(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: -)
الاختيارات الفقهية للشيخ محمد بن إبراهيم في مسائل العبادات   (محمد بن إبراهيم آل الشيخ)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الاختيارات الفقهية في مسائل العبادات

للشيخ: محمد بن إبراهيم آل الشيخ (1311 - 1389 هـ)

جمع وترتيب: خالد بن سعود بن عامر العجمي

عام النشر: 1440 هـ

عدد الصفحات: 288

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 شعبان 1445

ইবাদত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীমের ফিকহি পছন্দসমূহ (الاختيارات الفقهية)   (মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শাইখ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


কিতাব: ইবাদত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে ফিকহি পছন্দসমূহ (الاختيارات الفقهية)

শাইখ: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শাইখ (১৩১১ - ১৩৮৯ হিজরি)

সংকলন ও বিন্যাস: খালিদ বিন সাউদ বিন আমির আল-আজমি

প্রকাশের বছর: ১৪৪০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৮

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ শাবান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة (1)

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومَن والاه وسلم تسليماً مزيداً.

أما بعد: فهذه مجموعة من اختيارات سماحة الشيخ الإمام العالم العلامة سليل الأكارم، وشيخ المشايخ، محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله أقدمها لإخواني من طلاب العلم وغيرهم، ممن يريد الانتهال من مناهل العلم، والمعرفة، وطرق الاستنباط، والترجيح، وعرض الأقوال، والرد على المخالف، وقد أخذتها من: «فتاوى ورسائل الشيخ/ محمد بن إبراهيم آل الشيخ» جمع وترتيب وتحقيق/ محمد بن عبد الرحمن بن قاسم. حملني على جمعها واستخراجها علمي الأكيد بحاجة المسلمين إلى هذه الاختيارات والترجيحات؛ لأنها صدرت عن عالم بارز له مكانته المرموقة العالية بين أهل العلم وذووه، لما كان يتصف به من سعة العلم وحدة الذكاء، وتقلد الأعمال، والمهام التي كان من خلالها يشرف من قرب على مصالح المسلمين في الداخل والخارج، فكانت الأسئلة والاستفسارات تتوارد عليه من كل مكان بكل ما يعن لهم من مشكلات، وما يهمهم من ملمات، فأكسبه

--------------------------------------------

(1) جلها مستقى من مقدمة الشيخ/ محمد بن عبد الرحمن القاسم رحمه الله لفتاوى سماحة الشيخ.

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌ভূমিকা (مقدمة) (১)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাঁদের ওপর; অজস্র ধারায় সালাম।

অতঃপর: এটি মাননীয় শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, মহা-বিদ্বান, মহৎ ব্যক্তিদের বংশধর এবং শাইখদের শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল আশ-শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংগৃহীত কিছু পছন্দের (اختيارات) সংকলন। যারা ইলমের প্রস্রবণ, জ্ঞান, ইস্তিনবাত বা উদ্ভাবন (استنباط) পদ্ধতি, প্রাধান্যদান (ترجيح), বিভিন্ন মতামতের উপস্থাপন এবং বিরোধীদের খণ্ডন সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে চায়, সেই সকল ইলম অন্বেষী ভাই ও অন্যদের জন্য আমি এটি পেশ করছি। আমি এগুলো 'ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল আশ-শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল আশ-শাইখ' থেকে গ্রহণ করেছি, যা মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন কাসিম কর্তৃক সংগৃহীত, বিন্যস্ত এবং সম্পাদিত (تحقيق)। মুসলিমদের এই পছন্দসমূহ (اختيارات) ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতগুলোর (ترجيحات) প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার সুনিশ্চিত জ্ঞানই আমাকে এগুলো সংগ্রহ ও চয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। কেননা এগুলো একজন প্রথিতযশা আলেমের নিকট থেকে নিঃসৃত হয়েছে, যার ইলমের গভীরতা, তীক্ষ্ণ মেধা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে আলেম সমাজ ও তাঁদের সংশ্লিষ্টদের মাঝে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা ও অবস্থান রয়েছে। এসব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি দেশ ও বিদেশের মুসলিমদের স্বার্থসমূহ খুব কাছ থেকে তত্ত্বাবধান করতেন। ফলে সব জায়গা থেকে মানুষের সামনে আসা বিভিন্ন সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সম্পর্কে তাঁর কাছে প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা আসত। যা তাঁকে অর্জন করতে সাহায্য করেছে...

--------------------------------------------

(১) এর অধিকাংশ মাননীয় শাইখের ফতোয়াগ্রন্থের জন্য শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-কাসিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর লিখিত ভূমিকা (مقدمة) থেকে সংগৃহীত।

(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৪)
ذلك سعة اطلاع على أحوال أمته الإسلامية في كل مكان، فكان بذلك شيخ الإسلام في زمانه رحمه الله.

أسأل الله أن ينفع الشيخ/ محمد بهذا الجمع، وأن يجعله له من العلم النافع الذي يصله ثوابه بعد موته، كما أسأل الله أن يجعل العمل له خالصًا، ولعباده نافعًا. وأحب أن أنوه إلى أمور:

الأول: أن بعض الحواشي هي مما كتبه جامع الفتوى الشيخ/ محمد بن عبد الرحمن بن قاسم رحمه الله فما كان له فإني أضع في نهاية الحاشية (القاسم).

ثانياً: سيجد القارئ الكريم في ذيل الكتاب «تحذير الناسك مما أحدث ابن محمود في المناسك» فإني قد نقلته بكامله؛ وذلك لأنه في نظري لا يقبل الانتقاء والاختيار والتلخيص، فهو «خلاصة» كيف تخلص وينتقى منها، ولأنه مبني بعضه على بعض، إذ هو ذكر لأقوال ابن محمود رحمه الله والرد عليها. وهناك فائدة أخرى حملتني على نقله كاملاً وهي أن فيه حسن عرض الأقوال المخالفة وجودة الرد عليها، وعرض لطرق الإقناع، فكان بحق درس واضح بيّن يستفاد منه في هذا الباب - باب الرد على المخالف -؛ ولأن هذا الرد كما أنه رد على ابن محمود فهو رد على كل من قال بشيءٍ من هذه الأقوال المردود عليها، وخصوصاً في وقت الحج.

والحمد لله أولاً وآخرًا وظاهرًا وباطنًا، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا مزيدًا إلى يوم الدين.

 

خالد بن سعود بن عامر العجمي
এটি ছিল বিশ্বের সর্বত্র তাঁর মুসলিম উম্মাহর অবস্থা সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্যের বহিঃপ্রকাশ, ফলে তিনি তাঁর সময়ের শাইখুল ইসলাম ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সংকলনের মাধ্যমে শাইখ মুহাম্মদকে উপকৃত করেন এবং এটিকে তাঁর জন্য এমন উপকারী জ্ঞান হিসেবে কবুল করেন, যার সওয়াব তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর নিকট পৌঁছাবে। তেমনিভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন। আমি কয়েকটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই:

প্রথমত: কিছু টীকা এই ফতোয়া সংকলক শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন কাসিম (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক লিখিত, তাই তাঁর লিখিত টীকার শেষে আমি ‘(আল-কাসিম)’ লিখে দিয়েছি।

দ্বিতীয়ত: সম্মানীত পাঠক বইটির শেষে ‘তাহযীরুন নাসিক মিম্মা আহদাসা ইবনু মাহমুদ ফিল মানাসিক’ শীর্ষক পুস্তিকাটি পাবেন। আমি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করেছি; কারণ আমার দৃষ্টিতে এটি চয়ন, নির্বাচন বা সংক্ষিপ্তকরণের উপযোগী নয়। এটি নিজেই একটি ‘সারসংক্ষেপ’, ফলে এটি থেকে নতুন করে কীভাবে চয়ন বা সংক্ষেপ করা সম্ভব? তদুপরি এর বিষয়বস্তু একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, কারণ এতে ইবনে মাহমুদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করে সেগুলোর খণ্ডন করা হয়েছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করার পেছনে আরও একটি উপকারিতা হলো, এতে বিরোধী মতসমূহ অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন এবং সুচারুরূপে সেগুলোর খণ্ডন করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে যৌক্তিক উপায়ে বুঝানোর পদ্ধতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে। ফলে এটি প্রকৃতপক্ষে ‘ভ্রান্ত মত খণ্ডন’ অধ্যায়ে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর পাঠ, যা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব। তাছাড়া এই খণ্ডনটি যেমন ইবনে মাহমুদের বক্তব্যের উত্তর, তেমনি এটি সেই সমস্ত লোকেরও উত্তর যারা এই প্রত্যাখ্যাত (مردود) মতগুলোর কোনোটি পোষণ করেন, বিশেষ করে হজের মৌসুমে।

শুরু-শেষে এবং প্রকাশ্যে-গোপনে যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক কিয়ামত পর্যন্ত।

 

খালিদ বিন সাউদ বিন আমির আল-আজমি
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة في أصول الفقه وقواعده

* يسر الشريعة وسماحتها، معنى ذلك:

إن مفردات شرائعها جاءت على السهولة، كقصر الرباعية ونحو هذا، هذا معنى يسر الشريعة، ليس معناه ترك الواجبات وفعل المحرمات …

ومن ناحية أُخرى عندما يتضايق الحال، كالرخص الشرعية، كأكل الميتة إذا وجدت المخمصة (2/ 5).

 

*‌‌ صلاحية الشريعة لكل زمان، معنى ذلك:

لأن الشريعة قواعد شرعها المحيط علمه بكل شيء لتنظيم أحوال الناس، وحل مشاكلهم على الدوام … ما من زمان وإن تطورت مشاكله واتسعت إلا وفي الشريعة بيان حكمها ثم ليعلم أن تطور الزمان بأي نسبة لا يخرج شيئًا من حكمه الشرعي، إذ دفع حكم ثبت شرعًا بالحوادث لا يجوز بحال لأنه يكون نسخًا بالحوادث، ويفضي إلى رفع الشرع رأسًا، وربما يشبه ههنا بعض الجهلة بقول عائشة (2/ 5 - 6) رضي الله عنها: لو رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أحدث النساء لمنعهن المساجد.

ولا حجة فيه بحمد الله على تغيير الأحكام الثابتة شرعًا بالحوادث، فإن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) ও এর মূলনীতিসমূহের (قواعد) ভূমিকা

* শরীয়তের সহজতা ও এর উদারতা, এর অর্থ হলো:

নিশ্চয়ই এর বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ সহজসাধ্যভাবে এসেছে, যেমন চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত সংক্ষিপ্ত করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এটাই শরীয়তের সহজতার অর্থ; এর অর্থ ওয়াজিবসমূহ (الواجبات) পরিত্যাগ করা এবং হারাম (المحرمات) কাজ করা নয় …

আর অন্য দিক থেকে যখন পরিস্থিতি সংকীর্ণ হয়ে যায়, তখন শরীয়ত প্রদত্ত শিথিলতা (الرخص الشرعية) কার্যকর হয়, যেমন তীব্র ক্ষুধার (المخمصة) উপস্থিতিতে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা (২/ ৫)।

 

*‌‌সব সময়ের জন্য শরীয়তের উপযোগিতা, এর অর্থ হলো:

কারণ শরীয়ত হলো এমন কতগুলো মূলনীতি (قواعد) যা সেই সত্তা প্রবর্তন করেছেন যাঁর জ্ঞান মানুষের অবস্থা সুশৃঙ্খল করতে এবং তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে … এমন কোনো সময় নেই—যার সমস্যা যতই বিবর্তিত বা বিস্তৃত হোক না কেন—শরীয়ত তার বিধান (حكم) স্পষ্ট করে দেয়নি। এরপর জেনে রাখা উচিত যে, সময়ের বিবর্তন যে কোনো মাত্রায় হোক না কেন, তা কোনো বিষয়কেই এর শরয়ি বিধান (حكمه الشرعي) থেকে বের করে দেয় না। কেননা শরীয়ত দ্বারা প্রমাণিত কোনো বিধানকে নিত্যনতুন ঘটনার দোহাই দিয়ে প্রত্যাখ্যান করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়; কারণ এটি নতুন ঘটনার দ্বারা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি চূড়ান্তভাবে শরীয়ত উচ্ছেদের দিকে নিয়ে যাবে। সম্ভবত এখানে কিছু অজ্ঞ লোক আয়েশা (রা.)-এর এই উক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে (২/ ৫ - ৬): "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি দেখতেন মহিলারা যা নতুন করে শুরু করেছে, তবে তিনি অবশ্যই তাদের মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন।"

আল্লাহর প্রশংসায়, নতুন ঘটনার কারণে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বিধানসমূহ পরিবর্তনের ব্যাপারে এতে কোনো দলিল (حجة) নেই, কেননা
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৬)
عائشة ردت الأمر إلى صاحب الشرع، فقالت: لو رأى لمنع، ولم تمنع هي، ولم تر لأحد أن يمنع وهذا واضح بحمد الله والله الموفق (1/ 182).

* حكام الشرع المنتسبون إلى الأئمة الأربعة وغيرهم أحكامهم ما بين صواب يحصل لصاحبه أجران، أجر الاجتهاد وأجر الإصابة …

وما بين خطأ من صاحبه بعد بذل الوسع في الحصول على الصواب إن فاته ذلك لم يفته أجر الاجتهاد والحرص على الصواب. (2/ 7).

* مسألة التحليل والتحريم لم توكل إلى أحد من الخلق إنما ذلك إلى الله ورسوله، فهو من الأمور العامة التي ليس للعلماء ولا لغيرهم فيها منفذ بل لا يقوله أحد إلا الشرع، وفي الآية: {وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ} الآية [النحل: 116]، (2/ 7).

* المسائل الشرعية لا يقال فيها بالرأي والاقتراحات المجردة عن الدليل (2/ 8).

 

*‌‌ فرض العين وفرض الكفاية أيهما أفضل:

اختلفوا أيهما أفضل، والمعروف والمشهور فرض العين، وذلك أنه واجب عليه عينًا وهو آكد، هذا هو الصحيح والراجح.

إلا أنه قد يقال: هذا آكد من ناحية، وهذا آكد من ناحية.

كما يكون في بعض مسائل التفضيل فيكون جمعًا بين القولين.

