(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
التاسع عشر من الخلعيات   (الخلعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: التاسع عشر من الخلعيات

المؤلف: علي بن الحسن بن الحسين بن محمد، أبو الحسن الخِلَعي الشافعيّ (ت 492هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-খুলাইয়্যাত-এর উনবিংশ খণ্ড   (আল-খুলায়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-খুলাইয়্যাত-এর উনবিংশ খণ্ড

লেখক: আলী বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ, আবু হাসান আল-খুলায়ী আশ-শাফিঈ (মৃ. ৪৯২ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
‌‌الْجُزْءُ التَّاسِعَ عَشَرَ مِنَ الْفَوَائِدِ الْمُنْتَقَاةِ الْحِسَانِ الصِّحَاحِ وَالْغَرَائِبِ

تَخْرِيجُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الشِّيرَازِيِّ ، رِوَايَةُ الْقَاضِي أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْفَقِيهِ بِهِ.

بسم الله الرحمن الرحيم
নির্বাচিত, উত্তম, বিশুদ্ধ এবং দুর্লভ ফায়দাহসমূহের উনবিংশ খণ্ড

আহমাদ বিন হাসান বিন হুসাইন আশ-শিরাজীর তাখরীজকৃত, এটি কাজি আবুল হাসান আলী বিন হাসান বিন হুসাইন আল-ফকিহ-এর বর্ণনা।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
1 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْفَقِيهُ الْجَلِيلُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخِلَعِيُّ ، رضي الله عنه ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ النَّحَّاسِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ الْأَعْرَابِيُّ ، بِمَكَّةَ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَان بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: «لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ ، رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ ، وَآنَاءَ النَّهَارِ ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান বিচারক ও ফকীহ আবুল হাসান আলী বিন হাসান বিন হুসাইন আল-খিলায়ী, রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আন-নাহহাস, তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন বিশর বিন আল-আরাবী, মক্কায়, তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আয-যাফরানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কেবল দুটি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়: এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে তা নিয়ে রাত ও দিনের প্রহরে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে, আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা রাত ও দিনের প্রহরে ব্যয় করে থাকে»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّاهِدُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعَمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِـ الطُّورِ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মাদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন সাবাহ আয-যাফরানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, তিনি যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরা আত্ব-তূর পাঠ করতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الشَّاهِدُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّد بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، قَالَ: مَرَّ عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ ، عَلَى سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ ، وَهُوَ يَغْتَسِلُ ، فَقَالَ: لَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ وَلا جِلْدَ مُخَبَّأَةٍ، فَمَا لَبِثَ أَنْ لُبِطَ بِهِ، فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: أَدْرِكْ سَهْلًا صَرِيعًا ، فَقَالَ: مَنْ تَتَّهِمُونَ؟ ".

فَقَالُوا: عَامِرَ بْنَ رَبِيعَةَ.

قَالَ: «عَلَى مَا يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ، إِذَا رَأَى مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ بِالْبَرَكَةِ» .

وَأَمْرَهُ أَنْ يَتَوَضَّأَ وَيَغْسِلَ وَجْهَهُ، وَيَدَيْهِ إِلَى مِرْفَقَيْهِ، وَرُكْبَتَيْهِ، وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ، وَيَصُّبَ الْمَاءَ عَلَيْهِ.

قَالَ مَعْمْرٌ: قَالَ الزُّهْرِيُّ: وَيُكْفِئَ الإِنَاءَ مِنْ خَلْفِهِ ، قَالَ سُفْيَانُ: حَدَّثَنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ مَعْمَرٌ ، وَزَادَ فِيهِ هَذَا
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আ’রাবি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আজ-জা’ফরানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, যুহরি থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমির ইবনে রাবিয়াহ সাহল ইবনে হুনাইফের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি গোসল করছিলেন। তখন তিনি (আমির) বললেন: “আমি আজকের মতো এমন দৃশ্য আর কখনো দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন কুমারীর চামড়াও (এত সুন্দর হয় না)।” এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসা হলো এবং বলা হলো: “সাহলকে বাঁচান, সে পড়ে গিয়ে কাতরাচ্ছে।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “তোমরা কার বিরুদ্ধে সন্দেহ পোষণ করছ?”

তারা বললেন: আমির ইবনে রাবিয়াহর বিরুদ্ধে।

তিনি বললেন: “তোমাদের কেউ কেন তার ভাইকে হত্যা করতে উদ্যত হয়? যখন সে তার ভাইয়ের এমন কিছু দেখে যা তাকে মুগ্ধ করে, তখন সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে।”

অতঃপর তিনি তাকে ওজু করার নির্দেশ দিলেন। সে তার মুখমণ্ডল, কনুই পর্যন্ত উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং তার লুঙ্গির ভেতরের অংশ ধৌত করল এবং সেই পানি তার ওপর ঢেলে দেওয়া হলো।

মামার বলেন: যুহরি বলেছেন: “এবং পাত্রটি তার পেছন দিক থেকে উপুড় করে দেওয়া হবে।” সুফিয়ান বলেন: মামার আমার নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এতে এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ السَّقَطِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِالْبَصْرَةِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّفَاوِيُّ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْكِبِي أَوْ قَالَ: بِمَنْكِبِي، فَقَالَ: «كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ» .

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، يَقُولُ: خُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ ، وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-হাজ্জ ইবন ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবন জা'ফর ইবন হামদান আস-সাকাতি, বসরায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন ইব্রাহীম আদ-দাওরাকী, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমরু ইবন মুহাম্মাদ আন-নাকিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান আত-তুফাউই, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাঁধ ধরলেন—অথবা তিনি বলেছিলেন: আমার দুই কাঁধ—অতঃপর বললেন: "তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন অপরিচিত আগন্তুক অথবা একজন পথচারী।"

