(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: -)
التنصير مفهومه وأهدافه ووسائله وسبل مواجهته   (علي بن إبراهيم الحمد النملة)

القسم: كتب عامة


الكتاب: التنصير، مفهومه وأهدافه ووسائله وسبل مواجهته

المؤلف: علي بن إبراهيم الحمد النملة

الناشر: -

الطبعة: الثانية، 1419هـ

عدد الصفحات: 152

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খ্রিস্টানিকরণ: এর ধারণা, উদ্দেশ্য, মাধ্যম এবং তা মোকাবিলার উপায়   (আলী বিন ইব্রাহিম আল-হামদ আন-নামলাহ)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: খ্রিস্টানিকরণ, এর ধারণা, উদ্দেশ্য, মাধ্যম এবং তা মোকাবিলার উপায়

লেখক: আলী বিন ইব্রাহিম আল-হামদ আন-নামলাহ

প্রকাশক: -

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[المدخل]

التنصير مفهومه وأهدافه ووسائله وسبل مواجهته المدخل الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبع هداه إلى يوم الدين، وبعد؛

فالتنصير في مفهومه العام ظاهرة بدأت مع ظهور رسالة عيسى ابن مريم - عليهما الصلاة والسلام -. . وقد حصل لهذا المفهوم تطورات بحسب ما حصل للنصرانية الأولى من تحريف بدأ على يد شاؤول أو بولس في القرن الأول الميلادي. وأدخلت عليها ثقافات يونانية [إغريقية] وهندية وفارسية، فأصبحت النصرانية خليطا من الوحي الإلهي الذي أنزله الله - تعالى - على نبيه ورسوله عيسى ابن مريم عليهما السلام وأفكار البشر الذين سبقوا في وجودهم ظهور النصرانية.

والمجتمع المسلم لم يسلم من ظاهرة التنصير، بل ربما أضحى هذا المجتمع أكثر المجتمعات تعرُّضا لها، نظرًا للمقاومة التي يلقاها المنصرون من المسلمين أفرادا قبل المؤسسات والجماعات. ذلك أن المسلم يتربى على الفطرة وعلى التوحيد، ويصعب حينئذ أن يتقبل أي أفكار فيها تعارض مع الفطرة، أو فيها خلل في الجوانب العقدية، وفي مخاطبة العقل، مادام المسلم يملك البديل الواضح.

ومع هذا تستمر حملات التنصير الموجهة للمجتمعات الإسلامية والأقليات والجاليات المسلمة، آخذة وسائل عديدة ومفهومات متجددة تختلف عن المفهوم الأساس المتمثل في محاولة إدخال غير النصارى في النصرانية.

والتنصير ظاهرة متجددة ومتطورة في آن واحد. وتطورها يأتي في تعديل الأهداف، وفي توسيع الوسائل ومراجعتها بين حين وآخر، تبعا لتعديل الأهداف، ومن ذلك اتخاذ الأساليب العصرية الحديثة في تحقيق الأهداف المعدلة، حسب البيئات والانتماءات التي يتوجه إليها التنصير، حتى وصلت هذه الظاهرة عند البعض، إلى
[ভূমিকা]

খ্রিস্টানাইজেশন (ধর্মপ্রচার): এর ধারণা, লক্ষ্য, মাধ্যম এবং প্রতিরোধের উপায় - ভূমিকা। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর;

সাধারণ ধারণায় খ্রিস্টানাইজেশন হলো একটি প্রক্রিয়া যা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর রিসালাত প্রকাশের সাথে শুরু হয়েছিল। প্রথম খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে শৌল বা পলের মাধ্যমে আদি খ্রিস্টধর্মের যে বিকৃতি শুরু হয়েছিল, সেই অনুযায়ী এই ধারণায় বিভিন্ন বিবর্তন ঘটেছে। এতে গ্রীক, ভারতীয় এবং পারস্যের সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে খ্রিস্টধর্ম মহান আল্লাহ তাঁর নবী ও রাসূল ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর ওপর যে ঐশী ওহী নাযিল করেছিলেন এবং খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে বিদ্যমান মানবীয় চিন্তাধারার এক সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে।

মুসলিম সমাজও এই খ্রিস্টানাইজেশন প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকেনি, বরং সম্ভবত এই সমাজই এর সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর কারণ হলো, প্রাতিষ্ঠানিক বা দলগত প্রতিরোধের আগেই সাধারণ মুসলিম ব্যক্তিরা ধর্মপ্রচারকদের তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এর কারণ হলো, একজন মুসলিম ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) এবং তাওহীদের ওপর বেড়ে ওঠে; ফলে ফিতরাতের সাথে সাংঘর্ষিক বা আকীদাগত বিষয়ে ত্রুটিপূর্ণ অথবা বিবেকের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো ধারণা গ্রহণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলিমের কাছে সুস্পষ্ট বিকল্প বিদ্যমান থাকে।

তা সত্ত্বেও মুসলিম সমাজ, সংখ্যালঘু এবং মুসলিম জনবসতিগুলোকে লক্ষ্য করে খ্রিস্টানাইজেশন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে অনেক নতুন মাধ্যম এবং আধুনিক ধারণা গ্রহণ করা হচ্ছে, যা অ-খ্রিস্টানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার মূল ধারণা থেকে ভিন্ন।

খ্রিস্টানাইজেশন একই সাথে একটি পরিবর্তনশীল এবং বিবর্তিত প্রক্রিয়া। এর বিবর্তন মূলত লক্ষ্যগুলোর পরিমার্জন এবং লক্ষ্য পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে সময়ের ব্যবধানে মাধ্যমগুলোর সম্প্রসারণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ এবং লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর পরিচয় অনুযায়ী পরিমার্জিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে...
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১০)
أنها أضحت علما له مؤسساته التعليمية ومناهجه ودراساته ونظرياته.

وقد تنبه المسلمون إلى هذه الحملات منذ القدم، ووقف لها العلماء والولاة والمفكرون وعامة الناس، بحسب قدراتهم العلمية والسلطانية، فقامت ردود علمية على النصرانية المحرفة. وقامت كذلك تنبيهات ورصد للأنشطة التنصيرية في المجتمع المسلم بخاصة، وفي العالم بعامة. ومن أجل ذلك ظهرت أعداد كثيرة من الرسائل والدراسات والمقالات والأبحاث تصدر في الكتب والمجلات والصحف السيارة والدوريات العلمية، كما تصدر في الشريط، هذا الوعاء الذي أخذ طابع القبول في الآونة الأخيرة مع بروز ظاهرة العودة إلى الإسلام "الصحوة". وانتثرت المعلومات في هذا الإنتاج العلمي والفكري المتنوع، من حيث أوعية المعلومات من كتب وغيرها، ومن حيث التغطية. وبدا الإقبال على التعرف على الحملات التنصيرية واضحا مع تنامي الوعي والشعور بوجود تيارات تتحدى الإسلام والمسلمين، وتعمل على منافسته في أذهان الناس وممارساتهم.

وبسبب تناثر المعلومات حول التنصير وتشتتها واختلاف البيانات الإحصائية وتغيرها مع الزمن، ومن خلال التجربة الذاتية مع الحملات التنصيرية بالتعرض المحدود لها والاطلاع على أوجه نشاطها، وحيث إن هذه الحملات متجددة، وهي بحق تهدد المجتمع المسلم، وجدت أنه من المفيد الوقوف مع الفكرة التنصيرية، من حيث مفهومها، وأهدافها، ووسائلها المباشرة والمساندة وسبل مواجهتها، فجاءت هذه الوقفة التي بين يدي القارئ. وهي لا تعدو كونها عرضا عاما لما كتب عن هذه الظاهرة باللغة العربية، ومحاولة الخروج بوقفة علمية موضوعية تختصر المسافة على القارئ بوضعها في مرجع واحد.

ولا أدعي السبق في هذا، ولا إيراد معلومات جديدة، عدا محاولاتي التدخل بوقفات متناثرة في سياق هذا العرض. فإن يكن لهذه الوقفات فضل فإنه سينحصر في تقصير المسافة على المستفيد (القارئ) بالوصول السريع إلى المعلومات عن التنصير،
এটি এখন এমন একটি বিদ্যায় পরিণত হয়েছে যার নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠ্যক্রম, গবেষণা এবং তত্ত্ব রয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকেই মুসলমানরা এই অভিযানগুলো সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং আলেম, শাসক, চিন্তাবিদ ও সাধারণ মানুষ তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বিকৃত খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ করে মুসলিম সমাজে এবং সাধারণভাবে সমগ্র বিশ্বে খ্রিস্টানীকরণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই উদ্দেশ্যেই অসংখ্য পুস্তিকা, গবেষণা, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ বই, সাময়িকী, সংবাদপত্র এবং বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া অডিও ক্যাসেটেও তা প্রচারিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে 'ইসলামি জাগরণ' বা 'সাহওয়া'র প্রভাবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই বহুমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাত্ত্বিক উৎপাদনগুলোতে তথ্যসমূহ ছড়িয়ে আছে, তা তথ্যের মাধ্যম (বই ইত্যাদি) কিংবা ব্যাপ্তি—উভয় দিক থেকেই। ইসলাম ও মুসলমানদের চ্যালেঞ্জকারী এবং মানুষের চিন্তা ও কর্মে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত বিভিন্ন মতাদর্শের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে খ্রিস্টানীকরণ অভিযানগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খ্রিস্টানীকরণ সংক্রান্ত তথ্যের বিক্ষিপ্ততা, উপাত্তের ভিন্নতা ও সময়ের সাথে সাথে সেগুলোর পরিবর্তন এবং খ্রিস্টানীকরণ অভিযানগুলোর সাথে সীমিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও তাদের কার্যক্রমের ধরন পর্যবেক্ষণের আলোকে—যেহেতু এই অভিযানগুলো প্রতিনিয়ত নতুন রূপ ধারণ করে এবং প্রকৃতপক্ষে মুসলিম সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ—আমি অনুভব করেছি যে, খ্রিস্টানীকরণ সংক্রান্ত ধারণা, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মাধ্যমসমূহ এবং তা মোকাবিলার উপায়গুলো নিয়ে আলোকপাত করা ফলপ্রসূ হবে। তাই পাঠকের সামনে এই উপস্থাপনা। এটি এই বিষয়ে আরবি ভাষায় যা লেখা হয়েছে তার একটি সাধারণ উপস্থাপনা মাত্র এবং একজন পাঠকের জন্য একটিমাত্র তথ্যসূত্রে বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরার একটি বস্তুনিষ্ঠ ও তাত্ত্বিক প্রচেষ্টা।

আমি এক্ষেত্রে কোনো নতুনত্বের দাবি করি না এবং নতুন কোনো তথ্য প্রদানেরও দাবি রাখি না, কেবল এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে কিছু বিক্ষিপ্ত পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি। যদি এই আলোচনার কোনো সার্থকতা থাকে, তবে তা হবে তথ্যানুসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য খ্রিস্টানীকরণ সংক্রান্ত তথ্যে দ্রুত পৌঁছানোর পথকে সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১১)
من حيث كونه ظاهرة قائمة لها آثارها على المجتمع المسلم. ولعل هذه الوقفة تفتح الآفاق لمزيد من التوسع لمن أراد ذلك.

وفي سبيل إتاحة المجال للتوسع والإسهام في هذا المجال عمدت إلي رصد ما كتب عن التنصير في الأدبيات "الكتابات" العربية، وبخاصة ما كتب في الكتب والدوريات والمجلات الثقافية. وجعلت هذه الوقفة التي بين يدي القارئ مقدمة للرصد الوراقي "الببليوجرافي". فإن ظهرت الوقفة مستقلة عن الرصد فإنما قصد بذلك، أيضا، اختصار المسافة على المستفيد (القارئ) ، فإن أراد الاستزادة رجع إلى الرصد ليدله على مبتغاه، من خلال تقسيم مواد الرصد إلى مجموعة من رؤوس الموضوعات، رأيت أنها هي أهم ما تحدثت عنه هذه المواد، مع عدم إغفال التداخل بينها.

وقد تعمدت في هذه الوقفة الابتعاد عن البيانات والإحصائيات لأنني وجدتها - في الغالب - غير دقيقة. وعدم دقتها يرجع إلى أنها تُستَقَى عادة من مراجع أجنبية، يكون تركيزها طائفيا أحيانا، أو مؤسسيا أحيانا أخرى، أو إقليميا من ناحية ثالثة، فتقتصر إحصائيتها على إنجازات الطائفة [كاثوليكية أو بروتستانتية أو أرثودوكسية] ، أو تقتصر على إنجاز إرسالية أو مجموعة من الإرساليات تربطها رابطة تنظيمية، أو إقليمية، لكنها لا تغطي جميع الجهود.

وأقرب مثال على هذه المقولة أن ميزانية التنصير في العالم كانت عام 1411هـ - 1990 م حوالي مائة وأربعة وستين مليار دولار أمريكي [164000000000] سنويا، وقد أفادني بهذا الدكتور عبد الرحمن السميط، أحد العاملين في الساحة الإفريقية، ونشر هذا الرقم في مجلة الدعوة السعودية. ثم وجدت أن الميزانية قد قفزت عام 1413 هـ - 1992 م إلى مائة وواحد وثمانين مليار دولار أمريكي [181000000000] . وقد أفاد بهذا أحد المحاضرين في أحد الدروس العامة التي تحدث فيها عن التنصير. والفارق الزمني بين الرقمين هو سنتان، أما الفارق
এটি একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হিসেবে মুসলিম সমাজের ওপর এর প্রভাব বিস্তার করে আছে। সম্ভবত এই আলোচনাটি তাদের জন্য দিগন্ত উন্মোচন করবে যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে জানতে আগ্রহী।

এই ক্ষেত্রে বিস্তৃত আলোচনা এবং অবদানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে, আমি আরবি সাহিত্যে 'খ্রিস্টধর্ম প্রচার' (التنصير) সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছি, বিশেষ করে বই, সাময়িকী এবং সাংস্কৃতিক ম্যাগাজিনগুলোতে যা লেখা হয়েছে। পাঠকের সামনে উপস্থিত এই আলোচনাটিকে আমি গ্রন্থপঞ্জিগত (الببليوجرافي) পর্যালোচনার ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি। যদি এই আলোচনাটি মূল পর্যালোচনা থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়, তবে এর উদ্দেশ্য হলো উপকারভোগীর (পাঠকের) পরিশ্রম লাঘব করা। যদি তিনি আরও জানতে চান, তবে তিনি পর্যালোচনার মূল অংশে ফিরে যেতে পারবেন যা তাকে উদ্দিষ্ট বিষয়ের সন্ধান দেবে। আমি পর্যালোচনার বিষয়বস্তুকে কতগুলো প্রধান শিরোনামে বিভক্ত করেছি, যা আমার মতে এই বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্রকেও উপেক্ষা করা হয়নি।

এই আলোচনায় আমি তথ্য ও পরিসংখ্যান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি কারণ আমি দেখেছি যে সেগুলো সাধারণত সঠিক নয়। এগুলোর নির্ভুল না হওয়ার কারণ হলো, এগুলো সাধারণত বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া হয়, যেগুলোর লক্ষ্য কখনো উপদলীয়, কখনো প্রাতিষ্ঠানিক, আবার কখনো আঞ্চলিক হয়ে থাকে। ফলে তাদের পরিসংখ্যান কেবল নির্দিষ্ট কোনো উপদলের [ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট বা অর্থোডক্স] সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, অথবা কোনো নির্দিষ্ট মিশনারি বা কতগুলো মিশনারি সংস্থার সফলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় যা কোনো সাংগঠনিক বা আঞ্চলিক বন্ধনে আবদ্ধ, কিন্তু তা সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে না।

এই বক্তব্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী উদাহরণ হলো, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصير) বার্ষিক বাজেট ছিল প্রায় একশত চৌষট্টি বিলিয়ন মার্কিন ডলার [১৬৪,০০০,০০০,০০০]। আফ্রিকা মহাদেশে কর্মরত অন্যতম ব্যক্তি ড. আবদুর রহমান আল-সুমাইত আমাকে এই তথ্য জানিয়েছেন এবং এই সংখ্যাটি সৌদি আরবের আদ-দাওয়াহ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে আমি দেখলাম যে, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে এই বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে একশত একাশি বিলিয়ন মার্কিন ডলারে [১৮১,০০০,০০০,০০০] উন্নীত হয়েছে। খ্রিস্টধর্ম প্রচার (التنصير) বিষয়ক একটি সাধারণ পাঠে জনৈক আলোচক এই তথ্য প্রদান করেন। এই দুটি পরিসংখ্যানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো মাত্র দুই বছর, আর পার্থক্যটি হলো...
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১২)
الرقمي بينهما فهو سبعة عشر مليار دولار [17000000000] ، وهو الزيادة في غضون سنتين فقط. ومثل هذا التفاوت في الأرقام ينطبق على أعداد المنصرين والمنصرات، والمتنصرين والمتنصرات، والمعاهد التنصيرية، والجمعيات القديمة والحديثة، واللقاءات والمؤتمرات وغيرها من وسائل "تنصيرية".

وفي نشرة وزعتها الندوة العالمية للشباب الإسلامي جاء فيها أن عدد النصارى في العالم يبلغ مليارًا، وسبع مائة وعشرين مليون (1721000000) نسمة، ويبلغ عدد المنظمات التنصيرية في العالم أربعة وعشرين ألفا وخمس مائة وثمانين (24580) منظمة، وعدد المنظمات العاملة في مجالات الخدمة يزيد عن عشرين ألفا وسبع مائة (20700) منظمة، ويبلغ عدد المنظمات التي تبعث منصرين متخصصين في مجالات التنصير والإغاثة ثلاثة آلاف وثماني مائة وثمانين (3880) منظمة، ويزيد عدد المعاهد التنصيرية على ثمانية وتسعين ألفا وسبع مائة وعشرين (98720) معهدا تنصيريا، ويبلغ عدد المنصرين المتفرغين للعمل خارج إطار المجتمع النصراني أكثر من مئتين وثلاثة وسبعين ألفا وسبع مائة وسبعين (273770) منصرا، والذي يظهر لي أن هذا الرقم الأخير متواضع جدا، ويزيد عدد الكتب المؤلفة لأغراض التنصير عن اثنين وعشرين ألفا ومائة (22100) كتاب في لغات ولهجات متعددة، وبلغ عدد النشرات والمجلات الدورية المنتظمة ألفين ومئتين وسبعين (2270) نشرة ومجلة، توزع منها ملايين النسخ بلغات مختلفة، ويزيد عدد محطات الإذاعات التنصيرية على ألف وتسع مائة (1900) إذاعة، تبث إلى أكثر من مائة (100) دولة وبلغاتها. وذكرت النشرة أن مجموع التبرعات التي حصل عليها المنصرون لعام واحد حوالي مائة وواحد وخمسين مليار (151000000000) دولار أمريكي، وهذا الرقم يقل عن الرقم المأخوذ من المحاضرة المذكورة أعلاه بثلاثين مليار (30000000000) دولار، ويقل عن الرقم الذي أفاد به الدكتور عبد الرحمن السميط بثلاثة عشر مليار (13000000000) دولار.

