(খণ্ড: ১)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: -)
مجلس من أمالي أبي الفتح المقدسي_2 القسم: كتب السنة
الكتاب: أمالي أبي الفتح المقدسي - المجلس الحادي والعشرون بعد المائة
المؤلف: نصر بن إبراهيم بن نصر بن إبراهيم ابن داود النابلسي المقدسي، أبو الفتح الشافعي (ت 490هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 6
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আল-ফাতহ আল-মাকদিসীর আমালি (শ্রুতিলিপি) থেকে একটি মজলিস_২ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু আল-ফাতহ আল-মাকদিসীর আমালি - একশত একুশতম মজলিস
গ্রন্থকার: নাসর বিন ইবরাহিম বিন নাসর বিন ইবরাহিম ইবনে দাউদ আন-নাবুলুসি আল-মাকদিসী, আবু আল-ফাতহ আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৯০ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা ইসলামিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত ফ্রি জাওয়ামিউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে আছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ٢)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: ١)
جُزْءٌ فِيهِ مَجْلِسٌ مِنْ أَمَالِي الإِمَامِ أَبِي الْفَتْحِ نَصْرِ بْن إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَصْرٍ الْمَقْدِسِيِّ الزَّاهِدِ ، رضي الله عنه.
رِوَايَةُ الْفَقِيهِ أَبِي الْفَتْحِ نَصْرِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَوِيِّ الْمِصِّيصِيِّ.
رِوَايَةُ الرَّئِيسِ الْجَلِيلِ أَبِي الْمَعَالِي أَسْعَدَ بْنِ غَالِبِ بْنِ أَسَدٍ التَّمِيمِيِّ ، وَأَبِي الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَيُّوشِ بْنِ رَافِعٍ الْغَنَوِيِّ ، كِلاهُمَا عَنْهُ.
قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا مُصَاحَبَة إِبْرَاهِيم بْن يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَعَافِرِيّ الْبَوْنِيّ ، فِي تَارِيخَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ.
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ....
مُؤَيِّدُ الدِّينِ أَبُو الْمَعَالِي أَسْعَدُ بْنُ غَالِبٍ التَّمِيمِيُّ ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ جَيُّوشِ بْنِ رَافِعِ بْنِ فَتْحٍ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا......
أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَوِيِّ الْمِصِّيصِيُّ ، فِي شَعْبَانَ سَنَةَ.....
وَثَلاثِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ ، أنبا الإِمَامُ الزَّاهِدُ أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَصْرٍ الْمَقْدِسِيُّ ،
একটি খণ্ড যাতে ইমাম আবি আল-ফাতহ নাসর বিন ইব্রাহিম বিন নাসর আল-মাকদিসি আল-জাহিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর শ্রুতলিপি (আমালি) থেকে একটি মজলিস রয়েছে।
ফকিহ আবি আল-ফাতহ নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাভি আল-মিসসিসি-এর বর্ণনা।
মহান প্রধান আবি আল-মাআলি আসআদ বিন গালিব বিন আসাদ আল-তামিমি এবং আবি আল-হুসাইন আহমদ বিন জাইয়ুশ বিন রাফি আল-গানাওয়ি-এর বর্ণনা, তাঁরা উভয়ই তাঁর থেকে (বর্ণনা করেছেন)।
ইব্রাহিম বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-বৌনি-এর উপস্থিতিতে তাঁদের উভয়ের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে, দুটি ভিন্ন তারিখে।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই...
মুয়াইয়িদুদ্দীন আবু আল-মাআলি আসআদ বিন গালিব আল-তামিমি এবং আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন জাইয়ুশ বিন রাফি বিন ফাতহ, তাঁদের উভয়ের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে......
আবু আল-ফাতহ নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাভি আল-মিসসিসি, শা'বান মাসে......
