(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
تلبيس مردود في قضايا حية   (صالح بن حميد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تلبيس مردود في قضايا حية

المؤلف: د صالح بن عبد الله بن حميد

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 118

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জীবন্ত ইস্যুসমূহে প্রত্যাখ্যাত (مردود) প্রবঞ্চনা   (সালেহ বিন হামিদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: জীবন্ত ইস্যুসমূহে প্রত্যাখ্যাত (مردود) প্রবঞ্চনা

লেখক: ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামিদ

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৮

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[المقدمة]

تلبيس مردود في قضايا حية
[ভূমিকা]

জীবন্ত বিষয়াবলি প্রসঙ্গে প্রত্যাখ্যাত (مردود) বিভ্রান্তি
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه.

وبعد: -

فقد وصلتْني أسئلة من أحد المراكز الإسلاميَّة في بلاد الغرب أثارتها مؤسسة صليبيَّة تنصيريَّة تُسمِّي نفسَها " الآباء البِيض "، وحينما اطَّلعتُ عليها ما وسعني إلَاّ القيام بالإجابة عليها.

وطبيعة الأسئلة وما يُقرأ فيها ممَّا بين السطور في الظروف التي تعيشها التوجُّهات الإسلاميَّة في أوساط الشباب وغير الشباب أشعرتني بلزوم الإجابة، كل أنَّ هذا التوجُّه الكنسيّ في إثارة هذه الأسئلة وأمثالها له أبعاد لا تخفى، وحلقة في سلسلة لا تنقطع يُدركها القارئ للتاريخ والمعُايِش
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর।

অতঃপর: -

পশ্চিমা বিশ্বের একটি ইসলামি কেন্দ্র হতে আমার নিকট কিছু প্রশ্ন পৌঁছেছে যা "হোয়াইট ফাদার্স" নামক একটি ক্রুসেডার মিশনারি সংস্থা উত্থাপন করেছে। যখন আমি সেগুলো প্রত্যক্ষ করলাম, তখন সেগুলোর উত্তর প্রদান করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় রইল না।

প্রশ্নের প্রকৃতি এবং পঙ্‌ক্তিগুলোর অন্তরালে যা নিহিত রয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণ ও প্রবীণদের মাঝে বিদ্যমান ইসলামি জাগরণের প্রেক্ষাপটে আমাকে উত্তর প্রদানের আবশ্যকতা অনুভব করিয়েছে। বিশেষত, এ ধরণের প্রশ্ন উত্থাপনে গির্জা-ভিত্তিক এই তৎপরতার এমন কিছু দিক রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়; বরং এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন শৃঙ্খলের অংশ যা ইতিহাসের পাঠক এবং সমসাময়িক পর্যবেক্ষক মাত্রই অনুধাবন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
للتحرّكات النصرانيَّة والتطويرات المتسارعة لجهودهم وتنوعُّ أساليب هجومهم على الأصعدة كافة.

فاستعنت بالله الكريم ربِّ العرش العظيم على ذلك؛ نصرة لدين الله، وغيرةً على أهل الإسلام، وجهادًا بالقلم واللسان - إن شاء الله -.

والقضايا المثارة في الأسئلة يمكن تصنيفُها حسب المواضع الرئيسة التالية:

- المساواة.

الحرِّية " حرِّية الدِّين - الرق ".

المرأة

تطبيق الشريعة

الجهاد
খ্রিস্টীয় তৎপরতা, তাদের প্রচেষ্টার দ্রুত বিকাশ এবং সর্বস্তরে তাদের আক্রমণ পদ্ধতির বৈচিত্র্যের প্রেক্ষাপটে।

তাই আমি এ বিষয়ে মহান আরশের রব, মহানুভব আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি; আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যার্থে, মুসলিমদের প্রতি মমত্ববোধ থেকে এবং কলম ও জবানের মাধ্যমে জিহাদ করার উদ্দেশ্যে—ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নে উত্থাপিত বিষয়গুলোকে নিম্নোক্ত প্রধান শিরোনাম অনুযায়ী বিন্যস্ত করা যেতে পারে:

- সাম্য।

স্বাধীনতা "ধর্মীয় স্বাধীনতা - দাসপ্রথা"।

নারী

শরীয়াহর প্রয়োগ

জিহাদ
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[توطئة]

توطئة 1 - هذه الأسئلة لم تكن وليدةَ الساعة، ولكنَّها أسئلة وشُبَهٌ قديمة قِدَمَ الهجوم على الإسلام.

وإنَّ المطّلع عليها وعلى أمثالها ممَّا هو مبثوث هنا يدرك أنّ واضعيها على مختلف أعصارهم وأغراضهم لا يريدون الجواب ولا يقصدون تلمُّسَ الحقِّ، ولكنَّهم يُلقونها في وسط ضجيج كبير يثيرونه في عمق المجتمع وفي ساحاته الفكريَّة، ثمَّ ينطلقون بسرعة خاطفة وقد وضعوا أصابعهم في آذانهم؛ خوفًا مِن أن يسمعوا أو يدركوا جوابا سليما، فكأنَّ مبتغاهم إلقاء متفجِّرات موقوتة في أشدِّ الساحات ازدحامًا ثمَّ يفرُّون على عجل قبل أن تنفجر فيصيبهم شيء من شظاياها.

2 - كم هو جميل أن يتَّفقَ على مُسَلَّمات بين
[উপক্রমণিকা]

উপক্রমণিকা ১ - এই প্রশ্নগুলো সাম্প্রতিক সময়ের সৃষ্টি নয়, বরং এগুলো ইসলামের ওপর আক্রমণের ইতিহাসের ন্যায় প্রাচীন প্রশ্ন ও সংশয়সমূহ।

যিনি এই প্রশ্নগুলো এবং এখানে বিদ্যমান অনুরূপ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে, বিভিন্ন যুগের এদের উত্থাপনকারী এবং তাদের নানাবিধ উদ্দেশ্য মূলত উত্তর জানার জন্য নয় এবং তারা সত্য অন্বেষণের ইচ্ছাও রাখে না। বরং তারা সমাজের গভীরে এবং এর বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনগুলোতে নিজেদের তৈরি করা এক তুমুল হট্টগোলের মধ্যে এগুলোকে নিক্ষেপ করে এবং এরপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রস্থান করে; তারা কানে আঙুল দিয়ে রাখে পাছে কোনো সঠিক উত্তর শুনে ফেলে বা বুঝতে পেরে যায়। তাদের লক্ষ্য যেন জনাকীর্ণ কোনো স্থানে 'টাইম বোমা' নিক্ষেপ করা এবং সেটি বিস্ফোরিত হওয়ার পূর্বেই দ্রুত পলায়ন করা, যাতে তার কোনো স্প্লিন্টার বা আঘাত তাদের গায়ে না লাগে।

২ - কতই না চমৎকার হতো যদি এমন কিছু স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের ওপর ঐকমত্য হওয়া যেত যা...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المتحاورين؛ ليكونَ منها المنطلق وإليها المرد.

ولكن إحساس الباحث أنَّ المقصد من وراء إثارة هذه الأسئلة هو التشكيك وزرع الشبه، بل مِن أجل استعداء الآخرين باسم الانتصار للمرأة، ومحاربة التفرقة العنصريَّة، والدندنة حول المساواة وحقوق الإنسان، وغير ذلك من الدعاوى العريضة، وأنت خبير بأنَّها مبادئ بل دعاوى لها بريقها عند المستضعفين والمغلوب على أمرهم، ولكنَّها عند التحقيق والتدقيق سراب يحسبه الظمآن ماءً، حتَّى إذا جاءه لم يجدْه شيئًا، بل يجد كبيرًا مستكبرَا يحتضن صغيرًا محقورًا يُربِّت على كتفيه ليأكله حالًا أو يحتفظ به ليسمن فيأكله مآلًا، إنَّها شريعة الغاب مغلَّفةٌ بأغلفة رقيقة من القانون والمدنية أفرزتها التقنية المعاصرة في جملة ما أفرزتْه.
আলাপকারীদের মধ্যকার আলোচনার বিষয়সমূহ; যাতে সেখান থেকেই যাত্রার সূচনা হয় এবং সেখানেই যেন প্রত্যাবর্তন ঘটে।