ولا غرابة في هذه الفروقات في الأرقام، فذلك راجع إلى نوعية المصادر التي
তাদের মধ্যবর্তী সংখ্যাগত ব্যবধান হলো সতেরো বিলিয়ন ডলার [১৭০০০০০০০০০], যা মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংখ্যার এই ধরণের তারতম্য পুরুষ ও নারী মিশনারি, ধর্মান্তরিত পুরুষ ও নারী, মিশনারি প্রতিষ্ঠান, প্রাচীন ও আধুনিক সংগঠন, সভা ও সম্মেলন এবং অন্যান্য "মিশনারি" মাধ্যমের সংখ্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়ুথ (আল-নাদওয়াহ আল-আলামিয়্যাহ লি-শাবাব আল-ইসলামি) কর্তৃক বিতরিত একটি বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বে খ্রিস্টানদের সংখ্যা এক বিলিয়ন সাতশো একুশ মিলিয়ন (১৭২১০০০০০০) জন। বিশ্বে মিশনারি সংগঠনের সংখ্যা চব্বিশ হাজার পাঁচশো আশিটি (২৪৫৮০)। সেবা খাতে কর্মরত সংগঠনের সংখ্যা বিশ হাজার সাতশোর (২০৭০০) বেশি। মিশনারি কার্যক্রম ও ত্রাণ কাজে বিশেষজ্ঞ মিশনারি প্রেরণকারী সংস্থার সংখ্যা তিন হাজার আটশো আশিটি (৩৮৮০)। মিশনারি ইনস্টিটিউটের সংখ্যা আটানব্বই হাজার সাতশো বিশটির (৯৮৭২০) বেশি। খ্রিস্টান সমাজের বাইরে পূর্ণকালীন কাজের জন্য নিয়োজিত মিশনারির সংখ্যা দুই লক্ষ তিয়াত্তর হাজার সাতশো সত্তর (২৭৩৭৭০) জনেরও বেশি; আমার কাছে মনে হয় যে এই সর্বশেষ সংখ্যাটি অত্যন্ত নগণ্য। মিশনারি উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষা ও উপভাষায় রচিত বইয়ের সংখ্যা বাইশ হাজার একশোর (২২১০০) বেশি। নিয়মিত প্রকাশিত বুলেটিন ও সাময়িকীর সংখ্যা দুই হাজার দুইশো সত্তরটি (২২৭০), যেগুলোর লক্ষ লক্ষ কপি বিভিন্ন ভাষায় বিতরণ করা হয়। মিশনারি রেডিও স্টেশনের সংখ্যা এক হাজার নয়শোর (১৯০০) বেশি, যা একশোরও (১০০) বেশি দেশে সংশ্লিষ্ট দেশীয় ভাষায় সম্প্রচারিত হয়। বুলেটিনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক বছরে মিশনারিরা মোট প্রায় একশো একান্ন বিলিয়ন (১৫১০০০০০০০০০) মার্কিন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছে। এই সংখ্যাটি উপরে উল্লিখিত বক্তৃতা থেকে প্রাপ্ত সংখ্যার চেয়ে ত্রিশ বিলিয়ন (৩০০০০০০০০০০) ডলার কম এবং ডক্টর আবদুর রহমান আল-সুমাইত প্রদত্ত সংখ্যার চেয়ে তেরো বিলিয়ন (১৩০০০০০০০০০) ডলার কম।

সংখ্যার এই পার্থক্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ এটি নির্ভর করে উৎসের প্রকৃতির ওপর যা...
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
يستأنس بها موردو هذه الإحصائيات. وعلى أي حال فالأرقام والإحصاءات عالية ومتغيرة بسرعة عجيبة، نظرا لتطور ظاهرة التنصير وأساليبه في نشر التنصير بين الناس بعامة، ولهذا آثرت تجنب ذكر الإحصائيات في هذه الوقفات.

ومن منهجي أيضا في هذه المناقشات للتنصير الإصرار على مصطلحي النصرانية والتنصير في مقابل المسيحية والتبشير، إلا ما اضطررت إليه مما يأتي ضمن نص منقول اقتباسا، فلا أملك، علميا، التصرف في الكلمات الواردة فيه. ولم أشأ التدخل في النص بوضع البديل المختار بين معقوفتين، مع إمكان ذلك، لأني لم أر داعيا لذلك، ويكفي هنا تبيان المنهج، وأني إنما أنقل نصا. ولا يعني نقلي له إقراري لاستخدام المصطلحات الواردة فيه.

وينبغي - في رأيي المستمد من المنهج الذي سرت عليه في هذه المناقشات - أن تعالج ظاهرة التنصير معالجة موضوعية، بعيدة عن الإفراط في الحساسية تجاه النصارى بعامة. فليس بالضرورة أن جميع النصارى منصرون، بل ليس بالضرورة أن جميع النصارى مقتنعون بنصرانيتهم، ويطبقون تعاليمها في حياتهم الخاصة، وإذا كانوا يطبقون تعاليمها في حياتهم الخاصة، ليسوا بالضرورة متعاطفين مع مفهوم التنصير. وهكذا نجد أن هناك احتمالات كثيرة تمنعنا من إطلاق الأحكام معممة على الجميع.

والموضوعية تقتضي أيضا أن ندرك أن هناك نصارى في المجتمعات المسلمة، وغير المسلمة، لم يأتوا بثياب المنصرين. وينبغي ألا نأخذ الناس بالظنة، لأننا في مواقفنا لا نعبر عن وجهات نظر شخصية، بل نعبر عن منهج ندعو الناس إليه. وأحيل هنا إلى خبر وفد نجران إلى الرسول صلى الله عليه وسلم وما فعلوه بالمسجد النبوي، وموقف الرسول - عليه الصلاة السلام - من هذا التصرف. كما أحيل إلى ما فعله أمير المؤمنين خليفة خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم عمر بن الخطاب رضي الله عنه في بيت
এই পরিসংখ্যান প্রদানকারীরা এর মাধ্যমে সমর্থন খুঁজে পান। যাই হোক না কেন, সংখ্যা এবং পরিসংখ্যানগুলো অত্যাধিক এবং আশ্চর্যজনক দ্রুতগতিতে পরিবর্তনশীল; কারণ খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) প্রক্রিয়ার বিস্তার এবং সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতিগুলোর বিবর্তন ঘটছে। এই কারণেই আমি এই আলোচনাগুলোতে পরিসংখ্যান উল্লেখ করা পরিহার করাকেই শ্রেয় মনে করেছি।

খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) বিষয়ক এই আলোচনাগুলোতে আমার অন্যতম মানহাজ (منهج) হলো 'মসিহিয়্যাত' (খ্রিষ্টধর্ম) এবং 'তাবশির' (সুসংবাদ প্রচার)-এর বিপরীতে 'নাসরানিয়্যাত' এবং 'তানসির' (খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ) পরিভাষা দুটি ব্যবহারের ওপর দৃঢ়তা বজায় রাখা। তবে উদ্ধৃতি হিসেবে কোনো মূল পাঠ (نص) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যেখানে আমি বাধ্য হয়েছি, সেখানে আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণার খাতিরে শব্দ পরিবর্তনের অধিকার রাখি না। আর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও আমি মূল পাঠে (نص) হস্তক্ষেপ করে বন্ধনীতে কোনো বিকল্প শব্দ বসাতে চাইনি; কারণ আমি এর কোনো প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি। এখানে কেবল মানহাজ (منهج) স্পষ্ট করাই যথেষ্ট যে, আমি কেবল একটি মূল পাঠ (نص) উদ্ধৃত করছি। আর আমার এই উদ্ধৃতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, আমি তাতে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর ব্যবহারের প্রতি স্বীকৃতি দিচ্ছি।

আমার মতে - যা এই আলোচনাগুলোতে আমার অনুসৃত মানহাজ (منهج) থেকে নেওয়া - খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) এর বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মোকাবিলা করা উচিত, যা সাধারণভাবে নাসারাদের প্রতি অতি-সংবেদনশীলতা থেকে দূরে থাকবে। এটি জরুরি নয় যে সকল নাসারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকারী (منصر) হবে; বরং এটিও আবশ্যক নয় যে সকল নাসারা তাদের খ্রিষ্টধর্মের ব্যাপারে পুরোপুরি সন্তুষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনে এর শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করে। আর যদি তারা ব্যক্তিগত জীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করেও থাকে, তবে তারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) এর ধারণার সাথে সহানুভূতিশীল হবেই - এমনটিও নিশ্চিত নয়। এভাবে আমরা দেখি যে, সেখানে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে যা আমাদের সবার ওপর ঢালাওভাবে কোনো হুকুম বা বিধান (أحكام) প্রয়োগ করা থেকে বিরত রাখে।

বস্তুনিষ্ঠতা এটিও দাবি করে যে, আমরা যেন এটা অনুধাবন করি যে মুসলিম ও অমুসলিম সমাজে এমন অনেক নাসারা রয়েছেন যারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকারীর (منصر) বেশে আসেননি। আর আমাদের উচিত নয় মানুষকে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত করা; কারণ আমাদের অবস্থানে আমরা কোনো ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছি না, বরং আমরা একটি মানহাজ (منهج) তুলে ধরছি যার দিকে আমরা মানুষকে আহ্বান করি। আমি এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমনের সংবাদ এবং মসজিদে নববীতে তারা যা করেছিল ও সেই আচরণের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করছি। একইভাবে আমি আমিরুল মুমিনীন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফার খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বায়তুল [মাকদিসে] যা করেছিলেন তার প্রতিও ইঙ্গিত করছি।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
المقدس، كما أحيل إلى موقفه رضي الله عنه من المحاسب النصراني عند أحد الولاة، وذلك لتكتمل الصورة في مسألة النظر إلى الآخرين.

على أن النظر إلى الآخرين، من غير المسلمين في المجتمع المسلم، تحكمه أحكام الشرع الحنيف، كما هي الحال مع جميع الأحكام الشرعية التي تحكم علاقة العبد مع الله تعالى مباشرة، ومع الخلق عامة. ولم يترك المجال لسيطرة الشعور الذاتي الذي يخضع لمؤثرات الزمان والمكان الآنيين.

وربما أكون قد قصرت في عدم الرجوع إلى الإسهامات الأجنبية مع القدرة على ذلك، من حيث الإمكانية اللغوية - ولله الحمد - فاقتصرت، مع هذا، على ما كتب بالعربية. عدا العرض السريع لبعض ما كتب عن الوسائل، والنظرة إلى المستقبل والمكان. ولا أجد مبررًا لذلك سوى عدم توافر المصادر والمراجع الأجنبية عند إعداد هذه الوقفة. ولعل مدى قبولها والإفادة منها يوجب، في طبعة تالية، طرق هذه الوسيلة والإفادة منها في الحصول على المعلومات التي قد ينظر إليها على أنها حديثة، إذ إنها تنهل من المنبع.

وقد كانت نواة هذه الوقفة مجموعة من المحاضرات حول التنصير ألقيت في بعض مساجد مدينة الرياض بالمملكة العربية السعودية، وألقيت كذلك في فرع جمعية الإصلاح الاجتماعي في الفجيرة من الإمارات العربية المتحدة، وفي الجامعة الإسلامية على مشارف نيامي عاصمة النايجر، وفي المركز الإسلامي الأفريقي بالخرطوم عاصمة السودان. وقد لقيت خلال هذه المحاضرات دعوات من بعض الحضور لنشر مضمون هذه المحاضرات التي تعددت من حيث إلقاؤها، وتكررت من حيث الموضوع نفسه.

والذي آمله أن تؤدي هذه الوقفة ما أريد منها، وأن يكون فيها نفع لمن أراد الإفادة. ولعلها تفتح آفاقا جديدة في أذهان المستفيدين من "القراء"، حول ما تعانيه
পবিত্র (المقدس), যেমনটি কোনো এক গভর্নরের নিকট কর্মরত একজন খ্রিস্টান হিসাবরক্ষকের প্রতি তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অবস্থানের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে, যাতে অন্যদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি পূর্ণতা পায়।

বস্তুত মুসলিম সমাজে বসবাসরত অমুসলিমদের তথা অন্যদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি সুমহান শরীয়তের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেমনটি মহান আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে সৃষ্টিজগতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল শরীয়ী বিধানের বেলায় হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতির প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি, যা মূলত সমসাময়িক কাল ও স্থানের প্রভাবের অধীন হয়ে থাকে।

ভাষাগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও—সকল প্রশংসা আল্লাহর—বৈদেশিক অবদানসমূহের প্রতি ফিরে না তাকানোর ক্ষেত্রে হয়তো আমার কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে; ফলে আমি কেবল আরবি ভাষায় রচিত বিষয়াদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তবে মাধ্যমসমূহ এবং ভবিষ্যৎ ও স্থান সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর রচিত কিছু বিষয়ের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা এর ব্যতিক্রম। এই আলোচনার প্রস্তুতির সময় বৈদেশিক উৎস ও রেফারেন্সের অপ্রাপ্যতা ছাড়া অন্য কোনো অজুহাত আমার নেই। সম্ভবত এর গ্রহণযোগ্যতা ও উপযোগিতা পরবর্তী কোনো সংস্করণে এই মাধ্যমটি ব্যবহার করার এবং এমন তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে যেগুলোকে আধুনিক হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যেহেতু এগুলো সরাসরি মূল উৎস থেকে আহরিত।

এই আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল খ্রিস্টধর্ম প্রচার (تنصير) বিষয়ক কতগুলো বক্তৃতামালা, যা সৌদি আরব রাজ্যের রিয়াদ শহরের কিছু মসজিদে প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহতে ‘জামইয়াতুল ইসলাহ আল-ইজতিমায়ি’-এর শাখায়, নাইজারের রাজধানী নিয়ামের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সুদানের রাজধানী খার্তুমের আফ্রিকান ইসলামিক সেন্টারেও এগুলো প্রদান করা হয়। এই বক্তৃতাগুলোর সময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে এগুলোর বিষয়বস্তু প্রকাশের অনুরোধ আসে, যা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে প্রদান করা হয়েছিল এবং একই বিষয়ের ওপর বারবার আলোচনা করা হয়েছিল।

আমি আশা করি যে, এই আলোচনাটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে এবং যারা উপকৃত হতে চান তাদের জন্য এটি কল্যাণকর হবে। সম্ভবত এটি ‘পাঠক’ বা সুবিধাভোগীদের মনে সেই সকল সমস্যার বিষয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা...
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأمة من تحديات خارجية تأتي في مقدمتها - في نظري - حملات التنصير المستمرة، ومع هذا فهي وقفات تظل، على أي حال، جهد المقل، كما تظل من كلام البشر غير المعصومين الذي يؤخذ منه ويرد.

وأسأل الله تعالى التوفيق والسداد، كما أسأله العون والمغفرة عن التقصير. وكان الله في عون الجميع.

علي بن إبراهيم الحمد النملة

الرياض: ربيع الآخر / 1419 هـ.
উম্মাহর বাহ্যিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে—আমার দৃষ্টিতে—যার অগ্রভাগে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন খ্রিস্টীয়করণ অভিযান। তা সত্ত্বেও, এই আলোকপাতগুলো সর্বাবস্থায় একজন স্বল্প সামর্থ্যবানের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টামাত্র; একইসাথে তা ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয় (غير معصوم) এমন সাধারণ মানুষের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রহণও করা যেতে পারে এবং বর্জনও করা যেতে পারে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং সেই সাথে আমার সীমাবদ্ধতার জন্য তাঁর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা কামনা করছি। আল্লাহ সকলের সহায় হোন।

আলী বিন ইব্রাহিম আল-হামাদ আন-নামলাহ

রিয়াদ: রবিউস সানি / ১৪১৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[الفصل الأول مفهومات التنصير التعريفات]

‌‌[المعنى اللغوي]

الفصل الأول

مفهومات التنصير: التعريفات
[প্রথম পরিচ্ছেদ: খ্রিস্টানিকরণের ধারণাসমূহ ও সংজ্ঞাসমূহ]

[শাব্দিক অর্থ]

প্রথম পরিচ্ছেদ

খ্রিস্টানিকরণের ধারণাসমূহ: সংজ্ঞাসমূহ
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
المعنى اللغوي: التنصير في مفهومه اللفظي اللغوي هو الدعوة إلى اعتناق النصرانية، أو إدخال غير النصارى في النصرانية. وفي الصحيحين واللفظ للبخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مولود يولد إلا على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه، كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء، هل تحسون فيها من جدعاء» ؟) . والفطرة هنا هي الإسلام (1) .

وفي لسان العرب: "والتنصُّر: الدخول في النصرانية، وفي المحكم: الدخول في النصري. ونصَّره: جعله نصرانيا. . . . . " (2) وأورد الحديث الشريف. وقريب منه قول الفيروزآبادي في القاموس المحيط: ". . . والنصرانية والنصرانة واحدة النصارى، والنصرانية أيضا دينهم، ويقال نصراني وأنصار. وتنصَّر دخل في دينهم، ونصره جعله نصرانيا. . . " (3) وذكر مثل ذلك الزبيدي في تاج العروس (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر: أحمد بن علي بن حجر العسقلاني. فتح الباري بشرح صحيح البخاري. - 13 مج. - رقم كتبه وأبوابه وأحاديثه محمد فؤاد عبد الباقي وقام بإخراجه وتصحيح تجاربه محب الدين الخطيب. - بيروت: دار المعرفة، د. ت. - 8 / 512. - حديث رقم 4775 في كتاب القدر، وانظر الحديث بلفظ آخر في 3 / 246 في كتاب الجنائز.

(2) ابن منظور، جمال الدين أبو الفضل محمد بن مكرم بن علي بن أحمد بن أبي القاسم بن حبقة. لسان العرب. - 8 مج. - القاهرة: دار المعارف، د. ت. - 7 / 4440 - 4441.

(3) الفيروزآبادي، مجد الدين محمد بن يعقوب. . القاموس المحيط. - 4 مج. - القاهرة: موسسة الحلبي وشركاه، د. ت. - 2 / 142 - 143.

(4) محمد مرتضى الزبيدي. - تاج العروس من جواهر القاموس. - القاهرة: المطبعة الخيرية، 1306 هـ.
শাব্দিক অর্থ: শাব্দিক ও ভাষাগত পরিভাষায় ‘তানসির’ (খ্রিস্টানিকরণ) বলতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো অথবা অ-খ্রিস্টানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করাকে বোঝায়। সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে—এবং শব্দবিন্যাস বুখারির—আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদি বানায়, অথবা খ্রিস্টান বানায়, অথবা অগ্নিপূজক বানায়। যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে; তোমরা কি তাতে কোনো কানকাটা বা খুঁতযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি অনুভব করো?»। এখানে ফিতরাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসলাম (১)।

এবং ‘লিসানুল আরব’-এ বলা হয়েছে: "আত-তানাসসুর (التنصُّر): খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করা; এবং আল-মুহকাম-এ রয়েছে: নাসরি-তে প্রবেশ করা। আর নাসসারাহু (نصَّره): তাকে খ্রিস্টান বানানো... (২)" এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ফিরোজাবাদীর ‘আল-কামুস আল-মুহিত’-এর বক্তব্যও এর কাছাকাছি: "...আন-নাসরানিয়্যাহ এবং আন-নাসরানাহ হলো নাসারা-এর একবচন। নাসরানিয়্যাহ তাদের ধর্মকেও বলা হয়। নাসরানি এবং আনসারও বলা হয়। তানাসসারা (تنصَّر) অর্থ তাদের ধর্মে প্রবেশ করা এবং নাসসারাহু (نصره) অর্থ তাকে খ্রিস্টান বানানো... (৩)" এবং যুবাইদি ‘তাজুল আরুস’ গ্রন্থেও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি। ফাতহুল বারি বি-শারহি সহিহ বুখারি। - ১৩ খণ্ড। - এর কিতাব, অধ্যায় ও হাদিস নম্বর প্রদান করেছেন মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি এবং এটি সম্পাদনা ও সংশোধন করেছেন মুহিব্বুদ্দিন আল-খতিব। - বৈরুত: দারুল মা’রিফাহ, বি.তা. - ৮/৫১২। - কিতাবুল কদর-এ হাদিস নম্বর ৪৭৭৫, এবং ৩/২৪৬ এর কিতাবুল জানাইজে ভিন্ন শব্দে হাদিসটি দেখুন।

(2) ইবনে মানজুর, জামালুদ্দিন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন মাকরাম বিন আলী বিন আহমদ বিন আবিল কাসিম বিন হাবাকা। লিসানুল আরব। - ৮ খণ্ড। - কায়রো: দারুল মা’আরিফ, বি.তা. - ৭/৪৪৪০ - ৪৪৪১।

(3) ফিরোজাবাদী, মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব। আল-কামুস আল-মুহিত। - ৪ খণ্ড। - কায়রো: মুআসসাসাতুল হালাবি ওয়া শুরাকাউহু, বি.তা. - ২/১৪২ - ১৪৩।

(4) মুহাম্মদ মুরতাজা আল-যুবাইদি। - তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস। - কায়রো: আল-মাতবাআ আল-খাইরিয়াহ, ১৩০৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[النساطرة]

النساطرة: وقد حصل للمفهوم اللفظي شيء من التطوير مع تطور النظرة إلى التنصير منذ بعثة عيسى ابن مريم عليهما السلام، فلم يكن هذا المفهوم حديث الإطلاق، وليس هو ظاهرة جديدة، بل لقد بدأ التنصير مع ظهور النصرانية، حيث كان مطلبا جاء به الإنجيل لنشر الدين النصراني - وليس المسيحي - (1) .

