(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: -)
الروض الناضر في سيرة الإمام أبي جعفر الباقر القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الروض الناضر في سيرة الإمام أبي جعفر الباقر تفسيره وفقهه ومروياته
المؤلف: بدر محمد باقر
الناشر: مبرة الآل والأصحاب، الكويت
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 345
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1443
আল-রওযুন নাযির ফি সিরাতিল ইমাম আবি জাফর আল-বাকির (ইমাম আবু জাফর আল-বাকিরের জীবনী বিষয়ক প্রস্ফুটিত উদ্যান) বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-রওযুন নাযির ফি সিরাতিল ইমাম আবি জাফর আল-বাকির: তাঁর তাফসির, ফিকহ এবং বর্ণিত বর্ণনা
লেখক: বদর মুহাম্মাদ বাকির
প্রকাশক: মুবাররাতুল আল ওয়াল আসহাব، কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ١)
مبرة الآل والأصحاب
سلسلة سير الآل والأصحاب (7)
الروض الناظر في سيرة الإمام أبي جعفر الباقر
تفسيره وفقهه ومروياته
كان من دعاء الإمام الباقر: (اللهم من كانت له حاجة ههنا وههنا، فإن حاجتي إليك وحدك لا شريك لك) بحار الأنوار 91/ 270
আল ও আসহাব কল্যাণ ট্রাস্ট
আল ও আসহাবের জীবনী গ্রন্থমালা (৭)
ইমাম আবু জাফর আল-বাকিরের জীবনীর সুশোভিত উদ্যান
তাঁর তাফসির, ফিকহ এবং বর্ণনাগুলো
ইমাম বাকিরের অন্যতম দোয়া ছিল: (হে আল্লাহ, যার এখানে বা সেখানে কোনো প্রয়োজন রয়েছে, আমার প্রয়োজন কেবল আপনারই নিকট যিনি একক এবং যাঁর কোনো শরিক নেই) বিহারুল আনওয়ার ৯১/ ২৭০
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢)
مبرة الآل والأصحاب
سلسلة سير الآل والأصحاب (7)
الروض الناظر في سيرة الإمام أبي جعفر الباقر
تفسيره وفقهه ومروياته
بقلم
بدر محمد باقر
البريد الإلكتروني للمؤلف
BBaqer@gmail.com
আল ও আসহাব চ্যারিটেবল ট্রাস্ট
আল ও আসহাবের জীবনচরিত সিরিজ (৭)
ইমাম আবু জাফর আল-বাকিরের জীবনচরিতের মনোরম উদ্যান
তাঁর তাফসির, ফিকহ এবং বর্ণনাসমূহ
কলমে
বদর মুহাম্মদ বাকির
লেখকের ই-মেইল
BBaqer@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣)
فهرسة مكتبة الكويت الوطنية أثناء النشر
প্রকাশনা চলাকালীন কুয়েত জাতীয় গ্রন্থাগারের সূচিপত্রকরণ
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٤)
حقوق الطبع متاحة لكل محبي آل البيت الأطهار والصحابة الأخيار
بشرط عدم إجراء أي تعديل بالإضافة أو الحذف أو التغيير
إلا بإذن خطي من مبرة الآل والأصحاب
الطبعة الأولى
1428 هـ / 2007 م
مبرة الآل والأصحاب
هاتف: 2560203 - 2552340 فاكس: 2560346
ص. ب: 12421 الشامية الرمز البريدي 71655 الكويت
E-mail: almabarrh@gmail.com
www.almabarrah.net
رقم الحساب: بيت التمويل الكويتي
… 201020109723
পবিত্র আহলে বাইত এবং পুণ্যবান সাহাবীগণের সকল অনুরাগীদের জন্য মুদ্রণস্বত্ব উন্মুক্ত
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো প্রকার সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো রূপ পরিমার্জন করা যাবে না
মাব্বারাতুল আল ওয়াল আসহাব-এর লিখিত অনুমতি ব্যতীত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৮ হিজরি / ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
মাব্বারাতুল আল ওয়াল আসহাব
ফোন: ২৫৬০২০৩ - ২৫৫২৩৪০ ফ্যাক্স: ২৫৬০৩৪৬
পো. বক্স: ১২৪২১ আশ-শামিয়া, পোস্টাল কোড ৭১৬৫৫ কুয়েত
ই-মেইল: almabarrh@gmail.com
www.almabarrah.net
হিসাব নম্বর: কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস
… ২০১১০২০১০৯৭২৩
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٥)
إهداء إلى محبي آل البيت الأطهار والصحابة الأخيار
পবিত্র আহলে বাইত এবং পুণ্যবান সাহাবীগণের প্রেমিকদের প্রতি উৎসর্গ।
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٧)
إنشاء المبرة وأهدافها
(1) تأسست في دولة الكويت طبقاً لأحكام القوانين الصادرة في شأن الأندية وجمعيات النفع العام والمبرات الخيرية والقرارات المنفذة لها مبرة أطلق عليها اسم «مبرة الآل والأصحاب» مقرها مدينة الكويت.
وقد تم إشهارها بموجب قرار وزير الشؤون الاجتماعية والعمل رقم 28/ 2005 م وقد سجلت المبرة في إدارة الجمعيات الخيرية والمبرات بوزارة الشؤون الاجتماعية والعمل تحت رقم 23
أهداف المبرة:
1 - العمل على غرس محبة الآل (آل البيت) الأطهار والأصحاب (الصحابة) الأخيار في نفوس المسلمين.
2 - نشر العلوم الشرعية بين أفراد المجتمع وخصوصاً تلك المتعلقة بتراث الآل والأصحاب من عبادات ومعاملات.
3 - التوعية بدور الآل والأصحاب، وما قاموا به من خدمات جليلة لنصرة الإسلام، والدفاع عن المسلمين وتحقيق هدي القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة.
4 - دعم الوحدة الوطنية وزيادة التقارب بين شرائح المجتمع من خلال تجلية بعض المفاهيم الخاطئة التي رسخت في نفوس بعض المسلمين عن أهل البيت الأطهار والصحابة الأخيار.
--------------------------------------------
আল-মাবররাহ প্রতিষ্ঠা এবং এর লক্ষ্যসমূহ
(১) কুয়েত রাষ্ট্রে ক্লাব, জনকল্যাণমূলক সমিতি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং এ সংক্রান্ত বাস্তবায়নকারী সিদ্ধান্তসমূহ বিষয়ক প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী 'মাবররাত আল-আল ওয়াল আসহাব' নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান (আল-মাবররাহ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার সদর দপ্তর কুয়েত সিটিতে অবস্থিত।
সমাজকল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রীর ২০০৫ সালের ২৮ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছে এবং সমাজকল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দাতব্য সমিতি ও মাবররাহ বিভাগে ২৩ নম্বর ক্রমিকে নিবন্ধিত হয়েছে।
মাবররাহ-র লক্ষ্যসমূহ:
১ - মুসলিমদের অন্তরে পবিত্র আহলে বাইত (আলুল বাইত) এবং পুণ্যবান সাহাবায়ে কিরামের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার লক্ষ্যে কাজ করা।
২ - সমাজের মানুষের মাঝে শরয়ি জ্ঞান প্রচার করা, বিশেষ করে ইবাদত ও লেনদেন সংক্রান্ত আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কিরামের ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি।
৩ - আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কিরামের ভূমিকা এবং ইসলামের বিজয়, মুসলিমদের প্রতিরক্ষা এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাতে নববীর হেদায়েত বাস্তবায়নে তাদের মহান অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
৪ - পবিত্র আহলে বাইত এবং পুণ্যবান সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে কিছু মুসলিমের অন্তরে বদ্ধমূল থাকা ভুল ধারণাগুলো নিরসনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٨)
«شكر وتقدير»
يسر مبرة الآل والأصحاب أن تتقدم بالشكر والتقدير إلى الأخ الكريم بدر محمد باقر لجهده الطيب في إعداد هذا الكتاب.
وتود أن توضح لقرائها الكرام أن مركز البحوث والدراسات فيها لا يألو جهداً على تأليف ما يتيسر له من مواد علمية يصُب محتواها في تحقيق الأهداف النبيلة للمبرة.
وبالإضافة إلى ذلك لعله من المناسب الاستفادة من كل ما يتيسر للمركز من الكتابات المتاحة في المكتبة الاسلامية، سائلين الله سبحانه أن يجزي كل مجتهد بالاجرين، وأن يجمع هذه الأمة الإسلامية على كلمة الله تعالى وهدي رسوله الكريم صلى الله عليه وآله وسلم على المنهج المبارك للآل والأصحاب
… اللهم آمين.
«কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি»
আল-আল ওয়াল আসহাব চ্যারিটি অত্যন্ত আনন্দের সাথে সম্মানিত ভাই বদর মুহাম্মদ বাকের-এর প্রতি এই বইটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তাঁর উত্তম প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।
প্রতিষ্ঠানটি তার সম্মানিত পাঠকদের নিকট স্পষ্ট করতে চায় যে, এর গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্র এমন সব জ্ঞানগর্ভ বিষয়বস্তু রচনায় কোনো প্রকার কার্পণ্য করে না, যার বিষয়বস্তু চ্যারিটির মহৎ লক্ষ্যসমূহ অর্জনে নিবেদিত হয়।
এর পাশাপাশি, ইসলামি লাইব্রেরিতে সহজলভ্য সকল প্রাসঙ্গিক লেখা থেকে উপকৃত হওয়াকেও কেন্দ্রটি সমীচীন মনে করে। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি প্রত্যেক পরিশ্রমী ব্যক্তিকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করেন এবং এই মুসলিম উম্মাহকে মহান আল্লাহর বাণী ও তাঁর সম্মানিত রাসুলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীসাথীদের ওপর বর্ষিত হোক) হেদায়েতের ওপর এবং নবী-পরিবার ও সাহাবীগণের বরকতময় পদ্ধতির ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন
… হে আল্লাহ, কবুল করুন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ١٧)
المقدمةالحمد لله حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، الحمدلله حتى يرضى والحمد لله إذا رضي، والحمد لله بعد الرضى، وصلى الله وسلم وبارك على خير ولد آدم سيدنا وحبيبنا وقرة أعيننا محمد وعلى آله الطيبين الطاهرين وصحابته أجمعين أما بعد:
فإني سأحاول في هذا البحث أن أطرح طرحا موضوعيا يبين للقارئ الكريم هدي أحد أئمة المسلمين وأئمة آل البيت وهو الإمام محمد بن علي بن الحسين المعروف بـ «الباقر»، أما اختياري لهذا البحث وهذه الشخصية تحديداً فكان لعدة أسباب منها:
أولا: ندرة الكتب التي استقصت كل ما ورد عن الإمام الباقر من روايات صحيحة على المستوى العقائدي والفقهي والأخلاقي، وندرة الكتب التي تحدثت عن شخصية هذا الإمام بموضوعية ودون مبالغة أو تقصير.
