(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من سماعات محمد بن عبد الرحيم المقدسي (ابن الكمال الحنبلي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: المنتقى من سماعات محمد بن عبد الرحيم المقدسي
المؤلف: محمد بن عبد الرحيم بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي شمس الدين المعروف بابن الكمال الحنبلي (ت 688هـ)
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 27
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহিম আল-মাকদিসির শ্রুত বর্ণনা হতে নির্বাচিত অংশ (ইবনুল কামাল আল-হাম্বলি)
বিভাগ: হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহিম আল-মাকদিসির শ্রুত বর্ণনা হতে নির্বাচিত অংশ
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহিম ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মাকদিসি শামসুদ্দিন, যিনি ইবনুল কামাল আল-হাম্বলি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৮৮ হিজরি)
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ الثَّامِنُ وَالْعِشْرُونَ مِنَ الْمُنْتَقَى مِنْ سَمَاعَاتِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيِّ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ وَلِجَمِيعِ الْمُسْلِمِينَ.بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا
মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মাকদিসীর শ্রবণকৃত বিষয়াবলির সংকলন 'আল-মুনতাকা'-এর আটাশতম খণ্ড। আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - 1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ ضِيَاءُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، أَخْبَرَنَا أَنَّ أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ الصَّيْدَلانِيَّ ، أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَدَّادُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْكِسَائِيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي قُرَيْشٍ ، نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ الضُّبَعِيُّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ رَبُّكُمْ تَعَالَى: " أَعْدَدْتُ لِعِبَادِيَ الصَّالِحِينَ مَا لا عَيْنٌ رَأَتْ ، وَلا أُذُنٌ سَمِعَتْ ، وَلا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ ، اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17]
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলিম, হাফিজ জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মাকদিসি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাইদালানি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন; আহমদ বিন আলী বিন আল-হাসান বিন আহমদ আল-হাদ্দাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কিসায়ি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি কুরাইশ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আমির আদ-দুবায়ি; মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলকামা থেকে বর্ণিত; আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত; আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মহান প্রতিপালক বলেছেন: 'আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে তার কল্পনাও আসেনি।' তোমরা চাইলে পাঠ করো: {কেউই জানে না তাদের জন্য তাদের নয়ন-প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের আমলের প্রতিদানস্বরূপ} [আস-সাজদাহ: ১৭]"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَلَمَوْضِعُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ} [آل عمران: 185]
২ - জান্নাতে তোমাদের কারো একটি চাবুক রাখার জায়গা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারো: {অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরানো হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, সে অবশ্যই সফল হয়েছে।} [আলে ইমরান: ১৮৫]
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ فَمَا تَنْقَطِعُ ، اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَظِلٍّ مَمْدُودٍ} [الواقعة: 30] "
৩ - নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে যার ছায়ায় একজন আরোহী একশত বছর পর্যন্ত চলতে থাকবে, তবুও তা শেষ হবে না। তোমরা চাইলে পাঠ করো: {এবং দীর্ঘস্থায়ী ছায়া} [আল-ওয়াকিআহ: ৩০]
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكُوفِيُّ ، أنبا الْمِنْجَابُ ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمحَارِبِيُّ ، ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ الرَّبَذِيُّ ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَلا أُعَلِّمُكُمْ مَا عَلَّمَ نُوحٌ ابْنَهُ إِنَّ نُوحًا قَالَ لابْنِهِ: يَا بُنَيَّ آمُرُكَ أَنْ تَقُولَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، فَإِنَّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ لَوْ كَانَتَا حَلْقَةً لَفَصَمَتْهَا....وَضَعَهَا فِي كِفَّةٍ لَوَزَنَتْهَا ، وَآمُرُكَ أَنْ تَقُولَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، فَإِنَّهَا صَلاةُ الْخَلْقِ وَبِهَا يُرْزَقُ الْخَلْقُ ، وَأَنْهَاكَ عَنِ الشِّرْكِ بِاللَّهِ فَإِنَّهُ مَنْ يُشْرِكُ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ ، وَأَنْهَاكَ عَنِ الْكِبْرِ فَإِنَّ أَحَدًا لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ ، قَالَ: وَقَالَ مُعَاذٌ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَمِنَ الْكِبْرِ أَنْ يَكُونَ لأَحَدِنَا ثِيَابٌ يَلْبَسُهَا أَوِ الدَّابَّةُ يَرْكَبُهَا أَوِ الطَّعَامُ يَجْمَعُ عَلَيْهِ أَصْحَابَهُ؟ قَالَ: «لا وَلَكِنَّ الْكِبْرَ أَنْ يُسَفَّهَ الْحَقُّ وَيُغْمَصَ الْمُؤْمِنُ ، وَسَأُنَبِّئُكُمْ بِخِلالٍ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَلَيْسَ بِمُتَكَبِّرٍ؛ اعْتِقَالُ الشَّاةِ ، وَلُبْسُ الصُّوفِ ، وَرُكُوبُ الْحِمَارِ، وَمُجَالَسَةُ فُقَرَاءِ الْمُؤْمِنِينَ ، وَأَنْ يَأْكُلَ أَحَدُكُمْ مَعَ عِيَالِهِ»
৪ - আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-কুফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মিনজাব আমাদের জানিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মূসা ইবনে উবায়দাহ আর-রাবাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি কি তোমাদের তা শিখিয়ে দেব না যা নূহ (আ.) তাঁর পুত্রকে শিখিয়েছিলেন? নিশ্চয়ই নূহ (আ.) তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: হে প্রিয় বৎস! আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি যেন তুমি বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশালী। কেননা আসমান ও যমীন যদি একটি বলয় হতো, তবে এই কালিমা তা চূর্ণ করে দিত...যদি একে পাল্লায় রাখা হতো, তবে এটিই ভারী হতো। আর আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি যেন তুমি বলো: আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর; কেননা এটি সৃষ্টির ইবাদত এবং এর মাধ্যমেই সৃষ্টিজগতকে রিযিক দেওয়া হয়। আর আমি তোমাকে আল্লাহর সাথে শিরক করা থেকে নিষেধ করছি, কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। আর আমি তোমাকে অহংকার থেকে নিষেধ করছি, কেননা যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তিনি বলেন: মুআয (রাযি.) বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আমাদের কারো ভালো পোশাক পরা, আরোহণের জন্য বাহন থাকা কিংবা খাবারের আয়োজন করে সাথীদের একত্র করা কি অহংকারের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: «না, বরং অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মুমিনকে তুচ্ছ করা। অচিরেই আমি তোমাদের এমন কিছু স্বভাবের কথা জানাব যা কারো মাঝে থাকলে সে অহংকারী নয়; ছাগল বাঁধা, পশমের কাপড় পরা, গাধার পিঠে চড়া, দরিদ্র মুমিনদের সাথে উঠাবসা করা এবং তোমাদের কারো নিজ পরিবারের সাথে আহার করা।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْقُرَشِيُّ ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ ، ثنا شُعْبَةُ ، عَنْ أَبَانِ بْنِ تَغْلِبَ ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ عَلْقَمَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ ، وَلا يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ»
