0/0
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: -)
الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: غراس للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1422 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433

সুন্নাহ ও কিতাবের ফিকহ বিষয়ক সুস্বাদু ফল   (নাসিরুদ্দিন আলবানী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: সুন্নাহ ও কিতাবের ফিকহ বিষয়ক সুস্বাদু ফল

লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ্জ নূহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: গিরাছ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الناشر

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبيَّ بعده، وعلى آله وصحبه. وبعد:

فهذا هو كتاب "الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب" لفضيلة الإمام المحدِّث الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله، وأسكنه فسيح الجنان -، يخرج إلى قرائه ومحبيه ليرى النور بعد عقود مضَتْ عليه وهو حبيس مكتبة الشيخ رحمه الله، فقد انتهى تدوين هذا الكتاب سنة (1366هـ) - كما وجدناه على غلاف الكتاب بخط المؤلف -، وما هذا من الشيخ رحمه الله إلا درس عملي لأولئك المتعالمين الذين رَأَيْنا بعضَهُم يبيعُ كُتُباً للناشرين لم تُكْتَبْ بعدُ، بل ليست عندهم إلا مجرد فكرة، فإذا قبضوا المعلوم بدؤوا يُحَوِّشون من هنا وهناك، ويجمعون وينفخون، حتى يصير الغلافُ مجلداً والمجلدُ مجلدات، ثم بعد ذلك يظهرون بمظهر المحققين والمعلِّقين و … إلى غير ذلك من الكلمات اللامعة البراقة. ولا حول ولا قوة إلا بالله.

والذي يظهر لنا أن شيخنا الإمام لم يُنْهِ هذا الكتاب، وأنه انتهى إلى ما وصل إليه منه قبل سنة (1370هـ)؛ كما يدل على هذا رأيه في سكنى المهجَّرين الفلسطينيين المساجد أيام نكبة (1948م)، فراجع (ص 820) من هذا الكتاب.

هذا؛ ولسنا بحاجة إلى التعريف بمزايا وخصائص هذا الكتاب؛ إذ هي واضحة لكل قارئ - إن شاء الله تعالى -؛ إلا أننا نجد أنفسنا مضطرين إلى ذكر بعض تلك المزايا، فنقول: أهمها:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌প্রকাশকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর। অতপর:

এটি হলো বরেণ্য ইমাম মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন)-এর কিতাব "আস-সামারুল মুসতাতাব ফী ফিকহিস সুন্নাতি ওয়াল কিতাব"। শাইখের (রহ.) ব্যক্তিগত মাকতাবায় কয়েক দশক বন্দি থাকার পর অবশেষে তা আলোর মুখ দেখে পাঠক ও অনুরাগীদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে। এই কিতাবটির সংকলন ১৩৬৬ হিজরি সনে সমাপ্ত হয়েছিল—যেমনটি আমরা লেখকের নিজ হাতের লেখায় কিতাবের প্রচ্ছদের ওপর পেয়েছি। শাইখের (রহ.) পক্ষ থেকে এটি ঐ সকল জ্ঞানপাপীদের জন্য এক বাস্তব শিক্ষা, যাদের কাউকে আমরা দেখি এমন সব কিতাব প্রকাশকদের নিকট বিক্রি করে যা তখনো লেখাই হয়নি, বরং তাদের নিকট কেবল একটি ধারণামাত্র রয়েছে। অতঃপর যখন তারা নির্ধারিত অর্থ হাতে পায়, তখন তারা এখান থেকে ওখান থেকে সংগ্রহ শুরু করে এবং জড়ো করতে থাকে ও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে, শেষ পর্যন্ত একটি পাতলা মলাট একখণ্ড বৃহদাকার গ্রন্থে এবং একখণ্ড গ্রন্থ বহু খণ্ডে রূপান্তরিত হয়। এরপর তারা গবেষক, টীকাকার ও … এই জাতীয় আরও অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ও চাকচিক্যময় শব্দাবলীতে নিজেদের প্রকাশ করে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

আমাদের নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, আমাদের শাইখ ইমাম এই কিতাবটি সম্পূর্ণ করেননি। তিনি ১৩৭০ হিজরি সনের পূর্বেই এর কাজ যতটুকু পৌঁছেছে ততটুকুতেই সমাপ্ত করেছিলেন; যেমনটি ১৯৪৮ সালের নকবা (বিপর্যয়) কালে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মসজিদে অবস্থানের ব্যাপারে তাঁর মতামত থেকে প্রমাণিত হয়। তাই এই কিতাবের (৮২০ নং পৃষ্ঠা) দেখুন।

আর এই কিতাবের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই; কারণ তা প্রত্যেক পাঠকের নিকট স্পষ্ট—ইনশাআল্লাহ তাআলা। তবে আমরা সেই সব বৈশিষ্ট্যের কিছু উল্লেখ করতে বাধ্য বোধ করছি; আমরা বলছি: তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২)
1 - تجد شيخنا رحمه الله غيوراً على التوحيد أيَّما غيرة منذ نشأته، فتراه يفرد هنا أكثر من عشرين صفحة (ص 357 - 380) في النهي عن الصلاة في المقابر والمساجد المبنية على القبور.

2 - رغم المنزلة التي تبوأها شيخنا رحمه الله خاصة في علم الحديث؛ إلا أننا نجده تقياً ورعاً في مسألة التصحيح والتضعيف؛ فتراه - مثلاً - يستخير الله تعالى في تصحيح أو تضعيف بعض الأحاديث؛ كما في (ص 543).

3 - تجد شيخنا - كما في سائر مصنفاته - طاوياً عَلَمَ التعصب غيرَ هيّابٍ ولا متلكئ، ناشراً راية الاتباع لإمام الأئمة صلى الله عليه وسلم، حتى عُرِف بهذا واشتَهر به. 4 - تجد شيخنا معظِّماً السلفَ الصالح منذ نشأته، فلا يُقْدِمُ على قول ليس له فيه إمام، كما يظهر ذلك جلياً هنا في (ص 214،628).

5 - كما تجد رأي شيخنا رحمه الله في بعض المسائل القليلة في هذا الكتاب غَيرَ رأيه الذي مات عليه، ووجدناه في كتبه المتأخرة الطبع؛ كما في مسألة عدم جواز إتيان الحائض التي طهرت حتى تغتسل (ص هـ4)، فانظر رجوعه في "آداب الزفاف" (ص 125 - 129 - طبع المكتبة الإسلامية)، وكما في مسألة حدِّ عورة الرجل (ص 246)، فقارنه بـ "تمام المنة" (ص 159)، وكذلك تراه يتراجع عن تصحيح أو تضعيف بعض الأحاديث؛ كما في حديث: "من حافظ على الصلاة … " الآتي (ص 52)، فقارنه بـ "ضعيف الترغيب" (رقم 312) وغير ذلك. وتلك مزية لا يُقْبِلُ عليها إلا من يتّقي اللهَ تعالى فيما يكتب، ولا يأبه لكلام الناس؛ إذ تغيُّر الاجتهاد - للأسباب المعروفة
1 - আপনি আমাদের শাইখকে (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শুরু থেকেই তাওহীদের বিষয়ে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন পাবেন। এখানে আপনি দেখতে পাবেন যে তিনি বিশটিরও বেশি পৃষ্ঠা (পৃষ্ঠা ৩৫৭ - ৩৮০) কবরস্থানে এবং কবরের উপর নির্মিত মসজিদে সালাত আদায় করার নিষেধাজ্ঞার আলোচনায় উৎসর্গ করেছেন।

2 - ইলমে হাদীসে আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) যে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন, তা সত্ত্বেও আমরা তাঁকে হাদীসের বিশুদ্ধতা (তাসহিহ) ও দুর্বলতা (তাদয়িফ) নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাকওয়াবান ও সাবধানী পাই। উদাহরণস্বরূপ, আপনি তাঁকে কিছু হাদীসের তাসহিহ বা তাদয়িফ করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করতে দেখবেন; যেমনটি (পৃষ্ঠা ৫৪৩)-এ বর্ণিত হয়েছে।

3 - আপনি আমাদের শাইখকে পাবেন—তাঁর অন্যান্য রচনার মতোই—গোঁড়ামির পতাকাকে সংকুচিতকারী হিসেবে, যেখানে তিনি কোনো প্রকার ভয় বা দ্বিধাবোধ ছাড়াই ইমামদের ইমাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের ঝাণ্ডাকে উড্ডীন করেছেন, এমনকি তিনি এই গুণের কারণেই সুপরিচিত ও বিখ্যাত হয়েছেন। 4 - আপনি আমাদের শাইখকে তাঁর বেড়ে ওঠার শুরু থেকেই সালাফে সালেহীনের প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শনকারী হিসেবে পাবেন। তিনি এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করতে অগ্রসর হন না যেখানে তাঁর জন্য কোনো ইমাম (পূর্বসূরী) নেই, যেমনটি এখানে (পৃষ্ঠা ২১৪, ৬২৮)-এ সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

5 - একইভাবে এই বইয়ের অল্প কিছু বিষয়ে আমাদের শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) এমন মতামত পাবেন যা তাঁর ইন্তেকালের সময়কার মতামতের চেয়ে ভিন্ন ছিল এবং আমরা তা তাঁর পরবর্তীকালে মুদ্রিত বইগুলোতে পেয়েছি। যেমন, ঋতুবতী নারী পবিত্র হওয়ার পর গোসল করার আগ পর্যন্ত তার সাথে সহবাস বৈধ না হওয়ার মাসআলাটি (পৃষ্ঠা ৪-হ); এ বিষয়ে তাঁর মত পরিবর্তন দেখুন "আদাবুজ জিফাফ" (পৃষ্ঠা ১২৫ - ১২৯, মাকতাবাতুল ইসলামিয়া সংস্করণ)-এ। এবং পুরুষের সতরের সীমানার মাসআলায় (পৃষ্ঠা ২৪৬), যা আপনি "তামামুল মিন্নাহ" (পৃষ্ঠা ১৫৯)-এর সাথে তুলনা করতে পারেন। একইভাবে আপনি তাঁকে কিছু হাদীসের তাসহিহ বা তাদয়িফ থেকে ফিরে আসতে দেখবেন; যেমন: "যে ব্যক্তি সালাতের হিফাযত করবে … " শীর্ষক হাদীসটি (পৃষ্ঠা ৫২), একে "যঈফুত তারগীব" (নং ৩১২) ও অন্যান্য গ্রন্থের সাথে তুলনা করুন। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা কেবল তারাই অবলম্বন করেন যারা তাদের লেখনীর বিষয়ে মহান আল্লাহকে ভয় করেন এবং মানুষের কথার পরোয়া করেন না; কেননা ইজতিহাদের পরিবর্তন—সুপরিচিত কারণসমূহের ভিত্তিতে—
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩)
في هذا الباب - هو شأن أهل العلم منذ أن قام في الناس الاجتهاد.

ولا يفوتنا التنبيه على أن هذا الكتاب، كان في بداياته عبارة عن رؤوس أقلام لمسائل سجّلها الشيخ رحمه الله؛ تذكيراً له لما سيتناوله في دروسه الفقهية للشباب في سوريا قديماً؛ لذا نجده يذكر طرف المسألة ثم أطراف الأدلة أو ما يشير إليها، ثم بدا للشيخ رحمه الله الإسهابُ وتأليفُ كتابٍ يستعرضُ فيه المسائل مع ذكر أدلتها من القرآن وصحيح السنة؛ لذا نجده رحمه الله في أوائل الكتاب - وفي حدود بضع عشرة صفحةً يذكرُ مصادر التخريج رموزاً دون ذكر الجزء والصفحة، ثم بعد ذلك بدأ بذكر بعض الأسانيد والكلام عليها، وتخفيف الرموز واستبدال الأسماء بها مع ذكر الجزء والصفحة لتلك المصادر؛ إلا نادراً جداً.

وتيسيراً للقارئ نذكر ههنا مدلولات تلك الرموز المستعملة، وهاكها:

الرمز = مدلوله … الرمز = مدلوله

خ = البخاري … يعلى = أبو يعلى

م = مسلم … طب = الطبراني في "الكبير"

حم = أحمد … طس = الطبراني في "الأوسط"

د = أبو داود … مس = الحاكم في "المستدرك"

ن = النسائي … هق = البيهقي في "الكبرى"

ت = الترمذي … حب = ابن حبان في "صحيحه"

مج = ابن ماجه … خز = ابن خزيمة

مي = الدارمي … قط = الدارقطني

طيا = الطيالسي … طحا = الطحاوي
এই অধ্যায়ে - এটি ইলম অন্বেষণকারীদের রীতি যখন থেকে মানুষের মধ্যে ইজতিহাদ শুরু হয়েছে।

আর আমাদের এ কথাটি উল্লেখ করতে ভুলে গেলে চলবে না যে, এই বইটি এর সূচনালগ্নে শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক লিপিবদ্ধ কিছু মাসআলার সংক্ষিপ্ত নোটের সমষ্টি ছিল; যা তিনি অতীতে সিরিয়ায় তরুণদের জন্য তার ফিকহ দরসে যা আলোচনা করবেন তার স্মারক হিসেবে লিখেছিলেন। এই কারণেই আমরা তাকে মাসআলার একটি দিক উল্লেখ করতে দেখি এবং তারপরে দলীলসমূহের কিছু অংশ বা যা তার দিকে নির্দেশ করে তা উল্লেখ করতে দেখি। অতঃপর শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট বিস্তারিত আলোচনা এবং একটি কিতাব সংকলনের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পায় যাতে তিনি পবিত্র কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ থেকে দলীল উল্লেখসহ মাসআলাগুলো পর্যালোচনা করবেন। এ কারণে আমরা তাকে (রহিমাহুল্লাহ) বইটির শুরুতে - এবং প্রায় দশ-বারো পৃষ্ঠার মধ্যে - খণ্ড এবং পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ না করে কেবল প্রতীকের মাধ্যমে তাখরীজের উৎসসমূহ উল্লেখ করতে দেখি। এরপর তিনি কিছু সনদ উল্লেখ করা এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা শুরু করেন এবং প্রতীকের ব্যবহার কমিয়ে তার পরিবর্তে নাম ব্যবহার করেন এবং সেই সাথে উৎসগুলোর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেন; তবে খুব কম ক্ষেত্র বাদে।

পাঠকের সুবিধার্থে আমরা এখানে ব্যবহৃত সেই প্রতীকগুলোর অর্থ উল্লেখ করছি, আর সেগুলো হলো:

প্রতীক = অর্থ … প্রতীক = অর্থ

খ = বুখারী … ইয়ালা = আবু ইয়ালা

ম = মুসলিম … ত্বব = তাবারানী "আল-কাবীর"-এ

হাম = আহমাদ … তস = তাবারানী "আল-আওসাত"-এ

দ = আবু দাউদ … মাস = হাকেম "আল-মুস্তাদরাক"-এ

ন = নাসাঈ … হাক = বায়হাকী "আল-কুবরা"-তে

ত = তিরমিযী … হাব = ইবনে হিব্বান তার "সহীহ"-তে

মাজ = ইবনে মাজাহ … খুয = ইবনে খুযাইমাহ

মী = দারেমী … কত = দারা কুতনী

তয়া = তায়ালিসী … তাহা = ত্বহাবী
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৪)
هذا؛ وليعلم القارئ الكريم أن شيخنا رحمه الله كان يرجع إلى كتابه هذا بين الفينة والفينة، مضيفاً وحاذفاً، منقحاً ومحققاً - وإن كانت التعديلات قليلة؛ نظراً لتزاحم أعمال الشيخ -، وقد عاجلَتْهُ المنيّة قبل إتمامه. فحرصنا على إخراجه في أحسن حلة، ودقّقنا المطبوع على أصل الشيخ، وجعلناه في مجلدين؛ ينتهي المجلد الأول بـ (ص 514)، ويبدأ المجلد الثاني بـ (ص 515) وينتهي بـ (ص 851)، وصنعنا له فهارس علمية مختلفة؛ لتسهل المراجعة، ولتتم الفائدة، فكان منها فهرس الأحاديث والآثار الواردة في الكتاب، وفهرس الرجال المتكلم فيهم جرحاً وتعديلاً، وفهرس الغريب، وفهرس المواضيع والفوائد.