ثانياً: الدفاع عن هذا الإمام والذبّ عنه وعن آل بيت النبي صلوات الله وسلامه عليهم خاصة، وعن الإسلام عامة، فقد نُسبت للإمام «الباقر» أباطيل اتخذها أصحاب الأهواء رداءً يلتحفون به، وجعلوها ملجأً يلتجئون إليه لتبرير شذوذهم وضلالهم، ثم لبّسوا على عامة المسلمين وجعلوا هذا الشذوذ والضلال ديناً يتقربون به إلى الله وجعلوا من اسم «الباقر» وغيره من أئمة آل البيت ومن
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। আল্লাহরই প্রশংসা যতক্ষণ না তিনি সন্তুষ্ট হন, আল্লাহরই প্রশংসা যখন তিনি সন্তুষ্ট হন এবং আল্লাহরই প্রশংসা সন্তুষ্টির পরেও। সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আদম সন্তানদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, আমাদের সায়্যিদ, আমাদের প্রিয়তম ও আমাদের নয়নমণি মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:
আমি এই গবেষণায় একটি বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনার চেষ্টা করব, যা সম্মানিত পাঠকের সামনে মুসলিম উম্মাহর ইমামদের অন্যতম এবং আহলে বাইতের অন্যতম ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনুল হুসাইন —যিনি ‘আল-বাকির’ নামে সমধিক পরিচিত— তাঁর হেদায়েত বা পথনির্দেশ ফুটিয়ে তুলবে। বিশেষভাবে এই গবেষণা ও এই ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, তন্মধ্যে:
প্রথমত: এমন গ্রন্থের দুষ্প্রাপ্যতা যা আকিদাগত, ফিকহি ও নৈতিক স্তরে ইমাম বাকির থেকে বর্ণিত সকল বিশুদ্ধ বর্ণনাকে পূর্ণাঙ্গরূপে অনুসন্ধান করেছে; এবং এমন গ্রন্থের অভাব যা কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা অবহেলা ছাড়াই বস্তুনিষ্ঠভাবে এই ইমামের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছে।
দ্বিতীয়ত: এই ইমামের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা এবং তাঁকে ও বিশেষভাবে নবী পরিবারের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) সদস্যদের এবং সাধারণভাবে ইসলামকে রক্ষা করা। কারণ, ইমাম ‘আল-বাকির’-এর প্রতি এমন কিছু মিথ্যা বা বাতিল বিষয় সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যেগুলোকে প্রবৃত্তিপূজারিরা তাদের আবরণ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাদের বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার সপক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহারের আশ্রয়স্থল বানিয়েছে। এরপর তারা সাধারণ মুসলিমদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এই বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতাকেই আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বা দ্বীন হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। তারা ‘আল-বাকির’ ও আহলে বাইতের অন্যান্য ইমামদের নামকে এবং
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ١٨)
العاطفة التي تربط المسلمين بآل بيت نبيهم، جوازاً لتمرير هذه البدع والضلالات على قلوب وعقول أهل القبلة.
ثالثاً: الحب الذي يكنّه كل مسلم لمن ينحدر من نسل نبينا الكريم صلوات ربي وسلامه عليه والذي يحثنا على التعرّف على ترجمة أعلام بيت النبوة واستطلاع سيرتهم الطيبة العطرة، والاقتداء بهديهم والسير على نهجهم المستقى من نهج سيدهم وسيدنا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فمن كان صادقاً في حب النبي وآل بيته الكرام صلوات الله وسلامه عليهم فينبغي عليه أن يقتدي بهم ويتبعهم وأن لا يسمح للهوى وللتعصب أن يُبعدانه عن هدي من يحب، ورحم الله القاضي عياض إذ يقول: «اعلم أنّ من أحب شيئاً آثره وآثر موافقته وإلا لم يكن صادقاً في حبه وكان مدّعياً، فالصادق في حب النبي صلى الله عليه وآله وسلم من تظهر علامات ذلك عليه وأولها: الاقتداء به واتباع سنته واتباع أقواله وأفعاله والتأدب بآدابه في عسره ويسره، قال تعالى: {قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ}
(1)».
وقد تعرضت خلال بحثي في سيرة «الباقر» رضي الله عنه إلى صدمات عدّة وذلك بسبب الكمّ الهائل من الأحاديث المفتراة التي أُلصقت بهذا الإمام فجعلتُ منهجي في معرفة الحقّ ومعرفة منهج وسلوك وتراث هذا الإمام، هو قول
--------------------------------------------
সেই আবেগ যা মুসলমানদের তাদের নবীর আহলে বায়তের (পরিবারবর্গের) সাথে আবদ্ধ করে, তাকে কিবলার অনুসারীদের হৃদয় ও মস্তিষ্কে এই বিদআত ও ভ্রষ্টতাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: আমাদের সম্মানিত নবী (তাঁর ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশধরদের প্রতি প্রত্যেক মুসলিম যে ভালোবাসা পোষণ করে, তা আমাদের নবুয়তের গৃহের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবনী জানতে এবং তাঁদের পবিত্র ও সুগন্ধিময় জীবনচরিত অনুসন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করে। একইসাথে তাঁদের হেদায়েত অনুসরণ করতে এবং তাঁদের প্রদর্শিত পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে, যা তাঁদের এবং আমাদের সর্দার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ থেকে উৎসারিত। অতএব, যে ব্যক্তি নবী এবং তাঁর সম্মানিত আহলে বায়তের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ভালোবাসায় সত্যবাদী, তার উচিত হবে তাঁদের অনুকরণ করা এবং তাঁদের অনুসরণ করা। প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামিকে এমন সুযোগ দেওয়া উচিত নয় যা তাকে তার প্রিয়জনদের হেদায়েত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা কাজী আয়াজকে রহম করুন, তিনি বলেন: «জেনে রেখো, যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসে, সে তাকেই অগ্রাধিকার দেয় এবং তার সাথে একমত হওয়াকেই পছন্দ করে; অন্যথায় সে তার ভালোবাসায় সত্যবাদী নয় বরং কেবল দাবিদার। অতএব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভালোবাসায় সেই ব্যক্তিই সত্যবাদী যার মধ্যে এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। আর এর মধ্যে প্রথমটি হলো: তাঁকে অনুকরণ করা, তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করা, তাঁর কথা ও কাজের অনুগত্য করা এবং দুঃখ ও কষ্টে তাঁর শিষ্টাচার গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো; ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।}
(১)»।
আর 'আল-বাকির' (রাজিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী নিয়ে গবেষণার সময় আমি অনেক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছি, কারণ এই ইমামের সাথে বিপুল পরিমাণ মনগড়া হাদিস জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই সত্য উপলব্ধি এবং এই ইমামের কর্মপন্থা, আচরণ ও উত্তরাধিকার জানার ক্ষেত্রে আমি আমার মূলনীতি নির্ধারণ করেছি, তা হলো এই উক্তিটি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ١٩)
«الباقر»: «كلّ شيءٍ خالف كتاب الله ردَّ إلى كتاب الله والسنة»، فجعلت كتاب الله وسنة رسوله الصحيحة الميزان، فما كان راجحاً في كفتهما لم أجد ضيرا في قبول نسبته إلى «الباقر»، وأما ما خالفهما فقد نزَّهت الإمام الباقر عنه وعلمتُ يقينا بأنه من الأباطيل المفتراة عليه وقد ضربت أمثلة لبعض هذه الإفتراءات مع الرد عليها نقلاً وعقلاً، ولا أزعم أني قد استوفيت جميع الجوانب في حياة هذا الطود الشامخ وإنما اجتهدت قدر الطاقة فما كان حقا وصوابا فمن الله وحده الرحمن ذي المنن وأما ما كان خطأً فمن نفسي ومن الشيطان وأسال الله العفو والمغفرة.
ولا يسعني إلا أن أتقدم بالشكر الجزيل لكل من ساندني وعاونني في إتمام هذا البحث وأخصّ بالذكر أخويّ الفاضلين الشيخ الكريم محمد سالم الخضر والشيخ الكريم علي بن حمد التميمي، اللذين كانا مرجعاً لي بعد الله تعالى فلولا جهودهما الكريمة لما تمكنت من إتمام هذا البحث وأسأل الله جل وعلا أن يجعل ما كتبنا في ميزان حسناتنا وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل وأسأله عز وجل أن يلهمنا التوفيق والسداد لما يحبه ويرضاه، وأن يجمعنا مع آل النبي وصحابته في دار الرضوان مع النبيين والشهداء والصالحين.
الفقير إلى عفو ربه ومغفرته ورضوانه
بدر محمد باقر
'আল-বাকির' বলেন: "আল্লাহর কিতাবের সাথে সাংঘর্ষিক প্রতিটি বিষয়ই আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে।" তাই আমি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সহীহ সুন্নাহকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছি। সুতরাং এই দুইয়ের পাল্লায় যা অগ্রগণ্য হয়েছে, তা 'আল-বাকির'-এর প্রতি সম্বন্ধ করতে আমি কোনো দ্বিধা দেখিনি। আর যা এই দুইয়ের পরিপন্থী, তা থেকে আমি ইমাম বাকিরকে মুক্ত রেখেছি এবং নিশ্চিতভাবে জেনেছি যে, এগুলো তাঁর নামে রটানো মিথ্যাচার। আমি এই জাতীয় কিছু মিথ্যাচারের উদাহরণ পেশ করার পাশাপাশি দলিল ও যুক্তির আলোকে তার খণ্ডন করেছি। আমি দাবি করি না যে, এই সুউচ্চ পাহাড়সম মহান ব্যক্তিত্বের জীবনের সকল দিক আমি পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি; বরং সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়েছি মাত্র। সুতরাং এতে যা কিছু সত্য ও সঠিক, তা একমাত্র অনুগ্রহকারী করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যা কিছু ভুল, তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি।
এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যারা আমাকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে আমি আমার দুই সম্মানিত ভাই শায়খ মুহাম্মদ সালেম আল-খিজর এবং শায়খ আলী বিন হামাদ আল-তামিমীর কথা উল্লেখ করছি, যাঁরা মহান আল্লাহর পরে আমার জন্য নির্ভরতার স্থল ছিলেন। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা না থাকলে এই গবেষণা সম্পন্ন করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। আমি মহামহিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই লেখাকে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন এবং আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস বা নিষ্ঠা দান করেন। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এমন বিষয়ের তাওফীক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর তিনি যেন জান্নাতে আমাদের নবী পরিবারের সদস্যগণ ও সাহাবায়ে কেরামসহ নবীগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলদের সাথে একত্রিত করেন।
আপন রবের ক্ষমা ও সন্তুষ্টির ভিখারি
বদর মুহাম্মদ বাকির
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
كلمةٌ لابد منهايهمُّنا قبل أن نشرع في الحديث عن سيرة الإمام «الباقر»، أن نعرف من هم آل بيت النبي صلوات الله وسلامه عليهم، وما الواجب علينا تجاههم.