৫ - আবু খালিদ আব্দুল আজিজ ইবন মুআবিয়াহ আল-কুরাশি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবান ইবন তাগলিব থেকে, তিনি ফুদাইল ইবন আমর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এবং যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُطَرِّفٍ ، ثنا الْحَوْضِيُّ.............، عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ، عَنْ هَذِهِ الآيَةِ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ} [السجدة: 16] ، قَالَ: «كَانَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلُّونَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِهِ الآيَةَ»
৬ - ইয়াহইয়া ইবনে মুতাররিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাওদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... মালিক ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যাসমূহ হতে পৃথক থাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬], তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোক মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতেন, তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَلِيٍّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ ، ثنا جَرِيرٌ، يَعْنِي: ابْنَ أَيُّوبَ الْبَجَلِيَّ ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ، حَدَّثَهُ قَالَ: ثَلاثٌ حَفِظْتُهُنَّ مِنْ خَلِيلِي أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم نَبِيِّ التَّوْبَةِ ، الْوِتْرُ قَبْلَ النَّوْمِ ، وَرَكْعَتَا الضُّحَى فِي السَّفَرِ وَالْحَضَرِ ، وَصَوْمُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الشَّهْرِ وَهُوَ صَوْمُ الدَّهْرِ "
৭ - হিশাম ইবনে আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জারীর—অর্থাৎ ইবনে আইয়ুব আল-বাজালী—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: "তিনটি বিষয় আমি আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি তাওবার নবী—তাঁর থেকে মুখস্থ করেছি: ঘুমানোর আগে বিতর সালাত আদায় করা, সফর ও বাড়িতে অবস্থানকালীন উভয় অবস্থায় চাশতের (দুহা) দুই রাকাত সালাত আদায় করা এবং প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করা; আর এটি হলো সারা বছর সিয়াম পালনের সমতুল্য।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ ، أنبا زَائِدَةُ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ خَافَ مِنْكُمْ أَلا يَسْتَيْقِظَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ ، ثُمَّ لِيَرْقُدْ ، وَمَنْ طَمِعَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَيْقِظَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، فَإِنَّ قِرَاءَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَحْضُورَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ»
৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নুমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন রাজা', তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়িদাহ, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, সে যেন রাতের শুরুতেই বিতর পড়ে নেয়, অতঃপর ঘুমিয়ে পড়ে। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার আশা রাখে, সে যেন শেষ রাতেই বিতর আদায় করে। কেননা শেষ রাতের তিলাওয়াত ফেরেশতাদের উপস্থিতির সময়, আর এটিই অধিক উত্তম।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ ، ثنا عِكْرِمَةُ ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مَرْثَدٍ ، عَنْ أَبِيهِ يَرْفَعُهُ ، ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: لا أَعْلَمُهُ إِلا رَفَعَهُ ، «أَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلْوِكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ ، وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ ، وَتَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ ، وَهَدْيُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الْفَالَةِ لَكَ صَدَقَةٌ» ، لَعَلَّهُ الْفَلاةُ
9 - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আন-নুমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন রাজা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইকরিমা বর্ণনা করেছেন আবু জুমায়িল থেকে, তিনি মালিক বিন মারসাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হাদীসটিকে মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এরপর বললেন: আমি এটিকে মারফু ব্যতীত অন্য কিছু হিসেবে জানি না; "তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতিতে (পানি) ঢেলে দেওয়া একটি সদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে তোমার নিষেধ করা একটি সদকা, তোমার ভাইয়ের চেহারার সামনে তোমার মুচকি হাসা একটি সদকা এবং পথহীন বিজন ভূমিতে কোনো ব্যক্তিকে তোমার পথ দেখানো তোমার জন্য সদকা স্বরূপ।" সম্ভবত শব্দটি 'আল-ফালাহ' (বিজন প্রান্তর)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، ثنا أَبُو هَمَّامٍ ، ثنا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ ، ثنا شُعْبَةُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ: قَدِمَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَجَعَلَ يَقْرَأُ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنَ وَجَعَلُوا يَبْكُونَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: «هَكَذَا كُنَّا حَتَّى قَسَتِ الْقُلُوبُ»
১০ - জাফর ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়ামেনবাসীদের কিছু লোক আবু বকর (রা.)-এর নিকট আসলেন। তিনি তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন এবং তারা কাঁদতে লাগলেন। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: "আমরাও এমনই ছিলাম, যতক্ষণ না অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গেল।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ ، ثنا أَبُو هَمَّامٍ ، ثنا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ ، ثنا حُصَيْنٌ ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ ، أَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ ، قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ: {أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ} [الجاثية: 21] إِلَى آخِرِ الآيَةِ، فَلَمْ يَزَلْ يُرَدِّدُهَا وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
১১ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে সুবাইহ থেকে যে, তামীম আদ-দারী এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {যারা মন্দ কাজ করেছে তারা কি মনে করে...} [আল-জাছিয়াহ: ২১] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি সকাল হওয়া পর্যন্ত তা বারবার তিলাওয়াত করতে থাকলেন এবং কাঁদতে থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مَنْصُورٍ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ الْوَاسِطِيَّانِ ، قَالا: ثنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ هَارُونَ ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذِهِ الْقُلُوبَ تَصْدَأُ كَمَا يَصْدَأُ الْحَدِيدُ» ، قِيلَ: فَمَا جَلاؤُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْقُرْآنُ»
১২ - ইবনে আবি দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে মানসুর এবং মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আল-ওয়াসিতীদ্বয় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবদুর রহীম ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আজীজ ইবনে আবি রাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই অন্তরসমূহ মরিচাগ্রস্ত হয় যেমন লোহা মরিচাগ্রস্ত হয়», জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, এর উজ্জ্বলতা (পরিষ্কার করার মাধ্যম) কী? তিনি বললেন: «কুরআন»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ أَرْكِينَ الضَّرِيرُ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ الضُّبَعِيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ ، ثنا أَبِي ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذِهِ الْقُلُوبُ تَصْدَأُ كَمَا يَصْدَأُ الْحَدِيدُ إِذَا أَصَابَهُ الْمَاءُ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا جِلاؤُهَا؟ قَالَ: «كَثْرَةُ ذِكْرِ الْمَوْتِ وَتِلاوَةُ الْقُرْآنِ»