পাঁচশত ত্রিশ সালে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম জাহিদ আবু আল-ফাতহ নাসর বিন ইব্রাহিম বিন নাসর আল-মাকদিসি,
(খণ্ড: ٢)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: ٢)
أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ ، رحمه الله ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَهْضَمٍ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ ، ثنا
…بْن أَبِي أُسَامَةَ ، ثنا دَاوُدُ ، ثنا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
«قَسَّمَ اللَّهُ عز وجل الْعَقْلَ ثَلاثَةَ أَجْزَاءٍ، فَمَنْ كُنَّ فِيهِ كَمُلَ عَقْلُهُ ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَلا عَقْلَ لَهُ ، حُسْنُ الْمَعْرِفَةِ بِاللَّهِ عز وجل ، وَحُسْنُ الطَّاعَةِ لَهُ ، وَحُسْنُ الصَّبْرِ عَلَى مَا أَمَرَهُ»
আবু হাসান আলী ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহদাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
...ইবনে আবি উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
«আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আকল বা বুদ্ধিকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন; সুতরাং যার মধ্যে এই অংশগুলো বিদ্যমান থাকবে তার আকল পূর্ণতা পাবে, আর যার মধ্যে এগুলো থাকবে না তার কোনো আকল নেই; (সেগুলো হলো) আল্লাহর প্রতি উত্তম পরিচয় বা জ্ঞান লাভ করা, তাঁর প্রতি উত্তম আনুগত্য প্রকাশ করা এবং তাঁর নির্দেশিত বিষয়ের ওপর উত্তম ধৈর্য ধারণ করা।»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: ٣)
أَخْبَرَنَا أَبُو هَاشِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الطَّبَرِيُّ ، قَرَأْتُ عَلَيْهِ رحمه الله ، ثنا الْقَاضِي أَبُو الْقَاسِمِ يُوسُفُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ كج ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ السُّنِّيُّ الْحَافِظُ ، أنبا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَوْصِلِيُّ ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ ، ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ هَانِئٍ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: «لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ قَبْلَ أَنْ تَجْدُبُوا فَلا تُسْقَوْنَ ، أَيُّهَا النَّاسُ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ قَبْلَ أَنْ تَدْعُوا فَلا يُسْتَجَابُ لَكُمْ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাশিম মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-তাবারী, আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন); আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাজী আবুল কাসিম ইউসুফ বিন আহমাদ বিন কাজ্জ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফিয আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সুন্নী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমাদ বিন আলী আল-মাওসিলী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আবি শাইবাহ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ বিন আল-হুবাব; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন উবাইদাহ; আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন হানি; আসিম বিন উবাইদুল্লাহ হতে; উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর হতে; আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন এবং মিম্বরে আরোহণ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলছেন: “তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, সেই সময়ের পূর্বেই যখন তোমরা অনাবৃষ্টির শিকার হবে এবং তোমাদের আর পানি দান করা হবে না। হে লোকসকল, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, সেই সময়ের পূর্বেই যখন তোমরা দুআ করবে কিন্তু তোমাদের দুআ কবুল করা হবে না।”
(খণ্ড: ٢)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: ٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو........
رحمه الله ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْحَافِظُ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ.......
الْهَدِير، بِبَغْدَادَ ، أنبا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ ، ثنا عَبَّاسُ بْنُ......
الثَّقَفِيُّ ، ثنا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ ، عَنِ الْحَكَمِ هُوَ ابْنُ أَبَانٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «إِنَّ
اللَّهَ عز وجل فَضَّلَ مُحَمَّدًا عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ ، وَعَلَى الأَنْبِيَاءِ» .قَالُوا: يَابْنَ عَبَّاسٍ، مَا فَضْلُهُ عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: " لأَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ قَالَ لأَهْلِ السَّمَاءِ: {وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 29] ، وَقَالَ اللَّهُ عز وجل لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا {1} لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} [الفتح: 1-2] .
قَالَ: يَابْنَ عَبَّاسٍ، فَمَا فَضْلُهُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ؟ قَالَ: لأَنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلا بِلِسَانِ قَوْمِهِ} [إبراهيم: 4] .
وَقَالَ اللَّهُ عز وجل لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ فَأَرْسَلَهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ إِلَى الإِنْسِ وَالْجِنِّ "
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু........
(রহিমাহুল্লাহ), আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-হাফিজ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ.......
আল-হাদির বাগদাদে আমাদের অবহিত করেছেন, ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের অবহিত করেছেন, আব্বাস বিন......