কিন্তু গবেষকের উপলব্ধি এই যে, এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করার নেপথ্য উদ্দেশ্য হলো সংশয় সৃষ্টি করা এবং সন্দেহের বীজ বপন করা; বরং এটি নারী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে অন্যদের সাথে বৈরিতা সৃষ্টি করা, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সমঅধিকার ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ানোর ন্যায় নানাবিধ চটকদার দাবি মাত্র। আর আপনি তো সম্যক অবগত যে, এগুলো এমন কিছু মূলনীতি—বরং দাবি—যা দুর্বল এবং নিপীড়িতদের নিকট অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়, কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সময় তা কেবলই মরিচীকার ন্যায় প্রতীয়মান হয়, যা তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার নিকটবর্তী হয় তখন কিছুই পায় না। বরং সে সেখানে দেখতে পায় এক দাম্ভিক ও অহংকারীকে, যে এক তুচ্ছ ও অবহেলিতকে আলিঙ্গন করে তার কাঁধে স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রাস করার জন্য অথবা তাকে পরিপুষ্ট করে পরবর্তীতে ভক্ষণ করার উদ্দেশ্যে। এটি মূলত আধুনিক প্রযুক্তির অনুষঙ্গ হিসেবে আইন ও সভ্যতার এক সূক্ষ্ম আবরণে আবৃত অরণ্যের আইন মাত্র।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
3 - عند الحوار يجب أن يتقرَّر النموذج الأمثل الذي ينبغي أن يحتذى ليكون مرجعًا في التمثيل وهدفًا يُسعى إلى بلوغه.

وحيث إنَّ هذه الأسئلة صدرت من مؤسسة تنصيريَّة اسمها " الآباء البِيض "، فهل تريد هذه المؤسسة أن تكون المبادئ النصرانيَّة هي الأنموذج المحتذَى؟ ، لا أظنُّ ذلك؛ لأنّ الجميع من النصارى وغيرهم يعلم واقعَ النصرانيَّة من خلال كتابها المقدس ومن لخلال ممارسات البابوات والرهبان في الماضي والحاضر، وفي ثنايا إجابتي هذه قد أُلمح إلى نموذج من الانحرافات النصرانيَّة والكنسية.

وإن كانت اليهودية هي الأنموذج، فحقيقة النصرانية وبابواتها وأحبارها ومراجعها يرون أنَّ اليهوديَّة محرفَّة وغير صالحة.
৩ - সংলাপের সময় একটি সর্বোত্তম আদর্শ নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক যা অনুসরণযোগ্য হবে, যেন তা উপস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড এবং লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয় যা অর্জনের চেষ্টা করা হবে।

যেহেতু এই প্রশ্নগুলো "হোয়াইট ফাদারস" নামক একটি খ্রিস্টীয় মিশনারি সংস্থা থেকে উত্থাপিত হয়েছে, তাই এই সংস্থাটি কি চায় যে খ্রিস্টীয় নীতিমালাগুলোই অনুসরণীয় আদর্শ হোক? আমি তা মনে করি না; কারণ খ্রিস্টান ও অন্যান্য সকলে তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ এবং অতীত ও বর্তমানের পোপ ও সন্ন্যাসীদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত। আমার এই উত্তরের প্রেক্ষিতে আমি খ্রিস্টীয় ও গির্জা সংক্রান্ত কিছু বিচ্যুতির নমুনার দিকে ইঙ্গিত করতে পারি।

আর যদি ইহুদি ধর্মই সেই আদর্শ হয়, তবে বাস্তবতা হলো খ্রিস্টধর্ম এবং তাদের পোপ, ধর্মতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতগণ মনে করেন যে ইহুদি ধর্ম বিকৃত (محرفة) এবং অযোগ্য।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أمَّا إذا كان الأنموذج هو الحضارة الغربيَّة المعاصرة، فما شأن البابوات وأتباعهم بها؟ ، وإن كانوا معجبين بها وعندهم قناعة ليعرضوها على الناس ويدعوهم إليها، فهذه تبعية مخجلة؛ لأنَّ هذه الحضارة - كما يعلم القاصي والداني - من أهمِّ الأسباب المقرّرة في ازدهارها بعدُها عن الكنيسة ورجالاتها، وقد شردت هاربةً منها هروبًا لا رجعَ بعده إلَاّ إذا أرادت هذه الحضارة أن تنتكس في رجعية القرون الوسطى كما يقولون.

أمَّا الكاتب هنا، فلا يرى نموذج هذه الحضارة صالحًا ليكونَ المحتذَى؛ إذ أنَّ فيه انحرافًا ظاهرًا وبؤسًا على البشريَّة يحيط العالم بسببه خوف وإرهاب وتوتُّر وقلقٌ يوشك أن ينتهي إلى تدمير حقيقيٍّ شامل يعمُّ الحضارة وصُنَّاعها، وفيه

আর যদি আদর্শটি হয় সমকালীন পাশ্চাত্য সভ্যতা, তবে পোপ এবং তাদের অনুসারীদের সাথে এর কী সম্পর্ক? আর তারা যদি এর প্রতি মুগ্ধ হয়ে থাকে এবং জনসাধারণের নিকট তা উপস্থাপন করার ও তাদেরকে এর দিকে আহ্বান করার মতো দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে, তবে তা এক লজ্জাজনক পরাধীনতা; কারণ এই সভ্যতা—যেমনটি নিকট ও দূরবর্তী সকলেরই জানা—তার উন্নতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো গির্জা ও ধর্মযাজকদের থেকে তার দূরত্ব। এই সভ্যতা গির্জা থেকে এমনভাবে পলায়ন করেছে যেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের আর কোনো পথ নেই, যদি না এই সভ্যতা পুনরায় মধ্যযুগের সেই পশ্চাদপদতায় নিপতিত হতে চায় যেমনটি তারা বলে থাকে।

অন্যদিকে লেখক এখানে এই সভ্যতার আদর্শকে অনুসরণের যোগ্য বলে মনে করেন না; কারণ এতে রয়েছে স্পষ্ট বিচ্যুতি এবং মানবতার জন্য চরম দুর্দশা, যার ফলে বিশ্ব আজ ভয়, সন্ত্রাস, উত্তেজনা ও উদ্বেগের কবলে পড়ে এক প্রকৃত ও সর্বাত্মক বিনাশের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে, যা এই সভ্যতা ও এর কারিগরদের গ্রাস করে নেবে। এতে আরও রয়েছে...

(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
غير الانحراف مبادئ جوفاء من حقوق الإنسان والمساواة لا واقع لها، وإن كان لها شيء من الواقعيَّة، فهو مختص بالرجل الأبيض، أمَّا من عداه فليس إلَاّ قانون الغاب أو مبدأ (الغاية تبرر الوسيلة) .

وبهذا يتقرَّر - مع الأسف - أنَّه ليس ثمَّة أرضيَّة مشتركة مقنعة ننطلق منها لنصل إلى نتيجة مقنعة.

4 - جميع الأسئلة المثارة لا يوجد لها جواب في الديانة النصرانيَّة والعقيدة المسيحيَّة، فكيف تثيرها مؤسسة تنصيريَّة؟ .

فقضايا الرقِّ وقضايا المرأة والحروب المقدَّسة والتفرقة بين معتنقي النصرانية وغيرهم كلها مقررة في الديانة النصرانيَّة، ومن حقِّ القارئ أن يعرف ما هو جواب المسيحيَّة على ذلك.
বিচ্যুতি ব্যতিরেকে মানবাধিকার ও সাম্যের ফাঁপা মূলনীতিগুলোর কোনো বাস্তবতা নেই; আর যদি তাতে বাস্তবতার ছিটেফোঁটা থেকেও থাকে, তবে তা কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্যই নির্দিষ্ট। আর তারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ‘জঙ্গলের আইন’ অথবা ‘উদ্দেশ্যই উপায়ের বৈধতা দেয়’—এই নীতি ছাড়া আর কিছু নেই।

এর মাধ্যমে আফসোসের সাথে প্রমাণিত হয় যে, এমন কোনো সন্তোষজনক সাধারণ ভিত্তি নেই যেখান থেকে আমরা যাত্রা শুরু করে একটি সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি।

4 - উত্থাপিত সকল প্রশ্নের কোনো উত্তর নাসারা ধর্ম ও খ্রিস্টীয় আকিদায় নেই; তাহলে একটি মিশনারি সংস্থা কীভাবে এ প্রশ্নগুলো উত্থাপন করে? .

