(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: -)
جزء العبدي   (أبو الحسن العبدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء العبدي

المؤلف: علي بن الحسن بن إسماعيل العبديّ، من بني عبد القيس، أبو الحسن (ت 599هـ)

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 56

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জুজ আল-আবদি   (আবুল হাসান আল-আবদি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: জুজ আল-আবদি

লেখক: আলি বিন আল-হাসান বিন ইসমাইল আল-আবদি, বনু আবদ আল-কায়েস গোত্রের, আবুল হাসান (মৃত্যু ৫৯৯ হিজরি)

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১)
هَذَا الْجُزْءُ مِنْ تَخْرِيجِ الشَّيْخِ الْعَالِمِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْعَبْدِيِّ، بِرِوَايَتِهِ عَنْ شُيُوخِهِ رِوَايَةُ الشَّيْخِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ ثَابِتٍ الطَّيِّبِيِّ الضَّرِيرِ ، عَنْهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ عَوْنَكَ اللَّهُمَّ يَا كَرِيمُ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ ثَابِتٍ الطَّيِّبِيُّ الضَّرِيرُ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ عَاشِرَ رَبِيعٍ الآخِرِ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلاثِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ بِالْبَصْرَةِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْعَبْدِيُّ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ:

এই অংশটি আলেম শেখ আলী বিন আল-হাসান বিন ইসমাইল আল-আবদির কৃত তাখরিজ (সংকলন) থেকে গৃহীত, যা তিনি তাঁর উস্তাদদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর নিকট থেকে শেখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবিল হাসান বিন সাবিত আত-তাইয়িবি আদ-দারিরের বর্ণনা। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! হে মহানুভব! আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি। শেখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবিল হাসান বিন সাবিত আত-তাইয়িবি আদ-দারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—৬৩৫ হিজরি সনের ১০ই রবিউস সানি তারিখে বসরায় তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—আমি তাঁকে বললাম: শেখ আলী বিন আল-হাসান বিন ইসমাইল আল-আবদি কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন:

