(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
الوجيز في عقيدة السلف الصالح أهل السنة والجماعة القسم: العقيدة
الكتاب: الوجيز في عقيدة السلف الصالح (أهل السنة والجماعة)
المؤلف: عبد الله بن عبد الحميد الأثري
مراجعة وتقديم: صالح بن عبد العزيز آل الشيخ
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ
عدد الصفحات: 239
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাফে সালেহীন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ বিভাগ: আকীদা
বই: সালাফে সালেহীন (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত)-এর আকীদার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন আবদুল হামীদ আল-আসারী
পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকা: সালিহ বিন আবদুল আযীয আল-শাইখ
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৯
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[تقديم وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد]الوجيز في عقيدة السلف الصالح أهل السنة والجماعة تقديم معالي الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد الحمد لله المتفرد بصفات الكمال والجمال والجلال، أحمده تعالى وأشكره، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في ألوهيته، ولا ند له في ربوبيته، ولا مثيل له في أسمائه وصفاته: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، المبعوث رحمة للعالمين، أرسله الله بالهدى ودين الحق ليخرج الناس من عبادة العباد إلى عبادة رب العباد، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام، ومن ضيق الدنيا إلى سعة الدنيا والآخرة، فصلوات ربي وسلامه عليه وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أما بعد: فقد كان الناس قبل مبعث محمد صلى الله عليه وسلم في جاهلية جهلاء؛ يعيشون في ظلمات من الشرك
[ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রীর উপস্থাপনা]আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ তথা সালাফে সালেহীনের আকিদার সংক্ষিপ্তসার। উপস্থাপনা: মহামান্য শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-শায়খ, ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রী। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি পূর্ণতা, সৌন্দর্য ও মহত্ত্বের গুণাবলিতে একক। আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর উলুহিয়্যাতে (উপাসনায়) কোনো শরিক নেই, তাঁর রুবুবিয়্যাতে (প্রভুত্বে) কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে তাঁর কোনো সদৃশ নেই: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [শূরা: ১১]। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি মানুষকে সৃষ্টির ইবাদত থেকে বের করে সৃষ্টির রবের ইবাদতের দিকে নিয়ে আসতে পারেন, বিভিন্ন ধর্মের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে আসতে পারেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে মানুষ ঘোর জাহিলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল; তারা শিরকের অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والجهل، وتسيطر عليهم الخرافات، ويتطاحنون في نزاعات وصراعات قبلية، يسبي بعضهم بعضا، ويقتل بعضهم بعضا، يعيشون في تخلف وهمجية وفرقة، شعارهم:
ومن لم يذد عن حوضه بسلاحه
… يهدم ومن لا يظلم الناس يظلم
حتى إذا أذن الله لشمس الإسلام أن تشرق بعث محمدا صلى الله عليه وسلم ليعلن للبشرية أنه: " لا إله إلا الله، ولا معبود بحق سواه ".
لقد جاء بالتوحيد الذي هو حق الله على العبيد، والغاية العظمى من الخلق: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] به بعث الرسل وأنزلت الكتب، ورفع من أجله علم الجهاد.
ثلاث عشرة سنة في مكة والنبي- صلى الله عليه وسلم يدعو إليه، ويغرس جذوره في أعماق النفوس، ويبني أسسه ودعائمه في سويداء القلوب، ويثبت أركانه في الوجدان؛ حتى اتضحت سبيله للسالكين، وبانت معالمه للراغبين، فأظهر الله الحق وأزهق الباطل، وأضاءت القلوب أنوار التوحيد الخالص، فجلته من أوضار الشرك، وصقلته من أدران التنديد.
...এবং মূর্খতা, তাদের ওপর কুসংস্কার আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তারা গোত্রীয় বিবাদ ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল, একে অপরকে বন্দী করত, একে অপরকে হত্যা করত, তারা অনগ্রসরতা, বর্বরতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বাস করত, তাদের স্লোগান ছিল:
যে তার অস্ত্রের দ্বারা নিজের জলাধার রক্ষা করে না
… তা ধ্বংস হয়ে যায়, আর যে মানুষের ওপর জুলুম করে না সে নিজেই জুলুমের শিকার হয়।
অবশেষে যখন আল্লাহ ইসলামের সূর্য উদিত হওয়ার অনুমতি দিলেন, তখন তিনি মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে প্রেরণ করলেন যেন তিনি মানবতার কাছে ঘোষণা করেন যে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আর তিনি ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই।"
তিনি সেই তাওহীদ নিয়ে এসেছেন যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক, আর সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬]। এরই জন্য রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং এরই নিমিত্তে জিহাদের ঝাণ্ডা উত্তোলন করা হয়েছে।
মক্কায় তেরো বছর ধরে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এর দিকে আহ্বান করেছেন, এর শিকড় মানুষের আত্মার গভীরে প্রোথিত করেছেন, এর ভিত্তি ও স্তম্ভসমূহ হৃদয়ের অন্তস্থলে নির্মাণ করেছেন এবং এর রুকনসমূহকে চেতনায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন; যতক্ষণ না এই পথ পথিকদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং এর নিদর্শনসমূহ আগ্রহীদের কাছে প্রতীয়মান হলো। ফলে আল্লাহ সত্যকে প্রকাশ করলেন ও মিথ্যাকে পরাভূত করলেন এবং বিশুদ্ধ তাওহীদের আলোতে অন্তরসমূহ আলোকিত হলো। অতঃপর তা শিরকের কলুষতা থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করল এবং অংশীদার সাব্যস্ত করার আবর্জনা থেকে একে মাজাঘষা করে উজ্জ্বল করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لقد جاء النبي- صلى الله عليه وسلم والقلوب أرض جرداء فسقاها من نمير التوحيد، وأرواها من سلسبيل الإخلاص، وساقها إلى الله دليل المتابعة، فاهتزت وربت وأنبتت من كل زوج بهيج، فعزت الأمة بعد ذلتها، واجتمعت بعد فرقتها، وصارت غالبة بعد أن كانت مغلوبة.
بقيت العقيدة على صفائها ونقائها وطهرها، حتى إذا قضى الله أمرا كان مفعولا، ودخل في دين الله من لم يتشرب قلبه التوحيد الخالص، حدث في الناس الخلل، وتفرقت بهم السبل، وراجت المذاهب المنحرفة، والأفكار الهدامة، وأطلت الفتن برأسها، وفشت البدع ببؤسها، حتى إذا زاغت الأبصار، وبلغت القلوب الحناجر، وابتلي المؤمنون وزلزلوا زلزالا شديدا؛ قيض الله من أئمة الهدى، وأعلام الدجى من يعيد الناس إلى مشكاة النبوة وقلعة الإيمان، ويكشف لهم زيوف الباطل، ويدحض شبه المبطلين، ويردهم إلى منهج السلف الصالح.
إن المتبصر في تاريخ الأمة الإسلامية؛ ليرى أن عزتها وعلوها وغلبتها ودينونة الأمم لها مرتبطة بصفاء عقيدتها، وصدق توجهها إلى الله، واتباعها لأثر النبي- صلى الله عليه وسلم وسيرها على منهج السلف الصالح، واجتماعها على أئمتها، وعدم منازعتهم
নবী -তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক- এমন এক সময়ে আগমন করেছিলেন যখন মানুষের অন্তরসমূহ ছিল ঊষর ভূমির মতো; অতঃপর তিনি সেগুলোকে তাওহীদের সুপেয় বারিধারা দ্বারা সিক্ত করলেন এবং ইখলাসের সালসাবিল ঝরনা দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করলেন। তিনি সেসব অন্তরকে অনুসরণের দিশারীর মাধ্যমে আল্লাহর দিকে পরিচালিত করলেন, ফলে সেগুলো আন্দোলিত ও উর্বর হলো এবং তাতে নয়নাভিরাম সব উদ্ভিদ উৎপন্ন হলো। এর ফলে উম্মাহ লাঞ্ছনার পর সম্মানিত হলো, অনৈক্যের পর ঐক্যবদ্ধ হলো এবং পরাজিত হওয়ার পর বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হলো।
আকীদা তার নির্মলতা, বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার ওপর অটল ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ এমন এক বিষয়ের ফয়সালা করলেন যা কার্যকর হওয়ারই ছিল। যখন আল্লাহর দীনে এমন সব লোক প্রবেশ করল যাদের অন্তর বিশুদ্ধ তাওহীদকে ধারণ করেনি, তখন মানুষের মধ্যে গোলযোগ দেখা দিল, তাদের পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং ভ্রান্ত মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়ল। ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং বিদআত তার অশুভ রূপ নিয়ে বিস্তার লাভ করল। এমনকি যখন দৃষ্টি বিভ্রমিত হলো এবং প্রাণ ওষ্ঠাগত হলো, আর মুমিনরা পরীক্ষিত হলো ও তীব্রভাবে প্রকম্পিত হলো; তখন আল্লাহ হিদায়াতের ইমামগণ এবং অন্ধকারের আলোকবর্তিকাস্বরূপ এমন ব্যক্তিদের পাঠালেন যারা মানুষকে পুনরায় নবুওয়াতের দীপশিখা ও ঈমানের দুর্গের দিকে ফিরিয়ে নেবেন। তাঁরা মানুষের সামনে বাতিলের অসারতা উন্মোচন করেন, বিভ্রান্তদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করেন এবং তাঁদের সালাফে সালেহীনের মানহাজের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
ইসলামী উম্মাহর ইতিহাসের দিকে গভীর দৃষ্টিদানকারী ব্যক্তি অবশ্যই দেখতে পাবেন যে, এর সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব, বিজয় এবং অন্য জাতিসমূহের এর আনুগত্য স্বীকার করার বিষয়টি এর আকীদার বিশুদ্ধতা, আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ মুখাপেক্ষিতা, নবী -তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক- এর পদাঙ্ক অনুসরণ, সালাফে সালেহীনের মানহাজের ওপর পথচলা এবং নিজেদের ইমামগণের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকা ও তাঁদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
في ذلك، وأن ذلها وضعفها وانخذالها، وتسلط الأمم عليها مرتبط بانتشار البدع والمحدثات في الدين، واتخاذ الأنداد والشركاء مع الله، وظهور الفرق الضالة، ونزع يد الطاعة، والخروج على الأئمة.
