(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: -)
حكم بناء الكنائس والمعابد الشركية في بلاد المسلمين القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حكم بناء الكنائس والمعابد الشركية في بلاد المسلمين
المؤلف: إسماعيل بن محمد بن ماحي السعدي الأنصاري (ت 1417هـ)
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 63
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিম ভূখণ্ডে গির্জা ও শিরকি উপাসনালয় নির্মাণের বিধান বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
কিতাব: মুসলিম ভূখণ্ডে গির্জা ও শিরকি উপাসনালয় নির্মাণের বিধান
লেখক: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহি আস-সাদি আল-আনসারি (ওফাত ১৪১৭ হিজরি)
প্রকাশক: কিতাবটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: -)
[تقريظ صاحب السماحة العلامة الجليل الأثري الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز]حكم بناء الكنائس والمعابد الشركية
في بلاد المسلمين تأليف
فضيلة الشيخ إسماعيل بن محمد الأنصاري
[মহামান্য, প্রখ্যাত আল্লামা, আসারি (الأثري) শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজের প্রশংসামূলক অভিমত (تقريظ)]গির্জা ও শিরকি উপাসনালয় নির্মাণের বিধান (حكم)
মুসলিম দেশসমূহে; গ্রন্থনায়
শ্রদ্ধেয় শায়খ ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقريظ صاحب السماحة العلامة الجليل الأثري
الشيخ
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
يرحمه الله - آمين - لهذه الرسالة
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.
أما بعد، فهذه الرسالة مهمة في حكم بناء الكنائس والمعابد الشركية في بلاد أهل الإسلام، جمعها العلامة الشيخ إسماعيل بن محمد الأنصاري الباحث في رئاسة إدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد - جزاه الله خيرا وزاده علما وتوفيقا (1) - ردا على ما نشرته بعض الجرائد المصرية في جواز إحداث الكنائس في البلاد الإسلامية.
وقد قرأت هذه الرسالة من أولها إلى آخرها فألفيتها رسالة قيمة، قد ذكر فيها مؤلفها ما ورد في بناء الكنائس والبيع وسائر المعابد الكفرية من الأحاديث النبوية والآثار وكلام أهل العلم في المذاهب الأربعة، وقد أجاد وأفاد وختمها برسالتين جليلتين عظيمتي الفائدة للإمام العلامة أبي العباس شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.
ولا ريب أن موضوع الرسالة مهم جدا ولا سيما في هذا العصر الذي كثر فيه اختلاط الكفار بالمسلمين ونشاط النصارى في بناء الكنائس في بعض البلاد الإسلامية ولا سيما بعض دول الجزيرة العربية.
--------------------------------------------
মহামান্য মহিমান্বিত আল্লামা আল-আছারি
শায়খ
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন - আমিন - এর পক্ষ থেকে এই পুস্তিকার জন্য প্রশংসা বাণী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়াত অনুযায়ী চলবে তাদের ওপর।
অতঃপর, এই পুস্তিকাটি মুসলিম দেশগুলোতে গির্জা ও শিরকপূর্ণ উপাসনালয় নির্মাণের বিধানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সংকলন করেছেন আল্লামা শায়খ ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারী, যিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ প্রেসিডেন্সির গবেষক — আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর জ্ঞান ও তাওফিক বৃদ্ধি করুন (১) — এটি মিশরের কিছু সংবাদপত্রে প্রকাশিত মুসলিম দেশগুলোতে গির্জা নির্মাণের বৈধতা সংক্রান্ত বিষয়ের জবাবে লেখা হয়েছে।
আমি এই পুস্তিকাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছি এবং এটিকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান পুস্তিকা হিসেবে পেয়েছি। এর লেখক এতে গির্জা, সিনাগগ এবং অন্যান্য কুফরি উপাসনালয় নির্মাণের বিষয়ে বর্ণিত নব্যুয়তি হাদিসসমূহ, সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা (آثار) এবং চার মাজহাবের আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন ও উপকৃত করেছেন এবং ইমাম আল্লামা আবুল আব্বাস শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর অত্যন্ত উপকারী ও মহিমান্বিত দুটি পুস্তিকা দিয়ে এটি সমাপ্ত করেছেন।
নিঃসন্দেহে এই পুস্তিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এই যুগে যখন মুসলিমদের সাথে কাফিরদের মেলামেশা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিছু মুসলিম দেশে, বিশেষ করে জাযিরাতুল আরবের কিছু রাষ্ট্রে খ্রিস্টানদের গির্জা নির্মাণের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد أجمع العلماء رحمهم الله على تحريم بناء الكنائس في البلاد الإسلامية، وعلى وجوب هدمها إذا أُحدثت، وعلى أن بناءها في الجزيرة العربية كنجد والحجاز وبلدان الخليج واليمن أشد إثما وأعظم جرما؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بإخراج اليهود والنصارى والمشركين من جزيرة العرب، ونهى أن يجتمع فيها دينان، وتبعه أصحابه في ذلك.
ولما استخلف عمر رضي الله عنه أجلى اليهود من خيبر عملا بهذه السنة، ولأن الجزيرة العربية هي مهد الإسلام ومنطلق الدعاة إليه ومحل قبلة المسلمين فلا يجوز أن ينشأ فيها بيت لعبادة غير الله سبحانه كما لا يجوز أن يقر فيها من يعبد غيره.
ولما حصل من التساهل في هذا الأمر العظيم رأيت أن نشر هذه الرسالة مفيد جدا إن شاء الله، بل من أهم المهمات ولهذا أمرت بطبعها ونشرها وتوزيعها على حساب رئاسة البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد نصحا للأمة وبراءة للذمة ومساهمة في إنكار هذا المنكر العظيم والدعوة إلى إنكاره والتحذير منه، وأسأل الله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى أن يطهر بلاد المسلمين عموما والجزيرة العربية خصوصا من جميع المعابد الشركية، وأن يوفق ولاة أمر المسلمين إلى إزالتها والقضاء عليها طاعة لله سبحانه وامتثالا لأمر رسوله عليه الصلاة والسلام وسيرا على منهج سلف الأمة وتحقيقا لما دعا إليه علماء الإسلام من إزالة الكنائس والمعابد الشركية المحدثة في بلاد المسلمين، إنه جواد كريم.
وصلى الله وسلم على عبده ورسوله وأمينه على وحيه نبينا وإمامنا وسيدنا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان.
أملاه الفقير إلى عفو ربه: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن آل باز - الرئيس العام لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد.
حرر في ليلة الخميس 25 / 10 / 1400 هجرية.
ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) মুসলিম ভূখণ্ডে গির্জা নির্মাণ হারাম হওয়ার বিষয়ে এবং সেগুলো নতুনভাবে নির্মিত হলে তা ভেঙে ফেলা আবশ্যক (واجب) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। আর আরব উপদ্বীপ—যেমন: নজদ, হিজাজ, উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ এবং ইয়ামেনে গির্জা নির্মাণ করা আরও বড় গুনাহ ও গুরুতর অপরাধ; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি, নাসারা ও মুশরিকদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেখানে দুটি ধর্ম একত্রিত হতে নিষেধ করেছেন। তাঁর সাহাবীগণও এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন।
যখন উমর (রা.) খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন তিনি এই সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল করে খায়বার থেকে ইহুদিদের বহিষ্কার করেন। কারণ আরব উপদ্বীপ হলো ইসলামের সূতিকাগার, ইসলামের দাঈদের কর্মতৎপরতার কেন্দ্রস্থল এবং মুসলমানদের কিবলার স্থান। অতএব, সেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ছাড়া অন্য কারো ইবাদতের জন্য কোনো উপাসনালয় নির্মাণ করা জায়েজ নয়, যেমন সেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতকারীকে বসবাস করতে দেওয়াও জায়েজ নয়।
যেহেতু এই মহান বিষয়ে শিথিলতা প্রকাশ পেয়েছে, তাই আমি এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করা ইনশাআল্লাহ অত্যন্ত উপকারী মনে করেছি, বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই আমি জাতির কল্যাণ কামনায়, দায়মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে এবং এই গুরুতর মন্দ কাজ (منكر) অস্বীকার করা ও তা থেকে সতর্কীকরণে অংশগ্রহণের নিমিত্তে ‘জেনারেল প্রেসিডেন্সি অফ স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা, দাওয়া এন্ড গাইডেন্স’-এর পক্ষ থেকে এটি মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি সাধারণভাবে মুসলিম দেশসমূহকে এবং বিশেষভাবে আরব উপদ্বীপকে সব ধরনের শিরকি উপাসনালয় থেকে পবিত্র করেন। আর তিনি যেন মুসলিম শাসকদের সেগুলো অপসারণ ও নির্মূল করার তাওফিক দান করেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আনুগত্য, তাঁর রাসুলের নির্দেশ পালন, উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف) মানহাজ অনুসরণ এবং মুসলিম দেশগুলোতে নির্মিত গির্জা ও শিরকি উপাসনালয়গুলো অপসারণের জন্য ইসলামের আলেমগণ যে আহ্বান জানিয়েছেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।
আল্লাহর বান্দা, রাসুল এবং তাঁর ওহীর আমানতদার, আমাদের নবী, ইমাম ও নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-বাজ কর্তৃক শ্রুতিলিখিত—জেনারেল প্রেসিডেন্সি অফ স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা, দাওয়া এন্ড গাইডেন্স-এর প্রধান।
২৫/১০/১৪০০ হিজরি, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد: فقد نشرت جريدة الشرق في عددها الصادر في يومي الثلاثاء والأربعاء 13 - 14 / 2 / 1979 أن الدكتور صوفي أبا طالب رئيس مجلس الشعب المصري صرح في ندوة جماهيرية عقدت لبحث تطبيق الشريعة الإسلامية بأن من أهم الأسس الدالة على عظمة الإسلام وسموه التي يجب أن تقوم عليها العلاقة بين الأغلبية الإسلامية والأقليات المسيحية عند تطبيق الشريعة الإسلامية في الدول الإسلامية المختلفة ومن بينها مصر إطلاق حرية الأقليات في السماح لهم ببناء الكنائس.
وحيث إن إطلاق الحرية في ذلك لم يسوغه شرع قط بل جميع الشرائع متفقة على تحريم الكفر الذي يقتضي تحريم إنشاء مكان يكفر فيه بالله تعالى، والكنيسة لا تتخذ إلا لذلك فقد تعقبنا رأيه ذلك بهذا الرد المرتب على ما يلي:
1 - بيان ما ورد من الأحاديث في منع ذلك.
2 - ذكر ما ورد من الآثار عن الصحابة في ذلك.
3 - إيراد نصوص المذاهب الأربعة في الموضوع.
4 - تقسيم البلاد التي تفرق فيها أهل الذمة والعهد وحكم الكنائس فيها.
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবী (صحابة)-দের ওপর।
অতঃপর: আশ-শারক পত্রিকা তাদের ১৩-১৪/০২/১৯৭৯ তারিখে (মঙ্গল ও বুধবার) প্রকাশিত সংখ্যায় প্রকাশ করেছে যে, মিশরীয় গণপরিষদের স্পিকার ড. সুফি আবু তালিব ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য আয়োজিত এক জনসভায় ঘোষণা করেছেন যে, ইসলামের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি—যার ওপর মিশরসহ বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়নের সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের মধ্যকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত—তা হলো গির্জা নির্মাণের অনুমতির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অবাধ স্বাধীনতা প্রদান করা।
যেহেতু এই বিষয়ে অবাধ স্বাধীনতা প্রদানের বিষয়টি কোনো শরীয়াহ কখনো বৈধতা দেয়নি, বরং সকল আসমানি শরীয়াহ কুফরকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত, যা মহান আল্লাহর সাথে কুফর করা হয় এমন স্থান নির্মাণকে নিষিদ্ধ করে; আর গির্জা তো কেবল এই উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়। তাই আমরা তাঁর সেই মতামতের প্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত বিন্যাস অনুযায়ী এই জবাবটি তৈরি করেছি:
1 - এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসসমূহের বর্ণনা।
2 - এ বিষয়ে সাহাবী (صحابة)-দের থেকে বর্ণিত আসার (الآثار)-সমূহের উল্লেখ।
3 - এই বিষয়ের ওপর চার মাযহাবের মূল পাঠ (نصوص)-সমূহ উপস্থাপন।
4 - জিম্মি (أهل الذمة) ও চুক্তিবদ্ধ (أهل العهد) অমুসলিমদের বসবাসের দেশসমূহের শ্রেণিবিভাগ এবং সেখানে গির্জা নির্মাণের বিধান।
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - خاتمة في تحقيقات لشيخ الإسلام ابن تيمية في الموضوع تحتوي عليها رسالتان له.
والله أسأل التوفيق وهو حسبي ونعم الوكيل.
৫ - জাল (موضوع) হাদিস বিষয়ক শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর গবেষণালব্ধ পর্যালোচনার সংবলিত একটি উপসংহার, যা তাঁর দুটি পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত।
আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করছি; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং শ্রেষ্ঠ কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
[بيان ما ورد في منع إحداث الكنائس في بلاد الإسلام من الأحاديث]بيان ما ورد في منع إحداث الكنائس في بلاد الإسلام من الأحاديث وردت أحاديث في منع إحداث الكنائس في بلاد الإسلام نذكرها فيما يلي:
1 - ما رواه أبو محمد عبد الله بن محمد بن جعفر بن حبان المعروف بأبي الشيخ في كتاب شروط الذمة، قال: حدثنا إبراهيم بن محمد بن الحارث، ثنا سليمان بن داود أبو أيوب، ثنا سعيد بن الحباب، ثنا عبيد بن بشار، عن أبي الزاهرية، عن كثير بن مرة قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تُحدثُوا كنيسة في الإسلام ولا تُجددوا ما ذَهَب منها» . ومن طريق أبي الشيخ بهذا السند روى السبكي في فتوى له في منع ترميم الكنائس هذا الحديث في الباب الذي عقده للأحاديث الواردة في منع ذلك.
ثم قال: " هكذا في هذه الطريق عبيد بن بشار وأظنه تصحيفا، فقد رواه أبو أحمد عبد الله بن عدي الحافظ الجرجاني في كتابه (الكامل) في ترجمة سعيد بن سنان عن أبي الزاهرية عن كثير بن مرة قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا نذر في معصية، ولا يمين في معصية، وكفارته كفارة يمين» ، قال ابن عدي وبإسناده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تبنى كنيسة في الإسلام ولا يجدد ما خرب منها» ثم قال السبكي: سعيد بن سنان ضعفه الأَكثرون ووثقه بعضهم، وكان من صالحي أهل الشام وأفضلهم وهو من رجال ابن ماجه، كنيته أبو المهدي، وذكره عبد الحق في الأحكام " (1) .
2 - ما رواه أبو داود في باب إخراج اليهود من جزيرة العرب من سننه وهو من
--------------------------------------------
[ইসলামি ভূখণ্ডে গির্জা নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহের বর্ণনা]ইসলামি ভূখণ্ডে গির্জা নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা নিচে উল্লেখ করা হলো:
1 - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়্যান, যিনি আবুশ শাইখ নামে পরিচিত, তাঁর 'শুরুতুয যিম্মাহ' গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ আবু আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আয-যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি কাসির ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলামে তোমরা কোনো নতুন গির্জা নির্মাণ করো না এবং এর যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনরায় নির্মাণ করো না।» আবুশ শাইখের মাধ্যমে এই সনদ (سند) দ্বারা আস-সুবকি গির্জা সংস্কারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাঁর একটি ফতোয়ায় এই হাদিসটি ওই অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যা তিনি এই সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
অতঃপর তিনি বলেন: "এই সূত্রে উবাইদ ইবনে বাশার এভাবেই এসেছে এবং আমি একে শব্দ বিভ্রাট (تصحيف) বলে মনে করি। কেননা হাফেজ আবু আহমদ আবদুল্লাহ ইবনে আদি আল-জুরজানি তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে সাঈদ ইবনে সিনানের জীবনী (ترجمة) আলোচনায় আবু আয-যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি কাসির ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পাপের কাজে কোনো মানত নেই এবং পাপের কাজে কোনো শপথ নেই, আর এর কাফফারা হলো শপথের কাফফারা।» ইবনে আদি তাঁর সনদ (سند) সহ আরও বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলামে কোনো গির্জা নির্মাণ করা যাবে না এবং যা ধ্বংস হয়ে গেছে তা নতুন করে তৈরি করা যাবে না।» অতঃপর আস-সুবকি বলেন: সাঈদ ইবনে সিনানকে অধিকাংশ আলেম দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন এবং কেউ কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন; তিনি শামবাসীদের মধ্যে পুণ্যবান ও উত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি সুনানে ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনাকারীদের (رجال) একজন, তাঁর উপনাম আবু মাহদি, এবং আবদুল হক তাঁকে তাঁর 'আল-আহকাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।" (১) ।
2 - যা আবু দাউদ তাঁর সুনান-এর 'আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদিদের বহিষ্কার' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
أبواب كتاب الخراج والفيء والترمذي في كتاب الزكاة من جامعه.