(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُبَارَكُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الآدَمِيُّ رحمه الله، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ الْعَتِيقِ بِأَصْبَهَانَ عِنْدَ بَابِ الْمَصَاحِفِ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ قَرَأْتُهُ عَلَيْهِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ إِسْحَاقَ الْوَاعِظُ الْفُرَاوِيُّ، بِقِرَاءَةِ وَالِدِكَ بِكَازَرُونَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُ مِنْهُ، قَالَ: أَخْبَرَكُمْ عَلِيُّ بْنُ الْفَرَجِ الصِّقِلِّيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُ مِنْه، قثا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُ مِنْهُ، ثنا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بِلالٍ الْبَزَّازُ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ، نا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي قَابُوسٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، رحمه الله أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا أَهْلَ الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ أَهْلُ السَّمَاءِ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বরকতময় শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন ইবরাহিম আল-আদামি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), আস্পাহানের প্রাচীন জামে মসজিদের মুসহাফসমূহের দরজার নিকট তাঁর সম্মুখে আমার পাঠের মাধ্যমে; আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন ইসহাক আল-ওয়ায়েজ আল-ফুরাওয়ি, কাযেরুনে আপনার পিতার পাঠের মাধ্যমে; আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বললেন: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আল-ফারাজ আস-সিকিল্লি, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন বিলাল আল-বাযযায, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি শুনেছি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: ‌‌«দয়াশীলদের ওপর পরম করুণাময় দয়া করেন। তোমরা জমিনবাসীর প্রতি দয়া করো, তবে আসমানবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا الرَّئِيسُ أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْحَرِيرِيُّ، رحمه الله، نا الْقَاضِي أَبُو شُجَاعٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الشَّافِعِيُّ، إِمْلاءً فِي مَسْجِدِ بَنِي جَدِيلَةَ بِالْبَصْرَةِ، ثنا أَبُو تَمَّامٍ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، نا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرٍو الْحَافِظُ ، فِي سَنَةِ إِحْدَى وَسَبْعِينَ، وَثَلاثِ مِائَةٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ أَبُو بَكْرٍ الْمَتُّوثِيُّ، ثنا أَبُو حَفْصٍ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الصَّيْرَفِيُّ، نا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْكُوفِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، رحمه الله، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«الْمُؤَذِّنُ يَغْفِرُ اللَّهُ مَدَّ صَوْتِهِ، وَيُصَدِّقُهُ مَنْ سَمِعَهُ مِنْ رَطْبٍ وَيَابِسٍ، وَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ»
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাইস আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আল-হারীরী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট কাযী আবু শুজা আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আল-শাফিঈ বসরার বনী জাদীলা মসজিদে ইমলার (শ্রুতিলিখনের) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু তাম্মাম মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন আমর আল-হাফিজ ৩৭১ হিজরী সনে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমদ বিন ইয়াকুব আবু বকর আল-মাত্তুথী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু হাফস আমর বিন আলী আস-সাইরাফী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, মুয়াজ বিন হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক আল-কুফী থেকে, তিনি আল-বারা বিন আযিব, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুয়াজ্জিনকে আল্লাহ তার কণ্ঠস্বরের বিস্তৃতি পর্যন্ত ক্ষমা করে দেন এবং সজীব ও নির্জীব যা-ই তার আযান শোনে তা তাকে সত্যায়ন করে; আর যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে তার সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করে তার সাথে»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ الْحَرِيرِيِّ ، فِي دِيوَانِ ابْنِ الْخَلِيفَةِ بِالْبَصْرَةِ، ثنا الْقَاضِي أَبُو شُجَاعٍ، إِمْلاءً، ثنا أَبُو تَمَّامٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُوسَى الْمُقْرِئُ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى النَّجِيرَمِيُّ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، نا أَبُو جُرَيْشٍ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى، نا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، بِإِسْنَادٍ يَبْلُغُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ أَرَادَ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ، وَيَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَتُدْرِكَهُ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ مَا يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ وَلْيَكْرَهْ أَنْ يَأْتِيَ إِلَى النَّاسِ مَا يَكْرَهُ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ»
3 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস ইবনুল হারিরি, বসরার ইবনুল খলিফার দিওয়ানে, আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন কাজী আবু শুজা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাম্মাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনু মুসা আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু মুসা আন-নাজিরামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনু আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরাইশ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনু উমর, এমন একটি সনদে যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি চায় যে তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হোক এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, আর এমতাবস্থায় তার মৃত্যু উপস্থিত হোক যে সে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তবে সে যেন মানুষের সাথে তেমন আচরণ করে যা সে নিজের প্রতি করা হোক তা পছন্দ করে, এবং সে যেন মানুষের সাথে তেমন আচরণ করা অপছন্দ করে যা সে নিজের সাথে করা হোক তা অপছন্দ করে।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرٍ الزَّاغُونِيُّ، رحمه الله، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، بِبَغْدَادَ بِبَيْتِ الْحَرَمِ، قَالَ: أَنْبَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ، ثنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُخَلِّصُ، نا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثنا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَنَسٍ، رحمه الله، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرَةٍ فَمَرَّ عَلَى شَجَرَةٍ يَابِسَةِ الْوَرَقِ فَجَعَلَ يَضْرِبُ بِسَوْطِهِ عَلَى الشَّجَرَةِ، فَيَتَسَاقَطُ الْوَرَقُ، فَقَالَ: «إِنَّ‌‌ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ تُسَاقِطْنَ الذُّنُوبَ كَمَا تَسَاقَطَ وَرَقُ هَذِهِ الشَّجَرَةِ»
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন উবাইদিল্লাহ ইবন নাসর আজ-জাগুনি (রাহিমাহুল্লাহ), বাগদাদের বাইতুল হারামে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরিফ আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলি আজ-জায়নাবি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান আল-মুখাল্লিস; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবন হুরাইছ আল-মারওয়াযি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল ইবন মুসা, আ’মাশ থেকে, তিনি আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি শুকনো পাতার একটি গাছের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং নিজের চাবুক দিয়ে গাছটিতে আঘাত করতে লাগলেন, ফলে পাতাগুলো ঝরতে লাগল। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই ’সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদুলিল্লাহ’, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ’আল্লাহু আকবার’ গুনাহসমূহকে সেভাবেই ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এই গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ছে।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الزَّاغُونِيُّ، أنبا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ، ثنا أَبُو طَاهِرٍ الْمُخَلِّصُ، ثنا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، نا يَعْقُوبُ بْنُ الْوَلِيدِ الْمَدَنِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْوَقْتُ الأَوَّلُ مِنَ الصَّلاةِ رِضْوَانُ اللَّهِ، وَالْوَقْتُ الآخِرُ عَفْوُ اللَّهِ»
৫ - ইবনুল যাগূনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আশ-শরীফ আবু নাসর আমাদের জানিয়েছেন, আবু তাহির আল-মুখাল্লিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মানী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ওয়ালীদ আল-মাদানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সালাতের প্রথম ওয়াক্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং শেষ ওয়াক্ত আল্লাহর ক্ষমা»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ بْنِ الْبَطِّيِّ، رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي مَسْجِدِهِ بِدَرْبِ الصَّاغَةِ، مِنْ دَارِ الْخِلافَةِ عَمَّرَهَا اللَّهُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَاصِمٍ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ، سَنَةَ سَبْعٍ وَسَبْعِينَ، وَثَلاثِ مِائَةٍ، ثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا الْقُرَشِيُّ، نا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ عَجْلانَ الْمُهَلَّبِيُّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَسَّامٍ، ثنا صَالِحٌ الْمَدَنِيُّ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رحمه الله قَالَ:‌‌ عُدْتُ شَابًّا مِنَ الأَنْصَارِ فَمَا كَانَ بِأَسْرَع أَنْ مَاتَ فَأَغْمَضْنَاهُ وَمَدَدْنَا عَلَيْهِ الثَّوْبَ، فَقَالَ: بَعْضُنَا لأُمِّهِ احْتَسِبِيهِ، قَالَتْ: قَدْ مَاتَ، قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَتْ: أَحَقٌّ مَا تَقُولُونَ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، فَمَدَّتْ يَدَيْهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَتِ: اللَّهُمَّ إِنِّي آمَنْتُ وَهَاجَرْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا نَزَلَتْ بِي شَدِيدَةٌ دَعَوْتُكَ فَفَرَّجْتَهَا فَأَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ لا تَحْمِلْ عَلَيَّ هَذِهِ الْمُصِيبَةَ الْيَوْمَ فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ فَمَا بَرِحْنَا حَتَّى أَكَلْنَا وَأَكَلَ مَعَنَا
