(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أصول الإيمان في ضوء الكتاب والسنة القسم: العقيدة
الكتاب: كتاب أصول الإيمان في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: نخبة من العلماء
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1421هـ
عدد الصفحات: 309
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমানের মূলনীতিসমূহ বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমানের মূলনীতিসমূহ গ্রন্থ
লেখক: একদল বিজ্ঞ আলেম
প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
[مقدمة معالي الوزير الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ]كتاب
أصول الإيمان
في ضوء الكتاب والسنة
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة بقلم معالي الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ
وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد المشرف العام على المجمع الحمد لله رب العالمين، القائل في كتابه الكريم {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125] والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، القائل: «بلغوا عني ولو آية» [البخاري: 3461] .
أما بعد: فإنفاذًا لتوجيهات خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود - حفظه الله- في إيصال الخير إلى عموم المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، بدءًا بالعناية بكتاب الله، والعمل على تيسير نشره، وترجمة معانيه، وتوزيعه بين المسلمين، والراغبين في دراسته من غيرهم، ثم نشر ما ينفع المسلمين في جميع شؤون حياتهم الدينية والدنيوية.
وإيمانًا من وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد ممثلة في مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة النبوية، بأهمية الدعوة إلى الله تعالى على بصيرة فإنه يسرها أن تقدم كتاب:
((أصول الإيمان في ضوء الكتاب والسنة))
[মাননীয় মন্ত্রী শাইখ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল-শাইখের ভূমিকা]গ্রন্থ
ঈমানের মূলনীতি
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
মাননীয় শাইখ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল-শাইখের কলমে ভূমিকা
ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রী এবং কমপ্লেক্সের সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: {তুমি তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো} [আন-নাহল: ১২৫]। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তির ওপর, যিনি বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও" [বুখারি: ৩৪৬১]।
অতঃপর: খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ আল-সৌদ -আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন- এর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের সাধারণ মুসলিমদের কাছে কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে; যার সূচনা হয়েছে আল্লাহর কিতাবের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া, এর প্রকাশনা সহজতর করা, এর মর্মার্থ অনুবাদ করা এবং মুসলিম ও এটি অধ্যয়নে আগ্রহী অন্যদের মাঝে তা বিতরণ করার মাধ্যমে। অতঃপর মুসলিমদের দ্বীনি ও পার্থিব জীবনের সকল ক্ষেত্রে যা কিছু কল্যাণকর তা প্রচার করা।
মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্সের প্রতিনিধিত্বকারী ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের গুরুত্বে বিশ্বাস রেখে অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই গ্রন্থটি পেশ করছে:
((কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমানের মূলনীতি))
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
وذلك لتبصير المسلمين في أمور العقيدة التي هي أساس الإيمان، لقوله صلى الله صلى الله عليه وسلم: «إنّ في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله» [البخاري: 52] ، وستتبعه إن شاء الله تعالى سلسلة من الكتب في الحديث، والفقه، والذكر والدعاء، والتي نرجو من الله العلي القدير أن ينفع بها عموم المسلمين.
وبهذه المناسبة يسرني أن أشكر الإخوة الذين قاموا بإعداد الكتاب (تأليفًا، ومراجعة، وصياغة) جهدهم المخلص، وللأمانة العامة للمجمع حسن اهتمامها ومتابعتها، وأدعو الله تعالى أن يحفظ هذه البلاد راعية للدين، وحامية للعقيدة الصحيحة في ظل قيادة خادم الحرمين الشريفين، وسمو ولي عهده الأمين، وسمو النائب الثاني، حفظهم الله، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
এটি মুসলমানদের আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন করার জন্য, যা ঈমানের ভিত্তি; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যখন তা সংশোধিত হয় তখন পুরো শরীর সংশোধিত হয়" [বুখারী: ৫২]। আর এর পরে ইনশাআল্লাহ হাদীস, ফিকহ, যিকর ও দোয়ার একটি ধারাবাহিক গ্রন্থ প্রকাশিত হবে, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট আশা করি যেন তিনি সাধারণ মুসলমানদের উপকৃত করেন।
এই উপলক্ষে আমি সেই সকল ভাইদের ধন্যবাদ জানাতে পেরে আনন্দিত যারা এই বইটি প্রস্তুত করেছেন (রচনা, পর্যালোচনা ও সম্পাদনা) তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য, এবং একাডেমির সাধারণ সচিবালয়কে তাদের উত্তম গুরুত্ব প্রদান ও তত্ত্বাবধানের জন্য। আর আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই দেশকে দ্বীনের পৃষ্ঠপোষক এবং সঠিক আকীদার রক্ষক হিসেবে হেফাযত করেন, খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন, তাঁর বিশ্বস্ত যুবরাজ এবং দ্বিতীয় উপ-প্রধানের সুযোগ্য নেতৃত্বে; আল্লাহ তাঁদের রক্ষা করুন। পরিশেষে আমাদের কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
المقدِّمة الحمد لله الذي أكمل لنا الدين وأتمَّ علينا النعمة، وجعل أمَّتنا -أمَّة الإسلام- خيرَ أمَّة، وبعث فينا رسولًا منَّا يتلو علينا آياته ويزكينا، ويعلِّمنا الكتاب والحكمة، والصلاة والسلام على مَن أرسله الله للعالمين رحمة، نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه.
أما بعد: فإنَّ الحكمة من خلق الجن والإنس هي عبادة الله وحده، كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (الذاريات: 56) . ولذا كان التوحيد والعقيدة الصحيحة المأخوذةُ من منبعها الأصلي وموردها المبارك كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم هي الغاية لتحقيق تلك العبادة، فهي الأساس لعمارة هذا الكون، وبفقدها يكون فساده وخرابه واختلاله، كما قال الله تعالى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ} [الأنبياء: 22] (الأنبياء: 22) ، وقال سبحانه: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا} [الطلاق: 12] (الطلاق: 12) ، إلى غير ذلك من الآيات.
ولما كان غير ممكن للعقول أن تستقلَّ بمعرفة تفاصيل ذلك بعث الله
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন, এবং আমাদের উম্মতকে—ইসলামী উম্মতকে—সর্বোত্তম উম্মত করেছেন, আর আমাদের মাঝে আমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যিনি আমাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং আমাদের পবিত্র করেন, আর আমাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর: নিশ্চয়ই জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির হিকমত হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬] (আয-যারিয়াত: ৫৬)। একারণেই তাওহীদ এবং সঠিক আকিদা—যা এর মূল উৎস ও বরকতময় প্রস্রবণ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাললার সুন্নাহ থেকে গৃহীত—তা-ই হলো সেই ইবাদত বাস্তবায়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আর এটিই এই মহাবিশ্ব আবাদের ভিত্তি; এর অনুপস্থিতিতেই ঘটে এর বিপর্যয়, ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ব্যতীত আরও অনেক ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব আরশের রব আল্লাহ কতই না পবিত্র, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে} [আল-আম্বিয়া: ২২] (আল-আম্বিয়া: ২২), এবং তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং যমীনও সেই পরিমাণ। তাদের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে} [আত-তালাক: ১২] (আত-তালাক: ১২), এছাড়াও আরও অন্যান্য আয়াত।
আর যেহেতু মানব বুদ্ধির পক্ষে এসবের বিস্তারিত জ্ঞান এককভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়, তাই আল্লাহ প্রেরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
رسلَه وأنزل كتبَه؛ لإيضاحه وبيانه وتفصيله للناس حتى يقوموا بعبادة الله على علم وبصيرة وأسسٍ واضحةٍ ودعائم قويمةٍ، فتتابع رسلُ الله على تبليغه، وتوالوا في بيانه، كما قال سبحانه: {وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ} [فاطر: 24] (فاطر: 24) ، وقال سبحانه: {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى} [المؤمنون: 44] (المؤمنون: 44) ، أي يتبع بعضُهم بعضًا إلى أن ختمهم بسيِّدهم وأفضلهم وإمامهم نبيِّنا محمد صلى الله عليه وسلم، فبَلّغ الرسالة وأدَّى الأمانة، ونصح الأمَّة، وجاهد في الله حقَّ جهاده ودعا إلى الله سرًّا وجهرًا، وقام بأعباء الرسالة أكملَ قيام، وأوذيَ في الله أشدَّ الأذى، فصبر كما صبر أولو العزم من الرسل، ولم يزل داعيًا إلى الله هاديًا إلى صراطه المستقيم حتى أظهر الله به الدِّين، وأتم به النِّعمة، ودخل الناس بسبب دعوته في دين الله أفواجًا، ولم يَمُت صلى الله عليه وسلم حتى أكمل الله به الدِّين وأتمَّ به النِّعمة، وأنزل في ذلك سبحانه قوله: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] (المائدة: 3) .
فبيَّن صلوات الله وسلامه عليه الدين كلَّه أصوله وفروعه، كما قال إمام دار الهجرة مالك بن أنس رحمه الله: " مُحال أن يُظنَّ بالنبي صلى الله عليه وسلم أنه علَّم أمته الاستنجاء ولم يعلمهم التوحيد ".
وقد كان صلى الله عليه وسلم داعيةً إلى توحيد الله وإخلاص الدِّين لله ونبذ الشرك كلِّه كبيرِه وصغيره شأن جميع المرسلين؛ إذ أنَّ الرسلَ كلَّهم متَّفقون على ذلك، متضافرون على الدعوة إليه، بل هو منطلقُ دعوتهم وزبدة رسالتهم وأساس بعثتهم، يقول الله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} [النحل: 36] (النحل: 36) ، وقال:
তিনি তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন; মানুষের নিকট তা সুস্পষ্ট করতে, বর্ণনা করতে এবং বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে, যাতে তারা জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি, স্পষ্ট মূলনীতি এবং সুদৃঢ় স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। আল্লাহর রাসূলগণ একে একে তা পৌঁছানোর কাজ চালিয়ে গেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে তা বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এমন কোনো জাতি নেই যার কাছে সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি} [ফাতির: ২৪] (ফাতির: ২৪)। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসূলগণকে পাঠিয়েছি} [আল-মুমিনুন: ৪৪] (আল-মুমিনুন: ৪৪)। অর্থাৎ, তারা একে অপরের অনুগামী হয়ে এসেছেন যতক্ষণ না তিনি তাঁদেরকে তাঁদের নেতা, শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি এবং ইমাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন, আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করেছেন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি রিসালাতের দায়িত্বসমূহ পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন এবং আল্লাহর পথে চরম কষ্ট সহ্য করেছেন। ফলে তিনি সবর করেছেন যেমন সবর করেছিলেন রাসূলদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্পের অধিকারীরা। তিনি সর্বদা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর সহজ-সরল পথের দিশারি হিসেবে অবিচল ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। তাঁর দাওয়াতের ফলে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণী অবতীর্ণ করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম, আর ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩] (আল-মায়িদাহ: ৩)।
অতঃপর আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা সবকিছুই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি হিজরতভূমির ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে এমনটি ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তাঁর উম্মতকে শৌচকর্ম শিখিয়েছেন কিন্তু তাদেরকে তাওহিদ শেখাননি।"
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন আল্লাহর তাওহিদের দিকে আহ্বানকারী, দ্বীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠকারী এবং বড় ও ছোট সকল প্রকার শিরককে বর্জনকারী; যা ছিল সকল রাসূলের নীতি। কারণ সকল রাসূলই এ বিষয়ে একমত ছিলেন এবং এর দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে পরস্পর একাত্ম ছিলেন। বরং এটিই ছিল তাঁদের দাওয়াতের সূচনা, তাঁদের রিসালাতের সারকথা এবং তাঁদের প্রেরণের মূল ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি প্রতিটি জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কারো ওপর ভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যাচারীদের পরিণতি কী হয়েছিল} [আন-নাহল: ৩৬] (আন-নাহল: ৩৬)। এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (الأنبياء: 25) ، وقال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} [الزخرف: 45] (الزخرف: 45) ، وقال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13] (الشورى: 13) .
وقد ثبت في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قال: «الأنبياء إخوة لعلَّات، أمَّهاتُهم شتَّى ودينُهم واحد» (1) فالدِّين واحدٌ، والعقيدة واحدةٌ، وإنَّما حصل التنوُّعُ بينهم في الشرائع، كما قال تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة: 48] (المائدة: 48) .
ولذا ينبغي أن يكون متقرِّرا لدى كلِّ مسلم وواضحا لدى كلِّ مؤمن أنَّ العقيدة لا مجال فيها للرأي والأخذ والعطاء، وإنَّما الواجب على كلِّ مسلم في مشارق الأرض ومغاربها أن يعتقد عقيدة الأنبياء والمرسلين، وأن يؤمن بالأصول التي آمنوا بها ودعوا إليها دون تشكُّكٍ أو تردُّدٍ، {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة: 285] (البقرة: 285) .
