(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: -)
الزبد المليح من كتاب الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح   (عبد الإله بن عبد الله بن علي جابر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الزبد المليح من كتاب الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح لشيخ الإسلام ابن تيمية

اختصره ونسقه: عبد الإله بن عبد الله بن علي جابر

عدد الصفحات: 74

عام النشر: 1445 هـ

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 شعبان 1445

আল-জাওয়াব আস-সাহীহ লিমান বাদ্দলা দীনা আল-মাসিহ কিতাবের উত্তম সারসংক্ষেপ   (আবদুল ইলাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আলী জাবের)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


বই: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'আল-জাওয়াব আস-সাহীহ লিমান বাদ্দলা দীনা আল-মাসিহ' কিতাবের উত্তম সারসংক্ষেপ

সংক্ষেপণ ও বিন্যাস: আবদুল ইলাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আলী জাবের

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪

প্রকাশকাল: ১৪৪৫ হিজরি

[শামেলা নাম্বারিং যুক্ত ইলেকট্রনিক বই]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ শাবান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১)
(مختصر في الرد على النصارى)

 

الزبد المليح

من كتاب الجواب الصحيح

لمن بدل دين المسيح

لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله

 

اختصره ونسقه

عبد الإله بن عبد الله بن علي جابر

 

1445 هـ
(খ্রিস্টানদের খণ্ডন বিষয়ক সংক্ষিপ্তসার)

 

চমৎকার সারসংক্ষেপ

আল-জাওয়াব আস-সাহীহ গ্রন্থ হতে

যারা মসীহের ধর্ম পরিবর্তন করেছে তাদের জবাবে

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

 

সংক্ষেপণ ও বিন্যাস করেছেন

আব্দুল ইলাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী জাবির

 

১৪৪৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على جميع رسل الله وخاتمهم محمد صلى الله عليه وسلم أما بعد:

فإن الاستسلام لله بالتوحيد والانقياد له بالطاعة والخلوص من الشرك؛ هو دين الأنبياء جميعاً، وجاءت شريعة خاتم الأنبياء محمد صلى الله عليه وسلم مؤكدة لتوحيد الله ومتممة وناسخة لشرائع من قبله من الأنبياء، وقد قال صلى الله عليه وسلم: (أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، في الأُولَى وَالآخِرَةِ) قالوا: كيفَ؟ يا رَسُولَ اللهِ، قالَ: (الأنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ مِنْ عَلَّاتٍ، وَأُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى، وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ، فليسَ بيْنَنَا نَبِيٌّ). [رواه مسلم 2365]. وقد أُنزل الإنجيلُ على المسيح عيسى ابن مريم عليه السلام لثلاث عشرة ليلة مضت من رمضان، مصدقاً ومتمماً لما في التوراة وناسخاً لبعض شرائعها، وجاء المسيح بالبشارة برسول الله محمد صلى الله عليه وسلم كما قال الله تعالى في القرآن: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَابَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: 6]. قال ابن عبَّاس رضي الله عنهما: "ما بعَثَ اللهُ نبيًّا إلَّا أخَذَ عليه الميثاقَ: لَئِنْ بُعِثَ محمَّدٌ، وهو حَيٌّ؛ لَيُومِنَنَّ بِهِ وَلَيَنْصُرَنَّهُ، وأمَرَهُ أنْ يأخُذَ على أُمَّتِهِ المِيثَاقَ: لَئِنْ بُعِثَ محمَّدٌ، وهم أحياءٌ؛ لَيُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَيَنْصُرُنَّهُ"(1)، كما قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ

--------------------------------------------

(1) روي بمعناه عن علي ابن أبي طالب وعن عبد الله بن عباس رضي الله عنهم، انظر جامع البيان لابن جرير الطبري 3/ 332، تفسير البغوي على حاشية تفسير الخازن 1/ 314، تفسير القرآن العظيم لابن كثير 2/ 65، الدر المنثور للسيوطي 2/ 252 - 253. وعزاه الحافظ في "فتح الباري" (6/ 434) للبخاري.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সকল রাসূল ও তাঁদের মোহর (সর্বশেষ নবী) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতপর:

তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগত হওয়া এবং শিরক থেকে মুক্ত হওয়া; এটাই সকল নবীদের ধর্ম। সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়ত আল্লাহর তাওহীদকে সুসংহত করতে এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়তসমূহকে পূর্ণতা দিতে ও রহিত করতে এসেছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "দুনিয়া ও আখেরাতে আমি ঈসা ইবনে মারিয়ামের সবচেয়ে নিকটবর্তী।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে? তিনি বললেন: "নবীগণ বৈমাত্রেয় ভাইস্বরূপ; তাঁদের মা ভিন্ন ভিন্ন হলেও ধর্ম এক। আর আমার ও তাঁর মাঝে কোনো নবী নেই।" [সহীহ মুসলিম: ২৩৬৫]। আর মাসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামের ওপর তেরো রমজান অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছিল, যা তাওরাতের সত্যায়নকারী ও পরিপূরক এবং এর কিছু বিধান রহিতকারী ছিল। মাসীহ আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: {স্মরণ করো, যখন ঈসা ইবনে মারিয়াম বলেছিল, হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন তাঁর সুসংবাদদাতা।} [সূরা আস-সাফ: ৬]। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: "আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যার থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি যে—যদি তাঁর জীবদ্দশায় মুহাম্মাদ প্রেরিত হন, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন। আর তিনি সেই নবীকে আদেশ করেছেন যেন তিনি তাঁর উম্মতের কাছ থেকেও এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে—যদি তাদের জীবদ্দশায় মুহাম্মাদ প্রেরিত হন, তবে তারা অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।"(১) যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {স্মরণ করো, যখন আল্লাহ অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) এটি আলী ইবনে আবি তালিব এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: ইবনে জারীর তাবারীর 'জামিউল বায়ান' ৩/৩৩২, তাফসীরে খাজেনের পাদটীকায় 'তাফসীরে বাগভী' ১/৩১৪, ইবনে কাসীরের 'তাফসীরুল কুরআনিল আজিম' ২/৬৫, সুয়ূতির 'আদ-দুররুল মানসুর' ২/২৫২-২৫৩। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী'তে (৬/৪৩৪) একে বুখারীর উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২)
النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ} [آل عمران: 81]. وجاء في الإنجيل صفة محمد صلى الله عليه وسلم وأصحابه كما أخبر الله في القرآن بقوله تعالى: {وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} [الفتح: 29]. وقال صلى الله عليه وسلم: (والذي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بيَدِهِ، لا يَسْمَعُ بي أحَدٌ مِنْ هذِه الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ، ولا نَصْرانِيٌّ، ثُمَّ يَمُوتُ ولَمْ يُؤْمِنْ بالَّذِي أُرْسِلْتُ به، إلَّا كانَ مِنْ أصْحابِ النَّارِ). [رواه مسلم 153]. فلا يقبل الله ديناً بعد بعثة محمد صلى الله عليه وسلم إلا الإسلام.

وما عليه النصارى اليوم هو دين منسوخ مبدل، اشتمل على معتقدات فاسدة، بعد أنْ بدّل كبراء النصارى شريعة المسيح عليه السلام وحرفوا الإنجيل ووضعوا شرائع محدثة مبتدعة ليست من هدي المسيح عليه السلام، ولا غيره من الأنبياء، وليست من الإنجيل الذي أنزله الله، ولا نقلها الحواريون. مع أنه كان من النصارى طائفة باقية على شريعة المسيح كالآريوسيين متمسكين بالتوحيد وإنجيل المسيح دون غيره من الكتب المسماة بالأناجيل، حتى بعث الله محمداً بشريعة الإسلام الناسخة، وبالقرآن الناسخ لما قبله من الكتب، فآمن به من آمن من اليهود والنصارى ومن علمائهم وأحبارهم، واستكبر من استكبر منهم؛ فكفروا به فكانوا من الضالين الذين لا يقبل الله منهم ديناً غير الإسلام والتصديق بنبيه محمد صلى الله عليه وسلم وبما جاء به من القرآن والسنة.
"...নবীদের থেকে (অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন), যখন আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসূল আসবেন যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তা সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে।" [আলে ইমরান: ৮১]। আর ইঞ্জিলেও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ কুরআনে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন: "আর ইঞ্জিলে তাদের উদাহরণ হলো একটি ফসলের মতো, যা তার অংকুর বের করল, অতঃপর তাকে শক্ত করল, এরপর তা পুষ্ট হলো এবং স্বীয় কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়াল, যা কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন।" [আল-ফাতহ: ২৯]। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এই উম্মতের যে কেউ—সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান—আমার কথা শুনবে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" [সহীহ মুসলিম: ১৫৩]। সুতরাং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পর ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ কবুল করবেন না।

বর্তমানে খ্রিস্টানরা যে ধর্মের ওপর রয়েছে তা রহিত ও পরিবর্তিত একটি ধর্ম, যা ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাসে পরিপূর্ণ। কারণ খ্রিস্টানদের বড়রা মাসীহ আলাইহিস সালামের শরীয়তকে বদলে দিয়েছে, ইঞ্জিলকে বিকৃত করেছে এবং এমন সব নব-উদ্ভাবিত ও বিদআতী বিধান তৈরি করেছে যা মাসীহ আলাইহিস সালাম বা অন্য কোনো নবীর হিদায়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়, আর না তা আল্লাহর অবতীর্ণ ইঞ্জিলের অংশ, এমনকি হাওয়ারীগণও তা বর্ণনা করেননি। অথচ খ্রিস্টানদের মধ্যে একটি দল মাসীহ আলাইহিস সালামের শরীয়তের ওপর অটল ছিল, যেমন আরিয়ানগণ; যারা তাওহীদ এবং মাসীহের ইঞ্জিলের ওপর অবিচল ছিল, কথিত অন্যান্য ইঞ্জিল নামক বইগুলোর ওপর নয়। যতক্ষণ না আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রহিতকারী ইসলামের শরীয়ত এবং পূর্ববর্তী সকল কিতাবকে রহিতকারী কুরআন দিয়ে প্রেরণ করলেন। অতঃপর ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনার তারা ঈমান আনল এবং তাদের আলেম ও পণ্ডিতদের মধ্য থেকেও অনেকে বিশ্বাস স্থাপন করল। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা অহংকার করার তারা অহংকার করল; ফলে তারা কুফরি করল এবং পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হলো, যাদের কাছ থেকে আল্লাহ ইসলাম এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিশ্বাস ও তিনি কুরআন ও সুন্নাহর যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার স্বীকৃতি ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম কবুল করবেন না।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌نبذة موجزة عن تاريخ النصرانية

ومن المهم في هذه المقدمة معرفة أصل موقف اليهود النصارى(1) من المسيح وشريعته، وأوجز هنا كلاماً لبعض المؤرخين عن ذلك -وأغلبه من كلام الإمام ابن كثير رحمه الله حيث ذكروا: أنَّ اليهود كذّبوا المسيح عليه السلام، ورفضوا أن ينسخ شيئاً من أحكام التوراة، وكانوا يزعمون أن المسيح ساحر كذاب، بل يقولون: إنه ولد غَيّة (زنا)، وقالوا على أمه بهتاناً عظيماً، وحرّضوا عليه وسعوا في قتله، وقالوا: إن النصارى ليسوا على شيء من الدين الصحيح. واستمر المسيح عليه السلام في دعوته مراغماً لليهود الذين أرادوا قتله، جرياً على عادتهم في قتل الأنبياء. واستعانت اليهود -قبحهم الله -على معاداة عيسى عليه السلام، بملوك اليونان، ووَشَوا عندهم، وأوحَوا إليهم أن هذا يفسد عليكم الرعايا، فبعثوا من يقبض عليه. ولَمَّا أراد اليهود قتل المسيح عِيسَى بن مريم عليه السلام وأراد الله أن يرفعه إلى السماء، خرج المسيح إلى أصحابه - وهم اثنا عشر رجلاً - من عينٍ في البيت، ورأسه يقطُر ماءً، فقال لهم: أما إنّ منكم من سيكفر بي اثنتي عشرة مرةً بعد أن آمن بي، ثم قال: أيّكم سيُلقَى عليه شَبَهي فيُقتل مكاني، ويكون معي في درجتي؟، فقام شاب من أحدثهم سناً، فقال: أنا، فقال عيسى: اجلس، ثم أعاد عليهم، فقام الشاب فقال: أنا، فقال: نعم،

--------------------------------------------

(1) مما يذكره بعض المؤرخين أن النصارى نسبوا للناصرة، لأن عيسى من قرية الناصرة، واليوم يغضبون من وصفهم بالنصارى، ويريدون أن يوصفوا بالمسيحيين. في حين أن اليهود يصفون النصارى ب (Nazorean) يعني النصارى، والنصارى لا يعترضون عليهم. وتسمية النصارى ب (المسيحيين) هي في أصلها مسبة للنصارى، حيث إن أهل أنطاكية أعداء النصارى كان يشتمون النصارى بأنهم (مسيحيين) أي: عبّاد المسيح.
খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

এই উপক্রমণিকায় ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর শরিয়তের প্রতি ইয়াহুদি ও নাসারাদের(১) অবস্থানের মূল উৎস সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখানে এ বিষয়ে কিছু ঐতিহাসিকের বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরছি—যার অধিকাংশ ইমাম ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনা থেকে গৃহীত। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে: ইয়াহুদিরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং তাওরাতের কোনো বিধান তিনি রহিত করবেন—তা মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল। তারা দাবি করত যে, ঈসা একজন জাদুকর ও চরম মিথ্যাবাদী; এমনকি তারা বলত যে তিনি অবৈধ সন্তান (নাউযুবিল্লাহ)। তারা তাঁর মাতার প্রতি গুরুতর অপবাদ আরোপ করেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছিল এবং তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা বলত যে, নাসারারা সঠিক কোনো দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ঈসা (আলাইহিস সালাম) ইয়াহুদিদের প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখেও তাঁর দাওয়াত অব্যাহত রাখেন—যারা নবিদের হত্যার চিরচেনা অভ্যাস অনুযায়ী তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ইয়াহুদিরা—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন—ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর শত্রুতা সাধনে গ্রিক রাজাদের সাহায্য গ্রহণ করেছিল। তারা রাজাদের কাছে তাঁর নামে চোগলখুরি করেছিল এবং তাদের বুঝিয়েছিল যে, এই ব্যক্তি প্রজাদের রাষ্ট্রদ্রোহী করে তুলছে। ফলে রাজারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে লোক পাঠাল। যখন ইয়াহুদিরা মারইয়াম-তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে হত্যা করতে চাইল এবং আল্লাহ তাঁকে আসমানে তুলে নেওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সঙ্গীদের কাছে—যাঁরা সংখ্যায় বারোজন ছিলেন—ঘরের ভেতর একটি ঝরনা থেকে মস্তক দিয়ে পানি ঝরা অবস্থায় বের হয়ে এলেন। তিনি তাঁদের বললেন: তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে, যে আমার ওপর ঈমান আনার পর বারোবার কুফরি করবে। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে আছ, যার ওপর আমার সদৃশ রূপ অর্পণ করা হবে এবং আমার পরিবর্তে তাকে হত্যা করা হবে, আর সে জান্নাতে আমার উচ্চমর্যাদায় আমার সাথে থাকবে? তখন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ এক যুবক দাঁড়িয়ে বলল: আমি। ঈসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: তুমি বসো। এরপর তিনি পুনরায় একই প্রস্তাব দিলেন। সেই যুবক আবার দাঁড়িয়ে বলল: আমি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, (তবে) তুমিই সেই ব্যক্তি।

--------------------------------------------

(১) কিছু ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন যে, নাসারাদের এই নামকরণ ‘নাসিরাহ’ (Nazareth) গ্রামের দিকে সম্বন্ধ করে করা হয়েছে, কারণ ঈসা (আলাইহিস সালাম) নাসিরাহ গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। বর্তমানে তারা ‘নাসারা’ বিশেষণে অভিহিত হতে অসন্তুষ্ট হয় এবং নিজেদের ‘খ্রিস্টান’ (Christian) হিসেবে পরিচয় দিতে চায়। অথচ ইয়াহুদিরা নাসারাদের ‘নাজোরিয়ান’ (Nazorean) অর্থাৎ নাসারা বলে সম্বোধন করে এবং নাসারারা তাতে কোনো আপত্তি করে না। মূলত ‘খ্রিস্টান’ নামকরণটি আদি উৎস হিসেবে তাদের প্রতি একটি গালি ছিল; আন্তাকিয়ার (Antioch) অধিবাসীরা, যারা নাসারাদের শত্রু ছিল, তারা তাদের ‘খ্রিস্টান’ বলে গালি দিত, যার অর্থ হলো: ‘খ্রিস্টের উপাসক’।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أنت ذاك. فأُلقي عليه شَبَهُ عيسى، ورفع عيسى عليه السلام من رَوْزَنَةٍ (نافذة في السقف) كانت في البيت إلى السماء. وسيعود عليه السلام وينزل من السماء قبيل قيام الساعة حاكماً بالإسلام.

وبعد رفع عيسى عليه السلام إلى السماء جاء الطلب من اليهود، فأخذوا الشبيه فقتلوه، ثم صلبوه، ثم زعم اليهود أنهم قتلوا عيسى وصلبوه وقالوا: {إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ}، وحقيقة الأمر أنهم كما قال الله تعالى: {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا 157 بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا 158} [النساء: 157 - 158].

ثم كان الخراب الثاني لبيت المقدس، فبعث الله إليهم ملكا من ملوك بابل يقال له: خردوس، فسار إليهم بأهل بابل وظهر عليهم بالشأم، وقد قيل: هذا تأويل قوله: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ} [المائدة: 78]. وبعد الخراب الثاني تفرقوا في الأرض، ومن حينئذ زال ملكهم وقطعهم الله في الأرض أمماً، وكانوا تحت حكم الروم والفرس ولم يبق لهم ملك.

وجاء بولس (شاؤول اليهودي)(1) وهو أول من حرف الديانة النصرانية، ولم يكن من تلاميذ المسيح، ولم تثبت له رؤية المسيح عليه

--------------------------------------------

(1) كان بولس من اليهود الفريسيين، وهم: مجموعة يهودية تقول بأن الإله أوحى شريعة مكتوبة وأخرى شفهية لموسى عليه السلام. ويخالفهم اليهود الصدوقيين وهم: مجموعة يهودية ترفض وجود الشريعة الشفوية، وتنسب إلى الكاهن صدّوق. وهناك أيضاً اليهود السامريون. وقد كتب بولس رسائله قبل كتابة الأناجيل الأربعة، والأناجيل الأربعة استوحت دينهاالمحرف من رسائل بولس، لكن محرري العهد الجديد دلسوا على الناس، فجعلوا الأناجيل الأربعة في الترتيب قبل رسائل بولس، لإيهام أتباعهم من النصارى أن بولس استوحى رسائله من الأناجيل وليس العكس؛ فبولس هو صانع النصرانية اليوم. ويقول بولس: إذا كان كذبي من أجل تمجيد الرب، فلماذا أسمى خطّاءً؟! ويقول: "ليس هناك شيء طيب فيّ، ما لا أريد أن أفعله أفعله". ومرة يقول: "أنا مع اليهود يهودي، ومع الوثنيين وثني، ومع من هم تحت الشريعة، ومع من هم فوق الشريعة وخارج القانون". ومع ذلك جعلوه القديس المبجل سانت بول St Paul وهو الذي غير اسمه من (شاؤول) إلى (بولس) ليخفي تاريخ قتله للنصارى، وادعى أن المسيح جعل نفسه لعنة ليحرر الناس من لعنة الناموس (شريعة التوراة) فكان بولس يحرض على ترك التوراة. ومن العجيب أن النصارى ورد لديهم في النبوءات في إنجيلهم: "من قال كلمة على الشريعة أو حث الناس على تركها، سوف يجعل الأصغر في هذه الدنيا". ومعنى كلمة باولوس في اللغة اليونانية القديمة: الأصغر. فأوقع شاؤول نفسه في ذلك بتغيير اسمه إلى بولس وهو لا يدري؛ لجهله وكذبه. وقد أراد الحواريان بطرس (بيتر) وجيمس (ابن يوسف النجار) قتله، لكنه هرب منهما إلى اليونان، وبشر بدينه في اليونان وقال: أنا للأغيار.
"তুমিই সেই ব্যক্তি।" অতঃপর তার ওপর ঈসা (আ.)-এর সদৃশ রূপ অর্পণ করা হলো এবং ঈসা (আ.)-কে ঘরের ছাদের একটি ক্ষুদ্র জানালা (রওজানা) দিয়ে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হলো। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি পুনরায় ফিরে আসবেন এবং ইসলামের বিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনার জন্য আসমান থেকে অবতরণ করবেন।

ঈসা (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার পর ইহুদিদের পক্ষ থেকে তল্লাশি শুরু হলো। তারা সেই সদৃশ ব্যক্তিকে পাকড়াও করে হত্যা করল এবং পরে তাকে ক্রুশবিদ্ধ করল। অতঃপর ইহুদিরা দাবি করল যে, তারা ঈসাকে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করেছে এবং তারা বলল: "আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম-পুত্র মাসীহ ঈসাকে হত্যা করেছি।" অথচ প্রকৃত বিষয় হলো মহান আল্লাহ যেমনটি বলেছেন: "তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (অন্য একজনকে) তার সদৃশ করা হয়েছিল। যারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে, তারা নিশ্চয়ই এ নিয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে; এ সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, কেবল ধারণার অনুসরণ ছাড়া। আর এটা নিশ্চিত যে তারা তাকে হত্যা করেনি (১৫৭)। বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (১৫৮)" [আন-নিসা: ১৫৭-১৫৮]।