وقد هاجرت طائفة من النصارى يقال لها النساطرة (2) من الرها (3) بعد أن أغلقت مدرستهم فيها،

--------------------------------------------

(1) من أجل الاستقرار على المصطلحات والدلالات يرجع إلى محمد عثمان بن صالح. النصرانية والتنصير أم المسيحية والتبشير: دراسة مقارنة حول المصطلحات والدلالات. - المدينة المنورة: مكتبة ابن القيم، 1410 هـ - 1989 م. - ص 69 -. حيث يؤكد المؤلف أن المصطلحات التي ينبغي اعتمادها عند الحديث عن هذا الموضوع هي النصرانية والتنصير لا المسيحية والتبشير، ويقدم الأدلة العلمية المقنعة لهذا الاختيار.

(2) النساطرة أو النسطورية ينسبون إلى نسطور، يقولون إن الله تعالى ثلاثة أشياء أب وابن وروح القدس كلها لم تزل، وأن عيسى بن مريم عليهما السلام إله تام كله وإنسان تام كله، وليس أحدهما غير الآخر. وأن الإنسان من عيسى بن مريم عليهما السلام هو الذي صلب وقتل. وأن مريم عليها السلام ولدت الإنسان ولم تلد الإله، وأن الله تعالى هو الذي ولد الإله، وكانت هذه الفرقة غالبة في الموصل والعراق وفارس وخراسان. انظر ابن حزم الظاهري، أبو محمد علي بن أحمد. الفصل في الملل والنحل. - 5 مج. - د. م.: دار الفكر، 1400 هـ - 1980م. - 1 / 49.

ولد نسطور (نحو 380 - 451 م) في قيصرية بسورية. وقد حرمه مجمع أفسس المسكوني سنة 431 هـ ونفي إلى مصر، ولكن مذهبه استمر. انظر محمد أبو زهرة. محاضرات في النصرانية: تبحث في الأدوار التي مرت عليها عقائد النصارى وفي كتبهم وفي مجامعهم المقدسة وفرقهم. - ط 4. - الرياض: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، 1404هـ. - ص 165 - 167.

(3) الرها مدينة بالجزيرة بين الشام والموصل. وهي بالرومية (أذاسا) ، بناها الملك "سلوتس" في السنة السادسة من موت الإسكندر مع اللاذقية وسلوقية وأفامية وحلب. انظر ياقوت الحموي. معجم البلدان. - 5 مج. - بيروت: دار صادر، د. ت. - 1 / 127 - 128 و 3 / 106 - 107.
‌[নেস্টোরিয়ান (النساطرة)]

নেস্টোরিয়ান (النساطرة): ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রেরণের পর থেকে ধর্মান্তকরণ (التنصير)-এর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের সাথে সাথে শাব্দিক ধারণায় কিছুটা বিবর্তন ঘটেছে। এই ধারণাটি সাম্প্রতিক কোনো পরিভাষা নয় এবং এটি কোনো নতুন বিষয়ও নয়; বরং নাসরানি (النصرانية) ধর্মের আবির্ভাবের সাথেই ধর্মান্তকরণ (التنصير)-এর সূচনা হয়েছে, কারণ এটি ইঞ্জিলের একটি দাবি ছিল নাসরানি (النصرانية) ধর্ম প্রচারের জন্য—খ্রিস্টধর্ম (المسيحية) নয়—(১)।

নাসারাদের (النصارى) একটি দল, যাদের নেস্টোরিয়ান (النساطرة) (২) বলা হয়, তারা রুহা (الرها) (৩) থেকে হিজরত করেছিল যখন সেখানে তাদের বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) পরিভাষা ও এর অর্থগত স্থিতিশীলতার জন্য মুহাম্মদ উসমান বিন সালেহ রচিত 'নাসরানিয়াত ওয়া তানসির আম মাসিহিয়াত ওয়া তাবশির: দেরালা মুকারানাহ হাওলাল মুসতালাহাত ওয়াদ দালালাত' দ্রষ্টব্য। - মদিনা মুনাওয়ারা: মাকতাবাতু ইবনিল কাইয়্যিম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ। - পৃষ্ঠা ৬৯ -। যেখানে লেখক জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে যে পরিভাষাগুলো গ্রহণ করা উচিত তা হলো নাসরানিয়াহ (النصرانية) ও তানসির (التنصير), মাসিহিয়াহ (المسيحية) ও তাবশির (التبشير) নয়। তিনি এই পছন্দের সপক্ষে সন্তোষজনক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

(২) নেস্টোরিয়ান (النساطرة) বা নেস্টোরিয়ানিজম (النسطورية) নেস্টোরাসের (نسطور) দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তারা বলে যে, মহান আল্লাহ তিনটি সত্তা—পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা—যার সবগুলোই অনাদি। আর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) পূর্ণ ইলাহ এবং পূর্ণ মানুষ, তাদের একজন অন্যজন থেকে ভিন্ন নয়। ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর মানবসত্তাটিই ক্রুশবিদ্ধ ও নিহত হয়েছিল। মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) মানুষটির জন্ম দিয়েছেন, ইলাহ-র জন্ম দেননি; আর আল্লাহ তাআলাই ইলাহ-র জন্ম দিয়েছেন। এই দলটি (الفرقة) মোসুল, ইরাক, পারস্য এবং খোরাসানে প্রভাবশালী ছিল। দেখুন: ইবনে হাজম জহিরি, আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ। 'আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়ান নিহাল'। - ৫ খণ্ড। - প্রকাশস্থল অজ্ঞাত: দারুল ফিকর, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ। - ১ / ৪৯।

নেস্টোরাস (نسطور) (প্রায় ৩৮০ - ৪৫১ খ্রিষ্টাব্দ) সিরিয়ার কায়সারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ৪৩১ হিজরি (মূল পাঠ্য অনুযায়ী) সালে ইফেসাস কাউন্সিল তাকে বহিষ্কার করে এবং মিশরে নির্বাসন দেয়, তবে তার মতবাদ (المذهب) অব্যাহত থাকে। দেখুন: মুহাম্মদ আবু জাহরা। 'মুহাদারাত ফিন নাসরানিয়াহ': যেখানে নাসারাদের আকিদাহর (العقائد) বিভিন্ন স্তর, তাদের কিতাবসমূহ, তাদের পবিত্র কাউন্সিলসমূহ এবং তাদের দলসমূহ (الفرق) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। - ৪র্থ সংস্করণ। - রিয়াদ: জেনারেল প্রেসিডেন্সি ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ, ইফতা, দাওয়াহ এবং ইরশাদ, ১৪০৪ হিজরি। - পৃষ্ঠা ১৬৫ - ১৬৭।

(৩) রুহা (الرها) হলো জাজিরা অঞ্চলের একটি শহর, যা শাম ও মোসুলের মাঝখানে অবস্থিত। গ্রিক ভাষায় একে 'এডেসা' বলা হয়। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ষষ্ঠ বছরে রাজা 'সেলুকাস' এটি নির্মাণ করেন, সাথে লাতাকিয়া, সেলেউসিয়া, আফামিয়া এবং আলেপ্পোও নির্মাণ করেন। দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাউই। 'মুজামুল বুলদান'। - ৫ খণ্ড। - বৈরুত: দারু সাদির, প্রকাশের তারিখ নেই। - ১ / ১২৭ - ১২৮ এবং ৩ / ১০৬ - ১০৭।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২১)
مدرسة الرها، على يد زينون (1) .

سنة 439 م، فهاجرت الطائفة تحت قيادة بارسوما (2) .

--------------------------------------------

(1) زينون إمبراطور بيزنطي (نحو 426 - 491 م) حكم من سنة 474 م إلى وفاته. وقد واجهته قلاقل وثورات بسبب الفتن الدينية في عصره انظر: FUNK AND WAGNALLS NEW ENCYCLOPEDIA. - 27 VOLS. - NEW YUORK: FUNK AND WAGNALLS. 1975. - 25.

(2) بارسوما أو بارصوما أو برصوم أو برصوما (نحو 420 - 495 م) كاتب سرياني تبع النسطورية، وصار أسقف نصيبين نحو 450 م، فنقل إليها مدرسة الرها، وعمل على إشاعة النسطورية في بلاد فارس. انظر: المنجد في الأعلام. - ط 2. - بيروت: دار المشرق، 1969 م. - ص 86. وإنما اعتمدت على المنجد في هذا المجال لأنه يخدم هذه النوعية من الأعلام، رغم النزعة النصرانية في المعلومات التي يقدمها في القسم اللغوي وقسم الأعلام. انظر في نقد المنجد: إبراهيم عوض. النزعة النصرانية في قاموس المنجد. - الطائف: دار الفرقان، 1411هـ - 1991 م. - ص 51.
এডেসা মাদ্রাসা, জেনন (১)-এর মাধ্যমে।

৪৩৯ খ্রিষ্টাব্দে, অতঃপর দলটি (الطائفة) বারসোমা (২)-এর নেতৃত্বে হিজরত (هجرة) করে।

--------------------------------------------

(১) জেনন একজন বাইজেন্টাইন সম্রাট (আনুমানিক ৪২৬ - ৪৯১ খ্রি.), যিনি ৪৭৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তাঁর যুগে ধর্মীয় ফিতনা (الفتن)-এর কারণে তিনি বিভিন্ন অস্থিরতা ও বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। দেখুন: FUNK AND WAGNALLS NEW ENCYCLOPEDIA. - 27 VOLS. - NEW YORK: FUNK AND WAGNALLS. 1975. - 25.

(২) বারসোমা বা বারসাওমা বা বারসুম বা বারসুমা (আনুমানিক ৪২০ - ৪৯৫ খ্রি.) একজন সিরিয়াক লেখক যিনি নেস্টোরিয়ান মতবাদ অনুসরণ করতেন এবং ৪৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নিসিবিসের বিশপ হন। তিনি সেখানে এডেসা মাদ্রাসাটি স্থানান্তরিত করেন এবং পারস্য ভূখণ্ডে নেস্টোরিয়ান মতবাদ প্রচারে কাজ করেন। দেখুন: আল-মুনজিদ ফিল আ'লাম। - ২য় সংস্করণ। - বৈরুত: দারুল মাশরিক, ১৯৬৯ খ্রি.। - পৃষ্ঠা ৮৬। আমি মূলত এই ক্ষেত্রে আল-মুনজিদ-এর ওপর নির্ভর করেছি কারণ এটি এই জাতীয় ব্যক্তিবর্গ (الأعلام) সংক্রান্ত তথ্যে সহায়ক, যদিও এর ভাষাগত ও ব্যক্তিবর্গ বিভাগে প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে খ্রিষ্টীয় প্রবণতা বিদ্যমান। আল-মুনজিদ-এর সমালোচনার বিষয়ে দেখুন: ইব্রাহিম আওয়াদ। আন-নাজআতুল নাসরানিয়্যাহ ফি কামুসিল মুনজিদ। - তায়েফ: দারুল ফুরকান, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রি.। - পৃষ্ঠা ৫১।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২২)
سنة 457م إلى فارس، وأنشأت فيها مدرسة نصيبين، (1) وانتشرت من هذه المدرسة حملات التنصير على الطريقة النسطورية إلى جوف آسيا وبلاد العرب. وقد استعانت هذه الحملات التنصيرية بالفلسفة اليونانية [الإغريقية] لنشر التعاليم الخاصة حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام (2) .

ثم توالت الاستعانات بالثقافات الأخرى كالفارسية والهندية وغيرها مما أعطى هذه الديانة بعدا وثنيا، خرج بها عن أصولها التي جاء بها عيسى ابن مريم عليهما السلام حتى قيل: إن أركان " المسيحية الجديدة وعقائدها وصلواتها وشعائرها تأثرت أو تحدرت من الديانة الوثنية التي كانت سائدة قبل ظهور المسيح عليه السلام، أو في أيامه. وقد نقلها المؤمنون الجدد من ديانتهم الوثنية، فأقرتهم عليها الكنيسة، ثم تبنتها وجعلتها رموزا تأويلية ملفقة ترضيهم وتلبس على غيرهم " (3) .

--------------------------------------------

(1) نصيبين مدينة من بلاد الجزيرة يروي " ياقوت" عنها أثرا عن الرسول صلى الله عليه وسلم فيه دعاء بفتحها وجعلها بركة للمسلمين. وقد فتحها القائد المسلم عياض بن غنم رضي الله عنه، واشتهرت بمدرستها السريانية. انظر ياقوت الحموي. معجم البلدان. - مرجع سابق - 5 / 288 - 289.

(2) يقول إسماعيل مظهر: " ولم يكونوا عاملين على نشر المسيحية فقط، بل أرادوا أن ينشروا منها تعاليمهم الخاصة في طبيعة المسيح، فأخذوا يستعينون على بث أفكارهم بأقوال ومذاهب منتزعة من الفلسفة اليونانية. فأصبح كل مبشر نسطوري بالضرورة معلما في الفلسفة اليونانية، كما أنه مبشر بالدين المسيحي ". انظر: إسماعيل مظهر. " تاريخ تطور الفكر العربي بالترجمة والنقل من الثقافة اليونانية - 1 - ". - المقتطف مج 66 ع2 (3 / 3 / 1925 م) . - ص141 - 149.

(3) أندريه نايتون وإدغار ويند وكارل غوستاف يونغ. الأصول الوثنية للمسيحية. ترجمة سميرة عزمي الزين - د. م.: المعهد الدولي للدراسات الإنسانية، 1411 هـ - 1991م. ص5. - (سلسلة من أجل الحقيقية / 4) . وانظر أيضا في الأصول الوثنية للنصرانية: محمد طاهر التنير. العقائد الوثنية في الديانة النصرانية. - نشره وعلق عليه ونقحه وقدم له محمد بن إبراهيم الشيباني. - الكويت: مكتبة ابن تيمية، 1408 هـ 1987م. ص 156. - (سلسلة ملل ونحل / 4) .
৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে পারস্যে (যাত্রা করে) এবং সেখানে নুসাইবিন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, (১) আর এই মাদ্রাসা থেকেই নেস্টোরীয় পদ্ধতিতে খ্রিস্টধর্ম প্রচার অভিযান এশিয়ার অভ্যন্তরে এবং আরব ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এই খ্রিস্টধর্ম প্রচার অভিযানগুলো গ্রিক দর্শনের সাহায্য গ্রহণ করেছিল যাতে মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালামের প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের বিশেষ শিক্ষাগুলো প্রচার করা যায় (২)।

এরপর পারস্য, ভারতীয় এবং অন্যান্য সংস্কৃতির সাহায্য গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকে, যা এই ধর্মকে একটি পৌত্তলিক মাত্রা দান করে। এর ফলে এটি মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালাম আনীত মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এমনকি বলা হয়েছে যে: "নতুন খ্রিস্টধর্মের স্তম্ভসমূহ, এর বিশ্বাস, প্রার্থনা এবং আচার-অনুষ্ঠানগুলো সেই পৌত্তলিক ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল বা সেখান থেকে উদ্ভূত হয়েছিল যা মাসিহ আলাইহিস সালামের আবির্ভাবের পূর্বে বা তাঁর সমসাময়িককালে প্রচলিত ছিল। নব্য বিশ্বাসীরা তাদের পূর্বের পৌত্তলিক ধর্ম থেকে এগুলো স্থানান্তর করেছিল, অতঃপর চার্চ তাদের এই বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং পরবর্তীতে এগুলো গ্রহণ করে বানোয়াট রূপক প্রতীকে রূপান্তর করে যা তাদের তুষ্ট করে এবং অন্যদের বিভ্রান্ত করে" (৩)।

--------------------------------------------

(১) নুসাইবিন হলো আল-জাজিরা অঞ্চলের একটি শহর। 'ইয়াকুত' এটি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি বর্ণনা (أثر) উল্লেখ করেন যাতে এটি বিজয়ের এবং একে মুসলমানদের জন্য বরকতপূর্ণ করার দুয়া রয়েছে। মুসলিম সেনাপতি ইয়াদ বিন গানম রাদিয়াল্লাহু আনহু এটি জয় করেন এবং এটি তার সিরীয় মাদ্রাসার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাভী, মুজামুল বুলদান। - পূর্বোক্ত উৎস - ৫/২৮৮-২৮৯।

(২) ইসমাইল মাজহার বলেন: "তারা কেবল খ্রিস্টধর্ম প্রচারেই নিয়োজিত ছিল না, বরং তারা খ্রিস্টের প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের নিজস্ব শিক্ষাগুলোও প্রচার করতে চেয়েছিল। ফলে তারা গ্রিক দর্শন থেকে সংগৃহীত বক্তব্য ও মতাদর্শের মাধ্যমে তাদের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য নিতে শুরু করে। ফলে প্রত্যেক নেস্টোরীয় ধর্মপ্রচারক অবধারিতভাবে গ্রিক দর্শনের শিক্ষক হয়ে ওঠেন, ঠিক যেমন তিনি খ্রিস্টধর্মের একজন প্রচারক ছিলেন।" দেখুন: ইসমাইল মাজহার। "তারিখ তাতাওয়ুর আল-ফিকর আল-আরাবি বিল তারজামা ওয়াল নাকল মিন আল-সাকাফাহ আল-ইউনানিয়্যাহ - ১ -"। - আল-মুকতাতাফ, খণ্ড ৬৬, সংখ্যা ২ (৩/৩/১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ)। - পৃষ্ঠা ১৪১-১৪৯।

(৩) আন্দ্রে নাইটন, এডগার উইন্ড এবং কার্ল গুস্তাভ ইয়ং। 'আল-উসুল আল-ওয়াসানিয়্যাহ লিল মাসিহিয়্যাহ' (খ্রিস্টধর্মের পৌত্তলিক উৎস)। অনুবাদ: সামিরা আজমি আল-জাইন - প্রকাশকাল ও স্থান বিহীন: আল-মা'হাদ আল-দুওয়ালি লিদ দিরাসাত আল-ইনসানিয়্যাহ, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ। পৃষ্ঠা ৫। - (সিলসিলা মিন আজল আল-হাকিকাহ / ৪)। আরও দেখুন খ্রিস্টধর্মের পৌত্তলিক উৎস সম্পর্কে: মুহাম্মদ তাহের আল-তানীর। 'আল-আকাইদ আল-ওয়াসানিয়্যাহ ফিল দিয়ানা আল-নাসরানিইয়াহ'। - সম্পাদনা, টীকা ও ভূমিকা: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-শাইবানী। - কুয়েত: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়াহ, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ। পৃষ্ঠা ১৫৬। - (সিলসিলা মিলাল ওয়া নিহাল / ৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[شاؤول المنصر]

شاؤول المنصر: وقبل هذا سعى شاؤول أو بولس، (1) وقد كان يهوديا فتنصر، إلى نشر النصرانية على طريقته، بعد أن زعم أن المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام قد جاءه في المنام وهو في طريقه إلى دمشق الشام، وطلب منه ترك اضطهاد النصارى والسير في ركب الدعوة إلى النصرانية (التنصير) ، وقد كان قبل هذه الرؤيا، التي يُذكر أنها مصطنعة، (2) من أشد الناس نكاية بالنصارى، ولا سيما نصارى بيت المقدس، حيث

--------------------------------------------

(1) في سبيل التعرف المفصل على تأثير شاؤول أو بولس على الديانة النصرانية يرجع إلى هيم ماكبي. بولس وتحريف المسيحية. - ترجمة سميرة عزمي الزين. - د. م.: المعهد الدولي للدراسات الإنسانية، 1411 هـ - 1991 م. - ص 103 (سلسلة من أجل الحقيقة / 3) .