فنسأل اللهَ تعالى أن ينفع به المسلمين جميعاً، وأن يجعله في ميزان حسنات شيخنا، وأن يكتب لنا أجر التعاون على البر والتقوى.

وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

5 / جمادى الأولى / 1422هـ

الناشر
এ বিষয়; সম্মানিত পাঠক যেন অবগত হন যে, আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মাঝেমধ্যে তাঁর এই কিতাবটির দিকে পুনরায় ফিরে তাকাতেন, এতে সংযোজন ও বিয়োজন করতেন, এর পরিমার্জন ও তাহকীক করতেন—যদিও শাইখের বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে এই সংশোধনীগুলো সামান্য ছিল—এবং এটি সম্পন্ন করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে। ফলে আমরা একে সর্বোত্তমরূপে প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছি এবং শাইখের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে মুদ্রিত অংশটি যাচাই করেছি। আমরা একে দুই খণ্ডে বিন্যস্ত করেছি; প্রথম খণ্ড ৫১৪ পৃষ্ঠায় শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় খণ্ড ৫১৫ পৃষ্ঠা থেকে শুরু হয়ে ৮৫১ পৃষ্ঠায় শেষ হয়েছে। আমরা এতে বিভিন্ন ইলমী সূচীপত্র তৈরি করেছি যেন তা থেকে তথ্য অনুসন্ধান সহজ হয় এবং এর উপকারিতা পূর্ণরূপে অর্জিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে কিতাবে উল্লিখিত হাদিস ও আছারের সূচীপত্র, যাদের ব্যাপারে জারহ ও তা’দিল (সমালোচনা ও প্রশংসা) করা হয়েছে এমন ব্যক্তিদের সূচীপত্র, দুর্লভ শব্দাবলির সূচীপত্র এবং বিভিন্ন বিষয় ও ফায়দাহসমূহের সূচীপত্র।

আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন, একে আমাদের শাইখের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং আমাদের জন্য পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতার সওয়াব বরাদ্দ করেন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

৫ই জুমাদাল উলা, ১৪২২ হিজরি

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: -)
الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: غراس للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1422 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433

সুন্নাহ ও কিতাবের ফিকহ বিষয়ক উপাদেয় ফল   (নাসিরুদ্দীন আলবানী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: সুন্নাহ ও কিতাবের ফিকহ বিষয়ক উপাদেয় ফল

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন, বিন আল-হাজ্জ নূহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হি.)

প্রকাশক: গিরাস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি.

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১)
الثمر المستطاب

في فقه السنة والكتاب

بقلم

محمد ناصر الدين الألباني

الطبعة الأولى

غراس للنشر والتوزيع
মনোরম ফল

সুন্নাহ ও কিতাবের ফিকহ বিষয়ক

রচনায়

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

প্রথম সংস্করণ

ঘিরাস প্রকাশনা ও পরিবেশনা
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌1 - كتاب الطهارة (1)

‌‌1 - المياه: (وأنزلنا من السماء ماء طهورا. لنحيي به بلدة ميتا ونسقيه مما خلقنا أنعاما وأناسي كثيرا ([الفرقان: 48 - 49]

‌‌طهورية ماء البحر

‌‌طهورية الماء المستعمل فيه عن جابر: جاء رسول الله يعودني وأنا مريض لا أعقل فتوضأ وصب وضوءه علي فعقلت (دارمي: 1/ 187) (متفق عليه)

وفي حديث صلح الحديبية: ما تنخم رسول الله صلى الله عليه وسلم نخامة إلا وقعت في كف رجل فدلك بها وجهه وجلده وإذا توضأ كادوا يقتتلون على وضوئه

(خ حم) وفي معناه عن جمع

حديث حذيفة: (إن المسلم لا ينجس) (خ م)

وفيه: أنه كان يغتسل بفضل ميمونة. (م) ابن عباس: اغتسل بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم في جفنة فأراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يتوضأ منه فقالت: يا رسول الله إني كنت جنبا فقال: (إن الماء لا يجنب). صحيح. اختاره ابن تيمية (3) في (الاختيارات) وفي (مجموعة الرسائل) (2/ 217) (حم د ن ت: صح - مج مس قط خز). والنهي عنه للتنزيه. (لا يغتسلن أحدكم في الماء الدائم وهو جنب) (م) وذلك للاستخباث. ومثله وأقبح منه البول

--------------------------------------------

(1) كتب الشيخ رحمه الله في أعلى هذه الصفحة:

(رؤوس أقلام عن المسائل التي سيجري البحث حولها في دروسنا الآتية إن شاء الله تعالى)
১ - পবিত্রতা অধ্যায় (১)

১ - পানিসমূহ: (আর আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি। যাতে আমি তার মাধ্যমে মৃত জনপদকে জীবিত করতে পারি এবং আমি যা সৃষ্টি করেছি তার মধ্য থেকে বহু গবাদি পশু ও মানুষকে তা পান করাতে পারি [আল-ফুরকান: ৪৮ - ৪৯])

সমুদ্রের পানির পবিত্রতা

ব্যবহৃত পানির পবিত্রতা: এ সম্পর্কে জাবির থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন যখন আমি অসুস্থ এবং বেহুঁশ ছিলাম, তারপর তিনি অজু করলেন এবং তাঁর অজুর পানি আমার ওপর ঢেলে দিলেন, ফলে আমার জ্ঞান ফিরল (দারিমি: ১/১৮৭) (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

আর হুদায়বিয়ার সন্ধির হাদিসে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই থুতু ফেলতেন, তখন তা কোনো না কোনো ব্যক্তির হাতের তালুতে পড়ত এবং সে তা দিয়ে তার মুখ ও চামড়া মালিশ করত। আর যখন তিনি অজু করতেন, তখন তারা তাঁর অজুর পানির জন্য মারামারি করার উপক্রম করত।

(বুখারি, আহমদ) এবং এ মর্মে একদল সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে।

হুযাইফার হাদিস: (নিশ্চয়ই মুসলিম অপবিত্র হয় না) (বুখারি, মুসলিম)

এতে আরও রয়েছে: তিনি মাইমুনাহর অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতেন। (মুসলিম) ইবনে আব্বাস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক স্ত্রী একটি বড় পাত্রে গোসল করলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে অজু করতে চাইলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অপবিত্র (জুনুবি) ছিলাম। তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না)। সহিহ। এটি ইবনে তাইমিয়্যাহ পছন্দ করেছেন (৩) 'আল-ইখতিয়ারাত' এবং 'মাজমুআতুর রাসায়িল' (২/২১৭) গ্রন্থে। (আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি: সহিহ - ইবনে মাজাহ, মুসনাদ শাফিঈ, দারা কুতনি, ইবনে খুজাইমাহ)। আর এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে অপছন্দনীয়তার (তানযিহ) কারণে। (তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে জুনুবি অবস্থায় গোসল না করে) (মুসলিম)। আর এটি করা হয়েছে নোংরামির কারণে। আর এর অনুরূপ এবং এর চেয়েও জঘন্য হলো পেশাব করা।

--------------------------------------------

(১) শেখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই পৃষ্ঠার উপরের অংশে লিখেছেন:

(ইনশাআল্লাহ আমাদের আগামী পাঠগুলোতে যেসব মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হবে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ)
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৬)
فيه: (لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه). (خ): (ثم يغتسل منه). (1) (م وغيره): (ثم يتوضأ منه) (ت)

وهو طهور لا ينجسه شيء ما لم يتغير بنجاسة واختاره ابن تيمية (3) وفي (مجموعة الرسائل) (2/ 217)

 

‌‌2 - أسآر البهائم:

إذا ولغ الكلب فليرقه. الهرة: إنها ليست بنجس

 

‌‌3 - تطهير النجاسات: الغائط البول من الآدمي والروث من الخيل والبغال والحمير والدم والمذي

يكون التطهير غالبا بالماء لتطهير الدماء وما شابهه قالت أسماء بنت أبي بكر: جاءت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: إحدانا يصيب ثوبها من دم الحيضة كيف تصنع؟ فقال: (تحته ثم تقرصه بالماء ثم تنضحه ثم تصلي فيه) (متفق عليه). وتطهر الأرض النجسة بالمكاثرة كما في حديث الأعرابي وبالشمس والريح إذا لم يبق أثر النجاسة وهو اختيار الشيخ (11). ويطهر الإناء الذي ولغ فيه الكلب بغسله بالماء سبع مرات وتعفيره مرة بالتراب ويطهر ما أصابه المذي وبول الغلام الرضيع بالنضح والرش والأول اختبار الشيخ (15) دون بول الجارية ويطهر النعل بمسحه بالأرض والإهاب

--------------------------------------------

(1) قيل: نهيه صلى الله عليه وسلم عن البول في الماء الدائم لا يدل على أنه ينجس بمجرد البول إذ ليس في اللفظ ما يدل على ذلك بل قد يكون نهيه لأن البول ذريعة إلى تنجيسه فإنه إذا بال هذا

ثم بال ذاك تغير بالبول فكان نهيه سدا للذريعة شيخ الإسلام (الفتاوى)
এতে রয়েছে: (তোমাদের কেউ যেন এমন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর তাতে গোসল করে)। (বুখারি): (অতঃপর তা থেকে গোসল করে)। (১) (মুসলিম ও অন্যান্য): (অতঃপর তা থেকে অজু করে) (তিরমিজি)।

আর তা পবিত্রকারী, কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না যতক্ষণ না নাপাকির কারণে তার গুণ পরিবর্তিত হয়। ইবনে তাইমিয়া এটিই পছন্দ করেছেন (৩)। এবং (মাজমুআতুর রাসায়িল)-এ (২/ ২১৭) রয়েছে।

 

‌‌২ - পশুর উচ্ছিষ্ট:

কুকুর যখন মুখ দেয় তখন সে যেন তা ঢেলে ফেলে দেয়। বিড়াল: নিশ্চয়ই তা অপবিত্র নয়।

 

‌‌৩ - নাপাকি দূরীকরণ: মানুষের মল ও প্রস্রাব এবং ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোবর, রক্ত এবং মজি।

রক্ত ও এই জাতীয় বস্তুসমূহ পবিত্র করার ক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জন সাধারণত পানি দ্বারা হয়। আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) বলেন: জনৈক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমাদের কারো কাপড়ে ঋতুর রক্ত লাগলে সে কী করবে? তিনি বললেন: (সে যেন তা ঘষে ফেলে, এরপর তা পানি দিয়ে রগড়াবে, এরপর তাতে পানি ছিটিয়ে দেবে, তারপর তাতে সালাত আদায় করবে) (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। নাপাক ভূমি বা জমি অতিরিক্ত পানি ঢালার মাধ্যমে পবিত্র হয়, যেমনটি গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিসে এসেছে। এছাড়া রোদ ও বাতাসের মাধ্যমেও (পবিত্র হয়) যখন নাপাকির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না, এটিই শাইখের পছন্দ (১১)। কুকুর যে পাত্রে মুখ দিয়েছে তা সাতবার পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে এবং একবার মাটি দিয়ে মাজার মাধ্যমে পবিত্র হবে। মজি এবং দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশুর প্রস্রাব যা লেগেছে তা পানি ছিটানোর মাধ্যমে পবিত্র হবে; প্রথমটি শাইখের পছন্দ (১৫), তবে মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে তা নয়। জুতো মাটির সাথে ঘষার মাধ্যমে এবং কাঁচা চামড়াও (এভাবে) পবিত্র হয়।

--------------------------------------------

(১) বলা হয়েছে: আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিষেধ করা কেবল প্রস্রাবের মাধ্যমেই তা নাপাক হয়ে যাওয়ার প্রমাণ বহন করে না; কারণ শব্দের মধ্যে এমন কোনো কিছু নেই যা এর ওপর নির্দেশ করে। বরং তাঁর এই নিষেধের কারণ হতে পারে এই যে, প্রস্রাব করা পানিকে নাপাক করার একটি মাধ্যম। কারণ যখন এই ব্যক্তি প্রস্রাব করবে, এরপর ঐ ব্যক্তি প্রস্রাব করবে, তখন প্রস্রাবের কারণে তা পরিবর্তিত হয়ে যাবে। সুতরাং তাঁর নিষেধটি ছিল পথ রুদ্ধ করার জন্য (সাদ্দুয যারিয়া)। শাইখুল ইসলাম (আল-ফাতাওয়া)।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৭)
بالدبغ ولو إهاب خنزير وتطهر النجاسة بالاستحالة واختاره شيخ الإسلام (14) وابن القيم في (الإغاثة)

انظر بطلان الفرق بين القليل والكثير من النجاسة في (تفسير القرطبي) (8/ 263) وفي (تفسير ابن) (1) (1/ 416)

طهارة شعر الميتة وصوفها في (أحكام القرآن) للجصاص (1/ 140 - 141) وفتاوى السبكي (1/ 139)

 

‌‌4 - الأواني

يحرم استعمال أواني الذهب لقوله: هذان حرامان. . . إلخ وأما الفضة فالعبوا بها لعبا ويحرم الأكل أو الشرب فيها ويجوز استعمال الإناء الذي فيه سلسلة من فضة للحاجة نصا أو ذهب قياسا - مكان الشعب. وأراد الفقهاء بالحاجة هنا أن يحتاج إلى تلك الصورة كما يحتاج إلى التشعيب والشعيرة سواء كان من فضة أو نحاس أو حديد أو غير ذلك وليس مرادهم أن يحتاج إلى كونها من فضة. (فتاوى شيخ الإسلام) (2/ 353)

