(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
حديث أبي جعفر الطحاوي   (الطحاوي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حديث أبي جعفر الطحاوي

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سلمة الأزدي الحجري المصري المعروف بالطحاوي (ت 321هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু জাফর আত-তাহাবীর হাদিস   (আত-তাহাবী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু জাফর আত-তাহাবীর হাদিস

লেখক: আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সালামাহ আল-আজদী আল-হাজারী আল-মিসরী, যিনি আত-তাহাবী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩২১ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলাম ওয়েব সাইটের অধীনস্থ বিনামূল্যের জাওয়ামেউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَصَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، قَالَ الْفَقِيرُ إِلَى رَحْمَةِ رَبِّهِ الْغَنِيِّ قَاسِمٍ الْحَنَفِيِّ، قَرَأْتُ عَلَى حَافِظِ الْعَصْرِ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْعَسْقَلانِيِّ، قُلْتُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّنُوخِيُّ، إِذْنًا فِي آخَرِينَ فَأَقَرَّ بِهِ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ النَّحَّاسِ، إِجَازَةً، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَقْدِسِيُّ، إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، عَنْ أَبِي مُوسَى الْمَدِينِيِّ ح، وَأَنْبَأَنَا الْقَاضِي أَبُو الطَّاهِرِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْيُمْنِ الرَّبَعِيُّ، إِذْنًا عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَرَكَاتٍ الْبَعْلِيِّ، الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الْقُرَيْشَةِ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ الْكَمَالِ أَحْمَدَ الأَوَّلِ، عَنِ التَّقِيِّ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْيونِينِيِّ، وَهُوَ آخِرُ مَنْ حَدَّثَ عَنْهُ بِالسَّمَاعِ وَالثَّانِيَةِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي، إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، كِلاهُمَا عَنْ أَبِي مُوسَى الْمَدِينِيِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَتْحِ إِسْمَاعِيلُ أَبُو الْفَضْلِ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّرَّاجِ الإِخْشِيدِ، سَمَاعًا، أَنْبَأَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْحُسَيْنِ الثَّانِي، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُقْرِئِ، أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلامَةَ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর। তাঁর অভাবমুক্ত প্রতিপালকের রহমতের ভিখারি কাসিম আল-হানাফি বলেন: আমি সমকালীন হাফিয আবু ফজল আহমদ ইবনে আলী আল-আসকালানির নিকট পাঠ করেছি। আমি বললাম: আপনাকে আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানুখি সংবাদ দিয়েছেন—অন্যদের সাথে অনুমতিক্রমে—অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আন-নাহহাস ইজাযাহ সূত্রে, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মাকদিসি থেকে ইজাযাহ সূত্রে (যদি তা সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে), তিনি আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে (সনদ রূপান্তর)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আবুল ইয়ুমন আর-রাবায়ী, অনুমতিক্রমে ইবরাহিম ইবনে বারাকাত আল-বালি—যিনি ইবনুল কুরাইশাহ নামে পরিচিত—এবং যাইনব বিনতে কামাল আহমদ আল-আওয়াল থেকে; তাকি মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-ইউনিনির বরাতে, আর তিনি (রাবায়ী) হলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয়জন (যাইনব) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি থেকে ইজাযাহ সূত্রে (যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে); তাঁরা উভয়ে আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ ইসমাইল আবু ফজল—যিনি ইবনুস সাররাজ আল-ইখশিদ নামে পরিচিত—সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুর ইবনে আল-হুসাইন আস-সানি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুকরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
1 - أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرَةَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَدِمَ نَاسٌ مِنْ عُرَيْنَةَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَاجْتَوَوْهَا فَقَالَ: ‌‌«لَوْ خَرَجْتُمْ إِلَى ذَوْدٍ لَنَا فَشَرِبْتُمْ مِنْ أَلْبَانِهَا»
১ - আবু বাকরাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি বলেন: উরাইনা গোত্রের একদল লোক মদীনায় রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট আসলেন, অতঃপর তারা মদীনার আবহাওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তখন তিনি বললেন: «তোমরা যদি আমাদের উটের পালের কাছে যেতে এবং সেগুলোর দুধ পান করতে!»
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
2 - وَبِهِ إِلَى حُمَيْدٍ قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه: هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ؟ قَالَ: قِيلَ لَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ قُحِطَ الْمَطَرُ وَأَجْدَبَتِ الأَرْضُ وَهَلَكَ الْمَالُ فَمَدَّ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثٍ قَبْلَهُ.
২ - এবং তাঁর মাধ্যমে হুমাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর হাত উত্তোলন করতেন? তিনি বললেন: জুমুআর দিন তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে, যমিন শুষ্ক হয়ে গেছে এবং গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন তিনি তাঁর হাত দুটি প্রসারিত করলেন এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এর অনুরূপ হাদিস পূর্বের ন্যায় উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
3 - وَبِهِ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّ قَسَمَهُ»
৩ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়‌‌ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে, যে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তবে আল্লাহ তার শপথ পূরণ করেন।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
4 - وَبِهِ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ رضي الله عنهما قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ تَحَجَّبَتْ أُمَّهَاتُ الْمُؤْمِنِينَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى آيَةَ الْحِجَابِ
4 - এবং তাঁর মাধ্যমে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট পুণ্যবান ও পাপাচারী উভয়ই প্রবেশ করে; তাই যদি মুমিনদের মাতাগণ পর্দার অন্তরালে থাকতেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন আয়াত পর্দার (হিজাবের)।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
5 - وَبِهِ إِلَى أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ:‌‌ أَوْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَنَى بِزَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى حُجَرِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ رَأَى رَجُلَيْنِ قَدْ مَرَّ بِهِمَا الْحَدِيثُ فَوَثَبَا مُسْرِعَيْنِ فَرَجَعَ حَتَّى دَخَلَ الْبَيْتَ وَأَرْخَى السِّتْرَ وَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ

وَبِهِ إِلَى الطَّحَاوِيِّ
৫ - এবং একই সূত্রের মাধ্যমে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:‌‌ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন যয়নব বিনতে জাহশ-এর সাথে বাসর সম্পন্ন করলেন তখন তিনি ওলীমার আয়োজন করলেন, এরপর তিনি মুমিনদের মাতাগণের কক্ষগুলোর দিকে বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর যখন তিনি স্বীয় ঘরে ফিরে আসলেন, তিনি দু'জন লোককে দেখলেন যারা আলাপচারিতায় মগ্ন ছিল; তারা দ্রুতবেগে উঠে প্রস্থান করল। তখন তিনি ফিরে আসলেন এবং ঘরে প্রবেশ করে পর্দা টেনে দিলেন এবং পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হলো।

এবং একই সূত্রের মাধ্যমে ইমাম তহাবী পর্যন্ত (বর্ণিত)।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
6 -، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ.

ح، وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالا: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ عَمَّتَهُ الرُّبَيِّعَ لَطَمَتْ جَارِيَةً كَسَرَتْ ثَنِيَّتَهَا فَطَلَبُوا إِلَيْهِمُ الْعَفْوَ فَأَبَوْا وَالأَرْشَ إِلا الْقِصَاصَ وَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ، فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ: أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ لا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَنَسُ، كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ» .

فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বাকরা এবং ইবরাহীম ইবনে মারজুক, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী।

হ, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনে মারজুক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হুমাইদ বর্ণনা করেছেন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে, তাঁর ফুফু রুবায়্যি' জনৈক দাসীকে চপেটাঘাত করায় তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। তখন তারা (রুবায়্যি'র পরিবার) তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল, কিন্তু তারা ক্ষমা করতে ও ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণে অনড় থাকল। অতঃপর তারা বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ প্রদান করলেন। তখন আনাস ইবনে নাদর বললেন: "রুবায়্যি'-এর সামনের দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর সামনের দাঁত ভাঙা হবে না।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আনাস, আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস।"

অতঃপর সেই পক্ষ সন্তুষ্ট হলো এবং তারা ক্ষমা করে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি যদি আল্লাহর নামে শপথ করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই তা পূর্ণ করেন।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
7 - وَبِهِ إِلَى الطَّحَاوِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثٍ قَبْلَهُ، عَنْ حُمَيْدٍ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه يَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي السُّوقِ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ الرَّجُلُ: إِنَّمَا أَدْعُو ذَاكَ، فَقَال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي» ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ

تَمَّ ذَلِكَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ
وَسَلَّمَ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ نَسْتَعِينُ.

الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.

قَرَأْتُ عَلَى حَافِظِ الْعَصْرِ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْعَسْقَلانِيِّ، قُلْتُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّنُوخِيُّ، إِذْنًا فِي آخَرِينَ فَأَقَرَّ بِهِ قَالُوا: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ النَّحَّاسِ، إِجَازَةً عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَقْدِسِيِّ، إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، عَنْ أَبِي مُوسَى الْمَدِينِيِّ.

ح، وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْيُمْنِ الرَّبَعِيُّ، إِذْنًا عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَرَكَاتٍ الْبَعْلِيِّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الْقُرَيْشَةِ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ الْكَمَالِ أَحْمَدَ الأَوَّلِ، عَنِ التَّقِيِّ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْيوسِيِّ، وَهُوَ آخِرُ مَنْ حَدَّثَ عَنْهُ بِالسَّمَاعِ، وَالثَّانِيَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْهَادِي، إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، كِلاهُمَا عَنْ أَبِي مُوسَى الْمَدِينِيِّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَتْحِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْفَضْلِ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّرَّاجِ الإِخْشِيدِ، سَمَاعًا أَنْبَأَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْحُسَيْنِ الثَّانِي، نَسَبُهُ إِلَى تَانَةَ قُرَى أَصْبَهَانَ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ، أَنْبَأَنَا الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلامَةَ الطَّحَاوِيُّ.
৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইমাম তাহাবি পর্যন্ত (সনদ পৌঁছেছে)। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বাকরাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হুমাইদ, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে এর পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ। হুমাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: নবী (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বাজারে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি ডাকল, "হে আবুল কাসিম!" আল্লাহর রাসুল (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তার দিকে ফিরলেন। তখন লোকটি বলল, "আমি তো অমুককে ডেকেছি।" তখন নবী (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: «তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে উপনাম রেখো না।» এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

এটি সমাপ্ত হলো। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমি যুগের হাফেজ আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী আল-আসকালানির সামনে পাঠ করেছি। আমি বললাম: আপনাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানুখি (অন্যদের সাথে তাঁর অনুমতিসহ), অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আন-নাহহাস (মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মাকদিসির ইজাজত বা অনুমতি সূত্রে, যদি শ্রবণ সূত্রে না হয়), আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে।

হ (হাদিসের সনদ পরিবর্তনের প্রতীক), এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আবিল ইয়ুমন আর-রাবাঈ। তিনি ইব্রাহিম ইবনে বারাকাত আল-বালি (যিনি ইবনুল কুরাইশাহ নামে পরিচিত) এবং জয়নাব বিনতে কামাল আহমদ আল-আউয়ালের অনুমতি সূত্রে। তিনি তাকি মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-ইউসি থেকে, যিনি শ্রবণ সূত্রে তাঁর কাছ থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। আর দ্বিতীয়জন মুহাম্মদ ইবনুল হাদি থেকে অনুমতি সূত্রে (যদি শ্রবণ সূত্রে না হয়)। তাঁরা উভয়েই আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ ইসমাইল ইবনুল ফজল (যিনি ইবনুস সাররাজ আল-ইখশিদ নামে পরিচিত) শ্রবণ সূত্রে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুর ইবনুল হুসাইন আস-সানি (যাঁর বংশধারা আসবাহানের তানা গ্রামের দিকে), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-মুকারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফেজ আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আত-তাহাবি।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَدِمَ نَاسٌ مِنْ عُرَيْنَةَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَاجْتَوَوْهَا، فَقَالَ: ‌‌«لَوْ خَرَجْتُمْ إِلَى ذَوْدٍ لَنَا فَشَرِبْتُمْ مِنْ أَلْبَانِهَا» .

قَالَ: وَذَكَرَ قَتَادَةُ أَنَّهُ حَفِظَ عَنْهُ أَبْوَالَهَا، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
فِي صَحِيحِهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، وَأَبِي بَكْرٍ، عَنْ هُشَيْمٍ.

