(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
شبهات حول السنة   (عبد الرزاق عفيفي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شبهات حول السنة

المؤلف: عبد الرزاق عفيفي (ت 1415هـ)

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1425هـ

عدد الصفحات: 84

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহর ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ   (আব্দুর রাজ্জাক আফিফী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: সুন্নাহর ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ

লেখক: আব্দুর রাজ্জাক আফিফী (মৃ. ১৪১৫ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

شبهات حول السنة

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره علي الدين كله وكفى بالله شهيدًا، والصلاة والسلام على نبينا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه والتابعين ومن تبعهم بإِحسان إلى يوم الدين، أما بعد:

فإن الله تعالى قد منَّ على عباده بإرسال محمد عليه الصلاة والسلام، وإنزال القرآن الكريم عليه، وإيتائه السنّة التي هي صنو القرآن الكريم من حيث حجيتها ومنزلتها في التشريع {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [آل عمران: 164] فالكتاب هو القرآن العظيم، والحكمة هي السنَّة النبوية الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلَّم.
[উপক্রমণিকা]

সুন্নাহ কেন্দ্রিক সংশয়সমূহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

উপক্রমণিকা: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের পরিসমাপ্তি দানকারী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ (تابعين) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন—সবার ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মুহাম্মাদ (সা.)-কে প্রেরণ করে, তাঁর প্রতি কুরআন মাজীদ অবতীর্ণ করে এবং তাঁকে সুন্নাহ প্রদান করে অনুগ্রহ করেছেন; যা প্রমাণযোগ্যতা (حجية) এবং শরীয়ত প্রণয়নে মর্যাদার দিক থেকে কুরআন মাজীদেরই সমতুল্য। {আল্লাহ মুমিনদের ওপর অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।} [আল ইমরান: ১৬৪] এখানে 'কিতাব' হলো মহান কুরআন, আর 'হিকমাহ' হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত (ثابتة) নববী সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد فرض الله على الناس الأخذ بما جاء به محمد عليه الصلاة والسلام من السنَّة، وبيَّن أنها قسم من الوحي وجزء منه، فقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] وقال جل وعلا: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3 - 4]

فالسنَّة النبوية هي قسيمة القرآن تندرج معه في الوحي الإلهي، وهي تبينه وتوضحه، والأخذ بها سبب للاهتداء كما يدل لهذا قول الله عز وجل {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [النور: 54] فمن كان نصيبه من طاعة النبي عليه الصلاة والسلام والأخذ بسنَّته والاستمساك بها أكمل كان حظه من الاهتداء أتمَّ، وعكسه بعكسه، فإن الإنسان يفوته من الاهتداء بقدر ما فاته من السنَّة علمًا وعملا.

ومن تمام نصح النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم
আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনীত সুন্নাহ (السنة) অনুসরণ করাকে ফরজ করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এটি ওহির (وحي) একটি বিভাগ ও অংশ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। এবং প্রতাপশালী ও মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ করা হয়} [আন-নাজম: ৩-৪]।

সুন্নাহে নববী হলো কুরআনের সমমর্যাদাপূর্ণ অংশ যা ঐশী ওহির (وحي) অন্তর্ভুক্ত; এটি কুরআনকে বিশদভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করে। সুন্নাহ (السنة) গ্রহণ করা হিদায়েত লাভের মাধ্যম, যেমনটি প্রতাপশালী ও মহান আল্লাহর এই বাণী নির্দেশ করে: {বলুন, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হিদায়েতপ্রাপ্ত হবে। আর রাসুলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া} [আন-নূর: ৫৪]। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য, তাঁর সুন্নাহ (السنة) গ্রহণ এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে যার অংশ যত বেশি পূর্ণাঙ্গ হবে, হিদায়েত লাভে তার ভাগ্য তত বেশি পরিপূর্ণ হবে। আর এর বিপরীতের ক্ষেত্রে ফলও তদ্রূপ বিপরীত হবে। কেননা মানুষ জ্ঞান ও আমলের দিক দিয়ে যতটুকু সুন্নাহ (السنة) থেকে বিচ্যুত হবে, সে অনুপাতে সে হিদায়েত থেকেও বঞ্চিত হবে।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে উম্মতের প্রতি সদুপদেশ প্রদানের পূর্ণতা হলো...
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
لأمته وحرصه عليهم ومحبته الخير لهم أوصاهم بسنّته، وحثهم عليها، وأمرهم بالأخذ بها، كما في قوله عليه الصلاة والسلام لأصحابه صلى الله عليه وسلم: «أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن تَأمَّرَ عليكم عبد حبشي، وإنه من يعش منكم فسيرى اختلافًا كثيرا، فعليكم بسنتي وسنَّة الخلفاء الراشدين المهديين، عَضُّوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومُحدَثَات الأمور؛ فإن كل بدعة ضلالة» . . [رواه الإمام أحمد في المسند (4 / 126) ، والترمذي في كتاب العلم (2600) ، والدارمي في المقدمة (95) ] .

ومن دلائل نبوته عليه الصلاة والسلام إخباره بما يكون من الدعوة إلى ترك سنَّته والاكتفاء بالقرآن، وتحذيره ممن يدعو إلى ذلك، قال صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن، فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرموه» [رواه أبو داود في كتاب السنَّة (3988) ] .
তাঁর উম্মতের প্রতি মমতা, তাদের প্রতি তাঁর গভীর ব্যাকুলতা এবং তাদের কল্যাণের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি তাদেরকে তাঁর সুন্নাহ (سنة) পালনের অসিয়ত করেছেন, এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং একে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনটি তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সাহাবীগণের প্রতি তাঁর উক্তিতে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছে: “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়া এবং কথা শোনা ও মান্য করার অসিয়ত করছি, যদিও কোনো হাবশি গোলাম তোমাদের ওপর আমির নিযুক্ত হন। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ (سنة) -কে আঁকড়ে ধরবে; তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। আর দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات الأمور) থেকে বেঁচে থাকবে; কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই (بدعة) হচ্ছে ভ্রষ্টতা (ضلالة)।” [ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ (৪ / ১২৬), তিরমিজি কিতাবুল ইলম (২৬০০) এবং দারেমি মুকাদ্দিমা (৯৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন]।

তাঁর নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর সুন্নাহ (سنة) বর্জন করে কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বানের সংবাদ প্রদান এবং যারা এর দিকে আহ্বান জানায় তাদের ব্যাপারে তাঁর সতর্কবাণী। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “জেনে রেখো! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তারই অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক উদরপূর্তি করা ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: ‘তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা বৈধ পাবে তাকেই বৈধ মনে করবে এবং যা অবৈধ পাবে তাকেই অবৈধ মনে করবে’।” [আবু দাউদ এটি কিতাবুস সুন্নাহ (৩৯৮৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد وقع مصداق ما أخبر به عليه الصلاة والسلام فوجد قديما وحديثًا من يدعو إلى الاقتصار على القرآن، ويقلل من شأن السنّة وأهميتها، ويطعن في نقلها وحملتها وعلمائها وأهلها.

ومن حفظ الله لدينه وفضله على عباده أن هيأ لسنَّة نبيه صلى الله عليه وسلم من يحفظها وينقلها ويعلّمها وينافح عنها وينفي عنها الدخيل، ويدحض شبهات المبطلين ويفندها.

وهذا الكتاب إسهام كريم من العلامة الكبير الشيخ / عبد الرزّاق عفيفي في نصرة السنَّة النبويَّة، كتبه قديما في تفنيد شبهات أعدائها وخصومها، فرحمه الله رحمة واسعة ورفع درجاته وأعلى منزلته.

ويأتي نشر هذا الكتاب قيامًا من الوزارة ببعض الواجب في نصرة السنَّة والذَّب عنها والذود عن حياضها، وإسهامًا منها في دحض ما يروّجه المبطلون وتفنيد ما يزعمونه، ونصحًا للمسلمين، وامتدادًا لجهود المملكة
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছিলেন তার সত্যতা বাস্তবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে প্রাচীন ও আধুনিককালে এমন কিছু লোক দেখা যায় যারা কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়, সুন্নাহর মর্যাদা ও গুরুত্বকে খাটো করে দেখে এবং এর বর্ণনাধারা, বাহক, আলিম ও বিশেষজ্ঞদের প্রতি কটাক্ষ করে।

আর দ্বীনের প্রতি আল্লাহর হেফাযত এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের একটি দিক হলো এই যে, তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর জন্য এমন সব ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন যারা একে সংরক্ষণ করেন, বর্ণনা করেন, শিক্ষা দেন এবং এর পক্ষাবলম্বন করে প্রতিরক্ষা করেন। তারা সুন্নাহ থেকে অনুপ্রবেশিত (دخيل) বিষয়সমূহকে দূর করেন এবং বাতিলপন্থীদের সংশয়গুলোকে খণ্ডন ও বাতিল করে দেন।

এই বইটি সুন্নাহর সহযোগিতায় প্রখ্যাত আল্লামা শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফীফী-র একটি মহৎ অবদান। তিনি সুন্নাহর শত্রু ও বিরোধীদের সংশয়সমূহ নিরসনে এটি অনেক পূর্বে রচনা করেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর মাকামকে উচ্চ করুন।

সুন্নাহর সহযোগিতা, এর প্রতিরক্ষা এবং এর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্পিত কতিপয় আবশ্যিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এই বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া এর লক্ষ্য হলো বাতিলপন্থীদের অপপ্রচার দমন, তাদের ভিত্তিহীন দাবিগুলোর অসারতা প্রমাণ, মুসলিমদের প্রতি নসিহত প্রদান এবং এ রাজ্যের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
العربية السعودية في نصرة الإسلام والعناية بمصدريه العظيمين القرآن الكريم والسنَّة النبويَّة اللذين منهما تستمد المملكة دستورها ومنهاجها.