আর ইবন উমর বলতেন: "তুমি তোমার সুস্থতা থেকে তোমার অসুস্থতার জন্য (পাথেয়) গ্রহণ করো এবং তোমার জীবন থেকে তোমার মৃত্যুর জন্য।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
5 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ الإِشْبِيلِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَاهُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ: أَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ جَسَدِي ثُمَّ قَالَ: «كُنْ كَأَنَّكَ غَرِيبٌ فِي الدُّنْيَا أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ ، وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ»
৫ - আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাজ্জ আল-ইশবিলি, তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর ইবনে মুআবিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে আবি সুলাইম, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার শরীরের একাংশ ধরলেন, অতঃপর বললেন: «দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন আগন্তুক অথবা একজন পথচারী, আর নিজেকে কবরবাসীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করো।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ ، قَالَ: وَأَخْبَرَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ يَعْقُوبَ الدِّمَشْقِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زَرْعَةَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثٌ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ: أَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ جَسَدِي فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كُنْ كَأَنَّكَ غَرِيبٌ فِي الدُّنْيَا أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ ، وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنَ الْمَوْتَي»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জ, তিনি বলেন: এবং আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন ইয়াকুব আদ-দিমাশকী, তাঁর নিকট পাঠকালে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার শরীরের কোনো এক অংশ ধরলেন এবং বললেন: «হে আবদুল্লাহ বিন উমর, তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী, এবং নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করো»।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْمِنْهَالِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ القَّطَّانِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: «صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَتْلَى بَدْرٍ وَقَتْلَى أُحُدٍ»
৭ - আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু আব্দুল্লাহ শুআইব বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-মিনহাল, তার সম্মুখে পাঠকালে এবং আমি শ্রবণরত ছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আল-হাসান বিন ইসহাক বিন উতবা আর-রাজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যিনবা‘ রাওহ বিন আল-ফারাজ বিন আব্দুর রহমান আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর বিন খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন লাহী‘আহ, আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের যুদ্ধে নিহত এবং উহুদের যুদ্ধে নিহতদের ওপর সালাত আদায় করেছেন»।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْمِنْهَالِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَّطَّانِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي حُصَيْنُ بْنُ أَبِي الْحُرِّ ، عَنْ سَمْرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَدَعَا حَجَّامًا فَأَمَرَهُ أَنْ يُحَجِّمَهُ فَأَخْرَجَ مَحَاجِمَ لَهُ مِنْ قُرُونٍ فَأَلْزَمَهُمْ إِيَّاهُ ثُمَّ شَرَطَهُ بِطَرَفِ شَفْرَةٍ وَصَّبَ الدَّمَ فِي إِنَاءٍ عِنْدَهُ ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ مِنْ فَزَارَةَ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلَامَ تُمَكِّنُ هَذَا مِنْ جِلْدِكَ يَقْطَعُهُ؟ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «هَذَا الْحَجْمُ» ، قَالَ: وَمَا الْحَجْمُ؟ قَالَ: «هُوَ خَيْرُ مَا تَدَاوَى بِهِ النَّاسُ»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ শুআইব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-মিনহাল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে ইসহাক ইবনে উতবা আর-রাজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আজ-জিনবা রুহ ইবনে আল-ফারাজ ইবনে আবদুর রহমান আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর ইবনে মুআবিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক ইবনে উমাইর, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে আবিল হুর, সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে ছিলাম। তখন তিনি একজন শিঙা প্রয়োগকারীকে ডাকলেন এবং তাঁকে শিঙা লাগানোর নির্দেশ দিলেন। সে তার নিকট থাকা শিং-এর তৈরি শিঙাগুলো বের করে তাঁর শরীরে স্থাপন করল। এরপর সে ক্ষুরের অগ্রভাগ দিয়ে সামান্য চিরল এবং রক্ত একটি পাত্রে সংগ্রহ করল। তখন ফাজারা গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর নিকট প্রবেশ করল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসুল! এটি কী? আপনি কেন এই ব্যক্তিকে আপনার চামড়া কাটার সুযোগ দিচ্ছেন? তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "এটি হলো হাজম (শিঙা লাগানো)"। সে জিজ্ঞাসা করল: হাজম কী? তিনি বললেন: "মানুষ যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করে, এটি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ السَّمَرْقَنْدِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْمُؤْمِنِ أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلْنَاهَا عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: «اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ فَجَعَلَ يَنْفُثُ فَجَعَلْنَا نُشَبِّهُ نَفْثَهُ بِنَفْثِ آكِلِ الزَّبِيبِ ، وَكَانَ يَدُورُ عَلَى نِسَائِهِ فَلَمَّا اشْتَدَّتْ شَكَاتُهُ اسْتَأْذَنَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَنْ يَكُونَ فِي بَيْتِ عَائِشَةَ وَيَدُرْنَ عَلَيْهِ فَأَذِنَّ لَهُ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-বাযযায, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আস-সামারকান্দি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদিল মুমিন আহমদ বিন শায়বান আর-রামলি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, জুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আয়েশার নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তিনি ফুঁ দিতে লাগলেন। আমরা তাঁর ফুঁ দেওয়াকে কিশমিশ ভক্ষণকারীর ফুঁ দেওয়ার সাথে তুলনা করতাম। তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট পালাক্রমে যাতায়াত করতেন; অতঃপর যখন তাঁর অসুস্থতা তীব্রতর হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট অনুমতি চাইলেন যেন তিনি আয়েশার ঘরে অবস্থান করতে পারেন এবং তাঁরাই তাঁর নিকট যাতায়াত করেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে অনুমতি দিলেন।