آل بيت النبي صلوات الله وسلامه عليهم هم كل من التقى مع النبيِّ محمد صلى الله عليه وآله وسلم في هاشم
(1) 1) وهم آل العباس وآل علي، وآل جعفر وآل عقيل كما أن أزواج النبي محمد من آل بيته صلى الله وسلم عليهم أجمعين وذلك بسبب المصاهرة.
والواجب علينا حبهم جميعاً وذلك لقرابتهم من النبي صلى الله عليه وآله وسلم ولأنَّ النبي صلوات الله وسلامه عليه أوصانا بذلك كما في الحديث الشريف الذي رواه الإمام «مسلم» بسنده عن يزيد بن حيان قال:
«انطلقت أنا وحصين بن سبرة وعمر بن مسلم إلى زيد بن أرقم فلما جلسنا إليه قال له حصين: لقد لقيت يا زيد خيراً كثيراً رأيت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وسمعت حديثه وغزوت معه وصليت خلفه، لقد لقيت يا زيد خيراً كثيراً، حدثنا يا زيد ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، قال يا ابن أخي والله لقد
--------------------------------------------
একটি অনস্বীকার্য কথাইমাম «বাকির»-এর জীবনী নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের জন্য এটি জানা জরুরি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলে বাইত (পরিবারবর্গ) কারা এবং তাঁদের প্রতি আমাদের কর্তব্য কী।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলে বাইত হলেন তাঁরাই, যাঁরা হাশেম
(১)-এর বংশধারায় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মিলিত হন। তাঁরা হলেন আব্বাসের বংশধর, আলীর বংশধর, জাফরের বংশধর এবং আকীলের বংশধর। সেই সাথে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণও বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
তাঁদের সকলকে ভালোবাসা আমাদের জন্য অপরিহার্য বা ওয়াজিব। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে তাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এ বিষয়ে অসিয়ত করেছেন। যেমনটি ইমাম «মুসলিম» তাঁর সনদে ইয়াজিদ ইবনে হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«আমি, হুসাইন ইবনে সাবরা এবং ওমর ইবনে মুসলিম মিলে জায়েদ ইবনে আরকাম-এর নিকট গেলাম। যখন আমরা তাঁর কাছে বসলাম, তখন হুসাইন তাঁকে বললেন: হে জায়েদ! আপনি অনেক কল্যাণ লাভ করেছেন; আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছেন, তাঁর কথা শুনেছেন, তাঁর সাথে জিহাদে অংশ নিয়েছেন এবং তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেছেন। হে জায়েদ! আপনি সত্যিই অনেক বড় সৌভাগ্যের অধিকারী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আপনি যা শুনেছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! আল্লাহর কসম, আমি...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢١)
كبرت سني وقدم عهدي ونسيت بعض الذي كنت أعي من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فما حدثتكم فاقبلوا وما لا فلا تكلفونيه، ثم قال: قام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يوما فينا خطيباً بماءٍ يدعى خمّاً بين مكة والمدينة فحمد الله وأثنى عليه ووعظ وذكر ثم قال: أمّا بعد ألا أيها الناس فإنما أنا بشر يوشك أن يأتي رسول ربي فأجيب، وأنا تارك فيكم ثقلين أولهما كتاب الله فيه الهدى والنور فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به، فحث على كتاب الله ورغب فيه، ثم قال: وأهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي فقال له حصين ومن أهل بيته؟ يا زيد أليس نساؤه من أهل بيته؟ قال: نساؤه من أهل بيته ولكن أهل بيته من حرم الصدقة بعده قال: ومن هم؟ قال: هم آل علي وآل عقيل وآل جعفر وآل عباس قال: كل هؤلاء حرم الصدقة؟، قال: نعم»
(1).
وقد غفل البعض عن فهم ذلك فضيَّقوا تعريف آل البيت واقتصروا على أفرادٍ معدودين منهم خصُّوهم بالحبِّ والثناء والتعظيم، وأهملوا الآخرين، بل وطعنوا في بعضهم، وغفلوا أنَّ آية الحب هي الاتِّباع، فعندما نجد من يدَّعي حب نبينا صلى الله عليه وآله وسلم فدليل حبِّه هو إتباع هديه وسيرته أمَّا أن يدَّعي حبه وهو أبعد ما يكون عن نهجه فليس صادقاً في ادعائه قط، وكذا من يدّعي حبَّ الصحابة وآل بيت النبي صلوات الله وسلامه عليهم، يتوجب عليه أن يكون هديه
--------------------------------------------
আমার বয়স বৃদ্ধি পেয়েছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা আমি স্মরণে রেখেছিলাম তার কিছু অংশ আমি ভুলে গিয়েছি। অতএব আমি তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করি তা গ্রহণ করো এবং যা বর্ণনা করি না সে বিষয়ে আমাকে বাধ্য করো না। অতঃপর তিনি বললেন: একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী 'খুম' নামক এক জলাশয়ের নিকট আমাদের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং উপদেশ ও নসিহত প্রদান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: এরপর, হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ মাত্র। অচিরেই আমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত আসবে এবং আমি তাতে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি। তার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যাতে হিদায়াত ও আলো রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করলেন। এরপর তিনি বললেন: আর আমার আহলে বাইত। আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আমি তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আমি তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আমি তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তখন হুসাইন তাঁকে বললেন: হে যায়েদ, তাঁর আহলে বাইত কারা? তাঁর স্ত্রীগণ কি তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত নন? তিনি বললেন: তাঁর স্ত্রীগণও তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, তবে (মূলত) তাঁর আহলে বাইত হলো তারা যাদের জন্য তাঁর ইন্তেকালের পর সদকা গ্রহণ করা হারাম। হুসাইন জিজ্ঞেস করলেন: তারা কারা? যায়েদ বললেন: তারা হলো আলীর বংশধর, আকীলের বংশধর, জাফরের বংশধর এবং আব্বাসের বংশধর। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এদের সবার জন্যই কি সদকা হারাম? যায়েদ বললেন: হ্যাঁ।
(১) কিছু মানুষ বিষয়টি অনুধাবন করতে ভুল করেছেন এবং আহলে বাইতের সংজ্ঞাকে সংকুচিত করে ফেলেছেন। তারা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে একে সীমাবদ্ধ করে তাদের ভালোবাসা, প্রশংসা ও অতি-সম্মানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং অন্যদের উপেক্ষা করেছেন, এমনকি তাদের কারো কারো প্রতি কটূক্তিও করেছেন। তারা এটি ভুলে গেছেন যে, ভালোবাসার প্রকৃত নিদর্শন হলো অনুসরণ। যখন আমরা কাউকে দেখি যে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভালোবাসার দাবি করছে, তখন তার ভালোবাসার প্রমাণ হলো তাঁর আদর্শ ও সীরাতের অনুসরণ করা। কিন্তু কেউ যদি ভালোবাসার দাবি করে অথচ তাঁর আদর্শ থেকে বহু দূরে থাকে, তবে সে তার দাবিতে মোটেও সত্যবাদী নয়। একইভাবে যারা সাহাবী এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আহলে বাইতকে ভালোবাসার দাবি করে, তাদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের আদর্শ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
موافقاً لهديهم فيحبَّ من أحبّوا ويؤمن بما آمنوا به، ويعمل بعملهم ونهجهم، أمَّا أن يدعي حبَّهم ويكون مخالفاً لسيرتهم ونهجهم فهذا مسكين ما فهم حقيقة المحبة وما زاده ادّعاؤُه إلا حيرةً وضلالاً، فيظنُّ أنَّه على خيرٍ بحبِّه محمداً وآل بيته وأصحابه وهو أبعد ما يكون عن الحقِّ والله المستعان.
أما اعتقادنا كمسلمين، فإنّنا نحبّ كل آل بيت محمد صلوات الله وسلامه عليهم ونوقِّرهم وذلك لقرابتهم من النَّبي ولحبِّنا لمحمد صلوات الله وسلامه عليه وأمّا من عرف منهم بالعلم والصلاح والتقوى فنحبُّه لأمرين، أولهما: تقواه وصلاحه وعلمه، وثانيهما: قرابته من النبي صلى الله عليه وآله وسلم.
وفي هذا البحث سأعمل جاهداً لأبيَّن سيرة ومنهج قطبٍ من أقطاب آل البيت وهو الإمام محمد «الباقر» رضوان الله عليه، وكيف أنَّه كان ممَّن يتبعون النبي صلى الله عليه وآله وسلم ولا يخالفونه، فلم يكن مبتدعاً، بل كان حكم الله ورسوله هو المقدَّم دائماً لديه رضوان الله تعالى عليه.
তাদের হেদায়েতের অনুসারী হয়ে তারা যাদের ভালোবাসতেন তাদের ভালোবাসবে এবং তারা যা বিশ্বাস করতেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, আর তাদের কর্ম ও পদ্ধতির অনুরূপ আমল করবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তাদের প্রতি ভালোবাসার দাবি করে অথচ তাদের জীবনচরিত ও পদ্ধতির বিরোধী হয়, সে একজন দুর্ভাগা ব্যক্তি যে ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ বোঝেনি। তার এই দাবি তাকে বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি। সে মনে করে যে, মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণকে ভালোবাসার মাধ্যমে সে কল্যাণের ওপর আছে, অথচ সে সত্য থেকে অনেক দূরে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
মুসলিম হিসেবে আমাদের আকিদাহ হলো, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল পরিবারবর্গকে ভালোবাসি এবং তাদের সম্মান করি। আর এটি হচ্ছে নবীর সাথে তাদের আত্মীয়তার কারণে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আমাদের ভালোবাসার কারণে। আর তাদের মধ্যে যারা ইলম, নেক আমল এবং তাকওয়ার জন্য পরিচিত, আমরা তাদের দুটি কারণে ভালোবাসি—প্রথমত: তাদের তাকওয়া, নেক আমল এবং ইলমের জন্য; দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্য।
এই গবেষণায় আমি আহলে বাইতের অন্যতম স্তম্ভ ইমাম মুহাম্মাদ 'বাকির' (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী ও পদ্ধতি বর্ণনা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব। কীভাবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর বিরোধিতা করেননি। তিনি কোনো বিদআতী ছিলেন না; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানই সর্বদা তাঁর নিকট অগ্রগণ্য ছিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الفصل الأولإِشراقة ذاتية
اسمه ولقبه: هو محمد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب الهاشمي القرشي أبو جعفر «الباقر» أمُّه أم عبد الله بنت الحسن بن علي بن أبي طالب
(1) رضي الله عنهم.
