(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من مسند أبي بكر محمد بن هارون الروياني القسم: كتب السنة
الكتاب: منتقى من مسند أبي بكر محمد بن هارون الروياني (ت 307 هـ)
انتقاء: ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 643 هـ)
ويليه: ملحق بمرويات من طريق محمد بن هارون الروياني في مسنده
المحقق: خالد عبد العظيم الحويني
الناشر: دار الأمل، الإسكندرية - مصر
الطبعة: الثانية، 1444 هـ - 2022 م
عدد الصفحات: 104
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 شعبان 1445
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-রুয়ানির মুসনাদ থেকে মুনতাকা (নির্বাচিত অংশ) বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-রুয়ানির মুসনাদ থেকে মুনতাকা (নির্বাচিত অংশ) (ওফাত ৩০৭ হিজরি)
নির্বাচন করেছেন: জিয়াউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (ওফাত ৬৪৩ হিজরি)
এবং এর পরে যুক্ত রয়েছে: মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-রুয়ানির সূত্রে তাঁর মুসনাদে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের পরিশিষ্ট
মুহাক্কিক: খালিদ আব্দুল আজিম আল-হুওয়াইনি
প্রকাশক: দারুল আমাল، আলেকজান্দ্রিয়া - মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪৪ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪
[বইয়ের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ শাবান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣)
مُنتَقى مِنْ مُسنَدِ أبي بَكْرٍ محمَّدِ بنِ هارُونَ الرُّويانيِّ (المتوفَّى 307 هـ)
انتقاء: الحافظِ ضياءِ الدِّينِ محمَّدِ بنِ عبدِ الواحِدِ المَقْدِسيِّ (المتوفَّى 643 هـ)
ويليه: ملحَقٌ بمرويَّاتٍ مِنْ طريق محمَّد بن هارون الرُّوياني في مسنده
تحقيق: خالد عبد العظيم الحُوَيني
আবু বকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানি (মৃত্যু ৩০৭ হিজরী) এর মুসনাদ থেকে নির্বাচিত সংকলন
নির্বাচন ও সংকলন: হাফেজ জিয়াউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী)
এবং এর পরবর্তী অংশ: মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানির সূত্রে তাঁর মুসনাদে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের একটি পরিশিষ্ট
সম্পাদনা: খালিদ আব্দুল আজিম আল-হুওয়াইনি
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة وأتمُّ التسليم على سيدنا محمد المبعوث رحمةً للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعدُ،
فهذه هي الطبعة الثانية من تحقيقي لكتاب: «الجزء الأول منتقى من مسند أبي بكر محمد بن هارون الروياني» انتقاء الحافظ: ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت: 643 هـ) زدتُ فيها ملحقاً بمرويات من طريق الروياني في مسنده، (21) حديثاً من كتاب «كتاب في معاني قول النبي صلى الله عليه وسلم: [أنزل القرآن على سبعة أحرف]» ل أبي الفضل عبد الرحمن بن أحمد بن حسن الرازي (ت: 454 هـ)
(1).
وحديث واحد من «جزء مُنتَقى من الأحاديث الصحاح والحسان» جمع: ضياء الدين المقدسي.
واكتفيتُ فيه بذكر رقم الحديث في النسخة المطبوعة، وهي بتحقيق حسن ضياء الدين عتر. طبعة: أوقاف قطر.
وقد تصرَّف محققها في عنوان الكتاب، وفي أكثر من موضع في النص، فزاد فيه ما ليس منه وعدَّل، على خلاف ما هو مقرر في قواعد التحقيق، من إثبات النص كما هو، والتعليق عليه في الهامش بما يُريد؛ لذلك اعتمدتُ ما في الأصل، واستبعدتُ ما زاده المحقق وتصرَّف فيه.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর,
এটি হাফেজ জিয়াউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬৪৩ হি.) কর্তৃক চয়নকৃত «মুসনাদে আবি বকর মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আর-রুইয়ানির নির্বাচিত প্রথম অংশ» কিতাবটির আমার সম্পাদিত দ্বিতীয় সংস্করণ। এতে আমি আর-রুইয়ানির সূত্রে তাঁর মুসনাদ থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি; যা আবু আল-ফজল আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে হাসান আর-রাজি (মৃত্যু: ৪৫৪ হি.) রচিত «রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন)-এর বাণী: [সাতটি পদ্ধতিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে]-এর অর্থ বিষয়ক কিতাব» থেকে সংগৃহীত (২১)টি হাদিস
(১)।
এবং জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি সংকলিত «সহিহ ও হাসান হাদিসসমূহ থেকে নির্বাচিত অংশ» হতে একটি হাদিস।
আমি এতে মুদ্রিত সংস্করণের হাদিস নম্বর উল্লেখ করার ওপরই যথেষ্ট করেছি, যা হাসান জিয়াউদ্দিন ইতর-এর সম্পাদনায় কাতার আওকাফ থেকে প্রকাশিত।
উক্ত সংস্করণের সম্পাদক কিতাবের শিরোনামে এবং পাঠ্যের একাধিক স্থানে রদবদল করেছেন; তিনি এতে এমন কিছু যোগ করেছেন যা মূল কিতাবের অংশ নয় এবং পরিবর্তন সাধন করেছেন, যা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার পরিপন্থী। নিয়ম হলো মূল পাঠ্যকে অবিকল রাখা এবং প্রয়োজনবোধে টীকাতে নিজের মন্তব্য প্রদান করা। তাই আমি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি এবং সম্পাদক যা কিছু বৃদ্ধি ও পরিবর্তন করেছেন তা বর্জন করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٦)
وقد حاولتُ الحصول على نسخة خطية للكتاب محفوظة في المدرسة الأحمدية بحلب، فلم أُوفَّق في ذلك.
وأسأل الله أن ينفع به كل مَنْ وقف عليه، وأن يجعله في ميزان حسناتي يوم ألقاه.
وآخر دعوانا أنِ الحمد لله رب العالمين.
كتب
خالد عبد العظيم الحويني
قرية حوين- مركز الرياض- كفر الشيخ- مصر
يوم الأحد 28 شوال 1443 هـ
29 مايو 2022 م
আমি সিরিয়ার হালাবে অবস্থিত আল-মাদ্রাসা আল-আহমাদিয়াতে সংরক্ষিত এই কিতাবটির একটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমি তাতে সফল হতে পারিনি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা এর প্রতিটি পাঠককে উপকৃত করেন এবং যেদিন আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব, সেদিন যেন তিনি আমলনামার পাল্লায় একে আমার নেক আমল হিসেবে কবুল করেন।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখক
খালিদ আব্দুল আজিম আল-হুওয়াইনি
হুওয়াইন গ্রাম- রিয়াদ কেন্দ্র- কাফরুশ শাইখ- মিশর
রবিবার, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি
২৯ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٧)
مقدمة الطبعة الأولىإنَّ الحمدَ للهِ، نحمَدُه، ونستعينُه، ونستغفرُه، ونعوذُ باللهِ مِنْ شرورِ أنفُسِنا، ومن سيِّئاتِ أعمالِنا. مَنْ يهدِه اللهُ فلا مُضلَّ له، ومَنْ يضلِلْ فلا هاديَ له. وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهَ، وحدَه لا شريكَ له، وأشهَدُ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه.
أمَّا بعدُ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا* يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71]
الإمامُ الحافظُ أبو بكرٍ محمدُ بنُ هارونَ الرُّويانيُّ (ت: 307 هـ) أحدُ أعلامِ هذه الأمَّةِ المجيدةِ، المشهودِ لهم بالثِّقةِ والحفظِ والدِّيانةِ.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]
ইমাম হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন আর-রুয়ানি (মৃত্যু: ৩০৭ হিজরি) এই মহিমান্বিত উম্মতের অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ ইমাম, যাঁর নির্ভরযোগ্যতা, স্মৃতিশক্তি এবং দ্বীনদারির বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٨)
صاحبُ المُسنَدِ المشهورِ، عالي الطَّبقةِ؛ أدركَ شيوخَ شيوخِه، وعُمِّر دهرًا طويلًا، حتى سَمِعَ منه المُسنَدَ الجَمُّ الغفيرُ مِنْ أصحابِ الحديثِ.
امتازَ مُسْنَدُه رحمه الله بعُلوِّ إسنادِه، وعِزَّةِ مروياتِه ونُدرتِها في المصادرِ الحديثيَّةِ الأخرَى.
لم يصلْنا مِنْ مسندِه إلَّا قطعةٌ وحيدةٌ، وهذا النَّقصُ وقعَ قديمًا في القرْنِ الخامسِ الهجريِّ وبعدَه.
قال ابنُ نُقطةَ (ت: 629 هـ): «وجمَع مُسنَدًا وقع إلينا بعضُه
بأصبَهانَ»
(1).
وقال أيضًا: «حدَّث ببغدادَ وبأصبهانَ ببعضِ مُسنَدِ أبي بكرٍ محمدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ، وهو القدْرُ المسموعُ من أبي الفضلِ الرَّازيِّ»
(2).
وقال أيضًا: «وسُمِعَ من أبي عبدِ اللهِ الخلَّالِ ما رَوَى من مُسنَدِ محمدِ ابنِ هارونَ الرُّويانيِّ»
(3)وقال الحافظُ ابنُ حجَرٍ: «ووقفتُ أيضًا على قِطَعٍ من عدَّةِ مسانيدَ، كمُسنَدِ .. ومحمدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ»
(4)--------------------------------------------
প্রসিদ্ধ মুসনাদ গ্রন্থের প্রণেতা, উচ্চ স্তরের বর্ণনাকারী; তিনি তাঁর উস্তাদদের উস্তাদদের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন, যার ফলে হাদিস বিশারদদের এক বিশাল জামাত তাঁর নিকট থেকে মুসনাদটি শ্রবণ করেছেন।
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) মুসনাদ গ্রন্থটি এর সনদের উচ্চমর্যাদা এবং অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে এর বর্ণনাসমূহের দুষ্প্রাপ্যতা ও বিরলতার কারণে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে।
তাঁর মুসনাদ থেকে কেবল একটি খণ্ডই আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং এই অসম্পূর্ণতা প্রাচীনকালেই অর্থাৎ হিজরি পঞ্চম শতাব্দী এবং এর পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হয়েছে।
ইবনে নুকতাহ (মৃত্যু: ৬২৯ হি.) বলেন: «তিনি একটি মুসনাদ সংকলন করেছিলেন যার কিছু অংশ আমাদের নিকট
ইসফাহানে পৌঁছেছে»
(১)।
তিনি আরও বলেন: «তিনি বাগদাদ ও ইসফাহানে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানির মুসনাদ থেকে কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন এবং এটিই সেই পরিমাণ যা আবুল ফজল আর-রাজি থেকে শ্রবণ করা হয়েছে»
(২)।
তিনি আরও বলেন: «আবু আব্দুল্লাহ আল-খাল্লাল মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানির মুসনাদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করা হয়েছে»
(৩)হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «আমি বেশ কিছু মুসনাদ গ্রন্থের খণ্ডাংশের খোঁজ পেয়েছি, যেমন মুসনাদে... এবং মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি»
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٩)
أخي القارئَ الكريمَ:
هذا الجزءُ الذي بينَ يدَيكَ هو منتَقًى مِنْ هذا المُسنَدِ المبارَكِ، يُنشَرُ لأوَّلِ مرَّةٍ، انتقاه الإمامُ الحافظُ الكبيرُ ضياءُ الدِّينِ محمدُ بنُ عبدِ الواحدِ المَقدسيُّ رحمه الله (ت: 643 هـ).
ترجِعُ أهميتُه إلى كونِ أسانيدِه غيرَ موجودةٍ بالقطعةِ المطبوعةِ منْ مُسنَدِ الرُّويانيِّ، فهي تُنشَرُ لأوَّلِ مرَّةٍ، ولعلَّ اللهَ سبحانَه يمُنُّ علينا بما تبقَّى من هذا المُسنَدِ المبارَكِ.
وكان
منهجي في تحقيقِه كالتالي:
أولًا: قمتُ بنسخِ المخطوطِ عن أصلِه، مُراعيًا علاماتِ التَّرقيمِ الحديثةَ.
ثانيًا: كتبتُ الآياتِ القرآنيةَ بالرَّسمِ العُثمانيِّ، مع عَزوِها لمواضِعها من المصحفِ الشَّريفِ.
ثالثًا: رقمتُ أسانيدَه، وشرحتُ غريبَه، وضبطتُ ما يُشكِلُ في النَّصِّ.
رابعًا: خرَّجتُ أحاديثَه، واكتفيتُ فيه بمَن أخرجَه مِنْ طريقِ المصنِّفِ، أو تابَعَه، أو تابع شيخه على روايتِه وهكذا.
خامسًا: وضعتُ فهرسًا للآياتِ، والأحاديثِ، والمراجِعِ، ثُمَّ فهرسًا عامًّا.
سادسًا: قدَّمتُ للنَّصِّ ب:
ترجمةٍ لصاحبِ المُسنَدِ، محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ، ورُواةِ الجزءِ عنه، وترجمةِ الضِّياءِ المَقدِسيِّ.