هذا آكد بأنه ما فرض إلا وهو متعين عليه، وهذا آكد بأنه إذا ترك أثم الجميع. (2/ 8).
আয়েশা (রা.) বিষয়টি শরয়ি বিধানদাতার (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের) দিকেই সোপর্দ করেছেন। তিনি বলেছিলেন: যদি তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) দেখতেন তবে অবশ্যই তা নিষিদ্ধ করতেন; কিন্তু তিনি নিজে তা নিষিদ্ধ করেননি এবং অন্য কারও জন্যও তা নিষিদ্ধ করার অধিকার আছে বলে মনে করেননি। আল্লাহর প্রশংসায় এটি সুস্পষ্ট এবং আল্লাহই তাওফিক দানকারী (১/ ১৮২)।

* চার ইমাম এবং অন্যান্যদের অনুসারী শরয়ি বিচারকদের ফয়সালাসমূহ হয় সঠিক (صواب), যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দু’টি পুরস্কার লাভ করেন—একটি গবেষণার (اجتهاد) পুরস্কার এবং অন্যটি সঠিকতার (إصابة) পুরস্কার …

আর যা ভুল (خطأ), যদি সঠিকতা অর্জনে সাধ্যমতো চেষ্টার পর তা ঘটে থাকে, তবে সঠিকতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও তিনি গবেষণার (اجتهاد) এবং সত্যে উপনীত হওয়ার আগ্রহের সওয়াব বা পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবেন না (২/ ৭)।

* হালাল ও হারাম করার বিষয়টি সৃষ্টির কারও ওপর ন্যস্ত করা হয়নি; বরং তা কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অধিকারে। এটি সেই সকল সাধারণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যাতে আলেম বা অন্য কারও কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই, বরং শরয়ি বিধান ব্যতীত কেউ এটি বলতে পারে না। আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের জিহ্বা থেকে মিথ্যাচার প্রকাশ করো না যে, এটি হালাল এবং এটি হারাম..." [নাহল: ১১৬], (২/ ৭)।

* শরয়ি মাসআলাসমূহে দলিল (دليل) বিহীন নিছক ব্যক্তিগত রায় (رأي) বা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করা যাবে না (২/ ৮)।

 

*‌‌ ফরজে আইন (فرض العين) এবং ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) - এই দুটির মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ:

কোনটি শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। তবে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ মত হলো ফরজে আইন (فرض العين), কারণ এটি নির্দিষ্টভাবে ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব এবং এটি অধিক গুরুত্ববহ; এটাই সঠিক (صحيح) ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মত।

তবে এটিও বলা যেতে পারে যে: এক বিচারে এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্য বিচারে ওটি।

যেমনটি শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ের কিছু মাসআলায় উভয় মতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

এটি (ফরজে আইন) এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি প্রত্যেকের ওপর সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত বা ফরজ করা হয়েছে। আর ওটি (ফরজে কিফায়া) এই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে, তা বর্জন করা হলে সকলেই গুনাহগার হবে (২/ ৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৭)
* الكراهة تطلق ويراد بها التحريم، وتطلق ويراد بها التنزيه، فمن الأول: {كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا (38)} [الإسراء: 38] لأن قبل هذا تعداد الأمور المحرمات، ومن الثاني: «كان يكره النوم قبلها والحديث بعدها».

وهي في ألسن السلف المراد بها التحريم أكثر، وهي التي في لغة القرآن. (2/ 8 - 9).

* ينبغي: هذه الكلمة تستعمل فيراد بها الاستحباب، ونحوه عند كثير من الناس، وأتباع الأئمة.

ولا ينبغي: أي لا يستحب، ولكن هذا غلط!

فإن أصل وضعها لتعظيم الامتناع {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ} [يس: 69] (2/ 9).

* أصول الأدلة: الكتاب، والسنة، والإجماع، والرابع القياس، والجماهير على حجيته، ومن أدلته: «أرأيتم لو وضعها في حرام». (2/ 9).

* ليس كمثله شيء.

المشهور عند الأصوليين وغيرهم أن الكاف صلة، وأن معناها: تأكيد نفي المثل، والذي ليس كمثله شيء أبلغ في النفي من: ليس مثله شيء. (2/ 10).

* الراجح: أن العلم قد يحصل بغير المتواتر، وبغير الحواس الخمس وبغير البديهيات، فأخبار الآحاد إذا حفت بها القرائن أفادت العلم ليس الظن فقط. (2/ 11).
* অপছন্দনীয়তা (كراهة) শব্দটি প্রয়োগ করা হয় এবং এর দ্বারা কখনো হারাম (تحريم) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, আবার কখনো মাকরূহে তানজিহী (تنزيه) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো: {এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার প্রতিপালকের নিকট অপছন্দনীয় (مكروهًا)} [আল-ইসরা: ৩৮], কারণ এর পূর্বে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (محرمات) গণনা করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: «তিনি এর (এশার) পূর্বে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন»।

সালাফদের (سلف) পরিভাষায় এর দ্বারা হারাম (تحريم) উদ্দেশ্য হওয়ার বিষয়টিই অধিক এবং কুরআনের ভাষাতেও এটিই বিদ্যমান। (২/ ৮ - ৯)।

* বাঞ্ছনীয় (ينبغي): এই শব্দটি অনেক মানুষ এবং ইমামগণের অনুসারীদের নিকট পছন্দনীয় (استحباب) বা অনুরূপ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

অবাঞ্ছনীয় (لا ينبغي): অর্থাৎ পছন্দনীয় নয় (لا يستحب), কিন্তু এটি ভুল!

কেননা শব্দটির মূল প্রয়োগ হলো কোনো কিছু অসম্ভব হওয়া বা দৃঢ়ভাবে বিরত থাকাকে মহিমান্বিত করা {আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য শোভনীয় নয় (ينبغي)} [ইয়াসিন: ৬৯] (২/ ৯)।

* প্রমাণের মূলনীতিসমূহ (أصول الأدلة): কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ঐকমত্য (إجماع) এবং চতুর্থটি হলো সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس)। জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিম এর প্রামাণিকতার (حجية) পক্ষে মত দিয়েছেন এবং এর অন্যতম দলিল হলো: «তোমরা কি মনে করো যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত»। (২/ ৯)।

* তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।

উসুলবিদদের (أصوليين) এবং অন্যদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো যে, (এখানে) 'কাফ' বর্ণটি অতিরিক্ত (যা অর্থের তাকিদ প্রদান করে) এবং এর অর্থ হলো: সদৃশ হওয়ার বিষয়টিকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা। আর 'তাঁর সদৃশ কিছুই নেই' বাক্যটি 'তাঁর মতো কিছু নেই' বাক্যটির চেয়ে অস্বীকারের ক্ষেত্রে অধিক জোরালো। (২/ ১০)।

* প্রবল (راجح) মত হলো: মুতাওয়াতির (متواتر) ব্যতীত অন্য উপায়েও নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্জিত হতে পারে এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয় ছাড়াও তা সম্ভব। সুতরাং একক বর্ণনা (آحاد) সমূহের সাথে যদি পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) যুক্ত থাকে, তবে তা কেবল ধারণা (ظن) নয় বরং নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে। (২/ ১১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৮)
*‌‌ الإجماع:

قيل: يشترط انقراض العصر!

ولو قيل به لكان الإجماع على ضلالة، والقول الصحيح الأول وأنه في أي عصر وجد (2/ 12).

* «ما رآه المسلمون حسنًا فهو عند الله حسن» المراد: إجماعهم (2/ 12).

* الخلاف: منه ما له حظ من النظر، ومنه ما ليس له حظ. ومنه قسم ثالث يكون معروف الضعف، فإذا قيل في الثالث: لا يلتفت إليه وليس بشيء فهذا صحيح. (2/ 12).

* قولهم: اختلاف الأمة رحمة، عند النقد والتحقيق غلط …

الاختلاف بينهم عذاب مع ما ينتج من البغضاء والعداوة والتفرق وغير ذلك، وأيضًا هو لم يجئ في النصوص إلا مذمومًا، والثواب على الاجتهاد لا على الاختلاف، فالتحقيق أن الاجتماع رحمة والافتراق عذاب. (2/ 12 - 13).

 

*‌‌ التفسير بالإشارة:

الإشارة وجه من أوجه التفسير، ويوجد من يستعملها ويكثر، وربما أكثر من يفسر الآية بإشارتها هم المتصوفة … يغلون في ذلك حتى يخرجوا عن الحد فيجعلون معاني ليس للإشارة محل فيها. (2/ 13).

 

*‌‌ أصحابي كالنجوم:

المعروف عند أهل الحديث حقًّا أنه لا يثبت سنده ولا يصلح للاحتجاج فلا تقوم به حجة، وكذلك معناه غير مستقيم، فإن معناه يقتضي أنه إذا كان صحابيان
‌‌ ইজমা (الإجماع):

বলা হয়ে থাকে: সমসাময়িক যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়া শর্ত! আর যদি তা বলা হতো, তবে তা হতো ভ্রষ্টতার ওপর ইজমা (إجماع); অথচ প্রথম বক্তব্যটিই সঠিক (صحيح) এবং তা যে কোনো যুগেই পাওয়া যাক না কেন (২/ ১২)।

* «মুসলিমরা যা উত্তম হিসেবে দেখে, আল্লাহর নিকটও তা উত্তম» - এর উদ্দেশ্য হলো: তাদের ইজমা (إجماع) (২/ ১২)।

* মতভেদ (اختلاف): এর মধ্যে কিছু এমন আছে যা বিচার-বিবেচনার যোগ্য, আর কিছু এমন আছে যা যোগ্য নয়। আবার তৃতীয় একটি প্রকার আছে যা দুর্বল (ضعيف) হিসেবে পরিচিত। সুতরাং যদি তৃতীয় প্রকারের ব্যাপারে বলা হয়: এর দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না এবং এটি ধর্তব্য নয়, তবে তা সঠিক (صحيح)। (২/ ১২)।

* তাদের কথা: উম্মতের মতভেদ (اختلاف) রহমত; সমালোচনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (تحقيق) দৃষ্টিতে এটি ভুল …

তাদের মধ্যকার মতভেদ (اختلاف) হলো আযাব, যা বিদ্বেষ, শত্রুতা, বিভেদ এবং আরও অনেক কিছু সৃষ্টি করে। তাছাড়া এটি বিভিন্ন দলিলে (نصوص) কেবল নিন্দিত হিসেবেই এসেছে। সওয়াব পাওয়া যায় ইজতিহাদের (اجتهاد) জন্য, মতভেদের (اختلاف) জন্য নয়। অতএব, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) হলো—ঐক্য রহমত এবং বিভেদ আযাব। (২/ ১২ - ১৩)।

 

*‌‌ ইশারা ভিত্তিক তাফসির (التفسير بالإشارة):

ইশারা হলো তাফসিরের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি পদ্ধতি। এমন লোক রয়েছে যারা এটি ব্যবহার করে এবং অত্যধিক করে। সম্ভবত যারা আয়াতের ইশারা ভিত্তিক ব্যাখ্যা বেশি করেন তারা হলেন সুফিগণ … তারা এ ব্যাপারে এমন অতিরঞ্জন করেন যে সীমার বাইরে চলে যান, ফলে তারা এমন সব অর্থ আরোপ করেন যেখানে ইশারার কোনো অবকাশই নেই। (২/ ১৩)।

 

*‌‌ আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য:

হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রকৃতপক্ষে এটি সুপরিচিত যে, এর সনদ (سند) প্রমাণিত নয় এবং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) যোগ্য নয়, ফলে এটি দ্বারা কোনো প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। তেমনিভাবে এর অর্থও সঠিক নয়, কারণ এর অর্থ দাবি করে যে, যখন দুইজন সাহাবী হন
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৯)
أحدهما يقول: هذا حرام، والآخر يقول: هذا حلال، أن الكل هدى.

هذا تناقض، بل أحدهما هدى، وأما الآخر فلا، لكن قد يكون معذورًا، والمعروف عند المحققين أن الحق واحد. (2/ 13).

* الراجح: أن المصيب واحد، فإنه لا يمكن أن يكون قولان متغايران كل منهما صواب. (2/ 15).

 

*‌‌ المنهي عنه لا لذاته:

هذا الجنس في جميع موارده إذا دعت الحاجة إلى شيء منه جاز (2/ 14).

* إذا استفتى من يعلم أنه أقل علمًا وأخذ قوله لملائمته له، فهذا أشد لومًا ممن قلد شخصًا دون نظيره لمجرد هواه. (2/ 19).

* الناس إذا اجتمعوا على شيء وألفوه وهو قول طائفة من أهل العلم فلا يشوش عليهم. (2/ 260).

* المسألة الخلافية إذا وقعت فيها الضرورة ما هي بشهوة(1)، جاز للمفتي أن يأخذ بالقول الآخر من أقوال أهل العلم الذي فيه الرخصة. (2/ 21).

* لا يتعين أن تكون الفتوى في واقعة من الوقائع أصلًا في كل واقعة تجتمع هي وإياها في أصل واحد، بل ولا يسوغ ذلك. (2/ 22).

* لا يتعارض نصان أبدًا في نفس الأمر من كل وجه، إلا وأحدهما منسوخ، إذ ما عند رب العالمين ليس فيه اختلاف. (2/ 23).

