(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
المرحمة الغيثية بالترجمة الليثية (ابن حجر العسقلاني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: المرحمة الغيثية بالترجمة الليثية
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 145
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মারহামাতুল গাইসিয়্যাহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়্যাহ (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-মারহামাতুল গাইসিয়্যাহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়্যাহ
লেখক: আবু আল-ফাদল আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্ভুক্ত বিনামূল্যে বিতরণকৃত ‘জাওয়ামি আল-কালিম’ প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৫
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١)
الْمَرْحَمَةُ الْغَيْثِيَّةُ بِالتَّرْجَمَةِ اللَّيْثِيَّةِفِيهَا أَفْرَادٌ مُخْتَصَرَةٌ مِنْ أَخْبَارِ الإِمَامِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، رضي الله عنه.تَأْلِيفُ الإِمَامِ الْعَلامَةِ فَرِيدِ عَصْرِهِ الشَّيْخِ شِهَابِ الدِّينِ أَحْمَدَ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلانِيِّ الشَّافِعِيِّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ، وَأَسْكَنَهُ أَعْلَى فَرَادِيسِ الْجِنَانِ، وَنَفَعَنَا وَالْمُسْلِمِينَ بِبَرَكَتِهِ فِي الدَّارَيْنِ، آمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ ثِقَتِي قَالَ شَيْخُنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلامَةُ وَحِيدُ دَهْرِهِ وَفَرِيدُ عَصْرِهِ أَفْضَلُ الْمُتَأَخِّرِينَ شِهَابُ الدِّينِ أَحْمَدُ الْعَسْقَلانِيُّ الشَّافِعِيُّ شَيْخُ الْحَدِيثِ، أَدَامَ اللَّهُ أَيَّامَهُ الزَّاهِرَةَ، وَجَمَعَ لَنَا وَلَهُ بَيْنَ خَيْرَيِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَأَحْسَنَ إِلَيْهِ، وَأَسْبَغَ نِعَمَهُ فِي الدَّارَيْنِ بَاطِنَهُ وَظَاهِرَهُ عَلَيْهِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَ بَعْضَ خَلْقِهِ عَلَى بَعْضٍ دَرَجَاتٍ، وَالصَّلاةُ وَالتَّسْلِيمُ عَلَى مُحَمَّدٍ الْمَبْعُوثِ بِالآيَاتِ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ الَّذِينَ فَازُوا بِنُصْرَةِ دِينِهِ حَتَّى حَازُوا أَصْنَافَ الصَّلَوَاتِ، وَعَلَى التَّابِعِينَ بِإِحْسَانٍ لَهُمْ صَلاةً وَسَلامًا دَائِمَيْنِ إِلَى يَوْمِ بَعْثِ الأَمْوَاتِ، أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ جَمَاعَةً مِنَ الإِخْوَانِ الْتَمَسُوا أَفْرَادًا مُخْتَصَرَةً مِنْ أَخْبَارِ فَقِيهِ الدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ أَبِي الْحَارِثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، وَشَيْئًا مِنْ عَوَالِي حَدِيثِهِ، تَذْكِرَةً لِعَهْدِهِ، وَتَبْصِرَةً لِمَنْ يَخْفَى عَلَيْهِ حَالُ مَنْ قَبْلَهُ إِذَا أَتَى مَنْ بَعْدَهُ، فَأَجَبْتُ طِلْبَتَهُمْ، وَصَوَّبْتُ رَغْبَتَهُمْ، وَجَمَعْتُ فِي هَذِهِ الأَوْرَاقِ مَا تَيَسَّرَ مِنْ ذَلِكَ، لِمَا فِيهِ مِنْ نَشْرِ السُّنَّةِ، وَرَتَّبْتُهَا عَلَى ثَمَانِيَةِ أَبْوَابٍ، عَدَدَ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ: الْبَابُ الأَوَّلُ: فِي ذِكْرِ نَسَبِهِ، وَنِسْبَتِهِ، وَمَوْلِدِهِ، وَبَلْدَتِهِ.الْبَابُ الثَّانِي: فِي ذِكْرِ طَلَبِهِ لِلْعِلْمِ وَرِحْلَتِهِ، وَأَسْمَاءِ بَعْضِ شُيُوخِهِ، وَصِفَةِ مَبْدَأِ أَمْرِهِ وَنَشْأَتِهِ.الْبَابُ الثَّالِثُ: فِي مَهَارَتِهِ فِي شَبَابِهِ، وَتَحَرِّيهِ أَسْبَابَ الْمُرُوءَةِ، وَمَكَارِمَ الأَخْلاقِ فِي جَمِيعِ أَسْبَابِهِ.الْبَابُ الرَّابِعُ: فِي ثَنَاءِ الأَئِمَّةِ عَلَيْهِ بِالصِّفَاتِ الْجَمِيلَةِ، وَبَيَانِ سَعَةِ حِفْظِهِ، وَكَثْرَةِ عُلُومِهِ الْجَزِيلَةِ.الْبَابُ الْخَامِسُ: فِي عِظَمِ مِقْدَارِهِ عِنْدَ الْخُلَفَاءِ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الأَحْرَارِ وَالْخُلَفَاءِ.الْبَابُ السَّادِسُ: فِي مَعْرِفَةِ بَعْضِ الآخِذِينَ لِلْحَدِيثِ عَنْهُ، وَالإِشَارَةِ إِلَى بَعْضِ الْمُقْتَبِسِينَ لِلْفِقْهِ مِنْهُ.الْبَابُ السَّابِعُ: فِي بَيَانِ وَقْتِ وَفَاتِهِ، وَمِقْدَارِ عُمْرِهِ عِنْدَ مَمَاتِهِ.الْبَابُ الثَّامِنُ: فِي سِيَاقِ عَوَالِي حَدِيثِهِ الدَّالِّ عَلَى رَفِيعِ قَدْرِهِ، فِي قَدِيمِ أَمْرِهِ وَحَدِيثِهِ.وَاللَّهَ أَسْأَلُ أَنْ لا يَجْعَلَ مَا عَلِمْنَا عَلَيْنَا، وَبِالأَوَانِ يُسْبِلُ عَلَيْنَا سِتْرَ حِلْمِهِ وَكَرَمِهِ سبحانه وتعالى.