ويستحب تخمير الأواني: (غطوا الإناء - وزاد في رواية: واذكر اسم الله عليه ولو أن تعرض عليه عودا - وأوكوا السقاء فإن في السنة ليلة ينزل فيه من ذلك الوباء) (مسلم والزيادة متفق عليها و (مشكل الآثار) (2/ 20 - 21)

--------------------------------------------

(1) غير واضحة في الأصل (الناشر)
চামড়া পাকা করার মাধ্যমে নাপাকি পবিত্র হয়, এমনকি যদি তা শূকরের চামড়াও হয়, এবং নাপাকি রূপান্তরের মাধ্যমেও পবিত্র হয়। এটি শাইখুল ইসলাম (১৪) এবং ইবনুল কায়্যিম (ইগাছাতুল লাহফান)-এ পছন্দ করেছেন।

নাপাকির কম এবং বেশির মধ্যে পার্থক্যের অসারতা দেখুন (তাফসীরে কুরতুবী) (৮/ ২৬৩) এবং (তাফসীরে ইবনে) (১) (১/ ৪১৬)-এ।

মৃত পশুর চুল এবং পশমের পবিত্রতা সম্পর্কে জাসসাস-এর (আহকামুল কুরআন) (১/ ১৪০ - ১৪১) এবং ফাতাওয়া সুবকী (১/ ১৩৯)-এ দেখুন।

 

‌‌৪ - পাত্রসমূহ

সোনার পাত্র ব্যবহার করা হারাম, তাঁর এই বাণীর কারণে: "এই দুটি হারাম... ইত্যাদি।" আর রুপার ব্যাপারে কথা হলো, তোমরা তা নিয়ে যথেচ্ছ ব্যবহার করো, কিন্তু তাতে পানাহার করা হারাম। আর প্রয়োজনের খাতিরে রুপার শিকল যুক্ত পাত্র ব্যবহার করা নস (দলিল) অনুযায়ী বৈধ, অথবা কিয়াস অনুযায়ী সোনা ব্যবহার করা বৈধ—ফাটল সারানোর জায়গায়। ফকীহগণ এখানে 'প্রয়োজন' বলতে বুঝিয়েছেন যে, সেই নির্দিষ্ট রূপটির প্রয়োজন হওয়া, যেমন ফাটল জোড়া দেওয়া বা কড়া লাগানোর প্রয়োজন হয়, চাই তা রুপা, তামা, লোহা বা অন্য কিছুর হোক। তাদের উদ্দেশ্য এটি নয় যে, সেটি অবশ্যই রুপার হতে হবে। (ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম) (২/ ৩৫৩)

পাত্র ঢেকে রাখা মুস্তাহাব: (তোমরা পাত্র ঢেকে রাখো—এক বর্ণনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে: এবং তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো, যদিও তার ওপর একটি কাঠি আড়াআড়িভাবে রাখা লাগে তাও করো—এবং মশক বা পানির পাত্রের মুখ বেঁধে রাখো। কারণ বছরে এমন একটি রাত আছে যাতে মহামারি নাজিল হয়) (মুসলিম এবং বর্ধিতাংশটি মুত্তাফাকুন আলাইহি ও মুশকিলে আসার (২/ ২০-২১))।

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে অস্পষ্ট (প্রকাশক)
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৮)
ويجوز استعمال أواني الكفار فقد صح عنه صلى الله عليه وسلم الوضوء من مزادة مشركة (أخرجاه) وقال جابر: كنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فنصيب من آنية المشركين وأسقيتهم فنستمتع بها فلا يعيب ذلك عليهم) (د (2/ 148) حم (3/ 379) بإسناد جيد. لكن إذا كان يغلب عليهم أكل لحم الخنزير ويتظاهرون بذلك فلا يجوز استعمالها إلا أن لا يجد غيرها فحينئذ يجب غسلها قال أبو ثعلبة الخشني: قلت: يا نبي الله إن أرضنا أرض أهل كتاب وإنهم يأكلون لحم الخنزير ويشربون الخمر فكيف أصنع بآنيتهم وقدورهم؟ قال: (إن لم تجدوا غيرها فارخصوها واطبخوا فيها واشربوا) (حم 4/ 194) مس (1/ 143) وهو صحيح على شرطهما وله طريق آخر عند (د: 2/ 148) بسند لين

 

‌‌5 - التخلي

‌‌القول عند الدخول والخروج

كان عليه الصلاة والسلام إذا دخل الخلاء قال: (اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث) (الجماعة). وقد ثبت الأمر به عند (د مج طيا حم مس) فينبغي الاهتمام به وكان إذا خرج قال: (غفرانك) (الخمسة إلا النسائي) وهو أصح حديث. (علل) (1/ 43)

وكان لا يأتي البراز وهو في السفر حتى يغيب فلا يرى (مج د) وربما كان يبعد نحو الميلين (يعلى طب)

وكان يستر للحاجة بالصدف (كل مرتفع من بناء أو كثيب رمل أو جبل) تارة وبحائش النخل تارة (الحائش: النخل الملتف المجتمع كأنه لالتفافه
কাফিরদের পাত্র ব্যবহার করা জায়েয, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একজন মুশরিক মহিলার চামড়ার পানির পাত্র থেকে ওজু করা সহিহভাবে প্রমাণিত হয়েছে (উভয় ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন)। জাবির (রা.) বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধ করতাম এবং মুশরিকদের পাত্র ও মশক হস্তগত করতাম, অতঃপর আমরা সেগুলো ব্যবহার করতাম এবং তিনি তা দোষণীয় মনে করতেন না। (আবু দাউদ ২/১৪৮, আহমাদ ৩/৩৭৯) এটি উত্তম সনদে বর্ণিত। তবে যদি তাদের মাঝে শুকরের মাংস খাওয়ার প্রবণতা প্রবল থাকে এবং তারা তা প্রকাশ্যে করে, তবে তা ব্যবহার করা জায়েয নয় যতক্ষণ না অন্য কোনো পাত্র পাওয়া যায়; সেক্ষেত্রে তা ধুয়ে নেওয়া ওয়াজিব। আবু সা’লাবা আল-খুশানি (রা.) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! আমাদের ভূমি আহলে কিতাবদের ভূমি, তারা শুকরের মাংস খায় এবং মদ পান করে। এমতাবস্থায় তাদের থালা-বাসন ও হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে আমি কী করব? তিনি বললেন: (যদি তোমরা অন্য কিছু না পাও, তবে সেগুলো ধুয়ে নাও এবং তাতে রান্না করো ও পান করো)। (আহমাদ ৪/১৯৪, মুসলিম ১/১৪৩), এটি তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী সহিহ এবং আবু দাউদে (২/১৪৮) দুর্বল সনদে এর আরেকটি সূত্র রয়েছে।

 

‌‌৫ - শৌচকার্য

‌‌প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ের দোয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, বলতেন: (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই) (জামায়াত)। এর নির্দেশ আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তায়ালিসি, আহমাদ এবং মুসলিম শরীফে সাব্যস্ত হয়েছে, তাই এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আর তিনি যখন বের হতেন, বলতেন: (আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি) (নাসাঈ ব্যতীত পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন) এবং এটি এ বিষয়ে সর্বাধিক সহিহ হাদিস। (ইলাল ১/৪৩)

তিনি সফরে থাকা অবস্থায় মলত্যাগের জন্য এমন স্থানে যেতেন যেখানে তিনি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতেন এবং তাকে দেখা যেত না (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)। কখনো কখনো তিনি প্রায় দুই মাইল পর্যন্ত দূরে চলে যেতেন (আবু ইয়ালা, তাবারানি)।

তিনি প্রয়োজন পূরণের সময় কখনো কোনো উঁচু স্থান (যেকোনো উঁচু দালান, বালির স্তূপ অথবা পাহাড়) দ্বারা আড়াল গ্রহণ করতেন, আবার কখনো ঘন খেজুর বাগান দ্বারা (হায়েশ: এমন খেজুর বাগান যা ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট হয়ে থাকার কারণে আড়াল তৈরি করে)।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৯)
يحوش بعضه إلى بعض. نهاية). أخرجه مسلم وحم ومج

وكان يبول عليه الصلاة والسلام وهو وقاعد وأحيانا قائما (الجماعة) والقصد أمن الرشاش فبأيهما حصل ذلك وجب

وكان إذا سلم عليه أحد وهو يبول لا يرد إلا بعد الفراغ. عن المهاجر بن قنفذ أنه أتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يبول فسلم عليه فلم يرد عليه حتى توضأ ثم اعتذر إليه فقال إني كرهت أن أذكر الله عزوجل إلا على طهر (أو طهارة) (د ن مج ح. م) ودليل الجواز كان يذكر الله على كل أحيانه (د ت مج حم)

 

‌‌6 - المناهي:

نهى عن استقبال أو استدبارها حالة التخلي (م حم) بدون تفريق وهو اختيار ابن تيمية (5). وعن أن يستطيب بيمينه وعن الروثة والرمة (الخمسة إلا الترمذي) وعن التخلي في طريق الناس أو في ظلهم (م د حم) وفي الموارد (د مج مس هق عن معاذ وحم عن ابن عباس) وعن البول في الجحر (د ن مس هق حم) وفي الماء الراكد كما سبق وفي الجاري نصا (طس) وفي مستحمه (ن مج ت حم مس) أو مغتسله (د ن مس) وعن الاستنجاء بأقل من ثلاثة أحجار وأن يستنجي بعظم (م د ت) وقال: إنه طعام الجن وكذا قال: البعر (م حم خ) وعن إصابة البول الثوب وغيره وقال: (عامة عذاب القبر منه) وكان يستنجي بالماء تارة (متفق عليه) وبالأحجار تارة (خ) وفيه سبب نزول قوله تعالى: (فيه رجال يحبون
(একটিকে অন্যটির সাথে একত্র করে নিতেন। সমাপ্তি)। এটি মুসলিম, আহমাদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় এবং কখনো কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন (মুহাদ্দিসগণের জামাআত)। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রস্রাবের ছিটা থেকে নিরাপদ থাকা, সুতরাং যে উপায়েই তা অর্জিত হোক না কেন তা-ই পালনীয়।

যখন কেউ তাঁকে প্রস্রাবরত অবস্থায় সালাম দিত, তিনি শৌচকার্য শেষ না করা পর্যন্ত সালামের উত্তর দিতেন না। মুহাজির ইবনে কুনফুয থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন যখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে সালাম দিলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না তিনি ওযু করলেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে ওযর পেশ করে বললেন: "আমি অপছন্দ করি যে পবিত্রতা (বা ওযু) ছাড়া মহান আল্লাহর যিকির করব" (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, হাকেম ও মুসলিম)। আর বৈধতার দলিল হলো যে, তিনি তাঁর সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ)।

 

‌‌৬ - নিষিদ্ধ কার্যাবলি:

তিনি শৌচকার্যের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলার দিকে পিঠ ফেরানো থেকে নিষেধ করেছেন (মুসলিম ও আহমাদ), কোনো পার্থক্য ছাড়াই, আর এটিই ইমাম ইবনে তাইমিয়াহর পছন্দ। তিনি ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে এবং গোবর ও পুরনো জীর্ণ হাড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন (তিরমিযী ব্যতীত সুনান গ্রন্থের পাঁচজন সংকলক)। তিনি মানুষের চলাচলের পথে বা তাদের ছায়ায় শৌচকার্য করতে (মুসলিম, আবু দাউদ ও আহমাদ) এবং পানির ঘাটে (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ শাফিঈ ও বাইহাকী মুয়ায থেকে এবং আহমাদ ইবনে আব্বাস থেকে) শৌচকার্য করা নিষেধ করেছেন। তিনি গর্তে প্রস্রাব করতে (আবু দাউদ, নাসাঈ, মুসনাদ শাফিঈ, বাইহাকী ও আহমাদ) এবং পূর্বে বর্ণিত স্থির পানিতে ও স্পষ্টভাবে বহমান পানিতেও (তাবারানী আওসাত) প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাঁর গোসলখানায় (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী, আহমাদ ও মুসনাদ শাফিঈ) বা স্নানের স্থানে (আবু দাউদ, নাসাঈ ও মুসনাদ শাফিঈ) প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। তিনি তিনটির কম পাথর দিয়ে ইসতিনজা করতে এবং হাড় দিয়ে ইসতিনজা করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযী)। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি জীনদের খাবার।" তদ্রূপ তিনি শুকনো গোবরের ক্ষেত্রেও একই কথা বলেছেন (মুসলিম, আহমাদ ও বুখারী)। তিনি কাপড় বা অন্য কোনো অঙ্গে প্রস্রাব লাগা থেকে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: "সাধারণত কবরের আযাব এ থেকেই হয়।" তিনি কখনো পানি দিয়ে ইসতিনজা করতেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি) এবং কখনো পাথর দিয়ে ইসতিনজা করতেন (বুখারী)। আর এতেই মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিলের কারণ নিহিত: "সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে..."
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১০)
أن يتطهروا ([التوبة / 108] انظر رقم (35) من (صحيح أبي داود)

 

‌‌7 - الوضوء

‌‌فرضيته: (يا أيها الذين آمنوا إذا قمتم (أي: محدثين) إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وأيديكم إلى المرافق وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم إلى الكعبين ([المائدة / 6] (لا يقبل الله صلاة بغير طهور) (الجماعة إلا خ) وكان يتوضأ لكل صلاة (خ 4) وقال: (لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم عند كل صلاة بوضوء ومع كل وضوء سواك) رواه أحمد بإسناد صحيح كما في (المنتقى) وقد أخرجه أحمد (2/ 258 - 259) من طريق محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن أبي هريرة. وهذا سند حسن. انظر (ترغيب) (99)

‌‌وجوب النية

صفته: السواك التسمية: (توضؤا باسم الله) (1) غسل الكفين ثلاثا وهما سنة المضمضة والاستنشاق والاستنثار وهي واجبة وكان يصل بين المضمضة والاستنشاق فيأخذ نصف الغرفة لفمة ونصفها لأنفه وكان يستنشق بيده اليمنى ويستنثر باليسرى. وأمر بالمبالغة في الاستنشاق (إلا أن تكون صائما). غسل الوجه فرض ويستحب تخليل اللحية. غسل اليدين مع المرفقين. وأمر بالتخليل. مسح الرأس كله فرض وصورته أن يمسح يديه