৬ - আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন আহমদ বিন সালমান বিন আল-বাত্তি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) দারুল খিলাফতের ‘দারবুস সাগা’ মহল্লায় অবস্থিত তাঁর মসজিদে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আল্লাহ তা আবাদ রাখুন। তিনি বলেন: আমাকে আবু আল-হাসান আসিম বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আসিম সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আমাদের জানিয়েছেন, আবু আলি আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান তিনশ সাতাত্তর হিজরি সনে আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন আবিদ দুনিয়া আল-কুরাশি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, খালিদ বিন খিদাশ বিন আজলান আল-মুহাল্লাবি এবং ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন বাসসাম আমাদের জানিয়েছেন, সালিহ আল-মাদানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনসারদের একজন যুবককে দেখতে গেলাম, অতঃপর সে অতি দ্রুত মারা গেল। তখন আমরা তার চোখ বন্ধ করে দিলাম এবং তার ওপর কাপড় টেনে দিলাম। তখন আমাদের মধ্যে কেউ একজন তার মাকে বললেন, আপনি (সওয়াবের আশায়) ধৈর্য ধরুন। তিনি বললেন: সে কি মারা গেছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা যা বলছ তা কি সত্য? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আকাশের দিকে তাঁর হাত দুটি প্রসারিত করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি ঈমান এনেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে হিজরত করেছি। যখনই আমার ওপর কোনো বিপদ নেমে এসেছে, আমি আপনার নিকট দোয়া করেছি এবং আপনি তা দূর করে দিয়েছেন। সুতরাং হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনি আজ আমার ওপর এই বিপদ চাপিয়ে দেবেন না। তখন সে তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলল। এরপর আমরা সেখান থেকে প্রস্থান করার পূর্বেই আমরা আহার করলাম এবং সেও আমাদের সাথে আহার করল।
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ بْنُ الْبَطِّيِّ، أنبا عَاصِمٌ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنِ بِشْرَانَ، أنبا أَبُو عَلِيِّ بْنُ صَفْوَانَ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا، نا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ الرَّاوِي، قَالَ: سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عُبَيْدٍ، عَنْ رَوْحِ بْنِ عَطَاءٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رحمه الله، قَالَ: لَمَّا‌‌ مَاتَ ابْنُ خَارِجَةَ تَنَافَسَتِ الأَنْصَارُ فِي غُسْلِهِ حَتَّى كَادَ يَكُونُ بَيْنَهُمْ شَيْءٌ، ثُمَّ اسْتَقَامَ رَأْيُهُمْ عَلَى أَنْ يُغَسِّلَهُ الْغَسَلَةُ الْغَسْلَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ، ثُمَّ يُدْخِلُ مِنْ كُلِّ فَخِذٍ سَيِّدُهَا، فَيَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ صَبَّةً، وَأُدْخِلْتُ أَنَا فِيمَنْ دَخَلَ، فَلَمَّا دَخَلْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ تَكَلَّمَ فَقَالَ: " مَضَتِ اثْنَتَانِ، وَغَيْرُ أَرْبَعٍ، فَأَكَلَ غَنِيُّهُمْ فَقِيرَهُمْ فَانْقَضُّوا فَلا نِظَامَ لَهُمْ ، أَبُو بَكْرٍ لَيِّنٌ رَحِيمٌ بِالْمُؤْمِنِينَ شَدِيدٌ عَلَى الْكُفَّارِ لا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ، وَعُمَرُ لَيِّنٌ رَحِيمٌ شَدِيدٌ عَلَى الْكُفَّارِ لا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ، وَعُثْمَانُ لَيِّنٌ بِالْمُؤْمِنِينَ، وَأَنْتُمْ عَلَى مِنْهَاجِ عُثْمَانَ فَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا، ثُمَّ خَفَتَ فَإِذَا اللِّسَانُ يَتَحَرَّكُ، وَإِذَا الْجَسَدُ مَيِّتٌ
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ ইবনুল বাত্তি, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আসেম, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবনে বিশরান, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী ইবনে সাফওয়ান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবিদ দুনইয়া, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আর-রাবী, তিনি বলেন: আমি হিশাম ইবনে উবাইদকে রাওহ ইবনে আতা আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে আনাস ইবনে মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন ইবনে খারিজা মারা গেলেন, তখন আনসারগণ তাকে গোসল দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেন, এমনকি তাদের মধ্যে প্রায় অপ্রীতিকর কিছু ঘটার উপক্রম হলো। এরপর তাদের মত এই সিদ্ধান্তে স্থির হলো যে, তাকে যারা গোসল দেওয়ার তারা প্রথম দুইবার গোসল করাবেন, এরপর প্রতিটি গোত্র থেকে তাদের নেতারা প্রবেশ করবেন এবং তার ওপর একবার করে পানি ঢালবেন। যারা প্রবেশ করেছিলেন তাদের মধ্যে আমিও অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যখন আমরা তার ওপর পানি ঢালার জন্য প্রবেশ করলাম, তখন তিনি কথা বলে উঠলেন এবং বললেন: "দুটি অতিবাহিত হয়েছে এবং চারটি ব্যতীত; তাদের ধনীরা তাদের দরিদ্রদের গ্রাস করেছে, ফলে তারা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই। আবু বকর ছিলেন কোমল ও মুমিনদের প্রতি দয়ালু, আর কাফেরদের প্রতি কঠোর; আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। উমর ছিলেন কোমল ও দয়ালু এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর; আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনিও কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। আর উসমান মুমিনদের প্রতি কোমল; তোমরা উসমানের মানহাজ বা আদর্শের ওপর রয়েছ, সুতরাং তোমরা শোনো এবং আনুগত্য করো।" এরপর তার শব্দ ক্ষীণ হয়ে এল; দেখা গেল তার জিহ্বা নড়ছে, অথচ দেহটি ছিল মৃত।
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو الْمُبَارَكِ الشِّيرَازِيُّ، نا أَبُو مَسْعُودٍ سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَافِظُ، قِرَاءَةً عَلَيْنَا، بِلَفْظٍ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الأَصْفَهَانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِأَصْفَهَانَ، قَالا: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ الْجُرْجَانِيُّ، إِمْلاءً، ثنا إِبْرَاهِيمُ، نا عُبَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الْمَخْزُومِيُّ الدِّمْيَاطِيُّ، ثنا أَبِي، ثنا سَالِمُ بْنُ مَيْمُونٍ الْخَوَّاصُ، وَكَانَ بِالرَّمْلَةِ عَنْ زَافِرٍ، حَدَّثَنِي الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَمَرَ بِمَعْرُوفٍ فَلْيَكُنْ أَمْرُهُ بِمَعْرُوفٍ»
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুবারক আশ-শিরাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ সুলায়মান বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আল-হাফিয—আমাদের নিকট পাঠের মাধ্যমে ও মৌখিকভাবে, এবং আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-আসফাহানি—তার নিকট আসফাহানে পাঠের মাধ্যমে; তারা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন জাফর আল-জুরজানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি জাফর আল-মাখযুমি আদ-দামইয়াতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিম বিন মাইমুন আল-খাওয়াস—যিনি রামলা নামক স্থানে ছিলেন—যাফির থেকে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুসান্না বিন আস-সাব্বাহ, তিনি আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ দেয়, তার আদেশ প্রদান যেন সৎভাবেই হয়।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو الْمُبَارَكِ، نا أَبُو مَسْعُودٍ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ، قَالا: نا الْجُرْجَانِيُّ، إِمْلاءً، أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَسَنُ، نا سَهْلُ بْنُ عَمَّارٍ الْعَتَكِيُّ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ قَيْسٍ، نا هِلالُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، نا عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ أَبُو مُعَاذٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رحمه الله، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«عُودُوا الْمَرْضَى وَأْمُرُوهُمْ فَلْيَدْعُوا لَكُمْ فَإِنَّ دَعْوَةَ الْمَرِيضِ مُسْتَجَابَةٌ، وَذَنْبَهُ مَغْفُورٌ»
৯ - আমাদের নিকট আবু আল-মুবারক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু মাসউদ এবং আবু আল-হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ই বলেছেন: আল-জুরজানি আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন আম্মার আল-আতাকি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন কায়স, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিলাল বিন আব্দুর রহমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা বিন আবি মাইমুনাহ আবু মুয়ায, তিনি আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখতে যাও এবং তাদেরকে বলো তারা যেন তোমাদের জন্য দুআ করে; কেননা অসুস্থ ব্যক্তির দুআ কবুল করা হয় এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هَارُونَ الأَصْبَهَانِيُّ، يُعْرَفُ بِرَدَا، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ كِتَابِهِ، أنا أَبُو الْفَرَجِ عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الْبُرْجُمِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، نا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَيْصِ، نا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنِ اشْتَاقَ إِلَى الْجَنَّةِ سَارَعَ إِلَى الْخَيْرَاتِ، وَمَنْ أَشْفَقَ مِنَ النَّارِ لَهَى عَنِ الشَّهَوَاتِ وَمَنْ يَرْقُبِ الْمَوْتَ لَهَى عَنِ اللَّذَّاتِ، وَمَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا هَانَتْ عَلَيْهِ الْمُصِيبَاتُ» .

