(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: -)
التوحيد للناشئة والمبتدئين القسم: العقيدة
الكتاب: التوحيد للناشئة والمبتدئين
المؤلف: عبد العزيز بن محمد بن علي آل عبد اللطيف
الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ
عدد الصفحات: 112
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কিশোর ও নবীনদের জন্য তাওহীদ বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: কিশোর ও নবীনদের জন্য তাওহীদ
লেখক: আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল আব্দুল লতিফ
প্রকাশক: ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৩)
[توجيهات عامة]التوحيد للناشئة والمبتدئين
بسم الله الرحمن الرحيم
توجيهات عامة الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد: فهذا كتاب التوحيد للمرحلة الأولية، وقد روعي فيه عرض أهم مسائل التوحيد مع الإيجاز، ووضوح العبارة بما يناسب تلك المرحلة، وقد حوى جملة من الأدلة على مسائل التوحيد، مع حسن العرض وترتيب المعلومات، وإشارة إلى بعض الجوانب التربوية والسلوكية لتلك المادة.
وهذا الكتاب يصلح تدريسه للناشئة والمبتدئين.
سائلا الله القدير أن ينفع به، ويجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن يبارك في جهود العاملين للإسلام، وأن يرزق الجميع حسن القصد واتباع الحق وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
المؤلف
[সাধারণ নির্দেশাবলি]কিশোর ও নতুনদের জন্য তাওহীদ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সাধারণ নির্দেশাবলি। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর: এটি প্রাথমিক স্তরের জন্য তাওহীদের একটি কিতাব। এতে তাওহীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সংক্ষিপ্তভাবে এবং সেই স্তরের উপযোগী স্পষ্ট ভাষায় উপস্থাপনের প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে। কিতাবটি তাওহীদের বিষয়াবলির ওপর একগুচ্ছ দলিলকে সুবিন্যস্ত তথ্য উপস্থাপনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এই বিষয়ের কিছু শিক্ষামূলক ও আচরণগত দিকের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এই কিতাবটি কিশোর ও নতুন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য উপযোগী।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন। আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন ইসলামের সেবায় নিয়োজিতদের প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন এবং সকলকে উত্তম উদ্দেশ্য ও সত্য অনুসরণের তাওফিক দান করেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লেখক
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৫)
[أسئلة في التوحيد للمبتدئين (1) ]لا إله إلا الله
محمد رسول الله
ربى الله
أنا أعبد ربى
أنا أحبّ ربى س1: مَن ربُّك؟
ج1: ربّي الله.
س 2: مَن الذي خلقك؟
ج 2: الله الذي خلقني وخلق الناس جميعًا.
س3: مَن الذي خلق الليل والنهار والشمس والقمر؟
ج3: الله الذي خلق الليل والنهار والشمس والقمر.
س4: مَن الذي خلق الأرض التي نمشي عليها؟
ج4: الله الذي خلق الأرض التي نمشي عليها.
س5: مَن الذي خلق البحار وأجرى الأنهار؟
ج 5: الله الذي خلق البحار وأجرى الأنهار.
[তাওহীদ বিষয়ক প্রশ্নাবলি নবীনদের জন্য (১)]আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল
আমার রব আল্লাহ
আমি আমার রবের ইবাদত করি
আমি আমার রবকে ভালোবাসি প্রশ্ন ১: তোমার রব কে?
উত্তর ১: আমার রব আল্লাহ।
প্রশ্ন ২: কে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর ২: আল্লাহ, যিনি আমাকে এবং সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
প্রশ্ন ৩: কে রাত, দিন, সূর্য এবং চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর ৩: আল্লাহ, যিনি রাত, দিন, সূর্য এবং চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন।
প্রশ্ন ৪: আমরা যার ওপর হাঁটাচলা করি, সেই জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর ৪: আল্লাহ, যিনি সেই জমিন সৃষ্টি করেছেন যার ওপর আমরা হাঁটাচলা করি।
প্রশ্ন ৫: কে সমুদ্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং নদীসমূহ প্রবাহিত করেছেন?
উত্তর ৫: আল্লাহ, যিনি সমুদ্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং নদীসমূহ প্রবাহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৬)
س6: من الذي ينزِّل المطر من السماء؟
ج6: الله الذي ينزِّل المطر من السماء.
س7: مَن الذي خلق الأشجار وأخرج منها الثمار؟
ج7: الله الذي خلق الأشجار وأخرج منها الثمار.
প্রশ্ন ৬: আকাশ থেকে কে বৃষ্টি বর্ষণ করেন?
উত্তর ৬: আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
প্রশ্ন ৭: কে বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে ফল উৎপন্ন করেছেন?
উত্তর ৭: আল্লাহ বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে ফল উৎপন্ন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৭)
[أسئلة في التوحيد للمبتدئين (2) ]أنا أعبد الله
أنا أحب الله
الله خلق الناس لعبادته وطاعته
عبادة الله وطاعته واجبة على جميع الناس س1: ما دينك؟
ج1: ديني الإسلام.
س2: ما الإسلام؟
ج2: الإسلام هو توحيد الله، وطاعة الله، وترك مخالفة أمر الله تعالى.
س3: ما أساس الإسلام؟
ج3: أساس الإسلام شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله.
س4: لماذا نقوم جميعا لأداء الصلاة عند سماع الأذان؟
ج4: لأن الصلاة ركن من أركان الإسلام، ولا يكون الإنسان مسلما إلا بفعلها.
[তাওহীদ বিষয়ে নবীনদের জন্য প্রশ্নাবলী (২)]আমি আল্লাহর ইবাদত করি
আমি আল্লাহকে ভালোবাসি
আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যের জন্য সৃষ্টি করেছেন
আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করা সকল মানুষের ওপর আবশ্যক। প্রশ্ন ১: তোমার দ্বীন কী?
উত্তর ১: আমার দ্বীন ইসলাম।
প্রশ্ন ২: ইসলাম কী?
