(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: -)
جزء محمد بن يحيى الذهلي (الذهلي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء محمد بن يحيى الذهلي
المؤلف: محمد بن يحيى بن عبد الله الذُّهْلي، مولاهم، النيسابورىّ، أبو عبد الله (ت 258هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 111
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী এর জুয (আদ-যুহলী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী এর জুয
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আদ-যুহলী, তাদের মাওলা, আন-নায়সাবুরী, আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৫৮ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্ভুক্ত ‘জাওয়ামিউল কালিম’ নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১)
جُزْءٌ فِيهِ أَحَادِيثُ الإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدِ بْنِ فَارِسِ بْنِ ذِئْبٍ الذُّهْلِيِّ النَّيْسَابُورِيِّ.رِوَايَةُ أَبِي عَلِيٍّ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَيْدَانِيِّ الْمَعْقِلِيِّ، عَنْهُ.رِوَايَةُ أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْجُرَشِيِّ النَّيْسَابُورِيِّ، عَنْهُ.رِوَايَةُ السَّلارِ أَبِي الْحَسَنِ مَكِّيِّ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ عَلانَ الْكَرَجِيِّ، عَنْهُ.رِوَايَةُ الْحَافِظِ أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السُّلَمِيِّ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْهُ.رِوَايَةُ سِبْطِهِ أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَكِّيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ الْحَاسِبِ وَغَيْرِهِ، عَنْهُ رِوَايَةُ أَبِي بَكْرٍ ابْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَنْتَرٍ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ السَّلامِ، عَنْهُ، إِجَازَةً.رِوَايَةُ الْعِمَادِ أَبِي بَكْرِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْعِزِّ الْمَقْدِسِيِّ، عَنْهُمَا سَمَاعًا.رِوَايَةُ الْحَافِظِ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلانِيِّ، عَنْهُ.رِوَايَةُ سِبْطِهِ أَبِي الْمَحَاسِنِ يُوسُفَ بْنِ شَاهِينَ الْعَسْقَلانِيِّ، عَنْهُ.بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّي أَعِنْ وَيَسِّرْ يَا كَرِيمُ.
একটি অংশ (জুয), যাতে রয়েছে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ বিন ফারিস বিন যিব আদ-যুহলী আন-নাইসাবুরীর হাদীসসমূহ।তাঁর থেকে আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মায়দানী আল-মাকিলীর বর্ণনা।তাঁর থেকে আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আল-জুরাশী আন-নাইসাবুরীর বর্ণনা।তাঁর থেকে সালার আবু আল-হাসান মাক্কী বিন মানসুর বিন আল্লান আল-কারাজীর বর্ণনা।তাঁর থেকে হাফিয আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সুলামী আল-আসফাহানীর বর্ণনা।তাঁর থেকে তাঁর নাতি আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন মাক্কী বিন আব্দুর রহমান ইবনুল হাসিব ও অন্যদের বর্ণনা; তাঁর থেকে ইজাযত সূত্রে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আনতার এবং যায়নাব বিনতে ইয়াহইয়া বিন আব্দুস সালামের বর্ণনা।তাঁদের দুজনের থেকে শ্রবণ সূত্রে ইমাদ আবু বকর বিন ইবরাহীম বিন আল-ইয আল-মাকদিসীর বর্ণনা।তাঁর থেকে হাফিয আবুল ফাযল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানীর বর্ণনা।তাঁর থেকে তাঁর নাতি আবুল মাহাসিন ইউসুফ বিন শাহীন আল-আসকালানীর বর্ণনা।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন এবং সহজ করে দিন, হে মহানুভব।
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا سَيِّدُنَا وَمَوْلانَا شَيْخُ الإِسْلامِ وَحَافِظُ الْعَصْرِ قَاضِي الْمُسْلِمِينَ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلانِيُّ الأَصْلُ الْمِصْرِيُّ، سَمَاعًا عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الأَحَدِ ثَامِنَ عَشَرَ رَبِيعٍ الآخَرِ سَنَةَ 851، أنا الْعِمَادُ أَبُو بَكْرِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْعِزِّ الْمَقْدِسِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أنا الْمَشَايِخُ الثَّلاثَةُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ ابْنُ أَبِي التَّائِبِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَنْتَرٍ، وَزَيْنَبُ بِنْتُ يَحْيَى ابْنِ الشَّيْخِ الإِمَامِ عِزِّ الدِّينِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ السُّلَمِيِّ.