(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - الغنيمان   (عبد الله بن محمد الغنيمان)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الواسطية

المؤلف: عبد الله بن محمد الغنيمان

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 31 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান   (আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ

লেখক: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান

বইয়ের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৩১টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الواسطية [1]

استحق ربنا الحمد فحمد نفسه، وأمر عباده أن يحمدوه لذاته ولأوصافه ولأفعاله، فله الحمد كله.

ونفى عن نفسه -جل وعلا- اتخاذ الولد والصاحبة، والشريك في الربوبية والألوهية؛ لأن ذلك يعد نقصاً وعيباً في حق الرب المعبود، الذي يسبحه كل من في السماوات ومن في الأرض مقالاً وحالاً، فلا يستنكف مخلوق عن طاعته، ولا يخرج شيء عن إرادته وقدرته.
শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ [১]

আমাদের প্রতিপালক প্রশংসার উপযুক্ত, তাই তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাঁর সত্তা, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলির জন্য তাঁর প্রশংসা করে; সুতরাং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই।

আর তিনি -প্রতাপাম্বিত ও সুউচ্চ- নিজের জন্য সন্তান, স্ত্রী এবং রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের ক্ষেত্রে কোনো অংশীদার গ্রহণ করাকে অস্বীকার করেছেন; কারণ তা উপাস্য রবের শানে ত্রুটি ও দোষ হিসেবে গণ্য, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তারা সকলে মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে অথবা অবস্থার প্রেক্ষিতে যাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। ফলে কোনো সৃষ্টিই তাঁর আনুগত্য করতে অহংকার বোধ করে না এবং কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতার বাইরে যায় না।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الآيات الدالة على عظمة الله في إلهيته وتنزهه عن الشبيه والمثيل والند والولد

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين.

وبعد: فيقول المصنف رحمه الله تعالى: [وقول الله تعالى: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} [الإسراء:111] ، وقوله تعالى: {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [التغابن:1] ، وقوله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا * الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان:1-2] ، وقوله تعالى: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ * عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [المؤمنون:91-92]] .
আল্লাহর উলুহিয়্যাত বা উপাস্যত্বের ক্ষেত্রে তাঁর মহিমা এবং তাঁর সদৃশ, সমতুল্য, প্রতিদ্বন্দ্বী ও সন্তান থেকে পবিত্র হওয়া সম্পর্কিত আয়াতসমূহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীকুল ও রাসূলকুলের শ্রেষ্ঠতম সত্তার ওপর।

অতঃপর: গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর বলুন: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং যিনি অবমাননা থেকে রক্ষা পেতে কোনো সাহায্যকারীর মুখাপেক্ষী নন।’ আর আপনি যথাযথভাবে তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন।} [আল-ইসরা: ১১১], এবং তাঁর বাণী: {আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।} [আত-তাগাবুন: ১], এবং তাঁর বাণী: {পরম বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্বের অধিকারী এবং তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন।} [আল-ফুরকান: ১-২], এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং তাদের একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র! তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; তারা যা শরিক করে তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।} [আল-মুমিনুন: ৯১-৯২]]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌شرح آخر سورة الإسراء: (وقل الحمد لله الذي لم يتخذ ولداً)

قوله: (وقول الله تعالى: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} [الإسراء:111] ) .

قوله تعالى: (قل) هذا أمر من الله جل وعلا لرسوله صلى الله عليه وسلم، ولفظ (قل) دليل على أن الرسول صلى الله عليه وسلم بلغ كل ما أوحي إليه، فلما قيل له: (قل) بلغها كما جاءت من عند الله جل وعلا؛ فلم ينقص شيئاً، وهكذا لم يزد شيئاً.
সুরা আল-ইসরা-এর শেষ অংশের ব্যাখ্যা: (আর বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি)

তাঁর উক্তি: (এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি হীনতাজনিত কারণে কোনো সাহায্যকারীর মুখাপেক্ষী নন। আর আপনি সগৌরবে তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন।} [আল-ইসরা: ১১১])।

মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন) এটি মহান ও উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি একটি নির্দেশ। আর 'বলুন' শব্দটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি যা কিছু ওহী করা হয়েছে তার সবকিছুই পৌঁছে দিয়েছেন। ফলে যখন তাঁকে বলা হয়েছে: 'বলুন', তিনি তা মহান ও উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহর পক্ষ থেকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছেন; তিনি কোনো কিছুই হ্রাস করেননি এবং একইভাবে কোনো কিছুই বৃদ্ধি করেননি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌استحقاق الله للحمد وبيان مرادفاته

و (الحمد) : (أل) فيه للاستغراق، ومعناه: الإحاطة بكل حمد يستحقه الله جل وعلا.

و (الحمد) : هو الثناء على الجميل الاختياري الذي يكون قائماً بالمحمود، سواء كان في مقابل نعمة أو لم يكن، وإنما يكون لما قام به من الأوصاف والأفعال التي يحمد عليها، والحمد لله جل وعلا أولاً وآخراً، فهو يستحق الحمد لذاته ولأوصافه ولأفعاله ولخلقه ولجزائه؛ ولهذا حمد نفسه جل وعلا في مبدأ الخلق ليعلم خلقه فقال: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} [الأنعام:1] ، وكذلك حمد نفسه في المنتهى، كما قال جل وعلا: {وَتَرَى الْمَلائِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الزمر:75] ، وعبر بهذه الصيغة: (وقيل الحمد لله) ليدل على أن كل مخلوق حمده جل وعلا، وأنه حمد على كل شيء حتى الجزاء، فإنه حتى أهل النار يرون أنها مكانهم الذي يستحقونه، فهو محمود أولاً وآخراً ومبدأ ومنتهى، على ما يفعله وعلى ما يقوم به ويتصف به، وعلى ما يقدره وعلى ما يجزيه عباده، فقال: (الحمد لله) لاستغراق الحمد كله، فإنه مستحقٌ لله جل وعلا في الأولى وفي الآخرة، وقد جاء هذاصريحاً في القرآن في أماكن متعددة.

والفرق بين الحمد والمدح: أن الحمد لابد أن يكون له أثر يقوم بقلب الحامد من الحب والثناء على المحمود.

أما المدح: فهو إخبار عن الأوصاف الجميلة التي تكون بالممدوح، ولا يلزم أن يكون محبوباً للمادح، فالحمد أخص من المدح.

وأما الشكر فلابد أن يكون في مقابل نعمة، ويكون باللسان وبالقلب وبالجوارح، كما قال الشاعر: أفادتكم النعماء مني ثلاثة يدي ولساني والضمير المحجبا يعني أن النعمة تقتضي الشكر بالأمور الثلاثة: باليد التي يقدم بها شيئاً مقابل النعمة، وبالثناء الذي يكون باللسان، وبالحب الذي يكون بالقلب وهو الضمير المحجب.

أما الرب جل وعلا فهو ينعم على عباده ولا يطلب من ذلك أن يسدوا إليه شيئاً أو يقابلوه بشيء، وإنما أن يعبدوه وحده ولا يعبدوا غيره، ونفع عبادتهم عائد عليهم، فإنه سبحانه لا ينتفع بطاعة الطائعين، كما أنه لا يتضرر بمعصية العاصين.

والشاهد من الآية التي ذكرها المصنف: أن تثبت الصفات الكاملة لله تعالى.

فقوله: (الحمد لله) ، أي: فله الكمالات في كل شيء: في فعله وفي قوله وفي وصفه الذي يتصف به جل وعلا، فهو يحمد على ذلك.
আল্লাহর প্রশংসার অধিকার এবং এর সমার্থক শব্দসমূহের বর্ণনা

এবং 'আল-হামদ' (প্রশংসা): এর 'আল' অক্ষরটি ব্যাপকতা বা অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আর এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা যত প্রকার প্রশংসার যোগ্য তার সবটুকুই এর অন্তর্ভুক্ত।

আর 'আল-হামদ' হলো: প্রশংসিত সত্তার মধ্যে বিদ্যমান ঐচ্ছিক সুন্দর গুণাবলির প্রশংসা করা, তা কোনো নেয়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক। বরং তিনি যেসব গুণাবলি ও কার্যাবলির অধিকারী যা প্রশংসার দাবি রাখে, মূলত তার ভিত্তিতেই এই প্রশংসা করা হয়। আর আদি ও অন্তে সমস্ত প্রশংসা মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহর জন্যই। তিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলি, কার্যাবলি, সৃষ্টি এবং প্রতিদানের জন্য প্রশংসার যোগ্য। এই কারণেই মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ সৃষ্টির শুরুতে নিজের প্রশংসা করেছেন যাতে তাঁর সৃষ্টিজগত শিক্ষা লাভ করতে পারে। তিনি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; তারপরও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়।" [আল-আনআম: ১]। অনুরূপভাবে তিনি সমাপ্তিতেও নিজের প্রশংসা করেছেন, যেমনটি মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ বলেছেন: "আর আপনি ফেরেশতাদেরকে আরশের চারপাশে ঘিরে থাকতে দেখবেন, তারা তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছে। তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে এবং বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।" [আয-যুমার: ৭৫]। এখানে 'বলা হবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য'—এই বাক্যরীতিটি ব্যবহার করা হয়েছে এটা বোঝানোর জন্য যে, প্রতিটি সৃষ্টিই তাঁর প্রশংসা করেছে এবং সব কিছুর জন্যই তাঁর প্রশংসা করা হয়েছে, এমনকি প্রতিদানের ক্ষেত্রেও। এমনকি জাহান্নামীরাও দেখতে পাবে যে এটাই তাদের যোগ্য স্থান। সুতরাং তিনি শুরুতে ও শেষে, প্রারম্ভে ও সমাপ্তিতে প্রশংসিত; তিনি যা করেন এবং যে কার্যাবলি ও গুণাবলিতে তিনি গুণান্বিত, আর তিনি যা নির্ধারণ করেন এবং তাঁর বান্দাদের যা প্রতিদান দেন—সবকিছুর জন্যই তিনি প্রশংসিত। অতএব তিনি বলেছেন: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য', যেন সমস্ত প্রশংসা এর অন্তর্ভুক্ত হয়। কেননা দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রশংসার একমাত্র যোগ্য সত্তা হলেন আল্লাহ তাআলা। এটি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে এসেছে।

আর 'হামদ' (প্রশংসা) এবং 'মাদহ' (গুণগান)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: হামদ-এর ক্ষেত্রে প্রশংসাকারীর অন্তরে প্রশংসিত সত্তার প্রতি ভালোবাসা ও প্রশংসার একটি প্রভাব থাকা আবশ্যক।

পক্ষান্তরে 'মাদহ' হলো: কারো সুন্দর গুণাবলি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া, তবে সেখানে প্রশংসাকারীর অন্তরে ভালোবাসা থাকা জরুরি নয়। সুতরাং 'হামদ' হলো 'মাদহ' অপেক্ষা অধিক বিশেষ।

আর 'শুকর' (কৃতজ্ঞতা) অবশ্যই কোনো নেয়ামত বা অনুগ্রহের বিনিময়ে হতে হয়। এটি জিহ্বা, অন্তর এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আদায় করতে হয়। যেমন জনৈক কবি বলেছেন: "আপনার নেয়ামতসমূহ আমার পক্ষ থেকে তিনটি জিনিস লাভ করেছে: আমার হাত, আমার জিহ্বা এবং অন্তরের লুকায়িত প্রকোষ্ঠ।" এর অর্থ হলো, নেয়ামত বা অনুগ্রহের দাবি হলো তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা: হাতের মাধ্যমে যা দিয়ে নেয়ামতের বিপরীতে কিছু পেশ করা হয়, জিহ্বার মাধ্যমে প্রশংসার দ্বারা এবং অন্তরের মাধ্যমে ভালোবাসার দ্বারা যা মূলত লুকায়িত প্রকোষ্ঠ।

পক্ষান্তরে মহান ও শ্রেষ্ঠ রব তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেন কিন্তু তিনি বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কোনো ঘাটতি পূরণ বা কোনো প্রতিদান চান না। তিনি কেবল এটাই চান যে, তারা যেন কেবল তাঁরই ইবাদত করে এবং অন্য কারো ইবাদত না করে। আর তাদের ইবাদতের উপকারিতা তাদের দিকেই ফিরে আসে। কারণ মহান পবিত্র আল্লাহ আনুগত্যকারীদের আনুগত্যের মাধ্যমে কোনোভাবে উপকৃত হন না, ঠিক যেমন অবাধ্যদের অবাধ্যতার কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন না।

লেখক কর্তৃক উল্লিখিত আয়াতটির উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ তাআলার জন্য পরিপূর্ণ গুণাবলি সাব্যস্ত করা।

অতএব তাঁর বাণী: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য'—এর অর্থ হলো: সব কিছুতেই তাঁর জন্য পূর্ণতা রয়েছে: তাঁর কার্যাবলিতে, তাঁর বাণীতে এবং মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ যে গুণাবলিতে গুণান্বিত, তার সব কিছুতেই। আর সেই কারণেই তিনি প্রশংসিত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌غنى الله عن الولد والشريك

وقوله: {الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا} [الإسراء:111] هذا تنزيه له جل وعلا بعد إثبات الكمال، فنزه نفسه سبحانه عما يصفه به بعض الخلق الأنجاس، الذين لم يعرفوا قدر الله ولم يتحلوا بشيء من العبودية، بل ندوا وشردوا عن الطور الذي خلقوا له، فشبهوا الله جل وعلا بالناقصات، فزعموا أن له ولداً تعالى الله عن قولهم! ومن هؤلاء اليهود الذين زعموا أن عزيراً ابن الله، وهو رجل منهم يعرفونه ولكنهم لما أصيبوا بغزو بختنصر الذي قتلهم وسلبهم ملكهم ثم أحرق التوراة وكانوا لا يحفظونها، فجاء هذا الرجل وكتبها، فعند ذلك قالوا: ما كتبها إلا لأنه ابن الله، تعالى الله عما يقولون علواً كبيراً.

وكذلك إخوانهم النصارى فإنهم قالوا: عيسى ابن الله، وكذلك الجهلة من المشركين الذين قالوا: الملائكة بنات الله، وهؤلاء كلهم جهلة ظلمة، وهم من شرار خلق الله جل وعلا، ولهذا يكون مصيرهم إلى جهنم.

ولهذا يقول: (الذي لم يتخذ ولداً) ، أي: لغناه وكماله، فله الحمد المطلق وله الغنى المطلق، وهو الذي لا يشبهه شيء.

قوله: (وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْك) وهذا من تمام ملكه وغناه، فهو غني في ذاته ولذا: (لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا) ، وهو الذي لا مثيل له ولا نظير، فإن الولد يكون مشابهاً لوالده، والوالد لا يطلب الولد إلا لنقصه وحاجته؛ لأنه يموت فيريد من الولد أن يرثه وأن يقوم مقامه، أما رب العالمين جل وتقدس فإنه الغني بذاته عن كل ما سواه، وكل الخلق في السماوات والأرض عبيد له.

وأما الملك فهو الذي أوجده وهو الذي يملكه الملك التام، أما ملك العباد فهو عارية مؤقتة، ثم هي هينة مقدرة لا تعدو قدرهم، ثم يسلبون ذلك ويزول من أيديهم، ويخرجون من هذه الدنيا كما دخلوا فيها قد سلبوا كل شيء، فليس ما عندهم من الملك ملكاً في الحقيقة، فالملك الحقيقي يعود إليه، {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ} [الإسراء:111] .

وإذا لم يكن له شريك في الملك تعالى وتقدس، فهو الذي لا نظير له في حقه الذي يستحقه، وسواء كان الحق على عباده أو كان حقاً عاماً مطلقاً، فليس له في ذلك مشابه، فهو كامل في كمالاته.
সন্তান ও অংশীদার থেকে আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা

এবং তাঁর বাণী: {যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি} [আল-ইসরা: ১১১]। এটি মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর পূর্ণতা সাব্যস্ত করার পর তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা। তিনি নিজেকে সেই সব বিষয় থেকে পবিত্র করেছেন যার মাধ্যমে কতিপয় অপবিত্র সৃষ্টি তাঁর গুণ বর্ণনা করে; যারা আল্লাহর মর্যাদা বোঝেনি এবং দাসত্বের কোনো গুণ অর্জন করেনি। বরং তারা অবাধ্য হয়েছে এবং সেই লক্ষ্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে তারা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহকে অপূর্ণ সত্তাদের সাথে তুলনা করেছে এবং দাবি করেছে যে তাঁর সন্তান রয়েছে—তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ! এদের অন্তর্ভুক্ত হলো ইয়াহুদীরা, যারা দাবি করেছিল যে উযায়ের আল্লাহর পুত্র। তিনি তাদেরই একজন মানুষ ছিলেন যাকে তারা চিনত, কিন্তু যখন তারা বখতে নাসরের আক্রমণের শিকার হলো—যে তাদের হত্যা করেছিল এবং তাদের রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়েছিল, অতঃপর তাওরাত পুড়িয়ে দিয়েছিল অথচ তারা তা মুখস্থ জানত না—তখন এই ব্যক্তি আসলেন এবং তা লিখে দিলেন। তখন তারা বলল: তিনি এটি লিখতে পেরেছেন কেবল একারণে যে তিনি আল্লাহর পুত্র। তারা যা বলে তা থেকে মহান আল্লাহ অতি উচ্চ এবং সুমহান।

অনুরূপভাবে তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম নাসারারা বলেছে: ঈসা আল্লাহর পুত্র। একইভাবে মুশরিকদের মধ্য হতে মূর্খরা বলেছে: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। এরা সবাই অজ্ঞ ও জালিম এবং তারা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। একারণেই জাহান্নামই হবে তাদের চূড়ান্ত পরিণতি।

এজন্যই তিনি বলেন: (যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি), অর্থাৎ: তাঁর অমুখাপেক্ষিতা ও পূর্ণতার কারণে। সুতরাং তাঁরই জন্য নিরঙ্কুশ প্রশংসা এবং তাঁরই জন্য নিরঙ্কুশ অভাবহীনতা। তিনি এমন এক সত্তা যাঁর সদৃশ কিছুই নেই।

তাঁর বাণী: (এবং রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই)। এটি তাঁর রাজত্ব ও অমুখাপেক্ষিতার পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি স্বীয় সত্তায় অমুখাপেক্ষী, আর একারণেই: (তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি)। তিনি এমন এক সত্তা যাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই। কেননা সন্তান সাধারণত পিতার সদৃশ হয়ে থাকে, আর পিতা সন্তানের আকাঙ্ক্ষা কেবল তার অপূর্ণতা ও প্রয়োজনের কারণেই করে; কারণ সে মারা যাবে এবং চায় যে সন্তান তার উত্তরাধিকারী হোক এবং তার স্থলাভিষিক্ত হোক। কিন্তু জগৎসমূহের রব মহান ও পবিত্র সত্তা তো স্বীয় সত্তাতেই তাঁর অন্য সকল সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী। আসমান ও জমিনের সকল সৃষ্টিই তাঁর দাস।

আর রাজত্বের বিষয় হলো, তিনিই তা অস্তিত্বে এনেছেন এবং তিনিই এর পূর্ণ মালিকানার অধিকারী। পক্ষান্তরে বান্দাদের মালিকানা হলো একটি সাময়িক ধার করা বস্তু; তদুপরি এটি নগণ্য ও সীমাবদ্ধ যা তাদের সামর্থ্য অতিক্রম করে না। অতঃপর তাদের থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের হাত থেকে তা বিলীন হয়ে যায়। তারা এই দুনিয়া থেকে সেভাবেই বিদায় নেয় যেভাবে তারা এতে প্রবেশ করেছিল—তাদের থেকে সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়। সুতরাং তাদের নিকট যে রাজত্ব রয়েছে তা বাস্তবে কোনো মালিকানা নয়। প্রকৃত মালিকানা কেবল তাঁরই প্রাপ্য, {এবং রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই} [আল-ইসরা: ১১১]।

আর যখন মহান ও পবিত্র আল্লাহর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই, তখন তাঁর প্রাপ্য অধিকারেও তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই; চাই তা বান্দাদের ওপর অর্পিত তাঁর অধিকার হোক অথবা সাধারণ নিরঙ্কুশ অধিকার হোক। এই ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সদৃশ নেই। তিনি তাঁর সকল পূর্ণতায় পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ولاية الله لعباده ولاية إحسان لا تعزز

قوله: ((وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ)) هنا قيد نفي اتخاذ الولي حال كونه من الذل، لأن الله جل وعلا له العز المطلق، فليس بحاجة إلى أن يكون له أولياء يتعزز بهم من الذل وينتصر بهم.

أما قوله جل وعلا: {أَلا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [يونس:62] ، {الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} [يونس:63] ، فهذه ولاية إحسان، وليست ولاية تعزز من الذل، فهذه قد نفاها هنا، وهو إنما تولى أولياءه لما أحبوه وامتثلوا أمره، فتولاهم إكراماً لهم وجزاءً، فالمنة له سبحانه عليهم، وإنما كان المن عليه لو كانت الولاية منه ولاية افتقار وحاجة، فالله لا يحتاج تعالى وتقدس.

ولهذا السبب تسمى هذه الآية آية العز، وجاء أن النبي صلى الله عليه وسلم (كان يعلمها أهل بيته) ، وجاء في الأثر أنها ما قرئت في بيت فيدخله سارق في تلك الليلة، فهي آية العز الذي يظهر الله جل وعلا فيها عزته لعباده، وإلا فالله جل وعلا لا يتعزز بكون العباد يضيفون ذلك إليه! قوله: {وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} [الإسراء:111] ، معنى التكبير: أن يكبر بلسانه معتقداً بقلبه أنه تعالى أكبر من كل شيء وأعظم، وهو الكبير المتعالي الذي يكون بائناً من خلقه، لا يماثله شيء، وكل شيء تحت قهره وبقبضته، بفعل القلب وفعل الجوارح وبالقول، ليكون القول مطابقاً للفعل.
বান্দাদের প্রতি আল্লাহর বন্ধুত্ব দয়া ও অনুগ্রহের, শক্তি অর্জনের জন্য নয়

তাঁর বাণী: ((আর অপদস্থতা থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই)) - এখানে সাহায্যকারী গ্রহণের বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে অপদস্থতা থেকে বাঁচার প্রেক্ষাপটে। কারণ মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ মর্যাদা, তাই তাঁর এমন কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই যাদের মাধ্যমে তিনি অপদস্থতা থেকে মুক্তি পেয়ে সম্মানিত হবেন কিংবা যাদের মাধ্যমে তিনি সাহায্যপ্রাপ্ত হবেন।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [ইউনূস: ৬২], {যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত} [ইউনূস: ৬৩], এটি হলো অনুগ্রহের বন্ধুত্ব, অপদস্থতা থেকে সম্মান লাভের বন্ধুত্ব নয়। এখানে সেই অপদস্থতার বন্ধুত্বকেই অস্বীকার করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর বন্ধুদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন যেহেতু তারা তাঁকে ভালোবেসেছে এবং তাঁর আদেশ পালন করেছে। তাই তিনি তাঁদের সম্মান প্রদর্শন ও প্রতিদান স্বরূপ তাঁদের অভিভাবক হয়েছেন। সুতরাং সমস্ত অনুগ্রহ তাঁরই পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর। যদি এই অভিভাবকত্ব অভাব বা প্রয়োজনের কারণে হতো, তবেই কেবল অন্য কারো অনুগ্রহের বিষয় আসত; অথচ আল্লাহ অভাবমুক্ত, অতি মহান ও পবিত্র।

এই কারণেই এই আয়াতটিকে সম্মানের আয়াত বলা হয়। বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারের সদস্যদের এটি শিক্ষা দিতেন। আরও বর্ণিত আছে যে, এই আয়াত কোনো ঘরে পাঠ করলে সেই রাতে সেখানে চোর প্রবেশ করে না। এটি হলো সেই সম্মানের আয়াত যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের নিকট তাঁর মহান মর্যাদা প্রকাশ করেন। অন্যথায়, বান্দারা তাঁর প্রতি তা নিসবত করলেই আল্লাহ সম্মানিত হন বিষয়টি এমন নয়! তাঁর বাণী: {এবং তাঁর মহিমা সবিস্তারে ঘোষণা করো} [বনী ইসরাঈল: ১১১]। তাকবীরের অর্থ হলো: জিহবা দ্বারা তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করা এবং অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি সবকিছুর চেয়ে বড় ও মহান। তিনি সেই মহান ও সুউচ্চ সত্তা যিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। সবকিছুই তাঁর পরাক্রম ও আল্লাহর হাতের মুঠোয়। এটি অন্তরের কাজ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ এবং কথা দ্বারা হতে হবে, যেন মৌখিক স্বীকৃতি কর্মের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌وجه بيان الصفات في الآية

ففي هذه الآية من جهة الصفات أنواع: النوع الأول: إثبات الكمالات لله جل وعلا، حيث إن الحمد يدل على إثبات كل كمال، سواء تعلق بذاته كالسمع والبصر والعلم والقدرة والحياة، أو تعلق بمشيئته كالرزق والفضل والإكرام والنزول والاستواء والمجيء وغير ذلك، فله الكمال المطلق الذي يصدر عنه أو يتصف به، وهو محمود على كل ما يتصف به وعلى كل ما يفعله.

