(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: -)
الانتصار لأهل الأثر المطبوع باسم «نقض المنطق»   (ابن تيمية)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الانتصار لأهل الأثر المطبوع باسم «نقض المنطق»

[آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال (23)]

المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية (661 - 728 هـ)

المحقق: عبد الرحمن بن حسن قائد

راجعه: سُعود بن عبد العزيز العُريفي - عمر بن سَعْدِي الجزائري

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الثالثة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الصفحات: 341

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 شوّال 1442

আল-ইতিসার লি-আহলিল আসার, যা «নাক্বদুল মানত্বিক্ব» নামে মুদ্রিত   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডনসমূহ


কিতাব: আল-ইতিসার লি-আহলিল আসার, যা «নাক্বদুল মানত্বিক্ব» নামে মুদ্রিত

[শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজসমূহ (২৩)]

লেখক: শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬৬১ - ৭২৮ হিজরী)

সম্পাদক: আব্দুর রহমান বিন হাসান ক্বায়েদ

নিরীক্ষক: সুউদ বিন আব্দুল আযীয আল-উরাইফী - উমর বিন সা’দী আল-জাযাইরী

প্রকাশক: দারু আত্বাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনে হাযম (বৈরুত)

সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ, ১৪৪০ হিজরী - ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ (দারু ইবনে হাযমের প্রথম সংস্করণ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪১

শামেলা লাইব্রেরিতে সংযোজনকারী: «আত্বাআতিল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١)
الانتصار لأهل الأثر

المطبوع باسم «نقض المنطق»

 

تأليف

شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية (661 - 728 هـ)

 

تحقيق

عبد الرحمن بن حسن قائد

 

دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
আহলে আছারের বিজয়

‘নাক্বদুল মানত্বিক্ব’ (তর্কবিদ্যার খণ্ডন) নামে মুদ্রিত

 

রচনা

শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬৬১ - ৭২৮ হি.)

 

সম্পাদনা

আব্দুর রহমান বিন হাসান কায়েদ

 

দারু আত্বাআতিল ইলম - দারু ইবনি হাযম
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٣)
راجع هذا الجزء

 

سُعود بن عبد العزيز العُريفي

عمر بن سَعْدِي الجزائري
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন

 

সুউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফি

উমর বিন সাদি আল-জাজায়েরি
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة التحقيق

اللهم حبِّب إلينا الإنصافَ وزيِّنه في قلوبنا، وكرِّه إلينا البغيَ في الحكم والفجور في الخصومة، وأغننا بمحجَّة الحق عن بنيَّات الباطل.

أما بعد، فهذا جوابٌ من أجوبة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله التي عليها خاتمُه، خاتمُ تحقيق المنقول وتحرير المعقول، وفيها نهجُه، نهجُ الاستسلام للوحي والتأسي بصالح السلف، وبها خلائقُه، خلائقُ الصدق والعدل والمرحمة.

سئل فيه عن مذهب السلف في الاعتقاد، وهل أهل الحديث أولى بالصواب من غيرهم، فأوضح مذهبَ السلف وقرَّر سبيلهم، وانتصر لأهل الحديث وبيَّن فضلهم، ثم أنصف من نفسه فكشف عن زلل بعض من لم يُحْكِم طريقتَهم ممن ينتسبُ إليهم، وأبان عما في مذاهب مخالفيهم من الجور عن صراط رشدهم، فكان حريًّا أن يسمى بـ «الانتصار لأهل الأثر» ، كما سيأتي تأويله.

وقد طُبِع من قبل باسمٍ اجتهد ناشرُه في وضعه، وهو «نقض المنطق» ، فكان اسمًا لا يدلُّ على حقيقة الكتاب ولا يهدي إلى غايته، وإن هو صدَق على جزءٍ منه، إذ ربعُه الأخير قولٌ مختصرٌ في المنطق وجوابٌ عمَّن زعم أنه فرض كفاية.

ثم كان من آثار هذه التسمية أنْ ظنَّ كثيرٌ من العلماء والباحثين وعامة القراء ــ وكنت منهم ــ أنه أحدُ الكتابين المشهورَين لشيخ الإسلام في الردِّ
সম্পাদকের ভূমিকা

হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নিকট ন্যায়পরায়ণতাকে প্রিয় করে দিন এবং একে আমাদের অন্তরে সুশোভিত করুন। বিচারের ক্ষেত্রে অন্যায় এবং বিতর্কের ক্ষেত্রে পাপাচারকে আমাদের নিকট অপছন্দনীয় করে দিন। আর বাতিলের কানাগলি থেকে বিমুখ করে সত্যের রাজপথের মাধ্যমে আমাদেরকে অমুখাপেক্ষী করুন।

অতঃপর, এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উত্তরসমূহের মধ্য হতে একটি উত্তর, যাতে তাঁর সেই বিশেষ ছাপ বিদ্যমান—যে ছাপ হচ্ছে বর্ণিত বিষয়াদির (মানকুল) সূক্ষ্ম যাচাই এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াদির (মাকুল) বিশুদ্ধ বিশ্লেষণের। এতে রয়েছে তাঁর সেই বিশেষ পদ্ধতি—যা হলো ওহীর নিকট আত্মসমর্পণ এবং সালাফে সালেহীনের অনুসরণ করার পদ্ধতি। এতে ফুটে উঠেছে তাঁর সেই মহৎ গুণাবলি—যা হলো সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং করুণা।

এতে তাঁকে আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের মাজহাব সম্পর্কে এবং আহলুল হাদীসগণ অন্যদের তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী কি না—সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি সালাফদের মাজহাবকে স্পষ্ট করেছেন এবং তাদের পথকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি আহলুল হাদীসদের পক্ষ সমর্থন করেছেন এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি নিজের পক্ষ থেকে ইনসাফ প্রদর্শন করে তাদের (সালাফদের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত এমন কিছু ব্যক্তির ভুলভ্রান্তি উন্মোচন করেছেন যারা তাদের পদ্ধতিকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করতে পারেনি। পাশাপাশি তিনি তাদের বিরোধীদের মতাদর্শের ভ্রান্তি এবং সঠিক পথ থেকে তাদের বিচ্যুতি বর্ণনা করেছেন। তাই বইটির নাম ‘আল-ইনতিসার লি-আহলিল আসার’ (আহলুল আসারের পক্ষে বিজয়) রাখা অধিক সঙ্গত ছিল, যেমনটি সামনে ব্যাখ্যা করা হবে।

ইতিপূর্বে এটি এমন একটি নামে মুদ্রিত হয়েছে যা এর প্রকাশক নিজ ইজতিহাদে নির্ধারণ করেছিলেন, আর তা হলো ‘নাক্বযুল মানতিক’। এটি এমন একটি নাম যা কিতাবটির প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করে না এবং এর মূল লক্ষ্যের দিকেও পথ দেখায় না, যদিও তা কিতাবটির একটি অংশের ক্ষেত্রে সঠিক; কারণ এর শেষ এক-চতুর্থাংশ হচ্ছে তর্কশাস্ত্র (মানতিক) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং যারা এটিকে ‘ফরজে কিফায়া’ দাবি করে তাদের জবাব।

অতঃপর এই নামকরণের ফল এই দাঁড়িয়েছিল যে, অনেক আলেম, গবেষক এবং সাধারণ পাঠক—যাদের মধ্যে আমি নিজেও ছিলাম—মনে করেছিলেন যে এটি রদ বা খণ্ডনমূলক বিষয়ে শাইখুল ইসলামের সেই প্রসিদ্ধ দুটি কিতাবের একটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٦)
على المنطق، وهو ظنٌّ فائل، كما سنبيِّنه في موضعه من هذه المقدمة التي ذكرنا فيها كلماتٍ موجزة تضيء الطريق لقارئ الكتاب، وتعرِّفه إليه، وتقفه على ما ليس منه بدٌّ في أمر تصحيح نسبته وتحرير عنوانه وتفصيل موضوعه وتسمية موارده إلى آخر ما هنالك، ونسأل الله سداد القصد وهداية الطريق، فمن يهد الله فهو المهتد ومن يضلل فلن تجد له وليًّا مرشدًا.

 

وكتب

عبد الرحمن بن حسن قائد

الرياض 22/ 12/ 1434
যুক্তিশাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে, যা একটি অসার ধারণা; যেমনটি আমরা এই মুখবন্ধের যথোপযুক্ত স্থানে বর্ণনা করব, যেখানে আমরা এমন কিছু সংক্ষিপ্ত কথা উল্লেখ করেছি যা গ্রন্থের পাঠকের জন্য পথ আলোকিত করবে, তাকে গ্রন্থটির সাথে পরিচিত করাবে এবং এর নিসবত (সম্পর্কায়ন) বিশুদ্ধকরণ, শিরোনাম সম্পাদন, বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা ও এর উৎসসমূহের নামকরণসহ যেসকল বিষয় জানা অপরিহার্য, সে সম্পর্কে তাকে অবগত করবে। আমরা আল্লাহর নিকট সংকল্পের সঠিকতা ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করছি। বস্তুত আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো অভিভাবক বা পথপ্রদর্শক পাবেন না।

 

লিখেছেন

আব্দুর রহমান বিন হাসান কায়িদ

রিয়াদ ২২/ ১২/ ১৪৩৪
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌التعريف بالكتاب

* إثبات نسبة الكتاب لمؤلفه

* تحرير عنوان الكتاب

* موضوع الكتاب ومنهج المؤلف

* موارد الكتاب

* وصف الأصل الخطي المعتمد

* طبعات الكتاب

* منهج التحقيق
গ্রন্থ পরিচিতি

* লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রমাণ

* গ্রন্থের শিরোনাম নির্ধারণ

* গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও লেখকের পদ্ধতি

* গ্রন্থের উৎসসমূহ

* নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপির বর্ণনা

* গ্রন্থের মুদ্রণসমূহ

* সম্পাদনা পদ্ধতি
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌إثبات نسبة الكتاب لمؤلفه

اجتمع لكتابنا من الدلائل والشواهد التي تصححُ نسبته إلى مؤلفه شيخ الإسلام ابن تيمية ما يُثْلِجُ القلبَ ببرد اليقين ويشفي ذا الغُلَّة الصادي، وإن كان الكتابُ ينادي باسم منشئه من له بهذا القلم الصَّارم معرفةٌ وسابقُ ألفة، لكن الاستدلال على ذلك يزيدُ الحقَّ ظهورًا وينفي عنه معتلجَ الظنون، فإلى بعض القول فيه.

فمن الدلائل والقرائن المستنبطة من الكتاب:

1 - ذِكْرُ المؤلف فيه لبعض كتبه الأخرى وإحالته عليها، كالفتوى الحموية، وقاعدة السُّنة والبدعة.

* قال عن الأول (ص: 215): «وأما أهل الحديث، فإنما تذكُر مذهبَ السَّلف بالنقول المتواترة، تارةً يذكرون مَن نقل مذهبَهم مِن علماء الإسلام، وتارةً يروون نفسَ قولهم في هذا الباب، كما سلكناه في جواب الاستفتاء، فإنا لما أردنا أن نبيِّن مذهبَ السَّلف ذكرنا طريقين … ».

والألف واللام في «الاستفتاء» للعهد، وهو الاستفتاء الذي ورد إليه سنة 698 من حماة عن آيات الصِّفات وأحاديثها، فكتبَ جوابه في قعدةٍ بين الظهر والعصر، وعمرُه إذ ذاك دون الأربعين، واشتهر بالفتوى الحموية، وجرت له بسببه محنةٌ عظيمة، وذكره هكذا في غير موضع(1).

--------------------------------------------

(1) انظر: «بيان تلبيس الجهمية» (1/ 4، 234) ، و «العقود الدرية» (111، 144، 249) ، و «الفتوى الحموية» (296 - 517).

গ্রন্থটি তার লেখকের প্রতি সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ

আমাদের এই গ্রন্থটির লেখক শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর প্রতি এর সম্পৃক্ততা সঠিক হওয়ার বিষয়ে এমন সব দলিল ও প্রমাণ একত্রিত হয়েছে যা অন্তরকে সুনিশ্চিত বিশ্বাসের শীতলতায় প্রশান্ত করে এবং পিপাসার্তের তৃষ্ণা নিবারণ করে। যদিও এই গ্রন্থটি যার এই সুতীক্ষ্ণ কলম সম্পর্কে জ্ঞান ও পূর্ব পরিচয় আছে তার কাছে এর রচয়িতার নাম ঘোষণা করছে, তথাপি এর ওপর দলিলাদি উপস্থাপন করা সত্যকে অধিকতর স্পষ্ট করে এবং এ থেকে সংশয়ের মেঘমালা দূর করে। সুতরাং এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো।

গ্রন্থটি থেকে আহরিত কিছু দলিল ও আলামত নিম্নরূপ:

১ - লেখক এতে তাঁর অন্য কিছু গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর হাওয়ালা দিয়েছেন, যেমন: আল-ফাতাওয়া আল-হামাউইয়্যাহ এবং কায়িদাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ।

* তিনি প্রথমটি সম্পর্কে বলেন (পৃষ্ঠা: ২১৫): «আর আহলে হাদিসগণের ব্যাপারে কথা হলো, তারা সালাফদের মাযহাব মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে উল্লেখ করেন; কখনো তারা ইসলামি স্কলারদের মধ্য থেকে যারা তাদের মাযহাব বর্ণনা করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনো তারা এই অধ্যায়ে তাদের মূল বক্তব্যই বর্ণনা করেন, যেমনটি আমরা ফাতাওয়া প্রদানের জবাবে (আল-ইস্তিফতা) অনুসরণ করেছি। কারণ আমরা যখন সালাফদের মাযহাব স্পষ্ট করতে চেয়েছি, তখন দুটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছি … »।

এখানে 'ইস্তিফতা' শব্দের শুরুতে 'আলিফ-লাম' নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর এটি হলো সেই ইস্তিফতা বা ফাতাওয়া যা ৬৯৮ হিজরিতে সিরিয়ার হামাহ থেকে আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিসসমূহ সম্পর্কে তাঁর নিকট এসেছিল। তিনি জোহরের নামাজ ও আসরের নামাজের মধ্যবর্তী এক বৈঠকে এর জবাব লিখেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছরের নিচে। এটি 'আল-ফাতাওয়া আল-হামাউইয়্যাহ' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং এর কারণে তিনি এক ভয়াবহ পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তিনি অন্যান্য স্থানেও এটিকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ» (১/ ৪, ২৩৪), «আল-উকুুদুদ দুরিইয়্যাহ» (১১১, ১৪৪, ২৪৯) এবং «আল-ফাতাওয়া আল-হামাউইয়্যাহ» (২৯৬ - ৫১৭)।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٠)
وأومأ إليه في موضع آخر (ص: 245) ، فقال: «وقد ذكرنا في غير هذا الجواب مذهبَ سلف الأمَّة وأئمَّتها بألفاظها وألفاظ من نقل ذلك من جميع الطوائف».

* وقال عن الثاني (ص: 158): «وقد قرَّرنا في قاعدة السُّنة والبدعة أن البدعة في الدِّين هي ما لم يشرعه الله ورسوله».

وقد سمَّى هذه القاعدة وأحال عليها في «الاستقامة» (1/ 5) ، وانظر: «مجموع الفتاوى» (10/ 371، 21/ 319). وذكرها صاحباه ابن عبد الهادي في «العقود الدرية» (73) ، وابن رُشَيِّق في «أسماء مؤلفات ابن تيمية» (306 - الجامع لسيرة شيخ الإسلام).

* ومما يدخل في هذا: إحالتُه بسط القول في بعض المسائل على ما قرَّره في مواضع أخرى ــ دون أن يسمِّي كتابًا بعينه ــ ووجدنا تصديقَه في تصانيفه.