فهذا شأنُ المؤمنين، وهذا سبيلهم: الإيمان والتسليم والإذعان والقبول، وعندما يكون المؤمن كذلك ترافقه السلامة، ويتحقق له الأمن والأمان، وتزكو نفسُه، ويطمئنُّ قلبُه، ويكون بعيدًا تمام البعد عمَّا يقع فيه ضلَّال الناس
--------------------------------------------
"আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহী নাযিল করিনি যে, 'আমি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং কেবল আমারই ইবাদত করো'।" [আল-আম্বিয়া: ২৫] (আল-আম্বিয়া: ২৫), এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনার পূর্বে আমি আমার রাসূলদের মধ্য থেকে যাদের প্রেরণ করেছি তাদের জিজ্ঞাসা করুন, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ইবাদতের জন্য উপাস্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলাম?" [আয-যুখরুফ: ৪৫] (আয-যুখরুফ: ৪৫), এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি, আর যা ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে মতভেদ করো না।" [আশ-শুরা: ১৩] (আশ-শুরা: ১৩)।
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নবীগণ বৈমাত্রীয় ভাইয়ের মতো, তাঁদের মায়েরা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু তাঁদের দ্বীন এক।" (১) সুতরাং দ্বীন এক এবং আকীদাহ এক; কেবল তাঁদের মধ্যে শরীআতসমূহের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এসেছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীআত ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি।" [আল-মায়িদাহ: ৪৮] (আল-মায়িদাহ: ৪৮)।
তাই প্রত্যেক মুসলিমের কাছে এটি প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং প্রত্যেক মুমিনের কাছে এটি স্পষ্ট থাকা উচিত যে, আকীদার বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামতের বা গ্রহণ-বর্জনের কোনো সুযোগ নেই। বরং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো নবী ও রাসূলগণের আকীদায় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁরা যে মূলনীতিসমূহের ওপর ঈমান এনেছিলেন ও যার দিকে আহ্বান করেছিলেন, কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা ছাড়াই তাতে বিশ্বাস করা। "রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলেছে, 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল'।" [আল-বাকারাহ: ২৮৫] (আল-বাকারাহ: ২৮৫)।
এটাই মুমিনদের অবস্থা এবং এটাই তাদের পথ: ঈমান আনা, আত্মসমর্পণ করা, বশ্যতা স্বীকার করা এবং কবুল করে নেওয়া। যখন একজন মুমিন এমন হয়, তখন নিরাপত্তা তাকে সঙ্গ দেয়, তার জন্য শান্তি ও প্রশান্তি অর্জিত হয়, তার আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং তার অন্তর প্রশান্ত হয়। আর সে বিভ্রান্ত লোকদের পথ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسبب عقائدهم الباطلة من تناقض واضطراب وشكوك وأوهام وحَيرة وتذبذب.
والعقيدة الإسلامية الصحيحة بأصولها الثابتة وأسسها السليمة وقواعدها المتينة هي - دون غيرها - التي تحقِّق للناس سعادتهم ورفعتهم وفلاحهم في الدنيا والآخرة؛ لوضوح معالمها، وصحَّة دلائلها، وسلامة براهينها وحججها، ولموافقتها للفطرة السليمة، والعقول الصحيحة، والقلوب السويَّة.
ولهذا فإنّ العالَمَ الإسلامي كلّه في أشدِّ الحاجة إلى معرفة هذه العقيدة الصافية النقيَّة؛ إذ هي قطبُ سعادته الذي عليه تدور، ومستقر نجاته الذي عنه لا تحور.
وفي هذا المؤلّف الوجيز يجد المسلم أصولَ العقيدة الإسلامية وأهمَّ أسسها وأبرزَ أصولها ومعالمها ممَّا لا غنى لمسلم عنه، ويجد ذلك كله مقرونا بدليله، مدعَّمًا بشواهده، فهو كتاب مشتمل على أصول الإيمان في ضوء الكتاب والسنة، وهي أصول عظيمة موروثة عن الرسل، ظاهرة غاية الظهور، يمكن لكل مميِّز من صغير وكبير أن يُدركها بأقصر زمان وأوجز مدَّة، والتوفيق بيد الله وحده. وبهذه المناسبة نتقدم بالشكر الجزيل للذين ساهموا في إعداد هذا الكتاب وهم: الدكتور صالح بن سعد السحيمي، والدكتور عبد الرزاق بن عبد المحسن العباد، والدكتور إبراهيم بن عامر الرحيلي. كما نشكر اللذين قاما بمراجعته وصياغته وهما: الدكتور علي بن محمد ناصر فقيهي، والدكتور أحمد بن عطية الغامدي.
وإنَّا لنرجوه سبحانه أن ينفع به عمومَ المسلمين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الأمانة العامة
لمجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف
তাদের ভ্রান্ত আকীদার কারণে যা বৈপরীত্য, অস্থিরতা, সন্দেহ, কল্পনা, বিভ্রান্তি ও দোদুল্যমানতায় পূর্ণ।
একমাত্র সঠিক ইসলামি আকীদাহ্-ই তার সুদৃঢ় মূলনীতি, বিশুদ্ধ ভিত্তি এবং মজবুত নিয়মাবলির মাধ্যমে—অন্য কিছু নয়—মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ, মর্যাদা ও সফলতা নিশ্চিত করে; এর কারণ হলো এর নিদর্শনসমূহের স্পষ্টতা, দলীলসমূহের সঠিকতা এবং প্রমাণ ও যুক্তির বিশুদ্ধতা এবং এটি মানুষের সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি, সঠিক বিবেক ও ভারসাম্যপূর্ণ হৃদয়ের অনুকূল হওয়ার কারণে।
এ কারণেই সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকীদাহ্ জানার তীব্র প্রয়োজন অনুভব করছে; কেননা এটিই তাদের সুখের কেন্দ্রবিন্দু যাকে কেন্দ্র করে সবকিছু আবর্তিত হয় এবং এটিই তাদের নাজাতের সুনিশ্চিত আশ্রয়স্থল যা থেকে বিচ্যুতি ঘটে না।
এই সংক্ষিপ্ত রচনায় একজন মুসলিম ইসলামি আকীদার এমন সব মূলনীতি, গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ খুঁজে পাবেন যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। তিনি এর প্রতিটি বিষয় দলীল ও প্রমাণসহ পাবেন। সুতরাং এটি হলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমানের মূলনীতি সম্বলিত একটি কিতাব। এই মহান মূলনীতিসমূহ রাসুলগণের উত্তরাধিকার, যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট; ছোট-বড় প্রত্যেক বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি খুব অল্প সময়ে ও সংক্ষেপে এগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম। আর তাওফীক কেবল আল্লাহর হাতেই। এই উপলক্ষে আমরা তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই গ্রন্থটি প্রস্তুতে অবদান রেখেছেন, তারা হলেন: ড. সালিহ বিন সা’দ আস-সুহাইমী, ড. আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ এবং ড. ইবরাহীম বিন আমির আর-রুহাইলী। আমরা আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা এটি পর্যালোচনা ও সম্পাদনা করেছেন: ড. আলী বিন মুহাম্মদ নাসির ফাকীহী এবং ড. আহমদ বিন আতিয়্যাহ আল-গামদী।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সাধারণ সচিবালয়
পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স আল-শরীফ
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[تمهيد]تمهيد لا يخفى على كل مسلم أهمية الإيمان، وعظم شأنه، وكثرة عوائده وفوائده على المؤمن في الدنيا والآخرة، بل إن كل خير في الدنيا والآخرة متوقف على تحقق الإيمان الصحيح، فهو أجل المطالب، وأهم المقاصد، وأنبل الأهداف، وبه يحيا العبد حياة طيبة سعيدة، وينجو من المكاره والشرور والشدائد، وينال ثواب الآخرة ونعيمها المقيم وخيرها الدائم المستمر الذي لا يحول ولا يزول.
قال تعالى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل: 97] (النحل: 97) . وقال تعالى: {وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا} [الإسراء: 19] (الإسراء: 19) .
وقال تعالى: {وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا} [طه: 75] (طه: 75) . وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا - خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا} [الكهف: 107 - 108] (الكهف: 107، 108) . والآيات في هذا المعنى في القرآن الكريم كثيرة.
وقد دلت نصوص الكتاب والسنة على أن الإيمان يقوم على الأصول الستة، وهي: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، وقد جاء ذكر هذه الأصول في القرآن الكريم والسنة النبوية في مواطن عديدة. منها:
1 - قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} [النساء: 136] (النساء: 136) .
[ভূমিকা]ভূমিকা: প্রত্যেক মুসলিমের কাছে ঈমানের গুরুত্ব, এর মর্যাদার মাহাত্ম্য এবং দুনিয়া ও আখেরাতে মুমিনের ওপর এর অজস্র কল্যাণ ও উপকারিতা সুনিশ্চিতভাবেই স্পষ্ট। বরং দুনিয়া ও আখেরাতের প্রতিটি মঙ্গল ও কল্যাণ সঠিক ঈমান অর্জনের ওপরই নির্ভরশীল। এটিই সর্বোত্তম আকাঙ্ক্ষা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এবং মহত্তম লক্ষ্য। এর মাধ্যমেই একজন বান্দা পবিত্র ও সুখী জীবন লাভ করে, যাবতীয় অপ্রীতিকর বিষয়, অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা পায় এবং পরকালের সওয়াব, চিরস্থায়ী নেয়ামত ও এমন নিরবচ্ছিন্ন কল্যাণ লাভ করে যা কখনো স্থানান্তরিত হয় না এবং শেষও হয় না।
মহান আল্লাহ বলেন: "পুরুষ হোক কিংবা নারী, যে ব্যক্তি ঈমান থাকা অবস্থায় নেক কাজ করবে, আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি তাদের কৃতকর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অবশ্যই প্রদান করব।" [আন-নাহল: ৯৭] (আন-নাহল: ৯৭)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যারা আখেরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে অথচ সে মুমিন, তবে এদের প্রচেষ্টাই হবে কবুলযোগ্য।" [আল-ইসরা: ১৯] (আল-ইসরা: ১৯)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যারা তাঁর নিকট মুমিন হিসেবে এবং সৎকাজ সম্পন্ন করে আসবে, তাদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা।" [ত্বহা: ৭৫] (ত্বহা: ৭৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে ফিরদাউসের জান্নাত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।" [আল-কাহফ: ১০৭ - ১০৮] (আল-কাহফ: ১০৭, ১০৮)। কুরআন মাজীদে এই অর্থে অসংখ্য আয়াত রয়েছে।
কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ প্রমাণ করে যে, ঈমান ছয়টি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেগুলো হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান, পরকালের প্রতি ঈমান এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিভিন্ন স্থানে এই মূল ভিত্তিগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন:
১ - মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং সেই কিতাবের প্রতি যা তিনি তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন এবং সেই কিতাবের প্রতি যা তিনি ইতিপূর্বে অবতীর্ণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি কুফরি করে, সে সুদূরপ্রসারী পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।" [আন-নিসা: ১৩৬] (আন-নিসা: ১৩৬)।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
2 - وقوله تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة: 177] (البقرة: 177) .
3 - وقوله تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة: 285] (البقرة: 285) .
4 - وقوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] (القمر: 49) .
5 - وثبت في صحيح مسلم من حديث عمر بن الخطاب المشهور بحديث جبريل «أن جبريل سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أخبرني عن الإيمان، قال: (أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره» (1) .
فهذه أصول ستة عظيمة يقوم عليها الإيمان، بل لا إيمان لأحد إلا بالإيمان بها، وهي أصول مترابطة متلازمة، لا ينفك بعضها عن بعض، فالإيمان ببعضها مستلزم للإيمان بباقيها، والكفر ببعضها كفر بباقيها.
ولذا كان متأكدا في حق كل مسلم أن تعظم عنايته واهتمامه بهذه الأصول علما وتعلما وتحقيقا.
وفيما يلي بيان ما يتعلق بالأصل الأول من هذه الأصول وهو الإيمان بالله.