কেননা দাসত্ব প্রথা, নারী অধিকার সংক্রান্ত বিষয়াবলি, পবিত্র যুদ্ধ এবং খ্রিস্টধর্মাবলম্বী ও অন্যদের মধ্যে ভেদাভেদের বিষয়গুলো নাসারা ধর্মে স্বীকৃত। এমতাবস্থায় পাঠকের অধিকার আছে জানার যে, এ ব্যাপারে খ্রিস্টধর্মের উত্তর কী।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وحيث إنَّ الجواب بالسلب، فلماذا لا يتركون الدعوة إلى النصرانيَّة لأنها تتبنّىَ كلَّ هذه القضايا المثارة؟ . ولكنَّها أثيرت هذه الأيَّام باعتبارها معايب ونقائص يُقصد منها النيل من الإسلام والمسلمين.

5 - وأمر أدهى وأمرُّ وهو شعور المطَّلع على هذه الأسئلة بعدم التجرُّد من قِبل واضعيها.

فاتباع الهوى فيها هو المسيطر على مجريات الأسئلة مع تبنِّي أحكام وتصوُّرات مسبَقة لديهم.

6 - إنَّه ليحزنني أن تكون هذه هي المقدِّمة التي أدخل بها إلى هذا الموضوع وأجوبته، ومع هذا فليعلم كلُّ مطَّلع وليستيقن كلُّ ناظر أنِّي سأبذل قُصارى الجهد في قصد الحقِّ والتِماسه؛ خوفًا من الله عز وجل، ورجاءً فيما عنده، وأداءً
যেহেতু উত্তরটি নেতিবাচক, তবে তারা কেন খ্রিস্টধর্মের প্রচার বর্জন করছে না? অথচ খ্রিস্টধর্ম এই উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রতিটিই ধারণ করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এগুলোকে এমন কিছু দোষ ও ত্রুটি হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ইসলাম ও মুসলমানদের হেয় প্রতিপন্ন করা।

৫ - আরও একটি অধিকতর গুরুতর ও তিক্ত বিষয় হলো এই যে, এই প্রশ্নগুলো পাঠকারী অনুভব করেন যে, এর প্রণেতারা নিরপেক্ষতা (التجرد) বজায় রাখেননি।

এক্ষেত্রে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণই প্রশ্নগুলোর গতিপ্রকৃতির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে এবং তাদের মাঝে আগে থেকেই কিছু সিদ্ধান্ত (أحكام) ও ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে।

৬ - এটি আমাকে ব্যথিত করে যে, এই বিষয় ও এর উত্তরসমূহে প্রবেশের প্রাক্কালে আমাকে এমন একটি ভূমিকা প্রদান করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও প্রত্যেক পাঠক যেন অবগত থাকেন এবং প্রত্যেক পর্যালোচনাকারী যেন নিশ্চিত হন যে, আমি সত্যের অন্বেষণ ও তা লাভের জন্য আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করব; মহান আল্লাহর ভয়ে, তাঁর নিকট যা রয়েছে তার প্রত্যাশায় এবং দায়িত্ব পালনের (أداء) লক্ষ্যে।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
للأمانة، ونُصحًا للبشريَّة كلِّها.

7 - وأنبِّه المطَّلع الكريم أنَّ هذه الإجابة قصد بها خطاب غير المسلمين ممَّن لا يدينون بالاستدلال بالنصوص الشرعيَّة - كتابًا وسنَّة -، ومِن ثمَّ جاءت المناقشة والحوار أقرب لمخاطبة العقل ومحاورة الفكر، والنظر مِن أيِّ شيءٍ آخر.

على أنَّه قد جرى إيراد حشدٍ من النصوص الشرعيَّة حين اقتضى الأمر ذلك، كما يلحظ في موضوع الرِّقَ وغيره.

وأقول بكلِّ ثقة واعتزاز إنَّ ديني هو الإسلامٍ، وإيماني به لا يتزعزع، والقرآن كلام الله حقيقة، ومحمَّد صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء والمرسلين، وهو رسول الله إلى الناس كافَّةً، وإبراهيم وموسى وعيسى عليهم السلام من أنبياء الله ومن أولي العزم من الرسل، والله قد بعث في كلِّ أمَّة رسولًا، والإسلام هو دين
আমানতদারিতার খাতিরে এবং সমগ্র মানবজাতির প্রতি সদুপদেশ স্বরূপ।

৭ - আমি সম্মানিত পাঠককে অবহিত করছি যে, এই উত্তরের মাধ্যমে মূলত সেই অমুসলিমদের সম্বোধন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যারা শরয়ী দলিল (نصوص شرعية) — কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) — এর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনে (استدلال) বিশ্বাসী নয়। ফলশ্রুতিতে এই আলোচনা ও সংলাপ অন্য যেকোনো বিষয়ের তুলনায় যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনার অধিক নিকটবর্তী হয়েছে।

তবে যেখানেই বিষয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সেখানেই প্রচুর শরয়ী দলিল (نصوص شرعية) অবতারণা করা হয়েছে, যা দাসত্ব ও অন্যান্য বিষয়ের আলোচনায় লক্ষ্য করা যায়।

আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও গর্বের সাথে বলছি যে, আমার ধর্ম হলো ইসলাম, এর প্রতি আমার ঈমান অবিচল, কুরআন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশেষ নবী ও রাসূলগণ (مرسلين) এর সমাপ্তিকারী, তিনি সমগ্র মানবজাতির নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল; আর ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) আল্লাহর নবী এবং রাসূলদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ (أولي العزم) ব্যক্তিগণের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ প্রতিটি জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন। আর ইসলামই হলো সেই ধর্ম...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الله الخاتم الذي لا يقبل دينًا غيره.

والله المسُتعان وعليه التكلان، ولا حول ولا قوَّة إلَاّ بالله العليِّ العظيم.

هذا وقد أجريتُ تغييرًا في ترتيب الأسئلة، وصنَّفتُها حسب موضوعاتها، ولم ألتزم ترتيبها الأصليَّ، وسوف أُثبت في آخر الأجوبة مجموعة الأسئلة حسبَ ترتيب واضعيها.
আল্লাহ হলেন চূড়ান্ত মোহরাঙ্কনকারী, যিনি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন কবুল করেন না।

আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ নির্ভরতা। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় বা শক্তি নেই।

উল্লেখ্য যে, আমি প্রশ্নগুলোর বিন্যাসে পরিবর্তন এনেছি এবং বিষয়বস্তু অনুযায়ী সেগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করেছি; আমি সেগুলোর মূল বিন্যাস বজায় রাখিনি। উত্তরসমূহের শেষে আমি প্রশ্নকর্তাদের প্রদত্ত বিন্যাস অনুযায়ী প্রশ্নগুচ্ছটি সংযুক্ত করব।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[المساواة]

المساواة المساواة في البشر ترجع إلى مدى تطابقها وتماثلها في الصفات الخلقية والخلقية فكلما تطابقت هذه الصفات أو تقاربت، كانت المساواة والمماثلة أدق وأقرب، وإذا تفاوتت لزم التفاوت في الآثار.

وأخذًا من هذه المقدمة فمن المتعذر الجزم بالتساوي المطلق بين بني البشر، غير أننا نقول أن الاصل في التساوي في الحقوق والواجبات؛ لوجود الحد الأدنى من التماثل في القدرات البدنية والكفاءات الذهنية التي تجعلهم قادرين على فهم النظم والقوانين، واستيعابها وتطبيقها والاستجابة لها والمحاسبة عليها، ولكن المعلوم أن أصل
[সাম্য]

মানুষের মাঝে সাম্য তাদের শারীরিক গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলীর সামঞ্জস্য ও অভিন্নতার ওপর নির্ভর করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো যত বেশি অভিন্ন বা কাছাকাছি হবে, সাম্য ও সাদৃশ্য তত বেশি সূক্ষ্ম ও নিকটবর্তী হবে। আর যদি সেগুলোর মাঝে তারতম্য ঘটে, তবে তার প্রভাবেও তারতম্য হওয়া অনিবার্য।

এই উপক্রমণিকার প্রেক্ষিতে মানবজাতির মাঝে নিরঙ্কুশ সাম্যের বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করা দুরূহ; তবে আমরা বলি যে, অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সাম্যই হলো মূল (أصل); কারণ শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক যোগ্যতার এমন এক ন্যূনতম সামঞ্জস্য বিদ্যমান থাকে যা তাদের নিয়ম-নীতি ও আইনসমূহ বুঝতে, সেগুলো আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে এবং সেগুলোর প্রতি সাড়া দিতে ও তজ্জন্য জবাবদিহি করতে সক্ষম করে তোলে। কিন্তু এটি সুবিদিত যে, মূল (أصل)
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
خلقة البشر جاءت على التفاوت في المواهب والأخلاق، ممَّا تجعل هناك موانع جِبِلِّيَّة واجتماعية وسياسية على نحو ما هو مثار في الأسئلة.

