(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول: (كتاب العقائد)
مقدمة
...
تقريظات الكتاب
1- تقريظ الشيخ: محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي وفق من شاء من عباده، لإبراز الحق وإبدائه، والكشف عن مكنون عقود اللآلي بعد خفائه، وصلى الله على عبده ورسوله محمد، وآله وأصحابه، السالكين على طريق الحق، المخالفين لأعدائه، وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فإني نظرت في هذا المجموع، الفائق، الرائق، الذي جمعه ورتبه الابن: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، فرأيته قد جمع علوما مهمة، ومسائل كثيرة جمة، مما أوضحه علماء أهل هذه الدعوة الإسلامية، في مسائلهم، ورسائلهم، الساطعة أنوارها، الواضحة أسرارها، لمن أراد الله هدايته.
فإنهم رحمهم الله، حرروا هذه المسائل والرسائل، تحريرا بالغا، مشتملا على مستنداته، من البرهان والحجة، وعلى طريق الهداية، إلى واضح السبيل والمحجة، لا سيما ما تضمنه من العقائد، والردود، والنصائح، التي لا تظفر
مقدمة
...
تقريظات الكتاب
1- تقريظ الشيخ: محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي وفق من شاء من عباده، لإبراز الحق وإبدائه، والكشف عن مكنون عقود اللآلي بعد خفائه، وصلى الله على عبده ورسوله محمد، وآله وأصحابه، السالكين على طريق الحق، المخالفين لأعدائه، وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فإني نظرت في هذا المجموع، الفائق، الرائق، الذي جمعه ورتبه الابن: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، فرأيته قد جمع علوما مهمة، ومسائل كثيرة جمة، مما أوضحه علماء أهل هذه الدعوة الإسلامية، في مسائلهم، ورسائلهم، الساطعة أنوارها، الواضحة أسرارها، لمن أراد الله هدايته.
فإنهم رحمهم الله، حرروا هذه المسائل والرسائل، تحريرا بالغا، مشتملا على مستنداته، من البرهان والحجة، وعلى طريق الهداية، إلى واضح السبيل والمحجة، لا سيما ما تضمنه من العقائد، والردود، والنصائح، التي لا تظفر
প্রথম খণ্ড: (আকাইদ বিষয়ক গ্রন্থ)
ভূমিকা
...
কিতাবের উপর প্রদত্ত তা’রীফসমূহ (প্রশংসাপত্র)
১- শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফ আলে আশ-শাইখ কর্তৃক প্রদত্ত তা’রীফ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাওফীক দিয়েছেন সত্যকে প্রকাশ ও উন্মোচন করার জন্য, এবং লুক্কায়িত থাকার পর মুক্তার মালার গোপন রহস্য উন্মোচন করার জন্য। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর, যারা সত্যের পথে পথিক এবং তাঁর শত্রুদের বিরোধিতাকারী। আর (বর্ষিত হোক) প্রচুর পরিমাণে শান্তি।
অতঃপর: আমি এই সংকলনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি—যা অত্যন্ত চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর—যা সংকলন ও বিন্যস্ত করেছেন (আমার) পুত্র: আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম।
আমি দেখেছি যে, এতে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান এবং বহু বিস্তৃত মাসআলা (ধর্মীয় বিধান) একত্রিত করা হয়েছে, যা এই ইসলামী দাওয়াতের আলিমগণ তাঁদের মাসায়েল ও রিসালাসমূহে (ছোট ছোট পুস্তিকায়) সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—যার আলোকরশ্মি প্রদীপ্ত এবং যার রহস্যসমূহ সুস্পষ্ট—ঐ ব্যক্তির জন্য, যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত চেয়েছেন।
কেননা তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—এই মাসায়েল ও রিসালাসমূহকে সুনিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা দলীল ও প্রমাণের উপর নির্ভরশীল, এবং যা চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশ্লেষণ; এবং যা হিদায়াতের পথকে সুস্পষ্ট রাজপথের দিকে পরিচালিত করে। বিশেষত এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আকাইদ (বিশ্বাস), আর-রুদুদ (খণ্ডনমূলক জবাব) এবং আন-নাসাইহ (উপদেশসমূহ) থেকে, যা সহজে লাভ করা যায় না (বা যা পাওয়া দুষ্কর)।
ভূমিকা
...
কিতাবের উপর প্রদত্ত তা’রীফসমূহ (প্রশংসাপত্র)
১- শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফ আলে আশ-শাইখ কর্তৃক প্রদত্ত তা’রীফ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাওফীক দিয়েছেন সত্যকে প্রকাশ ও উন্মোচন করার জন্য, এবং লুক্কায়িত থাকার পর মুক্তার মালার গোপন রহস্য উন্মোচন করার জন্য। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর, যারা সত্যের পথে পথিক এবং তাঁর শত্রুদের বিরোধিতাকারী। আর (বর্ষিত হোক) প্রচুর পরিমাণে শান্তি।
অতঃপর: আমি এই সংকলনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি—যা অত্যন্ত চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর—যা সংকলন ও বিন্যস্ত করেছেন (আমার) পুত্র: আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম।
আমি দেখেছি যে, এতে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান এবং বহু বিস্তৃত মাসআলা (ধর্মীয় বিধান) একত্রিত করা হয়েছে, যা এই ইসলামী দাওয়াতের আলিমগণ তাঁদের মাসায়েল ও রিসালাসমূহে (ছোট ছোট পুস্তিকায়) সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—যার আলোকরশ্মি প্রদীপ্ত এবং যার রহস্যসমূহ সুস্পষ্ট—ঐ ব্যক্তির জন্য, যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত চেয়েছেন।
কেননা তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—এই মাসায়েল ও রিসালাসমূহকে সুনিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা দলীল ও প্রমাণের উপর নির্ভরশীল, এবং যা চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশ্লেষণ; এবং যা হিদায়াতের পথকে সুস্পষ্ট রাজপথের দিকে পরিচালিত করে। বিশেষত এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আকাইদ (বিশ্বাস), আর-রুদুদ (খণ্ডনমূলক জবাব) এবং আন-নাসাইহ (উপদেশসমূহ) থেকে, যা সহজে লাভ করা যায় না (বা যা পাওয়া দুষ্কর)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بأكثرها في مجموع سواه.
وقد رتبها الترتيب الموافق، وتابع بينها التتابع المطابق، لا سيما المسائل الفقهية، التي رتبها على حسب أبواب الفقه، وفرقها فيها من غير إخلال بشيء من المقصود، فكان هذا المجموع هو الدرة المفقودة، والضالة المنشودة.
فجزاه الله خيرا، وشكر سعيه على هذا الصنيع، الذي هو للعين قرة، وللمستبصر مسرة، والحمد لله حمدا كثيرا، كما ينبغي لكرم وجهه وعظيم سلطانه.
حرره الفقير إلى عفو ربه وإحسانه، محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ، وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم –
21 ذي القعدة - سنة 1351هـ.
وقد رتبها الترتيب الموافق، وتابع بينها التتابع المطابق، لا سيما المسائل الفقهية، التي رتبها على حسب أبواب الفقه، وفرقها فيها من غير إخلال بشيء من المقصود، فكان هذا المجموع هو الدرة المفقودة، والضالة المنشودة.
فجزاه الله خيرا، وشكر سعيه على هذا الصنيع، الذي هو للعين قرة، وللمستبصر مسرة، والحمد لله حمدا كثيرا، كما ينبغي لكرم وجهه وعظيم سلطانه.
حرره الفقير إلى عفو ربه وإحسانه، محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ، وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم –
21 ذي القعدة - سنة 1351هـ.
এর অধিকাংশ বিষয়বস্তু অন্য কোনো সংকলনে ছিল না।
আর তিনি সেগুলোকে যথাযথ বিন্যাসে সজ্জিত করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন; বিশেষত ফিকহী মাসআলাসমূহ, যেগুলোকে তিনি ফিকহের অধ্যায়সমূহ অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন এবং উদ্দেশ্যসমূহের কোনো অংশেই ত্রুটি না ঘটিয়ে সেগুলোকে এর মধ্যে বিভক্ত করে দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, এই সংকলনটিই হলো সেই হারানো মুক্তা (আদ-দুররাহ আল-মাফকূদাহ) এবং সেই কাঙ্ক্ষিত সম্পদ (আদ-দ্বাল্লাহ আল-মানশূদাহ)।
আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এই মহৎ কাজের জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, যা চক্ষুর জন্য শীতলতা এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য আনন্দের উৎস। আর আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা, যেমনটি তাঁর সম্মানিত সত্তা (কারাম ওয়াজহ) এবং তাঁর মহান কর্তৃত্বের (আযীম সুলতান) জন্য শোভনীয়।
এটি লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর রবের ক্ষমা ও অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আলে শায়খ।
এবং আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর।
২১ যুল-কা'দাহ - ১৩৫১ হিজরী সনে।
আর তিনি সেগুলোকে যথাযথ বিন্যাসে সজ্জিত করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন; বিশেষত ফিকহী মাসআলাসমূহ, যেগুলোকে তিনি ফিকহের অধ্যায়সমূহ অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন এবং উদ্দেশ্যসমূহের কোনো অংশেই ত্রুটি না ঘটিয়ে সেগুলোকে এর মধ্যে বিভক্ত করে দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, এই সংকলনটিই হলো সেই হারানো মুক্তা (আদ-দুররাহ আল-মাফকূদাহ) এবং সেই কাঙ্ক্ষিত সম্পদ (আদ-দ্বাল্লাহ আল-মানশূদাহ)।
আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এই মহৎ কাজের জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, যা চক্ষুর জন্য শীতলতা এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য আনন্দের উৎস। আর আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা, যেমনটি তাঁর সম্মানিত সত্তা (কারাম ওয়াজহ) এবং তাঁর মহান কর্তৃত্বের (আযীম সুলতান) জন্য শোভনীয়।
এটি লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর রবের ক্ষমা ও অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আলে শায়খ।
এবং আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর।
২১ যুল-কা'দাহ - ১৩৫১ হিজরী সনে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
2- تقريظ العلامة الشيخ: محمد بن إبراهيم آل الشيخ
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي بإحسانه سدد من شاء من عباده، وبامتنانه وفق من أسعفه بإسعاده، وبعنايته أعلى همة من خصه بجعل جمع العلوم الدينية غاية مراده. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة مخلص لله في قوله وعمله واعتقاده، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وآله وصحبه، الذين جاهدوا في الله حق جهاده.
وبعد: فقد سمعت هذا المجموع الفائق مرتين، وبعضه أكثر من ذلك، بقراءة جامعه ومرتبه: الأخ الفاضل عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، فوجدته وفقه الله تعالى، لم يأل جهدا في جمع رسائل أئمتنا، أئمة هذه الدعوة، وأجوبتهم، وتتبعها من مظانها، ولم يترك - وفقه الله تعالى - شيئا مما ظفر به إلا أشياء غير محررة، أو أشياء غير مقطوع بها عمن نسبت إليه، مع بذله الطاقة في التصحيح، ومقابلة ما ظفر به منها، على ما يمكنه الوقوف عليه من نسخها، مع أنها لم تخل من تغيير.
وقد أجاد ترتيبها بما يسهل على المستفيد طريق ما
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي بإحسانه سدد من شاء من عباده، وبامتنانه وفق من أسعفه بإسعاده، وبعنايته أعلى همة من خصه بجعل جمع العلوم الدينية غاية مراده. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة مخلص لله في قوله وعمله واعتقاده، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وآله وصحبه، الذين جاهدوا في الله حق جهاده.
وبعد: فقد سمعت هذا المجموع الفائق مرتين، وبعضه أكثر من ذلك، بقراءة جامعه ومرتبه: الأخ الفاضل عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، فوجدته وفقه الله تعالى، لم يأل جهدا في جمع رسائل أئمتنا، أئمة هذه الدعوة، وأجوبتهم، وتتبعها من مظانها، ولم يترك - وفقه الله تعالى - شيئا مما ظفر به إلا أشياء غير محررة، أو أشياء غير مقطوع بها عمن نسبت إليه، مع بذله الطاقة في التصحيح، ومقابلة ما ظفر به منها، على ما يمكنه الوقوف عليه من نسخها، مع أنها لم تخل من تغيير.
وقد أجاد ترتيبها بما يسهل على المستفيد طريق ما
২- আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আলে আশ-শাইখ কর্তৃক প্রদত্ত তাকরীয (প্রশংসাপত্র)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ইহসান (অনুগ্রহ) দ্বারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন, এবং তাঁর করুণা দ্বারা যাকে তিনি সাহায্য করেন, তাকেই সফলতা দান করেন। এবং তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে তিনি তাদের হিম্মত (উদ্যম) উন্নত করেন, যাদেরকে তিনি দ্বীনি জ্ঞানসমূহ সংকলনকে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের জন্য মনোনীত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন সাক্ষ্য যা তার কথা, কাজ ও আকিদার (বিশ্বাসের) ক্ষেত্রে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন যেমন জিহাদ করা উচিত।
অতঃপর:
আমি এই চমৎকার সংকলনটি দু'বার শুনেছি, এবং এর কিছু অংশ তার চেয়েও বেশিবার, যা এর সংগ্রাহক ও বিন্যাসকারী: শ্রদ্ধেয় ভাই আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন কাসিম কর্তৃক পঠিত হয়েছে। আমি দেখেছি যে—আল্লাহ তাআলা তাঁকে সফলতা দান করুন—তিনি আমাদের ইমামগণ, অর্থাৎ এই দাওয়াতের ইমামগণের রিসালাসমূহ (ছোট গ্রন্থাবলি) ও জবাবসমূহ সংগ্রহে এবং সেগুলোর মূল উৎসস্থল থেকে খুঁজে বের করতে কোনো প্রকার চেষ্টার ত্রুটি করেননি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সফলতা দান করুন—তিনি যা কিছু পেয়েছেন, তার মধ্যে কোনো কিছুই বাদ দেননি, কেবল সেই বিষয়গুলো ছাড়া যা অপ্রমাণিত (غير محررة) ছিল, অথবা যার দিকে সেগুলোর সম্বন্ধ করা হয়েছে, তার পক্ষ থেকে সেগুলোর নিশ্চিত উৎস সম্পর্কে সন্দেহ ছিল। যদিও তিনি শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং তিনি যা কিছু পেয়েছেন, সেগুলোর প্রাপ্ত কপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছেন, যদিও সেগুলোতে পরিবর্তনের ছাপ ছিল।
আর তিনি সেগুলোর বিন্যাস এমনভাবে চমৎকার করেছেন, যা দ্বারা পাঠক বা উপকৃত ব্যক্তির জন্য পথ সহজ হয়ে যায়...
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ইহসান (অনুগ্রহ) দ্বারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন, এবং তাঁর করুণা দ্বারা যাকে তিনি সাহায্য করেন, তাকেই সফলতা দান করেন। এবং তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে তিনি তাদের হিম্মত (উদ্যম) উন্নত করেন, যাদেরকে তিনি দ্বীনি জ্ঞানসমূহ সংকলনকে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের জন্য মনোনীত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন সাক্ষ্য যা তার কথা, কাজ ও আকিদার (বিশ্বাসের) ক্ষেত্রে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন যেমন জিহাদ করা উচিত।
অতঃপর:
আমি এই চমৎকার সংকলনটি দু'বার শুনেছি, এবং এর কিছু অংশ তার চেয়েও বেশিবার, যা এর সংগ্রাহক ও বিন্যাসকারী: শ্রদ্ধেয় ভাই আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন কাসিম কর্তৃক পঠিত হয়েছে। আমি দেখেছি যে—আল্লাহ তাআলা তাঁকে সফলতা দান করুন—তিনি আমাদের ইমামগণ, অর্থাৎ এই দাওয়াতের ইমামগণের রিসালাসমূহ (ছোট গ্রন্থাবলি) ও জবাবসমূহ সংগ্রহে এবং সেগুলোর মূল উৎসস্থল থেকে খুঁজে বের করতে কোনো প্রকার চেষ্টার ত্রুটি করেননি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সফলতা দান করুন—তিনি যা কিছু পেয়েছেন, তার মধ্যে কোনো কিছুই বাদ দেননি, কেবল সেই বিষয়গুলো ছাড়া যা অপ্রমাণিত (غير محررة) ছিল, অথবা যার দিকে সেগুলোর সম্বন্ধ করা হয়েছে, তার পক্ষ থেকে সেগুলোর নিশ্চিত উৎস সম্পর্কে সন্দেহ ছিল। যদিও তিনি শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং তিনি যা কিছু পেয়েছেন, সেগুলোর প্রাপ্ত কপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছেন, যদিও সেগুলোতে পরিবর্তনের ছাপ ছিল।
আর তিনি সেগুলোর বিন্যাস এমনভাবে চমৎকার করেছেন, যা দ্বারা পাঠক বা উপকৃত ব্যক্তির জন্য পথ সহজ হয়ে যায়...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
تمهيد
بقلم جامعه: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي خص بالهداية في زمن الفترات، من شاء من عباده، نعمة منه وفضلا، وألهمهم الحكمة مع ما جبلهم عليه من الفطرة، فتفجرت ينابيعها على ألسنتهم، فنطقوا بالصواب عقلا ونقلا. وفتح بصائرهم، وهداهم إلى الصراط المستقيم، علما، وعملا، وهجرة، وجهادا؛ فأعادوا نشأة الإسلام في الصدر الأول. ويسر لهم من معالم الدين، ومواهب اليقين، ما فضلهم واصطفاهم به على المعاصرين، فحاكوا السلف المفضل، وفتح لهم من حقائق المعارف ومعارف الحقائق، ما امتازوا به على غيرهم، عند من سبر وتأمل. ساروا على المنهج السوي، وشمروا إلى علم الهدى، حتى لحقوا بالرعيل الأول.
فسبحان من وفق من شاء من الخلائق لتأصيل الأصول، وتحقيق الحقائق، وجمع له مواهب الخيرات الجلائل والدقائق. أحمده سبحانه على ما من به علينا،
بقلم جامعه: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي خص بالهداية في زمن الفترات، من شاء من عباده، نعمة منه وفضلا، وألهمهم الحكمة مع ما جبلهم عليه من الفطرة، فتفجرت ينابيعها على ألسنتهم، فنطقوا بالصواب عقلا ونقلا. وفتح بصائرهم، وهداهم إلى الصراط المستقيم، علما، وعملا، وهجرة، وجهادا؛ فأعادوا نشأة الإسلام في الصدر الأول. ويسر لهم من معالم الدين، ومواهب اليقين، ما فضلهم واصطفاهم به على المعاصرين، فحاكوا السلف المفضل، وفتح لهم من حقائق المعارف ومعارف الحقائق، ما امتازوا به على غيرهم، عند من سبر وتأمل. ساروا على المنهج السوي، وشمروا إلى علم الهدى، حتى لحقوا بالرعيل الأول.
فسبحان من وفق من شاء من الخلائق لتأصيل الأصول، وتحقيق الحقائق، وجمع له مواهب الخيرات الجلائل والدقائق. أحمده سبحانه على ما من به علينا،
ভূমিকা
সংকলক কর্তৃক লিখিত: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ফাতরাতের (নবুওয়াত বিরতির) যুগে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেছেন, তাকেই হেদায়েত দ্বারা বিশেষভাবে ভূষিত করেছেন—তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও করুণা হিসেবে। এবং তিনি তাদেরকে প্রবৃত্তিগতভাবে (স্বভাবগতভাবে) যে ফিতরাতের উপর সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন। ফলে এর ঝর্ণাধারা তাদের জিহ্বা থেকে উৎসারিত হয়েছে, এবং তারা আকল (যুক্তি) ও নকল (শরিয়তি প্রমাণ) উভয় দিক থেকেই সঠিক কথা উচ্চারণ করেছেন।
আর তিনি তাদের অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচন করেছেন, এবং তাদেরকে সিরাতে মুস্তাকীমের (সরল পথের) দিকে হেদায়েত করেছেন—জ্ঞান, আমল, হিজরত ও জিহাদের মাধ্যমে; ফলে তারা প্রথম যুগের (সালাফে সালেহীনের) ইসলামের পুনর্জন্ম ঘটিয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য দ্বীনের এমন সব নিদর্শন এবং ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) এমন সব প্রতিভা সহজলভ্য করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদেরকে সমসাময়িকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং মনোনীত করেছেন। ফলে তারা শ্রেষ্ঠ সালাফদের (পূর্বসূরিদের) অনুকরণ করেছেন। আর তিনি তাদের জন্য জ্ঞানের এমন সব বাস্তবতা এবং বাস্তবতার এমন সব জ্ঞান উন্মোচন করেছেন, যা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী ও চিন্তাকারীর নিকট অন্যদের থেকে তাদের স্বাতন্ত্র্য প্রমাণ করে। তারা সরল পথের (মানহাজুস সাওয়ী) উপর চলেছেন, এবং হেদায়েতের পতাকার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়েছেন, যতক্ষণ না তারা প্রথম সারির (সালাফদের) সাথে মিলিত হয়েছেন।
অতএব, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেছেন, তাকেই মূলনীতিসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে (তা'সীলুল উসূল) এবং বাস্তবতাসমূহকে সত্য বলে প্রমাণ করতে (তাহক্বীক্বুল হাক্বাইক্ব) তাওফীক দান করেছেন, এবং তার জন্য বড় ও ছোট সব ধরনের কল্যাণের উপহার একত্রিত করেছেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার প্রশংসা করি, তিনি আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য।
সংকলক কর্তৃক লিখিত: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ফাতরাতের (নবুওয়াত বিরতির) যুগে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেছেন, তাকেই হেদায়েত দ্বারা বিশেষভাবে ভূষিত করেছেন—তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও করুণা হিসেবে। এবং তিনি তাদেরকে প্রবৃত্তিগতভাবে (স্বভাবগতভাবে) যে ফিতরাতের উপর সৃষ্টি করেছেন, তার সাথে হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন। ফলে এর ঝর্ণাধারা তাদের জিহ্বা থেকে উৎসারিত হয়েছে, এবং তারা আকল (যুক্তি) ও নকল (শরিয়তি প্রমাণ) উভয় দিক থেকেই সঠিক কথা উচ্চারণ করেছেন।
আর তিনি তাদের অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচন করেছেন, এবং তাদেরকে সিরাতে মুস্তাকীমের (সরল পথের) দিকে হেদায়েত করেছেন—জ্ঞান, আমল, হিজরত ও জিহাদের মাধ্যমে; ফলে তারা প্রথম যুগের (সালাফে সালেহীনের) ইসলামের পুনর্জন্ম ঘটিয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য দ্বীনের এমন সব নিদর্শন এবং ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) এমন সব প্রতিভা সহজলভ্য করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদেরকে সমসাময়িকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং মনোনীত করেছেন। ফলে তারা শ্রেষ্ঠ সালাফদের (পূর্বসূরিদের) অনুকরণ করেছেন। আর তিনি তাদের জন্য জ্ঞানের এমন সব বাস্তবতা এবং বাস্তবতার এমন সব জ্ঞান উন্মোচন করেছেন, যা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী ও চিন্তাকারীর নিকট অন্যদের থেকে তাদের স্বাতন্ত্র্য প্রমাণ করে। তারা সরল পথের (মানহাজুস সাওয়ী) উপর চলেছেন, এবং হেদায়েতের পতাকার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়েছেন, যতক্ষণ না তারা প্রথম সারির (সালাফদের) সাথে মিলিত হয়েছেন।
অতএব, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেছেন, তাকেই মূলনীতিসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে (তা'সীলুল উসূল) এবং বাস্তবতাসমূহকে সত্য বলে প্রমাণ করতে (তাহক্বীক্বুল হাক্বাইক্ব) তাওফীক দান করেছেন, এবং তার জন্য বড় ও ছোট সব ধরনের কল্যাণের উপহার একত্রিত করেছেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার প্রশংসা করি, তিনি আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهدانا إليه من بين سائر الخلائق.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة مخلص لله صادق. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، الذي أكمل الله به الدين، وجعل شريعته أكمل الطرائق. صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، نجوم الهداية للسابق واللاحق، وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فإن الله - وله الحمد والمنة - بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، فأكمل به الدين وأتم به النعمة، فدخل الناس في دين الله أفواجا، وأشرقت الأرض بنور النبوة، واهتزت طربا وابتهاجا، حتى تركهم صلى الله عليه وسلم على المحجة البيضاء، ليلها كنهارها. ودرج على هذا المنهج القويم خلفاؤه الراشدون، وصحبه المهديون، والأفاضل بعدهم المرضيون.
ثم إنه خلفت بعدهم خلوف، يقولون ما لا يفعلون، ويفعلون ما لا يؤمرون، وهذا مصداق ما أخبر به صلى الله عليه وسلم. ولكن الله سبحانه من فضله ضمن لهذه الأمة بقاء دينها وحفظه عليها، وهذا إنما يحصل بإقامة من يقيمه الله تبارك وتعالى من أفاضل خليقته، وخواص بريته، وهم حملة الشريعة المطهرة، وأنصار الملة المؤيدة، الذابون عن دينه، المصادمون لأهل البدع والأهواء، المجاهدون من رام انحلال عرى كلمة التقوى، الذين هم في الأمة المحمدية كالأنبياء في الأمم
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة مخلص لله صادق. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، الذي أكمل الله به الدين، وجعل شريعته أكمل الطرائق. صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، نجوم الهداية للسابق واللاحق، وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فإن الله - وله الحمد والمنة - بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، فأكمل به الدين وأتم به النعمة، فدخل الناس في دين الله أفواجا، وأشرقت الأرض بنور النبوة، واهتزت طربا وابتهاجا، حتى تركهم صلى الله عليه وسلم على المحجة البيضاء، ليلها كنهارها. ودرج على هذا المنهج القويم خلفاؤه الراشدون، وصحبه المهديون، والأفاضل بعدهم المرضيون.