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ النَّحَّاسِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، سَمِعَ عَمْرٌو جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ: بَعَثَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي ثَلَاثِ مِائَةِ رَاكِبٍ وَأَمِيرُنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي طَلَبِ عِيرِ قُرَيْشٍ فَأَقَمْنَا عَلَى السَّاحِلِ حَتَّى فَنِيَ زَادُنَا وَأَكَلْنَا الْخَبَطَ ثُمَّ إِنَّ الْبَحْرَ أَلْقَى لَنَا دَابَّةً يُقَالُ لَهَا الْعَنْبَرُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ نِصْفَ شَهْرٍ حَتَّى صَلَحَتْ أَجْسَامُنَا وَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلَاعِهِ فَنَصِبَهُ وَنَظَرَ إِلَى أَطْوَلِ بَعِيرٍ فِي الْجَيْشِ ، وَأَطْوَلِ رَجُلٍ فَحَمَلَهُ عَلَيْهِ فَجَازَ تَحْتَهُ ، وَقَدْ كَانَ رَجُلُ نَحَرَ ثَلَاثَ جَزَائِرَ ثُمَّ ثَلَاثَ جَزَائِرَ، ثُمَّ نَهَاهُ أَبُو عُبَيْدَةَ ، وَكَانُوا يَرَوْنَهُ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে আন-নাহহাস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সামারকান্দি, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে শায়বান আর-রামলি, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আমর জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনশ আরোহীর একটি দলে প্রেরণ করেছিলেন এবং আমাদের আমীর ছিলেন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। আমরা কুরাইশদের একটি কাফেলার সন্ধানে বের হয়েছিলাম। আমরা সমুদ্র উপকূলে অবস্থান করলাম যতক্ষণ না আমাদের পাথেয় শেষ হয়ে গেল এবং আমরা গাছের শুকনো পাতা খেলাম। অতঃপর সমুদ্র আমাদের জন্য একটি প্রাণী নিক্ষেপ করল যাকে 'আম্বার' বলা হয়। আমরা পনেরো দিন পর্যন্ত তা থেকে আহার করলাম, যার ফলে আমাদের শরীর হৃষ্টপুষ্ট হলো। আবু উবাইদাহ তার পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় নিয়ে তা খাড়া করালেন এবং বাহিনীর সবচেয়ে লম্বা উট ও সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তিকে দেখে তাকে তার ওপর আরোহণ করালেন, আর সে তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করল। এক ব্যক্তি তিনটি করে উট জবাই করেছিল, তারপর আরও তিনটি উট জবাই করল, অতঃপর আবু উবাইদাহ তাকে নিষেধ করলেন; উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তাকে কায়েস ইবনে সাদ মনে করতেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ النَّحَّاسِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ: " حَدَّثَنَا مَنْ شَهِدَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ، حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ ، يَقُولُ: " اكْشِفُوا عَنِّي سِجْفَ الْقُبَّةِ حَتَّى أُحَدِّثَكُمْ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ بِهِ إِلَّا أَنْ تَتَّكِلُوا، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ فَلَهُ الْجَنَّةُ أَوْ لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ "
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে আন-নাহহাস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সামারকান্দি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে শাইবান আর-রামলি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না, আমরের সূত্রে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের কাছে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলেন, তিনি (মুয়াজ) বলছিলেন: 'আমার উপর থেকে তাঁবুর পর্দাটি সরিয়ে দাও যাতে আমি তোমাদের কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করতে পারি যা আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি। তোমরা কেবল এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে—এই আশঙ্কা ছাড়া আর কিছুই আমাকে এটি বর্ণনা করা থেকে বিরত রাখেনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ হৃদয়ে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তার জন্য জান্নাত অবধারিত অথবা জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না'।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ نَظِيفٍ الْفَرَّاءُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرِ بْنِ السَّرِيِّ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلِ بْنِ أَيُّوبَ الرَّقِّيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ شَدَّادٍ الْبَصْرِيُّ ، قَاضِي دِيَارِ مِصْرَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ ، يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَكُونَ السَّنَةُ كَالشَّهْرِ، وَالشَّهْرُ كَالْجُمْعَةِ، وَالْجُمْعَةُ كَالْيَوْمِ، وَالْيَوْمُ كَالسَّاعَةِ ، وَالسَّاعَةُ كَاحْتِرَاقِ السَّعَفَةِ»
১২ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন নাজিফ আল-ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার নিকট পাঠকালে, তিনি বলেন: আবু আল-ফজল আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন আস-সারী বিন উবাইদুল্লাহ বিন সাহল বিন আইয়ুব আর-রাক্কী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মিশরের কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন শাদ্দাদ আল-বাসরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ অর্থাৎ আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুহাইল বিন আবি সালিহ তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না বছর মাসের মতো হবে, মাস জুমার (সপ্তাহের) মতো হবে, জুমা দিনের মতো হবে, দিন ঘণ্টার মতো হবে এবং ঘণ্টা একটি শুকনা খেজুর পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো দ্রুত হবে।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ نَظِيفٍ الْفَرَّاءُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرِ بْنِ السَّرِيِّ الرَّقِّيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ يَحْيَى الْقُرَشِيُّ ، إِمَامُ جَامِعِ الرِّقَّةِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ ، يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ ابْنِ عُبَيْدَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دِينِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دَمِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ»
১৩ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে নাজিফ আল-ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল ফজল আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর ইবনে আস-সারী আর-রাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: রাক্কার জামে মসজিদের ইমাম আবু আবদুল্লাহ সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল হামীদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরাশী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইব্রাহীম—অর্থাৎ ইবনে সা'দ—আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উবাইদাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে, তিনি তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আওফ থেকে, আর তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ, যে ব্যক্তি তার দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ, যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ এবং যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ نَظِيفٍ الْفَرَّاءُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ الرَّقِّيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الصَّبَّاحِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ جَابِرٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ السُّنْبُلَةِ يُحَرِّكُهَا الرِّيحُ فَتَقُومُ مَرَّةً وَتَقَعُ مَرَّةً ، وَمَثَلُ الْكَافِرِ مَثَلُ الْأَرْزَةِ لَا تَزَالُ قَائِمَةً حَتَّى تَنْقَعِرَ»