--------------------------------------------

(1) ليست لمجرد هوى في نفس المفتي أو المستفتي. (القاسم).
একজন বলেন: এটি হারাম, আর অন্যজন বলেন: এটি হালাল; এবং মনে করেন যে উভয়টিই সঠিক পথ। এটি একটি স্ববিরোধিতা। বরং তাদের মধ্যে একজন সঠিক পথের ওপর রয়েছেন এবং অন্যজন নন; তবে তিনি ভুল করার কারণে ওজরপ্রাপ্ত হতে পারেন। আর গবেষকদের (المحققين) নিকট সুপ্রসিদ্ধ মত হলো, সত্য একটাই। (২/ ১৩)।

* অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো: সত্যে উপনীত ব্যক্তি একজনই। কারণ পরস্পর ভিন্ন দুটি মতের উভয়টিই সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। (২/ ১৫)।

 

*‌‌ যা স্বকীয় সত্তার কারণে নিষিদ্ধ নয় (المنهي عنه لا لذاته):

এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যখনই কোনো প্রয়োজনে এর কোনো কিছুর আবশ্যকতা দেখা দেয়, তখন তা বৈধ হয়ে যায়। (২/ ১৪)।

* যদি কেউ এমন ব্যক্তির নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করে যাকে সে নিজের তুলনায় অল্প জ্ঞানের অধিকারী বলে জানে এবং কেবল তার মতটি নিজের অনুকূল হওয়ার কারণে তা গ্রহণ করে, তবে এটি সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি নিন্দনীয় যে কেবল নিজের খেয়াল-খুশির বশবর্তী হয়ে সমপর্যায়ের কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অনুকরণ (قلد) করেছে। (২/ ১৯)।

* মানুষ যখন কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, আর সেটি যদি আলেমদের কোনো একটি দলের অভিমত হয়, তবে তাদের মাঝে বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। (২/ ২৬০)।

* মতভেদপূর্ণ মাসআলার (المسألة الخلافية) ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রয়োজনে পড়ার কারণে অন্য মত গ্রহণ করার আবশ্যকতা দেখা দেয় এবং তা যদি কেবল প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের জন্য না হয়(১), তবে মুফতির জন্য আলেমদের অন্য কোনো অভিমত গ্রহণ করা জায়েজ যেখানে সহজতর বিধান (الرخصة) রয়েছে। (২/ ২১)।

* কোনো বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রদত্ত ফতোয়া সেই শ্রেণির সকল ঘটনার জন্য মূল ভিত্তি হওয়া জরুরি নয়, যদিও সেই ঘটনাগুলো একই মূল উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; বরং এরূপ করা সংগতও নয়। (২/ ২২)।

* বাস্তবক্ষেত্রে কোনোভাবেই দুটি অকাট্য দলিলের (نصان) মধ্যে এমনভাবে বৈপরীত্য দেখা দিতে পারে না যেখানে একটি অপরটির সাথে সবদিক থেকে সাংঘর্ষিক হয়; তবে যদি তাদের একটি রহিত (منسوخ) হয়ে থাকে [তাহলে ভিন্ন কথা]। কারণ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে কোনো বিরোধ নেই। (২/ ২৩)।

--------------------------------------------

(১) যা কেবল মুফতি বা ফতোয়া প্রার্থনাকারীর খেয়াল-খুশির বশবর্তী হয়ে নয়। (আল-কাসিম)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১০)
* قاعدة عند العلماء: أن الله ورسوله صلى الله عليه وسلم إذا أطلقا(1) شيئًا فلا يجوز لأحد تقييده. (2/ 34).

* إذا تعارض رأي الصحابي وروايته، فروايته مقدمة على رأيه، هذا هو الصحيح من قولي العلماء. (2/ 53).

* قول الصحابي إذا خالف الحديث، قدم الحديث عند الأئمة (2/ 60).

* «لو» للخلاف القوي، و «حتى» للمتوسط، و «إن» للضعيف (2/ 125).

* العدالة الظاهرة: هي كونه لا يظهر عليه بين الناس الذين لا مخالطة له معهم حال فاسدة.

العدالة الباطنة: هي ما يشهد بها من يخبر حاله من أجل مخالطته له كأن يكون قد عامله أو جاوره أو سافر معه. (2/ 125).

* ليس مع الرسول صلى الله عليه وسلم اعتبار، فمتى ثبتت السنة اطرح ما سواها (2/ 215).

* العموم دلالته ضعيفة، وإن كان مسلمًا أنه حجة صحيحة، ما لم يعارضه أدلة أقوى منه.

والعموم تارة يكون قويًّا، وتارة يكون ضعيفًا. (2/ 283).

* لا ينبغي أن تكون هكذا مسائل الدين هذا يقول، وهذا يقول، ويتتبع

--------------------------------------------

(1) التشريك بين الله وبين نبيه صلى الله عليه وسلم في اللفظ، أو الضمير المقتضي للمساواة مسألة خلافية بين أهل العلم فمن مجيز ومن مانع، وانظر بحثًا مختصرًا جدًّا في حاشية ص (32) من كتاب: إيقاظ الهمة لاتباع نبي الأمة صلى الله عليه وسلم.
* আলেমগণের নিকট একটি মূলনীতি (قاعدة): আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বিষয়কে শর্তহীনভাবে (مطلق)(১) উল্লেখ করেন, তখন কারো পক্ষেই তা সীমাবদ্ধ (مقيد) করা বৈধ নয়। (২/ ৩৪)।

* যখন কোনো সাহাবীর মতামত (رأي) ও তাঁর বর্ণনার (رواية) মধ্যে বিরোধ (تعارض) তৈরি হয়, তখন তাঁর মতামত অপেক্ষা তাঁর বর্ণনাটিই অগ্রগণ্য (مقدمة); আলেমগণের অভিমতসমূহের মধ্যে এটিই সঠিক (صحيح) মত। (২/ ৫৩)।

* সাহাবীর বক্তব্য যখন হাদিসের পরিপন্থী (مخالف) হয়, তখন ইমামগণের নিকট হাদিসকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয় (২/ ৬০)।

* «لو» (যদি) শব্দটি শক্তিশালী মতভেদের (خلاف قوي) জন্য, «حتى» (এমনকি) মধ্যম মানের জন্য এবং «إن» (যদি) দুর্বল (ضعيف) মতভেদের জন্য ব্যবহৃত হয় (২/ ১২৫)।

* প্রকাশ্য ন্যায়পরায়ণতা (العدالة الظاهرة): এটি হলো কোনো ব্যক্তির এমন অবস্থা যে, যাদের সাথে তার মেলামেশা নেই এমন সাধারণ মানুষের নিকট তার কোনো মন্দ বা ফাসিদ (فاسدة) অবস্থা প্রকাশ পায় না।

অভ্যন্তরীণ ন্যায়পরায়ণতা (العدالة الباطنة): এটি হলো এমন বিষয় যার সাক্ষ্য ওই ব্যক্তি দেন যিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে মেলামেশার কারণে তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত, যেমন: তার সাথে লেনদেন করেছেন অথবা তার প্রতিবেশী ছিলেন অথবা তার সাথে সফর করেছেন। (২/ ১২৫)।

* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিপরীতে অন্য কোনো কিছু বিবেচ্য নয়; সুতরাং যখনই সুন্নাহ প্রমাণিত (ثابت) হবে, তখন তা ব্যতীত অন্য সবকিছু বর্জন করতে হবে (২/ ২১৫)।

* সাধারণ অর্থবোধক শব্দের (عام) নির্দেশনা (دلالة) দুর্বল (ضعيفة); যদিও এটি স্বীকৃত যে তা একটি সঠিক দলিল (حجة صحيحة), যতক্ষণ না এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিল এর বিপরীতে আসে।

আর সাধারণ অর্থবোধক শব্দ (عام) কখনো শক্তিশালী হয়, আবার কখনো দুর্বল (ضعيف) হয়। (২/ ২৮৩)।

* দ্বীনের মাসয়ালাগুলো এমন হওয়া উচিত নয় যে—একজন এক কথা বলছে, অন্যজন আরেক কথা বলছে, আর মানুষ কেবল তা অনুসরণ করছে...

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একই শব্দে বা সমতা প্রকাশকারী সর্বনামের (ضمير) মাধ্যমে একত্রে উল্লেখ করা (تشريك) আলেমদের মধ্যে একটি মতভেদপূর্ণ (خلافية) বিষয়; কেউ একে বৈধ বলেছেন আবার কেউ নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে একটি অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা দেখুন 'ইক্বাযুল হিমাম লি-ইত্তিবা‘ই নাবিইয়িল উম্মাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' কিতাবের ৩২ পৃষ্ঠার টীকায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১১)
الناس الرُّخص، يضيع الدين بهذا، أو تنتقض عراه، بل ينبغي الحيطة لأمر الدين، وأن يكون قولهم واحدًا، وفعلهم واحدًا، ولا يفتى إلا بدليل. (5/ 216).

* مخالفة ما مضى عليه علماء الوطن المحققون سبب نقص في الدين لا زيادة ولا ركود، بل يسبب النزاع والشقاق، ويهون عند العوام أمر الدين، حتى لا يكتفون أن يسألوا من وجدوا لتحصيل الرخص، بل يسلكون بنيات الطريق بخلاف ما إذا ساروا على طريقة بعيدة عن النزاع والشقاق (2/ 329).

* الأصل في العبادات أن لا يشرع منها إلا ما شرعه الله تعالى، والأصل في العادات أن لا يحظر منها إلا ما حظره. (3/ 49).

* لا يحل لأحد أن يقيد إطلاق دلالة أي نص. (3/ 50).

* المخصص للنصوص العامة إنما هو الدليل الشرعي من الكتاب والسنة والإجماع نصًّا واستنباطًا، لا عادات بعض البلاد ولا الأقوال ولا الآراء مهما كثر أصحابها، فإن شيئًا من ذلك لا ينهض أبدًا، ولا يصلح معارضًا لكلام الرسول صلى الله عليه وسلم. (3/ 50 - 51).

* المصلحة المرسلة، والاستحسان، والقياس، والاجتهاد، لا مجال لها في باب العبادات والمقدرات كالمواريث والحدود. (3/ 100).

* كثيرًا من المنتسبين - للعلم والدين - كلامهم لا يؤخذ لأن كل شيء يدرج(1) عليهم يحللونه، قبل أن يصل إليهم يحرمونه، وإذا كان بين أظهرهم

--------------------------------------------

(1) يكثر ويفشو.
মানুষের জন্য সহজ সুযোগ-সুবিধা (رخص) খোঁজা; এর দ্বারা দ্বীন বিনষ্ট হয় অথবা এর বন্ধনসমূহ শিথিল হয়ে যায়। বরং দ্বীনি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক এবং তাদের কথা ও কাজ এক হওয়া উচিত। দলিল (دليل) ব্যতীত কোনো ফতোয়া প্রদান করা যাবে না। (৫/ ২১৬)।

* নিজ দেশের বিজ্ঞ গবেষক (المحققون) আলেমগণ যে পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তার বিরোধিতা করা দ্বীনের মধ্যে ঘাটতি সৃষ্টির কারণ, কোনো বৃদ্ধি বা স্থিতিশীলতা নয়; বরং এটি বিবাদ ও বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনের বিষয়টিকে তুচ্ছ করে দেয়। এমনকি তারা কেবল সুযোগ-সুবিধা (رخص) হাসিল করার জন্য যাকে পায় তাকেই জিজ্ঞাসা করে ক্ষান্ত হয় না, বরং তারা আঁকাবাঁকা পথে চলতে শুরু করে; অথচ তারা যদি বিবাদ ও বিভেদ থেকে মুক্ত পথে চলত তবে এমন হতো না (২/ ৩২৯)।

* ইবাদত (عبادات)-এর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, আল্লাহ তাআলা যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু শরীয়তসম্মত হবে না; আর অভ্যাস (عادات)-এর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, তিনি যা নিষিদ্ধ করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু নিষিদ্ধ হবে না। (৩/ ৪৯)।

* কারও জন্য কোনো নাস (نص)-এর সাধারণ নির্দেশের ব্যাপকতাকে সীমাবদ্ধ করা বৈধ নয়। (৩/ ৫০)।

* সাধারণ (عامة) নাস (نصوص)-সমূহকে সুনির্দিষ্টকারী বা পরিমিতকারী (المخصص) হলো কিতাব (الكتاب), সুন্নাহ (السنة) এবং ইজমা (الإجماع) থেকে প্রাপ্ত সরাসরি ভাষ্য বা উদ্ঘাটন (استنباطًا) পদ্ধতির শরয়ী দলিল (الدليل الشرعي); কোনো দেশের প্রথা, উক্তি বা মতামত নয়—তার প্রবক্তা যতই বেশি হোক না কেন। কারণ এগুলোর কোনোটিই কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মোকাবিলায় দাঁড়াতে পারে না এবং তাঁর বিরোধী হওয়ার যোগ্য নয়। (৩/ ৫০ - ৫১)।

* জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة), ইস্তিহসান (الاستحسان), কিয়াস (القياس) এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর কোনো সুযোগ ইবাদত (العبادات) এবং উত্তরাধিকার (المواريث) ও হদ (الحدود)-এর মতো নির্ধারিত বিধানের ক্ষেত্রে নেই। (৩/ ১০০)।

* ইলম ও দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তির কথা গ্রহণ করা যায় না; কারণ তাদের কাছে যা-ই ছড়িয়ে (يدرج)(১) পড়ে তারা সেটাকেই হালাল করে দেয়, অথচ তা তাদের কাছে পৌঁছানোর আগে তারা সেটিকে হারাম বলত। আর যখন তা তাদের মাঝে উপস্থিত হয়...

--------------------------------------------

(১) বৃদ্ধি পাওয়া ও ছড়িয়ে পড়া।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১২)
أباحوه لكثرة الإمساس. (3/ 173).

* اتباع السُّنة هو المتعين على ولاة الأمر أن يفعلوا بأنفسهم وأن يحملوا الرعية عليه. (4/ 53).

* إذا دل الدليل على تحريم أمر بذاته(1)، فمن ادعى خروج صورة من الصور من عموم هذا الدليل فعليه إقامة الدليل، فإن فعل فذاك، وإلا فحق قوله الإلغاء، وحضه التجهيل. (4/ 71).

* لا يشترط لإقامة الحجة العلم، فإن الذي يتكلم فيه الحكم في الظاهر. فإذا عرف وبيّن له الدلالة والسند فيكون ظاهرًا. ولا حاجة إلى أن يقول: علمت، ولو قال: لم أعلم وترك لبطلت إقامة الحجة على كثير.

فالصواب: إلغاء معنى هذه الكلمة كالصلاة سواءً وأولى، والجاهل يُعرّف وبعد التعريف الحقيقي يكفر ولو ما علم. (4/ 115).

* الفتوى: تختلف باختلاف الأحوال والأشخاص. (4/ 184).

* فرق بين شيء يفعل لعارض، وبين شيء يجعل سنة لكل عامل، فلا تجعل المرة -الواحدة- دليلًا لكل شخص في كل حين. (5/ 215).

* لا يُزال عن الأصل إلا بمجوز متحقق. (6/ 13).