আস-সাকাফী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হাফস বিন উমর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-হাকাম অর্থাৎ ইবনে আবান থেকে, ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আসমানবাসী এবং নবীগণের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।" তারা বলল: হে ইবনে আব্বাস, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী আসমানের অধিবাসীদের ওপর? তিনি বললেন: "কেননা আল্লাহ সুবহানাহু আসমানবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {তাদের মধ্যে যে বলবে যে, 'আমিই তাঁর পরিবর্তে উপাস্য', তবে তাকে আমি জাহান্নাম দিয়ে প্রতিফল দেব, এভাবেই আমি জালিমদের প্রতিফল দিয়ে থাকি} [আল-আম্বিয়া: ২৯], আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যাতে আল্লাহ আপনার অতীতের ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন} [আল-ফাতহ: ১-২]।"
তিনি বললেন: (তারা জিজ্ঞেস করল) হে ইবনে আব্বাস, তবে নবীগণের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী? তিনি বললেন: "কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আমি কোনো রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা ব্যতীত প্রেরণ করিনি} [ইবরাহিম: ৪]।"
"আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণ করেছি', অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু তাঁকে মানুষ ও জিন উভয়ের নিকট প্রেরণ করেছেন।"
(খণ্ড: ٢)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: ٥)
أَخْبَرَنَا الْفَقِيهُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْهَرَوِيُّ، رحمه الله ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ مُوسَى بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ ، ثنا أَبِي ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْعَلَوِيُّ ، بِالْمَدِينَةِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قَالَ: بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسِهِ يُحَدِّثُ النَّاسَ بِالثَّوَابِ وَالْعِقَابِ ، وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ ، وَالْبَعْثِ وَالنُّشُورِ إِذْ أَقْبَلَ أَعْرَابِيٌّ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عِظَامٌ نَخِرَةٌ، وَفِي يَدِهِ الْيُسْرَى ضَبٌّ، فَأَقْبَلَ بِالْعِظَامِ يَضَعُهَا بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ عَرَكَهَا بِرِجْلِهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أتَرَى رَبَّكَ يُعِيدُهَا خَلْقًا جَدِيدًا، فَأَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَوَابَهُ، ثُمَّ انْتَظَرَ الإِجَابَةَ مِنَ السَّمَاءِ، فَنَزَلَ جِبْرِيلُ عليه السلام عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: {وَضَرَبَ لَنَا مَثَلا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ {78} قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ {79} } [يس: 78-79] .
فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الأَعْرَابِيِّ فَقَالَ: وَاللّاتِ وَالْعُزَّى مَا اشْتَمَلَتْ أَرْحَامُ النِّسَاءِ وَلا أَصْلابُ الرِّجَالِ عَلَى ذِي لَهْجَةٍ أَكْذَبَ مِنْكَ ، وَلا أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْكَ، وَلَوْلا أَنَّ قَوْمِي يَدْعُونَنِي عَجُولا لَقَتَلْتُكَ، وَأَفْسَدْتُ بِقَتْلِكَ الأَسْوَدَ وَالأَبْيَضَ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ ، فَهَمَّ بِهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عَلِيُّ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ
الْحَلِيمَ كَادَ أَنْ يَكُونَ نَبِيًّا» .فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَعْرَابِيُّ، بِئْسَ مَا جِئْتَنَا بِهِ، وَسُوءَ مَا تَسْتَقْبِلُنِي بِهِ ، وَاللَّهِ إِنِّي لَمَحْمُودٌ فِي الأَرْضِ ، أَمِينٌ فِي السَّمَاءِ عِنْدَ الْمَلائِكَةِ» .
فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ وَرَمَى الضَّبَّ فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ: وَاللَّهِ لا أُومِنُ بِكَ حَتَّى يُؤْمِنَ بِكَ هَذَا الضَّبُّ ، فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَنَبِهِ، ثُمَّ قَالَ: «يَا ضَبُّ» .
