(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: -)
منتقى من العشرين جزءا المنتخبة (الخلعيات)   (الخلعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: منتقى من العشرين جزءا المنتخبة (الخلعيات)

المؤلف: علي بن الحسن بن الحسين بن محمد، أبو الحسن الخِلَعي الشافعيّ (ت 492هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 48

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নির্বাচিত বিশটি খণ্ড থেকে চয়ন (আল-খিলাইয়্যাত)   (আল-খিলায়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: নির্বাচিত বিশটি খণ্ড থেকে চয়ন (আল-খিলাইয়্যাত)

লেখক: আলী ইবনুল হাসান ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ, আবুল হাসান আল-খিলায়ী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৯২ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অধীনে থাকা বিনামূল্যে ব্যবহৃত 'জাওয়ামিউল কালিম' প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١)
الْجُزْءُ مُنْتَقَى مِنَ الْعِشْرِينَ جُزْءًا الْمُنْتَخَبَةِ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخُلَعِيِّ الشَّافِعِيِّ، رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ، عَنْ شُيُوخِهِ.

رِوَايةَ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ غَدِيرِ بْنِ عَلِيٍّ السَّعْدِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةَ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عِمَادِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةَ السَّيِّدِ الشَّرِيفِ تَاجِ الدِينِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ بْنِ أَبِي الْعَبَّاسِ الْغَرَّافِيِّ، عَنْهُ رحمهم الله.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.
আবু আল-হাসান আলী বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আল-খুলায়ি আশ-শাফিয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কর্তৃক তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণিত নির্বাচিত বিশটি খণ্ডের মধ্য হতে সংকলিত একটি অংশ।

তাঁর থেকে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন রিফায়া বিন গাদীর বিন আলী আস-সাদীর বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-হাররানির বর্ণনা।

তাঁর থেকে সাইয়্যিদ আশ-শরিফ তাজউদ্দীন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আবু আব্বাস আল-গারাফির বর্ণনা, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর দরূদ ও পরিপূর্ণ সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢)
1 قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْأَوْحَدِ فَقِيهِ الْمُحَدِّثِينَ وَعَلَمِ الْمُسْنِدِينَ السَّيِّدِ الشَّرِيفِ تَاجِ الدِّينِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْأَوْحَدِ نُورِ الدِّينِ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ بْنِ أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْغَرَّافِيِّ بِثَغْرِ الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ الْمَحْرُوسِ، أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْفَاضِلُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عِمَادِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ فِي شَهْرِ الْمُحَرَّمِ مِنْ سَنَةِ ثِنْتَيْنِ وَثَلَاثِينَ وَسِتُّمِائَةٍ بِقِرَاءَةِ أَبِيكَ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ غَدِيرِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي عَمْرِو بْنِ أَبِي الذَّيَّالِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ نُعَيْمٍ السَّعْدِيِّ الرُّوحِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِمِصْرَ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَخَمْسُمِائَةٍ، قَالَ: أَنَا الْقَاضِي الْأَجَلُّ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخُلَعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِمِصْرَ حَرَسَهَا اللَّهُ فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ ثَمَانٍ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعُمِائَةٍ، قَالَ: أنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ البَزَّازُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ النَّحَّاسِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ دِرْهَمٍ الْبَصْرِيُّ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِمَكَّةَ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: نَا أَبُو عُثْمَانَ سَعْدَانُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَخْرَمِيُّ الْبَزَّازُ، قَالَ: نَا أَبُو مُحَمَّدٍ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ الْهِلَالِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَأَنَا ابْنُ عَشْرِ سِنِينَ، وَمَاتَ وَأَنَا ابْنُ عِشْرِينَ سَنَةً وَكُنَّ أُمَّهَاتِي يَحْثُثْنَنِي عَلَى خِدْمَتِهِ، فَدَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَارَنَا، فَحَلَبْنَا لَهُ مِنْ شَاةٍ لَنَا دَاجِنٍ فَشِيبَ لَهُ مِنْ مَاءِ بِئْرٍ فِي الدَّارِ وَأَبُو بَكْرٍ عَنْ شِمَالِهِ وَأَعْرَابِيٌّ عَنْ يَمِينِهِ، فَشَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعُمَرُ نَاحِيَةً، فَقَالَ عُمَرُ: اعْطِ أَبَا بَكْرٍ.

فَنَاوَلَ الْأَعْرَابِيَّ وَقَالَ: ‌‌«الْأَيْمَنَ فَالْأَيْمَنَ»
১ আমি অনন্য ইমাম শাইখ, মুহাদ্দিসগণের ফকিহ এবং মুসনিদগণের শিরোমণি সাইয়্যিদ শরীফ তাজউদ্দীন আবু হাসান আলী ইবনে শাইখ অনন্য ইমাম নূরুদ্দীন আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল মুহসিন ইবনে আবু আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাসান আল-গারাফির নিকট সুরক্ষিত ইস্কানদারিয়া বন্দরে পাঠ করেছি। আপনাদেরকে শাইখুল ইমাম ফাদিল শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাসান আল-হাররানি ৬৩২ হিজরি সনের মহররম মাসে আপনার পিতার পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আর আপনি তখন শুনছিলেন। তিনি বলেন: শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে রিফাআহ ইবনে গাদির ইবনে আলী ইবনে আবু আমর ইবনে আবুয যায়্যাল ইবনে সাবিত ইবনে নুআইম আস-সাদি আর-রুহির নিকট ৫৫৬ হিজরি সনে মিশরে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুমহান কাজী আবু হাসান আলী ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন আল-খুলায়ি ৪৮৮ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে মিশরে (আল্লাহ একে রক্ষা করুন) তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাযযার, যিনি ইবনুন নাহহাস নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর ইবনে দিরহাম আল-বাসরি, যিনি ইবনুল আরাবি নামে পরিচিত, মক্কায় তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উসমান সা’দান ইবনে নাসর ইবনে মানসুর আল-মাখরামি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আল-হিলালি যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় আসলেন তখন আমার বয়স ছিল দশ বছর, আর তিনি যখন ইন্তেকাল করলেন তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর। আমার মায়েরা আমাকে তাঁর খিদমত করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। একবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বাড়িতে আসলেন, তখন আমরা আমাদের একটি গৃহপালিত ছাগল থেকে তাঁর জন্য দুধ দোহন করলাম এবং তাতে ঘরের কুয়ার পানি মেশানো হলো। তখন আবু বকর (রা.) তাঁর বাম দিকে এবং এক বেদুইন তাঁর ডান দিকে ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পান করলেন। উমর (রা.) একপাশে ছিলেন, তিনি বললেন: আবু বকরকে দিন।

কিন্তু তিনি বেদুইনকে দিলেন এবং বললেন: ‌‌«ডান পাশের ব্যক্তিই অগ্রাধিকারযোগ্য, এরপর তার ডান পাশের ব্যক্তি»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٣)
2 وَبِالسَّنَدِ الْمَذْكُورِ إِلَى الْخُلَعِيِّ قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ الْإِشْبِيلِيُّ قَالَ: نَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرِ بْنِ السَّرِيِّ الرَّافِقِيُّ، إِمْلَاءً، نَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الصَّبَّاحِ، نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، نَا زَائِدَةُ، قَالَ: نَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ، رضي الله عنها، فَقُلْتُ لَهَا: أَلَا تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَتْ: بَلَى، ثَقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، فَأَفَاقَ فَقَالَ: ‌‌«أَصَلَّى النَّاسُ؟» فَقِيلَ: لَا، هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالنَّاسُ عُكُوفٌ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ، قَالَتْ: فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه بِأَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، فَأَتَى الرَّسُولُ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، قَالَتْ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَجُلًا رَقِيقًا: يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ قَالَ: فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ بِهِمْ، ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ لَا يَتَأَخَّرَ وَقَالَ لَهُمَا: «أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ» .

فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهُوَ قَائِمٌ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ: أَلَا أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي بِهِ عَائِشَةُ عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَاتِ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَدِيثَهَا فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: سَمَّيْتَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ قَالَ: قُلْتُ: لَا قَالَ: فَهُوَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا
২ এবং উল্লিখিত সনদে খুলায়ী পর্যন্ত; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জ আল-ইশবিলি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফযল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর ইবনুস সারিয়্যির রাফিকি, শ্রুতলিপি (ইমলা) যোগে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে উমর ইবনুস সাব্বাহ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাইদাহ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে আবি আইশা, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে; তিনি বলেন: আমি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাকে বললাম: আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা সম্পর্কে কিছু বলবেন না? তিনি বললেন: অবশ্যই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ বোধ করলেন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লেন। এরপর তিনি যখন সচেতন হলেন, তখন বললেন: ‌‌“লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?” বলা হলো: না, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এবং লোকেরা ইশার সালাতের জন্য অপেক্ষা করছিল। তিনি (আয়িশাহ) বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট বার্তা পাঠালেন যেন তিনি লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। বার্তাবাহক এসে বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে আদেশ করেছেন লোকেদের সালাত পড়াতে। আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, তাই তিনি বললেন: হে উমর! আপনি লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করুন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আপনিই এর জন্য বেশি হকদার। তিনি (আয়িশাহ) বলেন: ফলে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরীর কিছুটা হালকা বোধ করলেন, তখন তিনি দুজন ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে বের হলেন, যাঁদের একজন ছিলেন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তখন যোহরের সালাত চলছিল এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। যখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি পিছনে সরতে চাইলেন, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ইশারা করলেন যেন তিনি পিছনে না সরেন। এরপর তিনি ঐ ব্যক্তি দুজনকে বললেন: “আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও।”

অতঃপর তাঁরা তাকে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত অনুসরণ করে সালাত আদায় করতে লাগলেন এবং লোকেরা আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সালাত অনুসরণ করে সালাত আদায় করতে লাগল, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা অবস্থায় ছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন: এরপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং বললাম: আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা সম্পর্কে আমাকে যা বর্ণনা করেছেন, আমি কি তা আপনাকে শোনাব? তিনি বললেন: শোনাও। তখন আমি তাঁর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলাম। তিনি এর কোনো কিছু অস্বীকার করলেন না, তবে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি কি তোমাকে সেই লোকটির নাম বলেছিলেন যিনি আব্বাসের সাথে ছিলেন? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٤)
3 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ النَّحَّاسِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ دِرْهَمٍ الْبَصْرِيُّ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْأَعْرَابِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِمَكَّةَ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: نَا أَبُو عُثْمَانَ سَعْدَانُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَخْرَمِيُّ الْبَزَّازُ، أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ الْهِلَالِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ؟ قُلْتُ: الْعِلْمُ، قَالَ: فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًى بِمَا يَطْلُبُ، قُلْتُ: حَكَّ فِي صَدْرِي الْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ، وَأَنْتَ امْرُؤٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُكَ لِأَسْأَلَكَ هَلْ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا؟ فَقَالَ: نَعَمْ، كَانَ أَمَرَنَا إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَوْ مُسَافِرِينَ أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ وَلَا مِنْ جَنَابَةٍ لَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ، قُلْتُ: هَلْ سَمِعْتَهُ يَذْكُرُ فِي الْهَوَى؟ قَالَ: نَعَمْ، بَيْنَمَا نَحْنُ فِي مَسِيرٍ إِذْ نَادَاهُ أَعْرَابِيٌّ بِصَوتٍ لَهُ جَهُورِيٍّ: يَا مُحَمَّدُ، فَأَجَابَهُ عَلَى نَحْوِ ذَلِكَ ‌‌«هَاؤُمُ» .