لُقِّب بالباقر لنبوغه في العلم وتوسعه فيه كما قال ابن منظور في «لسان العرب»: «وكان يقال لمحمد بن علي بن الحسين بن علي «الباقر» رضوان الله عليهم لأَنَّه بقر العلم وعرف أَصله واستنبط فرعه، وتَبقَّر في العلم وأَصل البَقْر الشقّ والفتح والتوسعة، بَقَرْتُ الشيءَ بَقْراً فتحته ووسعته، وفي حديث حذيفة: فما بال هؤلاء الذين يَبْقُرونَ بيوتنا أَي يفتحونها ويوسعونها
…»
(2).
وقد قال فيه القرظي:
يا باقر العلم لأهل التقى
… وخير من لبّى على الأجبل
(3).
وذكر المفيد في «الإرشاد» والمجلسي في «بحار الأنوار» أنّ من لقَّبه بالباقر هو رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم، وهذا القول لم نجد له مستندا صحيحا
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদস্বকীয় উদ্ভাস
তাঁর নাম ও উপাধি: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব আল-হাশিমী আল-কুরায়শী, আবু জাফর «আল-বাকির»। তাঁর মাতা হলেন উম্মে আব্দুল্লাহ বিনতে আল-হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব
(১) আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
জ্ঞানে তাঁর অসাধারণ মেধা ও এতে গভীর পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁকে «বাকির» উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, যেমনটি ইবনে মানজুর ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে বলেছেন: “মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলীকে (তাঁদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) ‘আল-বাকির’ বলা হতো, কারণ তিনি জ্ঞানকে বিদীর্ণ (উন্মোচন) করেছেন, এর মূল উদ্ঘাটন করেছেন এবং এর শাখা-প্রশাখা আহরণ করেছেন। তিনি জ্ঞানের গভীরে অবগাহন করেছিলেন। আর ‘বাকর’ শব্দের মূল অর্থ হলো বিদীর্ণ করা, উন্মুক্ত করা এবং প্রশস্ত করা। আমি কোনো কিছুকে বিদীর্ণ করলাম (বাকারতু) মানে হলো আমি তা উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করলাম। হুযায়ফা (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: ‘সেসব লোকদের কী হলো যারা আমাদের ঘরবাড়ি বিদীর্ণ (ইয়াবকুরূনা) করছে’, অর্থাৎ সেগুলো উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করছে...।”
(২)।
আল-কুরাজি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
হে মুত্তাকিদের জন্য জ্ঞানের উন্মোচনকারী... এবং পাহাড়সমূহের ওপর লাব্বাইক পাঠকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।
(৩)।
আল-মুফিদ ‘আল-ইরশাদ’ গ্রন্থে এবং আল-মাজলিসি ‘বিহারুল আনওয়ার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক) তাঁকে ‘বাকির’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন; তবে এই বক্তব্যের কোনো সহিহ ভিত্তি আমরা খুঁজে পাইনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
تاريخيّا أو حديثيّا، وقد تتبع هذه الروايات آية الله الشيخ محمد آصف محسني في كتابه «مشرعة بحار الأنوار» فخلص إلى عدم صحة أيّ منها.
ثناء العلماء عليه: قال عنه الحافظ الذهبي: «الإمام الثبت الهاشمي العلوي المدني أحد الأعلام» وقال: «كان أحد من جمع العلم والفقه والشرف والديانة والثقة والسؤدد وكان يصلح للخلافة»
(1).
وقال عنه الحافظ ابن كثير: «محمد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب القرشي الهاشمي أبو جعفر «الباقر»، وأمّه أمّ عبد الله بنت الحسن بن علي، هو تابعيٌّ جليل كبير القدر كثيراً، أحد أعلام هذه الأمة علماً وعملاً وسيادةً وشرفاً»
(2)، وقال أيضاً: «وسمي «الباقر» لبقره العلوم واستنباطه الحكم كان ذاكراً خاشعاً صابراً وكان من سلالة النبوة رفيع النسب عالي الحسب وكان عارفاً بالخطرات كثير البكاء والعبرات معرضاً عن الجدال والخصومات»
(3).
وقال عنه الحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله: «محمد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب أبو جعفر «الباقر» ثقةٌ فاضل»
(4).
--------------------------------------------
ঐতিহাসিকভাবে হোক বা হাদিসগতভাবে হোক, আয়াতুল্লাহ শেখ মুহাম্মদ আসিফ মুহসিনী তাঁর 'মাশরাআতু বিহারিল আনওয়ার' গ্রন্থে এই বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এগুলোর কোনটিই সহীহ নয়।
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা: হাফেজ আজ-জাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, হাশেমি, আলাউই, মাদানি এবং অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।" তিনি আরও বলেছেন: "তিনি ছিলেন তাঁদের একজন যারা ইলম, ফিকহ, মর্যাদা, দীনদারি, বিশ্বস্ততা ও নেতৃত্বকে একত্রিত করেছিলেন এবং তিনি খিলাফতের যোগ্য ছিলেন।"
(১)।
হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব আল-কুরাইশি আল-হাশেমি আবু জাফর 'আল-বাকির'। তাঁর মা ছিলেন উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে হাসান বিন আলী। তিনি একজন মহান তাবেয়ী এবং অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। ইলম, আমল, নেতৃত্ব ও সম্মানের দিক থেকে তিনি এই উম্মতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।"
(২), তিনি আরও বলেছেন: "জ্ঞানকে বিদীর্ণ (গভীরভাবে উন্মোচন) করা এবং হিকমত আহরণের কারণে তাঁকে 'আল-বাকির' নামে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি অধিক যিকিরকারী, বিনীত ও ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ছিলেন নবী পরিবারের বংশধর, তাঁর বংশীয় মর্যাদা ছিল সুউচ্চ। তিনি হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতি সম্পর্কে জানতেন, অধিক ক্রন্দনকারী ছিলেন এবং বিবাদ ও ঝগড়া থেকে বিমুখ থাকতেন।"
(৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব আবু জাফর 'আল-বাকির', তিনি একজন বিশ্বস্ত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومن تتبَّع أقوال أهل العلم في الإمام «الباقر» سيجد لا محالة مدحاً وإشادةً بفضله، بل حتى تقي الدين ابن تيميه الذي يتهمه المتعصبة بالنّصب قد مدحه في أكثر من موضع من كتبه ومن أراد التأكد من ذلك فليطالع «مجموع الفتاوى 19/ 69» على سبيل المثال لا الحصر، أما المغالي فإنه لا يقنع سوى بالغلو فيهم، فينسب لهم العصمة والعلم المطلق وما أشبه ذلك، بل ويتَّهم من ينفي عنهم مثل هذا الغلو بالنصب وبمعاداة أهل البيت متناسياً بهذا الوصيَّة النبوية القائلة:
«لاتطروني كما أطرت النصارى ابن مريم فإنما أنا عبده فقولوا: عبد الله ورسوله»
(1)، فإن كان الغلو في خير الخلق محمد صلى الله عليه وآله وسلم محرّما فكيف بمن هم دونه في الفضل والعلم والتقوى، ولو أنَّ هؤلاء الغلاة طرحوا التعصّب جانباً واكتفوا بما في كتاب الله وسنة نبيه الصحيحة الثابتة، لأدركوا البعد الكبير بينهم وبين هدي النبي صلى الله عليه وآله وسلم وآل بيته الكرام.
--------------------------------------------
আর যে ব্যক্তি ইমাম 'বাকির' সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্যগুলো অনুসন্ধান করবে, সে অবধারিতভাবেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা ও গুণগান দেখতে পাবে; এমনকি তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ—যাকে গোঁড়া ব্যক্তিরা 'নাসব' (আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ)-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করে—তিনিও তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে তাঁর প্রশংসা করেছেন। কেউ এর সত্যতা যাচাই করতে চাইলে উদাহরণস্বরূপ 'মাজমুউল ফাতাওয়া ১৯/৬৯' দেখতে পারেন। অন্যদিকে অতিরঞ্জনকারীরা তাদের ব্যাপারে চরমপন্থা অবলম্বন ছাড়া তৃপ্ত হয় না; তাই তারা তাদের প্রতি 'ইসমা' (নিষ্পাপ হওয়া), নিরঙ্কুশ জ্ঞান এবং এই জাতীয় গুণের সম্বন্ধ করে। এমনকি যারা তাদের থেকে এ জাতীয় অতিরঞ্জনকে অস্বীকার করে, তাদেরকে তারা 'নাসবি' এবং আহলে বাইতের শত্রুতার অপবাদ দেয়। তারা এই নববী অসিয়তটিকে ভুলে যায় যাতে বলা হয়েছে:
"তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে এমন অতিরঞ্জন করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে করেছে। আমি তো কেবল তাঁর বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
(১) যদি সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে অতিরঞ্জন হারাম হয়, তবে ফযিলত, ইলম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে যারা তাঁর নিচে, তাদের ব্যাপারে তা কেমন হবে? এই চরমপন্থীরা যদি গোঁড়ামি পরিহার করত এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সহীহ ও প্রমাণিত সুন্নাহর ওপর তুষ্ট থাকত, তবে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সম্মানিত আহলে বাইতের হেদায়েতের সাথে তাদের নিজেদের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান বুঝতে পারত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
مولده ونشأته: ولد سنة ست وخمسين على قول أحمد بن البرقيّ
(1). وكان ذلك قبلَ استشهادِ الحسين رضي الله عنه وأرضاه بأربع سنين، قال أبو جعفر الباقر: «قتل جدي الحسين ولي أربع سنين، وإني لأذكر مقتله، وما نالنا في ذلك الوقت»
(2).
وقال ابن خلكان: «إن مولده يوم الثلاثاء ثالث صفر سنة سبع وخمسين للهجرة، وكان عمره يوم قتل جده الحسين رضي الله عنه وأرضاه ثلاث سنين»
(3).
وأما البيت الذي نشأ فيه «الباقر» رضي الله تعالى عنه، فهو بيتٌ زاخرٌ بالتقوى والورع والعلم والعبادة؛ كما سنبين ذلك في المباحث القادمة.
