(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
الديباج المذهب في مصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: الديباج المُذَهَّب في مصطلح الحديث (مطبوع مع شرح منلا حنفي عليه)
المؤلف: يُنسب لعلي بن محمد بن علي الزين الشريف الجرجاني (ت 816هـ)
مصحح بمعرفة لجنة: برئاسة الشيخ حسن الإنبابي
الناشر: مطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده - بمصر
باشر طبعه: محمد أمين عمران
عام النشر: 1350 هـ - 1931 م
عدد الصفحات: 63
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 صفر 1432
আদ-দিবাজুল মুযাহহাব ফি মুসতালাহিল হাদিস বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আদ-দিবাজুল মুযাহহাব ফি মুসতালাহিল হাদিস (এর সাথে মোল্লা হানাফীর ব্যাখ্যাসহ মুদ্রিত)
গ্রন্থকার: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আয-যাইন আশ-শরিফ আল-জুরজানি-এর প্রতি আরোপিত (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি)
কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত: শাইখ হাসান আল-ইনবাবীর সভাপতিত্বে
প্রকাশক: মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স প্রেস - মিশর
মুদ্রণ পরিচালনায়: মুহাম্মদ আমিন ইমরান
প্রকাশকাল: ১৩৫০ হিজরি - ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ সফর ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الديباج المذهب (مطبوع مع شرح منلا حنفي عليه)]ـ
المؤلف: علي بن محمد بن علي الزين الشريف الجرجاني (المتوفى: 816هـ)
الناشر: مطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده - بمصر
باشر طبعه: محمد أمين عمران
عام النشر: 1350 هـ - 1931 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[আদ-দীবাজ আল-মুযাহহাব (এর সাথে মোল্লা হানাফীর ব্যাখ্যা মুদ্রিত)]ـ
লেখক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আয-যাইন আশ-শরীফ আল-জুরজানী (মৃত্যু: ৮১৬ হিজরি)
প্রকাশক: মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স প্রেস - মিশর
মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করেছেন: মুহাম্মদ আমিন ইমরান
প্রকাশকাল: ১৩৫০ হিজরি - ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه رب العالمين،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য,
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣)
والصلاة والسلام على محمد وآله أجمعين فهذا مختصر جامع لمعرفة علم الحديث،
মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। এটি হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) পরিচিতির ক্ষেত্রে একটি সংক্ষিপ্ত ও সুসমন্বিত সংকলন,
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥)
في بيان أصوله ومصطلحاته.
المتن: هو ألفاظ الحديث التي تتقوم بها المعاني.
এর মূলনীতি (أصول) এবং পরিভাষা (مصطلحات) বর্ণনায়।
মূল পাঠ (المتن): এটি হলো হাদিসের সেই শব্দাবলি যার মাধ্যমে অর্থসমূহ গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦)
والحديث: عم من أن يكون قول الرسول صلى الله عليه وسلم أو الصحابي أو التابعين، وفعلهم، وتقريرهم.
আর হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী (صحابي) কিংবা তাবিঈগণের (تابعين) বাণী (قول), কর্ম (فعل) ও মৌন সম্মতির (تقرير) চেয়েও ব্যাপক বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٨)
والسند: إخبار عن طريق المتن.
والإسناد: هو رفع الحديث إلى قائله، وهما متقاربان في المعنى، اعتماد الحفاظ في صحة الحديث وضعفه عليه.
والخبر المتواتر: ما بلغت رواته في الكثرة مبلغاً أحالت العادة تواطأهم على الكذب،
এবং সনদ (سند): মতন (متن)-এর পথ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান।
এবং ইসনাদ (إسناد): এটি হলো হাদিসকে তার প্রবক্তা পর্যন্ত উন্নীত করা; এই দুটি পরিভাষা অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি। কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং দুর্বলতা (ضعف) নির্ণয়ে হাফিজদের (حفاظ) নির্ভরতা এর ওপরই ন্যস্ত থাকে।
এবং মুতাওয়াতির সংবাদ (الخبر المتواتر): যার বর্ণনাকারীদের (رواة) সংখ্যা আধিক্যের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকভাবে তাদের মিথ্যার (كذب) ওপর একমত হওয়াকে অসম্ভব করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٩)
ويدوم هذا فيكون أوله كآخره، ووسطه كطرفيه، كالقرآن، وكالصلوات الخمس.
এবং এটি স্থায়ী থাকে, ফলে এর প্রথমাংশ হয় এর শেষাংশের ন্যায় এবং এর মধ্যভাগ হয় এর প্রান্তদ্বয়ের ন্যায়; যেমন কুরআন এবং যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٠)
قال ابن الصلاح: من سأل عن إبراز مثال لذلك في الحديث أعياه طلبه، وحديث: (إنما الأعمال بالنيات) ليس من ذلك وإن نقله عدد التواتر وأكثر، لأن ذلك طرأ عليه في وسط إسناده.