قَالَ: لَبَّيْكَ يَا زَيْنَ مَنْ وَافَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، قَالَ: " مَنْ تَعْبُدُ؟ قَالَ: أَعْبُدُ اللَّهَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ عَرْشُهُ، وَفِي الأَرْضِ سُلْطَانُهُ، وَفِي الْبَحْرِ سَبِيلُهُ وَفِي الْجَنَّةِ ثَوَابُهُ وَفِي النَّارِ عَذَابُهُ، قَالَ: مَنْ أَنَا؟ قَالَ: أَنْتَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلابٍ حَتَّى نَسَبَهُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عليه السلام أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ، لا يُحْرَمُ مَنْ صَدَّقَكَ وَخَابَ مَنْ كَذَّبَكَ، فَوَلَّى الأَعْرَابِيُّ وَهُوَ يَضْحَكُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ تَسْتَهْزِئُ» .
فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: بِأَبِي وَأُمِّي، لَيْسَ الْخَبَرُ كَالْمُعَايِنِ، أَنَا أَشْهَدُ بِلَحْمِي وَدَمِي وَعِظَامِي أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «جِئْتَنَا كَافِرًا وَتَرْجِعُ مُؤْمِنًا، هَلْ لَكَ مِنْ مَالٍ؟» قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ رَسُولا، مَا فِي بَنِي سُلَيْمٍ أَفْقَرُ مِنِّي، وَلا أَقَلُّ شَيْئًا مِنِّي ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَنْ عِنْدَهُ رَاحِلَةٌ يَحْمِلُ أَخَاهُ عَلَيْهَا؟» فَقَامَ عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عِنْدِي نَاقَةٌ وَبْرَاءُ حَمْرَاءُ عُشَرَاءُ، إِذَا أَقْبَلَتْ دَقَّتْ وَإِذَا أَدْبَرَتْ زَفَّتْ، أَهْدَاهَا إِلَيَّ أَشْعَثُ بْنُ وَائِلٍ غَدَاةَ قَدِمْتُ مَعَكَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَكَ عِنْدِي نَاقَةٌ مِنْ دُرَّةٍ بَيْضَاءَ»
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَقِيهُ ، ثنا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الإِسْمَاعِيلِيُّ ، أنبا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ...............................
أَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ عز وجل.........
وَأَفْضَلُ الْعِبَادَةِ الْعَفَافُ ، ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الآيَةَ {مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلا دُعَاؤُكُمْ} [الفرقان: 77]
ফকীহ আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন আলী আল-হারাভী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আল-হাসান আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইমরান ইবন মুসা ইবন উরওয়াহ ইবনুল জাররাহ আমাদের জানিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন হাতিম আমাকে জানিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আল-আলাওয়ী মদিনায় আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মজলিসে অবস্থানকালে যখন মানুষকে সওয়াব ও আযাব, জান্নাত ও জাহান্নাম এবং পুনরুত্থান ও হাশর সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন, এমন সময় বনু সুলাইম গোত্রের এক গ্রাম্য ব্যক্তি আগমন করল। তার ডান হাতে ছিল কিছু জরাজীর্ণ হাড় এবং বাম হাতে ছিল একটি গুইসাপ। সে হাড়গুলো নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে রাখল, এরপর নিজ পা দিয়ে সেগুলো মাড়াল। এরপর সে বলল: "হে মুহাম্মদ! আপনি কি মনে করেন যে আপনার রব এগুলোকে নতুন করে সৃষ্টি করে পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন?" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে উত্তর দিতে চাইলেন, কিন্তু তিনি আসমান থেকে উত্তরের প্রতীক্ষা করলেন। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন: {সে আমার সম্পর্কে উপমা পেশ করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টিকে ভুলে গেছে। সে বলে, ‘কে এই হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে গেছে?’ বলুন, ‘সেগুলো তিনিই জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।’} [ইয়াসিন: ৭৮-৭৯]।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গ্রাম্য লোকটির সামনে আয়াতগুলো পাঠ করলেন। তখন সে বলল: "লাত ও উযযার কসম! নারীদের জঠর এবং পুরুষদের পৃষ্ঠদেশ আপনার চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী এবং আমার কাছে আপনার চেয়ে বেশি ঘৃণিত আর কাউকে ধারণ করেনি। আমার কওম যদি আমাকে তাড়াহুড়োকারী না বলত, তবে আমি আপনাকে হত্যা করতাম এবং আপনার হত্যার মাধ্যমে বনু হাশিমের সাদা-কালো সবাইকে ধ্বংস করে দিতাম।" তখন আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার দিকে উদ্যত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আলী, তুমি কি জান না যে,
সহনশীল ব্যক্তি নবী হওয়ার উপক্রম হয়?"এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে গ্রাম্য ব্যক্তি! তুমি আমার কাছে যা নিয়ে এসেছ তা কতই না মন্দ এবং আমার সাথে তোমার এই আচরণ কতই না নিকৃষ্ট! আল্লাহর কসম, আমি পৃথিবীতে প্রশংসিত এবং আসমানে ফেরেশতাদের কাছে আমানতদার।"তখন গ্রাম্য লোকটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোলে গুইসাপটি ছুঁড়ে ফেলে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি আপনার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না এই গুইসাপটি আপনার প্রতি ঈমান আনে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির লেজ ধরলেন এবং বললেন: "হে গুইসাপ!"সে উত্তর দিল: "আমি হাজির, হে কিয়ামতের দিন আগমনকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য!" তিনি বললেন: "তুমি কার ইবাদত কর?" সে বলল: "আমি সেই আল্লাহর ইবাদত করি যার আরশ আসমানে, যার রাজত্ব পৃথিবীতে, সমুদ্রে যার পথ, জান্নাতে যার পুরস্কার এবং জাহান্নামে যার আযাব রয়েছে।" তিনি বললেন: "আমি কে?" সে বলল: "আপনি মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আব্দু মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব—এভাবে সে ইবরাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত তাঁর বংশধারা বর্ণনা করল—আপনি আল্লাহর রাসূল। যে আপনাকে সত্য বলে মানবে সে বঞ্চিত হবে না এবং যে আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" তখন গ্রাম্য লোকটি হাসতে হাসতে পিঠ ফিরিয়ে চলে যেতে চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি কি আল্লাহ এবং তাঁর নিদর্শনাবলি নিয়ে উপহাস করছ?"তখন সে তাঁর কাছে ফিরে আসল এবং বলল: "আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! শোনা কথা চাক্ষুষ দেখার মতো নয়। আমি আমার রক্ত, মাংস ও হাড় দিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি আমাদের কাছে কাফির হিসেবে এসেছিলে এবং মুমিন হিসেবে ফিরে যাচ্ছ। তোমার কি কোনো সম্পদ আছে?" সে বলল: "যিনি আপনাকে সত্যসহ রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, বনু সুলাইম গোত্রে আমার চেয়ে দরিদ্র এবং আমার চেয়ে নিঃস্ব আর কেউ নেই।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে বললেন: "কার কাছে এমন বাহন আছে যা দিয়ে সে তার ভাইকে বহন করতে পারে?" তখন আদি ইবন হাতিম দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে একটি লাল বর্ণের হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উষ্ট্রী আছে; যা চলার সময় দ্রুত চলে এবং ফেরার সময়ও তেজি থাকে। আমি যখন আপনার সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছিলাম, তখন আশআস ইবন ওয়াইল এটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমার জন্য আমার কাছে সাদা মুক্তার একটি উষ্ট্রী (জান্নাতে) নির্ধারিত রইল।"মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আল-ফকীহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন ইবরাহিম আল-ইসমাঈলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু হামিদ আহমদ ইবন আলী আল-মুকরি আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ ইবন শাইবান আমাদের বর্ণনা করেছেন...............................আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো.........এবং সর্বোত্তম ইবাদত হলো পবিত্রতা। এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {বলুন, ‘তোমাদের দোআ না থাকলে আমার রব তোমাদের কোনো পরোয়া করতেন না’} [আল-ফুরকান: ৭৭]