والله المسؤول أن ينفع بهذا الكتاب، وصلى الله على نبينا محمد وعلى اَله وصحبه وسلَّم.

وكالة المطبوعات والبحث العلمي
ইসলামের সাহায্যার্থে এবং এর দুই মহান উৎস পবিত্র কুরআন ও নববী সুন্নাহ (السنة)-এর প্রতি বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, যে উৎসদ্বয় হতে এই রাষ্ট্র তার সংবিধান ও কর্মপন্থা গ্রহণ করে থাকে।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা উপকার দান করেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

প্রকাশনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থা
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[مقدمة المؤلف]

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم. . وبعد:

فلا بد من الإقرار والتصديق بوقوع الرسالة، وهي صلة بين الله جل شأنه وبين أنبيائه، ووجوب تكليف العباد بما جاءت به الرسل عليهم الصلاة والسلام، فهذه الأصول الأولى لا بد من إثباتها؛ حتى يكون الاحتجاجٍ بما ورد في السنَّة على إثبات أحكام شرعية، احتجاجا مبنيًّا على أساس وحتى لا يحتاج الناس بعد ذلك إلا إلى دفع شُبه قد ترد.

لا بد أن يكون الأصل ثابتًا * من جهة ما أجمع عليه: من وجود موح يوحي بشرع ومن وجود رسل يُوصلون إلى العباد ليهْدوهم سواء السبيل. * ومن جهة الوجوب: وجوب ما جاءت به الرسل
[লেখকের ভূমিকা]

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর। অতঃপর:

রিসালাত (رسالة) যে সংঘটিত হয়েছে তা স্বীকার করা এবং সত্যায়ন করা অপরিহার্য; আর এটি হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর নবীদের মধ্যকার যোগসূত্র। এছাড়া রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার মাধ্যমে বান্দাদের ওপর বিধানাবলি অর্পিত হওয়া আবশ্যক। এই প্রাথমিক মূলনীতিগুলো (أصول) অবশ্যই সাব্যস্ত (إثبات) হতে হবে; যাতে শরয়ী (شرعية) বিধানাবলি প্রমাণের ক্ষেত্রে সুন্নাহর দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করার বিষয়টি একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ফলে পরবর্তীতে মানুষকে কেবল সম্ভাব্য সংশয়সমূহ নিরসন করা ছাড়া আর কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী হতে না হয়।

মূল ভিত্তিটি সুসাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক— * সর্বসম্মত (إجماع) বিষয়ের প্রেক্ষাপটে: যেমন শরিয়ত অবতীর্ণকারী একজন ওহী দাতা এবং এমন একদল রাসুলের অস্তিত্ব থাকা, যারা তা বান্দাদের নিকট পৌঁছে দেন যাতে তারা তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিতে পারেন। * এবং আবশ্যকতার প্রেক্ষাপটে: অর্থাৎ রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা পালন করার আবশ্যকতা।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
عقيدة وعملا على الأمة التي أرسلت إليها الرسل.

فإذا أراد الإنسان أن يستوفي الموضوع فلا بد له من أن يبدأه من أوله، ومن الأساس.

أما هذه الرسالة، فستكون في موضوع شبه، أو بعض الشّبه التي وردت على الاحتجاج بالسنَّة أو العمل بها، أو اعتقاد ما جاءت به.

* * *
সেই উম্মতের আকিদা (عقيدة) ও আমল (عمل) হিসেবে, যাদের নিকট রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছেন।

সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করতে চান, তবে তার জন্য তা একদম শুরু থেকে এবং এর মূল ভিত্তি থেকে আরম্ভ করা আবশ্যক।

আর এই পুস্তিকাটি সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) বা এর ওপর আমল করা কিংবা এর আনীত বিষয়াবলির ওপর বিশ্বাস স্থাপনের ক্ষেত্রে উত্থাপিত কিছু সংশয় বা কতিপয় আপত্তির বিষয়ে রচিত।

* * *
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[اختلاف موقف المدافع عن السنة باختلاف حال من يورد الشبهة]

اختلاف موقف المدافع عن السنة باختلاف حال من يورد الشبهة إن المسلم الداعية، أو المناظر الذي يثبت حجيَّة السنَّة، والذي يدفع الشبه عنها يختلف موقفه باختلاف من يناظره:

فتارة يكون منكرًا للسنَّة من أصلها؛ أي جميع ما جاء عن الرسول عليه الصلاة والسلام من الأحاديث قولا أو عملا أو خُلُقًا، ينكره ويكتفي بما جاء في القرآن الكريم، فموقفه الواجب مع هؤلاء أن يثبت لهم حاجة المسلمين في فهمهِم للقرآن وعملهم بالقرآن، حاجتهم في ذلك إلى السنّة التي جاء بها النبي صلى الله عليه وسلم قولا وعملا.

* * *
‌[সংশয় (الشبه) উত্থাপনকারীর অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী সুনাহ-র (السنة) রক্ষকের অবস্থানের ভিন্নতা]

সংশয় (الشبه) উত্থাপনকারীর অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী সুনাহ-র (السنة) রক্ষকের অবস্থানের ভিন্নতা: একজন মুসলিম দাঈ বা তার্কিক, যিনি সুনাহ-র (السنة) প্রামাণিকতা (حجيَّة) প্রমাণ করেন এবং এর থেকে সংশয়গুলো (الشبه) নিরসন করেন, তাঁর অবস্থান তাঁর প্রতিপক্ষের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে:

কখনও প্রতিপক্ষ এমন হতে পারেন যিনি সুনাহ-র (السنة) মূলগতভাবেই অস্বীকারকারী (منكرًا); অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কথা, কাজ বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত সকল হাদিস তিনি অস্বীকার করেন এবং কেবল পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এমতাবস্থায় তাদের ক্ষেত্রে একজন রক্ষকের আবশ্যিক দায়িত্ব হলো, তাদের নিকট কুরআন বোঝা এবং কুরআনের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করা; অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা ও কাজের মাধ্যমে যে সুনাহ (السنة) নিয়ে এসেছেন, তার প্রতি মুখাপেক্ষিতার বিষয়টি স্পষ্ট করা।

* * *
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[شبهات حول السنة]

‌‌[الشبهة الأولى الاقتصار على القرآن وإنكار السنة وجوابها]

الشبهة الأولى

الاقتصار على القرآن وإنكار السنة فإذا لم يُحتج بالقرآن؛ وقال: إن الله تعالى أغنانا بالقرآن لقوله فيه: {وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِمْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَى هَؤُلَاءِ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} [النحل: 89] فالقرآن بيّنٌ، واضحٌ، ومبيِّنٌ لكل شيء، فلا يحتاج معه إلى سُنة، فلماذا نتكلف البحث فيها والركون إليها أو الاحتجاج بها؟ لماذا نتكلف هذا مع أن الله تكفل لنا ببيان كل ما نحتاج إليه في محكم كتابه لقوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ} [النحل: 89] وهو القرآن {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} [النحل: 89] فلا حاجة إلى أن نكلف أنفسنا عناء البحث في سنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم لنعمل بما فيها وقد أغنانا (1) بالقرآن عنها، ويقول سبحانه في آية

--------------------------------------------

(1) الأولَى أن يقال: " وقد أغنانا الله بالقرآن عنها ".
‌‌[সুন্নাহ (السنة) বিষয়ক সংশয়সমূহ]

‌‌[প্রথম সংশয়: কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা ও সুন্নাহ (السنة) অস্বীকার করা এবং এর উত্তর]

প্রথম সংশয়

কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং সুন্নাহ (السنة) অস্বীকার করা। এমতাবস্থায় যদি কুরআন দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) না করা হয় এবং সে বলে: মহান আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমেই আমাদের অমুখাপেক্ষী করেছেন। কারণ তিনি এতে বলেছেন: {আর আমি সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে তাদের মধ্য থেকেই তাদের বিপক্ষে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব এবং আপনাকে এদের বিপক্ষে সাক্ষী হিসেবে নিয়ে আসব। আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।} [আন-নাহল: ৮৯] সুতরাং কুরআন সুস্পষ্ট, স্বচ্ছ এবং সবকিছুর বর্ণনাকারী; এর উপস্থিতিতে সুন্নাহর (السنة) কোনো প্রয়োজন নেই। তবে কেন আমরা সুন্নাহ (السنة) নিয়ে গবেষণা করা, তার ওপর নির্ভর করা কিংবা তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) কষ্ট স্বীকার করব? কেন আমরা এই পরিশ্রম করব, অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে আমাদের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের বর্ণনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন? মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি} [আন-নাহল: ৮৯] আর তা হলো কুরআন {যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।} [আন-নাহল: ৮৯] সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর (السنة) ভেতর যা আছে তদনুযায়ী আমল করার জন্য তাতে গবেষণার কষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই; যেহেতু তিনি আমাদের কুরআনের মাধ্যমেই সুন্নাহ (السنة) থেকে অমুখাপেক্ষী (১) করেছেন। মহান আল্লাহ অন্য একটি আয়াতে বলেন-

--------------------------------------------

(১) উত্তম হলো এভাবে বলা: "আর আল্লাহ তাআলা কুরআনের মাধ্যমে আমাদের সুন্নাহ (السنة) থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন।"
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أخرى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ} [الأنعام: 38] ويريدون بالكتاب القرآن، فيكون المعنى ما فرطنا في القرآن من شيء، ففي القرآن كل شيء فلا حاجة إلى السنَّة، وهذا إنكار للسنَّة بجملتها أو إنكار للحاجة إليها وإلى الاحتجاج بها في الجملة، اكتفاءً بما جاء في القرآن بهاتين الآيتين.