* لا يعدل عما دلت عليه الأحاديث الصريحة لأمر يحتمل. (6/ 17).

* التقليد ليس بعلم إجماعًا. (6/ 40).

--------------------------------------------

(1) كتحريم الذهب على الذكور ذاتًا.
অধিক স্পর্শের কারণে তারা এটিকে বৈধ করেছেন। (৩/ ১৭৩)।

* শাসকদের জন্য সুন্নাহর (السنة) অনুসরণ করাই অপরিহার্য, যেন তারা নিজেরা তা পালন করেন এবং প্রজাদেরও তার ওপর পরিচালিত করেন। (৪/ ৫৩)।

* যখন কোনো দলিল (الدليل) কোনো বিষয়কে তার সত্তাগত কারণেই হারাম (تحريم) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে(১), তখন কেউ যদি এই দলিলের সাধারণ হুকুম থেকে কোনো বিশেষ অবস্থাকে বহির্ভূত বলে দাবি করে, তবে তার ওপরই দলিল (الدليل) পেশ করার দায়িত্ব বর্তায়। যদি সে তা করতে পারে তবে ভালো, অন্যথায় তার বক্তব্য বাতিলযোগ্য এবং তাকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করাই শ্রেয়। (৪/ ৭১)।

* হুজ্জাত (الحجة) কায়েম হওয়ার জন্য জ্ঞান থাকা শর্ত নয়। কারণ বিচারের ভিত্তি হলো বাহ্যিক হুকুমের ওপর। যখন তার কাছে দলিলের বর্ণনা ও সনদ (السند) স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, তখন তা প্রকাশ্য হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তার ‘আমি জেনেছি’ বলা আবশ্যক নয়। যদি সে বলে যে ‘আমি জানতাম না’ এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে অনেকের ক্ষেত্রেই হুজ্জাত (الحجة) কায়েম করার বিষয়টি পণ্ড হয়ে যাবে।

সুতরাং সঠিক অভিমত হলো: নামাজের মতোই এই শব্দের অর্থকে বাতিল করা, বরং এটিই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। আর অজ্ঞ ব্যক্তিকে বিষয়টি জানানো হবে; আর প্রকৃত জ্ঞানদানের পর সে যদি তা অস্বীকার করে তবে সে কাফির বলে গণ্য হবে, যদিও সে বিষয়টি উপলব্ধি না করে থাকে। (৪/ ১১৫)।

* ফতোয়া (الفتوى): অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। (৪/ ১৮৪)।

* কোনো আপদকালীন বা বিশেষ কারণে করা কাজ এবং এমন কোনো কাজের মধ্যে পার্থক্য আছে যা প্রত্যেকের জন্য সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। সুতরাং একবার করা কোনো কাজকে সর্বদা প্রত্যেকের জন্য দলিল (دليل) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। (৫/ ২১৫)।

* নিশ্চিত কোনো কারণ ছাড়া মূলনীতি (الأصل) থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। (৬/ ১৩)।

* কোনো অস্পষ্ট বা সম্ভাব্য বিষয়ের কারণে সুস্পষ্ট হাদিসসমূহ যা নির্দেশ করে তা থেকে সরে আসা যাবে না। (৬/ ১৭)।

* সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) তাকলিদ (التقليد) কোনো জ্ঞান নয়। (৬/ ৪০)।

--------------------------------------------

(১) যেমন পুরুষদের জন্য স্বর্ণ সত্তাগতভাবেই হারাম (تحريم) হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
* «القياس» مردود إذا خالف النص باتفاق الأئمة، ويمتنع أيضًا القياس فيما انعقد سبب فعله زمن النبي صلى الله عليه وسلم فلم يفعله. (6/ 44).

* متى صحَّ النقل وكان صريح الدلالة، فإن القياس الذي بخلافه من أبطل القياس، … ولا يمكن أن يختلف قياس صحيح مع نقل ثابت صريح. (6/ 44).

* الإنسان مهما أَمكنه ما ليس فيه مشكل(1)، فلا يعدل عنه. (2/ 88).

--------------------------------------------

(1) أمر مشكل، أو اختلاف بين أهل العلم.
«অনুমান (القياس)» বর্জনীয় (مردود) যদি তা ইমামগণের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী অকাট্য পাঠের (النص) পরিপন্থী হয়; তদ্রূপ সেই বিষয়েও অনুমান (القياس) নিষিদ্ধ যার কার্যকারণের ভিত্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল অথচ তিনি তা করেননি। (৬/ ৪৪)।

যখনই বর্ণনাটি (النقل) বিশুদ্ধ (صح) হবে এবং তা সুস্পষ্ট অর্থবোধক হবে, তখন তার বিপরীত অনুমান (القياس) হবে বাতিলতম (أبطل) অনুমানের অন্তর্ভুক্ত; … এবং কোনো সঠিক অনুমানের (قياس صحيح) সাথে প্রমাণিত ও সুস্পষ্ট বর্ণনার (نقل ثابت) বৈপরীত্য ঘটা অসম্ভব। (৬/ ৪৪)।

মানুষের পক্ষে যতক্ষণ পর্যন্ত এমন কিছু অনুসরণ করা সম্ভব যাতে কোনো অস্পষ্টতা (مشكل)(১) নেই, ততক্ষণ সে যেন তা থেকে বিচ্যুত না হয়। (২/ ৮৮)।

--------------------------------------------

(১) কোনো অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়, অথবা আলেমগণের মধ্যকার মতভেদ (اختلاف)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفقه
ফিকহ (الفقه)
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌كتاب الطهارة

‌‌باب المياه

* القول الراجح في الدليل: انقسام الماء إلى قسمين: طهور، ونجس، وهذا الطهور هو طاهر وطهور. والثاني نجس. (2/ 27).

* يكره استعمال ماء زمزم في إزالة النجاسة تعظيمًا له، ويجوز أن يزال به الحدث بناءً على الأصل. (2/ 28).

* الراجح: الحكم على الماء المستعمل بالطهورية. (2/ 89).

* إذا خالط الماء بول أو عذرة، فإنهما ليسا أسوأ من الكلب، فلا ينجس ما لم يتغير أحد أوصافه بالملاقاة، وهذا القول هو المتمشي مع يسر الشريعة، ونصوصها في هذا المقام. (2/ 28).

* إذا استيقظ العبد من نومه فلا يحل له إدخال يديه الإناء قبل غسلهما ثلاثًا، فإن أدخلهما قبل ذلك فهو عاص آثم مخالف لأمر الرسول صلى الله عليه وسلم، وأما المدخلة فيه اليدان فلم يُتعرض لحكمه في الحديث، والصواب: أن الماء لا يفسد بذلك ما دام طهورًا لم يتغير بالنجاسة ولا غيرها. (2/ 29).

* كثير من أهل العلم من الفقهاء، وأهل الحديث، يقولون: ينجس القليل بمجرد ملاقاة النجاسة له، ولا يشترطون تغير أحد أوصافه.
‌‌পবিত্রতা অধ্যায়

‌‌পানি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

* দলিলের ভিত্তিতে অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো: পানি দুই ভাগে বিভক্ত; পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور) এবং অপবিত্র (نجس)। এই পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور) পানি হলো যা নিজে পবিত্র (طاهر) এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো অপবিত্র (نجس)। (২/ ২৭)।

* জমজম কূপের পানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তা দিয়ে নাপাকি (نجاسة) দূর করা অপছন্দনীয় (مكروه); তবে মূল নীতির ভিত্তিতে তা দিয়ে হদস (حدث) বা বিধানগত অপবিত্রতা দূর করা জায়েয। (২/ ২৮)।

* অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো: ব্যবহৃত পানির হুকুম বা বিধান হলো তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور)। (২/ ৮৯)।

* যদি পানির সাথে প্রস্রাব বা বিষ্ঠা মিশ্রিত হয়, তবে তা কুকুরের চেয়ে অধিক মন্দ নয়; সুতরাং স্পর্শের কারণে পানির কোনো একটি গুণ পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা অপবিত্র (نجس) হবে না। এই মতটিই শরয়ি সহজসাধ্যতা এবং এই বিষয়ের নস বা দলিলের সাথে সংগতিপূর্ণ। (২/ ২৮)।

* কোনো বান্দা যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন তিনবার হাত ধৌত করার পূর্বে পাত্রে হাত প্রবেশ করানো তার জন্য বৈধ নয়। যদি সে এর আগেই হাত প্রবেশ করায়, তবে সে পাপিষ্ঠ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের অবাধ্যকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যে পাত্রে হাত প্রবেশ করানো হয়েছে, হাদিসে তার হুকুম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি। সঠিক মত হলো: পানি এর দ্বারা নষ্ট হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور) থাকে এবং নাপাকি (نجاسة) বা অন্য কিছুর কারণে এর গুণ পরিবর্তিত না হয়। (২/ ২৯)।

* ফকিহ এবং মুহাদ্দিসগণের (أهل الحديث) মধ্য থেকে অনেক আলেম বলেন: অল্প পানি নাপাকির (نجاسة) সংস্পর্শে গেলেই তা অপবিত্র (نجس) হয়ে যায়, এক্ষেত্রে তারা পানির কোনো গুণ পরিবর্তনের শর্তারোপ করেন না।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
والقول الآخر وهو قول كثير أو أكثر أهل الحديث واختيار الشيخ(1) وإمام الدعوة: أنه لا ينجس ولكن هذا ماء ناقص يعدل عنه إلى غيره إذا وجد خروجًا من الخلاف، وتعرف أن ماء نقيًّا لم تلاقه النجاسة خير من ماء لاقته، ومن فوائد البحث أنه إذا توضأ إنسان بذلك الماء وصلى حكم بصحة صلاته. (2/ 30).

--------------------------------------------

(1) يقصد شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

অন্য অভিমতটি হলো—যা অনেক বা অধিকাংশ হাদিস বিশেষজ্ঞের অভিমত এবং শায়খ(১) ও ইমামুদ দাওয়াহর মনোনীত মত (اختيار): তা হলো এটি অপবিত্র (نجس) হয় না। তবে এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ (ناقص) পানি, মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার সুযোগ থাকলে তা বর্জন করে অন্য পানি গ্রহণ করা উচিত। আপনি জানেন যে, একটি পরিচ্ছন্ন পানি যা নাপাকির সংস্পর্শে আসেনি, তা নাপাকিযুক্ত পানির চেয়ে উত্তম। এই গবেষণার অন্যতম সুফল হলো, যদি কোনো ব্যক্তি এই পানি দিয়ে অজু করে সালাত আদায় করেন, তবে তার সালাত শুদ্ধ (صحة) বলে গণ্য হবে। (২/ ৩০)।

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب الآنية

* طهارة جلد الميتة بالدباغ: هي الرواية الأخرى عن أحمد، وهي اختيار الشيخ، ومال إليه جده في المنتقى وآخرون غيره كصاحب الفائق، وهذا هو الراجح في الدليل للأحاديث الكثيرة الدالة على التطهير، وحديث ابن عكيم(1) وإن كان متأخرًا فإنه لا يعارضها(2) ولا ينسخها(3) وأيضًا الإهاب اسم له قبل الدبغ. (2/ 30).

* الراجح: أن الدباغ لا تأثير له إلا فيما تعمل فيه الذكاة. (2/ 31).

--------------------------------------------

(1) الذي أخرجه أحمد والبخاري في تاريخه والأربعة والدارقطني وابن حبان عن عبد الله بن عكيم قال: «أتانا كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل موته أن لا تنتفعوا من الميتة بإهاب ولا عصب». (القاسم).

(2) لأنه مضطرب في سنده ومتنه، ومُعلل بالإرسال، والانقطاع. (القاسم).

(3) لأن حديث الدباغ أصح. (القاسم).
‌পাত্র অধ্যায়

* পাকা করার মাধ্যমে মৃত পশুর চামড়া পবিত্র হওয়া: এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা (رواية), এবং এটি শাইখের পছন্দকৃত মত। তাঁর দাদা 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে এবং 'আল-ফাইক' এর লেখকসহ অন্যরাও এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন। দলীলের দিক থেকে এটিই অগ্রগণ্য (راجহ); কারণ পবিত্রকরণের ওপর দালালতকারী অনেক হাদিস রয়েছে। আর ইবনে উকাইমের(১) হাদিসটি যদিও পরবর্তী সময়ের, তবুও তা এগুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ নয় এবং সেগুলোকে রহিত (نسخ) করে না। এছাড়া 'ইহাব' হলো পাকা করার আগের চামড়ার নাম। (২/ ৩০)।

* অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো: পাকা করা কেবল সেসব পশুর ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়, যেগুলোতে জবেহ কার্যকর হয়। (২/ ৩১)।

--------------------------------------------

(১) যা ইমাম আহমাদ, বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে, চার সুনান গ্রন্থকার, দারাকুতনি এবং ইবনে হিব্বান আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পূর্বে আমাদের নিকট তাঁর একটি পত্র এসেছিল যে, তোমরা মৃত পশুর চামড়া এবং রগ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না।» (আল-কাসিম)।

(২) কারণ এটি সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয় দিক থেকে অসংগতিপূর্ণ (مضطرب), এবং এটি মুরসাল (مرسل) হওয়া ও সূত্রবিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর কারণে ত্রুটিযুক্ত (معلل)। (আল-কাসিম)।

(৩) কারণ পাকা করা সংক্রান্ত হাদিসটি অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)। (আল-কাসিম)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌باب الاستنجاء

النتر والمسح وأشياء أُخر ذكرت هنا هي من البدع وهي أعظم أسباب وجود السلس، فإنه(1) مشبه بالثدي: بل يترك ويتوخى النشاف، وانقطاع الخارج لا بد منه، ولكن بالتأني ما شاء الله كل بحسبه. (2/ 31).

* حديث: «إذا بال أحدكم فلينتر ذكره ثلاثًا» ضعيف لا تقوم به حجة (2/ 31).

* الذي يظهر أنه إذا علم عادة له أنه إذا ابتدأ في الاستنجاء لا يخرج شيء، فإنه يستنجي بناء على غلبة ظنه. (2/ 31).

* الظاهر عدم كراهية السلام على المستجمر ورده، وإنما يكره ذلك في حق المتخلي. (2/ 34).