كقوله (ص: 207) بعد أن قرَّر ذمَّ من يمثِّل الله بخلقه: «وقد بسطنا القول في ذلك وذكرنا الدلالات العقلية التي دلَّ عليها كتابُ الله في نفي ذلك، وبيَّنَّا منه ما لم تذكره النفاة الذين يتسمون بالتنزيه ولا يوجدُ في كتبهم ولا يُسْمَعُ من أئمَّتهم … »(1).

--------------------------------------------

(1) وقد بسط ذلك في مصنف أفرده لقوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} ، أشار إليه في «درء التعارض» (4/ 146) و «منهاج السنة» (2/ 185) ، وأورده ابن رُشَيِّق في أسماء مؤلفاته (291 - الجامع لسيرة شيخ الإسلام).

كما ذكر في «بيان تلبيس الجهمية» (6/ 487) أنه بسط الكلام على هذا في «جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية» ، وهو في القطعة المطبوعة من الجواب (114 - 153).

তিনি অন্য এক স্থানেও (পৃষ্ঠা: ২৪৫) এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা এই উত্তরটি ছাড়াও অন্যত্র উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) এবং তাদের ইমামগণের মাযহাব তাদের নিজস্ব শব্দাবলীতে এবং সকল দল-উপদল থেকে যারা তা বর্ণনা করেছেন তাদের শব্দাবলীতে উল্লেখ করেছি।"

* এবং তিনি দ্বিতীয়টি সম্পর্কে বলেছেন (পৃষ্ঠা: ১৫৮): "সুন্নাহ ও বিদআতের মূলনীতিতে আমরা সাব্যস্ত করেছি যে, দ্বীনের মধ্যে বিদআত হলো তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধান হিসেবে প্রবর্তন করেননি।"

তিনি এই মূলনীতির নামকরণ করেছেন এবং 'আল-ইস্তিকামাহ' (১/ ৫) গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আরও দেখুন: 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১০/ ৩৭১, ২১/ ৩১৯)। তাঁর দুই সহচর ইবনে আব্দুল হাদী 'আল-উকুুদুদ দুররিয়্যাহ' (৭৩) গ্রন্থে এবং ইবনে রুশাইক 'আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনি তাইমিয়্যাহ' (৩০৬ - আল-জামি লিসিরাতি শাইখিল ইসলাম) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

* এর অন্তর্ভুক্ত হলো: নির্দিষ্ট কোনো কিতাবের নাম উল্লেখ না করেই কোনো কোনো মাসআলায় বিস্তারিত আলোচনার জন্য অন্য স্থানে তাঁর সাব্যস্তকৃত আলোচনার দিকে উদ্ধৃতি প্রদান করা—এবং আমরা তাঁর রচনাবলীতে এর প্রমাণ পেয়েছি।

যেমন তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা: ২০৭), যেখানে তিনি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা ব্যক্তিদের নিন্দা করার পর বলেছেন: "আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আল্লাহর কিতাব যে সকল বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল দ্বারা তা নাকচ করার প্রমাণ দিয়েছে, তা উল্লেখ করেছি। আমরা এ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছি যা পবিত্রতার (তানযীহ) দাবিদার অস্বীকারকারীরা (নুফাত) উল্লেখ করেনি এবং তাদের কিতাবসমূহেও তা পাওয়া যায় না কিংবা তাদের ইমামদের থেকেও শোনা যায় না … "(১)।

--------------------------------------------

(১) তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} এর ওপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি 'দারউত তাআরুদ' (৪/ ১৪৬) এবং 'মিনহাজুস সুন্নাহ' (২/ ১৮৫) গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং ইবনে রুশাইক তাঁর রচনাবলীর নামের তালিকায় (২৯১ - আল-জামি লিসিরাতি শাইখিল ইসলাম) এটি উল্লেখ করেছেন।

যেমনটি তিনি 'বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ' (৬/ ৪৮৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এ বিষয়ে 'জাওয়াবুল ই'তিরাদাতিল মিসরীয়্যাহ আলাল ফাতওয়াহ আল-হামাউইয়্যাহ' গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা উক্ত উত্তরের মুদ্রিত অংশের (১১৪ - ১৫৩) মধ্যে রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١١)
وانظر نماذج أخرى في غاية الوضوح (ص: 60، 71، 82، 269، 306).

2 - توافق ترجيحات المؤلف واختياراته وتحريراته في مسائل العلم، ومسالكه في الحِجَاج ومناقشة الأقوال، مع ما هو معروفٌ في سائر كتبه وتواليفه، وقد وصلتُ بينها في الحواشي برباطٍ وثيق.

3 - لغة الكتاب وأسلوب مؤلفه وعباراته وألفاظه التي يكثر دورانها في كتبه، وطريقته في الاستطراد والإحالة على مواضع بسط الكلام، كلُّ ذلك هاهنا على المعهود منه لا تخطئه العين.

4 - وقوع الكتاب ضمن مجموعٍ خطيٍّ يشتمل على مسائل ورسائل لشيخ الإسلام، وكتب ناسخه في صدر الصفحة الأولى من الكتاب: «هذه المسألة وجوابها مفيدة جدًّا، فرحم الله شيخ الإسلام وجزاه خيرًا وكاتبه».

ومن الشواهد المستقاة من خارجه:

5 - اعتماد تلميذه وصاحبه الإمام ابن القيم عليه، وهو من أعرف الناس بكلامه، فقد نقل عنه نصًّا طويلًا في «الوابل الصيب» (135 - 139) دون أن يسمِّيه، على عادته المألوفة في الانتفاع بكلام شيخه وتضمينه في كتبه(1) ، والنصُّ في كتابنا (ص: 137 - 140).

--------------------------------------------

(1) كما قال عنه ابن حجر في «الدرر الكامنة» (5/ 139): «وكل تصانيفه مرغوبٌ فيها بين الطوائف، وهو طويلُ النفس فيها يتعانى الإيضاحَ جهده فيسهبُ جدًّا، ومعظمها من كلام شيخه، يتصرَّف في ذلك، وله في ذلك ملكةٌ قوية، ولا يزال يدندن حول مفرداته وينصرُها ويحتجُّ لها».

এবং অত্যন্ত স্পষ্ট আরও কিছু নমুনা দেখুন (পৃষ্ঠা: ৬০, ৭১, ৮২, ২৬৯, ৩০৬)।

২ - ইলমী মাসআলাসমূহে লেখকের প্রাধান্য প্রদান (তারজিহ), পছন্দ ও বিশ্লেষণসমূহ এবং বিতর্কের পদ্ধতি ও মতামত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর অন্যান্য সুপরিচিত গ্রন্থ ও রচনার সাথে এর মিল থাকা। আমি টীকাসমূহে এগুলোর মধ্যে দৃঢ় সংযোগ স্থাপন করেছি।

৩ - বইটির ভাষা, লেখকের রচনাশৈলী, তাঁর বাক্য ও শব্দাবলি যা তাঁর অন্যান্য বইতে বারবার ব্যবহৃত হয় এবং তাঁর আলোচনার আনুষঙ্গিক প্রসঙ্গের অবতারণা ও বিস্তারিত আলোচনার স্থানগুলোর প্রতি নির্দেশ করার পদ্ধতি—এসবই এখানে তাঁর পরিচিত রীতি অনুযায়ী বিদ্যমান, যা সচেতন দৃষ্টির এড়ানোর নয়।

৪ - বইটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত যা শাইখুল ইসলামের বিভিন্ন মাসআলা ও রিসালাকে ধারণ করে। বইটির প্রথম পৃষ্ঠার শুরুতে এর অনুলিপিকারক লিখেছেন: «এই মাসআলা ও তার উত্তর অত্যন্ত উপকারী, আল্লাহ শাইখুল ইসলামের ওপর রহম করুন এবং তাঁকে ও এর লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন»।

এবং বহিঃস্থ উৎস থেকে সংগৃহীত প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছে:

৫ - তাঁর ছাত্র ও সহচর ইমাম ইবনুল কায়্যিমের এই বইটির ওপর নির্ভরতা। তিনি শাইখুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি তাঁর 'আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব' (১৩৫-১৩৯) গ্রন্থে নাম উল্লেখ না করেই এই বই থেকে একটি দীর্ঘ উদ্ধৃতি নকল করেছেন। এটি তাঁর উস্তাদের বক্তব্য থেকে উপকৃত হওয়া এবং তা নিজ কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপরিচিত অভ্যাস অনুযায়ী হয়েছে(১)। আর সেই উদ্ধৃতিটি আমাদের এই বইয়ের (পৃষ্ঠা: ১৩৭-১৪০)-এ বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি ইবনে হাজার তাঁর 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৫/১৩৯) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তাঁর সমস্ত রচনাবলি সকল ঘরানার মানুষের নিকট সমাদৃত। তিনি দীর্ঘ আলোচনার অধিকারী এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন, ফলে তা বেশ দীর্ঘ হয়। এর অধিকাংশ তাঁর উস্তাদের বক্তব্য থেকে গৃহীত, যা তিনি নিজস্ব শৈলীতে বিন্যস্ত করেন। এ কাজে তাঁর শক্তিশালী দক্ষতা রয়েছে এবং তিনি সর্বদা তাঁর উস্তাদের একক অভিমতগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, সেগুলো সমর্থন করেন এবং সেগুলোর সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেন»।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٢)
6 - اطلاع طائفةٍ من أهل العلم عليه وتصريحهم بالنقل عنه، وإن كان بعضهم ربما نقل بواسطة.

ومن أولئك:

- الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب (ت: 1206) في كتابه «مفيد المستفيد» (289، 290، 298، 299، 305) ، وفي رسائله الشخصية (7/ 222 - 224) ضمن مجموع مؤلفاته، ولخَّص مواضع منه في الجزء الذي جمعه من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية (13/ 178 - 198).

ولا ريب أنه وقف على نسخة تامة من الكتاب، فإنه ينقل من مواضع متفرقة منه، ويحتمل أن تكون هي نسخة المكتبة المحمودية بالمدينة وقف عليها أثناء طلبه العلم هناك وعلَّق منها هذه المواضع، وربما استنسخ منها نسخةً عاد بها إلى نجد وعنها ينقلُ مَن بعده من أحفاده وسائر علماء تلك البلاد، كما يحتمل أن تكون نسخةً أخرى غيرها هي التي رآها الشيخ سليمان بن سحمان وسمَّاها بالاسم الآتي إن صحَّ أن ذاك الاسم كان ثابتًا عليها ولم يكن من اجتهاده، ومما يُبْعِدُه أن الشيخ محمدًا لم يسمِّ الكتاب به.

- الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد العزيز أبا بطين (ت: 1282) في كتابه «الانتصار لحزب الله الموحدين» (57 - 58) ، وفي بعض رسائله وفتاويه، انظر: «الدرر السنية» (10/ 355، 372، 388).

- الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب (ت: 1285) في بعض رسائله. انظر: «الدرر السنية» (11/ 450).
৬ - একদল আলেম কর্তৃক এটি সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং এটি থেকে বর্ণনা করার (উদ্ধৃতি দেওয়ার) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা, যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো কোনো মাধ্যমের সাহায্যে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন:

- শাইখ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (ওফাত: ১২০৬ হিজরি) তার ‘মুফিদ আল-মুস্তাফিদ’ গ্রন্থে (২৮৯, ২৯০, ২৯৮, ২৯৯, ৩০৫), এবং তার রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগত পত্রাবলীতে (৭/ ২২২ - ২২৪)। এছাড়াও তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য থেকে তার সংকলিত অংশে এর কিছু স্থানের সারসংক্ষেপ করেছেন (১৩/ ১৭৮ - ১৯৮)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি এই কিতাবটির একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি দেখেছিলেন, কারণ তিনি এর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি মদিনার মাহমুদিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি ছিল, যা তিনি সেখানে ইলম অন্বেষণকালে দেখেছিলেন এবং সেখান থেকে এই বিষয়গুলো টুকে নিয়েছিলেন। সম্ভবত তিনি সেখান থেকে একটি অনুলিপি তৈরি করে নজদে নিয়ে এসেছিলেন এবং তার পরবর্তী বংশধরগণ ও সেই অঞ্চলের অন্যান্য আলেমগণ সেটি থেকেই উদ্ধৃতি দিতেন। আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি হতে পারে যা শাইখ সুলাইমান ইবনে সাহমান দেখেছিলেন এবং পরবর্তী নামানুসারে নামকরণ করেছিলেন, যদি সেই নামটি সেখানে বিদ্যমান থাকা বিশুদ্ধ হয়ে থাকে এবং সেটি তার নিজস্ব ইজতিহাদ না হয়। তবে একে দূরবর্তী মনে হওয়ার কারণ হলো শাইখ মুহাম্মাদ কিতাবটিকে সেই নামে অভিহিত করেননি।

- শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আবা বুতাইন (ওফাত: ১২৮২ হিজরি) তার ‘আল-ইন্তিসার লি হিযবিল্লাতিল মুওয়াহহিদিন’ গ্রন্থে (৫৭ - ৫৮), এবং তার কিছু পত্রাবলী ও ফতোয়ায়, দেখুন: ‘আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ’ (১০/ ৩৫৫, ৩৭২, ৩৮৮)।

- শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (ওফাত: ১২৮৫ হিজরি) তার কিছু পত্রাবলীতে। দেখুন: ‘আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ’ (১১/ ৪৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٣)
- الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن (ت: 1293) في كتابيه «مصباح الظلام» (338) ، و «منهاج التأسيس» (249) ، وغيرهما.

- الشيخ سليمان بن سحمان العسيري النجدي (ت: 1349) في كتبه «الضياء الشارق» (373، 654) ، و «كشف الشبهتين» (93) ، و «كشف غياهب الظلام» (169 - 173). وقد اطلع على الكتاب ونقل عنه نقلًا طويلًا، وسمَّاه «الانتصار لأهل الأثر» ، كما سيأتي.

* * * *
- শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান (মৃ: ১২৯৩), তাঁর গ্রন্থদ্বয় ‘মিসবাহুজ জুলাম’ (৩৩৮) ও ‘মিনহাজুত তাসিস’ (২৪৯) এবং অন্যান্য গ্রন্থে।

- শাইখ সুলাইমান বিন সাহমান আল-আসীরি আন-নাজদি (মৃ: ১৩৪৯), তাঁর গ্রন্থসমূহ ‘আদ-দিয়াউশ শারিক’ (৩৭৩, ৬৫৪), ‘কাশফুশ শুবহাতাইন’ (৯৩) ও ‘কাশফু গায়াহিবুজ জুলাম’ (১৬৯ - ১৭৩) এ। তিনি গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেছেন এবং তা থেকে দীর্ঘ উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, আর এর নামকরণ করেছেন ‘আল-ইন্তিসার লি আহলিল আসার’, যেমনটি সামনে আসছে।

* * * *
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌تحرير عنوان الكتاب

هذا الكتاب جوابٌ مبسوطٌ عن استفتاء وُجِّه لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ، شأن كثير من كتب الشيخ ورسائله التي يتعذَّر إحصاؤها لكثرتها مما هي في أصلها جوابٌ عن سؤال سائل(1).

وكدأب تلك الرسائل والفتاوى التي لم يحفل الشيخ بتسميتها، وإنما عُرِفت بموضوعها أو باسم السائل المستفتي أو بلده ونحو ذلك من القرائن المعرِّفة، لم تُسَمَّ مسألتنا هذه في الأصل الخطي الذي اعتمدنا عليه، وهو مجموعٌ مشتملٌ على مسائل كثيرة ورسائل لشيخ الإسلام، بل ابتدأ الناسخ المسألة بقوله: «مسألة: ما قولكم في مذهب السلف … ».