ইমাম আল-লাইসের জীবনী বর্ণনায় বৃষ্টিতুল্য করুণাএতে ইমাম আল-লাইস ইবন সা'দ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সংবাদাবলি থেকে সংগৃহীত কিছু সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র বর্ণনা রয়েছে।রচনা করেছেন এই যুগের অদ্বিতীয় ইমাম ও আল্লামা শায়খ শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবন হাজার আল-আসকালানী আশ-শাফিয়ী; আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন, জান্নাতের সুউচ্চ ফিরদাউসে তাঁকে স্থান দান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর বরকত দ্বারা আমাদের ও সকল মুসলমানকে উপকৃত করুন, আমীন। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর ওপর আমার পূর্ণ ভরসা। আমাদের শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ ও যুগশ্রেষ্ঠ আল্লামা, পরবর্তীকালের আলেমদের মাঝে শ্রেষ্ঠতম এবং ইলমে হাদিসের শায়খ শিহাবুদ্দীন আহমাদ আল-আসকালানী আশ-শাফিয়ী—আল্লাহ তাঁর উজ্জ্বল দিনগুলোকে দীর্ঘায়িত করুন এবং আমাদের ও তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ একত্রিত করুন, তাঁর প্রতি সদাচার করুন এবং ইহকাল ও পরকালে তাঁর ওপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিন—তিনি বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির এক অংশকে অন্য অংশের ওপর মর্যাদাগতভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের ওপর যাকে নিদর্শনাবলি সহকারে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর যারা তাঁর দ্বীনকে সাহায্যের মাধ্যমে সফল হয়েছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্তরের রহমত লাভ করেছেন। আর তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীদের ওপরও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত চিরকাল সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: একদল ভাই মিসর ভূখণ্ডের ফকীহ আবু হারিস লাইস ইবন সা'দের ঘটনাবলির কিছু সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র বর্ণনা এবং তাঁর বর্ণিত কিছু উচ্চ সনদযুক্ত হাদিস সংকলনের অনুরোধ জানিয়েছেন; যা তাঁর সময়ের একটি স্মারক হবে এবং যারা পরে আসবে তাদের নিকট যদি পূর্ববর্তীদের অবস্থা অজ্ঞাত থাকে তবে তা তাদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি স্বরূপ হবে। ফলে আমি তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করেছি এবং তাঁদের এই আকাঙ্ক্ষাকে সঠিক মনে করেছি। আমি এই পৃষ্ঠাগুলোতে এ সংক্রান্ত যা সহজলভ্য হয়েছে তা একত্রিত করেছি, কেননা এতে সুন্নাহর প্রচার নিহিত রয়েছে। আমি জান্নাতের দরজাসমূহের সংখ্যার সাথে মিল রেখে গ্রন্থটিকে আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি: প্রথম অধ্যায়: তাঁর বংশ পরিচয়, উপাধি, জন্ম এবং তাঁর শহর প্রসঙ্গে।দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর ইলম অন্বেষণ ও সফর, তাঁর কতিপয় শায়খের নাম এবং তাঁর জীবনের প্রারম্ভিক অবস্থা ও বেড়ে ওঠার বর্ণনা প্রসঙ্গে।তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর যৌবনকালের দক্ষতা এবং তাঁর জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানবতাবোধ ও মহৎ চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের প্রয়াস প্রসঙ্গে।চতুর্থ অধ্যায়: সুন্দর গুণাবলির কারণে ইমামগণের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর বিশাল মুখস্থ শক্তি ও জ্ঞানভাণ্ডারের বর্ণনা প্রসঙ্গে।পঞ্চম অধ্যায়: খলিফাগণ এবং অন্যান্য স্বাধীন ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা প্রসঙ্গে।ষষ্ঠ অধ্যায়: তাঁর নিকট থেকে যারা হাদিস গ্রহণ করেছেন তাঁদের পরিচয় এবং তাঁর নিকট থেকে যারা ফিকহ আহরণ করেছেন তাঁদের প্রতি ইঙ্গিত প্রসঙ্গে।সপ্তম অধ্যায়: তাঁর ইন্তেকালের সময় এবং মৃত্যুকালে তাঁর বয়সের পরিমাণ বর্ণনা প্রসঙ্গে।অষ্টম অধ্যায়: তাঁর বর্ণিত উচ্চ সনদযুক্ত হাদিসসমূহের বিন্যাস প্রসঙ্গে, যা তাঁর সূচনাকাল ও বর্তমানের সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়।আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, আমরা যা জেনেছি তা যেন আমাদের বিপক্ষে দলিল না হয় এবং তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ সত্তা হিসেবে সর্বদা তাঁর সহনশীলতা ও মহানুভবতার পর্দা আমাদের ওপর বিছিয়ে রাখেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
الْبَابُ الأَوَّلُ
প্রথম অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْعِزِّ الْحَنْبَلِيُّ، فِي كِتَابِهِ إِلَيْنَا مِنْ دِمَشْقَ غَيْرَ مَرَّةٍ، أَخْبَرَنَا التَّقِيُّ أَبُو الْفَضْلِ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ الْحَاكِمِ، مُشَافَهَةً، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْمُقْبِرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ نَاصِرٍ الْحَافِظُ، فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَافِظِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ، إِذْنًا، أَخْبَرَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، فِي تَارِيخِ مِصْرَ، قَالَ: اللَّيْثُ بْنُ سَعْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفَقِيهُ، مُكَنَّى أَبَا الْحَارِثِ، يُقَالُ: إِنَّهُ مَوْلَى فَهْمٍ، ثُمَّ لآلِ خَالِدِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ طَاعِنٍ الْفَهْمِيِّ، ثُمَّ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْقَيْسِ، وَكَانَ اسْمُهُ فِي دِيوَانِ مِصْرَ فِي مَوَالِي بَنِي كِنَانَةَ: ابْنَ فَهْمٍ، وَأَهْلُ بَيْتِهِ يَقُولُونَ: نَحْنُ مِنَ الْفُرْسِ مِنْ أَهْلِ أَصْبَهَانَ، قَالَ ابْنُ يُونُسَ: وَلَيْسَ لِمَا قَالُوهُ مِنْ ذَلِكَ عِنْدَنَا صِحَّةٌ، يَعْنِي: كَوْنَهُمْ مِنَ الْفُرْسِ، فَأَمَّا أَنَّ أَصْلَهُمْ مِنْ أَصْبَهَانَ، فَجَاءَ عَنِ اللَّيْثِ نَفْسِهِ ذَلِكَ
১ - আবু আব্বাস আহমদ বিন আবি বকর বিন আল-ইয্য আল-হাম্বলী তাঁর কিতাবে দামেস্ক থেকে একাধিকবার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাকী আবু আল-ফজল বিন আবি তাহির আল-হাকিম সরাসরি মৌখিকভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান বিন আল-মুকবির থেকে; হাফেজ আবু আল-ফজল বিন নাসির তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহর পুত্র আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান অনুমতিক্রমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা 'তারিখে মিসর' গ্রন্থে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফকীহ লাইস বিন সাদ বিন আব্দুর রহমান, তাঁর উপনাম আবু আল-হারিস; বলা হয় যে, তিনি ফাহম গোত্রের মাওলা ছিলেন, অতঃপর খালেদ বিন সাবিত বিন তায়েন আল-ফাহমীর পরিবারের, এরপর বনু কিনানাহ বিন আমর বিন আল-কায়সের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মিসরের রাষ্ট্রীয় নথিতে বনু কিনানাহর মাওলাদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল 'ইবনে ফাহম'; এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলেন: আমরা পারস্যের অন্তর্ভুক্ত ইসফাহান অঞ্চলের অধিবাসী। ইবনে ইউনুস বলেন: তাদের এই দাবির কোনো সত্যতা আমাদের নিকট নেই, অর্থাৎ তাদের পারস্যের অধিবাসী হওয়ার বিষয়টি; তবে তাদের মূল ভিত্তি যে ইসফাহান থেকে, তা স্বয়ং লাইস থেকেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