অতঃপর বাইতুল মাকদিসের দ্বিতীয় ধ্বংসযজ্ঞ সঙ্ঘটিত হলো। আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবিলনের রাজাদের মধ্য থেকে 'খারদুস' নামক এক রাজাকে প্রেরণ করলেন। সে ব্যাবিলনবাসীদের নিয়ে তাদের দিকে অগ্রসর হলো এবং সিরিয়া অঞ্চলে তাদের ওপর বিজয়ী হলো। বলা হয়ে থাকে যে, এটিই মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: "বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তারা দাউদ ও মারইয়াম-পুত্র ঈসার মুখে অভিশপ্ত হয়েছে" [আল-মায়িদাহ: ৭৮]। দ্বিতীয় ধ্বংসের পর তারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল। তখন থেকে তাদের রাজত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাদের বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত করে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দেন। তারা রোম ও পারস্যের শাসনাধীন ছিল এবং তাদের কোনো নিজস্ব রাজত্ব অবশিষ্ট ছিল না।

অতঃপর আগমন ঘটল পৌলের (ইহুদি শাউল)(১) এবং সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে খ্রিস্টধর্মকে বিকৃত করেছিল। সে মসীহের শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং মসীহ (আ.)-এর সাথে তার সাক্ষাতের কোনো প্রমাণও নেই।

--------------------------------------------

(১) পৌল ছিলেন ফরীশী ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত। তারা এমন এক ইহুদি গোষ্ঠী যারা দাবি করে যে, ঈশ্বর মূসা (আ.)-এর কাছে একটি লিখিত শরীয়ত এবং অপর একটি মৌখিক শরীয়ত নাজিল করেছেন। তাদের বিরোধী ছিল সদ্দূকী ইহুদিরা, যারা মৌখিক শরীয়তের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং নিজেদের যাজক সাদোকের অনুসারী বলে দাবি করে। এছাড়াও সামেরীয় ইহুদি গোষ্ঠীও বিদ্যমান ছিল। পৌল চারটি ইঞ্জিল (সুসমাচার) লিখিত হওয়ার পূর্বেই তার পত্রাবলি লিখেছিলেন এবং প্রচলিত চারটি ইঞ্জিল পৌলের পত্রাবলি থেকেই তাদের বিকৃত ধর্মের অনুপ্রেরণা লাভ করেছিল। কিন্তু নতুন নিয়মের (নিউ টেস্টামেন্ট) সংকলকরা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন; তারা চারটি ইঞ্জিলকে ক্রমবিন্যাসে পৌলের পত্রাবলির আগে রেখেছেন যাতে খ্রিস্টানদের এই বিভ্রান্তিকর ধারণা দেওয়া যায় যে, পৌল ইঞ্জিল থেকে তার পত্রাবলির অনুপ্রেরণা নিয়েছেন, অথচ বাস্তবতা এর উল্টো। প্রকৃতপক্ষে পৌলই বর্তমান খ্রিস্টধর্মের নির্মাতা। পৌল বলেন: "আমার মিথ্যার মাধ্যমে যদি প্রভুর মহিমা প্রকাশিত হয়, তবে কেন আমি পাপী হিসেবে গণ্য হব?!" তিনি আরও বলেন: "আমার মধ্যে কোনো উত্তম কিছু নেই; আমি যা করতে চাই না, আমি তা-ই করি।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি ইহুদিদের সাথে ইহুদি, পৌত্তলিকদের সাথে পৌত্তলিক, যারা শরীয়তের অধীনে তাদের সাথে শরীয়তপন্থী এবং যারা শরীয়তের ঊর্ধ্বে ও আইনের বাইরে তাদের সাথে আইনহীন।" এতদসত্ত্বেও খ্রিস্টানরা তাকে পরম শ্রদ্ধেয় 'সেন্ট পল' হিসেবে গ্রহণ করেছে। তিনি খ্রিস্টানদের হত্যার ইতিহাস আড়াল করতে নিজের নাম 'শাউল' থেকে পরিবর্তন করে 'পৌল' রেখেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, মসীহ নিজেকে অভিশপ্ত করেছেন মানুষকে নামূসের (তাওরাতের বিধান) অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য; এভাবে পৌল তাওরাতের বিধান ত্যাগে মানুষকে প্ররোচিত করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, খ্রিস্টানদের নিজেদের ইঞ্জিলের ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি শরীয়ত সম্পর্কে কোনো কথা বলবে বা মানুষকে তা ত্যাগে প্ররোচিত করবে, সে এই দুনিয়ায় 'ক্ষুদ্রতম' (the least) হিসেবে গণ্য হবে।" আর প্রাচীন গ্রিক ভাষায় 'পৌলস' শব্দের অর্থ হলো: 'ক্ষুদ্রতম'। নিজের অজ্ঞতা ও মিথ্যাচারের কারণে শাউল নাম পরিবর্তন করে পৌল রাখার মাধ্যমে নিজেই নিজেকে সেই ভবিষ্যদ্বাণীর অন্তর্ভুক্ত করে ফেললেন অথচ তিনি তা জানতেন না। হাওয়ারী পিতর (পিটার) এবং জেমস (ইউসুফ সুতারের পুত্র) তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের হাত থেকে পালিয়ে গ্রিসে চলে যান এবং সেখানে নিজের আবিষ্কৃত ধর্মের প্রচার করেন ও বলেন: "আমি অ-ইহুদিদের (জেন্টাইলস) জন্য।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৫)
السلام في حياته، وكان بولس عارفاً بالفلسفة الإغريقية ومدرسة الإسكندرية(1) متأثراً بالفلسفة الأفلاطونية والرواقية التي تنبذ المادة والجسم وتعتبرهما شرّاً وخبثاً، وبالطقوس الوثنية في التضحية الفدائية للتكفير عن خطايا الناس، حسب عقيدة بلاد اليونان التي تؤمن بالآلهة التي ماتت لتفتدي بموتها بني الإنسان.

وكان بولس من أشدّ الناس اضطهاداً وتعذيباً لأتباع المسيح عليه السلام، ثم تظاهر بالنصرانية وادعى أنه التقى مع المسيح وأن المسيح ظهر له فجأة في الطريق، وتحول بولس من عدو لأتباع المسيح إلى مغيّر لرسالة المسيح، واختلق عقيدة التثليث للنصارى، ودعا إلى تأليه المسيح وأنه ابن الله، وزعم أن المسيح صلب تكفيراً عن خطيئة آدم وفداء عن البشرية وإثمها الذي تحملته بعد ذلك، لكي يجد مبرراً لصلب المسيح حسب ما

--------------------------------------------

(1) كانت الإسكندرية المركز الإشعاعي للفكر اليوناني، ونسبت لليونان لأنهم احتلوا الاسكندرية وقضوا على الفراعنة.
তাঁর জীবদ্দশায় শান্তি [বর্ষিত হোক], এবং পৌল (পল) গ্রিক দর্শন ও আলেকজান্দ্রিয়া ঘরানা(১) সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি প্লেটোবাদী ও স্টোয়িক দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যা পদার্থ ও শরীরকে বর্জন করে এবং এই উভয়কে অশুভ ও নিকৃষ্ট মনে করে। এছাড়া তিনি মানুষের পাপ মোচনের নিমিত্তে প্রায়শ্চিত্তমূলক বলিদানের পৌত্তলিক আচার-অনুষ্ঠান দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যা গ্রিসের সেই বিশ্বাসের অনুসারী ছিল যা এমন সব উপাস্যে বিশ্বাস করে যারা মানবজাতির মুক্তির তরে নিজেদের মৃত্যুর মাধ্যমে আত্মোৎসর্গ করেছে।

পৌল ছিলেন ঈসা আলাইহিস সালামের অনুসারীদের ওপর কঠোরতম নির্যাতন ও নিপীড়নকারীদের একজন। অতঃপর তিনি খ্রিস্টধর্মের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং দাবি করেন যে, তাঁর সাথে মসীহের সাক্ষাৎ হয়েছে এবং মসীহ পথিমধ্যে হঠাৎ তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়েছেন। এভাবে পৌল মসীহের অনুসারীদের শত্রু থেকে মসীহের বাণীর বিকৃতিসাধনকারীতে রূপান্তরিত হন। তিনি খ্রিস্টানদের জন্য ত্রিত্ববাদের (ট্রিনিটি) আকিদা উদ্ভাবন করেন এবং মসীহকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করার ও তিনি আল্লাহর পুত্র হওয়ার দাওয়াত দেন। তিনি দাবি করেন যে, আদমের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে এবং মানবজাতি ও তাদের বহনকৃত গুনাহের মুক্তিপণ হিসেবে মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে তিনি মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্বপক্ষে একটি যৌক্তিক ভিত্তি খুঁজে পান যা...

--------------------------------------------

(১) আলেকজান্দ্রিয়া ছিল গ্রিক চিন্তাধারার প্রসারের কেন্দ্রবিন্দু। একে গ্রিসের সাথে সম্পর্কিত করা হয় কারণ তারা আলেকজান্দ্রিয়া দখল করেছিল এবং ফারাওদের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৬)
توهمه، وكتب كتاباً يحوي أربع عشرة رسالة ادعى أتباعه أنه كتبها بالإلهام، وهي التي تشكلت منها الديانة النصرانية المحرفة، ونَسَخَ الختان، واستبدل السبت بالأحد، إلى غير ذلك من تحريفاته، كما زعم بولس أن المسيح سيحاسب الناس يوم القيامة.

وعقيدة التثليث التي ابتدعها بولس لم يأت بها نبي من الأنبياء، ولا نزلت في كتاب من الكتب السماوية، ولم ترد في التوراة، وعلماء اليهود من عهد موسى عليه السلام إلى هذا الزمان لا يعترفون بعقيدة التثليث، ولا يرضون بنسبتها إلى كتبهم.

وأدت انحرافات بولس إلى افتراق برنابا الحواري عنه في رحلاته، وكتابته لإنجيل برنابا(1) الذي صرح فيه بتوحيد الله تعالى وبالبشارة بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم وقال ببشرية عيسى عليه السلام وأنكر صلبه، وذكر أنه ألقي الشبه على يهوذا الإسخريوطي؛ كما ذكر أن الذبيح هو إسماعيل وليس إسحاق.

--------------------------------------------

(1) أقدم خبر عن إنجيل برنابا كان قريباً من عام 492 م، حين أصدر البابا جلاسيوس الأول أمراً يحرم فيه مطالعة عدد من الكتب، كان منها كتاب يسمى إنجيل برنابا، وهذا كان قبل مبعث النبي محمد صلى الله عليه وسلم، ثم لم يظهر له خبر بعد ذلك إلا في أواخر القرن السادس عشر الميلادي؛ حيث عثر الراهب اللاتيني فرامرينو على رسائل لإريانوس يندد فيها ببولس، وأسند إريانوس تنديده هذا إلى إنجيل برنابا، فحرص هذا الراهب على الاطِّلاع على هذا الإنجيل وبحث عنه إلى أن وجده في مكتبة البابا سكتس الخامس، وطالعه بشغف شديد ثم أسلم. كما عثر كريمر أحد مستشاري ملك بروسيا على نسخة لإنجيل برنابا باللغة الايطالية عند أحد وجهاء مدينة أمستردام، وأهداها كريمر إلى الأمير إيوجين سافوي ثم انتقلت إلى مكتبة البلاط الملكي في فيينا، حيث هي موجودة الآن، وقد ترجمت إلى الإنجليزية وغيرها.
তাঁর কল্পনাপ্রসূত ভ্রান্ত ধারণা অনুযায়ী তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন যাতে চৌদ্দটি পত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল; তাঁর অনুসারীরা দাবি করে যে তিনি এগুলো ঐশী অনুপ্রেরণায় লিখেছেন এবং এগুলো থেকেই মূলত বিকৃত খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তি রচিত হয়েছে। তিনি খতনা প্রথা রহিত করেন এবং শনিবারের স্থলে রবিবারকে স্থলাভিষিক্ত করেন। এ জাতীয় আরও বহু বিকৃতি ছাড়াও পল দাবি করেছিলেন যে, মসীহ কিয়ামতের দিন মানুষের বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।

পলের উদ্ভাবিত এই ত্রিত্ববাদ (ট্রিনিটি) কোনো নবী নিয়ে আসেননি, কোনো আসমানি কিতাবেও তা অবতীর্ণ হয়নি এবং তাওরাতেও এর কোনো বর্ণনা নেই। মূসা আলাইহিস সালামের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইহুদি পণ্ডিতগণ ত্রিত্ববাদকে স্বীকার করেন না এবং তাঁদের কিতাবসমূহের প্রতি এর সম্বন্ধ করাকেও তাঁরা মেনে নেন না।

পলের এই বিচ্যুতিসমূহ তাঁর সফরগুলোতে হাওয়ারি বার্নাবাসকে তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করে এবং তিনি 'বার্নাবাসের ইঞ্জিল'(১) রচনা করেন। এতে তিনি মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের সুসংবাদ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি ঈসা আলাইহিস সালামের মানবীয় সত্তার কথা বলেন ও তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেন এবং উল্লেখ করেন যে, যিহূদা ঈষ্কারীযোতকে ঈসা আলাইহিস সালামের সদৃশ করা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জবেহকৃত কুরবানি ছিলেন ইসমাইল, ইসহাক নন।

--------------------------------------------

(১) বার্নাবাসের ইঞ্জিল সংক্রান্ত প্রাচীনতম সংবাদটি ৪৯২ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ের, যখন পোপ প্রথম গেলাসিয়াস বেশ কিছু কিতাব পাঠ নিষিদ্ধ করে এক ফরমান জারি করেছিলেন; সেই তালিকায় বার্নাবাসের ইঞ্জিল নামক একটি কিতাবও ছিল। এটি ছিল নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পূর্বের ঘটনা। এরপর ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত এর আর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। অতঃপর ফ্রা মারিনো নামক একজন ল্যাটিন সন্ন্যাসী ইরিনিয়াসের কিছু পত্রের সন্ধান পান যেখানে তিনি পলের নিন্দা করেছিলেন এবং ইরিনিয়াস তাঁর এই নিন্দার সূত্র হিসেবে বার্নাবাসের ইঞ্জিলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ফলে উক্ত সন্ন্যাসী কিতাবটি দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন এবং অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পোপ পঞ্চম সিক্টাসের গ্রন্থাগারে তা খুঁজে পান। গভীর আগ্রহ নিয়ে পাঠ করার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। একইভাবে প্রুশীয় রাজ-উপদেষ্টাদের একজন ক্রেমার আমস্টারডামের এক বিশিষ্ট ব্যক্তির নিকট ইতালীয় ভাষায় বার্নাবাসের ইঞ্জিলের একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পান। ক্রেমার সেটি প্রিন্স ইউজিন অফ স্যাভয়কে উপহার দেন। পরবর্তীতে তা ভিয়েনার রাজকীয় লাইব্রেরিতে স্থানান্তরিত হয় এবং বর্তমানে সেটি সেখানেই রয়েছে। এটি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وكان الإنجيل كتاباً موجوداً ومعروفاً لدى النصارى الأوائل(1) بأنه (إنجيل الله) أو (إنجيل المسيح)، وقد ذكره بولس في رسائله، لكن النصارى لا يعرفون شيئاً عن مصير ذلك الإنجيل، ولا أين ذهب، وقد صار عند النصارى -بدل ذلك الإنجيل الواحد- أناجيل كثيرة مختلفة ومتناقضة، أشهرها أربعة أناجيل من طريق مرقس ولوقا ومتى ويوحنا، وليس لها سند متصل، وهي أشد اختلافاً وتحريفاً وأكثر زيادةً ونقصاً وأفحش تفاوتاً من التوراة المحرفة.

وأصبح لدى اليهود التوراة التي لم تسلم من التحريف والتبديل والتي يؤمن بها اليهود والنصارى وتتكون من الأسفار الخمسة المنسوبة لموسى، وأضافوا معها الأسفار التاريخية المنسوبة لعدد من الأنبياء، وأسفار الشعر والحكمة وتنسب في غالبها إلى داود وسليمان، ومن المزامير ما ينسب إلى آخرين مجهولين، والأسفار النبوية وتتكون من سبع عشرة سفراً، وأسفار الأبوكريفا السبعة وبعض الكنائس المسيحية تزيد أسفاراً أخرى.

ولدى النصارى مجموعة الأناجيل الأربعة والرسائل الملحقة بها، وتنسب إلى ثمانية من المحررين ينتمون إلى الجيل الأول والثاني من

--------------------------------------------

(1) النصرانية الحقيقية التي كانت في القرون الأولى بعد ميلاد المسيح انقرضت، وأصحابها هم (الأريسيون) وقد يسمّون الأبونايت أو الأبنويين، وهم موحدون. وعاد ذكرهم مؤخراً في ضجة إعلامية من خلال لفائف مخطوطات البحر الميت التي عثر عليها سنة 1947 م، ووضعت في دير الكاثوليك ونسخة منها لبعثة CIA في دمشق، ودرسوا تاريخها بإشعاع الجلد (كاربون 14) Radiocarbon dating حيث وجدوا أن عمرها من القرن الأول، ومكتوبة بحروف عبرية، وهي أقدم مخطوطاتهم. فلما بدؤوا ترجمتها؛ أخفوا هذه المخطوطات؛ لأنهم وجدوها من أتباع المسيح الموحدين الذين هربوا من القتل في القدس ولجؤوا إلى قرية قُمران على شاطئ البحر الميت، ووجدوا فيها أن الموحدين يقولون إن المسيح نبي، وأنه معلِّم، وأنه لم يصلب، وأنه قال: "لدي أشياء لا تحتملوها لكن عندما يأتي محمد سيعطيكم كل ما تحتاجونه إلى آخر يوم في حياتكم".
আদি খ্রিস্টানদের(১) নিকট ইনজিল একটি বিদ্যমান ও সুপরিচিত কিতাব ছিল যা 'আল্লাহর ইনজিল' বা 'মসিহের ইনজিল' নামে পরিচিত ছিল। পল তার পত্রাবলীতে এর উল্লেখ করেছেন, কিন্তু খ্রিস্টানরা সেই ইনজিলের পরিণতি সম্পর্কে কিছুই জানে না এবং সেটি কোথায় হারিয়ে গেছে তাও তাদের জানা নেই। সেই একটি ইনজিলের পরিবর্তে খ্রিস্টানদের নিকট এখন অনেক ভিন্নধর্মী ও পরস্পরবিরোধী ইনজিল রয়েছে, যার মধ্যে মার্ক, লুক, মথি ও যোহনের মাধ্যমে বর্ণিত চারটি ইনজিল সবচেয়ে বিখ্যাত। এগুলোর কোনো অবিচ্ছিন্ন সনদ বা সূত্র নেই; এগুলো বিকৃত তাওরাতের তুলনায় অধিকতর বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, পরিবর্তিত, অধিক কম-বেশি মিশ্রিত এবং অত্যন্ত অসংগতিপূর্ণ।

ইহুদিদের নিকট রয়েছে সেই তাওরাত যা বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা পায়নি এবং ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয়ই এতে বিশ্বাস করে। এটি মুসার প্রতি গুণারোপিত পাঁচটি খণ্ড নিয়ে গঠিত। এর সাথে তারা বেশ কয়েকজন নবীর প্রতি গুণারোপিত ঐতিহাসিক খণ্ডগুলো যুক্ত করেছে। এছাড়া কবিতা ও প্রজ্ঞার খণ্ডসমূহ রয়েছে যা মূলত দাউদ ও সুলায়মানের প্রতি গুণারোপিত। সামসঙ্গীতের কিছু অংশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের প্রতিও আরোপ করা হয়। আরও রয়েছে সতেরটি নবুয়ত সংক্রান্ত খণ্ড এবং সাতটি অপোক্রিফা খণ্ড; আর কিছু খ্রিস্টান গির্জা এতে আরও অতিরিক্ত কিছু খণ্ড যোগ করে থাকে।

খ্রিস্টানদের নিকট রয়েছে চারটি ইনজিলের সংকলন এবং এর সাথে সংযুক্ত পত্রাবলী, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের আটজন সংকলকের প্রতি গুণারোপ করা হয় যারা...