إن الانحرافات العقدية، والحيدة عن منهج السلف الصالح، والانخداع بزخرف قول أرباب المذاهب المنحرفة هو الذي فرق الأمة، وأضعف قوتها، وكسر شوكتها، والواقع شاهد على ذلك، ولا مخرج لها من ذلك إلا بالرجوع إلى ما كان عليه النبي- صلى الله عليه وسلم وأصحابه وأئمة الهدى، فلن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها. وإن النكوص عن جادة التوحيد، والرغبة عن منهج السلف الصالح، منافاة للعدل، ومجافاة للعقل. قال تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [الحديد: 25]
وإن أعظم القسط التوحيد، وهو رأس العدل وبه قوامه، وإن أظلم الظلم الشرك، قال تعالى حكاية عن لقمان في وصيته لابنه: {يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} [لقمان: 13]
এ বিষয়ে, এবং নিশ্চয়ই তার (উম্মতের) লাঞ্ছনা, দুর্বলতা, পরাজয় এবং অন্য জাতিগোষ্ঠীর তাদের ওপর কর্তৃত্ব করা দ্বীনের মধ্যে বিদআত ও নতুন বিষয়ের বিস্তার, আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও শরীক গ্রহণ, ভ্রান্ত ফেরকাগুলোর আত্মপ্রকাশ, আনুগত্যের হাত সরিয়ে নেওয়া এবং ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাথে সম্পৃক্ত।
নিশ্চয়ই আকিদাগত বিচ্যুতি, সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং ভ্রান্ত মাযহাবের প্রবক্তাদের চাকচিক্যময় কথার প্রতারণায় পড়া এই উম্মতকে বিভক্ত করেছে, তার শক্তিকে দুর্বল করেছে এবং তার প্রতাপকে চূর্ণ করেছে। বাস্তবতা এর সাক্ষী। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ নেই কেবল সেই পথে ফিরে যাওয়া ছাড়া যার ওপর নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তাঁর সাহাবীগণ এবং হেদায়েতের ইমামগণ ছিলেন। এই উম্মতের শেষাংশ ততক্ষণ সংশোধিত হবে না যতক্ষণ না তা দ্বারা সংশোধিত হয় যার মাধ্যমে এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল। আর তাওহীদের পথ থেকে পিছুটান দেওয়া এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ন্যায়ের পরিপন্থী এবং বিবেকের বিরুদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ন্যায়বিচার কায়েম করে।" [আল-হাদিদ: ২৫]
নিশ্চয়ই সবচাইতে বড় ন্যায়বিচার হলো তাওহীদ, আর এটিই ন্যায়ের মূল এবং এর ভিত্তি। আর সবচাইতে বড় যুলুম হলো শিরক। মহান আল্লাহ লুকমান কর্তৃক তাঁর পুত্রকে দেওয়া উপদেশের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "হে আমার প্রিয় বৎস, তুমি আল্লাহর সাথে কোনো অংশীদার সাব্যস্ত করো না। নিশ্চয়ই শিরক এক মহা যুলুম।" [লুকমান: ১৩]
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي- صلى الله عليه وسلم قال: «قال الله عز وجل: " وإني والإنس والجن في نبأ عظيم، أخلق ويعبد غيري، وأرزق ويشكر غيري» [رواه الطبراني في " مسند الشاميين " والبيهقي في " شعب الإيمان " والديلمي في " مسند الفردوس "] .
وإن أعظم الفرية أن تشرك بالله وقد خلقك.
وإذا كان الله- سبحانه وتعالى قد أمر بالإصلاح، ونهى عن الفساد والإفساد، فقال تعالى: {وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ} [الأعراف: 56]
فإن أعظم الإفساد أن تفسد عقائد الناس، وتصوراتهم، وأفكارهم، ويقطع عليهم الطريق في مسيرهم إلى الله ويحاد بهم عن الفطرة التي فطرهم الله عليها، ففي الحديث:
«كل مولود يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه» [رواه مسلم] .
ويعضده قول النبي صلى الله عليه وسلم:
«ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم، مما علمني يومي
আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: "আমি এবং মানুষ ও জিন এক মহাসংবাদে লিপ্ত; আমি সৃষ্টি করি অথচ অন্যের ইবাদত করা হয়, আর আমি রিযিক দিই অথচ অন্যের শুকরিয়া আদায় করা হয়"» [তাবারানি তাঁর 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন'-এ, বায়হাকি তাঁর 'শুআবুল ইমান'-এ এবং দাইলামি তাঁর 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ এটি বর্ণনা করেছেন]।
আর সবচেয়ে বড় মিথ্যা অপবাদ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
এবং যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টি থেকে নিষেধ করেছেন, তখন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা পৃথিবীতে সংশোধন করার পর সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না এবং তাঁকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী} [আল-আরাফ: ৫৬]
নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো মানুষের আকিদা, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তাভাবনাকে কলুষিত করা এবং আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথে তাদের পথকে রুদ্ধ করে দেওয়া এবং আল্লাহ তাদের যে ফিতরাত বা স্বভাবজাত ধর্মের ওপর সৃষ্টি করেছেন তা থেকে তাদের বিচ্যুত করা। কেননা হাদিসে এসেছে:
«প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদি, নাসারা বা অগ্নিপূজক বানায়» [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।
একে সমর্থন করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী:
«জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের তা শিক্ষা দিই যা তোমরা জানো না, যা তিনি আমাকে আজ শিক্ষা দিয়েছেন...»
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
هذا: كل ما نحلته عبدا حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا. . .» [رواه مسلم] .
ولا شك أن هذا أعظم الظلم وأشنعه، كيف لا، وقد صار عاقبة ذلك خسران الدنيا والآخرة.
وفي هذه الأزمنة المتأخرة التي حدثت فيها الغير، وتزينت الدنيا لخطابها، كشف أهل الأهواء عن أقنعتهم، وانتشرت بدعهم، وأحييت مذاهب أسلافهم بعد أن كانت بائدة، ونبشت كتب لهم كانت منسية، وظهرت أفكار جديدة، وبرزت جماعات معاصرة متباينة في مقاصدها، مختلفة في توجهاتها، متناقضة في غاياتها ووسائلها، كلما خرجت جماعة أو فرقة لعنت أختها، وتطاول أناس على قامة التوحيد والسنة، ولوثرا أفكار الناس، وأفسدوا عليهم عقائدهم، وهونوا عليهم أمر الشرك، ورفعوا أعلام الفتن، ونازعوا ذوي السلطان في سلطانهم، وشاقوا الرسول من بعد ما تبين لهم الهدى، واتبعوا غير سبيل المؤمنين.