--------------------------------------------

(1) وأما زيادة: (والحمد لله) كما جاء في كتاب (الصلاة) لأنصار السنة و (الدين الخالص) (1/ 228) فلا تصح وإن حسنها الهيثمي واغتر به من اغتر انظر (1171) من (المعجم الصغير)
যে তারা পবিত্র হবে ([আত-তওবা / ১০৮] সহীহ আবু দাউদ এর (৩৫) নম্বর দ্রষ্টব্য)

 

‌‌৭ - উজু

‌‌এর আবশ্যকতা: (হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে (অর্থাৎ: অপবিত্র অবস্থায়) তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো [আল-মায়িদা / ৬] (আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত কোনো নামাজ কবুল করেন না) (বুখারী ব্যতীত জামাতভুক্ত সকল ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন) এবং তিনি প্রত্যেক নামাজের জন্য উজু করতেন (বুখারী ৪) এবং তিনি বলেছেন: (যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের সময় উজু করার এবং প্রত্যেক উজুর সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম) আহমদ এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যেমনটি ‘আল-মুন্তাকা’ গ্রন্থে রয়েছে। আর আহমদ (২/ ২৫৮ - ২৫৯) এটি মুহাম্মদ ইবনে আমর-এর সূত্রে আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এটি একটি হাসান সনদ। দেখুন ‘তারগীব’ (৯৯)

‌‌নিয়ত করা ওয়াজিব

এর পদ্ধতি: মিসওয়াক করা, তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা): (তোমরা আল্লাহর নামে উজু করো) (১) কবজি পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধোয়া এবং এই উভয়টি সুন্নাত; কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং নাক ঝাড়া আর এগুলো ওয়াজিব। এবং তিনি কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার মধ্যে সমন্বয় করতেন, ফলে তিনি এক আঁজলা পানির অর্ধেক মুখের জন্য এবং বাকি অর্ধেক নাকের জন্য নিতেন এবং তিনি ডান হাত দিয়ে নাকে পানি দিতেন ও বাম হাত দিয়ে নাক ঝাড়তেন। এবং তিনি নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (গভীরভাবে পৌঁছানো) করতে নির্দেশ দিয়েছেন (রোজা রাখা অবস্থায় ব্যতীত)। মুখমণ্ডল ধৌত করা ফরজ এবং দাড়ি খিলাল করা মুস্তাহাব। কনুইসহ দুই হাত ধৌত করা। আর তিনি খিলাল করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো মাথা মাসেহ করা ফরজ এবং এর পদ্ধতি হলো তিনি তাঁর দুই হাত মাসেহ করতেন

--------------------------------------------

(১) আর ‘ওয়ালহামদুলিল্লাহ’ অতিরিক্ত অংশটি, যেমনটি আনসারুস সুন্নাহর ‘আস-সালাত’ এবং ‘আদ-দীনুল খালিস’ (১/ ২২৮) কিতাবে এসেছে, তা সঠিক নয়। যদিও হাইসামি একে হাসান বলেছেন এবং এর দ্বারা যারা বিভ্রান্ত হওয়ার তারা হয়েছেন; দেখুন ‘আল-মু’জামুস সাগীর’ এর (১১৭১) নম্বর।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১১)
بمقدم رأسه ثم يذهب بهما إلى قفاه ثم يردهما إلى المكان الذي بدأ منه ويستحب المسح ثلاثا ويكفي مسح بعضه إذا اتجه على العمامة ويكفي المسح عليهما. مسح الأذنين يستحب بماء الرأس. غسل الرجلين فرض حتى يشرع في الساقين وويل للأعقاب من النار ويخلل بخنصر اليمين في الوضوء وفي كل شيء. وقال صلى الله عليه وسلم: (إذا لبستم وإذا توضأتم فابتدؤا بأيمانكم) (د 1/ 187) بسند صحيح وكان يتوضأ مرة مرة ومرتين ومرتين وثلاثا ثلاثا. وقال: (فمن زاد على هذا فقد أساء وتعدى وظلم)

يستحب أن يقول بعد الفراغ: (أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين) (وراجع مجلة المنار 16/ 670 فإن له ههنا وهما). أو (سبحانك اللهم وبحمدك أشهدك أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك)

 

‌‌جواز المعاونة على الوضوء

‌‌الوضوء لمن أراد النوم: (إذا أتيت مضجعك فتوضأ وضوءك للصلاة ثم اضطجع على شقك الأيمن ثم قل. . .)

‌‌الوضوء للجنب إذا أراد أن يعود: (إذا أتى أحدكم أهله ثم أراد أن يعود فليتوضأ) (م 4، حم)

وإذا أراد أن يأكل (م حم) وأحيانا يقتصر على غسل اليدين (ن حم: صح)
মাথার অগ্রভাগ থেকে শুরু করবে, তারপর হাত দুটিকে ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে যাবে, তারপর পুনরায় যেখান থেকে শুরু করেছিল সেখানে ফিরিয়ে আনবে। তিনবার মাসাহ করা মুস্তাহাব। যদি মাথার কিছু অংশ মাসাহ করার সাথে পাগড়ির ওপর মাসাহ করা হয় তবে তা যথেষ্ট হবে, আর কেবল পাগড়ির ওপর মাসাহ করাও যথেষ্ট। মাথার (অবশিষ্ট) পানি দিয়ে কান মাসাহ করা মুস্তাহাব। দুই পা ধোয়া ফরজ, এমনকি নলার নিচ পর্যন্ত। আর আগুনের জন্য গোড়ালির দুর্ভোগ রয়েছে। আর অজু করার সময় এবং প্রতিটি কাজে ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে খিলাল করবে। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যখন তোমরা পোশাক পরিধান করবে এবং যখন তোমরা অজু করবে, তখন তোমাদের ডান দিক থেকে শুরু করবে) (আবু দাউদ ১/১৮৭) সহিহ সনদে। তিনি কখনও একবার একবার, কখনও দুইবার দুইবার এবং কখনও তিনবার তিনবার করে অজু করতেন। এবং তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি করবে, সে মন্দ কাজ করল, সীমালঙ্ঘন করল এবং জুলুম করল)।

অজু শেষ করার পর বলা মুস্তাহাব: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন) (মাজাল্লাতুল মানার ১৬/৬৭০ দ্রষ্টব্য, কেননা এখানে তাঁর একটি সংশয় রয়েছে)। অথবা (হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি)।

 

‌অজুতে অন্যের সাহায্য গ্রহণের বৈধতা

‌যে ঘুমানোর ইচ্ছা করে তার জন্য অজু: (যখন তুমি তোমার বিছানায় আসবে তখন নামাজের অজুর মতো অজু করবে, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়বে, এরপর বলবে... )

‌জুনুবি (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য পুনরায় সহবাসের ইচ্ছা করলে অজু: (তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং পুনরায় করতে চায়, তবে সে যেন অজু করে নেয়) (মুসলিম ৪, আহমাদ)

এবং যখন সে খাওয়ার ইচ্ছা করবে (মুসলিম, আহমাদ); কখনও কখনও শুধু দুই হাত ধোয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন (নাসাঈ, আহমাদ: সহিহ)
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১২)
ويتأكد ذلك له إذا أراد أن ينام جنبا

 

و‌‌الوضوء عند كل حدث لحديث بريدة بن الحصيب قال: أصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فدعا بلالا فقال: (يا بلالا بم سبقتني إلى الجنة إني دخلت الجنة فسمعت خشخشتك أمامي) فقال بلال: يا رسول الله ما أذنت قط إلا صليت ركعتين ولا أصابني حدث قط إلا توضأت عنده فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لهذا). رواه ابن خزيمة في (صحيحه) و (ت مس حم: صح على م) انظر (الترغيب) (1 - 99). وقال صلى الله عليه وسلم: (ولن يحافظ على الوضوء إلا مؤمن (مس حم طب: صح) وانظر (الفتاوى) (2/ 424 - 425)

‌‌الوضوء قبل الغسل

‌‌الوضوء على من حمل الميت لقوله عليه الصلاة والسلام: (من غسل ميتا فليغتسل ومن حمله فليتوضأ) أخرجه الطيالسي (305) وأحمد (2/ 454) من طريق ابن أبي ذئب عن صالح مولى التوأمة عن أبي هريرة

وهذا سند حسن في بعض الأقوال ولم يتفرد به مولى التوأمة المتكلم فيه. فرواه أحمد (2/ 272) عن ابن جرير (1) ثني سهيل بن أبي صالح عن أبيه عن أبي هريرة به. وهذا سند صحيح على شرط مسلم

وخالفه سفيان فقال: عن سهيل بن أبي صالح عن أبيه عن إسحاق مولى زائدة عن أبي هريرة به. أخرجه أبو داود (2 - 63) فأدخل بين أبي صالح وأبي

--------------------------------------------

(1) وتابعه عن سهيل عبد العزيز بن المختار. أخرجه الترمذي وقال: حديث حسن
জুনুবি অবস্থায় ঘুমানোর ইচ্ছা করলে এটি তার জন্য আরও সুনিশ্চিত হয়ে যায়।

 

এবং প্রত্যেক অজুর বিরতির (হাদাস) সময় অজু করা বুরাইদাহ ইবনুল হাসিবের হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেলালকে ডাকলেন এবং বললেন: "হে বেলাল! কিসের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে আমার আগে চলে গেলে? আমি জান্নাতে প্রবেশ করে আমার সামনে তোমার পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম।" বেলাল বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যখনই আযান দিয়েছি, তখনই দুই রাকাত সালাত আদায় করেছি। আর যখনই আমার অজু ভেঙেছে, তখনই আমি নতুন করে অজু করেছি।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এই কারণেই।" ইবনে খুযাইমা তার (সহিহ)-তে এবং (তিরমিজি, মুসলিম, আহমদ: মুসলিমের শর্তে সহিহ) এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন (আত-তারগিব) (১ - ৯৯)। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আর মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অজুর প্রতি যত্নবান হবে না।" (মুসলিম, আহমদ, তাবারানি: সহিহ) এবং দেখুন (আল-ফাতাওয়া) (২/ ৪২৪ - ৪২৫)

‌‌গোসলের পূর্বে অজু করা

‌‌মৃতদেহ বহনকারীর জন্য অজু করা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল করাবে সে যেন গোসল করে, আর যে তাকে বহন করবে সে যেন অজু করে।" এটি তায়ালিসি (৩০৫) এবং আহমদ (২/ ৪৫৪) ইবনে আবি যিব-এর সূত্রে সালিহ মাওলা আত-তাওয়ামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি কিছু বক্তব্য অনুযায়ী একটি হাসান সনদ এবং মাওলা আত-তাওয়ামা (যার বিশ্বস্ততা নিয়ে সমালোচনা আছে) এটি বর্ণনায় একক নন। বরং আহমদ (২/ ২৭২) ইবনে জারির (১)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট সুহাইল ইবনে আবি সালিহ বর্ণনা করেছেন তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। এই সনদটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ।

সুফিয়ান তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইসহাক মাওলা যায়িদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। আবু দাউদ (২ - ৬৩) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আবু সালিহ ও আবু এর মাঝে প্রবেশ করিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) এবং সুহাইল থেকে আব্দুল আজিজ ইবনুল মুখতার তার অনুসরণ করেছেন। তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
هريرة إسحاق موسى زائدة وهو ثقة من رجال مسلم كما في (التقريب) فالإسناد على كل حال شرطه سواء سمعه أبو صالح من أبي هريرة مباشرة أو بواسطة إسحاق هذا

وله طريق ثالث: رواه أبن أبي ذئب أيضا عن القاسم بن عباس عن عمرو ابن عمير عن أبي هريرة به. أخرجه أبو داود (2 - 62) وعنه ابن حزم (2/ 23) ورجاله رجال الصحيح غير عمرو بن عمير هذا فهو مجهول كما في (التقريب)

وله طريق رابع أخرجه ابن حزم (1/ 250، 2/ 23) حماد بن سلمة عن محمد بن عمرو عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف عن أبي هريرة به. وهذا سند حسن

وبالجملة فالحديث صحيح لا شك فيه وإن كان قد تكلم فيه

 

‌‌8 - المسح على الخفين

ثبت ذلك عنه صلى الله عليه وسلم بطريق التواتر وصح أنه مسح بعد نزول آية المائدة: (يا أيها الذين آمنوا إذا قمتم إلى الصلاة ([المائدة / 6] وهي على قراءة الخفض مفسرة بالسنة فالمراد المسح على الخفين وإليه مال ابن تيمية في (الاختيارات) (8)

ويجوز المسح عليهما ولو كانا مخروقين ما دام الاسم عليهما باقيا والمشي فيهما ممكن لإطلاق الشارع وقد فصله شيخ الإسلام في (الفتاوى) (1/ 257 - 263)
হুরায়রা, ইসহাক, মুসা, যায়িদাহ—তিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ব্যক্তি যেমনটি ‘তাক্বরীব’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সনদটি সব অবস্থাতেই শর্তমোতাবেক সহীহ, চাই আবু সালিহ এটি সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে শুনে থাকুন অথবা এই ইসহাকের মাধ্যমেই শুনে থাকুন।

এর একটি তৃতীয় সূত্র রয়েছে: ইবনে আবি যিব এটি আল-কাসিম ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আমর ইবনে উমাইর থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবু দাউদ (২ - ৬২) উদ্ধৃত করেছেন এবং তাঁর থেকে ইবনে হাজম (২/ ২৩) বর্ণনা করেছেন। আমর ইবনে উমাইর ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ পর্যায়ের; আর এই আমর হলেন অজ্ঞাত (মাজহুল), যেমনটি ‘তাক্বরীব’ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

এর একটি চতুর্থ সূত্র রয়েছে যা ইবনে হাজম (১/ ২৫০, ২/ ২৩) বর্ণনা করেছেন—হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই সনদটি হাসান (উত্তম)।

মোদ্দাকথা হলো, হাদীসটি নিঃসন্দেহে সহীহ (বিশুদ্ধ), যদিও এ নিয়ে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।

 

‌‌৮ - চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করা

এটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন ধারা) সূত্রে প্রমাণিত এবং এটিও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনি সূরা মায়িদার আয়াত: (হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে...) [মায়িদা / ৬] অবতীর্ণ হওয়ার পরেও মোজার ওপর মাসাহ করেছেন। আর এই আয়াতে ‘খাফদ’ (জের বিশিষ্ট) পঠনরীতি অনুযায়ী সুন্নাহর আলোকে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করা; ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আল-ইখতিয়ারাত’ (৮) গ্রন্থে এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

