(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
الثامن من الخلعيات (الخلعي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الثامن من الخلعيات
المؤلف: علي بن الحسن بن الحسين بن محمد، أبو الحسن الخِلَعي الشافعيّ (ت 492هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-খিলাইয়্যাত-এর অষ্টম খণ্ড (আল-খিলাঈ)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
বই: আল-খিলাইয়্যাত-এর অষ্টম খণ্ড
লেখক: আলী বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ، আবুল হাসান আল-খিলাঈ আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৯২ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলাম নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) সাইটের অধীনস্থ বিনামূল্যে বিতরিত জাওয়ামেউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[বইটি একটি পাণ্ডুলিপি]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
الْجُزْءُ الثَّامِنُ مِنَ الْفَوَائِدِ الْمُنْتَقَاةِ الْحِسَانِ مِنَ الصِّحَاحِ وَالْغَرَائِبِتَخْرِيجَ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الشِّيرَازِيِّ رِوَايَةَ الْقَاضِي أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْفَقِيهِ، أَدَامَ اللَّهُ عِزَّهُ.قُوبِلَ بِهِ فَوَافَقَ أَخْبَرَنَا سَيِّدُنَا الشَّرِيفُ الْقَاضِي الطَّاهِرُ نَقِيبُ النُّقَبَاءِ أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَسْعَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْحَسِينِيِّ الْمَالِكِيِّ النَّسَّابَةِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَهُوَ يَنْظُرُ فِي أَصْلِهِ، فَأَقَرَّ بِهِ بِالْجَامِعِ الْعَتِيقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ بْنِ غَدِيرٍ السَّعْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الشَّافِعِيُّ رحمه الله قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، تَوَكُّلٌ تُكْفَ
সহীহ ও গরীব বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে চয়নকৃত উত্তম ফায়দাহসমূহের অষ্টম খণ্ডআহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আশ-শিরাজীর তাখরীজকৃত; বিচারক আবুল হাসান আলী বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আল-ফকীহর বর্ণনা, আল্লাহ তাঁর সম্মান স্থায়ী করুন।এটি মূল কপির সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তা হুবহু মিলে গেছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের নেতা, শরীফ, পবিত্র বিচারক, নকীবদের প্রধান আবু আলী মুহাম্মদ বিন আসআদ বিন আলী আল-হুসাইনী আল-মালিকী বংশবিদ্যা বিশারদ, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির দিকে লক্ষ্য করছিলেন; অতঃপর তিনি প্রাচীন জামে মসজিদে এটি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন রিফায়া বিন গাদীর আস-সাদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন আশ-শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর ওপর ভরসা করো, তবেই তুমি পর্যাপ্ততা লাভ করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ دِرْهَمٍ الْبَصْرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، بِمَكَّةَ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ سَعْدَانُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَخْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْهِلَالِيُّ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ مَمْلَكٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، تَرْوِيهِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ فَقَدْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الْخَيْرِ، وَمَنْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ فَقَدْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الْخَيْرِ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জাজ, তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর ইবনে দিরহাম আল-বসরী, যিনি ইবনুল আরাবী নামে পরিচিত, মক্কায় তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উসমান সা’দান ইবনে নাসর ইবনে মানসুর আল-মাখরামী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আবু মুহাম্মদ আল-হিলালী, আমর হতে, তিনি ইবনে আবু মুলাইকা হতে, তিনি ইয়া’লা ইবনে মামলাক হতে, তিনি উম্মুদ দারদা হতে, তিনি এটি বর্ণনা করেন আবু দারদা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যাকে নম্রতার অংশ দান করা হয়েছে, তাকে কল্যাণের অংশ দান করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি নম্রতার অংশ হতে বঞ্চিত হয়েছে, সে কল্যাণের অংশ হতে বঞ্চিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
2 - وَقَالَ: «إِنَّ أَثْقَلَ شَيْءٍ فِي مِيزَانِ الْمُؤْمِنِ خُلُقٌ حَسَنٌ، إِنَّ اللَّهَ يُبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيءَ»
2 - এবং তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিনের মিযানে (পাল্লায়) সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো উত্তম চরিত্র। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও কটুভাষী ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرٍ الْأَعْرَابِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ الْمَخْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، اسْتَعْمَلَ رَجُلًا مِنَ الْأُزْدِ عَلَى الصَّدَقَةِ، يُقَالُ لَهُ: ابْنُ الْأُتَبِيَّةِ، فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: هَذَا لَكُمْ، وَهَذَا لِي.فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: " مَا بَالُ الْعَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ عَلَى بَعْضِ الْعَمَلِ مِنْ أَعْمَالِنَا فَيَجِيءُ فَيَقُولُ: هَذَا لَكُمْ، وَهَذَا لِي، أَفَلَا جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ، أَوْ بَيْتِ أُمِّهِ، فَيَنْظُرُ هَلْ يُهْدَى لَهُ شَيْءٌ أَمْ لَا؟ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَأْتِي أَحَدُكُمْ مِنْهَا بِشَيْءٍ إِلَّا جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُحْمَلُ عَلَى رَقَبَتِهِ؛ إِنْ كَانَ بَعِيرًا لَهُ رُغَاءٌ، أَوْ بَقَرَةً لَهَا خُوَارٌ، أَوْ شَاةً تَيْعَرُ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ عُفْرَةِ إِبِطَيْهِ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ»
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জায, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর আল-আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাদান ইবনে নাসর আল-মাখরামি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আবু হুমাইদ আস-সাঈদি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে সাদাকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন, যাকে ইবনুল উতাবিয়্যাহ বলা হতো। যখন সে ফিরে এল, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: এটি আপনাদের জন্য, আর এটি আমার জন্য।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের ওপর দাঁড়ালেন, আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন এবং বললেন: "সেই কর্মকর্তার কী হলো, যাকে আমি আমাদের কোনো কাজের দায়িত্ব দিয়ে নিয়োগ করি, আর সে এসে বলে: এটি আপনাদের জন্য, আর এটি আমার জন্য উপহার। সে কেন তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে বসে থাকল না, তখন সে দেখত তাকে কেউ কিছু উপহার দেয় কি না? সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতের মধ্যে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, তোমাদের কেউ এর থেকে সামান্য কিছুও যদি গ্রহণ করে, তবে সে তা কিয়ামতের দিন নিজের ঘাড়ের ওপর বহন করে উপস্থিত হবে; যদি তা উট হয় তবে তা চিৎকার করতে থাকবে, যদি গরু হয় তবে তা হাম্বা হাম্বা ডাকতে থাকবে, আর যদি বকরি হয় তবে তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ ডাকতে থাকবে।" অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত তুললেন, এমনকি আমি তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ بْنِ وَرْدَانَ السَّمَرْقَنْدِيُّ، قَدِمَ مِصْرَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الْمُؤْمِنِ أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، بَعَثَ رَجُلًا مِنَ الْأُزْدِ، يُقَالُ لَهُ: ابْنُ اللُّتْبِيَّةِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَجَاءَ مِنْ حَيْثُ بَعَثَهُ، قَالَ: هَذَا لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ إِلَيَّ، قَالَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهُ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " مَا بَالُ رِجَالٍ نَسْتَعْمِلُهُمْ عَلَى الْعَمَلِ فَيَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: هَذَا لَكُمْ، وَهَذَا أُهْدِيَ إِلَيَّ، أَفَلَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِ أَبِيهِ أَوْ بَيْتِ أُمِّهِ فَيَنْظُرُ أَيُهْدَى لَهُ أَمْ لَا؟ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ، لَا يَأْتِي أَحَدٌ مِنْكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِشَيْءٍ إِلَّا جَاءَ بِهِ عَلَى رَقَبَتِهِ؛ إِنْ كَانَ بَعِيرًا لَهُ رُغَاءٌ، أَوْ كَانَتْ بَقَرَةً لَهَا خُوَارٌ، أَوْ شَاةٌ تَيْعَرُ، ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْنَا عُفْرَةَ إِبِطَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ "
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবন উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন সাঈদ আল-বাযযার, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হারুন ইবন ওয়ারদান আস-সামারকান্দি, তিনি মিশরে এসেছিলেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদিল মুমিন আহমদ ইবন শায়বান আর-রামলি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ, যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আবু হুমায়দ আস-সাঈদি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আযদ গোত্রের ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে সদকা আদায়ের জন্য নিযুক্ত করে পাঠালেন। সে যখন ফিরে এল যেখান থেকে তাকে পাঠানো হয়েছিল, সে বলল: ‘এটি আপনাদের জন্য এবং এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে’। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, তারপর বললেন: “সেই সব লোকেদের কী হয়েছে যাদের আমি কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করি, আর তাদের কেউ এসে বলে: ‘এটি আপনাদের জন্য আর এটি আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে’? সে কেন তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে বসে থাকল না, তবে সে দেখতে পেত তাকে উপহার দেওয়া হয় কি না? সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ রয়েছে, কিয়ামতের দিন তোমাদের কেউ কোনো কিছু নিয়ে আসবে না তবে সে তা তার ঘাড়ে করে বহন করে আনবে; যদি তা উট হয় তবে তা চিৎকার করতে থাকবে, অথবা যদি গরু হয় তবে তা হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে, অথবা যদি ছাগল হয় তবে তা ডাকতে থাকবে।” তারপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই হাত উপরে তুললেন এমনকি আমরা তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পেলাম, তারপর তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?”
