(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: -)
المستشرقون والتنصير القسم: كتب عامة
الكتاب: المستشرقون والتنصير
المؤلف: علي بن إبراهيم الحمد النملة
الناشر: -
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 176
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
প্রাচ্যবিদগণ এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচার বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: প্রাচ্যবিদগণ এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচার
লেখক: আলি বিন ইব্রাহিম আল-হামাদ আন-নামলাহ
প্রকাশক: -
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: -)
[المقدمة]المستشرقون والتنصير
[ভূমিকা]প্রাচ্যবিদগণ এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচার
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة عندما شرعت في قراءة كتاب " المستشرقون الناطقون باللغة الإنجليزية دراسة نقدية " لعبد اللطيف الطيباوي، وجدت الكاتب قد ركز على " الخلفية الدينية " لكثير من المستشرقين البريطانيين الذين ناقشهم في مقالته التي ترجمت إلى اللغة العربية ونشرت أكثر من مرة.
وكنت قد بدأت البحث عن الصلة بين الاستشراق والتنصير في مقالة نشرت في إحدى الدوريات العلمية، وضمنتها كتاب الاستشراق في الأدبيات العربية، ففتح لي بحث الطيباوي التوسع في هذا المجال ومحاولة التعرف على المستشرقين المنصرين، أو الذين خدموا التنصير بوجه من الوجوه.
ويظهر التردد الواضح في إيجاد الصلة، لا سيما إذا كان يراد التعميم في هذه الصلة أو الرابطة والعلاقة، أو تأكيد ذلك التوجه الذي يرفض الاستشراق جملة وتفصيلا، ويسعى في سبيل تأييد هذا الرفض إلى إيجاد المسوغات التي قد تتسم بالتعسف أحيانا لإظهار مقاصد الاستشراق بالمظهر الذي يريد الوصول إلى التشكيك في الاستشراق تعميما.
وهذا ليس دفاعا عن الاسشراق، ولا يسعى هذا البحث إلى ذلك، فللمستشرقون من دافع عنهم، ومن لا يزال يدافع عنهم من بينهم ومن المتأثرين بهم، وبما قدموه للثقافة العربية من جهد. وإنما القصد من هذه المقدمة محاولة النظر إلى ظاهرة الاستشراق بارتباطاتها المتعددة نظرة
ভূমিকা: যখন আমি আব্দুল লতিফ আল-তিবাউয়ি রচিত "ইংরেজিভাষী প্রাচ্যবিদগণ: একটি সমালোচনামূলক অধ্যয়ন" বইটি পাঠ করতে শুরু করি, তখন দেখতে পাই যে লেখক সেই ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদদের অনেকের "ধর্মীয় পটভূমির" ওপর আলোকপাত করেছেন যাদের নিয়ে তিনি তাঁর প্রবন্ধে আলোচনা করেছেন, যা আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
আমি একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে প্রাচ্যতত্ত্ব এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলাম এবং তা "আরবি সাহিত্যে প্রাচ্যতত্ত্ব" নামক বইয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। আল-তিবাউয়ির গবেষণাটি আমার জন্য এই ক্ষেত্রটিকে আরও বিস্তৃত করার এবং সেই সব ধর্মপ্রচারক প্রাচ্যবিদদের অথবা যারা কোনো না কোনোভাবে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সেবা করেছেন তাদের চিনে নেওয়ার প্রচেষ্টার পথ উন্মোচিত করে দেয়।
এই সংযোগটি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট দ্বিধা পরিলক্ষিত হয়, বিশেষ করে যদি এই সম্পর্ক বা বন্ধনটিকে সাধারণীকরণ করার উদ্দেশ্য থাকে, অথবা সেই প্রবণতাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকে যা প্রাচ্যতত্ত্বকে সম্পূর্ণ ও বিস্তারিতভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং এই প্রত্যাখ্যানকে সমর্থন করার লক্ষ্যে এমন সব অজুহাত বা যুক্তি খুঁজে পেতে সচেষ্ট থাকে যা মাঝে মাঝে জবরদস্তিমূলক হতে পারে, যাতে প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্দেশ্যগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যায় যা সামগ্রিকভাবে প্রাচ্যতত্ত্ব সম্পর্কে সংশয় তৈরির লক্ষ্য রাখে।
এটি প্রাচ্যতত্ত্বের কোনো প্রতিরক্ষা নয় এবং এই গবেষণাটি সেই লক্ষ্যও রাখে না। কারণ প্রাচ্যবিদদের এমন সমর্থক রয়েছে যারা তাদের পক্ষাবলম্বন করেছে এবং তাদের নিজেদের মধ্য থেকে কিংবা তাদের দ্বারা ও আরবি সংস্কৃতির প্রতি তাদের নিবেদিত শ্রমের দ্বারা প্রভাবিত এমন অনেকে রয়েছে যারা এখনও তাদের সমর্থন করে যাচ্ছে। বরং এই ভূমিকার উদ্দেশ্য হলো প্রাচ্যতত্ত্বের বিষয়টিকে এর বহুমুখী সম্পর্কের প্রেক্ষিতে দেখার একটি প্রয়াস...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
موضوعية قائمة على البحث العلمي المتجرد من سيطرة الهوى والعاطفة الزائدة عن المطلوب.
وأؤكد أن الهوى بارز في دراساتنا العربية الإسلامية عن الاستشراق، وكذا العاطفة، ولن نستطيع أن نكون من الموضوعية والتجرد التام، بحيث نغفل انتماءنا إلى هذه الثقافة التي نجادل المستشرقين حولها، ونحاورهم فيها، ولكننا نسعى ألا يسيطر علينا الهوى، ولا تجيش بنا العاطفة إلى الدرجة التي تؤدي بنا إلى أن نغفل الموضوعية والتجرد، مما يؤدي في النهاية إلى رفض الطرح القائم على هذه المنهجية، ويكون أثرا في التوجه إلى المستشرقين، وقبول ما جاءوا به.
ومسألة ارتباط الاستشراق بالتنصير مسألة مسلم بها من المستشرقين أنفسهم، قبل التسليم بها من الدارسين للاستشراق من العرب والمسلمين، ولكن من غير المسلم به ربط الاستشراق كله بالتنصير، وربط التنصير كله بالاستشراق، إذ إن هناك استشراقا لم يتكئ على التنصير، كما أن هناك تنصيرا لم يستفد من الاستشراق. وتتحقق هذه النظرة إذا ما تعمقنا في دراسة الاستشراق من حيث مناهجه وطوائفه وفئاته ومدارسه ومنطلقاته، وأهدافه.
وقد أثارت مقالة " عبد اللطيف الطيباوي " فكرة التوسع في دراسة العلاقة بين التنصير والاستشراق، بعد أن كاد الموضوع يترك لما هناك من التوجه
একটি বস্তুনিষ্ঠতা যা প্রবৃত্তি (هوى) এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত আবেগ থেকে মুক্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
এবং আমি জোর দিয়ে বলছি যে, প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক আমাদের আরবি-ইসলামি গবেষণায় প্রবৃত্তি (هوى) এবং আবেগ অত্যন্ত প্রকট। আমরা পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম হব না যদি আমরা আমাদের সেই সংস্কৃতির সাথে সংশ্লিষ্টতাকে উপেক্ষা করি, যা নিয়ে আমরা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের সাথে তর্ক-বিতর্ক ও সংলাপে লিপ্ত হই। তবে আমরা চেষ্টা করি যেন প্রবৃত্তি (هوى) আমাদের ওপর কর্তৃত্ব না করে এবং আবেগ আমাদের মাঝে এমনভাবে উথলে না ওঠে যা আমাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা থেকে বিচ্যুত করে দেয়। এর ফলে চূড়ান্তভাবে এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত প্রস্তাবনাটি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং এটি প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের অভিমুখ গ্রহণ ও তাদের আনীত বিষয়গুলো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খোদ প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের কাছেই একটি স্বীকৃত বিষয়, যা আরব ও মুসলিম প্রাচ্যতত্ত্ব গবেষকদের কাছে স্বীকৃত হওয়ার আগেই বিদ্যমান ছিল। তবে সমস্ত প্রাচ্যতত্ত্বকে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সাথে সংশ্লিষ্ট করা এবং সমস্ত খ্রিস্টধর্ম প্রচারকে প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে যুক্ত করা কোনো স্বীকৃত বিষয় নয়। কেননা এমন অনেক প্রাচ্যতত্ত্ব রয়েছে যা খ্রিস্টধর্ম প্রচারের ওপর নির্ভর করেনি, ঠিক তেমনি এমন অনেক খ্রিস্টধর্ম প্রচার কার্যক্রম রয়েছে যা প্রাচ্যতত্ত্ব থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করেনি। এই দৃষ্টিভঙ্গি তখনই বাস্তবায়িত হবে যদি আমরা প্রাচ্যতত্ত্বের কর্মপদ্ধতি, দল, উপদল, শ্রেণি, চিন্তাধারা, মূলনীতি এবং লক্ষ্যসমূহ গভীরভাবে অধ্যয়ন করি।
'আব্দুল লতিফ আত-তিবাভি'-র নিবন্ধটি খ্রিস্টধর্ম প্রচার এবং প্রাচ্যতত্ত্বের মধ্যবর্তী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়নের ভাবনাটিকে পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে, বিশেষত যখন একটি নির্দিষ্ট ঝোঁকের কারণে বিষয়টি প্রায় পরিত্যক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
في " نسيان الماضي "، والتعامل مع الاستشراق من منطلقات علمية موضوعية معاصرة لا تربط بين ماضي الاستشراق وحاضره، ولكن هذه المقالة قد أكدت من جديد أنه يتعذر انفكاك حاضر الاستشراق عن ماضيه، على الرغم من محاولات التخفيف من الارتباطات التي كانت بينة من قبل، بحجة أن الحاضر الاستشراقي ليس بالضرورة امتدادا للماضي، بل إنه لا يأخذ من الماضي إلا الاسم، والاسم الآن في طور التغيير عندما يلجأ بعض المستشرقين المعاصرين إلى البراءة من المصطلح " الاستشراق " إلى " الاستعراب " أو " الشرق - أوسطية " أو " علم الإسلاميات "، فيكون المشتغل بالاستشراق، كما خبرناه سلفا، ليس مستشرقا، وإنما هو إما مستعرب، أو شرق - أوسطي، أو عالم من علماء الإسلاميات، أي العلوم الإسلامية.
