(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: -)
لمعة الاعتقاد   (ابن قدامة)

القسم: العقيدة


الكتاب: لمعة الاعتقاد

المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)

الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1420هـ - 2000م

عدد الصفحات: 46

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

লুমআতুল ইতিকাদ   (ইবনে কুদামাহ)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: লুমআতুল ইতিকাদ

লেখক: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামাহ আল-জামাঈলী আল-মাকদিসী অতঃপর আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী, যিনি ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৬২০ হিজরী)

প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২০ হিজরী - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[وجوب الإيمان بكل ما جاء في القرآن أو صح عن المصطفى من صفات الرحمن وتلقيه بالتسليم والقبول]

لمعة الاعتقاد

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله المحمود بكل لسان في كل زمان، الذي لا يخلو من علمه مكان ولا يشغله شأن عن شأن جل عن الأشباه والأنداد وتنزه عن الصاحبة والأولاد ونفذ حكمه في جميع العباد لا تمثله العقول بالتفكير ولا تتوهمه القلوب بالتصوير {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] له الأسماء الحسنى، والصفات العلى {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى - لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى - وَإِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى} [طه: 5 - 7] أحاط بكل شيء علما، وقهر كل مخلوق عزة وحكما، ووسع كل شيء رحمة وعلما {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا} [طه: 110] موصوف بما وصف به نفسه في كتابه العظيم، وعلى لسان نبيه الكريم.

وكل ما جاء في القرآن أو صح عن المصطفى عليه السلام
[কুরআনে যা এসেছে বা মুস্তফা (সা.) থেকে দয়াময় আল্লাহর যেসকল গুণাবলি সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং তা আত্মসমর্পণ ও কবুল করার সাথে গ্রহণ করার আবশ্যকতা]

লুমআতুল ইতিকাদ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল যুগে সকল ভাষায় প্রশংসিত। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞান থেকে মুক্ত নয় এবং কোনো কাজ তাঁকে অন্য কাজ থেকে বিরত রাখে না। তিনি সদৃশ ও সমকক্ষ থেকে সুমহান এবং স্ত্রী ও সন্তান থেকে পবিত্র। সমস্ত বান্দার উপর তাঁর হুকুম কার্যকর। বিবেক চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে তাঁর কোনো সদৃশ স্থির করতে পারে না এবং অন্তর কল্পনা দিয়ে তাঁর কোনো প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারে না। "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা আশ-শূরা: ১১] তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি। "পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন। আসমানসমূহে যা আছে, জমিনে যা আছে, এ দুয়ের মাঝে যা আছে এবং মাটির নিচে যা আছে—সবই তাঁর। আর যদি তুমি উচ্চকণ্ঠে কথা বলো, তবে তিনি তো গোপন ও অতি গোপন বিষয়ও জানেন।" [সূরা ত্বহা: ৫ - ৭] তিনি তাঁর জ্ঞান দিয়ে সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন, মর্যাদা ও শাসনের মাধ্যমে প্রতিটি সৃষ্টিকে পরাভূত করেছেন এবং তাঁর দয়া ও জ্ঞান দিয়ে সবকিছুকে ব্যাপ্ত করেছেন। "তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না।" [সূরা ত্বহা: ১১০] তিনি সেইসব গুণে গুণান্বিত, যা দিয়ে তিনি তাঁর মহান কিতাবে এবং তাঁর সম্মানিত নবীর মুখে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন।

আর কুরআনে যা কিছু এসেছে বা মুস্তফা (আলাইহিস সালাম) থেকে যা কিছু সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
من صفات الرحمن وجب الإيمان به، وتلقيه بالتسليم والقبول، وترك التعرض له بالرد والتأويل والتشبيه والتمثيل.

وما أشكل من ذلك وجب إثباته لفظا، وترك التعرض لمعناه ونرد علمه إلى قائله، ونجعل عهدته على ناقله اتباعا لطريق الراسخين في العلم الذين أثنى الله عليهم في كتابه المبين بقوله سبحانه وتعالى: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} [آل عمران: 7] وقال في ذم مبتغي التأويل لمتشابه تنزيله {فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ} [آل عمران: 7] فجعل ابتغاء التأويل علامة على الزيغ، وقرنه بابتغاء الفتنة في الذم، ثم حجبهم عما أملوه، وقطع أطماعهم عما قصدوه، بقوله سبحانه: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ} [آل عمران: 7]

 

‌‌[كلام الإمام أحمد بن حنبل في الصفات]

قال الإمام أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل رضي الله عنه في قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله ينزل إلى سماء الدنيا» ، أو «إن الله يرى في القيامة» ، وما أشبه هذه الأحاديث
দয়াময় আল্লাহর গুণাবলির (সিফাত) অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদির ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, এবং তা পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও কবুল করার মাধ্যমে গ্রহণ করা এবং একে প্রত্যাখ্যান, অপব্যাখ্যা (তাবিল), সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) ও উদাহরণ পেশ (তামসিল) করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

আর এগুলোর মধ্য থেকে যা অস্পষ্ট মনে হয়, তার শব্দগত সাব্যস্তকরণ ওয়াজিব এবং এর অর্থের গভীরে যাওয়া বর্জন করা আবশ্যক। আমরা এর প্রকৃত জ্ঞানকে এর প্রবক্তার (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের) দিকে ন্যস্ত করি এবং এর বর্ণনাকারীর ওপর এর দায়ভার অর্পণ করি; সেই সকল ইলমে পারদর্শী ব্যক্তিদের পথ অনুসরণে, আল্লাহ যাদের প্রশংসা করেছেন তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে, তাঁর এই সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীর মাধ্যমে: "আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।" [আল-ইমরান: ৭]। আর তিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাবের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর (মুতাশাবিহ) অপব্যাখ্যা অন্বেষণকারীদের নিন্দা করে বলেছেন: "অতএব যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট তার অনুসরণ করে; অথচ এর সঠিক ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।" [আল-ইমরান: ৭]। সুতরাং তিনি অপব্যাখ্যা অন্বেষণকে বক্রতার নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং নিন্দার ক্ষেত্রে একে ফিতনা অন্বেষণের সাথে যুক্ত করেছেন। এরপর তিনি তাদের আকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে তাদের বঞ্চিত করেছেন এবং তাদের উদ্দেশ্যমূলক লালসাকে ছিন্ন করেছেন তাঁর এই সুবহানাহু বাণীর মাধ্যমে: "অথচ এর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।" [আল-ইমরান: ৭]

 

‌‌[আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্য]

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন" অথবা "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখা যাবে" এবং এ জাতীয় হাদিসসমূহ সম্পর্কে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
نؤمن بها، ونصدق بها بلا كيف، ولا معنى، ولا نرد شيئا منها، ونعلم أن ما جاء به الرسول حق، ولا نرد على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا نصف الله بأكثر مما وصف به نفسه بلا حد ولا غاية {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] ونقول كما قال، ونصفه بما وصف به نفسه، لا نتعدى ذلك، ولا يبلغه وصف الواصفين، نؤمن بالقرآن كله محكمه ومتشابهه، ولا نزيل عنه صفة من صفاته لشناعة شنعت، ولا نتعدى القرآن والحديث، ولا نعلم كيف كنه ذلك إلا بتصديق الرسول صلى الله عليه وسلم، وتثبيت القرآن (1) .

 

‌‌[كلام الإمام محمد بن إدريس الشافعي في الصفات]

قال الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي رضي الله عنه: آمنت بالله وبما جاء عن الله، على مراد الله، وآمنت برسول الله، وبما جاء عن رسول الله على مراد رسول الله.

 

‌‌[كلام السلف وأئمة الخلف في الصفات]

وعلى هذا درج السلف وأئمة الخلف رضي الله عنهم، كلهم متفقون على الإقرار والإمرار

--------------------------------------------

(1) هنا نهاية كلام بن حنبل.
আমরা এসবে বিশ্বাস করি এবং কোনো ধরণ বা (রূপক) অর্থারোপ করা ছাড়াই এগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করি। আমরা এগুলোর কোনো কিছুই প্রত্যাখ্যান করি না। আমরা জানি যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য। আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করি না। আল্লাহ নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন, কোনো সীমা বা অন্ত নির্ধারণ ছাড়াই আমরা তাঁর অতিরিক্ত কোনো বর্ণনা প্রদান করি না। "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শুরা: ১১]। তিনি যা বলেছেন আমরা তাই বলি এবং তিনি নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন আমরা সেভাবেই তাঁর বর্ণনা দেই। আমরা একে অতিক্রম করি না এবং বর্ণনাকারীদের বর্ণনা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। আমরা সমগ্র কুরআনের ওপর—এর সুস্পষ্ট (মুহকাম) ও অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ)—উভয় প্রকার আয়াতের ওপর ঈমান আনি। কোনো নিন্দুকের নিন্দার কারণে আমরা তাঁর কোনো গুণাবলি (সিফাত) অপসারিত করি না। আমরা কুরআন ও হাদীসকে অতিক্রম করি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং কুরআনের ভাষ্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা ছাড়া আমরা এর প্রকৃত স্বরূপ জানি না (১)।

 

‌‌[গুণাবলি প্রসঙ্গে ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ-এর বক্তব্য]

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমি আল্লাহর ওপর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর ঈমান এনেছি আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী। আর আমি আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর ঈমান এনেছি আল্লাহর রাসূলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী।

 

‌‌[গুণাবলি প্রসঙ্গে সালাফ ও পরবর্তী ইমামগণের বক্তব্য]

এই পন্থার ওপরই সালাফ এবং পরবর্তী ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পরিচালিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই (এসব গুণাবলিকে) স্বীকার করে নেওয়ার এবং (যেভাবে এসেছে সেভাবেই) অতিবাহিত করার ব্যাপারে একমত।

--------------------------------------------

(১) এখানে ইবনে হাম্বলের বক্তব্যের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
والإثبات، لما ورد من الصفات في كتاب الله وسنة رسوله من غير تعرض لتأويله. وقد أمرنا بالاقتفاء لآثارهم، والاهتداء بمنارهم (1) وحذرنا المحدثات وأخبرنا أنها من الضلالات، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» (2) .

