(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: -)
أحاديث عفان بن مسلم - ضمن «أحاديث الشيوخ الكبار» القسم: كتب السنة
الكتاب: أحاديث عفان بن مسلم
المؤلف: عفان بن مسلم بن عبد الله الباهلى، أبو عثمان الصفار البصرى، مولى عزرة بن ثابت الأنصارى (ت بعد 219 هـ)
تحقيق: حمزة أحمد الزين
ضمن مجموع: «أحاديث الشيوخ الكبار»
الناشر: دار الحديث - القاهرة
سنة الطبع: 1424 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 319
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আফফান বিন মুসলিমের হাদিসসমূহ - «আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার» এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আফফান বিন মুসলিমের হাদিসসমূহ
লেখক: আফফান বিন মুসলিম বিন আবদুল্লাহ আল-বাহিলি, আবু উসমান আস-সাফফার আল-বসরি, আজরা বিন সাবিত আল-আনসারির মাওলা (মৃত্যু ২১৯ হিজরির পর)
তাহকিক (সম্পাদনা): হামজা আহমদ আজ-জাইন
সংকলনের অন্তর্ভুক্ত: «আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার»
প্রকাশক: দারুল হাদিস - কায়রো
মুদ্রণ বর্ষ: ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৯
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, মুদ্রিত কপির সাথে মিল নেই]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١)
عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ.
ـ قَالَ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ الْمرقعاتي: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الأَجَلُّ الثِّقَةُ أَبُو الْقَاسِمِ يَحْيَى بْنُ أَبِي الْمَعَالِي ثَابِتِ بْنِ بُنْدَارِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَقَّالُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ وَهُوَ يَسْمَعُ مَا مَرَّ بِهِ يَوْمَ الأَرْبَعَاءِ عَاشِرَ صَفَرٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ وَالِدُكَ أَبُو الْمَعَالِي ثَابِتُ بْنُ بُنْدَارٍ فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الآخَرِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ.
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ نِيخَابَ الطِّيبِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ يَوْمَ الاثْنَيْنِ لِعَشْرٍ بَقِينَ مِنْ شَعْبَانَ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قِيلَ لَهُ: حَدَّثَكُمْ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ مُعَاذِ بْنِ نَصْرِ بْنِ حَسَّانِ بْنِ الْحُرِّ بْنِ الْحَسْحَاسِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ الصَّفَّارُ أَبُو عُثْمَانَ.
আফফান ইবনে মুসলিমপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আবু আল-আব্বাস আহমাদ আল-মুরকাতি বলেন: মহামান্য নির্ভরযোগ্য শাইখ আবু আল-কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আবি আল-মাআলি সাবিত ইবনে বুন্দার ইবনে ইবরাহিম আল-বাক্কাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—যা ৫৬৪ হিজরি সনের ১০ই সফর বুধবার আমার পাঠের মাধ্যমে এবং তাঁর শ্রবণে সম্পন্ন হয়েছে। আমি তাঁকে বললাম: আপনার পিতা আবু আল-মাআলি সাবিত ইবনে বুন্দার কি ৪৯৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বললেন: আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান ৪২৩ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে তাঁর নিকট পাঠের সময় এবং আপনার শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন।
আবু আল-হাসান আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে নিখাব আত-তিবি ৩৪৯ হিজরি সনের শাবান মাসের দশ দিন বাকি থাকতে সোমবার তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁকে বলা হলো: আবু আলী আল-হাসান ইবনে আল-মুসান্না ইবনে মুআয ইবনে নাসর ইবনে হাসসান ইবনে আল-হুর ইবনে আল-হাসহাস আল-আনবারি কি আপনাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আফফান ইবনে মুসলিম আস-সাফফার আবু উসমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمَاجِشُونَ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا وَاقِفٌ فِي الصَّفِّ يَوْمَ بَدْرٍ فَنَظَرْتُ عَنْ يَمِينِي وَشِمَالِي فَإِذَا بِغُلامَيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ حَدِيثَةٌ أَسْنَانُهُمَا، فَتَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ بَيْنَ أَضْلُعِ مِنْهُمَا فَغَمَزَنِي أَحَدُهُمَا فَقَالَ: يَا عَمِّ هَلْ تَعْرِفُ أَبَا جَهْلٍ؟ قُلْتُ: نَعَمْ وَمَا حَاجَتُكَ إِلَيْهِ يَا ابْنَ أَخِي قَالَ: أُخْبِرْتُ أَنَّهُ كَانَ يَشْتُمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ رَأَيْتُهُ لا يُفَارِقُ سَوَادِي سَوَادَهُ حَتَّى يَمُوتَ الأَعْجَلُ مِنَّا، قَالَ: فَغَمَزَنِي الآخَرُ فَقَالَ مِثْلَهَا، فَلَمْ أَلْبَثْ أَنْ نَظَرْتُ إِلَى أَبِي جَهْلٍ فِي النَّاسِ فَقُلْتُ: أَلا تَرَيَانِ هَذَا صَاحِبُكُمَا الَّذِي تَسْأَلانِ عَنْهُ فَابْتَدَرَاهُ بِسَيْفَيْهِمَا فَضَرَبَاهُ حَتَّى قَتَلاهُ، ثُمَّ انْصَرَفَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَاهُ، فَقَالَ: أَيُّكُمَا قَتَلَهُ فَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا: أَنَا قَتَلْتُهُ.