ثم إنه خلفت بعدهم خلوف، يقولون ما لا يفعلون، ويفعلون ما لا يؤمرون، وهذا مصداق ما أخبر به صلى الله عليه وسلم. ولكن الله سبحانه من فضله ضمن لهذه الأمة بقاء دينها وحفظه عليها، وهذا إنما يحصل بإقامة من يقيمه الله تبارك وتعالى من أفاضل خليقته، وخواص بريته، وهم حملة الشريعة المطهرة، وأنصار الملة المؤيدة، الذابون عن دينه، المصادمون لأهل البدع والأهواء، المجاهدون من رام انحلال عرى كلمة التقوى، الذين هم في الأمة المحمدية كالأنبياء في الأمم
এবং তিনি আমাদেরকে অন্যান্য সকল সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁর দিকে পথ দেখিয়েছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আল্লাহর জন্য নিবেদিত একনিষ্ঠ ও সত্যবাদী সাক্ষ্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যার মাধ্যমে আল্লাহ দীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং তাঁর শরীয়তকে সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর – যারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হিদায়াতের নক্ষত্র – সালাত ও প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ – সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই – মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দীন সহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করতে পারেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে দীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। ফলে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করেছে, এবং পৃথিবী নবুওয়াতের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে, আনন্দে ও উল্লাসে কম্পিত হয়েছে। এমনকি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এমন এক শুভ্র, আলোকিত পথের উপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতো (স্পষ্ট)।
আর এই সুদৃঢ় পদ্ধতির উপরই চলেছেন তাঁর সুপথপ্রাপ্ত খলীফাগণ, তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী সন্তুষ্টচিত্ত শ্রেষ্ঠজনেরা।
অতঃপর তাদের পরে এমন সব প্রজন্ম এসেছে, যারা যা বলে তা করে না, আর যা করার আদেশ দেওয়া হয়নি তাই করে। আর এটিই হলো সেই বিষয়ের সত্যতা, যা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অনুগ্রহে এই উম্মতের জন্য তাদের দীনের স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছেন। আর এটি কেবল তাদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, যাদেরকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজন ও তাঁর সৃষ্টির বিশেষ ব্যক্তিবর্গ থেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আর তারাই হলেন পবিত্র শরীয়তের ধারক, সুপ্রতিষ্ঠিত মিল্লাতের সাহায্যকারী, তাঁর দীনের রক্ষক, বিদআত ও প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষকারী, এবং যারা তাকওয়ার বন্ধন শিথিল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে জিহাদকারী; যারা মুহাম্মাদীয় উম্মতের মধ্যে অন্যান্য উম্মতের নবীদের সমতুল্য।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আল্লাহর জন্য নিবেদিত একনিষ্ঠ ও সত্যবাদী সাক্ষ্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যার মাধ্যমে আল্লাহ দীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং তাঁর শরীয়তকে সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর – যারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হিদায়াতের নক্ষত্র – সালাত ও প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ – সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই – মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দীন সহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করতে পারেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে দীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। ফলে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করেছে, এবং পৃথিবী নবুওয়াতের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে, আনন্দে ও উল্লাসে কম্পিত হয়েছে। এমনকি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এমন এক শুভ্র, আলোকিত পথের উপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতো (স্পষ্ট)।
আর এই সুদৃঢ় পদ্ধতির উপরই চলেছেন তাঁর সুপথপ্রাপ্ত খলীফাগণ, তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী সন্তুষ্টচিত্ত শ্রেষ্ঠজনেরা।
অতঃপর তাদের পরে এমন সব প্রজন্ম এসেছে, যারা যা বলে তা করে না, আর যা করার আদেশ দেওয়া হয়নি তাই করে। আর এটিই হলো সেই বিষয়ের সত্যতা, যা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অনুগ্রহে এই উম্মতের জন্য তাদের দীনের স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছেন। আর এটি কেবল তাদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, যাদেরকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজন ও তাঁর সৃষ্টির বিশেষ ব্যক্তিবর্গ থেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আর তারাই হলেন পবিত্র শরীয়তের ধারক, সুপ্রতিষ্ঠিত মিল্লাতের সাহায্যকারী, তাঁর দীনের রক্ষক, বিদআত ও প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষকারী, এবং যারা তাকওয়ার বন্ধন শিথিল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে জিহাদকারী; যারা মুহাম্মাদীয় উম্মতের মধ্যে অন্যান্য উম্মতের নবীদের সমতুল্য।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الخالية؛ فأظهر في كل طبقة من فقهائها أئمة يقتدى بها، وينتهى إلى رأيها، مهد بهم قواعد الإسلام، وأوضح بهم مشكلات الأحكام، تحيا القلوب بأخبارهم، وتحصل السعادة باقتفاء آثارهم; فحفظ الله لهم دينهم حفظا لم يحفظ به دينا سواه.
وذلك أن نبي هذه الأمة، هو خاتم النبيين، لا نبي بعده، يجدد ما دثر من دينها، كما كان دين من قبلنا من الأنبياء، كلما دثر دين نبي جدده نبي آخر يأتي بعده، فتكفل الله بحفظ هذا الدين، وأقام له في كل عصر حملة ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتمويه الزائغين، ميزوا ما دخل فيه من الكذب والوهم والغلط، وضبطوا ذلك غاية الضبط، وحفظوه أشد الحفظ.
ولما كان النبي صلى الله عليه وسلم بعث بجوامع الكلم، حتى إنه ليتكلم بالكلمة الجامعة العامة، التي هي قضية كلية، وقاعدة عامة، تتناول أنواعا كثيرة، وتلك الأنواع تتناول أعيانا لا تحصى، والنصوص بهذا الوجه محيطة بأحكام أفعال العباد، اقتضت حكمة الله تعالى أن نصب للناس أئمة هدى من أهل الدين والإيمان، والتحقيق والعرفان، يخلفون النبي صلى الله عليه وسلم يبلغون أمته ما قاله، ويفهمونهم مراده، بحسب اجتهادهم واستطاعتهم; وأعلمهم وأفضلهم: أشدهم تمسكا بما جاء عنه صلى الله عليه وسلم وأفهمهم لمراده، فصار الناس كلهم يعولون في الفتاوى عليهم،
وذلك أن نبي هذه الأمة، هو خاتم النبيين، لا نبي بعده، يجدد ما دثر من دينها، كما كان دين من قبلنا من الأنبياء، كلما دثر دين نبي جدده نبي آخر يأتي بعده، فتكفل الله بحفظ هذا الدين، وأقام له في كل عصر حملة ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتمويه الزائغين، ميزوا ما دخل فيه من الكذب والوهم والغلط، وضبطوا ذلك غاية الضبط، وحفظوه أشد الحفظ.
ولما كان النبي صلى الله عليه وسلم بعث بجوامع الكلم، حتى إنه ليتكلم بالكلمة الجامعة العامة، التي هي قضية كلية، وقاعدة عامة، تتناول أنواعا كثيرة، وتلك الأنواع تتناول أعيانا لا تحصى، والنصوص بهذا الوجه محيطة بأحكام أفعال العباد، اقتضت حكمة الله تعالى أن نصب للناس أئمة هدى من أهل الدين والإيمان، والتحقيق والعرفان، يخلفون النبي صلى الله عليه وسلم يبلغون أمته ما قاله، ويفهمونهم مراده، بحسب اجتهادهم واستطاعتهم; وأعلمهم وأفضلهم: أشدهم تمسكا بما جاء عنه صلى الله عليه وسلم وأفهمهم لمراده، فصار الناس كلهم يعولون في الفتاوى عليهم،
শূন্য হয়ে যাওয়ার পর; আল্লাহ তাআলা তাঁদের (উম্মাহর) প্রতিটি স্তরে এমন ফুকাহাদের (আইনজ্ঞদের) মধ্যে ইমামগণকে প্রকাশ করেছেন, যাদের অনুসরণ করা হয় এবং যাদের মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। তিনি তাঁদের মাধ্যমে ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছেন এবং আহকামের (আইন-কানুনের) জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন। তাঁদের সংবাদে অন্তরসমূহ সজীব হয় এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে সৌভাগ্য অর্জিত হয়। সুতরাং আল্লাহ তাঁদের দীনকে এমনভাবে সংরক্ষণ করেছেন, যেভাবে অন্য কোনো দীনকে সংরক্ষণ করেননি।
আর এর কারণ হলো, এই উম্মাহর নবী হলেন খাতামুন নাবিয়্যীন (নবীগণের সমাপ্তকারী), তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, যিনি দীনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিষয়গুলোকে নতুন করে জীবন দেবেন—যেমনটি ছিল আমাদের পূর্ববর্তী নবীগণের দীনের ক্ষেত্রে; যখনই কোনো নবীর দীন বিলুপ্ত হতো, তাঁর পরে আগত অন্য নবী তা পুনরুজ্জীবিত করতেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই দীন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর জন্য প্রতিটি যুগে এমন ধারক-বাহক (হামালাহ) দাঁড় করিয়েছেন, যারা বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি (তাহরীফ), বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ (ইনতিহাল) এবং পথভ্রষ্টদের ধোঁকাবাজি (তামওয়ীহ) দূর করেন।
তাঁরা দীনের মধ্যে প্রবেশ করা মিথ্যা, ভুল ধারণা (ওয়াহম) এবং ত্রুটিসমূহকে পৃথক করেছেন, এবং সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে নিয়ন্ত্রণ (যাবত) করেছেন, আর কঠোরতমভাবে সংরক্ষণ করেছেন।
আর যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে 'জাওয়ামি'উল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) সহকারে প্রেরণ করা হয়েছিল, এমনকি তিনি এমন ব্যাপক ও সাধারণ কথা বলতেন, যা একটি সামগ্রিক নীতি (ক্বাদিয়্যাহ কুল্লিয়্যাহ) এবং একটি সাধারণ ভিত্তি (ক্বায়েদাহ আম্মাহ) স্বরূপ; যা বহু প্রকার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, আর সেই প্রকারগুলো অগণিত বস্তুগত বিষয়কে (আ'ইয়ান) অন্তর্ভুক্ত করে, আর এই দিক থেকে নসসমূহ (কুরআন-সুন্নাহর বাণী) বান্দাদের কর্মের আহকামসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাই আল্লাহ তাআলার হিকমত (প্রজ্ঞা) দাবি করেছে যে, তিনি মানুষের জন্য দীন ও ঈমানের অধিকারী, তাহক্বীক্ব (গভীর গবেষণা) ও ইরফান (আধ্যাত্মিক জ্ঞান)-এর অধিকারী এমন হিদায়াতের ইমামগণকে নিযুক্ত করেছেন, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্থলাভিষিক্ত হন, তাঁর উম্মতের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছান এবং তাঁদের ইজতিহাদ ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দেন; আর তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ হলেন তাঁরা, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত বিষয়ের প্রতি কঠোরভাবে অধিকতর দৃঢ় এবং তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে অধিকতর সক্ষম। ফলে ফাতাওয়ার (ধর্মীয় বিধান) ক্ষেত্রে সকল মানুষ তাঁদের উপরই নির্ভর করে।
আর এর কারণ হলো, এই উম্মাহর নবী হলেন খাতামুন নাবিয়্যীন (নবীগণের সমাপ্তকারী), তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, যিনি দীনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিষয়গুলোকে নতুন করে জীবন দেবেন—যেমনটি ছিল আমাদের পূর্ববর্তী নবীগণের দীনের ক্ষেত্রে; যখনই কোনো নবীর দীন বিলুপ্ত হতো, তাঁর পরে আগত অন্য নবী তা পুনরুজ্জীবিত করতেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই দীন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর জন্য প্রতিটি যুগে এমন ধারক-বাহক (হামালাহ) দাঁড় করিয়েছেন, যারা বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি (তাহরীফ), বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ (ইনতিহাল) এবং পথভ্রষ্টদের ধোঁকাবাজি (তামওয়ীহ) দূর করেন।
তাঁরা দীনের মধ্যে প্রবেশ করা মিথ্যা, ভুল ধারণা (ওয়াহম) এবং ত্রুটিসমূহকে পৃথক করেছেন, এবং সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে নিয়ন্ত্রণ (যাবত) করেছেন, আর কঠোরতমভাবে সংরক্ষণ করেছেন।
আর যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে 'জাওয়ামি'উল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) সহকারে প্রেরণ করা হয়েছিল, এমনকি তিনি এমন ব্যাপক ও সাধারণ কথা বলতেন, যা একটি সামগ্রিক নীতি (ক্বাদিয়্যাহ কুল্লিয়্যাহ) এবং একটি সাধারণ ভিত্তি (ক্বায়েদাহ আম্মাহ) স্বরূপ; যা বহু প্রকার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, আর সেই প্রকারগুলো অগণিত বস্তুগত বিষয়কে (আ'ইয়ান) অন্তর্ভুক্ত করে, আর এই দিক থেকে নসসমূহ (কুরআন-সুন্নাহর বাণী) বান্দাদের কর্মের আহকামসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাই আল্লাহ তাআলার হিকমত (প্রজ্ঞা) দাবি করেছে যে, তিনি মানুষের জন্য দীন ও ঈমানের অধিকারী, তাহক্বীক্ব (গভীর গবেষণা) ও ইরফান (আধ্যাত্মিক জ্ঞান)-এর অধিকারী এমন হিদায়াতের ইমামগণকে নিযুক্ত করেছেন, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্থলাভিষিক্ত হন, তাঁর উম্মতের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছান এবং তাঁদের ইজতিহাদ ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দেন; আর তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ হলেন তাঁরা, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত বিষয়ের প্রতি কঠোরভাবে অধিকতর দৃঢ় এবং তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে অধিকতর সক্ষম। ফলে ফাতাওয়ার (ধর্মীয় বিধান) ক্ষেত্রে সকল মানুষ তাঁদের উপরই নির্ভর করে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
يقصد من الفائدة ويريد، لا سيما المسائل الفرعية، التي هي من كتاب الطهارة، إلى كتاب الإقرار، حيث رتبها على حسب ترتيب فقهائنا الحنابلة، رحمهم الله تعالى; فإنه جاء في ذلك بالمقصود، فصارت متيسرة التناول، قريبة الوجود، مع عدم الإخلال بشيء من المراد، ولا تقصير فيما ينبغي أن يطلب منه ويراد. فجزاه الله خيرا، ونظمه في سلك الدعاة إلى دينه، الذابين عما بعث به رسوله، وجزى بالخير من سعى في نشره، وتعميم المنفعة به.
أملاه الفقير إلى عفو ربه: محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ،
وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم. 20 ذي القعدة سنة 1351هـ.
أملاه الفقير إلى عفو ربه: محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ،
وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم. 20 ذي القعدة سنة 1351هـ.
উপকারিতা যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং যা চাওয়া হয়েছে, তা এতে বিদ্যমান, বিশেষত ফুরুঈ মাসআলাগুলো, যা ‘কিতাবুত-তাহারাহ’ (পবিত্রতা অধ্যায়) থেকে শুরু করে ‘কিতাবুল-ইকরার’ (স্বীকৃতি অধ্যায়) পর্যন্ত বিস্তৃত। যেহেতু তিনি এগুলোকে আমাদের হাম্বলী ফুকাহাদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন; ফলে তিনি উদ্দেশ্য সাধন করেছেন, এবং এটি সহজলভ্য ও সহজে গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে, উদ্দেশ্যকৃত কোনো বিষয়ে ত্রুটি না করে, এবং যা এর থেকে চাওয়া বা উদ্দেশ্য করা উচিত, তাতে কোনো ঘাটতি না রেখে।
আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, এবং তাঁকে তাঁর দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী, এবং তাঁর রাসূল যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তার রক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যারা এর প্রচারে এবং এর দ্বারা উপকারিতা ব্যাপক করতে সচেষ্ট হয়েছেন, আল্লাহ তাঁদেরও উত্তম প্রতিদান দিন।
(এই বক্তব্য) লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দা:
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু আব্দিল লতীফ আলে আশ-শাইখ।
আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর।
২০ যুল-কা'দাহ, ১৩৫১ হিজরী।
আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, এবং তাঁকে তাঁর দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী, এবং তাঁর রাসূল যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তার রক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যারা এর প্রচারে এবং এর দ্বারা উপকারিতা ব্যাপক করতে সচেষ্ট হয়েছেন, আল্লাহ তাঁদেরও উত্তম প্রতিদান দিন।
(এই বক্তব্য) লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দা:
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু আব্দিল লতীফ আলে আশ-শাইখ।
আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর।
২০ যুল-কা'দাহ, ১৩৫১ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
3- تقريظ الشيخ: عبد الله بن عبد العزيز العنقري، قاضي المجمعة
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي غرس لهذا الدين من كل خلف عدوله، ووفق من شاء لتأصيل قواعده وتحرير أصوله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة أرجو بها الخلاص من كرب يوم القيامة، وشدائده المهولة; وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه، الذين شمروا في نصرة دين ربهم واتباع رسوله.
أما بعد: فإني قد أشرفت على ما جمعه الابن الفاضل: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم من رسائل وجوابات أئمتنا، أئمة هذه الدعوة الإسلامية، الذين تأخر عصرهم، وتقدم فخرهم، حتى ألحقوا بالسلف الصالح، وامتازوا على غيرهم بإقامة القسطاس الراجح، فإذا هو مشتمل على عقائد سلفية، وردود على أهل مذاهب غوية، وفتاوى مقرونة بأدلتها الشرعية.
وقد أجاد وفقه الله في ترتيبها، وجمع متشتتها وتبويبها، لا سيما المسائل الفقهية، والفتاوى الفروعية; فإنه رتبها على
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي غرس لهذا الدين من كل خلف عدوله، ووفق من شاء لتأصيل قواعده وتحرير أصوله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة أرجو بها الخلاص من كرب يوم القيامة، وشدائده المهولة; وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه، الذين شمروا في نصرة دين ربهم واتباع رسوله.
أما بعد: فإني قد أشرفت على ما جمعه الابن الفاضل: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم من رسائل وجوابات أئمتنا، أئمة هذه الدعوة الإسلامية، الذين تأخر عصرهم، وتقدم فخرهم، حتى ألحقوا بالسلف الصالح، وامتازوا على غيرهم بإقامة القسطاس الراجح، فإذا هو مشتمل على عقائد سلفية، وردود على أهل مذاهب غوية، وفتاوى مقرونة بأدلتها الشرعية.
وقد أجاد وفقه الله في ترتيبها، وجمع متشتتها وتبويبها، لا سيما المسائل الفقهية، والفتاوى الفروعية; فإنه رتبها على
৩- শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আযীয আল-আনকারী, আল-মাজমা'আর কাজী (বিচারক)-এর প্রশংসাপত্র।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই দীনের জন্য প্রতিটি প্রজন্মের মধ্য থেকে ন্যায়নিষ্ঠদের মনোনীত করেছেন, এবং যাকে চেয়েছেন, তাকে এর মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ও এর উৎসসমূহকে সুস্পষ্ট করতে তাওফীক দিয়েছেন।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন সাক্ষ্য, যার মাধ্যমে আমি কিয়ামতের দিনের মহাবিপদ ও তার ভয়াবহ কঠোরতা থেকে মুক্তি লাভের আশা করি।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন—যারা তাদের রবের দীনের সাহায্যে কোমর বেঁধেছিলেন এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছিলেন।
অতঃপর: আমি সম্মানিত পুত্র আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম কর্তৃক সংকলিত আমাদের ইমামগণের—এই ইসলামী দাওয়াতের ইমামগণের—রিসালাহসমূহ ও জবাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি। যাদের যুগ বিলম্বে এসেছে, কিন্তু তাদের গৌরব অগ্রগামী; এমনকি তারা সালাফ সালিহীনদের (নেক পূর্বসূরিদের) সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং সঠিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।
বস্তুত এটি সালাফী আকীদা-বিশ্বাস, পথভ্রষ্ট মতবাদের অনুসারীদের উপর খণ্ডন এবং তাদের শরয়ী দলীল দ্বারা সমর্থিত ফাতাওয়াসমূহ দ্বারা সমৃদ্ধ।
আল্লাহ তাকে তাওফীক দিন, তিনি এগুলো বিন্যস্তকরণে, এর বিক্ষিপ্ত অংশসমূহকে একত্রিত করে অধ্যায়ভুক্তকরণে চমৎকার কাজ করেছেন। বিশেষত ফিকহী মাসআলাসমূহ এবং ফুরু'ঈ (শাখা-সংক্রান্ত) ফাতাওয়াসমূহের ক্ষেত্রে; কেননা তিনি এগুলো বিন্যস্ত করেছেন...
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই দীনের জন্য প্রতিটি প্রজন্মের মধ্য থেকে ন্যায়নিষ্ঠদের মনোনীত করেছেন, এবং যাকে চেয়েছেন, তাকে এর মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ও এর উৎসসমূহকে সুস্পষ্ট করতে তাওফীক দিয়েছেন।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন সাক্ষ্য, যার মাধ্যমে আমি কিয়ামতের দিনের মহাবিপদ ও তার ভয়াবহ কঠোরতা থেকে মুক্তি লাভের আশা করি।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন—যারা তাদের রবের দীনের সাহায্যে কোমর বেঁধেছিলেন এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছিলেন।
অতঃপর: আমি সম্মানিত পুত্র আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম কর্তৃক সংকলিত আমাদের ইমামগণের—এই ইসলামী দাওয়াতের ইমামগণের—রিসালাহসমূহ ও জবাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি। যাদের যুগ বিলম্বে এসেছে, কিন্তু তাদের গৌরব অগ্রগামী; এমনকি তারা সালাফ সালিহীনদের (নেক পূর্বসূরিদের) সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং সঠিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।
বস্তুত এটি সালাফী আকীদা-বিশ্বাস, পথভ্রষ্ট মতবাদের অনুসারীদের উপর খণ্ডন এবং তাদের শরয়ী দলীল দ্বারা সমর্থিত ফাতাওয়াসমূহ দ্বারা সমৃদ্ধ।
আল্লাহ তাকে তাওফীক দিন, তিনি এগুলো বিন্যস্তকরণে, এর বিক্ষিপ্ত অংশসমূহকে একত্রিত করে অধ্যায়ভুক্তকরণে চমৎকার কাজ করেছেন। বিশেষত ফিকহী মাসআলাসমূহ এবং ফুরু'ঈ (শাখা-সংক্রান্ত) ফাতাওয়াসমূহের ক্ষেত্রে; কেননা তিনি এগুলো বিন্যস্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تبويب متأخري الفقهاء من أصحابنا - رحمهم الله - فأبرز مخبآت خرائدها، واقتنص ما تشتت من شواردها، حتى تيسر للطلاب اجتناء دررها، والتلذذ بالنظر إلى محيا غررها.
فإنها كانت قبل متفرقة في رسائل شتى، لا تكاد تحصل القليل منها، فضلا عن الكثير، فجاءت - ولله الحمد - عديمة النظير. وصلى الله على عبده ورسوله محمد، خاتم المرسلين، وأفضل الأولين والآخرين.
قال ذلك ممليه، الفقير إلى الله عز شأنه: عبد الله بن عبد العزيز العنقري.
وصلى الله على محمد وسلم. 13 ذي الحجة سنة 1351هـ.
فإنها كانت قبل متفرقة في رسائل شتى، لا تكاد تحصل القليل منها، فضلا عن الكثير، فجاءت - ولله الحمد - عديمة النظير. وصلى الله على عبده ورسوله محمد، خاتم المرسلين، وأفضل الأولين والآخرين.
قال ذلك ممليه، الفقير إلى الله عز شأنه: عبد الله بن عبد العزيز العنقري.
وصلى الله على محمد وسلم. 13 ذي الحجة سنة 1351هـ.
আমাদের মাযহাবের পরবর্তী ফকীহগণ (মুতাআখখিরীন) – আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন – কর্তৃক বিন্যস্তকরণের ফলে তিনি এর লুক্কায়িত মণিমুক্তাগুলোকে উন্মোচন করেছেন, এবং এর বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে একত্রিত করে ধরেছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য এর মুক্তা আহরণ করা সহজসাধ্য হয়েছে, এবং এর শ্রেষ্ঠ অংশগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করে তৃপ্তি লাভ করা সম্ভব হয়েছে।
কেননা পূর্বে এগুলো বিভিন্ন পুস্তিকায় বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল, যার সামান্য অংশও সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব ছিল, বেশির কথা তো বলাই বাহুল্য। ফলে এটি – আল্লাহর প্রশংসা – অতুলনীয় রূপে প্রকাশিত হয়েছে।
আর আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর, যিনি খাতামুল মুরসালীন (রাসূলগণের সমাপ্তকারী), এবং প্রথম ও শেষ সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
এই কথাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এর নির্দেশক (মুমল্লী), যিনি মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে ফকীর (অভাবী): আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আযীয আল-আনকারী।
আর আল্লাহ মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন। ১৩ যুল-হিজ্জাহ, ১৩৫১ হিজরী।
কেননা পূর্বে এগুলো বিভিন্ন পুস্তিকায় বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল, যার সামান্য অংশও সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব ছিল, বেশির কথা তো বলাই বাহুল্য। ফলে এটি – আল্লাহর প্রশংসা – অতুলনীয় রূপে প্রকাশিত হয়েছে।
আর আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর, যিনি খাতামুল মুরসালীন (রাসূলগণের সমাপ্তকারী), এবং প্রথম ও শেষ সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
এই কথাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এর নির্দেশক (মুমল্লী), যিনি মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে ফকীর (অভাবী): আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আযীয আল-আনকারী।
আর আল্লাহ মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন। ১৩ যুল-হিজ্জাহ, ১৩৫১ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويرجعون في معرفة الأحكام إليهم، وأقام الله من يضبط مذاهبهم ويحرر قواعدهم.
وقد اختص الله منهم نفرا أعلى قدرهم ومناصبهم، وأبقى ذكرهم ومذاهبهم، فعلى أقوالهم مدار الأحكام، وبمذاهبهم يفتي فقهاء الإسلام.
وكان أبو عبد الله: الإمام أحمد بن محمد بن حنبل رضي الله عنه أوفاهم فضيلة، وأقربهم إلى الله وسيلة، وأوسعهم معرفة بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وأعلمهم به، وأتبعهم له، وأكثرهم تتبعا لمذاهب الصحابة والتابعين، وأزهدهم في الدنيا، وأطوعهم لربه، ومذهبه مؤيد بالأدلة.
قال أبو الفرج: نظرنا في أدلة الشرع، وأصول الفقه، وسبرنا أحوال الأعلام المجتهدين، فرأينا أحمد - رحمه الله - أوفرهم حظا من تلك العلوم، كان إذا سئل عن مسألة كأن علم الدنيا بين يديه.
وقال إبراهيم الحربي: رأيت أحمد كأن الله جمع له علم الأولين والآخرين من كل صنف. وصدق فإنه رحمه الله كان شديد العناية بالقرآن وفهمه وعلومه، وعلمه بالسنة اشتهر وذاع، ووقع عليه الوفاق والإجماع، وهو حامل لواء السنة والحديث، وأعلم الناس في زمانه بحديث النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعين.
واختص عن أقرانه بسعة الحفظ، وكثرته، حتى قيل
وقد اختص الله منهم نفرا أعلى قدرهم ومناصبهم، وأبقى ذكرهم ومذاهبهم، فعلى أقوالهم مدار الأحكام، وبمذاهبهم يفتي فقهاء الإسلام.