نعم. . حديث: (من كذب علَيَّ مُتعمداً فَليَتَبوَأ مقعدهُ من النار)
ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে যদি কেউ এর (মুতাওয়াতির হাদিসের) কোনো উদাহরণ প্রদর্শনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তার অনুসন্ধান তাকে পরিশ্রান্ত করে দেবে। আর '(নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)' হাদিসটি এই শ্রেণিভুক্ত নয়, যদিও একে মুতাওয়াতির (تواتر) সংখ্যক বা তার চেয়েও বেশি বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন; কারণ এই বৈশিষ্ট্যটি এর সনদ (إسناد)-এর মধ্যবর্তী পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যাঁ... তবে '(যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)' হাদিসটি এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١١)
نقله من الصحابة: قيل أربعون، وقيل اثنان وستون وفيهم العشرة المبشَّرة،
এটি সাহাবীগণ (الصحابة) থেকে বর্ণিত হয়েছে: বলা হয়েছে চল্লিশ জন, এবং বলা হয়েছে বাষট্টি জন, আর তাঁদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন (العشرة المبشَّرة) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ولم يزل العدد على التوالي في ازدياد.
والآحاد: ما لم ينته إليه التواتر، وهو مستفيض
এবং বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
আর আহাদ (الآحاد) হলো যা মুতাওয়াতির (التواتر) এর পর্যায়ে পৌঁছায়নি; আর তা মুস্তাফিদ (مستفيض) নামেও পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وغيره.
قال ابن الجوزي: حصر الأحاديث يَبعُدُ أمانَةً غير أن جماعة بالغوا فى تَتَبعها وحصروها: قال الإمام أحمد: صح سبعمائة ألف وكسر (700. 000 وكسر)، وقال: وقد جمعت في المسند أحاديث انتخبتها من أكثر من سبعمائة ألف وخمسين ألف (750. 000) فما اختلفتم فيه فارجعوا إليه، وما لم تجدوا فيه فليس بحجة.
والمراد بهذه الأعداد: الطرق لا المتون.
المقاصد: اعلم أن متن الحديث نفسه
এবং অন্যান্য।
ইবনুল জাওযী বলেন: হাদিসসমূহকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা আমানতদারিতার সাথে সুদূরপরাহত, তবে একদল আলিম এগুলো অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তা গণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: সাত লক্ষ এবং কিছু বেশি হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন: আমি মুসনাদ গ্রন্থে এমন সব হাদিস সংকলন করেছি যা আমি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার (৭৫০,০০০) এরও অধিক হাদিস থেকে নির্বাচন করেছি; সুতরাং তোমরা যে বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হবে তা এর দিকে ফিরিয়ে দাও, আর যা তোমরা এতে পাবে না তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না।
আর এই সংখ্যাগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূত্রসমূহ (الطرق), মূল পাঠসমূহ (المتون) নয়।
আল-মাকাসিদ: জেনে রাখুন যে, হাদিসের মূল পাঠ (متن) নিজেই
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٤)
لا يدخل في الاعتبار إلا نادرا بل يكتسب صفة من القوة والضعف، وبين بين بحسب أوصاف الرواة من العدالة والضبط والحفظ وخلافها، وبين ذلك وبين خلافه أو بحسب الإسناد من الاتصال والانقطاع والإرسال ونحوها والاضطراب.
فالحديث على هذا ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف، هذا إذا نظر إلى المتن، وأما إذا نظر إلى أوصاف الرواة فقيل هو ثقة عدل ضابط، أو غير ثقة أو متهم أو مجهول أو كذوب أو نحو ذلك، فيكون البحث عن الجرح والتعديل، وإذا نظر إلى كيفية أخذهم وطرق تحملهم الحديث كان البحث عن أوصاف الطالب.
وإذا بحث عن أسمائهم ونسبهم كان البحث عن تعيينهم وتشخيص ذواتهم، فالمقاصد مرتبة على أربعة أبواب:
এটি কদাচিৎ বাদে সাধারণত বিবেচ্য নয়, বরং এটি শক্তি ও দুর্বলতার বৈশিষ্ট্য অর্জন করে এবং বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط), মুখস্থ শক্তি (حفظ) ও এর বিপরীত গুণাবলির ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরের হয়। একইভাবে এটি সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), মুরসাল হওয়া (إرسال) বা অনুরূপ অবস্থা এবং অস্থিরতা (اضطراب) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে হাদিস সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) - এই তিন ভাগে বিভক্ত। এটি মূল পাঠ বা মতনের দিক থেকে। আর যদি বর্ণনাকারীদের গুণাবলির দিকে লক্ষ্য করা হয়, তবে বলা হয় যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), ন্যায়পরায়ণ (عدل), প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط), অথবা অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة), অভিযুক্ত (متهم), অজ্ঞাত (مجهول), অতিশয় মিথ্যাবাদী (كذوب) বা অনুরূপ কিছু; তখন এটি হবে জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) বিষয়ক আলোচনা। আর যদি তাদের হাদিস গ্রহণের পদ্ধতি ও ধারণ করার পন্থার দিকে লক্ষ্য করা হয়, তবে তা হবে শিক্ষার্থীর গুণাবলি সংক্রান্ত আলোচনা।
আর যদি তাদের নাম ও বংশপরিচয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তবে তা হবে তাদের নির্দিষ্ট করা এবং তাদের সত্তা শনাক্তকরণ সংক্রান্ত আলোচনা। সুতরাং মূল উদ্দেশ্যসমূহ চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত:
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الباب الأولفي أقسام الحديث وأنواعهوفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأولفي الصحيحوهو ما اتصل سنده بنقل العدل الضابط عن مثله، وسلم عن شذوذ وعلة.