النوع الثاني: الغنى، فهو الغني بذاته عن كل ما سواه، وكل ما سواه فقير إليه.

النوع الثالث: أنه بائن من خلقه، وأنه أكبر من كل شيء، وأعظم من كل شيء، وأنه يجب على عباده عبادته، والثناء عليه بما علمهم أن يثنوا عليه به.
আয়াতে গুণাবলি বর্ণনার ধরন

এই আয়াতে গুণাবলির দিক থেকে কয়েকটি প্রকার রয়েছে: প্রথম প্রকার: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্য পূর্ণতা সাব্যস্ত করা; যেহেতু 'হামদ' বা প্রশংসা প্রতিটি পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে, চাই তা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হোক—যেমন শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা ও জীবন; অথবা তাঁর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট হোক—যেমন রিযিক দান, অনুগ্রহ, সম্মান প্রদান, অবতরণ, উঠা, আসা ইত্যাদি। সুতরাং তাঁর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা যা তাঁর থেকে প্রকাশ পায় অথবা তিনি যা দ্বারা গুণান্বিত হন। তিনি তাঁর প্রতিটি গুণের জন্য এবং প্রতিটি কাজের জন্য প্রশংসিত।

দ্বিতীয় প্রকার: অমুখাপেক্ষিতা; তিনি স্বীয় সত্তাগতভাবেই অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী, আর অন্য সবকিছুই তাঁর মুখাপেক্ষী।

তৃতীয় প্রকার: তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক, তিনি সবকিছুর চেয়ে বড় এবং সবকিছুর চেয়ে মহান। আর বান্দাদের ওপর আবশ্যক হলো তাঁর ইবাদত করা এবং তিনি তাদের যেভাবে তাঁর প্রশংসা করতে শিখিয়েছেন, সেভাবে তাঁর গুণগান করা।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌شرح أول سورة التغابن: (يسبح لله)

وقوله تعالى: {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [التغابن:1] ، هذه الآية قريبة من التي قبلها.

و (يسبح) ، جاء الفعل بصيغة المضارع، ليدل على أن التسبيح مستمر لله جل وعلا، والتسبيح هنا حقيقي على ظاهره بلسان المقال.

وقوله: ((مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ)) (ما) تشمل العاقل وغير العاقل، أي: فإنه يسبح لله كل من في السماء من عاقل أو غير عاقل.

و (السماء) المقصود بها: كل ما فوق الأرض إلى عرش الرحمن؛ لأن السماء مأخوذة من السمو وهو العلو، فما فوق رأسك فهو سماء، وما بين السماوات والأرض داخل في هذا، والسماء المبنية كذلك وما بين السماوات المبنية، وفيها ما لا يعلمه إلا الله جل وعلا مما يسبح له.
সূরা আত-তাগাবুন-এর শুরুর ব্যাখ্যা: (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে)

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।} [আত-তাগাবুন: ১], এই আয়াতটি তার পূর্ববর্তী আয়াতের নিকটবর্তী অর্থবোধক।

এবং (ইউসাব্বিহু) ক্রিয়াটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের রূপে এসেছে, যা নির্দেশ করে যে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা নিরন্তর চলমান। আর এখানে তাসবিহ বা মহিমা ঘোষণা তার প্রকাশ্য রূপ অনুযায়ী প্রকৃত অর্থেই বাণীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

এবং তাঁর বাণী: ((আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে)) এখানে 'যা কিছু' শব্দটি বিবেকসম্পন্ন এবং বিবেকহীন উভয় প্রকার সৃষ্টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ আসমানে বিদ্যমান বিবেকবান ও বিবেকহীন প্রতিটি সৃষ্টিই আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে।

আর 'আসমান' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যমীনের ওপর থেকে শুরু করে দয়াময় রহমানের আরশ পর্যন্ত যা কিছু আছে সবই; কারণ আসমান শব্দটি 'সুমু' থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো উচ্চতা। সুতরাং আপনার মাথার ওপরে যা কিছু আছে তা-ই আসমান। আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানও এর অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ সুনির্মিত আসমানসমূহ এবং আসমানসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে এমন সব সৃষ্টি রয়েছে যাদের কথা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না এবং তারা তাঁরই মহিমা ঘোষণা করে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌حقيقة تسبيح الجمادات لله سبحانه

الله جل وعلا يجعل عند غير العاقل إرادة فيسبح حسب ما أراده الله جل وعلا، وليس كما يقول الذين لا يؤمنون إلا بالمشاهدات والمرئيات فيقيسون ما رأوه عليه: إن هذا التسبيح بلسان الحال، بمعنى أن من رآها دلته على وجود الله، فيسبح الله.

نعم، هذا موجود في المخلوقات، فإن العاقل إذا نظر إلى الجبال أو إلى الأشجار والنبات والحيوانات دله ذلك على أن لها خالقاً يستحق أن يسبح ويحمد ويعبد، وهو الله وحده، ولكن قوله: {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ} [التغابن:1] ، ظاهره أنه تسبيح حقيقي بلسان يسمع حسب تسبيحه؛ ولهذا جاء في الآية الأخرى: {تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا} [الإسراء:44] ، ومعنى (لاتفقهون) أنكم لا تدركونه وتعلمونه، وهذا يدل على أنه نطق، وكذلك قوله فيما امتن به على عبده داود عليه السلام: {يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ} [سبأ:10] ، وتسبيح الجبال لا يختص بوقت داود، بل هو مستمر قبل داود وبعده، وكذلك ما جاء من تسبيحها بالعشي والإشراق، فإن تسبيح الله جل وعلا لا يختص بالعشي والإبكار، بل هو دائم في الليل والنهار.

ثم الأدلة الخاصة على حقيقة التسبيح كثيرة، منها ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول: (إني لأعرف حجراً بمكة كان يسلم عليّ قبل أن أبعث) ، أي يقول: السلام عليك يا رسول الله! وقد سمع تسبيح الطعام بين يديه صلوات الله وسلامه عليه، وكذلك الحصى.

وحنين الجذع يكاد يكون متواتراً، وهو جذع نخلة كان يخطب عليه في هذا المسجد صلوات الله وسلامه عليه، فإنه أمر أن يصنع له منبر من الخشب، فلما صنع المنبر ونُصِب صعد عليه، فأول ما صعد عليه يخطب، سمع لذلك الجذع وهو بجواره حنيناً، كحنين الناقة التي فقدت ولدها، فنزل صلوات الله وسلامه عليه والتزمه، فجعل يهدأ كهدوء الصبي الذي يبكي إذا التزمته أمه، ثم قال: (لو تركته لبقي يحن) ، وسبب ذلك أنه فقد ذكر آيات الله وصفاته الذي كان يقال عليه، فحنَّ لذلك.

وقال تعالى: {حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ * وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدْتُمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [فصلت:20-21] ، يعني أنهم -كما جاء تفصيل ذلك- إذا جاءتهم الشهود تشهد عليهم، فإذا بعض الناس إذا أوقفوا على أعمالهم، وقامت الملائكة تشهد عليهم، وجاءت بالصحف التي سجلتها عليهم، فإنهم يقولون: يا رب! لا نقبل شهادة هؤلاء، ولا نقبل إلا شهادة من أنفسنا! عند ذلك يختم على أفواههم ويقال لجلودهم وأسماعهم وأبصارهم وأيديهم: تكلمي! فتتكلم اليد تقول: تناولت كذا وكذا في وقت كذا في مكان كذا في ساعة كذا، وتقول الرجل: مشيت إلى المكان الفلاني في وقت كذا وكذا وتقول العين: أبصرت كذا وتذكر الوقت والساعة والمكان، وتقول الأذن: استمعت إلى كذا، ويقول الجلد: باشرت كذا وهكذا ثم بعد ذلك يخلى بينهم وبين النطق، فيعودون على جلودهم وأسماعهم وأبصارهم باللوم، ويقولون: كنا ننافح عنكم، فلماذا فضحتمونا؟ عند ذلك تقول الجلود والأسماع والأبصار والأيدي والأرجل: {أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ} [فصلت:21] ، أي: ليس هذا بإرادتنا، ولكنه بإنطاق الله إيانا، فحينئذٍ يقول العبد: سحقاً لكنّ وبعداً، فعنكن كنت أجادل! فالمقصود أن هذا نطق يسمعونه ويسمعه الحاضرون عندهم، وبذلك تنقطع حجتهم نهائياً، مع أنهم في فعلهم هذا ازدادوا بعداً من الله جل وعلا، فالتسبيح الذي يذكره الله جل وعلا على ظاهره.

وقدم السماوات على الأرض؛ لشرف السماء، ولأن السموات كل من فيها مطيع خاضع، أما الأرض فأكثر من فيها من بني آدم ومن الجِنَّة عصاة.

وقوله: {لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ} [التغابن:1] ، فالملك يدل على عزه وقوته، ويدل على كمال قدرته، وأما الحمد فهو يدل على اتصافه بجميع الصفات الكمالية التي يحمد عليها كما سبق.
মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে জড় পদার্থের তসবিহ পাঠের বাস্তবতা

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বিবেকহীন সৃষ্টিকেও ইচ্ছাশক্তি দান করেন, ফলে তারা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যেভাবে চান সেভাবেই তাঁর তসবিহ পাঠ করে। এটি এমন নয় যা কেবল পর্যবেক্ষণ ও দৃশ্যমান বিষয়ে বিশ্বাসীরা বলে থাকে, যারা যা দেখে তার ওপর ভিত্তি করে অনুমান করে যে— এই তসবিহ হলো ‘লিসানুল হাল’ (অবস্থার মাধ্যমে প্রকাশ), অর্থাৎ একে দেখলে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাই এটি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করে।

হ্যাঁ, সৃষ্টিজগতের মাঝে এটি বিদ্যমান। কেননা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন পাহাড়, গাছপালা, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দিকে তাকায়, তখন তা তাকে নির্দেশ করে যে এগুলোর একজন স্রষ্টা আছেন যিনি তসবিহ, প্রশংসা ও ইবাদতের যোগ্য; আর তিনি হলেন একমাত্র আল্লাহ। কিন্তু মহান আল্লাহর বাণী: “আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তসবিহ পাঠ করে” [আত-তাগাবুন: ১], এর প্রকাশ্য অর্থ হলো এটি একটি প্রকৃত তসবিহ যা তাদের তসবিহ পাঠ অনুযায়ী শোনা যায় এমন জিহবার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ কারণেই অন্য আয়াতে এসেছে: “সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সব কিছু তাঁরই তসবিহ পাঠ করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস তসবিহ পাঠ করে না; কিন্তু তোমরা তাদের তসবিহ বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল” [আল-ইসরা: ৪৪]। আর ‘তোমরা বুঝতে পারো না’ এর অর্থ হলো তোমরা তা অনুধাবন করতে পারো না এবং জানতে পারো না। এটি প্রমাণ করে যে তা একটি বাকস্ফুট শব্দ। অনুরূপভাবে তাঁর বান্দা দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন সে প্রসঙ্গে তাঁর বাণী: “হে পাহাড়সমূহ! তোমরা দাউদের সাথে বারবার তসবিহ পাঠ করো এবং হে পাখি তোমরাও; আর আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম” [সাবা: ১০]। পাহাড়ের এই তসবিহ পাঠ কেবল দাউদের সময়ের সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি দাউদ আলাইহিস সালামের আগে ও পরে অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে অপরাহ্ণে ও সূর্যোদয়ের সময় তসবিহ পাঠের যে বর্ণনা এসেছে তা-ও সত্য, কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার তসবিহ পাঠ কেবল সকাল ও সন্ধ্যার সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং তা দিবারাত্রি সর্বদা বহমান।

এরপর প্রকৃত তসবিহ পাঠের স্বপক্ষে অসংখ্য বিশেষ দলিল রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন: “আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে আমাকে সালাম দিতো।” অর্থাৎ সেটি বলতো: আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ! এছাড়া তাঁর সামনে খাবারের তসবিহ এবং অনুরূপভাবে কঙ্করের তসবিহ শোনা গিয়েছে।

আর খেজুর গাছের কাণ্ডের ক্রন্দনের বিষয়টি তো প্রায় মুতাওয়াতির (সর্বজনবিদিত ও সুনিশ্চিত)। এটি ছিল একটি খেজুর গাছের কাণ্ড যার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি এই মসজিদে খুতবা দিতেন। এরপর যখন কাঠের একটি মিম্বর তৈরির নির্দেশ দেওয়া হলো এবং মিম্বরটি তৈরি করে স্থাপন করা হলো, তখন তিনি তার ওপর আরোহণ করলেন। তিনি যখন খুতবা দেওয়ার জন্য প্রথমবার তাতে আরোহণ করলেন, তখন পাশে থাকা সেই কাণ্ডটি থেকে ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেলেন, যেমন একটি উট তার শাবক হারিয়ে কান্না করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে এসে সেটিকে আলিঙ্গন করলেন, ফলে সেটি শান্ত হতে শুরু করল যেমন করে একটি শিশু কান্না করার পর মা তাকে জড়িয়ে ধরলে শান্ত হয়। এরপর তিনি বললেন: “আমি যদি একে না জড়িয়ে ধরতাম, তবে এটি এভাবে কাঁদতেই থাকত।” এর কারণ হলো সে আল্লাহর আয়াতের জিকির এবং তাঁর গুণাবলির বর্ণনা শুনতে পেত যা তার ওপর দাঁড়িয়ে বলা হতো, তাই সেটির বিচ্ছেদে সে কেঁদেছিল।

মহান আল্লাহ বলেন: “অবশেষে যখন তারা আগুনের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের চামড়াকে বলবে, কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে? তারা বলবে, আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে” [ফুসসিলাত: ২০-২১]। অর্থাৎ তাদের কাছে—যেভাবে এর বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে—যখন সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসবে, তখন কিছু মানুষ যখন তাদের আমলনামার সামনে দাঁড়াবে এবং ফেরেশতারা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে ও তাদের আমল লিপিবদ্ধ করা দফতরগুলো পেশ করবে, তখন তারা বলবে: হে রব! আমরা এদের সাক্ষ্য গ্রহণ করব না, আমরা কেবল নিজেদের মধ্য থেকেই সাক্ষ্য কবুল করব! তখন তাদের মুখে মোহর মেরে দেওয়া হবে এবং তাদের চামড়া, কান, চোখ ও হাতের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হবে: কথা বলো! তখন আল্লাহর হাত কথা বলবে এবং বলবে: আমি অমুক সময়ে, অমুক স্থানে, অমুক ঘড়িতে এই এই কাজ করেছি। আল্লাহর পা বলবে: আমি অমুক সময়ে অমুক স্থানে হেঁটে গিয়েছি। চোখ বলবে: আমি অমুক দৃশ্য দেখেছি এবং সময় ও স্থানের কথা উল্লেখ করবে। কান বলবে: আমি অমুক কথা শুনেছি। চামড়া বলবে: আমি অমুক কাজের সংস্পর্শে ছিলাম—এভাবে সব কিছু বলবে। এরপর তাদের বাকশক্তির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন তারা তাদের চামড়া, কান ও চোখের ওপর তিরস্কার করতে থাকবে এবং বলবে: আমরা তো তোমাদের পক্ষ হয়েই বিতর্ক করছিলাম, তবে কেন আমাদের অপদস্থ করলে? তখন চামড়া, কান, চোখ, হাত এবং পা বলবে: “আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন” [ফুসসিলাত: ২১]। অর্থাৎ এটি আমাদের ইচ্ছায় নয়, বরং আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দান করার কারণেই হয়েছে। তখন বান্দা বলবে: তোমাদের জন্য ধ্বংস ও দুর্ভোগ, তোমাদের জন্যই তো আমি বিতর্ক করছিলাম! উদ্দেশ্য হলো, এটি এমন একটি বক্তব্য যা তারা নিজেরা এবং সেখানে উপস্থিত অন্যরাও শুনতে পাবে। এর মাধ্যমে তাদের অজুহাত চূড়ান্তভাবে কেটে যাবে, যদিও তারা তাদের এই আচরণের মাধ্যমে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা থেকে আরও দূরে সরে গিয়েছিল। সুতরাং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যে তসবিহর কথা উল্লেখ করেছেন তা তার প্রকাশ্য অর্থেই সত্য।

এখানে আসমানের মর্যাদার কারণে এবং আসমানের অধিবাসী সবাই অনুগত ও বিনয়ী হওয়ার কারণে আসমানকে জমিনের আগে উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে জমিনে বসবাসকারী মানুষ ও জিনের অধিকাংশ হলো অবাধ্য।

আর তাঁর বাণী: “রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই” [আত-তাগাবুন: ১]। এখানে রাজত্ব তাঁর মর্যাদা ও শক্তির পরিচায়ক এবং তাঁর পূর্ণ সক্ষমতার প্রমাণ। আর প্রশংসা হলো তাঁর সেই সকল পূর্ণ গুণাবলিতে গুণান্বিত হওয়ার প্রমাণ যার কারণে ইতিপূর্বে আলোচিত আলোচনা অনুযায়ী তাঁর প্রশংসা করা হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌عموم قدرة الله على كل شيء

وقوله: {وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [التغابن:1] ، (كل) : كلمة تدل على العموم، فلا يجوز أن يخرج منها شيء، وهي بحسب ما تضاف إليه، فإذا جاءت في مثل هذه الآية فهي عامة مطلقةً لا يجوز أن يخرج منها شيء، فقدرة الله جل وعلا غير محدودة، ولا يجوز أن نقيدها بما يقوله أهل الشك والريب الذين تأثروا بالمنطق وبالكلام الفاسد الذي أورث الشكوك، حتى صاروا يقيدون قول الله جل وعلا في مثل هذه الآية بالأمور التي تدل على الريب، بل ربما دلت على الكفر بالله جل وعلا، ويتبعون في هذا أهل الزندقة، وأهل محاربة الله جل وعلا ومحاربة دينه، الذين يقصدون تشكيك المسلمين في ديانتهم! فمثلاً يقولون: خرج من ذلك أمور، منها: أنه لا يقدر أن يخلق مثل نفسه، ومنها أنه لا يقدر أن يفني نفسه، وما أشبه ذلك من الخزعبلات، وهذه تقديرات ووساوس شيطانية لا حقيقة لها في الواقع؛ لأن هذا من المستحيل، فالله هو الفرد الصمد الذي لا نظير له ولا مثل له، ومن المستحيل أن يوجد إله آخر كما سيأتي، فالإنسان يعرف من نفسه أنه لا يمكن أن يكون حياً ميتاً في آن واحد، وكذلك يستحيل أن يجتمع العدم والوجود في آن واحد، وكذلك يستحيل أن يكون الإنسان متحركاً ساكناً في آن واحد، وهكذا الأمور المتضادة، يستحيل اجتماعها وهذا منها.

فقولهم هذا وساوس، ولكن قد ينطلي على بعض الجهلة؛ فلهذا لا يجوز الالتفات إليه بحال من الأحوال، فضلاً عن أن يؤتى ويقيد به كلام الله، كما ذكر السيوطي عفا الله عنا وعنه في تفسيره في آخر سورة المائدة، عند قوله تعالى: {وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [المائدة:120] ، قال: وخص العقل من ذلك ذاته فليس عليها بقادر! وهذا أخذه عن المتكلمين الذين يوجدون هذه الأمور لتشكيك الذين ليس عندهم المقدرة على المعرفة التي يعرفون بها ربهم.

ثم إن (كل) إذا أضيفت إلى مخلوق فإنها تكون بحسب الإضافة، كقوله جل وعلا في الريح التي أرسلها على عاد: {تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا} [الأحقاف:25] ، أي: كل شيء أمرت بتدميره، وإلا فهي لم تدمر الجبال، ولم تدمر التراب، ولم تدمر أشياء كثيرة، وإنما دمرت ما أمرت بتدميره من الآدميين ومساكنهم وحروثهم وأنعامهم.

