(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب في علم الحديث للداني (أبو عمرو الداني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب في علم الحديث للداني
المؤلف: عثمان بن سعيد بن عثمان بن عمر أبو عمرو الداني (ت 444هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 61
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দানি-র হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ক কিতাব (আবু আমর আদ-দানি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: দানি-র হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ক কিতাব
লেখক: উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে উসমান ইবনে ওমর আবু আমর আদ-দানি (মৃত্যু ৪৪৪ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি, যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম নামক বিনামূল্যের প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
শামিলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১)
كِتَابٌ فِي عِلْمِ الْحَدِيثِتَأْلِيفُ الشَّيْخِ الإِمَامِ الْمُقْرِئِ أَبِي عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ الدَّانِيِّ، رحمه الله.بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الْمُقْرِئُ الْمُحَدِّثُ أَبُو عَلِيٍّ مَنْصُورُ بْنُ قَيْسِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ اللَّخْمِيُّ، بِالرَّيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الْفَقِيهُ الْمُقْرِئُ الْمُحَدِّثُ الْعَلَّامَةُ النَّسَّابَةُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ يَحْيَى الْقَيْسِيُّ، ثُمَّ الْبَوْنَتِيُّ، وَالْفَقِيهُ أَبُو عَمْرٍو الْخَضِرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ الْقَيْسِيُّ، وَالشَّيْخُ الصَّالِحُ الْمُقْرِئُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هُذَيْلٍ، قَالُوا جَمِيعًا: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ، مَوْلَى الْمُؤَيَّدِ بِاللَّهِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عُثْمَانَ الْمُقْرِئُ رضي الله عنه، قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّكُمْ سَأَلْتُمُونِي ـ أَحْسَنَ اللَّهُ تَوْفِيقَكُمْ ـ أَنْ أُعَرِّفَكُمْ بِطَرِيقِ نَقْلِ الآثَارِ، وَكَيْفِيَّةِ الْمُسْنَدِ الْمُتَّصِلِ مِنْهَا، وَالْمُرْسَلِ الَّذِي لَيْسَ بِمُتَّصِلٍ، وَالْمَوْقُوفِ وَالْمُنْقَطِعِ، لِتَقِفُوا عَلَى حَقِيقَةِ مَا يَرِدُ فِي ذَلِكَ فِي الْمُوَطَّآتِ، وَفِي سَائِرِ الْمُصَنَّفَاتِ، فَأَسْرَعْتُ فِي إِجَابَتِكُمْ عَمَّا سَأَلْتُمُونِيهِ وَشَرَحْتُ لَكُمُ الأَنْوَاعَ الْمَذْكُورَةَ الَّتِي بِهَا تَرِدُ الآثَارَ نَوْعًا نَوْعًا عَلَى حِدَةٍ، وَجَعَلْتُ لِكُلِّ نَوْعٍ مِنْهَا مِثَالا، لا يُقَاسُ عَلَيْهِ سَائِرِ أَشْكَالِهِ، وَيُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى نَظَائِرِهِ وَأَمْثَالِهِ، وَأَضَفْتُ لَكُمْ إِلَى ذَلِكَ أَحْوَالَ الْمُدَلِّسِينَ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ الَّذِينَ لا يُمَيِّزُ مَنْ كَتَبَ عَنْهُمْ مَا سَمِعُوهُ مِمَّا لَمْ يَسْمَعُوهُ، وَقَسَّمْتُ طَبَقَاتِهِمْ، وَبَيَّنْتُ مَذَاهِبَهُمْ، وَاعْتَمَدْتُ فِي جَمِيعِ ذَلِكَ عَلَى الاخْتِصَارِ، وَتَرْكِ الإِطْنَابِ وَالإِكْثَارِ، لِيَصِلَ مَنْ رَغِبَ فِي مَعْرِفَةِ ذَلِكَ مِنْ طَلَبَةِ الْحَدِيثِ وَرُوَاةِ الأَخْبَارِ إِلَى حَقِيقَتِهِ فِي يُسْرٍ، وَتُحْفَظَ فِي قِرْبٍ، وَبِاللَّهِ عز وجل نَسْتَعِينُ وَعَلَيْهِ نَتَوَكَّلُ وَهُوَ حَسْبُنَا وَإِلَيْهِ أُنِيبُ.
হাদিস শাস্ত্র বিষয়ক একটি কিতাবশায়খ, ইমাম, ক্বারী আবু আমর উসমান বিন সাঈদ আদ-দানি (রহিমাহুল্লাহ) এর রচনা।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ফকিহ, ক্বারী, মুহাদ্দিস আবু আলী মনসুর বিন কায়েস বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-লাখমি, রাই শহরে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবান শায়খ, ফকিহ, ক্বারী, মুহাদ্দিস, আল্লামা, বংশবিশারদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন ইয়াহইয়া আল-কাইসি, অতঃপর আল-বাউনতি; এবং ফকিহ আবু আমর আল-খাদির বিন আব্দুর রহমান বিন সাঈদ আল-কাইসি; এবং পুণ্যবান শায়খ, ক্বারী আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন হুযাইল; তারা সকলে বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলাইমান বিন আবিল কাসিম, যিনি আমিরুল মুমিনিন হিশাম আল-মুআইয়্যাদ বিল্লাহর আযাদকৃত দাস; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন সাঈদ বিন উসমান আল-মুকরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: অতঃপর, আপনারা আমার কাছে জানতে চেয়েছেন—আল্লাহ আপনাদের উত্তম তাওফিক দান করুন—যাতে আমি আপনাদের আসার (বর্ণনা) স্থানান্তরের পদ্ধতি এবং মুসনাদ মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন সূত্র), মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্র), মাওকুফ ও মুনকাতি'র অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করি; যাতে আপনারা মুওয়াত্তা এবং অন্যান্য সংকলিত কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়গুলোর বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। ফলে আমি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দ্রুত উদ্যোগী হয়েছি এবং উল্লিখিত প্রকারগুলো, যার মাধ্যমে বর্ণনাগুলো বর্ণিত হয়, তার প্রতিটি প্রকার পৃথক পৃথকভাবে আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছি। আমি প্রতিটি প্রকারের জন্য একটি করে উদাহরণ দিয়েছি, যার ওপর ভিত্তি করে এর অন্যান্য রূপগুলো পরিমাপ করা যায় এবং এর সমরূপ ও সদৃশ বিষয়গুলোর ওপর দলিল পেশ করা যায়। এর পাশাপাশি আমি আপনাদের জন্য হাদিস শাস্ত্রের মুদাল্লিসদের অবস্থা বর্ণনা করেছি, যাদের কাছ থেকে যারা হাদিস লিখে থাকেন তারা তাদের শ্রুত ও অশ্রুত বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। আমি তাদের স্তরসমূহ বিভাজন করেছি এবং তাদের মতাদর্শগুলো স্পষ্ট করেছি। আমি এসব ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি এবং দীর্ঘসূত্রিতা ও বাহুল্য বর্জন করেছি; যাতে হাদিস অন্বেষী ছাত্র ও সংবাদ বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ইচ্ছুক, তারা যেন সহজে এর প্রকৃত রূপটি লাভ করতে পারে এবং অল্প সময়েই তা আয়ত্ত করতে পারে। আর আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই ওপর ভরসা করছি, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হচ্ছি।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২)
بَابُ ذِكْرِ بَيَانِ الْمَسَانِيدِ مِنَ الآثَارِ وَتَقْسِيمِهَاقَالَ عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ: الْمُسْنَدُ مِنَ الآثَارِ الَّذِي لا إِشْكَالَ فِي اتِّصَالِهِ؛ هُوَ مَا يَرْوِيهِ الْمُحَدِّثُ عَنْ شَيْخٍ يُظْهِرُ سَمَاعَهُ مِنْهُ بِسِنٍّ يَحْتَمِلُهَا، وَكَذَلِكَ شَيْخُهُ عَنْ شَيْخِهِ إِلَى أَنْ يَصِلَ الإِسْنَادُ إِلَى الصَّحَابِيِّ، إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَالْمُتَّصِلُ فِي رِوَايَةِ أَهْلِ الثِّقَةِ هُوَ مِثْلُ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ مَرْفُوعًا.وَمِثْلُ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا.وَمِثْلُ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَرْفُوعًا.وَمِثْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ.وَأَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، مَرْفُوعًا.وَمِثْلُ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، وَالأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مَرْفُوعًا.وَكَذَلِكَ مَا كَانَ مِثْلَهُ فَهُوَ مُتَّصِلٌ مَرْفُوعٌ.
