(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: -)
مجمل اعتقاد أئمة السلف   (عبد الله بن عبد المحسن التركي)

القسم: العقيدة


الكتاب: مجمل اعتقاد أئمة السلف

المؤلف: عبد الله بن عبد المحسن بن عبد الرحمن التركي

الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1417هـ

عدد الصفحات: 168

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সালাফ ইমামগণের আকিদার সংক্ষিপ্তসার   (আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: সালাফ ইমামগণের আকিদার সংক্ষিপ্তসার

লেখক: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুর রহমান আত-তুর্কি

প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة]

مجمل اعتقاد أئمة السلف مقدمة الحمد لله، رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه وأتباعه إِلى يوم الدين. أما بعد:

فإِن المُتَتبع لما أُثِر عن سلفنا الصالح في أصول الدين، يجد اتفاقًا في جُلِّ مسائِله، ويجد اعتناءً خاصا بقضايا العقيدة، واهتمامًا بها في التعليم والتوجيه والدعوة. على خلاف ما نراه اليوم في كثير من بلاد العالم الإِسلامي، مما أحدث شيئًا من الاختلاف والتَّخبّطِ لدى بعض الجماعات والطوائف الإِسلامية.

وقد كنت أثرت ذلك الفرق بين منهج السلف وما عليه كثير من المدارس العلمية والتوجُّهات الفكرية في غالب أوطان المسلمين، أثرتُه في مناسبات عدة، ولقاءات وندوات، وكان البعض يستغرب حديثي عن منهج السلف في الاعتقاد واتفاقهم في غالب مسائله، ويود لو جمعت بعض النصوص في ذلك، وبخاصة عن الأئمة الأربعة: أبي حنيفة
[ভূমিকা]

সালাফ ইমামগণের আকিদার সংক্ষিপ্তসার ভূমিকা: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

দ্বীনের মৌলিক নীতিমালা বা উসূলুদ্দীনের ক্ষেত্রে আমাদের সালাফে সালেহীন (সৎকর্মশীল পূর্বসূরি) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা যে ব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, সে এর অধিকাংশ মাসআলায় ঐকমত্য দেখতে পায়। এছাড়া সে দেখতে পায় যে, শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে আকিদার বিষয়াবলির প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এটি বর্তমানকালে মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে আমরা যা দেখি তার বিপরীত, যা কিছু ইসলামি দল ও উপদলের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

সালাফদের মানহাজ এবং অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের বহু ইলমি প্রতিষ্ঠান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারার মধ্যে বিদ্যমান এই পার্থক্যের বিষয়টি আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বৈঠক ও সেমিনারে তুলে ধরেছি। আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ এবং এর অধিকাংশ মাসআলায় তাঁদের ঐকমত্যের বিষয়ে আমার আলোচনায় কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করতেন। তারা আকাঙ্ক্ষা করতেন যদি আমি এ বিষয়ে কিছু উদ্ধৃতি একত্রিত করতাম, বিশেষ করে চার ইমাম: আবু হানিফা... সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৬)
النعمان، ومالك بن أنس، ومحمد بن إِدريس الشافعي، وأحمد بن محمد بن حنبل، رحمهم الله تعالى، مما جعلني أجمع في هذه الرسالة بعضًا من هذه النصوص، مضيفًا إِليها نصوصا أخرى لأئمةٍ آخرين معتبرين، كالإِمام البخاري، والطحاوي، وابن تيمية، ومحمد بن عبد الوهاب، وغيرهم، رحمهم الله جميعًا، مقدمًا لهذه النصوص بمقدمةٍ عن أهمية توحيد الله في رُبوبيَّتِه، وألوهيَّته، وأسمائه، وصفاته، وكيف بَيَّن القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة ذلك أتمَّ بيانٍ وأكمله، وكيف خدم علماءُ المسلمين جيلًا بعد جيلٍ العقيدةَ الإِسلامية، وأثر ذلك في مجتمعاتهم إِلى وقتنا الحاضر، حيث قامت الدولة السعودية الأولى على يد مؤسسها الإِمام المجاهد محمد بن سعود، رحمه الله تعالى، على أساس من دعوة الإصلاح؛ التي دعا إليها الإمام المجدد الشيخ محمد بن عبد الوهاب، رحمه الله، واستمرت هذه الدولة في أحقابها التالية على ذات المنهج، والذي تجلى في أوضح صورة فيما قام به الإِمام عبد العزيز بن عبد الرحمن بن فيصل آل سعود، رحمه الله، حيث وحَّد المملكة
নুমান, মালিক ইবনে আনাস, মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন); তাঁদের অনুসৃত এই আদর্শই আমাকে এই পুস্তিকায় উক্ত পাঠ্যসমূহের কিছু অংশ সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর সাথে আমি অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ইমামগণের আরও কিছু পাঠ্য যুক্ত করেছি, যেমন— ইমাম বুখারি, তহাবি, ইবনে তাইমিয়্যাহ, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং অন্যান্য (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন)। এই পাঠ্যগুলোর শুরুতে আমি আল্লাহর রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাওহিদের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ভূমিকা প্রদান করেছি। এছাড়াও পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ কীভাবে এই বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছে এবং কীভাবে মুসলিম আলেমগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইসলামি আকিদার সেবা করেছেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁদের সমাজগুলোতে এর প্রভাব কী ছিল, তাও বর্ণনা করেছি। এভাবেই প্রথম সৌদি রাষ্ট্র এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুজাহিদ মুহাম্মদ ইবনে সাউদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর হাতে সংস্কারমূলক দাওয়াতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যে দাওয়াতের আহ্বান জানিয়েছিলেন ইমাম মুজাদ্দিদ শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। এই রাষ্ট্রটি পরবর্তী যুগগুলোতেও একই মানহাজের ওপর অটল ছিল, যা ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ফয়সাল আল সাউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর কার্যাবলীর মাধ্যমে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যখন তিনি এই রাজ্যকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৭)
العربية السعودية، ونهض بها على أساس من عقيدة التوحيد وشريعة الإِسلام.

ورأيتُ من المناسب ختم هذه الرسالة بذكر قواعد عامة مستقاة من منهج أئمة سلف هذه الأمة في دراستهم لمسائل العقائد والتوحيد، واعتمادهم في ذلك على كتاب الله تعالى وسنة رسول صلى الله عليه وسلم أولًا وقبل كل شيء، وهذه القواعد منقولة من مقدمة " شرح العقيدة الطحاوية " لابن أبي العز، في طبعته المحققة الصادرة في عام (1408 هـ) .

سائلا الله تبارك وتعالى أن ينفع بهذه النقول كل من اطلع عليها، وأن يجعلها خالصة لوجهه الكريم، وصلى الله على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم.

عبد الله بن عبد المحسن التركي
সৌদি আরব, যা তাওহীদের আকিদাহ এবং ইসলামের শরীয়তের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও সমুন্নত হয়েছে।

আমি এই পুস্তিকাটি শেষ করার ক্ষেত্রে এই উম্মতের সালাফ ইমামগণের মানহাজ থেকে আহরিত কিছু সাধারণ নীতি উল্লেখ করা উপযুক্ত মনে করেছি, যা তাঁরা আকিদাহ ও তাওহীদের বিষয়সমূহ অধ্যয়নে অনুসরণ করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ওপর নির্ভর করেছেন। এই নীতিগুলো ইবনে আবিল ইয-এর "শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ"-এর ভূমিকা থেকে সংগৃহীত হয়েছে, যা ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত তার তাহকীককৃত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই উদ্ধৃতিগুলোর দ্বারা একে পাঠকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে উপকৃত করেন এবং একে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুর্কি
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[لا إله إلا الله أساس الوجود]

لا إله إلا الله أساس الوجود الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، نبينا محمد، وآله وصحبه ومن والاه. أما بعد:

فإِن: " لا إِله إِلا الله " هي أساس الوجود:

فما خَلَق الله الجنَّ والإِنس إِلا لتوحيده وعبادته:

{وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]

وما أرسلَ الله الرسل إِلا لتوحيده وعبادته:

{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25]

وما خلق الله في هذا الكون من شيء إلا لتوحيده وتسبيحه:

{تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44]

ومن لُباب التوحيد: أن يُحمَد الإِلهُ العليّ العظيم الجليل الرحيم على ذلك.