--------------------------------------------
২ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; কিন্তু পুণ্যবান সেই ব্যক্তি যে ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, কিতাবের প্রতি এবং নবীগণের প্রতি} [আল-বাকারা: ১৭৭] (আল-বাকারা: ১৭৭) ।
৩ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি; আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলেছে, আমরা শুনেছি ও আনুগত্য করেছি; হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল} [আল-বাকারা: ২৮৫] (আল-বাকারা: ২৮৫) ।
৪ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্দিষ্ট পরিমাপে (তাকদীর অনুযায়ী)} [আল-ক্বামার: ৪৯] (আল-ক্বামার: ৪৯) ।
৫ - আর সহীহ মুসলিমে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণিত জিবরাঈলের হাদীস নামে প্রসিদ্ধ বর্ণনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, «জিবরাঈল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: (ঈমান হলো) আপনি ঈমান আনবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি এবং ঈমান আনবেন ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি» (১)।
এই হলো ঈমানের ছয়টি মহান মূল ভিত্তি যার ওপর ঈমান প্রতিষ্ঠিত। বরং এগুলোর প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত কারো ঈমানই গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এগুলো এমন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও অবিচ্ছেদ্য মূলনীতি যে একটি অপরটি থেকে আলাদা করা যায় না। সুতরাং এগুলোর কোনো অংশের প্রতি ঈমান আনা অবশিষ্টগুলোর প্রতি ঈমান আনাকে অনিবার্য করে এবং কোনো একটির সাথে কুফরী করা অবশিষ্টগুলোর সাথে কুফরী করারই শামিল।
এ কারণে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটি আবশ্যক যে, তারা জ্ঞান অর্জন, শিক্ষা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই মূল ভিত্তিগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করবে।
নিম্নে এই মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে প্রথম ভিত্তি অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ঈমান সংক্রান্ত বিষয়ের বর্ণনা দেওয়া হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[الباب الأول الإيمان بالله]الباب الأول: الإيمان بالله إن الإيمان بالله عز وجل هو أهم أصول الإيمان، وأعظمها شأنا، وأعلاها قدرا، بل هو أصل أصول الإيمان، وأساس بنائه، وقوام أمره، وبقية الأصول متفرعة منه، راجعة إليه، مبنية عليه. والإيمان بالله عز وجل هو الإيمان بوحدانيته سبحانه في ربوبية، وألوهيته، وأسمائه وصفاته، فهذه أصول ثلاثة يقوم عليها الإيمان بالله، بل إن الدين الإسلامي الحنيف إنما سمي توحيدا لأن مبناه على أن الله واحد في ملكه وأفعاله لا شريك له، وواحد في ذاته وأسمائه وصفاته لا نظير له، وواحد في ألوهيته وعبادته لا ندَّ له.
وبهذا يعلم أن توحيد الأنبياء والمرسلين ينقسم إلى ثلاثة أقسام:
القسم الأول: توحيد الربوبية، وهو الإقرار بأنَّ الله تعالى رب كلّ شيء ومليكُه وخالقُه ورازقُه، وأَنه المحيي المميتُ النافعُ الضار، المتفرِّدُ بالإجابة عند الاضطرار، الذي له الأمر كله، وبيده الخير كله، وإليه يُرجع الأمرُ كله، لا شريك له في ذلك.
القسم الثاني: توحيد الألوهية، وهو إفراد الله وحده بالذلِّ والخضوع والمحبَّة والخشوع والركوع والسجود والذبح والنذر، وسائر أنواع العبادة لا شريك له.
القسم الثالث: توحيد الأسماء والصفات، وهو إفراد الله تعالى. بما سمى ووصف نفسه في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم وتنزيهه عن النقائص والعيوب ومماثلة الخلق فيما هو من خصائصه والإقرار بأنَّ الله بكلِّ شيء عليم، وعلى كلِّ شيء قدير، وأنَّه الحيُّ القيُّوم الذي لا تأخذه سِنة ولا نوم، له المشيئة النافذة والحكمة البالغة، وأنَّه سميع بصير، رؤوف رحيم، على العرش استوى، وعلى الملك احتوى، وأنَّه المَلِك القدوس السلام المؤمن
[প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর প্রতি ঈমান]প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর প্রতি ঈমান। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো ঈমানের মূলনীতিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদার দিক থেকে মহান এবং সম্মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ। বরং এটি ঈমানের মূলনীতিসমূহের মূল, এর ইমারতের ভিত্তি এবং এর বিষয়ের স্থিতিশীলতা। অন্যান্য সকল মূলনীতি এ থেকে উদ্ভূত, এরই দিকে প্রত্যাবর্তনশীল এবং এর উপরই প্রতিষ্ঠিত। আর মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাত (উপাসনা) এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর একত্বের প্রতি ঈমান আনা। সুতরাং এগুলোই সেই তিনটি মূলনীতি যার উপর আল্লাহর প্রতি ঈমান দণ্ডায়মান। বরং খাঁটি দ্বীন ইসলামকে কেবল তাওহীদ নামেই অভিহিত করা হয়েছে, কারণ এর ভিত্তি হলো—আল্লাহ তাঁর রাজত্ব ও কার্যাবলিতে এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি তাঁর সত্তা, নামসমূহ ও গুণাবলিতে এক, তাঁর কোনো সদৃশ নেই; এবং তিনি তাঁর উলুহিয়্যাত ও ইবাদতে এক, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই।
এর মাধ্যমে জানা যায় যে, নবী ও রাসূলগণের তাওহীদ তিন ভাগে বিভক্ত:
প্রথম ভাগ: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত। আর তা হলো এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিসের রব, মালিক, স্রষ্টা ও রিযিকদাতা। এবং তিনিই জীবন দানকারী, মৃত্যু দানকারী, উপকারকারী ও অপকারকারী। তিনি নিরুপায় অবস্থায় আহবানে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়। সমস্ত বিষয় তাঁরই জন্য, সমস্ত কল্যাণ তাঁরই হাতে এবং সমস্ত বিষয় তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়; এতে তাঁর কোনো শরীক নেই।
দ্বিতীয় ভাগ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাত। আর তা হলো বিনয়, আনুগত্য, ভালোবাসা, ভয়, রুকু, সিজদা, যবেহ, মানত এবং অন্যান্য সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহকে একক করা, যাঁর কোনো শরীক নেই।
তৃতীয় ভাগ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত। আর তা হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে নিজেকে যে সমস্ত নামে ও গুণে অভিহিত করেছেন, সেগুলোতে আল্লাহ তাআলাকে একক করা। এবং তাঁকে সকল প্রকার ত্রুটি ও খুঁত থেকে পবিত্র রাখা এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য থেকে মুক্ত রাখা। আর এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক, যাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁরই রয়েছে কার্যকর ইচ্ছা ও সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়। তিনি আরশের উপর উঠেছেন, এবং রাজত্বের ওপর কর্তৃত্বশীল হয়েছেন। আর তিনি হলেন বাদশাহ, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তা দানকারী।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المهيمن العزيز الجبَّار المتكبِّر، سبحان الله عمَّا يشركون، إلى غير ذلك من الأسماء الحسنى، والصفات العلى.
ولكل قسم من هذه الأقسام الثلاثة دلائلُ كثيرة من الكتاب والسنة.
فالقرآن كله في التوحيد، وحقوقه وجزائه وفي شأن الشرك وأهله وجزائهم.
وهذه الأقسام الثلاثة للتوحيد قد أخذها أهل العلم بالاستقراء والتتبع لنصوص الكتاب والسنة، وهو استقراء تامٌّ لنصوص الشرع، أفاد هذه الحقيقة الشرعية، وهي أنّ التوحيد المطلوب من العباد هو الإيمان بوحدانية الله في ربوبيته وألوهيَّته وأسمائه وصفاته، فمَن لم يأت بهذا جميعه فليس بمؤمن، وفيما يلي فصول ثلاثة في كل فصل منها بيان لقسم من هذه الأقسام:
আল-মুহাইমিন, আল-আযীয, আল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির; তারা যা অংশীদার করে আল্লাহ তা হতে অতি পবিত্র। এছাড়াও অন্যান্য সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি রয়েছে।
এই তিনটি প্রকারের প্রতিটির স্বপক্ষে কিতাব ও সুন্নাহ হতে বহু দলিল বিদ্যমান।
সমগ্র কুরআনই তাওহীদ, এর অধিকারসমূহ ও এর প্রতিদান এবং শিরক, শিরককারী ও তাদের প্রতিদান সংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে অবতীর্ণ।
তাওহীদের এই তিনটি প্রকার আলেমগণ কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। এটি শরয়ী ভাষ্যসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান, যা এই শরয়ী সত্যটি প্রদান করে যে, বান্দাদের নিকট কাঙ্ক্ষিত তাওহীদ হলো আল্লাহর রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব), উলুহিয়াত (উপাসনা) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির একত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর সবকয়টি নিয়ে আসবে না সে মুমিন নয়। নিম্নে তিনটি পরিচ্ছেদ দেওয়া হলো, যার প্রতিটিতে এই প্রকারগুলোর মধ্য হতে একটির বর্ণনা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
[الفصل الأول توحيد الربوبية]
[المبحث الأول معناه وأدلته من الكتاب والسنة]الفصل الأول: توحيد الربوبية المبحث الأول: معناه وأدلته من الكتاب والسنة والعقل والفطرة أولا: تعريفه: أ- لغة: الربوبية مصدر من الفعل ربب، ومنه الربُّ، فالربوبية صفة الله، وهي مأخوذة من اسم الرب، والرب في كلام العرب يطلق على معان: منها المالك، والسيد المطاع، والمُصْلِح.
ب- أما في الاصطلاح: فإن توحيد الربوبية هو إفراد الله بأفعاله.
ومنها الخلق والرزق والسيادة والإنعام والملك والتصوير، والعطاء والمنع، والنفع والضر، والإحياء والإماتة، والتدبير المحكم، والقضاء والقدر، وغير ذلك من أفعاله التي لا شريك له فيها، ولهذا فإن الواجب على العبد أن يؤمن بذلك كله.
ثانيا: أدلته: أ- من الكتاب: قوله تعالى: {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ - هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [لقمان: 10 - 11] (لقمان: 10، 11) . وقوله تعالى: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} [الطور: 35] (الطور: 35)
ب- من السنة: ما رواه الإمام أحمد وأبو داود من حديث عبد الله بن الشخير رضي الله عنه مرفوعا وفيه: (السيد الله تبارك وتعالى. .) . وقد ثبت في
[প্রথম অধ্যায়: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ][প্রথম পরিচ্ছেদ: এর অর্থ এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এর দলিলসমূহ]প্রথম অধ্যায়: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ। প্রথম পরিচ্ছেদ: এর অর্থ এবং কিতাব, সুন্নাহ, বিবেক ও ফিতরাত (সহজাত প্রবৃত্তি) থেকে এর দলিলসমূহ। প্রথমত: এর সংজ্ঞা: ক- আভিধানিক অর্থ: রুবুবিয়্যাহ শব্দটি ‘রাব্বাবা’ ক্রিয়া থেকে নির্গত মাসদার (মূল শব্দ), আর এ থেকেই ‘রব’ শব্দটি এসেছে। সুতরাং রুবুবিয়্যাহ হলো আল্লাহর একটি গুণ, যা ‘রব’ নাম থেকে গৃহীত। আরবদের ভাষায় ‘রব’ শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: যেমন—মালিক (অধিপতি), মান্যবর নেতা এবং সংশোধনকারী।
খ- পারিভাষিক অর্থ: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ হলো আল্লাহকে তাঁর কার্যাবলিতে একক সাব্যস্ত করা।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সৃষ্টি করা, রিজিক দান করা, আধিপত্য, নেয়ামত দান, মালিকানা, রূপ দান, দান করা ও না দেওয়া, উপকার ও অপকার করা, জীবন দান ও মৃত্যু দান করা, সুনিপুণ পরিচালনা, ফয়সালা ও তকদির এবং তাঁর এমন সব কার্যাবলি যাতে তাঁর কোনো শরিক নেই। এ কারণে বান্দার ওপর আবশ্যক হলো এই সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা।
দ্বিতীয়ত: এর দলিলসমূহ: ক- কিতাব (কুরআন) থেকে: মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করেছেন খুঁটি ছাড়া যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব ধরনের জীবজন্তু। আর আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর এতে উৎপন্ন করেছি সব ধরনের কল্যাণকর উদ্ভিদ। এটা আল্লাহর সৃষ্টি, সুতরাং তিনি ছাড়া অন্যেরা কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও। বরং জালিমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।} [লুকমান: ১০ - ১১] (লুকমান: ১০, ১১)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?} [আত-তুর: ৩৫] (আত-তুর: ৩৫)
খ- সুন্নাহ থেকে: যা ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: (সাইয়্যিদ বা প্রকৃত কর্তা হলেন আল্লাহ, যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ...)। এবং এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الترمذي وغيره أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في وصيته لابن عباس رضي الله عنهما:. . «واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك، وإن اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك، رفعت الأقلام وجفت الصحف» (1) .