--------------------------------------------

(১) ঈসা (আ.)-এর জন্মের পর প্রথম কয়েক শতাব্দীতে বিদ্যমান প্রকৃত খ্রিস্টধর্ম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর অনুসারীরা ছিল ‘অ্যারিয়ান’, যাদেরকে কখনো ‘এবিওনাইট’ নামেও ডাকা হতো; তারা ছিল একত্ববাদী। ১৯৪৭ সালে মৃত সাগরের পাণ্ডুলিপি (ডেড সি স্ক্রল) পাওয়ার পর গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে তাদের কথা পুনরায় সামনে আসে। এগুলো ক্যাথলিক মঠে রাখা হয়েছিল এবং এর একটি অনুলিপি দামেস্কে সিআইএ (CIA) মিশনের কাছে ছিল। তারা রেডিওকার্বন ডেটিং-এর মাধ্যমে এর বয়স পরীক্ষা করে দেখেছে যে এগুলো প্রথম শতাব্দীর এবং হিব্রু হরফে লিখিত; এগুলো তাদের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি। যখন তারা এর অনুবাদ শুরু করল, তখন তারা এই পাণ্ডুলিপিগুলো লুকিয়ে ফেলল; কারণ তারা দেখেছিল যে এগুলো ছিল মসিহের সেইসব একত্ববাদী অনুসারীদের যারা জেরুজালেমে হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পালিয়ে মৃত সাগরের তীরে ‘কুমরান’ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল। তারা সেখানে পেয়েছিল যে, সেই একত্ববাদীরা বলত মসিহ একজন নবী ও শিক্ষক ছিলেন এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন: "তোমাদের বলার মতো আমার কাছে অনেক কিছু আছে যা তোমরা এখন সহ্য করতে পারবে না, তবে যখন মুহাম্মদ আসবেন তিনি তোমাদের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব সত্যের পথে পরিচালিত করবেন।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৮)
النصرانية، وهم متى ومرقس ولوقا ويوحنا أصحاب الأناجيل، ثم بولس صاحب الأربع عشرة رسالة، ثم بطرس ويعقوب ويهوذا، تلاميذ المسيح الذين تنسب إليهم القليل من الرسائل.

وقد أخبر الله جل وعلا عن تحريف اليهود والنصارى للتوراة والإنجيل، وجاء في القرآن الكريم قول الله تعالى: {وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ 78} [آل عمران: 78]، وقوله جل وعلا: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ 79} [البقرة: 79]، وقال الله تعالى: {مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ} [النساء: 46]، ودل على تحريف كتبهم التي بين أيديهم: انقطاع سندها، والتناقض الواضح بين نصوصها، واختلاف نُسخها وعدد أسفارها، وشهادة بعض علماء اليهود والنصارى على وقوع التحريف في كتبهم؛ وخاصة من رجع منهم إلى الحق واتبع شريعة محمد صلى الله عليه وسلم.

ثم إن النصارى -بعد فتنة بولس وتحريفه لدين المسيح عليه السلام تفرقوا واختلفوا ثلاث فرق، فقالت فرقة: كان فينا الله ما شاء، ثم صعد إلى السماء، وهؤلاء اليعقوبية أصحاب يعقوب البرادعي (الأرثدوكس)، وقالت فرقة: كان فينا ابن الله ما شاء، ثم رفعه الله إليه، وهؤلاء النَسطُورية أصحاب نَسْطُورَس (الكاثوليك)، وقالت فرقة: كان فينا عبد الله ورسوله ما شاء الله، ثم رفعه الله إليه،
খ্রিস্টধর্ম; তারা হলেন চার সুসমাচারের (ইঞ্জিল) রচয়িতা মথি, মার্ক, লূক ও যোহন; এরপর চৌদ্দটি পত্রের লেখক পৌল এবং এরপর পিতর, যাকোব ও যিহূদা—মসীহ্-এর সেই শিষ্যবর্গ যাদের প্রতি অল্প কিছু পত্রের সম্বন্ধ করা হয়।

আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিকৃতি (তাহরিফ) সাধনের সংবাদ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলার বাণী এসেছে: {আর তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা কিতাব পাঠকালে নিজেদের জিহ্বা কুঞ্চিত করে, যাতে তোমরা মনে কর যে তা কিতাবের অংশ, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে।} [আল-ইমরান: ৭৮]। এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার বাণী: {সুতরাং সেই সব লোকদের জন্য আক্ষেপ, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং নগণ্য মূল্য প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের আক্ষেপ এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও তাদের আক্ষেপ।} [আল-বাকারা: ৭৯]। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: {ইহুদিদের মধ্য থেকে এক দল শব্দের অর্থ বিকৃত করে তাকে স্বস্থান থেকে সরিয়ে দেয়।} [আন-নিসা: ৪৬]। বর্তমানে তাদের নিকট বিদ্যমান কিতাবসমূহের বিকৃতির প্রমাণ হলো: এগুলোর বর্ণনাসূত্র (সনদ) বিচ্ছিন্ন হওয়া, এগুলোর ভাষ্যের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈপরীত্য বিদ্যমান থাকা, এর পাণ্ডুলিপিসমূহের ভিন্নতা ও অধ্যায়সমূহের সংখ্যায় গরমিল থাকা এবং ইহুদি ও খ্রিস্টান পণ্ডিতদের কারো কারো নিজেদের কিতাবের বিকৃতির ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান; বিশেষ করে যারা তাদের মধ্য থেকে সত্যের পথে ফিরে এসেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরিয়তের অনুসরণ করেছেন।

অতঃপর খ্রিস্টানরা—পৌলের ফিতনা এবং মসীহ আলাইহিস সালামের দ্বীন বিকৃত করার পর—বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তিনটি দলে মতবিরোধে লিপ্ত হয়। এক দল বলল: ‘আল্লাহ আমাদের মাঝে অবস্থান করেছিলেন যতক্ষণ তিনি চেয়েছিলেন, এরপর তিনি আসমানে উঠে গিয়েছেন’। এরা হলো ইয়াকুব বারাদ্দায়ী-এর অনুসারী ইয়াকুবীয় সম্প্রদায় (অরথোডক্স)। আরেক দল বলল: ‘আল্লাহর পুত্র আমাদের মাঝে ছিলেন যতক্ষণ আল্লাহ চেয়েছিলেন, এরপর আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন’। এরা হলো নেস্টোরিয়াস-এর অনুসারী নেস্টোরীয় সম্প্রদায় (ক্যাথলিক)। আর অন্য একটি দল বলল: ‘আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল আমাদের মাঝে ছিলেন যতক্ষণ আল্লাহ চেয়েছিলেন, এরপর আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন’।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وهؤلاء هم المسلمون المتبعون للمسيح عليه السلام، ومنهم الأريوسيّة أصحاب عبد الله بن أَرْيُوس.

فأما النسطورية والعقوبية وما تفرع عنهم من فرق كافرة؛ فكل فرقة من هؤلاء تكفر الأخرى وتعتقد تخليدهم في نار جهنم ولا ترى مجامعتهم في المعابد والكنائس، وكلهم يقول بالتثليث، ولكن بينهم اختلاف في الحلول والاتحاد فيما بين اللاهوت والناسوت هل تدرعه؟ أو حل فيه؟ أو اتحد به؟، واختلافهم في ذلك شديد وكفرهم بسببه غليظ(1).

وبعد رفع المسيح عليه السلام بثلاثمائة سنة اختلف البتاركة الأربعة وجميع الأساقفة والقساوسة والشمامسة والرهابين في المسيح على أقوال متعددة لا تنحصر ولا تنضبط واجتمعوا وتحاكموا إلى الملك قسطنطين -باني القسطنطينة- فلجؤوا للتصويت وقرروا عقيدة التثليث في مجمع نيقية سنة 325 م(2)، وصار الملك إلى قول أكثر فرقة اتفقت على

--------------------------------------------

(1) في القرن الثاني الميلادي حصل انقسام بين النصارى في المرجعية؛ فصار هناك مرجعان: مرجع في القسطنطينية للأرثدوكس، ومرجع في الفاتيكان للكاثوليك. أما الكاثوليك في روما فقد تأثروا بالفلسفات الإغريقية التي لديها أن زيوس هو «أب الآلهة والبشر». يتزوج إنسيات وينجب منهن نصف إله ونصف بشر. وأما الأرثدوكس فيقولون إنه إله دائم، ويصفونه أنه عطشان، جائع، خائف، هارب، أخطأ، وقُتل. ثم إن الأرثدوكس في بيزنطة انشقوا عن الكاثوليك بعد مجمع خلقدونيا (من المجامع المسكونية 451 م) بسبب الإتاوات المالية ونهبها من الناس. وفي إنجلترا لما أراد هنري الثامن أن يطلق زوجته (آن) ورفض البابا، فانشق عن الكنيسة وأنشأ الكنيسة الإنجليكانية.

(2) مجمع نيقية أول مجمع للكنيسة العالمية، و (نيقية) قريبة من إزمير بتركيا، وكانت المركز الصيفي للإمبراطور البيزنطي. ومما يروى في قصة مجمع نيقية أنه كان في القرن الرابع الميلادي اثنان من أكبر بطارقة النصارى؛ الأول: آريوس وهو مطران ليبيا، وكان يقول: إن عيسى إنسان ونبي. والثاني: أثناسيوس، كان مقرباً من الرومان ويلتمس ود الإمبراطور الروماني، وفي الديانة الرومانية عقيدة الثالثوث، وابن الإله، فقال: إن عيسى ابن الله. وقامت صراعات بين أتباعهما في عهد قسطنطين الوثني، الذي جمع القساوسة، في نيقية، وقال لهم: كل واحد يحضر إنجيله، ولكي نعرف الحق منها؛ ضعوها تحت الطاولة، ونسأل الرب أن يرينا الحق غداً، فوُضعت الأناجيل الكثيرة تحت الطاولة، ومنها: أناجيل متى ومرقص ولوقا، وهذه الثلاثة تسمى (كانونيكال canonical) وتشبه بعضها؛ لأنهم كان ينقلون من بعضهم البعض. ووضع أيضاً منها إنجيل يوحنا، هو الوحيد الذي كتبها بعدهم بحوالي خمسين سنة وكان أكثر تطرفاً. وفي الليل استدعى قسطنطين البطريق أثناسيوس وطلب منه أن يختار الأناجيل التي يريدها؛ فاختار الأناجيل الأربعة من بين جميع النسخ، ووضعها على الطاولة. وفي اليوم التالي أعلن الملك أن الرب اختار لهم هذه الأناجيل وأن عليهم أن يتبعوها ويحرقوا ما خالفها.
এরাই হলেন সেই মুসলিমগণ যারা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারী ছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে আরিউসের অনুসারী আরিউসবাদীগণ।

আর নাসতুরি (Nestorian), ইয়াকুবি (Jacobite) এবং তাদের থেকে উদ্ভূত অন্যান্য কাফির দলগুলোর অবস্থা হলো: তাদের প্রতিটি দল অপরটিকে কাফির মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে তারা চিরকাল জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে। তারা উপাসনালয় ও গির্জাগুলোতে একে অপরের সাথে একত্র হওয়া বৈধ মনে করে না। তারা সকলেই ত্রিত্ববাদে (Trinity) বিশ্বাসী, তবে লাহুত (ঈশ্বরত্ব) এবং নাসুত (মানবত্ব)-এর মধ্যে হুলুল (অনুপ্রবেশ) ও ইত্তিহাদ (একীভূত হওয়া) নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে; যেমন—তা কি তাকে আবৃত করেছে? নাকি তাতে অনুপ্রবেশ করেছে? নাকি তার সাথে একীভূত হয়েছে? এ বিষয়ে তাদের মতবিরোধ অত্যন্ত চরম এবং এর ফলে তাদের কুফরও অত্যন্ত গুরুতর(১)।

মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার তিনশ বছর পর, চারজন প্রধান বিশপ এবং সমস্ত বিশপ, যাজক, ডিকন ও সন্ন্যাসীরা মসীহ সম্পর্কে অসংখ্য ও অনিয়ন্ত্রিত মতবাদে লিপ্ত হন। তারা একত্রিত হয়ে কনস্টান্টিনোপলের নির্মাতা সম্রাট কনস্টানটাইনের কাছে বিচারপ্রার্থনা করেন। তখন তারা ভোটের আশ্রয় নেন এবং ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দে নিসিয়া কাউন্সিলে ত্রিত্ববাদের আকিদা নির্ধারণ করেন(২)। সম্রাট সেই দলের মত গ্রহণ করলেন যাদের সংখ্যা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং যারা একমত হয়েছিল

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানদের মধ্যে ধর্মীয় কর্তৃত্ব নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি হয়; ফলে দুটি কেন্দ্র তৈরি হয়: একটি কনস্টান্টিনোপলে অর্থোডক্সদের জন্য এবং অন্যটি ভ্যাটিকানে ক্যাথলিকদের জন্য। রোমের ক্যাথলিকরা গ্রিক দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, যেখানে জিউসকে 'দেবতা ও মানুষের পিতা' মনে করা হতো। সে মর্ত্যের নারীদের বিয়ে করত এবং তাদের গর্ভে অর্ধ-দেবতা ও অর্ধ-মানুষ সন্তান জন্মাত। আর অর্থোডক্সরা বলে যে, তিনি (যিশু) চিরস্থায়ী ঈশ্বর, আবার তারা তাকে তৃষ্ণার্ত, ক্ষুধার্ত, ভীত, পলায়নপর, ভুলকারী এবং নিহত হিসেবেও বর্ণনা করে। অতঃপর বাইজেন্টাইন অর্থোডক্সরা ৪৫১ খ্রিষ্টাব্দের চ্যালসেডন কাউন্সিলের (একলেসিক্যাল কাউন্সিল) পর আর্থিক কর আদায় ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনের কারণে ক্যাথলিকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর ইংল্যান্ডে যখন অষ্টম হেনরি তার স্ত্রী অ্যানকে তালাক দিতে চাইলেন এবং পোপ তা প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন তিনি গির্জা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অ্যাংলিকান চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন।

(২) নিসিয়া কাউন্সিল ছিল প্রথম বিশ্বব্যাপী গির্জা সম্মেলন। নিসিয়া তুরস্কের ইজমিরের কাছে অবস্থিত, যা ছিল বাইজেন্টাইন সম্রাটের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্র। নিসিয়া কাউন্সিলের ঘটনা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, চতুর্থ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানদের দুজন বড় বিশপ ছিলেন; প্রথমজন: আরিউস, যিনি ছিলেন লিবিয়ার বিশপ এবং তিনি বলতেন: ঈসা (আলাইহিস সালাম) একজন মানুষ ও নবী। দ্বিতীয়জন: আথানাসিয়াস, যিনি রোমানদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সম্রাটের সন্তুষ্টি কামনা করতেন। রোমান ধর্মে ত্রিত্ববাদ এবং ঈশ্বরের পুত্রের ধারণা বিদ্যমান ছিল, তাই তিনি বললেন: ঈসা ঈশ্বরের পুত্র। মূর্তিপূজারী কনস্টানটাইনের আমলে তাদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সম্রাট নিসিয়ায় যাজকদের একত্রিত করে বললেন: প্রত্যেকে নিজ নিজ ইঞ্জিল নিয়ে আসুন। কোনটি সত্য তা জানার জন্য তিনি বললেন, এগুলো টেবিলের নিচে রাখুন এবং আমরা প্রার্থনা করি যেন প্রভু আগামীকাল আমাদের সত্যটি দেখান। তখন টেবিলের নিচে অনেকগুলো ইঞ্জিল রাখা হয়, যার মধ্যে ম্যাথু, মার্ক এবং লুকের ইঞ্জিলও ছিল। এই তিনটিকে 'ক্যানোনিকাল' (Canonical) বলা হয় এবং এগুলো একে অপরের অনুরূপ, কারণ তারা একে অন্যের থেকে তথ্য গ্রহণ করত। সেখানে ইউহান্না (জন)-এর ইঞ্জিলও রাখা হয়েছিল, যা তিনি তাদের প্রায় পঞ্চাশ বছর পর লিখেছিলেন এবং তা ছিল অধিক চরমপন্থী। রাতে কনস্টানটাইন বিশপ আথানাসিয়াসকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে তার পছন্দমতো ইঞ্জিলগুলো বেছে নিতে বললেন। তিনি সমস্ত পাণ্ডুলিপির মধ্য থেকে এই চারটি ইঞ্জিল বেছে নিয়ে টেবিলের ওপরে রেখে দিলেন। পরদিন সম্রাট ঘোষণা করলেন যে, ঈশ্বর তাদের জন্য এই ইঞ্জিলগুলো বেছে দিয়েছেন এবং তাদের উচিত এগুলো অনুসরণ করা এবং এর পরিপন্থী সবকিছু পুড়িয়ে ফেলা।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قول من تلك المقالات، فسُمّوا: الملائكة، وسموا أيضاً: الملكية نسبة إلى الملك، فنصرهم وبنى لهم آلاف الكنائس ذات التصاوير والتماثيل ودحض من عداهم.

وخالف أغلب النصارى أحكام التوراة والإنجيل في أشياء كثيرة شرعوها لأنفسهم، فمن ذلك صلاتهم إلى الشرق وليست منصوصاً عليها ولا مأموراً بها في شيء من الأناجيل الأربعة، وعمدوا في بناء كنائسهم إلى ما كان من بناء اليونان وحولوا محاريبها إلى الشرق لأنها مطلع الكواكب النيرة وقد كانت تلك الأبنية إلى الشمال إلى الجدي، وصلوا إلى الشرق ولم يكن المسيح صلى إلا إلى صخرة بيت المقدس، وهكذا تصويرهم الصور والأصنام في كنائسهم ولم تكن مصورة قبل ذلك، وتركهم الختان، ونقلهم صيامهم إلى زمن الربيع، وزيادته إلى خمسين يوماً، وأحلوا أشياء هي حرام بنص التوراة ومن ذلك أكل الخنزير، ووضعهم عقيدة التثليث المتناقضة التي يحفظها أطفالهم ونساؤهم ورجالهم التي يسمّونها ب (الأمانة)(1)

--------------------------------------------

(1) يعني عقيدة (الأمانة) التي فيها التثليث والحلول والاتحاد وغيره مما قرره كبراؤهم مع الملك قسطنطين في مجمع نيقية سنة 325 م، وسيأتي ذكرها في فصل (عقيدة الأمانة الموضوعة في مجمع نيقية 325 م).
ঐ সকল মতবাদের প্রবক্তাদের কথা; ফলে তাদেরকে 'মালাইকা' বলা হতো, আবার সম্রাটের (মালিক) প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ করে তাদেরকে 'মালিকিয়্যাহ' (মেলকাইট) বলা হতো। অতঃপর সম্রাট তাদের সমর্থন করলেন এবং তাদের জন্য প্রতিকৃতি ও মূর্তিশোভিত হাজার হাজার গির্জা নির্মাণ করলেন এবং অন্যদের মতবাদকে দমন করলেন।

অধিকাংশ খ্রিস্টান তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিধানের বিপরীতে এমন অনেক বিষয় নিজেদের জন্য প্রবর্তন করেছে যা মূল বিধানে ছিল না। এর মধ্যে একটি হলো পূর্ব দিকে মুখ করে তাদের প্রার্থনা করা, অথচ চার ইঞ্জিলের কোনোটিতেই এর কোনো স্পষ্ট বর্ণনা বা নির্দেশ নেই। তারা তাদের গির্জা নির্মাণের ক্ষেত্রে গ্রিকদের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে এবং সেগুলোর মিহরাবগুলোকে (প্রার্থনার বেদি) পূর্বমুখী করে দেয়, কারণ তা হলো উজ্জ্বল নক্ষত্রমন্ডলীর উদয়স্থল। ইতিপূর্বে ঐ সকল ভবন উত্তর দিকে ধ্রুবতারার অভিমুখী ছিল। তারা পূর্ব দিকে মুখ করে প্রার্থনা শুরু করে অথচ মসীহ কেবল বাইতুল মাকদিসের পাথরের (সাখরাহ) দিকেই প্রার্থনা করতেন। একইভাবে তারা তাদের গির্জাগুলোতে ছবি ও মূর্তির প্রচলন ঘটায় যা ইতিপূর্বে ছিল না। তারা খতনা করা ত্যাগ করে, তাদের রোজাকে বসন্তকালে স্থানান্তরিত করে এবং তা বাড়িয়ে পঞ্চাশ দিন করে। তারা এমন সব বিষয়কে বৈধ করে নেয় যা তাওরাতের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ ছিল, যেমন শূকরের মাংস ভক্ষণ। এছাড়া তারা ত্রিত্ববাদের স্ববিরোধী আকিদা উদ্ভাবন করে যা তাদের শিশু, নারী ও পুরুষ সকলেই মুখস্থ রাখে এবং একে তারা 'বিশ্বাসনামা' (আল-আমানাহ) নামে অভিহিত করে।(১)

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ সেই 'বিশ্বাসনামা' (ক্রেড) যাতে ত্রিত্ববাদ, অবতারবাদ (হুলুল), একাত্মবাদ (ইত্তিহাদ) ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে, যা তাদের ধর্মীয় নেতারা ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্টানটাইনের উপস্থিতিতে নিকিয়া কাউন্সিলে নির্ধারণ করেছিল। এর বিবরণ সামনে ‘৩২৫ খ্রিস্টাব্দে নিকিয়া কাউন্সিলে রচিত বিশ্বাসনামা’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে আসবে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ويختلفون في تفسيرها وهي في الحقيقة أكبر الكفر والخيانة، وابتدعوا (الرهبانية) وهي ترك التزويج لمن أراد التعبد وتحريمه عليه، وكتبوا القوانين التي وضعتها لهم الأساقفة الثلاثمائة والثمانية عشر، فكل هذه الأشياء ابتدعوها ووضعوها في أيام قسطنطين بن قُسطن باني القسطنطينية باتفاق معه، فاتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابا من دون الله؛ يحرمون لهم ما أحل الله، ويحلون لهم ما حرم الله؛ فيتبعونهم.