১৩ - হাজিব ইবন আরকিন আদ-দারির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবন আব্দুল খালিক আদ-দুবায়ি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল আজিজ ইবন আবি রাওয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবন উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এই অন্তরগুলোতে মরিচা পড়ে যেভাবে লোহাতে মরিচা পড়ে যখন তাতে পানি লাগে»। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তবে এগুলোর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায় কী? তিনি বললেন: «মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা»।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، ثنا أَبُو مُصْعَبٍ ، ثنا عُمَرُ بْنُ طَلْحَةَ اللَّيْثِيُّ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ فِي شَبِيبَتِهِ اخْتَلَطَ بِلَحْمِهِ وَدَمِهِ ، وَمَنْ تَعَلَّمَهُ فِي كِبَرِهِ فَهُوَ يَتَفَلَّتُ مِنْهُ وَلا يَتْرُكُهُ فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ»
১৪ - আল-ফাদল ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে তালহা আল-লাইসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার যৌবনকালে কুরআন শিক্ষা করে, তা তার রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে যায়। আর যে ব্যক্তি বার্ধক্যে তা শিক্ষা করে এবং তা তার নিকট থেকে ফসকে যায় কিন্তু সে তা ছেড়ে দেয় না, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَمْرٍو ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ مَالِكٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يُقَالُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْقَهُ أَوْ قَالَ: ارْقَ فِي دَرَجَاتِ الْجَنَّةِ وَرَتِّلْ كَمَا تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَأُ بِهِ "
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনুল হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনু আমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনু আইয়াশ, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সায়েব ইবনু মালিক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন কুরআনের সাথীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে আরোহণ করো (অথবা তিনি বলেছেন: জান্নাতের স্তরসমূহে আরোহণ করো) এবং তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করো যেমনটি তুমি দুনিয়াতে তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ ، ثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ ، عَنِ النُّعْمَانَ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خِيَارُكُمْ مَنْ عَلَّمَ الْقُرْآنَ أَوْ تَعَلَّمَهُ»
১৬ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুন নুমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসলিম ইবনে ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি নুমান ইবনে সাদ থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে কুরআন শিক্ষা দিয়েছে অথবা তা শিক্ষা করেছে»।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا الإِمَامُ الْعَالِمُ شَيْخُ الإِسْلامِ مُوَفّقُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ قُدَامَةَ الْمَقْدِسِيُّ ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أنبا أَبُو الْمَكَارِمِ الْمُبَارَكُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُعَمَّرِ الْبَاذرَانِيُّ ، أنبا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْكَرْخِيُّ ، أنبا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ دُوسْتَ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هَاشِمٍ ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مِنْ مُوجِبَاتِ الْمَغْفِرَةِ إِدْخَالُ السُّرُورِ عَلَى أَخِيكَ الْمُسْلِمِ ، إِشْبَاعُ جَوْعَتِهِ ، وَتَنْفِيسُ كُرْبَتِهِ»
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, শাইখুল ইসলাম মুয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণরত ছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাকারেম আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুআম্মার আল-বাযরানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-কারখি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন দুস্ত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন গালিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ক্ষমা প্রাপ্তি নিশ্চিতকারী কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমার মুসলিম ভাইয়ের মনে আনন্দ প্রদান করা, তার ক্ষুধা নিবারণ করা এবং তার বিপদ দূর করা»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - وَبِهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ النَّضْرِ ، ثنا بِشْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَيْنَانِ لا تَمَسُّهُمَا النَّارُ عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ ، وَعَيْنٌ بَاتَتْ سَاهِرَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، وَحَرَّمَ اللَّهُ الْفِرْدَوْسَ عَلَى عَيْنٍ بَكَتْ عَلَى الدُّنْيَا»
১৮ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে গালিব বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনুন নাদর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী সুহাইল ইবনে আবী সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «দুটি চোখকে আগুন স্পর্শ করবে না; যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে, এবং যে চোখ আল্লাহর পথে জাগ্রত থেকে রাত অতিবাহিত করেছে। আর আল্লাহ সেই চোখের জন্য ফিরদাউস হারাম করেছেন যা দুনিয়ার জন্য কেঁদেছে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২০)
19 - وَبِهِ ثنا الْحَسَنُ ، ثنا إِبْرَاهِيمُ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ ، عَنْ مَكْحُولٍ الشَّامِيِّ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاةِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَإِنَّ صَلاةَ أُمَّتِي تُعْرَضُ فِي كُلِّ يَوْمِ جُمُعَةٍ فَمَنْ كَانَ أَكْثَرَهُمْ عَلَيَّ صَلاةً كَانَ أَقْرَبَهُمْ مِنِّي مَنْزِلَةً»
১৯ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান, তিনি বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি বুরদ বিন সিনান থেকে, তিনি মাকহুল আশ-শামি থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো; কারণ প্রতি জুমার দিনে আমার উম্মতের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়। সুতরাং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে, মর্যাদার দিক থেকে সে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২১)
20 - وَبِهِ حَدَّثَنَا بِشْرٌ ، ثنا الْحُمَيْدِيُّ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا غُلامُ إِذَا أَكَلْتَ فَسَمِّ اللَّهَ ، وَكُلْ بِيَمِينِكَ ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ»
২০ - এবং একই সনদে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনে আবি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন: «হে বালক! যখন তুমি আহার করবে তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, এবং তোমার ডান হাত দিয়ে আহার করবে, এবং তোমার সামনের দিক থেকে আহার করবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ..........................
২১ - মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ থেকে, তিনি মাহমুদ ইবনে লাবিদ থেকে, তিনি রাফে ইবনে খাদীজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ফজরকে ফর্সা করে (আলোর সময়) আদায় করো, কেননা তা প্রতিদানের জন্য অধিক মহত্তম।"..........................