وبعض هذه الموانع قد يكون مؤقَّتًا وقد يكون دائمًا، وبعضها قد يكون قليل الحصول وقد يكون أغلبَيَّا. غير أنَّ أثر كلَ مانع مقصور على نفسه، فلا يمنع المساواة في الحقوق الأخرى.

فصاحب الخُلُق الفاضل لا يساوي دنيء الخلق في مجاله، لكنَّه لا يمنع التساوي معه في الحقوق الأخرى، والذكيُّ لا يساوي الغبي، والمرأة ليست كالرجل في صفاتها ومواهبها وقدراتها، (وسيأتي للكلام عن المرأة موضع مستقل إن شاء الله) .

هذه بعض الموانع الجِبِلِّيَّة الخَلقية.

ومن الموانع الاجتماعيَّة - أي: الموانع التي
মানুষের সৃষ্টি প্রতিভা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে হয়েছে, যার ফলে স্বভাবজাত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন অন্তরায় সৃষ্টি হয়, যেমনটি প্রশ্নাবলীতে উত্থাপিত হয়েছে।

এসব অন্তরায়ের কোনোটি সাময়িক হতে পারে আবার কোনোটি স্থায়ী হতে পারে, এবং কোনোটি খুব কম পরিলক্ষিত হয় আবার কোনোটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। তবে প্রতিটি অন্তরায়ের প্রভাব কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা অন্যান্য অধিকারের ক্ষেত্রে সমতার পথে বাধা সৃষ্টি করে না।

সুতরাং উচ্চতর নৈতিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় ক্ষেত্রে হীন চরিত্রের ব্যক্তির সমান নয়, তবে এটি অন্যান্য অধিকারের ক্ষেত্রে তার সাথে সমতার অন্তরায় নয়। তেমনি মেধাবী ব্যক্তি নির্বোধের সমান নয় এবং নারী তার বৈশিষ্ট্য, প্রতিভা ও সক্ষমতায় পুরুষের মতো নয় (নারীর বিষয়ে ইনশাআল্লাহ স্বতন্ত্র আলোচনা সামনে আসবে)।

এগুলো হলো কিছু সৃষ্টিগত স্বভাবজাত অন্তরায়।

আর সামাজিক অন্তরায়সমূহের মধ্যে রয়েছে—অর্থাৎ, সেসব অন্তরায় যা...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
اتَّفق عليها المجتمع نتيجةً للتجارب وممارسة الحياة، وهي في حقيقتها راجعة إلى القناعة العقليَّة المؤكدة للتفاوت في هذه الصفات - منع التساوي بين العالم والجاهل، فإنَّ الناس متفقون على أنَّ الجاهل لا يستحقّ الصدارة في المسئوليات، والاعتماد عليه في قضايا الأمة وشئون المجتمع.

ومن الموانع السياسيَّة ما يتَّفق عليه أهل الحكم والإدارة من منع بعض الفئات من تولَي مسئوليَّات في الدولة لأسباب سياسيَّة أو عسكريَّة، وهو أمر معترف به بين الأمم مِن غير إنكار.

وذلك كمنع الأجنبي من تولِّي مسئولية من مسئوليات الحكم في الدولة، حيث تقصر هذه الولايات والوظائف على المواطنيين.

ومثله حقُّ الانتخاب والمنع من بعض الحِرف
অভিজ্ঞতা ও জীবন পরিক্রমার ফলস্বরূপ সমাজ এগুলোর ওপর একমত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এটি এই গুণাবলির পারস্পরিক পার্থক্যের ব্যাপারে সুনিশ্চিত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয়েরই প্রতিফলন—যা একজন জ্ঞানী ও অজ্ঞ ব্যক্তির মধ্যকার সমতাকে প্রতিহত করে। কেননা, মানুষ এ বিষয়ে একমত যে, কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি নেতৃত্বের উচ্চাসনে আসীন হওয়ার যোগ্য নয় এবং জাতির ভাগ্যনির্ধারণী কোনো বিষয়ে কিংবা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার ওপর নির্ভর করা যায় না।

রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতাসমূহের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপরিচালনা ও প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক কিংবা সামরিক কারণে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা। এটি জাতিসমূহের মধ্যে স্বীকৃত একটি রীতি, যাতে কোনো দ্বিমত নেই।

যেমন কোনো ভিনদেশি নাগরিককে রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কোনো দায়িত্ব অর্পণ না করা; কারণ এই পদমর্যাদা ও কার্যাবলি কেবল নিজস্ব নাগরিকদের জন্যই সংরক্ষিত থাকে।

ভোটাধিকার এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশার ক্ষেত্রে আরোপিত বিধি-নিষেধের বিষয়টিও এরই সদৃশ।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والاستثمار والتنظيم الخاصّ بالعسكريين والدبلوماسيين، ومنعهم من الزَّواج بالأجنبيَّات، وأمثال ذلك كثير.

ويندرج في ذلك منع الذمِّيين في دولة الإسلام من تولي بعض الولايات، ومثله منع أهل الذِّمَّة من الزَّواج بالمسلمات، ممَّا سيأتي له مزيد تفصيل.

ويمكن اعتبار المثالين الأخيرين من الموانع الشرعيَّة؛ لأنَّ هذه أحكام مقرَّرة في الشريعة الإسلاميَّة، وهي ترجع - كما يلاحظ القارئ - إلى أمور منطقيَّة وأعراف اجتماعيَّة صحيحة.

هذه أمثلة يمكن من خلالها فهم الضوابط، ومن ثمَّ القناعة بعدم إمكان المساواة المطلقة بين الناس، بل لو قيل بالمساواة المطلقة، لترتَّب على ذلك أمور لا يطيقها البشر، ولأَدَّى بالناس إلى إهمال مواهبهم وإهدار طاقاتهم، وذلك فساد
সামরিক বাহিনীর সদস্য ও কূটনীতিকদের বিশেষ বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ, এবং বিদেশি নারীদের সাথে তাদের বিবাহ নিষিদ্ধকরণ; আর এ জাতীয় উদাহরণ অনেক।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইসলামি রাষ্ট্রে জিম্মিদের (ذميين) নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক পদ বা কর্তৃত্ব (ولايات) গ্রহণ থেকে বিরত রাখা, এবং একইভাবে আহলে জিম্মাদের (أهل الذمة) মুসলিম নারীদের বিবাহ করা থেকে বিরত রাখা, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

শেষোক্ত উদাহরণ দুটিকে শরয়ি প্রতিবন্ধকতা (الموانع الشرعية) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে; কারণ এগুলো ইসলামি শরিয়তে নির্ধারিত বিধানসমূহ (أحكام), যা—পাঠক লক্ষ্য করবেন—যৌক্তিক বিষয় এবং সঠিক সামাজিক রীতির (أعراف اجتماعية) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এগুলো এমন কিছু উদাহরণ যার মাধ্যমে নীতিমালাসমূহ (الضوابط) বোঝা সম্ভব, এবং ফলস্বরূপ মানুষের মাঝে নিরঙ্কুশ সমতার অসম্ভাব্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। বরং যদি নিরঙ্কুশ সমতার দাবি করা হতো, তবে এমন সব পরিস্থিতির উদ্ভব হতো যা মানুষের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব, এবং তা মানুষকে তাদের প্রতিভা অবহেলা করতে ও সক্ষমতা অপচয় করতে প্ররোচিত করত, যা মূলত বিপর্যয়।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
قبيح ظاهرِّ يئول إلى اختلال نظام العالم في إلغاء المميزات والحقوق التي تقود إلى البناء والإصلاح وَتقَدُّم العالم، وانهيار الشيوعيَّة الذي نشهده هذه الأيَّام برهان ماثل لأهل العقل والحكمة.