১৪ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন নাজিফ আল-ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল ফজল আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন নাসর আর-রাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হাফস বিন আমর বিন আস-সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর বিন আইয়্যাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «মুমিনের উদাহরণ হলো শস্যমঞ্জুরির মতো, বাতাস যাকে নাড়িয়ে দেয়, ফলে তা কখনো সোজা হয়ে দাঁড়ায় এবং কখনো হেলে পড়ে। আর কাফিরের উদাহরণ হলো দেবদারু গাছের মতো, যা সর্বদা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যতক্ষণ না তা সমূলে উপড়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَفْصِ بْنِ الْخَلِيلِ الْمَالِينِيُّ الْهَرَوِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، بِجُرْجَانَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَهْرَوَيْهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمْرَانَ بْنِ حَبِيبٍ ، وَحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عِصَامٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ بْنِ سِنَانٍ السُّكَّرِيُّ ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعَوْنِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ ، عَنِ الْهَيْثَمِ الصَّرَّافِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَمْ تَضُرَّهُ عَقْرَبٌ حَتَّى يُمْسِيَ ، وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي لَمْ تَضُرَّهُ حَتَّى يُصْبِحَ "
১৫ - আবু সাদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাফস বিন আল-খালীল আল-মালীনি আল-হারাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম—তিনি বলেন: আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদী বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয জুরজানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন মাহরোওয়াইহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন উমরান বিন হাবীব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; এবং আল-আব্বাস বিন ইসাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-মুগীরা বিন সিনান আস-সুককারী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: আল-কাসিম বিন আল-হাকাম আল-আওনী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হানীফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হাইসাম আস-সাররাফ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হওয়ার সময় তিনবার বলবে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত কোনো বিচ্ছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি বলবে, সকাল হওয়া পর্যন্ত তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَفْصٍ الْهَرَوِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَلْخِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ ، عَنْ أَبِيهِ بُرَيْدَةَ ، قَالَ: " اسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، فِي زِيَارَةِ قَبْرِ أُمِّهِ فَأُذِنَ لَهُ، فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقَ مَعَهُ الْمُسْلِمُونَ، حَتَّى انْتَهَوْا إِلَى قَرِيبٍ مِنَ الْقَبْرِ، مَكَثَ الْمُسْلِمُونَ وَمَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقَبْرِ فَسَكَتَ طَوِيلًا ، ثُمَّ اشْتَدَّ بُكَاؤُهُ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ لَا يَسْكُتُ فَأَقْبَلَ وَهُوَ يَبْكِي ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: مَا أَبْكَاكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: «اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي زِيَارَةِ قَبْرِ أُمِّي ، فَأَذِنَ لِي، فَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي الشَّفَاعَةِ لَهَا فَأَبَى، فَبَكَيْتُ رَحْمَةً لَهَا ، وَبَكَى الْمُسْلِمُونَ رَحْمَةً لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم»
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাফস আল-হারাউই, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ আবদুল্লাহ বিন আদি বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আবি কাসির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাক্কি বিন ইবরাহিম আল-বালখি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হানিফা, আলকামা বিন মারসাদ থেকে, তিনি ইবনে বুরায়দাহ আল-আসলামি থেকে, তিনি তাঁর পিতা বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি রওনা হলেন এবং তাঁর সাথে মুসলিমগণও রওনা হলেন, এমনকি তাঁরা কবরের নিকটবর্তী হলেন। মুসলিমগণ সেখানে অবস্থান করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের দিকে এগিয়ে গেলেন। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর তাঁর কান্না অত্যন্ত প্রবল হলো এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে তিনি হয়তো থামবেনই না। অতঃপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে এগিয়ে আসলেন। তখন ওমর তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর নবী, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: «আমি আমার রবের কাছে আমার মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আমি তাঁর কাছে তাঁর জন্য সুপারিশ করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তাই আমি তাঁর প্রতি করুণাবশত কেঁদেছি, আর মুসলিমগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কান্নার প্রতি করুণাবশত কেঁদেছেন»।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ يَحْيَى الرَّقِّيُّ ، الْمَعْرُوفُ بَالصَّمُوتِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِمِصْرَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو هِلَالُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ هِلَالٍ الْبَاهِلِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ ، عَنْ سُلَيْمَانَ ، عَنْ شَقِيقٍ ، عَنْ حُذَيْفَةَ ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ رضي الله عنه ، إِذْ قَالَ: أَيُّكُمْ يَحْفَظُ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فِي الْفِتْنَةِ؟ فَقُلْتُ: أَنَا أَحْفَظَهُ كَمَا قَالَ ، قَالَ: إِنَّكَ عَلَيْهِ لَجَرِيءٌ ، قَالَ: قَالَ: " فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَولَدِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ ، فَقَالَ عُمَرُ ، رضي الله عنه: إِنِّي وَاللَّهِ مَا هَذَا أُرِيدُ مِنْكَ ، وَلَكِنْ أُرِيدُ الْفِتْنَةَ الَّتِي تَمُوجُ مَوْجَ الْبَحْرِ ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَيْسَ عَلَيْكَ فِيهَا بَأْسٌ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا ، قَالَ: وَيْحَكَ فَيُكْسَرُ أَوْ يُفْتَحُ ، قُلْتُ: إِذَا كُسِرَ لَمْ يُفْتَحْ ، قَالَ: وَنَسِيْتُ أَنْ أَسْأَلَ حُذَيْفَةَ عَنِ الْبَابِ ، فَقُلْتُ لِمَسْرُوقٍ: سَلْهُ عَنِ الْبَابِ ، فَقَالَ: هُوَ عُمَرُ ، فَقُلْنَا لِحُذَيْفَةَ: تَرَى عُمَرَ كَانَ يَعْلَمُهُ؟ قَالَ: نَعَمْ كَمَا كَانَ يَعْلَمُ أَنْ غَدًا بَعْدَ اللَّيْلَةِ ، قُلْنَا: مِنْ أَيْنَ؟ قَالَ: إِنِّي حَدَّثْتُهُ حَدِيثًا لَيْسَ بًالْأَغَالِيطِ