2 - قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْحَسَنِ ابْنِ أَبِي الْمَجْدِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الدِّمَشْقِيِّ، أَنَّ يُوسُفَ بْنَ خَلِيلٍ الْحَافِظَ أَخْبَرَهُمْ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ الْجَمَّالُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الطَّحَّانَ يَقُولُ: سَمِعْتَ ابْنَ حَمَّادٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ اللَّيْثَ يَقُولُ: نَحْنُ مِنْ أَهْلِ أَصْبَهَانَ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا.وَقَالَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ فِي تَارِيخِهِ: كَانَ اللَّيْثُ يَقُولُ: أَصْلُنَا مِنْ أَصْبَهَانَ.وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ الْحَاكِمُ فِي الْكُنَي: أَبُو الْحَارِثِ اللَّيْثُ بْنَ سَعْدٍ مَوْلًى مِنْ بَنِي فَهْمِ بْنِ قَيْسٍ.وَقَالَ ابْنُ يُونُسَ فِيمَا أَخْرَجَهُ مِنْ طَرِيقِ عَمْرِو بْنِ أَبِي الطَّاهِرِ بْنِ السَّرْحِ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ بُكَيْرٍ يَقُولُ: سَعْدٌ وَالِدُ اللَّيْثِ كَانَ مِنْ مَوَالِي قُرَيْشٍ، ثُمَّ افْتَرَضَ مِنْ بَنِي سَهْمٍ فَنُسِبَ إِلَيْهِمْ وَتَبِعَهُ اللَّيْثُ بَعْدَهُ.وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: اللَّيْثُ مَوْلَى بَنِي قَيْسٍ، وَظَنَّ أَبُو نَصْرٍ الْكَلابَاذِيُّ اخْتِلافَ التَّسْمِيَتَيْنِ، فَجَعَلَهُمَا قَوْلَيْنِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ، بَلْ فَهْمٌ مِنْ قَيْسٍ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
২ - আমি আবুল হাসান ইবনে আবিল মাজদের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু বকর আদ-দিমাশকি থেকে, যে হাফেজ ইউসুফ ইবনে খলিল তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-জাম্মাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাদ্দাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমি আবুল হাসান আত-তাহহানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে হাম্মাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি লাইসকে বলতে শুনেছি: আমরা আসফাহানের অধিবাসী, সুতরাং তোমরা তাদের সাথে সদয় আচরণ করার অসিয়ত গ্রহণ করো।ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান তার ইতিহাসে বলেছেন: লাইস বলতেন: আমাদের মূল আসফাহান থেকে।আবু আহমদ আল-হাকিম 'আল-কুনা' গ্রন্থে বলেছেন: আবুল হারিস লাইস ইবনে সাদ ছিলেন বনু ফাহম ইবনে কায়স গোত্রের আযাদকৃত দাস।ইবনে ইউনুস, আমর ইবনে আবু তাহির ইবনে আস-সারহ-এর সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইরকে বলতে শুনেছি: লাইসের পিতা সাদ কুরাইশদের আযাদকৃত দাস ছিলেন, এরপর তিনি বনু সাহম গোত্রে তালিকাভুক্ত হন এবং তাদের দিকেই তার সম্বন্ধ করা হয় এবং লাইসও পরবর্তীতে তার অনুসরণ করেন।বুখারী বলেছেন: লাইস বনু কায়স গোত্রের আযাদকৃত দাস। আবু নাসর আল-কালাবাদি নাম দুটির ভিন্নতা মনে করে সেগুলোকে দুটি ভিন্ন মত হিসেবে গণ্য করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং ফাহম কায়স গোত্রেরই একটি শাখা। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
ذِكْرُ مَوْلِدِهِ
তাঁর জন্মের আলোচনা
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
3 - قَالَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ فِي تَارِيخِهِ: قَالَ يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ: سَمِعْتُ شُعَيْبَ بْنَ اللَّيْثِ، يَقُولُ: كَانَ اللَّيْثُ يَقُولُ لَنَا: قَالَ لِي بَعْضُ أَهْلِي: إِنِّي وُلِدْتُ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَتِسْعِينَ، وَالَّذِي أُوقِنُ أَنِّي وُلِدْتُ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ، وَقَالَ أَبُو صَالِحٍ كَاتِبُ اللَّيْثِ: سَمِعْتُ اللَّيْثَ، يَقُولُ: مَاتَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَلِي سَبْعُ سِنِينَ، قُلْتُ: وَكَانَتْ وَفَاةُ عُمَرَ سَنَةَ إِحْدَى وَمِائَةٍ، فَيَكُونُ مَوْلِدُهُ سَنَةَ أَرْبَعٍ، وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، عَنْ أَبِيهِ: وُلِدَ سَنَةَ أَرْبَعٍ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: سَنَةَ ثَلاثٍ، وَكَذَا قَالَ ابْنُ سَعْدٍ: وُلِدَ اللَّيْثُ سَنَةَ ثَلاثٍ أَوْ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ.وَقَالَ الْبُخَارِيُّ فِي تَارِيخِهِ: قَالَ يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ: وُلِدَ اللَّيْثُ لأَرْبَعَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ شَعْبَانَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ، وَكَذَا قَالَ ابْنُ حِبَّانَ وَزَادَ: يَوْمَ الْجُمُعَةِ، قُلْتُ: فَيَكُونَ لَهُ الآنَ مُنْذُ وُلِدَ سَبْعُ مِائَةِ سَنَةٍ وَأَرْبَعُونَ سَنَةً لا تَزِيدُ يَوْمًا وَلا تَنْقُصُ يَوْمًا، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
৩ - ইয়াকুব ইবনে সুফইয়ান তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বলেছেন: আমি শুআইব ইবনুল লাইসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: লাইস আমাদের বলতেন: আমার পরিবারের কেউ কেউ আমাকে বলেছে যে, আমি ৯২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছি, তবে আমি যে বিষয়ে নিশ্চিত তা হলো আমি ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছি। লাইসের লেখক আবু সালিহ বলেছেন: আমি লাইসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ ইন্তেকাল করেন যখন আমার বয়স সাত বছর ছিল। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: উমরের মৃত্যু হয়েছিল ১০১ হিজরিতে, ফলে তাঁর জন্মসন দাঁড়ায় ৯৪ হিজরি। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: ৯৩ হিজরিতে। ইবনে সাদও অনুরূপ বলেছেন: লাইস ৯৩ অথবা ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।ইমাম বুখারি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বলেছেন: লাইস ৯৪ হিজরির শাবান মাসের চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে হিব্বানও অনুরূপ বলেছেন এবং অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, সেটি ছিল জুমার দিন। আমি বলছি: তাঁর জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতশত চল্লিশ বছর অতিবাহিত হলো, যা একদিনও বেশি নয় এবং একদিনও কম নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
الْبَابُ الثَّانِي
দ্বিতীয় অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