আসার (হাদিস) সমূহের মধ্য হতে মুসনাদসমূহের বর্ণনা এবং সেগুলোর বিভাজন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদউসমান ইবনে সাঈদ বলেন: আসার বা হাদিসসমূহের মধ্যে মুসনাদ হলো সেটি, যার নিরবচ্ছিন্ন সংযোগে কোনো সংশয় নেই; আর তা হলো যা কোনো মুহাদ্দিস এমন একজন উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন যার থেকে তার শ্রবণ করাটি স্পষ্ট হয় এবং তা এমন বয়সে হয় যখন তা সম্ভবপর। একইভাবে তার উস্তাদ তার উস্তাদ থেকে, যে পর্যন্ত না বর্ণনাসূত্রটি সাহাবী পর্যন্ত এবং সেখান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) হাদিসের উদাহরণ হলো যেমন: যুহরী, তিনি সালেম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে) বর্ণনা করেছেন।এবং যেমন: যুহরী, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং যেমন: মালিক, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।এবং আইয়ুব, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং যেমন: মানসুর ইবনুল মু’তামির এবং আমাশ, তারা ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং অনুরূপ যা কিছু আছে তা-ই মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) ও মারফু।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
1 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَمْزَةَ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَهْزَاذَ بْنِ مِهْرَانَ السِّيرَافِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْخَفَّافُ، قَالَ: ثنا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ الْحَلالَ بَيِّنٌ وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَإِنَّ بَيْنَ ذَلِكَ أُمُورًا مُتَشَابِهَاتٍ» .قَالَ: وَرُبَّمَا قَالَ: أُمُورًا مُتَشَابِهَةً.قَالَ أَبُو عَمْرٍو: فَسَمَاعِي مِنْ حَمْزَةَ ظَاهِرٌ، وَسَمَاعُهُ مِنَ ابْنِ بَهْزَاذَ ظَاهِرٌ، وَكَذَلِكَ سَمَاعُ ابْنِ بَهْزَاذَ مِنْ أَبِي غَسَّانَ، وَكَذَلِكَ سَمَاعُ أَبِي غَسَّانَ مِنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ، وَسَمَاعُ عَبْدِ الْوَهَّابِ مِنَ ابْنِ عَوْنٍ، وَسَمَاعُ ابْنِ عَوْنٍ مِنَ الشَّعْبِيِّ، وَسَمَاعُ الشَّعْبِيِّ مِنَ النُّعْمَانِ، وَسَمَاعُ النُّعْمَانِ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - এর উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট হামযাহ বিন আলী বিন হামযাহ আল-বাগদাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন বাহযাদ বিন মিহরান আস-সিরাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু গাসসান মালিক বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহহাব বিন আতা আল-খাফফাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমির থেকে, তিনি নুমান বিন বাশীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট বিষয়সমূহ»।বর্ণনাকারী বলেন: এবং সম্ভবত তিনি বলেছেন: অস্পষ্ট বিষয়সমূহ।আবু আমর বলেন: হামযাহ থেকে আমার শ্রবণ করা সুস্পষ্ট, এবং ইবনে বাহযাদ থেকে তার শ্রবণ করা সুস্পষ্ট, অনুরূপভাবে আবু গাসসান থেকে ইবনে বাহযাদের শ্রবণ করা সুস্পষ্ট, তেমনিভাবে আবদুল ওয়াহহাব থেকে আবু গাসসানের শ্রবণ করা সুস্পষ্ট, ইবনে আওন থেকে আবদুল ওয়াহহাবের শ্রবণ করা সুস্পষ্ট, শাবী থেকে ইবনে আওনের শ্রবণ করা সুস্পষ্ট, নুমান থেকে শাবীর শ্রবণ করা সুস্পষ্ট এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নুমানের শ্রবণ করা সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
2 - وَسَمِعْتُ عَبْدَ الْوَهَّابِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُنِيرٍ، بِمِصْرَ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ ابْنِ الأَعْرَابِيِّ، بِمَكَّةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا رِفَاعَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ عَائِشَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْوَهَّابِ بْنَ عَبْدِ الْمَجِيدِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا أَوْ دُنْيَا يُصِيبُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا نَوَى» .فَهَذَا أَيْضًا مُتَّصِلٌ مُسْنَدٌ بَيِّنُ الاتِّصَالِ، لِصِحَّةِ سَمَاعِ كُلِّ مَنْ ذُكِرَ فِيهِ مِنْ شَيْخِهِ الَّذِي ذَكَرَهُ، وَهَذَا مَثَلٌ ضَرَبْتُهُ لِسَائِرِ مَا يَرِدُ فِي الْمُسْنَدِ الْبَيِّنِ الاتِّصَالِ
২ - এবং আমি মিশরে আব্দুল ওয়াহহাব বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন মুনীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মক্কায় আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল আরাবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু রিফায়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আয়েশাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল মাজীদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলকামা বিন ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে অথবা পার্থিব কোনো সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।»।এটিও একটি মুত্তাসিল মুসনাদ (সুসংযুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত) এবং এর ধারাবাহিকতা অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ এতে উল্লিখিত প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর বর্ণিত শাইখ (শিক্ষক) থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন বলে প্রমাণিত। এটি আমি এমন একটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি যা অন্যান্য স্পষ্ট মুত্তাসিল মুসনাদ বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
فَصْلٌوَإِذَا قَالَ الصَّحَابِيُّ: كُنَّا نَفْعَلُ كَذَا، وَكُنَّا نُؤْمَرُ بِكَذَا، أَوْ أُمِرْنَا أَنْ نَفْعَلَ كَذَا، وَنُهِينَا عَنْ كَذَا، وَمِنَ السُّنَّةِ كَذَا، وَمِنَ الْفِطْرَةِ كَذَا، وَكُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِينَا كَذَا وَكُنَّا، لا نَرَى بَأْسًا بِكَذَا، وَكَانَ يُقَالُ كَذَا وَكَذَا، وَشِبْهُ هَذَا، إِذَا قَالَهُ الصَّحَابِيُّ الْمَشْهُورُ بِالصُّحْبَةِ فَهُوَ حَدِيثٌ مُسْنَدٌ مُتَّصِلٌ وَجَمِيعُ ذَلِكَ مُخَرَّجٌ فِي الْمَسَانِيدِ.وَإِنْ لَمْ يَذْكُرِ الصَّحَابِيُّ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