وعندما أراد الشيخ محمد حامد الفقي أن يطبع الكتاب أول مرة سنة 1370 عن نسخةٍ نُسِخَت من هذا الأصل، ولم يجد له اسمًا، قال في مقدمة نشرته: «ثم شاورت العلامة السلفي الصالح المحقق ــ ضيف مصر الكريم ــ الشيخ محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف بن الشيخ عبد الرحمن بن الشيخ حسن بن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب ــ رحمه الله ورضي عنه ــ في اختيار اسم للكتاب، فإن شيخ الإسلام لم يسمِّه، فوقع الاختيار على: نقض المنطق، قال ابن عبد الهادي في «العقود الدرية»: وله كتابٌ في الردِّ على المنطق مجلد كبير، وله مصنفان آخران في الرد على المنطق مجلد».

وواضحٌ من هذا عدُّه الكتاب من كتب شيخ الإسلام ابن تيمية في الرد

--------------------------------------------

(1) انظر: «العقود الدرية» (84، 86، 95، 96، 97، 107، 109).

গ্রন্থনামের বিশ্লেষণ

এই গ্রন্থটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট প্রেরিত একটি ফতোয়ার বিস্তারিত উত্তর। এটি শায়খের এমন অনেক বই ও রিসালার মতোই একটি, যা সংখ্যাধিক্যের কারণে গণনা করা অসম্ভব এবং যা মূলত কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর হিসেবে রচিত(১)।

সেই সকল রিসালা ও ফতোয়ার রীতি অনুযায়ী—যেগুলোর নামকরণের ব্যাপারে শায়খ বিশেষ গুরুত্ব দেননি, বরং সেগুলো সেগুলোর বিষয়বস্তু, প্রশ্নকারীর নাম কিংবা তার দেশ বা এ জাতীয় অন্য কোনো পরিচায়ক চিহ্নের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে—আমাদের আলোচ্য মাসআলাটি সেই পাণ্ডুলিপিতে নামাঙ্কিত ছিল না যার ওপর আমরা নির্ভর করেছি। সেই পাণ্ডুলিপিটি শায়খুল ইসলামের অনেক মাসআলা ও রিসালার একটি সংকলন মাত্র। বরং অনুলিপিকারক মাসআলাটি এই কথা দিয়ে শুরু করেছেন: «মাসআলা: সালাফদের মাযহাব সম্পর্কে আপনার অভিমত কী … »।

যখন শায়খ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী ১৩৭০ হিজরীতে এই মূল কপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত একটি অনুলিপি থেকে প্রথমবারের মতো বইটি ছাপানোর ইচ্ছা করেন এবং বইটির কোনো নাম পাননি, তখন তিনি তার প্রকাশিত সংস্করণের ভূমিকায় বলেন: «অতঃপর আমি কিতাবটির একটি নাম নির্বাচনের বিষয়ে বিজ্ঞ সলফি মুহাক্কিক আলেম — মিসরের সম্মানিত মেহমান — শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে শায়খ হাসান ইবনে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব — আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন — এর সাথে পরামর্শ করি। যেহেতু শায়খুল ইসলাম এর কোনো নামকরণ করেননি, তাই 'নাকযুল মানতিক' (তর্কশাস্ত্রের খণ্ডন) নামটি নির্বাচন করা হয়। ইবনে আব্দুল হাদী 'আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: তর্কশাস্ত্রের খণ্ডনে তাঁর একটি বড় খণ্ডবিশিষ্ট বই রয়েছে এবং তর্কশাস্ত্রের খণ্ডনে তাঁর আরও দুটি গ্রন্থ রয়েছে যা এক খণ্ডে সমাপ্ত»।

এ থেকে স্পষ্ট যে, তিনি এই বইটিকে খণ্ডনমূলক বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বইসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ» (৮৪, ৮৬, ৯৫, ৯৬, ৯৭, ১০৭, ১০৯)।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٥)
على المنطق التي أشار إليها ابن عبد الهادي، ويؤيده قوله في المقدمة قبل ذلك: «وبعد، فقد تفضل السلفي الكبير … فأعطاني النسخة الخطية لرد شيخ الإسلام … على المنطق».

وشاع هذا الظن بين كثير من أهل العلم والباحثين، وسأكتفي بمثالين لاثنين من جِلَّة العلماء المعاصرين.

الأول: علامة الشام الشيخ محمد بهجة البيطار (ت: 1396) ، فقال في مقال تعريفيٍّ بالكتاب(1) تعليقًا على قول ابن عبد الهادي عن شيخ الإسلام ابن تيمية: «وله كتاب في الرد على المنطق مجلدٌ كبير، وله مصنفان آخران في الرد على المنطق»(2): «قلت: أحدها كتاب الرد على المنطقيين، وقد طبع في بمباي سنة 1368 في نحو خمسمئة وخمسين صفحة. والثاني نقض المنطق، وهو هذا. ولم أهتد إلى الثالث، ولعله كتاب الموافقة بين المعقول والمنقول … ».

والثاني: الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين (ت: 1421) ، وقال: «وممن كتب في الرد على المنطق شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ، فقد كتب في الرد عليهم كتابين أحدهما مطول والآخر مختصر، المطول: الرد على المنطقيين، والمختصر: نقض المنطق، والأخير أحسن لطالب العلم لأنه أوضح وأحسن ترتيبًا … »(3).

--------------------------------------------

(1) مجلة مجمع اللغة العربية بدمشق (المجلد 27، الجزء 2، رجب 1371).

(2) «العقود الدرية» (53، 54).

(3) «شرح السفارينية» (715).

লজিক (বা যুক্তিবিদ্যা) সংক্রান্ত যা ইবনে আব্দুল হাদি ইঙ্গিত করেছেন, এবং এর আগে ভূমিকায় তার এই কথাটি একে সমর্থন করে: «অতঃপর, মহান সালাফি … অনুগ্রহ করে আমাকে শাইখুল ইসলামের … লজিকের খণ্ডনমূলক পাণ্ডুলিপিটি দিয়েছেন»।

এই ধারণাটি অনেক আলেম ও গবেষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং আমি সমসাময়িক দুই শ্রেষ্ঠ আলেমের দুটি উদাহরণ দিয়েই ক্ষান্ত হব।

প্রথমজন: শামের আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ বাহজাত আল-বিতার (মৃত্যু: ১৩৯৬), তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ সম্পর্কে ইবনে আব্দুল হাদির উক্তি—«লজিকের খণ্ডনে তার একটি বড় খণ্ডের কিতাব রয়েছে এবং লজিকের খণ্ডনে তার আরও দুটি রচনা রয়েছে»(১)—এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে কিতাবটির পরিচিতিমূলক এক প্রবন্ধে বলেন: «আমি বলব: এর মধ্যে একটি হলো 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন', যা ১৩৬৮ হিজরিতে বোম্বেতে প্রায় পাঁচশ পঞ্চাশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো 'নাকদুন মানতিক', যা এটিই। আর তৃতীয়টির হদিস আমি পাইনি, সম্ভবত এটি 'আল-মুওয়াফাকাহ বাইনাল মাকুল ওয়াল মানকুল' … »।

দ্বিতীয়জন: শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমিন (মৃত্যু: ১৪২১), তিনি বলেন: «যুক্তিবিদ্যা বা লজিকের খণ্ডনে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম, তিনি তাদের খণ্ডনে দুটি কিতাব লিখেছেন; যার একটি বিস্তারিত এবং অন্যটি সংক্ষিপ্ত। বিস্তারিতটি হলো: 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন', আর সংক্ষিপ্তটি হলো: 'নাকদুন মানতিক'। শেষেরটি শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি উত্তম, কারণ এটি অধিক স্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত … »(৩)।

--------------------------------------------

(১) দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমি ম্যাগাজিন (ভলিউম ২৭, সংখ্যা ২, রজব ১৩৭১)।

(২) «আল-উকুদ আদ-দুরিইয়্যাহ» (৫৩, ৫৪)।

(৩) «শারহুস সাফারিনিইয়্যাহ» (৭১৫)।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٦)
والحقُّ أن هذا بعيدٌ عن الصواب، ولبيان ذلك لا بدَّ من تحرير أمرين، أولهما: ما كتبه شيخ الإسلام في الرد على المنطق. والثاني: لم لا يكون كتابنا أحد تلك الكتب؟

* فأما الأمر الأول، فلنأخذه عاليًا عن شيخ الإسلام ابن تيمية من لفظه، ثم نثني بكلام أصحابه.

حدَّث شيخ الإسلام عن نفسه في مقدمة كتابه «الرد على المنطقيين» فقال: «أما بعد، فإني كنتُ دائمًا أعلمُ أن المنطق اليوناني لا يحتاجُ إليه الذكيُّ ولا ينتفع به البليد، ولكن كنتُ أحسبُ أن قضاياه صادقة؛ لِمَا رأيتُ مِن صدق كثيرٍ منها، ثم تبين لي فيما بعدُ خطأ طائفة من قضاياه وكتبتُ في ذلك شيئًا.

ثم لما كنتُ بالاسكندرية اجتمع بي من رأيته يعظِّم المتفلسفة بالتهويل والتقليد، فذكرتُ له بعض ما يستحقه من التجهيل والتضليل، واقتضى ذلك أني كتبتُ في قعدةٍ بين الظهر والعصر من الكلام على المنطق ما علَّقته تلك الساعة، ثم تعقَّبته بعد ذلك في مجالس إلى أن تمَّ، … فأراد بعض الناس أن يكتب ما علَّقتُه إذ ذاك من الكلام عليهم في المنطق، فأذنتُ في ذلك؛ لأنه يفتح باب معرفة الحق، وإن كان ما فُتِح من باب الردِّ عليهم يحتملُ أضعاف ما علقتُه تلك الساعة، فقلت: … » ثم ابتدأ فصول الكتاب.

ففي هذا النص يخبر شيخُ الإسلام أنه حين تبيَّن له خطأ طائفة من قضايا المنطق كتب فيه شيئًا، وهو تعبيرٌ يدلُّ على قلة ذلك المكتوب واختصاره،
সত্য কথা এই যে, এটি সঠিকতা থেকে অনেক দূরে, আর তা স্পষ্ট করার জন্য দুটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি; প্রথমটি: শায়খুল ইসলাম যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে যা লিখেছেন। আর দ্বিতীয়টি: কেন আমাদের এই বইটি সেই বইগুলোর একটি হবে না?

* প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে আমরা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর নিজের শব্দ থেকে সরাসরি গ্রহণ করব, অতঃপর তাঁর সঙ্গীদের বক্তব্য দ্বারা তা পুনরায় ব্যক্ত করব।

শায়খুল ইসলাম তাঁর ‘আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন’ (যুক্তিবিদদের খণ্ডন) গ্রন্থের ভূমিকায় নিজের সম্পর্কে বলেছেন: “অতঃপর, আমি সর্বদা জানতাম যে গ্রিক যুক্তিবিদ্যার প্রয়োজন মেধাবীদের নেই এবং নির্বোধরা তা দ্বারা উপকৃত হতে পারে না। তবে আমি মনে করতাম যে এর প্রতিপাদ্যগুলো সত্য; কারণ আমি এগুলোর অনেকটির সত্যতা দেখেছিলাম। অতঃপর পরবর্তীতে আমার কাছে এর একদল প্রতিপাদ্যের ভুল স্পষ্ট হয়ে যায় এবং এ বিষয়ে আমি কিছু লিখেছি।

অতঃপর যখন আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় ছিলাম, তখন এমন এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো যাকে দেখলাম আতিশয্য ও অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে দার্শনিকদের মহিমান্বিত করছে। তখন আমি তার কাছে তাদের মূর্খতা ও বিভ্রান্তির প্রমাণস্বরূপ কিছু বিষয় উল্লেখ করলাম যা তাদের প্রাপ্য ছিল। আর এরই প্রেক্ষিতে আমি জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী এক বৈঠকে যুক্তিবিদ্যার ওপর যা কিছু লিখেছিলাম তা সেই মুহূর্তেই টুকে নিয়েছিলাম। তারপর বিভিন্ন মজলিসে আমি এর ওপর কাজ চালিয়ে যাই যতক্ষণ না এটি পূর্ণতা পায়, … এরপর কিছু লোক তখন যুক্তিবিদ্যার বিষয়ে তাদের খণ্ডনে আমার করা সেই নোটগুলো অনুলিপি করতে চাইল, তখন আমি তার অনুমতি দিলাম; কারণ এটি সত্য জানার পথ উন্মোচন করে। যদিও তাদের খণ্ডনের যে দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে তা সেই মুহূর্তে আমার করা নোটের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়ার অবকাশ রাখে। এরপর আমি বললাম: … ” অতঃপর তিনি কিতাবটির অধ্যায়সমূহ শুরু করেন।

এই পাঠ্যটিতে শায়খুল ইসলাম জানাচ্ছেন যে, যখন তাঁর কাছে যুক্তিবিদ্যার একদল প্রতিপাদ্যের ভুল স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তিনি সেই বিষয়ে কিছু লিখেছিলেন; আর এটি এমন একটি অভিব্যক্তি যা সেই লেখার স্বল্পতা ও সংক্ষিপ্ততাকে নির্দেশ করে,
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٧)
وهو وصفٌ مناسبٌ لكتاب صغير، ثم حين كان بالاسكندرية(1)

واجتمع به بعض من يعظِّم المتفلسفة بالتقليد والتهويل ــ وما أكثر خفافيش العقول والبصائر في كل زمان، وما أهونهم على أنفسهم! ــ وذكر له الشيخُ بعض ما يستحقُّه من التجهيل= رأى الحاجة لكشف خطل هذه الصناعة ودفع صيال أهلها قائمة، فاقتضاه واجبُ النصح والبيان أن يكتب كتابًا أوسعَ من تلك الكتابة السابقة المختصرة، فابتدأه في قعدةٍ بين الظهر والعصر، ثم أتمَّه في مجالس بعد ذلك، وذلك هو كتاب «الرد على المنطقيين» ، ويغلبُ على ظني

--------------------------------------------

(1) أمر أعداء الشيخ بالقاهرة سنة 709 بنفيه إلى الاسكندرية لعل أحدًا من أهلها يتجاسر عليه فيقتله غيلة فيستريحون منه، وكانت معقل متفلسفة المتصوفة أتباع ابن سبعين وابن عربي، وبقي فيها ثمانية أشهر، في برج متسع مليح نظيف، يدخل عليه من شاء، ويتردد إليه الأكابر والأعيان والفقهاء يقرؤون عليه ويستفيدون منه، كما قال ابن كثير في «البداية والنهاية» (18/ 85).

وفي هذا المنفى كتب شيخ الإسلام كتابه الكبير في الرد على المنطقيين.

 

وكتب فيه كذلك: الرد على رسالة «الألواح» لابن سبعين، المطبوع بعنوان «بغية المرتاد في الرد على المتفلسفة والقرامطة والباطنية» ، ويسمى «المسائل الاسكندرية في الرد على الملاحدة والاتحادية» ، ويسمى «السبعينية» نسبة إلى ابن سبعين. انظر: «الصفدية» (1/ 302) ، و «النبوات» (398) ، و «الرد على المنطقيين» (275).

وكتب فصولًا في الفقه، كما في «مجموع الفتاوى» (23/ 210).

وكتب لصاحب سبتة إجازة بأسانيده في عشر ورقات، كتبها من حفظه ويعجز عن عمل بعضها أكبرُ محدِّثٍ يكون! كما يقول الذهبي في «الدرة اليتيمية» (40 - تكملة الجامع لسيرة شيخ الإسلام).

وكتب إلى أصحابه رسالةً تفيض حبًّا وصدقًا ورضًا ويقينًا بالله، اقرأها في «مجموع الفتاوى» (28/ 30 - 46) ، وهي من كريم الرسائل.