عَالِي مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ ইবনে মুহাম্মাদ, আমাদের অবহিত করেছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হারুন আল-আসবাহানি—যিনি রদা নামে পরিচিত—তাঁর নিকট তাঁর কিতাব থেকে পাঠ করার মাধ্যমে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফারাজ উসমান ইবনে আহমাদ আল-বুরজুমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে হাফস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনুল আইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনুল হাকাম, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ আল-ওয়াসসাফি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সুকাহ থেকে, তিনি আল-হারিস থেকে, তিনি আলী (আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা করে সে নেক কাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়, আর যে ব্যক্তি জাহান্নামকে ভয় করে সে প্রবৃত্তি ও লালসা থেকে বিমুখ থাকে, আর যে ব্যক্তি মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে সে স্বাদ-আহ্লাদ বর্জন করে, এবং যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হয় তার নিকট বিপদ-আপদ তুচ্ছ হয়ে যায়।» ।

আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে সুকাহ-এর সূত্রে বর্ণিত এটি একটি উচ্চ পর্যায়ের সনদ সম্বলিত হাদিস, যা তিনি আল-হারিস ইবনে ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি আলী (রাজিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَتْنَا أُمِّي الرَّشِيدَةُ بِنْتُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْفَقِيهُ، قَالَتْ: حَدَّثَنِي أَبِي أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُؤَمَّلِ بْنِ تَمَّامٍ التَّمِيمِيُّ، إِمْلاءً، نا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُرْجَانِيُّ، قَدِمَ الْبَصْرَةَ، أنا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْفَقِيهُ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ بِلالٍ الْهَمْدَانِيُّ، بِهَمْدَانَ، نا أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَوْسٍ الْمُقْرِئُ، نا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ بُدَيْلِ بْنِ قُرَيْشٍ الْيَامِيُّ، الْقَاضِي سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، نا مُفَضَّلُ بْنُ صَالِحٍ، ثنا سِمَاكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ ، رحمه الله، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার বিদুষী মাতা আর-রাশিদা বিনতু মুহাম্মাদ বিন আলী আল-ফকীহ। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আবু আল-ফজল মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-মুআম্মাল বিন তাম্মাম আত-তামীমী, শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-জুরজানী, যিনি বসরায় আগমন করেছিলেন। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমাদ বিন উবাইদ আল-ফকীহ। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন বিলাল আল-হামদানী, হামদান নামক স্থানে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আওস আল-মুকরি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আহমাদ বিন বুদাইল বিন কুরাইশ আল-ইয়ামী, যিনি ২৫৬ হিজরী সনের বিচারক ছিলেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুফাদ্দাল বিন সালিহ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সিমাক, তিনি আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শ্রবণ করল, অতঃপর তা যেভাবে শ্রবণ করেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিল। কেননা অনেক সময় যার নিকট (হাদিস) পৌঁছে দেওয়া হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী বা সমঝদার হয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْحَسَنِ الْمُقْرِئُ، وَالرَّئِيسُ أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، قَالا: ثنا الْقَاضِي أَبُو شُجَاعٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الأَصْفَهانِيُّ، إِمْلاءً بِالْبَصْرَةِ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ يُوسُفَ بْنِ سُلالَةَ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ حَمْزَةَ، وَابْنُ أَحْمَدَ الصَّابُونِيُّ، قَالا: ثنا أَبُو عَلِيِّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الصَّوَّافُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَارِثِ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ جَدِّي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، ثنا هُشَيْمُ بْنُ عَدِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، رحمه الله، قَالَ:‌‌ كَيْفَ بِكُمْ إِذَا أُلْبِسَتْكُمْ فِتْنَةٌ يَرْبُو فِيهَا الصَّغِيرُ، وَيَهْرَمُ فِيهَا الْكَبِيرُ وَيَتَّخِذُهَا النَّاسُ سُنَّةً فَإِذَا تُرِكَ مِنْهَا شَيْءٌ قَبْلُ تُرِكَ فِي السُّنَّةِ، قُلْنَا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: إِذَا كَثُرَتْ أُمَرَاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ أُمَنَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ قُرَّاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ فُقَهَاؤُكُمْ وَالْتُمِسَتِ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الآخِرَةِ وَتُفُقِّهَ بِغَيْرِ الدِّينِ "
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু আল-মা'আলি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আল-হাসান আল-মুকরি এবং রয়িস আবু আল-মা'আলি মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল রাজ্জাক ইবনে আবি আইয়ুব। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু শুজা আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-আস্ফাহানি, বসরার মজলিসে শ্রুতিলিখন স্বরূপ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে সুলালাহ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে হামজাহ এবং ইবনে আহমাদ আস-সাবূনি। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আস-সাউওয়াফ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান আল-মুকরি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আল-হারিস। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারিম। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম ইবনে আদি, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন তোমাদেরকে এমন এক ফিতনা (বিপর্যয়) আচ্ছন্ন করবে যাতে ছোটরা বড় হবে এবং বৃদ্ধরা জরাগ্রস্ত হবে? আর মানুষ সেটিকে সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করবে। ফলে যখন তার থেকে কোনো কিছু বর্জন করা হবে, তখন বলা হবে যে সুন্নাহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" আমরা বললাম: "হে আবু আব্দুর রহমান! তা কখন ঘটবে?" তিনি বললেন: "যখন তোমাদের নেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং আমানতদারদের সংখ্যা কমে যাবে; তোমাদের ক্বারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং ফকীহদের সংখ্যা কমে যাবে; আখেরাতের আমলের দ্বারা দুনিয়া অন্বেষণ করা হবে এবং দ্বীন ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা হবে।"
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو الْمَعَالِي، وَأَخُوهُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحُسَيْنِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مَعَالِي الْمُقْرِئَانِ، وَالرَّئِيسُ أَبُو الْمَعَالِي بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالُوا: ثنا أَبُو شُجَاعٍ، إِمْلاءً، أَنْبَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ، ثنا أَبُو يَحْيَى كَامِلُ بْنُ طَلْحَةَ الْجَحْدَرِيُّ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ الْقَنَّادِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: كُنْتُ أَحْمِلُ الْمَتَاعَ مِنَ الْبَصْرَةِ إِلَى الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكَانَ يُمَاكِسُنِي فِيهِ لَعَلَّنِي لا أَقُومُ مِنْ عِنْدِهِ حَتَّى يَهَبَ عَامَّتَهُ، قُلْتُ: يَابْنَ رَسُولِ اللَّهِ أَجِيئُكَ بِالْمَتَاعِ مِنَ الْبَصْرَةِ تُمَاكِسُنِي فِيهِ فَلَعَلِّي لا أَقُومُ حَتَّى تَهَبَ عَامَّتَهُ، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي، حَدَّثَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«الْمَغْبُونُ لا مَحْمُودٌ وَلا مَأْجُورٌ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মাআলী এবং তাঁর ভ্রাতা আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হাসান বিন মাআলী—তাঁরা উভয়ই ক্বারী, এবং প্রধান আবুল মাআলী বিন আবি আইয়ুব; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু শুজা শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বাযযার: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ঈসা বিন আলী বিন ঈসা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আল-বাগাভী: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া কামিল বিন তালহা আল-জাহদারী, আবু হাশিম আল-কান্নাদ আল-বাসরী থেকে, তিনি বলেন: আমি বসরা থেকে আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট পণ্যসামগ্রী নিয়ে যেতাম। তিনি আমার সাথে সেগুলোর মূল্য নিয়ে দরাদরি করতেন, ফলে দেখা যেত আমি তাঁর নিকট থেকে বিদায় হওয়ার আগেই তিনি তার অধিকাংশ দান করে দিতেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের বংশধর! আমি বসরা থেকে আপনার নিকট পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসি, আপনি আমার সাথে দরাদরি করেন, অথচ দেখা যায় আমি চলে যাওয়ার আগেই আপনি তার অধিকাংশ দান করে দেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রতারিত ব্যক্তি (বা ব্যবসায়িক লোকসানের শিকার ব্যক্তি) প্রশংসিতও নয় এবং সওয়াবপ্রাপ্তও নয়।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو الْمُبَارَكِ إِمَامُ مَسْجِدِ الْجَامِعِ الْعَتِيقِ بِشِيرَازَ بِهِ ، قثنا أَبُو مَسْعُودٍ سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَافِظُ، بِقِرَاءَتِهِ عَلَيْنَا، فِي جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ خَمْسٍ وَثَمَانِينَ، وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، وَأَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الذَّكْوَانِيُّ، بِقِرَاءَةِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ فِي شُهُورِ سَنَةِ ثَلاثٍ وَثَمَانِينَ، وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، وَأَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُمَيْرٍ الْفَقِيهُ، بِقِرَاءَةِ أَبِي عَلَيْهِ فِي ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالُوا: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبُرْدِيُّ، إِمْلاءً، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ، ثنا أَبُو عُتْبَةَ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الْحِجَازِيُّ، بِحِمْصٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرَ بْنِ أُنَيْسٍ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي يَعْلَى شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، رحمه الله، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنِ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ تَعَالَى»
১৪ - আমাদের নিকট শিরাজের জামে আল-আতিক মসজিদের ইমাম আবু আল-মুবারক এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মাসউদ সুলায়মান বিন ইব্রাহিম আল-হাফিজ চারশত পঁচাশি হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে আমাদের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; এবং আবুল হাসান আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আজ-জাকওয়ানি চারশত তিরাশি হিজরি সালের মাসগুলোতে হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়ারিসের পাঠের মাধ্যমে; এবং আবু নাসর আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন সুমাইর আল-ফকিহ চারশত চুরাশি হিজরি সালের জিলকদ মাসে আমার পিতার নিকট তার পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-বুরদি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট হিমস শহরে আবু উতবা মুহাম্মাদ বিন আল-ফারজ আল-হিজাজি বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন হিময়ার বিন উনাইস বর্ণনা করেছেন; আমার নিকট আবু বকর বিন আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন দামরা বিন হাবিব থেকে; তিনি আবু ইয়ালা শাদ্দাদ বিন আউস (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে; তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে তার প্রবৃত্তির অনুগামী করে এবং আল্লাহর প্রতি (অহেতুক) আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে মহান আল্লাহ।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، ثنا أَبُو مَسْعُودٍ، وَالْحَسَنُ، وَأَبُو نَصْرٍ، ثنا الْبُرْدِيُّ، إِمْلاءً، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَرْحَمَ الطُّوسِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُنِيبٍ الأَبِيوَرْدِيُّ، ثنا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الضَّبِّيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً أَفْضَلُهَا لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ»
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ, আল-হাসান এবং আবু নাসর; তাঁরা বলেন আমাদের নিকট আল-বুরদি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ হাজিব বিন আহমাদ বিন ইয়ারহাম আত-তুসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন মুনীব আল-আবিয়ওয়ার্দি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জারীর বিন আব্দুল হামিদ আদ-দাব্বি বর্ণনা করেছেন, তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', আর তার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা; এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - وحَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْجُرْجَانِيُّ ، بِإِسْنَادِهِ، إِمْلاءً أَنْبَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغْدَادِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُزَيْقٍ الصَّنْعَانِيُّ، ثنا جَرِيرُ بْنُ الْمُسْلِمِ، ثنا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا، قَالَ: حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَلَّتْ ذَاتُ يَدِي، فَقَالَ: «أَيْنَ أَنْتَ مِنْ صَلاةِ الْمَلائِكَةِ وَتَسْبِيحِ الْخَلائِقِ، وَبِهَا يُرْزَقُونَ» ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا تَسْبِيحُ الْخَلائِقِ وَصَلاةُ الْمَلائِكَةِ؟ قَالَ: ‌‌«سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ، اسْتَغْفِرِ اللَّهَ مِائَةَ مَرَّةٍ مَا بَيْنَ طُلُوعِ الْفَجْرِ إِلَى أَنْ تُصَلِّيَ الصُّبْحَ تَأْتِيكَ الدُّنْيَا صَاغِرَةً رَاغِمَةً وَيَخْلُقُ اللَّهُ تَعَالَى مِنْهَا مِنْ كُلِّ كَلِمَةٍ مَلِكًا يُسَبِّحُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَكَ ثَوَابُهُ»
১৬ - এবং আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ আল-জুরজানী তাঁর সনদের মাধ্যমে শ্রুতলিখন হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন রুজাইক আস-সানআনী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর বিন আল-মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মাজীদ বিন আব্দুল আজীজ বিন আবু রাউওয়াদ, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার সহায়-সম্বল কমে গেছে। তখন তিনি বললেন: "আপনি ফেরেশতাদের সালাত এবং সৃষ্টির তাসবীহ হতে কোথায় (বিস্মৃত)? যার অসিলায় তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়।" ইবনে উমর বলেন: আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল, সৃষ্টির তাসবীহ ও ফেরেশতাদের সালাত কী? তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম, আস্তাগফিরুল্লাহ—ফজরের উদয়কাল হতে আপনার ফজরের সালাত আদায় করার মধ্যবর্তী সময়ে একশত বার পাঠ করবেন। এতে দুনিয়া আপনার নিকট লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ হয়ে উপস্থিত হবে এবং মহান আল্লাহ এর প্রতিটি শব্দ থেকে একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন যিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাসবীহ পাঠ করবেন এবং তার সওয়াব আপনার আমলনামায় লেখা হবে।"
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - وَحَدَّثَنَا بِإِسْنَادِهِ الْجُرْجَانِيُّ، إِمْلاءً، ثنا الأَصَمُّ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ بْنِ أَعْيَنَ الْمِصْرِيُّ، ثنا أَبُو ضَمْرَةَ أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ اللَّيْثِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامِ بْنِ خُوَيْلِدٍ، رحمه الله أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَلْيَبْدَأْ أَحَدُكُمْ بِمَنْ يَعُولُ، خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنِ اسْتَغْنَى أَغْنَاهُ اللَّهُ»