উত্তর ২: ইসলাম হলো আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা, আল্লাহর আনুগত্য করা এবং মহান আল্লাহর আদেশের অবাধ্যতা বর্জন করা।
প্রশ্ন ৩: ইসলামের ভিত্তি কী?
উত্তর ৩: ইসলামের ভিত্তি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
প্রশ্ন ৪: আযান শোনার পর আমরা সবাই সালাত আদায়ের জন্য কেন দাঁড়াই?
উত্তর ৪: কারণ সালাত ইসলামের স্তম্ভসমূহের একটি, আর তা সম্পাদন করা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি মুসলিম হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৮)
س5: مَن الرسول الذي أرسله الله إلينا؟
ج5: النبي محمد صلى الله عليه وسلم هو الرسول الذي أرسله الله إلينا.
س6: لماذا أرسل الله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى الناس جميعًا؟
ج6: أرسله الله إلى الناس ليعلمهم الإسلام.
س7: ما الذي يدعو إليه النبي محمد صلى الله عليه وسلم؟
ج7: يدعو النبي محمد صلى الله عليه وسلم إلى عبادة الله وحده، وترك عبادة غير الله.
প্রশ্ন ৫: আল্লাহ আমাদের নিকট কোন রাসূলকে পাঠিয়েছেন?
উত্তর ৫: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সেই রাসূল, যাঁকে আল্লাহ আমাদের নিকট পাঠিয়েছেন।
প্রশ্ন ৬: কেন আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন?
উত্তর ৬: আল্লাহ তাঁকে মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন যাতে তিনি তাদেরকে ইসলাম শিক্ষা দিতে পারেন।
প্রশ্ন ৭: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসের দিকে আহ্বান করেন?
উত্তর ৭: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জন করার আহ্বান জানান।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৯)
[معرفة الأصول الثلاثة]رضيت بالله ربا وبالإسلام دينا
وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا ونبيا
يجب علينا معرفة ثلاثة أصول:
معرفة الرب تعالى والدين والرسول الأصل الأول: معرفة الربّ 1 - ربي الله الخالق المالك المدبِّر: قال تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر: 62] (1) .
2 - أعرف ربي بآياته ومخلوقاته: قال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ} [فصلت: 37] (2) .
3 - الله هو المعبود المستحق للعبادة وحده لا شريك له: قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 21] (3) .
س1: لأي شيء خلقك الله؟
--------------------------------------------
[তিনটি মূলনীতির পরিচয়]আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসুল ও নবি হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি।
আমাদের ওপর তিনটি মূলনীতি জানা আবশ্যক:
মহান রব, দীন এবং রাসুলের পরিচয়। প্রথম মূলনীতি: রবের পরিচয় ১ - আমার রব হলেন আল্লাহ; যিনি সৃষ্টিকর্তা, মালিক ও পরিচালক। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা} [যুমার: ৬২] (১) ।
২ - আমি আমার রবকে তাঁর নিদর্শনসমূহ ও সৃষ্টির মাধ্যমে চিনি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ} [ফুসসিলাত: ৩৭] (২) ।
৩ - আল্লাহই একমাত্র উপাস্য, যিনি এককভাবে ইবাদতের যোগ্য, তাঁর কোনো শরিক নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [বাকারা: ২১] (৩) ।
প্রশ্ন ১: আল্লাহ আপনাকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ج1: خلقني لعبادته، كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (1) .
س2: ما عبادته؟
ج 2: عبادته توحيده وطاعته.
س3: ما معنى لا إله إلا الله؟
ج 3 معنى لا إله إلا الله: لا معبود بحقٍّ إلا الله.
الأصل الثاني: معرفة الدين 1 - الإسلام هو توحيد الله وطاعته، وترك مخالفة أمر الله: قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ} [النساء: 125] (2) .
2 - الإسلام هو الدين الذي ارتضاه الله للناس جميعا: قال تعالى: {وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] (3) .
3 - الإسلام هو دين الخير والسعادة والسرور: قال تعالى: {بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 112] (4) .
--------------------------------------------
উত্তর ১: তিনি আমাকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬] (১)।
প্রশ্ন ২: তাঁর ইবাদত কী?
উত্তর ২: তাঁর ইবাদত হলো তাঁর তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং তাঁর আনুগত্য।
প্রশ্ন ৩: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অর্থ কী?
উত্তর ৩: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অর্থ: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।
দ্বিতীয় মূলনীতি: দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান ১ - ইসলাম হলো আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর আনুগত্য করা, এবং আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ বর্জন করা: মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর দ্বীনের দিক থেকে তার চেয়ে কে বেশি উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছে?} [আন-নিসা: ১২৫] (২)।
২ - ইসলাম হলো এমন দ্বীন যা আল্লাহ সকল মানুষের জন্য পছন্দ করেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছি} [আল-মায়িদাহ: ৩] (৩)।
৩ - ইসলাম হলো কল্যাণ, সুখ ও আনন্দের দ্বীন: মহান আল্লাহ বলেছেন: {হ্যাঁ, যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেয়, তার প্রতিদান তার রবের কাছে রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় নেই আর তারা চিন্তিতও হবে না} [আল-বাকারা: ১১২] (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১১)
س1: كم أركان الإسلام؟ وما هي؟
ج1: أركان الإسلام خمسة وهي:
1 - شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله.
2 - إقام الصلاة.
3 - إيتاء الزكاة.
4 - صوم رمضان.
5 - حج بيت الله الحرام مع الاستطاعة.
الأصل الثالث: معرفة النبي صلى الله عليه وسلم 1 - نبيي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم.
2 - أرسل الله نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم إلى الناس جميعا ليعلمهم الإسلام.
3 - يجب عليّ طاعةُ النبي صلى الله عليه وسلم.
قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] (1) .
--------------------------------------------
প্রশ্ন ১: ইসলামের রুকন কয়টি? এবং সেগুলো কী কী?