4 - قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ: أَدْرَكَ اللَّيْثُ تِسْعًا وَخَمْسِينَ رَجُلا مِنَ التَّابِعِينَ، وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: قَالَ يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ: قَالَ اللَّيْثُ: سَمِعْتُ مِنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ بِمَكَّةَ سَنَةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ، وَهِيَ أَوَّلُ سَنَةِ حَجٍّ، وَرَوَى ابْنُ يُونُسَ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ وَنَحْنُ بِمَكَّةَ سَنَةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ، وَسَمِعَ بِبَلَدِهِ مِنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَجَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَالْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، وَخَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، وَخَيْرِ بْنِ نُعَيْمٍ، وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، وَبِالْحِجَازِ مِنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، وَنَافِعٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ، وَهِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، وَأَبِي الزُّبَيْرِ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الْمَكِّيِّ، وَأَيُّوبَ بْنِ مُوسَى الأُمَوِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، وَعَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، وَعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، وَقَتَادَةَ، وَسَمِعَ فِي رِحْلَتِهِ إِلَى الْعِرَاقِ وَهُوَ كَبِيرٌ مِنْ هِشَامٍ وَهُوَ أَصْغَرُ مِنْهُ.قَالَ أَبُو صَالِحٍ: خَرَجْتُ مَعَ اللَّيْثِ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَسِتِّينَ، فَشَهِدْنَا الأَضْحَى بِبَغْدَادَ، فَقَالَ لِي اللَّيْثُ: سَلْ عَنْ مَنْزِلِ هُشَيْمٍ الْوَاسِطِيِّ، فَقُلْ لَهُ: أَخُوكَ اللَّيْثُ الْمِصْرِيُّ يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلامُ، وَيَسْأَلُكَ أَنْ تَبْعَثَ إِلَيْهِ شَيْئًا مِنْ كُتُبِكَ، فَذَهَبْتُ إِلَيْهِ، فَفَعَلَ، فَكَتَبْتُ لِلَيْثٍ مِنْهَا، وَسَمِعْتُهَا مِنْ هُشَيْمٍ مَعَ اللَّيْثِ.وَرَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى نَافِعٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ؟ قُلْتُ: مِنْ أَهْلِ مِصْرَ، قَالَ: مِمَّنْ؟ قُلْتُ: مِنْ قَيْسٍ، قَالَ: مِنْ كَمْ؟ قُلْتُ: مِنْ عِشْرِينَ، قَالَ: أَمَّا لِحْيَتُكَ، فَلِحْيَةُ ابْنِ أَرْبَعِينَ
৪ - আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: লাইস উনষাট জন তাবিঈর সাক্ষাত পেয়েছিলেন। ইমাম বুখারী বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বলেছেন: লাইস বলেছেন: আমি একশ তেরো হিজরী সালে মক্কায় ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে শুনেছি, আর এটিই ছিল আমার হজের প্রথম বছর। ইবনে ইউনুস ইবনে ওয়াহাবের সূত্রে লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা যখন একশ তেরো হিজরী সালে মক্কায় ছিলাম তখন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তিনি তার নিজ দেশে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, জাফর ইবনে রাবিআহ, হারিস ইবনে ইয়াকুব, উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর, খালিদ ইবনে ইয়াজিদ, খাইর ইবনে নুয়াইম এবং সাঈদ ইবনে আবি ইয়াজিদ থেকে শুনেছেন। আর হিজাজে আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি, হিশাম ইবনে উরওয়াহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, আবু আজ-জুবায়ের মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-মাক্কি, আইয়ুব ইবনে মুসা আল-উমাবি, আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ, আমর ইবনে শুআইব, আমর ইবনে দিনার এবং কাতাদাহ থেকে শুনেছেন। তিনি বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার ইরাক সফরে হিশামের নিকট থেকে শুনেছেন, অথচ হিশাম তার চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন।আবু সালিহ বলেন: আমি একশ একষট্টি হিজরী সালে লাইসের সাথে বের হয়েছিলাম, আমরা বাগদাদে ঈদুল আজহা প্রত্যক্ষ করেছি। লাইস আমাকে বললেন: হুশাইম আল-ওয়াসিতির বাড়ির খোঁজ নাও এবং তাকে বলো: তোমার ভাই মিসরীয় লাইস তোমাকে সালাম জানিয়েছে এবং তোমার কাছে অনুরোধ করেছে তার নিকট তোমার কিছু কিতাব পাঠানোর জন্য। আমি তার কাছে গেলাম এবং তিনি তা করলেন। এরপর আমি লাইসের জন্য সেখান থেকে লিখে নিলাম এবং লাইসের সাথে হুশাইম থেকে তা শ্রবণ করলাম।একাধিক ব্যক্তি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফির নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আমি বললাম: মিসরবাসীদের পক্ষ থেকে। তিনি বললেন: কোন বংশের? আমি বললাম: কাইস বংশের। তিনি বললেন: বয়স কত? আমি বললাম: বিশ বছর। তিনি বললেন: আপনার দাড়ি তো চল্লিশ বছর বয়সের ব্যক্তির দাড়ির মতো।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
90 - وَرَوَى الْخَطِيبُ مِنْ طَرِيقِ الْخَضِرِ بْنِ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، سَمِعْتُ اللَّيْثَ، يَقُولُ: حَجَجْتُ أَنَا وَابْنُ لَهِيعَةَ، فَرَأَيْتُ نَافِعًا مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ، فَدَخَلْتُ مَعَهُ إِلَى دُكَّانِ عَلافٍ، فَحَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، فَقَالَ: مَنْ هَذَا؟ قُلْتُ: مَوْلًى لَنَا، فَلَمَّا رَجَعْنَا إِلَى مِصْرَ، جَعَلْتُ أُحَدِّثُ عَنْ نَافِعٍ، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ ابْنُ لَهِيعَةَ، وَقَالَ أَيْنَ لَقِيتَهُ؟ قُلْتُ: أَمَا رَأَيْتَ الْعَبْدَ الَّذِي فِي دُكَّانِ الْعَلافِ، هُوَ ذَاكَ.قُلْتُ: وَقَعَتْ لِي نُسْخَةُ اللَّيْثِ عَنْ نَافِعٍ مِنَ الأَحَادِيثِ الْمَرْفُوعَةِ وَالْمَوْقُوفَةِ نَحْوَ الْمِائَةِ، وَمَعَ ذَلِكَ فَكَانَ اللَّيْثُ يَرْوِي عَنْهُ مَا لَيْسَ عِنْدَهُ مِنْهُ مُشَافَهَةً بِالْوَاسِطَةِ، وَرُبَّمَا رَوَى عَنْهُ بِأَكْثَرَ مِنْ وَاسِطَةِ وَاحِدٍ، فَإِنَّهُ رَوَى عَنْ هِقْلِ بْنِ زِيَادٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، وَقَدْ سَمِعَ مِنْ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ كَثِيرًا، وَتَدْخُلُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الزُّهْرِيِّ الْوَاسِطَةُ بِوَاحِدٍ كَعُقَيْلٍ، وَيُونُسَ، وَغَيْرِهِمَا، وَذَلِكَ فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَبِاثْنَيْنِ كَمَا رَوَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَبِثَلاثَةٍ كَمَا رَوَى عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَسَمِعَ مِنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، وَحَدِيثُهُ عَنْهُ مِنْ أَصَحِّ الْحَدِيثِ، لَمْ يُسْمَعْ مِنْهُ شَيْءٌ دُلِّسَ فِيهِ، وَقَدْ رَوَى عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، وَمَا مِنْ هَؤُلاءِ الْوَسَائِطِ، إِلا مَنْ سَمِعَ فِيهِ الْكُتُبَ، وَلَكِنَّهُ كَانَ لا يُحِبُّ التَّدْلِيسَ، فَكَانَ لا يُبَالِي إِذْ نَزَلَ فِي الرِّوَايَةِ إِذْ لَمْ يَسْمَعْ، فَقَدْ حَدَّثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ، وَرَوَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، وَسَمِعَ مِنْ رَبِيعَةَ، وَحَدَّثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْهُ، وَسَمِعَ مِنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، وَحَدَّثَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حُبَابٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْهُ، وَكَانَ مِنْ سَعَةِ عِلْمِهِ يُحَدِّثُ مِنْ لِسَانِهِ بِمَا عِنْدَهُ.