 

‌‌[كلام عبد الله بن مسعود وعمر بن عبد العزيز رضي الله عنهما في الصفات]

وقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم. وقال عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه كلاما معناه: قف حيث وقف القوم فإنهم عن علم وقفوا، وببصر نافذ كفوا، ولهم (3) على كشفها كانوا أقوى، وبالفضل لو كان فيها أحرى، فلئن قلتم: حدث بعدهم، فما أحدثه

--------------------------------------------

(1) المنار، جمع منارة: وهي العلامة تجعل بين الحدين.

(2) رواه أبو داود في " سننه " والترمذي في " جامعه " بسند صحيح عن أبي نجيح العرباض بن سارية رضي الله عنه.

(3) الضمير هنا عائد على " القوم ".
এবং (সিফাতসমূহকে) সাব্যস্ত করা, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাতে যে সকল সিফাত বা গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা ছাড়াই। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এবং তাঁদের আলোকবর্তিকা (১) দ্বারা হিদায়াত লাভ করতে। আর আমাদের সতর্ক করা হয়েছে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে এবং জানানো হয়েছে যে তা পথভ্রষ্টতা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা» (২)।

 

‌‌[সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বক্তব্য]

এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কারণ তোমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে। আর উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন যার মর্ম হলো: তোমরা সেখানে গিয়ে থামো যেখানে তাঁরা (সালাফগণ) থেমেছেন; কেননা তাঁরা জেনেশুনেই থেমেছেন এবং গভীর দূরদৃষ্টির কারণেই তাঁরা নিবৃত্ত হয়েছেন। আর তাঁরা (৩) বিষয়টির স্বরূপ উন্মোচনে অধিক শক্তিশালী ছিলেন এবং যদি এতে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকত তবে তাঁরাই তার জন্য বেশি অগ্রগামী হতেন। যদি তোমরা বলো: তাঁদের পরে নতুন কিছু উদ্ভাবিত হয়েছে, তবে যা নতুন উদ্ভাবিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মানার, মানারাহ শব্দের বহুবচন: এটি এমন চিহ্ন যা দুই সীমানার মাঝে স্থাপন করা হয়।

(২) আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে এবং তিরমিজি তাঁর "জামি" গ্রন্থে সহীহ সনদে আবু নাজিহ আল-ইরবায ইবনে সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এখানে সর্বনামটি "কাওম" বা সেই ব্যক্তিবর্গের (সালাফদের) দিকে ফিরেছে।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
إلا من خالف هديهم ورغب عن سنتهم، ولقد وصفوا منه ما يشفي وتكلموا منه بما يكفي، فما فوقهم محسر، وما دونهم مقصر. لقد قصر عنهم قوم فجفوا وتجاوزهم آخرون فغلوا وإنهم فيما بين ذلك لعلى هدى مستقيم.

 

‌‌[كلام الإمام أبو عمر الأوزاعي في الصفات ورد الأدرمي على رجل تكلم ببدعة]

وقال الإمام أبو عمر الأوزاعي رضي الله عنه: عليك بآثار من سلف وإن رفضك الناس، وإياك وآراء الرجال، وإن زخرفوه لك بالقول.

وقال محمد بن عبد الرحمن الأدرمي لرجل تكلم ببدعة ودعا الناس إليها: هل علمها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وعمر وعثمان وعلي، أو لم يعلموها؟ قال لم يعلموها، قال: فشيء لم يعلمه هؤلاء أعلمته أنت؟ قال الرجل: فإني أقول: قد علموها، قال: أفوسعهم أن لا يتكلموا به، ولا يدعوا الناس إليه، أم لم يسعهم؟ قال: بلى وسعهم، قال فشيء وسع رسول الله صلى الله عليه وسلم وخلفاءه لا يسعك أنت؟ فانقطع الرجل. فقال الخليفة - وكان حاضرا -: لا وسع الله على من لم يسعه ما وسعهم.
...ব্যতীত তারা যারা তাদের হেদায়েতের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং তাদের সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা এ সম্পর্কে এমন বর্ণনা দিয়েছেন যা আরোগ্য দানকারী এবং এমন কথা বলেছেন যা যথেষ্ট। তাদের উপরে কোনো অবস্থান ক্লান্তিজনক, আর তাদের নিচে কোনো অবস্থান ত্রুটিপূর্ণ। একদল লোক তাদের অনুসরণ থেকে বিরত থেকেছে ফলে তারা বিচ্যুত হয়েছে, আবার অন্যেরা তাদের ছাড়িয়ে গেছে ফলে তারা অতিরঞ্জন করেছে। আর তারা এই দুইয়ের মাঝে এক সরল সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

 

‌‌[গুণাবলী সম্পর্কে ইমাম আবু আমর আল-আওযায়ী-এর বক্তব্য এবং বিদআতী ব্যক্তির প্রতি আল-আদরামীর প্রতিবাদ]

ইমাম আবু আমর আল-আওযায়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তুমি সালাফদের বা পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো, যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে। আর মানুষের ব্যক্তিগত মতামত থেকে দূরে থাকো, যদিও তারা কথার কারুকার্যের মাধ্যমে তাকে তোমার নিকট সুশোভিত করে পেশ করে।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আদরামী জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, যে একটি বিদআতী কথা বলত এবং তার দিকে মানুষকে আহ্বান করত: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী কি এটি জানতেন, নাকি তারা এটি জানতেন না?” সে বলল, “তারা জানতেন না।” তিনি বললেন, “যে বিষয়টি তারা জানতেন না, সেটি কি তুমি জেনে ফেলেছ?” তখন লোকটি বলল, “আমি এখন বলছি: তারা এটি জানতেন।” তিনি বললেন, “তবে তারা কি এ বিষয়ে কথা না বলে এবং মানুষকে এর দিকে আহ্বান না করে থাকার অবকাশ পেয়েছিলেন, নাকি পাননি?” সে বলল, “হ্যাঁ, তারা অবকাশ পেয়েছিলেন।” তিনি বললেন, “যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর খলীফাগণ অবকাশ পেয়েছিলেন, তোমার জন্য কি তাতে অবকাশ হবে না?” তখন লোকটি নির্বাক হয়ে গেল। খলীফা—যিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন—বললেন: “আল্লাহ তাকে প্রশস্ততা দান না করুন, যাকে সেই বিষয় প্রশস্ততা দান করেনি যা তাদের জন্য প্রশস্ত ছিল।”
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وهكذا من لم يسعه ما وسع رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعين لهم بإحسان والأئمة من بعدهم والراسخين في العلم من تلاوة آيات الصفات وقراءة أخبارها ولإمرارها كما جاءت، فلا وسع الله عليه.

 

‌‌[ذكر بعض الآيات والأحاديث الواردة في الصفات]

فمما جاء من آيات الصفات قول الله عز وجل: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ} [الرحمن: 27] وقوله سبحانه وتعالى: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة: 64] وقوله تعالى إخبارا عن عيسى عليه السلام أنه قال: {تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ} [المائدة: 116] وقوله سبحانه: {وَجَاءَ رَبُّكَ} [الفجر: 22] وقوله تعالى: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ} [البقرة: 210] وقوله تعالى: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [المائدة: 119] وقوله تعالى: {يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} [المائدة: 54] وقوله تعالى في الكفار: {وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ} [الفتح: 6] وقوله تعالى: {اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ} [محمد: 28] وقوله تعالى: {كَرِهَ اللَّهُ انْبِعَاثَهُمْ} [التوبة: 46]
অনুরূপভাবে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ, ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ, তাঁদের পরবর্তী ইমামগণ এবং ইলমে গভীর পাণ্ডিত্য সম্পন্ন ব্যক্তিগণ সিফাত সম্পর্কিত আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা, সেগুলোর বর্ণনা পাঠ করা এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই সেগুলোকে অতিবাহিত করার ক্ষেত্রে যে প্রশস্ততা পেয়েছেন, তা যদি কারও জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে আল্লাহ তাকে প্রশস্ততা না দেন।

 

‌‌[সিফাত বা গুণাবলী সম্পর্কে বর্ণিত কিছু আয়াত ও হাদীসের উল্লেখ]

সিফাত সম্পর্কিত আয়াতসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {এবং আপনার রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} [আর-রাহমান: ২৭] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বরং আল্লাহর উভয় হাত প্রসারিত} [আল-মায়িদাহ: ৬৪] এবং ঈসা আলাইহিস সালামের সংবাদ প্রদান করে মহান আল্লাহর বাণী যে তিনি বলেছিলেন: {আপনি জানেন যা আমার নফসে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নফসে আছে} [আল-মায়িদাহ: ১১৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আপনার রব উপস্থিত হবেন} [আল-ফজর: ২২] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ তাদের কাছে মেঘের ছায়ার মধ্যে উপস্থিত হবেন?} [আল-বাক্বারাহ: ২১০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে} [আল-মায়িদাহ: ১১৯] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে} [আল-মায়িদাহ: ৫৪] এবং কাফিরদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন} [আল-ফাতহ: ৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তারই অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছে} [মুহাম্মদ: ২৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করেছেন} [আত-তাওবাহ: ৪৬]
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن السنة، قول النبي صلى الله عليه وسلم: «ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى سماء الدنيا» (1) وقوله: «يعجب ربك من الشاب ليست له صبوة» (2) وقوله: «يضحك الله إلى رجلين قتل أحدهما الآخر ثم يدخلان الجنة» (3) فهذا وما أشبهه مما صح سنده وعدلت رواته، نؤمن به، ولا نرده ولا نجحده ولا نتأوله بتأويل يخالف

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه ولفظه بتمامه: " ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى سماء الدنيا، حين يبقى ثلث الليل الأخير، فيقول: من يدعوني فأستجيب له، ومن يسألني فأعطيه، ومن يستغفرني فأغفر له.

