(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأربعون الودعانية الموضوعة القسم: كتب السنة
الكتاب: الأربعون الودعانية الموضوعة
المؤلف: محمد بن علي بن عبيد الله بن أحمد بن صالح بن سليمان بن ودعان الموصلي، أبو نصر (ت 494هـ)
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 81
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আরবাউন আল-ওয়াদা'নিয়্যাহ আল-মাওদু'আহ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-আরবাউন আল-ওয়াদা'নিয়্যাহ আল-মাওদু'আহ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন সালিহ বিন সুলাইমান বিন ওয়াদা'ন আল-মাওসিলি, আবু নাসর (মৃত্যু ৪৯৪ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.
أَمَّا بَعْدُ: فَهَذِهِ أَرْبَعُونَ حَدِيثًا فِي الْخُطَبِ النَّبَوِيَّةِ.
قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ الأَصْفَهَانِيُّ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي نَصْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ وَدْعَانَ حَاكِمِ الْمَوْصِلِ رحمه الله بِإِسْنَادِهِ الْمُتَّصِلِ إِلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْ سُنَّتِي أَدْخَلْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي شَفَاعَتِي» .
وَبِإِسْنَادِهِ أَيْضًا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَقَلَ عَنِّي إِلَى مَنْ لَمْ يَلْحَقْنِي مِنْ أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا كُتِبَ فِي زُمْرَةِ الْعُلَمَاءِ وَحُشِرَ فِي جُمْلَةِ الشُّهَدَاءِ» .
قَالَ الْقَاضِي أَبُو نَصْرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: وَقَدْ خَرَّجْتُ أَسَانِيدَ السَّمَاعَاتِ إِلَى أَنْ صَحَّتْ، رَجَاءَ الْمَثُوبَةِ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِحُصُولِ الانْتِفَاعِ وَالتَّأَدُّبِ بِآدَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَآدَابِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم.
وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ وَالْمُعِينُ، وَحَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলগণের সরদার মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর: এটি নববী খুতবা বা ভাষণসমূহ থেকে চল্লিশটি হাদিসের একটি সংকলন।
শায়খ ইমাম হাফিজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সিলাফি আল-আসফাহানি বলেন: আমি মউসেলের বিচারক আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে সালেহ ইবনে সুলাইমান ইবনে ওয়াদআন (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সনদে পাঠ করেছি, যা আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য আমার সুন্নাহ থেকে চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে আমার সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত করব।"
এবং তাঁর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্য থেকে যারা আমার সাক্ষাৎ পায়নি, তাদের কাছে যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে চল্লিশটি হাদিস পৌঁছে দেবে, তাকে আলেমদের দলভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং শহীদদের কাফেলায় পুনরুত্থিত করা হবে।"
কাজী আবু নাসর (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: আমি শ্রুত হাদিসের সনদগুলো যাচাই করে সংকলন করেছি যতক্ষণ না তা বিশুদ্ধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানের আশায়, যেন এর দ্বারা উপকার লাভ করা যায় এবং আল্লাহর আদব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিষ্টাচারের মাধ্যমে আদব অর্জন করা যায়।
আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী এবং আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الْحَدِيثُ الأَوَّلُ
প্রথম হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
-10 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَاقَتِهِ الْجَدْعَاءِ فَقَالَ: «يَأَيُّهَا النَّاسُ كَأَنَّ الْمَوْتَ فِيهَا عَلَى غَيْرِنَا كُتِبَ، وَكَأَنَّ الْحَقَّ فِيهَا عَلَى غَيْرِنَا وَجَبَ.
وَكَأَنَّ الَّذِينَ نُشَيِّعُ مِنَ الأَمْوَاتِ سَفَرٌ عَمَّا قَلِيلٍ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ.
