(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
حديث عباس الترقفي   (عباس الترقفي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حديث عباس الترقفي

المؤلف: أَبُو مُحَمَّدٍ عَبَّاسُ بنُ عَبْدِ اللهِ بنِ أَبِي عِيْسَى البَاكُسَائِيُّ، التَّرْقُفِيُّ (ت 267هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আব্বাস আত-তারকুফীর হাদীসসমূহ   (আব্বাস আত-তারকুফী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আব্বাস আত-তারকুফীর হাদীসসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ঈসা আল-বাকুসাঈ, আত-তারকুফী (মৃত্যু: ২৬৭ হিজরী)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি; যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামেউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
جُزْءٌ فِيهِ مِنْ حَدِيثِ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْقُفِيِّ رِوَايَةَ أَبِي عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الصَّفَّارِ، عَنْهُ.

رِوَايَةَ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةَ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبُسْرِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةَ أَبِي الْفَتْحِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ نَجَا بْنِ شَاتِيلَ الدَّبَّاسِ، وَأَبِي هَاشِمٍ عِيسَى بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الدُّوشَابِيِّ الْهَاشِمِيِّ مَوْلاهُمْ، كِلاهُمَا عَنِ ابْنِ الْبُسْرِيِّ.

أنبا بِهِ عَنِ ابْنِ شَاتِيلَ الشَّيْخَانِ أَبُو الْمَعَالِي يَحْيَى بْنُ سَعْدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ رُشَيْدٍ الْجُوَيْرِيُّ، بِمِنًى شَرَّفَهَا اللَّهُ، وَأَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُقَيَّرِ، بِدِمَشْقَ حَرَسَهَا اللَّهُ، سَمَاعٌ مِنْهُمَا لِعَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَالِسِيِّ.

بسم الله الرحمن الرحيم
আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ আত-তারকুফীর হাদীসসমূহ সংবলিত একটি সংকলন, যা তার নিকট থেকে আবু আলী ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আস-সাফফার বর্ণনা করেছেন।

তার নিকট থেকে আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারীর বর্ণনা।

তার নিকট থেকে আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বুসরীর বর্ণনা।

আবু আল-ফাতহ উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন নাজা বিন শাতীল আদ-দাব্বাস এবং আবু হাশিম ঈসা বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আদ-দুশাবী আল-হাশিমী (তাদের মুক্ত করা দাস) — উভয়ের বর্ণনা, তারা ইবনুল বুসরী থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনু শাতীল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন দুই শাইখ: আবু আল-মাআলী ইয়াহইয়া বিন সাদ বিন মুহাম্মাদ বিন রুশাইদ আল-জুওয়াইরী—মিনায় (আল্লাহ একে সম্মানিত করুন), এবং আবু আল-হাসান বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন আল-মুকাইয়ির—দামেশকে (আল্লাহ একে হিফাযত করুন); আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বালিসী তাদের উভয়ের নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْمَعَالِي يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُشَيْدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حُسَيْنٍ الْحَرْبُوِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ بِمِنًى شَرَّفَهَا اللَّهُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْفَتْحِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ نَجَا بْنِ شَاتِيلَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ، وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ النَّجَّارُ الْبَغْدَادِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِسَفْحِ جَبَلِ قَاسِيُونَ ظَاهِرَ مَدِينَةِ دِمَشْقَ فِي يَوْمِ السَّبْتِ سَابِعَ عَشَرَ جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ إِحْدَى وَثَلاثِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْفَتْحِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ نَجَا بْنِ شَاتِيلَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْبُسْرِيُّ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ خَمْسَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارِ، وَأَنَا أَسْمَعُ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: نا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْقُفِيُّ، ثنا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ أَبُو عَاصِمٍ الْعَسْقَلانِيُّ، ثنا أَبُو سَعْدٍ السَّاعِدِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَلْقَى جِلْبَابَ الْحَيَاءِ فَلا غِيبَةَ لَهُ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল মাআলি ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুশাইদ ইবনে আহমদ ইবনে হুসাইন আল-হারবুয়ি; তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করেছি ছয়শ আটাশ হিজরি সনের যিলহজ মাসে মিনাতে—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন। তাঁকে বলা হলো: আবুল ফাতহ উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাজা ইবনে শাতিল আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হাসান ইবনে আবি আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হাসান আন-নাজ্জার আল-বাগদাদি; তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করেছি দামেশক শহরের বহির্ভাগে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে, ছয়শ একত্রিশ হিজরি সনের সতেরই জুমাদাল উলা, শনিবার। তাঁকে বলা হলো: আবুল ফাতহ উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাজা ইবনে শাতিল আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁর সম্মুখে পাঠকালে আপনি শ্রবণ করেছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আহমদ ইবনে আল-বুসরি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারি; চারশ পনেরো হিজরি সনের রমজান মাসে তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে। তিনি বলেন: আবু আলি ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফারের সম্মুখে পাঠকালে আমি শ্রবণ করেছি তিনশ একচল্লিশ হিজরি সনের মহরম মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তারকুফি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রওয়াদ ইবনুল জাররাহ আবু আসিম আল-আসকালানি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আস-সাঈদি, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি লজ্জার চাদর ছুড়ে ফেলে দিল, তার আর কোনো গীবত (পরনিন্দা) নেই।”
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
2 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خَيْرُكُمْ فِي الْمِائَتَيْنِ كُلُّ خَفِيفِ الْحَاذِ» .

قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا خَفِيفُ الْحَاذِ؟ قَالَ: «الَّذِي لا أَهْلَ لَهُ وَلا وَلَدَ»
২ - আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি হুজাইফাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দুইশ হিজরী নাগাদ তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হবে প্রত্যেক হালকা বোঝা সম্পন্ন ব্যক্তি» .

তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! হালকা বোঝা সম্পন্ন ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: «যার কোনো পরিবার ও সন্তান নেই»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
3 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّاطَرِيُّ أَبُو بَكْرٍ، ثنا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعًا بَعْدَهَا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ»
৩ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাতারী আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান ইবনে মূসা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আনবাসাহ ইবনে আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে হাবীবা থেকে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকাত এবং যোহরের পরে চার রাকাত সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
4 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عَبْدِ الْقُدُّوسِ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: لَمْ أَسْمَعْ مِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، إِلا حَدِيثًا وَاحِدًا، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ থেকে, তিনি আবদুল কুদ্দুস থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক থেকে একটি মাত্র হাদিস ছাড়া অন্য কিছু শুনিনি, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
5 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلانَ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ صَلاةٍ مَفْرُوضَةٍ إِلا وَبَيْنَ يَدَيْهَا رَكْعَتَانِ»
৫ - আমাদের নিকট আব্বাস হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উসমান ইবনে সাঈদ আল-হিমসী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাজির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাবিত ইবনে আজলান থেকে, তিনি সুলাইম ইবনে আমির থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো ফরজ সালাত নেই যার পূর্বে দুই রাকাত (সালাত) নেই»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
6 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، ثنا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لَوَدِدْتُ أَنَّ تَبَارَكَ فِي صَدْرِ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْ أُمَّتِي»
৬ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে উমর আল-আদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাকাম ইবনে আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি অবশ্যই কামনা করি যে, ‘তাবারাক’ (সূরা আল-মুলক) আমার উম্মতের প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে থাকুক।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
7 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى الْمُحَارِبِيُّ، ثنا أَبِي، عَنْ غَيْلانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ صِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ: ثَلاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ، صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ "
৭ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গাইলান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি জারির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রতি মাসের তিন দিন—তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখ—রোজা রাখা, যেন সারা বছর রোজা রাখা।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
8 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْفِتْنَةَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الْمَخْرَجُ مِنْهُ؟ قَالَ: ‌‌«عَلَيْكُمْ بِالأَمِيرِ وَأَصْحَابِهِ» .