ونعني بالمتصل ما لم يكن مقطوعا بأي وجه كان، وبالعدل: من لم يكن مستور العدالة ولا مجروحا، وبالضابط من يكون حافظاً متيقظاً، وبالشذوذ ما يرويه الثقة مخالفا لرواية الناس، وبالعلَّة، ما فيه أسباب خفيَّة غامضة قادحة.
প্রথম পরিচ্ছেদহাদিসের প্রকারভেদ ও এর শ্রেণীবিভাগ প্রসঙ্গেএবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদসহিহ (صحيح) প্রসঙ্গেএটি এমন হাদিস যার সনদ অবিচ্ছিন্ন (متصل) এবং যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তার অনুরূপ ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং যা বিচ্যুতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত।
আমরা 'অবিচ্ছিন্ন (متصل)' বলতে তা-ই বোঝাই যা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন (مقطوع) নয়। 'ন্যায়পরায়ণ (عدل)' হলেন সেই ব্যক্তি যার ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত (مستور) নয় এবং যিনি সমালোচিত (مجروح) নন। 'প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط)' বলতে তাকে বোঝায় যিনি উত্তম সংরক্ষণকারী (حافظ) ও সদা সচেতন (متيقظ)। 'বিচ্যুতি (شذوذ)' হলো যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বিপরীতে বর্ণনা করেন। আর 'ত্রুটি (علة)' হলো যাতে সূক্ষ্ম, অস্পষ্ট ও দোষযুক্ত (قادحة) কারণ বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٦)
فائدة: وتتفاوت درجات الصحيح بحسب قوة شروطه وضعفها، وأوَّل من صنف في الصحيح المجرد البخاري، ثم أبو الحسين مسلم، وكتاباهما أصح الكتب بعد كتاب اللَّه العزيز.
ফায়দা: শর্তাবলির সবলতা ও দুর্বলতার (ضعف) প্রেক্ষিতে সহিহ (صحيح)-এর স্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম ইমাম বুখারি শুধুমাত্র সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলন করে গ্রন্থ রচনা করেন, অতঃপর আবু আল-হুসাইন মুসলিম; মহান আল্লাহর কিতাবের পর তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وأما قول الشافعي رضي الله عنه: ما أعلم شيئا بعد كتاب اللَّه أصح من موطأ مالك فقبل وجود الكتابين.
وأعلى أقسام الصحيح ما اتفقا عليه، ثم انفرد به البخاري، ثم انفرد به مسلم، ثم ما كان على شرطهما وإن لم يخرجاه، ثم ما كان على شرط البخاري، ثم ما كان على شرط مسلم، ثم ما صححه غيرهما.
فهذه سبعة أقسام.
وما حذف سنده فيهما - وهو كثير في تراجم البخاري،
আর ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর উক্তি: "আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের মুয়াত্তা অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) কোনো কিছুর কথা আমি জানি না" — এটি মূলত দুই কিতাব (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) সংকলিত হওয়ার পূর্বের কথা।
বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের স্তরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো যার ওপর তাঁরা উভয়ে ঐকমত্য (اتفقا عليه) পোষণ করেছেন, অতঃপর যা এককভাবে বুখারি বর্ণনা করেছেন, তারপর যা এককভাবে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, এরপর যা তাঁদের উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, এরপর যা বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে, এরপর যা মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে এবং সর্বশেষ হলো যা তাঁরা ছাড়া অন্য কেউ বিশুদ্ধ (صححه) বলে গণ্য করেছেন।
এই হলো সাতটি স্তর।
আর যে সকল বর্ণনার সনদ (سند) এই দুই কিতাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে—যা বুখারির অধ্যায় শিরোনামসমূহে (تراجم) প্রচুর রয়েছে—
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٨)
قليل جداً في كتاب صحيح مسلم - فما كان بصيغة الجزم نحو: (قال فلان) و (فعل) و (أمر) و (روى) و (ذكر) معروفاً فهو حكم بصحته، وما روي من ذلك مجهولا فليس حكما بصحته، ولكن إيراده في كتاب الصحيح مشعر بصحة أصله، وأما قول الحاكم: اختيار البخاري ومسلم ألا يذكرا في كتابيهما إلا ما رواه الصحابي المشهور، عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وله راويان ثقتان فأكثر، ثم يرويه عنه تابعي مشهور وله أيضا راويان ثقتان فأكثر، ثم كذلك في كل درجة؛
সহিহ মুসলিম গ্রন্থে এটি খুবই নগণ্য—সুতরাং যা সুনিশ্চিত বা দৃঢ়তাপূর্ণ রূপে (صيغة الجزم) বর্ণিত হয়েছে, যেমন: (অমুক ব্যক্তি বলেছেন), (করেছেন), (নির্দেশ দিয়েছেন), (বর্ণনা করেছেন) এবং (উল্লেখ করেছেন) এবং তা সুপরিচিত, তবে তা সেটির বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর হুকুম হিসেবে গণ্য। আর যা অজ্ঞাত (مجهول) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তা সেটির বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর হুকুম নয়; তবে সহিহ গ্রন্থে তার অন্তর্ভুক্তি এর মূলের বিশুদ্ধতার (صحة) প্রতি ইঙ্গিতবাহী। আর আল-হাকিমের বক্তব্যের ব্যাপারে যে: বুখারি ও মুসলিমের চয়ন ছিল তাঁদের কিতাবদ্বয়ে কেবল সেই হাদিসই উল্লেখ করা যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো প্রসিদ্ধ সাহাবী (صحابي) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقتان) বা ততোধিক বর্ণনাকারী রয়েছে; অতঃপর তাঁর থেকে কোনো প্রসিদ্ধ তাবিঈ (تابعي) তা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরও অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقتان) বা ততোধিক বর্ণনাকারী রয়েছে; একইভাবে প্রতিটি স্তরেই (درجة) বিষয়টি প্রযোজ্য;
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ففيه بحث. قال الشيخ محيى الدين النووي: ليس ذلك من شرطهما لإخراجهما أحاديث ليس لها إلا إسناد واحد: منها حديث: (إنما الأعمال بالنيات) ونظائره في الصحيحين كثيرة.
