(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: -)
التنصير تعريفه أهدافه وسائله حسرات المنصرين   (عبد الرحمن بن عبد الله الصالح)

القسم: كتب عامة


الكتاب: التنصير، تعريفه أهدافه وسائله حسرات المنصرين

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الله الصالح

الناشر: دار الكتاب والسنة

الطبعة: الأولى، 1420هـ 1999م

عدد الصفحات: 102

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খ্রিস্টধর্ম প্রচার: এর সংজ্ঞা, লক্ষ্য, মাধ্যম ও মিশনারিদের আক্ষেপ   (আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: খ্রিস্টধর্ম প্রচার, এর সংজ্ঞা, লক্ষ্য, মাধ্যম ও মিশনারিদের আক্ষেপ

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিহ

প্রকাশক: দারুল কিতাব ওয়া আস-সুন্নাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

التنصير تعريفه أهدافه وسائله حسرات المنصرين مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين: الحمد لله الذي كتب النصر والتمكين لدينه ولأوليائه فقال جل ثناؤه: {كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي} [المجادلة: 21] (1) وقال: {إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ} [غافر: 51] (2) وكتب الذلة والصغار على أعدائه فقال: {ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا إِلَّا بِحَبْلٍ مِنَ اللَّهِ وَحَبْلٍ مِنَ النَّاسِ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ} [آل عمران: 112] (3) وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له لم يتخذ صاحبة ولا ولدا، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليما كثيرا، أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله وكفى بالله شهيدا، أرسله بالحق بين يدي الساعة بشيرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، أرسله إلى جميع الثقلين الجن والإنس، عربهم وعجمهم

--------------------------------------------

(1) سورة المجادلة، الآية: 21.

(2) سورة غافر، الآية: 51.

(3) سورة آل عمران، الآية: 112.
[ভূমিকা]

খ্রিস্টধর্ম প্রচার (التنصير): এর সংজ্ঞা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মাধ্যমসমূহ, খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের আক্ষেপ ও ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দ্বীন ও তাঁর বন্ধুদের (أولياء) জন্য বিজয় ও প্রতিষ্ঠা অবধারিত করেছেন। তাঁর মহিমা সুউচ্চ, তিনি বলেছেন: {আল্লাহ লিখে দিয়েছেন যে, আমি এবং আমার রাসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব} [সূরা আল-মুজাদালাহ: ২১] (১)। তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে এবং সেই দিনে, যেদিন সাক্ষীগণ দণ্ডায়মান হবে} [সূরা গাফির: ৫১] (২)। তিনি তাঁর শত্রুদের ওপর লাঞ্ছনা ও অবমাননা অবধারিত করেছেন, তিনি বলেছেন: {তাদের ওপর লাঞ্ছনা লেপে দেওয়া হয়েছে তারা যেখানেই থাকুক না কেন; তবে আল্লাহর আশ্রয় কিংবা মানুষের আশ্রয়ের মাধ্যম ছাড়া। তারা আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরেছে} [সূরা আল-ইমরান: ১১২] (৩)। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর অজস্র শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন, এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে। তিনি তাঁকে দুই ভারী জাতি (الثقلين) অর্থাৎ জিন ও মানুষ—উভয় সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছেন, তাদের আরব ও অনারব নির্বিশেষে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ২১।

(২) সূরা গাফির, আয়াত: ৫১।

(৩) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১১২।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৪)
أميهم وكتابيهم، وأنزل عليه أحسن الحديث كتابا متشابها يهدي به الله من يشاء، ومن يضلل الله فما له من هاد.

 

‌‌[مراحل الصراع بين النصرانية والإسلام]

أما بعد: فمنذ أن التقت جيوش التوحيد - تحمل راية لا إله إلا الله محمد رسول الله- بجيوش التثليث - تحمل راية الصليب - على أرض الشام، منذ ذلك الوقت والصراع محتدم بين المسلمين والنصارى ولا يزال كذلك حتى ينزل المسيح عليه السلام فيكسر الصليب ويقتل الخنزير ويحكم بالإسلام، مصداقا لقوله صلى الله عليه وسلم «والذي نفسي بيده ليوشكن أن ينزل فيكم ابن مريم صلى الله عليه وسلم حكما مقسطا فيكسر الصليب، ويقتل الخنزير، ويضع الجزية، ويفيض المال حتى لا يقبله أحد» (1) .

وقد مر هذا الصراع بأربع مراحل ذكرها الأديب الأريب محمود شاكر رحمه الله وهي:

المرحلة الأولى: صراع الغضب لهزيمة المسيحية في أرض الشام، ودخول أهلها في الإسلام، فبالغضب أملت اختراق دار الإسلام لتسترد ما ضاع.

المرحلة الثانية: صراع الغضب المتفجر المتدفق من قلب أوربا مشحونا ببغضاء جاهلة عاتية مكتسحة مدمرة سفاحة للدماء جاءت

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، كتاب الإيمان حديث: 242، وانظر كتاب الفتن وأشراط الساعة منه حديث 34، 37، 110، 111.
তাদের নিরক্ষর ও কিতাবধারী (আহলে কিতাব) সাধারণ মানুষের নিকট; এবং তিনি তাঁর প্রতি সর্বোত্তম কথা (হাদিস) সম্বলিত এক সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা দ্বারা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

 

‌‌[খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে সংঘাতের পর্যায়সমূহ]

অতঃপর: যে সময় থেকে তাওহীদের বাহিনী—যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' এর ঝাণ্ডা বহন করছিল—সিরিয়ার মাটিতে ত্রিত্ববাদের বাহিনীর সাথে—যারা ক্রুশের ঝাণ্ডা বহন করছিল—মুখোমুখি হয়েছে, সেই সময় থেকে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না ঈসা মসিহ (আ.) অবতরণ করবেন। অতঃপর তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং ইসলামের বিধান অনুযায়ী শাসন করবেন। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর সত্যয়নস্বরূপ: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, অচিরেই তোমাদের মধ্যে মরিয়ম তনয় (সা.) একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর নিধন করবেন, জিজিয়া রহিত করবেন এবং সম্পদের এমন প্রাচুর্য হবে যে তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না" (১)।

এই সংঘাত চারটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে যা প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক মাহমুদ শাকির (রহ.) উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

প্রথম পর্যায়: সিরিয়ার মাটিতে খ্রিস্টধর্মের পরাজয় এবং সেখানকার অধিবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ফলে সৃষ্ট ক্রোধজনিত সংঘাত। সেই ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তারা যা হারিয়েছে তা পুনরুদ্ধারের জন্য দারুল ইসলামে (ইসলামি ভূখণ্ডে) অনুপ্রবেশের আকাঙ্ক্ষা করেছিল।

দ্বিতীয় পর্যায়: ইউরোপের হৃদয় থেকে উৎসারিত বিস্ফোরিত ও প্রবহমান ক্রোধের সংঘাত, যা অজ্ঞতা ও প্রচণ্ড বিদ্বেষে পরিপূর্ণ এবং ধ্বংসাত্মক ও রক্তপিপাসু ছিল। এটি এসেছিল...

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদিস: ২৪২; আরও দেখুন কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতুস সা'আহ-এর হাদিস নং ৩৪, ৩৭, ১১০, ১১১।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৫)
تريد - هي الأخرى - اختراق دار الإسلام، وذلك عهد الحروب الصليبية الذي بقي في الشام قرنين، ثم ارتد خائبا إلى موطنه في قلب أوربا.

المرحلة الثالثة: صراع الغضب المكظوم الذي أورثه اندحار الكتائب الصليبية، من تحته بغضاء متوهجة عنيفة، ولكنها مترددة يكبحها اليأس من اختراق دار الإسلام مرة ثالثة بالسلاح والحرب، فارتدعت لكي تبدأ في إصلاح خلل الحياة المسيحية بالاتكاء الشديد الكامل على علوم الإسلام، ولكي تستعد لإخراج المسيحية من مأزق ضنك موئس.

وهذه المراحل الثلاث كانت ترسف في أغلال القرون الوسطى أغلال الجهل والضياع ولم تصنع هذه المراحل شيئا ذا بال.

المرحلة الرابعة: صراع الغضب المشتعل بعد فتح القسطنطينية، يزيده اشتعالا وتوهجا وقود من لهيب البغضاء والحقد الغائر في العظام على الترك (أي المسلمين) ، وهم شبح مخيف مندفع في قلب أوربا، يلقي ظله على كل شيء، ويفزع كل كائن، وإذا كانت المراحل الثلاث الأول لم تصنع للمسيحية شيئا ذا بال، فصراع الغضب المشتعل بلهيب البغضاء والحقد هو الذي صنع لأوربا كل شيء إلى يومنا هذا، صنع كل شيء لأنه هو الذي أدى بهم إلى يقظة شاملة قامت على الإصرار وعلى المجاهدة المثابرة على تحصيل العلم وعلى إصلاح
এটিও—তার নিজের মতো করেই—দারুল ইসলাম ভেদ করতে চেয়েছিল, আর সেটি ছিল ক্রুসেড যুদ্ধের যুগ, যা শাম অঞ্চলে দুই শতাব্দীকাল স্থায়ী হয়েছিল, অতঃপর ব্যর্থ হয়ে ইউরোপের হৃদপিণ্ডে তার নিজ বাসভূমিতে ফিরে গিয়েছিল।

তৃতীয় পর্যায়: অবদমিত ক্রোধের সংঘাত যা ক্রুসেডার বাহিনীর পরাজয় থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিল। এর অন্তরালে ছিল তীব্র ও প্রচণ্ড ঘৃণা, কিন্তু তা ছিল দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ অস্ত্র ও যুদ্ধের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো দারুল ইসলামে প্রবেশের ব্যাপারে হতাশা একে অবদমিত করে রেখেছিল। ফলে এটি নিবৃত্ত হলো যাতে ইসলামের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর পূর্ণ ও কঠোর নির্ভরতার মাধ্যমে খ্রিষ্টীয় জীবনের ত্রুটিগুলো সংশোধন শুরু করা যায় এবং খ্রিষ্টধর্মকে এক সংকীর্ণ ও হতাশাজনক সংকট থেকে বের করে আনার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

আর এই তিনটি পর্যায় মধ্যযুগের শৃঙ্খল—মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল এবং এই পর্যায়গুলো উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি।

চতুর্থ পর্যায়: কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর প্রজ্জ্বলিত ক্রোধের সংঘাত, যা তুর্কিদের (অর্থাৎ মুসলিমদের) প্রতি হাড়কাঁপানো ঘৃণা ও বিদ্বেষের লেলিহান শিখার ইন্ধনে আরও প্রজ্জ্বলিত ও তীব্র হয়েছিল। তারা ছিল ইউরোপের হৃদপিণ্ডে ধাবমান এক ভয়ংকর প্রেতচ্ছায়া, যা সবকিছুর ওপর ছায়া বিস্তার করেছিল এবং প্রতিটি প্রাণীকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। আর যদি প্রথম তিনটি পর্যায় খ্রিষ্টধর্মের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু না করে থাকে, তবে ঘৃণা ও বিদ্বেষের শিখায় প্রজ্জ্বলিত এই ক্রোধের সংঘাতই আজ পর্যন্ত ইউরোপের জন্য সবকিছু করেছে। এটিই সবকিছু গড়ে দিয়েছে কারণ এটিই তাদেরকে একটি সর্বাত্মক জাগরণের দিকে ধাবিত করেছিল, যা জ্ঞান অর্জন ও সংস্কারের পথে সংকল্প এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৬)
خلل الحياة المسيحية، ولكن لم يكن لها يومئذ من سبيل ولا مدد إلا المدد الكائن في دار الإسلام من العلم الحي عند علماء المسلمين، العلم المسطر في كتب أهل الإسلام، فلم يترددوا، وبالجهاد الخارجي وبالحماسة المتوقدة، وبالصبر الطويل؛ انفكت أغلال القرون الوسطى بغتة عن قلب أوربا وانبعثت نهضة العصور الحديثة مستمرة إلى هذا اليوم. من يؤمئذ، عند أول بدء اليقظة، تحددت أهداف المسيحية الشمالية، وتحددت وسائلها، لم يغب عن أحد منهم قط أنهم في سبيل إعداد أنفسهم لحرب صليبية رابعة (1) .

وبما أن الأمة تمر بالمرحلة الرابعة من مراحل الصراع الذي يعتمد على العلم والدين والعقل واستخدام الأساليب المؤثرة على الأديان والعقول، فإن من أبرز أساليب هذه المرحلة " التنصير" الذي تدفقت جحافله الآيسة - من رحمة الله ومن نجاح أعمالها - على أقطار الأمة الإسلامية يبشرونها بالكفر، ويدعونها إلى الضلال والخبال، ويعدونها الغنى إن هي آمنت بالصليب، ومن صدق بهذه الوعود الكاذبة فاز بنسخة من الإنجيل المحرف، وأخذ منه المنصرون كل شيء حتى نفسه، يقول جاك مندلسون: (حينما تكون صحة

--------------------------------------------

(1) رسالة في الطريق إلى ثقافتنا، تأليف الأستاذ محمود محمد شاكر. نشر مكتبة الخانجي ودار المدني، 1417 هـ، ص: 44-46، ويحسن بالقارئ الكريم الاطلاع على هذه الرسالة؛ لأنها تكشف حقيقة الصراع بين المسلمين والنصارى، ولأنها تذكي في المسلم عقيدة الولاء والبراء.
খ্রিস্টীয় জীবনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেও সেদিন মুসলিম পণ্ডিতদের নিকট বিদ্যমান জীবন্ত জ্ঞান এবং ইসলামের অনুসারীদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ জ্ঞান—যা দারুল ইসলামে সঞ্চিত ছিল—তা ব্যতীত তাদের সামনে আর কোনো পথ বা সাহায্যের উৎস ছিল না। তারা এতে কোনো দ্বিধা করেনি এবং বাহ্যিক সংগ্রাম, প্রজ্বলিত উদ্দীপনা ও দীর্ঘ ধৈর্যের মাধ্যমে মধ্যযুগের শৃঙ্খল হঠাৎ ইউরোপের হৃদপিণ্ড থেকে ছিন্ন হয়ে যায় এবং আধুনিক যুগের নবজাগরণ শুরু হয় যা আজ অবধি চলমান রয়েছে। সেই সময় থেকে, জাগরণের একেবারে প্রারম্ভলগ্নেই উত্তরীয় খ্রিস্টধর্মের লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত হয়েছিল এবং তাদের কর্মপন্থাও নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তাদের কাউর কাছেই এই বিষয়টি কখনো অস্পষ্ট ছিল না যে, তারা মূলত চতুর্থ ক্রুসেডের (১) প্রস্তুতির পথেই রয়েছে।

যেহেতু উম্মাহ বর্তমানে সংঘাতের চতুর্থ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে যা জ্ঞান, ধর্ম, বুদ্ধি এবং ধর্ম ও বিবেকের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল, তাই এই পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো "খ্রিস্টানিকরণ (تنصير)", যার হতাশ বাহিনীগুলো—আল্লাহর রহমত ও তাদের কর্মতৎপরতার সাফল্য থেকে নিরাশ হয়ে—ইসলামি উম্মাহর দেশগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে। তারা তাদেরকে কুফর (كفر) বা অবিশ্বাসের প্রচার করছে এবং তাদেরকে পথভ্রষ্টতা (ضلال) ও বিশৃঙ্খলার দিকে আহ্বান করছে। তারা তাদেরকে ঐশ্বর্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যদি তারা ক্রুশকে বিশ্বাস করে। আর যারা এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেছে, তারা বিকৃত ইঞ্জিলের একটি অনুলিপিই কেবল লাভ করেছে, আর মিশনারিরা তার থেকে সবকিছু এমনকি তার নিজের সত্ত্বাও কেড়ে নিয়েছে। জ্যাক মেন্ডেলসন বলেন: (যখন স্বাস্থ্য...