وقال أبو داود ج 2 ص 148 (مطبعة مصطفى البابي الحلبي الأولى) : " حدثنا سليمان بن داود العتكي، ثنا جرير، عن قابوس بن أبي ظبيان، عن أبيه، عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تكون قبلتان في بلد واحد» .
وقال الترمذي في: " باب ما جاء ليس على المسلمين جزية " حدثنا يحيى بن أكثم، ثنا جرير، عن قابوس بن أبي ظبيان، عن أبيه، عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تصلح قبلتان في أرض واحدة وليس على المسلمين جزية» قال: وحدثنا أبو كريب، أخبرنا جرير، عن قابوس بهذا الإسناد نحوه، وفي الباب عن سعيد بن زيد وجد حرب بن عبيد الله الثقفي قال أبو عيسى: حديث ابن عباس قد روي عن قابوس بن أبي ظبيان عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا " اهـ. كلام الترمذي.
قال السبكي في فتوى له في منع ترميم الكنائس، وهي ضمن الجزء الثاني من فتاويه، قال (ص 374 - 375) : " وهذا الحديث قد اختلف في إسناده وإرساله، فرواه العتكي وأبو كريب عن جرير عن قابوس كما رأيت، ورويناه مقتصرا على الفصل الثاني من شقيه (1) وهو قوله: «ليس على مسلم جزية» في كتاب الأموال لأبي عبيد القاسم بن سلّام الذي سمعناه على شيخنا الدمياطي بسماعه من ابن الجميزي، قال أبو عبيد، ثنا مصعب بن المقدام، عن سفيان بن سعيد، عن قابوس، عن أبيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا. وجرير وإن كان ثقة لكن سفيان أجل منه، فعلى طريقة المحدثين المرسل أصح، وعلى طريقة بعض الفقهاء في المسند زيادة، وقد ذكر
--------------------------------------------
কিতাবুল খারাজ ও আল-ফাই-এর পরিচ্ছেদসমূহ এবং তিরমিযী তাঁর জামি'-এর কিতাবুজ জাকাত-এ উল্লেখ করেছেন।
এবং আবু দাউদ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪৮, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি-এর প্রথম মুদ্রণ) বলেন: "সুলাইমান বিন দাউদ আল-আতাকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাবুস বিন আবি জিবইয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'একই জনপদে দুটি কিবলা থাকতে পারে না'।"
এবং তিরমিযী "মুসলিমদের ওপর জিযিয়া নেই সম্পর্কিত অধ্যায়"-এ বলেন: ইয়াহইয়া বিন আকসাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাবুস বিন আবি জিবইয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একই ভূখণ্ডে দুটি কিবলা হওয়া সঠিক নয় এবং মুসলিমদের ওপর কোনো জিযিয়া নেই।" তিনি বলেন: আবু কুরাইব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাবুস থেকে এই একই সনদে অনুরূপ বর্ণনা। এবং এই অধ্যায়ে সাঈদ বিন যায়েদ এবং হারব বিন উবাইদুল্লাহ আল-সাকাফীর দাদা থেকে বর্ণনা রয়েছে। আবু ঈসা বলেন: "ইবনে আব্বাসের হাদিসটি কাবুস বিন আবি জিবইয়ান থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।" - তিরমিযীর বক্তব্য সমাপ্ত।
আস-সুবকী গির্জা সংস্কার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত তাঁর একটি ফতোয়ায় বলেন—যা তাঁর ফাতাওয়ার দ্বিতীয় খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত—তিনি (পৃষ্ঠা ৩৭৪-৩৭৫) বলেন: "এই হাদিসটির সনদ এবং এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আল-আতাকি এবং আবু কুরাইব এটি জারিরের সূত্রে কাবুস থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আপনি দেখেছেন। আর আমরা এটি এর দুই অংশের মধ্যে কেবল দ্বিতীয় অংশের (১) ওপর সীমাবদ্ধ অবস্থায় বর্ণনা করেছি—যা হলো তাঁর বাণী: 'কোনো মুসলিমের ওপর জিযিয়া নেই'—আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লামের কিতাবুল আমওয়াল-এ, যা আমরা আমাদের শায়খ আদ-দুমইয়াতির নিকট তাঁর ইবনুল জুমাইজি থেকে শোনার মাধ্যমে শুনেছি। আবু উবাইদ বলেন, মুসাব বিন আল-মিকদাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান বিন সাঈদ থেকে, তিনি কাবুস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে। যদিও জারির একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী, তবে সুফিয়ান তাঁর চেয়েও অধিক মর্যাদাশীল। অতএব মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح), আর কিছু ফকিহদের পদ্ধতি অনুযায়ী সংযুক্ত (مسند) বর্ণনায় অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে। আর তিনি উল্লেখ করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
الترمذي الخلاف في إسناده وإرساله، وقابوس فيه لين مع توثيق بعضهم له، وكان يحيى بن سعيد يحدث عنه، ويحيى لا يحدث إلا عن ثقة، وفي القلب منه شيء ولا يتبين لي قيام الحجة به وحده، وعدت الشيخ نور الدين البكري في مرضه فسألني عن هذا الحديث وقال: ما بقي إلا تصحيحه، وأفتى بهدم الكنائس وبإجلاء اليهود والنصارى " اهـ المراد من كلام السبكي.
وقد ذكر شيخ الإسلام تقي الدين ابن تيمية في فتوى له، في الكنائس ذكرها ابن القيم في كتاب أحكام أهل الذمة (2 685) ذكر أن حديث: «لا تكونُ قبلتانِ في بلدٍ واحد» رواه أحمد وأبو داود بإسناد جيد، وجزم بأن شرط عمر في شروطه المشهورة أن لا يجددوا في مدائن الإسلام ولا فيما حولها كنيسة ولا صومعة ولا ديرا ولا قلاية؛ امتثال من عمر لهذا الحديث «لا تكون قبلتان في بلد واحد» .
3 - ما رواه أبو داود في " باب الإقامة بأرض الشرك " من سننه قال (2 84) قال: " حدثنا محمد بن داود بن سفيان، ثنا يحيى بن حسان قال: أخبرنا سليمان بن موسى أبو داود قال: ثنا جعفر بن سعد بن سمرة بن جندب قال: حدثني خبيب بن سليمان، عن أبيه سليمان بن سمرة، عن سمرة بن جندب: أما بعد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من جامع المشرك وسكن معه فإنه مثله» (1) . قال السبكي في فتواه في منع ترميم الكنائس ص 375 من الجزء الثاني من فتاوى السبكي قال: " لم يروه من أصحاب الكتب الستة إلا أبو داود، وبوَّب له " باب الإقامة في أرض الشرك "، وليس في سنده ضعف، فهو حديث حسن، ثم ذكر السبكي أن أبا الشيخ قال:
--------------------------------------------
তিরমিযী এর সূত্রে (إسناد) এবং বিচ্ছিন্নতা (إرسাল) নিয়ে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন। কাবুস নামক বর্ণনাকারীর মধ্যে কিছুটা নমনীয়তা (لين) রয়েছে, যদিও কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, আর ইয়াহইয়া কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকেই বর্ণনা করেন। তবে এ ব্যাপারে আমার অন্তরে কিছুটা সংশয় রয়েছে এবং কেবল এর মাধ্যমেই দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়া আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আমি শায়খ নূরুদ্দীন আল-বাকরীকে তার অসুস্থাবস্থায় দেখতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি আমাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং বলেন: এর বিশুদ্ধায়ন (تصحيح) ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। তিনি গির্জা ধ্বংস করার এবং ইহুদি ও নাসারাদের বহিষ্কার করার ফতোয়া দিয়েছিলেন—সুবকির বক্তব্যের সারাংশ এখানেই শেষ।
শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ গির্জা সংক্রান্ত একটি ফতোয়ায় যা উল্লেখ করেছেন, এবং ইবনে কাইয়্যিম তার 'আহকামু আহলিয যিম্মাহ' (২/৬৮৫) গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন, তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে: «একই ভূখণ্ডে দুটি কিবলা থাকতে পারবে না»—হাদিসটি আহমাদ ও আবু দাউদ উত্তম সূত্রে (إسناد جيد) বর্ণনা করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, উমর (রা.)-এর প্রসিদ্ধ শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, তারা মুসলিমদের জনপদে বা তার আশেপাশে কোনো গির্জা, সন্ন্যাসীর মঠ, উপাসনালয় বা নির্জন কক্ষ নতুন করে নির্মাণ করবে না; উমর (রা.)-এর এই শর্তারোপ ছিল «একই ভূখণ্ডে দুটি কিবলা থাকতে পারবে না»—এই হাদিসটিরই অনুসরণস্বরূপ।
৩ - আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থের "শিরকের ভূখণ্ডে অবস্থান" অধ্যায়ে (২/৮৪) বর্ণনা করেছেন: "আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান ইবনে মুসা আবু দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে সা'দ ইবনে সামুরা ইবনে জুনদুব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খুবাইব ইবনে সুলায়মান আমার কাছে তার পিতা সুলায়মান ইবনে সামুরা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন: অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুশরিকের সাথে সংমিশ্রণ ঘটায় এবং তার সাথে বসবাস করে, তবে সেও তারই মতো» (১)। সুবকি গির্জা সংস্কার নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক তার ফতোয়ায় (সুবকির ফতোয়া সমগ্রের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৭৫ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের মধ্যে কেবল আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর জন্য 'শিরকের ভূখণ্ডে অবস্থান' শিরোনামে অধ্যায় অনুচ্ছেদ করেছেন। এর সূত্রে (سند) কোনো দুর্বলতা (ضعف) নেই, সুতরাং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।" এরপর সুবকি উল্লেখ করেছেন যে, আবু শায়খ বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
" حدثنا إسحاق بن بيان الواسطي، ثنا فضل بن سهل، ثنا مضر بن عطاء الواسطي، ثنا همام، عن قتادة، عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تُسَاكِنُوا المشركينَ ولا تُجَامِعُوهم، فَمنْ سَاكَنَهُم أو جامعهم فَهو مِثلُهم» ، وذكر السبكي أن هذا الحديث هو معنى الحديث الأول، وأن الكتابي يسمى مشركا، فالحديث على ذلك يشمله عنده فيستدل به على تحريم مساكنته، ثم قال: " والمساكنة إن أخذت مطلقة في البلد يلزم أن لا يكون لهم في تلك البلد كنيسة؛ لأن الكنيسة إنما تبقى لهم بالشرط إذا كانوا فيها " اهـ.
4 - ما رواه مالك في " ما جاء في إجلاء اليهود من المدينة "، من الموطأ عن إسماعيل بن أبي حكيم أنه سمع عمر بن عبد العزيز يقول: " كان من آخر ما تكلم به رسول الله صلى الله عليه وسلم أن قال: «قاتل الله اليهود والنصارى، اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد لا يبقين دينان بأرض العرب» . وروى مالك أيضا في ذلك الباب عن ابن شهاب: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يجتمع دينان بجزيرة العرب» . قال مالك: قال ابن شهاب: ففحص عن ذلك عمر بن الخطاب حتى أتاه الثلج واليقين أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يجتمع دينان في جزيرة العرب» . فأجلى يهود خيبر.
قال مالك: " وقد أجلى عمر بن الخطاب يهود نجران وفدك. فأما يهود خيبر فخرجوا منها ليس لهم من الثمر ولا من الأرض شيء. وأما يهود فدك فكان لهم نصف الثمر ونصف الأرض؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان صالحهم على نصف الثمر ونصف الأرض فأقام لهم عمر نصف الثمر ونصف الأرض قيمة من ذهب وورق، وإبل وحبال وأقتاب، ثم أعطاهم القيمة ثم أجلاهم منها " اهـ.
ومرسل ابن شهاب الذي ورد في رواية مالك الأخيرة وصله صالح بن أبي الأخضر، عن الزهري، عن سعيد، عن أبي هريرة. أخرجه إسحاق في مسنده ورواه
ইসহাক বিন বায়ান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফাদল বিন সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুদার বিন আতা আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সাথে একত্রিত হয়ো না। যে ব্যক্তি তাদের সাথে বসবাস করবে বা তাদের সাথে একত্রিত হবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।» সুবকি উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি প্রথম হাদিসের অর্থের অনুরূপ এবং আহলে কিতাবকেও মুশরিক বলা হয়। সুতরাং, তাঁর মতে হাদিসটি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা তাদের সাথে বসবাস করার নিষিদ্ধতা (تحريم) সম্পর্কে দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এরপর তিনি বলেন: "আর সহাবস্থানকে (المساكنة) যদি কোনো জনপদে সাধারণভাবে ধরা হয়, তবে আবশ্যক যে সেই জনপদে তাদের কোনো গির্জা থাকবে না; কারণ গির্জা কেবলমাত্র তখনই তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষে বহাল থাকে যখন তারা সেখানে অবস্থান করে।" সমাপ্ত।
4 - মুয়াত্তার "মদিনা থেকে ইহুদিদের বহিষ্কার প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে" পরিচ্ছেদে মালিক বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন আবি হাকিম থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমর বিন আব্দুল আজিজকে বলতে শুনেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর শেষ কথাগুলোর মধ্যে যা বলেছিলেন তা হলো: 'আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের ধ্বংস করুন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে। আরব ভূমিতে যেন দুটি ধর্ম অবশিষ্ট না থাকে'।» মালিক উক্ত পরিচ্ছেদে ইবনে শিহাব থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আরব উপদ্বীপে দুটি ধর্ম একত্রে অবস্থান করবে না।» মালিক বলেন: ইবনে শিহাব বলেছেন: উমর বিন আল-খাত্তাব এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেন যতক্ষণ না তিনি সুনিশ্চিত তথ্য ও ধ্রুব সত্য (اليقين) লাভ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «আরব উপদ্বীপে দুটি ধর্ম একত্রে অবস্থান করবে না।» অতঃপর তিনি খায়বারের ইহুদিদের বহিষ্কার করেন।
মালিক বলেন: "উমর বিন আল-খাত্তাব নাজরান এবং ফাদাকের ইহুদিদেরও বহিষ্কার করেছিলেন। খায়বারের ইহুদিরা সেখান থেকে এমন অবস্থায় বের হয়েছিল যে, ফল বা ভূমির কোনো কিছুর মালিকানাই তাদের ছিল না। তবে ফাদাকের ইহুদিদের জন্য অর্ধেক ফল ও অর্ধেক ভূমি নির্ধারিত ছিল; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের সাথে অর্ধেক ফল ও অর্ধেক ভূমির বিনিময়ে সন্ধি করেছিলেন। উমর তাদের সেই অর্ধেক ফল ও অর্ধেক ভূমির মূল্য স্বর্ণ, রৌপ্য, উট, রশি এবং হাওদা হিসেবে নির্ধারণ করেন, অতঃপর তাদের সেই মূল্য পরিশোধ করে সেখান থেকে বহিষ্কার করেন।" সমাপ্ত।
মালিকের শেষ বর্ণনায় ইবনে শিহাবের যে বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাটি এসেছে, সালিহ বিন আবি আল-আখদার সেটি যুহরি, সাঈদ ও আবু হুরায়রা সূত্রে সংযুক্ত (وصله) করেছেন। ইসহাক তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، فذكره مرسلا. وزاد فقال عمر لليهود: " من كان منكم عنده عهد من رسول الله فليأت به وإلا فإني مجليكم ". ورواه أحمد في مسنده موصولا عن عائشة ولفظه عنها قالت: «آخر ما عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن لا يترك بجزيرة العرب دينان» . أخرجه من طريق ابن إسحاق: حدثني صالح بن كيسان، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن عائشة. . أفاد جميع ذلك - أي ما ذكرناه في مرسل ابن شهاب الحافظ ابن حجر العسقلاني في كتابه " تلخيص الحبير ".
وأما أرض العرب وجزيرة العرب الواردتان في روايتي الموطأ، فقد قال الحافظ أبو عمر بن عبد البر في الجزء الأول من " التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد ": وأما قوله: " أرض العرب " و " جزيرة العرب " في هذا الحديث، فذكر ابن وهب عن مالك قال: أرض العرب مكة والمدينة واليمن. وذكر أبو عبيد القاسم بن سلام عن الأصمعي قال: جزيرة العرب من أقصى عدن أبين إلى ريف العراق في الطول، وأما في العرض فمن جدة وما والاها من سائر البحر إلى أطراف الشام.
