(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
فضل يوم التروية وعرفة القسم: كتب السنة
الكتاب: فضل يوم التروية وعرفة
المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 41
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তারবিয়াহ ও আরাফাহ দিবসের ফজিলত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: তারবিয়াহ ও আরাফাহ দিবসের ফজিলত
লেখক: আবু মুহাম্মাদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ আল-জামাইলি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি، যিনি ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের আওতাধীন ফ্রি প্রোগ্রাম ‘জাওয়ামিউল কালিম’-এ প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
جُزْءٌ فِيهِ فَضْلُ يَوْمِ التَّرْوِيَةِ وَعَرَفَةَوَأَحَادِيثُ مَجْمُوعَةٌ مُخَرَّجَةٌ مِنَ الأُصُولِ.
بسم الله الرحمن الرحيم
তারবিয়ার দিন ও আরাফাতের দিনের ফজিলত সম্বলিত একটি পুস্তিকাএবং মূল উৎসসমূহ থেকে চয়নকৃত ও সংগৃহীত হাদিসসমূহ।
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ، قَالَ: أَنْبَا أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ التَّمِيمِيُّ، إِجَازَةً، قَالَ: أَنْبَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ الْحَافِظُ، إِجَازَةً، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُمَيْحٍ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْخِضْرِ الْمَرْوَزِيُّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَجَرٍ، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَعْمَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ أَعْطَاهُ اللَّهُ مِثْلَ ثَوَابِ أَيُّوبَ عَلَى بَلائِهِ، وَإِنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ أَعْطَاهُ اللَّهُ مِثْلَ ثَوَابِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، وَإِنْ لَمْ يَأْكُلْ يَوْمَ النَّحْرِ حَتَّى يُصَلِّيَ أَعْطَاهُ اللَّهُ ثَوَابَ مَنْ صَلَّى ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَإِنْ مَاتَ - إِلَى ثَلاثِينَ يَوْمًا - مَاتَ شَهِيدًا»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আবদুল বাকি ইবন আহমাদ ইবন সালমান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবন আবদুল ওয়াহহাব আত-তামিমি, অনুমতিসূত্রে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন আবিল ফাওয়ারিস আল-হাফিজ, অনুমতিসূত্রে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন রুমায়হ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল খিদর আল-মারওয়াযি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন হাজার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন মামার, জায়েদ ইবন রুফায়ি থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইয়াওমুত তারবিয়াহ (জিলহজ মাসের ৮ তারিখ) রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর তাঁর বিপদে ধৈর্য ধারণের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে ঈসা ইবন মারইয়ামের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কুরবানির দিন (ঈদের) নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত কিছু আহার করবে না, আল্লাহ তাকে ঐদিন যারা নামাজ আদায় করেছে তাদের সওয়াব দান করবেন। আর যদি সে (ঐ দিন থেকে) পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে শহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، أَنْبَأنَا رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ، أَنْبَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِِ الأَصْبَهَانِيِّ، أَنْبَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِِ بْنِ سَوَّارٍ، ثَنَا أَيُّوبُ لآلِ الأَشْعَرِيِّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَلِيٍّ الْحِمْيَرِيُّ، عَنِ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «صَوْمُ يَوْمِ التَّرْوِيَةِ كَفَّارَةُ سَنَةٍ، وَصَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ كَفَّارَةُ سَنَتَيْنِ»
২ - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রিযকুল্লাহ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-আসবাহানী আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন সাওয়ার আমাদের জানিয়েছেন, আইয়ুব লি-আলিল আশআরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আলী আল-হিমইয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কালবী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তারওয়িয়ার দিনের রোজা এক বছরের কাফফারা, এবং আরাফাহর দিনের রোজা দুই বছরের কাফফারা।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، أَنْبَأَنَا رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثَنَا ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، ثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: «إِنَّمَا سُمِّيَتِ التَّرْوِيَةَ لأَنَّهُمْ يَتَرَوُّونَ مِنْهَا إِلَى مِنًى»
مِنْ هَهُنَا مُدْرَجٌ عَلَى شُيُوخِ الْحَافِظِ ابْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ
৩ - এবং মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রিজকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির থেকে, আবু জাফর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তারবিয়াহ-কে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা সেখান থেকে মিনার উদ্দেশ্যে পানি সংগ্রহ করত।"
এখান থেকে বিষয়টি হাফিজ ইবনুল ফাওয়ারিসের উস্তাদদের ওপর সংযোজিত (মুদরাজ)।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَرَّاقُ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ نَصْرٍ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثَنَا الْمُعَافَى بْنُ سُلَيْمَانَ، ثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ إِسْحَاقَ، يَعْنِي: ابْنَ أَبِي رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: إِنَّ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ سُمِّيَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ لأَنَّهُمْ، أَوْ لأَنَّ عَرَفَاتٍ لَمْ يَكُنْ لَهَا مَاءٌ، فَكَانُوا يَتَرَوُّونَ مِنْهَا مِنَ الْمَاءِ إِلَيْهَا
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে আহমাদ আল-ওয়াররাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে নাসর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইসমাইল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াফা ইবনে সুলায়মান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে আয়ান, ইসহাক থেকে অর্থাৎ ইবনে আবি রাশিদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই তারবিয়াহর দিনকে তারবিয়াহর দিন নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাদের জন্য অথবা আরাফাতে কোনো পানি ছিল না, তাই তারা সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করতেন এবং সেখানে নিয়ে যেতেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، ثَنَا هَارُونُ، ثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: إِنَّمَا سُمِّيَتْ عَرَفَاتٍ لأَنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام كَانَ يُرِي إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا الْمَنَاسِكَ، فَيَقُولَ: عَرَفْتُ
