(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
مجلس من إملاء الفارسي ومجلسان من إملاء البخاري   (نصر بن عبد العزيز الفارسي)

القسم: كتب السنة


الفارسي ومجلسان من إملاء أبي زكريا عبد الرحيم بن أحمد بن نصر البخاري

المؤلف: نصر بن عبد العزيز بن أحمد، أبو الحسين الفارسي (ت 461هـ) ، وأبو زكريا عبد الرحيم بن أحمد بن نصر البخاري (ت 461هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 38

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফারিসির শ্রুতিলিপি থেকে একটি মজলিস এবং আল-বুখারির শ্রুতিলিপি থেকে দুইটি মজলিস   (নাসর বিন আব্দুল আজিজ আল-ফারিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


আল-ফারিসি এবং আবু যাকারিয়া আব্দুর রহিম বিন আহমদ বিন নাসর আল-বুখারির শ্রুতিলিপি থেকে দুইটি মজলিস

লেখক: নাসর বিন আব্দুল আজিজ বিন আহমদ, আবুল হুসাইন আল-ফারিসি (মৃত্যু ৪৬১ হিজরি) , এবং আবু যাকারিয়া আব্দুর রহিম বিন আহমদ বিন নাসর আল-বুখারি (মৃত্যু ৪৬১ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক (Islamweb) সাইটের আওতাভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[বইটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ فِيهِ مَجْلِسٌ مِنْ إِمْلاءِ الشَّيْخِ أَبِي الْحُسَيْنِ نَصْرِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْفَارِسِيِّ الْمُقْرِئِ وَفِيهِ مَجْلِسَانِ مِنْ إِمْلاءِ الشَّيْخِ أَبِي زَكَرِيَّا عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الْبُخَارِيِّ، رحمه الله.

حَدَّثَنَا بِهِ عَنْهُمَا الشَّيْخُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْجَارُودِ الْمُقْرِئُ، رحمه الله.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَجْلِسٌ مِنْ إِمْلاءِ الشَّيْخِ أَبِي الْحُسَيْنِ نَصْرِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْفَارِسِيِّ الْمُقْرِئِ
এই অংশটিতে শাইখ আবুল হুসাইন নসর ইবন আব্দুল আজীজ আল-ফারিসী আল-মুকরীর শ্রুতলিপি থেকে একটি মজলিস এবং এতে শাইখ আবু যাকারিয়া আব্দুস সামাদ ইবন আহমদ ইবন নসর আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রুতলিপি থেকে দুটি মজলিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবু জাফর আহমদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আলী ইবনুল জারুদ আল-মুকরী (রহিমাহুল্লাহ)।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শাইখ আবুল হুসাইন নসর ইবন আব্দুল আজীজ আল-ফারিসী আল-মুকরীর শ্রুতলিপি থেকে একটি মজলিস।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ الْقَاضِي أَبِي الْفَضْلِ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْعُثْمَانِيِّ الدِّيبَاجِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَهُوَ يَسْمَعُ ، وَقُلْتُهُ مِنْ أَصْلِهِ فِي يَوْمِ الأَحَدِ السَّادِسِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ شَهْرِ رَبِيعٍ الآخَرِ مِنْ سَنَةِ إِحْدَى وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْجَارُودِ، فِي يَوْمِ السَّبْتِ الثَّامِنِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ جُمَادَى الآخِرَةِ سَنَةَ إِحْدَى عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قَالَ: أَمْلَى عَلَيْنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْفَارِسِيُّ الْمُقْرِئُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ الْمُقْرِئُ، رحمه الله، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، وَجِبْرِيلُ بْنُ مُجَّاعَةَ، قَالا: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، رضي الله عنه، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْعُلَمَاءُ فِي الأَرْضِ كَمَثَلِ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ يُهْتَدَى بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ، فَإِذَا انْطَمَسَتْ يُوشِكُ أَنْ يَضِلَّ الْهُدَاةَ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ কাজী আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে কাজী আবুল ফজল ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাঈল আল-উসমানি আদ-দিবাজি, তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং তিনি শুনছিলেন; আর আমি তা তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করেছি রবিবার, ২৬ রবিউস সানি, ৫৫১ হিজরি সালে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলি ইবনুল জারুদ, শনিবার, ২৮ জমাদিউস সানি, ৫১১ হিজরি সালে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইখ আবুল হাসান নাসর ইবনে আবদুল আজিজ আল-ফারিসি আল-মুকরি শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলি ইবনে যাইদ আল-মুকরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে জিয়াদ আল-মুকরি। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান এবং জিবরিল ইবনে মুজ্জাআহ। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “পৃথিবীতে আলেমদের উদাহরণ হলো আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়, যার দ্বারা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চেনা যায়। সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন পথপ্রদর্শকদেরও পথ হারানোর উপক্রম হয়।”
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ طَلْحَةَ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاعِظُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ، قَالَ: قَرَأْتُ لِعِيسَى، عليه السلام، فِي إِسْرَائِيلِيَّاتٍ: مَا أَكْثَرَ الشَّجَرَ، وَلَيْسَ كُلُّهَا ثَمَرًا، وَمَا أَكْثَرَ الْعُلَمَاءَ، وَلَيْسَ كُلُّهُمْ مُرْشِدًا، وَمَا أَكْثَرَ الثِّمَارَ، وَلَيْسَ كُلُّهَا بِطَيِّبٍ، وَمَا أَكْثَرَ الْعُلُومِ، وَلَيْسَ كُلُّهَا بِنَافِعٍ
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে তালহা আল-বাসরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ওয়ায়েয, ইয়াহইয়া ইবনে মুআয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইসরাঈলী রেওয়ায়াতসমূহে ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে পড়েছি: বৃক্ষ কতই না বেশি, কিন্তু তার সবগুলোতে ফল ধরে না; আলেম কতই না বেশি, কিন্তু তাদের সকলে পথপ্রদর্শক নয়; ফল কতই না বেশি, কিন্তু তার সবগুলো উত্তম নয়; এবং জ্ঞান কতই না বেশি, কিন্তু তার সবগুলোই উপকারী নয়।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْخَرْجُوشِيُّ، بِفَارِسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، قَالَ: ثنا ابْنُ خُبَيْقٍ، قَالَ: كَتَبَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ: إِنْ كَانَ الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى ـ يَعْنِي: الرَّقَاشِيَّ ـ لَمْ يَغِشَّ السُّلْطَانَ فَأَقْرِئْهُ مِنِّي السَّلامَ
৩ - পারস্যে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-খারজুশি, তিনি বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মানসুর আল-হাফিজ, তিনি বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাইয়িব, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে খুবাইক, তিনি বলেছেন: আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের নিকট লিখে পাঠালেন: যদি ফজল ইবনে মুসা—অর্থাৎ আর-রাকাশি—শাসকের সাথে (দীনের বিষয়ে) প্রতারণা না করে থাকেন, তবে তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিও।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّقَّاشُ، قَالَ: ثنا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ مُلاعِبِ بْنِ حَيَّانَ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَضْرَمِيِّ، قَالَ: أنا عَزْرَةُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمُّ الْفَيْضِ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "‌‌ مَنْ قَالَ هَؤُلاءِ الْعَشْرِ كَلِمَاتٍ لَيْلَةَ عَرَفَةَ أَلْفَ مَرَّةٍ لَمْ يَسْأَلِ اللَّهَ عز وجل شَيْئًا إِلا أَعْطَاهُ إِلا قَطِيعَةَ رَحِمٍ أَوْ مَأْثَمًا: سُبْحَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ عَرْشُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الأَرْضِ مَوْطِئُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْبَحْرِ سَبِيلُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي النَّارِ سُلْطَانُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْجَنَّةِ رَحْمَتُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْهَوَاءِ رُوحُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْقُبُورِ قَضَاؤُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاءَ، سُبْحَانَ الَّذِي وَضَعَ الأَرْضَ، سُبْحَانَ الَّذِي لا مَلْجَأَ وَلا مَنْجَى مِنْهُ إِلا إِلَيْهِ "
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তামীমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আন-নাক্কাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফজল আহমদ ইবনে মুলাইব ইবনে হাইয়্যান আল-জাওহারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল হাদরামী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আজরাহ ইবনে কায়েস, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উম্মুল ফায়জ, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "‌‌যে ব্যক্তি আরাফাতের রাতে এই দশটি বাক্য এক হাজার বার পাঠ করবে, সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে যা কিছু চাইবে তিনি তাকে তা দান করবেন, তবে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা বা কোনো পাপের কাজ ব্যতীত: পবিত্র সেই সত্তা, আসমানে যাঁর আরশ; পবিত্র সেই সত্তা, জমিনে যাঁর পা রাখার জায়গা; পবিত্র সেই সত্তা, সমুদ্রে যাঁর পথ; পবিত্র সেই সত্তা, জাহান্নামে যাঁর আধিপত্য; পবিত্র সেই সত্তা, জান্নাতে যাঁর রহমত; পবিত্র সেই সত্তা, শূন্যে যাঁর রুহ; পবিত্র সেই সত্তা, কবরে যাঁর ফয়সালা; পবিত্র সেই সত্তা, যিনি আসমানকে সমুন্নত করেছেন; পবিত্র সেই সত্তা, যিনি জমিনকে বিছিয়েছেন; পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর নিকট ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং যাঁর নিকট ছাড়া কোনো মুক্তি নেই।"
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الْجَوْهَرِيُّ الدَّوْسِيُّ، قَالَ: أنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ عُتْبَةَ الرَّازِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ كِتَابِهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: ثنا أَبُو عُمَرَ الْمِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَ: ثنا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ تَطَوَّلَ عَلَى أَهْلِ عَرَفَاتٍ فَبَاهَى بِهِمُ الْمَلائِكَةَ، فَقَالَ: «يَا مَلائِكَتِي، انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي شُعْثًا غُبْرًا، أَقْبَلُوا يَضْرِبُونَ إِلَيَّ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ، اشْهَدُوا أَنِّي قَدْ أَجَبْتُ دَعْوَتَهُمْ، وَأَسْعَفْتُ رَغْبَتَهُمْ، وَوَهَبْتُ مُسِيئَهُمْ لِمُحْسِنِهِمْ، وَأَعْطَيْتُ مُحْسِنَهُمْ مَا سَأَلَنِي غَيْرَ التَّبِعَاتِ الَّتِي بَيْنَهُمْ» .

ثُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ أَفَاضُوا مِنْ عَرَفَاتٍ إِلَى جَمْعٍ، فَوَقَفُوا وَعَادُوا إِلَى اللَّهِ فِي الرَّغْبَةِ وَالطَّلَبِ، فَيَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: «يَا مَلائِكَتِي، عِبَادِي وَقَفُوا فَعَاوَدُونِي فِي الرَّغْبَةِ وَالطَّلَبِ، أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَجَبْتُ دَعْوَتَهُمْ، وَشَفَّعْتُ رَغْبَتَهُمْ، وَوَهَبْتُ مُسِيئَهُمْ مُحْسِنَهُمْ، وَأَعْطَيْتُ مُحْسِنَهُمْ جَمِيعَ مَا سَأَلَنِي، وَكَفَلْتُ عَنْهُمُ التَّبِعَاتِ الَّتِي بَيْنَهُمْ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুয়াইব ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মা'মার আল-জাওহারী আদ-দাওসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবূ আব্বাস আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে উতবা আর-রাযী তাঁর কিতাব থেকে পাঠ করে শুনিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবূ উমর আল-মিকদাম ইবনে দাঊদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবূ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুগীরা আল-মাখযূমী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সালিহ আল-মুররী বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ আল-রাকাশী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরাফাতবাসীর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন এবং ফেরেশতাদের নিকট তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেছেন: 'হে আমার ফেরেশতারা, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা উসকোখুসকো চুলে ও ধূলিমলিন অবস্থায় দূর-দূরান্তের গভীর পথ পাড়ি দিয়ে আমার দিকে অগ্রসর হয়েছে। তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমি তাদের ডাক কবুল করেছি, তাদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছি, তাদের মধ্যকার অপরাধীদের নেককারদের সুপারিশে মার্জনা করেছি এবং নেককারদের তারা যা প্রার্থনা করেছে তা প্রদান করেছি; কেবল তাদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়-দেনা ব্যতীত'।"