وَحَدَّثَنَا الْجُرْجَانِيُّ بِإِسْنَادِهِ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا، نا مَهْدِيُّ بْنُ سَابِقٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ الْجِسْمِيِّ، قَالَ: لَمَّا مَاتَتِ النَّوَّارُ بِنْتُ أَعْيَنَ بْنِ ضُبَيْعَةَ امْرَأَةُ الْفَرَزْدَقِ شَهِدَهَا الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وَكَانَ إِذَا شَهِدَ جَنَازَةً سَأَلُوهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهَا، فَمَنْ لَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ الْحَسَنُ عُيِّرَ بِذَلِكَ، فَصَلَّى عَلَيْهَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ، فَلَمَّا سُوِّيَ عَلَيْهَا التُّرَابُ وَثَبَ الْفَرَزْدَقُ فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ مَا تَقُولُ النَّاسُ؟ قَالَ: وَمَا يَقُولُ النَّاسُ؟ قَالَ: يَقُولُونَ: اجْتَمَعَ فِي هَذِهِ الْجَنَازَةِ خَيْرُ النَّاسِ وَشَرُّ النَّاسِ يَعْنُونَكَ وَيَعْنُونَنِي، فَقَالَ الْحَسَنُ: مَا أَنَا بِخَيْرِهِمْ وَمَا أَنْتَ بِشَرِّهِمْ وَلَكِنْ مَا أَعْدَدْتَ لِهَذَا الْيَوْمِ؟ قَالَ: أَعْدَدْتُ شَهَادَةَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، ثُمَّ أَنْشَأَ يَقُولُ:

أَخَافُ وَرَاءَ الْقَبْرِ إِنْ لَمْ يُعَافِنِي … أَشَدَّ مِنَ الْقَبْرِ الْتِهَابًا وَأَضْيَقَا

إِذَا جَاءَنِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَائِدٌ عَنِيفٌ … وَسَوَّاقٌ يَسُوقُ الْفَرَزْدَقَا

لَقَدْ خَابَ مِنْ أَوْلادِ آدَمَ مَنْ مَشَى … إِلَى النَّارِ مَغْلُولَ الْقِلادَةِ أَزْرَقَا

يُسَاقُ إِلَى نَارِ الْجَحِيمِ مُسَرْبَلا … سَرَابِيلَ قَطْرَانٍ لِبَاسًا مُحَرَّقَا

إِذَا أُشْرِبُوا فِيهَا الصَّدِيدَ رَأَيْتَهُمْ … يَذُوبُونَ مِنْ حَرِّ الصَّدِيدِ تَمَزُّقَا

قَالَ: فَبَكَى الْحَسَنُ، ثُمَّ الْتَزَمَ الْفَرَزْدَقَ وَقَالَ لَهُ: لَقْد كُنْتَ مِنْ أَبْغَضِ النَّاسِ إِلَيَّ وَإِنَّكَ الْيَوْمَ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ
১৭ - আল-জুরজানি তাঁর সনদে ইমলা হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আসাম্ম আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকাম ইবনে আয়ান আল-মিসরি আমাদের বলেছেন, আবু দামরা আনাস ইবনে ইয়াদ আল-লাইসি আমাদের বলেছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাকিম ইবনে হিজাম ইবনে খুওয়াইলিদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম। তোমাদের কেউ যেন তাকে দিয়ে শুরু করে যার ভরণপোষণের দায়িত্ব সে বহন করে। সর্বোত্তম দান (সদকা) হলো যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়। আর যে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে অমুখাপেক্ষিতা চায়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করে দেন।»