* إذا كان الرجل يستفيد من البول قائمًا، وأمن على نفسه من أن يرى عورته أحد، وأمن من تطاير رذاذ البول على ملابسه فلا بأس بذلك. والله أعلم. (2/ 34).

* كراهية استقبال النيرين بالبول أو الغائط: هذه مسألة مرجوحة، ولا دليل عليها بحال. (2/ 35).

* التحقيق في مسألة النهي عن استقبال القبلة أو استدبارها عند قضاء الحاجة: أن لا فرق بين البنيان والفضاء، لعموم الأدلة الكثيرة المطلقة التي لم تستثن شيئًا. (2/ 35).

--------------------------------------------

(1) أي: الذكر.
‌‌ইস্তিনজা (পবিত্রতা অর্জন) অধ্যায়

নাতির (লিঙ্গ ঝাড়া), মাসহ (মুছে নেওয়া) এবং এখানে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়গুলো বিদআত (بدعة)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলোই প্রস্রাব ঝরা রোগ (সিলস) সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। কারণ এটি(১) স্তনের সদৃশ: বরং একে তার অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং শুষ্ক হওয়ার অপেক্ষা করা উচিত। নির্গত হওয়া বন্ধ হওয়া অনিবার্য, তবে তা হতে হবে ধীরস্থিরতার সাথে; আল্লাহ যেমনটি চান—প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ অবস্থা অনুযায়ী। (২/ ৩১)।

* হাদিস: «তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করবে, সে যেন তার লিঙ্গ তিনবার ঝেড়ে নেয়» এটি দুর্বল (ضعيف); এর দ্বারা কোনো প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। (২/ ৩১)।

* যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যদি কোনো ব্যক্তির অভ্যাসবশত জানা থাকে যে, সে ইস্তিনজা শুরু করলে আর কিছু নির্গত হবে না, তবে সে তার প্রবল ধারণার (غلبة ظن) ওপর ভিত্তি করেই ইস্তিনজা করবে। (২/ ৩১)।

* বাহ্যত, পাথর ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জনকারীর (মুস্তাজমির) ওপর সালাম প্রদান করা বা তার সালামের উত্তর দেওয়া অপছন্দনীয় (كراهة) নয়; বরং এটি কেবল মলমূত্র ত্যাগকারীর (মুতখাল্লি) ক্ষেত্রেই অপছন্দনীয় (كراهة)। (২/ ৩৪)।

* যদি কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাকে সুবিধাজনক মনে করে এবং তার সতর কেউ দেখে ফেলা থেকে নিরাপদ থাকে, আর কাপড়ে প্রস্রাবের ছিটেফোঁটা লাগার ভয় না থাকে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (২/ ৩৪)।

* মলমূত্র ত্যাগের সময় চন্দ্র ও সূর্যের দিকে মুখ করা অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়া: এটি একটি অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوحة) বিষয় এবং এর সপক্ষে কোনো ভাবেই কোনো দলিল (دليل) নেই। (২/ ৩৫)।

* মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সঠিক তদন্ত হলো: ঘরবাড়ি ও উন্মুক্ত প্রান্তরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ এ সংক্রান্ত অসংখ্য প্রমাণাদি (أدلة) ব্যাপক ও শর্তহীন, যা কোনো কিছুকে ব্যতিক্রম করেনি। (২/ ৩৫)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: লিঙ্গ।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২১)
* كل شيء(1) يحتاج إليه الناس للحوائج المباحة لا يتخلى فيه ولا يبال. (2/ 36).

* لو انسد المخرج الأصلي وانفتح آخر سواءً بنفسه بأن كان خلقة أو بسبب كعملية فلا يثبت له حكم الفرج، من إجزاء الاستنجاء فيه، بل لا بد فيه من الماء. (2/ 36).

* ذكر بعضهم أنه ينبغي أن يراعى الشرج في الاستنجاء، ويسعى بما يبرؤ ما حوالي نفس الحلقة - يعني أن يتفاج شيئًا زائدًا عن العادة - وهذا إذا عنى به شيئًا لا مشقة فيه فظاهر، فإنه إذا تضام لا يؤمن أن يبقى شيء. (2/ 36).

* القرطاس الخالي من الكتابة ونحوه من كل ناشف خشن يجزي في الاستجمار. (2/ 36).

* أما الزجاج الأملس فلا يحصل به المقصود من إزالة الأجزاء الرقيقة الملساء، ومثله الرماد، وكل شيء ناعم ومسحوق. (2/ 36).

--------------------------------------------

(1) يعني: مكان.
* মানুষের বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় এমন প্রতিটি স্থানে(১) মলত্যাগ ও প্রস্রাব করা যাবে না। (২/ ৩৬)।

* যদি মূল নির্গমন পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্য কোনো পথ খুলে যায়—চাই তা জন্মগতভাবে হোক কিংবা অস্ত্রোপচারের মতো কোনো কারণে—তবে তার ক্ষেত্রে লজ্জাস্থানের বিধান প্রযোজ্য হবে না, যেমন সেখানে ইস্তিঞ্জা যথেষ্ট হওয়া; বরং সেখানে পানি ব্যবহার করা আবশ্যক। (২/ ৩৬)।

* তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, ইস্তিঞ্জা করার সময় মলদ্বারের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত এবং মলদ্বারের চারপাশ পরিষ্কার করার চেষ্টা করা উচিত—অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি প্রসারিত হওয়া—আর এর দ্বারা যদি এমন কিছু বোঝানো হয় যাতে কোনো কষ্ট নেই, তবে তা সুস্পষ্ট; কারণ যখন তা সংকুচিত থাকে তখন মল অবশিষ্ট থাকবে না এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। (২/ ৩৬)।

* লেখা বিহীন কাগজ এবং এজাতীয় প্রতিটি শুষ্ক ও খসখসে বস্তু ইস্তিজমার জন্য যথেষ্ট। (২/ ৩৬)।

* তবে মসৃণ কাঁচের মাধ্যমে সূক্ষ্ম ও পিচ্ছিল ময়লা দূর করার উদ্দেশ্য সাধিত হয় না; ছাই এবং প্রতিটি মিহি ও চূর্ণ বস্তুও অনুরূপ। (২/ ৩৬)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: স্থান।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌باب سنن الفطرة

* التسوك بالأصابع يصاب به السنة، أو بعضها على خلاف كلام الأصحاب، وهو أيسر من السواك(1) فما لا يدرك كله لا يترك كله. (2/ 37).

* ويقول إذا استاك: «اللهم طهر قلبي … إلخ، هذا الدعاء استحبه من استحبه ولا أذكر فيه شيئًا واردًا. (2/ 38).

* الادهان غبًّا عارضه حديث الرجل الذي له جمة ضخمة، فأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يتعاهدها كل يوم، ويجمع بينهما أن ذلك يختلف باختلاف الناس وشعورهم، وباختلاف الجو، والمقصود من ذلك حسن الشعر وألَّا يكون بمنظر الشعوثة. (2/ 38 - 39).

* التسمية عند الوضوء جاء فيها أحاديث إلا أن أسانيدها لا تخلو من مقال، لكن مجموعها يدل على الشرعية، وإنما اختلف في الوجوب … فالتسمية مندوبة بل متأكدة بكل حال. (2/ 39).

* إن صحت أحاديث التسمية عند الوضوء، فالقول قول من يرى وجوبها في الغسل. (2/ 81).

* الختان يجب عند البلوغ، وفعله زمن الصغر أفضل، وبهذا يتضح أنه لا شيء في إبقاء الصبي أغرل مدة عشر سنوات، وإنما المبادرة بختنه مستحب ما لم

--------------------------------------------

(1) أي: بالأراك ونحوه حيث لا يوجد في بعض الأوقات. (القاسم).

قال الشيخ عن شجر الأراك: وكان في (الخرج) أحسن ما يوجد منه. (2/ 37).
‌ফিতরাতের সুন্নতসমূহ অনুচ্ছেদ

* আঙুলের মাধ্যমে মেসওয়াক করলে সুন্নত (سنة) আদায় হয়, অথবা এর একাংশ আদায় হয়—যা আমাদের সাথীদের (মাযহাবের পণ্ডিতগণ) বক্তব্যের বিপরীত। আর এটি মেসওয়াক করার কাঠের চেয়ে সহজতর।(১) কারণ, যা সম্পূর্ণ অর্জন করা সম্ভব নয়, তা পুরোপুরি বর্জন করা উচিত নয়। (২/ ৩৭)।

* মেসওয়াক করার সময় বলবে: «হে আল্লাহ! আমার অন্তর পবিত্র করুন … ইত্যাদি। এই দোয়াটিকে যারা পছন্দ করেছেন তারা মুস্তাহাব (مستحب) বলেছেন, তবে এ বিষয়ে কোনো বর্ণিত (وارد) বর্ণনা আমার জানা নেই। (২/ ৩৮)।

* একদিন অন্তর বা মাঝে মাঝে তেল ব্যবহার করার বিষয়টি সেই ব্যক্তির হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক যার বড় বাবরি চুল ছিল; নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে প্রতিদিন চুলের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় হলো—মানুষ, তাদের চুল এবং আবহাওয়া ভেদে এর হুকুম ভিন্ন ভিন্ন হয়। এর উদ্দেশ্য হলো চুল সুন্দর রাখা এবং যেন তা উস্কোখুস্কো বা এলোমেলো না দেখায়। (২/ ৩৮ - ৩৯)।

* ওজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তবে সেগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) সমালোচনা মুক্ত নয়। কিন্তু সেগুলোর সমষ্টি এর শরয়ি ভিত্তি প্রমাণ করে। মতভেদ কেবল এর ওয়াজিব (وجوب) হওয়া নিয়ে … সুতরাং বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব (مندوب), বরং সর্বাবস্থায় এটি তাকিদপ্রাপ্ত। (২/ ৩৯)।

* ওজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার হাদিসগুলো যদি বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে অভিমত হবে তাদেরই যারা গোসলের ক্ষেত্রেও একে ওয়াজিব (وجوب) মনে করেন। (২/ ৮১)।

* বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হলে খতনা করা ওয়াজিব (واجب), তবে শৈশবে করা উত্তম। এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, কোনো শিশুকে দশ বছর পর্যন্ত খতনা বিহীন রাখাতে কোনো দোষ নেই। তবে খতনা করার ক্ষেত্রে দ্রুততা অবলম্বন করা মুস্তাহাব (مستحب) যতক্ষণ না

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আরাক গাছ বা অনুরূপ কিছু দ্বারা, যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে তা পাওয়া যায় না। (আল-কাসিম)। শায়খ আরাক গাছ সম্পর্কে বলেছেন: (আল-খারজ) এলাকায় সবচেয়ে ভালো মানের আরাক গাছ পাওয়া যেত। (২/ ৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
يبلغ، فمتى بلغ وجب الختان، وبالله التوفيق. (2/ 40).

* اتخاذ الشعر والاعتناء به مستحب. (2/ 43).

* ما يفعله بعض نساء المسلمين في هذا الزمن من فرق شعر الرأس من جانب وجمعه من ناحية القفا، أو جعله فوق الرأس كما يفعله نساء الإفرنج فهذا لا يجوز، لما فيه من التشبيه بنساء الكفار. (2/ 47).

* ما يفعله بعض المسلمين من حلق بعض الرأس وترك بعضه ويسمونه «التواليت» فهذا هو القزع الذي نهى عنه النبي صلى الله عليه وسلم وهو أنواع:

الأول: أن يحلق من رأسه مواضع ويترك مواضع، مأخوذ من تقزع السحاب وهو تقطعه.

الثاني: أن يحلق وسطه ويترك جوانبه.

الثالث: أن يحلق جوانبه ويترك وسطه.

الرابع: أن يحلق مقدمه ويترك مؤخره.

الخامس: أن يحلق مؤخره ويترك مقدمه.

السادس: حلق بعضه في أحد جوانب الرأس وترك البقية. (2/ 48).

* حلق اللحية حرام، لما ورد في ذلك من الأحاديث الصحيحة الصريحة والأخبار، ولعموم النصوص الناهية عن التشبه بالكفار، فمن ذلك حديث ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «خالفوا المشركين، وفروا اللحى، وأحفوا الشوارب» وفي رواية: «أحفوا الشوارب واعفوا اللحى» وفيه أحاديث أخرى بهذا المعنى.
যখন সে সাবালকত্বে পৌঁছায়; আর যখন সে সাবালক হবে তখন খতনা করা ওয়াজিব (واجب) হবে। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি। (২/ ৪০)।

* চুল রাখা এবং এর যত্ন নেওয়া মুস্তাহাব (مستحب)। (২/ ৪৩)।

* বর্তমান সময়ে কিছু মুসলিম নারী মাথার চুলের সিঁথি এক পাশে করা এবং মাথার পেছনের দিকে তা জমা করা, অথবা মাথার ওপরের অংশে চুল জড়ো করে রাখা—যেমনটা পাশ্চাত্যের নারীরা করে থাকে—তা জায়েজ (جائز) নয়; কারণ এতে কাফের নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনের বিষয়টি বিদ্যমান। (২/ ৪৭)।

* কিছু মুসলিম মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়ার যে আমল করে এবং যাকে তারা «টয়লেট» বলে অভিহিত করে, এটিই হলো মূলত কাজাউ (القزع) যা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। এটি কয়েক প্রকার:

প্রথমত: মাথার বিভিন্ন স্থান থেকে চুল মুণ্ডন করা এবং কিছু স্থান রেখে দেওয়া; এটি মূলত মেঘের খণ্ড খণ্ড হওয়া (তাকাজ্জু'উস সাহাব) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো মেঘের বিচ্ছিন্নতা।

দ্বিতীয়ত: মাথার মাঝখান মুণ্ডন করা এবং চারপাশ রেখে দেওয়া।

তৃতীয়ত: মাথার চারপাশ মুণ্ডন করা এবং মাঝখান রেখে দেওয়া।

চতুর্থত: মাথার সামনের অংশ মুণ্ডন করা এবং পেছনের অংশ রেখে দেওয়া।

পঞ্চমত: মাথার পেছনের অংশ মুণ্ডন করা এবং সামনের অংশ রেখে দেওয়া।

ষষ্ঠত: মাথার কোনো এক পাশের কিছু অংশ মুণ্ডন করা এবং বাকিটুকু রেখে দেওয়া। (২/ ৪৮)।

* দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম (حرام); কারণ এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহ ও বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে এবং কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণে নিষেধকারী সাধারণ দলীলসমূহের ব্যাপকতার কারণে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ খাটো করো।» অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি বাড়তে দাও।» এ মর্মে আরও অনেক হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
و «اللحية» اسم للشعر النابت على الذقن والخدين، وإعفاؤها تركها على حالها، وتوفيرها: إبقاؤها وافرة من دون أن تحلق أو تنتف أو يقص منها شيء. (2/ 50 - 51).