উত্তর ১: ইসলামের রুকন পাঁচটি, আর সেগুলো হলো:
১ - এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।
২ - সালাত কায়েম করা।
৩ - জাকাত প্রদান করা।
৪ - রমজানের সিয়াম পালন করা।
৫ - সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ করা।
তৃতীয় মূলনীতি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চেনা ১ - আমার নবী হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
২ - আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষের প্রতি পাঠিয়েছেন যাতে তিনি তাদের ইসলাম শিক্ষা দেন।
৩ - নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনুগত্য করা আমার ওপর আবশ্যক।
মহান আল্লাহ বলেন: "রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" [আল-হাশর: ৭] (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১২)
[أصول عقيدتنا]أصول عقيدتنا ثلاثة
معرفة ربنا وديننا ونبينا الأصل الأول: معرفة ربنا سبحانه 1 - ربنا الله سبحانه خالق السماوات والأرض: قال تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ} [الأعراف: 54] (1) .
2 - ربنا الله الذي خلق الإنسان وأحسن خلقه: قال تعالى: {لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ} [التين: 4] (2) .
3 - ربنا الله الذي يدبِّر الأمر: قال تعالى: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ} [السجدة: 5] (3) .
4 - خلق الله الجن والإنس لعبادته: قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (4) .
5 - أمرنا الله بالكفر بالطاغوت والإيمان بالله:
--------------------------------------------
[আমাদের আকিদার মূলনীতিসমূহ]আমাদের আকিদার মূলনীতি তিনটি
আমাদের রব, আমাদের দ্বীন এবং আমাদের নবীকে চেনা। প্রথম মূলনীতি: আমাদের রব সুবহানাহুকে চেনা। ১ - আমাদের রব আল্লাহ সুবহানাহু আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা: মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় তোমাদের রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন} [আল-আরাফ: ৫৪] (১)।
২ - আমাদের রব আল্লাহ, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার গঠনকে সুন্দর করেছেন: মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই আমি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছি} [আত-তীন: ৪] (২)।
৩ - আমাদের রব আল্লাহ, যিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন: মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন} [আস-সাজদাহ: ৫] (৩)।
৪ - আল্লাহ জিন ও মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন: মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আদ-যারিয়াত: ৫৬] (৪)।
৫ - আল্লাহ আমাদের তাগুতকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে নির্দেশ দিয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال تعالى: {فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} [البقرة: 256] (1) .
6 - العروة الوثقى هي: لا إله إلا الله، ومعناها: لا معبود بحق إلا الله.
الأصل الثاني: معرفة ديننا الإسلامي 1 - ديننا هو الإسلام لا يقبل الله من أحد سواه:
قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} [آل عمران: 85] (2) .
2 - مراتب الدين الإسلامي ثلاث: الإسلام، والإيمان، والإحسان.
3 - الإسلام: هو الاستسلام لله تعالى بالتوحيد، والانقياد له بالطاعة، والخلوص من الشرك وأهله.
4 - الإيمان: أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره.
5 - الإحسان: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে অবশ্যই অত্যন্ত মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল} [আল-বাকারাহ: ২৫৬] (১)।
৬ - অত্যন্ত মজবুত হাতল (আল-উরওয়াতুল উসকা) হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; আর এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
দ্বিতীয় মূলনীতি: আমাদের ইসলামি দীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ১ - আমাদের দীন হলো ইসলাম, আল্লাহ এটি ছাড়া কারো কাছ থেকে অন্য কোনো দীন গ্রহণ করবেন না:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না} [আল-ইমরান: ৮৫] (২)।
২ - ইসলামি দীনের স্তর তিনটি: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান।
৩ - ইসলাম: তাওহিদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগত হওয়া এবং শিরক ও শিরকপন্থীদের থেকে মুক্ত হওয়া।
৪ - ঈমান: আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
৫ - ইহসান: তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأصل الثالث: معرفة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم 1 - هو محمد بن عبد الله بن عبد المطّلب الهاشمي القرشي صلى الله عليه وسلم، وهو أفضل الأنبياء وخاتمهم.
2 - بلّغ نبينا صلى الله عليه وسلم هذا الدين، وأمرنا بكل خير، ونهانا عن كل شر.
3 - يجب علينا الاقتداء بنبينا صلى الله عليه وسلم واتِّباعه.
قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21] (1) .
4 - يجب علينا تقديم محبة نبينا صلى الله عليه وسلم على محبة الأمهات والآباء وجميع الناس.
قال صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحبّ إليه من والده وولده والناس أجمعين» (2) ومحبته تكون باتِّباعه وطاعته.
--------------------------------------------
তৃতীয় মূলনীতি: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচয় ১ - তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমী আল-কুরায়শী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং তিনি হলেন শ্রেষ্ঠ নবী ও তাঁদের সমাপ্তিকারী।
২ - আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন, এবং তিনি আমাদের সকল কল্যাণের নির্দেশ দিয়েছেন ও সকল অকল্যাণ থেকে নিষেধ করেছেন।
৩ - আমাদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ করা আমাদের ওপর আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহযাব: ২১] (১)।
৪ - আমাদের ওপর আবশ্যক হলো মাতা, পিতা এবং সমস্ত মানুষের ভালোবাসার ওপর আমাদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়া।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই» (২) আর তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায় তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[معاني الشهادتين]أشهد أن لا إله إلا الله
وأشهد أن محمدًا رسول الله 1 - معنى شهادة أن لا إله إلا الله: لا معبود بحق إلا الله.
2 - العبادة: هي كل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال.
3 - أنواع العبادة كثيرة منها: الدعاء، والخوف، والتوكل، والصلاة، والذكر، وبر الوالدين وغيرها.
ودليل الدعاء قوله تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60] (1) .
ودليل الخوف قوله تعالى: {فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [آل عمران: 175] (2) .
دليل التوكل قوله تعالى: {وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [المائدة: 23] (3) .
--------------------------------------------
[শাহাদাতদ্বয়ের অর্থ]আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ১ - ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।
২ - ইবাদত: আল্লাহ যা ভালোবাসেন এবং যাতে সন্তুষ্ট হন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজ।
৩ - ইবাদত অনেক প্রকারের হয়ে থাকে, তন্মধ্যে রয়েছে: দুআ (প্রার্থনা), ভয়, তাওয়াক্কুল (ভরসা), সালাত, যিকর, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ এবং অন্যান্য।
দুআর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে} [গাফির: ৬০] (১)।
ভয়ের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো} [আল-ইমরান: ১৭৫] (২)।
তাওয়াক্কুলের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো} [আল-মায়েদাহ: ২৩] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ودليل الصلاة قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [الروم: 31] (1) .
ودليل الذكر قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا} [الأحزاب: 41] (2) ودليل بر الوالدين قوله تعالى: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا} [الأحقاف: 15] (3) .
4 - تُصْرَفُ جميع أنواع العبادة لله وحده لا شريك له، فمن صرف منها شيئا لغير الله فهو كافر.
قال تعالى: {وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} [المؤمنون: 117] (4) 5 - خلق الله الجن والإنس لعبادته وحده.
قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] (5) .
6 - من عبد الله تعالى حقًّا فسيجد سعادة عظيمة وسرورا كبيرا
--------------------------------------------
এবং সালাতের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না} [আর-রূম: ৩১] (১)।
জিকিরের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো} [আল-আহজাব: ৪১] (২) এবং পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি} [আল-আহকাফ: ১৫] (৩)।
৪ - সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদন করতে হবে যার কোনো শরীক নেই, সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো কিছু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করবে, সে কাফির।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে, যার স্বপক্ষে তার কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব তো কেবল তার রবের নিকট। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না} [আল-মুমিনূন: ১১৭] (৪) ৫ - আল্লাহ জিন ও মানবজাতিকে কেবল তাঁরই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমারই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি} [আজ-জারিয়াত: ৫৬] (৫)।
৬ - যে ব্যক্তি যথাযথভাবে মহান আল্লাহর ইবাদত করবে, সে অচিরেই এক মহান সৌভাগ্য ও অনাবিল আনন্দ লাভ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وحياة طيبة.
قال تعالى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً} [النحل: 97] (1) .
1 - معنى شهادة أن محمدا رسول الله: تصديقه فيما أخبر، وطاعته فيما أمر، واجتناب ما عنه نهى وزجر، وأن لا يعبد الله إلا بما شرع.
2 - اسمُ نبيِّنا: محمد بن عبد الله بن عبد المطلب الهاشمي القرشي، فهو أفضل العرب نسبا صلى الله عليه وسلم.
3 - أرسل الله نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة، وافترض طاعته على جميع الناس.
قال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} [الأعراف: 158] (2) .
4 - عاش النبي صلى الله عليه وسلم في مكة المكرمة، ودعا إلى التوحيد وعبادة الله وحده، ثم هاجر إلى المدينة النبوية، وأمر ببقية أحكام
--------------------------------------------
এবং পবিত্র জীবন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, তাকে আমি অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব।} [আন-নাহল: ৯৭] (১)।
১ - 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো: তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা থেকে নিষেধ ও বারণ করেছেন তা বর্জন করা এবং তিনি যেভাবে বিধান দিয়েছেন সেই পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনোভাবে আল্লাহর ইবাদত না করা।
২ - আমাদের নবীর নাম: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমী আল-কুরাইশী; বংশীয় মর্যাদায় তিনি আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
৩ - আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সকল মানুষের প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং সকল মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য করা ফরজ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, হে লোকসকল! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল।} [আল-আরাফ: ১৫৮] (২)।
৪ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা মুকাররমায় বসবাস করেছেন এবং তাওহিদ ও কেবল আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। এরপর তিনি মদিনা নববীতে হিজরত করেন এবং সেখানে অবশিষ্ট বিধানাবলির নির্দেশ দেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الإسلام مثل الزكاة والصوم والجهاد وغيرها، وتوفي صلى الله عليه وسلم في المدينة وعمره ثلاث وستون سنة.
5 - من خالف أمر النبي صلى الله عليه وسلم فهو مستحق للعذاب الأليم.
قال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] (1) 6 - من أطاع النبي صلى الله عليه وسلم فسينال السعادة الكاملة، والفوز الكبير. قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [آل عمران: 132] (2) .
وقال تعالى: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} [النور: 54] (3) .
--------------------------------------------
ইসলাম যেমন জাকাত, সিয়াম, জিহাদ ও অন্যান্য বিষয়সমূহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৫ - যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের বিরোধিতা করবে, সে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির উপযুক্ত হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} [আন-নূর: ৬৩] (১) ৬ - যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করবে, সে পূর্ণাঙ্গ সুখ এবং মহা সাফল্য লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমাদের ওপর রহমত করা হয়।} [আলে ইমরান: ১৩২] (২) ।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা সঠিক পথ পাবে।} [আন-নূর: ৫৪] (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[أنواع التوحيد]أنواع التوحيد التوحيد: هو إفراد الله تعالى بالربوبية والألوهية وكمال الأسماء والصفات.
أنواع التوحيد: ثلاثة، وهي توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية وتوحيد الأسماء والصفات.
1 - توحيد الربوبية: وهو توحيد الله بأفعاله - سبحانه - مثل الخلق والرزق وتدبير الأمور والإحياء والإماتة ونحو ذلك.
فلا خالق إلا الله، كما قال تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر: 62] (1) .
ولا رازق إلا الله، كما قال تعالى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا} [هود: 6] (2) .
ولا مدبِّر إلا الله، كما قال تعالى: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ} [السجدة: 5] (3) .
--------------------------------------------
[তাওহীদের প্রকারভেদ]তাওহীদের প্রকারভেদ। তাওহীদ হলো: আল্লাহ তাআলাকে রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং নাম ও গুণাবলীর পরিপূর্ণতায় একক সাব্যস্ত করা।
তাওহীদ তিন প্রকার: আর সেগুলো হলো তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।
১ - তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ: আর তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে তাঁর কার্যাবলীর মাধ্যমে একক সাব্যস্ত করা—যেমন সৃষ্টি করা, রিযিক দান করা, সকল বিষয় পরিচালনা করা, জীবন দান করা, মৃত্যু দান করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা} [আয-যুমার: ৬২] (১)।
এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো রিযিকদাতা নেই, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিক আল্লাহর যিম্মায় নেই} [হুদ: ৬] (২)।
এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো পরিচালক নেই, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন} [আস-সাজদাহ: ৫] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولا محيي ولا مميت إلا الله، كما قال تعالى: {هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [يونس: 56] (1) .
وهذا النوع قد أقر به الكفار على زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يدخلهم في الإسلام، كما قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [لقمان: 25] (2) .
2 - توحيد الألوهية: وهو توحيد الله بأفعال العباد التي أمرهم بها. فتصرف جميع أنواع العبادة لله وحده لا شريك له، مثل الدعاء والخوف والتوكل والاستعانة والاستعاذة وغير ذلك.
فلا ندعو إلا الله، كما قال تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60] (3) .
ولا نخاف إلا الله، كما قال تعالى: {فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [آل عمران: 175] (4) .
--------------------------------------------
আল্লাহ ব্যতীত কোনো জীবনদাতা ও মৃত্যুদানকারী নেই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [ইউনুস: ৫৬] (১)।
আর তাওহীদের এই প্রকারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের কাফেররাও স্বীকার করত, কিন্তু তা তাদের ইসলামে প্রবেশ করায়নি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ} [লুকমান: ২৫] (২)।
২ - তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ: আর তা হলো বান্দাদের ঐ সকল কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহকে এক বলে মেনে নেওয়া যেগুলোর নির্দেশ তিনি তাদের দিয়েছেন। সুতরাং সমস্ত প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই নিবেদন করতে হবে যার কোনো শরিক নেই, যেমন দুআ, ভয়, তাওয়াক্কুল (ভরসা), সাহায্য প্রার্থনা, আশ্রয় প্রার্থনা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
অতএব আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ডাকব না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} [গাফির: ৬০] (৩)।
এবং আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করব না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না বরং আমাকেই ভয় করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো} [আলে ইমরান: ১৭৫] (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولا نتوكل إلا على الله، كما قال تعالى: {وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [المائدة: 23] (1) .
ولا نستعين إلا بالله، كما قال تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] (2) .
ولا نستعيذ إلا بالله، كما قال تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1] (3) .
وهذا النوع من التوحيد هو الذي جاءت به الرسل عليهم السلام، حيث قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (4) .
وهذا النوع من التوحيد هو الذي أنكره الكفار قديما وحديثا، كما قال تعالى على لسانهم: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص: 5] (5) .
3 - توحيد الأسماء والصفات: وهو الإيمان بكل ما ورد في
--------------------------------------------
আমরা কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর ওপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হও} [আল-মায়িদাহ: ২৩] (১)।
আমরা কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই} [আল-ফাতিহা: ৫] (২)।
আমরা কেবল আল্লাহর নিকটই আশ্রয় প্রার্থনা করি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, আমি মানুষের রবের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি} [আন-নাস: ১] (৩)।
তাওহীদের এই প্রকারটিই রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) নিয়ে এসেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬] (৪)।
তাওহীদের এই প্রকারটিই প্রাচীন ও আধুনিক যুগের কাফিররা অস্বীকার করেছে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের জবানে বলেছেন: {সে কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? এটি তো এক অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার!} [সোয়াদ: ৫] (৫)।
৩ - আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী) এর তাওহীদ: আর এটি হলো সেই সব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা যা বর্ণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২২)
القرآن الكريم والأحاديث النبوية الصحيحة من أسماء الله وصفاته التي وصف بها نفسه أو وَصفه بها رسوله على الحقيقة.
وأسماء الله كثيرة، منها: الرحمن، والسميع، والبصير، والعزيز، والحكيم.
قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] (1) .
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীসসমূহে আল্লাহর ঐসব নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশেষিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁকে প্রকৃতপক্ষে বিশেষিত করেছেন।
আর আল্লাহর নাম অনেক, তন্মধ্যে রয়েছে: আর-রাহমান, আস-সামি‘, আল-বাসীর, আল-আযীয এবং আল-হাকীম।
মহান আল্লাহ বলেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শূরা: ১১] (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[صفات الفائزين]صفات الفائزين قال الله تعالى: {وَالْعَصْرِ - إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ - إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} [العصر: 1 - 3] (1) .
أقسم الله تعالى بالعصر وهو الزمان على أن الإنسان في خسارة وهلاك إلا من حقق أربع صفات:
1 - الإيمان: وهو معرفة الله تعالى، ومعرفة نبيه، ومعرفة دين الإسلام.
2 - العمل الصالح: مثل الصلاة والزكاة والصيام والصدق وبرّ الوالدين.
3 - التواصي بالحق: وهو الدعوة إلى الإيمان والعمل الصالح، والترغيب في ذلك.
4 - التواصي بالصبر: وهو الصبر على فعل الطاعات، والصبر عند وقوع المصائب.
--------------------------------------------
[বিজয়ীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ]বিজয়ীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ মহান আল্লাহ বলেন: {সময়ের কসম - নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে - তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} [আল-আসর: ১-৩] (১)।
মহান আল্লাহ আসর তথা সময়ের কসম খেয়েছেন যে, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতি ও ধ্বংসের মধ্যে রয়েছে, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে চারটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে:
১ - ঈমান: আর তা হলো মহান আল্লাহকে জানা, তাঁর নবীকে জানা এবং ইসলাম ধর্মকে জানা।
২ - সৎকর্ম: যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম, সত্যবাদিতা এবং পিতামাতার প্রতি সদাচরণ।
৩ - সত্যের উপদেশ দান: আর তা হলো ঈমান ও সৎকর্মের দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং সে বিষয়ে উৎসাহিত করা।
৪ - ধৈর্যের উপদেশ দান: আর তা হলো ইবাদত পালনে ধৈর্য ধারণ করা এবং বিপদাপদ আপতিত হওয়ার সময় ধৈর্য ধারণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[ما ينافي التوحيد ويضاده]ما ينافي التوحيد ويضاده 1 - أول ما فرض الله على الناس الإيمان بالله والكفر بالطاغوت.
كما قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (1) .
2 - معنى الطاغوت: كل ما عُبد من دون الله وهو راضٍ.
3 - صفة الكفر بالطاغوت: أن تعتقد بطلان عبادة غير الله تعالى وتتركها وتبغضها، وتكفِّر أهلها وتعاديهم.
4 - الشرك ضد التوحيد، فالتوحيد هو إفراد الله تعالى بالعبادة، والشرك هو صرف إحدى العبادات لغير الله تعالى، مثل أن يدعو غير الله، أو يسجد لغير الله.
5 - الشرك أكبر الذنوب وأعظمها، لقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] (2) .
--------------------------------------------
[তাওহীদের পরিপন্থী ও বিপরীত বিষয়সমূহ]তাওহীদের পরিপন্থী ও বিপরীত বিষয়সমূহ ১ - আল্লাহ মানুষের ওপর প্রথম যা ফরজ করেছেন তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাগুতকে অস্বীকার করা।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এ নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।" [আন-নাহল: ৩৬] (১)।
২ - তাগুতের অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুরই ইবাদত করা হয় এবং সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে।
৩ - তাগুতকে অস্বীকার করার পদ্ধতি: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের ইবাদত বাতিল বলে বিশ্বাস করা, তা বর্জন করা ও তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করা এবং এর অনুসারীদের কাফির মনে করা ও তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা।
৪ - শিরক হলো তাওহীদের বিপরীত। তাওহীদ হলো ইবাদতে আল্লাহ তাআলাকে একক করা, আর শিরক হলো কোনো প্রকার ইবাদত আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো জন্য উৎসর্গ করা; যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দুআ করা অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা।
৫ - শিরক হলো সবচাইতে বড় ও গুরুতর গুনাহ। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য যেকোনো গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" [আন-নিসা: ৪৮] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والشرك يبطل جميع الطاعات، ويوجب الخلود في النار وعدم دخول الجنة، كما قال تعالى: {ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأنعام: 88] (1) .
وقال تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ} [المائدة: 72] (2) .
6 - الكفر ينافي التوحيد، فالكفر أقوال وأعمال تخرج فاعلها عن التوحيد والإيمان.
ومثال الكفر: الاستهزاء بالله تعالى، أو آيات القرآن، أو الرسول كما قال تعالى: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ - لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة: 65 - 66] (3) .
7 - النفاق ينافي التوحيد، فالنفاق: أن يظهر للناس التوحيد والإيمان ويبطن في قلبه الشرك والكفر.
ومثال النفاق: أن يظهر بلسانه الإيمان بالله ويبطن الكفر كما
--------------------------------------------
শিরক সমস্ত ইবাদতকে বাতিল করে দেয় এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী থাকা ও জান্নাতে প্রবেশ না করাকে অবধারিত করে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এটি আল্লাহর হিদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চান হিদায়াত দান করেন। আর যদি তারা শিরক করত তবে তারা যা আমল করত তা অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেত} [সূরা আল-আনআম: ৮৮] (১)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম} [সূরা আল-মায়িদা: ৭২] (২)।
৬ - কুফর তাওহীদের পরিপন্থী। কুফর হলো এমন কিছু কথা ও কাজ যা এর কর্তাকে তাওহীদ ও ঈমান থেকে বের করে দেয়।
কুফরের উদাহরণ হলো: আল্লাহ তাআলা, কুরআনের আয়াতসমূহ অথবা রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করা। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা অজুহাত দেখিও না, তোমরা তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফির হয়ে গেছ} [সূরা আত-তাওবাহ: ৬৫ - ৬৬] (৩)।
৭ - নিফাক তাওহীদের পরিপন্থী। নিফাক হলো: মানুষের সামনে তাওহীদ ও ঈমান প্রকাশ করা এবং অন্তরে শিরক ও কুফর গোপন রাখা।
নিফাকের উদাহরণ হলো: মুখে আল্লাহর প্রতি ঈমান প্রকাশ করা এবং অন্তরে কুফর গোপন রাখা যেমন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ} [البقرة: 8] (1) .
أي يقولون بألسنتهم آمنا بالله وما هم بمؤمنين حقيقة في قلوبهم.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ তারা মুমিন নয়} [আল-বাকারাহ: ৮] (১) ।
অর্থাৎ তারা তাদের মুখে বলে আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে তারা মুমিন নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[الإيمان بالله واليوم الآخر]الإيمان بالله واليوم الآخر معنى الإيمان باليوم الآخر: التصديق الجازم بوقوع هذا اليوم، فيؤمن كل واحد منا بأن الله تعالى يبعث الناس من القبور، ثم يحاسبهم ويجازيهم على أعمالهم، حتى يستقر أهل الجنة في منازلهم، وأهل النار في منازلهم.
والإيمان باليوم الآخر أحد أركان الإيمان، فلا يصح الإيمان إلا به.
والإيمان باليوم الآخر يتضمن ثلاثة أمور: 1 - الإيمان بالبعث والحشر: وهو إحياء الموتى من قبورهم، وإعادة الأرواح إلى أجسادهم، فيقوم الناس لرب العالمين، ثم يحشرون ويجمعون في مكان واحد، حفاة غير منتعلين، عراة غير مستترين، غرلا غير مختونين.
ودليل البعث قوله تعالى: {ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ - ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ} [المؤمنون: 15 - 16] (1) .
--------------------------------------------
[আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান]আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান। শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের অর্থ: এই দিনটি সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও অকাট্য বিশ্বাস পোষণ করা। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেই এই বিশ্বাস রাখবে যে, মহান আল্লাহ মানুষকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন, যতক্ষণ না জান্নাতবাসীরা তাদের নিজ নিজ আবাসে এবং জাহান্নামবাসীরা তাদের নিজ নিজ আবাসে স্থিতি লাভ করে।
আর শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের রুকনসমূহের অন্যতম একটি রুকন; এটি ছাড়া ঈমান সঠিক হয় না।
শেষ দিবসের প্রতি ঈমান তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: ১ - পুনরুত্থান ও হাশরের প্রতি ঈমান: আর তা হলো মৃতদেরকে তাদের কবর থেকে জীবিত করা এবং আত্মাগুলোকে পুনরায় তাদের দেহে ফিরিয়ে দেওয়া। ফলে মানুষ বিশ্বজগতের রবের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হবে, অতঃপর তাদেরকে এক স্থানে সমবেত ও একত্রিত করা হবে—খালি পায়ে পাদুকা বিহীন অবস্থায়, নগ্ন দেহে আবরণ বিহীন অবস্থায় এবং খতনাবিহীন অবস্থায়।
পুনরুত্থানের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর এর পরে তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চয়ই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।} [আল-মুমিনুন: ১৫ - ১৬] (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ودليل الحشر قوله صلى الله عليه وسلم: «يحشر الناس يوم القيامة حفاة عراة غرلا» (1) .
2 - الإيمان بالحساب والميزان: يحاسب الله الخلائق على أعمالهم التي عملوها في الحياة الدنيا، فمن كان من أهل التوحيد ومطيعا لله ورسوله فإن حسابه يسير، ومن كان من أهل الشرك والعصيان فحسابه عسير.
وتوزن الأعمال في ميزان عظيم، فتوضع الحسنات في كفة، والسيئات في الكفة الأخرى، فمن رجحت حسناته بسيئاته فهو من أهل الجنة، ومن رجحت سيئاته بحسناته فهو من أهل النار.
ودليل الحساب قولَه تعالى: {فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ - فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا - وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا - وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ - فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا - وَيَصْلَى سَعِيرًا} [الانشقاق: 7 - 12] (2) .
--------------------------------------------
হাশরের প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «কিয়ামতের দিন মানুষকে খালি পায়ে, উলঙ্গ অবস্থায় এবং খতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে» (১)।
২ - হিসাব ও মীজানের (দাঁড়িপাল্লা) ওপর ঈমান আনা: আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে তাদের ঐ সকল আমলের হিসাব নেবেন যা তারা পার্থিব জীবনে সম্পাদন করেছে। অতএব, যারা তাওহীদপন্থী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত ছিল, তাদের হিসাব হবে সহজ। আর যারা শিরক ও নাফরমানিতে লিপ্ত ছিল, তাদের হিসাব হবে অত্যন্ত কঠিন।
একটি সুমহান মীজানে আমলসমূহ ওজন করা হবে; ফলে নেকিগুলো এক পাল্লায় এবং পাপগুলো অন্য পাল্লায় রাখা হবে। অতঃপর যার নেকির পাল্লা পাপের পাল্লার চেয়ে ভারী হবে, সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। আর যার পাপের পাল্লা নেকির পাল্লার চেয়ে ভারী হবে, সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
হিসাবের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে - শীঘ্রই তার হিসাব সহজভাবে গ্রহণ করা হবে - এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত অবস্থায় ফিরে যাবে - আর যাকে তার আমলনামা তার পিঠের পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে - শীঘ্রই সে ধ্বংসকে আহ্বান করবে - এবং সে প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} [আল-ইনশিকাক: ৭ - ১২] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ودليل الميزان قوله تعالى: {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ} [الأنبياء: 47] (1) .
3 - الجنة والنار: الجنة هي دار النعيم المقيم، أعدها الله للمؤمنين المتقين، المطيعين لله ورسوله، فيها جميع أنواع النعيم الدائم من المأكولات والمشروبات والملبوسات وجميع أنواع المحبوبات.
وأما النار فهي دار العذاب المقيم، أعدها الله للكافرين الذين كفروا بالله وعَصَوا رُسله، فيها من أنواع العذاب والآلام والنكال ما لا يخطر على البال.
ودليل الجنة قوله تعالى: {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ} [آل عمران: 133] (2) .
--------------------------------------------
মিযানের (তুলাদণ্ডের) প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর কিয়ামতের দিন আমরা ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারও প্রতি সামান্যতম যুলুম করা হবে না। আর যদি তা সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমরা তা উপস্থিত করব। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমরাই যথেষ্ট।} [আল-আম্বিয়া: ৪৭] (১)।
৩ - জান্নাত ও জাহান্নাম: জান্নাত হলো চিরস্থায়ী নিআমতের আবাস, যা আল্লাহ মুমিন মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত। সেখানে খাবার, পানীয়, পোশাক এবং সমস্ত পছন্দনীয় বস্তুর অন্তর্ভুক্ত সব ধরনের চিরস্থায়ী নিআমত রয়েছে।
আর জাহান্নাম হলো চিরস্থায়ী শাস্তির আবাস, যা আল্লাহ ঐসব কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করেছেন যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে এবং তাঁর রাসূলগণের অবাধ্য হয়েছে। এতে এমন সব ধরণের শাস্তি, যন্ত্রণা ও কঠিন শাস্তি রয়েছে যা কল্পনাও করা যায় না।
জান্নাতের প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।} [আল-ইমরান: ১৩৩] (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقوله تعالى: {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17] (1) .
وأما الدليل على النار فقوله تعالى: {فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 24] (2) .
وقوله تعالى: {إِنَّ لَدَيْنَا أَنْكَالًا وَجَحِيمًا - وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيمًا} [المزمل: 12 - 13] (3) .
اللهم إنا نسألك الجنة وما قرّب إليها من قول وعمل، ونعوذ بك من النار وما قرّب إليها من قول وعمل.