وعلى أي حال فإن الارتباط الثقافي بين الاستشراق والتنصير لا يزال قائما، وسيظل كذلك، مهما جرت المحاولات لفك هذا الارتباط، إذ لا يزال هناك مستشرقون منصرون، وسيظل هناك منصرون مستشرقون. بل إني أرى أنه ما دام هناك تنصير فهناك استشراق، ذلك أني أرى أن المنصر، لاسيما في البلاد الإسلامية، مضطر إلى دراسة المجتمع المستهدف للتنصير، وبالتالي فإنه مضطر إلى الرجوع إلى النتاج الاستشراقي في الدراسة والتعرف على هذه المجتمعات، ويتبع هذا إمكانية كتابته هو عن هذا المجتمع أو ذاك من وجهة نظره وانطباعاته، إما على شكل تقارير ترفع للمعنيين بالتنصير، أو على شكل مقالات في الدوريات التنصيرية، أو على
"অতীতকে বিস্মৃত হওয়া" এবং প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে সমসাময়িক বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এমনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে যা প্রাচ্যতত্ত্বের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে কোনো সংযোগ স্থাপন করে না; তবে এই নিবন্ধটি পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, প্রাচ্যতত্ত্বের বর্তমানকে তার অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। যদিও পূর্বে বিদ্যমান থাকা স্পষ্ট সম্পর্কগুলোকে শিথিল করার বহু চেষ্টা করা হয়েছে এই অজুহাতে যে, প্রাচ্যতত্ত্বের বর্তমান প্রেক্ষাপট অপরিহার্যভাবে অতীতের কোনো সম্প্রসারিত রূপ নয়, বরং এটি অতীত থেকে কেবল নামটুকুই গ্রহণ করেছে। আর সেই নামটিও এখন পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে যখন সমসাময়িক কিছু প্রাচ্যতত্ত্ববিদ 'প্রাচ্যতত্ত্ব' পরিভাষাটি বর্জন করে 'আরববাদ', 'মধ্যপ্রাচ্যতত্ত্ব' অথবা 'ইসলামী শিক্ষা' পরিভাষাটির আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তি, যেমনটি আমরা আগে থেকে জানি, তিনি আর প্রাচ্যতত্ত্ববিদ হিসেবে গণ্য হন না, বরং তিনি হয় একজন আরববিদ, অথবা মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ, অথবা ইসলামী শিক্ষার পণ্ডিতদের একজন, অর্থাৎ ইসলামি বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ।
যেকোনো অবস্থাতেই প্রাচ্যতত্ত্ব এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারের মধ্যকার সাংস্কৃতিক যোগসূত্র এখনও বিদ্যমান এবং এই যোগসূত্রটি ছিন্ন করার জন্য যত চেষ্টাই করা হোক না কেন তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। কেননা এখনও এমন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ রয়েছেন যারা ধর্মপ্রচারক, আবার এমন ধর্মপ্রচারকও থাকবেন যারা প্রাচ্যতত্ত্ববিদ। বরং আমি মনে করি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ধর্মপ্রচার কার্যক্রম বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ প্রাচ্যতত্ত্বও টিকে থাকবে। কারণ আমি মনে করি যে, একজন ধর্মপ্রচারক, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে, ধর্মপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু সমাজ সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে বাধ্য হন। ফলশ্রুতিতে, তিনি এই সমাজগুলোকে জানতে এবং এগুলো নিয়ে গবেষণা করতে প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ জ্ঞানের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধির আলোকে ওই নির্দিষ্ট সমাজ সম্পর্কে তার লেখার সুযোগ তৈরি হয়; যা হতে পারে ধর্মপ্রচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট পেশকৃত রিপোর্টের আকারে, অথবা ধর্মপ্রচারমূলক সাময়িকীসমূহে প্রকাশিত নিবন্ধের আকারে, অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
شكل كتب مستقلة تبين تجربة المنصر، ويضمنها توصياته وآراءه لزملائه في المهمة. وكل هذا النتاج يدخل في مفهوم الاستشراق، مادام يعالج مجتمعا مسلما من شخص لا ينتمي إليه.
كما أن المصطلح " الاستشراق " سيظل هو المستخدم إلى حين، رغم مزاحمة المصطلحات الجديدة له، ذلك أن ما أنتج على مدى القرون الماضية من دراسات وبحوث وآراء ونظريات تحت اسم الاستشراق لا يتوقع له أن يزول لمجرد أن هناك محاولات معاصرة للانسلاخ من المصطلح والدخول في مصطلح جديد، بل في مصطلحات جديدة، هي لا تعدو أن تكون تغييرا طفيفا على الاسم بينما المسمى باق بكل ما يحمله من دلالات.
এটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের রূপ লাভ করে যা একজন খ্রিষ্টধর্ম প্রচারকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এবং এতে তিনি এই মিশনে নিয়োজিত তার সহকর্মীদের জন্য নিজের সুপারিশ ও মতামতগুলো অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সমস্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ প্রাচ্যতত্ত্বের ধারণার অন্তর্ভুক্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত তা এমন কোনো ব্যক্তির দ্বারা মুসলিম সমাজকে বিশ্লেষণ করে যে নিজে সেই সমাজের অন্তর্ভুক্ত নয়।
অনুরূপভাবে 'প্রাচ্যতত্ত্ব' পরিভাষাটি আরও কিছুকাল ব্যবহৃত হতে থাকবে, যদিও নতুন নতুন পরিভাষা একে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছে। কারণ গত শতাব্দীগুলোতে প্রাচ্যতত্ত্বের অধীনে যে সকল অধ্যয়ন, গবেষণা, মতামত ও তত্ত্ব উৎপাদিত হয়েছে, কেবল এই পরিভাষাটি পরিহার করে নতুন কোনো পরিভাষা বা পরিভাষাসমূহ গ্রহণের সমকালীন প্রচেষ্টার কারণেই তা বিলীন হয়ে যাবে বলে আশা করা যায় না। বরং এগুলো নামের সামান্য পরিবর্তন মাত্র, অথচ সেই নাম যা নির্দেশ করে তা তার যাবতীয় তাৎপর্য ও অনুষঙ্গসহ অপরিবর্তিত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
[القسم الأول الدراسة الاستشراق والتنصير مدى العلاقة بين ظاهرتين]
[المدخل]القسم الأول: الدراسة
الاستشراق والتنصير
مدى العلاقة بين ظاهرتين
[প্রথম অংশ: গবেষণা - প্রাচ্যতত্ত্ব ও খ্রিস্টধর্ম প্রচার: দুই প্রপঞ্চের মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপ্তি][ভূমিকা]প্রথম অংশ: গবেষণা
প্রাচ্যতত্ত্ব ও খ্রিস্টধর্ম প্রচার
দুই প্রপঞ্চের মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপ্তি
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المدخل: اعتنت الدراسات العربية حول الاستشراق والمستشرقين بالبحث عن البواعث أو الأهداف التي حدت بهم إلى دراسة علوم المسلمين، لا سيما التراث الإسلامي مع انطلاقة الاستشراق، ثم المجتمع المسلم الحديث الذي شهد تطورات وتغييرات دعت إلى دراسته والتركيز عليه.
ويقرر كثير من الباحثين الذين درسوا أهداف الاستشراق أن الهدف الديني يقف على قمة هذه البواعث، ذلك أن العلاقة بين الغرب والإسلام قائمة على " صراع " ديني ظهر واضحا أثناء الحروب الصليبية التي امتدت قرنين من الزمان من سنة 489 - 691 هـ، 1095 - 1291 م، هذا مع الأخذ في الحسبان الرأي القائل أن هذه الحروب لما تنته، ولن تنتهي مصداقا لقول الباري عز وجل {وَلَن تَرْضَى عَنكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ} [البقرة: 120] (1) .
والمعلوم أن المستشرقين ليسوا جميعا ممن ينتمون إلى النصرانية دينا،
--------------------------------------------
ভূমিকা: প্রাচ্যতত্ত্ব এবং প্রাচ্যবিদদের নিয়ে রচিত আরবি গবেষণাসমূহ সেই সব প্রেষণা বা উদ্দেশ্য অনুসন্ধানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে যা তাদেরকে মুসলিম জ্ঞানবিজ্ঞান অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করেছিল; বিশেষত প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনালগ্নে ইসলামি ঐতিহ্য এবং পরবর্তীতে আধুনিক মুসলিম সমাজ যা এমন সব বিবর্তন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে যা সেটিকে অধ্যয়ন ও তার ওপর গুরুত্বারোপ করার দাবি রাখে।
প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে গবেষণাকারী অনেক গবেষক এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, ধর্মীয় উদ্দেশ্যই এই প্রেষণাসমূহের শীর্ষে অবস্থান করছে। কেননা পাশ্চাত্য ও ইসলামের মধ্যকার সম্পর্ক একটি ধর্মীয় 'দ্বন্দ্বের' ওপর প্রতিষ্ঠিত যা ক্রুসেড যুদ্ধের সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল, যা হিজরি ৪৮৯ থেকে ৬৯১ (১০৯৫ - ১২৯১ খ্রিষ্টাব্দ) সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই শতাব্দী ব্যাপী স্থায়ী হয়েছিল। এর সাথে এই মতটি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে, এই যুদ্ধ শেষ হয়নি এবং মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সত্যতা অনুযায়ী তা কখনো শেষ হবেও না: {আর ইহুদি ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করবেন। বলুন, নিশ্চয় আল্লাহর পথনির্দেশই হলো প্রকৃত পথনির্দেশ। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না।} [বাকারা: ১২০] (১)।
এটি সুবিদিত যে, প্রাচ্যবিদদের সকলেই ধর্মীয়ভাবে খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী নন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ففيهم المستشرقون اليهود الذين خدموا اليهودية من خلال دراساتهم الاستشراقية، كما أن فيهم الملحدين الذين خدموا الإلحاد من خلال اهتمامهم بالمنطقة العربية والإسلامية، ومحاولاتهم نشر الإلحاد في هذه البقاع بديلا عن الإسلام.