এটি একটি ছোট বইয়ের জন্য উপযুক্ত বর্ণনা, তারপর যখন তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় ছিলেন(১)

সেখানে তাঁর সাথে এমন কিছু লোকের সাক্ষাৎ হয় যারা অন্ধ অনুসরণ ও অতিরঞ্জনের মাধ্যমে দার্শনিকদের মহিমান্বিত করত—আর প্রতিটি যুগে বুদ্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির বাদুড় কতই না বেশি, এবং তারা নিজেদের কাছে কতই না তুচ্ছ!—আর শেখ যখন তাদের সামনে তাদের প্রাপ্য অজ্ঞতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো তুলে ধরলেন, তখন তিনি এই শাস্ত্রের অসারতা উন্মোচন এবং এর অনুসারীদের আক্রমণ প্রতিহত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। ফলে উপদেশ প্রদান ও সত্য বর্ণনার বাধ্যবাধকতা থেকে তিনি পূর্বের সেই সংক্ষিপ্ত লেখার চেয়ে আরও বিস্তারিত একটি বই লেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করলেন। তিনি জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী এক বৈঠকে এটি শুরু করেন এবং পরবর্তী কয়েকটি মজলিসে এটি সম্পন্ন করেন। আর সেটিই হলো «যৌক্তিকদের খণ্ডন» (আর-রাদ্দ আলাল মানতিকিয়্যিন) গ্রন্থটি। আমার প্রবল ধারণা এই যে...

--------------------------------------------

(১) ৭০৯ হিজরিতে কায়রোতে শায়খের শত্রুরা তাঁকে আলেকজান্দ্রিয়ায় নির্বাসিত করার আদেশ দেয় এই আশায় যে, সেখানকার অধিবাসীদের কেউ হয়তো তাঁর ওপর চড়াও হবে এবং তাঁকে গোপনে হত্যা করবে, যাতে তারা তাঁর থেকে রেহাই পায়। আলেকজান্দ্রিয়া ছিল ইবনে সাবয়ীন এবং ইবনে আরাবীর অনুসারী দার্শনিক সুফীদের প্রধান কেন্দ্র। তিনি সেখানে আট মাস একটি প্রশস্ত, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দুর্গে অবস্থান করেন, যেখানে যে কেউ তাঁর কাছে প্রবেশ করতে পারত। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ফকীহগণ তাঁর কাছে যাতায়াত করতেন, তাঁর কাছে পড়তেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হতেন, যেমনটি ইবনে কাসীর «আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া» (১৮/ ৮৫) গ্রন্থে বলেছেন।

আর এই নির্বাসনেই শায়খুল ইসলাম যৌক্তিকদের খণ্ডন বিষয়ে তাঁর বিশাল গ্রন্থটি রচনা করেন।

 

তিনি সেখানে আরও রচনা করেন: ইবনে সাবয়ীনের «আল-আলওয়াহ» পত্রের খণ্ডন, যা «দার্শনিক, কারামাতি ও বাতেনীদের খণ্ডনে অন্বেষুর আকাঙ্ক্ষা» (বোগইয়াতুল মুরতাদ ফি আর-রাদ্দ আলাল মুতাফালসিফা ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ) শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে। একে «নাস্তিক ও সর্বেশ্বরবাদীদের খণ্ডনে আলেকজান্দ্রীয় মাসায়েল» এবং ইবনে সাবয়ীনের নামানুসারে «আস-সাবয়ীনিয়্যাহ»-ও বলা হয়। দেখুন: «আস-সাফাদিয়্যাহ» (১/ ৩০২), «আন-নুবুওয়াত» (৩৯৮), এবং «আর-রাদ্দ আলাল মানতিকিয়্যিন» (২৭৫)।

তিনি ফিকহ শাস্ত্রেও বেশ কিছু অধ্যায় রচনা করেছেন, যেমনটি «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২৩/ ২১০) গ্রন্থে পাওয়া যায়।

তিনি সেউটার অধিপতির জন্য দশ পৃষ্ঠার একটি ইজাযতনামা লিখেছিলেন তাঁর সনদসমূহ সহ, যা তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে লিখেছিলেন এবং এটি প্রস্তুত করতে তৎকালীন সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিসও অক্ষম হতেন! যেমনটি জাহাবী «আদ-দুররাতুল ইয়াতীমিয়্যাহ» (৪০ - তাকমিলাতুল জামি লিসীরাতি শায়খিল ইসলাম) গ্রন্থে বলেছেন।

তিনি তাঁর সাথীদের কাছে ভালোবাসা, সততা, সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসে পূর্ণ একটি পত্র লিখেছিলেন; এটি «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২৮/ ৩০-৪৬) গ্রন্থে পড়ুন, এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি পত্র।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٨)
أنه لم يكتب له مقدمةً إذ ذاك، بل افتتح الكلام في الرد، ثم حين أراد أحدُ أصحابه نسخَ الكتاب (آخر حياته سنة 728) قابله على أصل الشيخ الذي بخطه وعرَضه عليه، فنظر فيه وصحَّحه وزاد بخطه زيادات، وكتب له هذه المقدمة وحكى قصَّته، وعن هذه النسخة الفريدة نُشِر الكتاب. وهو ظاهرٌ لمن تدبَّره إن شاء الله.

وكِبَر حجم كتاب «الرد على المنطقيين» بالنسبة إلى الكتاب الصغير الذي تقدمت الإشارة إليه قرينةٌ صالحةٌ ليوصف بأنه كتابٌ كبير.

فتحصَّل من كلام شيخ الإسلام هذا أن له في الرد على المنطق كتابين: صغيرًا مختصرًا متقدم التأليف، وكبيرًا هو «الرد على المنطقيين»(1).

وصرَّح بهذا في «الصفدية» (2/ 281) وزاده بيانًا بقوله: «أما تقسيم الصفات اللازمة إلى ثلاثة أنواع … فهذا من الخطأ الذي أنكره عليهم نظَّار المسلمين، كما قد كتبنا بعض كلام النظَّار في ذلك في غير هذا الموضع في الكلام على المحصَّل، وعلى منطق الإشارات، وعلى المنطق اليوناني مصنَّف كبير ومصنَّف مختصر، وغير ذلك».

وذكر كتابه الكبير في «منهاج السنة» (2/ 347 - 348) بقوله: « … كما قد بُسِط الكلام على المنطق اليوناني وما يختص به أهل الفلسفة من الأقوال الباطلة في مجلد كبير».

--------------------------------------------

(1) هذا هو الاسم المثبت على تلك النسخة التي عليها خط شيخ الإسلام، وهو أولى من الاسم المسجوع الذي ذكره له السيوطي في مختصره «نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان».

তিনি তখন এর জন্য কোনো ভূমিকা লেখেননি, বরং সরাসরি খণ্ডনমূলক আলোচনা দিয়ে শুরু করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর জনৈক সাথী বইটি অনুলিপি করতে চাইলেন (তাঁর জীবনের শেষভাগে ৭২৮ হিজরি সালে), তখন তিনি তা শাইখের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেন এবং তাঁর সামনে পেশ করেন। তখন তিনি সেটি দেখেন ও সংশোধন করেন এবং স্বহস্তে কিছু বিষয় সংযোজন করেন। তিনি এর জন্য এই ভূমিকাটি লেখেন এবং এর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। আর এই অনন্য পাণ্ডুলিপি থেকেই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, যে ব্যক্তি এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবেন, তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

পূর্বে উল্লেখিত ছোট বইটির তুলনায় ‘আর-রাদ্দ আলাল মানতিকিয়্যিন’ বইটির বিশাল কলেবর একে একটি বড় কিতাব হিসেবে অভিহিত করার সপক্ষে একটি বলিষ্ঠ প্রমাণ।

শাইখুল ইসলামের এই বক্তব্য থেকে এটিই সাব্যস্ত হয় যে, যুক্তিবিদ্যা খণ্ডনে তাঁর দুটি কিতাব রয়েছে: একটি ছোট ও সংক্ষিপ্ত যা আগে রচিত, আর অন্যটি বড়, যা হলো ‘আর-রাদ্দ আলাল মানতিকিয়্যিন’(১)।

তিনি ‘আস-সাফাদিয়্যাহ’ (২/২৮১) গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে আরও ব্যাখ্যা করেছেন: “অপরিহার্য গুণাবলিকে তিন ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টি... এটি এমন এক ভুল যার জন্য মুসলিম চিন্তাবিদগণ তাঁদের সমালোচনা করেছেন। যেমনটি আমরা ‘আল-মুহাসসাল’, ‘মানতিকুল ইশারাত’ এবং গ্রিক যুক্তিবিদ্যার ওপর রচিত একটি বড় গ্রন্থ ও একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসহ অন্যান্য স্থানে এই বিষয়ে চিন্তাবিদদের কিছু কথা লিখেছি।”

তিনি ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ (২/৩৪৭-৩৪৮) গ্রন্থে তাঁর বড় কিতাবটির কথা উল্লেখ করে বলেছেন: “...যেহেতু গ্রিক যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনপন্থীদের বিশেষ বাতিল বক্তব্যগুলো নিয়ে একটি বড় খণ্ডে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।”

--------------------------------------------

(১) এটিই সেই নাম যা শাইখুল ইসলামের হস্তাক্ষরযুক্ত সেই পাণ্ডুলিপিতে সাব্যস্ত হয়েছে। আর এটি সুয়ূতী তাঁর সংক্ষিপ্তসার ‘নাসিহাতু আহলিল ঈমান ফির রাদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান’ কিতাবে যে ছন্দোবদ্ধ নাম উল্লেখ করেছেন, তার চেয়ে অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ١٩)
وأشار إليه في «شرح الأصبهانية» (455) ، فقال: « … وقد بُسِط الكلام على هذا في مواضع غير هذا الموضع، كالرد على الغالطين في المنطق، وغير ذلك».

وأشار إلى ما كتبه في الرد على منطق «الإشارات والتنبيهات» لابن سينا كذلك في «الرد على المنطقيين» (64، 463) ، و «منهاج السنة» (5/ 434).

وأحال على كلامه على «المحصَّل» ــ وهو «محصَّل أفكار المتقدمين والمتأخرين» للرازي ــ في «درء التعارض» (1/ 22) ، و «الرد على المنطقيين» (37، 110، 122، 345، 357) ، و «الصفدية» (2/ 151، 187) ، و «منهاج السنة» (1/ 168) ، و «الفتاوى» (8/ 7) ، وقد شرح شيخُ الإسلام أول «المحصَّل»(1) ،

--------------------------------------------

(1) ذكر ابن رشيق في «أسماء مؤلفات ابن تيمية» (295 - الجامع لسيرة شيخ الإسلام) ، وابن عبد الهادي في «العقود الدرية» (57) أنه في مجلد، وذكر الصفدي في «أعيان العصر» (1/ 240) و «الوافي» (7/ 24) أنه بلغ ثلاث مجلدات.

وقال الشيخ في «منهاج السنة» (5/ 433): «وحدثني غير مرة رجلٌ ــ وكان من أهل الفضل والذكاء والمعرفة والدين ــ أنه كان قد قرأ على شخص سمَّاه لي ــ وهو من أكابر أهل الكلام والنظر ــ دروسًا من المحصَّل لابن الخطيب، وأشياء من إشارات ابن سينا. قال: فرأيت حالي قد تغير، وكان له نورٌ وهدى، ورُئيت له منامات سيئة، فرآه صاحب النسخة بحال سيئة، فقص عليه الرؤيا، فقال: هي من كتابك.

وإشارات ابن سينا يعرفُ جمهورُ المسلمين الذين يعرفون دين الإسلام أن فيها إلحادًا كثيرًا، بخلاف المحصَّل يظنُّ كثيرٌ من الناس أن فيه بحوثًا تحصِّل المقصود. قال: فكتبت عليه:

محصَّلٌ في أصول الدين حاصلُه … من بعد تحصيله أصلٌ بلا دين

أصلُ الضلالات والشكِّ المبين فما … فيه فأكثره وحيُ الشياطين

 

قلت: وقد سئلتُ أن أكتب على المحصَّل ما يُعْرَفُ به الحقُّ فيما ذكره، فكتبتُ من ذلك ما ليس هذا موضعه، وكذلك تكلمتُ على ما في الإشارات في مواضع أخر، والمقصود هنا التنبيه على الجمل … ».

وأظن الرجل الذي يشير إليه شيخ الإسلام من أهل الفضل والذكاء والمعرفة والدين هو الإمام ابن القيم، فقد قرأ أكثر المحصَّل على الصفيِّ الهندي كما ذكر الصفديُّ في «أعيان العصر» (4/ 367) ، وكان الصفيُّ من أكابر أهل الكلام والنظر لعهده، وقول شيخ الإسلام: «حدثني غير مرة» يفيد صحبته له، ثم إن البيتين يشبهان شعر ابن القيم ونسج كلامه، وقد أخبر في «الكافية الشافية» (570، 836) عن طول بحثه عن الحق ووقوعه في شباك المتكلمين حتى لقي شيخ الإسلام ابن تيمية فأخذ بيديه وسار به حتى أراه مطلع الإيمان. وانظر: «مفتاح دار السعادة» (446) وتعليقي عليه.

তিনি 'শারহুল আসবাহানিয়্যাহ' (৪৫৫)-তে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তিনি বলেছেন: « … এবং এ বিষয়ে অন্যান্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যেমন যুক্তিবিদ্যায় ভুলকারীদের খণ্ডন এবং অন্যান্য স্থানে।»

তিনি ইবনে সিনার 'আল-ইশারাত ওয়াত তানবিহাত'-এর যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে যা লিখেছেন, সেদিকেও 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন' (৬৪, ৪৬৩) এবং 'মিনহাজুস সুন্নাহ' (৫/ ৪৩৪)-তে ইঙ্গিত করেছেন।

তিনি রাজির 'আল-মুহাসসাল'—যা মূলত 'মুহাসসালু আফকারিল মুতাকাদ্দিমিন ওয়াল মুতাআখখিরিন'—এর ওপর তাঁর আলোচনার দিকে 'দারউ তাআরুদ' (১/ ২২), 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন' (৩৭, ১১০, ১২২, ৩৪৫, ৩৫৭), 'আস-সাফাদিয়্যাহ' (২/ ১৫১, ১৮৭), 'মিনহাজুস সুন্নাহ' (১/ ১৬৮) এবং 'আল-ফাতাওয়া' (৮/ ৭)-তে রেফারেন্স দিয়েছেন। শাইখুল ইসলাম 'আল-মুহাসসাল'-এর প্রথমাংশের ব্যাখ্যা করেছেন(১),

--------------------------------------------

(১) ইবনু রাশিরাক 'আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনি তাইমিয়্যাহ' (২৯৫ - আল-জামি লি সিরাতি শাইখিল ইসলাম) গ্রন্থে এবং ইবনু আবদিল হাদি 'আল-উকুদুদ দুরিইয়াহ' (৫৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে এটি এক খণ্ডে; আর আস-সাফাদি 'আইয়ানুল আসর' (১/ ২৪০) এবং 'আল-ওয়াফি' (৭/ ২৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে এটি তিন খণ্ড পর্যন্ত পৌঁছেছে।

শাইখ 'মিনহাজুস সুন্নাহ' (৫/ ৪৩৩)-তে বলেছেন: «মর্যাদা, মেধা, জ্ঞান ও দ্বীনদারির অধিকারী এক ব্যক্তি আমাকে একাধিকবার বলেছেন যে, তিনি জনৈক ব্যক্তির নিকট—যাঁর নাম তিনি আমাকে বলেছিলেন এবং তিনি ছিলেন ইলমুল কালাম ও যুক্তিশাস্ত্রের বড় পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত—ইবনুল খাতিবের 'আল-মুহাসসাল' থেকে কিছু পাঠ এবং ইবনে সিনার 'আল-ইশারাত'-এর কিছু অংশ পড়েছিলেন। তিনি বলেন: তখন আমি দেখলাম আমার অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তাঁর মধ্যে নূর ও হিদায়াত ছিল, কিন্তু তাঁর সম্পর্কে কিছু খারাপ স্বপ্ন দেখা হলো। এমনকি পাণ্ডুলিপির মালিকও তাঁকে খারাপ অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলেন এবং তাঁকে স্বপ্নের কথা জানালেন। তিনি বললেন: এটি তোমার ওই কিতাবের কারণেই।