قَالَ شَيْخُنَا: وَقَرَأْتُهُ أَيْضًا عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْجَبَّابِ، وَأَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْعَبَّاسِيِّ، وَعَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ الْمِنْشَاوِيِّ، بِسَمَاعِ الأَوَّلِ مِنْ عُثْمَانَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْخَطِيبِ بِالْعِرَاقِ، وَبِإِجَازَةِ أَبِي بَكْرٍ وَزَيْنَبَ، وَسَمَاعِ الْبَاقِينَ مِنْ أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَكِّيٍّ الطَّرَابُلْسِيِّ سِبْطِ السُّلَفِيِّ، بِسَمَاعِهِ، وَإِجَازَةِ ابْنِ الْخَطِيبِ مِنَ الْحَافِظِ أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السُّلَفِيِّ الأَصْبَهَانِيِّ، أنا السَّلارُ أَبُو الْحَسَنِ مَكِّيُّ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ عَلانَ الْكَرْجِيُّ، قَدِمَ عَلَيْنَا أَصْبَهَانَ سَنَةَ 691، وَفِيهَا مَاتَ، أنا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْجُرَشِيُّ بِنَيْسَابُورَ، نا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْقِلٍ الْمَيْدَانِيُّ مِنْ مَيْدَانِ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ 336، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ الصَّنْعَانِيُّ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا تَحَاسَدُوا، وَلا تَقَاطَعُوا، وَلا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا، وَلا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثٍ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের নেতা ও অভিভাবক, শাইখুল ইসলাম ও এ যুগের হাফেজ, মুসলিমদের প্রধান বিচারপতি আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন হাজার আসকালানি—যিনি মূলত মিসরীয়—তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে, ৮৫১ হিজরী সালের ১৮ই রবিউস সানি, রবিবার; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ইমাদ আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন আল-ইযয আল-মাকদিসি—তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তিনজন শাইখ: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন ইবনে আবিত তায়েব, আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আনতার এবং জয়নব বিনতে ইয়াহইয়া ইবনে শাইখ ইমাম ইজ্জুদ্দীন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুস সালাম সুলামী।আমাদের শাইখ বলেন: আমি এটি ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদী-র নিকটও পাঠ করেছি, তিনি আহমদ বিন ইসমাইল বিন আল-জাব্বাব, আহমদ বিন আলী আল-আব্বাসী এবং আব্দুর রহিম বিন আব্দুল মুহসিন আল-মিনশাওয়ী থেকে বর্ণনা করেন; প্রথমজন ইরাকে উসমান বিন আলী বিন আল-খতিব থেকে শ্রবণের মাধ্যমে, এবং আবু বকর ও জয়নবের অনুমতি (ইজাজত) নিয়ে, আর বাকিরা আস-সুলাফীর দৌহিত্র আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন মাক্কী আত-তরাবুলসী থেকে শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সুলাফী আল-আসবাহানী থেকে প্রাপ্ত শ্রবণ ও ইবনে আল-খতিবের অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা করেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সাল্লার আবু আল-হাসান মাক্কী বিন মনসুর বিন আল্লান আল-কারজী—তিনি ৬৯১ হিজরীতে আসবাহানে আমাদের নিকট আসেন এবং সে বছরই মৃত্যুবরণ করেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আল-জুরাশী নিসাবুরে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাকিল আল-মাইদানী, জিয়াদ বিন আব্দুর রহমানের ময়দান থেকে ৩৩৬ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-দুহলী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সানআনী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি বিমুখ হয়ো না এবং আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের অধিক সময় সম্পর্ক ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়।”
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «دَخَلَ مَكَّةَ فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ بَيْنَ يَدَيْهِ» .قَالَ مُحَمَّدٌ: قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ مَرَّةً: وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ آخِذٌ بِغَرْزِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يَقُولُ: خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهْ قَدْ أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ فِي تَنْزِيلِهْ بِأَنَّ خَيْرَ الْقَتْلِ فِي سَبِيلِهْ
২ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের জানিয়েছেন, আয-যুহরী থেকে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «উমরাতুল কাযার সময় মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা তাঁর সামনে ছিলেন» ।মুহাম্মাদ বলেন: আব্দুর রাজ্জাক একবার বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উটের রেকাব ধরে ছিলেন এবং তিনি বলছিলেন: হে কাফেরের সন্তানরা! তাঁর পথ ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই রহমান তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে নাযিল করেছেন যে, সর্বোত্তম মৃত্যু হলো তাঁর পথে নিহত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " فُرِضَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ الصَّلَوَاتُ خَمْسِينَ، ثُمَّ نُقِصَتْ حَتَّى جُعِلَتْ خَمْسًا، ثُمَّ نُودِيَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّهُ لا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ، وَإِنَّ لَكَ بِهَذِهِ الْخَمْسِ خَمْسِينَ "
৩ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস ইবন মালেক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিরাজের রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল, অতঃপর তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়, এরপর ঘোষণা করা হলো: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আমার কাছে কথার কোনো রদবদল হয় না, আর তোমার জন্য এই পাঁচ ওয়াক্তের বিনিময়ে পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই সওয়াব রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَجُلا اطَّلَعَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ سِتْرِ الْحُجْرَةِ، وَفِي يَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِدْرًى، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ أَعْلَمُ أَنَّ هَذَا يَنْتَظِرُنِي حَتَّى آتِيَهُ، لَطَعَنْتُ بِالْمِدْرَى فِي عَيْنَيْهِ، وَهَلْ جُعِلَ الاسْتِئْذَانُ إِلا مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ»
৪ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা'দ আস-সা'ঈদী থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কামরার পর্দার আড়াল থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে উঁকি দিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে ছিল একটি চিরুনি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি যদি জানতাম যে সে আমার আসার অপেক্ষায় এভাবে তাকিয়ে আছে, তবে আমি এই চিরুনি দিয়ে তার চোখে আঘাত করতাম। মূলত কি অনুমতি চাওয়ার বিধান করা হয়েছে কেবল দৃষ্টির কারণেই?»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا صَلاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَصَاعِدًا»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, যুহরী থেকে, তিনি মাহমুদ বিন রাবী থেকে, তিনি উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই ব্যক্তির সালাত হবে না যে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) এবং তদুপরি আরও কিছু পাঠ করেনি।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُعْتَكِفًا، فَأَتَيْتُهُ أَزُورُهُ لَيْلا، فَحَدَّثْتُهُ ثُمَّ قُمْتُ فَانْقَلَبْتُ فَقَامَ لِيَقْلِبَنِي، وَكَانَ مَسْكَنُهَا فِي دَارِ أُسَامَةَ، فَمَرَّ رَجُلانِ مِنَ الأَنْصَارِ فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْرَعَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ» .فَقَالا: سُبْحَانَ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ، وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَرًّا» أَوْ قَالَ: «شَيْئًا»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি জুহরী থেকে, তিনি আলী ইবনে হুসাইন থেকে, আর তিনি সাফিয়্যা বিনতু হুয়াই থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফরত ছিলেন। আমি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলাম এবং তাঁর সাথে কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালাম, তখন তিনিও আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমার সাথে উঠলেন। সাফিয়্যার আবাসস্থল ছিল উসামার ঘরে। এমতাবস্থায় আনসারদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন, তখন তারা দ্রুত হাঁটতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা স্বাভাবিকভাবে চলো, ইনি সাফিয়্যা বিনতু হুয়াই।»তারা তখন বললেন: সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শরীরে রক্ত চলাচলের ন্যায় বিচরণ করে। আর আমি আশঙ্কা করলাম যে, পাছে সে তোমাদের অন্তরে কোনো অনিষ্টের উদ্রেক ঘটিয়ে দেয়।» অথবা তিনি বলেছিলেন: «কোনো কিছুর (সন্দেহের) উদ্রেক ঘটায়।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَجُلٌ يَدْخُلُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُخَنَّثٌ، وَكَانُوا يَعُدُّونَهُ مِنْ غَيْرِ أُولِي الإِرْبَةِ، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَهُوَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ، وَهُوَ يَنْعَتُ امْرَأَةً فَقَالَ: إِنَّهَا إِذَا أَقْبَلَتْ أَقْبَلَتْ بِأَرْبَعٍ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ أَدْبَرَتْ بِثَمَانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلا أَرَى هَذَا يَعْلَمُ مَا هَاهُنَا، لا يَدْخُلَنَّ عَلَيْكُنَّ هَذَا» .فَحَجَبُوهُ
৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: জনৈক মুখান্নাস (নারীভাবাপন্ন পুরুষ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের নিকট যাতায়াত করত। তারা তাকে কামনাহীন পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন যখন সে তাঁর কোনো এক স্ত্রীর নিকট ছিল এবং সে একজন মহিলার দৈহিক গঠন বর্ণনা করছিল। সে বলছিল: সে যখন সামনে থেকে আসে তখন (পেটের) চার ভাঁজ নিয়ে আসে, আর যখন পেছন ফিরে যায় তখন আট ভাঁজ নিয়ে যায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সাবধান! আমি দেখছি এ তো এখানকার বিষয়গুলো (নারীদের গোপন সৌন্দর্য) সম্পর্কে অবগত। সে যেন তোমাদের নিকট আর কখনো প্রবেশ না করে»।অতঃপর তারা তাকে পর্দার অন্তরালে রাখলেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، يُحَدِّثُ غَيْرَ مَرَّةٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اعْتَكَفَ لَمْ يَدْخُلِ الْبَيْتَ إِلا لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ»
৮ - আমাদের নিকট বিশর ইবন উমর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবন আনাসকে একাধিকবার বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবন আল-যুবায়র থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইতিকাফ করতেন, তখন মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ مَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، وَلِلْجَنَّةِ أَبْوَابٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ» .فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ ضَرُورَةٌ مِنْ أَيِّهَا دُعِيَ، فَهَلْ يُدْعَى مِنْهَا كُلِّهَا أَحَدٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে তার সম্পদ হতে জোড়ায় জোড়ায় (দুটি করে) ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে আহ্বান করা হবে। জান্নাতের তো অনেকগুলো দরজা রয়েছে; অতএব যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সালাতের দরজা হতে আহ্বান করা হবে; যে ব্যক্তি দান-সদকা কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে দান-সদকার দরজা হতে আহ্বান করা হবে; যে ব্যক্তি জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে জিহাদের দরজা হতে আহ্বান করা হবে; আর যে ব্যক্তি সিয়াম পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে রাইয়্যান নামক দরজা হতে আহ্বান করা হবে»।তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম, যাকে এর যেকোনো একটি দরজা হতে আহ্বান করা হবে, তার কোনো অভাব বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না; তবে কি এমন কেউ আছে যাকে এই সব কটি দরজা হতেই আহ্বান করা হবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদেরই একজন হবে»।
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ وُضُوءٍ»
১০ - বিশর বিন উমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব থেকে, তিনি হুমায়দ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللَّهُ جل جلاله: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلا الصَّيِامَ، الصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَخُلُوفُ الصَّائِمِ عِنْدَ اللَّهِ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা’মার, যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: «আদম সন্তানের প্রতিটি আমলই তার জন্য, কেবল সিয়াম ব্যতীত; সিয়াম আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। আর সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট সুঘ্রাণের চেয়েও অধিক মনোরম কস্তুরীর»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ، فَلا يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا الْمَاءَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا، فَإِنَّهُ لا يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ»
১২ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযায়ি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আজ-যুহরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত পাত্রে না ডুবায় যতক্ষণ না তার ওপর দুইবার বা তিনবার পানি ঢালে, কারণ সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا قَالَ الإِمَامُ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] فَقُولُوا: آمِينَ، فَإِنَّ الْمَلائِكَةَ يَقُولُونَ، وَإِنَّ الإِمَامَ يَقُولُ آمِينَ، فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "
১৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: " যখন ইমাম {যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়} [ফাতিহা: ৭] বলবেন, তখন তোমরা ‘আমীন’ বলো। কেননা ফেরেশতারা বলেন, এবং ইমামও ‘আমীন’ বলেন; অতঃপর যার ‘আমীন’ বলা ফেরেশতাদের ‘আমীন’ বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاةُ فَلا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ، وَلَكِنِ ائْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ، فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا، وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا»
১৪ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা‘মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন নামাযের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা দৌড়ে নামাযে আসবে না, বরং হেঁটে আসবে এবং তোমাদের ওপর ধীরস্থিরতা বজায় রাখা আবশ্যক। সুতরাং তোমরা নামাযের যতটুকু অংশ পাবে তা আদায় করবে, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ، وَلا تَنَاجَشُوا، وَلا يَبِيعُ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ، وَلا يَخْطُبُ عَلَى خِطْبَتِهِ، وَلا تَسْأَلُ الْمَرْأَةُ طَلاقَ أُخْتِهَا لِتَكْتَفِئَ بِهِ مَا فِي إِنَائِهَا»
১৫ - আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো শহরবাসী যেন কোনো গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রয় না করে, তোমরা দালালি (প্রতারণামূলক দরবৃদ্ধি) করো না, কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের কেনা-বেচার ওপর কেনা-বেচা না করে, তার বিয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয় এবং যাঞ্চা করবে না কোনো নারী তার বোনের তালাক, যাতে সে তার পাত্রে যা আছে তা উপুড় করে নিতে পারে।’
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَكَلَ هَذِهِ الشَّجَرَةَ» يَعْنِي الثَّوْمَ «فَلا يُؤْذِينَا فِي مَسْجِدِنَا»
১৬ - আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি এই গাছটি» অর্থাৎ রসুন «ভক্ষণ করবে, সে যেন আমাদের মসজিদে আমাদের কষ্ট না দেয়।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْفَأْرَةِ تَمُوتُ فِي السَّمْنِ، قَالَ: «إِنْ كَانَ جَامِدًا فَأَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا، وَإِنْ كَانَ مَائِعًا فَلا تَقْرَبُوهُ»
১৭ - আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ঘি-এর মধ্যে মারা যাওয়া ইঁদুর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: «যদি তা (ঘি) জমাটবদ্ধ হয় তবে ইঁদুরটি এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও, আর যদি তা তরল হয় তবে তার নিকটবর্তী হয়ো না।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلا يُؤْذِيَنَّ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন কষ্ট না দেয় তার প্রতিবেশীকে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ: أَيُصَلِّي الرَّجُلُ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ؟ فَقَالَ: «أَوَلِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ» .حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، ثنا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ فَقَالَ: «أَوَكُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি কি একটি কাপড়ে সালাত আদায় করতে পারে? তিনি বললেন: "তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে কাপড় আছে?"আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে উমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "তোমাদের সবাই কি দুটি কাপড় পায়?"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২১)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ عز وجل فِي الْيَوْمِ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ سَبْعِينَ مَرَّةً»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি দিনে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে তওবা করি»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২২)
22 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، ثنا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبِتْعِ، فَقَالَ: «كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ حَرَامٌ»