وقال أبو عبيد: جزيرة العرب ما بين حفر أبي موسى إلى أقصى اليمن في الطول، وأما في العرض فمن بير يبرين إلى منقطع السماوة، قال أبو عمر: أخبرنا بذلك كله أبو القاسم عبد الوارث بن سفيان وأبو عمر أحمد بن محمد بن أحمد، قالا: حدثنا محمد بن عيسى وأخبرنا أبو القاسم بن عمر بن عبد الله قال: حدثنا عبد الله بن محمد بن علي قال: حدثنا أحمد بن خالد، قالا جميعا: حدثنا علي بن عبد العزيز عن أبي عبيد القاسم بن سلام في كتابه في شرح غريب الحديث، وبجميع الشرح المذكور.
আব্দুর রাজ্জাক, মা’মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি এটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) ইহুদিদের উদ্দেশ্যে বললেন: "তোমাদের মধ্যে যার কাছে আল্লাহর রাসূলের কোনো অঙ্গীকারনামা রয়েছে, সে যেন তা নিয়ে আসে। অন্যথায় আমি তোমাদের বহিষ্কার করব।" ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি আয়েশা (রা.) থেকে মুত্তাসিল (موصول) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত শব্দগুলো হলো: "আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সর্বশেষ নির্দেশ ছিল যে, জাযিরাতুল আরবে (আরব উপদ্বীপে) যেন দুটি ধর্ম অবশিষ্ট না রাখা হয়।" এটি ইবনে ইসহাক-এর সূত্রে সংকলিত হয়েছে: সালেহ ইবনে কায়সান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর "তালখিসুল হাবির" গ্রন্থে এই সমস্ত তথ্য প্রদান করেছেন—অর্থাৎ ইবনে শিহাবের মুরসাল (مرسل) বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা যা উল্লেখ করেছি।
আর মুয়াত্তা-এর দুটি বর্ণনায় যে 'আরদুল আরব' (আরব ভূখণ্ড) এবং 'জাযিরাতুল আরব' (আরব উপদ্বীপ) শব্দদ্বয় এসেছে, সে সম্পর্কে হাফেজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার তাঁর "আত-তামহিদ লিমা ফিল মুয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ" গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে বলেছেন: এই হাদিসে বর্ণিত "আরদুল আরব" ও "জাযিরাতুল আরব" সম্পর্কে ইবনে ওয়াহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আরদুল আরব" হলো মক্কা, মদিনা ও ইয়ামেন। এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম আসমাঈ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: জাযিরাতুল আরবের দৈর্ঘ্য হলো এডেন-আবইয়ান এর শেষ সীমানা থেকে ইরাকের গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত; আর এর প্রস্থ হলো জেদ্দা ও সমুদ্র তীরবর্তী তৎসংলগ্ন অঞ্চলসমূহ থেকে সিরিয়ার প্রান্তদেশ পর্যন্ত।
আবু উবাইদ বলেছেন: জাযিরাতুল আরবের দৈর্ঘ্য হলো হাফরে আবু মুসা থেকে ইয়ামেনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত; আর এর প্রস্থ হলো বির ইয়াবরিন থেকে সামাওয়াহ-এর শেষ সীমানা পর্যন্ত। আবু উমর (ইবনে আব্দুল বার) বলেন: আবু কাসিম আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান এবং আবু উমর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ এই সমস্ত বিষয় আমাদের অবহিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আবু কাসিম ইবনে উমর ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে খালিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের কাছে আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম-এর সূত্রে তাঁর "শারহু গারিবিল হাদিস" গ্রন্থে উল্লিখিত সম্পূর্ণ ব্যাখ্যাটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال يعقوب بن شيبة: حفر أبي موسى على منازل من البصرة في طريق مكة خمسة منازل أو ستة.
وقال أحمد بن المعذل: حدثني يعقوب بن محمد بن عيسى الزهري قال: قال مالك بن أنس: جزيرة العرب المدينة ومكة واليمامة واليمن. قال: وقال المغيرة بن عبد الرحمن: جزيرة العرب المدينة ومكة واليمن وقرياتها. وذكر الواقدي عن معاذ بن محمد الأنصاري أنه حدثه عن أبي وجزة يزيد بن عبيد السعدي أنه سمعه يقول: القرى العربية: الفرع وينبع والمروة ووادي القرى والجار وخيبر، قال الواقدي: وكان أبو وجزة السعدي عالما بذلك، قال أبو وجزة: وإنما سميت قرى عربية لأنها من بلاد العرب.
وقال أحمد بن المعذل: حدثني بشر بن عمر قال: قلت لمالك: إننا لنرجو أن تكون من جزيرة العرب - يريد البصرة - لأنه لا يحول بينكم وبيننا نهر، فقال: ذلك أن كان قومك تبوءوا الدار والإيمان " قال أبو عمر رضي الله عنه: قال بعض أهل العلم: إنما سمي الحجاز لأنه حجز بين تهامة ونجد، وإنما قيل لبلاد العرب جزيرة لإحاطة البحر والأنهار بها من أقطارها وأطرافها، فصاروا فيها في مثل جزيرة من جزائر البحر " اهـ. ما في التمهيد عن أرض العرب وجزيرة العرب.
5 - ما رواه أحمد بن حنبل وأبو عبد القاسم بن سلام عن توبة بن نمر عمن أخبره: قال أحمد بن حنبل، ثنا حماد بن خالد الخياط، أخبرنا الليث بن سعد، عن توبة بن نمر الحضرمي (قاضي مصر) عمن أخبره، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا خِصَاء في الإسلام ولا كنيسة» (1) .
--------------------------------------------
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেন: আবু মুসা বসরার ঘরবাড়ি থেকে মক্কার পথে পাঁচটি বা ছয়টি মনজিল (বিরতিস্থল) পর্যন্ত খনন করেছিলেন।
আহমাদ ইবনুল মুয়াদ্দাল বলেন: ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আজ-জুহরি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: জাজিরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ) হলো মদিনা, মক্কা, ইয়ামামাহ ও ইয়ামান। তিনি বলেন: আর মুগিরা ইবনে আবদুর রহমান বলেছেন: জাজিরাতুল আরব হলো মদিনা, মক্কা, ইয়ামান ও এর গ্রামসমূহ। আল-ওয়াকিদি মুআয ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাকে আবু ওয়াজযাহ ইয়াযিদ ইবনে উবাইদ আস-সাদি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: আরবি গ্রামসমূহ হলো: আল-ফুরু, ইয়ানবু, আল-মারওয়া, ওয়াদিউল কুরা, আল-জার ও খায়বার। আল-ওয়াকিদি বলেন: আবু ওয়াজযাহ আস-সাদি এ বিষয়ে অত্যন্ত জ্ঞানী ছিলেন। আবু ওয়াজযাহ বলেন: এগুলিকে আরবি গ্রাম এ জন্য বলা হয় কারণ এগুলো আরব ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
আহমাদ ইবনুল মুয়াদ্দাল বলেন: বিশর ইবনে উমর আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলেছিলাম: আমরা আশা রাখি যে আমরাও জাজিরাতুল আরবের অন্তর্ভুক্ত হবো—তিনি বসরা উদ্দেশ্য করেছিলেন—কারণ আমাদের ও আপনাদের মধ্যে কোনো নদী প্রতিবন্ধক নেই। তখন তিনি বলেন: এটি তখনই সম্ভব যদি তোমার কওম সেখানে নিবাস গ্রহণ করে এবং ঈমান আনয়ন করে। আবু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেন: হিজাযকে হিজায বলা হয় কারণ এটি তিহামাহ ও নাজদের মধ্যে অন্তরায় (حجز) সৃষ্টি করেছে। আর আরব ভূখণ্ডকে জাজিরা (উপদ্বীপ) বলা হয় কারণ সাগর ও নদীসমূহ এর চতুর্দিক ও প্রান্তসমূহকে বেষ্টন করে রেখেছে, ফলে তারা সেখানে সমুদ্রের দ্বীপসমূহের ন্যায় অবস্থান করছে। আরব ভূখণ্ড ও জাজিরাতুল আরব সম্পর্কে ‘আত-তামহিদ’ গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা এখানেই শেষ হলো।
৫ - আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম তাওবাহ ইবনে নিম্র থেকে এবং তিনি তার সংবাদদাতার সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, হাম্মাদ ইবনে খালিদ আল-খাইয়াত আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, লাইস ইবনে সাদ আমাদের জানিয়েছেন তাওবাহ ইবনে নিম্র আল-হাদরামি (মিসরের কাজি) থেকে, তিনি তার সংবাদদাতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ইসলামে কোনো নপুংসককরণ নেই এবং কোনো গির্জাও নেই» (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال أبو عبيد في كتاب الأموال: " حدثنا عبد الله بن صالح عن الليث بن سعد قال: حدثني توبة بن النمر الحضرمي قاضي مصر عمن أخبره قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا خصاء في الإسلام ولا كنيسة» (1) .
قال أبو الحسن علي بن عبد الكافي السبكي في فتوى له في منع ترميم الكنائس في ج 2 من فتاوى السبكي ص 374 بعد إيراده هذا الحديث من طريقي الإمامين أحمد بن حنبل وأبي القاسم بن سلام: " استدلوا به على عدم إحداث الكنائس، ولو قيل إنه شامل للإحداث والإبقاء لم يبعد، ويخص منه ما كان بالشرط بدليل ويبقى ما عداه على مقتضى اللفظ، وتقديره: لا كنيسة موجودة شرعا " اهـ.
[ذكر ما ورد في إحداث الكنائس في بلاد الإسلام من الآثار]ذكر ما ورد في إحداث الكنائس في بلاد الإسلام من الآثار ورد في منع إحداث الكنائس في أمصار المسلمين آثار نذكر منها ما يلي:
أولا: ما رواه أبو عبيد القاسم بن سلام في " كتاب الأموال " قال: " حدثني أبو الأسود عن أبي لهيعة يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير قال: قال عمر بن الخطاب: " لا كنيسة في الإسلام ولا خصاء " حدثني أحمد بن بكير عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب عن عمر مثل ذلك، ولم يذكر عن أبي الخير " (2) اهـ.
ورواه علي بن عبد العزيز قال: " حدثنا أبو القاسم، حدثني أبو الأسود، عن ابن
--------------------------------------------
আবু উবাইদ কিতাবুল আমওয়ালে বলেছেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মিশরের কাজী তাওবাহ ইবনুল নিমির আল-হাদরামি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলামে খাসিকরণ নেই এবং নতুন গির্জা নির্মাণ নেই» (১)।
আবুল হাসান আলী বিন আবদ আল-কাফি আল-সুবকি গির্জা সংস্কার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত তার একটি ফতোয়ায় (ফাতাওয়া আল-সুবকি, ২য় খণ্ড, ৩৭৪ পৃষ্ঠা), ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং আবুল কাসিম ইবনে সাল্লামের মাধ্যমে বর্ণিত এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "তারা এটি দিয়ে গির্জা নির্মাণ না করার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন। আর যদি বলা হয় যে এটি নতুন নির্মাণ এবং (পুরানোটি) বহাল রাখা—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা অবাস্তব নয়; তবে দলিলের ভিত্তিতে যা শর্ত সাপেক্ষে নির্ধারিত তা এর ব্যতিক্রম হবে এবং অবশিষ্টগুলো শব্দের দাবি অনুযায়ী বহাল থাকবে। এর মর্মার্থ হলো: শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো গির্জা বিদ্যমান থাকবে না।" সমাপ্ত।
[ইসলামি ভূখণ্ডে গির্জা নির্মাণের বিষয়ে বর্ণিত আসার (آثار) সমূহের উল্লেখ]ইসলামি ভূখণ্ডে গির্জা নির্মাণের বিষয়ে বর্ণিত আসার (آثار) সমূহের উল্লেখ: মুসলিম জনপদগুলোতে নতুন গির্জা নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে কিছু আসার (آثار) বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্য থেকে আমরা নিম্নোক্তগুলো উল্লেখ করছি:
প্রথমত: যা আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম কিতাবুল আমওয়ালে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আসওয়াদ, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: 'ইসলামে কোনো গির্জা নেই এবং খাসিকরণ নেই'। আহমদ বিন বুকাইর আমার নিকট ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি আবুল খায়েরের নাম উল্লেখ করেননি" (২)। সমাপ্ত।
এটি আলী বিন আবদ আল-আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের নিকট আবুল কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আসওয়াদ, তিনি ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لهيعة، عن يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير مرثد بن عبد الله اليزني قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: " لا كنسية في الإسلام ولا خصاء " (1) .
وقد ورد في الشروط المشهورة عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: " أن لا يجددوا في مدائن الإسلام ولا فيما حولها كنيسة ولا صومعة راهب ولا قلاية ". وفيما يلي نص تلك الشروط التي جاء فيها ذلك الشرط.