فَنحمدُ الله الذي جعل توحيده أولَ أمرٍ، وأعظم مسألة، وأبقى حقيقة:
[লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অস্তিত্বের ভিত্তি]

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অস্তিত্বের ভিত্তি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন তাদের প্রতি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" হলো অস্তিত্বের ভিত্তি:

কেননা আল্লাহ জিন ও মানুষকে একমাত্র তাঁর তাওহীদ ও ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন:

{আর আমি জিন এবং মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।} [আয-যারিয়াত: ৫৬]

আর আল্লাহ রাসূলগণকে একমাত্র তাঁর তাওহীদ ও ইবাদতের জন্যই প্রেরণ করেছেন:

{আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার কাছে আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} [আল-আম্বিয়া: ২৫]

আর আল্লাহ এই মহাবিশ্বে এমন কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি যা তাঁর তাওহীদ ও তাঁর পবিত্রতা ঘোষণার (তাসবীহ) জন্য নয়:

{সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সব কিছু তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা অনুধাবন করতে পারো না।} [আল-ইসরা: ৪৪]

আর তাওহীদের সারমর্ম হলো: এই বিষয়ের ওপর সেই ইলাহ-এর প্রশংসা করা যিনি সুউচ্চ, সুমহান, মহিমান্বিত ও পরম দয়ালু।

অতএব আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি তাঁর তাওহীদকে প্রথম নির্দেশ, সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় এবং চিরস্থায়ী সত্যে পরিণত করেছেন:
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১০)
{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ - مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ - إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ - اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 2 - 7]

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ - هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ طِينٍ ثُمَّ قَضَى أَجَلًا وَأَجَلٌ مُسَمًّى عِنْدَهُ ثُمَّ أَنْتُمْ تَمْتَرُونَ - وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ} [الأنعام: 1 - 3]

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا - قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا - مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا - وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا - مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} [الكهف: 1 - 5]

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي الْآخِرَةِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ - يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ} [سبأ: 1 - 2]
{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।} [আল-ফাতিহা: ২ - ৭]

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে তারা তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করায়। তিনিই তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর একটি সময়কাল নির্ধারণ করেছেন; আর তাঁর নিকট একটি সুনির্দিষ্ট সময় আছে, তবুও তোমরা সন্দেহ পোষণ করছ। আর আসমানসমূহে এবং জমিনে তিনিই আল্লাহ; তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা অর্জন করো তা-ও তিনি জানেন।} [আল-আনআম: ১ - ৩]

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠোর শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন—যারা সৎকাজ করে—যে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যাতে তিনি তাদের সতর্ক করেন যারা বলে, 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন'। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে নিঃসৃত কথাটি কতই না জঘন্য! তারা তো কেবল মিথ্যাই বলে।} [আল-কাহফ: ১ - ৫]

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; আর আখেরাতেও সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত। তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। তিনি পরম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল।} [সাবা: ১ - ২]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১১)
{فَلِلَّهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَرَبِّ الْأَرْضِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - وَلَهُ الْكِبْرِيَاءُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الجاثية: 36 - 37]

ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له:

* شهادة الموقن بوحدانية الله في ربوبيته:

{إِنَّ اللَّهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَى يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ ذَلِكُمُ اللَّهُ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ - فَالِقُ الْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ - وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ - وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَمُسْتَوْدَعٌ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَفْقَهُونَ - وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُتَرَاكِبًا وَمِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَجَنَّاتٍ مِنْ أَعْنَابٍ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ انْظُرُوا إِلَى ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِهِ إِنَّ فِي ذَلِكُمْ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ - وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ - بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ - ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ - لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الأنعام: 95 - 103]
{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহের প্রতিপালক, জমিনের প্রতিপালক এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক। আর আসমানসমূহ ও জমিনে তাঁরই জন্য মহিমা; আর তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আল-জাছিয়াহ: ৩৬ - ৩৭]

আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই:

* আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে (প্রভুত্বে) তাঁর একত্ববাদের প্রতি সুনিশ্চিত বিশ্বাসীর সাক্ষ্য:

{নিশ্চয়ই আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী; তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। তিনিই আল্লাহ; সুতরাং তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? - তিনিই প্রভাত উন্মেষকারী এবং তিনি রাতকে প্রশান্তির আধার এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসাবের মানদণ্ড করেছেন। এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত পরিমাপ। - আর তিনিই তোমাদের জন্য তারকারাজি সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা এর মাধ্যমে স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চলতে পার। নিশ্চয়ই আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। - আর তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তোমাদের জন্য রয়েছে একটি অবস্থানস্থল ও একটি সঞ্চয়স্থল। নিশ্চয়ই আমি সমঝদার সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। - আর তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দ্বারা সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি; তারপর আমি তা থেকে সবুজ চারা বের করেছি, যা থেকে আমি ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা বের করি; আর খেজুর গাছের মোচা থেকে নিচু হয়ে থাকা ঝুলন্ত কাঁদি, আর আঙুর বাগান এবং জয়তুন ও ডালিম (সৃষ্টি করেছি), যা একে অপরের সদৃশ ও বিসদৃশ। তোমরা লক্ষ্য কর তার ফলের দিকে যখন তা ফলবান হয় এবং তার পাকার সময়ের দিকে। নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। - আর তারা জিনদেরকে আল্লাহর শরিক সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তারা না জেনে তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা আরোপ করেছে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। - তিনি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা। তাঁর সন্তান হবে কীভাবে, যখন তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই? আর তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। - তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত কর। আর তিনি সবকিছুর ওপর কর্মবিধায়ক। - দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন। আর তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিহিত।} [আল-আনআম: ৯৫ - ১০৩]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১২)
* وشهادة الموقنِ بوحدانيةِ الله في ألوهيته:

{تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ - إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} [الزمر: 1 - 2]

{هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَمَّا جَاءَنِيَ الْبَيِّنَاتُ مِنْ رَبِّي وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [غافر: 65 - 66]

{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5]

{وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [الشورى: 10]
* আল্লাহর উলুহিয়্যাতে তাঁর একত্বের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তির সাক্ষ্য:

{মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এই কিতাব অবতীর্ণকরণ। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ এই কিতাব নাযিল করেছি; অতএব আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।} [যুমার: ১ - ২]

{তিনিই চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। অতএব তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকুন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর। বলুন, আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাকো, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আর আমি জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি আত্মসমর্পণ করতে আদিষ্ট হয়েছি।} [গাফির: ৬৫ - ৬৬]

{আর তাদেরকে কেবল একনিষ্ঠ হয়ে একমুখীভাবে আল্লাহর ইবাদত করার, সালাত কায়েম করার এবং যাকাত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; আর এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন।} [বাইয়্যিনাহ: ৫]

{আর তোমরা যে বিষয়েই মতবিরোধ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট। তিনিই আল্লাহ, আমার প্রতিপালক; তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই।} [শূরা: ১০]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
{أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [المائدة: 50]

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ} [البقرة: 165]

* وشهادة الموقن بوحدانية الله في أسمائه:

{قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 110]

{اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: 8]

{هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الحشر: 24]

* وشهادةَ الموقن بوحدانيةِ الله في صفاته وأفعاله:

{اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255]
{তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?} [আল-মায়িদাহ: ৫০]

{আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে, তারা তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অনেক বেশি দৃঢ়। আর যালিমরা যদি জানত—যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে—যে সমস্ত শক্তিই আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ আযাব দানে অত্যন্ত কঠোর।} [আল-বাকারা: ১৬৫]

* এবং আল্লাহর নামসমূহে তাঁর একত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসীর সাক্ষ্য:

{বলুন, তোমরা 'আল্লাহ' নামে ডাকো অথবা 'রাহমান' নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সুন্দর নামসমূহ তো তাঁরই।} [আল-ইসরা: ১১০]

{আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুন্দর নামসমূহ তাঁরই।} [তহা: ৮]

{তিনিই আল্লাহ—সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী; সুন্দর নামসমূহ তাঁরই। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আল-হাশর: ২৪]

* এবং আল্লাহর গুণাবলী ও কার্যাবলীতে তাঁর একত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসীর সাক্ষ্য:

{আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান।} [আল-বাকারা: ২৫৫]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى - لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى} [طه: 5 - 6]

{رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنْذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ} [غافر: 15]

{سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ - لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ - هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ - لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ - يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَهُوَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} [الحديد: 1 - 6]

{إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ - إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ - وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ - ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ - فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} [البروج: 12 - 16]

{إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ - وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍ بِالْبَصَرِ - وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا أَشْيَاعَكُمْ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ - وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ - وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ - إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ - فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ} [القمر: 49 - 55]
{পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন। আসমানসমূহে যা আছে, জমিনে যা আছে, এই দুইয়ের মাঝে যা আছে এবং মাটির নিচে যা আছে সব তাঁরই।} [ত্বহা: ৫ - ৬]

{তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর পক্ষ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে।} [গাফির: ১৫]

{আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়। আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই গোপন; এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আসমান থেকে নাজিল হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন; আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন। আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই এবং সব বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়। তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান; আর তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।} [আল-হাদিদ: ১ - ৬]

{নিশ্চয়ই তোমার রবের পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর। তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি প্রেমময়। আরশের মালিক, অতি মহিমান্বিত। তিনি যা চান তা-ই করেন।} [আল-বুরূজ: ১২ - ১৬]

{নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছি এক নির্ধারিত পরিমাপে। আর আমার নির্দেশ তো কেবল একটিই, চোখের পলকের মতো। আমি তোমাদের সমমনাদের ধ্বংস করেছি; অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? তারা যা কিছু করেছে তা আমলনামায় রয়েছে। ছোট-বড় সব কিছুই লিপিবদ্ধ। নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতসমূহ ও নহরসমূহে। সত্যের আসনে, সর্বশক্তিমান মালিকের সান্নিধ্যে।} [আল-কামার: ৪৯ - ৫৫]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
{قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ - وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ - ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ - فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} [فصلت: 9 - 12]

{وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ - وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ - وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [الذاريات: 47 - 49]

{وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [الأنعام: 115]

{وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الشورى: 51]

{قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ} [الأعراف: 144]
{বলুন, তোমরা কি সত্যিই তাঁর সাথে কুফরি করছ যিনি পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করছ? তিনি জগতসমূহের রব। - এবং তিনি এতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ এর উপরিভাগে এবং এতে বরকত দান করেছেন এবং এতে এর খাদ্যদ্রব্য নির্ধারণ করেছেন চার দিনে, যা সকল যাঞ্ছনাকারীদের জন্য সমান। - তারপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া, অতঃপর তিনি একে ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল: আমরা আসলাম অনুগত হয়ে। - তারপর তিনি সেগুলোকে দুই দিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার নির্দেশ ওহী করলেন এবং আমি দুনিয়ার আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপসমূহ দ্বারা এবং করেছি সংরক্ষিত। এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত ব্যবস্থাপনা।} [ফুসসিলাত: ৯ - ১২]

{আর আকাশ, আমি তা নির্মাণ করেছি হাতসমূহ দ্বারা এবং নিশ্চয়ই আমি প্রশস্তকারী। - আর পৃথিবীকে আমি বিছিয়েছি, সুতরাং আমি কতই না চমৎকার প্রসারণকারী। - এবং প্রত্যেক বস্তু থেকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।} [আয-যারিয়াত: ৪৭ - ৪৯]

{আর সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে আপনার রবের বাণী পূর্ণ হয়েছে; তাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তনকারী নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-আনআম: ১১৫]

{আর কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল ছাড়া অথবা তিনি কোনো রাসূল পাঠান, অতঃপর তিনি তাঁর অনুমতিতে যা চান ওহী করেন। নিশ্চয়ই তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।} [আশ-শূরা: ৫১]

{তিনি বললেন: হে মুসা, আমি আমার রিসালাতসমূহ ও আমার কথা বলার মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর বেছে নিয়েছি; সুতরাং আমি তোমাকে যা দান করেছি তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।} [আল-আরাফ: ১৪৪]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
{وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا} [الكهف: 27]

{لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11]

 

ونشهد أن محمدًا عبدُ الله ورسوله ومُصطفاه ومُجتباه:

* شهادةَ المؤمن بأن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم مَنْ استقر في قلبه توحيدك يا ربنا.

* وشهادةَ المؤمن بأن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم من دعا إِلى توحيدك يا إِلهنا.

* وشهادة المؤمن بأن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم من نطق لسانه بتوحيدك فقال صلى الله عليه وسلم:

«الحمدُ لله الذي وسِعَ سمْعُهُ الأصواتَ» (1) .

«اللهُمَّ إِنِّي أَسْتَخيركَ بعِلمِكَ، وأَستقْدِرُكَ بقُدْرَتِكَ» (2) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي في كتاب الطلاق، باب الظهار: (3460) ، وابن ماجه في المقدمة، باب فيما أنكرت الجهمية: (188) ، وأحمد في مسنده: (6 / 46) من قول عائشة رضي الله عنها.

(2) أخرجه البخاري في كتاب الدعوات، باب الدعاء عند الاستخارة: (6382) ، وأبو داود في كتاب الصلاة، باب في الاستخارة: (1538) ، والترمذي في كتاب الصلاة، باب ما جاء في صلاة الاستخارة: (480) ، والنسائي في كتاب النكاح، باب كيف الاستخارة: (3253) .
{আপনার প্রতি আপনার রবের কিতাব থেকে যা ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন; তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং আপনি তাঁকে ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল পাবেন না।} [আল-কাহফ: ২৭]

{তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শূরা: ১১]

 

এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর মনোনীত ও তাঁর নির্বাচিত:

* মুমিনের সেই সাক্ষ্য যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সেই মহান ব্যক্তি, যাঁর অন্তরে আপনার তাওহিদ সবচেয়ে বেশি সুদৃঢ় হয়েছে, হে আমাদের রব।

* মুমিনের সেই সাক্ষ্য যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সেই মহান ব্যক্তি, যিনি আপনার তাওহিদের দিকে সবচেয়ে বেশি আহ্বান করেছেন, হে আমাদের ইলাহ।

* মুমিনের সেই সাক্ষ্য যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সেই মহান ব্যক্তি, যাঁর জিহ্বা সবচেয়ে বেশি আপনার তাওহিদ উচ্চারণ করেছে। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর শ্রবণ সমস্ত শব্দকে পরিবেষ্টন করে আছে» (১) ।

«হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার কাছে সামর্থ্য প্রার্থনা করছি» (২) ।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ি তালাক অধ্যায়ের যিহার পরিচ্ছেদে: (৩৪৬০), ইবনে মাজাহ মুকাদ্দিমার জাহমিয়্যাহরা যা অস্বীকার করেছে পরিচ্ছেদে: (১৮৮), এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে: (৬ / ৪৬), আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর উক্তি থেকে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারি দুআ অধ্যায়ের ইস্তিখারার সময়ের দুআ পরিচ্ছেদে: (৬৩৮২), আবু দাউদ সালাত অধ্যায়ের ইস্তিখারা পরিচ্ছেদে: (১৫৩৮), আত-তিরমিযি সালাত অধ্যায়ের সালাতুল ইস্তিখারা বিষয়ক পরিচ্ছেদে: (৪৮০), এবং আন-নাসায়ি বিবাহ অধ্যায়ের ইস্তিখারা করার পদ্ধতি পরিচ্ছেদে: (৩২৫৩)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
«ارْبَعوا على أَنفسكم، إِنكم لا تَدْعون أَصمَّ ولا غائبًا، إِنكم تدعون سميعًا قريبًا وهو معكم» (1) .

«اللهمَّ لك الحمدُ، أنتَ ربُّ السماواتِ والأرضِ، لك الحمدُ أنت قيمُ السماوات والأرض ومن فيهنّ، لك الحمدُ، أنت نورُ السماواتِ والأرض، قولك الحقُّ ووعدُك الحقُّ، ولقاؤكَ حقّ، والجنة حقٌ، والنارُ حق، والساعة حقٌ، اللهمًّ لك أسلمتُ، وبكَ آمنتُ، وعليك توكلت، وإليك أنبت، وبك خاصمت، وإليك حاكمت، فاغفرْ لي ما قَدّمتُ وما أخَّرت وأسررْت وأعلنت، أنتَ إِلهي لا إِله لي غيرك» (2) .

«أَصبَحْنَا على فِطرةِ الإِسلامِ، وعلى كلمة الإِخلاص، وعلى دِين نبيِّنَا محمد صلى الله عليه وسلم، وعلى ملَّةِ أَبِيَنَا إِبراهيمَ

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري واللفظ له، في كتاب المغازي، باب غزوة خيبر: (4205) ، ومسلم في كتاب الذكر، باب استحباب خفض الصوت بالذكر: (2704) ، وأبو داود في كتاب الصلاة، باب الاستغفار: (1526) .

(2) أخرجه البخاري واللفظ له، في كتاب التوحيد، باب قول الله تعالى: (وهو الذي خلق السماوات. . .) : (7385) ، ومسلم في كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار، باب التعوذ من شر ما عمل ومن شر ما لم يعمل: (2717) .
«তোমরা নিজেদের ওপর দয়া করো, নিশ্চয়ই তোমরা কোনো বধির কিংবা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না; বরং তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তীর কাছে, আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন» (১) ।

«হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা কেবল আপনারই; আপনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রব। সকল প্রশংসা কেবল আপনারই; আপনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে—সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। সকল প্রশংসা কেবল আপনারই; আপনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি। আপনার কথা সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার ওপর ঈমান এনেছি, আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই ফিরে এসেছি, আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করেছি এবং আপনার কাছেই বিচার সোপর্দ করেছি। অতএব, আপনি আমার পূর্বের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিন। আপনিই আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া আমার আর কোনো ইলাহ নেই» (২) ।

«আমরা ভোরে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিতরাতের ওপর, ইখলাসের কালিমার ওপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের ওপর এবং আমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই, কিতাবুল মাগাজি, খায়বার যুদ্ধ অধ্যায়: (৪২০৫); মুসলিম, কিতাবুয যিকর, যিকরের সময় শব্দ নিচু করা মুস্তাহাব হওয়া বিষয়ক পরিচ্ছেদ: (২৭০৪); এবং আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, ইস্তিগফার পরিচ্ছেদ: (১৫২৬)।

(২) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই, কিতাবুত তাওহীদ, আল্লাহর বাণী: (তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন...) পরিচ্ছেদ: (৭৩৮৫); এবং মুসলিম, কিতাবুয যিকর, আদ-দোয়া, আত-তাওবাহ ওয়াল ইস্তিগফার, কৃতকর্মের অনিষ্ট এবং যা করা হয়নি তার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাওয়া বিষয়ক পরিচ্ছেদ: (২৭১৭)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
حَنيفًا مُسلمًا، وما كَانَ مِنَ المُشرِكينَ» (1) .

«أُمِرْتُ أنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتى يَشْهَدُوا أَنْ لا إِله إِلا الله، وأَن محمدًا رَسولُ الله. . .» (2) .

«لا إِله إِلا الله وحدَه، لا شريكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ ولَهُ الحَمْدُ وهو على كلِّ شيءٍ قَدير. . .» (3) .

«اللهُمَّ ربَّ السَّماوات وربِّ الأرضِ ربَّ العرش العظيم، ربَنَّا وربَّ كلِّ شيء فالِقَ الحبِّ والنَّوى، ومُنزِلَ التَّوراةِ والإِنجيل والفرقان أَعوذ بك من شرِّ كلِّ شيءٍ

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في مسنده واللفظ له: (3 / 406) ، والدارمي في كتاب الاستئذان، باب ما يقول إِذا أصبح: (2691) ، وابن السني في عمل اليوم والليلة، باب ماذا يقول إِذا أصبح: (33) .