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
22 -.........ثنا مُحَمَّد.......، ثنا هَمَّامٌ الدَّلالُ ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ بَاتَ وَفِي يَدِهِ غَمَرٌ فَأَصَابَهُ شَيْءٌ فَلا يَلُومَنَّ إِلا نَفْسَهُ»
২২ -.........আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ.......আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম আদ-দাল্লাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি হাতে চর্বি বা মাংসের গন্ধ থাকা অবস্থায় রাত যাপন করল এবং তার কোনো ক্ষতি হলো, তবে সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ نَخْلَ بَنِي النَّجَّارِ فَسَمِعَ صَوْتًا فَخَرَجَ مَذْعُورًا ، فَقَالَ: «اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ»
২৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনু নাজ্জারের খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন এবং একটি শব্দ শুনতে পেলেন, অতঃপর তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: «তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا مُعَاذٌ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ ، أنبا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ تَرْكُ الصَّلاةِ»
২৪ - মুয়ায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুবায়র হতে, তিনি জাবির হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বান্দা এবং শিরকের মাঝে (ব্যবধান) হলো সালাত বর্জন করা।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا مُعَاذٌ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ ، أنبا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، «أَنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ بَيْتَ اللَّهِ وَآمَنَهُ ، وَإِنِّي حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ مَا بَيْنَ لابَتَيْهَا لا يُقْطَعُ عِضَاهُهَا وَلا يُصَادُ صَيْدُهَا»
২৫ - মুয়ায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, «নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আল্লাহর ঘরকে হারাম (পবিত্র ও নিষিদ্ধ) করেছেন এবং সেটিকে নিরাপদ করেছেন। আর আমি মদীনার দুই পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি; এখানকার কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না এবং এখানকার শিকারকে শিকার করা যাবে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাকা মিন সামাআতি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُعْفِيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبَانٍ ، نا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «النَّاسُ مَعَادِنُ خِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الإِسْلامِ إِذَا فَقِهُوا»حَدَّثَنَا.........الْحَسَن أَحْمَد بْن مُحَمَّدٍ الْعَتِيقِيّ ، قَالَ: نا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ......أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ حَفْصٍ الدُّورِيُّ ، قثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيُّ ، ثنا أَبِي ، عَنْ خَلَفِ بْنِ سَالِمٍ ، قَالَ: قُلْتُ لأَبِي عَلِيٍّ الْمَعْتُوهِ ، وَكَانَ يَنْزِلُ فِي الْحَرَمِ فِي دَارِنَا....: يَا أَبَا عَلِيٍّ أَلَكَ مَأْوًى؟ قَالَ: نَعَمْ ، قُلْتُ: يَا أَبَا عَلِيٍّ وَأَيْنَ مَأْوَاكَ؟ قَالَ: فِي دَارٍ يَسْتَوِي فِيهَا الْعَزِيزُ وَالذَّلِيلُ ، قُلْتُ: وَأَيْنَ هَذِهِ الدَّارُ؟ قَالَ: الْمَقَابِرُ ، قُلْتُ: يَا أَبَا عَلِيٍّ أَفَمَا تَسْتَوْحِشُ فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ؟ فَقَالَ لِي: إِنِّي أُكْثِرُ ذِكْرَ وَحْشَةَ اللَّحْدِ وَظُلْمَتِهِ فَيُهَوِّنُ عَلَيَّ ظُلْمَةَ اللَّيْلِ وَوَحْشَتِهِ ، فَقُلْتُ لَهُ: رُبَّمَا رَأَيْتَ فِي الْمَقَابِرِ شَيْئًا تُنْكِرُهُ ، قَالَ: رُبَّمَا وَلَكِنْ فِي هَوْلِ الآخِرَةِ مَا يَشْغَلُ عَنْ هَذِهِ الْمَقَابِرِحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ ، وَذَكَرْتُ لَهُ مَا حَكَى ابْنُ إِدْرِيسَ ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَالِكٍ الْخُزَاعِيِّ ، فَقَالَ: كَانَ لَنَا شَيْخٌ مُسِنٌّ ضُبَعِيٌّ ، قَالَ: وَكَانَ قَدْ عَدِمَ عَقْلَهُ فَكَانَ فِي......حَتَّى تَكَلَّمَ ، فَإِذَا تَكَلَّمَ ثَابَ عَقْلُهُ وَرَجَعَ ، قَالَ: فَمَرَّ بِي يَوْمًا فَقُلْتُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ كَيْفَ أَصْبَحْتَ؟ قَالَ: أَصْبَحْتُ مُؤْمِنًا بِاللَّهِ....وَلا يَقُولُ الْمُرْجِئَةُ وَلا الْجَهْمِيَّةُ وَلا الرَّافِضَةُ....يبث فِي نَفْسِي قَدِ ابْتَدَأَ بِخَلْطٍ ، قَالَ: ثُمَّ قُلْتُ لَهُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ وَمَا قَوْلُ الْقَدَرِيَّةِ وَالْمُرْجِئَةِ وَالْجَهْمِيَّةِ وَالرَّافِضَةِ ، قَالَ: أَمَّا الْقَدَرِيَّةُ فَزَعَمَتْ أَنَّ الْعَبْدَ لَوْ لَقِيَ اللَّهَ بِمِثْلِ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مُقِرٌّ عَلَيْهَا كَانَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَقَالَتِ الْمُرْجِئَةُ: مَنْ لَقِيَ اللَّهَ بِشَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ وَإِنْ زَنَا وَإِنْ سَرَقَ ، قَالَتِ الْجَهْمِيَّةُ: عِلْمُ اللَّهِ مَخْلُوقٌ فَكَفَرَتْ بِالْخَالِقِ ، وَقَالَتِ الرَّافِضَةُ: بَعَثَ اللَّهُ جِبْرِيلَ إِلَى عَلِيٍّ فَغَلِطَ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَكَفَرَتْ بِاللَّهِ وَجَحَدَتْ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم ، فَقُلْتُ لَهُ: مَا تَقُولُ أَنْتَ؟ قَالَ: أَقُولُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل خَلَقَ الْخَلْقَ لِمَا شَاءَ لَيْسَ لِمَا يَشَاءُونَ ، فَمَنْ عَذَّبَ مِنْهُمْ عَذَّبَهُ غَيْرَ ظَالِمٍ ، وَمَنْ رَحِمَ فَرَحْمَتُهُ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ وَجَلَّ وَتَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنْ يُقَالَ لِمَا قَدَّرَ: لِمَ؟ وَكَيْفَ؟ وَقَدْ قَالَ تبارك وتعالى فِي كِتَابِهِ {لا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} [الأنبياء: 23] قَالَ: ثُمَّ أَقْبَلَ عَليّ.......كُنْت أَنْكَرْت شَيْئًا؟ قُلْتُ: لا أَنَا عَلَى مِثْلِ مَقَالَتِهَاحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي....سَنَةَ عَشْرٍ وَمِائَتَيْنِ نَزَلَ عَلَيْنَا بِخِبَائِنَا وَقَدْ شَرِبَ.....حَدِيث سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ وَمَا أَجَابَ بِهِ أَبَا سَعِيدٍ....فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ: كَانَ لِي مَوْلًى وُلِدَ فِي حُجُورِنَا وَرَبَّيْنَاهُ يُقَالُ لَهُ: سَلامَةُ وَكَانَ قَدْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَعَرَفَ النَّحْوَ وَالشِّعْرَ وَسَمِعَ الْحَدِيثَ وَجَالَسَ أَهْلَ الأَدَبِ فِي مَسْجِدِ الْبَصْرَةِ فَحَظِيَ عِنْدِي ، قُلْتُ: إِذَا رَكِبْتُ فِي الْبَحْرِ فَخَلَّفْتُهُ كَفَانِي مَا أُخَلِّفُ، وَكُنْتُ لا أَهْتَمُّ مَعَهُ بِشَيْءٍ، يَقُومُ بِأَمْرِ الْعِيَالِ وَالْغَلاتِ، وَلُقِيِّ أَصْحَابِي وَجَوَابَاتِ إِخْوَانِي، وَكُنْتُ إِذَا خَرَجْتُ قُلْتُ لَهُ: يَا سَلامَةُ أَدْخِلْ فُلانًا عَلَى فُلانَةَ زَوْجَتِهِ وَفُلانَةَ عَلَى زَوْجِهَا فُلانٍ ، فَتَكُونُ نَفْسِي بِهِ وَبِقِيَامِهِ طَيِّبَةً ، قَالَ: فَغَلَبَتْ عَلَيْهِ الْمِرَّةُ فَتَرَكْتُهُ كَخَشَبَةِ تَنُّورٍ وَذَهَبَ عَقْلُهُ وَكَانَ يَفْرَقُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ قَالَ: فَدَخَلَنِي مِنَ الْجَزَعِ وَالْغَمِّ لِمَا صَارَ إِلَيْهِ شَيْءٌ أَفْسَدَ عَلَيَّ بَعْضَ أَمْرِي قَالَ: وَأَنْزَلْتُهُ مَعِي فِي دَارِي فَكَانَ يُغْلِقُ.......حَتَّى خَرَجْتُ إِلَيْهِ فَلَمَّا رَآنِي دَخَلَ بَعْضُهُ فِي بَعْضٍ وَلَصِقَ بِالْخَانِكَةِ ، فَجَلَسْتُ بِحِذَائِهِ مُنْكِّسَ رَأْسِي وَاضِعَ يَدِي عَلَى جَبْهَتِي مِنَ الْغَمِّ، قَالَ: فَجَعَلَ يُسَارِقُنِي النَّظَرَ فَإِذَا نَكَّسْتُ رَأْسِي رَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيَّ، فَإِذَا رَفَعْتُ رَأْسِي أَطْرَقَ فَقُلْتُ لَهُ: يَا سَلامَةُ أَشْكُو إِلَى اللَّهِ مَا وَقَعَ فِي قَلْبِي مِنْكَ ، فَقَالَ لِي: إِنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَمَّا أُصِيبَ بِابْنِهِ عَبْدِ الْمَلِكِ جَزِعَ عَلَيْهِ جَزَعًا شَدِيدًا فَجَعَلَ يُعَزَّى فَلا يَتَعَزَّى فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ أَرْسَلَ إِلَى مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ ، فَقَالَ لَهُ: قَدْ أَضْنَى بِيَ الْجَزَعُ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ وَأُرَانِي أُعَزَّى فَلا أَتَعَزَّى فَقَالَ لَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي قَرَأْتُ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ: إِذَا غَلَبَ اللَّهُ عَلَى شَيْءٍ فَالْهَ عَنْهُ قَالَ: فَجَعَلَ يَقُولُ: إِذَا غَلَبَ اللَّهُ عَلَى شَيْءٍ فَالْهَ عَنْهُ ، فَقُلْتُ: عَظُمَتْ وَاللَّهِ الْمُصِيبَةُ بِكَ يَا سَلامَةُ فَقَالَ لِي: قُلْ كَمَا قَالَ قَوْمٌ رَضِيَ اللَّهُ مَقَالَتَهُمْ فَأَثْنَى عَلَيْهِمْ وَوَصَفَهُمْ بِأَحْسَنِ صِفَتِهِمْ ، فَقُلْتُ لَهُ: وَمَا قَالُوا؟ وَمَا وَصَفَهُمُ اللَّهُ عز وجل بِهِ قَالَ {الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ} [البقرة: 156] من اللَّه عز وجل {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ} [البقرة: 157] ، قُلْتُ لَهُ: يَا سَلامَةُ....قُلْتُ لَهُ: يَا سَلامَةُ مَا يحل لي فإن نظرت إلي اغتممت ، فنظر إلي الغم إِنِّي كُنْتُ أُلْفِيكَ وَأَنَا وَافِرُ الدِّمَاغِ ثَابِتُ الْعَقْلِ.......أَمْرِي وَعَقْلِي وَأَنَا الْيَوْمَ زَائِلُ الْعَقْلِ نَاقِصُ الدِّمَاغِ فَمَا أُفْسِدُ أَكْثَرُ مِمَّا أُصْلِحُ، فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ عَلِمْتُ أَنَّهُ قَدْ أَقْفَلَ مِنْ نَفْسِهِ فَقُمْتُ وَأَنَا أَبْكِي رَحْمَةً لَهُ قَالَ: فَأَتْبَعَنِي بَصَرَهُ وَهُوَ يَقُولُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يُغْبِنْ نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يَعْقُوبَ بِطُولِ الْحُزْنِ عَلَى يُوسُفَ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ: {إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ} [يوسف: 86]أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا الإِمَامُ الْعَالِمُ شَيْخُ الإِسْلامِ مُوَفَّقُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ قُدَامَةَ الْمَقْدِسِيُّ ، رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، قِيلَ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الطُّرَيْثِيثِيُّ ، قَالَ: أنبا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الطَّبَرِيُّ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبَزَّارُ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيٍّ الْبَزَّازَ ، قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ يَحْيَى الْحَلاءَ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ مَعْرُوفٍ ، يَوْمًا فَجَاءَ رَجُلٌ ، فَقَالَ: يَا أَبَا مَحْفُوظٍ رَأَيْتُ أَمْسِ عَجَبًا ، قَالَ: مَا رَأَيْتَ.....؟ بَاب الْكَرْخِ فَأَخَذت.......فَإِذَا أَنَا بِصَبِيٍّ حَمَاسِيٍّ مُلْتَفٍّ....فَقَالَ: يَا عَمِّ تَحْمِلُ عَلَيَّ؟ قُلْتُ: نَعَمْ فَوَضَعْتُ السَّمَكَةَ عَلَى رَأْسِهِ وَمَشَى بَيْنَ يَدَيَّ فَكَانَ لا يَرْفَعُ قَدَمًا وَلا يَضَعُهَا إِلا بِذِكْرِ اللَّهِ عز وجل فَمَرَرْنَا بِمَسْجِدٍ يُؤَذَّنُ فِيهِ الظُّهْرُ، فَقَالَ: يَا عَمِّ هَلْ لَكَ فِي أَنْ تُصَلِّيَ؟ فَقُلْتُ: صَبِيٌّ يَدْعُونِي إِلَى الصَّلاةِ وَلا أُجِيبُهُ؟ فَقُلْتُ: نَعَمْ ، فَوَضَعَ الطَّبَقَ وَالسَّمَكَةَ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ وَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَلَمْ يَزَلْ يَرْكَعُ وَأَنَا أَحْفَظُ السَّمَكَةَ فَلَمَّا أُقِيمَتِ الصَّلاةُ قُلْتُ: صَبِيٌّ تَوَكَّلَ عَلَى اللَّهِ فِي طَبَقِهِ أَلا أَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ فِي سَمَكَتِي فَدَخَلْتُ فَصَلَّيْتُ وَخَرَجْتُ فَإِذَا هِيَ بِحَالِهَا فَأَخَذَهَا عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ عَادَ إِلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الذِّكْرِ إِلَى أَنْ وَصَلْتُ إِلَى مَنْزِلِي ، فَأَخْبَرْتُ أَهْلِي فَقَالُوا لِي: قُلْ لَهُ أَنْ يَأْكُلَ مَعَنَا ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّهُمْ يَسْأَلُونَكَ أَنْ تُفْطِرَ عِنْدَهُمْ؟ قَالَ: نَعَمْ فَأَيْنَ طَرِيقُ الْمَسْجِدِ؟ فَدَلَلْتُهُ عَلَى الْمَسْجِدِ فَلَمْ يَزَلْ رَاكِعًا سَاجِدًا إِلَى الْعَصْرِ ، فَلَمَّا صَلَّيْنَا الْعَصْرَ جَعَلَ رَأْسَهُ بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ ، ثُمَّ لَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ إِلَى الْمَغْرِبِ ، قُلْتُ: هَلْ لَكَ فِي الإِفْطَارِ؟ قَالَ: قَدْ جَرَتْ لِي عَادَةٌ إِنْ حَمَلْتَنِي عَلَيْهَا فَأَنا أُجِيبُكَ ، قُلْتُ: مَا هِيَ؟ قَالَ: عَادَةٌ قَدْ جَرَتْ أَنْ أُفْطِرَ بَعْدَ عِشَاءِ الآخِرَةِ فَصَبَرْتُ لَهُ ، قَالَ: وَكُنْتُ قَدْ أَعْدَدْتُ فِي بَيْتِي مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ ، فَلَمَّا صَلَّى أَخَذْتُهُ إِلَى الْبَيْتِ وَزَرَفْتُ عَلَيْهِ الْبَابَ ، وَكَانَتْ لَنَا ابْنَةٌ لا تَبْطُشُ بِيَدِهَا وَلا تَمْشِي بِرِجْلَيْهَا عَمْيَاءُ قِطْعَةُ لَحْمٍ قَدْ أَتَى لَهَا أَرْبَعَةٌ وَعِشْرُونَ سَنَةً لا تَنَامُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ ، فَإِذَا بِدَاقٍّ يَدُقُّ عَلَيْنَا بَابَ الْبَيْتِ فَقُلْنَا: مَنْ هَذَا؟ قَالَتْ: فُلانَةُ فَنَادَيْنَاهَا فَإِذَا هِيَ تَمْشِي وَتَبْطُشُ وَتُبْصِرُ فَقُلْنَا: مَا شَأْنُكِ؟ فَقَالَتْ: مَا أَدْرِي إِلا أَنِّي سَهِرْتُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ ، فَأُلْقِيَ فِي نَفْسِي: سَلِ اللَّهَ بِحَقِّ ضَيْفِكُمْ فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ بِحَقِّ ضَيْفِنَا إِلا أَطْلَقْتَنِي فَأَنَا كَمَا تَرَوْنَ ، قَالَ: فَبَادَرْتُ إِلَى الْبَيْتِ ، فَإِذَا الْغُلامُ لَيْسَ ثَمَّ، قَالَ: فَبَكَى مَعْرُوفٌ وَقَالَ: نِعْمَ مِنْكُمْ صِغَارٌ وَكِبَارٌ، هَذَا أَوْ نَحْوُهُ آخِرُهُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا.
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-জু'ফী, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবান থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ খনিজ পদার্থের ন্যায়; তাদের মধ্যে যারা জাহিলিয়াত যুগে উত্তম ছিল, তারা ইসলামেও উত্তম, যদি তারা দ্বীনি সমঝ লাভ করে»আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন.........আল-হাসান আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আতিকী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর মুহাম্মাদ বিন......আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ বিন হাফস আদ-দুরী, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-আনসারী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি খালাফ বিন সালিম থেকে বর্ণনা করেন, খালাফ বলেন: আমি আবু আলী আল-মাতুহকে বললাম—তিনি আমাদের বাড়িতে হারামে অবস্থান করতেন—....: হে আবু আলী, আপনার কি কোনো আশ্রয়স্থল আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: হে আবু আলী, আপনার আশ্রয়স্থল কোথায়? তিনি বললেন: এমন এক ঘরে যেখানে সম্মানিত এবং অপমানিত উভয়ই সমান হয়ে যায়। আমি বললাম: সেই ঘরটি কোথায়? তিনি বললেন: কবরস্থান। আমি বললাম: হে আবু আলী, রাতের অন্ধকারে আপনার কি ভয় লাগে না? তিনি আমাকে বললেন: আমি কবরের একাকীত্ব ও অন্ধকারকে খুব বেশি স্মরণ করি, যা আমার কাছে রাতের অন্ধকার ও একাকীত্বকে সহজ করে দেয়। আমি তাঁকে বললাম: মাঝে মাঝে আপনি কি কবরস্থানে এমন কিছু দেখেন যা আপনার কাছে অপছন্দনীয়? তিনি বললেন: মাঝে মাঝে দেখি, তবে আখিরাতের ভয়াবহতা এই কবরস্থানের দৃশ্যগুলো থেকে মনকে বিমুখ করে রাখে।আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আমির থেকে। আমি তাঁর নিকট ইবনে ইদ্রিস কর্তৃক ইবনে আবি মালিক আল-খুযাঈ থেকে বর্ণিত ঘটনাটি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: আমাদের একজন বৃদ্ধ শায়খ ছিলেন যিনি দুবাঈ গোত্রের ছিলেন। তিনি বলেন: তাঁর মানসিক ভারসাম্য ছিল না, তিনি থাকতেন......