قَالَ ابْنُ يُونُسَ: انْفَرَدَ الغُرَبَاءُ عَنِ اللَّيْثِ بِأَحَادِيثَ لَمْ يَسْمَعْهَا مِنْهُ أَهْلُ مِصْرَ، وَقَدْ حَدَّثَ عَنْهُ مِنْ شُيُوخِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ، وَهِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، وَمِنْ أَقْرَانِهِ: ابْنُ لَهِيعَةَ، وَقَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَهُشَيْمٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَغَيْرُهُمْ.وَقَالَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ اللَّيْثَ يَقُولُ: كَتَبْتُ مِنْ عِلْمِ الزُّهْرِيِّ، يَعْنِي: عَنْ غَيْرِهِ، قَالَ: فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْكَبَ الْبَرِيدَ إِلَيْهِ إِلَى الرُّصَافَةِ، فَخِفْتُ أَلا يَكُونَ ذَلِكَ لِلَّهِ، فَتَرَكْتُ ذَلِكَ، يَعْنِي: عَنْ غَيْرِهِ، فَصَارَ يَرْوِي بِالْوَاسِطَةِ كَذَلِكَ
৯০ - আল-খাতীব খাযির ইবনে উবাইদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি লাইসকে বলতে শুনেছি: আমি এবং ইবনুল লাহীআহ হজ সম্পন্ন করলাম। সেখানে আমি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি'কে দেখতে পেলাম। আমি তার সাথে এক পশুখাদ্য বিক্রেতার দোকানে প্রবেশ করলাম। ইবনুল লাহীআহ আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইনি কে? আমি বললাম: আমাদের একজন মুক্তদাস। এরপর আমরা যখন মিসরে ফিরে এলাম, আমি নাফি'র সূত্রে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলাম। তখন ইবনুল লাহীআহ তা অস্বীকার করলেন এবং বললেন: তুমি তার দেখা কোথায় পেলে? আমি বললাম: আপনি কি পশুখাদ্য বিক্রেতার দোকানে সেই গোলামটিকে দেখেননি? ইনিই সেই ব্যক্তি।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নাফি'র সূত্রে লাইসের বর্ণিত মারফু এবং মাওকুফ হাদিসসমূহের একটি পাণ্ডুলিপি আমার নিকট পৌঁছেছে যাতে প্রায় একশটি হাদিস রয়েছে। তা সত্ত্বেও লাইস তাঁর (নাফি'র) থেকে সরাসরি শোনেননি এমন হাদিসগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে বর্ণনা করতেন। কখনও কখনও তিনি তাঁর থেকে একের অধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও বর্ণনা করতেন। যেমন তিনি হিকল ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আতা থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি নাফি' থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরী থেকে প্রচুর হাদিস শুনেছেন, আবার তাঁর এবং জুহরীর মাঝে কখনও একজন মধ্যস্থতাকারী থাকে—যেমন উকাইল, ইউনুস এবং অন্যান্যরা—যা সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বিদ্যমান। কখনও কখনও দুইজন মধ্যস্থতাকারী থাকে, যেমন তিনি ইব্রাহিম ইবনে সা'দ থেকে, তিনি সালিহ ইবনে কাইসান থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কখনও তিনজন মধ্যস্থতাকারী থাকে, যেমন তিনি খালিদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনুল হাদী থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবুয যুবাইর থেকেও হাদিস শুনেছেন এবং তাঁর সূত্রে লাইসের বর্ণনাগুলো সহীহতম হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তাঁর থেকে এমন কোনো হাদিস শোনা যায়নি যাতে তাদলীস (দোষ গোপন) করা হয়েছে। আবার তিনি খালিদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি আবুয যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। এই মধ্যস্থতাকারীদের প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহ শ্রবণ করেছিলেন। কিন্তু লাইস তাদলীস পছন্দ করতেন না, তাই তিনি যখন নিজে সরাসরি কোনো হাদিস শোনেননি তখন বর্ণনায় সানাদ দীর্ঘ (নাযিল) হওয়াতে তাঁর কোনো সংকোচ ছিল না। তিনি হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে সরাসরি বর্ণনা করেছেন, আবার উবাইদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে—এভাবেও বর্ণনা করেছেন। তিনি রাবিআহ থেকেও শুনেছেন, আবার ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে মূসা থেকে, তিনি তাঁর (রাবিআহ) থেকে—এভাবেও বর্ণনা করেছেন। তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকেও শুনেছেন, আবার ইয়াযিদ ইবনে আবি হুবাব থেকে, তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি তাঁর (সাঈদ) থেকে—এভাবেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর অগাধ ইলমের কারণে তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন।ইবনে ইউনুস বলেন: বহিরাগত রাবিগণ লাইসের সূত্রে এমন কিছু হাদিস এককভাবে বর্ণনা করেছেন যা মিসরীয়রা তাঁর থেকে শোনেননি। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে আজলান এবং হিশাম ইবনে সাদ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে ইবনুল লাহীআহ, কায়েস ইবনুর রাবী, হুশাইম, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এমন ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যিনি লাইসকে বলতে শুনেছেন: আমি জুহরীর ইলম লিপিবদ্ধ করেছি (অর্থাৎ অন্যদের মাধ্যমে)। লাইস বলেন: আমি জুহরীর নিকট রুসাফাতে ডাকযোগে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলাম, কিন্তু ভয় হলো যে, হয়তো তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হবে না; তাই আমি তা পরিত্যাগ করলাম। অর্থাৎ তিনি অন্যদের নিকট থেকে (জুহরীর ইলম) গ্রহণ করেছিলেন এবং সেভাবেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বর্ণনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الْبَابُ الثَّالِثُ
তৃতীয় অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
91 - قَالَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ فِي تَارِيخِهِ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ بُكَيْرٍ، يَقُولُ: قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، هُوَ الدَّرَاوَرْدِيُّ: رَأَيْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ عِنْدَ رَبِيعَةَ يُنَاظِرُهُمْ فِي الْمَسَائِلِ، وَقَدْ فَارَقَ أَهْلَ الْحَلَقَةِ
৯১ - ইয়াকুব বিন সুফিয়ান তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন বুকায়রকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ —যিনি আদ-দারাওয়ারদী— বলেছেন: আমি লায়স বিন সাদকে রাবিআর নিকট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের সাথে বিতর্ক করতে দেখেছি, এমতাবস্থায় যে তিনি হালকার লোকজনকে ত্যাগ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