* الجواب على هذه الشبهة: وقد أجاب العلماء عن الاستدلال بهاتين الآيتين بأجوبة منها: أنه أراد بقوله تعالى: {فِي الْكِتَابِ} [الأنعام: 38] في قوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] المراد به اللوح المحفوظ.

والسورة مكية، ولم يكن نزل من القرآن إلا قليل، سورة البقرة مدنية، براءة مدنية، النساء مدنية، آل عمران مدنية، كثير من آيات الأحكام والفروع كثير منها مدني،
অন্যটি হলো: {আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা নিজের দুই ডানায় ভর করে উড়ে বেড়ায়, যারা তোমাদের মতো একেকটি জাতি নয়; আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি, এরপর তাদের সবাইকে তাদের প্রতিপালকের নিকট সমবেত করা হবে।} [আল-আনআম: ৩৮] তারা 'কিতাব' বলতে কুরআনকে উদ্দেশ্য করে থাকে, ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: 'আমি কুরআনে কোনো কিছুই বাদ দিইনি', সুতরাং কুরআনেই সবকিছু রয়েছে এবং সুন্নাহর কোনো প্রয়োজন নেই। এটি মূলত সামগ্রিকভাবে সুন্নাহকে অথবা এর প্রয়োজনীয়তা ও দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করার বিষয়টিকে অস্বীকার করা, কেবল এই দুটি আয়াতে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিয়েই তুষ্ট থাকার মাধ্যমে।

* এই সংশয়ের উত্তর: উলামায়ে কেরাম এই দুটি আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ (الاستدلال) করার প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উত্তর দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী {কিতাবে} [আল-আনআম: ৩৮]- এর দ্বারা তাঁর বাণী {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} [আল-আনআম: ৩৮]- তে 'কিতাব' বলতে লাওহে মাহফুজকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

আর এই সূরাটি মক্কী (مكية), এবং তখন কুরআনের সামান্য অংশই অবতীর্ণ হয়েছিল। সূরা আল-বাকারাহ মাদানী (مدنية), সূরা বারাআত মাদানী (مدنية), সূরা আন-নিসা মাদানী (مدنية), সূরা আলে-ইমরান মাদানী (مدنية); বিধিবিধান এবং শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত অধিকাংশ আয়াতই মাদানী (مدنية)।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وما يتصل بالصلاة إنما وضح وتبين وتكامل في المدينة، وأحكام المعاملات إنما نزلت في القرآن بالمدينة ونزلت أصولها في القرآن بعد الهجرة، وأحكام الجنايات من قصاص وديات نزلت في المدينة.

والسورة، سورة الأنعام كلها مكية على الصحيح، قد يكون منها آيات تشبه الآيات المدنية، كآيات الذبح وذكر اسم الله على الذبائح، قد يكون مثل هذا نزل بالمدينة، لكن الغالب عليها أنها مكية، فكيف يكون القرآن؟ كيف يكون في الكتاب الذي هو القرآن بيان كل شيء في الوقت الذي نزلت فيه هذه الآية؟ ، مع أن تلكم الأحكام إنما نزلت أصولها في المدينة لا في مكة.

ثم عدد الصلوات وتحديد أوقاتها وعدد ركعاتها وسائر كيفياتها؛ لم تُعرف من القرآن إنما عُرفت من السنَّة.

أحكام الزكاة من جهة النصاب ومن جهة المستحقين
সালাত সংক্রান্ত বিষয়সমূহ মদিনাতেই সুস্পষ্ট, বিশদ এবং পূর্ণতা লাভ করেছে। লেনদেন সংক্রান্ত বিধানসমূহ মদিনায় কুরআনের মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এগুলোর মূলনীতি হিজরত পরবর্তী সময়ে কুরআনে নাজিল হয়েছে। আর কিসাস ও দিয়াতসহ ফৌজদারি দণ্ডবিধি সংক্রান্ত বিধানসমূহ মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আর সুরা আল-আনআমের পুরোটাই বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে মক্কী (مكية); এতে এমন কিছু আয়াত থাকতে পারে যা মাদানী (مدنية) আয়াতের সদৃশ, যেমন পশু জবেহ করা এবং জবেহকৃত পশুর ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করার আয়াতসমূহ; হতে পারে এই জাতীয় আয়াত মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবে এর অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই হলো এটি মক্কী। এমতাবস্থায় কুরআন কেমন হবে? এই আয়াতটি যখন নাজিল হয়েছিল, তখন কুরআন নামক কিতাবটিতে কীভাবে সবকিছুর বিবরণ থাকা সম্ভব? অথচ সেই সব বিধানের মূলনীতিগুলো মক্কায় নয়, বরং মদিনায় নাজিল হয়েছে।

অতঃপর সালাতের সংখ্যা, এর ওয়াক্ত নির্ধারণ, রাকাত সংখ্যা এবং এর যাবতীয় পদ্ধতিসমূহ কুরআন থেকে জানা যায়নি; বরং তা সুন্নাহ থেকে জানা গেছে।

নিসাব এবং হকদারদের প্রেক্ষাপটে জাকাতের বিধানসমূহ...
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
لم تكن عُرفت في مكة، بل فريضة الزكاة لم تكن شُرعت في مكة إنما الذي شُرع الصدقات العامة، وفرض الزكاة وبدايتها إنما كان في المدينة، فبيان المستحقين للزكاة إنما نزل في المدينة في سورة التوبة: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ} [التوبة: 60] إلى آخر الآية التي فيها الأصناف الثمانية، ثم النصاب نصاب الزكاة ليس محددًا في القرآن، وشرطها وهو حول الحول ليس محددًا في القرآن ولا مبينًا فيه. فالواقع يدل على أن القرآن اشتمل على الأصول العامة، وأنه لم يكن فيه كل شيء.

تفسير الكتاب في قوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] فتفسير الكتاب بالقرآن في آية: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] تفسير غير صحيح، إنما المراد به اللوح المحفوظ الذي هدى الله تعالى القلم أن يكتب فيه ما كان وما هو كائن إلى يوم القيامة.
মক্কায় এটি পরিচিত ছিল না, বরং যাকাতের বিধান মক্কায় প্রবর্তিত হয়নি; সেখানে কেবল সাধারণ সদকার বিধান ছিল। যাকাতের আবশ্যকতা এবং এর সূচনা মূলত মদিনায় হয়েছিল। যাকাত পাওয়ার যোগ্যদের বিবরণ মদিনায় সূরা আত-তাওবায় অবতীর্ণ হয়েছে: {সদকা কেবল অভাবী, অসহায়, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা হয় এবং দাসমুক্তির জন্য...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত যাতে আটটি শ্রেণির উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর যাকাতের নিসাব কুরআনে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি এবং এর শর্ত—অর্থাৎ এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া—কুরআনে নির্ধারিত বা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। বাস্তবতা একথাই প্রমাণ করে যে, কুরআন কেবল সাধারণ মূলনীতিসমূহ (أصول) অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এতে প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে নেই।

মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি} [আল-আনআম: ৩৮]-এ ‘কিতাব’-এর ব্যাখ্যা কুরআন দিয়ে করা সঠিক (صحيح) নয়। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লাওহে মাহফুজ, যেখানে আল্লাহ তাআলা কলমকে কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে তা লিখে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أما الآية الأخرى وهي: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} [النحل: 89] فيقال فيها: المراد بالكتاب القرآن، ولكن سورة النحل التي نزلت فيها هذه الآية أو هذه الجملة سورة مكية، ولم يكن نزل التشريع كله في مكة إنما نزلت أصول التوحيد وما يتصل بمعجزات الرسول صلى الله عليه وسلم في مكة، وأما الفروع فقد نزلت في المدينة.