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمِنْهَالِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِذَا رَأَى أَحَدُكُمُ الرُّؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللَّهِ؛ فَلْيَحْمِدْ اللَّهَ وَلْيُحَدِّثْ بِهَا، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ؛ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا، وَلَا يَذْكُرْهَا لِأَحَدٍ، وَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ শুআইব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মিনহাল, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে ইসহাক ইবনে উতবাহ আর-রাযী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যিনবা' রাওহ ইবনুল ফারাজ ইবনে আবদুর রহমান আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকর ইবনে মুদার, ইবনুল হাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; সুতরাং সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তা বর্ণনা করে। আর যখন সে এর ব্যতিরেকে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে তা শয়তানের পক্ষ থেকে; সুতরাং সে যেন এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং কারো নিকট তা উল্লেখ না করে; আর নিশ্চয়ই তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمِنْهَالِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ حَمْزَةَ النَّصِّيبِيِّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكُنْ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ تَكْذِبُ، وَأَصْدَقُهُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُهُمْ حَدِيثًا، وَالرُّؤْيَا ثَلَاثَةٌ، فَالْحَسَنُ مِنْهَا بُشْرَى مِنَ اللَّهِ، وَالرُّؤْيَا حَدِيثُ النَّفْسِ، وَمَا كَانَ مِنْ حُزْنٍ فَمِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَلَا يُخْبِرْ أَحَدًا، وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ خَمْسَةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ»
৬ - আবু আব্দুল্লাহ শুয়াইব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মিনহাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার নিকট পাঠ করা হচ্ছিল আর আমি শুনছিলাম—তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে ইসহাক ইবনে উতবা আল-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আয-যিনবা' রাওহ ইবনুল ফারাজ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকর ইবনে মুদার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হামজা আন-নাসিবি থেকে, তিনি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। আর তাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য হবে। স্বপ্ন তিন প্রকার: ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, এক প্রকার স্বপ্ন হলো মনের কল্পনা এবং যা কষ্টের কারণ হয় তা শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং কাউকে তা না জানায়। আর মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের পঁয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ অংশবিশেষ।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمِنْهَالِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَدِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [يونس: 64] ، قَالَ: مَا سَأَلَنِي عَنْهَا أَحَدٌ قَبْلَكَ، هِيَ الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ، يَرَاهَا الْمُؤْمِنُ، أَوْ تُرَى لَهُ "
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ শুআইব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মিনহাল, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে ইসহাক ইবনে উতবা আর-রাজি, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুয যিনবাও রাওহ ইবনুল ফারাজ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে আদিয়্য, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আইয়াশ, আসিম থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু দারদা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে} [ইউনুস: ৬৪] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "তোমার আগে এ সম্পর্কে আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেনি; তা হলো উত্তম স্বপ্ন, যা মুমিন নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়।"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْفَوَارِسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الصَّابُونِيُّ، إِمْلَاءً سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنَّ مَالِكًا حَدَّثَهُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وأَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْإِشْبِيلِيُّ، قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَكِّيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ، وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا، ثُمَّ لِيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدَ ذَلِكَ، وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ، قَبْلَ أَنْ تُمَسَّ، فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عز وجل أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাজ্জ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাওয়ারিস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আস-সাবুনী, ৩৪৯ হিজরী সনে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদুল আ'লা। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব যে, ইমাম মালিক তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-ইশবিলি। তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাক্কী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আবদুল আযীয। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কায়নাবী, ইমাম মালিক থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন যখন তিনি ঋতুবতী ছিলেন। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে নির্দেশ দাও যেন সে তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর যেন তাকে নিজের কাছে রাখে যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়, পুনরায় ঋতুবতী হয় এবং পুনরায় পবিত্র হয়। এর পরে সে চাইলে তাকে নিজের কাছে রেখে দিবে, আর চাইলে স্পর্শ (সহবাস) করার আগেই তালাক দিবে। আর এটিই হচ্ছে সেই ইদ্দত (সময়কাল), যে সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নারীদের তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ الشَّاهِدُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ أَحْمَدَ الصَّفَّارُ الْحِمْصِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عِيسَى بْنِ الْمُنْذِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لِيَدَعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، ثُمَّ لِيُطَلِّقْهَا إِنْ أَرَادَ فِي طُهْرِهَا، أَوْ لِيُمْسِكْ، فَهَذِهِ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِهَا، وَإِنَّمَا كَانَ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে উবাইদ ইবনে আহমদ আস-সাফফার আল-হিমসি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ঈসা ইবনুল মুনযির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শুআইব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফে যে, ইবনে উমর তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সে যেন তাকে ফিরিয়ে রাখে যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়, এরপর পুনরায় ঋতুবতী হয়, এরপর পুনরায় পবিত্র হয়; তারপর সে চাইলে তাকে এই পবিত্র অবস্থায় তালাক দেবে অথবা রেখে দেবে। এটাই হলো সেই ইদ্দত (গণনাকাল) যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন। আর তিনি তাকে এক তালাকই দিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْإِمَامُ، إِمْلَاءً، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَيَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَبِي حَدِيدَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ضَمْرَةَ بْنَ رَبِيعَةَ الْقُرَشِيَّ الرَّمْلِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَبِي عُمَرَ الشَّيْبَانِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ اسْتَقْبَلَ بِي الشَّامَ، وَوَلَّى ظَهْرِي لِلْيَمَنِ، فَقَالَ لِي: «يَا مُحَمَّدُ إِنِّي جَعَلْتُ مَا وَرَاءَكَ مَدَدًا لَكَ، وَجَعَلْتُ مَا تِجَاهَكَ عِصْمَةً لَكَ وَرِزْقًا» .ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَزَالُ اللَّهُ يُزِيدُ الْإِسْلَامَ وَأَهْلَهُ وَيُنْقِصُ الشَّركَ وَأَهْلَهُ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ بَيْنَ النُّطْفَتَيْنِ لَا يَخْشَى إِلَّا جَوْرًا» .يَعْنِي جَوْرَ السُّلْطَانِ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: وَمَا النُّطْفَتَانِ؟ فَقَالَ: «نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ» .وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَبْلُغَنَّ هَذَا الدِّينُ مَا بَلَغَ اللَّيْلُ»