ج- دلالة العقل: دل العقل على وجود الله تعالى وانفراده بالربوبية وكمال قدرته على الخلق وسيطرته عليهم، وذلك عن طريق النظر والتفكر في آيات الله الدالة عليه. وللنظر في آيات الله والاستدلال بها على ربوبيته طرق كثيرة بحسب تنوع الآيات وأشهرها طريقان:
الطريق الأول: النظر في آيات الله في خلق النفس البشرية وهو ما يعرف بـ (دلالة الأنفس) ، فالنفس آية من آيات الله العظيمة الدالة على تفرد الله وحده بالربوبية لا شريك له، كما قال تعالى: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ} [الذاريات: 21] (الذاريات: 21) ، وقال تعالى: {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا} [الشمس: 7] (الشمس: 7) ، ولهذا لو أن الإنسان أمعن النظر في نفسه وما فيها من عجائب صنع الله لأرشده ذلك إلى أن له ربا خالقا حكيما خبيرا؛ إذ لا يستطيع الإنسان أن يخلق النطفة التي كان منها؟ أو أن يحولها إلى علقة، أو يحول العلقة إلى مضغة، أو يحول المضغة عظاما، أو يكسو العظام لحما؟
الطريق الثاني: النظر في آيات الله في خلق الكون وهو ما يعرف بـ (دلالة الآفاق) ، وهذه كذلك آية من آيات الله العظيمة الدالة على ربوبيته، قال الله تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: 53] (فصلت: 53) .
--------------------------------------------
তিরমিযী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-কে প্রদত্ত তাঁর অসিয়তে বলেছিলেন: "...এবং জেনে রেখো যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার কোনো উপকার করার জন্য একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাসমূহ শুকিয়ে গেছে।" (১) .
গ- বিবেকের প্রমাণ: বিবেক মহান আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর রুবুবিয়্যাতে একত্ব, সৃষ্টির ওপর তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতা এবং তাদের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ দেয়। আর তা আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণবাহী নিদর্শনসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত ও চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত এবং সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর রুবুবিয়্যাতের ওপর দলিল গ্রহণের পদ্ধতি নিদর্শনসমূহের বৈচিত্র্য অনুযায়ী অনেক; যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ পদ্ধতি হলো দুটি:
প্রথম পদ্ধতি: মানবসত্তা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, যা (সত্তাগত প্রমাণ) হিসেবে পরিচিত। কেননা মানুষের নিজ সত্তা আল্লাহর মহান নিদর্শনসমূহের একটি, যা কোনো অংশীদার ব্যতীত আল্লাহর একক রুবুবিয়্যাতের প্রমাণ দেয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন রয়েছে), তবে কি তোমরা প্রত্যক্ষ করবে না?} [আদ-যারিয়াত: ২১] (আদ-যারিয়াত: ২১), এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন} [আশ-শামস: ৭] (আশ-শামস: ৭)। এই কারণেই, মানুষ যদি তার নিজের মধ্যে এবং তাতে আল্লাহর নিপুণ কারুকার্যের যে বিস্ময়কর নিদর্শন রয়েছে তাতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করে, তবে তা তাকে পথ দেখাবে যে, তার একজন পালনকর্তা, স্রষ্টা, প্রজ্ঞাময় এবং সর্বজ্ঞাতা রয়েছেন; কারণ মানুষ কি সেই বীর্যবিন্দু সৃষ্টি করতে সক্ষম যা থেকে সে তৈরি হয়েছে? অথবা তাকে রক্তপিণ্ডে রূপান্তর করতে, কিংবা রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে রূপান্তর করতে, কিংবা মাংসপিণ্ডকে হাড়ে রূপান্তর করতে, কিংবা হাড়কে মাংস দিয়ে আবৃত করতে কি সে সক্ষম?
দ্বিতীয় পদ্ধতি: মহাবিশ্ব সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, যা (দিগন্তের প্রমাণ) হিসেবে পরিচিত। এটিও আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের প্রমাণবাহী মহান নিদর্শনসমূহের একটি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করব দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটিই সত্য। আপনার পালনকর্তা কি সব বিষয়ে সাক্ষী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নন?} [ফুসসিলাত: ৫৩] (ফুসসিলাত: ৫৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن تأمل الآفاق وما في هذا الكون من سماء وأرض، وما اشتملت عليه السماء من نجوم وكواكب وشمس وقمر، وما اشتملت عليه الأرض من جبال وأشجار وبحار وأنهار، وما يكتنف ذلك من ليل ونهار وتسيير هذا الكون كله بهذا النظام الدقيق؛ دله ذلك على أن هناك خالقا لهذا الكون، موجدًا له مدبِّرًا لشؤونه، وكلما تدبر العاقل في هذه المخلوقات وتغلغل فكره في بدائع الكائنات علم أنها خُلقت للحق وبالحق، وأنها صحائف آيات، وكتب براهين ودلالات على جميع ما أخبر به الله عن نفسه وأدلة على وحدانيته.
وقد جاء في بعض الآثار أن قوما أرادوا البحث مع الإمام أبي حنيفة في تقرير توحيد الربوبية، فقال لهم رحمه الله: " أخبروني قبل أن نتكلم في هذه المسألة عن سفينة في دجلة تذهب فتمتلئ من الطعام وغيره بنفسها وتعود بنفسها، فترسو بنفسها وترجع، كل ذلك من غير أن يديرها أحد؟ ".
فقالوا: " هذا محال لا يمكن أبدا. فقال لهم: إذا كان هذا محالا في سفينة فكيف في هذا العالم كله علوه وسفله؟ ".
فنبه إلى أن اتساق العالم ودقة صنعه وتمام خلقه دليل على وحدانية خالقه وتفرده.
যে ব্যক্তি দিগন্তসমূহ এবং এই মহাবিশ্বে যা কিছু আছে যেমন আসমান ও জমিন, এবং আসমানে যা কিছু রয়েছে যেমন নক্ষত্র, গ্রহ, সূর্য ও চন্দ্র, আর জমিনে যা কিছু রয়েছে যেমন পাহাড়, বৃক্ষ, সমুদ্র ও নদীসমূহ, এবং এসকল বিষয়কে পরিবেষ্টনকারী রাত ও দিন এবং এই নিখুঁত নিয়মে এই সমগ্র মহাবিশ্বের পরিচালনা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে; তা তাকে এই দিশা দেবে যে, নিশ্চয়ই এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা রয়েছেন, যিনি এর অস্তিত্বদানকারী এবং এর বিষয়াবলির পরিচালক। বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখনই এই সৃষ্টিসমূহ নিয়ে চিন্তা করবে এবং তাঁর নিপুণ সৃষ্টিশৈলীর মাঝে নিজ চিন্তাকে নিবিষ্ট করবে, সে জানতে পারবে যে এগুলো সত্যের জন্য এবং সত্যের মাধ্যমেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এগুলো হলো আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তার সপক্ষে নিদর্শনাবলির পত্র এবং তাঁর একত্বের ওপর অসংখ্য প্রমাণ ও দলিলের কিতাব।
কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, একদল লোক ইমাম আবু হানিফার সাথে রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলেন। তখন তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাদের বললেন: "এই বিষয়ে কথা বলার আগে আমাকে দজলা নদীর একটি জাহাজ সম্পর্কে সংবাদ দাও, যা নিজে নিজেই যায় এবং খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসে নিজে নিজেই পূর্ণ হয়, আবার নিজে নিজেই ফিরে আসে, এরপর নিজে নিজেই নোঙর করে এবং পুনরায় ফিরে যায়; আর এই সব কিছুই ঘটে কোনো পরিচালক ছাড়াই?"
তারা বলল: "এটি অসম্ভব, যা কখনোই হতে পারে না। তিনি তাদের বললেন: যদি একটি জাহাজের ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব হয়, তবে এই মহাবিশ্বের ঊর্ধবজগত ও নিম্নজগতের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব?"
অতঃপর তিনি এ বিষয়ে সজাগ করলেন যে, জগতের সুশৃঙ্খলতা, এর নিপুণ নির্মাণশৈলী এবং সৃষ্টির পূর্ণতা এর স্রষ্টার একত্ব ও অনন্যতার প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[المبحث الثاني بيان أن الإقرار بهذا التوحيد وحده لا ينجي من العذاب]المبحث الثاني:
بيان أن الإقرار بهذا التوحيد وحده لا ينجي من العذاب إن توحيد الربوبية هو أحد أنواع التوحيد الثلاثة كما تقدم؛ ولذا فإنه لا يصح إيمان أحد ولا يتحقق توحيده إلا إذا وحد الله في ربوبيته، لكن هذا النوع من التوحيد ليس هو الغاية من بعثة الرسل عليهم السلام، ولا ينجي وحده من عذاب الله ما لم يأت العبد بلازمه توحيد الألوهية.
ولذا يقول الله تعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} [يوسف: 106] (يوسف: 106) ، والمعنى أي: ما يقر أكثرهم بالله ربا وخالقا ورازقا ومدبرا- وكل ذلك من توحيد الربوبية - إلا وهم مشركون معه في عبادته غيره من الأوثان والأصنام التي لا تضر ولا تنفع، ولا تعطي ولا تمنع.
وبهذا المعنى للآية قال المفسرون من الصحابة والتابعين.
قال ابن عباس رضي الله عنهما: " من إيمانهم إذا قيل لهم من خلق السماء، ومن خلق الأرض ومن خلق الجبال؟ قالوا: الله وهم مشركون ".
وقال عِكْرِمَة: " تسألهم من خلقهم ومن خلق السماوات والأرض فيقولون الله فذلك إيمانهم بالله، وهم يعبدون غيره ".
وقال مجاهد: " إيمانهم قولهم: الله خالقنا ويرزقنا ويميتنا فهذا إيمان مع شرك عبادتهم غيره ".
وقال عبد الرحمن بن زيد بن أسلم بن زيد: " ليس أحد يعبد مع الله غيره إلا وهو مؤمن بالله ويعرف أن الله ربُّه، وأنَّ الله خالقُه ورازقُه، وهو
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি স্পষ্ট করা যে, কেবল এই তাওহিদের স্বীকৃতিই আজাব থেকে মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
এটি স্পষ্ট করা যে, কেবল এই তাওহিদের স্বীকৃতিই আজাব থেকে মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। নিশ্চয়ই তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ হলো তাওহিদের তিন প্রকারের একটি যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে; অতএব কারও ঈমান শুদ্ধ হবে না এবং কারও তাওহিদ বাস্তবায়িত হবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহকে তাঁর রুবুবিয়্যাতে এক বলে স্বীকার করবে। তবে এই প্রকারের তাওহিদই রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য নয় এবং কেবল এটি আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি দেয় না যতক্ষণ না বান্দা এর অপরিহার্য দাবি তাওহিদুর উলুহিয়্যাহ পালন করে।
এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু তারা মুশরিক।" [ইউসুফ: ১০৬] (ইউসুফ: ১০৬), আর এর অর্থ হলো: তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে রব, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা ও পরিচালক হিসেবে স্বীকার করে—আর এসবই তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ-র অন্তর্ভুক্ত—কিন্তু এর পাশাপাশি তারা তাঁর ইবাদতে মূর্তিপূজা ও প্রতিমার মতো অন্যদের শরিক করে, যারা কোনো ক্ষতি করতে পারে না, কোনো উপকারও করতে পারে না এবং যারা কোনো কিছু দিতে পারে না আর বারণও করতে পারে না।
আয়াতের এই অর্থ সাহাবী ও তাবিঈগণের মুফাসসিরগণ বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "তাদের ঈমানের অবস্থা এমন যে, যদি তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, আকাশ কে সৃষ্টি করেছে? জমিন কে সৃষ্টি করেছে? পাহাড় কে সৃষ্টি করেছে? তারা বলবে: আল্লাহ; অথচ তারা মুশরিক।"
ইকরিমাহ বলেন: "আপনি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করেন যে কে তাদের সৃষ্টি করেছে এবং কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে, তবে তারা বলবে আল্লাহ; এটাই আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান, অথচ তারা অন্য কিছুর ইবাদত করে।"
মুজাহিদ বলেন: "তাদের ঈমান হলো তাদের এই কথা যে: 'আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনি আমাদের রিযিক দেন এবং তিনি আমাদের মৃত্যু দেন'; সুতরাং এটি এমন এক ঈমান যা অন্যদের ইবাদত করারূপ শিরকের সাথে মিশ্রিত।"
আবদুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনে আসলাম ইবনে যাইদ বলেন: "আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করে এমন কেউ নেই যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে না এবং এটা জানে না যে আল্লাহই তার রব, আল্লাহই তার সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতা, এবং তিনি..."
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يشرك به، ألا ترى كيف قال إبراهيم: {قَالَ أَفَرَأَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ - أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ - فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 75 - 77] (الشعراء: 75- 77) " (1) .
والنصوص عن السلف في هذا المعنى كثيرة، بل لقد كان المشركون زمن النبي صلى الله عليه وسلم مقرين بالله ربا خالقا رازقا مدبرا، وكان شركهم به من جهة العبادة حيث اتخذوا الأنداد والشركاء يدعونهم ويستغيثون بهم وينزلون بهم حاجاتهم وطلباتهم.