* لطيفة:

رد عمر بن الخطاب رضي الله عنه شهادة من كان ينتف لحيته.

وكذلك ردها ابن أبي ليلى قاضي المدينة. (2/ 51).

* حديث الترمذي: أنه صلى الله عليه وسلم «كان يأخذ من لحيته من طولها وعرضها» غير صحيح. (2/ 53).

* العارضان من اللحية (2/ 53)، وحكم حلق العارضين والتقصير منهما كحكم حلق اللحية والتقصير منها. (2/ 55). حرام أيضًا، هو كاللحية (2/ 57).

* من حلق لحيته بعد العلم بالحكم مصرًّا على ذلك ففعله كبيرة. (2/ 54).

* من حلق لحيته، وأطال شاربه يعلم بالحكم، وينصح حتى يقلع من الذنب، فإن لم يقلع فيهجر إلا إذا كان يترتب على الهجر مفسدة أكثر من المصلحة التي تنشأ عن الهجر فلا يهجره. (2/ 56).

* استعمل الحيلة من حالقي اللحى من ينتسب إلى العلم: يذكرون هنا شبهات هي سخافات، ويقول: معنى «إكرامها» هو حلقها لأنها إذا بقيت ولم تكرم فإنه إهانة لها، فما أشبهه بوأد البنات خشية العار … (2/ 57).

* التقصير من اللحية لا يجوز، وفعل ابن عمر أنه كان إذا حج أو اعتمر
এবং 'দাড়ি' (لحية) হলো চিবুক ও দুই গালের ওপর গজান পশমের নাম। এর 'ইফআ' (ছেড়ে দেওয়া) হলো একে তার নিজ অবস্থায় রেখে দেওয়া। আর একে 'তাওফীর' (পরিপূর্ণ রাখা) হলো: একে মুণ্ডন করা, উপড়ে ফেলা বা এর থেকে কোনো কিছু না কেটে একে পূর্ণ অবস্থায় রাখা। (২/ ৫০ - ৫১)।

* একটি সূক্ষ্ম বিষয় (لطيفة):

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ঐ ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করেছেন যে তার দাড়ি উপড়ে ফেলত।

অনুরূপভাবে মদিনার বিচারক ইবনে আবি লায়লাও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। (২/ ৫১)।

* তিরমিজি-এর হাদিস: নবী (সা.) 'তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু অংশ কাটতেন' - এটি সঠিক (صحيح) নয়। (২/ ৫৩)।

* দাড়ির দুই পাশের অংশ (العارضان) (২/ ৫৩); এই দুই পাশের অংশ মুণ্ডন করা বা তা ছোট করার বিধান দাড়ির মুণ্ডন করা বা ছোট করার বিধানের মতোই। (২/ ৫৫)। এটিও হারাম (حرام), এটি দাড়িরই অন্তর্ভুক্ত (২/ ৫৭)।

* বিধান জানার পর যে ব্যক্তি দাড়ি মুণ্ডন অব্যাহত রাখে, তার এই কাজ কবিরা গুনাহ (كبيرة)। (২/ ৫৪)।

* যে ব্যক্তি বিধান জানা সত্ত্বেও দাড়ি মুণ্ডন করে এবং গোঁফ লম্বা রাখে, তাকে নসিহত করা হবে যেন সে এই গুনাহ থেকে ফিরে আসে। যদি সে ফিরে না আসে, তবে তাকে বর্জন করা হবে; তবে বর্জনের ফলে যদি উপকারের চেয়ে ক্ষতির (مفسدة) আশঙ্কা বেশি থাকে, তবে তাকে বর্জন করা হবে না। (২/ ৫৬)।

* দাড়ি মুণ্ডনকারীদের মধ্যে যারা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত তারা এক প্রকার হিলা বা অপকৌশল অবলম্বন করে: তারা এখানে এমন কিছু সংশয় (شبهات) উল্লেখ করে যা মূলত অন্তঃসারশূন্য। তারা বলে: দাড়িকে 'সম্মান করার' অর্থ হলো একে মুণ্ডন করা, কারণ দাড়ি রেখে দিলে যদি যত্ন না করা হয় তবে তা দাড়ির জন্য অবমাননাকর। এই যুক্তিটি লজ্জার ভয়ে কন্যা সন্তান জীবন্ত দাফন করার কুযুক্তির মতোই … (২/ ৫৭)।

* দাড়ি ছোট করা জায়েজ (جائز) নয়। আর ইবনে উমরের (রা.) আমল হলো, তিনি যখন হজ বা ওমরাহ করতেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
قبض لحيته فما فضل أخذه، لا يحتج به لأنه روى النهي عن التقصير، وإذا تعارض رأي الصحابي وروايته، فروايته مقدمة على رأيه. (2/ 53).

* أخذ ابن عمر رضي الله عنهما ما زاد على القبضة، يبين أن الأخذ من الزائد على القبضة أسهل من الأخذ من أصلها. (2/ 57).

* الحناء والكتم إذا جمعا صار فيه لون من الحمرة والسواد، والكتم وحده يكون أسود.

الكتم هو: «الوسمة» شجر معروف ينبت في شعبان نجد. (2/ 58).

* المستحب في الشارب هو: الإطار، وهو أن لا يستأصل ذلك، والإطار هو: أن يكون أعلى الشفة بارزًا، فلا يستأصل بالكلية بل يبقى شيء. (2/ 58).
তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করতেন এবং যা অতিরিক্ত হতো তা গ্রহণ করতেন। এটি দলিলযোগ্য (لا يحتج به) নয়, কারণ তিনি (দাড়ি) ছোট করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণনা করেছেন। আর যখন কোনো সাহাবীর (صحابي) ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) ও তাঁর বর্ণনা (رواية) পরস্পর বিরোধী হয়, তখন তাঁর বর্ণনাটিই (رواية) তাঁর অভিমতের (رأي) ওপর প্রাধান্য পাবে। (২/ ৫৩)।

* ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মুষ্টির অতিরিক্ত অংশটুকু গ্রহণ করতেন; এটি স্পষ্ট করে যে, মুষ্টির অতিরিক্ত অংশ থেকে গ্রহণ করা এর মূল অংশ থেকে গ্রহণ করার চেয়ে সহজতর। (২/ ৫৭)।

* মেহেদী ও কাতাম যখন একত্রিত করা হয়, তখন তাতে লাল ও কালোর সংমিশ্রণে একটি রং তৈরি হয়; আর কাতাম একা ব্যবহার করলে তা কালো হয়।

কাতাম হলো: «ওয়াসমা», এটি একটি পরিচিত গাছ যা নজদ অঞ্চলের উপত্যকায় জন্মে। (২/ ৫৮)।

* গোঁফের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব (المستحب) পদ্ধতি হলো: ইতার; আর তা হলো একে সমূলে উৎপাটন না করা। ইতার হলো: উপরের ঠোঁটের কিনারা স্পষ্ট রাখা, সুতরাং এটি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে না বরং কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকবে। (২/ ৫৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
سنن الوضوء

* التسمية إذا ذكرها في أثناء الوضوء أتى بها في البقية. (2/ 60).

* جاء في التسمية أحاديث إلا أن أسانيدها لا تخلو من مقال، لكن مجموعها يدل على الشرعية، وإنما اختلف في الوجوب، وقول أحمد: لا يصح في هذا الباب شيء، يعني حديثًا مفردًا بعينه، وعضد بعضها لبعض شيء آخر، فالتسمية مندوبة بل متأكدة بكل حال. (2/ 39).

* للمضمضة والاستنشاق صور عديدة، وأفضلها الجمع بينهما بغرفة، ويفعل ذلك ثلاث مرات. (2/ 60).

* جاء في تخليل اللحية الكثيفة - كثيرة الشعر - عدة أحاديث وكلها لا تخلو من مقال، ولكنها لا تنقص عن شرعيته، ويكفي غسل ظاهرها لأن به تحصل المواجهة. (2/ 60).

* الصحيح: أنه لا يندب أخذ ماء جديد للأذنين، وما استدل به على أخذه ماء جديدًا فهو وهم ولا يثبت، بل أصل الحديث أنه أخذ ماءً جديدًا للرأس لا للأذنين (2/ 60).
ওজুর সুন্নাতসমূহ

* ওজুর মাঝপথে বিসমিল্লাহ বলা (التسمية) এর কথা মনে পড়লে অবশিষ্ট অংশে তা পাঠ করবে। (২/ ৬০)।

* বিসমিল্লাহ বলা সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তবে সেগুলোর সনদসমূহে (أسانيد) কিছুটা আপত্তি (مقال) রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর সমষ্টি এর শরয়ি ভিত্তি (الشرعية) থাকার প্রমাণ দেয়। এর ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমদের উক্তি: "এই বিষয়ে কোনো কিছুই সহিহ নয় (لا يصح)"—অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো একক হাদিস সহিহ নয়। তবে একটি বর্ণনা অন্যটিকে শক্তিশালী করা ভিন্ন বিষয়। সুতরাং বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব (مندوبة), বরং এটি সর্বাবস্থায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (متأكدة)। (২/ ৩৯)।

* কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে; এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো এক আজলা পানি দিয়ে উভয় কাজ সম্পন্ন করা এবং এটি তিনবার করা। (২/ ৬০)।

* ঘন দাড়ি—যাতে প্রচুর চুল থাকে—খিলাল করা সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং সেগুলোর সবকটিতেই কিছুটা আপত্তি (مقال) রয়েছে। তবে তা এর শরয়ি বিধান (الشرعية) হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। দাড়ির উপরিভাগ ধৌত করাই যথেষ্ট, কারণ এর মাধ্যমেই চেহারার সম্মুখভাগ ধোয়ার উদ্দেশ্য পূরণ হয়। (২/ ৬০)।

* সঠিক মত (الصحيح) হলো: কানের জন্য নতুন করে পানি নেওয়া মুস্তাহাব (مندوبة) নয়। নতুন পানি নেওয়ার পক্ষে যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয় তা মূলত একটি ভ্রম (وهم) এবং তা প্রমাণিত নয় (لا يثبت)। বরং মূল হাদিসটি হলো—তিনি মাথার জন্য নতুন পানি নিয়েছিলেন, কানের জন্য নয়। (২/ ৬০)
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب فروض الوضوء وصفته

* النية: هي أن يتصور الإنسان ما سيفعله ثم يشرع في فعله، والتلفظ بها بدعة، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يتلفظ بالنية قط لا في حج ولا عمرة …

أما: (نويت كذا وكذا)، فهذا ما نطق به النبي صلى الله عليه وسلم أبدًا {أَتُعَلِّمُونَ اللَّهَ بِدِينِكُمْ} [الحجرات: 16] ولم يتلفظ بها الخلفاء الراشدون ولا العشرة والمهاجرون والأنصار. (2/ 63).

* الصحيح: فرضية غسل الفم والأنف في الوضوء والغسل، فإن الفم والأنف داخلان فيما يواجهك، والسنة دالة على ذلك، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يترك المضمضة والاستنشاق مرة واحدة، وفي الحديث: «إذا توضأت فمضمض». (2/ 61).

* الصواب: أنه لا بد من مسح الرأس كله، وزعم من زعم أن الباء للتبعيض، وليس في لغة العرب أنها للتبعيض بل هي للإلصاق، ثم سنة الرسول صلى الله عليه وسلم واضحة في تعميمه مسح رأسه … ولم يحفظ عنه صلى الله عليه وسلم أنه اقتصر على مسح بعض الرأس بدون عمامة. (2/ 62).

* لا يمسح على الحلي على الرأس، ولا يمسح على المشاط(1) على الرأس، فإنه ليس مثل الخفين معنى ولا حسًّا، فهو يوضع للترفه لا للحاجة ولا للضرورة. (2/ 62).

* القراءة الأخرى (وَأَرْجُلِكُمْ) بالجر عطفًا على (برُؤُوسِكُمْ)، استدل بها

--------------------------------------------

(1) المشاط: خليط من السدر والريحان والأظفار. (القاسم).
‌ওজুর ফরজসমূহ ও তার পদ্ধতির অধ্যায়

* নিয়ত (النية): এটি হলো মানুষ যা করবে তা মনে মনে কল্পনা করা এবং এরপর তা শুরু করা; আর মুখে তা উচ্চারণ করা একটি বিদআত (بدعة)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ কিংবা উমরাহ কোনোটিতেই কখনো নিয়ত মুখে উচ্চারণ করেননি …

পক্ষান্তরে: (আমি অমুক অমুক নিয়ত করলাম), এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই উচ্চারণ করেননি। {তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে অবগত করছ?} [আল-হুজুরাত: ১৬]। আর খোলাফায়ে রাশেদিন (الخلفاء الراشدون), দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী, মুহাজির (المهاجرون) ও আনসার (الأنصار) কেউ এটি মুখে উচ্চারণ করেননি। (২/ ৬৩)।

* সঠিক মত (الصحيح): ওজু ও গোসলের ক্ষেত্রে মুখ ও নাক ধৌত করা ফরজ (فرض)। কারণ মুখ ও নাক চেহারারই অন্তর্ভুক্ত, আর সুন্নাহ (السنة) এর ওপরই দালালত (دلالة) করে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবারের জন্যও কুলি করা (المضمضة) ও নাকে পানি দেওয়া (الاستنشاق) ত্যাগ করেননি। আর হাদিসে এসেছে: «যখন তুমি ওজু করবে, তখন কুলি করবে।» (২/ ৬১)।

* সঠিক কথা (الصواب): পুরো মাথা মাসহ করা আবশ্যক। যারা দাবি করেন যে 'বা' বর্ণটি আংশিকত্ব (للتبعيض) বোঝানোর জন্য, তাদের সেই দাবি ভিত্তিহীন। কারণ আরবি ভাষায় 'বা' বর্ণটি আংশিকত্ব বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় না, বরং এটি কোনো কিছুর সাথে লেগে থাকা বা সংস্পর্শ (للإلصاق) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (السنة) তাঁর পুরো মাথা মাসহ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট … আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাগড়ি ব্যতীত মাথার কেবল কিছু অংশ মাসহ করেছেন বলে প্রমাণিত নেই। (২/ ৬২)।

* মাথার অলংকারের ওপর মাসহ করা যাবে না, এবং মাথায় ব্যবহৃত মাশাত(১)-এর ওপরও মাসহ করা যাবে না। কারণ এটি অর্থগত বা বাহ্যিক কোনো দিক থেকেই মোজার মতো নয়; এটি মূলত বিলাসিতার জন্য ব্যবহার করা হয়, কোনো প্রয়োজন বা অপারগতার কারণে নয়। (২/ ৬২)।

* অন্য পাঠরীতি (القراءة) অনুযায়ী (وَأَرْجُلِكُمْ) শব্দটিতে জের পড়া হয়েছে (برُؤُوسِكُمْ) শব্দটির সাথে আতফ (عطف) করার কারণে, যা দ্বারা দলিল (استدل) পেশ করা হয়েছে

--------------------------------------------

(১) আল-মাশাত: সিদর (বরই পাতা), রায়হান (সুগন্ধি লতা) ও আজফার (এক প্রকার সুগন্ধি দ্রব্য)-এর মিশ্রণ। (আল-কাসিম)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
الرافضة على جواز الاقتصار على مسح الرجلين وأنه لا يجب غسلهما، ولا دليل فيها، وقراءة النصب أشهر وأكثر، فتكون مفسرة بالغسل.