قُلْنَا: وَيْحَكَ، أَوْ وَيْلَكَ، اغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ فَإِنَّكَ قَدْ نُهِيتَ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَا أَغْضُضُ صَوْتِي
، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ رَجُلًا أَحَبَّ قَوْمًا وَلَمْ يَلْحَقْ بِهِمْ؟ قَالَ: «الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ» .

قَالَ: ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يُحَدِّثُنَا حَتَّى قَالَ: «إِنَّ قِبَلَ الْمَغْرِبِ بَابَ مَسِيرَةٍ عَرْضُهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً أَوْ سَبْعُونَ سَنَةً فَتَحَهُ اللَّهُ لِلتَّوْبَةِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فَلَا يُغْلِقُهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْهُ»
৩ এবং তাঁর মাধ্যমেই (বর্ণিত), তিনি বলেন: আমাকে আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাযযার, যিনি ইবনুন নাহহাস নামে পরিচিত, সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় আমি শ্রবণ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর ইবনে দিরহাম আল-বাসরি, যিনি ইবনুল আরাবি নামে পরিচিত—মক্কায় তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় আমি শ্রবণ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সা’দান ইবনে নাসর ইবনে মনসুর আল-মাখরামি আল-বাযযার; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আল-হিলালি, আসিম ইবনে আবিন নাজুদ থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনে আসসাল আল-মুরাদি-র নিকট আসলাম। তিনি বললেন: তোমাকে কোন বিষয়টি নিয়ে এসেছে? আমি বললাম: জ্ঞান অন্বেষণ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয় সে যা অন্বেষণ করছে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে। আমি বললাম: মলত্যাগ ও প্রস্রাবের পর মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়টি আমার মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে, আর আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন ব্যক্তি, তাই আমি আপনার নিকট এসেছি জিজ্ঞাসা করতে যে, আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে কিছু শুনেছেন কি না? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমরা সফরে থাকতাম বা মুসাফির হতাম, তখন যেন তিন দিন ও তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি—জানাবাত (বড় অপবিত্রতা) ব্যতীত; তবে মলত্যাগ, প্রস্রাব ও ঘুমের কারণে (খোলার প্রয়োজন নেই)। আমি বললাম: আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা এক সফরে থাকাকালীন জনৈক বেদুইন অত্যন্ত উচ্চস্বরে তাঁকে ডাক দিল: হে মুহাম্মদ! তিনিও তাকে অনুরূপ উচ্চস্বরে জবাব দিলেন: “আমি এখানে উপস্থিত আছি।”

আমরা বললাম: তোমার প্রতি দুর্ভোগ! তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, কারণ তোমাকে তো এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি আমার কণ্ঠ নিচু করব না।
অতঃপর সে বলল: সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে কিন্তু (আমলে) তাদের স্তরে পৌঁছাতে পারেনি? তিনি বললেন: “মানুষ তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।”

তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে থাকলেন এমনকি তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই পশ্চিম দিকে একটি দরজা রয়েছে যার প্রশস্ততা চল্লিশ বছর বা সত্তর বছরের পথ; আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহ তাআলা তা তাওবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন। সূর্য সেখান (পশ্চিম দিক) থেকে উদিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা বন্ধ করবেন না।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٥)
4 وَبِهِ إِلَى الْخُلَعِيِّ، قَالَ: وَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُضَرَ الشَّاهِدُ، نَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْبَغْدَادِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، نَا أَبُو عَمْرٍو مِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى بْنِ تَلِيدٍ الرُّعَيْنِيُّ، نَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نَا الْمَسْعُودِيُّ، نَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ آلِ الْمُعَلَّى، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَقَامٍ قَامَهُ: ‌‌«إِنَّ رَجُلًا كَانَ عَلَى تُرْعَةٍ مِنْ تُرَعِ الْجَنَّةِ، وَلَقَدْ خُيِّرَ عَبْدٌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ أَنْ يَعِيشَ فِي الدُّنْيَا مَا شَاءَ وَأَنْ يَأْكُلَ فِيهَا مَا شَاءَ أَوْ مِنْ أَنْ يَلْقَى رَبَّهُ فَاخْتَارَ الْعَبْدُ لِقَاءَ رَبِّهِ» .

فَلُقِّنَهَا أَبُو بَكْرٍ فَجَعَلَ يَبْكِي وَيَنْشَجُّ: بَلْ نَفْدِيكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَنْفُسِنَا وَأَهْلِنَا، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: انْظُرُوا لِهَذَا الشَّيخ يَبْكِي وَيَنْشَجُّ. . . . . . وَإِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهُ خُيِّرَ عَبْدٌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ» .

فَلَمَّا سُرِّيَ الْبُكَاءُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَيْنَا فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ وَلَكِنْ وُدٌّ وَإِخَاءُ إِيمَانٍ وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ قَدِ اتَّخَذَ خَلِيلًا» .

يَعْنِي بِذَلِكَ نَفْسَهُ
৪. এবং তাঁর সূত্রে আল-খুলায়ি পর্যন্ত বর্ণিত, তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস নাসর ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুদার আশ-শাহিদ, আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর মিকদাম ইবনে দাউদ ইবনে ঈসা ইবনে তালিদ আর-রুআইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসাদ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মাসউদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুয়াল্লা পরিবারের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে দাঁড়িয়ে বলেন: «নিশ্চয় এক ব্যক্তি জান্নাতের একটি নহরের (বা জান্নাতের দরজাগুলোর একটির) নিকট ছিলেন, এবং আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যে, সে দুনিয়াতে যতদিন ইচ্ছা বেঁচে থাকবে এবং সেখানে যা ইচ্ছা আহার করবে অথবা সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে; অতঃপর বান্দাটি তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করাকেই পছন্দ করে নিলেন»।

আবু বকর (রা.) বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং তিনি কাঁদতে লাগলেন ও তাঁর কান্নার শব্দ রুদ্ধ হয়ে আসতে লাগল (ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন): "বরং হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের জীবন এবং পরিবার-পরিজন দিয়ে আপনার জন্য উৎসর্গিত হতে রাজি আছি।" তখন উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বলল: "এই বৃদ্ধ লোকটির দিকে তাকাও, সে কাঁদছে এবং ফুঁপিয়ে উঠছে... অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এটুকুই বলেছেন যে: 'নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে'।"

যখন আবু বকর (রা.)-এর কান্নার আবেগ প্রশমিত হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয় সাহচর্য ও সম্পদের দিক থেকে মানুষের মাঝে আমাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী হলেন ইবনে আবি কুহাফা। আর আমি যদি কাউকে খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই খলিল হিসেবে গ্রহণ করতাম। কিন্তু (আমাদের মাঝে) ঈমানি মহব্বত ও ভ্রাতৃত্ব রয়েছে। আর তোমাদের এই সঙ্গী ইতোমধ্যেই (আল্লাহকে) খলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন»।

এর মাধ্যমে তিনি নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٦)
5 وَبِهِ إِلَى الْخُلَعِيِّ، قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ الْإِشْبِيلِيُّ، أَنَا الْقَاضِي أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ زَيْدٍ الْحَلَبِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِالرَّمْلَةِ، نَا أَحْمَدُ بْنُ خُلَيْدٍ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْحَلَبِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ النَّيْسَابُورِيُّ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: ‌‌«أَيُّهَا النَّاسُ، تُوبُوا إِلَى اللَّهِ قَبْلَ أَنْ تَمُوتُوا، وَصِلُوا الَّذِي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رَبِّكُمْ بِكَثْرَةِ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ تُؤْجَرُوا، وَتُحْبَرُوا، وَتُرْزَقُوا، وَتُنْصَرُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عز وجل قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْكُمُ الْجُمُعَةَ فِي يَوْمِي هَذَا، فِي شَهْرِي هَذَا، فِي بَلَدِي هَذَا إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَمَنْ تَرَكَهَا جُحُودًا بِهَا، وَاسْتِخْفَافًا بِحَقِّهَا، فَلَا جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ، وَلَا بَارَكَ لَهُ فِي أَمْرِهِ، أَلَا وَلَا جِهَادَ لَهُ، أَلَا وَلَا صَلَاةَ لَهُ، أَلَا وَلَا بِرَّ لَهُ، أَلَا وَلَا حَجَّ لَهُ، أَلَا وَلَا تُؤَمِّنُ امْرَأَةٌ رَجُلًا، وَلَا يُؤَمِّنُ أَعْرَابِيٌّ مُهَاجِرًا، وَلَا يُؤَمِّنُ فَاجِرٌ بَرًّا إِلَّا أَنْ يَقْهَرَهُ بِسَيْفِهِ»
৫ এবং একই সূত্রে খুলায়ী পর্যন্ত; তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জ আল-ইশবিলি, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু জাফর আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে যাইদ আল-হালাবি—রামলা শহরে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে খুলাইদ, যিনি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-হালাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুআবিয়া আন-নিশাপুরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে বকর, আলি ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, অতঃপর বললেন: «হে লোকসকল, তোমরা মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহর নিকট তাওবা করো এবং অধিক পরিমাণে সিয়াম ও সালাতের মাধ্যমে তোমাদের ও তোমাদের রবের মধ্যকার সম্পর্ককে জুড়ে দাও; তাহলে তোমরা প্রতিদানপ্রাপ্ত হবে, আনন্দিত হবে, রিজিকপ্রাপ্ত হবে এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তোমাদের ওপর জুমুআকে আমার এই দিনে, আমার এই মাসে ও আমার এই শহরে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি একে অস্বীকার করে কিংবা এর অধিকারকে তুচ্ছজ্ঞান করে তা বর্জন করবে, আল্লাহ যেন তার বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত না করেন এবং তার কোনো কাজে বরকত না দেন। সাবধান! তার কোনো জিহাদ নেই, সাবধান! তার কোনো সালাত নেই, সাবধান! তার কোনো পুণ্য নেই, সাবধান! তার কোনো হজ নেই। আর কোনো নারী যেন কোনো পুরুষের ইমামতি না করে, কোনো গ্রাম্য আরব যেন কোনো মুহাজিরের ইমামতি না করে এবং কোনো পাপাচারী যেন কোনো পুণ্যবানের ইমামতি না করে, যদি না সে তাকে তার তলোয়ারের মাধ্যমে বাধ্য করে।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٧)
6 وَبِالْإِسْنَادِ الْمَذْكُورِ قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ الْإِشْبِيلِيُّ الشَّاهِدُ، نَا أَبُو الْفَوَارِسِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْحُسَيْنِ الصَّابُونِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: نَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيُّ، نَا الشَّافِعِيُّ وَهُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، أَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو الْأَزْهَرِ مُعَاوِيَةُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: أَتَى جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم بِمِرْآةٍ بَيْضَاءَ فِيهَا نُكْتَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا هَذِهِ؟» قَالَ: هَذِهِ الْجُمُعَةُ، فُضِّلْتَ بِهَا أَنْتَ وَأُمَّتُكَ وَالنَّاسُ لَكُمْ فِيهَا تَبَعٌ، الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ، وَفِيهَا سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا مُؤْمِنٌ يَدْعُو بِخَيْرٍ إِلَّا اسْتُجِيبَ لَهُ وَهُوَ عِنْدَنَا يَوْمُ الْمَزِيدِ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا جِبْرِيلُ وَمَا يَوْمُ الْمَزِيدِ؟» قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ اتَّخَذَ فِي الْفِرْدَوْسِ وَادِيًا فِيهِ كُثُبٌ مِنْ مِسْكٍ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَنْزَلَ اللَّهُ مَا شَاءَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَحَوْلَهُ مَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ مُكَلَّلَةٌ بِالْيَاقُوتِ وَالزَّبَرْجَدِ عَلَيْهَا الشُّهَدَاءُ وَالصِّدِيقُونَ فَيَجْلِسُونَ مِنْ وَرَائِهِمْ عَلَى تِلْكَ الْكُثُبِ فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: أَنَا رَبُّكُمْ قَدْ صَدَقْتُكُمْ وَعْدِي فَاسْأَلُونِي أَعْطِكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا نَسْأَلُكَ الرِّضَا، فَيَقُولُ: قَدْ رَضِيتُ عَنْكُمْ، وَلَكُمْ مَا تَمَنَّيْتُمْ وَلَدَيَّ مَزِيدٌ، فَهُمْ يُحِبُّونَ الْجُمُعَةَ لِمَا يُعْطِيهِمْ رَبُّهُمْ مِنَ الْخَيْرِ، وَهُوَ الْيَوْمُ الَّذِي اسْتَوَى فِيهِ رَبُّكَ عز وجل عَلَى الْعَرْشِ، وَفِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ "
৬. উল্লিখিত সনদে তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাজ আল-ইশবিলি আল-শাহিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাওয়ারিস আহমদ বিন উমর বিন হুসাইন আস-সাবুনী (শ্রুতলিপি হিসেবে), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাফিঈ, আর তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন উবাইদাহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আজহার মুয়াবিয়া বিন ইসহাক বিন তালহা, আবদুল্লাহ বিন উবাইদ বিন উমাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছেন: জিবরাঈল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সাদা আয়না নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন যার মধ্যে একটি চিহ্ন ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “এটি কী?” তিনি বললেন: এটি জুমার দিন, যার মাধ্যমে আপনাকে এবং আপনার উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে এবং অন্য মানুষরা এক্ষেত্রে আপনাদের অনুসারী, ইয়াহুদি এবং খ্রিস্টানরা এক্ষেত্রে আপনাদের জন্য কল্যাণ স্বরূপ, আর এতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যা কোনো মুমিন ব্যক্তি কল্যাণের দোয়া করা অবস্থায় পেলে অবশ্যই তার দোয়া কবুল করা হয়, আর আমাদের নিকট তা হলো 'অতিরিক্ত পাওয়ার দিন' (ইয়াওমুল মাজীদ)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “হে জিবরাঈল, অতিরিক্ত পাওয়ার দিন কী?” তিনি বললেন: আপনার প্রতিপালক জান্নাতুল ফিরদাউসে একটি উপত্যকা নির্ধারণ করেছেন যেখানে মিশকের টিলাসমূহ রয়েছে। যখন কিয়ামতের দিন হবে, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী ফেরেশতাদের অবতরণ করাবেন, আর তাঁর চারপাশে ইয়াকুত ও যবরজদ খচিত স্বর্ণের মিম্বরসমূহ থাকবে যার ওপর শহীদ ও সত্যবাদীরা উপবিষ্ট থাকবেন এবং অন্যরা তাদের পেছনে সেই টিলাগুলোর ওপর বসবেন। তখন মহান আল্লাহ বলবেন: আমিই তোমাদের প্রতিপালক, আমি তোমাদের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি সত্য করেছি, সুতরাং তোমরা আমার কাছে চাও, আমি তোমাদের দেব। তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি। তখন তিনি বলবেন: আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি, এবং তোমাদের জন্য তা-ই রয়েছে যা তোমরা কামনা করো এবং আমার কাছে আরও অতিরিক্ত রয়েছে। তাই তারা জুমার দিনকে ভালোবাসে কারণ তাদের প্রতিপালক তাদের যে কল্যাণ দান করেন তার জন্য। আর এটি সেই দিন যে দিন আপনার প্রতিপালক মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আরশের ওপর উঠেছেন, আর এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٨)
7 وَبِهِ إِلَى الْخُلَعِيِّ، قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُنِيرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُنِيرٍ الشَّاهِدُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، نَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْبَغْدَادِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، نَا أَبُو عَمْرٍو مِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى بْنِ تَلِيدٍ الرُّعَيْنِيُّ، إِمْلَاءً، قَالَ: نَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، ‌‌«أَنَّ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ، وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ كَانَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ حِنْدَسٍ فَخَرَجَا مِنْ عِنْدِهِ فَأَضَاءَتْ عَصَا أَحَدِهِمَا فَجَعَلَا يَمْشِيَانِ فِي ضَوْئِهَا، فَلَمَّا تَفَرَّقَا إِلَى مَنَازِلِهِمَا أَضَاءَتْ عَصَا هَذَا وَعَصَا هَذَا»
৭. এবং তাঁর মাধ্যমেই আল-খুলাঈর প্রতি (সনদ পৌঁছেছে), তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুনীর ইবনে আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে মুনীর আশ-শাহিদ আমাদের নিকট তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদী তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আমর মিকদাম ইবনে দাউদ ইবনে ঈসা ইবনে তালীদ আর-রুআইনী শ্রুতিলিপির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসাদ ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন সাবেত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, «নিশ্চয়ই আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং উসাইদ ইবনে হুদাইর এক নিবিড় অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ছিলেন, অতঃপর তাঁরা বের হলেন তাঁর নিকট থেকে এবং তাঁদের একজনের লাঠি প্রজ্বলিত হয়ে উঠল, ফলে তাঁরা উভয়ই তার আলোতে পথ চলতে লাগলেন। অতঃপর যখন তাঁরা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন এর লাঠি এবং ওর লাঠি (উভয়ই) প্রজ্বলিত হয়ে উঠল।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٩)
8 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، أَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، بِمَكَّةَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ عِنْدَ بَابِ مَنْزِلِهِ، نَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ أَبُو عَلِيٍّ، نَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، نَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، نَا خَالِدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ مُحَمَّدٍ الْأُمَوِيُّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ سَهْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ صَعَدَ الْمِنْبَرَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: ‌‌«يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ أَبَا بَكْرٍ لَمْ يَسُؤْنِي قَطُّ فَاعْرِفُوا ذَلِكَ لَهُ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنِّي رَاضٍ عَنْ عُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيٍّ وَطَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَالْمُهَاجِرِينَ الْأَوَّلِينَ فَاعْرِفُوا ذَلِكَ لَهُمْ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لِأَهْلِ بَدْرٍ وَالْحُدَيْبِيَةِ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ، احْفَظُونِي فِي أَخْتَانِي وَأَصْهَارِي وَأَصْحَابِي لَا يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ بِمَظْلَمَةِ أَحَدٍ مِنْهُمْ فَإِنَّهَا لَيْسَتْ مِمَّا تُوهَبُ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ، ارْفَعُوا أَلْسِنَتَكُمْ عَنِ الْمُسْلِمِينَ، وَإِذَا مَاتَ الرَّجُلُ فَلَا تَقُولُوا فِيهِ إِلَّا خَيْرًا» .

ثُمَّ نَزَلَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৮ এবং তাঁর (একই সূত্রের) মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-বাজ্জায, আমাকে জানিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন বিশর বিন আল-আরাবি, মক্কায় তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তাঁর গৃহের দরজার সামনে শ্রবণ করছিলাম। আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আয-যা’ফারানি আবু আলী, আমাদের জানিয়েছেন যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া, আমাদের জানিয়েছেন সুলায়মান বিন দাউদ, আমাদের জানিয়েছেন খালিদ বিন আমর বিন মুহাম্মদ আল-উমাওয়ি, সাহল বিন ইউসুফ বিন সাহল বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ থেকে ফিরে এলেন, তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন। এরপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: “হে লোকসকল, আবু বকর আমাকে কখনও কষ্ট দেননি, সুতরাং তাঁর এই মর্যাদা তোমরা স্বীকার করো। হে লোকসকল, আমি উমরের প্রতি সন্তুষ্ট এবং উসমান, আলী, তালহা বিন উবায়দুল্লাহ, যুবাইর বিন আল-আওয়াম, সা’দ বিন মালিক, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং প্রথম পর্যায়ের মুহাজিরদের প্রতিও আমি সন্তুষ্ট, সুতরাং তাদের এই মর্যাদা তোমরা স্বীকার করো। হে লোকসকল, নিশ্চয় আল্লাহ বদর ও হুদাইবিয়াহবাসীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। হে লোকসকল, আমার জামাতা, শ্বশুরকুল এবং সাহাবীদের বিষয়ে আমার সম্মান রক্ষা করো। আল্লাহ যেন তাদের কারো প্রতি করা জুলুমের কারণে তোমাদের পাকড়াও না করেন, কেননা এ ধরনের জুলুম ক্ষমাযোগ্য নয়। হে লোকসকল, মুসলিমদের গীবত থেকে তোমাদের জিহ্বাকে সংযত রাখো। আর যখন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সম্পর্কে ভালো কথা ছাড়া কিছু বলো না।”।

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এলেন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ جَعْفَرٍ الْعَطَّارُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ الْعَسْكَرِيُّ، نَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ رُزَيْقِ بْنِ جَامِعٍ الْمَدِينِيُّ سَنَةَ سَبْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، نَا أَبُو الْحَسَنِ سُفْيَانُ بْنُ بِشْرٍ الْأَسَدِيُّ الْكُوفِيُّ، نَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ، عَنْ فِطْرِ بْنِ خُلَيْفَةَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ: جَمَعَ عَلِيٌّ، عليه السلام، النَّاسَ فِي الرَّحْبَةِ فَقَالَ: أَنْشُدُ اللَّهَ امْرَأً مُسْلِمًا سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ يَوْمَ غَدِيرِ خَمٍّ مَا قَالَ: ‌‌«مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ، اللَّهُمَّ وَالِ مَنْ وَالَاهُ، وَعَادِ مَنْ عَادَاهُ» .

إِلَّا قَامَ يَشْهَدُ، قَالَ: فَقَامَ أُنَاسٌ مِنَ النَّاسِ يَشْهَدُونَ، فَقَالَ أَبُو الطُّفَيْلِ: فَخَرَجْتُ فَكَانَ فِي نَفْسِي شَيْءٌ فَلَقِيتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ فَقُلْتُ: إَنِّي سَمِعْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيًّا عليه السلام يَقُولُ كَذَا وَكَذَا، قَالَ: وَمَا يَذْكُرُ مِنْ ذَاكَ، فَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَاكَ كُلَّهُ
৯ এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন: আমি আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে জাফর আল-আত্তার, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে রাশীক আল-আসকারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে রুজাইক ইবনে জামে আল-মাদিনী ২৯৭ হিজরি সালে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান সুফিয়ান ইবনে বিশর আল-আসাদী আল-কুফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হাশিম ইবনুল বারীদ, ফিতর ইবনে খলিফা থেকে, তিনি আবু তুফায়েল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) রাহবায় মানুষকে সমবেত করলেন এবং বললেন: আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করছি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাদীরে খুমের দিনে যা বলতে শুনেছে সে সম্পর্কে: «আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে আপনিও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, আর যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন।».

সে যেন দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেয়। বর্ণনাকারী বলেন: তখন কিছু লোক দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন। আবু তুফায়েল বলেন: অতঃপর আমি বেরিয়ে এলাম এবং আমার মনে কিছুটা খটকা ছিল, তাই আমি যায়েদ ইবনে আরকামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আমি আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম)-কে এমন এমন কথা বলতে শুনেছি। তিনি বললেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এর পুরোটাই বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١١)
10 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو حَازِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ خَلَفٍ الْفَرَّاءُ الْبَغْدَادِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَهْدِيٍّ الدَّارَقُطْنِيُّ الْحَافِظُ، نَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، نَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُفْيَانَ الْوَاسِطِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: رَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَمْشِي أَمَامَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، فَقَالَ: ‌‌«يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ، أَتَمْشِي أَمَامَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ فِي الدُّنْيَا وَالَآخِرَةِ، مَا طَلَعَتْ شَمْسٌ وَلَا غَرُبَتْ عَلَى أَحَدٍ بَعْدَ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ أَفْضَلَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه»
১০ এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি বলেছেন: আমি আবু হাযিম মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন খালাফ আল-ফাররা আল-বাগদাদী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, হাফিজ আবু আল-হাসান আলী বিন উমর বিন আহমাদ বিন মাহদী আদ-দারাকুতনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন সুফিয়ান আল-ওয়াসিতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু আদ-দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে দিয়ে হাঁটতে দেখলেন, অতঃপর তিনি বললেন: «হে আবু আদ-দারদা, তুমি কি এমন ব্যক্তির সামনে দিয়ে হাঁটছ যে দুনিয়া ও আখেরাতে তোমার চেয়ে উত্তম? কোনো ব্যক্তির ওপর সূর্য উদিত হয়নি এবং অস্তও যায়নি নবী ও রাসূলগণের পর যে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُزَيْقٍ الْكُوفِيُّ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَعْقُوبَ الْبَغْدَادِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَصْرِيُّ، نَا حَسَّانُ بْنُ هِلَالٍ، نَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: "‌‌ ارْتَدَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه فَكَانَ إِذَا مَرَّ بَالْمَلَأِ مِنْ قُرَيْشٍ، قَالُوا: يَا أَبَا بَكْرٍ، مَنِ هَذَا الرَّجُلُ مَعَكَ؟ فَيَقُولُ: رَجُلٌ يَهْدِينِي السَّبِيلَ "
১১ এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুজাইক আল-কুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইয়াকুব আল-বাগদাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-বাসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসসান ইবনে হিলাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে আরোহণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি যখন কুরাইশদের কোনো সমাবেশের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তারা বলত: হে আবু বকর, আপনার সাথে এই ব্যক্তিটি কে? তখন তিনি বলতেন: এই ব্যক্তি আমাকে পথ প্রদর্শন করছেন।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 وَبِهِ قَالَ: أَنَا مُحَمَّدٌ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، إِمْلَاءً، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْبَغْدَادِيُّ، سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثُمِائَةٍ، نَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، وَمُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنْبَرِيُّ، وَاللَّفْظُ لِأَبِي مُسْلِمٍ، قَالَا: ثَنَا بَكَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّيرِينِيُّ، نَا ابْنُ عَوْفٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى بِلَالٍ فَوَجَدَ عِنْدَهُ نَوَى تَمْرَتَيْنِ، فَقَالَ: ‌‌«مَا هَذَا يَا بِلَالُ؟» قَالَ تَمْرٌ أَدَّخِرُهُ، قَالَ: «وَيْحَكَ يَا بِلَالُ أَوَ مَا تَخَافُ أَنْ يَكُونَ لَهُ بُخَارٌ فِي النَّارِ، أَنْفِقْ بِلَالْ وَلَا تَخْشَ مِنْ ذِي الْعَرْشِ إِقْلَالا»
১২ এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জায শ্রুতিলিপি অনুযায়ী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে সাঈদ আল-বাগদাদি তিনশত আটত্রিশ হিজরি সনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম এবং মুয়াজ ইবনুল মুসান্না আল-আনবারি—আর শব্দাবলি আবু মুসলিমের—তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকার ইবনে মুহাম্মদ আস-সিরিনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আওফ, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালের নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর নিকট কিছু খেজুর দেখতে পেয়ে বললেন: «হে বিলাল, এটা কী?» তিনি বললেন: খেজুর, আমি তা সঞ্চয় করে রাখছি। তিনি বললেন: «আফসোস তোমার জন্য হে বিলাল! তুমি কি ভয় পাও না যে জাহান্নামের আগুনে এর জন্য ধোঁয়া হবে? হে বিলাল, ব্যয় করো এবং আরশের অধিপতির পক্ষ থেকে অভাবগ্রস্ত হওয়ার ভয় করো না।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ النَّحَّاسُ، أَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، نَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، سَمِعَ قَوْمَهُ يُحَدِّثُونَ عَنْ عُرْوَةَ الْبَارِقِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ‌‌«أَعْطَاهُ دِينَارًا يَشْتَرِي لَهُ شَاةً لِلضَّحِيَّةِ، فَاشْتَرَى لَهُ شَاتَيْنِ، فَبَاعَ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ وَبِدِينَارٍ، فَدَعَا لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْبَرَكَةِ فِي بَيْعِهِ، فَكَانَ لَوِ اشْتَرَى التُّرَابَ رَبِحَ فِيهِ»
১৩ এবং এই সনদে তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আন-নাহহাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জিয়াদ ইবনুল আরাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবনে নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, শাবীব ইবনে গারকাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর গোত্রের লোকদের উরওয়াহ আল-বারিকী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) «তাঁকে কুরবানীর জন্য একটি বকরী ক্রয় করতে একটি দিনার প্রদান করেন, অতঃপর তিনি তাঁর জন্য দুটি বকরী ক্রয় করেন এবং তাদের একটি এক দিনারে বিক্রি করে দেন। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি বকরী এবং একটি দিনার নিয়ে উপস্থিত হলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ব্যবসায় বরকতের জন্য দোয়া করলেন; ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, তিনি যদি মাটিও ক্রয় করতেন তবে তাতেও লাভবান হতেন।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو النُّعْمَانِ تُرَابُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّاسٍ الْعَسْقَلَانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَهْدِيٍّ الدَّارَقُطْنِيُّ الْبَغْدَادِيُّ، إِمْلَاءً بِمِصْرَ، نَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، نَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبَّادِيُّ، مِنْ بَنِي عَبَّادِ بْنِ رَبِيعَةَ فِي بَنِي مُرَّةَ بِالْبَصْرَةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَمِائَتَيْنِ، نَا مَسْلَمَةُ بْنُ سَالِمٍ الْجُهَنِيُّ، إِمَامُ مَسْجِدِ بَنِي حَرَامٍ وَمُؤَذِّنُهُمْ، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ جَاءَنِي زَائِرًا لَمْ تَنْزَعْهُ حَاجَةٌ إِلَّا زِيَارَتِي كَانَ حَقًّا عَلَيَّ أَنْ أَكُونَ لَهُ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
১৪ এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি বলেছেন: আমি আবু আন-নু'মান তুরাব বিন উমর বিন উবাইদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-আসকালানী, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; আবু আল-হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদী আদ-দারা কুতনী আল-বাগদাদী মিশরে শ্রুতিলিখন হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আব্বাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি ২০৫ হিজরী সনে বসরার বনী মুররাহ-এর অন্তর্ভুক্ত বনী আব্বাদ বিন রাবিয়াহ গোত্রভুক্ত ছিলেন; মাসলামাহ বিন সালিম আল-জুহানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিনি বনী হারাম মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন ছিলেন; উবাইদুল্লাহ বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে’ থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‌‌“যে ব্যক্তি আমার নিকট যিয়ারতকারী হিসেবে আসবে এবং কেবল আমার যিয়ারত ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজন তাকে উদ্বুদ্ধ করবে না, তার জন্য আমার সুপারিশকারী হওয়া আবশ্যক হবে সেই দিবসে কিয়ামতের।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ جَعْفَرٍ الْعَطَّارُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ الْعَسْكَرِيُّ، نَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ رُزَيْقِ بْنِ جَامِعٍ الْمَدِينِيُّ سَنَةَ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، نَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، نَا وَكِيعٌ، نَا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه، قَالَ: ‌‌«لَعَهِدَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الأُمِّيُّ أَلَّا يُحِبَّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا يَبْغَضَنِي إِلَّا مُنَافِقٌ»
১৫ এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাকে আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন জাফর আল-আত্তার সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল আর আমি তা শুনছিলাম; আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন রাশিক আল-আসকারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন রুজায়িক বিন জামে আল-মাদিনি দুইশত নিরানব্বই সালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবদাহ বিন আব্দুর রহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ওয়াকি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আল-আমাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আদী বিন সাবিত আল-আনসারি থেকে; জির বিন হুবাইশ থেকে; আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «উম্মি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন যে, মুমিন ব্যতীত কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না কেবল মুনাফিক।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو حَازِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ خَلَفٍ الْفَرَّاءُ، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَهْدِيٍّ الدَّارَقُطْنِيُّ الْحَافِظُ، نَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، وَأَبُو حَامِدٍ الْحَضْرَمِيُّ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالُوا: أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي مَذْعُورٍ، نَا هُشَيْمٌ، نَا مَالِكُ بْنُ مَغُولٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ وَابْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، عليه السلام، قَالَ: أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا آخِذٌ بِيَدِ صَاحِبِهِ، قَالَ: فَلَمَّا رَآهُمَا قَالَ: ‌‌«هَذَانِ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ إِلَّا النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ، لَا تُخْبِرْهُمَا يَا عَلِيُّ»
১৬ এবং উক্ত সনদে তিনি বলেন: আবু হাযিম মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে খালাফ আল-ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আল-হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে মাহদী আদ-দারা কুতনী আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, আবু হামিদ আল-হাদরামী এবং আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আমাদের বলেছেন। তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি মাযকুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হুশাইম আমাদের বলেছেন। মালিক ইবনে মাগুল আমাদের নিকট আশ-শা’বী থেকে এবং ইবনে ইসহাক আশ-শা’বী থেকে, তিনি আল-হারিস থেকে এবং তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু বকর ও উমর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর সাথীর হাত ধরে ছিলেন। তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ তাঁদের দেখলেন, তখন তিনি বললেন: “এই দুইজন নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জান্নাতী প্রৌঢ়দের সরদার। হে আলী, তুমি তাঁদের এই সংবাদ দিও না, হে আলী।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا الْغَلَّابِيُّ، نَا الْعَبَّاسُ بْنُ بَكَّارٍ أَبُو الْوَلِيدِ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُثَنَّى الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ عَمِّهِ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ وَقَدْ أَطَافَ بِهِ أَصْحَابُهُ، إِذْ أَقْبَلَ عَلِيٌّ، عليه السلام، فَسَلَّمَ ثُمَّ وَقَفَ فَنَظَرَ، مَكَانًا يَجْلِسُ فِيهِ، فَنَظَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى وُجُوهِ أَصْحَابِهِ أَيُّهُمْ يُوسِعُ لَهُ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فَتَزَحْزَحَ أَبُو بَكْرٍ عَنْ مَجْلِسِهِ، وَقَالَ: هَا هُنَا يَا أَبَا الْحَسَنِ، فَجَلَسَ بَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، فَرَأَيْنَا السُّرُورَ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ: ‌‌«يَا أَبَا بَكْرٍ، إِنَّمَا يَعْرِفُ الْفَضْلَ لِأَهْلِ الْفَضْلِ ذَوُوا الْفَضْلِ»
১৭ এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জাজ, তাঁর কাছে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবী, তাঁর কাছে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-গাল্লাবী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবনে বাক্কার আবু আল-ওয়ালিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুসান্না আল-আনসারী, তিনি তাঁর চাচা সুমামাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আনাস থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন এবং তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে ঘিরে ছিলেন, এমতাবস্থায় আলী আলাইহিস সালাম আসলেন। তিনি সালাম দিলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে বসার জন্য একটি স্থান খুঁজছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের চেহারার দিকে তাকালেন যে তাদের মধ্যে কে তাঁর জন্য স্থান প্রশস্ত করে দেয়। আবু বকর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডান পাশে বসা ছিলেন, তখন আবু বকর তাঁর স্থান থেকে সরে গেলেন এবং বললেন: হে আবুল হাসান, এখানে আসুন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাঝখানে বসলেন। তখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারায় আনন্দের আভা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি আবু বকরের দিকে ফিরে বললেন: «হে আবু বকর, নিশ্চয়ই ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিদের ফযীলত কেবল ফযীলতসম্পন্ন ব্যক্তিরাই অনুধাবন করতে পারে»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ النَّحَّاسِ، نَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، نَا الْغَلَّابِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، نَا أَحْمَدُ بْنُ غَسَّانَ الْهُجَيْمِيُّ، نَا أَحْمَدُ بْنُ عَطَاءٍ الْهُجَيْمِيُّ أَبُو عُمَرَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَكَمِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا لَهُ نَظِيرٌ فِي أُمَّتِهِ، وَأَبُو بَكْرٍ نَظِيرُ إِبْرَاهِيمَ، وَعُمَرُ نَظِيرُ مُوسَى، وَعُثْمَانُ نَظِيرُ هَارُونَ، وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ نَظِيرِي، وَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ فَلْيَنْظُرْ إِلَى أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ رضي الله عنهم»
১৮ এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনুন নাহহাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-গাল্লাবি মুহাম্মাদ ইবনে জাকারিয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে গাসসান আল-হুজাইমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আতা আল-হুজাইমি আবু উমর, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল হাকাম, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো নবী নেই যার উম্মতের মধ্যে তাঁর একজন সদৃশ ব্যক্তি নেই; আবু বকর হলেন ইব্রাহিমের সদৃশ, উমর হলেন মুসার সদৃশ, উসমান হলেন হারুনের সদৃশ, এবং আলী ইবনে আবি তালিব হলেন আমার সদৃশ; আর যে ব্যক্তি ঈসা ইবনে মারইয়ামের প্রতি তাকিয়ে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন আবু যর আল-গিফারীর দিকে তাকায় (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ، أَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثُمِائَةٍ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ بُرْدٍ الْأَنْطَاكِيُّ، قَدِمَ بَغْدَادَ، نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ رضي الله عنهما، يَقُولُ: "‌‌ أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ، وَيَقُولُ: كَانَ إِبْرَاهِيمُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَوِّذُ بِهِمَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ "
১৯ এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-বায্যায, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সুলায়মান আল-বাগদাদী—তিনশত আটত্রিশ হিজরি সনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালীদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-ওয়ালীদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে বুরদ আল-আনতাকী, যিনি বাগদাদে এসেছিলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে হারুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ, মানসুর থেকে বর্ণিত, তিনি মিনহাল থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং বলতেন: "আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে ন্যস্ত করছি। আর তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) এভাবেই ইসমাইল ও ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম)-এর জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 وَبِهِ قَالَ: أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبٍ، نَا أَبُو عُمَرَ هِلَالُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ هِلَالٍ الْبَاهِلِيُّ، نَا أَبِي، وَعَبْدُ اللَّهِ، يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ، قَالَا: نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه، قَالَ: قُدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْيٍ، فَأَمَرْتُ فَاطِمَةَ أَنْ تَأْتِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْتَخْدِمُهُ، قَالَ: وَكَانَتْ تَعْمَلُ وَتَطْحَنُ بِيَدِهَا حَتَّى تَنَفَّطَتْ، فَانْطَلَقَتْ فَاطِمَةُ وَكَانَ يَوْمَ عَائِشَةَ فَلَمْ تَجِدْهُ فَرَجَعَتْ، ثُمَّ مَكَثَتْ سَاعَةً ثُمَّ انْطَلَقَتْ فَلَمْ تَجِدْهُ، وَزَادَ ابْنُ جَعْفَرٍ، فَرَجَعَتْ ثُمَّ مَكَثَتْ سَاعَةً ثُمَّ انْطَلَقَتْ فَلَمْ تَجِدْهُ، قَالَا جَمِيعًا: فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ تَرْجِعْ صَلَّى الْعِشَاءَ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جَاءَتْ فَاطِمَةُ الْيَوْمَ مِرَارًا تَطْلُبُكَ كُلَّ ذَلِكَ لَا تَجِدُكَ، قَالَ: ‌‌«فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ؟» فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا جَاءَ بِهَا إِلَّا حَاجَةٌ أَوْ أَمْرٌ» فَخَرَجَ حَتَّى أَتَى بَابَ فَاطِمَةَ فَسَلَّمَ، قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: وَقَدْ أَخَذْتُ أَنَا وَفَاطِمَةُ مَضَاجِعَنَا، قَالَ: فَلَمَّا اسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَحَرَّكْتُ لِأَقُومَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «كَمَا أَنْتُمَا عَلَى مَضَاجِعِكُمَا» .

قَالَ: فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ عِنْدَ رُءوسِهِمَا وَأَدْخَلَ قَدَمَيْهِ مِنَ الْبَرْدِ، قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: فَوَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ عَلَى صَدْرِي، فَقَالَ: «مَا جَاءَ بِكِ يَا فَاطِمَةُ الْيَوْمَ؟» قُلْتُ: عَمِلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَتَّى شَقَّ عَلَيَّ وَتَنَفَّطَتْ يَدِي فَأَتَيْتُكَ لِتُخْدِمَنِي، قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " أَفَلَا أَدُلُّكُمَا عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ؟ ، قَالَ: فَقُلْنُا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، «فَإِذَا أَنْتُمَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَكَبِّرَا اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَاحْمِدَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَهَذَا أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ» .

قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: فَمَا تَرَكْتُهُ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ ابْنُ الْكَوَّاءِ: وَلَا لَيْلَةَ صِفِّينَ؟ قَالَ: وَيْلَكَ مَا أَكْثَرَ مَا تُعَنِّفُنِي، وَلَا لَيْلَةَ صِفِّينَ، لَقَدْ أَدْرَكْتُهَا مِنْ آخِرِ السَّحَرِ
২০ এবং এর মাধ্যমেই তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মাদ আল-বাযযায, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন হাবীব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর হিলাল বিন আল-আলা বিন হিলাল আল-বাহিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে জাফর, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আমর, যায়িদ বিন আবু আনাইসা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী আনা হলো। তখন আমি ফাতিমাকে নির্দেশ দিলাম যেন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যান এবং তাঁর কাছে একজন সেবক চান। তিনি বলেন: ফাতিমা (ঘরের কাজ) করতেন এবং নিজ হাতে যাঁতা পিষতেন, যার ফলে তাঁর হাতে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল। এরপর ফাতিমা (রাসূলুল্লাহর নিকট) গেলেন, সেদিন ছিল আয়শার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) দিন, কিন্তু তিনি তাঁকে পেলেন না এবং ফিরে এলেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন এবং পুনরায় গেলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। ইবনে জাফর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ফিরে এলেন এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে পুনরায় গেলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তাঁরা উভয়ই বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন আর তিনি (ফাতিমা) আর ফিরে যাননি, তখন তিনি এশার সালাত আদায় করলেন। আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ফাতিমা আজ কয়েকবার আপনাকে খুঁজতে এসেছিলেন, প্রতিবারই তিনি আপনাকে পাননি। তিনি বললেন: “এই কনকনে শীতের রাতে?” এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা বিষয় ছাড়া সে আসেনি।” এরপর তিনি বের হলেন এবং ফাতিমার দরজায় এসে সালাম দিলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তখন আমি ও ফাতিমা আমাদের বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আসার অনুমতি চাইলেন, তখন আমি উঠার জন্য নড়াচড়া করলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তোমরা তোমাদের বিছানায় যে অবস্থায় আছ সেভাবেই থাকো।”

তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং তাঁদের মাথার কাছে বসলেন এবং শীতের কারণে তাঁর পা দুটি (কম্বলের নিচে) ঢুকিয়ে দিলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি আমার বুকের ওপর তাঁর পা দুটির শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি বললেন: “হে ফাতিমা, আজ কী কারণে এসেছিলে?” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি (তাঁকে দিয়ে) কাজ করিয়েছি যা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে এবং তাঁর হাতে ফোস্কা পড়ে গিয়েছে, তাই আমি আপনার কাছে এসেছিলাম যেন আপনি আমাকে একজন সেবক দেন। তিনি বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “আমি কি তোমাদের এমন কিছুর কথা বলব না যা এর চেয়েও উত্তম?” তিনি বলেন: আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। “যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে তখন তোমরা চৌত্রিশ বার 'আল্লাহু আকবার' বলবে, তেত্রিশ বার 'সুবহানাল্লাহ' বলবে এবং তেত্রিশ বার 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে; এটি তোমাদের জন্য ওই সেবকের চেয়েও উত্তম।”

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে এটি শোনার পর আমি আর কখনো তা ত্যাগ করিনি। ইবনে আল-কাওয়া বললেন: সিফফীনের রাতেও কি নয়? তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক, তুমি কতই না আমাকে তিরস্কার করছ! হ্যাঁ, সিফফীনের রাতেও (ত্যাগ করিনি), আমি শেষ সাহরির সময় তা আদায় করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 وَبِهِ قَالَ: أَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ النَّحَّاسِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ دِرْهَمٍ الْبَصْرِيُّ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْأَعْرَابِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِمَكَّةَ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا الْهَيْثَمُ بْنُ سَهْلٍ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، نَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَصَبْتُ مَالًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالًا قَطُّ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْهُ، فَقَالَ لَهُ: ‌‌«إِنْ شِئْتَ تَصَدَّقْتَ وَإِنْ شِئْتَ أَمْسَكْتَ أَصْلَهُ» .

قَالَ: فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ رضي الله عنه عَلَى الضُّعَفَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ لَا جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ وَيُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ مِنْهُ مَالًا أَوْ مُتَأَثِّلٍ مِنْهُ مَالًا
২১ এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আন-নাহহাস, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর ইবনে দিরহাম আল-বাসরি, যিনি ইবনুল আরাবি নামে পরিচিত, মক্কায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইসাম ইবনে সাহল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি খায়বারে এমন সম্পদ লাভ করেছি যা আমার নিকট অত্যন্ত প্রিয়, এর চেয়ে প্রিয় কোনো সম্পদ আমি ইতিপূর্বে কখনো লাভ করিনি। তখন তিনি তাঁকে বললেন: «তুমি চাইলে তা সাদাকা করতে পারো এবং চাইলে এর মূল অংশটি নিজের নিকট রেখে দিতে পারো»।

তিনি বলেন: অতঃপর উমর (রা.) তা অভাবগ্রস্ত, মিসকিন ও মুসাফিরদের কল্যাণে সাদাকা করে দিলেন। যে ব্যক্তি এর তত্ত্বাবধান করবে তার জন্য তা থেকে আহার করা এবং কোনো বন্ধুকে খাওয়ানোতে কোনো দোষ নেই, যদি সে এর মাধ্যমে নিজে সম্পদশালী হতে না চায় অথবা সম্পদ পুঞ্জীভূত করতে না চায়।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُنِيرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُنِيرٍ الشَّاهِدُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْبَغْدَادِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، نَا أَبُو عَمْرٍو مِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى بْنِ تَلِيدٍ الرُّعَيْنِيُّ، إِمْلَاءً، نَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، ثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ قَالَ: قَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: ‌‌«لِمَ؟» .

قَالَ: لِأُحِبَّ مَنْ تُحِبُّ، قَالَ: «عَائِشَةُ» قَالَ: لَسْتُ أَسْأَلُكَ عَنِ النِّسَاءِ إِنَّمَا أَسْأَلُكَ عَنِ الرِّجَالِ، قَالَ: «أَبُوهَا» أَوْ قَالَ: «أَبُو بَكْرٍ» َ
২২ এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে: তিনি বলেন, আবুল আব্বাস মুনির ইবনে আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে মুনির আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে; তিনি বলেন, আবু আমর মিকদাম ইবনে দাউদ ইবনে ঈসা ইবনে তালিদ আর-রুআইনি আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আসাদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, কায়স ইবনে আবি হাজিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস বলেছেন: হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: «কেন?»।

তিনি বললেন: যাতে আপনি যাকে ভালোবাসেন আমিও তাকে ভালোবাসতে পারি। তিনি বললেন: «আয়েশা»। তিনি বললেন: আমি আপনাকে নারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি না, আমি কেবল আপনাকে পুরুষদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন: «তার পিতা» অথবা বললেন: «আবু বকর»।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، نَا أَبُو عَمْرٍو زَيْدُ بْنُ خَلَفِ بْنِ مَالِكٍ الْقُرَشِيُّ، إِمْلَاءً فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ إَحْدَى وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثُمِائَةٍ، نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَخِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، نَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«رَأَيْتُ دَلْوًا أَخَذَهَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ فَنَزَعَ دَلْوًا أَوْ دَلْوَيْنِ، وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ لَيِغْفِرَ اللَّهُ لَهُ، ثُمَّ قَامَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَاسْتَحَالَتْ غَرْبًا، فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنَ النَّاسِ يَنْزِعُ نَزْعَهُ حَتَّى وَرَدَ النَّاسُ بِعَطَنٍ»
২৩ এবং উক্ত সনদে তিনি বলেছেন: আমি আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-বাজ্জাজ; আবু আমর যাইদ ইবনে খালাফ ইবনে মালিক আল-কুরাশী ৩৩১ হিজরি সনের রমজান মাসে শ্রুতিলিপি হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্র আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আমার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; মুগীরা ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আমি একটি বালতি দেখলাম যা ইবনে আবি কুহাফা গ্রহণ করলেন এবং তিনি এক বা দুই বালতি পানি তুললেন, আর তাঁর পানি তোলায় কিছুটা দুর্বলতা ছিল—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। তারপর উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়ালেন, তখন সেটি একটি বড় বালতিতে পরিণত হলো। আমি মানুষের মধ্যে এমন কোনো অসামান্য শক্তিশালী ব্যক্তিকে দেখিনি যে তাঁর মতো পানি তুলতে পারে, পরিশেষে মানুষজন তাদের উটগুলোকে পানি পান করিয়ে বিশ্রামস্থলে নিয়ে গেল।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 وَبِهِ قَالَ: أنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، نَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْأُصْبُغِ الْإِمَامُ، نَا مِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ، نَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنَمٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا خَرَجَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ وَلِلنَّضِيرِ، قَالَ لَهُ عُمَرُ وَأَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ النَّاسَ يَزِيدُهُمْ حِرْصًا عَلَى الْإِسْلَامِ أَنْ يَرَوْا عَلَيْكَ زِيًّا حَسَنًا مِنَ الدُّنْيَا، انْظُرِ الْحُلَّةَ الَّتِي أَهْدَاهَا لَكَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَالْبَسْهَا فَلْيَرَاكَ الْيَوْمَ الْمُشْرِكُونَ أَنَّ عَلَيْكَ زِيًّا حَسَنًا، قَالَ: "‌‌ أَفْعَلُ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّكُمَا تَتَّفِقَانِ عَلَى أَمْرٍ وَاحِدٍ مَا عَصَيْتُكُمَا فِي مَشُورَةٍ أَبَدًا، وَلَقَدْ ضَرَبَ لِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ لَكُمَا مَثَلًا، لَقَدْ ضَرَبَ مَثَلَكُمَا فِي الْمَلَائِكَةِ كَمَثَلِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ، فَأَمَّا ابْنُ الْخَطَّابِ فَمَثَلُهُ فِي الْمَلَائِكَةِ كَمَثَلِ جِبْرِيلَ، إِنَّ اللَّهَ لَنْ يُدَمِّرَ أُمَّةً قَطُّ إِلَّا بِجِبْرِيلَ، وَمَثَلُهُ فِي الْأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ نُوحٍ إِذْ قَالَ: {رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا} ، وَمَثَلُ ابْنِ أَبِي قُحَافَةَ كَمَثَلِ مِيكَائِيلَ إِذْ يَسْتَغْفِرُ لِمَنْ فِي الْأَرْضِ، وَمَثَلُهُ فِي الْأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ: {فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} وَلَوْ أَنَّكُمَا تَتَّفِقَانِ عَلَى أَمْرٍ مَا عَصَيْتُكُمَا فِي مَشُورَةٍ أَبَدًا، وَلَكِنْ شَأْنُكُمَا فِي الْمُشَاوَرَةِ شَتَّى كَمَثَلِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَنُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ "
২৪. এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাযযায বর্ণনা করেছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল আসবাগ আল-ইমাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মিকদাম ইবনে দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আসাদ ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল হামিদ ইবনে বাহরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বনু কুরাইজা ও বনু নাযীরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিযানে বের হলেন, তখন উমর ও আবু বকর (রা.) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ যদি আপনার ওপর দুনিয়ার কোনো সুন্দর পোশাক দেখে, তবে তা ইসলামের প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিবে। সা'দ ইবনে উবাদাহ আপনাকে যে চাদরটি উপহার দিয়েছেন সেটির দিকে লক্ষ্য করুন এবং তা পরিধান করুন, যেন আজ মুশরিকরা আপনাকে সুন্দর পোশাকে সজ্জিত অবস্থায় দেখতে পায়। তিনি বললেন: "আমি তাই করব। আল্লাহর কসম! যদি তোমরা কোনো একটি বিষয়ে একমত হতে, তবে আমি কোনো পরামর্শের ক্ষেত্রে কখনোই তোমাদের বিরোধিতা করতাম না। নিশ্চয়ই আমার মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক তোমাদের দুজনের জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। ফেরেশতাদের মধ্যে তোমাদের উদাহরণ জিবরীল ও মিকাঈলের মতো। ইবনুল খাত্তাবের উদাহরণ ফেরেশতাদের মাঝে জিবরীলের মতো; কেননা আল্লাহ জিবরীলের মাধ্যম ছাড়া কোনো জাতিকে ধ্বংস করেন না। আর নবীদের মাঝে তার উদাহরণ নূহের মতো, যখন তিনি বলেছিলেন: {হে আমার প্রতিপালক! আপনি পৃথিবীতে কাফেরদের মধ্য থেকে কোনো গৃহবাসীকে অবশিষ্ট রাখবেন না}। আর ইবনে আবি কুহাফার উদাহরণ মিকাঈলের মতো, যিনি জমিনবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর নবীদের মাঝে তার উদাহরণ ইব্রাহীমের মতো, যখন তিনি বলেছিলেন: {অতঃপর যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু}। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে একমত হতে, তবে আমি পরামর্শের ক্ষেত্রে তোমাদের অবাধ্য হতাম না। কিন্তু পরামর্শের ক্ষেত্রে তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন, যেমন জিবরীল, মিকাঈল, নূহ এবং ইব্রাহীমের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَفْصِ بْنِ الْخَلِيلِ الْمَالِينِيُّ، نَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْإِسْمَاعِيلِيُّ، نَا أَبُو خُلَيْفَةَ الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، نَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، نَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينٌ، وَأَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ»
25 এবং তাঁর সূত্রে তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু সা'দ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাফস বিন আল-খলীল আল-মালিনী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ইসমাইল আল-ইসমাঈলী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু খলিফা আল-ফজল বিন আল-হুবাব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন হারব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু'বাহ, তিনি খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَجَاءِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَسْقَلَانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْحُنْدُرِيُّ الْمُقْرِئُ الْعَسْقَلَانِيُّ، فِي سَنَةِ تِسْعِينَ وَثَلَاثُمِائَةٍ، نَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبَّانِ بْنِ شَدَّادٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ بِعَسْقَلَانَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ وَثَلَاثُمِائَةٍ، نَا أَبُو الدَّرْدَاءِ هَاشِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ، نَا عَمْرُو بْنُ بَكْرٍ السَّكْسَكِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ، فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ لِي: ‌‌«يَا أَبَا ذَرٍّ، إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ تَحِيَّةً، وَتَحِيَّةُ الْمَسْجِدِ رَكْعَتَانِ، فَقُمْ فَارْكَعْهُمَا» .

فَقُمْتُ فَرَكَعْتُهُمَا ثُمَّ أَقْبَلْتُ
أَمْشِي، فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي أَمَرْتَنِي بِالصَّلَاةِ فَمَا الصَّلَاةُ؟ قَالَ: «خَيْرُ مَوْضُوعٍ اسْتُكْثِرَ أَوْ اسْتُقِلَّ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» .

قَالَ: فَقُلْتُ: فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْمَلَهُمْ إِيمَانًا؟ قَالَ: «أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ أَسْلَمُ؟ قَالَ: «مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ يَدِهِ وَلِسَانِهِ» قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ هَجَرَ السَّيِّئَاتِ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «طُولُ الْقَنُوتِ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ اللَّيْلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «جَوْفُ اللَّيْلِ الْغَابِرُ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «فَرْضٌ مُجْزِئٌ عِنْدَ اللَّهِ وَعِنْدَ اللَّهِ أَضْعَافٌ كَثِيرَةٌ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «جُهْدٌ مِنْ مُقِلٍّ، وَسِرٌّ بِه إِلَى فَقِيرٍ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَغْلَاهَا ثَمَنًا وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ هُرِيقَ دَمُهُ وَعُقِرَ جَوَادُهُ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ شَيْءٍ أَعْظَمُ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ؟ قَالَ: «آيَةُ الْكُرْسِيِّ يَا أَبَا ذَرٍّ مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرَضونَ السَّبْعُ فِي الْكُرْسِيِّ إِلَّا كَحَلْقَةٍ مُلْقَاةٍ فِي فَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ، وَفَضْلُ الْعَرْشِ عَلَى الْكُرْسِيِّ كَفَضْلِ تِلْكَ الْفَلَاةِ عَلَى الْحَلْقَةِ» .

قَالَ: قُلْتُ: فَبِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَكَمِ الْأَنْبِيَاءُ؟ قَالَ: «مِائَةُ أَلْفٍ وَأَرْبَعَةٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا» قُلْتُ: فَكَمِ الرُّسُلُ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: «ثَلَاثُمِائَةٌ وَثَلَاثَةُ عَشَرَ جَمٌّ غَفِيرٌ» .

قُلْتُ: فَمَنْ كَانَ أَوَّلُهُمْ؟ قَالَ: «آدَمُ» .

قَالَ: قُلْتُ: آدَمُ نَبِيٌّ مُرْسَلٌ؟ قَالَ: " نَعَمْ، خَلَقَهُ اللَّهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ ثُمَّ سَوَّاهُ قَبْلًا، يَا أَبَا ذَرٍّ أَرْبَعَةٌ سُرْيَانِيُّونَ آدَمُ وَشِيثُ وَخُنُوعُ، وَهُوَ إِدْرِيسُ وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ خَطَّ بِالْقَلَمِ، وَنُوحٌ، وَأَرْبَعَةٌ مِنَ الْعَرَبِ هُودٌ وَصَالِحٌ وَشُعَيْبٌ وَنَبِيُّكُمْ، يَعْنِي نَفْسَهُ، وَإِبْرَاهِيُم مِنْ كوُثا رِيا، وَسَائِرُهُمْ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَأَوَّلُ الْأَنْبِيَاءِ آدَمُ وَآخِرُهُمْ أَنَا، وَأَوَّلُ أَنْبِيَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُوسَى وَآخِرُهُمْ عِيسَى، قُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَمْ كِتَابًا أَنْزَلَ اللَّهُ؟ قَالَ: «أَنْزَلَ اللَّهُ مِائَةَ كِتَابٍ وَأَرْبَعَةَ كُتُبٍ، أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى شِيثَ بْنِ آدَمَ خَمْسِينَ صَحِيفَةً، وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى خُنُوعَ وَهُوَ إِدْرِيسُ ثَلَاثِينَ صَحِيفَةً، وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ عَشْرَ صَحَائِفَ، وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى مِنْ قَبْلُ التَّوْرَاةَ عَشْرَ صَحَائِفَ، وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَالزَّبُورَ وَالْفُرْقَانَ» قَالَ: فَقُلْتُ: فَمَا كَانَ فِي صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ؟ قَالَ: «كَانَتْ أَمْثَالًا كُلُّهَا كَانَ فِيهَا، أَيُّهَا الْمَلِكُ الْمُسَلَّطُ الْمَغْرُورُ إِنِّي لَمْ أَبْعَثْكَ لِتَجْمَعَ الدُّنْيَا بَعْضَهَا إِلَى بَعْضٍ، وَلَكِنْ بَعَثْتُكَ لِتَرُدَّ عَنِّي دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ، فَإِنِّي لَا أَرُدُّهَا وَلَوْ كَانَتْ مِنْ كَافِرٍ، وَكَانَ فِيهَا عَلَى الْعَاقِلِ مَا لَمْ يَكُنْ مَغْلُوبًا عَلَى عَقْلِهِ أَنْ يَكُونَ لَهُ سَاعَاتٌ، سَاعَةٌ يُنَاجِي فِيهَا رَبَّهُ، وَسَاعَةٌ يُفَكِّرُ فِي صُنْعِ اللَّهِ، وَسَاعَةٌ يُحَدِّثُ فِيهَا نَفْسَهُ، وَسَاعَةٌ يَخْلُو بِذِي الْجَلَالِ، وَإِنَّ تِلْكَ السَّاعَةَ عَوْنٌ عَلَى تِلْكَ السَّاعَاتِ، وَكَانَ فِيهَا عَلَى الْعَاقِلِ مَا لَمْ يَكُنْ مَغْلُوبًا عَلَى عَقْلِهِ أَنْ لَا يَكُونَ ظَاعِنًا إِلَّا فِي ثَلَاثٍ، تَزَوُّدٌ لِمَعَادٍ، وَمَرَمَّةٌ لِمَعَاشٍ، وَلَذَّةٌ فِي غَيْرِ مَحْرَمٍ، وَكَانَ فِيهَا عَلَى الْعَاقِلِ مَا لَمْ يَكُنْ مَغْلُوبًا عَلَى عَقْلِهِ، أَنْ يَكُونَ بَصِيرًا بِزَمَانِهِ مُقْبِلًا عَلَى شَأْنِهِ، حَافِظًا لِلِسَانِهِ وَمَنْ حَسِبَ الْكَلَامَ مِنْ عَمَلِهِ يُوشِكُ أَنْ يُقِلَّ الْكَلَامَ إِلَّا فِيمَا يَعْنِيهِ» .

قُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَمَا كَانَ فِي صُحُفِ مُوسَى؟ قَالَ: " كَانَتْ عِبَرًا كُلُّهَا، كَانَ فِيهَا: عَجَبًا لِمَنْ أَيْقَنَ بِالنَّارِ كَيْفَ هُوَ يَضْحَكُ، وَعَجَبًا لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْمَوْتِ كَيْفَ هُوَ يَفْرَحُ، وَعَجَبًا لِمَنْ رَأَى الدُّنْيَا وَتَقَلُّبَهَا بِأَهْلِهَا وَهُوَ يَطْمَئِنُّ إِلَيْهَا، وَعَجَبًا لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْقَدَرِ ثُمَّ هُوَ يَنْصَبُ، وَعَجَبًا لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْحِسَابِ غَدًا وَهُوَ لَا يَعْمَلُ ".

قُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي هَلْ بَقِيَ مِمَّا كَانَ فِي صُحُفِهِمَا؟ قَالَ: " نَعَمْ يَا أَبَا ذَرٍّ اقْرَأْ {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى} يَعْنِي إِنَّ ذِكْرَ هَذِهِ الْأَرْبَعِ آيَاتٍ فِي الصُّحُفِ الْأُولَى صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى، قُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَوْصِنِي قَالَ: «أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، فَإِنَّهُ رَأْسُ أَمْرِكَ كُلِّهِ» .

قَالَ: قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «عَلَيْكَ بِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ، تَذَكَّرِ اللَّهَ كَثِيرًا فَإِنَّهُ يَذْكُرُكَ فِي السَّمَاءِ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «عَلَيْكَ بِالْجِهَادِ فَإِنَّهُ رَهْبَانِيَّةُ الْمُؤْمِنِينَ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّمْتِ فَإِنَّهَا مَطْرَدَةٌ لِلشَّيْطَانِ، وَعَوْنٌ لَكَ عَلَى دِينِكَ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «إِيَّاكَ وَكَثْرَةَ الضَّحِكِ، فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ، وَيَذْهَبُ بِنُورِ الْوَجْهِ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «حِبَّ الْمَسَاكِينَ وَجَالِسْهُمْ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «قُلِ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «لَا تَأْخُذْكَ فِي اللَّهِ لَوْمَةُ لَائِمٍ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «صِلْ رَحِمَكَ وَلَوْ قَطَعُوكَ» .

قُلْتُ: زِدْنِي، قَالَ: «رَدُّكَ عَنِ النَّاسِ مَا تَعْلَمُهُ مِنْ نَفْسِكَ، وَكَفَى بِالْعَبْدِ عَيْبًا أَنْ يَعْرِفَ مِنَ النَّاسِ مَا يَجْهَلُ مِنْ نَفْسِهِ، وَتَكَلَّفَ مَا لَا يَعْنِيهِ، يَا أَبَا ذَرٍّ لَا عَقْلَ كَالتَّدْبِيرِ، وَلَا وَرَعَ كَالْكَفِّ، وَلَا حَسَبَ كَحُسْنِ الْخُلُقِ»
২৬। তাঁর সূত্রে তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আবু মুহাম্মাদ ইসমাঈল ইবন রাজা ইবন সাঈদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-আসকালানিকে তাঁর নিকট পঠিত হওয়ার সময় শ্রবণ করেছি; ৩৯০ হিজরী সনে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আল-হুনদুরি আল-মুকরি আল-আসকালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ৩২৩ হিজরী সনে আসকালানে আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন আব্বান ইবন শাদ্দাদ আমার উপস্থিতিতে তাঁর নিকট পঠিত হওয়ার সময় বর্ণনা করেছেন; আবু আদ-দারদা হাশিম ইবন মুহাম্মাদ আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আমর ইবন বকর আস-সাকসাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং দেখতে পেলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে আছেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বসলে তিনি আমাকে বললেন: «হে আবু যার, নিশ্চয়ই প্রত্যেক জিনিসের জন্য অভিবাদন রয়েছে, আর মসজিদের অভিবাদন হলো দুই রাকাত সালাত; সুতরাং উঠে দাঁড়াও এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করো।»

অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি ফিরে এসে
তাঁর কাছে বসলাম। আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আপনি আমাকে সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন; সালাত কী? তিনি বললেন: «এটি সর্বোত্তম নির্ধারিত ইবাদত, কেউ চাইলে তা বেশি করতে পারে অথবা কম করতে পারে।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদ।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: মুমিনদের মধ্যে কার ঈমান সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ? তিনি বললেন: «যাঁর চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: মুসলিমদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ? তিনি বললেন: «যার হাত ও জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।» তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন হিজরত সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «যে মন্দ কাজ বর্জন করে।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন সালাত সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «দীর্ঘ সময় দণ্ডায়মান থাকা (দীর্ঘ কুনুত)।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: রাতের কোন অংশটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «রাতের শেষাংশের মধ্যভাগ।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন সিয়াম সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «এমন ফরজ যা আল্লাহর কাছে যথেষ্ট এবং আল্লাহর নিকট এর বহুগুণ সওয়াব রয়েছে।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন সদকা সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «অল্প সম্পদের অধিকারীর প্রচেষ্টা এবং গোপনে কোনো দরিদ্রকে দান করা।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন দাস মুক্ত করা সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «যার মূল্য সবচেয়ে বেশি এবং তার মালিকের কাছে যে সবচেয়ে প্রিয়।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: কোন জিহাদ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «যার রক্ত ঝরানো হয়েছে এবং যার ঘোড়াটি আহত হয়েছে।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: আল্লাহ আপনার ওপর যা নাজিল করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে মহান কী? তিনি বললেন: «আয়াতুল কুরসি। হে আবু যার, সাত আসমান ও সাত জমিন কুরসির তুলনায় যেন একটি মরুভূমিতে ফেলে রাখা একটি আংটির মতো; আর কুরসির ওপর আরশের শ্রেষ্ঠত্ব যেন সেই আংটির তুলনায় মরুভূমির বিশালতার মতো।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, নবীগণের সংখ্যা কত? তিনি বললেন: «এক লক্ষ চব্বিশ হাজার।» আমি বললাম: তাঁদের মধ্যে রাসুল কতজন? তিনি বললেন: «তিনশত তের জন, এক বিশাল বাহিনী।»

আমি বললাম: তাঁদের মধ্যে প্রথম কে ছিলেন? তিনি বললেন: «আদম।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: আদম কি প্রেরিত নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহ তাঁকে আল্লাহর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন, অতঃপর তাঁকে সুঠাম করেছেন। হে আবু যার, চারজন ছিলেন সুরয়ানি: আদম, শীষ, খুনুখ—যিনি হলেন ইদ্রিস এবং তিনিই সর্বপ্রথম কলম দিয়ে লিখেছেন—এবং নূহ। আর চারজন আরব: হুদ, সালিহ, শুয়াইব এবং তোমার নবী (অর্থাৎ তিনি নিজে)। আর ইব্রাহিম ছিলেন কুসা রিয়া থেকে, এবং বাকিরা ছিলেন বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত। নবীদের মধ্যে প্রথম হলেন আদম এবং শেষ হলেন আমি। আর বনী ইসরাঈলের নবীদের মধ্যে প্রথম হলেন মুসা এবং শেষ হলেন ঈসা।" আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ কয়টি কিতাব নাজিল করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ একশত চারটি কিতাব নাজিল করেছেন। আল্লাহ আদমের পুত্র শীষের ওপর পঞ্চাশটি সহীফা নাজিল করেছেন, খুনুখ বা ইদ্রিসের ওপর ত্রিশটি সহীফা নাজিল করেছেন, ইব্রাহিমের ওপর দশটি সহীফা নাজিল করেছেন এবং মুসার ওপর তাওরাত নাজিলের আগে দশটি সহীফা নাজিল করেছেন। এছাড়া তিনি তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এবং ফুরকান (কুরআন) নাজিল করেছেন।» তিনি বলেন, আমি বললাম: ইব্রাহিমের সহীফাগুলোতে কী ছিল? তিনি বললেন: «তার সবটুকুই ছিল উপদেশমূলক। তাতে ছিল: হে ক্ষমতাশালী, প্রবঞ্চিত শাসক! আমি তোমাকে দুনিয়াকে একটির সাথে অন্যটি পুঞ্জীভূত করার জন্য পাঠাইনি, বরং আমি তোমাকে পাঠিয়েছি যাতে তুমি মজলুমের ফরিয়াদ আমার পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা না দাও; কারণ আমি মজলুমের ফরিয়াদ প্রত্যাখ্যান করি না, যদিও সে কাফির হয়। আর তাতে ছিল: বিচক্ষণ ব্যক্তির জন্য যতক্ষণ সে তার বিবেকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে না, ততক্ষণ তার সময়ের বিভাজন থাকা উচিত; কিছু সময় সে তার রবের সাথে নিভৃতে মুনাজাত করবে, কিছু সময় আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করবে, কিছু সময় নিজের আত্মপর্যালোচনা করবে, আর কিছু সময় সে মহান আল্লাহর ইবাদতে নির্জনে কাটাবে। আর এই সময়টুকু অন্যান্য সময়ের জন্য সহায়ক হবে। আর বিচক্ষণ ব্যক্তির জন্য সমীচীন হলো—যতক্ষণ সে তার বিবেকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে না—সে যেন তিনটি বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর জন্য ভ্রমণ না করে: পরকালের পাথেয় সংগ্রহ, জীবন ধারণের উপায় সন্ধান এবং যা হারাম নয় এমন আনন্দ উপভোগ। আর বিচক্ষণ ব্যক্তির জন্য উচিত হলো—যতক্ষণ সে তার বিবেকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে না—নিজের সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া, নিজের কাজে মনোযোগী হওয়া এবং নিজের জিহ্বা হেফাজত করা। আর যে ব্যক্তি তার কথাকে তার আমলের অন্তর্ভুক্ত মনে করে, সে জরুরি বিষয় ছাড়া কথা বলা কমিয়ে দেয়।»

আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, মুসার সহীফাগুলোতে কী ছিল? তিনি বললেন: "তার সবটুকুই ছিল শিক্ষণীয়। তাতে ছিল: সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে জাহান্নামের ওপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও হাসে! সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে মৃত্যুর ওপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও আনন্দিত হয়! সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে দুনিয়া এবং তার অধিবাসীদের অবস্থার পরিবর্তন দেখছে, অথচ সে তার ওপর নিশ্চিন্ত থাকে! সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে তাকদীরের ওপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও ক্লান্তিবোধ (অসন্তোষ) প্রকাশ করে! আর সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যে আগামীকালের হিসাব-নিকাশের ওপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে অথচ সে আমল করে না।"

আমি বললাম: আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গ হোক, তাঁদের সহীফাগুলোতে যা ছিল তার কোনো কিছু কি অবশিষ্ট আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ হে আবু যার, তুমি পাঠ করো— {নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে সে, যে পবিত্রতা অর্জন করেছে; এবং আপন রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে। বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ পরকালই হলো উত্তম ও চিরস্থায়ী} অর্থাৎ, এই চারটি আয়াতের উল্লেখ পূর্ববর্তী সহীফাগুলোতে তথা ইব্রাহিম ও মুসার সহীফায় ছিল।" আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আমাকে ওসিয়ত করুন। তিনি বললেন: «আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের ওসিয়ত করছি, কারণ এটিই তোমার সকল বিষয়ের মূল।»

তিনি বলেন, আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «তুমি কুরআন তিলাওয়াত কোরো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কোরো, কারণ তিনি তোমাকে আসমানে স্মরণ করবেন।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «তুমি জিহাদ কোরো, কারণ এটিই মুমিনদের বৈরাগ্য।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «তুমি নীরবতা অবলম্বন কোরো, কারণ এটি শয়তানকে তাড়ানোর উপায় এবং তোমার দ্বীনের কাজে সহায়ক।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «অতিরিক্ত হাসাহাসি থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটি অন্তরকে মৃত করে দেয় এবং চেহারার নূর দূর করে দেয়।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «মিসকিনদের ভালোবাসো এবং তাদের সাথে বসো।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «সত্য কথা বলো যদিও তা তিক্ত হয়।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করো না।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো যদিও তারা তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।»

আমি বললাম: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: «অন্যের যে ত্রুটি তুমি জানো তা থেকে নিজেকে বিরত রাখো। আর কোনো বান্দার জন্য এটাই যথেষ্ট দোষ যে, সে মানুষের এমন দোষ জানবে যা সে নিজের ক্ষেত্রে জানে না, আর সে এমন বিষয়ে অনর্থক কষ্ট করবে যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। হে আবু যার, সুপরিকল্পনার মতো কোনো বুদ্ধি নেই, হারাম থেকে বেঁচে থাকার মতো কোনো পরহেজগারি নেই এবং সুন্দর চরিত্রের মতো কোনো আভিজাত্য নেই।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ شُعْبَةُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ سَعِيدٍ التَّغْلِبِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ التَّبْرِيزِيُّ، نَا أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ الرَّمْلِيُّ، عَنْ زُرْعَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: ذَكَرُوا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم طُوبَى، فَقَالَ: ‌‌«يَا أَبَا بَكْرٍ، هَلْ بَلَغَكَ مَا طُوبَى؟» فَقَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، فَقَالَ: " طُوبَى: شَجَرَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا يَعْلَمُ مَا طُولُهَا إِلَّا اللَّهُ، يَسِيرُ الرَّاكِبُ تَحْتَ غُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا سَبْعِينَ خَرِيفًا، وَرَقُهَا الْحُلَلُ، يَقَعُ عَلَيْهَا طَيْرٌ أَمْثَالُ الْبُخْتِ ".

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنْ هُنَيَّاكَ نَاعِمٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَنْعَمُ مِنْهُ مَنْ يَأْكُلُهُ، وَأَنْتَ مِنْهُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ يَا أَبَا بَكْرٍ "
২৭ এবং এর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে সাঈদ আল-বাযযাঝ, আমি আবু হাসান শু'বাহ ইবনুল ফাযল ইবনে সাঈদ আত-তাগলিবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসি আত-তাবরিযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আবদুল জাব্বার ইবনে আসিম, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আর-রামলি, যুরআ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তুবা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, তখন তিনি বললেন: “হে আবু বকর, তোমার কাছে কি তুবা সম্পর্কে কোনো তথ্য পৌঁছেছে?” তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: “তুবা হলো জান্নাতের একটি গাছ, যার দৈর্ঘ্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এর কোনো একটি ডালের নিচে একজন আরোহী সত্তর বছর পথ চলতে পারবে। এর পাতাগুলো হলো পোশাক-পরিচ্ছদ, আর এর উপর লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট উটের ন্যায় পাখি বসে থাকে।”

আবু বকর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেখানকার জীবন তো অত্যন্ত সুখময় হবে? তিনি বললেন: “যে তা ভক্ষণ করবে তার জীবন আরও বেশি সুখময় হবে, আর হে আবু বকর, ইনশাআল্লাহ তুমি তাদের একজন হবে।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিনাল ইশরিনা জুযআন আল-মুনতাখাবাহ (আল-খুলাইয়্যাত) (পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 وَبِهِ قَالَ: أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْبَزَّازُ، نَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ مُلَاقِ بْنِ نَصْرِ بْنِ سَلَّامٍ الْعُثْمَانِيُّ، نَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ الدِّمْيَاطِيُّ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسَفَ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ جَهْمِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ، عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«جُعِلَ الْحَقُّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ»
২৮ এবং তাঁর সূত্রেই তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-বাজ্জাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন মুলাক বিন নাসর বিন সাল্লাম আল-উসমানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বকর বিন সহল আদ-দিমইয়াতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন হাফস বিন উমর বিন আল-খাত্তাব, জাহম বিন আবিল জাহম থেকে, মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সত্যকে উমরের জিহ্বা ও অন্তরে স্থাপন করা হয়েছে»