وإذا كان الأمر كذلك، فإنَّ التفاوت في المواهب واستغلالها وطريقة الاستفادة منها يترتَّب عليه تفاوت مادِّيا فيما يستحقُّه كلّ صاحب موهبة يفيد منها أهله ولمجتمعه، ومِن أجل هذا برز الترتيب الوظيفي في رؤساء المصالح ومديريها ومَن دونهم.

والشريعة الإسلاميَّة - وتمشِّيا مع الفطرة السليمة - لا يمكن أن تدعو إلى مساواة تُلغِي فيها هذه الفروق الفرديَّة والمواهب الشخصيَّة والتمايز الموجود بين الإنسان مما له أثر في صلاح العالم أفرادًا ومجموعات، وذلك الصلاح والإصلاح هو
এটি একটি প্রকাশ্য কদর্যতা যা বিশ্বব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার দিকে পর্যবসিত হয়, যার ফলে এমন সব বৈশিষ্ট্য ও অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায় যা বিশ্বের গঠন, সংস্কার ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে আমরা কমিউনিজমের যে পতন প্রত্যক্ষ করছি, তা বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবানদের জন্য এক জীবন্ত প্রমাণ।

বিষয়টি যখন এরূপ, তখন মেধার তারতম্য এবং সেই মেধার প্রয়োগ ও তা থেকে লাভবান হওয়ার পদ্ধতির কারণে পার্থিব প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ব্যবধান সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক; যা নিজ পরিবার ও সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনা প্রতিটি প্রতিভাধর ব্যক্তির প্রাপ্য। আর এই কারণেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পরিচালক এবং তাদের নিম্নপদস্থদের মাঝে দাপ্তরিক পদমর্যাদার শ্রেণিবিন্যাস পরিলক্ষিত হয়।

ইসলামী শরিয়ত—সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সংগতি রেখে—কখনোই এমন সমতার আহ্বান জানাতে পারে না যা মানুষের ব্যক্তিগত পার্থক্য, ব্যক্তিগত প্রতিভা এবং মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে বিলোপ করে দেয়, অথচ ব্যক্তি ও সমষ্টিগতভাবে বিশ্বের কল্যাণে এগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। আর সেই কল্যাণ ও সংশোধনই হলো...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
غاية الشريعة ومقصدها.

إذًا هذا هو التفاوت المؤثِّر والمقتضي للمنع من المساواة عند وجوده.

أمَّا التمايز بسبب الجنس أو اللون أو اللغة، فهو غير مؤثِّر في شريعة الإسلام ألبتَّةَ لكنَّه مشار إليه في الشريعة على أنَّه آية من آيات الله الدالَّة على عظمته وكمال قدرته، واستحقاقه للعبادة سبحانه.

ولهذا النوع من التمايز وظيفة أخرى نبَّه إليها الإسلام، وهي وظيفة التعارف والتآلف، وفي النصِّ القرآنيِّ الكريم: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} [الحجرات: 13] الحجرات الآية 13.

يؤكد هذا في دين الإسلام أنه من المتقرِّر عند المسلمين أنَّ الله لم يخلق شعبًا فوق الشعوب ولم يميِّز قومًا على قوم، وقيمة الإنسان عند الله وعند
শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

সুতরাং এটিই হলো সেই প্রভাবশালী (مؤثر) বৈষম্য যা বিদ্যমান থাকলে সমতা বিধানের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

তবে লিঙ্গ, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে যে পার্থক্য, তা ইসলামি শরীয়তে মোটেও প্রভাবশালী (مؤثر) নয়; বরং শরীয়তে একে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে যা তাঁর মহানুভবতা ও ক্ষমতার পূর্ণতা এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হওয়ার প্রমাণ দেয়।

এই ধরনের পার্থক্যের আরও একটি কাজ বা উদ্দেশ্য রয়েছে যার দিকে ইসলাম দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, আর তা হলো পারস্পরিক পরিচিতি ও সম্প্রীতি লাভ। পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় এসেছে: {হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো} [আল-হুজুরাত: ১৩] আল-হুজুরাত আয়াত ১৩।

ইসলাম ধর্মে এটি এই বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে যে, মুসলিমদের নিকট এটি একটি প্রতিষ্ঠিত (متقرر) বিষয় যে, আল্লাহ কোনো জাতিকে অন্য কোনো জাতির উপরে সৃষ্টি করেননি এবং কোনো সম্প্রদায়কে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেননি; আর আল্লাহর নিকট এবং...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الناس ما يحسنه ويقوم به من عمل صالح وجهد طيِّب في طاعة الله واتِّباع أمره، وهو ما يصطلح في الشريعة (التقوى) ، وفي النصِّ القرآني: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] الحجرات 13 ويقرِّر ذلك نبيُّ الإسلام محمِّد صلى الله عليه وسلم بقوله: «أيُّها الناس، إنَّ ربَّكم واحدٌ، وإنَّ أباكم واحد، كلّكم لآدم وآدم من تراب، إنَّ أكرمكم عند الله أتقاكم، وليس لعربيٍّ على عجميٍّ ولا لعجميٍّ على عربيٍّ، ولا لأحمر على أبيض ولا أبيض على أحمر فضل إلَاّ بالتقوى. . .» أخرجه أحمد والترمذي عن أبي نضرة، وقال الهيثميُّ: رجاله رجال الصحيح.

وقد «سُئل النبيُّ صلى الله عليه وسلم: أيُّ الناس أحبُّ إلى الله؟ ، قال: " أنفع الناس للناس» أخرجه الطبرانيُّ وغيره بألفاظ متقاربة، وهذا لفظ الطبراني من حديث ابن عمر (1) ".

 

‌‌[الحرية مقدِّمة حرية الفكر لا حرية الكفر]

مقدِّمة حرية الفكر لا حرية الكفر

--------------------------------------------

(1) انظر: المقاصد الحسنة " ص 200 - 201.
মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নির্ভর করে তার নেক আমল এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর আদেশ পালনের ক্ষেত্রে তার উত্তম প্রচেষ্টার ওপর। শরিয়তের পরিভাষায় একেই বলা হয় তাকওয়া (التقوى)। কুরআনের পাঠে এসেছে: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী} [আল-হুজুরাত: ১৩]। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীতে এটি সাব্যস্ত করেছেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। তোমরা সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে তৈরি। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। কোনো আরবের ওপর অনারবের, কিংবা কোনো অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; আবার কোনো লালের ওপর সাদার, কিংবা সাদার ওপর লালের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই—তাকওয়া (التقوى) ব্যতীত।" এটি আবু নাদরাহ থেকে আহমাদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীরা সহিহ-এর বর্ণনাকারী (رجال الصحيح)।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচাইতে প্রিয় কে?" তিনি বললেন: "যে মানুষের জন্য সবচাইতে বেশি উপকারী।" এটি তাবারানি এবং অন্যরা কাছাকাছি শব্দে বর্ণনা করেছেন; আর এটি ইবনে উমরের হাদিস থেকে তাবারানির শব্দচয়ন (১)।

 

‌‌[স্বাধীনতা হলো চিন্তার স্বাধীনতার ভূমিকা, কুফরের স্বাধীনতার নয়]

চিন্তার স্বাধীনতার ভূমিকা, কুফরের স্বাধীনতার নয়

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ, পৃষ্ঠা: ২০০ - ২০১।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الحرية سوف يكون الكلام في هذا المقام من عدة جوانب:

1 - لا إكراه في الدين.

2 - الحرية الدينيَّة لغير المسلمين في بلاد الإسلام.

3 - حكم الردَّة.

4 - الرق.

مقدِّمة حرية الفكر لا حرية الكفر جاء في صيغة السؤال حول الحرية العبارة التالية: " كيف يمكن التوفيق بين حرية التفكير والاعتقاد التي منحها الله للإنسان. . . إلخ ".
স্বাধীনতা। আলোচ্য বিষয়ে কয়েকটি দিক থেকে আলোচনা করা হবে:

১ - দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।

২ - ইসলামি ভূখণ্ডে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা।

৩ - ধর্মত্যাগের (ردة) বিধান।

৪ - দাসত্বের (رق) বিধান।

ভূমিকা: চিন্তার স্বাধীনতা, কুফরির (كفر) স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতা সংক্রান্ত প্রশ্নের বয়ানে নিম্নোক্ত বাক্যটি এসেছে: "মানুষকে আল্লাহ চিন্তা ও বিশ্বাসের (اعتقاد) যে স্বাধীনতা প্রদান করেছেন, তার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় সাধন সম্ভব... ইত্যাদি।"
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
والذي نقوله: إنَّ حرية التفكير مكفولة، وقد منح الله الإنسان الحواسَّ من السمع والبصر والفؤاد؛ ليفكِّر ويعقل ويصل إلى الحقِّ، وهو مسئول عن التفكير الجادِّ السليم، ومسئول عن إهمال حواسِّه وتعطيلها، كما أنَّه مسئول عن استخدامها فيما يضرُّ.