أبوه: هو الإمام علي بن الإمام الحسين بن الإمام علي بن أبي طالب بن عبد المطلب بن هاشم الهاشمي المدني زين العابدين
(4) رضي الله عنه، أمُّه أم ولد، اسمها سلافه بنت ملك الفرس يزدجرد، وقيل: غزالة
(5)، وقد ذكر أبو القاسم الزمخشري في كتاب «ربيع الأبرار» أنَّ الصحابة، رضي الله عنهم، لما أتوا المدينة بسبي فارس في خلافة عمر بن
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা: আহমদ ইবনুল বারক্বীর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ছাপ্পান্ন হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন
(১)। এটি ছিল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু)-এর শাহাদাতের চার বছর পূর্বের ঘটনা। আবু জাফর আল-বাক্বির বলেন: «আমার দাদা হুসাইন যখন শহীদ হন তখন আমার বয়স ছিল চার বছর। আমি তাঁর শাহাদাতের ঘটনা এবং সেই সময় আমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা স্মরণে রেখেছি»
(২)।
ইবনে খাল্লিকান বলেন: «তাঁর জন্ম হিজরি সাতান্ন সালের ৩রা সফর মঙ্গলবার। তাঁর দাদা হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু) যখন শহীদ হন তখন তাঁর বয়স ছিল তিন বছর»
(৩)।
আর যে ঘরে «বাক্বির» (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) লালিত-পালিত হয়েছেন, সেটি ছিল তাকওয়া, পরহেজগারি, ইলম ও ইবাদতে পরিপূর্ণ একটি ঘর; যা আমরা পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে স্পষ্ট করব।
তাঁর পিতা: তিনি হলেন ইমাম আলী বিন ইমাম হুসাইন বিন ইমাম আলী বিন আবু তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেম আল-হাশেমি আল-মাদানি যাইনুল আবেদিন
(৪) (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তাঁর মা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ, যাঁর নাম ছিল পারস্য সম্রাট ইয়াজদুগার্দের কন্যা সুলাফা; মতান্তরে গাজালা
(৫)। আবুল কাসেম আল-জামাখশারী তাঁর «রাবিউল আবরার» কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যখন ওমর ইবনুল...-এর খিলাফতকালে পারস্যের যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে মদিনায় আসেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الخطاب، رضي الله عنه، كان فيهم ثلاث بنات ليزدجرد، فباعوا السبايا، وأمر عمر ببيع بنات يزدجرد أيضاً، فقال له علي بن أبي طالب، رضي الله عنه: إنَّ بنات الملوك لا يعاملن معاملة غيرهن من بنات السوقة، فقال: كيف الطريق إلى العمل معهن قال: يقومن مهما بلغ ثمنهن قام به من يختارهن فقومن وأخذهن علي، رضي الله عنه، فدفع واحدة لعبد الله بن عمر وأخرى لولده الحسين وأخرى لمحمد بن أبي بكر الصديق، وكان ربيبه
(1)، رضي الله عنهم أجمعين، فأولد عبد الله أمته ولده سالماً، وأولد الحسين زين العابدين، وأولد محمد ولده القاسم، فهؤلاء الثلاثة بنو خالة، وأمهاتهم بنات يزدجرد
(2)، وكان أهل المدينة يكرهون اتخاذ أمهات الأولاد حتى نشأ فيهم علي بن الحسين والقاسم بن محمد وسالم بن عبد الله، ففاقوا أهل المدينة فقهاً وورعاً، فرغب الناس في السراري
(3).
وكان رضي الله عنه وأرضاه ثقةً عابداً زاهداً عالماً ورعاً، اجتمعت فيه جلُّ الفضائل وقد مَدحه خلقٌ كثير ممن عاصروه.
قال ابن سعد في ترجمته للإمام «زين العابدين» ما نصه: «وكان ثقة مأمونا كثير الحديث عالياً رفيعاً ورعاً»، وقد نقل ابن عيينة عن الزهري قوله: «ما رأيت قرشيًّا
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ইয়াজদগিরদের তিন কন্যা ছিল। তারা বন্দীদের বিক্রি করছিল এবং উমর ইয়াজদগিরদের কন্যাদেরও বিক্রি করার নির্দেশ দিলেন। তখন আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই রাজকন্যাদের সাথে সাধারণ প্রজাদের কন্যাদের মতো আচরণ করা হয় না।" তিনি (উমর) বললেন: "তবে তাদের ব্যাপারে করণীয় কী?" তিনি (আলী) বললেন: "তাদের মূল্য নির্ধারণ করা হোক, তাদের মূল্য যত বেশিই হোক না কেন, যারা তাদের পছন্দ করবে তারা সেই নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করবে।" অতঃপর তাদের মূল্য নির্ধারণ করা হলো এবং আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু তাদের গ্রহণ করলেন। তিনি তাদের একজনকে আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে, অন্যজনকে তাঁর পুত্র হোসাইনকে এবং অপরজনকে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিককে প্রদান করলেন, যিনি তাঁর লালন-পালনে ছিলেন (রীব)
(১), আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। ফলে আবদুল্লাহর মাধ্যমে তাঁর সেই দাসী সালিমকে জন্ম দিলেন, হোসাইন জন্ম দিলেন যয়নুল আবেদীনকে এবং মুহাম্মদ জন্ম দিলেন তাঁর পুত্র কাসেমকে। সুতরাং এই তিনজন ছিলেন খালাতো ভাই এবং তাঁদের মায়েরা ছিলেন ইয়াজদগিরদের কন্যা
(২)। মদিনাবাসীরা উম্মুল ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) গ্রহণ করা অপছন্দ করতেন, যতক্ষণ না তাদের মাঝে আলী ইবনুল হোসাইন, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ এবং সালিম ইবনে আবদুল্লাহ বেড়ে উঠলেন। তাঁরা যখন ফিকহ ও পরহেজগারিতে মদিনাবাসীদের ছাড়িয়ে গেলেন, তখন মানুষ দাসী গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল
(৩)।
তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ, বিদগ্ধ আলিম ও পরহেজগার। তাঁর মাঝে অধিকাংশ ফযীলত পুঞ্জীভূত হয়েছিল এবং সমসাময়িক বহু মানুষ তাঁর প্রশংসা করেছেন।
ইবনে সাদ ইমাম 'যয়নুল আবেদীন'-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: "তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও পরহেজগার।" ইবনে উইয়াইনাহ জুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি কোনো কুরাইশীকে দেখিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أفضل من علي بن الحسين وكان مع أبيه يوم قتل وهو مريض فسلم»، وقال أيضا: «ما رأيت أحداً كان أفقه منه ولكنَّه كان قليل الحديث»، وقال ابن وهب عن مالك: «لم يكن في أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم مثل علي بن الحسين»، وقال حماد بن زيد عن يحيى بن سعيد: «سمعت علي بن الحسين وكان أفضل هاشمي أدركته»، ويروى أن سعيد بن المسيب قال: «ما رأيت أورع منه»، وقال العجلي: «مدني تابعي ثقة»، وقال جويرية بن أسماء: «ما أكل علي بن الحسين لقرابته من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم درهماً قط»
(1).
وقد كان الإمام علي بن الحسين رضي الله تعالى عنه وأرضاه محبّاً للصالحين وعلى رأسهم خير البشر بعد الأنبياء، وهم صحابة النبيّ صلى الله عليه وآله وسلم فقد كان يجلُّ الشيخين أبا بكر وعمر حتى أنه قد سُئِل: كيف كانت منزلة أبي بكر وعمر عند رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فأشار بيده إلى القبر، ثم قال: «بمنزلتهما منه الساعة»
(2).
وعن جعفر «الصادق» بن محمد عن أبيه قال: «جاء رجل إلى أبي فقال: أخبرني عن أبي بكر؟ قال: عن الصدِّيق تسأل؟ قال: وتسمِّيه الصدِّيق؟! قال: ثكلتك أمّك قد سمَّاه صدِّيقاً من هو خير مني، رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، والمهاجرون
--------------------------------------------
আলী ইবনুল হুসাইনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ (কাউকে দেখিনি)। তিনি তাঁর পিতার সাথে সেদিন উপস্থিত ছিলেন যেদিন তিনি শহীদ হন; তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে রক্ষা পান। তিনি আরও বলেছেন: "আমি তাঁর চেয়ে অধিক প্রাজ্ঞ (ফকিহ) কাউকে দেখিনি, তবে তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ছিল অল্প।" ইবনে ওয়াহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পরিবারে আলী ইবনুল হুসাইনের মতো আর কেউ ছিলেন না।" হাম্মাদ ইবনে যাইদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি আলী ইবনুল হুসাইনকে দেখেছি, আর আমি যত হাশেমীকে পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।" বর্ণিত আছে যে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেছেন: "আমি তাঁর চেয়ে অধিক আল্লাহভীরু আর কাউকে দেখিনি।" আল-ইজলি বলেছেন: "তিনি মদিনার একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) তাবেয়ি।" জুওয়াইরিয়া ইবনে আসমা বলেছেন: "আলী ইবনুল হুসাইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে কখনো একটি দিরহামও ভক্ষণ করেননি।"
(১).
নিশ্চয়ই ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সৎকর্মশীলদের ভালোবাসতেন এবং তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন নবীগণের পর শ্রেষ্ঠ মানব তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ। তিনি শায়খাইন অর্থাৎ আবু বকর ও ওমরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন, এমনকি তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হলো: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবু বকর ও ওমরের মর্যাদা কেমন ছিল?" তখন তিনি নিজের হাত দিয়ে কবরের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: "বর্তমানে তাঁর কাছে তাঁদের মর্যাদা যেমন (তদ্রূপ ছিল)।"
(২).
জাফর "আস-সাদিক" ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি আমার পিতার কাছে এসে বলল: আমাকে আবু বকর সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তুমি কি 'সিদ্দিক' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? সে বলল: আপনিও কি তাঁকে 'সিদ্দিক' বলেন?! তিনি বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক! আমার চেয়ে যিনি উত্তম, অর্থাৎ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং মুহাজিরগণ তাঁকে 'সিদ্দিক' নামে অভিহিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
والأنصار، فمن لم يسمه صديقاً، فلا صدق الله قولَه، اذهب فأحب أبا بكر وعمر وتولهما، فما كان من أمر ففي عنقي»
(1).
وكان رضي الله عنه وأرضاه يقول: «والله ما قتل عثمان رحمه الله على وجه الحق»
(2).
وعُرف رضي الله عنه بحسن الخلق ولين الجانب، فروي أنه كان بينه وبين حسن بن الحسن
(3) أمر، فما ترك حسن شيئا إلا قاله، وعلي ساكت، فذهب حسن، فلما كان في الليل، أتاه علي، فخرج، فقال علي: «يا ابن عمي إن كنت صادقاً فغفر الله لي، وإن كنت كاذباً، فغفر الله لك، السلام عليك، قال: فالتزمه حسن، وبكى حتى رثى له»
(4).