نُبَوِّئُهُمْ أَجْدَاثَهُمْ وَنَأْكُلُ تُرَاثَهُمْ كَأَنَّا مُخَلَّدُونَ بَعْدَهُمْ، قَدْ نَسِينَا كُلَّ وَاعِظَةٍ وَأَمِنَّا كُلَّ جَائِحَةٍ، طُوبَى لِمَنْ شَغَلَهُ عَيْبُهُ عَنْ عُيُوبِ النَّاسِ، طُوبَى لِمَنْ أَنْفَقَ مَالا اكْتَسَبَهُ مِنْ غَيْرِ مَعْصِيَةٍ وَجَالَسَ أَهْلَ الْفِقْهِ وَالْحِكْمَةِ وَخَالَطَ أَهْلَ الذُّلِّ وَالْمَسْكَنَةِ، طُوبَى لِمَنْ ذَلَّتْ نَفْسُهُ وَحَسُنَتْ خَلِيقَتُهُ وَطَابَتْ سَرِيرَتُهُ وَعَزَلَ عَنِ النَّاسِ شَرَّهُ، طُوبَى لِمَنْ أَنْفَقَ الْفَضْلَ مِنْ مَالِهِ، وَأَمْسَكَ الْفَضْلَ مِنْ قَوْلِهِ، وَوَسِعَتْهُ السُّنَّةُ، وَلَمْ تَسْتَهْوِهِ الْبِدْعَةُ»
-১০ - আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কানকাটা উটনীর উপর আরোহণ করে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদানকালে বললেন: «হে লোকসকল! মনে হয় যেন মৃত্যু এই পৃথিবীতে আমাদের ব্যতীত অন্য কারো জন্য অবধারিত করা হয়েছে, এবং মনে হয় যেন সত্য (হক) আমাদের ব্যতীত অন্য কারো উপর আবশ্যক করা হয়েছে।
আর মনে হয় যেন আমরা মৃতদের মধ্য থেকে যাদের বিদায় জানাই, তারা সামান্য সময়ের মুসাফির যারা অচিরেই আমাদের নিকট ফিরে আসবে।
আমরা তাদের কবরে শায়িত করি আর তাদের পরিত্যক্ত সম্পদ ভোগ করি, যেন আমরা তাদের পরে চিরস্থায়ী হব। আমরা সকল উপদেশবাণী বিস্মৃত হয়েছি এবং সকল দুর্যোগের ব্যাপারে নির্ভীক হয়ে পড়েছি। সৌভাগ্য তার জন্য যার নিজের দোষ তাকে মানুষের দোষ অন্বেষণ থেকে বিমুখ রাখে। সৌভাগ্য তার জন্য যে পাপমুক্ত উপায়ে উপার্জিত সম্পদ থেকে ব্যয় করে, ফিকহ ও প্রজ্ঞাবানদের সাহচর্য গ্রহণ করে এবং বিনয়ী ও দরিদ্র লোকদের সাথে মেলামেশা করে। সৌভাগ্য তার জন্য যার নফস বিনত হয়েছে, যার চরিত্র সুন্দর হয়েছে, যার অন্তরাত্মা পবিত্র হয়েছে এবং যে মানুষের নিকট থেকে নিজের অনিষ্টতা দূরে রাখে। সৌভাগ্য তার জন্য যে নিজের সম্পদের অতিরিক্ত অংশ ব্যয় করে এবং কথার অতিরিক্ত অংশ পরিহার করে, আর সুন্নাহ যাকে তুষ্ট করে এবং বিদআত যাকে পথভ্রষ্ট করে না»।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْحَدِيثُ الثَّانِي
দ্বিতীয় হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
-10 - عَنْ قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ الْمِنْقَرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَفْدِ بَنِي تَمِيمٍ، فَقَالَ لِي: «اغْتَسِلْ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ» ، فَفَعَلْتُ، ثُمَّ عُدْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عِظْنَا عِظَةً نَنْتَفِعُ بِهَا، فَقَالَ: «يَا قَيْسُ إِنَّ مَعَ الْعِزِّ ذُلا، وَإِنَّ مَعَ الْحَيَاةِ مَوْتًا، وَإِنَّ مَعَ الدُّنْيَا آخِرَةً، وَإِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا، وَعَلَى كُلِّ شَيْءٍ رَقِيبًا؛ وَإِنَّ لِكُلِّ حَسَنَةٍ ثَوَابًا، وَإِنَّ لِكُلِّ سَيِّئَةٍ عِقَابًا، وَلِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابًا، وَإِنَّهُ لا بُدَّ لَكَ يَا قَيْسُ مِنْ قَرِينٍ يُدْفَنُ مَعَكَ وَهُوَ حَيٌّ، وَتُدْفَنُ مَعَهُ وَأَنْتَ مَيِّتٌ، فَإِنْ كَانَ كَرِيمًا أَكْرَمَكَ، وَإِنْ كَانَ لَئِيمًا أَسْلَمَكَ، ثُمَّ لا يُحْشَرُ إِلا مَعَكَ، وَلا تُبْعَثُ إِلا مَعَهُ، وَلا تُسْئَلُ إِلا عَنْهُ، فَلا تَجْعَلْهُ إِلا صَالِحًا فَإِنَّهُ إِنْ كَانَ صَالِحًا لَمْ تَأْنَسْ إِلا بِهِ، وَإِنْ كَانَ فَاحِشًا لَمْ تَسْتَوْحِشْ إِلا مِنْهُ، أَلا وَهُوَ فِعْلُكَ»
-১০ - কায়াস ইবন আসিম আল-মিনকারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বনী তামীম গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: «তুমি পানি ও কুল পাতা দিয়ে গোসল করো», আমি তাই করলাম। এরপর আমি পুনরায় তাঁর নিকট ফিরে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এমন এক উপদেশ দিন যা দ্বারা আমরা উপকৃত হতে পারি। তিনি বললেন: «হে কায়াস! নিশ্চয়ই সম্মানের সাথে লাঞ্ছনা রয়েছে, জীবনের সাথে মৃত্যু রয়েছে এবং দুনিয়ার সাথে আখিরাত রয়েছে। নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের জন্য একজন হিসাব গ্রহণকারী এবং প্রতিটি জিনিসের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছেন; প্রতিটি নেক আমলের জন্য সওয়াব রয়েছে এবং প্রতিটি পাপের জন্য শাস্তি রয়েছে এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি লিপি রয়েছে। হে কায়াস! নিশ্চয়ই তোমার এমন একজন সঙ্গী থাকবে যাকে তোমার সাথে দাফন করা হবে এমতাবস্থায় যে সে জীবিত, আর তুমি তার সাথে দাফন হবে এমতাবস্থায় যে তুমি মৃত। যদি সে মর্যাদাবান হয় তবে সে তোমাকে সম্মানিত করবে, আর যদি সে নিকৃষ্ট হয় তবে সে তোমাকে বিপদে একাকী ফেলে দেবে। অতঃপর সে কেবল তোমার সাথেই হাশরে সমবেত হবে এবং তুমিও কেবল তার সাথেই পুনরুত্থিত হবে; আর তোমাকে কেবল তার সম্বন্ধেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং তাকে সৎ আমল ছাড়া অন্য কিছু করো না; কারণ সে যদি সৎ হয় তবে তুমি কেবল তাকে নিয়েই প্রশান্তি লাভ করবে, আর যদি সে মন্দ হয় তবে তুমি কেবল তাকে নিয়েই আতঙ্কিত হবে। জেনে রেখো, সেই সঙ্গী হলো তোমার কর্ম (আমল)।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْحَدِيثُ الثَّالِثُ