পরিচ্ছেদএবং যখন কোনো সাহাবী বলেন: "আমরা এরূপ করতাম", "আমাদেরকে এরূপ আদেশ করা হতো", অথবা "আমাদেরকে এরূপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে", "আমাদেরকে এরূপ বিষয় থেকে নিষেধ করা হয়েছে", "সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো এরূপ", "ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত হলো এরূপ", "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকাকালে আমরা এরূপ বলতাম", "আমরা এরূপ বিষয়ে কোনো দোষ মনে করতাম না", "এরূপ বলা হতো" এবং এই জাতীয় কথা; যখন তা এমন সাহাবী বলেন যিনি সাহচর্য লাভের জন্য প্রসিদ্ধ, তবে তা একটি মুসনাদ মুত্তাসিল হাদীস এবং এই সব কিছুই মাসানিদ গ্রন্থসমূহে সংকলিত রয়েছে।যদিও সাহাবী এগুলোর কোনোটিতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উল্লেখ না করেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
3 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُرِّيُّ، قَالَ: ثنا وَهْبُ بْنُ مَسَّرَةَ الْحِجَازِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: ثنا شَاذَانُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " كُنَّا نُفَاضِلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ مُتَوَافِرُونَ فَنَقُولُ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، ثُمَّ نَسْكُتُ "
৩ - আর এর উদাহরণ হলো: যা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল-মুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবনু মাসাররাহ আল-হিজাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াদ্দাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনু আবী শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আযীয ইবনু আবী সালামাহ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করতাম যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। আমরা বলতাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর এবং উসমান, তারপর আমরা চুপ থাকতাম।"
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
4 - وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدُونٍ الْمُقْرِئُ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: «كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى قُبَاءَ فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ»
৪ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদুন আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-কানাবি বর্ণনা করেছেন মালিক হতে, তিনি ইবনে শিহাব হতে, তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেন: «আমরা আসরের সালাত আদায় করতাম, অতঃপর কোনো গমনকারী কুবা অভিমুখে রওয়ানা হতো এবং সে তাদের নিকট পৌঁছাত এমতাবস্থায় যে সূর্য তখনও উঁচুতে থাকতো»
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 - وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَالِكِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي هَاشِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالا: حَدَّثَنَا سَحْنُونٌ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: تَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَالاخْتِتَانُ ".فِي نَظَائِرَ لِهَذَا كَثِيرَةٍ جَعَلْتُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ مِثَالا لِمَا يَرِدُ فِي ذَلِكَ، وَسَوَاءٌ قَالَ ذَلِكَ الصَّحَابِيُّ فِي حِكَايَتِهِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَوْ لَمْ يَقُلْ، فَمَحْمَلُهُ مَحْمَلُ الْمُسْنَدِ كَمَا قُلْنَاهُ، حَتَّى يَظْهَرَ بِالنَّقْلِ غَيْرُ ذَلِكَ
৫ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মালিকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবি হাশিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন মিসকিন এবং আহমদ বিন আবি সুলাইমান, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহনুন, ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: নখ কাটা, গোঁফ ছোট করা, বগলের পশম উপড়ানো, নাভির নিচের পশম মুণ্ডানো এবং খতনা করা।"এই জাতীয় আরও অনেক সদৃশ বিষয়ের ক্ষেত্রে আমি এই হাদিসগুলোকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি। সাহাবী তাঁর বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের কথা উল্লেখ করুন বা না করুন, এর বিধান ‘মুসনাদ’ (সংযুক্ত) হাদিসের অনুরূপ যেমনটি আমরা বলেছি, যতক্ষণ না অন্য কোনো বর্ণনার মাধ্যমে এর বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
فَصْلٌوَمَا قَالَ فِيهِ نَاقِلُوهُ: حَدَّثَنَا، أَوْ أَخْبَرَنَا، أَوْ أَنْبَأَنَا، أَوْ أَعْلَمْنَاهُ، أَوْ سَمِعْنَاهُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَوْ قِرَاءَةً عَلَيْنَا، فَذَلِكَ كُلُّهُ مُتَّصِلٌ لا إِشْكَالَ فِيهِ.قَالَ أَبُو عَمْرٍو: وَمِنْ شَرَائِطِ الْمُسْنَدِ أَلا يَكُونَ فِي إِسْنَادِهِ أُخْبِرْتُ عَنْ فُلانٍ، وَلا حُدِّثْتُ عَنْ فُلانٍ، وَلا بَلَغَنِي عَنْ فُلانٍ، وَلا رَفَعَهُ فُلانٌ، وَلا أَظُنُّهُ مَرْفُوعًا، وَشِبْهُ هَذَا مِنَ الأَلْفَاظِ الَّتِي يُسْنَدُ بِهَا وَيُخْرَجُ عَنْ حَدِّ الْمُسْنَدِ.
পরিচ্ছেদএবং যার বর্ণনাকারীরা এতে বলেন: ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’, অথবা ‘আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’, অথবা ‘আমাদের অবহিত করেছেন’, অথবা ‘আমাদের জানিয়েছেন’, অথবা ‘আমরা তা শুনেছি’, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে অথবা আমাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তবে তার সবই মুত্তাসিল (সংযুক্ত), এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।আবু আমর বলেন: মুসনাদ-এর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো, এর সনদে যেন না থাকে— ‘অমুক থেকে আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে’, ‘অমুক থেকে আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে’, ‘অমুক থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে’, ‘অমুক একে মারফু করেছেন’, ‘আমি একে মারফু মনে করি’, এবং এই জাতীয় শব্দাবলি যা দ্বারা সনদ বর্ণনা করা হলেও তা মুসনাদ-এর সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
فَصْلٌوَمَا كَانَ مِنَ الأَحَادِيثِ الْمُعَنْعَنَةِ الَّتِي يَقُولُ فِيهَا نَاقِلُوهَا: عَنْ، فَهِيَ أَيْضًا مُسْنَدَةٌ مُتَّصِلَةٌ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ النَّقْلِ، إِذَا عُرِفَ أَنَّ النَّاقِلَ أَدْرَكَ الْمَنْقُولَ عَنْهُ إِدْرَاكًا بَيِّنًا، وَلَمْ يَكُنْ مِمَّنْ عُرِفَ بِالتَّدْلِيسِ، وَإِنْ لَمْ يَذْكُرْ سَمَاعًا.