وقد دل القرآن الكريم في مواطن عديدة منه على إقرار المشركين بربوبية الله مع إشراكهم به في العبادة، ومن ذلك قوله تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ} [العنكبوت: 61] (العنكبوت: 61) ، وقوله تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ} [العنكبوت: 63] (العنكبوت: 63) ، وقوله تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ} [الزخرف: 87] (الزخرف: 87) ، وقوله تعالى: {قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ - قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ - قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} [المؤمنون: 84 - 89] (المؤمنون: 84- 89) .
فلم يكن المشركون يعتقدون أن الأصنام هي التي تنزل الغيث وترزق
--------------------------------------------
তাঁর সাথে শরিক করা হয়। আপনি কি দেখেননি ইবরাহিম কীভাবে বলেছিলেন: {তিনি বললেন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যাদের তোমরা ইবাদত করতে - তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষগণ - নিশ্চয় তারা আমার শত্রু, কেবল সৃষ্টিজগতের রব ছাড়া} [আশ-শুআরা: ৭৫-৭৭] (আশ-শুআরা: ৭৫- ৭৭) (১)।
এই অর্থে সালাফদের থেকে বর্ণিত অসংখ্য উক্তি রয়েছে। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মুশরিকরা আল্লাহকে রব, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং পরিচালক হিসেবে স্বীকার করত। তাদের শিরক ছিল ইবাদতের ক্ষেত্রে, যেখানে তারা সমকক্ষ ও শরিক গ্রহণ করেছিল যাদের তারা ডাকত, যাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত এবং যাদের কাছে তাদের অভাব ও চাহিদাগুলো পেশ করত।
পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে মুশরিকরা ইবাদতে শিরক করা সত্ত্বেও আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব স্বীকার করত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে বশীভূত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তবে তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে?} [আল-আনকাবুত: ৬১] (আল-আনকাবুত: ৬১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দিয়ে জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না} [আল-আনকাবুত: ৬৩] (আল-আনকাবুত: ৬৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে তাদের সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। তবে তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে?} [আয-যুখরুফ: ৮৭] (আয-যুখরুফ: ৮৭), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো? - তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? - বলুন, সাত আসমানের রব কে এবং মহান আরশের রব কে? - তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? - বলুন, কার হাতে সবকিছুর কর্তৃত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় দিতে পারে না, যদি তোমরা জানো? - তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কোথা থেকে তোমাদের ওপর জাদু করা হচ্ছে?} [আল-মুমিনুন: ৮৪-৮৯] (আল-মুমিনুন: ৮৪- ৮৯)।
সুতরাং মুশরিকরা এটা বিশ্বাস করত না যে মূর্তিরাই বৃষ্টি বর্ষণ করে এবং রিযিক দান করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
العالم وتدبر شؤونه، بل كانوا يعتقدون أن ذلك من خصائص الرب سبحانه، ويقرون أن أوثانهم التي يدعون من دون الله مخلوقة لا تملك لأنفسها ولا لعابديها ضرا ولا نفعا استقلالا ولا موتا ولا حياة ولا نشورا، ولا تسمع ولا تبصر، ويقرون أن الله هو المتفرد بذلك لا شريك له، ليس إليهم ولا إلى أوثانهم شيء من ذلك، وأنه سبحانه الخالق وما عداه مخلوق والرب وما عداه مربوب، غير أنهم جعلوا له من خلقه شركاء ووسائط، يشفعون لهم بزعمهم عند الله ويقربونهم إليه زلفى؛ ولذا قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3] (الزمر: 3) ، أي ليشفعوا لهم عند الله في نصرهم ورزقهم وما ينوبهم من أمر الدنيا.
ومع هذا الإقرار العام من المشركين لله بالربوبية إلا أنه لم يدخلهم في الإسلام بل حكم الله فيهم بأنهم مشركون كافرون وتوعدهم بالنار والخلود فيها واستباح رسوله صلى الله عليه وسلم دماءهم وأموالهم لكونهم لم يحققوا لازم توحيد الربوبية وهو توحيد الله في العبادة.
وبهذا يتبين أن الإقرار بتوحيد الربوبية وحده دون الإتيان بلازمه توحيد الألوهية لا يكفي ولا ينجي من عذاب الله، بل هو حجة بالغة على الإنسان تقتضي إخلاص الدين لله وحده لا شريك له، وتستلزم إفراد الله وحده بالعبادة. فإذا لم يأت بذلك فهو كافر حلال الدم والمال.
বিশ্বজগত পরিচালনা ও এর বিষয়াদির ব্যবস্থাপনা; বরং তারা বিশ্বাস করত যে এটি মহান রবের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারা স্বীকার করত যে, আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের আহ্বান করে সেই প্রতিমাগুলো সৃষ্ট; তারা নিজেদের জন্য কিংবা তাদের উপাসকদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নয়, এবং তারা মৃত্যু, জীবন বা পুনরুত্থানেরও কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা শোনেও না এবং দেখেও না। তারা স্বীকার করত যে, আল্লাহ এই সকল বিষয়ে একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। এতে তাদের বা তাদের প্রতিমাগুলোর কোনো অধিকার নেই। তিনি পবিত্র স্রষ্টা এবং তিনি ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্ট, তিনি রব এবং তিনি ব্যতীত সবকিছুই তাঁর প্রতিপালিত সৃষ্টি। তবে তারা তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে আল্লাহর জন্য কিছু অংশীদার ও মধ্যস্থতাকারী সাব্যস্ত করেছিল; তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ করবে এবং তাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে (তারা বলে), আমরা তাদের ইবাদত কেবল একারণেই করি যে তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।" [সূরা আয-যুমার: ৩], অর্থাৎ যাতে তারা আল্লাহর নিকট তাদের সাহায্য, রিযিক এবং পার্থিব অন্যান্য বিষয়ে তাদের জন্য সুপারিশ করতে পারে।
মুশরিকদের পক্ষ থেকে আল্লাহর রুবুবিয়্যতের (প্রভুত্বের) এই সাধারণ স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও এটি তাদের ইসলামে প্রবেশ করায়নি; বরং আল্লাহ তাদের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন যে তারা মুশরিক ও কাফির এবং তাদের জাহান্নাম ও সেখানে চিরকাল অবস্থানের হুমকি দিয়েছেন। আর তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের রক্ত ও সম্পদ বৈধ করেছেন, কারণ তারা তাওহীদে রুবুবিয়্যতের অপরিহার্য দাবি তথা ইবাদতে আল্লাহর একত্ববাদ বাস্তবায়ন করেনি।
এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, তাওহীদে রুবুবিয়্যতের অপরিহার্য দাবি তাওহীদে উলুহিয়্যত পালন করা ছাড়া কেবল রুবুবিয়্যতের স্বীকৃতি প্রদানই যথেষ্ট নয় এবং তা আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি দেয় না। বরং এটি মানুষের বিরুদ্ধে এক অকাট্য দলিল যা অংশীদারহীন আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করার দাবি রাখে এবং ইবাদতে আল্লাহকে একক করার আবশ্যকতা তৈরি করে। সুতরাং কেউ যদি তা পালন না করে তবে সে কাফির, যার রক্ত ও সম্পদ বৈধ।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[المبحث الثالث مظاهر الانحراف في توحيد الربوبية]المبحث الثالث: مظاهر الانحراف في توحيد الربوبية بالرغم من أن توحيد الربوبية أمر مركوز في الفطر، مجبولة عليه النفوس، متكاثرة على تقريره الأدلة، إلا أنه وجد في الناس من حصل عنده انحراف فيه، ويمكن تلخيص مظاهر الانحراف في هذا الباب فيما يلي:
1 - جحد ربوبية الله أصلًا وإنكار وجوده سبحانه، كما يعتقد ذلك الملاحدة الذين يسندون إيجاد هذه المخلوقات إلى الطبيعة، أو إلى تقلب الليل والنهار، أو نحو ذلك {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} [الجاثية: 24] (الجاثية: 24) .
2 - جحد بعض خصائص الرب سبحانه وإنكار بعض معاني ربوبيته، كمن ينفي قدرة الله على إماتته أو إحيائه بعد موته، أو جلب النفع له أو دفع الضر عنه، أو نحو ذلك.
3 - إعطاء شيء من خصائص الربوبية لغير الله سبحانه، فمن اعتقد وجود متصرف مع الله عز وجل في أي شيء من تدبير الكون من إيجاد أو إعدام أو إحياء أو إماتة أو جلب خير أو دفع شر أو غير ذلك من معاني الربوبية فهو مشرك بالله العظيم.
[তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদে রুবুবীয়াতের ক্ষেত্রে বিচ্যুতিসমূহ]তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদে রুবুবীয়াতের ক্ষেত্রে বিচ্যুতিসমূহ। যদিও তাওহীদে রুবুবীয়াত মানুষের ফিতরাতের (স্বভাবজাত) অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষের অন্তরে গেঁথে দেয়া হয়েছে এবং যার সপক্ষে অগণিত দলীল বিদ্যমান, তা সত্ত্বেও মানুষের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যাদের মধ্যে এ বিষয়ে বিচ্যুতি ঘটেছে। এই অধ্যায়ে বিচ্যুতির ধরণগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করা যেতে পারে:
১ - মূলত আল্লাহর রুবুবীয়াতকে অস্বীকার করা এবং তাঁর পবিত্র অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। যেমনটি নাস্তিকরা বিশ্বাস করে, যারা এই সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পেছনে প্রকৃতি অথবা রাত-দিনের পরিবর্তন বা এই জাতীয় বিষয়কে কারণ মনে করে। "এবং তারা বলে, 'আমাদের এই পার্থিব জীবনই তো সব; আমরা মরি ও বাঁচি, আর কালই (সময়) কেবল আমাদের ধ্বংস করে'।" [সূরা আল-জাসিয়া: ২৪] (আল-জাসিয়া: ২৪)।
২ - রবের কিছু বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করা এবং তাঁর রুবুবীয়াতের কিছু অর্থকে অস্বীকার করা। যেমন—কারো এই বিশ্বাস করা যে, তাকে মৃত্যু দেয়ার বা মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করার ক্ষমতা আল্লাহর নেই, অথবা তার উপকার করা বা তার ক্ষতি দূর করার ক্ষমতা আল্লাহর নেই, অথবা এই জাতীয় বিষয়।
৩ - রুবুবীয়াতের কোনো বৈশিষ্ট্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করা। সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্য কোনো পরিচালক রয়েছে—হোক তা সৃষ্টি করা, ধ্বংস করা, জীবিত করা, মৃত করা, কল্যাণ বয়ে আনা বা অকল্যাণ দূর করা কিংবা রুবুবীয়াতের অন্য কোনো অর্থ—তবে সে মহান আল্লাহর সাথে শিরককারী হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[الفصل الثاني توحيد الألوهية]الفصل الثاني: توحيد الألوهية الألوهية مشتقة من اسم الإله، أي المعبود المطاع، فالإله اسم من أسماء الله الحسنى، والألوهية صفة من صفات الله العظيمة، فهو سبحانه المألوه المعبود الذي يجب أن تألهه القلوب وتخضع له وتذل وتنقاد؛ لأنه سبحانه الرب العظيم، الخالق لهذا الكون، المدبر لشؤونه، الموصوف بكل كمال، المنزه عن كل نقص، ولهذا فإن الذل والخضوع لا ينبغي إلا له، فحيث كان متفردا بالخلق والإنشاء والإعادة لا يشركه في ذلك أحد وجب أن ينفرد وحده بالعبادة دون سواه لا يشرك معه في عبادته أحد.
فتوحيد الألوهية هو إفراد الله وحده بالعبادة، وذلك بأن يعلم العبدُ علمَ اليقِين أن الله وحده هو المألوه المعبود على الحقيقة، وأن صفات الألوهية ومعانيها ليست موجودة في أحد من المخلوقات ولا يستحقها إلا الله تعالى، فإذا علم العبد ذلك واعترف به حقا أفرد الله بالعبادة كلها الظاهرة والباطنة، فيقوم بشرائع الإسلام الظاهرة كالصلاة والزكاة والصوم والحج والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وبرِّ الوالدين وصلة الأرحام، ويقوم بأصوله الباطنة من الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره، لا يقصد بشيء من ذلك غرضا من الأغراض غير رضا ربه وطلب ثوابه.
وفي هذا الفصل سيتم تناول جملةٍ من المباحث المهمة المتعلقة بهذا النوع من التوحيد.