১৭ - আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুন নাহহাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন: আমাদের আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব ইবনে হাবিব ইবনে ইয়াহইয়া আর-রাক্কি সংবাদ দিয়েছেন, যিনি আস-সামুত নামে পরিচিত, মিশরে তাঁর নিকট পাঠকালে তিনি বলেন: আমাদের আবু আমর হিলাল ইবনুল আলা ইবনে হিলাল আল-বাহিলি হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে জাফর হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর হাদিস শুনিয়েছেন যায়েদ ইবনে আবি উনাইসাহ থেকে, তিনি সুলায়মান থেকে, তিনি শাকীক থেকে এবং তিনি হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি বললেন: ফিতনা সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস তোমাদের মধ্যে কার মুখস্থ আছে? আমি বললাম: আমি তা ঠিক সেভাবেই মুখস্থ রেখেছি যেভাবে তিনি বলেছিলেন। তিনি বললেন: তুমি তো এ ব্যাপারে বেশ সাহসী। তিনি (হুজাইফা) বললেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেছেন: "পরিবার, সম্পদ ও সন্তানাদি নিয়ে মানুষের যে ফিতনা, তা নামাজ, সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের মাধ্যমে মোচন হয়ে যায়।" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এটি জানতে চাইনি, বরং আমি সেই ফিতনার কথা জানতে চেয়েছি যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার ওপর এ নিয়ে কোনো বিপদ নেই, কেননা আপনার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। তিনি বললেন: তোমার জন্য পরিতাপ! তা কি ভেঙে ফেলা হবে নাকি খোলা হবে? আমি বললাম: যদি ভেঙে ফেলা হয় তবে তা আর কখনো বন্ধ করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন: আমি হুজাইফাকে দরজার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম, তাই আমি মাসরুককে বললাম: তাঁকে দরজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। তিনি বললেন: সেই দরজা হলেন উমর। আমরা হুজাইফাকে বললাম: আপনার কি মনে হয় উমর তা জানতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যেমন তিনি জানতেন যে রাতের পর আগামীকাল আসবে। আমরা বললাম: কিসের ভিত্তিতে? তিনি বললেন: আমি তাঁকে এমন এক হাদিস বর্ণনা করেছিলাম যা কোনো ভুল বা মিথ্যা ছিল না।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ النَّحَّاسِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ يَحْيَى الرَّقِّيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو هِلَالُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ هِلَالٍ الْبَاهِلِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ ، عَنْ زَيْدٍ ، عَنْ سَيَّار أَبِي الْحَكَمِ ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمِ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ مُذْنِبٌ إِلَّا مَنْ عَافَيْتُ، وَكُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُ، وَكُلُّكُمْ فَقِيرٌ إِلَّا مَنْ أَغْنَيْتُ، فَمَنِ اسْتَغْفَرَنِي بِقُدْرَتِي وَهُوَ يَعَلْمُ أَنِّي قَادِرٌ عَلَى الْمَغْفِرَةِ غَفَرْتُ لَهُ وَلَا أُبَالِي، وَمَنِ اسْتَهْدَانِي هَدَيْتُهُ ، وَمَنِ اسْتَرْزَقَنِي رَزَقْتُهُ ، عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ، وَحِيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ، وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمْ عَلَى قَلْبِ أَشْقَى عَبْدِ هُوَ لِي مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي جَنَاحَ بَعُوضَةٍ، وَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ، وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمْ، وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ، عَلَى قَلْبِ أَتْقَى عَبْدِ هُوَ لِي مَا زَادَ فِي مُلْكِي جَنَاحَ بَعُوضَةٍ، وَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ، وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ، وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمْ، أَعْطَيْتُ كُلَّ امْرِئٍ مِنْهُمْ مُنْيَتَهُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ فَضْلِي إِلَّا مِثْلَ إِبْرَةٍ لَوْ مَشَى بِهَا رَجُلٌ إِلَى شَطِّ الْبَحْرِ، فَغَمَسَهَا فِيهِ ثُمَّ رَفَعَهَا ، ذَلِكَ بِأَنِّي جَوَّادٌ وَاجِدٌ مَاجِدٌ، عَطَائِي كَلامٌ وَعَذَابِي كَلامٌ، إِذَا قَضَيْتُ أَمْرًا فَإِنَّمَا أَقُولُ لَهُ: كُنْ ، فَيَكُونُ "
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনুন নাহহাস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে হাবিব ইবনে ইয়াহইয়া আর-রাক্কি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর হিলাল ইবনুল আলা ইবনে হিলাল আল-বাহিলি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ, জায়েদ থেকে, তিনি সাইয়্যার আবু আল-হাকাম থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি আবু যার থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: হে আমার বান্দারা, তোমরা সকলে গুনাহগার, তবে আমি যাকে ক্ষমা করি সে ব্যতীত; তোমরা সকলে পথভ্রষ্ট, তবে আমি যাকে হিদায়াত দান করি সে ব্যতীত; এবং তোমরা সকলে অভাবগ্রস্ত, তবে আমি যাকে সচ্ছল করি সে ব্যতীত। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার ক্ষমতার অসিলায় আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সে জানে যে আমি ক্ষমা করতে সক্ষম, আমি তাকে ক্ষমা করে দেই এবং এতে আমি পরোয়া করি না। আর যে আমার নিকট হিদায়াত চায়, আমি তাকে হিদায়াত দান করি; যে আমার নিকট রিজিক চায়, আমি তাকে রিজিক দান করি। হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের আদি-অন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত এবং তোমাদের সিক্ত ও শুষ্ক সকলে আমার সর্বাপেক্ষা হতভাগা বান্দার হৃদয়ের ন্যায় হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্ব হতে একটি মশার ডানার সমপরিমাণও হ্রাস করবে না। আর যদি তোমাদের আদি-অন্ত, তোমাদের সিক্ত ও শুষ্ক এবং তোমাদের জীবিত ও মৃত সকলে আমার সর্বাপেক্ষা পরহেজগার বান্দার হৃদয়ের ন্যায় হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে একটি মশার ডানার সমপরিমাণও বৃদ্ধি করবে না। আর যদি তোমাদের আদি-অন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত এবং তোমাদের সিক্ত ও শুষ্ক— আমি তাদের প্রত্যেককে তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু দান করি, তবে তা আমার অনুগ্রহ হতে কেবল ততটুকুই হ্রাস করবে যেমন কোনো ব্যক্তি একটি সুঁই নিয়ে সমুদ্রতীরে গেল এবং তা সমুদ্রে ডুবিয়ে তুলে নিল। এটা এজন্য যে, আমি পরম দাতা, অমুখাপেক্ষী ও মহিমান্বিত। আমার দান কেবল একটি কথা এবং আমার আজাবও কেবল একটি কথা। যখন আমি কোনো বিষয়ের ফয়সালা করি, তখন আমি কেবল তাকে বলি: 'হও', আর তা হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بِكْرَانَ السُّلَمِيُّ الْأَهْوَازِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَكِّيٍّ الْجُرْجَانِيُّ الْقَاضِي ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ، قَالَ: بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْلًا قِبَلَ نَجْدٍ فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ» .