পরিচ্ছেদআর ‘মুআনআন’ হাদীসসমূহ—যাতে বর্ণনাকারীগণ ‘অমুক হতে’ শব্দ ব্যবহার করেন—সেগুলোও হাদীস বিশারদদের ঐকমত্যে মুসনাদ ও মুত্তাসিল (সূত্রবদ্ধ ও অবিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য হবে; যদি এটি জানা থাকে যে বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সাথে স্পষ্টভাবে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি ‘তাদলীস’ এর জন্য পরিচিত নন, যদিও তিনি সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ না করেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
6 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقَاضِي، بِالْجِيزَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَسْعُودٍ الزُّنبَرِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، قَالَ: ثنا وَهْبٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «يَصُومُ حَتَّى أَعْرِفَ ذَلِكَ فِيهِ، وَيُفْطِرُ حَتَّى أَقُولَ مَا هُوَ بِصَائِمٍ وَكَانَ أَكْثَرُ صِيَامِهِ فِي شَعْبَانَ» .فَهَذَا مُسْنَدٌ، وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ سَمَاعٌ لأَنَّ رُوَاتَهُ مَدَنِيُّونَ، وَلَيْسَ مِنْ مَذْهَبِهِمُ التَّدْلِيسُ، وَكَذَلِكَ سَائِرُ مَا يَرِدُ مِنَ الأَخْبَارِ عَنْ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَهْلِ الْبَصْرَةِ وَالشَّامِ وَمِصْرَ، لأَنَّهُمْ لا يُدَلِّسُونَ
৬ - এবং এর উদাহরণ হলো যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জিজার কাজী আহমাদ বিন উমর বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মাসউদ আজ-জুনবারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আবুজ জিনাদ, হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম পালন করতেন এমনকি আমি তাঁর মাঝে তা অনুভব করতাম, আবার তিনি সিয়াম পালন থেকে বিরত থাকতেন এমনকি আমি বলতাম যে তিনি এখন সিয়াম পালন করছেন না। আর তাঁর অধিকাংশ সিয়াম পালন ছিল শাবান মাসে।"এটি একটি মুসনাদ হাদিস, এবং এতে সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করা হয়নি কারণ এর বর্ণনাকারীরা মদিনাবাসী, আর তাদলীস (দোষ গোপন করা) তাদের রীতি নয়। একইভাবে হিজাজ, বসরা, শাম ও মিশরের অধিবাসীদের থেকে বর্ণিত অন্যান্য সংবাদের ক্ষেত্রেও একই হুকুম, কারণ তারা তাদলীস করেন না।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
فَصْلٌوَإِذَا قَالَ النَّاقِلُ عَنِ الَّذِي يَنْقُلُ عَنْهُ: قَالَ كَذَا، أَوْ فَعَلَ كَذَا، وَشِبْهَهُ مِنَ اللَّفْظِ، وَلَمْ يَقُلْ: حَدَّثَنِي فَلانٌ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ، وَكَانَ مَعْرُوفًا بِالرِّوَايَةِ عَنْهُ سَالِمًا مِنَ التَّدْلِيسِ فَهُوَ أَيْضًا مُسْنَدٌ مُتَّصِلٌ بِالْمَنْقُولِ عَنْهُ.
পরিচ্ছেদএবং বর্ণনাকারী যখন যার নিকট থেকে বর্ণনা করছেন তার সম্পর্কে বলেন: "তিনি এরূপ বলেছেন", বা "তিনি এরূপ করেছেন", কিংবা এই জাতীয় শব্দাবলি ব্যবহার করেন, এবং তিনি যদি "অমুক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন" বা "আমি তাকে বলতে শুনেছি"—এরূপ স্পষ্ট করে না-ও বলেন; এমতাবস্থায় তিনি যদি তার থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সুপরিচিত হন এবং বর্ণনা গোপন করা বা তথ্য লুকানো থেকে মুক্ত থাকেন, তবে সেটিও যার থেকে বর্ণিত হয়েছে তার সাথে সম্পৃক্ত একটি সনদযুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
7 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُعَدَّلُ، إِمْلاءً فِي مَنْزِلِهِ بِمِصْرَ، قَالَ: نا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: ثنا زُهَيْرٌ، قَالَ: ثنا أَبُو الزُّبَيْرِ، قَالَ: سَمِعْتُ نَافِعًا، يَقُولُ: قَالَ: ابْنُ عُمَرَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ: «مَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ»
৭ - এবং এর উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দাল, মিসরে তাঁর নিজ বাসভবনে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল আজীজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যুবাইর, তিনি বলেন: আমি নাফে-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে উমর বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি জুমার সালাতে আসবে, সে যেন গোসল করে।"
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
8 - وَمِثَالُ ذَلِكَ أَيْضًا: مَا حَدَّثَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدُونٍ الزَّاهِدُ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثنا عَلِيٌّ، قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الصَّلاةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، إِلَى آخِرِهِ.فَحَمَلَهُ مَحْمَلَ الْمُتَّصِلِ لاسْتِيقَانِ صُحْبَةِ ابْنِ شِهَابٍ لِعُرْوَةَ مَعَ سَلامَتِهِ مِنَ التَّدْلِيسِ، وَكَذَا قَوْلُ عُرْوَةَ فِي الْحَدِيثِ نَفْسِهِ، كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، لاسْتِيقَانِ إِدْرَاكِ عُرْوَةَ مَنْ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ بَشِيرٍ
৮ - এবং এর উদাহরণ এটিও: যা আমাদের নিকট ইবরাহীম বিন সাদূন আল-যাহিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কা'নাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর বিন আবদুল আযীয একদিন সালাত বিলম্বিত করেছিলেন, তখন উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন... শেষ পর্যন্ত।তিনি একে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ উরওয়াহর সাথে ইবনে শিহাবের সাহচর্য নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং সেই সাথে তিনি তাদলীস থেকেও মুক্ত ছিলেন। অনুরূপভাবে এই হাদীসেই উরওয়াহর উক্তিটিও: "অনুরূপভাবে বশীর বিন আবি মাসউদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতেন", কারণ বশীরের চেয়ে যারা বয়সে বড় ছিলেন, উরওয়াহর তাঁদের সান্নিধ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
9 - وَكَذَا مَا رَوَى مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، «أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ كَانَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ وَهُوَ أَعْمَى» .مَحْمَلُهُ مَحْمَلُ السَّنَدِ أَيْضًا لأَنَّ مَحْمُودًا عَقَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَقَلَ مَجَّةً مَجَّهَا مِنْ بِئْرٍ فِي وَجْهِهِقَالَ أَبُو عَمْرٍو: وَكَذَا سَائِرُ مَا يَرِدُ فِي مِثْلِ هَذَا هُوَ مُتَّصِلٌ بِالْمَنْقُولِ عَنْهُ، إِلا أَنْ يَجِيءَ عَنِ النَّاقِلِ مَا يُبَيِّنُ أَنَّهُ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنَ الْمَنْقُولِ عَنْهُ، وَذَلِكَ مِثْلُ أَنْ يَقُولَ النَّاقِلُ: بَلَغَنِي أَوْ سَمِعْتُ أَنَّ فُلانًا قَالَ كَذَا، وَانْتَهَى ذَلِكَ إِلَيْنَا، وَشِبْهَهُ مِنَ الأَلْفَاظِ فَذَلِكَ غَيْرُ مُتَّصِلٌ لأَنَّهُ لَيْسَ فِي مَقَامِ مَنْ قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ لَمْ يُسَمِّهِ لأَنَّ هَذَا قَدْ بَيَّنَ أَنَّ نَاقِلا نَقَلَهُ إِلَيْهِ يُسَمِّيهِ وَيُعَيِّنُهُ عَنِ الْمَنْقُولِ عَنْهُ وَذَلِكَ الآخَرُ أَهْمَلَ الْقَوْلَ.