চামড়ার মোজা দুটি ছেঁড়া হলেও তার ওপর মাসাহ করা জায়েজ, যতক্ষণ পর্যন্ত একে ‘মোজা’ বলা চলে এবং তা পরিধান করে হাঁটাচলা করা সম্ভব হয়। কারণ শরীয়ত প্রণেতা একে সাধারণভাবে ও কোনো শর্ত ছাড়াই জায়েজ রেখেছেন। শায়খুল ইসলাম তাঁর ‘ফাতাওয়া’ (১/ ২৫৭ - ২৬৩) গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكان يمسح في السفر والحضر ووقت للمقيم يوما وليلة وللمسافر ثلاثة أيام ولياليهن إذا تطهر فلبس خفيه كما في حديث أبي بكرة عند الدارقطني (71) بسند حسن وتبدأ مدة المسح من الوقت الذي مسح إلى مثله من الغد وهو قول أحمد كما في (مسائل أبي داود) (10)

ولا تتوقت مدة المسح في حق المسافر الذي يشق اشتغاله بالخلع واللبس كالبريد المجهز في مصلحة المسلمين وعليه يحمل قصة عقبة بن عامر. كذا قاله شيخ الإسلام في (اختياراته) (9) والقصة المشار إليها هي ما أخرجه الدارقطني (72) من طريق علي بن رباح عن عقبة قال: خرجت من الشام إلى المدينة يوم الجمعة فدخلت المدينة يوم الجمعة ودخلت على عمر بن الخطاب - زاد في رواية: وعلي خفان من تلك الخفاف الغلاظ - فقال: متى أولجت خفيك في رجليك؟ قلت: يوم الجمعة قال: فهل نزعتهما؟ قلت: لا قال: أصبت السنة. قال الدارقطني: وهو صحيح الإسناد. وقال شيخ الإسلام في (الفتاوى) (1/ 259): وهو حديث صحيح. وهو كما قالا. وانظر التفصيل في (الفتاوى) أيضا) (2/ 188 - 189)

قلت: والحديث أخرجه في (المختارة) (1/ 93) بهذا اللفظ. وفي رواية: (أصبت) بدون (السنة) قال: وهو المحفوظ

وكان يمسح ظاهر الخفين ويكفي فيه مطلق المسح

والأفضل في حق كل أحد بحسب قدمه فللابس الخف أن يمسح عليه
তিনি সফর ও মুকিম অবস্থায় মাসেহ করতেন। তিনি মুকিমের জন্য একদিন একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত সময় নির্ধারণ করেছেন, যখন পবিত্রতা অর্জন করে মোজা পরিধান করা হয়। যেমনটি দারা কুতনীতে (৭১) আবু বকরার হাদিসে হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে। মাসেহ করার সময়সীমা প্রথম মাসেহ করার সময় থেকে পরবর্তী দিনের সেই সময় পর্যন্ত শুরু হয়। আর এটিই ইমাম আহমাদের অভিমত, যেমনটি (মাসায়িলে আবু দাউদ)-এ (১০) বর্ণিত হয়েছে।

আর এমন মুসাফিরের জন্য মাসেহ করার সময়সীমা নির্দিষ্ট নয় যার জন্য মোজা খোলা এবং পরা কষ্টসাধ্য, যেমন জনস্বার্থে নিয়োজিত ডাকবাহক। উকবাহ ইবনে আমিরের ঘটনাটি এর ওপরই প্রয়োগ করা হয়। শাইখুল ইসলাম তাঁর (ইখতিয়ারাতে) (৯) এমনটিই বলেছেন। আর উল্লিখিত ঘটনাটি হলো যা দারা কুতনী (৭২) আলী ইবনে রাবাহ-এর সূত্রে উকবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি জুমুআর দিনে শাম থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং (পরবর্তী) জুমুআর দিনে মদীনায় প্রবেশ করলাম। এরপর আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট উপস্থিত হলাম—একটি বর্ণনায় বর্ধিত অংশ রয়েছে: আমার পায়ে একজোড়া মোটা চামড়ার মোজা ছিল—তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কখন তোমার পায়ে মোজা পরিধান করেছিলে? আমি বললাম: জুমুআর দিনে। তিনি বললেন: তুমি কি সেগুলো খুলেছিলে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তুমি সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক কাজ করেছ। দারা কুতনী বলেন: এর সনদ সহীহ। শাইখুল ইসলাম (আল-ফাতাওয়া)-তে (১/২৫৯) বলেন: এটি একটি সহীহ হাদিস। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা উভয়ে বলেছেন। বিস্তারিত দেখুন (আল-ফাতাওয়া)-তেও (২/১৮৮-১৮৯)।

আমি বলছি: হাদিসটি (আল-মুখতারা)-তে (১/৯৩) এই শব্দেই বর্ণিত হয়েছে। তবে একটি বর্ণনায় 'সুন্নাহ' শব্দ ব্যতিরেকে শুধু 'তুমি সঠিক করেছ' রয়েছে। তিনি বলেন: এটিই সংরক্ষিত।

তিনি মোজার উপরিভাগে মাসেহ করতেন এবং এর জন্য সাধারণ মাসেহ-ই যথেষ্ট।

আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার পায়ের অবস্থা অনুযায়ী যা উত্তম সেটিই অনুসরণীয়; সুতরাং যে মোজা পরিহিত আছে, সে তার ওপর মাসেহ করবে।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا ينزعهما اقتداء به صلى الله عليه وسلم وأصحابه ولمن قدماه مكشوفتان الغسل ولا يتحرى لبسه ليمسح عليه وكان صلى الله عليه وسلم يغسل قدميه إذا كانا مكشوفتين ويمسح إذا كان لابس الخفين. شيخ الإسلام في (الاختيارات) (8)

ثم قال: (9): ولا ينتقض وضوء الماسح على الخف والعمامة بنزعهما ولا بانقضاء المدة وبهذا قال ابن حزم (2/ 80 - 84 و 97) ولا يجب عليه مسح رأسه ولا غسل قدميه وهو مذهب الحسن البصري وإبراهيم النخعي وابن أبي ليلى وداود كما في (المحلى) (2/ 94) كإزالة الشعر الممسوح على الصحيح من مذهب أحمد وقول الجمهور. وقد روى الطحاوي (1/ 58) عن شعبة بن عن سلمة بن كهيل عن ظبيان أنه رأى عليا توضأ ومسح على نعليه ثم دخل المسجد فخلع نعليه ثم صلى. وهذا سند صحيح جدا

 

‌‌9 - المسح على الجوربين

وثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه مسح على الجوربين وهو حديث صحيح ومن أعله فلا حجة له. قال أبو داود بعد أن خرجه: وروي هذا أيضا عن أبي موسى الأشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه مسح على الجوربين وليس بالمتصل ولا بالقوي. وقد أخرجه الطحاوي (1/ 58) وقال أبو داود: ومسح على الجوربين علي بن أبي طالب وأبو مسعود والبراء بن عازب وأنس بن مالك وأبو أمامة وسهل بن سعد وعمرو بن حريث وروي ذلك عن عمر بن الخطاب وابن عباس

والجوربان بمنزلة الخفين في المسح كما قال سعيد بن المسيب وغيرها كما في
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের অনুসরণে সেগুলো খুলতেন না। আর যার দুই পা অনাবৃত থাকে, তার জন্য পা ধৌত করা আবশ্যক। আর মোজা পরে তার ওপর মাসাহ করার উদ্দেশ্যে তা পরিধান করার জন্য সচেষ্ট হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর পা দুটি অনাবৃত থাকত তখন তা ধৌত করতেন এবং যখন চামড়ার মোজা (খুফ) পরিহিত থাকতেন তখন মাসাহ করতেন। শাইখুল ইসলাম 'আল-ইখতিয়ারাত' (৮) গ্রন্থে (একথা বলেছেন)।

অতঃপর তিনি বলেন: (৯): চামড়ার মোজা ও পাগড়ির ওপর মাসাহকারীর ওযু সেগুলো খুলে ফেললে কিংবা মাসাহর সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে নষ্ট হয় না। ইবনু হাজম (২/ ৮০-৮৪ ও ৯৭) এই মতই ব্যক্ত করেছেন। এমতাবস্থায় তার ওপর মাথা মাসাহ করা বা পা ধৌত করা ওয়াজিব নয়। এটিই হাসান বসরী, ইবরাহীম নাখয়ী, ইবনু আবী লায়লা এবং দাউদ (জাহেরী)-এর মাযহাব, যেমনটি 'আল-মুহাল্লা' (২/ ৯৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এটি মাসাহ করা চুল কেটে ফেলার বিষয়ের মতো, যা আহমাদ-এর মাযহাবের বিশুদ্ধ মত এবং জমহুর (অধিকাংশ) উলামাদের বক্তব্য। ইমাম তাহাবী (১/ ৫৮) শু'বাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনু কুহাইল থেকে, তিনি যবইয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ওযু করতে দেখেছেন; তিনি তাঁর জুতা জোড়ার ওপর মাসাহ করলেন, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে জুতা দুটি খুলে ফেললেন এবং সালাত আদায় করলেন। আর এই সনদটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ।

 

‌‌৯ - মোজা দুটির ওপর মাসাহ করা

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত যে, তিনি মোজার ওপর মাসাহ করেছেন এবং এটি একটি সহীহ হাদীস; যে ব্যক্তি একে ত্রুটিযুক্ত বলেছে, তার কোনো প্রমাণ নেই। ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন: এটি আবু মুসা আল-াশ'আরী থেকেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি মোজার ওপর মাসাহ করেছেন, তবে এটি মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) বা শক্তিশালী নয়। ইমাম তাহাবী (১/ ৫৮) এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন: আলী ইবনু আবী তালিব, আবু মাসউদ, বারা ইবনু আযিব, আনাস ইবনু মালিক, আবু উমামাহ, সাহল ইবনু সা'দ এবং আমর ইবনু হুরাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মোজার ওপর মাসাহ করেছেন। আর এটি উমর ইবনুল খাত্তাব এবং ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

আর মাসাহ করার ক্ষেত্রে সাধারণ মোজা চামড়ার মোজার (খুফ) স্থলাভিষিক্ত, যেমনটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব এবং অন্যান্যরা বলেছেন, যেমনটি...-তে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
(المحلى) (2/ 86) فلهما حكمهما. ولا يشترط فيهما التجليد في أسفلهما ولا أن يثبتا بأنفسهما ولذلك نص أحمد أنه يجوز المسح على الجوربين وإن لم يثبتا بأنفسهما بل إذا ثبتا بالنعلين جاز المسح عليهما كما نقله شيخ الإسلام في (الفتاوى) (1/ 262) وعليه يجوز المسح على الجوارب الرقيقة إذا كانت مشدودة بسوار من المطاط كما هو المستعمل اليوم. وصرح ابن حزم (2/ 81) بجواز ذلك حتى ولو كان من الحرير للمرأة خاصة

وثبت أيضا أنه عليه الصلاة والسلام كان يمسح على النعلين. رواه أبو داود من حديث المغيرة

ثم أخرجه أحمد (4/ 9 و 10) من حديث أوس بن أبي أوس وكذا الطبراني في (الكبير) كلاهما من طريق حماد بن سلمة وشريك كلاهما عن يعلى بن عطاء عن أوس بن أبي أوس قال:

رأيت أبي يوما توضأ فمسح على النعلين فقلت: أتمسح عليهما؟ فقال: هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعل

وهذا سند صحيح

وقد رواه أبو داود من طريق هشيم عن يعلى بن عطاء عن أبيه: أخبرني أوس بن أبي أوس الثقفي أنه رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى كظامة قوم فتوضأ ومسح على نعليه وقدميه

وهذا مخالف للأول سندا ومتنا:
(আল-মুহাল্লা) (২/ ৮৬) সুতরাং তাদের জন্য তাদেরই বিধান প্রযোজ্য হবে। এবং তাদের তলদেশে চামড়া লাগানো শর্ত নয় এবং সেগুলো নিজে নিজে দাঁড়িয়ে থাকাও শর্ত নয়। আর একারণেই ইমাম আহমাদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মোজা দুটির ওপর মাসাহ করা জায়েজ যদিও সেগুলো নিজে নিজে দাঁড়িয়ে না থাকে; বরং যদি সেগুলো জুতার সাহায্যে স্থির থাকে তবে তাদের ওপর মাসাহ করা জায়েজ হবে, যেমনটি শায়খুল ইসলাম (আল-ফাতাওয়া) (১/ ২৬২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর ভিত্তিতে পাতলা মোজার ওপর মাসাহ করা জায়েজ হবে যদি তা রাবারের ইলাস্টিক দিয়ে আটকানো থাকে, যেমনটি বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এবং ইবনে হাযম (২/ ৮১) এটি জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট করেছেন, এমনকি যদি তা বিশেষ করে নারীদের জন্য রেশমের তৈরি হয় তবুও।

এবং এটিও প্রমাণিত যে, তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি জুতা দুটির ওপর মাসাহ করতেন। এটি আবু দাউদ মুগীরাহ-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর ইমাম আহমাদ (৪/ ৯ ও ১০) আউস ইবনে আবি আউস-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, একইভাবে তাবারানি (আল-কাবীর) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এবং শারীক-এর সূত্রে, তাঁরা উভয়ে ইয়া’লা ইবনে আতা থেকে, তিনি আউস ইবনে আবি আউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি একদিন আমার পিতাকে ওযু করতে দেখলাম, তিনি তাঁর জুতা দুটির ওপর মাসাহ করলেন। আমি বললাম: আপনি কি এ দুটির ওপর মাসাহ করছেন? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এভাবেই করতে দেখেছি।

এবং এই সনদটি বিশুদ্ধ।

এবং আবু দাউদ হুশাইম-এর সূত্রে ইয়া’লা ইবনে আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: আউস ইবনে আবি আউস আস-সাকাফি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি সম্প্রদায়ের পানি চলাচলের নালার কাছে আসতে দেখলেন, অতঃপর তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর জুতা ও পা দুটির ওপর মাসাহ করলেন।

এবং এটি সনদ ও মাতান উভয় দিক থেকেই প্রথমটির বিপরীত:
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
أما الأول فقد جعله من مسند أوس وأدخل بينه وبين يعلى بن عطاء عطاء أبا يعلى

وأما المتن فقد زاد فيه: وقدميه

وقد أخرجه أحمد (4/ 8) من هذا الوجه دون قوله: ومسح على نعليه وقدميه. والرواية الأولى عندي أصح لاتفاق ثقتين عليها: حماد وشريك ومخالفهما - وهو هشيم - كثير التدليس كما في التقريب وقد عنعنه

ورواه أحمد (1/ 148) والدارمي (1/ 181) من حديث علي رضي الله عنه قال - والسياق للأول -: ثنا أبو نعيم: ثنا يونس عن أبي إسحاق عن عبد خير قال: رأيت عليا رضي الله عنه توضأ ومسح على النعلين ثم قال: لولا أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل كما رأيتموني فعلت لرأيت أن باطن القدمين هو أحق بالمسح من ظاهرهما. وهذا إسناد صحيح