ثم تظاهرت الفرق الكافرة (الملكية والنسطورية واليعقوبية) على المسلمة (الأريوسية)، فقاتلوها وحرضوا عليها الملك. وكان في الأريوسيين النصارى مؤمنون موحدون يقرءون التوراة، فقيل للملك قسطنطين: ما نجد شتماً أشد من شتم هؤلاء، إنهم يقرءون: {ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون} وهؤلاء الآيات يعيبون بها أعمالنا في قراءتهم، فادعهم فليقرؤوا كما نقرأ، وليؤمنوا كما آمنا، فدعاهم فجمعهم، وعرض عليهم القتل، أو يتركوا قراءة التوراة والإنجيل إلا ما بدلوا منها، فقالوا: ما تريدون إلى ذلك؟، دعونا. فقالت طائفة منهم: ابنوا لنا أسطوانة، ثم ارفعونا إليها، ثم أعطونا شيئاً نرفع به طعامنا وشرابنا، فلا نرد عليكم. وقالت طائفة منهم: دعونا نسيح في الأرض ونهيم، ونشرب كما يشرب الوحش، فإن قدرتم علينا في أرضكم فاقتلونا. وقالت طائفة: منهم ابنوا لنا دوراً في الفَيافي ونحتفر الآبار، ونحترث البقول، فلا نرد عليكم ولا نمرّ بكم، -وليس أحد من القبائل إلا وله حميم فيهم- ففعلوا ذلك، وتفرق أصحابها فسكنوا البراري والبوادي وبنوا الصوامع والديارات والقلايات وقنعوا بالعيش الزهيد، وقد قال الله فيهم: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا} [الحديد: 27] والآخِرون قالوا: نتعبد كما تعبد فلان، ونسيح كما ساح
তারা এর ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ করে, অথচ বাস্তবে এটি চরম কুফরি ও বিশ্বাসঘাতকতা। তারা 'বৈরাগ্যবাদ' (রাহবানিয়্যাহ) উদ্ভাবন করেছে, যা ইবাদত করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য বিবাহ বর্জন এবং একে তার জন্য হারাম করার নামান্তর। তারা সেই সকল আইন-কানুন সংকলন করেছে যা তিনশ আঠারোজন বিশপ তাদের জন্য প্রণয়ন করেছিলেন। এই সব বিষয় তারা কনস্টান্টিনোপলের নির্মাতা কন্সট্যান্টাইন বিন কন্সট্যান্সের আমলে তার সাথে ঐকমত্যের ভিত্তিতে উদ্ভাবন ও প্রতিষ্ঠা করেছিল। ফলে তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ধর্মগুরু ও সন্ন্যাসীদের রবরূপে গ্রহণ করেছে; তারা আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে তাদের জন্য হারাম করে দিত এবং আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে তাদের জন্য হালাল করে দিত, আর তারা তাদের অনুসরণ করত।

অতঃপর কাফের দলগুলো (মালকীয়, নেস্টোরীয় ও ইয়াকুবীয়) মুসলিমদের (আরিউসীয়) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো; তারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল এবং বাদশাহকে তাদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করল। আর আরিউসীয় খ্রিস্টানদের মধ্যে এমন কতিপয় একেশ্বরবাদী মুমিন ছিলেন যারা তাওরাত পাঠ করতেন। তখন বাদশাহ কন্সট্যান্টাইনকে বলা হলো: "আমরা এদের গালমন্দ অপেক্ষা কঠোরতর কোনো গালি পাই না; তারা পাঠ করে: 'আর যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফের।' এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে তারা আমাদের কর্মকাণ্ডকে দোষারোপ করে। অতএব আপনি তাদের ডাকুন যাতে তারা আমাদের মতো করে পাঠ করে এবং আমাদের মতো করে বিশ্বাস স্থাপন করে।" ফলে তিনি তাদের ডেকে একত্রিত করলেন এবং তাদের সামনে মৃত্যু বরণ করা অথবা তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ বর্জন করার (ব্যতীত যা তারা বিকৃত করেছে) প্রস্তাব দিলেন। তারা বলল: "আপনারা কেন এমনটা করতে চাইছেন? আমাদের ছেড়ে দিন।" তাদের একটি দল বলল: "আমাদের জন্য একটি স্তম্ভ নির্মাণ করে দিন, অতঃপর আমাদের সেখানে তুলে দিন। এরপর আমাদের এমন কিছু দিন যার মাধ্যমে আমরা আমাদের পানাহার ওপরে টেনে নিতে পারি, আমরা আর আপনাদের কাছে ফিরে আসব না।" তাদের অন্য একটি দল বলল: "আমাদের ছেড়ে দিন যাতে আমরা পৃথিবীতে বিচরণ করে ফিরি এবং বন্যপশুর ন্যায় জীবন যাপন করি। যদি আপনাদের জমিনে আমাদের নাগাল পান, তবে আমাদের হত্যা করবেন।" আরেকটি দল বলল: "নির্জন মরু প্রান্তরে আমাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিন, আমরা সেখানে কূয়া খনন করব এবং শাকসবজি চাষ করব; আমরা আপনাদের কাছে ফিরে আসব না এবং আপনাদের এলাকায় যাতায়াতও করব না।" সে সময়ে প্রতিটি গোত্রেরই কেউ না কেউ তাদের আত্মীয় ছিল। ফলে তারা তাই করল। আর তাদের অনুসারীরা বিভক্ত হয়ে অরণ্য ও মরুভূমিতে ছড়িয়ে পড়ল এবং উপাসনালয়, মঠ ও নির্জন কুটির নির্মাণ করল এবং যৎসামান্য জীবনোপকরণে তুষ্ট থাকল। তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর বৈরাগ্যবাদ— তারা নিজেরাই তা উদ্ভাবন করেছিল; আমি তাদের ওপর তা আবশ্যক করিনি, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তারা এটা করেছিল। কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি।" [আল-হাদীদ: ২৭] আর পরবর্তী লোকেরা বলতে লাগল: "অমুক ব্যক্তি যেভাবে ইবাদত করত আমরাও সেভাবে করব এবং সে যেভাবে বিচরণ করত আমরাও সেভাবে করব।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فلان، ونتخذ دورا كما اتخذ فلان، وهم على شركهم، لا علم لهم بإيمان الذين اقتدوا به. فلم يزل الإسلام طامسا حتى بعث الله النبي محمد صلى الله عليه وسلم ولم يبق منهم إلا قليل؛ انحط رجل من صومعته، وجاء سائح من سياحته، وصاحب الدير من ديره، فآمنوا به وصدقوه، فأنزل الله عليه: {فَآمَنَتْ طَائِفَةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ} يعني: الطائفة التي آمنت في زمن عيسى {وَكَفَرَتْ طَائِفَةٌ} يعني: الطائفة التي كفرت في زمن عيسى، {فَأَيَّدْنَا الَّذِينَ آمَنُوا} وهم الموحدون من النصارى {عَلَى عَدُوِّهِمْ} بإظهار محمد صلى الله عليه وسلم بدين التوحيد على دين المشركين من أهل الكتاب وغيرهم {فَأَصْبَحُوا ظَاهِرِينَ} [الصف: 14].

 

‌‌نبذة عن كتاب (الجواب الصحيح)

وقد ألّفَ شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله كتابه: "الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح" وهو من أنفس الكتب التي وضحت فساد معتقد النصارى وتحريفاتهم، وكان كتاباً واسعاً مليئاً بالبيان والردود والأدلة والحجج والبراهين والمناقشات والفرائد والفوائد؛ إلا أنه تشعب في أمور كثيرة لغزارة علم مؤلفه، وكثر فيه التكرار مع الزيادات في مواضيع عديدة؛ وذلك أن سبب تأليف كتابه هو الرد على كتاب راهب نصراني حوى دعاوى باطلة حول الإسلام والنصرانية؛ فكتب شيخ الإسلام ابن تيمية رده الواسع المفصل على كل دعوى من هذه الدعاوى في ذلك الكتاب، وهو ما استدعى الكثير من التكرار لتعلق البيان في كل دعوى بتوضيح أمور متعلقة بغيرها، ويكون في التكرار غالباً زيادة مفيدة، لكنها ضخمت الكتاب، وكثرت فيه الاستطرادات في مواضيع كثيرة توسعت عن صلب الموضوع، مما يدلل على غزارة علم شيخ
...অমুক ব্যক্তি, আর আমরাও সেভাবে বসতি স্থাপন করব যেভাবে অমুক করেছে; অথচ তারা শিরকের ওপর লিপ্ত ছিল। যাদের তারা অনুসরণ করছিল, তাদের ঈমান সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। এভাবে ইসলামের শিক্ষা বিলুপ্তপ্রায় হতে থাকল, যতক্ষণ না আল্লাহ মহানবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করলেন। তখন তাদের মধ্যে সামান্য সংখ্যক লোকই অবশিষ্ট ছিল। কোনো ব্যক্তি তার নির্জন উপাসনালয় থেকে নেমে এল, কোনো পরিব্রাজক তার পরিভ্রমণ থেকে ফিরে এল এবং গির্জার অধিপতি তার গির্জা থেকে বেরিয়ে এল; অতঃপর তারা তাঁর ওপর ঈমান আনল এবং তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করল। তখন আল্লাহ তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন: {বনী ইসরাঈলের একদল ঈমান আনল} অর্থাৎ সেই দলটি যারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে ঈমান এনেছিল {এবং একদল কুফরি করল} অর্থাৎ সেই দলটি যারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে অস্বীকার করেছিল। {অতঃপর আমি মুমিনদের শক্তিশালী করলাম} আর তারা হলো খ্রিস্টানদের মধ্যকার তাওহীদবাদীগণ {তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে} মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাওহীদের দ্বীনসহ প্রেরণের মাধ্যমে আহলে কিতাব ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা মুশরিক ছিল তাদের ওপর বিজয়ী করার দ্বারা; {ফলে তারা বিজয়ী হলো} [আস-সাফ: ১৪]।

 

‌‌'আল-জাওয়াব আস-সহীহ' কিতাব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-জাওয়াব আস-সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীন আল-মাসীহ' (খ্রিস্টধর্ম পরিবর্তনকারীদের জন্য সঠিক উত্তর) নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এটি খ্রিস্টানদের আকিদাগত ভ্রান্তি ও তাদের বিকৃতিসমূহ ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অন্যতম মূল্যবান একটি গ্রন্থ। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা বর্ণনা, খণ্ডন, প্রমাণাদি, যুক্তি-তর্ক, আলোচনা এবং বিরল জ্ঞানগর্ভ তথ্যে ভরপুর। তবে লেখকের জ্ঞানের বিশালতার কারণে এটি অনেকগুলো শাখায় বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে অনেক পুনরাবৃত্তি ও অতিরিক্ত তথ্যের অবতারণা করা হয়েছে। এর কারণ হলো, এই গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট ছিল একজন খ্রিস্টান পাদ্রীর একটি বইয়ের জবাব দেওয়া, যাতে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছিল। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই বইয়ের প্রতিটি দাবির বিস্তারিত ও ব্যাপক উত্তর লিখেছিলেন, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হয়েছে; কারণ প্রতিটি দাবির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অন্য বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। যদিও এই পুনরাবৃত্তিতে প্রায়ই উপকারী সংযোজন থাকত, কিন্তু এটি গ্রন্থটির কলেবর বিশাল করে দিয়েছে এবং মূল বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক আলোচনার বিস্তার ঘটেছে, যা শাইখের অগাধ পাণ্ডিত্যেরই প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإسلام ابن تيمية حتى كأنه يغرف من بحر، وقد لا يمنعه من الاستطراد والتوسع والبيان والتفصيل إلا نفاد المداد والورق. فرحمه الله وجزاه عن الإسلام والمسلمين خيراً.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية في سبب تأليف كتابه: "وكان من أسباب نصر الدين وظهوره؛ أن كتاباً ورد من قبرص فيه الاحتجاج لدين النصارى بما يحتج به علماء دينهم، وفضلاء ملتهم قديماً وحديثاً، من الحجج السمعية والعقلية، فاقتضى ذلك أن نذكر من الجواب ما يحصل به فصل الخطاب، وبيان الخطأ من الصواب؛ لينتفع بذلك أولو الألباب، ويظهر ما بعث الله به رسله من الميزان والكتاب … وما ذكروه في هذا الكتاب هو عمدتهم التي يعتمد عليها علماؤهم في مثل هذا الزمان، وقبل هذا الزمان، وإن كان قد يزيد بعضهم على بعض بحسب الأحوال. فإن هذه الرسالة وجدناهم يعتمدون عليها قبل ذلك، ويتناقلها علماؤهم بينهم والنسخ بها موجودة قديمة، وهي مضافة إلى بولس الراهب أسقف صيدا الأنطاكي، كتبها إلى بعض أصدقائه، وله مصنفات في نصر النصرانية. وذكر أنه سافر إلى بلاد الروم والقسطنطينية، وبلاد الملافطة، وبعض أعمال الإفرنج ورومية، واجتمع بأجلاء أهل تلك الناحية، وفاوض أفاضلهم وعلماءهم، وقد عظم هذه الرسالة وسماها (الكتاب المنطيقي الدولة خاني المبرهن عن الاعتقاد الصحيح والرأي المستقيم) "، انتهى كلامه.

فأصل الكتاب كان مصنفاً للرد المتسلسل على ما ورد في كتاب الراهب النصراني، وكانت الموضوعات تتبع ذلك الأسلوب بذكر الشبهة أو الدعوى وردها والاستطراد فيها، ثم يتكرر ذلك مع تكرر ما له علاقة بها حسبما يرِد في
ইসলামের শাইখ ইবনে তাইমিয়া যেন এক মহাসমুদ্র থেকে জ্ঞান সেচে আনছেন। প্রসঙ্গের অবতারণা, বিস্তৃতি, বর্ণনা এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যায় কালি ও কাগজের ফুরিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো কিছুই তাঁকে থামিয়ে দিতে পারত না। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর কিতাব রচনার কারণ সম্পর্কে বলেন: "দীনের বিজয় ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের অন্যতম কারণ ছিল এই যে, সাইপ্রাস থেকে একটি কিতাব এসেছিল যাতে খ্রিষ্টধর্মের সপক্ষে এমন সব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল যা তাদের ধর্মীয় পণ্ডিতগণ এবং তাদের সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা প্রাচীন ও আধুনিককালে পেশ করে থাকেন; যার মধ্যে শ্রুতিগত ও বুদ্ধিগত উভয় প্রকার প্রমাণাদি ছিল। ফলে এর এমন এক উত্তর প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হবে এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট করবে; যাতে করে বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলদেরকে যে মিযান (ভারসাম্য) ও কিতাবসহ প্রেরণ করেছেন তা প্রকাশিত হয় … আর তারা এই কিতাবে যা উল্লেখ করেছে তা-ই হলো তাদের প্রধান ভিত্তি যার ওপর বর্তমান সময়ে এবং এর আগেও তাদের আলেমগণ নির্ভর করে থাকেন, যদিও অবস্থভেদে তাদের মধ্যে কিছুটা কম-বেশি হয়ে থাকে। কেননা আমরা দেখেছি যে, তারা ইতিপূর্বেও এই রিসালাহটির ওপর নির্ভর করত এবং তাদের আলেমগণ এটি নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করত। এর প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোও বিদ্যমান রয়েছে। এটি আন্তিওকীয় সিদনের বিশপ পল দ্য মঙ্ক-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যা তিনি তাঁর জনৈক বন্ধুর কাছে লিখেছিলেন এবং খ্রিষ্টধর্মের সমর্থনে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি রোমীয় ভূখণ্ড, কনস্টান্টিনোপল, মালাফিতা অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ও রোমের কিছু এলাকায় সফর করেছেন এবং সেসব অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মিলিত হয়েছেন ও তাদের গুণীজন ও পণ্ডিতদের সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি এই রিসালাহটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর নামকরণ করেছেন (সঠিক বিশ্বাস ও ঋজু মতামতের প্রমাণবাহী আদ-দাওলাখানি যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থ)", তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।

মূলত কিতাবটি ছিল খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীর কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার ধারাবাহিক খণ্ডনমূলক একটি রচনা। বিষয়বস্তুগুলো সেই পদ্ধতি অনুসরণ করত যেখানে কোনো সংশয় বা দাবি উল্লেখ করে তার খণ্ডন ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হতো। অতঃপর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আসার সাথে সাথে তার পুনরাবৃত্তি ঘটত যেমনটি বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كتاب النصراني، حيث قال شيخ الإسلام في مقدمة كتابه: "وأنا أذكر ما ذكروه بألفاظهم بأعيانها فصلاً فصلاً، وأتبع كل فصل بما يناسبه من الجواب فرعاً وأصلًا، وعقداً وحلًا".

 

‌‌سبب اختصار كتاب (الجواب الصحيح)

ولما استصعب على كثير من الناس بل وطلاب العلم قراءة هذا الكتاب لطوله وتشعبه مع رغبتهم الاستفادة مما فيه من نفيس العلم والحجة؛ كان إعداد هذا المختصر المليح الذي يسهل على القارئ إدراك خلاصة هذا الكتاب، وذلك بالتركيز على أهم ما يتعلق بالنصرانية وانحرافها عن الدين الحق وما يستدعي ذكره لبيان حالها دون بقية الاستطرادات، مع جمع كلام المؤلف من المواضع المختلفة بزياداته في مكان واحد، ثم اختصاره وتركيزه، والتصرف اليسير الذي تستدعيه الحاجة من الاختصار وجمع المتفرق والزوائد، مع الحرص على إبقاء عبارات المؤلف وأسلوبه بقدر ما يمكن، ثم إعادة ترتيب الموضوعات بصورة متناسقة توجز بصورة ميسرة للقارئ فهم دين النصارى الذي بدّلوه وأسباب ضلالهم وانحرافهم والرد عليهم.

وقد ذكر شيخ الإسلام في آخر كتابه رسالة نفيسة للحسن بن أيوب -وهو أحد من أسلم من علماء النصارى- كان قد كتبها لأخيه علي بن أيوب يبين فيها سبب إسلامه، وكتب فيها رده على النصارى، وبيّن بطلان مقالتهم، وقد أثنى شيخ الإسلام ابن تيمية على هذه الرسالة وزكاها. وأتبعها بذكر رسالة لسعيد بن البطريق النصراني في بيان تاريخ النصارى، فتم الإشارة لأهم ما فيها مما يتعلق ببيان انحراف النصارى.

فهذا المختصر الموجز لا يغني عن الكتاب الأصل الواسع لشيخ الإسلام ابن تيمية المطبوع في مجلدات، والذي يعد من أفضل ما صنف في مجاله، وإنما هذا التلخيص زبدة مليحة تيسر للقارئ فهماً مجملاً لأبرز موضوعات هذا
খ্রিস্টানদের গ্রন্থ, যেখানে শাইখুল ইসলাম তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "তারা যা উল্লেখ করেছে আমি তা তাদের নিজস্ব শব্দেই হুবহু অধ্যায় অনুসারে বর্ণনা করব, এবং প্রতিটি অধ্যায়ের পর তার উপযুক্ত উত্তর শাখা ও মূল এবং তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও সমাধানের মাধ্যমে প্রদান করব।"

 

(আল-জাওয়াব আস-সহীহ) গ্রন্থটি সংক্ষেপ করার কারণ

যেহেতু এই গ্রন্থটির দীর্ঘতা এবং বিষয়বস্তুর বিস্তৃতির কারণে অনেক সাধারণ মানুষের জন্য এমনকি জ্ঞানান্বেষীদের জন্যও এটি পাঠ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, অথচ এর মধ্যকার মূল্যবান জ্ঞান এবং দলিলসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাদের ছিল; তাই এই চমৎকার সংক্ষেপণটি তৈরি করা হয়েছে যা পাঠকের জন্য এই কিতাবের সারমর্ম অনুধাবন করা সহজ করে দেয়। এটি করা হয়েছে খ্রিস্টধর্ম এবং সত্য দ্বীন থেকে তাদের বিচ্যুতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করার মাধ্যমে এবং যা তাদের অবস্থা বর্ণনার জন্য জরুরি তা উল্লেখ করার মাধ্যমে, অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা পরিহার করে। সেই সঙ্গে লেখকের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা আলোচনা ও অতিরিক্ত অংশগুলোকে এক স্থানে সংগৃহীত করা হয়েছে, এরপর তা সংক্ষেপ ও নিবিড় করা হয়েছে। এছাড়াও সংক্ষেপণ এবং বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রে করার প্রয়োজনে সামান্য ভাষাগত পরিবর্তন করা হয়েছে, তবে লেখকের মূল বক্তব্য এবং শৈলী যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর বিষয়বস্তুগুলোকে এমন সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা পাঠকের কাছে খ্রিস্টানদের পরিবর্তিত ধর্ম, তাদের পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতির কারণ এবং তাদের খণ্ডন সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য ধারণা প্রদান করে।

শাইখুল ইসলাম তাঁর কিতাবের শেষে হাসান বিন আইয়ুবের একটি মূল্যবান পত্র উল্লেখ করেছেন—যিনি ইসলাম গ্রহণকারী খ্রিস্টান আলেমদের অন্যতম—যা তিনি তাঁর ভাই আলী বিন আইয়ুবের কাছে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ বর্ণনা করেছেন এবং খ্রিস্টানদের আকিদা খণ্ডন করে তাদের বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এই পত্রটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছেন। এরপর তিনি সাঈদ বিন বাত্রিক নামক এক খ্রিস্টানের একটি পত্র সংযুক্ত করেছেন যেখানে খ্রিস্টানদের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। সেখানে খ্রিস্টانদের বিচ্যুতির বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্দেশ করা হয়েছে।

এই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার মূল বিস্তারিত গ্রন্থের বিকল্প নয় যা একাধিক খণ্ডে মুদ্রিত এবং যা এই বিষয়ে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য হয়। বরং এই সংক্ষেপণটি একটি চমৎকার নির্যাস যা পাঠকের জন্য এই কিতাবের প্রধান বিষয়বস্তুগুলো সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ করা সহজতর করে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الكتاب، والتي تبين انحراف النصارى عن الدين الحق، وتعرف القارئ بهذا الكتاب النفيس، ليدرك نخبة فوائده ودرره بصورة ميسرة إن شاء الله تعالى.