তৃতীয় হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
-10 - عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ جُمُعَةٍ فَقَالَ: " أَيُّهَا النَّاسُ، تُوبُوا قَبْلَ أَنْ تَمُوتُوا، وَبَادِرُوا بِالأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ قَبْلَ أَنْ تُشْغَلُوا، وَصِلُوا الَّذِي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رَبِّكُمْ بِكَثْرَةِ ذِكْرِكُمْ إِيَّاهُ تَسْعَدُوا، وَأَكْثِرُوا الصَّدَقَةَ تُرْزَقُوا، وَأْمُرُوا بِالْمَعْرُوفِ تُحَصَّنُوا، وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ تُنْصَرُوا.
أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ أَكْيَسَكُمْ أَكْثَرُكُمْ ذِكْرًا لِلْمَوْتِ، وَأَحْزَمَكُمْ أَحْسَنُكُمْ اسْتِعْدَادًا لَهُ، أَلا وَإِنَّ مِنْ عَلامَاتِ الْعَقْلِ التَّجَافِي عَنْ دَارِ الْغُرُورِ، وَالإِنَابَةَ إِلَى دَارِ الْخُلُودِ، وَالتَّزَوُّدَ لِسُكْنَى الْقُبُورِ، وَالتَّأَهُّبَ لِيَوْمِ النُّشُورِ
-১০ - আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক জুমার দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করো এবং ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগে নেক আমলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। আর তোমরা তোমাদের রবের অধিক জিকিরের মাধ্যমে তোমাদের ও তোমাদের রবের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ় করো, তবেই তোমরা সৌভাগ্যবান হবে। অধিক পরিমাণে সদকা করো, তবেই তোমরা রিজিকপ্রাপ্ত হবে। সৎকাজের আদেশ দাও, তবেই তোমরা নিরাপদ থাকবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো, তবেই তোমাদের সাহায্য করা হবে।
হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক বুদ্ধিমান যে মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তার জন্য সর্বোত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করে। জেনে রেখো, আকল বা বুদ্ধিমত্তার অন্যতম লক্ষণ হলো— এই প্রতারণার গৃহ থেকে বিমুখ থাকা, চিরস্থায়ী আবাসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, কবরে বসবাসের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা এবং পুনরুত্থান দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْحَدِيثُ الرَّابِعُ
চতুর্থ হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
-10 - عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَةٍ: " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ لِكُمْ مَعَالِمَ فَانْتَهُوا إِلَى مَعَالِمِكُمْ، وَإِنَّ لَكُمْ نِهَايَةً فَانْتَهُوا إِلَى نِهَايَتِكُمْ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ بَيْنَ مَخَافَتَيْنِ: بَيْنَ أَجَلٍ قَدْ مَضَى لا يَدْرِي مَا اللَّهُ صَانِعٌ فِيهِ، وَبَيْنَ أَجَلٍ قَدْ بَقِيَ لا يَدْرِي مَا اللَّهُ قَاضٍ فِيهِ، فَلْيَأْخُذِ الْعَبْدُ مِنْ نَفْسِهِ لِنَفْسِهِ، وَمِنْ دُنْيَاهُ لآخِرَتِهِ، وَمِنَ الشَّبِيبَةِ قَبْلَ الْهَرَمِ، وَمِنَ الْحَيَاةِ قَبْلَ الْمَوْتِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا بَعْدَ الْمَوْتِ مِنْ مُسْتَعْتَبٍ، وَمَا بَعْدَ الدُّنْيَا دَارٌ إِلا الْجَنَّةَ أَوِ النَّارَ "
-১০ - সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি খুতবায় বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য কিছু পথনির্দেশক চিহ্ন রয়েছে, সুতরাং তোমরা তোমাদের সেই চিহ্নের দিকে অগ্রসর হও। আর নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একটি সমাপ্তি রয়েছে, সুতরাং তোমরা তোমাদের সেই সমাপ্তির দিকে ধাবিত হও। নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি দুটি ভয়ের মাঝে থাকে: একটি অতীত সময় যা অতিবাহিত হয়ে গেছে, যাতে আল্লাহ তার সাথে কী আচরণ করেছেন তা সে জানে না। আর একটি অবশিষ্ট সময়, যা এখনো বাকি আছে, যাতে আল্লাহ তার ব্যাপারে কী ফয়সালা করে রেখেছেন তাও সে জানে না। অতএব বান্দার উচিত নিজের জন্য নিজের থেকে পাথেয় গ্রহণ করা, নিজের দুনিয়া থেকে আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করা, বার্ধক্যের পূর্বে যৌবন থেকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবন থেকে ফায়দা হাসিল করা। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, মৃত্যুর পর আর তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো সুযোগ নেই, আর দুনিয়ার পর জান্নাত বা জাহান্নাম ছাড়া আর কোনো ঘর নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الْحَدِيثُ الْخَامِسُ