92 - وَقَالَ ابْنُ يُونُسَ، بِالسَّنَدِ الْمَاضِي إِلَيْهِ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قُدَيْدٍ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ، يَذْكُرُ أَنَّ يَحْيَى بْنَ بُكَيْرٍ حَدَّثَهُ، قَالَ: سَمِعْتُ شُرَحْبِيلَ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ: أَدْرَكْتُ النَّاسَ فِي زَمَنِ هِشَامِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَهُمْ مُتَوَافِرُونَ، مِثْلَ: يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، وَجَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَالْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، وَابْنِ هُبَيْرَةَ، وَمَنْ تَقَدَّمَ سَفِيرٌ مِنْ عُلَمَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، وَمِنْ عُلَمَاءِ أَهْلِ الشَّامِ لِلرِّبَاطِ، وَاللَّيْثُ يَوْمَئِذٍ حَدَّثَ شَابٌّ، وَإِنَّهُمْ لَيَعْرِفُونَ فَضْلَهُ، وَيُقَدِّمُونَهُ وَيُشَارُ إِلَيْهِ
92 - ইবনে ইউনুস তার পূর্বোক্ত সনদে বলেছেন: আলী বিন কুদাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইয়াহইয়া বিন উসমান বিন সালিহকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, ইয়াহইয়া বিন বুকাইর তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুরাহবিল বিন ইয়াজিদকে বলতে শুনেছি: আমি হিশাম বিন আব্দুল মালিকের সময়ে অনেককে বিদ্যমান পেয়েছি, যেমন: ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব, উবায়দুল্লাহ বিন জাফর, জাফর বিন রাবিআহ, হারিস বিন ইয়াজিদ, ইবনে হুবাইরাহ এবং মদিনাবাসী আলেমদের মধ্য থেকে যারা অগ্রবর্তী ছিলেন যেমন সাফির, এবং সীমান্ত পাহারার জন্য আগত শাম দেশীয় আলেমদের মধ্য থেকে। লাইস সেই সময়ে একজন যুবক বর্ণনাকারী ছিলেন, তবুও তারা তার মর্যাদা জানতেন, তাকে অগ্রবর্তী করতেন এবং তার দিকেই (জ্ঞানের জন্য) ইঙ্গিত করা হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
93 - وَقَالَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ بُكَيْرٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ اللَّيْثَ يَقُولُ: رَآنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، وَقَدْ نَقَلْتُ شَيْئًا مِنَ الْمُبَاحَاتِ، فَقَالَ: لا تَفْعَلْ، فَإِنَّكَ إِمَامٌ مَنْظُورٌ إِلَيْكَ، قُلْتُ: وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ تَابِعِيٌّ مِنْ شُيُوخِ اللَّيْثِ
৯৩ - ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন বুকাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি লাইসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারী আমাকে এমন অবস্থায় দেখলেন যে আমি কিছু মুবাহ (বৈধ) বস্তু বহন করছিলাম। তখন তিনি বললেন: আপনি এমনটি করবেন না; কেননা আপনি এমন একজন ইমাম যার দিকে মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ একজন তাবিঈ এবং তিনি লাইসের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
5 - وَقَالَ يَحْيَى بْنُ عُمَرَ بْنِ صَالِحٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: قُلْتُ لِلَيْثٍ: بَلَغَنِي أَنَّكَ أَخَذْتَ بِرِكَابِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: نَعَمْ لِلْعِلْمِ، أَمَّا لِغَيْرِ ذَلِكَ فَلا، وَاللَّهِ مَا فَعَلْتُهُ
৫ - ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে সালিহ আস-সাহমি বলেছেন, আমর ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি লাইসকে বললাম, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরির রেকাব ধরেছিলেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইলমের জন্য; তবে অন্য কিছুর জন্য নয়। আল্লাহর কসম, আমি তা করিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ دَاوُدَ الْعَابِدُ، إِذْنًا مُشَافَهَةً، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيِّ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَقْبُرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنِي الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا عِلانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، كَاتِبَ اللَّيْثِ، يَقُولُ: كُنَّا عِنْدَ بَابِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فَامْتَنَعَ عَلَيْنَا ـ أَيِ: احْتَجَبَ ـ فَقُلْنَا: لَيْسَ يُشْبِهُ هَذَا صَاحِبَنَا، قَالَ: فَسَمِعَ مَالِكٌ كَلامَنَا، فَأَمَرَ بِإِدْخَالِنَا عَلَيْهِ، فَقَالَ لَنَا: مَنْ صَاحِبُكُمْ؟ قُلْنَا: اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: تُشَبِّهُونِّي بِرَجُلٍ كَتَبْتُ إِلَيْهِ فِي قَلِيلِ عُصْفُرٍ نَصْبِغُ بِهِ ثِيَابَ صِبْيَانِنَا، فَبَعَثَ إِلَيْنَا مِنْهُ مَا صَبَغْنَا بِهِ ثِيَابَ صِبْيَانِنَا وَثِيَابَ جِيرَانِنَا، وَبِعْنَا الْفَضْلَ بِأَلْفِ دِينَارٍ
৬ - আবু মুহাম্মদ ইবরাহিম ইবনে দাউদ আল-আবিদ মৌখিকভাবে অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহিম ইবনে আলী ইবনে সিনান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল লতিফ ইবনে আবদুল মুনইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাইমি থেকে, আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-মাকবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুআয়ম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাদরামি আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইলান ইবনে আল-মুগিরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি লাইসের লেখক আবু সালিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা মালিক ইবনে আনাসের দরজায় উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের নিকট অন্তরাল অবলম্বন করলেন—অর্থাৎ তিনি পর্দার আড়ালে থাকলেন—তখন আমরা বললাম: "এটি আমাদের সাথীর আচরণের সাথে সদৃশ নয়।" রাবী বলেন: মালিক আমাদের কথা শুনতে পেলেন এবং আমাদের তাঁর নিকট প্রবেশের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি আমাদের বললেন: "তোমাদের সেই সাথী কে?" আমরা বললাম: "লাইস ইবনে সাদ।" তিনি বললেন: "তোমরা আমাকে এমন এক ব্যক্তির সাথে তুলনা করছ, যার কাছে আমি আমাদের সন্তানদের কাপড় রঞ্জিত করার জন্য সামান্য কিছু কুসুম ফুল চেয়ে লিখেছিলাম, তখন তিনি আমাদের নিকট তা এত বেশি পরিমাণে পাঠালেন যে, তা দিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের কাপড় এবং আমাদের প্রতিবেশীদের কাপড়ও রঞ্জিত করলাম এবং অতিরিক্ত অংশ এক হাজার দিনারে বিক্রয় করলাম।"
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
7 - وَبِهِ إِلَى أَبِي نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، هُوَ السَّرَّاجُ، سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: نَقَلْنَا مَعَ اللَّيْثِ مِنَ الإِسْكَنْدَرِيَّةِ، وَكَانَ مَعَهُ ثَلاثُ سَفَائِنَ: سَفِينَةٌ فِيهَا مَطْبَخُهُ، وَسَفِينَةٌ فِيهَا عِيَالُهُ، وَسَفِينَةٌ فِيهَا أَضْيَافُهُ