وكذلك قوله في ملكة اليمن: {وَأُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ} [النمل:23] ، أي: أوتيت من الأشياء التي تصلح للملك وتصلح للملوك في وقتها.
সবকিছুর ওপর আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপকতা

এবং তাঁর বাণী: {আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান} [আত-তাগাবুন: ১]। (সব): এই শব্দটি ব্যাপকতা বোঝায়, তাই এখান থেকে কোনো কিছু বাদ দেওয়া বৈধ নয়। এটি যার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, সেই অনুযায়ী অর্থ প্রকাশ করে। যখন এই জাতীয় আয়াতে এটি আসে, তখন তা নিরঙ্কুশভাবে ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে যা থেকে কোনো কিছু বের করে নেওয়া বৈধ নয়। সুতরাং মহান আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। সন্দেহ ও সংশয়বাদী যারা যুক্তিবিদ্যা ও ভ্রান্ত কালাম শাস্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সংশয়ে নিপতিত হয়েছে, তাদের কথার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করতে পারি না। তারা এই আয়াতের মতো জায়গায় মহান আল্লাহর বাণীকে এমন সব বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করে দেয় যা সংশয় তৈরি করে, এমনকি কখনো তা মহান আল্লাহর প্রতি কুফরির দিকে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে তারা যিনদীক এবং আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের শত্রুদের অনুসরণ করে, যাদের উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের তাদের দ্বীন সম্পর্কে সংশয়ে ফেলা! উদাহরণস্বরূপ তারা বলে: এখান থেকে কিছু বিষয় বাদ পড়েছে, যেমন: তিনি নিজের মতো কাউকে সৃষ্টি করতে পারেন না, কিংবা তিনি নিজেকে ধ্বংস করতে পারেন না এবং এ জাতীয় আরও সব আষাঢ়ে গল্প। এগুলো শয়তানি ধারণা ও কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু নয়, বাস্তবে যার কোনো ভিত্তি নেই; কারণ এগুলো অসম্ভব বিষয়। আল্লাহ হলেন একক ও অমুখাপেক্ষী, যাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই। অচিরেই যেমন আলোচনা আসবে, অন্য কোনো ইলাহ থাকা অসম্ভব। মানুষ নিজের সত্তা থেকেই জানে যে, একই সাথে জীবিত ও মৃত হওয়া অসম্ভব। তেমনি একই সাথে অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের মিলন ঘটা অসম্ভব। তেমনি মানুষ একই সাথে গতিশীল ও স্থির হওয়াও অসম্ভব। এভাবে পরস্পরবিরোধী বিষয়গুলোর সহাবস্থান অসম্ভব, আর এটিও সেই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

তাদের এই কথাগুলো কুমন্ত্রণা মাত্র, কিন্তু কিছু মূর্খ লোক এতে বিভ্রান্ত হতে পারে; তাই কোনো অবস্থাতেই এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা যাবে না, আল্লাহর কালামকে এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা তো দূরের কথা। যেমনটি সুয়ূতী (আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন) সূরা আল-মায়িদার শেষে তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন, মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান} [আল-মায়িদা: ১২০]-এর ব্যাখ্যায়। তিনি বলেছেন: 'বিবেক এখান থেকে তাঁর সত্তাকে পৃথক করেছে, তাই তিনি তাঁর সত্তার ওপর সক্ষম নন!' তিনি এটি সেই কালাম শাস্ত্রবিদদের থেকে গ্রহণ করেছেন যারা এই বিষয়গুলো তৈরি করে তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করার জন্য যাদের নিজ রবকে চেনার মতো সঠিক জ্ঞান নেই।

অতঃপর 'সব' শব্দটি যখন কোনো সৃষ্টির সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন তা সেই প্রেক্ষাপট অনুযায়ী হয়। যেমন আদ জাতির ওপর প্রেরিত বায়ু সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তা তার রবের আদেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে} [আল-আহকাফ: ২৫]। অর্থাৎ যা কিছু ধ্বংস করার আদেশ তাকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় সেই বায়ু পাহাড় ধ্বংস করেনি, মাটি ধ্বংস করেনি এবং আরও অনেক কিছু ধ্বংস করেনি। বরং মানুষ, তাদের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গবাদি পশুর মধ্য থেকে যা তাকে ধ্বংস করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, কেবল তা-ই সে ধ্বংস করেছে।

তেমনিভাবে ইয়েমেনের রানি সম্পর্কে তাঁর বাণী: {এবং তাকে সবকিছু দেওয়া হয়েছিল} [আন-নামল: ২৩]। অর্থাৎ সেই সময়ের রাজত্ব ও রাজাদের জন্য যা কিছু উপযুক্ত বা প্রয়োজনীয় ছিল, তার সবই তাকে দেওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تخصيص المعتزلة لقدرة الله والرد عليهم

ومن العجيب فعل أهل البدع المعتزلة أنهم في قوله جل وعلا: {وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [المائدة:120] ، وما أشبه ذلك، يخرجون من ذلك أفعال العباد الاختيارية التي يفعلونها، فيقولون: إن الله لا يقدر عليها -تعالى الله عن قولهم- وهذا نوع من الكفر، ثم إنهم يدخلون فيها كلام الله فيجعلونه مخلوقاً، وهذا من الأدلة الواضحة على أن أصحاب البدع يتبعون أهواءهم، ولا يتبعون الأدلة، فأخرجوا من العموم بعض المخلوقات التي هي أفعال العباد، وأدخلوا فيه ما هو وصف لله جل وعلا، وهو كلامه تعالى وتقدس؛ لأن الكلام صفة.

وسيأتي أن ما يضاف إلى الله لا يخلو إما أن يكون صفة وإما أن يكون مخلوقاً، فهو إما من إضافة مخلوق إلى خالقه أو من إضافة صفة إلى موصوف، فإن كان معنىً لا يقوم بنفسه كالقول والعلم والحياة والقدرة والسمع والبصر والإرادة فهو صفة، وإن كان شيئاً قائماً بنفسه؛ كناقة الله وبيت الله ورسول الله وعبد الله وما أشبه ذلك، فهو من إضافة المخلوق إلى خالقه، وهذه الإضافة تدل على التشريف والإكرام.

فقوله: {وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [المائدة:120] على عمومه، فلا يخرج عن قدرة الله شيء.
আল্লাহর কুদরতের ব্যাপারে মুতাজিলাদের সীমাবদ্ধকরণ এবং তাদের খণ্ডন

বিদআতপন্থী মুতাজিলাদের একটি বিস্ময়কর কর্মতৎপরতা হলো যে, তারা মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান" (আল-মায়িদাহ: ১২০) এবং এই জাতীয় আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে বান্দার ওইসব ঐচ্ছিক কাজকে এর গণ্ডি থেকে বের করে দেয় যা তারা সম্পাদন করে। তারা বলে যে, আল্লাহ সেগুলোর ওপর ক্ষমতা রাখেন না—তাদের এসব উক্তি থেকে আল্লাহ অতি ঊর্ধ্বে—আর এটি এক প্রকার কুফরি। অতঃপর তারা এর মধ্যে আল্লাহর কালামকে (কথাকে) অন্তর্ভুক্ত করে এবং একে সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করে। এটি এই বিষয়ের স্পষ্ট প্রমাণ যে, বিদআতপন্থীরা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং দলীলের অনুসরণ করে না। ফলে তারা (সবকিছুর এই) ব্যাপকতার মধ্য থেকে কিছু সৃষ্টিকে বের করে দিয়েছে যা বান্দার কর্মসমূহ, অথচ তারা এর মধ্যে এমন বিষয়কে প্রবেশ করিয়েছে যা মহান আল্লাহর গুণ বা সিফাত, আর তা হলো তাঁর কালাম; কারণ কথা বলা একটি গুণ।

সামনে আলোচিত হবে যে, আল্লাহর দিকে যা কিছু সম্বন্ধ করা হয় তা সিফাত (গুণ) অথবা মাখলুক (সৃষ্টি) হওয়ার বাইরে কিছু নয়। সুতরাং তা হয় স্রষ্টার দিকে সৃষ্টির সম্বন্ধ হবে অথবা গুণান্বিতের দিকে গুণের সম্বন্ধ হবে। যদি তা এমন কোনো বিষয় হয় যা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, যেমন: কথা, জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন ও ইচ্ছা—তবে তা সিফাত বা গুণ। আর যদি তা এমন কিছু হয় যা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে; যেমন: আল্লাহর উটনী, আল্লাহর ঘর, আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর বান্দা এবং এর অনুরূপ বিষয়সমূহ—তবে তা স্রষ্টার দিকে সৃষ্টির সম্বন্ধ। আর এই সম্বন্ধ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য হয়ে থাকে।

অতএব মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান" (আল-মায়িদাহ: ১২০) তার ব্যাপক ও সাধারণ অর্থের ওপরই বহাল থাকবে, সুতরাং আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার বাইরে কোনো কিছুই নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌شرح أول سورة الفرقان: (تبارك الذي نزل)

وقوله: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان:1] تبارك: فعل ماض، لا يأتي منه المضارع، وهو مختص بالله جل وعلا، ولا يجوز أن يقال للمخلوق: تبارك بكذا وبكذا، كما يصدر من بعض العوام: تباركوا بالنواصي والأماكن! فهذا لا يجوز، وهو نوع من الشرك.

والتبارك مأخوذ من البركة، والبركة تدل على النماء والزيادة، فمعنى ذلك أن كمالاته جل وعلا بأفعاله ومشيئته تزداد، فيستحق بها حمداً على حمد، وليس معنى ذلك أنه قبل زيادتها ووجودها كان ناقصاً تعالى وتقدس؛ لأن الكمال أن يأتي الشيء الذي فيه الكمال متعلقاً بمشيئته، كقوله جل وعلا: {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} [البروج:16] ، ففعله كله كمال، وهو لا يفعل إلا إذا أراد، وهو جل وعلا لم يمتنع من الفعل في وقت من الأوقات، لا في الأزل ولا في المستقبل؛ لأن له الكمال المطلق.

وكذلك يدل قوله: (تبارك) على الإحسان والكرم الذي يصدر منه بأفعاله، ويدل على أن أسماءه وصفاته مباركة، وبها تنال البركة لمن ذكرها أو عبد ربه بها.

وقوله: ((الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ)) .

الذي: نعت لله جل وعلا.

ونزَّل: بصيغة المبالغة يدل على أن النزول يكون وقتاً بعد وقت، وليس جملة واحدةً.

والفرقان: هو كلامه الذي يفرق بين الحق والباطل، والضلال والهدى، والغي والرشد، والفرقان هو القرآن، فهو الذي به الاهتداء وبه التفرقة بين الحق والباطل.

وهذا يدلنا على أن من وصل إليه القرآن فقد قامت عليه الحجة؛ لأنه وصله الفرقان، ولا يجوز للمسلم أن يقرأ القرآن وهو لا يفهم منه شيء، فيجب أن يستشعر أن ربه يخاطبه به، فيتفهمه ويتدبره، وهو بلسان عربي مبين، فمن كان يعرف العربية فلابد أن يعرف المعنى الذي يخاطب به، ولا يلزم أن يعرف المعاني كلها، بل يكفي أن يعرف المدلول العام الذي يظهر من الخطاب، أما المعاني التي يشتمل عليها فذلك بعيد، بل كثير من العلماء لا يدرك كثيراً منه، فمعاني خطاب الله جل وعلا لا تنتهي، والعلم يتفاوت عند الناس بتفاوت فهومهم في كلام الله جل وعلا.
সূরা আল-ফুরকানের শুরুর ব্যাখ্যা: (বরকতময় তিনি যিনি অবতীর্ণ করেছেন)

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন} [আল-ফুরকান: ১]। তাবারাকা: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যার বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন রূপ আসে না। এটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে এরূপ বলা জায়েজ নেই যে: অমুক জিনিসের মাধ্যমে বরকতময় হয়েছে, যেমনটি কিছু সাধারণ মানুষ বলে থাকে: কপাল বা স্থানের বরকত গ্রহণ করো! এটি বৈধ নয় এবং এটি এক প্রকার শিরক।

তাবারাকা শব্দটি বরকত থেকে উদ্ভূত। বরকত বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির অর্থ প্রকাশ করে। এর অর্থ হলো, মহান আল্লাহর পূর্ণতাসমূহ তাঁর কর্ম ও ইচ্ছার মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে তিনি প্রশংসার ওপর প্রশংসার যোগ্য হন। এর অর্থ এই নয় যে, সেই বৃদ্ধির আগে তিনি অপূর্ণ ছিলেন—তিনি অতি উচ্চ ও পবিত্র। কারণ পূর্ণতা হলো এই যে, পূর্ণতাসম্পন্ন কোনো বিষয় তাঁর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে সম্পন্ন হওয়া। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি যা চান তা-ই করেন} [আল-বুরূজ: ১৬]। তাঁর সকল কাজই পূর্ণতা। তিনি যা ইচ্ছা করেন কেবল তা-ই করেন। তিনি অনাদি কাল থেকে ভবিষ্যতেও কোনো সময়েই কাজ করা থেকে বিরত হননি; কারণ তাঁর রয়েছে পরম পূর্ণতা।

অনুরূপভাবে 'তাবারাকা' শব্দটি মহান আল্লাহর কর্মসমূহ থেকে উৎসারিত অনুগ্রহ ও বদান্যতার প্রমাণ দেয়। এটি আরও প্রমাণ করে যে, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলী বরকতময়। যে ব্যক্তি তা উল্লেখ করবে বা তার মাধ্যমে স্বীয় রবের ইবাদত করবে, সে বরকত লাভ করবে।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: ((যিনি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন))।

আল্লাজি: এটি মহান আল্লাহর একটি বিশেষণ।

নায্যালা: এটি প্রাচুর্যসূচক রূপ, যা বুঝায় যে অবতরণ হয়েছে সময়ের ব্যবধানে ধাপে ধাপে, একেবারে একযোগে নয়।

আর ফুরকান: এটি হলো তাঁর বাণী যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে, পথভ্রষ্টতা ও হিদায়াতের মধ্যে এবং গুমরাহি ও সঠিক পথের মধ্যে পার্থক্যকারী। ফুরকান হলো আল-কুরআন, যার মাধ্যমে হিদায়াত লাভ হয় এবং যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে।

এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; কেননা তার কাছে ফুরকান পৌঁছেছে। একজন মুসলিমের জন্য কুরআন পাঠ করা এবং তা থেকে কিছুই না বোঝা উচিত নয়। বরং তাকে অনুভব করতে হবে যে, তার রব তাকে এর মাধ্যমে সম্বোধন করছেন; ফলে সে তা অনুধাবন করবে এবং তা নিয়ে গবেষণা করবে। এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। সুতরাং যে ব্যক্তি আরবি জানে, তাকে অবশ্যই সেই অর্থ বুঝতে হবে যার মাধ্যমে তাকে সম্বোধন করা হয়েছে। তবে সব অর্থ জানা আবশ্যক নয়, বরং সম্বোধন থেকে যা স্পষ্ট হয় সেই সাধারণ অর্থটুকু জানাই যথেষ্ট। আর এর অন্তর্ভুক্ত গভীর অর্থসমূহ অনুধাবন করা সুদূরপরাহত বিষয়; এমনকি অনেক আলেমও এর অনেক কিছুই উপলব্ধি করতে পারেন না। মহান আল্লাহর বাণীর অর্থসমূহ কখনো শেষ হয় না। আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রে মানুষের বোধগম্যতার পার্থক্যের কারণে তাদের জ্ঞানেরও পার্থক্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقام العبودية من أشرف مقامات النبي صلى الله عليه وسلم

وقوله: ((عَلَى عَبْدِهِ)) ، قد يقال: لماذا لم يقل: (على رسوله) حيث إن كلمة الرسول قد يكون مدلولها عند بعض الناس أبلغ من مدلول العبد؛ لأن كل الخلق عباد له، أما الرسول فهو الذي يصطفيه الله جل وعلا لرسالته، فلماذا عبر بالعبد؟

و

‌‌الجواب

أنه لابد أن يكون التعبير مقصوداً لله جل وعلا؛ لأنه علام الغيوب، فكل حرف من كتاب الله جل وعلا له معان، وله مدلولات يجب أن نتفهمها، ولا يقال إن لفظة (العبد) ولفظة (الرسول) ولفظة (النبي) سواء، ولذلك إذا عبر الله جل وعلا بلفظة، فلابد أن يكون تحتها معنى مناسب للمقام، وهو هنا: أن أشرف المقامات التي يقومها المخلوق لله جل وعلا هي أن يكون عبداً محققاً للعبودية، فإذا تتبعنا القرآن وجدنا ربنا جل وعلا ذكر رسوله بلفظ العبودية في المقامات التي يثنى عليه بها، كمقام الدعوة إلى الله جل وعلا: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا} [الجن:19] ، وهو من أشرف مقامات الرسول صلى الله عليه وسلم التي بها يحيا الناس، ويخرجون من الظلمات إلى النور، فالحياة الحقيقية ليست بأن يدرك الأكل والشرب والتلذذ، بل بأن يعرف كيف يعبد ربه.

وكذلك ذكره بالعبودية في مقام الإسراء: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى} [الإسراء:1] ، فذكره بلفظ العبودية مضافاً إليه (بعبده) ، وكذلك في مقام التحدي: {وَإِنْ كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ} [البقرة:23] ، وذكره هنا في هذه الآية في مقام الإنزال والوحي: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ} [الفرقان:1] ، وكما قال في آية أخرى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا} [الكهف:1] .

فهذه المقامات الأربعة هي أشرف مقامات النبي صلى الله عليه وسلم، ذكره جل وعلا فيها بلفظ العبودية مضافاً إليه؛ مما يدل على أن العبودية أشرف ما يتحلى به العارف المتقي القريب من الله، هذا أمر.

وهنا أمر آخر: وهو أن يبين الله جل وعلا أن الرسول وإن كان كريماً على الله جل وعلا، فهو لا يخرج عن عبوديته، وليس له شيء من الألوهية ولا من الربوبية، فهذا أيضاً مقصود.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানজনক মাকামগুলোর মধ্যে দাসত্বের মাকাম অন্যতম

আর তাঁর বাণী: ((তাঁর বান্দার প্রতি)), প্রশ্ন করা হতে পারে: তিনি কেন (তাঁর রাসূলের প্রতি) বলেননি? অথচ কিছু মানুষের কাছে 'রাসূল' শব্দের অর্থ 'বান্দা' শব্দের চেয়ে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে; কারণ সমস্ত সৃষ্টিই তাঁর বান্দা, পক্ষান্তরে রাসূল হলেন তিনি যাকে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন। তাহলে কেন 'বান্দা' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হলো?

ও

উত্তর

উত্তর হলো, এই অভিব্যক্তিটি অবশ্যই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; কারণ তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি অক্ষরের অর্থ ও তাৎপর্য রয়েছে যা আমাদের বোঝা উচিত। এমনটি বলা যাবে না যে 'বান্দা', 'রাসূল' ও 'নবী' শব্দগুলো সমান। তাই আল্লাহ যখন কোনো শব্দ ব্যবহার করেন, তখন অবশ্যই তার পেছনে সেই প্রেক্ষাপটের উপযোগী কোনো অর্থ থাকে। আর এখানে বিষয়টি হলো: কোনো সৃষ্টি আল্লাহর জন্য যে সকল মাকামে অধিষ্ঠিত হতে পারে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো দাসত্ব বা উবুদিয়াতকে পূর্ণভাবে বাস্তবায়নকারী বান্দা হওয়া। আমরা যদি কুরআন অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাব যে আমাদের রব জাল্লা ওয়া আলা তাঁর রাসূলকে সেই সব মাকামে 'বান্দা' শব্দে উল্লেখ করেছেন যেখানে তাঁর প্রশংসা করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার দিকে দাওয়াত দেওয়ার মাকাম: {আর এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা তাঁর কাছে ভিড় জমাতে শুরু করল} [জ্বিন: ১৯]। আর এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাকাম যার মাধ্যমে মানুষ জীবন লাভ করে এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বেরিয়ে আসে। প্রকৃত জীবন কেবল পানাহার ও আমোদ-প্রমোদের নাম নয়, বরং জীবন হলো তাঁর রবকে কীভাবে ইবাদত করতে হয় তা জানা।

একইভাবে ইসরা-এর মাকামে তাঁকে দাসত্বের গুণে উল্লেখ করেছেন: {পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত} [ইসরা: ১]। এখানে তাঁকে (তাঁর বান্দা) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করে দাসত্বের শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে চ্যালেঞ্জ প্রদানের মাকামে: {আর আমরা আমাদের বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো} [বাকারা: ২৩]। আর এই আয়াতে নাযিল ও ওহীর মাকামে উল্লেখ করেছেন: {অত্যন্ত বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান নাযিল করেছেন} [ফুরকান: ১]। যেমনটি তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি} [কাহফ: ১]।

এই চারটি মাকাম হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠ মাকামসমূহ, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সেগুলোতে তাঁকে নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে 'বান্দা' শব্দে উল্লেখ করেছেন; যা প্রমাণ করে যে, দাসত্ব বা উবুদিয়াত হলো সেই শ্রেষ্ঠ ভূষণ যা আল্লাহর নিকটবর্তী আল্লাহভীরু আরিফগণ পরিধান করেন। এটি একটি বিষয়।

আর এখানে আরেকটি বিষয় হলো: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, রাসূল আল্লাহর নিকট অত্যন্ত সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর দাসত্বের গণ্ডির বাইরে নন। তাঁর মধ্যে উলুহিয়াত (উপাস্যত্ব) বা রুবুবিয়াতের (প্রভুত্ব) কোনো গুণ নেই। এটিও একটি উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌إثبات الحكمة في أفعال الله

وقوله: ((ِليَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا)) : المقصود الفرقان، وهذا التعليل لإنزال الفرقان بأنه ليكون للعالمين نذيراً، يدل على أن أفعال الله جل وعلا لها مقاصد وغايات معللة؛ فلا يفعل شيئاً إلا لحكمة، وهذا ظاهر جداً في كثير من النصوص، ومن الصفات التي يجب أن تثبت، أن الله يفعل لغاية محمودة ولحكمة مقصودة يقصدها ربنا جل وعلا.
আল্লাহর কার্যাবলিতে প্রজ্ঞা সাব্যস্তকরণ

এবং তাঁর বাণী: "যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন": এখানে উদ্দেশ্য হলো আল-ফুরকান, আর আল-ফুরকান নাযিল করার পেছনে এই কারণ দর্শানো যে, এটি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হবে, তা প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলার কার্যাবলির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য রয়েছে যা যৌক্তিক কারণনির্ভর; সুতরাং তিনি কোনো প্রজ্ঞা ব্যতীত কিছুই করেন না। এটি বহু দলীলে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আর যে সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করা আবশ্যক, তন্মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহ তাআলা প্রশংসনীয় কোনো উদ্দেশ্য এবং সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞার নিমিত্তেই কাজ করেন, যা আমাদের প্রতিপালক মহান ও উচ্চ আল্লাহ সংকল্প করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌عدم تكليف الملائكة

و (العالمين) : المقصود بهم هنا الجن والإنس فقط، أما قول من قال: إن الملائكة داخلون في ذلك، وكذلك السموات والأرض، فهذا كلام تشم منه رائحة الغلو، ولا دليل عليه؛ لأن الملائكة هم رسل، وهم كما قال الله: {لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} [التحريم:6] ، فكيف يكون نذيراً لهم؟! ثم الملائكة في السماء، فكيف ينذرهم؟! فالنذارة إنما تكون لمن قال الله جل وعلا فيهم: {لَأَمْلأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} [هود:119] ، ولم يذكر منهم الملائكة، وإنما ذكر الناس والجن فقط، فيدل ذلك على أنهم هم الذين ينذرون.

والنذارة: هي الإعلام بالمخوف المتوقع حصوله، وهذا يدل على أن من لم يمتثل ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، فإنه وشيك أن ينزل به العذاب وما أقربه منه! فمن العذاب ما هو محسوس مشاهد، ومنه ما هو غير محسوس، ولكنه يشاهده من كان في قلبه حياة، ومن ذلك تمادي الإنسان في المعاصي، وكلما ازداد عمراً زاد كثرة فعل في المعاصي، فهذا عذاب وعقاب؛ لأنه كلما زاد عمره زادت كثرة أفعاله، فكثرت سيئاته، فصار تعذيبه أعظم.
ফেরেশতাদের শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট না হওয়া

এবং (আলামীন): এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল জিন ও মানবজাতি। আর যারা বলে যে, ফেরেশতারা এর অন্তর্ভুক্ত, এবং তদ্রূপ আসমান ও জমিনও—এটি এমন এক কথা যাতে বাড়াবাড়ির গন্ধ পাওয়া যায় এবং এর পক্ষে কোনো দলিল নেই; কেননা ফেরেশতারা হলেন বার্তাবাহক, এবং তারা তেমন যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন তারা তার অবাধ্য হয় না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে" [আত-তাহরীম: ৬]। সুতরাং তিনি কীভাবে তাদের জন্য সতর্ককারী হবেন?! অতঃপর ফেরেশতারা তো আকাশে অবস্থান করেন, তবে তিনি কীভাবে তাদেরকে সতর্ক করবেন?! মূলত সতর্কীকরণ তো কেবল তাদের জন্য যাদের সম্পর্কে আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা বলেছেন: "আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব" [হুদ: ১১৯]। তিনি সেখানে ফেরেশতাদের কথা উল্লেখ করেননি, বরং কেবল মানুষ ও জিনের কথা উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তারাই কেবল সতর্কীকৃত।

আর সতর্কীকরণ হলো: সম্ভাব্য ভীতিপ্রদ কোনো বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা। এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণ করবে না, তার ওপর আযাব বা শাস্তি আপতিত হওয়া আসন্ন এবং তা তার কতই না নিকটবর্তী! শাস্তির কিছু রূপ আছে যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও প্রত্যক্ষ করা যায়, আবার কিছু আছে যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। তবে যার অন্তরে প্রাণ আছে সে তা প্রত্যক্ষ করে। এর একটি উদাহরণ হলো মানুষের পাপাচারে লিপ্ত থাকা; বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার পাপাচারের পরিমাণও বাড়তে থাকে। এটি এক প্রকার আযাব ও শাস্তি; কারণ যতই তার বয়স বৃদ্ধি পায়, ততই তার কর্মতৎপরতা বাড়ে, ফলে তার গুনাহসমূহ বৃদ্ধি পায় এবং তার শাস্তি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثبوت تكليف الجن ووجودهم ومجازاتهم

وتدل الآية على أن الجن مكلفون، ومقتضى ذلك أنهم يجزون على الإحسان إحساناً، وعلى الإساءة إساءة، وقد كان الرسول صلى الله عليه وسلم يجتمع بالجن، فيأتون إليه، أو يذهب إليهم ويجتمع بهم ويقرأ عليهم القرآن، ويأمرهم وينهاهم، ثم يذهبون إلى قومهم منذرين، كما قال الله جل وعلا: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ * قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى} [الأحقاف:29-30] إلى آخر الآيات، وكذلك قوله جل وعلا: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا} [الجن:1] {يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا} [الجن:2] ، إلى آخر السورة، وكذلك قوله جل وعلا: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنسِ} [الأنعام:130] ، في عدد من الآيات.