আল-জুরজানি তাঁর সনদে আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আমাদের বলেছেন, মাহদী ইবনে সাবিক আমাদের বলেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্বাস আল-জিসমি থেকে, তিনি বলেন: যখন ফারাযদাকের স্ত্রী আন-নাওয়ার বিনতে আয়ান ইবনে দুবাইআহ মারা গেলেন, হাসান আল-বাসরি তাঁর জানাজায় উপস্থিত হলেন। তিনি কোনো জানাজায় উপস্থিত হলে লোকেরা তাঁকে জানাজার নামাজ পড়াতে অনুরোধ করত। যার জানাজা হাসান পড়াতেন না, তাকে তা নিয়ে তিরস্কার করা হতো। ফলে হাসান ইবনে আবিল হাসান আল-বাসরি জানাজার নামাজ পড়ালেন। যখন কবরের মাটি সমান করা হলো, ফারাযদাক দাঁড়িয়ে বললেন: হে আবু সাঈদ, লোকেরা কী বলছে? তিনি বললেন: লোকেরা কী বলছে? ফারাযদাক বললেন: তারা বলছে, এই জানাজায় মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম এবং নিকৃষ্টতম ব্যক্তি একত্রিত হয়েছে—তারা আপনাকে এবং আমাকে বোঝাচ্ছে। তখন হাসান বললেন: আমি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই এবং তুমিও তাদের মধ্যে নিকৃষ্ট নও; তবে তুমি এই দিনের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? তিনি বললেন: আমি 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' এই সাক্ষ্য প্রস্তুত করেছি। এরপর তিনি আবৃত্তি করলেন:

আমি কবরের পরবর্তী বিষয়কে ভয় করি যদি তিনি আমাকে ক্ষমা না করেন … যা কবরের চেয়েও প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও অধিক সংকীর্ণ।

যখন কিয়ামতের দিন আমার নিকট একজন কঠোর চালক আসবে … এবং একজন তাড়নাকারী যে ফারাযদাককে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

আদম সন্তানদের মধ্যে সেই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে হেঁটে গেছে … আগুনের দিকে, গলায় শিকল পরিহিত এবং নীলবর্ণ অবস্থায়।

তাকে জাহান্নামের আগুনের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে আলখেল্লা পরিহিত অবস্থায় … আলকাতরার আলখেল্লা যা দহনকারী পোশাক।

যখন সেখানে তাদের পুঁজ পান করানো হবে, তুমি তাদের দেখবে … পুঁজের উত্তাপে তারা গলে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন: এতে হাসান কেঁদে ফেললেন, তারপর ফারাযদাককে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাকে বললেন: তুমি ছিলে আমার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয়, আর আজ তুমি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছ।
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو السَّعَادَاتِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقَزَّازُ، وَالْكَاتِبَةُ شُهْدَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الدِّينَوَرِيِّ، بِقِرَاءَةِ أَبِي عَلِيٍّ الْمَالِقِيِّ عَلَى كُلٍّ مِنْهُمَا عَلَى جَدِّهِ، قَالا: أَنْبَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الرَّبَعِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، ثنا أَبُو الْحَسَنُ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ، إِمْلاءً بَعْدَ الصَّلاةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لَيْلَةَ عَشَرَةٍ خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ سَنَةِ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ وَهُوَ أَوَّلُ مَجْلِسٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أنبا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْوَاسِطِيِّ، ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، رحمه الله، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«سَاعَتَانِ يَفْتَحُ اللَّهُ فِيهَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ قَلَّ مَا تُرَدُّ عَلَى دَاعٍ دَعْوَتُهُ عِنْدَ حُضُورِ النِّدَاءِ، وَالصَّفِّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل»
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আস-সাআদাত নাসরুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কাযযায এবং লেখিকা শুহদাহ বিনতু আহমাদ বিন উমর আদ-দিনাওয়ারী; আবু আলী আল-মালিকি তাঁদের প্রত্যেকের সামনে তাঁদের দাদার সূত্রে পাঠ করার মাধ্যমে। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-রাবাঈ তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ আল-বাযযায তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আল-বাখতারী আল-রাযযায; ৩৩৭ হিজরী সালের রমজান মাসের দশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন সালাতের পর শ্রুতলিখন (ইমলা) করানোর মাধ্যমে—এবং এটিই ছিল তাঁর মজলিসে আমার শোনা প্রথম হাদীস। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আল-ওয়াসিতী। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক বিন আনাস, আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল বিন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এমন দুটি সময় রয়েছে যখন আল্লাহ আসমানের দরজাগুলো খুলে দেন, তখন আহ্বানকারীর দুআ খুব কমই ফিরিয়ে দেওয়া হয়: আযানের সময় এবং যুদ্ধের সারিতে দাঁড়ানোর সময় আল্লাহর মহান ও পরাক্রমশালী পথে»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - أَخْبَرَنَا نَصْرُ اللَّهِ، وَشُهْدَةُ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الرَّبَعِيُّ، قَالَ: أَنْبَا ابْنُ مَخْلَدٍ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ التَّمِيمِيُّ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، رحمه الله، أَنَّ أَبَاهُ نَحَلَهُ نِحْلا، فَقَالَتْ أُمُّهُ: أَشْهِدْ عَلَى مَا نَحَلْتَ ابْنِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: ‌‌«أَكُلُّ وَلَدِكَ أَعْطَيْتَهُمْ مِثْلَ مَا أَعْطَيْتَ ذَا؟» .

قَالَ: لا ، فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَشْهَدَ لَهُ
১৯ - নাসরুল্লাহ এবং শুহদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আর-রাবায়ি, তিনি বলেন: ইবন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবন আব্দুল জাব্বার আত-তামিমি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নুমান ইবন বাশির (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে একটি উপহার প্রদান করলেন। তখন তাঁর মা বললেন: আপনি আমার ছেলেকে যা দান করেছেন তার ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সাক্ষী রাখুন। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন: «তুমি কি তোমার প্রতিটি সন্তানকে এর অনুরূপ দান করেছ?»।