الفائدة في هذه القراءة: شرعية التخفيف في غسل الرجلين وأنه لا يجب زيادة غسلهما لوطئهما التراب، فالمسح هنا مسح إسالة، فإن المسح مسحان: إسالة، وغير إسالة، والسنة في غسلهما متواترة. (2/ 62 - 63).

* لا يشرع مسح غضاريف الأذنين، أما الصماخان فتدخل فيهما أطراف الأصابع وظاهرهما مما يلي الرأس، والجوانب يمسحان. (2/ 63).

* لا يندب مجاوزة محل الفرض قليلًا احتياطًا للفرض. بل يقتصر على المفروض، وهو اختيار شيخ الإسلام وطائفة، وذلك أنه ما جاء في شيء من الأحاديث والزيادة على المفروض أبدًا، وأحاديث التحجيل لا يلزم منها الزيادة. (2/ 61).

* كل العبادات التي ليست واجبة يندب أن لا يفعلها إلا بطهارة. (2/ 64).

* بعض الناس يرى أن لكل عضو ذكرًا يخصه، ويروي في ذلك شيئًا من الأحاديث، لكنها لا تصح أبدًا، بل هي باطلة.

نعم الذكر في موضعين، عند ابتداء الوضوء (بسم الله)، وعند الفراغ (أشهد)(1) أو (سبحانك اللهم)(2) كل منهما وارد … وحديث (أشهد) أقوى سندًا وأشهر، وهو في الصحيح، والثاني في السنن بسند ثابت أيضًا. (2/ 64).

--------------------------------------------

(1) أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. (القاسم).

(2) وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك. (القاسم).
রাফেজিরা (الرافضة) দুই পা মাসেহ (مسح) করার বৈধতা এবং তা ধৌত করা ওয়াজিব (واجب) না হওয়ার স্বপক্ষে মত দেয়, তবে এতে কোনো দলিল নেই। নাসব (نصب) বা জবর সংবলিত কিরাতটি অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত, যা ধৌত করার (الغسل) অর্থকেই ব্যাখ্যা করে।

এই কিরাতের (القراءة) ফায়দা হলো: দুই পা ধৌত করার ক্ষেত্রে শিথিলতার বিধান এবং মাটিতে চলার কারণে অতিরিক্ত ধৌত করা ওয়াজিব (واجب) না হওয়া। এখানে মাসেহ (المسح) বলতে পানি প্রবাহিত করে ধৌত করা বোঝানো হয়েছে। কেননা মাসেহ (المسح) দুই প্রকার: পানি প্রবাহিত করে (إسالة) এবং পানি প্রবাহিত না করে (غير إسالة)। আর পা ধৌত করার ব্যাপারে সুন্নাহ মুতাওয়াতির (متواترة) পর্যায়ভুক্ত। (২/ ৬২ - ৬৩)।

* কানের তরুণাস্থি মাসেহ (مسح) করা বিধিবদ্ধ নয়। তবে কর্ণছিদ্রের ক্ষেত্রে আঙুলের অগ্রভাগ প্রবেশ করানো হবে এবং মাথার দিকের কানের বহির্ভাগ ও পার্শ্বদেশ মাসেহ (يمسحان) করা হবে। (২/ ৬৩)।

* ফরজের (الفرض) ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে নির্ধারিত সীমানা সামান্য অতিক্রম করা মুস্তাহাব (يندب) নয়; বরং নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এটিই শায়খুল ইসলাম ও একদল আলিমের অভিমত। কারণ কোনো হাদিসেই নির্ধারিত সীমানার অতিরিক্ত ধৌত করার কথা আসেনি। আর তাহজিল (التحجيل) সংক্রান্ত হাদিসগুলো থেকেও অতিরিক্ত অংশ ধৌত করা আবশ্যক হয় না। (২/ ৬১)।

* যে সকল ইবাদত ওয়াজিব (واجبة) নয়, সেগুলোও পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত না করা মুস্তাহাব (يندب)। (২/ ৬৪)।

* কিছু মানুষ মনে করে যে অজুর প্রতিটি অঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট জিকির (ذكرًا) রয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে কিছু হাদিস বর্ণনা করে; কিন্তু সেগুলো কখনোই সহিহ (تصح) নয়, বরং সেগুলো বাতিল (باطلة)।

হ্যাঁ, জিকির (الذكر) কেবল দুটি স্থানে রয়েছে: অজুর শুরুতে (বিসমিল্লাহ) এবং অজু শেষে (আশহাদু...)(১) অথবা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা...)(২) এগুলোর প্রতিটিই বর্ণিত (وارد) হয়েছে... আর 'আশহাদু' সংবলিত হাদিসটির সনদ (سندًا) অধিক শক্তিশালী ও প্রসিদ্ধ, যা সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি সুনান গ্রন্থসমূহে সাব্যস্ত (ثابت) সনদে (بسند) বর্ণিত হয়েছে। (২/ ৬৪)।

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। (আল-কাসিম)।

(২) এবং আপনার প্রশংসার সাথে (ঘোষণা করছি); আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি। (আল-কাসিম)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌باب المسح على الخفين

* المسح على الخفين مسألة فروعية، وتذكر في العقائد أحيانًا لأن المخالف فيها الروافض. (2/ 65).

* السنة دلت على جواز المسح على الجوارب ونحوها، كأنواع الشراب. (2/ 65).

* إذا كان الشراب من القطن أو الصوف أو الوبر أو الشعر، وتسمى الجوربين صفيقًا لا يصف البشرة يثبت بنفسه ساترًا للمفروض جاز المسح عليه. (2/ 65 - 66).

* حديث بلال: «رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يمسح على الموقين والخمار» رواه أحمد والمراد بالخمار هنا العمامة لأنها تخمر الرأس. والله أعلم. (2/ 66).

* لا يصح المسح على خفين من ذهب أو فضة أو محلين بالذهب والفضة على الرجل والمرأة إلا اليسير من الفضة. (2/ 67).

* يجوز المسح على الكنادر والشراب معًا ولو كانت الكنادر غير ساترة، إذا كان تحتها الشراب ساترًا لمحل الفرض، لكن بشرط أن يلبسهما معًا، أو يلبس الفوقاني قبل أن يحدث. (2/ 67).

من لبس شرابين أحدهما صحيح والآخر مخرق:

* فلا يجوز المسح على التحتاني إلا أن يكون هو الصحيح، بخلاف ما إذا كان الفوقاني هو الصحيح، فلا يصح المسح إذًا على التحتاني لأنه غير ساتر بنفسه. (2/ 67 - 68).
‌চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসাহ্ করার অধ্যায়

* চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ্ করা একটি শাখা-প্রশাখাগত (مسألة فروعية) বিষয়; এটি কখনও কখনও আকীদার কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়, কারণ রাফেযীরা এ বিষয়ে বিরোধিতা করে থাকে। (২/ ৬৫)।

* সুন্নাহ মোজা এবং এর সদৃশ পরিধেয়সমূহ, যেমন বিভিন্ন প্রকারের মোজার (শারাব) ওপর মাসাহ্ করার বৈধতা নির্দেশ করে। (২/ ৬৫)।

* যদি মোজা তুলা, পশম, উটের লোম বা পশুর লোম দ্বারা তৈরি হয় এবং তা স্থূল বা ঘন (صفيق) হয় যা ত্বককে দৃশ্যমান করে না, নিজে থেকেই পায়ের সাথে লেগে থাকে এবং ফরয স্থানকে (محل الفرض) আবৃত করে, তবে তার ওপর মাসাহ্ করা বৈধ। (২/ ৬৫ - ৬৬)।

* বিলাল (রাযি.) বর্ণিত হাদিস: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চামড়ার মোজা (মুকাঈন) এবং মাথার আবরণের (খিমার) ওপর মাসাহ্ করতে দেখেছি» আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন। এখানে ‘খিমার’ বলতে পাগড়ি (عمامة) বোঝানো হয়েছে, কারণ এটি মাথাকে আবৃত করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (২/ ৬৬)।

* সোনা বা রূপার তৈরি অথবা সোনা ও রূপা খচিত মোজার ওপর মাসাহ্ করা পুরুষ বা নারী কারো জন্যই শুদ্ধ নয়, তবে রূপার সামান্য পরিমাণ অংশ ব্যতিরেকে। (২/ ৬৭)।

* জুতো ও মোজা উভয়ের ওপর একত্রে মাসাহ্ করা বৈধ, যদিও জুতো জোড়া আবরণকারী (টাখনু পর্যন্ত) না হয়, যদি তার নিচের মোজাটি ফরয স্থানকে (محل الفرض) আবৃত করে। তবে শর্ত হলো, উভয়টি একত্রে পরিধান করতে হবে অথবা অপবিত্র হওয়ার (হাদাস) আগে উপরেরটি পরিধান করতে হবে। (২/ ৬৭)।

যে ব্যক্তি দুটি মোজা পরিধান করে যার একটি অক্ষত এবং অন্যটি ছেঁড়া:

* এমতাবস্থায় নিচেরটির ওপর মাসাহ্ করা বৈধ নয় যদি না সেটি অক্ষত হয়; পক্ষান্তরে যদি উপরেরটি অক্ষত হয়, তবে নিচেরটির ওপর মাসাহ্ করা শুদ্ধ হবে না কারণ সেটি নিজে থেকে আবরণকারী নয়। (২/ ৬৭ - ৬৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
* إذا كان الشراب رقيقًا حيث يصف البشرة أو مشقوقًا أو قاصرًا عن ستر المفروض فإنه لا يمسح عليه، ولا على ما فوقه من الكنادر التي لا تستر المفروض. (2/ 68).

* الظاهر صحة المسح على الصفيق كالباغة، ليس المطلوب تغطية اللون بل الجرم. (2/ 70).

* الصحابة رضي الله عنهم أهل أعمال وأعظمها الجهاد، فلا بد أن يكون في الخفاف شيء - يعني: الثقب - ومع ذلك ما جاء تفريق في الحديث، والرخص في حق هؤلاء أنسب منها في حق أهل الرفاهية …

فالشيء - يعني: الثقب - الذي يدخل معه الإصبع، والفتق الذي بهذا المقدار، يمسح عليه ولا في النفس شيء من المسح عليه. (2/ 70 - 71).

* إذا كان في - الخف أو الجورب ثقب - كبر الريال(1) أو نحوه فالورع أن يخلع (2/ 71).

--------------------------------------------

(1) يعني الفضي في عام 1378 هـ. (القاسم).
* যদি মোজা পাতলা হয় যা চামড়ার বর্ণ ফুটিয়ে তোলে, অথবা যদি তা ছেঁড়া হয় কিংবা ফরয (আবশ্যক) স্থান আবৃত করতে অক্ষম হয়, তবে তার ওপর মাসেহ করা যাবে না; এমনকি এর ওপরে পরিহিত এমন বুট বা জুতার ওপরও মাসেহ করা যাবে না যা ফরয স্থানকে আবৃত করে না। (২/ ৬৮)।

* সুস্পষ্ট অভিমত অনুযায়ী, পুরু বা মোটা মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ (صحيح); যেমন প্লাস্টিক বা রবার জাতীয় আবরণ। এক্ষেত্রে লক্ষ্য গায়ের রং ঢেকে রাখা নয়, বরং অঙ্গের বাহ্যিক অবয়ব আবৃত করা। (২/ ৭০)।

* সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী এবং তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কর্ম ছিল জিহাদ। তাই তাঁদের চামড়ার মোজায় সামান্য কিছু (অর্থাৎ: ছিদ্র) থাকা স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও হাদিসে এ বিষয়ে কোনো ভেদাভেদ করা হয়নি। আর বিলাসীদের তুলনায় তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় (رخصة) প্রদান করা অধিক সঙ্গত …

সুতরাং যে ছিদ্র দিয়ে আঙুল প্রবেশ করতে পারে বা সমপরিমাণ ফাটা থাকে, তার ওপর মাসেহ করা যাবে এবং এ বিষয়ে মনে কোনো সংশয় নেই। (২/ ৭০ - ৭১)।

* যদি চামড়ার মোজা বা সাধারণ মোজায় এক রিয়াল(১) বা তার সমপরিমাণ কোনো ছিদ্র থাকে, তবে সাবধানতা বা পরহেজগারীর (ورع) দাবি হলো তা খুলে ফেলা। (২/ ৭১)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ ১৩৭৮ হিজরি সালের রৌপ্য রিয়াল। (আল-কাসিম)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
* الجرح الذي عليه دواء بقدر الحاجة، وضعه وهو على غير وضوء، يمسح عليه، ولا يكفي درج(1) الماء عليه، يمسح عليه ويتيمم عند بعض أهل العلم وهو أحوط، وبعض أهل العلم يكتفي بالمسح، ولو فعل ذلك إنسان لم نأمره بالإعادة. (2/ 71).