قال الخلال في كتاب " أحكام أهل الملل ": أخبرنا عبد الله بن أحمد، حدثني أبو شرحبيل الحمصي عيسى بن خالد قال: حدثني عمر أبو اليمان وأبو المغيرة قالا: أخبرنا إسماعيل بن عياش قال: حدثنا غير واحد من أهل العلم قالوا: كتب أهل الجزيرة إلى عبد الرحمن بن غنم (2) " إنا حين قدمت بلادنا طلبنا إليك الأمان لأنفسنا وأهل ملتنا على أنا شرطنا على أنفسنا أن لا نحدث في مدينتنا كنيسة ولا فيما حولها ديرا ولا قلاية ولا صومعة (3) راهب ولا نجدد ما خرب من كنائسنا
--------------------------------------------
লাহি’আহ, ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের মারসাদ বিন আবদুল্লাহ আল-ইয়াজানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) বলেছেন: "ইসলামে কোনো গির্জা নির্মাণ এবং নপুংসকতা (খাসিকরণ) নেই" (১)।
ওমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ শর্তাবলীতে এসেছে: "তারা যেন ইসলামের শহরগুলোতে বা তার আশেপাশে কোনো গির্জা, সন্ন্যাসীর মঠ বা নির্জন কক্ষ পুনর্নির্মাণ না করে।" নিচে সেই শর্তাবলীর মূল পাঠ (متن) দেওয়া হলো যেখানে এই শর্তটি উল্লেখ করা হয়েছে।
আল-খাল্লাল তাঁর "আহকামু আহলিল মিলাল" গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শারাহবিল আল-হিমসি ঈসা বিন খালিদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর আবুল ইয়ামান ও আবু আল-মুগিরা, তাঁরা বলেন: আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট একাধিক আলিম বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: জাযীরার অধিবাসীরা আব্দুর রহমান বিন গনামের নিকট লিখেছিলেন (২) "যখন আপনি আমাদের দেশে আগমন করলেন, তখন আমরা নিজেদের এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের জীবনের নিরাপত্তার আবেদন করেছিলাম এই শর্তে যে, আমরা আমাদের শহরে বা এর আশেপাশে কোনো গির্জা, মঠ, নির্জন কক্ষ বা সন্ন্যাসীর মঠ তৈরি করব না এবং আমাদের গির্জাগুলোর মধ্যে যা ধ্বংস হয়ে গেছে তাও পুনর্নির্মাণ করব না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا ما كان منها في خطط المسلمين، وأن لا نمنع كنائسنا من المسلمين أن ينزلوها في الليل والنهار، وأن نوسع أبوابها للمارة وابن السبيل، ولا نؤوي فيها ولا في منازلنا جاسوسا، وأن لا نكتم غشا للمسلمين، وأن لا نضرب بنواقيسنا إلا ضربا خفيا في جوف كنائسنا، ولا نظهر عليها صليبا ولا نرفع أصواتنا في الصلاة ولا القراءة في كنائسنا فيما يحضره المسلمون، وأن لا نخرج صليبا ولا كتابا في سوق للمسلمين، وأن لا نخرج باعوثا - قال: والباعوث يجتمعون كما يخرج المسلمون يوم الأضحى والفطر - ولا شعانين، ولا نرفع أصواتنا مع موتانا، ولا نظهر النيران معهم في أسواق المسلمين، وأن لا نجاورهم بالخنازير ولا يبيع الخمور، ولا نظهر شركا ولا نرغب في ديننا ولا ندعو إليه أحدا، ولا نتخذ شيئا من الرقيق الذي جرت عليه سهام المسلمين، وأن لا نمنع أحدا من أقربائنا أرادوا الدخول في الإسلام، وأن نلزم زينا حيثما كنا، وأن لا نتشبه بالمسلمين في لبس قلنسوة ولا عمامة ولا نعلين ولا فرق شعر ولا في مراكبهم ولا نتكلم بكلامهم ولا نكتني بكناهم، وأن نجز مقادم رؤوسنا ولا نفرق نواصينا ونشد الزنانير على أوساطنا، ولا ننقش خواتمنا بالعربية، ولا نركب السروج، ولا نتخذ شيئا من السلاح ولا نحمله ولا نتقلد السيوف، وأن نوقر المسلمين في مجالسهم ونرشدهم الطريق، ونقوم لهم عن المجالس إن أرادوا الجلوس، ولا نطلع عليهم في منازلهم، ولا نعلم أولادنا القرآن، ولا يشارك أحد منا مسلما في تجارة إلا أن يكون إلى المسلم أمر التجارة، وأن نضيف كل مسلم عابر سبيل ثلاثة أيام ونطعه من أوسط ما نجد. ضمنا لك ذلك
এবং সেগুলোর মধ্যে এমন কোনো গির্জা (সংস্কার বা নির্মাণ) করব না যা মুসলমানদের পরিকল্পিত আবাসভূমির অন্তর্ভুক্ত। আমরা আমাদের গির্জাগুলোতে দিবা-রাত্রি কোনো সময়ই মুসলমানদের অবস্থান করতে বাধা দেব না এবং পথচারী ও মুসাফিরদের জন্য সেগুলোর প্রবেশদ্বার প্রশস্ত রাখব। আমরা সেখানে অথবা আমাদের ঘরবাড়িতে কোনো গুপ্তচরকে আশ্রয় দেব না এবং মুসলমানদের জন্য কোনো প্রকার প্রতারণা বা অনিষ্ট গোপন রাখব না। আমরা আমাদের গির্জার অভ্যন্তরে অত্যন্ত মৃদু আওয়াজ ছাড়া ঘণ্টা বাজাব না। আমরা সেগুলোর ওপর ক্রুশ প্রদর্শন করব না এবং মুসলমানদের উপস্থিতিতে আমাদের গির্জাগুলোতে প্রার্থনা বা তিলাওয়াতের সময় উচ্চৈঃস্ব্বর ব্যবহার করব না। মুসলমানদের বাজারে আমরা কোনো ক্রুশ বা ধর্মীয় কিতাব বের করব না। আমরা 'বাউস' (বর্ণনাকারী বলেন: বাউস হলো এমন একটি উৎসব যেখানে তারা সেভাবে একত্রিত হয় যেভাবে মুসলমানরা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরে বের হয়) কিংবা 'শাআনিন' (পাম সানডে) উৎসবের মিছিল বের করব না। আমাদের মৃতদের নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করব না এবং মুসলমানদের বাজারে তাদের সাথে কোনো অগ্নিশিখা বা মশাল প্রদর্শন করব না। আমরা মুসলমানদের প্রতিবেশী হিসেবে শূকর লালন-পালন করব না এবং মদ বিক্রি করব না। আমরা প্রকাশ্য শিরক প্রদর্শন করব না এবং কাউকে আমাদের ধর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করব না কিংবা এর দিকে কাউকে দাওয়াত দেব না। মুসলমানদের অধিকারে আসা যুদ্ধলব্ধ দাসদের মধ্য থেকে আমরা কাউকে গ্রহণ করব না। আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে আমরা তাকে বাধা দেব না। আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের নির্দিষ্ট পোশাক পরিধানে বাধ্য থাকব। টুপি, পাগড়ি, জুতা পরিধানে কিংবা চুলের সিঁথি কাটায় আমরা মুসলমানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করব না। তাদের বাহন ব্যবহার করব না, তাদের ভাষায় কথা বলব না এবং তাদের মতো কুনিয়া (كنية) বা উপনাম গ্রহণ করব না। আমরা আমাদের মাথার সামনের অংশের চুল ছেঁটে রাখব, কপালের ওপর চুলের গুচ্ছ ছেড়ে দেব না এবং আমাদের কোমরে 'জুন্নার' (কোমরবন্ধনী) বেঁধে রাখব। আমাদের আংটিতে আরবি হরফে কোনো কিছু খোদাই করব না। আমরা জিন (সড়ল) ব্যবহার করে সওয়ার হব না। কোনো প্রকার অস্ত্র গ্রহণ বা বহন করব না এবং তরবারি গলায় ঝুলাব না। আমরা মুসলমানদের মজলিসে তাদের সম্মান প্রদর্শন করব এবং তাদের পথ দেখিয়ে দেব। তারা যদি বসতে চায় তবে আমরা তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দাঁড়িয়ে যাব। আমরা তাদের ঘরবাড়িতে উঁকি দেব না এবং আমাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেব না। আমাদের কেউ কোনো ব্যবসায় মুসলমানদের সাথে অংশীদার হবে না, তবে ব্যবসার পূর্ণ কর্তৃত্ব যদি কোনো মুসলমানের হাতে থাকে তবে তা ভিন্ন কথা। আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী প্রত্যেক মুসাফির মুসলমানকে আমরা তিন দিন মেহমানদারি করব এবং আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মধ্যম মানের খাদ্য দ্বারা আপ্যায়ন করব। আমরা আপনার অনুকূলে এগুলোর নিশ্চয়তা প্রদান করছি।
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
على أنفسنا وذرارينا وأزواجنا ومساكيننا، وإن نحن غيرنا أو خالفنا عما شرطنا على أنفسنا وقبلنا الأمان عليه فلا ذمة لنا وقد حل لك منا ما يحل من أهل المعاندة والشقاق ".
فكتب بذلك عبد الرحمن بن غنم إلى عمر بن الخطاب، فكتب إليه عمر: " أن أمض لهم ما سألوا والحق فيهم حرفين اشترطهما عليهم مع ما شرطوا على أنفسهم: أن لا يشتروا من سبايانا، ومن ضرب مسلما فقد خلع عهده ".
فأنفذ عبد الرحمن بن غنم ذلك وأقر من أقام من الروم في مدائن الشام على هذا الشرط (1) .
وذكر سفيان الثوري، عن مسروق، عن عبد الرحمن بن غنم قال: كتبت لعمر بن الخطاب رضي الله عنه حين صالح نصارى الشام وشرط عليهم فيه أن لا يحدثوا في مدينتهم ولا فيما حولها ديرا ولا كنيسة ولا قلاية ولا صومعة راهب، ولا يجددوا ما خرب، ولا يمنعوا كنائسهم أن ينزلها أحد من المسلمين ثلاث ليال يطعمونهم، ولا يؤووا جاسوسا، ولا يكتموا غشا لمسلمين، ولا يعلموا أولادهم القرآن، ولا يظهروا شركا، ولا يمنعوا ذوي قراباتهم من الإسلام إن أرادوه، وأن يقروا المسلمين، وأن يقوموا لهم من مجالسهم إذا أرادوا الجلوس، ولا يتشبهوا بالمسلمين في شيء من لباسهم ولا يتكنوا بكناهم، ولا يركبوا سرجا، ولا يتقلدوا سيفا، ولا يبيعوا الخمور، وأن يجزوا مقادم رؤوسهم، وأن يلزموا زيهم حيثما كانوا، وأن يشدوا الزنانير على أوساطهم، ولا يظهروا صليبا ولا شيئا من كتبهم في شيء من طرق المسلمين، ولا يجاوروا المسلمين بموتاهم، ولا يضربوا بالناقوس إلا
--------------------------------------------
"...আমাদের নিজেদের ওপর, আমাদের সন্তানদের ওপর, আমাদের স্ত্রীদের ওপর এবং আমাদের অভাবগ্রস্তদের ওপর। আর যদি আমরা নিজেদের ওপর আরোপিত কোনো শর্ত পরিবর্তন করি বা তার বিরোধিতা করি, যার বিনিময়ে আমরা নিরাপত্তা (ذمة) গ্রহণ করেছি, তবে আমাদের জন্য আর কোনো জিম্মাহ (ذمة) থাকবে না এবং আমাদের ক্ষেত্রে তা-ই বৈধ হবে যা অবাধ্যতা ও হঠকারিতাকারীদের (المعاندة والشقاق) ক্ষেত্রে বৈধ হয়।"
আবদুর রহমান বিন ঘানাম বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাবকে লিখে জানালেন। উমর তাকে লিখে পাঠালেন: "তারা যা প্রার্থনা করেছে তা কার্যকর করো এবং তাদের ওপর আরও দুটি শর্ত যুক্ত করো যা তারা নিজেদের জন্য শর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছে: তারা যেন আমাদের যুদ্ধবন্দীদের (سبايا) মধ্য থেকে কাউকে ক্রয় না করে এবং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে আঘাত করবে, তার চুক্তি (عهد) বাতিল বলে গণ্য হবে।"
আবদুর রহমান বিন ঘানাম তা কার্যকর করলেন এবং শামের শহরগুলোতে বসবাসরত রোমীয়দের (বাইজেন্টাইন) এই শর্তের (شرط) ভিত্তিতে সেখানে অবস্থানের অনুমতি দিলেন (১)।
সুফিয়ান সাওরি মাসরুক থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান বিন ঘানাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য একটি পত্র লিখেছিলাম যখন তিনি শামের খ্রিস্টানদের সাথে সন্ধি (صالح) করেছিলেন এবং তাদের ওপর এই শর্তারোপ করেছিলেন যে, তারা তাদের শহরে বা তার আশেপাশে নতুন কোনো মঠ (دير), গির্জা (كنيسة), নিভৃত প্রার্থনা কক্ষ (قلاية) বা সন্ন্যাসীর আশ্রম (صومعة) নির্মাণ করবে না; ধ্বংসপ্রাপ্ত কোনো ধর্মীয় স্থাপনা সংস্কার করবে না; তাদের গির্জাগুলোতে কোনো মুসলিমকে তিন রাত অবস্থান করতে বাধা দেবে না এবং তাদের আহার করাবে; কোনো গুপ্তচরকে (جاسوس) আশ্রয় দেবে না; মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রতারণা (غش) গোপন করবে না; তাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেবে না; শিরক (شرك) প্রকাশ করবে না; তাদের আত্মীয়দের কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দেবে না; মুসলিমদের সম্মান করবে; মুসলিমরা বসতে চাইলে তাদের জন্য নিজেদের আসন ছেড়ে দেবে; মুসলিমদের পোশাকের কোনো কিছুর মাধ্যমে তাদের সাথে সাদৃশ্য (تشبه) গ্রহণ করবে না; তাদের মতো উপনাম (كنى) গ্রহণ করবে না; জিনের ওপর সওয়ার হবে না; তলোয়ার ঝুলিয়ে রাখবে না; মদ বিক্রি করবে না; মাথার সম্মুখভাগের চুল ছেঁটে ফেলবে; তারা যেখানেই থাকুক তাদের নিজস্ব পোশাক পরিধানে বাধ্য থাকবে; কোমরে কোমরবন্ধ (زنانير) বাঁধবে; মুসলিমদের চলাচলের রাস্তায় ক্রুশ (صليب) বা তাদের কিতাবসমূহের কোনো কিছু প্রদর্শন করবে না; মুসলিমদের আশেপাশে তাদের মৃতদেহ দাফন করবে না; ঘণ্টা (ناقوس) বাজাবে না তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ضربا خفيا، ولا يرفعوا أصواتهم بالقراءة في كنائسهم في شيء من حضرة المسلمين، ولا يخرجوا شعانين، ولا يرفعوا أصواتهم مع موتاهم، ولا يظهروا النيران معهم، ولا يشتروا من الرقيق ما جرت فيه سهام المسلمين.
فإن خالفوا شيئا مما شرطوه فل ذمة لهم، وقد حل للمسلمين منهم ما يحل من أهل المعاندة والشقاق.
وقال الربيع بن تغلب: حدثنا يحيى بن عقبة بن أبي العيزار، عن سفيان الثوري والوليد بن نوح والسري بن مصرف يذكرون عن طلحة بن مصرف، عن مسروق، عن عبد الرحمن بن غنم قال: كتبت لعمر بن الخطاب رضي الله عنه حين صالح نصارى أهل الشام:
" بسم الله الرحمن الرحيم، هذا كتاب لعبد الله عمر أمير المؤمنين من نصارى مدينة كذا وكذا: إنكم لما قدمتم علينا سألناكم الأمان لأنفسنا وذرارينا وأموالنا وأهل ملتنا، وشرطنا لكم على أنفسنا أن لا نحدث في مدائننا ولا فيما حولها ديرا ولا قلاية ولا كنيسة ولا صومعة راهب، فذكر نحوه ".
قال الإمام ابن القيم بعد أن أورد في كتابه " أحكام الذمة " تلك الشروط من الطرق التي ذكرناها قال: " وشهرة هذه الشروط تغني عن إسنادها، فإن الأئمة تلقوها بالقبول وذكروها في كتبهم واحتجوا بها، ولم يزل ذكر الشروط العمرية على ألسنتهم وفي كتبهم، وقد أنفذها بعده الخلفاء وعملوا بموجبها، فذكر أبو القاسم الطبري من حديث أحمد بن يحيى الحلواني: حدثنا عبيد بن جياد، حدثنا عطاء بن مسلم الحلبي، عن صالح المرادي، عن عبد خير قال: رأيت عليا صلى العصر فصف له أهل نجران صفين، فناوله رجل منهم كتابا فلما رآه دمعت عينه ثم رفع رأسه إليهم فقال: يا أهل نجران هذا والله خطي بيدي وإملاء رسول الله صلى الله عليه وسلم،
মৃদুভাবে আঘাত করবে, এবং তারা তাদের গির্জাগুলোতে মুসলিমদের উপস্থিতিতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করবে না, এবং তারা পাম রবিবার (شعانين) উপলক্ষে বের হবে না, এবং তাদের মৃতদের সাথে বিলাপের সময় উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করবে না, এবং তাদের সাথে আগুন প্রদর্শন করবে না, এবং তারা দাসদের মধ্য থেকে এমন কাউকে ক্রয় করবে না যার ওপর মুসলিমদের হিস্যা নির্ধারিত হয়েছে।
যদি তারা তাদের কৃত শর্তাবলির কোনো একটিরও বিপরীত আচরণ করে, তবে তাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা চুক্তি (ذمة) অবশিষ্ট থাকবে না এবং মুসলিমদের জন্য তাদের ব্যাপারে তা-ই বৈধ হয়ে যাবে যা অবাধ্য ও হঠকারী ব্যক্তিদের (أهل المعاندة والشقاق) ক্ষেত্রে বৈধ হয়।
আর রাবি বিন তাগলাব বলেন: ইয়াহইয়া বিন উকবা বিন আবিল আইজার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরি, ওয়ালিদ বিন নূহ এবং সাররি বিন মুসাররিফ থেকে, তাঁরা বর্ণনা করেন তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন গানম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট লিখেছিলাম যখন তিনি সিরিয়ার খ্রিস্টানদের সাথে সন্ধি করেছিলেন:
"বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনীন উমরের প্রতি অমুক অমুক শহরের খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে: আপনারা যখন আমাদের নিকট পদার্পণ করলেন, তখন আমরা আপনাদের কাছে আমাদের নিজেদের, আমাদের সন্তান-সন্ততি, আমাদের সম্পদ এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য নিরাপত্তার আবেদন জানালাম। আর আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য এই শর্তারোপ করলাম যে, আমরা আমাদের শহরগুলোতে এবং এর আশেপাশে কোনো মঠ, গির্জা, ছোট উপাসনালয় বা সন্ন্যাসীর আশ্রম নতুন করে নির্মাণ করব না..." এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "আহকামুয যিম্মাহ" কিতাবে আমরা যে সকল সূত্র (طرق) উল্লেখ করেছি সেগুলোর মাধ্যমে এই শর্তাবলি বর্ণনা করার পর বলেন: "এই শর্তাবলির প্রসিদ্ধি এর সনদ (إسناد) পেশ করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। কারণ ইমামগণ এগুলোকে গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ (تلقوها بالقبول) করেছেন, তাঁদের কিতাবসমূহে এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং এগুলো দ্বারা দলিল পেশ (احتجوا) করেছেন। উমরীয় শর্তাবলির (الشروط العمرية) আলোচনা সর্বদা তাঁদের মুখে ও কিতাবসমূহে বিদ্যমান ছিল। তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ এগুলো কার্যকর করেছেন এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করেছেন। আবুল কাসিম তাবারী আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানির হাদিস থেকে বর্ণনা করেন: উবাইদ বিন জিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা বিন মুসলিম আল-হালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ আল-মুরাদি থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে আসরের সালাত আদায় করতে দেখেছি, এরপর নাজরানবাসীরা তাঁর সামনে দুই সারিতে সারিবদ্ধ হলো। তাদের এক ব্যক্তি তাঁর হাতে একটি পত্র হস্তান্তর করল। যখন তিনি তা দেখলেন, তাঁর চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল। এরপর তিনি তাদের দিকে মাথা তুলে বললেন: হে নাজরানবাসী! আল্লাহর কসম, এটি আমার স্বহস্তে লেখা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্রুতিলিপি (إملاء)।"
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فقالوا: يا أمير المؤمنين، أعطنا ما فيه، قال: ودنوت منه فقلت: إن كان رادا على عمر يوما فاليوم يرد عليه، فقال: لست براد على عمر على عمر شيئا صنعه، إن عمر كان رشيد الأمر، وإن عمر أخذ منكم خيرا مما أعطاكم، ولم يجر عمر ما أَخذ منكم إلى نفسه إنما جره لجمعة المسلمين ".