হে আমার প্রিয় সম্মানিত পাঠক:
আপনার হাতে থাকা এই অংশটি এই বরকতময় মুসনাদ থেকে একটি সংকলন, যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে; এটি সংকলন করেছেন মহান ইমাম হাফেয দিয়াউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি)।
এর গুরুত্ব এই যে, এর সনদগুলো মুসনাদে রুয়ানির মুদ্রিত অংশে বিদ্যমান নেই, তাই এটি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। আশা করা যায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই বরকতময় মুসনাদের অবশিষ্ট অংশগুলো দান করার মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করবেন।
এটি
সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
প্রথমত: আমি পাণ্ডুলিপিটি এর মূল উৎস থেকে অনুলিপি করেছি এবং আধুনিক বিরামচিহ্নগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখেছি।
দ্বিতীয়ত: আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে উসমানি লিপিতে লিখেছি এবং পবিত্র মুসহাফে সেগুলোর স্থান নির্দেশ করেছি।
তৃতীয়ত: আমি এর সনদগুলোর নম্বর প্রদান করেছি, এর কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং পাঠ্যের অস্পষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছি।
চতুর্থত: আমি এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছি এবং এতে কেবল গ্রন্থকারের সূত্রে যারা বর্ণনা করেছেন, অথবা যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন, কিংবা তাঁর শায়খের বর্ণনার অনুসরণ করেছেন, তাঁদের উল্লেখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
পঞ্চমত: আমি আয়াত, হাদিস ও তথ্যসূত্রের একটি নির্ঘণ্ট এবং এরপর একটি সাধারণ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
ষষ্ঠত: আমি মূল পাঠের শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
মুসনাদ রচয়িতা মুহাম্মাদ বিন হারুন আল-রুয়ানি এবং তাঁর নিকট থেকে এই অংশের বর্ণনাকারীদের জীবনী, এবং দিয়া আল-মাকদিসির জীবনী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ثمَّ وصفتُ النُّسخةَ الخطِّيةَ، وأتبعتُها بصورٍ منها.
وختامًا، أسألُ اللهَ الكريمَ سبحانَه أنْ يتقبلَه منِّي، وأنْ يرضَى به عنِّي، وأن يجعلَه خالصًا لوجهِه الكريمِ، إنَّه وليُّ ذلك والقادرُ عليه.
وآخرُ دعْوانا أنِ الحمدُ للهِ ربِّ العالَمينَ.
وصلَّى اللهُ وسلَّم وباركَ على سيدِنا محمَّدٍ وعلى آلِه وصحبِه أجمعينَ.
وكتب
خالد عبد العظيم الحويني
قرية حُوين -مركز الرياض - كفر الشيخ - مصر
صباح الجمعة 20 ذو الحجة 1442 هـ
30 يوليو 2021 م
অতঃপর আমি পাণ্ডুলিপিটি বর্ণনা করেছি এবং এর সাথে তার কিছু চিত্রও সংযুক্ত করেছি।
সবশেষে, আমি মহিয়ান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করেন, এর মাধ্যমে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং একে শুধুমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আল্লাহ তাঁর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
লিখিত
খালিদ আব্দুল আযীম আল-হুওয়াইনী
হুওয়াইন গ্রাম - রিয়াদ কেন্দ্র - কাফরুশ শাইখ - মিশর
জুমুআর সকাল, ২০ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
৩০ জুলাই ২০২১ ঈসায়ী
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١١)
ترجمةُ صاحبِ المُسنَدِمحمَّدِ بنِ هارُونَ الرُّويانيِّ
اسمُه (1):
هو أبو بكرٍ محمَّدُ بنُ هارونَ الرُّويانيُّ الرَّازيُّ الآمُلِيُّ الطَّبَريُّ.
الرُّويانيُّ: هذه النِّسبةُ إلى رُويانَ، وهي بلدةٌ بنواحي طَبرسْتانَ، خرَج منها جماعةٌ من أهلِ العِلمِ
(2).
الآمُلِيُّ: كذا نسبَه المقريزيُّ
(3). وهي آمُلُ طَبرسْتانَ.
الطَّبَريُّ: كذا نسبَه أبو العبَّاسِ أحمدُ بنُ المظفَّرِ البَكرِيُّ، فقال: «سمِعتُ محمَّدَ بنَ هاورنَ الطَّبَريَّ»
(4).
مولِدُه:لم أقفْ على سنةِ مولِدِه تصريحًا، ولكنْ يظهَرُ لي أنَّه قد وُلِد في حدودِ سنةِ (210 هـ) أو قبلَها بقليلٍ.
--------------------------------------------
মুসনাদ প্রণেতার জীবনীমুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি
তাঁর নাম (১):
তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি আর-রাজি আল-আমুলি আত-তবারি।
আর-রুয়ানি: এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) রুয়ানের দিকে, যা তাবারস্তানের পার্শ্ববর্তী একটি শহর। সেখান থেকে একদল আলেম বের হয়েছেন
(২)।
আল-আমুলি: মাকরিজি তাঁকে এভাবে নিসবত করেছেন
(৩)। আর এটি হলো তাবারস্তানের আমুল।
আত-তবারি: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল মুজাফফর আল-বাকরি তাঁকে এভাবে নিসবত করেছেন এবং বলেছেন: «আমি মুহাম্মদ ইবনে হারুন আত-তবারিকে বলতে শুনেছি»
(৪)।
তাঁর জন্ম:আমি তাঁর জন্মসাল সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাইনি, তবে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে তিনি ২১০ হিজরি নাগাদ বা তার কিছুটা আগে জন্মগ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وذلكَ أنَّه روَى في المُسنَدِ في الموضِعِ (1519) عن أبي سعيدٍ الشَّاشيِّ، وهو عيسى بنُ سالمٍ الملَّقبُ ب عُوَيسٍ، وقد تُوفِّيَ أبو سعيدٍ هذا سنةَ (232 هـ) كما في ترجمتِه من تاريخِ بغدادَ (11/ 161) ووفَيَاتِ الشُّيوخِ للبَغَويِّ (88)
(1).
رحلتُه في طلَبِ العِلمِ:قال الخليليُّ: «سمِعَ بالعراقِ بُنْدارًا، وأبا موسى، ويحيى بنَ حَبيبٍ. وبمصرَ المُزَنيَّ، والرَّبيعينِ
(2)، وابنَ عبدِ الحَكَمِ»
(3).
قال ابنُ نُقطةَ: «حدَّث عن محمَّدِ بنِ بشَّارٍ .. وخلقٍ كثيرٍ غيرِ هؤلاءِ ببغدادَ، والبصرةِ، ومصرَ»
(4).
قال الذَّهبيُّ: «وله الرِّحلةُ الواسعةُ»
(5).
ثناءُ العلماءِ عليه:قال الخليليُّ: «ثقةٌ»
(6).
وقال ابنُ نُقطةَ: «صاحبُ المُسنَدِ، طاف البلادَ، ثقةٌ إمامٌ»
(7).
وقال الذَّهبيُّ: «الإمامُ الحافظُ الثِّقةُ .. صاحبُ المُسنَدِ المشهورِ .. وله الرِّحلةُ الواسعةُ، والمعرفةُ التَّامَّةُ»
(8).
--------------------------------------------
এটি এ কারণে যে, তিনি মুসনাদ গ্রন্থের (১৫১৯) নম্বর স্থানে আবু সাঈদ আশ-শাশি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি ঈসা বিন সালিম এবং 'উওয়াইস' উপাধিতে পরিচিত। এই আবু সাঈদ ২৩২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন যেমনটি তাঁর জীবনীতে তারিখু বাগদাদ (১১/ ১৬১) এবং বাগাওয়ির ওফায়াতুশ শুয়ুখ (৮৮)-এ বর্ণিত হয়েছে
(১)।
ইলম অর্জনে তাঁর সফর:আল-খলিলি বলেছেন: «তিনি ইরাকে বুন্দার, আবু মুসা এবং ইয়াহইয়া বিন হাবিবের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আর মিশরে আল-মুজানি, দুই রবি'
(২) এবং ইবনে আব্দুল হাকাম থেকে»
(৩)।
ইবনে নুকতাহ বলেছেন: «তিনি মুহাম্মাদ বিন বাশশার... এবং এঁদের ছাড়া বাগদাদ, বসরা ও মিশরের আরও অসংখ্য লোক থেকে বর্ণনা করেছেন»
(৪)।
আজ-জাহাবি বলেছেন: «তাঁর ব্যাপক সফর ছিল»
(৫)।
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:আল-খলিলি বলেছেন: «তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)»
(৬)।
ইবনে নুকতাহ বলেছেন: «তিনি মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা, বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন, নির্ভরযোগ্য ও ইমাম»
(৭)।
আজ-জাহাবি বলেছেন: «তিনি ইমাম, হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য... সুপ্রসিদ্ধ মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা... তাঁর ব্যাপক সফর এবং পূর্ণাঙ্গ ইলমি গভীরতা ছিল»
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقال ابنُ العِمادِ: «وكان منَ الثِّقاتِ»
(1).
شيوخُه:من شيوخِه رحمه الله:
أحمدُ بنُ سِنانٍ الواسِطيُّ، وأحمدُ بنُ عبدِ الرَّحمنِ بنِ وَهْبٍ، وإسحاقُ بنُ شاهينَ الواسِطيُّ، والرَّبيعُ بنُ سليمانَ الجِيزيُّ، والرَّبيعُ بنُ سليمانَ المُراديُّ، والعبَّاسُ بنُ محمَّدٍ الدُّورِيُّ، وعمرو بنُ عليٍّ الفلَّاسُ، ومحمَّدُ بنُ إسحاقَ الصَّغانيُّ، ومحمَّدُ بنُ إسماعيلَ البُخارِيُّ، ومحمَّدُ بنُ حربٍ الواسِطيُّ النَّشَّائيُّ، ومحمَّدُ بنُ العلاءِ أبو كُريبٍ، ونصرُ بنُ عليٍّ الجهْضَميُّ، ويونُسُ بنُ عبدِ الأعلَى، وأبو حاتمٍ الرَّازيُّ، وأبو زُرعةَ الرَّازيُّ، وأبو سعيدٍ الأشَجُّ.
تلاميذُه:من تلاميذِه رحمه الله:
إبراهيمُ بنُ أحمدَ القرميسينيُّ، وأحمدُ بنُ المظفَّرِ البَكْريُّ أبو العبَّاسِ، جعفرُ بنُ عبدِ اللهِ بنُ فنَّاكِيٍّ، ومحمَّدُ بنُ أحمدَ بنِ عليٍّ الآمُلِيُّ الفقيهُ أبو العبَّاسِ، وأبو بكرٍ الإسماعيليُّ.
--------------------------------------------
এবং ইবনুল ইমাদ বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন"
(১).
তাঁর শিক্ষকগণ:তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
আহমাদ বিন সিনান আল-ওয়াসিতি, আহমাদ বিন আবদুর রহমান বিন ওয়াহাব, ইসহাক বিন শাহীন আল-ওয়াসিতি, আর-রাবী বিন সুলাইমান আল-জিযি, আর-রাবী বিন সুলাইমান আল-মুরাদি, আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরি, আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি, মুহাম্মদ বিন হারব আল-ওয়াসিতি আন-নাশশায়ি, মুহাম্মদ বিন আল-আলা আবু কুরাইব, নাসর বিন আলী আল-জাহদামি, ইউনুস বিন আবদিল আ'লা, আবু হাতিম আর-রাযি, আবু যুরআহ আর-রাযি এবং আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ।
তাঁর ছাত্রগণ:তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-কারমিসিনি, আহমাদ বিন আল-মুজাফ্ফার আল-বাকরি আবু আল-আব্বাস, জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন ফান্নাকি, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-আমুলি আল-ফকিহ আবু আল-আব্বাস এবং আবু বকর আল-ইসমাঈলি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
مؤلَّفاتُه:قال الخليليُّ: «وله تصانيفُ في الفقهِ والحديثِ»
(1).
منها:
1 - أحاديثُ أبي عَوانةَ الوضَّاح اليَشكُري.
2 - أحاديثُ الغُرَرِ، أو الغُرَرُ والدُّرَرُ.
3 - مُسنَدُ الرُّويانيِّ.
4 - المنتخَب مِنْ حديث أبي كُريب.
جاء في إجازةِ ابنِ سَعْدويهِ لابنِ الطَّبَّاخِ ما نَصُّه:
«سمِعَ منِّي الفاضلُ أبو محمَّدٍ المباركُ بنُ عليِّ بنِ الحسينِ الطَّبَّاخُ جميعَ مُسنَدِ الرُّويانيِّ، وهو ثلاثةٌ وثلاثون جزءًا في نسختي، وانتسخ منه جملةً بروايتي عن الشَّيخِ الأجمعِ أبي الفضلِ الرَّازيِّ، عن أبي القاسمِ الفنَّاكيِّ، عن أبي بكرٍ الرُّويانيِّ رحمةُ اللهِ عليهم.
وسمِعَ منِّي أيضًا: أحاديثَ الغُرَرِ عن أبي بكرٍ الرُّويانيِّ، وهي سبعةُ أجزاءٍ بروايتي عنِ الشَّيخِ أبي الفضلِ، عنِ المَذكورينَ.