وقد أضفت في الحاشية بعض التوضيحات والنقولات المتممة للفائدة، فما كان من الصواب فمن الله، وما كان من خطأ فمن نفسي القاصرة، وأسأل الله أن يجعل فيه النفع والبركة وأن يكتب له القبول، أنه جواد كريم.

 

عبد الإله بن عبد الله بن علي جابر

7 شعبان 1445 هـ
এই কিতাবটি, যা সত্য ধর্ম হতে খ্রিস্টানদের বিচ্যুতি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে এবং পাঠককে এই মহামূল্যবান গ্রন্থটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, যাতে তিনি এর সারনির্যাস ও জ্ঞানগর্ভ মুক্তাসমূহ সহজভাবে অনুধাবন করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ।

আমি পাদটীকায় কিছু ব্যাখ্যা ও উদ্ধৃতি সংযোজন করেছি যা বিষয়বস্তুর পূর্ণতা দান করবে। এতে যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল তা আমার নিজের ত্রুটি ও অক্ষমতা। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে কল্যাণ ও বরকতময় করেন এবং একে কবুলিয়াত দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও অতিশয় দয়ালু।

 

আব্দুল ইলাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী জাবের

৭ শাবান ১৪৪৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌مقدمة شيخ الإسلام ابن تيمية

قال شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى-:

لا إله إلا الله، محمد رسول الله، {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 2 الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ 3 مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ 4}، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمداً عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق؛ ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيداً.

 

‌‌محمد صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين

جعل الله تبارك وتعالى محمداً صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، وأكمل له ولأمته الدين، وبعثه على حين فترة من الرسل، وظهور الكفر، وانطماس السبل، فأحيا به ما درس من معالم الإيمان، وقمع به أهل الشرك: من عباد الأوثان والنيران والصلبان، وأذل به كفار أهل الكتاب؛ أهل الشك والارتياب. وأقام به منار دينه الذي ارتضاه، وشاد به ذكر من اجتباه من عباده واصطفاه، وأظهر به ما كان مخفياً عند أهل الكتاب، وأبان به ما عدلوا فيه عن منهج الصواب، وحقق به صدق التوراة والزبور والإنجيل، وأماط به عنها ما ليس بحقها من باطل التحريف والتبديل؛ فلا يكون مؤمناً به إلا من عبده بطاعة رسله، ولا يكون مؤمناً به ولا عابداً له إلا من آمن بجميع رسله. وقد خص الله تبارك وتعالى محمداً صلى الله عليه وسلم بخصائص ميزه بها على جميع الأنبياء والمرسلين، وجعل له شرعة ومنهاجاً؛ أفضل شرعة، وأكمل منهاج(1).

--------------------------------------------

(1) يقول عن نفسه عليه الصلاة والسلام: "أُعطيتُ مفاتيح الكَلِم، ونُصرت على العدو بالرعب مسيرة شهر يقذفه الله في قلوب أعدائي، وأُحلت لي الغنائم، ولم تحل لأحد قبلي، وجعلت لي الأرض مسجداً وطهوراً، فأينما أدركتني الصلاة تمسحت وصليت،
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার ভূমিকা

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। {সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।} আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

 

‌মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শেষ নবী

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বশেষ নবী করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন। তিনি তাঁকে এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন রাসূলগণের আগমনের ধারা দীর্ঘকাল বন্ধ ছিল, কুফরি প্রকাশ পেয়েছিল এবং সঠিক পথসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে ঈমানের সেই সব নিদর্শনকে পুনর্জীবিত করেছেন যা মিটে গিয়েছিল এবং তাঁর মাধ্যমে মুশরিকদের অবদমিত করেছেন—যারা ছিল মূর্তি, অগ্নি এবং ক্রুশের উপাসক। তাঁর মাধ্যমে তিনি আহলে কিতাবের সেই সব কাফিরদের লাঞ্ছিত করেছেন যারা ছিল সংশয় ও সন্দেহে নিমজ্জিত। তিনি তাঁর মাধ্যমে তাঁর মনোনীত দ্বীনের আলোকবর্তিকা প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর সেই বান্দাদের স্মরণকে সমুন্নত করেছেন যাদের তিনি পছন্দ ও চয়ন করেছেন। আহলে কিতাবদের কাছে যা গোপন ছিল, তা তিনি তাঁর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এবং যে সব বিষয়ে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলের সত্যতা প্রমাণ করেছেন এবং সেগুলোতে যে সব মিথ্যা বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধন করা হয়েছিল, যা সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তা তিনি দূর করেছেন। সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না তাঁর রাসূলদের আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা হয়; আর কেউ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী বা তাঁর ইবাদতকারী হতে পারবে না যদি না সে তাঁর সকল রাসূলের প্রতি ঈমান আনে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যার মাধ্যমে তাঁকে সকল নবী ও রাসূলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাঁর জন্য যে জীবনবিধান ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন, তা সর্বোত্তম জীবনবিধান ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপন্থা।(১)

--------------------------------------------

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমাকে কথার চাবিকাঠি (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ) দান করা হয়েছে। এক মাসের দূরত্ব থেকে শত্রুর মনে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, যা আল্লাহ আমার শত্রুদের অন্তরে নিক্ষেপ করেন। আমার জন্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গণিমত) হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি। আর সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে। সুতরাং যেখানেই সালাতের সময় হবে, আমি তায়াম্মুম করব এবং সালাত আদায় করব।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

وكان من قبلي يعظمون ذلك، إنما كانوا يصلون في كنائسهم وبِيَعهم، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس عامة، وختم بي النبيون، والخامسة هي ما هي، قيل لي: سل، فإن كل نبي قد سأل، فأخرت مسألتي إلى يوم القيامة شفاعة لأمتي، وهي نائلة منكم إن شاء الله من لقي الله عز وجل لا يشرك به شيئا، وبينما أنا نائم البارحة، أتيت بمفاتيح خزائن الأرض، فوضعت في يدي".

وكان جميل الوجه صلى الله عليه وسلم حتى وصفوه بالبدر، وعرقه من أطيب الطيب، تنام عيناه ولا ينام قلبه، ويأخذ الهدية ولا يأكل الصدقة، ويرى المصلين في الصلاة خلفه، ويواصل الصيام يبيت يطعمه ربه ويسقيه، عرفه أهل الكتاب في كتبهم باسمه ووصفه ومخرجه ومبعثه، وحاجهم مراراً ونكسوا عن مباهلته، وصارع ركانة -وكان من أشد الناس- فصرعه النبي صلى الله عليه وسلم، وأمر جبل أحد أن يثبت لما اهتز، وخنق إبليس حتى أحس ببرد لعابه بين إصبعيه، وأعانه الله على شيطانه فأسلم، ومن رآه في المنام فقد رآه حقا فإن الشيطان لا يتمثل به.

وشهد الله له أنه على خلق عظيم، وكان خلقه القرآن، وما ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً قط بيده، ولا امرأة، ولا خادماً، إلا أن يجاهد في سبيل الله، وما لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم من لعنة تذكر، وما انتقم رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه في شيء يؤتى إليه، وما نِيل منه شيء قط فينتقم من صاحبه، إلا أن ينتهك شيء من محارم الله عز وجل فينتقم لله، وما خُيّر رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أمرين إلا أخذ أيسرهما ما لم يكن إثماً، فإن كان إثماً كان أبعد الناس منه، وسابق رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه على الأقدام، وخصف نعله بيده، ورقع ثوبه بيده، ورقع دلوه، وحلب شاته، وفلى ثوبه، وخدم أهله ونفسه، وحمل مع أصحابه اللبِن في بناء المسجد، وربط على بطنه الحجر من الجوع تارة وشبع تارة، وأضاف وأضيف، واحتجم في وسط رأسه وعلى ظهر قدمه، واحتجم في الأخدعين (عِرقان في جانبي العُنُق) والكاهِل (ما بين الكتفين)، وتداوى وكوى سعد بن معاذ، ولم يكتو، ورقى ولم يسترْقِ، وحمى المريض مما يؤذيه.

وجعل الله بعثته رحمة للعالمين، وما خاطبه في كتابه إلا بالكناية التي هي النبوة والرسالة التي لا أجل منها فخراً، ونهى الناس أن يخاطبوه باسمه، وندبهم إلى تكنيته، ودافع الله عنه فبرأه في كتابه من كل ما رماه به الكفار من السحر والكهانة والجنون، وزكاه بأنه لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى، وغفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر، وأمر الناس بالتأسي به، وفرض طاعته، وجعله أولى بالمؤمنين من أنفسهم، وجعل أزواجه أمهات للمؤمنين؛ لا ينكحهن أحد بعده، وقرن الله اسمه باسمه تعالى عند ذكر طاعته وأحكامه، وأقسم الله بحياته، وأفرده بسيادة ولد آدم في القيامة، وحفظه من التدين بدين الجاهلية، ومن تعريهم، ومن لهوهم، وحرست السماء من استراق السمع لثبوت بعثته وعلو دعوته، وأسري به من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى، وعرج به إلى السماء، ورأى من آيات ربه الكبرى، وما زاغ بصره وما طغى، وعاد متواضعاً حريصاً على أمته مشفقاً عليها، بالمؤمنين رؤوف رحيم.

وانشق القمر بدعائه فلقتين، وصبر على أذى المشركين وعنادهم بعدما رأوا الآيات والمعجزات، واستمع له نفر من الجن فآمنوا به، وعرض نفسه على القبائل ليبلغ دين الله، وأخبر بالمعجزات الغيبية وانتصار الروم على الفرس في بضع سنين، ولما تآمر الكفار على قتله حجبه الله عنهم فلم يروه وأنجاه الله، وهاجر إلى المدينة، فبوركت غنم مر بها في طريقه، ونصره الله في الغار وحماه من المشركين وأنزل عليه سكينته وأيده بجنود من عنده، وصد عنه لحاق سراقة بن مالك، وصبر على مشقة الدعوة وجاهد المشركين، وشكت إليه بعض البهائم فنصرها وأوصى بها أصحابها، وتسابقت إليه الإبل يوم النحر أيها ينحر أولاً بيده الشريفة، وسلم عليه الحجر والشجر قبيل بعثته، وحن إليه الجذع الذي كان يستند إليه في مسجده قبل أن يصنعوا له المنبر، وتبارك الطعام والماء بدعائه وبيده أو نفثه أو مجِّه، وأهدت له يهودية بخيبر شاةً مصليةً (مشويةً) سمّتها فأخبرته الشاة أنها مسمومة، وتكلم الذئب شاهداً بنبوته، وسبح الحصى في يده، وقَدِم الشَّجَرُ إلَيْه إذ دعاه، ونبع الماء من بين أصابعه، وشفى الله على يده جراحاً وأعيناً ومرضى، وأخبر بأشراط الساعة وما يكون إلى قيامها.

وما ترك خيراً إلا دل أمته عليه، ولا شرّاً إلا حذرها منه، وجعلها الله خير الأمم، معصومة لا تجتمع على ضلالة، ولن تضل ما تمسكت بسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وهديه، وشريعتها ناسخة لما قبلها، أمة شاهدة على الأمم يوم القيامة بتبليغ الرسل، وصفوفها كصفوف الملائكة، ونبيها هو أول شافع ومشفَّع، وصاحب الشفاعة العظمى، وأول من تنشق الأرض عنه يوم القيامة، وأول من يقرع باب الجنة، وأول من يدخلها، وأكثر الأنبياء أتباعاً، أوتي جوامع الكلم، وأُنزل عليه القرآن معجزة خالدة إلى قيام الساعة محفوظاً من التحريف والتبديل، تحدى الناس أن يأتوا بسورة من مثله، وهو صاحب المقام المحمود والحوض المورود.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

"আমার পূর্ববর্তীগণ একে (মাটির ওপর সালাত আদায়কে) অত্যন্ত কঠিন মনে করতেন; তাঁরা কেবল তাঁদের গির্জা ও উপাসনালয়গুলোতে সালাত আদায় করতেন। প্রত্যেক নবীকে বিশেষভাবে কেবল তাঁর নিজ জাতির নিকট পাঠানো হতো, কিন্তু আমাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট সাধারণভাবে পাঠানো হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই নবীগণের সিলসিলার সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে। আর পঞ্চম বৈশিষ্ট্যটি হলো সেই বিশেষ বিষয়—আমাকে বলা হয়েছিল: 'আপনি প্রার্থনা করুন', কারণ প্রত্যেক নবীই আল্লাহর নিকট বিশেষ প্রার্থনা করেছেন। তাই আমি আমার সেই প্রার্থনাকে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের (সুপারিশের) জন্য তুলে রেখেছি। আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে এই শাফায়াত লাভ করবে। আর আমি গত রাতে যখন ঘুমানোর অবস্থায় ছিলাম, তখন আমার নিকট পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠিগুলো আনা হলো এবং তা আমার হাতে অর্পণ করা হলো।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিলেন, এমনকি সাহাবীগণ তাঁকে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনা করতেন। তাঁর ঘাম ছিল সুগন্ধি অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। তাঁর চক্ষুদ্বয় ঘুমাতো কিন্তু অন্তর সজাগ থাকতো। তিনি উপহার গ্রহণ করতেন কিন্তু সদকা ভক্ষণ করতেন না। সালাত অবস্থায় তিনি তাঁর পিছনের মুসুল্লিদের দেখতে পেতেন। তিনি একাধারে রোজা রাখতেন, এ অবস্থায় তাঁর রব তাঁকে খাদ্য ও পানীয় দান করতেন। আহলে কিতাবগণ তাদের কিতাবসমূহে তাঁর নাম, গুণাবলী, তাঁর আবির্ভাবের স্থান ও নবুওয়াতের বিবরণ দ্বারা তাঁকে চিনতে পেরেছিল। তিনি বারবার তাদের সাথে সত্যের প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক করেছেন কিন্তু তারা তাঁর সাথে মোবাহালা (শাপ-বিতর্ক) করতে অসমর্থ হয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। তিনি রুকানা নামক এক শক্তিশালী ব্যক্তির সাথে কুস্তি লড়ে তাকে ধরাশায়ী করেছিলেন, অথচ সে ছিল তৎকালীন সময়ের অন্যতম শক্তিশালী মানুষ। তিনি ওহুদ পাহাড়কে স্থির হওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন যখন তা কেঁপে উঠেছিল। তিনি ইবলিসকে এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন যে তাঁর দুই আঙুলের মাঝে শয়তানের লালার শীতলতা অনুভব করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর সাথে থাকা জিন (শয়তান)-এর বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে তাঁকে দেখলো সে যেন প্রকৃতই তাঁকে দেখলো, কারণ শয়তান তাঁর রূপ ধারণ করতে পারে না।

আল্লাহ তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত। তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো নিজের হাত দিয়ে কোনো কিছুকে আঘাত করেননি—না কোনো নারীকে, না কোনো সেবককে—কেবল আল্লাহর পথে জিহাদ করা ব্যতীত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো কোনো উল্লেখযোগ্য অভিশাপ দেননি। নিজের প্রতি হওয়া কোনো অন্যায়ের প্রতিশোধ তিনি গ্রহণ করেননি; তাঁর সাথে কোনো দুর্ব্যবহার করা হলে তিনি সেই ব্যক্তির ওপর প্রতিশোধ নিতেন না, যদি না আল্লাহর কোনো পবিত্র বিধান লঙ্ঘিত হতো; তখন তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনোটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যদি না তা গুনাহর কাজ হতো। যদি তা গুনাহর বিষয় হতো, তবে তিনি তা থেকে সর্বাপেক্ষা দূরে থাকতেন। তিনি পদব্রজে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন, নিজের জুতো নিজে সেলাই করেছেন, নিজের কাপড় নিজে তালি দিয়েছেন, নিজের বালতি মেরামত করেছেন, বকরির দুধ দোহন করেছেন, কাপড়ের ময়লা বা পোকা পরিষ্কার করেছেন এবং নিজ পরিবার ও নিজের খেদমত করেছেন। মসজিদ নির্মাণের সময় তিনি সাহাবীগণের সাথে কাঁচা ইট বহন করেছেন। কখনো ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বেঁধেছেন আবার কখনো তৃপ্ত হয়ে খেয়েছেন। তিনি আতিথ্য গ্রহণ করেছেন এবং অন্যকে আপ্যায়নও করেছেন। তিনি তাঁর মাথার মাঝখানে এবং পায়ের উপরিভাগে শিঙা (হিজামা) লাগিয়েছেন। এছাড়া তিনি ঘাড়ের দুই পাশের রগে (আখদাঈন) এবং দুই কাঁধের মাঝখানে (কাহিল) হিজামা গ্রহণ করেছেন। তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং সাদ ইবনে মুয়াজকে আগুনের ছ্যাকা দিয়ে চিকিৎসা করেছেন, যদিও তিনি নিজে তা গ্রহণ করেননি। তিনি ঝাড়ফুঁক করেছেন কিন্তু নিজে কারো কাছে ঝাড়ফুঁক প্রার্থনা করেননি। তিনি রোগীকে ক্ষতিকর বস্তু থেকে সতর্ক করে তাকে হিফাজত করতেন।

আল্লাহ তাঁর এই আবির্ভাবকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর কিতাবে আল্লাহ তাঁকে কেবল তাঁর গুণবাচক উপাধি (নবুওয়াত ও রিসালাত) দ্বারা সম্বোধন করেছেন, যা তাঁর জন্য পরম গৌরবের বিষয়। তিনি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাঁকে নাম ধরে না ডাকে এবং তাঁর কুনিয়া (উপনাম) ধরে ডাকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেছেন এবং কাফিররা তাঁর প্রতি জাদু, গণকগিরি বা উন্মাদনার যে অপবাদ দিয়েছিল, তা থেকে আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন এই মর্মে যে, তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কিছুই বলেন না, বরং তা কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। আল্লাহ মানুষকে তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন। তাঁকে মুমিনদের জন্য তাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় করেছেন এবং তাঁর পত্নীদের মুমিনদের মাতা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যার ফলে তাঁর পর অন্য কারো জন্য তাঁদের বিবাহ করা চিরতরে নিষিদ্ধ। আল্লাহ নিজের আনুগত্য ও বিধান বর্ণনার সময় মহান আল্লাহর নামের সাথে রাসূলের নাম সংযুক্ত করেছেন। আল্লাহ স্বয়ং রাসূলের জীবনের কসম খেয়েছেন। কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের মধ্যে তাঁকে একক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে জাহেলিয়াতের ধর্ম, নগ্নতা ও অসার বিনোদন থেকে রক্ষা করেছেন। তাঁর নবুওয়াতের দৃঢ়তা এবং তাঁর দাওয়াতের মাহাত্ম্যের কারণে আকাশকে শয়তানের আড়ি পাতা থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে আকাশে আরোহণ করানো হয়েছে। সেখানে তিনি তাঁর রবের মহান নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁর দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমা লঙ্ঘনও করেনি। এরপর তিনি অত্যন্ত বিনয় নিয়ে ফিরে আসেন; তিনি নিজ উম্মতের কল্যাণে সর্বদা সচেষ্ট ও উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়াবান।

তাঁর দোয়ার ফলে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। মুজিজা ও নিদর্শনসমূহ দেখার পরও মুশরিকদের যে নির্যাতন ও অবাধ্যতা ছিল, তার বিপরীতে তিনি পরম ধৈর্য ধারণ করেছেন। একদল জিন তাঁর কথা শুনে ঈমান এনেছে। আল্লাহর দীন প্রচারের জন্য তিনি বিভিন্ন গোত্রের নিকট নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তিনি গায়েবি মুজিজা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং কয়েক বছরের মধ্যে পারস্যের বিরুদ্ধে রোমানদের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। কাফিররা যখন তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল, আল্লাহ তাঁদের দৃষ্টি থেকে তাঁকে আড়াল করে রক্ষা করেন। তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং পথিমধ্যে তিনি যে বকরির পালের পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন তা বরকতপূর্ণ হয়েছিল। গুহার মধ্যে আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেন এবং মুশরিকদের থেকে হিফাজত করেন, তাঁর ওপর প্রশান্তি নাজিল করেন এবং তাঁর অদৃশ্য বাহিনী দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করেন। সুরাকা বিন মালিকের পিছু নেওয়া থেকে তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি দাওয়াতের কষ্টের ওপর ধৈর্য ধরেছেন এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। কিছু পশু তাঁর কাছে তাদের কষ্টের অভিযোগ জানিয়েছে এবং তিনি তাদের সাহায্য করেছেন ও তাদের মালিকদের সেই পশুদের বিষয়ে নসিহত করেছেন। কোরবানির দিন উটগুলো একে অপরের আগে তাঁর পবিত্র হাতে জবাই হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করছিল। নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে পাথর ও গাছ তাঁকে সালাম প্রদান করতো। মসজিদে মিম্বর তৈরির আগে তিনি যে খেজুর গাছের খুঁটিতে হেলান দিয়ে দাঁড়াতেন, তা তাঁর বিরহে ক্রন্দন করেছিল। তাঁর দোয়া, স্পর্শ বা ফুৎকারের মাধ্যমে খাদ্য ও পানিতে বরকত হতো। খাইবার যুদ্ধের পর এক ইহুদি নারী তাঁকে ভাজা বকরি উপহার দিয়েছিল যাতে বিষ মেশানো ছিল, তখন সেই বকরি নিজেই তাঁকে বিষযুক্ত হওয়ার খবর দিয়েছিল। নেকড়ে বাঘ তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিয়ে কথা বলেছিল। তাঁর হাতের তালুতে ছোট ছোট পাথরকুচি তাসবিহ পাঠ করেছিল। ডাকার সাথে সাথে গাছ তাঁর কাছে ছুটে এসেছিল। তাঁর আঙুলসমূহ থেকে পানির নহর প্রবাহিত হয়েছিল। আল্লাহর হুকুমে তাঁর হাতের ছোঁয়ায় ক্ষতবিক্ষত অঙ্গ, অসুস্থ চোখ ও ব্যাধি থেকে মুক্তি মিলেছে। তিনি কিয়ামতের আলামত এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।

তিনি উম্মতের জন্য এমন কোনো কল্যাণ নেই যা প্রদর্শন করেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে সতর্ক করেননি। আল্লাহ এই উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং একে ভ্রান্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নবীর সুন্নাত ও হেদায়েত আঁকড়ে থাকবে, ততক্ষণ তারা পথভ্রষ্ট হবে না। এই শরিয়ত পূর্ববর্তী সকল শরিয়তকে রহিতকারী। কিয়ামতের দিন এই উম্মত অন্য জাতিদের ওপর রাসুলগণের ধর্ম প্রচারের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে। তাদের কাতারসমূহ হবে ফেরেশতাদের কাতারের মতো। তাদের নবীই হবেন কিয়ামতের ময়দানে প্রথম সুপারিশকারী এবং যাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর কবর কিয়ামতের দিন উন্মোচিত হবে। জান্নাতের দরজায় তিনিই প্রথম করাঘাত করবেন এবং তাতে প্রথম প্রবেশ করবেন। সকল নবীর চেয়ে তাঁর অনুসারী সংখ্যা হবে সর্বাধিক। তাঁকে 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ বাণী) দান করা হয়েছে। তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে যা কিয়ামত পর্যন্ত এক শাশ্বত মুজিজা এবং বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত। আল্লাহ মানুষকে এর মতো একটি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তিনিই হলেন কিয়ামতের দিনে 'মাকামে মাহমুদে' অধিষ্ঠিত এবং হাউজে কাওসারের অধিকারী।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌مزايا أمة محمد صلى الله عليه وسلم-

كما جعل أمته خير أمة أخرجت للناس، فهم يوفون أي: يكملون. سبعين أمة، هم خيرها وأكرمها على الله من جميع الأجناس، هداهم الله بكتابه ورسوله لما اختلفوا فيه من الحق قبلهم، وجعلهم وسطاً عدولاً خياراً، فهم وسط في توحيد الله وأسمائه وصفاته، وفي الإيمان برسله وكتبه وشرائع دينه: من الأمر والنهي، والحلال والحرام. فأَمَرَهم بالمعروف، ونهاهم عن المنكر، وأحل لهم الطيبات، وحرم عليهم الخبائث.
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের বৈশিষ্ট্যসমূহ-

যেমন তিনি তাঁর উম্মতকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন; তাঁরা সত্তরটি উম্মত পূর্ণ করবেন (অর্থাৎ তাঁরা সত্তরতম উম্মত), আর সকল জাতির মধ্যে তাঁরাই আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ও সর্বাধিক সম্মানিত। পূর্ববর্তী জাতিসমূহ সত্যের যে সকল বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর কিতাব ও রাসূলের মাধ্যমে এই উম্মতকে সেই সত্যের সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। তিনি তাঁদেরকে এক মধ্যপন্থী, ন্যায়নিষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে গঠন করেছেন। তাঁরা আল্লাহর তাওহিদ, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে যেমন মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী, তেমনি আল্লাহর রাসূলগণ, কিতাবসমূহ এবং দ্বীনের বিধিবিধান—তথা আদেশ, নিষেধ, হালাল ও হারামের প্রতি ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রেও তাঁরা মধ্যপন্থী। অতএব, তিনি তাঁদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন, তাঁদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌وسطية شريعة الإسلام بين اليهود والنصارى

ولم يحرم الله على أمة محمد صلى الله عليه وسلم شيئاً من الطيبات، كما حرم على اليهود. ولم يحل لهم شيئاً من الخبائث، كما استحلتها النصارى. ولم يضيق عليهم باب الطهارة والنجاسة، كما ضيق على اليهود الذين يبالغون في اجتناب النجاسات. ولم يرفع عنهم طهارة الحدث والخبث، كما رفعته النصارى؛ فلا يوجبون الطهارة من الجنابة، ولا الوضوء للصلاة، ولا اجتناب النجاسة في الصلاة؛ بل يَعُدُّ كثيرٌ من عُبَّادهم مباشرة النجاسات من أنواع القرب والطاعات!! حتى يقال في فضائل الراهب: له أربعين سنة ما مس الماء!! ولهذا تركوا الختان مع أنه شرع إبراهيم الخليل وأتباعه.

واليهود إذا حاضت عندهم المرأة لا يؤاكلونها ولا يشاربونها ولا يقعدون معها في بيت واحد، والنصارى لا يحرمون وطء الحائض. وكان اليهود لا يرون إزالة النجاسة؛ بل إذا أصاب ثوب أحدهم قرضه بالمقراض ويستخرجون الدم من العروق(1)، إلى غير ذلك من الآصار والأغلال التي كانت عليهم. والنصارى ليس عندهم شيء نجس يحرم أكله، أو تحرم الصلاة معه؛ إلا ما كرهه الإنسان بطبعه، فيصلون مع الجنابة والحدث وحمل النجاسات، ويأكلون الخبائث كالدم والميتة ولحم الخنزير، إلا من كره منهم شيئاً فتركه.

--------------------------------------------

(1) يعني: في ذبائحهم.
ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মাঝে ইসলামি শরিয়তের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান

আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহের মধ্য থেকে কোনো কিছু হারাম করেননি, যেমনটি তিনি ইহুদিদের ওপর হারাম করেছিলেন। আবার তাদের জন্য কোনো অপবিত্র বা মন্দ বস্তুকে হালাল করেননি, যেমনটি খ্রিষ্টানরা সেগুলোকে হালাল করে নিয়েছিল। তিনি তাদের ওপর পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিধিবিধানকে সংকুচিত বা কঠিন করেননি, যেমনটি ইহুদিদের ওপর করা হয়েছিল—যারা নাপাকি থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে চরম অতিরঞ্জন করত। আবার তিনি তাদের ওপর থেকে হদস (অজু-গোসলের অপবিত্রতা) এবং খবস (বস্তুগত অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেননি, যেমনটি খ্রিষ্টানরা তা বর্জন করেছে। ফলে তারা জানাবাত (গোসলের আবশ্যকতা) থেকে পবিত্র হওয়া, সালাতের জন্য অজু করা কিংবা সালাতে অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকাকে আবশ্যক মনে করে না; বরং তাদের অনেক উপাসক সরাসরি অপবিত্রতা স্পর্শ করাকে আল্লাহর নৈকট্য ও আনুগত্যের অন্যতম মাধ্যম মনে করে থাকে!! এমনকি কোনো সন্ন্যাসীর মাহাত্ম্য বর্ণনায় বলা হয় যে: চল্লিশ বছর যাবত তার শরীরে পানি স্পর্শ করেনি!! এই কারণেই তারা খতনা করা পরিত্যাগ করেছে, অথচ এটি ছিল ইব্রাহিম খলিল ও তাঁর অনুসারীদের প্রবর্তিত বিধান।

ইহুদিদের মধ্যে যখন কোনো নারী ঋতুবতী হয়, তখন তারা তার সাথে একত্রে আহার করে না, পান করে না এবং এক ঘরে একত্রে অবস্থানও করে না। অন্যদিকে খ্রিষ্টানরা ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করাকে হারাম মনে করে না। ইহুদিরা অপবিত্রতা দূর করাকে যথেষ্ট মনে করত না; বরং তাদের কারও কাপড়ে নাপাকি লাগলে তারা তা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলত এবং তারা রগ থেকে রক্ত বের করে ফেলত(১)। এছাড়া আরও অনেক কঠোর নিয়ম ও বোঝা তাদের ওপর চাপানো ছিল। পক্ষান্তরে খ্রিষ্টানদের কাছে এমন কোনো অপবিত্র বস্তু নেই যা খাওয়া হারাম কিংবা যা সাথে নিয়ে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ; তবে মানুষ স্বভাবজাতভাবে যা অপছন্দ করে তা ভিন্ন। ফলে তারা জানাবাত ও হদস অবস্থায় এবং নাপাকি বহন করেই সালাত আদায় করে। তারা রক্ত, মৃত প্রাণী ও শূকরের মাংসের মতো অপবিত্র ও ক্ষতিকর বস্তু আহার করে; তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো কিছু অপছন্দ করে কেবল তখনই সে তা বর্জন করে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তাদের জবেহকৃত পশুর ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২০)
واليهود يبالغون في طهارة أبدانهم، مع خبث قلوبهم. والنصارى يدّعون أنهم يطهرون قلوبهم، مع نجاسة أبدانهم. والمسلمون يطهرون أبدانهم وقلوبهم جميعاً.

والنصارى لهم عبادات وأخلاق بلا علم ومعرفة ولا ذكاء. واليهود لهم ذكاء وعلم ومعرفة بلا عبادات ولا أخلاق حسنة. والمسلمون جمعوا بين العلم النافع والعمل الصالح، بين الزكاء والذكاء.

واليهود شبهوا الخالق بالمخلوق فيما يختص بالمخلوق، وهو صفات النقص المختصة بالمخلوق التي يجب تنزيه الرب سبحانه عنها؛ كقول من قال منهم: إنه فقير، وإنه بخيل، وإنه تعب لما خلق السماوات والأرض. فقال من قال من اليهود: {إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ} [آل عمران: 181]. وقالوا: {يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ} [المائدة: 64]، وقالوا: إنه خلق العالم فتعب فاستراح، وحكي عن بعضهم أنه قال: بكى على الطوفان حتى رمد وعادته الملائكة، وأنه ناح على بعض من أهلكه من عباده كما ينوح المصاب على ميته، وأمثال ذلك مما يتعالى الله عنه ويتقدس سبحانه وتعالى، وأيضاً فهم يستكبرون عن عبادة الله وطاعة رسله، ويعصون أمره ويتعدون حدوده، ولا يجوّزون له أن ينسخ ما شرعه، بل يحجرون عليه.

والنصارى يشبهون المخلوق بالخالق في صفات الكمال المختصة بالخالق التي لا يستحقها إلا الله تبارك تعالى مثل كقولهم: إن المسيح هو الله، وابن الله. وكل من القولين يستلزم الآخر؛ فيجعلونه رب العالمين، خالق كل شيء ومليكه، الذي هو بكل شيء عليم، وعلى كل شيء قدير. والنصارى أيضاً يصفون اللاهوت بصفات النقص التي يجب تنزيه الرب
ইহুদিরা তাদের অন্তরের কলুষতা সত্ত্বেও বাহ্যিক শরীরের পবিত্রতার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে। আর খ্রিস্টানরা তাদের শরীরের অপবিত্রতা সত্ত্বেও দাবি করে যে তারা তাদের অন্তর পবিত্র করে। আর মুসলিমরা তাদের শরীর ও অন্তর উভয়ই পবিত্র করে।

খ্রিস্টানদের ইবাদত ও নৈতিকতা রয়েছে কিন্তু তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা নেই। আর ইহুদিদের বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা রয়েছে কিন্তু তাদের ইবাদত ও উত্তম চরিত্র নেই। অন্যদিকে মুসলিমরা উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছে, আর তারা আত্মিক পবিত্রতা ও বুদ্ধিমত্তার সম্মিলন ঘটিয়েছে।

ইহুদিরা সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করেছে এমন সব বিষয়ে যা একান্তই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য; আর তা হলো সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিযুক্ত গুণাবলি যা থেকে মহান রবকে পবিত্র রাখা আবশ্যক। যেমন তাদের কেউ কেউ বলে যে, তিনি অভাবগ্রস্ত, তিনি কৃপণ, এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ইহুদিদের মধ্য থেকে একদল বলেছিল: “নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত” [আলে ইমরান: ১৮১]। তারা আরও বলেছিল: “আল্লাহর হাত অবরুদ্ধ” [মায়েদাহ: ৬৪]। তারা আরও বলেছিল যে, তিনি জগৎ সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। তাদের কারও কারও থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মহাপ্লাবনের জন্য এত কেঁদেছিলেন যে তার চোখের রোগ হয়েছিল এবং ফেরেশতারা তাকে দেখতে এসেছিল; এবং তিনি তার ধ্বংসকৃত কিছু বান্দার জন্য বিলাপ করেছিলেন যেমন কোনো শোকাতুর ব্যক্তি তার মৃত স্বজনের জন্য বিলাপ করে। আল্লাহ তাআলা এই সব অপবাদ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র। তদুপরি তারা আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর রাসূলদের আনুগত্য করার ক্ষেত্রে অহংকার প্রদর্শন করে, তাঁর আদেশ অমান্য করে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করে। তারা আল্লাহর জন্য তাঁর প্রবর্তিত বিধান রহিত করাকে বৈধ মনে করে না, বরং তারা তাঁর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

আর খ্রিস্টানরা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে সাদৃশ্য প্রদান করে এমন সব পূর্ণতার গুণে যা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট এবং তিনি ব্যতীত আর কেউ তার যোগ্য নয়। যেমন তাদের বক্তব্য: মসীহ স্বয়ং আল্লাহ কিংবা আল্লাহর পুত্র। এই দুই বক্তব্যের প্রতিটিই অন্যটিকে অনিবার্য করে তোলে। এভাবে তারা তাকে বিশ্বজগতের প্রতিপালক, সবকিছুর স্রষ্টা ও অধিপতি বানিয়ে নেয়; যিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত এবং সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। খ্রিস্টানরা ঈশ্বরত্বকে এমন সব ত্রুটিযুক্ত গুণের মাধ্যমেও বিশেষিত করে যা থেকে মহান রবকে পবিত্র রাখা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عنها، ويسبّون الله سباً ما سبّه إياه أحد من البشر. واتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله، واتخذوا المسيحَ ابن مريم رباً، وما أمروا إلا ليعبدوا إلهاً واحداً لا إله إلا هو سبحانه عما يشركون، واتخذوا الملائكة والنبيين أرباباً، وصوروا تماثيل المخلوقات، واتخذوهم شفعاء يشفعون لهم عند الله؛ كما فعل عباد الأوثان، كما قال الله تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ} [يونس: 18].

واليهود تزعم أن الله يمتنع منه أن ينسخ ما شرعه، كما يمتنع ما لا يدخل في القدرة، أو ينافي العلم والحكمة. والنصارى يجوزون لأكابرهم أن ينسخوا شرع الله الذي بعث به رسله، فيحللوا ما حرم، كما حلّلوا الخنزير، وغيره من الخبائث، بل لم يحرموا شيئاً، ويحرمون ما حلّل، كما في رهبانيتهم التي ابتدعوها وحرموا فيها من الطيبات ما أحله الله، ويسقطون ما أوجب؛ كما أسقطوا الختان وغيره، وأسقطوا أنواع الطهارة من الغسل، وإزالة النجاسة، وغير ذلك، ويوجبون ما أسقط؛ كما أوجبوا من القوانين ما لم يوجبه الله وأنبياؤه. والمسلمون وصفوا الرب بما يستحقه من صفات الكمال، ونزهوه عن النقص، وأن يكون له مثل، فوصفوه بما وصف به نفسه، وبما وصفته به رسله، من غير تحريف، ولا تعطيل، ومن غير تكييف، ولا تمثيل، مع علمهم أنه ليس كمثله شيء، لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، وقالوا: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ} [الأعراف: 54] فكما لا يخلق غيره؛ لا يأمر غيره، بل الدين كله له، هو المعبود المطاع الذي لا يستحق العبادة إلا هو، ولا طاعة لأحد إلا طاعته، وهو ينسخ ما ينسخه من شرعه، وليس لغيره أن ينسخ شرعه.
তাঁর সম্পর্কে এবং তারা আল্লাহকে এমনভাবে গালি দেয় যা মানবজাতির আর কেউ দেয়নি। তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও ধর্মযাজকদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে, আর মারইয়াম-তনয় মসীহকেও; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যে অংশীদার সাব্যস্ত করে, তিনি তা থেকে পবিত্র। তারা ফেরেশতা ও নবীগণকেও প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং সৃষ্টির প্রতিকৃতি ও মূর্তি নির্মাণ করেছে। তারা এদেরকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে যারা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ করবে; যেমনটি মূর্তিপূজারিরা করেছিল। মহান আল্লাহ যেমনটি ইরশাদ করেছেন: "আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের কোনো উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, 'এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।' বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে জানেন না?'" [ইউনুস: ১৮]।

ইহুদিরা দাবি করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রণীত শরয়ি বিধান রহিত করা থেকে বিরত থাকেন; যেমনটি অসম্ভব বা যা সক্ষমতার বাইরে অথবা যা জ্ঞান ও হিকমতের পরিপন্থী। অন্যদিকে খ্রিস্টানরা তাদের ধর্মগুরুদের জন্য আল্লাহর প্রেরিত রাসুলগণের শরয়ি বিধান রহিত করার অনুমতি প্রদান করে। ফলে তারা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করে নেয়, যেমন তারা শূকর ও অন্যান্য অপবিত্র বস্তুকে হালাল করে নিয়েছে। বস্তুত তারা কোনো কিছুই হারাম রাখে না। আবার তারা আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কেও হারাম করে দেয়, যেমনটি তারা তাদের উদ্ভাবিত বৈরাগ্যবাদে করেছে, যেখানে আল্লাহ কর্তৃক হালালকৃত পবিত্র বস্তুসমূহকে তারা হারাম করে নিয়েছে। তারা আল্লাহর আবশ্যক করা বিধানাবলিকেও বাতিল করে দেয়; যেমন তারা খতনা ইত্যাদি রহিত করেছে এবং গোসল ও নাপাকি দূর করাসহ পবিত্রতার বিভিন্ন বিধান বাদ দিয়েছে। তারা সেসব বিষয়কে আবশ্যক করে যা আল্লাহ রহিত করেছেন; যেমন তারা এমন সব আইন প্রবর্তন করেছে যা আল্লাহ ও তাঁর নবীগণ আবশ্যক করেননি। আর মুসলিমরা রব্বকে তাঁর উপযুক্ত পূর্ণতার গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করে এবং তাঁকে সকল ত্রুটি ও সদৃশ থেকে পবিত্র জ্ঞান করে। তারা তাঁকে সেই সব গুণে গুণান্বিত করে যার মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে এবং তাঁর রাসুলগণ তাঁকে বিশেষিত করেছেন—কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তা’তিল), ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ব্যতিরেকেই। এটি এই সুনিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে যে, তাঁর সত্তা, গুণাবলি বা কার্যাবলিতে তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। তারা বলে: "জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই" [আল-আরাফ: ৫৪]। সুতরাং যেভাবে তিনি ছাড়া অন্য কেউ সৃষ্টি করে না, তেমনি তিনি ছাড়া অন্য কারো নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই। বরং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে তাঁরই জন্য। তিনিই একমাত্র উপাস্য ও আনুগত্যের যোগ্য, যিনি ব্যতীত কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয় এবং তাঁর আনুগত্য ব্যতিরেকে অন্য কারো মৌলিক আনুগত্য নেই। তিনিই তাঁর শরয়ি বিধান থেকে যা ইচ্ছা রহিত করেন, কিন্তু তাঁর বিধান রহিত করার অধিকার অন্য কারো নেই।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وكذلك اختلف اليهود والنصارى في المسيح؛ فالنصارى يقولون: هو الله، ويقولون أيضاً: هو ابن الله، وهو إله تام، وإنسان تام. واليهود يقولون: هو ولد زنا، وهو ابن يوسف النجار، ويقولون عن مريم: إنها بغي بعيسى، كما قال تعالى: {وَقَوْلِهِمْ عَلَى مَرْيَمَ بُهْتَانًا عَظِيمًا 156} [النساء: 156]. ويقولون: هو ساحر كذاب.

وأما المسلمون فيقولون: هو عبد الله ورسوله، وكلمته ألقاها إلى مريم العذراء البتول، وروح منه، وهو وجيه في الدنيا والآخرة، ومن المقربين، ويصفونه بما وصفه الله به في كتابه، لا يغلون فيه غلو النصارى، ولا يقصرون في حقه تقصير اليهود.