ويمكن أن يدخل هؤلاء جميعا تحت الهدف الديني، إذا ما توسعنا في هذا المصطلح. ثم العلمانية التي تعد كذلك دينا أو اعتقادا إذا أردنا الدقة. وهناك انتساب واضح إلى العلمانية عند فئة من المستشرقين، (1) كما أن هناك انتسابا صريحا للصهيونية عند فئة أخرى من المستشرقين، (2) مما يعني أن هناك انتسابا صريحا للتنصير عند فئة ثالثة من المستشرقين. وهذا يؤيد أن النظرة إلى الاستشراق التنصيري لا تحتاج إلى شيء من التعسف
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে এমন ইহুদি প্রাচ্যতাত্ত্বিকগণ (مستشرقون) রয়েছেন যারা তাদের প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে ইহুদিবাদের সেবা করেছেন। তেমনি তাদের মধ্যে এমন নাস্তিকও রয়েছেন যারা আরব ও ইসলামি অঞ্চলের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং ইসলামের বিকল্প হিসেবে এই ভূখণ্ডগুলোতে নাস্তিক্যবাদ প্রসারের প্রচেষ্টার মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদের সেবা করেছেন।
যদি আমরা এই পরিভাষাটির (مصطلح) ব্যাপ্তি ঘটাই, তবে এই সকলকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এরপর আসে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (علمانية), যা সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি ধর্ম বা বিশ্বাস (اعتقاد) হিসেবেই গণ্য হয়। প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের একটি শ্রেণির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সাথে স্পষ্ট সম্পৃক্ততা দেখা যায়, (১) যেমন অন্য একটি শ্রেণির মধ্যে জায়নবাদের (صهيونية) সাথে প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা রয়েছে, (২) যার অর্থ হলো তৃতীয় আরেকটি শ্রেণির মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (تنصير) সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা বিদ্যমান। এটি এই দাবিকেই সমর্থন করে যে, খ্রিস্টধর্ম প্রচারমূলক প্রাচ্যতত্ত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কষ্টকল্পনার (تعسف) প্রয়োজন নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أو تلمس البراهين لتأييد وجود منصرين مستشرقين، ذلك أن فئة منهم لم تتورع عن قبول اللقب الديني، أو الرتبة الدينية " الأب " أو " الأسقف " أو " البطريرك " أو " المطران " سابقا للاسم الأصلي، كما سيتبين عند سرد نماذج من المستشرقين المنصرين.
ومن الأهداف الفرعية للهدف الديني الرئيسي للاستشراق الهدف التنصيري (1) إذ وجد جمع من المستشرقين هدفوا من دراستهم للشرق إلى تعميق فكرة التنصير في هذا المجتمع، وحاولوا بطريقتهم العلمية تحقيق مفهوم التنصير، مع ما تعرض له هذا المفهوم من تحوير، لا سيما عندما يكون موجها لمجتمع متدين كالمجتمع المسلم، وبما يحمله المفهوم من حماية النصارى من الإسلام، والحد من انتشاره بين النصارى وفي مواطنهم، ومن ثم الحد من انتشاره بين غير النصارى في مواطنهم أيضا. يمكن أن يكون من الأهداف الدينية التنصيرية السعي إلى توحيد الكنيستين الشرقية والغربية، الأمر الذي يستدعي وجود الاستشراق والإفادة منه في هذا الشأن (2) .
--------------------------------------------
অথবা প্রাচ্যবিদ ধর্মপ্রচারকদের অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ অনুসন্ধান করা; কারণ তাদের একটি গোষ্ঠী মূল নামের পূর্বে ধর্মীয় উপাধি কিংবা ধর্মীয় পদমর্যাদা যেমন ‘ফাদার’, ‘বিশপ’, ‘প্যাট্রিয়ার্ক’ কিংবা ‘মেট্রোপলিটান’ গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি, যেমনটি প্রাচ্যবিদ ধর্মপ্রচারকদের উদাহরণ বর্ণনার সময় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
প্রাচ্যতত্ত্বের প্রধান ধর্মীয় লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি গৌণ লক্ষ্য হলো খ্রিস্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্য (১)। কেননা একদল প্রাচ্যবিদ এমন ছিলেন যারা প্রাচ্যবিষয়ক অধ্যয়নের মাধ্যমে এই সমাজে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের ধারণাকে গভীরতর করতে চেয়েছিলেন এবং তারা তাদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের ধারণাটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। এই ধারণার ক্ষেত্রে কিছুটা রূপান্তর ঘটানো হয়েছিল, বিশেষ করে যখন এটি মুসলিম সমাজের ন্যায় একটি ধর্মপ্রাণ সমাজের প্রতি পরিচালিত হয়। এই ধারণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল খ্রিস্টানদের ইসলাম থেকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং খ্রিস্টানদের মাঝে ও তাদের জনপদে ইসলামের প্রসারে বাধা প্রদান করা, আর এর মাধ্যমে অ-খ্রিস্টানদের মাঝেও ইসলামের বিস্তার রোধ করা। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের ধর্মীয় লক্ষ্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য গির্জাদ্বয়কে একীভূত করার প্রচেষ্টা, যা এই ক্ষেত্রে প্রাচ্যতত্ত্বের আবশ্যকতা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দাবি করে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ويقول " إدوارد سعيد ": " ولقد أظهر مؤرخون عديدون أن أقدم الباحثين الأوربيين في شؤون الإسلام كانوا من أهل الجدل في القرون الوسطى، ممن كتبوا لتبديد تهديد الحشود الإسلامية وتهديد الارتداد، وبطريقة أو بأخرى تواصل هذا المزيج من الفزع والعداء حتى يومنا هذا في الانتباه البحثي وغير البحثي المنصب على إسلام يرى منتميا إلى جزء من العالم (هو الشرق) يوضع موقع النقيض ضد أوروبا والغرب على الصعيد التخييلي والجغرافي والتاريخي " (1) .
[مؤيدات هذا الهدف]مؤيدات هذا الهدف: والذي يؤيد وجود هذا الهدف عدة عوامل مهمة، ومن أبرزها:
- أن أساس العلاقة بين الشرق والغرب قد قامت على العداء الديني، ورفض الإسلام بديلا للنصرانية في الشرق وغيره، بما في ذلك حماية النصارى الشرقيين من الإسلام، والتأثير على الأرثوذوكس في الشرق واستقطابهم للكنيسة الكاثوليكية في الغرب (2) .
--------------------------------------------
এডওয়ার্ড সাইদ বলেন: "অনেক ইতিহাসবিদ দেখিয়েছেন যে, ইসলামি বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণাকারী প্রাচীনতম ইউরোপীয় গবেষকগণ ছিলেন মধ্যযুগের বিতর্কতাত্ত্বিকদের অন্তর্ভুক্ত, যারা লিখেছিলেন মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভীতি এবং ধর্মত্যাগের হুমকি দূর করার জন্য। কোনো না কোনোভাবে আতঙ্ক ও শত্রুতার এই সংমিশ্রণ বর্তমানকাল পর্যন্ত গবেষণাধর্মী ও সাধারণ মনোযোগের ক্ষেত্রে অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ইসলামকে বিশ্বের এমন এক অংশ (অর্থাৎ প্রাচ্য) হিসেবে দেখা হয় যা কাল্পনিক, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক স্তরে ইউরোপ এবং পাশ্চাত্যের বিপরীতে অবস্থান করে" (১)।
[এই লক্ষ্যের সপক্ষে প্রমাণসমূহ]এই লক্ষ্যের সপক্ষে প্রমাণসমূহ: বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই লক্ষ্যের অস্তিত্বকে সমর্থন করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় শত্রুতার ওপর এবং প্রাচ্য ও অন্যান্য স্থানে খ্রিস্টধর্মের বিকল্প হিসেবে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল প্রাচ্যের খ্রিস্টানদের ইসলাম থেকে রক্ষা করা এবং প্রাচ্যের অর্থোডক্সদের প্রভাবিত করে পাশ্চাত্যের ক্যাথলিক চার্চের প্রতি আকৃষ্ট করা (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
- وأن هذا الشعور قد " ولد " شعورا بالاستعلاء والفوقية الغربية على بقية أمم الأرض، بما فيها المسلمون، وأن هذا الشعور بالفوقية قد انطلق من الكنيسة الغربية باحتقار كل ما هو غير بابوي النحلة والهوى، وقد تسرب هذا الشعور " رويدا بتأثير وعاظ الكنائس والقسس والرهبان، فخلق فيهم حالة نفسية استعلائية، صبغت العقلية الغربية والفكر الغربي في القرون الوسطى " (1) وقد صدق المستشرقون هذه النظرة " ولم يكلفوا أنفسهم تبديلها مع عيشهم الطويل بين المسلمين أو من زياراتهم المتكررة واطلاعهم على القرآن الكريم والحديث الشريف " (2) . فاستمر شعورهم العميق بتفوق ما لديهم، إن حقا وإن باطلا، في الوقت الذي رأوا فيه بطلان ما لدى غيرهم لعدم اتفاقه مع ما لديهم من دين وثقافة وفكر.
- أن طلائع المستشرقين من النصارى كانوا ذوي مناصب دينية، وأنهم قد انطلقوا من الكنائس والأديرة، ويعود هذا إلى النصف الثاني من القرن
--------------------------------------------
আর এই অনুভূতিটি বিশ্বের অন্যান্য জাতিসমূহের ওপর—যাদের মধ্যে মুসলিমরাও অন্তর্ভুক্ত—পাশ্চাত্য শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্যের বোধ ‘জন্ম’ দিয়েছে। শ্রেষ্ঠত্বের এই অনুভূতিটি মূলত পাশ্চাত্য গির্জা থেকে পোপের মতাদর্শ ও ঝোঁকের বাইরের সবকিছুর প্রতি অবজ্ঞার মাধ্যমে উৎসারিত হয়েছিল। গির্জার ওয়ায়েজ, যাজক এবং সন্ন্যাসীদের প্রভাবে এই অনুভূতি ‘ধীরে ধীরে’ ছড়িয়ে পড়েছিল; যা তাদের মধ্যে একটি আধিপত্যকামী মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল এবং মধ্যযুগের পাশ্চাত্য মানসিকতা ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করেছিল। (১) প্রাচ্যবিদগণ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন এবং "মুসলিমদের মাঝে দীর্ঘকাল বসবাস করার কিংবা বারবার সফর করার এবং পবিত্র কুরআন ও হাদিস অধ্যয়ন করার পরেও তারা নিজেরা তা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেননি।" (২)। ফলে তাদের নিজেদের কাছে যা আছে—তা সত্য হোক বা মিথ্যা—তার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তাদের গভীর অনুভূতি অব্যাহত থাকে; ঠিক সেই সময়েই তারা অন্যের কাছে যা আছে তাকে অসার বা বাতিল মনে করে, কারণ তা তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
- খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদদের অগ্রপথিকগণ ধর্মীয় উচ্চপদে আসীন ছিলেন এবং তাঁরা গির্জা ও মঠগুলো থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন; এটি এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের ঘটনা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرابع الهجري، القرن العاشر الميلادي، (1) مع أن التبادل الثقافي والعلمي بين المسلمين ونصارى أوربا قد بدأ قبل ذلك بكثير، لا سيما في عهد الخليفة العباسي " هارون الرشيد " (ت 182 هـ) ، و " المأمون: (ت 230 هـ) (2) .
- وأن كثيرا من المستشرقين قد بدأوا حياتهم العلمية بدراسة اللاهوت قبل التفرغ لميدان الدراسات الاستشراقية (3) وكان همهم إرساء نهضة الكنيسة وتعاليمها، لا سيما في العصور الوسطى (4) أي أن هدفهم كان تنصيريا واضحا، فكأن الاستشراق إنما قام ليغذي التنصير بالمعلومة المنقولة بلغة المنصر، رغم محاولات تعميم اللاتينية لغة للتنصير (5) .