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকানো রাখা হয়েছে, তারা যা আমল করত তার বিনিময়স্বরূপ।} [সাজদাহ: ১৭] (১)।
আর জাহান্নামের সপক্ষে দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {সুতরাং তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।} [বাক্বারাহ: ২৪] (২)।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আমাদের কাছে রয়েছে শিকলসমূহ ও প্রজ্বলিত আগুন, এবং গলায় আটকে যায় এমন খাদ্য ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [মুয্যাম্মিল: ১২ - ১৩] (৩)।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে জান্নাত এবং জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কথা ও কাজ প্রার্থনা করছি; আর আমরা আপনার কাছে জাহান্নাম এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কথা ও কাজ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[مقدمة عن العقيدة الإسلامية وأهميتها]مقدمة عن العقيدة الإسلامية وأهميتها إن الدين الإسلامي عقيدةٌ وشريعة، فأما العقائد فيراد بها: الأمور التي تصدق بها النفوس، وتطمئن إليها القلوب وتكون يقينا عند أصحابها لا شك فيها ولا ريب.
والشريعة: تعني التكاليف العملية التي دعا إليها الإسلام كالصلاة والزكاة والصيام وبر الوالدين وغيرها.
وأسس العقيدة الإسلامية هي: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والإيمان بالقدر خيره وشره.
والدليل على ذلك قوله تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة: 177] (1) .
وقوله تعالى في القَدَر: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ - وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍ بِالْبَصَرِ} [القمر: 49 - 50] (2) .
وقوله صلى الله عليه وسلم،: «الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته ورسله
--------------------------------------------
[ইসলামী আকিদাহ ও এর গুরুত্বের ভূমিকা]ইসলামী আকিদাহ ও এর গুরুত্বের ভূমিকা। নিশ্চয়ই ইসলাম ধর্ম হলো আকিদাহ (বিশ্বাস) ও শরীয়াহর (বিধান) সমষ্টি। আকিদাহ বলতে সেসব বিষয়কে বোঝানো হয়, যা আত্মা সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং যার প্রতি হৃদয় প্রশান্ত হয়; আর তা এর অধিকারীর নিকট এমন এক নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয় যাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহ থাকে না।
আর শরীয়াহ বলতে সেই সকল আমল বা কর্মগত বাধ্যবাধকতাকে বোঝায় যার দিকে ইসলাম আহ্বান জানিয়েছে; যেমন—নামাজ, জাকাত, রোজা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ।
ইসলামী আকিদাহর মূল ভিত্তিগুলো হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা।
এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পুণ্য কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানো নয়; বরং পুণ্য হলো তার, যে ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, কিতাবের প্রতি এবং নবীগণের প্রতি} [বাকারা: ১৭৭] (১)।
তাকদির বা ভাগ্য সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী। আর আমার আদেশ তো কেবল একটি কথা মাত্র, চোখের পলকের মতো} [কামার: ৪৯ - ৫০] (২)।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "ঈমান হলো এই যে, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিন-নাশিআতি ওয়াল মুবতাদিঈন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره» (1) .
* * * أهمية العقيدة الإسلامية: تظهر أهمية العقيدة الإسلامية من خلال أمور كثيرة منها ما يلي:
1 - أن حاجتنا إلى هذه العقيدة فوق كل حاجة، وضرورتنا إليها فوق كل ضرورة؟ لأنه لا سعادة للقلوب، ولا نعيم، ولا سرور إلا بأن تعبد ربها وفاطرها تعالى.
2 - أن العقيدة الإسلامية هي أعظم الواجبات وآكدها؛ لذا فهي أول ما يطالب به الناس، كما قال صلى الله عليه وسلم: «أُمِرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله» (2) .
3 - أن العقيدة الإسلامية هي العقيدة الوحيدة التي تحقق الأمن والاستقرار، والسعادة والسرور.
كما قال تعالى: {بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 112] (3) كما أن العقيدة الإسلامية وحدها هي التي تحقق العافية والرخاء، قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ} [الأعراف: 96] (4) .
4 - أن العقيدة الإسلامية هي السبب في حصول التمكين في الأرض، وقيام دولة الإسلام.
قال تعالى: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} [الأنبياء: 105] (5) .
--------------------------------------------
এবং শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে (১)।
* * * ইসলামী আকিদাহর গুরুত্ব: ইসলামী আকিদাহর গুরুত্ব অনেক বিষয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
১ - এই আকিদাহর প্রতি আমাদের প্রয়োজন অন্য সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে, এবং এর প্রতি আমাদের আবশ্যকতা অন্য সব আবশ্যকতার ঊর্ধ্বে। কারণ অন্তরের কোনো সুখ, কোনো নিআমত এবং কোনো আনন্দ নেই তার রব ও মহান সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা ব্যতীত।
২ - ইসলামী আকিদাহ হলো মহানতম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিষয়; তাই এটিই সেই প্রথম বিষয় যার প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানো হয়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল" (২)।
৩ - ইসলামী আকিদাহ হলো একমাত্র আকিদাহ যা নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব এবং সুখ ও আনন্দ নিশ্চিত করে।
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেয় এবং সে সৎকর্মপরায়ণ হয়, তবে তার রবের নিকট তার প্রতিদান রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [আল-বাকারাহ: ১১২] (৩)। তেমনিভাবে ইসলামী আকিদাহই একমাত্র বিষয় যা কল্যাণ ও সচ্ছলতা নিশ্চিত করে, মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি জনপদগুলোর অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম} [আল-আ’রাফ: ৯৬] (৪)।
৪ - ইসলামী আকিদাহ হলো পৃথিবীতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হওয়ার মূল কারণ।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর অবশ্যই আমি যিকরের (তাওরাত) পর যাবূরে লিখে দিয়েছি যে, আমার নেককার বান্দারাই জমিনের উত্তরাধিকারী হবে} [আল-আম্বিয়া: ১০৫] (৫)।
--------------------------------------------