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ। 'উলুহিয়্যাহ' শব্দটি 'ইলাহ' নাম হতে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো এমন উপাস্য যাঁর আনুগত্য করা হয়। সুতরাং 'ইলাহ' হলো আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নাম, আর 'উলুহিয়্যাহ' হলো আল্লাহর মহান গুণাবলির একটি গুণ। তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা হলেন সেই 'মালুহ' বা প্রকৃত উপাস্য, যাঁর ইবাদত করা অন্তরসমূহের জন্য আবশ্যক এবং যাঁর সমীপে মস্তক অবনত করা, বিনয় প্রকাশ করা ও আত্মসমর্পণ করা অপরিহার্য। কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা হলেন মহান রব, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, এর সকল বিষয়ের ব্যবস্থাপক, যিনি সকল পূর্ণতায় গুণান্বিত এবং সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। এই কারণেই বিনয় ও মস্তক অবনত করা কেবল তাঁরই প্রাপ্য। যেহেতু তিনি সৃষ্টি করা, অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনা এবং পুনরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয়, এবং এতে কেউ তাঁর অংশীদার নয়, তাই ইবাদতের ক্ষেত্রেও কেবল তাঁকেই একক করা আবশ্যক যেন তাঁর ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা না হয়।
সুতরাং তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ হলো একমাত্র আল্লাহকেই ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা। আর তা এভাবে যে, বান্দা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে একমাত্র আল্লাহই হলেন প্রকৃতপক্ষে একমাত্র উপাস্য, এবং উলুহিয়্যাহর গুণাবলি ও এর অর্থসমূহ কোনো সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান নেই এবং আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ এর যোগ্য নয়। যখন বান্দা এটি জানতে পারবে এবং প্রকৃতভাবে তা স্বীকার করবে, তখন সে আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করবে। ফলে সে ইসলামের প্রকাশ্য বিধানসমূহ পালন করবে যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ, পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। সেই সাথে সে এর অভ্যন্তরীণ মূলনীতিসমূহ পালন করবে যেমন আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করা। এগুলোর কোনোটির মাধ্যমেই সে তার রবের সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর পুরস্কার লাভের আকাঙ্ক্ষা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করবে না।
আর এই পরিচ্ছেদে তাওহীদের এই প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা স্থান পাবে।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[المبحث الأول أدلته وبيان أهميته]
[المطلب الأول أدلّتُه]المبحث الأول أدلته، وبيان أهميته المطلب الأول: أدلّتُه. لقد تضافرت النصوص وتظاهرت الأدلة على وجوب إفراد الله بالألوهية، وتنوعت في دلالتها على ذلك:
1 - تارة بالأمر به، كما في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 21] (البقرة: 21) ، وقوله: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} [النساء: 36] (النساء: 36) ، وقوله: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [الإسراء: 23] (الإسراء: 23) ، ونحوها من الآيات.
2 - وتارة ببيان أنه الأساس لوجود الخليقة والمقصود من إيجاد الثقلين، كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (الذاريات: 56) .
3 - وتارة ببيان أنه المقصود من بعثة الرسل كما في قوله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (النحل: 36) ، وقوله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (الأنبياء: 25) .
4 - وتارة ببيان أنه المقصود من إنزال الكتب الإلهية، كما في قوله تعالى: {يُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنْذِرُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاتَّقُونِ} [النحل: 2] (النحل: 2) .
5 - وتارة ببيان عظيم ثواب أهله وما أعد لهم من أجور عظيمة ونعم كريمة في الدنيا والآخرة، كما قال الله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} [الأنعام: 82] (الأنعام: 82) .
[প্রথম পরিচ্ছেদ: এর প্রমাণসমূহ এবং এর গুরুত্বের বর্ণনা][প্রথম অনুচ্ছেদ: এর প্রমাণসমূহ]প্রথম পরিচ্ছেদ: এর প্রমাণসমূহ এবং এর গুরুত্বের বর্ণনা। প্রথম অনুচ্ছেদ: এর প্রমাণসমূহ। উলুহিয়্যাতের (উপাসনার) ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করার আবশ্যকতা সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা ও দলিল সমবেত হয়েছে এবং এ বিষয়ে সেগুলোর নির্দেশনার ধরণও বহুমুখী:
১ - কখনো এর প্রতি আদেশ প্রদানের মাধ্যমে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" [আল-বাকারা: ২১] (আল-বাকারা: ২১), এবং তাঁর বাণী: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।" [আন-নিসা: ৩৬] (আন-নিসা: ৩৬), এবং তাঁর বাণী: "তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না।" [আল-ইসরা: ২৩] (আল-ইসরা: ২৩), এবং এই প্রকারের অন্যান্য আয়াতসমূহ।
২ - আবার কখনো এটি সৃষ্টির অস্তিত্বের মূল ভিত্তি এবং জিন ও মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনার মাধ্যমে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬] (আয-যারিয়াত: ৫৬)।
৩ - আবার কখনো এটি রাসুলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনার মাধ্যমে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসুল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬] (আন-নাহল: ৩৬), এবং তাঁর বাণী: "তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসুল প্রেরণ করিনি, যার প্রতি এই ওহি নাজিল করিনি যে, আমি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ২৫] (আল-আম্বিয়া: ২৫)।
৪ - আবার কখনো এটি আসমানি কিতাবসমূহ নাজিল করার উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনার মাধ্যমে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার নিকট ইচ্ছা ফেরেশতাদের ওহি নিয়ে অবতীর্ণ করেন এই মর্মে যে, তোমরা সতর্ক করো যে, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো।" [আন-নাহল: ২] (আন-নাহল: ২)।
৫ - আবার কখনো এর অনুসারীদের মহা পুরস্কার এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের জন্য যা মহান প্রতিদান ও সম্মানজনক নেয়ামত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তার বর্ণনার মাধ্যমে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (শিরকের) সাথে মিশ্রিত করেনি, নিরাপত্তা তাদের জন্যই এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।" [আল-আনআম: ৮২] (আল-আনআম: ৮২)।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
6 - وتارة بالتحذير من ضده، وبيان خطورة مناقضته، وذكر ما أعد سبحانه من عقاب أليم لمن تركه، كقوله تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} [المائدة: 72] (المائدة: 72) ، وقوله تعالى: {وَلَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتُلْقَى فِي جَهَنَّمَ مَلُومًا مَدْحُورًا} [الإسراء: 39] (الإسراء: 39) .
إلى غير ذلك من أنواع الأدلة المشتملة على تقرير التوحيد والدعوة إليه والتنويه بفضله وبيان ثواب أهله وعظم خطورة مخالفته.
والسنة النبوية كذلك مليئة بالأدلة على هذا التوحيد وأهميته، من ذلك:
1 - ما رواه البخاري في صحيحه عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد؟ قال: الله ورسوله أعلم. قال: أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، أتدري ما حقهم عليه؟ قال: الله ورسوله أعلم. قال: أن لا يعذبهم» (1) .
2 - وعن ابن عباس رضي الله عنه قال: لما بعث النبي صلى الله عليه وسلم معاذا نحو اليمن قال له: «إنك تقدم على قوم من أهل الكتاب فليكن أول ما تدعوهم إلى أن يوحدوا الله تعالى فإذا عرفوا ذلك فأخبرهم أن الله فرض عليهم خمس صلوات» . . . . الحديث، رواه البخاري (2) .
3 - وعن ابن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من
--------------------------------------------
৬ - এবং কখনো তার বিপরীত বিষয় থেকে সতর্ক করার মাধ্যমে, এর বিরোধিতার ভয়াবহতা বর্ণনা করার মাধ্যমে এবং যে ব্যক্তি এটি ত্যাগ করবে তার জন্য মহান আল্লাহ যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন তা উল্লেখ করার মাধ্যমে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম; আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} [আল-মায়িদাহ: ৭২] (আল-মায়িদাহ: ৭২), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ স্থির করো না, করলে তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে} [আল-ইসরা: ৩৯] (আল-ইসরা: ৩৯)।
এ ছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রকারের দলিল রয়েছে যা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা, এর প্রতি দাওয়ত প্রদান, এর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা, তাওহীদপন্থীদের পুরস্কার বর্ণনা এবং এর বিরুদ্ধাচরণ করার চরম ভয়াবহতা বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।
একইভাবে সুন্নাহে নববীও এই তাওহীদ এবং এর গুরুত্বের দলিলে ভরপুর, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে মুয়াজ! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী? তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তা হলো তারা যেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। তুমি কি জানো আল্লাহর ওপর তাদের হক কী? তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তা হলো তিনি যেন তাদের শাস্তি না দেন» (১)।
২ - এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজকে ইয়ামানের দিকে পাঠালেন, তখন তাঁকে বললেন: «তুমি আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাচ্ছ, সুতরাং তোমার দাওয়াতের প্রথম বিষয় যেন হয় আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ (তাওহীদ) প্রতিষ্ঠা করা। যখন তারা তা জেনে নেবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে আল্লাহ তাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন» . . . . হাদিস, এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (২)।
৩ - এবং ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مات وهو يدعو من دون الله ندًّا دخل النار» ، رواه البخاري (1) .
4 - وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من لقي الله لا يشرك به شيئا دخل الجنة، ومن لقيه يشرك به شيئا دخل النار» ، رواه مسلم (2) .
والأحاديث في هذا الباب كثيرة.
[المطلب الثاني بيان أهميته وأنه أساس دعوة الرسل]المطلب الثاني: بيان أهميته وأنه أساس دعوة الرسل. لا ريب أن توحيد الألوهية هو أعظم الأصول على الإطلاق وأكملها وأفضلها وألزمها لصلاح الإنسانية، وهو الذي خلق الله الجن والإنس لأجله، وخلق المخلوقات وشرع الشرائع لقيامه، وبوجوده يكون الصلاح، وبفقده يكون الشر والفساد، ولذا كان هذا التوحيد زبدة دعوة الرسل وغاية رسالتهم وأساس دعوتهم، يقول الله تبارك وتعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (النحل: 36) ، وقال: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (الأنبياء: 25) .
وقد دل القرآن الكريم في مواطن عديدة أن توحيد الألوهية هو مفتاح دعوة الرسل، وأن كل رسول يبعثه الله يكون أول ما يدعو قومه إليه توحيد الله وإخلاص العبادة له، قال الله تعالى:
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করে তাকে ডাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
৪ - জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে", ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
এই বিষয়ে আরও অনেক হাদিস রয়েছে।
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর গুরুত্ব এবং এটি যে রাসূলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তি তার বর্ণনা]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর গুরুত্ব এবং এটি যে রাসূলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তি তার বর্ণনা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাওহিদে উলুহিয়্যাহ হলো সর্বাবস্থায় সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ, সর্বোত্তম এবং মানবজাতির সংশোধনের জন্য সর্বাধিক অপরিহার্য মূলনীতি। এটি সেই উদ্দেশ্য যার জন্য আল্লাহ জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন এবং এটি প্রতিষ্ঠার জন্যই শরিয়তসমূহ প্রবর্তন করেছেন। এর উপস্থিতিতেই সংশোধন ও কল্যাণ সাধিত হয় এবং এর অনুপস্থিতিতে অকল্যাণ ও বিপর্যয় দেখা দেয়। এ কারণেই এই তাওহিদ ছিল রাসূলগণের দাওয়াতের নির্যাস, তাঁদের রিসালাতের চরম লক্ষ্য এবং তাঁদের দাওয়াতের ভিত্তি। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: "আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬] (আন-নাহল: ৩৬)। তিনি আরও বলেন: "আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ২৫] (আল-আম্বিয়া: ২৫)।
কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তাওহিদে উলুহিয়্যাহ হলো রাসূলগণের দাওয়াতের চাবিকাঠি। আল্লাহ যে রাসূলকেই পাঠিয়েছেন, তিনি তাঁর কওমকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন তা হলো আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর ইবাদতকে একমাত্র তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
{وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 65] (الأعراف: 65) ، وقال تعالى: {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 73] (الأعراف: 73) ، وقال تعالى: {وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 85] (الأعراف: 85) .
[المطلب الثالث بيان أنه محور الخصومة بين الرسل وأممهم]المطلب الثالث: بيان أنه محور الخصومة بين الرسل وأممهم. تقدم أن توحيد العبادة هو مفتتح دعوات الرسل جميعهم، فما من رسول بعثه الله إلا وكان أول ما يدعو قومه إليه هو توحيد الله، ولذا كانت الخصومة بين الأنبياء وأقوامهم في ذلك، فالأنبياء يدعونهم إلى توحيد الله وإخلاص العبادة له، والأقوام يصرون على البقاء على الشرك وعبادة الأوثان إلا من هداه الله منهم.
قال الله تعالى عن قوم نوح عليه السلام: {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا - وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا} [نوح: 23 - 24] (نوح: 23-24) ، وقال عن قوم هود عليه السلام: {قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ آلِهَتِنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ} [الأحقاف: 22] (الأحقاف: 22) ، {قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَنْ قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ} [هود: 53] (هود: 53) .
وقال عن قوم صالح عليه السلام: {قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنْتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَانَا أَنْ نَعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ} [هود: 62] (هود: 62) .