"، شرح شيخ الإسلام ابن تيمية هذا الحديث بكتاب قيم طبعه المكتب الإسلامي مرتين باسم " شرح حديث النزول ".

(2) رواه أحمد في " المسند " وأبو يعلى، من حديث ابن لهيعة. قال الهيثمي: وإسناده حسن. وقال الحافظ السخاوي في " المقاصد الحسنة " وضعفه شيخنا - أي الحافظ ابن حجر في فتاويه لأجل ابن لهيعة. والصبوة: الميل إلى الهوى.

(3) متفق عليه من حديث أبي هريرة ولفظه: " يضحك الله إلى رجلين يقتل أحدهما الآخر، يدخلان الجنة، يقاتل هذا في سبيل الله، فيقتل، ثم يتوب الله على القاتل فيسلم، فيقاتل في سبيل الله فيستشهد. ".
এবং সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ পালনকর্তা প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন» (১) এবং তাঁর বাণী: «তোমার পালনকর্তা সেই যুবকের প্রতি আশ্চর্যান্বিত হন যার কোনো খেয়ালখুশি বা বিচ্যুতি নেই» (২) এবং তাঁর বাণী: «আল্লাহ এমন দুই ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করেছে, অতঃপর তারা উভয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে» (৩)। সুতরাং এটি এবং এই জাতীয় যা কিছু যার সনদ সহিহ এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, আমরা তাতে ঈমান আনি; আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি না, অস্বীকার করি না এবং এমন কোনো ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর অপব্যাখ্যা করি না যা এর পরিপন্থী

--------------------------------------------

(১) এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের ওপর সর্বসম্মত, যার পূর্ণাঙ্গ পাঠ হলো: "আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ পালনকর্তা প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। অতঃপর তিনি বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?" শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় একটি মূল্যবান কিতাব লিখেছেন যা মাকতাবুল ইসলামী থেকে "শারহু হাদিসিন নুজুল" (অবতরণের হাদিসের ব্যাখ্যা) নামে দুবার মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এটি আহমাদ তার "মুসনাদ"-এ এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিআহ-এর হাদিস থেকে। হাইসামি বলেছেন: এর সনদ হাসান। হাফেজ সাখাভি "আল-মাকাসিদুল হাসানাহ" গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের শায়খ—অর্থাৎ হাফেজ ইবনে হাজার—ইবনে লাহিআহ-এর কারণে তাঁর ফতোয়াতে একে দুর্বল বলেছেন। আর "সাবওয়াহ" অর্থ হলো: প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়া।

(৩) এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসের ওপর সর্বসম্মত এবং এর পাঠ হলো: "আল্লাহ এমন দুই ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে এবং তারা উভয়ই জান্নাতে প্রবেশ করে। এই ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে এবং নিহত হয়, অতঃপর আল্লাহ হত্যাকারীর তওবা কবুল করেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে, এরপর সে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে এবং শাহাদাত বরণ করে।"
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
ظاهره، ولا نشبهه بصفات المخلوقين، ولا بسمات المحدثين، ونعلم أن الله سبحانه وتعالى لا شبيه له ولا نظير {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] وكل ما تخيل في الذهن أو خطر بالبال فإن الله تعالى بخلافه.

ومن ذلك قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] وقوله تعالى: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ} [الملك: 16] وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ربنا الله الذي في السماء تقدس اسمك» (1) «وقال للجارية: أين الله؟ قالت: في السماء. قال: أعتقها فإنها مؤمنة» رواه مسلم، ومالك بن أنس، وغيرهما من الأئمة. وقال النبي صلى الله عليه وسلم لحصين: «كم إلها تعبد؟ قال سبعة، ستة في الأرض وواحدا في السماء. قال من لرغبتك ورهبتك؟ قال الذي في السماء، قال فاترك الستة واعبد الذي في السماء،

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود في " سننه " رقم (3892) وفي سنده زيادة بن محمد الأنصاري. قال الحافظ بن حجر في " التقريب " منكر الحديث.
এর প্রকাশ্য অর্থ, আর আমরা তাঁকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করি না, এবং নবোদ্ভূতদের বৈশিষ্ট্যের সাথেও সাদৃশ্য করি না। আমরা জানি যে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কোনো সদৃশ নেই এবং কোনো সমকক্ষ নেই {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শুরা: ১১]। আর মনে যা কিছু কল্পনা করা হয় বা অন্তরে যা কিছুর উদয় হয়, মহান আল্লাহ তা থেকে ভিন্ন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন} [তহা: ৫] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কি তাঁর থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ, যিনি আসমানে আছেন?} [আল-মুলক: ১৬]। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানে আছেন, আপনার নাম পবিত্র" (১)। এবং তিনি দাসীকে বললেন: "আল্লাহ কোথায়?" সে বলল: "আসমানে।" তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা সে একজন মুমিন।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, মালিক ইবনে আনাস এবং অন্যান্য ইমামগণ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুসাইনকে বললেন: "তুমি কয়টি মাবুদের ইবাদত করো?" সে বলল: "সাতটি; ছয়টি পৃথিবীতে আর একটি আসমানে।" তিনি বললেন: "তোমার আশা ও ভয়ের জন্য কে?" সে বলল: "যিনি আসমানে আছেন।" তিনি বললেন: "তবে ওই ছয়টিকে ত্যাগ করো এবং যিনি আসমানে আছেন তাঁর ইবাদত করো।"

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ তাঁর "সুনান"-এ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৩৮৯২) এবং এর সনদে জিয়াদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি রয়েছেন। হাফিজ ইবনে হাজার "আত-তাকরীব"-এ তাকে 'মুনকারুল হাদিস' (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأنا أعلمك دعوتين، فأسلم، وعلمه النبي صلى الله عليه وسلم أن يقول: " اللهم ألهمني رشدي، وقني شر نفسي» (1) .

وفيما نقل من علامات النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه في الكتب المتقدمة: أنهم يسجدون بالأرض ويزعمون أن إلههم في السماء. وروى أبو داود في سننه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن ما بين سماء إلى سماء مسيرة كذا وكذا. . .» . وذكر الخبر إلى قوله: «وفوق ذلك العرش، والله سبحانه فوق ذلك» (2) فهذا وما أشبهه مما أجمع السلف رحمهم الله على نقله وقبوله، ولم يتعرضوا لرده ولا تأويله، ولا تشبيهه ولا تمثيله.

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي في باب " جامع الدعوات "، عن عمران بن حصين، وقال: هذا حديث غريب، وقد روي هذا الحديث عن عمران أيضا من غير هذا الوجه.

(2) رواه أبو داود في " سننه " رقم (4723) بغير هذا اللفظ، وفيه ذكر الأوعال، وفي سنده " الوليد بن أبي ثور " قال فيه الحافظ بن حجر في " التقريب ": ضعيف وفي سنده أيضا، " عبد الله بن عميرة "، قال فيه الذهبي: فيه جهالة، ورواه الترمذي وقال حديث غريب.
আমি তোমাকে দুটি দোয়া শিখিয়ে দেবো, সুতরাং তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শিখিয়ে দিলেন যেন সে বলে: "হে আল্লাহ, আমাকে আমার সঠিক পথের দিশা দান করো এবং আমাকে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করো।" (১)।

পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের যেসব নিদর্শনের কথা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: তারা মাটিতে সেজদা করে এবং তারা বিশ্বাস পোষণ করে যে তাদের ইলাহ আসমানে রয়েছেন। আর আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এক আসমান থেকে অন্য আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব এত এত পথের..."। তিনি বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত: "আর তার উপরে রয়েছে আরশ, আর আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তারও উপরে।" (২) এটি এবং এর সদৃশ বিষয়সমূহ সেসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর বর্ণনা ও গ্রহণের ব্যাপারে সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তারা এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেননি এবং এর কোনো অপব্যাখ্যা (তাবিল) করেননি, আর একে (সৃষ্টির সাথে) সাদৃশ্যপূর্ণ (তাশবিহ) বা সদৃশ (তামসিল) হিসেবেও গণ্য করেননি।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিযী "জামেউত দাওয়াত" অধ্যায়ে ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদীসটি গরীব। আর এই হাদীসটি ইমরান থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

(২) এটি আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে (৪৭২৩) এই শব্দগুলো ব্যতীত ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন, যাতে "আল-আওয়াল" (পাহাড়ি ছাগল সদৃশ ফেরেশতা) এর উল্লেখ রয়েছে। এর সনদে "ওয়ালিদ বিন আবি সাওর" রয়েছেন, যার সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার "আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেছেন: তিনি দুর্বল। এর সনদে আরও রয়েছেন "আবদুল্লাহ বিন উমাইরা", যার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেছেন: তিনি অপরিচিত। এটি তিরমিযীও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন হাদীসটি গরীব।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
سئل الإمام مالك بن أنس رحمه الله فقيل: يا أبا عبد الله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] كيف استوى؟ فقال: الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة. ثم أمر بالرجل فأخرج.