وقد تابعه الأعمش عن أبي إسحاق بلفظ قال: كنت أرى أن باطن القدمين أحق بالمسح من ظاهرهما حتى رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح ظاهرهما. أخرجه أحمد (1/ 114، 124)

وكأن بعض الرواة اختصر منه ذكر النعلين فهو محمول على المسح من على النعلين بدليل الرواية الأولى

وكذلك رواه السدي عن عبد خير بنحوه وفيه: ومسح على نعليه ثم قال: هكذا وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم للطاهر ما لم يحدث
প্রথমটির ক্ষেত্রে তিনি একে আউসের মুসনাদ থেকে গণ্য করেছেন এবং তাঁর ও ইয়ালা ইবনে আতার মাঝখানে আতা আবু ইয়ালাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আর মূল পাঠের (মতন) ক্ষেত্রে তিনি তাতে এই অংশটি বৃদ্ধি করেছেন: "এবং তাঁর দুই পা।"

আহমদ এটি (৪/৮) এই দিক থেকে উদ্ধৃত করেছেন তাঁর এই কথাটি ব্যতিরেকে: "এবং তিনি তাঁর দুই জুতা ও দুই পায়ের ওপর মাসাহ করলেন।" আমার মতে প্রথম বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ, কারণ এতে দুই জন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী—হাম্মাদ ও শারীক—ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর তাঁদের বিরুদ্ধাচরণকারী—যিনি হলেন হুশাইম—'আত-তাকরীব' গ্রন্থে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী অধিক তাদলীসকারী এবং তিনি এখানে 'আনআনা' ব্যবহার করে বর্ণনা করেছেন।

আহমদ (১/১৪৮) ও আদ-দারিমী (১/১৮১) এটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন—এবং এর বর্ণনাধারা প্রথমজনের—তিনি বলেন: আবু নুআয়ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইউনুস আমাদের নিকট আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি আবদ খাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন: আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে অযু করতে এবং দুই জুতার ওপর মাসাহ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সেভাবে করতে না দেখতাম যেভাবে তোমরা আমাকে করতে দেখলে, তবে আমি মনে করতাম যে পায়ের উপরিভাগের চেয়ে তলার ভাগ মাসাহ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।" আর এই বর্ণনাসূত্রটি বিশুদ্ধ।

আমাশ আবু ইসহাক থেকে এই শব্দে তাঁর অনুসরণ করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মনে করতাম যে পায়ের উপরিভাগের চেয়ে তলার ভাগ মাসাহ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত, যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁদের উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি।" এটি আহমদ (১/১১৪, ১২৪) উদ্ধৃত করেছেন।

মনে হচ্ছে যেন কোনো কোনো বর্ণনাকারী এতে দুই জুতার উল্লেখ বাদ দিয়ে সংক্ষেপ করেছেন, তাই প্রথম বর্ণনার দলীল অনুযায়ী একে দুই জুতার ওপর মাসাহ করার অর্থেই গ্রহণ করা হবে।

অনুরূপভাবে সুদ্দী আবদ খাইর থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "এবং তিনি তাঁর দুই জুতার ওপর মাসাহ করলেন, অতঃপর বললেন: পবিত্র ব্যক্তির জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অযু এমনই ছিল যতক্ষণ না তিনি অযু ভঙ্গ করেন।"
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
أخرجه أحمد (1/ 120) عن سفيان عنه

لكن أخرجه أحمد أيضا (1/ 116) من طريق شريك عن السدي به بلفظ: ومسح على ظهر قدميه ثم قال: هذا وضوء من لم يحدث ثم قال: لولا أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم مسح على ظهر قدميه رأيت أن بطونهما أحق

فيقال في هذه ما قلناه في الرواية عن أبي إسحاق لا سيما وأن شريكا سيء الحفظ فرواية سفيان عن السدي أصح

ثم إنه قد تابعه أيضا ابن عبد خير عن أبيه بلفظ: فغسل ظهور قدميه وقال: لولا أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يغسل ظهور قدميه لظننت أن بطونهما أحق بالغسل. أخرجه أحمد أيضا (1/ 124) من طريق إسحاق بن إسماعيل: ثنا سفيان عن أبي السوداء عن ابن عبد خير. ثم قال: ثنا إسحاق: ثنا سفيان مرة أخرى قال: رأيت عليا رضي الله عنه توضأ فسمح على ظهورهما. وهذا سند صحيح. وأبو السوداء اسمه عمرو بن عمران وابن عبد خير اسمه المسيب وهما ثقتان. فهذه الروايات كلها تفسرها الرواية الأولى وإلا فهي بظاهرها حجة للشيعة

وأما الرواية الأخرى عند أحمد أيضا (1/ 139 و 144 و 159) من طريق عبد الملك بن ميسرة عن النزال بن سبرة أنه شهد عليا رضي الله عنه صلى الظهر ثم جلس في الرحبة في حوائج الناس فلما حضر العصر أتى بتور فأخذ حفنة ماء فمسح يديه وذراعيه ووجهه ورأسه ورجليه. . . الحديث فهو محمول على
আহমাদ (১/ ১২০) সুফিয়ান থেকে এবং তিনি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু আহমাদ (১/ ১১৬) শরীকের সূত্রে সুদ্দী থেকে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি তাঁর দুই পায়ের উপরের অংশে মাসেহ করলেন এবং বললেন: এটি ওই ব্যক্তির ওজু যে অপবিত্র হয়নি। তারপর তিনি বললেন: যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর দুই পায়ের পিঠের (উপরের অংশের) ওপর মাসেহ করতে না দেখতাম, তবে আমি মনে করতাম যে পায়ের তলাই (মাসেহ করার জন্য) বেশি হকদার।"

আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা যা বলেছি, এই বর্ণনার ক্ষেত্রেও তা-ই বলা হবে; বিশেষত এই কারণে যে, শরীকের স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছিল, তাই সুদ্দী থেকে সুফিয়ানের বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ।

অতঃপর ইবনে আবদ খাইর তাঁর পিতার সূত্রে এই শব্দে অনুকরণ (তাবে) করেছেন: "তিনি তাঁর দুই পায়ের উপরের পিঠ ধৌত করলেন এবং বললেন: আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পায়ের উপরের পিঠ ধৌত করতে না দেখতাম, তবে আমি মনে করতাম যে পায়ের তলাই ধৌত করার জন্য বেশি উপযুক্ত।" আহমাদ এটিও (১/ ১২৪) ইসহাক ইবনে ইসমাইলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট আবুস সাওদা থেকে এবং তিনি ইবনে আবদ খাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান পুনরায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ওজু করতে দেখেছি, তিনি তাঁর দুই পায়ের পিঠের ওপর মাসেহ করেছেন। এটি একটি সহীহ সনদ। আবুস সাওদার নাম আমর বিন ইমরান এবং ইবনে আবদ খাইরের নাম মুসাইয়্যিব, তাঁরা উভয়েই নির্ভরযোগ্য। সুতরাং এই বর্ণনাগুলো সব প্রথম বর্ণনার মাধ্যমেই ব্যাখ্যাত হবে, অন্যথায় বাহ্যিকভাবে এগুলো শিয়াদের জন্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

আর আহমাদের কাছে থাকা অন্য বর্ণনাটি (১/ ১৩৯, ১৪৪ এবং ১৫৯), যা আব্দুল মালিক ইবনে মাইসারা থেকে নাযযাল ইবনে সাবরাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যোহরের সালাত আদায় করতে দেখেছেন, তারপর তিনি মানুষের প্রয়োজনে প্রশস্ত চত্বরে বসলেন। যখন আসরের সময় হলো, তখন তাঁর কাছে একটি বড় পাত্র আনা হলো, তিনি এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তাঁর দুই হাত, দুই বাহু, মুখমণ্ডল, মাথা ও দুই পা মাসেহ করলেন... হাদীসটি। সুতরাং এটি এই মর্মে বহন করা হবে যে...
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
الغسل بدليل أن المسح قد استعمل في هذه الرواية في جميع الأعضاء وذا لا يجوز باتفاق المسلمين قال في (النهاية): والمسح يكون مسحا باليد وغسلا

وإسناد هذه الرواية صحيح على شرط البخاري

هذا وحديث علي رضي الله عنه في المسح على النعلين رواه ابن خزيمة أيضا وأحمد بن عبيد الصفار كما في (نيل الأوطار) (1/ 158) وفي الباب عن ابن عباس عند ابن حبان والبيهقي كما في (الاختيارات) لشيخ الإسلام (8) وعن أنس عند البيهقي

قلت: ورواه الدولابي في (الكنى) (2/ 96) عن هميان بن ثمامة الزماني قال: ثني راشد أبو محمد الحماني قال: رأيت أنس بن مالك توضأ فمسح على نعليه وصلى

وهميان هذا لم أجد من ذكره وبقية رواته ثقات

وثبت المسح عليهما عن ابن مسعود وعن عمرو بن حريث. أخرجهما الطبراني في (الكبير) وإسناد الأول رجاله موثقون والآخر رجاله ثقات كما في (المجمع)

وذهب إلى جواز المسح عليهما الأوزاعي وكذا ابن حزم في (المحلى) (2/ 103) فقول شيخ الإسلام في (الفتاوى) (1/ 266) أنه (لا يجوز المسح عليهما باتفاق المسلمين) مدفوع بما ذكرنا

ومن الغريب أنه حمل المسح هنا على الرش فذكر في موضع آخر: (إن
ধৌতকরণ, এর প্রমাণ হলো যে, এই বর্ণনায় 'মাসহ' শব্দটি সমস্ত অঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, আর মুসলিমদের ঐকমত্যে এটি জায়েজ নয়। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'মাসহ' দ্বারা হাত দিয়ে মোছা এবং ধৌত করা উভয়ই বোঝায়।

এই বর্ণনার সনদ ইমাম বুখারীর শর্তানুসারে সহীহ।

এটি এবং জুতার ওপর মাসহ করার বিষয়ে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি ইবনে খুযাইমাহ এবং আহমাদ বিন উবাইদ আস-সাফফারও বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'নাইলুল আওতার' (১/১৫৮) গ্রন্থে রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে ইবনে আব্বাস থেকে ইবনে হিব্বান ও বায়হাকীতে বর্ণনা রয়েছে, যেমনটি শাইখুল ইসলামের 'আল-ইখতিয়ারাত' (৮) গ্রন্থে রয়েছে এবং আনাস থেকে বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে।

আমি বলব: আদ-দুলাবী 'আল-কুনা' (২/৯৬) গ্রন্থে হামইয়ান বিন সুমামাহ আয-যামানি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে রাশিদ আবু মুহাম্মাদ আল-হিম্মানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে দেখেছি যে তিনি ওজু করেছেন এবং তাঁর জুতা দুটির ওপর মাসহ করেছেন ও সালাত আদায় করেছেন।

এই হামইয়ান নামক রাবীর কথা উল্লেখ করেছেন এমন কাউকে আমি খুঁজে পাইনি, তবে অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

জুতা দুটির ওপর মাসহ করা ইবনে মাসউদ এবং আমর বিন হুরাইস থেকেও প্রমাণিত। তাবারানী 'আল-কাবীর' গ্রন্থে এ দুটি বর্ণনা করেছেন। প্রথম বর্ণনার রাবীগণ বিশ্বস্ত এবং অন্যটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, যেমনটি 'আল-মাজমা' গ্রন্থে রয়েছে।

ইমাম আওযাঈ এবং ইবনে হাযম 'আল-মুহাল্লা' (২/১০৩) গ্রন্থে জুতা দুটির ওপর মাসহ করা বৈধ বলে মত দিয়েছেন। সুতরাং শাইখুল ইসলামের 'আল-ফাতাওয়া' (১/২৬৬) গ্রন্থে যে উক্তি রয়েছে যে, "মুসলিমদের ঐকমত্যে জুতা দুটির ওপর মাসহ করা জায়েজ নয়", তা আমাদের উল্লিখিত তথ্যের মাধ্যমে খন্ডিত হয়।

আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তিনি এখানে মাসহ বলতে পানি ছিটানো অর্থ গ্রহণ করেছেন, অতঃপর অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন: (নিশ্চয়ই
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২০)
الرجل لها ثلاثة أحوال: الكشف له الغسل وهو أعلى المراتب والستر المسح وحالة متوسطة وهي في النعل فلا هي مما يجوز المسح ولا هي بارزة فيجب الغسل فأعطيت حالة متوسطة وهو الرش وحيث أطلق عليها لفظ المسح في هذا الحال فالمراد به الرش وقد ورد الرش على النعلين والمسح عليهما في (المسند) من حديث أوس بن أبي أوس. ورواه ابن حبان والبيهقي من حديث ابن عباس) كذا في (الاختيارات) (8)

وليس في شيء من هذه الأحاديث ذكر الرش لا في المسند ولا في غيره من حديث أوس بن أبي أوس ولا من حديث غيره اللهم إلا في حديث آخر عن علي رضي الله عنه أنه قال: يا ابن عباس ألا أتوضأ لك وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قلت: بلى - فداك أبي وأمي -. قال: فوضع له إناء فغسل يديه ثم مضمض واستنشق واستنثر ثم أخذ بيديه فصك بهما وجهه وألقم إبهامه ما أقبل من أذنيه قال: ثم عاد في مثل ذلك ثلاثا ثم أخذ كفا من ماء بيده اليمنى فأفرغها على ناصيته ثم أرسلها تسيل على وجهه ثم غسل يده اليمنى إلى المرفق ثلاثا ثم يده الأخرى مثل ذلك ثم مسح برأسه وأذنيه من ظهورهما ثم أخذ بكفيه من الماء فصك بهما على قدميه وفيهما النعل ثم قلبها بها ثم على الرجل الأخرى مثل ذلك. قال: فقلت: وفي النعلين؟ قال: وفي النعلين قلت: وفي النعلين؟ قال: وفي النعلين. قلت: وفي النعلين؟ قال: وفي النعلين

أخرجه الإمام أحمد (1/ 82 - 83) عن محمد بن إسحاق: ثني محمد

পায়ের তিনটি অবস্থা রয়েছে: অনাবৃত থাকা—এমতাবস্থায় ধোয়া ওয়াজিব, যা সর্বোচ্চ স্তর; আবৃত থাকা—এমতাবস্থায় মাসেহ করা; এবং একটি মধ্যবর্তী অবস্থা—অর্থাৎ জুতা পরিহিত থাকা, যা না তো এমন যে তার ওপর মাসেহ করা বৈধ, আর না তা পুরোপুরি উন্মুক্ত যে ধোয়া ওয়াজিব হবে। তাই একে একটি মধ্যবর্তী বিধান দেওয়া হয়েছে, আর তা হলো পানির ছিটা দেওয়া। যেখানে এই অবস্থায় 'মাসেহ' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে এর অর্থ হলো ছিটা দেওয়া। আর 'মুসনাদ'-এ আওস ইবনে আবি আওস-এর হাদিসে জুতার ওপর ছিটা দেওয়া এবং মাসেহ করার কথা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকি এটি ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে (৮) এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