أمَّا حرية الاعتقاد، فلم يمنحْها الله سبحانه مطلقةً بحيث يعتقد كلُّ إنسان كما يشاء، بل الله سبحانه يلزم العقلاء البالغين من البشر باعتقاد ربوبيَّته وألوهيَّته، وطاعته والخضوع له وحده، ولا يقبل منهم غير ذلك.

برهان ذلك: أنَّ هذا العالم الرحب الذي نعيش فيه لم تُبنَ جنباتُه كيفما اتَّفق، ولم تُركَم موادُّه بعضُها فوق بعض بطريق الجزاف، بل هو مخلوق
আমরা যা বলি তা হলো: চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহ মানুষকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তরের মতো ইন্দ্রিয়সমূহ দান করেছেন; যাতে সে চিন্তা করতে পারে, অনুধাবন করতে পারে এবং সত্যে উপনীত হতে পারে। সে ঐকান্তিক ও সঠিক চিন্তার জন্য দায়বদ্ধ এবং স্বীয় ইন্দ্রিয়সমূহের অবহেলা ও সেগুলোকে অকেজো করে রাখার জন্য দায়ী; যেমন সে দায়ী এগুলোর ক্ষতিকর ব্যবহারের জন্য।

পক্ষান্তরে বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা নিরঙ্কুশ করেননি যে, প্রত্যেক মানুষ যা ইচ্ছা বিশ্বাস করবে। বরং আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা প্রাপ্তবয়স্ক বিবেকসম্পন্ন মানুষদের ওপর তাঁর প্রতিপালকত্ব (ربوبية) ও উপাস্যত্ব (ألوهية)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর আনুগত্য এবং একমাত্র তাঁরই প্রতি সমর্পিত হওয়াকে আবশ্যক করেছেন। তিনি তাদের থেকে এর অন্যথা গ্রহণ করবেন না।

এর প্রমাণ হলো: আমরা যে বিশাল জগতে বাস করি, এর চারপাশ এমনিতেই গড়ে ওঠেনি এবং এর উপাদানগুলোও দৈবক্রমে বা উদ্দেশ্যহীনভাবে একটার ওপর আরেকটা পুঞ্জীভূত হয়নি; বরং এটি সৃষ্ট (مخلوق)
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
مصنوع وفقَ نظام محكَم وقانون دقيق، فما يطير في الجوِّ انخفاضَاَ وارتفاعًا محكومٌ بقانون، وما يُلقى في الماء من أجسام غوصًا وطفوًا وسبحًا مضبوطٌ بقانون، وما ينبت في الأرض من نبات فيختلف طعمه ولونه وثمره خاضع لقانون، فكلُّ ما في السماء وما في الأرض قد خُلق مقرونًا بالحقِّ، وما على من يَنشد الحقَّ والحقيقة إلَاّ أن يتصفَّح صفحات هذا الكون الفسيح؛ ليعرف من حقائقه ما يزيده بالخالق إيمانًا، وبصنع هذا العالم دقَّة وإتقانًا.

والإنسان لا يولَد عالمًا ولا عارفًا، ولكنَّه يولَد مزوَّدًا بوسائل العلم والمعرفة، عقلًا وسمعًا وبصرًا، خُلق ليعرف الحقَّ ويستدِلَّ له ويستدلَّ عليه، لا ليعيش على الباطل ويسير في مسالكه
এটি একটি সুসংহত ব্যবস্থা এবং সুনির্দিষ্ট আইনের অধীনে নির্মিত। সুতরাং আকাশে যা কিছু উড্ডয়ন করে—তা নিচেই হোক বা উপরে—তা আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। পানিতে কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা হলে তার নিমজ্জন, ভাসন কিংবা সন্তরণ—সবই একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের অনুগত। আর জমিন থেকে যা কিছু উৎপন্ন হয়, যার স্বাদ, বর্ণ ও ফল বৈচিত্র্যময়, তাও একটি বিধানের অধীন। সুতরাং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তা সত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েই সৃষ্টি হয়েছে। আর যে ব্যক্তি সত্য ও প্রকৃত বাস্তবতাকে অন্বেষণ করতে চায়, তার কর্তব্য হলো এই সুবিশাল মহাবিশ্বের পাতাসমূহকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা; যাতে সে মহাবিশ্বের এমন সব বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে যা স্রষ্টার প্রতি তার ঈমানকে বৃদ্ধি করবে এবং এই জগতের সৃজনশৈলীর সূক্ষ্মতা ও নিপুণতা সম্পর্কে তাকে সম্যক জ্ঞান দান করবে।

আর মানুষ জন্মগতভাবে বিদ্বান কিংবা প্রাজ্ঞ হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, বরং সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার নানাবিধ উপকরণ—যেমন বুদ্ধি, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাকে সৃষ্টিই করা হয়েছে সত্যকে চেনার জন্য এবং সত্যের সপক্ষে ও সত্যের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য; মিথ্যার ওপর জীবন অতিবাহিত করা কিংবা মিথ্যার পথে বিচরণ করার জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
المعوجَّة.

والحرية في هذا الميدان مطلقة ما دام أنَّها في الكون وآياته، وفيما تناوله وسائل الإنسان وقدراته.

وبهذا الضابط نقول: إنَّ حرية الفكر والتفكير مكفولة مطلقة، ولكن حرية الشهوة مقيَّدة، فمِن غير المقبول في العقول الاندفاع وراء الرغبات والغرائز؛ لأنَّ طاقة الإنسان محدودة، فإذا استُنفِذت في اللهو والعبث والمجون، لم يبق فيها ما يدفعها إلى الطريق الجادِّ ويدلها على مسلك الحقِّ والخير.

وبناءً عليه فإنَّ ما يُرى في عالمنا المعاصر وحضارته المادِّية من إيجابيات خيّرة، فهي مِن حسن استخدام حرية الفكر والنظر، وما يرى من أضرار وانتكاسات وقلاقل نفسية
বক্র।

এবং এই ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ যতক্ষণ পর্যন্ত তা মহাবিশ্ব ও তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে থাকে এবং মানুষের মাধ্যম ও সক্ষমতার পরিসরে থাকে।

এই মূলনীতির (الضابط) ভিত্তিতে আমরা বলি: চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতা নিশ্চিত ও নিরঙ্কুশ, কিন্তু প্রবৃত্তির স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ। কেননা বিচারবুদ্ধির নিকট কামনা-বাসনা ও জৈবিক তাড়নার পেছনে অন্ধভাবে ধাবিত হওয়া গ্রহণযোগ্য (مقبول) নয়; কারণ মানুষের শক্তি সীমাবদ্ধ। সুতরাং তা যদি আমোদ-প্রমোদ, অনর্থক কাজ ও পাপাচারের পেছনে নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে তার মধ্যে এমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না যা তাকে গুরুত্ববহ পথে পরিচালিত করবে এবং সত্য ও কল্যাণের পথের দিশা দেবে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমান বিশ্ব ও তার বস্তুবাদী সভ্যতায় যেসব ইতিবাচক ও কল্যাণকর দিক দেখা যায়, তা হলো চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতার সুষ্ঠু ব্যবহারের ফল। আর যেসব ক্ষতি, অধঃপতন ও মানসিক অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وغير نفسيَّة، فهي من إطلاق حريَّة الهوى والعبث.

ومِن أجل هذا فإنَّنا نقول بكلِّ قوَّة وثقة: " في الوقت الذي يطلق فيه للفكر حريته يجب أن تُحجز النفوس عن أهوائها ".

فعلينا ونحن نتحدَّث عن الحريَّة أن نفرِّق بين الأمرين ونُميِّز بين النهجين.