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، وَحُمَيْدٌ، وَأَبُو دَاوُدَ، عَنْ مُوسَى، عَنْ حَمَّادٍ، وَالتِّرْمِذِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيِّ، عَنْ عَفَّانَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، وَالنَّسَائِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، وَعَنِ ابْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، وَعَنِ ابْنِ مُثَنًّى، عَنِ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ، وَعَنْ أَبِي الطَّاهِرِ بْنِ السَّرْحِ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، كُلُّهُمْ عَنْ حُمَيْدٍ، وَابْنِ مَاجَهْ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ، عَنْ حُمَيْدٍ بِهِ، فَكَأَنَّمَا رُوِّينَاهُ، عَنْ مَشَايِخِ مَشَايِخِنَا وَللَّهِ الْحَمْدُ.
৮ - আমাদের কাছে আবু বকরা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন বকর বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক মদিনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন, কিন্তু সেখানকার আবহাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের অনুকূল হলো না। তখন তিনি বললেন: “তোমরা যদি আমাদের উটের পালের কাছে যেতে এবং সেগুলোর দুধ পান করতে।”

তিনি (রাবী) বলেন: কাতাদাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর থেকে উটের প্রস্রাবের কথাটিও মুখস্থ রেখেছেন। এটি ইমাম মুসলিম
তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও আবু বকর থেকে, তাঁরা হুশাইম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবন সুহাইব ও হুমাইদ; আবু দাউদ মুসা থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে; তিরমিজি হাসান ইবন মুহাম্মদ আয-যা’ফরানি থেকে, তিনি আফফান থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে; নাসাঈ আলী ইবন হুজর থেকে, তিনি ইসমাইল ইবন জাফর থেকে; ইবনুল মুসান্না খালিদ ইবনুল হারিস থেকে; ইবনুল মুসান্না ইবন আবি আদি থেকে; এবং আবু তাহির ইবন আস-সারহ ইবন ওয়াহাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে—তারা সবাই হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবন মাজাহ নাসর ইবন আলী থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে হাদিসটি যেন আমরা আমাদের শায়খদের শায়খদের থেকে বর্ণনা করলাম। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
9 - وَبِهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا‌‌ نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ، أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ مَكِّيٍّ، فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً عَالِيَةً، وَهَذَا مِنْ أَعْلَى مَا فِي الصَّحِيحِ وَللَّهِ الْحَمْدُ.
৯ - এবং তাঁর মাধ্যমে আলী ইবনে মাবাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাক্কী ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে আবু উবায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম যখন তা (সূর্য) পর্দার আড়ালে আত্মগোপন করত। এটি বুখারী মাক্কী থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের মুওয়াফাকাহ (সূত্রের মিল) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, আর এটি সহীহ বুখারীর অন্যতম উচ্চতম সনদ, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
10 - وَبِهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه، قَالَ: أَخَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَتَمَةَ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ، فَلَمَّا صَلَّى أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: «إِنَّ‌‌ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَنَامُوا أَوْ رَقَدُوا، وَلَمْ تَزَالُوا فِي صَلاةٍ مَا انْتَظَرْتُمُوهَا» .

وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، وَعَنِ ابْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، وَابْنِ مَاجَهْ، عَنِ ابْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ حُمَيْدِيَةَ، فَعَلَوْنَا فِيهِ دَرَجَةً وَللَّهِ الْحَمْدُ.
10 - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবন মা’বাদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন বকর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুমায়দ আত-তবিল, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশার সালাতকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: “নিশ্চয়ই মানুষ সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে অথবা বিশ্রাম নিয়েছে, আর তোমরা যতক্ষণ সালাতের প্রতীক্ষায় ছিলে ততক্ষণ তোমরা সালাতেই ছিলে।”