(2) أخرجه البخاري واللفظ له في كتاب الإِيمان، باب (فإن تابوا وأقاموا الصلاة. .) : (25) ، ومسلم في كتاب الإِيمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا إِله إِلا الله محمدًا رسول الله: (22) ، وابن حبّان في كتاب الإِيمان، باب فرض الإِيمان: (175، 219) ، والبغوي في كتاب الإِيمان، باب البيعة على الإِسلام وشرائعه وقتال من أبى: (33) من حديث ابن عمر، وله طرق أخرى كثيرة.

(3) أخرجه البخاري في كتاب العمرة، باب ما يقول إِذا رجع من الحج أو العمرة أو الغزو؟ : (1797) ، ومسلم في كتاب الحج، باب ما يقول إِذا قفل من سفر الحج وغيره: (1344) .
একনিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে, এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (১) ।

«আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল...» (২) ।

«আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান...» (৩) ।

«হে আল্লাহ! আসমানসমূহের রব, জমিনের রব, মহান আরশের রব; আমাদের রব এবং সকল কিছুর রব; শস্যদানা ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তাওরাত, ইঞ্জিল ও ফুরকান অবতীর্ণকারী। আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি সকল কিছুর অনিষ্ট হতে...

--------------------------------------------

(১) আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই: (৩ / ৪০৬), এবং দারেমী ‘অনুমতি প্রার্থনা’ কিতাবে, ‘সকালে যা বলতে হয়’ অনুচ্ছেদে: (২৬৯১), এবং ইবনুস সুন্নী ‘দিন ও রাতের আমল’ কিতাবে, ‘সকালে যা বলতে হয়’ অনুচ্ছেদে: (৩৩)।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই ‘ঈমান’ কিতাবে, অনুচ্ছেদ (যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে...): (২৫), এবং মুসলিম ‘ঈমান’ কিতাবে, অনুচ্ছেদ: ‘মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’: (২২), এবং ইবনে হিব্বান ‘ঈমান’ কিতাবে, অনুচ্ছেদ: ‘ঈমানের আবশ্যকতা’: (১৭৫, ২১৯), এবং বাগভী ‘ঈমান’ কিতাবে, অনুচ্ছেদ: ‘ইসলাম ও এর বিধানের ওপর বায়আত এবং অস্বীকারকারীদের সাথে যুদ্ধ’: (৩৩), ইবনে উমরের হাদিস থেকে; এবং এর আরও অনেক সূত্র রয়েছে।

(৩) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন ‘উমরাহ’ কিতাবে, অনুচ্ছেদ: ‘হজ, উমরাহ বা যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় কী বলতে হয়?’: (১৭৯৭), এবং মুসলিম ‘হজ’ কিতাবে, অনুচ্ছেদ: ‘হজ বা অন্য সফর থেকে ফেরার সময় কী বলতে হয়’: (১৩৪৪)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أنتَ آخذٌ بناصيَته، اللهمّ أنتَ الأول فليسَ قبلكَ شيءٌ، وأنت الآخِرُ فَليَسً بعدك شيءٌ، وأنتَ الظاهرُ فليسَ فوقكَ شيءٌ، وأنت الباطنُ فليسَ دونكَ شيءٌ، اقض عنَّا الدَّيْنَ وأغْننا مِنَ الفَقْر» (1) .

«إِنكم سَتَرَونَ رَبَّكم كما تَرَوْنَ هذا القمر، لا تُضامون في رُؤيته، فإِن استطعتم أن لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس، وقبل غروبها فافعلوا. . .» (2) .

«احْفَظ الله يَحْفَظْكَ، احفَظ الله تجدْهُ تُجاهَكَ، إِذا سأَلْتَ فَاسألِ الله، وإذا استَعَنْتَ فاستَعِنْ بالله، واعلمْ أَنَّ الأمَّةَ لو اجتمَعَتْ على أَنْ يَنْفَعوكَ بشيءٍ، لم يَنْفَعُوكَ إِلَاّ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم واللفظ له، في كتاب الذكر والدعاء. .، باب ما يقول عند النوم وأخذ المضجع: (2713) ، وأبو داود في كتاب الأدب، باب ما يقال عند النوم: (5051) ، والترمذي في كتاب الدعوات، باب ما جاء في الدعاء إِذا أوى إِلى فراشه: (3400) .

(2) أخرجه البخاري واللفظ له، في كتاب مواقيت الصلاة، باب فضل صلاة العصر: (554) ، ومسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب فضل صلاتي الصبح والعصر: (633) ، وأبو داود في كتاب السُّنَّة، باب في الرؤية: (4729) ، والترمذي في كتاب صفة الجنة، باب ما جاء في رؤية الرَّبِّ تبارك وتعالى: (2554) ، وابن ماجه في المقدمة، باب فيما أنكرت الجهمية: (177) ، وأحمد في مسنده: (3 / 16) ، (4 / 11، 12) .
আপনিই তার ললাট ধারণকারী। হে আল্লাহ, আপনিই আদি, আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই অন্ত, আপনার পরে কিছু নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছু নেই; আর আপনিই গোপন, আপনার নিচে কিছু নেই। আমাদের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদের অভাব থেকে মুক্তি দিয়ে স্বচ্ছলতা দান করুন।» (১) ।

«নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখছ, তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড় বা কষ্টের সম্মুখীন হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয়ের আগের সালাত এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত আদায়ে পরাজিত না হতে পারো (অর্থাৎ তা যথাযথভাবে আদায় করতে পারো), তবে তাই করো...» (২) ।

«তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন; আল্লাহর (হকের) হেফাজত করো, তুমি তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও; আর যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো। জেনে রাখো, যদি সমগ্র জাতি তোমার কোনো উপকার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না কেবল...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই, যিকির ও দুআ অধ্যায়ে, ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় অনুচ্ছেদ: (২৭১৩); আবু দাউদ আদব অধ্যায়ে, ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় অনুচ্ছেদ: (৫০৫১); এবং তিরমিযী দুআ অধ্যায়ে, বিছানায় যাওয়ার সময় পঠিতব্য দুআ অনুচ্ছেদ: (৩৪০০)।

(২) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই, সালাতের ওয়াক্ত অধ্যায়ে, আসর সালাতের ফজিলত অনুচ্ছেদ: (৫৫৪); মুসলিম মসজিদ ও সালাতের স্থান অধ্যায়ে, ফজর ও আসর সালাতের ফজিলত অনুচ্ছেদ: (৬৩৩); আবু দাউদ সুন্নাহ অধ্যায়ে, দিদার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ: (৪৭২৯); তিরমিযী জান্নাতের গুণাবলি অধ্যায়ে, বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালকের দিদার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ: (২৫৫৪); ইবনে মাজাহ মুকাদ্দিমায়, জাহমিয়্যাহদের অস্বীকৃত বিষয়াবলি অনুচ্ছেদ: (১৭৭); এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে: (৩ / ১৬), (৪ / ১১, ১২)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২০)
بشيء قَدْ كَتَبَه الله لَكَ، ولو اجتَمعُوا على أَنْ يَضرُّوكَ بشيء، لم يَضُرُّوكَ إِلَاّ بشيءٍ قَدْ كَتَبَهُ الله عَليكَ، رُفِعَت الأَقلامُ، وجَفّتِ الصحُف» (1) .

«إِنَّ الله تعالى يَبْسُط يدَه بالليل ليَتوبَ مُسِيءُ النهار، ويَبسُط يده بالنهار ليتوبَ مُسيءُ الليل حتى تَطلعَ الشمسُ من مَغرِبها» (2) .

«سُبْحانَ الله عَدَدَ خَلْقِه، سُبْحان الله رِضاءَ نَفْسهِ، سُبحانَ الله زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبحاَنَ الله مِدَادَ كَلِماتِهِ. . .» (3) .

«. . اللهم بِاسمِكَ أَموتُ وأحيا. (4) » .

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي واللفظ له، في كتاب صفة القيامة، باب ما جاء في صفة أواني الحوض: (2516) ، وأحمد في مسنده: (1 / 293) ، والطبراني في " الكبير ": (12 / 12988، 12989) .

(2) أخرجه مسلم في كتاب التوبة، باب قبول التوبة من الذنوب وإن تكررت: (2759) ، وأحمد في مسنده: (4 / 395) .

(3) رواه أحمد في مسنده: (1 / 353، (6 / 325، 430) .

