর্বল (ضعيف), অসুস্থ এবং প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি থাকে" (১)।

এবং তাঁর থেকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মানুষের ইমামতি করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাদের মধ্যে ছোট, বড়, দুর্বল (ضعيف) এবং অসুস্থ ব্যক্তি থাকে। আর যখন সে একাকী সালাত আদায় করে, তখন সে যেভাবে ইচ্ছা সালাত আদায় করতে পারে" (২)।

বর্তমান যুগের খতিবগণ এই নববী নির্দেশনা থেকে কত দূরে! মানুষ সালাত ও খুতবার ফিকহ থেকে এতই দূরে সরে গেছে যে, আমরা তাদের বিষয়টিকে উল্টে দিতে দেখছি; তারা সালাতকে সংক্ষিপ্ত করছে এবং খুতবাকে দীর্ঘায়িত করছে। অথচ মানুষের মধ্যে অসুস্থ, বৃদ্ধ এবং প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি থাকতে পারে। আর এটি সুন্নাহর পরিপন্থী। যার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ যথেষ্ট নয়, সে বিদআতে (بدعة) পতিত হয়। অজুহাত যাই হোক না কেন, সুন্নাহ অনুসরণ করাই অধিকতর অগ্রগণ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} [আল-আহজাব: ২১] (৩)।

পরিশেষে লক্ষণীয় যে, এই দীর্ঘায়ন কেবল জুমার খুতবাতেই নয়, বরং এমনকি রমজানের কুনূতের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। আর এই দীর্ঘায়ন নববী হেদায়াত বা আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়...

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম, সালাত অধ্যায়, ইমামদের সালাত সংক্ষেপ করার নির্দেশ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (১৮৫)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৮৩।

(৩) সূরা আল-আহজাব, আয়াত ২১।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
النبي صلى الله علبه وسلم وليس من منهج السلف الصالح رضوان الله عليهم.

ثم رفع الصوت بالقراءة والدعاء عبر مكبرات الصوت حتى تختلط أصوات الأئمة في الأحياء التي تكثر فيها المساجد وهذا فيه مخالفتان على الأقل:

الأولى: المغالبة.

قال القرطبي- رحمه الله: (ومن حرمته (أي: القرآن) ألا يجهر بعض على بعض في القراءة فيفسد عليه حتى يبغض إليه ما يسمع ويكون كهيئة المغالبة) (1) .

والثانية: أنه يخشى على هذا من الرياء المحبط للعمل حين يعجب بحسن صوته وجملة الأدعية التي يحفظها، وحينما يشعر أن الناس يعجبهم ما يسمعون فيقع في نفسه أنه يناجي جماعة المسجد وأهل البيوت المجاورة وأصحاب المحلات القريبة من المسجد فينسى أنه بين يدي الله وأنه في صلاة وأنه يناجي ربه ويذهب منه الخشوع والتذلل والانكسار بين يدي ربه وقد أرشد الله إلى غير هذا في قوله تعالى: {وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا} [الإسراء: 110] (2) قال أهل التفسير: لا تصل مراءاة

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن ج1 ص290.

(2) سورة الإسراء آية 110.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ নয় এবং এটি সালফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মানহাজ বা পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়।

অতঃপর লাউডস্পিকারের মাধ্যমে কিরাত ও দোয়ায় উচ্চস্বর ব্যবহার করা, যার ফলে অধিক মসজিদ বিশিষ্ট এলাকাগুলোতে ইমামদের কণ্ঠস্বর একে অপরের সাথে মিশে যায়। এতে অন্ততপক্ষে দুটি বিষয়ের লঙ্ঘন রয়েছে:

প্রথমত: প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।

ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর (অর্থাৎ: কুরআনের) মর্যাদার দাবি হলো—তিলাওয়াতের সময় একে অপরের ওপর উচ্চস্বর ব্যবহার না করা, যা অন্যের তিলাওয়াতে বিঘ্ন ঘটায় এবং এমনকি তার শ্রুত বিষয়ের প্রতি তার মনে বিতৃষ্ণা তৈরি করে, যা অনেকটা একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মতো রূপ নেয়।" (১)

দ্বিতীয়ত: এতে আমল বিনষ্টকারী লোকদেখানো প্রদর্শনী বা রিয়ার আশঙ্কা থাকে; যখন ব্যক্তি নিজের সুমধুর কণ্ঠস্বর এবং তার মুখস্থ করা দোয়াগুলোর প্রতি আত্মমুগ্ধতায় ভোগে, এবং যখন সে অনুভব করে যে মানুষ তার তিলাওয়াত শুনে মুগ্ধ হচ্ছে। তখন তার মনে এই ধারণা জন্মে যে, সে যেন মসজিদের মুসল্লি, পাশের বাড়ির বাসিন্দা এবং মসজিদের নিকটবর্তী দোকানদারদের সাথে কথোপকথন করছে। ফলে সে ভুলে যায় যে সে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সে সালাতরত অবস্থায় আছে এবং তার রবের সাথে সংলাপে রত আছে। এর ফলে তার অন্তর থেকে প্রভুর সামনে বিনয়, নম্রতা ও আত্মনিবেদন বিলীন হয়ে যায়। অথচ মহান আল্লাহ এর পরিবর্তে ভিন্ন বিষয়ের নির্দেশনা দিয়ে এরশাদ করেছেন: "আপনি আপনার সালাতে অতি উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করবেন না এবং খুব মৃদুস্বরেও করবেন না; বরং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করুন।" [সূরা আল-ইসরা: ১১০] (২) মুফাসসিরগণ বলেন: লোকদেখানোর জন্য সালাত আদায় করো না।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১১০।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الناس ولا تدعها مخافة وهذا هو تفسير ابن عباس الذي نقله عنه ابن جرير الطبري (1) .