আর ইবনে সিনার 'আল-ইশারাত' সম্পর্কে অধিকাংশ মুসলিম, যারা ইসলাম সম্পর্কে জানেন, তারা অবগত আছেন যে এতে প্রচুর ধর্মহীনতা রয়েছে। পক্ষান্তরে 'আল-মুহাসসাল' সম্পর্কে অনেক মানুষ মনে করেন যে এতে এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যা উদ্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিল করে। তিনি বলেন: তাই আমি এর ওপর লিখেছিলাম:

দ্বীনের মূলনীতিতে এক সংকলন (মুহাসসাল), যার সারসংক্ষেপ … সংকলনের পর তা হলো দ্বীনহীন এক ভিত্তি।

সুস্পষ্ট গোমরাহি ও সন্দেহের মূল উৎস, আর যা কিছু … এতে রয়েছে তার অধিকাংশই শয়তানদের কুমন্ত্রণা।

 

আমি বলছি: আমাকে 'আল-মুহাসসাল'-এর ওপর এমন কিছু লিখতে বলা হয়েছিল যার মাধ্যমে এতে বর্ণিত বিষয়গুলোর মাঝে সত্য প্রকাশ পায়। তাই আমি সে সম্পর্কে কিছু লিখেছি যা এখানে আলোচনার স্থান নয়। একইভাবে আমি অন্যান্য স্থানে 'আল-ইশারাত'-এ যা আছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো মূল বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা … »।

আমার ধারণা শাইখুল ইসলাম যে মর্যাদা, মেধা, জ্ঞান ও দ্বীনদারির অধিকারী ব্যক্তির কথা বলছেন, তিনি হলেন ইমাম ইবনুল কায়্যিম। কেননা তিনি সাফি আল-হিন্দির নিকট 'আল-মুহাসসাল'-এর অধিকাংশ অংশ পড়েছিলেন, যেমনটি আস-সাফাদি 'আইয়ানুল আসর' (৪/ ৩৬৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর সাফি আল-হিন্দি তাঁর সময়ের ইলমুল কালাম ও যুক্তিশাস্ত্রের বড় পণ্ডিতদের একজন ছিলেন। শাইখুল ইসলামের উক্তি: «তিনি আমাকে একাধিকবার বলেছেন» এটি তাঁর সাথে গভীর সাহচর্যের প্রমাণ দেয়। তাছাড়া এই পঙক্তিদ্বয় ইবনুল কায়্যিমের কবিতা ও রচনাশৈলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি নিজেই 'আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়াহ' (৫৭০, ৮৩৬) গ্রন্থে সত্যের দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং মুতাকাল্লিমদের জালে আটকা পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সাক্ষাৎ পান। শাইখুল ইসলাম তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁকে নিয়ে চললেন যতক্ষণ না তাঁকে ঈমানের উদয়স্থল দেখালেন। দেখুন: 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' (৪৪৬) এবং এর ওপর আমার টীকা।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وفي أوله القول في التصوُّرات والتصديقات، وهما عماد المنطق.

فهذه أربعة كتب تضمَّنت الردَّ على المنطق نصَّ عليها شيخ الإسلام: كبير، وصغير، وآخران في الردِّ على منطق «الإشارات» والكلام على «المحصَّل».

ولشيخ الإسلام في هذا الباب فصولٌ وفتاوى لا ينتظمها كتاب(1) ، سوى ما تعرَّض لبحثه في مثاني مصنفاته، وهو كثير.

أما أصحابه، فمنهم من لم يذكر إلا الكتاب الكبير، وهو ابن رُشَيِّق(2).

ومنهم من ذكر كتابين: صغيرًا وكبيرًا، وهو ابن القيم(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: «مجموع الفتاوى» (9/ 255 - 270).

(2) «أسماء مؤلفات ابن تيمية» (295 - الجامع لسيرة شيخ الإسلام).

(3) «مفتاح دار السعادة» (448) ، و «إغاثة اللهفان» (1022).

ومن طبقة أصحاب شيخ الإسلام، وما هو من أصحابه: الصفدي، ذكر له كذلك في «الوافي» (7/ 24) و «أعيان العصر» (1/ 240) كتابين: مجلدًا، وآخر لطيفًا.

এর শুরুতেই রয়েছে তাসাউউরাত (ধারণা) এবং তাসদিকাত (প্রত্যয়ন) সংক্রান্ত আলোচনা, যা যুক্তিবিদ্যার মূল ভিত্তি।

এগুলো হলো চারটি গ্রন্থ যা যুক্তিবিদ্যার খণ্ডন সংবলিত এবং শাইখুল ইসলাম এগুলো নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন: বড় একটি, ছোট একটি এবং অপর দুটি হলো ‘আল-ইশারাত’-এর যুক্তিবিদ্যার খণ্ডন এবং ‘আল-মুহাসসাল’-এর ওপর আলোচনা।

এই বিষয়ে শাইখুল ইসলামের এমন কিছু পরিচ্ছেদ ও ফতোয়া রয়েছে যা কোনো নির্দিষ্ট গ্রন্থে বিন্যস্ত নয়(১), এছাড়া তাঁর বিভিন্ন রচনার পরতে পরতে এ সংক্রান্ত যে আলোচনা এসেছে তাও প্রচুর।

তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল বড় গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন ইবনে রুশাইক(২)।

আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দুটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন: একটি ছোট এবং একটি বড়; তিনি হলেন ইবনুল কাইয়্যিম(৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (৯/ ২৫৫ - ২৭০)।

(২) ‘আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনি তাইমিয়্যাহ’ (২৯৫ - আল-জামিউ লি-সিরাতি শাইখিল ইসলাম)।

(৩) ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ (৪৪৮), এবং ‘ইগাসাতুল লাহফান’ (১০২২)।

শাইখুল ইসলামের অনুসারীদের সমসাময়িক স্তরের এবং যিনি তাঁর সরাসরি ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আস-সাফাদিও ‘আল-ওয়াফি’ (৭/ ২৪) এবং ‘আইয়ানুল আসর’ (১/ ২৪০) গ্রন্থে একইভাবে তাঁর দুটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন: একটি বড় খণ্ড এবং অন্যটি সংক্ষিপ্ত।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢١)
ومنهم من ذكر ثلاثة كتب: كبيرًا، ومصنَّفين آخرَين نحو مجلد، وهو ابن عبد الهادي(1).

* وهنا موضعُ الأمر الثاني، وهو: لم لا يكون كتابنا هذا أحد تلك الكتب الثلاثة، فتصحُّ تسميته بنقض المنطق؟

والجواب: أما الكتاب الكبير فقد تقدم أن المقصود به كتاب «الرد على المنطقيين» ، وكتابنا صغيرٌ بالنسبة إليه.

وأما الرد على منطق «الإشارات» والكلام على «المحصَّل» ، فليس بهما كما هو ظاهر، ولم يسمِّ ابن تيمية في الكتاب الذي معنا كتابَي «الإشارات» و «المحصَّل» أصلًا.

فلم يبق إلا الكتاب الصغير، ولا يصحُّ أن يكون هو المراد؛ لأمرين:

أولهما: أن كتابنا غير متمحِّض للرد على المنطق، بل جلُّه في الانتصار لعقيدة أهل الحديث والذبِّ عنهم والردِّ على مخالفيهم، والقدر المختصُّ بالمنطق لا يتجاوز الربع منه، فكيف يوصفُ بأنه كتابٌ في الرد على المنطق والحال هذه؟ !

ثانيهما: أن شيخ الإسلام لا يفتأ يذكر في كتابنا هذا أنه ليس موضع بسط فساد المنطق وبيان ما فيه من الخلل، ويحيل على ما بسطه من الكلام في

--------------------------------------------

(1) «العقود الدرية» (53، 54).

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তিনটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন: একটি বড় কিতাব এবং অন্য দুটি সংকলন যা প্রায় এক খণ্ডের সমান; তিনি হলেন ইবনে আব্দিল হাদী(১)।

* আর এখানেই দ্বিতীয় বিষয়টি আসে, আর তা হলো: আমাদের এই কিতাবটি কেন সেই তিনটি কিতাবের কোনো একটি হবে না, যার ফলে একে 'নাকজুল মানতিক' (তর্কবিদ্যার খণ্ডন) নামে অভিহিত করা সঠিক হতো?

উত্তর হলো: বড় কিতাবটির ব্যাপারে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন' কিতাবটি, আর আমাদের এই কিতাবটি সেটির তুলনায় আকারে ছোট।

আর 'আল-ইশারাত'-এর তর্কবিদ্যার খণ্ডন এবং 'আল-মুহাসসাল'-এর ওপর আলোচনার বিষয়টি এতে নেই—যেমনটি স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়; এমনকি ইবনে তাইমিয়্যাহ আমাদের কাছে থাকা এই কিতাবটিতে 'আল-ইশারাত' ও 'আল-মুহাসসাল' কিতাব দুটির নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেননি।

ফলে কেবল ছোট কিতাবটিই অবশিষ্ট থাকে, কিন্তু সেটিও কাঙ্ক্ষিত কিতাব হওয়া সঠিক নয়; দুটি কারণে:

প্রথমত: আমাদের এই কিতাবটি কেবলমাত্র তর্কবিদ্যার খণ্ডনের জন্য নিবেদিত নয়, বরং এর অধিকাংশ অংশই আহলে হাদীসের আকিদার বিজয় ঘোষণা, তাদের প্রতিরক্ষা এবং তাদের বিরোধীদের খণ্ডন প্রসঙ্গে; আর তর্কবিদ্যা সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট অংশটুকু এর এক-চতুর্থাংশের বেশি নয়। এমতাবস্থায় এই কিতাবটিকে তর্কবিদ্যা খণ্ডনের কিতাব হিসেবে কীভাবে বর্ণনা করা যায়?!

দ্বিতীয়ত: শাইখুল ইসলাম আমাদের এই কিতাবটিতে সর্বদা এটি উল্লেখ করেছেন যে, এটি তর্কবিদ্যার অসারতা বিস্তারিত বর্ণনা করার এবং তাতে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করার জায়গা নয়, এবং তিনি এই বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত আলোচনার প্রতি রেফারেন্স প্রদান করেছেন যা তিনি আলোচনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) 'আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ' (৫৩, ৫৪)।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٢)
مواضع أخرى.

فمن ذلك قوله (ص: 306): «وقد ذكرتُ في غير هذا الموضع ملخَّص المنطق ومضمونَه، وأشرتُ إلى بعض ما دخل به على كثيرٍ من الناس من الخطأ والضلال، وليس هذا موضع بسط ذلك».

فكأنه يحيل هاهنا على كتابه المختصر في نقض المنطق حقًّا.

وقوله (ص: 265): «وأما المنطق، فمن قال: إنه فرض كفاية، وأنه من ليس له به خبرةٌ فليس له ثقةٌ بشيءٍ من علومه = فهذا القولُ في غاية الفساد من وجوهٍ كثيرة التَّعداد، مشتملٌ على أمورٍ فاسدةٍ ودعاوى باطلةٍ كثيرةٍ لا يتَّسعُ هذا الموضع لاستقصائها».

وقوله (ص: 269): «فإنهم يزعمون أنه آلةٌ قانونيةٌ تمنعُ مراعاتُها الذِّهنَ أن يزلَّ في فكره، وفسادُ هذا مبسوطٌ مذكورٌ في موضعٍ غير هذا».

وقال في ختام الجواب (ص: 341): «فالتحقيقُ أنه مشتملٌ على أمورٍ فاسدة، ودعاوى باطلةٍ كثيرة، لا يتسعُ هذا الموضعُ لاستقصائها».

وهذه النصوص دليلٌ على المطلوب من جهتين:

الأولى: أنه لو كان مصنَّفًا مقصودًا للردِّ على المنطق لحرَّر القول في بيان فساده، ولخَّص مقاصد الكلام فيه ما دام كتابًا مختصرًا، فإنه موضعُ ذلك ومظنَّتُه، وليس من السائغ والمألوف أن يحيل على غيره في ما حقُّه البيان فيه.

والواقع أنه إنما ذكر في هذا الكتاب ما يناسبُ جوابَ السؤال على جهة
অন্যান্য স্থান।

এর মধ্যে রয়েছে তাঁর কথা (পৃষ্ঠা: ৩০৬): "আমি এই স্থান ব্যতীত অন্য জায়গায় যুক্তিশাস্ত্রের (মানতিক) সারসংক্ষেপ ও এর মূল বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছি এবং এর কারণে অনেক মানুষের মধ্যে যে ভুল ও বিভ্রান্তি প্রবেশ করেছে তার কিছু অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। আর এটি সেই আলোচনার বিস্তৃতির স্থান নয়।"

সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এখানে প্রকৃতপক্ষে যুক্তিশাস্ত্র খণ্ডনের ওপর লেখা তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের দিকেই নির্দেশ করছেন।

এবং তাঁর কথা (পৃষ্ঠা: ২৬৫): "আর যুক্তিশাস্ত্রের ব্যাপারে যারা বলে যে, এটি ফরজে কেফায়া এবং যার এতে দক্ষতা নেই তার কোনো ইলমের ওপরই আস্থা নেই—এই কথাটি অসংখ্য দিক থেকে অত্যন্ত ভ্রান্ত। এটি অনেকগুলো ভ্রষ্ট বিষয় এবং বাতিল দাবির সমষ্টি, যা বিস্তারিত আলোচনার জন্য এই স্থানটি পর্যাপ্ত নয়।"

এবং তাঁর কথা (পৃষ্ঠা: ২৬৯): "কেননা তারা দাবি করে যে, এটি এমন একটি নিয়মতান্ত্রিক যন্ত্র যার অনুসরণ চিন্তার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে বিচ্যুত হতে বাধা দেয়। এই দাবিটির অসারতা এই স্থান ব্যতীত অন্য জায়গায় সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে।"

এবং উত্তরের শেষাংশে তিনি বলেন (পৃষ্ঠা: ৩৪১): "গবেষণালব্ধ সত্য এই যে, এটি অনেক ভ্রষ্ট বিষয় এবং বাতিল দাবির সমষ্টি, যা বিস্তারিত আলোচনার জন্য এই স্থানটি পর্যাপ্ত নয়।"

আর এই উদ্ধৃতিগুলো দুটি দিক থেকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দলিল হিসেবে কাজ করে:

প্রথমত: যদি এটি মূলত যুক্তিশাস্ত্র খণ্ডনের উদ্দেশ্যেই রচিত হতো, তবে তিনি এর অসারতা বর্ণনায় আলোচনাকে আরও সুসংহত করতেন এবং যেহেতু এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, তাই এর আলোচনার মূল উদ্দেশ্যগুলোকে সারসংক্ষেপ করতেন। কারণ এটিই সেই আলোচনার উপযুক্ত স্থান ও ক্ষেত্র। আর যেখানে বিস্তারিত বর্ণনা করাই কাম্য, সেখানে অন্য গ্রন্থের দিকে নির্দেশ করা যুক্তিযুক্ত বা প্রচলিত নিয়ম নয়।

প্রকৃতপক্ষে তিনি এই গ্রন্থে কেবল সেই বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছেন যা প্রশ্নের উত্তরের সাথে প্রাসঙ্গিক হিসেবে
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الاختصار، وهو الكلام عن فساد جعل المنطق من فروض الكفاية، ثم استطرد إلى بيان بعض ما اشتمل عليه من الدعاوى الباطلة، وأحال على مظانِّ بسط ذلك في الكتب التي خصَّصها للرد على المنطق، كما يفعلُ في سائر كتبه عندما يعرض لشيءٍ من مسائل المنطق والردِّ عليه فإنه يذكر ما يناسبُ المقام ثم يحيل على المواضع التي بسط فيها الكلام(1).