ইমাম মালিক বিন আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, {রহমান আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫] তিনি কীভাবে উঠেছেন? তখন তিনি বললেন: 'উঠা' বিষয়টি অজানা নয়, আর এর ধরণ (পদ্ধতি) অবোধগম্য, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। এরপর তিনি লোকটির ব্যাপারে আদেশ দিলেন এবং তাকে বের করে দেওয়া হলো।

(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[من صفات الله تعالى أنه متكلم بكلام قديم]

كلام الله ومن صفات الله تعالى أنه متكلم بكلام قديم يسمعه منه من شاء من خلقه، سمعه موسى عليه السلام منه من غير واسطة، وسمعه جبريل عليه السلام، ومن أذن له من ملائكته ورسله، وأنه سبحانه يكلم المؤمنين في الآخرة ويكلمونه، ويأذن لهم فيزورونه، قال الله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164] وقال سبحانه: {يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي} [الأعراف: 144] وقال سبحانه: {مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللَّهُ} [البقرة: 253] وقال سبحانه: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} [الشورى: 51] وقال سبحانه: {فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَى - إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى} [طه: 11 - 12] وقال سبحانه: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي} [طه: 14] وغير جائز أن يقول هذا أحد غير الله.
[মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ হলো তিনি অনাদি বাণীর মাধ্যমে কথা বলেন]

আল্লাহর বাণী এবং মহান আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি অনাদি বাণীর মাধ্যমে কথা বলেন, যা তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে তিনি চান তাকে তিনি তা শোনান। মূসা আলাইহিস সালাম কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তাঁর নিকট থেকে তা শুনেছেন এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালামও তা শুনেছেন, আর তাঁর ফেরেশতা ও রাসূলগণের মধ্যে যাকে তিনি অনুমতি দিয়েছেন সেও শুনেছে। আর তিনি পরকালে মুমিনদের সাথে কথা বলবেন এবং তাঁরাও তাঁর সাথে কথা বলবে, আর তিনি তাঁদের অনুমতি দেবেন ফলে তাঁরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} [নিসা: ১৬৪] তিনি আরও বলেন: {হে মূসা! আমি আমার রিসালাত ও আমার বাণীর মাধ্যমে তোমাকে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি} [আ'রাফ: ১৪৪] তিনি আরও বলেন: {তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন} [বাকারা: ২৫৩] তিনি আরও বলেন: {কোনো মানুষের পক্ষে এমন হওয়ার নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহী ব্যতীত কিংবা পর্দার আড়াল ব্যতীত} [শুরা: ৫১] তিনি আরও বলেন: {অতঃপর যখন সে আগুনের কাছে আসলো, তখন তাকে ডেকে বলা হলো, হে মূসা! নিশ্চয়ই আমি তোমার রব, সুতরাং তুমি তোমার জুতো জোড়া খুলে ফেল; নিশ্চয়ই তুমি তুওয়া নামক পবিত্র উপত্যকায় রয়েছ} [ত্বহা: ১১ - ১২] তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, অতএব আমারই ইবাদত করো} [ত্বহা: ১৪] আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে এমন কথা বলা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: " إذا تكلم الله بالوحي سمع صوته أهل السماء "، روى ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم (1) وروى عبد الله بن أنيس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «يحشر الله الخلائق يوم القيامة عراة حفاة غرلا بهما (2) فيناديهم بصوت يسمعه من بعد كما يسمعه من قرب: أنا الملك أنا الديان» ، رواه الأئمة (3) واستشهد به البخاري (4) وفي بعض الآثار أن موسى عليه السلام ليلة رأى النار فهالته ففزع منها فناداه ربه: يا موسى، فأجاب سريعا استئناسا بالصوت، فقال لبيك لبيك، أسمع صوتك ولا أرى مكانك، فأين

--------------------------------------------

(1) في جميع طرق حديث ابن مسعود هذا عنعنة الأعمش وهو مدلس، والحديث موقوف غير مرفوع عند الأكثرين، بل هو المحفوظ.

(2) غرلا: الغرل جمع الأغرل، وهو: الواسع الخلقة، والغرلة: القلفة. وبهم: ليس معهم شيء، وقيل أصحاء.

(3) رواه الإمام أحمد في " المسند " عن عبد الله بن أنيس، ج 3 ص 495 طبع المكتب الإسلامي. وأبو يعلى والطبراني.

(4) أي: معلقا.
এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "যখন আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন, আসমানের অধিবাসীগণ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পান", এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে (১)। আর আব্দুল্লাহ ইবনে আনিস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে উলঙ্গ, নগ্নপদ, খৎনাবিহীন এবং রিক্তহস্ত অবস্থায় একত্রিত করবেন (২), অতঃপর তিনি তাদের এমন এক কণ্ঠস্বরে আহ্বান করবেন যা দূর থেকে তেমনভাবেই শোনা যাবে যেমনটি কাছ থেকে শোনা যায়: আমিই রাজাধিরাজ, আমিই বিচারক», এটি ইমামগণ বর্ণনা করেছেন (৩) এবং ইমাম বুখারী এটি দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (৪)। কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) যে রাতে আগুন দেখেছিলেন এবং তা তাঁকে আতঙ্কিত করেছিল ফলে তিনি ভীত হয়ে পড়েছিলেন, তখন তাঁর রব তাঁকে ডাকলেন: হে মুসা! তখন তিনি সেই কণ্ঠস্বরে আশ্বস্ত হয়ে দ্রুত উত্তর দিলেন এবং বললেন: আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত; আমি আপনার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি কিন্তু আপনার অবস্থান দেখতে পাচ্ছি না, তাহলে কোথায়

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাসউদের এই হাদিসের সকল সূত্রে আ'মাশের 'আনআনা' (অস্পষ্ট বর্ণনা) রয়েছে এবং তিনি একজন মুদাল্লিস। অধিকাংশের মতে হাদিসটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য), মারফু (রাসূলের বাণী) নয়; বরং এটিই সংরক্ষিত মত।

(২) গুরলা: এটি 'আগরল' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ: আদি সৃষ্টিগত অবস্থা, আর 'গুরলাহ' অর্থ: লিঙ্গাগ্রের ত্বক (খৎনাবিহীন)। বুহমান: তাদের সাথে কিছুই থাকবে না, আবার কেউ বলেছেন: তারা সুস্থ শরীরে থাকবে।

(৩) ইমাম আহমাদ এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আনিস থেকে তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থের ৩য় খণ্ড, ৪৯৫ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন (মাকতাব আল-ইসলামী সংস্করণ)। এছাড়াও আবু ইয়ালা ও তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) অর্থাৎ: মুয়াল্লাক (সূত্রবিহীন) হিসেবে।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أنت؟ فقال: " أنا فوقك وأمامك وعن يمينك وعن شمالك "، فعلم أن هذه الصفة لا تنبغي إلا لله تعالى. قال كذلك أنت يا إلهي، أفكلامك أسمع، أم كلام رسولك؟ قال: " بل كلامي يا موسى ".
আপনি? তিনি বললেন: "আমি তোমার উপরে, তোমার সামনে, তোমার ডানে এবং তোমার বামে", তখন তিনি অবগত হলেন যে, এই বৈশিষ্ট্য মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জন্য সমীচীন নয়। তিনি বললেন: "হে আমার ইলাহ, আপনি এমনই; আমি কি আপনার কথা শুনছি, নাকি আপনার রাসূলের কথা?" তিনি বললেন: "বরং হে মূসা, এটি আমারই কথা।"
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌[القرآن كلام الله]

القرآن كلام الله ومن كلام الله سبحانه القرآن العظيم، وهو كتاب الله المبين وحبله المتين وصراطه المستقيم وتنزيل رب العالمين نزل به الروح الأمين على قلب سيد المرسلين بلسان عربي مبين، منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وهو سور محكمات وآيات بينات وحروف وكلمات من قرأه فأعربه فله بكل حرف عشر حسنات، له أول وآخر وأجزاء وأبعاض، متلو بالألسنة محفوظ في الصدور، مسموع بالآذان مكتوب في المصاحف، فيه محكم ومتشابه، وناسخ ومنسوخ، وخاص وعام، وأمر ونهي {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 42] وقوله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} [الإسراء: 88] (1)

--------------------------------------------

(1) الظهير: المعين.
[আল-কুরআন আল্লাহর বাণী]

কুরআন আল্লাহর বাণী এবং সুমহান কুরআন হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীর অন্তর্ভুক্ত। এটি আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব, তাঁর সুদৃঢ় রশি, তাঁর সরল পথ এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে রাসূলগণের সরদারের হৃদয়ে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এটি অবতীর্ণ, কোনো সৃষ্টি নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। এটি সুদৃঢ় সূরাসমূহ, সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং বিভিন্ন অক্ষর ও শব্দের সমষ্টি। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে এবং এর ব্যাকরণ ও উচ্চারণ সঠিকভাবে আদায় করবে, তার জন্য প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি রয়েছে। এর শুরু ও শেষ রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন অংশ ও খণ্ডে বিভক্ত। এটি জিহ্বা দ্বারা পঠিত, হৃদয়ে সংরক্ষিত, কান দিয়ে শ্রবণকৃত এবং মাসহাফসমূহে লিখিত। এতে সুস্পষ্ট ও অস্পষ্ট, রহিতকারী ও রহিতকৃত, বিশেষ ও সাধারণ এবং আদেশ ও নিষেধ রয়েছে। {মিথ্যা এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [ফুসসিলাত: ৪২] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [আল-ইসরা: ৮৮] (১)