فكيف يقال: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} [النحل: 89] بالكتاب في هذه الآية من سورة النحل القرآن، لكن ليس المراد ببيانه لكل شيء بيانه لجميع أحكام الفروع، إنما هو مثل الآية التي قال الله فيها: {تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا} [الأحقاف: 25] ؛ إخبارًا عن الريح التي أرسلها الله جل شأنه على عاد قوم هود، أرسل عليهم ريحًا وقال: {تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا} [الأحقاف: 25] وهي إنما دمرت قوم هود:
অপর আয়াতটি হলো: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদ হিসেবে} [আন-নাহল: ৮৯]। এই আয়াতের ক্ষেত্রে বলা হয়: 'কিতাব' দ্বারা এখানে কুরআন উদ্দেশ্য। তবে সূরা আন-নাহল, যাতে এই আয়াত বা বাক্যটি অবতীর্ণ হয়েছে, তা একটি মক্কী (مكية) সূরা। আর মক্কায় শরয়ি বিধানের (تشريع) পূর্ণাঙ্গ রূপ অবতীর্ণ হয়নি; বরং মক্কায় তাওহীদের মূলনীতিসমূহ (أصول التوحيد) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজেযা সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি অবতীর্ণ হয়েছে। পক্ষান্তরে শাখা-প্রশাখাগত বিষয়সমূহ (فروع) মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সুতরাং কীভাবে বলা যায়: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদ হিসেবে} [আন-নাহল: ৮৯]? এই আয়াতে কিতাব দ্বারা কুরআনই উদ্দেশ্য, কিন্তু এর দ্বারা 'সর্ববিষয়ের বর্ণনা' বলতে শাখা-প্রশাখাগত সকল বিধানের (أحكام الفروع) বর্ণনা উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি সেই আয়াতের সদৃশ যাতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তা তার রবের নির্দেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়} [আল-আহকাফ: ২৫]। এটি সেই বায়ু প্রবাহ সম্পর্কে সংবাদ যা মহান আল্লাহ হূদ (আ.)-এর কওম আদ-এর ওপর প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তাদের ওপর প্রবল বায়ু প্রেরণ করে বলেছিলেন: {তা তার রবের নির্দেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়}, অথচ তা কেবল আদ কওমকেই বিনাশ করেছিল:
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
دمرت عادًا ودمرت ديارهم، فالأمارات الحسية، أو الأدلة الحسية وواقع الهالكين الذين هلكوا وتحدث الله عنهم في القرآن يدل على أن المراد بالآية الخصوص لا العموم، كذلك قوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] إلى آخر الآية هي مما أريد به الخصوص، وإلا ففي أي آية من الآيات بيان عدد الصلوات، وبيان تفاصيل الزكوات، أو بيان الحج إلى بيت الله الحرام بأصله وتفاصيله؟

لم يكن شُرعَ في هذا الوقت إنما شُرعَ في المدينة في السنة التاسعة أو السنة العاشرة على الخلاف بين العلماء، وما كان من حج قبل ذلك فهو على الطريقة الموروثة عن إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام لما بنى البيت هو وابنه إسماعيل، وأمره الله أن يؤذن في الناس كان الحج مشروعًا، وممتدا شرعه من أيام رسالة إبراهيم عليه الصلاة والسلام إلى أيام العرب في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وبعد زمنه،
আদ সম্প্রদায় এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। সুতরাং বাহ্যিক নিদর্শন বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণাদি এবং সেই বিনাশপ্রাপ্তদের বাস্তব অবস্থা—যাদের কথা আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন—তা একথাই প্রমাণ করে যে এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো বিশেষত্ব (خصوص), ব্যাপকত্ব (عموم) নয়। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ} [আন-নাহল: ৮৯]—আয়াতের শেষ পর্যন্ত; এটিও সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা বিশেষত্ব (خصوص) উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অন্যথায়, কুরআনের কোন আয়াতে নামাজের সংখ্যা, জাকাতের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা বায়তুল্লাহর হজের মূল বিধান ও তার খুঁটিনাটি বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে?

সেই সময়ে এটি বিধিবদ্ধ হয়নি, বরং ওলামাদের মধ্যকার মতপার্থক্য অনুযায়ী এটি মদিনায় নবম বা দশম হিজরিতে বিধিবদ্ধ হয়েছে। এর পূর্বে যে হজ প্রচলিত ছিল, তা ছিল ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পক্ষ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পদ্ধতি অনুযায়ী; যখন তিনি এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই হজ বিধিবদ্ধ ছিল এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের রিসালাতের সময় থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়কার আরবদের সময় এবং তাঁর পরবর্তী সময় পর্যন্ত এর বিধানের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أما فرضُه في شريعة محمد صلى الله عليه وسلم فقد نزل ضمن آيات سورة آل عمران، وهذا لم ينزل في مكة، إنما نزل في السنة التاسعة من الهجرة أو في السنة العاشرة التي حج فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكيف يقال {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] وهو لم يتبين فيه أصل فرضية الحج ولا تفاصيل الحج ولا تفاصيل الصيام.

والصيام أيضًا فُرض في المدينة بعد الهجرة بسنة، أين الصيام وتفاصيله؟ ، والجهاد بالسلاح وتفاصيله؟ ، والبيوع وتفاصيلها؟ ، والربا ما نزل إلا في المدينة.

فالآية إما أن يقال فيها: إنها من العام الذي أريد به الخصوص، وإما أن يقال: تبيانًا لكل شيء شرعه وفرضه على المسلمين وهم في مكة؛ لأن السورة مكية، {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] مما أوجبه عليهم وشرعه لهم لا أنها بيان لكل حكم من أحكام الإسلام.

فهؤلاء الذين أنكروا السنَّة جُملة أو قالوا لا حاجة
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরিয়তে এর ফরজ (فرض) হওয়ার বিধান সূরা আল-ইমরানের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। আর এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়নি, বরং হিজরি নবম অথবা দশম বর্ষে অবতীর্ণ হয়েছে যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ পালন করেছিলেন। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা যায় যে {এটি সবকিছুর স্পষ্ট বর্ণনা} [নাহল: ৮৯], অথচ এতে হজের ফরজ (فرض) হওয়ার মূল ভিত্তি, হজের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সিয়ামের বিস্তারিত বিবরণ সুস্পষ্ট করা হয়নি?

সিয়ামও হিজরতের এক বছর পর মদিনায় ফরজ (فرض) করা হয়েছে। সিয়াম ও এর বিস্তারিত বিধিবিধান কোথায়? সশস্ত্র জিহাদ ও এর বিস্তারিত বিধিবিধান কোথায়? ক্রয়-বিক্রয় ও এর বিস্তারিত বিধিবিধান কোথায়? সুদের বিষয়টিও কেবল মদিনাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।

সুতরাং এই আয়াতের ব্যাপারে হয় এ কথা বলা হবে যে: এটি সেই সাধারণ (عام) শব্দের অন্তর্ভুক্ত যার দ্বারা বিশেষ (خاص) অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, অথবা বলা হবে: এটি এমন সবকিছুর বর্ণনা যা তিনি মুসলিমদের ওপর তখন পর্যন্ত বিধিবদ্ধ ও ফরজ (فرض) করেছিলেন যখন তারা মক্কায় ছিলেন; কারণ সূরাটি মক্কি (مكية)। {এটি সবকিছুর স্পষ্ট বর্ণনা} [নাহল: ৮৯] এর অর্থ হলো যা কিছু তিনি তাদের ওপর আবশ্যক ও বিধিবদ্ধ করেছিলেন তার বর্ণনা, এটি ইসলামের প্রতিটি বিধান বা হুকুমের বর্ণনা নয়।

সুতরাং যারা সুন্নাহকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে অথবা বলেছে যে এর কোনো প্রয়োজন নেই...
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
إليها جملة بتمامها اكتفاءً بالقرآن واستدلالا بهاتين الآيتين، قد أخطأوا الطريق ولم يعرفوا تاريخ التنزيل، ولم يعرفوا واقع التشريع، وأن بيان ما في القرآن من العبادات والمعاملات واقع في السنّة، ثم أين تحريم الجمع بين المرأة وعمتها والمرأة وخالتها؟ أين تحريم زواج الإنسان بامرأة أبيه.

إنما كان هذا كله في المدينة، تفاصيل الأحوال الشخصية من مواريث، وزيجات، ووصايا، ونكاح، وطلاق، تفاصيل هذا كله إنما كان بالمدينة، في الآيات التي نزلت بالمدينة، وبيَّنها الرسول صلى الله عليه وسلم في سنته.

فواقع التشريع، وعمل المسلمين جميعًا: برهانٌ واضحٌ يدل دلالة ضرورية على أن السنَّة جاءت بيانًا للقرآن، بيَّنت في مكة ما يحتاجون إليه، بقدر ما نزل من أحكام أصول التشريع، وبيَّنت في المدينة ما طرأت الحاجة إليه من بيوع، ومعاملات، وجنايات، وحدود.
যারা শুধুমাত্র কুরআনের ওপর নির্ভর করে এবং এই দুটি আয়াতকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে সুন্নাহকে (سنة) সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে, তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। তারা ওহি অবতীর্ণের ইতিহাস এবং বিধান প্রণয়নের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নয়। তারা বোঝেনি যে, কুরআনে বর্ণিত ইবাদত ও লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়াবলির ব্যাখ্যা সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যথায়, একই সাথে কোনো নারী ও তার ফুফু কিংবা কোনো নারী ও তার খালাকে বিবাহ করা হারাম হওয়ার বিধান কোথায়? কোনো ব্যক্তির জন্য তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম হওয়ার বিধানই বা কোথায়?