الثانية: أن الكتاب الصغير المختصر لشيخ الإسلام في الرد على المنطق متقدمُ التأليف، لم يسبقه شيءٌ كتبه الشيخ في موضوعه على جهة الانفراد، كما هو بيِّنٌ من مقدمة كتاب «الرد على المنطقيين» التي سلفت، وكتابنا هذا متأخرٌ يحيل فيه على ما بسط من الرد على المنطق في مواضع أخرى.

فإن قيل: فإن لم يكن كتابنا هو الكتاب الصغير المختصر الذي صنَّفه شيخ الإسلام في الردِّ على المنطق، فأين هو ذلك الكتاب؟

فالجواب أنه لم يصلنا بعد، وما هو بأول ما لم يُعْثَر عليه من تراث شيخ الإسلام، ولعله في زاوية من زوايا خزائن المخطوطات التي لا تزال ترفدنا كلَّ حين بجديدٍ من التصانيف التي لم نكن نعرف من أمر وجودها شيئًا.

وتلطَّف الشيخ محمد بن عبد العزيز بن مانع (ت: 1385) في تخريج تسمية الكتاب بـ «نقض المنطق» ، فقال معلِّقًا على صفحة العنوان من نسخته المطبوعة من الكتاب: «هذا الاسم من باب المجاز المرسل، وهو ذِكرُ الجزء نيابةً عن الكل؛ لأن ما تضمنه الكتاب جوابُ سؤالٍ عن المنطق

--------------------------------------------

(1) انظر: «الصفدية» (2/ 145) ، و «منهاج السنة» (2/ 191، 272، 3/ 303، 315، 5/ 433، 451، 454 ، 8/ 35) ، و «شرح الأصبهانية» (325) ، وغيرها.

সংক্ষেপণ; আর তা হলো যুক্তিবিদ্যাকে ফরজে কিফায়া সাব্যস্ত করার অসারতা নিয়ে আলোচনা। অতঃপর তিনি এর অন্তর্ভুক্ত কিছু বাতিল দাবি বর্ণনার দিকে অগ্রসর হয়েছেন এবং এই প্রসঙ্গের বিস্তারিত আলোচনার জন্য সেই গ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছেন যা তিনি যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে নিবেদিত করেছেন। যেমনটি তিনি তাঁর অন্যান্য কিতাবেও করে থাকেন; যখনই তিনি যুক্তিবিদ্যার কোনো মাসয়ালা এবং তার খণ্ডন নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তিনি প্রাসঙ্গিক কথাটুকু উল্লেখ করেন এবং এরপর সেসব স্থানের হাওয়ালা দেন যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে(১).

দ্বিতীয়ত: যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে শাইখুল ইসলামের ছোট সংক্ষিপ্ত কিতাবটি রচনার দিক থেকে অগ্রবর্তী। এই বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে শাইখ ইতিপূর্বে আর কিছু লিখেননি, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হওয়া ‘আর-রদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে স্পষ্ট হয়। আর আমাদের এই কিতাবটি পরবর্তী সময়ের রচনা, যাতে তিনি যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে অন্যান্য স্থানে যা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার হাওয়ালা দিয়েছেন।

যদি বলা হয়: আমাদের এই কিতাবটি যদি যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে শাইখুল ইসলাম রচিত সেই ছোট সংক্ষিপ্ত কিতাবটি না হয়, তবে সেই কিতাবটি কোথায়?

উত্তর হলো, সেটি এখনও আমাদের কাছে পৌঁছেনি। আর শাইখুল ইসলামের জ্ঞানীয় ঐতিহ্যের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো বিষয় নয় যার সন্ধান মেলেনি। সম্ভবত এটি পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডারগুলোর কোনো এক কোণে পড়ে আছে, যে ভাণ্ডারগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের এমন সব নতুন রচনার সন্ধান দিয়ে যাচ্ছে যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না।

শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি (মৃত্যু: ১৩৮৫) কিতাবটির নাম ‘নাকদুল মানতিক’ রাখার ক্ষেত্রে একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি কিতাবটির তাঁর সংগৃহীত মুদ্রিত কপির শিরোনাম পাতায় মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: “এই নামাকরণটি মাজাজে মুরসালের অন্তর্ভুক্ত, যা সামগ্রিক বিষয়ের পরিবর্তে আংশিক বিষয় উল্লেখের নাম; কারণ এই কিতাবে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা মূলত যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তর।”

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আস-সাফাদিইয়্যাহ’ (২/ ১৪৫), ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ (২/ ১৯১, ২৭২, ৩/ ৩০৩, ৩১৫, ৫/ ৪৩৩, ৪৫১, ৪৫৪, ৮/ ৩৫), ‘শারহুল আসবাহানিইয়্যাহ’ (৩২৫) এবং অন্যান্য।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وغيره، وابتداء الجواب عن المنطق من ص 155».

وهو كما قال لو لم تُوهِم التسميةُ أن الكتاب أحد كتابي شيخ الإسلام المشهورَين في الرد على المنطق، وقد مرَّ تصريحُ الناشر بهذا وما أعقبه من ذهاب كثيرٍ من الناس إليه.

وإذ قد تبيَّن نأيُ تسمية الكتاب بـ «نقض المنطق» عن الصواب، وعدم مطابقة الاسم للمسمى إلا بضربٍ من المجاز، فإن اللائق باسم الكتاب أن يكون كاشفًا عن مضمونه، واضحًا في الدلالة على محتواه، وهو الدفاع عن اعتقاد السلف وأهل الحديث والردُّ على من طعن فيهم أو زعم أن عدم علمهم بعلم المنطق يوجبُ جهلهم وينقص قدرهم، وذلك ما تضمَّنه الاسم الذي أورده الشيخ سليمان بن سحمان (ت: 1349) ، فإنه وقف على الكتاب ونقل عنه نقلًا طويلًا، وقال في صدره: «قال شيخ الإسلام ابن تيمية قدس الله روحه في كتابه الانتصار لأهل الأثر … »(1).

وسواءٌ أكان هذا الاسم مكتوبًا على النسخة التي رآها الشيخ سليمان وكان مِن وضع المصنف أو أحد أصحابه، أم كان مما سمَّاه الشيخ أو غيرُه باجتهاده وهو الأشبه = فإنه اسمٌ صادق الدلالة على المسمى، وهو اجتهادٌ خيرٌ من ذلك الاجتهاد، فلذا آثرتُ إحياءه وتعريفه للناس، فوضعته في صفحة العنوان وتحته الاسم الذي اشتهر به وذاع.

ولابن تيمية رحمه الله رسالةٌ في «فضل السلف على الخلف في العلم»

--------------------------------------------

(1) «كشف غياهب الظلام» (169). أفادني هذا الموضع المهم أخي وصديقي العزيز الشيخ الدكتور علي العمران وفقه الله.

এবং অন্যান্য, এবং যুক্তিবিদ্যার উত্তরের শুরু ১৫৫ পৃষ্ঠা থেকে।»

তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই, যদি এই নামকরণটি এমন বিভ্রান্তি তৈরি না করত যে এই বইটি যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে শাইখুল ইসলামের সুপরিচিত দুটি বইয়ের একটি; প্রকাশকের স্পষ্ট বক্তব্য এবং এর ফলে অনেক মানুষের সেই ধারণার দিকে ধাবিত হওয়া সম্পর্কে ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।

যেহেতু এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে বইটিকে «নাকদ আল-মানতিক» নামকরণ করা সঠিকতা থেকে বিচ্যুত এবং কোনো প্রকার রূপক অর্থ ছাড়া এই নাম বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই বইটির জন্য এমন একটি নামই উপযুক্ত যা এর বিষয়বস্তুকে উন্মোচন করবে এবং এর সারমর্মকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করবে। আর তা হলো সালাফ ও আহলে হাদিসের আকিদার প্রতিরক্ষা এবং যারা তাদের সমালোচনা করে বা দাবি করে যে যুক্তিবিদ্যায় তাদের জ্ঞান না থাকা তাদের অজ্ঞতা সাব্যস্ত করে এবং তাদের মর্যাদা কমিয়ে দেয়, তাদের জবাব দেওয়া। শাইখ সুলাইমান ইবনে সাহমান (মৃত্যু: ১৩৪৯ হি.) যে নামটি উল্লেখ করেছেন তার মধ্যেও এটিই নিহিত রয়েছে; কেননা তিনি এই বইটি অধ্যয়ন করেছেন এবং এটি থেকে দীর্ঘ উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি এর শুরুতে বলেছেন: «শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) তাঁর কিতাব আল-ইনতিসার লি-আহলিিল আসার-এ বলেছেন...»(১)।

শাইখ সুলাইমান যে পাণ্ডুলিপিটি দেখেছিলেন তাতে এই নামটি লেখা ছিল কি না এবং এটি লেখকের নিজের দেওয়া বা তাঁর কোনো সঙ্গীর দেওয়া নাম ছিল কি না, অথবা শাইখ বা অন্য কেউ তাঁর গবেষণার মাধ্যমে এই নামকরণ করেছিলেন কি না—যা বেশি সম্ভাব্য মনে হয়—সেটি যাই হোক না কেন, এই নামটি বিষয়বস্তুর ওপর অত্যন্ত সঠিক নির্দেশনা প্রদানকারী। আর এই গবেষণা পূর্ববর্তী সেই গবেষণার চেয়ে উত্তম। এ কারণেই আমি এই নামটি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং মানুষের কাছে পরিচিত করতে অগ্রাধিকার দিয়েছি, তাই আমি এটিকে শিরোনাম পৃষ্ঠায় রেখেছি এবং এর নিচে সেই নামটি দিয়েছি যে নামে বইটি সমধিক পরিচিত ও প্রচারিত হয়েছে।

এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর «জ্ঞানের ক্ষেত্রে পরবর্তীদের ওপর পূর্ববর্তীদের শ্রেষ্ঠত্ব» বিষয়ে একটি পুস্তিকা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) «কাশফু গায়াহিব আল-জলাম» (১৬৯)। আমার প্রিয় ভাই ও বন্ধু শাইখ ডক্টর আলী আল-ইমরান (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন) আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবহিত করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ذكرها ابن رُشَيِّق في أسماء مؤلفاته(1) ، وفي عنوانها ما قد يوهمُ أن تكون هي كتابنا هذا؛ إذ في الكتاب بيانُ فضل السلف والانتصار لهم والردُّ على من خالف طريقتهم من المتأخرين، لكن مما يدفع ذاك التوهُّم أن ابن عبدالهادي أورد تلك الرسالة في جملة القواعد(2) ، وكتابنا جوابٌ وفتوى، ومقتضى صنيعه في سياق كتب الشيخ التفريقُ بين الفتاوى والقواعد، وهو ظاهر.

كما يدفعه أن موضوع الكتاب أخصُّ من عنوان تلك الرسالة، فإنه في الانتصار لعقيدة السلف وأصحاب الحديث في باب أسماء الله وصفاته وما يتصل بذلك ثم في بيان فساد المنطق وعدم الحاجة إليه، ولا تعرُّض فيه لباقي أبواب الاعتقاد الكبرى كالإيمان والقدر ونحوها مما للسلف فيه سبيلٌ غير سبيل بعض المتأخرين.

ثم إننا لا نجد فيه كذلك حديثًا عن التفسير والفقه والحديث والعربية وغيرها من فنون العلم ومدارك المعرفة التي يظهرُ بها فضلُ السلف على الخلف ولا يُظَنُّ أن يُغْفِلها شيخُ الإسلام في مثل هذا المقام.

وبعد، ففي تراث أبي العباس الذي وصلنا لآلئ متناثرةٌ في هذه المعاني تستحقُّ أن يَنْهَد لها باحثٌ يَنْظِم عِقْدَها في كتاب يجدِّد رسمَ ذلك العنوان الدارس.

* * * *

--------------------------------------------

(1) (301 - الجامع لسيرة شيخ الإسلام).

(2) «العقود الدرية» (66).

ইবনে রুশাইক তাঁর রচনার নামের তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন(১), এবং এর শিরোনামে এমন কিছু রয়েছে যা মনে এই ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করতে পারে যে এটিই সম্ভবত আমাদের এই কিতাবটি; কারণ এই কিতাবে সালাফদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা, তাঁদের পক্ষে সমর্থন এবং পরবর্তীকালের যারা তাঁদের পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন তাদের খণ্ডন রয়েছে। তবে সেই ভ্রান্ত ধারণা যা দূর করে তা হলো, ইবনে আব্দুল হাদি সেই রিসালাহটিকে ‘কাওয়াইদ’ বা মূলনীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করেছেন(২), অথচ আমাদের এই কিতাবটি একটি উত্তর ও ফতোয়া; আর শাইখের কিতাবসমূহের বিন্যাসে ফতোয়া ও কাওয়াইদ বা মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য করাই তাঁর কর্মপদ্ধতির দাবি, যা অত্যন্ত স্পষ্ট।

এছাড়াও আরেকটি বিষয় এই সংশয় দূর করে যে, কিতাবটির বিষয়বস্তু সেই রিসালাহটির শিরোনামের তুলনায় অধিক সুনির্দিষ্ট। কারণ এটি আল্লাহর নাম ও গুণাবলি এবং এই সংক্রান্ত বিষয়ে সালাফ ও আসহাবুল হাদিসের আকিদার সমর্থনে, এবং অতঃপর যুক্তিশাস্ত্রের অসারতা ও এর প্রয়োজনীয়তাহীনতার বর্ণনায় নিবেদিত। এতে আকিদার অন্যান্য বড় বড় অধ্যায় যেমন ইমান, তাকদির এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, যেগুলোতে সালাফদের পথ পরবর্তীকালের কারো কারো পথ থেকে ভিন্ন ছিল।

তদুপরি, আমরা এতে তাফসির, ফিকহ, হাদিস, আরবি ভাষা এবং ইলমের অন্যান্য শাখা ও জ্ঞানের মাধ্যমগুলো সম্পর্কে কোনো আলোচনা পাই না, যার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর সালাফদের শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে। আর শাইখুল ইসলাম এমন কোনো স্থানে এগুলো উপেক্ষা করবেন বলে ধারণা করা যায় না।

পরিশেষে, আবুল আব্বাসের যে ঐতিহ্য আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তাতে এই মর্মার্থের বহু বিক্ষিপ্ত মুক্তো ছড়িয়ে আছে, যা একজন একনিষ্ঠ গবেষকের এই দাবি রাখে যে তিনি সেই মুক্তোগুলোকে একটি কিতাবে গেঁথে মালা তৈরি করবেন এবং সেই বিলুপ্তপ্রায় শিরোনামের কাঠামোটি পুনরায় নবায়ন করবেন।

* * * *

--------------------------------------------

(১) (৩০১ - আল-জামি লি-সিরাত শাইখিল ইসলাম)।

(২) «আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ» (৬৬)।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌موضوع الكتاب ومنهج مؤلفه

* موضوع الكتاب:

هو جوابٌ عن سؤالٍ مركَّب من أمرين:

الأول: مذهب السلف في الاعتقاد ومذهب غيرهم من المتأخرين، ما الصواب منهما؟ وهل أهل الحديث أولى بالصواب من غيرهم؟ وهل حدث بعدهم علومٌ جهلوها وعلمها غيرهم؟

والثاني: علم المنطق، هل من قال: «إنه فرض كفاية» مصيب؟

وكأن السائل تخلَّص بالفقرة الأخيرة من الأمر الأول إلى السؤال عن المنطق، إذ المنطق من العلوم الصِّناعية التي حدثت بعد عهد السلف حين ترجمت كتب اليونان إلى العربية في دولة بني العباس.

استغرق جواب المصنف عن الأمر الأول ثلاثة أرباع الكتاب، وجعل الربع الأخير للجواب عن الثاني.

فابتدأ الجواب بتقرير أن اتباع سبيل المؤمنين من الصحابة وتابعيهم بإحسان واجبٌ، وأن مِن سبيلهم في الاعتقاد الإيمانَ بصفات الله تعالى وأسمائه التي وردت في كتابه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم من غير زيادة عليها ولا نقص منها، وبلا تأويل ولا تشبيه لها بصفات المخلوقين.

واحتجَّ لإثبات أن ذلك من سبيلهم بنصوصٍ من عيون كلامهم وكلام من بعدهم ممَّن حكى مذهبهم وطريقتهم في هذا الباب.
গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং এর লেখকের পদ্ধতি

* গ্রন্থের বিষয়বস্তু:

এটি দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রশ্নের উত্তর:

প্রথমটি: আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাব এবং পরবর্তী অন্যদের মাযহাব—এদের মধ্যে কোনটি সঠিক? আর আহলে হাদিস কি অন্যদের চেয়ে সত্যের অধিক নিকটবর্তী? তাদের পরে কি এমন কোনো ইলম বা জ্ঞান সৃষ্টি হয়েছে যা তারা জানতেন না কিন্তু অন্যরা তা জেনেছে?

দ্বিতীয়টি: যুক্তিবিদ্যা, যিনি বলেছেন যে: «এটি ফরজে কিফায়া» তিনি কি সঠিক?

মনে হচ্ছে প্রশ্নকারী প্রথম বিষয়ের শেষ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের দিকে অগ্রসর হয়েছেন, কারণ যুক্তিবিদ্যা হলো সেই সব প্রায়োগিক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যা সালাফদের যুগের পরে উদ্ভূত হয়েছে, যখন আব্বাসীয় শাসনামলে গ্রীক গ্রন্থসমূহ আরবিতে অনূদিত হয়েছিল।

প্রথম বিষয়ের উত্তরে গ্রন্থকার গ্রন্থের তিন-চতুর্থাংশ ব্যয় করেছেন এবং শেষ এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় বিষয়ের উত্তরের জন্য নির্ধারিত করেছেন।

তিনি উত্তর শুরু করেছেন এই সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে যে, সাহাবী এবং উত্তমরূপে তাঁদের অনুসারী মুমিনদের পথ অনুসরণ করা ওয়াজিব। আর আকিদার ক্ষেত্রে তাঁদের পথ হলো আল্লাহ তাআলার সেই সব গুণাবলি ও নামসমূহের প্রতি ঈমান আনা যা তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে—সেখানে কোনো প্রকার বৃদ্ধি বা ঘাটতি করা ছাড়া এবং কোনো প্রকার ব্যাখ্যা প্রদান বা সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সাদৃশ্য করা ছাড়া।

এটি যে তাঁদের পথ ছিল, তা প্রমাণ করার জন্য তিনি তাঁদের মূল বক্তব্যসমূহ এবং তাঁদের পরবর্তী ঐসব ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যারা এই বিষয়ে তাঁদের মাযহাব ও কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ثم ابتدأ فصلًا في بيان أن طريقتهم أحكم وأعلم، وأفاض في بيان فضل أهل الحديث، وأنهم يشاركون كلَّ طائفة فيما يتحلون به من صفات الكمال، ويمتازون عنهم بما ليس عندهم، واحتجَّ لذلك بأن كلَّ إمامٍ متبوعٍ وطائفةٍ إنما يُحْمَدون عند الأمة بمقدار اتباعهم للحديث وقربهم منه، وضرب لذلك شواهد عديدة من الناس والطوائف في سياقٍ تاريخيٍّ نقديٍّ وتقويمٍ عادلٍ يتحرَّى الإنصاف.

ثم قصد إلى بيان أن الفلاسفة والمتكلمين الذين يصفون أهل الحديث بالحشو والجهل هم أحقُّ بذلك الوصف وأهلُه؛ لقولهم الباطلَ وتكذيبهم الحقَّ في مسائلهم ودلائلهم، واستدل لذلك بوجهين أطال فيهما:

الأول: أنهم أعظم الناس شكًّا واضطرابًا، وأضعفهم علمًا ويقينًا.

الثاني، وهو فرعٌ من الأول: أنهم أكثر الناس انتقالًا من قول إلى قول، وجزمًا بالقول في موضعٍ وبنقيضه وتكفير قائله في موضعٍ آخر.

ثم تحدَّث عن طرق الخارجين عن طريقة السابقين الأولين: طريق التخييل، وطريق التأويل، وطريق التجهيل، وأفاض في بيان كلِّ طريق، وهو بابٌ استفتحه في مواضع كثيرة من كتبه.

ثم ابتدأ فصلًا في نقض كلام مشهور للعز بن عبد السلام في رسالته «الملحة» ينبز فيه مثبتة الصفات بالحشو، وأنهم يتستَّرون بمذهب السلف، وأن منهم من لا يتحاشى من التشبيه والتجسيم، وأبان عما في كلامه من الحق والباطل، وحرَّر هذه المصطلحات.
অতঃপর তিনি একটি পরিচ্ছেদ শুরু করেন এটি বর্ণনা করার জন্য যে, তাদের পথই অধিকতর প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং অধিকতর জ্ঞানসমৃদ্ধ। তিনি আহলে হাদিসদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং দেখান যে, অন্যান্য দলগুলো যেসব পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির মাধ্যমে নিজেদের সজ্জিত করে, আহলে হাদিসরা তার প্রতিটি গুণেই অংশীদার, উপরন্তু তারা এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য যা অন্যদের কাছে নেই। তিনি এর সপক্ষে এই যুক্তি পেশ করেন যে, প্রত্যেক অনুসৃত ইমাম এবং প্রতিটি দল উম্মাহর নিকট ততটুকুই প্রশংসিত হন, যতটুকু তারা হাদিসের অনুসরণ করেন এবং হাদিসের নিকটবর্তী থাকেন। তিনি ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের সাথে একটি ঐতিহাসিক, সমালোচনামূলক ও মূল্যায়নধর্মী প্রেক্ষাপটে মানুষের মধ্য থেকে এবং বিভিন্ন দল থেকে এর বহু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন।

এরপর তিনি এটি স্পষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন যে, সেই সমস্ত দার্শনিক ও কালামশাস্ত্রবিদ—যারা আহলে হাদিসদের ‘হাশউ’ (অসারপন্থী) ও মূর্খতা দিয়ে বিশেষিত করেন—তারাই প্রকৃতপক্ষে এই বিশেষণের অধিক যোগ্য ও এর উপযুক্ত পাত্র; কেননা তারা তাদের মাসআলা ও দলীলসমূহের ক্ষেত্রে বাতিল কথা বলে এবং সত্যকে অস্বীকার করে। তিনি এর সপক্ষে দুটি দিক থেকে প্রমাণ পেশ করেন এবং সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন:

প্রথমত: তারা মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সন্দেহপ্রবণ ও অস্থিরমনা এবং জ্ঞান ও দৃঢ়বিশ্বাসের দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল।

দ্বিতীয়ত, যা প্রথমটিরই একটি শাখা: তারা মানুষের মধ্যে এক মত থেকে অন্য মতে সর্বাধিক পরিবর্তনশীল; তারা এক স্থানে একটি মতের ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করে, আবার অন্য স্থানে তার ঠিক বিপরীত মত গ্রহণ করে এবং ঐ মত পোষণকারীকে কাফির আখ্যা দেয়।

এরপর তিনি প্রথম যুগের অগ্রবর্তীদের পথ থেকে বিচ্যুতদের পন্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন: কল্পনানির্ভর পথ (তাখয়িল), ব্যাখ্যাত্মক পথ (তাউইল) এবং অজ্ঞতাপ্রসূত পথ (তাঝহিল)। তিনি প্রতিটি পন্থার বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেন, যা তিনি তাঁর কিতাবসমূহের অনেক স্থানেই উন্মোচন করেছেন।

এরপর তিনি ইজ্জ ইবনে আবদুস সালামের ‘আল-মুলহা’ নামক রিসালায় বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ বক্তব্যের খণ্ডনে এক পরিচ্ছেদ শুরু করেন। উক্ত বক্তব্যে ইবনে আবদুস সালাম আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্তকারীদের ‘হাশউ’ বলে গালি দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, তারা সালাফদের মাযহাবের আড়ালে নিজেদের গোপন করে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাদৃশ্যদান ও দেহবিশিষ্টিবাদ থেকে বিরত থাকে না। তিনি ইবনে আবদুস সালামের বক্তব্যের মধ্যকার সত্য ও মিথ্যা অংশগুলো স্পষ্ট করেন এবং এই পরিভাষাগুলোর বিশ্লেষণ প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثم عقد فصلًا آخر للردِّ على معترضٍ نقل عن أبي الفرج بن الجوزي كلامًا يذمُّ به الحنابلة في باب إثبات الصفات، وأفاض في بيان ما فيه من ضعف العقل والنقل، وما اشتمل عليه من التعصُّب بالجهل والظلم.

ويقعُ في وهمي أن هذا الفصل والذي قبله ليسا من أصل الفتوى، وإنما هما فصلان من كتاب «جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية» ، أدرجهما الناسخ هنا لمناسبتهما لموضوع الكتاب؛ لما يلي:

1 - أن الجواب قد تمَّ قبلهما على مقصود السؤال، فلا حاجة لنقض كلامٍ لم يُسأل عنه ولم يتقدَّم له ذكرٌ أو يستدعِه سياق.

2 - أنه صدَّر الفصل الثاني بقوله: «قال المعترض: قال أبو الفرج … ». والألف واللام للعهد، ولم يسبق لهذا المعترض ذكرٌ فيما تقدم من الجواب، وليس هو العز بن عبد السلام، فإنه توفي قبل ولادة المصنف، ولم يرد هذا النصُّ في رسالته «الملحة» ليقال: لعل أحدًا نقل كلامه.

ثم إن لفظ «المعترض» يفيد أن ثمة أمرًا معتَرضًا عليه، ولم يسبق في الكتاب كذلك ما يدلُّ على هذا الاعتراض، بينما اشتهر اعتراض بعض أهل عصره على «الفتوى الحموية».

3 - أن جملة «قال المعترض» التي استفتح بها الفصل الثاني هنا هي الجملة نفسها التي استفتح بها أول فصل من القطعة المطبوعة من كتاب «جواب الاعتراضات» ، وهي الأليق بعنوانه وموضوعه كما ترى.
এরপর তিনি সিফাত (গুণাবলি) সাব্যস্ত করার বিষয়ে হাম্বলিদের সমালোচনা করে আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারী এক প্রতিবাদীর জবাব দেওয়ার জন্য আরও একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেন। সেখানে তিনি সেই উদ্ধৃতির যুক্তিনির্ভর ও বর্ণনাগত দুর্বলতা এবং এতে মূর্খতা ও অবিচারপ্রসূত যে গোঁড়ামি নিহিত ছিল, তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

আমার ধারণা এই যে, এই পরিচ্ছেদ এবং এর পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদটি মূল ফতোয়ার অংশ নয়। বরং এগুলো হলো ‘জাওয়াবুল ই’তিরাদত আল-মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাউইয়্যাহ’ গ্রন্থের দুটি পরিচ্ছেদ। অনুলিপিকার (নাসিখ) কিতাবের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য থাকার কারণে এগুলোকে এখানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যার কারণ নিম্নরূপ:

১ - প্রশ্নের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী উত্তর তাদের পূর্বেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং এমন কথার খণ্ডন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না যে সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি, ইতিপূর্বে যার কোনো উল্লেখ ছিল না অথবা প্রেক্ষাপটও যা দাবি করে না।

২ - তিনি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি এভাবে শুরু করেছেন: “প্রতিবাদী বলেছেন: আবু আল-ফারাজ বলেছেন...”। এখানে ‘আলিফ-লাম’ নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অথচ উত্তরের পূর্ববর্তী অংশে এই প্রতিবাদীর কোনো উল্লেখ ছিল না। এই ব্যক্তি ইজ্জুদ্দীন ইবন আবদুস সালামও নন; কারণ তিনি গ্রন্থকারের জন্মের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তার ‘আল-মুলহাহ’ নামক রিসালায় এই বক্তব্যটি নেই যে বলা যাবে সম্ভবত কেউ তার কথা উদ্ধৃত করেছেন।

তদুপরি, ‘প্রতিবাদী’ শব্দটির দ্বারা বোঝা যায় যে এমন কোনো বিষয় রয়েছে যা নিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে; অথচ কিতাবের পূর্ববর্তী অংশে এই প্রতিবাদের বিষয়ে ইঙ্গিত দেয় এমন কিছুই নেই। অথচ ‘আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ’-এর ওপর তাঁর সমকালীন কিছু লোকের আপত্তির বিষয়টি সুপরিচিত।

৩ - ‘প্রতিবাদী বলেছেন’ বাক্যটি, যার মাধ্যমে তিনি এখানে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি শুরু করেছেন, ঠিক একই বাক্য যার মাধ্যমে ‘জাওয়াবুল ই’তিরাদত’ কিতাবের মুদ্রিত অংশের প্রথম পরিচ্ছেদটি শুরু হয়েছে। আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, এটি ওই কিতাবের শিরোনাম ও বিষয়ের সাথেই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
4 - أن المصنف قال في الفصل الأول الذي ناقش فيه كلام العز بن عبد السلام (ص: 207) بعد أن قرر منع تشبيه الله بخلقه: «وقد بسطنا القول في ذلك وذكرنا الدلالات العقلية التي دلَّ عليها كتابُ الله في نفي ذلك، وبيَّنَّا منه ما لم تذكره النفاة الذين يتسمَّون بالتنزيه ولا يوجدُ في كتبهم ولا يُسْمَعُ من أئمَّتهم».

ولم يعيِّن في أي كتاب بسط ذلك وبيَّنه، ولا أحال على موضعٍ آخر ولو مبهمًا على مألوف عادته، والأشبه في مثل هذا أن يكون ذلك البسط والبيان قد وقع في الكتاب نفسه.

وقد وقع هذا البسط الذي يشير إليه المصنف في «جواب الاعتراضات» في القطعة المطبوعة (114 - 153) ، وللتأكيد على أن هذا هو الموضع الذي يقصده المصنف فقد أحال عليه كذلك في «بيان تلبيس الجهمية» (6/ 487) وصرَّح بأنه في «الأجوبة المصرية» وهو جواب الاعتراضات.

5 - أن أحد معاصري المصنف وهو ابن جَهْبَل الحلبي (ت: 733) قد ضمَّن كلام العزِّ في رسالةٍ له في الردِّ والاعتراض على الفتوى الحموية(1) ، ولولا أني لم أجد النصَّ المذكور في الفصل الثاني (المنقول عن ابن الجوزي) في رسالة ابن جَهْبَل لجزمت بأن الفصلين كليهما في الردِّ عليه.

ولا يشكل على هذا أن المصنف ذكر في فاتحة «بيان تلبيس الجهمية» أن كتاب «جواب الاعتراضات» مصنفٌ للرد على اعتراضات القاضي شمس

--------------------------------------------

(1) ساق السبكي رسالته بتمامها في «طبقات الشافعية» كما بينت في ذلك الموضع.