وكان أبو عبد الله: الإمام أحمد بن محمد بن حنبل رضي الله عنه أوفاهم فضيلة، وأقربهم إلى الله وسيلة، وأوسعهم معرفة بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وأعلمهم به، وأتبعهم له، وأكثرهم تتبعا لمذاهب الصحابة والتابعين، وأزهدهم في الدنيا، وأطوعهم لربه، ومذهبه مؤيد بالأدلة.
قال أبو الفرج: نظرنا في أدلة الشرع، وأصول الفقه، وسبرنا أحوال الأعلام المجتهدين، فرأينا أحمد - رحمه الله - أوفرهم حظا من تلك العلوم، كان إذا سئل عن مسألة كأن علم الدنيا بين يديه.
وقال إبراهيم الحربي: رأيت أحمد كأن الله جمع له علم الأولين والآخرين من كل صنف. وصدق فإنه رحمه الله كان شديد العناية بالقرآن وفهمه وعلومه، وعلمه بالسنة اشتهر وذاع، ووقع عليه الوفاق والإجماع، وهو حامل لواء السنة والحديث، وأعلم الناس في زمانه بحديث النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعين.
واختص عن أقرانه بسعة الحفظ، وكثرته، حتى قيل
আর তারা মাসআলা-আহকাম জানার জন্য তাঁদের (ঐ ইমামদের) দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন। আল্লাহ এমন ব্যক্তিদের নিযুক্ত করেছেন, যারা তাঁদের মাযহাবসমূহকে সুসংহত করেছেন এবং তাঁদের মূলনীতিসমূহকে সুনির্ধারিত করেছেন।
আল্লাহ তাঁদের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিকে বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন, যাঁদের মর্যাদা ও অবস্থানকে তিনি সমুন্নত করেছেন এবং তাঁদের স্মরণ ও মাযহাবসমূহকে স্থায়ী করেছেন। ফলস্বরূপ, তাঁদের উক্তির ওপরই আহকামের ভিত্তি স্থাপিত, এবং তাঁদের মাযহাব অনুসারেই ইসলামের ফুকাহাগণ ফতোয়া প্রদান করেন।
আর আবু আব্দুল্লাহ: ইমাম আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন তাঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ ফযীলতসম্পন্ন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী মাধ্যম (ওয়াসীলা), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস সম্পর্কে সর্বাধিক বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী, সে বিষয়ে সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ এবং তাঁর (হাদীসের) সর্বাধিক অনুসারী। তিনি সাহাবা ও তাবেঈনদের মাযহাবসমূহের সর্বাধিক অনুসরণকারী ছিলেন, দুনিয়ার প্রতি তাঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নির্মোহ (যাহিদ) এবং তাঁর রবের প্রতি সর্বাধিক অনুগত ছিলেন। আর তাঁর মাযহাব দলীল-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত।
আবুল ফারাজ (ইবনুল জাওযী) বলেন: আমরা শরীয়তের দলীলসমূহ, উসূলে ফিকহ (ফিকহের মূলনীতিসমূহ) এবং মুজতাহিদ আলেমগণের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। অতঃপর আমরা আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ঐ সকল জ্ঞানে সর্বাধিক অংশীদার হিসেবে দেখতে পেলাম। যখন তাঁকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন যেন দুনিয়ার জ্ঞান তাঁর সামনে উপস্থিত থাকত।
আর ইবরাহীম আল-হারবী বলেন: আমি আহমাদকে এমন দেখেছি যে, আল্লাহ যেন তাঁর জন্য সকল প্রকারের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান একত্রিত করে দিয়েছেন।
তিনি সত্যই বলেছেন। কেননা, আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআন, এর মর্মার্থ ও এর জ্ঞানসমূহের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং তা সর্বজনীন স্বীকৃতি ও ঐকমত্য লাভ করেছিল। তিনি ছিলেন সুন্নাহ ও হাদীসের পতাকাবাহক এবং তাঁর যুগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ ও তাবেঈনদের হাদীস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বিজ্ঞ।
তিনি তাঁর সমসাময়িকদের থেকে স্মৃতিশক্তির বিশালতা ও প্রাচুর্যের কারণে স্বতন্ত্র ছিলেন, এমনকি বলা হয়েছে—
আল্লাহ তাঁদের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিকে বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন, যাঁদের মর্যাদা ও অবস্থানকে তিনি সমুন্নত করেছেন এবং তাঁদের স্মরণ ও মাযহাবসমূহকে স্থায়ী করেছেন। ফলস্বরূপ, তাঁদের উক্তির ওপরই আহকামের ভিত্তি স্থাপিত, এবং তাঁদের মাযহাব অনুসারেই ইসলামের ফুকাহাগণ ফতোয়া প্রদান করেন।
আর আবু আব্দুল্লাহ: ইমাম আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন তাঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ ফযীলতসম্পন্ন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী মাধ্যম (ওয়াসীলা), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস সম্পর্কে সর্বাধিক বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী, সে বিষয়ে সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ এবং তাঁর (হাদীসের) সর্বাধিক অনুসারী। তিনি সাহাবা ও তাবেঈনদের মাযহাবসমূহের সর্বাধিক অনুসরণকারী ছিলেন, দুনিয়ার প্রতি তাঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নির্মোহ (যাহিদ) এবং তাঁর রবের প্রতি সর্বাধিক অনুগত ছিলেন। আর তাঁর মাযহাব দলীল-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত।
আবুল ফারাজ (ইবনুল জাওযী) বলেন: আমরা শরীয়তের দলীলসমূহ, উসূলে ফিকহ (ফিকহের মূলনীতিসমূহ) এবং মুজতাহিদ আলেমগণের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। অতঃপর আমরা আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ঐ সকল জ্ঞানে সর্বাধিক অংশীদার হিসেবে দেখতে পেলাম। যখন তাঁকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন যেন দুনিয়ার জ্ঞান তাঁর সামনে উপস্থিত থাকত।
আর ইবরাহীম আল-হারবী বলেন: আমি আহমাদকে এমন দেখেছি যে, আল্লাহ যেন তাঁর জন্য সকল প্রকারের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান একত্রিত করে দিয়েছেন।
তিনি সত্যই বলেছেন। কেননা, আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) কুরআন, এর মর্মার্থ ও এর জ্ঞানসমূহের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং তা সর্বজনীন স্বীকৃতি ও ঐকমত্য লাভ করেছিল। তিনি ছিলেন সুন্নাহ ও হাদীসের পতাকাবাহক এবং তাঁর যুগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ ও তাবেঈনদের হাদীস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বিজ্ঞ।
তিনি তাঁর সমসাময়িকদের থেকে স্মৃতিশক্তির বিশালতা ও প্রাচুর্যের কারণে স্বতন্ত্র ছিলেন, এমনকি বলা হয়েছে—
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إنه يحفظ ثلاثمائة ألف حديث; وبمعرفة صحيحه من سقيمه، وكان إليه المنتهى في علم الجرح والتعديل، وبمعرفة فقه الحديث وفهمه، وحلاله وحرامه ومعانيه. ورؤي من فهمه ما يقضى منه العجب، بل لم تكن مسألة سبق للصحابة والتابعين ومن بعدهم فيها، كلام إلا وقد علمه وأحاط علمه به، وكذا كلام عامة فقهاء الأمصار والبلدان.
ومعلوم أن من فهم هذه العلوم وبرع فيها فأسهل شيء عنده معرفة الحوادث، والجواب عنها، على وفق تلك الأصول. ومن نظر بالتتبع والاستقراء، علم أن علم الإمام أحمد، ومن سلك سبيله من الأئمة، أعلى علوم الأمة وأجلها وأعلاها، وإن فيه كفاية لمن هداه الله.
حفه الله بجهابذة فحول، تلقوه عنه بالقبول، حرروه وهذبوه، وبنوا منه الفروع على الأصول، من أولاده ومعاصريه، ينيفون على خمسمائة فقيه، وطبقات بعده أئمة جهابذة، كانوا للسنة الغراء ناصرين، وعن حمى السمحاء محامين، كما كان عليه سائر إخوانهم الموفقين، من أتباع بقية الأربعة المهديين، مع كثرة خصومهم في تلك الأعصار، وتوافر أضدادهم في سائر الأمصار، واعتكار ليل الشرك والفساد، وتلاطم أمواج بحر البدع والعناد.
إلى أن أقام الله تعالى العالم الرباني، مفتي الأمة، بحر العلوم، شيخ الإسلام: أحمد بن تيمية، المجتهد
ومعلوم أن من فهم هذه العلوم وبرع فيها فأسهل شيء عنده معرفة الحوادث، والجواب عنها، على وفق تلك الأصول. ومن نظر بالتتبع والاستقراء، علم أن علم الإمام أحمد، ومن سلك سبيله من الأئمة، أعلى علوم الأمة وأجلها وأعلاها، وإن فيه كفاية لمن هداه الله.
حفه الله بجهابذة فحول، تلقوه عنه بالقبول، حرروه وهذبوه، وبنوا منه الفروع على الأصول، من أولاده ومعاصريه، ينيفون على خمسمائة فقيه، وطبقات بعده أئمة جهابذة، كانوا للسنة الغراء ناصرين، وعن حمى السمحاء محامين، كما كان عليه سائر إخوانهم الموفقين، من أتباع بقية الأربعة المهديين، مع كثرة خصومهم في تلك الأعصار، وتوافر أضدادهم في سائر الأمصار، واعتكار ليل الشرك والفساد، وتلاطم أمواج بحر البدع والعناد.
إلى أن أقام الله تعالى العالم الرباني، مفتي الأمة، بحر العلوم، شيخ الإسلام: أحمد بن تيمية، المجتهد
তিনি তিন লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখতেন; এবং সহীহ (বিশুদ্ধ) ও সাক্বীম (দুর্বল) হাদীসের পার্থক্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন। জারহ ওয়াত-তা'দীল (হাদীস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও সত্যায়ন) শাস্ত্রে তাঁর কাছেই ছিল চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল। তিনি হাদীসের ফিকহ (আইনগত বোধ) ও এর মর্ম অনুধাবন, এর হালাল, হারাম এবং এর অর্থসমূহ সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতেন। তাঁর বোধগম্যতা থেকে এমন কিছু দেখা যেত যা বিস্ময় উদ্রেককারী ছিল।
বরং সাহাবা, তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তীগণের মধ্যে কোনো মাসআলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অথচ তিনি তা জানেন না এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা তা পরিবেষ্টন করেননি—এমনটি ছিল না। অনুরূপভাবে, বিভিন্ন শহর ও জনপদের সাধারণ ফুকাহাদের (আইনজ্ঞদের) বক্তব্যও তাঁর জানা ছিল।
এটা সুবিদিত যে, যিনি এই জ্ঞানসমূহ অনুধাবন করেছেন এবং এতে পারদর্শী হয়েছেন, তাঁর কাছে সেই মূলনীতিগুলোর (উসূল) সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলী জানা এবং সেগুলোর উত্তর দেওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যিনি অনুসন্ধান ও ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে দৃষ্টিপাত করেছেন, তিনি জানেন যে, ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর জ্ঞান এবং যে সকল ইমাম তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের জ্ঞান উম্মাহর জ্ঞানসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ, মহত্তম ও শ্রেষ্ঠতম। আর আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিয়েছেন, তার জন্য এতেই যথেষ্টতা রয়েছে।
আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলেন, যারা তাঁর কাছ থেকে সানন্দে তা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা তা সুসংগঠিত ও পরিমার্জিত করেছিলেন এবং মূলনীতিসমূহের (উসূল) উপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখা (ফুরু') নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর সন্তান-সন্ততি এবং সমসাময়িকদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক ফকীহ (আইনজ্ঞ) ছিলেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্মও ছিল প্রাজ্ঞ ইমামগণ, যারা উজ্জ্বল সুন্নাহর সাহায্যকারী ছিলেন এবং উদার শরীয়তের সীমানা রক্ষাকারী ছিলেন। যেমনটি ছিলেন অন্যান্য সফলকাম ভ্রাতৃবৃন্দ, যারা অবশিষ্ট চার হেদায়েতপ্রাপ্ত ইমামের অনুসারী ছিলেন।
সেই যুগগুলোতে তাদের শত্রুদের আধিক্য এবং অন্যান্য সকল জনপদে তাদের বিরোধীদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও, যখন শিরক ও ফাসাদের (পাপাচারের) রাত গভীর হয়েছিল এবং বিদ'আত ও গোঁড়ামির সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছিল।
অবশেষে আল্লাহ তা'আলা রব্বানী আলেম, উম্মাহর মুফতি, জ্ঞানের সাগর, শাইখুল ইসলাম: আল-মুজতাহিদ (স্বাধীন গবেষক) আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
বরং সাহাবা, তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তীগণের মধ্যে কোনো মাসআলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অথচ তিনি তা জানেন না এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা তা পরিবেষ্টন করেননি—এমনটি ছিল না। অনুরূপভাবে, বিভিন্ন শহর ও জনপদের সাধারণ ফুকাহাদের (আইনজ্ঞদের) বক্তব্যও তাঁর জানা ছিল।
এটা সুবিদিত যে, যিনি এই জ্ঞানসমূহ অনুধাবন করেছেন এবং এতে পারদর্শী হয়েছেন, তাঁর কাছে সেই মূলনীতিগুলোর (উসূল) সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলী জানা এবং সেগুলোর উত্তর দেওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যিনি অনুসন্ধান ও ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে দৃষ্টিপাত করেছেন, তিনি জানেন যে, ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর জ্ঞান এবং যে সকল ইমাম তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের জ্ঞান উম্মাহর জ্ঞানসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ, মহত্তম ও শ্রেষ্ঠতম। আর আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিয়েছেন, তার জন্য এতেই যথেষ্টতা রয়েছে।
আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী ও প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলেন, যারা তাঁর কাছ থেকে সানন্দে তা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা তা সুসংগঠিত ও পরিমার্জিত করেছিলেন এবং মূলনীতিসমূহের (উসূল) উপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখা (ফুরু') নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর সন্তান-সন্ততি এবং সমসাময়িকদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক ফকীহ (আইনজ্ঞ) ছিলেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্মও ছিল প্রাজ্ঞ ইমামগণ, যারা উজ্জ্বল সুন্নাহর সাহায্যকারী ছিলেন এবং উদার শরীয়তের সীমানা রক্ষাকারী ছিলেন। যেমনটি ছিলেন অন্যান্য সফলকাম ভ্রাতৃবৃন্দ, যারা অবশিষ্ট চার হেদায়েতপ্রাপ্ত ইমামের অনুসারী ছিলেন।
সেই যুগগুলোতে তাদের শত্রুদের আধিক্য এবং অন্যান্য সকল জনপদে তাদের বিরোধীদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও, যখন শিরক ও ফাসাদের (পাপাচারের) রাত গভীর হয়েছিল এবং বিদ'আত ও গোঁড়ামির সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছিল।
অবশেষে আল্লাহ তা'আলা রব্বানী আলেম, উম্মাহর মুফতি, জ্ঞানের সাগর, শাইখুল ইসলাম: আল-মুজতাহিদ (স্বাধীন গবেষক) আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلق، المجمع على فضله، وإمامته، الذي جمع الله العلوم كلها بين عينيه، يأخذ منها ما يريد، ويدع ما يريد. جدد الله به الدين بعد دروسه، وأحيا به هدي سيد المرسلين بعد أفول شموسه، وأدحض به جميع بدع المبتدعين، وانبلج الحق واليقين. وقام بعده تلامذته المحققون، وأتباعهم ممن لا يحصون.
وبعدهم انتقضت عرى الإسلام، وعبدت الكواكب والنجوم، وعظمت القبور، وبنيت عليها المساجد، وعبدت تلك الضرائح والمشاهد، واعتمد عليها في المهمات، دون الصمد الواحد، ولكن في الحديث: ` إن الله تبارك وتعالى يبعث لهذه الأمة، على رأس كل قرن، من يجدد لها أمر الدين ` 1، ويبين المحجة بواضحات البراهين.
فبعث في القرن الثاني عشر، عند من خبر الأمور وسبر، ووقف على ما قرره أهل العلم والأثر، الآية الباهرة، والحجة الظاهرة، شيخ الإسلام والمسلمين، المعدود من أكابر السلف الماضين، المجدد لما درس من أصول الملة والدين، السلفي الأول، وإن تأخر زمنه عند من خبر وتأمل، بحر العلوم، أوحد المجتهدين، الشيخ: محمد بن عبد الوهاب، أجزل الله له الأجر والثواب، وأسكنه الجنة بغير حساب.
فشمر عن ساعد جده واجتهاده; وأعلن بالنصح لله
__________
1 أبو داود: الملاحم (4291) .
وبعدهم انتقضت عرى الإسلام، وعبدت الكواكب والنجوم، وعظمت القبور، وبنيت عليها المساجد، وعبدت تلك الضرائح والمشاهد، واعتمد عليها في المهمات، دون الصمد الواحد، ولكن في الحديث: ` إن الله تبارك وتعالى يبعث لهذه الأمة، على رأس كل قرن، من يجدد لها أمر الدين ` 1، ويبين المحجة بواضحات البراهين.
فبعث في القرن الثاني عشر، عند من خبر الأمور وسبر، ووقف على ما قرره أهل العلم والأثر، الآية الباهرة، والحجة الظاهرة، شيخ الإسلام والمسلمين، المعدود من أكابر السلف الماضين، المجدد لما درس من أصول الملة والدين، السلفي الأول، وإن تأخر زمنه عند من خبر وتأمل، بحر العلوم، أوحد المجتهدين، الشيخ: محمد بن عبد الوهاب، أجزل الله له الأجر والثواب، وأسكنه الجنة بغير حساب.
فشمر عن ساعد جده واجتهاده; وأعلن بالنصح لله
__________
1 أبو داود: الملاحم (4291) .
সেই নিরঙ্কুশ ব্যক্তিত্ব, যাঁর ফযীলত ও ইমামতের উপর সকলে একমত, আল্লাহ তাআলা যাঁর দুই চোখের সামনে সকল জ্ঞানকে একত্রিত করেছিলেন, তিনি তা থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করতেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করতেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে তার বিলুপ্তির পর পুনরুজ্জীবিত করেছেন, এবং রাসূলগণের নেতা (সা.)-এর হেদায়েতকে তার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর জীবিত করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে সকল বিদআতিদের বিদআতকে খণ্ডন করেছেন এবং সত্য ও দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) উদ্ভাসিত হয়েছে। তাঁর পরে তাঁর মুহাক্কিক (গবেষক ও সত্যায়নকারী) ছাত্রগণ এবং অগণিত অনুসারীগণ এই কাজকে প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন।
আর তাঁদের (ঐ প্রজন্মের) পরে ইসলামের বন্ধনসমূহ ছিন্ন হয়ে গেল, নক্ষত্র ও তারকারাজি পূজিত হতে শুরু করল, কবরসমূহকে মহিমান্বিত করা হলো, সেগুলোর উপর মসজিদ নির্মাণ করা হলো, এবং সেই সমাধি ও মাজারসমূহকে পূজা করা হলো। একক ও চিরন্তন আশ্রয়দাতা (আস-সামাদ আল-ওয়াহিদ)-কে বাদ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে সেগুলোর উপর নির্ভর করা হলো। কিন্তু হাদীসে এসেছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি তাদের জন্য দ্বীনের বিষয়কে পুনরুজ্জীবিত করবেন,’ [১] এবং সুস্পষ্ট প্রমাণাদির মাধ্যমে সঠিক পথকে স্পষ্ট করে দেবেন।
সুতরাং দ্বাদশ শতাব্দীতে, যারা বিষয়াদি পরীক্ষা করেছেন ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আহলুল ইলম ওয়াল আসার (জ্ঞান ও ঐতিহ্যপন্থীদের) সিদ্ধান্তসমূহের উপর অবগত হয়েছেন, তাদের মতে আল্লাহ প্রেরণ করলেন সেই উজ্জ্বল নিদর্শন, সেই সুস্পষ্ট প্রমাণ, শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীনকে, যিনি অতীত সালাফদের মধ্যে গণ্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি মিল্লাত ও দ্বীনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মূলনীতিসমূহকে পুনরুজ্জীবিতকারী, যিনি প্রথম সালাফী—যদিও তাঁর সময়কাল পরে এসেছে তাদের কাছে যারা পর্যবেক্ষণ করেছেন ও চিন্তা করেছেন—জ্ঞানসমূহের মহাসাগর, একক মুজতাহিদ, শাইখ: মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করান)।
অতঃপর তিনি তাঁর অধ্যবসায় ও ইজতিহাদের বাহু গুটিয়ে নিলেন (অর্থাৎ কোমর বেঁধে নামলেন); এবং আল্লাহর জন্য নসীহত (আন্তরিক উপদেশ) ঘোষণা করলেন।
__________
[১] আবূ দাঊদ: আল-মালাহিম (৪২৯১)।
আর তাঁদের (ঐ প্রজন্মের) পরে ইসলামের বন্ধনসমূহ ছিন্ন হয়ে গেল, নক্ষত্র ও তারকারাজি পূজিত হতে শুরু করল, কবরসমূহকে মহিমান্বিত করা হলো, সেগুলোর উপর মসজিদ নির্মাণ করা হলো, এবং সেই সমাধি ও মাজারসমূহকে পূজা করা হলো। একক ও চিরন্তন আশ্রয়দাতা (আস-সামাদ আল-ওয়াহিদ)-কে বাদ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে সেগুলোর উপর নির্ভর করা হলো। কিন্তু হাদীসে এসেছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি তাদের জন্য দ্বীনের বিষয়কে পুনরুজ্জীবিত করবেন,’ [১] এবং সুস্পষ্ট প্রমাণাদির মাধ্যমে সঠিক পথকে স্পষ্ট করে দেবেন।
সুতরাং দ্বাদশ শতাব্দীতে, যারা বিষয়াদি পরীক্ষা করেছেন ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আহলুল ইলম ওয়াল আসার (জ্ঞান ও ঐতিহ্যপন্থীদের) সিদ্ধান্তসমূহের উপর অবগত হয়েছেন, তাদের মতে আল্লাহ প্রেরণ করলেন সেই উজ্জ্বল নিদর্শন, সেই সুস্পষ্ট প্রমাণ, শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীনকে, যিনি অতীত সালাফদের মধ্যে গণ্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি মিল্লাত ও দ্বীনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মূলনীতিসমূহকে পুনরুজ্জীবিতকারী, যিনি প্রথম সালাফী—যদিও তাঁর সময়কাল পরে এসেছে তাদের কাছে যারা পর্যবেক্ষণ করেছেন ও চিন্তা করেছেন—জ্ঞানসমূহের মহাসাগর, একক মুজতাহিদ, শাইখ: মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করান)।
অতঃপর তিনি তাঁর অধ্যবসায় ও ইজতিহাদের বাহু গুটিয়ে নিলেন (অর্থাৎ কোমর বেঁধে নামলেন); এবং আল্লাহর জন্য নসীহত (আন্তরিক উপদেশ) ঘোষণা করলেন।
__________
[১] আবূ দাঊদ: আল-মালাহিম (৪২৯১)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولكتابه ورسوله، وسائر عباده، دعا إلى ما دعت إليه الرسل، من توحيد الله وعبادته، ونهاهم عن الشرك، ووسائله وذرائعه; فالحمد لله الذي جعل في كل زمان من يقول الحق، ويرشد إلى الهدى والصدق، وتندفع بعلمه حجج المبطلين، وتلبيس الجاهلين المفتونين.
والحمد لله الذي صدق وعده، وأورثه الرضى وحده، وأنجز وعده، واستجاب دعاءه، فصارت ذريته، وذرياتهم، وتلامذتهم نجوم هداية، وبحور دراية، ثبتوا على سبيل الكتاب والسنة، وناضلوا عنه أشد النضال، ولم يعدوا ما كان عليه الصحابة والسابقون، والأئمة الموثوق بهم، كأبي حنيفة والسفيانينى،; ومالك والشافعي وأحمد وأمثالهم. ولم يثنهم عن عزمهم طلاقة لسان مخادع، ولا سفسطة متأول، ولا بهرجة ملحد، ولا زخرفة متفلسف، وكلما انقضت طبقة منهم، أنشأ الله طبقة بعدها على سبيل من قبلها، فهم الأبدال والأخيار والأنجاب.
وقد أخبر الصادق الأمين: ` لا يزال الله يغرس في هذا الدين غرسا يستعملهم في طاعته ` 1 وقال: ` لا تزال طائفة من أمتي على أمر الله، لا يضرها من خالفها ` 2. وقد أقام الله بهم السنة والفرض; فصاروا حجة على جميع أهل الأرض، وأشرقت بهم نجد على جزيرة العرب، ولله در القائل حيث قال:
__________
1 ابن ماجه: المقدمة (8) , وأحمد (4/200) .
2 البخاري: المناقب (3641) والتوحيد (7460) , ومسلم: الإمارة (1037) , وأحمد (4/99) .
والحمد لله الذي صدق وعده، وأورثه الرضى وحده، وأنجز وعده، واستجاب دعاءه، فصارت ذريته، وذرياتهم، وتلامذتهم نجوم هداية، وبحور دراية، ثبتوا على سبيل الكتاب والسنة، وناضلوا عنه أشد النضال، ولم يعدوا ما كان عليه الصحابة والسابقون، والأئمة الموثوق بهم، كأبي حنيفة والسفيانينى،; ومالك والشافعي وأحمد وأمثالهم. ولم يثنهم عن عزمهم طلاقة لسان مخادع، ولا سفسطة متأول، ولا بهرجة ملحد، ولا زخرفة متفلسف، وكلما انقضت طبقة منهم، أنشأ الله طبقة بعدها على سبيل من قبلها، فهم الأبدال والأخيار والأنجاب.
وقد أخبر الصادق الأمين: ` لا يزال الله يغرس في هذا الدين غرسا يستعملهم في طاعته ` 1 وقال: ` لا تزال طائفة من أمتي على أمر الله، لا يضرها من خالفها ` 2. وقد أقام الله بهم السنة والفرض; فصاروا حجة على جميع أهل الأرض، وأشرقت بهم نجد على جزيرة العرب، ولله در القائل حيث قال:
__________
1 ابن ماجه: المقدمة (8) , وأحمد (4/200) .
2 البخاري: المناقب (3641) والتوحيد (7460) , ومسلم: الإمارة (1037) , وأحمد (4/99) .