 

‌‌[الحرية الحقيقيَّة]

الحرية الحقيقيَّة حينما قلنا إنَّ الإنسان ليس حرًّا في الاعتقاد، بل يجب أن ينحصر اعتقاده في الله وحده ربًّا ومعبودًا، لا يجوز أن يخضع لغيره أو يطيع سواه فيما يخالف أمر الله.

نقول ذلك؛ لأنَّ هذا هو ضامن الحريَّة الحقيقيَّة على هذه الأرض. . . لماذا؟

لأنَ البشريَّة منذ القدم وحتَّى اليوم وهي تعاني
এবং অ-মানসিক, এটি মূলত খেয়াল-খুশি ও অসারতার স্বাধীনতা দেওয়ার নামান্তর।

আর এই কারণেই আমরা পূর্ণ শক্তি ও নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) সাথে বলছি: "যে সময় চিন্তার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়, সে সময় নফসকে তার কুপ্রবৃত্তি থেকে অবশ্যই বিরত রাখা উচিত।"

সুতরাং স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনার সময় আমাদের উচিত এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা এবং এই দুই পদ্ধতির মধ্যে প্রভেদ করা।

 

‌‌[প্রকৃত স্বাধীনতা]

প্রকৃত স্বাধীনতা হলো—যখন আমরা বলি যে মানুষ তার বিশ্বাসের ক্ষেত্রে লাগামহীন নয়, বরং তার বিশ্বাস অবশ্যই একমাত্র আল্লাহকে রব ও মাবুদ হিসেবে মেনে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে; আল্লাহর নির্দেশের পরিপন্থী কোনো বিষয়ে অন্য কারো বশ্যতা স্বীকার করা বা আনুগত্য করা বৈধ নয়।

আমরা এটি বলছি; কারণ এটিই এই পৃথিবীতে প্রকৃত স্বাধীনতার গ্যারান্টি। . . কেন?

কারণ প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি মানবজাতি যে যাতনা ভোগ করে আসছে...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
في كثير من دِيارها من طواغيت متنوِّعة خضعت لها رءوسها، وذلَّت لها رقابها، حتَّى اندثر كلُّ معنًى للحرية، وغاب كلُّ أثرٍ للكرامة الإنسانيَّة في نفوس هؤلاء الخاضعين لغير الله.

فالخضوع والخوف والرهبة والانقياد والاستسلام لا يكون إلَاّ لله الذي له صفات الكمال المطلق، فهو وحده الغنيُّ القادر المسيطر القاهر الحكم العدل الذي لا يجوز عليه الظلم؛ لأنَّ الظلم أثر من آثار الضعف والحاجة والله منزه كلِّ ذلك.

أمَّا من خضع لغير الله، فقد انتقص من حرية نفسه بمقدار خضوعه وذِلَّته لغير ربه.

والطواغيت التي سلبت الناس حريَّاتِهم كثيرة، من أمثال علماء السوء والأحبار والرهبان
এর বহু ভূখণ্ডে এমন নানাবিধ তাগুত বিদ্যমান যাদের সামনে মস্তকগুলো অবনত হয়েছে এবং ঘাড়গুলো লাঞ্ছিত হয়েছে; এমনকি স্বাধীনতার প্রতিটি অর্থ বিলুপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের অনুগত এই ব্যক্তিদের অন্তরে মানবীয় মর্যাদার প্রতিটি চিহ্ন অন্তর্হিত হয়েছে।

কেননা আনুগত্য, ভয়, ভীতি, অনুবর্তিতা এবং আত্মসমর্পণ কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, যাঁর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণাবলি। তিনিই একমাত্র অভাবহীন, সর্বশক্তিমান, নিয়ন্ত্রণকারী, পরাক্রমশালী এবং ন্যায়পরায়ণ বিচারক, যাঁর ক্ষেত্রে অবিচার কল্পনা করা যায় না; কারণ অবিচার হলো দুর্বলতা ও অভাবের নিদর্শন, আর আল্লাহ এই সকল বিষয় থেকে পবিত্র।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের আনুগত্য করল, সে মূলত তার প্রতিপালক ব্যতীত অন্যের কাছে নিজের আনুগত্য ও হীনতার মাত্রা অনুযায়ী নিজের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খর্ব করল।

আর মানুষের স্বাধীনতা হরণকারী এই তাগুতসমূহ সংখ্যায় অনেক, যেমন— অসৎ আলেম, ইহুদি পণ্ডিত এবং খ্রিস্টান সন্ন্যাসীগণ।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
والكهان والحكَّام والدرهم والدِّينار.

وترقَّى الأمر عند هذه الفئات حتَّى حرَّفوا الكتب المنزَّلة على الرسل؛ لتتمشَّى مع أهوائهم، وأدخلوا فيها ما ليس منها، وترقَّى بهم الأمر إلى أن جعلوا لأنفسهم صلاحيَّةَ منح الثواب وإنزال العقاب، وإعطاء صكوك غفران بمحو الذنوب ودخول الفردوس الأعلى.

ومِن صور ذلك في وقتنا المعاصر الطغيان المادِّي والتفسير المادِّي للتاريخ والحوادث، واستعباد الشهوات والملذَّات.

ومن هنا فإنَّ الدعوة إلى التوحيد والخضوع لله وحده دعوة لإقامة صرح الحرية، ورفض رفع قيود الظالمين عن أعناق البشر، وبهذا تُحمى حريَّة الإنسان من أن يسلبها أولئك المتطاولون المغرورون،
গণক, শাসক, দিরহাম ও দিনার।

এই গোষ্ঠীগুলোর নিকট বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা রাসুলদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহকে বিকৃত (تحريف) করেছে, যেন তা তাদের খেয়ালখুশির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তারা কিতাবে এমন বিষয়াদি অনুপ্রবেশ করিয়েছে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের স্পর্ধা এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যে, তারা নিজেদের জন্য প্রতিদান প্রদান ও দণ্ড প্রদানের অধিকার সাব্যস্ত করে নিয়েছে এবং পাপ মোচনের মাধ্যমে ক্ষমার সনদ প্রদান ও জান্নাতুল ফিরদাউসে প্রবেশের পথ সুগম করার দাবি করেছে।

বর্তমানকালে এর অন্যতম চিত্র হলো বস্তুবাদী আধিপত্য এবং ইতিহাস ও ঘটনাবলির বস্তুবাদী ব্যাখ্যা, আর কুপ্রবৃত্তি ও ভোগবিলাসের দাসত্ব।

এখান থেকেই তাওহিদের প্রতি আহ্বান এবং একমাত্র আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ হলো স্বাধীনতার সুউচ্চ সৌধ নির্মাণের আহ্বান এবং মানুষের ঘাড় থেকে জালিমদের শৃঙ্খল প্রত্যাখ্যান ও তা অপসারণের ডাক। এর মাধ্যমেই মানুষের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়, যেন সেই উদ্ধত ও অহংকারীরা তা কেড়ে নিতে না পারে।
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فلا يحني الإنسان رأسه أو تذلُّ هامته لأحد من بني البشر، أيا كان على الإطلاق، لأنَّه خضوع للباطل وتعدٍّ على الحريَّة.

 

‌‌[لا إكراهَ في الدِّين]

لا إكراهَ في الدِّين الإكراه في الإسلام على الدِّين والعقيدة منفي من عدَّة جهات:

الأولى: أنَّ من آمن مُكرَهًا فإنَّ إيمانَه لا ينفعه ولا أثرَ له في الآخرة، فلا بدَّ في الإيمان أن يكون عن قناعة واعتقاد صادقٍ واطمئنان قلب.