১০ - আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জ ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-ইমাম আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আব্দুল কারিম ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হাইয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনুল ফাদল ইবনে আবি হাদিদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি দামরাহ ইবনে রাবিআ আল-কুরাশি আর-রামলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর আশ-শাইবানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু উমামা আল-বাহিলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে শাম অভিমুখী করেছেন এবং আমার পিঠকে ইয়ামেনের দিকে ফিরিয়েছেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: «হে মুহাম্মদ, তোমার পেছনে যা আছে আমি তাকে তোমার জন্য সাহায্যকারী করেছি, আর তোমার সামনে যা আছে তাকে তোমার জন্য সুরক্ষা ও রিযিক করেছি»।"অতঃপর তিনি বললেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ অবিরত ইসলাম ও এর অনুসারীদের বৃদ্ধি করতে থাকবেন এবং শিরক ও এর অনুসারীদের হ্রাস করতে থাকবেন, যতক্ষণ না একজন আরোহী দুই জলাশয়ের মাঝে ভ্রমণ করবে এবং সে অবিচার ব্যতীত আর কিছুর ভয় করবে না»।অর্থাৎ সুলতানের অবিচার। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, 'নুতফাতাইন' বা দুই জলাশয় কী? তিনি বললেন: «প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের প্রান্তসমূহ»।এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, এই দ্বীন অবশ্যই সেখানে পৌঁছাবে যেখানে রাত পৌঁছায়»।
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَفْصِ بْنِ الْخَلِيلِ الْمَالِينِيُّ الْهَرَوِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شِيرَوَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الدَّوِيرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَهُ، وَعَلَى مَنْ لَمْ تَعْرِفْهُ»
১১ - আবু সাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন হাফস ইবনুল খালীল আল-মালিনী আল-হারাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন শিরাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দুওয়াইরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুতাইবাহ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-লাইস ইবন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «তুমি অন্ন দান করবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম প্রদান করবে।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَالِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو إِسْمَاعِيلُ بْنُ نُجَيْدٍ السُّلَمِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبُوشَنْجِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرِ بْنِ سَعْدٍ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ بِحِمْصَ، وَهُوَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ، فَمَنِ اسْتَبْرَأَهُنَّ هُوَ أَسْلَمُ لِدِينِهِ، وَلِعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِيهِنَّ فَيُوشِكُ أَنْ يَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالْمُرْتِعِ إِلَى جَانِبِ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ» .وَزَعَمَ ابْنُ زِيَادٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ فِي آخِرِ ذَلِكَ: «إِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَعَاصِيهِ»
১২ - আবু সা'দ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মালিনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর ইসমাঈল বিন নুজাইদ আস-সুলামী আমাদের নিকট ইমলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-বুশানজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-লাইস বিন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে, তিনি আওন বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আমির আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী নুমান বিন বাশির বিন সা'দকে হিমসে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনেছেন, তিনি বলছিলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিষ্কলুষ রাখল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে পতিত হওয়ার উপক্রম হলো; তার উদাহরণ সেই রাখালের মতো যে সংরক্ষিত চারণভূমির পাশে পশু চরায়, ফলে অচিরেই তার পশু তাতে প্রবেশ করার উপক্রম হয়।» ইবনে যিয়াদ দাবি করেছেন যে, তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষাংশে বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রত্যেক বাদশাহর একটি সংরক্ষিত সীমানা থাকে, আর আল্লাহর সংরক্ষিত সীমানা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ (নাফরমানি)।’»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَالِينِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ يَاسِينَ الْمَتُونِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكَشِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الرُّبَيِّعَ بِنْتَ النَّضْرِ، عَمَّتَهُ لَطَمَتْ جَارِيَةً فَكَسَرَتْ ثَنِيَّتَهَا فَعَرَضُوا عَلَيْهِمُ الْأَرْشَ، فَأَبَوْا، فَطَلَبُوا الْعَفْوَ، فَأَبَوْا، فَأَتَوْا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُمْ بِالْقِصَاصِ فَجَاءَ أَخُوهَا أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ، فَقَالَ: يا رَسُولَ اللَّهِ، أَتُكْسَرُ سِنُّ الرُّبَيِّعِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا تُكْسَرُ سِنُّهَا، فَقَالَ: «يَا أَنَسُ، كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ» .فَعَفَا الْقَوْمُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ»
১৩ - আবু সা’দ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মালিনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহীম বিন আইয়ুব বিন ইয়াসীন আল-মাতুনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম ইব্রাহীম বিন আব্দুল্লাহ আল-কাশশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, আনাস ইবনুন নাযরের কন্যা রুবাইয়ি’—যিনি তাঁর (আনাসের) ফুফু ছিলেন—এক তরুণীকে চড় মারেন এবং তার সামনের দাঁত ভেঙে ফেলেন। তখন তারা (রুবাইয়ি’র পরিবার) তাদের নিকট ক্ষতিপূরণ পেশ করল, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারা ক্ষমা প্রার্থনা করল, কিন্তু তারা তাও অস্বীকার করল। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তিনি তাদের কিসাস (অনুরূপ দণ্ড) গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। তখন রুবাইয়ি’র ভাই আনাস বিন নাযর আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! রুবাইয়ি’র দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তার দাঁত ভাঙা হবে না। তখন তিনি বললেন: «হে আনাস, আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস।»অতঃপর সেই পক্ষ ক্ষমা করে দিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা যদি আল্লাহর ওপর ভরসা করে শপথ করে, তবে তিনি অবশ্যই তা পূর্ণ করেন।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُزَيْقٍ الْكُوفِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ الْجَرَّابِ الْبَغْدَادِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاصِلٍ الْأَحْدَبِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَهِيَ ثَابِتَةٌ لِمَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا»
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন রুজাইক আল-কুফি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন ইয়াকুব ইবন আল-জাররাব আল-বাগদাদি, শ্রুতলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন ইসহাক আল-কাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবন উমর আল-হাওদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুবা, ওয়াসিল আল-আহদাব থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু যার থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমাকে শাফায়াত প্রদান করা হয়েছে, এবং তা আমার উম্মতের সেই ব্যক্তির জন্য সাব্যস্ত যে আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করেছে।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الْمَدِينِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ فَأُرِيدُ أَنْ أَخْتَبِئَ دَعْوَتِي، إِنْ شَاءَ اللَّهُ، شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
১৫ - আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-বায্যায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু আত-তাহির আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আমর আল-মাদিনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু মুসা ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা আস-সাদাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রত্যেক নবীর জন্য একটি বিশেষ দুআ রয়েছে, তাই আমি ইচ্ছা পোষণ করি যে, যদি আল্লাহ চান তবে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য আমি আমার দুআটি সংরক্ষণ করব।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةً قَدْ دَعَا بِهَا فِي أُمَّتِهِ، وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي»