{আর আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} [আল-আরাফ: ৬৫] (আল-আরাফ: ৬৫), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর সামুদ জাতির নিকট তাদের ভাই সালেহকে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} [আল-আরাফ: ৭৩] (আল-আরাফ: ৭৩), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মাদইয়ানবাসীর নিকট তাদের ভাই শুআইবকে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} [আল-আরাফ: ৮৫] (আল-আরাফ: ৮৫)।
[তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এটি যে রাসূলগণ এবং তাঁদের উম্মতদের মধ্যকার বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তার বর্ণনা]তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এটি যে রাসূলগণ এবং তাঁদের উম্মতদের মধ্যকার বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তার বর্ণনা। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ইবাদতের তাওহীদই হলো সমস্ত রাসূলদের দাওয়াতের সূচনা। আল্লাহ এমন কোনো রাসূল পাঠাননি যার তাঁর কওমের প্রতি দাওয়াতের প্রথম বিষয় আল্লাহর তাওহীদ ছিল না। আর এই কারণেই নবীগণ ও তাঁদের কওমগুলোর মধ্যে বিরোধ এই বিষয়টি নিয়েই ছিল। নবীগণ তাঁদেরকে আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার দিকে আহ্বান করতেন, আর কওমগুলো শিরক এবং মূর্তিপূজার ওপর অটল থাকার বিষয়ে জেদ করত, তাদের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন তারা ব্যতীত।
নূহ আলাইহিস সালাম-এর কওম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা বলেছিল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগূস, ইয়াঊক ও নাসরকে। তারা তো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। আর আপনি জালিমদের জন্য বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না} [নূহ: ২৩ - ২৪] (নূহ: ২৩-২৪), এবং হুদ আলাইহিস সালাম-এর কওম সম্পর্কে বলেন: {তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে বিচ্যুত করতে আমাদের কাছে এসেছ? অতএব তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমাদের যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে আসো} [আল-আহকাফ: ২২] (আল-আহকাফ: ২২), {তারা বলল, হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি, আর আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদের বর্জন করব না এবং আমরা তোমার ওপর ঈমান আনয়নকারীও নই} [হুদ: ৫৩] (হুদ: ৫৩)।
এবং সালেহ আলাইহিস সালাম-এর কওম সম্পর্কে তিনি বলেন: {তারা বলল, হে সালেহ! এর আগে তুমি আমাদের কাছে আশার পাত্র ছিলে। আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত, তুমি কি আমাদের তার ইবাদত করতে নিষেধ করছ? তুমি আমাদের যার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছ, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছি} [হুদ: ৬২] (হুদ: ৬২)।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال عن قوم شعيب عليه السلام: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ} [هود: 87] (هود: 87) .
وقال عن كفار قريش: {وَعَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ وَقَالَ الْكَافِرُونَ هَذَا سَاحِرٌ كَذَّابٌ - أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ - وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوا وَاصْبِرُوا عَلَى آلِهَتِكُمْ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ يُرَادُ - مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلَاقٌ} [ص: 4 - 7] (ص: 4-7) .
وقال: {وَإِذَا رَأَوْكَ إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ رَسُولًا - إِنْ كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنْ آلِهَتِنَا لَوْلَا أَنْ صَبَرْنَا عَلَيْهَا وَسَوْفَ يَعْلَمُونَ حِينَ يَرَوْنَ الْعَذَابَ مَنْ أَضَلُّ سَبِيلًا - أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا - أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا} [الفرقان: 41 - 44] (الفرقان: 41- 44) .
فهذه النصوص وما جاء في معناها تدل أوضح دلالة أن المعترك والخصومة بين الأنبياء وأقوامهم إنما كان حول توحيد العبادة والدعوة إلى إخلاص الدين لله.
وقد ثبت في الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة، فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله» (1) .
--------------------------------------------
এবং তিনি শুআইব আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন: {তারা বলল, "হে শুআইব! তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা ত্যাগ করতে হবে, অথবা আমাদের ধন-সম্পদে আমরা যা ইচ্ছা করি তা করা ছেড়ে দিতে হবে? তুমি তো অত্যন্ত সহনশীল ও সুপথপ্রাপ্ত।"} [হুদ: ৮৭] (হুদ: ৮৭)।
এবং তিনি কুরাইশ কাফিরদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা বিস্ময়বোধ করছে যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এসেছে। আর কাফিররা বলল, "এ তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী। সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে মাত্র একজন উপাস্য স্থির করেছে? এ তো এক অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার!" তাদের প্রধানরা এই বলে প্রস্থান করল যে, "তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা পূর্ববর্তী ধর্মাদর্শে এ ধরনের কথা শুনিনি। এটি একটি মনগড়া উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই নয়।"} [সোয়াদ: ৪ - ৭] (সোয়াদ: ৪-৭)।
এবং তিনি বলেছেন: {তারা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে কেবল বিদ্রূপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে (এবং বলে), "এই কি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদের আমাদের উপাস্যদের থেকে দূরে সরিয়েই দিত যদি না আমরা তাদের প্রতি অবিচল থাকতাম।" যখন তারা আযাব দেখবে, তখন তারা জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট। তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার খেয়াল-খুশিকে নিজের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? তবুও কি তুমি তার কর্মবিধায়ক হবে? অথবা তুমি কি মনে করো যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো কেবল চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট।"} [আল-ফুরকান: ৪১ - ৪৪] (আল-ফুরকান: ৪১- ৪৪)।
সুতরাং এই সমস্ত বক্তব্য এবং এর সমার্থবোধক যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, নবীগণ এবং তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্যে মূল সংঘাত ও বিরোধ ছিল ইবাদতের তাওহীদ এবং আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করার আহ্বানের বিষয়েই।
এবং সহীহ গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। সুতরাং যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, ইসলামের হক ছাড়া; আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট হবে» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وثبت في الصحيح أيضا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من قال لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرُم ماله ودمه وحسابه على الله» (1) .
--------------------------------------------
সহীহ গ্রন্থে আরও সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করবে, তার ধন-সম্পদ ও রক্ত হারাম হয়ে যাবে এবং তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[المبحث الثاني وجوب إفراد الله بالعبادة وتحته مطالب]
[المطلب الأول معنى العبادة والأصول التي تُبنى عليها]المبحث الثاني
وجوب إفراد الله بالعبادة، وتحته مطالب المطلب الأول: معنى العبادة والأصول التي تُبنى عليها. العبادة في اللغة: الذل والخضوع، يقال: بعير معبد، أي: مذلل، وطريق معبد: إذا كان مذللا قد وطئته الأقدام.
وشرعا: هي اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة.
وسيأتي ما يوضح ذلك عند ذكر بعض أنواع العبادة.
وهي تبنى على ثلاثة أركان:
الأول: كمال الحب للمعبود سبحانه، كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ} [البقرة: 165] (البقرة: 165) .
الثاني: كمال الرجاء، كما قال تعالى: {وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ} [الإسراء: 57] (الإسراء: 57) .
الثالث: كمال الخوف من الله سبحانه، كما قال تعالى: {وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ} [الإسراء: 57] (الإسراء: 57) .
وقد جمع الله سبحانه بين هذه الأركان الثلاثة العظيمة في فاتحة الكتاب في قوله سبحانه: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ - مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 2 - 4] فالآية الأولى فيها المحبة؛ فإن الله منعم، والمنعم يُحبُّ على قدر إنعامه، والآية الثانية فيها الرجاء، فالمتصف بالرحمة ترجى رحمته، والآية الثالثة فيها الخوف، فمالك الجزاء والحساب يخاف عذابه.
ولهذا قال تعالى عقب ذلك: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} [الفاتحة: 5] أي: أعبدك يا رب هذه
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা ওয়াজিব হওয়া এবং এর অধীনে কয়েকটি অনুচ্ছেদ][প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবাদতের অর্থ এবং যেসব মূলনীতির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা ওয়াজিব হওয়া এবং এর অধীনে কয়েকটি অনুচ্ছেদ। প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবাদতের অর্থ এবং যেসব মূলনীতির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত। আভিধানিক অর্থে ইবাদত হলো: হীনতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। বলা হয়: 'মুআব্বাদ' উট, অর্থাৎ বশীভূত বা অনুগত উট। এবং 'মুআব্বাদ' পথ: যখন এটি মানুষের যাতায়াতের কারণে চলার উপযোগী ও পদদলিত হয়।
শরীয়তের পরিভাষায়: এটি এমন এক সমন্বিত নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ইবাদতের কিছু প্রকার বর্ণনার সময় এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
ইবাদত তিনটি রুকন বা স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
প্রথম: মাবুদ সুবহানাহুর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অতি দৃঢ়।" [আল-বাকারাহ: ১৬৫] (আল-বাকারাহ: ১৬৫)।
দ্বিতীয়: পূর্ণ আশা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা তাঁর রহমতের আশা করে।" [আল-ইসরা: ৫৭] (আল-ইসরা: ৫৭)।
তৃতীয়: আল্লাহ সুবহানাহুর প্রতি পূর্ণ ভয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা তাঁর শাস্তিকে ভয় করে।" [আল-ইসরা: ৫৭] (আল-ইসরা: ৫৭)।
আল্লাহ সুবহানাহু সুরা ফাতিহাতে এই তিনটি মহান রুকনকে একত্রিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।" [আল-ফাতিহা: ২ - ৪]। প্রথম আয়াতে ভালোবাসা নিহিত রয়েছে; কারণ আল্লাহ হলেন নেয়ামতদাতা, আর নেয়ামতদাতাকে তাঁর নেয়ামতের পরিমাণ অনুযায়ী ভালোবাসা হয়। দ্বিতীয় আয়াতে আশা নিহিত রয়েছে; কারণ রহমত বা দয়ার গুণে গুণান্বিত সত্তার কাছে তাঁর রহমতেরই আশা করা হয়। আর তৃতীয় আয়াতে ভয় নিহিত রয়েছে; কারণ প্রতিদান ও হিসাব দিবসের মালিকের শাস্তিকে ভয় করা হয়।
এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এর পরপরই বলেছেন: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি।" [আল-ফাতিহা: ৫] অর্থাৎ: হে এই গুণাবলির অধিকারী রব, আমি কেবল আপনারই ইবাদত করি।
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الثلاث: بمحبتك التي دل عليها: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] ورجائك الذي دل عليه: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 3] وخوفك الذي دل عليه: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 4]
والعبادة لا تقبل إلا بشرطين: 1 - الإخلاص فيها للمعبود؛ فإن الله لا يقبل من العمل إلا الخالص لوجهه سبحانه، قال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5] (البينة: 5) ، وقَال تعالى: {أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ} [الزمر: 3] (الزمر: 3) ، وقال تعالى: {قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَهُ دِينِي} [الزمر: 14] (الزمر: 14) .
2 - المتابعة للرسول صلى الله عليه وسلم؛ فإن الله لا يقبل من العمل إلا الموافق لهدي الرسول صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] (الحشر: 7) ، وقَال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] (النساء: 65) .
وقوله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (1) (أي مردود عليه) .
فلا عبرة بالعمل ما لم يكن خالصا لله صوابا على سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الفضيل بن عياض رحمه الله في قوله تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [هود: 7] (هود: 7، الملك: 2) : " أخلصه وأصوبه "، قيل: يا أبا علي، وما أخلصه وأصوبه؟ قال: " إن العمل إذا كان خالصا ولم يكن صوابا لم يقبل، وإذا
--------------------------------------------
তিনটি বিষয়: আপনার ভালোবাসা যার প্রমাণ দেয়: {সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য} [ফাতিহা: ২], আপনার আশা যার প্রমাণ দেয়: {পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু} [ফাতিহা: ৩] এবং আপনার ভয় যার প্রমাণ দেয়: {বিচার দিবসের মালিক} [ফাতিহা: ৪]।
আর ইবাদত কেবল দুটি শর্তে কবুল হয়: ১ - এতে মাবুদের জন্য ইখলাস (একনিষ্ঠতা) থাকা; কেননা আল্লাহ কোনো আমল কবুল করেন না কেবল সেটি ছাড়া যা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত, আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে} [বাইয়্যিনাহ: ৫] (বাইয়্যিনাহ: ৫), আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {জেনে রেখো, বিশুদ্ধ আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য} [যুমার: ৩] (যুমার: ৩), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার দ্বীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে} [যুমার: ১৪] (যুমার: ১৪)।
২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা; কেননা আল্লাহ কোনো আমল কবুল করেন না কেবল সেটি ছাড়া যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের অনুকূল হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [হাশর: ৭] (হাশর: ৭), আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতএব আপনার রবের শপথ, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক মান্য করবে, অত:পর আপনি যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে} [নিসা: ৬৫] (নিসা: ৬৫)।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যান করা হবে" (১) (অর্থাৎ আমলকারীর ওপর তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে)।
সুতরাং আমলের কোনো মূল্য নেই যতক্ষণ না তা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক হয়। ফুযাইল ইবনে আইয়ায রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, আমলে তোমাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ} [হুদ: ৭, মুলক: ২] সম্পর্কে বলেন: "যা সর্বাধিক একনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক সঠিক", তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু আলী, সর্বাধিক একনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক সঠিক কোনটি? তিনি বললেন: "নিশ্চয় আমল যখন একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক হয় না, তখন তা কবুল হয় না; আর যখন"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كان صوابا ولم يكن خالصا لم يقبل حتى يكون خالصا صوابا، والخالص ما كان لله، والصواب ما كان على السنة " (1) .