فَقَالَ: عِنْدِي خَيْرٌ يَا مُحَمَّد، إِنْ تَقْتُلْنِي تَقْتُلْ ذَا دَمٍ، وَإِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ، وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَالَ فَسَلْ مِنْهُ مَا شِئْتَ، فَتُرِكَ حَتَّى كَانَ الْغَدُ ثُمَّ قَالَ لَهُ: «مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ» .

فَقَالَ: عِنْدِي مَا قُلْتُ لَكَ: إِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ، فَتَرَكَهُ حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْغَدِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ» .

فَقَالَ: عِنْدِي مَا قُلْتُ لَكَ.

فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «أَطْلِقُوا ثُمَامَةَ» .

فَاْنطَلَقَ إِلَى نَخْلٍ قَرِيبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، يَا مُحَمَّدُ، وَاللَّهِ مَا كَانَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْ وَجْهِكَ فَقَدْ أَصْبَحَ وَجْهُكَ أَحَبَّ الْوُجُوهِ إِلَيَّ، وَاللَّهِ مَا كَانَ مِنْ دِينٍ أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْ دِينِكَ فَأَصْبَحَ دِينُكَ أَحَبَّ الدِّينِ كُلِّهِ إِلَيَّ، وَاللَّهِ مَا كَانَ مِنْ بَلَدٍ أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْ بَلَدِكَ فَأَصْبَحَ بَلَدُكَ أَحَبَّ الْبِلَادِ إِلَيَّ، وَوَاللَّهِ مَا كَانَ إِلَّا أَنَّ خَيْلَكَ أَخَذَتْنِي وَأَنَا أُرَيدُ الْعُمْرَةَ فَمَاذَا تَرَى؟ فَبَشَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَهُ أَنْ يَعْتَمِرَ، فَلَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ قَالَ لَهُ قَائِلٌ: أَصَبَوْتَ؟ قَالَ: لَا وَلَكِّنِي أَسْلَمْتُ مَعَ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا وَاللَّهِ لَا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَامَةِ حَبَّةُ حِنْطَةٍ حَتَّى يَأْذَنَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
১৯ - আবুল কাসিম ইসমাইল ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন বিকরান আস-সুলামি আল-আহওয়াজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণরত ছিলাম—তিনি বলেন: আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মাক্কি আল-জুরজানি আল-কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে—তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরাবরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবন আবি সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নজদ অভিমুখে একদল অশ্বারোহী সৈন্য প্রেরণ করলেন। তারা বনু হানিফা গোত্রের সুমামা ইবন উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এল। তারা তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কাছে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: «হে সুমামা, তোমার কাছে কী আছে?»।

সে বলল: হে মুহাম্মাদ, আমার কাছে ভালো সংবাদই আছে। আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তবে একজন রক্তসম্পর্কিত (যার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হয়) ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপরই অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে যা ইচ্ছা চেয়ে নিন। অতঃপর তাকে সে অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলো। পরদিন আবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: «হে সুমামা, তোমার কাছে কী আছে?»।

সে বলল: আমি আপনাকে যা বলেছি তাই; যদি আপনি অনুগ্রহ করেন তবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপরই অনুগ্রহ করবেন। তিনি তাকে পুনরায় ছেড়ে দিলেন। তারপরের দিনও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে সুমামা, তোমার কাছে কী আছে?»।