قَالَ: هَلْ مَسَحْتُمَا سَيْفَكُمَا؟ قَالَا: لا، فَنَظَرَ فِي سَيْفَيْهِمَا فَقَالَ: كِلاكُمَا قَتَلَهُ فَقَضَى بِسَلَبِهِ لِمُعَاذِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ.
وَهُمَا مُعَاذُ بْنُ عَفْرَاءَ وَمُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ
.
১ - ইবনুল মাজিশুন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সালেহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বদরের যুদ্ধের দিন আমি যখন সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন আমি আমার ডানে ও বামে তাকালাম এবং আনসারদের দুজন অল্পবয়স্ক কিশোরকে দেখতে পেলাম। আমি মনে মনে আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, আমি যদি তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী দুই ব্যক্তির মাঝে থাকতাম। তখন তাদের একজন আমাকে ইশারা করল এবং বলল: হে চাচা! আপনি কি আবু জাহলকে চেনেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে ভাতিজা! তার সাথে তোমার কী কাজ? সে বলল: আমাকে জানানো হয়েছে যে, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দেয়। সেই সত্তার শপথ, যাঁর আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি আমি তাকে দেখতে পাই, তবে আমার দেহ তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে লেখা আছে তার মৃত্যু ঘটে। তিনি (আবদুর রহমান) বলেন: এরপর অন্য কিশোরটিও আমাকে ইশারা করল এবং একই কথা বলল। অল্প সময় পরেই আমি মানুষের ভিড়ের মধ্যে আবু জাহলকে দেখতে পেলাম। আমি বললাম: তোমরা কি দেখছ? এই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসা করছিলে। অমনি তারা তাদের তলোয়ার নিয়ে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হলো এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে গিয়ে তাঁকে সংবাদ দিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? তাদের প্রত্যেকেই বলল: আমি তাকে হত্যা করেছি।
তিনি বললেন: তোমরা কি তোমাদের তলোয়ার মুছে ফেলেছ? তারা বলল: না। তখন তিনি তাদের তলোয়ার দুটির দিকে তাকালেন এবং বললেন: তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। এরপর তিনি তার সরঞ্জামাদি মুয়াজ ইবনে আমর ইবনুল জামুহের জন্য ফয়সালা করলেন।
আর তারা দুজন ছিলেন মুয়াজ ইবনে আফরা এবং মুয়াজ ইবনে আমর ইবনুল জামুহ।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أَخْبَرَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ أَنَّ أَهْلَ مَكَّةَ قَالُوا: إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ قَدْ ضَيَّقَ عَلَيْنَا الْوَادِي وَأَمَالَ عَلَيْنَا فَقَالَ عُمَرُ: ارْفَعْ هَذَا الْحَجَرَ فَضَعْهُ، فَفَعَلَ، ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذَلَّ أَبَا سُفْيَانَ لِعُمَرَ فِي أَبَاطِحِ مَكَّةَ.
২ - আফফান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মক্কাবাসীগণ বলেছিলেন: আবু সুফিয়ান আমাদের জন্য উপত্যকাটি সংকীর্ণ করে দিয়েছেন এবং আমাদের উপর চড়াও হয়েছেন। তখন উমর বললেন: এই পাথরটি তোলো এবং এটি রাখো। অতঃপর তিনি তা করলেন। এরপর উমর বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মক্কার উপত্যকায় আবু সুফিয়ানকে উমরের নিকট লাঞ্ছিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لَحْمِ الْحُمُرِ وَأَذِنَ فِي لُحُومِ الْخَيْلِ.
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلالٍ قَالَ: كَانَ مُطَرِّفٌ يَقُولُ: نَظَرْتُ مَا خير الاثنين فِيهِ وَمَا آفَتُهُ، وَلِكُلِّ شَيْءٍ آفَتُهُ إِلَّا أَنْ يُعَافَى عَبْدٌ فَيَشْكُرُ.
حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ قَالَ: انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي إِلَى الشَّعْبِيِّ فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لا أَدْرِي مَا هُوَ، فَرَأَيْتُهُ جَالِسًا عَلَى شَيْءٍ، قَالَ عَفَّانُ: أَرَاهُ؟ قَالَ: جِلْدَ أَسَدٍ.