--------------------------------------------

(১) রিসালা ফিত তরিক ইলা সাকাফাতিনা, লেখক: উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির। প্রকাশনায়: আল-খানজি লাইব্রেরি এবং দার আল-মাদানি, ১৪১৭ হিজরি, পৃষ্ঠা: ৪৪-৪৬। সম্মানিত পাঠকের জন্য এই রিসালাটি পাঠ করা কল্যাণকর হবে; কারণ এটি মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার সংঘাতের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে এবং এটি মুমিনের হৃদয়ে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (الولاء والبراء)-এর আকিদাহ (عقيدة) বা বিশ্বাসকে উজ্জীবিত করে।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৭)
الشبان الأفريقين سعيدة، فإنهم لا يتعبون من ترديد القصة القديمة: إن المبشرين جاءوا إلينا وقالوا: إننا نريد أن نعلمكم العبادة. وقلنا: حسنا إننا نريد أن نتعلم العبادة. وطلب المبشرون منا أن نغلق أعيننا، وفعلنا ذلك وتعلمنا التعبد، وحينما فتحنا أعيننا وجدنا الإنجيل في أيدينا، ووجدنا أراضينا قد اغتصبت) (1) .

 

‌‌[التنصير امتداد للحروب الصليبية]

وهذا التنصير الذي يلبس لبوس الشفقة ويظهر الرحمة، ويقدم الدواء، ويعلم الصغار القراءة والكتابة لينهلوا من كفر النصارى ومجونهم وخلاعتهم. . ما هو إلا وجه من وجوه الحروب الصليبية ومظهر من مظاهرها يوضح ذلك ما وصف به الأب اليسوعي مييز سياسية فرنسا الدينية في الشرق حينما قال: (إن الحرب الصليبية التي بدأها مبشرونا في القرن السابع عشر لا تزال مستمرة إلى أيامنا. . ولقد احتفظت فرنسا طويلا بروح الحروب الصليبية وبالحنين إلى تلك الحروب حية في نفسها) (2) .

ويقول اليسوعيون في عرض نشاطهم التنصيري: (ألم نكن نحن ورثة الصليبين، أو لم نرجع تحت راية الصليب لنستأنف التسرب التبشيري والتمدين المسيحي) (3) .

--------------------------------------------

(1) حقيقة التبشير تأليف أحمد عبد الوهاب، نشر مكتبة وهبة، ص: 133.

(2) التبشير والاستعمار، تأليف د. مصطفى خالدي، ود. عمر فروخ، نشر المكتبة العصرية ص: 127.

(3) المصدر السابق، ص: 115.
আফ্রিকান তরুণরা সুখী, তারা সেই পুরনো গল্পের পুনরাবৃত্তি করতে ক্লান্ত হয় না: "খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারকরা (মিশনারি) আমাদের কাছে এসে বলেছিল: আমরা তোমাদের ইবাদত শেখাতে চাই। আমরা বলেছিলাম: বেশ, আমরা ইবাদত শিখতে চাই। ধর্মপ্রচারকরা আমাদের চোখ বন্ধ করতে বলল, আমরা তা-ই করলাম এবং উপাসনা শিখলাম; কিন্তু যখন আমরা চোখ খুললাম, তখন দেখলাম আমাদের হাতে বাইবেল এবং আমাদের ভূমি দখল হয়ে গেছে।" (১)।

 

‌‌[খ্রিস্টধর্ম প্রচার: ক্রুসেড যুদ্ধেরই একটি সম্প্রসারণ]

এই খ্রিস্টধর্ম প্রচার যা করুণার পোশাক পরিধান করে, দয়া প্রদর্শন করে, ঔষধ প্রদান করে এবং শিশুদের পড়ালেখা শেখায় যাতে তারা নাসারাদের কুফর, নির্লজ্জতা ও চারিত্রিক স্খলন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে—এটি ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধেরই একটি রূপ এবং তার একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। জেসুইট ফাদার মিইজ প্রাচ্যে ফ্রান্সের ধর্মীয় নীতির বর্ণনা দিতে গিয়ে যা বলেছিলেন, তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়: "সপ্তদশ শতাব্দীতে আমাদের ধর্মপ্রচারকরা যে ক্রুসেড শুরু করেছিলেন, তা আজও আমাদের দিন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। ফ্রান্স দীর্ঘকাল ধরে ক্রুসেডের চেতনা এবং সেই যুদ্ধের প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে নিজের হৃদয়ে জীয়ন্ত করে রেখেছে।" (২)।

জেসুইটরা তাদের খ্রিস্টধর্ম প্রচার কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে বলে: "আমরা কি ক্রুসেডারদের উত্তরসূরি নই? অথবা আমরা কি ক্রুসেডের পতাকাতলে ফিরে আসিনি যাতে মিশনারি অনুপ্রবেশ এবং খ্রিস্টীয় সভ্যতার বিস্তার পুনরায় শুরু করা যায়?" (৩)।

--------------------------------------------

(১) হাকিকাতুত তাবশির, লেখক: আহমদ আব্দুল ওয়াহাব, প্রকাশনী: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ্, পৃষ্ঠা: ১৩৩।

(২) আত-তাবশির ওয়াল ইস্তি’মার, লেখক: ড. মুস্তফা আল-খালিদি এবং ড. ওমর ফাররুখ, প্রকাশনী: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১২৭।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ১১৫।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৮)
ولقد اجتهد النصارى في فرض نصرانيتهم بالقوة في العالم الإسلامي تحت مظلة الاستعمار حينا، وتحت مظلة الضغوط الاقتصادية والسياسية حينا آخر يقول القس بيرس بيفر: (في القرن التاسع عشر وأوائل القرن العشرين كانت الحضارة الأوربية والسيطرة السياسية والقوة العسكرية تجتاح العالم، وكانت النصرانية تتسنم غارب هذا المد، وأصبحت الطريق ممهدة أمام المبشرين، فانتشرت النصرانية مع اتساع السيطرة الأوربية في العالم، ولقد قام الاستعمار والسيطرة العسكرية بدورهما في نشر النصرانية) (1) . يرجون من وراء ذلك وقف نمو المد الإسلامي في أرجاء المعمورة (2) وأن يكفر المسلمون بربهم {وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً} [النساء: 89] (3) وأن يلحق الموحدون بركب أهل الصليب: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} [البقرة: 120] (4) غايتهم من ذلك الصد عن سبيل الله، وأن تكون سبيل الله عوجا، كما ذكر الله ذلك عنهم في سورتي هود وإبراهيم (5) .

--------------------------------------------

(1) من الإرساليات المتعددة إلى الإرسالية الموحدة ص: 11-13. نقلا من المصدر السابق ص: 255.

(2) انظر التنصير خطة لغزو العالم الإسلامي، ص: 310.

(3) سورة النساء الآية: 89.

(4) سورة البقرة، الآية: 120.

(5) انظر سورة هود، الآية: 19، وسورة إبراهيم، الآية: 3.

খ্রিস্টানরা কখনো উপনিবেশবাদের ছত্রচ্ছায়ায়, আবার কখনো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের ছত্রচ্ছায়ায় মুসলিম বিশ্বে জোরপূর্বক তাদের খ্রিস্টধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। যাজক পিয়ার্স বিভার বলেন: (ঊনবিংশ শতাব্দীতে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপীয় সভ্যতা, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং সামরিক শক্তি বিশ্বকে গ্রাস করছিল, আর খ্রিস্টধর্ম এই জোয়ারের চূড়ায় আসীন ছিল। এর ফলে মিশনারিদের পথ সুগম হয়ে যায় এবং বিশ্বে ইউরোপীয় আধিপত্য বিস্তারের সাথে সাথে খ্রিস্টধর্মও ছড়িয়ে পড়ে। উপনিবেশবাদ এবং সামরিক আধিপত্য খ্রিস্টধর্ম প্রচারে তাদের ভূমিকা পালন করেছে) (১)। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ইসলামের প্রসার রোধ করার আশা পোষণ করে (২) এবং মুসলমানরা যেন তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে: {তারা কামনা করে যে, তারা যেভাবে কুফরি করেছে তোমরাও সেভাবে কুফরি করো, যাতে তোমরা সমান হয়ে যাও} [নিসা: ৮৯] (৩) এবং তাওহিদপন্থীরা যেন ক্রুশধারীদের কাফেলায় যোগ দেয়: {আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করেন} [বাকারা: ১২০] (৪)। তাদের লক্ষ্য হলো আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করা এবং আল্লাহর পথকে বক্র করা, যেমনটি আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সূরা হুদ এবং সূরা ইবরাহিমে উল্লেখ করেছেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) মিনাল ইরসালিইয়াতিল মুতাআদ্দিদাহ ইলাল ইরসালিইয়াতিল মুওয়াহহাদাহ, পৃষ্ঠা: ১১-১৩; পূর্বোক্ত উৎস থেকে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা: ২৫৫।

(২) দেখুন, আত-তানসির খুতাতুন লি-গাজওয়িল আলামিল ইসলামি, পৃষ্ঠা: ৩১০।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৯।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২০।

(৫) দেখুন, সূরা হুদ, আয়াত: ১৯ এবং সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৯)
لهذا ولغيره مما يتجدد في ساحة الأمة الإسلامية من حملات تنصيرية نصرانية غاشمة حاقدة أقلقها وأقض مضجعها صمود الإسلام وصمود المسلمين أمام جهودهم التنصيرية الهائلة التي لم تجن إلا أقل القليل مما كانت تطمح إليه - رأيت لزاما علي أن أدون تذكرة مختصرة توضح أهداف المنصرين وبعض وسائلهم التي ينفذون من خلالها إلى الأمة الإسلامية، ولا أزعم أنني أحطت بكل ذلك، ولا أنني قضيت ما في النفس، ولكن حاولت أن تكون موقظة موجزة تذكر الغافل، وتنبه الناسي، وتعين الداعي، وتفضح الدعي، وتحذر من كيد الفجار.

وسأتناول في هذه الرسالة إن شاء الله ما يلي:

- تعريف التنصير.

- أهداف التنصير.

- وسائل التنصير.

- حسرات المنصرين.

وأسأل المولى عز شأنه أن يجعلها خالصة لوجهه الكريم، وأن ينفعني بها في الدنيا والآخرة، وأن يجعلها من العلم الذي ينتفع به، وأن يجزي خيرا من أعان على إخراجها وطبعها وتوزيعها. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على خاتم الأنبياء والمرسلين.

حرر في 13 / 9 / 1419 هـ
এই কারণে এবং মুসলিম উম্মাহর অঙ্গনে নতুন করে শুরু হওয়া অন্যান্য ক্রুর ও বিদ্বেষপূর্ণ খ্রিষ্টীয় মিশনারি প্রচারণার প্রেক্ষিতে—যা ইসলামের অবিচলতা এবং তাদের বিশাল মিশনারি প্রচেষ্টার মুখে মুসলিমদের অটল মনোভাবের কারণে তাদের আতঙ্কিত ও অস্থির করে তুলেছে, অথচ সেই মিশনারি প্রচেষ্টাগুলো তাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সামান্যতম অংশও অর্জন করতে পারেনি—আমি নিজের জন্য এটি আবশ্যক মনে করেছি যে, একটি সংক্ষিপ্ত স্মারক লিপি প্রণয়ন করি। এতে মিশনারিদের লক্ষ্য এবং তাদের ব্যবহৃত কিছু মাধ্যম স্পষ্ট করা হবে, যার মাধ্যমে তারা মুসলিম উম্মাহর মাঝে অনুপ্রবেশ করে। আমি দাবি করি না যে আমি এর সবকিছু বেষ্টন করতে পেরেছি, কিংবা মনের সবটুকু প্রকাশ করতে পেরেছি; তবে আমি চেষ্টা করেছি যেন এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও জাগ্রতকারী স্মারক হয়, যা গাফেলকে স্মরণ করাবে, বিস্মৃতকে সচেতন করবে, দ্বীনের দাওয়াত প্রদানকারীকে সহায়তা করবে, ভণ্ডকে উন্মোচিত করবে এবং পাপাচারীদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক করবে।

ইনশাআল্লাহ, আমি এই পুস্তিকায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:

- মিশনারি তৎপরতার সংজ্ঞা।

- মিশনারি তৎপরতার লক্ষ্যসমূহ।

- মিশনারি তৎপরতার মাধ্যমসমূহ।

- মিশনারিদের আক্ষেপসমূহ।

আমি সুমহান রবের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে আমাকে উপকৃত করেন। আর তিনি যেন এটিকে এমন জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেন যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। যারা এটি প্রকাশ, মুদ্রণ এবং বিতরণে সহায়তা করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের শেষ কথা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের প্রতি।

লিখিত তারিখ: ১৩ / ৯ / ১৪১৯ হিজরি
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[تعريف التنصير]

تعريف التنصير هو: دعوة الناس للدخول في النصرانية، فإن لم يدخلوا فيها فليخرجوا من دينهم وبخاصة المسلمون (1) .