يَعْنِي: عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
৮ - আমাদের নিকট আব্বাস হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে আবিয যিনাদ বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন, তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তা থেকে নিষ্কৃতির পথ কী? তিনি বললেন: «তোমরা আমীর ও তাঁর সঙ্গীদের আঁকড়ে ধরো»।

অর্থাৎ: উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
9 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ صُبَيْحٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِذَا مَرَرْتَ بِبَلْدَةٍ لَيْسَ فِيهَا سُلْطَانٌ فَلا تَدْخُلْهَا، إِنَّمَا السُّلْطَانُ ظِلُّ اللَّهِ، وَرُمْحُهُ فِي الأَرْضِ»
৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সাবিহ, তিনি আনাস ইবনে মালেক হতে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যখন তুমি এমন কোনো জনপদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে যেখানে কোনো শাসক নেই, তবে সেখানে প্রবেশ করো না; নিশ্চয়ই শাসক হলেন আল্লাহর ছায়া এবং তাঁর বর্শা রয়েছে যমিনে।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
10 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ صُبَيْحٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "‌‌ إِذَا اسْتَقَرَّ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِي الْجَنَّةِ اشْتَاقَ الأَخَوَانِ، فَيَسِيرُ سَرِيرُ ذَا إِلَى ذَا حَتَّى يَلْتَقِيَانِ، فَيَتَحَدَّثَانِ مَا كَانَ بَيْنَهُمَا فِي دَارِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: يَا أَخِي، تَذْكُرُ يَوْمَ كُنَّا فِي دَارِ الدُّنْيَا فَدَعَوْنَا اللَّهَ فَغَفَرَ لَنَا "
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী' ইবনে সাবিহ, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: " ‌‌ যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে স্থির হবে তখন দুই ভাই একে অপরের সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করবে। তখন একজনের পালঙ্ক অন্যজনের দিকে ধাবিত হবে যতক্ষণ না তারা পরস্পর মিলিত হয়। এরপর তারা যা নিয়ে আলাপচারিতা করবে তা ছিল দুনিয়ার জীবনে তাদের মাঝে ঘটে যাওয়া বিষয়াবলি। তখন একজন বলবে: হে আমার ভাই, তোমার কি সেই দিনের কথা মনে আছে যখন আমরা দুনিয়ার জীবনে ছিলাম এবং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, ফলে তিনি আমাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন? "
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
11 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الأَزْدِيُّ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، ثنا خَلَفُ بْنُ أَعْيَنَ الْقُرَشِيُّ، عَنْ هَمَّامٍ أَخِي وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ‌‌«الْغِيبَةُ تَخْرِقُ الصَّوْمَ، وَالاسْتِغْفَارُ يُرَقِّعُهُ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ لا يَجِيءَ غَدًا بِصَوْمِهِ مُرَقَّعًا فَلْيَفْعَلْ»
১১ - আমাদের নিকট আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আজদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ ইবনুল মুহাব্বার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালাফ ইবনে আয়ান আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন হাম্মাম থেকে—যিনি ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ-এর ভাই—তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «গিবত সিয়ামকে বিদীর্ণ করে ফেলে এবং ইস্তিগফার তা মেরামত করে (তালি লাগায়); সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সক্ষম যে সে আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) তার সিয়ামকে তালি লাগানো অবস্থায় নিয়ে আসবে না সে যেন তা-ই করে।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
12 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا سَعِيدٌ، يَعْنِي ابْنَ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو مَرْحُومٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ: "‌‌ كُنَّا نَرْكَعُهُمَا إِذَا قُمْنَا، يَعْنِي: بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ مِنَ الْمَغْرِبِ "
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ—অর্থাৎ ইবনে আবি আইয়ুব—তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন আবু মারহুম, তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি কাবিদাহ বিন যুয়াইব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আউফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌আমরা যখন দাঁড়াতাম তখন সেই দুই রাকাত (সালাত) আদায় করতাম, অর্থাৎ: মাগরিবের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