এটি ইমাম নাসাঈ বর্ণনা করেছেন আলী ইবন হুজর থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবন জাফর থেকে; এবং ইবনুল মুসান্না থেকে, তিনি খালিদ ইবনুল হারিস থেকে। আর ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুসান্না থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি হুমায়দ থেকে। এর মাধ্যমে আমরা এতে (সনদে) এক স্তর উঁচুতে আরোহণ করলাম, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
11 - وَبِهِ حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‌‌ إِذَا كَانَ الشِّتَاءُ بَكَّرَ بِالظُّهْرِ، وَإِذَا كَانَ بِالصَّيْفِ أَبْرَدَ بِهَا، وَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ، مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ، عَنْ أَبِي خَلْدَةَ خَالِدِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَنَسٍ
১১ - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইবনে মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শীতকাল হতো তখন যোহরের সালাত দ্রুত (ওয়াক্তের শুরুতে) আদায় করতেন, আর যখন গ্রীষ্মকাল হতো তখন তা ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে) আদায় করতেন। বুখারী ও মুসলিম এটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আবু খালদাহ খালিদ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
12 - وَبِهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌«يُحِبُّ أَنْ يَلِيَهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ لِيَحْفَظُوا عَنْهُ» .

وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ، عَنِ الْمُثَنَّى، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ حُمَيْدٍ بِهِ، وَابْنِ مَاجَهْ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ الثَّقَفِيِّ، عَنْ حُمَيْدٍ بِهِ، فَعَلَوْنَا بِهِ بِدَرَجَةٍ وَللَّهِ الْحَمْدُ.
১২ - উক্ত সানাদে আমাদের নিকট আলী ইবন মাবাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন বকর বর্ণনা করেছেন, আমাদের হুমায়দ সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «পছন্দ করতেন যে মুহাজির ও আনসারগণ যেন তাঁর নিকটবর্তী থাকে, যাতে তাঁরা তাঁর নিকট থেকে (সুন্নাহ) সংরক্ষণ করতে পারেন»।