এবং তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল ও তাঁর অন্যান্য বান্দাদের জন্য, তিনি সেই দিকেই আহ্বান জানিয়েছেন যেদিকে সকল রাসূলগণ আহ্বান জানিয়েছিলেন—অর্থাৎ আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর ইবাদতের দিকে। আর তিনি তাদেরকে শিরক এবং শিরকের সকল উপায় ও মাধ্যমসমূহ থেকে নিষেধ করেছেন। অতএব, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি প্রত্যেক যুগে এমন ব্যক্তিকে সৃষ্টি করেন যিনি সত্য কথা বলেন, হিদায়াত ও সত্যের দিকে পথ দেখান, এবং যার ইলমের দ্বারা বাতিলপন্থীদের যুক্তি ও পথভ্রষ্ট মূর্খদের প্রতারণা দূরীভূত হয়।
আর সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁকে এককভাবে সন্তুষ্টির উত্তরাধিকারী করেছেন, তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর দু'আ কবুল করেছেন। ফলে তাঁর বংশধরগণ, তাঁদের বংশধরগণ এবং তাঁদের ছাত্ররা হিদায়াতের নক্ষত্র ও জ্ঞানের সাগরে পরিণত হয়েছেন।
তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর পথে সুদৃঢ় ছিলেন এবং এর জন্য কঠিনতম সংগ্রাম করেছেন। তাঁরা সাহাবায়ে কিরাম, সালাফে সালেহীন এবং নির্ভরযোগ্য ইমামগণ—যেমন আবূ হানীফা, দুই সুফিয়ান (সুফিয়ান সাওরী ও সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ), মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও তাঁদের মতো অন্যান্যদের নীতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি। কোনো প্রতারক বাগ্মীর বাকপটুতা, কোনো রূপক ব্যাখ্যাকারীর (মুতাআউয়্যিল) কূটতর্ক, কোনো নাস্তিকের (মুলহিদ) চাকচিক্য কিংবা কোনো দার্শনিকের (মুতাফালসিফ) অলংকারপূর্ণ বক্তব্য তাঁদের সংকল্প থেকে তাঁদেরকে বিচ্যুত করতে পারেনি। যখনই তাঁদের মধ্য থেকে কোনো স্তর বিলুপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তার পরবর্তী স্তরকে পূর্ববর্তীদের পথেই সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তাঁরাই হলেন আবদাল (স্থলাভিষিক্ত), আখইয়ার (মনোনীত) এবং আনজাব (শ্রেষ্ঠ বংশীয়)।
আর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত (নবী) এই মর্মে সংবাদ দিয়েছেন: ‘আল্লাহ এই দীনের মধ্যে সর্বদা এমন চারা রোপণ করতে থাকবেন, যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যে ব্যবহার করবেন।’ (১) এবং তিনি বলেছেন: ‘আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল আল্লাহর নির্দেশের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (২)
আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমেই সুন্নাহ ও ফরযসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে তাঁরা পৃথিবীর সকল মানুষের উপর প্রমাণ (হুজ্জাত) স্বরূপ হয়েছেন। আর তাঁদের মাধ্যমেই নজদ আরব উপদ্বীপের উপর আলোকিত হয়েছে। যিনি বলেছেন, তাঁর উক্তি কতই না চমৎকার:
__________
(১) ইবনু মাজাহ: আল-মুকাদ্দিমাহ (৮), এবং আহমাদ (৪/২০০)।
(২) বুখারী: আল-মানাকিব (৩৬৪১) ও আত-তাওহীদ (৭৪৬০), মুসলিম: আল-ইমারাহ (১০৩৭), এবং আহমাদ (৪/৯৯)।
আর সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁকে এককভাবে সন্তুষ্টির উত্তরাধিকারী করেছেন, তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর দু'আ কবুল করেছেন। ফলে তাঁর বংশধরগণ, তাঁদের বংশধরগণ এবং তাঁদের ছাত্ররা হিদায়াতের নক্ষত্র ও জ্ঞানের সাগরে পরিণত হয়েছেন।
তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর পথে সুদৃঢ় ছিলেন এবং এর জন্য কঠিনতম সংগ্রাম করেছেন। তাঁরা সাহাবায়ে কিরাম, সালাফে সালেহীন এবং নির্ভরযোগ্য ইমামগণ—যেমন আবূ হানীফা, দুই সুফিয়ান (সুফিয়ান সাওরী ও সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ), মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও তাঁদের মতো অন্যান্যদের নীতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি। কোনো প্রতারক বাগ্মীর বাকপটুতা, কোনো রূপক ব্যাখ্যাকারীর (মুতাআউয়্যিল) কূটতর্ক, কোনো নাস্তিকের (মুলহিদ) চাকচিক্য কিংবা কোনো দার্শনিকের (মুতাফালসিফ) অলংকারপূর্ণ বক্তব্য তাঁদের সংকল্প থেকে তাঁদেরকে বিচ্যুত করতে পারেনি। যখনই তাঁদের মধ্য থেকে কোনো স্তর বিলুপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তার পরবর্তী স্তরকে পূর্ববর্তীদের পথেই সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তাঁরাই হলেন আবদাল (স্থলাভিষিক্ত), আখইয়ার (মনোনীত) এবং আনজাব (শ্রেষ্ঠ বংশীয়)।
আর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত (নবী) এই মর্মে সংবাদ দিয়েছেন: ‘আল্লাহ এই দীনের মধ্যে সর্বদা এমন চারা রোপণ করতে থাকবেন, যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যে ব্যবহার করবেন।’ (১) এবং তিনি বলেছেন: ‘আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল আল্লাহর নির্দেশের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (২)
আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমেই সুন্নাহ ও ফরযসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে তাঁরা পৃথিবীর সকল মানুষের উপর প্রমাণ (হুজ্জাত) স্বরূপ হয়েছেন। আর তাঁদের মাধ্যমেই নজদ আরব উপদ্বীপের উপর আলোকিত হয়েছে। যিনি বলেছেন, তাঁর উক্তি কতই না চমৎকার:
__________
(১) ইবনু মাজাহ: আল-মুকাদ্দিমাহ (৮), এবং আহমাদ (৪/২০০)।
(২) বুখারী: আল-মানাকিব (৩৬৪১) ও আত-তাওহীদ (৭৪৬০), মুসলিম: আল-ইমারাহ (১০৩৭), এবং আহমাদ (৪/৯৯)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ففيها الهداة العارفون بربهم ... ذوو العلم والتحقيق أهل البصائر
محابرهم تعلو بها كل سنة ... مطهرة أنعم بها من محابر
مناقبهم في كل مصر شهيرة ... رسائلهم يغدو بها كل ماهر
وفيها من الطلاب للعلم عصبة ... إذا قيل من للمشكلات البوادر
ولا يعرف شعب دخل في جميع الأطوار، التي دخل فيها الإسلام في نشأته الأولى، غربة وجهادا وهجرة وقوة، غير هذا الشعب. فلقد ظهر هذا الشيخ المجدد المجتهد، في وقت كان أهله شرا من حال المشركين، وأهل الكتاب في زمن البعثة، من شرك وخرافات، وبدع وضلالات، وجهالة غالبة؛ فدعا إلى عبادة الله وحده، والرجوع إلى أصل الإسلام، فأعاد نشأة الإسلام كما كانت. وسارت ذريته وتلامذتهم سير السلف الصالح، وجرى عليهم ما جرى على تلك السادة.
وقد شهد لهم أهل العلم والفضل والتحقيق، من أهل القرى والأمصار، أنهم جددوا التوحيد، ودعوا إليه حتى استنار، حتى شهد لهم أعداؤهم بذلك، كما ستقف عليه:
مناقب شهد العدو بفضلها ... والفضل ما شهدت به الأعداء
ومن سبر حقيقة القوم، وعرف مآخذهم، انقاد لهم، وجعلهم أئمة هداة; ولقد صدق القائل:
أئمة حق والنصوص طريقهم ...
وأحمد خريت الطريق وهاديا
محابرهم تعلو بها كل سنة ... مطهرة أنعم بها من محابر
مناقبهم في كل مصر شهيرة ... رسائلهم يغدو بها كل ماهر
وفيها من الطلاب للعلم عصبة ... إذا قيل من للمشكلات البوادر
ولا يعرف شعب دخل في جميع الأطوار، التي دخل فيها الإسلام في نشأته الأولى، غربة وجهادا وهجرة وقوة، غير هذا الشعب. فلقد ظهر هذا الشيخ المجدد المجتهد، في وقت كان أهله شرا من حال المشركين، وأهل الكتاب في زمن البعثة، من شرك وخرافات، وبدع وضلالات، وجهالة غالبة؛ فدعا إلى عبادة الله وحده، والرجوع إلى أصل الإسلام، فأعاد نشأة الإسلام كما كانت. وسارت ذريته وتلامذتهم سير السلف الصالح، وجرى عليهم ما جرى على تلك السادة.
وقد شهد لهم أهل العلم والفضل والتحقيق، من أهل القرى والأمصار، أنهم جددوا التوحيد، ودعوا إليه حتى استنار، حتى شهد لهم أعداؤهم بذلك، كما ستقف عليه:
مناقب شهد العدو بفضلها ... والفضل ما شهدت به الأعداء
ومن سبر حقيقة القوم، وعرف مآخذهم، انقاد لهم، وجعلهم أئمة هداة; ولقد صدق القائل:
أئمة حق والنصوص طريقهم ...
وأحمد خريت الطريق وهاديا
সেখানে রয়েছেন স্বীয় প্রতিপালক সম্পর্কে সম্যক অবগত পথপ্রদর্শকগণ (আল-হুদা আল-আরিফুন), যারা জ্ঞান ও তাহকীক (যাচাই-বাছাই) এর অধিকারী এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন (আহলুল বাসাইর)।
তাঁদের দোয়াতসমূহ (লেখার সরঞ্জাম) দ্বারা প্রতিটি সুন্নাহ সমুন্নত হয়; কী চমৎকার পবিত্র সেই দোয়াতসমূহ!
তাঁদের মানাকিব (গুণাবলী) প্রতিটি জনপদে সুপরিচিত; তাঁদের রিসালাহসমূহ (ছোট গ্রন্থাবলী) প্রতিটি দক্ষ ব্যক্তি বহন করে নিয়ে যায়।
আর সেখানে রয়েছে জ্ঞান অন্বেষণকারী একদল (আসাবাহ), যখন বলা হয়, আকস্মিক সমস্যাবলীর (আল-মুশকিলত আল-বাওয়াদির) সমাধানদাতা কে? (তখন তারাই এগিয়ে আসে)।
এমন কোনো জনপদ পরিচিত নয়, যা ইসলামের প্রাথমিক উত্থানের সময়কার সকল স্তর—যেমন: বিচ্ছিন্নতা (গুরবাহ), জিহাদ, হিজরত এবং শক্তি—এগুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে, এই জনপদটি ছাড়া।
বস্তুত, এই মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) ও মুজতাহিদ (গবেষক) শাইখ এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন তাঁর অঞ্চলের অধিবাসীরা নবুওয়াতের যুগের মুশরিক ও আহলে কিতাবদের অবস্থার চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল—শিরক, কুসংস্কার (খুর্ফাত), বিদআত ও ভ্রষ্টতা এবং ব্যাপক অজ্ঞতার কারণে।
অতঃপর তিনি এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানালেন এবং ইসলামের মূল ভিত্তির (আসলুল ইসলাম) দিকে প্রত্যাবর্তন করতে বললেন। ফলে তিনি ইসলামের প্রাথমিক উত্থানকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনলেন।
আর তাঁর বংশধরগণ ও তাঁদের ছাত্ররা সালাফ সালিহীনদের (নেককার পূর্বসূরিগণ) পথ অনুসরণ করেছেন, এবং সেই মহান ব্যক্তিবর্গের উপর যা ঘটেছিল, তাঁদের উপরেও তাই ঘটেছে।
বস্তুত, গ্রাম ও নগরসমূহের জ্ঞান, মর্যাদা ও তাহকীক (যাচাই-বাছাই)-এর অধিকারী ব্যক্তিবর্গ তাঁদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁরা তাওহীদকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং এর দিকে এমনভাবে আহ্বান করেছেন যে তা আলোকিত হয়ে উঠেছে। এমনকি তাঁদের শত্রুরাও এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে, যেমনটি আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন:
(কবিতা)
এমন গুণাবলী, যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছে শত্রু,
আর শ্রেষ্ঠত্ব তো সেটাই, যার সাক্ষ্য দেয় শত্রুরা।
আর যে ব্যক্তি এই কওমের (জনগোষ্ঠীর) বাস্তবতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাদের মূলনীতিসমূহ (মাআখিয) সম্পর্কে অবগত হয়েছে, সে তাদের প্রতি অনুগত হয়েছে এবং তাদেরকে পথপ্রদর্শক ইমাম (আইম্মাতু হুদা) হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর সেই বক্তা সত্যই বলেছেন:
(কবিতা)
তাঁরা সত্যের ইমাম, আর নুসূস (কুরআন-সুন্নাহর মূল পাঠ) হলো তাঁদের পথ,
আর আহমাদ (বা শাইখ) হলেন সেই পথের বিশেষজ্ঞ পথপ্রদর্শক (খিররীত) ও দিশারী।
তাঁদের দোয়াতসমূহ (লেখার সরঞ্জাম) দ্বারা প্রতিটি সুন্নাহ সমুন্নত হয়; কী চমৎকার পবিত্র সেই দোয়াতসমূহ!
তাঁদের মানাকিব (গুণাবলী) প্রতিটি জনপদে সুপরিচিত; তাঁদের রিসালাহসমূহ (ছোট গ্রন্থাবলী) প্রতিটি দক্ষ ব্যক্তি বহন করে নিয়ে যায়।
আর সেখানে রয়েছে জ্ঞান অন্বেষণকারী একদল (আসাবাহ), যখন বলা হয়, আকস্মিক সমস্যাবলীর (আল-মুশকিলত আল-বাওয়াদির) সমাধানদাতা কে? (তখন তারাই এগিয়ে আসে)।
এমন কোনো জনপদ পরিচিত নয়, যা ইসলামের প্রাথমিক উত্থানের সময়কার সকল স্তর—যেমন: বিচ্ছিন্নতা (গুরবাহ), জিহাদ, হিজরত এবং শক্তি—এগুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে, এই জনপদটি ছাড়া।
বস্তুত, এই মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) ও মুজতাহিদ (গবেষক) শাইখ এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন তাঁর অঞ্চলের অধিবাসীরা নবুওয়াতের যুগের মুশরিক ও আহলে কিতাবদের অবস্থার চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল—শিরক, কুসংস্কার (খুর্ফাত), বিদআত ও ভ্রষ্টতা এবং ব্যাপক অজ্ঞতার কারণে।
অতঃপর তিনি এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানালেন এবং ইসলামের মূল ভিত্তির (আসলুল ইসলাম) দিকে প্রত্যাবর্তন করতে বললেন। ফলে তিনি ইসলামের প্রাথমিক উত্থানকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনলেন।
আর তাঁর বংশধরগণ ও তাঁদের ছাত্ররা সালাফ সালিহীনদের (নেককার পূর্বসূরিগণ) পথ অনুসরণ করেছেন, এবং সেই মহান ব্যক্তিবর্গের উপর যা ঘটেছিল, তাঁদের উপরেও তাই ঘটেছে।
বস্তুত, গ্রাম ও নগরসমূহের জ্ঞান, মর্যাদা ও তাহকীক (যাচাই-বাছাই)-এর অধিকারী ব্যক্তিবর্গ তাঁদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁরা তাওহীদকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং এর দিকে এমনভাবে আহ্বান করেছেন যে তা আলোকিত হয়ে উঠেছে। এমনকি তাঁদের শত্রুরাও এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে, যেমনটি আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন:
(কবিতা)
এমন গুণাবলী, যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছে শত্রু,
আর শ্রেষ্ঠত্ব তো সেটাই, যার সাক্ষ্য দেয় শত্রুরা।
আর যে ব্যক্তি এই কওমের (জনগোষ্ঠীর) বাস্তবতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাদের মূলনীতিসমূহ (মাআখিয) সম্পর্কে অবগত হয়েছে, সে তাদের প্রতি অনুগত হয়েছে এবং তাদেরকে পথপ্রদর্শক ইমাম (আইম্মাতু হুদা) হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর সেই বক্তা সত্যই বলেছেন:
(কবিতা)
তাঁরা সত্যের ইমাম, আর নুসূস (কুরআন-সুন্নাহর মূল পাঠ) হলো তাঁদের পথ,
আর আহমাদ (বা শাইখ) হলেন সেই পথের বিশেষজ্ঞ পথপ্রদর্শক (খিররীত) ও দিশারী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
على مذهب الحبر الإمام ابن حنبل ... عليهم من المولى سلام يوافيا
عقائدهم سنية أجمع الملا ... عليها خصوصا تابعا وصحابيا
وأسلمها عقدا وأعلمها هدى ... وأحكمها فاشدد عليها الأياديا
صرائح قرآن نصوص صريحة ... ومن ردها دارت عليه الدواهيا
كانوا على مذهب الحبر الرباني، والصديق الثاني، أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه وأرضاه، وجعل الجنة منقلبه ومثواه، لقوة علمه وفضله، تتبعوا دليله، واقتدوا به من غير تقليد له، يأخذون من الروايتين عنه فأكثر بما كان أقرب إلى الدليل، وربما اختاروا ما ليس منصوصا في المذهب، إذا ظهر وجه صوابه، وكان قد قال به أحد الأئمة المعتبرين. وليس ذلك خروجا عن المذهب، إذ قد تقرر عنه، وعن سائر الأئمة، رحمهم الله أنه إذا خالف قول أحدهم السنة، ترك قوله، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وبالجملة، فمن تأمل حالهم، واستقرأ مقالهم، عرف أنهم على صراط مستقيم، ومنهح واضح قويم; شمروا عن ساعد الجد والاجتهاد، وصرفوا عنايتهم في نصرة هذا الدين، الذي كان الأكثر في غاية من الجهالة بمبانيه العظام، ونهاية من الإعراض عن الاعتناء به والقيام، فشرعوا فيه للناس موارد، بعد أن كان في سالف الزمن طامسا خامدا، وعمروا لهم فيه معاهد، حتى صار طاهرا مستنيرا مشاهدا.
فنشروا شريعة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم لجميع الخلائق،
عقائدهم سنية أجمع الملا ... عليها خصوصا تابعا وصحابيا
وأسلمها عقدا وأعلمها هدى ... وأحكمها فاشدد عليها الأياديا
صرائح قرآن نصوص صريحة ... ومن ردها دارت عليه الدواهيا
كانوا على مذهب الحبر الرباني، والصديق الثاني، أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه وأرضاه، وجعل الجنة منقلبه ومثواه، لقوة علمه وفضله، تتبعوا دليله، واقتدوا به من غير تقليد له، يأخذون من الروايتين عنه فأكثر بما كان أقرب إلى الدليل، وربما اختاروا ما ليس منصوصا في المذهب، إذا ظهر وجه صوابه، وكان قد قال به أحد الأئمة المعتبرين. وليس ذلك خروجا عن المذهب، إذ قد تقرر عنه، وعن سائر الأئمة، رحمهم الله أنه إذا خالف قول أحدهم السنة، ترك قوله، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وبالجملة، فمن تأمل حالهم، واستقرأ مقالهم، عرف أنهم على صراط مستقيم، ومنهح واضح قويم; شمروا عن ساعد الجد والاجتهاد، وصرفوا عنايتهم في نصرة هذا الدين، الذي كان الأكثر في غاية من الجهالة بمبانيه العظام، ونهاية من الإعراض عن الاعتناء به والقيام، فشرعوا فيه للناس موارد، بعد أن كان في سالف الزمن طامسا خامدا، وعمروا لهم فيه معاهد، حتى صار طاهرا مستنيرا مشاهدا.
فنشروا شريعة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم لجميع الخلائق،
তাঁরা (প্রতিষ্ঠিত) ছিলেন মহাজ্ঞানী ইমাম ইবনে হাম্বল-এর মাযহাবের উপর... তাঁদের প্রতি মহান মাওলার পক্ষ থেকে উপযুক্ত শান্তি বর্ষিত হোক।
তাঁদের আকীদা সুন্নাহ-ভিত্তিক, যার উপর সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ—বিশেষত তাবেঈন ও সাহাবীগণ।
এটি আকীদার দিক থেকে সর্বাধিক নিরাপদ, হেদায়েতের দিক থেকে সর্বাধিক জ্ঞানগর্ভ এবং বিধানের দিক থেকে সর্বাধিক সুদৃঢ়; সুতরাং তোমরা এর উপর দৃঢ়ভাবে হাত রাখো (অর্থাৎ মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো)।
(এগুলো হলো) কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট নসসমূহ (প্রমাণাদি); আর যে ব্যক্তি এগুলো প্রত্যাখ্যান করবে, তার উপর ঘোর বিপদ নেমে আসবে।
তাঁরা ছিলেন রব্বানী মহাজ্ঞানী, দ্বিতীয় সিদ্দীক (উপাধি), আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু)-এর মাযহাবের অনুসারী। আল্লাহ জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও আবাস করুন। তাঁর (ইমাম আহমাদের) জ্ঞান ও মর্যাদার গভীরতার কারণে, তাঁরা তাঁর দলীল অনুসরণ করতেন এবং তাঁকে অন্ধ অনুকরণ (তা'ক্বলীদ) না করে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণিত দুই বা ততোধিক বর্ণনা থেকে সেটিকে গ্রহণ করতেন যা দলীল-এর অধিক নিকটবর্তী। এমনকি কখনও কখনও তাঁরা মাযহাবের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত নয় এমন মতও গ্রহণ করতেন, যদি তার সঠিক দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠত এবং যদি তা নির্ভরযোগ্য ইমামগণের মধ্যে কেউ বলে থাকেন।
আর এটি মাযহাব থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, কেননা তাঁর (ইমাম আহমাদের) এবং অন্যান্য সকল ইমামের (রহিমাহুমুল্লাহ) পক্ষ থেকে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি যে, যদি তাঁদের কারো বক্তব্য সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীর জন্য তাঁর বক্তব্য বর্জন করা হবে।
সংক্ষেপে, যে ব্যক্তি তাঁদের অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে এবং তাঁদের বক্তব্যসমূহ মনোযোগ সহকারে পাঠ করবে, সে জানতে পারবে যে তাঁরা সরল পথে (সিরাত আল-মুস্তাকীম) এবং সুস্পষ্ট, সুদৃঢ় পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত; তাঁরা কঠোর পরিশ্রম ও ইজতিহাদের জন্য নিজেদের হাত গুটিয়ে নিলেন (প্রস্তুত হলেন), এবং এই দ্বীনের সাহায্যার্থে তাঁদের মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন—যে দ্বীন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ এর মহান ভিত্তিগুলো সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার মধ্যে ছিল এবং এর প্রতি মনোযোগ দেওয়া ও তা প্রতিষ্ঠা করা থেকে চূড়ান্তভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
অতঃপর তাঁরা মানুষের জন্য এতে (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উৎসসমূহ উন্মোচন করলেন, যখন তা পূর্ববর্তী সময়ে বিলুপ্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। আর তাঁরা মানুষের জন্য এতে শিক্ষাকেন্দ্রসমূহ আবাদ করলেন, ফলে তা পবিত্র, আলোকিত ও দৃশ্যমান হয়ে উঠল।
সুতরাং তাঁরা সকল সৃষ্টির জন্য সাইয়্যিদ আল-মুরসালীন (রাসূলগণের নেতা) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীয়ত প্রচার করলেন।
তাঁদের আকীদা সুন্নাহ-ভিত্তিক, যার উপর সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ—বিশেষত তাবেঈন ও সাহাবীগণ।
এটি আকীদার দিক থেকে সর্বাধিক নিরাপদ, হেদায়েতের দিক থেকে সর্বাধিক জ্ঞানগর্ভ এবং বিধানের দিক থেকে সর্বাধিক সুদৃঢ়; সুতরাং তোমরা এর উপর দৃঢ়ভাবে হাত রাখো (অর্থাৎ মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো)।
(এগুলো হলো) কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট নসসমূহ (প্রমাণাদি); আর যে ব্যক্তি এগুলো প্রত্যাখ্যান করবে, তার উপর ঘোর বিপদ নেমে আসবে।
তাঁরা ছিলেন রব্বানী মহাজ্ঞানী, দ্বিতীয় সিদ্দীক (উপাধি), আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু)-এর মাযহাবের অনুসারী। আল্লাহ জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও আবাস করুন। তাঁর (ইমাম আহমাদের) জ্ঞান ও মর্যাদার গভীরতার কারণে, তাঁরা তাঁর দলীল অনুসরণ করতেন এবং তাঁকে অন্ধ অনুকরণ (তা'ক্বলীদ) না করে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণিত দুই বা ততোধিক বর্ণনা থেকে সেটিকে গ্রহণ করতেন যা দলীল-এর অধিক নিকটবর্তী। এমনকি কখনও কখনও তাঁরা মাযহাবের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লিখিত নয় এমন মতও গ্রহণ করতেন, যদি তার সঠিক দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠত এবং যদি তা নির্ভরযোগ্য ইমামগণের মধ্যে কেউ বলে থাকেন।
আর এটি মাযহাব থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, কেননা তাঁর (ইমাম আহমাদের) এবং অন্যান্য সকল ইমামের (রহিমাহুমুল্লাহ) পক্ষ থেকে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি যে, যদি তাঁদের কারো বক্তব্য সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীর জন্য তাঁর বক্তব্য বর্জন করা হবে।
সংক্ষেপে, যে ব্যক্তি তাঁদের অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে এবং তাঁদের বক্তব্যসমূহ মনোযোগ সহকারে পাঠ করবে, সে জানতে পারবে যে তাঁরা সরল পথে (সিরাত আল-মুস্তাকীম) এবং সুস্পষ্ট, সুদৃঢ় পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত; তাঁরা কঠোর পরিশ্রম ও ইজতিহাদের জন্য নিজেদের হাত গুটিয়ে নিলেন (প্রস্তুত হলেন), এবং এই দ্বীনের সাহায্যার্থে তাঁদের মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন—যে দ্বীন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ এর মহান ভিত্তিগুলো সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার মধ্যে ছিল এবং এর প্রতি মনোযোগ দেওয়া ও তা প্রতিষ্ঠা করা থেকে চূড়ান্তভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
অতঃপর তাঁরা মানুষের জন্য এতে (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উৎসসমূহ উন্মোচন করলেন, যখন তা পূর্ববর্তী সময়ে বিলুপ্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। আর তাঁরা মানুষের জন্য এতে শিক্ষাকেন্দ্রসমূহ আবাদ করলেন, ফলে তা পবিত্র, আলোকিত ও দৃশ্যমান হয়ে উঠল।
সুতরাং তাঁরা সকল সৃষ্টির জন্য সাইয়্যিদ আল-মুরসালীন (রাসূলগণের নেতা) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীয়ত প্রচার করলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكشفوا قناعها، وحققوا الحقائق، وأنشأوا المدارس وعمروها بالتعليم، وجاهدوا في الله كل طاغ أثيم، وصنفوا الكتب فأجادوا، وكشفوا الشبهات فأبادوا، وأجابوا السائل فأفادوا، فكشفوا عن الدين ما عراه، وأبدوا وأعادوا. فحق لقوم هذا شأنهم، أن يعتنى برسائلهم، وفتاويهم، وردودهم، وتجمع وتدون لكيلا تذهب، وترتب وتعنون لكيلا تصعب.