وورد تعريفه في الموسوعة الميسرة بأنه حركة دينية سياسية (نصرانية) بدأت في الظهور إثر فشل الحروب الصليبية (2) ؛ بغية نشر النصرانية بين الأمم المختلفة في دول العالم بعامة، وبين المسلمين بخاصة بهدف إحكام السيطرة على هذه الشعوب (3) .

--------------------------------------------

(1) أصول التنصير في الخليج، تأليف هـ. كونوي زيقلر، ترجمة مازن مطبقاني، نشر مكتبة ابن القيم في المدينة المنورة، ص: 7.

(2) يظن البعض أن التنصير موجود منذ القدم وأنه في الوقت الراهن أصبح عملا منظما أكثر من ذي قبل. والحق أن النصرانية كانت كأي نحلة أو مذهب له دعاته الذين يدعون إليه ويبشرون به، ولم يكن لهذه الدعوة الغايات التي تطلع إليها المنصرون في القرون المتأخرة.

أما التنصير في العصر الحاضر فلم تكن حقيقته الدعوة المجردة إلى النصرانية- كما كان يفعل ذلك دعاة النصرانية سابقا- بل كانت دعوة إلى النصرانية تستهدف من وراء ذلك بسط الهيمنة النصرانية والاستحواذ الاستعماري على الأمة الإسلامية وعلى غيرها- دون الحاجة إلى سفك الدماء، والحيلولة دون أن ترفع راية الجهاد التي تعيد إلى المسلمين بعون من الله عزهم ومجدهم وتلزم النصارى الذلة والصغار.

(3) الموسوعة الميسرة، إحدى إصدار الندوة العالمية للشباب الإسلامي، ص: 159.
[খ্রিস্টানীকরণের সংজ্ঞা]

খ্রিস্টানীকরণের সংজ্ঞা হলো: মানুষকে খ্রিস্টধর্মে প্রবেশের জন্য আহ্বান জানানো; যদি তারা তাতে প্রবেশ না-ও করে, তবে অন্তত যেন তারা তাদের নিজ ধর্ম ত্যাগ করে, বিশেষ করে মুসলিমরা (১)।

আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ গ্রন্থে এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, এটি একটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক (খ্রিস্টীয়) আন্দোলন যা ক্রুসেড যুদ্ধের ব্যর্থতার পর আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে (২); এর উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে বিশ্বের বিভিন্ন জাতির মধ্যে এবং বিশেষভাবে মুসলিমদের মাঝে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা, যাতে এই জাতিগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায় (৩)।

--------------------------------------------

(১) উসুলুত ত্যানসির ফিল খালিজ, লেখক: এইচ. কনওয়ে জিগলার, অনুবাদ: মাজেন মুতাব্বাকানি, মাকতাবাতু ইবনিল কাইয়্যিম, মদিনা মুনাওয়ারা থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা: ৭।

(২) কেউ কেউ মনে করেন যে খ্রিস্টানীকরণ প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান এবং বর্তমানে এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত কর্মতৎপরতায় রূপ লাভ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, খ্রিস্টধর্ম ছিল অন্য যেকোনো মতবাদ বা গোষ্ঠীর মতোই যার নিজস্ব প্রচারক ছিল যারা এর দিকে আহ্বান জানাত এবং এর সুসংবাদ প্রচার করত; এই দাওয়াতের পেছনে সেই লক্ষ্যগুলো ছিল না যা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে খ্রিস্টান মিশনারিরা প্রত্যাশা করেছিল।

আর বর্তমান যুগে খ্রিস্টানীকরণের প্রকৃত স্বরূপ কেবল খ্রিস্টধর্মের নিছক দাওয়াত ছিল না—যেমনটি আগেকার খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকরা করতেন—বরং এটি ছিল খ্রিস্টধর্মের এমন এক দাওয়াত যার লক্ষ্য ছিল এর আড়ালে রক্তপাত ছাড়াই মুসলিম উম্মাহ এবং অন্যদের ওপর খ্রিস্টীয় আধিপত্য ও ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং জিহাদের পতাকা উত্তোলনে বাধা প্রদান করা, যা আল্লাহর সাহায্যে মুসলিমদের সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেয় এবং খ্রিস্টানদের জন্য হীনম্মন্যতা ও লাঞ্ছনা অনিবার্য করে তোলে।

(৩) আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ, ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ (ডব্লিউএএমওয়াই)-এর একটি প্রকাশনা, পৃষ্ঠা: ১৫৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[أهداف التنصير]

أهداف التنصير أخبر الله عن أهل الكتاب أنهم كفروا بآيات ربهم، ونقضوا ميثاقه، وقتلوا الأنبياء فطبع على قلوبهم قال تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ وَكُفْرِهِمْ بِآيَاتِ اللَّهِ وَقَتْلِهِمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللَّهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا} [النساء: 155] (1) فغاية أهل الكتاب تتلخص في الأمور التالية:

1 - الصد عن سبيل الله تعالى: {يَشْتَرُونَ الضَّلَالَةَ وَيُرِيدُونَ أَنْ تَضِلُّوا السَّبِيلَ} [النساء: 44] (2) .

2 - أن تكون سبيل الله عوجا مائلة عائلة، وهي مستقيمة في نفسها لا يضرها من خالفها ولا من خذلها (3) قال جل ثناؤه: {الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا} [إبراهيم: 3] (4) .

3 - أن يتبع المسلمون ملتهم، قال تعالى: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} [البقرة: 120] (5) .

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 155.

(2) سورة النساء، الآية: 44.

(3) انظر تفسير القرآن العظيم، تأليف أبي الفداء إسماعيل ابن كثير القرشي، جـ2، ص: 522.

(4) سورة إبراهيم، الآية: 3.

(5) سورة البقرة، الآية: 120.
[খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (تنصير) লক্ষ্যসমূহ]

খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (تنصير) লক্ষ্যসমূহ: আল্লাহ আহলে কিতাব (أهل الكتاب) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাদের রবের আয়াতসমূহকে (آيات) অস্বীকার করেছে (كفر), তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে এবং নবীগণকে হত্যা করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে, আল্লাহর আয়াতসমূহের (آيات) প্রতি তাদের কুফরির (كفر) কারণে, অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির কারণে যে, ‘আমাদের হৃদয়গুলো আবৃত’, বরং তাদের কুফরির (كفر) কারণে আল্লাহ তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন, তাই তাদের খুব কম লোকই ঈমান আনবে।} [নিসা: ১৫৫] (১) আহলে কিতাবদের (أهل الكتاب) উদ্দেশ্যসমূহ নিচের বিষয়গুলোতে সারসংক্ষেপ করা যায়:

১ - আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করা: {তারা ভ্রষ্টতা (ضلالة) ক্রয় করে এবং চায় যে তোমরাও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হও।} [নিসা: ৪৪] (২) ।

২ - আল্লাহর পথ যেন বক্র (عوج) ও বিচ্যুত হয়, অথচ তা স্বয়ং সুদৃঢ়; যারা এর বিরোধিতা করে বা একে লাঞ্ছিত করতে চায় তারা এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না (৩)। মহান আল্লাহ বলেন: {যারা আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনকে অধিক ভালোবাসে, আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করে এবং তাতে বক্রতা (عوج) অন্বেষণ করে।} [ইব্রাহিম: ৩] (৪) ।

৩ - মুসলমানরা যেন তাদের ধর্মাদর্শ (ملة) অনুসরণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর ইহুদি ও নাসারারা (نصارى) কখনোই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মাদর্শ (ملة) অনুসরণ করেন।} [বাকারা: ১২০] (৫) ।

--------------------------------------------

(১) সূরা নিসা, আয়াত: ১৫৫।

(২) সূরা নিসা, আয়াত: ৪৪।

(৩) দেখুন: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে কাসির আল-কুরাশি, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫২২।

(৪) সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৩।

(৫) সূরা বাকারা, আয়াত: ১২০।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১২)
4 - أن ترتد الأمة الإسلامية وترجع على أدبارها قال تعالى: {وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً} [النساء: 89] (1) . قال تعالى: {وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ} [البقرة: 109] (2) .

5 - الحرص على ما يعنت المسلمين ويشق عليهم ويضرهم ويفسد عليهم أمرهم قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ} [آل عمران: 118] (3) 6 - فتنة المسلمين والكيد لهم وخذلانهم وخذلان دينهم وإخماده مدة طويلة (4) قال تعالى: {يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ} [التوبة: 47] (5) .

وحينما تستعرض ما كتبه المنصرون عن أهدافهم، أو ما كتبه من تناول هذا الموضوع من المسلمين- تجد أن الأهداف التي ذكرها هؤلاء وهؤلاء لا تخرج عن ذلك.

فقد ذكروا من أهدافهم ما يلي:

1 - تفريق الوحدة الإسلامية.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 89.

(2) سورة البقرة، الآية: 109.

(3) سورة آل عمران، الآية: 118.

(4) انظر تفسير القرآن العظيم، جـ 2، ص: 361.

(5) سورة التوبة، الآية: 47.
৪ - মুসলিম উম্মাহর ধর্মত্যাগ করে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা চায় যে তোমরাও কুফরি কর যেমন তারা কুফরি করেছে, যাতে তোমরা সবাই সমান হয়ে যাও} [আন-নিসা: ৮৯] (১)। মহান আল্লাহ বলেন: {কিতাবধারীদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিজেদের অন্তরের হিংসাবশত তোমাদের ঈমান আনার পর আবার কুফরি অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়, যদিও তাদের কাছে সত্য প্রকাশ পেয়েছে} [আল-বাকারা: ১০৯] (২)।

৫ - মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া, তাদের জন্য বিষয়সমূহ কঠিন করা, তাদের ক্ষতি করা এবং তাদের দ্বীনী ও পার্থিব বিষয়াদি নষ্ট করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করে না। যাতে তোমরা কষ্টে থাক তারা তা-ই কামনা করে। তাদের মুখ থেকে তো শত্রুতা প্রকাশ পেয়ে গেছে, আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও ভয়াবহ} [আলে ইমরান: ১১৮] (৩) ৬ - মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি করা, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা, তাদের অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের দ্বীনকে পর্যুদস্ত করে দীর্ঘকাল স্তিমিত করে রাখা (৪)। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তোমাদের মধ্যে ফিতনা (فتنة) অন্বেষণ করে} [আত-তাওবাহ: ৪৭] (৫)।

যখন আপনি খ্রিস্টান মিশনারিদের লিখিত তাদের উদ্দেশ্যসমূহ অথবা মুসলমানদের মধ্যে যারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের লেখনি পর্যালোচনা করবেন, তখন দেখবেন যে উভয় পক্ষের উল্লেখিত উদ্দেশ্যসমূহ এর বাইরে নয়।

তারা তাদের উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন:

১ - ইসলামী ঐক্য খণ্ডিত করা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৯।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১০৯।

(৩) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১৮।

(৪) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম দেখুন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা: ৩৬১।

(৫) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪৭।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - إخضاع العالم الإسلامي للسيطرة الغربية النصرانية والتحكم في خيراته ومدخراته.

3 - السيطرة السياسية والتوسع الاستعماري (1) .

وهذه الأهداف كما ترى لا تخرج عن الأهداف التي أشارت إليها الآيات الكريمة السابقة.

والتنصير في حقيقته هو الامتداد الحقيقي للحروب الصليبية، فلئن كانت الحروب الصليبية حروبا وحملات عسكرية، فإن التنصير حملات صليبية سلمية تستهدف الغرض نفسه. يؤكد ذلك ما صرح به مخططو العمل التنصيري فقد أخبر المؤرخ جان دي جوانفيل - الذي رافق الملك لويس التاسع عشر ملك فرنسا في حملته الصليبية السابعة - عن ما انتهى إليه لويس التاسع عشر في خلوته في معتقله بالمنصورة التي أتاحت له فرصة هادئة ليفكر بعمق في السياسة التي كان أجدر بالغرب أن يتبعها إزاء المسلمين، وقد انتهى به التفكير إلى ما أفضى به إلى أعوانه المخلصين أثناء رحلته إلى عكا متوجها إليها من دمياط حيث قال: إنه لم يعد في وسع الكنيسة أو فرنسا مواجهة الإسلام، وإن هذا العبء لا بد أن تقوم به أوربا كلها لتضييق الخناق

--------------------------------------------

(1) انظر التبشير والاستعمار، ص: 34 وما بعدها، وحقيقة التبشير، ص: 153 ما بعدها، والتنصير مفهومه وأهدافه، تأليف د. علي النملة، نشر دار الصحوة: القاهرة، ص: 33.
২ - মুসলিম বিশ্বকে পশ্চিমা খ্রিস্টীয় আধিপত্যের বশীভূত করা এবং এর কল্যাণ ও সঞ্চিত সম্পদসমূহ নিয়ন্ত্রণ করা।

৩ - রাজনৈতিক আধিপত্য এবং ঔপনিবেশিক বিস্তার (১)।

আর এই লক্ষ্যসমূহ, যেমনটি আপনি দেখছেন, সেই লক্ষ্যগুলোর বাইরে নয় যা পূর্বোক্ত মহিমান্বিত আয়াতসমূহে নির্দেশিত হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে খ্রিস্টধর্ম প্রচার হলো ক্রুসেডসমূহেরই প্রকৃত সম্প্রসারণ; কারণ ক্রুসেডসমূহ যদি সামরিক যুদ্ধ ও অভিযান হয়ে থাকে, তবে খ্রিস্টধর্ম প্রচার হলো শান্তিপূর্ণ ক্রুসেডীয় অভিযান যা একই উদ্দেশ্য লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। খ্রিস্টধর্ম প্রচার কার্যক্রমের পরিকল্পনাকারীদের বক্তব্য একথাই নিশ্চিত করে। ঐতিহাসিক জঁ ডি জয়েনভিল — যিনি ফ্রান্সের রাজা ১৯তম লুইয়ের সাথে তাঁর সপ্তম ক্রুসেড অভিযানে সঙ্গী ছিলেন — তিনি মানসুরাহ-র কারাগারে লুইয়ের নির্জন কারাবাসের শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। সেই কারাবাস তাঁকে এমন এক শান্ত সুযোগ করে দিয়েছিল যেখানে তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে পশ্চিমের কোন নীতি অনুসরণ করা সবচেয়ে বেশি সমীচীন ছিল, সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে পেরেছিলেন। তাঁর সেই চিন্তা এমন এক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যা তিনি দিময়াত থেকে আক্কার অভিমুখে যাত্রাকালে তাঁর একনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন: গির্জা বা ফ্রান্সের পক্ষে আর ইসলামের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; বরং এই গুরুভার পুরো ইউরোপকে গ্রহণ করতে হবে যাতে করে কণ্ঠরোধ করা (বা সাঁড়াশি চাপ সৃষ্টি করা) সম্ভব হয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাবশির ওয়াল ইস্তিমার, পৃষ্ঠা: ৩৪ এবং পরবর্তী; হakikাতুত তাবশির, পৃষ্ঠা: ১৫৩ এবং পরবর্তী; এবং আত-তানসির: মাফহুমুহু ওয়া আহদাফুহু, রচনা: ড. আলি আন-নামলাহ, দারুস সাহওয়াহ: কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত, পৃষ্ঠা: ৩৩।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
على الإسلام ثم تقضي عليه، ويتم لها التخلص من الحائل الذي يحول دون تملكها لآسيا وأفريقيا (1) ويقدر رينيه جروسيه أحد المؤرخين النصارى هذا التوجه الاستراتيجي للملك لويس التاسع بقوله: (إن الملك لويس التاسع كان بذلك في مقدمة كبار ساسة الغرب الذين وضعوا للغرب الخطوط الرئيسة لسياسة شملت مستقبل أسيا وأفريقيا بأسرهما) (2) .