ইমাম নাসায়ি এটি আল-মুসান্না থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি হুমায়দ থেকে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাহ এটি নাসর ইবন আলী আস-সাকাফী থেকে এবং তিনি হুমায়দ থেকে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ফলে আমরা সানাদের ক্ষেত্রে এক স্তর উপরে উন্নীত হলাম; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
13 - وَبِهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، رضي الله عنه عَنِ الْقُنُوتِ قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَ الرُّكُوعِ؟ فَقَالَ: لا بَلْ قَبْلَ الرُّكُوعِ، قُلْتُ: إِنَّ نَاسًا يَزْعُمُونَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ، قَالَ: " إِنَّمَا‌‌ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا يَدْعُو عَلَى أُنَاسٍ قَتَلُوا نَاسًا مِنْ أَصْحَابِهِ، يُقَالُ لَهُمُ: الْقُرَّاءُ "
১৩ - এবং এর মাধ্যমেই আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুআবিয়াহ আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে রুকুর পূর্বে নাকি রুকুর পরে কুনুত পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: না, বরং রুকুর পূর্বেই। আমি বললাম: নিশ্চয়ই কিছু লোক দাবি করে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকুর পরে কুনুত পড়েছিলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মাস কুনুত পড়েছিলেন এবং এমন এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বদদোয়া করছিলেন যারা তাঁর একদল সাহাবীকে হত্যা করেছিল, যাদের বলা হতো: আল-কুররা।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
14 - وَبِهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، وَحُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ قَالُوا: أَنْبَأَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ سَعْدُ بْنُ طَارِقٍ قَالَ: قُلْتُ لأَبِي: يَا أَبَةِ إِنَّكَ قَدْ صَلَّيْتَ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَخَلْفَ عُثْمَانَ، وَخَلْفَ عَلِيٍّ رضي الله عنهم هَهُنَا بِالْكُوفَةِ قَرِيبًا مِنْ خَمْسِ سِنِينَ أَكَانُوا‌‌ يَقْنُتُونَ فِي الْفَجْرِ؟ فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّ مُحْدَثٌ.
১৪ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে মাবাদ, হুসাইন ইবনে নাসর এবং আলী ইবনে শায়বাহ্‌, তাঁরা ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মালিক আল-আশজাঈ সাদ ইবনে তারিক, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: হে আমার পিতা! আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে সালাত আদায় করেছেন, এবং আবু বকর, উমর ও উসমানের পেছনে সালাত আদায় করেছেন এবং এখানে কুফায় আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পেছনে প্রায় পাঁচ বছর সালাত আদায় করেছেন। তাঁরা কি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন? তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! এটি একটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
15 - وَبِهِ حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ، وَأَبُو بَكْرَةَ قَالا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه: هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ قَالَ: قِيلَ لَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ قُحِطَ الْمَطَرُ وَأَجْدَبَتِ الأَرْضُ وَهَلَكَ الْمَالُ فَمَدَّ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي دَاوُدَ.
১৫ - এবং তাঁর সূত্রেই ইবনে মারজুক ও আবু বাকরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তাঁর দুই হাত উত্তোলন করতেন? তিনি বলেন: জুমার দিন তাঁকে বলা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসূল! অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে, যমীন শুষ্ক হয়ে গিয়েছে এবং গবাদিপশু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত প্রসারিত করলেন, এমনকি আমি তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি আবু দাউদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
16 - وَبِهِ حَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، سَمِعْتُ جَابِرَ رضي الله عنه يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ دَعُوا النَّاسَ يَرْزُقُ اللَّهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ»
১৬ - এবং এই সূত্রে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “কোনো শহরবাসী যেন কোনো গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রয় না করে। তোমরা মানুষকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও, আল্লাহ তাদের একজনের মাধ্যমে অন্যজনকে রিযিক দান করবেন।”
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
17 - وَبِهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: "‌‌ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ، يَعْنِي: إِلَى الصَّلاةِ، فَلْيَمْشِ عَلَى هَيْئَتِهِ فَلْيُصَلِّ مَا أَدْرَكَ وَلْيَقْضِ مَا سَبَقَ بِهِ مِنْهَا "
১৭ - এবং এই সনদেই আমাদের নিকট আলী বিন মা'বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুমাইদ আত-তাবিল বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌যখন তোমাদের কেউ আসে—অর্থাৎ সালাতের দিকে—তখন সে যেন তার স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে আসে; অতঃপর সে সালাতের যতটুকু অংশ পায় তা যেন আদায় করে এবং যা তার থেকে ছুটে গেছে তা যেন পূর্ণ করে নেয়।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
18 - وَبِهِ حَدَّثَنَا يُونُسُ، مَرَّةً أُخْرَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أُمَّ أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: نَزَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ فَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ طَعَامًا فِيهِ بَعْضُ هَذِهِ الْبُقُولِ فَلَمْ يَأْكُلْهُ وَقَالَ: «إِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُوذِيَ صَاحِبِي»
১৮ - এবং এই সূত্রেই ইউনুস আমাদের নিকট পুনরায় বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উম্মু আইয়ুব আল-আনসারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার এখানে অবতরণ করেছিলেন। অতঃপর আমি তাঁর নিকট কিছু খাবার পেশ করলাম যাতে এই জাতীয় কিছু শাক-সবজি ছিল, কিন্তু তিনি তা ভক্ষণ করলেন না এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার সাথীকে কষ্ট দিতে অপছন্দ করি।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
19 - وَبِهِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، وَابْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّ قَسَمَهُ»
১৯ - এবং এর মাধ্যমেই আমাদের নিকট আবু বকরাহ ও ইবনে মারজুক বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে বকর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুমাইদ আত-তাবীল বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে, যে যদি আল্লাহর ওপর কসম করে, তবে তিনি অবশ্যই তার কসম পূর্ণ করেন।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، وَابْنُ مَرْزُوقٍ قَالا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ رضي الله عنهما: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ حَجَبْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى آيَةَ الْحِجَابِ.

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ، فَذَكَرَ بِإِسْنَادٍ مِثْلِهِ.
২০ - আবু বাকরাহ এবং ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবদুল্লাহ বিন বাকর আস-সাহমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট নেককার ও বদকার সব ধরণের লোকই প্রবেশ করে; তাই আপনি যদি মুমিনদের জননীদের পর্দার অন্তরালে থাকার নির্দেশ দিতেন! অতঃপর আল্লাহ তাআলা পর্দার আয়াত নাজিল করেন।