--------------------------------------------
চতুর্থ হিজরি তথা দশম খ্রিষ্টাব্দ, (১) যদিও মুসলিম এবং ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক আদান-প্রদান তার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, বিশেষ করে আব্বাসীয় খলিফা "হারুন আল-রশিদ" (মৃত্যু ১৮২ হি.) এবং "আল-মামুন" (মৃত্যু ২৩০ হি.)-এর যুগে (২)।
- এবং অনেক প্রাচ্যবিদ প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে পূর্ণ মনোনিবেশ করার আগে ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের মাধ্যমেই তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন শুরু করেছিলেন (৩)। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল গির্জার পুনর্জাগরণ ও এর শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা, বিশেষ করে মধ্যযুগে (৪)। অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য ছিল সুস্পষ্টভাবে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারমূলক, যেন প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্ভবই হয়েছিল খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের কাজকে প্রচারকের ভাষায় তথ্যের যোগান দিয়ে পুষ্ট করার জন্য, যদিও ল্যাটিন ভাষাকে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের ভাষা হিসেবে সর্বজনীন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
- وأن أوائل المطبوعات الغربية باللغة العربية قد ركزت على الكتب الدينية النصرانية، وأن أول ما طبعته لايدن من الكتب كان الإنجيل (1569 - 1573 م) ويذكر " العقيقي " أن أول كتاب عربي طبع في هولندا كان الحروف الأبجدية والمرموز الخمسين تجربة لها (1595 م) (1) .
- وأن التنصير قد اتكأ كثيرا على الاستشراق في الحصول على المعلومات عن المجتمعات المستهدفة، لا سيما الإسلامية في موضوعنا هذا، وخاصة عندما اكتسب مفهوم التنصير معنى أوسع من مجرد الإدخال في النصرانية إلى تشويه الإسلام والتشكيك في الكتاب والسنة والسيرة وغيرها (2) فكان فرسان في هذا التطور في المفهوم هم المستشرقين (3) .
- وأن من مقاصد الاستشراق الرئيسة، التي انطلق منها، التعرف على
--------------------------------------------
- পাশ্চাত্য দেশগুলো থেকে আরবি ভাষায় মুদ্রিত শুরুর দিকের প্রকাশনাগুলো খ্রিস্টধর্মীয় গ্রন্থাবলির ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল। লাইডেন থেকে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থটি ছিল বাইবেল (১৫৬৯ - ১৫৭৩ খ্রি.)। 'আল-আকিকি' উল্লেখ করেছেন যে, নেদারল্যান্ডসে মুদ্রিত প্রথম আরবি বইটি ছিল পরীক্ষামূলকভাবে প্রস্তুতকৃত বর্ণমালা এবং পঞ্চাশটি প্রতীক সংবলিত একটি সংকলন (১৫৯৫ খ্রি.) (১)।
- খ্রিস্টান ধর্মপ্রচার (মিশনারি কার্যক্রম) লক্ষ্যভুক্ত সমাজগুলোর—বিশেষ করে আমাদের এই বিষয়ের ক্ষেত্রে ইসলামি সমাজগুলোর—তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রাচ্যতত্ত্বের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিল। বিশেষ করে যখন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারের ধারণাটি কেবল খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার গণ্ডি পেরিয়ে ইসলামকে বিকৃত করা এবং কুরআন (الكتاب), সুন্নাহ (السنة), সিরাত (السيرة) ও অন্যান্য উৎস সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করার মতো ব্যাপক অর্থ লাভ করে (২), তখন এই ধারণাগত পরিবর্তনের অগ্রপথিক ছিলেন প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ (৩)।
- প্রাচ্যতত্ত্বের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য, যা থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
مصادر النصرانية من اللغة العبرية، وقد ساقتهم دراسة اللغة العبرية إلى تعلم اللغة العربية، وتعلم اللغة العربية قاد إلى الاستشراق، فاللغة العربية هي لغة دين وثقافة وفكر جاء ليحل محل الدين النصراني والثقافة والفكر المنبثقين عن الدين النصراني، فأوجد هذا نزعة التعصب التي قادت إلى استخدام اللغة العربية والعبرية في هذا المنحى " الاستشراقي الذي اتجه إلى الإسلام والعربية، وقد قيل: إنك لا تكاد تجد مستشرقا إلا أجاد اللغة العبرية والعربية معا " (1) .
- وأن البداية. " الرسمية " للاستشراق قد انطلقت من مجمع فينا الكنسي سنة 712 هـ 1312 م، الذي نعرف الآن أنه قد أوصى بإنشاء عدة كراسي للغات، ومنها اللغة العربية، ولا سيما التشريع الحادي عشر الذي قضى فيه البابا " إكليمنس الخامس " بتأسيس كراسي لتدريس العبرية واليونانية والعربية والكلدانية (السريانية، الآرامية) في الجامعات الرئيسية (2) وكانت
--------------------------------------------
খ্রিস্টধর্মের উৎসসমূহ হিব্রু ভাষার অন্তর্ভুক্ত। হিব্রু ভাষা অধ্যয়ন তাদের আরবি ভাষা শেখার দিকে পরিচালিত করেছে এবং আরবি ভাষা শিক্ষা প্রাচ্যতত্ত্বের (ওরিয়েন্টালিজম) দিকে নিয়ে গেছে। মূলত আরবি ভাষা হলো এমন এক দ্বীন, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার ভাষা যা খ্রিস্টীয় ধর্ম এবং খ্রিস্টধর্ম থেকে উদ্ভূত সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার স্থলাভিষিক্ত হতে এসেছিল। ফলে এটি এক ধরনের গোঁড়ামির প্রবণতা তৈরি করেছে যা এই "প্রাচ্যতাত্ত্বিক" ধারায় আরবি ও হিব্রু ভাষাকে ব্যবহারের দিকে ধাবিত করেছে, যা ইসলাম ও আরবির প্রতি নিবদ্ধ ছিল। বলা হয়ে থাকে: "আপনি এমন কোনো প্রাচ্যতাত্ত্বিক পাবেন না যে হিব্রু ও আরবি উভয় ভাষাতেই সমান পারদর্শী নয়" (১)।
- এবং প্রাচ্যতত্ত্বের "আনুষ্ঠানিক" সূচনা হয়েছিল ৭১২ হিজরি (১৩১২ খ্রিস্টাব্দ) সালে ভিয়েনার চার্চ কাউন্সিল থেকে। আমরা এখন জানি যে, সেই কাউন্সিল বেশ কয়েকটি ভাষার জন্য চেয়ার বা শিক্ষা-বিভাগ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছিল, যার মধ্যে আরবি ভাষাও ছিল। বিশেষ করে একাদশতম সংবিধি, যাতে পোপ "পঞ্চম ক্লেমেন্ট" প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিব্রু, গ্রিক, আরবি এবং ক্যালডীয় (সিরিয়াক, আরামাইক) ভাষা পাঠদানের জন্য বিভাগ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিলেন (২)। এবং ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذه التوصية قائمة على دعوة " ريموند لول " (1) لإنشاء كراسي للغة العربية في أماكن مختلفة. وينقل عبد اللطيف الطيباوي عن " رادشل " في كتاب له عنوانه: الجامعات في أوربا في القرون الوسطى أن " الغرض من هذا القرار كان تنصيريا صرفا وكنسيا لا علميا " (2) .
- وأن الاستشراق قد استشرى ونال رعاية الكنيسة ومباركتها عندما ثبت فشل الحروب العسكرية من خلال انحسار المد الغربي الصليبي بعد جهود قرنين من الزمان، فاتجهت الكنيسة الغربية إلى التنصير من خلال الفكر والثقافة والعلم، فكان التوجه إلى ما نسميه اليوم بالغزو الفكري في تحقيق ما فشل فيه سلاح الغزو الحربي (3) . هذا الغزو الذي اتخذ من الاستشراق منطلقا له، سعى من خلاله إلى تشويه الإسلام بطرق شتى، لا تتعدى كونها جملة من الإسقاطات التي نالت حظا طيبا من النقاش والرد، في زمان
--------------------------------------------
এই সুপারিশটি বিভিন্ন স্থানে আরবি ভাষার জন্য আসন (চেয়ার) প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে "রেমন্ড লাল" (১)-এর আহ্বানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আব্দুল লতিফ আল-তিয়াবি তাঁর একটি বইয়ে "র্যাডশেল"-এর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন যার শিরোনাম: 'মধ্যযুগে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ' যে, "এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল বিশুদ্ধভাবে ধর্মপ্রচারমূলক (تنصيريا) এবং গির্জা-কেন্দ্রিক, বৈজ্ঞানিক নয়" (২)।
- এবং যখন দুই শতাব্দীর প্রচেষ্টার পর পশ্চিমা ক্রুসেডারদের অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার মাধ্যমে সামরিক যুদ্ধের ব্যর্থতা প্রমাণিত হলো, তখন প্রাচ্যতত্ত্ব (استشراق) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং গির্জার পৃষ্ঠপোষকতা ও আশীর্বাদ লাভ করে। ফলে পশ্চিমা গির্জা চিন্তা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মপ্রচারের (التنصير) দিকে মনোনিবেশ করে। সুতরাং এটি ছিল সেই বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের (الغزو الفكري) দিকে ধাবিত হওয়া যা দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করা উদ্দেশ্য ছিল যেখানে সামরিক যুদ্ধের অস্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল (৩)। এই আগ্রাসন, যা প্রাচ্যতত্ত্বকে (استشراق) নিজের যাত্রাবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করেছিল, তার মাধ্যমে ইসলামকে বিভিন্ন উপায়ে বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছে। এগুলো মূলত কিছু আরোপিত ধারণার (إسقاطات) সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়, যা সমসাময়িককালে যথেষ্ট আলোচনা ও খণ্ডনের সম্মুখীন হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
إطلاقها وبعده، من كثير من المسلمين (1) .
وكان الهدف من هذه الدعوة هو أن تؤتي محاولات التنصير ثمارها بنجاح من خلال تعلم لغات المسلمين (2) وقد عبر عن هذه الثمار في دعوة " لول " بارتداد العرب إلى النصرانية من الإسلام، كما كان " غريغوري العاشر " يأمل في ارتداد المغول إلى النصرانية، وقبله كان " الإخوة الفرنسيسكان " قد توغلوا في أعماق آسيا يدفعهم حماسهم التنصيري، ومع أن آمالهم لم تتحقق في وقتها إلا أن الروح التنصيرية قد تنامت منذئذ (3) .