অতঃপর তারা আরাফাত থেকে জাম' (মুযদালিফা) এর দিকে রওয়ানা হলো এবং সেখানে অবস্থান গ্রহণ করে পুনরায় আল্লাহর প্রতি ব্যাকুলতা ও প্রার্থনায় লিপ্ত হলো। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "হে আমার ফেরেশতারা, আমার বান্দারা অবস্থান নিয়েছে এবং পুনরায় আমার কাছে ব্যাকুলতা ও প্রার্থনায় ফিরে এসেছে। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ডাক কবুল করেছি, তাদের আকাঙ্ক্ষাকে মঞ্জুর করেছি, তাদের অপরাধীদের নেককারদের উছিলায় ক্ষমা করেছি, নেককারদের যা কিছু তারা আমার নিকট প্রার্থনা করেছে তার সবটুকুই প্রদান করেছি এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়-দেনার ভার আমি নিজেই গ্রহণ করেছি।"
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - قَالَ: ثنا أَبُو أَحْمَدَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُسْلِمٍ الْفَرَضِيُّ، قَالَ: أنا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ النَّجَّادُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى، قَالَ: أنا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَرْزُوقٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيُبَاهِي بِهِمُ الْمَلائِكَةَ، فَيَقُولُ عز وجل: «انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي ، أَتَوْنِي شُعْثًا غُبْرًا ضَاحِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ ، أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غفَرْتُ لَهُمْ» .

فَتَقُولُ الْمَلائِكَةُ: أَيْ رَبِّ، إِنَّ فِيهِمْ فُلانٌ مُرَهَّقٌ، وَفُلانٌ كَذَا، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: «قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ عَلَى مَا كَانَ مِنْهُمْ» .

فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: " فَمَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ عِتْقًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ
৬ - তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি মুসলিম আল-ফারাযী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে সালমান আল-ফকিহ আন-নাজ্জাদ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মারযুক, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ যখন আরাফাতের দিন আসে, তখন মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ফেরেশতাদের সামনে তাদের নিয়ে গর্ব করেন। অতপর মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: «তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে আলুথালু চুলে এবং ধুলোবালিমাখা অবস্থায় রোদে পুড়ে আমার কাছে এসেছে। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।» .

তখন ফেরেশতারা বলেন: হে আমাদের পালনকর্তা, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি পাপের ভারে জর্জরিত, আর অমুক এই এই কাজ করেছে। তখন মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: «তাদের যা কিছু ছিল সব সত্ত্বেও আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।» .

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আরাফাতের দিনের চেয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার আর কোনো দিন নেই।"
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - قَالَ: وَثنا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ سُلَيْمَانَ ، قَالَ: ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: ثنا زَائِدَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، قَالَ: ثنا حَرْمَلَةُ بْنُ إِيَاسٍ الْغَسَّانِيُّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«صَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ كَفَّارَةُ سَنَتَيْنِ ، سَنَةٍ قَبْلَها وَسَنَةٍ بَعْدَها»
৭ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া বিন আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যায়িদাহ বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি আবু আল-খালীল থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হারমালাহ বিন ইয়াস আল-গাসসানি বর্ণনা করেছেন আবু কাতাদা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: ‌‌«আরাফাহর দিনের রোজা দুই বছরের কাফফারা; তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং তার পরবর্তী এক বছর»
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: ثنا عَلِيّ بْن مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الأَشْعَثُ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، يَقُولُ:‌‌ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، ولا إله إلا الله ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ
8 - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-মিসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী আল-আশ’আছ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক আল-হামদানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: চিরস্থায়ী সৎকাজসমূহ (আল-বাকিয়াতুস সালিহাত) হলো—সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতীব পবিত্র), আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: ثنا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقِيقِيُّ، قَالَ: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْهَيْثَمِ، قَالَ: ثنا آدَمُ، قَالَ: وَثنا وَرْقَاءُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ} [البقرة: 285] فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَالَ: {غُفْرَانَكَ رَبَّنَا} [البقرة: 285] قَالَ اللَّهُ عز وجل: ‌‌«قَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ» .

فَلَمَّا قَالَ: {لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [البقرة: 286] قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: «لا
أُؤَاخِذُكُمْ» .

فَلَمَّا قَالَ: {وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا} [البقرة: 286] .

قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: «لا أَحْمِلُ عَلَيْكُمْ» .

قَالَ: فَلَمَّا قَالَ: {وَاعْفُ عَنَّا} [البقرة: 286] .

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: «قَدْ عَفَوْتُ عَنْكُمْ» .

فَلَمَّا قَالَ: {وَاغْفِرْ لَنَا} [البقرة: 286] .

قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: «قَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ» .

قَالَ: فَلَمَّا قَالَ: {وَارْحَمْنَا} [البقرة: 286] .

قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: «قَدْ رَحِمْتُكُمْ» .

قَالَ: فَإِذَا قَالَ: {فانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} [البقرة: 286] .

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: «قَدْ نَصَرْتُكُمْ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ»
৯ - তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাকীকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুল হাইসাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম, তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ারকা, আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন "রাসূল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন" [আল-বাকারা: ২৮৫] আয়াতটি নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পাঠ করলেন। অতঃপর যখন তিনি বললেন: "(হে) আমাদের প্রতিপালক, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি" [আল-বাকারা: ২৮৫], তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বললেন: "আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"

অতঃপর যখন তিনি বললেন: "যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না" [আল-বাকারা: ২৮৬], তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: "আমি তোমাদের
পাকড়াও করব না।"

অতঃপর যখন তিনি বললেন: "এবং আপনি আমাদের ওপর এমন গুরুভার চাপিয়ে দেবেন না, যেমন চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর" [আল-বাকারা: ২৮৬]।

আল্লাহ সুবহানুহু বললেন: "আমি তোমাদের ওপর তা চাপাবো না।"

তিনি বলেন: অতঃপর যখন তিনি বললেন: "এবং আমাদের ক্ষমা করুন" [আল-বাকারা: ২৮৬]।

আল্লাহ তাআলা বললেন: "আমি তোমাদের মার্জনা করে দিয়েছি।"

অতঃপর যখন তিনি বললেন: "এবং আমাদের মাফ করে দিন" [আল-বাকারা: ২৮৬]।

আল্লাহ সুবহানুহু বললেন: "আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"

তিনি বলেন: অতঃপর যখন তিনি বললেন: "এবং আমাদের ওপর রহম করুন" [আল-বাকারা: ২৮৬]।

আল্লাহ সুবহানুহু বললেন: "আমি তোমাদের ওপর রহম করেছি।"

তিনি বলেন: অতঃপর যখন তিনি বলেন: "সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন" [আল-বাকারা: ২৮৬]।