পঞ্চম হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
-10 - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لا خَيْرَ فِي الْعَيْشِ إِلا لِعَالِمٍ نَاطِقٍ أَوْ مُسْتَمِعٍ وَاعٍ، أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ فِي زَمَنِ هُدْنَةٍ، وَإِنَّ السَّيْرَ بِكُمْ سَرِيعٌ، وَقَدْ رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ كَيْفَ يُبْلِيَانِ كُلَّ جَدِيدٍ، وَيُقَرِّبَانِ كُلَّ بَعِيدٍ، وَيَأْتِيَانِ بِكُلِّ مَوْعُودٍ» .
فَقَالَ لَهُ الْمِقْدَادُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْهُدْنَةُ؟ قَالَ: «دَارُ بَلاءٍ وانْقِطَاعٍ، فَإِذَا الْتَبَسَتْ عَلَيْكُمُ الأُمُورُ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ فَعَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ فَإِنَّهُ شَافِعٌ مُشَفَّعٌ، وَشَاهِدٌ مُصَدَّقٌ مَنْ جَعَلَهُ أَمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَهُ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ وَهُوَ أَوْضَحُ دَلِيلٍ إِلَى خَيْرِ سَبِيلٍ، مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ، ومَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ، ومَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ»
-১০ - আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি তাঁর ভাষণে বললেন: «হে লোকসকল! কথা বলা আলেম অথবা মনোযোগী শ্রোতা ব্যতীত জীবনযাপনে কোনো কল্যাণ নেই। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমরা এক সাময়িক সন্ধিক্ষণে আছো এবং তোমাদের যাত্রা অত্যন্ত দ্রুত। তোমরা দিন ও রাতকে দেখেছো যে তারা কীভাবে প্রতিটি নতুনকে জীর্ণ করে দেয়, প্রতিটি দূরকে নিকটবর্তী করে এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুত বিষয়কে নিয়ে আসে।» .
তখন মিকদাদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! হুদনাহ (সন্ধিকালীন সময়) কী? তিনি বললেন: «এটি পরীক্ষা ও পরিসমাপ্তির ঘর। সুতরাং যখন অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় বিষয়সমূহ তোমাদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়বে, তখন তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে। কারণ এটি এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ গ্রহণ করা হয় এবং এমন এক সাক্ষী যাকে সত্যায়ন করা হয়। যে ব্যক্তি একে নিজের সম্মুখে রাখবে, এটি তাকে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করবে; আর যে একে নিজের পশ্চাতে নিক্ষেপ করবে, এটি তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। এটি সর্বোত্তম পথের দিকে স্পষ্টতম নির্দেশক। যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর অনুযায়ী আমল করবে সে প্রতিদান পাবে এবং যে এর মাধ্যমে বিচার করবে সে ন্যায়বিচার করবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الْحَدِيثُ السَّادِسُ
ষষ্ঠ হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
-10 - عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لا يُكْمِلُ عَبْدٌ الإِيمَانَ بِاللَّهِ حَتَّى تَكُونَ فِيهِ خَمْسُ خِصَالٍ: التَّوَكُّلُ عَلَى اللَّهِ، وَالتَّفْوِيضُ إِلَى اللَّهِ، وَالتَّسْلِيمُ لأَمْرِ اللَّهِ، وَالرِّضَا بِقَضَاءِ اللَّهِ، وَالصَّبْرُ عَلَى بَلاءِ اللَّهِ، إِنَّهُ مَنْ أَحَبَّ للَّهِ، وَأَبْغَضَ للَّهِ، وَأَعْطَى للَّهِ، وَمَنَعَ للَّهِ، فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ
-১০ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো বান্দা আল্লাহর প্রতি ঈমানকে পূর্ণ করতে পারে না যতক্ষণ না তার মধ্যে পাঁচটি গুণ বিদ্যমান থাকে: আল্লাহর ওপর ভরসা করা, আল্লাহর কাছে সবকিছু সোপর্দ করা, আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করা। নিশ্চয়ই যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করল, আল্লাহর জন্য প্রদান করল এবং আল্লাহর জন্য বিরত থাকল, সে ঈমান পূর্ণ করল।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الْحَدِيثُ السَّابِعُ
সপ্তম হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
-10 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الْعَبْدَ لا يُكْتَبُ فِي الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يَسْلَمَ النَّاسُ مِنْ يَدِهِ وَلِسَانِهِ، وَلا يَنَالُ دَرَجَةَ الْمُؤْمِنِينَ حَتَّى يَأْمَنَ جَارُهُ بَوَائِقَهُ، أَوْ قَالَ: جَارُهُ بَوَادِرَهُ، وَلا يُعَدُّ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لا بَأْسَ بِهِ حَذَرًا مِمَّا بِهِ بَأْسٌ.
أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ مَنْ خَافَ الْبَيَاتَ أَدْلَجَ، وَمَنْ أَدْلَجَ فِي الْمَسِيرِ وَصَلَ، وَإِنَّمَا تَعْرِفُونَ عَوَاقِبَ أَعْمَالِكُمْ وَقَدْ طُوِيَتْ صَحَائِفُ آجَالِكُمْ، أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ نِيَّةَ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ، وَنِيَّةَ الْفَاسِقِ شَرٌّ مِنْ عَمَلِهِ "
-১০ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! কোনো বান্দাই মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না অন্য মানুষ তার হাত ও জিহ্বা থেকে নিরাপদ থাকে; এবং সে মুমিনদের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না তার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে—অথবা তিনি বলেছেন: তার চটজলদি রাগ বা ক্ষতি থেকে—নিরাপদ থাকে; আর সে মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না যতক্ষণ না সে ক্ষতিকর বিষয়ে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষতিহীন বিষয়ও বর্জন করে।
হে লোকসকল! যে ব্যক্তি রাতে অতর্কিত আক্রমণের ভয় করে সে রাতের প্রথম ভাগেই যাত্রা শুরু করে, আর যে রাতের শুরুতে যাত্রা করে সে গন্তব্যে পৌঁছায়। আর তোমরা তোমাদের আমলের পরিণতি তখনই জানতে পারবে যখন তোমাদের জীবনের আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হবে। হে লোকসকল! মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম, আর ফাসিকের নিয়ত তার আমলের চেয়েও মন্দ।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْحَدِيثُ الثَّامِنُ
অষ্টম হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
-10 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ انْقَطَعَ إِلَى اللَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ كُلَّ مَئُونَةٍ فِيهَا، وَمَنِ انْقَطَعَ إِلَى الدُّنْيَا وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَيْهَا، وَمَنْ حَاوَلَ أَمْرًا بِمَعْصِيَةِ اللَّهِ كَانَ أَبْعَدَ لَهُ مِمَّا رَجَا، وَأَقْرَبَ مِمَّا اتَّقَى، وَمَنْ طَلَبَ مَحَامِدَ النَّاسِ بِمَعَاصِي اللَّهِ عَادَ حَامِدُهُ مِنْهُمْ ذَامًّا لَهُ، وَمَنْ أَرْضَى النَّاسَ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ، وَمَنْ أَرْضَى اللَّهَ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ شَرَّهُمْ، وَمَنْ أَحْسَنَ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ، وَمَنْ أَصْلَحَ سَرِيرَتَهُ أَصْلَحَ اللَّهُ عَلانِيَتَهُ، وَمَنْ عَمِلَ لآخِرَتِهِ كَفَاهُ اللَّهُ أَمْرَ دُنْيَاهُ»
১০ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি একাগ্রচিত্ত হয়, আল্লাহ তার সকল প্রয়োজন ও ব্যয়ভার বহনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার নিকটেই সোপর্দ করে দেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, সে যা আশা করেছিল তা থেকে আরও দূরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং যা থেকে বাঁচতে চেয়েছিল তার আরও নিকটবর্তী হয়ে যায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানি করে মানুষের প্রশংসা পেতে চায়, মানুষের মধ্যে যারা তার প্রশংসাকারী ছিল তারাই তার নিন্দাকারীতে পরিণত হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চায়, আল্লাহ তাকে মানুষের জিম্মায় ছেড়ে দেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে ব্যক্তি নিজের ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে সুন্দর করে, আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে সংশোধন করে, আল্লাহ তার বাহ্যিক অবস্থাকে সংশোধন করে দেন। আর যে ব্যক্তি তার পরকালের জন্য আমল করে, আল্লাহ তার দুনিয়াবি বিষয়ের যাবতীয় সংকটে যথেষ্ট হয়ে যান»।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الْحَدِيثُ التَّاسِعُ
নবম হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
-10 - عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ مَيِّتُونَ، وَإِلَى اللَّهِ صَائِرُونَ، فَرَحِمَ اللَّهُ عَبْدًا تَكَلَّمَ فَغَنِمَ، أَوْ سَكَتَ فَسَلِمَ، إِنَّ اللِّسَانَ، أَمْلَكُ شَيْءٍ لِلإِنْسَانِ، أَلا وَإِنَّ كَلامَ الْعَبْدِ كُلَّهُ عَلَيْهِ لا لَهُ، إِلا ذِكْرَ اللَّهِ تَعَالَى، أَوْ أَمْرًا بِمَعْرُوفٍ، أَوْ نَهْيًا عَنْ مُنْكَرٍ أَوْ إِصْلاحًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ» فَقَالَ لَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُؤَاخَذُ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ قَالَ: «وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ فِي النَّارِ إِلا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ فَمَنْ أَرَادَ السَّلامَةَ فَلْيَحْفَظْ مَا جَرَى بِهِ لِسَانُهُ وَلْيَحْرُسْ مَا انْطَوَتْ عَلَيْهِ جِنَانُهُ، وَلْيُحْسِنْ عَمَلَهُ، وَلْيَقْصُرْ أَمَلَهُ» .