وقد اجتهد علماؤنا في جمعها، وحفظها; وحرصوا وحضوا على نشرها، وجمع شواردها. وكان أكثر من جمع، ما وجده شيخنا الفاضل: الشيخ محمد بن الشيخ عبد اللطيف، والشيخ: سليمان بن سحمان، والشيخ: عبد الله بن عبد العزيز العنقري، وغيرهم; إلا أنها غير مرتبة، فصار الطالب للمسألة لا يجدها إلا بعد تعب وعناء، ولا خفاء بما في ذلك من المشقة والنصب، وربما لا يجدها.
فأمرني من تجب طاعته علي أن أجمعها، وأرتبها حسب الطاقة، مع أني لست من أهل تلك البضاعة; فتمادت بي الأيام، أقدم رجلا وأؤخر أخرى، لكثرة الأشغال، ومعالجة المعاش والضيعة، وعدم الأهلية، إلى أن قويت العزيمة، وخلصت النية، وظهرت، ويسر الله الأمر وسهله، ووفق إليه، فحينئذ أمعنت النظر، وأنعمت الفكر، وجمعت ما أدركته. وأعانني عليه شيخنا الفاضل، الحبر الثقة، الشيخ: محمد بن الشيخ إبراهيم، وحرره وهذبه، أعدته وأبديته عليه
وقد اجتهد علماؤنا في جمعها، وحفظها; وحرصوا وحضوا على نشرها، وجمع شواردها. وكان أكثر من جمع، ما وجده شيخنا الفاضل: الشيخ محمد بن الشيخ عبد اللطيف، والشيخ: سليمان بن سحمان، والشيخ: عبد الله بن عبد العزيز العنقري، وغيرهم; إلا أنها غير مرتبة، فصار الطالب للمسألة لا يجدها إلا بعد تعب وعناء، ولا خفاء بما في ذلك من المشقة والنصب، وربما لا يجدها.
فأمرني من تجب طاعته علي أن أجمعها، وأرتبها حسب الطاقة، مع أني لست من أهل تلك البضاعة; فتمادت بي الأيام، أقدم رجلا وأؤخر أخرى، لكثرة الأشغال، ومعالجة المعاش والضيعة، وعدم الأهلية، إلى أن قويت العزيمة، وخلصت النية، وظهرت، ويسر الله الأمر وسهله، ووفق إليه، فحينئذ أمعنت النظر، وأنعمت الفكر، وجمعت ما أدركته. وأعانني عليه شيخنا الفاضل، الحبر الثقة، الشيخ: محمد بن الشيخ إبراهيم، وحرره وهذبه، أعدته وأبديته عليه
এবং তাঁরা এর আবরণ উন্মোচন করেছেন, সত্যসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সেগুলোকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে আবাদ করেছেন। তাঁরা আল্লাহর পথে প্রত্যেক পাপী তাগুতের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। তাঁরা গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাতে উৎকর্ষ সাধন করেছেন, সন্দেহসমূহ (শুবহাত) উন্মোচন করে সেগুলোকে নির্মূল করেছেন, এবং প্রশ্নকারীকে উত্তর দিয়ে উপকৃত করেছেন। ফলে দীনের উপর যা কিছু আপতিত হয়েছিল, তাঁরা তা প্রকাশ করেছেন এবং বারবার তা স্পষ্ট করেছেন।
এমন মর্যাদাসম্পন্ন জাতির জন্য এটিই উপযুক্ত যে, তাঁদের রিসালাহসমূহ (ছোট গ্রন্থ), ফাতাওয়া এবং খণ্ডনমূলক রচনাসমূহের প্রতি যত্ন নেওয়া হবে, সেগুলোকে সংকলিত ও লিপিবদ্ধ করা হবে যাতে তা বিলুপ্ত না হয়, এবং সেগুলোকে বিন্যস্ত ও শিরোনামযুক্ত করা হবে যাতে তা কঠিন না হয়।
আমাদের উলামায়ে কিরাম এগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; তাঁরা এগুলো প্রকাশ এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশসমূহ সংগ্রহ করার জন্য আগ্রহী ছিলেন ও উৎসাহিত করেছেন। যাঁরা সর্বাধিক সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের সম্মানিত শাইখ: শাইখ মুহাম্মাদ ইবন শাইখ আব্দুল লতীফ, শাইখ: সুলাইমান ইবন সাহমান, শাইখ: আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল আযীয আল-আনকারী এবং অন্যান্যরা। তবে এগুলো বিন্যস্ত ছিল না। ফলে কোনো মাসআলা অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি তা খুঁজে পেতেন না, যদি না তিনি কঠোর পরিশ্রম ও দুর্ভোগের সম্মুখীন হতেন। এতে যে কষ্ট ও ক্লান্তি রয়েছে, তা গোপন নয়, এবং অনেক সময় তিনি তা খুঁজেও পেতেন না।
অতঃপর, যাঁর আনুগত্য আমার উপর আবশ্যক, তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি সাধ্যমতো এগুলো সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করি, যদিও আমি এই কাজের যোগ্য নই। এরপর দিনগুলো অতিবাহিত হতে থাকল, আমি এক পা এগিয়েছি এবং অন্য পা পিছিয়েছি, কারণ কাজের আধিক্য, জীবিকা ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং আমার অযোগ্যতা। অবশেষে সংকল্প দৃঢ় হলো এবং নিয়ত বিশুদ্ধ হলো ও প্রকাশিত হলো। আল্লাহ তাআলা এই কাজকে সহজ ও সুগম করে দিলেন এবং এর জন্য তাওফীক দিলেন। তখন আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম এবং মনোযোগ সহকারে চিন্তা করলাম, আর যা কিছু সংগ্রহ করতে পারলাম, তা একত্রিত করলাম। আমাদের সম্মানিত শাইখ, বিশ্বস্ত মহাজ্ঞানী (আল-হাবর আস-সিকাহ), শাইখ: মুহাম্মাদ ইবন শাইখ ইবরাহীম, আমাকে এতে সাহায্য করেছেন। তিনি তা সম্পাদনা ও পরিমার্জন করেছেন, আর আমি তা তাঁর কাছে বারবার পেশ করেছি।
এমন মর্যাদাসম্পন্ন জাতির জন্য এটিই উপযুক্ত যে, তাঁদের রিসালাহসমূহ (ছোট গ্রন্থ), ফাতাওয়া এবং খণ্ডনমূলক রচনাসমূহের প্রতি যত্ন নেওয়া হবে, সেগুলোকে সংকলিত ও লিপিবদ্ধ করা হবে যাতে তা বিলুপ্ত না হয়, এবং সেগুলোকে বিন্যস্ত ও শিরোনামযুক্ত করা হবে যাতে তা কঠিন না হয়।
আমাদের উলামায়ে কিরাম এগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; তাঁরা এগুলো প্রকাশ এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশসমূহ সংগ্রহ করার জন্য আগ্রহী ছিলেন ও উৎসাহিত করেছেন। যাঁরা সর্বাধিক সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের সম্মানিত শাইখ: শাইখ মুহাম্মাদ ইবন শাইখ আব্দুল লতীফ, শাইখ: সুলাইমান ইবন সাহমান, শাইখ: আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল আযীয আল-আনকারী এবং অন্যান্যরা। তবে এগুলো বিন্যস্ত ছিল না। ফলে কোনো মাসআলা অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি তা খুঁজে পেতেন না, যদি না তিনি কঠোর পরিশ্রম ও দুর্ভোগের সম্মুখীন হতেন। এতে যে কষ্ট ও ক্লান্তি রয়েছে, তা গোপন নয়, এবং অনেক সময় তিনি তা খুঁজেও পেতেন না।
অতঃপর, যাঁর আনুগত্য আমার উপর আবশ্যক, তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি সাধ্যমতো এগুলো সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করি, যদিও আমি এই কাজের যোগ্য নই। এরপর দিনগুলো অতিবাহিত হতে থাকল, আমি এক পা এগিয়েছি এবং অন্য পা পিছিয়েছি, কারণ কাজের আধিক্য, জীবিকা ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং আমার অযোগ্যতা। অবশেষে সংকল্প দৃঢ় হলো এবং নিয়ত বিশুদ্ধ হলো ও প্রকাশিত হলো। আল্লাহ তাআলা এই কাজকে সহজ ও সুগম করে দিলেন এবং এর জন্য তাওফীক দিলেন। তখন আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম এবং মনোযোগ সহকারে চিন্তা করলাম, আর যা কিছু সংগ্রহ করতে পারলাম, তা একত্রিত করলাম। আমাদের সম্মানিত শাইখ, বিশ্বস্ত মহাজ্ঞানী (আল-হাবর আস-সিকাহ), শাইখ: মুহাম্মাদ ইবন শাইখ ইবরাহীম, আমাকে এতে সাহায্য করেছেন। তিনি তা সম্পাদনা ও পরিমার্জন করেছেন, আর আমি তা তাঁর কাছে বারবার পেশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فزها، فظهر آثار القبول عليه وأبهى; كررت الفقه عليه مرارا، والأصول وغيرها إمرارا.
وقرأت أكثره على شيخنا النبيل، الشيخ محمد بن الشيخ عبد اللطيف، وعلى الشيخ: سعد بن حمد بن عتيق، والشيخ: عبد الله بن عبد العزيز العنقري، فجاء - بحمد الله - جامعا جل رسائلهم وفتاويهم، بل كلها إلا قليلا.
وقد صنف العلماء في كل عصر ومصر، في الأصول، والفروع، وغيرها ما لا يحصى، حفظا للدين والشريعة، وأقوال أهل العلم، وليكون آخر الأمة كأولها في العلم والعمل، والتزام أحكام الشريعة، وإلزام الناس بها، لأن ضرورتهم إلى ذلك فوق كل ضرورة، ولولا ذلك، لجرى على ديننا ما جرى على الأديان قبله، فإن كل عصر لا يخلو من قائل بلا علم، ومتكلم بغير إصابة ولا فهم.
فوضح هؤلاء الأحبار الطريق إلى الله بالعلم، وأبرزوا مشكلات الحوادث بينابيع الفهم، بما يثلج الصدور، ويطرد الوهم، وصارت فتاويهم وأجوبتهم هي المعتبرة عند القضاة والمفتين، لرجحانها بالدليل، وموافقتها القواعد والتأصيل.
وها هو ذا يفصح عن نفسه، ويدل على عظيم نفعه، جامعا شاملا نافعا، فيه من الفوائد ما هو حقيق أن يعض عليه بالنواجذ، وتثنى عليه الخناصر، ويكب عليه أولو البصائر
وقرأت أكثره على شيخنا النبيل، الشيخ محمد بن الشيخ عبد اللطيف، وعلى الشيخ: سعد بن حمد بن عتيق، والشيخ: عبد الله بن عبد العزيز العنقري، فجاء - بحمد الله - جامعا جل رسائلهم وفتاويهم، بل كلها إلا قليلا.
وقد صنف العلماء في كل عصر ومصر، في الأصول، والفروع، وغيرها ما لا يحصى، حفظا للدين والشريعة، وأقوال أهل العلم، وليكون آخر الأمة كأولها في العلم والعمل، والتزام أحكام الشريعة، وإلزام الناس بها، لأن ضرورتهم إلى ذلك فوق كل ضرورة، ولولا ذلك، لجرى على ديننا ما جرى على الأديان قبله، فإن كل عصر لا يخلو من قائل بلا علم، ومتكلم بغير إصابة ولا فهم.
فوضح هؤلاء الأحبار الطريق إلى الله بالعلم، وأبرزوا مشكلات الحوادث بينابيع الفهم، بما يثلج الصدور، ويطرد الوهم، وصارت فتاويهم وأجوبتهم هي المعتبرة عند القضاة والمفتين، لرجحانها بالدليل، وموافقتها القواعد والتأصيل.
وها هو ذا يفصح عن نفسه، ويدل على عظيم نفعه، جامعا شاملا نافعا، فيه من الفوائد ما هو حقيق أن يعض عليه بالنواجذ، وتثنى عليه الخناصر، ويكب عليه أولو البصائر
ফলে তা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, এবং তার উপর কবুলিয়্যাতের (গ্রহণের) নিদর্শনাবলী অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে প্রকাশিত হলো। আমি এর উপর ফিকহ বারবার পুনরাবৃত্তি করেছি, এবং উসূল (নীতিমালা) ও অন্যান্য বিষয়ও বারবার অধ্যয়ন করেছি।
আর এর অধিকাংশ আমি আমাদের সম্মানিত শাইখ, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন শাইখ আব্দুল লতীফ-এর কাছে পাঠ করেছি, এবং শাইখ সা'দ ইবন হামাদ ইবন আতীক এবং শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল আযীয আল-আনকারী-এর কাছেও পাঠ করেছি। ফলে এটি – আল্লাহর প্রশংসায় – তাঁদের অধিকাংশ রিসালা (প্রবন্ধ) ও ফাতওয়াকে একত্রিত করেছে, বরং সামান্য কিছু বাদে প্রায় সবগুলিই এতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
বস্তুত, প্রত্যেক যুগ ও জনপদে উলামায়ে কিরাম উসূল (নীতি), ফুরু' (শাখা) এবং অন্যান্য বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা গণনা করা যায় না; দীনের, শরীয়তের এবং আহলে ইলমের (জ্ঞানীদের) বক্তব্যসমূহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। আর যাতে ইলম ও আমলে, শরীয়তের বিধানাবলী পালনে এবং মানুষকে তা মানতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে উম্মাহর শেষ প্রজন্ম প্রথম প্রজন্মের মতো হতে পারে। কারণ এই বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে। যদি তা না হতো, তবে আমাদের দীনের উপরও তাই ঘটতো যা এর পূর্বের ধর্মগুলোর উপর ঘটেছে। কেননা প্রতিটি যুগই এমন ব্যক্তি থেকে মুক্ত নয় যে জ্ঞান ছাড়া কথা বলে, এবং এমন বক্তা থেকে মুক্ত নয় যার বক্তব্য সঠিক নয় বা বোধগম্য নয়।
তাই এই মহান বিদ্বানগণ (আহবার) ইলমের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথকে সুস্পষ্ট করেছেন, এবং তাঁরা বোধগম্যতার ঝর্ণাধারার মাধ্যমে নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলীকে (মাসআলা) প্রকাশ করেছেন; যা অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং সন্দেহ দূর করে। আর তাঁদের ফাতওয়া ও জবাবসমূহ বিচারক (ক্বাদী) এবং মুফতিদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে; কারণ তা দলীলের (প্রমাণের) ভিত্তিতে অধিক শক্তিশালী এবং উসূল (নীতিমালা) ও তা'সীল (মৌলিক পদ্ধতি)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আর এই গ্রন্থটি এখন নিজেই নিজের পরিচয় তুলে ধরছে এবং এর বিশাল উপযোগিতার প্রমাণ দিচ্ছে। এটি একটি جامع (সংগ্রাহক), شامل (ব্যাপক) ও نافع (উপকারী) গ্রন্থ। এতে এমন সব ফাওয়াইদ (উপকারিতা) রয়েছে যা নওয়াজিদ (মাড়ির দাঁত) দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার যোগ্য, যার প্রশংসা করা উচিত এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা (উলুল বাসাইর) যার প্রতি ঝুঁকে পড়বে।
আর এর অধিকাংশ আমি আমাদের সম্মানিত শাইখ, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন শাইখ আব্দুল লতীফ-এর কাছে পাঠ করেছি, এবং শাইখ সা'দ ইবন হামাদ ইবন আতীক এবং শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল আযীয আল-আনকারী-এর কাছেও পাঠ করেছি। ফলে এটি – আল্লাহর প্রশংসায় – তাঁদের অধিকাংশ রিসালা (প্রবন্ধ) ও ফাতওয়াকে একত্রিত করেছে, বরং সামান্য কিছু বাদে প্রায় সবগুলিই এতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
বস্তুত, প্রত্যেক যুগ ও জনপদে উলামায়ে কিরাম উসূল (নীতি), ফুরু' (শাখা) এবং অন্যান্য বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা গণনা করা যায় না; দীনের, শরীয়তের এবং আহলে ইলমের (জ্ঞানীদের) বক্তব্যসমূহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। আর যাতে ইলম ও আমলে, শরীয়তের বিধানাবলী পালনে এবং মানুষকে তা মানতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে উম্মাহর শেষ প্রজন্ম প্রথম প্রজন্মের মতো হতে পারে। কারণ এই বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে। যদি তা না হতো, তবে আমাদের দীনের উপরও তাই ঘটতো যা এর পূর্বের ধর্মগুলোর উপর ঘটেছে। কেননা প্রতিটি যুগই এমন ব্যক্তি থেকে মুক্ত নয় যে জ্ঞান ছাড়া কথা বলে, এবং এমন বক্তা থেকে মুক্ত নয় যার বক্তব্য সঠিক নয় বা বোধগম্য নয়।
তাই এই মহান বিদ্বানগণ (আহবার) ইলমের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথকে সুস্পষ্ট করেছেন, এবং তাঁরা বোধগম্যতার ঝর্ণাধারার মাধ্যমে নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলীকে (মাসআলা) প্রকাশ করেছেন; যা অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং সন্দেহ দূর করে। আর তাঁদের ফাতওয়া ও জবাবসমূহ বিচারক (ক্বাদী) এবং মুফতিদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে; কারণ তা দলীলের (প্রমাণের) ভিত্তিতে অধিক শক্তিশালী এবং উসূল (নীতিমালা) ও তা'সীল (মৌলিক পদ্ধতি)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আর এই গ্রন্থটি এখন নিজেই নিজের পরিচয় তুলে ধরছে এবং এর বিশাল উপযোগিতার প্রমাণ দিচ্ছে। এটি একটি جامع (সংগ্রাহক), شامل (ব্যাপক) ও نافع (উপকারী) গ্রন্থ। এতে এমন সব ফাওয়াইদ (উপকারিতা) রয়েছে যা নওয়াজিদ (মাড়ির দাঁত) দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার যোগ্য, যার প্রশংসা করা উচিত এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা (উলুল বাসাইর) যার প্রতি ঝুঁকে পড়বে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
النوافذ. اشتمل على أصول أصيلة، ومباحث جليلة، لا تجدها في كثير من الكتب المصنفة، ولا الدواوين المؤلفة.
فإن أردت مقام الدعوة إلى الدين، وتوحيد رب العالمين، وجدته بأحسن أسلوب وأتم تبيين. وإن أردت حل مشكلات الفروع عن يقين، فخذها عليها النور المستبين، أو أردت حكم جهاد المفسدين، ألفيته على وفق سيرة سيد المرسلين، أو أردت حل أوهام الزائغين، وجدتها مجلوة بأوضح البراهين، أو استنباط آيات من كلام رب العالمين، أفادك ما لا يوجد في كلام أكثر المفسرين، أو نصائح شاملة في أمور الدين، لقيتها آية باهرة للمتأملين. ألفها فحول من هداة مهتدين، تهدى إليك ساطعة بالنور المستبين، تشتاق إليها نفوس الموحدين، وتطمئن بها قلوب المؤمنين، وتنشرح لها صدور الطالبين.
فإن أردت مقام الدعوة إلى الدين، وتوحيد رب العالمين، وجدته بأحسن أسلوب وأتم تبيين. وإن أردت حل مشكلات الفروع عن يقين، فخذها عليها النور المستبين، أو أردت حكم جهاد المفسدين، ألفيته على وفق سيرة سيد المرسلين، أو أردت حل أوهام الزائغين، وجدتها مجلوة بأوضح البراهين، أو استنباط آيات من كلام رب العالمين، أفادك ما لا يوجد في كلام أكثر المفسرين، أو نصائح شاملة في أمور الدين، لقيتها آية باهرة للمتأملين. ألفها فحول من هداة مهتدين، تهدى إليك ساطعة بالنور المستبين، تشتاق إليها نفوس الموحدين، وتطمئن بها قلوب المؤمنين، وتنشرح لها صدور الطالبين.
ইহা সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহ এবং মহৎ আলোচনা/গবেষণাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে, যা আপনি বহু সংকলিত গ্রন্থ বা রচিত সংকলনসমূহে খুঁজে পাবেন না।
যদি আপনি দীনের দিকে দাওয়াতের পদ্ধতি এবং রাব্বুল আলামীনের তাওহীদ (একত্ববাদ) প্রতিষ্ঠা কামনা করেন, তবে আপনি তা পাবেন সর্বোত্তম শৈলীতে এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাসহ। আর যদি আপনি ফিকহী শাখা-প্রশাখার (ফুরু') সমস্যাবলীর নিশ্চিত সমাধান চান, তবে আপনি এর মধ্যে উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা দেখতে পাবেন। অথবা যদি আপনি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের (মুফসিদীন) বিরুদ্ধে জিহাদের বিধান জানতে চান, তবে আপনি তা পাবেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন (রাসূলগণের নেতা)-এর জীবনচরিতের (সীরাত) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণরূপে। অথবা যদি আপনি পথভ্রষ্টদের (যায়েগীন) ভ্রান্ত ধারণাসমূহের নিরসন চান, তবে আপনি তা পাবেন সুস্পষ্ট প্রমাণাদি (বুরহান) দ্বারা উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত। অথবা যদি আপনি রাব্বুল আলামীনের কালাম (বাণী) থেকে আয়াতসমূহের গভীর তাৎপর্য (ইস্তিম্বাত) জানতে চান, তবে ইহা আপনাকে এমন জ্ঞান দান করবে যা অধিকাংশ মুফাসসিরীনের বক্তব্যে পাওয়া যায় না। অথবা দীনের বিষয়াবলীতে যদি আপনি ব্যাপক উপদেশাবলী (নাসাইহ) চান, তবে আপনি তা চিন্তাশীলদের জন্য এক উজ্জ্বল নিদর্শনরূপে দেখতে পাবেন।
ইহা রচনা করেছেন হেদায়েতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শকদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ বিদ্বানগণ (ফুহূল), যা আপনার নিকট সুস্পষ্ট আলোকের সাথে দেদীপ্যমান হয়ে উপস্থিত হয়। তাওহীদবাদীদের (মুওয়াহ্হিদীন) অন্তরসমূহ এর জন্য ব্যাকুল হয়, মুমিনদের হৃদয় এর দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে, আর জ্ঞান অন্বেষণকারীদের (ত্বালিবীন) বক্ষ এর দ্বারা উন্মোচিত হয়।
যদি আপনি দীনের দিকে দাওয়াতের পদ্ধতি এবং রাব্বুল আলামীনের তাওহীদ (একত্ববাদ) প্রতিষ্ঠা কামনা করেন, তবে আপনি তা পাবেন সর্বোত্তম শৈলীতে এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাসহ। আর যদি আপনি ফিকহী শাখা-প্রশাখার (ফুরু') সমস্যাবলীর নিশ্চিত সমাধান চান, তবে আপনি এর মধ্যে উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা দেখতে পাবেন। অথবা যদি আপনি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের (মুফসিদীন) বিরুদ্ধে জিহাদের বিধান জানতে চান, তবে আপনি তা পাবেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন (রাসূলগণের নেতা)-এর জীবনচরিতের (সীরাত) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণরূপে। অথবা যদি আপনি পথভ্রষ্টদের (যায়েগীন) ভ্রান্ত ধারণাসমূহের নিরসন চান, তবে আপনি তা পাবেন সুস্পষ্ট প্রমাণাদি (বুরহান) দ্বারা উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত। অথবা যদি আপনি রাব্বুল আলামীনের কালাম (বাণী) থেকে আয়াতসমূহের গভীর তাৎপর্য (ইস্তিম্বাত) জানতে চান, তবে ইহা আপনাকে এমন জ্ঞান দান করবে যা অধিকাংশ মুফাসসিরীনের বক্তব্যে পাওয়া যায় না। অথবা দীনের বিষয়াবলীতে যদি আপনি ব্যাপক উপদেশাবলী (নাসাইহ) চান, তবে আপনি তা চিন্তাশীলদের জন্য এক উজ্জ্বল নিদর্শনরূপে দেখতে পাবেন।
ইহা রচনা করেছেন হেদায়েতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শকদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ বিদ্বানগণ (ফুহূল), যা আপনার নিকট সুস্পষ্ট আলোকের সাথে দেদীপ্যমান হয়ে উপস্থিত হয়। তাওহীদবাদীদের (মুওয়াহ্হিদীন) অন্তরসমূহ এর জন্য ব্যাকুল হয়, মুমিনদের হৃদয় এর দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে, আর জ্ঞান অন্বেষণকারীদের (ত্বালিবীন) বক্ষ এর দ্বারা উন্মোচিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد وقع هذا المجموع المبارك، في أحد عشر جزءا:
الأول: كتاب العقائد.
والثاني: كتاب التوحيد.
والثالث: كتاب الأسماء والصفات.
والرابع: كتاب العبادات من كتاب الطهارة إلى الأضاحي; وفي أوله فصلان:
الفصل الأول: في أصول مآخذهم.
والفصل الثاني: في أصول الفقه.
والخامس: كتاب المعاملات وما يتبعه إلى العتق.
والسادس: من كتاب النكاح إلى الإقرار.
والسابع: كتاب الجهاد.
والثامن: كتاب حكم المرتد.
والتاسع: مختصرات الردود، على ذوي الشبه، والزيغ، والجحود.
والعاشر: الاستنباط، وتفسير آيات من القرآن.
والحادي عشر: كتاب النصائح; وفي آخره تراجم أصحاب تلك الرسائل والأجوبة، تطلعك على كبر شأنهم، وعلو مرتبتهم، وعمق مآخذهم، وتشرح صدرك لقبول أجوبتهم.
الأول: كتاب العقائد.
والثاني: كتاب التوحيد.
والثالث: كتاب الأسماء والصفات.
والرابع: كتاب العبادات من كتاب الطهارة إلى الأضاحي; وفي أوله فصلان:
الفصل الأول: في أصول مآخذهم.
والفصل الثاني: في أصول الفقه.
والخامس: كتاب المعاملات وما يتبعه إلى العتق.
والسادس: من كتاب النكاح إلى الإقرار.
والسابع: كتاب الجهاد.
والثامن: كتاب حكم المرتد.
والتاسع: مختصرات الردود، على ذوي الشبه، والزيغ، والجحود.
والعاشر: الاستنباط، وتفسير آيات من القرآن.