৯ - এবং একইভাবে মালিক বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি মাহমুদ ইবনুর রবি‘ থেকে যে, “ইতবান ইবনে মালিক তাঁর কওমের ইমামতি করতেন এমতাবস্থায় যে তিনি অন্ধ ছিলেন।”এর তাৎপর্যও পূর্ববর্তী সনদের ন্যায়, কেননা মাহমুদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুধাবন করার বয়স প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কূপের পানি হতে তাঁর মুখে যে কুলি ছিটিয়েছিলেন তা তিনি স্মরণ রেখেছিলেন।আবু আমর বলেন: এই জাতীয় বর্ণনার ক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণিত হয় তা যার নিকট হতে বর্ণিত তাঁর সাথে সংযুক্ত (মুত্তাসিল) হিসেবেই গণ্য, যতক্ষণ না বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এমন কিছু আসে যা স্পষ্ট করে যে তিনি এটি তাঁর নিকট হতে শ্রবণ করেননি। আর তা হলো যেমন বর্ণনাকারী বলেন: “আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে” অথবা “আমি শুনেছি যে অমুক ব্যক্তি এমন বলেছেন”, “আমাদের নিকট এ কথা এসে পৌঁছেছে” এবং এই জাতীয় শব্দাবলি; এমতাবস্থায় তা সংযুক্ত (মুত্তাসিল) হবে না। কেননা এটি সেই ব্যক্তির সমপর্যায়ের নয় যিনি বলেন যে “আমার নিকট এমন একজন বর্ণনা করেছেন যাঁর নাম তিনি উল্লেখ করেননি”। কারণ এটি স্পষ্ট যে একজন বর্ণনাকারী এটি তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁকে মূল বর্ণনাকারীর বরাতে নামোল্লেখ করে নির্দিষ্ট করেছেন, পক্ষান্তরে অপরজন কথাটিকে অস্পষ্ট রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فَصْلٌوَإِذَا ذَكَرَ التَّابِعِيُّ مَا كَانَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَوَصَفَ قَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ، وَسَمَّى لِلصَّحَابِيِّ بِمَا كَانَ مِنْهُ، فَلَيْسَ ذَلِكَ مِنَ الْبَيِّنِ الاتِّصَالِ حَتَّى تَكُونَ حِكَايَتُهُ كَذَلِكَ عَنْ قَوْلِ الصَّحَابِيِّ.وَذَلِكَ مِثْلُ أَنْ يَقُولَ عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: كَانَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَمْرِ كَذَا كَذَا، فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ رضي الله عنها: كَذَا.فَلَيْسَ فِي هَذَا مَا يَرْفَعُهُ وَيُوَصِّلُهُ عَلَى أَنَّهُ قَدْ يُخَرَّجُ مِثْلُ هَذَا فِي الْمُسْنَدِ مَنْ يَقْصِدُ إِلَى ذِكْرِ اخْتِلافِ اللَّفْظِ فِي الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ وَاضْطِرَابِ النَّاقِلِينَ لَهُ فَنَذْكُرُهُ عَلَى سَبِيلِ التَّنْبِيهِ عَلَى الْخِلافِ فِيهِ، فَأَمَّا إِنْ قَالَتْ عَمْرَةُ: قَالَتْ عَائِشَةُ، رضي الله عنها: أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي كَذَا، أَوْ سُئِلَ عَنْ كَذَا، فَقَالَ فِيهِ كَذَا، فَهُوَ مُتَّصِلٌ، وَإِنْ لَمْ تَقُلْ عَمْرَةُ: حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، وَكَذَلِكَ مَا أَشْبَهَهُ، وَهَذَا عَلَى مَا قَدَّمْنَاهُ إِذَا كَانَ النَّاقِلُ مِمَّنْ أَدْرَكَ الْمَنْقُولَ عَنْهُ.
পরিচ্ছেদকোনো তাবিঈ যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের কোনো বিষয় বর্ণনা করেন এবং তাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বাণীর বিবরণ দেন এবং (সেই ঘটনায়) সাহাবীর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেন, তবে তা স্পষ্টভাবে নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না বর্ণনাটি একইভাবে সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃত হয়।উদাহরণস্বরূপ: আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান যদি বলেন, "অমুক অমুক বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এমন হয়েছিল, তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে এমন বলেছিলেন।"এতে এমন কিছু নেই যা হাদিসটিকে মারফু (রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো) বা মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সাব্যস্ত করে। তবে কোনো একক হাদিসের শব্দগত পার্থক্য এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যে অস্থিরতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে যিনি ‘মুসনাদ’ সংকলন করেন, তিনি এ জাতীয় বর্ণনা উদ্ধৃত করতে পারেন; এমতাবস্থায় আমরা মতভেদের বিষয়ে সতর্ক করার লক্ষ্যে এটি উল্লেখ করি। পক্ষান্তরে, আমরাহ যদি বলেন, "আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অমুক বিষয়ে আসা হয়েছিল, অথবা তাঁকে অমুক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি সে বিষয়ে এমন বলেছিলেন", তবে তা মুত্তাসিল বা নিরবচ্ছিন্ন বলে গণ্য হবে। যদিও আমরাহ ‘আয়েশা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন’—এরূপ শব্দ স্পষ্ট করে না বলেন। অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আর এটি আমাদের পূর্বে বর্ণিত সেই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে, যখন বর্ণনাকারী যাকে উদ্ধৃত করছেন তাঁর সমসাময়িক বা তাঁর সাক্ষাৎ লাভকারী হন।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فَصْلٌوَقَدْ يَحْكِي الصَّحَابِيُّ قَوْلا لا يُضِيفُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلا يُسَمِّيهِ بَلْ يُوقِفُهُ عَلَى نَفْسِهِ، فَيُخْرِجُهُ أَهْلُ الْحَدِيثِ فِي الْمُسْنَدِ الْمُتَّصِلِ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لامْتِنَاعِ ذَلِكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ الصَّحَابِيُّ يَقُولُ رَأْيًا دُونَ التَّوْقِيفِ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
পরিচ্ছেদআর কখনও সাহাবী এমন কথা বর্ণনা করেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধ করেন না এবং তাঁর নামও উল্লেখ করেন না, বরং তা নিজের বক্তব্য হিসেবেই বর্ণনা করেন। অতঃপর হাদিস বিশারদগণ একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংযুক্ত মুসনাদ হিসেবে গণ্য করেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ব্যতীত সাহাবীর পক্ষে এমন কথা নিছক ব্যক্তিগত মতামত থেকে বলা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
10 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ الْمُعَدَّلُ، قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ لُبَابَةَ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُزْيَنٍ، قَالَ: ثنا مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: «نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مَائِلاتٌ مُمِيلاتٌ لا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَرِيحُهَا يُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ خَمْسِ مِائَةِ سَنَةٍ»
১০ - এর একটি উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ আল-মুআদ্দাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে লুবাবাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুযাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি মালিক থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি আবু সালিহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “এমন নারী যারা পোশাক পরিহিতা অথচ নগ্ন, যারা নিজেরা সত্য বিচ্যুত এবং অন্যদের বিচ্যুতকারী; তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুঘ্রাণও পাবে না, অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ পাঁচশত বছরের দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যায়।”
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
11 - وَمِثَالُ ذَلِكَ أَيْضًا: مَا حَدَّثَنَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ حَزْمٍ الْمُكَتِّبُ، قَالَ: ثنا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْفَارِسِيُّ، يُعْرَفُ بِالْمُمْتِعِ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، يُعْرَفُ بِالسَّوْطِيِّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَشْكَابٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الْمُنْذِرِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: ثنا حَمْزَةُ بْنُ حَبِيبٍ الزَّيَّاتُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " خَيْرُ بَنِي آدَمَ خَمْسَةٌ: نُوحٌ، وَإِبْرَاهِيمُ، وَمُوسَى، وَعِيسَى، وَمُحَمَّدٌ، عليهم السلام، وَخَيْرُهُمْ مُحَمَّدٌ "قَالَ أَبُو عَمْرُو: هَذَانِ الْحَدِيثَانِ وَشِبْهَهُمَا لا يَجُوزُ أَنْ يُقَالا بِالرَّأْيِ وَالاسْتِنْبَاطِ إِنَّمَا يُقَالُ مِثْلُ هَذَا عَلَى التَّوْقِيفِ فَلَذَلِكَ دَخْلا فِي جَمْلَةِ الْمُسْنَدِ لأَنَّ الصَّحَابِيَّ لا يَقُولُ مِنْ رَأْيِهِ.