وعرف في زمانه برفعة القدر بين الناس وفاق بذلك الخلفاء، فيُروى أن هشام بن عبد الملك حج قبيل ولايته الخلافة، فكان إذا أراد استلام الحجر زوحم عليه، وإذا دنا علي بن الحسين من الحجر تفرقوا عنه إجلالاً له، فوجم لها هشام وقال: من هذا؟ فما أعرفه، فأنشأ الفرزدق يقول:
هذا الذي تعرفُ البطحاءُ وطأتَهُ
… والبيتُ يعرفهُ والحلُّ والحرمُ
--------------------------------------------
...এবং আনসারগণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে 'সিদ্দীক' হিসেবে অভিহিত করবে না, আল্লাহ তার কথাকে সত্য প্রতিপন্ন করবেন না। তুমি যাও এবং আবু বকর ও উমরকে ভালোবাসো এবং তাঁদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো; এর ফলে যা কিছু ঘটবে তার দায়ভার আমার স্কন্ধে।
(১).
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) বলতেন: «আল্লাহর কসম, উসমানকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে»
(২).
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর সুমহান চরিত্র ও নম্র স্বভাবের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তাঁর এবং হাসান বিন হাসানের
(৩) মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে মনোমালিন্য হয়েছিল; তখন হাসান এমন কোনো কটু কথা নেই যা বলেননি, অথচ আলী চুপ ছিলেন। এরপর হাসান চলে গেলেন। যখন রাত হলো, আলী তাঁর নিকট আসলেন এবং তিনি বেরিয়ে এলে আলী বললেন: «হে আমার চাচাতো ভাই! তুমি (আমার সম্পর্কে) যা বলেছ তাতে যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তবে আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক»। বর্ণনাকারী বলেন: তখন হাসান তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়লেন, এমনকি বর্ণনাকারীও তাঁর প্রতি সমব্যথী হলেন
(৪).
তিনি তাঁর সমসাময়িক কালে মানুষের মাঝে সুউচ্চ মর্যাদার জন্য খ্যাত ছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি খলীফাদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। বর্ণিত আছে যে, হিশাম বিন আব্দুল মালিক তাঁর খিলাফতের দায়িত্ব লাভের পূর্বে হজ পালন করতে গিয়েছিলেন। তিনি যখন হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে চাইতেন, তখন মানুষের ভিড়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হতেন। কিন্তু আলী বিন আল-হুসাইন যখন হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী হতেন, তখন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে মানুষ তাঁর জন্য পথ ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়াত। এতে হিশাম বিমর্ষ ও লজ্জিত হলেন এবং (ঈর্ষাবশত) বললেন: এ কে? আমি তো তাঁকে চিনি না। তখন আল-ফারাজদাক স্বতঃস্ফূর্তভাবে আবৃত্তি করলেন:
ইনিই সেই ব্যক্তি যাঁর পদচিহ্ন মক্কার উপত্যকা চেনে... আর কাবাগৃহ তাঁকে চেনে এবং হারামের ভেতরের ও বাইরের পুরো জনপদও তাঁকে চেনে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
هذا ابنُ خيرِ عبادِ اللهِ كلهمُ
… هذا التقيُّ النقيُّ الطاهرُ العلمُ
إذا رأتهُ قريشٌ قالَ قائلُها
… إلى مكارمِ هذا ينتهي الكرمُ
يكادُ يمسكهُ عرفانُ راحتِهِ
… ركنُ الحطيمِ إذا ما جاءَ يستلمُ
يغضي حياءً ويُغْضَى من مهابتهِ
… فما يُكَلَّمُ إلا حين يبتسمُ
هذا ابنُ فاطمةٍ إن كنتَ جاهلهُ
… بجدّهِ أنبياءُ اللهِ قد خُتِموا
وهي قصيدةٌ طويلة جميلة
(1).
أمّه وإخوته: أمّا أمّ الإمام «الباقر» رضي الله عنهما فهي أمّ عبد الله بنت الحسن بن علي بن أبي طالب رضي الله عنهم أجمعين، وبهذا النسب الشريف يكون «الباقر» قد جمع بين شرف الانتساب للنبي صلى الله عليه وآله وسلم من جهتين، جهة جده لأبيه الحسين وجهة جده لأمّه الحسن رضي الله عنهما.
وللباقر رضي الله عنه عدد من الإخوة، وقد نُقل عنه مدح لبعض إخوته في هذه الرواية:
قال أبو الجارود زياد بن المنذر: «قيل لأبي جعفر «الباقر» عليه السلام: أي إخوتك أحبُّ إليك وأفضل؟ فقال عليه السلام: أمّا عبد الله فيدي التي أبطش بها - وكان عبد الله أخاه لأبيه وأمه - وأما عمر فبصري الذي أبصر به، وأمّا زيد فلساني
--------------------------------------------
ইনি আল্লাহর সকল বান্দার মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের সন্তান
… ইনি সেই মুত্তাকী, পরিচ্ছন্ন, পবিত্র এবং সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব।
যখন কুরাইশরা তাঁকে দেখে, তখন তাদের বক্তা বলে ওঠে
… সকল মহানুভবতা এই ব্যক্তির কাছে এসেই সমাপ্ত হয়।
হাতিমের রুকন (কোণ) যখন তিনি স্পর্শ করতে আসেন, তখন তাঁর হাতের তালুকে চেনার কারণে সেটি যেন তাঁকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়।
তিনি লজ্জায় দৃষ্টি অবনত রাখেন এবং তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে অন্যদের দৃষ্টিও অবনত হয়ে যায়
… তিনি যখন মুচকি হাসেন কেবল তখনই তাঁর সাথে কথা বলা হয়।
ইনি ফাতিমার সন্তান, যদি আপনি তাঁকে না চিনে থাকেন
… যাঁর নানার মাধ্যমেই আল্লাহর নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত হয়েছে।
এটি একটি দীর্ঘ ও সুন্দর কবিতা
(১)।
তাঁর মাতা ও তাঁর ভাইগণ: ইমাম 'বাকির' (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাতা হলেন উম্মু আবদুল্লাহ বিনতে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)। এই শরিফ বংশপরম্পরার কারণে 'বাকির' দুই দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন; এক হলো তাঁর পিতার দিক থেকে তাঁর দাদা হুসাইন এবং অন্যটি তাঁর মাতার দিক থেকে তাঁর দাদা হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)।
বাকির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বেশ কয়েকজন ভাই ছিলেন। এই বর্ণনায় তাঁর কিছু ভাইয়ের প্রশংসামূলক উক্তি বর্ণিত হয়েছে:
আবু আল-জারুদ যিয়াদ ইবনুল মুনযির বলেন: "আবু জাফর 'বাকির' (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার ভাইদের মধ্যে কে আপনার কাছে অধিক প্রিয় এবং শ্রেষ্ঠ? তিনি (আলাইহিস সালাম) বললেন: আবদুল্লাহর কথা যদি বলি, সে হলো আমার সেই হাত যা দিয়ে আমি ধরি - আবদুল্লাহ ছিলেন তাঁর সহোদর ভাই - আর ওমরের কথা যদি বলি, সে হলো আমার দৃষ্টি যা দিয়ে আমি দেখি, আর যায়িদ হলো আমার জিহ্বা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الذي أنطق به، وأمَّا الحسين فحليم يمشي على الأرض هونا وإذا خاطبهم الجاهلون قالوا سلاما»
(1).
ومن المعلوم أنَّ الإمام «الباقر» رضي الله عنه لم يكن متفرداً عن إخوته بالتقوى والصلاح والعلم والرفعة بل إنَّ بيت الإمام علي بن الحسين بما فيه من مراقبة الله تعالى والاقتداء بهدي خير المرسلين سيدنا محمد صلى الله عليه وآله وسلم قد أخرج لأمَّة الإسلام أعلاماً يُقتدى بهم ويهتدي المسلم بالسير على نهجهم ومنهم:
1 - زيد بن علي بن الحسين: زيد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب أبو الحسين الهاشميّ العلويّ المدنيّ أخو أبي جعفر محمد وعبد الله وعمر وعلي والحسين وهو ابن أمَة.
روى عن أبيه وأخيه أبي جعفر «الباقر» وعروة، وعنه ابن أخيه جعفر بن محمد وشعبة وفضيل بن مرزوق والمطلب بن زياد وسعيد بن خثيم الهلالي وعبد الرحمن بن أبي الزناد وآخرون سواهم.
قال عنه الذهبي: «وكان أحد العلماء الصلحاء بدت منه هفوة فاستشهد فكانت سبباً لرفع درجته في آخرته»
(2).
--------------------------------------------
যিনি তাকে কথা বলিয়েছেন; আর হুসাইন ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল, যিনি জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করতেন এবং মূর্খরা যখন তাঁকে সম্বোধন করত, তখন তিনি বলতেন, "সালাম"
(১)।
এটি সর্বজনবিদিত যে, ইমাম "বাকির" রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকওয়া, নেক আমল, ইলম এবং উচ্চ মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁর ভাইদের থেকে একক কেউ ছিলেন না; বরং ইমাম আলী ইবনুল হুসাইনের পরিবার—যাতে ছিল আল্লাহ তাআলার বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং শ্রেষ্ঠ রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর হেদায়াতের অনুসরণ—মুসলিম উম্মাহর জন্য এমন সব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়েছে, যাঁদের অনুসরণ করা হয় এবং তাঁদের পথে চলার মাধ্যমে মুসলিমরা হেদায়াত প্রাপ্ত হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - যায়েদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন: যায়েদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব আবু আল-হুসাইন আল-হাশিমী আল-আলাওয়ী আল-মাদানী; তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ, আবদুল্লাহ, উমর, আলী এবং হুসাইনের ভাই এবং তিনি ছিলেন এক দাসীর গর্ভজাত সন্তান।
তিনি তাঁর পিতা, তাঁর ভাই আবু জাফর "বাকির" এবং উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র জাফর বিন মুহাম্মদ, শু'বাহ, ফুযাইল বিন মারযুক, আল-মুত্তালিব বিন যিয়াদ, সাঈদ বিন খুসায়ম আল-হিলালী, আবদুর রহমান বিন আবিয যিনাদ এবং আরও অনেকে।
আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন পুণ্যবান আলেমদের একজন, তাঁর থেকে একটি বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছিল, এরপর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। আর এটি তাঁর আখিরাতের মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হয়েছিল"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وكان الإمام زيد رضي الله تعالى عنه عالماً بكتاب الله تعالى وله تفسير ألقاه على بعض النقلة عنه وهو في حبس هشام بن عبد الملك وفيه من العلم والاستشهاد بكلام العرب حظٌّ وافر.