والحادي عشر: كتاب النصائح; وفي آخره تراجم أصحاب تلك الرسائل والأجوبة، تطلعك على كبر شأنهم، وعلو مرتبتهم، وعمق مآخذهم، وتشرح صدرك لقبول أجوبتهم.
এই বরকতময় সংকলনটি এগারোটি খণ্ডে বিভক্ত হয়েছে:
প্রথম খণ্ড: কিতাবুল আকাইদ (বিশ্বাস সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
দ্বিতীয় খণ্ড: কিতাবুত তাওহিদ (একত্ববাদ সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
তৃতীয় খণ্ড: কিতাবুল আসমা ওয়াস-সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
চতুর্থ খণ্ড: কিতাবুল ইবাদাত (ইবাদত সম্পর্কিত গ্রন্থ), যা পবিত্রতা (কিতাবুত তাহারাহ) থেকে শুরু করে কুরবানি (আল-আযাহি) পর্যন্ত বিস্তৃত; এবং এর শুরুতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁদের (অর্থাৎ, আলেমগণের) মূলনীতি ও সূত্রসমূহ (উসূলুল মাআখিয) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসূলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) প্রসঙ্গে।
পঞ্চম খণ্ড: কিতাবুল মুআমালাত (লেনদেন সম্পর্কিত গ্রন্থ) এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি, যা দাসমুক্তি (আল-ইতক) পর্যন্ত বিস্তৃত।
ষষ্ঠ খণ্ড: কিতাবুন নিকাহ (বিবাহ সম্পর্কিত গ্রন্থ) থেকে শুরু করে স্বীকৃতি (আল-ইকরার) পর্যন্ত।
সপ্তম খণ্ড: কিতাবুল জিহাদ (জিহাদ সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
অষ্টম খণ্ড: কিতাবু হুকমিল মুরতাদ্দ (ধর্মত্যাগী বা মুরতাদের বিধান সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
নবম খণ্ড: সন্দেহ, বক্রতা (যাইগ) এবং অস্বীকারকারীদের (জুহুদ) প্রতি প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ ও খণ্ডনসমূহ (আল-রুদুদ)।
দশম খণ্ড: ইস্তিম্বাত (শরয়ী বিধানের যৌক্তিক নির্যাস বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ) এবং কুরআনের কতিপয় আয়াতের তাফসীর।
একাদশ খণ্ড: কিতাবুন নাসাইহ (উপদেশ ও নসিহত সম্পর্কিত গ্রন্থ); এবং এর শেষে রয়েছে সেইসব প্রবন্ধ ও উত্তরদাতাদের জীবনী (তারাজিম), যা আপনাকে তাঁদের মহান মর্যাদা, উচ্চ অবস্থান এবং তাঁদের সূত্র গ্রহণের গভীরতা সম্পর্কে অবহিত করবে এবং তাঁদের উত্তরসমূহ গ্রহণ করার জন্য আপনার বক্ষকে প্রশস্ত করবে।
প্রথম খণ্ড: কিতাবুল আকাইদ (বিশ্বাস সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
দ্বিতীয় খণ্ড: কিতাবুত তাওহিদ (একত্ববাদ সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
তৃতীয় খণ্ড: কিতাবুল আসমা ওয়াস-সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
চতুর্থ খণ্ড: কিতাবুল ইবাদাত (ইবাদত সম্পর্কিত গ্রন্থ), যা পবিত্রতা (কিতাবুত তাহারাহ) থেকে শুরু করে কুরবানি (আল-আযাহি) পর্যন্ত বিস্তৃত; এবং এর শুরুতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁদের (অর্থাৎ, আলেমগণের) মূলনীতি ও সূত্রসমূহ (উসূলুল মাআখিয) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসূলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) প্রসঙ্গে।
পঞ্চম খণ্ড: কিতাবুল মুআমালাত (লেনদেন সম্পর্কিত গ্রন্থ) এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি, যা দাসমুক্তি (আল-ইতক) পর্যন্ত বিস্তৃত।
ষষ্ঠ খণ্ড: কিতাবুন নিকাহ (বিবাহ সম্পর্কিত গ্রন্থ) থেকে শুরু করে স্বীকৃতি (আল-ইকরার) পর্যন্ত।
সপ্তম খণ্ড: কিতাবুল জিহাদ (জিহাদ সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
অষ্টম খণ্ড: কিতাবু হুকমিল মুরতাদ্দ (ধর্মত্যাগী বা মুরতাদের বিধান সম্পর্কিত গ্রন্থ)।
নবম খণ্ড: সন্দেহ, বক্রতা (যাইগ) এবং অস্বীকারকারীদের (জুহুদ) প্রতি প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ ও খণ্ডনসমূহ (আল-রুদুদ)।
দশম খণ্ড: ইস্তিম্বাত (শরয়ী বিধানের যৌক্তিক নির্যাস বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ) এবং কুরআনের কতিপয় আয়াতের তাফসীর।
একাদশ খণ্ড: কিতাবুন নাসাইহ (উপদেশ ও নসিহত সম্পর্কিত গ্রন্থ); এবং এর শেষে রয়েছে সেইসব প্রবন্ধ ও উত্তরদাতাদের জীবনী (তারাজিম), যা আপনাকে তাঁদের মহান মর্যাদা, উচ্চ অবস্থান এবং তাঁদের সূত্র গ্রহণের গভীরতা সম্পর্কে অবহিত করবে এবং তাঁদের উত্তরসমূহ গ্রহণ করার জন্য আপনার বক্ষকে প্রশস্ত করবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تنبيهات
التنبيه الأول: في كيفية ترتيب كل جزء من أجزاء هذا المجموع; فليعلم أن الجزء الأول، والثاني، والثالث، والثامن، والتاسع، والحادي عشر، قد أبقيت الرسائل والأجوبة فيها على ما هي عليه، ولم ترتب إلا على حسب وفيات مؤلفيها، فيذكر في كل واحد من هذه الأجزاء، أولا: رسائل الشيخ محمد رحمه الله، ثم من بعده، وهكذا، على حسب الوفيات، وقد يقدم الأشهر.
وأما الجزء الرابع، والخامس، والسادس، والسابع، فهي على حسب ترتيب فقهائنا - رحمهم الله - في التبويب والمسائل، وإذا كان في المسألة جوابان فأكثر، ذكر السؤال أو بعضه أو ملخصه، إن لم يحتج إليه كله; ويبدأ بجواب الأقدم، ثم جواب من يليه من غير إعادة للسؤال، بل يكتفى بقول: وأجاب فلان، وهكذا مرتبا إلى أن تفرغ الأجوبة، التي في تلك المسألة.
وقد ينتقل من مسألة إلى مسألة أخرى من غير ذكر سؤال، فيقال: وأجاب فلان، اكتفاء بما في جواب التي قبلها، لما بينهما من الارتباط.
التنبيه الأول: في كيفية ترتيب كل جزء من أجزاء هذا المجموع; فليعلم أن الجزء الأول، والثاني، والثالث، والثامن، والتاسع، والحادي عشر، قد أبقيت الرسائل والأجوبة فيها على ما هي عليه، ولم ترتب إلا على حسب وفيات مؤلفيها، فيذكر في كل واحد من هذه الأجزاء، أولا: رسائل الشيخ محمد رحمه الله، ثم من بعده، وهكذا، على حسب الوفيات، وقد يقدم الأشهر.
وأما الجزء الرابع، والخامس، والسادس، والسابع، فهي على حسب ترتيب فقهائنا - رحمهم الله - في التبويب والمسائل، وإذا كان في المسألة جوابان فأكثر، ذكر السؤال أو بعضه أو ملخصه، إن لم يحتج إليه كله; ويبدأ بجواب الأقدم، ثم جواب من يليه من غير إعادة للسؤال، بل يكتفى بقول: وأجاب فلان، وهكذا مرتبا إلى أن تفرغ الأجوبة، التي في تلك المسألة.
وقد ينتقل من مسألة إلى مسألة أخرى من غير ذكر سؤال، فيقال: وأجاب فلان، اكتفاء بما في جواب التي قبلها، لما بينهما من الارتباط.
গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞাতব্য বিষয়সমূহ
প্রথম জ্ঞাতব্য বিষয়: এই সংকলনের প্রতিটি খণ্ডের বিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে।
অতএব, জেনে রাখা আবশ্যক যে, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম, নবম এবং একাদশ খণ্ড—এগুলোর মধ্যে পত্রাবলী ও উত্তরসমূহ যেমন ছিল তেমনই রাখা হয়েছে, এবং সেগুলোকে তাদের রচয়িতাদের মৃত্যু-তারিখের ক্রম ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি। এই খণ্ডগুলোর প্রতিটিতে প্রথমে শায়খ মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পত্রাবলী উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর তাঁর পরবর্তী আলেমদের, এবং এভাবেই মৃত্যু-তারিখের ক্রমানুসারে (বিন্যস্ত করা হয়েছে)। তবে কখনো কখনো অধিক প্রসিদ্ধ আলেমকে আগে আনা হয়েছে।
আর চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ড—এগুলো আমাদের ফুকাহায়ে কিরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর মাসআলা ও অধ্যায় বিন্যাসের পদ্ধতি অনুসারে সাজানো হয়েছে। যদি কোনো মাসআলায় দুই বা ততোধিক উত্তর থাকে, তবে প্রশ্নটি অথবা তার কিছু অংশ বা তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে, যদি পুরো প্রশ্নের প্রয়োজন না হয়। এবং প্রথমে প্রাচীনতম আলেমের উত্তর দিয়ে শুরু করা হয়েছে, অতঃপর তাঁর পরবর্তী আলেমের উত্তর (উল্লেখ করা হয়েছে)। প্রশ্নটি পুনরায় উল্লেখ না করে, বরং এই কথাটি দিয়েই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে: "অমুকও উত্তর দিয়েছেন" (*ওয়া আজাবা ফুলা-ন*)। এবং এভাবেই বিন্যস্ত করা হয়েছে যতক্ষণ না সেই মাসআলার সমস্ত উত্তর শেষ হয়।
কখনো কখনো প্রশ্ন উল্লেখ না করেই এক মাসআলা থেকে অন্য মাসআলায় যাওয়া হয়েছে, তখন বলা হয়েছে: "অমুকও উত্তর দিয়েছেন" (*ওয়া আজাবা ফুলা-ন*), পূর্ববর্তী মাসআলার উত্তরের উপর নির্ভর করে, কারণ উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রথম জ্ঞাতব্য বিষয়: এই সংকলনের প্রতিটি খণ্ডের বিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে।
অতএব, জেনে রাখা আবশ্যক যে, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম, নবম এবং একাদশ খণ্ড—এগুলোর মধ্যে পত্রাবলী ও উত্তরসমূহ যেমন ছিল তেমনই রাখা হয়েছে, এবং সেগুলোকে তাদের রচয়িতাদের মৃত্যু-তারিখের ক্রম ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি। এই খণ্ডগুলোর প্রতিটিতে প্রথমে শায়খ মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পত্রাবলী উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর তাঁর পরবর্তী আলেমদের, এবং এভাবেই মৃত্যু-তারিখের ক্রমানুসারে (বিন্যস্ত করা হয়েছে)। তবে কখনো কখনো অধিক প্রসিদ্ধ আলেমকে আগে আনা হয়েছে।
আর চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ড—এগুলো আমাদের ফুকাহায়ে কিরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর মাসআলা ও অধ্যায় বিন্যাসের পদ্ধতি অনুসারে সাজানো হয়েছে। যদি কোনো মাসআলায় দুই বা ততোধিক উত্তর থাকে, তবে প্রশ্নটি অথবা তার কিছু অংশ বা তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে, যদি পুরো প্রশ্নের প্রয়োজন না হয়। এবং প্রথমে প্রাচীনতম আলেমের উত্তর দিয়ে শুরু করা হয়েছে, অতঃপর তাঁর পরবর্তী আলেমের উত্তর (উল্লেখ করা হয়েছে)। প্রশ্নটি পুনরায় উল্লেখ না করে, বরং এই কথাটি দিয়েই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে: "অমুকও উত্তর দিয়েছেন" (*ওয়া আজাবা ফুলা-ন*)। এবং এভাবেই বিন্যস্ত করা হয়েছে যতক্ষণ না সেই মাসআলার সমস্ত উত্তর শেষ হয়।
কখনো কখনো প্রশ্ন উল্লেখ না করেই এক মাসআলা থেকে অন্য মাসআলায় যাওয়া হয়েছে, তখন বলা হয়েছে: "অমুকও উত্তর দিয়েছেন" (*ওয়া আজাবা ফুলা-ন*), পূর্ববর্তী মাসআলার উত্তরের উপর নির্ভর করে, কারণ উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
التنبيه الثاني: إن بعض المسائل قد لا نقف لها على سؤال، فنصور لها سؤالا على حسب ما يظهر من الجواب; وهذا إذا لم يكتف بالسؤال السابق.
وأما الجزء العاشر الذي في الاستنباط، فترتيبه على حسب السور.
التنبيه الثالث: لم آل جهدا في مقابلة ما نقلناه على الأصول، وتصحيحه، وفي بعض تلك الأجوبة كلمات يسيرة عامية، فأصلحتها، بإبدالها بكلمات عربية، هي بمعنى تلك الكلمات، وذلك عن إذن بعض من قرأتها عليه، وعرضها عليه، واستجازته إياها; إذ فهم المراد كما ينبغي متوقف على ذلك.
التنبيه الرابع: إني لم أتعرض إلا لفتاوى، ورسائل، وردود أهل هذه الدعوة، ولم أثبت من الردود، في هذا المجموع، إلا ما كان مختصرا، نحو الكراستين فأقل; وأما الردود الكبار: فهي متداولة، مستقلة على حدتها، مستغنية عن إثباتها في هذا المجموع، كما أني لم أثبت ما كان مشهورا متداولا، ككتاب التوحيد، وكتاب كشف الشبهات، وفضائل الإسلام، وغيرها مما شهرته كافية.
وأما الجزء العاشر الذي في الاستنباط، فترتيبه على حسب السور.
التنبيه الثالث: لم آل جهدا في مقابلة ما نقلناه على الأصول، وتصحيحه، وفي بعض تلك الأجوبة كلمات يسيرة عامية، فأصلحتها، بإبدالها بكلمات عربية، هي بمعنى تلك الكلمات، وذلك عن إذن بعض من قرأتها عليه، وعرضها عليه، واستجازته إياها; إذ فهم المراد كما ينبغي متوقف على ذلك.
التنبيه الرابع: إني لم أتعرض إلا لفتاوى، ورسائل، وردود أهل هذه الدعوة، ولم أثبت من الردود، في هذا المجموع، إلا ما كان مختصرا، نحو الكراستين فأقل; وأما الردود الكبار: فهي متداولة، مستقلة على حدتها، مستغنية عن إثباتها في هذا المجموع، كما أني لم أثبت ما كان مشهورا متداولا، ككتاب التوحيد، وكتاب كشف الشبهات، وفضائل الإسلام، وغيرها مما شهرته كافية.
দ্বিতীয় নিবেদন: কিছু কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে আমরা মূল প্রশ্নটি খুঁজে পাইনি। সেক্ষেত্রে, উত্তর থেকে যা প্রতীয়মান হয়েছে, তার ভিত্তিতে আমরা প্রশ্নটি বিন্যস্ত করেছি (বা, প্রশ্নাকারে রূপ দিয়েছি)। এটি করা হয়েছে যদি পূর্ববর্তী প্রশ্ন দ্বারা যথেষ্ট না হয়।
আর দশম খণ্ডটি, যা মাসআলা নির্ণয় (ইস্তিম্বাত) সংক্রান্ত, সেটির বিন্যাস করা হয়েছে কুরআনের সূরাসমূহের ক্রম অনুসারে।
তৃতীয় নিবেদন: মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে আমরা যা উদ্ধৃত করেছি, তার মুকাবিলা (তুলনা) ও সংশোধনে আমি কোনো প্রকার ত্রুটি করিনি। সেই উত্তরগুলোর মধ্যে কিছু কিছু স্থানে সামান্য কিছু আঞ্চলিক (عامية) শব্দ ছিল। আমি সেগুলোকে আরবি শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপন করে সংশোধন করেছি, যা ওই শব্দগুলোরই অর্থ বহন করে। এটি আমি যার কাছে পাঠ করেছি, তাকে প্রদর্শন করে এবং তার ইজাযত (অনুমতি) গ্রহণ সাপেক্ষে করেছি; কেননা উদ্দেশ্য (مراد) যথাযথভাবে অনুধাবন করা এর উপরই নির্ভরশীল।
চতুর্থ নিবেদন: আমি এই দাওয়াতের (আহলে দাওয়াহ) ফতোয়া, রিসালা (ছোট গ্রন্থ) এবং খণ্ডন (ردود) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি। আর এই সংকলনে খণ্ডনগুলোর মধ্যে কেবল সংক্ষিপ্তগুলোই সন্নিবেশিত করেছি, যা প্রায় দুই ক্রাসাহ (পুস্তিকা) বা তার চেয়ে কম। পক্ষান্তরে, বৃহৎ খণ্ডনগুলো স্বতন্ত্রভাবে প্রচলিত ও সহজলভ্য, তাই এই সংকলনে সেগুলোর অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন নেই। অনুরূপভাবে, আমি সেই সকল প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচলিত গ্রন্থাবলীও অন্তর্ভুক্ত করিনি, যেমন—কিতাবুত তাওহিদ, কিতাব কাশফুশ শুবুহাত, ফাদাইলুল ইসলাম এবং অন্যান্য গ্রন্থ, যার প্রসিদ্ধিই যথেষ্ট।
আর দশম খণ্ডটি, যা মাসআলা নির্ণয় (ইস্তিম্বাত) সংক্রান্ত, সেটির বিন্যাস করা হয়েছে কুরআনের সূরাসমূহের ক্রম অনুসারে।
তৃতীয় নিবেদন: মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে আমরা যা উদ্ধৃত করেছি, তার মুকাবিলা (তুলনা) ও সংশোধনে আমি কোনো প্রকার ত্রুটি করিনি। সেই উত্তরগুলোর মধ্যে কিছু কিছু স্থানে সামান্য কিছু আঞ্চলিক (عامية) শব্দ ছিল। আমি সেগুলোকে আরবি শব্দ দ্বারা প্রতিস্থাপন করে সংশোধন করেছি, যা ওই শব্দগুলোরই অর্থ বহন করে। এটি আমি যার কাছে পাঠ করেছি, তাকে প্রদর্শন করে এবং তার ইজাযত (অনুমতি) গ্রহণ সাপেক্ষে করেছি; কেননা উদ্দেশ্য (مراد) যথাযথভাবে অনুধাবন করা এর উপরই নির্ভরশীল।
চতুর্থ নিবেদন: আমি এই দাওয়াতের (আহলে দাওয়াহ) ফতোয়া, রিসালা (ছোট গ্রন্থ) এবং খণ্ডন (ردود) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি। আর এই সংকলনে খণ্ডনগুলোর মধ্যে কেবল সংক্ষিপ্তগুলোই সন্নিবেশিত করেছি, যা প্রায় দুই ক্রাসাহ (পুস্তিকা) বা তার চেয়ে কম। পক্ষান্তরে, বৃহৎ খণ্ডনগুলো স্বতন্ত্রভাবে প্রচলিত ও সহজলভ্য, তাই এই সংকলনে সেগুলোর অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন নেই। অনুরূপভাবে, আমি সেই সকল প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচলিত গ্রন্থাবলীও অন্তর্ভুক্ত করিনি, যেমন—কিতাবুত তাওহিদ, কিতাব কাশফুশ শুবুহাত, ফাদাইলুল ইসলাম এবং অন্যান্য গ্রন্থ, যার প্রসিদ্ধিই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
التنبيه الخامس: بعض الفتاوى، لم أقف على اسم صاحبها، لكنه من أهل هذه الدعوة قطعا، فأورده بقولي: سئل بعضهم، ونحوه.
والله أسأل: أن يجعل السعي فيه خالصا لوجهه الكريم، موجبا للفوز لديه في جنات النعيم; فهو العالم بمودعات السرائر، وخفيات الضمائر، وأن يتغمدنا وإياهم بفضله ورحمته، ويتجاوز عنا وعنهم بسعة مغفرته، ويحشرنا في زمرتهم، إنه سميع قريب، عليه نتوكل وإليه ننيب، وحسبنا الله ونعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير.
والله أسأل: أن يجعل السعي فيه خالصا لوجهه الكريم، موجبا للفوز لديه في جنات النعيم; فهو العالم بمودعات السرائر، وخفيات الضمائر، وأن يتغمدنا وإياهم بفضله ورحمته، ويتجاوز عنا وعنهم بسعة مغفرته، ويحشرنا في زمرتهم، إنه سميع قريب، عليه نتوكل وإليه ننيب، وحسبنا الله ونعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير.
পঞ্চম দৃষ্টি আকর্ষণ: কিছু ফাতওয়া রয়েছে, যার প্রণেতার নাম আমি জানতে পারিনি। কিন্তু তিনি নিশ্চিতভাবে এই দাওয়াতের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমি তা এই বলে উল্লেখ করব: "তাঁদের কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল," অথবা অনুরূপ শব্দে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি এতে আমার এই প্রচেষ্টা তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করে দেন এবং তা যেন তাঁর নিকট জান্নাতুন নাঈমে (নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানসমূহে) সফলতার কারণ হয়। কারণ তিনিই হৃদয়ের গভীরে লুকায়িত বিষয়সমূহ এবং চেতনার অন্তরালে গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত। আর তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত দ্বারা আমাদের ও তাঁদেরকে আবৃত করেন, তাঁর প্রশস্ত ক্ষমা দ্বারা আমাদের ও তাঁদের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন এবং আমাদের যেন তাঁদের দলভুক্ত করে হাশর করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী। তাঁর উপরই আমরা ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তন করি। আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি এতে আমার এই প্রচেষ্টা তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করে দেন এবং তা যেন তাঁর নিকট জান্নাতুন নাঈমে (নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানসমূহে) সফলতার কারণ হয়। কারণ তিনিই হৃদয়ের গভীরে লুকায়িত বিষয়সমূহ এবং চেতনার অন্তরালে গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত। আর তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত দ্বারা আমাদের ও তাঁদেরকে আবৃত করেন, তাঁর প্রশস্ত ক্ষমা দ্বারা আমাদের ও তাঁদের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন এবং আমাদের যেন তাঁদের দলভুক্ত করে হাশর করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী। তাঁর উপরই আমরা ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তন করি। আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كتاب العقائد
(جواب الشيخ محمد بن عبد الوهاب لأهل القصيم في بيان عقيدته إجمالا)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال شيخ الإسلام: العالم الرباني، والصديق الثاني، مجدد الدعوة الإسلامية، والملة الحنيفية، أوحد العلماء، وأورع الزهاد; الشيخ: محمد بن عبد الوهاب; أجزل الله له الأجر والثواب، وأسكنه الجنة بغير حساب، لما سأله أهل القصيم عن عقيدته:
بسم الله الرحمن الرحيم
أشهد الله ومن حضرني من الملائكة، وأشهدكم: أني أعتقد ما اعتقدته الفرقة الناجية، أهل السنة والجماعة، من الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره، ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير تحريف ولا تعطيل، بل أعتقد أن الله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء وهو السميع البصير؛ فلا أنفي عنه ما وصف به نفسه، ولا أحرف الكلم عن مواضعه، ولا ألحد في أسمائه وآياته، ولا أكيف، ولا أمثل صفاته تعالى بصفات خلقه; لأنه تعالى لا سمي له، ولا كفؤ له، ولا ند له، ولا يقاس بخلقه.
(جواب الشيخ محمد بن عبد الوهاب لأهل القصيم في بيان عقيدته إجمالا)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال شيخ الإسلام: العالم الرباني، والصديق الثاني، مجدد الدعوة الإسلامية، والملة الحنيفية، أوحد العلماء، وأورع الزهاد; الشيخ: محمد بن عبد الوهاب; أجزل الله له الأجر والثواب، وأسكنه الجنة بغير حساب، لما سأله أهل القصيم عن عقيدته:
بسم الله الرحمن الرحيم
أشهد الله ومن حضرني من الملائكة، وأشهدكم: أني أعتقد ما اعتقدته الفرقة الناجية، أهل السنة والجماعة، من الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره، ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير تحريف ولا تعطيل، بل أعتقد أن الله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء وهو السميع البصير؛ فلا أنفي عنه ما وصف به نفسه، ولا أحرف الكلم عن مواضعه، ولا ألحد في أسمائه وآياته، ولا أكيف، ولا أمثل صفاته تعالى بصفات خلقه; لأنه تعالى لا سمي له، ولا كفؤ له، ولا ند له، ولا يقاس بخلقه.