ثُمَّ لَمْ تَمْضِ أَيَّامٌ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {لا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلاحٍ بَيْنَ النَّاسِ} [النساء: 114]
-১০ - ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমরা মরণশীল এবং আল্লাহর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতএব আল্লাহ সেই বান্দার উপর রহম করুন যে কথা বলে সওয়াব অর্জন করল অথবা নীরব থেকে নিরাপদ থাকল। নিশ্চয়ই জিহ্বা মানুষের সবচেয়ে নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয়। জেনে রেখো, বান্দার সমস্ত কথাই তার বিরুদ্ধে যাবে, তার পক্ষে নয়; তবে আল্লাহর যিকর, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ অথবা মুমিনদের মধ্যে মীমাংসা করা ব্যতীত।» তখন মুআয ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা কথা বলি তার জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: «মানুষের জিহ্বার উপার্জিত ফসলই কি তাদের উপুড় করে (নাকের ভরে) জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত করবে না? অতএব যে ব্যক্তি নিরাপত্তা চায়, সে যেন তার জিহ্বা যা উচ্চারণ করে তা হিফাযত করে, তার অন্তরে যা নিহিত আছে তা পাহারা দেয়, তার আমলকে সুন্দর করে এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করে।»
অতঃপর কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই এই আয়াতটি নাযিল হলো: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে ব্যক্তি দান-সদকা, সৎ কাজ কিংবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার আদেশ দেয় (তার কথা ভিন্ন)} [আন-নিসা: ১১৪]
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْحَدِيثُ الْعَاشِرُ
দশম হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
-10 - عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لا تَسُبُّوا الدُّنْيَا فَنِعْمَتْ مَطِيَّةُ الْمُؤْمِنِ، عَلَيْهَا يَبْلُغُ الْخَيْرَ، وَبِهَا يَنْجُو مِنَ الشَّرِّ، إِنَّهُ إِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَعَنَ اللَّهُ الدُّنْيَا، قَالَتِ الدُّنْيَا: لَعَنَ اللَّهُ مَنْ أَعْصَانَا لِرَبِّهِ "
-১০ - আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা দুনিয়াকে গালি দিও না, কারণ তা মুমিনের জন্য কতই না চমৎকার বাহন; এর মাধ্যমেই সে কল্যাণে পৌঁছায় এবং এর দ্বারাই সে অনিষ্ট থেকে মুক্তি পায়। নিশ্চয়ই যখন কোনো বান্দা বলে: 'আল্লাহ দুনিয়াকে অভিশাপ দিন', তখন দুনিয়া বলে: 'আল্লাহ আমাদের মধ্যে তাকেই অভিশাপ দিন যে তার প্রতিপালকের প্রতি বেশি অবাধ্য'।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الْحَدِيثُ الْحَادِي عَشَرَ
একাদশ হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
-10 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ، فَإِنَّكُمْ إِذَا ذَكَرْتُمُوهُ فِي ضِيقٍ وَسَّعَهُ عَلَيْكُمْ وَرَضِيتُمْ بِهِ فَأُجِرْتُمْ، وَإِنْ ذَكَرْتُمُوهُ فِي غِنًى بَغَّضَهُ إِلَيْكُمْ فَجُدْتُمْ بِهِ فَأُثِبْتُمْ؟ ، إِنَّ الْمَنَايَا قَاطِعَاتُ الآمَالِ، وَاللَّيَالِيَ مُدْنِيَاتُ الآجَالِ، وَإِنَّ الْمَرْءَ بَيْنَ يَوْمَيْنِ: يَوْمٍ قَدْ مَضَى أُحْصِيَ فِيهِ عَمَلُهُ فَخُتِمَ عَلَيْهِ، وَيَوْمٍ قَدْ بَقِيَ لا يَدْرِي لَعَلَّهُ لا يَصِلُ إِلَيْهِ، وَإِنَّ الْعَبْدَ عِنْدَ خُرُوجِ نَفْسِهِ، وَحُلُولِ رَمْسِهِ، يَرَى جَزَاءَ مَا أَسْلَفَ، وَقِلَّةَ غِنَاءِ مَا خَلَفَ، وَلَعَلَّهُ مِنْ بَاطِلٍ جَمَعَهُ، أَوْ مِنْ حَقٍّ مَنَعَهُ "