৭ - এবং একই সূত্রে আবু নুয়াইম পর্যন্ত; আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইসহাক—যিনি আস-সাররাজ—বর্ণনা করেছেন, আমি কুতাইবা ইবন সাঈদকে বলতে শুনেছি: আমরা লাইসের সাথে ইস্কান্দারিয়া থেকে সফর করেছি। তাঁর সাথে তিনটি জাহাজ ছিল: একটি জাহাজে ছিল তাঁর রান্নাঘর, একটি জাহাজে ছিল তাঁর পরিবার-পরিজন এবং একটি জাহাজে ছিল তাঁর মেহমানগণ।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
8 - وَبِهِ إِلَى أَبِي نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحٍ، قَالَ: صَحِبْتُ اللَّيْثَ عِشْرِينَ سَنَةً، فَكَانَ لا يَتَغَذَّى وَحْدَهُ، وَلا يَتَعَشَّى وَحْدَهُ إِلا مَعَ النَّاسِ
৮ - এবং একই সনদে আবু নুআইম পর্যন্ত, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশ বছর লাইসের সান্নিধ্যে ছিলাম, তিনি কখনো একা দুপুরের খাবার খেতেন না এবং একা রাতের খাবারও খেতেন না, বরং লোকজনের সাথেই আহার করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
9 - وَبِهِ إِلَى أَبِي نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، سَمِعْتُ أَسَدَ بْنَ مُوسَى، يَقُولُ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ يَطْلُبُ بَنِي أُمَيَّةَ فَيَقْتُلَهُمْ، فَرَحَلْتُ إِلَى مِصْرَ، فَدَخَلْتُهَا فِي هَيْئَةٍ رَثَّةٍ، فَدَخَلْتُ عَلَى اللَّيْثِ، فَلَمَّا فَرَغَ الْمَجْلِسُ، خَرَجْتُ فَتَبِعَنِي خَادِمٌ، فَقَالَ: اجْلِسْ حَتَّى أَخْرُجَ إِلَيْكَ، فَجَلَسْتُ حَتَّى خَرَجَ، وَأَنَا وَحْدِي، فَدَفَعَ لِي صُرَّةً فِيهَا مِائَةُ دِينَارٍ، فَقَالَ: يَقُولُ لَكَ اللَّيْثُ أَصْلِحْ بِهَذِهِ النَّفَقَةِ أَمْرَكَ وَلُمَّ شَعْثَكَ، قَالَ: وَكَانَ مَعِي فِي خِرْقِي أَلْفُ دِينَارٍ، فَأَخْرَجْتُهَا لَهُ، وَقُلْتُ: اسْتَأْذِنْ لِي عَلَى الشَّيْخِ، فَدَخَلْتُ فَأَخْبَرْتُهُ بِنَسَبِي، فَقَالَ: إِنَّهَا صِلَةٌ وَلَيْسَتْ صَدَقَةً، وَاعْتَذَرْتُ إِلَيْهِ عَنْ قَبُولِ صِلَتِهِ، وَقُلْتُ: أَكْرَهُ أَنْ أُعَوِّدَ نَفْسِي عَادَةً، وَأَنَا عَنْهَا غَنِيٌّ، قَالَ: فَادْفَعْهَا إِلَى أَصْحَابِ الْحَدِيثِ مِمَّنْ تَرَاهُ مُسْتَحِقًّا لَهَا، فَلَمْ يَزَلْ بِي حَتَّى أَخَذْتُهَا فَفَرَّقْتُهَا فِي جَمَاعَةٍ
৯ - এবং তাঁর মাধ্যমে আবু নুয়াইম পর্যন্ত একটি সনদ রয়েছে যে, সুলাইমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক বিন শুয়াইব বিন লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসাদ বিন মুসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আলী উমাইয়া বংশধরদের তালাশ করে করে হত্যা করছিল, তাই আমি মিশরে হিজরত করলাম এবং সেখানে জরাজীর্ণ বেশে প্রবেশ করলাম। এরপর আমি লাইস বিন সাদের নিকট উপস্থিত হলাম। মজলিস শেষ হলে আমি বেরিয়ে আসলাম, তখন একজন খাদেম আমার পিছু নিল। সে বলল: আপনি বসুন যতক্ষণ না আমি আপনার নিকট ফিরে আসি। আমি একাকী বসে রইলাম যতক্ষণ না সে ফিরে এল। সে আমাকে একশ দিনার সম্বলিত একটি থলি প্রদান করল এবং বলল: লাইস আপনাকে বলছেন যে, এই অর্থ দিয়ে আপনার অবস্থা সংশোধন করুন এবং আপনার অভাব দূর করুন। আসাদ বিন মুসা বললেন: অথচ আমার পোঁটলার ভেতর এক হাজার দিনার ছিল, আমি তা তাকে বের করে দেখালাম এবং বললাম: শাইখের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি নিয়ে দাও। আমি প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে আমার বংশপরিচয় জানালাম। তিনি বললেন: এটি একটি উপঢৌকন, সদকা নয়। আমি তাঁর উপঢৌকন গ্রহণ করতে তাঁর নিকট অপারগতা প্রকাশ করলাম এবং বললাম: আমি নিজেকে এমন অভ্যাসে অভ্যস্ত করতে অপছন্দ করি যা থেকে আমি অমুখাপেক্ষী। তিনি বললেন: তবে এটি হাদীস অন্বেষণকারীদের মধ্যে যাদের আপনি উপযুক্ত মনে করেন তাদের মাঝে প্রদান করুন। তিনি পিড়াপিড়ি করতেই থাকলেন যতক্ষণ না আমি তা গ্রহণ করলাম এবং একটি দলের মাঝে বন্টন করে দিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
10 - وَمِنْ طَرِيقِ مَنْصُورِ بْنِ عَمَّارٍ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ اللَّيْثِ جَالِسًا، فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ مَعَهَا قَدَحٌ، فَقَالَتْ لَهُ: يَا أَبَا الْحَارِثِ، إِنَّ زَوْجِي يَشْتَكِي، وَقَدْ نُعِتَ لَنَا الْعَسَلَ، فَقَالَ: اذْهَبِي إِلَى الْوَكِيلِ، فَقُولِي لَهُ يُعْطِيكِ مَطَرًا، فَجَاءَ الْوَكِيلُ يُسَارُّهُ بِشَيْءٍ، فَقَالَ لَهُ اللَّيْثُ: اذْهَبْ فَأَعْطِهَا مَطَرًا، إِنَّمَا سَأَلَتْ بِقَدْرِهَا، فَأَعْطَيْنَاهَا بِقَدْرِنَا، وَالْمَطَرُ: عِشْرُونَ وَمِائَةِ رَطْلٍ
১০ - মানসুর ইবনে আম্মারের সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-লাইসের কাছে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক মহিলা একটি পাত্র নিয়ে তাঁর কাছে আসলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে আবু আল-হারিস, আমার স্বামী অসুস্থ এবং আমাদের জন্য মধুর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তিনি বললেন: তুমি ব্যবস্থাপকের কাছে যাও এবং তাকে বলো যেন তোমাকে এক ‘মাতার’ প্রদান করে। এরপর ব্যবস্থাপক এসে তাঁর কানে কানে কিছু বললেন, তখন আল-লাইস তাকে বললেন: যাও এবং তাকে এক ‘মাতার’ দিয়ে দাও। সে তো তার প্রয়োজন অনুযায়ী চেয়েছিল, আর আমরা তাকে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করলাম। আর এক ‘মাতার’ হলো একশ বিশ রতল।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
11 - وَعَنْ مَنْصُورٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى اللَّيْثِ، وَعَلَى رَأْسِهِ خَادِمٌ سُمْرَةٌ، فَخَرَجَ، فَضَرَبَ بِيَدِهِ إِلَى مُصَلاهُ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ كِيسًا، فَرَمَى بِهِ إِلَيَّ، وَقَالَ: يَا أَبَا السَّرِيِّ لا تُعْلِمْ بِهِ ابْنِي، فَيَهُونَ عَلَيْهِ، فَإِذَا فِيهِ أَلْفُ دِينَارٍ
১১ - মনসুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি লাইসের নিকট প্রবেশ করলাম। তাঁর শিয়রে একজন শ্যামবর্ণের খাদেম ছিল। অতঃপর সে বেরিয়ে গেল। এরপর তিনি তাঁর জায়নামাজের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং সেখান থেকে একটি থলে বের করলেন। তিনি সেটি আমার দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন: হে আবু আস-সারী, এ সম্পর্কে আমার ছেলেকে জানাবে না, পাছে সে এটাকে তুচ্ছ মনে করে। দেখা গেল, তাতে এক হাজার দিনার ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
12 - وَقَالَ أَبُو حَاتِمِ بْنُ حِبَّانَ: كَانَ اللَّيْثُ لا يَتَرَدَّدُ إِلَيْهِ أَحَدٌ إِلا أَدْخَلَهُ فِي جُمْلَةِ عِيَالِهِ، مَادَامَ يَتَرَدَّدُ عَلَيْهِ، ثُمَّ إِنْ أَرَادَ الْخُرُوجَ زَوَّدَهُ بِالْبُلْغَةِ إِلَى وَطَنِهِ