(2) ومن هذا التقليد الذي سنة شاؤول أو بولس نجد أن كثيرا من النصارى يتهاونون في مسألة رؤيتهم للمسيح عيسى بن مريم عليهما السلام ومجيئه إليهم في المنام إلى اليوم. فقد ذكر لي مرة المشرف على السكن الذي كنت أقيم فيه في الولايات المتحدة الأمريكية أنه كان يتمنى اقتناء سيارة أكبر من سيارته الصغيرة، وتكون بمبلغ زهيد. يقول: فجاءني عيسى في المنام ودلني على السيارة التي كانت في خاطري. فلما صحوت من النوم ذهبت إلى حيث السيارة واشتريتها بخمسة وعشرين دولارا. كما أن أحد المنصرين الكبار في الولايات المتحدة الأمريكية، وهو من أقطاب التنصير في تلك البلاد، وفي غيرها ومقره ولاية أوكلاهوما ويدير مؤسسة تنصيرية، وله جامعة تنصيرية كذلك قد حصل له عجز مالي فقام يوما على أتباعه وهو يتباكى وذكر العجز المادي الذي يعانيه، كما ذكر أن عيسى بن مريم عليهما السلام قد زاره الليلة البارحة في المنام، وقال له إنه إن لم يتمكن من جمع ثمانية ملايين دولار في غضون مدة محدودة فسوف يعمل على القضاء عليه وإنهاء أعماله، فما كان منه إلا أن جمع من المال أكثر من المحدد، وفي مدة أقل من المحددة، فنجا من التهديد له بالهلاك! ! والقصص في هذا المجال كثيرة.
‌[শাউল ধর্মপ্রচারক]

শাউল ধর্মপ্রচারক: আর এর আগে শাউল বা পৌল (১) - যিনি একজন ইহুদি ছিলেন এবং পরে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন - তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, দামেশক অভিমুখে যাওয়ার পথে স্বপ্নে মসিহ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) তাঁর নিকট এসেছেন এবং তাঁকে খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে খ্রিষ্টধর্মের প্রচার ও প্রসারের (খ্রিষ্টানকরণ) পথে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই স্বপ্নের আগে—যাকে বানোয়াট (مصطنعة) বলে অভিহিত করা হয় (২)—তিনি খ্রিষ্টানদের প্রতি, বিশেষ করে বাইতুল মাকদিসের খ্রিষ্টানদের প্রতি চরম কঠোর ও উৎপীড়নকারী ছিলেন, যেখানে...

--------------------------------------------

(১) খ্রিষ্টধর্মের ওপর শাউল বা পৌলের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন: হেইম ম্যাকোবি। পৌল ও খ্রিষ্টধর্মের বিকৃতি। অনুবাদ: সামিরা আজমি আল-জাইন। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান স্টাডিজ, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ। পৃষ্ঠা ১০৩ (সত্যের সন্ধানে সিরিজ / ৩)।

(২) শাউল বা পৌল প্রবর্তিত এই রীতি অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই যে, বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেক খ্রিষ্টান স্বপ্নে মসিহ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-কে দেখা এবং তাঁদের কাছে তাঁর আসার বিষয়টিকে অত্যন্ত সাধারণ বা গুরুত্বহীন বিষয় হিসেবে গণ্য করে। একদা আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম, তখন আমার আবাসের তত্ত্বাবধায়ক আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি তাঁর বর্তমান ছোট গাড়িটির বদলে কম দামে একটি বড় গাড়ি কেনার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তিনি বললেন: অতঃপর ঈসা স্বপ্নে আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সেই গাড়িটি দেখিয়ে দিলেন যা আমার মনে ছিল। যখন আমি ঘুম থেকে জাগলাম, আমি সেই গাড়ির কাছে গেলাম এবং পঁচিশ ডলারে তা কিনে নিলাম। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মপ্রচারক, যিনি সে দেশের এবং অন্যান্য অঞ্চলের ধর্মপ্রচারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব, যাঁর কেন্দ্র ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে এবং যিনি একটি মিশনারি সংস্থা ও একটি মিশনারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন; একবার তাঁর আর্থিক ঘাটতি দেখা দেয়। একদিন তিনি তাঁর অনুসারীদের সামনে রোদনরত অবস্থায় দাঁড়িয়ে তাঁর আর্থিক দৈন্যদশার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি আরও জানালেন যে, গত রাতে স্বপ্নে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) তাঁকে দর্শন দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, যদি তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশি লক্ষ ডলার সংগ্রহ করতে না পারেন, তবে তিনি তাঁকে বিনাশ করবেন এবং তাঁর সকল কাজ শেষ করে দেবেন। অতঃপর দেখা গেল যে, তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই এবং নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়েও বেশি অর্থ সংগ্রহ করে ফেললেন এবং এভাবে তিনি ধ্বংসের হুমকি থেকে মুক্তি পেলেন! এই ক্ষেত্রে এ জাতীয় কাহিনী প্রচুর রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
كان نفوذه فيها واسعا (1) .

وبهذا المفهوم يعد بولس المنصر الأول، وواضع أسس التنصير العالمي. يقول محمد أمير يكن: " لا يعتبر بولس المبشر المسيحي الأول فقط بل يعتبر واضع أسس التبشير المسيحي العالمي. ولا يزال المبشرون في أيامنا هذه يستقون خططهم وترتيباتهم من معلمهم الأول بولس. فهو بحق مؤسس علم التبشير، وقد نجح في هذا المضمار

--------------------------------------------

(1) المعلومات عن شاؤول أو بولس مضطربة. فقد قيل إنه من مواليد طرسوس من مدن آسيا الصغرى، وأنه إسرائيلي من نسل إبراهيم عليه السلام من سبط بنيامين، ويزعم أنه كان فريسيا، ويذكر أنه تتلمذ على يد الحاخام غمالائيل في أكاديمية القدس الفريسية، وكان يسطو على الكنيسة ويدخل البيوت ويجر رجالها ونساءها ويدخلهم السجون. ويذكر حادثة تحوله من اليهودية إلى النصرانية على النحو الآتي: " ولما كنت ذاهبا إلى دمشق بسلطان ووصية من رؤساء الكهنة رأيت في نصف النهار في الطريق، أيها الملك نورا من السماء أفضل من لمعان الشمس قد أبرق من حولي وحول الذاهبين معي. فلما سقطنا جميعا على الأرض سمعت صوتا يكلمني ويقول بالعبرانية: شاول شاول لماذا تضطهدني؟ صعب عليك أن ترفس مناخس. فقلت أنا: من أنت يا سيد؟ فقال: أنا يسوع الذي أنت تضطهده، ولكن قم وقف على رجليك لأني لهذا ظهرت لأنتخبك خادما وشاهدا بما رأيت وبما سأظهر لك به منقذا إياك من الشعب ومن الأمم الذين أنا أرسلك إليهم لتفتح عيونهم كي يرجعوا من ظلمات إلى نور ومن سلطان الشيطان إلى الله حتى ينالوا بالإيمان بي غفران الخطايا ونصيبا مع المقدسين ". انظر هيم ماكبي. بولس وتحريف المسيحية - مرجع سابق - ص 42.
সেখানে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক (১)।

এই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে পলকে প্রথম খ্রিস্টধর্ম প্রচারক এবং বৈশ্বিক খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (ত্যানসির) ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। মুহাম্মদ আমির ইয়াকান বলেন: "পলকে কেবল প্রথম খ্রিস্টান মিশনারিই গণ্য করা হয় না, বরং তাকে বৈশ্বিক খ্রিস্টান মিশনারি কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনকারীও মনে করা হয়। আজও মিশনারিরা তাদের বর্তমান যুগে তাদের প্রথম শিক্ষক পলের কাছ থেকেই তাদের পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা গ্রহণ করে থাকেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে মিশনারি বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা এবং এই ক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছেন।"

--------------------------------------------

(১) শৌল বা পল সম্পর্কিত তথ্যসমূহ অসংলগ্ন (مضطربة)। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এশিয়া মাইনরের শহর তারসুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর বিনিয়ামিন গোত্রের একজন ইসরায়েলি ছিলেন। দাবি করা হয় যে তিনি একজন ফরীশী ছিলেন এবং উল্লেখ করা হয় যে তিনি জেরুজালেমের ফরীশী একাডেমিতে রাব্বি গামালিয়েলের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি গির্জায় হামলা চালাতেন, ঘরবাড়িতে ঢুকে পুরুষ ও নারীদের টেনে হিঁচড়ে কারাগারে নিক্ষেপ করতেন। ইহুদি ধর্ম থেকে খ্রিস্টধর্মে তাঁর ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনাটি নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: "যখন আমি প্রধান পুরোহিতদের কর্তৃত্ব ও আদেশে দামেস্কের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন পথের মধ্যে দ্বিপ্রহরে, হে রাজা, আকাশ থেকে সূর্যের দীপ্তির চেয়েও উজ্জ্বল এক জ্যোতি আমার এবং আমার সঙ্গীদের চারপাশে উদ্ভাসিত হতে দেখলাম। যখন আমরা সবাই মাটিতে পড়ে গেলাম, তখন হিব্রু ভাষায় একটি কণ্ঠস্বর আমাকে বলতে শুনলাম: শৌল, শৌল, কেন তুমি আমাকে নিপীড়ন করছ? কণ্টকশলাকায় পদাঘাত করা তোমার জন্য কঠিন হবে। আমি বললাম: হে প্রভু, আপনি কে? তিনি বললেন: আমিই সেই ঈসা যাকে তুমি নিপীড়ন করছ। কিন্তু ওঠো এবং নিজের পায়ে দাঁড়াও, কারণ আমি তোমার কাছে এই উদ্দেশ্যে আবির্ভূত হয়েছি যেন তোমাকে একজন সেবক এবং যা দেখেছ ও যা আমি তোমাকে দেখাব তার সাক্ষী হিসেবে মনোনীত করি। আমি তোমাকে সেই সব মানুষ ও জাতিদের হাত থেকে রক্ষা করব যাদের কাছে আমি তোমাকে পাঠাচ্ছি, যেন তুমি তাদের চক্ষু উন্মোচন কর এবং তারা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এবং শয়তানের কর্তৃত্ব থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। এভাবে তারা আমার প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা এবং পবিত্রদের সাথে অংশ লাভ করবে।" দেখুন: হাইম মাকোবি, পল এবং খ্রিস্টধর্মের বিকৃতি - পূর্বোক্ত সূত্র - পৃষ্ঠা ৪২।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
أيما نجاح (1) .

ولا بد من التنبية إلى أن هذه النظرة لبولس من قبلنا نحن المسلمين تختلف عن نظرة بعض النصارى له، إذ يعدونه المنقذ، ويسمونه بولس المخلص.

 

‌‌[اليعاقبة]

اليعاقبة: ثم تعاقبت حملات التنصير وتزعمها في الجهة الغربية من فلسطين اليعاقبة (2) الذين اختلفوا مع النساطرة حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام بين الناسوتية واللاهوتية (3) .

--------------------------------------------

(1) محمد أمير يكن. يهوذا الأسخريوطي على الصليب. - مالطا: دار إقرأ، (1410 هـ) 1990م. - ص 303.

(2) اليعاقبة ينسبون إلى يعقوب الرهاوي أو البرذعاني. وكان راهبا بالقسطنطينية. يقول ابن حزم: " وهم فرقة نافرت العقل والحس منافرة وحشة تامة. . . . . " وقالوا: " إن المسيح هو الله وأن الله تعالى عن عظيم كفرهم مات وصلب وأن العالم بقي ثلاثة أيام بلا مدبر والفلك بلا مدبر ثم قام ورجع كما كان وأن الله تعالى عاد محدثا وأن المحدث عاد قديما وأنه تعالى هو كان في بطن مريم محمولا به في أعمال مصر وجميع النوبة وجميع الحبشة وملوك الأمتين المذكورتين ". انظر: ابن حزم. الفصل في الملل والنحل. ـ مرجع سابق. ص 49.

(3) لا يزال الجدل قائما بين الطوائف النصرانية حول المسيح عيسى بن مريم عليهما السلام بين كونه إنسانا أو يجمع بين اللاهوتية والناسوتية. ويقول الله تعالى مخاطبا عيسى بن مريم عليهما السلام: وإذ قال الله يا عيسى ابن مريم أأنت قلت للناس اتخذوني وأمي إلهين من دون الله قال سبحانك ما كان لي أن أقول ما ليس لي بحق إن كنت قلته فقد علمته تعلم ما في نفسي ولا أعلم ما في نفسك إنك أنت علام الغيوب. سورة المائدة الآية 116.
কী অভূতপূর্ব সাফল্য (১)।

এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, আমাদের অর্থাৎ মুসলিমদের পক্ষ থেকে পৌল (পল) সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা তার প্রতি কিছু খ্রিস্টানের দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে ভিন্ন; কারণ তারা তাকে ত্রাণকর্তা মনে করে এবং তাকে ত্রাণকর্তা পৌল নামে অভিহিত করে।

 

‌‌[ইয়াকুবীয় (اليعاقبة)]

ইয়াকুবীয় (اليعاقبة): অতঃপর খ্রিস্টধর্ম প্রচারের একের পর এক অভিযান চলতে থাকে এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিমাঞ্চলে এর নেতৃত্ব দেয় ইয়াকুবীয়রা (اليعاقبة) (২), যারা নাসতুরিদের (النساطرة) সাথে মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালামের প্রকৃতি সম্পর্কে মতবিরোধ করেছিল যে, তিনি কি মানবীয় সত্তা (الناسوتية) নাকি ঐশ্বরিক সত্তা (اللاهوتية) (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আমির ইয়াকান। ইয়াহুদা আল-আসখারিয়ুতি আলাস সলিব। - মাল্টা: দারু ইকরা, (১৪১০ হিজরি) ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ। - পৃ. ৩০৩।

(২) ইয়াকুবীয়রা (اليعاقبة) ইয়াকুব আল-রুহাউয়ি বা আল-বারযা'আনির সাথে সম্পর্কিত। তিনি কনস্টান্টিনোপলের একজন সন্ন্যাসী ছিলেন। ইবনে হাজম বলেন: "তারা এমন একটি দল যারা বিবেক এবং ইন্দ্রিয়ানুভূতির সাথে চরমভাবে বিরোধপূর্ণ। . . . . " তারা আরও বলত: "নিশ্চয়ই মসীহ হলেন আল্লাহ, এবং আল্লাহ—তাদের এই ভয়াবহ কুফরি (كفر) থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে—মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে। তিন দিন পর্যন্ত জগৎ কোনো পরিচালক ছাড়াই ছিল এবং মহাকাশও পরিচালকহীন ছিল। অতঃপর তিনি পুনরুত্থিত হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেন। এবং মহান আল্লাহ নব্য (محدث) হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন এবং নব্য সত্তা আবার অনাদি (قديم) হয়ে যায়। তিনি মারিয়ামের গর্ভে বহনকৃত অবস্থায় মিশরের বিভিন্ন এলাকা, সমগ্র নুবিয়া ও আবিসিনিয়া এবং উল্লেখিত দুই জাতির রাজাদের নিকট ছিলেন।" দেখুন: ইবনে হাজম। আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়ান নিহাল। পূর্বোক্ত সূত্র। পৃ. ৪৯।

(৩) মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে খ্রিস্টান দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক এখনও বিদ্যমান যে, তিনি কি কেবল একজন মানুষ ছিলেন নাকি তিনি ঐশ্বরিক (اللاهوتية) ও মানবীয় (الناسوتية) উভয় গুণের অধিকারী ছিলেন। মহান আল্লাহ ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামকে সম্বোধন করে বলেন: "আর যখন আল্লাহ বলবেন, 'হে মারিয়াম-তনয় ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার জননীকে দুই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো?' তিনি বলবেন, 'আপনি পবিত্র-মহান! যা বলার অধিকার আমার নেই, তা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়। যদি আমি তা বলতাম, তবে আপনি তা অবশ্যই জানতেন। আমার অন্তরে যা আছে তা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরে যা আছে তা আমি জানি না; নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত'।" সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১১৬।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[المسلمون والنصارى]

المسلمون والنصارى: ولعل أول علاقة بين المسلمين والنصارى، أو الإسلام والنصرانية، كانت على عهد الرسول محمد صلى الله عليه وسلم _ حينما أرسل وفدًا من المهاجرين إلى ملك صالح في الحبشة يقال له النجاشي، (1) وما حصل من سبق قريش ومحاولتهم إثناء الملك عن إيواء المسلمين، وقد صاحب هذه المحاولة نقاش وحجاج حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام ونظرة الإسلام له (2) .

--------------------------------------------

(1) النجاشي اسمه أصحمة ويعد من الصحابة رضي الله عنهم أجمعين - وقيل من التابعين بحسب تعريف الصحابي توفي في حياة الرسول محمد صلى الله عليه وسلم وصلى عليه الرسول عليه السلام. انظر في ترجمة النجاشي وذكر القصة أيضا: شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي. سير أعلام النبلاء. 23 مج. - ط3. - بيروت: مؤسسة الرسالة، 1405 هـ - 1985م. - 1 / 428 - 443.