وكذلك اختلف اليهود والنصارى في قولهم في سائر الأنبياء والمرسلين، وفي أولياء الله؛ فاليهود قتلوا النبيين والذين يأمرون بالقسط من الناس، والنصارى اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله، والمسيح ابن مريم، وما أمروا إلا لعبدوا إلهاً واحداً، لا إله إلا هو سبحانه عما يشركون، ومع هذا فقد شارك النصارى اليهود في نقص حق كثير من الأنبياء، فيقولون: إن سليمان لم يكن نبياً(1)، ويقولون: إن الحواريين مثل موسى وإبراهيم (في النبوة والرسالة)، ويقولون: إن من عمل بوصايا الله من غير الأنبياء صار مثل الأنبياء، وكان له أن يشرع شريعة!! وبعض اليهود غلوا في العُزَيْرِ حتى قالوا: إنه ابن الله! ولهذا قال نبينا في

--------------------------------------------

(1) قال شيخ الإسلام ابن تيمية: والسامرة (من اليهود) تقول: إن يوشع كان نبياً، ومن بعده كداوود، وسليمان، والمسيح لم يكونوا أنبياء.
তদ্রূপ ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা মসীহ সম্পর্কে মতভেদ করেছে। খ্রিষ্টানরা বলে: তিনি আল্লাহ, আবার তারা এও বলে: তিনি আল্লাহর পুত্র, তিনি পূর্ণ ইলাহ এবং পূর্ণ মানব। আর ইয়াহুদীরা বলে: তিনি ব্যভিচারজাত সন্তান, তিনি ইউসুফ নাজ্জারের পুত্র এবং তারা মারইয়াম সম্পর্কে বলে: তিনি ঈসার মাধ্যমে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছেন; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মারইয়ামের বিরুদ্ধে তাদের এক গুরুতর অপবাদের কারণে ১৫৬} [আন-নিসা: ১৫৬]। তারা আরও বলে: তিনি একজন মিথ্যাবাদী জাদুকর।

পক্ষান্তরে মুসলমানরা বলে: তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর পক্ষ থেকে সেই ‘কালেমা’ (বাণী) যা তিনি কুমারী ও সতী-সাধ্বী মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন, এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা তাঁকে সেভাবেই বিশেষায়িত করেন যেভাবে আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁকে বিশেষায়িত করেছেন; তাঁরা তাঁর ব্যাপারে খ্রিষ্টানদের মতো বাড়াবাড়ি করেন না, আবার ইয়াহুদীদের মতো তাঁর প্রাপ্য হকের ক্ষেত্রে কোনো রূপ অবমাননাও করেন না।

একইভাবে ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা অন্যান্য নবী, রাসূল এবং আল্লাহর ওলীগণের ব্যাপারেও মতভেদ করেছে। ইয়াহুদীরা নবীদের এবং মানুষের মধ্যে যারা ন্যায়ের আদেশ দান করত তাদের হত্যা করেছে। আর খ্রিষ্টানরা তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের আল্লাহর পরিবর্তে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়াম তনয় মসীহকেও; অথচ তারা কেবলমাত্র এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তারা যা শরীক করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র। তা সত্ত্বেও, খ্রিষ্টানরা অনেক নবীর প্রাপ্য মর্যাদা হ্রাসের ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের সাথে অংশগ্রহণ করেছে। তারা বলে: সুলাইমান নবী ছিলেন না(১), এবং তারা বলে: হাওয়ারীগণ (নবুওয়াত ও রিসালাতের ক্ষেত্রে) মূসা ও ইবরাহীমের মতো। তারা আরও বলে: নবীগণ ব্যতীত অন্য কেউ যদি আল্লাহর নির্দেশাবলী পালন করে তবে সে নবীদের মতো হয়ে যায় এবং তার জন্য শরীয়ত প্রবর্তন করার অধিকার থাকে!! আর কিছু ইয়াহুদী উযাইরের ব্যাপারে অতিশয়োক্তি করে এমনকি তারা বলেছে: তিনি আল্লাহর পুত্র! একারণেই আমাদের নবী বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: আর সামেরীরা (ইয়াহুদীদের একটি শাখা) বলে: ইউশা নবী ছিলেন, কিন্তু তাঁর পরবর্তী দাউদ, সুলাইমান এবং মসীহ নবী ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الحديث الصحيح: «لا تطروني كما أطرت النصارى عيسى ابن مريم، فإنما أنا عبد الله فقولوا عبد الله ورسوله»(1).

والمسلمون اعتدلوا، فآمنوا بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، ولم يفرقوا بين أحد من رسله، وآمنوا بجميع النبيين، وبكل كتاب أنزله الله، فلم يكذّبوا الأنبياء، ولا سبّوهم، ولا غلوا فيهم، ولا عبدوهم. وكذلك أهل العلم والدين؛ لا يبخسونهم حقهم، ولا غلوا فيهم.

وقد وصف الله اليهود بأعمال، والنصارى بأعمال؛ فوصف اليهود بالكبْر والبخل والجبن والقسوة وكتمان العلم وسلوك سبيل الغي -وهو سبيل الشهوات والعدوان-؛ فإن اليهود فيهم من البغض والحسد والعداوة ما ليس في النصارى، وفي النصارى من الرحمة والمودة ما ليس في اليهود. والعداوة أصلها البغض؛ فاليهود كانوا يبغضون أنبياءهم؛ فكيف ببغضهم للمؤمنين!! وأما النصارى فليس في الدين الذي يدينون به عداوة ولا بغض لأعداء الله الذين حاربوا الله ورسوله وسعوا في الأرض فساداً!! فكيف بعداوتهم وبغضهم للمؤمنين المعتدلين -أهل ملة إبراهيم- المؤمنين بجميع الكتب والرسل؟!

واليهود يغضبون لأنفسهم وينتقمون، والنصارى لا يغضبون لربهم ولا ينتقمون. والمسلمون المعتدلون -المتبعون لنبيهم- يغضبون لربهم، ويعفون عن حظوظهم، كما في «الصحيحين» عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: «ما ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده خادماً له، ولا امرأة ولا

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (3445) من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «তোমরা আমাকে নিয়ে তেমন অতিরঞ্জন করো না, যেমন খ্রিস্টানরা মরিয়ম-পুত্র ঈসাকে নিয়ে অতিরঞ্জন করেছে। আমি কেবল আল্লাহর একজন বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল»(১)।

আর মুসলিমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে; ফলে তারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। তারা সকল নবি এবং আল্লাহর নাজিলকৃত প্রতিটি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে। তারা নবিদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি, তাদের গালি দেয়নি, তাদেরকে নিয়ে অতিরঞ্জন করেনি এবং তাদের ইবাদতও করেনি। অনুরূপভাবে ইলম ও দ্বীনদারির অনুসারীগণও তাদের প্রাপ্য অধিকার খর্ব করেন না এবং তাদেরকে নিয়ে অতিরঞ্জনও করেন না।

আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের কতিপয় কার্যাবলির মাধ্যমে এবং খ্রিস্টানদের কতিপয় কার্যাবলির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তিনি ইহুদিদেরকে অহংকার, কৃপণতা, ভীরুতা, কঠোরতা, ইলম গোপন করা এবং ভ্রষ্টতার পথে—যা প্রবৃত্তি ও সীমালঙ্ঘনের পথ—চলার গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। ইহুদিদের মধ্যে এমন ঘৃণা, হিংসা ও শত্রুতা বিদ্যমান যা খ্রিস্টানদের মাঝে নেই; আবার খ্রিস্টানদের মাঝে এমন দয়া ও হৃদ্যতা রয়েছে যা ইহুদিদের মধ্যে নেই। আর শত্রুতার মূল ভিত্তি হলো ঘৃণা; ইহুদিরা তো তাদের নবিদেরই ঘৃণা করত; তাহলে মুমিনদের প্রতি তাদের ঘৃণা কতই না ভয়াবহ হবে!! অন্যদিকে খ্রিস্টানদের অনুসৃত ধর্মে আল্লাহর সেসব শত্রুর প্রতিও কোনো শত্রুতা বা ঘৃণা নেই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়েছে!! তাহলে মধ্যপন্থী মুমিনদের প্রতি—যারা ইবরাহিমি মিল্লাতের অনুসারী এবং সকল কিতাব ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী—তাদের শত্রুতা ও ঘৃণা কেমন হতে পারে?!

ইহুদিরা নিজেদের স্বার্থে রাগান্বিত হয় এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করে, আর খ্রিস্টানরা তাদের রবের জন্য রাগান্বিত হয় না এবং প্রতিশোধও নেয় না। কিন্তু মধ্যপন্থী মুসলিমরা—যারা তাদের নবির অনুসারী—তারা তাদের রবের সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হয় এবং নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের ক্ষেত্রে ক্ষমা করে দেয়; যেমনটি ‘সহিহাইন’-এ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো নিজ হাতে তাঁর কোনো সেবককে আঘাত করেননি, কোনো নারীকেও নয় এবং...

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৩৪৪৫) এটি বর্ণনা করেছেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
شيئاً قط، إلا أن يجاهد في سبيل الله، ولا نيل منه شيء قط فانتقم لنفسه، إلا أن تنتهك محارم الله؛ فينتقم لله»(1).

وبدّل النصارى شرائع دينهم فزادوا في الصيام وجعلوه خمسين يوماً، ونقلوه إلى الربيع، وتركوا حج بيت المقدس، وحجوا لكنيسة القمامة، وبيت لحم، وكنيسة صيدنايا، وليس شيء من ذلك منقولًا عن المسيح. وابتدعوا عيد القلندس، وعيد الميلاد، وعيد الغطاس وهو القداس، وعيد الخميس والجمعة والسبت التي في آخر صومهم، وغيرها من الأعياد جعلوها بأسماء كبرائهم، وعيد الصليب الذي جعلوه في وقت ظهور الصليب لما أظهرته هيلانة الحرانية الفندقانية أم قسطنطين بعد المسيح بمائتين من السنين، وعظموا الصليب لأن الملك قسطنطين رأى صورة صليب كواكب(2)، ومعلوم أن هذا لا يصلح أن ينبني عليه شريعة، وبنوا على أسماء كبرائهم أو قبورهم الكنائس، وجعلوا فيها أصناماً على صورهم، يدعونهم من دون الله، وتركوا قبلة بيت المقدس، وصلوا إلى الشرق.

والنصارى لا يقرّبون القرابين بالسميد، كما كان بنو إسرائيل من قبل، ولا يحجّون في كل شهر، ومن سنة إلى سنة إلى بيت المقدس -بيت الله- ويقرّبون لله ربهم فيه قرابين نقية زكية.

--------------------------------------------

(1) روي بألفاظ متقاربة في مسند الإمام أحمد (43/ 92 ط الرسالة): «25923»، وقال المحقق: "إسناده صحيح على شرط الشيخين". وفي «الطبقات الكبرى - ط العلمية» (8/ 164): «باب ذكر ضرب النساء».

(2) من ضلال النصارى أنهم جعلوا أداة عدوهم (الصليب) رمزاً لهم!! فهل يحتفي أحد بأداة عدوه؟! ويذكر بعض المؤرخين أن رمز بعض النصارى في القرون الأولى كان (السمكة) نسبة إلى قصة بحيرة طبرية والسمك الذي باركه المسيح كما يذكرون.
...কখনোই কোনো কিছুকে আঘাত করেননি, আল্লাহর পথে জিহাদ করা ব্যতীত। আর তাঁর থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেওয়া হলে তিনি কখনোই নিজের জন্য প্রতিশোধ নেননি, তবে আল্লাহর পবিত্র বিধানাবলি লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নিতেন।(১)

আর খ্রিস্টানগণ তাদের ধর্মের বিধানাবলি পরিবর্তন করে ফেলেছে; ফলে তারা রোজা বৃদ্ধি করে তা পঞ্চাশ দিনে নির্ধারণ করেছে এবং তা বসন্তকালে স্থানান্তরিত করেছে। তারা বাইতুল মুকাদ্দাসের হজ বর্জন করেছে এবং এর পরিবর্তে কিয়ামাহ গির্জা, বেথলেহেম ও সাইদনায়া গির্জায় হজের প্রথা চালু করেছে, যার কোনোটিই মসীহ (আ.) থেকে বর্ণিত নয়। তারা কালান্দাস উৎসব, বড়দিন (ক্রিসমাস), এপিফানি উৎসব (যা তাদের বিশেষ উপাসনা), এবং তাদের রোজার শেষ দিকের বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবারের উৎসবসহ আরও অনেক উৎসবের উদ্ভাবন করেছে, যা তারা তাদের বড়দের নামে নামকরণ করেছে। এছাড়া তারা ক্রুশ উৎসবের প্রবর্তন করেছে, যা মসীহ (আ.)-এর পরবর্তী দুইশ বছর পর কন্সটানটাইনের মাতা হাররানিয়া হোটেল মালকিন হেলেনা কর্তৃক ক্রুশ আবিষ্কৃত হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ক্রুশকে মহিমান্বিত করেছে কারণ রাজা কন্সটানটাইন নক্ষত্ররাজিতে একটি ক্রুশ সদৃশ আকৃতি দেখেছিলেন। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, এর ওপর ভিত্তি করে কোনো শরিয়ত বা বিধান গড়ে তোলা সমীচীন নয়। তারা তাদের বড়দের নামে অথবা তাদের কবরের ওপর গির্জা নির্মাণ করেছে এবং সেগুলোতে তাদের প্রতিকৃতি অনুসারে মূর্তি স্থাপন করেছে, যাদেরকে তারা আল্লাহ ব্যতীত আহ্বান করে। তারা বাইতুল মুকাদ্দাসের কিবলা পরিত্যাগ করে পূর্ব দিকে মুখ করে প্রার্থনা করে।

আর খ্রিস্টানগণ সুজি বা ময়দা দিয়ে উৎসর্গ (কুরবানি) পেশ করে না, যেমনটি বনী ইসরাঈলগণ পূর্বে করত। তারা প্রতি মাসে অথবা প্রতি বছর আল্লাহর ঘর বাইতুল মুকাদ্দাসে হজ করতে যায় না, যেখানে তারা তাদের প্রতিপালক আল্লাহর উদ্দেশ্যে পবিত্র ও শুদ্ধ উৎসর্গ পেশ করত।

--------------------------------------------

(১) কাছাকাছি শব্দে ইমাম আহমদের মুসনাদে (৪৩/৯২, আর-রিসালা সংস্করণ) বর্ণিত হয়েছে: হাদীস নম্বর '২৫৯২৩'। গবেষক (মুহাক্কিক) বলেছেন: "এর সনদ শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহিহ।" এবং ‘তবাকাতুল কুবরা’ - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ (৮/১৬৪): ‘নারীদের প্রহারের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ’।

(২) খ্রিস্টানদের বিভ্রান্তির অন্যতম দিক হলো তারা তাদের শত্রুর হাতিয়ারকে (ক্রুশ) নিজেদের প্রতীক বানিয়ে নিয়েছে!! কোনো ব্যক্তি কি তার শত্রুর হাতিয়ারকে উদযাপন করে?! কোনো কোনো ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে কিছু খ্রিস্টানের প্রতীক ছিল ‘মাছ’, যা গালিল সাগরের কাহিনী এবং মাছের বরকত দেওয়ার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত, যেমনটি তারা মসীহ (আ.)-এর ক্ষেত্রে বর্ণনা করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وابتدعوا الكفر في صلاتهم؛ حتى قالوا في صلاتهم السَحَرية: «تعالوا بنا نسجد للمسيح إلهنا». وفي الصلاة الثانية والثالثة: «يا والدة الإله مريم العذراء! افتحي لنا أبواب الرحمة».

وابتدعوا أن لله ثلاثة أقانيم، ولفظ الأقانيم لم ينطق به أحد من الأنبياء، ولا أحد من الحواريين باتفاقهم، بل هو مما ابتدعوه، قيل: إنه لفظ رومي، معناه: الأصل. ولهذا يضطربون في تفسير الأقانيم، تارة يقولون: أشخاص، وتارة خواص، وتارة صفات، وتارة جواهر، وتارة يجعلون الأقنوم اسماً للذات والصفة معاً.

فكثير من شرائعهم لم يأخذوها عن المسيح عليه السلام ولا الحواريين، ولم يتبعوا خاتم الرسل محمد صلى الله عليه وسلم الذي بشر به المسيح.

والنصارى بعد النسخ(1) والتبديل(2) هم من الضالين الذين يعملون ويعبدون ويزهدون بلا علم، لا من المنعم عليهم. وعُبّاد الأصنام أيضاً من الضالين المغضوب عليهم. وقد قال النّبي صلى الله عليه وسلم: «اليهود مغضوب عليهم، والنصارى ضالون» رواه الإمام أحمد والترمذي(3)؛ وسبب ذلك أن اليهود يعرفون الحق ولا يعملون به، والنصارى يعبدون بلا علم.

--------------------------------------------

(1) النسخ: هو رفع وإزالة أحكام شريعة سابقة بشريعة لاحقة، فلما كانت شريعة الإسلام آخر الشرائع، وصالحة لكل زمان ومكان؛ إذ لا شريعة بعدها، فقد نسخ الله بها ما شاء من الشرائع الماضية وجعلها مهيمنة عليها، فلا يقبل من أي يهودي أو نصراني بعد بعثة النبي صلى الله عليه وسلم وبعد العلم به أن يتمسك بدين غير دين الإسلام. والله تعالى يشرع لكل أمة ما يناسبها وأحوالها وزمانها، والشريعة المتأخرة قد تنسخ بعض أحكام الشريعة المتقدمة، دون قواعد العقائد وحفظ الكليات الخمس.

(2) التبديل: التحريف والتغيير في الدين والشرائع وفي نصوص الكتب المنزلة أو تأويل معانيها إلى معانٍ أخرى غير المقصودة.

(3) الترمذي (2953)، وأخرجه أحمد (19381)، وأبو داود الطيالسي (1135)، وابن حبان «الإحسان» (7206، 6246)، وفي «الثقات»: (5/ 142)، والطبراني في «الكبير»: (17/ رقم 236). والحديث صححه ابن حبان، والمصنف في «الفتاوى»: (3/ 369) وغير موضع، وابن القيم في «مفتاح دار السعادة»: (1/ 188). وله شاهد من حديث أبي ذر، قال الحافظ في «الفتح»: (8/ 9): «وأخرجه ابن مردويه بإسناد حسن عن أبي ذر».
তারা তাদের প্রার্থনায় কুফরির উদ্ভাবন করেছে; এমনকি তারা তাদের ঊষালগ্নের প্রার্থনায় বলে থাকে: "আসুন আমরা আমাদের ইলাহ মসীহের উদ্দেশ্যে সিজদাহ করি।" এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রার্থনায় বলে: "হে ইলাহের মাতা কুমারী মারিয়াম! আমাদের জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করুন।"

আর তারা উদ্ভাবন করেছে যে, আল্লাহর তিনটি 'আকানীম' (মূলসত্তা) রয়েছে। এই 'আকানীম' শব্দটি নবীদের কেউ উচ্চারণ করেননি এবং তাদের সর্বসম্মতিক্রমে হাওয়ারীদের (শিষ্যদের) কেউও তা বলেননি; বরং এটি তাদেরই উদ্ভাবিত বিষয়। বলা হয়ে থাকে যে, এটি একটি রোমান শব্দ, যার অর্থ: মূল। এ কারণেই তারা 'আকানীম'-এর ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তিতে পড়ে; কখনো তারা বলে: 'ব্যক্তিগণ', কখনো বলে: 'বৈশিষ্ট্যসমূহ', কখনো বলে: 'গুণাবলি', কখনো বলে: 'সারবস্তুসমূহ', আবার কখনো তারা 'উকনুম' শব্দটিকে সত্তা ও গুণের সমন্বিত নাম হিসেবে গণ্য করে।

ফলে তাদের অনেক শরীয়ত বা বিধিবিধান তারা মসীহ আলাইহিস সালাম কিংবা হাওয়ারীদের থেকে গ্রহণ করেনি এবং তারা শেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করেনি, যাঁর সুসংবাদ মসীহ প্রদান করেছিলেন।

রহিতকরণ ও পরিবর্তনের পর খ্রিস্টানরা সেই বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত যারা জ্ঞান ছাড়াই আমল করে, ইবাদত করে এবং বৈরাগ্য অবলম্বন করে; তারা নেয়ামতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর মূর্তিপূজকরাও বিভ্রান্ত ও আল্লাহর ক্রোধে নিপতিতদের অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইয়াহূদীরা আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত এবং খ্রিস্টানরা পথভ্রষ্ট।" ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হলো, ইয়াহূদীরা সত্যকে জানে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না, আর খ্রিস্টানরা জ্ঞান ছাড়াই ইবাদত করে।

--------------------------------------------

(১) নাসখ (রহিতকরণ): এটি হলো পরবর্তী কোনো শরীয়তের মাধ্যমে পূর্ববর্তী শরীয়তের বিধানকে রহিত বা অপসারণ করা। যেহেতু ইসলামি শরীয়ত সর্বশেষ শরীয়ত এবং সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী, এবং এর পরে আর কোনো শরীয়ত নেই, তাই আল্লাহ এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের যা ইচ্ছা রহিত করেছেন এবং এটিকে সেগুলোর উপর প্রাধান্য দানকারী করেছেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর এবং তা সম্পর্কে জানার পর কোনো ইয়াহূদী বা খ্রিস্টানের পক্ষ থেকে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে আঁকড়ে ধরা গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ প্রতিটি উম্মতের অবস্থা ও সময়ের উপযোগী বিধান প্রদান করেন। আকিদার মূলনীতি এবং পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্য (আল-কুল্লিয়াত আল-খামসাহ) সংরক্ষণ ব্যতীত পরবর্তী শরীয়ত পূর্ববর্তী শরীয়তের কিছু বিধানকে রহিত করতে পারে।

(২) তাবদীল (পরিবর্তন): ধর্ম ও শরীয়ত এবং অবতীর্ণ কিতাবসমূহের পাঠ্য অংশে বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধন করা অথবা সেগুলোর অর্থকে উদ্দেশ্যবহির্ভূত অন্য অর্থে ব্যাখ্যা করা।

(৩) তিরমিযী (২৯৫৩), এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (১৯৩৮১), আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (১১৩৫), ইবনে হিব্বান ‘আল-ইহসান’ (৭২০৬, ৬২৪৬) এবং ‘আত-থিকাত’ গ্রন্থে (৫/১৪২), এবং তাবারানী ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে (১৭/ নং ২৩৬)। ইবনে হিব্বান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং গ্রন্থকার তাঁর ‘ফাতাওয়া’ (৩/৩৬৯) ও অন্যান্য স্থানে এবং ইবনুল কায়্যিম ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ (১/১৮৮) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন। আবু যার বর্ণিত হাদীস থেকে এর সমর্থনে সাক্ষ্য রয়েছে, হাফিজ (ইবনে হাজার) ‘আল-ফাতহ’ (৮/৯) গ্রন্থে বলেন: "ইবনে মারদুওয়াই এটি হাসান সনদে আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن تدبر حال اليهود والنصارى مع المسلمين، وجد اليهود والنصارى متقابلين على طرفي نقيض، هؤلاء ينحرفون إلى جهة وهؤلاء إلى الجهة التي تقابلها، هؤلاء في طرف ضلال، وهؤلاء في طرف يقابله.