وكان من ضمن ما تضمنته خطة لويس التاسع ما يلي: (تحويل الحملات الصليبية العسكرية إلى حملات صليبية سلمية تستهدف الغرض نفسه، لا فرق بين النوعين إلا من حيث نوع السلاح المستخدم في المعركة، وتجنيد المبشرين الغربيين في هذه المعركة السلمية لمحاربة الإسلام، ووقف انتشاره ثم القضاء عليه معنويا، واعتبار هؤلاء المبشرين في تلك المعارك جنودا للغرب) (3) .

وتبنت الدول العظمى هذه السياسة فحملت رايات التنصير؛ لأنه يحقق لها الأهداف التي تتطلع إليها سواء كانت دينية أم سياسية أم اقتصادية، إذ في عام 1920م أصدرت لجنة التبشير الأمريكي- التي تهتم بالاستفادة من مناسبات الحروب للتنصير- كتابا ذكرت في

--------------------------------------------

(1) حقيقة التبشير، ص: 153.

(2) المصدر السابق، ص: 153.

(3) حقائق عن التبشير، تأليف عماد شرف، ص: 9- 10.
ইসলামের ওপর আক্রমণ এবং এরপর একে নির্মূল করা, যাতে এশিয়া ও আফ্রিকার ওপর আধিপত্য বিস্তারের পথে যে বাধা রয়েছে তা দূর করা সম্ভব হয় (১)। খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের অন্যতম রেনে গ্রুসে রাজা নবম লুইয়ের এই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন: (রাজা নবম লুই এর মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সেইসব শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের অগ্রভাগে ছিলেন, যারা পাশ্চাত্যের জন্য এমন একটি নীতির প্রধান রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন যা সমগ্র এশিয়া ও আফ্রিকার ভবিষ্যৎকে বেষ্টন করে নিয়েছিল) (২)।

নবম লুইয়ের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল: (সামরিক ক্রুসেডকে শান্তিপূর্ণ ক্রুসেডে রূপান্তর করা যা একই লক্ষ্যকে লক্ষ্যবস্তু করে; যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ছাড়া উভয় প্রকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, এর প্রসার রোধ করতে এবং এরপর একে আদর্শিকভাবে নির্মূল করতে এই শান্তিপূর্ণ যুদ্ধে পশ্চিমা ধর্মপ্রচারকদের নিয়োগ করা এবং এই লড়াইগুলোতে উক্ত ধর্মপ্রচারকদের পাশ্চাত্যের সৈন্য হিসেবে গণ্য করা) (৩)।

বৃহৎ শক্তিসমূহ এই নীতি গ্রহণ করে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পতাকা বহন করেছিল; কারণ এটি তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করে, চাই তা ধর্মীয় হোক, রাজনৈতিক হোক বা অর্থনৈতিক। ১৯২০ সালে আমেরিকান মিশনারি কমিটি—যারা ধর্মপ্রচারের জন্য যুদ্ধের সুযোগগুলো ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে—একটি বই প্রকাশ করেছিল যাতে তারা উল্লেখ করেছিল...

--------------------------------------------

(১) হাকিকাতুত তাবশির, পৃ: ১৫৩।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ: ১৫৩।

(৩) হাকায়িক আনিত তাবশির, লেখক: ইমাদ শারাফ, পৃ: ৯-১০।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
مطلع مقدمته ما يلي: (من أبرز الأمور المتعلقة بدخول الولايات المتحدة في الحرب العالمية الأولى أن الآراء والمبادئ التي كانت تهدف إليها الإرساليات التبشيرية قد تبنتها الأمة الأمريكية، ثم أعلنت أنها هي أهدافها الأخلاقية وغايتها من خوض تلك الحرب. . إن هذه المبادئ قد سميت الآن أسماء سياسية فقط) (1) .

إذا فالحملات التنصيرية- التي تجوب العالم الإسلامي اليوم- حملات صليبية تحمل الغذاء والدواء والكساء لتطعم وتعالج وتواسي وتؤوي من شردتهم الحروب التي افتعلها رسل هذه الحملات قبل وصولها تمهيدا لمباشرتها لمهامها التنصيرية ولتحقيق أطماع الدول التي أرسلتها.

--------------------------------------------

(1) missionary outlook p. xv. ff نقلا من التبشير والاستعمار، ص: 129.
তাঁর ভূমিকার প্রারম্ভে নিম্নরূপ রয়েছে: (প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম প্রধান বিষয় হলো, মিশনারি প্রচারণাগুলোর লক্ষ্য হিসেবে যে সকল মতামত ও মূলনীতি বিদ্যমান ছিল, মার্কিন জাতি তা গ্রহণ করেছিল; অতঃপর তারা ঘোষণা করেছিল যে, এগুলোই এই যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে তাদের নৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্রকৃতপক্ষে এই মূলনীতিগুলো বর্তমানে কেবল রাজনৈতিক নামে অভিহিত করা হচ্ছে) (১)।

সুতরাং, বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে বিচরণকারী খ্রিস্টান মিশনারি অভিযানগুলো মূলত ক্রুসেডীয় অভিযান, যা খাদ্য, ঔষধ ও বস্ত্র বহন করে নিয়ে আসে তাদের আহার জোগাতে, চিকিৎসা দিতে, সান্ত্বনা দিতে এবং আশ্রয় দিতে—যারা এই অভিযানের প্রতিনিধিদের দ্বারা কৃত্রিমভাবে সূচিত যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মূলত তাদের মিশনারি দায়িত্ব পালন এবং তাদের প্রেরণকারী রাষ্ট্রগুলোর হীন রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার পথ সুগম করার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধগুলোর অবতারণা করা হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) মিশনারি আউটলুক (missionary outlook), পৃষ্ঠা: xv এবং পরবর্তী। 'আত-তাবশির ওয়াল ইস্তি'মার' (খ্রিস্টান মিশনারি ও ঔপনিবেশিকতা) থেকে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা: ১২৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[وسائل التنصير]

وسائل التنصير استغل المنصرون كل وسيلة ممكنة لنشر دينهم، وإشاعة باطلهم؛ صدا عن سبيل الله، وإرصادا لمن حارب الله، وإضلالا لعباد الله، واستعبادا لعباد الله. . استغلوا لأجل ذلك كل مرفق من مرافق الحياة، وكل حاجة من حاجات البشر، بل ربما أشعلوا نار الحرب، وأوقدوا، الفتنة لتفتح لهم الأبواب. فلم يمنعهم عقل عن استغلال آلام مريض، ولم يؤنبهم ضمير عن مساومة جائع على لقمته وما يسد رمقه، ولم تدفعهم رحمة لإنقاذ بائس أو شيخ فان أو عجوز حسيرة كسيرة، فمن لم يعلن كفره بربه وإيمانه بآلهتهم التي يعبدونها من دون الله. . فلن يلقى عنايتهم، ولن ينال أعطيتهم. لقد منحوهم كسرة الخبز، ليسلبوهم عقيدتهم، وناولوهم الكساء؛ ليهتكوا أعراضهم ويشيعوا فيهم الزنا والخنا، وعلموهم القراءة؛ ليتعلموا الكفر والإلحاد والزندقة، وبنوا لهم المعبد؛ ليقدسوا فيه الصليب ويعبدوا فيه الشيطان، ودعوهم إلى الحرية الزائفة؛ ليخرجوهم من عبودية الله فيقعوا في عبودية الهوى والشيطان، وصوروا لهم استحالة أن يغفر الله لهم وسولوا لهم أن القسيس يغفر الذنوب. . وستجد في الوسائل التالية ما يؤكد ما ذكرت لك وهذه الوسائل هي:
[খ্রিস্টানিকরণের মাধ্যমসমূহ (وسائل التنصير)]

খ্রিস্টানিকরণের মাধ্যমসমূহ (وسائل التنصير): মিশনারিরা তাদের ধর্ম প্রচার এবং তাদের বাতিল মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রতিটি মাধ্যম ব্যবহার করেছে; আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদানের (صدا) জন্য, যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের সাহায্য করার জন্য, আল্লাহর বান্দাদের পথভ্রষ্ট করার জন্য এবং তাদের দাসত্বে আবদ্ধ করার জন্য। তারা এজন্য জীবনের প্রতিটি সুযোগ-সুবিধা এবং মানুষের প্রতিটি প্রয়োজনকে ব্যবহার করেছে, এমনকি নিজেদের জন্য দ্বার উন্মোচন করতে তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করেছে এবং ফেতনা (فتنة) উসকে দিয়েছে। কোনো বিচারবুদ্ধিই তাদের অসুস্থ ব্যক্তির যন্ত্রণাকে পুঁজি করা থেকে বিরত রাখেনি, এবং ক্ষুধার্ত ব্যক্তির একমুঠো খাবারের বিনিময়ে তার সাথে দরকষাকষি করতে তাদের বিবেক দংশন করেনি। কোনো আর্তমানব, জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ বা সহায়হীন বৃদ্ধাকে উদ্ধারের জন্য তাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া জাগেনি। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি কুফর (كفر) এবং আল্লাহর পরিবর্তে তারা যে উপাস্যদের ইবাদত করে তাদের প্রতি ঈমানের ঘোষণা না দেয়, সে তাদের সেবা-যত্ন পায় না এবং তাদের দান-সামগ্রীও লাভ করে না। তারা তাদের এক টুকরো রুটি দিয়েছে তাদের আকিদা (عقيدة) কেড়ে নেওয়ার জন্য, এবং তাদের পোশাক প্রদান করেছে তাদের ইজ্জত হরণ করতে এবং তাদের মধ্যে ব্যভিচার (زنا) ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে। তারা তাদের শিক্ষা দান করেছে যাতে তারা কুফর (كفر), নাস্তিকতা (إلحاد) ও ধর্মদ্রোহিতা (زندقة) শিখতে পারে। তারা তাদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ করেছে যাতে সেখানে ক্রুশকে পবিত্র জ্ঞান করা হয় এবং শয়তানের ইবাদত করা হয়। তারা তাদের মেকি স্বাধীনতার দিকে আহ্বান করেছে যাতে তারা আল্লাহর দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে কুপ্রবৃত্তি (هوى) ও শয়তানের দাসত্বে নিপতিত হয়। তারা তাদের সামনে এমনভাবে চিত্রায়িত করেছে যে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করা অসম্ভব এবং তাদের প্ররোচিত করেছে যে পাদ্রীরাই পাপ মোচন করে। নিম্নোক্ত মাধ্যমগুলোর মধ্যে আপনি আমার উল্লিখিত বিষয়গুলোর সত্যতা খুঁজে পাবেন, আর সেই মাধ্যমগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[فرض النصرانية بالقوة]

فرض النصرانية بالقوة إن العقول النصرانية - التي لا ترقب في مؤمن إلا ولا ذمة - تريد أن تفرض النصرانية بالقوة: بقوة الحديد والنار والانقلابات العسكرية مع الشعوب التي لا تستجيب إلا لذلك، ولكن بأيد خفية، لا تفقد النصرانية بريقها المتدثر بلباس الشفقة والرحمة على الإنسانية، وقد تفرضها بقوة تفوق الغني على الفقير، وحاجة الفقير إلى الغني- على الشعوب التي لا تملك لقمة عيشها أو ستر عورتها، فتساومها على حياتها، وتخيرها بين الموت جوعا على دينها، وبين الحياة على دين النصرانية.

وقد تفرضها بقوة المدارس والمعاهد على الشعوب الأمية، فتعلمها القراءة والكتابة، لتتنصر ولتقرأ الإنجيل. .، فإن رفضت هذه الشعوب النصرانية فلتبق على أميتها، فليست الغاية عند ورثة الصليبيين تعليم الشعوب وتثقيفها وتطويرها إنما الغاية تنصيرها فحسب.