قال ابن حبان: تفرَّد بحديث: (إنما الأعمال بالنيات) أهل المدينة، وليس عند أهل العراق، ولا عند أهل مكة، ولا الشام ولا مصر، وراويه هو يحيى بن سعيد القطان، عن محمد بن إبراهيم، عن علقمة، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه هكذا رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه مع اختلاف
في الرواة بعد يحيى يعرف بالرجوع إلى هذه الصحاح الست.
এ বিষয়ে গবেষণার অবকাশ (بحث) রয়েছে। শেখ মহিউদ্দিন আন-নববী বলেছেন: এটি তাঁদের (বুখারি ও মুসলিমের) শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ তাঁরা এমন অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর মাত্র একটি সনদ (إسناد) রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এবং সহিহাইন-এ এর সদৃশ অনেক উদাহরণ রয়েছে।
ইবনে হিব্বান বলেন: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন মদিনাবাসীগণ; এটি ইরাক, মক্কা, শাম কিংবা মিসরবাসীদের নিকট ছিল না। এর বর্ণনাকারী হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এভাবেই বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তবে ইয়াহইয়ার পরবর্তী
বর্ণনাকারীদের (رواة) ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভিন্নতা এই ছয়টি সহিহ গ্রন্থ পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الفصل الثانيفي الحَسَنقال الترمذي: هو ما لا يكون في إسناده مُتَّهم، ولا يكون شاذا، ويروى من غير وجه نحوه في المعنى.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদহাসান (حسن) প্রসঙ্গেইমাম তিরমিযী বলেন: এটি এমন হাদিস যার সনদে (إسناد) কোনো অভিযুক্ত (متهم) ব্যক্তি নেই এবং যা শায (شاذ) নয়, আর যা সমার্থকভাবে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وقال الخطّابي: هو ما عُرِفَ مخرجه واشتهر رجاله، وعليه مدار أكثر الحديث. فالمنقطع ونحوه مما لم يعرف مخرجه، وكذا المدلس إذا لم يبيَّن، وقال بعض المتأخرين: هو الذي فيه ضعف قريب محتمل ويصلح للعمل به.
وقال ابن الصلاح: هو قسمان: أحدهما: ما لم تخل رجال إسناده عن مستور غير مغفل في روايته، وقد روي مثله أو نحوه من
আল-খাত্তাবি বলেছেন: এটি হলো তা যার উৎস (مخرج) সুপরিচিত এবং বর্ণনাকারীগণ (رجال) প্রসিদ্ধ, আর এর ওপরই অধিকাংশ হাদিসের ভিত্তি। সুতরাং বিচ্ছিন্ন (منقطع) ও তদ্রূপ হাদিস যার উৎস (مخرج) অজ্ঞাত, এবং একইভাবে মুদাল্লাস (مدلس) হাদিস—যখন তার অবস্থা স্পষ্ট করা না হয়—এর অন্তর্ভুক্ত নয়। পরবর্তী যুগের (متأخرون) কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এটি এমন হাদিস যাতে নিকটবর্তী ও সহনীয় দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং যা আমল করার উপযোগী।
ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো: যার সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো প্রচ্ছন্ন বা অজ্ঞাত (مستور) ব্যক্তি থাকে যে বর্ণনার ক্ষেত্রে অসতর্ক (مغفل) নয়, এবং যার সমপর্যায়ের বা কাছাকাছি বর্ণনা অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وجه آخر.
والثاني: ما اشتهر راويه بالصدق والأمانة، وقصر عن درجة رجال الصحيح حفظاً وإتقاناً، بحيث لا يعد ما انفرد به منكراً، ولا بدَّ في القسمين من سلامتهما عن الشذوذ والتعليل، وقيل: ما ذكره بعض المتأخرين مبنى على أن معرفة الحسن موقوفة على معرفة الصحيح والضعيف، لأنه وسط بينهما، فقوله: (قريب) أي قريب مخرجه إلى الصحيح، محتمل كذبه لكون رجاله مستورين.
والفرق بني حدَّي الصحيح والحسن، أن شرائط الصحيح معتبرة في حد الحسن، لكنَّ العدالة في الصحيح تنبغي أن تكون ظاهرة، والإتقان كاملاً.