وذكر ابن المبارك عن إسماعيل بن أبي خالد عن الشعبي أن عليا رضي الله عنه قال لأهل نجران: " إن عمر كان رشيد الأمر ولن أغير شيئا صنعه عمر " وقال الشعبي: قال علي حين قدم الكوفة: " ما جئت لأحل عقدة شدها عمر " اهـ. كلام ابن القيم، (1) وقد روى السبكي في فتواه في منع ترميم الكنائس من طريق أبي يعلى الموصلي رواية الربيع بن تغلب، عن يحيى بن عقبة بن أبي العيزار، عن سفيان الثوري والربيع بن نوح والسري، عن طلحة بن مصرف، عن مسروق، عن عبد الرحمن بن غنم، رواها بكاملها.
وأجاب عن طعن بعض أئمة الحديث في يحيى بن عقبة بما يستفاد منه ما يلي:
1 - أنه روي عنه هذه الشروط يحيى بن سعيد القطان، ويحيى القطان لا يروي إلا عن ثقة، فروايته عنه توثيق له، ورواها عن القطان محمد بن المصفى، ورواها عن ابن مصفى حرب في مسائله عن أحمد وإسحاق قال: وكذلك رواها البيهقي موافقا في الإسناد والمتن، وكذلك ابن حزم موافقا في الإسناد والمتن، وفي سنده يحيى بن عقبة، ولم يتعرض لذكر شيء فيه مع سعة حفظ ابن حزم، وذكرها خلائق
--------------------------------------------
তারা বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, এতে যা আছে তা আমাদের দিয়ে দিন।" বর্ণনাকারী বললেন: আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং বললাম: "তিনি যদি কখনো উমরের কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতেন, তবে আজই তা করতেন।" তখন তিনি বললেন: "উমর যা করেছেন আমি তার কোনো কিছুই রদ বা পরিবর্তন করব না। নিশ্চয়ই উমর সঠিক পথের অনুসারী ছিলেন। উমর আপনাদের থেকে যা গ্রহণ করেছেন, তার চেয়ে উত্তম আপনাদের দান করেছেন। উমর আপনাদের থেকে যা নিয়েছেন তা নিজের জন্য নেননি, বরং তা মুসলিমদের সামষ্টিক কল্যাণের জন্যই নিয়েছেন।"
ইবনুল মুবারক ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে এবং তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রা.) নাজরানবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই উমর সঠিক পথের অনুসারী ছিলেন এবং উমর যা করেছেন আমি তার কোনো কিছুই পরিবর্তন করব না।" শাবি আরও বলেন, আলী (রা.) যখন কুফায় আসলেন তখন বললেন: "উমর যে চুক্তি মজবুত করে বেঁধেছেন, আমি তা খোলার জন্য আসিনি।" ইবনুল কায়্যিমের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। (১) ইমাম সুবকি গির্জা মেরামতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাঁর ফতোয়ায় আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির সূত্রে রাবি ইবনে তাগলিবের বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, যা তিনি ইয়াহইয়া ইবনে উকবা ইবনে আবি আল-আইজার থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি, রাবি ইবনে নুহ ও সাররি থেকে, তাঁরা তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবনে উকবা সম্পর্কে হাদিসের কিছু ইমামের সমালোচনা (طعن) এর জবাবে যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় তা নিম্নরূপ:
১ - এই শর্তাবলী ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াহইয়া আল-কাত্তান কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের থেকেই বর্ণনা করেন। সুতরাং তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করাটি মূলত তাঁকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) হিসেবে গণ্য। এটি আল-কাত্তান থেকে মুহাম্মদ ইবনুল মুসাফফা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল মুসাফফা থেকে হারব তাঁর 'মাসায়িল' গ্রন্থে আহমদ ও ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: একইভাবে বাইহাকিও এটি সনদ (إسناد) ও মতন (متن) তথা মূলপাঠে মিল রেখে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজমও এটি সনদ (إسناد) ও মতন (متن) এর সাদৃশ্য রেখে বর্ণনা করেছেন। তাঁর সনদ (سند) এ ইয়াহইয়া ইবনে উকবা থাকলেও ইবনে হাজমের স্মৃতির বিশাল পরিধি থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। আরও অসংখ্য বর্ণনাকারী এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كذلك.
2 - أن عبد الحق ذكر هذه الشروط في الأحكام، ولم يذكر يحيى بن عقبة واقتصر على سفيان فمن فوقه، هكذا في الوسطى، والظاهر أنه ذكره في الكبرى، لا بد من ذلك، ولم أر في كلام ابن القطان اعتراضا عليه.
3 - أن هذه الشروط ذكرها جماعة من الفقهاء تلقوها بالقبول واحتجوا بها منهم الشيخ أبو حامد الإسفرائيني، حتى رأيت في كتب الحنابلة أنه عند الإطلاق يحمل على شروط عمر كأنها صارت معهودة شرعا. وفي كلام أبي يعلى منهم أن ما فيها يثبت بالشرع من غير شرط، وهو قريب من الأول لكنه أحسن؛ لأنه يجعل هذه أحكاما شرعية. واشتراط عمر لها لأنها ثابتة بالشرع وإن لم تشترط، وذكر السبكي من كلام الشافعي في " الأم " ما يشهد لكلام الحنابلة.
4 - أن هذه الشروط رواها جماعة بأسانيد ليس فيها يحيى بن عقبة لكنها أو أكثرها ضعيفة أيضا، وبانضمام بعضها إلى بعض تقوى، وجمع فيها الحافظ بن عبد الله بن زير جزءا اهـ.
ثانيا: ما رواه عبد الرزاق وأبو بكر بن أبي شيبة وأحمد بن حنبل وأبو عبيد عن ابن عباس رضي الله عنهما.
قال عبد الرزاق في " المصنف " (6 / 60) عن ابن التيمي، عن أبيه، عن شيخ من أهل المدينة يقال له حنش أبو علي، عن عكرمة مولي ابن عباس قال: سئل ابن عباس هل للمشركين أن يتخذوا الكنائس في أرض العرب؟
فقال ابن عباس: " أما ما مصر المسلمون فلا ترفع فيه كنيسة ولا بيعة ولا بيت نار ولا صليب ولا ينفخ فيه بوق ولا يضرب فيه ناقوس ولا يدخل فيه خمر ولا
একইভাবে।
২ - আব্দুল হক 'আল-আহকাম' গ্রন্থে এই শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন, এবং তিনি ইয়াহইয়া বিন উকবার কথা উল্লেখ করেননি বরং সুফিয়ান এবং তার ঊর্ধ্বস্থ রাবিদের বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। 'আল-উস্তা' গ্রন্থে বিষয়টি এভাবেই রয়েছে। তবে স্পষ্টত তিনি এটি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যা অপরিহার্য ছিল। আর ইবনে আল-কাত্তানের বক্তব্যে আমি এর ওপর কোনো আপত্তি দেখিনি।
৩ - এই শর্তাবলি একদল ফকিহ (فقهاء) উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা এগুলোকে গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ (تلقوها بالقبول) করেছেন ও দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী অন্যতম। এমনকি হাম্বলিদের কিতাবসমূহে আমি দেখেছি যে, যখন সাধারণভাবে কোনো বিষয়ের কথা বলা হয়, তখন তা 'উমরের শর্তাবলির' ওপর প্রয়োগ করা হয়; যেন এগুলো শরিয়তগতভাবে সুপরিচিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আবু ইয়ালার বক্তব্যে পাওয়া যায় যে, এতে যা রয়েছে তা শর্তারোপ ছাড়াই শরিয়তের মাধ্যমে প্রমাণিত। এটি প্রথম মতের কাছাকাছি হলেও অধিকতর উত্তম; কারণ এটি এগুলোকে শরিয়তের বিধান হিসেবে গণ্য করে। আর উমর (রা.)-এর এগুলো শর্ত করার কারণ ছিল এই যে, এগুলো শরিয়তের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত, যদিও তা শর্ত করা না হতো। আস-সুবকি 'আল-উম্ম' গ্রন্থে ইমাম শাফিঈর এমন বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যা হাম্বলিদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে।
৪ - এই শর্তগুলো একদল বর্ণনাকারী এমন সব সনদ (أسانيد) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যাতে ইয়াহইয়া বিন উকবাহ নেই, তবে সেগুলোর সব বা অধিকাংশও দুর্বল (ضعيفة)। কিন্তু একে অপরের সাথে মিলিত হওয়ার মাধ্যমে এগুলো শক্তিশালী হয়। হাফেজ ইবনে আব্দুল্লাহ বিন জাইর এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা সংকলন করেছেন। সমাপ্ত।
দ্বিতীয়ত: যা আব্দুর রাজ্জাক, আবু বকর বিন আবি শায়বাহ, আহমদ বিন হাম্বল এবং আবু উবাইদ ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আব্দুর রাজ্জাক 'আল-মুসান্নাফ' (৬ / ৬০) গ্রন্থে ইবনে আত-তাইমি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মদিনার জনৈক শায়খ যাকে হানাশ আবু আলী বলা হয় তার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মুশরিকরা কি আরব ভূখণ্ডে গির্জা নির্মাণ করতে পারবে?
ইবনে আব্বাস বললেন: "যে শহরগুলো মুসলমানরা পত্তন করেছে, সেখানে কোনো গির্জা (كنيسة), উপাসনালয় (بيعة), অগ্নি উপাসনালয় (بيت نار) কিংবা ক্রুশ (صليب) স্থাপন করা যাবে না, সেখানে শিঙা (بوق) বাজানো যাবে না, ঘণ্টা (ناقوس) বাজানো যাবে না এবং সেখানে মদ প্রবেশ করানো যাবে না এবং..."
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
خنزير. وما كان من أرض صولحت صلحا فعلى المسلمين أن يفوا لهم بصلحهم ". قال: تفسير " ما مصر المسلمون ": ما كانت من أرض العرب أو أخذت من أرض المشركين عنوة.
وقال أبو بكر بن أبي شيبة (1) حدثنا معتمر بن سليمان، عن أبيه، عن حنش، عن عكرمة قال: قيل لابن عباس: أللعجم أن يحدثوا في أمصار المسلمين بناء أو بيعة؟
فقال: أما مصر مصرته العرب فليس للعجم أن يبنوا فيه بناء - أو قال بيعة - ولا يضربوا فيه ناقوسا ولا يشربوا فيه خمرا ولا يتخذوا فيه خنزيرا أو يدخلوا فيه. وأما مصر مصرته العجم ففتحه الله على العرب فنزلوا (يعني عليهم) فللعجم ما في عهدهم، وللعجم على العرب أن يوفوا بعهدهم ولا يكلفوهم فوق طاقتهم.
وقال أحمد بن حنبل: حدثنا معتمر بن سليمان التيمي، عن أبيه، عن حنش، عن عكرمة قال: سئل ابن عباس عن أمصار العرب أو دار العرب هل للعجم أن يحدثوا فيها شيئا؟
فقال: " أيُّما مِصر مَصَّرَتْهُ العربُ فَلَيسَ للعَجمِ أن يبنوا فيهِ ولا يضربُوا فيه ناقوسا ولا يشربوا فيهِ خمرا ولا يتخِذُوا فيه خنزيرا، وأيما مصر مصرتهُ العجمُ ففتحه الله على العرب فنزلوا فيهِ فإن للعجم ما في عهدهمِ وعلى العربِ أن يوفُوا بعهدهم ولا يُكلفوهم فوق طاقتهم (2) .
--------------------------------------------
...শূকর। আর যে ভূখণ্ড সন্ধি (صلحا) এর মাধ্যমে জয় করা হয়েছে, মুসলমানদের ওপর কর্তব্য হলো তাদের সাথে কৃত সন্ধিচুক্তি রক্ষা করা। তিনি বলেন, "মুসলমানদের পত্তন করা শহর"-এর ব্যাখ্যা হলো: যা আরব ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিল অথবা যা মুশরিকদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক (عنوة) অধিকৃত হয়েছে।
আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে, তিনি হানাশ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করা হলো: অনারবদের কি অধিকার আছে যে তারা মুসলমানদের নগরগুলোতে কোনো স্থাপনা বা গির্জা নির্মাণ করবে?
তিনি বললেন: যে শহর আরবরা পত্তন করেছে, সেখানে অনারবদের জন্য কোনো স্থাপনা—বা তিনি বলেছেন গির্জা—নির্মাণ করার, ঘণ্টা বাজানোর, মদ পান করার, শূকর পালন করার বা সেখানে এগুলো নিয়ে প্রবেশ করার অনুমতি নেই। আর যে শহর অনারবরা পত্তন করেছিল এবং আল্লাহ আরবদের মাধ্যমে তা বিজয় দান করেছেন এবং তারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন, তবে অনারবরা তাদের চুক্তিতে যা রয়েছে তা পাবে। আর আরবদের ওপর কর্তব্য হলো তাদের চুক্তি রক্ষা করা এবং তাদের সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা তাদের ওপর না চাপানো।
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: মুতামির ইবনে সুলাইমান আত-তাইমি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হানাশ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাসকে আরবদের নগর বা আরব ভূখণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সেখানে কি অনারবরা নতুন কিছু নির্মাণ করতে পারবে?
তিনি বললেন: "যে কোনো শহর আরবরা পত্তন করেছে, সেখানে অনারবদের জন্য কোনো কিছু নির্মাণ করার, ঘণ্টা বাজানোর, মদ পান করার বা শূকর পালন করার অনুমতি নেই। আর যে শহর অনারবরা পত্তন করেছে এবং আল্লাহ আরবদের জন্য তা বিজয় দান করেছেন এবং তারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন, তবে অনারবরা তাদের চুক্তিতে যা রয়েছে তা পাবে এবং আরবদের কর্তব্য হলো তাদের চুক্তি রক্ষা করা এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কষ্ট না দেওয়া।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال أبو عبيد القاسم بن سلام في " كتاب الأموال " ص 97: " سمعت علي بن عاصم يحدث عن أبي علي الرحبي، عن عكرمة، عن ابن عباس قال: " أيما مصر مصرته العرب ليس لأحد من أهل الذمة أن يبنوا فيه بيعة، ولا يباع فيه خمر، ولا يقتنى فيه خنزير، ولا يضرب فيه بناقوس، وما كان قبل ذلك فحق على المسلمين أن يوفوا لهم به " (1) .
وقد أجاد الإمام أبو عبيد في شرح هذا الحديث حيث قال في كتاب الأموال ص 97 - 100 فقوله: " كل مصر مصرته العرب " يكون التمصير على وجوه: فمنها: البلاد التي يسلم عليها أهلها مثل المدينة والطائف واليمن، ومنها: كل أرض لم يكن لها أهل فاختطفها المسلمون اختطاطا ثم نزلوها مثل الكوفة والبصرة وكذلك الثغور.
ومنها: كل قرية افتتحت عنوة فلم ير الإمام أن يردها إلى الذين أخذت منهم، ولكنه قسمها بين اللذين افتتحوها كفعل رسول الله صلى الله عليه وسلم بأهل خيبر.
فهذه أمصار المسلمين التي لاحظ لأهل الذمة فيها، إلا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أعطى خيبر اليهود معاملة لحاجة المسلمين كانت إليهم، فلما استغنى عنهم
--------------------------------------------
وقال আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম তাঁর "কিতাবুল আমওয়াল" এর ৯৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আমি আলি বিন আসিমকে আবু আলি আর-রাহবি থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: 'আরবরা যে কোনো শহর পত্তন করেছে, সেখানে জিম্মিদের (অমুসলিম নাগরিক) কারো জন্য গির্জা নির্মাণ করা, মদ বিক্রি করা, শূকর লালন-পালন করা বা ঘণ্টা বাজানো বৈধ নয়। আর যা এর আগে থেকে ছিল, সেক্ষেত্রে মুসলমানদের কর্তব্য হলো তাদের সাথে কৃত চুক্তি পূর্ণ করা'" (১)।
ইমাম আবু উবাইদ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় চমৎকার আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি 'কিতাবুল আমওয়াল' এর ৯৭ - ১০০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: তাঁর বক্তব্য: "আরবরা যে কোনো শহর পত্তন করেছে"—শহর পত্তন করার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো: সেই সব জনপদ যার অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছে, যেমন মদিনা, তায়েফ এবং ইয়ামেন। আরেকটি হলো: এমন ভূমি যার কোনো অধিবাসী ছিল না, অতঃপর মুসলমানরা তা পত্তন বা আবাদের জন্য চিহ্নিত করেছে এবং সেখানে বসবাস শুরু করেছে, যেমন কুফা ও বসরা এবং একইভাবে সীমান্ত এলাকাগুলো।
অন্যটি হলো: এমন কোনো জনপদ যা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, কিন্তু ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) তা যাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সমীচীন মনে করেননি। বরং তিনি তা বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন, যেমনটি আল্লাহর রাসূল (সা. ) খায়বারবাসীদের সাথে করেছিলেন।
সুতরাং এগুলো হলো মুসলমানদের শহর যেখানে জিম্মিদের কোনো অংশ নেই, তবে আল্লাহর রাসূল (সা. ) মুসলমানদের প্রয়োজনের কারণে খায়বার ইহুদিদের বর্গা চাষের জন্য প্রদান করেছিলেন। অতঃপর যখন তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া গেল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
أجلاهم عمر وعادت كسائر بلاد الإسلام. فهذا حكم أمصار العرب، وإنما نرى أصل هذا من قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أخرجوا المشركين من جزيرة العرب» . وفي ذلك آثار.