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জাজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আল-জাফরানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রওহ ইবনে উবাদাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য একটি (বিশেষ) দুআ রয়েছে যা তিনি তাঁর উম্মতের মাঝে করেছেন, আর আমি আমার দুআটি আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য জমা করে রেখেছি।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ، وَقَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْبَدُ بْنُ هِلَالٍ الْعَنَزِيُّ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ خَيْرًا، وَذَكَرَ أَنَّ الْجَرِيرِيَّ كَانَ يَرْوِي عَنْهُ، قَالَ: أَتَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي رَهْطٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، سَمَّاهُمْ لَنَا، نَسْأَلُهُ عَنْ حَدِيثِ الشَّفَاعَةِ، قَالَ: وَتَشَفَّعْنَا عَلَيْهِ بِثَابِتٍ فَشَفَعَ لَنَا فَأَتَيْنَاهُ فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي فِي الضُّحَى، قَالَ: ثُمَّ أَذِنَ لَنَا، فَأَجْلَسَ ثَابِتًا مَعَهُ عَلَى سَرِيرِهِ، أَوْ قَالَ: عَلَى فِرَاشِهِ، قَالَ: فَقُلْتُ: يَا أَبَا حَمْزَةَ هَؤُلَاءِ إِخْوَانُكَ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ جَاءُوا يَسْأَلُونَكَ، عَنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الشَّفَاعَةِ، فَقَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ مَاجَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ.ذَكَرَ حَبَشِيًّا قَالَ: فَيُؤْتَى آدَمُ فَيُقَالُ لَهُ: اشْفَعْ لِذُرِّيَّتِكَ.فَيَقُولُ: لَسْتُ لَهَا، وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِإِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ اللَّهِ.قَالَ: فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ، فَذَكَرَ ذَلِكَ، وَيَقُولُ: " لَسْتُ لَهَا، وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بعِيسَى فَهُوَ رَوْحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ.فَيُؤْتَى عِيسَى، فَيُذْكَرُ ذَلِكَ لَهُ، فَيَقُولُ: لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِمُحَمَّدٍ.فَأَوْتَى، فَأَقُولُ: أَنَا لَهَا، آتِي رَبِّي عز وجل فَأَسْتَأْذِنُ عَلَيْهِ، فَيُؤْذَنُ لِي، فَأَقُومُ بَيْنَ يَدَيْهِ، ثُمَّ يُلْهِمُنِي مَحَامِدَ لَا أَقْدِرُ عَلَيْهَا الْآنَ، فَأَحْمَدُهُ بِتِلْكَ الْمَحَامِدِ، وَأَخِرُّ لَهُ سَاجِدًا فَيَقُولُ لِي: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ تُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهُ، واشْفَعْ تُشَفَّعْ.فَأَقُولُ: أَيْ رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي.فَيُقَالُ انْطَلِقْ، فَمَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجْهُ.فَأَفْعَلُ، ثُمَّ أَرْجِعُ فَأَحْمَدُهُ بِتِلْكَ الْمَحَامِدِ، ثُمَّ أَخِرُّ لَهُ سَاجِدًا فَيُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ تُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهُ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ.فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي.فَيُقَالُ: انْطَلِقْ فَمَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ ذَرَّةٌ، وَإِمَّا قَالَ: بُرَّةٌ، وَإِمَّا قَالَ: حَبَّةُ خَرْدَلٍ، مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجْهُ مِنْهَا.قَالَ: فَأَعُودُ فَأَحْمَدُهُ بِتِلْكَ الْمَحَامِدِ، ثُمَّ أَخِرُّ لَهُ سَاجِدًا، فَيُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ يُسْمَعْ لَكَ، وَسَلْ تُعْطَهُ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ.فَأَقُولُ: أَيْ رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي.فَيُقَالُ: انْطَلِقْ فَمَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ أَدْنَى مِنْ مِثْقَالِ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجْهُ مِنَ النَّارِ.فَأَنْطَلِقْ، فَأَفْعَلُ ".فَهَذَا حَدِيثُ أَنَسٍ الَّذِي حَفِظْنَا مِنْهُ، قَالَ مَعْبَدٌ: فَلَمَّا أَقْبَلْنَا مِنْ عِنْدِهِ، وَكُنَّا قَرِيبًا مِنَ الْجَبَّانِ، قُلْنَا: لَوْ انْقَلَبْتُمْ إِلَى الْحَسَنِ فَسَلَّمْنَا عَلَيْهِ.فَأَتَيْنَاهُ، فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فِي مَنْزِلِ أَبِي خَلِيفَةَ، فَقُلْنَا: يَا أَبَا سَعِيدٍ جِئْنَا مِنْ عِنْدِ أَبِي حَمْزَةَ، فَلَمْ نَسْمَعْ بِمِثْلِ مَا حَدَّثَنَاهُ فِي الشَّفَاعَةِ! قَالَ: وَكَيْفَ حَدَّثَكُمْ؟ قَالَ: فَحَدَّثْنَاهُ بِحَدِيثِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ، قَالَ: هِيهْ.قُلْنَا: لَمْ يَزِدْنَا عَلَى هَذَا.قَالَ: لَقَدْ حَدَّثَنِي بهَذَا الْحَدِيثِ، وَهُوَ جَمْعُ حَدِيثِهِ، مُنْذُ عِشْرِينَ سَنَةً، فَقَدَ تَرَكَ مِنَ الْحَدِيثِ شَيْئًا فَمَا أَدْرِي أَنَسِيَ، أَمْ كَرِهَ أَنْ يُحَدِّثَكُمُوهُ، فَتَتَّكِلُوا؟ حَدَّثَنِي كَمَا حَدَّثَكُمْ، ثُمَّ قَالَ: " فَأَجِيءُ فِي الرَّابِعَةِ، فَأَحْمَدُهُ بِتِلْكَ الْمَحَامِدِ، ثُمَّ أَخِرُّ لَهُ سَاجِدًا، فَيُقَالُ لِي: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ يُسْمَعُ لَكَ، وَسَلْ تَعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ.فَأَقُولُ: أَيْ رَبِّ ائْذَنْ لِي فِيمَنْ قَالَ: لَا إِلَه إِلَّا اللَّهُ.قَالَ: فَيَقُولُ: لَيْسَ ذَلِكَ إِلَيْكَ، وَلَكِنْ وَعِزَّتِي وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ".فَهَذَا حَدِيثُ الْحَسَنِ
17 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-বাযযায, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাবাহ আয-যা’ফরানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ, এবং তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে যায়িদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মা’বাদ ইবনে হিলাল আল-আনাযি—এবং তিনি তাঁর উত্তম প্রশংসা করলেন এবং উল্লেখ করলেন যে জুরারি তাঁর থেকে বর্ণনা করতেন—তিনি বলেন: আমি বসরার একদল লোকের সাথে আনাস ইবনে মালিকের কাছে এলাম, যাদের নাম তিনি আমাদের কাছে উল্লেখ করেছিলেন, আমরা তাঁকে শাফায়াতের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন: আমরা সাবিতের মাধ্যমে তাঁর নিকট আরজি পেশ করলাম, ফলে তিনি আমাদের জন্য অনুমতি চাইলেন। এরপর আমরা তাঁর কাছে আসলাম এবং তাঁকে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখলাম। তিনি বলেন: এরপর তিনি আমাদের অনুমতি দিলেন এবং সাবিতকে তাঁর সাথে তাঁর খাটের ওপর—অথবা তিনি বলেছিলেন: তাঁর বিছানার ওপর—বসালেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আবু হামযা! আপনার এই ভাইয়েরা বসরার অধিবাসী, তারা আপনার কাছে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত বিষয়ক হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। তখন তিনি বললেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যখন কিয়ামত দিবস হবে, মানুষ একে অপরের ওপর তরঙ্গের মতো আছড়ে পড়বে।একজন হাবাশী ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন: এরপর আদমের কাছে আসা হবে এবং তাকে বলা হবে: আপনার বংশধরদের জন্য সুপারিশ করুন।তিনি বলবেন: আমি এর যোগ্য নই, বরং তোমরা আল্লাহর খলীল ইব্রাহীমের কাছে যাও।তিনি বলেন: এরপর তারা ইব্রাহীমের কাছে আসবে, তিনি সেই কথা উল্লেখ করবেন এবং বলবেন: "আমি এর যোগ্য নই, বরং তোমরা ঈসার কাছে যাও, কারণ তিনি আল্লাহর রূহ এবং তাঁর বাণী।এরপর ঈসার কাছে আসা হবে এবং তাঁর কাছে সেই কথা উল্লেখ করা হবে, তখন তিনি বলবেন: আমি এর যোগ্য নই, বরং তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও।অতঃপর আমার কাছে আসা হবে এবং আমি বলব: আমিই এর যোগ্য। আমি আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লার কাছে আসব এবং তাঁর নিকট অনুমতি চাইব, আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে। আমি তাঁর সামনে দাঁড়াব, এরপর তিনি আমাকে এমন সব প্রশংসাবাক্য ইলহাম করবেন যা এখন আমি করতে সক্ষম নই। আমি সেই প্রশংসাবাক্যগুলো দ্বারা তাঁর প্রশংসা করব এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন তিনি আমাকে বলবেন: হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোল, বলো তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেওয়া হবে, আর সুপারিশ করো কবুল করা হবে।আমি বলব: হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মত, আমার উম্মত।তখন বলা হবে: যাও, যার অন্তরে একটি যব পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনো।আমি তাই করব। এরপর পুনরায় ফিরে আসব এবং সেই প্রশংসাবাক্যগুলো দ্বারা তাঁর প্রশংসা করব, তারপর তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোল, বলো তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেওয়া হবে, আর সুপারিশ করো কবুল করা হবে।আমি বলব: হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মত, আমার উম্মত।তখন বলা হবে: যাও, যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ—অথবা তিনি বলেছিলেন: একটি গমের দানা পরিমাণ, অথবা তিনি বলেছিলেন: একটি সরিষার দানা পরিমাণ—ঈমান আছে তাকে তা থেকে বের করে আনো।তিনি বলেন: আমি পুনরায় ফিরে আসব এবং সেই প্রশংসাবাক্যগুলো দ্বারা তাঁর প্রশংসা করব, তারপর তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোল, তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেওয়া হবে, আর সুপারিশ করো কবুল করা হবে।আমি বলব: হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মত, আমার উম্মত।তখন বলা হবে: যাও, যার অন্তরে একটি সরিষার দানার ওজনের চেয়েও কম পরিমাণ ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনো।আমি যাব এবং তাই করব।"এটি আনাসের সেই হাদীস যা আমরা তাঁর কাছ থেকে মুখস্থ করেছি। মা’বাদ বলেন: যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে ফিরে আসলাম এবং আমরা জব্বানের কাছাকাছি ছিলাম, তখন আমরা বললাম: আমরা যদি হাসানের কাছে ফিরে যেতাম এবং তাঁকে সালাম দিতাম! (তবে ভালো হতো)।এরপর আমরা তাঁর কাছে আসলাম এবং আবু খলীফার বাড়িতে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। আমরা বললাম: হে আবু সাঈদ! আমরা আবু হামযার কাছ থেকে আসলাম, তিনি শাফায়াত সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তার মতো আর কিছুই শুনিনি! তিনি বললেন: তিনি তোমাদের কাছে কীভাবে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন: তখন আমরা তাঁর কাছে তাঁর বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করলাম। যখন তিনি শেষ করলেন, তিনি বললেন: তারপর?