وهذا يعني بتعبير أوضح " إقناع المسلمين بلغتهم ببطلان الإسلام، واجتذابهم إلى الدين النصراني " (4) وهذا مما أدى إلى الاستنتاج أن
--------------------------------------------
এর প্রারম্ভে এবং তার পরে অনেক মুসলিমের পক্ষ থেকে (১)।
এই আহ্বানের লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصير) প্রচেষ্টাগুলোকে সফলভাবে ফলপ্রসূ করা (২)। "লুল"-এর আহ্বানে এই সাফল্যের বিষয়টি আরবদের ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের (ارتداد) মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছিল, যেমনটি "দশম গ্রেগরি" মঙ্গোলদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার আশা করেছিলেন। তাঁর আগে "ফ্রান্সিসকান ব্রাদার্স" তাদের খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصيري) প্রবল উদ্দীপনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এশিয়ার গভীরে প্রবেশ করেছিলেন। যদিও তৎকালীন সময়ে তাদের আশা পূরণ হয়নি, কিন্তু খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصيرية) চেতনা তখন থেকেই বৃদ্ধি পেয়েছিল (৩)।
পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে এর অর্থ হলো— "মুসলিমদের তাদের নিজস্ব ভাষায় ইসলামের অসারতা সম্পর্কে বুঝিয়ে আশ্বস্ত করা এবং তাদের খ্রিস্টধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করা" (৪)। এটি এমন একটি বিষয় যা এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التنصير هو الأصل الحقيقي للاستشراق، " وليس العكس صحيحا كما يذهب أغلب الباحثين " (1) . والدلائل التي ذكرت في ثنايا هذه الدراسة تؤيد ذلك وتدعمه.
ومن هذا المنطلق يفهم التوجه إلى تعريف المستشرقين بأنهم " الذين يقومون بهذه الدراسات من غير الشرقيين، ويقدمون الدراسات اللازمة للمبشرين، بغية تحقيق أهداف التبشير، وللدوائر الاستعمارية بغية تحقيق أهداف الاستعمار " (2) .
وقد انتظم الاستشراق في الفاتيكان وانتشر واستمر على أيدي البابوات والأساقفة والرهبان، فكان رجال الدين النصراني " - ومجمعهم الفاتيكان يومئذ - يؤلفون الطبقة المتعلمة في أوربا، ولا سبيل إلى إرساء نهضتها إلا على أساس من التراث الإنساني الذي تمثلته الثقافة العربية، فتعلموا العربية، ثم اليونانية، ثم اللغات الشرقية للنفوذ منها إليه. . . " (3) وكذلك لمقارعة فقهاء المسلمين واليهود والرد عليهم، وتدريب أدلاء يتخاطبون بالعربية
--------------------------------------------
খ্রিস্টানিকরণ (التنصير) হলো প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) প্রকৃত উৎস, "বেশিরভাগ গবেষক যেমনটি মনে করেন বিষয়টি তার বিপরীত নয়" (১)। আর এই গবেষণার পরতে পরতে উল্লিখিত প্রমাণাদি একে সমর্থন ও জোরদার করে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقين) সংজ্ঞায়িত করার এই প্রবণতাটি বোঝা যায় যে, তারা হলেন "সেই সকল ব্যক্তি যারা প্রাচ্যদেশীয় না হওয়া সত্ত্বেও এই সকল গবেষণা পরিচালনা করেন এবং মিশনারিদের (المبشرين) উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় গবেষণাপত্র সরবরাহ করেন, যাতে মিশনারি তৎপরতার (التبشير) লক্ষ্য পূরণ হয়; এবং উপনিবেশবাদী চক্রের জন্য যাতে উপনিবেশবাদের (الاستعمار) লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হয়" (২)।
ভ্যাটিকানে প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) সুসংগঠিত হয়েছিল এবং পোপ, বিশপ ও পাদ্রিদের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ে ও অব্যাহত থাকে। খ্রিস্টান ধর্মযাজকগণই—তৎকালীন ভ্যাটিকানই ছিল যাদের মূল কেন্দ্র—ইউরোপের শিক্ষিত শ্রেণি গঠন করেছিলেন। আরবি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী মানবিক ঐতিহ্যের ভিত্তি ছাড়া ইউরোপীয় রেনেসাঁ বা জাগরণ প্রতিষ্ঠা করার কোনো পথ ছিল না। তাই তারা আরবি শিখেছিলেন, এরপর গ্রিক এবং পরবর্তীতে প্রাচ্যদেশীয় ভাষাগুলো আয়ত্ত করেছিলেন যাতে সেগুলোর মাধ্যমে মূল উৎসে প্রবেশ করা যায়... (৩) একইভাবে মুসলিম ও ইহুদি ফকিহদের (فقهاء) মোকাবিলা করা, তাদের জবাব দেওয়া এবং আরবি ভাষায় কথা বলতে সক্ষম এমন পথপ্রদর্শক তৈরির লক্ষ্যেও এটি করা হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
للقيام على خدمة مرتادي بيت المقدس من النصارى، ويطلق عليهم " الحجاج "، فأسس البابا جمعية الجوالين سنة 648 هـ - 1250 م، وطبعت بعد ذلك أدلة الحج، وفيها الأبجدية العربية وطريقة النطق بها، وخريطة لمدينة القدس، ورسوم للزي العربي، لا سيما اللبناني، يقول نجيب العقيقي في هذا: " فكان أول ما عرفت أوربا من الطباعة العربية " (1) .
وقد أضحى هذا المنحى في الرؤية إلى نشأة الاستشراق مما يتفق عليه معظم الباحثين المسلمين في ظاهرة الاستشراق (2) لا سيما أولئك الذين لا يسعون إلى الاعتذار للمستشرقين بخاصة، وللغرب بعامة، وقد عد الاستشراق أقرب الطرق وأسهلها للتنصير (3) .
على أني لحظت أن هناك من يرى التداخل بين التنصير والاستعمار في الإفادة من الاستشراق، بحيث يقال إن الهدف من الاستشراق هو " التمهيد للاستعمار الزاحف. . . حتى يمكن للمستعمرين التعامل مع الشعوب المغلوبة
--------------------------------------------
বাইতুল মাকদিসে আগত খ্রিস্টান দর্শনার্থীদের সেবার জন্য, যাদেরকে 'হজ্জযাত্রী' বলা হতো, পোপ ১২৫০ খ্রিস্টাব্দ (৬৪৮ হিজরি) সালে 'জমইয়াতুল জাওয়ালিন' (ভ্রমণকারী সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর হজ্জের নির্দেশিকাগুলো মুদ্রিত হয়েছিল, যাতে আরবি বর্ণমালা ও তার উচ্চারণ পদ্ধতি, কুদস শহরের মানচিত্র এবং বিশেষত লেবানীয়দের আরবি পোশাকের চিত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই প্রসঙ্গে নজিব আল-আকিকি বলেন: "আরবি মুদ্রণ সম্পর্কে ইউরোপ এভাবেই প্রথম জানতে পেরেছিল" (১)।
প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্ভবের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গিটি বর্তমানে প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক অধিকাংশ মুসলিম গবেষকদের নিকট একটি সর্বসম্মত বিষয়ে পরিণত হয়েছে (২); বিশেষ করে সেই সকল গবেষকদের কাছে, যারা বিশেষত প্রাচ্যবিদদের এবং সাধারণভাবে পাশ্চাত্যের সপক্ষে সাফাই গাইতে আগ্রহী নন। আর প্রাচ্যতত্ত্বকে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (৩) নিকটতম এবং সহজতম পথ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
তবে আমি লক্ষ্য করেছি যে, কেউ কেউ প্রাচ্যতত্ত্ব থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে খ্রিস্টধর্ম প্রচার এবং উপনিবেশবাদের মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্র প্রত্যক্ষ করেন; যাতে বলা হয় যে, প্রাচ্যতত্ত্বের লক্ষ্য হলো "ক্রম অগ্রসরমান উপনিবেশবাদের পটভূমি তৈরি করা... যাতে উপনিবেশ স্থাপনকারীরা বিজিত জাতিগুলোর সাথে লেনদেন করতে সক্ষম হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المنهوبة على ضوء ما عرفوه عنها " (1) وفي هذا شيء من الاقتصار على هدف من أهداف الاستشراق يخدم مجال الباحث في بحثه دون النظر إلى الأهداف الأخرى، ويؤدي هذا إلى قصر الأهداف على الهدف الديني التنصيري، الأمر الذي ينبغي ألا يكون.
ومن المهم هنا النظرة إلى التداخل في الأهداف مع القدرة على التمييز بينها، وأن هذه الأهداف إنما تسعى إلى الإفادة من بعضها في تحقيق غاياتها، فالهدف الديني، ومنه التنصير، للاستشراق يتداخل مع الأهداف الأخرى كالاستعمار والهدف السياسي، بل والهدف الاقتصادي والتجاري، ثم الهدف العلمي، وذلك لتعذر التخلي عن الخلفية الثقافية القائمة على الدين في النظر إلى الثقافات الأخرى. وهذا ما جعل بعض المستشرقين ينظر إلى الشرق نظرة فوقية مدعيا أن علو الغرب إنما يعود إلى الديانة النصرانية، بينما يعود تخلف الشرق وبالتالي دونيته لتمسكه بالإسلام.
وقد استمرت هذه النظرة الفوقية المنبعثة من الدين، وغذتها كذلك النظرة العرقية، إلى وقتنا الحاضر، ويذكر " خير الله سعيد " أن " جوهر الاستشراق هو التمييز الذي يستحيل اجتثاثه بين الفوقية الغربية والدونية الشرقية، ثم
--------------------------------------------
লুণ্ঠিত বিষয়াবলি সে সম্পর্কে তাদের অর্জিত জ্ঞানের আলোকে (১)। আর এতে প্রাচ্যতত্ত্বের লক্ষ্যসমূহের মধ্য থেকে কেবল একটি লক্ষ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা অন্যান্য লক্ষ্যসমূহের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে কেবল গবেষকের গবেষণার ক্ষেত্রকেই সহায়তা করে। এটি লক্ষ্যসমূহকে কেবল ধর্মীয় ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারণামূলক লক্ষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে, যা হওয়া অনুচিত।
এখানে লক্ষ্যসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা অনুধাবনের পাশাপাশি তাদের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যগুলো মূলত তাদের উদ্দেশ্য সাধনে একে অপরের থেকে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে। ফলে প্রাচ্যতত্ত্বের ধর্মীয় লক্ষ্য—যার একটি অংশ হলো খ্রিস্টধর্ম প্রচার—অন্যান্য লক্ষ্য যেমন উপনিবেশবাদ, রাজনৈতিক লক্ষ্য, এমনকি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লক্ষ্য এবং পরবর্তীতে বৈজ্ঞিনিক লক্ষ্যের সাথেও ওতপ্রোতভাবে মিশে যায়। এর কারণ হলো, অন্য সংস্কৃতির পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বর্জন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আর এটিই কিছু প্রাচ্যতাত্ত্বিককে প্রাচ্যের প্রতি একটি শ্রেষ্ঠত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে তাকাতে উদ্বুদ্ধ করেছে; তারা দাবি করে যে, পশ্চিমের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত খ্রিস্টধর্মের কারণে, যেখানে প্রাচ্যের অনগ্রসরতা এবং ফলশ্রুতিতে তার হীনম্মন্যতার কারণ হলো ইসলামের প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য।
ধর্ম থেকে উদ্ভূত এই শ্রেষ্ঠত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং একে জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গিও সমানভাবে পুষ্ট করেছে। 'খাইরুল্লাহ সাঈদ' উল্লেখ করেন যে, "প্রাচ্যতত্ত্বের মূল নির্যাস হলো সেই বৈষম্য, যা পশ্চিমের শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রাচ্যের হীনম্মন্যতার মধ্য থেকে সমূলে উৎপাটন করা অসম্ভব", অতঃপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إن هذا الاستشراق في تناميه وفي تاريخه اللاحق قد عمق هذا التمييز، بل أعطاه صلابة وثباتا " (1) .