وإنما ذكر ابن عباس هذا المعنى وهو قوله " لا تصل مراءاة الناس ولا تدعها مخافة " من باب بيان المعاني التي تستفاد من الآية حيت إن الجهر بالصلاة قد يكون الدافع إليه الرياء، وإخفاء الصلاة قد يكون الدافع إليه الخوف من الأعداء (2) .

وقال محمد بن سيرين: كان أبو بكر يخافت وعمر يجهر قيل لأبي بكر في ذلك فقال: أسمع من أناجي وقيل لعمر فيه فقال: أوقظ الوسنان وأطرد الشيطان، وأذكر الرحمن فقيل لأبي بكر ارفع قليلا وقيل لعمر اخفض قليلا (3) .

وقال الحسن- رحمه الله: (لا تحسن صلاتك في الجهر ولا تسئها في السر، بل اتبع طريقا وسطا يكون دائما في كل حال) (4) .

وقال تعالى: {ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [الأعراف: 55] (5) .

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري 15 ص 187.

(2) تفسير ابن عباس ج2 ص580 ط شركة العبيكان للطباعة والنشر.

(3) أبو بكر بن العربي، أحكام القرآن ج2 ص1215.

(4) المحرر الوجيز ج5 ص530.

(5) سورة الأعراف آية 55.
মানুষজন এবং ভয়ের কারণে তা বর্জন করো না; এটিই ইবনে আব্বাসের সেই তাফসির যা ইবনে জারির তাবারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।

মূলত ইবনে আব্বাস এই অর্থটি—যা হলো তাঁর এই উক্তি: "লোকদের দেখানোর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো না এবং ভয়ের কারণে তা ছেড়ে দিও না"—আয়াত থেকে আহরিত অর্থসমূহ বর্ণনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ সালাতে উচ্চস্বর ব্যবহারের পেছনে লোকদেখানো উদ্দেশ্য থাকতে পারে, আর সালাত সংগোপনে করার পেছনে শত্রুর ভয় কাজ করতে পারে (২)।

মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন বলেন: আবু বকর (রা.) নিচু স্বরে কিরাত পাঠ করতেন এবং উমর (রা.) উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। আবু বকর (রা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি যাঁর সাথে নিভৃতে আলাপ করছি, তাঁকে শোনাচ্ছি।" উমর (রা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তিকে জাগ্রত করি, শয়তানকে বিতাড়িত করি এবং পরম দয়াময়কে স্মরণ করি।" তখন আবু বকর (রা.)-কে কিরাতের আওয়াজ কিছুটা উঁচু করতে বলা হলো এবং উমর (রা.)-কে কিছুটা নিচু করতে বলা হলো (৩)।

হাসান—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—বলেন: (তুমি প্রকাশ্যে সালাত আদায়ের সময় তা খুব সুন্দর করো না আর সংগোপনে পড়ার সময় তা খারাপ করো না; বরং একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করো যা সব অবস্থায় সমান থাকে) (৪)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনীতভাবে ও সংগোপনে ডাকো; নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আ’রাফ: ৫৫] (৫)।

--------------------------------------------

(১) তাফসির তাবারী, ১৫ খণ্ড, ১৮৭ পৃষ্ঠা।

(২) তাফসির ইবনে আব্বাস, ২য় খণ্ড, ৫৮০ পৃষ্ঠা, ওবাইকান প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং কোম্পানি সংস্করণ।

(৩) আবু বকর ইবনুল আরাবি, আহকামুল কুরআন, ২য় খণ্ড, ১২১৫ পৃষ্ঠা।

(৪) আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ, ৫ম খণ্ড, ৫৩০ পৃষ্ঠা।

(৫) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত ৫৫।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن عطية- رحمه الله: (والشريعة مقررة أن السر فيما لم يفترض من أعمال البر أعظم أجرا من الجهر ونقل عن الحسن بن أبي الحسن قال: لقد أدركنا أقواما ما كان على الأرض عمل يقدرون أن يكون سرا فيكون جهرا أبدا ولقد كان المسلمون يجتهدون في الدعاء فلا يسمع لهم صوت إن هو إلا الهمس بينهم وبين ربهم، ثم قال ابن عطية والاعتداء في الدعاء على وجوه منها الجهر الكثير والصياح، وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «سيكون أقوام يعتدون في الدعاء وحسب المرء أن يقول: اللهم أسألك الجنة وما قرب إليها من قول وعمل وأعوذ بك من. . . .» ) (1) .

وقال القرطبي- رحمه الله في قوله: {إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [الأعراف: 55] (يريد في الدعاء وإن كان اللفظ عاما، والمعتدي هو المجاوز للحد. . . . ثم قال والاعتداء في الدعاء على وجوه منها: الجهر الكثير، والصياح، قال. . . . ومنها أن يدعو بما ليس في الكتاب والسنة فيتخير ألفاظا مفقرة، وكلمات مسجعة قد وجدها في كراريس لا أصل لها ولا معول عليها (2) .

--------------------------------------------

(1) سنن ابن ماجه، كتاب الدعاء، باب كراهية الاعتداء في الدعاء رقم 3864.

(2) الجامع لأحكام القرآن، مختصر متن القرطبي 226 ج7.
ইবনে আতিয়্যাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন: (শরিয়তের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো যে, যে সকল নেক আমল ফরজ নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে গোপনে সম্পাদিত কাজ প্রকাশ্যে সম্পাদিত কাজের চেয়ে অধিক সওয়াব বা প্রতিদানের অধিকারী। হাসান বিন আবিল হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা এমন সব লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি যারা পৃথিবীতে এমন কোনো আমল করতে সক্ষম হলে যা গোপন রাখা সম্ভব, তবে তা কখনোই প্রকাশ্যে করতেন না। আর মুসলমানগণ দোয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকতেন, অথচ তাদের কোনো শব্দ শোনা যেত না; কেবল তাদের এবং তাদের রবের মধ্যে চুপিচুপি নিবেদন ছাড়া। অতঃপর ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন বিভিন্নভাবে হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত উচ্চৈঃস্বরে দোয়া করা এবং চিৎকার করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «শীঘ্রই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে। অথচ একজন মানুষের জন্য কেবল এতটুকু বলাই যথেষ্ট: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং জান্নাতের নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজের প্রার্থনা করছি, আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি... থেকে।'» ) (১)।

ইমাম কুরতুবী—রাহিমাহুল্লাহ—আল্লাহর এই বাণী: {নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আরাফ: ৫৫] প্রসঙ্গে বলেন: (এখানে দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন উদ্দেশ্য, যদিও শব্দটির অর্থ ব্যাপক। আর সীমালঙ্ঘনকারী হলো সে যে সীমা অতিক্রম করে। ... অতঃপর তিনি বলেন: দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন কয়েক প্রকারের হয়, যেমন: মাত্রাতিরিক্ত উচ্চৈঃস্বরে দোয়া করা এবং চিৎকার করা। তিনি বলেন... আরও একটি হলো কুরআন ও সুন্নাহ বহির্ভূত বিষয়ে দোয়া করা, যার জন্য মানুষ কিছু কৃত্রিম শব্দ এবং ছন্দময় বাক্য চয়ন করে, যা তারা এমন সব পুস্তিকায় পেয়েছে যার কোনো ভিত্তি (لا أصل لها) নেই এবং যার ওপর নির্ভর করা যায় না (২)।

--------------------------------------------

(১) সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাবুদ দোয়া, দোয়ায় সীমালঙ্ঘন অপছন্দনীয় হওয়া সম্পর্কিত অধ্যায়, নম্বর ৩৮৬৪।

(২) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, মুখতাসার মাতনুল কুরতুবী, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২২৬।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال الإمام البخاري- رحمه الله قال ابن عباس- رضي الله عنهما: إنه لا يجب المعتدين في الدعاء وغيره (1) ورفع الصوت بالدعاء ينافي الخشوع وقد يخالطه شيء من الرياء.

وقد أرشد الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم بمثل ما أرشد إليه القرآن، فعن أبي موسى الأشعري- رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فجعل الناس يجهرون بالتكبير فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «أيها الناس أربعوا على أنفسكم إنكم ليس تدعون أصم ولا غائبا إنكم تدعون سميعا قريبا وهو معكم» (2) .

قال النووي- رحمه الله ففيه الندب إلى خفض الصوت بالذكر إذا لم تدع حاجة إلى رفعه فإنه إذا خفضه كان أبلغ في توقيره وتعظيمه (3) وقال الحسن- رحمه الله: " ولقد كان المسلمون يجتهدون في الدعاء وما يسمع لهم صوت وإن كان إلا همسا بينهم وبين ربهم وذلك أن الله تعالى يقول: {ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً} [الأعراف: 55]

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، كتاب التفسير، باب رقم 7.

(2) انظر صحيح مسلم، كتاب الذكر، باب استحباب خفض الصوت بالذكر (2704) .

(3) انظر صحيح مسلم بشرح النووي ج17 ص26 ط دار الفكر.
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) দুআ এবং অন্যান্য বিষয়ে সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না (১)। আর দুআয় উচ্চস্বর ব্যবহার করা বিনয়-নম্রতা বা খুশু-খুযূ-এর পরিপন্থী এবং এতে লোকদেখানো বা রিয়া (الرياء)-এর সংমিশ্রণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের নির্দেশনার অনুরূপ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম, তখন মানুষ উচ্চস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও (আওয়াজ নিচু করো), কেননা তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী সত্তাকে, আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন" (২)।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এতে প্রয়োজন ব্যতীত যিকিরের সময় আওয়াজ নিচু রাখার সুপারিশ (الندب) করা হয়েছে। কেননা যখন স্বর নিচু রাখা হয়, তখন তা আল্লাহর প্রতি সম্মান ও মর্যাদাবোধ প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর হয় (৩)। হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুসলিমগণ দুআয় অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন, অথচ তাদের কোনো শব্দ শোনা যেত না। তাদের এবং তাদের রবের মাঝে কেবল মৃদু ফিসফিসানিই বিদ্যমান থাকত। আর তা এজন্যই যে আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে আকুতি-মিনতি ও সংগোপনে ডাকো} [সূরা আল-আরাফ: ৫৫]"।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, পরিচ্ছেদ নং ৭।

(২) দেখুন সহীহ মুসলিম, কিতাবুজ যিকর, যিকিরের সময় স্বর নিচু করা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (২৭০৪)।

(৩) দেখুন ইমাম নববীর শারহসহ সহীহ মুসলিম, ১৭ খণ্ড, ২৬ পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال ابن جريج: يكره رفع الصوت والنداء والصياح في الدعاء ويؤمر بالتضرع والاستكانة، ثم روى عن عطاء الخراساني عن ابن عباس في قوله: {إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [الأعراف: 55] في الدعاء ولا في غيره (1) .

 

‌‌[المقومات الخلقية]

المقومات الخلقية: ينبغي للإمام أن يتحلى بالصبر واليقين؛ ليستحق شرف الإمامة في موقفه فإن الصبر واليقين يوصلان العبد إلى مرتبة الإمامة في الدين.

قال تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} [السجدة: 24] (2) .

وينبغي أن يكون رفيقا حليما فإن الرفق ما صار في شيء إلا زانه ولا نزع من شيء إلا شانه كما جاء بذلك الحديث:

«إن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه ولا ينزع من شيء إلا شانه» (3) وبالرفق تلين القلوب ويحصل المقصود، والحلم خصلة حميدة يحبها الله، كما في الحديث الذي رواه مسلم: " أن النبي

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير القرآن العظيم ج2 ص221، ط دار الفكر.

(2) سورة السجدة الآية 24.

(3) صحيح مسلم، كتاب البر والصلة والآداب، الحديث رقم 2594 ج4. .
ইবনে জুরাইজ (রহ.) বলেন: দোয়ায় উচ্চস্বরে আওয়াজ করা, ডাকাডাকি ও চিৎকার করা অপছন্দনীয়। বরং বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি আতা আল-খুরাসানি সূত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-আরাফ: ৫৫], এটি দোয়ার ক্ষেত্রে এবং অন্য কোনো ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য (১)।

 

‌‌[চারিত্রিক ভিত্তি ও গুণাবলি]

চারিত্রিক গুণাবলি: একজন ইমামের ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের গুণে গুণান্বিত হওয়া বাঞ্ছনীয়; যাতে তিনি তাঁর অবস্থানে ইমামতের মর্যাদা অর্জনের যোগ্য হন। কেননা ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসই বান্দাকে দ্বীনের ইমামতের স্তরে পৌঁছে দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত} [আস-সাজদাহ: ২৪] (২)।

আর ইমামের জন্য কোমল ও সহনশীল হওয়া উচিত। কারণ নম্রতা কোনো বিষয়ের সাথে যুক্ত হলে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এবং কোনো বিষয় থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হলে তাকে কলঙ্কিত করে, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

«নিশ্চয়ই নম্রতা কোনো বিষয়ের মধ্যে থাকলে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এবং কোনো কিছু থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হলে তাকে তা কলঙ্কিত করে» (৩) আর নম্রতার মাধ্যমেই হৃদয় বিগলিত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিল হয়। সহনশীলতা একটি প্রশংসনীয় গুণ যা আল্লাহ পছন্দ করেন, যেমনটি মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই নবী

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ২য় খণ্ড, ২২১ পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর সংস্করণ।

(২) সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ২৪।

(৩) সহিহ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, হাদিস নং- ২৫৯৪, ৪র্থ খণ্ড। .
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
صلى الله عليه وسلم قال لأشج عبد القيس: «إن فيك خصلتين يحبهما الله الحلم والأناة» (1) .

وينبغي أن يكون رحيما فالرحمة خصلة إيمانية وهي من صفات الرب تبارك وتعالى فهو الرحمن الرحيم، وإنما يرحم الله من عباده الرحماء.

والرحمة تفجر في القلب ينابيع السعادة، وحين تستقر الرحمة في قلب بشر يتم فيه تحول كامل عجيب في تصوراته ومشاعره ومجامع قلبه وفي اتجاهاته وموازينه وقيمه في هذه الحياة قال تعالى: {مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [فاطر: 2] (2) .

ورحمة الله موجودة غير معدومة يجدها من طلبها بمرضاة الله ويفقدها من طلبها بمعصيته.

وقد وصف الله تعالى نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بصفات عدة منها هذه الصفة العظيمة قال تعالى:

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، كتاب الإيمان، باب الأمر بالإيمان بالله. . . الحديث رقم (25، 26) .

(2) سورة فاطر آية رقم 2.
(রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশাজ্জ আব্দুল কায়সকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমার মাঝে এমন দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা আল্লাহ ভালোবাসেন; (আর তা হলো) সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা» (১)।

আর মানুষের দয়ালু হওয়া বাঞ্ছনীয়, কেননা দয়া একটি ঈমানি গুণ এবং এটি বরকতময় মহান রবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যেহেতু তিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কেবল দয়ালু ব্যক্তিদের প্রতিই দয়া করেন।

দয়া হৃদয়ের গভীরে সুখের ঝর্ণাধারা উৎসারিত করে। যখন কোনো মানুষের হৃদয়ে দয়া বদ্ধমূল হয়, তখন তার চিন্তা-চেতনা, অনুভূতি, হৃদয়ের অন্তঃস্থল এবং এই জীবনের গতিপথ, মানদণ্ড ও মূল্যবোধে এক বিস্ময়কর ও পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন সাধিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত বা দয়া উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই; আর তিনি যা আটকে দেন, এরপর তা পাঠানোর মতো কেউ নেই। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [ফাতির: ২] (২)।

আল্লাহর রহমত বিদ্যমান, তা বিলুপ্ত নয়; যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে তা অন্বেষণ করে সে তা লাভ করে, আর যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্যতার মাধ্যমে তা অন্বেষণ করে সে তা হারায়।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একাধিক বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই মহান গুণটি। আল্লাহ তাআলা বলেন:

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ পরিচ্ছেদ... হাদিস নং (২৫, ২৬)।

(২) সূরা ফাতির, আয়াত নং ২।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
{لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128] (1) .

وينبغي أن يكون لينا رقيق القلب ليجمع الناس حوله فيستفيدوا من عطفه، ومساعدته وعلمه، ووقوفه معه في نوائبهم وحوائجهم وينبغي أن يشاورهم فيما يتعلق برسالة المسجد.

وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم في المقام الأعلى من ذلك كله كما قال تعالى عنه: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ} [آل عمران: 159] (2) .

وإمام المسجد داعية ومعلم وإمام قائد لجماعة المسجد وأهل الحي ومن يرتاد مسجده فيجب أن يكون له في رسول الله صلى الله عليه وسلم قدوة فهو القدوة الصالحة، والأسوة الحسنة، والمثل الأعلى للأمة والقادة.

ويجب أن يكون صادقا فيما يقول سواء أكان ذلك في خطبة الجمعة أو في حلقة الذكر والموعظة ليكون من الصادقين المهتدين الفائزين بالنعيم.

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة آية 128.

(2) سورة آل عمران الآية 159.
{তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে এক রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর জন্য দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত মমতাশীল ও পরম দয়ালু।} [আত-তাওবা: ১২৮] (১) ।

আর ইমামের উচিত কোমল ও দয়ালু হৃদয়ের অধিকারী হওয়া, যাতে তিনি মানুষকে নিজের চারপাশে সমবেত করতে পারেন; ফলে তারা তাঁর মমতা, সহযোগিতা ও জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে পারে এবং তাদের বিপদ-আপদ ও প্রয়োজনসমূহে তাঁকে পাশে পায়। আর মসজিদের মিশন বা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করাও তাঁর জন্য সমীচীন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসকল গুণের সর্বোচ্চ শিখরে আসীন ছিলেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: {আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমলহৃদয় হয়েছেন। যদি আপনি কর্কশভাষী ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজের ক্ষেত্রে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।} [আল-ইমরান: ১৫৯] (২) ।

মসজিদের ইমাম হলেন একজন দাঈ, শিক্ষক এবং মসজিদের জামাত, মহল্লাবাসী ও যারা মসজিদে যাতায়াত করেন তাদের জন্য একজন নেতৃত্বদানকারী ইমাম। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে তাঁর জন্য আদর্শ থাকা আবশ্যক; কারণ তিনি হলেন উম্মাহ ও নেতৃবৃন্দের জন্য সৎ আদর্শ, উত্তম নমুনা এবং সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত।

তাঁর কথায় সত্যবাদী (صادق) হওয়া আবশ্যক, চাই তা জুমার খুতবায় হোক কিংবা জিকির ও নসিহতের মজলিসে; যাতে তিনি সত্যবাদী (صادقين), হিদায়াতপ্রাপ্ত ও নেয়ামত লাভকারী সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১২৮।

(২) সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৫৯।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فقد جاء الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الصدق يهدي إلي البر وإن البر يهدي إلى الجنة وإن الرجل ليصدق حتى يكتب عند الله صديقا، وإن الكذب يهدي إلى الفجور وإن الفجور يهدي إلى النار، وإن الرجل ليكذب حتى يكتب عند الله كذابا» متفق عليه (1) .

والكذب شر وبلاء وأعظم الكذب وأفرى الفرى الكذب على الله والقول عليه بلا علم.

قال الله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] (2) .

فهذه الآية الكريمة جمعت أعظم الذنوب بدأت بالأدنى فالأعلى وهو القول على الله بلا علم في أسمائه وصفاته وشرعه.

والكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من أعظم الكذب وأقبح الذنوب وهو من الكبائر التي توعد صاحبها بالنار كما في الحديث الذي رواه البخاري عن سلمة بن الأكوع قال:

--------------------------------------------

(1) رياض الصالحين باب تحريم الكذب (الحديث 1540) .