حدثنا حجاج عن حماد بن سلمة عن أبي الزبير عن جابر قال: «أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بإخراج اليهود من جزيرة العرب» .
حدثنا يزيد عن حماد عن أبي الزبير عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لأخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب حتى لا أدع فيها إلا مسلما» . قال: فأخرجهم عمر.
حدثنا يحيى بن زكريا بن أبي زائدة ومحمد بن عبيد عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر قال: أجلى عمر المشركين من جزيرة العرب وقال: " لا يجتمع في جزيرة العرب دينان ". وضرب لمن قدم منهم أجلا قدر ما يبيعون سلعهم.
حدثنا أبو معاوية عن الأعمش، عن سالم بن أبي الجعد قال: جاء أهل نجران إلى علي رضي الله عنه فقالوا: شفاعتك بلسانك وكتابك بيدك، أخرجنا عمر من أرضنا فردها إلينا صنيعة، فقال: ويلكم إن عمر كان رشيد الأمر فلا أغير شيئا صنعه عمر. حدثنا أبو معاوية قال الأعمش: كانوا يقولون: لو كان في نفسه عليه شيءٌ لاغتنم هذا.
وحدثنا أبو معاوية عن حجاج عمن سمع الشعبي يقول: قال علي رضي الله عنه لما قدم هاهنا - قال أبو عبيد: يعني الكوفة - ما قدمت لأحل عقدة شدها عمر. قال أبو عبيد: وإنما نرى عمر استجاز إخراج أهل نجران - وهم أهل صلح - لحديث يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم فيهم خاصة، يحدثونه عن إبراهيم بن ميمون مولى آل سمرة عن ابن سمرة عن أبيه عن أبي عبيدة بن الجراح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان آخر ما تكلم
উমর (রা.) তাঁদের বহিষ্কার করেন এবং এই অঞ্চলটি অন্যান্য ইসলামি ভূখণ্ডের মতো হয়ে যায়। এটিই আরব শহরগুলোর বিধান। আমরা মনে করি এর মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: "তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও।" এ বিষয়ে বহু বর্ণনা (آثار) বিদ্যমান রয়েছে।
হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদিদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।"
ইয়াযিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি অবশ্যই আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দেব, যতক্ষণ না সেখানে কেবল মুসলিমদের অবশিষ্ট রাখব।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর উমর (রা.) তাঁদের বহিষ্কার করেন।
ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করেন এবং বলেন: "আরব উপদ্বীপে দুই ধর্ম একত্রিত হবে না।" আর তাঁদের মধ্যে যারা (ব্যবসা বা প্রয়োজনে) আসত, তাদের জন্য তিনি তাদের পণ্য বিক্রয় করার সমপরিমাণ সময় নির্ধারণ করে দিতেন।
আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নাজরানবাসীরা আলী (রা.)-এর কাছে এসে বলল: "আপনার মুখ দিয়ে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন এবং আপনার হাতে থাকা নথিপত্র আমাদের পক্ষে দিন। উমর আমাদের জমি থেকে বের করে দিয়েছেন, দয়া করে তা অনুগ্রহ করে আমাদের ফিরিয়ে দিন।" তিনি বললেন: "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! উমর (রা.) সঠিক পথে পরিচালিত ছিলেন, তাই উমর যা করেছেন আমি তাতে কোনো পরিবর্তন আনব না।" আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেন, আমাশ বলেছেন: তারা (লোকেরা) বলত—যদি আলীর মনে উমরের প্রতি কোনো অসন্তোষ থাকত, তবে তিনি এই সুযোগটি গ্রহণ করতেন।
আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি শাবিকে বলতে শুনেছেন: আলী (রা.) যখন এখানে আসলেন—আবু উবাইদ বলেন: অর্থাৎ কুফায়—তখন তিনি বলেছিলেন: "উমর যে গিঁট শক্ত করে বেঁধেছেন, তা খোলার জন্য আমি আসিনি।" আবু উবাইদ বলেন: আমরা মনে করি যে উমর (রা.) নাজরানবাসীদের—যদিও তারা সন্ধিভুক্ত (أهل صلح) ছিল—বহিষ্কার করা বৈধ মনে করেছিলেন তাঁদের সম্পর্কে বিশেষভাবে বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে; যা তাঁরা বর্ণনা করেন ইব্রাহিম ইবনে মায়মুন (সামুরা পরিবারের মুক্তদাস) থেকে, তিনি ইবনে সামুরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, এটিই ছিল তাঁর শেষ কথা...
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
به أن قال: «أخرجوا اليهود من الحجاز، وأخرجوا أهل نجران من جزيرة العرب» . قال أبو عبيد: وإنما نراه قال ذلك صلى الله عليه وسلم لنكث كان منهم أو لأمر أحدثوه بعد الصلح، وذلك بين في كتاب كتبه عمر إليهم قبل إجلائه إياهم منها.
حدثنا ابن أبي زائدة عن ابن عون قال: قال لي محمد بن سيرين: انظر كتابا قرأته عند فلان بن جبير فكلم فيه زياد بن جبير قال: فكلمته فأعطاني، فإذا في الكتاب:
" بسم الله الرحمن الرحيم، من عمر أمير المؤمنين إلى أهل رعاش كلهم، سلام عليكم، فإني أحمد إليكم الله الذي لا إله إلا هو، أما بعد: فإنكم زعمتم أنكم مسلمون ثم ارتدتم بعد، وإنه من يتب منكم ويصلح لا يضره ارتداده، ونصاحبه صحبة حسنة، فادكروا ولا تهلكوا، وليبشر من أسلم منكم، فمن أبى إلا النصرانية فإن ذمتي بريئة ممن وجدناه بعد عشر تبقى من شهر الصوم من النصارى بنجران. أما بعد: فإن يعلى كتب يعتذر أن يكون أكره أحدا منكم على الإسلام أو عذبه عليه إلا أن يكون قسرا جبرا ووعيدا لم ينفذ إليه منه شيء. أما بعد: فقد أمر يعلى أن يأخذ منكم نصف ما عملتم من الأرض وإني لن أريد نزعها منكم ما أصلحتم.
قال أبو عبيد: فهذه الأمصار التي ذكرنا في صدر هذا الباب - أي: باب ما يجوز لأهل الذمة أن يحدثوا، إلخ. . . - وأشباهها مما مصر المسلمون هي التي لا سبيل لأهل الذمة فيها إلى إظهار شيء من شرائعهم.
وأما البلاد التي لهم فيها السبيل إلى ذلك فما كان منها صلحا صولحوا عليه، فلن ينتزع منهم، وهو تأويل قول ابن عباس الذي ذكرناه، قوله: " وما كان قبل ذلك فحق على المسلمين أن يوفوا لهم به ".
فمن بلاد الصلح: أرض هجر والبحرين وأيلة ودومة الجندل وأذرح، فهذه القرى
তাঁর উক্তি: "তোমরা হিজাজ থেকে ইহুদিদের বের করে দাও এবং আরব উপদ্বীপ থেকে নাজরানবাসীদের বের করে দাও।" আবু উবাইদ বলেন: আমাদের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ অথবা সন্ধির (صلح) পর তাদের উদ্ভাবিত কোনো নতুন পরিস্থিতির কারণে এমনটি বলেছিলেন। এটি উমর (রা.) কর্তৃক তাদের বহিষ্কারের পূর্বে তাদের উদ্দেশ্যে লিখিত একটি পত্রে সুস্পষ্ট রয়েছে।
ইবনে আবি যাইদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন আমাকে বললেন: অমুক ইবনে জুবায়েরের কাছে আমি যে একটি কিতাব পড়েছিলাম সেটি তালাশ করো এবং এ ব্যাপারে যিয়াদ ইবনে জুবায়েরের সাথে কথা বলো। তিনি বলেন: আমি তার সাথে কথা বললাম এবং তিনি আমাকে সেটি দিলেন। সেই কিতাবে ছিল:
"বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আমিরুল মুমিনীন উমরের পক্ষ থেকে রাআশবাসীদের প্রতি। তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি তোমাদের কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতঃপর: তোমরা দাবি করেছিলে যে তোমরা মুসলিম, কিন্তু এরপর তোমরা ধর্মত্যাগ (ارتداد) করেছ। তোমাদের মধ্যে যে তওবা করবে এবং সংশোধন হবে, তার এই ধর্মত্যাগ (ارتداد) তার কোনো ক্ষতি করবে না এবং আমরা তার সাথে উত্তম আচরণ বজায় রাখব। অতএব তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো এবং ধ্বংস হয়ো না। তোমাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছ তারা সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর যে ব্যক্তি খ্রিস্টধর্ম ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে, তবে রমজান মাস শেষ হতে আর দশ দিন বাকি থাকা অবস্থায় নাজরানের খ্রিস্টানদের মধ্যে যাকে পাওয়া যাবে, তার প্রতি আমার জিম্মাদারি (ذمة) থাকবে না। অতঃপর: ইয়ালা চিঠিতে ওজর পেশ করেছেন যে, তিনি তোমাদের কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেননি কিংবা এ জন্য কাউকে শাস্তি দেননি; তবে তা কেবল জবরদস্তি ও হুমকি যা কার্যকর করা হয়নি। অতঃপর: ইয়ালা-কে আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি তোমাদের ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক গ্রহণ করেন। তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সংশোধন বজায় রাখবে, আমি তোমাদের থেকে ভূমি কেড়ে নিতে চাই না।
আবু উবাইদ বলেন: এই পরিচ্ছেদের শুরুতে আমরা যেসব শহরের কথা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ: জিম্মিরা (أهل الذمة) কী কী নতুন প্রথা প্রবর্তন করতে পারবে ইত্যাদি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ—এবং মুসলিমদের পত্তনকৃত অনুরূপ শহরগুলোতে জিম্মিদের (أهل الذمة) জন্য তাদের ধর্মীয় বিধানসমূহ প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই।
আর যেসব জনপদে তাদের জন্য সেই সুযোগ রয়েছে, তা হলো সেই এলাকা যা সন্ধি (صلح)-র মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে এবং যার ওপর সন্ধি করা হয়েছে। সেগুলো তাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হবে না। এটি ইবনে আব্বাসের সেই উক্তির ব্যাখ্যা (تأويل) যা আমরা উল্লেখ করেছি। তাঁর উক্তিটি হলো: "এর আগে যা ছিল, মুসলিমদের ওপর তা পূর্ণ করা আবশ্যক।"
সন্ধিকৃত (صلح) অঞ্চলসমূহের মধ্যে রয়েছে: হাজার, বাহরাইন, আয়লা, দুমাতুল জানদাল এবং আজরুহ-এর ভূমি। এই গ্রামগুলো...
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التي أدت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجزية فهي على ما أقرهم عليه، وكذلك ما كان بعده من الصلح منه: بيت المقدس، افتتحه عمر بن الخطاب صلحا، وكذلك مدينة دمشق افتتحها خالد بن الوليد صلحا (1) وعلى هذا مدن الشام كانت كلها صلحا دون أرضها على يدي يزيد بن أبي سفيان وشرحبيل بن حسنة وأبي عبيدة بن الجراح وخالد بن الوليد، وكذلك بلاد الجزيرة يروى أنها كلها صلح صالحهم عليها عياض بن غنم، وكذلك قبط مصر صالحهم عمرو بن العاص، وكذلك بلاد خراسان يقال إنها أو أكثرها صلح على يدي عبد الله بن عامر بن كريز، وكان منتهى ذلك إلى مرو الروذ، وهذا في دهر عثمان.
وأما ما وراء ذلك فإنها افتتحت بعد على يدي سعيد بن عثمان بن عفان والمهلب بن أبي صفرة وقتيبة بن مسلم وغيرهم.
قال أبو عبيد: فهؤلاء على شرطهم لا يحال بينهم وبينها، وكذلك كل بلاد أخذت عنوة فرأى الإمام ردها إلى أهلها وإقرارها في أيديهم على ذمتهم ودينهم، كفعل عمر بأهل السواد، وإنما أخذ عنوة على يدي سعد. وكذلك بلاد الشام كلها عنوة ما خلا مدنها على يدي يزيد بن أبي سفيان وشرحبيل بن حسنة وأبي عبيدة بن الجراح وخالد بن الوليد. وكذلك الجبل أخذ عنوة في وقعة جاولاءَ ونهاوند على
--------------------------------------------
যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজিয়া (কর) প্রদান করেছিল, তারা সেই শর্তাবলীর উপরেই বহাল থাকবে যেগুলোর ওপর তিনি তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। একইভাবে তাঁর পরবর্তী সন্ধিচুক্তিগুলোও (صلح); যেমন: বাইতুল মাকদিস, যা উমর ইবনুল খাত্তাব শান্তিপূর্ণভাবে (صلحا) জয় করেছিলেন। তদ্রূপ দামেস্ক শহর, যা খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ শান্তিপূর্ণভাবে (صلحا) জয় করেছিলেন (১)। এর ভিত্তিতে শামের সকল শহরই ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, শুরাহবিল ইবনে হাসানা, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ এবং খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের হাত ধরে শান্তিপূর্ণভাবে (صلحا) বিজিত হয়েছিল, তবে সেখানকার ভূমি ব্যতীত। একইভাবে আল-জাজিরা অঞ্চল সম্পর্কে বর্ণিত (يروى) আছে যে, এর পুরোটাই ছিল সন্ধি (صلح), যার ওপর ইয়াদ ইবনে গানাম তাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। তদ্রূপ মিশরের কিবতিদের সাথেও আমর ইবনুল আস সন্ধি করেছিলেন। একইভাবে খোরাসান অঞ্চলের ব্যাপারে বলা হয় যে, এর অধিকাংশ বা পুরোটাই আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে কুরাইজের হাতে সন্ধির (صلح) মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল, যার সীমা ছিল মারউ আর-রূদ পর্যন্ত; আর এটি ছিল উসমানের শাসনামলে।
আর এর পরবর্তী অঞ্চলসমূহ পরবর্তীতে সাঈদ ইবনে উসমান ইবনে আফফান, মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা, কুতাইবা ইবনে মুসলিম এবং অন্যদের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল।
আবু উবাইদ বলেন: এরা তাদের শর্তাবলীর উপরেই থাকবে, তাদের এবং এর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না। তদ্রূপ বলপ্রয়োগে বিজিত (عنوة) প্রতিটি ভূখণ্ড, যার ব্যাপারে ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) সমীচীন মনে করেছেন যে তা এর অধিবাসীদের নিকট ফিরিয়ে দেবেন এবং তাদের জিম্মাদারি ও ধর্মের ওপর তাদের অধিকারে বহাল রাখবেন—যেমনটি উমর সাওয়াদের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে করেছিলেন; অথচ সেটি সা’দ-এর হাত ধরে বলপ্রয়োগেই বিজিত (عنوة) হয়েছিল। একইভাবে শামের সকল ভূখণ্ডই বলপ্রয়োগে বিজিত (عنوة) হয়েছিল, কেবল শহরগুলো ব্যতীত; যা ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, শুরাহবিল ইবনে হাসানা, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ এবং খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের হাত ধরে বিজিত হয়েছিল। তদ্রূপ পার্বত্য অঞ্চলসমূহও জাউলা ও নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে বলপ্রয়োগে (عنوة) বিজিত হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يدي سعد بن أبي وقاص والنعمان بن مقرن، وكذلك الأهواز أو أكثرها، وكذلك فارس على يدي أبي موسى الأشعري وعثمان بن أبي العاص وعتبة بن غزوان وغيرهم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك المغرب على يدي عبد الله بن سعد بن أبي سرح.
حدثنا عبد الله بن صالح عن موسى بن علي بن رباح عن أبيه قال: المغرب كله عنوة.