وقد جاء في القرآن الكريم عن فرعون حين أدركه الغرق أنَّه أعلن الإيمان والتصديق بالله ربًّا ومعبودًا، ولكن ذلك لم ينفعْه:
সুতরাং মানুষের উচিত নয় তার মস্তক অবনত করা কিংবা কোনো মানুষের সামনে মাথা নিচু করা, সে যেই হোক না কেন; কেননা এটি মিথ্যার প্রতি বশ্যতা এবং স্বাধীনতার ওপর এক প্রকার সীমালঙ্ঘন।

 

‌‌[দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই]

দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। ইসলামে দ্বীন ও আকিদার ক্ষেত্রে জবরদস্তিকে কয়েকটি দিক থেকে নাকচ করা হয়েছে:

প্রথমত: যে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে ঈমান আনে, তার সেই ঈমান তাকে কোনো উপকার দান করে না এবং পরকালেও এর কোনো প্রভাব থাকে না। ঈমানের জন্য অবশ্যই তা দৃঢ় উপলব্ধি, সত্য বিশ্বাস এবং হৃদয়ের প্রশান্তি থেকে উৎসারিত হতে হবে।

পবিত্র কুরআনে ফেরাউন সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন সে নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল তখন সে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর প্রতিপালক ও উপাস্য হওয়ার সত্যায়নের ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু তা তার কোনো কাজে আসেনি:
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
{حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} [يونس: 90 - 91] يونس: 90 - 91

وجاء في حكاية قومٍ آخرين: {فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ - فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا} [غافر: 84 - 85] غافر: 84 - 85

بل التوبة من الذنوب والمعاصي لا تكون مقبولةً إلَاّ إذا كانت عن اختيارٍ وعزم صادق.

الثانية: وظيفة الرسل والدعاة من بعدهم مقصورة على البلاغ وإيصال الحقِّ إلى الناس، وليسوا مسئولين عن هدايتهم واعتناقهم للدِّين واعتقادهم الحقَّ، فالمهمَّة هي البلاغ والإرشاد والمناصحة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، أما
{অবশেষে যখন তাকে ডুবন্ত অবস্থা পেয়ে বসল, তখন সে বলল, ‘আমি ঈমান আনলাম যে, বনী ইসরাঈল যে সত্তার প্রতি ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ —এখন (ঈমান আনছ)? অথচ ইতিপূর্বে তুমি অবাধ্যতা করেছিলে এবং তুমি ছিলে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।} [ইউনূস: ৯০ - ৯১] ইউনূস: ৯০ - ৯১

অন্য একটি জাতির বর্ণনায় এসেছে: {অতঃপর তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, ‘আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং যাদেরকে আমরা তাঁর সাথে শরিক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম।’ কিন্তু তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসল না।} [গাফির: ৮৪ - ৮৫] গাফির: ৮৪ - ৮৫

বরং গুনাহ ও নাফরমানি থেকে তওবা কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হয় যখন তা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এবং একনিষ্ঠ সংকল্পের সাথে হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত: রাসূলগণ এবং তাঁদের পরবর্তী দাঈদের দায়িত্ব কেবল সত্যের বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের নিকট সত্য সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মানুষের হিদায়েত করা এবং তাদের দ্বীন গ্রহণ ও সত্য বিশ্বাসের জন্য তাঁরা দায়ী নন। সুতরাং মূল দায়িত্ব হলো প্রচার, দিকনির্দেশনা, নসিহত এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা, আর...
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الاهتداء والإيمان، فليس إلى الرسل ولا الدعاة.

وهذا يؤكِّد جانبًا من جوانب الحريَّة، ألا وهو تحرُّر الإنسان من كلِّ رقابة بينه وبين خالِقه، فالعلاقة مباشرة بين الإنسان وربِّه مِن غير واسطة أو تدخُّلِ من أن أحدٍ مهما كانت منزلتُه، سواء أكان ملًكَا أو نَبِيًّا أو غير ذلك.

وممَّا يؤكِّد ذلك في القرآن الكريم ما جاء في حقِّ محمَّد صلى الله عليه وسلم: {فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ - لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ} [الغاشية: 21 - 22] الغاشية: 21 - 22

الثالثة: واقع غير المسلمين في بلاد المسلمين:

عاش الذِّمِّيُّون وغيرهم في كنَفِ الدولة الإسلاميَّة دونَ أن يتعرَّضَ أحد لعقائدهم ودياناتهم، بل لقد جاء في الكتاب الذي كتبه النبيُّ محمَّد صلى الله عليه وسلم في أوَّل قدومه المدينة؛ ليرسم به منهجًا
হেদায়েত ও ঈমান আনয়ন করা রাসূল কিংবা দাঈদের (دعاة) এখতিয়ারভুক্ত নয়।

এটি স্বাধীনতার একটি দিককে সুনিশ্চিত করে, আর তা হলো মানুষ ও তার স্রষ্টার মধ্যবর্তী সকল প্রকার নিয়ন্ত্রণ থেকে মানুষের মুক্তি। ফলে মানুষ ও তার রবের মধ্যকার সম্পর্কটি হলো সরাসরি, যেখানে অন্য কারো মাধ্যম বা হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই; ব্যক্তির মর্যাদা যাই হোক না কেন, চাই তিনি কোনো ফেরেশতা হোন কিংবা নবী অথবা অন্য কেউ।

পবিত্র কুরআনের যে বক্তব্যটি এই বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে, তা মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে অবতীর্ণ হয়েছে: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা মাত্র। আপনি তাদের ওপর কোনো কর্মনিয়ন্ত্রক নন।} [সূরা আল-গাশিয়াহ: ২১-২২] আল-গাশিয়াহ: ২১-২২

তৃতীয়: মুসলিম ভূখণ্ডে অমুসলিমদের বাস্তবতা:

জিম্মি ও অন্যরা ইসলামী রাষ্ট্রের আশ্রয়ে বসবাস করেছেন যেখানে কেউ তাদের আকিদা ও ধর্মের ওপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি। বরং নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় আগমনের প্রথম দিকে যে দলিলটি লিখেছিলেন, যাতে তিনি একটি কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন—
(খণ্ড: ১) তালবীস মারদুদ ফী কাদায়া হাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ودستورًا في التعامل:. . ومن تبعنا من يهود فإنَّه له النّصرة والأسوة. . . لليهود دينهم وللمسلمين دينهم. . . وإنَّ الجار كالنفس غير مضارٍّ ولا آثم. . (1) وأقرَّهم على دينهم وأموالهم كما كان الحال مُشابِهًا مع نصارى نجران.

وصحابة الرسول من بعدِه ساروا على طريقه في معاملة غير المسلمين، فكان من أقوال خليفته أبي بكر رضي الله عنه لبعض قُوَّاده: (. . . أنتم سوف تمرُّون بأقوام قد فرَّغوا أنفسَهم في الصوامع، فدعوهم وما فرغوا أنفسهم له. . . .) .

ومن وصايا الخليفة الثاني عمر: (. . . أُوصي بأهلِ الذِّمَّة خيرًا أن يُوفَى لهم بعهدِهم، وأن يقاتَل من ورائهم، وألا يكلَّفوا فوقَ طاقتِهم. . .) .

--------------------------------------------

(1) راجع: سيرة ابن هشام جـ 2 ص 149، وتاريخ ابن كثير جـ 3 ص 246 / 247.
এবং আচরণের ক্ষেত্রে একটি সংবিধান: "...আর ইহুদিদের মধ্য থেকে যারা আমাদের অনুসরণ করবে, তাদের জন্য সাহায্য ও সমতা নিশ্চিত। ইহুদিদের জন্য তাদের ধর্ম এবং মুসলিমদের জন্য তাদের ধর্ম। নিশ্চয়ই প্রতিবেশী নিজের জীবনের মতো, যার কোনো ক্ষতি করা হবে না এবং যার প্রতি কোনো অপরাধ করা হবে না।" (১) তিনি তাদের ধর্ম ও সম্পদের ওপর তাদের অধিকার বহাল রেখেছিলেন, যেমনটি নাজরানের খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অবস্থা ছিল।

রাসূলের পর তাঁর সাহাবীগণ অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাঁরই পথ অনুসরণ করেছিলেন। তাঁর খলিফা আবু বকর (রা.)-এর তাঁর জনৈক সেনাপতির প্রতি উক্তি ছিল: "...তোমরা অচিরেই এমন কিছু সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে যারা মঠগুলোতে নিজেদের উৎসর্গ করেছে; সুতরাং তাদের এবং তারা যে কাজে আত্মনিয়োগ করেছে সে অবস্থায় তাদের ছেড়ে দিও।"

দ্বিতীয় খলিফা উমরের অসিয়তসমূহের মধ্যে ছিল: "...আমি জিম্মিদের (أهل الذمة) ব্যাপারে কল্যাণের অসিয়ত করছি; যেন তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা হয়, তাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করা হয় এবং তাদের সাধ্যাতীত কোনো বোঝা যেন তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়।"

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সিরাতে ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা এবং তারিখ ইবনে কাসির, ৩য় খণ্ড, ২৪৬/২৪৭ পৃষ্ঠা।