مما يوجب على الغيورين من علماء الأمة ودعاة السنة المقتفين للأثر؛ القيام بواجب الإبانة عن أصول الديانة، وتبيين معالم منهج السلف، وإيضاح سبيله، وتقريب كتب أئمة الهدى، وإبرازها
এটি: "আমি আমার কোনো বান্দাকে যা দান করেছি তা হালাল, আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের নিকট শয়তানরা আসল এবং তাদের ধর্ম থেকে তাদের বিচ্যুত করল। আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম তা তারা তাদের ওপর হারাম করে দিল এবং তাদের নির্দেশ দিল যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার কোনো প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি..." [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি সবচেয়ে বড় এবং জঘন্যতম জুলুম। কেন হবে না, অথচ এর পরিণাম হলো দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতি।
বর্তমান এই শেষ সময়ে, যেখানে নানাবিধ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং দুনিয়া তার প্রত্যাশীদের জন্য সুসজ্জিত হয়েছে, সেখানে প্রবৃত্তিপূজারীরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে, তাদের বিদআতসমূহ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের পূর্বসূরিদের বিলুপ্ত মতবাদগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তাদের ভুলে যাওয়া বইগুলো খুঁড়ে বের করা হয়েছে এবং নতুন সব চিন্তাধারার উদ্ভব হয়েছে। আবির্ভাব ঘটেছে এমন সব সমসাময়িক দলের যাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন, দৃষ্টিভঙ্গি পৃথক এবং লক্ষ্য ও উপায়গুলোতে রয়েছে স্ববিরোধিতা। যখনই কোনো দল বা গোষ্ঠী বের হয়েছে, তারা তার পূর্ববর্তী দলকে অভিশাপ দিয়েছে। কিছু মানুষ তাওহিদ ও সুন্নাহর সুউচ্চ মর্যাদাকে অবমাননা করেছে, মানুষের চিন্তাধারাকে কলুষিত করেছে, তাদের আকিদা-বিশ্বাসকে নষ্ট করেছে, তাদের কাছে শিরকের বিষয়টিকে হালকা করে দেখিয়েছে, ফিতনার পতাকা উত্তোলন করেছে, শাসনকর্তাদের সাথে তাদের ক্ষমতা নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে এবং হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পরও রাসুলের বিরোধিতা করেছে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করেছে।
যা উম্মাহর ধর্মপ্রাণ আলেম সমাজ এবং সুন্নাহর দাওয়াত প্রদানকারী আছার অনুসারীদের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছে যে, তারা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো বর্ণনা করার দায়িত্ব পালন করবেন, সালাফদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ সুস্পষ্ট করবেন, তাদের পথ ব্যাখ্যা করবেন এবং হেদায়েতের ইমামদের কিতাবসমূহকে মানুষের কাছে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন ও প্রকাশ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بالتحقيق وشرح عبارات الأئمة، وبيان مقاصدهم والعناية بأمر التوحيد والمنهج في دروسهم وخطبهم ومحاضراتهم ومؤلفاتهم، وإرشاد العباد إلى اتباع خطى النبي- صلى الله عليه وسلم ولزوم سنته، والسير على أثر أصحابه امتثالا لقوله تعالى:
{قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران: 31]
وقول النبي صلى الله عليه وسلم:
«أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن كان عبدا حبشيا، فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كبيرا؛ فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين؛ تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» [رواه أبو داود] .
فهذا هو الصراط المستقيم، الموصل إلى رضا رب العالمين.
قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153]
وهو السبيل الذي دعا إليه رسوله محمد صلى الله عليه وسلم قال تعالى:
গবেষণার মাধ্যমে এবং ইমামগণের বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে, তাঁদের উদ্দেশ্যসমূহ সুস্পষ্টকরণ এবং তাঁদের পাঠদান, খুৎবা, বক্তৃতা ও গ্রন্থাবলীতে তাওহীদ ও মানহাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করে, আর আল্লাহর বান্দাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ, তাঁর সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকা এবং তাঁর সাহাবীগণের পদাঙ্ক অনুসরণের দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ:
{বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আলে ইমরান: ৩১]
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী:
«আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (নেতার নির্দেশ) শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়। কেননা, আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো; কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা» [আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন] ।
এটাই হলো সরল পথ, যা বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [আল-আনআম: ১৫৩]
আর এটাই সেই পথ যার দিকে তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108]
وهو عقيدة الفرقة الناجية التي أخبر عنها النبي- صلى الله عليه وسلم بقوله:
«لا تزال من أمتي أمة قائمة بأمر الله، لا يضرهم من خذلهم؛ حتى يأتيهم أمر الله وهم على ذلك» . [رواه البخاري: باب " 28 "، حديث (3641) ] .
وهي التي بقيت على ما كان عليه النبي- صلى الله عليه وسلم وأصحابه؛ ففي الحديث أنه- صلى الله عليه وسلم قال: (. . . «وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة، وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة؛ كلهم في النار إلا ملة واحدة» قال- أي عبد الله بن عمرو راوي الحديث-:
من هي يا رسول الله؟ قال:
«ما أنا عليه وأصحابي» [رواه الترمذي] .
ومن هنا تأتي أهمية العناية بهذا الأمر، وتربية الناشئة عليه، وتصحيح مسيرة الصحوة إليه؛ حتى لا تتشعب بها السبل، فتضل في متاهات الأهواء والفتن.
{বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সুনিশ্চিত অন্তর্দৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পরম পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]
আর এটি হলো সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদা, যার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন:
«আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে। যারা তাদের সহায়তা বর্জন করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।’ [সহীহ বুখারী: অধ্যায় "২৮", হাদিস (৩৬৪১)]।
আর এই দলটি হলো তারাই যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার ওপর অবিচল রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (... ‘আর বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে; একটি দল ব্যতীত তারা সবাই জাহান্নামী হবে।’ তিনি—অর্থাৎ হাদিসের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে আমর—বললেন:
হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন:
‘আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর আছি।’ [সুনান তিরমিজি]।
আর এখান থেকেই এই বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার, এর ওপর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার এবং জাগরণের পথকে এর দিকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়; যাতে বিভিন্ন পথ তাদের বিচ্ছিন্ন করতে না পারে এবং তারা প্রবৃত্তি ও ফিতনার গোলকধাঁধায় পথভ্রষ্ট না হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد وفق الله- سبحانه وتعالى عددا من مشايخنا، وعلمائنا، ونفرا من طلبة العلم المخلصين إلى الاهتمام بهذا الموضوع تدريسا، وتحقيقا، وتأليفا، وكان منهم:
الأخ الشيخ عبد الله بن عبد الحميد الأثري في كتابه الماتع: (الوجيز في عقيدة السلف الصالح)
وقد رغب إلي في قراءته والتقديم له، وباطلاعي عليه وقراءتي له ألفيته قد أجاد فيه وأفاد، وبذل فيه جهدا مشكورا، وذكر فيه مجمل اعتقاد السلف بأسلوب أخاذ، وعبارة سهلة، وعرض حسن، وقد وفق في تبويبه وترتيبه، وقد جاءت هذه الطبعة التي نحن بصدد التقديم لها، فظهرت منقحة ومصححة، مستدركا فيها ما فاته في سابقها من ملحوظات يسيرة.
وإن مما يميز هذا الكتاب اعتماده على المصادر الأصلية، وعنايته بذكر عبارات السلف، وحشد الأدلة من الكتاب والسنة، وذكر أقوال الصحابة والتابعين وأئمة السلف.