قال أبو عبيد: وكذلك الثغور، حدثنا هشام بن عمار عن يزيد بن سمرة، عن الحكم بن عبد الرحمن بن أبي العصماء الخثعمي، وكان ممن شهد فتح قيسارية، قال: حاصرها معاوية سبع سنين إلا أشهرا ثم فتحوها وبعثوا بفتحها إلى عمر بن الخطاب فقام عمر فنادى: ألا إن قيسارية فتحت قسرا. قال أبو عبيد: " فهذه بلاد العنوة وقد أقر أهلها فيها على مللهم وشرائعهم، ولكل هذه قصص وأنباء تأتي بما علمنا منها إن شاء الله " اهـ. المراد من كلام أبي عبيد في الأموال على أثر ابن عباس.
وقد قال السبكي في فتواه في منع ترميم الكنائس (2 / 393) : الذي اقتضاه أنه لا شيء يبقى من الكنائس إلا بعهد حيث يجوز العهد " كما ذكر في كلامه على أثر ابن عباس هذا (2 / 391) ما نصه: " قد أخذ العلماء بقول ابن عباس هذا وجعلوه مع قول عمر وسكوت بقية الصحابة إجماعا " اهـ.
ثالثا - قال أحمد: حدثنا عبد الرزاق، أخبرني معمر قال: كتب عمر بن عبد العزيز إلى عروة - يعني ابن محمد - أن يهدم الكنائس التي في أمصار المسلمين، قال: وشهدت عروة بن محمد يهدمها بصنعاء ". ذكر هذه الرواية بسندها ومتنها شمس الدين بن القيم في " أحكام أهل الذمة " (2 / 676) وقد روى عبد الرزاق في مصنفه
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং নুমান বিন মুকরিনের হাতে, তদ্রূপ আহওয়াজ বা তার অধিকাংশ এলাকা, তেমনিভাবে পারস্য আবু মুসা আশআরী, উসমান বিন আবুল আস এবং উতবা বিন গাযওয়ানসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবীগণের হাতে বিজিত হয়েছিল। তদ্রূপ মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারহের হাতে বিজিত হয়েছিল।
আবদুল্লাহ বিন সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আলী বিন রাবাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মাগরিবের পুরো অঞ্চলটিই জোরপূর্বক বিজয় (عنوة) হিসেবে গণ্য।"
আবু উবাইদ বলেছেন: তদ্রূপ সীমান্ত এলাকাগুলোও। হিশাম বিন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন সামুরা থেকে, তিনি হাকাম বিন আবদুর রহমান বিন আবি আসমা আল-খাসআমি থেকে বর্ণনা করেন—যিনি কায়সারিয়া বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন—তিনি বলেন: মুয়াবিয়া এটি কয়েক মাস কম সাত বছর অবরোধ করে রেখেছিলেন, অতঃপর তাঁরা এটি বিজয় করেন এবং বিজয়ের সংবাদ উমর বিন খাত্তাবের নিকট প্রেরণ করেন। তখন উমর (রা.) দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন: "জেনে রেখো, কায়সারিয়া জোরপূর্বক (قسرا) বিজিত হয়েছে।" আবু উবাইদ বলেন: "এগুলো হলো জোরপূর্বক বিজিত (عنوة) ভূখণ্ড, যেখানে এর বাসিন্দাদের তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও শরিয়তের ওপর বহাল রাখা হয়েছিল। এগুলোর প্রতিটি বিজয়ের কাহিনী ও সংবাদ রয়েছে যা আমাদের জানামতে ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।" সমাপ্ত। আবু উবাইদের আল-আমওয়াল গ্রন্থের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো ইবনে আব্বাসের আসার বা বর্ণনা (أثر)-এর অনুবৃত্তি।
আস-সুবকি গির্জা সংস্কার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত তাঁর ফতোয়ায় (২/৩৯৩) বলেছেন: "এর সারকথা হলো—চুক্তি ব্যতীত কোনো গির্জা অবশিষ্ট থাকবে না, যেখানে চুক্তি বৈধ।" যেমনটি তিনি ইবনে আব্বাসের এই আসার বা বর্ণনা (أثر) (২/৩৯১) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, যার পাঠ নিম্নরূপ: "উলামায়ে কেরাম ইবনে আব্বাসের এই উক্তিটিকে গ্রহণ করেছেন এবং একে উমর (রা.)-এর উক্তি ও অন্যান্য সাহাবীগণের নীরব সম্মতির সাথে যুক্ত করে সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন।" সমাপ্ত।
তৃতীয়ত - ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাকে মা’মার সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর বিন আবদুল আজিজ উরওয়া—অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ—এর কাছে চিঠি লিখেছিলেন যেন মুসলিম জনপদগুলোতে অবস্থিত গির্জাগুলো ভেঙে ফেলা হয়। তিনি বলেন: "আমি উরওয়া বিন মুহাম্মদকে সানআয় সেগুলো ভাঙতে দেখেছি।" শামসুদ্দিন ইবনুল কায়য়িম তাঁর আহকামু আহলিয যিম্মাহ গ্রন্থে (২/৬৭৬) এই বর্ণনাটি তার সনদ (سند) এবং মতন (متন) সহ উল্লেখ করেছেন এবং আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(6 / 59) تحت عنوان " هدم كنائسهم وهل يضربوا بناقوسهم " هذا الأثر عن عمه وهب بن نافع بلفظ: " كتب عمر بن عبد العزيز إلى عروة بن محمد أن يهدم الكنائس التي في أمصار المسلمين، قال: فشهدت عروة بن محمد ركب حتى وقف عليها ثم دعاني فشهدت على كتاب عمر وهدم عروة إياها فهدمها ". ولا يناقض هذا ما رواه ابن أبي شيبة في مصنفه عن حفص بن غياث عن أبي بن عبد الله النخعي قال: جاءنا كتاب عمر: " لا تهدم بيعة ولا كنيسة ولا بيت نار صولحوا عليه " (1) ؛ لأن قوله: " صولحوا عليه " قيد لا بد منه (2) ؛ لأنه لم يقل أحد بإبقائها من غير صلح ولم يقل فيه ببلاد الإسلام فهو عام، والذي تقدم - أي كتابة عمر بن عبد العزيز على عروة بن محمد بهدمها - خاص ببلاد الإسلام ويكون هذا - أي قول عمر في رواية ابن عبد الله النخعي: " لا تهدم بيعة ولا كنيسة ولا بيت نار صولحوا عليه " في بلاد المجوس ولذلك ذكر فيه بيت النار أو في بلادهم وبلاد النصارى التي صولحوا عنها وكانوا منفردين فيها فلا تنافي بين الروايتين اللتين نقلتا عن عمر
--------------------------------------------
(৬ / ৫৯) "তাদের গির্জা ভেঙে ফেলা এবং তারা কি তাদের ঘণ্টা বাজাবে?" শিরোনামের অধীনে উমর ইবনে আবদুল আজিজ কর্তৃক উরওয়াহ ইবনে মুহাম্মাদের কাছে প্রেরিত গির্জা ভেঙে ফেলার নির্দেশের এই বর্ণনা (أثر) তাঁর চাচা ওয়াহাব ইবনে নাফি'র সূত্রে উদ্ধৃত হয়েছে। এর শব্দগুলো হলো: "উমর ইবনে আবদুল আজিজ উরওয়াহ ইবনে মুহাম্মাদকে মুসলিম শহরগুলোর গির্জাগুলো ভেঙে ফেলার জন্য লিখেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি উরওয়াহ ইবনে মুহাম্মাদকে দেখলাম যে, তিনি সওয়ার হয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন, এরপর আমাকে ডাকলেন। আমি উমরের পত্রের সত্যতা প্রত্যক্ষ করলাম এবং উরওয়াহ সেগুলো ভেঙে ফেললেন।" ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে হাফস ইবনে গিয়াস থেকে, তিনি উবাই ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ি থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তার সাথে এটি সাংঘর্ষিক নয়। তিনি বলেন: উমরের পত্র আমাদের কাছে এসেছে যে: "কোনো সিনাগগ, গির্জা বা অগ্নি উপাসনালয় ভেঙে ফেলো না যার ওপর সন্ধি করা হয়েছে।" (১); কারণ তাঁর এই কথা: "যার ওপর সন্ধি করা হয়েছে" এটি একটি অপরিহার্য শর্ত (২); কারণ সন্ধি ব্যতীত সেগুলো বহাল রাখার কথা কেউ বলেনি, আর এখানে মুসলিম ভূখণ্ডের কথা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি, তাই এটি সাধারণ (عام)। আর যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—অর্থাৎ গির্জাগুলো ভেঙে ফেলার ব্যাপারে উরওয়াহ ইবনে মুহাম্মাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আজিজের পত্র—তা মুসলিম ভূখণ্ডের জন্য নির্দিষ্ট (خاص)। আর ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ির বর্ণিত রেওয়ায়াতে (رواية) উমরের এই উক্তি: "কোনো সিনাগগ, গির্জা বা অগ্নি উপাসনালয় ভেঙে ফেলো না যার ওপর সন্ধি করা হয়েছে" তা অগ্নি উপাসকদের দেশ সম্পর্কে হতে পারে, এই কারণেই সেখানে অগ্নি উপাসনালয়ের উল্লেখ রয়েছে। অথবা এটি তাদের এবং খ্রিস্টানদের দেশসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেগুলোর ওপর সন্ধি করা হয়েছে এবং তারা সেখানে স্বতন্ত্রভাবে অবস্থান করছিল। সুতরাং উমর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بن عبد العزيز رضي الله عنه.
والمقصود من ذلك إذا صحت الرواية الأولى أنه يعلم بها أنه لا صلح لهم على إبقائها في فتح بلاد الإسلام التي كانت تحت حكمه وأقربها الشام؛ لأنها سكنه ومصر والعراق يكتنفانها.
والرواية الثانية عن عمر بن عبد العزيز كتاب إلى قوم مخصوصين في بلاد مخصوصة، والرواية الأولى لفظ عام في بلاد الإسلام فهي خاصة بدار الإسلام عامة في الأحكام، بهذا جمع السبكي في فتواه في منع ترميم الكنائس ج2 من فتاوى السبكي ص390-391 بين الروايتين المنقولتين عن عمر بن عبد العزيز. وقال شمس الدين بن القيم في أحكام أهل الذمة (2 / 690) : " وقد كتب عمر بن عبد العزيز إلى عماله أن لا تهدموا كنيسة ولا بيعة ولا بيت نار " ولا يناقض هذا ما حكاه الإمام أحمد أنه أمر بهدم الكنائس، فإنها التي أحدثت في بلاد الإسلام اهـ.
رابعا: ما رواه عبد الرزاق في مصنفه (6 / 60) قال: " أخبرنا معمر عن رجل عمن سمع الحسن قال: " من السنة أن تهدم الكنائس التي بالأمصار القديمة والحديثة ". وعن عبد الرزاق رواه الإمام أحمد بن حنبل كما في " أحكام أهل الذمة " (2 / 676) قال أحمد: " قال عبد الرزاق وأخبرنا معمر عمن سمع الحسن يقول: إن من السنة أن تهدم الكنائس التي في الأمصار القديمة والحديثة " اهـ. وقد ورد في هدم الكنائس مرفوعا ما أخرجه أبو الشيخ ابن حبان قال: ثنا ابن رستة وثنا أبو جعفر محمد بن علي بن مخلد قالا: ثنا أبو أيوب سليمان بن داود، ثنا محمد بن دينار، ثنا أبان بن أبي عياش، عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اهدموا الصوامع واهدموا البيع» . ولكن قال السبكي في فتواه في منع ترميم الكنائس ج2 من الفتاوى ص373 - 374 بعد أن رواه من طريق ابن حبان المذكور قال: " إسناده
ইবনে আব্দুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যদি প্রথম বর্ণনাটি (رواية) বিশুদ্ধ (صحيحة) হয়, তবে এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তাঁর শাসনাধীন বিজিত মুসলিম দেশগুলোতে—যার মধ্যে নিকটতম ছিল সিরিয়া, কারণ সেটি ছিল তাঁর আবাসস্থল এবং মিশর ও ইরাক ছিল এর পার্শ্ববর্তী—সেগুলো বহাল রাখার ব্যাপারে তাদের সাথে কোনো সন্ধি (صلح) হয়নি।
ওমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনাটি (رواية) নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট একদল লোকের প্রতি প্রেরিত একটি পত্র; পক্ষান্তরে প্রথম বর্ণনাটি (رواية) মুসলিম দেশসমূহের ব্যাপারে একটি সাধারণ শব্দ (لفظ عام)। সুতরাং এটি দারুল ইসলামের সাথে খাস (خاصة) এবং বিধিবিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ (عامة)। এভাবেই সুবকী তাঁর 'গির্জা সংস্কারের নিষেধাজ্ঞা' বিষয়ক ফতোয়ায় (সুবকীর ফতোয়া, ২য় খণ্ড, ৩৯০-৩৯১ পৃষ্ঠা) ওমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আহকামু আহলিল জিম্মাহ (২/৬৯০) গ্রন্থে বলেছেন: "ওমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর গভর্নরদের কাছে লিখেছিলেন যে, তোমরা কোনো গির্জা, উপাসনালয় বা অগ্নিকুণ্ড ধ্বংস করো না।" এটি ইমাম আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন যে তিনি গির্জা ধ্বংসের আদেশ দিয়েছিলেন, তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ সেই নির্দেশ ছিল ওইসব গির্জার ক্ষেত্রে যা মুসলিম দেশগুলোতে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছিল। (সমাপ্ত)।
চতুর্থত: আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ (৬/৬০) গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি এমন ব্যক্তি থেকে যিনি হাসানকে বলতে শুনেছেন: 'সুন্নত (سنة) হলো প্রাচীন ও আধুনিক বড় শহরগুলোতে অবস্থিত গির্জাগুলো ধ্বংস করে ফেলা'।" এবং আব্দুর রাজ্জাক থেকে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি আহকামু আহলিল জিম্মাহ (২/৬৭৬) গ্রন্থে রয়েছে। ইমাম আহমাদ বলেন: "আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার এমন ব্যক্তি থেকে যিনি হাসানকে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই সুন্নত (سنة) হলো প্রাচীন ও আধুনিক বড় শহরগুলোতে অবস্থিত গির্জাগুলো ধ্বংস করে ফেলা।" (সমাপ্ত)। গির্জা ধ্বংসের ব্যাপারে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা আবু শাইখ ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে রুস্তাহ এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাখলাদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন দাউদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন দিনার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবান বিন আবি আইয়াশ, আনাস বিন মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সন্ন্যাসীদের মঠ ও গির্জাগুলো ভেঙে ফেলো।" কিন্তু সুবকী গির্জা সংস্কারের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক তাঁর ফতোয়ায় (ফতোয়া সমগ্র, ২য় খণ্ড, ৩৭৩-৩৭৪ পৃষ্ঠা) উল্লিখিত ইবনে হিব্বানের সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এর সনদ (إسناده)..."
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ضعيف ولو صح لكان يمكن التمسك بعمومه فيما حدث في الإسلام وفيما قدم " اهـ.
خامسا: ما رواه أبو عبيد القاسم بن سلام في باب " ما يجوز لأهل الذمة أن يحدثوا في أرض العنوة وفي أمصار المسلمين وما لا يجوز " من " كتاب الأموال " قال: وحدثني أبو نعيم، عن شبل بن عباد، عن قيس بن سعد قال: سمعت طاوسا يقول: " لا ينبغي لبيت رحمة أن يكون عند بيت عذاب " قال أبو عبيد: أراه يعني الكنائس والبيع وبيوت النيران يقول: " لا ينبغي أن تكون مع المساجد في أمصار المسلمين " (1) اهـ.
ومن طريق أبي عبيد في " كتاب الأموال " هذا بسنده المذكور، أورد السبكي هذا الأثر في باب الأحاديث الواردة في منع ترميم الكنائس، وأورد معه تفسير أبي عبيد المذكور (2) .
[إيراد نصوص المذاهب الأربعة في الموضوع]إيراد نصوص المذاهب الأربعة في الموضوع قال الإمام محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة: " لا ينبغي أن تترك في أرض العرب كنيسة ولا بيعة، ولا يباع فيها خمر وخنزير، مصرا كان أو قرية ".