و يقال: إنَّه كان إذا تناظر هو وأخوه محمد «الباقر» اجتمع الناس بالمحابر يكتبون ما يصدر عنهما من العلم رحمهما الله تعالى ورضي عنهما
(1).
وعن قصّة استشهاده قال الذهبي: «روى أبو اليقظان عن جويرية بن أسماء أو غيره أن زيد بن علي وفد من المدينة على يوسف بن عمر الثقفي أمير العراقين الحيرة فأحسن جائزته ثم رجع إلى المدينة فأتاه ناس من أهل الكوفة فقالوا: ارجع فليس يوسف بشيء فنحن نأخذ لك الكوفة، فرجع ناس كثير وخرجوا معه فعسكر فالتقاه العسكر العراقي فقتل زيدٌ في المعركة ثم صلب فبقي معلقاً أربعة أيام ثم أنزل فأحرق فإنّا لله وإنّا إليه راجعون»
(2).
وقد مدحه كثيرٌ من أهل زمانه، ووردت طعونات فيه ولكنّها كانت من أهل الأهواء والمذاهب الفاسدة الكاسدة.
--------------------------------------------
ইমাম যায়েদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তাঁর একটি তাফসীর গ্রন্থ রয়েছে যা তিনি হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কয়েকজন বর্ণনাকারীর নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করেছিলেন এবং তাতে ইলম ও আরবদের ভাষ্য থেকে উদ্ধৃতির প্রচুর ভাণ্ডার রয়েছে।
এবং বলা হয় যে, তিনি এবং তাঁর ভাই মুহাম্মদ «আল-বাকির» যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা বা বিতর্ক করতেন, তখন মানুষ দোয়াত নিয়ে সমবেত হতো এবং তাঁদের থেকে যে জ্ঞান নির্গত হতো তা লিখে রাখত। আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন
(১)।
তাঁর শাহাদাতের ঘটনা সম্পর্কে ইমাম আয-যাহাবী বলেন: «আবু আল-ইয়াকযান জুওয়ায়রিয়া ইবনে আসমা অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যায়েদ ইবনে আলী মদীনা থেকে হীরাতে দুই ইরাকের আমীর ইউসুফ ইবনে উমর আস-সাকাফীর নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আগমন করেন। তিনি তাঁকে উত্তম উপঢৌকন প্রদান করেন, অতঃপর তিনি মদীনায় ফিরে যান। এরপর কূফাবাসীদের কিছু লোক তাঁর নিকট এসে বলল: আপনি ফিরে চলুন, ইউসুফ কিছুই নয়, আমরা আপনার জন্য কূফা দখল করে নেব। ফলে অনেক লোক ফিরে আসে এবং তাঁর সাথে বের হয়। অতঃপর তিনি সৈন্য সমাবেশ করেন এবং ইরাকী বাহিনীর সাথে তাঁর মোকাবেলা হয়। যুদ্ধে যায়েদ নিহত হন, অতঃপর তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয় এবং চার দিন ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়। এরপর তাঁকে নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী»
(২)।
তাঁর সমসাময়িক অনেক লোকই তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে কিছু সমালোচনাও বর্ণিত হয়েছে, তবে সেগুলো ছিল প্রবৃত্তিপূজারী এবং ভ্রান্ত ও অসার মতাদর্শের অনুসারীদের পক্ষ থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وروي أن عمرو بن القاسم دخل على جعفر «الصادق» وعنده قوم، فقال له: «إنّ هؤلاء يبرؤون من عمّك زيد، فقال «الصادق»: برئ الله ممن برئ منه كان والله أقرأنا لكتاب الله وأفقهنا في دين الله وأوصلنا للرحم ما ترك فينا مثله»
(1).
وهذا المدح من «الصادق» لعمِّه زيد يدل على حب «الصادق» لزيد وإجلاله له وعلو شأنه في بني هاشم في زمنه رضي الله عنه وعن أبيه وجده.
ومن دلائل علمه وقوة حجته ما رواه ابن عساكر في تاريخه: «أن زيداً بن علي بن الحسين بن علي دخل على هشام بن عبد الملك، وكان زيد لأمّ ولد، فقال له هشام: يا زيد، بلغني أنّ نفسك تسمو بك إلى الإمامة، والإمامة لا تصلح لأبناء الإماء. فقال له زيد: يا أمير المؤمنين، هذا إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام كان لأمَة وقد صلحت له النبوّة، وكان صادق الوعد وكان عند ربه مرضيّاً، والنبوّة أكبر من الإمامة. فقال له هشام: يا زيد، إن الله لا يجمع النبوة والملك لأحد، فقال زيد: يا أمير المؤمنين، ما هكذا قال الله تبارك وتعالى: أم يحسدون الناس على ما آتاهم الله من فضله فقد آتينا آل إبراهيم الكتاب والحكمة وآتيناهم ملكاً عظيماً»
(2).
وهذا الموقف مثالٌ بسيطٌ على قوة الإمام زيد بن علي وشجاعته وظهور حجته.
--------------------------------------------
বর্ণিত আছে যে, আমর বিন কাসিম জাফর «আস-সাদিক»-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর কাছে একদল লোক ছিল। তখন তিনি তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই এরা আপনার চাচা যায়েদ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে।» তখন «আস-সাদিক» বললেন: «যে ব্যক্তি তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করুন। আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে বড় পাঠক ছিলেন এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে আমাদের চেয়ে বেশি ফকীহ ছিলেন। তিনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় আমাদের মাঝে সবার চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। তিনি আমাদের মাঝে নিজের মতো কাউকে রেখে যাননি»
(১)।
আপন চাচা যায়েদের প্রতি «আস-সাদিক»-এর এই প্রশংসা যায়েদের প্রতি «আস-সাদিক»-এর ভালোবাসা, তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর সমসাময়িক কালে বনু হাশিমের মধ্যে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে (আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁর পিতা ও দাদার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
তাঁর জ্ঞান ও বলিষ্ঠ যুক্তির অন্যতম প্রমাণ হলো যা ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই যায়েদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী হিশাম বিন আবদুল মালিকের নিকট প্রবেশ করলেন। যায়েদ ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী)-এর সন্তান। তখন হিশাম তাকে বললেন: হে যায়েদ, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমার মন তোমাকে ইমামতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে ধাবিত করছে, অথচ ইমামত দাসীদের সন্তানদের জন্য উপযুক্ত নয়। তখন যায়েদ তাকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এই যে ইসমাইল বিন ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম), তিনি একজন দাসীর সন্তান ছিলেন, অথচ তিনি নবুওয়াতের উপযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সত্যবাদী এবং তাঁর রবের নিকট সন্তোষভাজন। আর নবুওয়াত তো ইমামতের চেয়ে অনেক বড় বিষয়। তখন হিশাম তাকে বললেন: হে যায়েদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো জন্য নবুওয়াত ও রাজত্ব একত্র করেন না। যায়েদ বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এমনটি বলেননি, বরং তিনি বলেছেন: 'নাকি তারা মানুষকে হিংসা করে যা আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের দান করেছেন? বস্তুত আমি ইব্রাহিমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদের বিশাল রাজত্ব দান করেছি'»
(২)।
এই অবস্থানটি ইমাম যায়েদ বিন আলীর শক্তি, সাহস ও তাঁর প্রমাণের বলিষ্ঠতার একটি সাধারণ উদাহরণ মাত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وقد كان رضي الله عنه محبّاً للصحابة وعلى رأسهم الشيخين أبي بكر وعمر غير آبهٍ بخذلان أهل الأهواء له فروي عنه قوله: «كان أبو بكر إمام الشاكرين ثم تلا: {سَيَجْزِي اللّهُ الشَّاكِرِينَ}»
(1).
وقال كثير النوا: «سألت زيد بن علي عن أبي بكر وعمر، فقال: «تولَّهما وابرأ ممن تبرأ منهما»
(2).
وروى هاشم بن البريد عن زيد بن علي قال: «البراءة من أبي بكر براءة من علي»
(3).
وعن فضيل بن مرزوق قال: «قال زيد بن علي بن الحسين بن علي: أمّا أنا فلو كنت مكان أبي بكر حكمتُ بمثل ما حكم به أبو بكر في فدك»
(4).
وعن محمد بن سالم قال: «كان عندنا زيد بن علي مختفياً، فذكر أبو بكر وعمر فجاء بعض الاعتراض، فقال زيد: مه يا محمد بن سالم! لو كنت حاضراً ما كنت تصنع؟ قال: أصنع كما كان يصنع علي، قال: فارض بما صنع علي»
(5).
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাহাবীদের প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা পোষণ করতেন, বিশেষ করে দুই শায়খ আবু বকর ও উমরের প্রতি। প্রবৃত্তি পূজারীদের অসহযোগিতাকে তিনি কোনো পরোয়াই করতেন না। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: «আবু বকর ছিলেন কৃতজ্ঞদের ইমাম, এরপর তিনি তেলাওয়াত করলেন: {আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন}»
(১).
কাছির আন-নাওয়া বলেন: «আমি যায়িদ ইবনে আলীকে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "তাদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করো এবং যারা তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করো"»
(২).
হাশিম ইবনুল বারীদ যায়িদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আবু বকরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে আলীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা»
(৩).
ফুযাইল ইবনে মারযূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যায়িদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী বলেছেন: আমি যদি আবু বকরের স্থলাভিষিক্ত হতাম, তবে ফাদাক সংক্রান্ত বিষয়ে আবু বকর যে ফয়সালা করেছিলেন আমিও ঠিক সেই ফয়সালাই দিতাম»
(৪).
মুহাম্মাদ ইবনে সালিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যায়িদ ইবনে আলী আমাদের নিকট আত্মগোপন করে ছিলেন। তখন আবু বকর ও উমরের আলোচনা উঠলে কিছু আপত্তি উত্থাপিত হলো। তখন যায়িদ বললেন: থামো হে মুহাম্মাদ ইবনে সালিম! তুমি যদি সেখানে উপস্থিত থাকতে তবে কী করতে? তিনি বললেন: আলী যা করেছিলেন আমিও তাই করতাম। যায়িদ বললেন: তাহলে আলী যা করেছিলেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকো»
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وقد اختُلف في تاريخ مصرعه على أقوال فقال مصعب الزبيري: «قُتل في صفر سنة عشرين ومائة وله اثنتان وأربعون سنة»، وقال أبو نُعيم: «قُتل يوم عاشوراء سنة اثنتين وعشرين ومائة» رواه ابن سعد عنه.