وإن هذا الكتاب وأمثاله لمما تقر به عيون الموحدين، وتفرح به قلوبهم، وتشرق به حلوق المناوئين، وتضيق به صدورهم:
{وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَى أَمْرِهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [يوسف: 21]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের বেশ কিছু শায়খ, আলেম এবং একদল একনিষ্ঠ ইলম অন্বেষণকারীকে পাঠদান, গবেষণা ও রচনার মাধ্যমে এই বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করার তৌফিক দান করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
ভাই শায়খ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হামিদ আল-আসারি তার চমৎকার গ্রন্থ: (আল-ওয়াজিজ ফি আকিদতিস সালাফিস সালিহ)-এ।
তিনি আমার নিকট এটি পাঠ করার এবং এর ওপর একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমি এটি পর্যালোচনা ও পাঠ করে দেখেছি যে, তিনি এতে অত্যন্ত নিপুণতা ও উপযোগিতা প্রদর্শন করেছেন এবং প্রশংসনীয় শ্রম ব্যয় করেছেন। তিনি সালাফদের সামগ্রিক আকিদা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ঢংয়ে, সহজ ভাষায় ও সুন্দর উপস্থাপনায় উল্লেখ করেছেন। তিনি এর অধ্যায়বিন্যাস ও বিন্যাসে সফল হয়েছেন। এই সংস্করণটি, যার ভূমিকা আমরা এখন লিখছি, পরিমার্জিত ও সংশোধিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে পূর্ববর্তী সংস্করণের সামান্য কিছু বিচ্যুতি সংশোধন করা হয়েছে।
এই বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মূল উৎসসমূহের ওপর এর নির্ভরতা, সালাফদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে এর বিশেষ যত্ন, কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলিলের সমাহার এবং সাহাবী, তাবিঈ ও সালাফ ইমামগণের বক্তব্য উল্লেখ করা।
নিশ্চয়ই এই বই এবং এই জাতীয় অন্যান্য কিতাব এমন বিষয় যা দ্বারা মুওয়াহহিদদের চক্ষু শীতল হয়, তাদের অন্তর আনন্দিত হয়, আর বিরোধীদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয় এবং তাদের বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে যায়:
{আর আল্লাহ তাঁর কার্যে প্রবল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} [ইউসুফ: ২১]
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والنبي- صلى الله عليه وسلم يقول:
«ليبلغن هذا الأمر ما بلغ الليل والنهار، ولا يترك الله بيت مدر ولا وبر؛ إلا أدخله الله هذا الدين، بعز عزيز أو بذل ذليل، عزا يعز الله به الإسلام وأهله، وذلا يذل به الكفر وأهله» [رواه الإمام أحمد] .
وإذ أشكر لفضيلته عنايته بهذا الموضوع، وحرصه عليه، وإخراج هذا الكتاب، فإني أسال الله أن يجزيه خير الجزاء، وأن يبارك في جهوده، وأن يحفظ لهذه الأمة عقيدتها، وأن يوفق العلماء إلى السير بها إلى ما يحبه ويرضاه، اقتداء بالنبي- صلى الله عليه وسلم واقتفاء لأثر أصحابه واتباعا لمنهج أئمة السلف.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ
وزير الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
جمادى الأولى 1421
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«এই দীন অবশ্যই সেখানে পৌঁছাবে যেখানে রাত ও দিন পৌঁছায়। আল্লাহ মাটির তৈরি কোনো ঘর কিংবা পশমের তৈরি কোনো তাবু ছাড়বেন না যেখানে তিনি এই দীনকে প্রবেশ করাবেন না; সম্মানীর সম্মানের মাধ্যমে অথবা লাঞ্ছিতের লাঞ্ছনার মাধ্যমে। এমন এক সম্মান যার মাধ্যমে আল্লাহ ইসলাম ও তার অনুসারীদের সম্মানিত করবেন এবং এমন এক লাঞ্ছনা যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফর ও তার অনুসারীদের লাঞ্ছিত করবেন» [ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন]।
এই বিষয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ও একাগ্রতা এবং এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন, এই উম্মাহর জন্য তাদের আকীদাহকে সুরক্ষা দান করেন এবং আলেমদেরকে সেই পথে চলার তাওফীক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন; যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণে, তাঁর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণে এবং সালাফে সালেহীনের ইমামগণের মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমে হয়।
আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল আশ-শাইখ
মন্ত্রী, ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়
জুমাদাল উলা ১৪২১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[المقدمة]
[ভূমিকা]
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إِنَّ الحَمْدَ لله، نَحْمَدُهُ ونَسْتَعِينُهُ، ونَسْتَغفرُهُ، وَنَعوذُ بالله مِنْ شُرورِ أَنفسِنا، وَمِنْ سَيِّئاتِ أَعْمَالنا، مَن يَهدِهِ اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِل فَلَا هاديَ لَه، وَأَشْهَدُ أَن لا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحَدهُ لا شَريِكَ لَه، وَأَشْهَدُ أَن مُحَمّدا عَبْدهُ وَرَسُولُه.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] (1) {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] (2) {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71] (3)
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসসমূহের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] (১) {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষণকারী।} [নিসা: ১] (২) {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০ - ৭১] (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أَمَّا بعد: فإِنَّ أَصْدَقَ الحَديث كَلامُ الله، وخَيْرَ الهَديِ هَديُ مُحمّدٍ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم- وَشَرَّ الأمورِ مُحْدَثاتُها وَكل محْدَثةٍ بدعة، وَكلَّ بدعةٍ ضلالة، وَكل ضلالةٍ في النَّار (*) (1) .
أيها الأَخُ المسلم: هذه كلماتٌ مختصرةٌ في بيان:
عقيدة السَّلف الصَّالح، أَهلِ السُّنَّةِ والجماعة " قد حَمَلَ على جمعهِ وكتابَتِهِ ما تعيشه الأمَّةُ الإِسلاميةُ اليومَ من تفرق واختلافٍ يتمثلان في الفرقِ المعاصرةِ، والجماعات الموجودة في الساحة؛ كلٌ يدعو إِلى عقيدته ومنهجه، ويزكي جماعته؛ حتى اختلط الأَمر على النَّاس، وأَصبحوا في حيرة من أَمرهم من يتبعون؟ وبمن يقتدون؟!!
ولكن- ولله الحمد- لم يُعدَمْ ولن يُعدَمَ الخيرُ في هذهِ الأمَّة، إِذْ لا تَزالُ طائِفَةٌ منها متمسكة بالهدى والحق إِلى قيام السَاعة
--------------------------------------------
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য কথা আল্লাহর বাণী এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই হলো বিদআত। প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম (১)।
হে মুসলিম ভাই! এই কথাগুলো হলো সালাফে সালেহীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা (বিশ্বাস) বর্ণনায় কিছু সংক্ষিপ্ত কথা। বর্তমান মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার বিভক্তি ও অনৈক্য, যা সমসাময়িক বিভিন্ন দল ও ময়দানে বিদ্যমান বিভিন্ন জামাতের মাঝে পরিলক্ষিত হয়, তা-ই আমাকে এগুলো সংকলন ও লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের প্রত্যেকেই নিজের আকিদা ও মানহাজের (কর্মপন্থা) দিকে আহ্বান জানায় এবং নিজ দলের প্রশংসা করে; এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছে যে, তারা কাকে অনুসরণ করবে? আর কার আদর্শ গ্রহণ করবে?!!
কিন্তু—আল্লাহরই প্রশংসা—এই উম্মতের মধ্য থেকে কল্যাণ নিঃশেষ হয়ে যায়নি এবং হবেও না। কেননা কিয়ামত পর্যন্ত এই উম্মতের একটি দল সর্বদা হিদায়াত ও সত্যের ওপর অবিচল থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كما أَخبر بذلك النَّبي- صلى الله عليه وسلم حيث قال: «لَا تَزَالُ طَائفَة مِنْ أمتي ظَاهِرينَ عَلَى الحق، لَا يَضُرهُمْ مَنْ خَذلَهُمْ؛ حَتّى يأتِيَ أمْرُ الله وَهُمْ كَذلِكَ» (1) وقال- صلى الله عليه وسلم:
«مثَلُ أمَّتِي مثلُ المَطَر؛ لا يُدْرَى أوَّلهُ خير، أَم آخِرُهُ» (2) .
ومن هنا وجب علينا التعرف على هذه الطائفة المباركة التي تلتزم الإسلام الصحيح الذي جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم -وطبّقهُ جيل الصحابة والتابعين وأَتباعهم بإِحسان- جعلنا الله منهم- وهذه الجماعة هي الفرقة الناجية، والطائفة المنصورة، وتوصف هذه الفرقة بأهلِ السنة والجماعة، وأَهل الحديث، وأَهل الأثر والاتباع، وهم من كانوا على ما كان عليه النبي- صلى الله عليه وسلم -وأَصحابه.