তবে এই হাদিসগুলোর কোনোটিতেই ছিটা দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই—না মুসনাদে, না আওস ইবনে আবি আওসের অন্য কোনো হাদিসে, আর না অন্য কারো হাদিসে। অবশ্য আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছিলেন: হে ইবনে আব্বাস! আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওজু করে দেখাব না? আমি বললাম: অবশ্যই—আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। তিনি বলেন: এরপর তাঁর জন্য একটি পাত্র রাখা হলো, তিনি তাঁর উভয় হাত ধুলেন, এরপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। এরপর তিনি তাঁর উভয় হাতে পানি নিয়ে তা দিয়ে মুখমণ্ডল ধুলেন এবং কানের সামনের অংশে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রবেশ করালেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি এভাবে তিনবার করলেন। এরপর তিনি ডান হাতে এক আজলা পানি নিয়ে তা কপালের উপরিভাগে ঢাললেন এবং তা চেহারার ওপর দিয়ে গড়িয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, তারপর অপর হাতটিও সেভাবে ধুলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা এবং কানের বাইরের অংশে মাসেহ করলেন। এরপর তিনি দুই হাতের তালুতে পানি নিয়ে তা তাঁর দুই পায়ের ওপর মারলেন এবং তখন তাঁর পায়ে জুতা ছিল, এরপর তা দিয়ে পা বুলিয়ে নিলেন। এরপর অপর পায়ের ক্ষেত্রেও তদ্রূপ করলেন। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম: জুতা পরা অবস্থাতেই? তিনি বললেন: জুতা পরা অবস্থাতেই। আমি বললাম: জুতা পরা অবস্থাতেই? তিনি বললেন: জুতা পরা অবস্থাতেই। আমি বললাম: জুতা পরা অবস্থাতেই? তিনি বললেন: জুতা পরা অবস্থাতেই।

এটি ইমাম আহমাদ (১/ ৮২ - ৮৩) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আমার কাছে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন...

(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২১)
ابن طلحة بن يزيد بن ركانة عن عبيد الله الخولاني عن ابن عباس قال: دخل علي علي بيتي فدعا بوضوء فجئنا بقعب يأخذ المد أو قريبه حتى وضع بين يديه وقد بال فقال: يا ابن عباس. . . إلخ

وهذا سند جيد

فهذا الحديث يكاد يكون نصا على ما ذهب إليه شيخ الإسلام رحمه الله من الرش على القدم وهي في النعل ولكنه لا يلزم منه إبطال السنة الأخرى وهي المسح على النعلين كالخفين والجوربين بحمل المسح عليهما على الرش كما قال الشيخ رحمه الله لعدم وجود قرينة قاطعة صارفة من الحقيقة إلى المجاز والله أعلم

ثم وجدت نصا لشيخ الإسلام ذهب فيه إلى المسح على النعلين بشرط مشقة نزعهما فقال في (الفتاوى) (2/ 85): ونقل عنه صلى الله عليه وسلم المسح على القدمين في موضع الحاجة مثل أن يكون في قدميه نعلان يشق نزعهما. وقيده في (الاختيارات): إلا بيد أو رجل

 

‌‌10 - نواقض الوضوء

‌‌1، 2 - البول، الغائط: (لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ) (متفق عليه) (لا وضوء إلا من صوت أو ريح) (ت: صح مج هق حم (2/ 410)

‌‌3 - المذي: فيه الوضوء (متفق عليه)
ইবনে তালহা ইবনে ইয়াযিদ ইবনে রুকানা, উবায়দুল্লাহ আল-খাওলানী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: আলী আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ওযুর পানি চাইলেন। আমরা একটি বড় পাত্র নিয়ে আসলাম যা প্রায় এক মুদ পরিমাণ পানি ধারণ করে এবং তা তাঁর সামনে রাখা হলো, আর তিনি প্রস্রাব করেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাস... ইত্যাদি।

এই সনদটি উত্তম।

এই হাদীসটি শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতের স্বপক্ষে একটি সুস্পষ্ট দলিলে পরিণত হয়েছে, যা হলো জুতা পরা অবস্থায় পায়ের ওপর পানি ছিটানো। তবে এর ফলে অন্য সুন্নাতটি বাতিল হয়ে যাওয়া আবশ্যক নয়, যা হলো চামড়ার মোজা ও কাপড়ের মোজার ন্যায় জুতার ওপর মাসেহ করা; অর্থাৎ মাসেহ শব্দটিকে পানি ছিটানোর অর্থে গ্রহণ করা, যেমনটি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। কারণ আক্ষরিক অর্থ থেকে রূপক অর্থের দিকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো অকাট্য সূত্র বিদ্যমান নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এরপর আমি শাইখুল ইসলামের একটি বক্তব্য পেয়েছি যেখানে তিনি জুতা খোলার ক্ষেত্রে কষ্টকর হওয়ার শর্তে জুতার ওপর মাসেহ করার মত পোষণ করেছেন। তিনি (ফাতাওয়া ২/৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দুই পায়ের ওপর মাসেহ করার কথা বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি হলো পায়ে এমন জুতা থাকা যা খোলা কষ্টকর। আর তিনি (আল-ইখতিয়ারাত) গ্রন্থে একে সীমাবদ্ধ করেছেন: হাত বা পা ব্যতীত।

 

‌‌১০ - ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ

‌‌১, ২ - প্রস্রাব, পায়খানা: (তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে ওযু করে) (মুত্তাফাকুন আলাইহি) (শব্দ বা গন্ধ পাওয়া ব্যতীত ওযু নেই) (তিরমিযী: সহীহ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, মুসনাদে আহমাদ ২/৪১০)

‌‌৩ - মযী: এতে ওযু আবশ্যক (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌4 - النوم: كان يأمرنا إذا كنا سفرا أن لا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن إلا من جنابة لكن من غائط وبول ونوم. (ت: صح ن حم) وهو مذهب الحسن البصري والمزني وأبي عبيد القاسم بن سلام وابن راهويه وابن المنذر وإليه ذهب ابن حزم (1/ 222 - 231)

‌‌5 - أكل لحم الإبل وبه قال أحمد وإسحاق وابن المنذر وابن خزيمة واختاره البيهقي وابن حزم (1/ 241) وقال الشافعي: إن صح الحديث قلت به. وقال النووي في مسلم: وهذا المذهب أقوى دليلا وإن كان الجمهور على خلافه. وانتصر له شيخ الإسلام في (الفتاوى) (1/ 57 - 59) ومال إليه في (مجموعة الرسائل) (2/ 432) وبه قال الشوكاني (1/ 175 - 177)

‌‌6 - لمس العضو بشهوة

‌‌11 - المتطهر يشك في الحدث

(إذا وجد أحدكم في بطنه شيئا فأشكل عليه أخرج منه شيء أم لا فلا يخرج من المسجد حتى يسمع صوتا أو يجد ريحا) (م ت)

 

‌‌12 - ما يستحب الوضوء لأجله

الوضوء لكل صلاة

الوضوء مما مسته النار. شيخ الإسلام في (مجموعة الرسائل) (2/ 231 - 232)

الوضوء لذكر الله تعالى وللقرآن من باب أولى عن المهلب
‌‌৪ - ঘুম: তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যে, যখন আমরা সফরে থাকতাম তখন যেন বড় অপবিত্রতা (জানাবাত) ব্যতীত তিন দিন ও তিন রাত আমাদের চামড়ার মোজা না খুলি; তবে পায়খানা, প্রস্রাব ও ঘুমের কারণে (খোলার প্রয়োজন নেই)। (তিরমিযী: সহীহ, নাসাঈ, আহমাদ) আর এটি হাসান বসরী, মুযানী, আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম, ইবনে রাহওয়াইহ এবং ইবনুল মুনযিরের মাযহাব, আর ইবনে হাযমও (১/ ২২২ - ২৩১) এই মতের দিকে গিয়েছেন।

‌‌৫ - উটের গোশত খাওয়া এবং এটি আহমদ, ইসহাক, ইবনুল মুনযির ও ইবনে খুযাইমা বলেছেন এবং বাইহাকী ও ইবনে হাযম (১/ ২৪১) এটি পছন্দ করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: যদি হাদীসটি সহীহ হয় তবে আমি সেই মতেই বিশ্বাসী। ইমাম নববী মুসলিমে বলেছেন: এই মাযহাবটি দলিলের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী, যদিও জমহুর এর বিপরীত মত পোষণ করেন। শায়খুল ইসলাম (আল-ফাতাওয়া) গ্রন্থে (১/ ৫৭ - ৫৯) এর সমর্থন করেছেন এবং (মাজমুআতুর রাসায়িল) গ্রন্থে (২/ ৪৩২) এর প্রতি ঝুঁকেছেন এবং শাওকানীও (১/ ১৭৫ - ১৭৭) এই মতই ব্যক্ত করেছেন।

‌‌৬ - কামবাসনার সাথে অঙ্গ স্পর্শ করা

‌‌১১ - পবিত্র ব্যক্তি যখন অপবিত্রতার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে

(যদি তোমাদের কেউ তার পেটে কিছু অনুভব করে এবং তার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায় যে, কিছু বের হয়েছে কি না, তবে সে যেন মসজিদ থেকে বের না হয় যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো গন্ধ পায়।) (মুসলিম, তিরমিযী)

 

‌‌১২ - যেসব কারণে উযু করা মুস্তাহাব

প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করা

আগুনে স্পর্শ করা বস্তুর কারণে উযু করা। শায়খুল ইসলাম (মাজমুআতুর রাসায়িল) গ্রন্থে (২/ ২৩১ - ২৩২)

মহান আল্লাহর যিকরের জন্য এবং কুরআনের জন্য উযু করা (উত্তমতার দিক থেকে) অধিকতর প্রযোজ্য, মুহাল্লাব থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
الوضوء من القيء: (مجموعة الرسائل) (2 - 234)

الوضوء عقب كل حدث. انظر (الترغيب) (1/ 99 رقم 4)

 

‌‌13 - موجبات الغسل

‌‌1 - خروج المني بشهوة: (إذا حذفت الماء فاغتسل من الجنابة فإذا لم تكن حاذفا فلا تغتسل) (حم: 1/ 107) عن جواب التيمي عن يزيد بن شريك - يعني التيمي - عن علي به مرفوعا وهذا سند حسن رجاله ثقات غير جواب هذا وهو صدوق رمي بالإرجاء كما في (التقريب)

وفي لفظ له من طريق آخر (1/ 109) ود (1/ 32):

(فإذا فضخت الماء فاغتسل) وسنده جيد

 

‌‌2 - خروجه في الاحتلام والنساء فيه كالرجال (1): عن أم سلمة أن أم سليم قالت: يا رسول الله إن الله لا يستحي من الحق فهل على المرأة

--------------------------------------------

(1) فيه حديثان:

الأول: عن خولة بنت حكيم أنها سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن المرأة ترى في منامها ما يرى الرجل. فقال: (ليس عليها غسل حتى تنزل كما أن الرجل ليس عليه غسل حتى ينزل). أخرجه أحمد (6/ 409) وابن ماجه (1/ 209)

وفيه عن علي بن زيد بن جدعان وفيه ضعف لكن يقويه الحديث التالي وهو:

عن عائشة رضي الله عنها بنحوه

رواه الخمسة إلا النسائي وفيه ضعف أيضا
বমি থেকে ওযু: (মাজমুআতুর রাসায়িল) (২ - ২৩৪)

প্রতিটি অপবিত্রতার (হাদাস) পর ওযু। দেখুন (আত-তারগীব) (১/ ৯৯ নং ৪)

 

‌‌১৩ - গোসলের ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ

‌‌১ - কামোত্তেজনা সহকারে বীর্য নির্গত হওয়া: (যখন তুমি পানি নিক্ষেপ করবে (বীর্যপাত করবে), তখন জানাবাত থেকে গোসল করবে। আর যদি নিক্ষেপকারী না হও, তবে গোসল করবে না) (আহমাদ: ১/ ১০৭) জাওয়াব আত-তাইমি থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে শারিক — অর্থাৎ আত-তাইমি — থেকে, তিনি আলী থেকে মারফূ সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে। এই সনদটি হাসান, এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, কেবল এই জাওয়াব ব্যতীত, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার বিরুদ্ধে ইরজার অভিযোগ করা হয়েছে, যেমনটি ‘আত-তাকরীব’-এ রয়েছে।

তার (আহমাদ) অন্য একটি সূত্রে (১/ ১০৯) এবং আবু দাউদে (১/ ৩২) এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

(যখন তুমি সজোরে পানি নির্গত করবে, তখন গোসল করবে) এবং এর সনদ জাইয়িদ (উত্তম)।

 

‌‌২ - স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বীর্য নির্গত হওয়া এবং এ বিষয়ে নারীরা পুরুষদের মতো (১): উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সুলাইম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না। তবে কি নারীর ওপর...