--------------------------------------------

(১) জাহির: সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
[الإسراء: 88] ، وهو هذا الكتاب العربي الذي قال فيه الذين كفروا: {لَنْ نُؤْمِنَ بِهَذَا الْقُرْآنِ} [سبأ: 31] وقال بعضهم: {إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ} [المدثر: 25] فقال الله سبحانه: {سَأُصْلِيهِ سَقَرَ} [المدثر: 26] وقال بعضهم: هو شعر، فقال الله تعالى: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ} [يس: 69] فلما نفى الله عنه أنه شعر وأثبته قرآنا لم يبق شبهة لذي لب في أن القرآن هو هذا الكتاب العربي الذي هو كلمات وحروف وآيات، لأن ما ليس كذلك لا يقول أحد: إنه شعر، وقال عز وجل: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ} [البقرة: 23] ولا يجوز أن يتحداهم بالإتيان بمثل ما لا يدري ما هو ولا يعقل، وقال تعالى: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي} [يونس: 15] فأثبت أن
[আল-ইসরা: ৮৮], আর তা হলো সেই আরবি কিতাব যার সম্পর্কে কাফিররা বলেছিল: {আমরা এই কুরআনের প্রতি কখনও ঈমান আনব না} [সাবা: ৩১]। এবং তাদের কেউ কেউ বলেছিল: {এটি মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়} [আল-মুদ্দাসসির: ২৫]। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বললেন: {শীঘ্রই আমি তাকে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করব} [আল-মুদ্দাসসির: ২৬]। আবার তাদের কেউ কেউ বলেছিল: "এটি কবিতা"। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটি তার জন্য শোভনীয় নয়। এটি তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন} [ইয়াসিন: ৬৯]। সুতরাং যখন আল্লাহ তাআলা এর কবিতা হওয়ার বিষয়টি নাকচ করলেন এবং এটিকে কুরআন হিসেবে সাব্যস্ত করলেন, তখন কোনো বিবেকবান ব্যক্তির নিকট এ বিষয়ে আর কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকল না যে, কুরআন হলো সেই আরবি কিতাব যা শব্দ, বর্ণ এবং আয়াতসমূহের সমষ্টি। কারণ যা এই প্রকৃতির নয়, তাকে কেউ কবিতা বলে না। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর আমি আমার দাসের প্রতি যা নাযিল করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো} [আল-বাকারা: ২৩]। আর তাদের এমন কিছুর সদৃশ নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ করা সমীচীন হতে পারে না যার স্বরূপ তারা জানে না এবং যা বোধগম্য নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না তারা বলে—এটি ছাড়া অন্য কোনো কুরআন নিয়ে আসো অথবা একে পরিবর্তন করো। আপনি বলুন—আমার নিজের পক্ষ থেকে একে পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই} [ইউনুস: ১৫]। অতঃপর তিনি সাব্যস্ত করলেন যে...
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
القرآن هو الآيات التي تتلى عليهم. وقال تعالى: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} [العنكبوت: 49] وقال تعالى: {إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ - فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ - لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ} [الواقعة: 77 - 79] بعد أن أقسم على ذلك، وقال تعالى: {كهيعص} [مريم: 1] {حم - عسق} [الشورى: 1 - 2] وافتتح تسعا وعشرين سورة بالحروف المقطعة. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من قرأ القرآن فأعربه فله بكل حرف منه عشر حسنات، ومن قرأه ولحن فيه فله بكل حرف حسنة» حديث صحيح (1) .

وقال عليه الصلاة والسلام: «اقرأوا القرآن قبل أن يأتي قوم يقيمون حروفه إقامة السهم لا يجاوز تراقيهم يتعجلون أجره ولا يتأجلونه» (2) وقال أبو بكر وعمر رضي الله

--------------------------------------------

(1) رواه الطبراني في الأوسط عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه بلفظ: " من قرأ القرآن فأعربه فله بكل حرف عشر حسنات، وكفارة عشر سيئات، ورفع عشر درجات " وفي سنده نهشل الورداني، وهو متروك.

(2) رواه الإمام أحمد في " المسند "، وأبو داود في " سننه "، عن جابر رضي الله عنه، وفي الباب عن سهل بن سعد، وأنس بن مالك حديثان أخرجهما الإمام أحمد في " مسنده ". الترقوة: الحلقوم، وقوله: " يتعجلون ولا يتأجلون " أي: يطلبون بقراءته العاجلة، أي: عرض الدنيا، والرفعة فيها، ولا يلتفتون إلى الأجر في الدار الآخرة، وهذا من معجزاته صلى الله عليه وسلم.
কুরআন হলো সেই আয়াতসমূহ যা তাদের ওপর তেলাওয়াত করা হয়। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বরং তা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, যা তাদের অন্তরে রয়েছে যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে} [আনকাবুত: ৪৯]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন - যা সুরক্ষিত কিতাবে লিপিবদ্ধ - পবিত্রগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করবে না} [ওয়াকিয়াহ: ৭৭-৭৯] এর ওপর শপথ করার পর। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ} [মারিয়াম: ১] {হা-মীম - আইন-সীন-কফ} [শুরা: ১-২] এবং তিনি উনত্রিশটি সূরা বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ দ্বারা শুরু করেছেন। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং তা সঠিকভাবে (ব্যাকরণসম্মতভাবে) পড়ল, তার জন্য প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি নেকি রয়েছে। আর যে তা পাঠ করল এবং ভুল পড়ল, তার জন্য প্রতিটি হরফের বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে» এটি সহীহ হাদীস (১)।

এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: «তোমরা কুরআন পাঠ করো এমন এক সম্প্রদায় আসার আগে যারা এর হরফগুলোকে তীরের ন্যায় সোজা (সুচারুরূপে) বিন্যস্ত করবে, অথচ তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা এর প্রতিদান দ্রুত (দুনিয়াতে) পেতে চাইবে এবং পরকালের জন্য তা বিলম্বিত করবে না» (২) এবং আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন

--------------------------------------------

(১) ইমাম তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং তা সঠিকভাবে পড়ল, তার জন্য প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি নেকি, দশটি পাপের মার্জনা এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি রয়েছে।" তবে এর সনদে নাহশাল আল-ওয়ারদানি রয়েছে, যে পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

(২) ইমাম আহমাদ 'মুসনাদ'-এ এবং আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে সাহল ইবনে সাদ এবং আনাস ইবনে মালিক থেকেও দুটি হাদীস রয়েছে যা ইমাম আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ উদ্ধৃত করেছেন। 'তারকুয়াহ' অর্থ: কণ্ঠনালী। আর তাঁর কথা: "দ্রুত পেতে চাইবে এবং বিলম্বিত করবে না" অর্থাৎ: তারা এর পাঠের বিনিময়ে নগদ ফায়দা বা দুনিয়াবি সম্পদ ও মর্যাদা তালাশ করবে এবং পরকালের প্রতিদানের দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম মুজিজা।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
عنهما إعراب القرآن أحب إلينا من حفظ بعض حروفه، وقال علي رضي الله عنه: من كفر بحرف منه فقد كفر به كله، واتفق المسلمون على عد سور القرآن وآياته وكلماته وحروفه.

ولا خلاف بين المسلمين في أن من جحد من القرآن سورة أو آية أو كلمة أو حرفا متفقا عليه أنه كافر، وفي هذا حجة قاطعة على أنه حروف.
তাঁদের (উভয়) থেকে বর্ণিত, কুরআনের ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বা শুদ্ধ উচ্চারণ) আমাদের নিকট এর কিছু হরফ মুখস্থ করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যে ব্যক্তি এর একটি হরফকে অস্বীকার করল, সে মূলত এর সবটুকুকেই অস্বীকার করল। আর মুসলিমগণ কুরআনের সূরা, আয়াত, শব্দ এবং হরফসমূহ গণনার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

আর মুসলিমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যে ব্যক্তি কুরআনের কোনো সূরা, আয়াত, শব্দ অথবা সর্বসম্মত কোনো একটি হরফকে অস্বীকার করবে, সে কাফির। আর এর মধ্যে এই বিষয়ে অকাট্য দলিল রয়েছে যে, কুরআন হরফ বা বর্ণসমূহের সমষ্টি।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[رؤية المؤمنين لربهم يوم القيامة]

رؤية المؤمنين لربهم يوم القيامة والمؤمنون يرون ربهم في الآخرة بأبصارهم ويزورونه، ويكلمهم ويكلمونه، قال الله تعالى: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ - إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22 - 23] وقال تعالى: {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} [المطففين: 15] فلما حجب أولئك في حال السخط دل على أن المؤمنين يرونه في حال الرضى، وإلا لم يكن بينهما فرق، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنكم ترون ربكم كما ترون هذا القمر لا تضامون في رؤيته» حديث صحيح متفق عليه (1) . وهذا تشبيه للرؤية بالرؤية، لا للمرئي بالمرئي، فإن الله تعالى لا شبيه له ولا نظير.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنهما.
[কিয়ামতের দিন মুমিনদের জন্য তাদের পালনকর্তার দর্শন]

কিয়ামতের দিন মুমিনদের জন্য তাদের পালনকর্তার দর্শন; আর মুমিনরা আখিরাতে তাদের স্বচক্ষে তাদের পালনকর্তাকে দেখবে এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, আর তিনি তাদের সাথে কথা বলবেন এবং তারাও তাঁর সাথে কথা বলবে। মহান আল্লাহ বলেন: {সেদিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে - তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।} [আল-কিয়ামাহ: ২২ - ২৩] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কখনোই নয়, নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার দর্শন থেকে বঞ্চিত থাকবে।} [আল-মুতাফফিফিন: ১৫] সুতরাং যখন রাগান্বিত অবস্থায় তাদেরকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, তখন এটি প্রমাণ করে যে, মুমিনরা সন্তুষ্টির অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাবে। অন্যথায় উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখতে পাও, তাঁকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না বা কষ্টের শিকার হবে না» এটি একটি সহীহ হাদীস যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)। আর এটি হলো দেখার ক্রিয়ার সাথে দেখার ক্রিয়ার তুলনা, যাকে দেখা হচ্ছে তার সাথে তার তুলনা নয়; কেননা মহান আল্লাহর কোনো সদৃশ বা সমকক্ষ নেই।

--------------------------------------------

(১) জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[القضاء والقدر]