এই সমস্ত বিষয় মূলত মদিনায় নির্ধারিত হয়েছিল। উত্তরাধিকার, বিবাহ, অসিয়ত, নিকাহ ও তালাকসহ ব্যক্তিগত আইনের বিস্তারিত বিবরণ মূলত মদিনায় অবতীর্ণ আয়তসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং বিধান প্রণয়নের বাস্তবতা এবং সকল মুসলিমের সামগ্রিক আমল একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ, যা অকাট্যভাবে নির্দেশ করে যে সুন্নাহ (سنة) কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। মক্কায় শরয়ি বিধানের মৌলিক নীতিমালা যতটুকু অবতীর্ণ হয়েছিল, সুন্নাহ (سنة) সেখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যাখ্যা করেছে; আর মদিনায় কেনা-বেচা, লেনদেন, অপরাধ দণ্ডবিধি ও নির্ধারিত শাস্তির ক্ষেত্রে উদ্ভূত প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি বিশদভাবে বর্ণনা করেছে।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
كل هذا ما نزلت تفصيلات آياته إلا في المدينة، ولم يبيِّن الرسول تفصيله قولا وعملا إلا في المدينة.

فهذا الاستدلال بالآيتين استدلال مردود، ولا نقول: الآيتان مردودتان، هذا هو التعبير الدقيق، ما يقال: رد على الدليل بكذا، إنما يقال رد على استدلالهم بالآيتين بكذا.

قلت ابتداءً: إن موقف الداعية من المدعوين يختلف باختلاف حالهم، فمن أنكر الاحتجاج بالسنَّة جملة اكتفاءً بكتاب الله- احتج بالآيتين والرد عليهم كما سبق ذكره.
এই সবকিছুর আয়াতের বিস্তারিত বিবরণ কেবল মদিনাতেই অবতীর্ণ হয়েছে, এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা কেবল মদিনাতেই প্রদান করেছেন।

সুতরাং এই আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে পেশকৃত এই ইস্তিদলাল (استدلال) বা যুক্তি উপস্থাপন হলো প্রত্যাখ্যাত (مردود)। আমরা এটি বলি না যে: 'আয়াত দুটি প্রত্যাখ্যাত (مردود)', বরং এটিই হলো সূক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি। এমনটি বলা হয় না যে: 'দলিলের ওপর এইভাবে রদ করা হয়েছে', বরং বলা হয় যে: 'আয়াত দুটির মাধ্যমে তাদের ইস্তিদলাল (استدلال) বা যুক্তি উপস্থাপনের ওপর এইভাবে রদ করা হয়েছে'।

আমি শুরুতেই বলেছি: দাওয়াত গ্রহণকারীদের অবস্থার ভিন্নতার কারণে তাদের প্রতি দাঈর অবস্থানেও ভিন্নতা আসে। যারা কেবল আল্লাহর কিতাবকেই যথেষ্ট মনে করে সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে দলিল গ্রহণকে (الاحتجاج) অস্বীকার করে, তারা এই দুটি আয়াতের মাধ্যমেই দলিল পেশ করে এবং তাদের রদ বা খণ্ডন ইতোপূর্বে যেভাবে উল্লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[الشبهة الثانية رد بعض الأحاديث لمخالفتها للعقل والجواب عنها]

الشبهة الثانية

رد بعض الأحاديث لمخالفتها للعقل أو لمعارضتها المستقر في بعض الأذهان بعض الناس من المسلمين يردُّ بعض أحاديث: إما لمعارضتها لفكره فيما يزعم، أو معارضتها لما يرى أن الطب جاء به، وأن الطب قرَّر قرارًا صحيحًا في أمور لا يليقُ أن يأتي على خلافها حديث عن الرسول صلى الله عليه وسلم.

فأمثال هؤلاء يردون أحاديث: إما لمعارضتها لفكرهم وعقولهم، وإما لمعارضتها لقواعد صحيّة.

مثَلَا: فحديث الذباب والأمر بغمسه إذا سقط في الطعام أو في الشراب:

أولا:

يرده جماعة ممن اقتنعوا بالطب، وبالنظريات الطبية، وقدسوا النظريات الطبية، ووثقوا بعقول الأطباء وبتجارب الأطباء، أعظم وأقوى من ثقتهم بتشريع الله
[দ্বিতীয় সংশয়: জ্ঞান বা বুদ্ধির পরিপন্থী হওয়ার কারণে কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যান করা এবং তার উত্তর]

দ্বিতীয় সংশয়

জ্ঞান বা বুদ্ধির পরিপন্থী হওয়ার কারণে অথবা কিছু মানুষের মনে বদ্ধমূল ধারণার বিরোধী হওয়ার কারণে কিছু হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করা। মুসলিমদের মধ্যে কিছু লোক কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যান করে: হয় তাদের দাবিমতে তা তাদের চিন্তাধারার বিরোধী হওয়ার কারণে, অথবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে তা সাংঘর্ষিক বলে মনে করার কারণে; এবং তারা মনে করে যে, চিকিৎসা বিজ্ঞান কিছু বিষয়ে এমন কিছু সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে যার বিপরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো হাদিস আসা সমীচীন নয়।

এই শ্রেণির লোকেরা হাদিস প্রত্যাখ্যান করে: হয় তা তাদের চিন্তা ও বুদ্ধির পরিপন্থী হওয়ার কারণে, অথবা স্বাস্থ্যবিধির নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে।

উদাহরণস্বরূপ: মাছির হাদিস এবং খাবার বা পানীয়তে মাছি পড়লে তা ডুবিয়ে দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত হাদিস:

প্রথমত:

চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদের প্রতি আস্থাশীল একদল মানুষ এটি প্রত্যাখ্যান করে। তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতবাদগুলোকে অতি উচ্চ মর্যাদা দান করেছে এবং চিকিৎসকদের মেধা ও অভিজ্ঞতার ওপর আল্লাহর বিধান (تشريع)-এর চেয়েও অধিক ও সুদৃঢ় আস্থা স্থাপন করেছে।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وبما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، حسنوا نظرهم بالنظريات الطبية أكثر مما حسنوه بما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

* وفي هذا طعن في أحد أمرين: - إما طعن في المشرعَ.

- أو في المبلَغ وهو الرسول صلى الله عليه وسلم، أو خفض لوظيفته ومهمته.

* يقولون: إن وظيفة التشريع صيام، وصلاة وكذا. . . وليس له دراية بالطب، وما الذي يدخله في الطب؟ فهو له دائرة محدودة يدور فيها هي دائرة التشريع من صلاة، وصيام، وبيع، وشراء، وأمثال ذلك، فما الذي يدخله في هذا؟ . . . هذا ليس من اختصاصه، فالعمل فيه إنما يكون على النظريات الطبية لا على ما جاء عن الرسول صلى الله عليه وسلم لأن الفن ليس فنًّا له ولا هو من اختصاصه.

ثانيًا: وإما أن يكون ردهم لهذا الحديث من جهة أخرى، هي طعنهم في الرواة الذين رووا هذا الحديث.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তার তুলনায় তারা চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত মতবাদগুলোর প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিকে অধিকতর প্রাধান্য দিয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ (صحيহ) হিসেবে বর্ণিত বিষয়ের চেয়েও বেশি।

* আর এর মধ্যে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির প্রতি সমালোচনা (طعن) নিহিত রয়েছে: - হয় এটি শরীয়ত প্রণেতার প্রতি সমালোচনা (طعن)।

- অথবা যিনি দ্বীন পৌঁছে দেন তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সমালোচনা, অথবা তাঁর দায়িত্ব ও লক্ষ্যকে খাটো করা।

* তারা বলে: শরীয়ত প্রবর্তনের কাজ হলো রোজা, নামাজ ইত্যাদি সংক্রান্ত... চিকিৎসাবিদ্যায় তাঁর কোনো জ্ঞান নেই, আর চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর সংশ্লিষ্ট হওয়ার কী প্রয়োজন? তাঁর জন্য একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি রয়েছে যাতে তিনি বিচরণ করেন, আর তা হলো নামাজ, রোজা, ক্রয়-বিক্রয় এবং এই জাতীয় বিষয়াদি সংক্রান্ত শরীয়ত প্রবর্তনের গণ্ডি। সুতরাং এই বিষয়ে তাঁর সংশ্লিষ্ট হওয়ার কী আছে? . . . এটি তাঁর বিশেষত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে এই ক্ষেত্রে কেবল চিকিৎসা সংক্রান্ত মতবাদগুলোর আলোকেই আমল করা হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে নয়; কারণ এই বিষয়টি তাঁর বিশেষ পারদর্শিতার ক্ষেত্র নয় এবং এটি তাঁর বিশেষত্বের অন্তর্ভুক্তও নয়।

দ্বিতীয়ত: অথবা তাদের পক্ষ থেকে এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করার অন্য একটি দিক থাকতে পারে, আর তা হলো এই হাদিসটি যারা বর্ণনা করেছেন সেই বর্ণনাকারীদের (رواة) প্রতি তাদের সমালোচনা (طعن)।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
* الجواب على هذه الشبهة: أما من الجهة الأولى: فالرسول صلى الله عليه وسلم بيَّن لهم العلَّة؛ فقال: «إن في أحد جناحيه داء، وفي الآخر شفاء» .