(4) رواه البخاري واللفظ له في كتاب الدعوات، باب وضع اليد اليمنى تحت الخد الأيمن: (6314) ، وأبو داود في كتاب الأدب، باب ما يقال عند النوم: (5049) ، والترمذي في كتاب الدعوات، باب ما جاء في الدعاء إذا انتبه من الليل: (3417) ، وأحمد في مسنده: (5 / 385) .
এমন কিছু দ্বারা যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা তোমার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না, কেবল ততটুকুই যা আল্লাহ তোমার প্রতিকূলে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাসমূহ শুকিয়ে গেছে। (১) ।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন দিনের অপরাধী তওবা করে, এবং তিনি দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন রাতের অপরাধী তওবা করে; যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়। (২) ।

আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর আরশের ওজনের সমান, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর বাণীর কালির সমান... (৩) ।

... হে আল্লাহ, আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই। (৪) ।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁর, কিয়ামতের বৈশিষ্ট্যের কিতাব, হাউজের পাত্রের বৈশিষ্ট্য বিষয়ক অধ্যায়: (২৫১৬); এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে: (১/২৯৩); এবং তাবারানী ‘আল-কাবীর’-এ: (১২/১২৯৮৮, ১২৯৮৯)।

(২) মুসলিম এটি উদ্ধৃত করেছেন তওবা কিতাব, পাপ থেকে তওবা কবুল হওয়া বিষয়ক অধ্যায় যদিও তা বারবার ঘটে: (২৭৫৯); এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে: (৪/৩৯৫)।

(৩) আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন: (১/৩৫৩, ৬/৩২৫, ৪৩০)।

(৪) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁর, দোয়া কিতাব, ডান গালের নিচে ডান হাত রাখা বিষয়ক অধ্যায়: (৬৩১৪); আবু দাউদ আদব কিতাব, ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় অধ্যায়: (৫০৪৯); তিরমিযী দোয়া কিতাব, রাতে জাগ্রত হলে যা বলতে হয় অধ্যায়: (৩৪১৭); এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে: (৫/৩৮৫)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২১)
«لا إِله إِلا الله العَظيمُ الحليمُ، لا إِله إِلا الله ربّ العرش العظيمُ، لا إِله إِلا الله ربُّ السمواتِ، وربُّ الأرضِ، وربُّ العرش الكريم» (1) .

 

ونشهد أنّ حياة الرسول صلى الله عليه وسلم كانت كلها توحيدًا خالصًا لله تعالى.

كان إِيمانُه توحيدًا، وكانت نيتُه توحيدًا، وكانت عبادتُه توحيدًا، وكان عملُه توحيدًا، وكان خُلُفه توحيدًا.

{قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ - قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ - قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبًّا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ} [الأنعام: 161 - 164]

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري واللفظ له، في كتاب التوحيد، باب وكان عرشه على الماء. . .: (7426) ، ومسلم في كتاب الذكر والدعاء. .، باب دعاء الكرب: (2730) ، والترمذي في كتاب الدعوات، باب ما جاءَ ما يقول عند الكرب: (3435) .
«আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি সুমহান, সহনশীল; আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের রব; আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি আসমানসমূহের রব, জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব» (১) .

 

এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমগ্র জীবন ছিল মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ তাওহীদ।

তাঁর ঈমান ছিল তাওহীদ, তাঁর নিয়ত ছিল তাওহীদ, তাঁর ইবাদত ছিল তাওহীদ, তাঁর কর্ম ছিল তাওহীদ এবং তাঁর চরিত্র ছিল তাওহীদ।

{বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং ইবরাহীমের আদর্শ, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না - বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য - তাঁর কোনো শরিক নেই, আর আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম - বলুন, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো রব তালাশ করব, অথচ তিনি সবকিছুর রব? প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করে তা তার নিজের উপরই বর্তায় এবং কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদের রবের নিকটেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তোমাদেরকে সে বিষয়ে অবহিত করবেন যা নিয়ে তোমরা মতভেদ করতে} [আল-আনআম: ১৬১ - ১৬৪]

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, তাওহীদ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে... : (৭৪২৬), এবং মুসলিম যিকর ও দুআ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বিপদের সময়ের দুআ: (২৭৩০), এবং তিরমিযী দুআ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বিপদের সময় যা বলতে হয়: (৩৪৩৫)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২২)
ونشهد أن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم خير من جاهد في سبيل كلمة التوحيد حتى أتاه اليقين.

ونشهد أن كل توحيدٍ تحقق - بعد مبعثه - كان هو صلى الله عليه وسلم سببه بتوفيق المُسبِّبِ ونَصرِه سبحانه.

فصلِّ اللهم على نبيك ورسولك محمد ما عَمرَ قلبٌ بتوحيدك، وما استضاءَ مُجتمع بنور الإِيمان بك.

وارْضَ اللهم عن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين ما دار الفَلَك على شاهِدين بالوحدانية لك خير منهم بعد الأنبياء والمرسلين.

أما بعد:

فهذا مفتحٌ توحيديّ ذو دلالة مقصودة.

ووجه الدلالة فيه:

* أن العقيدة هي جِماع الأمر ومِلاكه، فليس يسبق العقيدة شيء في منهج الدين، وليس يقوم مقام التوحيد شيء في سلوك التديّن، وصلاح القلب والعمل.

وما من نبي ولا رسول إِلا كانت العقيدة عمادَ دعوته، وأول أمره، وباكورة منهجه:
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যিনি তাওহীদের কালিমার পথে জিহাদ করেছেন তাঁর নিকট মৃত্যু আসা পর্যন্ত।

এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তাঁর প্রেরণের পর যে তাওহীদই অর্জিত হয়েছে, মহান কারণদাতার তাওফিক ও তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন তার কারণ।

অতএব, হে আল্লাহ! আপনার নবী ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন যতক্ষণ কোনো অন্তর আপনার তাওহীদের মাধ্যমে আবাদ থাকে এবং যতক্ষণ কোনো সমাজ আপনার প্রতি ঈমানের নূরের মাধ্যমে আলোকিত হয়।

আর হে আল্লাহ! আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আপনার একত্ববাদের সাক্ষ্যদাতা এই মহাকাশ নবী ও রাসূলগণের পর আর কাউকে আবর্তন করতে দেখেনি।

অতঃপর:

এটি একটি তাওহীদভিত্তিক প্রারম্ভিকা যা একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক তাৎপর্য বহন করে।

আর এর তাৎপর্যের দিকটি হলো:

* নিশ্চয়ই আকিদাহ হলো সমস্ত বিষয়ের সারবস্তু ও মূল ভিত্তি; সুতরাং দ্বীনের পদ্ধতিতে আকিদাহর অগ্রবর্তী কোনো কিছুই নেই, আর ধার্মিকতার আচরণ এবং অন্তর ও আমলের সংশোধনে তাওহীদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো কিছুই নেই।

এমন কোনো নবী বা রাসূল নেই যাঁর দাওয়াতের মূল স্তম্ভ, তাঁর প্রথম কাজ এবং তাঁর পদ্ধতির সূচনা আকিদাহ ছিল না:
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
{لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ} [الأعراف: 59]

{وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ} [الأعراف: 65]

{وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 73]

{وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 85]

{وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]

وما من داعيةٍ ناجحِ إِلا بدأ بما بدأ بهِ الرُّسل، وكان التوحيد قِوام علمه ودعوته.

يعزز هذه الحقيقة - حقيقة أن العقيدة هي جِماع الأمر ومِلاكه - عبرة التاريخ، واستقراء الواقع.

فكل بناء لا تكون العقيدة أسّه، إِنما هو بناء بلا أساس، وبلا قرار وإِنْ بَدا للناس أنه قد استطالَ.
{আমি অবশ্যই নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি।’} [আল-আরাফ: ৫৯]

{এবং আদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’} [আল-আরাফ: ৬৫]

{এবং সামুদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।’} [আল-আরাফ: ৭৩]

{এবং মাদইয়ানবাসীর নিকট তাদের ভাই শুআইবকে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।’} [আল-আরাফ: ৮৫]

{আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।’} [আন-নাহল: ৩৬]

এমন কোনো সফল দায়ী নেই যে সেই বিষয় দ্বারা দাওয়াতের কাজ শুরু করেনি যা দ্বারা রাসুলগণ শুরু করেছিলেন; আর তাওহিদই ছিল তাঁর ইলম ও দাওয়াতের মূল ভিত্তি।

এই সত্যটি—অর্থাৎ আকিদাই হলো সকল বিষয়ের সারবস্তু ও মূল চালিকাশক্তি—ইতিহাসের শিক্ষা এবং বাস্তবতার পর্যালোচনা দ্বারা আরও সুদৃঢ় হয়।

সুতরাং এমন প্রতিটি নির্মাণ যার ভিত্তি আকিদা নয়, তা মূলত ভিত্তিহীন ও স্থায়িত্বহীন একটি স্থাপনা, যদিও মানুষের দৃষ্টিতে তা অনেক সুউচ্চ বলে প্রতীয়মান হয়।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
لقد فسر الناس انهيار الحضارات، وبوار الأمم، واضطراب المجتمعات وضنكها بأسباب بلغت المئين عدًّا، لكن هؤلاء المفسرين غفلوا عن السبب الأسّ وهو: انحراف العقيدة وفسادها بالكفر والشرك والزيغ والضلال والإِعراض.