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন যায়দ, তিনি বর্ণনা করেছেন আমর ইবন দীনার থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন আলী থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনুল মুগীরাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবন হিলাল থেকে, তিনি বলেন: মুতাররিফ বলতেন: আমি লক্ষ্য করেছি যে দুটি বিষয়ের মধ্যে কল্যাণ কী এবং তার আপদ কী, আর প্রতিটি জিনিসেরই আপদ রয়েছে; তবে সেই বান্দা ব্যতীত যাকে নিরাপত্তা দান করা হয়েছে এবং সে শুকরিয়া আদায় করে।
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ ইবন শাইবান, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার সাথে আশ-শা'বীর নিকট গেলাম, অতঃপর তিনি তাকে এমন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা আমি জানি না সেটি কী ছিল, তখন আমি তাকে একটি জিনিসের উপর বসা অবস্থায় দেখলাম। আফফান বলেন: আমি কি তা দেখেছি? তিনি বললেন: সিংহের চামড়া।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٥)
6 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: إِذَا نَامَ وَهُوَ قَاعِدٌ لَمْ يَتَوَضَّأْ، وَإِذَا وَضَعَ جَنْبَهُ يَتَوَضَّأُ
حَدَّثَنَا وُهَيْبُ وَعَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: إِذَا نَامَ وَهُوَ قَاعِدٌ لَمْ يَتَوَضَّأْ، وَإِذَا وَضَعَ جَنْبَهُ إِلَى الأَرْضِ يَتَوَضَّأُ إِلَى أَنَّ اسْتَهُ تَقُولُ: فس
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ قَالَ: سُئِلَ الْحَسَنُ عَنْ رَجُلٍ نَامَ وَهُوَ قَاعِدٌ فَأَبَى إِلَّا الْوُضُوءَ وَقَالَ: مَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ
৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়দ, আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে’ থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কেউ বসা অবস্থায় ঘুমায় তখন সে অজু করবে না, আর যখন সে তার পার্শ্বদেশ শায়িত করবে তখন সে অজু করবে।
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উহাইব ও আব্দুল ওয়াহিদ, তাঁরা আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কেউ বসা অবস্থায় ঘুমায় তখন সে অজু করবে না, আর যখন সে জমিনের ওপর তার পার্শ্বদেশ রাখে তখন সে অজু করবে; কেননা (সেই অবস্থায়) তার মলদ্বার দিয়ে বায়ু নির্গত হতে পারে।
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আল-মুগিরা, তিনি বলেন: হাসান (বসরী)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে বসা অবস্থায় ঘুমিয়েছে, তিনি অজু করা ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি ঘুমাবে, সে যেন অজু করে।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٦)
9 - حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا نَوْفَلٍ يُحَدِّثُ، قَالَ: الْتَقَطَ أَبِي بَدْرَةً فَأَتَى أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ مِنَ النَّفْرِ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَذِهِ بَدْرَةٌ، فَقَالَ: أَمْسِكْهَا حَتَّى تُوَافِيَ بِهَا الْمَوْسِمَ عَامًا قَابِلا فَفَعَلَ فَلَمْ يَعْرِفْهَا أَحَدٌ، فَأَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَذِهِ الْبَدْرَةُ الَّتِي أَصَبْتُهَا عَامَ أَوَّلَ فَعَرَّفْتُهَا فَلَمْ يَعْرِفْهَا أَحَدٌ فَأَغْنِهَا عَنِّي قَالَ: قَالَ: تَأَنَّهَا عَلَيَّ؟ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أُذَكِّرُكَ اللَّهَ لَمَا أَغْنَيْتَهَا عَنِّي، قَالَ: قَالَ: تَأَنَّهَا عَلَيَّ؟ وَلَكِنْ إِنْ شِئْتَ أَخْبَرْتُكَ بِالْمَخْرَجِ مِنْهَا وَسَبِيلِهَا، قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَمَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا، قَالَ: إِنْ شِئْتَ تَصَدَّقْتَ بِهَا فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا خَيَّرْتَهُ فَإِنِ اخْتَارَ الْمَالَ رَدَدْتَ عَلَيْهِ مَالَهُ وَكَانَ الأَجْرُ لَكَ وَإِنِ اخْتَارَ الأَجْرَ كَانَ لَكَ تَعَبُكَ
৯ - আসওয়াদ ইবনে শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নওফালকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা একটি মুদ্রার থলে কুড়িয়ে পেলেন। অতঃপর তিনি আমিরুল মুমিনীন উমরের নিকট উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে আসলেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি একটি মুদ্রার থলে। তিনি বললেন: এটি তোমার কাছে রাখো যতক্ষণ না তুমি আগামী বছর হজের মৌসুমে তা নিয়ে উপস্থিত হও। তিনি তাই করলেন, কিন্তু কেউ তা শনাক্ত করতে পারল না। অতঃপর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এসে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি সেই মুদ্রার থলে যা আমি প্রথম বছর পেয়েছিলাম এবং আমি এর ঘোষণা দিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ তা শনাক্ত করতে পারেনি; সুতরাং এটি আমার থেকে গ্রহণ করে আমাকে দায়মুক্ত করুন। তিনি বললেন: তুমি কি এটি আমার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছ? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যেন আপনি আমাকে এটি থেকে দায়মুক্ত করেন। তিনি বললেন: তুমি কি এটি আমার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছ? তবে তুমি চাইলে আমি তোমাকে এ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় ও এর পথ বলে দিতে পারি। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় কী? তিনি বললেন: তুমি চাইলে এটি সদকা করে দিতে পারো। অতঃপর যদি এর মালিক আসে, তবে তাকে পছন্দের সুযোগ দেবে। যদি সে সম্পদ বেছে নেয়, তবে তুমি তাকে তার সম্পদ ফিরিয়ে দেবে এবং সওয়াব তোমার হবে। আর যদি সে সওয়াব বেছে নেয়, তবে তোমার পরিশ্রমের প্রতিদান তুমি পাবে।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٧)
10 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَهُ
.
১০ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' বর্ণনা করেছেন সাঈদ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি সামুরাহ হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: হস্ত যা গ্রহণ করেছে, তা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তার দায়ভার সেই হস্তের ওপরই থাকে।
.
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٨)
11 - حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ يَعْلَى قَالَ: جَاءَ حَسَنٌ وَحَسْيٌن يَسْتَبِقَانِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَمَّهُمَا وَقَالَ: الْوَلَدُ مَبْخَلَةٌ مَجْبَنَةٌ
.
১১ - উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে আবি রাশিদ থেকে, তিনি ইয়ালা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: হাসান ও হুসাইন একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে আসছিলেন, তখন তিনি তাদের উভয়কে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: সন্তান হলো কৃপণতা ও ভীরুতার কারণ।
.