-১০ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা স্বাদসমূহকে সমূলে বিনাশকারীকে (মৃত্যুকে) বেশি বেশি স্মরণ করো। কারণ তোমরা যদি সংকীর্ণতার সময় তাকে স্মরণ করো, তবে সে তা তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবে এবং তোমরা তাতে সন্তুষ্ট হবে, ফলে তোমরা সওয়াব পাবে। আর যদি সচ্ছলতার সময় তাকে স্মরণ করো, তবে সে দুনিয়াকে তোমাদের নিকট তুচ্ছ ও অপ্রিয় করে দেবে, ফলে তোমরা তা অকাতরে দান করে দেবে এবং পুরস্কৃত হবে। নিশ্চয়ই মৃত্যু আকাঙ্ক্ষাকে ছিন্নকারী এবং রাতসমূহ আয়ুকে নিকটবর্তীকারী। আর মানুষ দুটি দিনের মাঝে অবস্থান করে: একটি দিন যা অতিবাহিত হয়ে গেছে, যাতে তার আমল গণনা করা হয়েছে এবং তার ওপর মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে। আর অন্যটি হলো অবশিষ্ট দিন, যে সম্পর্কে সে জানে না যে সম্ভবত সে তাতে পৌঁছাতে পারবে না। নিশ্চয়ই বান্দা তার প্রাণ নির্গত হওয়ার সময় এবং কবরে শায়িত হওয়ার সময় তার অগ্রিম প্রেরিত কর্মের প্রতিদান দেখতে পায় এবং পেছনে যা রেখে এসেছে তার অসারতা বুঝতে পারে; অথচ হয়তো সে তা অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিল কিংবা কোনো হক আদায়ে বাধা প্রদান করেছিল।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الْحَدِيثُ الثَّانِي عَشَرَ
দ্বাদশ হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
-10 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الرِّزْقَ مَقْسُومٌ لَنْ يَعْدُوَ امْرُؤٌ مَا كُتِبَ لَهُ فَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ، وَإِنَّ الْعُمُرَ مَحْدُودٌ لَنْ يَتَجَاوَزَ أَحَدٌ مَا قُدِّرَ لَهُ، فَبَادِرُوا قَبْلَ نَفَاذِ الأَجَلِ، وَالأَعْمَالُ مُحْصَاةٌ لَنْ يُهْمَلَ مِنْهَا صَغِيرَةٌ وَلا كَبِيرَةٌ فَأَكْثِرُوا مِنْ صَالِحِ الْعَمَلِ، أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ فِي الْقَنَاعَةِ لَسَعَةً، وَإِنَّ فِي الاقْتِصَادِ لَبُلْغَةً، وَإِنَّ فِي الزُّهْدِ لَرَاحَةً، وَلِكُلِّ عَمَلٍ جَزَاءً، وَكُلُّ آتٍ قَرِيبٌ»
-১০- ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল! নিশ্চয়ই রিজিক বন্টিত, কোনো ব্যক্তিই তার জন্য যা লিখিত হয়েছে তা অতিক্রম করতে পারবে না। অতএব তোমরা উপার্জনের অন্বেষণে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করো। আর নিশ্চয়ই আয়ু সীমাবদ্ধ, কেউ তার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। সুতরাং সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই তোমরা ত্বরান্বিত হও। আমলসমূহ গণনা করে রাখা হয়, যার ছোট কিংবা বড় কোনো কিছুই উপেক্ষা করা হবে না। অতএব তোমরা সৎ আমল বেশি বেশি করো। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই অল্পে তুষ্টির মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে, মিতব্যয়িতার মধ্যে পর্যাপ্ততা রয়েছে এবং দুনিয়াবিমুখতার মাঝে রয়েছে প্রশান্তি। আর প্রতিটি আমলের জন্যই প্রতিদান রয়েছে এবং আগমনকারী প্রতিটি বিষয়ই নিকটবর্তী।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الْحَدِيثُ الثَّالِثَ عَشَرَ
ত্রয়োদশ হাদীস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
-10 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي بَعْضِ خُطَبِهِ وَمَوَاعِظِهِ: " أَيُّهَا النَّاسُ أَمَا رَأَيْتُمُ الْمَأْخُوذِينَ عَلَى الْغِرَّةِ، وَالْمُزْعَجِينَ بَعْدَ الطَّمَأْنِينَةِ الَّذِينَ أَقَامُوا عَلَى الشُّبُهَاتِ، وَجَنَحُوا إِلَى الشَّهَوَاتِ، حَتَّى أَتَتْهُمْ رُسُلُ رَبِّهِمْ فَلا مَا كَانُوا أَمَّلُوا أَدْرَكُوا، وَلا إِلَى مَا فَاتَهُمْ رَجَعُوا، قَدِمُوا عَلَى مَا عَمِلُوا وَنَدِمُوا عَلَى مَنْ خَلَفُوا، فَلَمْ يُغْنِ النَّدَمُ، وَقَدْ جَفَّ الْقَلَمُ، فَرَحِمَ اللَّهُ امْرَأً قَدَّمَ خَيْرًا، وَأْنَفَقَ قَصْدًا، وَقَالَ صِدْقًا، وَمَلَكَ دَوَاعِي شَهَوَاتِهِ فَلَمْ تَمْلِكْهُ، وَعَصَى إِمْرَةَ نَفْسِهِ فَلَمْ تُهْلِكْهُ