وسمِعَ منِّي أيضًا: أحاديثَ أبي عَوانةَ وضَّاح، وهي ستَّةُ أجزاءٍ في نسختي بروايتي عن الشَّيخِ أبي الفضلِ أيضًا، بروايتِه عنِ ابنِ فنَّاكيٍّ، عنِ الرُّويانيِّ، عن أبي الرَّبيعِ السَّمْتيِّ، عن أبي عَوانةَ
… »
(2)--------------------------------------------
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:আল-খলিলি বলেন: «ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে»
(১).
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - আবু আওয়ানাহ আল-ওয়াদ্দাহ আল-ইয়াশ কুরির হাদিসসমূহ।
২ - আহাদিসুল গুরার, অথবা আল-গুরার ওয়া আদ-দুরার।
৩ - মুসনাদ আল-রুয়ানি।
৪ - আল-মুনতাখাব মিন হাদিসি আবি কুরাইব।
ইবনে তাব্বাখের প্রতি ইবনে সাদাউয়াইহের ইজাজতে (অনুমতিপত্রে) নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে:
«গুণী ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মদ আল-মুবারাক বিন আলি বিন আল-হুসাইন আল-তাব্বাখ আমার কাছ থেকে পূর্ণ মুসনাদ আল-রুয়ানি শ্রবণ করেছেন; যা আমার পাণ্ডুলিপিতে তেত্রিশ খণ্ড। তিনি শায়খ আল-আজমা আবু আল-ফজল আল-রাজি থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম আল-ফান্নাকি থেকে এবং তিনি আবু বকর আল-রুয়ানি (আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে আমার বর্ণিত সূত্রে এর একটি অনুলিপি তৈরি করেছেন।
তিনি আমার থেকে আরও শ্রবণ করেছেন: আবু বকর আল-রুয়ানি বর্ণিত আহাদিসুল গুরার; যা শায়খ আবু আল-ফজল ও উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের সূত্রে আমার বর্ণনায় সাত খণ্ডে সমাপ্ত।
তিনি আমার থেকে আরও শ্রবণ করেছেন: ওয়াদ্দাহ আবু আওয়ানাহর হাদিসসমূহ; যা আমার পাণ্ডুলিপিতে ছয় খণ্ড। এটিও শায়খ আবু আল-ফজলের সূত্রে আমার বর্ণিত, তিনি ইবনে ফান্নাকি থেকে, তিনি আল-রুয়ানি থেকে, তিনি আবু আল-রবি আল-সামতি থেকে এবং তিনি আবু আওয়ানাহ থেকে বর্ণনা করেছেন...»
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وقال الحافظُ ابنُ حجَرٍ:
« .. وجزءًا فيه «المنتخَبُ مِنْ حديثِ أبي كُريبٍ محمدِ بنِ العَلاءِ بنِ كُريبٍ» بإجازتِه مِنَ التَّقِيِّ سليمانَ قال: أخبرَنا الضِّياءُ، قال: أخبرَنا أبو أحمدَ محمَّدُ بنُ أبي نصرٍ سعيدِ بنِ أحمدَ المؤَذِّنُ بسَماعِه، مِنْ أمِّ البَهاءِ فاطمةَ بنتِ الإمامِ محمَّدِ بنِ أبي سعدٍ البغداديِّ قالت: أخبرَنا أبو الفضلِ عبدُ الرَّحمنِ بنُ أحمدَ بنِ الحسنِ الرَّازيُّ، قال: أخبرَنا جعفرُ بنُ عبدِ اللهِ ابنِ فنَّاكيٍّ قال: أخبرَنا أبو بكرٍ محمَّدُ بنُ هارونَ الرُّويانيُّ عنه، أوَّلُه حديثُ ابنِ عُمَرَ في النَّهْيِ عن بيعِ الغَررِ، وآخرُه: فإنَّها سِلاحٌ.
وهذا الجزءُ مُنتخَبٌ مِنْ ثلاثةِ أجزاءٍ فيها: نُسخةُ أبي كُريبٍ روايةُ الرُّويانيِّ المذكورِ عنه، وقد سمِعَها كلَّها أبو بكرِ بنُ يوسُفَ المِزِّيُّ مِنْ أبي عليٍّ البَكْريِّ بسماعِه من ستيكَ بنتِ مَعْمَرِ بنِ الفاخِرِ بسماعِها من فاطمةَ بنتِ البغداديِّ المذكورةِ»
(1)
وفاتُه:تُوُفِّيَ رحمه الله سنةَ ثلاثِ مئةٍ وسبعٍ.
--------------------------------------------
এবং হাফেজ ইবনু হাজার বলেন:
« .. এবং একটি খণ্ড যাতে রয়েছে ‘আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ইবনে কুরাইবের হাদিস থেকে সংকলিত অংশ’ (আল-মুনতাখাব), যা আত-তাকি সুলাইমানের নিকট থেকে প্রাপ্ত তাঁর ইজাজতসহ বর্ণিত। তিনি বলেন: আদ-দিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবনে আবি নাসর সাঈদ ইবনে আহমাদ আল-মুআজ্জিন তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি উম্মুল বাহা ফাতিমা বিনতে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আবি সা’দ আল-বাগদাদির নিকট থেকে। তিনি বলেন: আবুল ফজল আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ফান্নাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি তাঁর নিকট থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এর শুরুতে রয়েছে ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় (বায়উল গারার) নিষেধ সংক্রান্ত ইবনে উমরের হাদিস, আর এর শেষে রয়েছে: ‘কেননা তা অস্ত্রস্বরূপ’।
এবং এই খণ্ডটি তিনটি খণ্ড থেকে সংকলিত, যাতে রয়েছে: উল্লেখিত আর-রুয়ানির বর্ণনায় আবু কুরাইবের পাণ্ডুলিপি। আবু বকর ইবনে ইউসুফ আল-মিজ্জি এর পুরো অংশটি আবু আলী আল-বাকরির নিকট থেকে শুনেছেন, যা তিনি মুয়াম্মার ইবনুল ফাখিরের কন্যা সিতাইকা-র নিকট শ্রবণের মাধ্যমে এবং তিনি (সিতাইকা) উল্লেখিত ফাতিমা বিনতে আল-বাগদাদির নিকট শ্রবণের মাধ্যমে লাভ করেছেন।»
(১)
তাঁর মৃত্যু:তিনি রহিমাহুল্লাহ তিনশত সাত হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
تنبيهانِ حولَ مُسنَدِ الرُّويانيِّالأوَّلُ:
قال المناويُّ (ت: 1031 هـ): «الدَّارِميُّ: عبدُ اللهِ بنُ عبدِ الرَّحمنِ السَّمَرْقنديُّ في مُسنَدِه المشهورِ له بالتَّرجيحِ المُستحَقِّ لِأَنْ يُسمَّى بالصَّحيحِ. قال الحافظُ ابنُ حجَرٍ: «مُسنَدُ الدَّارميِّ ليس دونَ السُّنَنِ في الرُّتبةِ، بلْ لو ضُمَّ إلى الخمسةِ لكان أولَى منِ ابنِ ماجَهْ؛ فإنَّه أمْثَلُ منه بكثيرٍ»
(1).
وقال في موضعٍ آخرَ-وهو تصحيفٌ ظاهرٌ-: «الرُّويانيُّ بضمِّ الرَّاءِ وسُكونِ الواوِ وفتحِ المُثناةِ التَّحتيَّةِ وبعدَ الألفِ نونٌ نِسبةً إلى مدينةٍ بناحيةِ طَبرِسْتانَ، واسمُه محمَّدُ بنُ هارونَ الحافظُ في مُسنَدِه المشهورِ. قال ابنُ حجَرٍ: «مُسنَدُ الرُّويانيِّ ليس دون السِّتِّ في الرُّتبةِ، بل لو ضُمَّ إلى الخمسةِ كان أولَى منِ ابنِ ماجَهْ؛ فإنَّه أمْثَلُ منه بكثيرٍ» إلى هُنا كلامُه»
(2).
فالمناويُّ نقلَ النَّصَّ نفسَه عن الحافظِ ابنِ حجَرٍ مرَّةً في مُسنَدِ الدَّارميِّ، ومرَّةً في مُسنَدِ الرُّويانيِّ!!
وقال محمَّدُ بنُ أبي الفيضِ الكَتَّانيُّ (ت: 1345 هـ): «ومُسنَدُ أبي بكرٍ محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ .. قال ابنُ حجَرٍ: «إنَّه ليس دونَ السُّنَنِ في الرُّتبةِ»
(3).
--------------------------------------------
মুসনাদে রুয়ানি সম্পর্কে দুটি সতর্কবার্তাপ্রথমটি:
আল-মানাবি (মৃত্যু: ১০৩১ হি.) বলেছেন: «আদ-দারিমি: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সামারকান্দি তাঁর প্রসিদ্ধ মুসনাদ গ্রন্থে যা 'সহিহ' নাম পাওয়ার যোগ্য শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: «মুসনাদে দারিমি মর্যাদার দিক থেকে সুনান গ্রন্থসমূহের চেয়ে নিচে নয়, বরং যদি একে পাঁচটি কিতাবের (কুতুবে খামসা) সাথে যুক্ত করা হতো তবে তা ইবনে মাজাহর চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য হতো; কেননা এটি তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত»
(১)।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন—যা একটি স্পষ্ট অনুলিখন প্রমাদ (তাসহিফ)—: «আর-রুয়ানি: 'রা' বর্ণে পেশ, 'ওয়াও' বর্ণে সাকিন এবং নিচের দুই নুক্তাবিশিষ্ট বর্ণে (ইয়া) জবর সহযোগে এবং আলিফের পর 'নুন', যা তাবারিস্থান অঞ্চলের একটি শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত; তাঁর নাম হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে হারুন, তাঁর প্রসিদ্ধ মুসনাদ গ্রন্থে। ইবনে হাজার বলেছেন: «মুসনাদে রুয়ানি মর্যাদার দিক থেকে ছয়টি কিতাবের (সিত্তাহ) চেয়ে নিচে নয়, বরং যদি একে পাঁচটি কিতাবের সাথে যুক্ত করা হতো তবে তা ইবনে মাজাহর চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য হতো; কেননা এটি তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত»—তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত»
(২)।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে মানাবি একই উদ্ধৃতি হাফেজ ইবনে হাজার থেকে একবার মুসনাদে দারিমির ক্ষেত্রে এবং অন্যবার মুসনাদে রুয়ানির ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন!!
মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-ফাইজ আল-কাত্তানি (মৃত্যু: ১৩৪৫ হি.) বলেছেন: «এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানির মুসনাদ... ইবনে হাজার বলেছেন: «নিশ্চয়ই এটি মর্যাদার দিক থেকে সুনান গ্রন্থসমূহের চেয়ে নিচে নয়»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
قلتُ: وهذا وهْمٌ منهما، فقولُ الحافظِ كان في مُسنَدِ الدَّارميِّ وليس مُسنَدِ الرُّويانيِّ.
قال البِقاعيُّ (ت: 885 هـ): «قال شيخُنا: وأمَّا هذا السُّنَنُ المُسمَّى ب: «مُسنَدِ الدَّارميِّ»، فإنَّه ليس دونَ السُّنَنِ في المَرتبةِ، بل لو ضُمَّ إلى الخمسةِ لكان أولَى منِ ابنِ ماجهْ؛ فإنَّه أمْثَلُ منه بكثيرٍ»
(1).
وهذا الخطأُ تابَعَ فيه الكَتَّانيَّ أيمنُ عليّ أبو يمانِي محقِّقُ مسندِ الرُّويانيِّ، فبَعدَ نقلِه كلامَ الكَتَّانيِّ السَّابقَ قال: «وليس زُخرُفًا منَ القولِ أنْ أؤكدَ أنَّ ما قاله الحافظُ ابنُ حجَرٍ في شأنِ المُسنَدِ إنَّما هو راجعٌ بالدَّرجةِ الأولَى إلى طبيعةِ مرويَّاتِ المُسنَدِ التي هي في غالِبِها أحاديثُ أحكامٍ وجوامعُ، فَلَكَأنَّما هي سُنَنٌ رُتِّبَتْ على المسانيدِ»
(2).
وكذا تبِعَ الكَتَّانيَّ الباحثُ حمزةُ زرور في رسالتِه للماجستير المُسمَّاةِ ب «زوائدِ مُسنَدِ الإمامِ أبي بكرٍ الرُّويانيِّ على الكتبِ السِّتَّةِ ومُسنَدِ أحمدَ» (ص: ب). جامعة العقيد الحاج لخضر -باتنة-، كلية العلوم الاجتماعية والعلوم الإسلامية، قسم أصول الدِّين. الجزائر، سنة 1431 هـ/ 2010 م.