ومن الآيات الجامعة لهذين الشرطين قوله تعالى في آخر سورة الكهف: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110] (الكهف: 110) .
[المطلب الثاني ذكر بعض أنواع العبادة]المطلب الثاني: ذكر بعض أنواع العبادة. العبادة أنواعها كثيرة، فكل عمل صالح يحبه الله ويرضاه قولي أو فعلي ظاهر أو باطن فهو نوع من أنواعها وفرد من أفرادها، وفيما يلي ذكر بعض الأمثلة على ذلك:
1 - فمن أنواع العبادة: الدعاء، بنوعيه دعاء المسألة، ودعاء العبادة.
قال الله تعالى: {فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [غافر: 14] (غافر: 14) ، وقال تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] (الجن: 18) ، وقال تعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ - وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ} [الأحقاف: 5 - 6] (الأحقاف: 5- 6) .
فمن دعا غير الله عز وجل بشيء لا يقدر عليه إلا الله فهو مشرك كافر سواء كان المدعو حيا أو ميتا، ومن دعا حيا. بما يقدر عليه مثل أن يقول: يا فلان أطعمني، أو يا فلان اسقني، ونحو ذلك فلا شيء عليه، ومن دعا ميتا أو غائبا. بمثل هذا فإنه مشرك؛ لأن الميت والغائب لا يمكن أن يقوم. بمثل هذا.
--------------------------------------------
সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয়, তবে তা কবুল করা হবে না যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক হয়। একনিষ্ঠ হলো যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, আর সঠিক হলো যা সুন্নাহ অনুযায়ী হয় (১)।
এবং এই দুটি শর্তকে একত্রকারী আয়াতসমূহের মধ্যে একটি হলো সূরা আল-কাহফের শেষে মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে} [আল-কাহফ: ১১০] (আল-কাহফ: ১১০)।
[দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের কিছু প্রকারের বর্ণনা]দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের কিছু প্রকারের বর্ণনা। ইবাদতের প্রকার অনেক; সুতরাং আল্লাহ পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট হন এমন প্রতিটি নেক কাজ—তা কথা হোক বা কাজ, প্রকাশ্য হোক বা গোপন—তা ইবাদতের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং তার একটি অংশ। নিচে এর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা হলো:
১ - ইবাদতের প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো: দোয়া, এর উভয় প্রকারসহ— প্রার্থনামূলক দোয়া এবং ইবাদতমূলক দোয়া।
মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} [গাফির: ১৪] (গাফির: ১৪)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন: ১৮] (আল-জিন: ১৮)। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? অথচ তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে উদাসীন। আর যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে} [আল-আহকাফ: ৫-৬] (আল-আহকাফ: ৫-৬)।
সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে এমন কিছুর জন্য আহ্বান করে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে সক্ষম নয়, সে মুশরিক ও কাফির; যাকে ডাকা হচ্ছে সে জীবিত হোক বা মৃত। আর যে ব্যক্তি কোনো জীবিত ব্যক্তিকে এমন কিছুর জন্য ডাকে যা করতে সে সক্ষম, যেমন বলা: হে অমুক, আমাকে খাবার দিন, বা হে অমুক, আমাকে পানি পান করান—অনুরূপ বিষয়ে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি কোনো মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তিকে এমন কিছুর জন্য ডাকে, সে মুশরিক; কারণ মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তি এই জাতীয় কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والدعاء نوعان: دعاء المسألة ودعاء العبادة.
فدعاء المسألة، هو سؤال الله من خيري الدنيا والآخرة، ودعاء العبادة يدخل فيه كل القربات الظاهرة والباطنة؛ لأن المتعبد لله طالب بلسان مقاله ولسان حاله من ربه قبول تلك العبادة والإثابة عليها.
وكل ما ورد في القرآن من الأمر بالدعاء والنهي عن دعاء غير الله والثناء على الداعين يتناول دعاء المسألة ودعاء العبادة.
2 -، 3، 4 - ومن أنواع العبادة: المحبة والخوف والرجاء، وقد تقدم الكلام عليها وبيان أنها أركان للعبادة.
5 - ومن أنواعها: التوكل، وهو الاعتماد على الشيء.
والتوكل على الله: هو صدق تفويض الأمر إلى الله تعالى اعتمادا عليه وثقة به مع مباشرة ما شرع وأباح من الأسباب لتحصيل المنافع ودفع المضار، قال الله تعالى: {وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [المائدة: 23] (المائدة: 23) ، وقال تعالى: {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} [الطلاق: 3] (الطلاق: 3) .
6 -، 7، 8- ومن أنواع العبادة: الرغبة والرهبة والخشوع.
فأما الرغبة: فمحبة الوصول إلى الشيء المحبوب، والرهبة: الخوف المثمر للهرب من المخوف، والخشوع: الذل والخضوع لعظمة الله بحيث يستسلم لقضائه الكوني والشرعي، قال الله تعالى في ذكر هذه الأنواع الثلاثة من العبادة: {إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ} [الأنبياء: 90] (الأنبياء: 90) .
9 - ومن أنواعها: الخشية، وهي الخوف المبني على العلم بعظمة من يخشاه وكمال سلطانه، قال الله تعالى: {فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي} [البقرة: 150]
দুআ দুই প্রকার: যাঞ্চামূলক দুআ এবং ইবাদতমূলক দুআ।
যাঞ্চামূলক দুআ হলো আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা। আর ইবাদতমূলক দুআর অন্তর্ভুক্ত হলো সমস্ত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেক আমল; কারণ আল্লাহর ইবাদতকারী তার মুখের ভাষায় এবং অবস্থার ভাষায় তার রবের নিকট সেই ইবাদত কবুল করা এবং তার ওপর প্রতিদান লাভের প্রার্থনা করে থাকে।
কুরআনে দুআ করার যে নির্দেশ, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নিকট দুআ করার যে নিষেধ এবং দুআকারীদের যে প্রশংসা বর্ণিত হয়েছে, তার সবই যাঞ্চামূলক দুআ ও ইবাদতমূলক দুআকে শামিল করে।
২ -, ৩, ৪ - ইবাদতের প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে: মহব্বত, খওফ (ভীতি) ও রাজা (আশা)। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং বর্ণনা করা হয়েছে যে, এগুলো হলো ইবাদতের রোকনসমূহ।
৫ - ইবাদতের প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো: তাওয়াক্কুল। আর তা হলো কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করা।
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল হলো: তাঁর ওপর নির্ভর করে এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে একান্ত নিষ্ঠার সাথে সমস্ত বিষয় মহান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা, সাথে সাথে কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ দূর করার জন্য শরয়ি ও বৈধ উপায়-উপকরণসমূহ গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহর ওপরই তোমরা তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা মুমিন হও} [আল-মায়িদাহ: ২৩] (আল-মায়িদাহ: ২৩), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট} [আত-তালাক: ৩] (আত-তালাক: ৩)।
৬ -, ৭, ৮- ইবাদতের প্রকারসমূহের মধ্যে রয়েছে: রাঘবাহ (আগ্রহ), রাহবাহ (ভীতি) ও খুশু (বিনয়)।
রাঘবাহ হলো: কোনো প্রিয় বস্তুকে লাভ করার মহব্বত রাখা। রাহবাহ হলো: এমন ভীতি যা ভীতিপ্রদ বস্তু থেকে পলায়নের প্রেরণা দেয়। আর খুশু হলো: আল্লাহর মহত্ত্বের সামনে এমনভাবে হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা যাতে বান্দা তাঁর সৃষ্টিগত ও শরয়ি ফয়সালার নিকট আত্মসমর্পণ করে। ইবাদতের এই তিন প্রকারের বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত, আর তারা আমাদের ডাকত আশা ও ভীতি সহকারে এবং তারা ছিল আমাদের নিকট বিনয়ী} [আল-আম্বিয়া: ৯০] (আল-আম্বিয়া: ৯০)।
৯ - ইবাদতের প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো: খাশইয়াত। আর তা হলো এমন ভীতি যা যাকে ভয় করা হচ্ছে তার মহত্ত্ব এবং তার কর্তৃত্বের পূর্ণতা সম্পর্কে ইলমের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো} [আল-বাকারাহ: ১৫০]
(খণ্ড: ১)
উসুলুল ঈমান ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(البقرة: 150) .
{فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ} [المائدة: 3] (المائدة: 3) .
10 - ومنها الإنابة، وهي الرجوع إلى الله تعالى بالقيام بطاعته واجتناب معصيته، قال الله تعالى: {وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ} [الزمر: 54] (الزمر: 54) .
11 - ومنها: الاستعانة، وهي طلب العون من الله في تحقيق أمور الدين والدنيا، قال الله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] وقال صلى الله عليه وسلم في وصيته لابن عباس: «إذا استعنت فاستعن بالله» (1) .
12 - ومنها: الاستعاذة، وهي طلب الإعاذة والحماية من المكروه، قال الله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ - مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ} [الفلق: 1 - 2] وقال تعالى {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ - مَلِكِ النَّاسِ - إِلَهِ النَّاسِ - مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ} [الناس: 1 - 4]
13 - ومنها الاستغاثة، وهو طلب الغوث، وهو الإنقاذ من الشدة والهلاك، قال الله تعالى: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ} [الأنفال: 9] (الأنفال: 9) .
14 - ومنها الذبح، وهو إزهاق الروح بإراقة الدم على وجه الخصوص تقربا إلى الله، قال الله تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الأنعام: 162] (الأنعام: 162) ، وقال تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} [الكوثر: 2] (الكوثر: 2) .
15 - ومنها النذر، وهو إلزام المرء نفسه بشيء ما، أو طاعة لله غير واجبة، قال الله تعالى: {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا} [الإنسان: 7] (الإنسان: 7) .
--------------------------------------------
(আল-বাকারাহ: ১৫০)।
{কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো} [আল-মায়িদাহ: ৩] (আল-মায়িদাহ: ৩)।
১০ - আর এর অন্যতম হলো 'ইনাবাহ' (প্রত্যাবর্তন), যা হলো আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর অবাধ্যতা পরিহার করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করো} [আয-যুমার: ৫৪] (আয-যুমার: ৫৪)।
১১ - আর এর অন্যতম হলো: 'ইস্তিআনা' (সাহায্য প্রার্থনা), যা হলো দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদি অর্জনে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই} [আল-ফাতিহা: ৫] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাসের প্রতি তাঁর ওসিয়তে বলেছেন: "যখন তুমি সাহায্য চাইবে, তখন আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাও" (১)।
১২ - আর এর অন্যতম হলো: 'ইস্তিআযাহ' (আশ্রয় প্রার্থনা), যা হলো অপছন্দনীয় বিষয় থেকে আশ্রয় ও সুরক্ষা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের নিকট - তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে} [আল-ফালাক: ১ - ২] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের নিকট - মানুষের অধিপতির নিকট - মানুষের ইলাহ-এর নিকট - আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে} [আন-নাস: ১ - ৪]
১৩ - আর এর অন্যতম হলো 'ইস্তিগাসা' (উদ্ধার প্রার্থনা), যা হলো সাহায্য চাওয়া, আর তা হলো সংকট ও ধ্বংস থেকে উদ্ধার প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট উদ্ধার প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন} [আল-আনফাল: ৯] (আল-আনফাল: ৯)।
১৪ - আর এর অন্যতম হলো 'জবেহ' (পশু বলিদান), যা হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে প্রাণ হরণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য} [আল-আনআম: ১৬২] (আল-আনআম: ১৬২), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন} [আল-কাওসার: ২] (আল-কাওসার: ২)।
১৫ - আর এর অন্যতম হলো 'মানত', যা হলো মানুষের নিজের ওপর এমন কোনো বিষয় বা আল্লাহর আনুগত্যকে আবশ্যক করে নেওয়া যা ওয়াজিব ছিল না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা মানত পূর্ণ করে এবং সে দিনকে ভয় করে যার অশুভ হবে সুদূরপ্রসারী} [আল-ইনসান: ৭] (আল-ইনসান: ৭)।
--------------------------------------------