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٩)
12 - حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ يَعْلَى الْعَامِرِيِّ أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى طَعَامٍ دُعُوا إِلَيْهِ فَإِذَا حُسَيْنٌ مَعَ غِلْمَانٍ يَلْعَبُ فِي طَهْوٍ فَاشْتَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُضَاحِكُهُ حَتَّى أَخَذَهُ، فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ تَحْتَ ذَقْنِهِ وَالأُخْرَى تَحْتَ قَفَاهُ فَوَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ وَقَالَ: حُسَيْنٌ مِنِّي وَأَنَا مِنْ حُسَيْنٍ، أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبَّ حُسَيْنًا، حُسَيْنٌ سِبْطٌ مِنَ الأَسْبَاطِ
.
১২ - আমাদের নিকট উহাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি রাশিদ থেকে এবং তিনি ইয়ালা আল-আমিরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি খাবারের দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বের হলেন। সেখানে হুসাইন কিছু বালকের সাথে পথে খেলা করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাসাতে হাসাতে দ্রুতবেগে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তাঁকে ধরে ফেললেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত হুসাইনের চিবুকের নিচে এবং অন্য হাত তাঁর ঘাড়ের পেছনে রাখলেন, অতঃপর নিজের মুখ হুসাইনের মুখের ওপর স্থাপন করলেন এবং বললেন: হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে। যে হুসাইনকে ভালোবাসে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হুসাইন হলো নাতিদের মধ্যে এক বিশেষ নাতি।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٠)
13 - حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ هِنْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَكَانَ هِنْدٌ مِنْ أَصْحَابِ الْحُدَيْبِيَةِ، وَأَخُوهُ الَّذِي بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ قَوْمَهُ بِصِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَهُوَ أَسْمَاءُ بْنُ حَارِثَةَ فَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ هِنْدٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ حَارِثَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ بَعَثَهُ، فَقَالَ: مُرْ قَوْمَكَ بِأَنْ يَصُومُوا هَذَا الْيَوْمَ قَالَ فَإِنْ وَجَدْتُهُمْ قَدْ طَعِمُوا؟ قَالَ: فَلْيُتِمُّوا آخِرَ يَوْمِهِمْ
১৩ - আমাদের নিকট উহাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে হারমালা বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হিন্দ ইবনে হারিসা থেকে; আর হিন্দ হুদাইবিয়ার সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তাঁর ভাই আসমা ইবনে হারিসাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কওমকে আশুরার দিনে রোজা রাখার নির্দেশ প্রদানের জন্য প্রেরণ করেছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনে হিন্দ আমার নিকট আসমা ইবনে হারিসা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে প্রেরণ করেন এবং বলেন: "তোমার কওমকে এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দাও।" তিনি বললেন: "যদি আমি তাদের আহার করা অবস্থায় পাই?" তিনি বললেন: "তবে তারা যেন দিনের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে।"
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١١)
14 - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ بَنِي أَنَسٍ قَالُوا لأَنَسٍ: أَلَا تُحَدِّثُنَا كَمَا يُحَدِّثُ غُرَبَاءُ النَّاسِ؟ قَالَ: فَقَالَ: أَيْ بَنِيَّ إِنَّهُ مَنْ يُكْثِرْ يُهْجَرْ
১৪ - হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: আনাসের সন্তানগণ আনাসকে বললেন: আপনি কি আমাদের নিকট সেভাবে বর্ণনা করবেন না, যেভাবে আপনি অপরিচিত লোকদের নিকট বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: হে আমার প্রিয় বৎসগণ! নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি অধিক বর্ণনা করে, সে প্রলাপ বকে।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٢)
15 - حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ثِفَالٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَبَاحَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي أَنَّهَا سَمِعَتْ أَبَاهَا يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لا صَلاةَ لِمَنْ لا وُضُوءَ لَهُ، وَلا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ، وَلا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ مَنْ لا يُؤْمِنُ بِي وَلا يُؤْمِنُ بِي مَنْ لا يُحِبُّ الأَنْصَارَ
.
১৫ - আমাদের নিকট উহাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে হারমালাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু থিফালকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি রাবাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার দাদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "যার ওজু নেই তার কোনো সালাত নেই, আর যে আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) নেয়নি তার কোনো ওজু নেই; আর যে আমার প্রতি ঈমান আনে না সে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, এবং যে আনসারদের ভালোবাসে না সে আমার প্রতি ঈমান আনে না।"
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٣)
16 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلالٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ قَوْمًا مِنْ أُمَّتِي يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لا يُجَاوِزُ حَلاقِيمَهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَخْرُجُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ قَالَ ابْنُ الصَّامِتِ: فَلَقِيتُ رَافِعًا فَحَدَّثْتُهُ، قَالَ: وَأَنَا سَمِعْتُهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ أَنَّهُ لَقِيَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ بِقَوْمٍ أَخَذُوا عَلَى شَرَابٍ فَجَلَدَ مَنْ كَانَ مِنْهُمْ سَكْرَانَ وَجَلَدَ مِنْهُمْ مَنْ كَانَ مُدْمِنًا لَمْ يَسْكَرْ وَتَرَكَ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَكْرَانَ.
১৬ - আমাদের কাছে সুলাইমান ইবনুল মুগীরা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হুমাইদ ইবনু হিলাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবনুস সামিত বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায় হবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তারা সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।" ইবনুস সামিত বলেন: অতঃপর আমি রাফে-এর সাথে দেখা করে তাকে বিষয়টি জানালাম, তিনি বললেন: "আমিও এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি।"
আমাদের কাছে উহাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনু খুসাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি উকবা ইবনু আবদিল গাফির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উমর ইবনু আব্দুল আজিজ-এর নিকট এমন একদল লোক নিয়ে আসলেন যাদের মদ্যপানের অপরাধে পাকড়াও করা হয়েছিল। তখন তিনি তাদের মধ্যে যারা মাতাল ছিল তাদের বেত্রাঘাত করলেন, এবং তাদের মধ্যে যারা মদ্যপানে অভ্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও (তৎক্ষণাৎ) মাতাল হয়নি তাদেরও বেত্রাঘাত করলেন, আর যে মাতাল ছিল না তাকে ছেড়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٤)
18 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: نَارُكُمْ هَذِهِ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنَ النَّارِ الْكُبْرَى وَقَدْ ضُرِبَتْ فِي الْمَاءِ ضَرْبَةً أَوْ ضَرْبَتَيْنِ.
حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعْدٍ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ سُئِلَ عَنِ الطَّاعُونِ يَقَعُ بِأَرْضٍ أَأَتَنَحَّى عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ إِلَّا أَنْ يَكُونُ عَادِيًا.
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ وَطَاوُسٍ وَمُجَاهِدٍ وَالزُّهْرِيِّ، وَعَنْ رَجُلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ قَالَ: كُلُّ يَمِينٍ كَانَ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ طَلاقٍ لَغْوٌ. . . إِذَا قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَلَيْسَ بِشَيْءٍ.
১৮ - সুলাইমান ইবনে হাইয়্যান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের এই আগুন হলো জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র। আর একে পানিতে একবার বা দুইবার চুবিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, কাসেম ইবনে মুহাম্মদকে এমন কোনো ভূখণ্ডে মহামারি দেখা দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমি কি তা থেকে সরে যাব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তা যদি সাধারণ (নিত্যনৈমিত্তিক) বিষয় না হয়ে থাকে।
আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট লাইস থেকে, তিনি আতা, তাউস, মুজাহিদ ও যুহরী থেকে এবং জনৈক ব্যক্তি ইব্রাহিম নাখঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তালাকের সংশ্রব রয়েছে এমন প্রতিটি শপথই অসার (বাতিল)... যখন সে বলে: "যদি আল্লাহ চান", তবে তা ধর্তব্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٥)
21 - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْحَكَمُ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، قَالَ: فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ، ثُمَّ جَاءَ فَصَلَّى أَرْبَعًا ثُمَّ نَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ ثُمَّ قَالَ لَهُمْ نَامَ الْغُلَيِّمُ أَوْ نَامَ الْغُلامُ. . . قَالَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى، فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى خَمْسًا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ نَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ أَوْ قَالَ خَطِيطَهُ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاةِ
.
২১ - শু'বা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাকাম বলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের আমাকে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার খালা মায়মুনা বিনতুল হারিসের ঘরে রাত কাটালাম। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশার সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি আসলেন এবং চার রাকাত সালাত পড়লেন। অতঃপর তিনি ঘুমালেন এবং পরে জাগ্রত হলেন। তারপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: "ছোট ছেলেটি কি ঘুমিয়ে পড়েছে?" অথবা বললেন: "বালকটি কি ঘুমিয়ে পড়েছে?"... তিনি বলেন: এরপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করলেন, আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি পাঁচ রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং পরে আরও দুই রাকাত সালাত পড়লেন। এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি আমি তাঁর নাসিকা গর্জনের শব্দ শুনতে পেলাম। অতঃপর তিনি সালাতের জন্য বেরিয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٦)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَائِشَةَ: أَتِينِي بِالدَّوَاةِ وَالصَّحِيفَةِ لأَكْتُبَ لأَبِي بَكْرٍ كِتَابًا لا يَخْتَلِفُ فِيهِ الْمُسْلِمُونَ ثُمَّ قَالَ: ابْرَحِي مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ يَخْتَلِفَ الْمُسْلِمُونَ فِي أَبَا بَكْرٍ
.
২২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল আজিজ ইবনে রুফাই বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললেন: "আমার নিকট দোয়াত ও কাগজ নিয়ে এসো যাতে আমি আবু বকরের জন্য একটি লিখিত দলিল লিখে দিতে পারি যেন মুসলিমরা তার বিষয়ে কোনো মতভেদ না করে।" অতঃপর তিনি বললেন: "থাক, আল্লাহ রক্ষা করুন যেন মুসলিমরা আবু বকরের ব্যাপারে কোনো মতভেদ করে।"
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٧)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَارِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَقَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ وَهُوَ قَائِمٌ
حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَزِنَ شَعِيرَتَيْنِ بِقِيرَاطٍ.
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি আরিম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যমযমের পানি পান করিয়েছিলাম এবং তখন তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন।
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুবারক বিন ফাযালাহ, তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি কীরাতের বিপরীতে দুটি যব ওজন করা অপছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٨)
25 - حَدَّثَنَا أَبَانٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ نُعَيْمَانَ بْنِ هَزَّالٍ أَنَّ هَزَّالا كَانَ اسْتَرْحَمَ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ، فَكَانَتْ لَهُمْ جَارِيَةٌ قَدْ أَمَرُوهَا تَرْعَى غَنَمًا لَهُمْ يُقَالُ لَهَا: فَاطِمَةُ وَأَنَّ مَاعِزًا وَقَعَ عَلَيْهَا فَأَخَذَ بِيَدِهِ هَزَّالٌ فَخَدَعَهُ فَقَالَ: انْطَلِقْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ فَعَسَى أَنْ يُنَزَّلَ فِيكَ قُرْآنٌ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ فَلَمَّا غَصَّهُ مَسُّ الْحِجَارَةِ انْطَلَقَ يَسْعَى فَاسْتَقْبَلَهُ رَجُلٌ بِلِحَى بَعِيرٍ أَوْ قَالَ: بِسَاقِ بَعِيرٍ فَضَرَبَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: يَا هَزَّالُ لَوْ كُنْتَ سَتَرْتَهُ بِثَوْبِكَ لَكَانَ خَيْرًا لَكَ
.
২৫ - আমাদের নিকট আবান বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি নুয়াইমান ইবনে হাযযাল থেকে বর্ণনা করেন যে, হাযযাল মা‘ইয ইবনে মালিকের প্রতি সদয় হতে চেয়েছিলেন। তাদের একটি দাসী ছিল যাকে তারা তাদের ছাগল চরাতে নির্দেশ দিয়েছিল, যাকে ফাতিমা বলা হতো। মা‘ইয তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলেন। তখন হাযযাল তার হাত ধরলেন এবং তাকে প্ররোচিত করে বললেন: তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে তাঁকে সংবাদ দাও, সম্ভবত তোমার ব্যাপারে কোনো কুরআন অবতীর্ণ হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। যখন পাথরের আঘাত তাকে যন্ত্রণাকাতর করল, সে দৌড়ে পালাতে লাগল। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি উটের চোয়ালের হাড় অথবা বললেন: উটের পায়ের হাড় নিয়ে তার সামনে এল এবং তাকে আঘাত করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে হাযযাল! তুমি যদি তোমার কাপড় দিয়ে তাকে ঢেকে রাখতে, তবে তা তোমার জন্য অধিক উত্তম হতো।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ١٩)
26 - حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ أنا أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ كَتَبَ إِلَى ابْنِهِ أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يُصَلِّي يَوْمَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ وَيُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ قَبْلَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ وَيُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا.
২৬ - হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উকবাহ ইবনে আব্দুল গাফির থেকে বর্ণিত যে, আবু উবাইদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর পুত্রের নিকট লিখে পাঠিয়েছেন যে, তাঁর পিতা জুমুআর দিন দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং জুমুআর পূর্বে মসজিদে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং জুমুআর পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
27 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ أَنَّ رَجُلا أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ: احْمِلْنِي وَأَخِي حَبِيسًا، فَقَالَ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَخُوكَ حَبِيسٌ قَالَ: نَعَمْ، فَحَمَلَهُ.
২৭ - হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু রাফি থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এসে বললেন: আমাকে এবং আমার ভাইকে বাহন প্রদান করুন যারা আল্লাহর পথে উৎসর্গিত। তিনি বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, তোমার ভাই কি সত্যিই উৎসর্গিত? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাকে বাহন প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَأَةَ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه إِلَى مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَإِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ حِينَ بَعَثَهُمَا إِلَى الشَّامِ أَنِ انْظُرُوا إِلَى رِجَالٍ مِنْ صَالِحِي مَنْ قَبْلَكُمْ فَاسْتَعْمِلُوهُمْ عَلَى الْقَضَاءِ وَارْزُقُوهُمْ وَأَوْسِعُوا عَلَيْهِمْ فَأَغْنُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ عز وجل.
حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ ذَكَرَ قَصَصَ أَيُّوبَ قَالَ أَمْطَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ جَرَادًا مِنْ ذَهَبٍ فَجَعَلَ أَيُّوبُ يَبْسُطُ طَرَفَ ثَوْبِهِ كُلَّمَا امْتَلَأَ بَسَطَ نَاحِيَةً أُخْرَى فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ يَا أَيُّوبَ أَمَا شَبِعْتَ؟ قَالَ: وَمَنْ يَشْبَعُ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ.
২৮ - আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাজ্জাজ ইবনে আরতাত বর্ণনা করেছেন, নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহকে যখন সিরিয়ায় প্রেরণ করেন, তখন তাঁদের নিকট লিখেছিলেন যে, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের মধ্য হতে লোক অন্বেষণ করো এবং তাঁদেরকে বিচারকার্যে নিয়োগ করো। তাঁদেরকে পারিশ্রমিক প্রদান করো এবং তাঁদের জন্য সচ্ছলতার ব্যবস্থা করো, আর আল্লাহর (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) সম্পদ হতে তাঁদেরকে অভাবমুক্ত করো।
আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে যায়েদ হতে, তিনি ইউসুফ ইবনে মিহরান হতে বর্ণনা করেন, যিনি আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনাবলী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তাঁর ওপর স্বর্ণের পঙ্গপাল বর্ষণ করলেন। তখন আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাপড়ের আঁচল বিছিয়ে দিতে লাগলেন; যখনই তা পূর্ণ হয়ে যেত, তিনি অন্য প্রান্ত মেলে ধরতেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ করলেন: "হে আইয়ুব! তোমার কি তৃপ্তি হয়নি?" তিনি বললেন: "আপনার অনুগ্রহ ও রহমত হতে কে তৃপ্ত হতে পারে?"
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
30 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْرُدُ الصَّوْمَ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ
.
৩০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি হামযাহ ইবনে আমর আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিয়মিত সওম পালন করি, আমি কি সফরেও সওম পালন করব? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তুমি চাইলে সওম পালন করতে পারো, আর চাইলে সওম ত্যাগ করতে পারো।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
31 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَرْقِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعَيْنِ وَأَضَعُ يَدِي عَلَى صَدْرِهِ فَأَقُولُ: أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ بِيَدِكَ الشِّفَا لا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا أَنْتَ.