القضاء والقدر ومن صفات الله تعالى أنه الفعال لما يريد، لا يكون شيء إلا بإرادته، ولا يخرج شيء عن مشيئته، وليس في العالم شيء يخرج عن تقديره، ولا يصدر إلا عن تدبيره، ولا محيد عن القدر المقدور، ولا يتجاوز ما خط في اللوح المسطور، أراد ما العالم فاعلوه، ولو عصمهم لما خالفوه، ولو شاء أن يطيعوه جميعا لأطاعوه، خلق الخلق وأفعالهم وقدر أرزاقهم وآجالهم، يهدي من يشاء برحمته، ويضل من يشاء بحكمته، قال الله تعالى: {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} [الأنبياء: 23] قال الله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] وقال تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان: 2] وقال تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد: 22] وقال تعالى: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا} [الأنعام: 125]
‌‌[ক্বাযা ও ক্বদর]

ক্বাযা ও ক্বদর; আল্লাহ তাআলার গুণাবলির একটি হলো এই যে, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী। তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না এবং তাঁর অভিপ্রায়ের বাইরে কোনো কিছুই ঘটে না। এই মহাবিশ্বে এমন কোনো কিছুই নেই যা তাঁর নির্ধারণের বাইরে থাকে এবং তাঁর পরিকল্পনা ব্যতিরেকে কোনো কিছুই সম্পাদিত হয় না। যা নির্ধারিত করা হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো উপায় নেই এবং সংরক্ষিত ফলকে যা লিখে রাখা হয়েছে তা কেউ অতিক্রম করতে পারে না। সৃষ্টিজগত যা কিছু করবে তিনি তা আগে থেকেই ইচ্ছা করেছেন; যদি তিনি তাদের পাপ থেকে রক্ষা করতেন তবে তারা তাঁর অবাধ্যতা করত না। আর তিনি যদি চাইতেন যে তারা সকলে তাঁর আনুগত্য করবে, তবে তারা অবশ্যই তাঁর আনুগত্য করত। তিনি সৃষ্টিজগত এবং তাদের কার্যাবলি সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের রিযিক ও আয়ু নির্ধারণ করেছেন। তিনি স্বীয় রহমতে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন এবং স্বীয় প্রজ্ঞার মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না; বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।" [আল-আম্বিয়া: ২৩] আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাপে সৃষ্টি করেছি।" [আল-ক্বামার: ৪৯] তিনি আরও বলেছেন: "তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেটিকে সুপরিমিতভাবে নির্ধারণ করেছেন।" [আল-ফুরকান: ২] তিনি আরও বলেছেন: "পৃথিবীতে বা তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদই আসুক না কেন, তা সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।" [আল-হাদীদ: ২২] তিনি আরও বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তাঁর বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন; আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তাঁর বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন।" [আল-আনআম: ১২৫]
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
روى ابن عمر أن جبريل عليه السلام قال للنبي صلى الله عليه وسلم: «ما الإيمان؟ قال: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره، فقال جبريل: صدقت.» رواه مسلم. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «آمنت بالقدر خيره وشره وحلوه ومره» (1) ومن دعاء النبي صلى الله عليه وسلم الذي علمه الحسن بن علي يدعو به في قنوت الوتر: «وقني شر ما قضيت» (2) ولا نجعل قضاء الله وقدره حجة لنا في ترك أوامره واجتناب نواهيه، بل يجب أن نؤمن، ونعلم أن لله علينا الحجة بإنزال الكتب وبعثة الرسل، قال الله تعالى: {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [النساء: 165] ونعلم أن الله سبحانه ما أمر

--------------------------------------------

(1) روى الطبراني في " الكبير " بسند رجاله موثقون عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما بلفظ: الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله، والجنة والنار والقدر خيره وشره وحلوه ومره من الله.

(2) رواه أبو داود في " سننه " عن الحسن بن علي رضي الله عنهما، والنسائي والترمذي وقال: حديث حسن.
ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: «ঈমান কী? তিনি বললেন: আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন। তখন জিবরাঈল বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «আমি ভাগ্যের ভালো ও মন্দ এবং এর মিষ্টতা ও তিক্ততার প্রতি ঈমান আনলাম» (১) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ইবনে আলীকে বিতরের কুনুতে পাঠ করার জন্য যে দুআ শিখিয়েছিলেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো: «এবং আপনি আমাকে আপনার ফয়সালাকৃত মন্দের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন» (২) আর আমরা আল্লাহর ফয়সালা ও ভাগ্যকে তাঁর আদেশসমূহ বর্জন এবং তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য কোনো দলিল বানাব না। বরং আমাদের অবশ্যই ঈমান আনতে হবে এবং জানতে হবে যে, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা এবং রাসূলদের প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে রাসূলদের পরে আল্লাহর বিপক্ষে মানুষের কোনো দলিল না থাকে} [নিসা: ১৬৫] এবং আমরা জানি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা আদেশ করেছেন

--------------------------------------------

(১) তাবারানি তাঁর "আল-কাবীর" গ্রন্থে এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এই শব্দে: ঈমান হলো এই যে, আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং জান্নাত, জাহান্নাম ও ভাগ্যের ভালো-মন্দ এবং এর মিষ্টতা ও তিক্ততা আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার প্রতি ঈমান আনবেন।

(২) আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং নাসায়ী ও তিরমিযীও বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ونهى إلا المستطيع للفعل والترك، وأنه لم يجبر أحدا على معصية، ولا اضطره إلى ترك طاعة، قال الله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286] وقال تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] وقال تعالى: {الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ} [غافر: 17] فدل على أن للعبد فعلا وكسبا يجزى على حسنه بالثواب، وعلى سيئه بالعقاب، وهو واقع بقضاء الله وقدره.
এবং তিনি কেবল তাকেই নিষেধ করেছেন যে কাজ করা ও বর্জন করার সামর্থ্য রাখে। তিনি কাউকে পাপাচার করতে বাধ্য করেননি এবং আনুগত্য বর্জন করতেও কাউকে বাধ্য করেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতীত কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না} [আল-বাকারাহ: ২৮৬]। তিনি আরও বলেন: {কাজেই তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]। তিনি আরও বলেন: {আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে, আজ কোনো জুলুম নেই} [গাফির: ১৭]। সুতরাং এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বান্দার কাজ ও উপার্জন রয়েছে, যার উত্তম কাজের জন্য তাকে সওয়াব প্রদান করা হবে এবং মন্দ কাজের জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে; আর তা আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী সংঘটিত হয়।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[الإيمان قول وعمل]

الإيمان قول وعمل والإيمان قول باللسان وعمل بالأركان، وعقد بالجنان، يزيد بالطاعة وينقص بالعصيان، قال الله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5] فجعل عبادة الله تعالى وإخلاص القلب وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة كله من الدين، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الإيمان بضع وسبعون شعبة، أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق» (1) . فجعل القول والعمل من الإيمان، وقال تعالى: {فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا} [التوبة: 124] وقال: {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا} [الفتح: 4] وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يخرج من النار من

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
[ঈমান হলো কথা ও কাজ]

ঈমান হলো কথা ও কাজ। ঈমান হলো জিহ্বায় উচ্চারণ করা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা এবং হৃদয়ে বিশ্বাস করা। এটি আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বীন} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]। এখানে তিনি মহান আল্লাহর ইবাদত, হৃদয়ের একনিষ্ঠতা, সালাত কায়েম এবং যাকাত প্রদান—এই সব কিছুকেই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; আর সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা» (১)। এখানে তিনি কথা ও কাজকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ফলে তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিয়েছে} [আত-তাওবাহ: ১২৪] এবং তিনি বলেন: {যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বৃদ্ধি করে নিতে পারে} [আল-ফাতহ: ৪]। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যার...

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال لا إله إلا الله وفي قلبه مثقال برة أو خردلة أو ذرة من الإيمان» (1) فجعله متفاضلا.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه بألفاظ مختلفة عن أنس رضي الله عنه.
“[যে ব্যক্তি] আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই বলেছে এবং তার হৃদয়ে একটি গমের দানা বা সরিষার দানা বা অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে” (১) অতএব তিনি একে তারতম্যশীল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বিভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌[الإيمان بكل ما أخبر به الرسول]

الإيمان بكل ما أخبر به الرسول ويجب الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم وصح به النقل عنه فيما شاهدناه، أو غاب عنا، نعلم أنه حق، وصدق، وسواء في ذلك ما عقلناه وجهلناه، ولم نطلع على حقيقة معناه، مثل حديث الإسراء والمعراج وكان يقظة لا مناما فإن قريشا أنكرته وأكبرته، ولم تنكر المنامات. ومن ذلك أن ملك الموت لما جاء إلى موسى عليه السلام ليقبض روحه لطمه ففقأ عينه (1)

--------------------------------------------

(1) نقل الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في " المسند " عند تعليقه على الحديث رقم (7634) عن ابن حبان قال " إن الله جل وعلا بعث رسوله صلى الله عليه وسلم معلما لخلقه، فأنزله موضع الإبانة عن مراده. فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم رسالته، وبين عن آياته بألفاظ مجملة ومفسرة، عقلها عنه أصحابه أو بعضهم، وهذا الخبر من الأخبار التي يدرك معناه من لم يحرم التوفيق لإصابة الحق، وذاك أن الله جل وعلا أرسل ملك الموت إلى موسى عليه السلام رسالة ابتلاء واختبار، وأمره أن يقول له: أجب ربك أمر ابتلاء واختبار، لا أمرا يريد الله جل وعلا إمضاءه، كما أمر خليله إبراهيم عليه السلام بذبح ابنه أمر اختبار وابتلاء، دون الأمر الذي أراد الله جل وعلا إمضاءه، فلما عزم على ذبح ابنه وتله للجبين، فداه بالذبح العظيم، وقد بعث الله جل وعلا الملائكة إلى رسله في صور لا يعرفونها، كدخول الملائكة على إبراهيم عليه السلام، ولم يعرفهم حتى أوجس منهم خيفة، وكمجيء جبريل عليه السلام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وسؤاله إياه عن الإيمان والإسلام، فلم يعرفه المصطفى صلى الله عليه وسلم حتى ولى.