ومن هذا المنطلق أَسرعتُ في تلخيص هذا " الوجيز " من كتابي " المُيَسرُ في عقيدة السلف الصالح " (3) الذي استقيته من كتب أَئمة السَلف المشهودِ لهم بالعدالة والعلم، واتباع السُّنَّة والإِمامةِ فيها؛ التي اسْتَقَوْهَا من هدي النبي- صلى الله عليه وسلم -كابرا عن كابر، وحرصتُ أَن يكون هذا " الوجيز " بعبارة موجزة وأُسلوب واضح مُيسَر، مع الالتزام بالأَلفاظ الشرعية المأثورة عن أئمة السلف قدر الإِمكان؛
--------------------------------------------
যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সাহায্য করা ছেড়ে দেয় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; যতক্ষণ না আল্লাহর আদেশ আসে এবং তারা এভাবেই থাকবে» (১) এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«আমার উম্মতের উদাহরণ বৃষ্টির মতো; জানা নেই এর শুরু কল্যাণকর নাকি এর শেষটা» (২) ।
এখান থেকেই আমাদের ওপর এই বরকতময় দলটি সম্পর্কে জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যারা সেই সঠিক ইসলামকে আঁকড়ে ধরে আছে যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে এসেছেন—এবং যা সাহাবী, তাবিঈ ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী প্রজন্ম বাস্তবায়ন করেছেন—আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এই জামাতটিই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দল এবং সাহায্যপ্রাপ্ত দল। এই দলটিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, আহলে হাদীস, আহলে আছার ও অনুসারী দল হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁরা হলেন সেই সব লোক, যারা সেই আদর্শের ওপর অটল আছেন যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন।
আর এই প্রেক্ষাপট থেকেই আমি আমার "আল-মুয়াসসার ফি আকিদাতুস সালাফিস সালিহ" (৩) নামক গ্রন্থ থেকে এই "আল-ওয়াজিজ" (সংক্ষিপ্তসার) প্রস্তুত করতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছি, যা আমি সালাফ ইমামদের কিতাবসমূহ থেকে আহরণ করেছি—যাঁরা ন্যায়পরায়ণতা, জ্ঞান, সুন্নাহর অনুসরণ ও এ ক্ষেত্রে তাঁদের ইমামতের (নেতৃত্বের) জন্য স্বীকৃত; যা তাঁরা বংশপরম্পরায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিদায়াত থেকে লাভ করেছেন। আমি চেষ্টা করেছি যেন এই "আল-ওয়াজিজ" অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাষায় ও সহজ-সরল পদ্ধতিতে হয়, সেই সাথে সাধ্যানুসারে সালাফ ইমামদের থেকে বর্ণিত শরয়ী শব্দাবলি ব্যবহার নিশ্চিত করেছি;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ليستفيد منه كل قارئ، وخصوصا الناشئين من أَبناء الصحوة الإِسلامية المباركة، ويكون عونا لتحصيل مجمل عقيدة السلف الصَّالح للشاب المستقيم والمهتدي حديثا بصورةٍ ميسرة؛ لأَن علم العقيدة أَشبه بسلسلة مربوطٍ بعضها ببعض، فإِذا لم يفهم المسلم مجمل العقيدة لا يستطع استيعاب أَجزائها.
ولم أُضفْ شيئا من عندي إِلا ما وجدتُ أَنَّ من الواجب بيانَهُ وتوضيحه، وأُنوه بأني قد وضعتُ في آخر هذه الرسالة قائمة للمصادر التي اعتمدتُ عليها في إِعداد هذا " الوجيز ".
وختاما أَحمد الله تعالى وأَشكره على توفيقه لإتمام هذا " الوجيز، وأَرجو الله أَن يُسهم هذا البحث المتواضع لي إصلاح ما فسد من عقائد المسلمين، وأَن يجعله نافعا لهم، ودافعا للرجوع إِلى كتاب الله، وسنَّة رسوله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم -.
كما أَشكر كل من كان له فضل علي في إِتمام هذا " الوجيز، من إِبداء رأى أَو مراجعة أَو نصيحة، وفي مقدمتهم فضيلة الشيخ سعود بن إِبراهيم الشريم، وفضيلة الشيخ محمد بن جميل زينو اللذان تفضلا بقراءة الكتاب والتقديم له فجزاهم الله خيرا (1) .
--------------------------------------------
যাতে প্রত্যেক পাঠক এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে, বিশেষ করে বরকতময় ইসলামী জাগরণের তরুণ প্রজন্ম। এটি নিষ্ঠাবান যুবক এবং সদ্য হিদায়াতপ্রাপ্তদের জন্য সহজভাবে সালাফে সালেহীনের সামগ্রিক আকিদা অর্জনে সহায়ক হবে; কেননা আকিদাহ শাস্ত্র একটি শেকলের ন্যায় যার প্রতিটি অংশ একে অপরের সাথে সংযুক্ত। সুতরাং যদি কোনো মুসলিম আকিদার সামগ্রিক রূপটি না বোঝে, তবে সে এর অংশসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম হবে না।
আমি নিজের পক্ষ থেকে এখানে কিছুই যোগ করিনি, কেবল যা বর্ণনা ও স্পষ্ট করা আবশ্যক মনে করেছি তা ছাড়া। আমি উল্লেখ করতে চাই যে, এই "আল-ওয়াজিজ" প্রস্তুত করতে আমি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছি, তার একটি তালিকা এই পুস্তিকার শেষে যুক্ত করেছি।
পরিশেষে, এই "আল-ওয়াজিজ" সম্পন্ন করার তৌফিক দান করার জন্য আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করছি। আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এই বিনম্র গবেষণাটি মুসলিমদের আকিদায় যা কিছু বিকৃত হয়েছে তা সংশোধনে অবদান রাখবে এবং এটি তাদের জন্য উপকারী হবে এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—সুন্নাহর দিকে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে।
একইভাবে আমি তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাঁরা মতামত প্রদান, পর্যালোচনা বা উপদেশের মাধ্যমে এই "আল-ওয়াজিজ" সম্পন্ন করতে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন সম্মানিত শায়খ সাউদ বিন ইব্রাহিম আশ-শুরাইম এবং সম্মানিত শায়খ মুহাম্মদ বিন জামিল যাইনু, যাঁরা এই বইটি পাঠ করার এবং এর ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুগ্রহ করেছেন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا هو جُهد المقل وضعته بين يدي القارئ الكريم، فإِن أَصبتُ فمن الله وحده- وهو الموفق سبحانه- وإن أَخطأتُ فمن نفسي والشيطان، وإني آمل ممَّن يجد فيه مأخذا أَن لا يبخل عليَّ بالنصح.
أَسأَلُ الله تعالى أَن يجعل عملي خالصا لوجهه الكريم، وأَن يتقبله مني، وينفع به المسلمين، وأَبرأ إِلى الله مما خالف كتابه وسنَة نبيِّه- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- وفهم سلفنا الصالح؛ فإِنْ وقع ذلك منّي دون قصد " فإِنِّي راجع عنه في حياتي وبعد مماتي.
وصلى الله وسلَّم على نبينا محمَّد وعلى آله وصحبه أَجمعين.
كتبه
راجي رحمة ربه الغفور
أَبو محمد عبد الله بن عبد الحميد بن عبد المجيد آل إِسماعيل الآثري
نزيل اصطنبول
عفا الله عنه
في ذي الحجة 1416 هـ
এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা, যা আমি সম্মানিত পাঠকের সম্মুখে পেশ করছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি, তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে—আর তিনিই তাওফীকদাতা, তিনি পবিত্র—আর যদি আমি ভুল করে থাকি, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আশা করি যে ব্যক্তি এতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবেন, তিনি আমাকে উপদেশ দিতে কার্পণ্য করবেন না।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এটি আমার পক্ষ থেকে গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমি আল্লাহর কাছে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি এমন প্রতিটি বিষয় থেকে যা তাঁর কিতাব, তাঁর নবীর—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—সুন্নাহ এবং আমাদের সালফে সালেহীনের বুঝের পরিপন্থী। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে আমি আমার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও তা থেকে ফিরে আসছি।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
তাঁর ক্ষমাশীল রবের রহমতের প্রত্যাশী
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামীদ বিন আব্দুল মাজীদ আল-ইসমাঈল আল-আসারি
ইস্তাম্বুলে বসবাসরত
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন
যিলহজ্জ ১৪১৬ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[تعريفات ضرورية]
[تعريف العقيدة]
[অপরিহার্য সংজ্ঞাসমূহ][আকিদার সংজ্ঞা]
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعريف العقيدة العقيدة في اللغة: من العَقْدِ؛ وهو الرَّبطُ، والإِبرامُ، والإِحكامُ، والتَّوثقُ، والشَدُّ بقوه، والتماسُك، والمراصةُ، والإثباتُ؛ ومنه اليقين والجزم.
والعَقْد نقيض الحل، ويقال: عَقَده يعقِده عَقْدا، ومنه عُقْدَة اليمين والنكاح، قال الله تبارك وتعالى:
{لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ} [المائدة: 89] (1) والعقيدة: الحكم الذي لا يقبل الشك فيه لدى معتقده، والعقيدة في الدِّين ما يُقْصَدُ به الاعتقاد دون العمل؛ كعقيدة وجود الله وبعث الرسل. والجمع: عقائد (2) .