وهو السبب الذي جَلاّه الله في كتابه الكريم، ودعا إِلى الاعتبار بنتائجه:

قال تعالى:

{وَمَنْ يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ} [البقرة: 108]

{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ قَدْ ضَلُّوا ضَلَالًا بَعِيدًا - إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَظَلَمُوا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلا لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقًا - إِلا طَرِيقَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا} [النساء: 167 - 169]

{وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} [النساء: 136]

{وَالَّذِينَ كَفَرُوا فَتَعْسًا لَهُمْ وَأَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ - ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ - أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ دَمَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلِلْكَافِرِينَ أَمْثَالُهَا} [محمد: 8 - 10]
মানুষ সভ্যতার পতন, জাতিসমূহের বিনাশ এবং সমাজগুলোর অস্থিরতা ও সংকীর্ণতাকে শত শত কারণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছে, কিন্তু এই ব্যাখ্যাকারীরা মূল কারণটি সম্পর্কে গাফেল থেকেছে, আর তা হলো: আকিদার বিচ্যুতি এবং কুফর, শিরক, বক্রতা, পথভ্রষ্টতা ও বিমুখতার মাধ্যমে এর কলুষতা।

এটিই সেই কারণ যা আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে সুস্পষ্ট করেছেন এবং এর পরিণাম থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

{আর যে ব্যক্তি ঈমানের পরিবর্তে কুফরকে গ্রহণ করে, সে অবশ্যই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হলো।} [আল-বাকারা: ১০৮]

{নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করেছে, তারা চরম পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে এবং জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথ দেখাবেন না— জাহান্নামের পথ ছাড়া, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।} [আন-নিসা: ১৬৭ - ১৬৯]

{আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি কুফরি করে, সে চরম পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।} [আন-নিসা: ১৩৬]

{আর যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ এবং তিনি তাদের আমলসমূহকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। এটি এ জন্য যে, তারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহকে নিষ্ফল করে দিয়েছেন। তারা কি জমিনে ভ্রমণ করেনি যাতে তারা দেখতে পেত যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন; আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অনুরূপ পরিণাম।} [মুহাম্মদ: ৮ - ১০]
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
{حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ} [الحج: 31]

{إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} [النساء: 116]

{فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} [الصف: 5]

{وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} [النحل: 36]

{فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ - وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ} [النمل: 13 - 14]

ووجه الدلالة في ذلك المَفْتح:

* أننا - نحن المسلمين - لا نعبد مجهولًا، بل نعبد إِلهًا نعرفه بأسمائه وصفاته.
{আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করে। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো সুদূর নির্জন স্থানে নিক্ষেপ করল।} [আল-হাজ্জ: ৩১]

{নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে সুদূর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।} [আন-নিসা: ১১৬]

{অতঃপর তারা যখন বক্র পথ অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোকে বক্র করে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।} [আস-সাফ: ৫]

{আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কারো ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা জমিনে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল।} [আন-নাহল: ৩৬]

{অতঃপর যখন তাদের নিকট আমার উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ আসল, তখন তারা বলল, "এটি তো স্পষ্ট জাদু।" আর তারা অন্যায় ও অহংকারবশত সেগুলো অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল। সুতরাং লক্ষ্য করো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল।} [আন-নামল: ১৩ - ১৪]

আর এই সূচনার প্রাসঙ্গিকতা হলো:

* আমরা—মুসলিমগণ—অজ্ঞাত কোনো কিছুর ইবাদত করি না, বরং আমরা এমন এক ইলাহের ইবাদত করি যাকে আমরা তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে চিনি।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
* ووجه الدلالة فيه - كذلك - أن للعلم بالله تعالى - وهو أعظم العلوم وأشرفها وأنفعها - منهجًا توقيفيًا.

وطريق العلم بهذا المنهج التوقيفي هو: الوحي، وهو كلام الله الذي أوحاه إِلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وهو سنّة الرسول في التعريف بالله عز وجل.

إِن الله تعالى أخبر - في كتابه الكريم - بدلائل ربوبيته، وخصائص ألوهيته، وأخبر بأسمائه وصفاته.

وآمن الرسول صلى الله عليه وسلم بما أخبر به الله على مراد الله.

وبيَّن صلى الله عليه وسلم ما أراده الله من توحيد وإِخلاص. وعلَّم أصحابه هذا الإِيمان:

{آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة: 285]

لبث الرسول صلى الله عليه وسلم من لْدُنْ مبعثِه إِلى أن انتقل إِلى الرفيق الأعلى، يُعلِّم أصحابه التوحيد الخالص، ويزكيهم به. فما انقطع خبر السماء، وما اختار رسول الله ما عند الله إِلا بعد أن انتصر التوحيد، واستقر الإِيمان الخالص، ورسخت دعائمه، وعلت راياته البهية.
এবং এতে প্রমাণের দিকটি হলো - একইভাবে - মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা - যা সকল জ্ঞানের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, মহত্তম এবং সবচেয়ে উপকারী - এর একটি তওকিফী (ওহী নির্ভর) পদ্ধতি রয়েছে।

আর এই তওকিফী পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পথ হলো: ওহী। আর ওহী হলো আল্লাহর বাণী যা তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, এবং মহান আল্লাহকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে তা রাসূলের সুন্নাহ।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাঁর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) প্রমাণাদি, তাঁর উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।

এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী ঈমান এনেছেন।

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওহীদ ও ইখলাস (নিষ্ঠা) সম্পর্কে আল্লাহ যা চেয়েছেন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে এই ঈমান শিক্ষা দিয়েছেন:

{রাসূল তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলেছে, আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব, আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।} [আল-বাকারা: ২৮৫]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রেরিত হওয়ার সময় থেকে শুরু করে মহান বন্ধুর (আল্লাহর) সান্নিধ্যে চলে যাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাহাবীদেরকে বিশুদ্ধ তাওহীদ শিক্ষা দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তাদের পরিশুদ্ধ করেছেন। সুতরাং আসমানী সংবাদ আসা বন্ধ হয়নি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে যা রয়েছে (অর্থাৎ মৃত্যু) তা ততক্ষণ গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না তাওহীদ বিজয়ী হয়েছে, বিশুদ্ধ ঈমান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এর স্তম্ভসমূহ দৃঢ় হয়েছে এবং এর উজ্জ্বল পতাকাগুলো সমুন্নত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
لقد كان صَحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم هم جُند التوحيد بعد الرسول صلى الله عليه وسلم، وهم دعاته وحرّاسه، فقد لزموا منهج نبيهم الكريم الذي رباهم على توحيد الربوبية والألوهية والأسماء والصفات، وهم الموصوفون - ابتداءً - في قوله تعالى:

{إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ - وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ} [المؤمنون: 57 - 60]

وفي قوله جلَّ شأنُهُ:

{هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ - رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ - رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ} [آل عمران: 7 - 9]

وفي قوله سبحانه:
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণই ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে তাওহীদের সৈন্যবাহিনী, তাঁরাই ছিলেন এর প্রচারক ও রক্ষক। তাঁরা তাঁদের সম্মানিত নবীর সেই মানহাজের (পথের) ওপর অবিচল ছিলেন, যিনি তাঁদেরকে রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং নাম ও গুণাবলির তাওহীদের ওপর লালন-পালন করেছিলেন। আর তাঁরাই সেই সকল ব্যক্তি যাদের বর্ণনা মহান আল্লাহর বাণীতে সর্বাগ্রে প্রদান করা হয়েছে:

{নিশ্চয়ই যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে। যারা তাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করে না। এবং যারা যা প্রদান করার তা প্রদান করে এমতাবস্থায় যে, তাদের অন্তর ভীত-কম্পিত, কারণ তারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।} [আল-মুমিনুন: ৫৭ - ৬০]

এবং তাঁর সুমহান বাণীতে:

{তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট)। অতএব যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ এর সঠিক ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি, এসবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বুদ্ধিমানরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হেদায়েত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি মানুষকে এমন এক দিনে একত্রিত করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।} [আল ইমরান: ৭ - ৯]

এবং তাঁর সুমহান বাণীতে:
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
{إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ - الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ - رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ - رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ - رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ - فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ} [آل عمران: 190 - 195]

وهم المقصودون بالأولية في خير القرون في حديث: «خَيرُ الناس قَرْني، ثم الذين يَلونهم، ثم الذين يَلونهم. . .» (1) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري واللفظ له، في كتاب فضائل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، باب فضائل أصحاب النبي: (3651) ، ومسلم في كتاب فضائل الصحابة، باب فضل الصحابة ثم الذين يلونهم ثم. .: (2533) ، وأبو داود في كتاب السنّة، باب فضل أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: (4657) ، والترمذي في كتاب الفتن، باب ما جاء في القرن الثالث: (2221) ، والنسائي في كتاب الأيمان والنذور، باب الوفاء بالنذر: (3809) .
{নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে - যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে (এবং বলে), হে আমাদের রব! আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র। সুতরাং আমাদের আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন - হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন তাকে তো আপনি লাঞ্ছিত করলেন। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই - হে আমাদের রব! আমরা এক আহ্বানকারীকে শুনতে পেয়েছি যে ঈমানের দিকে আহ্বান জানাচ্ছিল যে, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনো। অতঃপর আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! সুতরাং আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দিন এবং নেককারদের সাথে আমাদের মৃত্যু দান করুন - হে আমাদের রব! আপনার রাসূলদের মাধ্যমে আপনি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদের দান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না - অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন (এই বলে) যে, আমি তোমাদের কোনো আমলকারীর আমল নষ্ট করব না, সে পুরুষ হোক বা নারী, তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের থেকে তাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেব এবং অবশ্যই তাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাব যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার। আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার} [আলে ইমরান: ১৯০ - ১৯৫]

আর এই হাদীসে উল্লেখিত সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্মের মধ্যে তারাই অগ্রগণ্য হিসেবে উদ্দিষ্ট: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার প্রজন্মের মানুষ, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী. . ." (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা বিষয়ক কিতাবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়: (৩৬৫১); মুসলিম, সাহাবীদের মর্যাদা বিষয়ক কিতাবে, সাহাবীদের মর্যাদা তারপর যারা তাদের পরবর্তী তারপর. . . অধ্যায়: (২৫৩৩); আবু দাউদ, সুন্নাহ বিষয়ক কিতাবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়: (৪৬৫৭); তিরমিযী, ফিতনা বিষয়ক কিতাবে, তৃতীয় যুগ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অধ্যায়: (২২২১); এবং নাসাঈ, ঈমান ও মানত বিষয়ক কিতাবে, মানত পূর্ণ করা অধ্যায়: (৩৮০৯)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فمقياس الأولية في هذه الخيرية العظيمة هو: التوحيد العظيم المكين الخالص.