তিনি বললেন: না। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য সাক্ষী হতে অপছন্দ করলেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - وَحَدَّثَنَا بِإِسْنَادِهِ أَبُو جَعْفَرٍ الْبَزَّارُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمُنَادَى، ثنا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رحمه الله «أَنَّ أَهْلَ مَكَّةَ سَأَلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرِيَهُمْ آيَةً،‌‌ فَأَرَاهُمُ انْشِقَاقَ الْقَمَرِ مَرَّتَيْنِ»
২০ - এবং আবু জাফর আল-বাজ্জার আমাদের নিকট তার সনদে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন উবায়দুল্লাহ আল-মুনাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাইবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, «মক্কাবাসীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করেছিলেন যেন তিনি তাদের কোনো নিদর্শন দেখান, অতঃপর তিনি তাদের দুই বার চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার নিদর্শন দেখালেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - وَحَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْبَزَّارُ بِإِسْنَادِهِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْخَلِيلِ الْبُرْجُلانِيُّ، ثنا الْوَاقِدِيُّ، ثنا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ هِلالِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ لَجُوجٌ أَحْلِفُ بِالْيَمِينِ فَأَنْدَمُ عَلَيْهَا فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَمَا الْمَخْرَجُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ»
২১ - এবং আবু জাফর আল-বাজ্জার তাঁর সনদের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনুল খলীল আল-বুরজুলানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-ওয়াকিদি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উসামা বিন যায়েদ বিন আসলাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি হিলাল বিন উসামা থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে, আর তিনি মুয়াবিয়া বিন আল-হাকাম আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন একগুঁয়ে ব্যক্তি, আমি কোনো বিষয়ে শপথ করি এবং পরে সেজন্য অনুতপ্ত হই, অতঃপর অন্যটিকে তার চেয়ে উত্তম দেখতে পাই। এখন এর থেকে নিষ্কৃতির উপায় কী? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যখন তুমি কোনো শপথ করো এবং অন্যটিকে তার চেয়ে উত্তম মনে করো, তখন সেই উত্তম কাজটিই করো এবং কাফফারা আদায় করো তোমার শপথের।”
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَيْضَاوِيُّ، بِقِرَاءَةِ الشَّرِيفِ أَبِي الْحَسَنِ الزَّيْنَبِيِّ، عَلَيْهِ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ أَحْمَدَ الصَّيْرَفِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَيَّاطُ، وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْمَلْطِيُّ السَّرَّاجُ، قَالا: أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ دُوَسْتَ الْعَلافُ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَرْذَعِيُّ، نا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا الْقُرَشِيُّ ، نا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ ، نا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي شَيْبَانَ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِنَّ‌‌ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ مُؤَازَرَةً فِي اللَّهِ يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى: «طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَتَبَوَّأْتَ فِي الْجَنَّةِ نُزُلا»
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বায়দাভী, শারিফ আবু আল-হাসান আল-যায়নাবীর পাঠের মাধ্যমে তাঁর নিকট; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-খাইয়াত এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-মালতি আস-সাররাজ; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দুস্ত আল-আল্লাফ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান ইবনে ইবরাহিম আল-বারযাঈ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দ ইবনে আবিদ দুনিয়া আল-কুরাশী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে হারব; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুসা; হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে; তিনি আবু শায়বান থেকে; তিনি উসমান ইবনে আবি সাওদাহ থেকে; তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো মুসলিম যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: «তুমি উত্তম হয়েছ, তোমার পথচলা উত্তম হয়েছে এবং তুমি জান্নাতে তোমার বসবাসের স্থান প্রস্তুত করে নিয়েছ»।"
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا بِإِسْنَادِهِ، حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ سُفْيَانَ الْعَطَّارُ الْبَصْرِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ، نا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«رَأْسُ الْعَقْلِ بَعْدَ الإِيمَانِ التَّوَدُّدُ إِلَى النَّاسِ»
২৩ - এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট ওয়ালীদ ইবনে সুফিয়ান আল-আত্তার আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আমর আল-হানাফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের পর বুদ্ধিমত্তার মূল নির্যাস হলো মানুষের প্রতি হৃদ্যতা ও ভালোবাসা পোষণ করা»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - وَحَدَّثَنَا بِإِسْنَادِهِ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، نا الْقَاسِمِ بْنُ غُصْنٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«زُرْ غِبًّا تَزْدَدْ حُبًّا»

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْخَيَّاطُ، نا أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ، عَنْ
أَبِي عَوَانَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عُمَيْرٍ يُنْشِدُ:

اسْتَبْقِ وُدَّكَ لِلصَّدِيقِ وَلا تَكُنْ … قَتَبًا يَعَضُّ بِغَارِبٍ مِلْحَاحَا

وَاهْجُرْهُمُ هَجْرَ الصَّدِيقِ صَدِيقَهُ … فَمَتَى تَلاقَيْتُمْ عَلَيْكَ شِحَاحَا.

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، قَالَ: أَنْشَدَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ لِبَعْضِ الشُّعَرَاءِ:

زُرْ إِنْ أَرَدْتَ الْوَصْلَ غِبًّا … تَزْدَدْ إِلَى الإِخْوَانِ حُبَّا

لا تَجْعَلَنَّ أَخًا وَإِنْ … مَنَحَ الْوِدَادَ عَلَيْكَ دَبَّا

فَيَضِيقُ عَنْكَ فِنَاؤُهُ … سَأَمًا وَكَانَ عَلَيْكَ رَحْبَا

لا تَأْلَفَنَّ فِنَاءَ مَنْ … أَحْبَتْتَهُ فَتَصِيرَ كَلْبَا

يَحْمِي وَكَانَ ثَوَابُهُ … مِنْ أَهْلِهِ جُوعًا وَضَرْبَا

وَابْعُدْ بِنَفْسِكَ عَنْ أَخٍ … تَزْدَدْ بِبُعْدٍ مِنْهُ قُرْبَا

.
২৪ - ইবনে আবিদ দুনইয়া তাঁর সনদের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম বিন গুসন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি নুমান বিন সাদ থেকে, তিনি আলী বিন হাম্মাম থেকে, তিনি আবু কাবিল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করো, তবেই ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে»

ইবনে আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-খাইয়াত আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উবায়দা আল-হাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
আবু আওয়ানা থেকে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল মালিক বিন উমাইরকে আবৃত্তি করতে শুনেছি:

তোমার বন্ধুর জন্য ভালোবাসা অবশিষ্ট রাখো এবং হয়ে যেও না … এমন এক পিঠের জিন যা ঘাড়ের অগ্রভাগে অনবরত দংশন করে।

আর তাদের থেকে এমনভাবে দূরে থাকো যেমন একজন বন্ধু তার বন্ধুর থেকে থাকে … তবেই যখনই তোমাদের দেখা হবে, তারা তোমার প্রতি আগ্রহী থাকবে।

ইবনে আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন আব্দুর রহমান আমার নিকট জনৈক কবির কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

যদি তুমি সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাও তবে মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করো … এতে ভাইদের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।

কোনো ভাইকে তোমার জন্য বোঝা বানিয়ে ফেলো না, যদিও সে … তোমার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে।

নতুবা বিরক্তির কারণে তার আঙিনা তোমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যাবে … অথচ তা তোমার জন্য প্রশস্ত ছিল।

তুমি যাকে ভালোবাসো তার আঙিনায় পড়ে থেকো না … নতুবা তুমি কুকুরের মতো হয়ে যাবে।

যে পাহারা দেয় কিন্তু তার প্রতিদান হয় … তার মালিকদের পক্ষ থেকে ক্ষুধা ও প্রহার।

আর ভাইয়ের থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখো … এই দূরত্বের মাধ্যমেই তুমি তার অধিক নিকটবর্তী হবে।