১১ - এর আরেকটি উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন সালামাহ বিন হাযম আল-মুকাত্তিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমর বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন হাসান আল-ফারিসি বর্ণনা করেছেন, যিনি আল-মুমতি' নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, যিনি আল-সাওতি নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আশকাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-মুনযির ইসমাইল বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হামযাহ বিন হাবীব আল-যাইয়্যাত বর্ণনা করেছেন, আলী বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বনী আদমের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন পাঁচজন: নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, ঈসা এবং মুহাম্মদ—তাঁদের সবার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—আর তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মদ।"আবু আমর বলেন: এই দুটি হাদিস এবং এর সমজাতীয় হাদিসগুলো নিজস্ব মতামত বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বলা বৈধ নয়; বরং এই ধরনের কথা কেবল ওহী বা বর্ণনানির্ভর জ্ঞানের ভিত্তিতেই বলা হয়। একারণেই এগুলোকে মুসনাদ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ সাহাবী নিজের পক্ষ থেকে এমন কথা বলেন না।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فَصْلٌفَأَمَّا مَنْ لا يُعْرَفُ أَنَّهُ أَدْرَكَ مَنْ يُحَدِّثُ عَنْهُ فَذَلِكَ لا يَتَحَمَّلُ اتِّصَالَ حَدِيثِهِ بَلْ يُطْلَقُ عَلَيْهِ الإرْسَالُ.
পরিচ্ছেদপক্ষান্তরে যার সম্পর্কে এটি জানা নেই যে তিনি সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন, তার হাদিসের সূত্রটি সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, বরং তাকে 'মুরসাল' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
12 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدُونٍ الْمُقْرِئُ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ وَمَعَهَا قَرْنٌ لِلشَّيْطَانِ» .الْحَدِيثَوَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ» ، وَشِبْههُ ذَلِكَ إِذَا وَرَدَ عَمَّنْ لا تُعْرَفُ لَهُ صُحْبَةٌ فَلا يَصِحُّ رِوَايَةُ مَنْ يَرْوِي عَنْهُ.قَالَ أَبُو عَمْرٍو: فَهَذَا مَعْرِفَةُ الْمُسْنَدِ فِي الآثَارِ مُفَسِّرٌ لِجَمِيعِ أَنْوَاعِهِ وَضُرُوبِهِ وَأَقْسَامِهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقِ.
১২ - এবং এর উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট ইব্রাহীম ইবনে সাদুন আল-মুকরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-কা'নাবী বর্ণনা করেছেন মালেক থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আস-সুনাবিহী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সূর্য উদিত হয় এবং তার সাথে শয়তানের একটি শিং থাকে»।হাদীসটি (সম্পূর্ণ)অনুরূপভাবে তাঁর এই বাণী: «যখন মুমিন বান্দা ওযু করে», এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা যখন এমন কারো থেকে বর্ণিত হয় যার সাহচর্য (সাহাবী হওয়া) সম্পর্কে জানা যায় না, তখন তার থেকে বর্ণনাকারীর বর্ণনাটি বিশুদ্ধ হয় না।আবু আমর বলেন: আছার বা বর্ণনা শাস্ত্রের মধ্যে 'মুসনাদ' সংক্রান্ত এই পরিচিতিটি এর সকল প্রকার, পদ্ধতি এবং শ্রেণীবিভাগের ব্যাখ্যাকারী। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফীক বা সামর্থ্য আসে।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
بَابُ ذِكْرِ بَيَانِ الْمُرْسَلِ مِنَ الآثَارِ وَتَفْصِيلِهِقَالَ عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ: وَالْمُرْسَلُ مِنَ الْحَدِيثِ مَا يَرْوِيهِ الْمُحَدِّثُ بِأَسَانِيدَ مُتَّصِلَةٍ إِلَى التَّابِعِيِّ، فَيَقُولُ التَّابِعِيُّ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَذَلِكَ سَبِيلُ مَا أَرْسَلَهُ أَتْبَاعُ التَّابِعِينَ وَمَنْ دُونَهُمْ مِنَ الْعُلَمَاءِ عِنْدَ عَامَّةِ الْكُوفِيِّينَ وَخُولِفُوا فِي ذَلِكَ، وَمَذْهَبُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَجَمَاعَةٍ إِلَيْهِ أَنَّ مَا أَرْسَلَهُ أَتْبَاعُ التَّابِعِينَ وَمَنْ دُونَهُمْ نَحْوَ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ.وَشِبْهُ ذَلِكَ فَهُوَ يُسَمَّى مُعْضِلا وَهَذَا الضَّرْبُ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ مِنَ الْمُرْسَلِ قَلَّ مَا يَتَعَذَّرُ مَعْرِفَتُهُ عَلَى الطَّالِبِينَ وَهُوَ مِثْلُ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ.وَمِثْلُ الأعْمَشِ، وَمَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال.وَكَذَلِكَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعِكْرِمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ، وَكَذَلِكَ قَوْلُ الْحَسَنِ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَشِبْهُ ذَلِكَ مِنَ الأَسَانِيدِ الَّتِي لا يُسَمِّي فِيهَا التَّابِعِيُّ الصَّحَابِيَّ الَّذِي سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
হাদিসের মধ্যে মুরসাল বর্ণনার ব্যাখ্যা ও তার বিস্তারিত বিবরণের অধ্যায়উসমান বিন সাঈদ বলেন: হাদিসের মধ্যে মুরসাল হলো সেটি, যা কোনো মুহাদ্দিস তাবিঈ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদ বা সূত্র পরম্পরায় বর্ণনা করেন, অতঃপর সেই তাবিঈ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। অধিকাংশ কুফাবাসীদের নিকট আতবাউত তাবিঈন (তাবিঈদের অনুসারীগণ) এবং তাদের পরবর্তী আলেমগণ যা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার বিধানও অনুরূপ; তবে এই বিষয়ে তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে। আর আলী ইবনুল মাদীনী এবং একদল বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, আতবাউত তাবিঈন এবং তাদের পরবর্তীগণ যা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন—যেমন ইবনু ওয়াহাব, মাসলামাহ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—এবং এই জাতীয় বর্ণনাকে 'মুদাল' বলা হয়। মুরসালের এই যে প্রকারটি আমরা উল্লেখ করলাম, তা শিক্ষার্থীদের কাছে চিনে নেওয়া বা জানা খুব একটা কষ্টকর হয় না। যেমন যুহরী, ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।এবং আমাশ ও মানসূর, ইব্রাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।অনুরূপভাবে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর, আবু সালামাহ ও ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। একইভাবে হাসান বসরীর এই উক্তি: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'; এবং এই জাতীয় ওই সকল সনদ যাতে তাবিঈ সেই সাহাবীর নাম উল্লেখ করেন না যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শুনেছেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
13 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاةِ» .الْحَدِيثَفِي نَظَائِرَ لِهَذَا كَثِيرَةٍ يُرْسِلُهَا التَّابِعُونَ وَمِنْ ذَلِكَ أَيْضًا:
১৩ - এবং এর উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবন আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ বর্ণনা করেছেন, মালিক থেকে, তিনি যায়দ ইবন আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের নিশ্বাসের উত্তাপ থেকে উৎপন্ন, তাই যখন গরম প্রচণ্ড হয় তখন সালাত শীতল করে (বিলম্ব করে) আদায় করো»।হাদিসটিএরকম আরও অনেক সদৃশ বর্ণনা রয়েছে যা তাবিঈগণ মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং এর মধ্যে এটিও রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
14 - مَا حَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَدْرٍ الْقَاضِي، بِالْفُسْطَاطِ، قَالَ: ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ دَاوُدَ، يُعْرَفُ بِمَأْمُونٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: ثنا الْفَضْلُ بْنُ الْعَلاءِ، قَالَ: ثنا طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، أَنَّهُ «دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَآهُ مُضْطَجِعًا» .الْحَدِيثَفَأَرْسَلَهُ عَطَاءٌ عَنْ عُمَرَ لأَنَّهُ لَمْ يُدْرِكْهُ، وَكَذَلِكَ سَائِرُ مَا يَرِدُ مِنْ مِثْلِ هَذَا مِمَا يُعْلَمُ أَنَّ النَّاقِلَ لَمْ يَلْقَ الْمَنْقُولَ عَنْهُ، وَلا لَحِقَهُ مِنْ طَرِيقِ سِنِّهِ أَوْ مُشَاهَدَتِهِ، وَشِبْهِ ذَلِكَ مِنَ الْوُجُوهِ الَّتِي يَرْتَفِعُ بِهَا سَمَاعُهُ مِنْهُ.