الثَّاني: في كتابِ «المَطالبِ العاليةْ بزوائدِ المَسانيدِ الثَّمانيةْ» للحافظِ ابنِ حجَرٍ العسْقلانيِّ، طبعة دارِ العاصمةِ، لمجموعةٍ من باحثي الماجستير، وفي نهايةِ المُجلَّدِ العاشرِ، عقَدَ محقِّقُ الجزءِ فهرسًا للمصادرِ والمراجعِ، وفي (10/ 866) قال: «مُسنَدُ
--------------------------------------------
আমি বলছি: এটি তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে একটি ভ্রম, কারণ হাফিজের বক্তব্যটি ছিল 'মুসনাদে দারেমি' সম্পর্কে, 'মুসনাদে রুয়ানি' সম্পর্কে নয়।
বিকায়ি (মৃত্যু: ৮৮৫ হিজরি) বলেছেন: «আমাদের শায়খ বলেছেন: আর এই সুনান গ্রন্থটি যা «মুসনাদে দারেমি» নামে পরিচিত, সেটি মর্যাদার দিক থেকে সুনান গ্রন্থগুলোর তুলনায় কম নয়। বরং একে যদি 'পাঁচটি' গ্রন্থের সাথে যুক্ত করা হতো, তবে তা ইবনে মাজাহর চেয়ে অধিক উপযুক্ত হতো; কারণ এটি তার তুলনায় অনেক বেশি উত্তম»
(১)।
আর এই ভুলের ক্ষেত্রে কাত্তানিকে অনুসরণ করেছেন «মুসনাদে রুয়ানি»-র মুহাক্কিক আয়মান আলী আবু ইয়ামানি। কাত্তানির পূর্বোক্ত বক্তব্যটি উদ্ধৃত করার পর তিনি বলেছেন: «এটি কোনো অলঙ্কৃত কথা নয় যে আমি জোর দিয়ে বলছি, মুসনাদ সম্পর্কে হাফিজ ইবনে হাজার যা বলেছেন তা প্রধানত মুসনাদের বর্ণিত হাদিসগুলোর প্রকৃতির দিকেই ফিরে যায়, যা মূলত বিধিবিধান ও ব্যাপক অর্থবোধক হাদিস। ফলে এটি যেন এমন এক সুনান যা মুসনাদ হিসেবে বিন্যস্ত করা হয়েছে»
(২)।
একইভাবে গবেষক হামজা জারুরও কাত্তানিকে অনুসরণ করেছেন তার মাস্টার্স থিসিসে, যার শিরোনাম «জুওয়াইদে মুসনাদে ইমাম আবু বকর আর-রুয়ানি আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদে আহমাদ» (পৃষ্ঠা: ব)। আল-আকিদ আল-হাজ্জ লাখদার বিশ্ববিদ্যালয় -বাতনা-, সামাজিক বিজ্ঞান ও ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ, উসুলুদ দ্বীন বিভাগ। আলজেরিয়া, ১৪৩১ হিজরি/ ২০১০ খ্রিস্টাব্দ।
দ্বিতীয়ত: হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানির «আল-মাতালিবুল আলিয়া বি-জাওয়াইদিল মাসানিদিস সামানিয়াহ» গ্রন্থে, যা একদল মাস্টার্স গবেষকের সম্পাদনায় দারুল আসিমা থেকে প্রকাশিত। দশম খণ্ডের শেষে এই অংশের মুহাক্কিক উৎস ও সহায়ক গ্রন্থের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন এবং (১০/৮৬৬) পৃষ্ঠায় বলেছেন: «মুসনাদু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الرُّويانيِّ، لأبي بكرٍ محمَّدٍ الدَّوْرَقيِّ، تحقيق عامر حسن صبري، دار البشائر الإسلامية، بيروت، الطبعة الأولى، 1407 هـ».
وهذا وهْمٌ عجيبٌ، حتى في اسمِ مُصنِّفِه. فهذا «مُسنَدُ سعدِ بنِ أبي وقَّاصٍ» لأبي عبدِ اللهِ أحمدَ بنِ إبراهيمَ بنِ كَثيرٍ الدَّوْرَقيِّ (ت: 246 هـ). حققه د/ عامر حسن صبري، وطُبع عن دار البشائر الإسلامية، الطبعة الأولى 1407 هـ، ولا علاقةَ له من قريبٍ ولا من بعيدٍ ب «مُسنَدِ الرُّويانيِّ».
রুয়ানি-র (মুসনাদ), আবু বকর মুহাম্মদ আদ-দাওরাকি-র রচিত, সম্পাদনায় আমের হাসান সাবরি, দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি।»
এটি এক বিস্ময়কর বিভ্রম, এমনকি এর সংকলকের নামের ক্ষেত্রেও। বস্তুত এটি হলো আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে কাসির আদ-দাওরাকি (ওফাত: ২৪৬ হি.) রচিত «মুসনাদু সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস»। ড. আমের হাসান সাবরি এটি সম্পাদনা করেছেন এবং দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৪০৭ হিজরিতে এর প্রথম সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছে; «মুসনাদুর রুয়ানি»-র সাথে এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্কই নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ترجمةُ رُواةِ الجُزْءِ
ابنُ فنَّاكيٍّ (1)أبو القاسمِ الرَّازيُّ الرُّويانيُّ، جعفرُ بنُ عبدِ اللهِ بنِ يعقوبَ بنِ الفنَّاكيُّ.
روَى عن: محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ، وعبدِ الرَّحمنِ بنِ أبي حاتمٍ وجماعةٍ.
روَى عنه: عبدُ الرَّحمنِ بنُ أحمدَ بنِ الحسنِ بنِ بُندارٍ الرَّازيُّ أبو الفضلِ المُقرِئُ، وهِبةُ اللهِ أبي القاسمِ اللالكائيُّ وغيرُهما.
قال الخليليُّ: «موصوفٌ بالعدالةِ، وحُسْنِ الدِّيانةِ. هو آخِرُ مَنْ حدَّث عنِ الرُّويانيِّ».
قال الذَّهبيُّ: «الشَّيخُ، راوِي مُسنَدِ الحافظِ محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ عنه».
قال يحيى بنُ مَنْدهْ: «قدِمَ أصبَهانَ - يعنِي: محمَّدَ بنَ عليِّ بنِ عُمَرَ بنِ الجبَّانِ- قُرِئ عليه مُسنَدُ الرُّويانيِّ بسماعِه مِنْ جعفرِ بنِ فنَّاكيٍّ».
قال ابنُ نُقْطةَ: «حدَّث بالمُسنَدِ عن أبي بكرٍ محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ».
تُوُفِّيَ سنةَ ثلاثٍ وثمانين وثلاثِ مئةٍ.
--------------------------------------------
অংশটির বর্ণনাকারীদের পরিচিতিইবনে ফান্নাকি (১)আবুল কাসেম আর-রাজি আর-রুয়ানি, জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াকুব ইবনুল ফান্নাকি।
তিনি বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি, আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতেম এবং একদল মুহাদ্দিস থেকে।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে বুন্দার আর-রাজি আবুল ফজল আল-মুকরি, হিবাতুল্লাহ আবুল কাসেম আল-লালকায়ী এবং অন্যান্যরা।
আল-খলিলি বলেন: «তিনি ন্যায়পরায়ণতা ও উত্তম ধর্মপরায়ণতার গুণে গুণান্বিত। তিনি হলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি রুয়ানি থেকে বর্ণনা করেছেন।»
আয-যাহাবি বলেন: «তিনি শায়খ, হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানির মুসনাদ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।»
ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ বলেন: «তিনি ইসফাহানে আগমন করেন—অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে উমর ইবনুল জাব্বান—তাঁর নিকট রুয়ানির মুসনাদ পাঠ করা হয়েছিল, যা তিনি জাফর ইবনে ফান্নাকির নিকট শ্রবণ করেছিলেন।»
ইবনে নুকতাহ বলেন: «তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি থেকে মুসনাদ বর্ণনা করেছেন।»
তিনি ৩৮৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أبو الفضلِ الرَّازيُّ (1)عبدُ الرَّحمنِ بنُ أحمدَ بنِ الحسنِ بنِ بُندَارِ بنِ جِبريلَ بنِ محمَّدِ بنِ عليِّ بنِ سليمانَ العِجْليُّ، أبو الفضلِ الرَّازيُّ المُقرِئُ.
روَى عن: أحمدَ بنِ فِراسٍ العَبْقَسِيِّ، وجعفرِ بنِ فنَّاكيٍّ، وعبدِ الوهَّابِ الكلابيِّ، وأبي الحسنِ الرَّفَّاءِ، وآخَرِينَ.
روَى عنه: الحسينُ بنُ عبدِ المَلِكِ الخَلَّالُ، ومحمَّدُ بنُ عبدِ الواحدِ الدَّقَّاقُ، وأبو بكرٍ الخطيبُ، وأبو سهلِ بنِ سَعْدَويهِ، وآخَرُونَ.
قال عبدُ الغافرِ بنُ إسماعيلَ: «كان ثِقةً، جوَّالًا، إمامًا في القِراءاتِ، أوْحَدَ في طريقِه، كان الشُّيوخُ يُعظِّمونَه، وكان لا يَسكُنُ الخوانِقَ، بل يأوِي إلى مسجدٍ خَرابٍ، فإذا عُرِفَ مكانُه نَزَحَ، وكان لا يأخُذُ مِنْ أحدٍ شيئًا، فإذا فُتِحَ عليه بشيءٍ آثَرَ به».
قال الذهبيُّ: «الإمامُ، القُدْوةُ، شيخُ الإسلامِ».
وقال يَحيى بنُ مَنْدَهْ: «ثقةٌ ورِعٌ مُتديِّنٌ عارِفٌ بالقِراءاتِ والرِّواياتِ، عالمٌ بالأدبِ والنَّحْوِ، وهو مع هذا أكبرُ مِنْ ظانٍّ يدُلُّ عليه مِثْلي، وهو أشْهَرُ مِنْ الشَّمسِ، وأضْوَأُ مِنَ القمَرِ، ذو فنونٍ مِنْ العِلمِ رحمه الله، وكان شيخًا مَهيبًا منظُورًا، فصيحَ اللِّسانِ، حَسَنَ الطَّريقةِ، كبيرَ الوَزْنِ».
وُلِد سنةَ إحدَى وسبعين وثلاثِ مئةٍ.
وتُوُفِّيَ سنةَ أربعٍ وخمسين وأربعِ مئةٍ.
--------------------------------------------
আবু আল-ফজল আর-রাযী (১)আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-হাসান বিন বুন্দার বিন জিবরীল বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন সুলাইমান আল-ইজলী, আবু আল-ফজল আর-রাযী আল-মুকরী।
তিনি বর্ণনা করেছেন: আহমদ বিন ফিরাস আল-আবকাসী, জাফর বিন ফাননাকী, আব্দুল ওয়াহহাব আল-কিলাবী, আবুল হাসান আর-রাফ্ফা এবং আরও অনেকের থেকে।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক আল-খাল্লাল, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আদ-দাক্কাক, আবু বকর আল-খতিব, আবু সাহল বিন সাদওয়াইহ এবং আরও অনেকে।
আব্দুল গাফির বিন ইসমাইল বলেছেন: «তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, অধিক সফরকারী, কিরাত শাস্ত্রের ইমাম এবং তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে অনন্য। শায়খগণ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। তিনি সুফি খানকাহগুলোতে অবস্থান করতেন না, বরং পরিত্যক্ত কোনো মসজিদে আশ্রয় নিতেন; যখন তাঁর অবস্থান জানাজানি হয়ে যেত, তিনি সেখান থেকে অন্যত্র চলে যেতেন। তিনি কারো নিকট হতে কোনো কিছু গ্রহণ করতেন না, আর যদি কোনো কিছু তাঁর নিকট আসত, তবে তিনি তা দিয়ে অন্যকে অগ্রাধিকার দিতেন»।
আয-যাহাবী বলেছেন: «ইমাম, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, শায়খুল ইসলাম»।
ইয়াহইয়া বিন মানদাহ বলেছেন: «নির্ভরযোগ্য, পরহেজগার, ধর্মনিষ্ঠ, কিরাত ও বর্ণনা শাস্ত্রে অভিজ্ঞ, সাহিত্য ও ব্যাকরণবিদ। এছাড়া তিনি এমন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন যে আমার মতো কারো পক্ষে তাঁর পরিচয় প্রদান সম্ভব নয়। তিনি সূর্যের চেয়েও অধিক প্রসিদ্ধ এবং চন্দ্রের চেয়েও প্রোজ্জ্বল। তিনি ইলমের বহু শাখার অধিকারী ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী ও বিশিষ্ট শায়খ, বাকপটু, উত্তম রীতির অনুসারী এবং সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন»।
তিনি ৩৭১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ৪৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أبو عبدِ اللهِ الخَلَّالُ (1)الحسينُ بنُ عبدِ المَلِكِ بنِ الحسينِ بنِ محمَّدٍ الأَثَرِيُّ السُّنِّيُّ الأصبَهانيُّ.
روَى عن: أحمدَ بنِ الفضلِ الباطرقانيِّ، وعبدِ الرَّحمنِ بنِ أحمدَ بنِ الحسنِ بنِ بُندارٍ أبي الفضلِ، وعبدِ الرَّحمنِ بنِ أبي عبدِ اللهِ بنِ مَنْدهْ.
روَى عنه: عبدُ الكريمِ بنُ محمَّدِ بنِ السَّمْعانيِّ أبو سعدٍ، وعليُّ بنُ الحسينِ أبو القاسمِ بنُ عساكِرَ، ومحمَّدُ بنُ عُمَرَ أبو موسَى، وغيرِهم.