.
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُورِ الْبَزَّارُ، وَأَبُو السَّعَادَاتِ ظَافِرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ خَلَفٍ الْحَرِيُّ، وَأَبُو الْقَاسِمِ مُقْبِلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَكْرَةَ بْنِ الصَّدْرِ كُلٌّ مِنْهُمْ عَلَى جَدِّهِ، قَالُوا: أنبا أَبُو الْمُظَفَّرِ الْحَسَنُ بْنُ سَوْسَنَ التَّمَّارُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، نا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحُرْفِيُّ السِّمْسَارُ، إِمْلاءً، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ بِشْرٍ السَّقَطِيُّ، نا هَارُونُ بْنُ مُسْلِمٍ الْحِنَّائِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا: يَابْنَ رَسُولِ اللَّهِ، حَدِّثْنِي بِحَدِيثٍ سَمِعْتَهُ مِنْ جَدِّكَ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُنَاقِلْه الرِّجَالُ يَنْسَى بَعْضَهُ وَيَحْفَظُ بَعْضَهُ، قَالَ: كُنْتُ أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ سِنًّا، وَلَكِنْ سَمِعْتُ جَدِّي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«لا تَسُبُّوا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَإِنَّهُمَا سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ، عَدَا النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ، وَلا تَسُبُّوا الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ فَإِنَّهُمَا سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَلا تَسُبُّوا عَلِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ سَبَّ عَلِيًّا فَقَدْ سَبَّنِي وَمَنْ سَبَّنِي فَقَدْ سَبَّ اللَّهَ عز وجل وَمَنْ سَبَّ اللَّهَ عز وجل عَذَّبَهُ»
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুন নাকূর আল-বাযযার, এবং আবুল সাআদাত যাফির ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে খালাফ আল-হাররি, এবং আবুল কাসিম মুকবিল ইবনে আহমদ ইবনে বাকরা ইবনুস সাদর—তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের দাদার সূত্রে। তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুযাফফর আল-হাসান ইবনে সাওসান আত-তাম্মার, তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। আমাদের নিকট শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুরফি আস-সিমসার। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে বিশর আস-সাকাতি। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হারুন ইবনে মুসলিম আল-হিন্নাঈ, তিনি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি হাসান ইবনে আলীকে (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান! আমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন যা আপনি আপনার দাদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সরাসরি শুনেছেন, যা বর্ণনাকারীদের হাতবদলে এমন হয়ে যায়নি যে কেউ কিছু অংশ ভুলে গেছে আর কেউ কিছু মনে রেখেছে। তিনি বললেন: তখন আমার বয়স তার চেয়েও কম ছিল, তবে আমি আমার দাদা আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: «তোমরা আবু বকর ও উমরকে গালি দিও না; কেননা তাঁরা নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত জান্নাতবাসী প্রৌঢ়দের সর্দার। আর তোমরা হাসান ও হুসাইনকে গালি দিও না; কেননা তাঁরা জান্নাতবাসী যুবকদের সর্দার। আর তোমরা আলীকে গালি দিও না; কেননা যে আলীকে গালি দিল সে আমাকেই গালি দিল, আর যে আমাকে গালি দিল সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে গালি দিল, আর যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে গালি দিল, তিনি তাকে শাস্তি প্রদান করবেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا الْخَرَقِيُّ بِإِسْنَادِهِ، ثنا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الدِّهْقَانُ، نا أَبُو يَحْيَى عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ الدَّيْرَعاقُولِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، نا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ زَيْدٍ ، يَعْنِي ابْنَ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ، ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ عز وجل لِيُؤَدِّيَ فِيهِ فَرِيضَةَ اللَّهِ عز وجل عَلَيْهِ فَخُطْوَتَاهُ أَحَدُهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً»
২৬ - আল-খারাকী তাঁর সনদের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আহমাদ হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আদ-দিহকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া আব্দুল কারীম ইবনুল হাইসাম আদ-দাইরাআকুলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর জায়েদ থেকে—অর্থাৎ ইবনে আবী উনায়সা—তিনি আদী ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু হাযিম আল-আশজাঈ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ঘরের দিকে হেঁটে যায় তার ওপর মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অর্পিত কোনো ফরয ইবাদত আদায় করার জন্য, তবে তার পদক্ষেপ দুটির একটি পাপ মোচন করে এবং অন্যটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - وَحَدَّثَنَا بِإِسْنَادِهِ الْخَرَقِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، نا أَبُو إِسْمَاعِيلَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نا أَبُو صَالِحٍ، يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ نُوَاسِ بْنِ سَمْعَانَ الأَنْصَارِيِّ، رحمه الله قَالَ: أَقَمْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، سَنَةً مَا يَمْنَعُنِي مِنَ الْهِجْرَةِ إِلا الْمَسْأَلَةُ، فَإِنَّ أَحَدَنَا إِذَا هَاجَرَ لَمْ يَسْأَلْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ، قَالَ: فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْبِرِّ وَالإِثْمِ؟ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ، وَالإِثْمُ مَا حَاكَ فِي صَدْرِكَ، وَكَرِهْتَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسَ»
২৭ - এবং আল-খারাকি তাঁর সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসমাঈল মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালিহ—অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নুওয়াস ইবনে সামআন আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক বছর অবস্থান করেছি। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিভিন্ন বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করার আকাঙ্ক্ষাই আমাকে হিজরত করা থেকে বিরত রেখেছিল; কেননা আমাদের কেউ যখন হিজরত করত, তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত না। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাঁকে নেকি ও গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সচ্চরিত্রই হলো নেকি, আর গুনাহ হলো যা তোমার অন্তরে খটকা সৃষ্টি করে এবং মানুষ তা জেনে ফেলুক—এটা তুমি অপছন্দ করো।»
(খণ্ড: ১) জুযউল আবদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - وَحَدَّثَنَا الْخَرَقِيُّ، إِمْلاءً ، نا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، نا أَبُو بَكْرٍ ، وَابْنُ نُمَيْرٍ، قَالا: نا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ خَالِدٍ الْحِمْصِيِّ، وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ: الْحِمْيَرِيِّ، عَنِ ابْنِ الدَّيْلَمِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«لَوْ أَنَّ اللَّهَ عز وجل عَذَّبَ أَهْلَ السَّمَوَاتِ، وَأَهْلَ الأَرْضِ لَعَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ، وَلَوْ رَحِمَهُمْ كَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ، وَلَوْ كَانَ لَكَ جَبَلُ أُحُدٍ ذَهَبًا أَوْ مِثْلُ جَبَلِ أُحُدٍ ذَهَبًا أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، وَتَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَمَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ فَإِنْ مِتَّ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ دَخَلْتَ النَّارَ»
২৮ - এবং আমাদের নিকট আল-খারাকী শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর এবং ইবন নুমাইর বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক বিন সুলাইমান আর-রাজি বর্ণনা করেছেন আবু সিনান থেকে, তিনি ওয়াহব বিন খালিদ আল-হিমসি থেকে—আর ইবন নুমাইর বলেছেন: আল-হিময়ারি—তিনি ইবনুদ দাইলামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যাইদ বিন সাবিতকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যদি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি প্রদান করতেন, তবে তিনি তাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম ছাড়াই তা করতেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া করতেন, তবে তাঁর দয়া তাদের জন্য তাদের আমলসমূহের চেয়ে অনেক উত্তম হতো। আর তোমার কাছে যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ সোনা থাকে অথবা উহুদ পাহাড়ের মতো সোনা থাকে এবং তুমি তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তাকদীরের প্রতি ঈমান আনবে, আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে তা কবুল করবেন না। আর তুমি জেনে রেখো, তোমার নিকট যা পৌঁছেছে তা তোমাকে ভুল করে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমার নিকট পৌঁছায়নি তা তোমার কাছে পৌঁছানোর ছিল না। যদি তুমি এ বিশ্বাস ব্যতিরেকে মৃত্যুবরণ করো, তবে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।»