فما يُخَيَّرُ قوم على قوم إِلا بصدق التوحيد، والعمل بمقتضاه.

يقول الحافظ أبو القاسم اللالكائي:

" فإِنّ أوجب ما على المرء، معرفة اعتقاد الدين، وما كلّف الله به عباده من فَهم توحيده وصفاته، وتصديق رسله بالدلائل واليقين، والتوصل إِلى طرقها، والاستدلال عليها بالحجج والبراهين، وكان من أعظم مقول، وأوضح حجةِ ومعقول: كتاب الله الحق المبين، ثم قول رسول الله صلى الله عليه وسلم وَصحابته الأخيار المتقين، ثم ما أجمع عليه السلف الصالحون، ثم التمسك بمجموعها والمقام عليها إِلى يوم الدين، ثم الاجتناب عن البدع والاستماع إِليها مما أحدثها المضلون.

فهذه الوصايا الموروثة المتبوعة، والآثار المحفوظة
এই মহান শ্রেষ্ঠত্বে অগ্রাধিকারের মাপকাঠি হলো: সুমহান, সুদৃঢ় এবং বিশুদ্ধ তাওহীদ।

এক জাতিকে অন্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয় না একমাত্র তাওহীদের সত্যতা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ছাড়া।

হাফেজ আবু কাসেম আল-লালাকায়ী বলেন:

"নিশ্চয়ই মানুষের ওপর সবচেয়ে বড় অপরিহার্য কর্তব্য হলো দ্বীনের আকিদা (বিশ্বাস) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর তাওহীদ ও গুণাবলি উপলব্ধি করা, দলিল ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তাঁর রাসুলদের সত্য বলে সাক্ষ্য দেওয়া, সেগুলোর পথে উপনীত হওয়া এবং যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোর সপক্ষে দলিল পেশ করার যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা অনুধাবন করা। আর আল্লাহর সুস্পষ্ট সত্য কিতাব হলো মহানতম বক্তব্য এবং সবচেয়ে স্পষ্ট ও যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ। অতঃপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর উত্তম ও মুত্তাকী সাহাবীগণের বাণী। এরপর যার ওপর সালাফে সালেহীন (সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ) ঐক্যমত পোষণ করেছেন। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত এগুলোর সামগ্রিক রূপকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং এর ওপর অটল থাকা। এরপর বিদআত বর্জন করা এবং পথভ্রষ্টদের উদ্ভাবিত বিদআতসমূহ শ্রবণ করা থেকে বিরত থাকা।

এগুলোই হলো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অনুসরণীয় উপদেশসমূহ এবং সংরক্ষিত বর্ণনা (আছার) সমূহ।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
المنقولة، وطرائق الحق المسلوكة، والدلائل اللائحة المشهورة، والحجج الناهرة المنصورة، التي عمل عليها الصحابة والتابعون، ومن بعدهم من خاصة الناس وعامتهم من المسلمين، واعتقدوها حجة فيما بينهم وبين الله رب العالمين " (1) .

ثم يقول:

" فلم تزل الكلمة مجتمعة (2) والجماعة متوافرة على عهد الصحابة الأول ومن بعدهم من السلف الصالحين، حتى نبغت نابغة بصوت غير معروف، وكلام غير مألوف في أول إِمارة المروانية تُنازع في القدر وتتكلم فيه " (3) .

ولقد تأذن الله تعالى أن يَختار من أوليائه وخاصته من يكر على أصوات الباطل بحقائق التوحيد فيدفعها، ويعيد التوحيد نقيًا قويًا. وقد قال الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم:

«لا تزالُ طائفة من أُمتي ظاهِرينَ على الحقَّ لا يَضُرُّهمْ

--------------------------------------------

(1) " شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة " لأبي القاسم اللالكائي: (1 / 9) .

(2) المقصود بالكلمة، كلمة العقيدة المنجية.

(3) أي في إِمارة عبد الملك بن مروان، ففي عهده خرج معبد الجهني، وهو أول من أظهر القول بالقدر. " شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة ": (1 / 16) .
বর্ণিত বিষয়সমূহ, হকের অনুসৃত পথসমূহ, সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ নিদর্শনাবলি এবং অকাট্য ও সাহায্যপ্রাপ্ত প্রমাণাদি; যেগুলোর ওপর সাহাবীগণ, তাবেঈগণ এবং তাঁদের পরবর্তী বিশেষ ও সাধারণ সকল মুসলিম আমল করেছেন এবং তাঁরা এগুলোকে নিজেদের এবং বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর মাঝে দলীল হিসেবে বিশ্বাস করেছেন। (১)

এরপর তিনি বলেন:

"প্রথম প্রজন্মের সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (সালাফে সালেহীন) যুগে এই বাণী ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং জামাআত সুসংহত ছিল। অবশেষে মারওয়ানী শাসনের শুরুর দিকে এমন একদল লোকের উদ্ভব ঘটে যারা এক অপরিচিত আহ্বান ও অপরিচিত কথা নিয়ে আসে, যারা তাকদীরের বিষয়ে বিবাদ ও আলোচনা শুরু করে।" (৩)

মহান আল্লাহ এই ফয়সালা করেছেন যে, তিনি তাঁর ওলী এবং খাস বান্দাদের মধ্য হতে এমন ব্যক্তিদের মনোনীত করবেন যারা তাওহীদের প্রকৃত সত্য দ্বারা বাতিলের আওয়াজকে নস্যাৎ করে দেবেন এবং তাওহীদকে পুনরায় বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন। সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃত (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না...

--------------------------------------------

(১) আবুল কাসিম আল-লালকাঈ রচিত "শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত": (১ / ৯)।

(২) 'বাণী' বলতে এখানে মুক্তিদানকারী আকীদার বাণীকে বোঝানো হয়েছে।

(৩) অর্থাৎ আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের শাসনামলে। তাঁর শাসনকালেই মা'বাদ আল-জুহানী আত্মপ্রকাশ করেন এবং তিনিই প্রথম তাকদীরের বিষয়টি (তাকদীর অস্বীকার) প্রকাশ করেছিলেন। "শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত": (১ / ১৬)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
مَنْ خَذَلهم حتى يأتيَ أمر الله وهُمْ كذلك» (1) .

إِنَّ دلالة هذا الحديث تحققت في كل عصر ولله الفَضْلُ والمَنُّ.

وتأتلق هذه الدلالة أشد ما تأتلق في مقام عقيدة التوحيد، وخلوص الإِيمان، فقد برز في كل قرن من القرون رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه، قاموا بالذبِّ عن العقيدة الصحيحة السليمة خير قيام، وجاهدوا في سبيل تثبيت أُسسها وترسيخ قواعدها خير جهاد، وكان نَهجهم الدعوة والعلم والعمل، فكان خير نهج، فأعطى خير ثمار.

ففي أواخر القرن الأول وبدايات القرن الثاني برز من هؤلاء الرجال - على سبيل المثال لا الحصر -: القاسم بن محمد بن أبي بكر، وسليمان بن يسار.

وفي القرن الثاني ظهر: مالك بن أنس، وسفيان الثوري، ووكيع بن الجراح.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: " لا تزال طائفة من أًمتي. . ": (7311، 7312) ، ومسلم واللفظ له، في كتاب الإِمارة، باب قوله صلى الله عليه وسلم: " لا تزال طائفة من أمتي. . ": (1920) ، والترمذي في كتاب الفتن، باب ما جاء في الأئمة المضلين: (2229) ، وابن ماجه في المقدمة، باب اتباع سنة الرسول صلى الله عليه وسلم: (10) .
...যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায়, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে (১)।

নিশ্চয়ই এই হাদিসের বাস্তবতা প্রতিটি যুগে প্রমাণিত হয়েছে এবং সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর জন্য।

তাওহিদের আকিদা ও ঈমানের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে এই নির্দশন সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পায়। প্রতিটি শতাব্দীতেই এমন কিছু মহৎ ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছেন। তারা সঠিক ও নির্ভুল আকিদা রক্ষার জন্য সর্বোত্তম পন্থায় দাঁড়িয়েছেন এবং এর ভিত্তি ও নিয়মাবলী সুদৃঢ় করার পথে সর্বোত্তম জিহাদ করেছেন। দাওয়াত, ইলম এবং আমলই ছিল তাদের অনুসৃত পথ, যা ছিল সর্বোত্তম আদর্শ এবং তা সর্বোত্তম ফল বয়ে এনেছে।

উদাহরণস্বরূপ (তবে এঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়), প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে এবং দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে এই ব্যক্তিদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন তারা হলেন: আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর এবং সুলাইমান ইবনে ইয়াসার।

আর দ্বিতীয় শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন: মালিক ইবনে আনাস, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং ওয়াকি ইবনুল জাররাহ।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ' অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা. . .": (৭৩১১, ৭৩১২); এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দ বিন্যাস তাঁরই, 'কিতাবুল ইমারাহ' অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা. . .": (১৯২০); তিরমিজি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল ফিতান' অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: পথভ্রষ্ট ইমামদের সম্পর্কে যা এসেছে: (২২২৯); এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন 'মুকাদ্দিমাহ' অংশে, পরিচ্ছেদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ: (১০)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وفي القرن الثاني وأوائل القرن الثالث برز: أبو عبد الله محمد بن إِدريس الشافعي، والفَضْل بن دُكين.