(2) سورة الأعراف آية 33.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ সত্য বলতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর নিকট পরম সত্যবাদী হিসেবে লিখিত হয়। আর নিশ্চয়ই মিথ্যা পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর নিকট চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) হিসেবে লিখিত হয়» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (১) ।

আর মিথ্যা হলো অকল্যাণ ও আপদ; আর সবচেয়ে বড় মিথ্যা এবং নিকৃষ্টতম অপবাদ হলো আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করা এবং কোনো জ্ঞান ছাড়াই তাঁর সম্পর্কে কিছু বলা।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন, আর হারাম করেছেন পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহর সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} [আল-আরাফ: ৩৩] (২) ।

এই মহিমান্বিত আয়াতটি গুরুতর গুনাহসমূহকে একত্রিত করেছে; এটি অপেক্ষাকৃত নিম্নতর থেকে শুরু করে উচ্চতর (গুরুতর) পাপে ক্রমান্বয়ে সমাপ্ত হয়েছে, আর তা হলো আল্লাহর নাম, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর শরিয়ত সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই কথা বলা।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা ও নিকৃষ্টতম পাপের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন এক কবিরা গুনাহ যার সম্পাদনকারীকে জাহান্নামের আগুনের ধমকি দেওয়া হয়েছে, যেমনটি বুখারি-তে সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) রিয়াদুস সলিহীন, মিথ্যা হারামের অধ্যায় (হাদিস ১৫৪০)।

(২) সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৩৩।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
«سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: من يقل علي ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار» (1) .

حتى ولو كان عن حسن نية لغرض الترغيب في الخير وحث الناس على عمل الصالحات كما يفعل بعض الوعاظ فهذا قبح لا خير فيه ولا هداية وقائله مأزور غير مأجور وآثم غير غانم.

ويجب على الإمام مع هذه الصفات التي ذكرناها آنفا أن يكون أمينا في نقل الكلمة يتبين ويتثبت من صحة الأخبار ولا يتعجل في الأخذ بالشائعات، ولا يعتمد إلا قولا موثوقا، وقد أمرنا الله تعالى بذلك في قوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: 6] (2) .

ويجب على الإمام والخطيب أن يبالغا في الستر ويحذرا الشائعات، فمن ستر مسلما ستره الله في الدنيا والآخرة، ومن يتبع عورات المسلمين يتبع الله عورته حتى يفضحه ولو في جوف رحله، قال الله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ} [النور: 19] (3) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري باب إثم من كذب النبي صلى الله عليه وسلم ج1 ص350.

(2) سورة الحجرات الآية رقم 6.

(3) سورة النور آية 19.
«আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"» (১) .

এমনকি যদি তা ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার (ترغيب) এবং মানুষকে নেক আমল করতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে সৎ নিয়তেও হয়, যেমনটি কিছু ওয়ায়েজ করে থাকেন; তবে এটি এক জঘন্য কাজ যাতে কোনো কল্যাণ নেই এবং কোনো হিদায়াত নেই। এর বক্তা গুনাহগার হবে, সওয়াবপ্রাপ্ত হবে না এবং সে পাপী হবে, সফলকাম নয়।

পূর্বে বর্ণিত এসব গুণাবলির পাশাপাশি ইমামের জন্য আবশ্যক হলো সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে আমানতদার হওয়া, খবরের বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করা ও নিশ্চিত হওয়া এবং গুজব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করা। তিনি নির্ভরযোগ্য (موثوق) কথা ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করবেন না। মহান আল্লাহ আমাদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো কওমকে ক্ষতিগ্রস্ত করো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।} [আল-হুজুরাত: ৬] (২) .

ইমাম ও খতিবের জন্য আবশ্যক হলো মানুষের দোষ গোপন রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং গুজব থেকে সতর্ক থাকা। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের গোপন ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আল্লাহ তার গোপন ত্রুটি প্রকাশ করে দেবেন, এমনকি সে তার ঘরের ভেতরে থাকলেও তাকে লাঞ্ছিত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।} [আন-নূর: ১৯] (৩) .

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপকারীর পাপ, ১ম খণ্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা।

(২) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত নং ৬।

(৩) সূরা আন-নূর, আয়াত ১৯।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
نسأل الله لنا ولإخواننا المسلمين السلامة والعافية وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات

 

‌‌[الخلاصة]

الخلاصة: المسجد هو الرابطة القوية التي توثق الصلة بين فئات المجتمع الإسلامي وتحقق التعارف والتآلف بين عموم المسلمين، وفيه وبه تقوى الأخوة الدينية ويتماسك بناء العمل الإسلامي وهو أنسب مكان لنشر الدعوة الإسلامية وتعليم الناس أمور دينهم.

وقد نوه الله تعالى بالمسجد ورفع قدره وعظم شأنه واختاره بيتا وأضافه إلى نفسه واعتبره أحب البقاع إليه.

ولذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب المسجد ويعظمه ويقضي جل وقته فيه إماما ومعلما وقاضيا وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا.