وهي تبذل جهدها لتحول بين الشعوب الوثنية والإسلام، وقد أنكر الله على أهل الكتاب هذا المسلك فقال جل ثناؤه: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًا وَأَنْتُمْ شُهَدَاءُ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} [آل عمران: 99] (1) وقال عز من قائل:

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 99.
‌[জোরপূর্বক খ্রিষ্টধর্ম চাপিয়ে দেওয়া]

জোরপূর্বক খ্রিষ্টধর্ম চাপিয়ে দেওয়া। খ্রিষ্টীয় মনমানসিকতা—যা মুমিনদের ব্যাপারে কোনো আত্মীয়তা বা অঙ্গীকারের পরোয়া করে না—জোরপূর্বক খ্রিষ্টধর্ম চাপিয়ে দিতে চায়: অস্ত্র, অগ্নি এবং সামরিক অভ্যুত্থানের শক্তির মাধ্যমে সেই সব জাতির ওপর যারা কেবল এভাবেই সাড়া দেয়। তবে তা করা হয় অদৃশ্য হাতের সাহায্যে, যাতে খ্রিষ্টধর্ম মানবতার প্রতি দয়া ও করুণার আবরণে আবৃত তার চাকচিক্য না হারায়। আবার কখনো তারা তা চাপিয়ে দেয় দরিদ্রের ওপর ধনীর শ্রেষ্ঠত্বের শক্তি এবং ধনীর প্রতি দরিদ্রের মুখাপেক্ষিতার সুযোগ নিয়ে—এমন সব জাতির ওপর যাদের জীবনধারণের অন্ন কিংবা লজ্জাস্থান আবৃত করার বস্ত্র নেই। ফলে তারা তাদের জীবন নিয়ে দর কষাকষি করে এবং তাদেরকে নিজেদের দ্বীনের ওপর অটল থেকে অনাহারে মৃত্যু বরণ করা অথবা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে বেঁচে থাকার মাঝে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করে।

কখনো তারা নিরক্ষর জাতিগুলোর ওপর স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শক্তির মাধ্যমে তা চাপিয়ে দেয়। তারা তাদের পড়ালেখা শেখায় যাতে তারা খ্রিষ্টান হয় এবং ইঞ্জিল পাঠ করে। যদি এই জাতিগুলো খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাদের নিরক্ষরই রাখা হয়। কারণ ক্রুসেডারদের উত্তরসূরিদের লক্ষ্য জাতিগুলোকে শিক্ষিত করা, সংস্কৃতিবান করা বা উন্নত করা নয়; বরং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো তাদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করা।

তারা পৌত্তলিক জাতি ও ইসলামের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে। আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন: "বলুন, হে আহলে কিতাব! যে ঈমান এনেছে তাকে কেন তোমরা আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করো, তোমরা তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করো অথচ তোমরা তার সত্যতার সাক্ষী? আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ বিমুখ নন।" [আল ইমরান: ৯৯] (১) এবং মহামহিম আল্লাহ আরও বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৯৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [التوبة: 34] (1) .

أما شاهد فرضها بقوة الحديد والنار فكثير فمن ذلك ما جاء في خطاب المنصر جاير دنر من قوله: (وفي جزر الهند الشرقية ذكرنا وشيكا النشاط الجديد الناجم عن التسهيلات المتزايدة للسفر والاتصال المتبادل. إن إخواننا الهولنديين والألمان يقومون بعمل رائع هنا في كسب المسلمين ومنع إسلام غير المسلمين على حد سواء، وكل ما يستطيع هذا المؤتمر العظيم أن يفعله أن نشجعهم على بذل جهود أكبر باسم الرب، حتى نتمكن نحن وهم من تقوية قبضتنا على بورينو، هذه الجزيرة الكبيرة، التي لم يبذل فيها سوى القليل، وقد أخبرت من المحترم ج. ألن مبشر جمعية نشر الإنجيل هناك بأنها مليئة بالماليزيين المسلمين المتعصبين ذوي النفوذ الكبير) (2) .

وقال أيضا: (أن تحتل- أي بريطانيا- بقوة كل قاعدة أو مركز استراتيجيي من الجزء الإسلامي من شرق أفريقيا؛ لكي تخضعه للمراقبة) .

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 34.

(2) الوثيقة الإسلام الخطر، نص الخطاب الذي ألقاه و هـ. ت- جاير دنر في مؤتمر القاهرة التنصيري المنعقد في 1910 م ترجمة محمود الشاذلي، نشر المختار مصر، ص: 28 وتأمل قوله: منع إسلام غير المسلمين، وقوله: تقوية قبضتنا على بورينو، تجد أنه فرض للنصرانية بقوة القبضة لا بقوة الحجة.
{হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের মধ্যে অনেকে মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে} [আত-তাওবাহ: ৩৪] (১) ।

লোহা ও আগুনের (অর্থাৎ সামরিক) শক্তির মাধ্যমে এটি চাপিয়ে দেওয়ার সাক্ষ্য অনেক রয়েছে। এর মধ্যে মিশনারি গায়ার ডানার-এর ভাষণে যা এসেছে তা অন্যতম, যেখানে তিনি বলেন: (পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে আমরা ভ্রমণ ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান সুবিধার ফলে সৃষ্ট নতুন তৎপরতার কথা শীঘ্রই উল্লেখ করেছি। আমাদের ওলন্দাজ ও জার্মান ভাইয়েরা এখানে মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করা এবং অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখা—উভয় ক্ষেত্রেই চমৎকার কাজ করছেন। এই মহান সম্মেলন যা করতে পারে তা হলো, প্রভুর নামে তাদের আরও বেশি প্রচেষ্টা চালাতে উৎসাহিত করা, যাতে আমরা ও তারা মিলে বোর্নিও নামক এই বৃহৎ দ্বীপের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে পারি, যেখানে এযাবৎ সামান্যই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি গসপেল প্রচার সমিতির মিশনারি শ্রদ্ধেয় জে. অ্যালেন-এর নিকট থেকে জানতে পেরেছি যে, এই অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রভাবশালী কট্টরপন্থী মালয় মুসলিমদের দ্বারা পূর্ণ) (২) ।

তিনি আরও বলেন: (যাতে ব্রিটেন পূর্ব আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটি বা কৌশলগত কেন্দ্র শক্তির মাধ্যমে দখল করে নেয়; যাতে সেগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের অধীনে আনা যায়) ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩৪।

(২) 'আল-ইসলাম আল-খাতর' (বিপজ্জনক ইসলাম) দলিল, ১৯১০ সালে কায়রো মিশনারি সম্মেলনে ডব্লিউ. এইচ. টি. গায়ার ডানার কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের পাঠ। মাহমুদ আল-শাজলি অনূদিত, নাশর আল-মুখতার মিসর, পৃষ্ঠা: ২৮। তাঁর উক্তি "অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখা" এবং "বোর্নিওর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা" লক্ষ্য করুন; আপনি দেখতে পাবেন যে এটি প্রমাণের শক্তির পরিবর্তে ক্ষমতার জোরে খ্রিস্টধর্ম চাপিয়ে দেওয়ারই একটি বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
أما شاهد فرضها من خلال الانقلابات العسكرية فقول جاير دنر أيضا: (إن زعماء بختياري الذين أنجزوا الانقلاب الحالي وأصبحوا حكام الأمر الواقع، كانوا قبل أن يصلوا إلى هذه الشهرة المروعة الأصدقاء الأوفياء لإرساليات جمعية التبشير الكنسية) (1) .

أما شاهد فرضها بقوة المدارس والمعاهد. فقد قال المبشر جسب: (إن التعليم في مدارس الإرساليات المسيحية إنما هو واسطة إلى غاية فقط، هذه الغاية هي قيادة الناس إلى المسيح وتعليمهم حتى يصبحوا أفرادا مسيحيين وشعوبا مسيحية) (2) .

أما شاهد فرضها بقوة تفوق الغني على الفقير فقد كان المنصرون يعرضون على أسر المعتقلين في إندونيسيا استعدادهم لإعالة ذويهم وإعاشة أسرهم شريطة أن يوقعوا على صك الاعتراف بانضمامهم إلى الكنيسة (3) .

أما شاهد منع إسلام غير المسلمين من الإسلام فقد تقدم في أول هذا المبحث حينما قال المنصر جاير دنر: (إن إخواننا الهولنديين والألمان يقومون بعمل رائع هنا في كسب المسلمين ومنع إسلام غير المسلمين) .

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص: 26. وانظر الغارة على العالم الإسلامي، ص: 93.

(2) حقيقة التبشير، ص: 166.

(3) انظر المصدر السابق، ص: 186.
সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এটি চাপিয়ে দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে গায়ার ডোনার আরও বলেন: (বখতিয়ারি নেতাগণ যারা বর্তমান অভ্যুত্থান সম্পন্ন করেছেন এবং প্রকৃত শাসকে পরিণত হয়েছেন, তারা এই ভয়াবহ খ্যাতি লাভের আগে চার্চ মিশনারি সোসাইটির মিশনগুলোর অনুগত বন্ধু ছিলেন) (১)।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের শক্তির মাধ্যমে এটি চাপিয়ে দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে মিশনারি জেসাপ বলেছেন: (খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলগুলোতে শিক্ষা প্রদান কেবল একটি লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম মাত্র; এই লক্ষ্য হলো মানুষকে খ্রিস্টের দিকে পরিচালিত করা এবং তাদের এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া যাতে তারা খ্রিস্টান ব্যক্তি ও খ্রিস্টান জাতিতে পরিণত হয়) (২)।

দরিদ্রদের ওপর ধনীদের শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এটি চাপিয়ে দেওয়ার প্রমাণ হলো—মিশনারিরা ইন্দোনেশিয়ায় বন্দীদের পরিবারগুলোর কাছে তাদের আত্মীয়-স্বজনের ভরণপোষণ ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রস্তাব দিত, এই শর্তে যে তারা গির্জায় যোগদানের স্বীকৃতিপত্রে স্বাক্ষর করবে (৩)।

আর অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রমাণ এই পরিচ্ছেদের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে যখন মিশনারি গায়ার ডোনার বলেছিলেন: (আমাদের ওলন্দাজ ও জার্মান ভাইয়েরা এখানে মুসলমানদের জয় করতে এবং অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে চমৎকার কাজ করছেন)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ২৬। এবং দেখুন: আল-গরা আলাল আলামিল ইসলামি, পৃষ্ঠা: ৯৩।

(২) হাকিকাতুত তাবশির, পৃষ্ঠা: ১৬৬।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা: ১৮৬।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد تفرض بقوة المستعمر وسطوته كما ذكر ذلك المنصر تشارلس كرافت حيث قال: (إن استراتيجية التنصير الأوروبية الأمريكية كانت عموما مرتبطة ارتباطا وثيقا بالعقلية الاستعمارية ولهذا السبب كانت ناجحة كلما تعرضت الشعوب إلى التأثير القوي وحتى إلى التخويف بواسطة الإنجازات الثقافية الأوربية الأمريكية، لقد كنا تماما مثل المهودين) (1) .

 

‌‌[إشاعة الإلحاد بين المسلمين]

إشاعة الإلحاد بين المسلمين علم النصارى- أخزاهم الله- أن النصرانية لا قبول لها في المجتمعات المسلمة الملتزمة، فعلى قدر التزام المسلم بدينه، يكون نفوره من الكفر والضلال، ولما استيأس النصارى من خروج المسلمين إلى النصرانية رضوا بأن يخرجوا المسلم من دينه وإن لم يعلن اعتناقه للنصرانية يقول المنصر زويمر: (مهمتكم أن تخرجوا المسلم من الإسلام ليصبح مخلوقا لا صلة له بالله، وبالتالي لا صلة تربطه بالأخلاق التي تعتمد عليها الأمم في حياتها، ولذلك تكونون أنتم- بعملكم هذا- طليعة الفتح الاستعماري في الممالك الإسلامية. . إلى أن قال: إنكم أعددتم نشئا لا يعرف الصلة بالله ولا يريد أن يعرفها، وأخرجتم المسلم من الإسلام ولم تدخلوه في المسيحية، وبالتالي فقد جاء النشء

--------------------------------------------

(1) التنصير خطة لغزو العالم الإسلامي ص: 166.
এটিকে উপনিবেশবাদীদের শক্তি ও প্রতাপের মাধ্যমেও চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেমনটি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক চার্লস ক্রাফট উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: (ইউরোপীয়-আমেরিকান খ্রিষ্টধর্ম প্রচার কৌশল সাধারণত ঔপনিবেশিক মানসিকতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। এই কারণে, যখনই কোনো জাতি শক্তিশালী প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছে, এমনকি ইউরোপীয়-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অর্জনের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শনের শিকার হয়েছে, তখনই তা সফল হয়েছে। আমরা পুরোপুরি সেই ইহুদি-রূপান্তরকারীদের মতোই ছিলাম।) (১) ।

 

‌‌[মুসলমানদের মধ্যে নাস্তিকতার প্রসার]

মুসলমানদের মধ্যে নাস্তিকতার প্রসার: খ্রিষ্টানরা—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন—জেনে গেছে যে, ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজে খ্রিষ্টধর্মের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। একজন মুসলিম তার দ্বীনের প্রতি যতটুকু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন, কুফর ও ভ্রষ্টতার প্রতি তার অনীহা ঠিক ততটুকুই প্রবল হয়। যখন খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ল, তখন তারা এতেই সন্তুষ্ট হলো যে, অন্তত একজন মুসলিমকে যেন তার দ্বীন থেকে বের করে দেওয়া যায়, যদিও সে প্রকাশ্যে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের ঘোষণা না দেয়। খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক জুইমার বলেন: (তোমাদের কাজ হলো মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া, যাতে সে এমন এক জীবে পরিণত হয় যার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে জাতির জীবন যে নৈতিকতার ওপর নির্ভরশীল, তার সাথেও তার কোনো সম্পর্ক অবশিষ্ট থাকবে না। অতএব তোমাদের এই কাজের মাধ্যমে তোমরাই হবে মুসলিম রাজ্যগুলোতে ঔপনিবেশিক বিজয়ের অগ্রসেনানী... তিনি আরও বলেন: তোমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করেছ যারা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক চেনে না এবং তা চিনতেও চায় না। তোমরা মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে এনেছ ঠিকই, কিন্তু তাকে খ্রিষ্টধর্মে প্রবেশ করাওনি। ফলে এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) খ্রিষ্টধর্ম প্রচার: মুসলিম বিশ্ব জয়ের একটি পরিকল্পনা, পৃষ্ঠা: ১৬৬।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২২)
الإسلامي- طبقا لما أراده الاستعمار- لا يهتم بالعظائم ويحب الراحة والكسل، فإذا تعلم فللشهوات، وإذا جمع المال فللشهوات وإن تبوأ أسمى المراكز ففي سبيل الشهوات) (1) .

فغايتهم إفساد في الأرض وصد عن سبيل الله، وإشاعة للفاحشة في الذين آمنوا، وصدق الله: {وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا} [إبراهيم: 3] (2) .