১০ - আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর কিছু খুতবা ও উপদেশে বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! তোমরা কি তাদের দেখনি যারা অসতর্ক অবস্থায় পাকড়াও হয়েছে এবং প্রশান্তির পর অস্থিরতায় নিক্ষিপ্ত হয়েছে? যারা সংশয়ের ওপর অটল ছিল এবং কুপ্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, অবশেষে তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের প্রেরিত দূতগণ উপস্থিত হলেন। ফলে তারা যা আশা করেছিল তা লাভ করতে পারল না এবং যা হারিয়েছে তার দিকেও ফিরে যেতে পারল না। তারা যা আমল করেছিল তার সম্মুখীন হয়েছে এবং যাদের পেছনে রেখে এসেছে তাদের জন্য অনুতপ্ত হয়েছে। কিন্তু সেই অনুশোচনা কোনো উপকারে আসেনি এবং কলম শুকিয়ে গেছে। অতএব আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠিয়েছে, পরিমিত ব্যয় করেছে, সত্য বলেছে এবং নিজের কুপ্রবৃত্তির তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ফলে তা তাকে বশীভূত করতে পারেনি এবং নিজের নফসের নির্দেশ অমান্য করেছে ফলে তা তাকে ধ্বংস করতে পারেনি।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْحَدِيثُ الرَّابِعَ عَشَرَ
চতুর্দশ হাদীস
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউনাল ওয়াদাআনিয়্যাহ আল-মাওদুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
-10 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَيُّهَا النَّاسُ لا تُعْطُوا الْحِكْمَةَ غَيْرَ أَهْلِهَا فَتَظْلِمُوهَا، وَلا تَمْنَعُوهَا أَهْلَهَا فَتَظْلِمُوهُمْ، وَلا تُعَاقِبُوا ظَالِمًا فَيَبْطُلَ فَضْلُكُمْ، وَلا تُرَاءُوا النَّاسَ فَيَحْبَطَ عَمَلُكُمْ، وَلا تَمْنَعُوا الْمَوْجُودَ فَيَقِلَّ خَيْرُكُمْ، أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الأَشْيَاءَ ثَلاثَةٌ: أَمْرٌ اسْتَبَانَ رَشَدُهُ فَاتَّبِعُوهُ، وَأَمْرٌ اسْتَبَانَ غَيُّهُ فَاجْتَنِبُوهُ، وَأَمْرٌ اخْتُلِفَ عَلَيْكُمْ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى.
أَيُّهَا النَّاسُ أَلا أُنْبِئُكُمْ بِأَمْرَيْنِ خَفِيفٍ مُؤْنَتُهُمَا، عَظِيمٍ أَجْرُهُمَا، لَمْ يُلْقَ اللَّهَ بِمِثْلِهِمَا: الصَّمْتِ، وَحُسْنِ الْخُلُقِ
-১০ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! তোমরা প্রজ্ঞা (হিকমাহ) অযোগ্যদের প্রদান করো না, নতুবা তোমরা তার প্রতি জুলুম করবে; আর তা যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে নিবৃত্ত রেখো না, নতুবা তোমরা তাদের প্রতি জুলুম করবে। কোনো জালেমকে (অসংগতভাবে) শাস্তি দিও না, ফলে তোমাদের মর্যাদা বিনষ্ট হবে। মানুষের দেখানোর জন্য কাজ করো না, ফলে তোমাদের আমল বরবাদ হয়ে যাবে। আর যা বিদ্যমান আছে তা প্রদানে কার্পণ্য করো না, ফলে তোমাদের কল্যাণ হ্রাস পাবে। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই বিষয়সমূহ তিন প্রকার: এমন বিষয় যার সঠিক পথ হওয়া সুস্পষ্ট, সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ করো; এমন বিষয় যার ভ্রষ্টতা হওয়া সুস্পষ্ট, সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো; আর এমন বিষয় যাতে তোমরা মতবিরোধে লিপ্ত হও, তা মহান আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দাও।
হে লোকসকল! আমি কি তোমাদের এমন দু'টি বিষয়ের সংবাদ দেব না যার ভার অত্যন্ত লঘু, কিন্তু যার প্রতিদান অত্যন্ত মহান, এবং আল্লাহর সাথে এমন কোনো আমল নিয়ে সাক্ষাৎ করা হয়নি যা এই দু'টির সমতুল্য: (তা হলো) নীরবতা অবলম্বন এবং উত্তম চরিত্র।"