--------------------------------------------
আকিদাহর সংজ্ঞা। শাব্দিক অর্থে আকিদাহ: ‘আকদ’ শব্দ হতে উদ্ভূত; যার অর্থ হলো বাঁধা, দৃঢ়করণ, সুসংহতকরণ, সুদৃঢ়করণ, শক্তভাবে আবদ্ধ করা, সংহতি, সুদৃঢ়ভাবে জোড়া লাগানো এবং সাব্যস্তকরণ; ইয়াকিন (নিশ্চয়তা) এবং জাযম (দৃঢ় সংকল্প) এখান থেকেই নির্গত।
এবং ‘আকদ’ বা বন্ধন হলো খোলার বিপরীত। বলা হয়: সে এটি সুদৃঢ়ভাবে বেঁধেছে। এর থেকেই শপথ এবং বিবাহের বন্ধন বা চুক্তির বিষয়টি এসেছে। মহান ও বরকতময় আল্লাহ বলেন:
{আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য পাকড়াও করেন না, তবে যে শপথ তোমরা দৃঢ়ভাবে করো, তার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করেন।} [আল-মায়েদাহ: ৮৯] (১) আর আকিদাহ হলো এমন একটি সিদ্ধান্ত যা বিশ্বাস পোষণকারীর নিকট কোনো প্রকার সংশয় গ্রহণ করে না। দ্বীনের পরিভাষায় আকিদাহ বলতে সেই বিষয়গুলোকে বোঝানো হয় যা কেবল বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট, কর্মের সাথে নয়; যেমন আল্লাহর অস্তিত্ব এবং রাসূল প্রেরণের বিষয়ে বিশ্বাস। এর বহুবচন হলো: আকাইদ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وخلاصته: ما عقد الإِنسانُ عليه قلبه جازما به؛ فهو عقيدة؛ سواءٌ أكان حقا، أَم باطلا.
وفي الاصطلاح: هي الأمور التي يجب أن يُصَدِّقَ بها القلب، وتطمئن إِليها النفس، حتى تكون يقينا ثابتا لا يمازجها ريب، ولا يخالطها شك.
أَي: الإِيمان الجازم الذي لا يتطرَّق إِليه شك لدى معتقده، ويجب أَن يكون مطابقا للواقع، لا يقبل شكا ولا ظنا؛ فإِن لم يصل العلم إِلى درجة اليقين الجازم لا يُسَمى عقيدة.
وسمي عقيدة؛ لأَنَّ الإِنسان يعقد عليه قلبَه.
والعقيدة الإِسلاميَّة: هي الإِيمان الجازم بربوبية الله تعالى وأُلوهيته وأَسمائه وصفاته، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، وسائر ما ثَبَتَ من أُمور الغيب، وأصول الدِّين، وما أَجمع عليه السَّلف الصَّالح، والتسليم التام لله تعالى في الأَمر، والحكم، والطاعة، والاتباع لرسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
এর সারকথা হলো: মানুষ তার অন্তরে যা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং গেঁথে নেয়, তা-ই আকিদাহ; চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা।
আর পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন বিষয়সমূহ যার প্রতি অন্তর দিয়ে অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় এবং যার ওপর নফস প্রশান্ত থাকে, যেন তা এমন সুদৃঢ় এক নিশ্চয়তা হয় যাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহের অবকাশ না থাকে।
অর্থাৎ: এমন দৃঢ় ঈমান যার বিশ্বাসীর অন্তরে কোনো সন্দেহ প্রবেশ করতে পারে না। আর একে অবশ্যই বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, যা কোনো সন্দেহ বা ধারণাকে গ্রহণ করবে না। সুতরাং যদি জ্ঞান দৃঢ় নিশ্চয়তার স্তরে না পৌঁছায়, তবে তাকে আকিদাহ বলা হয় না।
একে আকিদাহ বলা হয়; কারণ মানুষ এর ওপর স্বীয় অন্তরকে বেঁধে নেয়।
আর ইসলামি আকিদাহ হলো: আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাত (ইবাদতের অধিকার) এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির প্রতি, এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রসূলগণ, পরকাল, তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি এবং অদৃশ্যের যে সকল বিষয় প্রমাণিত হয়েছে সেগুলোর প্রতি, দ্বীনের মূলনীতিসমূহ এবং সালাফে সালেহীন (সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ) যে সকল বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন—সেসবের প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা; এবং আদেশ, বিধান ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা এবং তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্ণ অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والعقيدة الإِسلاميَّة: إِذا أُطلقت فهي عقيدة أَهل السُّنَّة والجماعة؛ لأنَّها هي الإِسلام الذي ارتضاه الله دينا لعباده، وهي عقيدة القرون الثلاثة المفضَّلة من الصحابة والتابعين وتابعيهم بإِحسان.
وللعقيدة الإِسلامية: أَسماء أُخرى عند أَهل السُّنَّة والجماعة؛ تُرادِفُها، وتَدلُّ عليها، منها:
" التوحيد "، " السُّنَة "، " أُصُول الدَين "، " الفقه الأكبر "، " الشريعة "، " 22 الإِيمان 22 ".
هذه أَشهر إِطلاقات أَهل السُّنَّة على علم العقيدة.
এবং ইসলামি আকিদাহ: এটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহকেই বোঝায়; কারণ এটিই সেই ইসলাম যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করেছেন এবং এটি সাহাবী, তাবেয়ী ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সর্বোত্তম তিন প্রজন্মের আকিদাহ।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ইসলামি আকিদাহর আরও কিছু নাম রয়েছে যা এর সমার্থক এবং এরই অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
"তাওহীদ", "সুন্নাহ", "উসুলুদ দীন", "আল-ফিকহুল আকবার", "শরীয়াহ", " ২২ ঈমান ২২ "।
এগুলোই আকিদাহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ পরিভাষা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[تعريف السلف]تعريف السلف السَّلف في اللغة: ما مضى وتقدم، يُقال: سلَف الشيءُ سَلَفا: أَي مضى، والسَّلف: الجماعة المتقدِّمون، أَو القوم المتقدمون في السير.
قال تعالى: {فَلَمَّا آسَفُونَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ - فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِينَ} [الزخرف: 55 - 56] (1) .
أَي: جعلناهم سلفا متقدِّمين لمن عمل بعملهم، وذلك ليَعْتَبِرَ بهم مَنْ بعدهم، وليتعظ بهم الآخرون.
والسَّلَفُ: (من تقدَّمك من آبائك ذوي قرابتك الذين هم فوقك في السنِّ والفضل، ولهذا سُمي الصدر الأَول من الصحابة والتابعين: السلف الصَّالح) (2) .
--------------------------------------------
[সালাফের পরিচয়]শাব্দিক অর্থে সালাফ: যা অতিবাহিত হয়েছে এবং অগ্রবর্তী হয়েছে। বলা হয়: কোনো বস্তু ‘সালাফা’ হয়েছে, অর্থাৎ তা অতিবাহিত হয়েছে। আর সালাফ হলো: অগ্রবর্তী দল, অথবা পথচলায় অগ্রগামী কাফেলা।
মহান আল্লাহ বলেন: “অতঃপর তারা যখন আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদের সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম। অতঃপর আমি তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অগ্রবর্তী এবং উদাহরণ বানিয়ে দিলাম।” [সূরা আয-যুখরুফ: ৫৫-৫৬] (১)।
অর্থাৎ: যারা তাদের মতো আমল করবে তাদের জন্য আমি তাদেরকে অগ্রবর্তী উদাহরণ বানিয়েছি, যাতে তাদের পরবর্তী লোকেরা তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং অন্যরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।
সালাফ: (আপনার পিতা-পিতামহ ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা আপনার আগে গত হয়েছেন এবং যারা বয়সে ও মর্যাদায় আপনার ঊর্ধ্বে। এই কারণেই সাহাবী এবং তাবিঈদের প্রথম প্রজন্মকে ‘সালাফে সালেহ’ বা সৎকর্মশীল পূর্বসূরি নামকরণ করা হয়েছে) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي الاصطلاح: إِذا أُطْلِقَ السلفُ عندَ علماءِ الاعتقادِ فإِنَّما تدور كل تعريفاتهم حول الصحابة، أَو الصحابة والتابعين، أَو الصحابة والتابعين وتابعيهم من القرون المفضلة؛ من الأَئمَّةِ الأَعلامِ المشهودِ لهم بالإِمامةِ والفضلِ واتباعِ السنة والإِمامةِ فيها، واجتناب البدعةِ والحذر منها، وممن اتفقت الأُمّةُ على إِمامتهم وعظيم شأنهم في الدِّين، ولهذا سمي الصدرُ الأول بالسلَف الصالح.