আল্লাহ তাআলা বললেন: "আমি তোমাদের কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছি।"
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: ثنا أَبُو جَعْفَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عِيسَى بْنِ مَنْصُورِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: ثنا أَبُو عُمَرَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَلاءِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عُطَارِدِ بْنِ حَاجِبِ بْنِ زُرَارَةَ التَّمِيمِيُّ، ثُمَّ الْكُوفِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنهما، قَالا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، قَالَ الْمَلَكُ: وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَإِذَا قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، قَالَ الْمَلَكُ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، قَالَ الْمَلَكُ: وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، قَالَ الْمَلَكُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ "
১০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহীম ইবনে ঈসা ইবনে মনসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উমর আহমদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আলা ইবনুল আব্বাস ইবনে উমর ইবনে উতারিদ ইবনে হাজিব ইবনে যুরারা আত-তামীমী, অতঃপর আল-কূফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর, আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌যখন কোনো ব্যক্তি বলে: ‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহ অতি পবিত্র), তখন ফেরেশতা বলেন: ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর); আর যখন সে বলে: ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ’, তখন ফেরেশতা বলেন: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই); আর যখন কোনো ব্যক্তি বলে: ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, তখন ফেরেশতা বলেন: ‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ); আর যখন কোনো ব্যক্তি বলে: ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার’, তখন ফেরেশতা বলেন: ‘আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন’।"
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ تَمَّامٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: جَاءَتْ إِلَى عُمَرَ رضي الله عنه امْرَأَةٌ ، فَقَالَتْ: إِنَّ‌‌ لِي عَبْدًا قَدْ رَضِيتُ دِينَهُ وَأَمَانَتَهُ، وَأُرِيدُ أَنْ أَتَزَوَّجَ بِهِ، فَقَالَ لَهَا عُمَرُ: لَيْسَ لَكِ ذَلِكَ، قَالَتْ: وَلِمَ؟ أَلَيْسَ اللَّهُ عز وجل يَقُولُ: {إِلا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} [المؤمنون: 6] ؟ الآيَةَ.

قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: وَيْحَكِ، إِنَّمَا هُوَ لِلرِّجَالِ دُونَ النِّسَاءِ.

قَالَتْ: وَاللَّهِ لا أَدَعُ تَزْوِيجَهُ حَتَّى تَقْرَأَ عَلَيَّ بِهَا آيَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَنَّهَا لِلرِّجَالِ دُونَ النِّسَاءِ، فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: وَاللَّهِ ، لَئِنْ فَعَلْتِ لأَجْلِدَنَّكِ حَدًّا.

فَكَفَّتْ حِينَ رَأَتِ الْجَدَّ مِنْهُ
১১ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, মিনহাল ইবনে খলিফা থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে তাম্মাম থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এক মহিলা আসলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আমার একজন দাস রয়েছে যার দ্বীনদারি ও আমানতদারিতে আমি সন্তুষ্ট, এবং আমি তাকে বিবাহ করতে চাই। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: তোমার জন্য এটি বৈধ নয়। তিনি বললেন: কেন? মহান আল্লাহ কি বলেননি: {তাদের স্ত্রী অথবা তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্র ব্যতীত} [আল-মুমিনুন: ৬]? আয়াতাংশ।

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! এটি তো কেবল পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়।

মহিলাটি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাকে বিবাহ করা ছাড়ব না যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর কিতাব থেকে আমার সামনে এমন আয়াত পাঠ করবেন যে এটি কেবল পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি যদি এমনটি করো তবে আমি অবশ্যই তোমাকে নির্ধারিত দণ্ড (হদ) হিসেবে বেত্রাঘাত করব।

যখন তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যে কঠোরতা দেখলেন, তখন তিনি বিরত হলেন।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَسَنُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْبَيِّعِ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الدِّينَوَرِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَيَّاطُ، قَالَ: ثنا أَبُو حَمْزَةَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخَوَّاصُ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ الصُّوفِيِّ فَنَظَرَ إِلَى غُلامٍ، فَقَالَ: يَا مَنْ لَمْ يَجْعَلْ لِلإِبْصَارِ سَبِيلا فِي الدُّنْيَا إِلَى رُؤْيَتِهِ، وَلا جَعَلَ لِلْعِبَادِ أَمْرًا فِي مَشِيئَتِهِ، وَيَا مَنْ حَجَبَ الْقُلُوبَ دُونَ بَلاغِ كُنْهِ مَعْرِفَتِهِ، لا تَنْظُرَنَّ إِلَيَّ بِعَيْنِ مَاقِتٍ، فَإِنِّي نَظَرْتُ بِطَرْفِ بَاهِتٍ، وَأَنْتَ الْعَلِيمُ بِمَا أَخْفَتِ الصُّدُورُ، وَضَمَّتْ عَلَيْهِ حَوَاشِي الْقُلُوبِ مِنْ خَطَرَاتِ الْفِكَرِ وَدَوَاعِي شَهَوَاتِ النَّظَرِ، وَمَا أَظْهَرَتْهُ النُّفُوسُ مِنْ فِتْنَةٍ أَوْ عِصْمَةٍ، فَبِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ أَلا عَصَمْتَنِي، فَإِنَّهُ لا يَمْلِكُ عِصْمَتِي أَحَدٌ سِوَاكَ، فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ
১২ - মুহাম্মদ বিন আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন আল-কাসিম বিন আল-বাইয়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আমর আদ-দিনাওয়ারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আব্দুল্লাহ আল-খাইয়াত আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হামজা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-খাওয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন সালিহ আস-সুফির সাথে ছিলাম, তখন তিনি এক যুবকের দিকে তাকালেন এবং বললেন: হে সেই সত্তা, যিনি এই দুনিয়াতে (মানুষের) দৃষ্টির জন্য তাকে দেখার কোনো পথ রাখেননি এবং তার ইচ্ছার ব্যাপারে বান্দাদের জন্য কোনো এখতিয়ার রাখেননি; এবং হে সেই সত্তা, যিনি অন্তরসমূহকে তার পরিচয়ের প্রকৃত সারমর্মে পৌঁছাতে বাধা দিয়ে রেখেছেন; আপনি আমার দিকে ক্রোধের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, কেননা আমি তো বিস্ময়বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়েছি; আর আপনি সেই বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত যা বক্ষসমূহ গোপন করে এবং চিন্তার কল্পনা ও দৃষ্টির লালসার তাড়নায় হৃদয়ের কিনারাসমূহ যা ধারণ করে আছে, এবং প্রবৃত্তি ফিতনা বা পবিত্রতা যা কিছুই প্রকাশ করে। অতএব, আপনার মহান মুখমণ্ডলের অসিলায় আপনি কি আমাকে রক্ষা করবেন না? কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ আমাকে রক্ষা করার মালিক নয়। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَلَفِ بْنِ أَيُّوبَ الْبَزَّازُ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ مِنْ كِتَابِ الشَّيْخِ عَلِيِّ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، قَالَ: احْذَرُوا غَيْرَةَ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، فَلَهُمْ أَشَدُّ غَيْرَةً مِنَ التُّيُوسِ
১৩ - তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন খালাফ বিন আইয়ুব আল-বায্যায, তিনি বলেন: শায়খ আলী বিন আসিম বিন আলীর কিতাব থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি বলেন: তোমরা হাদীস বিশারদগণের একে অপরের প্রতি ঈর্ষা সম্পর্কে সতর্ক থাকো; কেননা তাদের মধ্যকার ঈর্ষা পাঠাদের ঈর্ষার চেয়েও অধিক তীব্র।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّوْحِيدِيُّ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: ثنا تَغْلِبُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: ثنا شَبِيبٌ، عَنِ الزُّبَيْرِ:

أَعْوَامُ وَصْلٍ كَانَ يُنْسِي طُولَهَا … ذِكْرُ الْهَوَى فَكَأَنَّهَا أَيَّامُ

ثُمَّ انْبَرَتْ أَيَّامُ هَجْرٍ أَرْدَفَتْ … بِجَوًى أَسًى فَكَأَنَّهَا أَعْوَامُ

ثُمَّ انْقَضَتْ تِلْكَ السُّنُونُ وَأَهْلُهَا … فَكَأَنَّهَا وَكَأَنَّهُمْ أَحْلامُ

مَجْلِسٌ مِنْ إِمْلاءِ أَبِي زَكَرِيَّا عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الْبُخَارِيِّ رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ.
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাগলিব আবু আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবীব, তিনি যুবায়র থেকে বর্ণনা করেন:

মিলন ও সংযোগের সেই বছরগুলো, অনুরাগের স্মৃতি যার দীর্ঘতাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল, ফলে মনে হয় সেগুলো যেন ছিল মাত্র কয়েক দিন;

এরপর বিচ্ছেদের দিনগুলো ধেয়ে এল, যার অনুগামী হলো শোকের দহন, ফলে মনে হয় সেগুলো যেন ছিল দীর্ঘ কয়েক বছর;

অতঃপর সেই বছরগুলো এবং তার বাসিন্দারা গত হয়ে গেল, যেন তারা এবং সেই সময়গুলো ছিল নিছক স্বপ্ন মাত্র।

আবু জাকারিয়া আব্দুর রহীম ইবনে আহমদ ইবনে নাসর আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ইমলা (শ্রুতিলিপি) থেকে গৃহীত একটি মজলিস।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْفَقِيهُ الْعُثْمَانِيُّ، قَالَ: أنا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْجَارُودِ، قَالَ: أَمْلَى عَلَيْنَا الشَّيْخُ الْحَافِظُ أَبُو زَكَرِيَّا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ أَحْمَدَ الْبُخَارِيُّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ رَابِعَ عَشَرَ خَلَوْنِ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ النَّجَّادِ، بِالْبَصْرَةِ فِي بَنِي حَرَامٍ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَادَرَائِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: ثنا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: ثنا أَبُو سَعْدٍ الْبَقَّالُ ابْنُ عَبْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، رضي الله عنه، قَالَ: سَأَلْتُ عَلِيًّا، رضي الله عنه عَنِ الْمُتْعَةِ؟ قَالَ: نَادَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ أَوْ حُنَيْنٍ: ‌‌«أَنَّ مُتْعَةَ النِّسَاءِ حَرَامٌ»
১৫ - আল-কাজী আল-ফকিহ আল-উসমানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল জারুদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: শায়খ হাফিজ আবু যাকারিয়া আব্দুর রহিম ইবনে আহমাদ আল-বুখারি ৪৫৬ হিজরি সনের যিলহজ মাসের চৌদ্দ তারিখ শুক্রবার আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনুল কাসিম ইবনুল হাসান ইবনুন নাজ্জাদ বসরার বনু হারামে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ইসহাক আল-মাদারায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাদ আল-বাক্কাল ইবনে আব্দ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মুতআ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার বা হুনায়নের দিনে ঘোষণা করেছিলেন: «নিশ্চয়ই নারীদের সাথে মুতআ করা হারাম»
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي مَطَرٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَروفٍ، قَالَ: ثنا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَالْحَسَنِ، ابْنَيْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«نَهَى عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ، وَعَنْ أَكْلِ لُحُومِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ» .

قَالَ شَيْخُنَا النَّجَّادِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ رحمه الله فِي الْمَغَازِي فِي غَزْوَةِ خَيْبَرَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ قَزَعَةَ، عَنْ مَالِكٍ، وَفِي بَابِ الذَّبَائِحِ فِي بَابِ لُحُومِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ مَالِكٍ، وَفِي بَابِ النِّكَاحِ فِي بَابِ نَهْيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِكَاحِ الْمُتْعَةِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، وَفِي تَرْكِ الْحِيَلِ فِي بَابٍ بَعْدَهُ: مَا يُكْرَهُ مِنَ الاحْتِيَالِ فِي الْبُيُوعِ.

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي النِّكَاحِ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ مَالِكٍ، وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ، وَزُهَيْرٍ، وَابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ سُفْيَانَ، وَعَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَعَنْ أَبِي الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، وَأَعَادَهُ مُسْلِمٌ فِي كِتَابِ الذَّبَائِحِ، فَزَادَ: وَعَنْ إِسْحَاقَ، وَعَبْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَالْحَسَنِ، ابْنَيْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ: نَهَىَ عَبَّاسًا رضي الله عنه، فَذَكَرَهُ وَلَمْ يَذْكُرْهُ فِي كِتَابِ الذَّبَائِحِ حَدِيثَ جُوَيْرِيَةَ عَنْ مَالِكٍ
১৬ - আমাদের নিকট আলী ইবনে আবি মাতার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে খারুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাকর ইবনে সাহল বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে, মালিক থেকে, ইবনে শিহাব থেকে, আবদুল্লাহ ও হাসান থেকে—যাঁরা মুহাম্মদ ইবনে আলীর দুই পুত্র—তাঁরা তাঁদের পিতা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): ‌‌«খায়বারের যুদ্ধের দিন নারীদের সাথে মুতআ (সাময়িক বিবাহ) এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ করেছেন।»

আমাদের শায়খ আল-নাজ্জাদি বলেন: এটি একটি সহীহ হাদীস
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এটি তাঁর ‘আল-মাগাযী’ (যুদ্ধাভিযান) কিতাবে খায়বার যুদ্ধ অধ্যায়ে ইয়াহইয়া ইবনে কাযা’আ থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ‘জাবাইহ’ (যবাইকৃত পশু) কিতাবে ‘গৃহপালিত গাধার গোশত’ পরিচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ‘নিকাহ’ (বিবাহ) কিতাবে ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক নিকাহে মুতআ নিষেধ’ পরিচ্ছেদে মালিক ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ‘তারকুল হিয়াল’ (কৌশল বর্জন) কিতাবে তার পরবর্তী একটি পরিচ্ছেদে: ‘ক্রয়-বিক্রয়ে যে ধরনের কৌশল অবলম্বন অপছন্দনীয়’ সেখানে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম এটি ‘নিকাহ’ কিতাবে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মালিক থেকে; এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা থেকে, তিনি জুয়াইরিয়া থেকে, তিনি মালিক থেকে; এবং আবু বকর, যুহাইর ও ইবনে নুমাইর থেকে, তাঁরা সুফিয়ান থেকে; এবং ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে; এবং উবাইদুল্লাহ থেকে; এবং আবুল তাহির ও হারমালা থেকে, তাঁরা ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি পুনরায় ‘যাবাইহ’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ও আবদ থেকে, তাঁরা আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে—তাঁরা সকলেই যুহরী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ও হাসান থেকে—যাঁরা মুহাম্মদের দুই পুত্র—তাঁরা তাঁদের পিতা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে (মুতআ থেকে) নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন; তবে তিনি ‘যাবাইহ’ কিতাবে মালিক থেকে জুয়াইরিয়ার হাদীসটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ النَّجَّادُ، بِالْبَصْرَةِ ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَادَرَائِيُّ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: ثنا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، وَقَالَ مَرَّةً: مِسْعَرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه، لِعَبْدِ اللَّهِ ـ يَعْنِي: ابْنَ جَعْفَرٍ رضي الله عنهما: أَلا أُعَلِّمُكَ كَلِمَتَيْنِ لَمْ أُعَلِّمْهُمَا حَسَنًا وَلا حُسَيْنًا،‌‌ إِذَا أَصَابَكَ شَيْءٌ فَأَحْبَبْتَ أَنْ تَنْجَحَ قُلْ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ
১৭ - বসরায় আলী ইবনুল কাসিম আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ইসহাক আল-মাদারাই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে হারব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে আউন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান—এবং একবার তিনি মিসআরের নাম উল্লেখ করেছেন—মানসুর থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবদুল্লাহকে—অর্থাৎ ইবনে জাফর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে—বললেন: আমি কি তোমাকে এমন দুটি বাক্য শিখিয়ে দেব না যা আমি হাসান এবং হুসাইনকেও শিখাইনি? যখন তোমার ওপর কোনো বিপদ আসে এবং তুমি তাতে সফল হতে চাও, তখন বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি সুউচ্চ, সুমহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই আল্লাহ, তিনি একক, অতি সহনশীল, অতি দানশীল।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا أَبِي وَعَمَّايَ؛ أَبُو الْقَاسِمِ جَعْفَرٌ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدٌ، وَأَبُو الْحَسَنِ بَنُو عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ، رضي الله عنهم، قَالُوا: قُرِئَ عَلَى جَدِّنَا الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، وَنَحْنُ حُضُورٌ نَسْمَعُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمِّي يَعْقُوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ ـ يَعْنِي: سُلَيْمَانَ بْنَ عَلِيٍّ ـ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَخَذَ بِرِكَابِ أَخِيهِ لِغَيْرِ رَغْبَةٍ أَوْ رَهْبَةٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
১৮ - বসরায় কাজী আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা এবং আমার দুই চাচা—আবুল কাসিম জাফর, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ এবং আবুল হাসান; তাঁরা হলেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে জাফর ইবনে সুলায়মান ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের পুত্র (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আমাদের দাদা আব্বাস ইবনে আব্দুল ওয়াহিদের সামনে হাদীসটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম। তিনি (দাদা) বলেন: আমার চাচা ইয়াকুব ইবনে সুলায়মান ইবনে আলী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর পিতা—অর্থাৎ সুলায়মান ইবনে আলী—থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো পার্থিব স্বার্থ বা ভীতি ছাড়াই (একান্তই নিঃস্বার্থভাবে) তার ভাইয়ের বাহনের রেকাব ধরে সাহায্য করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، وَعَمَّايَ، عَنْ جَدِّهِمْ، قَالَ: سَمِعْتُ أُمَّ الْحَسَنِ بِنْتَ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ، تَقُولُ: حَدَّثَنِي خَالِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنهم، عَنْ أُمِّهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهَا، عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَانَتْ مَشِيئَةُ اللَّهِ تَعَالَى فِي إِسْلامِ عَمِّي الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَمَشِيئَتِي فِي إِسْلامِ عَمِّي أَبِي طَالِبٍ، فَغَلَبَتْ مَشِيئَةُ اللَّهِ تَعَالَى مَشِيئَتِي»
১৯ - তিনি বলেন: আল-কাজী আবু উমর আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ও আমার দুই চাচা তাঁদের দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উম্মুল হাসান বিনতে সুলাইমান বিন আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার মামা আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবী তালিব (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর মা ফাতিমা বিনতে আল-হুসাইন বিন আলীর নিকট থেকে, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি তাঁর পিতা আলী বিন আবী তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার চাচা আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছা ছিল, আর আমার চাচা আবু তালিবের ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে আমার ইচ্ছা ছিল, অতঃপর মহান আল্লাহর ইচ্ছা আমার ইচ্ছার ওপর বিজয়ী হয়েছে।’»
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - قَالَ الشَّيْخُ: قَالَ لِي الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْهَاشِمِيُّ: كَانَ أَبِي يُلَقِّنُنِي الْهَاشِمِيَّاتِ وَأَنَا صَبِيٌّ لا أَعِي، فِي سَنَةِ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ وَثَلاثِ مِائَةً، ثُمَّ سَمِعْتُهُ مِنْهُ بَعْدَ مَا كَبِرْتُ
20 - শাইখ বললেন: কাযী আবু উমর আল-হাশেমী আমাকে বলেছেন: আমার পিতা আমাকে হাশেমিয়্যাতগুলো তালকীন করতেন যখন আমি এমন এক বালক ছিলাম যে কিছুই বুঝতাম না, তিনশ তেইশ হিজরী সালে; অতঃপর আমি বড় হওয়ার পর তা পুনরায় তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ النَّجَّادُ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَادَرَائِيُّ، قَالَ: ثنا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: ثنا هَارُونُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ حُرَيْثٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه، أَنَّهُ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ، رضي الله عنهما، قَالَ: ‌‌«إِنَّ خَيْرَ هَذِهِ الأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا صلى الله عليه وسلم أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، رضي الله عنهما، وَلَوْ شِئْتُ أَنْ أَذْكُرَ الثَّالِثَ لَذَكَرْتُهُ» .

قَالَ الشَّيْخُ: هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ هَذَا الطَّرِيقِ غَرِيبٌ، وَالْمَشْهُورُ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدٍ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ أَبِيهِ
২১ - আলী ইবনুল কাসিম আন-নাজ্জাদ বসরায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনে ইসহাক আল-মাদারায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে হুরায়স আমার নিকট আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মিম্বরের উপর উপবিষ্ট ছিলেন, অতঃপর তিনি আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আলোচনা করে বললেন: “নিশ্চয়ই এই উম্মতের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। আর আমি যদি তৃতীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চাইতাম, তবে অবশ্যই তা উল্লেখ করতাম।”

শায়খ বলেন: এই সূত্র থেকে এই হাদিসটি গরিব (তথা বিরল), আর এটি মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ কর্তৃক তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদিস হিসেবেই প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّجِيرَمِيُّ، فِي جَامِعِ الْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا أَبُو الْقَاسِمِ خَلَفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُوسَى الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ الْوَرَّاقُ، قَالَ: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ هَاشِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَاشِمٍ الطَّرِيفِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الدَّلالِ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: نا عُمَرُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: صَعِدَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ، فَقَالَ: ‌‌«إِذَا فَقَدْتُمُ الشَّمْسَ فَاطْلُبُوا الْقَمَرَ، وَإِذَا فَقَدْتُمُ الْقَمَرَ فَاطْلُبُوا الزُّهَرَةَ، وَإِذَا فَقَدْتُمُ الزُّهَرَةَ فَاطْلُبُوا الْفَرْقَدَيْنِ» .

قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنِ الشَّمْسُ؟ قَالَ: «أَنَا» .

قِيلَ: مَنِ الْقَمَرُ؟ قَالَ: «عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ» .

قِيلَ: مَنِ الزُّهُرَةُ؟ قَالَ: «فَاطِمَةُ» رضي الله عنها.

قِيلَ: مَنِ الْفَرْقَدَانِ؟ قَالَ: «الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنِ» رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ.

قَالَ الشَّيْخُ: فِي هَذَا الإِسْنَادِ نَظَرٌ، وَمَا رَأَيْنَاهُ فِي مُسْنَدِ شُعْبَةَ.

وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، عَنْ أَنَسٍ قَلِيلُ الرِّوَايَةِ غَرِيبٌ
২২ - বসরার জামে মসজিদে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আন-নাজিরিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসেম খালাফ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-ওয়ালিদ বিন মুসা আশ-শাইবানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালাম আল-ওয়াররাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আহমদ বিন হাশিম বিন মুহাম্মদ বিন হাশিম আত-তরিফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল হামিদ বিন মুহাম্মদ বিন আদ-দাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব আল-হাশিমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর বিন মারজুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: “যখন তোমরা সূর্যকে হারাবে, তখন চন্দ্রের সন্ধান করো; যখন চন্দ্রকে হারাবে, তখন শুক্র গ্রহের সন্ধান করো; আর যখন শুক্র গ্রহকে হারাবে, তখন তোমরা দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রের সন্ধান করো।”

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য কে? তিনি বললেন: “আমি।”

জিজ্ঞেস করা হলো: চন্দ্র কে? তিনি বললেন: “আলী বিন আবি তালিব।”

জিজ্ঞেস করা হলো: শুক্র গ্রহ কে? তিনি বললেন: “ফাতিমা” (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।

জিজ্ঞেস করা হলো: দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র কারা? তিনি বললেন: “হাসান ও হুসাইন” (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)।

শায়খ বলেন: এই সনদে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (এটি ত্রুটিযুক্ত), এবং আমরা এটি মুসনাদে শুবা-তে দেখিনি।

আর আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি কর্তৃক আনাস থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াত সংখ্যায় খুবই কম এবং তা বিরল।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَلاءِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ حَكَّامٍ الْحُدَّانِيُّ التَّمَّارُ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الْهَيْثَمِ، بِبَغْدَادَ ، ثنا ابْنُ أَبِي الْعَوَّامِ، قَالَ: ثنا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، ثنا شَرِيكٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي وَضَعْتُ تَحْتَ رَأْسِي خَيْطَيْنِ فَلَمْ يَتَبَيَّنْ لِي شَيْءٌ، قَالَ: ‌‌«إِنَّكَ لَعَرِيضُ الْوِسَادِ، إِنَّمَا ذَلِكَ اللَّيْلُ مِنَ النَّهَارِ، وَالنَّهَارُ مِنَ اللَّيْلِ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আলা মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন হাক্কাম আল-হুদ্দানি আত-তাম্মার, বসরায়, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন আল-হাইসাম, বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবিল আওয়াম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ ইবন আমির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারীক, হুসাইন থেকে, আমির থেকে, আদি ইবন হাতিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: আমি আমার মাথার নিচে দু’টি সুতা রেখেছিলাম, কিন্তু আমার নিকট কিছুই স্পষ্ট হলো না। তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই তোমার বালিশটি তবে অনেক প্রশস্ত; ওটা তো হলো দিন থেকে রাতের এবং রাত থেকে দিনের (পার্থক্যকারী রেখা)।”
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَرَ الذَّهَبِيُّ، بِالْبَصْرَةِ بِإِمْلائِهِ عَلَيَّ حِفْظًا، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الزِّئْبَقِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ، قَالَ: ثنا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ، قَالَ: ثنا الْمُثَنَّى بْنُ دِينَارٍ الْجَهْضَمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«طَلَبُ الْحَقِّ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
২৪ - আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উমর আল-জাহাবি বসরায় স্মৃতি থেকে পাঠ করে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উমর আজ-জি’বাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-কুদায়মি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে নুসাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুসান্না ইবনে দিনার আল-জাহদামি আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “সত্য অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর আবশ্যকীয় কর্তব্য।”
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، إِمْلاءً فِي جَامِعِ الْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا الْقَاسِمُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ خِرَاشٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "‌‌ إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسَ مِنْ كَلامِ النُّبُوَّةِ: إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ ".

قَالَ الشَّيْخُ: مَا رَوَى الْقَعْنَبِيُّ عَنْ شُعْبَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ ، وَذَلِكَ أَنَّهُ قَالَ لَهُ شُعْبَةُ: أَتَتْرُكُنِي فِي بَلَدٍ وَتَرْتَحِلُ إِلَى مَالِكٍ؟ فَأَلَحَّ عَلَيْهِ الْقَعْنَبِيُّ وَأَخَذَ لِجَامَ دَابَّتِهِ فَحَدَّثَهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَحَلَفَ شُعْبَةُ أَنْ لا يُحَدِّثَهُ
২৫ - আবুল কাসিম আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ বসরার জামে মসজিদে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনুল মুসান্না, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কানাবি, শু’বাহ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি রিবঈ ইবনে খিরাশ থেকে, তিনি আবু মাসউদ আল-বাদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ নিশ্চয়ই নবুওয়তের প্রাচীন বাণীসমূহ থেকে মানুষ যা লাভ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো। "

শায়খ বলেন: আল-কানাবি শু’বাহ থেকে এই হাদিসটি ছাড়া আর কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। এর কারণ হলো, শু’বাহ তাকে বলেছিলেন: "তুমি কি আমাকে (আমার) শহরে রেখে মালিকের নিকট চলে যাচ্ছ?" তখন আল-কানাবি তাকে অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করলেন এবং তার সওয়ারির লাগাম আঁকড়ে ধরলেন। ফলে তিনি তাকে এই হাদিসটি শোনালেন এবং শু’বাহ কসম করলেন যে, তিনি তাকে আর কোনো হাদিস শোনাবেন না।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَبِيبٍ الْمَتُّوثيُّ الْحَافِظُ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا فَارُوقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكَبِيرُ الْخَطَّابِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ النَّاجِيُّ، عَنْ مِشْرَحِ بْنِ هَاعَانَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه»
২৬ - আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাবীব আল-মাত্তুসি আল-হাফিয বসরায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফারূক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাবীর আল-খাত্তাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর আন-নাজী বর্ণনা করেছেন মিশরাহ ইবনে হা’আন থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যদি আমার পরে কোনো নবী হওয়ার থাকত, তবে তিনি অবশ্যই উমর ইবনুল খাত্তাব, রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেন।»
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ التَّوَّزِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: ثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الْهُجَيْمِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ يُونُسَ الْبَكَّائِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو رَبِيعَةَ فَهْدُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ: ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلا يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، يَفْتَحُ اللَّهُ لَهُ.

فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: مَا
أَحْبَبْتُ الإِمَارَةَ قَبْلَ يَوْمَئِذٍ، قَالَ: فَدَعَى عَلِيًّا فَبَعَثَهُ، فَقَالَ: «اذْهَبْ فَقَاتِلْ وَلا تَلْفَتْ حَتَّى يَفْتَحَ اللَّهُ عَلَيْكَ» .

قَالَ: فَمَضَى سَاعَةً ثُمَّ وَقَفَ وَلَمْ يَلْتَفِتْ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلَى مَا أُقَاتِلُ النَّاسَ؟ فَقَالَ: «قَاتِلْهُمْ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ مَنَعُوا مِنْكَ دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ» .

قَالَ الشَّيْخُ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «مَنَعُوا مِنْكَ» غَرِيبٌ
২৭ - বসরায় আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আত-তাওজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আলী আল-হুজাইমি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে ইউনুস আল-বাক্কায়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু রবিআ ফাহদ ইবনে আউফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দান করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে, আল্লাহ তার মাধ্যমে বিজয় দান করবেন।

অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি কখনোই
সেই দিনের আগে নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা করিনি। রাবী বলেন: অতঃপর তিনি আলীকে ডাকলেন এবং তাঁকে পাঠালেন। তিনি বললেন: «যাও এবং যুদ্ধ করো, আর আল্লাহ তোমার ওপর বিজয় দান না করা পর্যন্ত পিছন ফিরে তাকাবে না»।

তিনি বলেন: অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ চললেন, তারপর থামলেন এবং পিছন ফিরে তাকালেন না। এরপর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিসের ভিত্তিতে আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করব? তিনি বললেন: «তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। যখন তারা তা করবে, তখন তারা তোমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর»।

শায়খ বলেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «তারা তোমার থেকে নিরাপদ করে নিল» বাক্যটি বিরল।
(খণ্ড: ১) মজলিস মিন ইমলাইল ফারিসী ওয়া মজলিসানে মিন ইমলাইল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الذَّهَبِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ نَصْرٍ الْمُقْرِئُ الشَّذَائِيُّ، قَالَ: ثنا ابْنُ مُجَاهِدٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ: قَرَأْتُ عَلَى وِسَادَتَيْنِ عُمِلَتَا فِي زَمَنِ الْمَهْدِيِّ: أَسْأَلُ الَّذِي أَهْدَى لِيُوسُفَ أَهْلَهُ وَأَعَزَّهُ فِي السِّجْنِ وَهُوَ أَسِيرٌ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَنَا فَيَجْمَعَ شَمْلَنَا وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ بَصِيرٌ

مَجْلِسٌ ثَانٍ مِنْ إِمْلاءِ الْبُخَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
২৮ - মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে ইবরাহিম আদ-দাহাবি বসরায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে নাসর আল-মুকরি আশ-শাজায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে মুজাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি খাইসামা বলেছেন: আমি আল-মাহদীর আমলে তৈরি দু’টি বালিশের ওপর লিখিত পাঠ করেছি: "আমি সেই সত্তার নিকট প্রার্থনা করি, যিনি ইউসুফকে তাঁর পরিবার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি যখন বন্দী ছিলেন তখন কারাগারে তাঁকে সম্মানিত করেছিলেন, যেন তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেন এবং আমাদের বিচ্ছিন্নতাকে দূর করে আমাদের পুনরায় একত্রিত করে দেন। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও সর্বদ্রষ্টা।"

ইমাম বুখারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শ্রুতিলিখনের দ্বিতীয় মজলিস।