وفي القرن الثالث برز: أحمد بن حنبل، ومحمد بن إِسماعيل البخاري، وأبو داود سليمان بن الأشعث.

وفي أواخر القرن الثالث ظهر: محمد بن جرير الطبري.

وفي القرن الرابع ظهر: عبد الرحمن بن أبي حاتم، وعلي بن عمر الدارقطني.

وفي القرن الخامس برز: هبة الله بن الحسن بن منصور اللالكائي.

وفي القرن السادس ظهر: الحسين بن مسعود البغوي، وعبد الغني بن عبد الواحد بن سرور الحنبلي.

وفي أواخر القرن السابع، وأوائل القرن الثامن، ظهر الإِمام الجليل شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وكان لظهوره ما بعده.

فقد جمع ابن تيمية منهج أهل السنة والجماعة؛ في العلم، والاعتقاد، والفهم، والعمل، والسلوك، وأحياه، وحرّره تحريرًا بديعا، اتسم بسعة العلم، وقوة الأمانة، وحسن العرض، ودقة الضبط.
দ্বিতীয় শতাব্দীতে এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ এবং আল-ফজল ইবনে দুকাইন।

এবং তৃতীয় শতাব্দীতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আল-আশআস।

এবং তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন: মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি।

এবং চতুর্থ শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম এবং আলি ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি।

এবং পঞ্চম শতাব্দীতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন: হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে মানসুর আল-লালকায়ি।

এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন: আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাওয়ি এবং আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে সুরুর আল-হাম্বলি।

এবং সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে ও অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে মহান ইমাম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) আবির্ভূত হন এবং তার আবির্ভাব পরবর্তী যুগের জন্য এক মাইলফলক ছিল।

ইবনে তাইমিয়্যাহ জ্ঞান, আকিদাহ, উপলব্ধি, আমল এবং আচরণের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজকে একত্রিত করেছেন এবং একে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তিনি একে এক অপূর্ব সুবিন্যস্ত রূপে পেশ করেছেন, যা জ্ঞানের ব্যাপকতা, আমানতদারিতার দৃঢ়তা, উপস্থাপনার চমৎকারিত্ব এবং সূক্ষ্ম নির্ভুলতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولكن الإِمام ابن تيمية رحمه الله سُبِقَ ولُحقَ - في هذا الميدان - بجهاد علمي، صادق ومتصل من الكَثير من رجالات أهل السنة والجماعة، كما ذكرنا.

" وخليق بنا أن نذكرها هنا حقيقتين مهمتين (1) .

الأولى: أن أهل السنة والجماعة، وهم يبينون العقيدة المنجية في توحيد الله تعالى، وما يلحق بها من شُعب الإيمان الأخرى، يُجلون في الوقت نفسه، ووفق المنهج المعتمد، وفي ذات السياق، الاعتقاد العاصم في مسائل: عدالة الصحابة، وتَفضيل الخلفاء الأربعة الراشدين: أبي بكر، وعمر، وعثمان، وعلي، وخَيرية القرون الأولى، والإِمامة، وعدم مُنازعة الأمر أهله، ومُضي الجهاد، والكف عن تكفير المسلم بالمعاصي والذنوب، إِذا لم يستَحلها، إِلا بدليل يدل على كفر مرتكبها؛ كترك الصلاة متعمدًا، فقد دل الدليل على كفر من فَعله، ووحدة الجماعة، والتزام المنهج الصحيح في فهم الدين.

--------------------------------------------

(1) هذه الفقرة مقتطفة من مقدمة كتاب " شرح العقيدة الطحاوية " للإِمام ابن أبي العز الدمشقي، تحقيق د عبد الله التركي، والشيخ شعيب الأرنؤوط: (ص35، 36) .
কিন্তু ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এই ময়দানে -যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি- আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের পূর্বাপর এবং নিরবচ্ছিন্ন ও নিষ্ঠাপূর্ণ ইলমী জিহাদের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রাপ্ত হয়েছেন।

" আমাদের জন্য এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উল্লেখ করা সমীচীন হবে (১)।

প্রথমটি হলো: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ যখন মহান আল্লাহর তাওহীদ বিষয়ক মুক্তিদাতা আকিদা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঈমানের অন্যান্য শাখাগুলো বর্ণনা করেন, তখন তারা একই সাথে এবং নির্ভরযোগ্য মানহাজ অনুযায়ী ও একই প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু বিষয়ে সুরক্ষামূলক আকিদাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন: সাহাবায়ে কিরামের ন্যায়পরায়ণতা; চারজন খুলাফায়ে রাশিদীন—আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর শ্রেষ্ঠত্ব; প্রথম তিন প্রজন্মের শ্রেষ্ঠত্ব; ইমামত; যোগ্য কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হওয়া; জিহাদ জারি থাকা; এবং কোনো মুসলিমকে পাপ বা গুনাহের কারণে কাফির না বলা যতক্ষণ না সে তা হালাল মনে করে, তবে যদি লিপ্ত ব্যক্তির কুফরের ওপর স্পষ্ট দলিল থাকে তবে ভিন্ন কথা; যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করা, কেননা যে ব্যক্তি তা করে তার কুফরের ওপর দলিল বিদ্যমান রয়েছে; এবং জামাআতের ঐক্য ও দ্বীন বোঝার ক্ষেত্রে সঠিক মানহাজ অনুসরণ করা।

--------------------------------------------

(১) এই অনুচ্ছেদটি ইমাম ইবনু আবিল ইয আদ-দামেশকী রচিত "শারহুল আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ" গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত, যার তাহকীক করেছেন ড. আবদুল্লাহ আত-তুর্কী এবং শাইখ শুআইব আল-আরনাউত: (পৃষ্ঠা ৩৫, ৩৬)।
(খণ্ড: ১) মুজমালু ইতিকাদি আইম্মাতিস সালাফ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
إِن هذا الترابط الموضوعي والمنهجي بين التوحيد، وبين هذه المسائل يدل على:

ا - أن التوحيد هو المنهج الحاكم الذي يجب أن تُفهم كل مسألة في هُداه.

ب - أن الانحراف في هذه المسائل، ذريعة إِلى جرح التوحيد وإِمراضه.

مثال ذلك: عَدالة الصحابة، فإِن القَدح في هذه العدالة، ذريعة إِلى رد آياتٍ قرآنية، أَخبرت بفضل الصحابة وعدالتهم، ورد القرآن إِلحاد من الإِلحاد.

ج - أن الذين جادلوا بالباطل، في القديم والحديث، في هذه المسائل لم يُعرفوا بصحة العقيدة.

الثانية: أن جمهور علماء أهل السنة والجماعة، وأئمتهم من المذاهب الأربعة وغيرها، على عقيدة واحدة، وإِن اختلفوا في الفروع الاجتهادية.

وقد كتب في ذلك علماء مشهورون من مختلف المذاهب، كالإِمام أبي حنيفة في رسالته (الفقه الأكبر) ، والإِمام الطحاوي الحنفي في عقيدته، وشرحها لابن أبي العز،
তাওহীদ এবং এই মাসআলাগুলোর মধ্যে এই বিষয়ভিত্তিক ও পদ্ধতিগত নিবিড় সম্পর্ক নির্দেশ করে যে:

ক - তাওহীদ হলো সেই নিয়ন্ত্রক মানহাজ (পদ্ধতি), যার আলোকে প্রতিটি বিষয় বুঝতে হবে।

খ - এই মাসআলাগুলোতে বিচ্যুতি তাওহীদকে আঘাত করার এবং একে কলুষিত করার মাধ্যমস্বরূপ।

উদাহরণস্বরূপ: সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত); কেননা, এই ন্যায়পরায়ণতার ওপর আক্রমণ করা মূলত কুরআনের সেই আয়াতগুলো প্রত্যাখ্যান করারই একটি মাধ্যম, যা সাহাবীগণের মর্যাদা ও ন্যায়পরায়ণতার সংবাদ দিয়েছে; আর কুরআনকে অস্বীকার করা হচ্ছে এক প্রকার নাস্তিকতা।

গ - অতীতে এবং বর্তমানে যারা এই মাসআলাগুলোতে বাতিল পন্থায় বিতর্ক করেছে, তারা আকিদার বিশুদ্ধতার জন্য পরিচিত ছিল না।

দ্বিতীয়ত: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের জমহুর আলেম এবং চার মাযহাবসহ অন্যান্য ইমামগণ একই আকিদার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত, যদিও ইজতিহাদী ফروعি (শাখা-প্রশাখা) মাসআলাগুলোতে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের প্রসিদ্ধ আলেমগণ কিতাব রচনা করেছেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা তার ‘আল-ফিকহুল আকবার’ রিসালায়, ইমাম ত্বহাবী হানাফী তার আকিদায় এবং ইবনে আবিল ইযয কর্তৃক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে।