(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: -)
الخامس من الفوائد المنتقاة الحسان القسم: كتب السنة
الكتاب: الخامس من الفوائد المنتقاة الحسان
المؤلف: أبو الحسن علي بن عمر بن أحمد بن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار البغدادي الدارقطني (ت 385هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 19
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাওয়ায়িদ আল-মুনতাকাত আল-হিসান-এর পঞ্চম খণ্ড বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-ফাওয়ায়িদ আল-মুনতাকাত আল-হিসান-এর পঞ্চম খণ্ড
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমাদ বিন মাহদী বিন মাসউদ বিন নুমান বিন দীনার আল-বাগদাদী আদ-দারা কুতনী (ওফাত: ৩৮৫ হিজরী)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ فِيهِ الْخَامِسُ مِنَ الْفَوَائِدِ الْمُنْتَقَاةِ الْحِسَانِ انْتِقَاءُ الشَّيْخِ الْحَافِظِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِيِّ لابْنِ مَعْرُوفٍ.
رِوَايَةُ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيِّ، عَنْهُ.
رِوَايَةُ الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، عَنْهُ.
رِوَايَةُ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ بْنِ الْمُؤَدِّبِ، عَنْهُ.
رِوَايَةُ الشَّيْخِ الْجَلِيلِ شَمْسِ الدِّينِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَسَاكِرَ، عَنْهُ.
سَمَاعٌ مِنْهُ لِعَلِيِّ بْنِ مَسْعُودِ بْنِ نَفِيسٍ الْمَوْصِلِيِّ الْحَلَبِيِّ ، عَفَا اللَّهُ عَنْهُ.
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ يَا مُعِينُ
এই খণ্ডে রয়েছে আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাতুল হিসান-এর পঞ্চম অংশ, যা শেখ হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনী ইবনুল মারুফের জন্য নির্বাচন করেছেন।
আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জওহরীর বর্ণনা, তাঁর থেকে।
কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাযযাযের বর্ণনা, তাঁর থেকে।
আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মামার ইবনে তাবারযাদ ইবনুল মুয়াদ্দিবের বর্ণনা, তাঁর থেকে।
মহান শেখ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকিরের বর্ণনা, তাঁর থেকে।
আলী ইবনে মাসউদ ইবনে নাফীস আল-মাওসিলী আল-হালাবী তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ الأَصِيلُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحَافِظِ أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ عَسَاكِرَ الدِّمَشْقِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، فِي يَوْمِ الْخَمِيسِ سَابِعِ ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَسِتِّينَ وَسِتِّ مِائَةٍ بِالْقَاهِرَةِ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكَ الشَّيْخُ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبْرَزَدَ الْبَغْدَادِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ ، فِي يَوْمِ السَّبْتِ عَاشِرِ رَجَبٍ مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وَسِتِّ مِائَةٍ بِدِمَشْقَ، أَنْبَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، فِي يَوْمِ الثُّلاثَاءِ رَابِعَ عَشَرَ شَعْبَانَ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، أَنْبَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي ذِي الْحَجَّةِ مِنْ سَنَةِ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، أَنْبَا قَاضِي الْقُضَاةِ أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَعْرُوفٍ، ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثَنَا هَارُونُ بْنُ مُوسَى الْفَرْوِيُّ، فِي كِتَابِ الْمَغَازِي، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَلِيحِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ بْنِ حُنَيْنٍ، قَالَ: قَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ: وَثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ الْمُدْلِجِيُّ، أَنَّ أَبَاهُ مَالِكًا، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَخَاهُ سُرَاقَةَ بْنَ جُعْشُمٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ لَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ مُهَاجِرًا، جَعَلَتْ قُرَيْشٌ لِمَنْ رَدَّهُ مِائَةَ نَاقَةٍ، قَالَ بَيْنَمَا أَنَا جَالِسٌ فِي نَادِي قَوْمِي جَاءَ رَجُلٌ مِنَّا، فَقَالَ: لَقَدْ رَأَيْتُ رَكْبَةً ثَلاثَةً مَرُّوا عَلَيَّ آنِفًا إِنِّي لأَظُنُّهُ مُحَمَّدًا، قَالَ: فَأَهْوَيْتُ إِلَيْهِ بِعَيْنَيَّ: اسْكُتْ، وَقُلْتُ: إِنَّمَا هُمْ بَنُو فُلانٍ يَبْتَغُونَ ضَالَّةً لَهُمْ، قَالَ: لَعَلَّهُ، ثُمَّ سَكَتَ، قَالَ: فَمَكَثَ قَلِيلا، ثُمَّ قُمْتُ فَأَمَرْتُ بِفَرَسِي فَقُيِّدَ إِلَى بَطْنِ الْوَادِي، قَالَ: وَأَخْرَجْتُ سِلاحِي مِنْ وَرَاءِ حُجْرَتِي، ثُمَّ أَخَذْتُ قِدَاحِي الَّتِي أَسْتَقْسِمُ بِهَا، ثُمَّ لَبِسْتُ لامَتِي، ثُمَّ أَخْرَجْتُ قِدَاحِي فَاسْتَقْسَمْتُ بِهَا، قَالَ: فَخَرَجَ السَّهْمُ الَّذِي أَكْرَهُ: لا أَضُرُّهُ، قَالَ: وَكُنْتُ أَرْجُو أَنْ أَرُدَّهُ فَآخُذَ الْمِائَةَ نَاقَةٍ، قَالَ: فَرَكِبْتُ عَلَى أَثَرِهِ ، قَالَ: فَبَيْنَمَا فَرَسِي يَشْتَدُّ بِي عَثَرَ، فَسَقَطْتُ عَنْهُ، فَأَخْرَجْتُ قِدَاحِي، فَاسْتَقْسَمْتُ بِهَا، فَخَرَجَ السَّهْمُ الَّذِي أَكْرَهُ: لا أَضُرُّهُ قَالَ: فَأَبَيْتُ إِلا أَتْبَعُهُ، فَرَكِبْتُ، فَلَمَّا بَدَا لِي الْقَوْمُ، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِمْ، عَثَرَ بِي فَرَسِي، وَذَهَبَتْ يَدَاهُ فِي الأَرْضِ، وَسَقَطْتُ عَنْهُ، فَاسْتَخْرَجَ يَدَيْهِ وَأَتْبَعَهُ دُخَانٌ، فَعَرَفْتُ أَنْ قَدْ مُنِعَ مِنِّي، وَأَنَّهُ ظَاهِرٌ، فَنَادَيْتُهُمْ، فَقُلْتُ: انْظُرُونِي فَوَاللَّهِ لا أُرِيبُكُمْ وَلا يَأْتِيكُمْ مِنِّي شَيْءٌ تَكْرَهُونَهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "
قُلْ لَهُ: مَاذَا تَبْتَغِي؟ " فَقُلْتُ لَهُ: اكْتُبْ لِي كِتَابًا يَكُونُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ آيَةً، قَالَ: «اكْتُبْ لَهُ يَا أَبَا بَكْرٍ كِتَابًا» .
قَالَ: فَكَتَبَ لِي، ثُمَّ أَلْقَاهُ إِلَيَّ، قَالَ: فَرَجَعْتُ، فَسَكَتُّ، فَلَمْ أَذْكُرْ شَيْئًا مِمَّا كَانَ، حَتَّى إِذَا فَتَحَ اللَّهُ عز وجل عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ، وَفَرَغَ مِنْ أَمْرِ حُنَيْنٍ خَرَجْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَلْقَاهُ، وَمَعِي الْكِتَابُ الَّذِي كَتَبَ لِي، قَالَ: فَبَيْنَمَا أَنَا قَاعِدٌ لَهُ ، دَخَلَتْ بَيْنَ ظَهْرَانِيَّ كَتِيبَةٌ مِنْ كَتَائِبِ الأَنْصَارِ ، قَالَ: فَطَفِقُوا يَقْرَعُونِّي بِالرِّمَاحِ وَيَقُولُونَ: إِلَيْكَ إِلَيْكَ حَتَّى دَنَوْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ أَنْظُرُ إِلَى سَاقِهِ فِي غَرْزِهِ كَأَنَّهَا جُمَّارَةٌ، فَرَفَعْتُ يَدِي بِالْكِتَابِ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا كِتَابُكَ ، فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَوْمُ وَفَاءٍ وَبِرٍّ، أُدْنُهْ» .
قَالَ: فَأَسْلَمْتُ ثُمَّ تَذَكَّرْتُ شَيْئًا أَسْأَلُ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا ذَكَرْتُ شَيْئًا غَيْرَ أَنِّي قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، الضَّالَّةُ تَغْشَى حِيَاضًا قَدْ مَلَأْتُهَا لإِبِلِي هَلْ لِي مِنْ أَجْرٍ إِنْ سَقَيْتُهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ، فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ حَرَّى أَجْرٌ» .
قَالَ: فَانْصَرَفْتُ، فَسُقْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدَقَتِي
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সম্মানিত ও বংশমর্যাদাসম্পন্ন শাইখ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনুল হাফিজ আবিল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি; তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি শুনছিলাম, ৬৬৩ হিজরি সনের যিলকদ মাসের সাত তারিখ বৃহস্পতিবার কায়রোতে। তাঁকে বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মামার ইবনে তাবারযাদ আল-বাগদাদি; তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আপনি শুনছিলেন, ৬০৩ হিজরি সনের দশই রজব শনিবার দামেস্কে। (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনসারি; তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি শুনছিলাম, ৫২৫ হিজরি সনের চৌদ্দই শাবান মঙ্গলবার। (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাওহারি; তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি শুনছিলাম, ৪৪৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসে। (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজিউল কুজাত আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মারুফ। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে মুসা আল-ফারউয়ি 'কিতাবুল মাগাযি' গ্রন্থে মুসা ইবনে উকবা থেকে। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে মালিহ ইবনে সুলাইমান ইবনে আবিল মুগিরা ইবনে হুনাইন। তিনি বলেন, মুসা ইবনে উকবা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে জুশাম আল-মাদলাজি থেকে যে, তাঁর পিতা মালিক তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর ভাই সুরাকা ইবনে জুশাম তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হলেন, কুরাইশরা তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একশ উটের পুরস্কার ঘোষণা করল। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় যে আমি আমার সম্প্রদায়ের মজলিসে বসা ছিলাম, আমাদের এক ব্যক্তি এল এবং বলল: আমি এইমাত্র তিনজন আরোহীকে যেতে দেখেছি, আমার ধারণা তারা মুহাম্মাদ। তিনি বলেন, আমি তাকে চোখের ইশারায় বললাম: তুমি চুপ থাকো। আর বললাম: তারা তো অমুক বংশের লোক, যারা তাদের হারানো উট খুঁজছে। সে বলল: সম্ভবত তাই হবে। তারপর সে চুপ হয়ে গেল। তিনি বলেন, আমি কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম, তারপর উঠে দাঁড়ালাম এবং আমার ঘোড়াকে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলাম, যাকে উপত্যকার নিচু ভূমিতে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি আমার কক্ষের পেছন দিক দিয়ে অস্ত্র বের করলাম, তারপর ভাগ্য নির্ধারণী তীরগুলো নিলাম যা দিয়ে আমি ভাগ্য পরীক্ষা করতাম। এরপর আমার বর্ম পরিধান করলাম। তারপর তীরগুলো বের করে ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। তিনি বলেন, ফলে সেই তীরটিই বের হলো যা আমি অপছন্দ করতাম (অর্থাৎ আমি তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারব না)। তিনি বলেন, কিন্তু আমি তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে একশ উট পাওয়ার আশা রাখছিলাম। তিনি বলেন, তাই আমি তাঁর পিছু নিয়ে সওয়ার হলাম। তিনি বলেন, যখন আমার ঘোড়া আমাকে নিয়ে দ্রুত ছুটছিল, তখন সে হোঁচট খেল এবং আমি তা থেকে পড়ে গেলাম। তখন আমি তীরগুলো বের করে আবার ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। আবারও সেই তীরটিই বের হলো যা আমি অপছন্দ করতাম (যে আমি তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারব না)। তিনি বলেন, কিন্তু আমি তাঁকে অনুসরণ করা ছাড়া বিরত হলাম না এবং আবার সওয়ার হলাম। যখন কাফেলা আমার দৃষ্টিগোচর হলো এবং আমি তাদের দিকে তাকালাম, তখন আমার ঘোড়া হোঁচট খেল এবং তার সামনের দুই পা মাটিতে ধসে গেল, আর আমি ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম। তারপর সে তার দুই পা টেনে বের করল এবং তার পায়ের নিচ থেকে ধোঁয়া উড়তে লাগল। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আমাকে তাঁর নিকট পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন। তখন আমি তাদের উচ্চস্বরে ডাকলাম এবং বললাম: আমার কথা শুনুন, আল্লাহর কসম আমি আপনাদের কোনো ক্ষতি করব না এবং আপনাদের অপছন্দনীয় কিছু আমার পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে পৌঁছাবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "
ওকে বলো: সে কী চায়? " আমি তাঁকে বললাম: আমার ও আপনার মাঝে নিদর্শন হিসেবে থাকবে এমন একটি দলিল লিখে দিন। তিনি বললেন: «হে আবু বকর, তার জন্য একটি দলিল লিখে দাও»।
তিনি বলেন, তারপর তিনি আমার জন্য লিখে দিলেন এবং সেটি আমার দিকে ছুড়ে দিলেন। তিনি বলেন, এরপর আমি ফিরে এলাম এবং চুপ থাকলাম, যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে কাউকে কিছু বললাম না। অবশেষে যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মক্কা বিজয় করে দিলেন এবং হুনাইনের বিষয়াদি থেকে অবসর হলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাতের জন্য বের হলাম এবং আমার সাথে সেই লিখিত দলিলটি ছিল যা তিনি আমার জন্য লিখেছিলেন। তিনি বলেন, আমি যখন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলাম, এমতাবস্থায় আনসারদের একটি সেনাদল আমার সামনে চলে এল। তিনি বলেন, তারা আমাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করতে লাগল এবং বলতে লাগল: সরে যাও, দূরে সরে যাও। অবশেষে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলাম, তিনি তাঁর উটের ওপর ছিলেন। আমি তাঁর পায়ের গোছার শুভ্রতা দেখছিলাম যা উটের পাদানির সাথে ছিল, তা যেন খেজুর গাছের শুভ্র মজ্জার মতো উজ্জ্বল ছিল। আমি দলিলটি নিয়ে আমার হাত তুললাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি আপনার লিখিত সেই দলিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এটি অঙ্গীকার পূরণ ও সদাচরণের দিন, কাছে এসো»।
তিনি বলেন, এরপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করার কথা মনে করলাম। তবে এই কথাটি ছাড়া অন্য কিছু মনে করতে পারলাম না যে, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, হারানো উটগুলো যখন আমার হাওজগুলোতে আসে যা আমি আমার উটদের জন্য পূর্ণ করে রেখেছি, আমি যদি তাদের পানি পান করাই তবে কি আমি সওয়াব পাব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হ্যাঁ, প্রতিটি তৃষ্ণার্ত প্রাণীর সেবার মধ্যেই সওয়াব রয়েছে»।
তিনি বলেন, তারপর আমি প্রস্থান করলাম এবং আমার সদকার পশুগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أَخْبَرَنَا قَاضِي الْقُضَاةِ، ثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسِ، إِمْلاءً ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ الزِّيَادِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، ثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ رَأَى مُبْتَلا فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِنْ خَلْقِهِ تَفْضِيلا، إِلا عَافَاهُ اللَّهِ مِنْ ذَلِكَ الْبَلاءِ كَائِنًا مَا كَانَ أَبَدًا مَا عَاشَ "
২ - আমাদের অবহিত করেছেন প্রধান বিচারপতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুগাল্লিস, শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ আজ-জিয়াদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দিনার, সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে বলবে: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে সেই বিপদ হতে নিরাপদ রেখেছেন যাতে আপনাকে লিপ্ত করেছেন এবং তাঁর বহু সৃষ্টির ওপর আমাকে অনেক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন’, তবে আল্লাহ তাকে সেই বিপদ হতে রক্ষা করবেন, তা যা-ই হোক না কেন, যতদিন সে বেঁচে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ، ثَنَا أَبُو حَامِدٍ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الْحَضْرَمِيُّ، إِمْلاءً، قَالَ: حَدَّثَنِي هِلالُ بْنُ بِشْرٍ، ثنا إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: أَمَرَ أَبِي بِخَزِيرَةٍ، فَصُنِعَتْ، فَأَمَرَنِي أَنْ أَحْمِلَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمَلْتُهَا، فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَنْزِلِهِ ، فَقَالَ:
«مَا هَذَا يَا جَابِرُ أَلَحْمٌ هُوَ؟» فَقُلْتُ: لا، وَلَكِنْ خَزِيرَةٌ أَمَرَ بِهَا أَبِي فَصُنِعَتْ، ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى أَبِي ، فَقَالَ: هَلْ رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ.