সে বলল: আমি আপনাকে যা বলেছি তাই আমার কাছে আছে।

তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «সুমামাকে মুক্ত করে দাও»।

অতঃপর সে মসজিদের নিকটস্থ একটি খেজুর বাগানে গিয়ে গোসল করল। তারপর মসজিদে প্রবেশ করে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। হে মুহাম্মাদ, আল্লাহর কসম! পৃথিবীর বুকে আপনার চেহারার চেয়ে বেশি ঘৃণিত আমার কাছে আর কোনো চেহারা ছিল না, কিন্তু এখন আপনার চেহারা আমার কাছে সব চেহারার চেয়ে প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! আপনার দীনের চেয়ে বেশি ঘৃণিত দীন আমার কাছে আর কোনো দীন ছিল না, কিন্তু এখন আপনার দীন আমার কাছে সব দীনের চেয়ে প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! আপনার শহরের চেয়ে ঘৃণিত শহর আমার কাছে আর কোনোটি ছিল না, কিন্তু এখন আপনার শহর আমার কাছে সব শহরের চেয়ে প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! আপনার অশ্বারোহী বাহিনী যখন আমাকে পাকড়াও করে, তখন আমি উমরার সংকল্প করেছিলাম। এখন আপনার অভিমত কী? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং তাকে উমরা করার নির্দেশ দিলেন। যখন তিনি মক্কায় পৌঁছালেন, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: তুমি কি ধর্মচ্যুত হয়েছ? তিনি বললেন: না, বরং আমি মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! ইয়ামামা থেকে তোমাদের কাছে গমের একটি দানাও আসবে না, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بِكْرَانَ السُّلَمِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيٍّ الْجُرْجَانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ ، عَنْ شُعْبَةَ ، عَنْ سُلَيْمَانَ ، عَنْ ذَكْوَانَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وأَلْيَنُ قُلُوبًا، الْإِيمَانُ يَمَانٌ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةُ وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَصْحَابِ الْإِبِلِ ، وَالسَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ»
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন বিকরান আস-সুলামি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মাক্কী আল-জুরজানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফারাবরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন বাশশার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবি আদি, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি যাকওয়ান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসী এসেছে, তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের এবং অত্যন্ত নরম অন্তরের অধিকারী। ঈমান ইয়েমেনি এবং হিকমাহ (প্রজ্ঞা) ইয়েমেনি। আর অহংকার ও দম্ভ উট পালনকারীদের মধ্যে, এবং প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বকরি পালনকারীদের মধ্যে রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بِكْرَانَ السُّلَمِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيٍّ الْجُرْجَانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ ، عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ ، عَنْ حُذَيْفَةَ ، قَالَ: جَاءَ الْعَاقِبُ وَالسَّيِّدُ ، صَاحِبَا نَجْرَانَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرِيدَانِ أَنْ يَلَاعِنَاهُ ، فَقَالَ: أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: لَا تَفْعَلْ فَوَاللَّهِ لَئِنْ كَانَ نَبِيًّا فَلَاعَنَاهُ لَا نُفْلِحُ نَحْنُ وَلَا عَقِبُنَا مِنْ بَعْدِنَا ، قَالَا: إِنَّا نُعْطِيكَ مَا سَأَلْنَا ، وَابْعَثْ مَعَنَا أَمِينًا ، وَلَا تَبْعَثْ مَعَنَا إِلَّا أَمِينًا ، فَقَالَ: " لَأَبْعَثَنَّ مَعَكُمْ رَجُلًا أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ حَقَّ أَمِينٍ، فَاسْتَشْرَفَ لَهَا أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: " قُمْ يَا أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ، فَلَمَّا قَامَ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذَا أَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ»
২১ - আবুল কাসেম ইসমাঈল বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন বিকরান আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মাক্কী আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন আল-হুসাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আদম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সিলাহ বিন যুফার থেকে, তিনি হুযায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাজরানের দুই নেতা—আকিব ও সাইয়িদ—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তারা তাঁর সাথে মুবাহালা (পরস্পর অভিশাপ প্রদান) করতে চাচ্ছিলেন। তখন তাদের একজন তার সাথীকে বলল: "তুমি এমনটা করো না। আল্লাহর কসম! তিনি যদি নবী হয়ে থাকেন আর আমরা তাঁর সাথে মুবাহালা করি, তবে আমরা সফল হব না এবং আমাদের পরবর্তী বংশধরেরাও কখনো সফল হবে না।" অতঃপর তারা বলল: "আপনি আমাদের নিকট যা চেয়েছেন আমরা তা-ই আপনাকে প্রদান করব, আর আমাদের সাথে একজন আমানতদার ব্যক্তি পাঠান; আমাদের সাথে প্রকৃত আমানতদার ছাড়া অন্য কাউকে পাঠাবেন না।" তিনি বললেন: "আমি তোমাদের সাথে অবশ্যই এমন একজন আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠাব যিনি প্রকৃতপক্ষেই আমানতদার, প্রকৃতপক্ষেই আমানতদার।" তখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ সেই পদের মর্যাদার প্রত্যাশায় উন্মুখ হয়ে তাকাচ্ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু উবায়দাহ বিন আল-জাররাহ, দাঁড়াও।" যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ইনি হলেন এই উম্মতের আমানতদার।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
22 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ الْخَصِيبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْخَصِيبِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْخَصِيبِ ، إِمْلاءً ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عَوْفٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ أَبِي مُسْلِمٍ ، حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ ، عَنْ هِشَامٍ ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَمْ يَكْذِبْ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام إِلَّا ثَلَاثَ كَذِبَاتٍ كُلُّهُنَّ فِي اللَّهِ عز وجل قَوْلُهُ: {إِنِّي سَقِيمٌ} ، وَقُولُهُ: {بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا} ، وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: خَرَجَ إِبْرَاهِيمُ يَسِيرُ فِي أَرْضِ جَبَّارٍ مِنَ الْجَبَابِرَةِ وَمَعَهُ سَارَّةُ وَكَانَتْ مِنْ أَجْمَلِ النِّسَاءِ فَبَلَغَ ذَلِكَ الْجَبَّارَ أَنَّ فِي عَمَلِهِ رَجُلًا مَعَهُ امْرَأَةٌ مَا رَأَى الرَّاءُونَ أَجْمَلَ مِنْهَا فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَأُتِي بِهِ فَسَأَلَهُ: مَنِ الْمَرْأَةُ الَّتِي مَعَكَ؟ قَالَ: أُخْتِي ، قَالَ: فَابْعَثْ بِهَا إِلَيَّ ، وَبَعَثَ مَعَهُ رَسُولًا ، فَأَتَاهَا ، فَقَالَ لَهَا: إِنَّ هَذَا الْجَبَّارَ سَأَلَنِي عَنْكِ ، وَأَخْبَرْتُهُ أَنَّكِ أُخْتِي ، وَأَنْتِ أُخْتِي فِي الْإِسْلَامِ ، وَسَأَلَنِي أَنْ أُرْسِلَ بِكِ إِلَيْهِ فَاذْهَبِي إِلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل سَيَمْنَعَكِ مِنْهُ ، قَالَ: فَذَهَبَتْ إِلَيْهِ مَعَ رَسُولِهِ ، فَلَمَّا أَدْخَلَهَا عَلَيْهِ وَثَبَ إِلَيْهَا فَحُبِسَ عَنْهَا ، فَقَالَ لَهَا: ادْعِي إِلَاهَكِ الَّذِي تَعْبُدِينَهُ أَنْ يُطْلِقَنِي ، وَلَا أَعُودُ لِمَا تَكْرَهِينَ ، فَدَعَتْ اللَّهَ عز وجل فَأَطْلَقَهُ ، فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثًا ، فَقَالَ لِلَّذِي جَاءَ بِهَا أَخْرِجْهَا عَنِّي فَإِنَّكَ لَمْ تَأْتِنِي بِإِنْسِيَّةٍ ، إِنَّمَا أَتَيْتَنِي بِشَيْطَانَةٍ وَأَخْدَمَهَا هَاجَرَ ، فَرَجَعَتْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ فَاسْتَوْهَبَهَا مِنْهَا فَوَهَبَتْهَا لَهُ ".