(2) قصة إيواء النجاشي للمسلمين. ومحاولة قريش إثناءه عن ذلك، وما دار من حجاج حول طبيعة المسيح عيسى بن مريم عليهما السلام قصة طويلة ذكرها أحمد في المسند وابن هشام في السيرة، والهيثمي في المجمع. وذكرها الحافظ ابن كثير في البداية من رواية أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ورضي الله عنها - ومنها قولها رضي الله عنها: ". . . . . . فلما دخلوا عليه قال لهم ما تقولون في عيسى؟ فقال له جعفر: نقول فيه الذي جاء به نبينا هو عبد الله ورسوله وروحه وكلمته ألقاها إلى مريم العذراء البتول. فضرب النجاشي يده إلى الأرض، فأخذ عودا ثم قال: ماعدا عيسى ما قلت هذا العود. فتناخرت بطارقته حوله، فقال: وإن نخرتم والله، اذهبوا فأنتم سُيُوم بأرضي - والسيوم الآمنون - من سبكم غرم، ثم من سبكم غرم. ما أحب أن لي دبري ذهبا وأني آذيت رجلا منكم. . . . . . . . . . . " انظر: الذهبي. سير أعلام النبلاء - المرجع السابق. 1 / 433 - 434.
‌[মুসলিম ও খ্রিস্টানগণ]

মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে, অথবা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সম্ভবত প্রথম সম্পর্ক রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সূচিত হয়েছিল—যখন তিনি আবিসিনিয়ায় (হাবশা) নাজ্জাশি নামক একজন নেককার রাজার নিকট একদল মুহাজির (مهاجرين) প্রতিনিধি প্রেরণ করেন, (১) আর (সেখানে) কুরাইশদের অগ্রগামিতা এবং মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়া থেকে রাজাকে বিরত রাখার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রচেষ্টার সাথে মারইয়াম-তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রকৃতি এবং তাঁর সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কও বিদ্যমান ছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) নাজ্জাশির নাম ছিল আসহামা এবং তাঁকে সাহাবীদের (الصحابة) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়—আবার সাহাবীর সংজ্ঞার ভিন্নতা অনুযায়ী তাঁকে তাবেঈদের (التابعين) অন্তর্ভুক্তও বলা হয়। তিনি রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন এবং রাসূল (আলাইহিস সালাম) তাঁর জানাজার নামাজ আদায় করেন। নাজ্জাশির জীবনী (ترجمة) এবং এই ঘটনাটির বর্ণনার জন্য দেখুন: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আজ-জাহাবি। সিয়ারু আলামিন নুবালা। ২৩ খণ্ড। - ৩য় সংস্করণ। - বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ। - ১ / ৪২৮ - ৪৪৩।

(২) মুসলিমদের প্রতি নাজ্জাশির আশ্রয় দান, এ ব্যাপারে কুরাইশদের বাধা প্রদানের চেষ্টা এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রকৃতি সম্পর্কে যে বিতর্ক সংঘটিত হয়েছিল তা একটি দীর্ঘ ঘটনা। এটি আহমাদ মুসনাদ-এ, ইবনে হিশাম সিরাত-এ এবং হাইসামি মাজমা-এ উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসির আল-বিদায়াহ গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনা (رواية) থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। এর অংশবিশেষ হলো তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উক্তি: "...যখন তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করল, তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা ঈসা সম্পর্কে কী বলো?' জাফর তাকে বললেন, 'আমরা তাঁর সম্পর্কে তাই বলি যা আমাদের নবী নিয়ে এসেছেন—তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর পক্ষ থেকে আগত রূহ এবং তাঁর বাণী, যা তিনি কুমারী ও পবিত্র মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন।' তখন নাজ্জাশি মাটিতে হাত মারলেন এবং একটি কাঠি হাতে নিয়ে বললেন, 'ঈসা তোমরা যা বললে এই কাঠির চেয়ে সামান্যও বেশি কিছু নন।' এতে তাঁর চারপাশের সেনাপতিরা নাক দিয়ে শব্দ (বিরক্তি প্রকাশ) করতে লাগল। তখন তিনি বললেন, 'তোমরা নাক দিয়ে শব্দ করলেও আল্লাহর কসম, তোমরা যাও, তোমরা আমার ভূমিতে নিরাপদ—আর সিউম (সুইয়ূম) অর্থ নিরাপদ ব্যক্তিগণ—যে তোমাদের গালি দেবে তার জরিমানা হবে, পুনরায় (বলছি) যে তোমাদের গালি দেবে তার জরিমানা হবে। আমি এটি পছন্দ করি না যে আমার নিকট স্বর্ণের পাহাড় থাকুক অথচ আমি তোমাদের কোনো একজনকে কষ্ট দেই। . . . . . . . . . . '" দেখুন: আজ-জাহাবি। সিয়ারু আলামিন নুবালা - পূর্বোক্ত সূত্র। ১ / ৪৩৩ - ৪৩৪।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم أرسل الرسول محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم وفودا إلى الأباطرة في شمال الجزيرة العربية وشمالها الغربي مثل هرقل الروم ومقوقس مصر وغيرهما. وكان هناك أيضا حوار ونقاش حول نظرة الإسلام والمسلمين للنصرانية، ونبيها عيسى ابن مريم عليهما السلام. (1) .

وقد قدم على الرسول محمد صلى الله عليه وسلم في المدينة النبوية وفد من نجران بين أربعة عشر وستين فردا - حسب الروايات -، ومنهم العاقب وأبو الحارث والسيد، فدار بين النبي محمد صلى الله عليه وسلم وبينهم حوار وحجاج حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام. ثم عاد الوفد إلى نجران، وكان بينهم حوار طويل حول ما دار بينهم وبين الرسول محمد صلى الله عليه وسلم رجع بعده بعض أعضاء الوفد كالعاقب والسيد إلى المدينة النبوية، ونطقا بالشهادتين، ونزلا في بيت أبي أيوب الأنصاري (2) رضي الله عنه قرب المسجد النبوي بالمدينة المنورة (3) .

--------------------------------------------

(1) عبد السلام هارون. تهذيب سيرة ابن هشام. - ط3. - د. م.: المؤسسة العربية الحديثة، 1396هـ - 1976م. ص 375 - 378.

(2) أبو أيوب الأنصاري الخزرجي النجاري، واسمه خالد بن زيد بن كليب بن ثعلبة عبد بن عوف بن غنم. شهد العقبة وبدرا وأحدا والخندق وسائر المشاهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. وغزا مع يزيد بن معاوية الروم وتوفي في القسطنطينية سنة إحدى وخمسين. رضي الله عنه. انظر ترجمته عند ابن الأثير، علي بن محمد الجزري، عز الدين أبي الحسن. أسد الغابة في معرفة الصحابة. 6 مج - د. م.: دار الفكر، د. ت. - 5 / 25 - 26.

(3) يذكر ابن إسحاق أنهم ستون راكبا منهم أربعة وعشرون رجلا من أشرفهم، ومن هؤلاء ثلاثة نفر يؤول إليهم أمرهم: العاقب أمير القوم وذو رأيهم وصاحب مشورتهم، واسمه عبد المسيح، والسيد ثمالهم واسمه الأيهم، وأبو الحارث بن علقمة أخو بكر بن وائل أسقفهم وحبرهم وإمامهم وصاحب مدارسهم. وكان مشرَّفا من ملوك الروم من أهل النصرانية. انظر خبرهم عند محمد بن عبد الوهاب وعبد الله بن محمد بن عبد الوهاب. مختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم الرياض: مكتبة الرياض الحديثة، د. ت. - ص422 - 429.
অতঃপর রাসূল মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরব উপদ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস, মিশরের মুকাউকিস এবং অন্যান্য সম্রাটদের কাছে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। সেখানে খ্রিস্টধর্ম এবং এর নবী ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) সম্পর্কে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংলাপ ও আলোচনা হয়েছিল। (১) .

রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মদিনায় নাজরান থেকে চৌদ্দ থেকে ষাট জনের—বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) অনুযায়ী—একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল, যাদের মধ্যে আল-আকিব, আবু আল-হারিস এবং আস-সাইয়্যিদ ছিলেন। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রকৃতি নিয়ে সংলাপ ও বিতর্ক হয়েছিল। তারপর প্রতিনিধি দলটি নাজরানে ফিরে যায় এবং তাদের ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যে যা ঘটেছিল তা নিয়ে তাদের মাঝে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এর পর প্রতিনিধি দলের কিছু সদস্য যেমন আল-আকিব এবং আস-সাইয়্যিদ মদিনায় ফিরে আসেন এবং শাহাদাতাইন পাঠ করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীর কাছে আবু আইয়ুব আনসারী (২) (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাড়িতে অবস্থান করেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুস সালাম হারুন। তহযীব সীরাত ইবনে হিশাম। - ৩য় সংস্করণ। - বৈরুত: আল-মুয়াসসাসাহ আল-আরাবিয়্যাহ আল-হাদিসাহ, ১৩৯৬ হিজরী - ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ। পৃ. ৩৭৫ - ৩৭৮।

(২) আবু আইয়ুব আনসারী আল-খাজরাজী আন-নাজ্জারী, তার নাম খালিদ বিন যায়েদ বিন কুলাইব বিন সা'লাবাহ আব্দ বিন আউফ বিন গানম। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আকাবাহ, বদর, উহুদ, খন্দক এবং অন্যান্য সকল যুদ্ধাভিযান (مشاهد)-এ উপস্থিত (شهد) ছিলেন। তিনি ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার সাথে রোম অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং ৫১ হিজরীতে কনস্টান্টিনোপলে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তার জীবনী (ترجمة) দেখুন: ইবনুল আসীর, আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাযারী, ইজ্জুদ্দীন আবুল হাসান। উসদুল গাবাহ ফি মারিফাতিস সাহাবাহ। ৬ খণ্ড - বৈরুত: দারুল ফিকর, বিনা তারিখ। - ৫ / ২৫ - ২৬।

(৩) ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, তারা ছিল ষাট জন আরোহী, যাদের মধ্যে চব্বিশ জন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রধান ছিলেন যাদের কাছে তাদের সকল বিষয় ন্যস্ত ছিল: আল-আকিব, যিনি কওমের আমির, বিজ্ঞ এবং পরামর্শদাতা ছিলেন, তার নাম ছিল আব্দুল মসীহ; আস-সাইয়্যিদ, যিনি তাদের নেতা ছিলেন, তার নাম ছিল আল-আইহাম; এবং আবু আল-হারিস বিন আলকামা, যিনি বকর বিন ওয়ায়েলের ভাই, তাদের বিশপ, পণ্ডিত, ইমাম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন। তিনি রোমান সম্রাটদের কাছে খ্রিস্টানদের মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তাদের সংবাদ দেখুন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। মুখতাসার সীরাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। রিয়াদ: মাকতাবাতুর রিয়াদ আল-হাদিসাহ, বিনা তারিখ। - পৃ. ৪২২ - ৪২৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعصر الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم كان حافلا بالعلاقات مع النصارى، نتيجة لامتداد الفتح الإسلامي في الشام ومصر وما وراءهما. وكان يتخلل هذه الفتوح وقفات علمية تكون فيها مناقشات وحوارات حول موقف الإسلام من النصرانية والنصارى. وأبرز مثال على هذه الوقفات وقفة الخليفة عمر بن الخطاب رضي الله عنه في بيت المقدس، وموقفه من كنيسة القيامة وتجنبه الصلاة فيها (1) .

--------------------------------------------

(1) ينقل ابن كثير عن " أبي جعفر بن جرير " قوله: ". . . ثم سار حتى صالح نصارى بيت المقدس واشترط عليهم إجلاء الروم على ثلاث ثم دخلها إذ دخل المسجد من الباب الذي دخل منه رسول الله - ص - ليلة الإسراء. ويقال إنه لبَّى حين دخل بيت المقدس فصلى فيه تحية المسجد بمحراب داود، وصلى بالمسلمين فيه صلاة الغداة من الغد فقرأ في الأولى بسورة ص وفي الثانية بسورة بني إسرائيل، ثم جاء إلى الصخرة فاستدلّ على مكانها من كعب الأحبار وأشار عليه كعب أن يجعل المسجد من ورائه فقال ضاهيت اليهود. ثم جعل المسجد في قبلي بيت المقدس وهو العمري اليوم ثم نقل التراب من الصخرة في طرف ردائه وقبائه، ونقل المسلمون معه في ذلك، وسخّر أهل الأردن في نقل بقيتها، وقد كانت الروم جعلوا الصخرة مزبلة لأنها قبلة اليهود، حتى أن المرأة كانت ترسل خرقة حيضتها من داخل الالحوز لتلقى في الصخرة، وذلك مكافأة لما كانت اليهود عاملت به القمامة وهي المكان الذي كانت صلبوا فيه المصلوب فجعلوا يلقون على قبره القمامة فلأجل ذلك سمي ذلك الموضع القمامة وانسحب هذا الاسم على الكنيسة التي بناها النصاري هناك ". انظر: ابن كثير، أبو الفداء الحافظ. البداية والنهاية. - دقق أصوله وحققه أحمد أبو ملحم وآخرون. - 8 مج - القاهر: دار الريان للتراث، 1408 هـ 1988 م. - 4 / 57.

খোলাফায়ে রাশেদীনের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ ছিল খ্রিস্টানদের সাথে সম্পর্কের বৈচিত্র্যে ভরপুর, যা শাম (সিরিয়া), মিশর এবং তার পরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ইসলামি বিজয়ের প্রসারের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। এই বিজয়গুলোর মাঝে বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক বিরতি বা মুহূর্ত তৈরি হতো, যেখানে খ্রিস্টধর্ম এবং খ্রিস্টানদের সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান নিয়ে আলোচনা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হতো। এই ধরণের বিরতিগুলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হলো বায়তুল মাকদাসে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থান এবং কিয়ামা গির্জার (চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার) প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও সেখানে সালাত আদায় করা থেকে তাঁর বিরত থাকা (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসির 'আবু জাফর বিন জারির' থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "...অতঃপর তিনি যাত্রা করেন এবং বায়তুল মাকদাসের খ্রিস্টানদের সাথে সন্ধি করেন এবং তাদের ওপর এই শর্ত আরোপ করেন যে তিন দিনের মধ্যে রোমানদের সেখান থেকে চলে যেতে হবে। এরপর তিনি সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি সেই দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন যে দরজা দিয়ে ইসরার রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রবেশ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, বায়তুল মাকদাসে প্রবেশের সময় তিনি তালবিয়া পাঠ করেছিলেন এবং সেখানে দাউদ (আ.)-এর মেহরাবে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করেন। পরের দিন সকালে তিনি সেখানে মুসলমানদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। তিনি প্রথম রাকাতে সূরা সোয়াদ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা বনী ইসরাইল পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সাখরার (পাথর) নিকট আসেন এবং কাব আল-আহবার থেকে এর অবস্থান জেনে নেন। কাব তাকে পরামর্শ দেন যেন মসজিদটি সাখরার পেছনে নির্মাণ করা হয়, তখন উমর (রা.) বলেন, 'তুমি তো ইহুদিদের অনুকরণ করলে'। এরপর তিনি বায়তুল মাকদাসের কিবলার দিকে মসজিদটি স্থাপন করেন, যা আজ 'মসজিদে উমরি' নামে পরিচিত। অতঃপর তিনি তাঁর চাদর ও আলখেল্লার আঁচল দিয়ে সাখরা থেকে মাটি অপসারণ করেন এবং মুসলিমরাও তাঁর সাথে এই কাজে অংশ নেন। অবশিষ্ট ময়লা সরানোর কাজে তিনি জর্ডানের অধিবাসীদের নিয়োজিত করেন। রোমানরা সাখরাকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করেছিল কারণ এটি ছিল ইহুদিদের কিবলা। এমনকি মহিলারা দূরবর্তী এলাকা থেকে তাদের ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া পাঠাত যাতে তা সাখরার ওপর ফেলা হয়। এটি করা হয়েছিল ইহুদিরা 'কুমামাহ'-এর সাথে যা করেছিল তার প্রতিশোধ হিসেবে; আর কুমামাহ হলো সেই স্থান যেখানে (খ্রিস্টানদের বিশ্বাস মতে) ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তিকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল এবং ইহুদিরা তাঁর কবরের ওপর আবর্ঞ্জনা নিক্ষেপ করত। একারণেই সেই স্থানের নাম হয়েছিল 'আল-কুমামাহ' (আবর্জনার স্তূপ) এবং পরবর্তীতে খ্রিস্টানদের নির্মিত গির্জাটিও এই নামেই পরিচিতি পায়।" দেখুন: ইবনে কাসির, আবু আল-ফিদা আল-হাফিজ (الحافظ)। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া। — মূল পাণ্ডুলিপি যাচাই ও সম্পাদনা: আহমদ আবু মিলহাম ও অন্যান্য। — ৮ খণ্ড — কায়রো: দার আল-রাইয়ান লিত-তুরাস, ১৪০৮ হিজরি/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ। — ৪/৫৭।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
وكذا الحال في العصر الأُموي مع الزيادة المطّردة في العلاقة من خلال الاستعانة بالنصارى في بعض مقوِّمات بناء المجتمع المسلم الناهض، وبخاصة فيما يتعلق بالعلوم التطبيقية والبحتة (1) .

وتصبح العلاقة أكثر وضوحا في العصر العباسي الذي شهد ازدهارا علميا وثقافيا وحضاريا استعان المسلمون في أجزاء منه بالنصارى وغيرهم من أصحاب الثقافات الأخرى، ولا سيما الفرس واليونان [الإغريق] في مجالس العلم، وبيوت الترجمة، وخزائن الكتب، ودواوين الولاة، وفي المؤسسات العلمية والتعليمية الأخرى (2) .

ولم يسلم المغول أنفسهم من حركة التنصير هذه، إذ أريد من تنصيرهم كسب أمة وثنية إلى النصرانية من ناحية، ومن ناحية أخرى التأثير على المسلمين بتفادي خطرهم على الحملات التنصيرية، فيما إذا انضم المغول إلى المسلمين. وقد انضم المغول إلى المسلمين بعد أن هداهم الله إلى الإسلام، وعاونوا قادة المسلمين في تصديهم للحملات التنصيرية (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر الباب الخامس " الحياة الاجتماعية والعقلية والاقتصادية لأهل الذمة في العراق " من كتاب توفيق سلطان اليوزبكي. تاريخ أهل الذمة في العراق (12 - 247 هـ) . الرياض: دار العلوم، 1403 هـ - 1983 م، - ص361 - 447.

(2) انظر: فصل " أوربا بين العباسيين في بغداد والأمويين في الأندلس " من كتاب عبد العظيم رمضان. الصراع بين العرب وأوربا من ظهور الإسلام إلى انتهاء الحروب الصليبية. - القاهرة: دار المعارف، (1983م) . ص 145 - 154.

(3) ممدوح حسين. مدخل إلى تاريخ حركة التنصير. - عمّان: دار عمّار، 1416 هـ 1995م. ص21 - 30.
উমাইয়া যুগেও একই অবস্থা বিদ্যমান ছিল, যেখানে উদীয়মান মুসলিম সমাজ গঠনের কতিপয় অনুষঙ্গে খ্রিস্টানদের সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি সাধিত হয়েছিল, বিশেষত ফলিত ও বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে (১)।

আব্বাসীয় যুগে এই সম্পর্ক আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ছিল এক বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সমৃদ্ধির যুগ। এই যুগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানরা খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংস্কৃতির ধারক-বাহক, বিশেষ করে পারসিক ও গ্রিকদের থেকে জ্ঞানচর্চার আসর, অনুবাদ কেন্দ্র, গ্রন্থাগার, প্রাদেশিক গভর্নরদের কার্যালয় এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা গ্রহণ করেছিল (২)।

মঙ্গোলরাও এই খ্রিস্টানকরণ তৎপরতা থেকে মুক্ত ছিল না। তাদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পেছনে একদিকে যেমন একটি পৌত্তলিক জাতিকে খ্রিস্টধর্মের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল, তেমনি অন্যদিকে মঙ্গোলরা যদি মুসলমানদের সাথে যোগ দিত তবে খ্রিস্টানকরণ অভিযানের ওপর যে ঝুঁকির সম্ভাবনা ছিল, তা এড়ানোর মাধ্যমে মুসলমানদের প্রভাবিত করাও লক্ষ্য ছিল। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা মঙ্গোলদের ইসলামের সঠিক পথ প্রদর্শনের পর তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং খ্রিস্টানকরণ অভিযান প্রতিহত করতে মুসলিম সেনানায়কদের সহযোগিতা প্রদান করে (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন, পঞ্চম অধ্যায় "ইরাকের আহলে জিম্মাদের সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থনৈতিক জীবন", তাওফিক সুলতান আল-ইউজবাকি-এর গ্রন্থ: তারিখু আহলিল জিম্মা ফিল ইরাক (১২ - ২৪৭ হি.)। রিয়াদ: দারুল উলুম, ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি., পৃষ্ঠা ৩৬১-৪৪৭।

(২) দেখুন: "বাগদাদের আব্বাসীয় এবং আন্দালুসের উমাইয়াদের মাঝে ইউরোপ" পরিচ্ছেদ, আবদুল আজিম রমাদান-এর গ্রন্থ: আস-সিরা বাইনাল আরব ওয়া উরুব্বা মিন জুহুরিল ইসলাম ইলা ইনতিহাইল হুরুবিল সালিবিয়্যাহ। কায়রো: দারুল মাআরিফ, (১৯৮৩ খ্রি.), পৃষ্ঠা ১৪৫-১৫৪।

(৩) মামদুহ হুসাইন। মাদখাল ইলা তারিখি হারাকাতিত তানসির। আম্মান: দারু আম্মার, ১৪১৬ হি. ১৯৯৫ খ্রি., পৃষ্ঠা ২১-৩০।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[الحروب الصليبية]

الحروب الصليبية: وتشكِّل الصراع بين المسلمين والنصارى بوضوح أكثر إبَّان الحروب الصليبية (1) التي لا تعدو كونها شكلا من أشكال التنصير، اتُّبعت فيه القوة والغزو العسكري، وكان يدور خلال الحملات الصليبية الثماني نقاش وحوار بين المسلمين والنصارى من علماء الدين الإسلامي ورجال الدين النصراني، كانت من نتائجه ظهور مجموعة من المؤلَّفات تناقش حقيقة النصرانية وترد على النصارى في زعمهم حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام وأسباب عدم إيمانهم بمحمد صلى الله عليه وسلم رغم ذكر بعثته في الإنجيل (2) .