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবন উমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘বিত’ (মধুর তৈরি পানীয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: «প্রত্যেক নেশাজাতীয় পানীয়ই হারাম।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الرُّؤْيَا شِدَّةً غَيْرَ أَنِّي لا أُزَمِّلُ، حَتَّى حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ، أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الرُّؤْيَا مِنَ اللَّهِ عز وجل، وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا حَلَمَ أَحَدُكُمْ حُلْمًا يَكْرَهُهُ فَلْيَبْصُقْ ثَلاثَ بَصَقَاتٍ، وَلْيَسْتَعِذْ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ لا يَضُرُّهُ»
২৩ - আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্ন (দেখে) তীব্র কষ্ট অনুভব করতাম, তবে আমি অসুস্থ হয়ে চাদর মুড়ি দিতাম না; যতক্ষণ না আবু কাতাদাহ আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «উত্তম স্বপ্ন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন (বাম দিকে) তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে; তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ رَدَّادًا اللَّيْثِيَّ أَخْبَرَهُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ عز وجل: «أَنَا الرَّحْمَنُ، خَلَقْتُ الرَّحِمَ، وَشَقَقْتُ لَهَا اسْمًا مِنَ اسْمِي، فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ»
২৪ - আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুহরী থেকে বর্ণিত, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, রাদ্দাদ আল-লাইসী তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: «আমি পরম করুণাময় (আর-রাহমান), আমি আত্মীয়তার বন্ধন (আর-রাহিম) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে এর জন্য একটি নাম উদ্ভূত করেছি। সুতরাং যে একে বজায় রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব, আর যে একে ছিন্ন করবে আমি তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «سَأَلَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَأَمَرَهُ بِقَضَائِهِ»
২৫ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "সা'দ বিন উবাদাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তাঁর মায়ের জিম্মায় থাকা একটি মানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে নির্দেশ প্রদান করেন তা পূরণ করার জন্য।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " جِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، أَوْ قَالَ: يَوْمَ الْفَتْحِ، وَهُوَ يُصَلِّي وَأَنَا وَالْفَضْلُ مُرْتَدِفَانِ عَلَى أَتَانٍ، فَقَطَعْنَا الصَّفَّ وَنَزَلْنَا عَنْهَا، ثُمَّ وَصَلْنَا الصَّفَّ، وَالأَتَانُ تَمُرُّ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ لَمْ تَقْطَعْ صَلاتَهُمْ "
২৬ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি জুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিদায় হজের সময় অথবা তিনি বলেছেন: মক্কা বিজয়ের দিন আসলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আমি এবং ফজল একটি গাধীর পিঠে আরোহী ছিলাম। অতঃপর আমরা কাতার অতিক্রম করলাম এবং তা থেকে নেমে পড়লাম। এরপর আমরা কাতারে শামিল হলাম, আর গাধীটি তাদের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছিল, যা তাদের সালাত নষ্ট করেনি।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا طَلْحَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لا تَدْخُلُ الْمَلائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلا صُورَةُ تَمَاثِيلَ»
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, যুহরি থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু তালহাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যাতে কুকুর অথবা মূর্তির প্রতিকৃতি থাকে»
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: الاسْتِحْدَادُ، وَالْخِتَانُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَنَتْفُ الإِبِطِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ "
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: " পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, খতনা করা, গোঁফ ছাঁটা, বগলের পশম উপড়ানো এবং নখ কাটা।"
(খণ্ড: ১)
জুযউ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الإِيمَانُ بِاللَّهِ» قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ حَجٌّ مَبْرُورٌ»
২৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা»। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «অতঃপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা»। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «অতঃপর মকবুল হজ»