অন্য একটি দিক।
দ্বিতীয়টি হলো: যার বর্ণনাকারী সততা ও আমানতদারিতার জন্য প্রসিদ্ধ, তবে হিফয (স্মৃতিশক্তি) ও দৃঢ়তার ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) পর্যায়ের বর্ণনাকারীদের স্তরের চেয়ে কিছুটা নিচে, যাতে তার একক বর্ণনাকে অস্বীকৃত (منكر) গণ্য করা না হয়। আর উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই শায (شذوذ) এবং ত্রুটি (تعليل) থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক। বলা হয়ে থাকে যে: পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলিম যা উল্লেখ করেছেন তা এই ভিত্তির ওপর যে, হাসান (حسن) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) সম্পর্কে জ্ঞান রাখার ওপর নির্ভরশীল; কারণ এটি এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্তর। সুতরাং তার বক্তব্য: (নিকটবর্তী) অর্থাৎ এর উৎস সহিহ (صحيح)-এর কাছাকাছি, যদিও এর বর্ণনাকারীরা অজ্ঞাত (مستور) হওয়ার কারণে এতে মিথ্যার সম্ভাবনা থেকে যায়।
সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن)-এর সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য হলো, সহিহ (صحيح)-এর শর্তাবলি হাসান (حسن)-এর সংজ্ঞাতেও নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত, কিন্তু সহিহ (صحيح)-এর ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রকাশ্য হওয়া এবং মুখস্থ রাখার দক্ষতা (إتقان) পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وليس ذلك شرطاً في الحسن، ومن ثمة احتاج إلى قيد قولنا أن يروى من وجه مثله أو نحوه ليخبر به.
فالضعيف هو الذي بَعُدَ عن مخرج الصحيح مخرجه، واحتمل الصدق والكذب أو لا يحتمل الصدق أصلا كالموضوع.
وإنما سُمِّيَ حسناً لحسن الظنِّ براويه، ولو قيل: الحسن هو مسند من قرب من درجة الثقة أو مرسل ثقة، ويروى كلاهما من غير وجه وسلم عن شذوذ وعلَّة لكان أجمع الحدود وأضبطها وأبعدها عن التعقيد.
ونعني بالمسند ما اتصل إسناده إلى منتهاه، وبالثقة: من جمع بين العدالة والضبط.
والتنكير في ثقة للشيوخ كما سيأتي بيانه في نوع المرسل.
এবং হাসান (حسن) হওয়ার জন্য এটি কোনো শর্ত নয়; এ কারণেই আমাদের এই কথার শর্তারোপ করার প্রয়োজন হয়েছে যে, এটি যেন এর অনুরূপ বা কাছাকাছি অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হয়, যাতে তার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা যায়।
সুতরাং দুর্বল (ضعيف) হলো সেই হাদিস, যার উৎস সহিহ (صحيহ) হাদিসের উৎস থেকে দূরে এবং যাতে সত্য ও মিথ্যা উভয়ের সম্ভাবনা থাকে অথবা যাতে সত্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই, যেমন: জাল (موضوع) হাদিস।
মূলত রাবির প্রতি সুধারণার কারণেই একে হাসান (حسن) নামকরণ করা হয়েছে। আর যদি বলা হতো যে: হাসান (حسن) হলো এমন ব্যক্তির মুসনাদ যার মর্যাদা নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির কাছাকাছি, অথবা তা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির মুরসাল (مرسل) বর্ণনা, এবং উভয়টিই একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং শায (شذوذ) ও ইল্লত (علة) থেকে মুক্ত—তবে তা হতো সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ, সুসংহত এবং জটিলতামুক্ত সংজ্ঞা।
আর মুসনাদ বলতে আমরা সেই বর্ণনাকে বুঝিয়েছি যার সনদ শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হয়েছে, এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে যার মধ্যে আদল (عدالة) ও জাবত (ضبط) এর সমন্বয় ঘটেছে।
আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) শব্দটিতে অনির্দিষ্টতা বা তানকির রাখা হয়েছে শায়খদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, যেমনটি মুরসাল (مرسل) এর প্রকারের আলোচনায় সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
والحسن حجَّة كالصحيح، ولذلك أُدرج في الصحيح، قال ابن الصلاح محيي السنَّة في المصابيح: تسمية السنن بالحسان تساهل لأن فيها الصحاح والحسان والضعاف.
وقول الترمذي: حيث حسن صحيح يريد به أنه روي بإسنادين: أحدهما يقتضي الصحة والآخر الحُسن.
সুন্দর/গ্রহণযোগ্য (حسن) হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) এর ন্যায় দলিল (حجة), আর এই কারণেই একে বিশুদ্ধ (صحيح) এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুহিউস সুন্নাহ ইবনে আস-সালাহ ‘আল-মাসাবিহ’ গ্রন্থ সম্পর্কে বলেছেন: সুনান গ্রন্থসমূহের হাদিসসমূহকে সুন্দর/গ্রহণযোগ্য (حسن) হিসেবে অভিহিত করা একটি শিথিলতা; কারণ এর মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح), সুন্দর/গ্রহণযোগ্য (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ বিদ্যমান।
এবং ইমাম তিরমিযীর উক্তি: যেখানে তিনি ‘সুন্দর-বিশুদ্ধ’ (حسن صحيح) বলেন, তার দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে এটি দুটি সনদে বর্ণিত হয়েছে: যার একটি বিশুদ্ধতা (صحة) দাবি করে এবং অন্যটি গ্রহণযোগ্যতা/সৌন্দর্য (حسن) দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أو المراد اللغوي، وهو ما تميل النفس إليه وتستحسنه، والحسن إذا روي من وجه آخر ترقَّى من الحسن إلى الصحيح لقوَّته من الجهتين فيعتضد أحدهما بالآخر، ونعني بالترقي أنه ملحق في القوة بالصحيح لا أنه عينه.