وتعليله هذا- وهو أميٌّ لم يدخل مدارس طب، ولم يتفنن بتجارب قام بها- دليلٌ على أنه إنما تكلم بهذا عن طريق الوحي من الله جل شأنه.

والله سبحانه عليم بخواص مخلوقاته؛ فهو عليم بجناح الذباب، وما فيه من داء وما فيه من دواء، وأن هذا يكون علاجًا لهذا، يقول الله عز وجل: {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك: 14]

ومعروف في الذباب، أنه إذا هبط من أعلى إلى أسفل في كل مرة أنه يهبط بميل، حتى الطائرات؛ ما تنزل الطائرة رأسية؛ لا بد أن تنزل مائلة إلا إن كانت طائرات مروحية (هليوكبتر) ، إنما الطائرات العادية المعروفة تنزل مائلة؛ ثم إذا أرادت أن تنزل من الجانب الآخر تميل. . وهكذا، هذا
এই সংশয়ের উত্তর: প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট কারণ (علة) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই তার এক ডানায় রোগ রয়েছে এবং অন্যটিতে আরোগ্য।»

তাঁর এই কারণ (علة) দর্শানো—এমতাবস্থায় যে তিনি ছিলেন নিরক্ষর, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেননি এবং কোনো নিজস্ব অভিজ্ঞতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে পারদর্শিতা অর্জন করেননি—এ কথা এরই প্রমাণ যে, তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমেই এ কথা বলেছেন।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক অবগত; তিনি মাছির ডানা সম্পর্কে জানেন এবং তাতে কী রোগ ও কী ঔষধ রয়েছে তাও জানেন, এবং এটি যে অন্যটির প্রতিষেধক হবে তাও তিনি জানেন। মহান আল্লাহ বলেন: {যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।} [আল-মুলক: ১৪]

মাছির ক্ষেত্রে এটি সুপরিচিত যে, প্রতিবার যখন সে উপর থেকে নিচে নামে, তখন সে হেলে বা বক্রভাবে নামে। এমনকি উড়োজাহাজও লম্বভাবে অবতরণ করে না; তাকে অবশ্যই হেলে অবতরণ করতে হয়, যদি না সেটি হেলিকপ্টার হয়। তবে সুপরিচিত সাধারণ বিমানগুলো বাঁকা হয়ে নামে; এরপর যখন অন্য দিক থেকে অবতরণ করতে চায়, তখন হেলে যায়... এভাবেই এটি চলে।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
النظام الكوني والطيور إذا أرادت أن تنزل تنزل بجناح، وإذا أرادت أن تقف في الجو تنصب الجناحين إلى الجانبين كما نراها.

القصد أن الذباب كسائر الطيور إذا نزل بالجناح مال على أحد جناحيه، فإذا غمسته كان جناحه الثاني وما فيه من شفاء علاجًا لما أصاب الشراب أو الطعام من الداء الذي نزل في الطعام من الجناح الآخر.

فهذا التعليلُ دليلٌ على أنه- وهو أميٌّ لم يقرأ ولم يكتب وليس صاحب تجارب في الطب، ولمْ يدخل مدارس طب، ولا جامعات طب- ليس تخمينا من عند نفسه ودخوله فيما لا يخصه من عند نفسه، إنما هو بوحي من الله جل شأنه والله عليم بمخلوقاته وما فيها من خواص.

والرسول صلى الله عليه وسلم مكلف بالبلاغ عن الله، وقد بلَّغ هذا عن ربه ويجب على الإنسان أن يثق بوحي الله جل شأنه أعظم من ثقته بنظريات الأطباء.

إن الأطباء لم يتفقوا على ما بنى عليه هؤلاء المعترضون
মহাজাগতিক ব্যবস্থা ও পাখিদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা যখন অবতরণ করতে চায় তখন একটি ডানার ওপর ভর করে নামে, আর যখন তারা শূন্যে স্থির থাকতে চায় তখন দুই ডানা দুই পাশে প্রসারিত করে রাখে, যেমনটি আমরা সচরাচর দেখে থাকি।

মূল বিষয় হলো, মাছিও অন্যান্য পাখির ন্যায় যখন অবতরণ করে তখন তার যেকোনো একটি ডানার ওপর ভর করে কাত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় যখন আপনি তাকে (খাদ্য বা পানীয়তে) ডুবিয়ে দেবেন, তখন তার দ্বিতীয় ডানা এবং তাতে বিদ্যমান আরোগ্য বা নিরাময় সেই ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে, যা অন্য ডানার মাধ্যমে খাবারে সংক্রমিত হয়েছিল।

এই যৌক্তিক ব্যাখ্যাটি (التعليل) এই বিষয়েরই প্রমাণ যে, তিনি—যিনি উম্মি (أمي) ছিলেন, অর্থাৎ লিখতে বা পড়তে জানতেন না এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাঁর কোনো ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ছিল না কিংবা কোনো চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যিনি অধ্যয়ন করেননি—নিজের পক্ষ থেকে কোনো অনুমাননির্ভর কথা বলেননি এবং নিজের এখতিয়ার বহির্ভূত কোনো বিষয়ে অনধিকার চর্চা করেননি। বরং এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي); আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিসমূহ এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট ছিলেন এবং তিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব, একজন মানুষের জন্য চিকিৎসকদের তত্ত্বের চেয়ে মহান আল্লাহর ওহি-র (وحي) ওপর অধিক আস্থা রাখা আবশ্যক।

নিশ্চয়ই চিকিৎসকরা ওই সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি, যার ওপর ভিত্তি করে এই আপত্তিকারীরা বিরুদ্ধাচরণ করছে।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
على هذا الحديث، هم مختلفون أيضًا فيما بينهم، والمسألة مسألة نظرية اجتهادية من الأطباء.

فكيف يُرَدُّ بمسألة نظرية اجتهادية- مازالت تحت البحث- حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم؟

وأما من الجهة الثانية

جهة السند: فالسند على طريقة المحدثين سند صحيح مستوف الشروط التي اشترطها علماء الحديث.

والناس الذين اعترضوا على هذا الحديث من جهة رجاله ليس عندهم سند يستندون إليه في ذلك، وهم فيِ معاملتهم وقبولهم للأخبار التي تصل إليهم يعتقدون يقينًا أو يظنون ظنًّا غالبًا بما وصلهم من الأخبار، يعتقدون ما دلت عليه فيلزمهم أن يقبلوا ما جاء عن رواة هذا الحديث، لأنهم أوثق وأضبط وأعدل من الرواة الذين يروون لهم أخبارًا بسفر فلان وفي إدانة فلان، وفي شهادة فلان، هم يقبلون ذلك عن أقل من الذين رووا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
এই হাদিসের ব্যাপারে তাঁরা নিজেদের মধ্যেও মতবিরোধ করেছেন এবং বিষয়টি চিকিৎসকদের একটি তাত্ত্বিক ও ইজতিহাদমূলক বিষয়।

তাহলে কীভাবে একটি তাত্ত্বিক ও ইজতিহাদমূলক বিষয়ের মাধ্যমে—যা এখনও গবেষণাধীন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে?

আর দ্বিতীয় দিকটি হলো—

সনদের (سند) দিক: মুহাদ্দিসগণের মানদণ্ড অনুযায়ী এই সনদ (سند) হলো সহিহ (صحيح), যা হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলি পূর্ণ করে।

আর যারা এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رجال) দিক থেকে আপত্তি তুলেছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে নির্ভর করার মতো কোনো সনদ (سند) নেই। তারা তাদের লেনদেন এবং সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নিকট পৌঁছানো সংবাদের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস অথবা প্রবল ধারণা পোষণ করেন এবং সেই সংবাদ যা নির্দেশ করে তা তারা বিশ্বাস করেন। এমতাবস্থায় তাদের জন্য আবশ্যক হলো এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة) মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ করা। কারণ তাঁরা ঐসব বর্ণনাকারীদের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق), অধিক নিখুঁত স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أضبط) এবং অধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدل), যারা তাদের কাছে অমুকের সফর, অমুকের দোষী সাব্যস্ত হওয়া কিংবা অমুকের সাক্ষ্য সংক্রান্ত সংবাদ বর্ণনা করে। তারা এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে তথ্য গ্রহণ করে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনাকারীদের তুলনায় অনেক নিম্নস্তরের।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا الحديث.

ثم إن الذين يردون بعض الأحاديث لأنها لا تتفق مع أفكارهم ومداركهم يسلكون في ردِّها أحد ثلاثة مسالك: * الأول: فإما أن يردوها ويكذبوها، ويقولون: خالفت العقل إن لم يمكنهم أن يؤولوها.

* الثاني: وإما أن يتأولوها على خلاف ما دلَّت عليه مع كثرتها.

* الثالث: وإما أن يردوها لأنها أخبار آحاد. .