--------------------------------------------

(১) এতে দুটি হাদিস রয়েছে:

প্রথমটি: খাওলাহ বিনতে হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে স্বপ্নে তা দেখে যা পুরুষরা দেখে। তিনি বললেন: (তার ওপর গোসল নেই যতক্ষণ না সে বীর্যপাত করে, যেমনটি পুরুষের ওপরও গোসল নেই যতক্ষণ না সে বীর্যপাত করে)। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/ ৪০৯) এবং ইবনে মাজাহ (১/ ২০৯)।

এতে আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন রয়েছেন এবং তার মধ্যে দুর্বলতা আছে, কিন্তু পরবর্তী হাদিসটি একে শক্তিশালী করে, আর তা হলো:

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে অনুরূপ বর্ণিত।

এটি নাসায়ি ব্যতীত পঞ্চ ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং এতেও দুর্বলতা আছে।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
الغسل إذا احتلمت؟ قال: (نعم إذا رأت الماء) فقالت أم سلمة: وتحتلم المرأة؟ فقال: تربت يداك فيما يشبهها ولدها؟). متفق عليه)

وفيه رد على من قال أن ماء المرأة لا يبرز

 

‌‌3 - مس الختان الختان: إذا قعد بين شعبها الأربع ومس الختان الختان فقد وجب الغسل. (حم م ت: صح) وإن لم ينزل (م حم)

وكان الحكم في ابتداء الإسلام: (الماء من الماء) (م) ثم نسخ. ويؤيده قوله تعالى: (وإن كنتم جنبا فاطهروا ([المائدة 6] فإن كلام العرب يقتضي أن الجنابة تطلق بالحقيقة على الجماع وإن لم يكن معه إنزال كما قال الشافعي

 

‌‌4 - الحيض (فإذا أقبلت الحيضة فدعي الصلاة وإذا أدبرت فاغتسلي وصلي) (خ م)

‌‌5 - النفاس وقد وقع الإجماع من العلماء على أن النفاس كالحيض في جميع ما يحل ويحرم ويكره ويندب

‌‌14 - الأغسال الواجبة

‌‌1 - الغسل على الكافر الذي أسلمعن قيس بن عاصم قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم أريد السلام فأمرني أن أغتسل بماء وسدر (د ن ت حم: 5/ 61)

‌‌2 - غسل الجمعة على كل محتلم

‌‌3 - غسل ميت المسلمين
স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, যদি সে বীর্য দেখতে পায়)। উম্মে সালামা বললেন: নারীর কি স্বপ্নদোষ হয়? তিনি বললেন: তোমার হাত ধূলিমলিন হোক, তবে কেন তার সন্তান তার সদৃশ হয়? (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এতে তাদের প্রতি খণ্ডন রয়েছে যারা বলে যে, নারীর বীর্য নির্গত হয় না।

 

‌‌৩ - লিঙ্গাগ্নের সাথে লিঙ্গাগ্নের স্পর্শ: যখন কেউ (স্ত্রীর) চার শাখার মাঝে বসবে এবং লিঙ্গাগ্নের সাথে লিঙ্গাগ্নের স্পর্শ হবে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যাবে। (আহমাদ, মুসলিম, তিরমিজি: সহিহ)। যদিও বীর্যপাত না ঘটে (মুসলিম, আহমাদ)।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিধান ছিল: (বীর্যপাত হলেই কেবল গোসল) (মুসলিম), অতঃপর তা রহিত করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী একে সমর্থন করে: (আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে পবিত্রতা অর্জন করো [আল-মায়িদাহ: ৬])। কেননা আরবদের বাকরীতি অনুযায়ী বীর্যপাত না ঘটলেও সঙ্গমের ওপর প্রকৃত অর্থেই 'জানাবাত' (অপবিত্রতা) শব্দটির প্রয়োগ হয়, যেমনটি ইমাম শাফিঈ বলেছেন।

 

‌‌৪ - ঋতুস্রাব (যখন ঋতুস্রাব শুরু হয় তখন সালাত বর্জন করো, আর যখন তা শেষ হয় তখন গোসল করো এবং সালাত আদায় করো) (বুখারি, মুসলিম)।

‌‌৫ - নিফাস উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যা কিছু হালাল, হারাম, মাকরুহ ও মুস্তাহাব—তার সবকিছুর ক্ষেত্রে নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) ঋতুস্রাবের মতোই।

‌‌১৪ - ওয়াজিব গোসলসমূহ

‌‌১ - ইসলাম গ্রহণকারী কাফিরের ওপর গোসলকায়স ইবনে আসিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, তখন তিনি আমাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিলেন (আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি, আহমাদ: ৫/৬১)।

‌‌২ - প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের ওপর জুমার গোসল

‌‌৩ - মুসলিম মৃতব্যক্তির গোসল
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌15 - الأغسال المستحبة

‌‌1 - الغسل من غسل الميت. فيه ما سبق (من غسل ميتا فليغتسل ومن حمله فليتوضأ)

‌‌2 - الغسل من مواراة المشرك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: لما توفي أبي أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: إن عمك قد توفي قال: (اذهب فواره) قلت: إنه مات مشركا قال: (اذهب فواره ولا تحدثن شيئا حتى تأتيني) ففعلت ثم أتيته فأمرني أن أغتسل. أخرجه الطيالسي (19): ثنا شعبة عن أبي إسحاق قال: سمعت ناجية بن كعب يقول: شهدت عليا يقول. . . . فذكره

وكذلك أخرجه أحمد (1/ 97) والنسائي (1/ 41) عن شعبة به ببعض اختصار

وقد تابعه سفيان الثوري عن أبي إسحاق. أخرجه أبو داود (2/ 70) والنسائي أيضا (1/ 282 - 283). وهذا إسناد صحيح (1). وزاد سفيان: فاغتسلت ودعا لي

وله طريق أخرى أخرجه عبد الله بن أحمد في (زوائد المسند) (1/ 103 - 129) عن الحسن بن يزيد الأصم قال: سمعت السدي إسماعيل يذكره عن

--------------------------------------------

(1) رجال الشيخين غير ناجية بن كعب وهو ثقة كما في (التقريب). وقول ابن حزم (2/ 27):

(وهو مجهول جدا)

مما لم أجد له سلفا
১৫ - মুস্তাহাব গোসলসমূহ

১ - মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে গোসল। এতে তা-ই রয়েছে যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করায় সে যেন গোসল করে এবং যে তাকে বহন করে সে যেন ওযু করে)।

২ - মুশরিককে দাফন করার কারণে গোসল আলী ইবনে আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: যখন আমার পিতা ইন্তেকাল করলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম: আপনার চাচা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বললেন: (যাও তাকে দাফন করো)। আমি বললাম: তিনি তো মুশরিক অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি বললেন: (যাও তাকে দাফন করো এবং আমার কাছে আসার আগে নতুন কিছু করো না)। অতঃপর আমি তা-ই করলাম এবং তাঁর নিকট আসলাম, তখন তিনি আমাকে গোসল করার নির্দেশ দিলেন। এটি আত-তায়ালিসি (১৯) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট শুবা বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমি নাজিয়া ইবনে কাবকে বলতে শুনেছি: আমি আলীকে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

অনুরূপভাবে এটি আহমাদ (১/৯৭) এবং নাসাঈ (১/৪১) শুবা থেকে কিছুটা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

সুফিয়ান আস-সাওরী আবু ইসহাক থেকে তাঁর অনুসরণ করেছেন। এটি আবু দাউদ (২/৭০) এবং নাসাঈও (১/২৮২ - ২৮৩) বর্ণনা করেছেন। এটি একটি সহীহ সনদ (১)। সুফিয়ান আরও বর্ধিত করেছেন: অতঃপর আমি গোসল করলাম এবং তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন।

এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে যা আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ (যাওয়াইদুল মুসনাদ)-এ (১/১০৩ - ১২৯) হাসান ইবনে ইয়াজিদ আল-আসাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুদ্দী ইসমাইলকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি...

--------------------------------------------

(১) নাজিয়া ইবনে কাব ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) রাবী এবং তিনি নির্ভরযোগ্য যেমনটি (আত-তাকরীব) গ্রন্থে রয়েছে। আর ইবনে হাজমের উক্তি (২/২৭):

(সে অত্যন্ত অপরিচিত বা মাজহুল)

এটি এমন কথা যার কোনো পূর্বসূরি আমি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
أبي عبد الرحمن السلمي عن علي به وفيه: فاغتسلت ثم أتيته قال: فدعا لي بدعوات ما يسرني أن لي بها حمر النعم وسودها قال: وكان علي رضي الله عنه إذا غسل الميت اغتسل. وهذا إسناد حسن

 

‌‌(3) الغسل للإحرام حتى للنفساء وقد قيل: إنه واجب بحقها. قاله الحسن وأهل الظاهر ومنهم ابن حزم (7/ 82 و 2/ 26)

‌‌(4) لدخول مكة قال ابن عمر: إن من السنة أن يغتسل إذا أراد أن يحرم وإذا أراد أن يدخل مكة. (قط مس: صحيح) وانظر (التلعيقات الجياد)

‌‌(5) عقب الجماع: عن أبي رافع أن النبي صلى الله عليه وسلم طاف ذات يوم على نسائه يغتسل عند هذه وعند هذه قال: فقلت: يا رسول الله ألا تجعله غسلا واحدا؟ قال: هذا أزكى وأطيب وأطهر) أخرجه د (1/ 34) ومج (1/ 206) وحم (6/ 8 - 9) عن حماد بن سلمة عن عبد الرحمن بن أبي رافع عن عمته سلمى عنه. وهذا سند حسن

‌‌(6) عقب الإغماء كما في حديث عائشة في مرض النبي صلى الله عليه وسلم

(7) غسل المستحاضة لكل صلاة. أو لصلاة الظهر والعصر معا غسلا واحدا وكذا لصلاة المغرب والعشاء إذ تؤخر الأولى إلى وقت الأخرى. وغسلا واحدا لصلاة الصبح. راجع تعليقنا على (المعجم) (2/ 178 - 179) و (المجمع) أيضا (1/ 280 - 281) و (المسند) (6/ 128 - 129)
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আর এতে রয়েছে: আমি গোসল করলাম অতঃপর তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেন: তিনি আমার জন্য এমন কিছু দোয়া করলেন যে, এর বিনিময়ে লাল ও কালো রঙের উট পাওয়াও আমার কাছে অধিক প্রিয় হতো না। তিনি বলেন: আলী (রা.) যখন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিতেন, তখন নিজেও গোসল করতেন। আর এই সনদটি হাসান।

 

‌‌(৩) ইহরামের জন্য গোসল করা এমনকি নিফাসগ্রস্ত মহিলার জন্যও, আর বলা হয়েছে যে: এটি তার ক্ষেত্রে ওয়াজিব। এটি হাসান এবং আহলে জাহেরগণ বলেছেন, যাদের মধ্যে ইবনে হাজম অন্যতম (৭/৮২ ও ২/২৬)।

‌‌(৪) মক্কায় প্রবেশের জন্য ইবনে উমর (রা.) বলেন: সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত হলো গোসল করা যখন সে ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করে এবং যখন সে মক্কায় প্রবেশের ইচ্ছা করে। (দারা কুতনী, মুসনাদ আশ-শাফিয়ী: সহিহ) এবং দেখুন (আত-তালিকাতুল জিয়াদ)।

‌‌(৫) সহবাসের পর: আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন তাঁর স্ত্রীদের নিকট যাতায়াত করলেন, তিনি এর নিকটও গোসল করলেন এবং ওর নিকটও গোসল করলেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে একটি গোসলই করবেন না? তিনি বললেন: এটি অধিকতর পবিত্র, উত্তম এবং পরিচ্ছন্ন। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (১/৩৪), ইবনে মাজাহ (১/২০৬) এবং আহমাদ (৬/৮-৯); হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি রাফে থেকে, তিনি তাঁর ফুফু সালমা থেকে, তিনি তাঁর (আবু রাফে) থেকে। আর এই সনদটি হাসান।

‌‌(৬) জ্ঞান হারানোর পর যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা বিষয়ক আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে।

(৭) ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করা। অথবা জোহর ও আসর সালাতের জন্য একত্রে একটি গোসল, অনুরূপভাবে মাগরিব ও এশা সালাতের জন্যও যেহেতু প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা হয়। আর ফজর সালাতের জন্য একটি গোসল। আমাদের টীকা দেখুন (আল-মু'জাম) (২/১৭৮-১৭৯) এবং (আল-মাজমা) এও (১/২৮০-২৮১) এবং (আল-মুসনাদ) (৬/১২৮-১২৯)।
(খণ্ড: ১) আস-সামারুল মুস্তাতাব ফি ফিকহিস সুন্নাহ ওয়াল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌16 - صفة الغسل

كان إذا اغتسل من الجنابة يبدأ فيغسل يديه مرتين أو ثلاثا ثم يفرغ يمينه على شماله فيغسل فرجه ثم يتوضأ وضوءه للصلاة ثم يأخذ الماء ويدخل أصابعه في أصول الشعر حتى إذا رأى أن قد استبرأ حفن على رأسه ثلاث حثيات ثم أفاض على سائر جسده ثم غسل رجليه. أخرجاه

وكان يبدأ بشق رأسه الأيمن ثم الأيسر. أخرجاه

وكان لا يتوضأ بعد الغسل

ويكفي المرأة أن تحثي على رأسها ثلاث حثيات ثم تفيض عليها الماء فتطهر (م هـ)

 

‌‌17 - قدر الماء في الغسل والوضوء

كان عليه الصلاة والسلام يغتسل بالصاع ويتطهر بالمد (حم مج م ت: صحيح) والطحاوي (1/ 322 - 324) وقط (35)

وقال عليه الصلاة والسلام:

(يجزئ من الوضوء المد ومن الجنابة الصاع) حم: (3/ 370) ومس: (1/ 161) وقال:

(صحيح على شرطهما) ووافقه الذهبي وهو كما قالا

والأظهر أن الصاع خمسة أرطال وثلث عراقي سواء صاع الطعام والماء وهو
১৬ - গোসলের পদ্ধতি

তিনি যখন জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করতেন, তখন প্রথমে তাঁর হাত দুটি দুইবার বা তিনবার ধৌত করার মাধ্যমে শুরু করতেন। অতঃপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর পানি ঢালতেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করতেন। এরপর সালাতের অজুর ন্যায় অজু করতেন। অতঃপর পানি নিতেন এবং তাঁর আঙ্গুলসমূহ চুলের গোড়ায় প্রবেশ করাতেন, এমনকি যখন তিনি দেখতেন যে (চামড়া) সিক্ত হয়েছে, তখন মাথার ওপর তিন আজল পানি ঢালতেন। এরপর তাঁর সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করতেন। অতঃপর তাঁর পা দুটি ধৌত করতেন। (বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)

আর তিনি তাঁর মাথার ডান দিক থেকে শুরু করতেন, অতঃপর বাম দিক। (বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)

তিনি গোসলের পর পুনরায় অজু করতেন না।

আর নারীর জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মাথার ওপর তিন আজল পানি ঢালবে, অতঃপর নিজের ওপর পানি প্রবাহিত করবে, তবেই সে পবিত্র হয়ে যাবে। (মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)

 

১৭ - গোসল ও অজুর পানির পরিমাণ

তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তিনি এক সা’ পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মুদ পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন (অজু) করতেন। (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, মুসলিম, তিরমিজি: সহিহ, তহাবি ১/৩২২-৩২৪, এবং দারাকুতনি ৩৫)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

(অজুর জন্য এক মুদ এবং জানাবাতের জন্য এক সা’ যথেষ্ট)। (আহমাদ: ৩/৩৭০, মুস্তাদরাক হাকেম: ১/১৬১) আর তিনি (হাকেম) বলেছেন:

(এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ) এবং ইমাম জাহাবি তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা বলেছেন।

আর অধিক স্পষ্ট মত হলো যে, এক সা’ হলো ইরাকি পরিমাপে পাঁচ রতল এবং এক-তৃতীয়াংশ রতল; যা খাদ্যশস্য ও পানির সা’-এর ক্ষেত্রে সমান, আর তা হলো