فكان المسجد في زمنه هو المعهد والجامعة ومركز القيادة، وكذلك كان خلفاؤه وسلف هذه الأمة يعظمون المسجد حتى صار منطلق أعمالهم العلمية والعملية.

ويعتبر إمام المسجد وخطيبه عماد المسجد ونبراسه وقوته، به يؤدي المسجد وظائفه الدينية والاجتماعية، فإذا كان خطيب المسجد عالما عاملا قوي الشخصية، نافذ البصيرة، سديد الرأي، رفيقا حليما ثبتا، ثقة عارفا بعادات الناس وأحوالهم، كان تأثيره في جماعة المسجد وأهل الحي قويا مفيدا يعلمهم ويرشدهم ويقودهم إلى الخير والفضيلة.
আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

 

‌‌[সারসংক্ষেপ]

সারসংক্ষেপ: মসজিদ হলো একটি শক্তিশালী বন্ধন যা ইসলামী সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে এবং সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক জানাশোনা ও সম্প্রীতি স্থাপন করে। মসজিদের মাধ্যমে এবং এর ভেতরেই ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব শক্তিশালী হয় এবং ইসলামী কার্যক্রমের কাঠামো সুসংহত হয়। এটি ইসলামী দাওয়াত প্রচার এবং মানুষকে তাদের দ্বীনি বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

মহান আল্লাহ মসজিদের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন, এর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন এবং এর শানকে মহান করেছেন। তিনি একে নিজের ঘর হিসেবে মনোনীত করেছেন, নিজের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হিসেবে গণ্য করেছেন।

এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদকে ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন এবং তাঁর সময়ের অধিকাংশ সময় সেখানে ইমাম, শিক্ষক, বিচারক এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে অতিবাহিত করতেন।

তাঁর যুগে মসজিদই ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতৃত্বের কেন্দ্র। একইভাবে তাঁর খলিফাগণ এবং এই উম্মতের পূর্বসূরিগণ মসজিদকে সম্মান করতেন, এমনকি এটি তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বাস্তব কর্মতৎপরতার সূচনাস্থলে পরিণত হয়েছিল।

মসজিদের ইমাম ও খতিব হলেন মসজিদের স্তম্ভ, প্রদীপ ও শক্তি। তাঁর মাধ্যমেই মসজিদ তার ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যাবলি সম্পাদন করে। সুতরাং মসজিদের খতিব যদি আমলকারী আলেম, শক্তিশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী, সঠিক মতামতের অনুসারী, কোমল ও সহনশীল, সুদৃঢ় (ثبت) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, যিনি মানুষের অভ্যাস ও অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত, তবে মসজিদের মুসল্লি ও মহল্লাবাসীদের ওপর তাঁর প্রভাব হবে শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ। তিনি তাঁদের শিক্ষা দেবেন, পথপ্রদর্শন করবেন এবং কল্যাণ ও পুণ্যময় কাজের দিকে পরিচালিত করবেন।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وهكذا كان الخطباء المستجمعون لشروط الإمامة والخطابة وفي مقدمتهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وخلفاؤه الراشدون ثم الأمراء والقادة المصلحون والعلماء الأعلام.

وقد يكون للإمام هذه الصفات من حيث العلم والقدرة على تحمل أعباء وظيفة المسجد ولكنه يكون مشغولا بما لا يعطيه الفرصة لتأدية هذه الوظيفة على الوجه المطلوب، وقد يغلبه الهوى وتأخذه الحماسة المتطرفة وتجمع به النزعات الحزبية إلى الخروج عن المنهجيه والموضوعية وطريق الإصلاح المتجرد والتوجيه التربوي والدعوة بالحكمة والموعظة الحسنة إلى التشهير والإثارة والتجريح وفي هذا بلاء عظيم وخسارة فادحة وتضييع لرسالة المسجد عافانا الله وإخواننا المسلمين من ذلك.

 

‌‌[التوصيات]

التوصيات: أوصي نفسي وإخواني وزملائي أئمة المساجد وخطباء الجوامع بما يلي:

1 - تقوى الله في السر والعلانية قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] (1) .

--------------------------------------------

(1) آل عمران آية 102.
এভাবেই সেই খতিবগণ ছিলেন যারা ইমামত ও খুতবা প্রদানের শর্তাবলি পূরণ করতেন, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদুন, এরপর সংস্কারক আমীর ও নেতৃবৃন্দ এবং বরেণ্য উলামায়ে কেরাম।

কখনও কখনও একজন ইমামের জ্ঞান এবং মসজিদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার দিক থেকে এই গুণাবলি থাকতে পারে, কিন্তু তিনি এমন কিছুতে ব্যস্ত থাকতে পারেন যা তাঁকে কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতিতে এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয় না। আবার কখনও কখনও খেয়াল-খুশি তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, উগ্র আবেগ তাঁকে গ্রাস করতে পারে এবং দলীয় সংকীর্ণতা তাঁকে সঠিক কর্মপন্থা, বস্তুনিষ্ঠতা, নির্মোহ সংস্কারের পথ, শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা এবং হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে দাওয়াতের পথ থেকে বিচ্যুত করে কুৎসা রটনা, উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সমালোচনা (تجريح)-এর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে এক মহা বিপদ ও অপূরণীয় ক্ষতি এবং মসজিদের মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নষ্ট হওয়া। আল্লাহ আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের এ থেকে রক্ষা করুন।

 

‌‌[পরামর্শসমূহ]

পরামর্শসমূহ: আমি নিজেকে এবং আমার ভাই ও সহকর্মী মসজিদের ইমাম ও জামে মসজিদের খতিবদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর অসিয়ত করছি:

১ - গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২] (১) ।

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান, আয়াত ১০২।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - الاعتصام بحبل الله المتين ففيه الهدى والنور وهو العصمة والمنجي من الهلكة قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا} [آل عمران: 103] (1) .