৪ - লেখক প্রথম পরিচ্ছেদে, যেখানে তিনি ইয ইবনে আব্দুস সালামের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছেন (পৃষ্ঠা: ২০৭), আল্লাহর সাথে তাঁর সৃষ্টির সাদৃশ্য প্রদান নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্থির করার পর বলেছেন: "আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আল্লাহর কিতাব যে সকল যৌক্তিক দলীলের দিকে নির্দেশ করেছে তা এই সাদৃশ্য অস্বীকার করার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। আর আমরা এ থেকে এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেছি যা সেই অস্বীকারকারীরা (নফাত) উল্লেখ করেনি যারা নিজেদেরকে 'তানযীহ' (পবিত্রতা ঘোষণা করা) পন্থী বলে দাবি করে এবং যা তাদের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় না কিংবা তাদের ইমামদের থেকেও শোনা যায় না।"

তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি যে কোন কিতাবে এটি বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন, এমনকি তাঁর সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী অন্য কোনো স্থানের দিকে অস্পষ্ট ইঙ্গিতও করেননি। এ জাতীয় ক্ষেত্রে অধিকতর সম্ভাবনা এই যে, সেই বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যা এই কিতাবেই করা হয়েছে।

লেখক যে বিস্তারিত আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা 'জাওয়াবুল ইতিরাদাত' (আপত্তিগুলোর উত্তর) নামক কিতাবের মুদ্রিত অংশে (১১৪ - ১৫৩) বিদ্যমান। এটিই যে লেখকের উদ্দেশ্য তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি 'বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ' (৬/ ৪৮৭) কিতাবেও এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এটি 'আল-আজরিবাতুল মিসরিয়্যাহ' (মিসরীয় উত্তরসমূহ) কিতাবে রয়েছে, যা মূলত 'জাওয়াবুল ইতিরাদাত'।

৫ - লেখকের সমসাময়িকদের একজন ইবনে জাহবাল আল-হালাবি (মৃত্যু: ৭৩৩ হি.) তাঁর একটি রিসালায় ইয-এর বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা তিনি 'ফাতওয়া হামাউইয়্যাহ'-এর খণ্ডন ও আপত্তিতে লিখেছিলেন(১)। আমি যদি ইবনে জাহবালের রিসালায় দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে (ইবনুল জাওযী থেকে উদ্ধৃত) বর্ণিত পাঠ্যটি না পেতাম, তবে আমি নিশ্চিতভাবেই বলতাম যে উভয় পরিচ্ছেদই তাঁর খণ্ডনে লেখা হয়েছে।

এতে কোনো সমস্যা নেই যে লেখক 'বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ'-এর শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে 'জাওয়াবুল ইতিরাদাত' কিতাবটি কাজী শামসের আপত্তিগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য সংকলিত।

--------------------------------------------

(১) সুবকি তাঁর পুরো রিসালাটি 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' গ্রন্থে সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমি সেই স্থানে ব্যাখ্যা করেছি।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الدين السروجي، ووصفَه بأنه أفضل القضاة المعارضين؛ لأن الجواب عن اعتراضات غيره في فصول قليلة لا مانع منه، ولا ينقض أن يكون جلُّ الكتاب في الرد على اعتراضاته، ثم إنه لم يصلنا كتاب القاضي السروجي، ولعل الكلام المذكور في الفصلين هنا يكون فيه.

وبعد، فهذه قرائن للتأمل والنظر، ومن الجائز أن يكون المصنف وقف على هذه الاعتراضات بعد فراغه من تأليف الأجوبة، فرأى مناسبة إيراد جوابه عليها هنا لمناسبته لموضوع الفتوى، فإنه لم يزل يجيبُ عما يرد عليه من الاعتراضات بعد تصنيف «الجواب» ، وكتابُ «بيان تلبيس الجهمية» هو كالتكملة للجواب كما بيَّن في مقدمته.

بقي الكلام على الربع الأخير من الكتاب، وهو المتعلق بالمنطق، فإن أصل السؤال كان عمن يقول: إن تعلم المنطق فرض كفاية، فابتدأ المصنف الجواب ببيان أن هذا قولٌ في غاية الفساد، وذكر بعض من ذمَّ المنطق، وبيَّن عدم نفعه والحاجة إليه إلا لمن فقد أسباب الهدى.

ثم افتتح فصلًا للردِّ على كلام أهله في الحدود وبيان وجوه الخلل فيه، وهو أحد قسمي المنطق، ثم انتقل للحديث عن كلامهم في القياس ومواضع الإصابة والباطل فيه، كل ذلك بإيجازٍ وإحالةٍ على مواضع بسط القول في تلك المسائل.

هذه مقاليد الكتاب مجملة، وللمصنف بين ذلك استطراداتٌ كثيرة على طريقته المعهودة في تصانيفه.
আদ-দীন আস-সারুজি, এবং তিনি তাঁকে বিরোধী বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করেছেন; কারণ অন্যদের আপত্তির উত্তর দিতে অল্প কিছু অধ্যায়ই যথেষ্ট, যা এই বিষয়ের পরিপন্থী নয় যে বইটির সিংহভাগই তাঁর আপত্তির খণ্ডনে নিবেদিত। এরপর কথা হলো, কাযী আস-সারুজির বইটি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, হতে পারে এখানে দুই অধ্যায়ে উল্লিখিত আলোচনাটি তাঁর সেই বই থেকেই নেওয়া।

আর এরপর, এগুলো গভীর চিন্তা ও বিবেচনার কিছু সূত্র। এমন হওয়া সম্ভব যে, লেখক উত্তরের মূল সংকলন শেষ করার পর এই আপত্তিগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তাই ফতোয়ার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি এখানে তাঁর উত্তরগুলো অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করেছেন। কারণ, ‘আল-জাওয়াব’ রচনার পরেও তাঁর কাছে আসা আপত্তিগুলোর উত্তর দেওয়া তিনি বন্ধ করেননি। আর ‘বায়ান তালবীসুল জাহমিয়্যাহ’ বইটি ‘আল-জাওয়াব’-এর পরিশিষ্ট স্বরূপ, যেমনটি তিনি এর ভূমিকায় বর্ণনা করেছেন।

বইটির শেষ এক-চতুর্থাংশের আলোচনা বাকি রয়ে গেছে, যা যুক্তিবিদ্যা সংশ্লিষ্ট। মূল প্রশ্নটি ছিল তাদের সম্পর্কে যারা বলে যে: যুক্তিবিদ্যা শিক্ষা করা ফরযে কিফায়া। লেখক উত্তর শুরু করেছেন এটি অত্যন্ত ভ্রান্ত একটি উক্তি—তা বর্ণনা করার মাধ্যমে। তিনি যুক্তিবিদ্যার নিন্দাকারীদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর অসারতা ও অপ্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছেন সেই ব্যক্তি ছাড়া যার কাছে হিদায়াতের উপকরণসমূহ অনুপস্থিত।

এরপর তিনি যুক্তিবিদদের ‘সংজ্ঞা’ (হুদুদ) সংক্রান্ত আলোচনার খণ্ডনে একটি অধ্যায় শুরু করেন এবং এতে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করেন, যা যুক্তিবিদ্যার অন্যতম একটি অংশ। অতঃপর তিনি তাদের ‘যুক্তিপ্রক্রিয়া’ (কিয়াস) সংক্রান্ত আলোচনার দিকে স্থানান্তরিত হন এবং এর মধ্যকার সঠিক ও বাতিল দিকগুলো তুলে ধরেন। এসব কিছুই করা হয়েছে সংক্ষেপে এবং সেই বিষয়গুলো যেখানে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে সেই স্থানগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে।

এগুলোই হলো বইটির মূল চাবিকাঠি বা সারসংক্ষেপ। আর এর মাঝে লেখকের চিরচেনা রচনশৈলী অনুযায়ী অনেক প্রাসঙ্গিক পার্শ্ব-আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٣١)
*‌‌ منهج المؤلف:

لا يمكن في هذه الورقات أن نستوعب القول أو نقاربه في منهج شيخ الإسلام في كتابه، وحسبنا أن نلمح إلى بعض المعالم والصُّوى بإشارات كاشفة.

فمن معالم منهجه في الكتاب:

* الاختصار، والإحالة. فقد بنى الكتاب عليهما، وصرَّح بذلك في فاتحته فقال: «هذه المسائل بسطُها يحتمل مجلَّدات، لكن نشيرُ إلى المهمِّ منها» ، ومن قرأ تصانيف الشيخ رحمه الله رآه كالسيل الزاعِب تتزاحم في صدره الأفكار والمحفوظات تستبقُ الخروج، وهو يكبحُ جماحها حينًا باختصار القول وحينًا بالإحالة على مواضع أخرى بسط فيها ما يريد(1).

فمن ذلك حين ذكر بعض الآثار في بيان طريقة السلف في باب أسماء الله وصفاته، ثم قال (ص: 10): «ولو ذهبنا نذكرُ ما اطَّلعنا عليه من كلام السَّلف في ذلك لخرجنا عن المقصود في هذا الجواب».

وذكر نحو هذا في مواضع كثيرة (ص: 36، 40، 47، 54، 60، 71، 82، 102، 112) وغيرها.

--------------------------------------------

(1) من اللطائف قول السيوطي في «الإكليل» (591) عند قوله عز وجل: {وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ}: «وفي الآية أصلٌ لما يفعله المصنِّفون من الإحالة على ما ذُكِر في مكانٍ آخر والتنبيه عليه».

লেখকের পদ্ধতি:

এই কয়েক পৃষ্ঠায় শাইখুল ইসলামের তাঁর গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা বা এর কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব নয়; বরং আমরা কেবল কিছু সুস্পষ্ট ইঙ্গিতের মাধ্যমে কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শনের দিকে আলোকপাত করব।

এই গ্রন্থে তাঁর পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

* সংক্ষেপণ এবং উদ্ধৃতি প্রদান (ইহালা)। তিনি গ্রন্থটি এই দুটির উপর ভিত্তি করেই রচনা করেছেন এবং এর শুরুতেই তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন: «এই মাসআলাগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে কয়েক খণ্ডের প্রয়োজন হতে পারে, তবে আমরা এখানে কেবল গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব», আর যিনি শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলী পাঠ করেছেন, তিনি তাকে এক প্রবল প্লাবনের মতো দেখতে পান, যার হৃদয়ে চিন্তা ও মুখস্থ জ্ঞানগুলো একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে বেরিয়ে আসতে চায়। তিনি কখনো সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে এবং কখনো অন্য স্থানের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে সেই স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করেন, যেখানে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন(১)।

তেমনি একটি উদাহরণ হলো যখন তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনায় কিছু আসার (বক্তব্য) উল্লেখ করেন, অতঃপর বলেন (পৃষ্ঠা: ১০): «আমরা যদি এই বিষয়ে সালাফদের যে সকল বক্তব্যের ব্যাপারে অবগত হয়েছি তা উল্লেখ করতে যাই, তবে এই উত্তরের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ব»।

তিনি এই ধরণের কথা আরও অনেক স্থানে উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা: ৩৬, ৪০, ৪৭, ৫৪, ৬০, ৭১, ৮২, ১০২, ১১২) এবং অন্যান্য স্থানেও।

--------------------------------------------

(১) একটি চমৎকার বিষয় হলো সুয়ূতী 'আল-ইকলীল' (৫৯১) গ্রন্থে মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোচনায় বলেছেন: {আর তিনি তো কিতাবে তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসো না যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় লিপ্ত হয়}: «এই আয়াতটি লেখকদের অন্য স্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করা এবং সে সম্পর্কে সতর্ক করার একটি মূল ভিত্তি স্বরূপ»।

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি আহলিল আসার আল-মাতবূ বি ইসমি নাকযিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ٣٢)
* العدل مع المخالف وجداله بالتي هي أحسن. وهذا شأنه في عامة أمره. ومن كلامه في كتابنا قوله (ص: 235) في جواب من اعترض بكلام ابن الجوزي الذي ذمَّ به بعض الحنابلة في باب إثبات الصفات: «وسنتكلَّم على هذا بما ييسِّره الله، متحرِّين للكلام بعلمٍ وعدل».

وقرَّر القاعدة في هذا فقال (ص: 159): «والمناظرة والمحاجَّة لا تنفعُ إلا مع العدل والإنصاف».

وعندما حكى قول ابن الجوزي عن بعض الحنابلة: «ومثل هؤلاء لا يُحَدَّثون، فإنهم يكابرون العقول، وكأنهم يُحَدِّثون الأطفال» قال (ص: 260): «هذا الكلام ليس فيه من الحجَّة والدَّليل ما يستحقُّ أن يخاطَبَ به أهلُ العلم، فإن الردَّ بمجرَّد الشَّتم والتهويل لا يعجزُ عنه أحد، والإنسانُ لو أنه يناظِرُ المشركين وأهل الكتاب لكان عليه أن يذكر من الحجَّة ما يبيِّن به الحقَّ الذي معه والباطل الذي معهم».

ومِن عدله وإنصافه قوله عن الآمدي لما ذكر فتوى ابن الصلاح بعزله عن التدريس وانتزاع المدرسة العزيزية منه (ص: 267): «مع أن الآمديَّ لم يكن أحدٌ في وقته أكثرَ تبحُّرًا في العلوم الكلامية والفلسفية منه، وكان مِن أحسنهم إسلامًا وأمثَلهم اعتقادًا».

وانظر نماذج أخرى من عدله مع المخالفين في (ص: 17 - 21، 28 - 31، 76).

* الإنصاف من النفس. كاعترافه بما عند بعض المنتسبين إلى السلف وأهل الحديث من الغفلة وقلة التثبت في النقل ووضع النصوص في غير
* বিরোধীদের সাথে ইনসাফ করা এবং উত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক করা। এটি ছিল তার সাধারণ কর্মপদ্ধতি। আমাদের কিতাবে তার উক্তি থেকে পাওয়া যায় (পৃষ্ঠা: ২৩৫), ইবনুল জাওযীর বক্তব্যের মাধ্যমে আপত্তিকারীর উত্তরে—যিনি সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্ত করার অধ্যায়ে কিছু হাম্বলীদের নিন্দা করেছিলেন: “আল্লাহ যতটুকু সহজ করেন, আমরা সে সম্পর্কে কথা বলব এবং জ্ঞান ও ইনসাফের সাথে কথা বলার চেষ্টা করব।”

এ বিষয়ে মূলনীতি স্থির করে তিনি বলেছেন (পৃষ্ঠা: ১৫৯): “ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত মুনাযারা (বিতর্ক) ও দলিল প্রদান কোনো কাজে আসে না।”

যখন তিনি কিছু হাম্বলী সম্পর্কে ইবনুল জাওযীর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করলেন যে: “এদের মতো লোকদের সাথে কথা বলা যায় না, কারণ তারা বিবেক-বুদ্ধিকে অস্বীকার করে, যেন তারা শিশুদের সাথে কথা বলছে” তখন তিনি বলেন (পৃষ্ঠা: ২৬০): “এই কথার মাঝে এমন কোনো দলিল বা প্রমাণ নেই যা নিয়ে ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে কথা বলা যায়। কেননা কেবল গালিগালাজ আর ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জবাব দিতে কেউ অক্ষম নয়। একজন মানুষ যদি মুশরিক এবং আহলে কিতাবদের সাথেও বিতর্ক করে, তবে তার কর্তব্য হলো এমন দলিল উপস্থাপন করা যার মাধ্যমে তার কাছে থাকা সত্য এবং তাদের কাছে থাকা বাতিল স্পষ্ট হয়ে যায়।”

তাঁর ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার একটি উদাহরণ হলো আল-আমেদী সম্পর্কে তাঁর উক্তি। যখন তিনি তাকে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং তার থেকে আল-মাদরাসাতুল আযীযিয়্যাহ কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইবনুস সালাহ-এর ফতোয়া উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন (পৃষ্ঠা: ২৬৭): “অথচ আমেদী তাঁর সময়ে ইলমে কালাম ও দর্শনে সবার চেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে ইসলামের দিক থেকে উত্তম এবং আকিদার দিক থেকে আদর্শ স্থানীয়।”

বিরোধীদের সাথে তাঁর ইনসাফের আরও কিছু নমুনা দেখুন (পৃষ্ঠা: ১৭ - ২১, ২৮ - ৩১, ৭৬)।

* নিজের প্রতি ন্যায়পরায়ণতা। যেমন সালাফ ও আহলে হাদিসের অনুসারী বলে পরিচয়দানকারী কারো কারো মাঝে বিদ্যমান গাফিলতি, বর্ণনার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের অভাব এবং দলিলসমূহকে যথাযথ স্থান ব্যতীত অন্যত্র প্রয়োগ করার বিষয়টি তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।