فكان مجيء ملك الموت إلى موسى عليه السلام على غير الصورة التي كان يعرفه موسى عليه السلام عليها، وكان موسى غيورا، فرأى في داره رجلا لم يعرفه، فشال يده فلطمه، فأتت لطمته على فقئ عينه التي في الصورة التي يتصور بها، لا الصورة التي خلقه الله عليها، ولما كان المصرح عن نبينا صلى الله عليه وسلم في خبر ابن عباس قال: أمني جبريل عند البيت مرتين، فذكر الخبر وقال في آخره: هذا وقتك ووقت الأنبياء قبلك - كان في هذا الخبر البيان الواضح أن بعض شرائعنا قد يتفق مع بعض شرائع من قبلنا من الأمم.

ولما كان من شريعتنا أن من فقأ عين الداخل داره بغير إذنه، أو الناظر في بيته بغير أمره، من غير جناح على فاعله، ولا حرج على مرتكبه، للأخبار الجمة الواردة فيه التي أمليناها في غير موضع من كتبنا - كان جائزا اتفاق هذه الشريعة مع شريعة موسى بإسقاط الحرج عمن فقأ عين الداخل داره بغير إذنه، فكان استعمال موسى هذا الفعل مباحا له ولا حرج عليه في فعله، فلما رجع ملك الموت إلى ربه، وأخبره بما كان من موسى فيه، أمره ثانيا بأمر آخر، أمر اختبار وابتلاء - كما ذكرنا من قبل - إذ قال الله له: قل له: إن شئت فضع يدك على متن ثور فلك بكل ما غطت يدك بكل شعرة سنة، فلما علم موسى كليم الله صلى الله على نبينا وعليه أنه ملك الموت، وأنه جاءه بالرسالة من عند الله، طابت نفسه بالموت، ولم يستمهل، وقال: فالآن. فلو كانت المرة الأولى، عرفه موسى عليه السلام أنه ملك الموت، لاستعمل ما استعمل في المرة الأخرى عند تيقنه وعلمه به، ضد قول من زعم أن أصحاب الحديث حمالة الحطب، ورعاة الليل يجمعون ما لا ينتفعون به ويروون ما لا يؤجرون عليه، ويقولون بما يبطله الإسلام، جهلا منه بمعاني الأخبار، وترك التفقه في الآثار، معتمدا في ذلك على رأيه المنكوس وقياسه المعكوس.
[রাসূল যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার প্রতি ঈমান]

রাসূল যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার প্রতি ঈমান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন এবং যার বর্ণনা তাঁর থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব; চাই তা আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি কিংবা আমাদের কাছে তা অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত হোক। আমরা জানি যে তা সত্য এবং সঠিক। এর মধ্যে যা আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি এবং যা আমরা অনুধাবন করতে পারিনি অথবা যার অর্থের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আমরা অবগত হতে পারিনি—সবই সমান। যেমন ইসরা ও মিরাজের হাদীস; আর তা জাগ্রত অবস্থায় ছিল, স্বপ্নের ঘোরে নয়। কেননা কুরাইশরা একে অস্বীকার করেছিল এবং একে অনেক বড় বিষয় মনে করেছিল, অথচ তারা স্বপ্নকে অস্বীকার করত না। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মালাকুল মাউত যখন মূসা আলাইহিস সালামের রূহ কবজ করার জন্য তাঁর কাছে আসলেন, তখন তিনি তাকে চড় মারলেন এবং তাঁর চোখ কানা করে দিলেন (১)

--------------------------------------------

(১) শায়খ আহমাদ শাকের রাহিমাহুল্লাহ 'আল-মুসনাদ'-এ ৭৬৩৪ নম্বর হাদীসের টিকায় ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সৃষ্টির শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁকে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার স্থানে আসীন করেছেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আল্লাহর আয়াতসমূহ সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, যা তাঁর সাহাবীগণ বা তাঁদের কেউ কেউ অনুধাবন করেছেন। আর এই সংবাদটি এমন সব সংবাদের অন্তর্ভুক্ত যার অর্থ সেই ব্যক্তি উপলব্ধি করতে পারে যাকে সত্য লাভের তাওফীক থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। আর তা হলো, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা মালাকুল মাউতকে মূসা আলাইহিস সালামের নিকট পরীক্ষা ও যাচাইয়ের বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে আদেশ করেছিলেন যেন তিনি তাকে বলেন: 'আপনার রবের ডাকে সাড়া দিন'। এটি ছিল পরীক্ষা ও যাচাইয়ের আদেশ, এমন কোনো আদেশ নয় যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কার্যকর করতে চেয়েছিলেন; যেমনটি তিনি তাঁর খলীল ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে তাঁর পুত্র যবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পরীক্ষা ও যাচাইয়ের জন্য, সেই আদেশের মতো নয় যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কার্যকর করতে চেয়েছিলেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর পুত্রকে যবেহ করার সংকল্প করলেন এবং তাকে কাত করে শায়িত করলেন, তখন তিনি মহান কুরবানীর বিনিময়ে তাকে মুক্তি দিলেন। আর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ফেরেশতাদেরকে তাঁর রাসূলগণের কাছে এমন আকৃতিতে পাঠাতেন যা তাঁরা চিনতেন না; যেমন ফেরেশতাগণ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নিকট প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি তাঁদের চিনতে পারেননি, এমনকি তাঁদের থেকে মনে মনে কিছুটা ভয় পেলেন। আর যেমন জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং তাঁকে ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চিনতে পারেননি যতক্ষণ না তিনি ফিরে গেলেন।

ফলে মালাকুল মাউত মূসা আলাইহিস সালামের কাছে এমন এক আকৃতিতে এসেছিলেন যা মূসা আলাইহিস সালাম চিনতেন না। মূসা আলাইহিস সালাম অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবান ছিলেন। তিনি তাঁর ঘরে এমন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যাকে তিনি চিনতেন না। ফলে তিনি আল্লাহর দেওয়া হাত উঠিয়ে তাকে চড় মারলেন এবং তাঁর সেই চড়টি সেই আকৃতির চোখের ওপর পড়ল যা সে ধারণ করেছিল, সেই মূল আকৃতির ওপর নয় যাতে আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছিলেন। আর যেহেতু আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে যে, 'জিবরীল আমাকে বায়তুল্লাহর কাছে দুবার ইমামতি করেছেন'—অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করে শেষে বললেন: 'এটি তোমার সময় এবং তোমার পূর্ববর্তী নবীদের সময়'—এই বর্ণনায় স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, আমাদের কিছু শরীয়ত আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের কিছু শরীয়তের সাথে মিলে যেতে পারে।

যেহেতু আমাদের শরীয়তে বিধান রয়েছে যে, যদি কেউ অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ করে অথবা তার ঘরে উঁকি দেয় আর গৃহকর্তা তার চোখ কানা করে দেয়, তবে কর্তার ওপর কোনো গুনাহ বা দায় নেই—এই মর্মে আমাদের কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত বহু সংবাদ অনুসারে—তাই এই শরীয়তটি মূসা আলাইহিস সালামের শরীয়তের সাথে মিলে যাওয়া সম্ভব যে, অনুমতি ছাড়া ঘরে প্রবেশকারীর চোখ যে কানা করে দেয় তার থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং মূসা আলাইহিস সালামের এই কাজটি করা তাঁর জন্য বৈধ ছিল এবং তাঁর এই কর্মে কোনো গুনাহ ছিল না। অতঃপর যখন মালাকুল মাউত তাঁর রবের কাছে ফিরে গেলেন এবং মূসা তাঁর সাথে যা করেছেন তা জানালেন, তখন আল্লাহ তাকে দ্বিতীয়বার অন্য একটি আদেশ দিলেন যা ছিল পরীক্ষা ও যাচাইয়ের আদেশ—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—যখন আল্লাহ তাঁকে বললেন: তাকে গিয়ে বলো, তুমি যদি চাও তবে তোমার হাত একটি ষাঁড়ের পিঠের ওপর রাখো; তোমার হাত যতটুকু ঢাকবে তার প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তোমার জন্য এক বছর করে আয়ু রয়েছে। অতঃপর যখন আল্লাহর সাথে কথা বলা নবী মূসা (আমাদের নবী ও তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) জানতে পারলেন যে তিনি মালাকুল মাউত এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা নিয়ে এসেছেন, তখন তিনি সানন্দে মৃত্যু বরণ করতে সম্মত হলেন এবং আর সময় চাইলেন না; বরং বললেন: 'তবে এখনই'। যদি প্রথমবারই মূসা আলাইহিস সালাম তাকে মালাকুল মাউত হিসেবে চিনতে পারতেন, তবে তিনি দ্বিতীয়বার নিশ্চিত হয়ে যা করেছিলেন প্রথমবারও তাই করতেন। এটি সেই ব্যক্তিদের কথার বিপরীত যারা দাবি করে যে হাদীসের অনুসারীরা হলো 'কাঠের বোঝা বহনকারী' এবং 'রাতের রাখাল' যারা এমন কিছু জমা করে যা তাদের কোনো উপকারে আসে না এবং এমন কিছু বর্ণনা করে যার জন্য তারা সওয়াব পায় না, আর অজ্ঞতার কারণে এমন কথা বলে যা ইসলাম বাতিল করে দেয়; কেননা তারা সংবাদের মর্মার্থ জানে না এবং হাদীসের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) বর্জন করেছে—এ ক্ষেত্রে তারা তাদের ভ্রান্ত মত এবং উল্টো কিয়াসের ওপর নির্ভর করেছে।"
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فرجع إلى ربه فرد عليه عينه. ومن ذلك أشراط الساعة،
অতঃপর তিনি তাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং তিনি তাঁর চক্ষু ফিরিয়ে দিলেন। আর কিয়ামতের আলামতসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত,
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مثل خروج الدجال ونزول عيسى ابن مريم عليه السلام فيقتله (1) وخروج يأجوج ومأجوج، وخروج الدابة،

