(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: -)
عشاريات السيوطي (الجلال السيوطي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: عشاريات السيوطي
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 32
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উশারিয়াতুস সুয়ূতী (জালালুদ্দীন সুয়ূতী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: উশারিয়াতুস সুয়ূতী
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা ইসলামিক নেটওয়ার্ক সাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামেউল কালিম নামক ফ্রি সফটওয়্যারে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১)
هَذِهِ عُشَارِيَّاتُ الإِمَامِ الَحْافِظِ الْمُتْقِنِ الْمُحَدِّثِ شَيْخِ مَشَايِخِنَا الْجَلالِ السُّيُوطِيِّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَأَسْكَنَهُ فَسِيحَ جَنَّاتِهِ.نِعْمَ الْحَافِظُ اللَّهُ، نِعْمَ النَّاصِرُ اللَّهُ، نِعْمَ الْقَادِرُ اللَّهُ، {فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُونَ} [المرسلات: 23] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ نَسْتَعِينُ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ.قَالَ الإِمَامُ الْحَافِظُ الْمُتْقِنُ الْمُحَدِّثُ مَوْلانَا جَلالُ الدِّينِ السُّيُوطِيُّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، وَأَسْكَنَهُ فَسِيحَ جَنَّتِهِ، هَذِهِ أَحَادِيثُ جَلِيلَةٌ، وَقَعَتْ لِي عُشَارِيَّةً بَيْنِي وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهَا عَشَرَةُ أَنْفُسٍ.
এটি আমাদের শায়খদের শায়খ, হাফিজ, সুনিপুণ গবেষক ও মুহাদ্দিস ইমাম জালাল সুয়ূতীর 'উশারিয়্যাত' (দশজন বর্ণনাকারী সম্বলিত হাদীস সংকলন), আল্লাহ তাঁকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন এবং জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে তাঁকে স্থান দান করুন।আল্লাহ কতই না উত্তম হিফাযতকারী, আল্লাহ কতই না উত্তম সাহায্যকারী, আল্লাহ কতই না উত্তম ক্ষমতাশালী, {অতঃপর আমরা নির্ধারণ করেছি, আর আমরা কতই না শ্রেষ্ঠ নির্ধারণকারী} [আল-মুরসালাত: ২৩]। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই কাছে আমরা কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করছি।হাফিজ, সুনিপুণ গবেষক ও মুহাদ্দিস ইমাম আমাদের মাওলানা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (আল্লাহ তাঁকে স্বীয় রহমতে সিক্ত করুন এবং জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে তাঁকে স্থান দিন) বলেছেন: এগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হাদীস, যা আমার নিকট 'উশারিয়্যা' সূত্রে পৌঁছেছে; অর্থাৎ আমার ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে দশজন ব্যক্তি (বর্ণনাকারী) রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنِي مُسْنِدُ الدُّنْيَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُقْبِلٍ الْحَلَبِيُّ، إِجَازَةً عَنِ الصَّلاحِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَمْرٍو الْمَقْدِسِيِّ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْقَاسِمِ الصَّيْدَلانِيِّ، أَنْبَأَتْنَا أُمُّ إِبْرَاهِيمَ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوزْدَانِيَّةُ، وَأَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الثَّقَفِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا، قَالَ: أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بُرَيْدَةَ ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ، فِي الْمُعْجَمِ الصَّغِيرِ ، ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ رَمَاحِسَ الْقَيْسِيُّ، سَنَةَ 274 ، ثَنَا أَبُو عَمْرٍو زِيَادُ بْنُ طَارِقٍ، وَقَدْ كَانَ قَدْ أَتَتْ عَلَيْهِ مِائَةٍ وَعِشْرِيَن سَنَةٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَرْوَلٍ زُهَيْرَ بْنَ صُرَدٍ الْجُشَمِيَّ، يَقُولُ: لَمَّا أَسَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ يَوْمَ هَوَازِنَ، وَذَهَبَ يُفَرِّقُ السَّبْيَ وَالشَّاةَ، فَأَتَيْتُهُ فَأَنْشَأْتُ أَقُولُ:امْنُنْ عَلَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كَرَمٍ … فَإِنَّكَ الْمَرْءُ نَرْجُوهُ وَنَنْتَظِرُامْنُنْ عَلَى بَيْضَةٍ قَدْ عَاقَهَا قَدَرٌ … مُشَتَّتٌ شَمْلُهَا فِي دَهْرِهَا غِيَرُأَبْقَتْ لَنَا الدَّهْرَ هتافا على حزن … عَلَى قُلُوبِهِمُ الْغماءُ والغمرُإِنْ لَمْ تَدَارَكْهُمْ نَعْمَاءُ تَنْشُرُهَا … يَا أَرْجَحَ النَّاسِ حِلْمًا حِينَ يُخْتَبَرُامْنُنْ عَلَى نِسْوَةٍ قَدْ كُنْتَ تَرْضَعُهَا … إِذْ فُوكَ يَمْلَأُهُ مِنْ مَحْضِهَا الدَّرَرِإِذْ كُنْتَ طِفْلا صَغِيرًا كُنْتَ تَرْضَعُهَا … وَإِذْ يَزِينُكَ ما تَأْتِي وَمَا تَذَرُلا تَجْعَلَنَّا كَمَنْ شَالَتْ نَعَامَتُهُ … وَاسْتَبْقِ مِنَّا فَإِنَّا مَعْشَرٌ زَهَرُإِنَّا لَنَشْكَرُ لِلنَّعْمَاءِ إِذْ كُفِرَتْ … وَعِنْدَنَا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ مُدَّخَرُفَأَلْبِسِ الْعَفْوَ مَنْ قَدْ كُنْتَ تَرْضَعُهُ … مِنْ أُمَّهَاتِكَ إِنَّ الْعَفْوَ مُشْتَهَرُيَا خَيْرَ مَنْ مَرَحَتْ كُمْتُ الْجِيَاد بِهِ … ثُمَّ الْهياج إِذَا مَا اسْتَوْقَدَ الشَّرَرُإِنَّا نُؤْمِلُ عَفْوًا مِنْكَ تُلْبِسُهُ … هَذِي الْبَرِيَّةَ إِذْ تَعْفُو وَتَنْتَصِرُفَاعْفُ عَفَا اللَّهُ عَمَّا أَنْتَ رَاهِبُهُ … يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذْ يُهْدَى لَكَ الظَّفَرُقَالَ: فَلَمَّا سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الشِّعْرَ قَالَ: «مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكُمْ» .وَقَالَتْ قُرَيْشٌ: مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ، وَقَالَتِ الأَنْصَارُ: مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ.قَالَ الطَّبَرَانِيُّ: لَا يُرْوَى عَنْ زُهَيْرٍ إِلَّا هَذَا الإِسْنَادُ ، تَفَرَّدَ بِهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنِ رَمَاحِسَ، وَقَالَ الْحَافِظُ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ فِي عُشَارِيَّاتِهِ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
১ - বিশ্বের বরেণ্য মুসনিদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুকবিল আল-হালাবী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আস-সালাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন আবু আমর আল-মাকদিসী থেকে প্রাপ্ত ইজাযতক্রমে। তিনি বলেন, আলী বিন আহমাদ আল-মাকদিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-কাসিম আস-সাইদালানী থেকে। তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উম্মে ইবরাহীম ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুজদানিয়া এবং আবু আল-ফাদল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আস-সাকাফী আমাদের নিকট তাঁদের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন বুরায়দাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু আল-কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানী তাঁর ‘আল-মুজাম আস-সাগীর’-এ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ বিন রামাহিস আল-কাইসী ২৭৪ হিজরীতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু আমর যিয়াদ বিন তারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর বয়স একশ বিশ বছর হয়েছিল। তিনি বলেন: আমি আবু জারওয়াল যুহাইর বিন সুরাদ আল-জুশামীকে বলতে শুনেছি: যখন হুনাইনের যুদ্ধে অর্থাৎ হাওয়াযিনের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বন্দী করলেন এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও বকরি বণ্টন করতে শুরু করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট আসলাম এবং এই পঙ্ক্তিগুলো আবৃত্তি করতে লাগলাম:হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করে অনুগ্রহ করুন, কারণ আপনিই সেই ব্যক্তি যার প্রতি আমরা আশা রাখি এবং যাঁর প্রতীক্ষায় থাকি।অনুগ্রহ করুন এমন একদলের প্রতি যাদেরকে তাকদীর বিপদে ফেলেছে, যাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং সময়ের বিবর্তনে যারা দুর্দশাগ্রস্ত।মহাকাল আমাদের জন্য দুঃখ-বেদনায় হাহাকার ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি, তাদের হৃদয়ে চরম অন্ধকার ও কষ্ট ছেয়ে গেছে।যদি আপনার পক্ষ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া অনুগ্রহ তাদেরকে রক্ষা না করে, তবে হে মানুষের মধ্যে অধিক সহনশীল ব্যক্তি যখন তাকে পরীক্ষা করা হয়।অনুগ্রহ করুন সেই নারীদের প্রতি যারা আপনাকে স্তন্যদান করেছিলেন, যখন আপনার মুখমণ্ডল তাদের খাঁটি দুধে পূর্ণ হতো।যখন আপনি ছোট্ট শিশু ছিলেন এবং স্তন্য পান করতেন, আর আপনি যা করতেন বা বর্জন করতেন তা আপনাকে ভূষিত করত।আমাদেরকে সেই জাতির মতো করবেন না যাদের সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে, আমাদের অবশিষ্ট রাখুন কারণ আমরা এক মর্যাদাশীল গোষ্ঠী।অকৃতজ্ঞতার মাঝেও আমরা আপনার নিআমতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আর আজকের এই দিনের পর আমাদের কাছে ভবিষ্যতের পাথেয় জমা রয়েছে।সুতরাং আপনি আপনার ক্ষমা দ্বারা তাদের আবৃত করুন যারা আপনাকে স্তন্যদান করেছিল আপনার মায়েদের পক্ষ থেকে, নিশ্চয় ক্ষমা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ বিষয়।হে সেই শ্রেষ্ঠ সত্তা যাঁর সাথে লাল রঙের ঘোড়াগুলো দ্রুত গতিতে ছুটে চলে, অতঃপর রণক্ষেত্রে যখন আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে।আমরা আপনার নিকট থেকে এমন ক্ষমার আশা রাখি যা আপনি এই সৃষ্টিজগতকে পরিধান করাবেন, যখন আপনি ক্ষমা করবেন এবং বিজয়ী হবেন।সুতরাং আপনি ক্ষমা করুন—আল্লাহ আপনার সেই বিষয়গুলো ক্ষমা করুন যা আপনি কিয়ামতের দিনে আশঙ্কা করেন—যখন আপনার জন্য বিজয় উপহার দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই কবিতা শুনলেন, তখন বললেন: “আমার এবং বনী আব্দুল মুত্তালিবের অংশে যা আছে, তা তোমাদের জন্য।”কুরাইশরা বলল: “আমাদের যা আছে তাও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।” আর আনসাররা বলল: “আমাদের যা আছে তাও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।”তাবারানী বলেন: যুহাইর থেকে এই সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে এটি বর্ণিত হয়নি, উবায়দুল্লাহ বিন রামাহিস এটি বর্ণনায় একক। হাফেজ আবু আল-ফাদল আহমাদ বিন মুহাম্মাদ তাঁর ‘উশারিয়্যাত’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি হাসান গারীব হাদীস।
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَبِالإِسْنَادِ الْمَاضِي إِلَى الطَّبَرَانِيِّ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَبِد الْكَرِيمِ بْنِ فَرُّوخَ بْنِ دِيزَجَ بْنِ بِلالِ بْنِ سَعْدٍ الأَنْصَارِيُّ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَدِّي لأُمِّي عُمَرُ بْنُ أَبَانِ بْنِ مُفَضَّلٍ الْمَدَنِيُّ، قَالَ: أَرَانِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ الْوُضُوءَ، أَخَذَ رِكْوَةً فَوَضَعَهَا عَلَى يَسَارِهِ، وَصَبَّ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَغَسَلَهَا ثَلاثًا، ثُمَّ أَدَارَ الرِّكْوَةَ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَتَوَضَّأَ ثَلاثًا ثَلاثًا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثَلاثًا، وَأَخَذَ مَاءً جَدِيدًا فَمَسَحَ سِمَاخَهُ، فَقُلْتُ لَهُ: قَدْ مَسَحْتَ أُذُنَيْكَ، فَقَالَ: يَا غُلامُ إِنَّهُمَا مِنَ الرَّأْسِ لَيْسَ هُمَا مِنَ الْوَجْهِ، ثُمَّ قَالَ: «يَا غُلامُ هَلْ رَأَيْتَ ـ أوَفَهِمْتَ ـ أَوْ أُعِيدُ عَلَيْكَ؟» فَقُلْتُ: قَدْ كَفَانِي وَقَدْ فَهِمْتُ، فَقَالَ: «هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ» .قَالَ الطَّبَرَانِيُّ: لَمْ يَرْوِ عَمْرُو بْنُ أَبَانٍ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثًا غَيْرَ هَذَا، وَقَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي عُشَارِيَّاتِهِ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَعَمْرُو بْنُ أَبَانٍ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ
২ - তাবারানি পর্যন্ত পূর্বোক্ত সনদে, জাফর বিন আব্দুল কারীম বিন ফাররুখ বিন দীজাজ বিন বিলাল বিন সাদ আল-আনসারী আদ-দিমাশকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার মাতামহ উমর বিন আবান বিন মুফাযযাল আল-মাদানী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) আমাকে অজু করে দেখিয়েছেন। তিনি একটি পানির পাত্র নিলেন এবং তা তার বাম পাশে রাখলেন, এরপর তিনি তার ডান হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং তা তিনবার ধৌত করলেন। তারপর তিনি পানির পাত্রটি তার ডান হাতের দিকে ঘুরিয়ে নিলেন এবং প্রতিটি অঙ্গ তিনবার তিনবার করে ধৌত করে অজু করলেন এবং তিনি তার মাথা তিনবার মাসাহ করলেন। এরপর তিনি নতুন পানি নিয়ে তার কানের ছিদ্রপথ মাসাহ করলেন। তখন আমি তাকে বললাম: আপনি আপনার কান দু'টিও মাসাহ করেছেন। তিনি বললেন: হে বৎস! নিশ্চয়ই এ দু'টি মাথার অংশ, এ দু'টি চেহারার অংশ নয়। তারপর তিনি বললেন: “হে বৎস! তুমি কি দেখেছ—বা বুঝেছ—নাকি আমি তোমার জন্য পুনরায় করব?” আমি বললাম: আমার জন্য এটিই যথেষ্ট এবং আমি বুঝেছি। তিনি বললেন: “আমি এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অজু করতে দেখেছি।”তাবারানি বলেন: আমর বিন আবান আনাস (রা.) থেকে এই একটি হাদীস ব্যতীত অন্য কোনো হাদীস বর্ণনা করেননি। হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর ‘উশারিয়াত’ গ্রন্থে বলেছেন: এই সুত্রে এটি একটি গরীব হাদীস। আর ইবনে হিব্বান আমর বিন আবানকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَبِالإِسْنَادِ الْمَاضِي إِلَى الطَّبَرَانِيِّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ الْقَصَّاصُ، ثَنَا دِينَارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طُوبَى لِمَنْ رَآنِي، وَآمَنَ بِي، وَمَنْ رَأَى مَنْ رَآنِي، وَمَنْ رَأَى مَنْ رَأَى مَنْ رَآنِي» .قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ: هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ، رَوَاهُ عَنْهُ دِينَارٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، وَمُوسَى الطَّوِيلُ، وَالثَّلاثَةُ ضُعَفَاءُ، وَأَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ، الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُمَامَةَ، وَأَبُو يَعْلَى، وَأَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَالطَّبَرَانِيُّ، مِنْ حَدِيثِ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، وَأَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ بِنَحْوِهِ، وَفِي هَذَا الْبَابِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمُ، انْتَهَىقَالَ الْجَلالُ: قَدْ تَبَيَّنَ سَرْدُ الْكَبِيرِ. . . . لِي أَحَادِيث أُخَر عُشَارِيَّة، وَمَا حَدَّثْتُ بِهَا فِي عُمْرِي قَطُّ، لأَنَّهَا مِنْ رِوَايَةِ أَبِي سَعِيدٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ خِرَاشٍ، عَنْ أَنَسٍ.وَخِرَاشٌ وَالْعَدَوِيُّ كَذَّابَانِ، وَالنُّقَّادُ يَقُولُونَ لا. . . خِرَاش، وَأَضْرَابه، وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَسْبِقَهَا وَأَنْسِبَ. . . . . . رِوَايَة خِرَاشٍ.