 

‌‌[مواجهة الدعوات الإسلامية والحركات الإصلاحية التجديدية]

مواجهة الدعوات الإسلامية والحركات الإصلاحية التجديدية أخبر النبي صلى الله عليه وسلم: «أن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها في دينها» (3) وأعداء الله وأعداء رسوله صلى الله عليه وسلم أعداء المسلمين يدركون عظم خطر هذه الدعوات الإصلاحية في تاريخ المسلمين، إذ يجعل الله على يديها تجديد هذا الدين، وقمع المفسدين ومواجهة الكافرين، وحماية بيضة المسلمين، فلذلك ترصد عيونهم- المبثوثة بين ظهراني المسلمين- كل مصلح وداعية، وكل مظهر من مظاهر تجديد هذا الدين، وتحدد السبل التي تمد المصلحين والدعاة، وتناصر الدين، وتقترح أنجح الوسائل التي

--------------------------------------------

(1) تنصير المسلمين، تأليف عبد الرزاق ديار بكرلي، نشر دار النفائس، الرياض، ص: 20.

(2) سورة إبراهيم، الآية: 3.

(3) رواه أبو داود في سننه، في كتاب الملاحم، باب ما يذكر في قرن المائة.
ইসলামি সমাজ—উপনিবেশবাদ যা চেয়েছিল সেই অনুযায়ী—মহৎ বিষয়গুলোর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না এবং বিলাসিতা ও অলসতা পছন্দ করে। যদি সে শিক্ষা লাভ করে, তবে তা কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য; যদি সে সম্পদ সঞ্চয় করে, তবে তা কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য; আর যদি সে সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়, তবে তাও কুপ্রবৃত্তির পথেই ব্যয় হয়। (১)

তাদের লক্ষ্য হলো পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা, আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করা এবং মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া। আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আর তারা আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে} [ইবরাহিম: ৩] (২)

 

‌‌[ইসলামি দাওয়াত ও সংস্কারমূলক পুনর্জাগরণী আন্দোলনগুলোর মোকাবিলা করা]

ইসলামি দাওয়াত ও সংস্কারমূলক পুনর্জাগরণী আন্দোলনগুলোর মোকাবিলা করা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার (تجديد) করবেন» (৩)। আল্লাহর শত্রু, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রু এবং মুসলিমদের শত্রুরা মুসলিম ইতিহাসে এই সংস্কারমূলক দাওয়াতগুলোর সুদূরপ্রসারী বিপদের কথা উপলব্ধি করে। কেননা আল্লাহ এগুলোর মাধ্যমেই এই দ্বীনের সংস্কার (تجديد), ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দমন, কাফিরদের মোকাবিলা এবং মুসলিমদের অস্তিত্ব ও সংহতি রক্ষা করেন। এই কারণেই মুসলিমদের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা তাদের গোয়েন্দারা প্রত্যেক সংস্কারক ও দাঈ (داعية), এবং এই দ্বীন সংস্কারের প্রতিটি বহিঃপ্রকাশের ওপর কড়া নজর রাখে। তারা সেই পথগুলো চিহ্নিত করে যা সংস্কারক ও দাঈদের শক্তি জোগায় এবং দ্বীনকে সহায়তা করে। তারা সেই সফলতম উপায়গুলোর প্রস্তাব দেয় যা...

--------------------------------------------

(১) মুসলিমদের খ্রিষ্টানিকরণ, লেখক: আব্দুর রাজ্জাক দিয়ার বকরলি, দারুন নাফাইস প্রকাশনী, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: ২০।

(২) সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩।

(৩) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে, কিতাবুল মালাহিম অধ্যায়ে, 'শতাব্দীর শুরুতে যা বর্ণিত হয়েছে' শীর্ষক অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২২)
تجتث تلك السبل من جذورها يقول المنصر جاير دنر في مؤتمر التنصير المنعقد في القاهرة عام 1910م: (فإننا نجد أنفسنا وجها لوجه أمام نهضة إسلامية تعليمية ودينية تحتم علينا هذا التقدم التبشيري، إذا كان علينا أن نحافظ على الاعتبار الذي اكتسبناه في الماضي (1) ولهذا السبب فإنه من المؤكد أن الوقت قد حان لتحريك العمل إلى الأمام بتخطيط حكيم وتنفيذ واع وجدية مكثفة بين المسلمين في سوريا وفلسطين، وتوجيه انتباه كل الجمعيات (التنصيرية) التي تعمل حاليا في هذا المجال نحو الإنجاز السريع لذلك التحرك المتقدم) (2) إنه حث وتوجيه لكل الجمعيات التنصيرية لمواجهة الصحوة الإسلامية.

ويقول أيضا: (وهؤلاء الطلاب الذين يتم إعدادهم للقيام بالتنصير بين المسلمين يجب أن يضيفوا إلى برامجهم مهمة مراقبة ودراسة ومواجهة هذا الإسلام الجديد بكل مظاهره، ولا يمكن أن تجرى هذه الدراسة إلا في الدول العربية، وذلك المكان بدون جدال هو القاهرة) (3) .

إن الصحوة الإسلامية اضطرتهم أن يضيفوا إلى برامج المنصرين مهمة مراقبة ودراسة ومواجهة هذا الإسلام.

--------------------------------------------

(1) أي صياغة الدستور التركي العلماني.

(2) الإسلام الخطر، ص: 22، بتصرف يسير.

(3) المصدر السابق، ص: 24.
সেই পথগুলোকে সমূলে উৎপাটন করা হয়েছে। মিশনারি গায়ার ড্যানার ১৯১০ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত মিশনারি সম্মেলনে বলেন: (আমরা নিজেদেরকে একটি শিক্ষাগত ও ধর্মীয় ইসলামি জাগরণের মুখোমুখি দেখতে পাচ্ছি, যা আমাদের জন্য এই মিশনারি অগ্রযাত্রাকে অপরিহার্য করে তুলেছে; যদি আমাদের অতীতে অর্জিত মর্যাদা রক্ষা করতে হয় (১)। আর একারণেই এটি নিশ্চিত যে, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের মুসলিমদের মধ্যে বিজ্ঞ পরিকল্পনা, সচেতন বাস্তবায়ন এবং নিবিড় গুরুত্বের সাথে কর্মতৎপরতাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বর্তমানে এই ক্ষেত্রে কর্মরত সকল (মিশনারি) সংস্থার মনোযোগকে সেই উন্নত পদক্ষেপ দ্রুত সম্পন্ন করার দিকে ধাবিত করতে হবে) (২)। এটি ইসলামি জাগরণ মোকাবিলার জন্য সকল মিশনারি সংস্থার প্রতি এক আহ্বান ও দিকনির্দেশনা।

তিনি আরও বলেন: (আর সেই সকল ছাত্র, যাদের মুসলিমদের মাঝে ধর্মান্তরিতকরণের কাজের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, তাদের কর্মসূচিতে এই নতুন ইসলামকে তার সকল বহিঃপ্রকাশসহ পর্যবেক্ষণ, অধ্যয়ন এবং মোকাবিলার কাজ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আর এই অধ্যয়ন কেবল আরব দেশগুলোতেই সম্ভব, এবং সেই স্থানটি নিঃসন্দেহে হলো কায়রো) (৩)।

ইসলামি জাগরণ তাদের বাধ্য করেছে মিশনারিদের কর্মসূচিতে এই ইসলামকে পর্যবেক্ষণ, অধ্যয়ন এবং মোকাবিলার মিশন যুক্ত করতে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তুর্কি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন।

(২) আল-ইসলাম আল-খাত্বার, পৃষ্ঠা: ২২, সামান্য পরিমার্জিত।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ২৪।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد بين الأستاذ محمود محمد شاكر رحمه الله في رسالته القيمة الموسومة بـ " رسالة في الطريق إلى ثقافتنا " كيف خطط المستشرقون وأذنابهم لوأد الدعوة الإصلاحية في نجد على يد الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله لئلا تهدد النصرانية فقال: (وثبت هذا الطاغية " محمد علي " قواعد ملكه، وازداد إطباق القناصل والمستشرقين على عقله وقلبه، وخاصة الفرنسيون منهم، وكانت إنجلترا ومستشرقوها ما فتئت تخوف الدولة التركية وتؤلبها على مهد اليقظة في جزيرة العرب والتي قام بها محمد بن عبد الوهاب 1115 -1206هـ 1703-1792م، واستجابت دار الخلافة بغفلتها إلى هذا التأليب، حتى جردت حملات متتابعة لقمع "اليقظة" الوهابية، وآبت في جميعها بالإخفاق. ثم منذ ولي " محمد على سرششمة " جعلت تركية تدعوه إلى تجريد جيوشه لقتال الوهابيين، وتتابع هذا الطلب من سنة 1807م إلى سنة 1810 م 1222-1225هـ، فلم يستجب لنداء تركية، ولكن "الاستشراق " بقناصله زين أخيرا لمحمد على سرششمة أن يستجيب، ليحقق مآربه في وأد "اليقظة" التي كادت تعم جزيرة العرب، وأمدوه بالسلاح الذي يعينه على خوض الحرب، وذلك في سنة 1226هـ / 1811 م، (أي بعد ولايته مصر بست سنوات) ، وسارت الجيوش قاصدة جزيرة العرب، ودارت الحرب التي لم تنته إلا بعد ثمان سنوات، في سنة 1235هـ / 1819 م،

উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "রিসালাহ ফিত তরিক ইলা সাকাফাতিনা" (আমাদের সংস্কৃতির পথে একটি পুস্তিকা) নামক মূল্যবান প্রবন্ধে স্পষ্ট করেছেন যে, কীভাবে প্রাচ্যবিদ ও তাদের দোসররা ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাধ্যমে নজদে সূচিত সংস্কারমূলক দাওয়াতকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছিল, যাতে তা খ্রিষ্টবাদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি না করে। তিনি বলেছেন: "এই স্বৈরশাসক 'মুহাম্মদ আলী' তার রাজত্বের ভিত মজবুত করেছিলেন এবং তার মন ও মননের ওপর কনসাল ও প্রাচ্যবিদদের—বিশেষত ফরাসিদের—প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও তার প্রাচ্যবিদরা তুর্কি রাষ্ট্রকে অনবরত আতঙ্কিত করে তুলছিল এবং আরব উপদ্বীপের সেই নবজাগরণ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছিল যা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (১১১৫-১২০৬ হিজরি / ১৭০৩-১৭৯২ খ্রিস্টাব্দ) শুরু করেছিলেন। খিলাফত কর্তৃপক্ষ তার অসতর্কতাবশত এই উসকানিতে সাড়া দেয় এবং 'ওয়াহাবি' জাগরণ দমনে একের পর এক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, যার সবকটিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অতঃপর 'মুহাম্মদ আলী সরচশমাহ' ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তুরস্ক তাকে ওয়াহাবিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানাতে থাকে। ১৮০৭ থেকে ১৮১০ খ্রিস্টাব্দ (১২২২-১২২৫ হিজরি) পর্যন্ত এই আহ্বান অব্যাহত থাকলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। কিন্তু পরিশেষে 'প্রাচ্যবাদ' তার কনসালদের মাধ্যমে মুহাম্মদ আলী সরচশমাহর নিকট এই অভিযানে লিপ্ত হওয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে, যাতে তারা প্রায় সমগ্র আরব উপদ্বীপে বিস্তৃত হতে চলা এই 'জাগরণকে' সমূলে বিনাশ করার হীন উদ্দেশ্য সফল করতে পারে। তারা তাকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে। এটি ছিল ১২২৬ হিজরি / ১৮১১ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা (অর্থাৎ মিশরের শাসনভার গ্রহণের ছয় বছর পর)। অতঃপর সেনাবাহিনী আরব উপদ্বীপের অভিমুখে যাত্রা করে এবং একটি যুদ্ধ শুরু হয় যা দীর্ঘ আট বছর পর ১২৩৫ হিজরি / ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দের আগে শেষ হয়নি।"

(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفقدت الجيوش المصرية آلافا من أبنائها، ولقيت هزائم كادت تودي بها وأخيرا تم النصر لمحمد على شرششمة، بعد أن ارتكب من الفظائع ما لا يستحله مسلم، واستباح الديار والأموال والنساء، وهدم المدن، فكان هو وابنه إبراهيم وسائر أولاده طغاة من شر الطغاة. وكانت حربا طاحنة لا معنى لها، ولا ينتفع بها إلا مؤرثها من دهاة المسيحية الشمالية.

وكذلك أدرك " الاستشراق "، وأدركت المسيحية الشمالية، مأربا من أكبر مآربها في وأد " اليقظة " التي كانت تهددهم بها دار الإسلام في جزيرة العرب) (1) .

فانظر كيف رصدت هذه الدعوة الإصلاحية من قبل المستشرقين، وكيف تآزر البريطانيون والفرنسيون للقضاء عليها. إنها صورة تتكرر في كل عصر ومصر، تتكرر حيثما ظهرت بوادر دعوة إصلاحية، أو برز عالم رباني تخشى منه النصرانية أن يجدد للمسلمين دينهم.