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে উইয়াইনাহ, তিনি আবদুল মালিক হতে, তিনি আতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আরাফাতের নামকরণ করা হয়েছে কেবল এ কারণে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ইবরাহীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহিমা)-কে হজের কার্যাবলি দেখাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলছিলেন: "আমি চিনেছি।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رُسْتَهْ، ثَنَا عَبْدُ السَّلامِ بْنُ عُمَرَ الْجِنِّيُّ، ثَنَا عَزْرَةُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ الْفَيْضِ مَوْلاةُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، أَنَّهَا قَالَتْ: قَدْ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ: هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: " نَعَمْ، مَا مِنْ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ دَعَا هَذِهِ الدَّعَوَاتِ لَيْلَةَ عَرَفَةَ أَلْفَ مَرَّةٍ، وَهِيَ عَشْرُ كَلِمٍ، لَمْ يَسْأَلِ اللَّهَ شَيْئًا إِلا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، إِلا قَطِيعَةَ رَحِمٍ، أَوْ مَآثِمَ، وَهِيَ: سُبْحَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ عَرْشُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الأَرْضِ مَوْطِئُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْبَحْرِ سَبِيلُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي النَّارِ سُلْطَانُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْجَنَّةِ رَحْمَتُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْقُبُورِ قَضَاؤُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاءَ، سُبْحَانَ الَّذِي وَضَعَ الأَرْضَ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْهَوَاءِ رُوحُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي لا مَلْجَأَ مِنْهُ إِلا إِلَيْهِ "
৬ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রুস্তাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল সালাম ইবনে উমর আল-জিন্নী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আজরা ইবনে কায়েস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের মুক্তদাসী উম্মুল ফায়জ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞাসা করেছি: এই হাদিসটি কি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যে কোনো দাস বা দাসী আরাফাতের রাতে এই দোয়াগুলো এক হাজার বার পাঠ করবে—আর সেগুলো দশটি বাক্য—সে আল্লাহর কাছে যা-ই চাইবে তিনি তাকে তা দান করবেন, যদি না তা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা বা কোনো পাপের বিষয়ে হয়। আর সেগুলো হলো: পবিত্রতা সেই সত্তার, আসমানে যার আরশ; পবিত্রতা সেই সত্তার, জমিনে যার পা রাখার স্থান; পবিত্রতা সেই সত্তার, সমুদ্রে যার পথ; পবিত্রতা সেই সত্তার, জাহান্নামে যার কর্তৃত্ব; পবিত্রতা সেই সত্তার, জান্নাতে যার রহমত; পবিত্রতা সেই সত্তার, কবরে যার ফয়সালা; পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি আসমানকে উচ্চ করেছেন; পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি জমিনকে স্থাপন করেছেন; পবিত্রতা সেই সত্তার, শূন্যে যার প্রাণ (রুহ); পবিত্রতা সেই সত্তার, যার নিকট থেকে তিনি ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا أَبُو يَعْلَى، ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ، ثَنَا حَيَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَابِطٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ يَوْمَ عَرَفَةَ مِنْ صَلاةِ الْفَجْرِ إِلَى صَلاةِ الْعَصْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ»
৭ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-মাকাবেরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইয়ান বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাবির (রা.) থেকে, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের দিনের ফজর সালাত হতে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনের আসর সালাত পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مَنْدَهْ، ثَنَا هَنَّادٌ، ثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَسَن بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " كُنَّا نَقُولُ فِي التَّكْبِيرِ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ، ثُمَّ نَقُولُ لِلَّهِ "
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন হান্নাদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ওয়াকি’ থেকে, তিনি হাসান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীরে বলতাম: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য; অতঃপর আমরা তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বলতাম।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَرْوَزِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَحْمُودٍ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَجَرٍ، ثَنَا شُعَيْبُ بْنُ صَفْوَانَ، عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ، أَنَّ عَلِيًّا، عليه السلام، قَالَ: " أَحَبُّ كَلِمَةٍ إِلَى اللَّهِ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، لا يَقْبَلُ اللَّهُ الْعَمَلَ إِلا مِنْ أَهْلِهَا، وَالَّتِي تَلِيهَا: سُبْحَانَ اللَّهِ، صَلاةُ الْمَلائِكَةِ، وَالَّتِي تَلِيهَا: الْحَمْدُ لِلَّهِ، شُكْرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَالَّتِي تَلِيهَا: اللَّهُ أَكْبَرُ، تَعْظِيمُ اللَّهِ، وَالَّتِي تَلِيهَا: لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، اسْتِسْلامٌ "
৯ - আমাদের নিকট আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন মাহমুদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী বিন হাজার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শুআইব বিন সাফওয়ান বর্ণনা করেছেন ফুযাইল বিন ফাযালাহ থেকে, তিনি আলী বিন যায়েদ থেকে, তিনি ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; এই বাক্যের অধিকারীদের ব্যতীত আল্লাহ কোনো আমল কবুল করেন না। এর পরবর্তী বাক্য হলো: আল্লাহ অত্যন্ত পবিত্র, যা ফেরেশতাদের সালাত। এর পরবর্তী হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা জান্নাতবাসীদের কৃতজ্ঞতা। এর পরবর্তী হলো: আল্লাহ মহানতম, যা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা। আর এর পরবর্তী হলো: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই, যা হলো আত্মসমর্পণ।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، ثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ السَّدُوسِيُّ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مِهْرَانَ ابْنُ أُخْتِ رَوَّادِ بْنِ الْجَرَّاحِ، ثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النَّخَعِيُّ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَقْبَلَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَكَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ بِكَلِمَاتٍ، فَقَالَ مُعَاذٌ: لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَدْرِي مَا تَفْسِيرُ لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ؟» قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «لا حَوْلَ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِلا بِقُوَّةِ اللَّهِ، وَلا قُوَّةَ عَلَى طَاعَةِ اللَّهِ إِلا بِقُوَّةِ اللَّهِ» .
ثُمَّ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَلَى كَتِفِ مُعَاذٍ، فَقَالَ: «هَكَذَا حَدَّثَنِي بِهِ جِبْرِيلُ عَنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ»
১০ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনে হাফস আল-সাদূসী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, রওয়াদ ইবনুল জাররাহ-এর ভাগ্নে ইবরাহীম ইবনে মিহরান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শারীক ইবনে আবদুল্লাহ আল-নাখঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মানসূর ইবনুল মুতামির থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় মুয়াজ ইবনে জাবাল আগমন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু কথা বললেন, তখন মুয়াজ বললেন: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: «তুমি কি জানো ‘আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই’-এর ব্যাখ্যা কী?» তিনি আরজ করলেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় নেই আল্লাহর শক্তি ব্যতীত, এবং আল্লাহর আনুগত্য করার কোনো শক্তি নেই আল্লাহর শক্তি ব্যতীত»।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজের কাঁধে চাপড় দিলেন এবং বললেন: «জিবরাঈল এভাবেই জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন»
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ، فَقَالَ: «يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالسَّنَةَ الْبَاقِيَةَ» .
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
১১ - আমাদের নিকট আবু আলী ইবনাস সাউওয়াফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী ইবনে আসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন গায়লান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁকে আরাফার দিনের সিয়াম (রোজা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: «তা বিগত বছর এবং আগামী বছরের (গুনাহের) কাফফারা হয়ে যায়»।
এটি একটি সহিহ হাদিস, যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا ابْنُ جَرِيرٍ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ الْحِمْصِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْمَاجِشُونِ، ثَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْيدِ اللَّهِ بْنِ كُرَيْزٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا رُئِيَ إِبْلِيسُ يَوْمًا هُوَ فِيهِ أَصْغَرُ وَلا أَحْقَرُ وَلا أَدْحَضُ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَذَلِكَ لِمَا يَرَى مِنْ تَنْزِيلِ الرَّحْمَةِ، وَالْعَفْوِ عَنِ الذُّنُوبِ، إِلا مَا رَأَى يَوْمَ بَدْرٍ» .
قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا رَأَى يَوْمَ بَدْرٍ؟ قَالَ: «رَأَى جِبْرِيلَ يَزَعُ الْمَلائِكَةَ»
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাখলাদ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জারির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ফরাজ আল-হিমসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনুল মাজিশুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলা থেকে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে কুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আরাফাতের দিনের তুলনায় অন্য কোনো দিনে ইবলিসকে অধিক ক্ষুদ্র, অধিক তুচ্ছ এবং অধিক লাঞ্ছিত দেখা যায় না। আর তা এ কারণে যে, সে রহমত অবতীর্ণ হওয়া এবং গুনাহসমূহের মার্জনা দেখতে পায়; কেবল বদরের দিন সে যা দেখেছিল তা ব্যতীত।”
তাঁরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, বদরের দিন সে কী দেখেছিল? তিনি বললেন: “সে জিবরাঈলকে দেখেছিল যখন তিনি ফেরেশতাদের সারিবদ্ধ করছিলেন।”
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، نَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عليه السلام، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَكْثَرُ دُعَاءِ مُحَمَّدٍ وَدُعَاءِ الأَنْبِيَاءِ قَبْلِي بِعَرَفَةَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، اللَّهُمَّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي، وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ وَسْوَاسِ الصَّدْرِ وَمِنْ شَتَاتِ الأَمْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا يَلِجُ فِي اللَّيْلِ وَشَرِّ مَا يَلِجُ فِي النَّهَارِ، وَشَرِّ مَا تَهُبُّ بِهِ الرِّيَاحُ، وَشَرِّ بَوَائِقِ الدَّهْرِ ".
وَفِي لَفْظٍ آخَرَ: «لَكَ الْحَمْدُ كَمَا نَقُولُ وَخَيْرٌ مِمَّا نَقُولُ، اللَّهُمَّ لَكَ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي، وَلَكَ يَا رَبُّ تُرَاثِي، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا تَجْرِي بِهِ الرُّيحِ»
১৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মূসা ইবনে উবায়দাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি উবায়দাহ থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবী তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আরাফাতের ময়দানে মুহাম্মাদ এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অধিকাংশ দুআই ছিল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য; আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর দিন, আমার শ্রবণে নূর দিন এবং আমার দৃষ্টিতে নূর দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অন্তরের কুমন্ত্রণা, কাজের বিশৃঙ্খলা এবং কবরের ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি রাতে যা প্রবেশ করে তার অনিষ্ট থেকে, দিনে যা প্রবেশ করে তার অনিষ্ট থেকে, বাতাস যা কিছু বয়ে আনে তার অনিষ্ট থেকে এবং সময়ের দুর্যোগের অনিষ্ট থেকে।"
এবং অন্য এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "আপনার জন্য সেই প্রশংসা যেমন আমরা বলি এবং তার চেয়েও উত্তম যা আমরা বলি। হে আল্লাহ! আপনারই জন্য আমার সালাত, আমার ইবাদত (কুরবানি), আমার জীবন ও আমার মরণ। হে রব! আমার উত্তরাধিকার আপনারই উদ্দেশ্যে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সেই কল্যাণ প্রার্থনা করছি যা বাতাস বয়ে নিয়ে আসে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ الأَصْبَهَانِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ، ثَنَا عَطَّافُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَافِعٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ مِنًى قَاعِدًا، فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَرَجُلٌ مِنْ ثَقِيفٍ، فَسَلَّمَا عَلَيْهِ وَقَالا: جِئْنَا نَسْأَلُكَ، فَقَالَ: «إِنْ شِئْتُمَا أَخْبَرْتُكُمَا بِمَا جِئْتُمَانِي تَسْأَلانِي عَنْهُ فَعَلْتُ، وَإِنْ شِئْتُمَا أَمْسَكْتُ فَتَسْأَلانِي فَعَلْتُ» .
قَالا: أَخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَزْدَدْ إِيمَانًا وَنَزْدَدْ يَقِينًا، قَالَ الأَنْصَارِيُّ لِلثَّقَفِيُّ: سَلْ رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: بَلْ أَنْتَ، فَإِنِّي أَعْرِفُ لَكَ لَبِقَكَ فَاسْأَلْهُ، قَالَ: أَخْبِرْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «جِئْتَنِي تَسْأَلُنِي عَنْ مَخْرَجِكَ مِنْ بَيْتِكَ تَؤُمَّ الْبَيْتَ الْحَرَامَ، مَا لَكَ فِيهِ؟ وَعَنْ رَكْعَتَيْكِ بَعْدَ الطَّوَافِ، مَا لَكَ فِيهِمَا؟ وَعَنْ طَوَافِكَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، مَا لَكَ فِيهِ؟ وَعَنْ وُقُوفِكَ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ، وَمَا لَكَ فِيهِ؟ وَعَنْ رَمْيِكَ الْجِمَارَ، وَمَا لَكَ فِيهِ؟ وَعَنْ نَحْرِكَ، وَمَا لَكَ فِيهِ؟» يَعْنِي: الإِفَاضَةَ، قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَعَنْ هَذَا جِئْتُكَ.
قَالَ: " إِذَا خَرَجْتَ مِنْ بَيْتِكَ تَؤُمُّ الْبَيْتَ، لا تَضَعْ نَاقَتَكَ خُفًّا وَلا تَرْفَعْهُ إِلا كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَكَ بِهَا حَسَنَةً، وَمَحَى عَنْكَ خَطِيئَةً، وَرَفَعَ لَكَ بِهَا دَرَجَةً، وَأَمَّا رَكْعَتَاكَ بَعْدَ الطَّوَافِ فَكَعِتْقِ سَبْعِينَ رَقَبَةً مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَأَمَّا طَوَافُكَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَكَعِتْقِ سَبْعِينَ رَقَبَةً، وَأَمَّا وُقُوفُكَ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ فَإِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ يَهْبِطُ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيُبَاهِي بِهِمُ الْمَلائِكَةَ، فَيَقُولُ: هَؤُلاءِ عِبَادِي جَاءُونِي شُعْثًا مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ، يَرْجُونَ رَحْمَتِي وَمَغْفِرَتِي، فَلَوْ كَانَ ذُنُوبُهُمْ عَدَدَ الرَّمْلِ وَكَعَدَدِ الْقَطْرِ أَوْ كَزَبَدِ الْبَحْرِ لَغَفَرْتُهَا، أَفِيضُوا عِبَادِي مَغْفُورًا لَكُمْ، وَلِمَنْ شَفَعْتُمْ لَهُ.
وَأَمَّا رَمْيُكَ الْجِمَارَ فَلَكَ بِكُلِّ حَصَاةٍ مِنْهَا رَمَيْتَهَا غُفْرَانُ كَبِيرَةٍ مِنَ الْكَبَائِرِ الْمُوبِقَاتِ، وَأَمَّا حِلاقُكَ رَأْسَكَ فَبِكُلِّ شَعْرَةٍ حَلَقْتَهَا حَسَنَةٌ، وَيُمْحَى عَنْكَ خَطِيئَةٌ "، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنْ كَانَتِ الذُّنُوبُ أَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: " إِذًا يُدَّخَرُ لَكَ ذَلِكَ فِي حَسَنَاتِكَ، وَأَمَّا طَوَافُكَ بِالْبَيْتِ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّكَ تَطُوفُ وَلا ذَنْبَ لَكَ، يَأْتِي مَلَكٌ حَتَّى يَضَعَ يَدَهُ عَلَى كَتِفِكَ، فَيَقُولُ: اعْمَلْ لِمَا يُسْتَقْبَلُ، فَقَدْ غُفِرَ لَكَ مَا مَضَى
১৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আসবাহানী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বুকাইর, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আত্তাফ বিন খালিদ, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন রাফি, আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মিনায় অবস্থিত মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় সেখানে একজন আনসারী ব্যক্তি এবং একজন সাকীফী ব্যক্তি আসলেন। তারা তাঁকে সালাম দিলেন এবং বললেন: আমরা আপনার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করতে এসেছি। তিনি বললেন: "তোমরা চাইলে আমি বলে দিতে পারি তোমরা আমার কাছে কী জিজ্ঞেস করতে এসেছ, আর তোমরা চাইলে তোমরা নিজেরাও প্রশ্ন করতে পার এবং আমি তার উত্তর দেব।"
তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনিই আমাদের বলে দিন যাতে আমাদের ঈমান ও ইয়াকীন (নিশ্চয়তা) বৃদ্ধি পায়। আনসারী ব্যক্তি সাকীফী ব্যক্তিকে বললেন: আপনি রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি বললেন: বরং আপনিই করুন, কারণ আপনার মর্যাদা ও অধিকার আমি জানি, তাই আপনিই তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি (আনসারী) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে (আমার প্রশ্নের ব্যাপারে) অবহিত করুন। তিনি বললেন: "তুমি আমার কাছে এসেছ এটা জিজ্ঞেস করতে যে—তোমার বাড়ি থেকে বের হয়ে বাইতুল হারামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে তাতে তোমার কী প্রতিদান রয়েছে? তওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়লে তাতে তোমার কী প্রতিদান রয়েছে? সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে তওয়াফ করলে তাতে তোমার কী প্রতিদান রয়েছে? আরাফাতের সন্ধ্যায় তোমার অবস্থানের কী প্রতিদান রয়েছে? জামারায় পাথর নিক্ষেপ করলে তাতে তোমার কী প্রতিদান রয়েছে? এবং তোমার কুরবানি করার কী প্রতিদান রয়েছে?" অর্থাৎ ইফাদাহ। তিনি (আনসারী) বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি এগুলোর ব্যাপারেই আপনার কাছে এসেছি।
তিনি বললেন: "তুমি যখন তোমার ঘর থেকে বের হয়ে বাইতুল হারামের উদ্দেশ্যে রওনা হও, তখন তোমার উষ্ট্রী তার খুর যেখানেই রাখে এবং যেখান থেকেই উঠায়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তআলা তোমার জন্য একটি নেকি লিখে দেন, তোমার একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন এবং এর মাধ্যমে তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আর তওয়াফের পরের দুই রাকাত নামাযের প্রতিদান হলো ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধর থেকে সত্তরজন গোলাম আজাদ করার সমান। আর সাফা ও মারওয়ার মাঝখানের তওয়াফের প্রতিদান হলো সত্তরজন গোলাম আজাদ করার সমান। আর আরাফাতের সন্ধ্যায় তোমার অবস্থানের ব্যাপারে কথা হলো—নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: 'এরা আমার বান্দা, তারা প্রতিটি দূর-দূরান্তের পথ পাড়ি দিয়ে আলুথালু বেশে আমার কাছে এসেছে, তারা আমার দয়া ও ক্ষমা প্রত্যাশা করছে।' সুতরাং তাদের গুনাহ যদি বালুকণার সমান হয়, বৃষ্টির ফোঁটার সমান হয় কিংবা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়, তবুও আমি তা ক্ষমা করে দেব। হে আমার বান্দারা, তোমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাও এবং তোমরা যাদের জন্য সুপারিশ করবে তারাও ক্ষমাপ্রাপ্ত।"
"আর তোমার পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারে প্রতিদান হলো—তুমি যে প্রতিটি পাথর নিক্ষেপ করবে তার বিনিময়ে তোমার একটি করে ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর তোমার মাথা মুণ্ডানোর বিনিময়ে প্রতিটি চুলের জন্য একটি করে নেকি হবে এবং তোমার থেকে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, গুনাহ যদি তার চেয়ে কম হয়? তিনি বললেন: "সেক্ষেত্রে তা তোমার নেক আমলের ভাণ্ডারে জমা করে রাখা হবে। আর এরপর তোমার বাইতুল্লাহর তওয়াফের ব্যাপারে প্রতিদান হলো—তুমি এমতাবস্থায় তওয়াফ করবে যে তোমার আর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকবে না। একজন ফেরেশতা এসে তোমার কাঁধের ওপর তাঁর হাত রাখবেন এবং বলবেন: 'ভবিষ্যতের জন্য আমল করো, নিশ্চয়ই তোমার পেছনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে'।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشِّيْرَجِيُّ، ثَنَا أَبُو لَبِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، ثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ زَيْدٍ يَعْنِي الْعَمِّيَّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ أَحْيَا اللَّيَالِي الأرْبَعَ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ: لَيْلَةَ التَّرْوِيَةِ، وَلَيْلَةَ عَرَفَةَ، وَلَيْلَةَ النَّحْرِ، وَلَيْلَةَ الْفِطْرِ "
১৫ - আমাদের নিকট আবু আমর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু লাবিদ মুহাম্মদ বিন ইদরিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুওয়াইদ বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রহিম বিন যাইদ অর্থাৎ আল-আম্মি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি চারটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়: তারবিয়াহর রাত (৮ই জিলহজ), আরাফাহর রাত, নাহরের (কুরবানির) রাত এবং ঈদুল ফিতরের রাত।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَرْوَزِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَحْمُودٍ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَلالُ، أَنْبَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، أَنْبَا ضَمْضَمٌ، قَالَ: دَخَلْتُ مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ، فَنَادَانِي شَيْخٌ، فَقَالَ: يَا يَمَانِيُّ، تَعَالَ.
وَمَا أَعْرِفُهُ، فَقَالَ: لا تَقُولَنَّ لِرَجُلٍ: وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ، أَوْ: وَاللَّهِ لا يُدْخِلُكَ اللَّهُ الْجَنَّةَ أَبَدًا.
قُلْتُ: وَمَنْ أَنْتَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ؟ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ.
قُلْتُ: إِنَّ هَذِهِ كَلِمَةٌ يَقُولُهَا أَحَدُنَا لِبَعْضِ أَهْلِهِ إِذَا غَضِبَ، أَوْ لِزَوْجَتِهِ، أَوْ لِخَادِمِهِ، قَالَ: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ رَجُلَيْنِ كَانَا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مُتَحَابَّيْنِ، أَحَدُهُمَا مُجْتَهِدًا، وَالآخَرُ يَقُولُ: كَأَنَّهُ مُذْنِبٌ، فَجَعَلَ يَقُولُ: أَقْصِرْ عَمَّا أَنْتَ عَلَيْهِ، فَيَقُولُ: خَلِّنِي وَرَبِّي، حَتَّى وَجَدَهُ يَوْمًا عَلَى ذَنْبٍ اسْتَعْظَمَهُ، فَقَالَ: خَلِّنِي وَرَبِّي، أَبُعِثْتَ عَلَيَّ رَقِيبًا؟ فَقَالَ: وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ أَبَدًا، أَوْ: لا يُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ أَبَدًا، قَالَ: فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِمَا مَلَكًا فَقَبَضَ أَرْوَاحَهُمَا، فَاجْتَمَعَا عِنْدَهُ، فَقَالَ لِلْمُذْنِبِ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي، وَقَالَ لِلآخَرِ: أَحَظَرْتَ رَحْمَتِي عَلَى عَبْدِي؟ اذْهَبُوا بِهِ إِلَى النَّارِ ".
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَاللَّهِ لَقَدْ تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَذْهَبَتْ دُنْيَاهُ وَآخِرَتَهُ
آخِرُهُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ وَآلِهِ.
أَخْبَرَنِي شَمْسُ الدِينِ أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صَالِحٍ ابْنِ عَبْدُوسٍ أَنَّ سَمَاعَنَا لِهَذَا الْجُزْءِ عَلَى نُسْخَتِهِ ، وَأَنَّهُ شَاهَدَ ذَلِكَ ، وَاللهُ تَعَالَى أَعْلَمُ.
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-খাল্লাল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইকরামা ইবনে আম্মার, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দামদাম, তিনি বলেন: আমি মদিনার মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন একজন বৃদ্ধ আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: হে ইয়ামানী, এদিকে এসো।
আমি তাকে চিনতাম না, তিনি বললেন: তুমি কখনো কোনো লোককে এ কথা বলবে না: ‘আল্লাহর কসম, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না’ অথবা ‘আল্লাহর কসম, আল্লাহ তোমাকে কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না’।
আমি বললাম: আপনি কে? আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। তিনি বললেন: আবু হুরায়রা।
আমি বললাম: এটি এমন এক কথা যা আমাদের কেউ রাগান্বিত হলে তার পরিবারের কাউকে, অথবা তার স্ত্রীকে, অথবা তার খাদেমকে বলে থাকে। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “বনী ইসরাঈলের মধ্যে দুই ব্যক্তি ছিল যারা পরস্পরকে ভালোবাসত। তাদের একজন ছিল ইবাদতে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং অন্যজন মনে হতো যেন পাপী। পরিশ্রমী ব্যক্তিটি বলতে থাকল: তুমি যা করছ তা থেকে বিরত হও। সে (পাপী ব্যক্তি) বলল: আমাকে ও আমার রবকে ছেড়ে দাও। একদিন সে তাকে বড় কোনো পাপে লিপ্ত দেখল, তখন সে বলল: আমাকে ও আমার রবকে ছেড়ে দাও, তোমাকে কি আমার ওপর পাহারাদার হিসেবে পাঠানো হয়েছে? তখন সে বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ তোমাকে কখনো ক্ষমা করবেন না অথবা তিনি তোমাকে কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহ তাদের উভয়ের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন এবং তিনি তাদের রুহ কবজ করলেন। তারা আল্লাহর নিকট একত্রিত হলো। তখন তিনি পাপী ব্যক্তিকে বললেন: আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করো। আর অন্যজনকে বললেন: তুমি কি আমার বান্দার ওপর আমার রহমতকে রুদ্ধ করতে চেয়েছিলে? তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও।”
আবু হুরায়রা বললেন: আল্লাহর কসম, সে এমন এক কথা বলেছে যা তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কেই ধ্বংস করে দিয়েছে।
এর সমাপ্তি ঘটল এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।
আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শামসুদ্দীন আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে সালেহ ইবনে আবদুস যে, এই জুযটি (পুস্তিকাটি) আমাদের শ্রবণ করা হয়েছে তার পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী, এবং তিনি এর সাক্ষী ছিলেন, আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
18 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ إِحْدَى وَسِتِّينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قَالَ: أَنْبَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَانِيَاسِيُّ الْفَرَّاءُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ الْحَافِظُ الْحَنْبَلِيُّ، إِمْلاءً، ثَنَا أَبُو عِيسَى بَكَّارُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَكَّارٍ الْمُقْرِئُ، أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الصُّوفِيُّ، ثَنَا التَّرْجُمَانِيُّ، حَدَّثَنِي صَالِحٌ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجُونِيِّ، عَنْ أَبِي الْجَلْدِ، قَالَ: قَرَأْتُ فِي مَسْأَلَةِ دَاوُدَ رَبَّهُ عز وجل، قَالَ: أَيْ رَبِّ، كَيْفَ لِي أَنْ أَشْكُرَكَ وَأَنَا لا أَصِلُ إِلَى شُكْرِي إِلا بِنِعْمَتِكَ؟ قَالَ: فَأَتَاهُ الْوَحْيُ أَنْ: يَا دَاوُدُ، أَلَسْتَ تَعْلَمُ أَنَّ الَّذِي بِكَ مِنَ النِّعَمِ مِنِّي؟ قَالَ: بَلَى يَا رَبِّ، قَالَ: فَإِنِّي أَرْضَى بِذَلِكَ مِنْكَ شُكْرًا
مِنْ هَهُنَا مُدْرَجٌ عَلَى شُيُوخِ ابْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ
১৮ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন আহমদ বিন সালমান, পাঁচশত একষট্টি হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠকালে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আহমদ বিন ইবরাহিম আল-বানিয়াসি আল-ফাররা, তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমি শুনছিলাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবিল ফাওয়ারিস আল-হাফিজ আল-হানবালি, শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা বাক্কার বিন আহমদ বিন বাক্কার আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আল-হাসান আস-সুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আত-তারজুমানি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ, আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে, তিনি আবু আল-জালদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দাউদ আলাইহিস সালামের তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকট করা আরজি সম্পর্কে পড়েছি, তিনি বলেছিলেন: হে আমার রব, আমি কীভাবে আপনার কৃতজ্ঞতা আদায় করব যখন আপনার নেয়ামত ব্যতীত আমি কৃতজ্ঞতা আদায়ের পর্যায়ে পৌঁছাতেই পারি না? তিনি বলেন: তখন তাঁর নিকট ওহি আসল যে: হে দাউদ, তুমি কি জানো না যে তোমার নিকট যা কিছু নেয়ামত রয়েছে তা আমার পক্ষ থেকেই? তিনি বললেন: অবশ্যই হে রব। তিনি বললেন: আমি তোমার পক্ষ থেকে সেই স্বীকৃতিকেই কৃতজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করলাম।
এখান থেকে ইবনে আবিল ফাওয়ারিসের উস্তাদদের বর্ণনায় এটি প্রক্ষিপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ الشَّيْخُ الصَّالِحُ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُرَاسَانِيُّ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَفَّانَ، حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ ابْنُ الرَّبِيعِ، سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ الْفَزَارِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ حَبِيبِيَ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ، يَقُولُ: خَمْسٌ مِنَ السَّعَادَةِ: الْيَقِينُ فِي الْقَلْبِ، وَالْوَرَعُ فِي الدِّينِ، وَالزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا، وَالْحَيَاءُ، وَالْعِلْمُ
১৯ - আমাদের নিকট নেককার শাইখ আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খুরাসানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু বকর বিন আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট হুসাইন ইবনুর রাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু ইসহাক আল-ফাযারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি আমার প্রিয় ফুদাইল বিন ইয়াদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: পাঁচটি বিষয় সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত: অন্তরে ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস), দ্বীনের ব্যাপারে পরহেজগারি, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি, লজ্জা এবং জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ سَلْمٍ، ثَنَا الأَبَّارُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، سَمِعْتُ عَبْدَانَ، يَقُولُ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ، يَعْنِي: ابْنَ الْمُبَارَكِ: الإِسْنَادُ عِنْدِي مِنَ الدِّينِ، لَوْلا الإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ، فَإِذَا قِيلَ لَهُ: مَنْ حَدَّثَكَ؟ بَقَّى
২০ - আমাদের নিকট আবু বকর আহমাদ বিন জাফর বিন সালম বর্ণনা করেছেন, আল-আব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাসান বিন শাকীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারক বলেছেন: ইসনাদ (সূত্র পরম্পরা) আমার নিকট দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকতো তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতো। অতঃপর যখন তাকে বলা হয়: কে আপনার নিকট বর্ণনা করেছেন? তখন সে নির্বাক হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، بِأَصْبَهَانَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ، ثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، ثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْيَمَامِيُّ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه: " النِّعَمُ سِتَّةٌ: أَوَّلُهَا الإِسْلامُ، وَالثَّانِي الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ، وَالثَّالِثُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، وَالرَّابِعَةُ السَّتْرُ، وَالْخَامِسَةُ الْعَافِيَةُ، وَالسَّادِسَةُ الْغِنَى عَنِ النَّاسِ "
২১ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে শাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ফজল আল-ইয়ামামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "নিয়ামত ছয়টি: তার প্রথমটি হলো ইসলাম, দ্বিতীয়টি কুরআন আল্লাহর কালাম, তৃতীয়টি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, চতুর্থটি (ত্রুটি) গোপন রাখা, পঞ্চমটি নিরাপত্তা ও সুস্থতা, এবং ষষ্ঠটি মানুষের নিকট অমুখাপেক্ষিতা।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقِيقِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْمَهْدِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمُوَفَّقِ، مَا لا أُحْصِي، بِقُولِ اللهِ: اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي أَعْبُدُكَ خَوْفًا مِنْ نَارِكَ فَعَذِّبْنِي بِهَا، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي أَعْبُدُكَ حُبًّا مِنِّي لِجَنَّتِكَ وَشَوْقًا إِلَيْهَا فَاحْرِمْنِيهَا، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي إِنَّمَا أَعْبُدُكَ حُبًّا مِنِّي لَكَ وَشَوْقًا إِلَى وَجْهِكَ الْكَرِيمِ فَأَبِحْنِيهِ مَرَّةً، وَاصْنَعْ بِي مَا شِئْتَ
২২ - আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আহমদ আদ-দাকিকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল মাহদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলি ইবনুল মুওয়াফ্ফাককে অসংখ্যবার আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ কথা বলতে শুনেছি: হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে আমি আপনার আগুনের (জাহান্নামের) ভয়ে আপনার ইবাদত করি, তবে আপনি আমাকে তা দ্বারা শাস্তি দিন; আর যদি আপনি জানেন যে আমি আপনার জান্নাতের প্রতি ভালোবাসা ও সেটির আকাঙ্ক্ষায় আপনার ইবাদত করি, তবে আপনি আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করুন; আর যদি আপনি জানেন যে আমি কেবল আপনার প্রতি ভালোবাসা এবং আপনার মহান চেহারার আকাঙ্ক্ষায় আপনার ইবাদত করি, তবে আমাকে একবার তা দেখার অনুমতি দিন এবং এরপর আমার সাথে আপনার যা ইচ্ছা তা-ই করুন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
23 - قَرَأْتُ عَلَى شَيْخِنَا أَبِي الْفَتْحِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي، أَخْبَرَكُمْ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ زَكَرِيَّا الطُّرَيْثِيثِيُّ، سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أَنْبَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، قَالَ: أَنْبَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، نَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سِنَانٍ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَاسِعٍ، قَالَ: قَدِمْتُ مَكَّةَ فَلَقِيتُ بِهَا سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَنْ دَخَلَ السُّوقَ فَقَالَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لا يَمُوتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ، وَمَحَى عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ، وَرَفَعَ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ دَرَجَةٍ ".
أَوْ قَالَ: «بَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ» .
شَكَّ يَزِيدُ، قَالَ: قَدِمْتُ خُرَاسَانَ، وَأَتَيْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ، فَقُلْتُ: أَتَيْتُكَ بِهَدِيَّةٍ، فَحَدَّثْتُهُ الْحَدِيثَ، فَكَانَ قُتَيْبَةُ يَرْكَبُ فِي مَوْكِبِهِ حَتَّى يَأْتِيَ السُّوقَ، فَيَقُولَهَا ثُمَّ يَنْصَرِفُ
২৩ - আমি আমাদের শায়খ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকী-এর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে যাকারিয়া আত-তুরাইথীসি ৪৮৮ হিজরিতে তোমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে শাযান আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আলী ইবনে ইসমাঈল আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আযহার ইবনে সিনান আল-কুরাশী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মক্কায় আসলাম এবং সেখানে সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমার কাছে তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর দাদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন, আর তিনি চিরঞ্জীব, কখনও মৃত্যুবরণ করবেন না, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান; আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন, তার থেকে দশ লক্ষ গুনাহ মুছে দেন এবং তার জন্য দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।"
অথবা তিনি বলেছেন: "তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।"
ইয়াযিদ (শব্দটি নিয়ে) সন্দেহ পোষণ করেছেন। তিনি বলেন: আমি খোরাসানে আসলাম এবং কুতায়বা ইবনে মুসলিমের কাছে গেলাম। আমি বললাম: আমি আপনার জন্য একটি উপহার নিয়ে এসেছি। এরপর আমি তাকে এই হাদীসটি শোনালাম। এরপর কুতায়বা তাঁর সওয়ারিতে চড়ে বাজারে আসতেন, এই দুআটি পাঠ করতেন এবং এরপর ফিরে যেতেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
24 - وَبِالإِسْنَادِ قَالَ إِسْمَاعِيلُ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ الصَّائِغُ، بِمَكَّةَ، ثَنَا زَهْدَمُ بْنُ الْحَارِثِ الْمَكِّيُّ، ثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيلُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَيْتُكَ بِكَلِمَاتٍ لَمْ آتِ بِهِنَّ أَحَدًا قَبْلَكَ، قُلْ: يَا مَنْ أَظْهَرَ الْجَمِيلَ وَسَتَرَ عَلَى الْقَبِيحِ، وَلَمْ يَأْخُذْ بِالْجَرِيرَةِ، وَلَمْ يَهْتِكِ السِّتْرَ، يَا عَظِيمَ الْعَفْوِ، وَيَا كَرِيمَ الْمَنِّ، وَيَا عَظِيمَ الصَّفْحِ، يَا صَاحِبَ كُلِّ نَجْوَى، وَيَا مُبْتَدِئًا بِالنِّعَمِ قَبْلَ اسْتِحْقَاقِهَا، وَيَا مُنْتَهَى كُلِّ شَكْوَى، وَيَا رَبَّاهُ وَيَا سَيِّدَاهُ، وَيَا مُنَاهُ وَيَا غَايَةَ رَغْبَتَاهُ، أَسْأَلُكَ أَنْ لا تَشْوِي وَجْهِيَ بِالنَّارِ "