--------------------------------------------

(1) بدأت الحروب الصليبية في ربيع الثاني من سنة 491هـ ـ مارس من سنة 1098م، وانتهت في شعبان من سنة 690هـ ـ أغسطس من سنة 1291م. انظر: سعيد عبد الفتَّاح عاشور، الحركة الصليبية ـ 2ج ـ: القاهرة مكتبة الأنجلو المصرية 1976م، ـ 2 / 1126.

(2) تذكر هنا مجموعة من الأمثلة على ما كتب عن النصرانية في التراث الإسلامي، ومنها: أبو الفضل المالكي المسعودي: المنتخب الجليل من تخجيل مَن حرَّف الإنجيل: القاهرة ـ مطبعة التمدن، 1322هـ، أبو الوليد سليمان بن خلف القاضي الباجي. جواب القاضي الباجي على رسالة راهب من فرنسا إلى المقتدر بالله صاحب سرقسطة ـ تحقيق محمد عبد الله الشرقاوي ـ القاهرة: دار الصحوة، 1986م، أحمد بن عبد الحليم بن تيمية، درء تعارض العقل والنقل: تحقيق محمد رشاد سالم ـ الرياض: جامعة محمد بن سعود الإسلامية: وله أيضا الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح ـ تحقيق محمد عبد الله الشرقاوي ـ القاهرة: مكتبة المدني ومطبعتها، وعمرو بن بحر الجاحظ. المختار في الرد على النصارى ـ تحقيق محمد عبد الله الشرقاوي ـ القاهرة ـ 1405هـ ـ 1975م، وله أيضا الرد على النصارى: نشرها يوشع فنكل ـ القاهرة: المكتبة السلفية، 1382هـ ـ أبو المعالي الجويني: شفاء الغليل في الرد على من بدل التوراة والإنجيل ـ الرياض: الرئاسة العامة لإدارات البحوث الإسلامية العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، 1403هـ، والشهرستاني. الملل والنحل ـ وأبو محمد عبد الله بن حزم. الفصل في الملل والنحل ـ بيروت: دار الندوة الجديدة، د. ت: وأبو عبيدة الخزرجي، مقاطع هامات الصلبان ومراتع روضات أهل الإيمان ـ تحقيق محمد شامة ـ القاهرة: مكتبة وهبة 1972م، وعبد الله الجويني، شفاء الغليل في بيان ما وقع في التوراة والإنجيل من التبديل ـ دار الشباب للطباعة، 1978م، ولابن قيم الجوزية، محمد بن أبي بكر شمس الدين. هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى ـ بيروت: دار الكتب العلمية، د. ت: ـ ص 193، وشرحه الشيخ إبراهيم رمضان، وطبعته دار الفكر اللبناني ببيروت سنة 1991م، ونصر بن يحيي بن عيسى المتطبب. النصيحة الإيمانية في فضيحة الملة النصرانية ـ تحقيق محمد عبد الله الشرقاوي، القاهرة: دار الصحوة، 1406هـ ـ 1986م ـ ص 159. وعبد الله الترجمان الميورقي، أبو محمد. تحفة الأريب في الرد على أهل الصليب ـ دراسة وتحقيق عمر وفيق الداعوق ـ بيروت: دار البشائر الإسلامية، 1408هـ ـ 1988م ـ ص320. ومحمد طاهر التنير. العقائد الوثنية في الديانة النصرانية ـ مرجع سابق ـ ص 156، وحققه أيضا محمد عبد الله الشرقاوي، القاهرة: دار الصحوة 1410هـ ـ 1989م. وأبو حامد الغزالي: الرد الجميل لإلاهية عيسى بصريح الإنجيل ـ تقديم وتحقيق وتعليق محمد عبد الله الشرقاوي ـ ط 2 ـ القاهرة: دار الهداية، 1406هـ ـ 1986ـ ص 184.
‌‌[ক্রুসেড বা ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ]

ক্রুসেড: ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ চলাকালীন মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় (১), যা মূলত খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (ধর্মান্তরকরণ) একটি রূপ ছাড়া আর কিছু ছিল না; এতে শক্তি প্রয়োগ ও সামরিক আগ্রাসনের পথ অবলম্বন করা হয়েছিল। আটটি ক্রুসেড অভিযান চলাকালীন ইসলামি ধর্মতত্ত্ববিদ এবং খ্রিস্টান যাজকদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর অন্যতম ফলাফল ছিল বেশ কিছু গ্রন্থ সংকলিত হওয়া, যাতে খ্রিস্টধর্মের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রকৃতি সম্পর্কে খ্রিস্টানদের দাবির প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিল শরিফে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কেন তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি, তার কারণসমূহও এসব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ ৪৯১ হিজরির রবিউস সানি - ১০৯৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে শুরু হয়েছিল এবং ৬৯০ হিজরির শাবান - ১২৯১ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে শেষ হয়েছিল। দ্রষ্টব্য: সাঈদ আব্দুল ফাত্তাহ আশুর, আল-হারাকাতুস সালিবিয়্যাহ (ক্রুসেড আন্দোলন) - ২ খণ্ড -: কায়রো, মাকতাবাতুল আনজলো আল-মিসরিয়্যাহ ১৯৭৬ খ্রি., ২/১১২৬।

(২) ইসলামি ঐতিহ্যে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে, এখানে তার কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা হলো। এর মধ্যে রয়েছে: আবু আল-ফজল আল-মালিকি আল-মাসউদি: আল-মুনতাখাব আল-জালিল মিন তাখজিলি মান হাররাফাল ইনজিল: কায়রো - মাতবাআতুত তামাদ্দুন, ১৩২২ হিজরি; আবু আল-ওয়ালিদ সুলাইমান বিন খালাফ আল-কাদি আল-বাজি। জাওয়াবুল কাদি আল-বাজি আলা রিসালাতি রাহিবি মিন ফারানسا ইলাল মুকতাদির বিল্লাহ সাহিবি সারাকুস্তাহ - সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-শারকাউই - কায়রো: দারুস সাহওয়াহ, ১৯৮৬ খ্রি.; আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়্যাহ, দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি: সম্পাদনা: মুহাম্মদ রাশাদ সালিম - রিয়াদ: জামিআতু মুহাম্মদ বিন সাউদ আল-ইসলামিয়্যাহ; তাঁর আরও একটি গ্রন্থ হলো: আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ - সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-শারকাউই - কায়রো: মাকতাবাতুল মাদানি ও তার ছাপাখানা; এবং আমর বিন বাহর আল-জাহিয। আল-মুখতার ফির রাদ্দি আলান নাসারা - সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-শারকাউই - কায়রো - ১৪০৫ হিজরি - ১৯৭৫ খ্রি.; তাঁর আরও একটি গ্রন্থ হলো: আর-রাদ্দু আলান নাসারা: প্রকাশনা: ইউশা ফানকাল - কায়রো: আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, ১৩৮২ হিজরি; আবু আল-মাআলি আল-জুওয়াইনি: শিফাউল গালিল ফির রাদ্দি আলা মান বাদ্দালাত তাওরাতা ওয়াল ইনজিল - রিয়াদ: আর-রিয়াসাতুল আম্মাহ লি-ইদারাতির বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, ১৪০৩ হিজরি; আল-শাহরাস্তানি। আল-মিলাল ওয়ান নিহাল; আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হাজম। আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়ান নিহাল - বৈরুত: দারুন নাদওয়াহ আল-জাদিদাহ, প্রকাশকাল বিহীন; আবু উবাইদাহ আল-খাজরাজি, মাকাতিউ হামাতিস সুলবান ওয়া মারতিউ রাওদাতি আহলিল ইমান - সম্পাদনা: মুহাম্মদ শামাহ - কায়রো: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ ১৯৭২ খ্রি.; আব্দুল্লাহ আল-জুওয়াইনি, শিফাউল গালিল ফি বায়ানি মা ওয়াকাআ ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজিল মিনাত তাবদিল - দারুশ শাবাব লিত তিবায়াহ, ১৯৭৮ খ্রি.; ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, মুহাম্মদ বিন আবি বকর শামসুদ্দিন। হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রকাশকাল বিহীন: - পৃষ্ঠা ১৯৩, এর ব্যাখ্যা করেছেন শেখ ইব্রাহিম রমজান এবং এটি বৈরুতের দারুল ফিকর আল-লুবনানি থেকে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে; নাসর বিন ইয়াহইয়া বিন ঈসা আল-মুতাতাব্বিব। আন-নাসিহাতুল ইমানিয়্যাহ ফি ফাদিহাতিল মিল্লাতিন নাসরানিয়্যাহ - সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-শারকাউই, কায়রো: দারুস সাহওয়াহ, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রি. - পৃষ্ঠা ১৫৯; আব্দুল্লাহ আত-তারজুমান আল-মায়ুরকি, আবু মুহাম্মদ। তুহফাতুল আরিব ফির রাদ্দি আলা আহলিস সালিবি - গবেষণা ও সম্পাদনা: উমর ওয়াফিক আদ-দাউক - বৈরুত: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রি. - পৃষ্ঠা ৩২০; মুহাম্মদ তাহির আল-তানীর। আল-আকাইদুল ওয়াসানিয়্যাহ ফিদ দিয়াতিন নাসরানিয়্যাহ - পূর্বোক্ত সূত্র - পৃষ্ঠা ১৫৬, এবং এটিও সম্পাদনা করেছেন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-শারকাউই, কায়রো: দারুস সাহওয়াহ ১৪১০ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রি.; এবং আবু হামিদ আল-গাজালি: আর-রাদ্দুল জামিল লি-ইলাহিয়াতি ঈসা বি-সারিহিল ইনজিল - উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-শারকাউই - ২য় সংস্করণ - কায়রো: দারুল হিদায়াহ, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রি. - পৃষ্ঠা ১৮৪।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩১)
وكما أن الحروب الصليبية لم تفلح عسكريا فهي لم تفلح عقائديا في تشكيك المسلمين برسالتهم، بل زادتهم تمسُّكا بدينهم أدَّى في النهاية إلى خروج الصليبيين من أراضي المسلمين دون الفوز بما قدموا من أجله (1) ومع هذا فلا يغفل تأثير

--------------------------------------------

(1) يقول عبد العظيم رمضان، "وبانتهاء الحروب الصليبية تكون قد انتهت صفحة صاخبة من الصراع بين العرب وأوربا، لتبدأ صفحة أخرى، ذلك أن الفكرة الصليبية نفسها لم تنته وسوف تحملها جزيرة قبرص في القرن الرابع عشر، ثم يحملها قادة الكشف الجغرافي ووكلاء البرجوازية التجارية من أمثال ألبوكيرك و (فاسكو دا جاما) و (كبرال) و (ألميدا) و (دياز) وتستمر على طول العصور الحديثة حتى ترث الفكرة الصهيونية الفكرة الصليبية، ويحل الصهيونيون الأوربيون محل الصليبيين الأوربيين " انظر: عبد العظيم رمضان: الصراع بين العرب وأوربا من ظهور الإسلام إلى انتهاء الحروب الصليبية ـ مرجع سابق ـ ص 529.
ঠিক যেমন ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ সামরিকভাবে সফল হতে পারেনি, তেমনি সেগুলো মুসলিমদের তাদের রিসালাত বা বার্তার ব্যাপারে সন্দিহান করে তোলার ক্ষেত্রে আকিদাগতভাবেও সফল হয়নি। বরং এটি তাদের দ্বীনের প্রতি অবিচলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ক্রুসেডারদের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কারের পথে পরিচালিত করে, যদিও তারা যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিল তা অর্জনে তারা জয়ী হতে পারেনি (১)। তা সত্ত্বেও প্রভাবের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না...

--------------------------------------------

(১) আবদুল আজিম রমাদান বলেন, "ক্রুসেড যুদ্ধের অবসানের মাধ্যমে আরব ও ইউরোপের মধ্যকার সংঘাতের একটি উত্তাল অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে, যাতে আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়; আর তা এই জন্য যে, ক্রুসেডীয় আদর্শের চিন্তা নিজে শেষ হয়ে যায়নি। চতুর্দশ শতাব্দীতে সাইপ্রাস দ্বীপ সেই চিন্তা বহন করবে, পরবর্তীতে ভৌগোলিক আবিষ্কারের নেতৃবৃন্দ এবং বাণিজ্যিক বুর্জোয়াদের প্রতিনিধিরা এটি বহন করবে, যেমন— আলবুকার্ক, (ভাস্কো দা গামা), (কাব্রাল), (আলমেদা) ও (দিয়াজ)। এবং আধুনিক যুগজুড়ে এটি অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না জায়নবাদী আদর্শ ক্রুসেডীয় আদর্শের উত্তরসূরি হয় এবং ইউরোপীয় জায়নবাদীরা ইউরোপীয় ক্রুসেডারদের স্থলাভিষিক্ত হয়।" দ্রষ্টব্য: আবদুল আজিম রমাদান: আস-সিরা বাইনাল আরব ওয়া উরুবা মিন জুহুরিল ইসলাম ইলা ইনতিহাইল হুরুবিস সলিবিয়্যাহ — প্রাগুক্ত — পৃষ্ঠা ৫২৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩২)
الحملات الصليبية على المجتمع المسلم، فقد زاد عدد الكنائس، بالتالي زاد عدد المنصرين.

ويذكر محمد مؤنس عوض من خلال عرضه للرحالة المسلمين، ولا سيما عند وقوفه مع الرحالة المسلم ابن جبير أن هذا الرحالة قد أدرك البعد التنصيري للحملات الصليبية، إذ أدرك الدور الصليبي الخطر في تغيير هوية المنطقة وتحويلها عن الإسلام، من خلال البعد التنصيري، فيذكر أنه بعد خضوع عكا لسيطرة الصليبيين فقد تحولت مساجدها " وصارت كنائس، وصوامعها صارت محل أحد النواقيس، وفي مثل ذلك التعبير نجده يكشف بجلاء عن دور الصليبين في تغيير هوية المنطقة الإسلامية ومحاولة تنصيرها من خلال القضاء على الدور الهام لأماكن العبادة الإسلامية في صورة المساجد، بل وصل الأمر أن صارت هناك بقعة صغيرة في مسجد عكا الجامع يجتمع فيه الغرباء من أجل إقامة الصلاة، ويمكن وصف ابن جبير بأنه شاهد عيان معاصر على تلك الحقيقة، ألا وهي السياسة التنصيرية التي أراد الصليبيون تنفيذها في منطقة الشرق الأدنى من أجل توسيع رقعة عالم المسيحية على حساب الإسلام والمسلمين (1) .

كما يورد بعض الأخبار عن أسامة بن منقذ في كتابه الاعتبار، ثم يعقّب على ذلك بقوله: وتجدر الإشارة أن إيراد ذلك الرحالة لمثل تلك الأحداث يدل على أنه أدرك خطورة البعد التنصيري كأحد أهداف المشروع الصليبي الذي رغب في تحويل

--------------------------------------------

(1) محمد مؤنس عوض: الجغرافيون والرحالة المسلمون في بلاد الشام زمن الحروب الصليبية ـ القاهرة ـ عين للدراسات والبحوث الإنسانية والاجتماعية، 1995م ـ ص 288ـ 289.
মুসলিম সমাজের ওপর ক্রুসেডারদের অভিযানের ফলে গির্জার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ফলস্বরূপ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

মুহাম্মদ মুনিস আওয়াদ মুসলিম পর্যটকদের বর্ণনা উপস্থাপনকালে, বিশেষ করে মুসলিম পর্যটক ইবনে জুবায়রের বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, এই পর্যটক ক্রুসেড অভিযানের ধর্মপ্রচারমূলক দিকটি উপলব্ধি করেছিলেন। কেননা তিনি ধর্মপ্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিচয় পরিবর্তন এবং একে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার ক্ষেত্রে ক্রুসেডারদের বিপজ্জনক ভূমিকা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ক্রুসেডারদের কর্তৃত্বে আক্কা নগরী চলে যাওয়ার পর সেখানকার মসজিদগুলো "গির্জায় রূপান্তরিত হয় এবং তাদের মিনারগুলো ঘণ্টার স্থানে পরিণত হয়।" এই জাতীয় অভিব্যক্তির মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি মুসলিম ইবাদতখানা হিসেবে মসজিদগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নির্মূল করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের ইসলামী পরিচয় পরিবর্তন এবং একে খ্রিস্টানিকরণ করার প্রচেষ্টায় ক্রুসেডারদের ভূমিকার কথা স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেছেন। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, আক্কার জামে মসজিদে কেবল একটি ছোট স্থান অবশিষ্ট ছিল যেখানে বহিরাগতরা নামাজ আদায়ের জন্য একত্রিত হতো। ইবনে জুবায়রকে এই বাস্তবতার একজন সমসাময়িক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে; আর সেই বাস্তবতাটি হলো ধর্মপ্রচারমূলক রাজনীতি, যা ক্রুসেডাররা ইসলাম ও মুসলমানদের বিনিময়ে খ্রিস্টান বিশ্বের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিকট প্রাচ্য অঞ্চলে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল (১)।

একইভাবে তিনি উসামা বিন মুনকিদ-এর আল-ইতিবার গ্রন্থ থেকে কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর মন্তব্য করেছেন: এটি উল্লেখযোগ্য যে, সেই পর্যটক কর্তৃক এই জাতীয় ঘটনাবলি উল্লেখ করা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি ক্রুসেড প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ধর্মপ্রচারমূলক কার্যক্রমের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছিলেন, যা পরিবর্তন করতে চেয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ মুনিস আওয়াদ: আল-জুগরাফিয়ুন ওয়ার-রুহহালা আল-মুসলিমুন ফি বিলাদ আশ-শাম যামান আল-হুরুব আস-সালিবিয়্যাহ — কায়রো — আইন লিদ-দিরাসাত ওয়াল-বুহুস আল-ইনসানিয়্যাহ ওয়াল-ইজতিমাঈয়্যাহ, ১৯৯৫ খ্রি. — পৃ. ২৮৮-২৮৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مسلمي الشرق الأدنى إلى مسيحيين يدينون بالولاء لكنيسة روما وفق المذهب الكاثوليكي، مع ملاحظة أن الرحالة المسلمين الذين زاروا بلاد الشام في ذلك العصر، حرصوا على إيراد بعض الروايات الهامة عن ذلك الجانب التنصيري، ولا مراء في أن رواية أسامة بن منقذ لها شأنها في ذلك المجال مع ندرة ما ورد في هذا الشأن، في المصادر التاريخية العربية المعاصرة" (1) .

ثم تزعم ريموند لول (2) المستشرق المنصّر الإسباني مهمة العودة إلى التنصير بعد أن فشلت الحروب الصليبية في مهمتها، تعلم اللغة العربية، وجال في البلاد الإسلامية وناقش العلماء المسلمين في بلاد كثيرة (3) .

--------------------------------------------

(1) محمد مؤنس عوض. الجغرافيون والرحالة المسلمون في بلاد الشام زمن الحروب الصليبية. - المرجع السابق. - ص 253 - 254.

(2) ريموند لول (1235هـ ـ 1315م) راهب فرنسيسكاني. مارس التنصير في شمال إفريقيا، يعدُّ "أخطر المنصرين وأشهرهم على الإطلاق على مرّ التاريخ " حتى أن المنصّر زويمر اعتبره أستاذه وقدوته" وخططه التي وضعها للتنصير تعدُّ هي النموذج والدستور الذي سار عليه المنصرون بعد كالتعليم والتدريس والتدريب والتطبيب وأعمال الإغاثة، وله مؤلفات بالعربية: انظر: علي بن محمد عودة الغامدي. "الراهب الفرنسيسكاني ريموند لول ومحاولاته نشر النصرانية في شمال إفريقية " ـ مجلة المؤرخ العربي مج1 ع6 (مارس 1998م) ـ ص 133 ـ 168.

(3) أ. ل. شلتليه: الغارة على العالم الإسلامي ـ لخصها ونقلها إلى العربية محب الدين الخطيب ومساعد اليافي ـ بيروت: مكتبة أسامة بن زيد " د. ت ـ ص12ـ13.
নিকট প্রাচ্যের মুসলমানদের রোমান ক্যাথলিক চার্চের অনুগত খ্রিস্টানে রূপান্তর করার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। সেই যুগে যারা শামের অঞ্চলসমূহ (সিরিয়া অঞ্চল) সফর করেছিলেন, সেই মুসলিম পর্যটকরা এই খ্রিস্টানিকরণ বা ধর্মপ্রচারমূলক কার্যক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা (روايات) লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। সমকালীন আরবি ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে এই বিষয়ের তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও ওসামা ইবনে মুনকিজ-এর বর্ণনাটি (رواية) এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। (১)

অতঃপর স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারক রেমন্ড লাল (২) ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ তাদের লক্ষ্যে ব্যর্থ হওয়ার পর পুনরায় খ্রিস্টানিকরণ কার্যক্রমের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আরবি ভাষা শেখেন এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশ ভ্রমণ করেন ও অনেক দেশে মুসলিম আলেমদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ মুনিস আওয়াদ। আল-জুগরাফিয়্যুন ওয়ার রুহ্হালুল মুসলিমুন ফি বিলাদিশ শাম জামানাল হুরুবিশ সালিবিয়্যাহ। - প্রাগুক্ত। - পৃ. ২৫৩ - ২৫৪।

(২) রেমন্ড লাল (১২৩৫ হি. - ১৩১৫ খ্রি.) একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী। তিনি উত্তর আফ্রিকায় খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করেন। তাকে "ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম বিপজ্জনক ও বিখ্যাত ধর্মপ্রচারক" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি ধর্মপ্রচারক জুইমার তাকে নিজের শিক্ষক ও আদর্শ মনে করতেন। খ্রিস্টানিকরণের জন্য তিনি যে পরিকল্পনাগুলো তৈরি করেছিলেন, সেগুলোকে পরবর্তী ধর্মপ্রচারকদের জন্য মডেল ও নীতিমালা হিসেবে বিবেচনা করা হয়; যেমন শিক্ষা, পাঠদান, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা এবং ত্রাণ কার্যক্রম। আরবি ভাষায়ও তার রচনা রয়েছে। দেখুন: আলি বিন মুহাম্মদ আওদাহ আল-গামদি। "আল-রাহিবুল ফ্রান্সিসকানি রেমন্ড লাল ওয়া মুহাওয়লাতুহু নাশরান নাসরানিয়্যাহ ফি শামালি আফ্রিকা" — মাজাল্লাতুল মুয়াররিখ আল-আরাবি, খণ্ড ১, সংখ্যা ৬ (মার্চ ১৯৯৮ খ্রি.) — পৃ. ১৩৩-১৬৮।

(৩) এ. এল. শাতিলিয়ে: আল-গারা আলাল আলামিল ইসলামি — সংক্ষেপন ও আরবি অনুবাদ: মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব ও মুসা’ইদ আল-ইয়াফি — বৈরুত: মাকতাবাতু ওসামা বিন যাইদ, বি.সন — পৃ. ১২-১৩।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌[فترة الاحتلال]

فترة الاحتلال: ثم تأتي مرحلة الاحتلال (الاستعمار) في القرنين الثالث عشر والرابع عشر الهجريين (التاسع عشر والعشرين الميلاديين) وما سبقهما من إرهاصات للاحتلال وتعدُّ هذه المرحلة امتدادًا للحروب الصليبية، مع نقص في الكفاءة وانعدام في التوازن بين الطرفين المسلم والنصراني، ويشكل الاحتلال كذلك شكلا من أشكال التنصير بل يعدّ التنصير ممهدا للاحتلال أولا، ثم يعدّ الاحتلال مسهلا لحملات التنصير بعدئذ (1) .

وفي هذه الأثناء بدأ التنصير يأخذ طابع التنظيم من خلال وجود مجموعة من المؤسسات والإرساليات (2) التنصيرية، تنظمها وتدعمها الهيئات الدينية على اختلاف

--------------------------------------------

(1) أحمد شلبي: الحروب الصليبية: بدؤها مع مطلع الإسلام واستمرارها حتى الآن؛ عرض للهجمات الصليبية الغربية على العالم الإسلامي عبر العصور ـ القاهرة: مكتبة النهضة المصرية [1406هـ ـ 1986م] . - ص143 - 153.

(2) الإرسالية جماعة من المنصرين: وتضم الإرسالية عدة مراكز تنتشر في المدن والقرى ويطلق عليها المركز التنصيري أو مركز التنصير باستخدام مصطلح التبشير بدلا من التنصير وتسعى إلى إقامة الكنائس المحلية "الوطنية"، التي تؤول رعايتها للسكان الأصليين، وانظر: إبراهيم عكاشة علي. التبشير النصراني في جنوب السودان "وادي النيل" ـ القاهرة: دار العلوم: 1982م ـ ص 24 - 25. ومن أبرز الإرساليات المشهورة في منطقة الخليج العربي الإرسالية العربية الأمريكية التي يعد من مهندسيها والمخططين لها والمنفذين كذلك السموأل (صموئيل) زويمر: وستأتي ترجمته: انظر في الحديث عن هذه الإرسالية: عبد الملك التميمي: التبشير في منطقة الخليج العربي: دراسة في التاريخ الاجتماعي والسياسي ـ الكويت: شركة كاظمة، 1982م ـ ص 43 - 78.
[দখলদারিত্বের সময়কাল]

দখলদারিত্বের সময়কাল: এরপর হিজরি ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে (খ্রিস্টীয় উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী) দখলদারিত্বের (উপনিবেশবাদ) পর্যায়টি আসে এবং এর পূর্বে দখলদারিত্বের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল। এই পর্যায়টিকে ক্রুসেড যুদ্ধেরই একটি সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় পক্ষের মধ্যে সক্ষমতার ঘাটতি এবং ভারসাম্যের অভাব পরিলক্ষিত হয়। দখলদারিত্ব একইভাবে খ্রিস্টানাইজেশনের একটি রূপ গঠন করে; বরং খ্রিস্টানাইজেশনকে প্রথমে দখলদারিত্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে দখলদারিত্বকে খ্রিস্টানাইজেশন অভিযানের সহজতরকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় (১)।

এই সময়ে খ্রিস্টানাইজেশন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ধর্মপ্রচারক মিশনের (২) উপস্থিতির মাধ্যমে একটি সাংগঠনিক রূপ নিতে শুরু করে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা দ্বারা তাদের ভিন্নতা সত্ত্বে পরিচালিত ও সমর্থিত ছিল।

--------------------------------------------

(১) আহমদ শালবি: আল-হুরুব আস-সালিবিয়্যাহ (ক্রুসেডসমূহ): ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে এর শুরু এবং বর্তমান পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা; যুগ যুগ ধরে মুসলিম বিশ্বের ওপর পাশ্চাত্য ক্রুসেডারদের হামলার পর্যালোচনা — কায়রো: মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-মিসরিয়্যাহ [১৪০৬ হিজরি — ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ]। পৃষ্ঠা ১৪৩ - ১৫৩।

(২) মিশন হলো ধর্মপ্রচারকদের একটি দল: একটি মিশনের অধীনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থাকে যা বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকে। একে খ্রিস্টানাইজেশন কেন্দ্র বা ধর্মপ্রচার কেন্দ্র বলা হয়, যেখানে 'খ্রিস্টানাইজেশন' শব্দের পরিবর্তে 'সুসংবাদ প্রচার' (ইভানজেলিজম) পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়। এটি স্থানীয় 'জাতীয়' গির্জা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালায়, যার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর অর্পণ করা হয়। দেখুন: ইব্রাহিম উকাশাহ আলি। আত-তাবশির আন-নাসরানি ফি জানুবিস সুদান "ওয়াদিন নীল" (দক্ষিণ সুদানে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচার "নীল নদ উপত্যকা") — কায়রো: দারুল উলুম: ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ — পৃষ্ঠা ২৪ - ২৫। আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে সুপরিচিত মিশনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যারাবিয়ান আমেরিকান মিশন, যার অন্যতম স্থপতি, পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী ছিলেন সামুয়েল (স্যামুয়েল) জুইমার: শীঘ্রই তার জীবনী (ترجمة) আসবে। এই মিশন সংক্রান্ত আলোচনা দেখতে দেখুন: আব্দুল মালিক আল-তামিমি: আত-তাবশির ফি মানতিকাতিল খলিজিল আরবি (আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে ধর্মপ্রচার): সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যয়ন — কুয়েত: শারিকাতু কাজিমা, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ — পৃষ্ঠা ৪৩ - ৭৮।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
طوائفها والحكومات الغربية بخاصة، وظهرت للتنصير مؤسسات داخل المؤسسة الكبرى، كالمعاهد والجامعات والمنظمات والمراكز المنتشرة في كثير من الأماكن (1) .

وقد أدى هذا كله إلى الخروج بتصور عن التنصير أشمل أحيانا، وأدق أحيانا أخرى، من مجرد دعوة غير النصارى إلى الدخول في النصرانية.

 

‌‌[التنصير بين المسلمين]

التنصير بين المسلمين: وينظر الآن إلى مفهوم التنصير الحديث بحسب البيئة المستهدفة من الحملات التنصيرية، ففي البيئة الإسلامية أثبتت الجهود عدم جدوى إخراج المسلمين من إسلامهم، وإدخالهم في النصرانية (2) فصيغ المفهوم في المجتمع المسلم بما يكون

--------------------------------------------

(1) انظر: " أشهر المراكز والمعاهد التنصيرية " في: التنصير من: الموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة ـ ط2ـ الرياض: الندوة العالمية للشباب الإسلامي، 1409هـ ـ 1989م ـ ص 164.

(2) وينقل عن السموأل صموئيل رويمر في هذا الصدد قوله: ". . . لقد أديتم الرسالة التي أنيطت بكم أحسن الأداء، ووفقتم لها أسمى التوفيق وإن كان يخيل إلى أنه مع إتمامكم العمل على أكمل وجه، لم يفطن بعضكم إلى الغاية الأساسية منه، إني أقركم على أن الذين أدخلوا من المسلمين في حظيرة المسيحية لم يكونوا مسلمين حقيقين، لقد كانوا، كما قلتم، أحد ثلاثة؛ إما صغير لم يكن له من أهله من يعرّفه ما هو الإسلام، وإما رجل مستخفّ بالأديان لا يبغي غير الحصول على قوته، وقد اشتد به الفقر، وعزت عليه لقمة العيش، وإما آخر يبغي الوصول إلى غاية من الغايات الشخصية. ولكن مهمة التبشير التي ندبتكم دول المسيحية للقيام بها في البلاد المحمدية ليست هي إدخال المسلمين في المسيحية، فإن في هذا هداية لهم وتكريما. وإنما مهمتكم أن تخرجوا المسلم من الإسلام ليصبح مخلوقا لا صلة له بالله، وبالتالي لا صلة تربطه بالأخلاق التي تعتمد عليها الأمم في حياتها. ولذلك تكونون أنتم بعملكم هذا طليعة الفتح الاستعماري في الممالك الإسلامية. وهذا ما قمتم به خلال الأعوام المائة السالفة خير قيام. وهذا ما أهنئكم وتهنئكم دول المسيحية والمسيحيون جميعا. . . . . " انظر: عبد الله التل. جذور البلاء. ـ ط2 - بيروت: المكتب الإسلامي، 1408 هـ - 1988م. - ص 275.
...এর বিভিন্ন উপদল এবং বিশেষ করে পশ্চিমা সরকারসমূহ। খ্রিস্টানিকরণের উদ্দেশ্যে মূল প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেমন—ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত কেন্দ্রসমূহ (১)।

আর এই সামগ্রিক অবস্থা খ্রিস্টানিকরণ সম্পর্কে এমন এক ধারণার জন্ম দিয়েছে যা কখনো অধিকতর ব্যাপক এবং কখনো অধিকতর সূক্ষ্ম; যা অ-খ্রিস্টানদের কেবল খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার আহ্বানের চেয়েও গভীরতর।

 

‌‌[মুসলিমদের মধ্যে খ্রিস্টানিকরণ]

মুসলিমদের মধ্যে খ্রিস্টানিকরণ: বর্তমানে আধুনিক খ্রিস্টানিকরণের ধারণাটিকে সেই পরিবেশের আলোকে দেখা হয় যা খ্রিস্টানিকরণ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু। মুসলিম পরিবেশে পরিচালিত বিভিন্ন প্রচেষ্টা এটি প্রমাণ করেছে যে, মুসলিমদের তাদের ইসলাম থেকে বিচ্যুত করা এবং খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা ফলপ্রসূ নয় (২)। তাই মুসলিম সমাজে এই ধারণাটিকে এমনভাবে রূপদান করা হয়েছে যাতে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আশহারুল মারাকিয ওয়াল মা'আহিদ আত-তানসিরিয়্যাহ" (বিখ্যাত খ্রিস্টানিকরণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউটসমূহ), নিবন্ধ: তানসির; গ্রন্থ: আল-মাওসু'আতুল মুয়াসসারাহ ফিল আদইয়ান ওয়াল মাযাহিবিল মু'আসিরাহ, ২য় সংস্করণ, রিয়াদ: ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়ুথ (আল-নাদওয়াহ আল-আলামিয়্যাহ লিশ-শাবাবিল ইসলামী), ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১৬৪।

(২) এই প্রসঙ্গে স্যামুয়েল জুইমার থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে তিনি বলেন: "...আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন এবং এতে সর্বোচ্চ সাফল্য লাভ করেছেন। যদিও আমার মনে হয় যে, আপনারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করা সত্ত্বেও আপনাদের কেউ কেউ এর মূল লক্ষ্যটি উপলব্ধি করতে পারেননি। আমি আপনাদের সাথে একমত যে, মুসলিমদের মধ্য থেকে যাদের খ্রিস্টধর্মের বলয়ে আনা হয়েছে, তারা প্রকৃত মুসলিম ছিল না। আপনারা যেমনটি বলেছেন, তারা ছিল তিন শ্রেণির কোনো একটি; হয় এমন শিশু যার পরিবার তাকে ইসলাম সম্পর্কে জানানোর মতো ছিল না, অথবা এমন এক ব্যক্তি যে ধর্মকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং কেবল জীবিকার সন্ধান করে, কারণ দারিদ্র্য তাকে গ্রাস করেছিল এবং তার জন্য দুমুঠো অন্ন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, অথবা এমন কেউ যে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো মুহাম্মাদী দেশগুলোতে প্রচারের যে দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পণ করেছে, তা মুসলিমদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা নয়; কারণ এতে তাদের জন্য রয়েছে হেদায়েত ও সম্মান। বরং আপনাদের মূল দায়িত্ব হলো মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া, যাতে সে এমন এক জীবে পরিণত হয় যার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই, আর এর ফলে নৈতিকতার সাথেও তার কোনো বন্ধন থাকে না, যার ওপর জাতিসমূহ তাদের জীবন পরিচালনার জন্য নির্ভর করে। আর এভাবেই আপনারা আপনাদের এই কাজের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোতে ঔপনিবেশিক বিজয়ের অগ্রবাহিনী হিসেবে গণ্য হবেন। গত একশ বছরে আপনারা এই কাজটিই অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছেন। আর এ জন্যই আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই এবং সমস্ত খ্রিস্টান রাষ্ট্র ও খ্রিস্টান সমাজ আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে..." দেখুন: আবদুল্লাহ আল-তাল, জুযুরুল বালা', ২য় সংস্করণ, বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামী, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ২৭৫।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الوصول إليه من محاولة إخراج المسلمين من دينهم، وليس بالضرورة إدخالهم في النصرانية (1) .

وعندما تبين صعوبة إخراج المسلمين من دينهم عمد المنصرون إلى اتباع أساليب المستشرقين في بذر الشكوك في الإسلام لدى المسلمين، ونزع سلطان الدين من النفوس، كما يشير هاملتون جب (2) في كتابه وجهة الإسلام (3) فاعتمد المنصرون

--------------------------------------------

(1) ينقل عن البابا شنودة قوله: " إنه يجب مضاعفة الجهود التبشيرية الحالية، على أن الخطة التبشيرية التي وضعت بنيت على أساس أن الهدف الذي اتفق عليه التبشير في المرحلة القادمة هو التركيز إلى التبشير بين الفئات والجماعات أكثر من التبشير بين الأفراد، وذلك لزحزحة أكبر عدد من المسلمين عن دينهم، أو التمسك به، على أن لا يكون من الضروري دخولهم في المسيحية. ويكون التركيز في بعض الحالات على زعزعة الدين في نفوس المسلمين، وتشكيك الجموع الغفيرة في كتابهم، وفي صدق محمد. وإذا نجحنا في تنفيذ هذا المخطط التبشيري في المرحلة القادمة فإننا نكون قد نجحنا في إزاحة هذه الفئات عن طريقنا. وحتى هذه الحالة إن لم تكن لنا فلن تكون علينا ". انظر: إبراهيم السليمان الجبهان. ما يجب أن يعرفه المسلم من حقائق عن النصرانية والتبشير. _ الرياض: الرئاسة العامة للبحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، 1404 هـ. ص27.

(2) هاملتون جب مستشرق بريطاني (1895 - 1971م) ، اهتم بالأدب العربي، وتتلمذ على كينيدي، وخلف مرجليوث في أكسفورد. وله إسهامات عدة حول الإسلام والعربية والرحلات. انظر: نجيب العقيقي. المستشرقون. - 3 مج. - ط4. - القاهرة: دار المعارف، 1981م - 2 / 129 - 131.