قَالَ: هَلْ قَالَ شَيْئًا؟ قَالَ: فَأَخْبَرْتُهُ، قَالَ: عَسَى أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْتَهَى اللَّحْمَ.
فَقَامَ أَبِي إِلَى دَاجِنٍ لَهُ فَذَبَحَهَا، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَشُوِيَتْ، وَأَمَرَنِي أَنْ أَحْمِلَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَحَمَلْتُهَا، فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ فِي مَكَانِهِ الَّذِي كَانَ فِيهِ، فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا جَابِرُ؟» قَالَ: فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «جَزَى اللَّهُ الأَنْصَارَ عَنَّا خَيْرًا، وَلاسِيَّمَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ، وَسَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ»
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ উবায়দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-হাদরামি, শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবনে বিশর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে হাবিব ইবনে আশ-শাহিদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ‘খাযিরা’ (এক প্রকার খাবার) প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন, ফলে তা তৈরি করা হলো। অতঃপর তিনি আমাকে সেটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি তা নিয়ে গেলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ঘরে পেলাম। তিনি বললেন:
«হে জাবির, এটা কী? এটা কি গোশত?» আমি বললাম: না, বরং এটি ‘খাযিরা’, আমার পিতা এটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তাই তা প্রস্তুত করা হয়েছে। অতঃপর আমি আমার পিতার নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেন: তুমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছ? তিনি (জাবির) বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কি কিছু বলেছেন? তিনি (জাবির) বললেন: আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি (পিতা) বললেন: সম্ভবত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশত খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছেন।
অতঃপর আমার পিতা তাঁর একটি গৃহপালিত পশুর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সেটি জবাই করলেন। তারপর তিনি সেটি ঝলসানোর নির্দেশ দিলেন এবং আমাকে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে যেতে বললেন। আমি তা বহন করে নিয়ে গেলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই স্থানেই উপবিষ্ট ছিলেন যেখানে তিনি পূর্বে ছিলেন। তিনি বললেন: «হে জাবির, এটি কী?» তিনি (জাবির) বললেন: আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আনসারদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, বিশেষ করে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম এবং সাদ ইবনে উবাদাহকে, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَيْرُوزَ الأَنْمَاطِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا أَبُو فَرْوَةَ الرُّهَاوِيُّ وَهُوَ يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا كَوْثَرُ بْنُ حَكِيمٍ الْحَلَبِيُّ، ثَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«أَرْأَفُ أُمَّتِي بِأُمَّتِي أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ ، رضي الله عنه، وَأَشَدُّهَا فِي دِينِ اللَّهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، وَأَشَدُّهَا حَيَاءً عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ ، رضي الله عنه، وَأَقْضَاهَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، وَأَعْلَمُهَا بِالْحَلالِ وَالْحَرَامِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأَقْرَأُهَا أُبَيٌّ، وَأَفْرَضُهَا زَيْدٌ، وَأَصْدَقُهَا لَهْجَةً أَبُو ذَرٍّ الْغِفَارِيُّ، وَحَبْرُهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَأَمِينُهَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ» .
رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
৪ - আবু মুহাম্মাদ উবায়দুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে নাইরুজ আল-আনমাতির সামনে (হাদীসটি) পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। আবু ফাওরাহ আর-রুহাভি—যিনি ইয়াযিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে সিনান—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, কাউসার ইবনে হাকিম আল-হালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে‘ ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন:
«আমার উম্মতের প্রতি আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে লাজুক হলেন উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক হলেন আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), হালাল ও হারাম সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী হলেন মুয়াজ ইবনে জাবাল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কুরআন পাঠকারী হলেন উবাই, উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে সবচেয়ে জ্ঞানী হলেন যায়দ, কথাবার্তায় সবচেয়ে সত্যবাদী হলেন আবু যার আল-গিফারি, এই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।’
আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، أَنْبَا الْقَاسِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو عُبَيْدٍ، أَنْبَا يَحْيَى بْنُ الْوَرْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا عَدِيُّ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ ".
صَحَّ وَاتَّصَلَ، الْحَمْدُ لِلَّهِ وَمَنِّهِ وَحُسْنِ تَوْفِيقِهِ
৫ - ওবায়দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-কাসিম ইবনে ইসমাইল আবু উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আল-ওয়ার্দ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আদি ইবনুল ফাদল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, নাফে থেকে, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বিজোড়, তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন।"
এটি সহীহ ও মুত্তাসিল (সূত্র পরম্পরা অবিচ্ছিন্ন), সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং এটি তাঁরই অনুগ্রহ ও উত্তম তৌফিকের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَمْرٍو يُوسُفَ بْنِ يَعْقُوبَ، وَأَنَا أَسْمَعُ، أَنْبَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَمَّارٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بُعِثَ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَأَقَامَ بِمَكَّةَ خَمْسَةَ عَشَرَ سَنَةً، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ، وَقُبِضَ وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ سَنَةً»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ, তিনি বলেন: আবূ আমর ইউসুফ বিন ইয়াকূবের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; আমাদের জানিয়েছেন আবূ বকর বিন আবী শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকী, সুফইয়ান থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি বনী হাশিমের আযাদকৃত দাস আম্মার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রেরিত হন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। অতঃপর তিনি মক্কায় পনেরো বছর অবস্থান করেন এবং মদীনায় দশ বছর; আর যখন তিনি ওফাত লাভ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর।»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ حَبَشِ بْنِ مَسْعُودٍ ، وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا خَلادُ بْنُ أَسْلَمَ، ثَنَا النَّضْرُ وَهُوَ ابْنُ شُمَيْلٍ، ثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُطَرِّفَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: أَنْتَ سَيِّدُ قُرَيْشٍ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«السَّيِّدُ اللَّهُ» .فَقَالَ: أَنْتَ أَعْظَمُهَا فِيهَا طَوْلا وَأَعْلَاهَا فِيهَا قَوْلا.فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا بِقَوْلِكُمْ، وَلا تَسْتَهْوِيَنَّكُمُ الشَّيَاطِينُ» .
أَوْ قَالَ: «الشَّيْطَانُ»
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে হাবাশ ইবনে মাসউদের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খাল্লাদ ইবনে আসলাম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন নাদর — যিনি ইবনে শুমাইল —, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শুবা, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীরকে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: আপনি কি কুরাইশদের সাইয়িদ (নেতা)? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
“প্রকৃত সাইয়িদ হলেন আল্লাহ।”অতঃপর সে বলল: আপনি আমাদের মধ্যে বদান্যতায় শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদায় সর্বোচ্চ।তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের স্বাভাবিক কথা বলো, আর শয়তান যেন তোমাদেরকে প্ররোচিত না করে।”
অথবা তিনি বলেছেন: “শয়তান যেন (তোমাদেরকে প্ররোচিত না করে)।”
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ بُهْلُولٍ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، ثَنَا أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، مِنْ فِيهِ إِلَى فِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ لا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، فَإِذَا لَمْ يَبْقَ عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ عَالِمٌ اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا»
8 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আদ-দাব্বি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে বাহলুল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি বলেন: আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-কে সরাসরি তাঁর মুখ থেকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ ইলমকে টেনে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে উঠিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন ভূপৃষ্ঠে কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।’
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثَنَا أَبُو حَفْصٍ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، ثَنَا أَيُّوبُ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل لا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعُلَمَاءِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعَالِمَ بِعِلْمِهِ، فَإِذَا لَمْ يَبْقَ فِي الأَرْضِ عَالِمٌ اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস আমর ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তাঁরা হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আলেমদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের মৃত্যু প্রদানের মাধ্যমে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর যখন পৃথিবীতে কোনো আলেম বাকি থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي الْحَسَنِ مُحَمَّدِ بْنِ نُوحٍ الْجُنْدِيسَابُورِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ: ثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمَدَانِيُّ، ثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صَلاةُ اللَّيْلِ مَثْنًى مَثْنًى، فَإِذَا خَشِيتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ»
১০ - উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে নুহ আল-জুন্দিসাবুরীর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম: হারুন ইবনে ইসহাক আল-হামাদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «রাতের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে; অতঃপর যখন তুমি ভোরের আশঙ্কা করবে, তখন এক রাকাত পড়ার মাধ্যমে বিতর আদায় করবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ نُوحٍ، وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، «أَنَّ غَيْلانَ بْنَ سَلَمَةَ الثَّقَفِيَّ أَسْلَمَ وَعِنْدَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَأَسْلَمْنَ مَعَهُ، فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَخْتَارَ أَرْبَعًا مِنْهُنَّ»
১১ - ওবায়দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন নূহ-এর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, হারুন ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদাহ ইবন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ থেকে, তিনি মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে (বর্ণনা করেন), “নিশ্চয়ই গায়লান ইবন সালামাহ আস-সাকাফী ইসলাম গ্রহণ করেন এবং জাহেলিয়াতের যুগে তাঁর দশজন স্ত্রী ছিল। তাঁরাও তাঁর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন তাঁদের মধ্য থেকে চারজনকে বেছে নেন।”
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ، ثَنَا أَبُو الأَزْهَرِ أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ بْنِ مُنَيْعٍ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا أَبِي ، عَنْ ابْنِ إِسْحَاقٍ ، حَدَّثَنَيِ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدِ بْنِ رُكَانَةَ ، عَنْ إَبْرَاهِيمِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِعَلِيٍّ عليه السلام هَذِهِ الْمَقَالَةَ: «أَمَا تَرْضَى يَا عَلِيُّ أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلا أَنَّهُ لا نَبِيَّ بَعْدِي»
১২ - উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আন-নাইসাবুরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আল-আযহার আহমদ ইবনুল আযহার ইবনে মুনাই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ইসহাক থেকে, মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে ইয়াযিদ ইবনে রুকানা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আলীর (আলাইহিস সালাম) উদ্দেশ্যে এই কথাটি বলতে শুনেছেন: «হে আলী! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে তেমন হও যেমন হারুন মূসার নিকট ছিলেন? তবে পার্থক্য হলো আমার পরে আর কোনো নবী নেই»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ الطُّوسِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَبُو غَزِيَّة، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: أَتَتْ سَلْمَى مَوْلاةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، امْرَأَةُ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْتَعْدِي عَلَى أَبِي رَافِعٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَبِي رَافِعٍ:
«مَا لَكَ وَلَهَا يَا أَبَا رَافِعٍ؟» قَالَ: تُؤْذِينِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لِمَ آذَيْتِهِ؟» فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا آذَيْتُهُ بِشَيْءٍ، وَلَكِنَّهُ أَحْدَثَ وَهُوَ يُصَلِّي، فَقُلْتُ: يَا أَبَا رَافِعٍ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَ الْمُسْلِمِينَ إِذَا خَرَجَ مِنْ أَحَدِهِمْ رِيحٌ أَنْ يَتَوَضَّأَ، فَقَامَ يَضْرِبُنِي، قَالَتْ: فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْحَكُ وَيَضْحَكُ وَيَقُولُ: «يَا أَبَا رَافِعٍ إِنَّهَا لَمْ تَأْمُرْكَ إِلا بِخَيْرٍ» .
وَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَمْزَحُ وَيَضْحَكُ إِلَى أَبِي رَافِعٍ
১৩ - উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে সুলাইমান আত-তুসীর সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম, জুবাইর ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু গাজিয়্যাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে সা’দ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আমার নিকট ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমার নিকট তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাসী সালমা—যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস আবু রাফি-র স্ত্রী ছিলেন—আবু রাফি-র বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু রাফিকে বললেন:
“হে আবু রাফি! তোমার ও তার মাঝে কী হয়েছে?” তিনি বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! সে আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।” তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “কেন তুমি তাকে কষ্ট দিচ্ছ?” তখন তিনি (সালমা) বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে কোনো কিছু দ্বারা কষ্ট দেইনি; বরং তিনি সালাত আদায় করা অবস্থায় বায়ু ত্যাগ করেছেন, তাই আমি বললাম: ‘হে আবু রাফি! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, যদি তাদের কারো বায়ু নির্গত হয়, তবে সে যেন ওযু করে।’ এরপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাকে প্রহার করতে শুরু করেন।” বর্ণনাকারী বলেন: এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে শুরু করলেন এবং অনেক হাসলেন ও বললেন: “হে আবু রাফি! সে তো তোমাকে কল্যাণকর কাজ ছাড়া অন্য কিছুর নির্দেশ দেয়নি।”
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু রাফি-র সাথে কৌতুক করছিলেন এবং হাসছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عُبَيْدٍ الْقَاسِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الضَّبِّيِّ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ مُعَلَّى بْنِ مَنْصُورٍ، ثَنَا أَبُو غَسَّانَ الْمَدِينِيَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى، ثَنَا عَبْدُ الْعَزِيز بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ»
১৪ - উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আদ-দাব্বির নিকট পাঠ করা হয়েছে, ইয়াহইয়া বিন মুআল্লা বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান আল-মাদিনি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বিজোড়, তিনি বিজোড় পছন্দ করেন»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - أَنْبَا عُبَيْدُ اللَّهِ، أَنْبَا الْقَاسِمُ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ الْوَرْدِ، ثَنَا عَدِيُّ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ، أَوَاجِبٌ الْوِتْرُ؟ قَالَ: «أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَوْتَرَ الْمُسْلِمُونَ» ، فَقَالَ: أَوَاجِبٌ هُوَ؟ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «أَوَاجِبٌ هُوَ أَوَاجِبٌ هُوَ»
১৫ - উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়ারদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আদি ইবনুল ফাযল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করলেন, বিতর কি ওয়াজিব? তিনি বললেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর পড়েছেন এবং মুসলিমগণও বিতর পড়েছেন।" তখন তিনি পুনরায় বললেন: এটি কি ওয়াজিব? তখন ইবনে উমর বললেন: "এটি কি ওয়াজিব? এটি কি ওয়াজিব?"