২৪ - এবং উক্ত সনদে ইসমাঈল বলেন: আমাদের নিকট মক্কায় মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে যায়দ আস-সায়িগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যাহদাম ইবনুল হারিস আল-মাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাফস ইবনে গিয়াস বর্ণনা করেছেন, লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "জিবরাঈল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মাদ, আমি আপনার নিকট এমন কিছু বাক্য নিয়ে এসেছি যা আপনার পূর্বে আর কারো নিকট নিয়ে আসিনি। আপনি বলুন: হে সেই সত্তা যিনি সুন্দরকে প্রকাশ করেন এবং মন্দকে গোপন করেন, যিনি অপরাধের জন্য পাকড়াও করেন না এবং গোপন পর্দা ছিঁড়ে ফেলেন না, হে মহান ক্ষমাশীল, হে মহানুভব অনুগ্রহকারী, হে মহান মার্জনাকারী, হে প্রতিটি গোপন আলোচনার সঙ্গী, হে যোগ্য হওয়ার পূর্বেই নিয়ামত দানকারী, হে সকল অভিযোগের শেষ আশ্রয়স্থল, হে আমার রব, হে আমার মালিক, হে আমার আকাঙ্ক্ষা, হে আমার ব্যাকুলতার শেষ লক্ষ্য, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমার মুখমন্ডলকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ না করেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
25 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَنْبَا أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّمِيمِي، قَالَ: أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، نَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ، نَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أَنْبَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَر بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، ثُمَّ أَتْبَعَهُ بِسِتٍّ مِنْ شَوَّالٍ فَقَدْ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ»
২৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল আজিজ আত-তামিমি; তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান; আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল বাখতারি; আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব; আমাদের জানিয়েছেন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা; আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর, সা’দ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উমর ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর তার পেছনে শাওয়ালের ছয়টি রোজা পালন করল, তবে সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
26 - قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ، أَنْبَا طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، أَن أَبَاهُ، كَانَ يَصُومُ بَعْدَ الْفِطْرِ سِتَّةَ أَيَّامٍ، وَيَقُولُ: يَعْدِلُ صِيَامَ السَّنَةِ ثَلاثِينَ كَذَا بِعَشْرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتَّةِ أَيَّامٍ بِشَهْرَيْنِ
২৬ - আব্দুল ওয়াহহাব বলেন, তালহা বিন আমর ইবনে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন রোজা রাখতেন এবং বলতেন: এটি পুরো বছরের রোজার সমতুল্য; এভাবে (রমজানের) ত্রিশ দিন দশ মাসের সমান এবং ছয় দিন দুই মাসের সমান।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
27 - قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ الْبُحْتُرِيُّ، ثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا جَرَعَ عَبْدٌ جُرْعَةً أَعْظَمَ أَجْرًا عِنْدَ اللَّهِ تبارك وتعالى مِنْ جُرْعَةِ غَيْظٍ كَظَمَهَا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ عز وجل»
২৭ - আবু জাফর আল-বুহতারী বলেন, সাদান বিন নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট সওয়াবের দিক থেকে কোনো বান্দার গিলে ফেলা এমন কোনো ঢোক অধিক মহান নয়, যা সে মহান আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায় নিজের রাগের ঢোক সংবরণ করার মাধ্যমে গিলে ফেলে।»
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
28 - قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَرَاءُ، قَالَ: أَنْشَدَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ: يَا نَفْسُ حَسْبُكِ مِنْ لَهْوٍ وَمِنْ لَعِبِ
… وَمِنْ مُكَاثَرَةٍ بِالْجَاهِ وَالأَدَبِ
فِي الْمَوْتِ لِي شُغْلٌ عَنْ ذَاكَ فَاتَّعِظِي
… وَبَادِرِي وَأَعِدِّي الزَّادَ مِنْ كَثَبِ
يَا نَفْسُ لا تَعْتَطِي خَلْفًا بِكَثْرَتِهِ
… إِلا أَخَا وَرَعٍ لِلْمَوْتِ مُرْتَقِبِ
أَلَيْسَ لِي عِبْرَةٌ فِيمَنْ تَقَدَّمَنِي
… إِلَى الْمَقَابِرِ بَيْتِي مِنْهُمَا وَأَبِي
أَصْلٌ وَفَرْعٌ أُصِيبَا كُنْتُ فَرْعَهُمَا
… فَمَا بَقَى الْغُصْنُ بَعْدَ الْفَرْعِ وَالشِّعْبِ
২৮ - আবু জাফর বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-বারা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাকে কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: হে নফস! খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদ তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে
… এবং প্রতিপত্তি ও শিষ্টাচার নিয়ে আধিক্যের বড়াই থেকেও।
মৃত্যুর চিন্তায় আমি এসব থেকে বিমুখ, সুতরাং তুমি উপদেশ গ্রহণ করো
… আর ক্ষিপ্র হও এবং নিকট থেকেই পাথেয় প্রস্তুত করো।
হে নফস! আধিক্যের মোহে কোনো উত্তরসূরিকে গ্রহণ করো না
… কেবল সেই পরহেজগার ব্যক্তি ব্যতীত যে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় রত।
আমার পূর্বে যারা চলে গেছেন তাদের মাঝে কি আমার জন্য শিক্ষা নেই?
… কবরের দিকে (গমন করেছেন) আমার জননী এবং জনক।
মূল এবং শাখা উভয়েই আক্রান্ত হয়েছেন, আমি ছিলাম তাদেরই শাখা
… সুতরাং মূল কাণ্ড ও প্রশাখা বিলীন হওয়ার পর ক্ষুদ্র ডাল আর কীভাবে অবশিষ্ট থাকে?
(খণ্ড: ১)
ফাদলু ইয়াউমিত তারবিয়্যাহ ওয়া আরাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
30 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِلالٍ الدَّقَّاقُ، قَالَ: أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَاصِمٍ، أَنْبَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيّ ٍ، أَنْبَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ حَدَّثَنَا طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نِزَارٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ طَهْمَانَ، حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ الْحَجَّاجِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَبَّحَ دُبُرَ الصَّلاةِ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ، وَهَلَّلَ مِائَةَ تَهْلِيلَةٍ، غُفِرَ لَهُ ذُنُوبُهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ»
৩০ - এবং আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনু হিলাল আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আসিম ইবনুল হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু আসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমার আব্দুল ওয়াহিদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাহির ইবনু খালিদ ইবনু নিযার আল-আইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম অর্থাৎ ইবনু তাহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাজ্জাজ ইবনুল হাজ্জাজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুয যুবাইর থেকে, তিনি আবু আলকামা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি সালাতের পর একশত বার তাসবিহ পাঠ করবে এবং একশত বার তাহলিল পাঠ করবে, তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার ন্যায় হয়ে থাকে।»