وأما الضعيف فلكذب راويه وفسقه لا ينجبر بتعدد طرقه كما في حديث: (طلب العلم فريضة) قال البَيهَقي: هذا حديث مشهور بين الناس وإسناده ضعيف، وقد رُوِيَ من أوجه كثيرة كلها ضعيف.
الفصل الثالثفي الضعيفهو ما لا يجتمع فيه شروط الصحيح والحسن، وتتفاوت درجاته في الضعف بحسب بُعده من شروط الصحة، ويجوز
অথবা আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারে, আর তা হলো এমন বিষয় যার প্রতি মন ধাবিত হয় এবং যাকে সে উত্তম মনে করে। আর হাসান (حسن) যখন অন্য কোনো দিক থেকে বর্ণিত হয়, তখন উভয় পার্শ্বের শক্তির কারণে তা হাসান (حسن) থেকে সহিহ (صحيح) পর্যায়ে উন্নীত হয়, ফলে একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। উন্নীত হওয়া বলতে আমরা বোঝাতে চাচ্ছি যে, এটি শক্তির দিক থেকে সহিহ (صحيح)-এর অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি হুবহু সহিহ (صحيح) নয়।
আর দুর্বল (ضعيف)-এর ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর মিথ্যাচার ও পাপাচারের কারণে এর সূত্রের আধিক্য দ্বারাও মানোন্নয়ন বা ত্রুটি মোচন হয় না, যেমনটি এই হাদিসের ক্ষেত্রে হয়েছে: (জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ)। বায়হাকি বলেন: এই হাদিসটি মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور), তবে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। এটি বহু দিক থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তার সবগুলোই দুর্বল (ضعيف)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদদুর্বল (ضعيف) প্রসঙ্গেএটি হলো এমন হাদিস যাতে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن)-এর শর্তাবলি একত্রিত হয় না। সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি থেকে এর দূরত্বের তারতম্য অনুযায়ী দুর্বলতার স্তরগুলোও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এবং এটি জায়েজ...
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
عند العلماء التساهل في أسانيد الضعيف دون الموضوع من غير بيان ضعفه في المواعظ والقَصَص وفضائل الأعمال لا
في صفات اللَّه تعالى وأحكام الحلال والحرام.
قيل: كان من مذهب النَسائي أن يُخرِج الحديث عن كُلِّ من لم يُجمع على تركه، وأبو داود كان يأخذه مأخذه، ويخرج الضعيف إذا لم يجد في الباب غيره ويرجِّحُه على رأي الرجال، عن الشعبيِّ ما حدَّثك عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم فخذ به، وما قالوه برأيهم فألقه في الحش، وقال الشعبي: الرأي بمنزلة الميتة إذا اضطررت إليها أكلتها.
وروي عن الشافعي: مهما قلت من قول أو أصَّلت من أصل فيه عن رسول اللَّه
আলেমদের নিকট উপদেশ, কিচ্ছা-কাহিনী এবং আমলের ফজিলত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সনদের ব্যাপারে নমনীয়তা প্রদর্শনের অবকাশ রয়েছে—যদি তা জাল (موضوع) না হয়—তার দুর্বলতা বর্ণনা করা ছাড়াই, তবে তা
মহান আল্লাহর গুণাবলি এবং হালাল-হারামের বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
বলা হয়ে থাকে: ইমাম নাসায়ীর মাযহাব বা নীতি ছিল এমন প্রত্যেক রাবীর থেকে হাদিস গ্রহণ করা যার বর্জনের (ترك) ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আবু দাউদও এই একই নীতি অনুসরণ করতেন; তিনি যখন কোনো অধ্যায়ে অন্য কোনো হাদিস পেতেন না, তখন দুর্বল (ضعيف) হাদিস গ্রহণ করতেন এবং একে মানুষের ব্যক্তিগত রায়ের ওপর প্রাধান্য দিতেন। ইমাম শাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু তোমাদের কাছে বর্ণনা করা হয় তা গ্রহণ করো, আর তারা যা নিজেদের ব্যক্তিগত রায়ের ভিত্তিতে বলে তা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করো।" শাবি আরও বলেন: "ব্যক্তিগত রায় হলো মৃত প্রাণীর মতো; যখন তুমি নিরুপায় হবে কেবল তখনই তা ভক্ষণ করবে।"
ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আমি যে কথাই বলি না কেন অথবা যে মূলনীতিই (أصل) নির্ধারণ করি না কেন, তাতে যদি রাসূলুল্লাহ থেকে (কোনো বর্ণনা থাকে)..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
صلى اللَّه عليه وسلم خلاف ما قلت، فالقول ما قاله صلى الله عليه وسلم وهو قولى. . يردده. .