قال السَّمعانيُّ: «رأيتُه بعدَ أنْ كَبِرَ وأَضَرَّ، وكان حسَنَ المُعاشَرةِ والمُحَاورةِ، بسَّامًا، كثيرَ المَحفوظِ، وكان عزيزَ النَّفْسِ قانِعًا، لا يقبَلُ مِنْ أحدٍ شيئًا مع فقرِه، خرَّج له محمَّدُ بنُ أبي نصرٍ اللِّفتوانيُّ مُعجَمًا في أكثرَ مِنْ عشرةِ أجزاءٍ».
قال ابنُ نُقطَةَ: «الأديبُ البارِعُ، .. كان ثقةً. حدَّثَ بمُسنَدِ محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّ
(2)، عن أبي الفضلِ عبدِ الرَّحمنِ بنِ أحمدَ الرَّازيِّ المُقرِئِ».
قال الذَّهبيُّ: «الشَّيخُ الإمامُ الصَّدُوقُ، مُسنِدُ أصبَهانَ، شيخُ العربيَّةِ، بقيَّةُ السَّلَفِ».
وُلِد بأصبَهانَ في صفَرٍ سنةَ ثلاثٍ وأربعين وأربعِ مئةٍ.
وتُوُفِّيَ بها في حاديَ عشَرَ جُمادَى الأولَى من سنةِ اثنتينِ وثلاثين وخمسِ مئةٍ.
--------------------------------------------
আবু আব্দুল্লাহ আল-খাল্লাল (১)আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-আসারি আস-সুন্নি আল-আসবাহানি।
তিনি বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন আল-ফজল আল-বাতিরকানি, আবু আল-ফজল আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন বুন্দার এবং আব্দুর রহমান বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ থেকে।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু সা'দ আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন আস-সামআনি, আবু আল-কাসিম আলি বিন আল-হুসাইন বিন আসাকির, আবু মুসা মুহাম্মদ বিন উমর এবং অন্যান্যগণ।
আস-সামআনি বলেন: «আমি তাঁকে বৃদ্ধ হওয়ার পর এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারোনোর পর দেখেছি। তিনি সুন্দর আচরণ ও আলাপচারিতার অধিকারী ছিলেন, সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন এবং তাঁর স্মৃতিতে প্রচুর বিষয় সংরক্ষিত ছিল। তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও অল্পে তুষ্ট ছিলেন; দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি কারো কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতেন না। মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-লিফতুওয়ানি তাঁর জন্য দশ খণ্ডেরও অধিক একটি মুজাম সংকলন করেছিলেন।»
ইবনে নুকতাহ বলেন: «দক্ষ সাহিত্যিক... তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি আবু আল-ফজল আব্দুর রহমান বিন আহমাদ আর-রাজি আল-মুকরির সূত্রে মুহাম্মদ বিন হারুন আল-রুয়ানির মুসনাদ বর্ণনা করেছেন।»
(২)আয-যাহাবি বলেন: «শায়খ, ইমাম, পরম সত্যবাদী, আসবাহানের মুসনিদ, আরবি ভাষার শায়খ এবং সালাফদের উত্তরসূরি।»
তিনি ৪৪৩ হিজরির সফর মাসে আসবাহানে জন্মগ্রহণ করেন।
এবং ৫৩২ হিজরির ১১ই জুমাদাল উলা-তে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أبو زُرعةَ اللِّفتوانيُّ (1)عُبَيدُ اللهِ بنُ محمَّدِ بنِ أبي نصرٍ اللِّفتوانيُّ.
روَى عن: أحمدَ بنِ محمَّدِ بنِ هالةَ الكاتبِ، وزاهرِ بنِ طاهرٍ الشَّحَّامِيِّ أبي القاسمِ، والحسينِ بنِ عبدِ المَلِكِ الخَلَّالِ، ومحمَّدِ بنِ عليِّ بنِ أبي ذَرٍّ الصالحانيِّ- حُضورًا-.
روَى عنه: أحمدُ بنُ شَيبانَ بنِ تَغْلِبَ أبو العبَّاسِ الصَّالِحيُّ، وضِياءُ الدِّينِ محمَّدُ بنُ عبدِ الواحدِ المَقدِسيُّ، وأبو إسحاقَ بن الدَّرجيِّ.
قال الذَّهبيُّ: «اعتنَى به أبوه، وسمَّعه الكثيرَ».
ذكرَه الذَّهبيُّ في وفَيَاتِ سنةِ اثنتين وستِّ مئةٍ، وكذا ابنُ العِمادِ.
قال الذَّهبيُّ: «ولا أعلمُ متَى تُوُفِّيَ، إلَّا أنَّه أجاز في هذه السَّنةِ للبُرهانِ ابنِ الدَّرجيِّ».
--------------------------------------------
আবু জুরআ আল-লিফতুওয়ানি(১)উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-লিফতুওয়ানি।
তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হালাহ আল-কাতিব, জাহির বিন তাহির আল-শাহহামি আবুল কাসিম, আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক আল-খাল্লাল এবং মুহাম্মদ বিন আলি বিন আবি যার আল-সালিহানি—উপস্থিতির মাধ্যমে (হুজুরান)।
তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন শায়বান বিন তাগলিব আবুল আব্বাস আস-সালিহি, যিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি এবং আবু ইসহাক বিন আদ-দারজি।
আয-যাহাবি বলেন: «তাঁর পিতা তাঁর প্রতি যত্ন নিয়েছিলেন এবং তাঁকে প্রচুর (হাদিস) শ্রবণ করিয়েছিলেন।»
আয-যাহাবি তাঁকে ৬০২ হিজরির ইন্তেকালকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং ইবনুল ইমাদও তেমনি করেছেন।
আয-যাহাবি বলেন: «আমি জানি না তিনি কখন ইন্তেকাল করেছেন, তবে তিনি এই বছরে বুরহান ইবনুল দারজিকে ইজাযত দিয়েছিলেন।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ترجمةُ المُنتقِي الضِّياءِ المَقْدِسيِّ (1)
اسمُه:هو محمَّدُ بنُ عبدِ الواحدِ بنِ أحمدَ بنِ عبدِ الرَّحمنِ بنِ إسماعيلَ بنِ منصورٍ، ضياءُ الدِّينِ، أبو عبدِ اللهِ السَّعْديُّ المَقْدِسيُّ الجمَّاعيليُّ الدِّمشقيُّ.
مولِدُه:وُلِدَ بالدِّيرِ المباركِ بقاسِيونَ، سنةَ تسعٍ وستين وخمسِ مئةٍ.
شيوخُه:سَمِعَ مِنْ: أحمدَ بنِ عليِّ بنِ حمزةَ، وخلَفِ بنِ أحمدَ الفرَّاءِ، وزاهرِ ابنِ أحمدَ الثَّقَفيِّ، والمؤيَّدِ الطُّوسيِّ، وأبي جعفرٍ الصَّيدلانيِّ، وأبي الفرَجِ ابنِ الجَوْزيِّ، وأبي المُظفَّرِ بن السَّمعانيِّ، وغيرِهم.
تلاميذُه:روى عنه خَلْقٌ كثيرٌ، منهم: إسماعيلُ بنُ إبراهيمَ بنِ الخبَّازِ، وسالمُ بنُ أبي الهَيجاءِ القاضي، وعثمانُ بنُ إبراهيمَ الحِمْصيُّ، وابنُ نُقطةَ، وابنُ النَّجَّارِ، وابنُ الأزهرِ الصَّريفينيُّ، وزكيِّ الدِّينِ البِرْزاليُّ، وغيرُهم.
--------------------------------------------
সংকলক আদ-দিয়া আল-মাকদিসী-এর জীবনী(১)
তাঁর নাম:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আহমদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন ইসমাঈল ইবন মানসুর, জিয়াউদ্দীন, আবু আব্দুল্লাহ আস-সাদী আল-মাকদিসী আল-জাম্মায়িলী আদ-দিমাশকী।
তাঁর জন্ম:তিনি পাঁচশত উনসত্তর হিজরীতে কাসিউনের দাইরুল মুবারকে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর শিক্ষকগণ:তিনি ইলম অর্জন করেছেন: আহমদ ইবন আলী ইবন হামযাহ, খালাফ ইবন আহমদ আল-ফাররা, যাহির ইবন আহমদ আস-সাকাফী, আল-মুয়াইয়াদ আত-তুসী, আবু জাফর আস-সাইদালানী, আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী, আবু মুযাফফর ইবন আস-সামআনী এবং অন্যান্যদের থেকে।
তাঁর ছাত্রগণ:তাঁর থেকে অসংখ্য লোক রেওয়ায়েত করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ইবনুল খাব্বায, সালিম ইবন আবুল হাইজা আল-কাজী, উসমান ইবন ইবরাহীম আল-হিমসী, ইবনু নুকতাহ, ইবনুন নাজ্জার, ইবনুল আযহার আস-সারিফিনী, যাকিউদ্দীন আল-বিরযালী এবং অন্যান্যরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ثناءُ العلماءِ عليه:قال الذَّهبيُّ: «الإمامُ الحافظُ القُدوةُ المُحقِّقُ المجوِّدُ الحُجَّةُ، بقيَّةُ السَّلَفِ، صاحبُ التَّصانيفِ والرِّحلةِ الواسعةِ .. حصَّلَ الأصولَ الكثيرةَ، وجرَّحَ وعدَّلَ، وصحَّحَ وعلَّلَ، وقيَّدَ وأهملَ، مع الدِّيانةِ والأمانةِ، والتَّقوَى والصِّيانةِ، والورَعِ والتَّواضُعِ، والصِّدقِ والإخلاصِ وصحَّةِ النَّقلِ .. ولم يزلْ مُلازِمًا للعِلمِ والرِّوايةِ والتَّأليفِ إلى أنْ مات».
قال ابنُ كثيرٍ: «كان رحمه الله في غايةِ العِبادةِ والزَّهادةِ والورَعِ والخيرِ، وقد وقَف كُتُبًا كثيرةً عظيمةً بخطِّه لخِزانةِ المدرسةِ الضِّيائيَّةِ التي وقَفها على أصحابِهم من أهلِ الحديثِ والفُقهاءِ، وقد وُقِفتْ عليها أوقافٌ أُخَرُ كثيرةٌ بعدَ ذلك».
قال زكيُّ الدِّينِ البِرْزاليُّ: «حافظٌ، ثقةٌ، جبلٌ، ديِّنٌ، خيِّرٌ».
قال عمرُ بنُ الحاجبِ: «شيخُنا الضِّياءُ شيخُ وقتِه، ونسيجُ وحدِه علمًا وحفظًا وثقةً ودينًا، منَ العلماءِ الرَّبَّانيِّينَ، وهو أكبَرُ من أنْ يدُلَّ عليه مِثْلي».
قال شرَفُ الدِّينِ يوسُفُ بنُ بدرٍ: «رحِم اللهُ شيخَنا ابنَ عبدِ الواحدِ، كان عظيمَ الشَّأْنِ في الحِفْظِ ومعرفةِ الرِّجالِ، هو كان المشارَ إليه في عِلْمِ صحيحِ الحديثِ وسقيمِه، ما رأتْ عينِي مثلَه».
مصنَّفاتُه:الأحاديثُ المختارةُ.
الأحكامُ.
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:ইমাম যাহাবী বলেন: «তিনি ছিলেন ইমাম, হাফেজ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, সুনিপুণ গবেষক, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (হুজ্জাত), সালফে সালেহীনের উত্তরসূরি, বহু গ্রন্থের প্রণেতা এবং ইলম অন্বেষণে ব্যাপক সফরকারী... তিনি অসংখ্য মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন, বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা বিচার করেছেন, হাদীসকে সহীহ ও ত্রুটিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তথ্যসমূহ লিপিবদ্ধ ও বিন্যস্ত করেছেন। এর পাশাপাশি তাঁর মাঝে ছিল ধর্মনিষ্ঠা, আমানতদারি, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা, পরহেজগারী, বিনয়, সত্যবাদিতা, ইখলাস এবং বর্ণনার বিশুদ্ধতা... মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ইলম চর্চা, হাদীস বর্ণনা এবং গ্রন্থ রচনায় নিবিষ্ট ছিলেন।»
ইবনে কাসীর বলেন: «আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন, তিনি ইবাদত, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারী এবং কল্যাণের সর্বোচ্চ শিখরে ছিলেন। তিনি নিজের হাতের লেখা অনেকগুলো মহান ও গুরুত্বপূর্ণ কিতাব 'মাদরাসা দিয়াইয়্যাহ'-এর গ্রন্থাগারের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন, যা তিনি তাঁর সঙ্গী মুহাদ্দিস ও ফকীহদের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। পরবর্তীতে এর ওপর আরও অনেক সম্পদ ওয়াকফ করা হয়েছে।»
জাকিউদ্দীন আল-বির্জালী বলেন: «তিনি একজন হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, পাহাড়সম অটল ব্যক্তিত্ব, ধর্মনিষ্ঠ ও কল্যাণময় ব্যক্তি ছিলেন।»
উমর ইবনুল হাজিব বলেন: «আমাদের শায়খ আদ-দিয়া ছিলেন তাঁর যুগের প্রধান শায়খ, ইলম, মুখস্থশক্তি, নির্ভরযোগ্যতা ও দ্বীনদারিতে তিনি ছিলেন অনন্য ও অতুলনীয়। তিনি ছিলেন রব্বানী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁর মহিমা বর্ণনা করার সামর্থ্য আমার মতো ব্যক্তির নেই।»
শরফুদ্দীন ইউসুফ বিন বদর বলেন: «আল্লাহ আমাদের শায়খ ইবনে আব্দুল ওয়াহেদকে রহম করুন, হাদীস হেফজ এবং রাবীদের পরিচয় সংক্রান্ত জ্ঞানে তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। সহীহ ও ত্রুটিপূর্ণ হাদীস চেনার ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই ইঙ্গিত করা হতো (অর্থাৎ তিনি ছিলেন চূড়ান্ত বিশেষজ্ঞ), আমার চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি।»
তাঁর রচনাবলী:আল-আহাদিসুল মুখতারাহ (নির্বাচিত হাদীসসমূহ)।
আল-আহকাম (বিধানাবলী)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فضائلُ الأعمالِ.