وقال هشام بن الكلبي والليث بن سعد والهيثم بن عدي وغيرهم: «قتل سنة اثنتين وعشرين».
وقال محمد بن الحسن: «قتل زيد يوم الإثنين ثاني صفر سنة اثنتين».
وكذا روي عن يحيى بن عبد الله بن حسن بن حسن
(1).
فرحم الله زيداً الشهيد وجمعنا به في الجنة بجوار أبيه وجدّه رضوان الله عليهم أجمعين.
2 - عمر بن علي بن الحسين: كان أحد علماء السادة، وكان المتولّي لصدقات جدّه أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه في مدة عهده، وكان لا يمنع من أَكَل من الصدقات شيئاً
(2).
ومن أقواله المشهورة رضي الله عنه قوله: «المفرط في حبنا كالمفرط في بغضنا أنزلونا ما أنزلنا الله به، ولا تقولوا فينا ما ليس فينا».
(3)--------------------------------------------
তাঁর শাহাদাতের তারিখ নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। মুসআব আজ-যুবাইরী বলেন: «তিনি একশ বিশ হিজরীর সফর মাসে বিয়াল্লিশ বছর বয়সে নিহত হন», আবু নুআইম বলেন: «তিনি একশ বাইশ হিজরীর আশুরার দিনে নিহত হন» ইবনে সাদ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
হিশাম বিন আল-কালবী, লাইস বিন সাদ, হাইসাম বিন আদি এবং অন্যরা বলেছেন: «তিনি একশ বাইশ হিজরীতে নিহত হন»।
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেন: «যায়েদ একশ বাইশ হিজরীর দুই সফর সোমবার দিন নিহত হন»।
ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে
(১)।
আল্লাহ শহীদ যায়েদের ওপর রহম করুন এবং জান্নাতে তাঁর পিতা ও দাদার পাশে আমাদের তাঁর সাথে একত্রিত করুন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
২ - উমর বিন আলী বিন আল-হুসাইন: তিনি বিশিষ্ট আলেমদের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর দাদা আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দান-সদকার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং তিনি দান-সদকা থেকে কাউকে কোনো কিছু গ্রহণ করতে বাধা দিতেন না
(২)।
তাঁর বিখ্যাত উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন): «আমাদের প্রতি ভালোবাসায় বাড়াবাড়িকারী আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে বাড়াবাড়িকারীর মতোই। আল্লাহ আমাদের যে অবস্থানে রেখেছেন আমাদের সেখানেই রাখো, আর আমাদের ব্যাপারে এমন কিছু বলো না যা আমাদের মাঝে নেই»।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
وفي تسمية «زين العابدين» لابنه بـ «عمر» ما يدل دلالة واضحة على إِجلال آل البيت للصحابة عامة ولأبي بكر وعمر رضي الله عنهما خاصة
(1)، ولقد توفي عمر بن علي بن الحسين رضي الله عنهما وهو ابن سبعين سنة
(2).
3 - عبد الله بن علي بن الحسين: وعبد الله بن زين العابدين رضي الله عنه كان عالماً راوياً للأخبار، وهو الذي يروي عن أبيه عن جده رسول الله صلى الله عليه وآله أنه قال: «البخيل كل البخيل من إذا ذكرت عنده فلم يصلّ علي»
(3)، وتوفي وهو ابن سبع وخمسين سنة (
4). 4 - الحسين بن علي بن الحسين: عرف باسم الحسين الأصغر، وقد روى عن أبيه وعن عمته فاطمة بنت الحسين رضي الله عنه، وعن أخيه أبي جعفر «الباقر» رضي الله عنه، وكتب الناس عنه الحديث، قال عنه النسائي: ثقة، وروى له الترمذي والنسائي
(5).
--------------------------------------------
যয়নুল আবিদীন কর্তৃক তাঁর পুত্রের নাম ‘উমর’ রাখার বিষয়টি সাধারণভাবে সাহাবায়ে কিরামের প্রতি এবং বিশেষভাবে আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর প্রতি আহলে বাইতের গভীর শ্রদ্ধাবোধের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে
(১)। উমর ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) সত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন
(২)।
৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন: আবদুল্লাহ ইবনে যয়নুল আবিদীন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) একজন আলেম ও বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হয় অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না»
(৩)। তিনি সাতান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (
৪)। ৪ - হুসাইন ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন: তিনি ‘হুসাইন আল-আসগর’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা, তাঁর ফুফু ফাতিমা বিনতে হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) এবং তাঁর ভাই আবু জাফর ‘আল-বাকির’ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন। মানুষ তাঁর থেকে হাদীস সংগ্রহ করেছেন। ইমাম নাসায়ী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য; এবং ইমাম তিরমিযী ও ইমাম নাসায়ী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
ومات سنة سبع وخمسين ومائة من الهجرة بالمدينة، ودفن بالبقيع، ويقال له أبو عبد الله وقد أعقب
(1).
أولاد محمد «الباقر»: كان له «رضي الله عنه» من الولد خمسة ذكور: جعفر، عبد الله، إبراهيم، عبيد الله درج
(2) صغيراً، وعلي درج صغيراً
(3)، وتجدر الإشارة إلى أن أمّ جعفر «الصادق» هي أمّ فروة بنت القاسم الفقيه ابن محمد بن أبي بكر، وأمّها أسماء بنت عبد الرحمن بن أبي بكر، ويَحكي لنا «الباقر» قصة زواجه بكريمة القاسم وحفيدة أبي بكر الصدّيق رضي الله عنه فيقول: قال لي سعيد بن المسيب: إذا أردت أن تنكح فأخبرني فإني عالم بأنساب قريش قال: فنكحت بنت القاسم بن محمد ولم أخبره فبلغه ذلك، فقال: جاد ما وضع الحسيني نفسه
(4).
--------------------------------------------
তিনি হিজরি একশত সাতান্ন সালে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়। তাঁকে আবু আব্দুল্লাহ বলা হতো এবং তিনি উত্তরসূরি রেখে গেছেন
(১)।
মুহাম্মদ «আল-বাকির»-এর সন্তানগণ: তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সন্তানদের মধ্যে পাঁচজন পুত্র ছিল: জাফর, আব্দুল্লাহ, ইবরাহিম, উবাইদুল্লাহ—যিনি শৈশবেই ইন্তেকাল করেন
(২), এবং আলী—যিনি শৈশবেই ইন্তেকাল করেন
(৩)। উল্লেখ্য যে, জাফর «আস-সাদিক»-এর মাতা হলেন ফকিহ কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের কন্যা উম্মু ফারওয়া, আর তাঁর মাতা হলেন আসমা বিনতে আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর। «আল-বাকির» আমাদের কাছে কাসিমের কন্যা এবং আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নাতনির সাথে তাঁর বিবাহের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আমাকে বলেছিলেন, "যখন আপনি বিবাহ করতে চাইবেন তখন আমাকে জানাবেন, কারণ আমি কুরাইশদের বংশপরিচয় সম্পর্কে অবগত।" তিনি বলেন, "অতঃপর আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মদের কন্যাকে বিবাহ করলাম কিন্তু তাঁকে জানালাম না। তাঁর কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি বললেন: হুসাইনি (বংশধর) নিজেকে অত্যন্ত উত্তম স্থানে সমাসীন করেছেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রওদুন নাযির ফী সিরাতিল ইমাম আবী জা’ফার আল-বাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وقد نتج عن هذا الزواج المبارك ثمرةٌ طيبةٌ هي جعفر «الصادق» بن محمد «الباقر» رضي الله عنهما، لذلك كان «الصادق» رضي الله عنه يفخر قائلا: «ولدنى أبو بكر مرتين»
(1)، وحق له أن يفخر، فجده لأبيه سيد البرية محمد صلوات الله وسلامه عليه، وجده لأمه أبو بكر الصدِّيق صاحب النبي وصهره، ورفيقه ووزيره، وخليفته من بعده.
وفي هذه المصاهرة والنسب الدلالة على حبّ آل البيت للصحابة وتقديرهم لهم وفيه الحجّة والبرهان الدامغ على المحبة المتبادلة بين الصحابة والقرابة، وردّ على كلّ من أبغضهما رضي الله عنهما.
وفاته: اختلف المؤرخون في السنة التي توفي فيها «الباقر» رضي الله تعالى عنه، فقيل مات سنة أربع عشرة بعد المئة وقيل خمس عشرة وقيل ست عشرة وقيل سبع عشرة وقال ابن سعد مات سنة ثماني عشرة ومائة
(2)، والصحيح أنه قد توفي سنة أربع عشرة
--------------------------------------------
এই বরকতময় বিবাহের ফলে একটি উত্তম ফল অর্জিত হয়েছে, আর তিনি হলেন মুহাম্মদ «আল-বাকির»-এর পুত্র জাফর «আস-সাদিক» (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। এই কারণেই «আস-সাদিক» (রাযিয়াল্লাহু আনহু) গর্ব করে বলতেন: «আবু বকর আমাকে দুইবার জন্ম দিয়েছেন»
(১), আর তাঁর জন্য গর্ব করা যথাযথ; কেননা তাঁর পিতৃ-পিতামহ হলেন সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ (তাঁর উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক), এবং তাঁর মাতামহ হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক—যিনি নবীর সাথী, তাঁর বৈবাহিক আত্মীয়, তাঁর সফরসঙ্গী, তাঁর উজির এবং তাঁর পরবর্তী খলিফা।
এই বৈবাহিক সম্পর্ক ও বংশধারার মধ্যে সাহাবীদের প্রতি আহলে বাইতের ভালোবাসা ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের নিদর্শন রয়েছে। এতে সাহাবী ও নিকটাত্মীয়দের (আহলে বাইত) মধ্যকার পারস্পরিক ভালোবাসার অকাট্য দলিল ও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং এটি তাদের প্রতি একটি উপযুক্ত জবাব যারা তাঁদের (উভয় পক্ষকে) ঘৃণা করে (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।
তাঁর মৃত্যু: «আল-বাকির» (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) যে বছর মৃত্যুবরণ করেছেন সে বিষয়ে ঐতিহাসিকগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে যে, তিনি একশ চৌদ্দ হিজরিতে মারা যান; আবার বলা হয়েছে পনেরো সালে, কেউ বলেছেন ষোল সালে, আবার কেউ বলেছেন সতেরো সালে। ইবনে সাদ বলেছেন তিনি একশ আঠারো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২), তবে সঠিক মত হলো তিনি একশ চৌদ্দ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
--------------------------------------------