১৪ - আমাদের নিকট ফুসতাত নামক স্থানে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বদর আল-কাজী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ বর্ণনা করেছেন—যিনি মামুন নামে পরিচিত—তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ফদল ইবনুল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট তালহা ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন আতা থেকে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে শায়িত অবস্থায় দেখতে পেলেন।—হাদিসটি।আতা এটি ওমর থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি তাঁকে পাননি। একইভাবে এর অনুরূপ অন্যান্য বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য হবে যেখানে এটি জানা যায় যে, বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেননি এবং বয়সের কারণে বা প্রত্যক্ষদর্শনের সুযোগ না থাকায় কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো কারণে তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করার বিষয়টি নাকচ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصلوَمِنَ الْمُرْسَلِ ضَرْبٌ صَعْبٌ يَتَعَذَّرُ مَعْرِفُتُهُ إِلا عَلَى مَنْ تَبَحَّرَ فِي الْحَدِيثِ وَكَثَّرَ وَعَرَفَ طُرُقَ النَّقْلِ وَمَيَّزَهَا لِكَوْنِ ظَاهِرِ ذَلِكَ مُسْنَدًا.
পরিচ্ছেদমুরসাল হাদীসের মধ্যে এমন এক জটিল প্রকার রয়েছে যার পরিচিতি লাভ করা অসম্ভব, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে হাদীস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছে, অধিক অধ্যয়ন করেছে এবং বর্ণনার সূত্রসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়েছে ও সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে পেরেছে; কারণ বাহ্যিকভাবে তা মুসনাদ বা সংযুক্ত সূত্রবিশিষ্ট মনে হয়।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
15 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ خَلَفُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْخَصِيبِ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَقَالَ نَادِمًا أَقَالَهُ اللَّهُ نَفْسَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَشَفَ عَنْ مُسْلِمًا كُرْبَةً كَشَفَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ» .قَالَ أَبُو عَمْرُو: هَذَا إِسْنَادٌ مَنْ نَظَرَ إِلَيْهِ مِنْ غَيْرِ أَهْلِ صِنَاعَةِ الْحَدِيثِ لَمْ يُشَكَّ فِي سَنَدِهِ بِاتِّصَالِهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ، بَلْ هُوَ مُرْسَلٌ فِي مَوْضِعَيْنِ، لأَنَّ مَعْمَرَ بْنَ رَاشِدٍ عَلَى ثِقَتِهِ وَإِمَامَتِهِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ شَيْئًا، وَمُحَمَّدُ بْنُ وَاسِعٍ أَيْضًا عَلَى جَلالَتِهِ وَعَدَالَتِهِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي صَالِحٍ شَيْئًا، فَبَيْنَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا فِيهِ رَجُلٌ، وَهَذَا مَثَلٌ ضَرَبَهُ لأَعْدَادٍ كَبِيرَةٍ تَرِدُ مِنَ الآثَارِ وَلا يُمَيِّزُهَا إِلا أَهْلُ الصَّنْعَةِ الْمَخْصُوصُونَ بِمَعْرِفَةِ ذَلِكَ
১৫ - এবং এর একটি উদাহরণ হলো: যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ ইবনে আবিল খাসিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আব্দিল আ'লা আস-সানআনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো অনুতপ্ত ব্যক্তির (বেচাকেনার চুক্তি) বাতিল করে দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে (তার গুনাহসমূহ থেকে) অব্যাহতি দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা পরকালের বিপদসমূহের মধ্য হতে তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।”আবু আমর বলেন: এটি এমন একটি সনদ যে, হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া অন্য কেউ যদি এর দিকে তাকায়, তবে এর নিরবচ্ছিন্নতা (ইত্তিসাল) নিয়ে তার মনে কোনো সন্দেহ জাগবে না; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি দুটি স্থানে মুরসাল (বিচ্ছিন্ন)। কেননা মা'মার ইবনে রাশিদ তার বিশ্বস্ততা ও ইমামত সত্ত্বেও মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি। আর মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসিও তার সুমহান মর্যাদা ও ন্যায়নিষ্ঠা সত্ত্বেও আবু সালেহ থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি। ফলে তাদের প্রত্যেকের মাঝে একজন করে ব্যক্তি (অনুপস্থিত) রয়েছেন। তিনি এটি এমন বিপুল সংখ্যক বর্ণনার উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন যা বর্ণিত হয়, অথচ এই শাস্ত্রের বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া আর কেউ তা শনাক্ত করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فصلوَأَكْثَرُ مَنْ تُرْوَى عَنْهُ الْمَرَاسِيلُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَمِنْ أَهْلِ مَكَّةَ عَطَاءُ بْنُ رَبَاحٍ، وَمِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَزِيدَ النَّخَعِيُّ، وَمِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ، وَمِنْ أَهْلِ الشَّامِ مَكْحُولٌ الدِّمَشْقِيُّ، وَمِنْ أَهْلِ مِصْرَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي هِلالٍ، وَقَدْ تَرِدُ مَرَاسِيلُ كَثِيرَةٌ عَنْ غَيْرِهَا وَلا مِنَ التَّابِعِينَ، وَأَصَحُّ الْمَرَاسِيلِ مَرَاسِيلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ لأَنَّهُ مِنْ أَوْلادِ الصَّحَابَةِ، وَأَبُوهُ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ، وَقَدْ أَدْرَكَ سَعِيدٌ عُمَرَ، وَعُثْمَانَ، وَعَلِيًّا، وَطَلْحَةَ، وَالزُّبَيْرَ، وَسَائِرَ الْعَشَرَةِ، وَلَيْسَ فِي التَّابِعِينَ مَنْ أَدْرَكَهُمْ وَسَمِعَ مِنْهُمْ غَيْرُ سَعِيدٍ، وَقَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، وَمَعَ هَذَا فَإِنَّهُ فَقِيهُ أَهْلِ الْحِجَازِ وَمُفْتِيهِمْ، وَأَوَّلُ الْفُقَهَاءِ السَّبْعَةِ الَّذِينَ يَعُدُّ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِجْمَاعَهُمْ إِجْمَاعَ كَافَّةِ النَّاسِ، وَهُمْ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَالْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَخَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، وَبَعْضُهُمْ يَجْعَلُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ مَكَانَ أَبِي سَلَمَةَ، وَأَيْضًا فَقَدْ تَأَمَّلَ الْعُلَمَاءُ مَرَاسِيلَهُ، فَوَجَدُوهَا بِأَسَانِيدَ صَحِيحَةٍ، وَهَذِهِ الشَّرَائِطُ لا تُوجَدُ فِي مَرَاسِيلَ غَيْرِهِ.