--------------------------------------------

(1) رسالة في الطريق إلى ثقافتنا، ص: 137-138. وانظر أيضا: رؤية إسلامية للاستشراق، تأليف أحمد غراب، نشر المنتدى الإسلامي. ط 2، 1411 هـ ص: 162 وما بعدها. وانظر التقرير الذي صدر عن " معهد الدراسات الاستراتيجية القومية " في الولايات المتحدة الأمريكية عن التحديات التي تواجهها أمريكا من الحركات الإسلامية في الشرق الأوسط وشمال أفريقيا، وكيفية التعامل معها. وقد حصلت مجلة المجتمع على نسخة منه ونشرت ملخصا له في عددها 1335 في 19 / 10 / 1419 هـ ص: 26-27.
মিশরীয় সেনাবাহিনী তাদের হাজার হাজার সন্তানকে হারিয়েছে এবং এমন পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে যা প্রায় তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিল। অবশেষে মুহাম্মদ আলী চরম নৃশংসতার মাধ্যমে বিজয় লাভ করেন; তিনি এমন সব জঘন্য অপরাধ সংঘটন করেছিলেন যা কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ হতে পারে না। তিনি ঘরবাড়ি, ধন-সম্পদ ও নারীদের অবমাননা করেন এবং শহরগুলো ধ্বংস করেন। তিনি, তার পুত্র ইব্রাহিম এবং তার অন্যান্য সন্তানরা নিকৃষ্টতম জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এটি ছিল একটি অর্থহীন ও বিধ্বংসী যুদ্ধ, যার দ্বারা উত্তরীয় খ্রিস্টান জগতের ধূর্ত কুচক্রীরা ব্যতীত অন্য কেউ উপকৃত হয়নি।

একইভাবে প্রাচ্যতত্ত্ব (استشراق) এবং উত্তরীয় খ্রিস্টান জগত তাদের অন্যতম বৃহৎ লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়, আর তা হলো সেই জাগরণ (يقظة)-কে অঙ্কুরে বিনাশ করা, যার মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের দারুল ইসলাম তাদের জন্য হুমকির সৃষ্টি করেছিল। (১)

সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের (مستشرقون) পক্ষ থেকে এই সংস্কারবাদী দাওয়াত (دعوة إصلاحية) পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং একে নির্মূল করার জন্য ব্রিটিশ ও ফরাসিরা কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল। এটি এমন এক চিত্র যা প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি স্থানে বারবার ফিরে আসে; এটি সেখানেই পুনরাবৃত্ত হয় যেখানেই কোনো সংস্কারবাদী দাওয়াতের (دعوة إصلاحية) লক্ষণ দেখা দেয় অথবা কোনো রব্বানী আলেম (عالم رباني) আবির্ভূত হন, যাঁর মাধ্যমে খ্রিস্টান জগত মুসলমানদের দ্বীন পুনর্জাগরণের আশঙ্কা করে।

--------------------------------------------

(১) রিসালা ফিত ত্বরিক ইলা সাকাফাতিনা, পৃষ্ঠা: ১৩৭-১৩৮। আরও দেখুন: রু’ইয়াতুন ইসলামিয়্যাহ লিল ইস্তিশরাক, লেখক: আহমদ গুরাব, প্রকাশনা: আল-মুনতাদা আল-ইসলামি। ২য় সংস্করণ, ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা: ১৬২ এবং পরবর্তী অংশ। আরও দেখুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ" থেকে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটি, যা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ইসলামি আন্দোলনগুলোর পক্ষ থেকে আমেরিকার সম্মুখিন হওয়া চ্যালেঞ্জসমূহ এবং সেগুলো মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রণীত। আল-মুজতামা ম্যাগাজিন এর একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছিল এবং তাদের ১৩৩৫ নম্বর সংখ্যায় ১৯ / ১০ / ১৪১৯ হিজরিতে এর একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছিল, পৃষ্ঠা: ২৬-২৭।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[دراسة أحوال العالم الإسلامي وأوضاعه الداخلية]

دراسة أحوال العالم الإسلامي وأوضاعه الداخلية يبذل المنصرون جهودا دؤوبة في التعرف على أحوال العالم الإسلامي واستقصاء أخباره ومعرفة ثغراته، والتقرب إلى العناصر المشبوهة فيه. . حتى يتيسر لهم التغلغل في أوساط المسلمين ونشر ضلالاتهم، واجتثاث بذور الخير والصلاح، وقطع ينابيع الخير مهما ضعفت أو توارت في الأدغال أو في جزر المحيطات. . ولقد رصدت دوائر التنصير بعض المناشط اليسيرة التي تخشى منها أن تسهم في نشر الإسلام والدعوة إليه كإنشاء طريق قطار يربط بين جمهورية مسلمة في روسيا ببقية الجمهوريات الأخرى، وكمجلة فصلية إسلامية في اليابان وكباخرة تنقل الحجيج من أقصى الشرق حيث يقول المنصر جاير دنر: (ولا شك أن حوادث كهذه سوف تحفز المسلمين في روسيا الأوربية ومناطق الفولجا واسيا الوسطى الروسية وربما سيبريا نفسها، لأن الأفكار كالكهرباء تنتقل بسرعة لا سيما إذا ما نقلتها خطوط السكك الحديدية، لذا فإن خط السكة الحديدية الذي على وشك أن يمر من التركستان الروسية إلى التركستان الصينية سينقل معه الأفكار، وعلى هذا فإن الطرق التجارية التاريخية التي تعبر قلب القارة الآسيوية ستصبح في الحال أعصابا تربط وسط آسيا المسلم في نظام محكم لم يكن من قبل.
[মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি এবং এর অভ্যন্তরীণ অবস্থা বিষয়ক একটি গবেষণা]

মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি ও এর অভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে খ্রিস্টান মিশনারিরা মুসলিম বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে, এর সংবাদসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করতে, এর দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেখানকার সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো যাতে তাদের পক্ষে মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশ করা, তাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করা, কল্যাণ ও সংস্কারের বীজগুলো উপড়ে ফেলা এবং কল্যাণের উৎসগুলো বন্ধ করে দেওয়া সহজ হয়; সেই উৎসগুলো যত দুর্বলই হোক না কেন অথবা বনাঞ্চল কিংবা মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জগুলোতে লুকায়িত থাকুক না কেন। মিশনারি সংস্থাগুলো এমন কিছু ছোটখাটো কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেছে যা ইসলাম প্রচার ও এর দাওয়াতের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে; যেমন—রাশিয়ার একটি মুসলিম প্রজাতন্ত্রের সাথে অন্যান্য প্রজাতন্ত্রগুলোর সংযোগকারী একটি রেলপথ নির্মাণ, জাপানে একটি ইসলামি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ এবং সুদূর প্রাচ্য থেকে হাজিদের বহনকারী একটি জাহাজের চলাচল। এ প্রসঙ্গে মিশনারি গায়ার ড্যানার বলেন: "নিঃসন্দেহে এ ধরনের ঘটনা ইউরোপীয় রাশিয়া, ভোলগা অঞ্চল এবং রুশ মধ্য এশিয়া, এমনকি সম্ভবত খোদ সাইবেরিয়ার মুসলিমদেরও উদ্দীপ্ত করবে। কারণ চিন্তা ও ধারণাগুলো বিদ্যুতের মতো দ্রুত গতিতে সঞ্চালিত হয়, বিশেষ করে যখন তা রেলপথের মাধ্যমে বাহিত হয়। অতএব, যে রেলপথটি রুশ তুর্কিস্তান থেকে চীনা তুর্কিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, তা তার সাথে নতুন নতুন চিন্তাধারা বয়ে নিয়ে যাবে। এর ফলে এশীয় মহাদেশের হৃদপিণ্ড দিয়ে অতিক্রান্ত ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক পথগুলো অবিলম্বে এমন এক স্নায়ুতন্ত্রে পরিণত হবে যা মুসলিম মধ্য এশিয়াকে একটি সুসংহত ব্যবস্থার অধীনে আবদ্ধ করবে, যা ইতিপূর্বে ছিল না।"
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ونتحول إلى الصين، لو أن هناك قطرا في العالم من المفروض يقينا أن المسلمين فيه غير مستجيبين للتأثيرات من العالم الخارجي فإن ذلك القطر هو الصين، فهم المثل القائم لأكثر الصيغ الإسلامية تمسكا بدينهم. ومع ذلك نسمع عن إرسال مبعوث تركي ليكون أول مبشر مسلم مقيم في الصين، والأكثر لفتا للنظر، عن ثلاثين طالبا صينيا مسلما يتشربون الأفكار الغربية في جامعة يابانية، ويحررون مجلة فصلية لتوزيعها على إخوانهم المتدينين في كل أنحاء الصين بعنوان ذي مغزى "أيها المسلمون استيقظوا". ولنتجه إلى الملايو، إن التأثير المعدل (المحور) هنا هو الباخرة التي تمكن عددا هائلا من اليابانيين والسومطريين ومسلمي الهند الشرقية من أداء الحج في مكة وينتج عن ذلك التحام الإسلام في وحدة كاملة متضامنة صلبة في كل أنحاء ماليزيا) (1) .

ومن اطلع على الموضوعات المقدمة إلى مؤتمر القاهرة التنصيري عام 1906م ومؤتمر كولورادو عام 1978م يرى هذا الأمر جليا لا لبس فيه، إذ من ضمن الموضوعات المناقشة ما يلي:

--------------------------------------------

(1) انظر الوثيقة الإسلام الخطر ص: 16-17، يتحدث هذا المنصر في خطابه عن أحوال العالم الإسلامي، ويستعرض الأمور التي يخشى منها أن تسهم في رد المسلمين إلى دينهم، ولذلك تراه يتحدث عن التركستان ثم ينتقل إلى الصين ثم إلى الملايو. .
এখন আমরা চীনের দিকে দৃষ্টিপাত করি। বিশ্বের এমন কোনো ভূখণ্ড যদি থেকে থাকে যেখানে মুসলমানদের বহিরাগত প্রভাবের প্রতি বিমুখ থাকাটা নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে সেই ভূখণ্ডটি হলো চীন। তারা তাদের দ্বীনের প্রতি সর্বাধিক নিষ্ঠাবান হিসেবে ইসলামের এক জীবন্ত প্রতীক। তা সত্ত্বেও আমরা একজন তুর্কি দূত প্রেরিত হওয়ার সংবাদ পাই, যিনি চীনে প্রথম আবাসিক মুসলিম ধর্মপ্রচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর সবচেয়ে দৃষ্টিআকর্ষণকারী বিষয় হলো ত্রিশজন চীনা মুসলিম ছাত্রের কথা, যারা একটি জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা গ্রহণ করছে এবং চীনের সর্বত্র তাদের ধর্মপ্রাণ ভাইদের মাঝে বিতরণের জন্য একটি ত্রৈমাসিক সাময়িকী সম্পাদনা করছে, যার তাৎপর্যপূর্ণ শিরোনাম হলো— "হে মুসলমানগণ, জাগ্রত হও"। এবার মালয়ের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক; এখানকার পরিবর্তনকারী (মূল) প্রভাবকটি হলো বাষ্পীয় জাহাজ, যা বিপুল সংখ্যক জাপানিজ, সুমাত্রান এবং পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মুসলমানকে মক্কায় হজ পালনের সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে সমগ্র মালয়েশিয়া জুড়ে ইসলাম একটি সুদৃঢ় ও সংহতিপূর্ণ ঐক্যে পরিণত হয়েছে। (১)

যারা ১৯০৬ সালের কায়রো মিশনারি সম্মেলন এবং ১৯৭৮ সালের কলোরাডো সম্মেলনে উপস্থাপিত বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের কাছে এই বিষয়টি কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে। সেখানে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: 'আল-ইসলামুল খাতার' (বিপজ্জনক ইসলাম) শীর্ষক দলিল, পৃষ্ঠা: ১৬-১৭। এই মিশনারি তার বক্তৃতায় মুসলিম বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং সেই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছেন যা মুসলমানদের পুনরায় তাদের দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে আনতে অবদান রাখতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। এ কারণেই তাকে তুর্কিস্তান নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়, এরপর তিনি চীনের দিকে এবং অতঃপর মালয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হন।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الإسلام في أفريقيا. الإسلام في الصين. الإسلام في الملايو. النشرات التي ينبغي إذاعتها بين المسلمين المتنورين والمسلمين العوام، الإرسال الإذاعي الحالي الموجه إلى المسلمين. مقارنة بين وضع النصرانية والإسلام في جنوب شرق آسيا.

مقارنة بين وضع النصرانية والإسلام في الصين.

مقارنة بين وضع النصرانية والإسلام في شبه القارة الهندية.

مقارنة بين وضع النصرانية والإسلام في إيران.

مقارنة بين وضع النصرانية والإسلام في تركيا.

مقارنة بين وضع النصرانية والإسلام في الشرق الأوسط. تحليل المقاومة والاستجابة لدى الشعوب المسلمة (1) .

ويشخص ماكري عجز المنصرين عن التغلغل في أوساط بعض المجتمعات الإسلامية بسبب أن الجمعيات التنصيرية لم تعر الفوارق الطبقية أي اهتمام حيث يقول: (إن العمل التنصيري لم يكن فعالا بين المسلمين، لأنه لم يعر تلك الفوارق للطبقية أي اهتمام) (2) . ثم يمضي متحدثا عن جهود مراكز الدراسات التنصيرية في استقصاء أحوال العالم الإسلامي حيث يقول: (إن موظفي مركز الدراسات

--------------------------------------------

(1) انظر حقيقة التبشير، ص 159، 160 والتنصير خطة لغزو العالم الإسلامي ص: 859.

(2) المصدر السابق، ص: 252.
আফ্রিকায় ইসলাম। চীনে ইসলাম। মালয়ে ইসলাম। প্রবুদ্ধ মুসলিম ও সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে যে প্রচারপত্রগুলো প্রচার করা উচিত, মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বর্তমান রেডিও সম্প্রচার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা।

চীনে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা।

ভারতীয় উপমহাদেশে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা।

ইরানে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা।

তুরস্কে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা।

মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা। মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়ার বিশ্লেষণ (১)।

ম্যাকরি কিছু মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরে মিশনারিদের অনুপ্রবেশে অক্ষমতাকে চিহ্নিত করেছেন এই কারণে যে, মিশনারি সংস্থাগুলো শ্রেণীবিভেদের প্রতি কোনো গুরুত্ব প্রদান করেনি; যেখানে তিনি বলেন: (মিশনারি কার্যক্রম মুসলিমদের মধ্যে কার্যকর ছিল না, কারণ এটি সেই শ্রেণীবিভেদকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি) (২)। এরপর তিনি মুসলিম বিশ্বের অবস্থা অনুসন্ধানে মিশনারি গবেষণা কেন্দ্রগুলোর প্রচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা অব্যাহত রেখে বলেন: (গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারীরা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন হাকিকাতুত তাবশির, পৃষ্ঠা ১৫৯, ১৬০ এবং আত-তানসির খিততাতুন লি গাজউয়িল আলামিল ইসলামি, পৃষ্ঠা: ৮৫৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ২৫২।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
والاتصالات المتقدمة لإرساليات التنصير قد قاموا بإعداد دراسات سريعة عن 253 مجموعة عرقية بين المسلمين) (1) .

بل ربما لجأت المنظمات التنصيرية إلى افتعال حروب وفتن أو مجاعات أو مشكلات سياسية أو اجتماعية. . لتستطيع ممارسة التنصير في ظل هذه الأجواء (2) .

إن هذا التغلغل في صفوف الأمة الإسلامية وسبر أغوارها، واستقصاء أخبارها من قبل المنصرين يوجب على الأمة- كل الأمة- الحذر الشديد من هؤلاء مهما تبدلت أقنعتهم، وتنوعت وسائلهم، كما يوجب عليها أن تواجه هذا الكيد بكل الوسائل المتاحة المشروعة.