আকীদা বিষয়ক গ্রন্থ
(শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক কাসিমের অধিবাসীদের নিকট তাঁর আকীদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সংক্রান্ত জবাব)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
শাইখুল ইসলাম, রব্বানী আলিম, দ্বিতীয় সিদ্দীক, ইসলামী দাওয়াতের এবং মিল্লাতে হানীফিয়্যাহর সংস্কারক, উলামাদের মধ্যে একক এবং পরহেজগারদের মধ্যে সর্বাধিক সংযমী; শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করান) যখন কাসিমের অধিবাসীরা তাঁর আকীদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন তিনি বললেন:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, এবং আমার নিকট উপস্থিত ফেরেশতাগণকে সাক্ষী রাখছি, এবং তোমাদেরকেও সাক্ষী রাখছি: আমি সেই আকীদা পোষণ করি যা নাজাতপ্রাপ্ত দল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত পোষণ করে।
তা হলো: আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি, এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা।
আর আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানে নিজের যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা— কোনো প্রকার তাহরীফ (বিকৃতি) বা তা'তীল (অস্বীকার/নিষ্ক্রিয়করণ) ব্যতিরেকে।
বরং আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার মতো কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
সুতরাং তিনি নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন, আমি তা অস্বীকার করি না, আর আমি শব্দসমূহকে তার স্থান থেকে বিকৃত করি না, আর আমি তাঁর নামসমূহ ও নিদর্শনাবলীতে ইলহাদ (ধর্মদ্রোহিতা/বিচ্যুতি) করি না। আর আমি তাঁর গুণাবলীকে কাইফিয়্যাত (স্বরূপ নির্ধারণ) করি না, এবং তাঁর সৃষ্টিজীবের গুণাবলীর সাথে সাদৃশ্যও দেই না। কারণ তিনি সুমহান, তাঁর কোনো সমনামধারী নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, এবং তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না।
(শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক কাসিমের অধিবাসীদের নিকট তাঁর আকীদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সংক্রান্ত জবাব)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
শাইখুল ইসলাম, রব্বানী আলিম, দ্বিতীয় সিদ্দীক, ইসলামী দাওয়াতের এবং মিল্লাতে হানীফিয়্যাহর সংস্কারক, উলামাদের মধ্যে একক এবং পরহেজগারদের মধ্যে সর্বাধিক সংযমী; শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করান) যখন কাসিমের অধিবাসীরা তাঁর আকীদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন তিনি বললেন:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, এবং আমার নিকট উপস্থিত ফেরেশতাগণকে সাক্ষী রাখছি, এবং তোমাদেরকেও সাক্ষী রাখছি: আমি সেই আকীদা পোষণ করি যা নাজাতপ্রাপ্ত দল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত পোষণ করে।
তা হলো: আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি, এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা।
আর আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানে নিজের যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা— কোনো প্রকার তাহরীফ (বিকৃতি) বা তা'তীল (অস্বীকার/নিষ্ক্রিয়করণ) ব্যতিরেকে।
বরং আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার মতো কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
সুতরাং তিনি নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন, আমি তা অস্বীকার করি না, আর আমি শব্দসমূহকে তার স্থান থেকে বিকৃত করি না, আর আমি তাঁর নামসমূহ ও নিদর্শনাবলীতে ইলহাদ (ধর্মদ্রোহিতা/বিচ্যুতি) করি না। আর আমি তাঁর গুণাবলীকে কাইফিয়্যাত (স্বরূপ নির্ধারণ) করি না, এবং তাঁর সৃষ্টিজীবের গুণাবলীর সাথে সাদৃশ্যও দেই না। কারণ তিনি সুমহান, তাঁর কোনো সমনামধারী নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, এবং তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فإنه سبحانه أعلم بنفسه وبغيره، وأصدق قيلا، وأحسن حديثا، فنَّزه نفسه عما وصفه به المخالفون، من أهل التكييف، والتمثيل، وعما نفاه عنه النافون، من أهل التحريف والتعطيل، فقال: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} ، [سورة الصّافات الآيتات: 180-181-182] .
والفرقة الناجية وسط في باب أفعاله تعالى، بين القدرية والجبرية، وهم وسط في باب وعيد الله، بين المرجئة والوعيدية. وهم وسط في باب الإيمان والدين، بين الحرورية والمعتزلة، وبين المرجئة والجهمية، وهم وسط في باب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الروافض، والخوارج.
وأعتقد: أن القرآن كلام الله، منْزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود ; وأنه تكلم به حقيقة، وأنزله على عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وسفيره بينه وبين عباده، نبينا محمد صلى الله عليه وسلم. وأؤمن: بأن الله فعال لما يريد، ولا يكون شيء إلا بإرادته، ولا يخرج شيء عن مشيئته، وليس شيء في العالم يخرج عن تقديره، ولا يصدر إلا عن تدبيره، ولا محيد لأحد عن القدر المحدود، ولا يتجاوز ما خط له في اللوح المسطور.
وأعتقد الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد
والفرقة الناجية وسط في باب أفعاله تعالى، بين القدرية والجبرية، وهم وسط في باب وعيد الله، بين المرجئة والوعيدية. وهم وسط في باب الإيمان والدين، بين الحرورية والمعتزلة، وبين المرجئة والجهمية، وهم وسط في باب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الروافض، والخوارج.
وأعتقد: أن القرآن كلام الله، منْزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود ; وأنه تكلم به حقيقة، وأنزله على عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وسفيره بينه وبين عباده، نبينا محمد صلى الله عليه وسلم. وأؤمن: بأن الله فعال لما يريد، ولا يكون شيء إلا بإرادته، ولا يخرج شيء عن مشيئته، وليس شيء في العالم يخرج عن تقديره، ولا يصدر إلا عن تدبيره، ولا محيد لأحد عن القدر المحدود، ولا يتجاوز ما خط له في اللوح المسطور.
وأعتقد الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد
নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নিজ সম্পর্কে এবং অন্য সকল কিছু সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, কথায় সর্বাধিক সত্যবাদী এবং বর্ণনায় সর্বোত্তম। সুতরাং তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন সেই সকল বিষয় থেকে, যা বিরোধীরা—অর্থাৎ কাইফিয়্যাত আরোপকারী (আহলুত-তাকয়ীফ) ও সাদৃশ্য স্থাপনকারী (আহলুত-তামসীল) সম্প্রদায়—তাঁর প্রতি আরোপ করেছে; এবং তিনি নিজেকে মুক্ত রেখেছেন সেই সকল বিষয় থেকে, যা অস্বীকারকারীরা—অর্থাৎ বিকৃতকারী (আহলুত-তাহরীফ) ও গুণাবলী অস্বীকারকারী (আহলুত-তা'তীল) সম্প্রদায়—তাঁর থেকে নাকচ করেছে।
তিনি বলেছেন:
**{পবিত্র আপনার প্রতিপালক, যিনি পরাক্রমশালী প্রতিপালক, তারা যা আরোপ করে তা থেকে; আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের উপর; এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।}** [সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ১৮০-১৮২]
আর মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি (আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ) আল্লাহর কর্মসমূহের অধ্যায়ে কাদারিয়্যাহ ও জাবরিয়্যাহ-এর মাঝে মধ্যপন্থী (ওয়াসাত)। তারা আল্লাহর শাস্তির সতর্কবাণীর (ওয়া'ঈদ) অধ্যায়ে মুরজিয়াহ ও ওয়া'ইদিয়্যাহ-এর মাঝে মধ্যপন্থী। তারা ঈমান ও দীনের অধ্যায়ে হারূরীয়াহ ও মু'তাযিলাহ-এর মাঝে এবং মুরজিয়াহ ও জাহমিয়্যাহ-এর মাঝে মধ্যপন্থী। আর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের অধ্যায়ে রাওয়াফিদ (শিয়া) ও খাওয়াজিজ-এর মাঝে মধ্যপন্থী।
আমি বিশ্বাস করি যে, কুরআন আল্লাহর কালাম (বাণী), যা নাযিলকৃত, সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এর প্রত্যাবর্তন। আর তিনি বাস্তবে (হাকীকাতান) তা দ্বারা কথা বলেছেন এবং তা নাযিল করেছেন তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর।
আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যা চান, তাই করেন। তাঁর ইরাদা (ইচ্ছা) ব্যতীত কিছুই হয় না এবং তাঁর মাশিয়্যাহ (সংকল্প) থেকে কিছুই বাইরে যায় না। জগতের কোনো কিছুই তাঁর তাকদীর (নির্ধারণ) থেকে বাইরে যায় না এবং তাঁর তাদবীর (ব্যবস্থাপনা) ব্যতীত প্রকাশ পায় না। নির্ধারিত তাকদীর থেকে কারো জন্য কোনো নিষ্কৃতি নেই, আর লিপিবদ্ধ ফলকে (লাওহে মাহফূয) তার জন্য যা কিছু লেখা হয়েছে, তা সে অতিক্রম করতে পারে না।
আর আমি বিশ্বাস করি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তীতে যা কিছু ঘটবে বলে সংবাদ দিয়েছেন, তার সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।
তিনি বলেছেন:
**{পবিত্র আপনার প্রতিপালক, যিনি পরাক্রমশালী প্রতিপালক, তারা যা আরোপ করে তা থেকে; আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের উপর; এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।}** [সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ১৮০-১৮২]
আর মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি (আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ) আল্লাহর কর্মসমূহের অধ্যায়ে কাদারিয়্যাহ ও জাবরিয়্যাহ-এর মাঝে মধ্যপন্থী (ওয়াসাত)। তারা আল্লাহর শাস্তির সতর্কবাণীর (ওয়া'ঈদ) অধ্যায়ে মুরজিয়াহ ও ওয়া'ইদিয়্যাহ-এর মাঝে মধ্যপন্থী। তারা ঈমান ও দীনের অধ্যায়ে হারূরীয়াহ ও মু'তাযিলাহ-এর মাঝে এবং মুরজিয়াহ ও জাহমিয়্যাহ-এর মাঝে মধ্যপন্থী। আর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের অধ্যায়ে রাওয়াফিদ (শিয়া) ও খাওয়াজিজ-এর মাঝে মধ্যপন্থী।
আমি বিশ্বাস করি যে, কুরআন আল্লাহর কালাম (বাণী), যা নাযিলকৃত, সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এর প্রত্যাবর্তন। আর তিনি বাস্তবে (হাকীকাতান) তা দ্বারা কথা বলেছেন এবং তা নাযিল করেছেন তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর।
আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যা চান, তাই করেন। তাঁর ইরাদা (ইচ্ছা) ব্যতীত কিছুই হয় না এবং তাঁর মাশিয়্যাহ (সংকল্প) থেকে কিছুই বাইরে যায় না। জগতের কোনো কিছুই তাঁর তাকদীর (নির্ধারণ) থেকে বাইরে যায় না এবং তাঁর তাদবীর (ব্যবস্থাপনা) ব্যতীত প্রকাশ পায় না। নির্ধারিত তাকদীর থেকে কারো জন্য কোনো নিষ্কৃতি নেই, আর লিপিবদ্ধ ফলকে (লাওহে মাহফূয) তার জন্য যা কিছু লেখা হয়েছে, তা সে অতিক্রম করতে পারে না।
আর আমি বিশ্বাস করি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তীতে যা কিছু ঘটবে বলে সংবাদ দিয়েছেন, তার সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الموت، فأومن بفتنة القبر ونعيمه، وبإعادة الأرواح إلى الأجساد، فيقوم الناس لرب العالمين، حفاة عراة غرلا، تدنو منهم الشمس، وتنصب الموازين، وتوزن بها أعمال العباد، {فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ} ، [سورة المؤمنون، الآيتان: 102-103] ،?وتنشر الدواوين، فآخذ كتابه بيمينه، وآخذ كتابه بشماله.
وأومن: بحوض نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بعرصة القيامة، ماؤه أشد بياضا من اللبن، وأحلى من العسل، آنيته عدد نجوم السماء، من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدا، وأومن بأن الصراط منصوب على شفير جهنم، يمر به الناس على قدر أعمالهم.
وأومن بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم وأنه أول شافع، وأول مشفع; ولا ينكر شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم إلا أهل البدع والضلال; ولكنها لا تكون إلا من بعد الإذن والرضى، كما قال تعالى: {وَلا يَشْفَعُونَ إِلاَّ لِمَنِ ارْتَضَى} ، [سورة الأنبياء آية: 28] . وقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ} ، [سورة البقرة آية: 255] . وقال تعالى: {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلاَّ مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} ، [سورة النجم آية: 26] . وهو: لا يرضى إلا التوحيد، ولا يأذن إلا لأهله; وأما المشركون: فليس لهم من الشفاعة نصيب، كما قال تعالى: {فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} ، [سورة المدثر آية: 48] .
وأومن: بحوض نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بعرصة القيامة، ماؤه أشد بياضا من اللبن، وأحلى من العسل، آنيته عدد نجوم السماء، من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدا، وأومن بأن الصراط منصوب على شفير جهنم، يمر به الناس على قدر أعمالهم.
وأومن بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم وأنه أول شافع، وأول مشفع; ولا ينكر شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم إلا أهل البدع والضلال; ولكنها لا تكون إلا من بعد الإذن والرضى، كما قال تعالى: {وَلا يَشْفَعُونَ إِلاَّ لِمَنِ ارْتَضَى} ، [سورة الأنبياء آية: 28] . وقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ} ، [سورة البقرة آية: 255] . وقال تعالى: {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلاَّ مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} ، [سورة النجم آية: 26] . وهو: لا يرضى إلا التوحيد، ولا يأذن إلا لأهله; وأما المشركون: فليس لهم من الشفاعة نصيب، كما قال تعالى: {فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} ، [سورة المدثر آية: 48] .
মৃত্যু। আমি কবরের ফিতনা (পরীক্ষা) ও তার নিয়ামত (সুখ)-এ বিশ্বাস করি, এবং আত্মাসমূহকে দেহে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিশ্বাস করি। ফলে মানুষ জগৎসমূহের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে খালি পায়ে, উলঙ্গ অবস্থায়, অ-খতনাকৃত (অ-সুন্নাতকৃত) অবস্থায়। সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে, দাঁড়িপাল্লা (মিযান) স্থাপন করা হবে, যার দ্বারা বান্দাদের আমলসমূহ পরিমাপ করা হবে।
{فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ}
অর্থাৎ: "সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।" [সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১০২-১০৩]।
আর আমলনামা (দাওয়াবীন) উন্মোচিত হবে। ফলে কেউ তার কিতাব ডান হাতে গ্রহণ করবে, আর কেউ তার কিতাব বাম হাতে গ্রহণ করবে।
আমি কিয়ামতের ময়দানে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাউযে (হাউজে কাউসার) বিশ্বাস করি। এর পানি দুধের চেয়েও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। এর পানপাত্রসমূহ আকাশের তারকারাজির সংখ্যার সমান। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে, সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। আমি আরও বিশ্বাস করি যে, সিরাত (পুল) জাহান্নামের কিনারে স্থাপন করা হবে, মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী তা অতিক্রম করবে।
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফা'আতে (সুপারিশে) বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করি যে, তিনি প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম যার সুপারিশ গৃহীত হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফা'আতকে কেবল বিদ'আত ও ভ্রষ্টতার অনুসারীরাই অস্বীকার করে। তবে তা অনুমতি (ইযন) ও সন্তুষ্টি (রিদা) লাভের পরই কেবল সংঘটিত হবে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
{وَلا يَشْفَعُونَ إِلاَّ لِمَنِ ارْتَضَى}
অর্থাৎ: "আর তারা সুপারিশ করে না, তবে যার জন্য তিনি সন্তুষ্ট।" [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৮]।
এবং তিনি বলেছেন:
{مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ}
অর্থাৎ: "কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?" [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫]।
এবং তিনি বলেছেন:
{وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلاَّ مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى}
অর্থাৎ: "আর আসমানসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তার জন্য অনুমতি দেওয়ার পর।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]।
আর তিনি তাওহীদ (একত্ববাদ) ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হন না এবং এর (তাওহীদের) অনুসারী ছাড়া অন্য কারো জন্য অনুমতি দেন না। পক্ষান্তরে মুশরিকদের (শির্ককারীদের) জন্য শাফা'আতের কোনো অংশ নেই, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
{فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ}
অর্থাৎ: "সুতরাং সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না।" [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪৮]।
{فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ}
অর্থাৎ: "সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।" [সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১০২-১০৩]।
আর আমলনামা (দাওয়াবীন) উন্মোচিত হবে। ফলে কেউ তার কিতাব ডান হাতে গ্রহণ করবে, আর কেউ তার কিতাব বাম হাতে গ্রহণ করবে।
আমি কিয়ামতের ময়দানে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাউযে (হাউজে কাউসার) বিশ্বাস করি। এর পানি দুধের চেয়েও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। এর পানপাত্রসমূহ আকাশের তারকারাজির সংখ্যার সমান। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে, সে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। আমি আরও বিশ্বাস করি যে, সিরাত (পুল) জাহান্নামের কিনারে স্থাপন করা হবে, মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী তা অতিক্রম করবে।
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফা'আতে (সুপারিশে) বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করি যে, তিনি প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম যার সুপারিশ গৃহীত হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফা'আতকে কেবল বিদ'আত ও ভ্রষ্টতার অনুসারীরাই অস্বীকার করে। তবে তা অনুমতি (ইযন) ও সন্তুষ্টি (রিদা) লাভের পরই কেবল সংঘটিত হবে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
{وَلا يَشْفَعُونَ إِلاَّ لِمَنِ ارْتَضَى}
অর্থাৎ: "আর তারা সুপারিশ করে না, তবে যার জন্য তিনি সন্তুষ্ট।" [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৮]।
এবং তিনি বলেছেন:
{مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ}
অর্থাৎ: "কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?" [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫]।
এবং তিনি বলেছেন:
{وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلاَّ مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى}
অর্থাৎ: "আর আসমানসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তার জন্য অনুমতি দেওয়ার পর।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]।
আর তিনি তাওহীদ (একত্ববাদ) ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হন না এবং এর (তাওহীদের) অনুসারী ছাড়া অন্য কারো জন্য অনুমতি দেন না। পক্ষান্তরে মুশরিকদের (শির্ককারীদের) জন্য শাফা'আতের কোনো অংশ নেই, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
{فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ}
অর্থাৎ: "সুতরাং সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না।" [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪৮]।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأومن بأن الجنة والنار مخلوقتان، وأنهما اليوم موجودتان، وأنهما لا يفنيان، وأن المؤمنين يرون ربهم بأبصارهم يوم القيامة، كما يرون القمر ليلة البدر، لا يضامون في رؤيته.
وأومن بأن نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين والمرسلين، ولا يصح إيمان عبد حتى يؤمن برسالته، ويشهد بنبوته; وأن أفضل أمته أبو بكر الصديق، ثم عمر الفاروق، ثم عثمان ذو النورين، ثم علي المرتضى، ثم بقية العشرة; ثم أهل بدر، ثم أهل الشجرة أهل بيعة الرضوان، ثم سائر الصحابة رضي الله عنهم. وأتولى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأذكر محاسنهم، وأترضى عنهم، وأستغفر لهم، وأكف عن مساويهم، وأسكت عما شجر بينهم، وأعتقد فضلهم، عملا بقوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإيْمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} ، [سورة الحشر آية: 10] . وأترضى عن أمهات المؤمنين المطهرات من كل سوء. وأقر بكرامات الأولياء وما لهم من المكاشفات، إلا أنهم لا يستحقون من حق الله تعالى شيئا، ولا يطلب منهم ما لا يقدر عليه إلا الله. ولا أشهد لأحد من المسلمين بجنة ولا نار، إلا من شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكني أرجو للمحسن، وأخاف على المسيء. ولا أكفر أحدا من المسلمين بذنب، ولا أخرجه من دائرة الإسلام. وأرى الجهاد ماضيا مع كل إمام: برا كان، أو
وأومن بأن نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين والمرسلين، ولا يصح إيمان عبد حتى يؤمن برسالته، ويشهد بنبوته; وأن أفضل أمته أبو بكر الصديق، ثم عمر الفاروق، ثم عثمان ذو النورين، ثم علي المرتضى، ثم بقية العشرة; ثم أهل بدر، ثم أهل الشجرة أهل بيعة الرضوان، ثم سائر الصحابة رضي الله عنهم. وأتولى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأذكر محاسنهم، وأترضى عنهم، وأستغفر لهم، وأكف عن مساويهم، وأسكت عما شجر بينهم، وأعتقد فضلهم، عملا بقوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإيْمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} ، [سورة الحشر آية: 10] . وأترضى عن أمهات المؤمنين المطهرات من كل سوء. وأقر بكرامات الأولياء وما لهم من المكاشفات، إلا أنهم لا يستحقون من حق الله تعالى شيئا، ولا يطلب منهم ما لا يقدر عليه إلا الله. ولا أشهد لأحد من المسلمين بجنة ولا نار، إلا من شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكني أرجو للمحسن، وأخاف على المسيء. ولا أكفر أحدا من المسلمين بذنب، ولا أخرجه من دائرة الإسلام. وأرى الجهاد ماضيا مع كل إمام: برا كان، أو
আমি বিশ্বাস করি যে জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্ট (মাখলুকাত), এবং তারা বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে, এবং তারা কখনও বিলীন হবে না (অবিনশ্বর)।
এবং মুমিনগণ কিয়ামতের দিন তাদের রবকে স্বচক্ষে দর্শন করবে, যেমন তারা পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখে—তাঁকে দেখতে তাদের কোনো প্রকার অসুবিধা বা ভিড় হবে না (অর্থাৎ, দর্শন নিয়ে কোনো মতভেদ বা কষ্ট থাকবে না)।
আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন নবী ও রাসূলগণের সর্বশেষ (খাতামুন নাবিয়্যীন ওয়াল মুরসালীন), এবং কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত বিশুদ্ধ হবে না যতক্ষণ না সে তাঁর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য প্রদান করে।
এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক, অতঃপর উমর আল-ফারুক, অতঃপর উসমান যুন-নূরাইন, অতঃপর আলী আল-মুরতাযা, অতঃপর অবশিষ্ট দশজন (আশারা মুবাশশারা); অতঃপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, অতঃপর বৃক্ষের নিচে বাইয়াতকারীগণ (বাইয়াতুর রিদওয়ানের সাথীগণ), অতঃপর অন্যান্য সকল সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি (তাওয়াল্লী করি), তাদের গুণাবলী আলোচনা করি, তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করি, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, তাদের ত্রুটিসমূহ আলোচনা করা থেকে বিরত থাকি, এবং তাদের মধ্যে যে বিবাদ ঘটেছে সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করি, এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করি। এটি করি আল্লাহ তাআলার এই বাণী অনুসারে: **{আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং ঈমানের সাথে আমাদের পূর্ববর্তী ভাইদেরকে ক্ষমা করুন, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অতিশয় দয়ালু, পরম করুণাময়।}** [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০]।
আমি সকল মন্দ থেকে পবিত্র উম্মাহাতুল মুমিনীনদের (বিশ্বাসীদের মাতাগণ) প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করি। আমি আওলিয়াদের কারামত (অলৌকিকতা) এবং তাদের মাকশিফাতকে (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) স্বীকার করি, তবে তারা আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য কোনো কিছুরই হকদার নন, এবং তাদের কাছে এমন কিছু চাওয়া যাবে না যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে সক্ষম নয়।
আমি কোনো মুসলিমের জন্য জান্নাত বা জাহান্নামের সাক্ষ্য প্রদান করি না, তবে যার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষ্য দিয়েছেন (তার ব্যতিক্রম)। কিন্তু আমি নেক আমলকারীর জন্য আশা পোষণ করি এবং পাপীর জন্য ভীত থাকি। আমি কোনো মুসলিমকে কেবল পাপের কারণে কাফির ঘোষণা করি না, এবং তাকে ইসলামের পরিধি থেকে বহিষ্কার করি না।
এবং আমি মনে করি জিহাদ প্রতিটি শাসকের (ইমামের) অধীনেই চলমান থাকবে, চাই সে সৎকর্মশীল হোক অথবা...
এবং মুমিনগণ কিয়ামতের দিন তাদের রবকে স্বচক্ষে দর্শন করবে, যেমন তারা পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখে—তাঁকে দেখতে তাদের কোনো প্রকার অসুবিধা বা ভিড় হবে না (অর্থাৎ, দর্শন নিয়ে কোনো মতভেদ বা কষ্ট থাকবে না)।
আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন নবী ও রাসূলগণের সর্বশেষ (খাতামুন নাবিয়্যীন ওয়াল মুরসালীন), এবং কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত বিশুদ্ধ হবে না যতক্ষণ না সে তাঁর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য প্রদান করে।
এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক, অতঃপর উমর আল-ফারুক, অতঃপর উসমান যুন-নূরাইন, অতঃপর আলী আল-মুরতাযা, অতঃপর অবশিষ্ট দশজন (আশারা মুবাশশারা); অতঃপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, অতঃপর বৃক্ষের নিচে বাইয়াতকারীগণ (বাইয়াতুর রিদওয়ানের সাথীগণ), অতঃপর অন্যান্য সকল সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি (তাওয়াল্লী করি), তাদের গুণাবলী আলোচনা করি, তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করি, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, তাদের ত্রুটিসমূহ আলোচনা করা থেকে বিরত থাকি, এবং তাদের মধ্যে যে বিবাদ ঘটেছে সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করি, এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করি। এটি করি আল্লাহ তাআলার এই বাণী অনুসারে: **{আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং ঈমানের সাথে আমাদের পূর্ববর্তী ভাইদেরকে ক্ষমা করুন, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অতিশয় দয়ালু, পরম করুণাময়।}** [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০]।
আমি সকল মন্দ থেকে পবিত্র উম্মাহাতুল মুমিনীনদের (বিশ্বাসীদের মাতাগণ) প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করি। আমি আওলিয়াদের কারামত (অলৌকিকতা) এবং তাদের মাকশিফাতকে (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) স্বীকার করি, তবে তারা আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য কোনো কিছুরই হকদার নন, এবং তাদের কাছে এমন কিছু চাওয়া যাবে না যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে সক্ষম নয়।
আমি কোনো মুসলিমের জন্য জান্নাত বা জাহান্নামের সাক্ষ্য প্রদান করি না, তবে যার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষ্য দিয়েছেন (তার ব্যতিক্রম)। কিন্তু আমি নেক আমলকারীর জন্য আশা পোষণ করি এবং পাপীর জন্য ভীত থাকি। আমি কোনো মুসলিমকে কেবল পাপের কারণে কাফির ঘোষণা করি না, এবং তাকে ইসলামের পরিধি থেকে বহিষ্কার করি না।
এবং আমি মনে করি জিহাদ প্রতিটি শাসকের (ইমামের) অধীনেই চলমান থাকবে, চাই সে সৎকর্মশীল হোক অথবা...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فاجرا، وصلاة الجماعة خلفهم جائزة؛ والجهاد ماض منذ بعث الله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى أن يقاتل آخر هذه الأمة الدجال، لا يبطله جور جائر، ولا عدل عادل.
وأرى وجوب السمع والطاعة لأئمة المسلمين برهم وفاجرهم، ما لم يأمروا بمعصية الله. ومن ولي الخلافة، واجتمع عليه الناس، ورضوا به، وغلبهم بسيفه حتى صار خليفة وجبت طاعته، وحرم الخروج عليه. وأرى هجر أهل البدع، ومباينتهم حتى يتوبوا، وأحكم عليهم بالظاهر، وأكل سرائرهم إلى الله. وأعتقد أن كل محدثة في الدين بدعة.
وأعتقد أن الإيمان: قول باللسان، وعمل بالأركان، واعتقاد بالجنان، يزيد بالطاعة، وينقص بالمعصية ; وهو بضع وسبعون شعبة: أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق. وأرى وجوب الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، على ما توجبه الشريعة المحمدية الطاهرة.
فهذه عقيدة وجيزة، حررتها وأنا مشتغل البال، لتطلعوا على ما عندي، والله على ما نقول وكيل.
ثم لا يخفى عليكم أنه بلغني أن رسالة سليمان بن سحيم قد وصلت إليكم، وأنه قبلها وصدقها بعض المنتمين للعلم في جهتكم، والله يعلم أن الرجل افترى علي أمورا لم أقلها، ولم يأت أكثرها على بالي.
وأرى وجوب السمع والطاعة لأئمة المسلمين برهم وفاجرهم، ما لم يأمروا بمعصية الله. ومن ولي الخلافة، واجتمع عليه الناس، ورضوا به، وغلبهم بسيفه حتى صار خليفة وجبت طاعته، وحرم الخروج عليه. وأرى هجر أهل البدع، ومباينتهم حتى يتوبوا، وأحكم عليهم بالظاهر، وأكل سرائرهم إلى الله. وأعتقد أن كل محدثة في الدين بدعة.