قال الله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115] (1) وقال: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100] (2) وقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وعلى آله وسلم:
«خَيْرُ النَّاسِ قَرْني ثُم الَذيِنَ يَلُونَهُمْ ثُمَ الَذِينَ يَلونَهُمْ» (3) .
--------------------------------------------
পারিভাষিক অর্থে: আকিদাহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের নিকট যখন 'সালাফ' শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন তাঁদের সকল সংজ্ঞা সাহাবীগণ, অথবা সাহাবী ও তাবিঈগণ, অথবা সর্বোত্তম যুগসমূহের সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের (তাবে-তাবিঈ) পরিক্রমায় আবর্তিত হয়; যারা ছিলেন এমন প্রথিতযশা ইমাম যাঁদের ইমামত (নেতৃত্ব), শ্রেষ্ঠত্ব, সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাতে নেতৃত্বের বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত, যারা বিদআত বর্জন করতেন ও তা থেকে সতর্ক থাকতেন এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে যাঁদের ইমামত ও সুমহান মর্যাদার বিষয়ে উম্মত একমত হয়েছে। একারণেই ইসলামের প্রথম যুগকে 'সালাফে সালেহীন' (সৎকর্মশীল পূর্বসূরী) বলা হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যে পথ অবলম্বন করেছে আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।} [আন-নিসা: ১১৫] (১) এবং তিনি বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।} [আত-তাওবাহ: ১০০] (২) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«মানুষদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোকজন, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ورسولُ الله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- وصحابته والتَّابعون لهم بإِحسان هم سلف هذه الأمة، وكل من يدعو إِلى مثل ما دعا إِليه رسول الله- صلى الله عليه وعلى آله وسلَّم- وصحابتُهُ والتابعون لهم بإِحسان، فهو على نهج السلف.
والتحديد الزمني ليس شرطا في ذلك؛ بل الشرط هو موافقة الكتاب والسنَّة في العقيدة والأَحكام والسلوك بفهم السَّلف، فكل من وافق الكتاب والسُّنَة فهو من أتباع السَّلف، إن باعد بينه وبينهم المكان والزمان، ومن خالفهم فليس منهم وإن عاش بين ظهرانيهم.
وإِمام السَّلف الصَّالح رسولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم.
قال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ} [الفتح: 29] (1) .
وقد قرن الله تعالى بين طاعته وطاعة رسوله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- فقال تعالى:
{وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} [النساء: 69] (2)
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা যথাযথভাবে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তারাই এই উম্মতের সালাফ। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা যথাযথভাবে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁরা যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিয়েছেন, তার অনুরূপ দাওয়াত যিনিই দেবেন, তিনিই সালাফদের আদর্শের ওপর রয়েছেন।
আর এর জন্য সময়ের সীমাবদ্ধতা কোনো শর্ত নয়; বরং শর্ত হলো সালাফদের বুঝ অনুযায়ী আকিদা, আহকাম (বিধান) এবং আচরণের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হওয়া। অতএব, যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর সাথে ঐক্যমত পোষণ করবে, সে-ই সালাফদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তাদের মাঝে স্থান ও সময়ের ব্যবধান থাকে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের বিরোধিতা করবে, সে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সে তাঁদের মাঝেই বসবাস করে।
আর সালাফে সালেহীনদের ইমাম হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)।
মহান আল্লাহ বলেন: “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াবান। তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তাওরাতে তাদের উদাহরণ এরূপ এবং ইনজিলে তাদের উদাহরণ হলো একটি চারাগাছের মতো যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা তাকে শক্তিশালী করে।” [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] (১)।
আর মহান আল্লাহ তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্যকে একত্রে জুড়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
“আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ (সিদ্দীকগণ), শহীদগণ এবং নেককারগণ। আর সাথী হিসেবে তারা কতই না উত্তম।” [সূরা আন-নিসা: ৬৯] (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وجعل الله طاعةَ الرسول- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- طاعة له سبحانه، فقال عز وجل:
{مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} [النساء: 80] (1) وأَخبر تعالى أَن عدم طاعة الرسول- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- محبطٌ ومُبطلٌ للأعمال، فقال:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ} [محمد: 33] (2) ونهانا عن مخالفة أَمرهِ- صلى الله عليه وآله وسلم فقال: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} [النساء: 14] (3) وأَمرنا الله تعالى أَن نأخذ ما أَمرنا به- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- ونترك ما نهانا عنه، فقال عز وجل:
--------------------------------------------
আর আল্লাহ রাসূলের -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম- আনুগত্যকে তাঁর নিজেরই (সুবহানাহু) আনুগত্য সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর আযযা ওয়া জাল্লা বলেন:
{যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের জন্য রক্ষক করে পাঠাইনি} [আন-নিসা: ৮০] (১) এবং আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলের -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম- আনুগত্য না করা আমলসমূহকে নিষ্ফল ও বাতিলকারী। তিনি বলেন:
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না} [মুহাম্মাদ: ৩৩] (২) এবং তিনি তাঁর (রাসূলের) -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- আদেশের বিরোধিতা করা হতে আমাদের নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি} [আন-নিসা: ১৪] (৩) এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম- আমাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন তা গ্রহণ করতে এবং যা থেকে তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন তা বর্জন করতে। অতঃপর আযযা ওয়া জাল্লা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
{وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر: 7] (1) وأَمرنا تعالى أَن نحكمه- صلَّى الله عليه وعلى آله وسلم- في كلِّ شأن من شؤون حياتنا، وأَن نرجع إِلى حكمه، فقال:
{فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65] سورة النساء: الآية، 65. وبلغنا الله تعالى بأَن نبيه- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- هو الأُسوة الحسنة، والقدوة الصالحة، والنموذج الأَمثل الذي يجب اتباعه والاقتداء به، فقال عز وجل:
{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21] سورة الأحزاب: الآية، 21. وقرن الله رضاه برضا رسوله- صلى الله عليه وآله وسلم فقال تعالى: {وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ} [التوبة: 62] سورة التوبة: الآية، 62. وجعل اتباع رسوله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- علامة على محبته- سبحانه وتعالى فقال:
--------------------------------------------
"আর রসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।" [হাশর: ৭] (১) আর মহান আল্লাহ আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা তাঁকে -আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর বর্ষিত হোক- আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয়ে বিচারক মানি এবং তাঁর ফয়সালার দিকে ফিরে যাই। তিনি বলেছেন:
"অতএব না, তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা দাও সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" [নিসা: ৬৫] সূরা আন-নিসা: আয়াত, ৬৫। এবং মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর নবী -আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর বর্ষিত হোক- হলেন সর্বোত্তম আদর্শ, সৎ অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং এক অনন্য নমুনা যাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করা আবশ্যক। তিনি মহান পরাক্রমশালী বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" [আহযাব: ২১] সূরা আল-আহযাব: আয়াত, ২১। আর আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টিকে তাঁর রসূলের -আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর বর্ষিত হোক- সন্তুষ্টির সাথে যুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলেরই অধিক অধিকার রয়েছে যে, তারা তাঁদের সন্তুষ্ট করবে, যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে।" [তাওবাহ: ৬২] সূরা আত-তাওবাহ: আয়াত, ৬২। এবং তিনি তাঁর রসূলের -আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর বর্ষিত হোক- অনুসরণকে তাঁর নিজের অর্থাৎ মহান পবিত্র আল্লাহর ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
{قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران: 31] (1) ولهذا كان مرجع السَّلَف الصالح عند التنازع هو كتابَ الله وسنَة رسوله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- كما قال تعالى:
{فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] (2) وأَفضلُ السلف بعد رسول الله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- الصحابةُ الذين أَخذوا دينهم عنه بصدق وإخلاصٍ، كما وصفهم الله تعالى في كتابه العزيز، بقوله: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} [الأحزاب: 23] (3) ثمَ الذين يلونهم من القُرون المفضلة الأولى؛ الذين قال فيهمِ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «خَيْرُ النَّاس قَرْنِي، ثُم الَذينَ يَلونَهُمْ، ثُمَّ الَذِينَ يَلُونهُمْ» (4) ولذا؛ فالصَّحابة والتابعون أَحق بالاتباع من غيرهم، وذلك
--------------------------------------------
{বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} [আল-ইমরান: ৩১] (১) আর এই কারণেই বিরোধের সময় সালাফে সালেহীনের (সৎ পূর্বসূরিদের) প্রত্যাবর্তনের স্থল ছিল আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ—আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর বর্ষিত হোক—যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
{অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামের দিক দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর।} [আন-নিসা: ৫৯] (২) আর রাসূলুল্লাহ—আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর বর্ষিত হোক—এর পরে সর্বোত্তম সালাফ হলেন সেই সাহাবীগণ যারা সত্যনিষ্ঠা ও ইখলাসের সাথে তাঁর থেকে তাদের দ্বীন গ্রহণ করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর মর্যাদাপূর্ণ কিতাবে তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছে; তাদের কেউ কেউ নিজের মানত পূর্ণ করেছে (শাহাদাত বরণ করেছে), আর কেউ কেউ অপেক্ষায় আছে এবং তারা (তাদের প্রতিশ্রুতিতে) কোনো পরিবর্তন করেনি।} [আল-আহযাব: ২৩] (৩) অতঃপর যারা প্রথমদিকের সেই শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের পরবর্তী; যাদের সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল—আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর বর্ষিত হোক—বলেছেন: «মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোকেরা, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী» (৪) আর একারণেই; সাহাবী এবং তাবিঈগণ অন্যদের তুলনায় অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক হকদার, আর তা হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لصدقهم في إيمانهم، وإخلاصهم في عبادتهم، وهم حُرَّاس العقيدة، وحُماة الشريعة العاملون بها قولا وعملا، ولذلك اختارهم الله تعالى لنشر دينه، وتبليغ سُنَّة نَبيِّه صلى الله عليه وسلم.