3 - الأخذ بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم «تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدي كتاب الله وسنتي» .

4 - الارتباط بالعلماء وتقوية الصلة بهم، فهم أكثر الناس أخذا بالكتاب والسنة وهم أقرب إلى الحق من غيرهم، بل هم أعلام الهدى ومصابيح الدجى، والحاجة إليهم ماسة في كل زمان ومكان ولا سيما في هذا العصر الذي كثرت فيه الفتن والشبهات كفانا الله شرها.

5 - الحرص على إصابة الحق والبعد عن زيف الباطل قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] (2) .

6 - مراعاة أحوال الناس في الصلاة وفي خطبة الجمعة والقنوت ودعاء ختم القرآن فإن فيهم الضعيف والمريض والكبير وذا الحاجة.

--------------------------------------------

(1) آل عمران آية 103.

(2) سورة الأحزاب آية 70، 71.
2 - আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা; কারণ এর মধ্যেই রয়েছে হিদায়াত ও নূর (আলো)। এটিই হলো সুরক্ষা এবং ধ্বংস থেকে মুক্তিদানকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না} [আলে ইমরান: ১০৩] (১) ।

3 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে অনুসরণ করা। (তিনি বলেছেন): «আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ» ।

4 - আলেমদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং তাঁদের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা; কেননা তাঁরাই মানুষের মধ্যে কিতাব ও সুন্নাহর সবচেয়ে বেশি অনুসারী এবং তাঁরা অন্যদের তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী। বরং তাঁরা হিদায়াতের দিশারি ও অন্ধকারের প্রদীপ। সব সময় ও সব স্থানে তাঁদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, বিশেষ করে বর্তমান এই যুগে যখন ফিতনা ও সংশয় বৃদ্ধি পেয়েছে—আল্লাহ আমাদের এগুলোর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।

5 - সত্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়া এবং মিথ্যার অসারতা থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল} [আহযাব: ৭০ - ৭১] (২) ।

6 - সালাত, জুমার খুতবা, কুনুত এবং কুরআন খতমের দুআয় মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা। কারণ তাদের মধ্যে দুর্বল (ضعيف), অসুস্থ, বৃদ্ধ ও অভাবী ব্যক্তিরা রয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১।
(খণ্ড: ১) ইমামুল মাসজিদ মুকাওওয়িমাতুহুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল খুলুকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - خفض الصوت في الصلاة الجهرية في القراءة ودعاء القنوت وبخاصة في الأحياء التي تكثر فيها المساجد حتى لا يحصل التشويش على جماعة المسجد الآخرين أو يكون على هيئة المغالبه، وقد خرج النبي صلى الله عليه وسلم وهم يصلون ويجهرون بالقراءة فقال صلى الله عليه وسلم «كلكم يناجي ربه فلا يجهر بعضكم على بعض في القرآن» رواه مالك في الموطأ قال ابن عبد البر وهو حديث صحيح.

8 - المبالغة في الستر والحذر من الأخذ بالشائعات والتثبت والتبين امتثالا لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: 6] (1) .

نسأل الله أن ينفعنا بما علمنا ويثبتنا على كلمة الحق.

{رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ} [آل عمران: 8] (2) .

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات آية 6.

(2) سورة آل عمران آية 8.
৭ - সশব্দে পাঠের (جهرية) সালাতে কিরাত এবং কুনুতের দোয়ায় আওয়াজ নিচু রাখা, বিশেষ করে এমন এলাকাগুলোতে যেখানে মসজিদের সংখ্যা বেশি, যাতে অন্য মসজিদের জামাতের ওপর কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় অথবা এটি যেন কোনো প্রতিযোগিতার রূপ না নেয়। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা বের হলেন যখন তারা সালাত আদায় করছিল এবং উচ্চস্বরে কিরাত পড়ছিল, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ রবের সাথে নিভৃতে আলাপ করছ, সুতরাং তোমরা কিরাত পড়ার ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর আওয়াজ উচ্চ করো না।" এটি ইমাম মালেক আল-মুওয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবদিল বার বলেন: এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।

৮ - গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হওয়া এবং গুজব গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং মহান আল্লাহর বাণীর অনুসরণে সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধান করা: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।} [আল-হুজুরাত: ৬] (১)।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করেন এবং আমাদের সত্য বাণীর ওপর অবিচল রাখেন।

{হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা।} [আল-ইমরান: ৮] (২)।

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ৬।

(২) সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৮।