وهذا أيضًا وضع غير سليم واعتراض غير سليم فإن عقولهم يعتريها الخطأ والصواب، والوحي- الذي جاءت به الرسل عليهم الصلاة والسلام، وثبت عنهم- جاء عن الصادق الأمين بوحي من ربه، وهو لا ينطق عن الهوى.
এই হাদিসটি।

অতঃপর যারা কিছু হাদিসকে তাদের চিন্তাভাবনা ও বিচারবুদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করেন, তারা সেগুলো বর্জনের ক্ষেত্রে তিনটি পদ্ধতির যেকোনো একটি অবলম্বন করেন: ১. প্রথমত: তারা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন এবং বলেন: এগুলো যুক্তিবিরোধী; যদি সেগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) করা তাদের পক্ষে সম্ভব না হয়।

২. দ্বিতীয়ত: হাদিসগুলোর আধিক্য থাকা সত্ত্বেও তারা সেগুলোকে মূল নির্দেশনার বিপরীতে গিয়ে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা (تأويل) করেন।

৩. তৃতীয়ত: তারা হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যান করেন কারণ সেগুলো একক সংবাদ (أخبار آحاد)।

আর এটিও একটি ত্রুটিপূর্ণ অবস্থান এবং অসংগত আপত্তি; কেননা তাদের বিচারবুদ্ধি ভুল ও সঠিক—উভয় পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হতে পারে। আর ওহি—যা রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) নিয়ে এসেছেন এবং যা তাঁদের থেকে প্রমাণিত হয়েছে—তা মহান রবের পক্ষ থেকে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসুলের মাধ্যমে ওহি হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[الرد على أهل المسلك الأول القائلين برد السنة لمخالفتها العقل]

الرد على أهل المسلك الأول القائلين برد السنة لمخالفتها العقل فيجب على الإنسان أن يتهم عقله وتفكيره بدلا من أن يتهم رسوله صلى الله عليه وسلم، أو الرواة العدول، أو أن يتهم ربه في وحيه، وليثق بربه وبرسوله صلى الله عليه وسلم أكثر من ثقته في تفكيره، فإن العقل قاصر، وجُرب عليه الخطأ كثيرًا ومداه محدود، وما يجهله أكثر مما يعلمه.

فعليه أن يعتقد في تفكيره القصور، وأن يعتقد في وحي الله الكمال والصدق، وأن يعتقد- في الرواة الذين استوفوا شروط النقل المضبوطة المعروفة عند المحدثين الثقة بهم أكثر من ثقته بتفكيره.

هذا جواب على من ينكر الحديث لمعارضته لتفكيره.

فيُقَال اتهم عقلك بالقصور فإن ما يعلمه أقل مما يجهله، اتهم عقلك بالخطأ وبالجهل في تفكيرك لأنك كثيرًا ما تخطئ، وجُرب عليك هذا، أما هؤلاء العدول
‌[প্রথম পন্থার অনুসারীদের খণ্ডন যারা বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধের কারণে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেন]

প্রথম পন্থার অনুসারীদের খণ্ডন যারা বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধের কারণে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করার দাবি করেন। অতএব মানুষের উচিত তার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী (الرواة العدول) অথবা তার রবের ওহিকে অভিযুক্ত করার পরিবর্তে নিজের বুদ্ধি ও চিন্তা-চেতনাকে অভিযুক্ত করা। আর তার উচিত নিজের চিন্তার চেয়ে তার রব এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অধিক আস্থা রাখা। কেননা বুদ্ধি অপূর্ণাঙ্গ, এর ভুল বারবার প্রমাণিত এবং এর পরিধি সীমাবদ্ধ। এটি যা জানে না, তার পরিমাণ এটি যা জানে তার চেয়ে অনেক বেশি।

সুতরাং তার উচিত নিজের চিন্তার ক্ষেত্রে অপূর্ণতা এবং আল্লাহর ওহির ক্ষেত্রে পূর্ণতা ও সত্যতার বিশ্বাস পোষণ করা। আর যেসকল বর্ণনাকারী (رواة) মুহাদ্দিসগণের (محدثين) নিকট সুপরিচিত সুসংরক্ষিত বর্ণনার শর্তাবলি পূর্ণ করেছেন, তাদের প্রতি নিজের চিন্তার চেয়ে অধিক আস্থা রাখা।

যারা স্বীয় চিন্তার সাথে বিরোধের কারণে হাদিস অস্বীকার করে, এটি তাদের প্রতি উত্তর।

তাই বলা হয়: তুমি তোমার বুদ্ধিকে অপূর্ণতার দায়ে অভিযুক্ত করো, কারণ এটি যা জানে তার চেয়ে যা জানে না তার পরিমাণ অনেক কম। তোমার চিন্তাধারায় নিজের বুদ্ধিকে ভুল ও অজ্ঞতার দায়ে অভিযুক্ত করো, কারণ তুমি প্রায়শই ভুল করে থাকো এবং এটি তোমার ক্ষেত্রে পরীক্ষিত। পক্ষান্তরে এই ন্যায়নিষ্ঠ (عدول) বর্ণনাকারীরা...
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الضباط (1) الذين استوفوا شروط النقل، نقل الأحاديث، فهؤلاء يندر فيهم أن يخطئ أحدهم وخطؤه إلى جانب صوابه قليل جدًّا، بل نادر.

--------------------------------------------

(1) المعروف: الضابطون.
প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারীগণ (الضباط) (১) যারা বর্ণনার—অর্থাৎ হাদিস বর্ণনার—শর্তাবলি পূর্ণ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কারও ভুল করা অত্যন্ত বিরল এবং তাঁর সঠিক বর্ণনার তুলনায় তাঁর ভুল খুবই নগণ্য, বরং তা দুর্লভ।

--------------------------------------------

(১) সুপরিচিত হলো: প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারীগণ (الضابطون)।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[الرد على أهل المسلك الثاني القائلين برد السنة بتأويلها على ظاهرها]

الرد على أهل المسلك الثاني القائلين برد السنة بتأويلها على ظاهرها ويمكن لهؤلاء أن يحملوا ذلك النوع من الأحاديث على غير ظاهره وهم يسلكون هذا المسلك في كتاب الله جل شأنه أيضًا، ويتأولون كثيرًا من (1) نصوص آيات الأسماء والصفات ونصوص الرؤية، كقوله تعالى: {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الأنعام: 103] {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ - إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22 - 23] وغيرها من آيات الأسماء والصفات.

(2) وأحاديث عذاب القبر، ونعيم القبر، وسؤال القبر، وعذاب الأبدان: يحملون العذاب على عذاب الأرواح، وكذلك بعث الأجساد يحملونه على بعث الأرواح.

(3) وينكرون عروج النبي صلى الله عليه وسلم ببدنه إلى السماء، وإسراءه من مكة إلى بيت المقدس ببدنه، ويقولون: هذا
‌[দ্বিতীয় কর্মপন্থার অনুসারীদের খণ্ডন, যারা সুন্নাহ (السنة)-কে তার প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) থেকে অপব্যাখ্যা (تأويل)-র মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলে]

দ্বিতীয় কর্মপন্থার অনুসারীদের খণ্ডন, যারা সুন্নাহ (السنة)-কে তার প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) থেকে অপব্যাখ্যা (تأويل)-র মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলে। এদের পক্ষে সম্ভব যে তারা এই প্রকারের হাদিসগুলোকে তার প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر)-এর পরিপন্থী অর্থে প্রয়োগ করবে। তারা মহান আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রেও এই একই পথ অবলম্বন করে এবং তারা (১) নাম ও গুণাবলী (الأسماء والصفات) সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অনেক পাঠ (نصوص) এবং দর্শন (الرؤية) সংক্রান্ত পাঠ (نصوص)-গুলোর অপব্যাখ্যা (تأويل) করে থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন। আর তিনি পরম সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-আন’আম: ১০৩]; {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল— তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} [আল-কিয়ামাহ: ২২-২৩] এবং নাম ও গুণাবলী (الأسماء والصفات) সংক্রান্ত অন্যান্য আয়াতসমূহ।

(2) আর কবরের আজাব, কবরের নেয়ামত, কবরের সওয়াল (জিজ্ঞাসাবাদ) এবং শরীরের আজাব সংক্রান্ত হাদিসসমূহ: তারা এই আজাবকে কেবল আত্মার আজাবের ওপর প্রয়োগ করে। অনুরূপভাবে দেহের পুনরুত্থানকেও তারা কেবল আত্মার পুনরুত্থানের ওপর প্রয়োগ করে থাকে।

(3) এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সশরীরে আকাশে আরোহণ (عروج) এবং সশরীরে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নৈশভ্রমণ (إسراء) অস্বীকার করে। তারা বলে: এটি
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
إسراء بالروح، وعروج بالروح؛ تحكيمًا للسنن الكونية، والعادات المألوفة في الخلق، فإن الإنسان لا يسير تلك المسافة في جزء ليلة، ولا يعرج إلى السماء السابعة في جزء ليلة.