وأعتقد أن الإيمان: قول باللسان، وعمل بالأركان، واعتقاد بالجنان، يزيد بالطاعة، وينقص بالمعصية ; وهو بضع وسبعون شعبة: أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق. وأرى وجوب الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، على ما توجبه الشريعة المحمدية الطاهرة.
فهذه عقيدة وجيزة، حررتها وأنا مشتغل البال، لتطلعوا على ما عندي، والله على ما نقول وكيل.
ثم لا يخفى عليكم أنه بلغني أن رسالة سليمان بن سحيم قد وصلت إليكم، وأنه قبلها وصدقها بعض المنتمين للعلم في جهتكم، والله يعلم أن الرجل افترى علي أمورا لم أقلها، ولم يأت أكثرها على بالي.
আর, তাদের (শাসকদের) পেছনে জামা'আতে সালাত আদায় করা বৈধ, যদিও তারা পাপাচারী হয়। আর জিহাদ আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করার সময় থেকে শুরু করে এই উম্মতের শেষ ব্যক্তি দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করা পর্যন্ত চলমান থাকবে। কোনো অত্যাচারীর অত্যাচার কিংবা কোনো ন্যায়পরায়ণের ন্যায়পরায়ণতা একে বাতিল করতে পারে না।
আমি মুসলিম শাসকদের—তারা নেককার হোক বা পাপাচারী—তাদের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্যকে ওয়াজিব মনে করি, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়। আর যে ব্যক্তি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে, এবং মানুষ যার উপর ঐক্যবদ্ধ হয় ও তাকে মেনে নেয়, অথবা সে তলোয়ারের মাধ্যমে তাদের উপর বিজয়ী হয়ে খলীফা হয়, তার আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম।
আমি বিদ'আতপন্থীদের বর্জন করা এবং তাদের থেকে দূরে থাকাকে আবশ্যক মনে করি, যতক্ষণ না তারা তওবা করে। আমি তাদের বাহ্যিক আচরণের ভিত্তিতে ফায়সালা করি, আর তাদের ভেতরের বিষয় আল্লাহর কাছে সোপর্দ করি। আমি বিশ্বাস করি যে, দীনের মধ্যে সৃষ্ট প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদ'আত (নব-উদ্ভাবন)।
আমি বিশ্বাস করি যে, ঈমান হলো: জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল এবং অন্তর দ্বারা বিশ্বাস; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে হ্রাস পায়। আর এটি সত্তর-এর অধিক শাখা: এর সর্বোচ্চ শাখা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য প্রদান, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।
আমি পবিত্র মুহাম্মাদীয় শরীয়ত যা আবশ্যক করে, সেই অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধকে ওয়াজিব মনে করি।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত আকিদা (বিশ্বাস), যা আমি মানসিক ব্যস্ততার মাঝেও লিপিবদ্ধ করলাম, যাতে আপনারা আমার অবস্থান সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আর আমরা যা বলছি, আল্লাহ তার সাক্ষী।
অতঃপর, আপনাদের কাছে গোপন নয় যে, আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে সুলাইমান ইবনে সুহাইমের চিঠি আপনাদের কাছে পৌঁছেছে, এবং আপনাদের অঞ্চলের জ্ঞানান্বেষী কিছু লোক তা গ্রহণ করেছে ও সত্য বলে মেনে নিয়েছে। আল্লাহ জানেন যে, লোকটি আমার উপর এমন সব বিষয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে যা আমি বলিনি, এবং এর অধিকাংশই আমার চিন্তাতেও আসেনি।
আমি মুসলিম শাসকদের—তারা নেককার হোক বা পাপাচারী—তাদের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্যকে ওয়াজিব মনে করি, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়। আর যে ব্যক্তি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে, এবং মানুষ যার উপর ঐক্যবদ্ধ হয় ও তাকে মেনে নেয়, অথবা সে তলোয়ারের মাধ্যমে তাদের উপর বিজয়ী হয়ে খলীফা হয়, তার আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম।
আমি বিদ'আতপন্থীদের বর্জন করা এবং তাদের থেকে দূরে থাকাকে আবশ্যক মনে করি, যতক্ষণ না তারা তওবা করে। আমি তাদের বাহ্যিক আচরণের ভিত্তিতে ফায়সালা করি, আর তাদের ভেতরের বিষয় আল্লাহর কাছে সোপর্দ করি। আমি বিশ্বাস করি যে, দীনের মধ্যে সৃষ্ট প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদ'আত (নব-উদ্ভাবন)।
আমি বিশ্বাস করি যে, ঈমান হলো: জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল এবং অন্তর দ্বারা বিশ্বাস; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে হ্রাস পায়। আর এটি সত্তর-এর অধিক শাখা: এর সর্বোচ্চ শাখা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য প্রদান, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।
আমি পবিত্র মুহাম্মাদীয় শরীয়ত যা আবশ্যক করে, সেই অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধকে ওয়াজিব মনে করি।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত আকিদা (বিশ্বাস), যা আমি মানসিক ব্যস্ততার মাঝেও লিপিবদ্ধ করলাম, যাতে আপনারা আমার অবস্থান সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আর আমরা যা বলছি, আল্লাহ তার সাক্ষী।
অতঃপর, আপনাদের কাছে গোপন নয় যে, আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে সুলাইমান ইবনে সুহাইমের চিঠি আপনাদের কাছে পৌঁছেছে, এবং আপনাদের অঞ্চলের জ্ঞানান্বেষী কিছু লোক তা গ্রহণ করেছে ও সত্য বলে মেনে নিয়েছে। আল্লাহ জানেন যে, লোকটি আমার উপর এমন সব বিষয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে যা আমি বলিনি, এবং এর অধিকাংশই আমার চিন্তাতেও আসেনি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فمنها قوله: إني مبطل كتب المذاهب الأربعة; وإني أقول: إن الناس من ستمائة سنة ليسوا على شيء، وإني أدعي الاجتهاد; وإني خارج عن التقليد; وإني أقول: إن اختلاف العلماء نقمة، وإني أكفر من توسل بالصالحين; وإني أكفر البوصيري لقوله: يا أكرم الخلق; وإني أقول: لو أقدر على هدم قبة رسول الله صلى الله عليه وسلم لهدمتها، ولو أقدر على الكعبة لأخذت ميزابها، وجعلت لها ميزابا من خشب، وإني أحرم زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم، وإني أنكر زيارة قبر الوالدين وغيرهما، وإني أكفر من حلف بغير الله، وإني أكفر ابن الفارض، وابن عربي; وإني أحرق دلائل الخيرات، وروض الرياحين، وأسميه روض الشياطين.
جوابي عن هذه المسائل أن أقول: سبحانك هذا بهتان عظيم; وقبله من بهت محمدا صلى الله عليه وسلم أنه يسب عيسى ابن مريم، ويسب الصالحين، فتشابهت قلوبهم بافتراء الكذب، وقول الزور; قال تعالى: {إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِآياتِ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ} ، [سورة النحل آية: 105] . بهتوه صلى الله عليه وسلم بأنه يقول: إن الملائكة، وعيسى، وعزيرا في النار; فأنزل الله في ذلك: {إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ} ، [سورة الأنبياء آية: 101] ، وأما المسائل الأخر، وهي: أني أقول لا يتم إسلام الإنسان حتى يعرف معنى لا إله إلا الله، وأني أعرف من
جوابي عن هذه المسائل أن أقول: سبحانك هذا بهتان عظيم; وقبله من بهت محمدا صلى الله عليه وسلم أنه يسب عيسى ابن مريم، ويسب الصالحين، فتشابهت قلوبهم بافتراء الكذب، وقول الزور; قال تعالى: {إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِآياتِ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ} ، [سورة النحل آية: 105] . بهتوه صلى الله عليه وسلم بأنه يقول: إن الملائكة، وعيسى، وعزيرا في النار; فأنزل الله في ذلك: {إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ} ، [سورة الأنبياء آية: 101] ، وأما المسائل الأخر، وهي: أني أقول لا يتم إسلام الإنسان حتى يعرف معنى لا إله إلا الله، وأني أعرف من
তন্মধ্যে একটি হলো তাদের এই উক্তি: "আমি চার মাযহাবের কিতাবসমূহ বাতিলকারী।" "এবং আমি বলি যে, গত ছয়শত বছর ধরে মানুষ কোনো সঠিক পথের উপর নেই।" "এবং আমি ইজতিহাদের দাবি করি; আর আমি তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) থেকে মুক্ত।" "এবং আমি বলি যে, উলামাদের মতপার্থক্য একটি অভিশাপ (নিকমাহ)।" "এবং আমি সেই ব্যক্তিকে কাফির বলি, যে সালেহীনদের (নেককারদের) মাধ্যমে তাওয়াসসুল (মাধ্যম গ্রহণ) করে।" "এবং আমি বুসীরীকে কাফির বলি, তার এই উক্তির জন্য: 'হে সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ' (ইয়া আকরামাল খালক)।" "এবং আমি বলি যে, যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গম্বুজটি ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখতাম, তবে আমি তা ভেঙে ফেলতাম।" "আর যদি আমি কা'বার উপর ক্ষমতা রাখতাম, তবে আমি তার মিযাব (বৃষ্টির নালা) খুলে নিতাম এবং তার জন্য কাঠের একটি মিযাব তৈরি করে দিতাম।" "এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারত করা হারাম মনে করি, আর আমি পিতা-মাতা ও অন্যান্যদের কবর যিয়ারত করা অস্বীকার করি।" "এবং আমি সেই ব্যক্তিকে কাফির বলি, যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করে।" "এবং আমি ইবনুল ফারিদ ও ইবনু আরাবীকে কাফির বলি।" "এবং আমি 'দালাইলুল খাইরাত' ও 'রাওদুর রিয়াহিন' কিতাব দুটি পুড়িয়ে দেই, আর শেষোক্তটিকে 'রাওদুশ শায়াতীন' (শয়তানদের বাগান) নামে অভিহিত করি।"
এই সকল মাসআলা (বিষয়) সম্পর্কে আমার জবাব হলো এই যে, আমি বলি: সুবহানাকা (আপনি পবিত্র), এটি এক মহা অপবাদ (বুহতান আযীম)। আর এর পূর্বে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অপবাদ দিয়েছিল যে, তিনি ঈসা ইবনু মারইয়ামকে এবং সালেহীনদেরকে গালি দেন—মিথ্যা রটনা ও মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে তাদের অন্তরগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
**{নিশ্চয়ই তারাই মিথ্যা রটনা করে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না; আর তারাই হলো মিথ্যাবাদী।}** [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১০৫]।
তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর অপবাদ দিয়েছিল যে, তিনি বলেন: ফেরেশতাগণ, ঈসা ও উযাইর জাহান্নামে থাকবে। তখন আল্লাহ এ বিষয়ে নাযিল করেন:
**{নিশ্চয়ই যাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তারা তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে থাকবে।}** [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০১]।
আর অন্যান্য মাসআলাসমূহ, যা হলো: আমি বলি যে, কোনো মানুষের ইসলাম পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ জানে, এবং আমি জানি যে...
এই সকল মাসআলা (বিষয়) সম্পর্কে আমার জবাব হলো এই যে, আমি বলি: সুবহানাকা (আপনি পবিত্র), এটি এক মহা অপবাদ (বুহতান আযীম)। আর এর পূর্বে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অপবাদ দিয়েছিল যে, তিনি ঈসা ইবনু মারইয়ামকে এবং সালেহীনদেরকে গালি দেন—মিথ্যা রটনা ও মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে তাদের অন্তরগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
**{নিশ্চয়ই তারাই মিথ্যা রটনা করে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না; আর তারাই হলো মিথ্যাবাদী।}** [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১০৫]।
তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর অপবাদ দিয়েছিল যে, তিনি বলেন: ফেরেশতাগণ, ঈসা ও উযাইর জাহান্নামে থাকবে। তখন আল্লাহ এ বিষয়ে নাযিল করেন:
**{নিশ্চয়ই যাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তারা তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে থাকবে।}** [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০১]।
আর অন্যান্য মাসআলাসমূহ, যা হলো: আমি বলি যে, কোনো মানুষের ইসলাম পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ জানে, এবং আমি জানি যে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
يأتيني بمعناها، وأني أكفر الناذر إذا أراد بنذره التقرب لغير الله، وأخذ النذر لأجل ذلك، وأن الذبح لغير الله كفر، والذبيحة حرام; فهذه المسائل حق، وأنا قائل بها; ولي عليها دلائل من كلام الله وكلام رسوله، ومن أقوال العلماء المتبعين، كالأئمة الأربعة، وإذا سهل الله تعالى: بسطت الجواب عليها في رسالة مستقلة، إن شاء الله تعالى.
ثم اعلموا وتدبروا قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْماً بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} ، [سورة الحجرات آية: 6] .
(رسالة الشيخ ابن عبد الوهاب إلى عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف ومعاتبته له)
وله أيضا، قدس الله روحه، ونور ضريحه، ما نصه:
بسم الله الرحمن الرحيم
من محمد بن عبد الوهاب، إلى عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف، حفظه الله تعالى.
سلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:
فقد وصل إلينا من ناحيتكم مكاتيب، فيها إنكار وتغليظ علي، ولما قيل: إنك كنت معهم، وقع في الخاطر بعض الشيء، لأن الله سبحانه نشر لك من الذكر الجميل، وأنزل في قلوب عباده لك من المحبة ما لم يؤته كثيرا من الناس، لما يذكر عنك من مخالفة من قبلك من حكام السوء.
وأيضا لما أعلم منك من محبة الله ورسوله، وحسن
ثم اعلموا وتدبروا قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْماً بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} ، [سورة الحجرات آية: 6] .
(رسالة الشيخ ابن عبد الوهاب إلى عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف ومعاتبته له)
وله أيضا، قدس الله روحه، ونور ضريحه، ما نصه:
بسم الله الرحمن الرحيم
من محمد بن عبد الوهاب، إلى عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف، حفظه الله تعالى.
سلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:
فقد وصل إلينا من ناحيتكم مكاتيب، فيها إنكار وتغليظ علي، ولما قيل: إنك كنت معهم، وقع في الخاطر بعض الشيء، لأن الله سبحانه نشر لك من الذكر الجميل، وأنزل في قلوب عباده لك من المحبة ما لم يؤته كثيرا من الناس، لما يذكر عنك من مخالفة من قبلك من حكام السوء.
وأيضا لما أعلم منك من محبة الله ورسوله، وحسن
এর মর্মার্থ আমার কাছে নিয়ে আসে, এবং আমি সেই মানতকারীকে কাফির ঘোষণা করি যে তার মানতের মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নৈকট্য লাভ করতে চায় এবং সেই উদ্দেশ্যে মানত গ্রহণ করে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে যবেহ করা কুফর, এবং সেই যবেহকৃত পশু হারাম। এই মাসআলাগুলো সত্য, এবং আমিই এর প্রবক্তা। আমার কাছে এর পক্ষে আল্লাহ্র কালাম, তাঁর রাসূলের কালাম এবং অনুসরণীয় উলামায়ে কিরাম—যেমন চার ইমাম—এর বক্তব্য থেকে প্রমাণাদি রয়েছে। আল্লাহ তাআলা যদি সহজ করে দেন, তবে ইনশাআল্লাহ আমি একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় এর বিস্তারিত জবাব পেশ করব।
অতঃপর তোমরা জানো এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণী গভীরভাবে অনুধাবন করো: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক (পাপী) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত না করো, ফলে তোমরা যা করেছ, তার জন্য অনুতপ্ত হও।} [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬]।
(শায়খ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফের প্রতি পত্র এবং তাকে ভর্ৎসনা)
তাঁর (শায়খের) আরও একটি পত্র রয়েছে—আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন—যার পাঠ নিম্নরূপ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে)।
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পক্ষ থেকে, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফের প্রতি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করুন।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। অতঃপর:
আপনাদের দিক থেকে আমার কাছে কিছু পত্র পৌঁছেছে, যাতে আমার প্রতি অস্বীকৃতি ও কঠোরতা প্রকাশ করা হয়েছে। আর যখন বলা হলো যে আপনি তাদের সাথে ছিলেন, তখন মনে কিছুটা খটকা লেগেছে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার জন্য সুন্দর খ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে আপনার জন্য এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি বহু মানুষকে দেননি—বিশেষত আপনার পূর্ববর্তী অসৎ শাসকদের বিরোধিতা করার কারণে আপনার যে সুনাম রয়েছে তার জন্য। এছাড়াও, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আপনার যে ভালোবাসা এবং উত্তম (আচরণ) সম্পর্কে আমি অবগত, (তার কারণেও মনে খটকা লেগেছে)।
অতঃপর তোমরা জানো এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণী গভীরভাবে অনুধাবন করো: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক (পাপী) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত না করো, ফলে তোমরা যা করেছ, তার জন্য অনুতপ্ত হও।} [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬]।
(শায়খ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফের প্রতি পত্র এবং তাকে ভর্ৎসনা)
তাঁর (শায়খের) আরও একটি পত্র রয়েছে—আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন—যার পাঠ নিম্নরূপ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে)।
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পক্ষ থেকে, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতীফের প্রতি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করুন।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। অতঃপর:
আপনাদের দিক থেকে আমার কাছে কিছু পত্র পৌঁছেছে, যাতে আমার প্রতি অস্বীকৃতি ও কঠোরতা প্রকাশ করা হয়েছে। আর যখন বলা হলো যে আপনি তাদের সাথে ছিলেন, তখন মনে কিছুটা খটকা লেগেছে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার জন্য সুন্দর খ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে আপনার জন্য এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি বহু মানুষকে দেননি—বিশেষত আপনার পূর্ববর্তী অসৎ শাসকদের বিরোধিতা করার কারণে আপনার যে সুনাম রয়েছে তার জন্য। এছাড়াও, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আপনার যে ভালোবাসা এবং উত্তম (আচরণ) সম্পর্কে আমি অবগত, (তার কারণেও মনে খটকা লেগেছে)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الفهم، واتباع الحق، ولو خالفك فيه كبار أئمتكم، لأني اجتمعت بك من نحو عشرين، وتذاكرت أنا وإياك في شيء من التفسير والحديث، وأخرجت لي كراريس من البخاري، كتبتها، ونقلت على هوامشها من الشروح، وقلت في مسألة الإيمان، التي ذكر البخاري في أول الصحيح: هذا هو الحق الذي أدين الله به، فأعجبني هذا الكلام، لأنه خلاف مذهب أئمتكم المتكلمين.
وذاكرتني أيضا في بعض المسائل، فكنت أحكي لمن يتعلم مني ما من الله به عليك، من حسن الفهم، ومحبة الله والدار الآخرة; فلأجل هذا لم أظن فيك المسارعة في هذا الأمر، لأن الذين قاموا فيه مخطئون على كل تقدير، لأن الحق إن كان مع خصمهم فواضح; وإن كان معهم: فينبغي للداعي إلى الله، أن يدعو بالتي هي أحسن إلا الذين ظلموا منهم، وقد أمر الله رسوليه، موسى وهارون أن يقولا لفرعون قولا لينا لعله يتذكر أو يخشى.
وينبغي للقاضي - أعزه الله بطاعته - لما ابتلاه الله بهذا المنصب أن يتأدب بالآداب التي ذكرها الله في كتابه الذي أنزل، ليبين للناس ما اختلفوا فيه، وهدى ورحمة لقوم يوقنون; فمن ذلك: لا يستخفنه الذين لا يوقنون; ويتثبت عند سعايات الفساق والمنافقين، ولا يعجل. وقد وصف الله المنافقين في كتابه بأوصافهم، وذكر شعب النفاق لتجتنب، ويجتنب أهلها أيضا; فوصفهم بالفصاحة، والبيان، وحسن اللسان، بل
وذاكرتني أيضا في بعض المسائل، فكنت أحكي لمن يتعلم مني ما من الله به عليك، من حسن الفهم، ومحبة الله والدار الآخرة; فلأجل هذا لم أظن فيك المسارعة في هذا الأمر، لأن الذين قاموا فيه مخطئون على كل تقدير، لأن الحق إن كان مع خصمهم فواضح; وإن كان معهم: فينبغي للداعي إلى الله، أن يدعو بالتي هي أحسن إلا الذين ظلموا منهم، وقد أمر الله رسوليه، موسى وهارون أن يقولا لفرعون قولا لينا لعله يتذكر أو يخشى.
وينبغي للقاضي - أعزه الله بطاعته - لما ابتلاه الله بهذا المنصب أن يتأدب بالآداب التي ذكرها الله في كتابه الذي أنزل، ليبين للناس ما اختلفوا فيه، وهدى ورحمة لقوم يوقنون; فمن ذلك: لا يستخفنه الذين لا يوقنون; ويتثبت عند سعايات الفساق والمنافقين، ولا يعجل. وقد وصف الله المنافقين في كتابه بأوصافهم، وذكر شعب النفاق لتجتنب، ويجتنب أهلها أيضا; فوصفهم بالفصاحة، والبيان، وحسن اللسان، بل
সঠিক উপলব্ধি, এবং সত্যের অনুসরণ—যদিও তাতে আপনাদের বড় বড় ইমামগণ আপনার বিরোধিতা করেন। কারণ আমি আপনার সাথে প্রায় বিশ বছর আগে মিলিত হয়েছিলাম, এবং আমি ও আপনি তাফসীর ও হাদীসের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আপনি আমাকে বুখারীর কিছু পুস্তিকা বের করে দেখিয়েছিলেন, যা আপনি লিখেছিলেন এবং সেগুলোর পার্শ্ব-টিকায় ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতি তুলেছিলেন।
আর আপনি সহীহ বুখারীর শুরুতে উল্লিখিত ঈমানের মাসআলা প্রসঙ্গে বলেছিলেন: ‘এটাই সেই সত্য, যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করি।’ আপনার এই কথাটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল, কারণ এটি আপনাদের কালামশাস্ত্রবিদ ইমামগণের মাযহাবের পরিপন্থী।
আপনি আমাকে আরও কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তখন আমি আমার ছাত্রদের কাছে আপনার উত্তম উপলব্ধি, এবং আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি আপনার ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন, তা বর্ণনা করতাম।
এই কারণেই আমি আপনার মধ্যে এই বিষয়ে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ার ধারণা করিনি, কারণ যারা এই কাজে (বিরোধিতায়) লিপ্ত হয়েছে, তারা সর্বাবস্থায় ভুলকারী। কারণ, যদি সত্য তাদের প্রতিপক্ষের (আমাদের) পক্ষে থাকে, তবে তা স্পষ্ট; আর যদি সত্য তাদের পক্ষেও থাকে: তবুও আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর উচিত হলো উত্তম পন্থায় দাওয়াত দেওয়া—তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘনকারী, তারা ব্যতীত।
আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই রাসূল মূসা ও হারুনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা যেন ফিরআউনকে নম্র কথা বলে, সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।
আর বিচারকের (কাযী) উচিত—আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেন—যেহেতু আল্লাহ তাঁকে এই পদে পরীক্ষা করেছেন, তাই তিনি যেন সেই শিষ্টাচারসমূহ অবলম্বন করেন যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি নাযিল করেছেন মানুষের জন্য ব্যাখ্যা করার জন্য যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছে, এবং যা দৃঢ় বিশ্বাসী কওমের জন্য হেদায়েত ও রহমত।
এর মধ্যে অন্যতম হলো: যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, তারা যেন তাঁকে চঞ্চল করে না তোলে; এবং ফাসিক ও মুনাফিকদের চক্রান্তমূলক অভিযোগের সময় তিনি যেন স্থির থাকেন এবং তাড়াহুড়ো না করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে মুনাফিকদের তাদের বৈশিষ্ট্যসহ বর্ণনা করেছেন, এবং নিফাকের শাখা-প্রশাখা উল্লেখ করেছেন, যাতে তা পরিহার করা যায় এবং এর অনুসারীদেরও পরিহার করা যায়। তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন বাগ্মিতা, স্পষ্টতা এবং সুন্দর ভাষার অধিকারী হিসেবে, বরং...
আর আপনি সহীহ বুখারীর শুরুতে উল্লিখিত ঈমানের মাসআলা প্রসঙ্গে বলেছিলেন: ‘এটাই সেই সত্য, যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করি।’ আপনার এই কথাটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল, কারণ এটি আপনাদের কালামশাস্ত্রবিদ ইমামগণের মাযহাবের পরিপন্থী।
আপনি আমাকে আরও কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তখন আমি আমার ছাত্রদের কাছে আপনার উত্তম উপলব্ধি, এবং আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি আপনার ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন, তা বর্ণনা করতাম।
এই কারণেই আমি আপনার মধ্যে এই বিষয়ে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ার ধারণা করিনি, কারণ যারা এই কাজে (বিরোধিতায়) লিপ্ত হয়েছে, তারা সর্বাবস্থায় ভুলকারী। কারণ, যদি সত্য তাদের প্রতিপক্ষের (আমাদের) পক্ষে থাকে, তবে তা স্পষ্ট; আর যদি সত্য তাদের পক্ষেও থাকে: তবুও আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর উচিত হলো উত্তম পন্থায় দাওয়াত দেওয়া—তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘনকারী, তারা ব্যতীত।
আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই রাসূল মূসা ও হারুনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা যেন ফিরআউনকে নম্র কথা বলে, সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।
আর বিচারকের (কাযী) উচিত—আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেন—যেহেতু আল্লাহ তাঁকে এই পদে পরীক্ষা করেছেন, তাই তিনি যেন সেই শিষ্টাচারসমূহ অবলম্বন করেন যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি নাযিল করেছেন মানুষের জন্য ব্যাখ্যা করার জন্য যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছে, এবং যা দৃঢ় বিশ্বাসী কওমের জন্য হেদায়েত ও রহমত।
এর মধ্যে অন্যতম হলো: যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, তারা যেন তাঁকে চঞ্চল করে না তোলে; এবং ফাসিক ও মুনাফিকদের চক্রান্তমূলক অভিযোগের সময় তিনি যেন স্থির থাকেন এবং তাড়াহুড়ো না করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে মুনাফিকদের তাদের বৈশিষ্ট্যসহ বর্ণনা করেছেন, এবং নিফাকের শাখা-প্রশাখা উল্লেখ করেছেন, যাতে তা পরিহার করা যায় এবং এর অনুসারীদেরও পরিহার করা যায়। তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন বাগ্মিতা, স্পষ্টতা এবং সুন্দর ভাষার অধিকারী হিসেবে, বরং...