والمسلمون هم الوسط، وذلك في التوحيد، والأنبياء، والشرائع، والحلال والحرام، والأخلاق، وغير ذلك؛ فلم يجحدوا شرع الله الناسخ لأجل شرعه المنسوخ كما فعلت اليهود، ولا غيروا شيئاً من شرعه المحكم، ولا ابتدعوا شرعاً لم يأذن به الله كما فعلت النصارى. ولا غلوا في الأنبياء والصالحين كغلو النصارى، ولا بخسوهم حقوقهم كفعل اليهود. ولا جعلوا الخالق سبحانه متصفاً بخصائص المخلوق ونقائصه ومعايبه من الفقر والبخل والعجز كفعل اليهود. ولا المخلوق متصفاً بخصائص الخالق سبحانه -التي ليس كمثله فيها شيء- كفعل النصارى. ولم يستكبروا عن عبادته كفعل اليهود، ولا أشركوا بعبادته أحداً كفعل النصارى(1). وأحل الله للمسلمين الطيبات خلافاً لليهود، وحرم عليهم الخبائث خلافاً للنصارى.

والله أرسل رسوله محمد صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، فالهدى يتضمن العلم النافع، ودين الحق يتضمن العمل الصالح؛ ليظهره على الدين كله، والظهور يكون بالعلم واللسان؛ ليبين أنه حق وهدى، ويكون باليد

--------------------------------------------

(1) قال شيخ الإسلام ابن تيمية: لما كان أصل دين اليهود الكبر عاقبهم بالذلة {ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا} [آل عمران: 112]، ولما كان أصل دين النصارى الإشراك لتعديد الطرق إلى الله أضلهم عنه. فعوقب كل من الأمتين على ما اجترمه بنقيض قصده، {وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} [فصلت: 46]. وقد وصف بعض اليهود بالشرك في قوله: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ [التوبة: 30]. ففي اليهود من عبد الأصنام وعبد البشر؛ وذلك أن المستكبر عن الحق يبتلى بالانقياد للباطل، فيكون المستكبر مشركاً.
আর যে ব্যক্তি মুসলমানদের তুলনায় ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের একে অপরের বিপরীত প্রান্তে অবস্থানরত দেখতে পাবে; এক পক্ষ এক দিকে বিচ্যুত হয়েছে, অন্য পক্ষ তার বিপরীত দিকে। এক দল পথভ্রষ্টতার এক প্রান্তে, অন্য দল তার উল্টো প্রান্তে।

আর মুসলমানরাই হলো মধ্যমপন্থী; আর তা তাওহিদ, নবীগণ, শরিয়ত, হালাল-হারাম, আখলাক বা চরিত্র এবং অন্যান্য সব ক্ষেত্রে। তারা ইয়াহুদিদের মতো রহিত বিধানের দোহাই দিয়ে আল্লাহর রহিতকারী বিধানকে অস্বীকার করেনি এবং খ্রিষ্টানদের মতো আল্লাহর সুদৃঢ় বিধানে কোনো পরিবর্তন আনেনি কিংবা এমন কোনো নতুন বিধান উদ্ভাবন করেনি যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি। তারা নবী ও নেককার বান্দাদের নিয়ে খ্রিষ্টানদের মতো বাড়াবাড়ি করেনি এবং ইয়াহুদিদের মতো তাদের প্রাপ্য অধিকার খর্ব করেনি। তারা ইয়াহুদিদের মতো মহান স্রষ্টাকে সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য, অপূর্ণতা এবং দোষত্রুটি তথা অভাব, কার্পণ্য ও অক্ষমতার গুণে গুণান্বিত করেনি। আবার খ্রিষ্টানদের মতো সৃষ্টিকে মহান স্রষ্টার সেই সব গুণাবলির অধিকারী সাব্যস্ত করেনি—যেগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর সদৃশ আর কিছুই নেই। তারা ইয়াহুদিদের মতো তাঁর ইবাদতে অহংকার করেনি এবং খ্রিষ্টানদের মতো তাঁর ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার করেনি(১)। আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদিদের বিপরীতে মুসলমানদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেছেন এবং খ্রিষ্টানদের বিপরীতে তাদের ওপর অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেছেন।

আর আল্লাহ তাঁর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। এখানে হিদায়াত বলতে উপকারী জ্ঞান এবং সত্য দ্বীন বলতে সৎকর্ম অন্তর্ভুক্ত; যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর এই বিজয় অর্জিত হয় জ্ঞান ও বাণীর মাধ্যমে—যাতে এটি যে সত্য ও হিদায়াত তা স্পষ্ট হয়, এবং বিজয় অর্জিত হয় হাতের শক্তির মাধ্যমে

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: যেহেতু ইয়াহুদিদের ধর্মের মূলে ছিল অহংকার, তাই তিনি তাদের লাঞ্ছনার মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন {তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে} [আলে ইমরান: ১১২]। আর যেহেতু খ্রিষ্টানদের ধর্মের মূলে ছিল আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর নানাবিধ পথ অবলম্বনের মাধ্যমে শিরক করা, তাই তিনি তাদের সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করেছেন। ফলে উভয় উম্মতকে তাদের কৃত অপরাধের কারণে তাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত পরিণাম দ্বারা শাস্তি দেওয়া হয়েছে, {আর তোমার রব বান্দাদের প্রতি মোটেও অবিচারকারী নন} [ফুসসিলাত: ৪৬]। কোনো কোনো ইয়াহুদিকে শিরকের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: {আর ইয়াহুদিরা বলে উযাইর আল্লাহর পুত্র} [আত-তাওবাহ: ৩০]। সুতরাং ইয়াহুদিদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা মূর্তি ও মানুষের পূজা করত। এর কারণ হলো, যে ব্যক্তি সত্যের ব্যাপারে অহংকার করে, সে বাতিলের আনুগত্য করার পরীক্ষায় পতিত হয়; ফলে সেই অহংকারী ব্যক্তি মুশরিকে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
والسلاح؛ ليكون منصوراً مؤيداً، والله أظهره هذا الظهور، فهم أهل الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين.

 

‌‌تواتر الأخبار ببعثة محمد صلى الله عليه وسلم إلى جميع الإنس والجن

ثم إنه من المعلوم بالضرورة لكل من عَلِم أحواله صلى الله عليه وسلم بالنقل المتواتر الذي هو أعظم تواتراً مما يُنقل عن موسى وعيسى وغيرهما، وبالقرآن المتواتر عنه، وسنته المتواترة عنه، وسنة خلفائه الراشدين من بعده: أنه صلى الله عليه وسلم ذكر أنه أُرسِل إلى أهل الكتاب: اليهود والنصارى، كما ذكر أنه أرسل إلى الأميين، بل ذكر أنه أرسل إلى جميع بني آدم، عربهم وعجمهم، من الروم والفرس والترك والهند والبربر والحبشة وسائر الأمم، بل أنه أرسل إلى الثقلين الجن والإنس جميعاً. وهذا كله من الأمور الظاهرة المتواترة عنه التي اتفق على نقلها عنه أصحابه مع كثرتهم وتفرق ديارهم وأحوالهم، وقد صحبه عشرات ألوف، لا يحصي عددهم على الحقيقة إلا الله تعالى، ونقل ذلك عنهم التابعون وهم أضعاف الصحابة عدداً، ثم ذلك منقول قرناً بعد قرن إلى زمننا، مع كثرة المسلمين وانتشارهم في مشارق الأرض ومغاربها. والمقصود أن محمداً صلى الله عليه وسلم هو نفسه دعا أهل الكتاب من اليهود والنصارى إلى الإيمان به وبما جاء به، كما دعا من لا كتاب له من العرب وسائر الأمم. وهو الذي أخبر عن الله تبارك وتعالى بكفر من لم يؤمن به من أهل الكتاب وغيرهم.
এবং অস্ত্রশস্ত্র; যাতে তিনি বিজয়ী ও সাহায্যপ্রাপ্ত হন। আল্লাহ তাঁকে এইভাবে প্রকাশ করেছেন; সুতরাং তাঁরাই সরল পথের অনুসারী—সেই সব ব্যক্তিদের পথ যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং পুণ্যবানগণ।

 

‌‌সকল মানুষ ও জিনের প্রতি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত হওয়ার অকাট্য সংবাদ (তাওয়াতুর)

অতঃপর, যারা অকাট্য পরম্পরায় (তাওয়াতুর) বর্ণিত বর্ণনার মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন—যে বর্ণনা মুসা, ঈসা ও অন্যদের সম্পর্কে বর্ণিত সংবাদের চেয়েও অধিকতর অকাট্য ও শক্তিশালী—এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অকাট্য কুরআন, তাঁর সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহর মাধ্যমে যারা অবগত হয়েছেন, তাঁদের নিকট এটি আবশ্যিকভাবেই সুবিদিত যে: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে তাঁকে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁকে নিরক্ষরদের নিকটও প্রেরণ করা হয়েছে। বরং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁকে সমস্ত বনী আদমের নিকট পাঠানো হয়েছে—তারা আরব হোক বা অনারব; রোমক, পারস্য, তুর্কি, হিন্দি, বারবার, আবিসিনীয় কিংবা অন্য যেকোনো জাতি। এমনকি তিনি জিন ও ইনসান তথা সাকালায়ন উভয়ের নিকট প্রেরিত হয়েছেন। আর এই সব কিছুই তাঁর থেকে প্রমাণিত সেই সব সুস্পষ্ট ও অকাট্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের বিপুল সংখ্যা এবং আবাসভূমি ও অবস্থার ভিন্নতা সত্ত্বেও তাঁর থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁর সাহচর্যে কয়েক লক্ষ সাহাবী ছিলেন, যাদের প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানেন না। তাঁদের থেকে তাবেয়ীগণ এটি বর্ণনা করেছেন যারা সংখ্যায় সাহাবীগণের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিলেন। অতঃপর এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের সময় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়ে আসছে, যার সাথে যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের বিশাল সংখ্যা এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে তাঁদের বিস্তৃতি। মূল কথা হলো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে আহলে কিতাবদেরকে তাঁর প্রতি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছেন, যেমনটি তিনি আরব ও অন্যান্য জাতির কিতাববিহীন লোকদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনিই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সংবাদ প্রদান করেছেন যে, আহলে কিতাব বা অন্য যেকোনো জাতির মধ্য থেকে যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না, তারা কাফির।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদুল মালীহ মিন কিতাবিল জাওয়াবিস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم في الكتب المتقدمة

والبشارات بمحمد صلى الله عليه وسلم في الكتب المتقدمة أعظم من البشارة بالمسيح(1).

--------------------------------------------

(1) البشارات بمحمد صلى الله عليه وسلم في كتبهم كثيرة، ومن أبرزها أن عندهم في سفر التثنية من كتابهم المقدس (33 - 2) ينسبون لموسى في مباركته الأخيرة (خطبته) أنه قال: أقبل الرب من سيناء (يعني الوحي لموسى ورسالته) وأشرق عليهم من ساعير (جبل في القدس)، وتألق في جبل فاران (مكة). قال ابن تيمية: "فإن إشراقه من ساعير هو ظهور نوره بالمسيح، كما أن مجيئه من طور سيناء هو ظهور نوره بموسى، واستعلانه من جبال فاران هو ظهور نوره بمحمد. وبهذه الأماكن الثلاثة أقسم الله في القرآن بقوله: {وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ 1 وَطُورِ سِينِينَ 2 وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ 3} [التين: 1 - 3]. فبلد التين والزيتون هي الأرض المقدسة التي بعث منها المسيح، وكان بها أنبياء بني إسرائيل، وأسري بمحمد صلى الله عليه وسلم إليها، وظهرت بها نبوته، و (طور سينين) المكان الذي كلم الله فيه موسى ابن عمران، (وهذا البلد الأمين) هو بلد مكة التي بعث الله منه محمداً، وأنزل عليه القرآن".

وفي سفر حبقوق (3 - 3) يأتي من تيمان (المدينة) القدوس، من جبل فاران (جبال مكة، وتشير للهجرة من مكة للمدينة) سلا مجده يغطي السماء والأرض، ممتلئة بترانيم التسبيح له (إشارة إلى الناس يكثرون من الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.

وفي سفر أشعيا 21 من 14 إلى 17: أحضروا ماء للقاء العطشان (يعني: محمدًا صلى الله عليه وسلم المهاجر) يا سكان تيماء (المدينة) أحضروا خبزاً لإطعام الهاربين (هجرة محمد صلى الله عليه وسلم وصاحبه أبي بكر رضي الله عنه، هربوا من السيوف المسلولة للقتل، ومن الأقواس المشدودة الجاهزة للإطلاق، ومن وجه الحرب الشديدة، لأنه هكذا قال لي الرب في سنة واحدة فقط وفقاً لعدد أيام سنة العام كسنة الأجير سيزول مجد قيدار (كفار قريش)، أما الناجون من حملة الأقواس ومحاربي قيدار؛ فسيكونون قليلين جداً (إشارة لقلة عدد المسلمين في غزوة بدر).

وفي سفر التثنية 18 - 18: خطاب الرب لموسى: أقيم لهم نبياً من وسط إخوتهم -يعني من بني إسماعيل- مثلك، وأجعل كلامي في فمه فيكلمهم بكل ما أوصيه به (وما ينطق عن الهوى صلى الله عليه وسلم. وهذه البشارة مشهورة عندهم، ومن مفسري النصارى من قالوا: هذه نبوؤة عن المسيح، فلو صدقوا فقد نفوا ألوهية المسيح، لأنهم يزعمون ألوهية المسيح، وهنا يقولون هو مثل موسى، والمثيل يجب أن يكون مثله فيولد من أبوين، ولا يكون إلهاً، ولا ابن الإله، وإنما نبي، وأنه يموت ولا يقتل.

وفي سفر أشعيا 29 - 12: " أو يدفع الكتاب لمن لا يعرف الكتابة، ويقال له: اقرأ هذا، فيقول: لا أعرف القراءة". والذي لا يعرف القراءة هو محمد صلى الله عليه وسلم النبي الأمي.
পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ

পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে প্রদত্ত সুসংবাদসমূহ মাসীহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে প্রদত্ত সুসংবাদের চেয়েও অধিক মহিমান্বিত(১)।

--------------------------------------------

(১) তাদের গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ অনেক রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো, তাদের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলের 'দ্বিতীয় বিবরণ' (ডিউটেরোনমি) অধ্যায়ে (৩৩:২) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সর্বশেষ আশীর্বাণী বা ভাষণে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: "প্রভু সিনাই থেকে আগমন করলেন (অর্থাৎ মূসার প্রতি ওহী ও নবুওয়াত), তাদের নিকট সেয়ীর (জেরুজালেমের একটি পাহাড়) থেকে উদিত হলেন এবং পারান (মক্কা) পর্বত থেকে জ্যোতি বিকিরণ করলেন।" ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "সেয়ীর থেকে তাঁর উদিত হওয়া মানে মাসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে তাঁর নূরের প্রকাশ, যেমন তূর সিনাই থেকে তাঁর আগমন হলো মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে তাঁর নূরের প্রকাশ, আর পারান পর্বতমালা থেকে তাঁর জ্যোতি বিকিরণ হওয়া হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে তাঁর নূরের প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এই তিনটি স্থানের শপথ করে বলেছেন: 'শপথ আঞ্জীর ও যয়তুনের, এবং তূর পাহাড়ের, এবং এই নিরাপদ নগরীর।' [সূরা আত-তীন: ১-৩]। আঞ্জীর ও যয়তুনের দেশ হলো সেই পবিত্র ভূমি যেখান থেকে মাসীহ আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং সেখানে বনী ইসরাঈলের নবীগণ ছিলেন। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেখানে ইসরা (নৈশ ভ্রমণ) করানো হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর নবুওয়াত প্রকাশিত হয়েছিল। আর 'তূর সীনীন' হলো সেই স্থান যেখানে আল্লাহ তাআলা মূসা ইবনে ইমরানের সাথে কথা বলেছিলেন। আর 'এই নিরাপদ নগরী' হলো মক্কা নগরী, যেখান থেকে আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর ওপর কুরআন নাযিল করেছেন।"

আবার 'হাবাক্কুক' পুস্তকে (৩:৩) বর্ণিত হয়েছে: "সেই পবিত্র সত্তা তৈমান (মদীনা) থেকে আসছেন এবং পারান পর্বত (মক্কার পাহাড়সমূহ, যা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের প্রতি ইঙ্গিত করে) থেকে আসছেন। সেলাহ! তাঁর মহিমা আকাশমন্ডলীকে আবৃত করেছে এবং পৃথিবী তাঁর প্রশংসাগীতিতে পূর্ণ হয়েছে" (এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মানুষের অধিক হারে দরূদ ও সালাম পাঠের প্রতি ইঙ্গিত)।

'যিশাইয়' (আইসাইয়াহ) পুস্তকে (২১:১৪-১৭) রয়েছে: "হে তৈমা (মদীনা) দেশের অধিবাসীরা, তৃষ্ণার্তের (অর্থাৎ মুহাজির মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য পানি নিয়ে আসো এবং পলায়নপরদের (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হিজরত) খাদ্য দেওয়ার জন্য রুটি নিয়ে এগিয়ে আসো। কারণ তারা কোষমুক্ত তরবারি, উদ্যত ধনুক এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে পলায়ন করেছে। কেননা প্রভু আমাকে এরূপ বলেছেন: মজুরদের নির্ধারিত বছরের ন্যায় ঠিক এক বছরের মধ্যে কেদারের (কুরাইশ কাফিরদের) সমস্ত জাঁকজমক বিলীন হয়ে যাবে। আর কেদারের ধনুর্ধর ও বীর যোদ্ধাদের অবশিষ্ট সংখ্যা অতি অল্প হবে" (এটি বদর যুদ্ধে মুসলিমদের স্বল্প সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত)।

'দ্বিতীয় বিবরণ' অধ্যায়ে (১৮:১৮) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি প্রভুর বাণী: "আমি তাদের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে—অর্থাৎ বনী ইসমাঈলের মধ্য থেকে—তোমার মতো একজন নবী দাঁড় করাবো এবং আমার বাক্য তাঁর মুখে দেবো; আমি তাঁকে যা যা আজ্ঞা করবো, তিনি তাদের কাছে সেই সবই বলবেন" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না)। এই সুসংবাদটি তাদের কাছে সুপরিচিত। খ্রিস্টান ব্যাখ্যাকারীদের কেউ কেউ বলেন, এটি মাসীহ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী। কিন্তু তারা যদি সত্যবাদী হতো তবে এর মাধ্যমে তারা মাসীহের ঈশ্বরত্বকেই অস্বীকার করতো; কারণ তারা মাসীহকে ঈশ্বর দাবি করে, অথচ এখানে বলা হচ্ছে তিনি 'মূসার মতো'; আর সমতুল্য হতে হলে তাঁকে পিতা-মাতার ঘরে জন্ম নিতে হবে এবং তিনি ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র হবেন না, বরং একজন নবী হবেন এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন, তাঁকে হত্যা করা হবে না।

'যিশাইয়' পুস্তকে (২৯:১২) বলা হয়েছে: "অথবা সেই কিতাব এমন একজনকে দেওয়া হবে যিনি লিখতে জানেন না এবং তাঁকে বলা হবে, 'এটি পড়ো'; তখন তিনি বলবেন, 'আমি পড়তে জানি না'।" আর যিনি পড়তে জানতেন না, তিনি হলেন উম্মি নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।