৩ - তাবারানির পূর্বোক্ত সূত্রের মাধ্যমে; আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াজিদ আল-কাসসাস, তিনি দিনার বিন আবদুল্লাহ থেকে, যিনি আনাস বিন মালিকের (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আযাদকৃত গোলাম, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সুসংবাদ তার জন্য যে আমাকে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছে, এবং তার জন্য যে তাকে দেখেছে যে আমাকে দেখেছে, এবং তার জন্য যে তাকে দেখেছে যে তাকে দেখেছে যে আমাকে দেখেছে।»হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এটি আনাসের বর্ণিত একটি দুর্বল হাদীস। তাঁর থেকে এটি দিনার, আবু মুয়াবিয়া এবং মুসা আত-তাবিল বর্ণনা করেছেন এবং এই তিনজনই দুর্বল। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন, হারিস বিন আবি উমামাহ, আবু ইয়ালা, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আহমদ বিন মানি এবং তাবারানি এটি আবু উমামাহ আল-বাহিলীর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ এটি আবু সাঈদ আল-খুদরীর হাদীস থেকেও অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে ইবনে উমর এবং আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত।জালাল (সুয়ূতী) বলেন: আল-কাবীরের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে। . . . আমার কাছে আরও কিছু 'উশারি' (দশ স্তরের) হাদীস রয়েছে যা আমি জীবনে কখনও বর্ণনা করিনি, কারণ সেগুলো আবু সাঈদ আল-আদাভীর সূত্রে খিরাস থেকে এবং খিরাস আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।আর খিরাস ও আদাভী দুজনেই চরম মিথ্যাবাদী। সমালোচকরা বলেন, না. . . খিরাস এবং তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এগুলো বর্ণনা করব এবং খিরাসের বর্ণনার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করব. . . . . . খিরাসের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - وَأَنْبَأَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُقْبِلٍ، عَنِ الصَّلاحِ بْنِ أَبِي عُمَرَ، عَنِ الْفَخْرِ بْنِ الْبُخَارِيِّ، عَنِ الْحَافِظِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَخْضَرِ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّرِيفِينِيُّ، ثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ الْكَتَّانِيُّ، ثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَدَوِيُّ، ثَنَا خِرَاشٌ، عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الصَّوْمُ جُنَّةٌ»
৪ - এবং মুহাম্মদ ইবন মুকবিল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আস-সালাহ ইবন আবি উমর হতে, তিনি আল-ফাখর ইবনুল বুখারি হতে, তিনি আল-হাফিজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবন আমর ইবনুল আখদার হতে, আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আস-সারিফিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাফস উমর ইবন ইব্রাহিম ইবন আহমদ আল-কাত্তানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাইদ আল-হাসান ইবন আলি আল-আদাওয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খিরাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও করুণা তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «সিয়াম হলো একটি ঢাল»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللَّهُ عز وجل: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ»
৫ - এবং একই সূত্রে আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: «আদম সন্তানের প্রতিটি আমলই তার নিজের জন্য, তবে রোজা ব্যতীত; কেননা তা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلْجَنَّةِ بَابًا يُدْعَى الرَّيَّانُ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ»
৬ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে যাকে আর-রাইয়ান বলা হয়, যাতে রোজাদারগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করবে না»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَيَاءُ وَالإِيمَانُ فِي قَرْنٍ وَاحِدٍ، فَإِذَا سُلِبَ أَحَدُهُمَا تَبِعَهُ الآخَرُ»
৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আনাস (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «লজ্জাশীলতা এবং ঈমান একই সূত্রে গাঁথা; সুতরাং যখন এর কোনো একটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন অপরটি তার অনুসরণ করে (অর্থাৎ সেটিও চলে যায়)।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَّلُ مَا يُنْزَعُ مِنَ الْعَبْدِ الْحَيَاءُ، فَيَصِيرُ مَقِيتًا مُمَقَّتًا، ثُمَّ تُنْزَعُ مِنْهُ الأَمَانَةُ فَيَصِيرُ خَائِنًا مُخَوَّنًا، ثُمَّ تُنْزَعُ مِنْهُ الرَّحْمَةُ فَيَصِيرُ فَظًّا غَلِيظًا، وَيُخْلَعُ دِينُ الإِسْلامِ مِنْ عُنُقِهِ فَيَصِيرُ شَيْطَانًا لَعِينًا مَلْعُونًا»
৮ - এবং তাঁরই সনদে আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “বান্দার থেকে সর্বপ্রথম যা ছিনিয়ে নেওয়া হয় তা হলো লজ্জা, ফলে সে ঘৃণিত ও তুচ্ছ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। অতঃপর তার থেকে আমানতদারি ছিনিয়ে নেওয়া হয়, ফলে সে বিশ্বাসঘাতক ও প্রবঞ্চক হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এরপর তার থেকে দয়া ছিনিয়ে নেওয়া হয়, ফলে সে কঠোর ও কর্কশ স্বভাবের হয়ে যায় এবং তার ঘাড় থেকে ইসলামের জোয়াল খুলে ফেলা হয়, ফলে সে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত শয়তানে পরিণত হয়।”
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ، وَمُحِيَ عَنْهُ أَلْفُ أَلْفِ سَيِّئَةٍ، وَرُفِعَ لَهُ أَلْفُ أَلْفِ دَرَجَةٍ، وَمَنْ زَادَ زَادَهُ اللَّهُ»
৯ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ অতি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই', আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেবেন, তার থেকে দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেবেন এবং তার জন্য দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন; আর যে ব্যক্তি আরও বৃদ্ধি করবে, আল্লাহ তার জন্য সওয়াব আরও বাড়িয়ে দেবেন।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: «مَنْ ضَمِنَ لِي اثْنَيْنِ ضَمِنْتُ لَهُ الْجَنَّةَ» .فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَا أَضْمَنْهُمَا لَكَ، مَا هُمَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ ضَمِنَ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَرِجْلَيْهِ ضَمِنْتُ لَهُ الْجَنَّةِ»هَذَا مَا أَوْرَدَهُ الْمُحَدِّثُ زَيْنُ الدِّينِ رِضْوَانُ فِي السُّبَاعِيَّاتِ الْوُسْطَى، وَهِيَ لَنَا عُشَارِيَّةٌ كَمَا تَرَى، وَهُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ.أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقْبِلٍ إِجَازَةً، عَنِ الصَّلاحِ بْنِ أَبِي عُمَرَ، عَنِ الْفَخْرِ بْنِ الْبُخَارِيِّ، عن الْمُؤَيِّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الظَاهِرِيُّ، عن طَاهِرٍ الشَّحَامِيّ، سَمَاعًا عَلَيْهِ فِي خُمَاسِيَّاتِهِ، قَالَ الشَّيْخُ أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ صَالِحِ بْنِ زُفَرَ الْعَدَوِيُّ بِبَغْدَادَ سَنَةَ 319، قَالَ: مَرَرْتُ بِالْبَصْرَةِ فَإِذَا شَيْخٌٍ كَبِيرٌ قَدْ سَقَطَ حَاجِبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ ، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: هَذَا خِرَاشُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قُلْتُ: كَمْ لَهُ مِنَ السِّنِينِ؟ قَالُوا: ثَلاثُونَ وَمِائَةُ سَنَةٍ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: أَرْبَعُونَ وَمِائَةُ سَنَةٍ، فَزَاحَمْتُ النَّاسَ، وَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، وَبَيْنَ يَدَيْهِ جَمَاعَةٌ يَكْتُبُونَ، وَالْبَاقُونَ نُظَّارٌ، فَأَخَذْتُ قَلَمًا مِنْ يَدِ رَجُلٍ، وَكَتَبْتُ عَنْهُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ، وَذَلِكَ فِي سَنَةِ 222 وَهِيَ هَذِهِ:
১০ - এবং তার মাধ্যমেই আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিকট বের হলেন এবং বললেন: “যে ব্যক্তি আমার জন্য দুটি জিনিসের জামিনদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিনদার হব।”তখন আবু হুরায়রা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, আমি আপনার নিকট সে দুটির জামিনদার হচ্ছি; সেগুলো কী? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের (লজ্জাস্থান) জামিনদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিনদার হব।”এটিই মুহাদ্দিস জাইনউদ্দীন রিদওয়ান 'আস-সুবাইয়্যাত আল-উস্তা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এবং এটি আমাদের জন্য একটি 'উশারিয়্যা' (দশ স্তরের সনদ বিশিষ্ট বর্ণনা) যেমনটি আপনি দেখছেন, আর এটি তার চেয়েও অধিক।মুহাম্মাদ ইবনে মুকবিল আমাদের ইজাজাতান (অনুমতিক্রমে) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আস-সালাহ ইবনে আবি উমর থেকে, তিনি আল-ফাখর ইবনে আল-বুখারি থেকে, তিনি আল-মুয়ায়্যাদ ইবনে আবদুর রহিম আদ-দাহেরি থেকে, তিনি তাহির আশ-শাহামি থেকে—তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর 'খুমাসিয়্যাত'-এর মধ্যে। শায়খ আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে জাকারিয়া ইবনে সালেহ ইবনে জুফার আল-আদাউয়ি ৩১৯ হিজরি সনে বাগদাদে বলেছেন: আমি বসরা অতিক্রম করছিলাম, হঠাৎ দেখলাম একজন অতি বৃদ্ধ লোক যার ভ্রু দুটি (বার্ধক্যের কারণে) চোখের ওপর ঝুলে পড়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তারা বলল: ইনি খিরাশ ইবনে আবদুল্লাহ, আনাস ইবনে মালিকের মুক্তদাস। আমি বললাম: তাঁর বয়স কত? তারা বলল: একশো ত্রিশ বছর, আবার কেউ কেউ বলল: একশো চল্লিশ বছর। অতঃপর আমি মানুষের ভিড় ঠেলে তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। তাঁর সামনে একদল লোক (হাদিস) লিখছিলেন এবং বাকিরা দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তখন আমি এক ব্যক্তির হাত থেকে একটি কলম নিলাম এবং তাঁর থেকে এই হাদিসগুলো লিখে নিলাম। আর এটি ছিল ২২২ হিজরি সনে, এবং সেগুলো হলো এই:
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «النَّظَرُ إِلَى الْوَجْهِ الْحَسَنِ يَجْلُو الْبَصَرَ، النَّظَرُ إِلَى الْوَجْهِ الْقَبِيحِ يُوَرِّثُ الْكَلَحَ»
১১ - আমাদের নিকট আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সুন্দর চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করা দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করে, আর কুৎসিত চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করা বিষণ্ণতা তৈরি করে»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا حَسَّنَ اللَّهُ خَلْقَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ وَخُلُقَهُ فَيُطْعِمُ لَحْمَهُ النَّارَ»
১২ - এবং এই সূত্রেই তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ কোনো মুসলিম ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও চরিত্র সুন্দর করার পর তার মাংসকে জাহান্নামের আগুনের আহার বানান না।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الشَّعْرُ الْحَسَنُ أَحَدُ الْجَمَالَيْنِ يَكْسُوهُ اللَّهُ الْمَرْءَ الْمُسْلِمَ»
১৩ - একই সূত্রে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সুন্দর চুল হলো সৌন্দর্যদ্বয়ের অন্যতম একটি, যা আল্লাহ কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে পরিধান করান (বা ভূষিত করেন)।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَأَمَّلَ خَلْقَ امْرَأَةٍ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُ حَجْمُ عِظَامِهَا مِنْ وَرَائِهَا وَهُوَ صَائِمٌ فَقَدْ أَفْطَرَ»
১৪ - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি রোজা রাখা অবস্থায় কোনো নারীর দৈহিক গঠনের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করে, এমনকি তার পোশাকের আড়াল থেকে তার হাড়ের অবয়ব তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে সে রোজা ভঙ্গ করল।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
14 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الصَّوْمُ جُنَّةٌ»
১৪ - এবং এই সূত্রের মাধ্যমে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রোজা একটি ঢাল"
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
15 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ إِفْطَارِهِ، وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ عز وجل، وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ عِنْدَ اللَّهِ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ "
১৫ - এবং একই সূত্রে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ তার ইফতারের সময়, এবং অপর আনন্দটি যখন সে তার মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে, আর আল্লাহর নিকট রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের সুগন্ধির চাইতেও অধিক সুগন্ধযুক্ত।"
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
16 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَقُولُ اللَّهُ: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ»
১৬ - এবং এই সনদে তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি আমলই তার জন্য, শুধু রোজা ব্যতীত; কেননা তা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।”
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
17 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ لِلْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ "
১৭ - এবং এই সূত্রে তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে যাকে আর-রাইয়্যান বলা হয়; রোজা পালনকারীগণ ব্যতীত আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। "
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২০)
18 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ يَوْمًا تَطَوُّعًا فَلَوْ أُعْطِيَ مِلْءَ الأَرْضِ ذَهَبًا مَا وَفَّى أَجْرَهُ دُونَ يَوْمِ الْحِسَابِ»
18 - এবং এই সূত্রেই তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি নফল হিসেবে একদিন রোজা রাখবে, তাকে যদি পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণও দান করা হয়, তবুও হিসাব দিবসের আগে তার সেই প্রতিদান পূর্ণ হবে না।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২১)
19 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ يَوْمًا وَاحِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا»
১৯ - এবং এই সূত্রেই তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেবেন।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২২)
20 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي بِمَلَأٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: يَا مُحَمَّدُ مُرْ أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ "
২০ - এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: " মিরাজের রাতে আমি ফেরেশতাদের এমন কোনো দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি যারা আমাকে এই কথা বলেনি যে: হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার উম্মতকে নির্দেশ দিন হিজামা (শিঙা) গ্রহণ করার।"
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
21 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ شَكَرَ زَادَهُ اللَّهُ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ} [إبراهيم: 7] "
২১ - এবং এর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: " যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল্লাহ তাকে বাড়িয়ে দেন; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের বাড়িয়ে দেব} [ইব্রাহিম: ৭] "
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
22 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ ضَمِنَ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَرِجْلَيْهِ ضَمِنْتُ لَهُ الْجَنَّةَ»
২২ - এবং এই সূত্রেই তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের জিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব।»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
23 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ كُتِبَ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ، وَمُحِيَ عَنْهُ أَلْفُ سَيِّئَةٍ، وَرُفِعَ لَهُ أَلْفُ دَرَجَةٍ، وَمَنْ زَادَ زَادَهُ اللَّهُ، وَمَنِ اسْتَغْفَرَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ قَرَأَ مِائَةَ آيَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْقَاسِينَ، وَمَنْ قَرَأَ مِائَتَيْ آيَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ، وَمَنْ قَرَأَ ثَلاثَ مِائَةِ آيَةٍ لَمْ يُحَاجَّهُ الْقُرْآنُ، وَمَنْ ضَمِنَ لِي اثْنَيْنِ ضَمِنْتُ لَهُ الْجَنَّةَ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا أَضْمَنُهُمَا فَمَا هُمَا؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَنْ ضَمِنَ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ ضَمِنْتُ لَهُ الْجَنَّةَ "
২৩ - এবং তাঁর সূত্রেই বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: " যে ব্যক্তি বলবে 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি), তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হয়, তার থেকে এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং তার জন্য এক হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়; আর যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করবে আল্লাহ তার জন্য সওয়াব বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে কঠোর হৃদয়দের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি দুইশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফেল বা উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। আর যে ব্যক্তি তিনশটি আয়াত পাঠ করবে, কুরআন তার বিপক্ষে দলিল হবে না। আর যে ব্যক্তি আমার নিকট দু'টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। তখন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি সেই দু’টির নিশ্চয়তা দিচ্ছি; তবে সেগুলো কী? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: যে ব্যক্তি আমার নিকট তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অংশ এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী অংশের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।"
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
24 - وَبِهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ عز وجل»
২৪ - এবং এই সূত্রেই তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
25 - وَبِهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَلْقَى جِلْبَابَ الْحَيَاءِ فَلا غِيبَةَ لَهُ»
২৫ - এবং এর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি লজ্জার পোশাক ছুড়ে ফেলে দেয়, তার কোনো গীবত নেই»
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
26 - وَبِهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَّلُ مَا يَنْزِعُ اللَّهُ مِنَ الْعَبْدِ الْحَيَاءَ» الْحَدِيثَ
২৬ - এবং উক্ত সনদে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ কোনো বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম যা ছিনিয়ে নেন তা হলো লজ্জা।” —হাদীসটির অবশিষ্টাংশ।
(খণ্ড: ১)
উশারিয়াতুস সুয়ুতি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
27 - وَبِهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَيَاءُ خَيْرٌ كُلُّهُ»
২৭ - এবং উক্ত সনদে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «লজ্জাশীলতা তার পুরোটাই কল্যাণকর»