وهاهنا عدَّة عبارات منها: ما تشترك فيه الأقسام الثلاثة، أعني: الصحيح والحسن والضعيف، ومنها: ما يختص بالضعيف.
المسندفمن الأول المسند: هو ما اتصل سنده مرفوعا إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.
المتصلوالمتَّصل: هو ما اتَّصل سنده سواء كان مرفوعا إليه صلى الله عليه وسلم أو موقوفا.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বক্তব্যের বিপরীতে যা বলেছেন, তাঁর কথাটিই চূড়ান্ত এবং সেটিই আমার অভিমত। ...তিনি এটি বারবার বলছিলেন...
এখানে বেশ কিছু পরিভাষা রয়েছে যার মধ্যে কিছু তিনটি প্রকারেই অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ: সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف)। আবার এমন কিছু রয়েছে যা কেবল দুর্বল (ضعيف) হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট।
মুসনাদপ্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো মুসনাদ: এটি এমন হাদিস যার সনদ (سند) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) অবস্থায় অবিচ্ছিন্ন (متصل)।
মুত্তাসিল (متصل)আর মুত্তাসিল (متصل) হলো: যার সনদ (سند) অবিচ্ছিন্ন (متصل), চাই তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হোক কিংবা মাওকুফ (موقوف) হোক।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
المرفوعوالمرفوع: هو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم خاصة من قول أو فعل أو تقرير سواء كان متصلاً أو منقطعاً.
فالمتصل قد يكون مرفوعاً وغير مرفوع، والمرفوع قد يكون متصلا وغير
متصل، والمُسند مرفوع متصل.
المُعَنعَنوالمعنعن: هو ما يقال في سنده: فلان عن فلان، والصحيح أنَّه متصل إذا أمكن اللقاء مع البراءة من التدليس، وقد أُودع في الصحيحين.
قال ابن الصلاح: كَثُر في عصرنا وما قاربه استعمال كلمة (عن) في الإجازة، وإذا قيل: فلان عن رجل عن فلان،
মারফূ (المرفوع)মারফূ (المرفوع) হলো: যা বিশেষভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে কোনো কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা সংযুক্ত (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক।
সুতরাং যা সংযুক্ত (متصل) তা মারফূ (مرفوع) হতে পারে আবার তা মারফূ (مرفوع) না-ও হতে পারে। আর মারফূ (مرفوع) বর্ণনাটি সংযুক্ত (متصل) হতে পারে আবার অ-সংযুক্ত (غير
متصل) হতে পারে; আর মুসনাদ হলো সংযুক্ত (متصل) মারফূ (مرفوع)।
মুআনআন (المعنعن)মুআনআন (المعنعن) হলো: যার সনদে (سند) বলা হয়: অমুক হতে (عن) অমুক। সঠিক অভিমত হলো, এটি সংযুক্ত (متصل) হিসেবে গণ্য হবে যদি বর্ণনাকারীদের মধ্যে সাক্ষাৎ সম্ভব হয় এবং তা বর্ণনাচাতুরি (التدليس) থেকে মুক্ত থাকে; আর এ ধরনের বর্ণনা সহীহাইন-এ সংকলিত হয়েছে।
ইবনে আস-সালাহ বলেন: আমাদের যুগে এবং এর নিকটবর্তী সময়ে ইজাযাহ (الإجازة) প্রদানের ক্ষেত্রে 'হতে' (عن) শব্দের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। আর যখন বলা হয়: অমুক জনৈক ব্যক্তি হতে (عن) অমুক হতে (عن),
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فالأقرب أنه منقطع وليس بمرسل.
المُعَلَّقوالمعلق: مأخوذ من مبدأ إسناده واحدا فأكثر، فاعلم أن الحذف إما أن يكون في أوَّل الإسناد وهو المعلق، أو في وسطه وهو المنقطع، أو في آخره وهو المرسل والبخاري أكثر من هذا النوع في صحيحه، وليس بخارج من الصحيح، لكون هذا الحديث معروفا من جهة الثقات الذين عُلِّق الحديث عنهم، أو لكونه ذكره متصلا في موضوع آخر من كتابه.
الإفرادوالإفراد: إما فرد عن جميع الرواة - جهة - نحو: تفرد به أهل مكَّة فلا يَضعُف إلّا أن يراد به تفرد واحد منهم.