৩১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নজর লাগার কারণে ঝাড়ফুঁক করতাম এবং তাঁর বুকের ওপর আমার হাত রাখতাম ও বলতাম: হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আপনার হাতেই আরোগ্য, আপনি ব্যতীত এটি দূর করার আর কেউ নেই।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
32 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَكَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَصُومُونَهُ، فَلَمَّا افْتُرِضَ رَمَضَانُ تُرِكَ صَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ، وَكَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةُ.
৩২ - আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবনে উরওয়াহ বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং জাহেলি যুগের লোকেরাও এই দিনে রোজা রাখত। অতঃপর যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন আশুরার রোজা (ফরজ হিসেবে) ছেড়ে দেওয়া হলো। এরপর যার ইচ্ছা সে রোজা রাখত এবং যার ইচ্ছা সে রোজা রাখা বর্জন করত; আর রমজানই ছিল ফরজ।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
33 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
.
৩৩ - মুহাম্মাদ ইবনে তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুবাইদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জিবরাঈল আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে অনবরত উপদেশ দিচ্ছিলেন, এমনকি আমার ধারণা হলো যে তিনি তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।
.
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
34 - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: سَمِعْتُ شَيْخًا مِنْ قُرَيْشٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَنَا بَكْرَةٌ صَعْبَةٌ لا يُقْدَرُ عَلَيْهَا، قَالَ: فَدَنَا مِنْهَا فَمَسَحَ ضِرْعَهَا فَحَفَلَ فَاحْتَلَبَ فَشَرِبَ، قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ أَبِي جَاءَ وَقَدْ شُدِّدَ كَفَنُهُ وَأُحْدِبَ سَلاهُ فَسَدَدْتُ بِهَا الْكَفَّيْنِ، فَقَالَ: لا تُعَذِّبْ أَبَاكَ بِالسَّلَى ثُمَّ كَشَفَ عَنْ صَدْرِهِ وَأَلْقَى السَّلاءَةَ ثُمَّ بَزَقَ عَلَى صَدْرِهِ حَتَّى رَأَيْتُ رَضَاضَ بُزَاقِهِ عَلَى صَدْرِهِ.
حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ: لِلْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ قَالَ: الَّذِينَ يَدْخُلُونَ فِي الإِسْلامِ.
حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ: أَنَّ جِبْرِيلَ قَالَ: يَا مُحَمَّدٍ اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ، فَقَالَ: مِيكَائِيلُ اسْتَزِدْهُ، فَقَالَ: اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفَيْنِ حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أَحْرُفٍ، قَالَ: كُلٌّ شَافٍ كَافٍ مَا لَمْ يُخْتَمْ آيَةُ عَذَابٍ بِرَحْمَةٍ أَوْ آيَةُ رَحْمَةٍ بِعَذَابٍ نَحْوَ قَوْلِكَ: هَلُمَّ وَتَعَالَ وَأَسْرِعْ وَاعْمَلْ.
৩৪ - হম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কুরাইশ বংশের একজন শাইখকে তার পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন এমতাবস্থায় যে আমাদের কাছে একটি অবাধ্য অল্পবয়সী উষ্ট্রী ছিল যা আয়ত্ত করা যাচ্ছিল না। তিনি বলেন: তিনি সেটির কাছে গেলেন এবং তার ওলানে হাত বুলালেন, ফলে তা দুধে পূর্ণ হয়ে গেল। এরপর তিনি দুধ দোহন করলেন এবং পান করলেন। তিনি বলেন: যখন আমার পিতা মারা গেলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ) আসলেন। তখন তার কাফন শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল এবং তার গর্ভঝিল্লি ফুলে উঠেছিল, যা আমি দুই হাতের তালু দিয়ে চেপে ধরছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমার পিতাকে গর্ভঝিল্লি দিয়ে কষ্ট দিও না।" এরপর তিনি তার বক্ষদেশ উন্মোচন করলেন এবং ঝিল্লিটি ফেলে দিলেন। অতঃপর তিনি তার বক্ষে থুতু দিলেন, এমনকি আমি তার বক্ষের ওপর তার থুতুর কণাগুলো দেখতে পাচ্ছিলাম।
হম্মাদ ইবনে সালামাহ ইউনুস থেকে এবং তিনি হাসান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য" (মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তারা হলো সেই সব লোক যারা ইসলামে প্রবেশ করে।
হম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে যাইদ আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন: "হে মুহাম্মদ, কুরআন এক হরফে (রীতিতে) পাঠ করুন।" তখন মিকাঈল আলাইহিস সালাম বললেন: "তার নিকট আরও বৃদ্ধির আবেদন করুন।" তখন তিনি বললেন: "কুরআন দুই হরফে পাঠ করুন।" এভাবে তা সাত হরফ পর্যন্ত পৌঁছাল। তিনি বললেন: "সবগুলোই আরোগ্যদানকারী ও যথেষ্ট, যতক্ষণ না শাস্তির আয়াত রহমতের মাধ্যমে কিংবা রহমতের আয়াত শাস্তির মাধ্যমে শেষ করা হয়; যেমন তোমার উক্তি: ‘এসো’, ‘নিকটে এসো’, ‘দ্রুত করো’ এবং ‘কাজ করো’।"
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
37 - حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل لا يَظْلِمُ الْمُؤْمِنَ حَسَنَةً يُثَابُ عَلَيْهَا الرِّزْقَ فِي الدُّنْيَا وَيُجْزَى بِهَا فِي الآخِرَةِ، وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيُطْعِمُهُ بِحَسَنَاتِهِ فِي الدُّنْيَا حَتَّى إِذَا أَفْضَى إِلَى الآخِرَةِ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَةٌ يُعْطَى بِهَا خَيْرًا.
حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا قِلابَةَ عَنِ الرَّجُلِ يَكُونُ بِهِ الشُّقَاقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الدَّمُ؟ قَالَ: لَيْسَ فِي ذَلِكَ وُضُوءٌ.
৩৭ - হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুমিনের কোনো নেক আমলের প্রতি জুলুম করেন না, যার বিনিময়ে তাকে দুনিয়াতে রিজিক দান করা হয় এবং আখেরাতে তাকে এর প্রতিদান দেওয়া হবে। আর কাফিরকে তার নেক আমলসমূহের বিনিময়ে দুনিয়াতেই আহার্য প্রদান করা হয়, এমনকি যখন সে আখেরাতে পৌঁছাবে, তখন তার নিকট এমন কোনো নেক আমল থাকবে না যার বিনিময়ে তাকে কোনো কল্যাণ দান করা হবে।
উহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু কিলাবাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার (চামড়া) ফেটে রক্ত বের হয়? তিনি বললেন: এতে কোনো অজু নেই।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
39 - حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلابَةَ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا كَثُرَ النَّاسُ ذَكَرُوا أَنْ يَجْعَلُوا وَقْتَ الصَّلاةِ حَتَّى يُعْرَفُوا بِهِ، فَذَكَرُوا أَنْ يُنَوِّرُوا أَوْ يَضْرِبُوا بِنَاقُوسٍ فَأُمِرَ بِلالٌ أَنْ يَشْفَعَ الآذَانَ وَيُوتَر الإِقَامَةَ.
৩৯ - ওহাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালেদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তারা সালাতের সময় নির্ধারণের জন্য এমন কোনো নিদর্শনের কথা আলোচনা করলেন যার মাধ্যমে তা চেনা যায়। তারা আগুন জ্বালানো অথবা ঘণ্টা বাজানোর কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর বেলালকে নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তিনি আজানের শব্দগুলো জোড়ায় জোড়ায় এবং ইকামতের শব্দগুলো বিজোড়ভাবে উচ্চারণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদিসু আফফান ইবনে মুসলিম - দিমন আহাদিসুশ শুয়ুখিল কিবার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
40 - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَصْبَهَانِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ يَقُولُ: قَعَدْتُ إِلَى كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ فِي الْمَسْجِدِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ {فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} [البقرة: 196] قَالَ: فِيَّ نَزَلَتْ، حُمِلْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْقَمْلُ يَتَنَاثَرُ عَلَى وَجْهِي فَقَالَ: مَا كُنْتُ أَرَى الْوَجَعَ بَلَغَ مِنْكَ مَا أَرَى فَقَالَ: أَتَجِدُ شَاةً؟ قُلْتُ: لا، فَنَزَلَتْ: {فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} [البقرة: 196] قَالَ: صِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ أَوْ صَدَقَةٌ أَوْ إِطْعَامُ سِتَّةِ مَسَاكِينَ لِكُلِّ مِسْكِينٍ نِصْفُ صَاعٍ.
قَالَ: نَزَلَتْ فِيَّ خَاصَّةً وَلَكُمْ عَامَّةً، وَرُبَّمَا قَالَ شُعْبَةُ: وَلِلنَّاسِ.
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو الْبِشْرِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبٍ بِنَحْوِهِ.
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ بِنَحْوِهِ.
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبٍ قَالَ: نَزَلَتْ فِيَّ.
ـ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ وَعِكْرِمَةَ قَالا: عَشَرَةٌ.
৪০ - আমাদের কাছে শুবা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুর রহমান ইবনে আসবাহানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফালকে বলতে শুনেছি: আমি মসজিদে কাব ইবনে উজরাহ-এর কাছে বসলাম এবং তাকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, {অতঃপর রোজা, সদকা কিংবা কুরবানির মাধ্যমে ফিদইয়া দিতে হবে} [আল-বাকারা: ১৯৬]। তিনি বললেন: এটি আমার ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে। আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হলো যখন আমার মুখমণ্ডল দিয়ে উকুন ঝরছিল। তিনি বললেন: "আমি ধারণা করিনি যে তোমার কষ্ট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমি দেখছি।" তিনি বললেন: "তোমার কাছে কি কোনো বকরি আছে?" আমি বললাম: না। তখন নাযিল হলো: {অতঃপর রোজা, সদকা কিংবা কুরবানির মাধ্যমে ফিদইয়া দিতে হবে} [আল-বাকারা: ১৯৬]। তিনি বললেন: তিন দিন রোজা রাখা অথবা সদকা করা কিংবা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়ানো, প্রত্যেক মিসকিনের জন্য অর্ধেক সা পরিমাণ।
তিনি বললেন: এটি বিশেষভাবে আমার জন্য নাযিল হয়েছে এবং সাধারণভাবে তোমাদের সবার জন্য। আর সম্ভবত শুবা বলেছেন: "এবং মানুষের জন্য।"
আমাদের কাছে শুবা বর্ণনা করেছেন, আমাকে আবু বিশর সংবাদ দিয়েছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আমাদের কাছে শুবা বর্ণনা করেছেন দাউদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আমাদের কাছে শুবা বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি আমার ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে।
— আমাদের কাছে শুবা বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান ও ইকরিমাহ থেকে, তারা উভয়ই বলেছেন: দশ।