الأنبياء ليسوا كغيرهم في المعجزات، وقياس غيرهم عليهم في المعجزات باطل:

ولا ينظرون إلى أن الأنبياء جاءوا بخوارق العادات، فخوارق العادات بالنظر إلى الأنبياء والمعجزات الكونية والسنن الكونية التي خصَّ الله بها الأنبياء، هذه تعتبر عادية بالنظر لخصوص الأنبياء، وإن كانت خارقة للعادة وغير مألوفة بالنظر لغير الأنبياء، فلماذا تقيسون الأنبياء بما أوتوا من الله على الأفراد العاديين، هذا قياس باطل، لا يصح الاحتجاج به؛ لأن الأنبياء يختلفون عن غيرهم في جريان خوارق العادات على أيديهم معجزة لهم.
শুধুমাত্র রূহের মাধ্যমে ইসরা এবং রূহের মাধ্যমে আরোহণ (عروج); মহাজাগতিক নিয়মাবলী এবং সৃষ্টির স্বাভাবিক রীতিনীতির বিচারে, কারণ একজন মানুষ রাতের সামান্য অংশে সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না এবং রাতের সামান্য অংশে সপ্তম আকাশে আরোহণ (عروج) করতে পারে না।

মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) ক্ষেত্রে নবীগণ অন্যদের মতো নন এবং অলৌকিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে অন্যদের তাঁদের সাথে তুলনা করা বাতিল (باطل):

তারা এটি লক্ষ্য করে না যে, নবীগণ অলৌকিক বিষয়াবলি (خوارق العادات) নিয়ে এসেছেন। সুতরাং নবীগণের ক্ষেত্রে অলৌকিক বিষয়াবলি, মহাজাগতিক মুজিজা (معجزات) এবং মহাজাগতিক নিয়মাবলী যা আল্লাহ নবীগণের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তা নবীগণের বিশেষত্বের বিচারে স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য হয়; যদিও তা অন্যদের বিচারে অলৌকিক এবং অস্বাভাবিক। অতএব, আল্লাহ নবীগণকে যা দান করেছেন সে ক্ষেত্রে কেন আপনারা নবীগণকে সাধারণ মানুষের সাথে তুলনা করছেন? এটি একটি বাতিল (باطل) তুলনা, যা দলিল হিসেবে পেশ করা (الاحتجاج) সঠিক নয়; কারণ নবীগণের হাতে তাঁদের মুজিজা (معجزة) হিসেবে অলৌকিক বিষয়াবলি (خوارق العادات) সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌[استطراد في الرد على منكري الإسراء والمعراج]

استطراد في الرد على منكري الإسراء والمعراج ثم الإسراء قد ثبت في القرآن، فتأويلهمٍ لا يكون تأويلا لحديث الإسراء، وإنما هو تأويل- أيضا- للقرآن، القرآن جاء فيه: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ} [الإسراء: 1]

ثم كثير من النصارى، فقط يعتقدون في عيسى أنه يُحيي الموتى بإذن الله، وَأنه يُبرئ الأكمه الذي ولد أعمى، يبرئه بإذن الله، وأنه يُصوِّرُ طيرًا فينفخ فيه فيكون طيرًا بإذن الله، وأنه يُبرئ الأبرص بإذن الله، وليس بطريقة علاج؛ فهو لم يفتح مستشفى، إنما هي خوارق عادات (1) وكذلكم اليهود يؤمنون بخوارق العادات، فما الذي

--------------------------------------------

(1) والعادات: هي السنن الكونية، وخوارقها: ما يخالف نظامها، وهي ثلاثة أنواع: (الأول) : المعجزة؛ على يد النبي صلى الله عليه وسلم تأييدًا له وتحديا لقومه.

و (الثاني) : الكرامة؛ على يد الولي تأييدًا له وإكراما لمتابعته للنبي صلى الله عليه وسلم.

و (الثالث) : السحر؛ على يد الساحر المشعوذ فتنة وابتلاءَ.
[ইসরা ও মিরাজের অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে প্রাসঙ্গিক আলোচনা]

ইসরা ও মিরাজের অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে প্রাসঙ্গিক আলোচনা। অতঃপর ইসরা কুরআনের মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে; সুতরাং তাদের অপব্যাখ্যা কেবল ইসরার হাদিসের অপব্যাখ্যা নয়, বরং তা কুরআনেরও অপব্যাখ্যা। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {পবিত্র ও মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি।} [সূরা আল-ইসরা: ১]

অতঃপর অনেক খ্রিস্টান কেবল ঈসা (আ.)-এর ব্যাপারে এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, তিনি আল্লাহর নির্দেশে মৃতকে জীবিত করেন, তিনি জন্মান্ধকে সুস্থ করেন—যিনি অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন, আল্লাহর নির্দেশে তাকে আরোগ্য দান করেন। তিনি পাখির আকৃতি তৈরি করে তাতে ফুঁ দেন, ফলে সেটি আল্লাহর নির্দেশে পাখি হয়ে যায় এবং তিনি আল্লাহর নির্দেশে শ্বেতী রোগীকেও সুস্থ করেন। এটি কোনো চিকিৎসার মাধ্যমে নয়; কারণ তিনি কোনো হাসপাতাল খোলেননি, বরং এগুলো হলো অলৌকিক ঘটনা (خوارق العادات)। অনুরূপভাবে ইহুদিরাও অলৌকিক ঘটনায় (خوارق العادات) বিশ্বাস করে, তাহলে কী...

--------------------------------------------

(১) আদাত (العادات) হলো মহাজাগতিক নিয়মাবলী (السنن الكونية); আর এর ব্যতিক্রম (خوارقها) হলো যা এর নির্ধারিত নিয়মের পরিপন্থী। এটি তিন প্রকার: (প্রথম): মোজেজা (المعجزة); যা নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তাঁর সত্যতার সপক্ষে এবং তাঁর কওমকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রকাশ পায়।

এবং (দ্বিতীয়): কারামত (الكرامة); যা অলির (الولي) হাতে তাঁর সত্যনিষ্ঠার প্রমাণ এবং নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের সম্মানস্বরূপ প্রকাশ পায়।

এবং (তৃতীয়): জাদু (السحر); যা জাদুকর ও প্রবঞ্চকের হাতে ফিতনা ও পরীক্ষার জন্য প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) শুবুহাত হাওলাস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
جعل خوارق العادات لموسى بانفلاق البحر، ونجاة موسى ومن معه على الشاطئ الآخر، وجَعْل الممر يابسًا اثنى عشر طريقًا على عدد الأسباط، حتى لا يتنازع سبط مع سبط جعلها يبسًا يمرون في هذه الممرات دون أن يغرقوا، والماء متماسك بدون حواجز؛ هذا سلب لخاصية الماء، معجزةً لموسى وإكرامًا له ولمن معه حيث أنجاهم بإذنه سبحانه وتعالى، ثم ما جعله نجاةً لموسى ومن معه جعله نكبة ودمارًا وهلاكًا لخصومه وأعدائه.

إن الكفار من اليهود والنصارى يعترفون بخوارق العادات وبهذه المعجزات، العرب يؤمنون بإبراهيم عليه السلام، وبأن الله نجّاه من النار حين ألقيَ فيها، فما الذي يجعلهمْ يؤمنون بسلب الله خاصية النار حتى تكون بردًا وسلاما على إبراهيم، ولا يؤمنون بالإسراء بمحمد صلى الله عليه وسلم من مكة إلى بيت المقدس ثم العروج به إلى السماء السابعة؟ !

(أ) يذكرون في عروجه، وفي إسرائه، يقولون:
আল্লাহ তাআলা সমুদ্র বিদারণের মাধ্যমে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য অলৌকিক কার্যাবলী (خوارق العادات) প্রকাশ করেছেন এবং মুসা ও তাঁর সঙ্গীদের অপর তীরে উদ্ধার করেছেন। তিনি সমুদ্রের পথকে বারোটি গোত্রের (الأسباط) সংখ্যা অনুযায়ী বারোটি শুষ্ক পথে পরিণত করেছিলেন, যাতে এক গোত্র অন্য গোত্রের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হয়। তিনি পথগুলোকে এমনভাবে শুষ্ক করেছিলেন যাতে তারা নিমজ্জিত হওয়া ছাড়াই এই পথগুলো দিয়ে অতিক্রম করতে পারে, অথচ পানি কোনো প্রতিবন্ধক ছাড়াই সুসংহত অবস্থায় ছিল। এটি ছিল পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বিলোপের নামান্তর, যা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য একটি মুজিজা (معجزة) এবং তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য সম্মানস্বরূপ ছিল; যেহেতু তিনি মহান আল্লাহর অনুমতিতে তাদের উদ্ধার করেছিলেন। অতঃপর যা তিনি মুসা ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য নাজাতের উপায় করেছিলেন, তাকেই তাঁর প্রতিপক্ষ ও শত্রুদের জন্য বিপর্যয়, ধ্বংস ও বিনাশের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।

নিশ্চয়ই ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার কাফিররা অলৌকিক কার্যাবলী (خوارق العادات) এবং এই মুজিজাসমূহের (المعجزات) স্বীকৃতি প্রদান করে। আরবরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ঈমান রাখে এবং বিশ্বাস করে যে, যখন তাঁকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। সুতরাং কোন বিষয়টি তাদের এই বিশ্বাস করতে উদ্বুদ্ধ করে যে, আল্লাহ আগুনের দহন ক্ষমতা হরণ করে তা ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক করেছিলেন, অথচ তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ইসরা (الإسراء) এবং এরপর সপ্তম আসমানে মেরাজের (العروج) প্রতি ঈমান আনে না? !

(ক) তারা তাঁর মেরাজ (العروج) এবং তাঁর ইসরা (الإسراء) সম্পর্কে উল্লেখ করে এবং বলে: