(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: -)
التنصير مفهومه وأهدافه ووسائله وسبل مواجهته القسم: كتب عامة
الكتاب: التنصير، مفهومه وأهدافه ووسائله وسبل مواجهته
المؤلف: علي بن إبراهيم الحمد النملة
الناشر: -
الطبعة: الثانية، 1419هـ
عدد الصفحات: 152
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
খ্রিস্টানিকরণ: এর ধারণা, উদ্দেশ্য, মাধ্যম এবং তা মোকাবিলার উপায় বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: খ্রিস্টানিকরণ, এর ধারণা, উদ্দেশ্য, মাধ্যম এবং তা মোকাবিলার উপায়
লেখক: আলী বিন ইব্রাহিম আল-হামদ আন-নামলাহ
প্রকাশক: -
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫২
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
[المدخل]التنصير مفهومه وأهدافه ووسائله وسبل مواجهته المدخل الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبع هداه إلى يوم الدين، وبعد؛
فالتنصير في مفهومه العام ظاهرة بدأت مع ظهور رسالة عيسى ابن مريم - عليهما الصلاة والسلام -. . وقد حصل لهذا المفهوم تطورات بحسب ما حصل للنصرانية الأولى من تحريف بدأ على يد شاؤول أو بولس في القرن الأول الميلادي. وأدخلت عليها ثقافات يونانية [إغريقية] وهندية وفارسية، فأصبحت النصرانية خليطا من الوحي الإلهي الذي أنزله الله - تعالى - على نبيه ورسوله عيسى ابن مريم عليهما السلام وأفكار البشر الذين سبقوا في وجودهم ظهور النصرانية.
والمجتمع المسلم لم يسلم من ظاهرة التنصير، بل ربما أضحى هذا المجتمع أكثر المجتمعات تعرُّضا لها، نظرًا للمقاومة التي يلقاها المنصرون من المسلمين أفرادا قبل المؤسسات والجماعات. ذلك أن المسلم يتربى على الفطرة وعلى التوحيد، ويصعب حينئذ أن يتقبل أي أفكار فيها تعارض مع الفطرة، أو فيها خلل في الجوانب العقدية، وفي مخاطبة العقل، مادام المسلم يملك البديل الواضح.
ومع هذا تستمر حملات التنصير الموجهة للمجتمعات الإسلامية والأقليات والجاليات المسلمة، آخذة وسائل عديدة ومفهومات متجددة تختلف عن المفهوم الأساس المتمثل في محاولة إدخال غير النصارى في النصرانية.
والتنصير ظاهرة متجددة ومتطورة في آن واحد. وتطورها يأتي في تعديل الأهداف، وفي توسيع الوسائل ومراجعتها بين حين وآخر، تبعا لتعديل الأهداف، ومن ذلك اتخاذ الأساليب العصرية الحديثة في تحقيق الأهداف المعدلة، حسب البيئات والانتماءات التي يتوجه إليها التنصير، حتى وصلت هذه الظاهرة عند البعض، إلى
[ভূমিকা]খ্রিস্টানাইজেশন (ধর্মপ্রচার): এর ধারণা, লক্ষ্য, মাধ্যম এবং প্রতিরোধের উপায় - ভূমিকা। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর;
সাধারণ ধারণায় খ্রিস্টানাইজেশন হলো একটি প্রক্রিয়া যা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর রিসালাত প্রকাশের সাথে শুরু হয়েছিল। প্রথম খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে শৌল বা পলের মাধ্যমে আদি খ্রিস্টধর্মের যে বিকৃতি শুরু হয়েছিল, সেই অনুযায়ী এই ধারণায় বিভিন্ন বিবর্তন ঘটেছে। এতে গ্রীক, ভারতীয় এবং পারস্যের সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে খ্রিস্টধর্ম মহান আল্লাহ তাঁর নবী ও রাসূল ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর ওপর যে ঐশী ওহী নাযিল করেছিলেন এবং খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে বিদ্যমান মানবীয় চিন্তাধারার এক সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে।
মুসলিম সমাজও এই খ্রিস্টানাইজেশন প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকেনি, বরং সম্ভবত এই সমাজই এর সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর কারণ হলো, প্রাতিষ্ঠানিক বা দলগত প্রতিরোধের আগেই সাধারণ মুসলিম ব্যক্তিরা ধর্মপ্রচারকদের তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এর কারণ হলো, একজন মুসলিম ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) এবং তাওহীদের ওপর বেড়ে ওঠে; ফলে ফিতরাতের সাথে সাংঘর্ষিক বা আকীদাগত বিষয়ে ত্রুটিপূর্ণ অথবা বিবেকের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো ধারণা গ্রহণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলিমের কাছে সুস্পষ্ট বিকল্প বিদ্যমান থাকে।
তা সত্ত্বেও মুসলিম সমাজ, সংখ্যালঘু এবং মুসলিম জনবসতিগুলোকে লক্ষ্য করে খ্রিস্টানাইজেশন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে অনেক নতুন মাধ্যম এবং আধুনিক ধারণা গ্রহণ করা হচ্ছে, যা অ-খ্রিস্টানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার মূল ধারণা থেকে ভিন্ন।
খ্রিস্টানাইজেশন একই সাথে একটি পরিবর্তনশীল এবং বিবর্তিত প্রক্রিয়া। এর বিবর্তন মূলত লক্ষ্যগুলোর পরিমার্জন এবং লক্ষ্য পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে সময়ের ব্যবধানে মাধ্যমগুলোর সম্প্রসারণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ এবং লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর পরিচয় অনুযায়ী পরিমার্জিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে...
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
أنها أضحت علما له مؤسساته التعليمية ومناهجه ودراساته ونظرياته.
وقد تنبه المسلمون إلى هذه الحملات منذ القدم، ووقف لها العلماء والولاة والمفكرون وعامة الناس، بحسب قدراتهم العلمية والسلطانية، فقامت ردود علمية على النصرانية المحرفة. وقامت كذلك تنبيهات ورصد للأنشطة التنصيرية في المجتمع المسلم بخاصة، وفي العالم بعامة. ومن أجل ذلك ظهرت أعداد كثيرة من الرسائل والدراسات والمقالات والأبحاث تصدر في الكتب والمجلات والصحف السيارة والدوريات العلمية، كما تصدر في الشريط، هذا الوعاء الذي أخذ طابع القبول في الآونة الأخيرة مع بروز ظاهرة العودة إلى الإسلام "الصحوة". وانتثرت المعلومات في هذا الإنتاج العلمي والفكري المتنوع، من حيث أوعية المعلومات من كتب وغيرها، ومن حيث التغطية. وبدا الإقبال على التعرف على الحملات التنصيرية واضحا مع تنامي الوعي والشعور بوجود تيارات تتحدى الإسلام والمسلمين، وتعمل على منافسته في أذهان الناس وممارساتهم.
وبسبب تناثر المعلومات حول التنصير وتشتتها واختلاف البيانات الإحصائية وتغيرها مع الزمن، ومن خلال التجربة الذاتية مع الحملات التنصيرية بالتعرض المحدود لها والاطلاع على أوجه نشاطها، وحيث إن هذه الحملات متجددة، وهي بحق تهدد المجتمع المسلم، وجدت أنه من المفيد الوقوف مع الفكرة التنصيرية، من حيث مفهومها، وأهدافها، ووسائلها المباشرة والمساندة وسبل مواجهتها، فجاءت هذه الوقفة التي بين يدي القارئ. وهي لا تعدو كونها عرضا عاما لما كتب عن هذه الظاهرة باللغة العربية، ومحاولة الخروج بوقفة علمية موضوعية تختصر المسافة على القارئ بوضعها في مرجع واحد.
ولا أدعي السبق في هذا، ولا إيراد معلومات جديدة، عدا محاولاتي التدخل بوقفات متناثرة في سياق هذا العرض. فإن يكن لهذه الوقفات فضل فإنه سينحصر في تقصير المسافة على المستفيد (القارئ) بالوصول السريع إلى المعلومات عن التنصير،
এটি এখন এমন একটি বিদ্যায় পরিণত হয়েছে যার নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠ্যক্রম, গবেষণা এবং তত্ত্ব রয়েছে।
প্রাচীনকাল থেকেই মুসলমানরা এই অভিযানগুলো সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং আলেম, শাসক, চিন্তাবিদ ও সাধারণ মানুষ তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বিকৃত খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ করে মুসলিম সমাজে এবং সাধারণভাবে সমগ্র বিশ্বে খ্রিস্টানীকরণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই উদ্দেশ্যেই অসংখ্য পুস্তিকা, গবেষণা, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ বই, সাময়িকী, সংবাদপত্র এবং বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া অডিও ক্যাসেটেও তা প্রচারিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে 'ইসলামি জাগরণ' বা 'সাহওয়া'র প্রভাবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই বহুমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাত্ত্বিক উৎপাদনগুলোতে তথ্যসমূহ ছড়িয়ে আছে, তা তথ্যের মাধ্যম (বই ইত্যাদি) কিংবা ব্যাপ্তি—উভয় দিক থেকেই। ইসলাম ও মুসলমানদের চ্যালেঞ্জকারী এবং মানুষের চিন্তা ও কর্মে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত বিভিন্ন মতাদর্শের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে খ্রিস্টানীকরণ অভিযানগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
খ্রিস্টানীকরণ সংক্রান্ত তথ্যের বিক্ষিপ্ততা, উপাত্তের ভিন্নতা ও সময়ের সাথে সাথে সেগুলোর পরিবর্তন এবং খ্রিস্টানীকরণ অভিযানগুলোর সাথে সীমিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও তাদের কার্যক্রমের ধরন পর্যবেক্ষণের আলোকে—যেহেতু এই অভিযানগুলো প্রতিনিয়ত নতুন রূপ ধারণ করে এবং প্রকৃতপক্ষে মুসলিম সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ—আমি অনুভব করেছি যে, খ্রিস্টানীকরণ সংক্রান্ত ধারণা, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মাধ্যমসমূহ এবং তা মোকাবিলার উপায়গুলো নিয়ে আলোকপাত করা ফলপ্রসূ হবে। তাই পাঠকের সামনে এই উপস্থাপনা। এটি এই বিষয়ে আরবি ভাষায় যা লেখা হয়েছে তার একটি সাধারণ উপস্থাপনা মাত্র এবং একজন পাঠকের জন্য একটিমাত্র তথ্যসূত্রে বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরার একটি বস্তুনিষ্ঠ ও তাত্ত্বিক প্রচেষ্টা।
আমি এক্ষেত্রে কোনো নতুনত্বের দাবি করি না এবং নতুন কোনো তথ্য প্রদানেরও দাবি রাখি না, কেবল এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে কিছু বিক্ষিপ্ত পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি। যদি এই আলোচনার কোনো সার্থকতা থাকে, তবে তা হবে তথ্যানুসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য খ্রিস্টানীকরণ সংক্রান্ত তথ্যে দ্রুত পৌঁছানোর পথকে সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
من حيث كونه ظاهرة قائمة لها آثارها على المجتمع المسلم. ولعل هذه الوقفة تفتح الآفاق لمزيد من التوسع لمن أراد ذلك.
وفي سبيل إتاحة المجال للتوسع والإسهام في هذا المجال عمدت إلي رصد ما كتب عن التنصير في الأدبيات "الكتابات" العربية، وبخاصة ما كتب في الكتب والدوريات والمجلات الثقافية. وجعلت هذه الوقفة التي بين يدي القارئ مقدمة للرصد الوراقي "الببليوجرافي". فإن ظهرت الوقفة مستقلة عن الرصد فإنما قصد بذلك، أيضا، اختصار المسافة على المستفيد (القارئ) ، فإن أراد الاستزادة رجع إلى الرصد ليدله على مبتغاه، من خلال تقسيم مواد الرصد إلى مجموعة من رؤوس الموضوعات، رأيت أنها هي أهم ما تحدثت عنه هذه المواد، مع عدم إغفال التداخل بينها.
وقد تعمدت في هذه الوقفة الابتعاد عن البيانات والإحصائيات لأنني وجدتها - في الغالب - غير دقيقة. وعدم دقتها يرجع إلى أنها تُستَقَى عادة من مراجع أجنبية، يكون تركيزها طائفيا أحيانا، أو مؤسسيا أحيانا أخرى، أو إقليميا من ناحية ثالثة، فتقتصر إحصائيتها على إنجازات الطائفة [كاثوليكية أو بروتستانتية أو أرثودوكسية] ، أو تقتصر على إنجاز إرسالية أو مجموعة من الإرساليات تربطها رابطة تنظيمية، أو إقليمية، لكنها لا تغطي جميع الجهود.
وأقرب مثال على هذه المقولة أن ميزانية التنصير في العالم كانت عام 1411هـ - 1990 م حوالي مائة وأربعة وستين مليار دولار أمريكي [164000000000] سنويا، وقد أفادني بهذا الدكتور عبد الرحمن السميط، أحد العاملين في الساحة الإفريقية، ونشر هذا الرقم في مجلة الدعوة السعودية. ثم وجدت أن الميزانية قد قفزت عام 1413 هـ - 1992 م إلى مائة وواحد وثمانين مليار دولار أمريكي [181000000000] . وقد أفاد بهذا أحد المحاضرين في أحد الدروس العامة التي تحدث فيها عن التنصير. والفارق الزمني بين الرقمين هو سنتان، أما الفارق
এটি একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হিসেবে মুসলিম সমাজের ওপর এর প্রভাব বিস্তার করে আছে। সম্ভবত এই আলোচনাটি তাদের জন্য দিগন্ত উন্মোচন করবে যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে জানতে আগ্রহী।
এই ক্ষেত্রে বিস্তৃত আলোচনা এবং অবদানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে, আমি আরবি সাহিত্যে 'খ্রিস্টধর্ম প্রচার' (التنصير) সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছি, বিশেষ করে বই, সাময়িকী এবং সাংস্কৃতিক ম্যাগাজিনগুলোতে যা লেখা হয়েছে। পাঠকের সামনে উপস্থিত এই আলোচনাটিকে আমি গ্রন্থপঞ্জিগত (الببليوجرافي) পর্যালোচনার ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি। যদি এই আলোচনাটি মূল পর্যালোচনা থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়, তবে এর উদ্দেশ্য হলো উপকারভোগীর (পাঠকের) পরিশ্রম লাঘব করা। যদি তিনি আরও জানতে চান, তবে তিনি পর্যালোচনার মূল অংশে ফিরে যেতে পারবেন যা তাকে উদ্দিষ্ট বিষয়ের সন্ধান দেবে। আমি পর্যালোচনার বিষয়বস্তুকে কতগুলো প্রধান শিরোনামে বিভক্ত করেছি, যা আমার মতে এই বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্রকেও উপেক্ষা করা হয়নি।
এই আলোচনায় আমি তথ্য ও পরিসংখ্যান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি কারণ আমি দেখেছি যে সেগুলো সাধারণত সঠিক নয়। এগুলোর নির্ভুল না হওয়ার কারণ হলো, এগুলো সাধারণত বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া হয়, যেগুলোর লক্ষ্য কখনো উপদলীয়, কখনো প্রাতিষ্ঠানিক, আবার কখনো আঞ্চলিক হয়ে থাকে। ফলে তাদের পরিসংখ্যান কেবল নির্দিষ্ট কোনো উপদলের [ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট বা অর্থোডক্স] সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, অথবা কোনো নির্দিষ্ট মিশনারি বা কতগুলো মিশনারি সংস্থার সফলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় যা কোনো সাংগঠনিক বা আঞ্চলিক বন্ধনে আবদ্ধ, কিন্তু তা সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে না।
এই বক্তব্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী উদাহরণ হলো, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصير) বার্ষিক বাজেট ছিল প্রায় একশত চৌষট্টি বিলিয়ন মার্কিন ডলার [১৬৪,০০০,০০০,০০০]। আফ্রিকা মহাদেশে কর্মরত অন্যতম ব্যক্তি ড. আবদুর রহমান আল-সুমাইত আমাকে এই তথ্য জানিয়েছেন এবং এই সংখ্যাটি সৌদি আরবের আদ-দাওয়াহ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে আমি দেখলাম যে, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে এই বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে একশত একাশি বিলিয়ন মার্কিন ডলারে [১৮১,০০০,০০০,০০০] উন্নীত হয়েছে। খ্রিস্টধর্ম প্রচার (التنصير) বিষয়ক একটি সাধারণ পাঠে জনৈক আলোচক এই তথ্য প্রদান করেন। এই দুটি পরিসংখ্যানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো মাত্র দুই বছর, আর পার্থক্যটি হলো...
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الرقمي بينهما فهو سبعة عشر مليار دولار [17000000000] ، وهو الزيادة في غضون سنتين فقط. ومثل هذا التفاوت في الأرقام ينطبق على أعداد المنصرين والمنصرات، والمتنصرين والمتنصرات، والمعاهد التنصيرية، والجمعيات القديمة والحديثة، واللقاءات والمؤتمرات وغيرها من وسائل "تنصيرية".
وفي نشرة وزعتها الندوة العالمية للشباب الإسلامي جاء فيها أن عدد النصارى في العالم يبلغ مليارًا، وسبع مائة وعشرين مليون (1721000000) نسمة، ويبلغ عدد المنظمات التنصيرية في العالم أربعة وعشرين ألفا وخمس مائة وثمانين (24580) منظمة، وعدد المنظمات العاملة في مجالات الخدمة يزيد عن عشرين ألفا وسبع مائة (20700) منظمة، ويبلغ عدد المنظمات التي تبعث منصرين متخصصين في مجالات التنصير والإغاثة ثلاثة آلاف وثماني مائة وثمانين (3880) منظمة، ويزيد عدد المعاهد التنصيرية على ثمانية وتسعين ألفا وسبع مائة وعشرين (98720) معهدا تنصيريا، ويبلغ عدد المنصرين المتفرغين للعمل خارج إطار المجتمع النصراني أكثر من مئتين وثلاثة وسبعين ألفا وسبع مائة وسبعين (273770) منصرا، والذي يظهر لي أن هذا الرقم الأخير متواضع جدا، ويزيد عدد الكتب المؤلفة لأغراض التنصير عن اثنين وعشرين ألفا ومائة (22100) كتاب في لغات ولهجات متعددة، وبلغ عدد النشرات والمجلات الدورية المنتظمة ألفين ومئتين وسبعين (2270) نشرة ومجلة، توزع منها ملايين النسخ بلغات مختلفة، ويزيد عدد محطات الإذاعات التنصيرية على ألف وتسع مائة (1900) إذاعة، تبث إلى أكثر من مائة (100) دولة وبلغاتها. وذكرت النشرة أن مجموع التبرعات التي حصل عليها المنصرون لعام واحد حوالي مائة وواحد وخمسين مليار (151000000000) دولار أمريكي، وهذا الرقم يقل عن الرقم المأخوذ من المحاضرة المذكورة أعلاه بثلاثين مليار (30000000000) دولار، ويقل عن الرقم الذي أفاد به الدكتور عبد الرحمن السميط بثلاثة عشر مليار (13000000000) دولار.
ولا غرابة في هذه الفروقات في الأرقام، فذلك راجع إلى نوعية المصادر التي
তাদের মধ্যবর্তী সংখ্যাগত ব্যবধান হলো সতেরো বিলিয়ন ডলার [১৭০০০০০০০০০], যা মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংখ্যার এই ধরণের তারতম্য পুরুষ ও নারী মিশনারি, ধর্মান্তরিত পুরুষ ও নারী, মিশনারি প্রতিষ্ঠান, প্রাচীন ও আধুনিক সংগঠন, সভা ও সম্মেলন এবং অন্যান্য "মিশনারি" মাধ্যমের সংখ্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়ুথ (আল-নাদওয়াহ আল-আলামিয়্যাহ লি-শাবাব আল-ইসলামি) কর্তৃক বিতরিত একটি বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বে খ্রিস্টানদের সংখ্যা এক বিলিয়ন সাতশো একুশ মিলিয়ন (১৭২১০০০০০০) জন। বিশ্বে মিশনারি সংগঠনের সংখ্যা চব্বিশ হাজার পাঁচশো আশিটি (২৪৫৮০)। সেবা খাতে কর্মরত সংগঠনের সংখ্যা বিশ হাজার সাতশোর (২০৭০০) বেশি। মিশনারি কার্যক্রম ও ত্রাণ কাজে বিশেষজ্ঞ মিশনারি প্রেরণকারী সংস্থার সংখ্যা তিন হাজার আটশো আশিটি (৩৮৮০)। মিশনারি ইনস্টিটিউটের সংখ্যা আটানব্বই হাজার সাতশো বিশটির (৯৮৭২০) বেশি। খ্রিস্টান সমাজের বাইরে পূর্ণকালীন কাজের জন্য নিয়োজিত মিশনারির সংখ্যা দুই লক্ষ তিয়াত্তর হাজার সাতশো সত্তর (২৭৩৭৭০) জনেরও বেশি; আমার কাছে মনে হয় যে এই সর্বশেষ সংখ্যাটি অত্যন্ত নগণ্য। মিশনারি উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষা ও উপভাষায় রচিত বইয়ের সংখ্যা বাইশ হাজার একশোর (২২১০০) বেশি। নিয়মিত প্রকাশিত বুলেটিন ও সাময়িকীর সংখ্যা দুই হাজার দুইশো সত্তরটি (২২৭০), যেগুলোর লক্ষ লক্ষ কপি বিভিন্ন ভাষায় বিতরণ করা হয়। মিশনারি রেডিও স্টেশনের সংখ্যা এক হাজার নয়শোর (১৯০০) বেশি, যা একশোরও (১০০) বেশি দেশে সংশ্লিষ্ট দেশীয় ভাষায় সম্প্রচারিত হয়। বুলেটিনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক বছরে মিশনারিরা মোট প্রায় একশো একান্ন বিলিয়ন (১৫১০০০০০০০০০) মার্কিন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছে। এই সংখ্যাটি উপরে উল্লিখিত বক্তৃতা থেকে প্রাপ্ত সংখ্যার চেয়ে ত্রিশ বিলিয়ন (৩০০০০০০০০০০) ডলার কম এবং ডক্টর আবদুর রহমান আল-সুমাইত প্রদত্ত সংখ্যার চেয়ে তেরো বিলিয়ন (১৩০০০০০০০০০) ডলার কম।
সংখ্যার এই পার্থক্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ এটি নির্ভর করে উৎসের প্রকৃতির ওপর যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يستأنس بها موردو هذه الإحصائيات. وعلى أي حال فالأرقام والإحصاءات عالية ومتغيرة بسرعة عجيبة، نظرا لتطور ظاهرة التنصير وأساليبه في نشر التنصير بين الناس بعامة، ولهذا آثرت تجنب ذكر الإحصائيات في هذه الوقفات.
ومن منهجي أيضا في هذه المناقشات للتنصير الإصرار على مصطلحي النصرانية والتنصير في مقابل المسيحية والتبشير، إلا ما اضطررت إليه مما يأتي ضمن نص منقول اقتباسا، فلا أملك، علميا، التصرف في الكلمات الواردة فيه. ولم أشأ التدخل في النص بوضع البديل المختار بين معقوفتين، مع إمكان ذلك، لأني لم أر داعيا لذلك، ويكفي هنا تبيان المنهج، وأني إنما أنقل نصا. ولا يعني نقلي له إقراري لاستخدام المصطلحات الواردة فيه.
وينبغي - في رأيي المستمد من المنهج الذي سرت عليه في هذه المناقشات - أن تعالج ظاهرة التنصير معالجة موضوعية، بعيدة عن الإفراط في الحساسية تجاه النصارى بعامة. فليس بالضرورة أن جميع النصارى منصرون، بل ليس بالضرورة أن جميع النصارى مقتنعون بنصرانيتهم، ويطبقون تعاليمها في حياتهم الخاصة، وإذا كانوا يطبقون تعاليمها في حياتهم الخاصة، ليسوا بالضرورة متعاطفين مع مفهوم التنصير. وهكذا نجد أن هناك احتمالات كثيرة تمنعنا من إطلاق الأحكام معممة على الجميع.
والموضوعية تقتضي أيضا أن ندرك أن هناك نصارى في المجتمعات المسلمة، وغير المسلمة، لم يأتوا بثياب المنصرين. وينبغي ألا نأخذ الناس بالظنة، لأننا في مواقفنا لا نعبر عن وجهات نظر شخصية، بل نعبر عن منهج ندعو الناس إليه. وأحيل هنا إلى خبر وفد نجران إلى الرسول صلى الله عليه وسلم وما فعلوه بالمسجد النبوي، وموقف الرسول - عليه الصلاة السلام - من هذا التصرف. كما أحيل إلى ما فعله أمير المؤمنين خليفة خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم عمر بن الخطاب رضي الله عنه في بيت
এই পরিসংখ্যান প্রদানকারীরা এর মাধ্যমে সমর্থন খুঁজে পান। যাই হোক না কেন, সংখ্যা এবং পরিসংখ্যানগুলো অত্যাধিক এবং আশ্চর্যজনক দ্রুতগতিতে পরিবর্তনশীল; কারণ খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) প্রক্রিয়ার বিস্তার এবং সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতিগুলোর বিবর্তন ঘটছে। এই কারণেই আমি এই আলোচনাগুলোতে পরিসংখ্যান উল্লেখ করা পরিহার করাকেই শ্রেয় মনে করেছি।
খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) বিষয়ক এই আলোচনাগুলোতে আমার অন্যতম মানহাজ (منهج) হলো 'মসিহিয়্যাত' (খ্রিষ্টধর্ম) এবং 'তাবশির' (সুসংবাদ প্রচার)-এর বিপরীতে 'নাসরানিয়্যাত' এবং 'তানসির' (খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ) পরিভাষা দুটি ব্যবহারের ওপর দৃঢ়তা বজায় রাখা। তবে উদ্ধৃতি হিসেবে কোনো মূল পাঠ (نص) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যেখানে আমি বাধ্য হয়েছি, সেখানে আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণার খাতিরে শব্দ পরিবর্তনের অধিকার রাখি না। আর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও আমি মূল পাঠে (نص) হস্তক্ষেপ করে বন্ধনীতে কোনো বিকল্প শব্দ বসাতে চাইনি; কারণ আমি এর কোনো প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি। এখানে কেবল মানহাজ (منهج) স্পষ্ট করাই যথেষ্ট যে, আমি কেবল একটি মূল পাঠ (نص) উদ্ধৃত করছি। আর আমার এই উদ্ধৃতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, আমি তাতে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর ব্যবহারের প্রতি স্বীকৃতি দিচ্ছি।
আমার মতে - যা এই আলোচনাগুলোতে আমার অনুসৃত মানহাজ (منهج) থেকে নেওয়া - খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) এর বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মোকাবিলা করা উচিত, যা সাধারণভাবে নাসারাদের প্রতি অতি-সংবেদনশীলতা থেকে দূরে থাকবে। এটি জরুরি নয় যে সকল নাসারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকারী (منصر) হবে; বরং এটিও আবশ্যক নয় যে সকল নাসারা তাদের খ্রিষ্টধর্মের ব্যাপারে পুরোপুরি সন্তুষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনে এর শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করে। আর যদি তারা ব্যক্তিগত জীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করেও থাকে, তবে তারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ (تنصير) এর ধারণার সাথে সহানুভূতিশীল হবেই - এমনটিও নিশ্চিত নয়। এভাবে আমরা দেখি যে, সেখানে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে যা আমাদের সবার ওপর ঢালাওভাবে কোনো হুকুম বা বিধান (أحكام) প্রয়োগ করা থেকে বিরত রাখে।
বস্তুনিষ্ঠতা এটিও দাবি করে যে, আমরা যেন এটা অনুধাবন করি যে মুসলিম ও অমুসলিম সমাজে এমন অনেক নাসারা রয়েছেন যারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরকারীর (منصر) বেশে আসেননি। আর আমাদের উচিত নয় মানুষকে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত করা; কারণ আমাদের অবস্থানে আমরা কোনো ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছি না, বরং আমরা একটি মানহাজ (منهج) তুলে ধরছি যার দিকে আমরা মানুষকে আহ্বান করি। আমি এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমনের সংবাদ এবং মসজিদে নববীতে তারা যা করেছিল ও সেই আচরণের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করছি। একইভাবে আমি আমিরুল মুমিনীন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফার খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বায়তুল [মাকদিসে] যা করেছিলেন তার প্রতিও ইঙ্গিত করছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المقدس، كما أحيل إلى موقفه رضي الله عنه من المحاسب النصراني عند أحد الولاة، وذلك لتكتمل الصورة في مسألة النظر إلى الآخرين.
على أن النظر إلى الآخرين، من غير المسلمين في المجتمع المسلم، تحكمه أحكام الشرع الحنيف، كما هي الحال مع جميع الأحكام الشرعية التي تحكم علاقة العبد مع الله تعالى مباشرة، ومع الخلق عامة. ولم يترك المجال لسيطرة الشعور الذاتي الذي يخضع لمؤثرات الزمان والمكان الآنيين.
وربما أكون قد قصرت في عدم الرجوع إلى الإسهامات الأجنبية مع القدرة على ذلك، من حيث الإمكانية اللغوية - ولله الحمد - فاقتصرت، مع هذا، على ما كتب بالعربية. عدا العرض السريع لبعض ما كتب عن الوسائل، والنظرة إلى المستقبل والمكان. ولا أجد مبررًا لذلك سوى عدم توافر المصادر والمراجع الأجنبية عند إعداد هذه الوقفة. ولعل مدى قبولها والإفادة منها يوجب، في طبعة تالية، طرق هذه الوسيلة والإفادة منها في الحصول على المعلومات التي قد ينظر إليها على أنها حديثة، إذ إنها تنهل من المنبع.
وقد كانت نواة هذه الوقفة مجموعة من المحاضرات حول التنصير ألقيت في بعض مساجد مدينة الرياض بالمملكة العربية السعودية، وألقيت كذلك في فرع جمعية الإصلاح الاجتماعي في الفجيرة من الإمارات العربية المتحدة، وفي الجامعة الإسلامية على مشارف نيامي عاصمة النايجر، وفي المركز الإسلامي الأفريقي بالخرطوم عاصمة السودان. وقد لقيت خلال هذه المحاضرات دعوات من بعض الحضور لنشر مضمون هذه المحاضرات التي تعددت من حيث إلقاؤها، وتكررت من حيث الموضوع نفسه.
والذي آمله أن تؤدي هذه الوقفة ما أريد منها، وأن يكون فيها نفع لمن أراد الإفادة. ولعلها تفتح آفاقا جديدة في أذهان المستفيدين من "القراء"، حول ما تعانيه
পবিত্র (المقدس), যেমনটি কোনো এক গভর্নরের নিকট কর্মরত একজন খ্রিস্টান হিসাবরক্ষকের প্রতি তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অবস্থানের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে, যাতে অন্যদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি পূর্ণতা পায়।
বস্তুত মুসলিম সমাজে বসবাসরত অমুসলিমদের তথা অন্যদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি সুমহান শরীয়তের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেমনটি মহান আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে সৃষ্টিজগতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল শরীয়ী বিধানের বেলায় হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতির প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি, যা মূলত সমসাময়িক কাল ও স্থানের প্রভাবের অধীন হয়ে থাকে।
ভাষাগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও—সকল প্রশংসা আল্লাহর—বৈদেশিক অবদানসমূহের প্রতি ফিরে না তাকানোর ক্ষেত্রে হয়তো আমার কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে; ফলে আমি কেবল আরবি ভাষায় রচিত বিষয়াদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তবে মাধ্যমসমূহ এবং ভবিষ্যৎ ও স্থান সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর রচিত কিছু বিষয়ের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা এর ব্যতিক্রম। এই আলোচনার প্রস্তুতির সময় বৈদেশিক উৎস ও রেফারেন্সের অপ্রাপ্যতা ছাড়া অন্য কোনো অজুহাত আমার নেই। সম্ভবত এর গ্রহণযোগ্যতা ও উপযোগিতা পরবর্তী কোনো সংস্করণে এই মাধ্যমটি ব্যবহার করার এবং এমন তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে যেগুলোকে আধুনিক হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যেহেতু এগুলো সরাসরি মূল উৎস থেকে আহরিত।
এই আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল খ্রিস্টধর্ম প্রচার (تنصير) বিষয়ক কতগুলো বক্তৃতামালা, যা সৌদি আরব রাজ্যের রিয়াদ শহরের কিছু মসজিদে প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহতে ‘জামইয়াতুল ইসলাহ আল-ইজতিমায়ি’-এর শাখায়, নাইজারের রাজধানী নিয়ামের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সুদানের রাজধানী খার্তুমের আফ্রিকান ইসলামিক সেন্টারেও এগুলো প্রদান করা হয়। এই বক্তৃতাগুলোর সময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে এগুলোর বিষয়বস্তু প্রকাশের অনুরোধ আসে, যা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে প্রদান করা হয়েছিল এবং একই বিষয়ের ওপর বারবার আলোচনা করা হয়েছিল।
আমি আশা করি যে, এই আলোচনাটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে এবং যারা উপকৃত হতে চান তাদের জন্য এটি কল্যাণকর হবে। সম্ভবত এটি ‘পাঠক’ বা সুবিধাভোগীদের মনে সেই সকল সমস্যার বিষয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأمة من تحديات خارجية تأتي في مقدمتها - في نظري - حملات التنصير المستمرة، ومع هذا فهي وقفات تظل، على أي حال، جهد المقل، كما تظل من كلام البشر غير المعصومين الذي يؤخذ منه ويرد.
وأسأل الله تعالى التوفيق والسداد، كما أسأله العون والمغفرة عن التقصير. وكان الله في عون الجميع.
علي بن إبراهيم الحمد النملة
الرياض: ربيع الآخر / 1419 هـ.
উম্মাহর বাহ্যিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে—আমার দৃষ্টিতে—যার অগ্রভাগে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন খ্রিস্টীয়করণ অভিযান। তা সত্ত্বেও, এই আলোকপাতগুলো সর্বাবস্থায় একজন স্বল্প সামর্থ্যবানের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টামাত্র; একইসাথে তা ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয় (غير معصوم) এমন সাধারণ মানুষের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রহণও করা যেতে পারে এবং বর্জনও করা যেতে পারে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং সেই সাথে আমার সীমাবদ্ধতার জন্য তাঁর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা কামনা করছি। আল্লাহ সকলের সহায় হোন।
আলী বিন ইব্রাহিম আল-হামাদ আন-নামলাহ
রিয়াদ: রবিউস সানি / ১৪১৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[الفصل الأول مفهومات التنصير التعريفات]
[المعنى اللغوي]الفصل الأول
مفهومات التنصير: التعريفات
[প্রথম পরিচ্ছেদ: খ্রিস্টানিকরণের ধারণাসমূহ ও সংজ্ঞাসমূহ][শাব্দিক অর্থ]প্রথম পরিচ্ছেদ
খ্রিস্টানিকরণের ধারণাসমূহ: সংজ্ঞাসমূহ
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المعنى اللغوي: التنصير في مفهومه اللفظي اللغوي هو الدعوة إلى اعتناق النصرانية، أو إدخال غير النصارى في النصرانية. وفي الصحيحين واللفظ للبخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مولود يولد إلا على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه، كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء، هل تحسون فيها من جدعاء» ؟) . والفطرة هنا هي الإسلام (1) .
وفي لسان العرب: "والتنصُّر: الدخول في النصرانية، وفي المحكم: الدخول في النصري. ونصَّره: جعله نصرانيا. . . . . " (2) وأورد الحديث الشريف. وقريب منه قول الفيروزآبادي في القاموس المحيط: ". . . والنصرانية والنصرانة واحدة النصارى، والنصرانية أيضا دينهم، ويقال نصراني وأنصار. وتنصَّر دخل في دينهم، ونصره جعله نصرانيا. . . " (3) وذكر مثل ذلك الزبيدي في تاج العروس (4) .
--------------------------------------------
শাব্দিক অর্থ: শাব্দিক ও ভাষাগত পরিভাষায় ‘তানসির’ (খ্রিস্টানিকরণ) বলতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো অথবা অ-খ্রিস্টানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করাকে বোঝায়। সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে—এবং শব্দবিন্যাস বুখারির—আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদি বানায়, অথবা খ্রিস্টান বানায়, অথবা অগ্নিপূজক বানায়। যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে; তোমরা কি তাতে কোনো কানকাটা বা খুঁতযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি অনুভব করো?»। এখানে ফিতরাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসলাম (১)।
এবং ‘লিসানুল আরব’-এ বলা হয়েছে: "আত-তানাসসুর (التنصُّر): খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করা; এবং আল-মুহকাম-এ রয়েছে: নাসরি-তে প্রবেশ করা। আর নাসসারাহু (نصَّره): তাকে খ্রিস্টান বানানো... (২)" এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ফিরোজাবাদীর ‘আল-কামুস আল-মুহিত’-এর বক্তব্যও এর কাছাকাছি: "...আন-নাসরানিয়্যাহ এবং আন-নাসরানাহ হলো নাসারা-এর একবচন। নাসরানিয়্যাহ তাদের ধর্মকেও বলা হয়। নাসরানি এবং আনসারও বলা হয়। তানাসসারা (تنصَّر) অর্থ তাদের ধর্মে প্রবেশ করা এবং নাসসারাহু (نصره) অর্থ তাকে খ্রিস্টান বানানো... (৩)" এবং যুবাইদি ‘তাজুল আরুস’ গ্রন্থেও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
[النساطرة]النساطرة: وقد حصل للمفهوم اللفظي شيء من التطوير مع تطور النظرة إلى التنصير منذ بعثة عيسى ابن مريم عليهما السلام، فلم يكن هذا المفهوم حديث الإطلاق، وليس هو ظاهرة جديدة، بل لقد بدأ التنصير مع ظهور النصرانية، حيث كان مطلبا جاء به الإنجيل لنشر الدين النصراني - وليس المسيحي - (1) .
وقد هاجرت طائفة من النصارى يقال لها النساطرة (2) من الرها (3) بعد أن أغلقت مدرستهم فيها،
--------------------------------------------
[নেস্টোরিয়ান (النساطرة)]নেস্টোরিয়ান (النساطرة): ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রেরণের পর থেকে ধর্মান্তকরণ (التنصير)-এর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের সাথে সাথে শাব্দিক ধারণায় কিছুটা বিবর্তন ঘটেছে। এই ধারণাটি সাম্প্রতিক কোনো পরিভাষা নয় এবং এটি কোনো নতুন বিষয়ও নয়; বরং নাসরানি (النصرانية) ধর্মের আবির্ভাবের সাথেই ধর্মান্তকরণ (التنصير)-এর সূচনা হয়েছে, কারণ এটি ইঞ্জিলের একটি দাবি ছিল নাসরানি (النصرانية) ধর্ম প্রচারের জন্য—খ্রিস্টধর্ম (المسيحية) নয়—(১)।
নাসারাদের (النصارى) একটি দল, যাদের নেস্টোরিয়ান (النساطرة) (২) বলা হয়, তারা রুহা (الرها) (৩) থেকে হিজরত করেছিল যখন সেখানে তাদের বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
مدرسة الرها، على يد زينون (1) .
سنة 439 م، فهاجرت الطائفة تحت قيادة بارسوما (2) .
--------------------------------------------
এডেসা মাদ্রাসা, জেনন (১)-এর মাধ্যমে।
৪৩৯ খ্রিষ্টাব্দে, অতঃপর দলটি (الطائفة) বারসোমা (২)-এর নেতৃত্বে হিজরত (هجرة) করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
سنة 457م إلى فارس، وأنشأت فيها مدرسة نصيبين، (1) وانتشرت من هذه المدرسة حملات التنصير على الطريقة النسطورية إلى جوف آسيا وبلاد العرب. وقد استعانت هذه الحملات التنصيرية بالفلسفة اليونانية [الإغريقية] لنشر التعاليم الخاصة حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام (2) .
ثم توالت الاستعانات بالثقافات الأخرى كالفارسية والهندية وغيرها مما أعطى هذه الديانة بعدا وثنيا، خرج بها عن أصولها التي جاء بها عيسى ابن مريم عليهما السلام حتى قيل: إن أركان " المسيحية الجديدة وعقائدها وصلواتها وشعائرها تأثرت أو تحدرت من الديانة الوثنية التي كانت سائدة قبل ظهور المسيح عليه السلام، أو في أيامه. وقد نقلها المؤمنون الجدد من ديانتهم الوثنية، فأقرتهم عليها الكنيسة، ثم تبنتها وجعلتها رموزا تأويلية ملفقة ترضيهم وتلبس على غيرهم " (3) .
--------------------------------------------
৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে পারস্যে (যাত্রা করে) এবং সেখানে নুসাইবিন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, (১) আর এই মাদ্রাসা থেকেই নেস্টোরীয় পদ্ধতিতে খ্রিস্টধর্ম প্রচার অভিযান এশিয়ার অভ্যন্তরে এবং আরব ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এই খ্রিস্টধর্ম প্রচার অভিযানগুলো গ্রিক দর্শনের সাহায্য গ্রহণ করেছিল যাতে মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালামের প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের বিশেষ শিক্ষাগুলো প্রচার করা যায় (২)।
এরপর পারস্য, ভারতীয় এবং অন্যান্য সংস্কৃতির সাহায্য গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকে, যা এই ধর্মকে একটি পৌত্তলিক মাত্রা দান করে। এর ফলে এটি মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালাম আনীত মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এমনকি বলা হয়েছে যে: "নতুন খ্রিস্টধর্মের স্তম্ভসমূহ, এর বিশ্বাস, প্রার্থনা এবং আচার-অনুষ্ঠানগুলো সেই পৌত্তলিক ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল বা সেখান থেকে উদ্ভূত হয়েছিল যা মাসিহ আলাইহিস সালামের আবির্ভাবের পূর্বে বা তাঁর সমসাময়িককালে প্রচলিত ছিল। নব্য বিশ্বাসীরা তাদের পূর্বের পৌত্তলিক ধর্ম থেকে এগুলো স্থানান্তর করেছিল, অতঃপর চার্চ তাদের এই বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং পরবর্তীতে এগুলো গ্রহণ করে বানোয়াট রূপক প্রতীকে রূপান্তর করে যা তাদের তুষ্ট করে এবং অন্যদের বিভ্রান্ত করে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[شاؤول المنصر]شاؤول المنصر: وقبل هذا سعى شاؤول أو بولس، (1) وقد كان يهوديا فتنصر، إلى نشر النصرانية على طريقته، بعد أن زعم أن المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام قد جاءه في المنام وهو في طريقه إلى دمشق الشام، وطلب منه ترك اضطهاد النصارى والسير في ركب الدعوة إلى النصرانية (التنصير) ، وقد كان قبل هذه الرؤيا، التي يُذكر أنها مصطنعة، (2) من أشد الناس نكاية بالنصارى، ولا سيما نصارى بيت المقدس، حيث
--------------------------------------------
[শাউল ধর্মপ্রচারক]শাউল ধর্মপ্রচারক: আর এর আগে শাউল বা পৌল (১) - যিনি একজন ইহুদি ছিলেন এবং পরে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন - তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, দামেশক অভিমুখে যাওয়ার পথে স্বপ্নে মসিহ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) তাঁর নিকট এসেছেন এবং তাঁকে খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে খ্রিষ্টধর্মের প্রচার ও প্রসারের (খ্রিষ্টানকরণ) পথে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই স্বপ্নের আগে—যাকে বানোয়াট (مصطنعة) বলে অভিহিত করা হয় (২)—তিনি খ্রিষ্টানদের প্রতি, বিশেষ করে বাইতুল মাকদিসের খ্রিষ্টানদের প্রতি চরম কঠোর ও উৎপীড়নকারী ছিলেন, যেখানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كان نفوذه فيها واسعا (1) .
وبهذا المفهوم يعد بولس المنصر الأول، وواضع أسس التنصير العالمي. يقول محمد أمير يكن: " لا يعتبر بولس المبشر المسيحي الأول فقط بل يعتبر واضع أسس التبشير المسيحي العالمي. ولا يزال المبشرون في أيامنا هذه يستقون خططهم وترتيباتهم من معلمهم الأول بولس. فهو بحق مؤسس علم التبشير، وقد نجح في هذا المضمار
--------------------------------------------
সেখানে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক (১)।
এই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে পলকে প্রথম খ্রিস্টধর্ম প্রচারক এবং বৈশ্বিক খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (ত্যানসির) ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। মুহাম্মদ আমির ইয়াকান বলেন: "পলকে কেবল প্রথম খ্রিস্টান মিশনারিই গণ্য করা হয় না, বরং তাকে বৈশ্বিক খ্রিস্টান মিশনারি কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনকারীও মনে করা হয়। আজও মিশনারিরা তাদের বর্তমান যুগে তাদের প্রথম শিক্ষক পলের কাছ থেকেই তাদের পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা গ্রহণ করে থাকেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে মিশনারি বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা এবং এই ক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أيما نجاح (1) .
ولا بد من التنبية إلى أن هذه النظرة لبولس من قبلنا نحن المسلمين تختلف عن نظرة بعض النصارى له، إذ يعدونه المنقذ، ويسمونه بولس المخلص.
[اليعاقبة]اليعاقبة: ثم تعاقبت حملات التنصير وتزعمها في الجهة الغربية من فلسطين اليعاقبة (2) الذين اختلفوا مع النساطرة حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام بين الناسوتية واللاهوتية (3) .
--------------------------------------------
কী অভূতপূর্ব সাফল্য (১)।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, আমাদের অর্থাৎ মুসলিমদের পক্ষ থেকে পৌল (পল) সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা তার প্রতি কিছু খ্রিস্টানের দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে ভিন্ন; কারণ তারা তাকে ত্রাণকর্তা মনে করে এবং তাকে ত্রাণকর্তা পৌল নামে অভিহিত করে।
[ইয়াকুবীয় (اليعاقبة)]ইয়াকুবীয় (اليعاقبة): অতঃপর খ্রিস্টধর্ম প্রচারের একের পর এক অভিযান চলতে থাকে এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিমাঞ্চলে এর নেতৃত্ব দেয় ইয়াকুবীয়রা (اليعاقبة) (২), যারা নাসতুরিদের (النساطرة) সাথে মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালামের প্রকৃতি সম্পর্কে মতবিরোধ করেছিল যে, তিনি কি মানবীয় সত্তা (الناسوتية) নাকি ঐশ্বরিক সত্তা (اللاهوتية) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[المسلمون والنصارى]المسلمون والنصارى: ولعل أول علاقة بين المسلمين والنصارى، أو الإسلام والنصرانية، كانت على عهد الرسول محمد صلى الله عليه وسلم _ حينما أرسل وفدًا من المهاجرين إلى ملك صالح في الحبشة يقال له النجاشي، (1) وما حصل من سبق قريش ومحاولتهم إثناء الملك عن إيواء المسلمين، وقد صاحب هذه المحاولة نقاش وحجاج حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام ونظرة الإسلام له (2) .
--------------------------------------------
[মুসলিম ও খ্রিস্টানগণ]মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে, অথবা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সম্ভবত প্রথম সম্পর্ক রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সূচিত হয়েছিল—যখন তিনি আবিসিনিয়ায় (হাবশা) নাজ্জাশি নামক একজন নেককার রাজার নিকট একদল মুহাজির (مهاجرين) প্রতিনিধি প্রেরণ করেন, (১) আর (সেখানে) কুরাইশদের অগ্রগামিতা এবং মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়া থেকে রাজাকে বিরত রাখার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রচেষ্টার সাথে মারইয়াম-তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রকৃতি এবং তাঁর সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কও বিদ্যমান ছিল (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم أرسل الرسول محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم وفودا إلى الأباطرة في شمال الجزيرة العربية وشمالها الغربي مثل هرقل الروم ومقوقس مصر وغيرهما. وكان هناك أيضا حوار ونقاش حول نظرة الإسلام والمسلمين للنصرانية، ونبيها عيسى ابن مريم عليهما السلام. (1) .
وقد قدم على الرسول محمد صلى الله عليه وسلم في المدينة النبوية وفد من نجران بين أربعة عشر وستين فردا - حسب الروايات -، ومنهم العاقب وأبو الحارث والسيد، فدار بين النبي محمد صلى الله عليه وسلم وبينهم حوار وحجاج حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام. ثم عاد الوفد إلى نجران، وكان بينهم حوار طويل حول ما دار بينهم وبين الرسول محمد صلى الله عليه وسلم رجع بعده بعض أعضاء الوفد كالعاقب والسيد إلى المدينة النبوية، ونطقا بالشهادتين، ونزلا في بيت أبي أيوب الأنصاري (2) رضي الله عنه قرب المسجد النبوي بالمدينة المنورة (3) .
--------------------------------------------
অতঃপর রাসূল মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরব উপদ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস, মিশরের মুকাউকিস এবং অন্যান্য সম্রাটদের কাছে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। সেখানে খ্রিস্টধর্ম এবং এর নবী ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) সম্পর্কে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংলাপ ও আলোচনা হয়েছিল। (১) .
রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মদিনায় নাজরান থেকে চৌদ্দ থেকে ষাট জনের—বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) অনুযায়ী—একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল, যাদের মধ্যে আল-আকিব, আবু আল-হারিস এবং আস-সাইয়্যিদ ছিলেন। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রকৃতি নিয়ে সংলাপ ও বিতর্ক হয়েছিল। তারপর প্রতিনিধি দলটি নাজরানে ফিরে যায় এবং তাদের ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যে যা ঘটেছিল তা নিয়ে তাদের মাঝে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এর পর প্রতিনিধি দলের কিছু সদস্য যেমন আল-আকিব এবং আস-সাইয়্যিদ মদিনায় ফিরে আসেন এবং শাহাদাতাইন পাঠ করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীর কাছে আবু আইয়ুব আনসারী (২) (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাড়িতে অবস্থান করেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وعصر الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم كان حافلا بالعلاقات مع النصارى، نتيجة لامتداد الفتح الإسلامي في الشام ومصر وما وراءهما. وكان يتخلل هذه الفتوح وقفات علمية تكون فيها مناقشات وحوارات حول موقف الإسلام من النصرانية والنصارى. وأبرز مثال على هذه الوقفات وقفة الخليفة عمر بن الخطاب رضي الله عنه في بيت المقدس، وموقفه من كنيسة القيامة وتجنبه الصلاة فيها (1) .
--------------------------------------------
খোলাফায়ে রাশেদীনের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ ছিল খ্রিস্টানদের সাথে সম্পর্কের বৈচিত্র্যে ভরপুর, যা শাম (সিরিয়া), মিশর এবং তার পরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ইসলামি বিজয়ের প্রসারের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। এই বিজয়গুলোর মাঝে বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক বিরতি বা মুহূর্ত তৈরি হতো, যেখানে খ্রিস্টধর্ম এবং খ্রিস্টানদের সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান নিয়ে আলোচনা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হতো। এই ধরণের বিরতিগুলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হলো বায়তুল মাকদাসে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থান এবং কিয়ামা গির্জার (চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার) প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও সেখানে সালাত আদায় করা থেকে তাঁর বিরত থাকা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وكذا الحال في العصر الأُموي مع الزيادة المطّردة في العلاقة من خلال الاستعانة بالنصارى في بعض مقوِّمات بناء المجتمع المسلم الناهض، وبخاصة فيما يتعلق بالعلوم التطبيقية والبحتة (1) .
وتصبح العلاقة أكثر وضوحا في العصر العباسي الذي شهد ازدهارا علميا وثقافيا وحضاريا استعان المسلمون في أجزاء منه بالنصارى وغيرهم من أصحاب الثقافات الأخرى، ولا سيما الفرس واليونان [الإغريق] في مجالس العلم، وبيوت الترجمة، وخزائن الكتب، ودواوين الولاة، وفي المؤسسات العلمية والتعليمية الأخرى (2) .
ولم يسلم المغول أنفسهم من حركة التنصير هذه، إذ أريد من تنصيرهم كسب أمة وثنية إلى النصرانية من ناحية، ومن ناحية أخرى التأثير على المسلمين بتفادي خطرهم على الحملات التنصيرية، فيما إذا انضم المغول إلى المسلمين. وقد انضم المغول إلى المسلمين بعد أن هداهم الله إلى الإسلام، وعاونوا قادة المسلمين في تصديهم للحملات التنصيرية (3) .
--------------------------------------------
উমাইয়া যুগেও একই অবস্থা বিদ্যমান ছিল, যেখানে উদীয়মান মুসলিম সমাজ গঠনের কতিপয় অনুষঙ্গে খ্রিস্টানদের সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি সাধিত হয়েছিল, বিশেষত ফলিত ও বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে (১)।
আব্বাসীয় যুগে এই সম্পর্ক আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ছিল এক বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সমৃদ্ধির যুগ। এই যুগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানরা খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংস্কৃতির ধারক-বাহক, বিশেষ করে পারসিক ও গ্রিকদের থেকে জ্ঞানচর্চার আসর, অনুবাদ কেন্দ্র, গ্রন্থাগার, প্রাদেশিক গভর্নরদের কার্যালয় এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহায়তা গ্রহণ করেছিল (২)।
মঙ্গোলরাও এই খ্রিস্টানকরণ তৎপরতা থেকে মুক্ত ছিল না। তাদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পেছনে একদিকে যেমন একটি পৌত্তলিক জাতিকে খ্রিস্টধর্মের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল, তেমনি অন্যদিকে মঙ্গোলরা যদি মুসলমানদের সাথে যোগ দিত তবে খ্রিস্টানকরণ অভিযানের ওপর যে ঝুঁকির সম্ভাবনা ছিল, তা এড়ানোর মাধ্যমে মুসলমানদের প্রভাবিত করাও লক্ষ্য ছিল। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা মঙ্গোলদের ইসলামের সঠিক পথ প্রদর্শনের পর তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং খ্রিস্টানকরণ অভিযান প্রতিহত করতে মুসলিম সেনানায়কদের সহযোগিতা প্রদান করে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[الحروب الصليبية]الحروب الصليبية: وتشكِّل الصراع بين المسلمين والنصارى بوضوح أكثر إبَّان الحروب الصليبية (1) التي لا تعدو كونها شكلا من أشكال التنصير، اتُّبعت فيه القوة والغزو العسكري، وكان يدور خلال الحملات الصليبية الثماني نقاش وحوار بين المسلمين والنصارى من علماء الدين الإسلامي ورجال الدين النصراني، كانت من نتائجه ظهور مجموعة من المؤلَّفات تناقش حقيقة النصرانية وترد على النصارى في زعمهم حول طبيعة المسيح عيسى ابن مريم عليهما السلام وأسباب عدم إيمانهم بمحمد صلى الله عليه وسلم رغم ذكر بعثته في الإنجيل (2) .
--------------------------------------------
[ক্রুসেড বা ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ]ক্রুসেড: ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ চলাকালীন মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় (১), যা মূলত খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (ধর্মান্তরকরণ) একটি রূপ ছাড়া আর কিছু ছিল না; এতে শক্তি প্রয়োগ ও সামরিক আগ্রাসনের পথ অবলম্বন করা হয়েছিল। আটটি ক্রুসেড অভিযান চলাকালীন ইসলামি ধর্মতত্ত্ববিদ এবং খ্রিস্টান যাজকদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর অন্যতম ফলাফল ছিল বেশ কিছু গ্রন্থ সংকলিত হওয়া, যাতে খ্রিস্টধর্মের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রকৃতি সম্পর্কে খ্রিস্টানদের দাবির প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিল শরিফে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কেন তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি, তার কারণসমূহও এসব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكما أن الحروب الصليبية لم تفلح عسكريا فهي لم تفلح عقائديا في تشكيك المسلمين برسالتهم، بل زادتهم تمسُّكا بدينهم أدَّى في النهاية إلى خروج الصليبيين من أراضي المسلمين دون الفوز بما قدموا من أجله (1) ومع هذا فلا يغفل تأثير
--------------------------------------------
ঠিক যেমন ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ সামরিকভাবে সফল হতে পারেনি, তেমনি সেগুলো মুসলিমদের তাদের রিসালাত বা বার্তার ব্যাপারে সন্দিহান করে তোলার ক্ষেত্রে আকিদাগতভাবেও সফল হয়নি। বরং এটি তাদের দ্বীনের প্রতি অবিচলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ক্রুসেডারদের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কারের পথে পরিচালিত করে, যদিও তারা যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিল তা অর্জনে তারা জয়ী হতে পারেনি (১)। তা সত্ত্বেও প্রভাবের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الحملات الصليبية على المجتمع المسلم، فقد زاد عدد الكنائس، بالتالي زاد عدد المنصرين.
ويذكر محمد مؤنس عوض من خلال عرضه للرحالة المسلمين، ولا سيما عند وقوفه مع الرحالة المسلم ابن جبير أن هذا الرحالة قد أدرك البعد التنصيري للحملات الصليبية، إذ أدرك الدور الصليبي الخطر في تغيير هوية المنطقة وتحويلها عن الإسلام، من خلال البعد التنصيري، فيذكر أنه بعد خضوع عكا لسيطرة الصليبيين فقد تحولت مساجدها " وصارت كنائس، وصوامعها صارت محل أحد النواقيس، وفي مثل ذلك التعبير نجده يكشف بجلاء عن دور الصليبين في تغيير هوية المنطقة الإسلامية ومحاولة تنصيرها من خلال القضاء على الدور الهام لأماكن العبادة الإسلامية في صورة المساجد، بل وصل الأمر أن صارت هناك بقعة صغيرة في مسجد عكا الجامع يجتمع فيه الغرباء من أجل إقامة الصلاة، ويمكن وصف ابن جبير بأنه شاهد عيان معاصر على تلك الحقيقة، ألا وهي السياسة التنصيرية التي أراد الصليبيون تنفيذها في منطقة الشرق الأدنى من أجل توسيع رقعة عالم المسيحية على حساب الإسلام والمسلمين (1) .
كما يورد بعض الأخبار عن أسامة بن منقذ في كتابه الاعتبار، ثم يعقّب على ذلك بقوله: وتجدر الإشارة أن إيراد ذلك الرحالة لمثل تلك الأحداث يدل على أنه أدرك خطورة البعد التنصيري كأحد أهداف المشروع الصليبي الذي رغب في تحويل
--------------------------------------------
মুসলিম সমাজের ওপর ক্রুসেডারদের অভিযানের ফলে গির্জার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ফলস্বরূপ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
মুহাম্মদ মুনিস আওয়াদ মুসলিম পর্যটকদের বর্ণনা উপস্থাপনকালে, বিশেষ করে মুসলিম পর্যটক ইবনে জুবায়রের বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, এই পর্যটক ক্রুসেড অভিযানের ধর্মপ্রচারমূলক দিকটি উপলব্ধি করেছিলেন। কেননা তিনি ধর্মপ্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিচয় পরিবর্তন এবং একে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার ক্ষেত্রে ক্রুসেডারদের বিপজ্জনক ভূমিকা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ক্রুসেডারদের কর্তৃত্বে আক্কা নগরী চলে যাওয়ার পর সেখানকার মসজিদগুলো "গির্জায় রূপান্তরিত হয় এবং তাদের মিনারগুলো ঘণ্টার স্থানে পরিণত হয়।" এই জাতীয় অভিব্যক্তির মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি মুসলিম ইবাদতখানা হিসেবে মসজিদগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নির্মূল করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের ইসলামী পরিচয় পরিবর্তন এবং একে খ্রিস্টানিকরণ করার প্রচেষ্টায় ক্রুসেডারদের ভূমিকার কথা স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেছেন। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, আক্কার জামে মসজিদে কেবল একটি ছোট স্থান অবশিষ্ট ছিল যেখানে বহিরাগতরা নামাজ আদায়ের জন্য একত্রিত হতো। ইবনে জুবায়রকে এই বাস্তবতার একজন সমসাময়িক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে; আর সেই বাস্তবতাটি হলো ধর্মপ্রচারমূলক রাজনীতি, যা ক্রুসেডাররা ইসলাম ও মুসলমানদের বিনিময়ে খ্রিস্টান বিশ্বের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিকট প্রাচ্য অঞ্চলে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল (১)।
একইভাবে তিনি উসামা বিন মুনকিদ-এর আল-ইতিবার গ্রন্থ থেকে কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর মন্তব্য করেছেন: এটি উল্লেখযোগ্য যে, সেই পর্যটক কর্তৃক এই জাতীয় ঘটনাবলি উল্লেখ করা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি ক্রুসেড প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ধর্মপ্রচারমূলক কার্যক্রমের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছিলেন, যা পরিবর্তন করতে চেয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مسلمي الشرق الأدنى إلى مسيحيين يدينون بالولاء لكنيسة روما وفق المذهب الكاثوليكي، مع ملاحظة أن الرحالة المسلمين الذين زاروا بلاد الشام في ذلك العصر، حرصوا على إيراد بعض الروايات الهامة عن ذلك الجانب التنصيري، ولا مراء في أن رواية أسامة بن منقذ لها شأنها في ذلك المجال مع ندرة ما ورد في هذا الشأن، في المصادر التاريخية العربية المعاصرة" (1) .
ثم تزعم ريموند لول (2) المستشرق المنصّر الإسباني مهمة العودة إلى التنصير بعد أن فشلت الحروب الصليبية في مهمتها، تعلم اللغة العربية، وجال في البلاد الإسلامية وناقش العلماء المسلمين في بلاد كثيرة (3) .
--------------------------------------------
নিকট প্রাচ্যের মুসলমানদের রোমান ক্যাথলিক চার্চের অনুগত খ্রিস্টানে রূপান্তর করার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। সেই যুগে যারা শামের অঞ্চলসমূহ (সিরিয়া অঞ্চল) সফর করেছিলেন, সেই মুসলিম পর্যটকরা এই খ্রিস্টানিকরণ বা ধর্মপ্রচারমূলক কার্যক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা (روايات) লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। সমকালীন আরবি ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে এই বিষয়ের তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও ওসামা ইবনে মুনকিজ-এর বর্ণনাটি (رواية) এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। (১)
অতঃপর স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারক রেমন্ড লাল (২) ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ তাদের লক্ষ্যে ব্যর্থ হওয়ার পর পুনরায় খ্রিস্টানিকরণ কার্যক্রমের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আরবি ভাষা শেখেন এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশ ভ্রমণ করেন ও অনেক দেশে মুসলিম আলেমদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
[فترة الاحتلال]فترة الاحتلال: ثم تأتي مرحلة الاحتلال (الاستعمار) في القرنين الثالث عشر والرابع عشر الهجريين (التاسع عشر والعشرين الميلاديين) وما سبقهما من إرهاصات للاحتلال وتعدُّ هذه المرحلة امتدادًا للحروب الصليبية، مع نقص في الكفاءة وانعدام في التوازن بين الطرفين المسلم والنصراني، ويشكل الاحتلال كذلك شكلا من أشكال التنصير بل يعدّ التنصير ممهدا للاحتلال أولا، ثم يعدّ الاحتلال مسهلا لحملات التنصير بعدئذ (1) .
وفي هذه الأثناء بدأ التنصير يأخذ طابع التنظيم من خلال وجود مجموعة من المؤسسات والإرساليات (2) التنصيرية، تنظمها وتدعمها الهيئات الدينية على اختلاف
--------------------------------------------
[দখলদারিত্বের সময়কাল]দখলদারিত্বের সময়কাল: এরপর হিজরি ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে (খ্রিস্টীয় উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী) দখলদারিত্বের (উপনিবেশবাদ) পর্যায়টি আসে এবং এর পূর্বে দখলদারিত্বের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল। এই পর্যায়টিকে ক্রুসেড যুদ্ধেরই একটি সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় পক্ষের মধ্যে সক্ষমতার ঘাটতি এবং ভারসাম্যের অভাব পরিলক্ষিত হয়। দখলদারিত্ব একইভাবে খ্রিস্টানাইজেশনের একটি রূপ গঠন করে; বরং খ্রিস্টানাইজেশনকে প্রথমে দখলদারিত্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে দখলদারিত্বকে খ্রিস্টানাইজেশন অভিযানের সহজতরকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় (১)।
এই সময়ে খ্রিস্টানাইজেশন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ধর্মপ্রচারক মিশনের (২) উপস্থিতির মাধ্যমে একটি সাংগঠনিক রূপ নিতে শুরু করে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা দ্বারা তাদের ভিন্নতা সত্ত্বে পরিচালিত ও সমর্থিত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
طوائفها والحكومات الغربية بخاصة، وظهرت للتنصير مؤسسات داخل المؤسسة الكبرى، كالمعاهد والجامعات والمنظمات والمراكز المنتشرة في كثير من الأماكن (1) .
وقد أدى هذا كله إلى الخروج بتصور عن التنصير أشمل أحيانا، وأدق أحيانا أخرى، من مجرد دعوة غير النصارى إلى الدخول في النصرانية.
[التنصير بين المسلمين]التنصير بين المسلمين: وينظر الآن إلى مفهوم التنصير الحديث بحسب البيئة المستهدفة من الحملات التنصيرية، ففي البيئة الإسلامية أثبتت الجهود عدم جدوى إخراج المسلمين من إسلامهم، وإدخالهم في النصرانية (2) فصيغ المفهوم في المجتمع المسلم بما يكون
--------------------------------------------
...এর বিভিন্ন উপদল এবং বিশেষ করে পশ্চিমা সরকারসমূহ। খ্রিস্টানিকরণের উদ্দেশ্যে মূল প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেমন—ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত কেন্দ্রসমূহ (১)।
আর এই সামগ্রিক অবস্থা খ্রিস্টানিকরণ সম্পর্কে এমন এক ধারণার জন্ম দিয়েছে যা কখনো অধিকতর ব্যাপক এবং কখনো অধিকতর সূক্ষ্ম; যা অ-খ্রিস্টানদের কেবল খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার আহ্বানের চেয়েও গভীরতর।
[মুসলিমদের মধ্যে খ্রিস্টানিকরণ]মুসলিমদের মধ্যে খ্রিস্টানিকরণ: বর্তমানে আধুনিক খ্রিস্টানিকরণের ধারণাটিকে সেই পরিবেশের আলোকে দেখা হয় যা খ্রিস্টানিকরণ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু। মুসলিম পরিবেশে পরিচালিত বিভিন্ন প্রচেষ্টা এটি প্রমাণ করেছে যে, মুসলিমদের তাদের ইসলাম থেকে বিচ্যুত করা এবং খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা ফলপ্রসূ নয় (২)। তাই মুসলিম সমাজে এই ধারণাটিকে এমনভাবে রূপদান করা হয়েছে যাতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الوصول إليه من محاولة إخراج المسلمين من دينهم، وليس بالضرورة إدخالهم في النصرانية (1) .
وعندما تبين صعوبة إخراج المسلمين من دينهم عمد المنصرون إلى اتباع أساليب المستشرقين في بذر الشكوك في الإسلام لدى المسلمين، ونزع سلطان الدين من النفوس، كما يشير هاملتون جب (2) في كتابه وجهة الإسلام (3) فاعتمد المنصرون
--------------------------------------------
মুসলমানদের তাদের ধর্ম থেকে বের করে আনার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব, তবে তাদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা অপরিহার্য নয় (১)।
আর যখন মুসলমানদের তাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার কঠিন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন খ্রিস্টান মিশনারিরা মুসলমানদের মনে ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহ বপন করতে এবং হৃদয় থেকে ধর্মের কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নিতে প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতি অনুসরণের সংকল্প করল, যেমনটি হ্যামিল্টন গিব (২) তাঁর 'হুইদার ইসলাম' (৩) গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন। অতঃপর মিশনারিরা নির্ভর করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أساليب بعض المستشرقين في تحقيق هدف تنصيري أدق من المفهوم العام التقليدي للتنصير. وهذا ما أعلنه أيضا بعض المنصرين في أكثر من مناسبة. ومنها المؤتمر التنصيري الذي عقد بجبل الزيتون في القدس في فلسطين المحتلة سنة 1346 هـ - 1927م، (1) وحضرته أربعون دولة من الدول الغربية الصليبية، حيث قام أحد أقطاب هذا المؤتمر قائلا: " أتظنون أن غرض التنصير وسياسته إزاء الإسلام هو إخراج المسلمين من دينهم ليكونوا نصارى؟ إن كنتم تظنون هذا فقد جهلتم التنصير ومراميه. لقد برهن التاريخ من أبعد أزمنته على أن المسلم لا يمكن أن يكون نصرانيا مطلقا، والتجارب دلتنا ودلت رجال السياسة النصرانية على استحالة ذلك، ولكن الغاية التي نرمي إليها هي إخراج المسلم من الإسلام فقط، ليكون مضطربا في دينه، وعندها لا تكون له عقيدة يدين بها ويسترشد بهديها، وعندها يكون المسلم ليس له من الإسلام إلا اسم أحمد أو مصطفى، أما الهداية فينبغي البحث عنها في مكان
--------------------------------------------
কিছু প্রাচ্যবিদের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিসমূহ এই বিষয়ক সাধারণ প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম। আর এটিই কিছু ধর্মপ্রচারক একাধিক অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সেই ধর্মপ্রচার সম্মেলন, যা ১৩৪৬ হিজরি - ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে (১) অধিকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের জাবালুজ যাইতুনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং যেখানে পশ্চিমা ক্রুসেডার দেশগুলোর মধ্য থেকে চল্লিশটি রাষ্ট্র অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে এই সম্মেলনের অন্যতম এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: "আপনারা কি মনে করেন যে, ইসলামের বিপরীতে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য ও এর নীতি হলো মুসলিমদের তাদের ধর্ম থেকে বের করে খ্রিষ্টান বানানো? যদি আপনারা এটি মনে করেন, তবে আপনারা খ্রিষ্টধর্ম প্রচার এবং এর লক্ষ্য সম্পর্কে অজ্ঞ। ইতিহাস সুদূর অতীত থেকেই প্রমাণ করেছে যে, একজন মুসলিম কখনই খ্রিষ্টান হতে পারে না। অভিজ্ঞতা আমাদের এবং খ্রিষ্টান রাজনীতিবিদদের এর অসম্ভবতা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে। তবে আমরা যে লক্ষ্যটি স্থির করেছি তা হলো কেবল মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া, যাতে সে তার ধর্মের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন তার কোনো বিশ্বাস (عقيدة) থাকবে না যা সে পালন করবে এবং যার হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হবে। তখন সেই মুসলিমের কাছে ইসলামের কেবল 'আহমদ' বা 'মুস্তাফা' নামটিই অবশিষ্ট থাকবে। আর হেদায়েতের বিষয়টি তখন অন্য কোথাও অনুসন্ধান করতে হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
آخر " (1) .
وفي الخطاب السري ألقاه البابا شنودة في الكنيسة المرقصية في الاسكندرية في شهر صفر من سنة 1393 هـ - مارس من سنة 1973م ذكر فيه أنه " يجب مضاعفة الجهود التبشرية التي وضعت وبنت على أساس هدف اتفق عليه للمرحلة القادمة وهو زحزحة أكبر قدر من المسلمين عن دينهم والتمسك به، على ألا يكون من الضروري اعتناقهم المسيحية، فإن الهدف هو زعزعة الدين في نفوسهم، وتشكيك الجموع الغفير منهم في كتابهم وصدق محمد " (2) .
وبقيت الدعوة إلى إدخال غير النصارى في النصرانية جزءا من المفهوم العام للتنصير، ولم تعد هي المفهوم الطاغي على هذه الحركة، لما فيها من الضيق في الاستجابة، رغم وجود الإمكانيات المادية والبشرية العاملة في مجال التنصير في مفهومه العام.
[حماية النصارى]حماية النصارى: كما أن من مفهومات التنصير داخل المجتمع النصراني الإبقاء على النصارى داخل دينهم، وظهور دعوات طائفية من كاثوليكية وبروتستانتية وأرثودوكسية، تتنافس فيما بينها لكسب أكبر عدد ممكن من النصارى أتباعا لها. ويركز هذا المفهوم على حماية النصارى من التيارات الأخرى الجديدة من أن تكون ذات تأثير على
--------------------------------------------
অন্য একটি (১)।
১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে (১৩৯৩ হিজরির সফর মাসে) আলেকজান্দ্রিয়ার সেন্ট মার্কস ক্যাথেড্রালে পোপ শেনুদা এক গোপন বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, "পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রণীত ধর্মপ্রচারমূলক তৎপরতা দ্বিগুণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যটি হলো—সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমানকে তাদের ধর্ম এবং তার প্রতি অবিচলতা থেকে বিচ্যুত করা। তবে তাদের জন্য খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং মূল লক্ষ্য হলো তাদের অন্তরে ধর্মের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের একটি বিশাল গোষ্ঠীর মনে তাদের কিতাব ও মুহাম্মাদের সত্যতা সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা।" (২)।
অ-খ্রিস্টানদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার আহ্বানটি খ্রিস্টানিকরণের সাধারণ ধারণার অংশ হিসেবেই থেকে গেছে। তবে এটি এখন আর এই আন্দোলনের প্রধান বা প্রভাবশালী ধারণা নয়; কারণ এতে সাড়াদানের সুযোগ সীমিত। যদিও খ্রিস্টানিকরণের সাধারণ ক্ষেত্রে কাজ করার মতো প্রচুর বস্তুগত ও মানবসম্পদ বিদ্যমান রয়েছে।
[খ্রিস্টانদের সুরক্ষা]খ্রিস্টানদের সুরক্ষা: খ্রিস্টান সমাজের অভ্যন্তরে খ্রিস্টানিকরণের অন্যতম ধারণা হলো খ্রিস্টানদের নিজ ধর্মেই টিকিয়ে রাখা। এর পাশাপাশি ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও অর্থোডক্সদের মধ্যে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক আহ্বানের উদ্ভব ঘটেছে, যারা অধিক সংখ্যক অনুসারী লাভের জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। এই ধারণাটি খ্রিস্টানদের নতুন নতুন মতাদর্শের প্রভাব থেকে সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তানসীর মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু ওয়া ওয়াসাইলুহু ওয়া সুবুলু মুওয়াজাহাতহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
النصرانية.
ولا يبدو أن التركيز على الحماية واضح فيما يتعلق بالتيارات القديمة كاليهودية والفلسفات اليونانية [الإغراقية] والهندية والفارسية وغيرها، وذلك لوجود شيء من التزاوج بين النصرانية وهذه الثقافات القديمة منذ القدم، بدءا بحركة شاؤول أو بولس في النصف الثاني من القرن الميلادي الأول (ت 67م) ، الذي عمل على تسخير النصرانية لخدمة الأفكار اليهودية على المدى البعيد، الأمر الذي تحقق منذ زمن، واتضح تماما بعد قيام وطن قومي لليهود في فلسطين المحتلة. وقد انضم المجلس العالمي للكنائس إلى المنظمة الصهيونية العالمية علنًا عام 1397 هـ - 1977م (1) .
[التعميد]التعميد: ومن مفهومات التنصير القديمة زمنيًا ولا تزال تستخدم، مصطلح التعميد أو التغطيس، وذلك حينما يغطّس أو يعمّد الطفل صغيرا في ماء قد صلى عليه القسيس فأصبح مباركا. وعند النصارى أن هذه الشعيرة ضرورية في عدّ المرء نصرانيا، حتى ليعمّد أولئك الذين يتنصَّرون في سن متقدمة بتغطيسهم بأي ماء يدعو فيه رجل الدين بدعوات يتم بعدها إعلان دخول المعمّد في النصرانية. وهذا المفهوم الأخير يعدّ طقسا من طقوس النصرانية لا علاقة له بتلك المفهومات المتقدم ذكرها. وهو جزء من العقيدة النصرانية التي لا تدخل في نطاق هذه الوقفات. وإنما ورد ذكرها هنا رغبة في تتبع ما اصطُلِح عليه على أنه من التنصير. (2) .
--------------------------------------------
খ্রিস্টধর্ম।
প্রাচীন মতাদর্শ যেমন ইহুদিবাদ এবং গ্রিক [ইগরাকিয়্যাহ], ভারতীয় ও পারস্য দর্শন ইত্যাদির ক্ষেত্রে সুরক্ষার বিষয়টি খুব একটা স্পষ্ট বলে মনে হয় না। এর কারণ হলো প্রাচীনকাল থেকেই খ্রিস্টধর্ম এবং এই প্রাচীন সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে এক প্রকার সংমিশ্রণ বিদ্যমান ছিল। এটি শুরু হয়েছিল খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে শৌল বা পলের (মৃত্যু ৬৭ খ্রি.) আন্দোলনের মাধ্যমে, যিনি দীর্ঘমেয়াদে ইহুদি চিন্তাধারাকে সেবা করার জন্য খ্রিস্টধর্মকে ব্যবহার করার কাজ করেছিলেন। বিষয়টি অনেক আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার পর তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গেছে। ১৯৭৭ সালে (১৩৯৭ হিজরি) ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চেস প্রকাশ্যে ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অর্গানাইজেশনে যোগ দেয়। (১)
[বাপ্তিস্ম]বাপ্তিস্ম: খ্রিস্টানিকরণের প্রাচীন পরিভাষাগুলোর মধ্যে একটি যা এখনও ব্যবহৃত হয়, তা হলো বাপ্তিস্ম বা নিমজ্জন। এটি মূলত তখনই সম্পন্ন হয় যখন কোনো শিশুকে ছোট অবস্থায় এমন পানিতে নিমজ্জিত বা বাপ্তিস্ম দেওয়া হয়, যার ওপর যাজক প্রার্থনা করেছেন এবং যা বরকতময় হয়েছে। খ্রিস্টানদের মতে, একজন ব্যক্তিকে খ্রিস্টান হিসেবে গণ্য করার জন্য এই অনুষ্ঠানটি আবশ্যক। এমনকি যারা পরিণত বয়সে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে, তাদেরও এমন যে কোনো পানিতে নিমজ্জিত করে বাপ্তিস্ম দেওয়া হয় যেখানে কোনো ধর্মীয় ব্যক্তি বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন, যার পরে বাপ্তিস্মপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে খ্রিস্টধর্মে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই শেষোক্ত ধারণাটি খ্রিস্টধর্মের একটি ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত হয় যার সাথে ইতিপূর্বে উল্লিখিত ধারণাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি খ্রিস্টীয় আকিদার অংশ যা এই আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে খ্রিস্টানিকরণ হিসেবে যা পারিভাষিক রূপ পেয়েছে তা অনুসরণের উদ্দেশ্যেই এখানে এর উল্লেখ করা হয়েছে। (২) .
--------------------------------------------