(খণ্ড: ٢)
মাজলিস মিন আমালী আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী_২
(পৃষ্ঠা: ٦)
وأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَقِيهُ ، ثنا أَبُو نَصْرٍ الإِسْمَاعِيلِيُّ قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ ، ثنا أَبُو نَصْرٍ اللَّيْثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ اللَّيْثِ الْمَرْوَزِيُّ ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الْمَرْوَزِيُّ ، ثنا وَرْقَاءُ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "
مَنْ أُلْهِمَ خَمْسَةٌ لَمْ يُحْرَمْ خَمْسَةٌ ، مَنْ أُلْهِمَ الدُّعَاءَ لَمْ يُحْرَمِ الإِجَابَةَ، لأَنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60] ، وَمَنْ أُلْهِمَ التَّوْبَةَ لَمْ يُحْرَمِ التَّقَبُّلَ، لأَنَّ اللَّهَ عز وجل قَالَ: {وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} [الشورى: 25] ، وَمَنْ أُلْهِمَ الشُّكْرَ لَمْ يُحْرَمِ الزِّيَادَةَ، لأَنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ} [إبراهيم: 7] ، وَمَنْ أُلْهِمَ الاسْتِغْفَارَ لَمْ يُحْرَمِ الْمَغْفِرَةَ، لأَنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا} [نوح: 10] ، وَمَنْ أُلْهِمَ النَّفَقَةَ لَمْ يُحْرَمِ الْخلفَ، لأَنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ} [سبأ: 39]
أَخْبَرَنَا الْفَقِيهُ أَبُو الْفَتْحِ سُلَيْمُ بْنُ أَيُّوبَ الرَّازِيُّ ، رحمه الله ، أنبا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَصِيرُ، وَأَبُو عَلِيٍّ حمد بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَصْبَهَانِيُّ، قَالا: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ، ثنا أَبِي، وَأَبُو زُرْعَةَ، قَالا: ثنا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا مُعَاوِيَةُ يَعْنِي ابْنَ يَحْيَى أَبُو مُطِيعٍ، ثنا جَبَلَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: بَعَثَ اللَّهُ عز وجل إِلَى أَهْلِ مَدْيَنَ شَطْرَ اللَّيْلِ لِيَأْفِكَ بِهِمْ مَغَانِيهِمْ، فَأَلْقَى رَجُلا قَائِمًا يَتْلُو كِتَابَ اللَّهِ عز وجل فَهَالَهُ أَنْ يُهْلِكَهُ فِيمَنْ يُهْلِكُ، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَى الْمِعْرَاجِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ أَنْتَ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ بَعَثْتَنِي إِلَى مَدَائِنَ لآفِكَ مَغَانِيهِمْ فَأَصَبْتُ رَجُلا قَائِمًا يَتْلُو كِتَابَ اللَّهِ عز وجل فَهَالَنِي أَنْ أُهْلِكَهُ فِيمَنْ أُهْلِكُ ، فَأَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ: مَا أَعْرَفَنِي بِهِ، هُوَ فُلانُ بْنُ فُلانٍ، فَابْدَأْ بِهِ فَإِنَّهُ لَمْ يَدْفَعْ عَنْ مَحَارِمِي إِلا مُوَادِعًا ".
وَهَذَا لَفْظُ أَبِي الْعَبَّاسِ
وَلِمَحْمُودٍ الْوَرَّاقِ:
مَا أَفْضَحَ الْمَوْتَ لِلدُّنْيَا وَزِينَتِهَا
… وَمَا أَفْضَحَ الدُّنْيَا لأَهْلِيهَا
لا تَرْجِعَنَّ عَلَى الدُّنْيَا بِلائِمَةٍ
… فَعُذْرُهَا لَكَ بَادٍ فِي مَسَاوِيهَا
لَمْ تُبْقِ مِنْ عَيْبِهَا شَيْئًا لِصَاحِبِهَا
… إِلا وَقَدْ بَيَّنَتْهُ فِي مَعَانِيهَا
تُفْنِي الْبَنِينَ وَتُفْنِي الأَهْلَ دَائِبَةً
… وَنَسْتَنِيمُ إِلَيْهَا لا نُعَادِيهَا
فَمَا يَزِيدُكُمْ قَتْلُ الَّذِي قَتَلَتْ
… وَلا الْعَدَاوَةُ إِلا رَغْبَةً فِيهَا
آخِرُهُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ، وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلِّمَ تَسْلِيمًا.
মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নাসর আল-ইসমাঈলি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক ইবনুল হারিস আমার নিকট লিখেছেন, আবু নাসর আল-লায়স ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল লায়স আল-মারওয়াযি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আল-মারওয়াযি আমাদের বর্ণনা করেছেন, ওয়ারকা সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "
যাকে পাঁচটি জিনিসের প্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে পাঁচটি জিনিস থেকে বঞ্চিত হবে না। যাকে দুআর প্রেরণা দেওয়া হয়েছে সে কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না, কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} [গাফির: ৬০]। আর যাকে তাওবার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে সে কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন} [শুরা: ২৫]। আর যাকে শুকরিয়ার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে সে নেয়ামত বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হবে না, কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব} [ইবরাহীম: ৭]। আর যাকে ইস্তিগফারের প্রেরণা দেওয়া হয়েছে সে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হবে না, কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল} [নূহ: ১০]। আর যাকে দান-সদকার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে সে প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে না, কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন} [সাবা: ৩৯]"।
ফকিহ আবু আল-ফাতহ সুলাইম ইবনে আইয়ুব আল-রাযি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাসীর এবং আবু আলী হামদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসবাহানি আমাদের জানিয়েছেন, তারা বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা এবং আবু যুরআহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া অর্থাৎ ইবনে ইয়াহইয়া আবু মুতি আমাদের বর্ণনা করেছেন, জাবালা ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহ মধ্যরাতে মাদইয়ানবাসীদের কাছে (একজন ফেরেশতাকে) পাঠিয়েছিলেন তাদের আবাসস্থলগুলো ধ্বংস করে উল্টে দেওয়ার জন্য। তিনি সেখানে একজন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতে দেখলেন। তখন যাদের ধ্বংস করা হবে তাদের সাথে তাকেও ধ্বংস করা তাকে আতঙ্কিত করল। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি মিরাজে (ঊর্ধ্বলোকে) ফিরে গিয়ে বললেন: হে আল্লাহ! আপনি অতি পবিত্র ও মহিমান্বিত। আপনি আমাকে মাদইয়ানের শহরগুলোতে পাঠিয়েছিলেন তাদের আবাসস্থলগুলো উল্টে দেওয়ার জন্য, কিন্তু আমি সেখানে একজন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতে দেখেছি। যাদের ধ্বংস করা হবে তাদের সাথে তাকেও ধ্বংস করতে আমি ভয় পাচ্ছি। তখন আল্লাহ তাআলা তার কাছে ওহী পাঠালেন: "আমি তার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানি, সে অমুকের পুত্র অমুক। তাকে দিয়েই ধ্বংস শুরু করো, কারণ সে আমার নিষিদ্ধ কাজগুলোর ক্ষেত্রে কেবল আপসকামিতার আচরণ করত (সেগুলোকে প্রতিহত করত না)"।
এটি আবু আল-আব্বাসের শব্দ।
মাহমুদ আল-ওয়াররাকের পংক্তিমালা:
দুনিয়া এবং এর সাজসজ্জার জন্য মৃত্যুই কত বড় অপদার্থতা প্রমাণকারী!
… আর দুনিয়া তার বাসিন্দাদের জন্য কত বড় লাঞ্ছনার কারণ!
তুমি দুনিয়াকে কখনও তিরস্কার করো না
… কারণ এর মন্দ দিকগুলোতেই তোমার জন্য এর ওজর (প্রমাণ) প্রকাশমান।
এটি তার মালিকের কাছে তার কোনো দোষ গোপন রাখেনি
… বরং এর অভ্যন্তরীণ প্রতিটি বিষয়ে তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
এটি নিয়মিত সন্তানদের ধ্বংস করে এবং পরিবার-পরিজনকে বিলীন করে
… অথচ আমরা এর প্রতি আসক্ত হয়ে শান্তিতে থাকি, এর সাথে শত্রুতা করি না।
যাদেরকে সে (দুনিয়া) হত্যা করেছে, তাদের মৃত্যু তোমাদেরকে দুনিয়া বিমুখ করে না
… বরং শত্রুতার বদলে এর প্রতি তোমাদের আকাঙ্ক্ষাই বৃদ্ধি পায়।
এটিই সমাপ্তি, আর সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও পূর্ণ সালাম বর্ষিত হোক।