وربما كان هذا الشعور أحد مسوغات الاستعمار الذي جثم على الدول المستعمرة ردحا من الزمن، بحجة عدم قدرة الشعوب الشرقية على حكم نفسها، فاحتاجت إلى الوصاية الغربية عليها، وهذا ما يشير إليه تقرير " سكاربرو " (2) كما يشير إليه " هاملتون جب " في الاتجاهات الحديثة في الإسلام (3) .
--------------------------------------------
এই প্রাচ্যতত্ত্ব (অরিয়েন্টালিজম) তার ক্রমবিকাশ এবং পরবর্তী ইতিহাসে এই বিভেদকে আরও গভীর করেছে, বরং একে আরও দৃঢ়তা ও স্থায়িত্ব প্রদান করেছে (১)।
সম্ভবত এই অনুভূতিটি ছিল উপনিবেশবাদের অন্যতম একটি যৌক্তিকতা যা দীর্ঘকাল ধরে উপনিবেশিত দেশগুলোর ওপর চেপে বসেছিল, এই অজুহাতে যে প্রাচ্যের জাতিগুলো নিজেদের শাসন করতে অক্ষম, তাই তাদের ওপর পশ্চিমা অভিভাবকত্বের প্রয়োজন ছিল। আর এটিই "স্কারবোরো" রিপোর্ট (২) এবং হ্যামিল্টন গিব-এর 'মডার্ন ট্রেন্ডস ইন ইসলাম' (৩) গ্রন্থে নির্দেশ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[فئات المستشرقين المنصرين]فئات المستشرقين المنصرين: وللبعد عن التعميم فإننا نعلم من دراسة سير المستشرقين وأنشطتهم العلمية، لا سيما المتأخرون منهم، أنهم ليسوا بالضرورة جميعا من المنصرين، ولم يكونوا بالضرورة متعاطفين جميعا مع الحملات التنصيرية، وإن كان من هؤلاء المستثنين من قد سعوا إلى تحقيق الأهداف الأخرى للاستشراق، كالأهداف الاستعمارية والسياسية والتجارية الاقتصادية والعلمية التي وصفها بعض الدارسين العرب بالغايات النزيهة، ذلك أنها رمت إلى العلم بالشيء، دون إبطان أي هدف آخر. وهذا قد يبدو واضحا عند استعراض سير كثير من المستشرقين، ولا سيما المستشرقون الألمان، في غالبيتهم، وتتبع أنشطتهم الاستشراقية التي اتسمت بالعلمية أكثر من أنشطة المستشرقين الآخرين، بل إن هذا المنحى في النظرة يمكن أن يعين على التعرف على المستشرقين الأكثر تعاونا مع التنصير، لا سيما عند النظر إلى الخلفية الطائفية للمستشرق كالكاثوليكي والبروتستانتي والأرثوذوكسي، فنجد أن المستشرقين الفرنسيين، وهم كاثوليك في الغالب، أكثر التصاقا بالتنصير من غيرهم، وبالتالي فهم أكثر من غيرهم جناية على المجتمع العربي الإسلامي بإسهاماتهم المتعددة في مواجهة المجتمع المسلم، ويمكن
[ধর্মপ্রচারক প্রাচ্যবিদদের শ্রেণিবিভাগ]ধর্মপ্রচারক প্রাচ্যবিদদের শ্রেণিবিভাগ: ঢালাও মন্তব্য পরিহারের নিমিত্তে আমরা প্রাচ্যবিদদের জীবনী (سير) ও তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড অধ্যয়নের মাধ্যমে জানতে পারি যে, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرون) সবাই যে আবশ্যিকভাবে ধর্মপ্রচারক ছিলেন তা নয়; এবং তাঁরা সকলেই যে মিশনারি অভিযানগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এমনটিও নয়। যদিও এই ব্যতিক্রমদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যাঁরা প্রাচ্যবিদ্যার অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন—যেমন ঔপনিবেশিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যসমূহ, যেগুলোকে কোনো কোনো আরব গবেষক 'নিষ্ঠাবান উদ্দেশ্য' হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ এগুলোর লক্ষ্য ছিল কেবল কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, এর পেছনে অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য ছিল না। অনেক প্রাচ্যবিদের জীবনী (سير) পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে অধিকাংশ জার্মান প্রাচ্যবিদদের ক্ষেত্রে। তাঁদের প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তা অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের কর্মকাণ্ডের তুলনায় অধিকতর জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত ছিল। বরং দৃষ্টিভঙ্গির এই দিকটি সেই সমস্ত প্রাচ্যবিদদের শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে যাঁরা খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সাথে অধিকতর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, বিশেষ করে যখন কোনো প্রাচ্যবিদের সাম্প্রদায়িক পটভূমি যেমন ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও অর্থোডক্স হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। ফলে আমরা দেখতে পাই যে ফরাসি প্রাচ্যবিদরা, যাঁরা প্রধানত ক্যাথলিক ছিলেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ফলস্বরূপ, মুসলিম সমাজকে মোকাবিলায় তাঁদের বহুমুখী অবদানের কারণে আরব-ইসলামি সমাজের প্রতি তাঁরা অন্যদের চেয়ে বেশি অপরাধ করেছেন। এবং এটি সম্ভব...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التوسع في هذا الافتراض بالدراسة المستقلة. (1) .
- وهناك فئة من المستشرقين تعاطفت مع التنصير وأعانته إعانة غير مباشرة بتوفير المعلومة المطلوبة والتحليل المراد حول ثقافة من الثقافات أو مجتمع من المجتمعات، فهذه الفئة ليست من المنصرين الذين مارسوا التنصير عمليا، ولكنهم يعدون من المنصرين عندما يتبين أنهم باستشراقهم قد خدموا التنصير، على الرغم من أن إسهاماتهم في مؤازرة التنصير ليست بذلك الوضوح الذي نراه عند بعض المستشرقين الذين خدموا هيئات استخبارية حكومية بالدراسة الموجهة والتقارير المقصورة على ما يخدم هذه الهيئات، مما لا نعلم عنه إلا القليل، عندما تطورت هذه الدراسات أو التقارير إلى كتب، أو تحولت إلى مقالات في دوريات علمية، أي إذا ما تحولت هذه الأعمال السرية إلى " معرفة عامة " بنشرها بأي وسيلة من
--------------------------------------------
স্বতন্ত্র গবেষণার মাধ্যমে এই অনুমিতিটির সম্প্রসারণ। (১) ।
- প্রাচ্যবিদদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা খ্রিস্টধর্ম প্রচারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে এবং নির্দিষ্ট কোনো সংস্কৃতি বা সমাজ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাঙ্ক্ষিত বিশ্লেষণ প্রদানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তাকে সহায়তা করেছে। এই শ্রেণিটি সেই মিশনারিদের অন্তর্ভুক্ত নয় যারা বাস্তবিকভাবে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজ করেছেন; তবে যখন এটি স্পষ্ট হয় যে তারা তাদের প্রাচ্যতত্ত্বের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সেবা করেছেন, তখন তাদেরকে মিশনারিদের মধ্যেই গণ্য করা হয়। যদিও খ্রিস্টধর্ম প্রচারে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি সেইসব প্রাচ্যবিদদের মতো অতটা স্পষ্ট নয় যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক গবেষণা এবং কেবল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে এমন প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সেবা করেছেন। এ সম্পর্কে আমরা খুব সামান্যই জানতে পারি যখন এই গবেষণা বা প্রতিবেদনগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয় অথবা বৈজ্ঞানিক সাময়িকীগুলোতে নিবন্ধ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে; অর্থাৎ, যখন এই গোপন কাজগুলো যেকোনো উপায়ে প্রচারের মাধ্যমে "সাধারণ জ্ঞানে" পরিণত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وسائل النشر (1) .
- وهناك فئة من المستشرقين ممن بدأوا حياتهم مستشرقين، يركزون على الدراسات الاستشراقية ويواصلون جهودهم فيها، ويرحلون من أجل الوصول إلى المعلومة التي تعينهم على الوصول إلى النتائج التي يرمون إليها، ثم استهواهم التنصير، فانصرفوا إليه على حساب الاستشراق حتى اشتهروا منصرين أكثر من شهرتهم مستشرقين، رغم أن لهم إنتاجا علميا يضعهم في مصاف المستشرقين، فهم هنا يعدون منصرين مستشرقين، لا مستشرقين منصرين، أي أن التنصير قد غلب على مسارهم أكثر من غلبة الاستشراق عليه، ولكنهم مع هذا لا يخرجون من دائرة الاستشراق إلى دائرة التنصير الخالص مثل أولئك المنصرين غير المستشرقين، ومن أبرز أقطاب هذه الفئة المنصر المستشرق الأمريكي صموئيل زويمر.
--------------------------------------------
প্রচারের মাধ্যমসমূহ (১) ।
- প্রাচ্যবিদদের মধ্যে এমন একটি দল রয়েছে যারা প্রাচ্যবিদ হিসেবেই তাদের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তারা প্রাচ্যতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণায় গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং এই ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তারা কাঙ্ক্ষিত তথ্যের সন্ধানে দেশ-দেশান্তর সফর করেন, যা তাদের লক্ষ্যকৃত ফলাফলে পৌঁছাতে সহায়ক হয়। পরবর্তীতে তারা খ্রিস্টধর্ম প্রচারের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং প্রাচ্যতত্ত্বের পরিবর্তে সেদিকেই নিজেদের বিলীন করে দেন; এমনকি তারা প্রাচ্যবিদ হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেয়ে খ্রিস্টধর্ম প্রচারক হিসেবেই অধিক খ্যাতি লাভ করেন। যদিও তাদের এমন কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান রয়েছে যা তাদের প্রাচ্যবিদদের কাতারে শামিল করার যোগ্য, তবুও এক্ষেত্রে তারা 'প্রাচ্যবিদ খ্রিস্টধর্ম প্রচারক' হিসেবেই গণ্য হন, 'খ্রিস্টধর্ম প্রচারক প্রাচ্যবিদ' হিসেবে নয়। অর্থাৎ, তাদের কর্মপন্থায় প্রাচ্যতত্ত্বের তুলনায় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের বিষয়টিই অধিক প্রবল ছিল। তাসত্ত্বেও তারা প্রাচ্যতত্ত্বের বলয় থেকে বেরিয়ে সেইসব নিছক খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের মতো হয়ে যান না যারা প্রাচ্যবিদ নন। এই শ্রেণির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হলেন মার্কিন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ও প্রাচ্যবিদ স্যামুয়েল জুইমার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
- وقد تكون هناك فئة من المنصرين بدأت خطوات في طريق التنصير، ورحلت إلى حيث تقوم بمهمتها التنصيرية الصريحة الواضحة الخالصة دون اهتمام مباشر بالمعلومة أو الدراسة، سوى ما هو مطلوب من المنصر معرفته عن البيئة التي يزمع العمل بها قبل الشروع في العمل بها، ولكنها، بعد ذلك، انخرطت في التعرف على هذه المجتمعات التي تسعى إلى تنصيرها، فانصرفت إلى دراسة مقومات هذا المجتمع أو ذاك دراسة علمية تعتمد على المصادر العلمية التي كتبت عن هذه المجتمعات أو تلك، وتوسعت في ذلك حتى نسيت مهمتها الرئيسة.
ومع هذا بقيت متعاطفة مع التنصير بصور شتى من صور التعاطف، فهؤلاء على عكس أولئك أضحوا مستشرقين منصرين، أي أن توجههم للاستشراق قد غلب على توجههم للتنصير، فعرفوا مستشرقين أكثر من معرفتهم منصرين.
- وهناك فئة من المستشرقين كان الدافع لاشتغالها بالاستشراق دينيا تنصيريا، ثم تبين لها عدم جدوى هذا المنحى، وعدم سلامة الأهداف والغايات، فانسلت من هذا الدافع، وانصرفت إلى الدراسات الاستشراقية العلمية البعيدة عن هذه الغايات، وآلت على نفسها الابتعاد عن هذا المنحى، دون أن تثير أي انتباه علني، وإن تحدثت عنه أحاديث خاصة مع الموثوق من الأقران، في مجالس خاصة وفي مناسبات خاصة.
- আবার এমন একদল ধর্মপ্রচারক থাকতে পারে যারা ধর্মান্তকরণের পথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল এবং যেখানে তাদের স্পষ্ট, প্রকাশ্য ও বিশুদ্ধ ধর্মপ্রচারের মিশন পরিচালিত হয় সেখানে তারা যাত্রা করেছিল। তথ্য বা গবেষণার প্রতি সরাসরি কোনো ভ্রূক্ষেপ না করে কেবল একজন ধর্মপ্রচারকের জন্য তার কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে কাজ শুরুর আগে যতটুকু জানা প্রয়োজন, তারা কেবল ততটুকুই জেনেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সেই সমাজগুলোকে জানার কাজে নিবিষ্ট হয়ে পড়ে যেগুলোকে তারা খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করতে চেয়েছিল। ফলে তারা সেই নির্দিষ্ট সমাজগুলোর উপাদানসমূহ নিয়ে এমন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মনোনিবেশ করে যা উক্ত সমাজগুলোর ওপর রচিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল। এই পথে তারা এতটাই নিবেদিত হয়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত তারা তাদের মূল লক্ষ্যই বিস্মৃত হয়।
তা সত্ত্বেও তারা বিভিন্নভাবে ধর্মপ্রচারের প্রতি সহমর্মী থেকে যায়। প্রথমোক্ত দলের বিপরীতে এরা মূলত ধর্মপ্রচারক প্রাচ্যবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অর্থাৎ, প্রাচ্যতত্ত্বের প্রতি তাদের ঝোঁক ধর্মপ্রচারের ঝোঁকের ওপর প্রবল হয়ে ওঠে। ফলে তারা ধর্মপ্রচারকের চেয়ে প্রাচ্যবিদ হিসেবেই অধিক পরিচিতি লাভ করে।
- আবার প্রাচ্যবিদদের এমন একটি শ্রেণি রয়েছে যাদের প্রাচ্যতত্ত্ব চর্চার মূল প্রেরণা ছিল ধর্মীয় ও ধর্মপ্রচারমূলক। পরবর্তীতে এই দৃষ্টিভঙ্গির অসারতা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ত্রুটি তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে তারা এই হীন উদ্দেশ্য থেকে নিজেকে মুক্ত করে এবং এসব লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গিয়ে খাঁটি বৈজ্ঞানিক প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করে। তারা প্রকাশ্যে কোনো দৃষ্টি আকর্ষণ না করে নিজেদের এই পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার সংকল্প গ্রহণ করে। যদিও তারা তাদের নির্ভরযোগ্য (الموثوق) সমসাময়িকদের সাথে ব্যক্তিগত বৈঠকে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা করে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
- ومع أن بعض المستشرقين قد خدم الإلحاد؛ لأنه نشأ في بيئة إلحادية وتبنى الإلحاد، إلا أن بعضا آخر ممن نشأوا في هذه البيئة الإلحادية لم يتأثروا بها، بل بقوا على انتمائهم الديني، وسعوا إلى نشره بالتنصير في ذلك المجتمع الإلحادي من وجهين من وجوه التنصير:
الوجه الأول: أنهم عملوا على حماية " إخوانهم في العقيدة " من الإلحاد، وأكدوا على بقائهم على عقيدتهم، وهذا أمر له ما يبرره لدى هؤلاء وغيرهم، إذ إن البقاء على النصرانية، على ما دخل عليها، خير عندهم من الانتقال إلى الإلحاد، رغم أن ملة الكفر في النهاية عندنا واحدة.
والوجه الثاني: أن فئة من المستشرقين الذين نشأوا في بيئة إلحادية وبقوا على معتقدهم قد تبنوا نشر النصرانية بين المسلمين الذين عاشوا تحت مظلة الإلحاد، مثل مناطق المسلمين التي كانت تخضع للحكم الشيوعي في الاتحاد السوفييتي سابقا، وهذا يعني عدم اقتصار المنصرين على تلك البيئات التي نشط فيها التنصير من حيث التمويل والتخطيط والإمكانات البشرية والمادية، كالمجتمعات الغربية في أوروبا الغربية وأمريكا (1) .
--------------------------------------------
যদিও কিছু প্রাচ্যবিদ নাস্তিক্যবাদের সেবা করেছেন; যেহেতু তারা একটি নাস্তিক পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং নাস্তিক্যবাদ গ্রহণ করেছেন, তবে এই নাস্তিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা অন্য অনেকে এর দ্বারা প্রভাবিত হননি। বরং তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ে অটল ছিলেন এবং সেই নাস্তিক সমাজে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের মাধ্যমে তা প্রসারের চেষ্টা করেছেন। এই খ্রিস্টধর্ম প্রচারের দুটি দিক রয়েছে:
প্রথম দিক: তারা তাদের "আকিদাগত ভাইদের" নাস্তিক্যবাদ থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করেছেন এবং তাদের আকিদার ওপর অবিচল থাকাকে নিশ্চিত করেছেন। এটি তাদের এবং অন্যদের কাছে একটি যুক্তিসঙ্গত বিষয় ছিল, কারণ খ্রিস্টধর্মে যা প্রবেশ করেছে (বিকৃতি), তা সত্ত্বেও তাদের নিকট নাস্তিক্যবাদে ধাবিত হওয়ার চেয়ে খ্রিস্টধর্মে টিকে থাকা উত্তম ছিল; যদিও আমাদের নিকট পরিশেষে কুফরের সকল ধর্মই এক ও অভিন্ন।
দ্বিতীয় দিক: প্রাচ্যবিদদের একটি দল যারা নাস্তিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন এবং নিজ বিশ্বাসে অটল ছিলেন, তারা নাস্তিক্যবাদের ছায়াতলে বসবাসকারী মুসলমানদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন; যেমন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে থাকা মুসলিম অঞ্চলসমূহ। এর অর্থ হলো, খ্রিস্টধর্ম প্রচারকগণ কেবল সেই পরিবেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি যেখানে অর্থায়ন, পরিকল্পনা এবং মানবীয় ও বস্তুগত সামর্থ্যের দিক থেকে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের তৎপরতা সক্রিয় ছিল, যেমন পশ্চিম ইউরোপ এবং আমেরিকার পশ্চিমা সমাজসমূহ (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وهذا هو الانطباع المسيطر على كثير من الدراسات التي تنظر إلى أن انطلاقة التنصير تركزت من تلك الجهات، وأن البيئات الإلحادية لم تسهم في حركة التنصير، إلا أن التحولات السياسية الأخيرة بانهيار الاتحاد السوفييتي، راعي الإلحاد، قد يكشف كثيرا من الأنشطة الدينية التي لم تكن ظاهرة للعلن منذ قيام الثورة الشيوعية في تلك البقاع سنة 1917 م، هذا بالإضافة إلى أن هناك رأيا مؤداه أن الإلحاد أو التلحيد وليد للتنصير (1) .