সুতরাং এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত যে এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) এবং তা মুরসাল (مرسل) নয়।
মুআল্লাক (المعلق)আর মুআল্লাক (المعلق) হলো: যার বর্ণনাসূত্রের (إسناد) প্রারম্ভ থেকে এক বা একাধিক বর্ণনাকারীকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। সুতরাং জেনে রাখুন যে, বর্ণনাকারীর বিলুপ্তি হয় বর্ণনাসূত্রের (إسناد) শুরুতে—যা মুআল্লাক (المعلق), অথবা তার মধ্যস্থলে—যা বিচ্ছিন্ন (منقطع), অথবা তার শেষ প্রান্তে—যা মুরসাল (مرسل)। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই প্রকারের বর্ণনা অধিক পরিমাণে এনেছেন এবং তা সহিহ-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বাইরে নয়; কারণ এই হাদিসটি সেই সকল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের সূত্রে সুপরিচিত যাদের থেকে হাদিসটিকে মুআল্লাক (المعلق) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, অথবা তিনি এটি তাঁর কিতাবের অন্য কোনো স্থানে নিরবচ্ছিন্ন (متصلا) সনদে উল্লেখ করেছেন।
একক বর্ণনা (الإفراد)আর একক বর্ণনা (الإفراد) হলো: হয় সকল বর্ণনাকারীর (الرواة) প্রেক্ষাপটে একক হওয়া—যেমন ভৌগোলিক দিক থেকে—যথা: মক্কাবাসীরা এটি বর্ণনায় একক (تفرد); এমতাবস্থায় এটি দুর্বল (يضعف) হবে না, যদি না তাদের মধ্য থেকে কেবল কোনো একজনের একক বর্ণনা (تفرد) উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
المُدرجوالمدرج: هو ما أُدرج في الحديث من كلام بعض الرواة، فَيُظَنُّ أنه من الحديث أو أدرج متنان بإسنادين كرواية سعيد بن أبى مريم: (لا تباغضوا ولا تحاسدوا ولا تدابروا ولا تنافسوا) أدرج ابن أبى مريم فيه قوله: (ولا تنافسوا) من متن آخر أو عند الراوي طرف من متن واحد بسند شيخ هو غير سند المتن فيرويهما عنه بسند واحد، فيصير الإسنادان إسناداً واحداً.
أو يسمع حديثاً واحداً من جماعة مختلفين في سنده أو متنه، فَيُدرج روايتهم على الاتفاق ولا يذكر الاختلاف.
وتَعَمُّد كل واحد من تلك الثلاثة حرام.
প্রক্ষিপ্ত (المدرج)প্রক্ষিপ্ত (المدرج) হলো: হাদিসের মধ্যে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (الرواة) নিজস্ব কথা এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যে, ধারণা করা হয় সেটি হাদিসেরই অংশ। অথবা দুটি পৃথক সনদের (إسنادين) মাধ্যমে প্রাপ্ত দুটি মূল পাঠকে (متنان) একত্রিত করে ফেলা; যেমন সাঈদ ইবনে আবি মারইয়ামের বর্ণনা: (তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিমুখ হয়ো না এবং একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো না)। এখানে ইবনে আবি মারইয়াম অন্য একটি মূল পাঠ (متن) থেকে ‘এবং একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো না’ অংশটি এতে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। অথবা বর্ণনাকারীর (الراوي) কাছে একজন শায়খের সনদে (سند) কোনো মূল পাঠের (متن) একটি অংশ রয়েছে যা উক্ত মূল পাঠের (متن) মূল সনদের (سند) চেয়ে ভিন্ন, এমতাবস্থায় তিনি উভয়টিকে সেই শায়খের কাছ থেকে একটি সনদে (سند) বর্ণনা করেন, ফলে দুটি সনদ (الإسنادان) একটি সনদে (إسناداً) পরিণত হয়।
অথবা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একটি হাদিস শোনা যাদের বর্ণনায় সনদ (سنده) বা মূল পাঠে (متنه) ভিন্নতা রয়েছে, এমতাবস্থায় তিনি তাদের বর্ণনাসমূহকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং মতভেদগুলো উল্লেখ করেন না।
উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হারাম (حرام)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দীবায আল-মুযাহহাব ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
المشهوروالمشهور: ما شاع عند أهل الحديث خاصة، أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم (قنت شهراً يدعو على جماعة)، أو اشتهر عندهم وعند غيرهم نحو: (الأعمال بالنيّات) أو عند غيرهم، قال الإمام أحمد بن حنبل: قوله صلى الله عليه وسلم: (للسائل حق وإن جاء على فرس، ويوم نحركم يوم صومكم) يدوران في الأسواق ولا أصل لهما في الاعتبار.
الغريبوالغريب: العزيز؛ قيل: الغريب: كحديث الزُهري وأشباهه ممن يُجمع حديثه بعدالته وضبطه إذا تفرد عنهم بالحديث رجل يسمى غريباً،
সুপ্রসিদ্ধ (مشهور)সুপ্রসিদ্ধ (مشهور) হলো তা, যা বিশেষভাবে হাদিস বিশারদদের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) এক মাস কুনূত পড়ে একটি গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন; অথবা যা তাঁদের নিকট এবং অন্যদের নিকটও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যেমন: (সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল); অথবা যা কেবল অন্যদের নিকট প্রসিদ্ধ হয়েছে। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: (সাহায্যপ্রার্থীর অধিকার রয়েছে যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে, এবং তোমাদের কোরবানির দিনই তোমাদের রোজা শুরুর দিন)—এই কথাগুলো বাজারে প্রচলিত থাকলেও বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
একক (غريب)একক (غريب) হলো দুর্লভ (عزيز); বলা হয়েছে: একক (غريب) হলো ইমাম যুহরি এবং তাঁর অনুরূপ ঐসব বর্ণনাকারীদের হাদিসের মতো যাঁদের হাদিস তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভুলতার (ضبط) কারণে সংকলন করা হয়; যখন তাঁদের থেকে কোনো ব্যক্তি এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তাকে একক (غريب) বলা হয়।