13 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، ثنا حَيْوَةُ، وَابْنُ لَهِيعَةَ، قَالا: سَمِعْنَا يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ: ‌‌«إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الْحَسَنَةَ فَيَتَّكِلُ عَلَيْهَا، وَيَعْمَلُ الْمُحَقَّرَاتِ حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهَ وَقَدْ أَحَطْنَ بِهِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ السَّيِّئَةَ فَيَفْرَقُ مِنْهَا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ آمِنًا»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ ও ইবনে লাহিয়াহ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা ইয়াজিদ বিন আবি হাবিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইমরান যে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারিকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি কোনো নেক আমল করে এবং সেটির ওপর নির্ভর করে থাকে, আর সে ছোট ছোট গুনাহ করতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর নিকট এমন অবস্থায় উপস্থিত হয় যে গুনাহগুলো তাকে বেষ্টন করে ফেলেছে। আর নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে এবং সে কারণে সে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর নিকট নিরাপদ অবস্থায় উপস্থিত হয়।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
14 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا سَعِيدٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، إِذَا قَعَدَ يَقُولُ: ‌‌«إِنَّكُمْ فِي مَمَرِّ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ فِي آجَالٍ مَنْقُوصَةٍ وَأَعْمَالٍ مَحْفُوظَةٍ وَالْمَوْتُ يَأْتِي بَغْتَةً، فَمَنْ زَرَعَ خَيْرًا يُوشِكُ أَنْ يَحْصُدَ رَغْبَةً، وَمَنْ زَرَعَ شَرًّا يُوشِكُ أَنْ يَحْصُدَ نَدَامَةً، وَلِكُلِّ زَارِعٍ مَا زَرَعَ لا يَسْبِقُ بَطِيءٌ حَظَّهُ، وَلا يُدْرِكُ حَرِيصٌ مَا لَمْ يُقَدَّرْ لَهُ، فَمَنْ أُعْطِيَ خَيْرًا فَاللَّهُ أَعْطَاهُ، وَمَنْ وُقِيَ شَرًّا فَاللَّهُ وَقَاهُ، الْمُتَّقُونَ سَادَةٌ، وَالْفُقَهَاءُ قَادَةٌ، مُجَالَسَتُهُمْ زِيَادَةٌ»
১৪ - আমাদের নিকট আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হুজাইরা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ যখন বসতেন তখন বলতেন: "নিশ্চয়ই তোমরা দিন ও রাতের আবর্তনের মধ্যে রয়েছ, যেখানে আয়ু হ্রাস পাচ্ছে এবং আমলসমূহ সংরক্ষিত হচ্ছে। আর মৃত্যু হঠাৎ উপস্থিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণের বীজ বপন করল, সে শীঘ্রই তার কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলবে। আর যে ব্যক্তি মন্দের বীজ বপন করল, অচিরেই সে অনুশোচনার ফসল কাটবে। প্রত্যেক বপনকারীর জন্য তাই রয়েছে যা সে বপন করেছে। কোনো ধীরগতিসম্পন্ন ব্যক্তি তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হবে না, আর কোনো লোভী ব্যক্তি তা অর্জন করতে পারবে না যা তার জন্য নির্ধারিত নেই। সুতরাং যাকে কোনো কল্যাণ দান করা হলো, তা আল্লাহই তাকে দান করেছেন। আর যাকে কোনো মন্দ থেকে রক্ষা করা হলো, আল্লাহই তাকে রক্ষা করেছেন। মুত্তাকীরা হলো নেতা এবং ফকীহগণ হলো পথপ্রদর্শক, তাদের মজলিসে বসা হলো বৃদ্ধি লাভের মাধ্যম।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
15 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا سَعِيدٌ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الأَسْوَدِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ فِي الْمَرَابِطِ فَفَرَغُوا فَخَرَجُوا إِلَى السَّاحِلِ ثُمَّ قِيلَ لا بَأْسَ، فَانْصَرَفَ النَّاسُ وَأَبُو هُرَيْرَةَ وَاقِفٌ فَمَرَّ بِهِ إِنْسَانٌ، فَقَالَ: مَا يُوقِفُكَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«مَوْقِفُ سَاعَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ قِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ عِنْدَ الْحَجَرِ الأَسْوَدِ»
১৫ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান আবুল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সীমান্ত পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন। তারা কাজ শেষ করে সমুদ্র উপকূলে বের হলেন, তারপর বলা হলো যে কোনো ভয়ের কারণ নেই। তখন মানুষজন ফিরে গেল কিন্তু আবু হুরায়রা (রা.) দাঁড়িয়ে রইলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: হে আবু হুরায়রা! আপনাকে কিসে দাঁড় করিয়ে রেখেছে? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহর পথে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকা হাজরে আসওয়াদের নিকট লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়েও উত্তম»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
16 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي شُرَحْبِيلُ بْنُ شَرِيكٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا رَافِعٍ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ غَسَّلَ مُسْلِمًا فَكَتَمَ عَلَيْهِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ أَرْبَعِينَ مَرَّةً، وَمَنْ حَفَرَ لَهُ فَأَجَنَّهُ أُجْرِيَ عَلَيْهِ كَأَجْرِ مَسْكَنٍ أَسْكَنَهُ إِيَّاهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَفَّنَهُ كَسَاهُ اللَّهُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقِ الْجَنَّةِ»
১৬ - আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ ইবনে আবু আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শুরাহবীল ইবনে শারীক আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে রাবাহ আল-লাখমী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু রাফে‘-কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে গোসল করাবে এবং তার ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশ বার ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি তার জন্য কবর খনন করবে এবং তাকে তাতে দাফন করবে, তার জন্য এমন সওয়াব জারি করা হবে যেন সে তাকে একটি বাসস্থানে আবাসন প্রদান করল কিয়ামত পর্যন্ত। আর যে ব্যক্তি তাকে কাফন পরাবে, মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন জান্নাতের মিহি ও মোটা রেশমি বস্ত্র পরিধান করাবেন।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
17 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ : ‌‌«نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبُسْرِ وَالتَّمْرِ أَنْ يُنْتَبَذَا جَمِيعًا»
১৭ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁচা খেজুর ও শুকনো খেজুর একত্রে ভিজিয়ে পানীয় তৈরি করতে নিষেধ করেছেন»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
18 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا حَيْوَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْغِفَارِيَّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: ‌‌«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَّبَّعُ الْحَرِيرَ مِنَ الثَّوْبِ فَيَنْزِعُهُ»
১৮ - আমাদের নিকট আব্বাস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবু হানি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু সাঈদ আল-গিফারি থেকে শুনেছেন যে, তিনি আবু হুরাইরাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পোশাকের রেশমি অংশ খুঁজে বের করতেন এবং তা ছিঁড়ে বা সরিয়ে ফেলতেন»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
19 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا سَعِيدٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الأَسْوَدِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النُّعْمَانَ بْنَ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ خَوْلَةَ بِنْتَ ثَامِرٍ الْخَوْلانِيَّةَ، تَقُولُ: أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«إِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، وَإِنَّ رِجَالا سَيَخُوضُونَ فِي مَالِ اللَّهِ عز وجل وَرَسُولِهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، لَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
১৯ - আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নাওফাল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নুমান ইবনে আবি আইয়াশ আয-যুরাকিকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি খাওলাহ বিনতে সামের আল-খাওলানিয়াহকে বলতে শুনেছেন, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই দুনিয়া সবুজ ও সুস্বাদু, এবং নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহ মহান ও প্রতাপশালী এবং তাঁর রাসুলের সম্পদে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করবে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন দিন কিয়ামতের।»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
20 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ الأَيْلِيُّ أَبُو عُمَرَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ أَبِي سُمَيَّةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ صَعْصَعَةَ بْنِ صُوحَانَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: ‌‌«مَنْ لَمْ يُطَهِّرْهُ الْمَسْحُ عَلَى الْخِمَارِ فَلا طَهَّرَهُ اللَّهُ عز وجل»
২০ - আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু উমর আবদুল জব্বার ইবনে উমর আল-আইলি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে আবি সুমাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে ইসমাঈল থেকে বর্ণিত, সা'সা'আহ ইবনে সুহান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: «যাকে পাগড়ির ওপর মাসেহ পবিত্র করে না, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে পবিত্র না করুন»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
21 - أَخْبَرَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، نا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ أَبِي سُمَيَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سَأَلَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ، وَهِيَ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَرَى الْمَرْأَةُ فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ؟ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا رَأَتِ الْمَرْأَةُ ذَلِكَ فَأَنْزَلَتْ فَلْتَغْتَسِلْ» .

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا عَبْدُ الْجَبَّارِ الأَيْلِيُّ ابن عُمَرَ أَبُو عُمَرَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ خَوْلَةَ، عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
২১ - আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল জব্বার ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুমাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: উম্মে সুলাইম—যিনি আনাস ইবনে মালিকের মাতা—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষ স্বপ্নে যা দেখে, নারীও কি স্বপ্নে তেমন কিছু দেখে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: “যখন কোনো নারী তা দেখে এবং তার বীর্যপাত ঘটে, তখন সে যেন গোসল করে।”।

আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আফফানের আযাদকৃত দাস আবদুল জব্বার আল-আইলি ইবনে উমর আবু উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আতা আল-খুরাসানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি খাওলাহ থেকে, তিনি উম্মে সুলাইম থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
22 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا سَعِيدٌ، حَدَّثَنِي أَبُو عَقِيلٍ زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِشَامٍ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ بِنْتُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«هُوَ صَغِيرٌ» .

فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ، وَكَانَ يُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ جَمِيعِ أَهْلِهِ
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু আকীল জুহরাহ বিন মা’বাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ বিন হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। তার মা জয়নাব বিনতে হুমাইদ তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তার বায়আত গ্রহণ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে তো ছোট»।

অতঃপর তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। আর তিনি (আবদুল্লাহ বিন হিশাম) তার পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে একটিমাত্র বকরি কুরবানি করতেন।
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
23 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ عُمَرَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاثِينَ»
২৩ - আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবন উমর আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুদ্দী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো; আর যদি আকাশ তোমাদের নিকট মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে সংখ্যা ত্রিশ দিন পূর্ণ করো»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
24 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الأَسْوَدِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ مَظْلُومًا فَلَهُ الْجَنَّةُ»
২৪ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আসওয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা থেকে, যিনি ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যাকে তার সম্পদের রক্ষার্থে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
25 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، ثنا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : "‌‌ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ} [التحريم: 1] .

فِي الْمَرْأَةِ الَّتِي وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
২৫ - আমাদের নিকট আব্বাস বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে উমর আল-আদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাকাম ইবনে আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "‌‌এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে: {হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন, আপনি তা কেন হারাম করছেন?} [আত-তাহরীম: ১]।

সেই মহিলার ব্যাপারে যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিজেকে নিবেদন করেছিল।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
26 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، نا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: "‌‌ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى فَضَّلَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَعَلَى الأَنْبِيَاءِ، قَالُوا: يَابْنَ عَبَّاسٍ مَا فَضْلُهُ عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَالَ لأَهْلِ السَّمَاءِ: {وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 29] ، وَقَالَ اللَّهُ عز وجل لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا {1} لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} [الفتح: 1-2] .

قَالُوا: يَابْنَ عَبَّاسٍ، فَمَا فَضْلُهُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ؟ قَالَ: لأَنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلا بِلِسَانِ قَوْمِهِ} [إبراهيم: 4] .

وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا} [سبأ: 28] .

فَأَرْسَلَهُ اللَّهُ إِلَى الْجِنِّ وَالإِنْسِ "
২৬ - আমাদের নিকট আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাফস ইবনে উমর আল-আদানি থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: "‌‌নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আসমানবাসী এবং নবীগণের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তারা বলল: হে ইবনে আব্বাস আসমানবাসীদের উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আসমানবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {তাদের মধ্যে যে বলবে যে, আমিই ইলাহ তিনি ব্যতীত, তবে তাকে আমি জাহান্নাম দ্বারা প্রতিফল দেব; এভাবেই আমি যালিমদের প্রতিফল দিয়ে থাকি} [আল-আম্বিয়া: ২৯], আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি। যাতে আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন} [আল-ফাতহ: ১-২]।

তারা বলল: হে ইবনে আব্বাস, তবে নবীগণের উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী? তিনি বললেন: কারণ আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর কওমের ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি} [ইবরাহিম: ৪]।

আর মহান আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলেছেন: {আমি তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা হিসেবেই প্রেরণ করেছি} [সাবা: ২৮]।

সুতরাং আল্লাহ তাঁকে জিন ও মানুষের প্রতি প্রেরণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
27 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، ثنا الْحَكَمُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْهِرُّ مِنْ مَتَاعِ الْبَيْتِ»
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবন উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «বিড়াল ঘরের আসবাবপত্রের অন্তর্ভুক্ত»
(খণ্ড: ১) হাদীস আব্বাস আত-তারকুফী (পৃষ্ঠা: -)
28 - حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، ثنا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى الْمُحَارِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ غَيْلانَ، عَنْ عُثْمَانَ الأَعْشَى، قَالَ: حَدَّثَتْنِي حَكِيمَةُ الثَّقَفِيَّةُ، عَنْ زَوْجِهَا يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ: زَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةً إِمَّا مَاشِطَةً وَإِمَّا عَطَّارَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مُتَخَلِّقٌ، فَقَالَ لِي: ‌‌«أَلا تَغْسِلُ هَذَا النَّتْنَ عَنْكَ؟ أَفَلا تَغْسِلُ هَذَا الرِّجْسَ عَنْكَ» .

فَأَتَيْتُ بِئْرًا فَاغْتَسَلْتُ فِيهِ حَتَّى اصْفَرَّ الْمَاءُ
، ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيَّ أَثَرُهُ قَالَ: «اذْهَبْ فَاغْسِلْهُ» .

فَغَسَلْتُهُ فَلَمْ يَذْهَبْ حَتَّى دَلَكْتُهُ بِالتُّرَابِ
২৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-মুহারিবি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন গাইলান থেকে, তিনি উসমান আল-আশা থেকে, তিনি বলেন: আমার কাছে হাকীমা আস-সাকাফিয়া বর্ণনা করেছেন তাঁর স্বামী ইয়ালা ইবনে উমাইয়াহ থেকে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে একজন নারীর সাথে বিবাহ দিলেন, যে ছিল হয় চুল বিন্যাসকারিনী অথবা সুগন্ধি বিক্রেতা। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে আমি সুগন্ধি (খালুক) মেখেছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: «তুমি কি তোমার থেকে এই দুর্গন্ধ ধুয়ে ফেলবে না? তুমি কি তোমার থেকে এই অপবিত্রতা ধুয়ে ফেলবে না?»

অতঃপর আমি একটি কূয়ার নিকট আসলাম এবং তাতে গোসল করলাম, এমনকি পানি হলুদ হয়ে গেল
। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং আমার শরীরে তখনও তার চিহ্ন ছিল। তিনি বললেন: «যাও এবং এটি ধুয়ে ফেলো»।

অতঃপর আমি তা ধুয়ে ফেললাম কিন্তু তা যাচ্ছিল না, অবশেষে আমি তা মাটি দিয়ে ঘষলাম।