* الجرح إذا لم يضع عليه شيئًا وكان يتضرر بغسله فيمسح عليه بالبلل الذي في يده، فإن كان يتضرر بالمسح فيعفى عنه. (2/ 71).

* الجرح البارز لا بد من مسحه ولا يكفي التيمم، وإذا مسح عليه فلا يحتاج إلى تيمم. (2/ 71 - 72).

* الكسر ونحوه(2) لا بد من التيمم فيما زاد، والناس يفرطون ما يمسحون على الجرح ولا على الجبيرة واللصوق، وهذا لا تصح طهارته. (2/ 72).

* إن أمكن اختصار الجبيرة المتعدية للحد بدون ضرر اختصرها. (2/ 72).

* حديث صاحب الشجة فيه ضعف(3). (2/ 72).

* إذا كان عليه الخفاف وهو يتيمم لعدم الماء، فإنه لا يجب عليه الخلع بل يتيمم وهما عليه، وهذا هو الأقوى إن شاء الله. (2/ 72).

--------------------------------------------

(1) جريان الماء عليه.

(2) مما عليه جبيرة.

(3) لأنه من رواية الزبير بن خريق. (القاسم).

حديث صاحب الشجة: «إنما كان يكفيه أن يتيمم ويعضد أو يعصب على جرحه خرقة ثم يمسح عليها ويغسل سائر جسده».
* যে ক্ষতের ওপর প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ লাগানো হয়েছে এবং তা অজুহীন অবস্থায় লাগানো হয়েছে, তার ওপর মাসেহ করতে হবে। এর ওপর পানি প্রবাহিত(১) করা যথেষ্ট নয়; বরং এর ওপর মাসেহ করতে হবে এবং কোনো কোনো আলেমগণের মতে তায়াম্মুমও করতে হবে, যা অধিকতর সতর্কতামূলক। আবার কোনো কোনো আলেম শুধুমাত্র মাসেহ করাকেই যথেষ্ট মনে করেন। কোনো ব্যক্তি যদি এমনটি করে ফেলে, তবে আমরা তাকে পুনরায় করার নির্দেশ দেব না। (২/ ৭১)।

* ক্ষতস্থানে যদি কোনো কিছু লাগানো না থাকে এবং তা ধৌত করলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তবে হাতের আর্দ্রতা দিয়ে তার ওপর মাসেহ করতে হবে। যদি মাসেহ করলেও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তবে তা মার্জনাযোগ্য। (২/ ৭১)।

* উন্মুক্ত ক্ষতের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাসেহ করতে হবে এবং কেবল তায়াম্মুম যথেষ্ট নয়। আর যখন তার ওপর মাসেহ করা হবে, তখন আর তায়াম্মুমের প্রয়োজন হবে না। (২/ ৭১ - ৭২)।

* হাড় ভাঙা বা এই জাতীয় ক্ষেত্রে(২) অতিরিক্ত অংশের জন্য অবশ্যই তায়াম্মুম করতে হবে। মানুষ এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে; তারা ক্ষতের ওপর কিংবা পট্টি ও ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে না। অথচ এমন ব্যক্তির পবিত্রতা শুদ্ধ হবে না। (২/ ৭২)।

* যদি কোনো ক্ষতি ছাড়াই সীমার অতিরিক্ত পট্টি ছোট করা সম্ভব হয়, তবে তা ছোট করে নেবে। (২/ ৭২)।

* মস্তক বা মুখমণ্ডলে জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির (সাহিবুশ শাজ্জাহ) হাদিসটির মধ্যে দুর্বলতা (ضعف)(৩) রয়েছে। (২/ ৭২)।

* যদি কেউ মোজা পরিহিত থাকে এবং পানি না থাকার কারণে তায়াম্মুম করে, তবে তার জন্য মোজা খোলা ওয়াজিব নয়, বরং মোজা পরিহিত অবস্থাতেই সে তায়াম্মুম করবে। ইনশাআল্লাহ, এটিই অধিক শক্তিশালী মত। (২/ ৭২)।

--------------------------------------------

(১) এর ওপর পানি প্রবাহিত হওয়া।

(২) যেটির ওপর পট্টি (জাবীরাহ) রয়েছে।

(৩) কারণ এটি যুবাইর বিন খুরইক-এর বর্ণনা। (আল-কাসিম)।

মস্তক বা মুখমণ্ডলে জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাদিস: «তার জন্য কেবল তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল এবং তার ক্ষতের ওপর একটি কাপড় বেঁধে তার ওপর মাসেহ করা এবং শরীরের অবশিষ্ট অংশ ধৌত করা যথেষ্ট ছিল»।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌باب نواقض الوضوء

* خروج الدود من الدبر ينقض الوضوء، وحكمه حكم سلس البول، يلزمه الوضوء لوقت كل صلاة بعد غسل المحل أن تلوث بشيء من الرطوبة وتعصيبه بخرقة طاهرة حتى لا يخرج شيء.

وإن اعتيد انقطاعه في زمن يتسع لفعل الطهارة والصلاة تعين أن يفعلهما في حال انقطاعه، وإلا فيصلي على حسب حاله، وصلاته صحيحة للضرر. (2/ 73 - 74).

* الراجح أن القلس(1) لا ينقض الوضوء، وإن كان نجسًا. (2/ 74).

* الصواب في النوم الفرق بين المستغرق وغيره، فالمستغرق ينقض وغيره لا ينقض … لحديث: «نام النساء والصبيان». (2/ 74).

* الاحتياط أن يعتبر مس المرأة بشهوة من النواقض … وهذا هو الذي يفتى به. (2/ 74).

* في بعض الأحاديث: «من مس فرجه فليتوضأ» … وعليه الفتوى والعمل. (2/ 75).

* إن مست المرأة أحد فرجي طفلها انتقض وضوؤها بذلك، وإلا فلا ينتقض وضوؤها بمجرد تغسيله حتى ولو باشرت غسل النجاسة بيدها، وعليها ملاحظة تطهير يدها بعد ذلك، والاحتراز من تعدي النجاسة على بدنها أو ثوبها. (2/ 75).

--------------------------------------------

(1) قال الخليل: القلس: ما خرج من الحلق ملء الفم أو دونه وليس بقيء، فإن عاد فهو القيء. مختار الصحاح (1/ 259).
অযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের অধ্যায়

* মলদ্বার দিয়ে কৃমি নির্গত হওয়া অযু ভঙ্গ করে এবং এর বিধান প্রস্রাব ঝরা রোগের (سلس البول) বিধানের অনুরূপ। স্থানটি কোনো আর্দ্রতার দ্বারা অপবিত্র হলে তা ধৌত করার পর এবং একটি পবিত্র কাপড় দিয়ে বাঁধার পর প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অযু করা তার জন্য আবশ্যক, যাতে কোনো কিছু নির্গত হতে না পারে।

যদি পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের মতো পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত তা বন্ধ থাকার অভ্যাস থাকে, তবে বন্ধ থাকা অবস্থায়ই এই উভয় কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক। অন্যথায় সে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করবে এবং ওজরের কারণে তার সালাত সঠিক (صحيح) হবে। (২/ ৭৩ - ৭৪)।

* অগ্রগণ্য মত (الراجح) হলো, মুখভর্তি নয় এমন বমি (القلس)(১) অযু ভঙ্গ করে না, যদিও তা অপবিত্র (نجس)। (২/ ৭৪)।

* ঘুমের ক্ষেত্রে সঠিক অভিমত (الصواب) হলো গভীর ঘুম এবং তন্দ্রার মধ্যে পার্থক্য করা; সুতরাং গভীর ঘুম অযু ভঙ্গ করে এবং গভীর নয় এমন ঘুম অযু ভঙ্গ করে না... হাদিসের কারণে: «নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছিল»। (২/ ৭৪)।

* সতর্কতামূলক (الاحتياط) বিষয় হলো, কামভাবের সাথে নারীকে স্পর্শ করাকে অযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (نواقض) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা... আর এটিই ফতোয়া (فتوى) হিসেবে প্রদান করা হয়। (২/ ৭৪)।

* কিছু হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে সে যেন অযু করে»... আর এর ওপরই ফতোয়া (فتوى) ও আমল (عمل) পরিচালিত। (২/ ৭৫)।

* যদি কোনো নারী তার শিশুর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে তবে তার অযু ভঙ্গ হয়ে যাবে। অন্যথায় কেবল শিশুকে গোসল করানোর কারণে তার অযু ভঙ্গ হবে না, এমনকি সে সরাসরি হাত দিয়ে অপবিত্রতা (نجاسة) পরিষ্কার করলেও। তবে এরপর তার হাত পবিত্র করার বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং শরীর বা পোশাকে অপবিত্রতা (نجاسة) ছড়িয়ে পড়া থেকে বেঁচে থাকতে হবে। (২/ ৭৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-খালীল বলেছেন: আল-কালস (القلس) হলো যা গলা থেকে মুখভর্তি বা তার কম নির্গত হয় এবং তা বমি নয়; যদি তা পুনরায় ভেতরে ফিরে যায় তবে সেটি বমি। মুখতারুস সিহাহ (১/ ২৫৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লিশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ফী মাসায়িলিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
* الراجح أن مس الأمرد بشهوة ناقض، لأجل وجود الشهوة، كذات المحرم. (2/ 75).

* لحم الجزور ناقض، واللحم هو الأحمر (الهبر) والأبيض من اللحم الأبيض. (2/ 76).

* الكبد لا تدخل في اللحم، ولا تنقض الوضوء. (2/ 76).

* الظاهر أن الرأس ليس لحمًا، ولا ينقض الوضوء. (2/ 76).

* والشحم والعظم والعصب والقلب والرئة والكلية والستار والحليب كل هذه لا تنقض والرقبة لحم. (2/ 76).

* شرب الدخان بعد الوضوء لا ينقض الوضوء. (2/ 76).

* يحرم على المحدث مس المصحف، فالمميز لا يمس المصحف إلا متطهرًا، وغير المميز لا يمسه أبدًا. (2/ 77).

* سجود التلاوة والشكر ليست صلاة فعدم وجوب الطهارة أقوى. (2/ 77).

* من استيقظ ووجد بللًا، فلا يخلو من ثلاث حالات:

الأولى: أن يتحقق أن هذا الخارج مني فيلزمه الاغتسال ولو لم يذكر احتلامًا.

الثانية: أن يتحقق أنه ليس بمني فلا غسل عليه، وإنما يطهر ما أصابه لنجاسته.

الثالثة: أن يشك في كونه منيًا أو مذيًا فيغتسل وجوبًا، ويطهر ما أصاب بدنه وثيابه احتياطًا. (2/ 79).

* تغييب الحشفة في الفرج مع حائل لا يوجب الغسل إذا لم ينزل. (2/ 80).
* প্রধান অভিমত (الراجح) হলো কামভাব নিয়ে অমর্দ (দাড়িহীন কিশোর) স্পর্শ করা অজু ভঙ্গকারী (ناقض), কামভাব বিদ্যমান থাকার কারণে; যেমনটি মুহরাম আত্মীয়ের (ذات المحرم) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। (২/ ৭৫)।

* উটের মাংস ভক্ষণ করা অজু ভঙ্গকারী (ناقض); আর মাংস বলতে লাল মাংস (الهبر) এবং সাদা মাংসের অন্তর্ভুক্ত চর্বিহীন অংশকে বোঝায়। (২/ ৭৬)।

* কলিজা মাংসের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এটি অজু ভঙ্গ করে না। (২/ ৭৬)।

* বাহ্যত (الظاهر) প্রতীয়মান হয় যে, মাথা মাংস হিসেবে গণ্য নয় এবং এটি অজু ভঙ্গ করে না। (২/ ৭৬)।

* চর্বি, হাড়, স্নায়ু (العصب), হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, পর্দার ঝিল্লি এবং দুধ—এগুলোর কোনটিই অজু ভঙ্গ করে না; তবে ঘাড়ের অংশটি মাংসের অন্তর্ভুক্ত। (২/ ৭৬)।

* অজু করার পর ধূমপান করলে অজু ভঙ্গ হয় না। (২/ ৭৬)।

* অপবিত্র ব্যক্তির (المحدث) জন্য কুরআন (المصحف) স্পর্শ করা হারাম; সুতরাং সমঝদার শিশু (المميز) পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত কুরআন স্পর্শ করবে না, আর অবুঝ শিশু (غير المميز) কখনোই এটি স্পর্শ করবে না। (২/ ৭৭)।

* সিজদায়ে তিলাওয়াত এবং সিজদায়ে শোকর সালাত নয়; তাই (এগুলোর জন্য) পবিত্রতা অর্জন ওয়াজিব না হওয়ার মতটিই অধিক শক্তিশালী। (২/ ৭৭)।

* যে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আর্দ্রতা দেখতে পায়, তার অবস্থা তিনটির বাইরে নয়:

প্রথমত: যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে নির্গত বস্তুটি বীর্য (مني), তবে তার ওপর গোসল করা আবশ্যক হবে, যদিও তার স্বপ্নদোষের (احتلامًا) কথা মনে না থাকে।

দ্বিতীয়ত: যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি বীর্য নয়, তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না; বরং শরীর বা কাপড়ে যা লেগেছে নাপাকি (لنجاسته) হওয়ার কারণে তা পবিত্র করে নিতে হবে।

তৃতীয়ত: যদি এটি বীর্য (مني) নাকি মজি (مذي) সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তবে সতর্কতামূলক (احتياطًا) ওয়াজিব হিসেবে গোসল করতে হবে এবং শরীর ও কাপড়ে যা লেগেছে তা পবিত্র করতে হবে। (২/ ৭৯)।

* অন্তরায় বা আবরণের (حائل) উপস্থিতিতে লিঙ্গাগ্র লিঙ্গে প্রবেশ করালে যদি বীর্যপাত না ঘটে, তবে গোসল ওয়াজিব হয় না। (২/ ৮০)।