আমরা বললাম: তিনি এর বেশি আর কিছু আমাদের বলেননি।তিনি বললেন: তিনি আমার কাছে বিশ বছর আগে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন যখন তিনি পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি বর্ণনা করতেন। তিনি হাদীসের কিছু অংশ ছেড়ে দিয়েছেন, আমি জানি না তিনি কি ভুলে গেছেন নাকি তোমাদের কাছে বর্ণনা করা অপছন্দ করেছেন যাতে তোমরা কেবল তার ওপরই নির্ভর করে না বসো? তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যেভাবে তোমাদের কাছে করেছেন, তারপর তিনি বলেছেন: "এরপর আমি চতুর্থবার আসব এবং সেই প্রশংসাবাক্যগুলো দ্বারা তাঁর প্রশংসা করব, তারপর তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন আমাকে বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোল, তোমার কথা শোনা হবে, চাও তোমাকে দেওয়া হবে, আর সুপারিশ করো কবুল করা হবে।তখন আমি বলব: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাদের ব্যাপারে অনুমতি দিন যারা বলেছে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।তিনি বলেন: তখন তিনি (আল্লাহ) বলবেন: সেটা তোমার এখতিয়ারে নয়, কিন্তু আমার ইজ্জত, আমার বড়ত্ব এবং আমার মহিমার কসম, আমি অবশ্যই তাকে বের করে আনব যে বলেছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।"এটি হাসানের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " يَطُولُ يَوْمُ الْقِيَامَةِ عَلَى النَّاسِ فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: انْطَلِقُوا بِنَا إِلَى آدَمَ أَبِي الْبَشَر فَلْيَشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا تَعَالَى، فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا، قَالَ: فَيَأْتُونَ آدَمَ، فَيَقُولُونَ: يَا آدَمُ أَنْتَ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَأَسْكَنَكَ جَنَّتَهُ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا.فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَلَكِنْ ائْتُوا إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ الرَّحْمَنِ، قَالَ: فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ: يَا إِبْرَاهِيمُ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا.فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَلَكِنْ ائْتُوا مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاهُ اللَّهُ بِرِسَالَاتِهِ وَبِكَلَامِهِ، قَالَ: فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ: يَا مُوسَى اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ، فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا.فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَلَكِنْ ائْتُوا عِيسَى رَوْحَ اللَّهِ وَكَلِمَتَهُ، فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ: يَا عِيسَى اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا.فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ وَلَكِنْ ائْتُوا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ؛ فَإِنَّهُ قَدْ حَضَرَ الْيَوْمَ وَقَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ، فَيَقُولُ عِيسَى: أَرَأَيْتُمْ لَوْ كَانَ مَتَاعٌ فِي وِعَاءٍ قَدْ خُتِمَ عَلَيْهِ، هَلْ كَانَ يُقْدَرُ عَلَى مَا فِي الْوِعَاءِ حَتَّى يُفَضَّ الْخَاتَمُ؟ فَيَقُولُونَ: لَا.قَالَ: فَإِنَّ مُحَمَّدًا عليه السلام خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَيَأْتُونِي، قَالَ: فَيَقُولُونَ: يَا مُحَمَّدُ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا.قَالَ: فَأَقُولُ: نَعَمْ، فَآتِي بَابَ الْجَنَّةِ فَآخُذُ بِحَلَقَةِ الْبَابِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيُقَالُ مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ، فَيُفْتَحُ لِي فَأَخِرُّ سَاجِدًا فَأَحْمَدُهُ بِمَحَامِدَ لَمْ يَحْمَدْهُ بِهَا أَحَدٌ كَانَ قَبْلِي وَلَا يَحْمَدُهُ بِهَا أَحَدٌ بَعْدِي، فَيَقُولُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ، وَسَلْ تَعْطَهْ، وَقُلْ يُسْمَعْ مِنْكَ، واشْفَعْ تُشَفَّعْ.فَأَقُولُ: رب أُمَّتِي أُمَّتِي، فَيَقُولُ: أَخْرِجْ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ بُرَّةٌ، فَأُخْرِجُهُمْ، قَالَ: ثُمَّ أَخِرُّ سَاجِدًا، فَأَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ، فَيُقَالُ: أَخْرِجْ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ ذَرَّةٌ، قَالَ: فَأُخْرِجُهُمْ
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জায, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আয-যাফরানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত, আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য দীর্ঘায়িত হবে। তখন তারা একে অপরকে বলবে: চলো আমরা মানবজাতির পিতা আদমের কাছে যাই, তিনি যেন আমাদের জন্য আমাদের মহান রবের কাছে সুপারিশ করেন এবং তিনি যেন আমাদের মাঝে বিচার কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন: অতঃপর তারা আদমের কাছে আসবে এবং বলবে: হে আদম! আপনিই সেই সত্তা যাকে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর জান্নাতে আপনাকে বসবাস করতে দিয়েছেন; সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন যেন তিনি আমাদের মাঝে বিচার সম্পন্ন করেন।তখন তিনি বলবেন: আমি এই কাজের যোগ্য নই, বরং তোমরা ইব্রাহীমের কাছে যাও, যিনি রহমানের বন্ধু (খলিল)। তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাঁর কাছে আসবে এবং বলবে: হে ইব্রাহীম! আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন যেন তিনি আমাদের মাঝে বিচার সম্পন্ন করেন।তখন তিনি বলবেন: আমি এই কাজের যোগ্য নই, বরং তোমরা মূসার কাছে যাও, যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাঁর কাছে আসবে এবং বলবে: হে মূসা! আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন যেন তিনি আমাদের মাঝে বিচার সম্পন্ন করেন।তখন তিনি বলবেন: আমি এই কাজের যোগ্য নই, বরং তোমরা আল্লাহর রূহ ও তাঁর বাণী ঈসার কাছে যাও। অতঃপর তারা তাঁর কাছে আসবে এবং বলবে: হে ঈসা! আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন যেন তিনি আমাদের মাঝে বিচার সম্পন্ন করেন।তখন তিনি বলবেন: আমি এই কাজের যোগ্য নই, বরং তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাও। কেননা তিনি শেষ নবী; তিনি আজ উপস্থিত আছেন এবং তাঁর পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর ঈসা বলবেন: তোমরা কি মনে করো, যদি কোনো পাত্রে কিছু সামগ্রী থাকে এবং তা মোহরবদ্ধ করা থাকে, তবে কি মোহর না খোলা পর্যন্ত সেই পাত্রের ভেতরের বস্তু পাওয়া সম্ভব? তারা বলবে: না।তিনি বললেন: নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাম) হচ্ছেন শেষ নবী (মোহর)। তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তখন তারা আমার কাছে আসবে। তিনি বলেন: তারা বলবে: হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন যেন তিনি আমাদের মাঝে বিচার সম্পন্ন করেন।তিনি বলেন: তখন আমি বলব: হ্যাঁ (আমিই এর যোগ্য)। অতঃপর আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং দরজার কড়া ধরব এবং খোলার আবেদন করব। তখন জিজ্ঞাসা করা হবে: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মাদ। তখন আমার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং আমি সিজদায় পড়ে যাব। অতঃপর আমি তাঁর এমন সব প্রশংসাবাক্য দ্বারা প্রশংসা করব যা আমার পূর্বে কেউ করেনি এবং আমার পরেও কেউ করবে না। তখন বলা হবে: আপনার মাথা তুলুন, প্রার্থনা করুন আপনাকে দেওয়া হবে, কথা বলুন আপনার কথা শোনা হবে এবং সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।তখন আমি বলব: হে রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত! তখন তিনি বলবেন: যার অন্তরে একটি গমের দানা পরিমাণ (ঈমান) আছে তাকে বের করে আনুন। তখন আমি তাদের বের করে আনব। তিনি বলেন: এরপর আমি পুনরায় সিজদায় পড়ে যাব এবং অনুরুপ প্রশংসা করব। তখন বলা হবে: যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ (ঈমান) আছে তাকে বের করে আনুন। তিনি বলেন: তখন আমি তাদের বের করে আনব।"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " يَجْتَمِعُ الْمُؤْمِنُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَهِمُّونَ بِذَلِكَ، فَيَقُولُونَ: لَوْ اسْتَشْفَعْنَا عَلَى رَبِّنَا حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا، فَيَأْتُونَ آدَمَ عليه السلام، فَيَقُولُونَ: يَا آدَمُ أَنْتَ أَبُو النَّاسِ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ وَعَلَّمَكَ أَسْمَاءَ كُلِّ شَيْءٍ، فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا، فَيَقُولُ لَهُمْ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ لَهُمْ خَطِيئَتَهُ الَّتِي أَصَابَ، وَلَكِنِ ائْتُوا إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ اللَّهِ.فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ، فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ خَطَايَاهُ الَّتِي أَصَابَهَا، وَلَكِنِ ائْتُوا مُوسَى عليه السلام، عَبْدٌ أَعْطَاهُ اللَّهُ التَّوْرَاةَ، وَكَلَّمَهُ تَكْلِيمًا، فَيَأْتُونَ مُوسَى، فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ وَيَذْكُرُ خَطِيئَتَهُ الَّتِي أَصَابَ، وَلِكْنِ ائْتُوا عِيسَى عَبْدَ اللَّهِ وَرَسُولَهُ وَكَلِمَتَهُ وَرُوحَهُ فَيَأْتُونَ عِيسَى، فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ وَلَكِنِ ائْتُوا مُحَمَّدًا، قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ، فَيَأْتُونِي فَأَنْطَلِقُ، فَأَسْتَأْذِنُ عَلَى رَبِّي جَلَّ وَعَزَّ فَيُؤْذَنُ لِي عَلَيْهِ، فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي عز وجل وَقَعْتُ لَهُ سَاجِدًا، فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي ثُمَّ يُقَالُ لِي: ارْفَعْ يَا مُحَمَّدُ، قُلْ يُسْمَعْ لَكَ وَسَلْ تَعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَحَمَدُ رَبِّي بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِيهِ، ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا، فَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ ثُمَّ أَرْجِعُ فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي جَلَّ وَعَزَّ، وَقَعْتُ سَاجِدًا فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي، ثُمَّ يُقَالُ: ارْفَعْ يَا مُحَمَّدُ قُلْ تُسْمَعْ، سَلْ تَعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَحْمَدُ رَبِّي بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِيهِ، ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا، فَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ، ثُمَّ أَرْجِعُ فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّي وَقَعْتُ لَهُ سَاجِدًا فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي، ثُمَّ يُقَالُ: ارْفَعْ يَا مُحَمَّدُ، قُلْ تُسْمَعْ، اشْفَعْ تُشَفَّعْ، سَلْ تَعْطَهْ، فَأَحْمَدُ رَبِّي بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِيهِ، ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا فَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ، ثُمَّ أَرْفَعُ، فَأَقُولُ أَيْ رَبِّ مَا بَقِيَ فِي النَّارِ إِلَّا مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ، أَيْ أَوْجَبَ عَلَيْهِ الْخُلُودَ "
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনাস সাব্বাহ আয-যা’ফারানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রওহ ইবনে উবাদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আবি আবদিল্লাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মুমিনগণ একত্রিত হবে এবং তারা এই বিষয়ে চিন্তিত হবে। তখন তারা বলবে: আমরা যদি আমাদের রবের নিকট সুপারিশ কামনা করতাম যাতে তিনি আমাদের এই স্থান থেকে স্বস্তি দিতেন! অতঃপর তারা আদমের (আলাইহিস সালাম) নিকট আসবে এবং বলবে: হে আদম! আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার জন্য তাঁর ফেরেশতাদের সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন; অতএব আপনি আমাদের রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের এই স্থান থেকে স্বস্তি দেন। তিনি তাদের বলবেন: আমি এর উপযুক্ত নই এবং তিনি তাঁর নিকট সংঘটিত হওয়া সেই ত্রুটির কথা উল্লেখ করবেন। তবে তোমরা আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহিমের নিকট যাও।অতঃপর তারা ইব্রাহিমের নিকট আসবে। তিনি বলবেন: আমি এর উপযুক্ত নই এবং তিনি তাঁর নিকট সংঘটিত হওয়া ত্রুটিগুলোর কথা উল্লেখ করবেন। তবে তোমরা মুসার (আলাইহিস সালাম) নিকট যাও, তিনি এমন এক বান্দা যাকে আল্লাহ তাওরাত দান করেছিলেন এবং তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছিলেন। অতঃপর তারা মুসার নিকট আসবে। তিনি বলবেন: আমি এর উপযুক্ত নই এবং তিনি তাঁর সেই ত্রুটির কথা উল্লেখ করবেন যা তাঁর নিকট সংঘটিত হয়েছিল। তবে তোমরা আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল এবং তাঁর কালেমা ও তাঁর রূহ ঈসার নিকট যাও। অতঃপর তারা ঈসার নিকট আসবে। তিনি বলবেন: আমি এর উপযুক্ত নই, তবে তোমরা মুহাম্মদের নিকট যাও, আল্লাহ যার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। অতঃপর তারা আমার নিকট আসবে। তখন আমি রওয়ানা হব এবং আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব। আমাকে তাঁর নিকট যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। যখন আমি আমার মহান ও মহিমান্বিত রবকে দেখব, তখন আমি তাঁর উদ্দেশে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন আমাকে সে অবস্থায় রাখবেন। অতঃপর আমাকে বলা হবে: হে মুহাম্মদ! মাথা তুলুন, কথা বলুন আপনার কথা শোনা হবে, প্রার্থনা করুন আপনাকে দেওয়া হবে এবং সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি আমার রবের এমন প্রশংসা করব যা তিনি আমাকে শিক্ষা দেবেন। অতঃপর আমি সুপারিশ করব, তখন তিনি আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। এরপর আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। এরপর আমি আবার ফিরে আসব। যখন আমি আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবকে দেখব, তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন আমাকে সে অবস্থায় রাখবেন। অতঃপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ! মাথা তুলুন, কথা বলুন আপনার কথা শোনা হবে, প্রার্থনা করুন আপনাকে দেওয়া হবে এবং সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি আমার রবের এমন প্রশংসা করব যা তিনি আমাকে শিক্ষা দেবেন। অতঃপর আমি সুপারিশ করব, তখন তিনি আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। এরপর আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। এরপর আমি আবার ফিরে আসব। যখন আমি আমার রবকে দেখব, তখন তাঁর উদ্দেশে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন আমাকে সে অবস্থায় রাখবেন। অতঃপর বলা হবে: হে মুহাম্মদ! মাথা তুলুন, কথা বলুন আপনার কথা শোনা হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে এবং প্রার্থনা করুন আপনাকে দেওয়া হবে। তখন আমি আমার রবের এমন প্রশংসা করব যা তিনি আমাকে শিক্ষা দেবেন। অতঃপর আমি সুপারিশ করব, তখন তিনি আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। এরপর আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। এরপর আমি মাথা তুলব এবং বলব: হে আমার রব! জাহান্নামে তারা ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই যাদের কুরআন আটকে রেখেছে, অর্থাৎ যাদের জন্য চিরস্থায়ী অবস্থান অবধারিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ جَعْفَرٍ الْعَطَّارُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ الْعَسْكَرِيُّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ رُزَيقِ بْنِ جَامِعٍ الْمَدِينِيُّ، سَنَةَ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام، قَالَ: عَهِدَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْأُمِّيُّ أَنَّهُ لَا يُحِبُّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضُنِي إِلَّا مُنَافِقٌ "
২০ - আবু আব্বাস আহমাদ বিন হুসাইন বিন জাফর আল-আত্তার আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন রাশিক আল-আসকারী, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন রুজাইক বিন জামি' আল-মাদিনী আমাদের নিকট ২৯৯ হিজরি সালে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদাহ বিন আব্দুর রহীম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকী', তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আ'মাশ, আদী বিন সাবিত আল-আনসারী থেকে, তিনি জির বিন হুবাইশ থেকে এবং তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি (আলী) বলেন: নিরক্ষর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট অঙ্গীকার করেছেন যে, "মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ আমাকে ঘৃণা করবে না।"
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ جَعْفَرٍ الْعَطَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ رُزَيْقِ بْنِ جَامِعٍ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ عليه السلام، يَلْبَسُ ثِيَابَ الشِّتَاءِ فِي الصَّيْفِ، وَثِيَابَ الصَّيْفِ فِي الشِّتَاءِ، فَقِيلَ لِأَبِي: لَوْ سَأَلْتَهُ عَنْ هَذَا، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْمَدُ الْعَيْنِ فَتَفَلَ فِي عَيْنِي، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنْهُ الْحَرَّ وَالْبَرْدَ» .فَمَا وَجَدْتُ حَرًّا وَلَا بَرْدًا مُنْذُ يَوْمِئِذٍ، فَقَالَ عليه السلام: «لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلًا يُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، وَيُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، لَيْسَ بِفَرَّارٍ» .قَالَ: فَتَشَرَّفَ لَهَا النَّاسُ، فَبَعَثَ إِلَى عَلِيٍّ عليه السلام، فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ، قَالَ: وَقَالَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: وَكَانَ أَبِي يَسْمُرُ مَعَ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ
২১ - আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে জাফর আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে রাশিক আল-আসকারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে রুজাইক ইবনে জামে আল-মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদাহ ইবনে আব্দুর রহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: অকী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি লায়লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী আলাইহিস সালাম গ্রীষ্মকালে শীতের পোশাক এবং শীতকালে গ্রীষ্মের পোশাক পরিধান করতেন। তখন আমার পিতাকে বলা হলো: আপনি যদি তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন! অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি (আলী) বললেন: আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি চোখের পীড়ায় আক্রান্ত। তখন তিনি আমার চোখে থুথু দিলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ, তার থেকে গরম ও ঠান্ডা দূর করে দিন।"ফলে সেই দিন থেকে আমি আর গরম বা ঠান্ডা অনুভব করিনি। অতঃপর তিনি (নবী) আলাইহিস সালাম বললেন: "আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা প্রদান করব যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে; সে পলায়নকারী নয়।"বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকেরা সেটির মর্যাদা লাভের প্রত্যাশায় উৎসুক হয়ে রইল। অতঃপর তিনি আলীর (আলাইহিস সালাম) নিকট লোক পাঠালেন এবং তাঁকে ঝাণ্ডা প্রদান করলেন। ইবনে আবি লায়লা আল-মিনহাল ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুর রহমান বলেছেন: আমার পিতা আলী আলাইহিস সালাম-এর সাথে রাতে কথা বলতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُزَيْقٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ الْجَرَّابِ الْبَغْدَادِيُّ، أَمْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرْبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ، تَطَوُّعًا، لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ»
২২ - আবু মুহাম্মদ হাসান বিন মুহাম্মদ বিন রুযাইক আল-কুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল বিন ইয়াকুব বিন আল-জাররাব আল-বাগদাদি আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন আল-হাসান আল-হারবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস আমাদের কাছে আব্দুল মালিক বিন আবি সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন জুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সওয়ারির ওপর কিবলা ব্যতিরেকে অন্য দিকে মুখ করে নফল সালাত আদায় করতে দেখেছি।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُزَيْقٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ الْجَرَّابِ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ شَاكِرٍ الْوَرَّاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَوْنٍ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُقْرِئُ بِمَكَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزِّنْجِيُّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا، مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا سَفَرٍ "
২৩ - আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে রুজায়িক আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে ইয়াকুব ইবনুল জাররাব আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে শাকির আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: মক্কায় আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আওন আবুল হুসাইন আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজি, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা সফর ছাড়াই যোহর ও আসর একত্রে এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে সালাত আদায় করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُزَيْقٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ الْجَرَّابِ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ رَافِعٍ الدَّارَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، يَعْنِي ابْنَ غَيَّاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَبَضَ يَتِيمًا مِنْ بَيْنِ مُسْلِمَيْنِ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ، حَتَّى يُغْنِيَهُ اللَّهُ عز وجل، أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ الْجَنَّةَ أَلْبَتَّةً إِلَّا أَنْ يَعْمَلَ ذَنْبًا لَا يُغْفَرُ، وَمَنْ عَالَ ثَلَاثَ بَنَاتٍ، فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ وَزَوَّجَهُنَّ فَلَهُ الْجَنَّةُ» .قَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوِ اثْنَتَيْنِ، قَالَ: «أَوِ اثْنَتَيْنِ» .حَتَّى لَوْ قَالُوا: أَوْ وَاحِدَةً، لَقَالَ: وَاحِدَةً، وَمَنْ أَذْهَبَ اللَّهُ عز وجل كَرِيمَتَيْهِ، كَانَ ثَوَابُهُ عَلَى اللَّهِ عز وجل الْجَنَّةَ ".فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا كَرِيمَتَاهُ؟ قَالَ: «عَيْنَاهُ» ، قَالَ: فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِذَا حَدَّثَ بهَذَا الْحَدِيثِ، قَالَ: هَذَا وَاللَّهِ مِنْ كَرَائِمِ الْحَدِيثِ وَغُرَرِهِ
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুযাইক আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইয়াকুব ইবনুল জাররাব আল-বাগদাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে সুলাইমান ইবনে রাফে আদ-দারিমি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ—অর্থাৎ ইবনে গায়্যাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনে কায়স, ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো এতিমকে মুসলিমদের মধ্য থেকে নিজের আহার ও পানীয়ে শামিল করে নেয় যতক্ষণ না আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে স্বাবলম্বী করে দেন, আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেন; তবে শর্ত হলো সে যেন এমন কোনো পাপ না করে যা ক্ষমাযোগ্য নয়। আর যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান লালন-পালন করে, অতঃপর তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে এবং তাদের বিবাহ দেয়, তবে তার জন্য জান্নাত রয়েছে»।একজন প্রশ্নকারী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, অথবা যদি দুজন হয়? তিনি বললেন: «অথবা দুজন হলেও»।এমনকি তারা যদি বলতেন: অথবা একজন, তবে তিনি অবশ্যই বলতেন: একজন। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যার দুটি অতি প্রিয় বস্তু কেড়ে নেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তার বিনিময় হলো জান্নাত।তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তার দুটি অতি প্রিয় বস্তু কী কী? তিনি বললেন: «তার দুই চোখ»। বর্ণনাকারী বলেন: ইবনে আব্বাস যখনই এই হাদীসটি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: আল্লাহর কসম, এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلانَ الْحَرَّانِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ الرَّقِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامِ بْنِ يَحْيَى الْغَسَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا عُرْوَةُ بْنُ رُوَيْمٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ.ح، وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ، قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ يَعْقُوبَ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهَمَدَانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِدِمَشْقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنُ الْحَرِّيفِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ رُوَيْمٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ ذَا وَصْلَةٍ لِأَخِيهِ الْمُسْلِمِ إِلَى ذِي سُلْطَانٍ، فِي مَبْلَغِ بِرٍّ أَوْ تَيْسِيرِ عَسِيرٍ، أَعَانَهُ اللَّهُ عَلَى إِجَازَةِ الصِّرَاطِ يَوْمَ دَحْضِ الْأَقْدَامِ»
২৫ - আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হাজ্জ ইবন ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আলি ইবন আল-হাসান ইবন আল্লান আল-হাররানি আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ আল-কাত্তান আর-রাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবন হিশাম ইবন ইয়াহইয়া আল-গাসসানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উরওয়াহ ইবন রুয়াইম থেকে, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন।হ (সনদান্তর), এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হাজ্জ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: এবং আবু আল-কাসিম আলি ইবন ইয়াকুব ইবন ইব্রাহিম আল-হামদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দামেস্কে তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন আল-হাররিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা উরওয়াহ ইবন রুয়াইম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য কোনো প্রভাবশালীর নিকট কোনো কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অথবা কোনো কঠিন কাজ সহজ করার ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, আল্লাহ তাকে সেই দিনে সিরাত পার হতে সাহায্য করবেন যেদিন পাগুলো পিছলে যাবে।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دُرَانَ غُنْدَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ الشَّافِعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ كَثِيرٍ الصَّيْرَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُوَاسٍ الْحَسَنُ بْنُ هَانِئٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحْسِنَ الظَّنَّ بِاللَّهِ، فَإِنْ حُسْنَ الظَّنِّ بِاللَّهِ ثَمَنُ الْجَنَّةِ»
২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাজ্জ ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আত-তয়্যিব মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে দুরান গুন্দার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আলী ইবনে আলী আশ-শাফিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে কাসীর আস-সাইরাফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নুওয়াস আল-হাসান ইবনে হানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা ব্যতীত কিছুতেই মৃত্যুবরণ না করে; কেননা আল্লাহর প্রতি সুধারণাই হলো জান্নাতের মূল্যস্বরূপ।»
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُنِيرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُنِيرٍ الشَّاهِدُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْبَغْدَادِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو مِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى بْنِ تَلِيدٍ الرُّعَيْنِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام، قَالَ: خَرَجْنَا فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَنَحْنُ بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ، فَجَلَسَ، وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ، فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِهَا فِي الْأَرْضِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ؛ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ، إِلَّا قَدْ كَتَبَ اللَّهُ مَكَانَهَا مِنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَإِلَّا قَدْ كُتِبَتْ شَقِيَّةٌ أَوْ سَعِيدَةٌ ".فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا، وَنَدَعُ الْعَمَلَ؟ فَمَنْ كَانَ مِنَّا مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَإِنَّهُ يَصِيرُ إِلَى السَّعَادَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنَّا مِنْ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ، فَإِنَّهُ يَصِيرُ إِلَى الشَّقَاوَةِ، فَقَالَ: «اعَمْلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرُ، فَأَمَّا أَهْلُ السَّعَادَةِ فَمُيَسَّرُونَ لِلسَّعَادَةِ، وَأَمَّا أَهْلُ الشَّقَاءِ فَمُيَسَّرُونَ لِلشَّقَاءِ» .ثُمَّ قَرَأَ هَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى {5} وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى {6} فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى {7} وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى {8} وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى {9} فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى {10} } [الليل: 5-10] "
২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুনীর ইবনে আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে মুনীর আশ-শাহিদ, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর মিকদাম ইবনে দাউদ ইবনে ঈসা ইবনে তালীদ আর-রুয়াইনী, শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদায়েল ইবনে ইয়াদ, মানসুর থেকে, তিনি সা'দ ইবনে উবায়দাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা একজন আনসারী ব্যক্তির জানাযায় বের হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন যখন আমরা বাকীউল গারকাদে ছিলাম। তিনি বসলেন এবং তাঁর সাথে একটি ছোট লাঠি ছিল। তিনি তা দিয়ে মাটিতে খুঁচতে লাগলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মাথা উঠালেন এবং বললেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই অথবা এমন কোনো প্রাণ নেই, যার জন্য আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নামে তার স্থান লিখে রাখেননি এবং সে দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান তাও লিখে রাখা হয়নি।"তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের লিখিত তাকদীরের ওপর ভরসা করে আমল ছেড়ে দেব না? আমাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে সে তো সৌভাগ্যের দিকেই ফিরে যাবে, আর যে আমাদের মধ্যে দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত হবে সে তো দুর্ভাগ্যের দিকেই ফিরে যাবে। তিনি বললেন: "তোমরা আমল করতে থাকো, কারণ প্রত্যেকের জন্য তার গন্তব্য সহজসাধ্য করা হয়েছে। যারা সৌভাগ্যবান তাদের জন্য সৌভাগ্যের কাজ সহজ করে দেওয়া হয়, আর যারা দুর্ভাগা তাদের জন্য দুর্ভাগ্যের কাজ সহজ করে দেওয়া হয়।"অতঃপর তিনি এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন: {সুতরাং যে দান করল ও তাকওয়া অবলম্বন করল, এবং যা উত্তম তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, আমি তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব। আর যে কার্পণ্য করল ও নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করল, এবং যা উত্তম তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, আমি তার জন্য কঠিন পথকে সুগম করে দেব।} [সূরা আল-লাইল: ৫-১০]
(খণ্ড: ১)
আস-সামিনু মিনাল খুলাইয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُنِيرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُنِيرٍ الشَّاهِدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو مِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى بْنِ تَلِيدٍ الرُّعَيْنِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ، قَالَ: «أَيُّكُمْ أَصْبَحَ الْيَوْمَ صَائِمًا؟» .فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: أَمَّا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَبِتُّ اللَّيْلَةَ وَأَنَا لَا أُحَدِّثُ نَفْسِي بِالصَّوْمِ فَأَصْبَحْتُ مُفْطِرًا، فَقَالَ أَبُو بَكْر: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِتُّ اللَّيْلَةَ وَأَنَا أُحَدِّثُ نَفْسِي بِالصَّوْمِ وَأَصْبَحْتُ صَائِمًا، قَالَ: «فَأَيُّكُمْ عَادَ الْيَوْمَ مَرِيضًا؟» فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا صَلَّيْنَا السَّاعَةَ وَلَمْ نَبْرَحْ، فَكَيْفَ نَعُودُ الْمَرْضَى؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبَرُونِي بِالْأَمْسِ أَنَّ أَخِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وُجِعٌ فَجَعَلْتُ طَرِيقِي عَلَيْهِ فَسَأَلْتُ بِهِ ثُمَّ أَتَيْتُ الْمَسْجِدَ.فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَأَيُّكُمْ تَصَدَّقَ الْيَوْمَ بِصَدَقَةٍ.فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا بَرِحْنَا مَعَكَ مُنْذُ صَلَّيْنَا، أَوْ قَالَ: لَمْ نَبْرَحْ مُنْذُ صَلَّيْنَا، فَكَيْفَ نَتَصَدَّقُ؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَمَّا جِئْتُ مِنْ عِنْدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ، وَإِذَا سَائِلٌ يَسْأَلٌ، وَابْنٌ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ مَعَهُ كِسْرَةٌ، فَأَخَذْتُهَا فَنَاوَلْتُهَا السَّائِلَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَبِي بَكْرٍ: «أَنْتَ فَأَبْشِرْ بِالْجَنَّةِ، أَنْتَ فَأَبْشِرْ بِالْجَنَّةِ» ، فَلَمَّا سَمِعَ عُمَرُ بِذِكْرِ الْجَنَّةِ تَنَفَّسَ فَقَالَ: هَاهْ.فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ لَهُ كَلِمَةً رَضِيَ بِهَا عُمَرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " رَحِمَ اللَّهُ عُمَرَ، إِنَّ عُمَرَ يَقُولُ: مَا سَابَقْتُ أَبَا بَكْرٍ إِلَى خَيْرٍ قَطُّ، إِلَّا سَبَقَنِي إِلَيْهِ "
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুনীর বিন আহমদ বিন আল-হাসান বিন আলী বিন মুনীর আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন ইসহাক আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শ্রুতলিপির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আবু আমর মিকদাম বিন দাউদ বিন ঈসা বিন তালিদ আর-রুয়াইনী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুবারক বিন ফাদালাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানী, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালের সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: «তোমাদের মধ্যে কে আজ রোজা রাখা অবস্থায় ভোর করেছ?»তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো গত রাত এমনভাবে কাটিয়েছি যে নিজের মনে রোজার কথা চিন্তা করিনি, তাই আমি রোজা না রেখেই ভোর করেছি। আবু বকর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি গত রাত এমনভাবে কাটিয়েছি যে নিজের মনে রোজার কথা ভেবেছি এবং আমি রোজা রাখা অবস্থায় ভোর করেছি। তিনি বললেন: «তাহলে তোমাদের মধ্যে কে আজ কোনো রোগীকে দেখতে গিয়েছ?» উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো এই মাত্র সালাত আদায় করলাম এবং এখান থেকে নড়িনি, তাহলে কীভাবে রোগীদের দেখতে যাব? তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে গতকাল জানানো হয়েছিল যে আমার ভাই আবদুর রহমান বিন আউফ অসুস্থ, তাই আমি আসার পথে তাঁর নিকট গিয়েছিলাম এবং তাঁর খোঁজখবর নিয়েছি, এরপর মসজিদে এসেছি।তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাহলে তোমাদের মধ্যে কে আজ কোনো সদকা প্রদান করেছ?"উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সালাত আদায়ের পর থেকে আমরা আপনার সাথেই আছি—অথবা তিনি বললেন: সালাত আদায়ের পর থেকে আমরা এখান থেকে সরিনি—তাহলে কীভাবে সদকা করব? আবু বকর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, যখন আমি আবদুর রহমান বিন আউফ-এর নিকট থেকে আসলাম এবং মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন একজন সাহায্যপ্রার্থীকে সাহায্য চাইতে দেখলাম। আবদুর রহমান বিন আবু বকরের এক পুত্রের কাছে এক টুকরো রুটি ছিল, আমি তা নিয়ে সাহায্যপ্রার্থীকে দিয়ে দিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বললেন: «তুমি জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, তুমি জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো।» উমর যখন জান্নাতের আলোচনা শুনলেন, তখন তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন: আহ!তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন এবং তাঁকে এমন একটি কথা বললেন যাতে উমর সন্তুষ্ট হলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ উমরের ওপর রহম করুন। উমর তো বলেই থাকে: আমি কোনো ভালো কাজে যখনই আবু বকরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে চেয়েছি, তখনই সে আমার আগে বেড়ে গেছে।"