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، أَنْبَا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، أنْبَا بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْروٍ، وَغُلامٌ لَهُ يَسْلُخُ شَاةً، فَقَالَ: يَا غُلامُ ، إِذَا فَرَغْتَ فَابْدَأْ بِجَارِنَا الْيَهُودِيِّ.
حَتَّى قَالَهَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: كَمْ تَذْكُرُ الْيَهُودِيَّ؟ فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ:
«مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوَصِّينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنَّا ـ أَوْ رَأَيْنَا ـ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ» .
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، أَنْبَا ابْنُ صَاعِدٍ، ثَنَا الْحُسَيْنُ، ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ بَشِيرٍ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
১৬ - উবায়দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বশীর ইবনে সালমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমরের নিকট উপস্থিত ছিলাম, আর তার এক গোলাম একটি বকরির চামড়া ছাড়াচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: হে গোলাম, যখন তুমি কাজ শেষ করবে, তখন আমাদের ইহুদি প্রতিবেশী থেকে শুরু করবে।
এমনকি তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাকে বলল: আপনি কতবার এই ইহুদির কথা উল্লেখ করবেন? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«জিবরীল আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে ক্রমাগত অসিয়ত করছিলেন, এমনকি আমাদের ধারণা হলো—অথবা আমরা মনে করলাম—যে তিনি তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন» .
উবায়দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বশীর আবু ইসমাঈল থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسِ، إِمْلاءً، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السُّكَيْنِ، ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي كَرْبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «وَيْلٌ لِلْعَرَاقِيبِ مِنَ النَّارِ»
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুগাল্লিস আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন আমর বিন আস-সুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ বিন আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমার নিকট সাঈদ বিন আবি কারব ও আব্দুল্লাহ বিন মারসাদ হতে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা জাবির বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আগুনের কারণে পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস অনিবার্য»
(খণ্ড: ১)
আল-খামিসু মিনাল ফাওয়ায়িদিল মুনতাকাতিল হিসান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ ، وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، ثَنَا سَيَّارٌ، أَنْبَا جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ، وَرَبَاحٌ الْقَيْسِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ شُمَيْطٍ، قَالُوا: سَمِعْنَا ابْنَ عَجْلانَ يَقُولُ: كَانَ عَابِدٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ: اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى دِينِي بِالدُّنْيَا، وَأَعِنِّي عَلَى آخِرَتِي بِتَقْوًى
آخِرُهُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ.
১৮ - উবায়দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদের নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি শ্রবণ করছিলাম, হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জা'ফর (যিনি ইবনে সুলায়মান) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং রাবাহ আল-কাইসি ও আব্দুল্লাহ ইবনে শুমাইত। তাঁরা বললেন: আমরা ইবনে আজলানকে বলতে শুনেছি: বনী ইসরাঈলের একজন আবিদ তাঁর দোয়ায় বলতেন: হে আল্লাহ, দুনিয়ার মাধ্যমে আমাকে আমার দ্বীনের বিষয়ে সাহায্য করুন এবং তাকওয়ার মাধ্যমে আমাকে আমার আখিরাতের বিষয়ে সাহায্য করুন।
এখানেই শেষ এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।