 

‌‌[رعاية ومؤازرة طلائع الفساد ورؤوس الشر في البلاد الإسلامية]

رعاية ومؤازرة طلائع الفساد ورؤوس الشر في البلاد الإسلامية لقيت الأمة الإسلامية- على مر العصور- عنتا شديدا من المنافقين الذين يحبون أن تشيع الفاحشة في الذين آمنوا، ويصدون عن سبيل الله، ويبغونها عوجا، وقد حذر الله منهم وأوجب جهادهم، والغلظة عليهم، إذ هم العدو، قاتلهم الله أنى يؤفكون.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، ص: 252. وانظر أيضا، ص: 287، 300، 826 منه.

(2) انظر المصدر السابق، ص: 242.
খ্রিস্টান মিশনারিদের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা মুসলিমদের মাঝে ২৫৩টি জাতিগোষ্ঠীর ওপর দ্রুত গবেষণা সম্পন্ন করেছে (১)।

এমনকি মিশনারি সংস্থাগুলো সম্ভবত কৃত্রিম যুদ্ধ-বিগ্রহ, ফিতনা (فتنة), দুর্ভিক্ষ অথবা রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির আশ্রয় গ্রহণ করে, যাতে তারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয় (২)।

মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরে এই অনুপ্রবেশ, তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং মিশনারিদের পক্ষ থেকে উম্মাহর সংবাদ অনুসন্ধান করা সমগ্র উম্মাহর ওপর—উম্মাহর প্রত্যেকের ওপর—তাদের ব্যাপারে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক করে তোলে; তাদের মুখোশ যতই পরিবর্তিত হোক আর তাদের মাধ্যম যতই বিচিত্র হোক না কেন। তেমনিভাবে এটি উম্মাহর ওপর আবশ্যক করে দেয় যে, তারা যেন এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা সকল উপলব্ধ বৈধ উপায়ে করে।

 

‌‌[মুসলিম দেশগুলোতে দুর্নীতির অগ্রদূত ও অনিষ্টের হোতাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন প্রদান]

মুসলিম দেশগুলোতে দুর্নীতির অগ্রদূত ও অনিষ্টের হোতাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন প্রদান: মুসলিম উম্মাহ যুগ যুগ ধরে সেই মুনাফিকদের (منافقون) পক্ষ থেকে চরম কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে, যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রচার করতে পছন্দ করে, আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতা খোঁজে। আল্লাহ তাদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ (جهاد) করা ও তাদের প্রতি কঠোর হওয়া আবশ্যক (واجب) করেছেন; কারণ তারাই প্রকৃত শত্রু। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় বিচ্যুত হচ্ছে!

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ২৫২। আরও দেখুন, একই গ্রন্থের পৃষ্ঠা: ২৮৭, ৩০০, ৮২৬।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা: ২৪২।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
فكم كانوا طلائع فساد في الأمة، وكم دعوا إلى إشاعة الفواحش، وكم أعانوا من أعداء، وكم فتحوا أمام الأعداء من أبواب موصدة وكم وكم. . ولذا استغلت الجماعات التنصيرية هذا الطابور الخامس في تحقيق مآربها، وبلوغ غاياتها، يؤكد ذلك المنصر جاير دنر حيث يقول عن مؤازرتهم لهذا الطابور الخامس في بلاد فارس: (إن زعماء بختياري الذين أنجزوا الانقلاب الحالي وأصبحوا حكام الأمر الواقع، كانوا قبل أن يصلوا إلى هذه الشهرة المروعة- الأصدقاء الأوفياء لإرساليات جمعية التبشير الكنسية، أو ليست هذه الحقيقة تجعل من الأهمية الحاسمة أن ندعم ونعزز أولئك العاملين من أجل البشارة (1) في تلك البلاد ذات الأهمية الكبيرة في انشقاق الإسلام السني، وكانت الفرصة أكبر من سنين قليلة مضت عما هي عليه اليوم) (2) .

كما يوصي جاير دنر الجمعيات التنصيرية بدعم ومساندة طلائع الفساد في تركيا بقوله: (إن الاتجاه الخفي للشبان الأتراك (3) أنفسهم نحو التسامح الديني هو في الغالب اتجاه متقدم، والحقيقة الفعلية بأن المسيحية والمسيحيين في أعماق حركتهم إلى حد كبير ينبغي أن يؤدي

--------------------------------------------

(1) أي التبشير بالنصرانية.

(2) الوثيقة الإسلام الخطر، ص: 26-27.

(3) أي جمعية الاتحاد والترقي الذين تولوا الحكم إثر الانقلاب على السلطان عبد الحميد رحمه الله.
তারা উম্মাহর মধ্যে দুর্নীতির অগ্রসেনানী হিসেবে কতবার আবির্ভূত হয়েছে, তারা কতবার অশ্লীলতা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছে, কতবার তারা শত্রুদের সহায়তা করেছে এবং শত্রুদের জন্য কত রুদ্ধ দ্বার উন্মুক্ত করেছে—এমন আরও কত কী! একারণেই খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীগুলো তাদের হীন উদ্দেশ্য সাধন ও লক্ষ্য অর্জনে এই 'পঞ্চম বাহিনী'কে ব্যবহার করেছে। মিশনারি গায়ার ডেনার পারস্য ভূখণ্ডে এই পঞ্চম বাহিনীর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন: "নিশ্চয়ই বখতিয়ারি নেতৃবৃন্দ, যারা বর্তমান অভ্যুত্থান সম্পন্ন করেছেন এবং কার্যত শাসকে পরিণত হয়েছেন, তারা এই ভয়াবহ খ্যাতি লাভের পূর্বে চার্চ মিশনারি সোসাইটির প্রচার দলগুলোর বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন। এই বাস্তব সত্যটি কি বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি করে তোলে না যে, সুন্নি ইসলামের বিভক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই দেশে যারা সুসংবাদ (১) প্রচারের জন্য কাজ করছেন, আমরা তাদের সমর্থন ও শক্তিশালী করি? আর কয়েক বছর আগে সুযোগটি আজকের তুলনায় আরও বেশি ছিল।" (২) .

তেমনিভাবে গায়ার ডেনার তুরস্কের দুর্নীতির অগ্রসেনানীদের মদদ ও সহায়তা দেওয়ার জন্য মিশনারি সংস্থাগুলোকে সুপারিশ করে বলেন: "ধর্মীয় সহনশীলতার প্রতি খোদ তরুণ তুর্কিদের (৩) যে প্রচ্ছন্ন প্রবণতা রয়েছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটি প্রগতিশীল প্রবণতা। বাস্তব সত্য হলো, তাদের আন্দোলনের গভীরে খ্রিস্টধর্ম ও খ্রিস্টানদের যে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, তা অবশ্যই পরিচালিত করবে...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ খ্রিস্টধর্ম প্রচার।

(২) দলিল: আল-ইসলাম আল-খাতর, পৃষ্ঠা: ২৬-২৭।

(৩) অর্থাৎ 'ইতিহাদ ওয়া তারাক্কি' (একতা ও প্রগতি) সমিতি, যারা সুলতান আব্দুল হামিদের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখল করেছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
نتائج هامة وبعيدة المدى. . . أو ليست هذه الحقائق دعوة للجميعات العاملة في الإمبراطورية العثمانية لتؤازر وتدعم عملها لكي تكون مستعدة لانتهاز فرصة الإفادة من الموقف المتسع) (1) .

إن هذه الجمعيات التنصيرية تدعم وتساند هؤلاء المنافقين رغبة في انتهاز الفرص المناسبة في الوقت المناسب لإشاعة الفاحشة والتبشير بالنصرانية.

 

‌‌[إثارة الفتن والحروب]

إثارة الفتن والحروب إذ هما الوسيلة التي تشغل الأمة عن أعدائها، وتنسى فيها حراسة تغورها، وتنهب فيها خيراتها، وتستهلك فيها طاقاتها، وتتعدد احتياجاتها ما بين جريح ويتيم وأرملة، وتتضاعف عليها الديون، وتملى عليها الشروط، وتكبل فيها بالقيود. . فإذا الأمة ميدان فسيح لكل منصر لكي يساوم على اللقمة، ويستحوذ على الأيتام والأرامل، ويفوز بالاتفاقيات التي تخوله الوصول إلى مواقع ما كان يحلم بها قبل ذلك (2) .

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، ص: 20- 21.

(2) انظر التبشير والاستعمار، ص: 124، 153، 154، وحقيقة التبشير، ص: 178.
গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফল... এই সত্যগুলো কি উসমানীয় সাম্রাজ্যে কর্মরত সংস্থাগুলোর জন্য তাদের কার্যক্রমকে সমর্থন ও জোরদার করার একটি আহ্বান নয়, যাতে তারা এই বিস্তৃত পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে?) (১)।

নিশ্চয়ই এই মিশনারি সংস্থাগুলো উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানো এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারের লালসায় এই মুনাফিকদের (منافقين) সমর্থন ও সহযোগিতা করে থাকে।

 

‌‌[ফিতনা (فتنة) ও যুদ্ধ বিগ্রহ উসকে দেওয়া]

ফিতনা (فتنة) ও যুদ্ধ বিগ্রহ উসকে দেওয়া; কেননা এই দুটি হলো এমন মাধ্যম যা উম্মাহকে তাদের শত্রুদের মোকাবিলা থেকে বিমুখ করে রাখে এবং এর ফলে তারা নিজ সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কথা ভুলে যায়। এতে তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তাদের শক্তি নিঃশেষ হয় এবং আহত, এতিম ও বিধবাদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তাদের নানাবিধ প্রয়োজন বহুগুণ বেড়ে যায়। তাদের ওপর ঋণের বোঝা চেপে বসে, কঠিন শর্তারোপ করা হয় এবং তারা শৃঙ্খলিত হয়ে পড়ে। ফলে উম্মাহ প্রতিটি মিশনারির জন্য এক বিশাল ময়দানে পরিণত হয় যাতে তারা সামান্য খাবারের বিনিময়ে দর কষাকষি করতে পারে, এতিম ও বিধবাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে এবং এমন সব চুক্তি অর্জন করতে পারে যা তাদের এমন সব স্থানে পৌঁছানোর অধিকার দান করে যা তারা ইতিপূর্বে কখনো কল্পনাও করেনি (২)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ২০-২১।

(২) দেখুন: আত-তাবশির ওয়াল ইস্তিমার, পৃষ্ঠা: ১২৪, ১৫৩, ১৫৪; এবং হাকিকাতুত তাবশির, পৃষ্ঠা: ১৭৮।
(খণ্ড: ১) আত-তানসীর তারিফুহু আহদাফুহু ওয়া ওয়াসায়িলুহু হাসরাতুল মুনাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وانظر كيف دخلت الجمعيات التنصيرية إلى داخل أفغانستان والعراق والبوسنة والهرسك وألبانيا أثناء الحروب التي سفكت فيها دماء المسلمين.

ولقد تنبه المؤتمرون في مؤتمر كولورادو التنصيري إلى ضرورة وجود ظروف خاصة تدعو إلى التحول الجماعي نحو النصرانية إذ يقول ديفيد أ. فريزر (ولكي يكون تحول فلا بد من وجود أزمات معينة ومشكلات وعوامل تدفع الناس أفرادا وجماعات خارج حالة التوازن التي اعتادوها وقد تأتي هذه الأمور على شكل عوامل طبيعية كالفقر والمرض والكوارث والحروب، وقد تكون معنوية مثل التفرقة العنصرية أو الحساسية بسبب تسامح المجتمع تجاه النفاق أو الوضع الاجتماعي المتدني) (1) .

 

‌‌[الانقلابات العسكرية]

الانقلابات العسكرية تلجأ المنظمات التنصيرية إلى تدبير الانقلابات العسكرية والتواطؤ مع منفذيها لتحقيق أغراضها في مكان تراه منطلقا للعمل الإسلامي، أو تعذر عليها فيه التنصير. فيبدأ التخطيط لقلب نظام الحكم في ذلك الموقع، وإحلال نظام بديل يأذن لهم. بممارسة التنصير، أو التضييق على المناشط الإسلامية المتواجدة في ذلك الموقع، أو محاربة

--------------------------------------------

(1) التنصير خطة لغزو العالم الإسلامي، ص: 242.
দেখুন কিভাবে খ্রিস্টান মিশনারি সংগঠনগুলো আফগানিস্তান, ইরাক, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং আলবেনিয়ার অভ্যন্তরে সেই সব যুদ্ধের সময় প্রবেশ করেছিল যেগুলোতে মুসলমানদের রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল।

কলোরাডো মিশনারি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা খ্রিস্টধর্মের দিকে গণ-ধর্মান্তরের আহ্বানের জন্য বিশেষ পরিস্থিতির উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়েছিলেন; যেমন ডেভিড এ. ফ্রেজার বলেন, (আর ধর্মান্তর ঘটার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সংকট, সমস্যা এবং এমন কিছু কারণের উপস্থিতি অপরিহার্য যা মানুষকে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগতভাবে তাদের অভ্যস্ত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার বাইরে ঠেলে দেয়। এই বিষয়গুলো প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে আসতে পারে যেমন দারিদ্র্য, রোগব্যাধি, দুর্যোগ এবং যুদ্ধ; আবার সেগুলো মনস্তাত্ত্বিকও হতে পারে যেমন বর্ণবৈষম্য অথবা মুনাফিকির (النفاق) প্রতি সমাজের সহনশীলতা বা নিম্ন সামাজিক মর্যাদার কারণে সৃষ্ট সংবেদনশীলতা) (১)।

 

‌‌[সামরিক অভ্যুত্থানসমূহ]

সামরিক অভ্যুত্থানসমূহ: মিশনারি সংস্থাগুলো সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করার এবং এর বাস্তবায়নকারীদের সাথে যোগসাজশ করার আশ্রয় নেয় এমন সব স্থানে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য, যে স্থানকে তারা ইসলামি কার্যক্রমের সূচনাবিন্দু হিসেবে মনে করে অথবা যেখানে তাদের জন্য খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সেই স্থানের শাসনব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার এবং এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা শুরু হয় যা তাদের খ্রিস্টধর্ম প্রচারের অনুমতি দেয়, অথবা সেই স্থানে বিদ্যমান ইসলামি কর্মকাণ্ডের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, কিংবা সেগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে...

--------------------------------------------

(১) আত-তানসির: খুত্তাতুন লি-গাজওয়িল আলামিল ইসলামি, পৃষ্ঠা: ২৪২।