قَالَ ابْنُ سِيرِينَ: هِيَ أُمُّكُمْ يَا بَنِي مَاءِ السَّمَاءِ
২২ - কাজী আবুল হাসান আল-খাসীব বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খাসীব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমার পিতা কাজী আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খাসীব শ্রুতলিখন (ইমলা) হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আবি আওফ আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম বিন আবি মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাখলাদ আমাদের নিকট হিশাম থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মাত্র তিনটি মিথ্যা বলেছেন, যার প্রতিটিই ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; তাঁর উক্তি: {নিশ্চয়ই আমি অসুস্থ}, এবং তাঁর উক্তি: {বরং তাদের এই বড়টিই এটি করেছে}।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন: "ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এক অত্যাচারী প্রতাপশালী রাজার দেশ দিয়ে ভ্রমণ করছিলেন, তাঁর সাথে ছিলেন সারাহ এবং তিনি ছিলেন নারীদের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দরী। সেই অত্যাচারী রাজা সংবাদ পেল যে, তার শাসনাধীন এলাকায় এমন এক ব্যক্তি এসেছে যার সাথে এমন এক নারী রয়েছে যার মতো সুন্দরী কেউ কখনও দেখেনি। রাজা তাঁর কাছে লোক পাঠাল এবং তাঁকে উপস্থিত করা হলো। রাজা জিজ্ঞেস করল: 'তোমার সাথে এই নারীটি কে?' তিনি বললেন: 'আমার বোন।' রাজা বলল: 'তবে তাকে আমার কাছে পাঠাও।' রাজা তাঁর সাথে একজন দূত পাঠাল। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) সারাহর নিকট এসে বললেন: 'এই অত্যাচারী রাজা আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল এবং আমি তাকে বলেছি যে তুমি আমার বোন; আর তুমি তো ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বিচারে আমার বোন। সে আমাকে বলেছে তোমাকে তার নিকট পাঠাতে। সুতরাং তুমি তার নিকট যাও, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাকে তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।' তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: এরপর সারাহ সেই দূতের সাথে রাজার নিকট গেলেন। যখন তাঁকে রাজার সামনে আনা হলো, রাজা তাঁর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে লাফিয়ে উঠতে চাইল কিন্তু তাকে তাঁর নিকট থেকে অবরুদ্ধ করে দেয়া হলো। রাজা তাঁকে বলল: 'তুমি যে ইলাহের ইবাদত করো তাঁর নিকট দোয়া করো যেন তিনি আমাকে মুক্তি দেন, আর আমি কখনও এমন কিছু করব না যা তুমি অপছন্দ করো।' তিনি মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাকে মুক্তি দিলেন। এভাবে রাজা তিনবার করল। অতঃপর রাজা সেই ব্যক্তিকে বলল যে সারাহকে নিয়ে এসেছিল: 'একে আমার সামনে থেকে বের করে দাও, কারণ তুমি আমার নিকট কোনো মানুষ আনোনি, বরং তুমি আমার নিকট এক শয়তান নিয়ে এসেছ।' এরপর রাজা তাঁকে হাজেরাকে সেবিকা হিসেবে দান করল। সারাহ ইব্রাহিমের নিকট ফিরে এলেন। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট হাজেরাকে চাইলেন এবং সারাহ তাঁকে হাজেরাকে দান করলেন।"

ইবনে সিরীন বলেন: "হে আকাশের পানির সন্তানগণ (আরব জাতি)! তিনিই তোমাদের আদিমাতা।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
23 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ الْخَصِيبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْخَصِيبِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَاشِمِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْبَغَوِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ الشَّامِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى صَبِيٍّ أَوْ صَبِيَّةٍ ، فَقَالَ: لَوْ نَجَا أَحَدٌ مِنْ ضَمَّةِ الْقَبْرِ لَنَجَا هَذَا الصَّبِيُّ "
২৩ - আল-কাজী আবুল হাসান আল-খাসিব বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খাসিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন হাশিম বিন আল-হুসাইন আল-বাগাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন আল-হাজ্জাজ আশ-শামী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন সুমামাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক বালক অথবা বালিকার জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: "যদি কবরের চাপ থেকে কেউ মুক্তি পেত, তবে অবশ্যই এই বালকটি মুক্তি পেত।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ نَظِيفٍ الْفَرَّاءُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو الطَّاهِرِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرٍ ، إِمْلاءً ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ مُوسَى بْنُ سَهْلِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْعَبْدِيُّ ، وَيُعْرَفُ بِالْجَوْنِيِّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غَيَّاثٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ السَّدُوسِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لا يَعْنِيْهِ»
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল বিন নাজিফ আল-ফাররা, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাজ্জ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাজি আবু তাহের মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসর শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইমরান মুসা বিন সাহল বিন আব্দুল হামিদ আল-আবদি, যিনি আল-জাওনি নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন গাইয়াস, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাজা'আহ বিন সুওয়াইদ আস-সাদুসি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন উমর, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আলি বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْمَوْتِ الْمَكِّيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ ، يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ ، عَنْ مَالِكٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ»
২৫ - আবূল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাজ্জ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবূ বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবিল মাউত আল-মাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম—তিনি বলেন: আলী অর্থাৎ ইবন আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কানাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি আলী বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلانَ الْحَرَّانِيُّ ، إِمْلاءً ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، هُوَ ابْنُ يَزِيدَ الرَّقِّيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابُورَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لا يَعْنِيهِ»
২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাজ্জ ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শ্রুতিলিপি অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনুল হাসান ইবনে আলান আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ—তিনি হলেন ইবনে ইয়াযীদ আর-রাক্কী—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সাবুর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উমারী, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা।»
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْكِرَامِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْفَرَجِ الْمِصْرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو شَيْبَةَ دَاوُدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ دَاوُدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رَوْزَبَةَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ أَيُّوبَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مَا حَقُّ امْرِئٍ لَهُ مَالٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِيَ فِيهِ أَنْ يَأْتِيَ عَلَيْهِ لَيْلَتَانِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ»
২৭ - আবুল হাসান আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন আবিল কিরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন আল-ফারাজ আল-মিসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু শায়বাহ দাউদ বিন ইবরাহীম বিন দাউদ বিন ইয়াযীদ বিন রওযাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আ’লা বিন হাম্মাদ আন-নারসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির নিকট এমন সম্পদ থাকে যা সম্পর্কে সে অসিয়ত করতে চায়, তবে তার নিকট তার অসিয়তনামা লিখিত থাকা ব্যতিরেকে তার ওপর দিয়ে দুটি রাত অতিবাহিত হওয়া সংগত নয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তাসি আশার মিনাল খিলাইয়াত (পৃষ্ঠা: -)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الُكِرَامِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْفَرَجِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودِ ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ إِذْ سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ، فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " عَلَى الْفِطْرَةِ، قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، قَالَ: خَرَجَ مِنَ النَّارِ ، قَالَ: فَابْتَدَرْنَاهُ ، فَإِذَا هُوَ صَاحِبُ مَاشِيَةٍ أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَنَادَى بِهَا "
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন আবিল কিরাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন আল-ফারাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন যুরাই, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ, কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর কোনো এক সফরে ছিলাম, হঠাৎ আমরা একজন আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনলাম যে বলছে: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে স্বভাবজাত ধর্মের ওপর রয়েছে।" সে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি বললেন: "সে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে গেল।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা তার দিকে দ্রুত অগ্রসর হলাম, দেখা গেল সে একজন পশুপালক, সালাতের সময় হওয়ায় সে তার জন্য আযান দিচ্ছিল।