হুসাইন বিন নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াযিদ বিন হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ সনদে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه، قَالَ:‌‌ أَوْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَنَى بِزَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى حُجَرِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ رَأَى رَجُلَيْنِ قَدْ مَدَّ بِهِمَا الْحَدِيثُ فَوَثَبَا مُسْرِعَيْنِ فَرَجَعَ حَتَّى دَخَلَ الْبَيْتَ فَأَرْخَى السِّتْرَ، وَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى آيَةَ الْحِجَابِ
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকরাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন বকর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ আত-তবিল, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন যায়নাব বিনতে জাহশের সাথে বাসর সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি ওলীমার আয়োজন করেন। অতঃপর তিনি মুমিনদের জননীদের কক্ষসমূহের দিকে বের হলেন। এরপর যখন তিনি তাঁর ঘরে ফিরে আসলেন, তখন দেখলেন যে দুইজন লোক দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তায় মগ্ন রয়েছে। তখন তারা দ্রুত প্রস্থান করল। অতঃপর তিনি ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। আর মহান আল্লাহ হিজাবের (পর্দা) আয়াত নাজিল করলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
22 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ:‌‌ وُلِدَ لِرَجُلٍ مِنَّا غُلامٌ، فَسَمَّاهُ الْقَاسِمَ، فَقُلْنَا: لا نُكَنِّيكَ أَبَا الْقَاسِمِ وَلا نُنْعِمُكَ عَيْنًا فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: «اسْمُ أَبِيكَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ»
22 - ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিত, আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করল, তখন সে তার নাম রাখল আল-কাসিম। আমরা বললাম: আমরা তোমাকে আবুল কাসিম উপনামে সম্বোধন করব না এবং এ বিষয়ে তোমার চক্ষু শীতল হতে দেব না। অতঃপর সে নবী সাল্লা ল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বিষয়টি তাঁর নিকট উল্লেখ করল। তিনি বললেন: "তোমার পিতার নাম আবদুর রহমান।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
23 - وَبِهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه‌‌ عَنِ الْحِجَامَةِ، قُلْتُ: تُكْرَهُ لِلصَّائِمِ
২৩ - এবং এই সূত্রেই আলী ইবনে শাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আত-তাবিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সিঙা লাগানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি বললাম: রোযাদারের জন্য কি এটি অপছন্দনীয়?
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ.

ح، وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الأَنْصَارِيُّ، قَالا: حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَمَّتَهُ الرُّبَيِّعَ لَطَمَتْ جَارِيَةً فَكَسَرَتْ ثَنِيَّتَهَا فَطَلَبُوا لَهُمُ الْعَفْوَ فَأَبَوْا وَالأَرْشَ فَأَبَوْا إِلا الْقِصَاصَ فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ: أَنَكْسِرُ ثَنِيَّةَ الرُّبَيِّعِ لا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَنَسُ، كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ» .

فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ يَزِيدُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ»
২৪ - আবু বাকরা এবং ইবরাহিম ইবনে মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবরাহিম ইবনে মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: হুমাইদ বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, তাঁর ফুফু রুবাইয়ি' এক দাসীকে চড় মারেন, যার ফলে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। তখন রুবাইয়ি'-র পরিবার তাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন, কিন্তু তারা অস্বীকার করল। এরপর তারা রক্তপণ দিতে চাইলেন, তাও তারা অস্বীকার করল এবং কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণে অনড় থাকল। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনে নাদর বললেন: রুবাইয়ি'-র সামনের দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর সামনের দাঁত ভাঙা হবে না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «হে আনাস, আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস»।

অতঃপর সেই পক্ষটি সন্তুষ্ট হলো এবং ক্ষমা করে দিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করেন। তাঁদের কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান»
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
25 - عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَسُهَيْلُ ابْنُ الْبَيْضَاءِ، وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، عِنْدَ طَلْحَةَ وَأَنَا أَسْقِيهِمْ مِنْ شَرَابٍ حَتَّى كَادَ أَنْ يَأْخُذَ فِيهِمْ، قَالَ: فَمَرَّ بِنَا مَارٌّ مِنَ الْمَسْكَنِ فَنَادَى أَلا هَلْ شَعَرْتُمْ أَنَّ‌‌ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ فَوَاللَّهِ مَا انْتَظَرُوا أَنْ أَمَرُونِي أَنْ أُلْقِيَ مَا فِي الآنِيَةِ، فَفَعَلْتُ فَمَا عَادُوا فِي شَيْءٍ مِنْهَا حَتَّى لَقُوا اللَّهَ وَإِنَّهَا الْبُسْرُ وَالتَّمْرُ وَإِنَّهَا لَخَمْرُنَا يَوْمَئِذٍ.