فضائلُ الشَّامِ.
مَناقِبُ المُحدِّثينَ.
المُوافَقاتُ. وغيرُها.
وفاتُه:يومَ الاثنينِ الثَّامنَ والعشرين من جُمادَى الآخرةِ سنةَ ثلاثٍ وأربعين وستِّ مئةٍ.
আমলসমূহের ফযিলত।
শামের ফযিলত।
মুহাদ্দিসগণের মর্যাদা।
আল-মুওয়াফাকাত এবং অন্যান্য।
তাঁর মৃত্যু:৬৪৩ হিজরি সনের আটাশে জুমাদাল আখিরা, সোমবার।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الجُزءُ الأوَّلُ
مُنتَقًى
مِنْ مُسنَدِ أبي بكرٍ محمَّدِ بنِ هارونَ الرُّويانيِّروايةُ أبي القاسمِ جعفرِ بنِ عبدِ اللهِ بنِ يعقوبَ بنِ فنَّاكيٍّ الرُّويانيِّ عنه.
روايةُ أبي الفضلِ عبدِ الرَّحمنِ بنِ أحمدَ بنِ الحسنِ بنِ بُندَارِ بنِ إبراهيمَ العِجْليِّ عنه.
روايةُ أبي عبدِ اللهِ الحسينِ بنِ عبدِ المَلِكِ بنِ الحسينِ الخَلَّالِ الأديبِ عنه
روايةُ أبي زُرْعةَ عُبَيدِ اللهِ بنِ محمَّدِ بنِ أبي نصْرٍ اللِّفتوانيِّ عنه.
প্রথম খণ্ড
নির্বাচিত অংশ
আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুয়ানি-এর মুসনাদ হতেতাঁর থেকে আবুল কাসেম জাফর বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াকুব বিন ফান্নাকি আর-রুয়ানি-এর বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-হাসান বিন বুন্দার বিন ইবরাহিম আল-ইজলি-এর বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবদুল মালিক বিন আল-হুসাইন আল-খাল্লাল আল-আদিব-এর বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবু জুরআ উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-লিফতুয়ানি-এর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ولا حَوْلَ ولا قُوَّةَ إلَّا باللهِ العَليِّ العظيمِ
أخبرَنا الشَّيخُ أبو زُرْعةَ عُبَيدُ اللهِ بنُ الشَّيخِ الإمامِ أبي بكرٍ محمَّدِ بنِ أبي نصرِ بنِ أبي بكرٍ اللِّفتوانيِّ بقراءتي عليه في شهرِ جُمادَى الآخِرةِ مِنْ سنةِ تسعٍ وتسعين وخمسِ مئةٍ بمنزلِه بأصبَهانَ، قلتُ له: أخبرَكُم الشَّيخُ الأديبُ أبو عبدِ اللهِ الحُسينُ بنُ عبدِ المَلِكِ بنِ الحُسينِ الخَلَّالُ قراءةً عليه وأنتَ تسمَعُ في ربيعٍ الآخِرِ من سنةِ إحدَى وثلاثين وخمسِ مئةٍ، أنبا أبو الفضلِ عبدُ الرَّحمنِ بنُ أحمدَ بنِ الحسَنِ المُقْري الرَّازيُّ قدِمَ علينا سنةَ إحدَى وخمسين وأربعِ مئةٍ، قال: أنبا أبو القاسمِ جعفرُ بنُ عبدِ اللهِ بنِ يعقوبَ بنِ فنَّاكيٍّ قراءةً عليه في ذي القِعدةِ سنةَ ثمانين وثلاثِ مئةٍ، ثنا أبو بكرٍ محمَّدُ بنُ هارونَ الرُّويانيُّ الرَّازيُّ:
1 - ثنا عمرُو بنُ عليٍّ، ثنا عبدُ اللهِ بنُ هارونَ، حدَّثَني أبي، عن محمَّدِ ابنِ إسحاقَ، حدَّثني عاصمُ بنُ قتادةَ الأنصاريُّ، عن محمودِ بنِ لَبيدٍ، عن عبدِ اللهِ بنِ عبَّاسٍ قال: حدَّثني سَلْمانُ الفارسيُّ حدَّثَنِيه مِنْ فِيه قال: «كنتُ رجلًا فارسيًّا مِنْ أهلِ أصبَهان مِنْ أهلِ قريةٍ يُقالُ لها: جي، وكان أبي دِهْقانَ قريتِه، وكنتُ أحبَّ خَلْقِ اللهِ إليه، لم يزَلْ حُبُّه إيَّايَ حتَّى حبَسني في بيتِه كما تُحبَسُ الجاريةُ، واجتهدتُ في المجوسيَّةِ حتَّى كنتُ قاطِنَ النَّارِ نوقدُها لا نتركُها ساعةً، وكانتْ لأبي ضَيعةٌ عظيمةٌ،
মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।
শেখ আবু জুরআ উবাইদুল্লাহ বিন শেখ ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবি নাসর বিন আবি বকর আল-লিফতুওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা আমি ৫৯৯ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরা মাসে ইসফাহানে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁর সামনে পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: সাহিত্যিক শেখ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবদুল মালিক বিন আল-হুসাইন আল-খাল্লাল কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, যখন তাঁর কাছে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন ৫৩১ হিজরী সনের রবিউস সানি মাসে? তিনি বলেন: আবু আল-ফজল আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-হাসান আল-মুকরি আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যিনি ৪৫১ হিজরী সনে আমাদের নিকট এসেছিলেন। তিনি বলেন: আবুল কাসেম জাফর বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াকুব বিন ফান্নাকি ৩৮০ হিজরী সনের জিলকদ মাসে তাঁর সামনে পঠিত অবস্থায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন আর-রুয়ানি আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন:
১ - আমর বিন আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন হারুন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আসিম বিন কাতাদা আল-আনসারি থেকে, তিনি মাহমুদ বিন লাবিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সালমান আল-ফারসি আমাকে এটি তাঁর নিজের মুখ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «আমি পারস্যের ইসফাহান অঞ্চলের এক ব্যক্তি ছিলাম, 'জাই' নামক একটি গ্রামের অধিবাসী। আমার পিতা ছিলেন তাঁর গ্রামের প্রধান (দেহকান)। আমি তাঁর নিকট আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম। আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি আমাকে তাঁর ঘরে আটকে রাখেন যেমনটি যুবতী মেয়েদের আটকে রাখা হয়। আমি অগ্নিপূজায় (মাজুসিয়্যাত) এতই কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করতাম যে, আমি আগুনের সার্বক্ষণিক রক্ষক হয়ে গিয়েছিলাম, যা আমরা প্রজ্বলিত রাখতাম এবং এক মুহূর্তের জন্যও তা নিভতে দিতাম না। আমার পিতার একটি বিশাল ভূসম্পত্তি ছিল,
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
قال: فشُغِل في بُنْيانٍ له يومًا، فقال لي: يا بُنيَّ! إنِّي شُغِلتُ في بُنْياني هذا اليومِ عن ضَيْعتي، فاذهبْ إليها فاطَّلعْها، وأمَرَني فيها ببعضِ ما يُريد وقال: لا تُحبَسْ عليَّ، فإنَّكَ إن احتُبِستَ عنِّي كنتَ أهمَّ إليَّ مِنْ ضيعتي، وشغلْتَني عن كلِّ شيءٍ مِنْ أمري. قال: فخرجتُ أُريدُ الضَّيعةَ التي بعثني إليها أبي بكنيسةٍ مِنْ كنائسِ النَّصارَى، فسَمِعتُ أصواتَهم فيها وهم يُصلُّون قال: وكنتُ لا أدري ما أمْرُ النَّاسِ؛ لحَبْسِ أبي إيَّايَ في بيتِه، فلمَّا سَمِعْتُ أصواتَهم دخلتُ عليهم أنظُرُ ما يَصنعون، فلمَّا رأيتُهم أعجبتْني صلاتُهم، فقلتُ: واللهِ هذا خيرٌ من الدِّينِ الذي نحنُ عليه، فواللهِ ما تركتُهم حتَّى غرَبَتِ الشَّمسُ، وتركتُ ضيعةَ أبي فلمْ آتِها، ثمَّ قلتُ لهم: أينَ أصْلُ هذا الدِّينِ؟ قالوا: بالشَّامِ، قال: ثمَّ رجعتُ إلى أبي، وقد بعثَ في طلبي، وشغلْتُه عن عملِه كلِّه، فلمَّا جئتُه قال أبي: يا بُنيَّ! أين كنتَ؟! يا بُنيَّ ألم أكنْ عَهِدتُ إليكَ بما عهِدتُ؟ قال: نعم يا أبَهْ، مررتُ بأناسٍ يُصلُّون في كنيسةٍ، فأعجبَني ما رأيتُ مِنْ دينِهم، فواللهِ ما زلتُ عندَهم حتَّى غرَبَتِ الشَّمسُ، قال أبي: يا بُنيَّ ليس في ذلكَ الدِّينِ خيرٌ، دينُكَ ودينُ آبائِكَ خيرٌ منه، قال: قلتُ له: كلَّا، واللهِ إنَّه لخيرٌ مِنْ دينِنا، قال: فخافني فجعلَ في رِجْلي قيدًا، فحبَسني في بيتِه، قال: وبَعثتُ إلى النَّصارَى فقلتُ: إذا قدِمَتْ عليكم ركبٌ مِنْ الشَّامِ فأخبِروني بهم، قال: فقدِمَ عليهم رَكْبٌ مِنْ الشَّامِ، فأخبَروني بهم قال: فقلتُ لهم: إذا قضَوا حوائجَهم فأرادوا الرَّجعةَ إلى بلادِهم أخبِروني بهم، فأخبَروني
তিনি বললেন: একদা তিনি তাঁর এক নির্মাণকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন এবং আমাকে বললেন: হে বৎস! আজ আমি এই নির্মাণকাজের দরুন আমার খামারে যেতে পারছি না, সুতরাং তুমি সেখানে যাও এবং সেটির দেখাশোনা করো। তিনি আমাকে সেখানে কিছু কাজের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: আমার কাছে ফিরতে দেরি করো না; কেননা তুমি যদি দেরি করো তবে আমার নিকট খামারের চেয়ে তোমার চিন্তাই মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে এবং তা আমাকে আমার সকল কাজ থেকে বিচ্যুত করবে। তিনি বললেন: অতঃপর আমি সেই খামারের উদ্দেশ্যে বের হলাম যেখানে আমার পিতা আমাকে প্রেরণ করেছিলেন। পথে আমি খ্রিস্টানদের একটি গির্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি সেখানে তাদের প্রার্থনার শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি বললেন: আমার পিতা আমাকে গৃহবন্দি করে রাখতেন বিধায় আমি মানুষের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। যখন আমি তাদের কণ্ঠস্বর শুনলাম, তখন তারা কী করছে তা দেখার জন্য সেখানে প্রবেশ করলাম। আমি যখন তাদের দেখলাম, তখন তাদের প্রার্থনা আমাকে মুগ্ধ করল এবং আমি বললাম: আল্লাহর কসম, এটি আমাদের বর্তমান ধর্মের চেয়ে উত্তম। আল্লাহর কসম, সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমি তাদের নিকট অবস্থান করলাম এবং আমার পিতার খামারে গেলাম না। অতঃপর আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম: এই ধর্মের মূল উৎস কোথায়? তারা বলল: শামে। তিনি বললেন: এরপর আমি আমার পিতার নিকট ফিরে এলাম। তিনি ইতোমধ্যে আমাকে খোঁজার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন এবং আমি তাঁকে তাঁর সমস্ত কাজ থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছিলাম। যখন আমি তাঁর নিকট পৌঁছালাম, পিতা বললেন: হে বৎস! তুমি কোথায় ছিলে? হে বৎস, আমি কি তোমাকে যা বলার ছিল তা বলিনি? তিনি বললেন: আমি বললাম, হে পিতা! আমি গির্জায় প্রার্থনাপর কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং তাদের ধর্মের যে রূপ দেখলাম তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আল্লাহর কসম, আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের নিকটেই ছিলাম। আমার পিতা বললেন: হে বৎস, ওই ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই; তোমার এবং তোমার পিতৃপুরুষদের ধর্মই তার চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন: আমি তাঁকে বললাম: কক্ষনো না, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তা আমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন: তখন তিনি আমাকে নিয়ে শঙ্কিত হলেন এবং আমার পায়ে একটি বেড়ি পরিয়ে দিলেন, আর আমাকে নিজ গৃহে বন্দি করে রাখলেন। তিনি বললেন: আমি খ্রিস্টানদের নিকট এই মর্মে বার্তা পাঠালাম যে, যদি শাম থেকে কোনো কাফেলা আপনাদের নিকট আসে, তবে আমাকে অবহিত করবেন। তিনি বললেন: শাম থেকে একটি কাফেলা তাদের নিকট এল এবং তারা আমাকে তা জানাল। তিনি বললেন: আমি তাদের বললাম, যখন তারা তাদের প্রয়োজন সেরে স্বদেশে ফেরার ইচ্ছা করবে, তখন যেন আমাকে জানায়। তারা আমাকে তা জানাল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
بهم، قال: فألقيتُ الحديدَ مِنْ رِجْلي، ثُمَّ خرجْتُ معهم حتَّى قدِمتُ الشَّامَ قال: فلمَّا قدِمتُها قلتُ: مَنْ أفضلُ هذا الدِّينِ؟ قالوا: الأسقُفُ في الكنيسةِ، فجئتُه فقلتُ له: إنِّي قد رغِبتُ في هذا الدِّينِ، وأحببتُ أن أكونَ معَكَ، وأخدُمَكَ في كنيستِكَ، وأتعلَّمَ منك، وأصلِّيَ معَكَ، قال: فادخلْ، قال: وكان رجُلَ سوءٍ يأمرُهم بالصَّدقةِ، ويُرغِّبُهم فيها، فإذا اجتمع إليه الشيءُ حبَسَه لنفسِه ولم يُعطِ المساكينَ، حتَّى جمَعَ قِلالًا مِنْ ذهبٍ ووَرِقٍ قال: وأبغضْتُه بُغْضًا شديدًا؛ لِمَا رأيتُه يَصنَعُ، ثُمَّ مات، فاجتمعتْ إليه النَّصارَى ليدفِنوه، فقلتُ لهم: إنَّ هذا كانَ رجُلَ سوءٍ، أمرَكم بالصَّدقةِ، ورغَّبكم فيها، فإنْ جئتُموه بها أكنَزَها، ولم يُعطِ المساكينَ منها شيئًا. قال: فقالوا وما علمُكَ بذلكَ؟ قال: قلتُ لهم فأنا أدلُّكم على كَنزِه. قال: فدلَلتُ عليه، فأريتُهم موضعًا، فاستخرجوا سبعَ قِلالٍ مملوءةً ذهبًا ووَرِقًا، فلمَّا رأوها قالوا: إنَّا واللهِ لا ندْفِنُه أبدًا. قال: فصلبوه، ثمَّ رجَموه بالحِجارةِ، وجاءوا برجلٍ آخَرَ، فجعلوه مكانَه.