--------------------------------------------

(1) أي: فيقتل عيسى ابن مريم عليه السلام الدجال، كما جاء في " صحيح مسلم " عن النواس بن سمعان رضي الله عنه: بلفظ " فيطلبه (أي: يطلب عيسى عليه السلام الدجال) حتى يدركه بباب لد فيقتله ".
যেমন দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণ ও তাঁর কর্তৃক তাকে হত্যা করা (১), ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব এবং অদ্ভুত প্রাণীর (দাব্বাহ) বের হওয়া।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) দাজ্জালকে হত্যা করবেন, যেমনটি "সহীহ মুসলিম"-এ নওয়াস ইবনে সামআন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর তিনি তাকে (অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জালকে) খুঁজবেন, এমনকি তাকে লুদ ফটকের নিকট পাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন।"
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وطلوع الشمس من مغربها، وأشباه ذلك مما صح به النقل. وعذاب القبر ونعيمه حق وقد استعاذ النبي صلى الله عليه وسلم منه، وأمر به (1) في كل صلاة (2) وفتنة القبر حق، وسؤال منكر ونكير حق، والبعث بعد الموت حق، وذلك حين ينفخ إسرافيل عليه السلام في الصور {وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُمْ مِنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنْسِلُونَ} [يس: 51] (3) . [يس: 51] ، ويحشر الناس يوم القيامة حفاة عراة، غرلا (4) بهما، فيقفون في موقف القيامة حتى يشفع فيهم نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، ويحاسبهم الله تبارك وتعالى وتنصب الموازين، وتنشر الدواوين وتتطاير صحائف الأعمال

--------------------------------------------

(1) أي أمر بالاستعاذة منه.

(2) كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: " إذا فرغ أحدكم من التشهد الآخر، فليستعذ بالله من أربع، يقول: اللهم إني أعوذ بك من عذاب جهنم، وعذاب القبر، ومن فتنة المحيا والممات، ومن شر فتنة المسيح الدجال " رواه مسلم وأبو داود والترمذي.

(3) الأجداث: القبور. وينسلون: يسرعون.

(4) الأغرل: الذي في خلقه سعة.
পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা সহিহ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত। কবরের আজাব ও তার নেয়ামত সত্য, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এবং প্রত্যেক সালাতে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন (১) (২)। কবরের ফিতনা সত্য, মুনকার ও নাকিরের সওয়াল (জিজ্ঞাসাবাদ) সত্য, এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সত্য; আর তা হবে যখন ইসরাফিল (আলাইহিস সালাম) সিঙায় ফুঁ দেবেন {এবং সিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে, অমনি তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে।} [ইয়াসিন: ৫১] (৩)। [ইয়াসিন: ৫১]। কিয়ামতের দিন মানুষকে নগ্ন পদ, উলঙ্গ দেহ, খাতনাবিহীন (৪) ও নিঃস্ব অবস্থায় সমবেত করা হবে। তারা কিয়ামতের ময়দানে অবস্থান করবে যতক্ষণ না আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন, মীযান (দাঁড়িপাল্লা) স্থাপন করা হবে, আমলনামার খাতাগুলো উন্মুক্ত করা হবে এবং আমলনামার পাতাসমূহ উড়তে থাকবে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

(২) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: "যখন তোমাদের কেউ শেষ তাশাহহুদ থেকে অবসর হবে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় চায়। সে বলবে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি।

(৩) আল-আজদাস: কবরসমূহ। ইয়ানসিলুন: তারা দ্রুত ধাবিত হবে।

(৪) আল-আগরল: যার চামড়ায় অতিরিক্ত অংশ রয়ে গেছে (অর্থাৎ যার খাতনা করা হয়নি)।
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
إلى الأيمان والشمائل {فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ - فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا - وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا - وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ - فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا} [الانشقاق: 7 - 11] (1) {وَيَصْلَى سَعِيرًا} [الانشقاق: 12] والميزان له كفتان ولسان توزن به الأعمال {فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ - وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ} [المؤمنون: 102 - 103]

ولنبينا محمد صلى الله عليه وسلم حوض في القيامة ماؤه أشد بياضا من اللبن وأحلى من العسل، وأباريقه عدد نجوم السماء، من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدا (2)

--------------------------------------------

(1) الثبور: الهلاك.

(2) روى البخاري ومسلم في " صحيحيهما " عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " حوضي مسيرة شهر، ماؤه أبيض من اللبن، وريحه أطيب من المسك، وكيزانه (جمع كوز، وأصل الياء هنا واو) كنجوم السماء، من شرب منه فلا يظمأ أبدا " ورواه مسلم أيضا بلفظ: " ماؤه أشد بياضا من اللبن وأحلى من العسل ".
ডান ও বাম হাতের দিক সম্পর্কে; {অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে - অচিরেই তার হিসাব সহজভাবে গ্রহণ করা হবে - এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত হয়ে ফিরে যাবে - আর যাকে তার আমলনামা তার পিঠের পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে - অচিরেই সে ধ্বংসকে আহ্বান করবে} [আল-ইনশিকাক: ৭ - ১১] (১) {এবং সে প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} [আল-ইনশিকাক: ১২]। আর মিজানের (দাঁড়িপাল্লার) দুটি পাল্লা ও একটি কাঁটা রয়েছে যার দ্বারা আমলসমূহ ওজন করা হবে; {সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম - আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে} [আল-মুমিনুন: ১০২ - ১০৩]

আর কিয়ামত দিবসে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি হাউজ (পুকুর) থাকবে যার পানি দুধের চেয়ে অধিক সাদা এবং মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি, আর তার পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির সমান; যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। (২)

--------------------------------------------

(১) আস-সুবুর: ধ্বংস।

(২) বুখারি ও মুসলিম তাদের ‘সহিহ’ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমার হাউজ এক মাসের পথের দূরত্বের সমান (বিস্তৃত), এর পানি দুধের চেয়ে সাদা, এর সুঘ্রাণ কস্তুরীর চেয়ে উত্তম এবং এর পানপাত্রগুলো (এটি ‘কুজ’-এর বহুবচন, আর এখানে ‘ইয়া’-এর মূল হলো ‘ওয়াও’) আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়; যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।” মুসলিম এটি এই শব্দেও বর্ণনা করেছেন: “তার পানি দুধের চেয়ে অধিক সাদা এবং মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি।”
(খণ্ড: ১) লুমআতুল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
والصراط حق يجوزه الأبرار، ويزل عنه الفجار، ويشفع نبينا صلى الله عليه وسلم فيمن دخل النار من أمته من أهل الكبائر فيخرجون بشفاعته بعدما احترقوا وصاروا فحما وحمما (1) فيدخلون الجنة بشفاعته (2) ولسائر الأنبياء والمؤمنين والملائكة شفاعات. قال تعالى: {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ} [الأنبياء: 28] ولا تنفع الكافر شفاعة الشافعين.

والجنة والنار مخلوقتان لا تفنيان، فالجنة مأوى أوليائه، والنار عقاب لأعدائه، وأهل الجنة فيها مخلدون {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي عَذَابِ جَهَنَّمَ خَالِدُونَ - لَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ} [الزخرف: 74 - 75] ويؤتى

--------------------------------------------

(1) حمما، أي: سودا.

(2) لقد ورد في الشفاعة أحاديث كثيرة صحيحة، رواها البخاري ومسلم وغيرهما. وروى أبو داود والترمذي عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: " شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي " وهو حديث صحيح.
এবং সিরাত সত্য, যা পুণ্যবানরা পার হবেন এবং পাপাচারীরা তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে যাবে। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের মধ্যে যারা কবিরা গুনাহ করার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে তাদের জন্য সুপারিশ করবেন। ফলে তারা পুড়ে কয়লা ও ছাই হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সুপারিশের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে (১)। অতঃপর তাঁর সুপারিশে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে (২)। আর অন্যান্য নবী, মুমিন এবং ফেরেশতাদেরও সুপারিশ করার অধিকার থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি তাদের সামনের ও পেছনের সবকিছু জানেন এবং তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।} [আল-আম্বিয়া: ২৮] আর কাফিরদের জন্য সুপারিশকারীদের সুপারিশ কোনো উপকারে আসবে না।

জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ই সৃষ্ট এবং এগুলো কখনো ধ্বংস হবে না। জান্নাত হলো আল্লাহর বন্ধুদের আশ্রয়স্থল এবং জাহান্নাম হলো তাঁর শত্রুদের জন্য শাস্তি। জান্নাতবাসীরা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে {নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের আজাবে চিরকাল থাকবে। তাদের থেকে আজাব শিথিল করা হবে না এবং তারা সেখানে হতাশ হয়ে পড়ে থাকবে।} [আয-যুখরুফ: ৭৪ - ৭৫] এবং আনা হবে

--------------------------------------------

(১) হুমামাহ অর্থাৎ: কালো বর্ণ।

(২) সুপারিশ প্রসঙ্গে অনেক সহীহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ ও তিরমিযী আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার সুপারিশ আমার উম্মতের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য।" এটি একটি সহীহ হাদিস।