পর্যন্ত যে তিনি কথা বলতেন; আর যখনই তিনি কথা বলতেন তখন তাঁর বুদ্ধি ফিরে আসত। তিনি বলেন: একদিন তিনি আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি বললাম: হে আবু সাঈদ, আপনার সকাল কেমন কাটল? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হিসেবে সকাল অতিবাহিত করছি....আর মুরজিয়া, জাহমিয়াহ ও রাফিযাহ যা বলে আমি তা বলি না....আমার মনে হতে লাগল তিনি হয়তো আবোল-তাবোল বলতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন: এরপর আমি তাঁকে বললাম: হে আবু সাঈদ, কাদারিয়া, মুরজিয়া, জাহমিয়াহ ও রাফিযাহদের বক্তব্য কী? তিনি বললেন: কাদারিয়াদের দাবি হলো—বান্দা যদি সরিষার দানার সমপরিমাণ গুনাহ স্বীকার করা অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে সে চিরকাল জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে। মুরজিয়ারা বলে: যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য দিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতি, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে। জাহমিয়াহরা বলে: আল্লাহর জ্ঞান সৃষ্টি (মাখলুক), ফলে তারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে কাফির হয়েছে। আর রাফিযাহরা বলে: আল্লাহ জিবরীলকে আলীর কাছে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ভুল করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চলে গেছেন, ফলে তারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করেছে। আমি তাঁকে বললাম: আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: আমি বলি, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মাখলুকাতকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সৃষ্টি করেছেন, তাদের ইচ্ছানুযায়ী নয়। তিনি তাদের মধ্যে যাকে শাস্তি দেন, তা জুলুম ছাড়াই দেন; আর যার প্রতি দয়া করেন, তাঁর দয়া প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি মহান ও বরকতময়; তাঁর নির্ধারিত ফয়সালা সম্পর্কে 'কেন?' বা 'কীভাবে?' বলা যায় না। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন— {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে} [আল-আম্বিয়া: ২৩]। তিনি বলেন: এরপর তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন.......আপনি কি কোনো কিছু অস্বীকার করেছেন? আমি বললাম: না, আমি আপনার বক্তব্যের উপরেই আছি।আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন....২১০ হিজরী সনে তিনি আমাদের তাঁবুতে আসলেন এবং পান করলেন.....সাঈদ বিন আমিরের হাদিস এবং তিনি আবু সাঈদকে যা উত্তর দিয়েছিলেন....মুহাম্মাদ বিন আব্বাদ বলেন: আমার একজন মুক্তদাস ছিল যে আমাদের ঘরেই জন্মেছে এবং আমরাই তাকে লালন-পালন করেছি। তাকে সালামাহ বলা হতো। সে কুরআন পড়েছিল এবং নাহু (ব্যাকরণ) ও কবিতা জানত, হাদিস শ্রবণ করেছিল এবং বসরার মসজিদে সাহিত্যিকদের মজলিসে বসত, তাই আমার কাছে সে প্রিয় ছিল। আমি ভাবলাম: যখন আমি সমুদ্র সফরে যাব এবং তাকে পেছনে রেখে যাব, তখন সে আমার অনুপস্থিতিতে যথেষ্ট হবে। তার উপস্থিতিতে আমার কোনো চিন্তা ছিল না; সে পরিবার ও ফসলের দেখাশোনা করত, আমার বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ এবং ভাইদের চিঠিপত্রের উত্তর দিত। আমি যখন বের হতাম তখন তাকে বলতাম: হে সালামাহ, অমুককে তার স্ত্রী অমুকের কাছে নিয়ে যাও এবং অমুককে তার স্বামী অমুকের কাছে। তার কাজকর্ম ও দায়িত্ব পালনে আমি সন্তুষ্ট থাকতাম। তিনি বলেন: এরপর তার ওপর মানসিক ভারসাম্যহীনতা প্রবল হলো এবং আমি তাকে তন্দুর চুল্লির কাঠের মতো পড়ে থাকতে দেখলাম। তার বুদ্ধি লোপ পেল এবং সে প্রতিটি বিষয় থেকে দূরে সরে থাকতে লাগল। তিনি বলেন: তার এই অবস্থার কারণে আমি অত্যন্ত অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম, যা আমার কিছু কাজও নষ্ট করে দিল। তিনি বলেন: আমি তাকে আমার বাড়িতে আমার সাথেই রাখলাম। সে দরজা বন্ধ করে থাকত.......পর্যন্ত যে আমি তার কাছে গেলাম। সে যখন আমাকে দেখল, সে কুঁকড়ে গেল এবং কোণঠাঁসা হয়ে পড়ল। আমি দুশ্চিন্তায় মাথা নিচু করে এবং কপালে হাত দিয়ে তার সামনে বসলাম। তিনি বলেন: সে আড়চোখে আমাকে দেখতে লাগল। যখন আমি মাথা নিচু করলাম, সে মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল; আবার আমি যখন মাথা তুললাম, সে দৃষ্টি নামিয়ে নিল। আমি তাকে বললাম: হে সালামাহ, তোমার কারণে আমার মনে যে কষ্ট হচ্ছে আমি আল্লাহর কাছে তার অভিযোগ করছি। তখন সে আমাকে বলল: উমর বিন আবদুল আজীজ যখন তাঁর পুত্র আবদুল মালিককে হারান, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়া হলেও তিনি শান্ত হচ্ছিলেন না। যখন তিনি এই অবস্থা দেখলেন, তখন মুহাম্মাদ বিন কাবের কাছে লোক পাঠালেন। তিনি তাঁকে বললেন: আবদুল মালিকের শোকে আমি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছি এবং আমি দেখছি যে আমাকে সান্ত্বনা দিলেও আমি শান্ত হতে পারছি না। তখন তিনি তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি কোনো এক কিতাবে পড়েছি—যখন আল্লাহ কোনো বিষয়ের ওপর বিজয়ী হন (অর্থাৎ ফয়সালা করে দেন), তখন আপনি তা থেকে বিমুখ হয়ে যান। তিনি বলেন: তখন উমর বলতে লাগলেন—যখন আল্লাহ কোনো বিষয়ের ওপর বিজয়ী হন, তখন তা থেকে বিমুখ হয়ে যাও। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, সালামাহ, তোমার এই বিপদে আমার দুঃখ অনেক বেড়ে গেল। তখন সে আমাকে বলল: আপনি সেই কথাটিই বলুন যা এমন এক কওম বলেছিল যাদের কথায় আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং তাদের প্রশংসা করেছেন ও তাদের সর্বোত্তম গুণে ভূষিত করেছেন। আমি তাকে বললাম: তারা কী বলেছিল? এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের কী গুণ বর্ণনা করেছেন? সে বলল: {যাদের ওপর কোনো বিপদ আসলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী} [আল-বাকারা: ১৫৬]। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে— {এরাই তারা, যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত বর্ষিত হয় এবং এরাই হিদায়াতপ্রাপ্ত} [আল-বাকারা: ১৫৭]। আমি তাকে বললাম: হে সালামাহ....আমি তাকে বললাম: হে সালামাহ, আমার জন্য এটা বৈধ নয়; যদি আপনি আমার দিকে তাকান তবে আমি ব্যথিত হই। ব্যথিত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে সে বলল: আমি যখন আপনার সাথে থাকতাম তখন আমার মস্তিষ্ক পূর্ণ ছিল এবং বুদ্ধি স্থির ছিল.......আমার বিষয় ও বুদ্ধির ক্ষেত্রে, আর আজ আমার বুদ্ধি বিলুপ্ত ও মস্তিষ্ক ত্রুটিপূর্ণ, ফলে আমি সংস্কারের চেয়ে ধ্বংসই বেশি করছি। সে যখন আমাকে এটি বলল, আমি বুঝতে পারলাম যে সে নিজের ওপর দ্বার রুদ্ধ করে নিয়েছে। আমি তার প্রতি দয়া ও মায়ায় কাঁদতে কাঁদতে উঠে দাঁড়ালাম। তিনি বলেন: তখন সে আমার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর নবী ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-কে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর দীর্ঘ শোকে প্রতারিত করেননি যখন তিনি বলেছিলেন: {আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতার অভিযোগ কেবল আল্লাহর নিকটই করছি} [ইউসুফ: ৮৬]আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শায়খ, ইমাম, আলিম, শায়খুল ইসলাম মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর সামনে পঠিত অবস্থায় এবং আমি শ্রবণ করছিলাম। বলা হলো: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আবদুল বাকী, তিনি আবু বকর আহমাদ বিন আলী আত-তুরাইথীসী থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান আত-তাবারী থেকে, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইসমাইল আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন আলী আল-বাযযারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-হাল্লাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি একদিন মারুফের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু মাহফুয, গতকাল আমি এক বিস্ময়কর বিষয় দেখেছি। তিনি বললেন: আপনি কী দেখেছেন.....? কারখ দরজায় আমি ধরলাম.......হঠাৎ দেখলাম এক তেজস্বী কিশোর চাদর জড়িয়ে আছে....সে বলল: হে চাচা, আপনি কি আমার বোঝাটি বহন করবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। এরপর আমি মাছটি তার মাথায় তুলে দিলাম এবং সে আমার সামনে হাঁটতে লাগল। সে প্রতিটি কদম ফেলছিল এবং উঠাচ্ছিল কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার যিকিরের সাথে। আমরা একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যেখানে যোহরের আযান হচ্ছিল। সে বলল: হে চাচা, আপনি কি নামাজ পড়তে চান? আমি মনে মনে বললাম: এক কিশোর আমাকে নামাজের দিকে ডাকছে আর আমি সাড়া দেব না? আমি বললাম: হ্যাঁ। সে থালা ও মাছটি মসজিদের দরজায় রাখল এবং মসজিদে প্রবেশ করল। সে অনবরত রুকু-সিজদা করতে লাগল আর আমি মাছটি পাহারা দিচ্ছিলাম। যখন নামাজ শুরু হলো তখন আমি মনে মনে বললাম: এক কিশোর তার থালার বিষয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করল, আর আমি কি আমার মাছের বিষয়ে তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করতে পারি না? এরপর আমি প্রবেশ করলাম এবং নামাজ পড়ে বের হয়ে দেখলাম সেটি ঠিক আগের মতোই আছে। এরপর সে সেটি তার মাথায় তুলে নিল এবং আগের মতোই যিকির শুরু করল যতক্ষণ না আমি আমার বাড়িতে পৌঁছালাম। আমি আমার পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা আমাকে বলল: তাকে আমাদের সাথে খেতে বলুন। আমি তাকে বললাম: তারা আপনাকে তাদের এখানে ইফতার করতে অনুরোধ করছে। সে বলল: হ্যাঁ, তবে মসজিদের পথ কোথায়? আমি তাকে মসজিদের পথ দেখিয়ে দিলাম। সে আসর পর্যন্ত অনবরত রুকু ও সিজদায় রত থাকল। যখন আমরা আসরের নামাজ পড়লাম, সে তার মাথা দুই হাঁটুর মাঝখানে গুজে দিল এবং মাগরিব পর্যন্ত এভাবেই থাকল। আমি বললাম: আপনি কি ইফতার করবেন? সে বলল: আমার একটি অভ্যাস আছে, যদি আপনি আমাকে সেভাবে সুযোগ দেন তবে আমি আপনার দাওয়াতে সাড়া দেব। আমি বললাম: সেটি কী? সে বলল: এশা পড়ার পর ইফতার করা আমার অভ্যাস। আমি তার জন্য ধৈর্য ধরলাম। তিনি বলেন: আমি আমার বাড়িতে যা যা প্রয়োজন তা প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। যখন সে নামাজ শেষ করল, আমি তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলাম এবং তার ওপর দরজা বন্ধ করে দিলাম। আমাদের একটি মেয়ে ছিল যে হাত দিয়ে কিছু ধরতে পারত না, পা দিয়ে হাঁটতে পারত না এবং সে ছিল অন্ধ—এক টুকরো মাংসের মতো। চব্বিশ বছর ধরে তার এই অবস্থা, সে গভীর রাতে ঘুমাত না। হঠাৎ কেউ একজন আমাদের বাড়ির দরজায় করাঘাত করল। আমরা বললাম: কে? সে বলল: আমি অমুক। আমরা তাকে ডাকলাম এবং দেখলাম সে হাঁটছে, হাত নাড়ছে এবং দেখতে পাচ্ছে। আমরা বললাম: তোমার কী হয়েছে? সে বলল: আমি জানি না, তবে আমি গভীর রাতে জেগে ছিলাম এবং আমার মনে হলো—তোমাদের এই মেহমানের উসিলায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। আমি বললাম: হে আল্লাহ, আমাদের মেহমানের সম্মানে আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন। এরপর আমি এমন হয়ে গেলাম যা আপনারা দেখছেন। তিনি বলেন: আমি দ্রুত ঘরে গেলাম কিন্তু দেখলাম কিশোরটি সেখানে নেই। তিনি বলেন: তখন মারুফ কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: তোমাদের ছোট-বড় সবার মাঝেই কল্যাণ রয়েছে। এটি বা এরই সমজাতীয় কথা এর শেষে রয়েছে। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।