ولا ينكر وجود الجن إلا الزنادقة، والذي ينكرهم يكون كافراً بالله جل وعلا، وإنما بعض الناس ينكر أن يلابس الجني الإنسي، وهذا أيضاً لا دليل على إنكاره، ولا يجوز إنكار ذلك؛ لثبوته بالأدلة وبالواقع.
জিনদের শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধতা, তাদের অস্তিত্ব এবং কর্মফলের প্রমাণ

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে জিনেরা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ, আর এর দাবি হলো তারা সৎকর্মের জন্য পুরস্কার এবং অসৎকর্মের জন্য প্রতিফল প্রাপ্ত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিনদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তারা তাঁর কাছে আসত অথবা তিনি তাদের কাছে যেতেন ও তাদের সাথে বসতেন এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তাদের আদেশ ও নিষেধ করতেন, অতঃপর তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট সতর্ককারী হিসেবে ফিরে যেত; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন আমি তোমার প্রতি একদল জিনকে কুরআন শোনার জন্য রুজু করেছিলাম। যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হলো, তারা বলল, চুপ থাকো। অতঃপর যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক কিতাবের কথা শুনেছি যা মূসার পরে নাযিল হয়েছে" [আল-আহকাফ: ২৯-৩০] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "বলো, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনেছে, অতঃপর তারা বলেছে: নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি" [আল-জিন: ১] "যা সঠিক পথের দিশা দেয়, তাই আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমরা কখনোই আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না" [আল-জিন: ২], সূরার শেষ পর্যন্ত। আরও মহান আল্লাহর বাণী: "হে জিন ও মানুষের দল" [আল-আনআম: ১৩০], এরকম আরও অনেক আয়াতে রয়েছে।

যিনদীক বা ধর্মদ্রোহীরা ছাড়া কেউ জিনদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে না, আর যে ব্যক্তি তাদের অস্বীকার করবে সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। তবে কিছু মানুষ মানুষের ওপর জিনের ভর করা বা স্পর্শ করাকে অস্বীকার করে, এটি অস্বীকার করারও কোনো দলীল নেই এবং এটি অস্বীকার করা জায়েজ নয়; কারণ এটি দলীল ও বাস্তব সত্যের মাধ্যমে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌كمال صفات الرب جل وعلا

وقوله: {الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ} [الفرقان:2] ، هذا كما سبق أنه من كمال صفاته جل وعلا، فالملك من صفات الأفعال.

وقوله: {وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان:2] ، يعني: أنه تعالى وتقدس له الصفات الكاملة في كل ما يتصف به، سواء كان مما يفعله ويوجده، فله كماله وتمامه، أو كان مما اتصف به في ذاته تعالى وتقدس.

وهذا يدل أيضاً على أن صفات الرب جل وعلا لا يجوز أن تكون مماثلة لصفات الخلق؛ لأن الصفات تبع للذات يحتذى بها حذوها، أي: أن الموصوف تكون صفته تابعة لذاته التي هذه الصفة تكون وصفاً لها، فالمخلوق إذا وصف بأنه عليم فعلمه يليق به، ولابد أن يكون ناقصاً، ولابد أن يكون جاهلاً قبل العلم، ولا بد أن يموت ويذهب علمه، وكذلك إذا وصف المخلوق بأنه كريم أو بأنه رحيم أو بأنه رءوف، فكما يناسبه.

ولكن إذا وصف الرب جل وعلا بأنه عليم، وبأنه عالم الغيب، وبأنه رءوف رحيم، وبأنه كريم، فلا يكون وصفه مشابهاً لما اتصف به المخلوق، بل له الكمال المطلق في ذاته وفي أوصافه.

وقوله: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ} [الفرقان:2] ، هذا يدلنا على أن كل الأشياء مخلوقة، ولا يخرج عن خلق الله شيء من المخلوقات، أما صفاته تعالى وتقدس، مثل كلامه، وسمعه، وبصره، وعلمه؛ فهذه لا تكون قائمة بنفسها منفكة عنه، حتى يقال إنها غير الله فتكون داخلة في قوله: ((َخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ)) ، بل هي صفات له لا تنفك عنه ولا تفارقه، فلا تكون غيره، كما أنها لا تكون هي هو، فلا يجوز أن يقال إن أوصافه تعالى وتقدس دخلت في هذا العموم، كما يقوله أهل الباطل.

وقوله: {فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان:2] ، يدلنا على الدقة في خلق الله جل وعلا، وفي تقديره، وأنه تعالى وتقدس علم الأشياء قبل وجودها، وقدرها قبل وجودها، وأنها توجد على وفق تقديره بلا زيادة ولا نقصان، ولا تقدم ولا تأخر، وهذا يدل على الإيمان بالقدر، وسيأتي.
রব জাল্লা ওয়া আলার গুণাবলির পূর্ণতা

এবং তাঁর বাণী: "যাঁর রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব" [আল-ফুরকান: ২], এটি পূর্বে যেমন আলোচিত হয়েছে যে, এটি তাঁর (জাল্লা ওয়া আলা) গুণাবলির পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং রাজত্ব হচ্ছে কার্যাবলি সংক্রান্ত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।

এবং তাঁর বাণী: "আর তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছেন" [আল-ফুরকান: ২]। এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা ওয়া তাকান্দাস তাঁর প্রতিটি বৈশিষ্ট্যে পূর্ণাঙ্গ গুণের অধিকারী, চাই তা তাঁর কাজ ও সৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট হোক—যার পূর্ণতা ও পরিসমাপ্তি তাঁরই জন্য, অথবা তা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলি হোক।

এটি আরও প্রমাণ করে যে, রব জাল্লা ওয়া আলার গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির সদৃশ হওয়া বৈধ নয়; কারণ গুণাবলি সত্তার অনুগামী হয় এবং সত্তার ধরণ অনুযায়ী হয়। অর্থাৎ: কোনো সত্তার গুণাবলি সেই সত্তারই অনুগামী হয় যার বিবরণ গুণটি দিচ্ছে। সুতরাং সৃষ্টিকে যখন জ্ঞানী হিসেবে অভিহিত করা হয়, তখন তার জ্ঞান তার উপযুক্তই হয়; যা অবশ্যই অপূর্ণাঙ্গ হতে বাধ্য, এবং অর্জিত জ্ঞানের পূর্বে তাকে অবশ্যই অজ্ঞ থাকতে হয়, আর তাকে অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হয় যার ফলে তার জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যায়। একইভাবে যখন সৃষ্টিকে দয়ালু বা মমতাময় হিসেবে অভিহিত করা হয়, তখন তা তার উপযুক্ত ধরণেই হয়।

কিন্তু যখন রব জাল্লা ওয়া আলা-কে সর্বজ্ঞ, অদৃশ্য পরিজ্ঞাতা, পরম মমতাময় ও দয়ালু এবং মহান দাতা হিসেবে অভিহিত করা হয়, তখন তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির সদৃশ হয় না; বরং তাঁর সত্তা ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁরই জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা।

এবং তাঁর বাণী: "এবং তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন" [আল-ফুরকান: ২], এটি আমাদের দিকনির্দেশনা দেয় যে সব কিছুই সৃষ্ট, এবং কোনো সৃষ্টিই আল্লাহর সৃষ্টির বাইরে নয়। পক্ষান্তরে, আল্লাহ তাআলা ওয়া তাকান্দাসের গুণাবলি—যেমন তাঁর কথা, শ্রবণ, দর্শন এবং জ্ঞান—এগুলো তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল নয় যে সেগুলোকে আল্লাহর সত্তা বহির্ভূত ভিন্ন কিছু বলা যাবে এবং "তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন" এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে; বরং এগুলো তাঁরই গুণ যা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না এবং তাঁকে ছেড়ে যায় না। সুতরাং এগুলো তাঁর সত্তার বাইরের কিছু নয়, আবার এগুলো হুবহু সত্তাও নয়। তাই বাতিলপন্থীরা যা বলে থাকে সেই অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা ওয়া তাকান্দাসের গুণাবলি এই সাধারণ নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা বৈধ নয়।

এবং তাঁর বাণী: "অতঃপর তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছেন" [আল-ফুরকান: ২], এটি আমাদের রব জাল্লা ওয়া আলার সৃষ্টি ও তাঁর নির্ধারণের নিখুঁতত্বের দিকনির্দেশনা দেয়। আর এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলা ওয়া তাকান্দাস প্রতিটি বিষয় অস্তিত্বে আসার পূর্বেই তা জানতেন এবং অস্তিত্বে আসার পূর্বেই তা নির্ধারণ করে রেখেছেন। প্রতিটি বিষয় তাঁর নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ীই অস্তিত্ব লাভ করে; যাতে কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি ঘটে না, এবং কোনো অগ্রগামী বা পশ্চাৎপদতাও হয় না। এটি তাকদীরের ওপর ঈমান আনার প্রমাণ বহন করে, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌تفرد الله بالإلهية وتنزهه عن الولد

وقوله تعالى: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ} [المؤمنون:91] ، ما: نافية، وفي هذه الآية رد على المشركين والكفرة الذين لم يقدروا الله حق قدره، ولم يعرفوا حقه، فضلاً عن أن يعرفوا قدره في ذاته وفي صفاته.

{مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ} [المؤمنون:91] ، لكمال غناه وكمال عزه ولصمديته؛ لأنه صمد، وهو الغني بذاته عن كل ما سواه، وهو الذي تصمد إليه الخلائق كلها، أي: تفتقر إليه، وهو قائم بنفسه.

فلذلك قال: ((مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ)) ؛ لأنه إنما يتخذ الولد الفقير الذي يفنى، والذي يحتاج إلى من يساعده، فالولد يعاون والده، ويساعده ويرثه، والله تعالى وتقدس غني كامل الغنى، كامل الملك، صمد لا يحتاج إلى شيء، مستغنٍ بذاته عن كل ما سواه.

قوله: {وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ} [المؤمنون:91] ، يدل على أن جعل آلهة مع الله كذب وزور، ولهذا يقول جل وعلا في آيات عدة: {إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا} [النجم:23] ، أي إنما هي مجرد أسماء وضعتموها على مسميات لا حقيقة لها من هذه التسمية.

والإله: هو المألوه الذي تألهه القلوب وتحبه، وتنيب إليه خوفاً من عقابه ورجاءً لثوابه، ومن مقتضى كون الإله إلهاً أن يكون مالكاً متصرفاً، يملك نفع من يتألهه ويملك ضره.

والله أعلم.
উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর এককত্ব এবং সন্তান গ্রহণ থেকে তাঁর পবিত্রতা

মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই} [আল-মুমিনুন: ৯১]। এখানে ‘মা’ শব্দটি না-বোধক। এই আয়াতে সেইসব মুশরিক ও কাফিরদের প্রতিবাদ করা হয়েছে যারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি এবং তাঁর অধিকার সম্পর্কে অবগত হয়নি; তাঁর সত্তা ও গুণাবলির মাহাত্ম্য অনুধাবন করা তো দূরের কথা।

{আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি} [আল-মুমিনুন: ৯১], এটি তাঁর পূর্ণ অমুখাপেক্ষিতা, পূর্ণ মর্যাদা এবং তাঁর ‘সামাদিয়্যাত’ বা অবিনশ্বর অমুখাপেক্ষিতার কারণে। কেননা তিনি ‘সামাদ’, তিনি নিজ সত্তাগতভাবেই অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। আর সমস্ত সৃষ্টি তাঁরই মুখাপেক্ষী, অর্থাৎ তারা তাদের প্রয়োজনে তাঁর দিকেই ধাবিত হয়; আর তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ।

এ কারণেই তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি"; কারণ সন্তান তো সেই অভাবী ব্যক্তি গ্রহণ করে যে নশ্বর এবং যার সাহায্যের প্রয়োজন হয়। সন্তান তার পিতাকে সাহায্য-সহযোগিতা করে এবং তাঁর উত্তরাধিকারী হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা পবিত্র ও মহান, তিনি পরিপূর্ণ অভাবমুক্ত ও অমুখাপেক্ষী, পূর্ণ রাজত্বের অধিকারী এবং তিনি ‘সামাদ’—কারও প্রতি তাঁর কোনো মুখাপেক্ষিতা নেই। তিনি নিজ সত্তাগতভাবে অন্য সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী।

আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই} [আল-মুমিনুন: ৯১], এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ সাব্যস্ত করা একটি মিথ্যা ও অপবাদ। এই কারণেই মহান আল্লাহ বেশ কিছু আয়াতে বলেছেন: {এগুলো তো কেবল কতগুলো নাম যা তোমরা রেখেছ} [আন-নাজম: ২৩]। অর্থাৎ এগুলো কেবল কিছু নিছক নাম যা তোমরা এমন কিছু সত্তার ওপর আরোপ করেছ যেগুলোর এই নামকরণের কোনো বাস্তবতা নেই।

আর ‘ইলাহ’ হলেন তিনি, যাঁর ইবাদত করা হয় এবং অন্তরসমূহ যাঁকে ভালোবাসে। মানুষ তাঁর শাস্তির ভয়ে এবং তাঁর পুরস্কারের আশায় তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর কোনো সত্তা ‘ইলাহ’ হওয়ার অনিবার্য দাবি হলো—তিনি হবেন মালিক ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী; যিনি তাঁর ইবাদতকারীর উপকার ও অপকার করার ক্ষমতা রাখেন।

আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - الغنيمان   (عبد الله بن محمد الغنيمان)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الواسطية

المؤلف: عبد الله بن محمد الغنيمان

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 31 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহুল আক্বীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান   (আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান)

বিভাগ: আক্বীদা


কিতাব: শারহুল আক্বীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বরটি মূলত পাঠ নম্বর - ৩১টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ২) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الواسطية [2]

إن الله عز وجل غني عن كل ما سواه، ومن غناه سبحانه أنه لم يتخذ صاحبة ولا ولداً، وغيره مفتقر إليه، وما كان معه سبحانه من إله يشاركه في الملك والتدبير والخلق؛ إذاً لذهب كل إله بما خلق ولعلا بعضهم على بعض، وما نرى من سير الكون على نسق ونظام دقيق يمنع أن يكون هناك إلهان اثنان، وقد جاء الوعيد الشديد لمن أشرك بالله ما لم ينزل به سلطاناً، ومن فعل ذلك فقد استحق الخلود في النار وبئس القرار.
শারহুল আক্বীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ [২]

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। তাঁর অমুখাপেক্ষিতার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো যে তিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি, আর অন্য সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী। রাজত্ব, পরিচালনা ও সৃষ্টিতে অংশীদার হওয়ার মতো কোনো ইলাহ তাঁর সাথে নেই; অন্যথায় প্রত্যেক ইলাহ তার নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং তারা একে অপরের ওপর বিজয়ী হতে চাইত। মহাবিশ্বের গতিপ্রবাহে আমরা যে সুসংগত ও সূক্ষ্ম নিয়ম-শৃঙ্খলা দেখতে পাই, তা দুজন ইলাহ থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। আর আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে যার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার যোগ্য হবে এবং তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌نفي الشريك عن الله عز وجل والولد

يقول المصنف رحمه الله تعالى: [وقوله تعالى: {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل:74] ، وقوله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّي الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [الأعراف:33]] .

تقدم أن هذه العقيدة كتبها الشيخ رحمه الله حينما جاءه رجل من أهل واسط، وطلب منه أن يكتب له عقيدة، فاعتل واعتذر بأن العقائد كثيرة، وقال له: اذهب إلى عقائد الأئمة، خذ أيّ عقيدة اقرأها واتخذها لك طريقاً ومسلكاً، فقال: لا أطمئن إلا بشيء تكتبه لي، فألح عليه، فكتبها وهو يريد أن يذهب إلى المسجد، يعني: بين الظهر والعصر، وكتبها من حفظه، ورتب هذا الترتيب، وذكر هذه النصوص المختصرة من حفظه، ثم بعد ذلك ترتب عليها مناظرات ومناقشات، وعقد له عدة اجتماعات مع كبار العلماء يناقشونه فيها، وفي كل مناظرة ومناقشة ينصره الله جل وعلا؛ لأن الحق معه، وفي النهاية أقروا له بأن هذا اعتقاد سلفي جيد، وإن كان في نفوسهم شيء منه.

ثم نسبت الواسطية إلى هذا الرجل؛ لأنه من أهل واسط، وهكذا بقية كتب الشيخ رحمه الله كلها أجوبة لأسئلة، ولا يوجد له كتاب واحد كتبه كما يكتبه غيره من الناس، بأن يكتب كتاباً من عند نفسه، وربما يهديه إلى الملك أو الكبير أو ما أشبه ذلك؛ لأن حياة هذا الإمام رحمه الله كلها جهاد.

وهو يكتب في الشيء الذي يطلب منه، أو يلح الأمر الذي وقع فيه عليه ككتاب الصارم المسلول.

فإن سبب كتابته: أن رجلاً من النصارى سب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأمر بقتله -حاول قتله- ثم بعد ذلك كتب هذا الكتاب، وقال: هذا أقل ما يجب أن يقدم لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وحتى كتبه الكبار تكون أجوبة لأسئلة، كمنهاج السنة الذي يقع في أربعة مجلدات، وقد طبع الآن في تسعة مجلدات، وهو جواب لسؤال، وبعدما سئل عن ذلك اعتل واعتذر، وقال: هؤلاء باطلهم ظاهر، وليسوا بحاجة إلى أن يكتب رد عليهم، فألحوا عليه بأننا إذا لم نكتب رداً لهذا الكتاب اعتقدوا أن أهل السنة عاجزون عن الرد عليهم أو الجواب عليهم، عند ذلك كتبها، وفي كتاباته خير كثير ونفع للمسلمين، ورد وقهر للباطل.

المقصود: أن كتبه تسمى بأسماء يسميها الناس، وليس هو الذي يسميها، فهو يكتبها ثم يتركها للناس يتداولونها ويسمونها، ولهذا قيل: الواسطية، وقيل: التدمرية؛ لأن هذه المسألة جواب لرجل من أهل تدمر، وقيل: الحموية الكبرى، والحموية الصغرى؛ لأنها جواب لرجل من أهل تلك البلد، وهكذا مثل الصفدية وهي تقع في مجلدين وهي جواب عن سؤال.

والمقصود: أن هذه العقيدة كتبها في هذا الوقت القصير، وصارت عمدة فيما بعد؛ لأنه تحرى فيها ألفاظ الكتاب والسنة حتى الأمور التي قد يكون فيها شيء مما يخفى على بعض العلماء تجنبه، مثل كلمة (التشبيه) ؛ فإنه لم يذكر في هذه العقيدة هذه اللفظة؛ لأنها لم تأت في القرآن، وقد يكون في التشبيه إجمال كما سيأتي، وقد يراد به حق ويراد به باطل، فتجنب هذا وعدل عن هذا اللفظ إلى التمثيل والتكييف والتعطيل؛ لأن هذا الأمر متفق عليه.
‌‌আল্লাহর সাথে অংশীদার এবং সন্তান সাব্যস্ত করার অস্বীকৃতি

গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: [আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না} (নাহল: ৭৪), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন: আমার প্রতিপালক কেবল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপ, অসংগত বাড়াবাড়ি এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করাকে হারাম করেছেন যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহর নামে এমন কিছু বলাকে হারাম করেছেন যা তোমরা জানো না} (আরাফ: ৩৩)]।

পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, এই আকিদাহটি শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) লিখেছিলেন যখন ওয়াসিত অঞ্চলের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে তাকে একটি আকিদাহ লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। শাইখ ওজর পেশ করলেন এবং অপারগতা প্রকাশ করে বললেন যে, আকিদাহর কিতাব অনেক রয়েছে। তিনি তাকে বললেন: 'আইম্মাহদের আকিদাহর কিতাবগুলোর কাছে যাও, যেকোনো একটি আকিদাহর কিতাব নাও, সেটি পড়ো এবং সেটিকে তোমার পথ ও পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করো।' লোকটি বলল: 'আপনি যা লিখে দেবেন তা ছাড়া আমার মন প্রশান্ত হবে না।' তিনি তাকে বারবার অনুরোধ করলেন। ফলে শাইখ এটি লিখলেন যখন তিনি মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছা করছিলেন, অর্থাৎ যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে। তিনি এটি তাঁর স্মৃতি থেকে লিখেছিলেন এবং এভাবে বিন্যস্ত করেছিলেন। এই সংক্ষিপ্ত দলিলগুলোও তিনি তাঁর স্মৃতি থেকেই উল্লেখ করেছিলেন। এরপর এই কিতাবকে কেন্দ্র করে বহু মুনাজারা (বিতর্ক) ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বড় বড় আলিমদের সাথে তাঁর বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে তাঁরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রতিটি মুনাজারা ও আলোচনায় আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁকে সাহায্য করেন; কারণ সত্য তাঁর সাথেই ছিল। পরিশেষে তারা স্বীকার করে নেন যে, এটি একটি উত্তম সালাফি আকিদাহ, যদিও তাদের মনে এ বিষয়ে কিছুটা ক্ষোভ অবশিষ্ট ছিল।

অতঃপর 'ওয়াসিতিয়্যাহ' নামটি এই ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করে রাখা হয়েছে; কারণ তিনি ছিলেন ওয়াসিত অঞ্চলের অধিবাসী। শাইখের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বাকি কিতাবগুলোও এভাবেই কোনো না কোনো প্রশ্নের উত্তর হিসেবে রচিত। এমন কোনো কিতাব নেই যা তিনি অন্য সাধারণ মানুষের মতো নিজের থেকে কোনো কিতাব লেখার জন্য লিখেছেন এবং সম্ভবত কোনো রাজা বা গণ্যমান্য ব্যক্তিকে উপহার দিয়েছেন; কারণ এই ইমামের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) পুরো জীবনই ছিল জিহাদে পরিপূর্ণ।

তিনি মূলত সেই বিষয়েই লিখতেন যা তাঁর কাছে চাওয়া হতো, অথবা কোনো জরুরি বিষয়ের কারণে যা তাঁর ওপর অর্পিত হতো, যেমন 'আস-সারিমুল মাসলুল' কিতাবটি।

এই কিতাবটি লেখার কারণ ছিল: একজন খ্রিস্টান ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দিয়েছিল, ফলে তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন—তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেন—অতঃপর তিনি এই কিতাবটি রচনা করেন এবং বলেন: 'এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মানে পেশ করার জন্য সর্বনিম্ন যা করণীয়।' এমনকি তাঁর বড় বড় কিতাবগুলোও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর হিসেবে রচিত, যেমন 'মিনহাজুস সুন্নাহ' যা চার খণ্ডে সমাপ্ত ছিল এবং বর্তমানে নয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এটিও একটি প্রশ্নের উত্তর। যখন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি ওজর পেশ করেছিলেন এবং অপারগতা প্রকাশ করে বলেছিলেন: 'এদের বাতিল মতবাদগুলো স্পষ্ট, এদের খণ্ডনে কোনো কিতাব লেখার প্রয়োজন নেই।' কিন্তু তারা তাঁকে বারবার অনুরোধ করে বললেন যে, আমরা যদি এই কিতাবটির কোনো উত্তর না লিখি, তবে তারা মনে করবে যে আহলুস সুন্নাহ তাদের খণ্ডন করতে বা উত্তর দিতে অক্ষম। তখন তিনি এটি লিখলেন। তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে প্রভূত কল্যাণ এবং মুসলিমদের জন্য উপকারিতা রয়েছে এবং বাতিলের খণ্ডন ও অবদমন রয়েছে।

উদ্দেশ্য হলো: তাঁর কিতাবগুলো এমন সব নামে নামকরণ করা হয়েছে যা মানুষ দিয়েছে, তিনি নিজে এগুলোর নামকরণ করেননি। তিনি সেগুলো লিখতেন এবং মানুষের কাছে ছেড়ে দিতেন, তারা সেগুলো আদান-প্রদান করত এবং নামকরণ করত। এজন্যই বলা হয়: 'ওয়াসিতিয়্যাহ', আবার বলা হয়: 'তাদমুরিয়্যাহ'; কারণ এই বিষয়টি ছিল তাদমুর অঞ্চলের এক ব্যক্তির জিজ্ঞাসার উত্তর। আবার বলা হয়: 'হামাবিয়্যাহ কুবরা' এবং 'হামাবিয়্যাহ সুগরা'; কারণ এগুলো ছিল সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রশ্নের উত্তর। ঠিক একইভাবে 'সাফাদিয়্যাহ', যা দুই খণ্ডে সমাপ্ত এবং এটি একটি প্রশ্নের উত্তর।

মূল কথা হলো: এই আকিদাহটি তিনি এই স্বল্প সময়ের মধ্যে লিখেছিলেন এবং পরবর্তীতে এটি একটি মূল দলিলে পরিণত হয়েছে; কারণ তিনি এতে কুরআন ও সুন্নাহর শব্দাবলি অনুসন্ধান করে ব্যবহার করেছেন। এমনকি যেসব বিষয় কিছু আলিমের কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে, সেগুলোও তিনি এড়িয়ে গেছেন, যেমন 'তাশবিহ' (সাদৃশ্য দান) শব্দটি; তিনি এই আকিদাহ গ্রন্থে এই শব্দটি উল্লেখ করেননি। কারণ এটি কুরআনে আসেনি এবং 'তাশবিহ' শব্দের মধ্যে অস্পষ্টতা থাকতে পারে যেমনটি সামনে আসবে। এর দ্বারা কখনো সত্য উদ্দেশ্য হতে পারে আবার কখনো বাতিল। তাই তিনি এটি এড়িয়ে গেছেন এবং এই শব্দের পরিবর্তে 'তামসিল', 'তাকিয়িফ' এবং 'তা’তিল' শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন; কারণ এই বিষয়গুলো সর্বসম্মত।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌قوله تعالى: (ما اتخذ الله من ولد وما كان معه من إله)

قوله: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذاً لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ * عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [المؤمنون:91-92] .

سبق الكلام عن هذه الآية، ولكن بقي شيء: وهو أن هذه الآية يقول عنها المتكلمون: إنها دليل التمانع، والتمانع: يكون في الخلق والإيجاد والملك، وقد جعلوه دليلاً على وجود الله جل وعلا، وهو دليل واضح جلي، وإن كان لا يعرفه إلا العقلاء والعلماء، ولكنه قاطع، وقد نوزعوا في هذا؛ لأن الله جل وعلا يقول: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ} [المؤمنون:91] وهذا من الكمال؛ لأنه جل وعلا غني بذاته عن كل ما سواه، ولأنه جل وعلا لا مثل له، ولا سمي له، والولد يتخذ لحاجة، والله غني لا يحتاج إلى شيء، وهو جل وعلا صمد، والصمد: هو الذي تصمد إليه الخلائق لحوائجها؛ لأنه مستغنٍ بذاته عن كل ما سواه، وكل ما سواه فقير إليه، وكذلك يقول السلف: الصمد: الذي لا جوف له، وبعضهم يقول: الصمد: الذي لا يخرج منه شيء ولا يدخل فيه شيء، والله جل وعلا يطعم ولا يطعم كما جاء في قراءة، فهو جل وعلا لا يحتاج إلى شيء، ومنزه عن الحاجات من الأكل والنوم وما أشبه ذلك كالولد.

وقوله: {وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ} [المؤمنون:91] ، فهذا في الألوهية والعبادة، أما التمانع: فهو في الخلق والإيجاد والملك، ودليل التمانع هو قولهم: إن المشاهد من هذا الكون أنه متسق على نظام واحد، ونسق واحد، لا اختلاف فيه، ومن المعلوم عقلاً: أن هذا الكون لو كان له أكثر من صانع فلا يمكن أن يكون على هذا الاتساق والاتفاق؛ لأن التقديرات العقلية تكون على ثلاثة أمور: التقدير الأول: إذا وجد أكثر من واحد يتصرف ويملك فلا يخلو الأمر من أن يكون أحدهما مسيطراً على الآخر، فيكون المسيطر هو الإله الذي يجب أن يكون هو الخالق والمالك، فإن كان كذلك بطل أن يكون له شريك.

التقدير الثاني: أن يعجز كل واحد عن السيطرة على الآخر، فإذا وجد ذلك، فلابد أن ينفرد كل واحد بخلقه وبتصرفه، كما هو المشاهد في ملوك الدنيا، فإن الملك إذا لم يستطع السيطرة على الآخر انفرد بملكه، وصار له مكان محدد؛ لأنه عجز عن السيطرة على الآخر، ولو كان الأمر كذلك لحصل التفاوت بين المخلوقات؛ لأن كل واحد سيتميز عن الآخر بخلقه وإيجاده وملكه وتصرفه، والمشاهد عكس ذلك، فيبطل هذا التقدير كما بطل التقدير الأول؛ لأنه لا يمكن أن يكون هناك إلهان اثنان يتفقان، فدل هذا على أن الخالق واحد وهو الله جل وعلا، وهذا هو التقدير الثالث.

ومثاله: مثل الشمس نراها تخرج من جهة الشرق بنظام متسق، وتذهب إلى جهة الغرب دائماً، ولا تتجاوز مسيرها، كل يوم لها مسير محدد معين، وهكذا طوال ثلاثمائة وخمسة وستين يوماً، كل يوم لها مطلع ومغرب، ولها مسير، ولا تتغير عن ذلك، فهذا تقدير ملك صابر قاهر ليس معه معاون ولا مناوئ، وهكذا في غير ذلك من الأمور.

فالتمانع معناه: أن هذا الاتساق والنظام يمنع أن يكون له مشارك، فسمي التمانع، ولكن الآية في الواقع تمانع في الإلوهية، وهذا الذي ذكروه تمانع في الخلق والإيجاد والملك والتصرف، والآية المقصود بها: التمانع في الحق والتأله والتعلق، فهو جل وعلا يخبر عباده أنه لو كان معه في السموات أو في الأرض إله يعبد ما استقامت السماوات والأرض ولفسدت؛ لأنه يستحيل أن يعطى العبد المملوك المقهور حق الرب القاهر المتصرف، وقد يأنف الإنسان من أن يشاركه عبده المملوك في ماله، وفيما يتصرف به وهو مثله، فكيف يكون مشاركاً لله جل وعلا عبيد مقهورون ناقصون لا يملكون شيئاً؟! لا تستقيم الأحوال على هذا، فلهذا كرر ذلك في آيات متعددة، فيمتنع أن يكون مع الله جل وعلا معبود آخر.

وفي قوله: {عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ} [الأنعام:73] ، سبق أن الغيب ينقسم إلى قسمين: غيب مطلق وغيب مقيد.

أما المطلق: فهو الذي لا يطلع عليه إلا الله جل وعلا، كعلم الساعة مثلاً، وكون الإنسان لا يدري في أيِّ وقت يموت؟ وفي أيِّ ساعة يموت؟ وفي أيِّ أرض يموت؟ ومتى ينزل الغيث؟ وما في الأرحام هل هو مؤمن أو كافر؟ أو كامل الخلقة أو ناقصها؟ أو عمره مستكمل أو ناقص؟ أو غير ذلك مما تفرد الله جل وعلا بعلمه.

وأما الغيب المقيد: فهو ما أطلع الله جل وعلا عليه بعض خلقه دون بعض، فالذي أطلع عليه يكون بالنسبة إليه شهادة، والذي غاب عنه يكون غيباً، والغيب لا يخرج عن هذين القسمين، وأكثره ما اختص الله جل وعلا به.

أما ما يطلع الله جل وعلا به بعض عباده؛ فهذا ليكون آية على صدقهم، وعلى أن الله أرسلهم، كما قال جل وعلا في حق النبي: {إِلَاّ مَنْ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَداً} [الجن:27] ، يعني: أنه يوجد أمور يخبر بها تدل على صدقه، وأنها من عند الله جل وعلا، ولا دخل للمخلوق فيها؛ تكون آية للنبي، كما كان عيسى عليه السلام يخبر الناس بما يأكلون وما يدخرون في بيوتهم، يخبرهم بالشيء الذي في بيوتهم، والشيء الذي أكلوه، وهذا من تعليم الله جل وعلا له ليكون آية على صدقه.
মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো উপাস্যও নেই)

মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো উপাস্যও নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক উপাস্য নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা আরোপ করে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র! তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তারা যা শরিক করে তিনি তা থেকে ঊর্ধ্বে।} [মুমিনুন: ৯১-৯২]।

এই আয়াত সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, তবে কিছু বিষয় বাকি রয়ে গেছে: তাহলো কালামশাস্ত্রবিদগণ এই আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, এটি 'তামানু' (পারস্পরিক প্রতিরোধ) এর দলিল। তামানু' সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং মালিকানার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তারা একে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার অস্তিত্বের দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটি একটি সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলিল, যদিও জ্ঞানী ও আলিমগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না। তবে এটি একটি অকাট্য দলিল। এ বিষয়ে তাঁদের সমালোচনা করা হয়েছে; কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলছেন: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো উপাস্যও নেই} [মুমিনুন: ৯১]। এটি তাঁর পূর্ণতার অংশ; কারণ তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং তাঁর ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। তদুপরি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর সমনামধারীও কেউ নেই। সন্তান গ্রহণ করা হয় প্রয়োজনের তাগিদে, অথচ আল্লাহ অভাবমুক্ত, তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। তিনি জাল্লা ওয়া আলা হলেন 'সামাদ'। সামাদ হলেন তিনি, যাঁর নিকট সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে ধাবিত হয়; কারণ তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ আর অন্য সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী। তেমনিভাবে সালাফগণ বলেন: সামাদ হলেন তিনি, যাঁর কোনো অভ্যন্তরীণ গহ্বর নেই। কেউ কেউ বলেন: সামাদ হলেন তিনি, যাঁর থেকে কোনো কিছু বের হয় না এবং যাঁর ভেতর কোনো কিছু প্রবেশ করে না। একটি কিরাআত অনুযায়ী এসেছে যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আহার করান কিন্তু নিজে আহার গ্রহণ করেন না। সুতরাং তিনি জাল্লা ওয়া আলা কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন। তিনি আহার, নিদ্রা এবং সন্তানের মতো অন্যান্য প্রয়োজন ও সাদৃশ্য থেকে পবিত্র।

আর তাঁর বাণী: {এবং তাঁর সাথে কোনো উপাস্যও নেই} [মুমিনুন: ৯১], এটি উপাস্যত্ব (উলুহিয়াত) এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে। আর তামানু' হলো সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং মালিকানার ক্ষেত্রে। তামানু'-এর দলিল হলো তাঁদের বক্তব্য: এই মহাবিশ্বে যা দেখা যায় তা এক সুশৃঙ্খল নিয়ম ও অভিন্ন ধারায় পরিচালিত, এতে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই। বুদ্ধিগতভাবে এটি সুনিশ্চিত যে, যদি এই মহাবিশ্বের একাধিক স্রষ্টা থাকতেন, তবে এই সামঞ্জস্য ও ঐক্য সম্ভব হতো না। কারণ বুদ্ধিগতভাবে বিষয়টি তিনটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না: প্রথম সম্ভাবনা: যদি পরিচালনা ও মালিকানায় একাধিক সত্তা থাকত, তবে অবশ্যই একজন অন্যজনের ওপর আধিপত্য বিস্তার করত। এমতাবস্থায় আধিপত্য বিস্তারকারীই হতেন সেই ইলাহ যাকে স্রষ্টা ও মালিক হতে হতো। যদি তা-ই হয়, তবে তাঁর কোনো শরিক থাকার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা: প্রত্যেকেই অপরজনের ওপর আধিপত্য বিস্তারে অক্ষম হওয়া। যদি এমনটি ঘটে, তবে অবশ্যই প্রত্যেককে তার সৃষ্টি ও পরিচালনা নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে হতো, যেমনটি দুনিয়ার রাজাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেননা কোনো রাজা যদি অন্য রাজার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, তবে সে তার নিজ রাজত্ব নিয়ে আলাদা হয়ে যায় এবং তার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারিত থাকে; কারণ সে অন্যকে পরাভূত করতে অক্ষম। যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে সৃষ্টিজগতের মাঝে ভিন্নতা ও অসামঞ্জস্য দেখা দিত; কারণ প্রত্যেকেই তার সৃষ্টি, উদ্ভাবন, মালিকানা ও পরিচালনার মাধ্যমে অন্যজন থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতো। অথচ বাস্তবে এর উল্টোটা দেখা যায়। সুতরাং প্রথম সম্ভাবনার মতো এই সম্ভাবনাটিও বাতিল হয়ে যায়; কারণ দুজন ইলাহ কখনো একমত হওয়া সম্ভব নয়। এটি প্রমাণ করে যে, স্রষ্টা একজনই এবং তিনি হলেন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা। আর এটিই হলো তৃতীয় সম্ভাবনা।

এর উদাহরণ হলো সূর্যের মতো, যা আমরা দেখি পূর্ব দিক থেকে একটি সুশৃঙ্খল নিয়মে উদিত হয় এবং সর্বদা পশ্চিম দিকে যায়। এটি তার কক্ষপথ অতিক্রম করে না। প্রতিদিন তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পথ রয়েছে। এভাবে পুরো তিনশত পঁয়ষট্টি দিন বছরজুড়ে প্রতিদিন তার উদয়স্থল, অস্তাচল ও একটি গতিপথ রয়েছে এবং এর কোনো পরিবর্তন হয় না। এটি একজন ধৈর্যশীল ও পরাক্রমশালী অধিপতির নির্ধারণ, যাঁর সাথে কোনো সাহায্যকারী বা প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।

সুতরাং তামানু'-এর অর্থ হলো: এই সামঞ্জস্য ও শৃঙ্খলা তাঁর কোনো অংশীদার থাকাকে অসম্ভব করে দেয়, তাই একে তামানু' (প্রতিরোধ) বলা হয়। তবে আয়াতটি বাস্তবে উপাস্যত্বের (উলুহিয়াত) ক্ষেত্রে তামানু' বা অসম্ভবতা বুঝিয়েছে। আর তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন তা হলো সৃষ্টি, উদ্ভাবন, মালিকানা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে তামানু'। আয়াতের মূল উদ্দেশ্য হলো: সত্য, উপাস্যত্ব ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে তামানু'। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর বান্দাদের জানাচ্ছেন যে, যদি আসমানসমূহ বা জমিনে তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ থাকত যার ইবাদত করা হতো, তবে আসমান ও জমিন সুস্থিত থাকত না বরং ধ্বংস হয়ে যেত। কারণ একজন পরাধীন ও পরাজিত বান্দাকে বিজয়ী ও পরিচালক রবের অধিকার প্রদান করা অসম্ভব। মানুষ নিজেই হয়তো পছন্দ করে না যে তার মালিকানাধীন দাস তার ধন-সম্পদে এবং তার পরিচালনায় অংশীদার হোক, অথচ সে তার মতোই একজন মানুষ। তাহলে আল্লাহর সাথে কীভাবে এমন কিছু সৃষ্টি শরিক হতে পারে যারা পরাজিত, অপূর্ণাঙ্গ এবং কোনো কিছুর মালিক নয়?! এভাবে কোনো কিছুই ঠিকঠাক চলতে পারে না। এ কারণেই বিভিন্ন আয়াতে এর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোনো মাবুদ থাকা অসম্ভব।

আর তাঁর বাণী: {তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত} [আন'আম: ৭৩] প্রসঙ্গে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, গায়িব (অদৃশ্য) দুই প্রকার: নিরঙ্কুশ গায়িব এবং আপেক্ষিক গায়িব।

নিরঙ্কুশ গায়িব হলো সেটি, যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ব্যতীত আর কেউ জানে না। যেমন কিয়ামতের জ্ঞান, মানুষ জানে না সে কখন মারা যাবে? কোন সময়ে মারা যাবে? কোন দেশে মারা যাবে? কখন বৃষ্টি বর্ষিত হবে? জরায়ুতে যা আছে তা কি মুমিন হবে না কাফির? সৃষ্টিগতভাবে পূর্ণাঙ্গ হবে না অপূর্ণাঙ্গ? তার আয়ু কি পূর্ণ হবে না সংক্ষিপ্ত? এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কেবল নিজ জ্ঞানের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।

আর আপেক্ষিক গায়িব হলো সেটি, যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিছু সৃষ্টিকে জানিয়েছেন কিন্তু অন্যদের জানাননি। যাকে তিনি জানিয়েছেন তার জন্য সেটি 'শাহাদাহ' বা দৃশ্যমান, আর যার নিকট তা গোপন রয়েছে তার জন্য সেটি 'গায়িব' বা অদৃশ্য। গায়িব এই দুই প্রকারের বাইরে নয় এবং এর অধিকাংশ বিষয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন।

আল্লাহ তাঁর কিছু বান্দাকে যা অবগত করেন; তা মূলত তাদের সত্যবাদিতার নিদর্শন হিসেবে এবং আল্লাহ যে তাদের পাঠিয়েছেন তার প্রমাণস্বরূপ। যেমন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নবীর ক্ষেত্রে বলেছেন: {তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত, সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর সম্মুখে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন} [জিন: ২৭]। অর্থাৎ এমন কিছু বিষয় থাকে যা তিনি সংবাদ দেন যা তাঁর সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয় এবং তা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে আগত, এতে সৃষ্টির কোনো হাত নেই। এটি নবীর জন্য একটি নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়। যেমন ঈসা আলাইহিস সালাম মানুষকে বলতেন তারা কী আহার করে এবং তাদের ঘরে কী জমা করে রাখে। তিনি তাদের ঘরের ভেতরের বিষয় এবং তারা যা খেয়েছে সে সম্পর্কে সংবাদ দিতেন। এটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে তাঁকে প্রদানকৃত শিক্ষা ছিল যাতে তা তাঁর সত্যবাদিতার ওপর একটি নিদর্শন বা মুজিজা হয়।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌قوله تعالى: (فلا تضربوا لله الأمثال)

وقوله: {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل:74] .

الأمثال: هي الأقيسة العقلية، والأقيسة لا تصح إلا بين المتماثلين أو المتقاربين على أقل تقدير، أما بين المخلوق والخالق فلا يصح ذلك؛ لأن الله جل وعلا ليس كمثله شيء، ولأنه لا سمي له ولا ند له ولا مثيل له، ولهذا قال: {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل:74] ، فالأمثال: هي القياس، ولا يجوز أن تضرب لله جل وعلا الأقيسة لا قياس الشمول ولا قياس التمثيل.

فقياس الشمول: هو الذي يتكلم به المتكلمون، ويكثر في كلام المناطقة وأهل الكلام.

أما التمثيل: فهو قياس معروف في أصول الفقه: إلحاق فرع بأصل في الحكم، لعلة تجمع بينهما، وهذا لا يجوز أن يستعمل في حق الله جل وعلا، وكذا قياس الشمول الذي تستعمل فيه أداة الشمول والعموم كما يستعمله المتكلمون، فهذا باطل بنص قول الله جل وعلا: {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الأَمْثَالَ} [النحل:74] ، وضرب الأمثال يكون للجاهل الذي لا يعرف ربه جل وعلا، فيضرب له المثل تعالى الله وتقدس؛ لأن المثل يجعله متعارفاً عليه بين المخلوقين، وهذا لا يجوز بحال، والسبب في هذا: أن الله جل وعلا لا مثل له في ذاته، فذاته جل وتقدس لا تشبه شيئاً من ذوات الخلق، وهذا أمر متفق عليه بين جميع الفرق من أهل الإسلام، لا يخالفون في هذا حتى الجهمية يقرون بهذا ويؤمنون به، وهذا أمر متفق عليه، فمن المعلوم أن الصفات تبع للذات، يحتذى فيها حذوها، فمن كان في ذاته لا مثل له يجب أن يكون في صفاته لا مثل له، فكما أنه في ذاته لا مثيل له فهو كذلك في صفاته لا مثيل له.

ومن هنا نهي عن ضرب الأمثال، ولكن استثني في مثل قياس الأولى: وقد اختلف في المراد به، ما المراد بمثل قياس الأولى؟ فمثل الأولى -الذي اشتهر عن السلف- أن الكمال الذي يتصف به المخلوق، ولا يكون فيه نقص بوجه من الوجوه، وأمكن أن يتصف به الخالق فاتصاف الخالق جل وعلا به أولى؛ لأنه تعالى هو الواهب للكمال، ولا يمكن أن يكون واهب الكمال معدوماً.

ومن الأمثلة على هذا: أن الله جل وعلا قد عاب على المشركين كونهم يعبدون من لا ينطق ولا يسمع، يعني: لا يرد الجواب، ولا يسمع الخطاب، ولا ينفع ولا يضر، فدل هذا على أن الكلام كمال، والسمع كمال، والنفع كمال، والضر بمن يستحقه كمال، فيكون الرب جل وعلا موصوفاً بذلك، فهذا يدلنا على أن مثل الأولى لا يثبت به الشيء لاستقلاله، وإنما يقال عند المجادلة وعند إقرار الحق لمن ينكره ويخاصم به، فإن هذا يلزمه، فالكلام -مثلاً- الذي ينفيه عن الرب جل وعلا ويزعم -كما سيأتي- أنه نقص أو أن فيه تشبيه، يقال -باتفاق العقلاء: إن المتكلم أكمل ممن لا يستطيع الكلام، والكمال في المخلوق ليس الكمال الذي يكسبه المخلوق بنفسه، وليس الذي يكسبه إياه مخلوق آخر مثله، فلابد أن يكون الذي أكسبه هذا الكمال هو الخالق جل وعلا، فكيف يعطي الخالق العبد هذا الكمال وهو عار منه؟! هذا لا يجوز أن يكون ولا يصح حتى في العاقل فكيف بالخالق؟! ثم هذا في الأصل، ولا يلزم المماثلة في أن كلام الرب جل وعلا ككلام المخلوق، ولكنه يماثله في الأصل الذي هو أصل الكلام، وكونه يتكلم كلاماً يصدر منه ويسمع، وإلا فكلام الله لا يشبه كلام المخلوقين، ولهذا جاء في الحديث الذي رواه البخاري في الصحيح معلقاً، ورواه في خلق أفعال العباد مسنداً من حديث أنيس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إن الله ينادي يوم القيامة بصوت يسمعه من بعد كما يسمعه من قرب) ، وصوت المخلوق لا يكون كذلك، وإنما يسمع من البعد بواسطة المكبرات والآلات، أما الرب جل وعلا فهو بخلاف ذلك، ولهذا ترجم البخاري على هذا وقال: باب: أن الله يتكلم وأن كلامه لا يشبه كلام المخلوق.

فدل بهذه الترجمة على أنه غير مشبه له، وهذا هو قول الأئمة وهو الحق.
মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা আল্লাহর জন্য উদাহরণ পেশ করো না)

এবং তাঁর বাণী: "তোমরা আল্লাহর জন্য উদাহরণ পেশ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।" [নাহল: ৭৪]।

'আল-আমসাল' (উদাহরণসমূহ) হলো আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক তুলনা (কিয়াস)। আর তুলনা কেবল সমজাতীয় বা অন্তত কাছাকাছি থাকা দুটি বিষয়ের মধ্যেই সঠিক হতে পারে। কিন্তু সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝে তা সঠিক নয়; কারণ মহান আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই। তাঁর কোনো সমনাম নেই, কোনো প্রতিপক্ষ নেই এবং তাঁর কোনো তুলনা নেই। এজন্যই তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর জন্য উদাহরণ পেশ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।" [নাহল: ৭৪]। অতএব 'আমসাল' হলো কিয়াস বা তুলনা। আর মহান আল্লাহর জন্য কোনো প্রকার কিয়াস পেশ করা বৈধ নয়—চাই তা 'কিয়াসুশ শুমুল' (সার্বিক তুলনা) হোক বা 'কিয়াসুত তামসিল' (সাদৃশ্যপূর্ণ তুলনা)।

'কিয়াসুশ শুমুল' (সার্বিক তুলনা) হলো সেটি যা সম্পর্কে মুতাকাল্লিমগণ (কালামশাস্ত্রবিদ) কথা বলেন এবং এটি যুক্তিবিদ ও কালামশাস্ত্রবিদদের কথায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।

পক্ষান্তরে 'তামসিল' বা সাদৃশ্যপূর্ণ তুলনা হলো উসুলুল ফিকহের একটি সুপরিচিত কিয়াস: কোনো অভিন্ন কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে একটি শাখাকে (ফর') আসলের (মূল) বিধানের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা জায়েজ নয়। একইভাবে 'কিয়াসুশ শুমুল'ও, যাতে সার্বিকতা ও ব্যাপকতা প্রকাশক শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং মুতাকাল্লিমগণ যা ব্যবহার করেন—তাও মহান আল্লাহর এই স্পষ্ট বাণীর কারণে বাতিল: "তোমরা আল্লাহর জন্য উদাহরণ পেশ করো না।" [নাহল: ৭৪]। আর উদাহরণ পেশ করা হয় এমন অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য যে তার মহান রবকে চেনে না, তাই তাঁর জন্য উদাহরণ টানা হয়—আল্লাহ তাআলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। কারণ উদাহরণ বিষয়টি বিষয়টিকে সৃষ্টিজীবের মাঝে পরিচিত বিষয়গুলোর মতো বানিয়ে দেয়, যা কোনোভাবেই বৈধ নয়। এর কারণ হলো: মহান আল্লাহর সত্তায় তাঁর কোনো উপমা নেই। তাঁর সত্তা মাখলুক বা সৃষ্টির সত্তার কোনো কিছুর সাথে সাদৃশ্য রাখে না। এটি এমন একটি বিষয় যা ইসলামের সকল দলের মধ্যে ঐকমত্যপূর্ণ। এমনকি জাহমিয়্যারাও এটি স্বীকার করে এবং বিশ্বাস করে। এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়। আর এটি সবার জানা যে, গুণাবলী সত্তার অনুগামী হয় এবং সত্তার পথই অনুসরণ করে। সুতরাং যাঁর সত্তায় কোনো উপমা নেই, তাঁর গুণাবলীতেও কোনো উপমা থাকা অসম্ভব। অতএব, তিনি যেমন তাঁর সত্তায় অতুলনীয়, তেমনি তাঁর গুণাবলীতেও অতুলনীয়।

এই কারণেই উদাহরণ পেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে 'কিয়াসুল আওলা'কে (শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা) এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। 'মাসালুল আওলা' বা 'কিয়াসুল আওলা' বলতে কী বোঝায়? সালফে সালেহীনদের নিকট যা প্রসিদ্ধ তা হলো: যে পূর্ণতা দ্বারা কোনো সৃষ্টি গুণান্বিত হয় এবং যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো অপূর্ণতা বা ত্রুটি নেই, আর সেই গুণ দ্বারা স্রষ্টাকে গুণান্বিত করা সম্ভব—তবে মহান আল্লাহ সেই গুণে গুণান্বিত হওয়ার অধিকতর যোগ্য (আওলা)। কারণ তিনি তাআলাই হলেন সেই পূর্ণতা দানকারী। আর পূর্ণতা দানকারী নিজে সেই গুণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না।

এর একটি উদাহরণ হলো: মহান আল্লাহ মুশরিকদের নিন্দা করেছেন এ কারণে যে, তারা এমন সত্তার ইবাদত করে যে কথা বলতে পারে না এবং শুনতেও পায় না; অর্থাৎ সে জবাব দেয় না, ডাক শোনে না এবং কোনো উপকার বা অপকারও করতে পারে না। এটি প্রমাণ করে যে কথা বলা একটি পূর্ণতা, শোনা একটি পূর্ণতা, উপকার করা একটি পূর্ণতা এবং যার প্রাপ্য তাকে শাস্তি বা অপকার করাও একটি পূর্ণতা। সুতরাং মহান রব এসব গুণেই গুণান্বিত। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, 'মাসালুল আওলা'র মাধ্যমে কোনো কিছু স্বতন্ত্রভাবে সাব্যস্ত হয় না, বরং এটি বিতর্ক এবং সত্য অস্বীকারকারী বা বিবাদকারীর সামনে সত্য প্রতিষ্ঠার সময় বলা হয়, যাতে বিষয়টি তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, 'কালাম' বা কথা বলার গুণ যা মহান রব থেকে অস্বীকার করা হয় এবং দাবি করা হয় যে—যেমনটি সামনে আসবে—এটি একটি ত্রুটি কিংবা এতে সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এর উত্তরে সকল বুদ্ধিমানের ঐকমত্যে বলা হয়: যে কথা বলতে পারে সে কথা বলতে অক্ষম ব্যক্তির চেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ। আর সৃষ্টির মধ্যে যে পূর্ণতা রয়েছে তা সৃষ্টি নিজে অর্জন করেনি, কিংবা তার মতো অন্য কোনো সৃষ্টিও তাকে তা দেয়নি। বরং অবশ্যই মহান স্রষ্টাই তাকে এই পূর্ণতা দান করেছেন। সুতরাং স্রষ্টা কীভাবে বান্দাকে এমন একটি পূর্ণতা দান করবেন যা তাঁর নিজের মধ্যে নেই?! এটি কোনো বুদ্ধিমানের ক্ষেত্রেও যেমন সম্ভব বা সঠিক নয়, তেমনি স্রষ্টার ক্ষেত্রে তো অসম্ভব। তাছাড়া এটি মূল বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে এর দ্বারা মহান রবের কথা সৃষ্টির কথার মতো হওয়া আবশ্যক নয়। বরং তা কেবল কথার মূল হাকিকত বা বাস্তুবিকতার দিক থেকে একই রকম যে, তিনি কথা বলেন যা তাঁর পক্ষ থেকে নির্গত হয় এবং যা শোনা যায়। অন্যথায় আল্লাহর কথা সৃষ্টিজীবের কথার সদৃশ নয়। এই কারণেই ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে 'মুআল্লাক' হিসেবে এবং 'খালকু আফআলিল ইবাদ' গ্রন্থে সুনিশ্চিত সনদে আনাস থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন এমন এক আওয়াজে ডাকবেন যা দূরের লোকও তেমনি শুনতে পাবে যেমন কাছের লোক শুনতে পায়।" আর সৃষ্টির আওয়াজ এমন হয় না; বরং দূরের আওয়াজ কেবল লাউডস্পিকার বা যন্ত্রপাতির সাহায্যেই শোনা যায়। কিন্তু মহান রবের বিষয়টি এর বিপরীত। এজন্যই বুখারী এ বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং বলেছেন: "অনুচ্ছেদ: নিশ্চয়ই আল্লাহ কথা বলেন এবং তাঁর কথা সৃষ্টির কথার সদৃশ নয়।"

এই শিরোনামের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহর কথা সৃষ্টির কথার সদৃশ নয়। এটিই ইমামগণের অভিমত এবং এটিই সত্য।
(খণ্ড: ২) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌قوله تعالى: (قل إنما حرم ربي الفواحش ما ظهر منها وما بطن)

وقوله: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّي الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [الأعراف:33] .

أولاً: مقصود المؤلف بهذا الآية: أن القول في الصفات بلا علم من أعظم المحرمات، وأن الله حرم هذا، فلا يجوز للإنسان أن يتكلم في صفة من صفات الله أو في اسم من أسمائه وليس عنده في ذلك برهان، فإن ارتكب ذلك فقد وقع فيما هو أعظم من الشرك، هذا مراده من إيراد الآية.

والآية فيها أمور كثيرة: فقوله: ((قُلْ)) هذا أمر للرسول صلى الله عليه وسلم أن يقول، وقد استدل العلماء بهذا على أن القرآن كلام الله، ووجه ذلك: أن الرسول صلى الله عليه وسلم ليس له في هذا دخل إلا البلاغ، فقيل له: ((قُلْ)) فقال كما قيل له، فأدى الذي جاءه به جبريل، لم ينقص منه حرفاً واحداً؛ لأن هذا أمر موجه إليه، قال الله جل وعلا له: ((قُلْ)) فقال كما قال الله له، لم ينقص حرفاً واحداً، مع أن هذا في الظاهر خاص به، ولو قال مثلاً: (إنما حرم ربي الفواحش) وترك كلمة ((قُلْ)) يكون قد أدى ما أمر به، ولكنه لم يترك حرفاً من قول الله جل وعلا، فقال كما قيل له، ولهذا لما سئل عن ذلك، قال: (قيل لي: ((قُلْ)) فقلت كما قيل لي) ، وهذا دليل واضح على أن الرسول صلى الله عليه وسلم أدى كل ما سمعه من جبريل تاماً بلا نقص، ولهذا اتفق العلماء على أن ما بين دفتي المصحف كله كلام الله، لا يجوز أن ينقص منه حرف ولا يزاد عليه حرف، فمن فعل ذلك لا يكون مسلماً.

وقوله: ((إِنَّمَا)) : هذه أداة حصر كما هو معروف، يعني أنها تحصر المحرمات فيما ذكر، وتخرج التحريم عما عدى ذلك، ولا يكون هذا دليلاً على أن المحرمات محصورة فيما ذكر؛ لأنه إذا جاء دليل آخر فيه زيادة على ذلك فلا يكون ذلك نص على القول الصحيح، بل يكون زيادة أمر وتشريع آخر، كما هو معروف.

((قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّي)) : والتحريم في اللغة: هو المنع والحظر ويكون من الله جل وعلا على نوعين: الأول: تحريم قدري كقوله جل وعلا: {وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لا يَرْجِعُونَ} [الأنبياء:95] ، حرام أي: قدراً وكوناً.

الثاني: تحريم شرعي، كما في هذه الآية، فالتحريم الشرعي هو الذي حرمه على عباده، يعني: هو الأمر الذي يأمر به، فما أمر الله جل وعلا به ونهى عنه عباده فهو محرم.

أما في الاصطلاح فالمحرم: هو ما أثيب تاركه وعوقب فاعله، وهذا في اصطلاح الفقهاء، أما مجرد الترك بدون أن يكون تركه لله فلا يثاب عليه؛ لأنه قد يكون عاجزاً عن فعله، وقد يكون غير متمكن، وقد يكون لا يريده، فلا يكون بذلك مثاباً على الترك حتى يتركه لله جل وعلا، امتثالاً لنهي الله جل وعلا.

((قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّي الْفَوَاحِشَ)) الفواحش: هو كل ذنب كبر في نفسه، وفحش في نظر وفطر الناس الذين لم تتغير فطرهم، وإلا فالإنسان قد يكون أسوأ من البهيمة وأخبث منها، فتصبح الفاحشة عنده ليست فاحشة، بل هي مستساغة، وكما يقع لأهل الانحلال من الأمور القبيحة حتى الانحلال من الأخلاق، فيصبح الإنسان بهيمة، كما قال الله جل وعلا: {لَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ * ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ} [التين:4-5] ، فرده أسفل سافلين نهايته جهنم، ولكنه في الدنيا يكون أسفل من الحيوان وأحط منه، ويكون الحيوان أرفع منه وأحسن، وهذا من الرد إلى الأسفل، فالفواحش: هي ما فحش في نفسه بأن كبر وعظم، وكذلك فحش في فطر ذوي الفطر السليمة وأذواقهم، وكذلك في شرع الله جل وعلا وأمره، فعلى هذا يشمل جميع المحرمات المعظمة، وبعضهم يطلقه على ما فيه شهوة وليس لازماً.

وقوله: ((مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ)) ، فسر أن ما ظهر: ما أعلن ورئي وصار مكشوفاً يراه الناس، وما بطن: ما أسره الإنسان وفعله في الخفية فكله محرم، ويقول المفسرون: السبب في هذا أن المشركين كان عندهم في فطرهم وأذواقهم أن الزنا يكون فاحشة إذا كان ظاهراً، أما إذا كان في السر فليس فاحشة، ولا يلام الإنسان عندهم عليه! فلهذا قال: ((مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ)) ، هذا على قول.

وقيل: ((مَا ظَهَرَ مِنْهَا)) : ما فعل بالجوارح بالأيدي والأبصار والأسماع، يعني: نظر إليه بالبصر أو استمع إليه بالأذن كالغناء والمزامير وما أشبه ذلك، وكذلك ما يتناول باليد أو مشي إليه بالرجل، يعني: ما فعل بالجوارح، هذا في قوله ما ظهر، وقوله: ((وَمَا بَطَنَ)) أي: ما انطوى عليه القلب من النيات والمقاصد، فإن النيات قد تكون الذنوب فيها أعظم من الذنوب في الجوارح.

والصواب: أنه يشمل هذا وهذا، وكله داخل في معنى الآية، ما ظهر وما بطن: يشمل السر والعلن، ويشمل ما فعل بالجوارح والنيات والمقاصد، وانطوت عليه القلوب.

قوله: ((وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ)) : الإثم والبغي: مقترنات وأحدهما يدخل فيه الآخر، فإذا جاءا مقترنين تداخل المعنى وصار قريباً بعضه من بعض، ولهذا قال جل وعلا في الآية الأخرى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} [المائدة:2] .

أما من ناحية المعنى كإفراده فالإثم: كل ما يحصل به ذنب يترتب عليه عقاب، فكل ما حصل عليه عقاب فهو الإثم، أما البغي: فهو ما حصل فيه تجاوز وتعدي، فيكون أخص من الإثم، ولهذا لما ذكر جل وعلا حل الميتة للمضطر قيده بذلك؛ لأنه غير متعدٍ أي: لا يتعدى الشيء الذي يسد رمقه ويقوم بحياته، فإن تعدى ذلك فقد ارتكب المحرم.

وكذلك البغي يكون في حق الله، ويكون في حق الإنسان، ففي حق الإنسان يلزم منه الظلم؛ لأنه قد يكون باليد، وقد يكون باللسان، وقد يكون أيضاً بالفعل الذي لا يكون لا باليد ولا باللسان، وكله ظلم وتعدٍ؛ لأنه تعدى الشرع، فكل ما كان فعلاً وتعدي به المشروع فهو من التعدي ومن البغي، وقد فسر بعض العلماء الإثم بذنب خاص وهو شرب الخمر، فهي تسمى إثماً، كما جاء في بيت الشعر: شربت الإثم حتى ضل عقلي كذاك الإثم تضل به بالعقول الإثم: يعني: الخمر، والصواب أنها ليست هي المقصورة بالإثم، ولكنها داخلة فيه، فهي أم الخبائث، وهي داخلة في الإثم؛ لأنها تدعو إلى الإثم وتجر إليه كما هو واضح.

وقوله: ((بِغَيْرِ الْحَقِّ)) : قيد للتعدي، أما إذا حصل التعدي الذي فيه تجاوز الحق الذي يكون للمخلوق على الآخر، فإن هذا قد يكون بحق؛ لأنه ظلم، واستحق أن يتجاوز، وهذا من باب المقابلة فقط، وفي الشرع لا يعد بغياً، لهذا قيده بقوله: ((بِغَيْرِ الْحَقِّ)) .

السلطان: المقصود به: الحجة والبرهان والدليل، والحجة والبرهان والدليل ألفاظ مترادفة، بعضها يقوم مقام الآخر.

والسلطان يستعمل في استعمالات ثلاثة: الأول: أنه يأتي بمعنى الحجة كما في هذه الآية.

الثاني: أنه يأتي بمعنى السيطرة، كقوله جل وعلا في إبليس أنه ما كان له على المؤمنين من سلطان: {إِنَّمَا سُلْطَانُهُ عَلَى الَّذِينَ يَتَوَلَّوْنَهُ} [النحل:100] ، فليس له على المؤمنين سلطان، يعني: ليس له سيطرة عليهم، وليس له قوة ولا قهر، وإنما سلطانه وقهره على الذين يتولونه بأن يطيعوه ويتركوا أمر الله جل وعلا.

الاستعمال الثالث: بمعنى: الملك، لهذا خص الله جل وعلا نفسه بذلك، فهو ذو السلطان القديم جل وعلا، فله الملك التام والسلطان الكامل.

وقوله: {وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً} [الأعراف:33] : يقول العلماء في هذه الآية: إنها تخرج مخرج الغالب، وإلا لا يوجد شرك أنزل الله جل وعلا به سلطاناً أصلاً، فكل الشرك لم ينزل الله جل وعلا به سلطاناً، فهذا القيد غير مراد، فكل شرك محرم، ولم ينزل به الله جل وعلا سلطاناً.

والشرك أنواع، وقد علم أنه قسمان: أكبر وأصغر، أما تقسيمه إلى ثلاثة أقسام، فالثالث لا يخلو أن يكون داخلاً في الأكبر أو الأصغر الذي هو الخفي.

والخفي: إما أن يكون أصغر، وإما أن يكون أكبر، فلا يكون التقسيم خارجاً عن القسمين.

والأكبر: هو أن يجعل شيئاً مما هو من خصائص الله ومن حقه للمخلوق، فكل حق أوجبه الله جل وعلا على عباده إذا صرف منه شيء للمخلوق فقد وقع ذلك الصارف في الشرك الأكبر.

أما الأصغر فحده بالنصوص، فما جاء في النص: أنه سمي شركاً أصغر فهو الشرك الأصغر، وإلا لا ضابط له، أما كونه يضبط: بأنه كل وسيلة توصل إلى الشرك الأكبر فليس بصحيح، ولهذا يحده كثير من العلماء بالأمثلة، فيقولون: كيسير الرياء، وكقول الرجل: ما شاء الله وشئت، ولولا الله وأنت، ولولا الله وفلان، والحلف بغير الله، وهذا ليس مطلقاً؛ لأن هذه الأشياء قد تكون شركاً أكبر حسب ما يقوم في نفس الإنسان.

ويفارق الشرك الأصغر الشرك الأكبر بأمور: الأول: أنه لا يخرج من الدين الإسلامي بالاتفاق.

الثاني: أن الشرك الأصغر على القول الصحيح داخل تحت المشيئة، يعني: كسائر الذنوب يغفره إذا شاء، هذا على القول الصحيح.

الثالث: أن المشرك شركاً أصغر إذا مات لا يكون حكمه حكم المشرك شركاً أكبر بأن يكون خالداً في النار، بل قد يعذب وقد لا يعذب، ثم يكون مآله الجنة، وهناك فروق أخرى معروفة ظاهرة.

والشرك الأكبر أقسام كما هو معلوم؛ لأنه قد يتعلق بذات الله، وقد يتعلق بصفات الله، وقد يتعلق بحقوقه، ولكن المشهور المعروف ما يتعلق بحقوقه، وقد جاء في القرآن تقسيمه إلى أربعة أقسام: الأول: شرك الدعوة، الثاني: شرك الطاعة، الثالث: شرك الدعاء، الرابع: شرك المحبة، وكلها مذكورة في آيات معروفة مشهورة، في كتاب الله جل وعلا والتفصيل ليس هذا محله.

وقوله: {وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [الأعراف:33] ، يعني: وحرم عليكم أن تقولوا عليه ما لا تعلمون، وهذا هو الشاهد من الآية وهو المراد من إيرادها.

فالكلام في صفات الله أو في أسمائه بلا دليل شرعي ج
আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমার রব কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন হোক)

এবং তাঁর বাণী: {বলুন, আমার রব কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন—যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন, আর হারাম করেছেন পাপাচার ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন, আর আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} [আল-আ’রাফ: ৩৩]।

প্রথমত: এই আয়াতের মাধ্যমে লেখকের উদ্দেশ্য হলো: জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে কথা বলা অন্যতম বড় হারাম কাজ। আল্লাহ এটি হারাম করেছেন, তাই কোনো মানুষের জন্য আল্লাহর কোনো গুণ বা নামের ব্যাপারে কোনো প্রমাণ ছাড়া কথা বলা বৈধ নয়। যদি কেউ তা করে, তবে সে শিরকের চেয়েও বড় পাপে লিপ্ত হলো; আয়াতটি উল্লেখ করার পেছনে এটাই তাঁর উদ্দেশ্য।

আয়াতে অনেকগুলো বিষয় রয়েছে: তাঁর বাণী: ((বলুন)) এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলার জন্য একটি আদেশ। উলামাগণ এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন যে কুরআন আল্লাহর কালাম। এর কারণ হলো: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এতে পৌঁছানো (তাবলিগ) ছাড়া কোনো ভূমিকা নেই। তাঁকে বলা হয়েছে: ((বলুন)), তাই তিনি সেভাবেই বলেছেন যেভাবে তাঁকে বলা হয়েছিল। জিবরাইল যা নিয়ে এসেছেন তিনি তা পৌঁছে দিয়েছেন, একটি অক্ষরও হ্রাস করেননি; কারণ এটি তাঁর প্রতি নির্দেশিত একটি আদেশ। আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁকে বলেছেন: ((বলুন)), তাই তিনি ঠিক সেভাবেই বলেছেন যেভাবে আল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন, একটি অক্ষরও কম করেননি। অথচ বাহ্যত এটি তাঁর সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিল। তিনি যদি উদাহরণস্বরূপ বলতেন: (আমার রব কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন) এবং ((বলুন)) শব্দটি বাদ দিতেন, তবে তিনি যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা পালন করা হতো। কিন্তু তিনি আল্লাহর বাণীর কোনো একটি অক্ষরও বাদ দেননি, বরং যেভাবে তাঁকে বলা হয়েছিল সেভাবেই বলেছেন। এই কারণেই যখন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: (আমাকে বলা হয়েছে: ((বলুন)), তাই আমি সেভাবেই বলেছি যেভাবে আমাকে বলা হয়েছে)। এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইলের কাছ থেকে যা কিছু শুনেছেন তা কোনো কমতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। এজন্যই উলামাগণ একমত যে মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর কালাম, এখান থেকে কোনো অক্ষর কমানো বা এতে কোনো অক্ষর বাড়ানো বৈধ নয়। যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে মুসলিম থাকবে না।

তাঁর বাণী: ((কেবল/মাত্র)) : এটি একটি সীমাবদ্ধকারী শব্দ (আদাতুল হাসর) যেমনটি সুবিদিত। অর্থাৎ এটি হারাম বস্তুসমূহকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে এবং এ ছাড়া অন্য বিষয় থেকে হারামের বিধানকে বাদ দেয়। তবে এটি এই কথার দলিল নয় যে হারাম বিষয়গুলো কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ; কারণ যদি অন্য কোনো দলিল আসে যাতে এর অতিরিক্ত কিছু থাকে, তবে সঠিক মতানুযায়ী এটি কোনো স্ববিরোধিতা হবে না, বরং তা হবে অতিরিক্ত বিষয় এবং অন্য একটি বিধানের বর্ণনা, যেমনটি পরিচিত।

((বলুন, আমার রব কেবল হারাম করেছেন)) : আভিধানিক অর্থে তাহরিম (হারাম করা) হলো: নিষেধ করা ও বাধা প্রদান করা। আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে এটি দুই প্রকার: প্রথমত: তাকদিরি বা প্রাকৃতিক হারাম, যেমন আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার বাণী: {আর যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার অধিবাসীদের ফিরে আসা হারাম} [আল-আম্বিয়া: ৯৫], এখানে হারাম অর্থ: তাকদিরি ও সৃষ্টিগতভাবে।

দ্বিতীয়ত: শরয়ি বা বিধানগত হারাম, যেমনটি এই আয়াতে রয়েছে। শরয়ি হারাম হলো যা তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর নিষিদ্ধ করেছেন, অর্থাৎ: এটি সেই বিষয় যা তিনি আদেশ করেন; সুতরাং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা যা কিছু তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন (করতে বারণ করেছেন) তা হারাম।

পারিভাষিক অর্থে 'হারাম' হলো: যা বর্জনকারী সওয়াব পায় এবং সম্পাদনকারী শাস্তি পায়। এটি ফকিহদের পরিভাষা। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল বর্জন করলেই সওয়াব পাওয়া যাবে না; কারণ হতে পারে সে কাজটি করতে অক্ষম ছিল, অথবা সুযোগ পায়নি, অথবা তার ইচ্ছা ছিল না। সুতরাং আল্লাহর জন্য বর্জন না করা পর্যন্ত সে বর্জনের ওপর সওয়াব পাবে না, অর্থাৎ আল্লাহর নিষেধ পালনার্থে তা ছাড়তে হবে।

((বলুন, আমার রব কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন)) : ফাওয়াহিশ (অশ্লীল কাজসমূহ) হলো প্রতিটি এমন গুনাহ যা নিজে বড় এবং মানুষের দৃষ্টি ও ফিতরাতের (স্বভাবের) কাছে জঘন্য, যাদের ফিতরাত পরিবর্তন হয়ে যায়নি। অন্যথায় মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট ও অপবিত্র হতে পারে, তখন তার কাছে অশ্লীলতা আর অশ্লীল মনে হয় না, বরং তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। যেমনটি ঘটে থাকে চারিত্রিক বিচ্যুতিতে লিপ্ত পাপাচারীদের ক্ষেত্রে, এমনকি নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে মানুষ পশুতে পরিণত হয়। যেমন আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা বলেছেন: {অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে * তারপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে} [আত-তীন: ৪-৫]। তাকে নীচ থেকে নীচে ফিরিয়ে দেওয়ার শেষ পরিণতি হলো জাহান্নাম। তবে সে দুনিয়াতেও পশুর চেয়েও অধম ও নিচু হতে পারে এবং পশু তার চেয়ে উচ্চ ও উত্তম হতে পারে। এটিও নিচের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অংশ। সুতরাং ফাওয়াহিশ হলো: যা নিজে বড় ও গুরুতর হওয়ার কারণে জঘন্য, তেমনি তা সুস্থ ফিতরাত ও রুচিবোধসম্পন্ন মানুষের কাছেও জঘন্য, এবং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার শরিয়ত ও আদেশের কাছেও জঘন্য। এই অর্থ অনুযায়ী এটি সমস্ত বড় বড় হারাম কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেউ কেউ একে যৌন কামনাসংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন, তবে তা কেবল সেটির জন্যই আবশ্যক নয়।

তাঁর বাণী: ((যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন)) : 'যা প্রকাশ্য' এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: যা প্রকাশ্যে করা হয়, দেখা যায় এবং উন্মুক্ত যা মানুষ দেখে। আর 'যা গোপন' হলো: যা মানুষ গোপনে করে এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে করে, এর সবই হারাম। মুফাসসিরগণ বলেন: এর কারণ হলো মুশরিকদের ফিতরাত ও রুচিবোধে ব্যভিচার তখনই অশ্লীল কাজ ছিল যখন তা প্রকাশ্যে করা হতো। আর যদি গোপনে করা হতো তবে তা অশ্লীল ছিল না এবং তাদের কাছে মানুষ এজন্য নিন্দিত হতো না! এই কারণেই তিনি বলেছেন: ((যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন)), এটি একটি মত।

আবার বলা হয়েছে: ((যা প্রকাশ্য)) : যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে করা হয়—হাত, চোখ ও কান দিয়ে। অর্থাৎ চোখ দিয়ে দেখা অথবা কান দিয়ে শোনা যেমন গান-বাজনা ও অনুরূপ বিষয়। তেমনি যা হাত দিয়ে ধরা হয় বা পা দিয়ে হেঁটে যাওয়া হয়; অর্থাৎ যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে করা হয় তা প্রকাশ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর তাঁর বাণী: ((যা গোপন)) : অর্থাৎ মনের ভেতরের নিয়ত ও উদ্দেশ্য। কারণ কখনো কখনো নিয়তের গুনাহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুনাহের চেয়েও বড় হতে পারে।

সঠিক কথা হলো: এটি দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং সবই আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত। প্রকাশ্য ও গোপন বলতে—গোপন ও প্রকাশ্য উভয়কেই বোঝায় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ ও মনের নিয়ত ও উদ্দেশ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

তাঁর বাণী: ((আর পাপাচার ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন)) : পাপাচার (ইসম) ও সীমালঙ্ঘন (বাগি) একে অপরের পরিপূরক এবং একটি অন্যটির ভেতর দাখিল হয়। যখন তারা একত্রে আসে তখন অর্থ পরস্পরের সাথে মিশে যায় এবং কাছাকাছি হয়ে যায়। এজন্যই আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা অন্য আয়াতে বলেছেন: {তোমরা পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না} [আল-মায়িদাহ: ২]।

পৃথকভাবে অর্থ করলে 'পাপাচার' হলো: প্রতিটি এমন কাজ যার মাধ্যমে গুনাহ অর্জিত হয় এবং যার ফলে শাস্তি অবধারিত হয়; সুতরাং যার ওপর শাস্তি আসে তাই পাপাচার। আর 'সীমালঙ্ঘন' হলো: যাতে সীমা অতিক্রম ও বাড়াবাড়ি করা হয়, এটি পাপাচারের চেয়েও নির্দিষ্ট। এই কারণেই আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা যখন নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী হালাল করেছেন তখন একে সীমাবদ্ধ করেছেন; কারণ সে সীমালঙ্ঘনকারী নয়। অর্থাৎ সে এমন কিছু অতিক্রম করে না যা তার প্রাণ রক্ষা করে, যদি সে সীমা অতিক্রম করে তবে সে হারামে লিপ্ত হলো।

তেমনিভাবে সীমালঙ্ঘন আল্লাহর হকের ক্ষেত্রেও হতে পারে এবং মানুষের হকের ক্ষেত্রেও হতে পারে। মানুষের হকের ক্ষেত্রে এর দ্বারা জুলুম উদ্দেশ্য; কারণ এটি হাতের মাধ্যমে হতে পারে, জিহ্বার মাধ্যমে হতে পারে, আবার এমন কাজের মাধ্যমেও হতে পারে যা হাত বা জিহ্বা কোনোটির মাধ্যমেই নয়। এর সবই জুলুম ও সীমালঙ্ঘন; কারণ সে শরিয়ত লঙ্ঘন করেছে। সুতরাং যে কোনো কাজ যার মাধ্যমে শরিয়ত অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করা হয় তাই সীমা লঙ্ঘন ও জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো আলেম 'পাপাচার' (ইসম) কে একটি বিশেষ গুনাহ অর্থাৎ মদ্যপানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ একে 'ইসম' বলা হয়। যেমন কাব্যগ্রন্থে এসেছে: "আমি পাপাচার (মদ) পান করেছি যতক্ষণ না আমার বুদ্ধি হারিয়েছে, এভাবেই পাপাচারের মাধ্যমে বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়।" এখানে পাপাচার অর্থ: মদ। তবে সঠিক কথা হলো এটি কেবল মদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তবে মদ এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ মদ সকল অপকর্মের মূল এবং এটি পাপাচারের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি পাপাচারের দিকে আহ্বান করে এবং সেদিকে টেনে নেয় যেমনটি স্পষ্ট।

আর তাঁর বাণী: ((অন্যায়ভাবে)) : এটি সীমালঙ্ঘনের একটি শর্ত। তবে যদি এমন সীমালঙ্ঘন হয় যাতে একজনের ওপর অন্য মাখলুকের পাওনা হকের সীমা অতিক্রম করা হয়, তবে তা ন্যায়ের সাথে হতে পারে; কারণ সে জুলুম করেছে এবং তার ওপর সীমা অতিক্রম করাটা পাওনা ছিল। এটি কেবল প্রতিবাদের অন্তর্ভুক্ত এবং শরিয়তে একে সীমালঙ্ঘন (বাগি) গণ্য করা হয় না। এজন্যই তিনি একে ((অন্যায়ভাবে)) শর্তের সাথে যুক্ত করেছেন।

সুলতান: এর উদ্দেশ্য হলো: প্রমাণ, দলিল ও নিদর্শন। হুজজাত, বুরহান ও দলিল শব্দগুলো সমার্থক, একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয়।

'সুলতান' শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত: এটি প্রমাণের অর্থে আসে যেমনটি এই আয়াতে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এটি আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণের অর্থে আসে, যেমন আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার বাণী ইবলিস সম্পর্কে যে, মুমিনদের ওপর তার কোনো আধিপত্য (সুলতান) নেই: {তার আধিপত্য কেবল তাদের ওপর যারা তাকে অভিভাবক মানে} [আন-নাহল: ১০০]। সুতরাং মুমিনদের ওপর তার কোনো সুলতান নেই অর্থাৎ তাদের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তার কোনো শক্তি বা জবরদস্তি নেই। তার আধিপত্য ও জবরদস্তি কেবল তাদের ওপর যারা তার অনুসরণ করে তাকে মেনে নেয় এবং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার আদেশ ত্যাগ করে।

তৃতীয় ব্যবহার হলো: রাজত্ব বা কর্তৃত্ব অর্থে। এ কারণেই আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা নিজেকে এর সাথে বিশেষিত করেছেন। তিনি অনাদি রাজত্বের অধিকারী জল্লা ওয়া আলা। তাঁর জন্যই পূর্ণ রাজত্ব ও নিরঙ্কুশ আধিপত্য।

এবং তাঁর বাণী: {আর আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি} [আল-আ’রাফ: ৩৩] : আলেমগণ এই আয়াতের ব্যাপারে বলেন: এটি সাধারণ অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় এমন কোনো শিরক নেই যার স্বপক্ষে আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং কোনো শিরকের পক্ষেই আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। এই শর্তটি কাঙ্ক্ষিত নয়, বরং প্রতিটি শিরকই হারাম এবং আল্লাহ এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।

শিরক বিভিন্ন প্রকারের। এটি জানা আছে যে এটি দুই প্রকার: বড় শিরক ও ছোট শিরক। আর তিন প্রকারের যে বিভাজন করা হয়, তাতে তৃতীয় প্রকারটি বড় বা ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত নয়, যাকে গোপন শিরক বলা হয়।

গোপন শিরক হয় ছোট হবে অথবা বড় হবে, সুতরাং বিভাজনটি এই দুই প্রকারের বাইরে নয়।

বড় শিরক হলো: আল্লাহর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা তাঁর কোনো হক সৃষ্টিকে প্রদান করা। সুতরাং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁর বান্দাদের ওপর যে হক ওয়াজিব করেছেন, তার কোনো অংশ যদি সৃষ্টির জন্য ব্যয় করা হয়, তবে সেই ব্যক্তি বড় শিরকে লিপ্ত হলো।

আর ছোট শিরকের সীমা নির্ধারিত হয় নস (কুরআন-সুন্নাহর বাণী) দ্বারা। নসে যা কিছু ছোট শিরক হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে তাই ছোট শিরক, অন্যথায় এর কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। তবে একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যে—যা কিছু বড় শিরকের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম, তা সঠিক নয়। এজন্য অনেক আলেম উদাহরণের মাধ্যমে এর সীমা নির্ধারণ করেন। যেমন তারা বলেন: সামান্য রিয়া (প্রদর্শনপ্রিয়তা), কোনো লোকের এই কথা বলা যে: 'আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন', 'আল্লাহ এবং আপনি না থাকলে এমন হতো না', 'আল্লাহ এবং অমুক না থাকলে এমন হতো না', এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করা। তবে এগুলো নিরঙ্কুশ নয়; কারণ মানুষের মনের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই বিষয়গুলোও বড় শিরক হতে পারে।

ছোট শিরক বড় শিরক থেকে কয়েকটি বিষয়ে ভিন্ন: প্রথমত: সর্বসম্মতিক্রমে এটি ইসলাম ধর্ম থেকে বের করে দেয় না।

দ্বিতীয়ত: সঠিক মতানুযায়ী ছোট শিরক আল্লাহর ইচ্ছাধীন; অর্থাৎ অন্যান্য গুনাহের মতো তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন। এটিই সঠিক মত।

তৃতীয়ত: ছোট শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি মারা গেলে তার বিধান বড় শিরককারীর মতো নয় যে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। বরং তাকে শাস্তি দেওয়া হতে পারে আবার নাও দেওয়া হতে পারে, অতঃপর তার শেষ ঠিকানা হবে জান্নাত। এছাড়া আরও কিছু সুপরিচিত ও স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

বড় শিরক বিভিন্ন প্রকার যেমনটি জানা আছে; কারণ এটি আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে, আল্লাহর গুণাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে, আবার তাঁর হকের সাথেও সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তবে তাঁর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও পরিচিত। কুরআনে এর চারটি প্রকার বর্ণিত হয়েছে: প্রথমত: দাওয়াতের শিরক (ডাকার ক্ষেত্রে শিরক), দ্বিতীয়ত: আনুগত্যের শিরক, তৃতীয়ত: দোয়ার শিরক, চতুর্থত: ভালোবাসার শিরক। এর সবকটিই আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার কিতাবের সুপরিচিত আয়াতসমূহে উল্লিখিত হয়েছে এবং বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়।

এবং তাঁর বাণী: {এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} [আল-আ’রাফ: ৩৩], অর্থাৎ: তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তাঁর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না। আর এটিই এই আয়াতের মূল বিষয় এবং এটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য।

সুতরাং আল্লাহর গুণাবলি বা তাঁর নামের ব্যাপারে কোনো শরয়ি দলিল ছাড়া কথা বলা...
(খণ্ড: ১) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - الغنيمان   (عبد الله بن محمد الغنيمان)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الواسطية

المؤلف: عبد الله بن محمد الغنيمان

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 31 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহর ব্যাখ্যা - আল-গুনাইমান   (আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-গুনাইমান)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহর ব্যাখ্যা

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-গুনাইমান

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি পাঠ নম্বর হিসেবে গণ্য - ৩১টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৩) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح العقيدة الواسطية [3]

دلت الآيات الكثيرة والأحاديث الصحيحة على إثبات علو الله على خلقه، واستوائه على عرشه، وهاتان صفتان لله تعالى ثابتتان تليقان به سبحانه.

والعرش والكرسي مخلوقان عظيمان خلقهما الله بقدرته، لا يحملانه ولا يقلانه، بل هما وما خلق الله محمولون بقدرته، وخاضعون لجبروته.
শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ [৩]

অসংখ্য আয়াত এবং সহিহ হাদিসসমূহ সৃষ্টির উপরে আল্লাহর উচ্চতা এবং তাঁর আরশের উপরে উঠার বিষয়টিকে সাব্যস্ত করার ব্যাপারে প্রমাণ প্রদান করে। আর এ দুটি হলো মহান আল্লাহর এমন দুটি সুসাব্যস্ত গুণ যা তাঁর সুমহান সত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরশ এবং কুরসি হলো আল্লাহর ক্ষমতা দ্বারা সৃষ্ট দুটি বিশাল সৃষ্টি; তারা আল্লাহকে বহন করে না এবং তাঁকে ধারণও করে না, বরং এই দুটি এবং আল্লাহর অন্যান্য সকল সৃষ্টি তাঁরই ক্ষমতার দ্বারা বাহিত এবং তাঁর প্রতাপের নিকট অনুগত।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الآيات الدالة على استواء الله على عرشه سبحانه وتعالى

يقول المصنف رحمه الله: [وقوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54] في سبعة مواضع: في سورة الأعراف قوله تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54] .

وقال في سورة يونس عليه السلام: {إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [يونس:3] .

وفي سورة الرعد: {اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الرعد:2] .

وفي سورة طه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] .

وقال في سورة الفرقان: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الفرقان:59] .

وفي سورة الم السجدة: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [السجدة:4]] .

وقال في سورة الحديد: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الحديد:4]] .

قوله رحمه الله: (وقوله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5] ، في سبعة مواضع) لم يأت هكذا: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} ، ولكن الاستواء جاء في سبعة مواضع مرتباً على خلق السماوات والأرض، الأول: ما في سورة الأعراف: {إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثاً وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الأعراف:54] .
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার তাঁর আরশের ওপর উঠার প্রমাণবাহী আয়াতসমূহ

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আল-আরাফ: ৫৪] সাতটি স্থানে রয়েছে: সূরা আল-আরাফে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আল-আরাফ: ৫৪]।

এবং তিনি সূরা ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [ইউনুস: ৩]।

এবং সূরা আর-রা'দে: {আল্লাহই আসমানসমূহকে স্তম্ভহীনভাবে উপরে উঠিয়েছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আর-রা'দ: ২]।

এবং সূরা ত্বহা-তে: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫]।

এবং তিনি সূরা আল-ফুরকানে বলেছেন: {অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আল-ফুরকান: ৫৯]।

এবং সূরা আলিফ-লাম-মীম আস-সাজদাহ-তে: {আল্লাহই আসমানসমূহ ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আস-সাজদাহ: ৪]]।

এবং তিনি সূরা আল-হাদীদে বলেছেন: {তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আল-হাদীদ: ৪]]।

তাঁর উক্তি (রহিমাহুল্লাহ): (এবং তাঁর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], সাতটি স্থানে) বিষয়টি হুবহু এভাবে আসেনি: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন}, বরং 'উঠা' (ইস্তিওয়া) বিষয়টি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির বর্ণনার সাথে ধারাবাহিকভাবে সাতটি স্থানে এসেছে। প্রথমটি: যা সূরা আল-আরাফে রয়েছে: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন। তিনি রাতকে দিন দিয়ে ঢেকে দেন, যা দ্রুত একে অন্যকে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। জগতসমূহের রব আল্লাহ বরকতময়} [আল-আরাফ: ৫৪]।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌قوله تعالى: (إن ربكم الله الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام)

فقوله: ((إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ)) : الخلق: هو الإيجاد والإظهار والإبراز على أمر لم يسبق له مثيل، وهذا هو الخلق الحقيقي: وهو إيجاد الشيء من العدم، والله جل وعلا أخبرنا أنه خلق السماوات والأرض في ستة أيام، والظاهر أنها أيام كأيامنا هذه، هذا هو الظاهر، أما الأقوال التي تروى عن بعض المفسرين: أن كل يوم كألف سنة ونحو ذلك فليس لهم فيه دليل، ولكن قد يرد سؤال وهو: إذا كان الله خلق السماوات والأرض قبل وجود الشمس ودورانها، فكيف عرفت هذه الأيام؟ لأن الأيام ما عرفت حتى وجدت الشمس، فصارت تسير مع الأرض في فلكها، وهو شيء مقدر لا يختلف، بل محدد تحديداً دقيقاً في جميع السنة، فكل يوم وليلة أربع وعشرون ساعة لا يزيد ولا ينقص.

وإن كان كما قال الله جل وعلا: ((يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ)) ، أي: يزيد أحدهما على الآخر فينقص الآخر، ولكن لا يعدو الليل والنهار أربعاً وعشرين ساعة، هذا في وسط الأرض.

أما في أطراف الأرض، فهذا لا عبرة فيه؛ لأن أطراف الأرض قد تطلع الشمس عليها وقتاً طويلاً، وقد لا يكون عندهم ليل في القطب؛ لأن الشمس لا تغيب عن الأرض إذ أن الأرض، لا أثر لها في ذلك، فلا يعتبر بمثل هذا، وإنما يعتبر الوسط الذي نحن فيه، وهو الذي خاطبنا الله جل وعلا به.

فالظاهر: أنها أيام كأيامنا هذه؛ لأن هذا هو الظاهر من قوله (في ستة أيام) ، وقد علم أن أول هذه الأيام الأحد، وآخرها يوم الجمعة، وهو الذي اجتمع فيه الخلق، وفي آخر ساعة منه خلق آدم، وفيه أيضاً تقوم الساعة كما صحت الأحاديث في ذلك.

أما ما جاء في صحيح مسلم: (أن الله جل وعلا خلق يوم الأحد كذا وخلق يوم الإثنين كذا ويوم الثلاثاء كذا إلى أن قال: وخلق التربة يوم السبت) ، فهذا غير صحيح، وهو من الأحاديث التي يعلم أنها غير صحيحة، ولم ترد عن الرسول صلى الله عليه وسلم، فهي خطأ من بعض الرواة، والخطأ في صحيح مسلم وصحيح البخاري هو في كلمات يسيرة فقط، مثل هذا الحديث، وكل كتاب غير كتاب الله ما يخلو من الخطأ، ولكن إذا كان الخطأ معدودا ًومعروفاً فيكفي ذلك في صحته، ونبل صاحبه كما هو معلوم.

وقوله: ((إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ)) : الرب: هو المالك المتصرف، ولا يجوز إطلاق الرب -بالألف واللام- إلا على الله.

أما لفظ (رب) غير مضاف فلا يجوز إطلاقه أيضاً إلا على الله، أما إذا أضيف فيجوز أن يطلق على المخلوق، تقول: رب الكتاب، رب الدار، رب الدابة، يعني: صاحبها، والرب هنا بمعنى: المالك المتصرف، فهو الذي يملك هذا الكتاب ويتصرف فيه، وهو الذي يملك هذه الدار ويتصرف فيها بالبيع والشراء والسكنى والإيجار وغير ذلك، ولكن لا يجوز إضافة الرب للعاقل ويقصد به المخلوق، تقول: رب الغلام، رب الجارية، رب المرأة، رب الرجل وما أشبه ذلك، هذا لا يجوز أن يقصد به مخلوق؛ لأن الرب قد يطلق لمعنى المعبود وهو دليل على العبادة، بل تلزم منه، فالعبادة والربوبية متلازمتان، ولهذا منع ذلك، فلا يجوز في هذا الأمر.

فإذاً: يكون إطلاقه على غير الله جل وعلا فيما إذا أضيف إلى غير العاقل، أما إذا أضيف للعاقل فلا يجوز إطلاقه إلا على الله، وإذا اقترنت به (أل) لا يجوز إطلاقه إلا على الله تعالى الله وتقدس، وهذا كله صيانة وحماية للتوحيد، ولأسماء الله جل وعلا وصفاته أن يشترك في معانيها وحقوق الله مخلوق.

((إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ)) ، ومن المعلوم في اللغة: الفرق بين الرب وبين الله، كما في مثل هذه الآية، فإنه قال: ((إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ)) ، فدل على الفرق، ولهذا جاء عن ابن عباس أنه قال: الله ذو الألوهية والعبودية على خلقه أجمعين، ذو الألوهية: يعني: صاحب الألوهية الذي يتأله ويعبد، وأما الرب: فهو المالك المتصرف الخالق الرازق المدبر، وبهذا يستدل على الفرق بين توحيد الربوبية وتوحيد العبادة، وهذا فرق واضح.

{إِنَّ رَبَّكُمْ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54] ، (ثم) : هذه للترتيب مع التراخي، ولا تحتمل إلا هذا، ولهذا جاءت مطردة في جميع مواردها التي ذكرها في السبعة مواضع، بلفظ: (ثم) المرتب على الخلق.
‌‌মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন)

মহান আল্লাহর বাণী: ((নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন)): 'খালক' (সৃষ্টি) অর্থ হলো কোনো পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়াই কোনো কিছুকে অস্তিত্ব দান করা, প্রকাশ করা এবং উদ্ভাসিত করা। আর এটাই হলো প্রকৃত সৃষ্টি: অর্থাৎ শূন্য থেকে কোনো কিছুকে অস্তিত্বে নিয়ে আসা। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। বাহ্যত মনে হয় যে, এগুলো আমাদের এই দিনগুলোর মতোই দিন। এটাই হলো প্রকাশ্য অর্থ। আর কিছু মুফাসসির থেকে যে বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যে, প্রতিটি দিন এক হাজার বছরের সমান বা অনুরূপ কিছু, সে ব্যাপারে তাদের নিকট কোনো দলিল নেই। তবে একটি প্রশ্ন দেখা দিতে পারে: আল্লাহ যদি সূর্য এবং তার আবর্তনের পূর্বেই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করে থাকেন, তবে এই দিনগুলো কীভাবে নির্ধারিত হলো? কারণ সূর্য সৃষ্টির আগে তো দিন সম্পর্কে জানা যেত না, এরপর সূর্য তার কক্ষপথে পৃথিবীর সাথে চলতে শুরু করল। এটি একটি সুনির্ধারিত বিষয় যা পরিবর্তিত হয় না, বরং পুরো বছরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত; যেখানে প্রতিটি দিন ও রাত চব্বিশ ঘণ্টার হয়ে থাকে, যা বাড়েও না কমেও না।

যদিও আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: ((তিনি রাত দিয়ে দিনকে আচ্ছন্ন করেন)), অর্থাৎ একটি অপরটির ওপর বৃদ্ধি পায় ফলে অন্যটি হ্রাস পায়, কিন্তু দিন ও রাত চব্বিশ ঘণ্টার বাইরে যায় না। এটি পৃথিবীর মধ্যভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আর পৃথিবীর প্রান্তসীমার ক্ষেত্রে এটি ধর্তব্য নয়; কারণ পৃথিবীর প্রান্তগুলোতে সূর্য দীর্ঘ সময় ধরে উদিত থাকতে পারে, এমনকি মেরু অঞ্চলে তাদের কোনো রাত নাও থাকতে পারে। কারণ সেখানে সূর্য অস্ত যায় না, যেহেতু সেখানে পৃথিবীর আবর্তনের তেমন প্রভাব নেই। তাই এমন বিষয়কে মাপকাঠি ধরা হবে না, বরং মধ্যভাগকেই বিবেচনা করা হবে যেখানে আমরা রয়েছি এবং যা দ্বারা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমাদের সম্বোধন করেছেন।

সুতরাং বাহ্যত এগুলো আমাদের বর্তমান দিনগুলোর মতোই দিন; কারণ "ছয় দিনে" কথাটির বাহ্যিক অর্থ এটাই। আর এটি জানা গেছে যে, এই দিনগুলোর প্রথমটি ছিল রবিবার এবং শেষটি ছিল শুক্রবার। এই দিনেই সৃষ্টিজগত পূর্ণতা পেয়েছিল এবং এর শেষ প্রহরে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে যেমনটি সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

আর সহিহ মুসলিমে যা বর্ণিত হয়েছে যে: (আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা রবিবার এটি সৃষ্টি করেছেন, সোমবার এটি সৃষ্টি করেছেন, মঙ্গলবার এটি সৃষ্টি করেছেন... শেষ পর্যন্ত বলা হয়েছে: এবং শনিবার মাটি সৃষ্টি করেছেন), এটি সঠিক নয়। এটি এমন সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোকে সঠিক নয় বলে গণ্য করা হয় এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। এটি কোনো কোনো বর্ণনাকারীর ভুল। সহিহ মুসলিম এবং সহিহ বুখারিতে ভুল কেবল সামান্য কিছু শব্দের ক্ষেত্রেই হয়েছে, যেমন এই হাদিসটি। আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য যেকোনো কিতাবই ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। কিন্তু যদি ভুলগুলো সংখ্যায় অল্প এবং সুপরিচিত হয়, তবে তা কিতাবের বিশুদ্ধতা এবং লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট, যেমনটি সর্বজনবিদিত।

আর তাঁর বাণী: ((নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ)): 'রব' হলেন মালিক ও পরিচালক। আর আলিফ-লাম যুক্ত করে 'আর-রব' শব্দটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা জায়েজ নেই।

আর 'রব' শব্দটি যখন অন্য শব্দের সাথে যুক্ত বা মুদাফ না থাকে, তখনও তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নেই। তবে যখন এটি অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে আসে, তখন তা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। যেমন আপনি বলতে পারেন: বইয়ের মালিক (রবুল কিতাব), ঘরের মালিক (রব্বুদ্দার), পশুর মালিক (রব্বুদ দাব্বাহ); অর্থাৎ এর অধিকারী। এখানে 'রব' মানে হলো মালিক ও পরিচালক। কারণ সে-ই এই বইটির মালিক এবং এটি ব্যবহারের অধিকার রাখে। সে-ই এই ঘরের মালিক এবং এটি ক্রয়-বিক্রয়, বসবাস বা ভাড়ার মাধ্যমে পরিচালনা করে। কিন্তু জ্ঞানসম্পন্ন বা বিবেকবান কারো সাথে সম্বন্ধ করে 'রব' শব্দ ব্যবহার করা এবং তা দ্বারা সৃষ্টিকে উদ্দেশ্য করা জায়েজ নেই। যেমন আপনি বলতে পারেন না: বালকের রব, দাসীর রব, নারীর রব, পুরুষের রব বা এই জাতীয় কিছু। এর মাধ্যমে কোনো সৃষ্টিকে উদ্দেশ্য করা জায়েজ নয়; কারণ 'রব' শব্দটি কখনও 'মাবুদ' (উপাস্য) অর্থেও ব্যবহৃত হয় যা ইবাদতের প্রমাণ বহন করে, বরং এটি ইবাদতের জন্য অপরিহার্য। কেননা ইবাদত ও রুবুবিয়ত একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই কারণেই এটি নিষেধ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তা জায়েজ নয়।

অতএব, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ তখনই হতে পারে যখন তা বিবেকহীন বস্তুর সাথে যুক্ত হয়। আর যদি বিবেকবানের সাথে যুক্ত হয়, তবে তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা যাবে না। আর যখন এতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়, তখন তা মহান ও পবিত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নয়। এ সবকিছুই করা হয়েছে তাওহিদকে রক্ষা ও হেফাজত করার জন্য এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ ও আল্লাহর হকসমূহে কোনো সৃষ্টি যাতে শরিক না হতে পারে সেজন্য।

((নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন))। আরবি ভাষায় 'রব' এবং 'আল্লাহ'র মধ্যে পার্থক্য সর্বজনবিদিত, যেমনটি এই আয়াতে দেখা যায়। কারণ তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ)), যা উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণ দেয়। এই কারণেই ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: 'আল্লাহ' হলেন তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর উলুহিয়ত ও ইবাদতের অধিকারী। উলুহিয়তের অধিকারী বলতে এমন সত্তাকে বোঝায় যাঁর উপাসনা ও ইবাদত করা হয়। আর 'রব' হলেন মালিক, পরিচালক, স্রষ্টা, রিযিকদাতা ও নিয়ন্ত্রক। এর মাধ্যমেই তাওহিদুর রুবুবিয়ত এবং তাওহিদুর ইবাদতের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, যা একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য।

{নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন} [সূরা আল-আরাফ: ৫৪]। 'ছুম্মা' (অতঃপর): এটি বিলম্বসহ ধারাবাহিকতা বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি এছাড়া অন্য কোনো অর্থ বহন করে না। এই কারণেই সাতটি স্থানে যেখানেই এটি বর্ণিত হয়েছে, সেখানে সৃষ্টির পরে ধারাবাহিকতা বোঝাতে 'অতঃপর' শব্দটি একইভাবে এসেছে।
(খণ্ড: ৩) শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-গুনাইমান (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌العرش أول المخلوقات

فمعنى ذلك: أن هذا استواء خاص فعله الله جل وعلا بعد الخلق، ولا يلزم من ذلك: أنه لم يكن مستوياً على عرشه جل وعلا قبل خلق السماوات والأرض.

ومن المعلوم: أن العرش هو أول المخلوقات، وهذا هو الصواب، بل هذا هو الذي دلت عليه النصوص.

وأما القلم الذي ورد في حديث عبادة وغيره: (أول ما خلق الله القلم فقال له: اكتب، فجرى في تلك الساعة بما هو كائن إلى يوم القيامة) ، فالمقصود بهذا: الإخبار بالكتابة أنها وقعت بعد الخلق مباشرة بدون فاصل، يعني: أن الله جل وعلا لما خلق القلم قال: له اكتب، فجرى في تلك الساعة بما هو كائن، ولهذا جاء في القرآن: أنه جل وعلا ذكر أن عرشه كان على الماء قبل خلق السماوات والأرض، فعلى هذا يكون العرش أول المخلوقات المعلومة لنا، والعرش معه الماء؛ لأنه على الماء، أما أن نقول: إن الله مستوٍ على عرشه، قبل خلق السماوات والأرض فهذا لم يأت فيه نص، ولكن هذا هو الظاهر.

فيكون استواؤه -الذي ذكر لنا لنعتقده ونؤمن به- بعد خلق السماوات والأرض، ولهذا رتبه عليه بلفظ: (ثم) التي تقتضي الترتيب مع التراخي، والملك والأمر لله جل وعلا.

وهذه المخلوقات التي ذكرها الله جل وعلا من السماوات والأرض والعرش والماء هي التي نعلمها من المخلوقات، أما ما قبلها فشيء لا علم لنا به ولا يعلمه إلا الله؛ لأنه معلوم قطعاً أن العرش وجد بعد أن لم يكن موجوداً والماء كذلك وجد بعد أن لم يكن موجوداً؛ لأنه مخلوق، وكل مخلوق معين سبق بالعدم ولابد.

أما الأولية التي لا نهاية لها ولا مبدأ لها فهي لله وحده جل وعلا، ولكن لا يجوز أن يعتقد أن الله كان ولا فعل له ولا صفة له، ثم بعد ذلك صار متصفاً بالصفات؛ لأن هذا نقص، والله يتعالى عن ذلك، وقد قال جل وعلا: {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} [البروج:16] ، ولا يجوز أن يكون هذا في وقت دون وقت، بل هو يفعل ما يريد، وهذا هو المعنى الذي ذكره العلماء في مسألة التسلسل.

وقد اختلف العلماء في مسألة التسلسل، وخلاصتها: أن التسلسل في الحوادث في الماضي والمستقبل في أفعال الله التي تتعلق بمشيئته وصفاته واقع فضلاً عن أن يقال: إنه جائز، بل واجب.

أما التسلسل في الفاعلين فهذا مستحيل وممتنع كما هو معلوم، وأما الحديث الذي في صحيح البخاري حديث عمران بن حصين وفي أول الحديث يقول عمران: (أتيت على راحلتي فعقلتها عند باب المسجد، فدخلت فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجاء بنو تميم فقال: أبشروا، فقالوا: بشرتنا فأعطنا، فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم دخل أهل اليمن، فقال: يا أهل اليمن! اقبلوا البشرى إذ لم يقبلها بنو تميم، فقالوا: قبلنا، جئناك نتفقه في هذا الدين، ونسألك عن مبدأ هذا الأمر، فقال: كان الله ولم يكن شيء قبله) ، وفي رواية: (ولم يكن شيء غيره) ، وفي رواية: (معه) .

هذه الروايات الثلاث ثابتة ثبتت: (قبله) و (غيره) و (معه) ، ولكن المقام واحد، يقول عليه الصلاة والسلام: (كان الله ولم يكن شيء قبله، ثم خلق السموات والأرض وكتب في الذكر كل شيء، يقول عمران: فجاءني آتٍ فقال: أدرك ناقتك فقد ذهبت، فخرجت فإذا السراب يتقطع دونها، وأيم الله! لوددت إني تركتها ولم أقم) ، هذا الحديث لم يروه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا عمران بن الحصين فقط، ولم يأت في رواية أخرى عنه الاستواء: صفة فعل تتعلق بمشيئة الله جل وعلا، فصفات الأفعال هي صفات كمال، فالصفات تنقسم إلى قسمين: صفة ذات وصفة فعل، وهذا التقسيم دل عليه كتاب الله جل وعلا، وهو أمر قطعي.

والفرق بين صفة الذات وصفة الفعل: أن الصفات التي لا تفارق الذات، وتكون ملازمة للذات دائماً كالحياة والعلم والسمع والبصر وما أشبه ذلك تسمى صفة ذات؛ لأنها تكون ملازمة لذات الله جل وعلا أبداً، ولا يجوز أن يكون خالٍ منها في وقت من الأوقات، تعالى الله وتقدس.

أما الصفات التي تتعلق بمشيئته؛ إذا شاء فعلها، وإذا شاء لم يفعلها، فهذه تسمى صفة فعل، وهي من صفات الكمال، ولا فرق بين النوعين من حيث الاتصاف والثبوت، فكلها ثابتة لله جل وعلا، وكلها يتصف الله جل وعلا بها، ولكن الله جل وعلا له غاية الكمال المطلق، كما قال الله جل وعلا: {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} [البروج:16] ، وهذا من صفات كماله جل وعلا وهو خاص به، لا يوجد من يفعل ما يريد إلا الله جل وعلا، فالخلق كلهم يريدون أشياء، ولكن ما يستطيعون فعلها؛ لأن الأمر كله بيد الله جلا وعلا.

ثم إن الاستواء جاء خاصاً بالعرش فقط، فلا يقال: استوى على السماء استوى على الأرض استوى على كذا هذا لا يجوز؛ لأنه جاء خاصاً بالعرش.

وذكر المؤلف أنه ورد في سبعة مواضع من كتاب الله؛ ليبين أن هذا لا يجوز تأويله، ولا يمكن تأويله، حيث أنه جاء في نصوص لا تحتمل التأويل، فمؤولها يكون محرفاً، والتأويل فيها يكون تحريفاً وليس تأويلاً.
‌‌আরশ প্রথম সৃষ্টি

এর অর্থ হলো: এটি একটি বিশেষ উপরে উঠা যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সৃষ্টির পর সম্পন্ন করেছেন। আর এর থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে: আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছিলেন না।

এটি সুবিদিত যে: আরশ হলো প্রথম সৃষ্টি, আর এটিই সঠিক মত; বরং এটিই দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত।

আর উবাদাহ ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসে যে কলমের কথা এসেছে: (আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, অতঃপর তাকে বললেন: লেখো। তখন সে মুহূর্তে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেল), এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এই সংবাদ প্রদান করা যে, লেখাটি সৃষ্টির পর কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যখন কলম সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: লেখো; ফলে সেই মুহূর্তেই যা কিছু ঘটার ছিল তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেল। একারণেই কুরআনে এসেছে: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা উল্লেখ করেছেন যে, আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে তাঁর আরশ পানির উপরে ছিল। সুতরাং সেই অনুযায়ী আরশ হলো আমাদের জানা প্রথম সৃষ্টি, আর আরশের সাথে পানিও ছিল; যেহেতু তা পানির উপরে ছিল। তবে আমরা যদি বলি যে: আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠেছিলেন, তবে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলিল আসেনি, কিন্তু এটিই বাহ্যত প্রতীয়মান।

সুতরাং তাঁর উপরে উঠা—যা আমাদের বিশ্বাস ও ঈমান আনার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে—তা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পরে। এজন্যই তিনি বিষয়টিকে 'সুম্মা' (অতঃপর) শব্দ দিয়ে বিন্যস্ত করেছেন, যা বিরতিসহ ধারাবাহিকতা দাবি করে; আর রাজত্ব ও কর্তৃত্ব আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্যই।

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আসমান, জমিন, আরশ ও পানির যে সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন, সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে কেবল এগুলো সম্পর্কেই আমরা জানি। আর এর পূর্বের বিষয় সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা জানেন না। কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই জানা যে, আরশ একসময় ছিল না, পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং পানিও একইভাবে অস্তিত্বহীনতার পর অস্তিত্ব লাভ করেছে; কারণ তা সৃষ্টি, আর প্রতিটি নির্দিষ্ট সৃষ্টির পূর্বে অবশ্যই অস্তিত্বহীনতা থাকা অনিবার্য।

কিন্তু এমন অনাদিত্ব যার কোনো শেষ নেই এবং যার কোনো শুরু নেই, তা কেবল আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্যই। তবে এটি বিশ্বাস করা বৈধ নয় যে, আল্লাহর কোনো কাজ বা গুণ ছিল না, পরবর্তীতে তিনি গুণে গুণান্বিত হয়েছেন; কারণ এটি একটি অপূর্ণতা, আর আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: {তিনি যা চান তা-ই করেন} [বুরুজ: ১৬]। এটি এক সময়ে হবে আর অন্য সময়ে হবে না—এমন হওয়া সমীচীন নয়, বরং তিনি যা চান তা-ই করেন। আর এটিই সেই অর্থ যা ওলামায়ে কেরাম তাসালসুলের (ধারাবাহিকতা) মাসআলায় উল্লেখ করেছেন।

তাসালসুলের মাসআলায় ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। এর সারকথা হলো: আল্লাহর কাজ যা তাঁর ইচ্ছা ও গুণাবলীর সাথে সম্পৃক্ত, তাতে অতীত ও ভবিষ্যতে ঘটনার ধারাবাহিকতা ঘটা কেবল জায়েজই নয়, বরং অবধারিত।

আর কাজ সম্পাদনকারীদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা অসম্ভব ও নিষিদ্ধ যেমনটি সুবিদিত। আর সহিহ বুখারিতে ইমরান ইবনে হুসাইনের যে হাদিস রয়েছে, তার শুরুতে ইমরান বলেন: (আমি আমার সওয়ারি নিয়ে আসলাম এবং সেটি মসজিদের দরজায় বাঁধলাম। অতঃপর প্রবেশ করে দেখলাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। তখন বনু তামিম গোত্রের লোক আসলো, তিনি বললেন: হে বনু তামিম! সুসংবাদ গ্রহণ করো। তারা বলল: আপনি আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এখন আমাদের কিছু দান করুন। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। এরপর ইয়ামেনবাসীরা প্রবেশ করল, তিনি বললেন: হে ইয়ামেনবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যেহেতু বনু তামিম তা গ্রহণ করেনি। তারা বলল: আমরা গ্রহণ করলাম; আমরা আপনার কাছে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি এবং এই জগতের সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেন: আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না), আর এক বর্ণনায় রয়েছে: (তাঁর ব্যতীত কিছুই ছিল না), অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (তাঁর সাথে কিছুই ছিল না)।

এই তিনটি বর্ণনাই প্রমাণিত: 'পূর্বে', 'ব্যতীত' এবং 'সাথে'। তবে প্রেক্ষাপট একই। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেন: (আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না, অতঃপর তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করলেন এবং লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রাখলেন। ইমরান বলেন: এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল: তোমার উটটি ধরো, সেটি চলে গেছে। আমি বের হয়ে দেখলাম মরীচিকা সেটিকে আড়াল করে দিচ্ছে। আল্লাহর কসম! আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল যে আমি যদি উটটি ছেড়ে দিতাম আর ওখান থেকে না উঠতাম)। এই হাদিসটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কেবল ইমরান ইবনে হুসাইনই বর্ণনা করেছেন। আর অন্য কোনো বর্ণনায় তাঁর থেকে আরশের উপরে উঠার বিষয়টি আসেনি। আরশের উপরে উঠা হলো একটি কর্মগত গুণ যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। কর্মগত গুণাবলি হলো পরিপূর্ণতার গুণ। গুণাবলি দুই প্রকার: সত্তাগত গুণ ও কর্মগত গুণ। এই বিভাজন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কিতাব দ্বারা প্রমাণিত এবং এটি একটি অকাট্য বিষয়।

সত্তাগত গুণ ও কর্মগত গুণের মধ্যে পার্থক্য হলো: যে গুণগুলো সত্তা থেকে পৃথক হয় না এবং সর্বদা সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে, যেমন—জীবন, জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি এবং এই জাতীয় গুণগুলোকে সত্তাগত গুণ বলা হয়; কারণ এগুলো সর্বদা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে এবং কোনো সময়েই তিনি এগুলো থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়, আল্লাহ অতি মহান ও পবিত্র।

আর যে গুণগুলো তাঁর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত; তিনি চাইলে সেগুলো করেন এবং না চাইলে করেন না, সেগুলোকে কর্মগত গুণ বলা হয় এবং এগুলোও পরিপূর্ণতার গুণ। গুণান্বিত হওয়া ও সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে উভয় প্রকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর সবগুলোই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্য সাব্যস্ত এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এ সব গুণের মাধ্যমেই গুণান্বিত। তবে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার জন্য রয়েছে পরম ও নিরঙ্কুশ পূর্ণতা, যেমনটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: {তিনি যা চান তা-ই করেন} [বুরুজ: ১৬]। এটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার একটি পরিপূর্ণতার গুণ যা কেবল তাঁর জন্যই বিশেষ। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ছাড়া এমন কেউ নেই যে যা চায় তা-ই করতে পারে। কারণ সমস্ত মাখলুক বা সৃষ্টি অনেক কিছু চায়, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয় না; কারণ সকল বিষয় কেবল আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার হাতেই নিহিত।

অতঃপর, আরশের উপরে উঠার বিষয়টি কেবল আরশের সাথেই নির্দিষ্টভাবে এসেছে। সুতরাং এটি বলা যাবে না যে: তিনি আসমানের উপরে উঠেছেন, জমিনের উপরে উঠেছেন বা এমন কিছু; এটি জায়েজ নয়। কারণ এটি কেবল আরশের সাথেই নির্দিষ্টভাবে এসেছে।

লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এটি আল্লাহর কিতাবে সাতটি স্থানে এসেছে; এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, এর অপব্যাখ্যা করা জায়েজ নয় এবং এর অপব্যাখ্যা করা সম্ভবও নয়। যেহেতু এটি এমন দলিলসমূহে এসেছে যা অপব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। সুতরাং যে এর অপব্যাখ্যা করবে সে হবে বিকৃতকারী, আর এক্ষেত্রে তথাকথিত ব্যাখ্যা হবে মূলত বিকৃতি, কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নয়।