[مزيد من التركيز]مزيد من التركيز: والبحث بهذا الأسلوب في الجمع بين الاستشراق والتنصير قد يقود إلى التعرض إلى بحوث تعين على وضوح الرؤية في هذا التوجه عند هؤلاء المستشرقين المنصرين، ومن هذه البحوث النظر في الأهداف لكل من الاستشراق والتنصير، وربما النظر إلى البواعث أو المنطلقات التي تختلف عن الأهداف والغايات، والبحث في هذه ليس جديدا، فقد غطيت بحثا في الجانبين، وإنما يرجع إليها هنا فيما يخدم الموضوع ويعين على استحضار الصورة (2) وهذا لا يقتضي من الباحث في هذه الدراسة أن يعود إلى هذه
--------------------------------------------
এটিই হলো অনেক গবেষণার ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী একটি ধারণা যে, খ্রিস্টীয়করণ (تنصير) প্রক্রিয়ার সূচনা সেই সব অঞ্চল থেকেই কেন্দ্রীভূত ছিল এবং নাস্তিক্যবাদী (إلحاد) পরিবেশগুলো খ্রিস্টীয়করণ আন্দোলনে কোনো ভূমিকা রাখেনি। তবে নাস্তিক্যবাদের পৃষ্ঠপোষক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো এমন অনেক ধর্মীয় কর্মকাণ্ড উন্মোচিত করতে পারে যা ১৯১৭ সালে সেই সব অঞ্চলে সাম্যবাদী বিপ্লব শুরু হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি। এর পাশাপাশি এমন একটি অভিমতও রয়েছে যে, নাস্তিক্যবাদ বা নাস্তিক্যীকরণ মূলত খ্রিস্টীয়করণেরই একটি ফসল (১)।
[অধিকতর আলোকপাত]অধিকতর আলোকপাত: প্রাচ্যতত্ত্ব (استشراق) ও খ্রিস্টীয়করণকে (تنصير) একত্রিত করার এই তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে গবেষণা এমন কিছু অনুসন্ধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা এই মিশনারি প্রাচ্যবিদদের (مستشرقين منصرين) গতিধারা বা অভিমুখে স্বচ্ছ ধারণা লাভে সহায়ক হবে। এই সব গবেষণার অন্যতম হলো প্রাচ্যতত্ত্ব ও খ্রিস্টীয়করণ—উভয় ক্ষেত্রের লক্ষ্যসমূহ পর্যালোচনা করা এবং সম্ভবত সেই সব প্রেষণা (بواعث) বা প্রারম্ভিক ভিত্তিগুলো (منطلقات) পর্যবেক্ষণ করা যা সাধারণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন হতে পারে। এই বিষয়ে গবেষণা কোনো নতুন বিষয় নয়; আমি ইতিপূর্বে উভয় ক্ষেত্রেই গবেষণার মাধ্যমে এটি আলোচনা করেছি। এখানে কেবল সেই বিষয়গুলোকেই উল্লেখ করা হচ্ছে যা বর্তমান বিষয়ের প্রয়োজনে সহায়ক এবং সামগ্রিক চিত্রটি অনুধাবনে সাহায্য করবে (২)। এটি এই গবেষণার গবেষককে পুনরায় সেই দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে না যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
البحوث ويعيد سردها هنا، ولكنه سيذكر الأهداف والبواعث التي تخدم هذا الغرض فحسب.
وإذا كان الأمر كذلك فيما يتعلق بالأهداف والبواعث فإنه من باب أولى أن يضرب الصفح في هذه الدراسة عن الخوض في النشأة من حيث تاريخها وأسبابها، فلا تفرد لذلك مباحث مستقلة، وإنما يأتي ذكرها عرضا إذا دعت الحاجة إليها في هذا السياق.
[التفريق بين ظاهرتين]التفريق بين ظاهرتين: ولن يذهب بنا الموقف من الاستشراق والتنصير إلى الحد الذي يدعونا أن نقرر أنهما وجهان لعملة واحدة (1) وأن الاستشراق تنصير من وجوه، والتنصير استشراق من وجوه؛ ذلك أن هذا الإطلاق لا يتفق مع هاتين الظاهرتين، فالاستشراق ليس كله تنصيرا، والتنصير ليس كله استشراقا، وبالتالي فإنه يمكننا القول أن ليس كل مستشرق منصرا، كما أنه ليس كل منصر مستشرقا، والإحصاءات المتغيرة تذكر أن هناك سبعة عشر مليون
--------------------------------------------
গবেষণাসমূহ এবং তিনি এখানে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করছেন, তবে তিনি কেবল সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ করবেন যা এই প্রয়োজন পূরণ করে।
আর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে এই গবেষণায় এর উৎপত্তি, ইতিহাস এবং কারণসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বর্জন করাই অধিকতর সমীচীন হবে। তাই এর জন্য কোনো স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ (مباحث مستقلة) রাখা হবে না, বরং এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিকভাবে তার উল্লেখ আসবে।
[দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ]দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ: প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) ও খ্রিস্টধর্ম প্রচার (التنصير) সংক্রান্ত আমাদের অবস্থান আমাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে না যা আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে যে, এ দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ (১) এবং প্রাচ্যতত্ত্ব কোনো কোনো দিক থেকে খ্রিস্টধর্ম প্রচার আর খ্রিস্টধর্ম প্রচার কোনো কোনো দিক থেকে প্রাচ্যতত্ত্ব। কারণ, এই সাধারণীকরণ (الإطلاق) এই দুই বিষয়ের বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। সকল প্রাচ্যতত্ত্বই খ্রিস্টধর্ম প্রচার নয় এবং সকল খ্রিস্টধর্ম প্রচারই প্রাচ্যতত্ত্ব নয়। অতএব, আমরা বলতে পারি যে, প্রত্যেক প্রাচ্যতত্ত্ববিদ (مستشرق) যেমন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক (منصر) নন, তেমনি প্রত্যেক খ্রিস্টধর্ম প্রচারকও (منصر) প্রাচ্যতত্ত্ববিদ (مستشرق) নন। পরিবর্তনশীল পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, সেখানে সতেরো মিলিয়ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(17. 000. 000) منصر يعملون وفق استراتيجيات بعيدة المدى، ولديهم ميزانيات " فلكية " ينفقون منها بغير حساب (1) وقد تصل في بعض الإحصائيات إلى ما يزيد عن مائة وثمانين مليار (180. 000. 000. 000) دولار (2) ولا ينتظر أن نفترض أن هذا العدد كله يدخل في تعداد المستشرقين؛ إذ لا يتوقع أن يكون هناك مستشرقون بالملايين.
[لا تناقض]لا تناقض: ولا ينقض هذا التفريق بين ظاهرتين بعض التقارب في الأهداف؛ إذ الاشتراك في هدف أو أكثر بين ظاهرتين أو أكثر لا يعني بالضرورة أنها جميعا يمكن أن تحوم في " بوتقة " واحدة، ونحن ندرك أن هناك مجموعة من التيارات التي تتناقض مع مقومات المجتمع المسلم وتسعى إلى أن تحل محل الإسلام فيه، أو تسعى إلى أن تقلل من شأنه في عيون أبنائه وأذهانهم، ومع اتفاقها في هذا الهدف فهي مختلفة فيما بينها، بل إن بعضها يحارب بعضا للتناقض الواضح بينها.
--------------------------------------------
(১ কোটি ৭০ লক্ষ) ধর্মপ্রচারক দীর্ঘমেয়াদী কৌশল অনুযায়ী কাজ করছেন এবং তাদের কাছে "বিপুল" বাজেট রয়েছে যা থেকে তারা অঢেল ব্যয় করেন (১)। কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই অংক ১৮০ বিলিয়ন (১৮০,০০০,০০০,০০০) ডলারেরও বেশি হতে পারে (২)। তবে এটি আশা করা যায় না যে এই পুরো সংখ্যাটিই প্রাচ্যবিদদের গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ লক্ষ লক্ষ প্রাচ্যবিদ থাকার সম্ভাবনা নেই।
[কোনো বৈপরীত্য নেই]কোনো বৈপরীত্য নেই: দুই বা ততোধিক বিষয়ের মধ্যে লক্ষ্যের কিছুটা সাদৃশ্য থাকা এই দুই বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্যকে বাতিল করে দেয় না; কেননা দুই বা ততোধিক বিষয়ের মধ্যে এক বা একাধিক লক্ষ্যের অভিন্নতা মানেই এই নয় যে, তারা সবাই একই "আবর্তে" ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা অবগত আছি যে এমন অনেকগুলো ধারা বা মতাদর্শ রয়েছে যা মুসলিম সমাজের মৌলিক কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক এবং ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেষ্টা করে, অথবা মুসলিম সন্তানদের চোখে ও মনে ইসলামের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে সচেষ্ট। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা একমত হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেরা পরস্পরের থেকে ভিন্ন, এমনকি তাদের মধ্যকার স্পষ্ট বৈপরীত্যের কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইও করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসতাশরিকুনা ওয়াত-তানসীর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
والأصل عدم الخلط هنا حتى لو كان هذا الخلط يخدم الوصول إلى نتيجة، أو يسعى إلى مزيد من الإقناع (1) ونحن مطالبون هنا بالإقناع العلمي الذي يركز على الحقيقة العلمية ويضعها بين ناظري المتلقي بأي صياغة مناسبة للإقناع.
وعلى هذا فإني أزعم أن الارتباط بين هذه التيارات قام على الاشتراك في مصالح، وقد لا يكون هذا الارتباط قائما لولا هذه المصالح من ناحية، ومن ناحية أخرى لم توجد هذه المصالح المشتركة تيارات جديدة انبعثت من هذه المصالح، وعرفت على أنها وليدتها، ذلك أن التنصير لم ينتظر الاستشراق ليقوم ويحقق بعض أهدافه، وليس بالضرورة أن يكون قيام التنصير لتحقيق أهداف الاستشراق، وكذا الحال يقال مع الاستعمار في علاقته بالتنصير من ناحية، وعلاقته بالاستشراق من ناحية أخرى، ومثل ذلك يقال فيما يتعلق بالإلحاد في علاقته بالاستشراق من ناحية، وعلاقته مع الاستعمار من ناحية ثانية، ونحتاج إلى بحث خاص في معرفة العلاقة بين التنصير والإلحاد، إن كانت هناك علاقة، ولا أملك أن أنفي عدم وجودها.
--------------------------------------------
মূলনীতি (الأصل) হলো এখানে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা সংমিশ্রণ না ঘটানো, এমনকি যদি এই সংমিশ্রণ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়ক হয় অথবা অধিকতর প্ররোচনা অর্জনে সচেষ্ট হয় (১)। আমরা এখানে এমন তাত্ত্বিক প্ররোচনার জন্য দায়বদ্ধ যা বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং প্ররোচনার জন্য উপযুক্ত যেকোনো বিন্যাসের মাধ্যমে তা গ্রহীতার সম্মুখে উপস্থাপন করে।
এর ওপর ভিত্তি করে আমি দাবি করছি যে, এই ধারাগুলোর মধ্যকার যোগসূত্র পারস্পরিক স্বার্থের অংশীদারিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একদিকে এই স্বার্থ না থাকলে হয়তো এই যোগসূত্র বিদ্যমান থাকত না, আবার অন্যদিকে এই অভিন্ন স্বার্থসমূহ এমন কোনো নতুন ধারার জন্ম দেয়নি যা এই স্বার্থসমূহ থেকেই উৎসারিত এবং তার ফসল হিসেবে পরিচিত। কারণ, খ্রিস্টধর্ম প্রচার তার কার্যক্রম পরিচালনা ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রাচ্যতত্ত্বের প্রতীক্ষায় থাকেনি। আবার প্রাচ্যতত্ত্বের লক্ষ্য অর্জনের জন্যই যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কার্যক্রমের উদ্ভব হতে হবে এমনটিও অনিবার্য নয়। একইভাবে একদিকে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সাথে এবং অন্যদিকে প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্কের বিষয়টিও বলা যায়। অনুরূপভাবে একদিকে প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে এবং অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদের সাথে নাস্তিক্যের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও নাস্তিক্যের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা জানতে আমাদের বিশেষ গবেষণার প্রয়োজন, আর আমি এর অস্তিত্বকে অস্বীকার করছি না।
--------------------------------------------