قال: فقال سَلْمانُ: فما رأيتُ رجلًا لا يُصلِّي الخَمْسَ أزهدَ في الدُّنيا، ولا أرغَبَ في الآخِرةِ منه، ولا أدْأَبَ ليلًا ونهارًا منه.
قال: فأحببْتُه حبًّا لم أُحِبَّ شيئًا مثلَه. قال: فأقمتُ معه زمانًا، ثُمَّ حضَرَتْه الوفاةُ، فقلتُ له: يا فلانُ! إنِّي كنتُ معَكَ، وأحببْتُك حبًّا لم أحبَّ شيئًا قبلَكَ، وقد حضَرَك ما ترى مِنْ أمرِ اللهِ، فإلى مَنْ تُوصي بي، وما تأمرُني؟ قال: أيْ بُنَيَّ، واللهِ ما أعلَمُ اليومَ أحدًا على ما كنتُ عليه، لقد هلَك النَّاسُ وبدَّلوا، وتركوا أكثرَ ما كانوا عليه، إلَّا
তাদের সাথে, তিনি বললেন: তারপর আমি আমার পা থেকে বেড়ি ফেলে দিলাম এবং তাদের সাথে বের হয়ে পড়লাম, শেষ পর্যন্ত আমি শাম দেশে পৌঁছলাম। তিনি বলেন: সেখানে পৌঁছে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "এই ধর্মের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে?" তারা বলল, "গির্জার বিশপ।" তখন আমি তার কাছে গিয়ে তাকে বললাম, "আমি এই ধর্মের প্রতি আগ্রহী হয়েছি এবং আপনার সাথে থাকতে, আপনার গির্জায় আপনার সেবা করতে, আপনার কাছ থেকে শিখতে এবং আপনার সাথে প্রার্থনা করতে পছন্দ করছি।" তিনি বললেন, "ভিতরে এসো।" তিনি বলেন: সে ছিল একজন মন্দ লোক; সে লোকদের সদকা করার আদেশ দিত এবং তাতে উৎসাহিত করত, কিন্তু যখনই তার কাছে কিছু জমা হতো, সে তা নিজের জন্য আটকে রাখত এবং মিসকিনদের তা থেকে কিছুই দিত না। এমনকি সে সোনা ও রূপার সাতটি মটকা ভর্তি করে ফেলল। তিনি বলেন: তার কাজ দেখে আমি তাকে চরমভাবে ঘৃণা করতে লাগলাম। এরপর সে মারা গেল এবং খ্রিস্টানরা তাকে দাফন করার জন্য সমবেত হলো। আমি তাদের বললাম, "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তিটি একজন মন্দ লোক ছিল; সে তোমাদের সদকা করার আদেশ দিত এবং তাতে উৎসাহিত করত, কিন্তু যখনই তোমরা তা তার কাছে নিয়ে আসতে, সে তা জমা করে রাখত এবং মিসকিনদের তা থেকে কিছুই দিত না।" তিনি বলেন: তারা বলল, "তুমি তা কীভাবে জানলে?" তিনি বলেন: আমি তাদের বললাম, "আমি তোমাদের তার গুপ্তধনের সন্ধান দিতে পারি।" তিনি বলেন: আমি তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলাম এবং সেই স্থানটি দেখিয়ে দিলাম। তারা সেখান থেকে সোনা ও রূপা ভর্তি সাতটি মটকা বের করে আনল। তারা যখন তা দেখল, তখন বলল, "আল্লাহর কসম! আমরা তাকে কখনোই দাফন করব না।" তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাকে শূলে চড়াল এবং পাথর নিক্ষেপ করল। এরপর তারা অন্য এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসে তার স্থলে বসাল।
সালমান বলেন: আমি এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে না অথচ তার চেয়ে বেশি দুনিয়াবিমুখ, আখেরাতের প্রতি অধিক অনুরাগী এবং দিন-রাত তার চেয়ে বেশি একনিষ্ঠ ইবাদতকারী।
তিনি বলেন: আমি তাকে এমনভাবে ভালোবাসলাম যা এর আগে অন্য কাউকে বাসিনি। তিনি বলেন: আমি তার সাথে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলাম। অতঃপর যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন আমি তাকে বললাম, "হে অমুক! আমি আপনার সাথে ছিলাম এবং আপনাকে এমনভাবে ভালোবেসেছি যা আপনার আগে অন্য কাউকে বাসিনি। এখন আপনার কাছে আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়েছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। এমতাবস্থায় আপনি আমার ব্যাপারে কাকে অসিয়ত করবেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দেবেন?" সে বলল, "হে বৎস! আল্লাহর কসম, আমি আজ এমন কাউকে জানি না যে সেই আদর্শের ওপর অটল আছে যার ওপর আমি আছি। মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা পরিবর্তন সাধন করেছে এবং তারা যা কিছুর ওপর ছিল তার অধিকাংশ বর্জন করেছে, কেবল..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
رجُلًا بالمَوْصِلِ، وهو فلانٌ على ما كنتُ عليه، فالْحَقْ به، فلمَّا مات وغُيِّبَ، لحِقتُ بصاحبِ المَوْصِلِ، فقلتُ له: إنَّ فلانًا أوصاني عندَ موتِه أنْ ألحَقَ بكَ، وأخبَرَني أنَّك على أمرِه. قال: فقال لي: أقِمْ عندِي. قال: فأقمتُ عندَه، فوجدتُه خيرَ رجُلٍ على أمرِ صاحبِه، فلم يلبَثْ أنْ مات، فلمَّا حضرَتْه الوفاةُ قلتُ له: يا فلانُ، إنَّ فلانًا أوصَى إليكَ، وأمَرَني باللُّحوقِ بكَ، وقد حضرَك مِنْ أمرِ اللهِ ما ترى، فإلى مَنْ تُوصِي، وما تأمُرُني به؟ قال: يا بُنَيَّ، واللهِ ما أعلَمُ رجُلًا على مثْلِ ما كنَّا عليه، إلَّا رجلًا بنَصِيبينَ، وهو فلانٌ فالحَقْ به، فلمَّا مات وغُيِّبَ، لحِقْتُ بصاحبِ نَصِيبينَ، فأخبرْتُه خبَري، وما أمَرَني به صاحبِي قال: أقِمْ عندِي، فأقمتُ عندَه، فوجدتُه على أمرِ صاحبَيه، فأقمتُ مع خيرِ رجلٍ، فواللهِ ما لبثْتُ أن نزلَ به الموتُ، فلمَّا احتُضِر قال: قلتُ له: يا فلانُ، إنَّ فلانًا كان أوصَى بي إلى فلانٍ، ثُمَّ أوصَى بي فلانٌ وفلانٌ إليكَ، فإلى مَنْ تُوصِي بي وما تأمرُني؟ قال: يا بُنَيَّ، واللهِ ما أعلَمُ بقِيَ أحدٌ على أمرِنا آمُركَ أن تأتيَه، إلَّا رجلًا بعموريَّةَ من أرضِ الرُّومِ على ما نحنُ عليه، فإن أحببتَ فأْتِه، فإنَّه على أمرِنا، فلمَّا مات لحِقْتُ بصاحبِ عموريَّةَ، فأخبرتُه خبَري قال: أقِمْ عندي، فأقمتُ على خيرِ رجلٍ على هُدَى أصحابِه وأمرِهم، واكتسبتُ حتى كانت عندي بُقيراتٌ وغُنيمةٌ، ثمَّ نزل به أمرُ اللهِ، فلمَّا احتُضِر قلتُ: يا فلانُ! إنِّي كنتُ مع فلانٍ، فأوصَى بي إلى فلانٍ، ثمَّ أوصَى بي فلانٌ إلى فلانٍ، ثمَّ أوصى بي فلانٌ إلى فلانٍ، ثمَّ أوصى بي فلانٌ إليكَ، فإلى مَنْ تُوصى بي، وما تأمُرُني؟
মসুলের এক ব্যক্তি, তিনি অমুক, আমি যে আদর্শের ওপর আছি তিনিও সেই পথেই আছেন, সুতরাং তুমি তাঁর সাথে যোগ দাও। অতঃপর যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাঁকে দাফন করা হলো, তখন আমি মসুলের সেই ব্যক্তির কাছে গেলাম। আমি তাঁকে বললাম: 'অমুক ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর সময় আমাকে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার অসিয়ত করেছেন এবং আমাকে জানিয়েছেন যে আপনি তাঁর আদর্শের ওপরই আছেন।' তিনি আমাকে বললেন: 'তুমি আমার কাছে থাকো।' বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁর কাছে অবস্থান করলাম এবং তাঁকে তাঁর সঙ্গীর আদর্শের ওপর সর্বোত্তম ব্যক্তি হিসেবে পেলাম। খুব বেশি দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এল। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন আমি তাঁকে বললাম: 'হে অমুক! অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে আসার অসিয়ত করেছিলেন এবং আপনার সাথে যোগ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। এখন আপনার ওপর আল্লাহর ফয়সালা (মৃত্যু) চলে এসেছে যেমনটা আপনি দেখছেন। এমতাবস্থায় আপনি আমাকে কার কাছে যাওয়ার অসিয়ত করছেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন?' তিনি বললেন: 'হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর কসম, আমরা যে পথের ওপর ছিলাম সেই একই আদর্শের ওপর অবিচল আছে এমন কোনো ব্যক্তিকে আমি চিনি না, কেবল নাসীবীনের এক ব্যক্তি ছাড়া; তিনি হলেন অমুক। অতএব তুমি তাঁর কাছে যাও।' অতঃপর যখন তিনি মারা গেলেন এবং তাঁকে দাফন করা হলো, তখন আমি নাসীবীনের সেই ব্যক্তির কাছে গেলাম এবং তাঁকে আমার সব ঘটনা জানালাম এবং আমার সাথী আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তা-ও বললাম। তিনি বললেন: 'তুমি আমার কাছে অবস্থান করো।' আমি তাঁর কাছে থাকলাম এবং তাঁকে তাঁর পূর্ববর্তী দুই সঙ্গীর আদর্শের ওপর অবিচল পেলাম। আমি এক সর্বোত্তম ব্যক্তির সাথে অবস্থান করলাম। আল্লাহর কসম, খুব বেশি সময় পার হয়নি যে তাঁর ওপরও মৃত্যু নেমে এল। যখন তাঁর মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হলো, আমি তাঁকে বললাম: 'হে অমুক! অমুক ব্যক্তি আমাকে অমুকের কাছে যাওয়ার অসিয়ত করেছিলেন, তারপর অমুক এবং অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে যাওয়ার অসিয়ত করেছেন। এখন আপনি কার কাছে আমাকে যাওয়ার অসিয়ত করছেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন?' তিনি বললেন: 'হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর কসম, আমাদের এই আদর্শের ওপর আজ আর কেউ অবশিষ্ট আছে বলে আমার জানা নেই যার কাছে যাওয়ার নির্দেশ আমি তোমাকে দিতে পারি, কেবল রোম অঞ্চলের আম্মুরিয়া নামক স্থানের এক ব্যক্তি ছাড়া। তিনি আমাদের পথেই অবিচল আছেন। তুমি চাইলে তাঁর কাছে যেতে পারো, কারণ তিনি আমাদের আদর্শের ওপরই আছেন।' এরপর যখন তিনি মারা গেলেন, আমি আম্মুরিয়ার সেই ব্যক্তির কাছে গেলাম এবং তাঁকে আমার সব ঘটনা জানালাম। তিনি বললেন: 'তুমি আমার কাছে থাকো।' আমি তাঁর কাছে অবস্থান করলাম, যিনি তাঁর সঙ্গীদের সঠিক পথ ও আদর্শের ওপর অবিচল এক সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। সেখানে থেকে আমি উপার্জন করলাম, এমনকি আমার কিছু গাভী ও ছোট এক পশুপাল হলো। এরপর তাঁর কাছেও আল্লাহর ফয়সালা নেমে এল। যখন তাঁর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন আমি বললাম: 'হে অমুক! আমি অমুকের সাথে ছিলাম, তিনি আমাকে অমুকের কাছে যাওয়ার অসিয়ত করেছিলেন, এরপর অমুক আমাকে অমুকের কাছে যাওয়ার অসিয়ত করেন, এরপর তিনি অমুকের কাছে, এরপর অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে আসার অসিয়ত করেছিলেন। এখন আপনি কার কাছে আমাকে যাওয়ার অসিয়ত করছেন এবং আমাকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন?'