১২ - আবু হাতেম ইবনে হিব্বান বলেন: আল-লাইসের নিকট কেউ আসা-যাওয়া করলে তিনি তাকে নিজের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন, যতক্ষণ সে তাঁর নিকট আসা-যাওয়া করত। অতঃপর সে যখন বিদায় নিতে চাইত, তিনি তাকে নিজ বাসস্থানে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় পাথেয় প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
13 - وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسِ بْنِ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ، يَقُولُ: كَانَ اللَّيْثُ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ كُلَّ صَلاةٍ عَلَى فِرَاشِهِ، وَكَانَ لَهُ مَجْلِسٌ فِيهِ، وَبِهِ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، فَغَمَزَهُ فَقَامَ مَعَهُ، فَسَأَلَهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ، فَأَجَابَهُ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ بِمِائَةِ دِينَارٍ
১৩ - ইবনে আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: আল-লায়স মসজিদের ভেতরে তার বিছানার ওপর প্রত্যেক সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে তার একটি মজলিস ছিল। সেখানে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব উপস্থিত ছিলেন, তিনি তাকে ইশারা করলেন এবং তিনি তার সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি তাকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি তাকে উত্তর দিলেন। এরপর তিনি তার কাছে একশ দিনার পাঠালেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
14 - وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ، يَقُولُ: كَانَ اللَّيْثُ فِي كُلِّ يَوْمٍ يَتَصَدَّقُ عَلَى ثَلاثِ مِائَةِ مِسْكِينٍ
14 - এবং তিরমিযী বলেছেন: আমি কুতাইবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: লাইস প্রতিদিন তিনশত মিসকীনকে দান করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
15 - وَقَالَ أَشْهُب: كَانَ اللَّيْثُ لا يَرُدُّ سَائِلا، وَكَانَ يُطْعِمُ النَّاسَ الْهَرَايِسَ بِعَسَلِ النَّحْلِ وَسَمْنِ الْبَقَرِيِّ فِي الشِّتَاءِ.وَفِي الصَّيْفِ شَيْئًا مِنَ اللَّوْزِ وَالسُّكَّرِ
১৫ - আশহাব বলেন: লায়স কোনো যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি শীতকালে মানুষকে মৌমাছির মধু ও গরুর ঘি দিয়ে হারাইস খাওয়াতেন।এবং গ্রীষ্মকালে কাঠবাদাম ও চিনি মিশ্রিত কিছু খাওয়াতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
16 - وَبِالسَّنَدِ الْمَاضِي قَرِيبًا إِلَى أَبِي نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْمَاعِيلَ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ رُمْحٍ، يَقُولُ: كَانَ دَخْلُ اللَّيْثِ فِي كُلِّ سَنَةٍ ثَمَانِينَ أَلْفَ دِينَارٍ، وَمَا أَوْجَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ دِرْهَمًا قَطُّ بِزَكَاةٍ
১৬ - এবং আবু নুআইম পর্যন্ত ইতিপূর্বে উল্লিখিত সনদের মাধ্যমে; আহমাদ ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি মুহাম্মাদ ইবন রুমহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: লাইস-এর প্রতি বছরের আয় ছিল আশি হাজার দিনার, কিন্তু আল্লাহ তাঁর ওপর কখনও এক দিরহাম যাকাতও ফরজ করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
17 - وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيثِ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: قَالَ اللَّيْثُ: مَا وَجَبَتْ عَلَيَّ زَكَاةٌ قَطُّ مُنْذُ بَلَغْتُ، وَقَالَ حَرْمَةُ بْنُ يَحْيَى: سَمِعْتُ ابْنَ وَهْبٍ، يَقُولُ: كَانَ اللَّيْثُ يَصِلُ مَالِكًا كُلَّ سَنَةٍ بِمِائَةِ دِينَارٍ.وَكَتَبَ إِلَيْهِ مَرَّةً: أَنَّ عَلَيَّ دَيْنًا، فَبَعَثَ إِلَيْهِ بِخَمْسِ مِائَةِ دِينَارٍ
১৭ - আবু বকর ইবনে দাউদ বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে শুয়াইব ইবনুল লাইস বর্ণনা করেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: লাইস বলেছেন: আমি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে কখনও আমার ওপর যাকাত ফরজ হয়নি। এবং হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: আমি ইবনে ওয়াহাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: লাইস প্রতি বছর ইমাম মালিককে একশত দিনার প্রদান করতেন।একদা তিনি (ইমাম মালিক) তার নিকট লিখে পাঠালেন: আমার ওপর ঋণ রয়েছে, অতঃপর তিনি তাকে পাঁচশত দিনার পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
18 - وَبِهِ إِلَى أَبِي نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: وَصَلَ اللَّيْثُ ابْنَ لَهِيعَةَ لَمَّا احْتَرَقَتْ دَارُهُ بِأَلْفِ دِينَارٍ، وَحَجَّ فَأَهْدَى إِلَيْهِ مَالِكٌ طَبَقًا فِيهِ رُطَبٌ، فَرَدَّ إِلَيْهِ عَلَى الطَّبَقِ أَلْفَ دِينَارٍ، وَوَصَلَ مَنْصُورَ بْنَ عَمَّارٍ الْقَاصَ بِأَلْفِ دِينَارٍ، وَقَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ: اشْتَرَى قَوْمٌ مِنَ اللَّيْثِ ثَمَرَةً بِمَالٍ، ثُمَّ إِنَّهُمْ نَدِمُوا فَاسْتَقَالُوهُ فَأَقَالَهُمْ لَمَّا اسْتَدْعَاهُمْ، فَأَعْطَاهُمْ خَمْسِينَ دِينَارًا، وَقَالَ: إِنَّهُمْ كَانُوا أَمَّلُوا أَمَلا فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُعَوِّضَهُمْ
১৮ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আবু নুয়াইম হতে বর্ণিত, সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ইবন লাহিয়াহর ঘর যখন পুড়ে গিয়েছিল, তখন আল-লাইস তাঁকে এক হাজার দিনার প্রদান করেছিলেন। তিনি যখন হজে গেলেন, তখন ইমাম মালিক তাঁর নিকট এক পাত্র তাজা খেজুর উপহার পাঠালেন; বিনিময়ে তিনি সেই পাত্রেই তাঁকে এক হাজার দিনার ফেরত পাঠালেন। তিনি বক্তা মনসুর ইবনে আম্মারকেও এক হাজার দিনার প্রদান করেছিলেন। আল-হারিস ইবনে মিসকিন বলেন: একদল লোক আল-লাইসের নিকট থেকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ফল ক্রয় করেছিল। পরবর্তীতে তারা অনুতপ্ত হয়ে চুক্তিটি বাতিলের আবেদন জানালে তিনি তাদের ডেকে পাঠালেন এবং তাদের আবেদন মঞ্জুর করলেন। অধিকন্তু তিনি তাদের পঞ্চাশ দিনার প্রদান করলেন এবং বললেন: "তারা একটি লাভের আশা পোষণ করেছিল, তাই আমি তাদের সেই আশার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الْبَابُ الرَّابِعُ
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-মারহামাতুল গইসিয়াহ বিত-তারজামাতিল লাইসিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
19 - قَالَ أَبُو بَكْرٍ الأَثْرَمُ، سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، يَقُولُ: مَا فِي هَؤُلاءِ الْمِصْرِيِّينَ أَثْبَتُ مِنَ اللَّيْثِ، لا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ وَلا غَيْرُهُ، مَا أَصَحَّ حَدِيثَهُ.وَجَعَلَ يُثْنِي عَلَيْهِ
১৯ - আবু বকর আল-আছরাম বলেন, আমি আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: এই মিশরীয়দের মধ্যে লাইসের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য আর কেউ নেই; আমর ইবনুল হারিস কিংবা অন্য কেউ নয়। তাঁর বর্ণিত হাদিস কতই না বিশুদ্ধ!এবং তিনি তাঁর প্রশংসা করতে লাগলেন।