نقل ذلك عنه الإمام شمس الدين ابن القيم في " أحكام أهل الذمة " (2 / 694) ، وأما ما يعزى إلى الإمام أبي حنيفة من القول بأحداث الكنائس في القرى فيقول السبكي في فتواه في منع ترميم الكنائس، يقول حول ذلك (2 / 387 - 388) ما
--------------------------------------------
এটি দুর্বল (ضعيف), আর যদি এটি সহিহ (صحيح) হতো তবে ইসলামে যা কিছু নতুন উদ্ভাবিত হয়েছে এবং যা পূর্বে ছিল, তার সাধারণ নির্দেশের ক্ষেত্রে এটি দ্বারা দলিল পেশ করা সম্ভব হতো। সমাপ্ত।
পঞ্চমত: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম 'কিতাব আল-আমওয়াল'-এর 'বিজিত ভূমি ও মুসলিম জনপদে জিম্মিদের জন্য যা নতুন করে নির্মাণ করা বৈধ এবং যা বৈধ নয়' পরিচ্ছেদে যা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাকে আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন শিবল বিন আব্বাদ থেকে, তিনি কায়স বিন সাদ থেকে, তিনি বলেন: আমি তাউসকে বলতে শুনেছি: "রহমতের ঘর আজাবের ঘরের পাশে থাকা উচিত নয়।" আবু উবাইদ বলেন: আমার মনে হয় তিনি গির্জা, উপাসনালয় এবং অগ্নিকুণ্ডকে বুঝিয়েছেন। তিনি বলছেন: "মুসলমানদের শহরগুলোতে মসজিদের সাথে এগুলো থাকা অনুচিত" (১) সমাপ্ত।
আবু উবাইদ বর্ণিত 'কিতাব আল-আমওয়াল'-এর এই সূত্র ও উল্লিখিত সনদ (سند) অনুযায়ী, আস-সুবকি এই আসার (أثر)-টি গির্জা সংস্কার নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কিত হাদিসসমূহের পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে আবু উবাইদের উল্লিখিত ব্যাখ্যাটিও যুক্ত করেছেন (২)।
[বিষয়টি সম্পর্কে চার মাজহাবের বক্তব্য উপস্থাপন]বিষয়টি সম্পর্কে চার মাজহাবের বক্তব্য উপস্থাপন: ইমাম আবু হানিফার সহচর ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেছেন: "আরব ভূমিতে কোনো গির্জা বা উপাসনালয় থাকতে দেওয়া উচিত নয় এবং সেখানে মদ বা শূকর বিক্রয় করা যাবে না, চাই তা শহর হোক বা গ্রাম।"
ইমাম শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম 'আহকামু আহলিজ জিম্মাহ' (২/৬৯৪) গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আবু হানিফার দিকে গ্রামের ভেতর গির্জা নির্মাণের যে বক্তব্যটি সম্বন্ধ করা হয়, সে সম্পর্কে আস-সুবকি গির্জা সংস্কার নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক তাঁর ফতোয়ায় (২/৩৮৭-৩৮৮) যা বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نصه: " لعل أبا حنيفة إنما قال بإحداثها في القرى التي ينفردون بالسكنى فيها على عادتهم في ذلك المكان، وغيره من العلماء يمنعها لأنها في بلاد المسلمين وقبضتهم، وإن انفردوا فيها فهم تحت يدهم فلا يمكنون من إحداث الكنائس لأنها دار الإسلام، ولا يريد أبو حنيفة أن قرية فيها مسلمون فيمكن أهل الذمة من بناء كنيسة فيها. فإن هذه في معنى الأمصار فتكون محل إجماع وتكون الألف واللام في القرى التي جرت عادتهم بسكنهم فيها لاشتغالهم بأعمال المسلمين من الفلاحة وغيرها. أو لما يرجى من إسلامهم صاغرين باذلين للجزية، فإنا لو لم نبقهم في بلاد الإسلام لم يسمعوا محاسنه فلم يسلموا، ولو بقيانهم بلا جزية ولا صغار غروا وأنفوا، فبقيناهم بالجزية لا قصدا فيها بل في إسلامهم. ولهذا إذا نزل عيسى عليه السلام لا يقبلها لأن مدة الدنيا التي يرجى فيها إسلامهم فرغت والحكم يزول بزوال علته، فزوال حكم قبول الجزية بزوال علته وهو انتظار إسلامهم، وذلك حكم من أحكام شريعة النبي صلى الله عليه وسلم وليس حكما جديدا، فإن عيسى عليه السلام إنما ينزل حاكما بشريعة النبي صلى الله عليه وسلم.
قال السبكي: وبعد أن كتبت هذا وقفت على شرح " مجمع البحرين " لابن الساعاتي من كتب الحنفية فقال: " وهذا المذكور إنما هو في الأمصار دون القرى؛ لأن الأمصار محل إقامة الشعائر، وقال صاحب " الهداية ": والمروي في ديارنا يمنعون عن إظهار ذلك في القرى أيضا؛ لأن لها بعض الشعائر، والمروي عن صاحب الهداية رحمه الله في قرى الكوفة لأن أكثر أهلها أهل الذمة، وفي أرض العرب يمنعون من ذلك في أمصارهم وقراهم، وفي " الكافي " من كتب الحنفية لحافظ الدين قريب من ذلك " اهـ. هكذا ذكر السبكي هنا.
وقد قال في موضع آخر من هذه الفتوى في الباب الذي عقده لما في هذا الباب
মূল পাঠটি হলো: "সম্ভবত ইমাম আবু হানিফা কেবল সেই সকল জনপদে (قرى) গির্জা নির্মাণের কথা বলেছেন যেগুলোতে তারা (জিম্মিরা) তাদের প্রথা অনুযায়ী একচেটিয়াভাবে বসবাস করে। পক্ষান্তরে অন্যান্য উলামায়ে কিরাম একে নিষিদ্ধ করেছেন; কারণ সেই স্থানগুলো মুসলিম ভূখণ্ড এবং তাদের অধিকারভুক্ত। তারা সেখানে এককভাবে বসবাস করলেও তারা মুসলিমদের কর্তৃত্বাধীন, তাই তাদের নতুন করে গির্জা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না কারণ সেটি ইসলামের আবাসভূমি। আর ইমাম আবু হানিফাও এমনটি চাননি যে, এমন কোনো জনপদ যেখানে মুসলিমরা বসবাস করে সেখানে জিম্মিদের গির্জা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হোক। কেননা এটি বড় শহরগুলোর (أمصار) পর্যায়ভুক্ত, ফলে তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) অন্তর্ভুক্ত হবে। আর জনপদ (القرى) শব্দের আলিফ ও লাম দ্বারা সেই গ্রামগুলোই উদ্দেশ্য যেখানে তারা কৃষিকাজ বা অন্যান্য কাজে মুসলিমদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে ঐতিহাসিকভাবে বসবাস করে আসছিল। অথবা এর কারণ হতে পারে তাদের নতিস্বীকার করে ও জিজিয়া প্রদানের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের আশা করা। কারণ আমরা যদি তাদের মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসের সুযোগ না দিতাম, তবে তারা ইসলামের সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করতে পারত না এবং ফলে ইসলাম গ্রহণ করত না। আবার আমরা যদি তাদের জিজিয়া ও আনুগত্য প্রকাশ ছাড়াই থাকতে দিতাম, তবে তারা বিভ্রান্ত ও উদ্ধত হয়ে পড়ত। তাই আমরা তাদের জিজিয়া গ্রহণের শর্তে বসবাসের সুযোগ দিয়েছি, যা কেবল জিজিয়া লাভের উদ্দেশ্যে নয় বরং তাদের ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে। এই কারণেই যখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হবেন, তখন তিনি তা গ্রহণ করবেন না; কারণ দুনিয়ার যে সময়সীমা পর্যন্ত তাদের ইসলাম গ্রহণের আশা করা হচ্ছিল তা সমাপ্ত হয়ে যাবে। আর কোনো বিধানের কারণ (علة) যখন বিদ্যমান থাকে না তখন সেই বিধানও রহিত হয়ে যায়। সুতরাং জিজিয়া কবুল করার বিধানটি এর কারণ বিলুপ্ত হওয়ার ফলেই রহিত হয়ে যাবে, আর তা হলো তাদের ইসলাম গ্রহণের প্রতীক্ষা। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরিয়তেরই একটি বিধান এবং এটি কোনো নতুন বিধান নয়। কেননা ঈসা (আলাইহিস সালাম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরিয়ত অনুযায়ীই ফয়সালাকারী হিসেবে অবতীর্ণ হবেন।
ইমাম সুবকি বলেন: আমি এটি লেখার পর হানাফি মাজহাবের কিতাব ইবনে আস-সাআতি রচিত 'মাজমাউল বাহরাইন' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখি। সেখানে বলা হয়েছে: 'উল্লিখিত এই বিষয়টি কেবল বড় শহরগুলোর (أمصار) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, জনপদগুলোর (قرى) ক্ষেত্রে নয়; কারণ বড় শহরগুলো হলো ধর্মীয় নিদর্শনাদি (شعائر) পালনের স্থান।' আর 'হিদায়া' গ্রন্থের লেখক বলেন: 'আমাদের অঞ্চলে বর্ণিত (مروي) রেওয়ায়াত অনুযায়ী জনপদগুলোতেও প্রকাশ্যে এগুলো পালন করতে তাদের নিষেধ করা হয়; কারণ সেখানেও কিছু ধর্মীয় নিদর্শনাদি (شعائر) বিদ্যমান রয়েছে।' হিদায়া গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে কুফার জনপদগুলোর ব্যাপারে বর্ণিত (مروي) হয়েছে যে, সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসী ছিল জিম্মি। আর আরব ভূমিতে বড় শহর এবং জনপদ উভয় স্থানেই তাদের এ থেকে বিরত রাখা হবে। হানাফি মাজহাবের কিতাব 'আল-কাফি'তে হাফিজুদ্দিনের নিকট থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়। ইমাম সুবকি এখানে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
তিনি (সুবকি) এই ফতোয়ার অন্য এক স্থানে এই অধ্যায়ে যা বিধৃত হয়েছে সে সম্পর্কে বলেছেন..."
(খণ্ড: ১)
হুকমু বিনা-ইল কানাইস ওয়াল মাআবিদিল শিরকিয়্যাহ ফী বিলাদিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
من الآثار قال ص 388: " وقول أبي حنيفة بإبقائها في القرى بعيد لا دليل عليه، ولعله أخذه من مفهوم قول ابن عباس الذي سنحكيه في المصر، ونحن نقول: إنما يعني بالمصر أي موضع كان مدينة أو قرية " اهـ. وقد وفى السبكي بوعده أن يأتي بقول ابن عباس الذي أشار إليه حيث قال (2 391) من الفتاوى: " وأما قول ابن عباس فاشتهر اشتهارا كثيرا سنذكره، وهو ما رواه عنه أبو بكر بن أبي شيبة في مصنفه قال: ثنا معتمر بن سليمان، عن أبيه، عن حنش، عن عكرمة قال: قيل لابن عباس: أللعجم أن يحدثوا في أمصار المسلمين بناء أو بيعة، فقال: أما مصر مصرته العرب فليس للعجم أن يبنوا فيه بناء - أو قال بيعة - ولا يضربوا فيه ناقوسا، ولا يشربوا فيه خمرا، ولا يتخذوا فيه خنزيرا أو يدخلوا فيه. وأما مصر مصرته العجم ففتحه الله على العرب فنزلوا - يعني عليهم - فللعجم ما في عهدهم، وللعجم على العرب أن يوفوا بعهدهم ولا يكلفوهم فوق طاقتهم " قال السبكي: " وقد أخذ العلماء بقول ابن عباس هذا وجعلوه مع قول عمر وسكوت بقية الصحابة إجماعا " اهـ.
وأما أصحاب مالك فقال في الجواهر: " إن كانوا في بلدة بناها المسلمون فلا يمكنون من بناء كنيسة، وكذلك لو ملكنا رقبة بلدة من بلادهم قهرا، وليس للإمام أن يقر فيها كنيسة بل يجب نقض كنائسهم بها. أما إذا فتحت صلحا على أن يسكنوها بخراج ورقبة الأبنية للمسلمين وشرطوا إبقاء كنيسة جاز. وأما إن افتتحت على أن تكون رقبة البلد لهم وعليهم خراج ولا تنقض كنائسهم فذلك لهم ثم يمنعون من رمها، قال ابن الماجشون: ويمنعون من رم كنائسهم القديمة إذا رثت إلا أن يكون ذلك شرطا في عقدهم فيوفى لهم، ويمنعون من الزيادة الظاهرة والباطنة. ونقل الشيخ أبو عمر أنهم لا يمنعون من إصلاح ما وهي منها وإنما منعوا من إصلاح كنيسة فيما بين المسلمين لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يُرفع فيكم يهودية ولا نصرانية» فلو صولحوا على أن يتخذوا الكنائس إن شاءوا.
আল-আসার গ্রন্থ থেকে, ৩৮৮ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন: "আর গ্রামগুলোতে এগুলোর অস্তিত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফার অভিমতটি সুদূরপরাহত (بعيد), যার সপক্ষে কোনো দলীল নেই। সম্ভবত তিনি এটি ইবনে আব্বাসের সেই উক্তির মর্মার্থ (مفهوم) থেকে গ্রহণ করেছেন যা আমরা শহর (مصر) প্রসঙ্গে বর্ণনা করব। আর আমরা বলি: এখানে শহর (مصر) বলতে শহর কিংবা গ্রাম যাই হোক না কেন, যেকোনো স্থানকেই বোঝানো হয়েছে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত। সুবকী ইবনে আব্বাসের সেই উক্তিটি উল্লেখ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূর্ণ করেছেন, যেখানে তিনি আল-ফাতাওয়া (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯১)-এ বলেছেন: "আর ইবনে আব্বাসের উক্তিটির ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রসিদ্ধি (اشتهار) লাভ করেছে যা আমরা উল্লেখ করব। সেটি হলো যা আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুতামির বিন সুলাইমান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি হানাশ থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হলো: অনারবদের কি মুসলিমদের শহরগুলোতে কোনো ইমারত বা গির্জা নির্মাণ করার অধিকার আছে? তিনি বললেন: যেসব শহর আরবরা আবাদ করেছে, সেখানে অনারবদের কোনো ইমারত—বা তিনি বলেছিলেন গির্জা—নির্মাণ করার, সেখানে ঘণ্টা বাজানোর, সেখানে মদ্যপান করার, সেখানে শূকর পালন করার বা সেখানে প্রবেশের অধিকার নেই। আর যেসব শহর অনারবরা আবাদ করেছিল এবং পরে আল্লাহ তাআলা আরবদের জন্য তা বিজয় করে দিয়েছেন এবং তারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছে—অর্থাৎ তাদের ওপর—তবে অনারবরা তাদের চুক্তিতে যা রয়েছে তা পাবে। আর আরবদের ওপর অনারবদের পাওনা হলো আরবরা যেন তাদের সাথে কৃত চুক্তি পূর্ণ করে এবং তাদের সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা যেন তাদের ওপর না চাপায়।" সুবকী বলেন: "উলামায়ে কেরাম ইবনে আব্বাসের এই উক্তিটি গ্রহণ করেছেন এবং উমর (রা.)-এর উক্তি ও অন্যান্য সাহাবীগণের নীরবতাকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আর মালিকি মাযহাবের অনুসারীগণের ব্যাপারে আল-জাওয়াহির গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তারা যদি মুসলিমদের নির্মিত কোনো শহরে থাকে, তবে তাদের গির্জা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। একইভাবে যদি আমরা কোনো শহরের মালিকানা জোরপূর্বক অর্জন করি, তবে ইমামের জন্য সেখানে কোনো গির্জা বহাল রাখা বৈধ নয়, বরং সেখানকার গির্জাগুলো ভেঙে ফেলা আবশ্যক (واجب)। তবে যদি সন্ধির মাধ্যমে এই শর্তে বিজিত হয় যে, তারা সেখানে খরাজ প্রদান করে বসবাস করবে এবং দালানকোঠার মালিকানা মুসলিমদের থাকবে এবং তারা গির্জা বহাল রাখার শর্ত দেয়, তবে তা বৈধ (جائز)। আর যদি এই শর্তে বিজিত হয় যে, শহরের মালিকানা তাদেরই থাকবে এবং তাদের ওপর খরাজ ধার্য হবে এবং তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করা হবে না, তবে তা তাদের অধিকার হিসেবে গণ্য হবে; তবে পরবর্তীতে তাদের সেগুলো সংস্কার করা থেকে বিরত রাখা হবে। ইবনুল মাজিশুন বলেন: তাদের পুরনো গির্জাগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে সেগুলো সংস্কার করা থেকে তাদের বিরত রাখা হবে, যদি না তাদের চুক্তিতে এ সংক্রান্ত কোনো শর্ত থাকে; সেক্ষেত্রে তাদের সাথে কৃত চুক্তি পূর্ণ করা হবে। এবং তাদের প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য যেকোনো ধরনের বর্ধিতকরণ থেকে বিরত রাখা হবে। শায়খ আবু উমর বর্ণনা করেছেন যে, তাদের গির্জার জরাজীর্ণ অংশ সংস্কার করা থেকে বিরত রাখা হবে না। মূলত মুসলিমদের জনপদে গির্জা সংস্কার করা থেকে তাদের এ কারণেই বিরত রাখা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মাঝে কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান রীতিনীতি সমুন্নত করা যাবে না»। সুতরাং যদি এই শর্তে সন্ধি হয় যে, তারা চাইলে গির্জা নির্মাণ করতে পারবে...