(3) ذكر نجيب العقيقي أن من كتبه الاتجاهات الحديثة في الإسلام وهو خير كتبه. وقد كلف مجموعة من المستشرقين بالكتابة فيه، واكتفى منه بالمقدمة والخاتمة. انظر: نجيب العقيقي. المستشرقون. - مرجع سابق. - 2 / 130. وذكر عبد الرحمن بدوي أن له كتابا بالعنوان نفسه؛ الاتجاهات الحديثة في الإسلام. modren trends in islam انظر: عبد الرحمن بدوي. موسوعة المستشرقين. - ط3. - بيروت: دار العلم للملايين، 1993م. - ص 174 - 175.
মুসলমানদের তাদের ধর্ম থেকে বের করে আনার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব, তবে তাদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা অপরিহার্য নয় (১)।

আর যখন মুসলমানদের তাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার কঠিন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন খ্রিস্টান মিশনারিরা মুসলমানদের মনে ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহ বপন করতে এবং হৃদয় থেকে ধর্মের কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নিতে প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতি অনুসরণের সংকল্প করল, যেমনটি হ্যামিল্টন গিব (২) তাঁর 'হুইদার ইসলাম' (৩) গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন। অতঃপর মিশনারিরা নির্ভর করল...

--------------------------------------------

(১) পোপ শেনুদা থেকে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করা হয়: "বর্তমান মিশনারি তৎপরতা অবশ্যই দ্বিগুণ করতে হবে। তবে যে মিশনারি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, পরবর্তী ধাপে মিশনারি কার্যক্রমের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা হলো ব্যক্তিগত প্রচারণার চেয়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচারণার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা। এর উদ্দেশ্য হলো সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমানকে তাদের ধর্ম থেকে অথবা ধর্মের ওপর অবিচল থাকা থেকে বিচ্যুত করা, যদিও তাদের খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করা জরুরি নয়। কিছু ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া হবে মুসলমানদের অন্তরে ধর্মের ভিত্তি টলিয়ে দেওয়া এবং বিশাল জনতাকে তাদের কিতাব ও মুহাম্মাদের সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলা। আমরা যদি পরবর্তী ধাপে এই মিশনারি নকশা বাস্তবায়নে সফল হই, তবে আমরা এই শ্রেণিগুলোকে আমাদের পথ থেকে সরিয়ে দিতে সফল হব। আর এই অবস্থাটি যদি আমাদের অনুকূলে নাও হয়, তবে অন্তত আমাদের বিপক্ষে যাবে না।" দেখুন: ইবরাহিম আল-সুলাইমান আল-জাবহান। মা ইয়াজিবু আন ইয়ারিফাহুল মুসলিমু মিন হাকায়িক আনিন নাসরানিয়া ওয়াত তাবশির। রিয়াদ: জেনারেল প্রেসিডেন্সি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা, ১৪০৪ হিজরি। পৃষ্ঠা ২৭।

(২) হ্যামিল্টন গিব একজন ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ (১৮৯৫ - ১৯৭১ খ্রি.), তিনি আরবি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, কেনেডির কাছে শিক্ষা লাভ করেন এবং অক্সফোর্ডে মারগোলিউথের স্থলাভিষিক্ত হন। ইসলাম, আরবি ভাষা এবং ভ্রমণবৃত্তান্ত নিয়ে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। দেখুন: নাজিব আল-আকিকি। আল-মুস্তাশরিকুন। ৩ খণ্ড। ৪র্থ সংস্করণ। কায়রো: দার আল-মাআরিফ, ১৯৮১ খ্রি. - ২ / ১২৯ - ১৩১।

(৩) নাজিব আল-আকিকি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর রচিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'মডার্ন ট্রেন্ডস ইন ইসলাম' (আল-ইত্তিজাহাত আল-হাদিসাহ ফিল ইসলাম) এবং এটিই তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি একদল প্রাচ্যবিদকে এতে লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং নিজে শুধু ভূমিকা ও উপসংহার লিখেই ক্ষান্ত হয়েছেন। দেখুন: নাজিব আল-আকিকি। আল-মুস্তাশরিকুন। পূর্বোক্ত সূত্র। ২ / ১৩০। আবদুর রহমান বাদাউই উল্লেখ করেছেন যে, একই শিরোনামে তাঁর একটি বই আছে; 'মডার্ন ট্রেন্ডস ইন ইসলাম'। দেখুন: আবদুর রহমান বাদাউই। মাউসুয়াতুল মুস্তাশরিকিন। ৩য় সংস্করণ। বৈরুত: দারুল ইলম লিল-মালায়িন, ১৯৯৩ খ্রি. - পৃষ্ঠা ১৭৪ - ১৭৫।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أساليب بعض المستشرقين في تحقيق هدف تنصيري أدق من المفهوم العام التقليدي للتنصير. وهذا ما أعلنه أيضا بعض المنصرين في أكثر من مناسبة. ومنها المؤتمر التنصيري الذي عقد بجبل الزيتون في القدس في فلسطين المحتلة سنة 1346 هـ - 1927م، (1) وحضرته أربعون دولة من الدول الغربية الصليبية، حيث قام أحد أقطاب هذا المؤتمر قائلا: " أتظنون أن غرض التنصير وسياسته إزاء الإسلام هو إخراج المسلمين من دينهم ليكونوا نصارى؟ إن كنتم تظنون هذا فقد جهلتم التنصير ومراميه. لقد برهن التاريخ من أبعد أزمنته على أن المسلم لا يمكن أن يكون نصرانيا مطلقا، والتجارب دلتنا ودلت رجال السياسة النصرانية على استحالة ذلك، ولكن الغاية التي نرمي إليها هي إخراج المسلم من الإسلام فقط، ليكون مضطربا في دينه، وعندها لا تكون له عقيدة يدين بها ويسترشد بهديها، وعندها يكون المسلم ليس له من الإسلام إلا اسم أحمد أو مصطفى، أما الهداية فينبغي البحث عنها في مكان

--------------------------------------------

(1) لم تكن فلسطين في ذلك التاريخ محتلة من اليهود كما هي علية الآن، بل كانت محتلة من نصاري الإنجليز، إذ كانت تحت الانتداب البريطاني. وملة الكفر عندنا واحدة. يقول الله تعالى: ولن ترضى عنك اليهود ولا النصارى حتى تتبع ملتهم من الآية 120 من سورة البقرة. فالتعبير في القرآن الكريم هنا جاء بالملة مفردة.

কিছু প্রাচ্যবিদের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিসমূহ এই বিষয়ক সাধারণ প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম। আর এটিই কিছু ধর্মপ্রচারক একাধিক অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সেই ধর্মপ্রচার সম্মেলন, যা ১৩৪৬ হিজরি - ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে (১) অধিকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের জাবালুজ যাইতুনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং যেখানে পশ্চিমা ক্রুসেডার দেশগুলোর মধ্য থেকে চল্লিশটি রাষ্ট্র অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে এই সম্মেলনের অন্যতম এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: "আপনারা কি মনে করেন যে, ইসলামের বিপরীতে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য ও এর নীতি হলো মুসলিমদের তাদের ধর্ম থেকে বের করে খ্রিষ্টান বানানো? যদি আপনারা এটি মনে করেন, তবে আপনারা খ্রিষ্টধর্ম প্রচার এবং এর লক্ষ্য সম্পর্কে অজ্ঞ। ইতিহাস সুদূর অতীত থেকেই প্রমাণ করেছে যে, একজন মুসলিম কখনই খ্রিষ্টান হতে পারে না। অভিজ্ঞতা আমাদের এবং খ্রিষ্টান রাজনীতিবিদদের এর অসম্ভবতা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে। তবে আমরা যে লক্ষ্যটি স্থির করেছি তা হলো কেবল মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া, যাতে সে তার ধর্মের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন তার কোনো বিশ্বাস (عقيدة) থাকবে না যা সে পালন করবে এবং যার হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হবে। তখন সেই মুসলিমের কাছে ইসলামের কেবল 'আহমদ' বা 'মুস্তাফা' নামটিই অবশিষ্ট থাকবে। আর হেদায়েতের বিষয়টি তখন অন্য কোথাও অনুসন্ধান করতে হবে..."

--------------------------------------------

(১) সেই সময়ে ফিলিস্তিন বর্তমানের মতো ইহুদিদের দ্বারা অধিকৃত ছিল না, বরং তা ইংরেজ খ্রিষ্টানদের দ্বারা অধিকৃত ছিল, কারণ তখন তা ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে ছিল। আর আমাদের নিকট কুফরের পথ এক ও অভিন্ন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ (ملة) অনুসরণ করেন।" - সূরা আল-বাকারার ১২০ নং আয়াতের অংশ। এখানে পবিত্র কুরআনের এই বর্ণনায় 'আদর্শ' (ملة) শব্দটি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৮)
آخر " (1) .

وفي الخطاب السري ألقاه البابا شنودة في الكنيسة المرقصية في الاسكندرية في شهر صفر من سنة 1393 هـ - مارس من سنة 1973م ذكر فيه أنه " يجب مضاعفة الجهود التبشرية التي وضعت وبنت على أساس هدف اتفق عليه للمرحلة القادمة وهو زحزحة أكبر قدر من المسلمين عن دينهم والتمسك به، على ألا يكون من الضروري اعتناقهم المسيحية، فإن الهدف هو زعزعة الدين في نفوسهم، وتشكيك الجموع الغفير منهم في كتابهم وصدق محمد " (2) .

وبقيت الدعوة إلى إدخال غير النصارى في النصرانية جزءا من المفهوم العام للتنصير، ولم تعد هي المفهوم الطاغي على هذه الحركة، لما فيها من الضيق في الاستجابة، رغم وجود الإمكانيات المادية والبشرية العاملة في مجال التنصير في مفهومه العام.

 

‌‌[حماية النصارى]

حماية النصارى: كما أن من مفهومات التنصير داخل المجتمع النصراني الإبقاء على النصارى داخل دينهم، وظهور دعوات طائفية من كاثوليكية وبروتستانتية وأرثودوكسية، تتنافس فيما بينها لكسب أكبر عدد ممكن من النصارى أتباعا لها. ويركز هذا المفهوم على حماية النصارى من التيارات الأخرى الجديدة من أن تكون ذات تأثير على

--------------------------------------------

(1) إبراهيم عكاشة علي. ملامح عن النشاط التنصيري في الوطن العربي. - الرياض: جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، 14. 7 هـ - 1987م. ص38.

(2) محمد طاهر التنير. العقائد الوثنية في الديانة النصرانية. - مرجع سابق. ص18.
অন্য একটি (১)।

১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে (১৩৯৩ হিজরির সফর মাসে) আলেকজান্দ্রিয়ার সেন্ট মার্কস ক্যাথেড্রালে পোপ শেনুদা এক গোপন বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, "পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রণীত ধর্মপ্রচারমূলক তৎপরতা দ্বিগুণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যটি হলো—সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমানকে তাদের ধর্ম এবং তার প্রতি অবিচলতা থেকে বিচ্যুত করা। তবে তাদের জন্য খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং মূল লক্ষ্য হলো তাদের অন্তরে ধর্মের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের একটি বিশাল গোষ্ঠীর মনে তাদের কিতাব ও মুহাম্মাদের সত্যতা সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা।" (২)।

অ-খ্রিস্টানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার আহ্বানটি খ্রিস্টানিকরণের সাধারণ ধারণার অংশ হিসেবেই থেকে গেছে। তবে এটি এখন আর এই আন্দোলনের প্রধান বা প্রভাবশালী ধারণা নয়; কারণ এতে সাড়াদানের সুযোগ সীমিত। যদিও খ্রিস্টানিকরণের সাধারণ ক্ষেত্রে কাজ করার মতো প্রচুর বস্তুগত ও মানবসম্পদ বিদ্যমান রয়েছে।

 

‌‌[খ্রিস্টانদের সুরক্ষা]

খ্রিস্টানদের সুরক্ষা: খ্রিস্টান সমাজের অভ্যন্তরে খ্রিস্টানিকরণের অন্যতম ধারণা হলো খ্রিস্টানদের নিজ ধর্মেই টিকিয়ে রাখা। এর পাশাপাশি ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও অর্থোডক্সদের মধ্যে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক আহ্বানের উদ্ভব ঘটেছে, যারা অধিক সংখ্যক অনুসারী লাভের জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। এই ধারণাটি খ্রিস্টানদের নতুন নতুন মতাদর্শের প্রভাব থেকে সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে...

--------------------------------------------

(১) ইব্রাহিম উকাশা আলি। আরব বিশ্বে খ্রিস্টানিকরণ তৎপরতার রূপরেখা। - রিয়াদ: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ। পৃষ্ঠা ৩৮।

(২) মুহাম্মাদ তাহির আল-তান্নির। খ্রিস্টধর্মে পৌত্তলিক বিশ্বাসসমূহ। - পূর্বোক্ত উৎস। পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
النصرانية.

ولا يبدو أن التركيز على الحماية واضح فيما يتعلق بالتيارات القديمة كاليهودية والفلسفات اليونانية [الإغراقية] والهندية والفارسية وغيرها، وذلك لوجود شيء من التزاوج بين النصرانية وهذه الثقافات القديمة منذ القدم، بدءا بحركة شاؤول أو بولس في النصف الثاني من القرن الميلادي الأول (ت 67م) ، الذي عمل على تسخير النصرانية لخدمة الأفكار اليهودية على المدى البعيد، الأمر الذي تحقق منذ زمن، واتضح تماما بعد قيام وطن قومي لليهود في فلسطين المحتلة. وقد انضم المجلس العالمي للكنائس إلى المنظمة الصهيونية العالمية علنًا عام 1397 هـ - 1977م (1) .

 

‌‌[التعميد]

التعميد: ومن مفهومات التنصير القديمة زمنيًا ولا تزال تستخدم، مصطلح التعميد أو التغطيس، وذلك حينما يغطّس أو يعمّد الطفل صغيرا في ماء قد صلى عليه القسيس فأصبح مباركا. وعند النصارى أن هذه الشعيرة ضرورية في عدّ المرء نصرانيا، حتى ليعمّد أولئك الذين يتنصَّرون في سن متقدمة بتغطيسهم بأي ماء يدعو فيه رجل الدين بدعوات يتم بعدها إعلان دخول المعمّد في النصرانية. وهذا المفهوم الأخير يعدّ طقسا من طقوس النصرانية لا علاقة له بتلك المفهومات المتقدم ذكرها. وهو جزء من العقيدة النصرانية التي لا تدخل في نطاق هذه الوقفات. وإنما ورد ذكرها هنا رغبة في تتبع ما اصطُلِح عليه على أنه من التنصير. (2) .

--------------------------------------------

(1) أسعد عبد الرحمن. المنظمة الصهيونية العالمية 1882 - 1982. ط2. - بيروت: المؤسسة العربية للدراسات والنشر، 1990م. ص202.

(2) في مسألة التعميد أو التغطيس أو التنصير بهذا المفهوم انظر: عبد الله الترجمان الميورقي، أبو محمد. تحفة الأريب في الرد على أهل الصليب. - مرجع سابق - ص134 - 139. وانظر أيضا: محمد أبو زهرة. محاضرات في النصرانية - مرجع سابق، - ص139 - 140. وانظر كذلك: محمد طاهر التنير. العقائد الوثنية في الديانة النصرانية - مرجع سابق - ص115 - 118.
খ্রিস্টধর্ম।

প্রাচীন মতাদর্শ যেমন ইহুদিবাদ এবং গ্রিক [ইগরাকিয়্যাহ], ভারতীয় ও পারস্য দর্শন ইত্যাদির ক্ষেত্রে সুরক্ষার বিষয়টি খুব একটা স্পষ্ট বলে মনে হয় না। এর কারণ হলো প্রাচীনকাল থেকেই খ্রিস্টধর্ম এবং এই প্রাচীন সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে এক প্রকার সংমিশ্রণ বিদ্যমান ছিল। এটি শুরু হয়েছিল খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে শৌল বা পলের (মৃত্যু ৬৭ খ্রি.) আন্দোলনের মাধ্যমে, যিনি দীর্ঘমেয়াদে ইহুদি চিন্তাধারাকে সেবা করার জন্য খ্রিস্টধর্মকে ব্যবহার করার কাজ করেছিলেন। বিষয়টি অনেক আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার পর তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গেছে। ১৯৭৭ সালে (১৩৯৭ হিজরি) ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চেস প্রকাশ্যে ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অর্গানাইজেশনে যোগ দেয়। (১)

 

‌‌[বাপ্তিস্ম]

বাপ্তিস্ম: খ্রিস্টানিকরণের প্রাচীন পরিভাষাগুলোর মধ্যে একটি যা এখনও ব্যবহৃত হয়, তা হলো বাপ্তিস্ম বা নিমজ্জন। এটি মূলত তখনই সম্পন্ন হয় যখন কোনো শিশুকে ছোট অবস্থায় এমন পানিতে নিমজ্জিত বা বাপ্তিস্ম দেওয়া হয়, যার ওপর যাজক প্রার্থনা করেছেন এবং যা বরকতময় হয়েছে। খ্রিস্টানদের মতে, একজন ব্যক্তিকে খ্রিস্টান হিসেবে গণ্য করার জন্য এই অনুষ্ঠানটি আবশ্যক। এমনকি যারা পরিণত বয়সে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে, তাদেরও এমন যে কোনো পানিতে নিমজ্জিত করে বাপ্তিস্ম দেওয়া হয় যেখানে কোনো ধর্মীয় ব্যক্তি বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন, যার পরে বাপ্তিস্মপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে খ্রিস্টধর্মে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই শেষোক্ত ধারণাটি খ্রিস্টধর্মের একটি ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত হয় যার সাথে ইতিপূর্বে উল্লিখিত ধারণাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি খ্রিস্টীয় আকিদার অংশ যা এই আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে খ্রিস্টানিকরণ হিসেবে যা পারিভাষিক রূপ পেয়েছে তা অনুসরণের উদ্দেশ্যেই এখানে এর উল্লেখ করা হয়েছে। (২) .

--------------------------------------------

(১) আসাদ আবদুর রহমান। আল-মুনাজ্জামাহ আস-সহিউনিইয়াহ আল-আলামিয়্যাহ ১৮৮২ - ১৯৮২। ২য় সংস্করণ। - বৈরুত: আল-মুয়াসসাসাহ আল-আরাবিয়্যাহ লিদ-দিরাসাত ওয়ান-নাশর, ১৯৯০ খ্রি. পৃষ্ঠা ২০২।

(২) বাপ্তিস্ম বা নিমজ্জন বা এই অর্থে খ্রিস্টানিকরণের বিষয়ে দেখুন: আবদুল্লাহ আত-তারজুমান আল-মায়ুরকি, আবু মুহাম্মদ। তুহফাতুল আরিব ফির-রাদ্দি আলা আহলিস সলিব। - পূর্বোক্ত উৎস - পৃষ্ঠা ১৩৪ - ১৩৯। আরও দেখুন: মুহাম্মদ আবু জাহরা। মুহারাদাত ফিন নাসরানিইয়াহ - পূর্বোক্ত উৎস - পৃষ্ঠা ১৩৯ - ১৪০। আরও দেখুন: মুহাম্মদ তাহির আত-তান্নির। আল-আকাইদ আল-ওয়াসানিইয়াহ ফিদ দিয়ানা আল-নাসরানিইয়াহ - পূর্বোক্ত উৎস - পৃষ্ঠা ১১৫ - ১১৮।