পরিচ্ছেদযাদের থেকে মুরসাল বর্ণনাগুলো সবচেয়ে বেশি বর্ণিত হয়েছে, তারা হলেন: মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, মক্কার অধিবাসীদের মধ্যে আতা ইবনে আবি রাবাহ, কুফার অধিবাসীদের মধ্যে ইব্রাহীম ইবনে ইয়াযিদ আন-নাখায়ী, বসরার অধিবাসীদের মধ্যে হাসান ইবনে আবিল হাসান আল-বাসরী, শামের অধিবাসীদের মধ্যে মাকহুল আদ-দিমাশকী এবং মিসরের অধিবাসীদের মধ্যে সাঈদ ইবনে আবি হিলাল। এ সকল ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের থেকেও এবং যারা তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত নন তাদের থেকেও প্রচুর মুরসাল বর্ণনা বর্ণিত হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মুরসাল হলো সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মুরসালসমূহ; কারণ তিনি ছিলেন সাহাবীগণের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর পিতা ছিলেন বৃক্ষের নিচে আনুগত্যের শপথ গ্রহণকারী সাহাবীদের একজন। সাঈদ উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর এবং বাকি দশজন (আশারায়ে মুবাশশারা) সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাবেঈদের মধ্যে সাঈদ এবং কায়স ইবনে আবি হাযিম ছাড়া এমন কেউ নেই যিনি তাদের সকলের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাদের থেকে বর্ণনা শুনেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন হিজাযের অধিবাসীদের প্রধান ফকীহ ও মুফতি এবং সেই সাতজন ফকীহগণের মধ্যে অগ্রগণ্য, যাদের ঐক্যমতকে মালিক ইবনে আনাস সমস্ত মানুষের ঐক্যমত হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁরা হলেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর, উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর, খারিজাহ ইবনে যায়িদ ইবনে সাবিত, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ এবং সুলায়মান ইবনে ইয়াসার। কেউ কেউ আবু সালামাহর স্থলে সালিম ইবনে আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া আলেমগণ তাঁর মুরসাল বর্ণনাগুলো নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেছেন এবং সেগুলো অন্য সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত পেয়েছেন। এই বিশেষ গুণাবলী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ব্যতীত অন্য কারো মুরসাল বর্ণনার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بَابُ ذِكْرِ بَيَانِ الْمَوْقُوفِ فِي الآثَارِ وَأَنْوَاعِهِقَالَ عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ: وَهَذَا بَابٌ مِنْهُ جَلِيٌّ لا يَخْفَى عَلَى الطَّالِبِينَ مِنْهُ، وَمِنْهُ خَفِيٌّ لا يَعْرِفُهُ إِلا أَهْلُ الصَّنْعَةِ، فَأَمَّا الْجَلِيُّ مِنْ ذَلِكَ فَمَا وَرَدَ مِنَ الآثَارِ الْمَوْقُوفَةِ عَلَى الصَّحَابَةِ لا يُجَاوِزُونَ بِهَا، وَذَلِكَ مِثْلُ أَنْ يُرْوَى الْحَدِيثُ مُسْنَدًا إِلَى الصَّحَابِيِّ مِنْ غَيْرِ إِرْسَالٍ، فَإِذَا بَلَغَ الصَّحَابِيَّ قَالَ: إِنَّهُ كَانَ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا، وَكَانَ يَفْعَلُ كَذَا وَكَذَا وَكَانَ يَأْمُرُ بِكَذَا وَكَذَا، وَشِبْهُ ذَلِكَ مِنَ اللَّفْظِ، وَمِثْلُ ذَلِكَ نَحْوَ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، مَوْقُوفًا.وَنَحْوَ مَالِكٍ، وَأَيُّوبَ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ.وَنَحْوَ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، مَوْقُوفًا.وَنَحْوَ الأَعْمَشِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مَوْقُوفًا.وَشِبْهُ ذَلِكَ مَا هُوَ مَوْقُوفًا عَلَى الصَّحَابَةِ.
আছার সমূহের মধ্যে মাওকুফ এর বর্ণনা ও এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়উসমান বিন সাঈদ বলেন: এটি এমন একটি বিষয় যার কিছু অংশ সুস্পষ্ট, যা জ্ঞানান্বেষীদের নিকট অস্পষ্ট নয়; আবার কিছু অংশ সূক্ষ্ম, যা এই শিল্পের (হাদিস শাস্ত্রের) বিশেষজ্ঞগণ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। এর মধ্যে সুস্পষ্ট অংশ হলো সেই সকল আছার বা বর্ণনা যা সাহাবীগণের ওপর মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁরা একে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত) উন্নীত করেননি। এর উদাহরণ হলো, কোনো হাদিস সাহাবী পর্যন্ত মুসনাদ (অবিচ্ছিন্ন) হিসেবে বর্ণিত হওয়া, কোনো প্রকার ইরসাল (সূত্রবিচ্যুতি) ব্যতিরেকে। যখন সূত্রটি সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছে, তখন বলা হয়: তিনি এমন এমন বলতেন, তিনি এমন এমন করতেন, তিনি এমন এমন আদেশ দিতেন এবং এই জাতীয় শব্দাবলী। এর উদাহরণ হলো যেমন যুহরী, সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং যেমন মালিক, আইয়ুব ও উবাইদুল্লাহ, তাঁরা নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন।এবং যেমন যায়েদ বিন আসলাম, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং যেমন আমাশ, তিনি মনসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোই সাহাবীগণের ওপর মাওকুফ।
(খণ্ড: ১)
কিতাব ফী ইলমিল হাদীস লিদ-দানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
16 - وَمِثَالُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، قَالَ: ثنا الأَعْمَشُ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: «اتَّبِعُوا وَلا تَبْتَدِعُوا فَقَدْ كُفِيتُمْ» .وَهَذَا مِثَالٌ لِسَائِرِ مَا يَرِدُ مِنْ نَحْوِهِ مَوْقُوفًا عَلَى الصَّحَابَةِ
১৬ - আর এর উদাহরণ হলো যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মূসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ, হাবীব থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে, আর তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) করো না, কারণ তোমাদের জন্য (দীনের ক্ষেত্রে যা আছে তাই) যথেষ্ট করা হয়েছে।"আর এটি সাহাবীগণের বক্তব্য (মওকুফ) হিসেবে বর্ণিত এই ধরণের অন্যান্য সকল বর্ণনার জন্য একটি উদাহরণ।