قال النَّبِيُ صلى الله عليه وعلى آله وسلم:
«تَفْتَرقُ أمَتِي عَلَى ثَلَاث وَسَبْعِينَ ملة؛ كُلهُم في النارِ، إِلا مَلّة وَاحِدَة» قالوا: مَن هي يا رسول الله؟ قال: «مَا أَنَا عَلَيْه وَأصْحابي» (1) ويُطلق على كلِّ من اقتدى بالسَّلف الصالح، وسار على نهجهم في سائر العصور " سَلَفِيّ " نسبة إِليهم، وتمييزا بينه وبين من يخالفون منهج السَّلف ويتبعون غير سبيلهم.
قال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115] (2) ولا يسع أَي مسلم إِلا أَن يفتخر بالانتساب إِليهم. ولفظ " السَّلفيَّة " أَصبح علما على طريقة السلف الصَّالح في تلقي الإِسلام وفهمه وتطبيقه، وبهذا فإنَّ مفهوم السَّلفيَة يطلق على المتمسكين بكتاب الله، وما ثبت من سُنَّة رسول الله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- تمسكا كاملا بفهم السَّلف.
--------------------------------------------
তাদের ঈমানের সত্যতা এবং ইবাদতের একনিষ্ঠতার কারণে; তাঁরা হলেন আকিদার পাহারাদার এবং শরিয়তের রক্ষক যারা কথা ও কাজে তা অনুসরণ করেন। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর দ্বীন প্রচার এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«আমার উম্মত তিয়াত্তরটি ফেরকায় বিভক্ত হবে; একটি ছাড়া বাকি সবই জাহান্নামে যাবে।» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বললেন: «আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর আছি।» (১) আর সকল যুগে যারা সালাফে সালেহীনের অনুসরণ করে এবং তাঁদের মানহাজ অনুযায়ী চলে, তাঁদেরকে তাঁদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং সালাফদের মানহাজের বিরোধিতাকারী ও তাঁদের পথ ছাড়া অন্য পথের অনুসারীদের থেকে পৃথক করার জন্য "সালাফি" বলা হয়।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, আর তা কতই না মন্দ আবাস।} [আন-নিসা: ১১৫] (২) যে কোনো মুসলিমের জন্য তাঁদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হতে পারা কেবল গর্বেরই বিষয়। "সালাফিয়াত" শব্দটি ইসলাম গ্রহণ, অনুধাবন এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের পদ্ধতির একটি বিশেষ নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সালাফিয়াতের ধারণাটি তাদের ওপরই প্রযোজ্য হয় যারা আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রমাণিত সুন্নাহকে সালাফদের বুঝ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গভাবে আঁকড়ে ধরে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
[تعريف أهل السنة والجماعة]تعريف أهل السنة والجماعة السُّنة في اللغة: السنَة في اللغة مشتقة من: سَن يَسِن، ويَسُن سَنّا، فهو مَسْنُون. وسَن الأمرَ: بَينَه.
والسَنَة: الطريقةُ والسِّيرة، محمودة كانت أَم مذمومة.
ومنه قول النَّبِي صلى الله عليه وعلى آله وسلم:
«لَتَتَبِعُنّ لسَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرا بِشِبرْ وذِراعا بِذِراع» (1) أَي: طريقتهم في الدِّين والدنيا.
وقوله: «مَنْ سنّ في الإسلَامِ سنَةَ حَسَنه فَلَهُ أَجْرُها وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بهَا منْ بَعْدِه؛ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أجُورِهِمْ شَيْءٌ، ومَنْ سنَّ في الإِسلام سُنَّة سيئة» (2) - أَي: " سيرة. . . الحديث " (3) .
--------------------------------------------
[আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়]আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়। আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ শব্দটি 'সান্না', 'ইয়াসিনু' এবং 'ইয়াসুন্নু' (মূলধাতু 'সান্নান') থেকে উদ্ভূত। আর 'সান্না আল-আমারা' অর্থ হলো: তিনি বিষয়টি বর্ণনা বা স্পষ্ট করেছেন।
সুন্নাহ হলো: পথ ও পদ্ধতি, চাই তা প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয়।
এ অর্থেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
«তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘা এবং হাত হাত অনুসরণ করবে» (১) অর্থাৎ: দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি।
এবং তাঁর বাণী: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতির সূচনা করল, তবে তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে এবং তার পরে যারা এটি আমল করবে তাদেরও সওয়াব সে পাবে; এতে তাদের সওয়াব থেকে কোনো অংশ হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতির সূচনা করল...» (২) — অর্থাৎ: "পদ্ধতি... হাদীসের শেষ পর্যন্ত" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয় ফী আকীদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
السنة في الاصطلاح: الهديُ الذي كان عليه رسول الله- صلى الله عليه وعلى آله وسلم- وأَصحابه، علما، واعتقادا، وقولا، وعملا، وتقريرا. وتُطلق السّنَة أَيضا على سُنَنِ العبادات والاعتقادات، ويقابل السنَّةَ: البدعة.
قال النَّبِيُّ صلى الله عليه وعلى آله وسلم: «فإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدي فَسَيرى اخْتلافا كَثيرا؛ فَعَلَيْكُمْ بِسنّتي وسُنّةِ الخلَفَاءِ المَهْدِيينَ الرَّاشِدين» (1) .
الجماعة في اللغة: (مأخوذةٌ من الجمعِ، وهو ضمُ الشيءِ، بتقريبِ بعضِهِ من بعضٍ، يُقال جَمعتُهُ، فاجْتَمَعَ) .
ومشتقة من الاجتماع، وهو ضد التفَرُّق، وضد الفرْقَة.
والجماعة: العدد الكثير من النَّاس، وهي أَيضا طائفة من الناس يجمعها غرض واحد.
والجماعة: هم القوم الذين اجتمعوا على أَمرٍ ما (2) .
--------------------------------------------
পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ: এটি এমন পথনির্দেশনা যার ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ ইলম, আকিদাহ, কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। সুন্নাহ শব্দটি ইবাদত ও আকিদাহ বিষয়ক রীতিনীতির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; এবং সুন্নাহর বিপরীত হলো বিদআত।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে; সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো" (১)।
শাব্দিক অর্থে আল-জামাআহ: (এটি 'আল-জামউ' থেকে গৃহীত, যার অর্থ কোনো কিছুকে একত্রিত করা, এর এক অংশকে অন্য অংশের নিকটবর্তী করার মাধ্যমে। বলা হয়: আমি একে একত্রিত করেছি, ফলে তা একত্রিত হয়েছে)।
এবং এটি 'আল-ইজতিমা' (একত্রিত হওয়া) থেকে উদ্ভূত, যা বিচ্ছিন্নতা এবং দলাদলির বিপরীত।
আল-জামাআহ: মানুষের বিশাল সংখ্যা বা জনসমষ্টি, এটি মানুষের এমন একটি দলকেও বোঝায় যাদেরকে একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য ঐক্যবদ্ধ করে।
আল-জামাআহ: তারা হলেন সেই কওম যারা কোনো একটি বিষয়ের ওপর একমত হয়েছে (২)।
--------------------------------------------