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
قال: يا بُنَيَّ! واللهِ ما أعلَمُ أصبَحَ على ما كنَّا عليه أحدٌ مِنَ النَّاسِ آمرُكَ أنْ تأتِيَه، ولكنَّه قد أظلَّك زمانُ نبيٍّ هو مبعوثٌ بدينِ إبراهيمَ، يخرُجُ بأرضِ العربِ، مُهاجرُه إلى أرضٍ بينَ الحرَّتينِ، بينَهما نخلٌ، به علاماتٌ لا تخفَى: يأكُلُ الهَديَّةَ، ولا يأكُلُ الصَّدقةَ، وبينَ كتِفَيه خاتَمُ النُّبوَّةِ، فإنِ استطعتَ أنْ تلحَقَ بتلكَ البلادِ فافعَلْ، ثُمَّ مات وغُيِّبَ، ومكثتُ بعدَه ماشاء اللهُ أنْ أمكُثَ، ثُمَّ مرَّ بي نفَرٌ مِنْ كلبٍ تُجَّارٌ فقلتُ لهم: تحملوني إلى أرضِ العربِ، وأُعطيكم بقرَتِي هذه؟ قالوا: نعَمْ، فأعطيتُهم وحملوني معَهم، حتَّى إذا بلغُوا بي وادِ القُرَى ظلموني، فباعوني مِنْ رجلٍ يهوديٍّ عبْدًا، فكنتُ إذا رأيتُ النَّخلَ رجوتُ أن تكونَ البلدَ الذي وَصف لي صاحبي، ولم يحِقَّ لي في نفسِي، فبينَما أنا عندَه أنْ قدِم عليه ابنُ عمٍّ له، حتَّى وقف عليه، فقال: قاتَلَ اللهُ نبيَّ قَيْلةَ، واللهِ إنَّهم الآنَ لَمَجموعون على رجلٍ قدِم عليهم مِنْ مكَّةَ اليومَ، ويزعُمون أنَّه نبيٌّ، قال: فلمَّا سمِعْتُها أخذتْني العُرَواءُ، حتى ظننتُ أنَّي ساقطٌ على
তিনি বললেন: হে বৎস! আল্লাহর শপথ, বর্তমানে এমন কোনো মানুষকে আমার জানা নেই যে আমাদের এই আকিদা বা বিশ্বাসের ওপর অটল রয়েছে এবং যার কাছে যাওয়ার জন্য আমি তোমাকে আদেশ করতে পারি। তবে এমন এক নবীর আগমনের সময় তোমার সন্নিকটে পৌঁছেছে, যিনি ইবরাহিমের দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হবেন। তিনি আরব ভূমি থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন। তাঁর হিজরতস্থল হবে দুটি কৃষ্ণবর্ণ প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী এক স্থান, যার মাঝে খেজুর গাছ রয়েছে। তাঁর মাঝে এমন কিছু নিদর্শন থাকবে যা অস্পষ্ট নয়: তিনি হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করবেন, কিন্তু সদকা ভক্ষণ করবেন না এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়াতের মোহর থাকবে। যদি তুমি সেই ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হও, তবে অবশ্যই তা করবে। এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁকে সমাহিত করা হলো। তাঁর মৃত্যুর পর আল্লাহ যতদিন চাইলেন আমি সেখানে অবস্থান করলাম। এরপর বনু কালব গোত্রের একদল বণিক আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাদের বললাম: আপনারা কি আমাকে আরব ভূমিতে নিয়ে যাবেন? বিনিময়ে আমি আপনাদের আমার এই গাভীটি দিয়ে দেব? তারা বলল: হ্যাঁ। সুতরাং আমি তাদের সেগুলো দিয়ে দিলাম এবং তারা আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে নিল। যখন তারা আমাকে নিয়ে ওয়াদিল কুরা নামক স্থানে পৌঁছাল, তখন তারা আমার প্রতি অবিচার করল এবং আমাকে এক ইহুদি ব্যক্তির কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিল। আমি যখনই খেজুর গাছ দেখতাম, তখনই আশা করতাম যে এটিই হয়তো সেই শহর যার বর্ণনা আমার সাথী আমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার মনে তা নিয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা আসছিল না। একদা আমি তাঁর কাছে ছিলাম, এমন সময় তাঁর এক চাচাতো ভাই তাঁর কাছে এল এবং তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বলল: আল্লাহ কাইলার সন্তানদের ধ্বংস করুন! আল্লাহর শপথ, তারা এখন মক্কা থেকে আসা এক ব্যক্তির নিকট সমবেত হয়েছে, যাকে তারা নবী বলে দাবি করছে। তিনি বললেন: আমি যখন এ কথা শুনলাম, তখন আমার ওপর এমন এক কম্পন শুরু হলো যে, আমার মনে হচ্ছিল আমি তাঁর ওপর পড়ে যাব...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন মুসনাদি আবী বাকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানী
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
سيِّدِي، قال: ونزلتُ عنِ النَّخلةِ، فجعلتُ أقولُ لابنِ عمِّه ذلك: ماذا يقولُ؟ قال: فغضِبَ سيِّدي، فلَطَمني لطْمةً شديدةً، ثُمَّ قال: ما لكَ ولِهذا؟ أقبِلْ على عمَلِكَ. قال: قلتُ: لا شيءَ، إنَّما أردتُ أنْ أسألَه عمَّا قال، وكان عندي شيءٌ قد جمعتُه، فلمَّا أمسيتُ أخذتُه، ثُمَّ ذهبتُ إلى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وهو بقُبَاءَ، فقلتُ له: إنَّه بلغَني أنَّكَ رجلٌ صالحٌ، ومعك أصحابٌ
(1) غُرَباءُ ذوو حاجةٍ، وهذا شيءٌ كان عندي للصَّدقةِ قال: فقرَّبتُه إليه، فقال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لأصحابِه: «كُلُوا» وأمسكَ هو، ولم يأكلْ منه، قال: فقلتُ لنفسِي: هذه واحدةٌ، قال: ثمَّ انصرفتُ عنه، فجمعتُ شيئًا، وتحوَّل رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إلى المدينةِ، ثُمَّ جئتُه فقلتُ له: إنِّي قد رأيتُك لا تأكُلُ الصَّدقةَ، وهذه الهديَّةُ أكرمتُك، قال: فأكَلَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم منها، وأمَر أصحابَه فأكلوا منها قال: قلتُ: هاتان خلَّتانِ، ثُمَّ جئتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وهو ببقيعِ الغَرْقَدِ قدِ اتَّبعَ جنازةَ رجلٍ مِنْ أصحابِه، وعلىَّ شَمْلتانِ لي، وهو جالسٌ في أصحابِه، فسلَّمتُ، ثمَّ استدبرتُ أنظُرُ إلى ظهرِه، هل أرى الخاتَمَ الذي وصفَ صاحبي؟ فلمَّا رآني رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم استدبرتُه، عرَف أنِّي استدبرتُ في شيءٍ وُصِف لي، فألقَى رداءَه عن ظهرِه، فنظرتُ إلى الخاتَمِ، فعرَفتُه، فأكببتُ عليه أُقبِّلُه، فقال لي رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «تحوَّلْ». فتحوَّلتُ، فجلستُ بينَ يديه، فقصصتُ عليه حديثي كما حدَّثتُك يا ابنَ عبَّاسٍ، فأُعجِب رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وأحبَّ أن يسمَعَ ذاكَ أصحابُه، ثُمَّ شَغَل سلمانَ الرِّقُ حتَّى فاتَه مع رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بدرًا
--------------------------------------------
আমার মালিক। তিনি বললেন: আমি খেজুর গাছ থেকে নিচে নেমে আসলাম এবং তাঁর চাচাতো ভাইকে বলতে লাগলাম: তিনি কী বলছেন? তিনি বললেন: এতে আমার মালিক রাগান্বিত হলেন এবং আমাকে জোরে একটি চড় মারলেন। অতঃপর বললেন: তোমার এতে কী কাজ? তুমি তোমার কাজে মনোনিবেশ করো। তিনি বললেন: আমি বললাম: কিছুই না, তিনি যা বলছিলেন সে সম্পর্কে আমি শুধু তাঁকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম। আমার কাছে কিছু জমানো জিনিস ছিল। সন্ধ্যা হলে আমি তা নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম, তখন তিনি কুবাতে ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আপনি একজন সৎ ব্যক্তি এবং আপনার সাথে এমন কিছু আগন্তুক সঙ্গী রয়েছেন যারা অভাবগ্রস্ত। এটি আমার কাছে থাকা সদকার কিছু জিনিস। তিনি বললেন: আমি সেটি তাঁর কাছে এগিয়ে দিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদের বললেন: «তোমরা খাও», কিন্তু তিনি নিজে বিরত থাকলেন এবং তা থেকে কিছুই খেলেন না। তিনি (সালমান) বললেন: আমি মনে মনে বললাম, এটি একটি লক্ষণ। তিনি বললেন: এরপর আমি তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসলাম এবং কিছু সংগ্রহ করলাম। ইতোমধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় স্থানান্তরিত হলেন। এরপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম: আমি দেখেছি যে আপনি সদকা খান না, আর এটি হলো উপহার যা দিয়ে আমি আপনাকে সম্মানিত করছি। তিনি বললেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে খেলেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরও নির্দেশ দিলেন, ফলে তাঁরাও তা থেকে খেলেন। তিনি বললেন: আমি মনে মনে বললাম, এই হলো দুটি বৈশিষ্ট্য। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম যখন তিনি বাকীউল গারকাদে তাঁর এক সঙ্গীর জানাজায় শরিক ছিলেন। তখন আমার গায়ে আমার দুটি চাদর ছিল এবং তিনি তাঁর সঙ্গীদের মাঝে বসা ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, এরপর তাঁর পিঠের দিকে তাকাতে তাকাতে পিছনে গেলাম—আমার সেই সাথী যে মোহরের বর্ণনা দিয়েছিলেন তা আমি দেখতে পাই কি না দেখার জন্য। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর পিছনে যেতে দেখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে আমাকে বর্ণিত কোনো একটি বিষয়ের খোঁজে আমি পিছনে ঘুরছি। তখন তিনি তাঁর পিঠ থেকে চাদরটি সরিয়ে দিলেন। আমি মোহরটি দেখলাম এবং তা চিনে ফেললাম। এরপর আমি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়ে তা চুম্বন করতে লাগলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «সামনে আসো»। এরপর আমি সামনে আসলাম এবং তাঁর সামনে বসলাম। হে ইবনে আব্বাস, আমি আপনার কাছে যেভাবে বর্ণনা করলাম, ঠিক সেভাবেই তাঁর কাছে আমার কাহিনী বর্ণনা করলাম। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্মিত ও আনন্দিত হলেন এবং চাইলেন যেন তাঁর সঙ্গীরাও তা শোনে। এরপর দাসত্বের ব্যস্ততা সালমানকে এমনভাবে আটকে রাখল যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা হয়ে উঠল না।
--------------------------------------------