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ مِثْلَهُ.
২৫ - আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ, সুহাইল ইবনুল বায়দা এবং উবাই ইবনে কাব (রা.) তালহা (রা.)-এর নিকট ছিলেন। আর আমি তাঁদের পানীয় পরিবেশন করছিলাম, এমনকি তা তাঁদের ওপর প্রায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি বলেন: এমতাবস্থায় জনৈক পথচারী আমাদের কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ডেকে বললেন, "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে।" আল্লাহর কসম, তাঁরা কালক্ষেপণ না করে আমাকে পাত্রে যা আছে তা ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং আমি তা-ই করলাম। এরপর তাঁরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত তার কোনো কিছুই আর পুনরায় গ্রহণ করেননি। আর তা ছিল কাঁচা খেজুর ও শুকনো খেজুরের মিশ্রণ; এবং সে সময় এটাই ছিল আমাদের মদ।

আলী ইবনে শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আমাদের নিকট আনাস (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
26 - حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] قَالَ أَوْ قَالَ {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا} [البقرة: 245] جَاءَ أَبُو طَلْحَةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ حَائِطِي الَّذِي بِمَكَانِ كَذَا وَكَذَا وَلَوِ اسْتَطَعْتَ أَنْ أُسِرَّهُ لَمْ أُعْلِنْهُ فَقَالَ: «اجْعَلْهُ فِي فُقَرَاءِ قَرَابَتِكَ أَوْ فُقَرَاءِ أَهْلِكَ»
২৬ - আমাদের নিকট ইবনে মারযূক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুমাইদ বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {তোমরা কখনোই পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা যা ভালোবাসো তা থেকে ব্যয় করো} [আলে ইমরান: ৯২] অথবা তিনি বললেন {কে সেই যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে} [আল-বাকারা: ২৪৫], তখন আবু তালহা আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! অমুক অমুক স্থানে অবস্থিত আমার যে বাগানটি রয়েছে, আর আমি যদি এটি গোপন রাখতে সক্ষম হতাম তবে তা প্রকাশ করতাম না। তখন তিনি বললেন: "এটি তোমার দরিদ্র নিকটাত্মীয়দের মাঝে অথবা তোমার পরিবারের দরিদ্র সদস্যদের মাঝে দিয়ে দাও।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
27 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، أَنَّهُ قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، رضي الله عنه عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ، فَقَالَ: قَدِ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ حَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ الْحَجَّامُ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَاعَيْنِ مِنَ الطَّعَامِ، وَكَلَّمَ مَوَالِيَهُ لِيُخَفِّفُوا عَنْهُ مِنْ غَلَّتِهِ شَيْئًا فَفَعَلُوا ذَلِكَ.
২৭ - আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনু মারযূক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনু বাকর আস-সাহমী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুমাইদ আত-তবিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শিঙা লাগানো ব্যক্তির উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙা লাগিয়েছিলেন। আবূ তাইবা নামক শিঙা লাগানো ব্যক্তি তাঁকে শিঙা লাগিয়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দুই সা’ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য প্রদানের নির্দেশ দেন এবং তার মালিকদের সাথে কথা বলেন যাতে তারা তার উপর ধার্যকৃত করের বোঝা কিছুটা কমিয়ে দেয়, অতঃপর তারা তা-ই করেছিল।
(খণ্ড: ১) হাদীস আবি জাফর আত-তাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
28 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ يَسُوقُ بَدَنَةً، قَالَ: ‌‌«ارْكَبْهَا» .

قَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ، قَالَ: «ارْكَبْهَا»
২৮ - আলী ইবন শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আত-তবিল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি একটি কোরবানির উট তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি বললেন: "এটির ওপর আরোহণ করো।".

সে বলল: নিশ্চয় এটি কোরবানির উট। তিনি বললেন: "এটির ওপর আরোহণ করো।"